

শীতের আগমনে দেশের বিভিন্ন জলাভূমিতে আসতে শুরু করে নানান প্রজাতির পরিযায়ী পাখি। প্রতিবছর শীত মৌসুমে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ময়না দ্বীপসহ আশপাশের জলাশয়ে দেখা মেলে এসব পাখির। তাদের আগমনের আগেই পাখির আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত ‘ময়না দ্বীপ’ পরিষ্কারের উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, গত শীত মৌসুমে পরিযায়ী পাখির বিচরণে মুখর ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ময়না দ্বীপ ও আশপাশের জলাশয়। গ্রীষ্মের শুরুতে পাখিগুলো ফিরে যাওয়ার পর বর্ষা মৌসুমে দ্বীপের জলাশয়ে ব্যাপকভাবে কচুরিপানা জন্মায়। শীত মৌসুম সামনে রেখে এখন সেগুলো পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।প্রতিবছর শীত মৌসুমে পরিযায়ী পাখির আগমনকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে তৈরি হয় ভিন্ন রকমের পরিবেশ। পাখি দেখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকে আসেন নানা শ্রেণি-পেশার দর্শনার্থী। পাখির কলকাকলি, জলাশয়ে তাদের বিচরণ এবং দ্বীপের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ক্যাম্পাসকে আকর্ষণীয় করে তোলে। শিক্ষার্থীদের কাছেও ময়না দ্বীপ হয়ে ওঠে অবসর কাটানো ও প্রকৃতির সান্নিধ্য উপভোগের অন্যতম স্থান।বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী প্রিতম চক্রবর্তী বলেন, ‘শীতকালে দেশের হাতেগোনা কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিযায়ী পাখির আগমন ঘটে। তারমধ্যে নোবিপ্রবি একটি। এটি আমাদের জন্য অবশ্যই আনন্দের।’তিনি বলেন, ‘পরিযায়ী পাখির আগমন আমাদের ক্যাম্পাসকে অন্যরকম সৌন্দর্য দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে পড়াশোনার পাশাপাশি প্রকৃতির এমন সান্নিধ্য পাওয়া আমাদের জন্য আনন্দের। আমরা চাই, পাখিরা নিরাপদে থাকুক এবং প্রতিবছর আরও বেশি পাখি এখানে আসুক।’পাখির আবাসস্থল সংরক্ষণে কমিটিময়না দ্বীপের নৈসর্গিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে একটি কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ক্যাম্পাসের মেডিকেল সেন্টার থেকে স্টাফ কোয়ার্টার পর্যন্ত রাস্তার উভয় পাশের লেকের সৌন্দর্য রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং পরিযায়ী পাখিদের বিচরণের উপযোগী অভয়ারণ্য তৈরি ও রক্ষায় গবেষণাভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের দায়িত্ব দেওয়া হয় এই কমিটিকে।কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. নাহিদা সুলতানা, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তানজিনা আলম এবং মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মেহেদী হাসান ও নিশাত ফারাবি।ময়না দ্বীপ পরিষ্কারের বিষয়ে কমিটির আহ্বায়ক সহকারী অধ্যাপক ড. নাহিদ সুলতানা বলেন, ‘আমরা পরিযায়ী পাখির নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য কচুরিপানা পরিষ্কার করছি। পাখির বসার জন্য ক্যানোপি প্রস্তুত করা হচ্ছে। পরিযায়ী পাখির জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ময়না দ্বীপকে তৈরি করার জন্য আমরা আমাদের দিক থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।’পরিযায়ী পাখির প্রজাতির সংখ্যার বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী অধ্যাপক ড. নাহিদ সুলতানা বলেন, ‘আমরা এখনো এ বিষয়ে সঠিক তথ্য পাইনি। কিছু পাখি সকালবেলা ময়না দ্বীপ এলাকায় উড়তে দেখা যায়। আমরা এবছর এখনো তাদের প্রজাতির সংখ্যা গণনা করতে পারিনি। ময়না দ্বীপ পুরোপুরি প্রস্তুত হলে আমরা সঠিকভাবে তা জানাতে পারবো।’তিনি আরও বলেন, পাখির সংখ্যা প্রতিবছরই বাড়ছে। তাই আমরা আশা করি, এবছর গতবছরের তুলনায় বেশিসংখ্যক পাখি আসবে।

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় বাবার নামে সারের ডিলারশিপ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ দাউদের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে এলাকায় চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আশীষ কুমার কর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।তিনি বলেন, বিষয়টি আগে জানা ছিল না। জানার পর জেলা প্রশাসককে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তদন্ত করে এ ব্যাপারে তিনি ব্যবস্থা নিবেন।জানা গেছে, সম্প্রতি হাতিয়া উপজেলার পৌরসভা ও ১১টি ইউনিয়নে একজন করে নতুন সারের ডিলার নিয়োগের প্রস্তাব করা হয়েছে। এরমধ্যে তমরদ্দি ইউনিয়নে স্থানীয় কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ দাউদ তার বাবা মো. আব্দুল বাতেনের ‘মেসার্স আইমান এন্টারপ্রাইজ’ নামে সারের ডিলার বাগিয়ে নিয়েছেন।সুপারিশ পাওয়া মেসার্স আইমান এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. আব্দুল বাতেন বলে তিনি জাগো নিউজের কাছে স্বীকার করেন এবং স্থানীয় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ দাউদ তার ছেলে বলেও জানান।তবে এ ব্যাপারে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ দাউদকে বার বার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। অনেকবার কল দেওয়ার পর তার ব্যবহৃত ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।হাতিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল বাছেদ সবুজ বলেন, ঘটনাটি জানার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। তারা এ ব্যাপারে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবেন।স্থানীয়দের অভিযোগ, কৃষি বিভাগে কর্মরত থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রভাব খাটিয়ে সারের ডিলার নিয়েছেন মোহাম্মদ দাউদ। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। তারা এসব নিয়োগ বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।এদিকে হাতিয়া উপজেলায় সারের ডিলার নিয়োগে চরম অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, কৃষি মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন স্থানীয় চরকিং ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. মনির উদ্দিন।অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, চরকিং ইউনিয়নে নির্ধারিত ধারণক্ষমতার গুদাম না থাকার পরও আকতার হোসেন নামে দক্ষিণ শুল্লকিয়া গ্রামের এক ব্যক্তিকে ‘ওয়াসিম ট্রেডার্স’ নামে ডিলারশিপ দেওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়েছে।মো. মনির উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, সরকারি সারের ডিলার নিয়োগ ও পরিচালনা নীতিমালা অনুযায়ী ডিলারের গুদামের ন্যূনতম ধারণক্ষমতা ২৫ মেট্রিক টন হওয়া প্রয়োজন। অথচ সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর গুদামের দৈর্ঘ্য ২৩ ফুট ও প্রস্থ ১৪ ফুট। সে হিসাবে গুদামটির মেঝের আয়তন ৩২২ বর্গফুট। এতে ৮ থেকে ১০ মেট্রিকটনের বেশি সার রাখা যাবে না। যা উপজেলা প্রকৌশলী এমদাদুল হকের প্রত্যয়ণপত্রেও উল্লেখ রয়েছে।মনির উদ্দিনের প্রশ্ন, ‘অনিয়ম না হলে কীভাবে পর্যাপ্ত গুদাম না থাকা প্রতিষ্ঠানকে ডিলারশিপ দেওয়া হচ্ছে?’ তার দাবি, এ উপজেলায় সার পাচারকারীদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে স্থানীয় কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা নিজেরদের পছন্দের লোকজনের নামে সারের ডিলারশিপ দেওয়ার সুপারিশ করেছেন।এ বিষয়ে জানতে জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলামকে বারবার ফোন করেও পাওয়া যায়নি।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে মুখোশ পরে দোকানে ঢুকে মিজানুর রহমান ওরফে মিজান (৩৪) নামে এক ব্যবসায়ীকে গুলি করেছে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত। গুলিবিদ্ধ মিজানকে প্রথমে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাত সোয়া ১০টার দিকে উপজেলার আমানউল্যাপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের জিনু মার্কেটের মিজান স্টোরে এ ঘটনা ঘটে। মিজান বেগমগঞ্জ উপজেলার আমানউল্যাপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব জয়নারায়ণপুর গ্রামের আহাম্মদ উল্যাহর ছেলে। তিনি স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাতে নিজের মুদি দোকানে বেচাকেনা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন মিজান। এ সময় মুখোশ পরা ২০-২৫ জনের একটি সশস্ত্র দল দোকানে ঢুকে। একপর্যায়ে দুর্বৃত্তরা খুব কাছ থেকে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে তার শরীরের বিভিন্ন অংশে গুলি লাগে। রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়লে দুর্বৃত্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। বেগমগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির মো. আবু জায়েদ বলেন, মিজান আমাদেরকে ভালো জানে। তিনি জামায়াতের সমর্থক মাত্র। ২০২০ সালেও এই ব্যবসায়ীর ওপর নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছিল। তখন তাকে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এবার মুখোশ পরে দোকানে ঢুকে তাকে গুলি করা হয়। মুখোশ পরে থাকায় কাউকে চিহ্নিত করা যায়নি। হামলার সঙ্গে নিষিদ্ধ সংগঠনের লোকজন জড়িত থাকতে পারেন বলে ধারণা করেন তিনি। বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান বলেন, ছররা গুলিতে ওই ব্যবসায়ী আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। হামলার সঙ্গে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা পুলিশ সুপার এন এম নাসির উদ্দীন জানান, অবৈধ অস্ত্রধারী এবং অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।

রাজধানী ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানা এলাকা থেকে মানবপাচার মামলার প্রধান আসামি এবং স্থানীয় সাবেক ছাত্রদল নেতা মো. আজাদকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-১১)। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাতে যাত্রাবাড়ী থানাধীন দোলাইরপাড মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার আজাদ নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার শংকরপুর গ্রামের কবিরাজ বাড়ির সামছুল হকের ছেলে এবং খিলপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি। মামলার বিবরণ ও প্রাথমিক অনুসন্ধানের বরাতে জানা যায়, ভুক্তভোগী একজন ইতালি প্রবাসী। তিনি ইতালি যাওয়ার উদ্দেশে ২০২৩ আসামিদের কাছে বিভিন্ন সময়ে মোট ১০ লাখ টাকা দেন। পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বাদীকে দুবাই হয়ে লিবিয়ায় পৌঁছানো হলে আজাদসহ মানব পাচার চক্রের সক্রিয় সদস্যরা তাকে জিম্মি করে লিবিয়ার অন্য একটি উগ্র পাচারকারী চক্রের কাছে বিক্রি করে দেয়। সেখানে চক্রের সদস্যরা বাদীর ওপর বর্বর শারীরিক নির্যাতন চালায় এবং মুক্তিপণ হিসেবে ১৫ লাখ টাকা দাবি করে। পরবর্তীতে নিরুপায় হয়ে বাদী তার পরিবারের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে লোন নিয়ে এবং তার স্ত্রীর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে সেই টাকা পরিশোধ করে মুক্তি পান। ভুক্তভোগী ওই ইতালি প্রবাসী পরবর্তীতে ছুটিতে বাড়িতে আসলে তার ওপর চড়াও হয় মানব পাচারকারী চক্রটি। নতুন করে তাকে আরও মোটা অঙ্কের টাকা দেওয়ার জন্য ক্রমাগত চাপ দেওয়া হতে থাকে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে চক্রের সদস্যরা তাকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারধর ও গুরুতর জখম করে। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বারবার হুমকি দিলে নিরুপায় হয়ে ভুক্তভোগী বাদী হয়ে চলতি বছর চাটখিল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোন্নাফ বলেন, ভুক্তভোগী প্রবাসীর এজাহারের ভিত্তিতে চাটখিল থানায় মামলাটি রুজু করা হয়েছিল। মানব পাচারের পর ভুক্তভোগী দেশে ছুটিতে আসলে আসামিরা তাকে মারধর ও আরও অর্থ দাবি করার অভিযোগ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, এসআরবি-১১ এর সহযোগিতায় প্রধান আসামিকে ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে গ্রেপ্তারের পর যাত্রাবাড়ী থানার মাধ্যমে আমাদের থানায় হস্তান্তর করা হয়। আজ দুপুরেই তাকে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।

দীর্ঘ রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামে তৃণমূল পর্যায়ের ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন এবং তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টির জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন এক যুবদল নেতা। নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক আবেদনে চাটখিল বিআরডিবির চেয়ারম্যান, চাটখিল পৌরসভা যুবদলের আহ্বায়ক মো. মাসুদ রানা বলেন, বিগত দিনের রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামে শুধু কেন্দ্রীয় নেতা কিংবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক নেতারাই শুধু ত্যাগ স্বীকার করেননি; দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা, থানা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের অসংখ্য নেতাকর্মীও মামলা, হামলা, নির্যাতন ও কারাবরণের শিকার হয়েছেন। আবেদনে মাসুদ রানা উল্লেখ করেন- দলের দুঃসময়ে অনেক নেতাকর্মী নিজেদের পরিবার, ব্যক্তিগত জীবন ও জীবিকার কথা উপেক্ষা করে রাজপথে সক্রিয় থেকেছেন; কিন্তু কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ থাকলেও তৃণমূলের এসব ত্যাগী নেতাকর্মীর দুঃখ-কষ্ট, ত্যাগ ও অবদানের কথা তুলে ধরার সুযোগ সীমিত থেকে যাচ্ছে। তিনি বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের প্রকৃত শক্তি তার তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। তাদের ত্যাগ ও অবদানকে অবহেলা করে কোনো সংগঠনকে শক্তিশালী করা সম্ভব নয়। এ কারণে কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশাপাশি জেলা, উপজেলা, থানা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের ত্যাগী নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টির জন্য তিনি সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। আবেদনে আরও বলা হয়, দলের দুঃসময়ে যারা রাজপথে সক্রিয় ছিলেন, সুসময়েও যেন তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়। পদ-পদবি কিংবা পরিচয়ের পরিবর্তে ত্যাগ, অবদান ও দলের প্রতি ভালোবাসাকে মূল্যায়নের প্রধান মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। পরিশেষে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আরও সুসংগঠিত, শক্তিশালী ও তৃণমূলবান্ধব হয়ে উঠবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন মাসুদ রানা। মাসুদ রানার আবেগঘন এই স্ট্যাটাস ছড়িয়ে পড়লে বিএনপির অবহেলিত নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক সাড়া পড়েছে।

শীতের আগমনে দেশের বিভিন্ন জলাভূমিতে আসতে শুরু করে নানান প্রজাতির পরিযায়ী পাখি। প্রতিবছর শীত মৌসুমে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ময়না দ্বীপসহ আশপাশের জলাশয়ে দেখা মেলে এসব পাখির। তাদের আগমনের আগেই পাখির আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত ‘ময়না দ্বীপ’ পরিষ্কারের উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, গত শীত মৌসুমে পরিযায়ী পাখির বিচরণে মুখর ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ময়না দ্বীপ ও আশপাশের জলাশয়। গ্রীষ্মের শুরুতে পাখিগুলো ফিরে যাওয়ার পর বর্ষা মৌসুমে দ্বীপের জলাশয়ে ব্যাপকভাবে কচুরিপানা জন্মায়। শীত মৌসুম সামনে রেখে এখন সেগুলো পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।প্রতিবছর শীত মৌসুমে পরিযায়ী পাখির আগমনকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে তৈরি হয় ভিন্ন রকমের পরিবেশ। পাখি দেখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকে আসেন নানা শ্রেণি-পেশার দর্শনার্থী। পাখির কলকাকলি, জলাশয়ে তাদের বিচরণ এবং দ্বীপের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ক্যাম্পাসকে আকর্ষণীয় করে তোলে। শিক্ষার্থীদের কাছেও ময়না দ্বীপ হয়ে ওঠে অবসর কাটানো ও প্রকৃতির সান্নিধ্য উপভোগের অন্যতম স্থান।বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী প্রিতম চক্রবর্তী বলেন, ‘শীতকালে দেশের হাতেগোনা কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিযায়ী পাখির আগমন ঘটে। তারমধ্যে নোবিপ্রবি একটি। এটি আমাদের জন্য অবশ্যই আনন্দের।’তিনি বলেন, ‘পরিযায়ী পাখির আগমন আমাদের ক্যাম্পাসকে অন্যরকম সৌন্দর্য দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে পড়াশোনার পাশাপাশি প্রকৃতির এমন সান্নিধ্য পাওয়া আমাদের জন্য আনন্দের। আমরা চাই, পাখিরা নিরাপদে থাকুক এবং প্রতিবছর আরও বেশি পাখি এখানে আসুক।’পাখির আবাসস্থল সংরক্ষণে কমিটিময়না দ্বীপের নৈসর্গিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে একটি কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ক্যাম্পাসের মেডিকেল সেন্টার থেকে স্টাফ কোয়ার্টার পর্যন্ত রাস্তার উভয় পাশের লেকের সৌন্দর্য রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং পরিযায়ী পাখিদের বিচরণের উপযোগী অভয়ারণ্য তৈরি ও রক্ষায় গবেষণাভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের দায়িত্ব দেওয়া হয় এই কমিটিকে।কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. নাহিদা সুলতানা, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তানজিনা আলম এবং মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মেহেদী হাসান ও নিশাত ফারাবি।ময়না দ্বীপ পরিষ্কারের বিষয়ে কমিটির আহ্বায়ক সহকারী অধ্যাপক ড. নাহিদ সুলতানা বলেন, ‘আমরা পরিযায়ী পাখির নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য কচুরিপানা পরিষ্কার করছি। পাখির বসার জন্য ক্যানোপি প্রস্তুত করা হচ্ছে। পরিযায়ী পাখির জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ময়না দ্বীপকে তৈরি করার জন্য আমরা আমাদের দিক থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।’পরিযায়ী পাখির প্রজাতির সংখ্যার বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী অধ্যাপক ড. নাহিদ সুলতানা বলেন, ‘আমরা এখনো এ বিষয়ে সঠিক তথ্য পাইনি। কিছু পাখি সকালবেলা ময়না দ্বীপ এলাকায় উড়তে দেখা যায়। আমরা এবছর এখনো তাদের প্রজাতির সংখ্যা গণনা করতে পারিনি। ময়না দ্বীপ পুরোপুরি প্রস্তুত হলে আমরা সঠিকভাবে তা জানাতে পারবো।’তিনি আরও বলেন, পাখির সংখ্যা প্রতিবছরই বাড়ছে। তাই আমরা আশা করি, এবছর গতবছরের তুলনায় বেশিসংখ্যক পাখি আসবে।

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় বাবার নামে সারের ডিলারশিপ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ দাউদের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে এলাকায় চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আশীষ কুমার কর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।তিনি বলেন, বিষয়টি আগে জানা ছিল না। জানার পর জেলা প্রশাসককে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তদন্ত করে এ ব্যাপারে তিনি ব্যবস্থা নিবেন।জানা গেছে, সম্প্রতি হাতিয়া উপজেলার পৌরসভা ও ১১টি ইউনিয়নে একজন করে নতুন সারের ডিলার নিয়োগের প্রস্তাব করা হয়েছে। এরমধ্যে তমরদ্দি ইউনিয়নে স্থানীয় কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ দাউদ তার বাবা মো. আব্দুল বাতেনের ‘মেসার্স আইমান এন্টারপ্রাইজ’ নামে সারের ডিলার বাগিয়ে নিয়েছেন।সুপারিশ পাওয়া মেসার্স আইমান এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. আব্দুল বাতেন বলে তিনি জাগো নিউজের কাছে স্বীকার করেন এবং স্থানীয় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ দাউদ তার ছেলে বলেও জানান।তবে এ ব্যাপারে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ দাউদকে বার বার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। অনেকবার কল দেওয়ার পর তার ব্যবহৃত ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।হাতিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল বাছেদ সবুজ বলেন, ঘটনাটি জানার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। তারা এ ব্যাপারে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবেন।স্থানীয়দের অভিযোগ, কৃষি বিভাগে কর্মরত থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রভাব খাটিয়ে সারের ডিলার নিয়েছেন মোহাম্মদ দাউদ। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। তারা এসব নিয়োগ বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।এদিকে হাতিয়া উপজেলায় সারের ডিলার নিয়োগে চরম অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, কৃষি মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন স্থানীয় চরকিং ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. মনির উদ্দিন।অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, চরকিং ইউনিয়নে নির্ধারিত ধারণক্ষমতার গুদাম না থাকার পরও আকতার হোসেন নামে দক্ষিণ শুল্লকিয়া গ্রামের এক ব্যক্তিকে ‘ওয়াসিম ট্রেডার্স’ নামে ডিলারশিপ দেওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়েছে।মো. মনির উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, সরকারি সারের ডিলার নিয়োগ ও পরিচালনা নীতিমালা অনুযায়ী ডিলারের গুদামের ন্যূনতম ধারণক্ষমতা ২৫ মেট্রিক টন হওয়া প্রয়োজন। অথচ সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর গুদামের দৈর্ঘ্য ২৩ ফুট ও প্রস্থ ১৪ ফুট। সে হিসাবে গুদামটির মেঝের আয়তন ৩২২ বর্গফুট। এতে ৮ থেকে ১০ মেট্রিকটনের বেশি সার রাখা যাবে না। যা উপজেলা প্রকৌশলী এমদাদুল হকের প্রত্যয়ণপত্রেও উল্লেখ রয়েছে।মনির উদ্দিনের প্রশ্ন, ‘অনিয়ম না হলে কীভাবে পর্যাপ্ত গুদাম না থাকা প্রতিষ্ঠানকে ডিলারশিপ দেওয়া হচ্ছে?’ তার দাবি, এ উপজেলায় সার পাচারকারীদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে স্থানীয় কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা নিজেরদের পছন্দের লোকজনের নামে সারের ডিলারশিপ দেওয়ার সুপারিশ করেছেন।এ বিষয়ে জানতে জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলামকে বারবার ফোন করেও পাওয়া যায়নি।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে মুখোশ পরে দোকানে ঢুকে মিজানুর রহমান ওরফে মিজান (৩৪) নামে এক ব্যবসায়ীকে গুলি করেছে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত। গুলিবিদ্ধ মিজানকে প্রথমে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাত সোয়া ১০টার দিকে উপজেলার আমানউল্যাপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের জিনু মার্কেটের মিজান স্টোরে এ ঘটনা ঘটে। মিজান বেগমগঞ্জ উপজেলার আমানউল্যাপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব জয়নারায়ণপুর গ্রামের আহাম্মদ উল্যাহর ছেলে। তিনি স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাতে নিজের মুদি দোকানে বেচাকেনা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন মিজান। এ সময় মুখোশ পরা ২০-২৫ জনের একটি সশস্ত্র দল দোকানে ঢুকে। একপর্যায়ে দুর্বৃত্তরা খুব কাছ থেকে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে তার শরীরের বিভিন্ন অংশে গুলি লাগে। রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়লে দুর্বৃত্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। বেগমগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির মো. আবু জায়েদ বলেন, মিজান আমাদেরকে ভালো জানে। তিনি জামায়াতের সমর্থক মাত্র। ২০২০ সালেও এই ব্যবসায়ীর ওপর নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছিল। তখন তাকে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এবার মুখোশ পরে দোকানে ঢুকে তাকে গুলি করা হয়। মুখোশ পরে থাকায় কাউকে চিহ্নিত করা যায়নি। হামলার সঙ্গে নিষিদ্ধ সংগঠনের লোকজন জড়িত থাকতে পারেন বলে ধারণা করেন তিনি। বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান বলেন, ছররা গুলিতে ওই ব্যবসায়ী আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। হামলার সঙ্গে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা পুলিশ সুপার এন এম নাসির উদ্দীন জানান, অবৈধ অস্ত্রধারী এবং অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।

রাজধানী ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানা এলাকা থেকে মানবপাচার মামলার প্রধান আসামি এবং স্থানীয় সাবেক ছাত্রদল নেতা মো. আজাদকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-১১)। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাতে যাত্রাবাড়ী থানাধীন দোলাইরপাড মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার আজাদ নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার শংকরপুর গ্রামের কবিরাজ বাড়ির সামছুল হকের ছেলে এবং খিলপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি। মামলার বিবরণ ও প্রাথমিক অনুসন্ধানের বরাতে জানা যায়, ভুক্তভোগী একজন ইতালি প্রবাসী। তিনি ইতালি যাওয়ার উদ্দেশে ২০২৩ আসামিদের কাছে বিভিন্ন সময়ে মোট ১০ লাখ টাকা দেন। পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বাদীকে দুবাই হয়ে লিবিয়ায় পৌঁছানো হলে আজাদসহ মানব পাচার চক্রের সক্রিয় সদস্যরা তাকে জিম্মি করে লিবিয়ার অন্য একটি উগ্র পাচারকারী চক্রের কাছে বিক্রি করে দেয়। সেখানে চক্রের সদস্যরা বাদীর ওপর বর্বর শারীরিক নির্যাতন চালায় এবং মুক্তিপণ হিসেবে ১৫ লাখ টাকা দাবি করে। পরবর্তীতে নিরুপায় হয়ে বাদী তার পরিবারের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে লোন নিয়ে এবং তার স্ত্রীর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে সেই টাকা পরিশোধ করে মুক্তি পান। ভুক্তভোগী ওই ইতালি প্রবাসী পরবর্তীতে ছুটিতে বাড়িতে আসলে তার ওপর চড়াও হয় মানব পাচারকারী চক্রটি। নতুন করে তাকে আরও মোটা অঙ্কের টাকা দেওয়ার জন্য ক্রমাগত চাপ দেওয়া হতে থাকে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে চক্রের সদস্যরা তাকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারধর ও গুরুতর জখম করে। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বারবার হুমকি দিলে নিরুপায় হয়ে ভুক্তভোগী বাদী হয়ে চলতি বছর চাটখিল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোন্নাফ বলেন, ভুক্তভোগী প্রবাসীর এজাহারের ভিত্তিতে চাটখিল থানায় মামলাটি রুজু করা হয়েছিল। মানব পাচারের পর ভুক্তভোগী দেশে ছুটিতে আসলে আসামিরা তাকে মারধর ও আরও অর্থ দাবি করার অভিযোগ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, এসআরবি-১১ এর সহযোগিতায় প্রধান আসামিকে ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে গ্রেপ্তারের পর যাত্রাবাড়ী থানার মাধ্যমে আমাদের থানায় হস্তান্তর করা হয়। আজ দুপুরেই তাকে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।

নোয়াখালীর চাটখিল ও লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী কচুয়া বাজারে মাইক্রোবাসের চাপায় মেহরাজ উদ্দিন (১০) নামে চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাত পৌনে ৮টার দিকে কচুয়া বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এশার নামাজ পড়ে বাড়ি ফেরার পথে দ্রুতগতির একটি মাইক্রোবাসের চাপায় গুরুতর আহত হয় শিশুটি। পরে তাকে চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহত মেহরাজ উদ্দিন নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার বিজয়নগর এলাকার মেজবা উদ্দিন ও সারমিন আক্তার দম্পতির ছেলে। সে স্থানীয় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ত। মেহরাজের মা সারমিন আক্তার কচুয়া বাজারের আল-হেরা ইসলামি একাডেমির শিক্ষিকা। চাকরির সুবাদে তিনি সন্তানকে নিয়ে ওই এলাকায় বসবাস করতেন। চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোন্নাফ দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দুর্ঘটনাস্থল লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ থানা এলাকার আওতাধীন। চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক কার্যক্রম শেষে শিশুটির মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হবে। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে ১০৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ। পরে মুচলেকা নিয়ে তাদের পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরের দিকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন। এর আগে শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন থানায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। জেলা পুলিশ জানায়, কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা প্রতিরোধ, কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়া রোধ, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিনের নির্দেশনায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অভিযানে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে হাতিয়া থানায় ৪০ জন, বেগমগঞ্জ মডেল থানায় ৩১ জন, চরজব্বর থানায় ১০ জন, কোম্পানীগঞ্জ থানায় ৬ জন, চাটখিল থানায় ৬ জন, কবিরহাট থানায় ৪ জন, সুধারাম মডেল থানায় ৩ জন, সেনবাগ থানায় ২ জন এবং সোনাইমুড়ী থানায় ২ জন রয়েছেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন আরও বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধপ্রবণতা রোধে নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি কিশোরদের সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে অভিভাবক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সমন্বয়ে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় প্রেমের প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে রবিউল হোসেন (১৯) নামে এক তরুণের বিরুদ্ধে। শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেলে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম। এর আগে, গত সোমবার ৫ অক্টোবর রাত ১১টার দিকে উপজেলার নেওয়াজপুর ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত রবিউল হোসেন একই ইউনিয়নের ধন্যপুর গ্রামের জসিম উদ্দিনের ছেলে। ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা জানান, তার মেয়ে একসময় মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত। বর্তমানে তার লেখাপড়া বন্ধ রয়েছে। একই বাড়ির রবিউল দীর্ঘদিন ধরে তার মেয়েকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। তিনি অভিযোগ করেন, গত সোমবার রাতে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘরের বাইরে যায় তার মেয়ে। পরে বাথরুম থেকে ঘরে ফেরার সময় রবিউল তাকে রান্নাঘরে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ওই দিন বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পর তার সন্দেহ হলে মেয়ের কাছে বিষয়টি জানতে চান। তখন কিশোরী তাকে ধর্ষণের কথা জানায়। পরে তিনি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিষয়টি অবহিত করেন। এরপর অভিযুক্তের পরিবারের সদস্যরা ঘটনা অস্বীকার করেন এবং উল্টো আমাদের গালমন্দ করেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত রবিউল হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে থানায় এসেছে। এ ঘটনায় তার বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়েরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।’ তিনি বলেন, ‘কিশোরীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হবে। তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে আসামিকে ছাড়িয়ে দেওয়া এবং মামলার ধরন পরিবর্তনের কথা বলে ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে চরজব্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল হাসান ও উপপরিদর্শক (এসআই) জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, দাবিকৃত টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে আসামিদের বিরুদ্ধে গুরুতর মামলা দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। তবে ঘুষ দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওসি। জানা গেছে, উপজেলার ২ নম্বর চরবাটা ইউনিয়নের সেলিম বাজার এলাকায় এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে একই এলাকার এক যুবকের পরকীয়া সম্পর্কের অভিযোগে স্থানীয় লোকজন দুজনকে আটক করে থানায় সোপর্দ করেন। পরে আটক যুবক সিদ্দিককে ছাড়িয়ে নিতে তার ছোট ভাই ও এলাকার কয়েকজন ব্যক্তি থানায় যান। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের স্বজনরা বিষয়টি সমঝোতার মাধ্যমে নিষ্পত্তির জন্য পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। অভিযোগকারীদের দাবি, এ সময় এসআই জসিম উদ্দিন মামলাটি সাধারণ ধারায় দেওয়ার কথা বলে দুই পক্ষের কাছে মোট ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। ওই টাকার একটি অংশ পুলিশ সুপার, একটি অংশ ওসি এবং বাকি অংশ নিজের জন্য নির্ধারিত বলে তিনি উল্লেখ করেন। পরে দুই পক্ষ ৩০ হাজার টাকা দিতে রাজি হলেও ৪০ হাজার টাকার কমে হবে না বলে জানানো হয়। টাকা না দিলে মামলাটি গুরুতর করা হবে এবং জামিন পেতে সমস্যা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী নারীর ভাই বলেন, দুপক্ষই দাবিকৃত ৪০ হাজার টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তার বোনকে ওসির কক্ষে নিয়ে যুবকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করতে চাপ দেওয়া হয়। তবে তার বোন মিথ্যা মামলা করতে রাজি হননি। এ কারণে তাকে জেল খাটানোর হুমকি দেওয়া হয়েছে। ওই স্বজনের দাবি, ঘটনার দিন দুপুর ২টার দিকে সংশ্লিষ্টদের থানায় নেওয়া হলেও পরবর্তী সময়ে তাদের আদালতে পাঠাতে বিলম্ব করা হয়। তারা পুলিশকে আদালতে পাঠানোর অনুরোধ জানিয়ে সেখান থেকে জামিনের ব্যবস্থা করার কথা বলেন। পরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়। জামিনে মুক্ত হওয়ার পর ভুক্তভোগী নারী বিউটি আক্তার সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, রাত ১২টার দিকে ওসি তাকে নিজের কক্ষে ডেকে নিয়ে মোবাইল ফোনের লক খুলতে বলেন। ফোনটি পরীক্ষা করার পর তাকে উদ্দেশ করে বলা হয়, বাঁচতে চাইলে ওই যুবকের বিরুদ্ধে মামলা করতে হবে। তিনি মিথ্যা মামলা করতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে ধমক দেওয়া হয়। পরে এসআই জসিম তাকে হেফাজতে নেন। পরদিন সকালেও মামলা করার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। এদিকে আটক যুবকের ভাই মো. সোহাগ অভিযোগ করেন, সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করার কারণে তাকে থানায় ডেকে নিয়ে ওসি গালাগাল করেন এবং তাকে গ্রেপ্তারের জন্য এসআই জসিমকে নির্দেশ দেন। পরে এসআই তাকে থানা থেকে চলে যেতে বলেন। সোহাগের দাবি, তাকেও টাকা দিয়ে মামলাটি সাধারণ ধারায় নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। টাকা দিলে আদালতে পাঠানোর পর জামিন পাওয়া সহজ হবে বলে জানানো হয়েছিল। তবে চরজব্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল হাসান ঘুষ দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে এক যুবকের সম্পর্কের অভিযোগে স্থানীয় লোকজন দুজনকে থানায় সোপর্দ করেন। পরে তাদের ছাড়িয়ে নিতে একাধিক ব্যক্তি ফোন করেন। কিন্তু তাদের ছেড়ে না দিয়ে আদালতে হাজির করা হয়েছে। সুপারিশকারীদের অনুরোধ রাখা হয়নি বলেই এ ধরনের মিথ্যা অভিযোগ তোলা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
সুধারাম থানাধীন নোয়াখালী পৌরসভা ০৬নং ওয়ার্ড উজ্জলপুর সাকিনের উপজেলা অফিসের পিছনে পশ্চিম পাশে রাস্তার উপর অভিযান পরিচালনা করে মাদক ব্যবসায়ী আমিন উল্যাহ পারভেজ (২৯), পিতা-মমিন উল্যাহ ভাসানী, মাতা-বিবি মরিয়ম, সাং-উজ্জলপুর (নুনু মিয়ার বাড়ী), ০৬নং ওয়ার্ড, নোয়াখালী পৌরসভা, থানা-সুধারাম, জেলা-নোয়াখালীকে আটক করে এবং তাহার দেহ তল্লাশি করিয়া ৫৪ (চুয়ান্ন) পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেন। আসামির বিরুদ্ধে সুধারাম থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজু প্রক্রিয়াধীন

বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে শিক্ষা ও গবেষণায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশের ১০০ জন সেরা ও গুণী শিক্ষককে সম্মাননা প্রদান করেছে সরকার। এ তালিকায় স্থান অর্জন করে নিয়েছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন। সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক জমকালো অনুষ্ঠানে নির্বাচিত শিক্ষকদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিক থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতিটি স্তর থেকে সেরা ১০০ জন শিক্ষককে এই ‘গুণী শিক্ষক’ সম্মাননার জন্য মনোনীত করা হয়। সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি কৃষি, প্রকৌশল, চিকিৎসা, কারিগরি, মাদ্রাসা ও বিশেষায়িত বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথিতযশা শিক্ষকরা এ তালিকায় জায়গা পেয়েছেন। দেশের ১০০ গুণী শিক্ষকের তালিকায় নোবিপ্রবির অধ্যাপক ড. বেলাল হোসাইন ‘এক টাকার মাস্টার’ লুৎফুর রহমানকে অবসরভাতা দেবেন প্রধানমন্ত্রী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন দীর্ঘ ১২ বছরেরও বেশি সময় ধরে নোবিপ্রবির ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স বিভাগে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে শিক্ষকতা করে আসছেন। বাস্তুবিদ্যা, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ দূষণ বিষয়ক গবেষণায় আন্তর্জাতিক মহলে রয়েছে তার বিশেষ পরিচিতি। তার শিক্ষাজীবন ও গবেষণা অভিজ্ঞতা অত্যন্ত উজ্জ্বল। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সামুদ্রিক বিজ্ঞানে প্রথম শ্রেণিতে বিএসসি (অনার্স) ও একুয়াকালচারে এমএসসি ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি যুক্তরাজ্যের মর্যাদাপূর্ণ হাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর এম.এসসি ডিগ্রি লাভ করেন। পরে ২০১৪ সালে ব্রুনাই দারুসসালাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সামুদ্রিক পরিবেশবিদ্যায় পিএইচডি ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। তিনি অস্ট্রেলিয়ান মিউজিয়াম রিসার্চ ইনস্টিটিউট এবং অস্ট্রেলিয়ার গ্রিফিথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মর্যাদাপূর্ণ পোস্টডক্টরাল গবেষণা সাফল্যজনকভাবে সম্পন্ন করেছেন। নোবিপ্রবিতে শিক্ষকতার পাশাপাশি ড. বেলাল হোসেন দেশের প্রধান প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর (যেমন- ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা ও শাবিপ্রবি) শিক্ষাবিষয়ক কমিটি ও গবেষকদের পরামর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি প্রায় ৭০ জন স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীর গবেষণা তত্ত্বাবধান করেছেন। এ ছাড়া বিশ্বব্যাংক, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি), বিএআরসি (BARC) এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় থেকে ১ কোটি টাকারও বেশি অর্থমানের গবেষণা ফান্ড অর্জন করে তিনি দেশের গবেষণা খাতকে সমৃদ্ধ করেছেন। অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল হোসেন বৈশ্বিক গবেষণা জগতে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। সম্মানজনক স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও এলসেভিয়ার-এর তালিকায় ২০২৪ এবং ২০২৫ সালে টানা দুইবার বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ সেরা বিজ্ঞানীর তালিকায় স্থান অর্জন করেছেন তিনি। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমুদ্রবিজ্ঞান, জলবায়ু পরিবর্তন ও ক্ষতিকর উপাদান নিয়ে গবেষণা করে তিনি বিশ্বের শীর্ষ গবেষকদের কাতারে নিজেকে উন্নীত করেছেন। গবেষণা ও প্রকাশনায় ড. বেলাল হোসেনের সাফল্য অত্যন্ত সমৃদ্ধ। স্কোপাস (Scopus) ইনডেক্সভুক্ত আন্তর্জাতিক জার্নালে তার ২০০টিরও বেশি মানসম্পন্ন গবেষণা প্রবন্ধ এবং ১০টি বই প্রকাশিত হয়েছে। তার গবেষণাকর্ম বিশ্বজুড়ে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে, যা ৮ হাজার ৩৯৮টিরও বেশি সাইটেশন (Citations) এবং ৪৯ h-index দ্বারা প্রমাণিত। উচ্চতর গবেষণার পাশাপাশি তিনি প্রায় ২০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। সম্মাননা গ্রহণ শেষে অনুভূতি ব্যক্ত করে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন বলেন, ‘সর্বপ্রথম আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি, যিনি আমাকে এই সম্মাননা পাওয়ার সুযোগ দিয়েছেন। যারা আমার শিক্ষকতা ও গবেষণাকে মূল্যায়ন করে এই সম্মাননার জন্য নির্বাচিত করেছেন, তাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। একজন শিক্ষক হিসেবে এই স্বীকৃতি অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের, যা একই সঙ্গে আমার দায়িত্ববোধও অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে শিক্ষকের দায়িত্ব ও ভূমিকা আরও বিস্তৃত। শিক্ষার্থীরা এখন মুহূর্তেই নানা তথ্য পাচ্ছে; তাই একজন শিক্ষকের কাজ শুধু শ্রেণিকক্ষে তথ্য প্রদান বা পাঠদানে সীমাবদ্ধ নয়। শিক্ষার্থীদের সঠিকভাবে চিন্তা করতে শেখানো, জ্ঞান বিশ্লেষণ ও প্রয়োগে উৎসাহিত করা, গবেষণায় আগ্রহী করা এবং প্রযুক্তিকে ইতিবাচকভাবে ব্যবহারের দিকনির্দেশনা দেওয়াই এখন শিক্ষকের মূল কাজ।’ শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও মানবিক গুণাবলির বিকাশ ঘটানো জরুরি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শুধু একাডেমিক সাফল্য নয়, বরং একজন ভালো, সৎ, দায়িত্বশীল ও দেশপ্রেমিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য। এই সম্মাননা আমাকে ভবিষ্যতে আরও নিষ্ঠার সঙ্গে শিক্ষকতা, গবেষণা এবং শিক্ষার্থীদের উন্নয়নে কাজ করার অনুপ্রেরণা দেবে। আমার শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।’

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নে নতুন গ্যাসকূপের সন্ধান মিলেছে। কূপটিতে বর্তমানে ড্রিল স্টেম টেস্ট (ডিএসটি) চলছে। পরীক্ষা শেষ হলে গ্যাসের মজুত ও উত্তোলনযোগ্য পরিমাণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কূপটি থেকে প্রতিদিন প্রায় সাত মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হতে পারে। কূপটিতে গ্যাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)। গত ২৮ জুলাই কূপটির খননকাজ শুরু হয়। বাপেক্স সূত্রে জানা গেছে, ডিরেকশনাল ওয়েল পদ্ধতিতে এমডব্লিউডি প্রযুক্তি ব্যবহার করে কূপটি ১ হাজার ৫৭৮ মিটার গভীর পর্যন্ত খনন করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৪২০ থেকে ১ হাজার ৪৬০ মিটার গভীরতার স্তরে গ্যাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। সুন্দলপুর-৪ মূল্যায়ন কাম উন্নয়ন কূপ খনন প্রকল্পের পরিচালক মো. মোজাম্মেল হক গ্যাস পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আগামী দুই থেকে তিন দিন ডিএসটি পরীক্ষা চলবে। এরপর কূপটিতে মোট কী পরিমাণ গ্যাস মজুত রয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।’