

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গত আসরে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল নেপাল। অল্পের জন্য ইতিহাস গড়ে জেতা হয়নি তাদের। এবারের বিশ্বকাপেও তারা শুরুতে চমক দেখালেও বড় হার হেরেছে নবাগত ইতালির কাছে। টানা দুই হারের পর দলের খেলোয়াড়দের সামাজিক মাধ্যম থেকে দূরে থাকতে বললেন নেপাল কোচ স্টুয়ার্ট ল। বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ডের সঙ্গে ভালো প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছিল নেপাল। মাত্র ৪ রানে হারতে হয় তাদের। কিন্তু ইতালির বিপক্ষে একতরফা ম্যাচে তারা হেরেছে ১০ উইকেটে। টানা হারে ‘সি’ গ্রুপের তলানিতে নেমেছে দল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আজ (রোববার) বাঁচামরার লড়াইয়ে দলের উদ্দেশ্যে বার্তা দিলেন— ‘সামাজিক মাধ্যম থেকে দূরে থাকো।’ সামাজিক মাধ্যমের বিশাল বিভ্রান্তির কথা বলে ল সতর্ক করেছেন, ‘আমি মনে করি এখন আমাদের যে বিষয়টি ভালোভাবে দেখতে হবে, সেটি হলো ইংল্যান্ড ও ইতালি ম্যাচের মধ্যে এত পার্থক্য কেন হলো সেই কারণ খোঁজার কাজ করতে হবে।’ সামাজিক মাধ্যম যে নেপালের সংস্কৃতির অংশ সেটা স্বীকার করে বাংলাদেশের সাবেক কোচ বললেন, ‘আমি মনে করি এই রুমে (সংবাদ সম্মেলনে) যে নেপালিরা আছেন, তারা বুঝবেন যে সামাজিক মাধ্যম নেপালি সংস্কৃতির একটি অংশ। তবে আমার মতে সামাজিক মাধ্যম বিশাল বিভ্রান্তি হতে পারে। আপনি যদি সামাজিক মাধ্যমে কী করছেন, সেখানে লোকেরা আপনাকে নিয়ে কী বলছে সেদিকে মনোযোগ দেন এবং দলের কী প্রয়োজন, সতীর্থরা কী বলছে, দলকে কী করতে হবে সেদিকে মনোযোগ না দেন তাহলে আসল কাজ থেকে আপনি ছিটকে যাবেন।’ নেপালের খেলোয়াড়দের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পারছেন । অস্ট্রেলিয়ান কোচ বললেন, ‘এটা কঠিন, কারণ অনেক খেলোয়াড় এনডোর্সমেন্ট ও স্পন্সরশিপের মতো বিষয়গুলোর জন্য এর ওপর নির্ভর করে। কিন্তু আমি এটাও মনে করি যে বিশ্বকাপে ক্রিকেট প্রধান বিষয়। আমি তাদের বোঝানোর চেষ্টা করেছি যে যদি ক্রিকেটে জয়ের ধারা অব্যাহত রাখো, তাহলে এমনিতেই লাইক পাবে।’ ‘নেপালে ক্রিকেট এগিয়ে যাচ্ছে এবং আমরা জিতছি, এটা দেখাতে পারলে আপনাদের বারবার নিজেদের মুখ দেখানোর (সোশ্যাল মিডিয়ায় উপস্থিত থাকার) প্রয়োজন নেই। তাহলে সোশ্যাল মিডিয়ায় আপনাদের জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী হবে। আমার জন্য এটি বোঝা কিছুটা কঠিন কারণ আমি সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে একজন ‘ডাইনোসর’ (সেকেলে মানুষ), আমি এগুলো বুঝি না। আমি এর নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে জানি, কিন্তু ইতিবাচক দিকগুলো ঠিক বুঝে উঠতে পারি না। তাই আমিও এ বিষয়ে শিখছি এবং খেলোয়াড়দের সঙ্গে একটি ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছি, যাতে তারা এক নম্বরে তাদের ক্রিকেটে মনোযোগ দেয়। আর বাকি সব বিষয়কে আমি ‘বাজে কথা’ বা ‘বাজে কাজ’ বলি— আমি আজ ছেলেদেরও সেটা বলেছি— এসব ক্রিকেট থেকে দূরে রাখো, ক্রিকেটের বাইরে এসব করো। যখন তোমরা ক্রিকেটের ভেতরে আছ, তখন শুধু ক্রিকেটটাই খেলো।’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে বিরল এক রাজনৈতিক ঘটনার জন্ম হয়েছে। একই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ছেলের কাছে জামানত হারিয়েছেন বাবা। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ ও তার বাবা আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আবদুল মালেক পৃথক দল থেকে নির্বাচনে অংশ নেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত বেসরকারি ফলাফলে দেখা যায়, ছেলে বিপুল ভোটে জয়ী হলেও বাবা মাত্র ৫০৫ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পরিপত্র অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় প্রদত্ত মোট ভোটের আট ভাগের এক ভাগের কম পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। প্রয়োজনীয় ভোট না পাওয়ায় আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আবদুল মালেকের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, এনসিপি মনোনীত শাপলা প্রতীকের প্রার্থী আব্দুল হান্নান মাসউদ পেয়েছেন ৯১ হাজার ৮৯৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী মাহবুবের রহমান শামীম পেয়েছেন ৬৪ হাজার ২১ ভোট। আসনের অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে হরিণ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ফজলুল আজিম পেয়েছেন ৪ হাজার ৭৮৩ ভোট, ফুটবল প্রতীকের তানভীর উদ্দিন রাজিব ৩ হাজার ৭৬৪ ভোট, হাতপাখা প্রতীকের মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম শরীফ ২ হাজার ১৭৯ ভোট, তারা প্রতীকের মোহাম্মদ আবদুল মোতালেব ১ হাজার ২৩৯ ভোট, লাঙ্গল প্রতীকের এটিএম নাবী উল্যাহ ২৮০ ভোট, ট্রাক প্রতীকের মোহাম্মদ আজহার উদ্দিন ১৯১ ভোট এবং ছাতা প্রতীকের মোহাম্মদ আবুল হোসেন পেয়েছেন ৮৬ ভোট। নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৩৯ হাজার ১৮৪ জন। মোট প্রাপ্ত ভোট ১ লাখ ৭৪ হাজার ৩৩২। বাতিল ভোটের সংখ্যা ৫ হাজার ৩৬৭। ভোটদানের হার ৫১ দশমিক ৪০ শতাংশ। এর মধ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ১ লাখ ৯২৫টি এবং ‘না’ ভোট পড়েছে ৫৩ হাজার ২৪৮টি। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও হাতিয়া উপজেলার ইউএনও মো. আলাউদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, শাপলা কলি ও ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ছাড়া আরও আটজন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। হাতিয়ায় কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া সুন্দরভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। তবে নির্বাচন-পরবর্তী কয়েকটি ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। বিচ্ছিন্ন দ্বীপ হাতিয়া নানা দিক থেকে বঞ্চিত— সবাই মিলে এই জনপদকে আলোকিত করবে, এমনটাই প্রত্যাশা করি।

দ্বীপ হাতিয়ার মানুষ আনন্দের বদলে ভীত-সন্ত্রস্ত বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের বেসরকারিভাবে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ। তিনি বলেন, নির্বাচনে বিজয়ের পর যেখানে দ্বীপ হাতিয়ার মানুষের আনন্দ-উল্লাস করার কথা ছিল, সেখানে তারা এখন ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে দিন কাটাচ্ছেন। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলা সদরে এনসিপির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। হান্নান মাসউদ অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনের পর কয়েকদিন ধরে পুরো হাতিয়াজুড়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। মানুষের ঘরবাড়ি পোড়ানো, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা এবং সাধারণ মানুষকে মারধরের মতো নানা অপকর্ম সংঘটিত হয়েছে। তার দাবি, হাতিয়ার ইতিহাসে কোনো নির্বাচনে এমন সহিংসতার নজির নেই। তিনি বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের হাতিয়ায় এনে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ করে তোলা হয়েছে। গত কয়েক দিনে প্রায় সাড়ে চারশ’ বাড়িঘরে হামলা হয়েছে এবং শতাধিক দোকানে লুটপাট ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে। সকালে হাসপাতালে গিয়ে দেখি, জুলাই অভ্যুত্থানের মতো আহত মানুষ পড়ে আছে। আমরা হাতিয়ার মানুষ এ তাণ্ডব থেকে মুক্তি চাই। সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভোটের দিন সকালে তার গাড়িতে হামলা চালানো হয়। এ সময় তার স্ত্রী, বাবা ও ভাইদের ওপরও একাধিকবার সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। কয়েকজন সাংবাদিককেও পিটিয়ে আহত করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এসব হামলার নেতৃত্ব ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মাহবুবুর রহমান শামীম দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন হান্নান মাসউদ। তবে তিনি দাবি করেন, হাতিয়ার জনগণ ব্যালটের মাধ্যমে সন্ত্রাস ও সহিংসতার জবাব দিয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রমনা থানার আমির অ্যাডভোকেট শাহ মাহফুজুল হক, উপজেলা আমির মাস্টার বোরহান উদ্দিন, জামায়াতের পৌর মেয়র প্রার্থী সাব্বির আহমেদ তাফসির, উপজেলা যুব শক্তির আহ্বায়ক ইউসুফ রেজা, ব্যবসায়ী আবদুল কাদেরসহ হামলায় আহত এনসিপির প্রায় ১০ জন নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

নোয়াখালী-৩ আসনের বেগমগঞ্জে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীকে ভোট দিলে তাদের চিহ্নিত করে এলাকাছাড়া করার হুমকির অভিযোগ উঠেছে মির জুমলা মিঠু নামের এক বিএনপি নেতা বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তাকে শোকজ করেছে নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে বেগমগঞ্জ উপজেলার বিচারিক কমিটির সিভিল জজ নিশি আক্তার শোকজের বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নোয়াখালী-৩ আসনের বিএনপির প্রার্থী বরকত উল্লাহ বুলুর পক্ষে ভোট করছেন মির জুমলা মিঠু। তিনি বেগমগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক, আলাইয়ারপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এবং একই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান। আলাইয়ারপুর ইউনিয়নের একটি উঠান বৈঠকে দেওয়া তার একটি বক্তব্য ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। ওই ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘মনে রাখবেন, যারা স্থানীয় জামায়াতের ভোট করে তাদের চিহ্নিত করে রাখবেন। আমরা তাদের থেকে জবাব আদায় করে ছাড়বো। আমরা তাদেরকে এলাকায় থাকতে দেবো না—এইটা হলো আমাদের সাফ কথা। এই বক্তব্য অনেকে রেকর্ড করলেও কিছু যায় আসে না।’ পরে বিষয়টি জানার পর বেগমগঞ্জ নির্বাচনি অনুসন্ধান কমিটি মির জুমলা মিঠুকে শোকজ করেন। মঙ্গলবার ওই শোকজের জবাব দিয়েছেন অভিযুক্ত বিএনপি নেতা মিঠু। বিষয়টি নিশ্চিত করে বিচারিক কমিটির সিভিল জজ নিশি আক্তার বলেন, ‘অভিযুক্ত বিএনপি নেতা শোকজের জবাব দিয়েছেন। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) অভিযোগকারীদের পক্ষের সাক্ষীদের ডাকা হয়েছে। এরপর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ এ বিষয়ে জানতে বিএনপি নেতা মির জুমলা মিঠুকে বারবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরে খুদেবার্তা পাঠালেও তিনি তার কোনো উত্তর দেননি। তবে বেগমগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কামাখ্যা চন্দ্র দাস ভিডিওর কণ্ঠ বিএনপি নেতা মির জুমলা মিঠুর বলে নিশ্চিত করেন। তিনি দাবি করেন, জামায়াতের বাহিরাগত লোকজন এলাকায় গিয়ে মারামারি করে। তাদেরকে চিহ্নিত করে রাখতে বলেছেন মির জুমলা মিঠু। নোয়াখালী-৩ আসনে সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এদের মধ্যে বিএনপির প্রার্থী দলের ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু এবং ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী জামায়াতের জেলা সেক্রেটারি মাওলানা বোরহান উদ্দিন।

শাপলা কলিতে ভোট দেওয়ায় যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ করা নারীকে দেখতে সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) নোয়াখালী যাচ্ছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তার সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামও যাওয়ার কথা রয়েছে। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে ২৫০ শয্যার নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই নারীর সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলে দুই নেতা তাকে দেখতে নোয়াখালী যাওয়ার কথা বলেছেন। এসময় সেখানে উপস্থিত নোয়াখালী-৬ আসনে সংসদ সদস্য পদে বিজয়ী এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম-মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ ও নোয়াখালী-৪ আসনে পরাজিত জেলা জামায়াতের আমির ইসহাক খন্দকার বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন। নির্যাতনের শিকার নারীকে দেখতে সোমবার হাতিয়ায় যাচ্ছেন জামায়াত আমির জেলা জামায়াতের আমির ইসহাক খন্দাকার বলেন, আমিরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান নির্যাতিতার সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেছেন। এসময় তিনি ওই নারীকে নিজের বোন আখ্যা দিয়ে বলেছেন, ‘আমি সোমবার তাকে দেখতে নোয়াখালী আসবো।’ পৃথক কলে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামও ওই নারীকে মা বলে সম্বোধন করে বলেছেন, ‘পুরো বাংলাদেশ আপনার সঙ্গে আছে। আমিও আপনাকে দেখতে আসবো।’ হান্নান মাসউদ বলেন, ‘হাতিয়ার মানুষ বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন একটি দ্বীপে বসবাস করে। এখানে মাহবুবের রহমান শামীমের নির্দেশে নব্য বিএনপির লোকজন তাণ্ডব চালাচ্ছে। আমি উনার সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলাম। আমার সব এজেন্টকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে হামলা করা হচ্ছে। তাদের দাবি, আমাদের নেতা তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী, আমাদের দল ক্ষমতায়, হান্নান মাসউদ কিছু করতে পারবে না। এই ধর্ষণের ঘটনা তারই একটি অংশ।’ তিনি বলেন, ‘২০১৮ সালে সূবর্ণচরের মতো হাতিয়াতেও আরেক নারীকে ধর্ষণ করা হয়েছে। আমরা ফ্যাসিবাদকে পেছনে ফেলে এসেছি। এখন তারেক রহমান সাহেবকেই নির্দেশনা দিতে হবে এসব তাণ্ডব চলতে পারে কিনা। আমরা আগামীতে সংসদে এসব বিষয় তুলে ধরবো। হাতিয়ার মানুষের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেলে ভয়াবহ রূপ নিবে। আগামীর সরকার ও বর্তমান সরকার এসবের দায়িত্ব নিতে হবে। এখন তারেক রহমান কি নতুন ফ্যাসিবাদ জন্ম দিবে নাকি গণতন্ত্র উপহার দিবেন তা উনি ভালো বলতে পারবেন।’ নির্যাতনের শিকার নারীকে দেখতে সোমবার হাতিয়ায় যাচ্ছেন জামায়াত আমির এর আগে হাতিয়ার চানন্দি ইউনিয়নের ৩২ বছর বয়সের এক নারী দাবি করেন, নির্বাচনে শাপলা কলিতে ভোট দেওয়ায় শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে স্থানীয় কয়েকজন যুবক তাকে ও তার স্বামীকে পিটিয়ে জখম করেন। এসময় তার স্বামীকে কক্ষে বেঁধে রেখে গোসলখানায় নিয়ে আবদুর রহমান নামে এক ব্যক্তি ওই নারীকে ধর্ষণ করেছেন। পরে শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তাকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিলে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানান জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মোস্তাফিজুর রহমান। তবে অভিযুক্ত আবদুর রহমান এক ভিডিও বার্তায় বলেন, আমার বিরুদ্ধে অভিযোগটি মিথ্যা। শুক্রবার রাতে ৮টায় এনসিপির লোকজন আমাকে আক্রমণ করে আহত করে। আমি স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়ে রাত সাড়ে ১০টায় নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হই। তাহলে রাত ১১টায় কীভাবে আমি ধর্ষণ করি তা বুঝতেছি না। এ ব্যাপারে নোয়াখালী-৬ আসনের পরাজিত বিএনপির প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম হামলার ঘটনা অস্বীকার করে ধর্ষণের বিষয়ে বলেন, এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে কিনা প্রশাসনকে জিজ্ঞেস করেন। এ বিষয়ে আমার কিছু জানা নাই। এ ব্যাপারে নোয়াখালী পুলিশ সুপার টিএম মোশারেফ হোসেন বলেন, বিষয়টি আমরা শুনেছি। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি যখন নির্বাচনে ভূমিধস জয় পেলো তখন ভারত নতুন সরকারকে সতর্কতার সঙ্গে উষ্ণ শুভেচ্ছা জানাল। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ৬০ বছর বয়সী তারেক রহমানকে জয়ের জন্য শুভেচ্ছা জানান। তিনি একটি গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও অন্তর্বর্তী বাংলাদেশকে সমর্থনের আশ্বাস দেন। এছাড়া বাংলাদেশের সঙ্গে বহুমুখী সম্পর্ক জোরদারে গভীরভাবে কাজ করবেন বলে জানান। তার এ শুভেচ্ছা ছিল সম্পর্ককে এগিয়ে নেওয়ার বার্তা। তবে খুব সতর্কতার সঙ্গে তিনি এ বার্তা দিয়েছেন। সাবেক স্বৈরাচার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জেন-জির গণঅভ্যুত্থানে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে বিশ্বাসে ব্যাপক অবনতি হয়। এরপর সদ্য হওয়া জাতীয় নির্বাচনে হাসিনার আওয়ামী লীগকে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। হাসিনার স্বৈরাচার হওয়ার জন্য অনেক বাংলাদেশি ভারতেক দোষারোপ করেন। এর ওপর সীমান্ত হত্যা, পানি নিয়ে বিরোধ, বাণিজ্যে বিধিনিষেধ ও ভারতের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় আগে থেকেই ছিল। দুই দেশের মধ্যে ভিসা দেওয়া প্রায় বন্ধ আছে। আন্তঃদেশীয় বাস, ট্রেন এখন আর চলছে না। সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে বিমান চলাচলও বহুলাংশে হ্রাস পেয়েছে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে এ মুহূর্তে ভারত সরকার যোগাযোগ তৈরি করবে?— প্রশ্ন এটি নয়, প্রশ্ন হলো কীভাবে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দমনের সীমারেখা নিশ্চিত রেখে এবং বাংলাদেশের সঙ্গে উত্তেজনা কমিয়ে যোগাযোগ করবে। বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপন সম্ভব? বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে আবারও ভারত সম্পর্ক গড়তে পারবে। তবে এক্ষেত্রে সংযম ও পারস্পরিক সহযোগিতা প্রয়োজন হবে। লন্ডনের সোয়াস বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের প্রফেসর অবিনাশ পালিওয়াল সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে বলেছেন, "নির্বাচনী দৌড়ে থাকা দলগুলোর মধ্যে রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে অভিজ্ঞ এবং মধ্যপন্থী হিসেবে বিএনপিই এখন ভারতের জন্য সামনে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে নিরাপদ বা নির্ভরযোগ্য বিকল্প। তবে প্রশ্ন থেকে যায়— তারেক রহমান কীভাবে দেশ শাসন করবেন? তিনি পরিষ্কারভাবেই ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক স্থিতিশীল করতে চাইছেন। কিন্তু এটি মুখে বলা যত সহজ, কাজে পরিণত করা ততটা সহজ নয়।" ভারতের জন্য বিএনপি কোনো অজানা কোনো দল নয়। জামায়াতের সঙ্গে জোট করে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ২০০১ সালে যখন দলটি আবারও ক্ষমতায় ফিরেছিল তখন ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক খুব দ্রুত সময়ে ঠান্ডা হয়ে যায়। জামায়াত-বিএনপি ওই সরকারের পুরোটা ছিল ভারতের জন্য ছিল ‘অবিশ্বাস আর সমস্যার সময়’। যদিও ভারতের সঙ্গে ওই সরকারের শুরুটা হয়েছিল সৌজন্যতার সঙ্গে। ভারতের তৎকালীন নিরাপত্তা উপদেষ্টা ব্রাজেস মিশ্রা প্রথম বিদেশি কূটনীতিক হিসেবে খালেদা জিয়াকে সবার আগে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন। কিন্তু তবুও দুই দেশের মধ্যে বিশ্বাস ছিল খুবই কম। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন ওই বিএনপি সরকার যুক্তরাষ্ট্র, চীন এবং পাকিস্তানের সঙ্গে সৌহায্যপূর্ণ সম্পর্ক রেখেছিল। এতে করে ভারতের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয় বাংলাদেশ হয়ত তাদের বলয় থেকে বের হয়ে যাচ্ছে। এরপর বিচ্ছিন্নতাবাদীদের কার্যক্রম, ১০ ট্রাক অস্ত্র উদ্ধার এবং সংখ্যালঘুদের ওপর কথিত হামলা নিয়ে সম্পর্কে অবনতি ঘটে। যা দিনদিন আরও খারাপ হয়। ২০১৪ সালে খালেদা জিয়া নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ভারতের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট প্রণব মুখার্জির সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠক বাতিল করেন। যা ব্যাপকভাবে ভারতকে বিএনপির প্রত্যাখ্যান করা হিসেবে দেখা হয়েছিল। আর এ কারণেই স্বৈরাচার শেখ হাসিনার ওপর ভারত তার সর্বোচ্চ বিনিয়োগ করেছিল। ক্ষমতায় থাকার ১৫ বছরে হাসিনা দিল্লিকে এমন কিছু দিয়েছেন যা ভারত তার প্রতিবেশীদের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি আশা করে: বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা সহযোগিতা, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং এমন একটি সরকার যা চীনের চেয়ে ভারতের সাথে বেশি জোটবদ্ধ ছিল। যদিও কৌশলগতভাবে এটি খুবই মূল্যবান ছিল। কিন্তু রাজনৈতিক দিক দিয়ে এটি ছিল চরম ব্যয়বহুল। শেখ হাসিনা বর্তমানে পালিয়ে ভারতে আছেন। গণঅভ্যুত্থানে ১ হাজার ৪০০ মানুষকে হত্যার দায়ে তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত। তার ভারতে পালিয়ে থাকা এবং তাকে ফেরত না দেওয়ার বিষয়টি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আরও খারাপ করেছে। খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর গত বছরের ডিসেম্বরে বাংলাদেশে আসেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। এরমধ্যে তিনি তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠ করেন। এরমধ্যে সম্প্রতি তারেক রহমান স্লোগান দেন ‘দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, সবার আগে বাংলাদেশ’। যারমাধ্যমে তিনি ভারত ও পাকিস্তানের প্রভাব থেকে স্বাধীন থাকার ইঙ্গিত দিয়েছেন। শেখ হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশ কোনো সময় নষ্ট না করে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্জীবিত করে। ১৪ বছর বন্ধ থাকার পর সরাসরি দুই দেশের মধ্যে বিমান চলাচল শুরু হয়েছে। ১৩ বছর পর পাকিস্তানের কোনো পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ সফর করেছেন। উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তারা আসা-যাওয়া করেছেন। দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা-সহযোগিতা সম্পর্ক আবারও ফিরে এসেছে এবং ২০২৪-২৫ সালে বাণিজ্য ২৭ শতাংশ বেড়েছে। ভারতের নয়াদিল্লিভিত্তিক ইনস্টিটিউট ফর ডিফেন্স স্টাডিস অ্যান্ড অ্যানালাইসিসের স্মৃতি পট্টনায়ক বলেছেন, “আমাদের উদ্বেগের কারণ এটা নয় যে, পাকিস্তানের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক আছে। একটি সার্বভৌম দেশ হিসেবে তাদের সেই অধিকার রয়েছে। যেটি অস্বাভাবিক ছিল তা হলো, হাসিনার শাসনামলে পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক একেবারেই ছিল না। সম্পর্ক একদিকে (ভারতের দিকে) ঝুকে ছিল। এখন শঙ্কা দেখা দিয়েছে এটি অন্যদিকে (পাকিস্তানের দিকে) ঝুকে যাবে।” হাসিনার ভারতে আশ্রিত থাকার বিষয়টি নতুন সম্পর্ক গড়ার ক্ষেত্রে সমস্যার কারণ হতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, “বিএনপিকে এই কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে যে, হাসিনাকে ভারতের ফেরত দেওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। একই সাথে, ঢাকার অন্যান্য বিরোধী দলগুলো সরকারের ওপর চাপ দিয়ে যাবে যেন তারা ভারতকে হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার জন্য ক্রমাগত চাপ দেয়। বিএনপির পররাষ্ট্রনীতিকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য এটিই হবে বিরোধী দলগুলোর অন্যতম শক্তি।” যা বিএনপির জন্য সহজ হবে না। ওপি জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির শ্রীরাধা দত্ত বলেছেন, হাসিনা ও আওয়ামী লীগের যেসব নেতাকর্মী ভারতে পালিয়ে আছেন তারা সম্পর্কের ক্ষেত্রে আরেক বাধা হবেন। তিনি বলেছেন, "দিল্লি যদি তাদের মাটি ব্যবহার করে আওয়ামী লীগকে আবার রাজনীতিতে পুনর্বাসিত করার চেষ্টা করে, তবে তা হবে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। নির্বাসনে থেকে নির্বাচনের আগে হাসিনা যেসব সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন, সেগুলো ছিল বেশ বিভ্রান্তিকর। তিনি যদি নিজের ভুল স্বীকার না করেন অথবা দলের নেতৃত্বের পরিবর্তনের সুযোগ দিয়ে নিজে সরে না দাঁড়ান, তবে ভারতে তার এই অবস্থান দুই দেশের সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলবে।" এছাড়া সীমান্ত সমস্যা, ভারতীয় রাজনীতি ও টেলিভিশনে উস্কানিকমূলক কথাবার্তাও আরেক সমস্যার বিষয়। কারণ এসবের কারণে বাংলাদেশিদের মধ্যে বিশ্বাস জন্মেছে ভারত বাংলাদেশকে সার্বভৌম দেশের বদলে নিজেদের হাতের পুতুল মনে করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন সম্পর্ক নির্ভর করবে বাংলাদেশের নতুন সরকার ভারত বিরোধী মনোভাব কতটা কমাতে পারে। অপরদিকে ভারত বাংলাদেশকে নিয়ে উস্কানি কতটা বন্ধ করতে পারে।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গত আসরে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল নেপাল। অল্পের জন্য ইতিহাস গড়ে জেতা হয়নি তাদের। এবারের বিশ্বকাপেও তারা শুরুতে চমক দেখালেও বড় হার হেরেছে নবাগত ইতালির কাছে। টানা দুই হারের পর দলের খেলোয়াড়দের সামাজিক মাধ্যম থেকে দূরে থাকতে বললেন নেপাল কোচ স্টুয়ার্ট ল। বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ডের সঙ্গে ভালো প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছিল নেপাল। মাত্র ৪ রানে হারতে হয় তাদের। কিন্তু ইতালির বিপক্ষে একতরফা ম্যাচে তারা হেরেছে ১০ উইকেটে। টানা হারে ‘সি’ গ্রুপের তলানিতে নেমেছে দল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আজ (রোববার) বাঁচামরার লড়াইয়ে দলের উদ্দেশ্যে বার্তা দিলেন— ‘সামাজিক মাধ্যম থেকে দূরে থাকো।’ সামাজিক মাধ্যমের বিশাল বিভ্রান্তির কথা বলে ল সতর্ক করেছেন, ‘আমি মনে করি এখন আমাদের যে বিষয়টি ভালোভাবে দেখতে হবে, সেটি হলো ইংল্যান্ড ও ইতালি ম্যাচের মধ্যে এত পার্থক্য কেন হলো সেই কারণ খোঁজার কাজ করতে হবে।’ সামাজিক মাধ্যম যে নেপালের সংস্কৃতির অংশ সেটা স্বীকার করে বাংলাদেশের সাবেক কোচ বললেন, ‘আমি মনে করি এই রুমে (সংবাদ সম্মেলনে) যে নেপালিরা আছেন, তারা বুঝবেন যে সামাজিক মাধ্যম নেপালি সংস্কৃতির একটি অংশ। তবে আমার মতে সামাজিক মাধ্যম বিশাল বিভ্রান্তি হতে পারে। আপনি যদি সামাজিক মাধ্যমে কী করছেন, সেখানে লোকেরা আপনাকে নিয়ে কী বলছে সেদিকে মনোযোগ দেন এবং দলের কী প্রয়োজন, সতীর্থরা কী বলছে, দলকে কী করতে হবে সেদিকে মনোযোগ না দেন তাহলে আসল কাজ থেকে আপনি ছিটকে যাবেন।’ নেপালের খেলোয়াড়দের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পারছেন । অস্ট্রেলিয়ান কোচ বললেন, ‘এটা কঠিন, কারণ অনেক খেলোয়াড় এনডোর্সমেন্ট ও স্পন্সরশিপের মতো বিষয়গুলোর জন্য এর ওপর নির্ভর করে। কিন্তু আমি এটাও মনে করি যে বিশ্বকাপে ক্রিকেট প্রধান বিষয়। আমি তাদের বোঝানোর চেষ্টা করেছি যে যদি ক্রিকেটে জয়ের ধারা অব্যাহত রাখো, তাহলে এমনিতেই লাইক পাবে।’ ‘নেপালে ক্রিকেট এগিয়ে যাচ্ছে এবং আমরা জিতছি, এটা দেখাতে পারলে আপনাদের বারবার নিজেদের মুখ দেখানোর (সোশ্যাল মিডিয়ায় উপস্থিত থাকার) প্রয়োজন নেই। তাহলে সোশ্যাল মিডিয়ায় আপনাদের জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী হবে। আমার জন্য এটি বোঝা কিছুটা কঠিন কারণ আমি সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে একজন ‘ডাইনোসর’ (সেকেলে মানুষ), আমি এগুলো বুঝি না। আমি এর নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে জানি, কিন্তু ইতিবাচক দিকগুলো ঠিক বুঝে উঠতে পারি না। তাই আমিও এ বিষয়ে শিখছি এবং খেলোয়াড়দের সঙ্গে একটি ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছি, যাতে তারা এক নম্বরে তাদের ক্রিকেটে মনোযোগ দেয়। আর বাকি সব বিষয়কে আমি ‘বাজে কথা’ বা ‘বাজে কাজ’ বলি— আমি আজ ছেলেদেরও সেটা বলেছি— এসব ক্রিকেট থেকে দূরে রাখো, ক্রিকেটের বাইরে এসব করো। যখন তোমরা ক্রিকেটের ভেতরে আছ, তখন শুধু ক্রিকেটটাই খেলো।’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে বিরল এক রাজনৈতিক ঘটনার জন্ম হয়েছে। একই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ছেলের কাছে জামানত হারিয়েছেন বাবা। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ ও তার বাবা আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আবদুল মালেক পৃথক দল থেকে নির্বাচনে অংশ নেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত বেসরকারি ফলাফলে দেখা যায়, ছেলে বিপুল ভোটে জয়ী হলেও বাবা মাত্র ৫০৫ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পরিপত্র অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় প্রদত্ত মোট ভোটের আট ভাগের এক ভাগের কম পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। প্রয়োজনীয় ভোট না পাওয়ায় আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আবদুল মালেকের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, এনসিপি মনোনীত শাপলা প্রতীকের প্রার্থী আব্দুল হান্নান মাসউদ পেয়েছেন ৯১ হাজার ৮৯৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী মাহবুবের রহমান শামীম পেয়েছেন ৬৪ হাজার ২১ ভোট। আসনের অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে হরিণ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ফজলুল আজিম পেয়েছেন ৪ হাজার ৭৮৩ ভোট, ফুটবল প্রতীকের তানভীর উদ্দিন রাজিব ৩ হাজার ৭৬৪ ভোট, হাতপাখা প্রতীকের মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম শরীফ ২ হাজার ১৭৯ ভোট, তারা প্রতীকের মোহাম্মদ আবদুল মোতালেব ১ হাজার ২৩৯ ভোট, লাঙ্গল প্রতীকের এটিএম নাবী উল্যাহ ২৮০ ভোট, ট্রাক প্রতীকের মোহাম্মদ আজহার উদ্দিন ১৯১ ভোট এবং ছাতা প্রতীকের মোহাম্মদ আবুল হোসেন পেয়েছেন ৮৬ ভোট। নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৩৯ হাজার ১৮৪ জন। মোট প্রাপ্ত ভোট ১ লাখ ৭৪ হাজার ৩৩২। বাতিল ভোটের সংখ্যা ৫ হাজার ৩৬৭। ভোটদানের হার ৫১ দশমিক ৪০ শতাংশ। এর মধ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ১ লাখ ৯২৫টি এবং ‘না’ ভোট পড়েছে ৫৩ হাজার ২৪৮টি। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও হাতিয়া উপজেলার ইউএনও মো. আলাউদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, শাপলা কলি ও ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ছাড়া আরও আটজন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। হাতিয়ায় কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া সুন্দরভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। তবে নির্বাচন-পরবর্তী কয়েকটি ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। বিচ্ছিন্ন দ্বীপ হাতিয়া নানা দিক থেকে বঞ্চিত— সবাই মিলে এই জনপদকে আলোকিত করবে, এমনটাই প্রত্যাশা করি।

দ্বীপ হাতিয়ার মানুষ আনন্দের বদলে ভীত-সন্ত্রস্ত বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের বেসরকারিভাবে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ। তিনি বলেন, নির্বাচনে বিজয়ের পর যেখানে দ্বীপ হাতিয়ার মানুষের আনন্দ-উল্লাস করার কথা ছিল, সেখানে তারা এখন ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে দিন কাটাচ্ছেন। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলা সদরে এনসিপির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। হান্নান মাসউদ অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনের পর কয়েকদিন ধরে পুরো হাতিয়াজুড়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। মানুষের ঘরবাড়ি পোড়ানো, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা এবং সাধারণ মানুষকে মারধরের মতো নানা অপকর্ম সংঘটিত হয়েছে। তার দাবি, হাতিয়ার ইতিহাসে কোনো নির্বাচনে এমন সহিংসতার নজির নেই। তিনি বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের হাতিয়ায় এনে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ করে তোলা হয়েছে। গত কয়েক দিনে প্রায় সাড়ে চারশ’ বাড়িঘরে হামলা হয়েছে এবং শতাধিক দোকানে লুটপাট ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে। সকালে হাসপাতালে গিয়ে দেখি, জুলাই অভ্যুত্থানের মতো আহত মানুষ পড়ে আছে। আমরা হাতিয়ার মানুষ এ তাণ্ডব থেকে মুক্তি চাই। সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভোটের দিন সকালে তার গাড়িতে হামলা চালানো হয়। এ সময় তার স্ত্রী, বাবা ও ভাইদের ওপরও একাধিকবার সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। কয়েকজন সাংবাদিককেও পিটিয়ে আহত করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এসব হামলার নেতৃত্ব ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মাহবুবুর রহমান শামীম দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন হান্নান মাসউদ। তবে তিনি দাবি করেন, হাতিয়ার জনগণ ব্যালটের মাধ্যমে সন্ত্রাস ও সহিংসতার জবাব দিয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রমনা থানার আমির অ্যাডভোকেট শাহ মাহফুজুল হক, উপজেলা আমির মাস্টার বোরহান উদ্দিন, জামায়াতের পৌর মেয়র প্রার্থী সাব্বির আহমেদ তাফসির, উপজেলা যুব শক্তির আহ্বায়ক ইউসুফ রেজা, ব্যবসায়ী আবদুল কাদেরসহ হামলায় আহত এনসিপির প্রায় ১০ জন নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

নোয়াখালী-৩ আসনের বেগমগঞ্জে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীকে ভোট দিলে তাদের চিহ্নিত করে এলাকাছাড়া করার হুমকির অভিযোগ উঠেছে মির জুমলা মিঠু নামের এক বিএনপি নেতা বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তাকে শোকজ করেছে নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে বেগমগঞ্জ উপজেলার বিচারিক কমিটির সিভিল জজ নিশি আক্তার শোকজের বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নোয়াখালী-৩ আসনের বিএনপির প্রার্থী বরকত উল্লাহ বুলুর পক্ষে ভোট করছেন মির জুমলা মিঠু। তিনি বেগমগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক, আলাইয়ারপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এবং একই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান। আলাইয়ারপুর ইউনিয়নের একটি উঠান বৈঠকে দেওয়া তার একটি বক্তব্য ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। ওই ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘মনে রাখবেন, যারা স্থানীয় জামায়াতের ভোট করে তাদের চিহ্নিত করে রাখবেন। আমরা তাদের থেকে জবাব আদায় করে ছাড়বো। আমরা তাদেরকে এলাকায় থাকতে দেবো না—এইটা হলো আমাদের সাফ কথা। এই বক্তব্য অনেকে রেকর্ড করলেও কিছু যায় আসে না।’ পরে বিষয়টি জানার পর বেগমগঞ্জ নির্বাচনি অনুসন্ধান কমিটি মির জুমলা মিঠুকে শোকজ করেন। মঙ্গলবার ওই শোকজের জবাব দিয়েছেন অভিযুক্ত বিএনপি নেতা মিঠু। বিষয়টি নিশ্চিত করে বিচারিক কমিটির সিভিল জজ নিশি আক্তার বলেন, ‘অভিযুক্ত বিএনপি নেতা শোকজের জবাব দিয়েছেন। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) অভিযোগকারীদের পক্ষের সাক্ষীদের ডাকা হয়েছে। এরপর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ এ বিষয়ে জানতে বিএনপি নেতা মির জুমলা মিঠুকে বারবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরে খুদেবার্তা পাঠালেও তিনি তার কোনো উত্তর দেননি। তবে বেগমগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কামাখ্যা চন্দ্র দাস ভিডিওর কণ্ঠ বিএনপি নেতা মির জুমলা মিঠুর বলে নিশ্চিত করেন। তিনি দাবি করেন, জামায়াতের বাহিরাগত লোকজন এলাকায় গিয়ে মারামারি করে। তাদেরকে চিহ্নিত করে রাখতে বলেছেন মির জুমলা মিঠু। নোয়াখালী-৩ আসনে সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এদের মধ্যে বিএনপির প্রার্থী দলের ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু এবং ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী জামায়াতের জেলা সেক্রেটারি মাওলানা বোরহান উদ্দিন।

নোয়াখালীর ছয়টি সংসদীয় আসনের ৮৭৫টি ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় ৭টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মোট ১৬ হাজার ৩৭৯ জন সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, নোয়াখালীর সবগুলো আসনে ভোটের পরিবেশ অত্যন্ত সন্তোষজনক। ছয়টি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মোট ৪৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ, বিজিবি, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও আনসার সদস্যদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ এলাকা হওয়ায় সেখানে পুলিশ ও আনসারের পাশাপাশি কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী দায়িত্ব পালন করবে। অপর পাঁচটি আসনে সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ, বিজিবি ও আনসার সদস্যরা নিয়োজিত থাকবেন। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসংখ্যার মধ্যে রয়েছে— সেনাবাহিনী ৭০০ জন, বিজিবি ২৫০ জন, পুলিশ ২ হাজার ৬৫০ জন, র্যাব ১০০ জন, নৌবাহিনী ২৪০ জন, কোস্টগার্ড ১ হাজার ৬৪ জন এবং আনসার সদস্য ১১ হাজার ৩৭৫ জন। এছাড়া একজন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার নেতৃত্বে ১৪ জন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা, ১৪ জন প্রথম শ্রেণির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ৮৭৫ জন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, ৫ হাজার ৬০৯ জন সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা এবং ১১ হাজার ২১৮ জন পোলিং কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাদেকুল ইসলাম বলেন, ছয়টি আসনের ৯টি উপজেলায় নির্বাচনী ব্যালটসহ সব প্রয়োজনীয় মালামাল পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। বুধবার বিকেলের মধ্যে এসব মালামাল সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্রে পৌঁছানো হবে। ব্যালট পেপার ও ভোটের বাক্সের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, জেলার ৬টি আসনে আটটি পৌরসভা ও ৯১টি ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ২৮ লাখ ৬৭ হাজার ৬৩৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৪ লাখ ৯৬ হাজার ৩৮০ জন, নারী ভোটার ১৩ লাখ ৭১ হাজার ২৪৫ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১৪ জন। জেলায় মোট ৮৭৫টি ভোটকেন্দ্র ও ৫ হাজার ৬০৯টি ভোটকক্ষ রয়েছে। প্রার্থীসংখ্যার হিসাবে নোয়াখালী-১ আসনে ৭ জন, নোয়াখালী-২ আসনে ৫ জন, নোয়াখালী-৩ আসনে ৭ জন, নোয়াখালী-৪ আসনে ৭ জন, নোয়াখালী-৫ আসনে ১২ জন এবং নোয়াখালী-৬ আসনে ১০ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

নির্বাচনী প্রচারণার ব্যানার চুরি ও ছিঁড়ে ফেলার ঘটনা রোধে ব্যানারের ওপর সিসি ক্যামেরা স্থাপন করেছেন নোয়াখালী-১ (চাটখিল–সোনাইমুড়ী) আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা মো. ছাইফ উল্লাহ। এ সংক্রান্ত ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নোয়াখালীর বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণার ব্যানার ও পোস্টার চুরি এবং ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ উঠলেও এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারেনি প্রশাসন। এমন পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়েই নিজ উদ্যোগে ব্যানারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, সোনাইমুড়ী উপজেলার দেওটি ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডে অবস্থিত আমিরাবাদ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে নির্বাচনী ব্যানারের ওপর একটি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করে রাখা হয়েছে। এতে দুষ্কৃতকারীরা ব্যানার ক্ষতিসাধন করতে নিরুৎসাহিত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে নোয়াখালী জেলা উত্তর ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে এবং প্রচারণার স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নোয়াখালী-১ (চাটখিল–সোনাইমুড়ী) আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা মো. ছাইফ উল্লাহ বলেন, নির্বাচনী প্রচারণার ব্যানার বারবার চুরি ও ছিঁড়ে ফেলার ঘটনা ঘটছে। প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা না পাওয়ায় বাধ্য হয়েই ব্যানারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সোনাইমুড়ী উপজেলার ইউএনও নাছরিন আকতার বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধি সংক্রান্ত সব ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। প্রতিটি অভিযোগ সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করতে আমরা বদ্ধপরিকর। এ জন্য সবাইকে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার আহ্বান জানাচ্ছি। প্রসঙ্গত, নোয়াখালী-১ (চাটখিল-সোনাইমুড়ী আংশিক) সংসদীয় আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৫২ হাজার ৪২৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৩৩ হাজার ৭১১ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ১৮ হাজার ৭১৪ জন। এই সংসদীয় আসনটি চাটখিল উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এবং সোনাইমুড়ী উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। এ আসনে মোট সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন— ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জামায়াতে ইসলামীর মো. ছাইফ উল্যাহ, হাতপাখা প্রতীকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জহিরুল ইসলাম, লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পার্টির মো. নুরুল আমিন, ডাব প্রতীকে বাংলাদেশ কংগ্রেসের মো. মনিনুল ইসলাম, আপেল প্রতীকে ইনসানিয়াত বাংলাদেশের মো. মশিউর রহমান এবং তারা প্রতীকে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) মনোনীত প্রার্থী রেহানা বেগম।

আপনার মূল্যবান ভোট দিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ার দরজা খুলে দিন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আয়োজিত গণভোট সামনে রেখে দেশবাসীকে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে তিনি বলেন, ‘আপনার মূল্যবান ভোট দিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ার দরজা খুলে দিন। দেশের চাবি আপনার হাতে। সে চাবিটি সঠিকভাবে ব্যবহার করুন।’ আসন্ন নির্বাচনের দিনটিকে ‘নতুন বাংলাদেশের জন্মদিন’ হিসেবে অভিহিত করে প্রধান উপদেষ্টা ভোটারদের দ্বিধাহীন চিত্তে কেন্দ্রে যাওয়ার অনুরোধ জানান। নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ করতে সরকার সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এবার রেকর্ডসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাসম্পন্ন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদেরও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তার নতুন অনুষঙ্গ নিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রথমবারের মতো সারা দেশে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। নজরদারিতে ড্রোন ও ডগ স্কোয়াড ব্যবহারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। ভোটাররা যেন নির্ভয়ে ও সম্মানের সঙ্গে ভোট দিতে পারেন, এটাই আমাদের লক্ষ্য।’ নির্বাচনকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে ঐতিহাসিক পদক্ষেপের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশিরা ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন। এ ছাড়া সরকারি কাজে নিয়োজিত ব্যক্তি এবং আইনি হেফাজতে বা কারাগারে থাকা যোগ্য নাগরিকদের জন্য পোস্টাল ব্যালটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্র কাউকে বাদ দিয়ে নয়, সবাইকে নিয়ে এগোতে চায়।’ রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি প্রধান উপদেষ্টা আহ্বান জানান, যেন কোনো স্তরের কর্মী বিশৃঙ্খলা বা সহিংসতায় জড়িয়ে না পড়ে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘ইতিহাস শিক্ষা দেয়– একটি ত্রুটিপূর্ণ বা সহিংস নির্বাচন শেষ পর্যন্ত কারও জন্যই মঙ্গল বয়ে আনে না। যারা জনগণের মতামত উপেক্ষা করে অনিয়মের মাধ্যমে ক্ষমতায় থাকতে চেয়েছে, তারা কঠিন জবাবদিহিতার মুখোমুখি হয়েছে।’ নির্বাচন নিয়ে অপপ্রচার ও গুজব ছড়ানো মহলের বিষয়ে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, তথ্য যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজনে ‘নির্বাচনবন্ধু’ হটলাইন ৩৩৩-এ যোগাযোগ করতে হবে। জুলাই জাতীয় সনদকে গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ও ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থার দিকনির্দেশনা হিসেবে উল্লেখ করেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ৩০টিরও বেশি রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে এই সনদ প্রস্তুত করা হয়েছে। গণভোটের মাধ্যমে জনগণই ঠিক করবেন তারা এই সংস্কার কাঠামো চান কি না। ক্ষমতা হস্তান্তর প্রসঙ্গে বিভ্রান্তি দূর করে তিনি বলেন, ‘এখন অপপ্রচার চালানো হচ্ছে যে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করবে না। এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আপনারা নিশ্চিত থাকুন, নির্বাচনে বিজয়ী প্রতিনিধিদের কাছে দ্রুততম সময়ে ক্ষমতা হস্তান্তর করে এই সরকার বিদায় নেবে। আমরা এই শুভ মুহূর্তের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।’ প্রধান উপদেষ্টা তার ভাষণের শেষাংশে বলেন, ‘ভয় নয়– আশা নিয়ে; উদাসীনতা নয়– দায়িত্ববোধ নিয়ে আমরা ভোটকেন্দ্রে যাব। আপনার ভোটেই রচিত হবে গৌরবময় আগামীর বাংলাদেশের ইতিহাস।’

নোয়াখালী-৪ আসনের সদরে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের দুটি নির্বাচনি ব্যানার চুরির অভিযোগে অভিনব প্রতিবাদ জানিয়েছে কর্মী-সমর্থকরা। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) চুরি হওয়া ব্যানারের স্থলে নতুন দুটি প্রতীকী ব্যানার লাগিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন তারা। জানা গেছে, নোয়াখালী সরকারি কলেজ গেটের সামনে লাগানো ১১ দলীয় জোটের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের দুটি ব্যানার কে বা কারা চুরি করে নিয়ে যায়। পরে সেই জায়গায় নতুন দুটি ব্যানার লাগিয়ে এর প্রতিবাদ করে দাঁড়িপাল্লার সমর্থকরা। নতুন ব্যানারে লেখা রয়েছে, ‘নোয়াখালী সরকারি কলেজ গেটের সামনে দাঁড়িপাল্লার দুইটি ব্যানার ছিল জালেমরা রাতে নিয়ে গেছে। প্রতিহিংসার রাজনীতি ছেড়ে আসুন, সকলে মিলেমিশে গড়ি বাংলাদেশ।’ সকালে নতুন ব্যানার দুটি দেখে স্থানীয়রা কৌতূহলী হয়ে ওঠেন। এ নিয়ে নানা ধরনের মুখরোচক আলোচনা-সমালোচনা করেন। অনেকে অভিনব এ ব্যানার দেখতে ছুটে আসেন। মহিউদ্দিন নামে এক বাসিন্দা বলেন, ব্যানার চুরি করে ভোট কমানো যায় না। আর ব্যানার দিয়ে ভোটও আসে না। তবে সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে কেউ কারো প্রচারণায় বাধা দেওয়া উচিত নয়। আবুল কালাম নামে একজন বলেন, দাঁড়িপাল্লার চুরি হওয়া ব্যানারের চাইতে, চুরির প্রতিবাদে দেওয়া ব্যানার দেখতে অনেক মানুষ এসেছে। বলা যায়, এটা নতুন আইডিয়া। নোয়াখালী সরকারি কলেজ ছাত্রশিবিরের সভাপতি নাজিম মাহমুদ শুভ বলেন, ভোটকে সামনে রেখে এমন ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে। এটি প্রতিহিংসামূলক রাজনীতির বহিঃপ্রকাশ। যা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনি পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকাই শ্রেয়। তিনি আরও বলেন, এটি নতুন দুটি ব্যানার চুরির ঘটনার নীরব প্রতিবাদ। তবে রাজনৈতিক সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রেখে সবাইকে মিলেমিশে দেশ গঠনে এগিয়ে আসতে হবে।

নোয়াখালী-৫ (কোম্পানীগঞ্জ, কবিরহাট ও সদরের দুই ইউনিয়ন) আসনে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দিতে মঞ্চে ওঠেন সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রয়াত বিএনপি নেতা মওদুদ আহমেদের স্ত্রী হাসনা জসীমউদ্দীন মওদুদ। বক্তব্য দিতে এসে প্রার্থীর মনোনয়ন পাওয়ার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। এতে বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মীরা তাঁর মাইক কেড়ে নেন। এ সময় দ্রুত সভাস্থল ত্যাগ করেন হাসনা মওদুদ। আজ সোমবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে সদর উপজেলার অশ্বদিয়া ইউনিয়নের বাল্লাকোট্টা নামক স্থানে ওই ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, সোমবার নির্বাচনী প্রচারের শেষ দিনে বাল্লাকোট্টা নামের স্থানে মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করে অশ্বদিয়া ইউনিয়ন বিএনপি। সেখানে অতিথি হিসেবে আসেন সাবেক সংসদ সদস্য, জেলা বিএনপির সদস্য হাসনা জসীমউদ্দীন মওদুদ। তিনি আসার পর অশ্বদিয়া ও নেয়াজপুর ইউনিয়নে নির্বাচন সমন্বয়ক ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু হাসান মো. নোমানসহ দলীয় নেতারা তাঁকে অভ্যর্থনা জানান। পরে বক্তৃতার পর্বে তাঁকে (হাসনা মওদুদ) বক্তব্য দিতে দেওয়া হলে তিনি এক পর্যায়ে বলতে থাকেন, ‘এই আসনে আমি মনোনয়ন চেয়েছিলাম। কিন্তু আমাকে মনোনয়ন কেন দেওয়া হয়নি আমি জানি না। যাঁকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, তাঁর কোনো যোগ্যতাই নাই।’ এ কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে উপস্থিত ধানের শীষের সমর্থকেরা হইচই শুরু করেন। একপর্যায়ে কয়েকজন এসে তাঁর হাত থেকে মাইক ছিনিয়ে নেন এবং তাঁর গাড়িতে লাগানো ধানের শীষের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলেন। এ সময় সেখানে উপস্থিত জ্যেষ্ঠ নেতাদের হস্তক্ষেপে তিনি রক্ষা পান। পরে অবস্থা বেগতিক দেখে হাসনা মওদুদ ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। জানতে চাইলে হাসনা জসীমউদ্দীন মওদুদ প্রথম , বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অনুরোধে তিনি ধানের শীষের প্রচারে অংশ নিতে এলাকায় এসেছেন। তিনি উপস্থিত লোকজনের উদ্দেশে বলেছিলেন, তিনি মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। পরে প্রত্যাহার করেছেন। দল কেন তাঁকে মনোনয়ন দিল না, তা জানেন না। কিন্তু যাঁকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, তাঁর কোনো যোগ্যতাই নেই। হাসনা মওদুদ বলেন, ‘আমি ওই কথা বলতেই কয়েকজন হইচই শুরু করেন। এর মধ্যে বোতল হাতে এক ব্যক্তি উত্তেজিত হয়ে আমার দিকে তেড়ে আসেন।’ ঘটনাস্থলে থাকা বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে ইউনিয়ন নির্বাচন সমন্বয়ক আবু হাসান মো. নোমান বলেন, হাসনা মওদুদ ধানের শীষের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিতে এসে তাঁকে মনোনয়ন না দেওয়ার প্রসঙ্গ তোলেন। ধানের শীষের প্রার্থী মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামের সমালোচনা শুরু করেন। এতে সেখানে উপস্থিত নেতা-কর্মীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। হট্টগোল বাধে। কয়েকজন তাঁর গাড়িতে থাকা ধানের শীষের পোস্টার খুলে ফেলেন। তখন তাঁরা তাঁকে নিরাপদে সেখান থেকে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন। তবে এ নিয়ে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। প্রসঙ্গত, নোয়াখালী-৫ আসনে বিএনপি থেকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয় উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামকে। তিনি পেশায় একজন ব্যবসায়ী। একই আসনে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন প্রয়াত বিএনপি নেতা মওদুদ আহমেদের স্ত্রী হাসনা জসীমউদ্দীন মওদুদ। তিনি মনোনয়নপত্র দাখিল করে বৈধ প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে দলের শীর্ষ নেতাদের অনুরোধে তিনি প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন।

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়াকে ‘জেলা’তে রূপান্তরের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ২১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসুদ। সোমবার (৮ জানুয়ারি) বিকেলে হাতিয়া উপজেলার একটি নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই ইশতেহার ঘোষণা করেন। হান্নান মাসুদ বলেন, হাতিয়াকে তিনটি উপজেলা নিয়ে জেলা করা হবে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বুড়িরচরকে পৌরসভা, সোনাদিয়া ও জাহাজমারাকে উপজেলা এবং চানন্দী ও হরনী ইউনিয়ন যুক্ত করে নতুন আরেকটি উপজেলা গঠন করা হবে। এর মাধ্যমে হাতিয়াকে একটি পূর্ণাঙ্গ জেলায় রূপান্তর করা হবে। তিনি বলেন, সারা বিশ্বের মধ্যে এই দ্বীপকে ভ্যাটিকান সিটির মতো উন্নত ও পরিকল্পিত এলাকায় রূপান্তর করার পরিকল্পনা রয়েছে। আপনারা আমার সঙ্গে থাকুন। আপনাদের একটি ভোটেই আগামী দিনের হাতিয়ার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে। তাই ভেবে-চিন্তে ভোট দিন। নদীভাঙন রোধকে প্রথম অগ্রাধিকার দিয়ে ২১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার জনসভায় তুলে ধরেন তিনি। এ সময় দ্বীপটিকে উন্নত, আধুনিক ও বাসযোগ্য করে গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন এনসিপির এই নেতা। ইশতেহারের উল্লেখযোগ্য দফাগুলোর মধ্যে রয়েছে—নদীভাঙন রোধে কংক্রিট ব্লক বাঁধ, বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও ক্রসড্যাম তৈরি, রাস্তাঘাট ও সেতু নির্মাণ, খাসজমি ভূমিহীনদের বন্দোবস্ত, স্বাস্থ্যখাতে উন্নয়ন, সীমান্তবিরোধ নিরসন, শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন, প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা শক্তিশালীকরণ, ফেরি ও ফেরিঘাট ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎসেবা নিশ্চিতকরণ, পর্যটন শিল্পের বিকাশ, জেলেদের হয়রানি বন্ধ ও জীবনমান উন্নয়ন, নদীবন্দর বাস্তবায়ন, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি নির্মূলে কার্যকর উদ্যোগ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ, ওছখালী পৌরসভার উন্নয়ন, ক্রীড়া খাতের উন্নয়ন, স্থায়ী নৌ-ক্যাম্প স্থাপন, হাইটেক পার্ক নির্মাণ, শ্বেতপত্র প্রকাশ এবং জনগণের মুখোমুখি জবাবদিহি। জনসভায় সভাপতিত্ব করেন হাতিয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাস্টার বোরহান। এতে আরও বক্তব্য দেন শাহবাগ থানার জামায়াতে ইসলামীর আমির অ্যাডভোকেট শাহ মাহফুজ, উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক মাস্টার আলাউদ্দিন এবং ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক নেয়ামতউল্লাহ নিরবসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।