

মিরপুরের উইকেট কেমন হবে—বাংলাদেশ-পাকিস্তান সিরিজ শুরুর আগেই এটা নিয়ে চলতে থাকে আলাপ-আলোচনা। ব্যাটারদের বধ্যভূমি নামে পরিচিত এই উইকেটে রীতিমতো বোলারদের রাজত্ব দেখা যায়। আজ সিরিজের প্রথম ওয়ানডের প্রথম ইনিংসে দেখা গেল তেমন কিছুই। তবে এখানে উইকেটের যতটা না দায়, তার চেয়ে বেশি কৃতিত্ব বাংলাদেশের বোলারদের। আর বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে লজ্জার রেকর্ডে নাম লিখিয়েছে পাকিস্তান। পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে দিয়েই বছরের প্রথম আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে নামছে বাংলাদেশ। মিরপুরে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় টাইগার অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। প্রথমে ব্যাটিং পেয়ে পাকিস্তান শুরুটা ধীরস্থিরভাবে করলেও পরে হঠাৎ হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে পাকিস্তান। মাত্র ৭৩ রানেই শেষ ১০ উইকেট হারিয়ে ১১৪ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তান। ওয়ানডেতে এটাই বাংলাদেশের বিপক্ষে পাকিস্তানের সবচেয়ে কম রানে অলআউট হওয়ার রেকর্ড। এর আগে নর্দাম্পটনে ১৯৯৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে ১৬১ রানে অলআউট করেছিল বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে বাংলাদেশ পেয়েছিল ৬১ রানের জয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দল-মত নির্বিশেষে তিনি দেশের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করছেন। প্রতিটি পরিবারকে স্বনির্ভর করাই বিএনপির লক্ষ্য। এভাবে বিএনপি স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে চায় বলেন তিনি। তিনি এতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন। স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ায় কোনো বিরোধ থাকতে পারে না, বিরোধ নেই বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী ওই কথা বলেন। এর আগে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের পর বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১১টার কিছু আগে বক্তব্য শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি ১৯৭১ সাল থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত আন্দোলন, সংগ্রামে সব শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তারেক রহমান বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন। স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদের সঙ্গে আপস করেননি। তিনি খালেদা জিয়ার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান।

লঞ্চের কেবিনে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে নোয়াখালীর হাতিয়ায় পৃথকভাবে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে এনসিপি ও বিএনপির নেতাকর্মীরা। এসময় দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থানের একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৭ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সন্ধ্যায় উপজেলা সদরে এ প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিল থেকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত সাকিব উদ্দিন ও নুরুজ্জামান মিঠুর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যার দিকে এনসিপি ও বিএনপির নেতাকর্মীরা পৃথকভাবে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপজেলা সদরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মিছিল মুখোমুখি হলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত সাতজন আহত হন। লঞ্চে কলেজছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় বিএনপি-এনসিপির পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ, সংঘর্ষ এনসিপি নেতার জন্য দোয়া করায় ইমামকে পেটালেন স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা আহতরা হলেন, হাতিয়া উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ইসমাইল হোসেন ইলিয়াস, পৌরসভা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম দুখু, পৌর যুবদল নেতা আশিক ও সাখাওয়াত হোসেন হিরো। অপরপক্ষের আহতরা হলেন, হাতিয়া উপজেলা যুবশক্তির আহ্বায়ক ইউসুফ রেজা, ছাত্র শক্তির আহ্বায়ক নেয়ামত উল্লাহ নীরব এবং সমর্থক জহির উদ্দিন। আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। জানা যায়, গত ৮ মার্চ রোববার দুপুরে হাতিয়ার তমুরদ্দিন লঞ্চঘাট থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া ফারহান-০৪ লঞ্চের কেবিনে ওই কলেজছাত্রীকে তুলে দেন তার বাবা। একই সময় লঞ্চে ওঠেন মোহাম্মদ সাকিব উদ্দিন ও মোহাম্মদ নুরুজ্জামান মিঠু। লঞ্চ ছাড়ার কিছুক্ষণ পর তারা ওই ছাত্রীর কেবিনের দরজায় নক করেন এবং কৌশলে কেবিনে প্রবেশ করে ধর্ষণ করেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর ভাই বাদী হয়ে সোমবার সকালে কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় উল্লেখ করেন, লঞ্চ ছাড়ার কিছুক্ষণ পর তারা ওই ছাত্রীর কেবিনের দরজায় নক করেন এবং কৌশলে কেবিনে প্রবেশ করেন। কেবিনে ঢুকে একপর্যায়ে সাকিব উদ্দিন ওই ছাত্রীকে বিভিন্ন ধরনের কুপ্রস্তাব দেন। এতে রাজি না হলে তারা তার গলা ও মুখ চেপে ধরে ধর্ষণ করেন। এসময় ভুক্তভোগী চিৎকার করার চেষ্টা করলে ঘটনাটি কাউকে জানালে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে রাত ৮টার দিকে সাকিব ও মিঠু আবারও কেবিনে প্রবেশ করলে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে তারা তাকে পুনরায় ধর্ষণ করেন। বর্তমানে ধর্ষণের শিকার ওই শিক্ষার্থী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মামলার প্রেক্ষিতে অভিযুক্ত দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, হাতিয়া উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড পশ্চিম বড়দেইল গ্রামের সাহাব উদ্দিনের ছেলে মোহাম্মদ সাকিব উদ্দিন (২৬) ও একই ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড জোটখালী গ্রামের আবুল কালামের ছেলে মোহাম্মদ নুরুজ্জামান মিঠু (৩২)। হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কবির উদ্দিন বলেন, বিক্ষোভ মিছিলে উভয় পক্ষের হাতাহাতির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সপ্তাহখানেক পরই পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদের কেনাকাটায় বিপণীবিতানগুলোতে বাড়ছে ভিড়। ঈদে নতুন পোশাকের সঙ্গে প্রয়োজন নতুন জুতা। ফলে নোয়াখালীর বাণিজ্যিক শহর চৌমুহনীতে জুতার কারখানাগুলোতে বাহারি ধরনের জুতা বানাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে নোয়াখালীর বাণিজ্যিক শহর চৌমুহনীসহ জেলার বিভিন্ন পাদুকা পল্লীতে ব্যস্ততা তুঙ্গে। বছরের অন্য সময়ের তুলনায় কাজের চাপ কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় কারিগররা এখন নাওয়া-খাওয়া ভুলে দিনরাত পার করছেন জুতা তৈরিতে। স্থানীয়ভাবে তৈরি এসব জুতার গুণগত মান ভালো ও দামে সাশ্রয়ী হওয়ায় জেলা ছাড়িয়ে এখন তা পৌঁছে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। সরেজমিনে জেলার বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র চৌমুহনীর পাদুকাপল্লী ঘুরে দেখা গেছে উৎসবের আমেজ। কারখানায় কারখানায় চলছে চামড়া কাটা, সেলাই, সোল লাগানো আর ফিনিশিংয়ের কাজ। কেউ পালিশ করছেন, কেউবা নতুন জুতা প্যাকেটজাত করতে ব্যস্ত। ঈদ উপলক্ষ্যে বাড়তি চাহিদা সামাল দিতে অনেক কারখানায় অতিরিক্ত শ্রমিকও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কারখানা মালিক ও কারিগরদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ট্যানারি থেকে জুতা বানানোর প্রক্রিয়া করে আনা চামড়া প্রথমে সাইজ মতো কাটা হচ্ছে। বিভিন্ন সাইজ মতো কাটা হলে তা মেশিনের সাহায্যে ফিনিশিং দেওয়া হয়। ফিনিশিং দেওয়ার পর পেস্টিং দিয়ে সাইজ মতো ডিজাইন করা হয় ও পুডিং মারা হয়। পেস্টিং দেওয়া শেষে জুতা পুরোপুরি হয়ে গেলে রং স্প্রে করে শুকাতে দেওয়া হয় এবং পরে তা বাজারজাত করা হয়। কারিগর মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, ঢাকার বংশাল থেকে পাকা চামড়া এনে স্লিপার, হাফ সু, নাগরা ও লোফার তৈরি করেন। মানভেদে এসব জুতা ৪০০ থেকে ৭০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। আরেক কারিগর মিলন দাস বলেন, আমার পরিবার এই পেশার আয়ের ওপরই নির্ভরশীল। ঈদের আগে প্রতিদিন ১০০ থেকে ২০০ জোড়া পর্যন্ত জুতা বিক্রির আশা করছি। বেচাকেনা ভালো হলে পরিবার নিয়ে আনন্দমুখর ঈদ কাটাতে পারব। স্থানীয় ক্রেতা আলাউদ্দিন ও মো. জসিম উদ্দিন বলেন , ব্র্যান্ডের জুতার চেয়ে স্থানীয় কারিগরদের তৈরি চামড়ার জুতা অনেক বেশি আরামদায়ক ও টেকসই। দাম সাশ্রয়ী হওয়ায় সাধারণ মানুষের কাছে এর জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। চৌমুহনী এখন জুতা তৈরির অন্যতম বড় হাব। এখানকার তৈরি জুতার টেকসই গুণ আর আধুনিক ডিজাইনের কারণে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রাজশাহী থেকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা এখানে ভিড় করছেন। ইফাত সুজের স্বত্বাধিকারী মো. শেখ রাসেল বলেন, রমজান উপলক্ষ্যে এখানে কয়েক কোটি টাকার জুতা বিক্রি হয়। আমাদের জুতাগুলো শতভাগ লেদার দিয়ে তৈরি। তাই এর চাহিদা অনেক। এখানকার তৈরি জুতার টেকসই গুণ আর আধুনিক ডিজাইনের কারণে নোয়াখালীর বাহিরে বিভিন্ন জেলায় জুতা যায়। এতে করে বাড়ছে কর্মসংস্থান। চৌমুহনী পৌরসভার প্রশাসক ও বেগমগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কায়েসুর রহমান বলেন, চৌমুহনী বাণিজ্যিক এলাকা। এখানে জুতা শিল্পের নীরব বিপ্লব ঘটছে। এখানকার ছোট ছোট কারখানায় অনেক উন্নত মানের জুতা তৈরি হয়। ঈদে যেন তারা ন্যায্যমূল্য পায় সেসব বিষয়ে আমরা সজাগ দৃষ্টি রাখছি।

নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং সংসদে বেসরকারি সদস্যদের বিল ও বেসরকারি সদস্যদের সিদ্ধান্ত প্রস্তাব সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি মো. শাহজাহান বলেছেন, রোগীর চিকিৎসা দেবে ডাক্তার। মানুষের হায়াত-মউত আল্লাহর হাতে। তবে কোথাও কোনো হাসপাতালে রোগী মারা গেলে মব সৃষ্টি করা যাবে না। শুক্রবার (১৩ মার্চ) নোয়াখালীতে প্রাইভেট হাসপাতাল এবং ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশনের নতুন কমিটির পরিচিতি সভা ও ইফতার অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন। মো. শাহজাহান বলেন বলেন, বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা খাতের মানোন্নয়ন এবং রোগীদের সঠিক সেবা নিশ্চিত করতে নবগঠিত এ কমিটিকে দায়িত্ব নিতে হবে। প্রতিটি হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের মাধ্যমে জনগণের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে হবে। অনুষ্ঠানে অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক মো. সহিদুল ইসলাম সাঈদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব হারুন রশিদ আজাদ, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এবিএম জাকারিয়া, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুর রহমান। এসময় জেলা বিএনপি সদস্য ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম কিরণ, ড্যাবের সভাপতি ডা. সাইফুল ইসলাম, ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের (এনডিএফ) সভাপতি ডা. সোহরাব ফারুকী, প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশনের নতুন সদস্য সচিব মিজানুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

নোয়াখালীর সুবর্ণচরের মাঠে মাঠে তরমুজ। ভালো দামের আশায় মৌসুমের শুরুতেই বাজারে তোলা হচ্ছে এবং অর্থকারী এ ফসল চাষে স্বাবলম্বী হচ্ছেন স্থানীয় কৃষি কৃষক। আর স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিমধ্যে এর প্রভাবও পড়ছে। কৃষি বিভাগ বলছেন সুবর্ণচরের তরমুজের বাজার প্রায় ৫০০ কোটি টাকার। শস্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত নোয়াখালীর সুবর্ণচরে অর্থকরী ফসল তরমুজ চাষে তৈরি হয়েছে নতুন সম্ভাবনা। অনাবাদী চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ জমিজুড়ে এখন সবুজ লতায় ঝুলছে রসালো তরমুজ। রমজান মাসে চলছে তরমুজ তোলার কার্যক্রম। অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষকদের নিবিড় পরিচর্যায় চলতি মৌসুমে বেড়েছে আবাদ ও উৎপাদনের আশা। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এ বছর প্রায় ৫০০ কোটি টাকার তরমুজ বিক্রির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সুবর্ণচর উপজেলার মূল ভূখণ্ডে প্রায় ৯০০ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে। পাশাপাশি চর গাসিয়া, ইসলাম চর, স্বর্ণদ্বীপসহ নতুন জেগে ওঠা বিভিন্ন চরাঞ্চলেও ব্যাপকভাবে তরমুজ চাষ করা হয়েছে। মাঠজুড়ে দেখা যাচ্ছে ড্রাগন কিং, জেব্রা কিং, গ্লোরি ড্রাগন, ব্ল্যাক জায়ান্ট, বাংলালিংক, ব্ল্যাক বেরি, ভিক্টর সুগার ও ওশান সুগারসহ বিভিন্ন উচ্চফলনশীল দেশি-বিদেশি জাতের তরমুজ। স্থানীয় কৃষকদের মতে, সুবর্ণচর ও আশপাশের চরাঞ্চলের বেলে-দোঁআশ মাটি তরমুজ চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী হওয়ায় প্রতি বছরই আবাদ বাড়ছে। কম সময়ে ভালো লাভ হওয়ায় অনেক কৃষক ধান বা অন্যান্য ফসলের পরিবর্তে তরমুজ চাষে ঝুঁকছেন। সুবর্ণচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হারুন অর রশিদ বলেন, সুবর্ণচর ও পার্শ্ববর্তী নতুন জেগে ওঠা চরে চলতি মৌসুমে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার তরমুজ বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে। ইতোমধ্যে মূল ভূখণ্ডে তরমুজ সংগ্রহ ও বাজারজাত শুরু হয়েছে। তরমুজ বিক্রির মাধ্যমে এলাকার কৃষকদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল হচ্ছে। কৃষকদের সহায়তায় কৃষি বিভাগ প্রদর্শনী বাস্তবায়ন ও বিভিন্ন উপকরণ সহায়তা প্রদান করছে।

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক তালাকপ্রাপ্ত নারীকে ডেকে নিয়ে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার ভুক্তভোগী নারীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এর আগে এ ঘটনায় বুধবার রাতে ভুক্তভোগী নারী তিনজনকে আসামি করে হাতিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। গত মঙ্গলবার রাতে উপজেলার নলচিরা ইউনিয়নের একটি তরমুজ খেতের পাহারার টং ঘরে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিন সন্তানের জননী ওই নারীর এর আগে একাধিক বিয়ে হলেও বর্তমানে তিনি একা ছিলেন। সম্প্রতি তিনি পরিচিত এক ব্যক্তির কাছে নিজের জন্য পুনরায় পাত্র দেখার অনুরোধ করেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ওই ব্যক্তি বিয়ের কথা বলে মোবাইল ফোনে তাকে ডেকে নেন। পরে তাকে একটি নির্জন তরমুজ খেতের টং ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আগে থেকে ওত পেতে থাকা আরও দুজনসহ মোট তিনজন মিলে তাকে আটকে রেখে রাতভর ধর্ষণ করে বলে ভুক্তভোগী অভিযোগ করেছেন। হাতিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন বলেন, মৌখিক অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে একজনের নাম-পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। বাকি দুজনকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

কথা বলতে গেলেই জড়িয়ে যায় শব্দ, থেমে থেমে বের হয় বাক্য। তোতলামির কারণে স্বাভাবিকভাবে কথা বলা কঠিন তাকমিল উদ্দিন মিকাইলের জন্য। কিন্তু পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত শুরু করলেই যেন বদলে যায় সবকিছু। তখন আর থাকে না কোনো জড়তা- অনর্গল, স্পষ্ট ও সুরেলা কণ্ঠে তেলাওয়াত করে মুগ্ধ করেন সবাইকে। এমনই ব্যতিক্রমী প্রতিভার অধিকারী নোয়াখালীর শিশু হাফেজ তাকমিল উদ্দিন মিকাইল। তাকমিল নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার পূর্ব মোহাম্মদপুর ৭নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা তসলিম উদ্দিনের একমাত্র ছেলে। তার বাবা চট্টগ্রামে চাকরি করেন। তাকমিল স্থানীয় তামীরুল উম্মাহ হিফজুল কুরআন মাদরাসা থেকে মাত্র সাত মাসে পবিত্র কোরআনের হিফজ সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে তিনি একই এলাকায় তারাবি নামাজে ইমামতি করছেন। জড়িয়ে যাওয়া কণ্ঠে তাকমিল উদ্দিন মিকাইল বলেন, ছোটবেলা থেকেই কথা বলতে গেলে আমার কণ্ঠ আটকে যায়। অনেক সময় ঠিকভাবে কথা বলতে কষ্ট হয়। তবে যখন কোরআন তিলাওয়াত করি, তখন আল্লাহর রহমতে সবকিছু সহজ হয়ে যায়। তখন আর কোনো জড়তা অনুভব করি না। আমি চাই নিয়মিত কোরআন তিলাওয়াত করে মানুষের মাঝে এর সৌন্দর্য ছড়িয়ে দিতে। আমি বড় আলেম হতে চাই। তাকমিলের সহপাঠী ইয়াসিন আরাফাত বলেন, তাকমিল আমাদের খুব প্রিয় বন্ধু। সাধারণ কথাবার্তায় তার একটু জড়তা আছে, কিন্তু তিলাওয়াত শুরু করলে আমরা সবাই অবাক হয়ে শুনি। তার কণ্ঠে কোরআন খুব সুন্দর শোনায়। আমরা তার জন্য গর্বিত। তাকমিলের হিফজ শিক্ষক এমদাদ উল্লাহ মহাজির বলেন, তাকমিল অত্যন্ত মেধাবী, বিনয়ী ও পরিশ্রমী একজন ছাত্র। অল্প সময়ের মধ্যেই সে নিষ্ঠা ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে কোরআনের হিফজ সম্পন্ন করেছে। তার তিলাওয়াতে মাধুর্য আছে এবং সে খুব মনোযোগ দিয়ে অনুশীলন করে। আমরা আশা করি ভবিষ্যতে সে আরও বড় আলেম ও ক্বারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। তামীরুল উম্মাহ হিফজুল কুরআন মাদরাসার পরিচালক হাফেজ মো. নাছরুল্লাহ বলেন, তাকমিলের মধ্যে আল্লাহ তাআলা বিশেষ এক প্রতিভা দিয়েছেন। কথা বলার সময় তার জড়তা থাকলেও কোরআন তিলাওয়াতের সময় সে অত্যন্ত সাবলীল ও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে। তার এই অদম্য চেষ্টা ও আগ্রহ অন্য শিক্ষার্থীদের জন্যও অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আকিব ওসমান বলেন, জড়তা থাকা সত্ত্বেও তাকমিল উদ্দিন মিকাইলের অনর্গল কোরআন পড়তে পারা একটা অলৌকিকতা। এছাড়া সে সাত মাসে হাফেজ হয়েছে। এই অর্জন সত্যিই প্রশংসনীয়। তার মতো প্রতিভাবান শিক্ষার্থীরা আমাদের সমাজের গর্ব। আমরা তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি।

সুবর্ণচর প্রতিনিধিঃ নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলাতে চলছে সরকারি খাসজমি দখলের মহোৎসব। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় কিছু ব্যক্তি প্রশাসনের নিরব সমর্থন এবং নামমাত্র “ম্যানেজমেন্ট”-এর আশীর্বাদে খাসজমি দখল করে স্থায়ী ইমারত নির্মাণ করছেন। সবকিছু হচ্ছে উপজেলা প্রশাসনের চোখের সামনেই। সরেজমিনে দেখা যায়, খোদ উপজেলা প্রশাসন ও জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতাধীন আঞ্চলিক হাইওয়ে সড়কটির পাশে ২নং চরবাটা ইউনিয়নের ৩০৩ নং চরমজিদ মৌজার খাস খতিয়ানের আন্দরে ২১৪৬ দাগে সড়কের অংশে ০.৭২ একর ভূমিতে ভূঞারহাট এলাকায় সরকারি খাস জমি দখলের মহোৎসব চলছে। উক্ত দাগে যেটুকু বাকি আছে সেটাও দখল হয়ে যাওয়ার উপক্রম। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ করে জনবসতি সংলগ্ন খাসজমি গুলোতে এখন একের পর এক দখল অভিযানে মেতে উঠেছে ভূমিদস্যুরা। উল্লেখ্য পূর্বে উক্ত ভূমিতে অবৈধ খাস জমি দখলের কারণে নোয়াখালী জেলা প্রশাসক কার্যালয় এবং জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগ বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিট্রেট দেবাশীষ দাস কর্তৃক খাস জমি হইতে অবৈধ স্থাপনায় গড়ে উঠা ২০টি দোকানঘর গুড়িয়ে দেন। পূর্বের উচ্ছেদ অভিযানের একটি কপি এ প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। অনুসন্ধানে জানাগেছে, প্রভাবশালীদের একটি সিন্ডিকেট কেউ আবার মিথ্যা তথ্যে দিয়ে নিজেদের ভূমিহীন দাবি করে, কেউ আবার নিজেদের নিকট আত্নীয়স্বজন, রাজনৈতিক দলের কর্মী- সমর্থকদের স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ভূমিহীন সনদ নেন। এরপর নামে-বেনামে একসনা বনধোবন্ত নথি সৃজন করে খাসজমি দখল করে স্থায়ী ঘর তুলে মাসে লাখ লাখ টাকা ভাড়া আদায় করছেন। এসব প্রভাবশালী ব্যক্তিরা মূলত নামধারী ভূমিহীন ও জমি-ব্যবসায়ী। সমাজে এদের মূল্যায়ন তোলা তোলা। যদিও ভূমি নীতিমালা অনুযারী প্রকৃত ব্যবসায়ী ছাড়া কোথাও কোন (চান্দিনা) দোকান ভিটি বনধোবন্ত দেওয়ার বিধান নেই। এছাড়াও দারিদ্র সীমার নিচে বসবাস করে, কোন স্থায়ী সম্পদ নেই এমন শ্রেণীর ব্যক্তিরা খাস জমি ভূমিহীন হিসেবে বনধোবস্ত দেওয়ার বিধান রয়েছে ভূমি আইনে। অথচ প্রকৃত ভূমিহীনরা পাচ্ছে না ভূমি বনধোবস্ত। প্রশাসনের এক শ্রেণীর লোভী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে প্রভাবশালীদের কব্জায় সরকারি খাস জমির আজ অস্তিত্ব সংকটে। সরেজমিনে দেখাযায়, ভূমিদস্যুরা এসব ক্যাটাগরির কোনটিতে নেই। পারিবারিক ও স্থানীয় মদদে প্রশাসনের উদাসীনতায় চলছে জমি দখল ও স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ। আরও জানা গেছে, কিছু কিছু দখলকারী উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলে ওই সুযোগেই নির্বিঘ্নে দখল কার্যক্রম চালাচ্ছে। অনুসন্ধানে আরো জানাগেছে, স্বৈরশাসন আমলে দখল করা ফ্যাসিস্ট সরকারের লোকজন দোকান ভিটি, খাস জমি দখল করে বর্তমান সরকার আমলের অনেকের নিকট লাখ লাখ টাকা বিক্রি করে দেশের বাহিরে অর্থ পাচার করছেন। কেউ কেউ অন্যত্র সম্পদ গড়ে তুলছেন, নানা ব্যবসার অংশীদার হচ্ছেন। প্রশাসনের স্বেচ্ছাচারিতায় অত্র উপজেলায় ভূমি খাতটি থেকে কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আদায় বার বার প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। তথ্যসহ সকল কিছু জানলেও নিরব থাকে প্রশাসন! সরকারি ভূমি রক্ষায় আইন কাগজে কলমে বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি ভূমিকা নেই সংশ্লিষ্ট দপ্তর গুলোর। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে ইউএনও অবগত থাকলেও কোন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। দখলকারীরা প্রকাশ্যেই বলে বেড়ায়-‘সব ম্যানেজ করা আছে।’ সরকারি খাসজমি ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার দায়িত্ব প্রশাসনের হলেও বছরের পর বছর ধরে এসব জায়গা দখল হয়ে যাচ্ছে- আর এসব বিষয়ে প্রশাসনের নীরব সমর্থন রয়েছে বলে খবর নিয়ে জানা গেছে। খাসজমি দখল ঠেকাতে সরকারের কঠোর আইন থাকা সত্ত্বেও সুবর্ণচরে যেন তার কোনো প্রয়োগ নেই। দিন দিন বাড়ছে দখলের পরিধি, আর কমছে সরকারি সম্পত্তি। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, এভাবে যদি প্রশাসন নিরব থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে সরকারি খাসজমি নামমাত্র কাগজে থাকলেও বাস্তবে পুরোপুরি দখল হয়ে যাবে কিছু প্রভাবশালীর হাতে। অপরদিকে এমনও অনেক ভিপি সম্পত্তি লিজ দেওয়া আছে যেগুলোর প্রকৃত লিজাররা জমি বুঝে পায়নি কিন্তু প্রতি বছর খাজনা পরিশোধ করেন। অথচ সেই জায়গা দখল করে বাড়ি-ঘর করে আছে অন্য কেউ সেদিকেও নজর নেই প্রশাসনের। প্রকৃত লিজাররা ইউএনও এসিল্যান্ড এর কাছে বহুবার অভিযোগ করেও কোন সমাধান পাননি। বরং তারা অন্য আইনের গল্প শুনিয়ে ছেড়ে দেয় ভিকটিমদের। দেখলে মনে হয় এখন সব মগের মুল্লুক। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাজারের প্রকৃত সচেতন ভাড়াটিয়া ব্যবসায়ী, সাধারণ মানুষ, একাধিক পথচারীদের দাবি, খাসজমি দখল বন্ধে প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি ইতোমধ্যেই যারা সরকারি খাসজমি দখল করেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ বিষয়ে সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আকিব ওসমান বলেন, আচ্ছা আমি বিষয়টি জানি না। জেনে বিস্তারিত আইনগত পদক্ষেপ নিবো। রিপোর্টটি লেখার আগ পর্যন্ত কোন পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি প্রশাসনের তরফ হতে। এতে কানাঘুষা করছে সচেতন নাগরিক সমাজের মানুষজন তাহলে মনে হচ্ছে 'সর্ষের মধ্যে কি ভূত?? এ ব্যাপারে সুবর্ণচর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ছেনমং রাখাইন জানান, আসলে অর্পিত বা ভিপি সম্পত্তি বাদে অন্যান্য খাস জায়গাগুলো তেমন ভাবে তদারকি করা হয় না। তবে আমরা চেষ্টা করছি সরকারি সম্পদ রক্ষায়। যখন যেটা প্রয়োজন হয় তখন সে জায়গা আমরা নিয়ে নেই। প্রয়োজন হলে উচ্ছেদ অভিযানও পরিচালনা করা হয়। উচ্ছেদকৃত জমিতে স্থায়ী ইমারত নির্মাণে না কি আপনি অনুমতি দিয়েছেন গুঞ্জন উঠেছে ? তাই কোন পদক্ষেপ না নিয়ে নিরব আছেন। এ বিষয়ে আপনার বক্তব্য কি? আপনি কি সড়ক ও ফুটপাত দখল করে দোকান ভিটি করার অনুমতি দেওয়ার এখতিয়ার রাখেন?? রাখলে সেই আইন কোনটি, জানান। বিগত সময়ে আমরা অনেক জায়গা উদ্ধার করে সরকারি ভাবে আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। এখন যারা খাস জায়গা দখল করে আছে তাদের কারণে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হলে আমরা সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেবো। তারপরও এ বিষয়ে আমরা পদক্ষেপ নেব।

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে হামলার ৪০তম ধাপ শুরু করেছে ইরান। দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, এই হামলায় ইসরায়েল এবং অঞ্চলে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করা হয়েছে। ইরানের সামরিক কমান্ড ‘খাতাম আল-আনবিয়া’ এক বিবৃতিতে জানায়, এ অভিযানে ড্রোন ও বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। এর মধ্যে কাদের, এমাদ, খেইবার শেকান ও ফাত্তাহ ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। ইরানের দাবি, এসব ক্ষেপণাস্ত্র তেলআবিব, জেরুজালেম ও হাইফাসহ ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থানে নিক্ষেপ করা হয়েছে। পাশাপাশি জর্ডানের আল-আজরাক এবং সৌদি আরবের আল-খারজে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাও লক্ষ্যবস্তু ছিল। এদিকে উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করেছে। কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা আটটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং কয়েকটি ড্রোন প্রতিহত করেছে। একটি ক্ষেপণাস্ত্র জনবসতিহীন এলাকায় পড়ে। সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে একটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। অন্যদিকে কুয়েতের সেনাবাহিনী বলেছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মোকাবিলা করছে।

মিরপুরের উইকেট কেমন হবে—বাংলাদেশ-পাকিস্তান সিরিজ শুরুর আগেই এটা নিয়ে চলতে থাকে আলাপ-আলোচনা। ব্যাটারদের বধ্যভূমি নামে পরিচিত এই উইকেটে রীতিমতো বোলারদের রাজত্ব দেখা যায়। আজ সিরিজের প্রথম ওয়ানডের প্রথম ইনিংসে দেখা গেল তেমন কিছুই। তবে এখানে উইকেটের যতটা না দায়, তার চেয়ে বেশি কৃতিত্ব বাংলাদেশের বোলারদের। আর বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে লজ্জার রেকর্ডে নাম লিখিয়েছে পাকিস্তান। পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে দিয়েই বছরের প্রথম আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে নামছে বাংলাদেশ। মিরপুরে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় টাইগার অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। প্রথমে ব্যাটিং পেয়ে পাকিস্তান শুরুটা ধীরস্থিরভাবে করলেও পরে হঠাৎ হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে পাকিস্তান। মাত্র ৭৩ রানেই শেষ ১০ উইকেট হারিয়ে ১১৪ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তান। ওয়ানডেতে এটাই বাংলাদেশের বিপক্ষে পাকিস্তানের সবচেয়ে কম রানে অলআউট হওয়ার রেকর্ড। এর আগে নর্দাম্পটনে ১৯৯৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে ১৬১ রানে অলআউট করেছিল বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে বাংলাদেশ পেয়েছিল ৬১ রানের জয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দল-মত নির্বিশেষে তিনি দেশের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করছেন। প্রতিটি পরিবারকে স্বনির্ভর করাই বিএনপির লক্ষ্য। এভাবে বিএনপি স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে চায় বলেন তিনি। তিনি এতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন। স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ায় কোনো বিরোধ থাকতে পারে না, বিরোধ নেই বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী ওই কথা বলেন। এর আগে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের পর বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১১টার কিছু আগে বক্তব্য শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি ১৯৭১ সাল থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত আন্দোলন, সংগ্রামে সব শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তারেক রহমান বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন। স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদের সঙ্গে আপস করেননি। তিনি খালেদা জিয়ার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবির পুরোনো বিমানবন্দরে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। আকাশে অজ্ঞাত বস্তু প্রতিহত করার সময় তার ধ্বংসাবশেষ পড়ে এই আগুনের ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আবুধাবি মিডিয়া অফিস এক বিবৃতিতে জানায়, জরুরি সেবা দলের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং এলাকা নিরাপদ করেন। এদিকে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি বন্দরের আশপাশে বসবাসকারী ও কর্মরত মানুষকে সতর্ক থাকতে বলেছেন। তার দাবি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলি, খলিফা ও পোর্ট রশিদ বন্দর এবং বাহরাইনের খলিফা বিন সালমান বন্দরের কিছু বেসামরিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রম চলছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেছেন।

লঞ্চের কেবিনে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে নোয়াখালীর হাতিয়ায় পৃথকভাবে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে এনসিপি ও বিএনপির নেতাকর্মীরা। এসময় দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থানের একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৭ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সন্ধ্যায় উপজেলা সদরে এ প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিল থেকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত সাকিব উদ্দিন ও নুরুজ্জামান মিঠুর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যার দিকে এনসিপি ও বিএনপির নেতাকর্মীরা পৃথকভাবে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপজেলা সদরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মিছিল মুখোমুখি হলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত সাতজন আহত হন। লঞ্চে কলেজছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় বিএনপি-এনসিপির পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ, সংঘর্ষ এনসিপি নেতার জন্য দোয়া করায় ইমামকে পেটালেন স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা আহতরা হলেন, হাতিয়া উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ইসমাইল হোসেন ইলিয়াস, পৌরসভা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম দুখু, পৌর যুবদল নেতা আশিক ও সাখাওয়াত হোসেন হিরো। অপরপক্ষের আহতরা হলেন, হাতিয়া উপজেলা যুবশক্তির আহ্বায়ক ইউসুফ রেজা, ছাত্র শক্তির আহ্বায়ক নেয়ামত উল্লাহ নীরব এবং সমর্থক জহির উদ্দিন। আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। জানা যায়, গত ৮ মার্চ রোববার দুপুরে হাতিয়ার তমুরদ্দিন লঞ্চঘাট থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া ফারহান-০৪ লঞ্চের কেবিনে ওই কলেজছাত্রীকে তুলে দেন তার বাবা। একই সময় লঞ্চে ওঠেন মোহাম্মদ সাকিব উদ্দিন ও মোহাম্মদ নুরুজ্জামান মিঠু। লঞ্চ ছাড়ার কিছুক্ষণ পর তারা ওই ছাত্রীর কেবিনের দরজায় নক করেন এবং কৌশলে কেবিনে প্রবেশ করে ধর্ষণ করেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর ভাই বাদী হয়ে সোমবার সকালে কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় উল্লেখ করেন, লঞ্চ ছাড়ার কিছুক্ষণ পর তারা ওই ছাত্রীর কেবিনের দরজায় নক করেন এবং কৌশলে কেবিনে প্রবেশ করেন। কেবিনে ঢুকে একপর্যায়ে সাকিব উদ্দিন ওই ছাত্রীকে বিভিন্ন ধরনের কুপ্রস্তাব দেন। এতে রাজি না হলে তারা তার গলা ও মুখ চেপে ধরে ধর্ষণ করেন। এসময় ভুক্তভোগী চিৎকার করার চেষ্টা করলে ঘটনাটি কাউকে জানালে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে রাত ৮টার দিকে সাকিব ও মিঠু আবারও কেবিনে প্রবেশ করলে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে তারা তাকে পুনরায় ধর্ষণ করেন। বর্তমানে ধর্ষণের শিকার ওই শিক্ষার্থী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মামলার প্রেক্ষিতে অভিযুক্ত দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, হাতিয়া উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড পশ্চিম বড়দেইল গ্রামের সাহাব উদ্দিনের ছেলে মোহাম্মদ সাকিব উদ্দিন (২৬) ও একই ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড জোটখালী গ্রামের আবুল কালামের ছেলে মোহাম্মদ নুরুজ্জামান মিঠু (৩২)। হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কবির উদ্দিন বলেন, বিক্ষোভ মিছিলে উভয় পক্ষের হাতাহাতির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সপ্তাহখানেক পরই পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদের কেনাকাটায় বিপণীবিতানগুলোতে বাড়ছে ভিড়। ঈদে নতুন পোশাকের সঙ্গে প্রয়োজন নতুন জুতা। ফলে নোয়াখালীর বাণিজ্যিক শহর চৌমুহনীতে জুতার কারখানাগুলোতে বাহারি ধরনের জুতা বানাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে নোয়াখালীর বাণিজ্যিক শহর চৌমুহনীসহ জেলার বিভিন্ন পাদুকা পল্লীতে ব্যস্ততা তুঙ্গে। বছরের অন্য সময়ের তুলনায় কাজের চাপ কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় কারিগররা এখন নাওয়া-খাওয়া ভুলে দিনরাত পার করছেন জুতা তৈরিতে। স্থানীয়ভাবে তৈরি এসব জুতার গুণগত মান ভালো ও দামে সাশ্রয়ী হওয়ায় জেলা ছাড়িয়ে এখন তা পৌঁছে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। সরেজমিনে জেলার বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র চৌমুহনীর পাদুকাপল্লী ঘুরে দেখা গেছে উৎসবের আমেজ। কারখানায় কারখানায় চলছে চামড়া কাটা, সেলাই, সোল লাগানো আর ফিনিশিংয়ের কাজ। কেউ পালিশ করছেন, কেউবা নতুন জুতা প্যাকেটজাত করতে ব্যস্ত। ঈদ উপলক্ষ্যে বাড়তি চাহিদা সামাল দিতে অনেক কারখানায় অতিরিক্ত শ্রমিকও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কারখানা মালিক ও কারিগরদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ট্যানারি থেকে জুতা বানানোর প্রক্রিয়া করে আনা চামড়া প্রথমে সাইজ মতো কাটা হচ্ছে। বিভিন্ন সাইজ মতো কাটা হলে তা মেশিনের সাহায্যে ফিনিশিং দেওয়া হয়। ফিনিশিং দেওয়ার পর পেস্টিং দিয়ে সাইজ মতো ডিজাইন করা হয় ও পুডিং মারা হয়। পেস্টিং দেওয়া শেষে জুতা পুরোপুরি হয়ে গেলে রং স্প্রে করে শুকাতে দেওয়া হয় এবং পরে তা বাজারজাত করা হয়। কারিগর মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, ঢাকার বংশাল থেকে পাকা চামড়া এনে স্লিপার, হাফ সু, নাগরা ও লোফার তৈরি করেন। মানভেদে এসব জুতা ৪০০ থেকে ৭০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। আরেক কারিগর মিলন দাস বলেন, আমার পরিবার এই পেশার আয়ের ওপরই নির্ভরশীল। ঈদের আগে প্রতিদিন ১০০ থেকে ২০০ জোড়া পর্যন্ত জুতা বিক্রির আশা করছি। বেচাকেনা ভালো হলে পরিবার নিয়ে আনন্দমুখর ঈদ কাটাতে পারব। স্থানীয় ক্রেতা আলাউদ্দিন ও মো. জসিম উদ্দিন বলেন , ব্র্যান্ডের জুতার চেয়ে স্থানীয় কারিগরদের তৈরি চামড়ার জুতা অনেক বেশি আরামদায়ক ও টেকসই। দাম সাশ্রয়ী হওয়ায় সাধারণ মানুষের কাছে এর জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। চৌমুহনী এখন জুতা তৈরির অন্যতম বড় হাব। এখানকার তৈরি জুতার টেকসই গুণ আর আধুনিক ডিজাইনের কারণে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রাজশাহী থেকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা এখানে ভিড় করছেন। ইফাত সুজের স্বত্বাধিকারী মো. শেখ রাসেল বলেন, রমজান উপলক্ষ্যে এখানে কয়েক কোটি টাকার জুতা বিক্রি হয়। আমাদের জুতাগুলো শতভাগ লেদার দিয়ে তৈরি। তাই এর চাহিদা অনেক। এখানকার তৈরি জুতার টেকসই গুণ আর আধুনিক ডিজাইনের কারণে নোয়াখালীর বাহিরে বিভিন্ন জেলায় জুতা যায়। এতে করে বাড়ছে কর্মসংস্থান। চৌমুহনী পৌরসভার প্রশাসক ও বেগমগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কায়েসুর রহমান বলেন, চৌমুহনী বাণিজ্যিক এলাকা। এখানে জুতা শিল্পের নীরব বিপ্লব ঘটছে। এখানকার ছোট ছোট কারখানায় অনেক উন্নত মানের জুতা তৈরি হয়। ঈদে যেন তারা ন্যায্যমূল্য পায় সেসব বিষয়ে আমরা সজাগ দৃষ্টি রাখছি।

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: মাহমুদুর রহমান মনজু লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার বাঙ্গাখা ইউনিয়নের রাধাপুর এলাকায় পুলিশের চিরুনি অভিযানে একটি বিদেশি রিভলবার ও ৪৬ রাউন্ড তাজা গুলিসহ এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাত আনুমানিক সোয়া ২টার দিকে রাধাপুর গ্রামের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে এ অভিযান পরিচালনা করে লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত যুবকের নাম মো. শহিদ, প্রকাশ শিপন (৩০)। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাধাপুর গ্রামের আবুল কালামের নতুন বাড়ির দ্বিতীয় তলায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ঝলক মোহন্ত। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলে শিপনকে আটক করা হয়। পরে তার শয়নকক্ষে তল্লাশি চালিয়ে বিছানার এক কোণ থেকে একটি বিদেশি রিভলবার, ৪৬ রাউন্ড তাজা গুলি, চারটি গুলির খোসা এবং অস্ত্র বহনের কিছু সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ জানান, পুলিশ সুপার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের (প্রশাসন ও অর্থ) প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এ ঘটনায় এসআই মোহাম্মদ আমিনুর ইসলাম বাদী হয়ে গ্রেপ্তারকৃত শিপনের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করেছেন। উদ্ধারকৃত অস্ত্রের উৎস এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃত শিপনকে আজ বিকেলে সংশ্লিষ্ট মামলায় আদালতে সোপর্দ করা হবে।