

পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সাইয়েদ আব্দুল্লাহর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় পাবনার সাঁথিয়ায় মসজিদে জামায়াতের নেতাকর্মী ও মুসল্লিদের ওপর হামলা হয়েছে বলে দাবি করেছেন। অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছেন তিনি। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী যদি দায়িত্বের বাইরে গিয়ে অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলান, তাহলে এর দায় তাকেই নিতে হবে। প্রয়োজনে এর দায়ভার প্রধানমন্ত্রীকেও নিতে হবে। আজকে বড় ধরনের ষড়যন্ত্র ছিল, জনগণ প্রতিহত করেছে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে সাঁথিয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ের ইমাম হোসাইন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন। তিনি সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিছুর রহমানকে ফ্যাসিবাদের দোসর আখ্যা দিয়ে তার প্রত্যাহারের দাবি জানান। তিনি অভিযোগ করেন, ওসির বিরুদ্ধে ঘুষ ও চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে এবং তিনি জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের হয়রানি করছেন। ফ্যাসিবাদের দোসরদের থেকে টাকা খাচ্ছেন। হামলার শিকার ব্যক্তিরা মামলা করতে থানায় গেলে সেখানে গেট আটকিয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছেন ওসি। মামলা করতে তাদের বাঁধা দেওয়া হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, জুমার নামাজকে কেন্দ্র করে বিএনপি পরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাসী জড়ো করেছিল এবং পুলিশ তাদের হামলার সুযোগ করে দেয়। এ সময় তার সমর্থকদের বাড়িতেও হামলা করা হয়। আজ বিএনপি তাদের ফ্যাসিবাদী চরিত্রের পরিচয় দিয়েছে। তারা ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের হৃদয়ে আঘাত করেছে। আমাকে ঠিকমতো নামাজ পড়তে দেওয়া হয়নি। রাজনৈতিকভাবে পরাজিত হয়ে সন্ত্রাসীর পথ বেঁচে নিয়েছে বিএনপি। ফ্যাসিবাদ বিদায় নিলেও ফ্যাসিবাদের ভূত কিন্তু এখনো যায়নি। ফ্যাসিবাদ ভারতে পালিয়েছে, আপনারা কিন্তু ভারতে পালাতে পারবেন না। এটা মনে রাখতে হবে আপনাদের। তিনি বলেন, সে কে আমাকে বলার যে আমি মসজিদে ইমামতি করতে পারব না? জনগণ ভালোবেসে আমাকে ইমামতি করাচ্ছে। বিএনপির অনুমতি নিয়ে যদি ইমামতি করতে হয়, তাহলে এর চেয়ে দুঃখজনক ঘটনা আর কিছু হতে পারে না। নিজের পারিবারিক পরিচয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমার বাবার ফাঁসি হয়েছে, আমি তারই সন্তান। তারা ভেবেছে হামলা করলে আমি ঢাকা বা লন্ডনে পালিয়ে যাব। কিন্তু আমি পালাব না। বিকেলে একটি ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে এটা নিয়ে তারা পরিকল্পিত নাটক সাজাচ্ছে। আসলে এই ছুরিকাঘাতের ঘটনায় যাকে অভিযুক্ত করা হচ্ছে সে আমাদের দলের কেউ না। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, সাঁথিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা মোখলেসুর রহমান, উপজেলা ভারপ্রাপ্ত আমির অধ্যাপক আনিছুর রহমান, উপজেলা ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি মোস্তফা কামাল মানিক, পৌর আমির হাফেজ আব্দুল গফুর, জেলা যুব বিভাগের সেক্রেটারি তাইজুল ইসলামসহ অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতারা। আরকে

ফেসবুকে ভুয়া বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করা সহজ করতে নতুন ‘ফেসবুক ভেরিফায়েড’ ব্যাজ চালু করেছে মেটা। নতুন এই ব্যাজের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা সহজেই বুঝতে পারবেন প্রোফাইলটি প্রকৃত একজন মানুষের। এই সুবিধাটি মূলত সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য আনা হয়েছে। সেলিব্রিটি বা পরিচিত ব্যক্তিদের জন্য নয়। বিশেষ করে মার্কেটপ্লেস, ডেটিং এবং গ্রুপসে প্রতারণা কমিয়ে ব্যবহারকারীদের মধ্যে আস্থা বাড়ানোই এর লক্ষ্য। ভেরিফিকেশন পেতে ব্যবহারকারীকে একটি ছোট ভিডিও সেলফি ধারণ করতে হবে। এরপর সেটি প্রোফাইলে থাকা ছবির সঙ্গে মিলিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করবে ফেসবুক। এই সেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। তবে এটি ব্যবহার করতে হলে ব্যবহারকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে, অ্যাকাউন্টটি ভালো অবস্থায় থাকতে হবে এবং মেটার নিরাপত্তা ও কমিউনিটি নীতিমালা পূরণ করতে হবে। তবে পেজ এবং প্রফেশনাল মোডে থাকা প্রোফাইলগুলো আপাতত এই সুবিধা পাবে না। ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হলে ব্যাজটি ব্যবহারকারীর প্রোফাইল, মার্কেটপ্লেসের তালিকা এবং ডেটিং প্রোফাইলে দেখা যাবে। ভবিষ্যতে ফেসবুকের নিউজ ফিডের পোস্টেও এই ব্যাজ দেখানো হবে বলে জানিয়েছে মেটা। তবে মেটা জানিয়েছে, এই ব্যাজ থাকার অর্থ শুধু অ্যাকাউন্টটি একজন প্রকৃত মানুষের এটি নিশ্চিত হওয়া। এর মানে এই নয় যে, ওই ব্যবহারকারী সব সময় ফেসবুকের সব নীতিমালা মেনে চলছেন। প্রাথমিকভাবে কয়েকটি দেশে এই সুবিধা চালু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বিশ্বের অন্যান্য দেশেও এটি চালু করা হবে বলে জানিয়েছে মেটা। সূত্র: নিউজ বাইট
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় লক্ষ্মীপুরের রামগতি বাজার শাখার সাবেক রূপালী ব্যাংক ব্যবস্থাপক মো. আবদুল মজিদকে ২৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ১৮ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অর্জিত এক কোটি ২৪ লাখ ১৫ হাজার ৫৪৩ টাকার সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্তের আদেশ দেওয়া হয়েছে। দন্ডপ্রাপ্ত আব্দুল মজিদ (৪৮) লক্ষীপুর সদর থানার কাফিলাতলি এলাকার মৃত আমিনুল হকের ছেলে এবং রামগতি বাজার শাখার রুপালী ব্যাংক লিমেটেডের সাবেক ব্যবস্থাপক ছিলেন। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে নোয়াখালীর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. শওকত আলী এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে অনুপস্থিত থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করা হয়। দুদক জানায়,আবদুল মজিদ ২০০৭ সালের ১৪ নভেম্বর থেকে ২০১৩ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত রূপালী ব্যাংক লিমিটেডের লক্ষ্মীপুরের রামগতি বাজার শাখার ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এ সময় তিনি ব্যাংকের এসটিডি হিসাব নম্বর-৪-এ থাকা ৪ লাখ ৬৫ হাজার ৭৯৮ টাকা, এসটিডি হিসাব নম্বর-৬-এ থাকা ৪৯ লাখ ৬১ হাজার ১১৭ টাকা এবং সরকারি কর্মচারীদের পেনশন বাবদ উত্তোলন করা ১৬ লাখ ৩০ হাজার ২৩১ টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেন। এছাড়া ব্যাংকিং নীতিমালা লঙ্ঘন করে তিনি মোট ৭০ লাখ ৫৭ হাজার ১৪৫ টাকা আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। পরবর্তী তদন্তে দুদক তার বিরুদ্ধে সর্বমোট ১ কোটি ২৪ লাখ ১৫ হাজার ৫৪৩ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পায়। নোয়াখালী দুদক পিপি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জহির উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মামলাটি তদন্ত শেষে তৎকালীন দুদকের উপসহকারী পরিচালক মো.হোসাইন শরীফ ও সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আজগর হোসেন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। আদালত দণ্ডবিধির ৪৬৭ ধারায় ১০ বছর, ৪০৯ ধারায় ১০ বছর এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। পৃথক তিন ধারায় দেওয়া সাজা মিলিয়ে তাকে মোট ২৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

নোয়াখালী সরকারি কলেজ সাংবাদিক সমিতির অফিসিয়াল (নিউজ পোর্টাল) ওয়েবসাইট উদ্বোধন অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (২১ জুলাই-২০২৬ খ্রিঃ) দুপুরে কলেজের ছাত্রসংসদ কার্যালয় মিলনায়তনে উৎসবমুখর ও আনন্দঘন পরিবেশে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে ওয়েবসাইট উদ্বোধন অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে নোসক সাংবাদিক সমিতির সদস্য সচিব মোঃ নুর হোসাইনের সভাপতিত্বে ও সদস্য আকরাম উদ্দিনের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী সরকারি কলেজের ইসলাম শিক্ষা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর মোজাম্মেলুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. এজি আল মোরশেদ, ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ওমর মারুফ, নোবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতির সাবেক সহ-সভাপতি মোঃ ফাহাদ হোসেন, নোসক ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি আব্দুল কাদের আল আমিন প্রমূখ। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ ও সাংবাদিক সমিতির সদস্যদের অংশগ্রহণে লাল ফিঁতা কেটে ওয়েবসাইটের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়। নোসক সাংবাদিক সমিতির ওয়েবসাইটে কলেজের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের লেখা বিভিন্ন ফিচার, কলাম ও আর্টিকেল প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে আয়োজকেরা।
পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো: শাহজাহান। এছাড়াও তিনি বলেন,জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই সংকট মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। আমরা যদি আজ বেশি বেশি গাছ লাগাই এবং সেগুলোকে সঠিকভাবে পরিচর্যা করি, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। পরিবেশ রক্ষাকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি আরও বলেন,বর্তমান সরকার পরিবেশ সংরক্ষণ ও বনভূমি সম্প্রসারণে নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এসব উদ্যোগ সফল করতে সরকারি প্রচেষ্টার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,সরকারি-বেসরকারি অফিস,ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং প্রতিটি পরিবারে বৃক্ষরোপণের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা,বায়ুদূষণ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে পরিকল্পিতভাবে বৃক্ষরোপণ ও বন সংরক্ষণ অত্যন্ত প্রয়োজন।ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ লাগানোর পাশাপাশি বিদ্যমান গাছ সংরক্ষণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।শুক্রবার বিকালে নোয়াখালী সদর উপজেলার পৌরপার্কে জেলা কৃষকদলের উদ্যােগে বৃক্ষরোপণের সময় এসব মন্তব্য করেন তিনি।এ সময় উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলো,নোয়াখালী জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ আজাদ,জেলা বিএনপির সদস্য রবিউল আলম পলাশ,সদস্য শহীদুল ইসলাম কিরণ,জেলা কৃষক দলের সভাপতি ফজলে এলাহী পলাশ,সাধারণ সম্পাদক জিএস হারুনসহ বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সাইয়েদ আব্দুল্লাহর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় পাবনার সাঁথিয়ায় মসজিদে জামায়াতের নেতাকর্মী ও মুসল্লিদের ওপর হামলা হয়েছে বলে দাবি করেছেন। অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছেন তিনি। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী যদি দায়িত্বের বাইরে গিয়ে অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলান, তাহলে এর দায় তাকেই নিতে হবে। প্রয়োজনে এর দায়ভার প্রধানমন্ত্রীকেও নিতে হবে। আজকে বড় ধরনের ষড়যন্ত্র ছিল, জনগণ প্রতিহত করেছে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে সাঁথিয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ের ইমাম হোসাইন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন। তিনি সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিছুর রহমানকে ফ্যাসিবাদের দোসর আখ্যা দিয়ে তার প্রত্যাহারের দাবি জানান। তিনি অভিযোগ করেন, ওসির বিরুদ্ধে ঘুষ ও চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে এবং তিনি জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের হয়রানি করছেন। ফ্যাসিবাদের দোসরদের থেকে টাকা খাচ্ছেন। হামলার শিকার ব্যক্তিরা মামলা করতে থানায় গেলে সেখানে গেট আটকিয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছেন ওসি। মামলা করতে তাদের বাঁধা দেওয়া হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, জুমার নামাজকে কেন্দ্র করে বিএনপি পরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাসী জড়ো করেছিল এবং পুলিশ তাদের হামলার সুযোগ করে দেয়। এ সময় তার সমর্থকদের বাড়িতেও হামলা করা হয়। আজ বিএনপি তাদের ফ্যাসিবাদী চরিত্রের পরিচয় দিয়েছে। তারা ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের হৃদয়ে আঘাত করেছে। আমাকে ঠিকমতো নামাজ পড়তে দেওয়া হয়নি। রাজনৈতিকভাবে পরাজিত হয়ে সন্ত্রাসীর পথ বেঁচে নিয়েছে বিএনপি। ফ্যাসিবাদ বিদায় নিলেও ফ্যাসিবাদের ভূত কিন্তু এখনো যায়নি। ফ্যাসিবাদ ভারতে পালিয়েছে, আপনারা কিন্তু ভারতে পালাতে পারবেন না। এটা মনে রাখতে হবে আপনাদের। তিনি বলেন, সে কে আমাকে বলার যে আমি মসজিদে ইমামতি করতে পারব না? জনগণ ভালোবেসে আমাকে ইমামতি করাচ্ছে। বিএনপির অনুমতি নিয়ে যদি ইমামতি করতে হয়, তাহলে এর চেয়ে দুঃখজনক ঘটনা আর কিছু হতে পারে না। নিজের পারিবারিক পরিচয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমার বাবার ফাঁসি হয়েছে, আমি তারই সন্তান। তারা ভেবেছে হামলা করলে আমি ঢাকা বা লন্ডনে পালিয়ে যাব। কিন্তু আমি পালাব না। বিকেলে একটি ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে এটা নিয়ে তারা পরিকল্পিত নাটক সাজাচ্ছে। আসলে এই ছুরিকাঘাতের ঘটনায় যাকে অভিযুক্ত করা হচ্ছে সে আমাদের দলের কেউ না। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, সাঁথিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা মোখলেসুর রহমান, উপজেলা ভারপ্রাপ্ত আমির অধ্যাপক আনিছুর রহমান, উপজেলা ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি মোস্তফা কামাল মানিক, পৌর আমির হাফেজ আব্দুল গফুর, জেলা যুব বিভাগের সেক্রেটারি তাইজুল ইসলামসহ অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতারা। আরকে

ফেসবুকে ভুয়া বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করা সহজ করতে নতুন ‘ফেসবুক ভেরিফায়েড’ ব্যাজ চালু করেছে মেটা। নতুন এই ব্যাজের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা সহজেই বুঝতে পারবেন প্রোফাইলটি প্রকৃত একজন মানুষের। এই সুবিধাটি মূলত সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য আনা হয়েছে। সেলিব্রিটি বা পরিচিত ব্যক্তিদের জন্য নয়। বিশেষ করে মার্কেটপ্লেস, ডেটিং এবং গ্রুপসে প্রতারণা কমিয়ে ব্যবহারকারীদের মধ্যে আস্থা বাড়ানোই এর লক্ষ্য। ভেরিফিকেশন পেতে ব্যবহারকারীকে একটি ছোট ভিডিও সেলফি ধারণ করতে হবে। এরপর সেটি প্রোফাইলে থাকা ছবির সঙ্গে মিলিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করবে ফেসবুক। এই সেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। তবে এটি ব্যবহার করতে হলে ব্যবহারকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে, অ্যাকাউন্টটি ভালো অবস্থায় থাকতে হবে এবং মেটার নিরাপত্তা ও কমিউনিটি নীতিমালা পূরণ করতে হবে। তবে পেজ এবং প্রফেশনাল মোডে থাকা প্রোফাইলগুলো আপাতত এই সুবিধা পাবে না। ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হলে ব্যাজটি ব্যবহারকারীর প্রোফাইল, মার্কেটপ্লেসের তালিকা এবং ডেটিং প্রোফাইলে দেখা যাবে। ভবিষ্যতে ফেসবুকের নিউজ ফিডের পোস্টেও এই ব্যাজ দেখানো হবে বলে জানিয়েছে মেটা। তবে মেটা জানিয়েছে, এই ব্যাজ থাকার অর্থ শুধু অ্যাকাউন্টটি একজন প্রকৃত মানুষের এটি নিশ্চিত হওয়া। এর মানে এই নয় যে, ওই ব্যবহারকারী সব সময় ফেসবুকের সব নীতিমালা মেনে চলছেন। প্রাথমিকভাবে কয়েকটি দেশে এই সুবিধা চালু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বিশ্বের অন্যান্য দেশেও এটি চালু করা হবে বলে জানিয়েছে মেটা। সূত্র: নিউজ বাইট
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় লক্ষ্মীপুরের রামগতি বাজার শাখার সাবেক রূপালী ব্যাংক ব্যবস্থাপক মো. আবদুল মজিদকে ২৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ১৮ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অর্জিত এক কোটি ২৪ লাখ ১৫ হাজার ৫৪৩ টাকার সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্তের আদেশ দেওয়া হয়েছে। দন্ডপ্রাপ্ত আব্দুল মজিদ (৪৮) লক্ষীপুর সদর থানার কাফিলাতলি এলাকার মৃত আমিনুল হকের ছেলে এবং রামগতি বাজার শাখার রুপালী ব্যাংক লিমেটেডের সাবেক ব্যবস্থাপক ছিলেন। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে নোয়াখালীর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. শওকত আলী এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে অনুপস্থিত থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করা হয়। দুদক জানায়,আবদুল মজিদ ২০০৭ সালের ১৪ নভেম্বর থেকে ২০১৩ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত রূপালী ব্যাংক লিমিটেডের লক্ষ্মীপুরের রামগতি বাজার শাখার ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এ সময় তিনি ব্যাংকের এসটিডি হিসাব নম্বর-৪-এ থাকা ৪ লাখ ৬৫ হাজার ৭৯৮ টাকা, এসটিডি হিসাব নম্বর-৬-এ থাকা ৪৯ লাখ ৬১ হাজার ১১৭ টাকা এবং সরকারি কর্মচারীদের পেনশন বাবদ উত্তোলন করা ১৬ লাখ ৩০ হাজার ২৩১ টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেন। এছাড়া ব্যাংকিং নীতিমালা লঙ্ঘন করে তিনি মোট ৭০ লাখ ৫৭ হাজার ১৪৫ টাকা আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। পরবর্তী তদন্তে দুদক তার বিরুদ্ধে সর্বমোট ১ কোটি ২৪ লাখ ১৫ হাজার ৫৪৩ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পায়। নোয়াখালী দুদক পিপি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জহির উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মামলাটি তদন্ত শেষে তৎকালীন দুদকের উপসহকারী পরিচালক মো.হোসাইন শরীফ ও সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আজগর হোসেন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। আদালত দণ্ডবিধির ৪৬৭ ধারায় ১০ বছর, ৪০৯ ধারায় ১০ বছর এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। পৃথক তিন ধারায় দেওয়া সাজা মিলিয়ে তাকে মোট ২৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

নোয়াখালী সরকারি কলেজ সাংবাদিক সমিতির অফিসিয়াল (নিউজ পোর্টাল) ওয়েবসাইট উদ্বোধন অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (২১ জুলাই-২০২৬ খ্রিঃ) দুপুরে কলেজের ছাত্রসংসদ কার্যালয় মিলনায়তনে উৎসবমুখর ও আনন্দঘন পরিবেশে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে ওয়েবসাইট উদ্বোধন অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে নোসক সাংবাদিক সমিতির সদস্য সচিব মোঃ নুর হোসাইনের সভাপতিত্বে ও সদস্য আকরাম উদ্দিনের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী সরকারি কলেজের ইসলাম শিক্ষা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর মোজাম্মেলুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. এজি আল মোরশেদ, ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ওমর মারুফ, নোবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতির সাবেক সহ-সভাপতি মোঃ ফাহাদ হোসেন, নোসক ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি আব্দুল কাদের আল আমিন প্রমূখ। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ ও সাংবাদিক সমিতির সদস্যদের অংশগ্রহণে লাল ফিঁতা কেটে ওয়েবসাইটের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়। নোসক সাংবাদিক সমিতির ওয়েবসাইটে কলেজের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের লেখা বিভিন্ন ফিচার, কলাম ও আর্টিকেল প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে আয়োজকেরা।

নোয়াখালীর চাটখিলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে এক সাংবাদিকের নাম ও ছবি বিকৃত করে অপপ্রচার চালানো এবং হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ভুক্তভোগী সাংবাদিক কামরুল ইসলাম কানন চাটখিল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। ভুক্তভোগী কামরুল ইসলাম কানন একটি বেসরকারি টেলিভিশনের নোয়াখালী প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত। পাশাপাশি তিনি নোয়াখালী সাংবাদিক ইউনিয়নের কোষাধ্যক্ষ (ট্রেজারার) এবং নোয়াখালী টিভি জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ জুলাই কামরুল ইসলাম কানন তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন নিয়ে একটি সচেতনতামূলক পোস্ট দেন। পোস্টটিতে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নাম-পরিচয় উল্লেখ ছিল না। তবে পোস্টটি দেওয়ার পরপরই চাটখিল উপজেলার নয়নপুর এলাকার মো. সুমন, মোহন (প্রকাশ 'ঠোঁট কাটা মোহন') ও মহিন নামে তিন ব্যক্তি নিজ নিজ ফেসবুক আইডি থেকে সাংবাদিক কাননের নাম ও ছবি বিকৃত করে বিভ্রান্তিকর পোস্ট দেন এবং বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, অভিযুক্ত সুমন ও মোহন এলাকায় যুবদলের পরিচয় দিয়ে এবং নোয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনের নাম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করা ও এতিমের জমি দখলসহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত। অন্যদিকে মহিন বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় স্থানীয় ‘ভাগিনা বাহিনীর’ অন্যতম সশস্ত্র ক্যাডার হিসেবে পরিচিত ছিল এবং তিনি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। বর্তমানে তিনি পলাতক বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া হাফিজুর রহমান শাওন নামে আরেক ব্যক্তি অভিযুক্তদের করা অবমাননাকর পোস্ট বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ ও নিজের টাইমলাইনে শেয়ার করে অপপ্রচারে সহায়তা করছেন বলেও অভিযোগে বলা হয়েছে। সাংবাদিক কামরুল ইসলাম কানন বলেন, অভিযুক্তদের এসব কর্মকাণ্ডের কারণে তার দুই যুগেরও বেশি সময়ের সাংবাদিকতা জীবনে অর্জিত সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে। বর্তমানে তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি। চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মুন্নাফ বলেন, আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুরুষ নির্যাতন দমন ও প্রতিরোধ আইন নতুন করে প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। রিট আবেদনে বলা হয়েছে, যদি একটি পুরুষ নির্যাতন দমন ও প্রতিরোধ আইন প্রণয়ন করা হয়, তবে আইনের সমতা ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে নারীরা ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন’-এর অপব্যবহার করতে পারবেন না। এছাড়া বিবাদীর ওপর ‘পুরুষ নির্যাতন দমন ও প্রতিরোধ আইন’ নামে একটি নতুন আইন প্রণয়ন করার জন্য নির্দেশনা দেওয়ার জন্য প্রার্থনা করা হয়েছে রিটে। রিটে ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন’ অপব্যবহারের মাধ্যমে পুরুষদের অপ্রয়োজনীয় হয়রানি থেকে রক্ষা করার জন্য ‘পুরুষ নির্যাতন দমন ও প্রতিরোধ আইন’ নামে একটি নতুন আইন প্রণয়নে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা এবং ব্যর্থতা কেন আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত এবং আইনগতভাবে অকার্যকর ঘোষণা করা হবে না; এবং ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন’ বা ‘যৌতুক আইন’ অপব্যবহারের মাধ্যমে পুরুষদের অপ্রয়োজনীয় হয়রানি থেকে রক্ষা করার জন্য বিবাদীদের কেন ‘পুরুষ নির্যাতন দমন ও প্রতিরোধ আইন’ নামে একটি নতুন আইন প্রণয়নের নির্দেশ দেওয়া হবে না, এই মর্মে রুল জারির আর্জি জানানো হয়েছে। রুল শুনানি পেন্ডিং থাকা অবস্থায়, ‘পুরুষ নির্যাতন দমন ও প্রতিরোধ আইন’-এর অপব্যবহারের মাধ্যমে পুরুষদের অপ্রয়োজনীয় হয়রানি থেকে রক্ষা করার জন্য বিবাদীদের ‘পুরুষ নির্যাতন দমন ও প্রতিরোধ আইন’ নামে একটি নতুন আইন প্রণয়নের নির্দেশ দিতে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ চাওয়া হয়েছে রিটে। রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে। রিটকারীদের দাবি, পুরুষকে ঘায়েল করার জন্য এসব মিথ্যা মামলা করা হয়। সামান্য ঝগড়াঝাঁটির জের ধরে অনেক নারী আদালতে নারী নির্যাতন আইনে মামলা করে বছরের পর বছর স্বামীকে জেল খাটান। মঙ্গলবার হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চে রিট আবেদনের ওপর শুনানি হতে পারে।

ভারতে দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির পাঞ্জাব প্রদেশের কৃষকরা। মূলত প্রস্তাবিত ভারত-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির বিরুদ্ধে আয়োজিত ‘কিষাণ মহাপঞ্চায়েত’-এ যোগ দিতে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) পাঞ্জাব থেকে হাজার হাজার কৃষক দিল্লি অভিমুখে যাত্রা শুরু করেন। জানা গেছে, পাঞ্জাব থেকে হরিয়ানায় প্রবেশের মুখ শম্ভু সীমানায় পৌঁছালে হরিয়ানা পুলিশ ব্যারিকেড বসিয়ে তাদের পথ আটকে দেয়। তবে পাঞ্জাব থেকে আসা কৃষকদের আটকে দেওয়া হলেও আমবালা, কুরুক্ষেত্র ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলো থেকে আসা হরিয়ানার স্থানীয় কৃষকরা অবাধে দিল্লির দিকে তাদের যাত্রা অব্যাহত রেখেছেন। পাঞ্জাব-হরিয়ানা সীমান্তে বিশাল বিশাল ব্যারিকেড বসানোর এই দৃশ্য ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারির সেই বহুল আলোচিত ‘দিল্লি চলো-২’ আন্দোলনের স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে। সেই সময়েও জাতীয় রাজধানীতে কৃষকদের প্রবেশ রুখতে সীমানাকে সিমেন্টের ব্লক, লোহার পেরেক ও বহুস্তরী ব্যারিকেড দিয়ে দুর্গে পরিণত করা হয়েছিল। এদিকে, দিল্লিতে যাওয়ার পথ না পেয়ে ক্ষুব্ধ কৃষকরা শম্ভু সীমানা এলাকাকেই আপাতত তাদের নতুন আন্দোলনস্থলে রূপান্তর করেছেন। দিল্লিতে একত্রিত হওয়ার গণতান্ত্রিক অধিকার দমন করার অভিযোগ তুলে তারা হরিয়ানা ও পাঞ্জাব- উভয় সরকারের তীব্র সমালোচনা করছেন। বিকেইউ (শহীদ ভগত সিং) নেতা তেজবীর সিং মারাত্মক অভিযোগ এনে বলেছেন, হরিয়ানা পুলিশ পাঞ্জাবের নিজস্ব ভূখণ্ডের ভেতরে ঢুকে ব্যারিকেড তৈরি করেছে। তিনি আরও দাবি করেন, হরিয়ানা পুলিশের এই পদক্ষেপে বাধা না দিয়ে পাঞ্জাব সরকার কেবল ‘নীরব দর্শক’ ভূমিকা পালন করছে। সোমবার (২০ জুলাই) মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদ ও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে সংসদ অভিমুখে পদযাত্রা শুরু করে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। হাজারও তরুণের এই পদযাত্রায় পুলিশ লাঠিচার্জ করলে রণক্ষেত্রে রূপ নেয় দিল্লি। এ সময় কয়েকটি এলাকায় বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। ককরোচ পার্টির এই ভয়াবহ বিক্ষোভের মধ্যে দিল্লিতে নতুন করে পাঞ্জাব কৃষকদের ডাকা আন্দোলন মোদী সরকারকে আরও বিপদে ফেলতে পারে বলে মনে করেন দেশটির রাজনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞ মহল। ‘দেশ বাঁচাও মোর্চা’র ব্যানারে ডাকা এই মহাপঞ্চায়েতে পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও হিমাচল প্রদেশের প্রধান প্রধান কৃষক সংগঠনগুলো একত্রিত হয়েছে। কেন্দ্র সরকারকে প্রস্তাবিত ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি পুরোপুরি বাতিল করার দাবি জানাতেই এই আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়েছে। কিষাণ মজদুর সংঘর্ষ কমিটির (কেএমএসসি) শীর্ষ নেতা সারওয়ান সিং পান্ধের জানান, শম্ভু সীমানায় আটকে দেওয়ার আগে কেএমএসসি, কিষাণ মজদুর মোর্চা (পাঞ্জাব শাখা), আজাদ কিষাণ মোর্চা ও বিকেইউ একতা সংঘর্ষের বিশাল বিশাল গাড়ি বহর পাঞ্জাবের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রওনা হয়েছিল। পান্ধের তুলে ধরেন যে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত ভারত-মার্কিন যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছিল- উভয় দেশ ২০২৬ সালের শরৎকালের মধ্যে একটি বহুমুখী দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির প্রথম কিস্তি চূড়ান্ত করতে আলোচনা চালাবে। তিনি যুক্তি দেন, এই প্রস্তাবিত চুক্তিটি কোনো সাধারণ প্রথাগত বাণিজ্য চুক্তি নয়। এটি ভারতের কৃষি, দুগ্ধ (ডেয়ারি) খাত, শিল্প, ডিজিটাল বাণিজ্য, ই-কমার্স, বিনিয়োগ, সরকারি কেনাকাটা, বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি অধিকার এবং সেবা খাতের মতো স্পর্শকাতর ক্ষেত্রগুলোকে উন্মুক্ত করে দেবে। কৃষক নেতারা সতর্ক করে বলেছেন, আগের বিভিন্ন মার্কিন বাণিজ্য প্রতিবেদনে দেখা গেছে- কম শুল্ক এবং সয়াবিন, ভুট্টা, তুলা, ইথানল, আপেল, বাদাম, দুগ্ধজাত পণ্য, হাঁস-মুরগি ও মৎস্যজাত পণ্যের ওপর বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার মাধ্যমে ভারতের কৃষি ও দুগ্ধ বাজারে আমেরিকানদের গভীরভাবে প্রবেশের পথ সহজ করার চেষ্টা করা হয়েছে। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ভর্তুকিপ্রাপ্ত বিপুল পরিমাণ আমেরিকান কৃষি ও দুগ্ধজাত পণ্যের জন্য ভারতের বাজার উন্মুক্ত করে দিলে দেশের কোটি কোটি ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক বাজারে টিকতে পারবে না। পাশাপাশি এই গোপন আলোচনার কোনো তথ্য প্রকাশ না করা ও স্বচ্ছতার চরম অভাব নিয়েও তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সংগঠনগুলো তুলে ধরে যে, শুধুমাত্র ভারতের দুগ্ধ খাতের ওপরই প্রায় ৮ কোটি গ্রামীণ পরিবার সরাসরি জীবিকার জন্য নির্ভরশীল। এই খাতে যেকোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়লে তা পুরো গ্রামীণ অর্থনীতি, দুগ্ধ উৎপাদক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, কৃষিভিত্তিক শিল্প, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাত এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। এই পরিস্থিতিতে ‘দেশ বাঁচাও মোর্চা’ কেন্দ্র সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে- প্রস্তাবিত ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি সংক্রান্ত সব নথিপত্র অবিলম্বে সাধারণ মানুষের সামনে জনসমক্ষে আনতে হবে। একই সাথে কৃষক, শ্রমিক, দুগ্ধ উৎপাদক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও অন্যান্য অংশীদারদের সাথে বিস্তারিত আলোচনা না করে মার্কিন সরকারের সাথে কোনো ধরনের চুক্তি স্বাক্ষর করা থেকে বিরত থাকতে হবে। সূত্র: দ্য হিন্দু
নোয়াখালীর সুবর্ণচরে দীর্ঘ ২০ বছর ধরে ৭নং পূর্বচরবাটা ইউনিয়নের চান্দু মার্কেটে অবস্থিত মঞ্জু চেয়ারম্যান জামে মসজিদের বিশাল পুকুর দখল করে রেখেছে আওয়ামী লীগ নেতা, সেই পুকুর দখল মুক্ত করে ফিরে পেতে মানববন্ধন করেছে ভূক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসি। ২০ জুলাই (সোমবার) বিকেল ৫ টায় সুবর্ণচর উপজেলার পূর্ব চরবাটা ইউনিয়নের চান্দু মার্কেটে মানববন্ধন করেন মসজিদ পরিচালক কমিটি, মুসল্লী ও এলাকাবাসি। এসময় ভূক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসি জানান, বিগত ফ্যাসিষ্ট সরকারের আমলে তৎকালীর উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আ.লীগ সভাপতি সেলিম চেয়ারম্যানের ভাগ্নি জামাই ও পূর্ব চর বাটা ইউনিয়নের সাবেক সচিব আনোয়ার হোসেন হেলাল দখল করে নেয়। হেলাল জোর পূর্বক দখলের পর শের আলী নামক এক দখলবাজের কাছে লিজ দিয়ে দেন, শের আলীর এবং তার ভাটাটিয়া সন্ত্রাসী সোহাগ ঐ পুকুরে মাচ চাষ করে আসছিলো, পুকুরের মাছের খাদ্যসহ নানা ক্যামিকেল চিটানো কারনে মসজিদের মুসল্লীরা কখনো ঐ পুকুরে অজু গোসল করতে পারেনি। বহুবার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক ও প্রশাসনের লোকদের কাছে গিয়েও কোন প্রতিকার পাইনি তারা। এর পর ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট পরবর্তী সময়ে মসজিদ কমিটি পূণরায় পুকুরটি দখল করতে গেলে মিথ্যা মামলা হামলা সহ নানা হয়রানি করে আসছে৷ বক্তারা আওয়ামীলীগের দোসর, দখলবাজ আনোয়ার হোসেন হেলাল, শের আলী এবং সোহাগের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি জানান এবং পুকুরটি মসজিদে বুঝিয়ে দেবার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানান। ,

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় বিচারাধীন জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ১১২ বছরের পুরোনো চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ১১ ফুট উঁচু দেওয়াল তোলায় একটি বাড়ির সাতটি পরিবার অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। আদালতের সিদ্ধান্তের আগেই এমন পদক্ষেপ নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা। শুক্রবার (১৭ জুলাই) কাদিরহানিফ ইউনিয়নে পশ্চিম বাহাদুরপুর গ্রামের মৃদ্দা বাড়িতে গিয়ে এমন অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। সূত্র জানায়, মৃদ্দা বাড়ির বাসিন্দাদের ১১২ বছরের চলাচলের একমাত্র পথটি ১১ ফুট উঁচু দেওয়াল তুলে বন্ধ করে দিয়েছেন হারুনুর রশিদ মিলন নামে এক প্রভাবশালী ব্যক্তি। এতে বাড়ির লোকজন অবরুদ্ধ হয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন। ওই বাড়ির বাসিন্দাদের দাবি, আদালতের সিদ্ধান্ত ছাড়া এবং কোনো আলোচনা না করে হারুনুর রশিদ দেওয়াল তুলে পথ বন্ধ করে দিয়েছেন। এখন নিজের ঘরে তালা লাগিয়ে অন্যত্র অবস্থান করছেন। প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার হয়নি। আদালতের সিদ্ধান্তের আগে এমন ঘটনা মানবাধিকার লঙ্ঘন। ওই এলাকার বাসিন্দা আবুল কালাম বলেন, চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়া অন্যায়। যিনি দেওয়াল তুলেছেন তিনি আলোচনা করে বিষয়টি সমাধান করতে পারতেন। তাহলে বাড়ির বাসিন্দারা দূর্ভোগে পড়তেন না। আর মামলা চলমান থাকলে রায় হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিত। অভিযুক্ত হারুনুর রশিদকে ফোন দিলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে ফোন কেটে দেন। পরে অনেকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে তার এক আত্মীয় বলেন, এ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন আদালতে মামলা চলমান আছে। এ নিয়ে অনেকবার স্থানীয় শালিস-বৈঠক বসেও কোনো সমাধান হয়নি। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হোমায়রা ইসলাম বলেন, মামলা চলমান থাকায় বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন আছে। বিষয়টি আদালতের এখতিয়ারাধীন, তাই এ মুহূর্তে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য করা সম্ভব নয়। তবে আদালতের নির্দেশনার পর যদি কোনো বিষয়ে সহযোগিতার প্রয়োজন হয় তখন অবশ্যই সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

নোয়াখালীর হাতিয়ায় অস্বাভাবিক জোয়ারের চাপে বেড়িবাঁধ ভেঙে তিনটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে ভেসে গেছে ঘরের আসবাবপত্র, পুকুরের মাছ, গবাদিপশু ও জমির ফসল। শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে উপজেলার চরঈশ্বর ইউনিয়নের তালুকদার গ্রামের পাশের বেড়িবাঁধের একটি অংশ ভেঙে গেলে মুহূর্তেই জোয়ারের পানি আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় ঢুকে পড়ে। এতে চরঈশ্বর ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন গ্রাম পানিতে তলিয়ে যায়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও অস্বাভাবিক উচ্চতার জোয়ারের কারণে বেড়িবাঁধের বিভিন্ন অংশ দুর্বল হয়ে পড়েছিল। শুক্রবার দুপুরের জোয়ারের তীব্র ঢেউয়ের আঘাতে তালুকদার গ্রামের পাশের বাঁধের একটি অংশ ভেঙে যায়। এরপর প্রবল স্রোতে জোয়ারের পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। প্লাবিত এলাকার অনেক স্থানে দুই থেকে তিন ফুট উচ্চতায় পানি ওঠায় গ্রামীণ সড়ক তলিয়ে যায় এবং মানুষের চলাচল ব্যাহত হয়। বাড়িঘর, উঠান ও নিম্নাঞ্চল পানিতে ডুবে যায়। কৃষিজমি, পুকুর ও মাছের ঘেরেও জোয়ারের পানি ঢুকে পড়েছে। আকস্মিক প্লাবনে অনেক পরিবারের আসবাবপত্র, পুকুরের মাছ ও গবাদিপশুর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। চরঈশ্বর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আসার উদ্দিন বলেন, ‘গত কয়েক দিনের অতিরিক্ত বৃষ্টি ও অস্বাভাবিক জোয়ারের কারণে বেড়িবাঁধের বিভিন্ন অংশ ধসে সরু হয়ে পড়েছিল। বিষয়টি আমরা আগেই সংশ্লিষ্টদের জানিয়েছিলাম। কিন্তু কোনো কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আজ দুপুরের জোয়ারের চাপেই বাঁধ ভেঙে যায় এবং বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। দিনের জোয়ারের উচ্চতা তুলনামূলক কম থাকলেও অনেক এলাকা তলিয়ে গেছে।’ স্থানীয় বাসিন্দা অধ্যাপক ফখরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ‘দায়িত্বশীলদের অবহেলার কারণেই আজ আমাদের এই করুণ পরিণতি। রাতে আরও বড় জোয়ার আসার কথা রয়েছে। পানির উচ্চতা আরও বেড়ে গেলে মানুষের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও বিভিন্ন অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।’ এদিকে বাঁধ ভেঙে যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। অনেক পরিবার জরুরি ভিত্তিতে ঘরের মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দারা রাতের জোয়ার নিয়ে চরম উদ্বেগে রয়েছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রাসেল ইকবাল বলেন, ‘চরঈশ্বর ইউনিয়নের এই অংশে বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা আগে থেকেই ছিল। এজন্য একাধিকবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। কিন্তু প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আগেই বাঁধটি ভেঙে যায়। বিষয়টি জেলা প্রশাসক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। তারা দ্রুত জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।’ এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী জামিল উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, ‘ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধের স্থানটি আমরা ইতোমধ্যে পরিদর্শন করেছি। বৈরী আবহাওয়ার কারণে বালুবাহী বার্জ এখনো ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি। তবে জিওটিউব ঘাটে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আমরা আশা করছি, রাতের মধ্যেই ভাঙা বেড়িবাঁধে জরুরি মেরামতকাজ শুরু করা সম্ভব হবে।’ স্থানীয়দের দাবি, জরুরি ভিত্তিতে ভাঙা অংশে জিওব্যাগ বা বালুভর্তি বস্তা ফেলে পানি প্রবেশ বন্ধের ব্যবস্থা না নিলে রাতের জোয়ারে প্লাবিত এলাকার পরিধি আরও বাড়তে পারে। পাশাপাশি স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো দ্রুত সংস্কারের দাবি জানান তারা

নোয়াখালীর হাতিয়ায় নিঝুমদ্বীপে জোয়ারে ভেসে আসা অজ্ঞাত ব্যক্তির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধারে জেলা পুলিশ ও নৌ পুলিশের সমন্বয়হীনতার অভিযোগ উঠেছে। দুই সংস্থার দায়িত্বে টানাপোড়েনে মরদেহটি ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ঘটনাস্থলে পড়ে রয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের হাসি মার্কেট সংলগ্ন ৯ নম্বর ওয়ার্ডের একটি কেওড়া বাগানে জোয়ারের পানির সঙ্গে ভেসে আসা একটি অর্ধগলিত মরদেহ দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, খবর দেওয়ার পরও দীর্ঘ সময় ধরে কোনো সংস্থা মরদেহটি উদ্ধার করতে আসেনি। জেলা পুলিশ ঘটনাস্থলকে নৌ পুলিশের আওতাধীন বলে জানালেও নৌ পুলিশ দাবি করছে, ওই এলাকা তাদের দায়িত্ব সীমার মধ্যে পড়ে না। ফলে দায়িত্ব নির্ধারণ নিয়ে জটিলতায় পড়ে রয়েছে মরদেহটি। স্থানীয়রা জানান, খোলা স্থানে পড়ে থাকায় মরদেহটি দ্রুত পচে যাচ্ছে এবং দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এতে আশপাশের মানুষের মধ্যে চরম ভোগান্তি ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, দায়িত্ব নিয়ে টানাপোড়েন না করে দ্রুত মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করা হোক। একই সঙ্গে পরিচয় শনাক্ত করে স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তরের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা। নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়ন নৌ পুলিশ কেন্দ্রের ইনচার্জ আশিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা মাত্র বিষয়টি জেনেছি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।’ হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশকে ঘটনাস্থলে যেতে বলা হয়েছিল। তবে ঘটনাস্থলটি নদীর কাছাকাছি হওয়ায় এটি নৌ পুলিশের আওতাভুক্ত। নৌ পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’