

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত স্মারক আসল ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি আজ বাংলাদেশে এসেছে। ‘ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ ট্রফি ট্যুর’-এর অংশ হিসেবে এই আয়োজন ফুটবল ভক্তদের ট্রফিটি কাছ থেকে দেখার সুযোগ করে দিচ্ছে। এর আগে ২০০২, ২০১৩ এবং ২০২২ সালে ট্রফিটি বাংলাদেশে এসেছিল। চলতি সফরটি ৩ জানুয়ারি সৌদি আরব থেকে শুরু হয়েছে এবং ভারত হয়ে বাংলাদেশে পৌঁছাল। ১৫০ দিনের এই যাত্রা শেষ হবে মেক্সিকোতে, যেখানে ১২ জুন বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। ৩০টি দেশের ৭৫টি ভেন্যুতে এই ট্রফি প্রদর্শন করা হবে। বাংলাদেশ ছেড়ে পরবর্তী সফরে ট্রফি যাবে দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, কাজাখস্তান এবং উজবেকিস্তানে। তারপর আফ্রিকার দক্ষিণ আফ্রিকা, আইভরি কোস্ট, মরক্কো এবং আলজেরিয়ায় সফর করবে। এরপর ইউরোপের পর্তুগাল, স্পেন ও ফ্রান্স হয়ে চূড়ান্ত গন্তব্য উত্তর আমেরিকায়। সবশেষে ট্রফিটি বিশ্বকাপের তিন আয়োজক দেশ মেক্সিকো, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডায় পৌঁছানোর মাধ্যমে তার যাত্রা শেষ করবে। মাঝেমধ্যে প্রশ্ন ওঠে, ট্যুরে কি আসল ট্রফি থাকে? ফিফা নিশ্চিত করেছে যে প্রদর্শিত ট্রফিটি আসল এবং এটি নিখাদ সোনা দিয়ে তৈরি, যার ওজন ৬.১৭৫ কেজি। আর বিজয়ী দল উদযাপনের সময় আসল ট্রফি নিয়ে উদযাপন করলেও তাদেরকে স্থায়ীভাবে দেওয়া হয় সোনার প্রলেপ দেওয়া রেপ্লিকা ট্রফি। এবারের সফরে ট্রফির সঙ্গে আছেন ব্রাজিলের ২০০২ বিশ্বকাপজয়ী মিডফিল্ডার গিলবার্টো সিলভা। ২০২২ সালের ট্রফি ট্যুরে ফ্রান্সের বিশ্বকাপ জয়ী ক্রিস্টিয়ান কারেম্বেউ ছিলেন বাংলাদেশে। প্রদর্শনী ও দেখার নিয়মাবলী বাংলাদেশে ট্রফিটি শুধুমাত্র ঢাকার রেডিসন ব্লু হোটেলে প্রদর্শন করা হবে। তবে সবাই এটি দেখার সুযোগ পাবেন না। কোকা-কোলার ‘আন্ডার দ্য ক্যাপ’ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে নির্বাচিত বিজয়ীরাই কেবল এটি দেখার এবং ছবি তোলার সুযোগ পাবেন। ট্রফি দেখার যত নিয়ম অবশ্যই টিকিটের একটি বৈধ কপি সাথে রাখতে হবে। ট্রফি স্পর্শ করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। অনুমোদিত আকারের চেয়ে বড় ব্যাকপ্যাক বহন করা, ধূমপান করা এবং টিকিট অন্য কারো কাছে হস্তান্তর করা যাবে না। ধারালো বা অন্য কোনো নিষিদ্ধ বস্তু বহন করা সম্পূর্ণ নিষেধ। এছাড়া, প্রদর্শনী এলাকার ভেতরে কোনো দেশ বা ফুটবল দলের পতাকা নিয়ে প্রবেশের অনুমতি নেই। আজ সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ট্রফিটিকে স্বাগত জানানো হয় এবং দুপুর ১টার পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এটি রেডিসন ব্লু হোটেলে প্রদর্শিত হবে।

মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ অভিযান চালিয়ে বাংলাদেশিসহ ১৫০ জন বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে। অভিযানের সময় গ্রেপ্তার এড়াতে প্রবাসীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও মরিয়া ভাব লক্ষ্য করা গেছে। ‘অপারেশন কুটিপ’ নামে এই অভিযান চলাকালে গ্রেপ্তার এড়াতে কেউ কেউ ওপর তলা থেকে দা ছুড়ে মারেন, কেউ ছাদের ওপর উঠে পড়েন, আবার কাউকে পানির ট্যাঙ্কের ভেতর লুকিয়ে থাকতে দেখা যায়। কর্তৃপক্ষ জানায়, সেলায়াং এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্ট ব্লক এবং জালান ক্লাং লামার একটি অবৈধ বসতিতে এই অভিযান চালানো হয়। মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের উপ-মহাপরিচালক (অপারেশন) লোকমান এফেন্দি রামলি জানান, দুই সপ্তাহের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সেলায়াং এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “অভিযানে মোট ৩২৬ জনের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। এর মধ্যে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ৭৯ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে।” সেলায়াং থেকে আটক হওয়া এই ৭৯ জনের মধ্যে বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, নেপাল, ভারত, পাকিস্তান ও মিয়ানমারের নাগরিক রয়েছেন। তাদের বয়স ১৭ থেকে ৫৫ বছরের মধ্যে। যাদের আটক করা হয়েছে তারা মূলত সিকিউরিটি গার্ড, ফুড স্টল সহকারী, লন্ড্রি কর্মী, কনভিনিয়েন্স স্টোর বা মুদি দোকানের কর্মচারী এবং নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। লোকমান এফেন্দি জানান, পরিদর্শনে দেখা গেছে প্রবাসীরা অত্যন্ত ঘিঞ্জি পরিবেশে বসবাস করছেন। সাধারণত তিন কক্ষের একটি ফ্ল্যাট প্রায় ৬০০ রিঙ্গিতে ভাড়া নিয়ে সেখানে পাঁচ থেকে ছয়জন গাদাগাদি করে থাকছিলেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এমন অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার ফলে দুর্গন্ধ ও পরিবেশ দূষণসহ নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং সামাজিক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। এক সপ্তাহের গোয়েন্দা নজরদারির পর জালান ক্লাং লামার একটি অবৈধ বসতিতে দ্বিতীয় অভিযানটি চালানো হয়। সেখান থেকে মোট ৭১ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে। আটককৃতদের মধ্যে ৬৬ জন ইন্দোনেশিয়ান, ৩ জন মিয়ানমারের নাগরিক এবং ভারত ও পাকিস্তানের একজন করে নাগরিক রয়েছেন। বার্নামার এক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ওই বসতিতে মৌলিক সুযোগ-সুবিধা থাকলেও বাসিন্দারা অনানুষ্ঠানিকভাবে জায়গা ভাড়া নিয়ে বসবাস করছিলেন। এমনকি তারা প্রকৃত বাড়ির মালিক কে, সে সম্পর্কেও কিছুই জানতেন না। ওই এলাকায় কোনো বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ছিল না। মূলত আশপাশের বিভিন্ন উৎস থেকে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে বসতিটি গড়ে তোলা হয়েছিল। লোকমান এফেন্দি জোর দিয়ে বলেন, অভিবাসন কর্তৃপক্ষের এই অভিযান হবে ব্যাপক এবং এ বিষয়ে কোনো আপস করা হবে না। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, “শুধু অবৈধ অভিবাসীই নয়, যারা তাদের নিয়োগ দিয়েছেন সেই নিয়োগকর্তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” আটককৃত সবার বিরুদ্ধে ১৯৫৯/৬৩ সালের অভিবাসন আইনের আওতায় অভিযোগ আনা হয়েছে। তাদের কাছে বৈধ কোনো পাস বা পারমিট ছিল না এবং অনেকের ভিসার মেয়াদও শেষ হয়ে গিয়েছিল। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে প্যারিসে শোক বই উন্মুক্ত অভিযানকালে কুয়ালালামপুর ফেডারেল টেরিটরি অভিবাসন বিভাগের পরিচালক ওয়ান মোহাম্মদ সাউপি ওয়ান ইউসুফ উপস্থিত ছিলেন। সূত্র : দ্য সান মালয়েশিয়া।

দেশে মোবাইল ফোন আমদানিতে ৬০ শতাংশ শুল্ক কমিয়েছে সরকার। সরকারের এ সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন দেশের মোবাইল ফোন উৎপাদক ও আমদানিকারকরা। এরই মধ্যে মোবাইল ফোনের দাম কমানোরও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আগামী মাসখানেকের মধ্যেই সব ধরনের মোবাইল ফোনের দাম কম-বেশি কমতে পারে। বাজারে এখন যেসব মোবাইল ফোনের দাম ৩০ হাজার টাকার বেশি সেগুলোতে সাড়ে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কমার আভাস রয়েছে। তবে এরচেয়ে কম দামের মোবাইল ফোনের দাম কমতে পারে মাত্র ১ শতাংশ! মোবাইল উৎপাদক ও আমদানিকারকদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্যই পাওয়া গেছে। ব্যবসায়ীদের প্রতিশ্রুতি পূরণে মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) মোবাইল ফোন আমদানিতে ৬০ শতাংশ শুল্ক কমিয়েছে সরকার। এতে আমদানি করা ৩০ হাজার টাকার বেশি দামের স্মার্টফোনের দাম সাড়ে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কমবে বলে প্রত্যাশা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। একই সঙ্গে দেশে সংযোজিত ৩০ হাজার টাকার বেশি দামের মোবাইল ফোনের দাম আনুমানিক দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত কমবে বলে প্রত্যাশা রাজস্ব আহরণকারী এ প্রতিষ্ঠানটির। গ্রাহক পর্যায়ে মোবাইল ফোনের দাম কমাতেই সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি মেনে মোবাইলের উৎপাদন ও আমদানি পর্যায়ে শুল্ক কমিয়ে মঙ্গলবার দুটি পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে এনবিআর। এতে মোবাইল আমদানিতে ৬০ শতাংশ শুল্ক কমেছে। দেশে অবৈধপথে আসা মোবাইল ফোনের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে সরকার সম্প্রতি ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। এতে মোবাইল দোকানি ও ব্যবসায়ীরা চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এ নিয়ে টেলিযোগাযোগ খাতের নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনে (বিটিআরসি) ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। হয় প্রতিবাদ-বিক্ষোভ। বিক্ষোভকারীদের দমাতে মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীদের গ্রেফতারও করে সরকার। মোবাইল ফোন আমদানিতে শুল্ক কমানোর দাবি ছিল বেশ কিছুদিন ধরেই। সরকারের পক্ষ থেকেও শুল্ক কমানোর আশ্বাস দেওয়া হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে পণ্যটির আমদানি শুল্ক কমিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। জানতে চাইলে মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এমআইওবি) সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সাইফুদ্দীন টিপু জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা আশা করি সামনে মোবাইল ফোনের দাম কিছুটা সহনীয় পর্যায়ে চলে আসবে। এখন পর্যন্ত যেসব মোবাইল বিক্রি করছি সেগুলো আগের শুল্ক বা ট্যাক্স দিয়ে আনা। নতুন করে যখন স্পেয়ার পার্টস আমদানি করবো অথবা এখন যেসব মোবাইল ফোন বৈধভাবে আমদানি করা হবে বাজারে গ্রাহক পর্যায়ে সেগুলোর দামে শুল্ক কমানোর প্রভাব পড়বে।’ কবে নাগাদ দাম কমবে—এমন প্রশ্নে এমআইওবির সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘দাম ঠিক কবে নাগাদ কমবে সেটি নির্দিষ্ট করে এখনই বলা যাবে না। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে আমরা দাম কমিয়ে আনার চেষ্টা করবো। সর্বোচ্চ এক মাসের মধ্যে দাম কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে।’ বাংলাদেশে অফিসিয়াল মোবাইল ফোন বিক্রি হয় ১ কোটির মতো। আনঅফিসিয়াল ২০ লাখের মতো। এরমধ্যে আমরা দেশে যে ১ কোটি মোবাইল উৎপাদন করি, সেখাকার ৯০ শতাংশেরই দাম ৩০ হাজারের কম—জিয়াউদ্দিন চৌধুরী স্যামসাং মোবাইল উৎপাদক ও দেশব্যাপী পরিবেশক এক্সেল টেলিকম প্রাইভেট লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ সাইফুদ্দীন টিপু বলেন, ‘সরকার ৬০ শতাংশ শুল্ক কমিয়েছে, আমরা যারা এখানে উৎপাদন ও সংযোজন করি এবং বৈধপথে আমদানি করি, আরও যৌক্তিক পর্যায়ে শুল্ক কমিয়ে আনার দাবি করেছিলাম। এনবিআর বলেছে, আগামী বাজেটে আরও শুল্ক কমানো হবে। আপাতত যেটুকু কমেছে এতে ভোক্তারা উপকৃত হবেন। তবে আরও কমানো হলে ভোক্তাদের জন্য আরও ভালো হতো।’ তিনি বলেন, ‘এনবিআর জানিয়েছে শুল্ক কমায় একটি মোবাইলের দাম যদি ৩০ হাজার টাকা হয়, তাহলে সেটার দাম ৫ হাজার টাকার মতো কমবে। আমরা মনে করছি, দাম এমনই কমবে। এনবিআরের এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই।’ ‘বিশ্বে মোমরি চিপ সংকটের কারণে মোবাইল ফোনের দাম বেড়েছে। ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও নেপালে দাম বেড়েছে। বাংলাদেশেও সে প্রভাব পড়েছে। আমরা এরই মধ্যে দাম এডজাস্ট করেছি, এখনো দাম পুনর্মূল্যায়ন করা হবে’—যোগ করেন সাইফুদ্দীন টিপু। জানতে চাইলে এমআইওবির কার্যকারী সদস্য ও শাওমি বাংলাদেশ-এর কান্ট্রি ম্যানেজার জিয়াউদ্দিন চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, ‘সরকার যেহেতু আমদানি শুল্ক কমিয়েছে, আমরা এখন দাম পুনর্নির্ধারণ করবো। এ প্রক্রিয়া শেষ হলে বলা যাবে দাম কতটুকু কমছে।’ তিনি বলেন, আমরা এরই মধ্যে প্রাইস স্ট্রাকচার করা শুরু করে দিয়েছি। তবে আমরা যেসব মোবাইল ফোন দেশে উৎপাদন করি, সেগুলোর দাম খুব বেশি কমবে না। আমদানি করা ফোন অর্থাৎ ৩০ হাজার টাকার ফোনে ৫ থেকে সাড়ে ৫ হাজার টাকার বেশি কমবে, এনবিআর এমনটিই জানিয়েছে। আমরা এখন সেখানেই থাকতে চাই।’ ‘আমরা যারা স্থানীয়ভাবে মোবাইল ফোন উৎপাদন করি, সেখানে এর প্রভাব খুব কম পড়বে। এখানে প্রভাব হবে ইনসিগনিফিকেন্ট। মানে দেশে উৎপাদিত ফোনের দাম ১ শতাংশেরও কম কমবে।’ অন্য এক প্রশ্নে জিয়াউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘গত নভেম্বর-ডিসেম্বর থেকেই বিশ্বে মোবাইল ফোনের দাম বেড়েছে। এটি হয়েছে এআই মেমোরি সংকটের কারণে। সে কারণে দেশে ফোনের দাম এডজাস্টমেন্ট করেছি। এখন যে ঘোষণা এসেছে সেখানে আমরা মূল্য পুনর্নির্ধারণ করবো।’ ‘বাংলাদেশে অফিসিয়াল মোবাইল ফোন বিক্রি হয় ১ কোটির মতো। আনঅফিসিয়াল ২০ লাখের মতো। এরমধ্যে আমরা দেশে যে ১ কোটি মোবাইল উৎপাদন করি, সেখাকার ৯০ শতাংশেরই দাম ৩০ হাজারের কম। এই সেগমেন্টে দাম কমার সম্ভাবনা খুবই কম। আমরা আগে সরাসরি মোবাইল আমদানি করিনি। যেহেতু শুল্ক কমেছে, এখন আমরাও দামি ফোনগুলো বিদেশ থেকে আমদানির চেষ্টা করবো’—বলেন শাওমি বাংলাদেশের এ কান্ট্রি ম্যানেজার। এ বিষয়ে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘সরকারের শুল্ক কমানোর এ উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী। এটি খুবই ভালো সিদ্ধান্ত। এর প্রভাবে মোবাইল ফোন গ্রাহকরা উপকৃত হবেন। তবে সরকার শুল্ক কমালেও ব্যবসায়ীরা অনেক সময় পণ্যের দাম দ্রুত কমায় না। কিন্তু ১ টাকা ট্যাক্স বাড়লে বাজারে ঠিকই তাৎক্ষণিক তার প্রভাব পড়ে।’ অনিবন্ধিত মোবাইল ফোন নিবন্ধনের সময় বাড়লো তিনি বলেন, ‘সরকার যেহেতু মোবাইল ফোন আমদানিতে শুল্ক কমিয়েছে, আমদানিকারক ও উৎপাদকদের উচিত হবে দ্রুত সময়ের মধ্যে ফোনের দাম কমানো। এটি যত দ্রুত করা যাবে গ্রাহকরা তত উপকৃত হবেন।’ শুল্ক কমানোর ফলে ৩০ হাজার টাকার বেশি মূল্যের প্রতিটি আমদানি করা মোবাইল ফোনের দাম আনুমানিক ৫ হাজার ৫০০ টাকা কমবে। আর ৩০ হাজার টাকার বেশি মূল্যের দেশে সংযোজিত প্রতিটি মোবাইল ফোনের দাম আনুমানিক দেড় হাজার টাকা কমবে—এনবিআর এদিকে, মোবাইল ফোনের দাম সাধারণ ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে আমদানিতে কাস্টমস ডিউটি ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে এনবিআর। এতে মোবাইল ফোন আমদানিতে প্রযোজ্য বিদ্যমান আমদানি শুল্ক ৬০ শতাংশ কমেছে। এনবিআর জানিয়েছে, কাস্টমস ডিউটি কমানোর কারণে মোবাইল ফোন সংযোজনকারী দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো যেন বিরূপ প্রতিযোগিতার মুখে না পড়ে, সে লক্ষ্যে মোবাইল ফোন সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক উপকরণ আমদানিতে কাস্টমস ডিউটি ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ ধার্য করা হয়েছে। এতে এ উপকরণ আমদানি শুল্ক ৫০ শতাংশ কমেছে। সংস্থাটি আরও জানায়, শুল্ক কমানোর ফলে ৩০ হাজার টাকার বেশি মূল্যের প্রতিটি আমদানি করা মোবাইল ফোনের দাম আনুমানিক ৫ হাজার ৫০০ টাকা কমবে। আর ৩০ হাজার টাকার বেশি মূল্যের দেশে সংযোজিত প্রতিটি মোবাইল ফোনের দাম আনুমানিক দেড় হাজার টাকা কমবে। মোবাইল ফোন আমদানি ও সংযোজন শিল্পের উপকরণ আমদানিতে সরকার উল্লেখযোগ্য হারে শুল্ক কমানোয় সব ধরনের মোবাইল ফোনের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকবে। এতে নাগরিকরা ডিজিটাল সেবাগ্রহণে সুবিধা পাবেন। সরকারের এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে—বলছে এনবিআর। দাম কমাতে দেশে উৎপাদিত ফোনের যন্ত্রাংশ ও আমদানি করা মোবাইল ফোনে গত ১ জানুয়ারি শুল্ক ছাড়ের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। ‘ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিফিকেশন রেজিস্টার’ বা এনইআইআর চালুর উদ্যোগ ঘিরে ব্যবসায়ীদের আন্দোলন ও দাবির মধ্যে ওইদিন উপদেষ্টা পরিষদের সভায় শুল্ক ছাড়ের এ সিদ্ধান্ত হয়। দেশে মোবাইল উৎপাদন, ম্যানুফেকচারিং ও আমদানির সঙ্গে জড়িত একটি গোষ্ঠীকে সুযোগ দিতেই সরকার এনইআইআর বাস্তবায়ন করছে। মূলত, একটি গোষ্ঠীকে সুযোগ দিতে কোম্পানিগুলোর অর্থায়নেই মোবাইল নিবন্ধনের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে সরকার—দাবি ব্যবসায়ীদের এদিকে, এনইআইআর বাস্তবায়নের ঘোষণায় নতুন বছরের শুরু থেকেই দেশের বাজারে মোবাইল ফোনের দাম বেড়েছে। যদিও মোবাইল কোম্পানিগুলোর দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে মেমোরি চিপ সংকটের কারণে বিশ্ববাজারেই ফোনের দাম বেড়েছে। যার প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারেও। এর সাথে এনইআইআর বাস্তবায়নের সম্পর্ক নেই। তবে আন্দোলনে থাকা মোবাইল ব্যবসায়ীদের দাবি, দেশে মোবাইল উৎপাদন, ম্যানুফেকচারিং ও আমদানির সঙ্গে জড়িত একটি গোষ্ঠীকে সুযোগ দিতেই সরকার এনইআইআর বাস্তবায়ন করছে। মূলত, একটি গোষ্ঠীকে সুযোগ দিতে কোম্পানিগুলোর অর্থায়নেই মোবাইল নিবন্ধনের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে সরকার। তবে বাংলাদেশ মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স এ্যাসোসিয়েশন (এমআইওবি) ও বিটিআরসি তথা সরকার এসব অভিযোগ নাকচ করে আসছে। এর মধ্যেই সরকার শুল্ক কমানোর যে ঘোষণা দিয়েছিল প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন করেছে এনবিআর। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন বছরের শুরুতে দাম না বাড়লে শুল্ক কমানোর প্রভাব গ্রাহক পর্যায়ে অনেক বেশি পড়ার সম্ভাবনা ছিল। তবে এখন দাম কমলেও ডিসেম্বরের তুলনায় বাজারে দাম খুব বেশি কমবে না।

নারী ফুটবল লিগে ঋতুপর্ণার রাজশাহী স্টারের জয় অব্যাহত রয়েছে। প্রথম দুই ম্যাচে তিনি গোল পাননি। তৃতীয় ম্যাচে জোড়া গোল করেছেন। আজ এক গোল করলেও জাতীয় নারী দলের তারকা ফুটবলার ম্যাচ সেরা হয়েছেন। আনসারকে ৮-০ গোলে হারিয়েছে রাজশাহী। রেশমির জোড়া গোলের পাশাপাশি ঋতুপর্ণা চাকমা, আলপি আক্তার, মুনকি আক্তার, শাহেদা আক্তার রিপা, পূজা ও সৌরভী আকন্দ প্রীতি একটি করে গোল করেন। রাজশাহী প্রথমার্ধে ৩-০ গোলে এগিয়ে ছিল। ৬৩ মিনিটে আলপির কাছ থেকে বল পেয়ে বক্সের বাইরে থেকে দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় বাঁ পায়ের শটে গোল করেন ঋতুপর্ণা। এই ম্যাচে রাজশাহীর অধিনায়কও ছিলেন ঋতুপর্ণা। আজ মঙ্গলবারও ছিল পাঁচ ম্যাচ। প্রত্যাশিত জয়ই পেয়েছে আর্মি, রাজশাহী ও ফরাশগঞ্জ। দিনের তৃতীয় ম্যাচে ফরাশগঞ্জ মোকাবিলা করে রংপুরের ক্লাব সদ্যপুস্করিনীকে। এই ম্যাচে শামসুন্নাহারের হ্যাটট্রিকে ৭-০ গোলের জয় পেয়েছে পুরান ঢাকার ক্লাবটি। ম্যাচে ৪ গোল করেন ছোট শামসুন্নাহার। একটি করে গোলের দেখা পান নেপালের পূজা রানা, শামসুন্নাহার সিনিয়র, অনামিকা ত্রিপুরা। এর আগে ঢাকা রেঞ্জার্সকে ৭-০ গোলে হারায় বাংলাদেশ আর্মি। উন্নতি খাতুন করেন ৪ গোল। জোড়া গোল পেয়েছেন জয়নব বিবি রিতা। অন্য গোলটি আসে মোসাম্মৎ সুলতানার পা থেকে। দিনের প্রথম ম্যাচে কাচারিপাড়া একাদশের বিপক্ষে নাসরিনের ৯-১ জেতা ম্যাচে পপি রানী করেন ৫ গোল। হ্যাটট্রিক করেছেন আসমা থাতুন। অন্য গোলটি মোসাম্মৎ সোমা আক্তারের। কাচারিপাড়ার হয়ে এক গোল শোধ দেন সোহেলী শারমিন। দিনের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিকেএসপিকে আইরিন আক্তারের একমাত্র গোলে হারায় বাংলাদেশ পুলিশ ফুটবল ক্লাব।

নোয়াখালীর হাতিয়াতে কোস্ট গার্ডের বিশেষ অভিযানে একটি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র ও দুই রাউন্ড তাজা কার্তুজসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, উপজেলার দক্ষিণ সুল্লুকিয়া গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে রুবেল উদ্দিন (২৪) ও হামদ উল্লাহ গ্রামের আকবর হোসেনের ছেলে মামুন উদ্দিন (২৪)। বুধবার (১৪ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেলে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে, গতকাল মঙ্গলবার রাতে উপজেলার ক্ষিরোদিয়া বলির ব্রিজ সংলগ্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল মঙ্গলবার রাত ৯টায় হাতিয়া কোস্ট গার্ড স্টেশনের একদল সদস্য উপজেলার ক্ষিরোদিয়া বলির ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় “অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২”-এর আওতায় বিশেষ অভিযান চালায়। অভিযানে ১টি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র ও ২ রাউন্ড তাজা কার্তুজসহ ২জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা বিভিন্ন নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এলাকায় জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে আসছিল। জব্দকৃত আলামতসহ গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য হাতিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত স্মারক আসল ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি আজ বাংলাদেশে এসেছে। ‘ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ ট্রফি ট্যুর’-এর অংশ হিসেবে এই আয়োজন ফুটবল ভক্তদের ট্রফিটি কাছ থেকে দেখার সুযোগ করে দিচ্ছে। এর আগে ২০০২, ২০১৩ এবং ২০২২ সালে ট্রফিটি বাংলাদেশে এসেছিল। চলতি সফরটি ৩ জানুয়ারি সৌদি আরব থেকে শুরু হয়েছে এবং ভারত হয়ে বাংলাদেশে পৌঁছাল। ১৫০ দিনের এই যাত্রা শেষ হবে মেক্সিকোতে, যেখানে ১২ জুন বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। ৩০টি দেশের ৭৫টি ভেন্যুতে এই ট্রফি প্রদর্শন করা হবে। বাংলাদেশ ছেড়ে পরবর্তী সফরে ট্রফি যাবে দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, কাজাখস্তান এবং উজবেকিস্তানে। তারপর আফ্রিকার দক্ষিণ আফ্রিকা, আইভরি কোস্ট, মরক্কো এবং আলজেরিয়ায় সফর করবে। এরপর ইউরোপের পর্তুগাল, স্পেন ও ফ্রান্স হয়ে চূড়ান্ত গন্তব্য উত্তর আমেরিকায়। সবশেষে ট্রফিটি বিশ্বকাপের তিন আয়োজক দেশ মেক্সিকো, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডায় পৌঁছানোর মাধ্যমে তার যাত্রা শেষ করবে। মাঝেমধ্যে প্রশ্ন ওঠে, ট্যুরে কি আসল ট্রফি থাকে? ফিফা নিশ্চিত করেছে যে প্রদর্শিত ট্রফিটি আসল এবং এটি নিখাদ সোনা দিয়ে তৈরি, যার ওজন ৬.১৭৫ কেজি। আর বিজয়ী দল উদযাপনের সময় আসল ট্রফি নিয়ে উদযাপন করলেও তাদেরকে স্থায়ীভাবে দেওয়া হয় সোনার প্রলেপ দেওয়া রেপ্লিকা ট্রফি। এবারের সফরে ট্রফির সঙ্গে আছেন ব্রাজিলের ২০০২ বিশ্বকাপজয়ী মিডফিল্ডার গিলবার্টো সিলভা। ২০২২ সালের ট্রফি ট্যুরে ফ্রান্সের বিশ্বকাপ জয়ী ক্রিস্টিয়ান কারেম্বেউ ছিলেন বাংলাদেশে। প্রদর্শনী ও দেখার নিয়মাবলী বাংলাদেশে ট্রফিটি শুধুমাত্র ঢাকার রেডিসন ব্লু হোটেলে প্রদর্শন করা হবে। তবে সবাই এটি দেখার সুযোগ পাবেন না। কোকা-কোলার ‘আন্ডার দ্য ক্যাপ’ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে নির্বাচিত বিজয়ীরাই কেবল এটি দেখার এবং ছবি তোলার সুযোগ পাবেন। ট্রফি দেখার যত নিয়ম অবশ্যই টিকিটের একটি বৈধ কপি সাথে রাখতে হবে। ট্রফি স্পর্শ করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। অনুমোদিত আকারের চেয়ে বড় ব্যাকপ্যাক বহন করা, ধূমপান করা এবং টিকিট অন্য কারো কাছে হস্তান্তর করা যাবে না। ধারালো বা অন্য কোনো নিষিদ্ধ বস্তু বহন করা সম্পূর্ণ নিষেধ। এছাড়া, প্রদর্শনী এলাকার ভেতরে কোনো দেশ বা ফুটবল দলের পতাকা নিয়ে প্রবেশের অনুমতি নেই। আজ সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ট্রফিটিকে স্বাগত জানানো হয় এবং দুপুর ১টার পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এটি রেডিসন ব্লু হোটেলে প্রদর্শিত হবে।

মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ অভিযান চালিয়ে বাংলাদেশিসহ ১৫০ জন বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে। অভিযানের সময় গ্রেপ্তার এড়াতে প্রবাসীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও মরিয়া ভাব লক্ষ্য করা গেছে। ‘অপারেশন কুটিপ’ নামে এই অভিযান চলাকালে গ্রেপ্তার এড়াতে কেউ কেউ ওপর তলা থেকে দা ছুড়ে মারেন, কেউ ছাদের ওপর উঠে পড়েন, আবার কাউকে পানির ট্যাঙ্কের ভেতর লুকিয়ে থাকতে দেখা যায়। কর্তৃপক্ষ জানায়, সেলায়াং এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্ট ব্লক এবং জালান ক্লাং লামার একটি অবৈধ বসতিতে এই অভিযান চালানো হয়। মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের উপ-মহাপরিচালক (অপারেশন) লোকমান এফেন্দি রামলি জানান, দুই সপ্তাহের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সেলায়াং এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “অভিযানে মোট ৩২৬ জনের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। এর মধ্যে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ৭৯ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে।” সেলায়াং থেকে আটক হওয়া এই ৭৯ জনের মধ্যে বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, নেপাল, ভারত, পাকিস্তান ও মিয়ানমারের নাগরিক রয়েছেন। তাদের বয়স ১৭ থেকে ৫৫ বছরের মধ্যে। যাদের আটক করা হয়েছে তারা মূলত সিকিউরিটি গার্ড, ফুড স্টল সহকারী, লন্ড্রি কর্মী, কনভিনিয়েন্স স্টোর বা মুদি দোকানের কর্মচারী এবং নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। লোকমান এফেন্দি জানান, পরিদর্শনে দেখা গেছে প্রবাসীরা অত্যন্ত ঘিঞ্জি পরিবেশে বসবাস করছেন। সাধারণত তিন কক্ষের একটি ফ্ল্যাট প্রায় ৬০০ রিঙ্গিতে ভাড়া নিয়ে সেখানে পাঁচ থেকে ছয়জন গাদাগাদি করে থাকছিলেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এমন অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার ফলে দুর্গন্ধ ও পরিবেশ দূষণসহ নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং সামাজিক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। এক সপ্তাহের গোয়েন্দা নজরদারির পর জালান ক্লাং লামার একটি অবৈধ বসতিতে দ্বিতীয় অভিযানটি চালানো হয়। সেখান থেকে মোট ৭১ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে। আটককৃতদের মধ্যে ৬৬ জন ইন্দোনেশিয়ান, ৩ জন মিয়ানমারের নাগরিক এবং ভারত ও পাকিস্তানের একজন করে নাগরিক রয়েছেন। বার্নামার এক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ওই বসতিতে মৌলিক সুযোগ-সুবিধা থাকলেও বাসিন্দারা অনানুষ্ঠানিকভাবে জায়গা ভাড়া নিয়ে বসবাস করছিলেন। এমনকি তারা প্রকৃত বাড়ির মালিক কে, সে সম্পর্কেও কিছুই জানতেন না। ওই এলাকায় কোনো বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ছিল না। মূলত আশপাশের বিভিন্ন উৎস থেকে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে বসতিটি গড়ে তোলা হয়েছিল। লোকমান এফেন্দি জোর দিয়ে বলেন, অভিবাসন কর্তৃপক্ষের এই অভিযান হবে ব্যাপক এবং এ বিষয়ে কোনো আপস করা হবে না। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, “শুধু অবৈধ অভিবাসীই নয়, যারা তাদের নিয়োগ দিয়েছেন সেই নিয়োগকর্তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” আটককৃত সবার বিরুদ্ধে ১৯৫৯/৬৩ সালের অভিবাসন আইনের আওতায় অভিযোগ আনা হয়েছে। তাদের কাছে বৈধ কোনো পাস বা পারমিট ছিল না এবং অনেকের ভিসার মেয়াদও শেষ হয়ে গিয়েছিল। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে প্যারিসে শোক বই উন্মুক্ত অভিযানকালে কুয়ালালামপুর ফেডারেল টেরিটরি অভিবাসন বিভাগের পরিচালক ওয়ান মোহাম্মদ সাউপি ওয়ান ইউসুফ উপস্থিত ছিলেন। সূত্র : দ্য সান মালয়েশিয়া।

দেশে মোবাইল ফোন আমদানিতে ৬০ শতাংশ শুল্ক কমিয়েছে সরকার। সরকারের এ সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন দেশের মোবাইল ফোন উৎপাদক ও আমদানিকারকরা। এরই মধ্যে মোবাইল ফোনের দাম কমানোরও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আগামী মাসখানেকের মধ্যেই সব ধরনের মোবাইল ফোনের দাম কম-বেশি কমতে পারে। বাজারে এখন যেসব মোবাইল ফোনের দাম ৩০ হাজার টাকার বেশি সেগুলোতে সাড়ে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কমার আভাস রয়েছে। তবে এরচেয়ে কম দামের মোবাইল ফোনের দাম কমতে পারে মাত্র ১ শতাংশ! মোবাইল উৎপাদক ও আমদানিকারকদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্যই পাওয়া গেছে। ব্যবসায়ীদের প্রতিশ্রুতি পূরণে মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) মোবাইল ফোন আমদানিতে ৬০ শতাংশ শুল্ক কমিয়েছে সরকার। এতে আমদানি করা ৩০ হাজার টাকার বেশি দামের স্মার্টফোনের দাম সাড়ে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কমবে বলে প্রত্যাশা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। একই সঙ্গে দেশে সংযোজিত ৩০ হাজার টাকার বেশি দামের মোবাইল ফোনের দাম আনুমানিক দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত কমবে বলে প্রত্যাশা রাজস্ব আহরণকারী এ প্রতিষ্ঠানটির। গ্রাহক পর্যায়ে মোবাইল ফোনের দাম কমাতেই সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি মেনে মোবাইলের উৎপাদন ও আমদানি পর্যায়ে শুল্ক কমিয়ে মঙ্গলবার দুটি পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে এনবিআর। এতে মোবাইল আমদানিতে ৬০ শতাংশ শুল্ক কমেছে। দেশে অবৈধপথে আসা মোবাইল ফোনের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে সরকার সম্প্রতি ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। এতে মোবাইল দোকানি ও ব্যবসায়ীরা চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এ নিয়ে টেলিযোগাযোগ খাতের নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনে (বিটিআরসি) ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। হয় প্রতিবাদ-বিক্ষোভ। বিক্ষোভকারীদের দমাতে মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীদের গ্রেফতারও করে সরকার। মোবাইল ফোন আমদানিতে শুল্ক কমানোর দাবি ছিল বেশ কিছুদিন ধরেই। সরকারের পক্ষ থেকেও শুল্ক কমানোর আশ্বাস দেওয়া হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে পণ্যটির আমদানি শুল্ক কমিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। জানতে চাইলে মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এমআইওবি) সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সাইফুদ্দীন টিপু জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা আশা করি সামনে মোবাইল ফোনের দাম কিছুটা সহনীয় পর্যায়ে চলে আসবে। এখন পর্যন্ত যেসব মোবাইল বিক্রি করছি সেগুলো আগের শুল্ক বা ট্যাক্স দিয়ে আনা। নতুন করে যখন স্পেয়ার পার্টস আমদানি করবো অথবা এখন যেসব মোবাইল ফোন বৈধভাবে আমদানি করা হবে বাজারে গ্রাহক পর্যায়ে সেগুলোর দামে শুল্ক কমানোর প্রভাব পড়বে।’ কবে নাগাদ দাম কমবে—এমন প্রশ্নে এমআইওবির সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘দাম ঠিক কবে নাগাদ কমবে সেটি নির্দিষ্ট করে এখনই বলা যাবে না। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে আমরা দাম কমিয়ে আনার চেষ্টা করবো। সর্বোচ্চ এক মাসের মধ্যে দাম কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে।’ বাংলাদেশে অফিসিয়াল মোবাইল ফোন বিক্রি হয় ১ কোটির মতো। আনঅফিসিয়াল ২০ লাখের মতো। এরমধ্যে আমরা দেশে যে ১ কোটি মোবাইল উৎপাদন করি, সেখাকার ৯০ শতাংশেরই দাম ৩০ হাজারের কম—জিয়াউদ্দিন চৌধুরী স্যামসাং মোবাইল উৎপাদক ও দেশব্যাপী পরিবেশক এক্সেল টেলিকম প্রাইভেট লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ সাইফুদ্দীন টিপু বলেন, ‘সরকার ৬০ শতাংশ শুল্ক কমিয়েছে, আমরা যারা এখানে উৎপাদন ও সংযোজন করি এবং বৈধপথে আমদানি করি, আরও যৌক্তিক পর্যায়ে শুল্ক কমিয়ে আনার দাবি করেছিলাম। এনবিআর বলেছে, আগামী বাজেটে আরও শুল্ক কমানো হবে। আপাতত যেটুকু কমেছে এতে ভোক্তারা উপকৃত হবেন। তবে আরও কমানো হলে ভোক্তাদের জন্য আরও ভালো হতো।’ তিনি বলেন, ‘এনবিআর জানিয়েছে শুল্ক কমায় একটি মোবাইলের দাম যদি ৩০ হাজার টাকা হয়, তাহলে সেটার দাম ৫ হাজার টাকার মতো কমবে। আমরা মনে করছি, দাম এমনই কমবে। এনবিআরের এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই।’ ‘বিশ্বে মোমরি চিপ সংকটের কারণে মোবাইল ফোনের দাম বেড়েছে। ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও নেপালে দাম বেড়েছে। বাংলাদেশেও সে প্রভাব পড়েছে। আমরা এরই মধ্যে দাম এডজাস্ট করেছি, এখনো দাম পুনর্মূল্যায়ন করা হবে’—যোগ করেন সাইফুদ্দীন টিপু। জানতে চাইলে এমআইওবির কার্যকারী সদস্য ও শাওমি বাংলাদেশ-এর কান্ট্রি ম্যানেজার জিয়াউদ্দিন চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, ‘সরকার যেহেতু আমদানি শুল্ক কমিয়েছে, আমরা এখন দাম পুনর্নির্ধারণ করবো। এ প্রক্রিয়া শেষ হলে বলা যাবে দাম কতটুকু কমছে।’ তিনি বলেন, আমরা এরই মধ্যে প্রাইস স্ট্রাকচার করা শুরু করে দিয়েছি। তবে আমরা যেসব মোবাইল ফোন দেশে উৎপাদন করি, সেগুলোর দাম খুব বেশি কমবে না। আমদানি করা ফোন অর্থাৎ ৩০ হাজার টাকার ফোনে ৫ থেকে সাড়ে ৫ হাজার টাকার বেশি কমবে, এনবিআর এমনটিই জানিয়েছে। আমরা এখন সেখানেই থাকতে চাই।’ ‘আমরা যারা স্থানীয়ভাবে মোবাইল ফোন উৎপাদন করি, সেখানে এর প্রভাব খুব কম পড়বে। এখানে প্রভাব হবে ইনসিগনিফিকেন্ট। মানে দেশে উৎপাদিত ফোনের দাম ১ শতাংশেরও কম কমবে।’ অন্য এক প্রশ্নে জিয়াউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘গত নভেম্বর-ডিসেম্বর থেকেই বিশ্বে মোবাইল ফোনের দাম বেড়েছে। এটি হয়েছে এআই মেমোরি সংকটের কারণে। সে কারণে দেশে ফোনের দাম এডজাস্টমেন্ট করেছি। এখন যে ঘোষণা এসেছে সেখানে আমরা মূল্য পুনর্নির্ধারণ করবো।’ ‘বাংলাদেশে অফিসিয়াল মোবাইল ফোন বিক্রি হয় ১ কোটির মতো। আনঅফিসিয়াল ২০ লাখের মতো। এরমধ্যে আমরা দেশে যে ১ কোটি মোবাইল উৎপাদন করি, সেখাকার ৯০ শতাংশেরই দাম ৩০ হাজারের কম। এই সেগমেন্টে দাম কমার সম্ভাবনা খুবই কম। আমরা আগে সরাসরি মোবাইল আমদানি করিনি। যেহেতু শুল্ক কমেছে, এখন আমরাও দামি ফোনগুলো বিদেশ থেকে আমদানির চেষ্টা করবো’—বলেন শাওমি বাংলাদেশের এ কান্ট্রি ম্যানেজার। এ বিষয়ে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘সরকারের শুল্ক কমানোর এ উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী। এটি খুবই ভালো সিদ্ধান্ত। এর প্রভাবে মোবাইল ফোন গ্রাহকরা উপকৃত হবেন। তবে সরকার শুল্ক কমালেও ব্যবসায়ীরা অনেক সময় পণ্যের দাম দ্রুত কমায় না। কিন্তু ১ টাকা ট্যাক্স বাড়লে বাজারে ঠিকই তাৎক্ষণিক তার প্রভাব পড়ে।’ অনিবন্ধিত মোবাইল ফোন নিবন্ধনের সময় বাড়লো তিনি বলেন, ‘সরকার যেহেতু মোবাইল ফোন আমদানিতে শুল্ক কমিয়েছে, আমদানিকারক ও উৎপাদকদের উচিত হবে দ্রুত সময়ের মধ্যে ফোনের দাম কমানো। এটি যত দ্রুত করা যাবে গ্রাহকরা তত উপকৃত হবেন।’ শুল্ক কমানোর ফলে ৩০ হাজার টাকার বেশি মূল্যের প্রতিটি আমদানি করা মোবাইল ফোনের দাম আনুমানিক ৫ হাজার ৫০০ টাকা কমবে। আর ৩০ হাজার টাকার বেশি মূল্যের দেশে সংযোজিত প্রতিটি মোবাইল ফোনের দাম আনুমানিক দেড় হাজার টাকা কমবে—এনবিআর এদিকে, মোবাইল ফোনের দাম সাধারণ ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে আমদানিতে কাস্টমস ডিউটি ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে এনবিআর। এতে মোবাইল ফোন আমদানিতে প্রযোজ্য বিদ্যমান আমদানি শুল্ক ৬০ শতাংশ কমেছে। এনবিআর জানিয়েছে, কাস্টমস ডিউটি কমানোর কারণে মোবাইল ফোন সংযোজনকারী দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো যেন বিরূপ প্রতিযোগিতার মুখে না পড়ে, সে লক্ষ্যে মোবাইল ফোন সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক উপকরণ আমদানিতে কাস্টমস ডিউটি ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ ধার্য করা হয়েছে। এতে এ উপকরণ আমদানি শুল্ক ৫০ শতাংশ কমেছে। সংস্থাটি আরও জানায়, শুল্ক কমানোর ফলে ৩০ হাজার টাকার বেশি মূল্যের প্রতিটি আমদানি করা মোবাইল ফোনের দাম আনুমানিক ৫ হাজার ৫০০ টাকা কমবে। আর ৩০ হাজার টাকার বেশি মূল্যের দেশে সংযোজিত প্রতিটি মোবাইল ফোনের দাম আনুমানিক দেড় হাজার টাকা কমবে। মোবাইল ফোন আমদানি ও সংযোজন শিল্পের উপকরণ আমদানিতে সরকার উল্লেখযোগ্য হারে শুল্ক কমানোয় সব ধরনের মোবাইল ফোনের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকবে। এতে নাগরিকরা ডিজিটাল সেবাগ্রহণে সুবিধা পাবেন। সরকারের এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে—বলছে এনবিআর। দাম কমাতে দেশে উৎপাদিত ফোনের যন্ত্রাংশ ও আমদানি করা মোবাইল ফোনে গত ১ জানুয়ারি শুল্ক ছাড়ের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। ‘ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিফিকেশন রেজিস্টার’ বা এনইআইআর চালুর উদ্যোগ ঘিরে ব্যবসায়ীদের আন্দোলন ও দাবির মধ্যে ওইদিন উপদেষ্টা পরিষদের সভায় শুল্ক ছাড়ের এ সিদ্ধান্ত হয়। দেশে মোবাইল উৎপাদন, ম্যানুফেকচারিং ও আমদানির সঙ্গে জড়িত একটি গোষ্ঠীকে সুযোগ দিতেই সরকার এনইআইআর বাস্তবায়ন করছে। মূলত, একটি গোষ্ঠীকে সুযোগ দিতে কোম্পানিগুলোর অর্থায়নেই মোবাইল নিবন্ধনের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে সরকার—দাবি ব্যবসায়ীদের এদিকে, এনইআইআর বাস্তবায়নের ঘোষণায় নতুন বছরের শুরু থেকেই দেশের বাজারে মোবাইল ফোনের দাম বেড়েছে। যদিও মোবাইল কোম্পানিগুলোর দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে মেমোরি চিপ সংকটের কারণে বিশ্ববাজারেই ফোনের দাম বেড়েছে। যার প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারেও। এর সাথে এনইআইআর বাস্তবায়নের সম্পর্ক নেই। তবে আন্দোলনে থাকা মোবাইল ব্যবসায়ীদের দাবি, দেশে মোবাইল উৎপাদন, ম্যানুফেকচারিং ও আমদানির সঙ্গে জড়িত একটি গোষ্ঠীকে সুযোগ দিতেই সরকার এনইআইআর বাস্তবায়ন করছে। মূলত, একটি গোষ্ঠীকে সুযোগ দিতে কোম্পানিগুলোর অর্থায়নেই মোবাইল নিবন্ধনের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে সরকার। তবে বাংলাদেশ মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স এ্যাসোসিয়েশন (এমআইওবি) ও বিটিআরসি তথা সরকার এসব অভিযোগ নাকচ করে আসছে। এর মধ্যেই সরকার শুল্ক কমানোর যে ঘোষণা দিয়েছিল প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন করেছে এনবিআর। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন বছরের শুরুতে দাম না বাড়লে শুল্ক কমানোর প্রভাব গ্রাহক পর্যায়ে অনেক বেশি পড়ার সম্ভাবনা ছিল। তবে এখন দাম কমলেও ডিসেম্বরের তুলনায় বাজারে দাম খুব বেশি কমবে না।

নারী ফুটবল লিগে ঋতুপর্ণার রাজশাহী স্টারের জয় অব্যাহত রয়েছে। প্রথম দুই ম্যাচে তিনি গোল পাননি। তৃতীয় ম্যাচে জোড়া গোল করেছেন। আজ এক গোল করলেও জাতীয় নারী দলের তারকা ফুটবলার ম্যাচ সেরা হয়েছেন। আনসারকে ৮-০ গোলে হারিয়েছে রাজশাহী। রেশমির জোড়া গোলের পাশাপাশি ঋতুপর্ণা চাকমা, আলপি আক্তার, মুনকি আক্তার, শাহেদা আক্তার রিপা, পূজা ও সৌরভী আকন্দ প্রীতি একটি করে গোল করেন। রাজশাহী প্রথমার্ধে ৩-০ গোলে এগিয়ে ছিল। ৬৩ মিনিটে আলপির কাছ থেকে বল পেয়ে বক্সের বাইরে থেকে দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় বাঁ পায়ের শটে গোল করেন ঋতুপর্ণা। এই ম্যাচে রাজশাহীর অধিনায়কও ছিলেন ঋতুপর্ণা। আজ মঙ্গলবারও ছিল পাঁচ ম্যাচ। প্রত্যাশিত জয়ই পেয়েছে আর্মি, রাজশাহী ও ফরাশগঞ্জ। দিনের তৃতীয় ম্যাচে ফরাশগঞ্জ মোকাবিলা করে রংপুরের ক্লাব সদ্যপুস্করিনীকে। এই ম্যাচে শামসুন্নাহারের হ্যাটট্রিকে ৭-০ গোলের জয় পেয়েছে পুরান ঢাকার ক্লাবটি। ম্যাচে ৪ গোল করেন ছোট শামসুন্নাহার। একটি করে গোলের দেখা পান নেপালের পূজা রানা, শামসুন্নাহার সিনিয়র, অনামিকা ত্রিপুরা। এর আগে ঢাকা রেঞ্জার্সকে ৭-০ গোলে হারায় বাংলাদেশ আর্মি। উন্নতি খাতুন করেন ৪ গোল। জোড়া গোল পেয়েছেন জয়নব বিবি রিতা। অন্য গোলটি আসে মোসাম্মৎ সুলতানার পা থেকে। দিনের প্রথম ম্যাচে কাচারিপাড়া একাদশের বিপক্ষে নাসরিনের ৯-১ জেতা ম্যাচে পপি রানী করেন ৫ গোল। হ্যাটট্রিক করেছেন আসমা থাতুন। অন্য গোলটি মোসাম্মৎ সোমা আক্তারের। কাচারিপাড়ার হয়ে এক গোল শোধ দেন সোহেলী শারমিন। দিনের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিকেএসপিকে আইরিন আক্তারের একমাত্র গোলে হারায় বাংলাদেশ পুলিশ ফুটবল ক্লাব।

পাসপোর্টের র্যাংকিং বিশ্বের সপ্তম দুর্বল অবস্থানে বাংলাদেশ। হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্সের ২০২৬ সালের জানুয়ারির হালনাগাদ তথ্যে এমন অবস্থান দেখা গেছে। এ ছাড়াও দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে পঞ্চম দুর্বল হিসেবে স্থান পেয়েছে বাংলাদেশের পাসপোর্ট। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) হেনলি অ্যান্ড পার্টনারস তাদের সর্বশেষ পাসপোর্ট ইনডেক্স প্রকাশ করেছে। পাসপোর্ট ইনডেক্সের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা এখন বিশ্বের ৩৭টি দেশে ভিসা ছাড়া ভ্রমণ করতে পারেন। তালিকায় মোট ১০১টি অবস্থানের মধ্যে বাংলাদেশের পাসপোর্ট ৯৫তম স্থানে রয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের জানুয়ারি সংস্করণে ১০৬টি অবস্থানের মধ্যে বাংলাদেশ ১০০তম স্থানে ছিল। এই ইনডেক্স বৈশ্বিক ভিসামুক্ত ভ্রমণের সুযোগের ভিত্তিতে র্যাংকিং তৈরি করা হয়। পাসপোর্ট র্যাংকিংয়ে এবারও এককভাবে শীর্ষে রয়েছে সিঙ্গাপুর। দেশটির পাসপোর্টধারীরা বিশ্বের ১৯২টি দেশে ভিসা ছাড়া প্রবেশ করতে পারেন। র্যাংকিংয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া। এসব দেশের পাসপোর্টধারীরা বিশ্বের ১৮৮টি দেশে ভিসা ছাড়া প্রবেশ করতে পারেন। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে পাঁচটি দেশ– ডেনমার্ক, লুক্সেমবার্গ, স্পেন, সুইডেন ও সুইজারল্যান্ড। এসব দেশের পাসপোর্টধারীরা বিশ্বের ১৮৬টি দেশে ভিসা ছাড়া প্রবেশ করতে পারেন। চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, গ্রিস, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, নেদারল্যান্ড ও নরওয়ে। এসব দেশের পাসপোর্টধারীরা বিশ্বের ১৮৫টি দেশে ভিসা ছাড়া প্রবেশ করতে পারেন। পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে হাঙ্গেরি, পর্তুগাল, স্লোভাকিয়া, স্লোভেনিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। এসব দেশের পাসপোর্টধারীরা বিশ্বের ১৮৪টি দেশে ভিসা ছাড়া প্রবেশ করতে পারেন। পাসপোর্ট ইনডেক্সের একেবারে তলানিতে রয়েছে পাকিস্তান (৯৮তম), ইয়েমেন (৯৮তম), ইরাক (৯৯তম), সিরিয়া (১০০তম) ও আফগানিস্তান (১০১তম)। এসব দেশের নাগরিকরা যথাক্রমে ৩১, ২৯, ২৬ ও ২৪টি গন্তব্যে ভিসা ছাড়া ভ্রমণ করতে পারেন। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে মালদ্বীপের পাসপোর্ট। দেশটি রয়েছে ৫২তম স্থানে। মালদ্বীপের নাগরিকরা ভিসা ছাড়াই ৯২টি গন্তব্যে ভ্রমণ করতে পারেন। হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্সে ১৯৯টি পাসপোর্ট ও ২২৭টি গন্তব্য বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে

নোয়াখালী সদরে ডাকাতিকালে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় করা মামলার অন্যতম আসামি ইউসুফ ওরফে রুবেলকে (৩৭) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। ঘটনার এক বছর পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেলে নোয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। এর আগে সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাতে তথ্য প্রযুক্তি ও র্যাব-৭ পতেঙ্গার সহযোগিতায় আসামি ইউসুফ ওরফে রুবেলকে সুধারাম থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ইউসুফ প্রকাশ রুবেল লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলার চরগাজী ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের চরলক্ষ্মী গ্রামের আবদুল হালিমের ছেলে। মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১১ জানুয়ারি রাতে নোয়াখালীর সদরের কালাদরাপ ইউনিয়নে ডাকাতিকালে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে রামগতির ইউসুফ প্রকাশ রুবেলকে শনাক্ত করে র্যাব। র্যাব-১১ (সিপিসি-৩) নোয়াখালী কার্যালয়ের কোম্পানি কামান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মুহিত কবীর সেরনিয়াবাত বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আসামি ইউসুফ ওরফে রুবেলকে আদালতে পাঠালে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তারপর তাকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অপরাধ দমনে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে

রোববার (১১ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলার চরমটুয়া ইউনিয়নের খলিশাটোলা এলাকার লোকমানের চা দোকানের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত মো. মুরাদ চরমটুয়া ইউনিয়নের কালা মিয়া সেরাং বাড়ির নুরুল আলম কন্ট্রাক্টরের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চাঁদাবাজি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার বিকেল ৩টা ১০ মিনিটে সুধারাম থানাধীন ১নং চরমটুয়া ইউনিয়নের খলিশাটোলা এলাকার লোকমানের চা দোকানের সামনে থেকে মো. মুরাদকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কোমরের পেছনে প্যান্টের বেল্টে গোঁজানো অবস্থায় একটি বিদেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি ভর্তি একটি ম্যাগজিন উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গ্রেপ্তারকৃত মুরাদ এর আগেও অস্ত্র প্রদর্শন করে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল। তার গ্রেপ্তারে এলাকাবাসী স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, মো. মুরাদের বিরুদ্ধে সুধারাম মডেল থানায় আগেও একাধিক মামলা রয়েছে। সর্বশেষ ঘটনায় এসআই মো. মুক্তার হোসেন ভূঁইয়া বাদী হয়ে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করলে থানায় মামলা নং-১২/২০২৬ রুজু হয়। তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তারের পর আসামিকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি নিজের দোষ স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেন। অপরাধ দমনে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

নোয়াখালী-৪ (সদর-সূবর্ণচর) আসনে বিএনপির প্রার্থী দলের ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহানের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে অ্যাকাউন্ট খুলে টাকা চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (১২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় এ ঘটনায় সুধারাম মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন মোহাম্মদ শাহজাহান। এতে তিনি উল্লেখ করেন, আমার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর হ্যাক করে হোয়াটসঅ্যাপ খুলে বিভিন্ন জনকে মেসেজে টাকা দাবি করা হচ্ছে। প্রতারকরা ভিন্ন একটি বিকাশ নম্বর দিয়ে টাকা পাঠাতে বলছে। এছাড়া একটি অপরিচিত নম্বর থেকে আমাকে মোবাইল বন্ধ রাখতে নির্দেশ দিচ্ছে। অন্যথায় আমার অপূরণীয় ক্ষতি হবে বলা হচ্ছে। মোহাম্মদ শাহজাহানের মিডিয়া সেলের সদস্য জহির মাহবুব বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, প্রতারকচক্র বিএনপি প্রার্থীর নম্বর হুবহু ব্যবহার করে রাজশাহীর বাঘা উপজেলা থেকে টাকা দাবি করছে। এ ব্যাপারে থানায় সাধারণ ডায়েরি করে আইনগত সহায়তা চাওয়া হয়েছে। মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, এ বিষয়ে বিভ্রান্ত না হওয়া অনুরোধ জানাচ্ছি। প্রতারক চক্রের সঙ্গে কেউ যাতে টাকা লেনদেন না করে এজন্য সবাই সতর্ক থাকবেন। পারলে এ ব্যাপারে তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করবেন। সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ শাহজাহানের অভিযোগ পেয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। এ ব্যাপারে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বড় ভাই আবু বক্কর ছিদ্দিককে (৬৬) কুপিয়ে হত্যার দায়ে ছোট ভাই হারুনুর রশিদকে (৫৫) গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। সোমবার (১২ জানুয়ারি) র্যাব-১১ (সিপিসি-৩) নোয়াখালী কার্যালয়ের কোম্পানি কামান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মুহিত কবীর সেরনিয়াবাত বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, রোববার (১১ জানুয়ারি) রাতে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আসামি হারুনুর রশিদকে ফেনী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের শহীদ সেলিনা পারভীন সড়কে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে বেগমগঞ্জ থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। গ্রেফতার হারুনুর রশিদ বেগমগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের তুলাচারা গ্রামের মৃত ছেলামত উল্যাহর ছেলে। মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ ডিসেম্বর (মঙ্গলবার) সকালে জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে বড় ভাই আবু বক্কর ছিদ্দিককে কুপিয়ে জখম করে ছোট ভাই হারুনুর রশিদ। আহত আবু বক্করকে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ওইদিন রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি সেখানে মারা যান। পরে নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে হারুনুর রশিদকের প্রধান আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সামছুজ্জামান বলেন, আসামি হারুনুর রশিদকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে হঠাৎ করেই সরগরম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। ফেসবুকে ঢুকলেই চোখে পড়ছে দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে নানা পোস্ট ও মন্তব্য। কেউ প্রশ্ন তুলছেন, প্রথম স্ত্রী থাকতে দ্বিতীয় বিয়ে কেন, কেউ জানতে চাইছেন আর্থিক সক্ষমতার বিষয়টি, আবার কেউ বলছেন, প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া কীভাবে দ্বিতীয় বিয়ে সম্ভব? আইন কী বলে, হাইকোর্টের রায়ে কী বলা হয়েছে, এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন নেটিজেনরা। এই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর বহুবিবাহ সংক্রান্ত ধারা এবং এ বিষয়ে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়। রিট করেছিলেন আইনজীবী ইশরাত জাহান মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ৬ ধারা (বহুবিবাহ) চ্যালেঞ্জ করে ২০২১ সালের ১৩ ডিসেম্বর হাইকোর্টে রিট করেন আইনজীবী ইশরাত জাহান। রিটে তার যুক্তি ছিল, এই ধারার মাধ্যমে নারীর সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তিনি বলেন, ইসলামে একাধিক বিয়ের অনুমতি থাকলেও শর্ত হিসেবে সব স্ত্রীর প্রতি সমান সুবিচারের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু আইনে সেই শর্ত বাস্তবায়নের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেই। শুধু ‘বিয়ে করার অনুমতি’ অংশটি নেওয়া হচ্ছে, কিন্তু সুবিচার, ভরণপোষণ কিংবা আর্থিক সক্ষমতা যাচাইয়ের সুযোগ সালিসি কাউন্সিলের নেই। এতে নারীরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। হাইকোর্টের রুল ও চূড়ান্ত রায় রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০২২ সালের ৫ জানুয়ারি বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের বেঞ্চ একটি রুল জারি করেন। রুলে বহুবিবাহ সংক্রান্ত আইনের বিষয়ে নীতিমালা প্রণয়ন এবং স্ত্রীদের সম-অধিকার নিশ্চিত না করে বহুবিবাহের অনুমতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। রুলের শুনানি শেষে গত বছরের ২০ আগস্ট হাইকোর্ট রুল খারিজ করেন। ফলে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর বহুবিবাহ সংক্রান্ত ধারা বহাল থাকে। এই রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি প্রকাশ পাওয়ার পর নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। হাইকোর্ট কী বলেছেন পূর্ণাঙ্গ রায় হাতে পাওয়ার পর আইনজীবী ইশরাত জাহান জানান, হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়েছে, মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের ৬ ধারা কোনোভাবেই বৈষম্যমূলক বা স্বেচ্ছাচারী নয়। এই আইন নারী ও পুরুষ, কোনো পক্ষেরই মৌলিক অধিকার খর্ব করে না। রায়ে আরও বলা হয়, সালিসি কাউন্সিল একতরফাভাবে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে পারে না এবং বহুবিবাহের অনুমতি দেওয়ার বা না দেওয়ার ক্ষেত্রে আইনি কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই। এই ধারা দেশের নারীদের কোনো মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করে না বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়। ফলে রুল সমর্থনে উত্থাপিত যুক্তির সারবত্তা নেই বলে রুল ডিসচার্জ করা হয়েছে। দ্বিতীয় বিয়েতে তবে কার অনুমতি লাগবে? মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ৬ (১) ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির বিয়ে বহাল থাকা অবস্থায় তিনি সালিসি কাউন্সিলের লিখিত অনুমতি ছাড়া আরেকটি বিয়ে করতে পারবেন না। অনুমতি ছাড়া করা বিয়ে নিবন্ধনযোগ্যও নয়। আইনে বলা হয়েছে, আবেদনকারীকে নির্ধারিত ফি দিয়ে চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করতে হবে। আবেদনে প্রস্তাবিত বিয়ের কারণ ও বর্তমান স্ত্রী বা স্ত্রীদের সম্মতি নেওয়া হয়েছে কি না, তা উল্লেখ করতে হবে। চেয়ারম্যান আবেদনকারী ও বর্তমান স্ত্রী বা স্ত্রীর প্রতিনিধি মনোনয়ন করতে বলবেন। সালিসি কাউন্সিল প্রস্তাবিত বিয়ে প্রয়োজনীয় ও ন্যায়সঙ্গত মনে করলে অনুমতি দিতে পারবেন। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সহকারী জজের কাছে পুনর্বিবেচনারও সুযোগ রয়েছে। অনুমতি ছাড়া বিয়ে করলে শাস্তি ও জরিমানা সালিসি কাউন্সিলের অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করলে বর্তমান স্ত্রী বা স্ত্রীদের দেনমোহরের পুরো টাকা তাৎক্ষণিক পরিশোধ করতে হবে। অর্থ পরিশোধ না করলে তা ভূমি রাজস্বের মতো আদায়যোগ্য হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে এক বছর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে। আইনজীবী ইশরাত জাহান বলেন, বহুদিন ধরেই ভুলভাবে বলা হচ্ছিল যে দ্বিতীয় বিয়ের জন্য প্রথম স্ত্রীর অনুমতি বাধ্যতামূলক। বাস্তবে আইনে কোথাও প্রথম স্ত্রীর অনুমতিকে শর্ত করা হয়নি। বরং শুরু থেকেই সালিসি কাউন্সিলের অনুমতির বিধান ছিল। তিনি বলেন, ‘হাইকোর্ট নতুন করে কিছু বলেননি। আগে যা ছিল, রুল খারিজের মাধ্যমে সেটিই বহাল রাখা হয়েছে। অর্থাৎ সালিসি কাউন্সিলের অনুমতি পেলে দ্বিতীয় বিয়ে করা যাবে, আইনের অবস্থান আগেও এমন ছিল, এখনও তাই আছে।’ রিট করার বিষয়ে ইশরাত জাহান বলেন, বহুবিবাহের বিধান (আইনের ৬ ধারা) চ্যালেঞ্জ করেই রিট আবেদনটি করা হয়। কেননা আরবিট্রেশন কাউন্সিলের কাছে এই ক্ষমতাটা থাকা সমীচীন নয়, চেয়ারম্যান পক্ষপাতদুষ্ট হতে পারেন। তাই আমরা চাচ্ছিলাম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া হবে না, নতুন করে একটি নীতিমালা হোক। শুধু তাই নয়, স্ত্রীদের সম-অধিকার কীভাবে নিশ্চিত হবে, সে বিষয়ে কোনো নীতিমালা নেই। উপরন্তু একজন ব্যক্তি একাধিক বিয়ের জন্য শারীরিক, মানসিক ও অর্থনৈতিকভাবে সক্ষম কি না, তা যাচাইয়ের সক্ষমতা কাউন্সিলের নেই।

২০২৬ বছরটা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর জন্য ভালো কাটছে না মোটেও। সৌদি প্রো লিগে চলতি বছর ম্যাচ খেলে সবকটিতেই হেরেছে দলটা। এবার রোনালদো গোল করেছেন নিজে, তবে এরপরও দল জিততে পারেনি। আল হিলালের কাছে ৩-১ গোলে হেরেছে তার দল আল নাসর। ম্যাচের ৪২ মিনিটে আল নাসরকে এগিয়ে দেন রোনালদো। বাম পাশ থেকে আক্রমণে উঠে আসা কিংসলে কোমান সুযোগ তৈরি করেন। সেই বল থেকেই ভলিতে গোল করেন রোনালদো। তবে বিরতির পর ম্যাচের চিত্র বদলে যায়। আল নাসরের মোহাম্মদ সিমাকান মালকমকে ফাউল করলে পেনাল্টি পায় আল হিলাল। সালেম আল দাওসারি সেই পেনাল্টি থেকে গোল করেন। গোলের পর বল দ্রুত মাঠের মাঝখানে নিতে গিয়ে আল হিলালের রুবেন নেভেসের সঙ্গে আল নাসরের গোলরক্ষক নওয়াফ আল আকিদির ঝামেলা হয়। ভিএআর পর্যালোচনার পর সহিংস আচরণের দায়ে লাল কার্ড দেখেন আল আকিদি। এতে ১০ জনের দলে পরিণত হয় আল নাসর। এরপর ম্যাচ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নেয় আল হিলাল। ৮১ মিনিটে মোহাম্মদ কান্নো গোল করেন। যোগ করা সময়ে দ্বিতীয় পেনাল্টি থেকে গোল করেন রুবেন নেভেস। এই জয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষে থাকা আল হিলাল এখন সাত পয়েন্টে এগিয়ে গেছে। অন্যদিকে আল নাসর টানা চার ম্যাচে জয়ের মুখ দেখল না। এর মধ্যে শেষ তিন ম্যাচেই তারা হেরেছে। ২০২১ সালের পর এটি তাদের সবচেয়ে দীর্ঘ জয়হীন সময়। আল হিলাল টানা ১১টি লিগ ম্যাচ জিতেছে। এর আগে তারা সবচেয়ে বেশি টানা জয় পেয়েছিল ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের মে পর্যন্ত। তখন জয়সংখ্যা ছিল ২৪।