

নোয়াখালীর চাটখিলে মোটরের তারে স্পর্শে মা ও ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুর সোয়া ১টার দিকে চাটখিল পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ছয়ানী টবগা গ্রামের মুনছুর মেম্বারের বাড়িতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- ছয়ানী টবগা গ্রামের খোকন চন্দ্র ঘোষের স্ত্রী অঞ্জনা রানী ঘোষ (৩৫) এবং তার ছেলে রাহুল (৮)। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুলাল চন্দ্র ঘোষসহ একাধিক মালিকানাধীন একটি পুকুর থেকে মোটর দিয়ে পানি সেচ করা হচ্ছিল। এ সময় রাহুল মোটরের তার স্পর্শ করলে বিদ্যুতায়িত হয়। ছেলেকে উদ্ধার করতে গিয়ে তার মা অঞ্জনা রানী ঘোষও বিদ্যুতায়িত হন। এতে ঘটনাস্থলেই মা-ছেলের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোন্নাফ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নোয়াখালীতে মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ। শুক্রবার (১৯ জুন) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন নোয়াখালী পুলিশ সুপার (এসপি) এন এম নাসিরুদ্দিন। তিনি বলেন, ফেসবুকের কতিপয় আইডি থেকে ‘নিষিদ্ধ দলের রাজকীয় প্রত্যাবর্তনের দাবিতে নোয়াখালীর আপামর জনতা পবিত্র জুমার নামাজের পর স্বতঃস্ফূর্তভাবে মাঠে নেমে গেছে’ শিরোনামে একটি ভিডিও ও কয়েকটি স্থিরচিত্র প্রচার করা হচ্ছে। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে দেখা গেছে, প্রচারিত তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর। শুক্রবার নোয়াখালী জেলায় এ ধরনের কোনো মিছিল বা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়নি। জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল জানিয়েছে, প্রচারিত ভিডিও ও ছবিগুলো বর্তমান সময়ের নয়। এগুলো অনেক আগে ধারণ করা ভিডিও ও স্থিরচিত্র থেকে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ভিডিওতে ব্যবহৃত স্লোগানও সম্পাদনার (এডিটিং) মাধ্যমে সংযোজন করা হয়েছে। যা জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশে প্রচার করা হচ্ছে। এসপি এন এম নাসিরুদ্দিন আরও বলেন, ভুয়া, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের সঙ্গে জড়িত আইডিগুলো শনাক্ত করা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

পবিত্র হজ পালন শেষে সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে ফিরতে শুরু করেছেন হজযাত্রীরা। শুক্রবার (২০ জুন) পর্যন্ত ১৫৬টি ফিরতি ফ্লাইটে দেশে ফিরেছেন ৬১ হাজার ৬৯৭ জন হাজি। হজ অফিসের তথ্য অনুযায়ী, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ৭৮টি, সৌদিয়া এয়ারলাইন্স ৫৬টি এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স ২২টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে। একই সঙ্গে চলতি হজ মৌসুমে সৌদি আরবে ৫৪ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে হজ অফিস। হজ অফিস জানায়, সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৩১৯ জন এবং বেসরকারি ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে ৫৭ হাজার ৩৭৮ জন হাজি দেশে ফিরেছেন। এয়ারলাইন্সভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ৭৮টি ফ্লাইটে ২৭ হাজার ৩৬৩ জন, সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের ৫৬টি ফ্লাইটে ২১ হাজার ৬৫২ জন, ফ্লাইনাসের ২২টি ফ্লাইটে ৮ হাজার ৬৭২ জন এবং অন্যান্য এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে ৪ হাজার ১০ জন হাজি দেশে ফিরেছেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বাকি হাজিরা নির্ধারিত এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে দেশে ফিরবেন। এদিকে চলতি হজ মৌসুমে সৌদি আরবে ৩৬ জন পুরুষ ও ১৮ জন নারীসহ ৫৪ জন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে মক্কায় ৩৭ জন, মদিনায় ১৬ জন এবং জেদ্দায় একজন মৃত্যুবরণ করেন। তবে মিনা বা মুজদালিফায় কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। হজ বুলেটিন অনুযায়ী, ৪১৫ জন বাংলাদেশি হাজি সৌদি আরবের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন এবং ১১ জন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। সৌদি মেডিকেল সেন্টারগুলো ৬৬ হাজার ২৪৯ জন হাজিকে স্বাস্থ্যসেবা দিয়েছে এবং মক্কা ও মদিনার আইটি হেল্প ডেস্ক ২৮ হাজার ১৯৮ জন হাজিকে বিভিন্ন তথ্য ও সেবা দিয়ে সহায়তা করেছে। গত ১৮ এপ্রিল প্রথম বহির্গামী ফ্লাইটের মাধ্যমে চলতি বছরের হজ পরিবহন কার্যক্রম শুরু হয় এবং ২১ মে প্রাক-হজ ফ্লাইট সম্পন্ন হয়। চলতি বছরের ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হয়। হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ৩০ মে থেকে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হয় এবং তা আগামী ১ জুলাই পর্যন্ত চলবে। হজ অফিসের তথ্য মতে, এবার বাংলাদেশের জন্য সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯৩৫ জনসহ মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজযাত্রীর কোটা বরাদ্দ ছিল।

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ২০তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে ডিনস অ্যাওয়ার্ড-২০২৬ এর জন্য সাতটি অনুষদের মোট ২২ জন শিক্ষার্থী চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। আগামী ২২ জুন বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের অনুষ্ঠানে তাদের হাতে এ সম্মাননা তুলে দেওয়া হবে।বুধবার (১৭ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ সেল অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্তদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করে। প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, ২০১৯-২০ ও ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান, বিজনেস স্টাডিজ, বিজ্ঞান, আইন, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি, জীববিজ্ঞান এবং শিক্ষা বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থীরা এ সম্মাননার জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। প্রতিবছর অনুষদভিত্তিক সর্বোচ্চ একাডেমিক সাফল্যের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের এ স্বীকৃতি দেওয়া হয়।বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের নাহিন সুলতানা লিজা ও হৃদয় বণিক এবং ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (আইসিই) বিভাগের নিলয় দাস ডিনস অ্যাওয়ার্ডের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন।একই শিক্ষাবর্ষে বিজনেস স্টাডিজ অনুষদে ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের নাফিসা জান্নাতুল মাওয়া, ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের সাদিউল আলম চৌধুরী এবং ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের আমরান হোসাইন নির্বাচিত হয়েছেন।জীববিজ্ঞান অনুষদে অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের মো. রকিবুল হাসান, ফার্মেসি বিভাগের ফজলে রাব্বী শুভ এবং বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকিউলার বায়োলজি বিভাগের সুকন্যা সাহা এ সম্মাননার জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। আইন অনুষদে আইন বিভাগের মো. মুবদি ইসলাম ডিনস অ্যাওয়ার্ড পাচ্ছেন।বিজ্ঞান অনুষদে পরিসংখ্যান বিভাগের ইশরাত জাহান, সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের মনিকা ধর ও নাদিয়া জাহান নির্বাচিত হয়েছেন। কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে ইনফরমেশন সায়েন্স অ্যান্ড লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ইশরাত জাহান ইভা, সমাজকর্ম বিভাগের সাদিয়া সুলতানা এবং অর্থনীতি বিভাগের কামরুন নাহার এ স্বীকৃতির জন্য নির্বাচিত হয়েছেন।২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষা বিজ্ঞান অনুষদে এডুকেশন বিভাগের রাহনুমা নূরাইন ও আরাফাত উল্লাহ আরমান এবং এডুকেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের হাফসা আক্তার ডিনস অ্যাওয়ার্ডের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। একই শিক্ষাবর্ষে বিজনেস স্টাডিজ অনুষদে ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের মারিয়া তাবাসসুম, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের আয়েশা সিদ্দিকা এবং ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের ডালিয়া রানী শর্মা এ সম্মাননার জন্য নির্বাচিত হয়েছেন।এ বিষয়ে নোবিপ্রবির উপ-উপাচার্য ও রিসার্চ সেলের পরিচালক ড. শফিকুল ইসলাম বলেন, “এবার সাতটি অনুষদের মোট ২২ জন শিক্ষার্থী ডিনস অ্যাওয়ার্ড পাচ্ছেন। এছাড়া গবেষণায় অবদানের জন্য তিনটি ভাইস-চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ডও প্রদান করা হবে।”
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আগামী পাঁচ দিন বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণও হতে পারে। আজ শুক্রবার (১৯ জুন) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, শনিবার (২০ জুন) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী ও ঢাকা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে। এদিন দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে, তবে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। রবিবার (২১ জুন) রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও ভারি বর্ষণ হতে পারে। এদিন দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। সোমবার (২২ জুন) রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে। এ সময় দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে। এদিন দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে, তবে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, পরবর্তী বর্ধিত পাঁচ দিনেও বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। লঘুচাপের বর্ধিতাংশ গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এ অবস্থায় মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরের অন্যত্র দুর্বল থেকে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।

নোয়াখালীর চাটখিলে মোটরের তারে স্পর্শে মা ও ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুর সোয়া ১টার দিকে চাটখিল পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ছয়ানী টবগা গ্রামের মুনছুর মেম্বারের বাড়িতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- ছয়ানী টবগা গ্রামের খোকন চন্দ্র ঘোষের স্ত্রী অঞ্জনা রানী ঘোষ (৩৫) এবং তার ছেলে রাহুল (৮)। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুলাল চন্দ্র ঘোষসহ একাধিক মালিকানাধীন একটি পুকুর থেকে মোটর দিয়ে পানি সেচ করা হচ্ছিল। এ সময় রাহুল মোটরের তার স্পর্শ করলে বিদ্যুতায়িত হয়। ছেলেকে উদ্ধার করতে গিয়ে তার মা অঞ্জনা রানী ঘোষও বিদ্যুতায়িত হন। এতে ঘটনাস্থলেই মা-ছেলের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোন্নাফ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নোয়াখালীতে মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ। শুক্রবার (১৯ জুন) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন নোয়াখালী পুলিশ সুপার (এসপি) এন এম নাসিরুদ্দিন। তিনি বলেন, ফেসবুকের কতিপয় আইডি থেকে ‘নিষিদ্ধ দলের রাজকীয় প্রত্যাবর্তনের দাবিতে নোয়াখালীর আপামর জনতা পবিত্র জুমার নামাজের পর স্বতঃস্ফূর্তভাবে মাঠে নেমে গেছে’ শিরোনামে একটি ভিডিও ও কয়েকটি স্থিরচিত্র প্রচার করা হচ্ছে। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে দেখা গেছে, প্রচারিত তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর। শুক্রবার নোয়াখালী জেলায় এ ধরনের কোনো মিছিল বা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়নি। জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল জানিয়েছে, প্রচারিত ভিডিও ও ছবিগুলো বর্তমান সময়ের নয়। এগুলো অনেক আগে ধারণ করা ভিডিও ও স্থিরচিত্র থেকে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ভিডিওতে ব্যবহৃত স্লোগানও সম্পাদনার (এডিটিং) মাধ্যমে সংযোজন করা হয়েছে। যা জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশে প্রচার করা হচ্ছে। এসপি এন এম নাসিরুদ্দিন আরও বলেন, ভুয়া, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের সঙ্গে জড়িত আইডিগুলো শনাক্ত করা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

পবিত্র হজ পালন শেষে সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে ফিরতে শুরু করেছেন হজযাত্রীরা। শুক্রবার (২০ জুন) পর্যন্ত ১৫৬টি ফিরতি ফ্লাইটে দেশে ফিরেছেন ৬১ হাজার ৬৯৭ জন হাজি। হজ অফিসের তথ্য অনুযায়ী, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ৭৮টি, সৌদিয়া এয়ারলাইন্স ৫৬টি এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স ২২টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে। একই সঙ্গে চলতি হজ মৌসুমে সৌদি আরবে ৫৪ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে হজ অফিস। হজ অফিস জানায়, সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৩১৯ জন এবং বেসরকারি ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে ৫৭ হাজার ৩৭৮ জন হাজি দেশে ফিরেছেন। এয়ারলাইন্সভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ৭৮টি ফ্লাইটে ২৭ হাজার ৩৬৩ জন, সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের ৫৬টি ফ্লাইটে ২১ হাজার ৬৫২ জন, ফ্লাইনাসের ২২টি ফ্লাইটে ৮ হাজার ৬৭২ জন এবং অন্যান্য এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে ৪ হাজার ১০ জন হাজি দেশে ফিরেছেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বাকি হাজিরা নির্ধারিত এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে দেশে ফিরবেন। এদিকে চলতি হজ মৌসুমে সৌদি আরবে ৩৬ জন পুরুষ ও ১৮ জন নারীসহ ৫৪ জন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে মক্কায় ৩৭ জন, মদিনায় ১৬ জন এবং জেদ্দায় একজন মৃত্যুবরণ করেন। তবে মিনা বা মুজদালিফায় কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। হজ বুলেটিন অনুযায়ী, ৪১৫ জন বাংলাদেশি হাজি সৌদি আরবের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন এবং ১১ জন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। সৌদি মেডিকেল সেন্টারগুলো ৬৬ হাজার ২৪৯ জন হাজিকে স্বাস্থ্যসেবা দিয়েছে এবং মক্কা ও মদিনার আইটি হেল্প ডেস্ক ২৮ হাজার ১৯৮ জন হাজিকে বিভিন্ন তথ্য ও সেবা দিয়ে সহায়তা করেছে। গত ১৮ এপ্রিল প্রথম বহির্গামী ফ্লাইটের মাধ্যমে চলতি বছরের হজ পরিবহন কার্যক্রম শুরু হয় এবং ২১ মে প্রাক-হজ ফ্লাইট সম্পন্ন হয়। চলতি বছরের ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হয়। হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ৩০ মে থেকে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হয় এবং তা আগামী ১ জুলাই পর্যন্ত চলবে। হজ অফিসের তথ্য মতে, এবার বাংলাদেশের জন্য সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯৩৫ জনসহ মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজযাত্রীর কোটা বরাদ্দ ছিল।

বিশ্বকাপে ব্রাজিলের হয়ে প্রথমবার শুরুর একাদশে খেলার সুযোগ পেয়েই মুহূর্তটি দারুণভাবে কাজে লাগালেন ম্যাথিউস কুনহা। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই স্ট্রাইকার হাইতির বিপক্ষে ম্যাচে দুটি গোল করেন এবং উদযাপন দিয়ে সবার নজর কাড়েন। সার্ফবোর্ডে সার্ফিং করার ভঙ্গিতে গোল উদযাপন করতে দেখা গেছে তাকে। খুব বেশি মানুষের সম্ভবত জানা নেই যে, এই ভঙ্গির উৎস এসেছে ফুটবলের গণ্ডি ছাড়িয়ে যাওয়া একটি আবেগ থেকে। মাঠের বাইরে কুনিয়ার সার্ফিংয়ের সাথে একটি ভালো সংযোগ রয়েছে। এই খেলা শখ হিসেবে শুরু হলেও ধীরে ধীরে তার অবসরের রুটিনে জায়গা করে নিয়েছে। এমনকি ব্রাজিলিয়ান সার্ফিংয়ের ইতিহাসের অন্যতম সেরা নাম ইতালো ফেরেরার সাথেও এই খেলোয়াড়ের দারুণ বন্ধুত্ব রয়েছে। কুনহা একবার বলেছিলেন যে, রিও গ্রান্দে দো নর্তে সফরের সময় তিনি প্রথম সার্ফিংয়ের সংস্পর্শে আসেন। সেখানে তিনি স্থানীয় সার্ফারদের সাথে পরিচিত হন এবং ইতালোর ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। এই অভিজ্ঞতা তার মাঝে এমন এক আবেগ জাগিয়ে তোলে যা দ্রুত একটি অভ্যাসে পরিণত হয় এবং ইংল্যান্ডে যাওয়ার পরও তার দৈনন্দিন রুটিনের অংশ হিসেবে থেকে যায়। ইউরোপে বসবাস করার পরও কীভাবে তিনি এই সার্ফিংয়ের অভ্যাস বজায় রাখেন, সেটিও তিনি ব্যাখ্যা করেছেন—ইংল্যান্ডের ব্রিস্টলে আর্টিফিশিয়াল ওয়েভ স্ট্রাকচার সার্ফিং করার জন্য তিনি তার ছুটির সময়কে কাজে লাগান। তিনি বলেন, ‘সার্ফিং আমার জীবনে এসেছিল অবসর ও বিনোদনের একটি মুহূর্তে। আমি রিও গ্রান্দে দো নর্তের বাইয়া ফর্মোসায় কয়েক দিনের ছুটিতে ছিলাম এবং সেখানে কিছু সার্ফারের সাথে দেখা করার সৌভাগ্য হয়েছিল। তখন থেকেই এই খেলার প্রতি আমার আগ্রহ জন্মায় এবং যখনই অবসর সময় পাই, এটি অনুশীলন করার চেষ্টা করি।’ ফিলাডেলফিয়াতে তো ইতালোকে উদ্দেশ্য করেই উদযাপন করলেন। তার এই বন্ধুও সাড়া দিয়েছেন। কুনহাকে তার কাছে ঋণী থাকা উচিত মনে করিয়ে তিনি বলেছেন, ‘তার কাছে আমার একটি সার্ফবোর্ড পাওনা থাকল।’

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ছয়ানী ইউনিয়নে তৈয়বপুর মেস্তরী বাড়ির বসতবাড়িতে সন্ত্রাসী হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার পর বেগমগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ দিতে বলেন। গতকাল বেলা ৬ টায় ওই ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের মেস্তরী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগে ভুক্তভোগী আবদুর রহিম জানান, গতকাল সন্ধায় ফাহাদ,সুমন, ছালেহা, ইয়াসমিন, ইসমাইল হোসেন জুয়েলের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী আমাদের বসত ঘরে এসে হুমকি দিয়ে যায়। পরে সন্ধায় ফাহাদ, সুমনের নেতৃত্বে ১৫-২০ জন লোক বাড়িতে ব্যাপক হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এ সময় তারা নগদ টাকা ও অন্যান্য মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। হামলাকারীরা ঘরে থাকা নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবার দ্রব্যাদি সম্পূর্ণ নষ্ট করে ফেলে। ঘরে থাকা মহিলাদের গায়ে হাত দেয় এবং নানা অশ্লীল আচরণ করে। খতিজা বেগম জানান,ফাহাদ নামের সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আমার বাম হাতে আঘাত করে এবং আমার বুকে পিঠে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে। পরবর্তীতে বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি হয়। উক্ত ঘটনায় বাদি হয়ে আবদুর রহিম নোয়াখালী ০৩ নং আমলী আদালতে সি আর মামলা দায়ের করেন।ছয়ানী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জামাল বলেন, সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত থাকলে তার দায় কেউ নেবে না। বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বেগমগঞ্জ থানার (ওসি) জানান, ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নোয়াখালীর সেনবাগে একটি বিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে দুই ছাত্রীকে প্রেমের প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগে তিন কিশোরকে থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। একই ঘটনায় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে দুই ছাত্রীকে বহিষ্কার করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।বুধবার (১৭ জুন) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার কাদরা ইউনিয়নের চাঁদপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।থানায় সোপর্দ করা তিন কিশোর হলেন, কাদরা ইউনিয়নের খলিফা পাড়ার মো.সোলেমানের ছেলে মেহেদী হাসান দুলাল (১৮), একই এলাকার নুরুজ্জামানের ছেলে আবু ইউসুফ ফাহিম (১৮) এবং সেনবাগ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাতানিয়া মিজি বাড়ির শহীদুল ইসলামের ছেলে মাহফুজুল ইসলাম (১৮)। অপরদিকে বহিষ্কৃত দুই ছাত্রী হলেন, চাঁদপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী সমিতা ইসলাম (১৪) ও সুমাইয়া আক্তার প্রীতি (১৪)।বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল পৌনে ১০টার দিকে বহিরাগত দুলাল, ফাহিম ও মাহফুজুল বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। এ সময় তারা অষ্টম শ্রেণির দুই ছাত্রীর কাছে চকলেট দেন, যার গায়ে ‘আই লাভ ইউ’ লেখা ছিল। বিষয়টি বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষার্থীদের নজরে এলে তারা তিন কিশোর ও দুই ছাত্রীকে আটক করে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে নিয়ে যায়। পরে প্রধান শিক্ষক তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য মোবাইল নম্বর চাইলে তারা তা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। একপর্যায়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তিন কিশোরকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে এবং দুই ছাত্রীকে বহিষ্কার করে।চাঁদপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুক্তার হোসেন ইকবাল বলেন, শিক্ষার্থীরা তাদের আটক করে আমার অফিসে নিয়ে আসে। আমি অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তারা অভিভাবকদের নম্বর দিতে রাজি হয়নি। পরে বহিরাগত তিনজনকে থানায় সোপর্দ করা হয়। এছাড়া শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে দুই ছাত্রীকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে এলাকার অনেক শিক্ষার্থী সন্ধ্যা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত দোকানে আড্ডা দেয় এবং কেউ কেউ মাদকের সঙ্গেও জড়িয়ে পড়ছে। এ বিষয়ে অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন।সেনবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুস সালাম বলেন, বিদ্যালয়ে তাদের আটক করা হয়েছিল। খবর পেয়ে পুলিশ তাদের থানায় নিয়ে আসে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত আছেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ২০তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে ডিনস অ্যাওয়ার্ড-২০২৬ এর জন্য সাতটি অনুষদের মোট ২২ জন শিক্ষার্থী চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। আগামী ২২ জুন বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের অনুষ্ঠানে তাদের হাতে এ সম্মাননা তুলে দেওয়া হবে।বুধবার (১৭ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ সেল অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্তদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করে। প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, ২০১৯-২০ ও ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান, বিজনেস স্টাডিজ, বিজ্ঞান, আইন, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি, জীববিজ্ঞান এবং শিক্ষা বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থীরা এ সম্মাননার জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। প্রতিবছর অনুষদভিত্তিক সর্বোচ্চ একাডেমিক সাফল্যের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের এ স্বীকৃতি দেওয়া হয়।বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের নাহিন সুলতানা লিজা ও হৃদয় বণিক এবং ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (আইসিই) বিভাগের নিলয় দাস ডিনস অ্যাওয়ার্ডের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন।একই শিক্ষাবর্ষে বিজনেস স্টাডিজ অনুষদে ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের নাফিসা জান্নাতুল মাওয়া, ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের সাদিউল আলম চৌধুরী এবং ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের আমরান হোসাইন নির্বাচিত হয়েছেন।জীববিজ্ঞান অনুষদে অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের মো. রকিবুল হাসান, ফার্মেসি বিভাগের ফজলে রাব্বী শুভ এবং বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকিউলার বায়োলজি বিভাগের সুকন্যা সাহা এ সম্মাননার জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। আইন অনুষদে আইন বিভাগের মো. মুবদি ইসলাম ডিনস অ্যাওয়ার্ড পাচ্ছেন।বিজ্ঞান অনুষদে পরিসংখ্যান বিভাগের ইশরাত জাহান, সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের মনিকা ধর ও নাদিয়া জাহান নির্বাচিত হয়েছেন। কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে ইনফরমেশন সায়েন্স অ্যান্ড লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ইশরাত জাহান ইভা, সমাজকর্ম বিভাগের সাদিয়া সুলতানা এবং অর্থনীতি বিভাগের কামরুন নাহার এ স্বীকৃতির জন্য নির্বাচিত হয়েছেন।২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষা বিজ্ঞান অনুষদে এডুকেশন বিভাগের রাহনুমা নূরাইন ও আরাফাত উল্লাহ আরমান এবং এডুকেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের হাফসা আক্তার ডিনস অ্যাওয়ার্ডের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। একই শিক্ষাবর্ষে বিজনেস স্টাডিজ অনুষদে ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের মারিয়া তাবাসসুম, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের আয়েশা সিদ্দিকা এবং ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের ডালিয়া রানী শর্মা এ সম্মাননার জন্য নির্বাচিত হয়েছেন।এ বিষয়ে নোবিপ্রবির উপ-উপাচার্য ও রিসার্চ সেলের পরিচালক ড. শফিকুল ইসলাম বলেন, “এবার সাতটি অনুষদের মোট ২২ জন শিক্ষার্থী ডিনস অ্যাওয়ার্ড পাচ্ছেন। এছাড়া গবেষণায় অবদানের জন্য তিনটি ভাইস-চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ডও প্রদান করা হবে।”

নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার ৩ নং পরকোট ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ড বাঁশতলা দুধ মিয়া সরকার বাড়ির প্রবাসী আব্দুল মোতালেব এর স্ত্রী টাকা পয়সা স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়েছে। প্রবাসী আবদুল মোতালেব অভিযোগ করে বলেন, এক প্রবাসী ছেলের সাথে তার স্ত্রী আখি আক্তার আকলিমার পরকীয়া রয়েছে। কয়েকদিন আগে ওই ছেলে দেশে আসে। গত ৭ জুন সকাল ৯ টার দিকে আখি আক্তার আকলিমা দেড় ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ দেড় লক্ষ টাকা ও প্রবাসীর আড়াই বছরের শিশু সন্তান নিয়ে পরকীয়া প্রেমিকের সাথে পালিয়ে যায়। এই ঘটনায় প্রবাসী আব্দুল মোতালেব চাটখিল থানায় অভিযোগ দিয়েছেন এবং আদালতে মামলা করার প্রস্তুতি নিয়েছেন । প্রবাসী আব্দুল মোতালেবের স্ত্রী ইতিপূর্বেও বহু অপকর্মের সাথে জড়িত ছিলেন বলে প্রাপ্ত অভিযোগে জানা গেছে। জানা যায় গত প্রায় চার বছর আগে পুর্ব পরকোট মোল্লা বাড়ির জসীমউদ্দীনের মেয়ে আখি আক্তার আকলিমা সাথে প্রবাসী আব্দুল মোতালেবের ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক বিয়ে সম্পুন্ন হয়। বিয়ের কয়েক মাস পর মোতালেব বিদেশ চলে যায়। আব্দুল মোতালেব বিদেশ যাওয়ার পর তার ঘরে একটি পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। পুত্র সন্তানের জন্মের কয়েক মাস পর আখি আক্তার কারণে-অকারণে স্বামীর সাথে ঝগড়া বিপদে লিপ্ত হয়। আব্দুল মোতালেব অভিযোগ করে বলেন, সে বিদেশ থাকাকালীন তার স্ত্রী একাধিক পুরুষের সাথে পরকীয়ায় লিপ্ত হয়। আর এ পরকীয়ার কারণে ৩বার ঘর থেকে পালিয়ে যায়। এবারও সে পরকীয়া প্রেমিকের সাথে পালিয়েছে।

নোয়াখালীর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শনে এসে বিভিন্ন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীকে তাৎক্ষণিক প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তবে এ ঘোষণার পরপরই হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং মন্ত্রীকে ঘিরে বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে মন্ত্রী বিক্ষোভকারীদের ফ্যাসিস্টের দোষর বলে আখ্যা দেন। মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, জরুরি বিভাগ ও রোগীসেবার সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ সময় হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। পরিদর্শনে চিকিৎসাসেবা, পরিচ্ছন্নতা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার চিত্র উঠে আসে বলে জানান মন্ত্রী। পরিদর্শন শেষে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ককে প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হলে হাসপাতালের বাইরে অবস্থানরত কিছু ব্যক্তি বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে নিরাপত্তার স্বার্থে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে সেখান থেকে সরে যেতে হয়। পরবর্তীতে নোয়াখালী সার্কিট হাউসে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমি হাসপাতালে এসে যে পরিস্থিতি দেখেছি, তা অত্যন্ত হতাশাজনক। এত অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে একটি হাসপাতাল পরিচালিত হতে পারে না। জনগণকে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা দিতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে নোয়াখালীর বর্তমান সিভিল সার্জনকে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যখাতের বর্তমান অবস্থা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিনের অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যেখানেই হাত দিচ্ছি, সেখানেই সমস্যা ও অনিয়মের চিত্র দেখা যাচ্ছে। তবে এসব সমস্যা রাতারাতি দূর করা সম্ভব নয়। ধাপে ধাপে সংস্কারের মাধ্যমে স্বাস্থ্যখাতকে একটি কার্যকর ও জনবান্ধব অবস্থানে ফিরিয়ে আনা হবে। এ সময় নোয়াখালী জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিন, সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ার হোসেন, জেলা পরিষদ প্রশাসক হারুন অর রশিদসহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় বিএনপির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

নোয়াখালী জেলা পুলিশের নতুন পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন জনাব এন এম নাসিরুদ্দিন। সোমবার (১৫ জুন) নোয়াখালী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে তিনি সদ্য বিদায়ী পুলিশ সুপার জনাব টি. এম. মোশাররফ হোসেনের নিকট থেকে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।দায়িত্বভার গ্রহণের পূর্বে নোয়াখালী সার্কিট হাউস প্রাঙ্গণে নবাগত পুলিশ সুপারকে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) জনাব আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন। পরে জেলা পুলিশের একটি চৌকস দল নবাগত পুলিশ সুপারকে গার্ড অব অনার প্রদান করে।অনুষ্ঠান শেষে পুলিশ সুপার জনাব এন এম নাসিরুদ্দিন জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত হন। উল্লেখ্য, জনাব এন এম নাসিরুদ্দিন ২৫তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের মাধ্যমে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন। দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে দক্ষতা, সততা ও সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।নোয়াখালী জেলায় যোগদানের আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)-তে উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর অভিজ্ঞ নেতৃত্বে নোয়াখালী জেলার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও জনসেবামূলক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।

বাইরে থেকে দেখলে সাধারণ একটি ঝুপড়ি ঘর। তবে ভেতরে প্রবেশ করলেই মিলবে ভিন্ন চিত্র। নোয়াখালীর চাটখিল পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ভীমপুর গ্রামের বেদে পল্লীতে সরকারি খাস জায়গায় গড়ে তোলা একটি কুঁড়েঘরেই চলছে কথিত রাজকীয় জীবনযাপন। সেখানে স্থাপন করা হয়েছে বিলাসবহুল এয়ারকন্ডিশনার (এসি) ও পুরো আস্তানাজুড়ে বসানো হয়েছে অত্যাধুনিক সিসিটিভি ক্যামেরা।স্থানীয়দের অভিযোগ, এই আস্তানার মূল হোতা ববিতা আক্তার সুমাইয়া (৩৫) নামে এক নারী। স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন।অভিযোগ রয়েছে,এর আগে চাটখিল থানা পুলিশ কয়েক দফায় তাকে ইয়াবাসহ আটক করে আদালতে পাঠালেও জামিনে বের হয়ে পুনরায় একই ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন।অভিযোগ অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ক্রেতাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য আস্তানার চারপাশে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। প্রযুক্তির এই অপব্যবহারের মাধ্যমে বেদে পল্লী থেকে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি হওয়ায় চাটখিলের ছাত্র ও যুবসমাজ বিপথগামী হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের। তারা এই মাদক সিন্ডিকেটের নেপথ্যে থাকা গডফাদারদের আইনের আওতায় এনে অবৈধ আস্তানা উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছেন।চাটখিল পৌরসভা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হানিফ বলেন, "একজন মাদক কারবারির কাছে পুলিশ, সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতা ও স্থানীয় মানুষ সবাই অসহায়। পুলিশ বা বহিরাগত কারও উপস্থিতি টের পেলেই তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দলবেঁধে বের হয়ে আসে। ববিতার এত ক্ষমতার উৎস খুঁজে বের করা দরকার। যারা তাকে পেছন থেকে সহযোগিতা করছে, তাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।"পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ববিতা আক্তার সুমাইয়ার বিরুদ্ধে থানায় সাতটি মাদক মামলা রয়েছে। এ পর্যন্ত ৬বার তিনি পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন। তবে প্রতিবারই জামিনে মুক্ত হয়ে পুনরায় একই কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। তাকে আটক করতে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও স্থানীয়রা হামলার শিকার হয়েছেন বলেও জানিয়েছে পুলিশ। এ বিষয়ে চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোন্নাফ বলেন, ওই নারী মাদক কারবারি। তাকে কতবার ধরে চালান দিলাম। এখন সড়ক জনপথ বিভাগের একটি জায়গা টার্গেট ছিল। সেটা না পেরে এখন নাকি নতুন করে ঘর দরজা উঠাচ্ছে। আমি আসার পর তার বিরুদ্ধে দুটি মাদকের মামলা দেওয়া হয়েছে। এর আগেও তার বিরুদ্ধে মাদকের মামলা ছিল। কিছু দিন আগেও তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তবে তার এমন বিলাসবহুল জীবনযাপনের বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।