

জীবনে একজন ভালো বন্ধু কিংবা পথপ্রদর্শককে সুখে-দুঃখে পাশে পাওয়া সত্যিই ভাগ্যের ব্যাপার। সম্পর্ক কেবল ভালো লাগার নয়, বরং পারস্পরিক দায়িত্ব ও যত্নের এক মেলবন্ধন। সেই যত্নশীল ভালোবাসার মানুষটিকে একটু বিশেষভাবে ধন্যবাদ বা ভালোবাসা জানানোর দিন আজ। আজ ৩ অক্টোবর, বিশ্ব বয়ফ্রেন্ড দিবস। প্রতি বছর এই দিনে বিশ্বজুড়ে তরুণ-তরুণীরা তাদের মনের মানুষের জন্য নানা বিশেষ পরিকল্পনা করেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম স্ক্রল করলেই আজ চোখে পড়বে প্রিয় মানুষের সঙ্গে কাটানো সুন্দর মুহূর্তের ছবি, আবেগঘন ক্যাপশন ও ভালোবাসার নানা বহিঃপ্রকাশ। ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, এই দিবসটির কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বা রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নেই। তবে ধারণা করা হয়, ২০১৪ সালের দিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রথম এই দিবসটির সূচনা হয়। এরপর ২০১৬ সালের দিকে এসে এটি বিশ্বব্যাপী ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। গার্লফ্রেন্ড ডে বা ১ আগস্টের আদলেই মূলত ছেলেদের প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান প্রদর্শনের জন্য এই দিনটি উদযাপনের প্রচলন শুরু হয়। বর্তমান যুগে যেকোনো দিবস উদযাপনে বড় ভূমিকা রাখে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। বিশ্ব বয়ফ্রেন্ড দিবসকে কেন্দ্র করে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম এবং টিকটকে এখন তুমুল ট্রেন্ড চলছে। সকাল থেকেই ইনস্টাগ্রাম এবং এক্সে এই হ্যাশট্যাগটি ট্রেন্ডিংয়ে রয়েছে। লাখ লাখ ব্যবহারকারী তাদের বয়ফ্রেন্ডের ছবি এই ট্যাগের সঙ্গে পোস্ট করছেন। টিকটক ও ইনস্টাগ্রামে তরুণীরা তাদের সম্পর্কের শুরুর দিকের ছবি এবং বর্তমানের ছবির কোলাজ দিয়ে ইমোশনাল ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক যেমন লিল বু পি-এর বিগ বয় বা স্লো ডাউন লাভ সং যুক্ত করে রিলস বানাচ্ছেন। যারা সম্পর্কের বিষয়টি এখনো পুরোপুরি প্রকাশ করতে চান না, তারা বয়ফ্রেন্ডের হাত ধরা, কফির কাপ হাতে তার আবছা অবয়ব বা শুধু ব্যাকপ্রোফাইলের ছবি স্টোরিতে দিয়ে এই ট্রেন্ডে অংশ নিচ্ছেন। পাশাপাশি দিবসটি নিয়ে সিঙ্গেলদের মজার মজার মিম ও ট্রলও বেশ ট্রেন্ড করছে, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি রসাত্মক পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। বর্তমান ব্যস্ত জীবনে একে অপরকে সময় দেওয়াটাই যেখানে সবচেয়ে বড় উপহার, সেখানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বাইরেও আজকের দিনটি অনেকেই একটু ভিন্নভাবে কাটাচ্ছেন। প্রিয় মানুষের পছন্দের কোনো গ্যাজেট, বই, সুগন্ধি কিংবা হাতে লেখা কোনো চিঠি উপহার দেওয়ার পাশাপাশি পছন্দের কোনো রেস্তোরাঁয় ডিনার, লং ড্রাইভ কিংবা ঘরে বসেই প্রিয় কোনো সিনেমা দেখার মাধ্যমে দিনটি উদযাপিত হয়। সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরুষরা সাধারণত নিজেদের অনুভূতি বা কষ্টের কথা সহজে প্রকাশ করতে পারেন না। সম্পর্কে তারা কতটা যত্নশীল, তা অনেক সময়ই আড়ালে থেকে যায়। তাই এই ধরনের একটি দিন তাদের মানসিক তৃপ্তি দেয়। উপহারের দাম কত, তা বড় বিষয় নয়, বরং তুমি আমার জীবনে আছ বলে আমি কৃতজ্ঞ এই ছোট একটি বাক্যই একজন মানুষের দিনটি সুন্দর করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। তাই আজকের এই বিশেষ দিনে ভালোবাসার মানুষটিকে জানিয়ে দেওয়া যায় যে তিনি জীবনের কতটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে পিকআপ নিয়ে মিছিল করার অভিযোগে ৯ কিশোরকে আটক করে পুলিশে দিয়েছেন স্থানীয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাত সাড়ে আটটার দিকে উপজেলার সেবারহাট বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আটক কিশোরদের বয়স ১৫ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চৌমুহনী এলাকা থেকে একটি খালি পিকআপ ফেনী-নোয়াখালী মহাসড়ক দিয়ে সেবারহাটের দিকে যাচ্ছিল। পিকআপটি সেনবাগ স্টেডিয়ামের সামনে পৌঁছালে একদল তরুণ সেটির গতিরোধ করেন। তারা সেবারহাট এলাকায় যাওয়ার কথা বলে পিকআপে ওঠেন। পরে চলন্ত পিকআপে তারা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে থাকেন। স্থানীয় সূত্র জানায়, পিকআপটি সেনবাগ রাস্তার মাথা এলাকা অতিক্রম করার সময় স্থানীয় ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর বিষয়টি নজরে আসে। তারা মোটরসাইকেলে পিকআপটির পিছু নেন। পরে সেবারহাট বাজার এলাকায় পিকআপটি থামিয়ে সেটি ঘেরাও করে ৯ কিশোরকে আটক করেন। এ সময় তাদের সঙ্গে থাকা আরও কয়েকজন দৌড়ে পালিয়ে যায়। আটক কিশোরদের মারধর করার পর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা পুলিশে খবর দেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের হেফাজতে নেয়। সেনবাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হযরত আলী মিলন বলেন, ‘আটক কিশোররা একটি পিকআপে চড়ে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে দিতে ছমিরমুন্সিরহাট এলাকা থেকে সেবারহাটের দিকে যাচ্ছিল। ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাদের আটক করে থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাদের হেফাজতে নেয়। তারা বর্তমানে থানায় রয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।’
নোয়াখালীতে ফুটপাত দখলে প্রশাসনের যৌথ অভিযান, ফের বসেছে দোকান নোয়াখালী জেলা শহরের ফুটপাত দখলমুক্ত করতে প্রশাসনের উদ্যোগে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হলেও অভিযান শেষ হওয়ার পর ফের ফুটপাত দখল করে দোকান বসানোর অভিযোগ উঠেছে। এতে পথচারীদের চলাচলে আবারও ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনাকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রশাসন। সোমবার(২৯ সেপ্টেম্বর) বিকালে ঘন্টাব্যাপি নোয়াখালী শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এলাকায় ফুটপাত দখলমুক্ত করতে প্রশাসনের নেতৃত্বে এ যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পৌরসভা ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা অংশ নেন। অভিযানকালে শহরের ব্যস্ততম সড়কগুলোর ফুটপাত ও সড়কের অংশ দখল করে গড়ে ওঠা বিভিন্ন অস্থায়ী দোকান, ভাসমান ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ফুটপাত ও সড়কের জায়গা দখল করে ব্যবসা না করার জন্য ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়। প্রশাসনের এই অভিযানে কিছু এলাকায় ফুটপাত সাময়িকভাবে দখলমুক্ত হলেও অভিযান শেষ হওয়ার পরেই বিভিন্ন স্থানে আবারও দোকান বসানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নোয়াখালী শহরের বিভিন্ন এলাকার ফুটপাত হকার, দোকানদার ও অস্থায়ী ব্যবসায়ীদের দখলে রয়েছে। অনেক জায়গায় দোকানের মালামাল ফুটপাতের ওপর রাখা হচ্ছে। কোথাও আবার ফুটপাতের ওপর স্থায়ী বা অস্থায়ী কাঠামো তৈরি করে ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে। ফলে পথচারীদের বাধ্য হয়ে মূল সড়কে নেমে চলাচল করতে হচ্ছে। ব্যস্ত সড়কে পথচারীদের এভাবে চলাচলের কারণে যানজটের পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে শিশু, নারী, বয়স্ক ব্যক্তি ও শিক্ষার্থীদের চলাচলে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।পথচারীরা জানান, ফুটপাত মূলত পথচারীদের নির্বিঘ্নে চলাচলের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যবসায়ী ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। মাঝে মাঝে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান চালিয়ে ফুটপাত দখলমুক্ত করা হলেও কিছুদিন পর আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়। প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান,জনসাধারণের চলাচলের জায়গা কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দখলে রাখার সুযোগ নেই। ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করা হলে সাধারণ মানুষের চলাচল ব্যাহত হয় এবং নগর ব্যবস্থাপনাও বাধাগ্রস্ত হয়। তাই ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। যেসব ব্যবসায়ী ও দখলদারকে সতর্ক করা হয়েছে,তারা যদি পুনরায় ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করেন, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শুধু উচ্ছেদ নয়, ভবিষ্যতে যাতে পুনরায় ফুটপাত দখল না হয় সে বিষয়েও নজরদারি বাড়ানো হবে। অভিযানে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী জেলা প্রশাসক শফিকুল ইসলাম,পুলিশ সুপার এন.এম নাসিরুদ্দিন,জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব উদ্দিন আলো,সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আবদুর রহমান,জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট শাহাদৎ হোসেন,জেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা।

ঢাকা, নোয়াখালী ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন অভিজাত রেস্তোরাঁয় ‘ডোরি মাছ’ নামে পরিবেশন করা মাছের ডিএনএ পরীক্ষায় দেশীয় পাঙাসের প্রজাতি শনাক্ত হয়েছে। নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ও ফিশ জেনেটিকস এবং কনজারভেশন বিশেষজ্ঞ ড. রাকেব-উল-ইসলামের গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণায় রেস্তোরাঁ থেকে সংগ্রহ করা ‘ডোরি’ মাছের নমুনা থেকে ডিএনএ এক্সট্রাকশন, পিসিআর (PCR) ও ডিএনএ সিকোয়েন্সিং করা হয়। পরীক্ষায় নমুনাগুলোর ডিএনএ ‘পাঙ্গাসিয়াস হাইপোফথালমাস’ প্রজাতির পাঙাস মাছের সঙ্গে মিলে যায়। সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেশে গত কয়েক বছরে ডোরি মাছ আমদানির সুনির্দিষ্ট তথ্য না পাওয়ার বিষয়টি উঠে আসে। এরপর বিষয়টি নিয়ে গবেষক ও ভোক্তাদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হলে ড. রাকেব-উল-ইসলাম বিষয়টি বৈজ্ঞানিকভাবে যাচাইয়ের উদ্যোগ নেন। গবেষণার অংশ হিসেবে ঢাকা, নোয়াখালী ও চট্টগ্রামের অন্তত তিনটি করে অভিজাত রেস্তোরাঁ থেকে ‘ডোরি মাছ’ হিসেবে পরিবেশন করা মাছের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে এসব নমুনার ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। গবেষক ড. রাকেব-উল-ইসলাম বলেন, ‘৬ মাস আগে দেশে ডোরি ফিশের আমদানি শূন্যের কোঠায়—এমন একটি সংবাদ দেখার পর আমরা এটা নিয়ে গবেষণা শুরু করি। ঢাকা, নোয়াখালী ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন অভিজাত রেস্তোরাঁ থেকে স্যাম্পল সংগ্রহ করে ডিএনএ এক্সট্রাকশন, পিসিআর এবং এরপর ডিএনএ সিকোয়েন্স করে দেখতে পাই, রেস্তোরাঁগুলোতে ডোরি ফিশ বলে পরিবেশন করা মাছটি মূলত পাঙাস মাছ।’ তিনি আরও বলেন, ‘সাধারণ ভোক্তাদের পক্ষে এই মাছ দেখে যাচাই করার কোনো প্রক্রিয়া নেই। যেহেতু মাথা, চামড়া বা বাহ্যিক অন্য কোনো বৈশিষ্ট্য থাকে না, তাই মাছটি আসলে কী—তা বোঝা কঠিন। এ ধরনের অনৈতিক কাজ থেকে ভোক্তাদের অধিকার সংরক্ষণ করতে ভোক্তা অধিকার-বিষয়ক কর্তৃপক্ষকে আরও সচেতন হতে হবে।’ গবেষকের মতে, এভাবে বেশি দামে একটি মাছ কিনে অন্য প্রজাতির মাছ খাওয়ার পাশাপাশি ভোক্তারা পণ্যের সঠিক তথ্য থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। জানা যায়, ডোরি বা জন ডোরি একটি সামুদ্রিক মাছ। এর শরীর চ্যাপ্টা, মাথা তুলনামূলক বড় এবং শরীরের দুই পাশে গোল কালো দাগ থাকে। এই বিশেষ দাগের কারণে মাছটি সহজেই শনাক্ত করা যায়। স্বাদ ও গঠনের কারণে বিশ্বজুড়ে ডোরি মাছের চাহিদা রয়েছে। এর মাংস সাদা ও নরম হলেও সহজে ভেঙে যায় না। সমুদ্রে তুলনামূলক কম পাওয়া যায় এবং পুরো মাছের তুলনায় খাওয়ার উপযোগী অংশ কম হওয়ায় ডোরি মাছের দামও বেশি। বিদেশের বাজারে এক কেজি ডোরি মাছের মাংসের দাম ৬ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে। বিপরীতে, দেশে চাষের পাঙাস মাছ ওজনভেদে প্রায় ২০০ থেকে ৫০০ টাকা কেজিতে পাওয়া যায় এবং এটি বাজারে সহজলভ্য। শুধু ডোরি নয়, হোটেল-রেস্তোরাঁয় ‘টেংরা মাছ’ নামেও নদীর পাঙাসের জুভেনাইল বা পোনা পরিবেশনের বিষয়টি ড. রাকেব-উল-ইসলামের গবেষণায় উঠে এসেছে। গবেষকের মতে, পাঙাসের পোনা অন্য মাছের নামে বাজারজাত বা পরিবেশন করা হলে তা শুধু ভোক্তার সঙ্গে প্রতারণার বিষয় নয়; এর প্রভাব পড়তে পারে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও। এ ধরনের মাছের পরিচয় গোপন করে ভিন্ন নামে বাজারজাত বা পরিবেশন বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় আটক নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা সাব্বির আহমদকে (২১) থানায় দেখতে গিয়ে তার বাবা আব্দুল মান্নান (৫৮) আটক হয়েছেন। পরে শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেলে নোয়াখালীর চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে বাবা-ছেলেকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে সোনাইমুড়ী বাজার থেকে সাব্বির আহমদকে আটক করে পুলিশ। স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, তিনি চাষিরহাট ইউনিয়ন ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। তার বাবা আব্দুল মান্নান চাষিরহাট ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি। স্থানীয়দের দাবি, সাব্বিরকে আটকের খবর পেয়ে তাকে দেখতে থানায় যান তার বাবা আব্দুল মান্নান। সেখানে পুলিশ তাকেও আটক করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হয়েছে, সাব্বিরকে শুধু ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে পরিচয় দেয়া হচ্ছে এবং বাবা-ছেলের বিরুদ্ধে আগে কোনো মামলা ছিল না। সোনাইমুড়ীর বাসিন্দা রাসেল মাহমুদ বলেন, সাব্বিরকে দেখতে থানায় যাওয়ার পর তার বাবাকেও গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আব্দুল মান্নানের বিরুদ্ধে কোনো মামলায় আসামি হওয়ার তথ্য না থাকলেও তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এ বিষয়ে সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, আব্দুল মান্নান চাষিরহাট ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি। তিনি থানার সামনে ঘোরাঘুরি করলে তাকে আইনের আওতায় আনতে হয়। বাবা-ছেলেকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পরে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

জীবনে একজন ভালো বন্ধু কিংবা পথপ্রদর্শককে সুখে-দুঃখে পাশে পাওয়া সত্যিই ভাগ্যের ব্যাপার। সম্পর্ক কেবল ভালো লাগার নয়, বরং পারস্পরিক দায়িত্ব ও যত্নের এক মেলবন্ধন। সেই যত্নশীল ভালোবাসার মানুষটিকে একটু বিশেষভাবে ধন্যবাদ বা ভালোবাসা জানানোর দিন আজ। আজ ৩ অক্টোবর, বিশ্ব বয়ফ্রেন্ড দিবস। প্রতি বছর এই দিনে বিশ্বজুড়ে তরুণ-তরুণীরা তাদের মনের মানুষের জন্য নানা বিশেষ পরিকল্পনা করেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম স্ক্রল করলেই আজ চোখে পড়বে প্রিয় মানুষের সঙ্গে কাটানো সুন্দর মুহূর্তের ছবি, আবেগঘন ক্যাপশন ও ভালোবাসার নানা বহিঃপ্রকাশ। ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, এই দিবসটির কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বা রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নেই। তবে ধারণা করা হয়, ২০১৪ সালের দিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রথম এই দিবসটির সূচনা হয়। এরপর ২০১৬ সালের দিকে এসে এটি বিশ্বব্যাপী ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। গার্লফ্রেন্ড ডে বা ১ আগস্টের আদলেই মূলত ছেলেদের প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান প্রদর্শনের জন্য এই দিনটি উদযাপনের প্রচলন শুরু হয়। বর্তমান যুগে যেকোনো দিবস উদযাপনে বড় ভূমিকা রাখে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। বিশ্ব বয়ফ্রেন্ড দিবসকে কেন্দ্র করে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম এবং টিকটকে এখন তুমুল ট্রেন্ড চলছে। সকাল থেকেই ইনস্টাগ্রাম এবং এক্সে এই হ্যাশট্যাগটি ট্রেন্ডিংয়ে রয়েছে। লাখ লাখ ব্যবহারকারী তাদের বয়ফ্রেন্ডের ছবি এই ট্যাগের সঙ্গে পোস্ট করছেন। টিকটক ও ইনস্টাগ্রামে তরুণীরা তাদের সম্পর্কের শুরুর দিকের ছবি এবং বর্তমানের ছবির কোলাজ দিয়ে ইমোশনাল ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক যেমন লিল বু পি-এর বিগ বয় বা স্লো ডাউন লাভ সং যুক্ত করে রিলস বানাচ্ছেন। যারা সম্পর্কের বিষয়টি এখনো পুরোপুরি প্রকাশ করতে চান না, তারা বয়ফ্রেন্ডের হাত ধরা, কফির কাপ হাতে তার আবছা অবয়ব বা শুধু ব্যাকপ্রোফাইলের ছবি স্টোরিতে দিয়ে এই ট্রেন্ডে অংশ নিচ্ছেন। পাশাপাশি দিবসটি নিয়ে সিঙ্গেলদের মজার মজার মিম ও ট্রলও বেশ ট্রেন্ড করছে, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি রসাত্মক পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। বর্তমান ব্যস্ত জীবনে একে অপরকে সময় দেওয়াটাই যেখানে সবচেয়ে বড় উপহার, সেখানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বাইরেও আজকের দিনটি অনেকেই একটু ভিন্নভাবে কাটাচ্ছেন। প্রিয় মানুষের পছন্দের কোনো গ্যাজেট, বই, সুগন্ধি কিংবা হাতে লেখা কোনো চিঠি উপহার দেওয়ার পাশাপাশি পছন্দের কোনো রেস্তোরাঁয় ডিনার, লং ড্রাইভ কিংবা ঘরে বসেই প্রিয় কোনো সিনেমা দেখার মাধ্যমে দিনটি উদযাপিত হয়। সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরুষরা সাধারণত নিজেদের অনুভূতি বা কষ্টের কথা সহজে প্রকাশ করতে পারেন না। সম্পর্কে তারা কতটা যত্নশীল, তা অনেক সময়ই আড়ালে থেকে যায়। তাই এই ধরনের একটি দিন তাদের মানসিক তৃপ্তি দেয়। উপহারের দাম কত, তা বড় বিষয় নয়, বরং তুমি আমার জীবনে আছ বলে আমি কৃতজ্ঞ এই ছোট একটি বাক্যই একজন মানুষের দিনটি সুন্দর করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। তাই আজকের এই বিশেষ দিনে ভালোবাসার মানুষটিকে জানিয়ে দেওয়া যায় যে তিনি জীবনের কতটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে পিকআপ নিয়ে মিছিল করার অভিযোগে ৯ কিশোরকে আটক করে পুলিশে দিয়েছেন স্থানীয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাত সাড়ে আটটার দিকে উপজেলার সেবারহাট বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আটক কিশোরদের বয়স ১৫ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চৌমুহনী এলাকা থেকে একটি খালি পিকআপ ফেনী-নোয়াখালী মহাসড়ক দিয়ে সেবারহাটের দিকে যাচ্ছিল। পিকআপটি সেনবাগ স্টেডিয়ামের সামনে পৌঁছালে একদল তরুণ সেটির গতিরোধ করেন। তারা সেবারহাট এলাকায় যাওয়ার কথা বলে পিকআপে ওঠেন। পরে চলন্ত পিকআপে তারা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে থাকেন। স্থানীয় সূত্র জানায়, পিকআপটি সেনবাগ রাস্তার মাথা এলাকা অতিক্রম করার সময় স্থানীয় ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর বিষয়টি নজরে আসে। তারা মোটরসাইকেলে পিকআপটির পিছু নেন। পরে সেবারহাট বাজার এলাকায় পিকআপটি থামিয়ে সেটি ঘেরাও করে ৯ কিশোরকে আটক করেন। এ সময় তাদের সঙ্গে থাকা আরও কয়েকজন দৌড়ে পালিয়ে যায়। আটক কিশোরদের মারধর করার পর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা পুলিশে খবর দেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের হেফাজতে নেয়। সেনবাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হযরত আলী মিলন বলেন, ‘আটক কিশোররা একটি পিকআপে চড়ে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে দিতে ছমিরমুন্সিরহাট এলাকা থেকে সেবারহাটের দিকে যাচ্ছিল। ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাদের আটক করে থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাদের হেফাজতে নেয়। তারা বর্তমানে থানায় রয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।’
নোয়াখালীতে ফুটপাত দখলে প্রশাসনের যৌথ অভিযান, ফের বসেছে দোকান নোয়াখালী জেলা শহরের ফুটপাত দখলমুক্ত করতে প্রশাসনের উদ্যোগে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হলেও অভিযান শেষ হওয়ার পর ফের ফুটপাত দখল করে দোকান বসানোর অভিযোগ উঠেছে। এতে পথচারীদের চলাচলে আবারও ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনাকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রশাসন। সোমবার(২৯ সেপ্টেম্বর) বিকালে ঘন্টাব্যাপি নোয়াখালী শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এলাকায় ফুটপাত দখলমুক্ত করতে প্রশাসনের নেতৃত্বে এ যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পৌরসভা ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা অংশ নেন। অভিযানকালে শহরের ব্যস্ততম সড়কগুলোর ফুটপাত ও সড়কের অংশ দখল করে গড়ে ওঠা বিভিন্ন অস্থায়ী দোকান, ভাসমান ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ফুটপাত ও সড়কের জায়গা দখল করে ব্যবসা না করার জন্য ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়। প্রশাসনের এই অভিযানে কিছু এলাকায় ফুটপাত সাময়িকভাবে দখলমুক্ত হলেও অভিযান শেষ হওয়ার পরেই বিভিন্ন স্থানে আবারও দোকান বসানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নোয়াখালী শহরের বিভিন্ন এলাকার ফুটপাত হকার, দোকানদার ও অস্থায়ী ব্যবসায়ীদের দখলে রয়েছে। অনেক জায়গায় দোকানের মালামাল ফুটপাতের ওপর রাখা হচ্ছে। কোথাও আবার ফুটপাতের ওপর স্থায়ী বা অস্থায়ী কাঠামো তৈরি করে ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে। ফলে পথচারীদের বাধ্য হয়ে মূল সড়কে নেমে চলাচল করতে হচ্ছে। ব্যস্ত সড়কে পথচারীদের এভাবে চলাচলের কারণে যানজটের পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে শিশু, নারী, বয়স্ক ব্যক্তি ও শিক্ষার্থীদের চলাচলে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।পথচারীরা জানান, ফুটপাত মূলত পথচারীদের নির্বিঘ্নে চলাচলের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যবসায়ী ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। মাঝে মাঝে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান চালিয়ে ফুটপাত দখলমুক্ত করা হলেও কিছুদিন পর আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়। প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান,জনসাধারণের চলাচলের জায়গা কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দখলে রাখার সুযোগ নেই। ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করা হলে সাধারণ মানুষের চলাচল ব্যাহত হয় এবং নগর ব্যবস্থাপনাও বাধাগ্রস্ত হয়। তাই ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। যেসব ব্যবসায়ী ও দখলদারকে সতর্ক করা হয়েছে,তারা যদি পুনরায় ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করেন, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শুধু উচ্ছেদ নয়, ভবিষ্যতে যাতে পুনরায় ফুটপাত দখল না হয় সে বিষয়েও নজরদারি বাড়ানো হবে। অভিযানে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী জেলা প্রশাসক শফিকুল ইসলাম,পুলিশ সুপার এন.এম নাসিরুদ্দিন,জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব উদ্দিন আলো,সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আবদুর রহমান,জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট শাহাদৎ হোসেন,জেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা।

ঢাকা, নোয়াখালী ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন অভিজাত রেস্তোরাঁয় ‘ডোরি মাছ’ নামে পরিবেশন করা মাছের ডিএনএ পরীক্ষায় দেশীয় পাঙাসের প্রজাতি শনাক্ত হয়েছে। নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ও ফিশ জেনেটিকস এবং কনজারভেশন বিশেষজ্ঞ ড. রাকেব-উল-ইসলামের গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণায় রেস্তোরাঁ থেকে সংগ্রহ করা ‘ডোরি’ মাছের নমুনা থেকে ডিএনএ এক্সট্রাকশন, পিসিআর (PCR) ও ডিএনএ সিকোয়েন্সিং করা হয়। পরীক্ষায় নমুনাগুলোর ডিএনএ ‘পাঙ্গাসিয়াস হাইপোফথালমাস’ প্রজাতির পাঙাস মাছের সঙ্গে মিলে যায়। সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেশে গত কয়েক বছরে ডোরি মাছ আমদানির সুনির্দিষ্ট তথ্য না পাওয়ার বিষয়টি উঠে আসে। এরপর বিষয়টি নিয়ে গবেষক ও ভোক্তাদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হলে ড. রাকেব-উল-ইসলাম বিষয়টি বৈজ্ঞানিকভাবে যাচাইয়ের উদ্যোগ নেন। গবেষণার অংশ হিসেবে ঢাকা, নোয়াখালী ও চট্টগ্রামের অন্তত তিনটি করে অভিজাত রেস্তোরাঁ থেকে ‘ডোরি মাছ’ হিসেবে পরিবেশন করা মাছের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে এসব নমুনার ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। গবেষক ড. রাকেব-উল-ইসলাম বলেন, ‘৬ মাস আগে দেশে ডোরি ফিশের আমদানি শূন্যের কোঠায়—এমন একটি সংবাদ দেখার পর আমরা এটা নিয়ে গবেষণা শুরু করি। ঢাকা, নোয়াখালী ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন অভিজাত রেস্তোরাঁ থেকে স্যাম্পল সংগ্রহ করে ডিএনএ এক্সট্রাকশন, পিসিআর এবং এরপর ডিএনএ সিকোয়েন্স করে দেখতে পাই, রেস্তোরাঁগুলোতে ডোরি ফিশ বলে পরিবেশন করা মাছটি মূলত পাঙাস মাছ।’ তিনি আরও বলেন, ‘সাধারণ ভোক্তাদের পক্ষে এই মাছ দেখে যাচাই করার কোনো প্রক্রিয়া নেই। যেহেতু মাথা, চামড়া বা বাহ্যিক অন্য কোনো বৈশিষ্ট্য থাকে না, তাই মাছটি আসলে কী—তা বোঝা কঠিন। এ ধরনের অনৈতিক কাজ থেকে ভোক্তাদের অধিকার সংরক্ষণ করতে ভোক্তা অধিকার-বিষয়ক কর্তৃপক্ষকে আরও সচেতন হতে হবে।’ গবেষকের মতে, এভাবে বেশি দামে একটি মাছ কিনে অন্য প্রজাতির মাছ খাওয়ার পাশাপাশি ভোক্তারা পণ্যের সঠিক তথ্য থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। জানা যায়, ডোরি বা জন ডোরি একটি সামুদ্রিক মাছ। এর শরীর চ্যাপ্টা, মাথা তুলনামূলক বড় এবং শরীরের দুই পাশে গোল কালো দাগ থাকে। এই বিশেষ দাগের কারণে মাছটি সহজেই শনাক্ত করা যায়। স্বাদ ও গঠনের কারণে বিশ্বজুড়ে ডোরি মাছের চাহিদা রয়েছে। এর মাংস সাদা ও নরম হলেও সহজে ভেঙে যায় না। সমুদ্রে তুলনামূলক কম পাওয়া যায় এবং পুরো মাছের তুলনায় খাওয়ার উপযোগী অংশ কম হওয়ায় ডোরি মাছের দামও বেশি। বিদেশের বাজারে এক কেজি ডোরি মাছের মাংসের দাম ৬ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে। বিপরীতে, দেশে চাষের পাঙাস মাছ ওজনভেদে প্রায় ২০০ থেকে ৫০০ টাকা কেজিতে পাওয়া যায় এবং এটি বাজারে সহজলভ্য। শুধু ডোরি নয়, হোটেল-রেস্তোরাঁয় ‘টেংরা মাছ’ নামেও নদীর পাঙাসের জুভেনাইল বা পোনা পরিবেশনের বিষয়টি ড. রাকেব-উল-ইসলামের গবেষণায় উঠে এসেছে। গবেষকের মতে, পাঙাসের পোনা অন্য মাছের নামে বাজারজাত বা পরিবেশন করা হলে তা শুধু ভোক্তার সঙ্গে প্রতারণার বিষয় নয়; এর প্রভাব পড়তে পারে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও। এ ধরনের মাছের পরিচয় গোপন করে ভিন্ন নামে বাজারজাত বা পরিবেশন বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

দেশে ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে নিশ্চিত হামে ১০১ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে হামে ও এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১০৪ জনে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, সোমবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকা বিভাগেই ৩ জন করে মারা গেছেন। এ সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ৩৩৯ জন রোগী এসেছে। বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে ৫১৬ জন, রাজশাহীতে ২৯, সিলেটে ২০৬, চট্টগ্রামে ২৭৯, বরিশালে ১০৭, ময়মনসিংহে ৮৬, খুলনায় ৮৯ এবং রংপুরে ২৭ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৬৮ হাজার ৬৫৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৬১ হাজার ৭৯৮ জন চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে সন্দেহজনক হামের রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯০ হাজার ৫৫০ জনে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছেন ২১ হাজার ৩৯২ জন।

নোয়াখালী সদর উপজেলায় অটোরিকশায় চার্জ দেওয়ার সময় বিদ্যুৎস্পর্শে মো. বোরহান উদ্দিন ওরফে রিপন (২৮) নামের এক ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার নোয়াখালী ইউনিয়নের পূর্ব চর উরিয়া গ্রামের হোরন মিয়ার রিকশা গ্যারেজে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত রিপন ওই গ্রামের মো. মিলনের ছেলে। তিনি পেশায় একজন অটোরিকশাচালক ছিলেন। পুলিশ জানায়, সারাদিন অটোরিকশা চালানোর পর রাতে গ্যারেজে ফিরে রিপন নিজের অটোরিকশায় চার্জ দিচ্ছিলেন। এ সময় অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পর্শে গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সোনাপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) কাউচারউজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বিয়ের আশ্বাসে এক নারীকে দুবাইয়ে নিয়ে ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা করার অভিযোগ উঠেছে প্রবাসী মো. বাহারের বিরুদ্ধে। বর্তমানে ওই নারীর সাত মাস বয়সী সন্তান অসুস্থ হয়ে পড়লেও অভিযুক্ত ব্যক্তি কোনো খোঁজখবর নিচ্ছেন না বলেও দাবি করেছেন ভুক্তভোগী নারী। অভিযুক্ত প্রবাসী বাহার নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চর আমান উল্লাহ ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের মসজিদ মার্কেট এলাকার বাসিন্দা। ভুক্তভোগী আসমা আক্তার মুক্তার অভিযোগ, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন বাহার। একপর্যায়ে তাকে বিয়ে করার কথা বলে দুবাই নিয়ে যান। সেখানে দিনের পর দিন তার সঙ্গে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা হয়। বাহার তাকে স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দিলেও আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে করেননি বলেও অভিযোগ করেন মুক্তা। তিনি আরও জানান, একপর্যায়ে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে বিষয়টি গোপন রাখতে তাকে গর্ভের সন্তান নষ্ট করার জন্য চাপ দেওয়া হয়। পরে তাকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। দেশে ফেরার পর বাহার মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্লক করে দেন বলেও অভিযোগ করেন মুক্তা। তার দাবি, বর্তমানে তার সন্তানের বয়স সাত মাস। সন্তান অসুস্থ হওয়ায় তার চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে তিনি চরম অসহায় অবস্থায় রয়েছেন। বাহারের আর্থিক সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও তার ও সন্তানের কোনো খোঁজ নিচ্ছেন না এবং চিকিৎসার দায়িত্বও নিচ্ছেন না। ভুক্তভোগী আরও দাবি করেন, তিনি সুবর্ণচরে বাহারের বাড়িতে আসার চেষ্টা করলে তাকে হত্যার জন্য ১৪ লাখ টাকার চুক্তি করা হয়েছে বলে জানতে পারেন। এ কারণে নিরাপত্তার আশঙ্কায় তিনি সুবর্ণচরে না এসে বর্তমানে বাগেরহাটে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন। তিনি বলেন, ‘আমি আমার সন্তানের বাবার স্বীকৃতি চাই। প্রয়োজনে ডিএনএ পরীক্ষা করা হোক। সত্য প্রকাশ পাক। আমার সন্তান যেন ভবিষ্যতে বাবার পরিচয় নিয়ে কোনো সংকটে না পড়ে, সেটিই আমার দাবি। আমি ন্যায়বিচার ও আইনগত ব্যবস্থা চাই।’ ভুক্তভোগীর অভিযোগ, বাহার তাকে ১২ লাখ টাকা দিয়ে বিষয়টি মীমাংসার প্রস্তাব দিলেও সন্তানের দায়িত্ব নিতে রাজি হননি। তবে এ বিষয়ে কোনো লিখিত সমঝোতা বা অর্থ লেনদেন হয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এদিকে বাহারের প্রথম স্ত্রী বলে পরিচয় দেওয়া এক নারীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগগুলো নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তার বক্তব্য, তার স্বামীর সঙ্গে ওই নারীর সম্পর্কের জন্য ওই নারীই দায়ী এবং এসব অভিযোগের মাধ্যমে তার সংসারে সমস্যা তৈরি করা হচ্ছে। একপর্যায়ে তিনি এ বিষয়ে সুবর্ণচর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক হোসেন সুমনের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। অন্যদিকে স্থানীয়ভাবে প্রবাসী বাহার একজন সমাজসেবী হিসেবে পরিচিত বলে জানা গেছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক কার্যক্রমে বিদেশ থেকে সহযোগিতা এনে দেওয়ার কারণে স্থানীয়দের অনেকে তাকে দাতা হিসেবে পরিচয় দেন। বাহারের প্রতিবেশী ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে কথা বললে তারা বিষয়টি সম্পর্কে শুনেছেন বলে জানান। তবে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য তাদের জানা নেই বলে দাবি করেন তারা। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে তারা ঘটনার নিন্দা জানানোসহ এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। অভিযোগের বিষয়ে প্রবাসী বাহারের সঙ্গে মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন মাধ্যমে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে। ভুক্তভোগী আসমা আক্তার মুক্তা বর্তমানে বাগেরহাটে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন। সন্তানের ভবিষ্যৎ, পিতৃপরিচয় ও চিকিৎসা নিয়ে তিনি উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন বলে জানান। তিনি বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন, সন্তানের পিতৃপরিচয় নিশ্চিত করা এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে মো. আলমগীর হোসেন ফরাজী (৪৫) নামে জামায়াতের সাবেক এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেন বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান। তিনি জানান, শনিবার রাত সোয়া ১১টার দিকে উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম খানপুর গ্রামের ফরাজী বাড়ি থেকে আলমগীরকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার আলমগীর শরীফপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সাবেক বায়তুল মাল সম্পাদক, সেক্রেটারি ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি একই ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ফরাজী বাড়ির মৃত ইউনুছ আলীর ছেলে। মামলা ও ভুক্তভোগী পরিবারের সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশু স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র। গত ১৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে মাথাব্যথা হওয়ায় সে বাবুনগর এলাকার হাসানহাট বাজারে আলমগীরের ওষুধের দোকানে যায়। আলমগীর ওষুধ বিক্রির পাশাপাশি ঝাড়ফুঁক করেন। শিশুটির বাবার অভিযোগ, মাথাব্যথা ঝাড়ফুঁক করলে ভালো হয়ে যাবে বলে আলমগীর শিশুটিকে দোকানের পেছনের একটি কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে শিশুটিকে বলাৎকার করা হয়। এ ঘটনা কাউকে জানালে প্রাণে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। পরে শিশুটি শরীরে ব্যথা অনুভব করলে পরিবারের সদস্যরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে শিশুটি পরিবারের কাছে ঘটনার বিস্তারিত জানায়। শরীফপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি মোজাম্মেল হোসেন কালবেলাকে জানান, আলমগীর জামায়াতের সাথে সম্পৃক্ত থাকলেও ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর থেকে ক্রমান্বয়ে নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয়ায় উনার সঙ্গে সংগঠনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। এর আগে ওয়ার্ড পর্যায়ে তিনি কিছু দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি পুরোপুরি নিষ্ক্রিয়। দলের সাথে উনার কোনো রকমের সম্পর্ক নেই এবং দলীয় কোনো কার্যক্রমের সঙ্গে তিনি সম্পৃক্ত নন। তবে অভিযুক্ত আলমগীরের দাবি তুলে ধরে মোজাম্মেল হোসেন বলেন, ঝাড়ফুঁকের কাজ করতে গিয়ে রতন নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে আলমগীরের বিরোধ তৈরি হয়। টাকা দাবি করে না পাওয়ায় তার বিরুদ্ধে কথা বলানো হচ্ছে। পরে ওই শিশুর পরিবারকে উসকানি দিয়ে মামলা করানো হয়েছে বলে আলমগীর দাবি করেছে। বেগমগঞ্জ থানার ওসি মো. শামসুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় শিশুটির বাবা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন। ওই মামলায় আলমগীরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে নোয়াখালী চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। শিশুটির মেডিকেল চেকআপের জন্য হাসপাতালে পাঠানো করা হয়েছে। মেডিকেল রিপোর্টের আলোকে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে প্রশাসন পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

অপ্রতিমকে হত্যার ঘটনায় তার মায়ের আইফোনটি অভিযুক্ত তুহিনের বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। গণমাধ্যমের কাছে এরই মধ্যে হত্যায় অভিযুক্ত তুহিনের মা বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এমনকি তিনি ঘটনার দিন তুহিনের গতিবিধিও জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আইফোনটি তুহিনের ঘরের বিছানার নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়। সাদা পোশাকে একদল পুলিশ সদস্য আমার ছেলেকে (তুহিন) সঙ্গে নিয়ে এসে তার ঘরে তল্লাশি চালিয়ে আইফোনটি উদ্ধার করে। এ সময় মোবাইল ফোনটি একটি কালো শপিং ব্যাগের মধ্যে ছিল। ঘটনার দিনের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, গত শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর খাওয়া-দাওয়া শেষে তুহিন ঘর থেকে বের হন। এরপর বিকালে তিনি আবার বাসায় ফিরে আসেন বলেও জানান অভিযুক্ত তুহিনের মা। ঘটনার দিন তুহিনের গতিবিধি কেমন ছিল জানালেন মা যদিও সন্ধ্যার কিছু সময় পর সে আবারও বাসা থেকে বের হয়েছিলেন বলেও দাবি করেন অভিযুক্ত তুহিনের মা। পরে তুহিন রাত ৯টার দিকে ঘরে ফিরে আসেন। এরপর রাতে তিনি ঘুমিয়েও পড়েন। অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডে আটকের আগে আনাসের করা পোস্ট ঘিরে তোলপাড় পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত অপ্রতিমের মুঠোফোনের অবস্থান গন্ধমতী এলাকায় শনাক্ত করা হয়েছিল। এরপর ফোনটির আর কোনো অবস্থান পাওয়া যায়নি। অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসহ আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে পুলিশ। ফুটেজে অপ্রতিমের সঙ্গে তুহিনকে দেখা যায়। পরবর্তীকালে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আনাসকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। সর্বশেষ ফাহিম আহমেদসহ আরও দুজনকে আটক করা হয়েছে। অপ্রতিম স্থানীয় বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে ড. নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান। এদিকে অপ্রতিমের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের শনাক্ত ও দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবিতে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন। তারা ১২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন এবং দাবি পূরণ না হলে বিশ্ববিদ্যালয় অচল করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ, সিসিটিভি ফুটেজ, মুঠোফোনের তথ্যসহ বিভিন্ন আলামত যাচাই করে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে। কোটবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক জানান, অপ্রতিমের মৃত্যুর ঘটনায় বিভিন্ন তথ্য যাচাই ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আটকদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য এবং অন্যান্য আলামত যাচাই করে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে

নোয়াখালী-৩ (বেগমগঞ্জ) আসনের এমপি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু বলেছেন, সাংবাদিকতা হলো সমাজের দর্পন এবং মানবিক পেশা। তাই এই পেশাকে খাটো করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচার করলে দেশ, জাতি, সমাজ, গণতন্ত্র, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব এবং রাষ্ট্রের উন্নয়ন হবে। তবে কিছু অশিক্ষিত এবং অভাবী লোক এ পেশায় এসে পেশার ভাবমূর্তি বিনষ্ট করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হচ্ছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নোয়াখালী টিভি সাংবাদিক ফোরাম কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন এমপি বুলু। তিনি আরও বলেন, আপনারা যারা পেশাদার সাংবাদিক, আপনাদেরকে সঠিক সাংবাদিকতার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার সাথে সাথে অপসাংবাদিকতা রোধেও সোচ্চার থাকতে হবে। নতুবা গুটিকয়েক সাংবাদিকের কারণে আপনাদের কর্ম এবং অর্জন বিফলে যাবে। তিনি আরও বলেন, ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্র ক্ষমতায় শেখ হাসিনার শাসনামল তেমন একটা খারাপ ছিল না। কারণ সে তো শেখ মুজিবুর রহমানের মেয়ে ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে তার পতন হয়েছে কিছু অতি উৎসাহী চাটুকার সাংবাদিক, হাইব্রিড আওয়ামী লীগ ও ব্যবসায়ীদের কারণে। এসময় আরও বক্তব্য রাখেন নোয়াখালী জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য শামীমা বরকত লাকী, বেগমগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কামাক্ষ্যা চন্দ্র দাস, চৌমুহনী পৌর বিএনপির আহ্বায়ক জহির উদ্দিন হারুন, নোয়াখালী টিভি সাংবাদিক ফোরামের কার্যকরী সভাপতি তাজুল ইসলাম মানিক ভুইয়া, যুগ্ম সম্পাদক ইয়াকুব নবী ইমনসহ আরও অনেকে।
বেগমগঞ্জ থানাধীন ০৯ নং মীর ওয়ারিশপুর ইউনিয়নস্থ ০৯ নং ওয়ার্ডের কেন্দুরবাগ সাকিনে ধৃত আসামী মোঃ মাসুম (২৯) এর বসত বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে মাদক সেবন কারী মোঃ মাসুম (২৯), পিতা-গিয়াস উদ্দিন, মাতা-পারভিন আক্তার, সাং-কেন্দুরবাগ (করিম উদ্দিন ভুইয়া বাড়ি), ০৯ নং ওয়ার্ড, ০৯ নং মীর ওয়ারিশপুর ইউপি, থানা-বেগমগঞ্জ, জেলা-নোয়াখালী'কে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করিলে আসামীকে ১৫ দিন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ (পঞ্চাশ) টাকা করে জরিমান করেন।