
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহির্গমন টার্মিনালে হঠাৎ আগুনের ধোঁয়া দেখা গেছে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা। সোমবার (১৭ নভেম্বর) বিকাল সোয়া ৩টার দিকে বিমানবন্দরের ১ নম্বর বহির্গমন টার্মিনাল ভবনে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় উপস্থিত বিদেশগামী যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন বেসামরিক বিমান চলাচল (বেবিচক) কর্তৃপক্ষের ফায়ার সার্ভিস বিভাগের প্রধান ডেপুটি পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘বিমানবন্দর ১ নম্বর বহির্গমন টার্মিনাল এলাকায় আগুনের ঘটনা ঘটেছে। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কেউ সিগারেট খেয়ে তা টার্মিনাল ভবনের দুই দেয়ালের মাঝে ফেলে দিয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিমানবন্দরের কর্মকতারা।

মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ সোমবার (১৭ নভেম্বর)। ১৯৭৬ সালের ১৭ নভেম্বর রাজধানীর তৎকালীন পিজি হাসপাতালে (বর্তমানে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে টাঙ্গাইলের সন্তোষে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। তার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা ও টাঙ্গাইলের সন্তোষে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী অধিকারবঞ্চিত, অবহেলিত ও মেহনতি মানুষের অধিকার ও স্বার্থরক্ষায় আজীবন নিরবচ্ছিন্নভাবে সংগ্রাম করে গেছেন। জাতীয় সংকটে জনগণের পাশে থেকে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি দেশ ও জনগণের জন্য নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে গেছেন। মওলানা ভাসানী সবসময় ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিতেন। ক্ষমতার কাছে থাকলেও ক্ষমতার মোহ তাকে কখনও আবিষ্ট করতে পারেনি। ব্যক্তি জীবনে তিনি ছিলেন নির্মোহ, অনাড়ম্বর ও অত্যন্ত সাদাসিধে। তার সাধারণ জীবনযাপন এ দেশ ও জনগণের প্রতি গভীর ভালোবাসার প্রতিফলন। শোষণ ও বঞ্চনাহীন, প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠনের জন্য মওলানা ভাসানী আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। বাঙালি জাতিসত্তা বিকাশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন তিনি। মওলানা ভাসানীর মৃত্যুবার্ষিকীতে বাণী দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বাণীতে তিনি বলেন, মওলানা ভাসানী আমাদের জাতীয় ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় ও গুরুত্বপূর্ণ নাম। সাম্রাজ্যবাদ, ঔপনিবেশবাদ ও আধিপত্যবাদবিরোধী সংগ্রামের প্রবাদ পুরুষ মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে উপমহাদেশের নিপীড়িত-নির্যাতিত মানুষের পক্ষে আপসহীন ও সাহসী নেতৃত্ব দিয়েছেন। মওলানা ভাসানী দেশমাতৃকার মুক্তির পথপ্রদর্শক হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম, গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং কৃষক-শ্রমিক-মেহনতি মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায়ের সংগ্রামে মওলানা ভাসানী ছিলেন এক উজ্জ্বল জ্যোতিষ্ক। তার অবস্থান ছিল শোষণের বিরুদ্ধে এবং শোষিতের পক্ষে। তিনি আরও বলেন, অধিকার আদায়ে মওলানা ভাসানী সর্বদা এ দেশের মানুষকে সাহস জুগিয়েছেন তার নির্ভীক ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বের দ্বারা। তার হুংকারে অত্যাচারী শাসক ও শোষকগোষ্ঠীর মসনদ কেঁপে উঠত। জাতির ভয়াবহ দুর্দিনগুলোতে তিনি জনস্বার্থের পক্ষে থাকতেন বলেই জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করেছিলেন। বাণীতে তারেক রহমান মওলানা ভাসানীর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। দিবসটি উপলক্ষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পৃথক বাণী দিয়েছেন। সিরাজগঞ্জের ধানগড়া গ্রামে ১৮৬০ সালের ১২ ডিসেম্বর মওলানা ভাসানী জন্মগ্রহণ করেন। সিরাজগঞ্জে জন্ম হলেও মওলানা ভাসানী তার জীবনের সিংহভাগই কাটিয়েছেন টাঙ্গাইলের সন্তোষে। তিনি কৈশোর-যৌবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তিনি প্রবাসী সরকারের উপদেষ্টা ছিলেন। ১৯৪৯ সালে গঠিত আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৫৭ সালের ২৪ জুন ভাসানীর সঙ্গে আওয়ামী লীগের সম্পর্কের স্থায়ী বিচ্ছেদ ঘটে।

বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল আসন্ন বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) খেলছেন না। আগামী ২৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য নিলাম থেকে নিজের নাম প্রত্যাহারের বিষয়ে ইতোমধ্যে বোর্ডকে জানিয়েছেন তিনি। বিপিএল গভার্নিং কাউন্সিলের এক সদস্য ঢাকা পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এদিকে, ক্রিকবাজকে তামিম বিষয়টির সত্যতা জানিয়ে বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি বিপিএলে থাকছি না। শাহরিয়ার নাফীসকে (বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স ম্যানেজার) অনুরোধ করেছি আমার নামটা খেলোয়াড় ড্রাফট থেকে তুলে নিতে।’ ২০১২ সালে বিপিএলের সূচনার পর থেকে প্রতি আসরেই খেলেছেন তামিম। টুর্নামেন্টের অন্যতম সফল ব্যাটারও তিনি। সাম্প্রতিক দুই আসরে ফরচুন বরিশালকে টানা শিরোপা জেতাতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, ব্যাট হাতেও ছিলেন উজ্জ্বল। তবে এবার তার সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত খুব একটা বিস্ময়ের জন্ম দেয়নি। স্বাস্থ্যগত জটিলতা, দীর্ঘ বিরতি এবং প্রস্তুতির স্বল্পতার কারণে মৌসুমে অংশ না নেওয়ার জোরালো ইঙ্গিত আগে থেকেই ছিল। এর সঙ্গে যোগ হয় ফরচুন বরিশালের টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত—যারা সময়ের স্বল্পতাকে কারণ হিসেবে দেখিয়েছে। ৩৬ বছর বয়সী তামিম গত বছরের মার্চে একটি ঘরোয়া ম্যাচ চলাকালে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হন। সেই ঘটনার পর থেকে তিনি পেশাদার ক্রিকেটে আর ফিরেননি; মনোযোগ দিয়েছিলেন পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠায়। এ সময় তামিম ক্রিকেট প্রশাসনেও আগ্রহ দেখিয়েছিলেন। বিসিবি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতিও নিয়েছিলেন তিনি। তবে শেষ মুহূর্তে ‘সরকারি হস্তক্ষেপের’ অভিযোগ তুলে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। সব মিলিয়ে দেশের অন্যতম সেরা ওপেনারের বিপিএল না খেলার সিদ্ধান্ত তার মাঠে ফেরার সম্ভাবনাকে আরও অনিশ্চিত করে তুলল।

দেশের বাজারে আজ সোমবার (১৭ নভেম্বর) স্বর্ণ ভরিতে ২ লাখ ৮ হাজার ২৭২ টাকা বিক্রি হবে। সর্বশেষ শনিবার (১৫ নভেম্বর) স্বর্ণ ভরিতে ৫ হাজার ৪৪৭ টাকা কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। বাজুসের জানায়, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম এখন ২ লাখ ৮ হাজার ২৭২ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯৮ হাজার ৮০১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৭০ হাজার ৩৯৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দামর ১ লাখ ৪১ হাজার ৭১৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে আবশ্যিকভাবে সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশ যুক্ত করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরি কমবেশি হতে পারে। এর আগে, সবশেষ ১৩ নভেম্বর দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছিল বাজুস। সেদিন ভরিতে ৫ হাজার ২৪৮ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ১৩ হাজার ৭১৯ টাকা নির্ধারণ করেছিল সংগঠনটি। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪ হাজার ৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৭৪ হাজার ৮৫৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৫ হাজার ৫২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা ১৪ নভেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছিল। এ নিয়ে চলতি বছর মোট ৭৭ বার দেশের বাজারে সমন্বয় করা হলো স্বর্ণের দাম। যেখানে দাম বাড়ানো হয়েছে ৫৩ বার, আর কমেছে মাত্র ২৪ বার। আর ২০২৪ সালে দেশের বাজারে মোট ৬২ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৩৫ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৭ বার। এদিকে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হলেও দেশের বাজারে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে রুপার দাম। দেশে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ২৪৬ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৪৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৪৭৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৬০১ টাকায়।

তদন্তে উঠে এসেছে, আলমগীর হোসেন ২০১৪ থেকে ২০১৫ এবং দ্বিতীয় দফায় ২০২০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত নোয়াখালী শাখার ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ব্যাপক জালিয়াতি ও অসদাচরণ করেন। প্রাথমিক অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন তিনজন ভুয়া ঋণগ্রহীতার নামে ২১ লাখ ৪০ হাজার টাকা আত্মসাৎ এবং ২০৯ জন ভুয়া সঞ্চয় ঋণগ্রহীতার মাধ্যমে প্রায় ৬ কোটি ৯৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন তিনি। রেকর্ডপত্র যাচাই করে দুদক পেয়েছে, ঋণ আবেদন ফরমে অনুমোদনকারী কর্মকর্তা হিসেবে আলমগীর নিজেই স্বাক্ষর করেছেন। যেখানে জেলা কমান্ড্যান্ট বা ব্যাটালিয়ন প্রধানের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক ছিল। এ ছাড়া, বেশ কিছু আবেদন ফরমে ঋণগ্রহীতার স্বাক্ষর নেই। ঋণ মঞ্জুর হলেও প্রকৃত গ্রাহক কোনো অর্থ পাননি, বরং আলমগীর নিজেই সেই অর্থ তুলেছেন। দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল নোমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, দুদকের এনফোর্সমেন্ট ইউনিটের নির্দেশে গত ২০ অক্টোবর ব্যাংক শাখায় অভিযানে গিয়ে কর্মকর্তারা রেকর্ডপত্র সংগ্রহ ও যাচাই করেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক উপস্থিত না থাকলেও সংরক্ষিত নথিতে অসংখ্য অনিয়ম ধরা পড়ে। ব্যাংকের বিভিন্ন রেকর্ডে ভুয়া দলিল, জাল স্বাক্ষর ও জালিয়াতির স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। তিনি আরও বলেন, তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা মেলায় মোহাম্মদ আলমগীরের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ধারাসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় মামলা করা হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন কখনোই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের ছাড় দেবে না। আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সৌদিতে ব্যাপক অভিযান চালানো হয়েছে। এ অভিযানে প্রায় ১৫ হাজার অভিবাসীকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। গত এক সপ্তাহে নিজ নিজ দেশে ফেরত গিয়েছেন তারা। রোববার (১৬ নভেম্বর) গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরব এক সপ্তাহে ১৪ হাজার ৯১৬ প্রবাসীকে দেশ থেকে ফেরত পাঠিয়েছে। বসবাস, শ্রম ও সীমান্ত আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে পরিচালিত দেশব্যাপী অভিযানের অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। শনিবার এক বিবৃতিতে সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। গালফ নিউজ জানিয়েছে, গত ৬ থেকে ১২ নভেম্বর পর্যন্ত যৌথ অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনী ও বিভিন্ন সরকারি সংস্থা মোট ২২ হাজার ১৫৬ জনকে গ্রেপ্তার করে। পিক ট্রাভেল ও কর্মসংস্থানের মৌসুম সামনে রেখে এ অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। গ্রেপ্তারদের মধ্যে ১৪ হাজার ২৭ জন আবাসন আইন লঙ্ঘন, ৪ হাজার ৭৮১ জন সীমান্ত নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন এবং ৩ হাজার ৩৪৮ জন শ্রম আইন লঙ্ঘন করেছেন। গ্রেপ্তারদের মধ্যে ২২ হাজার ৯১ জনকে তাদের নিজ নিজ দূতাবাসে ভ্রমণ নথি সংগ্রহের জন্য পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ৪ হাজার ৭৮৪ জনকে চূড়ান্তভাবে দেশে ফেরত পাঠাতে কার্যক্রম সম্পন্ন করানো হয়েছে এবং ১৪ হাজার ৯১৬ জনকে মামলা নিষ্পত্তির পর দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। সীমান্ত রক্ষী বাহিনী জানিয়েছে, গত সপ্তাহে এক হাজার ৯২৪ জনকে অবৈধভাবে সৌদি আরবে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় আটক করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৬২ শতাংশ ইথিওপিয়ার নাগরিক, ৩৭ শতাংশ ইয়েমেনি এবং বাকিরা অন্যান্য দেশের নাগরিক রয়েছেন। এছাড়া ৩২ জন সৌদি আরব থেকে অবৈধভাবে বের হতে চাওয়ার সময় ধরা পড়েছে।

কক্সবাজারের টেকনাফে সাগর পথে পাচারের সময় আটজন রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় মানব পাচারকারী চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। টেকনাফ (২ বিজিবির) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিকুর রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সোমবার (১৭ নভেম্বর) রাতে বিজিবির-২ ব্যাটালিয়নের একটি বিশেষ দল সাবরাং ইউনিয়নের পানছড়ি এলাকায় মানব পাচারবিরোধী এ অভিযান চালায়। বিজিবি জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় সক্রিয় মানব পাচারকারী চক্র সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছিল। বিজিবি সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারী চক্রের কয়েকজন পালিয়ে যায়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন আসমা (১৯), শাবনূর (২০), জহুরা (৪৩) ও সাহারা খাতুন (৬২)। গ্রেপ্তার হওয়ারা সাবরাং ইউনিয়নের পানছড়ি পাড়ার বাসিন্দা। পলাতক আসামির মধ্যে আছেন একই এলাকার আব্দুল মোতালেব ওরফে কালা বদ্দা (৩০)। অভিযানে আটজন ভুক্তভোগীকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তাদের মধ্যে ছয়জন নারী এবং দুই শিশু। বিজিবি জানায়, তারা সবাই বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা। উদ্ধারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বিজিবিকে জানায়, পাচারকারীদের সহযোগীরা তাদের উচ্চ বেতনের চাকরি, সহজে বিদেশ যাওয়ার সুযোগ এবং ভবিষ্যৎ আয়ের মাধ্যমে খরচ পরিশোধের প্রলোভন দেখায়। পরে সুযোগ বুঝে পাচারকারী চক্র তাদের বাড়ি বা নিরাপদ আশ্রয়ে আটকে রাখে এবং সাগরপথে পাঠানোর প্রস্তুতি নিত। বিজিবি জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে পাহাড়ি এলাকা দিয়ে পাচারের পথ কঠিন হয়ে পড়ায় চক্রটি এখন লোকালয় ব্যবহার করছে। আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে পাচারকারীদের সক্রিয় নেটওয়ার্ক সম্পর্কে নতুন তথ্য পাওয়া গেছে বলে তারা জানিয়েছে। টেকনাফ (বিজিবি-২) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিকুর রহমান বলেন, ‘মানব পাচার সংঘবদ্ধ অপরাধ। সীমান্ত এলাকায় পাহাড় থেকে সমুদ্র—কোথাও অপরাধীদের জন্য নিরাপদ জায়গা থাকতে দেওয়া হবে না। পাচার প্রতিরোধে আমাদের নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।’ গ্রেপ্তার হওয়া চারজনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাদের স্থানীয় থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। উদ্ধার হওয়া আটজনকে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দেওয়া হবে। সীমান্ত সুরক্ষা ও মানব পাচার প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে বিজিবি।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহির্গমন টার্মিনালে হঠাৎ আগুনের ধোঁয়া দেখা গেছে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা। সোমবার (১৭ নভেম্বর) বিকাল সোয়া ৩টার দিকে বিমানবন্দরের ১ নম্বর বহির্গমন টার্মিনাল ভবনে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় উপস্থিত বিদেশগামী যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন বেসামরিক বিমান চলাচল (বেবিচক) কর্তৃপক্ষের ফায়ার সার্ভিস বিভাগের প্রধান ডেপুটি পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘বিমানবন্দর ১ নম্বর বহির্গমন টার্মিনাল এলাকায় আগুনের ঘটনা ঘটেছে। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কেউ সিগারেট খেয়ে তা টার্মিনাল ভবনের দুই দেয়ালের মাঝে ফেলে দিয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিমানবন্দরের কর্মকতারা।

মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ সোমবার (১৭ নভেম্বর)। ১৯৭৬ সালের ১৭ নভেম্বর রাজধানীর তৎকালীন পিজি হাসপাতালে (বর্তমানে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে টাঙ্গাইলের সন্তোষে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। তার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা ও টাঙ্গাইলের সন্তোষে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী অধিকারবঞ্চিত, অবহেলিত ও মেহনতি মানুষের অধিকার ও স্বার্থরক্ষায় আজীবন নিরবচ্ছিন্নভাবে সংগ্রাম করে গেছেন। জাতীয় সংকটে জনগণের পাশে থেকে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি দেশ ও জনগণের জন্য নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে গেছেন। মওলানা ভাসানী সবসময় ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিতেন। ক্ষমতার কাছে থাকলেও ক্ষমতার মোহ তাকে কখনও আবিষ্ট করতে পারেনি। ব্যক্তি জীবনে তিনি ছিলেন নির্মোহ, অনাড়ম্বর ও অত্যন্ত সাদাসিধে। তার সাধারণ জীবনযাপন এ দেশ ও জনগণের প্রতি গভীর ভালোবাসার প্রতিফলন। শোষণ ও বঞ্চনাহীন, প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠনের জন্য মওলানা ভাসানী আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। বাঙালি জাতিসত্তা বিকাশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন তিনি। মওলানা ভাসানীর মৃত্যুবার্ষিকীতে বাণী দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বাণীতে তিনি বলেন, মওলানা ভাসানী আমাদের জাতীয় ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় ও গুরুত্বপূর্ণ নাম। সাম্রাজ্যবাদ, ঔপনিবেশবাদ ও আধিপত্যবাদবিরোধী সংগ্রামের প্রবাদ পুরুষ মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে উপমহাদেশের নিপীড়িত-নির্যাতিত মানুষের পক্ষে আপসহীন ও সাহসী নেতৃত্ব দিয়েছেন। মওলানা ভাসানী দেশমাতৃকার মুক্তির পথপ্রদর্শক হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম, গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং কৃষক-শ্রমিক-মেহনতি মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায়ের সংগ্রামে মওলানা ভাসানী ছিলেন এক উজ্জ্বল জ্যোতিষ্ক। তার অবস্থান ছিল শোষণের বিরুদ্ধে এবং শোষিতের পক্ষে। তিনি আরও বলেন, অধিকার আদায়ে মওলানা ভাসানী সর্বদা এ দেশের মানুষকে সাহস জুগিয়েছেন তার নির্ভীক ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বের দ্বারা। তার হুংকারে অত্যাচারী শাসক ও শোষকগোষ্ঠীর মসনদ কেঁপে উঠত। জাতির ভয়াবহ দুর্দিনগুলোতে তিনি জনস্বার্থের পক্ষে থাকতেন বলেই জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করেছিলেন। বাণীতে তারেক রহমান মওলানা ভাসানীর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। দিবসটি উপলক্ষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পৃথক বাণী দিয়েছেন। সিরাজগঞ্জের ধানগড়া গ্রামে ১৮৬০ সালের ১২ ডিসেম্বর মওলানা ভাসানী জন্মগ্রহণ করেন। সিরাজগঞ্জে জন্ম হলেও মওলানা ভাসানী তার জীবনের সিংহভাগই কাটিয়েছেন টাঙ্গাইলের সন্তোষে। তিনি কৈশোর-যৌবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তিনি প্রবাসী সরকারের উপদেষ্টা ছিলেন। ১৯৪৯ সালে গঠিত আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৫৭ সালের ২৪ জুন ভাসানীর সঙ্গে আওয়ামী লীগের সম্পর্কের স্থায়ী বিচ্ছেদ ঘটে।

বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল আসন্ন বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) খেলছেন না। আগামী ২৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য নিলাম থেকে নিজের নাম প্রত্যাহারের বিষয়ে ইতোমধ্যে বোর্ডকে জানিয়েছেন তিনি। বিপিএল গভার্নিং কাউন্সিলের এক সদস্য ঢাকা পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এদিকে, ক্রিকবাজকে তামিম বিষয়টির সত্যতা জানিয়ে বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি বিপিএলে থাকছি না। শাহরিয়ার নাফীসকে (বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স ম্যানেজার) অনুরোধ করেছি আমার নামটা খেলোয়াড় ড্রাফট থেকে তুলে নিতে।’ ২০১২ সালে বিপিএলের সূচনার পর থেকে প্রতি আসরেই খেলেছেন তামিম। টুর্নামেন্টের অন্যতম সফল ব্যাটারও তিনি। সাম্প্রতিক দুই আসরে ফরচুন বরিশালকে টানা শিরোপা জেতাতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, ব্যাট হাতেও ছিলেন উজ্জ্বল। তবে এবার তার সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত খুব একটা বিস্ময়ের জন্ম দেয়নি। স্বাস্থ্যগত জটিলতা, দীর্ঘ বিরতি এবং প্রস্তুতির স্বল্পতার কারণে মৌসুমে অংশ না নেওয়ার জোরালো ইঙ্গিত আগে থেকেই ছিল। এর সঙ্গে যোগ হয় ফরচুন বরিশালের টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত—যারা সময়ের স্বল্পতাকে কারণ হিসেবে দেখিয়েছে। ৩৬ বছর বয়সী তামিম গত বছরের মার্চে একটি ঘরোয়া ম্যাচ চলাকালে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হন। সেই ঘটনার পর থেকে তিনি পেশাদার ক্রিকেটে আর ফিরেননি; মনোযোগ দিয়েছিলেন পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠায়। এ সময় তামিম ক্রিকেট প্রশাসনেও আগ্রহ দেখিয়েছিলেন। বিসিবি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতিও নিয়েছিলেন তিনি। তবে শেষ মুহূর্তে ‘সরকারি হস্তক্ষেপের’ অভিযোগ তুলে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। সব মিলিয়ে দেশের অন্যতম সেরা ওপেনারের বিপিএল না খেলার সিদ্ধান্ত তার মাঠে ফেরার সম্ভাবনাকে আরও অনিশ্চিত করে তুলল।

দেশের বাজারে আজ সোমবার (১৭ নভেম্বর) স্বর্ণ ভরিতে ২ লাখ ৮ হাজার ২৭২ টাকা বিক্রি হবে। সর্বশেষ শনিবার (১৫ নভেম্বর) স্বর্ণ ভরিতে ৫ হাজার ৪৪৭ টাকা কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। বাজুসের জানায়, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম এখন ২ লাখ ৮ হাজার ২৭২ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯৮ হাজার ৮০১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৭০ হাজার ৩৯৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দামর ১ লাখ ৪১ হাজার ৭১৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে আবশ্যিকভাবে সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশ যুক্ত করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরি কমবেশি হতে পারে। এর আগে, সবশেষ ১৩ নভেম্বর দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছিল বাজুস। সেদিন ভরিতে ৫ হাজার ২৪৮ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ১৩ হাজার ৭১৯ টাকা নির্ধারণ করেছিল সংগঠনটি। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪ হাজার ৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৭৪ হাজার ৮৫৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৫ হাজার ৫২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা ১৪ নভেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছিল। এ নিয়ে চলতি বছর মোট ৭৭ বার দেশের বাজারে সমন্বয় করা হলো স্বর্ণের দাম। যেখানে দাম বাড়ানো হয়েছে ৫৩ বার, আর কমেছে মাত্র ২৪ বার। আর ২০২৪ সালে দেশের বাজারে মোট ৬২ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৩৫ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৭ বার। এদিকে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হলেও দেশের বাজারে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে রুপার দাম। দেশে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ২৪৬ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৪৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৪৭৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৬০১ টাকায়।

সৌদি আরবে মদিনাহ ও বাদরের মধ্যে মুফরাহথ এলাকায় একটি বাস এবং ট্যাংকার লরির সংঘর্ষের ঘটনায় ৪২ জন ওমরাহযাত্রী নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ২০ জন নারী ও ১১ জন শিশু রয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজন বেঁচে আছেন। নিহত সকলেই হায়দরাবাদের বাসিন্দা বলে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন। দুর্ঘটনার সময় বেশিরভাগ যাত্রী ঘুমিয়ে ছিলেন। সোমবার (১৭ নভেম্বর) ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাসটি সংঘর্ষের পর আগুন ধরে যায়। এতে হতাহতের সংখ্যা বেড়ে যায়। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস. জয়শঙ্কর দুর্ঘটনার ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, রিয়াধের রাষ্ট্রদূতাবাস এবং জেদ্দার কনসুলেট নিহতদের পরিবার এবং আহতদের সহায়তার জন্য কাজ করছে। তিনি নিহতদের পরিবারকে সমবেদনা জানান এবং আহতদের দ্রুত সেরে ওঠার প্রার্থনা করেন। এ ঘটনায় জেদ্দার কনসুলেটে ২৪ ঘণ্টা একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। তেলাঙ্গানা মুখ্যমন্ত্রী রেভান্থ রেড্ডি দুর্ঘটনার বিষয়ে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি প্রধান সচিব ও ডিজিপি-কে দ্রুত বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দিয়েছেন। তেলাঙ্গানা সচিব ক. রামাকৃষ্ণ রাও দিল্লির কো-অর্ডিনেশন সচিব গৌরব উপ্পালের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং সচিবালয়ে কন্ট্রোল রুম স্থাপন করে পরিস্থিতি মনিটরিং করার নির্দেশ দিয়েছেন। হায়দরাবাদ এমপি আসাদউদ্দিন ওয়াইসি জানিয়েছেন, আহতদের চিকিৎসা ও নিহতদের দ্রুত দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়েও কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে তদারকি দাবি করা হচ্ছে। সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট ওমরাহ অপারেটরদের সঙ্গে সমন্বয় করে ভারতীয় কনসুলেট ও কমিউনিটি স্বেচ্ছাসেবীরা হাসপাতালে ও দুর্ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছেন।

গত সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপে পাকিস্তানকে পরপর তিনবার হারিয়ে হ্যাটট্রিক করেছিল ভারত। এবার দোহায় রাইজিং স্টার এশিয়া কাপে প্রতিশোধ নিলো পাকিস্তানের যুবারা। দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি লড়াইয়ে হেরে গেল ভারত। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ১৩৬ রানে অলআউট হয়ে গিয়েছিল ভারত ‘এ’ দল। জবাব মাজ সাদাকাতের ব্যাটিংয়ে ৮ উইকেটের জয় পেয়েছে পাকিস্তান শাহিন্স বা ‘এ’ দল (asia cup india vs pakistan cricket match)। কাতারের দোহায় টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমেছিল ভারত। উবেদ শাহের প্রথম বলেই চার মেরে শুরুটা ভালো করেছিলেন বৈভব সূর্যবংশী। পরের ওভারে শাহিদ আজিজকে একটি চার এবং একটি ছয় মারেন। ভালো শুরু পেয়ে যায় ভারত। এরপরই শুরু হয় উইকেট হারানোর পালা। চতুর্থ ওভারে শহিদ তুলে নেন ওপেনার প্রিয়াংশ আর্যকে (১০)। প্রথম ম্যাচে বৈভব যেমন খেলেছিলেন, তার ধারেকাছেও যেতে পারলেন না এদিন। বরং কিছুটা ধীরগতিতেই খেলছিলেন। এদিনের পিচও ছিল মন্থর গতির। বল পড়ে ব্যাটে ভালোভাবে আসছিল না। ফলে বড় শট খেলা কঠিন হয়ে যাচ্ছিল। তবু বৈভব চেষ্টা করছিল বড় শট খেলার। সুফিয়ান মুকিম দশম ওভারে তুলে নেন ভারতের ওপেনারকে। মুকিম খেলেছিলেন এশিয়া কাপেও। তার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ভারতকে বড় ধাক্কা দেয় পাকিস্তান। পাঁচটি চার এবং তিনটি ছয়ের সাহায্যে ২৮ বলে ৪৫ করে সাজঘরে ফেরেন বৈভব। বৈভবের আগেই আউট হয়ে যান নমন ধীরও। তিনি ছ’টি চার এবং একটি ছয়ের সাহায্যে ২০ বলে ৩৫ রান করেন। বৈভব ফিরতেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে ভারতের ইনিংস। একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে তারা। পরের দিকে নেমে হর্ষ দুবে (১৯) কিছুটা চেষ্টা করলেও ভারত বড় রান করতে পারেনি। ১৯ ওভারের মধ্যে ১৩৬ রানে অলআউট হয়ে যায় ভারতের যুবারা। এই রান পাকিস্তানের জন্য তোলা কঠিন ছিল না। তা ছাড়া দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করা আরও সহজ হয়ে যায়। দ্বিতীয় ওভারেই ১৪ রান দেন যশ ঠাকুর। পঞ্চম ওভারে গুরজপনীত সিংহ ১৮ রান দেন। পাকিস্তানের বোলাররা যেখানে নিয়ন্ত্রিত বল করছিলেন, সেখানে ভারতের বোলারদের লাইন-লেংথের কোনো ঠিক ছিল না। পাকিস্তানের অর্ধশতরানকারী ব্যাটার মাজ সাদাকাতের ক্যাচ দু’বার পড়েছে। এক বার ০ রানে, এক বার ৫৩ রানে। শেষ ক্যাচটি খুবই সহজ ছিল, যা ফেলে দেয় বৈভব। তবে দশম ওভারে যে বিতর্ক হয়েছে তা ছাপিয়ে গিয়েছে বাকি সব কিছুকেই। সেই সাদাকাতই ম্যাচ জিতিয়ে দেন। সাতটি চার এবং চারটি ছয়ের সাহায্যে ৪৭ বলে ৭৯ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। ভারতের হয়ে একটি করে উইকেট যশ এবং সুযশের।
.jpeg&w=3840&q=75)
নোয়াখালীর জেলা শহর মাইজদীর একটি হাসপাতালে হাতের অপারেশন করাতে গিয়ে রাবেয়া বেগম (৪৮) নামে এক নারীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। রোববার (১৬ নভেম্বর) দুপুরে মৃতের মেজো ছেলে মো. রাজন হোসেন এমন অভিযোগ করেন। এর আগে শনিবার রাত পৌনে ১২টার দিকে প্রাইম হসপিটালের অপারেশন থিয়েটারে ওই নারী মারা যান। মৃত রাবেয়া লক্ষ্মীপুর জেলার চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের শেখপুর গ্রামের সর্দার বাড়ির শামছুল হুদার স্ত্রী। নিহতের ছেলে রাজন হোসেন অভিযোগ করে বলেন, দুই মাস আগে বাড়ির উঠানে পা পিছলে পড়ে বাম হাতের কবজির ওপরে ভেঙে ফেলেন মা। তাৎক্ষণিক চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের এক ডাক্তারের কাছে ভাঙা হাতে প্লাস্টার করা হয়। দুই মাস পর প্লাস্টার খুলে এক্সরে করলে দেখা যায় ভাঙা হাড় জোড়া লাগেনি। এরপর মাইজদীর প্রাইম হসপিটালের ডাক্তার ফরিদুল ইসলামের সঙ্গে ৭৫ হাজার টাকায় মায়ের বাম হাতের ভাঙা স্থানে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পাত বসানোর চুক্তি হয়। তিনি জানান, চুক্তি মোতাবেক শনিবার সন্ধ্যায় মাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। একই দিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে অজ্ঞান করেন অ্যানেসথেসিয়ান গোলাম হায়দার। পরে তার আর জ্ঞান ফেরেনি। রাজন অভিযোগ আরও বলেন, অজ্ঞান করার এক ঘণ্টা পর তাকে আইসিইউতে নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তীতে ব্যাপক টালবাহানা করে রাত সাড়ে ৩টার দিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান আমার মা মারা গেছেন। প্রকৃতপক্ষে আমার মা অজ্ঞান করার কিছুক্ষণের মধ্যেই মারা যান। রোববার সকালে হাসপাতাল থেকে আমাদের জানানো হয় অপারেশন, আইসিইউ ও অ্যাম্বুলেন্সের কোনো খরচ লাগবে না আপনারা মরদেহ নিয়ে যান। হাসপাতাল থেকে আমাকে বলা হয়েছে- আমার মায়ের হাইপ্রেশার থাকায় এমন হয়েছে। আবার বলে লো প্রেশার ছিল, এজন্য এমন হয়েছে। রোববার দুপুর সোয়া ১টার দিকে আমার বড় ভাই ও চাচা হাসপাতালে এসে সমঝোতা করে মরদেহ নিয়ে গেছেন। কী সমঝোতা হয়েছে সেটা আমি এখনো জানি না। যোগাযোগ করা হলে মাইজদী প্রাইম হসপিটালের সিনিয়র এজিএম শিপন শাহ ভুল চিকিৎসার মৃত্যু অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বলেন, অপারেশনের পর রোগীর অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। ডাক্তার রোগীর স্বজনদের বলেছেন আপনারা মামলা করার প্রয়োজন মনে করলে করেন। নোয়াখালী সিভিল সার্জন ডাক্তার মরিয়ম সিমি বলেন, এ ঘটনায় কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে আব্দুল কাদের জিলানী ওরফে কানকাটা কাদিরাকে হত্যার ঘটনায় সাত দিন পর এক সৌদি প্রবাসীসহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তাররা হলেন, উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের আব্দুল কাদের চেরাং বাড়ির বাসিন্দা সৌদি আরব প্রবাসী মো. ইদ্রিস ওরফে মানিক (৩৪), মোহাম্মদ রাকিব (২৬) ও একই বাড়ির মো. জাফর (২৮)। শনিবার বিকেলে আসামিদের নোয়াখালী চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়। এর আগে, একই দিন ভোরে উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের চেরাং বাড়ি থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। নিহত জিলানী ওই উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. গোফরানের ছেলে। পুলিশ জানায়, এক মাস আগে উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের চেরাং বাড়ির সৌদি আরব প্রবাসী মানিক দেশে ফেরেন। দেশে আসার পর তার থেকে ইয়াবা সেবনের জন্য টাকা দাবি করেন চার মামলার আসামি কানকাটা কাদিরা। এ নিয়ে তাদের মধ্যে একটা বিরোধ সৃষ্টি হয়। ওই সুযোগে কাদিরার প্রতিপক্ষ গ্রুপের রাকিব ও জাফরসহ একাধিক অস্ত্রধারী কাদিরাকে হত্যার মিশনে নামেন। পরবর্তীতে আধিপত্য বিস্তারের জেরে শুক্রবার (৭ নভেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ১০-১৫ জন সন্ত্রাসী উপজেলার হাজীপুর গ্রামের মুন্নার দোকানের সামনে তাকে পিটিয়ে এবং উপর্যুপরি কুপিয়ে হত্যার পর মরদেহ ডোবায় ফেলে দেয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বেগমগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক কুতুব উদ্দিন লিয়ন বলেন, এ ঘটনায় নিহতের পরিবার বেগমগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। হত্যাকাণ্ডের সাত দিন পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আসামিদের তাদের নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিন আসামির মধ্যে দুজন দোষ স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বহুল আলোচিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সোমবার (১৭ নভেম্বর) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ মামলার রায়ের তারিখ ঘোষণা করবেন। এদিন সকালের দিকে হাইকোর্ট মাজারসংলগ্ন ট্রাইব্যুনালের ফটকে দেখা যায় পর্যাপ্তসংখ্যক সেনাসদস্য সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। তবে রাজধানীতে অফিসগামী ও সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচল দেখা গেছে। সড়কে রয়েছে যানবাহনের ভিড়, চলছে গণপরিবহন ও মেট্রোরেল। পুলিশ জানান, যে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে মাঠে রয়েছে পুলিশ, র্যাব, বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এ ছাড়া আজ এই রায় সরসারি সম্প্রচার করবে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) বিটিভি ও বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এ ছাড়া, ট্রাইব্যুনালের ফেসবুক পেজ থেকেও সরাসরি দেখানো হবে। পাশাপাশি ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্থানে বড় স্ক্রিনে লাইভ সম্প্রচারের আয়োজন করেছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়। এর আগে গতকাল রাত থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় চেকপোস্ট স্থাপন করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি প্রতিরোধের জন্য সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। রোববার রাজধানীর ফার্মগেট, বাংলামটর, গুলিস্তান, যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, পুলিশ তল্লাশি চেকপোস্ট স্থাপন করেছে। সন্দেহভাজন কাউকে দেখলেই থামিয়ে তল্লাশি করা হচ্ছে। এমনকি মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনও সন্দেহ হলে থামিয়ে তল্লাশি করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঢাকাসহ চার জেলায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। অতিরিক্ত সতর্কতার অংশ হিসেবে রোববার থেকে ঢাকা, গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর ও মাদারীপুরে মাঠে টহল দিচ্ছে বিজিবি। মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও আশপাশের এলাকায় পর্যাপ্তসংখ্যক সেনা সদস্য মোতায়েন করে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন রোববার সেনা সদরে চিঠি পাঠিয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় আজ সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ঘোষণা করবে। ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত তিন সদস্যের প্যানেল রায় ঘোষণা করবেন। প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম জানিয়েছেন, আজ বেলা ১১টার দিকে রায় ঘোষণা শুরু হতে পারে। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে প্রায় ১,৪০০ মানুষের প্রাণহানি এবং প্রায় ২৫,০০০ মানুষকে মারাত্মক আহত করার অভিযোগের ভিত্তিতে এই মামলা দায়ের করা হয়। গত বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ রায়ের দিন ধার্য করেছেন।