

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার বিস্তীর্ণ উপকূলে ধরা পড়ে বিপুল পরিমাণ সামুদ্রিক চেউয়া মাছ। এই মাছ থেকেই বছরে কয়েকশ কোটি টাকার শুঁটকি উৎপাদন করেন স্থানীয় জেলেরা। তবে আধুনিক সংরক্ষণাগারের অভাব, উন্নত শুকানো ও প্রক্রিয়াজাতকরণ সুবিধার সংকট এবং সরাসরি বাজারজাতের সুযোগ না থাকায় সম্ভাবনাময় এই খাত থেকে ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না তারা। ফলে চেউয়া শুঁটকি শিল্পের বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও বঞ্চিত থেকে যাচ্ছেন উপকূলের মৎস্যজীবীরা। জানা গেছে, হাতিয়ার চরাঞ্চলে প্রায় ১০ হাজার একর জমিতে গড়ে উঠেছে শুঁটকি মহল। মূলত সামুদ্রিক চেউয়া মাছের শুঁটকি প্রক্রিয়াজাত করা হয় এসব চরে। এ কাজে প্রায় ২০ হাজার জেলে জড়িত। নদী থেকে মাছ তোলার পর রোদে শুকিয়ে শুঁটকি বানাতে সময় লাগে ৩ থেকে ৪ দিন। প্রতিদিন দেশের বিভিন্নস্থান থেকে আসা পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা জড়ো হন এসব শুঁটকি ক্রয় করতে। এসব শুঁটকি যায় ঢাকা, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। তবে যাতায়াত ব্যবস্থা ভালো না থাকায় লোকসানের মুখে পড়তে হয় জেলেদের। চেউয়া মাছের প্রাচুর্যে ব্যস্ত সময় পার করছেন জেলে মো. শরীফ হোসেন। মাছ বিক্রির টাকায় মাথা গোজার ঠাই নির্মাণের স্বপ্ন। সাথে রয়েছে জমি ক্রয়, স্কুল-মাদরাসা ও মসজিদ নির্মাণের স্বপ্ন। মো. শরীফ হোসেন ৩ নং ওয়ার্ডের ছায়াবীথি কিল্লা এলাকার মৃত জাফর উল্লাহ ছেলে। চলতি মৌসুমে নোয়াখালী জেলা-র দ্বীপ উপজেলা হাতিয়া উপজেলা-র বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চল ও প্রত্যন্ত এলাকাজুড়ে চেউয়া শুঁটকির ধুম পড়েছে। নদীতে ঝাঁকে ঝাঁকে ধরা পড়ছে চেউয়া মাছ। এসব মাছ শুকিয়ে শুঁটকি তৈরি করে জেলেরা পাচ্ছেন নতুন আয়ের সুযোগ। ফলে দিন দিন বাড়ছে এর বাণিজ্যিক সম্ভাবনা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ বছর চেউয়া শুঁটকির সম্ভাব্য বাজারমূল্য শতকোটি টাকা ছাড়াতে পারে। তবে সম্ভাবনার বিপরীতে রয়েছে নানা সীমাবদ্ধতা। সংরক্ষণাগারের অভাব, উন্নত পরিবহনব্যবস্থার ঘাটতি ও আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণ সুবিধা না থাকায় চরাঞ্চলে উৎপাদিত অধিকাংশ চেউয়া শুঁটকি শেষ পর্যন্ত মৎস্য ও পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। ফলে জেলেরা কাঙ্ক্ষিত ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ইলিশ ধরার সময় শেষ হলে বাংলা অগ্রহায়ণ মাস থেকে শুরু হয়ে চৈত্রের মাঝামাঝি পর্যন্ত চলে চেউয়া মাছের মৌসুম। স্থানীয়দের দাবি, দেশের মোট চাহিদার অর্ধেকেরও বেশি চেউয়া মাছ আসে এই দ্বীপ থেকে। প্রায় ১০ হাজার মানুষের শ্রমে উৎপাদিত চেউয়া শুঁটকি ঢাকা, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়। এসব শুঁটকি দিয়ে তৈরি হয় মাছ ও মুরগির খাদ্য (ফিড)। নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের জেলে আব্দুল আলী মাঝি বলেন, গত বছর তেমন মাছ পাননি। তবে এ বছর মৌসুমের শুরুতেই ভালো মাছ ধরা পড়ছে। সারাদেশ থেকে পাইকাররা শুটকি কিনতে আসেন। মাছের দাম কম হওয়ায় আমরা শুটকি বিক্রি করে লাভবান হই। পাইকারি ব্যবসায়ী মো. ইব্রাহিম পার্টি বলেন, নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের প্রায় ৯০/৯৫ শতাংশ মানুষ জেলে পেশায় জড়িত। গত বছর ইলিশ কম ছিল এবং চেউয়া মাছ পাওয়া যায়নি। এখন চেউয়া শুঁটকির সিজন চলছে। শুরু থেকেই মাছের দেখা মিলছে। উৎপাদন বাড়লে জেলেরা আগের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন। তবে পরিবহন, সংরক্ষণ ও কারখানা না থাকায় জেলেরা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না। নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মো. কেফায়েত হোসেন বলেন, চেউয়া মাছ রান্না করে খেতে যেমন সুস্বাদু শুঁটকি খেতেও তেমন সুস্বাদু। গত বছর ইলিশ কম ছিল। এখন চেউয়া শুঁটকির সিজন চলছে। শুরু থেকেই মাছের দেখা মিলছে। উৎপাদন বাড়লে জেলেরা আগের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন এবং জেলেদের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি ঘটবে। নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সাইন্স বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, হাতিয়া এলাকার কয়েক লাখ মানুষের খাদ্য পুষ্টি নিরাপত্তায় চেউয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আমরা স্টাডি করে দেখেছি তারা সারাবছর যে পরিমাণ মাছ খায় তার ৩০/৪০ ভাগ চেউয়া। তাদের যে বাজেট অন্য মাছের থেকে দশ ভাগের এক ভাগ টাকা দিয়ে এই মাছ ক্রয় করতে পারে। এই অঞ্চলের মানুষের জীবন জীবিকার সাথে চেউয়া মাছ ওতোপ্রতোভাবে জড়িত। ব্যক্তিগত উন্নয়ন সামাজিক কার্যক্রমে সাথে চেউয়া মাছ জড়িত। নোয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ বলেন, চেউয়া মাছ নরম প্রকৃতির হওয়ায় এটি বেশিক্ষণ স্টোরেজ করা যায় না। হাতিয়া দুর্গম এলাকা হওয়ায় বেশ সমস্যা হয়। যদি পরিবহন সুবিধা নিশ্চিত করা যায় তাহলে জেলেদের ভাগ্যোন্নয়ন হবে এবং তাদের জীবনযাত্রার মানের পরিবর্তন হবে। আমাদের মৎস্য খাদ্য উৎপাদনে যে ইনিগ্রেরেন্ট বাইরের দেশ হতে আনতে হয় এতে খরচ বেশি পড়ে যায়। যদি দেশের চাহিদা দেশে মেটাতে পারি তাহলে আমরা লাভবান হব।

নোয়াখালীর সুবর্ণচরের যুবকের আমজাদ হোসেন দিপুর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এসময় দুইটা চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। বিজ্ঞাপন রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাতে গাজীপুরের শ্রীপুরের ভাড়া বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃত আমজাদ হোসেন দিপু নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চর আমান উল্লাহ ইউনিয়নের মো. ফখরুল ইসলামের ছেলে। তিনি গাজীপুরের শ্রীপুরের একটি গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। বিজ্ঞাপন প্রথম চিরকুটে মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী না উল্লেখ করে আমজাদ হোসেন দিপু লিখেন, ‘বিদায়টা দরকার ছিল শান্তির জন্য। পরিবার, আত্মীয়-স্বজনরা, বন্ধুবান্ধব ইত্যাদি এই দুনিয়াটা একটা মরিচিকা।’ দ্বিতীয় চিরকুটে দিপু লিখেন, ‘কী পেলাম এই জীবনে। না আছে পরকালের জন্য, না আছে দুনিয়াবি কাজ। ভালো থাকুক দুনিয়ার মানুষ।’ মৃতের বন্ধু আব্দুল মালেক শাওন বলেন, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি দিপু এলাকার একটি মসজিদে পারিবারিকভাবে বিয়ে করেছিলেন। বিয়ের মাত্র ১০ দিনের মাথায় আজ দিপু আর নেই। তার বাড়িতে রয়েছেন নববধূ, যার হাতের মেহেদীর রং এখনো শুকায়নি। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মারাত্মক হতাশায় ভুগছিলেন। হয়তো সেই হতাশা থেকেই এভাবে নিজের জীবন শেষ করে দিয়েছেন। দিপুর মতো মিশুক মানুষ আমি জীবনে খুব কমই দেখেছি। চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লুৎফর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষ হলে মরদেহ স্বজনরা বাড়িতে আনবে। এবিষয়ে শ্রীপুর থানা পুলিশ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

প্লাস্টিকের জুতার ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে ইয়াবা পাচারের সময় নোয়াখালীর সদর উপজেলায় এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এ সময় তার কাছ থেকে ২ হাজার ৯৭০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। বিজ্ঞাপন সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৭টা থেকে ৮টা ২০ মিনিট পর্যন্ত সুধারাম মডেল থানার পূর্ব চাকলা গ্রামের খন্দকার মসজিদ মোড় এলাকায় দুলাল অটো সার্ভিসিং সেন্টারের সামনে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ইসমাইল হোসেন (৪০) নোয়াখালীর সদর উপজেলার কালাদরাফ ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের রামহরি তালুক এলাকার উত্তর চাকলা রাজের বাড়ির মৃত ফয়েজ আহমেদের ছেলে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, দুটি প্লাস্টিকের জুতার ভেতরে লুকিয়ে রাখা দুটি পলি প্যাকেট থেকে কমলা রঙের অ্যামফিটামিনযুক্ত মোট ২ হাজার ৯৭০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার ইয়াবার মোট ওজন প্রায় ২৮০ গ্রাম। এ ছাড়া, তার কাছ থেকে দুটি সিমযুক্ত একটি অপো A3s স্মার্টফোন ও একটি নকিয়া বাটন ফোন জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) ধারায় সুধারাম মডেল থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন। নোয়াখালী জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সুব্রত সরকার শুভ ঢাকা পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মাদকবিরোধী চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান। আজ (সোমবার) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে লেফটেন্যান্ট জেনারেল র্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে তিন বাহিনীর প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। এ বিষয়ে আইএসপিআর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান আজ থেকে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। সোমবার সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নবনিযুক্ত প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারকে লেফটেন্যান্ট জেনারেল র্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেন। এ সময় সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান ও বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান ২১ জুন ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কোর অব ইনফেনট্রিতে কমিশন লাভ করেন। তিনি ২৪ ডিভিশনের জিওসি, প্রতিরক্ষা ক্রয় মহাপরিদপ্তরে সামরিক সচিব ও মহাপরিচালক পদেসহ সেনাবাহিনীতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।

নোয়াখালীর সেনবাগের সেবারহাট বাজারের ফলের আড়ৎ থেকে প্রায় ৯হাজার ইয়াবাসহ আটক। সেনবাগ থানাধীন ফেনী টু নোয়াখালী মহাসড়কস্হ সেবারহাট পূর্ব বাজার নাছির উদ্দিনের ফলের আড়তের সামনে মহাসড়কের উপর *আসামীর নাম ও ঠিকানা:* ১) মো: আমির হোসেন (৪২), পিতা: মৃত. জাহাঙ্গীর কবির, ঠিকানা: উত্তর গনিপুর (ছাদু মিয়ার বাড়ি), পো: রাজাপুর, থানা: দাগনভূঁঞা, জেলা: ফেনী ২) মো: হারুন ভূঁঞা (৪০), পিতা: মো: রফিক, সাং- জয়নারায়নপুর (দপাদার বাড়ি), পো: রাজাপুর, থানা: দাগনভূঁঞা, জেলা: ফেনী *আলামত:* ১) কমলা বর্ণের অ্যামফিটামিনযুক্ত ইয়াবা নামীয় ট্যাবলেট ৮,৮৪০ (আট হাজার আটশত চল্লিশ) পিচ, যার ওজন ৮৫০ গ্রাম, ০২) চাবিসহ ঢাকা মেট্রো- গ-২৬-৬০৫৬ নং টয়োটা কালো প্রাইভেট কার ০১ (এক)টি, ০৩) মাদক ব্যবসায় ব্যবহৃত নগদ অর্থ ৬৭,৯০০/- (সাতষট্টি হাজার নয়শত) টাকা, ০৪) মাদক ব্যবসায় ব্যবহৃত তিনটি স্মার্ট ফোন ও একটি বাটন মোবাইল।

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার বিস্তীর্ণ উপকূলে ধরা পড়ে বিপুল পরিমাণ সামুদ্রিক চেউয়া মাছ। এই মাছ থেকেই বছরে কয়েকশ কোটি টাকার শুঁটকি উৎপাদন করেন স্থানীয় জেলেরা। তবে আধুনিক সংরক্ষণাগারের অভাব, উন্নত শুকানো ও প্রক্রিয়াজাতকরণ সুবিধার সংকট এবং সরাসরি বাজারজাতের সুযোগ না থাকায় সম্ভাবনাময় এই খাত থেকে ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না তারা। ফলে চেউয়া শুঁটকি শিল্পের বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও বঞ্চিত থেকে যাচ্ছেন উপকূলের মৎস্যজীবীরা। জানা গেছে, হাতিয়ার চরাঞ্চলে প্রায় ১০ হাজার একর জমিতে গড়ে উঠেছে শুঁটকি মহল। মূলত সামুদ্রিক চেউয়া মাছের শুঁটকি প্রক্রিয়াজাত করা হয় এসব চরে। এ কাজে প্রায় ২০ হাজার জেলে জড়িত। নদী থেকে মাছ তোলার পর রোদে শুকিয়ে শুঁটকি বানাতে সময় লাগে ৩ থেকে ৪ দিন। প্রতিদিন দেশের বিভিন্নস্থান থেকে আসা পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা জড়ো হন এসব শুঁটকি ক্রয় করতে। এসব শুঁটকি যায় ঢাকা, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। তবে যাতায়াত ব্যবস্থা ভালো না থাকায় লোকসানের মুখে পড়তে হয় জেলেদের। চেউয়া মাছের প্রাচুর্যে ব্যস্ত সময় পার করছেন জেলে মো. শরীফ হোসেন। মাছ বিক্রির টাকায় মাথা গোজার ঠাই নির্মাণের স্বপ্ন। সাথে রয়েছে জমি ক্রয়, স্কুল-মাদরাসা ও মসজিদ নির্মাণের স্বপ্ন। মো. শরীফ হোসেন ৩ নং ওয়ার্ডের ছায়াবীথি কিল্লা এলাকার মৃত জাফর উল্লাহ ছেলে। চলতি মৌসুমে নোয়াখালী জেলা-র দ্বীপ উপজেলা হাতিয়া উপজেলা-র বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চল ও প্রত্যন্ত এলাকাজুড়ে চেউয়া শুঁটকির ধুম পড়েছে। নদীতে ঝাঁকে ঝাঁকে ধরা পড়ছে চেউয়া মাছ। এসব মাছ শুকিয়ে শুঁটকি তৈরি করে জেলেরা পাচ্ছেন নতুন আয়ের সুযোগ। ফলে দিন দিন বাড়ছে এর বাণিজ্যিক সম্ভাবনা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ বছর চেউয়া শুঁটকির সম্ভাব্য বাজারমূল্য শতকোটি টাকা ছাড়াতে পারে। তবে সম্ভাবনার বিপরীতে রয়েছে নানা সীমাবদ্ধতা। সংরক্ষণাগারের অভাব, উন্নত পরিবহনব্যবস্থার ঘাটতি ও আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণ সুবিধা না থাকায় চরাঞ্চলে উৎপাদিত অধিকাংশ চেউয়া শুঁটকি শেষ পর্যন্ত মৎস্য ও পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। ফলে জেলেরা কাঙ্ক্ষিত ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ইলিশ ধরার সময় শেষ হলে বাংলা অগ্রহায়ণ মাস থেকে শুরু হয়ে চৈত্রের মাঝামাঝি পর্যন্ত চলে চেউয়া মাছের মৌসুম। স্থানীয়দের দাবি, দেশের মোট চাহিদার অর্ধেকেরও বেশি চেউয়া মাছ আসে এই দ্বীপ থেকে। প্রায় ১০ হাজার মানুষের শ্রমে উৎপাদিত চেউয়া শুঁটকি ঢাকা, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়। এসব শুঁটকি দিয়ে তৈরি হয় মাছ ও মুরগির খাদ্য (ফিড)। নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের জেলে আব্দুল আলী মাঝি বলেন, গত বছর তেমন মাছ পাননি। তবে এ বছর মৌসুমের শুরুতেই ভালো মাছ ধরা পড়ছে। সারাদেশ থেকে পাইকাররা শুটকি কিনতে আসেন। মাছের দাম কম হওয়ায় আমরা শুটকি বিক্রি করে লাভবান হই। পাইকারি ব্যবসায়ী মো. ইব্রাহিম পার্টি বলেন, নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের প্রায় ৯০/৯৫ শতাংশ মানুষ জেলে পেশায় জড়িত। গত বছর ইলিশ কম ছিল এবং চেউয়া মাছ পাওয়া যায়নি। এখন চেউয়া শুঁটকির সিজন চলছে। শুরু থেকেই মাছের দেখা মিলছে। উৎপাদন বাড়লে জেলেরা আগের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন। তবে পরিবহন, সংরক্ষণ ও কারখানা না থাকায় জেলেরা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না। নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মো. কেফায়েত হোসেন বলেন, চেউয়া মাছ রান্না করে খেতে যেমন সুস্বাদু শুঁটকি খেতেও তেমন সুস্বাদু। গত বছর ইলিশ কম ছিল। এখন চেউয়া শুঁটকির সিজন চলছে। শুরু থেকেই মাছের দেখা মিলছে। উৎপাদন বাড়লে জেলেরা আগের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন এবং জেলেদের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি ঘটবে। নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সাইন্স বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, হাতিয়া এলাকার কয়েক লাখ মানুষের খাদ্য পুষ্টি নিরাপত্তায় চেউয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আমরা স্টাডি করে দেখেছি তারা সারাবছর যে পরিমাণ মাছ খায় তার ৩০/৪০ ভাগ চেউয়া। তাদের যে বাজেট অন্য মাছের থেকে দশ ভাগের এক ভাগ টাকা দিয়ে এই মাছ ক্রয় করতে পারে। এই অঞ্চলের মানুষের জীবন জীবিকার সাথে চেউয়া মাছ ওতোপ্রতোভাবে জড়িত। ব্যক্তিগত উন্নয়ন সামাজিক কার্যক্রমে সাথে চেউয়া মাছ জড়িত। নোয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ বলেন, চেউয়া মাছ নরম প্রকৃতির হওয়ায় এটি বেশিক্ষণ স্টোরেজ করা যায় না। হাতিয়া দুর্গম এলাকা হওয়ায় বেশ সমস্যা হয়। যদি পরিবহন সুবিধা নিশ্চিত করা যায় তাহলে জেলেদের ভাগ্যোন্নয়ন হবে এবং তাদের জীবনযাত্রার মানের পরিবর্তন হবে। আমাদের মৎস্য খাদ্য উৎপাদনে যে ইনিগ্রেরেন্ট বাইরের দেশ হতে আনতে হয় এতে খরচ বেশি পড়ে যায়। যদি দেশের চাহিদা দেশে মেটাতে পারি তাহলে আমরা লাভবান হব।

পবিত্র রমজান উপলক্ষ্যে নোয়াখালীর জেলা শহর মাইজদীতে বাজারে তদারকি অভিযান পরিচালনা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। অভিযানে ভোক্তা অধিকারবিরোধী বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের দায়ে দুই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের নোয়াখালী জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে সদর উপজেলার মাইজদী বাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় নিত্যপণ্য, ফল ও ইফতারি সামগ্রী প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তদারকি কার্যক্রম চালানো হয়। অভিযানকালে ব্যবসায়ী ও দোকানিদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে লিফলেট বিতরণ করা হয় এবং দৃশ্যমান স্থানে মূল্যতালিকা প্রদর্শনের জন্য উদ্বুদ্ধ করা হয়। এতে জেলা বিশেষ টাস্কফোর্সের সদস্যরা এবং সুধারাম থানা পুলিশের একটি দল অংশ নেয়। জানা গেছে, ভোক্তা অধিকারবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে পুলিশ লাইন্স রোড এলাকায় বাসি জিলাপি পুনরায় ভেজে বিক্রির চেষ্টা এবং মেয়াদ উল্লেখবিহীন প্যাকেটজাত পণ্য বিক্রির অভিযোগে মেসার্স আয়োজন (মাইজদী শাখা) প্রতিষ্ঠানকে সতর্ক করে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পরে বাসি ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার জব্দ করে ধ্বংস করা হয়। এছাড়া ময়লাযুক্ত খেজুর প্যাকেটজাত করে বিক্রি এবং মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করায় মাইজদী বাজার এলাকার মেসার্স আলমগীর স্টোরকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। প্রতিষ্ঠানটিকে মানহীন খাদ্য বিক্রি থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, নোয়াখালী জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আছাদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, রমজানকে সামনে রেখে বাজারে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণে সচেতনতা বাড়ানো আমাদের মূল লক্ষ্য। আজকের অভিযানে অনিয়ম ও ভোক্তা অধিকারবিরোধী কর্মকাণ্ড প্রতিহত করতে দুটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে। আমরা ব্যবসায়ী ও দোকানিদের সচেতন করার পাশাপাশি, মানহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্য বিক্রির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে সদা প্রস্তুত। জনস্বার্থে এমন তদারকি অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

নোয়াখালীর সুবর্ণচরের যুবকের আমজাদ হোসেন দিপুর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এসময় দুইটা চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। বিজ্ঞাপন রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাতে গাজীপুরের শ্রীপুরের ভাড়া বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃত আমজাদ হোসেন দিপু নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চর আমান উল্লাহ ইউনিয়নের মো. ফখরুল ইসলামের ছেলে। তিনি গাজীপুরের শ্রীপুরের একটি গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। বিজ্ঞাপন প্রথম চিরকুটে মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী না উল্লেখ করে আমজাদ হোসেন দিপু লিখেন, ‘বিদায়টা দরকার ছিল শান্তির জন্য। পরিবার, আত্মীয়-স্বজনরা, বন্ধুবান্ধব ইত্যাদি এই দুনিয়াটা একটা মরিচিকা।’ দ্বিতীয় চিরকুটে দিপু লিখেন, ‘কী পেলাম এই জীবনে। না আছে পরকালের জন্য, না আছে দুনিয়াবি কাজ। ভালো থাকুক দুনিয়ার মানুষ।’ মৃতের বন্ধু আব্দুল মালেক শাওন বলেন, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি দিপু এলাকার একটি মসজিদে পারিবারিকভাবে বিয়ে করেছিলেন। বিয়ের মাত্র ১০ দিনের মাথায় আজ দিপু আর নেই। তার বাড়িতে রয়েছেন নববধূ, যার হাতের মেহেদীর রং এখনো শুকায়নি। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মারাত্মক হতাশায় ভুগছিলেন। হয়তো সেই হতাশা থেকেই এভাবে নিজের জীবন শেষ করে দিয়েছেন। দিপুর মতো মিশুক মানুষ আমি জীবনে খুব কমই দেখেছি। চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লুৎফর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষ হলে মরদেহ স্বজনরা বাড়িতে আনবে। এবিষয়ে শ্রীপুর থানা পুলিশ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

প্লাস্টিকের জুতার ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে ইয়াবা পাচারের সময় নোয়াখালীর সদর উপজেলায় এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এ সময় তার কাছ থেকে ২ হাজার ৯৭০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। বিজ্ঞাপন সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৭টা থেকে ৮টা ২০ মিনিট পর্যন্ত সুধারাম মডেল থানার পূর্ব চাকলা গ্রামের খন্দকার মসজিদ মোড় এলাকায় দুলাল অটো সার্ভিসিং সেন্টারের সামনে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ইসমাইল হোসেন (৪০) নোয়াখালীর সদর উপজেলার কালাদরাফ ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের রামহরি তালুক এলাকার উত্তর চাকলা রাজের বাড়ির মৃত ফয়েজ আহমেদের ছেলে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, দুটি প্লাস্টিকের জুতার ভেতরে লুকিয়ে রাখা দুটি পলি প্যাকেট থেকে কমলা রঙের অ্যামফিটামিনযুক্ত মোট ২ হাজার ৯৭০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার ইয়াবার মোট ওজন প্রায় ২৮০ গ্রাম। এ ছাড়া, তার কাছ থেকে দুটি সিমযুক্ত একটি অপো A3s স্মার্টফোন ও একটি নকিয়া বাটন ফোন জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) ধারায় সুধারাম মডেল থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন। নোয়াখালী জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সুব্রত সরকার শুভ ঢাকা পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মাদকবিরোধী চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান। আজ (সোমবার) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে লেফটেন্যান্ট জেনারেল র্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে তিন বাহিনীর প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। এ বিষয়ে আইএসপিআর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান আজ থেকে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। সোমবার সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নবনিযুক্ত প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারকে লেফটেন্যান্ট জেনারেল র্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেন। এ সময় সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান ও বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান ২১ জুন ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কোর অব ইনফেনট্রিতে কমিশন লাভ করেন। তিনি ২৪ ডিভিশনের জিওসি, প্রতিরক্ষা ক্রয় মহাপরিদপ্তরে সামরিক সচিব ও মহাপরিচালক পদেসহ সেনাবাহিনীতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।

নতুন পণ্য ঘোষণায় প্রচলিত ধারার বাইরে যেতে পারে প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল। ৪ মার্চ ‘স্পেশাল অ্যাপল এক্সপেরিয়েন্স’-এ অংশ নিতে প্রযুক্তিবিষয়ক গণমাধ্যমকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে এবারের আয়োজন প্রচলিত একক কি-নোট অনুষ্ঠানের মতো নাও হতে পারে। জানা গেছে, একদিনে সব ঘোষণা না করে তিন দিনজুড়ে ধারাবাহিকভাবে নতুন পণ্যের ঘোষণা দিতে পারে অ্যাপল। অনলাইনে এসব ঘোষণা আসবে। এরপর ৪ মার্চ নিউইয়র্ক, লন্ডন ও সাংহাইয়ে সরাসরি আয়োজনের মাধ্যমে সাংবাদিকদের হাতে-কলমে পণ্য ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হতে পারে। এ ধরনের আয়োজনকে ‘হ্যান্ডস-অন’ অভিজ্ঞতা বলেই মনে করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকেরা। এটি হতে পারে সরাসরি ডেমো প্রদর্শনের একটি বিশেষ আয়োজন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ সময় অন্তত পাঁচটি নতুন পণ্য উন্মোচন করতে পারে অ্যাপল। আলোচনায় রয়েছে স্বল্পমূল্যের একটি ম্যাকবুক। পাশাপাশি আসতে পারে আইফোন ১৭ই, এম৪ চিপসংবলিত আইপ্যাড এয়ার, নতুন এন্ট্রি-লেভেল আইপ্যাড এবং আপগ্রেড সংস্করণের ম্যাকবুক এয়ার ও ম্যাকবুক প্রো। যদিও এসব পণ্য বসন্তেই আসার কথা, ঠিক কোনটি কবে ঘোষণা হবে— তা নিয়ে এখনো স্পষ্ট নয়। তবে প্রযুক্তি বিশ্বে জোর গুঞ্জন, মার্চের শুরুতেই একাধিক চমক নিয়ে হাজির হবে অ্যাপল। প্রচলিত মঞ্চভিত্তিক কি-নোটের বদলে যদি ধাপে ধাপে ঘোষণা আসে, তাহলে তা অ্যাপলের কৌশলে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেবে। এতে পণ্যের প্রতি আগ্রহ কয়েক দিন ধরে ধরে রাখা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) নতুন মৌসুম শুরু হয়েছে। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ইন্টার মায়ামি গত শনিবার রাতে লস অ্যাঞ্জেলস এফসির মাঠে নেমে হেরেছে ৩-০ গোলে। পুরো ম্যাচে লক্ষ্যে কোনো শট রাখতে পারেননি লিওনেল মেসি। নিষ্প্রভ আর্জেন্টাইন তারকা স্বাভাবিকভাবে হতাশ ছিলেন। তবে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, কারো অনুমতি ছাড়া ম্যাচ শেষে রেফারিদের রুমে ঢুকেছিলেন আর্জেন্টাইন তারকা। এই অভিযোগের ভিত্তিতে বিস্তর পর্যালোচনা করেছে লিগ কর্তৃপক্ষ। ভিডিও বিশ্লেষণের পর তারা রায় দিয়েছে, মেসি লিগের কোনো নীতি লংঘন করেননি। তাই কোনো শাস্তি পাচ্ছেন না এলএমটেন। এমনকি এমএলএসের ডিসিপ্লিনারি কমিটিতেও নেওয়া হবে না এই বিষয়টি। ম্যাচের পর একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দেখা যায় মায়ামি অধিনায়ক রেফারিদের প্রাঙ্গনে প্রবেশ করছেন। অনেকে অভিযোগ করেন, আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড ম্যাচ অফিসিয়ালদের রুমে প্রবেশ করেছেন কারো অনুমতি ছাড়াই। কিন্তু এমএলএস রায় দিয়েছে, মেসি যে পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, সেটা লিগের কোনো সীমাবদ্ধ এলাকা নয়। আর মেসি যে দরজা দিয়ে ঢুকেছিলেন, সেটা রেফারিদের লকার রুমের নয়। পেশাদার রেফারি সংস্থার কমিউনিকেশন পরিচালক ক্রিস রিভেট ইএসপিএন-কে নিশ্চিত করেছে, মেসি অফিসিয়ালদের রুমে প্রবেশ করেননি। তার কথা, ‘ম্যাচ অফিসিয়ালদের সঙ্গে কথা বলার পর আমরা নিশ্চিত করছি তিনি তাদের রুমে প্রবেশ করেননি।’ ম্যাচের রেফারির ওপর মেসি বিরক্ত ছিলেন কি না প্রশ্নে মায়ামি কোচ জাভিয়ের মাসচেরানো জানান, আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডকে বিষণ্ন থাকতে দেখেননি তিনি। তার বক্তব্য, ‘না, না। আমি কিছুই দেখিনি। সত্যি হচ্ছে ম্যাচ শেষ হওয়ার পর আমি লকার রুমে চলে গেছি।’

মালয়েশিয়ার বোর্নিও দ্বীপের সাবাহ অঙ্গরাজ্যের উপকূলে একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৭.১। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সময় রাত ১২টা ৫৭ মিনিটে এই কম্পন অনুভূত হয়। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল সাবাহ অঙ্গরাজ্যের রাজধানী কোটা কিনাবলু থেকে ১০০ কিলোমিটারেরও (৬২ মাইল) কম উত্তর-পূর্বে। ভূপৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল ৬১৯.৮ কিলোমিটার। ভূমিকম্পটির গভীরতা অনেক বেশি হওয়ায় এতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের সম্ভাবনা কম বলে জানিয়েছে ইউএসজিএস। এছাড়া মার্কিন সুনামি সতর্কীকরণ কেন্দ্র কোনো ধরনের সতর্কতা জারি করেনি। তারা স্পষ্ট করেছে যে, গভীর সমুদ্রতলে এই কম্পন হওয়ায় সুনামির কোনো আশঙ্কা নেই। মালয়েশিয়ার আবহাওয়া অধিদপ্তর এই ভূমিকম্পের মাত্রা ৬.৮ বলে রেকর্ড করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, সাবাহ-এর পশ্চিম উপকূল ছাড়াও সারাওয়াক রাজ্যের বেশ কিছু এলাকায় মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের কম্পন অনুভূত হয়েছে।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় প্রতিবন্ধী এক চালককে হত্যা করে অটোরিকশা ছিনতাই করেছে দুর্বৃত্তরা। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মুন্সী বাড়ির পেছনের একটি ধানক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত আবদুল আহাদ (২৪) একই ইউনিয়নের বাসিন্দা নুরুল আলমের ছেলে। তিনি শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী ছিলেন এবং অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার দুপুরে মুন্সী বাড়ির পেছনের ধানক্ষেতে একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে এলাকাবাসী। পরে কাছে গিয়ে তারা মরদেহটি নিখোঁজ অটোরিকশা চালক আহাদের বলে শনাক্ত করেন। খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে শত শত মানুষ ভিড় করেন। তবে আহাদের ব্যবহৃত অটোরিকশাটি ঘটনাস্থল বা আশপাশে পাওয়া যায়নি। এ সময় তার মুখ ও গলায় টেপ প্যাঁচানো অবস্থায় ছিল বলে স্থানীয়রা জানান। নিহতের মামা মো. আজাদ বলেন, দুই বছর আগে আহাদের মায়ের সঙ্গে তার বাবার ছাড়াছাড়ি হয়। এরপর থেকে সে নানার বাড়িতে থাকত। স্থানীয় জিলানী নামে এক ব্যক্তির গ্যারেজে থেকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করত আহাদ। শনিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে অটোরিকশার মালিক ফোনে আহাদের মাকে জানান, সে রিকশা নিয়ে গ্যারেজে ফেরেনি। এরপর থেকে অটোরিকশাসহ নিখোঁজ ছিল। রোববার দুপুরে জমির মালিক ধানক্ষেতে পানি দিতে গিয়ে মুখে কসটেপ মোড়ানো অবস্থায় আহাদের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়দের জানান। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য মানিক বলেন, এলাকাবাসীর মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আহাদকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তার অটোরিকশাটি পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে অটোরিকশাটি ছিনতাই করা হয়েছে। আমরা দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাই। বেগমগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) হাবিবুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। তবে নিহতের অটোরিকশার এখনও কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। হত্যার কারণ ও ঘটনায় জড়িতদের পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ না থাকায় ওই সময়ে অদম্য টি-টোয়েন্টি কাপে খেলেছিলেন জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা। এরপর কিছুদিন বিশ্রামে থেকে তারা আবারও মাঠে নামছেন। আগামীকাল (সোমবার) থেকে শুরু হবে ওয়ানডে ফরম্যাটের বিসিএল। তার আগে রাজশাহীর উইকেট নিয়ে কথা বলেছেন ক্রিকেটার সাইফ হাসান। গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় মিরপুরে উইকেট যে খুব খারাপ হয় তা না। রাতের ম্যাচগুলোয় সবসময় উইকেট ভালো থাকে। যখন শিশির পড়ে তখনও ভালো থাকে। এটা নির্ভর করে আসলে, একেক দিন একেক রকম থাকে। আমরা জানি রাজশাহী এবং বগুড়ায়–ও ভালো উইকেট থাকে। তাই আমার মনে হয় এটা নির্ভর করে আসলে কোন দিনে কেমন থাকে, এর সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াটা খুব জরুরি।’ বাংলাদেশ দলে ওপেনারদের মধ্যে প্রতিযোগিতা প্রসঙ্গে সাইফ বলেন, ‘(দলের মধ্যে) প্রতিযোগিতা আছে কি না জানি না। সর্বশেষ দলে কে ছিল না ছিল... আসলে অনেকদিন হয়ে গেছে। নতুন টুর্নামেন্ট আছে। এখন আমরা বিসিএল খেলব, সবার নজর এখানে। এখানে যদি একটা ভালো শেপে সবাই আসতে পারে আশা করি ভালো হবে। আমরা বেশিরভাগ ম্যাচ টি-টোয়েন্টি খেলছি গত কয়েক মাস। তাই খুব ভালো হলো আমাদের জন্য (এখন বিসিএলে ওয়ানডে খেলার সুযোগ), ভালো একটা প্রস্তুতি হবে আমাদের জন্য।’ ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ নিয়ে এখনই ভাবতে চান না ডানহাতি এই ব্যাটার, ‘একেক জনের গোল একেক রকম হতে পারে। তবে আমার মনে হয় এত দূরেরটা না দেখে প্রথমে দেখা উচিত আমরা ওয়ানডে খেলা শুরু করছি অনেকদিন পর। কীভাবে নিজেদেরকে তাড়াতাড়ি খাপ খাইয়ে নিতে পারি দেখতে হবে। তারপর ধাপে ধাপে সামনে যে সিরিজগুলো আসবে, সেগুলোর ওপর নজর রাখা উচিত।’

প্রায় ১৭ বছর আগে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের আশ্রাফাবাদে এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় চার যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ রায় দেন। দণ্ডিতরা হলেন- শহিদুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, নিজাম এবং মনির হোসেন ওরফে সেন্টু। সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর এরশাদ আলম (জর্জ) সাজার তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, দণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আসামিদের স্থাবর/অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে অর্থদণ্ডের টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিতে ঢাকার জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আসামিদের মধ্যে সাইফুল ইসলাম পলাতক রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে ট্রাইব্যুনাল। অপর তিন আসামি আদালতে হাজির ছিলেন। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০০৯ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর ২৫ বছর বয়সে ওই নারীর তার বান্ধবীর সঙ্গে কামরাঙ্গীরচর থানাধীন আশ্রাফাবাদে ময়দার মিলের পার্শ্বে নৌকা ঘাটে বেড়িবাধে রেড়াতে বের হয়েছিলেন। এক পর্যায়ে তার বান্ধবী তাকে রেখে বাসায় চলে যায়। তার বান্ধবী চলে যাওয়ার পর ঐদিন বিকেল ৬টা ৪৫ মিনিটে আসামি মো. শহিদুল, মো. সাইফুল, মো. নিজাম, সুজন, মো. পলাশ এবং মো. সেন্টু জোর পূর্বক তার প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাকে একটি নৌকায় উঠায় এবং বুড়িগঙ্গা নদীর মাঝখানে নিয়ে মাঝিকে নদীর মধ্যে ফেলে দেন। পরে নৌকার মধ্যে আসামিরা পালাক্রমে ওই নারীকে ধর্ষণ করে। ধর্ষণ করার পর আসামির ভিকটিমকে ছালাম কন্ট্রাকদারের বাড়ির একটি রুমের মধ্যে তালাবদ্ধ করে রাখেন। এরপর সংবাদ পেয়ে তার বাবা-মা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেন। ওই ঘটনায় ভিকটিম বাদী হয়ে কামরাঙ্গীরচর থানায় ধর্ষণের অভিযোগে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে ২০১০ সালের ৩১ অক্টোবর তদন্ত কর্মকর্তা কামরাঙ্গীরচর থানার উপ-পরিদর্শক মো. শফিকুল ইসলাম শিকদার আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।