

নোয়াখালীর চাটখিলে সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের দলিল লেখক সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনে ৭ পদে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সমর্থিতদের বিজয় হয়েছে। বাকি ৪ পদের মধ্যে ৩ পদে বিএনপি এবং ১টিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সমর্থিত প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। শনিবার (২০ জুন) সকাল ৯টা থেকে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হয়। দলিল লেখক সমিতির আহ্বায়ক ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবদুল মতিন ভোট গণনা শেষে বিকেলে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করেন। নির্বাচনে ১১টি পদের বিপরীতে মোট ২৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং সমিতির মোট ৭৯ জন ভোটারের সবাই তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত কোনো প্রার্থী ছিল না। দলিল লেখক সমিতির নির্বাচনে ৭ পদে আ.লীগ, ৩ পদে বিএনপির বিজয় ‘যারা এখন গণভোটকে সংবিধানবিরোধী বলেন তারাও হ্যাঁ ভোট দিয়েছিলেন’ দীর্ঘ ১৪ বছর পর অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে সভাপতি পদে বিএনপি সমর্থিত জি এম ওমর ফারুক এবং সাধারণ সম্পাদক পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মো. স্বপন পাটওয়ারী বিজয়ী হয়েছেন। সবশেষ ২০১২ সালে সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এর পরবর্তী সময়গুলোতে স্থানীয় এমপির ডিও লেটারে কমিটি গঠন হওয়ার কারণে কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, সভাপতি পদে জি এম ওমর ফারুক ৪৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন এবং প্রতিদ্বন্দ্বী সফিউল বাশার শেখ পেয়েছেন ৩৪ ভোট। সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে মাহবুবুল আবরার ৫০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন, যেখানে অন্য প্রার্থীদের মধ্যে দেলোয়ার হোসেন স্বপন ২১ ভোট এবং আবু জাফর ৮ ভোট পান। সহ-সভাপতি পদে মো. আবুল কালাম ৪২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন এবং প্রতিদ্বন্দ্বী শিব্বির আহমদ পেয়েছেন ৩৬ ভোট। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সাধারণ সম্পাদক পদের সাতজনের লড়াইয়ে মো. স্বপন পাটওয়ারী ২২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। এই পদে অন্য প্রার্থীদের মধ্যে আলমগীর হোসেন ১৬ ভোট, মনির হোসেন মাহী ১৪ ভোট, আনিছ আহম্মদ ১২ ভোট, সালেহ আহম্মদ ৭ ভোট, মাকছুদুর রহমান ৫ ভোট এবং মো. ইলিয়াছ কাঞ্চন ৩ ভোট পেয়েছেন। সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে মো. আবদুর রহিম ৩৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন, অন্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে রিয়াজ উদ্দিন পেয়েছেন ৩১ ভোট এবং মো. জিয়াউর রহমান পেয়েছেন ৯ ভোট। সাংগঠনিক সম্পাদক পদে মিজানুর রহমান ৪৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন এবং প্রতিদ্বন্দ্বী মো. জাবেদ আলম পেয়েছেন ৩৬ ভোট। কোষাধ্যক্ষ পদে ইমাম হোসেন মুরাদ ৩৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন, যেখানে অন্য প্রার্থীদের মধ্যে মো. ইউনুছ ২৬ ভোট এবং নাজমুল আলম কামাল ১৭ ভোট পেয়েছেন। দপ্তর সম্পাদক পদে আনিছুর রহমান সজীব ৪৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন এবং প্রতিদ্বন্দ্বী মো. নুর হোসেন পেয়েছেন ৩৩ ভোট। কার্যকরী সদস্য পদে ৫ জন প্রার্থীর মধ্যে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে প্রথম তিনজন নির্বাচিত হয়েছেন। তারা হলেন যথাক্রমে— নূরুজ্জামান (৫৪ ভোট), রহমত উল্যাহ (৪২ ভোট) এবং আবদুল মন্নান কাওয়াল (৪০ ভোট)। এই পদের অন্য দুই প্রতিদ্বন্দ্বী সিরাজুল ইসলাম ৩৯ ভোট এবং শ্রী কল্যান চক্রবর্তী ২৯ ভোট পেয়েছেন। দীর্ঘ সময় পর নির্বাচন হওয়ায় সাব-রেজিস্ট্রার অফিস প্রাঙ্গণে প্রার্থী ও সমর্থকদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়। ফলাফল ঘোষণার পর নবনির্বাচিত প্রতিনিধিরা সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটি সমিতির উন্নয়ন, দলিল লেখকদের পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি ও সাধারণ সদস্যদের স্বার্থ রক্ষায় দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।
ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনাকে কেবল মাঠের খেলা বা আনন্দ ও উল্লাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তা প্রকৃতির কল্যাণে নিয়োজিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ফুটবলপ্রেমীরা। ‘আর্জেন্টিনা ফ্যানস ফর নেচার’ নামক সংগঠনের উদ্যোগে আজ শনিবার (২০ জুন) সুবর্ণচরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও চারা বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার জন্য শুভকামনা জানিয়ে চার হাজার গাছের চারা রোপণের কর্মসূচি নিয়ে দেশব্যাপী এই আয়োজনের শুরু। কর্মসূচির অংশ হিসেবে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন জেলায় ২৬০০ গাছের চারা রোপণ ও বিতরণ করা হয়েছে। এ উপলক্ষে এদিন বিকেলে সুবর্ণচর উপজেলার গ্রিন ফিউচার স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রাঙ্গণে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন চন্দ্রকলি ফাউন্ডেশনের সভাপতি শাখাওয়াত উল্লাহ। আলোচনায় অংশ নেন- গ্রিন ফিউচার স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাডেমিক ডিরেক্টর মো. নুর নবী, সুবর্ণচর প্রেসক্লাবের সভাপতি কামাল উদ্দিন। অনুষ্ঠানে আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের দুই শতাধিক সমর্থকের মধ্যে সর্বোচ্চ ১০টি করে ফলদ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হয়। সংগঠকরা জানান, বিশ্বকাপ উন্মাদনার ইতিবাচক জোয়ারকে কাজে লাগিয়ে তারা তরুণ প্রজন্মকে পরিবেশ সচেতন করে তুলতে চান। প্রকৃতি ও গাছের সঙ্গে মিশে থেকে মানুষের মনোবল বৃদ্ধি ও পরিবেশকে আরও মনোরম করে তোলাই এই কর্মসূচির লক্ষ্য। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশকে সবুজে সাজিয়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন সমর্থকেরা। কর্মসূচিতে ৫০টি ভিন্ন প্রজাতির এক হাজার গাছের চারা বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে আম, জাম, কাঁঠাল, নারকেল, ডেউয়া, গোলাপজাম, কাঠ বাদাম, বক্স বাদাম, চাপালিশ, মহুয়া, শজনে, জারুল, কৃষ্ণচূড়া, সোনালু, বহেরা, অর্জুন, আমলকী, ডালিম, বেল ও ঔষধি গুণের নিমগাছ। সংগঠনের নিয়ম অনুযায়ী, প্রত্যেকে সর্বোচ্চ ১০টি করে চারা সংগ্রহ করতে পারছেন। কমপক্ষে ২০০ সমর্থকের মধ্যে এই চারা বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন চন্দ্রকলির পক্ষ থেকে জানানো হয়, কেবল বিশ্বকাপ নয়, তারা যে কোনো সামাজিক ও পারিবারিক অনুষ্ঠানেও গাছ লাগাতে উদ্বুদ্ধ করে, যেমন বিয়ে, জন্মদিন কিংবা কারও মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মারক বৃক্ষরোপণ। এমনকি মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জন্ম নেওয়া শিশুদের পরিবারকে গত পাঁচ বছরে তারা প্রায় দুই হাজার চারা উপহার দিয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে তারা তালিকা তৈরি করে রাখে এবং বর্ষা আসা মাত্রই সেসব চারা বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে চন্দ্রকলির সভাপতি শাখাওয়াত উল্লাহ ঘোষণা দেন, আর্জেন্টিনা যদি এবারের বিশ্বকাপ জেতে, তবে দেশজুড়ে তার সংগঠনের উদ্যোগে আরও ৪০ হাজার গাছের চারা রোপণ করা হবে।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আগামী পাঁচ দিন বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণও হতে পারে। আজ শুক্রবার (১৯ জুন) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, শনিবার (২০ জুন) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী ও ঢাকা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে। এদিন দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে, তবে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। রবিবার (২১ জুন) রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও ভারি বর্ষণ হতে পারে। এদিন দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। সোমবার (২২ জুন) রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে। এ সময় দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে। এদিন দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে, তবে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, পরবর্তী বর্ধিত পাঁচ দিনেও বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। লঘুচাপের বর্ধিতাংশ গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এ অবস্থায় মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরের অন্যত্র দুর্বল থেকে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।

নোয়াখালীর চাটখিলে মোটরের তারে স্পর্শে মা ও ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুর সোয়া ১টার দিকে চাটখিল পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ছয়ানী টবগা গ্রামের মুনছুর মেম্বারের বাড়িতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- ছয়ানী টবগা গ্রামের খোকন চন্দ্র ঘোষের স্ত্রী অঞ্জনা রানী ঘোষ (৩৫) এবং তার ছেলে রাহুল (৮)। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুলাল চন্দ্র ঘোষসহ একাধিক মালিকানাধীন একটি পুকুর থেকে মোটর দিয়ে পানি সেচ করা হচ্ছিল। এ সময় রাহুল মোটরের তার স্পর্শ করলে বিদ্যুতায়িত হয়। ছেলেকে উদ্ধার করতে গিয়ে তার মা অঞ্জনা রানী ঘোষও বিদ্যুতায়িত হন। এতে ঘটনাস্থলেই মা-ছেলের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোন্নাফ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নোয়াখালীর চাটখিলে পুকুরে গোসলে নেমে পানিতে ডুবে দুই বোনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২০ জুন) বিকেলে উপজেলার রামনারায়ণপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আজম উদ্দিনের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলো- ওই এলাকার আব্দুল মান্নানের দুই মেয়ে রোকেয়া (৯) ও রহিমা (৭)। স্থানীয় সূত্র জানায়, বসতঘরের পাশে পুকুরে গোসল করতে যায় দুই বোন। একপর্যায়ে ছোট বোন রহিমা ঘাট থেকে পা পিছলে পানিতে পড়ে যায়। তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে বড় বোন রোকেয়াও পানিতে ডুবে যায়। দীর্ঘ সময় তাদের কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

নোয়াখালীর চাটখিলে সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের দলিল লেখক সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনে ৭ পদে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সমর্থিতদের বিজয় হয়েছে। বাকি ৪ পদের মধ্যে ৩ পদে বিএনপি এবং ১টিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সমর্থিত প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। শনিবার (২০ জুন) সকাল ৯টা থেকে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হয়। দলিল লেখক সমিতির আহ্বায়ক ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবদুল মতিন ভোট গণনা শেষে বিকেলে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করেন। নির্বাচনে ১১টি পদের বিপরীতে মোট ২৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং সমিতির মোট ৭৯ জন ভোটারের সবাই তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত কোনো প্রার্থী ছিল না। দলিল লেখক সমিতির নির্বাচনে ৭ পদে আ.লীগ, ৩ পদে বিএনপির বিজয় ‘যারা এখন গণভোটকে সংবিধানবিরোধী বলেন তারাও হ্যাঁ ভোট দিয়েছিলেন’ দীর্ঘ ১৪ বছর পর অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে সভাপতি পদে বিএনপি সমর্থিত জি এম ওমর ফারুক এবং সাধারণ সম্পাদক পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মো. স্বপন পাটওয়ারী বিজয়ী হয়েছেন। সবশেষ ২০১২ সালে সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এর পরবর্তী সময়গুলোতে স্থানীয় এমপির ডিও লেটারে কমিটি গঠন হওয়ার কারণে কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, সভাপতি পদে জি এম ওমর ফারুক ৪৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন এবং প্রতিদ্বন্দ্বী সফিউল বাশার শেখ পেয়েছেন ৩৪ ভোট। সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে মাহবুবুল আবরার ৫০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন, যেখানে অন্য প্রার্থীদের মধ্যে দেলোয়ার হোসেন স্বপন ২১ ভোট এবং আবু জাফর ৮ ভোট পান। সহ-সভাপতি পদে মো. আবুল কালাম ৪২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন এবং প্রতিদ্বন্দ্বী শিব্বির আহমদ পেয়েছেন ৩৬ ভোট। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সাধারণ সম্পাদক পদের সাতজনের লড়াইয়ে মো. স্বপন পাটওয়ারী ২২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। এই পদে অন্য প্রার্থীদের মধ্যে আলমগীর হোসেন ১৬ ভোট, মনির হোসেন মাহী ১৪ ভোট, আনিছ আহম্মদ ১২ ভোট, সালেহ আহম্মদ ৭ ভোট, মাকছুদুর রহমান ৫ ভোট এবং মো. ইলিয়াছ কাঞ্চন ৩ ভোট পেয়েছেন। সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে মো. আবদুর রহিম ৩৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন, অন্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে রিয়াজ উদ্দিন পেয়েছেন ৩১ ভোট এবং মো. জিয়াউর রহমান পেয়েছেন ৯ ভোট। সাংগঠনিক সম্পাদক পদে মিজানুর রহমান ৪৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন এবং প্রতিদ্বন্দ্বী মো. জাবেদ আলম পেয়েছেন ৩৬ ভোট। কোষাধ্যক্ষ পদে ইমাম হোসেন মুরাদ ৩৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন, যেখানে অন্য প্রার্থীদের মধ্যে মো. ইউনুছ ২৬ ভোট এবং নাজমুল আলম কামাল ১৭ ভোট পেয়েছেন। দপ্তর সম্পাদক পদে আনিছুর রহমান সজীব ৪৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন এবং প্রতিদ্বন্দ্বী মো. নুর হোসেন পেয়েছেন ৩৩ ভোট। কার্যকরী সদস্য পদে ৫ জন প্রার্থীর মধ্যে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে প্রথম তিনজন নির্বাচিত হয়েছেন। তারা হলেন যথাক্রমে— নূরুজ্জামান (৫৪ ভোট), রহমত উল্যাহ (৪২ ভোট) এবং আবদুল মন্নান কাওয়াল (৪০ ভোট)। এই পদের অন্য দুই প্রতিদ্বন্দ্বী সিরাজুল ইসলাম ৩৯ ভোট এবং শ্রী কল্যান চক্রবর্তী ২৯ ভোট পেয়েছেন। দীর্ঘ সময় পর নির্বাচন হওয়ায় সাব-রেজিস্ট্রার অফিস প্রাঙ্গণে প্রার্থী ও সমর্থকদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়। ফলাফল ঘোষণার পর নবনির্বাচিত প্রতিনিধিরা সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটি সমিতির উন্নয়ন, দলিল লেখকদের পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি ও সাধারণ সদস্যদের স্বার্থ রক্ষায় দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।
ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনাকে কেবল মাঠের খেলা বা আনন্দ ও উল্লাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তা প্রকৃতির কল্যাণে নিয়োজিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ফুটবলপ্রেমীরা। ‘আর্জেন্টিনা ফ্যানস ফর নেচার’ নামক সংগঠনের উদ্যোগে আজ শনিবার (২০ জুন) সুবর্ণচরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও চারা বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার জন্য শুভকামনা জানিয়ে চার হাজার গাছের চারা রোপণের কর্মসূচি নিয়ে দেশব্যাপী এই আয়োজনের শুরু। কর্মসূচির অংশ হিসেবে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন জেলায় ২৬০০ গাছের চারা রোপণ ও বিতরণ করা হয়েছে। এ উপলক্ষে এদিন বিকেলে সুবর্ণচর উপজেলার গ্রিন ফিউচার স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রাঙ্গণে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন চন্দ্রকলি ফাউন্ডেশনের সভাপতি শাখাওয়াত উল্লাহ। আলোচনায় অংশ নেন- গ্রিন ফিউচার স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাডেমিক ডিরেক্টর মো. নুর নবী, সুবর্ণচর প্রেসক্লাবের সভাপতি কামাল উদ্দিন। অনুষ্ঠানে আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের দুই শতাধিক সমর্থকের মধ্যে সর্বোচ্চ ১০টি করে ফলদ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হয়। সংগঠকরা জানান, বিশ্বকাপ উন্মাদনার ইতিবাচক জোয়ারকে কাজে লাগিয়ে তারা তরুণ প্রজন্মকে পরিবেশ সচেতন করে তুলতে চান। প্রকৃতি ও গাছের সঙ্গে মিশে থেকে মানুষের মনোবল বৃদ্ধি ও পরিবেশকে আরও মনোরম করে তোলাই এই কর্মসূচির লক্ষ্য। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশকে সবুজে সাজিয়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন সমর্থকেরা। কর্মসূচিতে ৫০টি ভিন্ন প্রজাতির এক হাজার গাছের চারা বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে আম, জাম, কাঁঠাল, নারকেল, ডেউয়া, গোলাপজাম, কাঠ বাদাম, বক্স বাদাম, চাপালিশ, মহুয়া, শজনে, জারুল, কৃষ্ণচূড়া, সোনালু, বহেরা, অর্জুন, আমলকী, ডালিম, বেল ও ঔষধি গুণের নিমগাছ। সংগঠনের নিয়ম অনুযায়ী, প্রত্যেকে সর্বোচ্চ ১০টি করে চারা সংগ্রহ করতে পারছেন। কমপক্ষে ২০০ সমর্থকের মধ্যে এই চারা বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন চন্দ্রকলির পক্ষ থেকে জানানো হয়, কেবল বিশ্বকাপ নয়, তারা যে কোনো সামাজিক ও পারিবারিক অনুষ্ঠানেও গাছ লাগাতে উদ্বুদ্ধ করে, যেমন বিয়ে, জন্মদিন কিংবা কারও মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মারক বৃক্ষরোপণ। এমনকি মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জন্ম নেওয়া শিশুদের পরিবারকে গত পাঁচ বছরে তারা প্রায় দুই হাজার চারা উপহার দিয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে তারা তালিকা তৈরি করে রাখে এবং বর্ষা আসা মাত্রই সেসব চারা বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে চন্দ্রকলির সভাপতি শাখাওয়াত উল্লাহ ঘোষণা দেন, আর্জেন্টিনা যদি এবারের বিশ্বকাপ জেতে, তবে দেশজুড়ে তার সংগঠনের উদ্যোগে আরও ৪০ হাজার গাছের চারা রোপণ করা হবে।

বাবা শব্দটি ছোট, তবে এর অর্থ অনেক বিস্তৃত। বাবা শব্দের মাঝেই জড়িয়ে আছে ভালোবাসা, মায়া, নির্ভরতা। আর তাই প্রত্যেক বাবাকে শ্রদ্ধা জানাতে প্রতি বছর জুন মাসের তৃতীয় রোববার বিশ্বব্যাপী পালন করা হয় ‘বিশ্ব বাবা দিবস’। আজ রোববার (২১ জুন) বিশ্ব বাবা দিবস। সন্তানের জীবনে শক্তি, সাহস ও নির্ভরতার প্রতীক বাবাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানাতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে দিনটি। একজন বাবা শুধু পরিবারের উপার্জনকারী নন, তিনি সন্তানের প্রথম শিক্ষক, প্রথম নায়ক এবং জীবনের কঠিন সময়ে সবচেয়ে বড় আশ্রয়। নিজের স্বপ্ন, ইচ্ছা ও আরাম বিসর্জন দিয়ে সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার নেপথ্য কারিগর এই মানুষটিই। মায়ের ভালোবাসা প্রকাশ্য, দৃশ্যমান। কিন্তু বাবার ভালোবাসা অনেকটা নদীর গভীর স্রোতের মতো— নিঃশব্দ, অথচ প্রবল। তিনি হয়তো খুব কম বলেন, কিন্তু প্রতিটি সিদ্ধান্ত, প্রতিটি পরিশ্রম, প্রতিটি দুশ্চিন্তার ভেতর লুকিয়ে থাকে পরিবারের প্রতি অসীম দায়িত্ববোধ। বিশ্ব বাবা দিবসের সূচনা যুক্তরাষ্ট্রে। বাবা দিবসকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দিতে অগ্রণী ভূমিকা রয়েছে সনোরা স্মার্ট ডড নামে এক নারীর। ১৯০৯ সালের আগে ওয়াশিংটনে বাবা দিবস বলে কোনও বিশেষ দিন ছিল না। সে সময় স্থানীয় গির্জায় ডড মা দিবস পালনের কথা শোনেন। মা দিবস পালনের রীতি রয়েছে কিন্তু বাবা দিবস পালনের রীতি নেই জেনে তিনি ভীষণ অবাক হন। তারপর তিনি বাবা দিবসের স্বীকৃতির জন্য সোচ্চার হয়ে ওঠেন। ডড তার বাবাকে অসম্ভব ভালোবাসতেন। মা ছিল না তার। মায়ের মৃত্যুর পর শত দুঃখ-কষ্টের মধ্যে থেকেও তাদের সাত ভাইবোনকে বড় করে তুলেছিলেন তাদের সিঙ্গেল বাবা। বাবার এই ত্যাগ দেখে ডডের মনে হলো, মা দিবসের এত আয়োজন হলে বাবা দিবস কেন বাদ থাকবে। বাবাকে সম্মান জানানোর জন্যও একটা দিন থাকা দরকার। তারপর অনেক চেষ্টা করে দীর্ঘ এক বছরের সাধনায় স্থানীয় কমিউনিটিগুলোতে বাবা দিবস পালন করতে পারেন ডড। ১৯১০ সালের ১৯ জুন বিশ্বে প্রথমবারের মতো পালিত হয় বাবা দিবস। বিশেষ এই দিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাবাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ, শুভেচ্ছা ও ভালোবাসার বার্তায় ভরে উঠেছে মানুষের টাইমলাইন। কেউ তুলে ধরছেন বাবার সংগ্রামের গল্প, কেউ আবার জানাচ্ছেন কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাবাকে নিয়ে ছবি, স্মৃতি আর আবেগঘন কথার ভিড়ে হয়তো অনেকেই বাবাকে নতুন করে ভাবছেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো— আমরা কি সত্যিই বাবাকে বুঝতে পারি? সংসারের সবচেয়ে নির্ভরতার মানুষটিকে আমরা কতটা দেখি? বাংলা সমাজে বাবাদের একটি অদ্ভুত চরিত্র দেখা যায়। তারা নিজের কষ্ট খুব কমই প্রকাশ করেন। সংসারের বাজার, সন্তানের পড়াশোনা, ভবিষ্যতের চিন্তা, চিকিৎসা কিংবা সামাজিক দায়িত্ব— সবকিছু নিজের কাঁধে নিয়ে নীরবে চলতে থাকেন। অনেক সময় পরিবারের মানুষ বুঝতেও পারেন না, একজন বাবা কতটা চাপের মধ্যে দিন কাটান। আমাদের আশপাশে এমন অসংখ্য বাবা আছেন, যারা নিজের ইচ্ছা-স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে সন্তানের স্বপ্ন গড়ে তুলেছেন। হয়তো নিজের জন্য নতুন পোশাক কেনেননি, কিন্তু সন্তানের বই কিনতে কার্পণ্য করেননি। হয়তো নিজের চিকিৎসা পিছিয়ে দিয়েছেন, কিন্তু সন্তানের কোচিং ফি ঠিকই দিয়েছেন। এই আত্মত্যাগের হিসাব কোনো দিন লেখা হয় না। বাবাদের আবেগ নিয়ে আমাদের সমাজে এক ধরনের নীরব নিষেধাজ্ঞাও আছে। ছোটোবেলা থেকেই তাদের শেখানো হয়— পুরুষ মানুষ কাঁদে না। ফলে একজন বাবা নিজের ভয়, ব্যর্থতা কিংবা মানসিক ক্লান্তি কাউকে বলতে পারেন না। সংসারের সামনে তাকে সব সময় দৃঢ় থাকতে হয়। অথচ তিনিও মানুষ। তারও ক্লান্তি আছে, ভাঙন আছে, না বলা কষ্ট আছে। একসময় পরিবারে সন্ধ্যার আড্ডা ছিল, একসঙ্গে খাওয়ার অভ্যাস ছিল। এখন সবাই ব্যস্ত নিজের স্ক্রিনে। ফলে বাবার নীরব উপস্থিতিটাও অনেক সময় অদৃশ্য হয়ে যায়। বিশ্ব বাবা দিবস তাই কেবল আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছার দিন নয়; এটি একজন বাবার নীরব অবদানকে স্বীকার করার দিন। যে মানুষটি হয়তো কখনও বলেননি ‘আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি, কিন্তু প্রতিটি কাজে তা প্রমাণ করেছেন। আমাদের সমাজে বাবা-মাকে নিয়ে আবেগ প্রকাশের সংস্কৃতি খুব বেশি নেই। বিশেষ করে বাবার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতে অনেকেই সংকোচবোধ করেন। অথচ একটি ফোনকল, একটি ধন্যবাদ, কিংবা পাশে বসে কিছু সময় কাটানো— এগুলোই একজন বাবার জন্য সবচেয়ে বড় উপহার হতে পারে। যাদের বাবা বেঁচে আছেন, তারা হয়তো আজ একটু সময় দিতে পারেন। বাবার সঙ্গে বসে কথা বলতে পারেন, জানতে পারেন তিনি কেমন আছেন। আর যাদের বাবা নেই, তাদের জন্য দিনটি স্মৃতির। হয়তো পুরোনো কোনো ছবি, কোনো উপদেশ কিংবা শৈশবের কোনো মুহূর্ত আজ নতুন করে মনে পড়বে। বাবারা সাধারণত জীবনের শেষ বয়সে সবচেয়ে বেশি একাকী হয়ে পড়েন। সন্তান বড় হয়ে ব্যস্ত হয়ে যায়, সংসারের ব্যস্ততা বাড়ে। কিন্তু যে মানুষটি একসময় পুরো পরিবারকে আগলে রেখেছিলেন, তিনিই ধীরে ধীরে নীরব হয়ে যান। এই বাস্তবতা আমাদের ভাবায়। বিশ্ব বাবা দিবসে তাই শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট নয়, প্রয়োজন সম্পর্কের পুনর্জাগরণ। বাবাকে বোঝা, তার ক্লান্তি উপলব্ধি করা, তার নীরব ভালোবাসাকে সম্মান করা— এটাই হোক আজকের প্রতিজ্ঞা। কারণ পৃথিবীর অনেক সম্পর্ক শব্দে প্রকাশ পায়, কিন্তু বাবার ভালোবাসা প্রকাশ পায় দায়িত্বে। আর সেই দায়িত্বের ভেতরেই লুকিয়ে থাকে এক অনন্ত ভালোবাসার গল্প।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আগামী পাঁচ দিন বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণও হতে পারে। আজ শুক্রবার (১৯ জুন) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, শনিবার (২০ জুন) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী ও ঢাকা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে। এদিন দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে, তবে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। রবিবার (২১ জুন) রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও ভারি বর্ষণ হতে পারে। এদিন দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। সোমবার (২২ জুন) রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে। এ সময় দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে। এদিন দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে, তবে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, পরবর্তী বর্ধিত পাঁচ দিনেও বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। লঘুচাপের বর্ধিতাংশ গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এ অবস্থায় মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরের অন্যত্র দুর্বল থেকে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।

নোয়াখালীর চাটখিলে মোটরের তারে স্পর্শে মা ও ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুর সোয়া ১টার দিকে চাটখিল পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ছয়ানী টবগা গ্রামের মুনছুর মেম্বারের বাড়িতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- ছয়ানী টবগা গ্রামের খোকন চন্দ্র ঘোষের স্ত্রী অঞ্জনা রানী ঘোষ (৩৫) এবং তার ছেলে রাহুল (৮)। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুলাল চন্দ্র ঘোষসহ একাধিক মালিকানাধীন একটি পুকুর থেকে মোটর দিয়ে পানি সেচ করা হচ্ছিল। এ সময় রাহুল মোটরের তার স্পর্শ করলে বিদ্যুতায়িত হয়। ছেলেকে উদ্ধার করতে গিয়ে তার মা অঞ্জনা রানী ঘোষও বিদ্যুতায়িত হন। এতে ঘটনাস্থলেই মা-ছেলের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোন্নাফ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নোয়াখালীতে মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ। শুক্রবার (১৯ জুন) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন নোয়াখালী পুলিশ সুপার (এসপি) এন এম নাসিরুদ্দিন। তিনি বলেন, ফেসবুকের কতিপয় আইডি থেকে ‘নিষিদ্ধ দলের রাজকীয় প্রত্যাবর্তনের দাবিতে নোয়াখালীর আপামর জনতা পবিত্র জুমার নামাজের পর স্বতঃস্ফূর্তভাবে মাঠে নেমে গেছে’ শিরোনামে একটি ভিডিও ও কয়েকটি স্থিরচিত্র প্রচার করা হচ্ছে। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে দেখা গেছে, প্রচারিত তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর। শুক্রবার নোয়াখালী জেলায় এ ধরনের কোনো মিছিল বা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়নি। জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল জানিয়েছে, প্রচারিত ভিডিও ও ছবিগুলো বর্তমান সময়ের নয়। এগুলো অনেক আগে ধারণ করা ভিডিও ও স্থিরচিত্র থেকে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ভিডিওতে ব্যবহৃত স্লোগানও সম্পাদনার (এডিটিং) মাধ্যমে সংযোজন করা হয়েছে। যা জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশে প্রচার করা হচ্ছে। এসপি এন এম নাসিরুদ্দিন আরও বলেন, ভুয়া, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের সঙ্গে জড়িত আইডিগুলো শনাক্ত করা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

পবিত্র হজ পালন শেষে সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে ফিরতে শুরু করেছেন হজযাত্রীরা। শুক্রবার (২০ জুন) পর্যন্ত ১৫৬টি ফিরতি ফ্লাইটে দেশে ফিরেছেন ৬১ হাজার ৬৯৭ জন হাজি। হজ অফিসের তথ্য অনুযায়ী, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ৭৮টি, সৌদিয়া এয়ারলাইন্স ৫৬টি এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স ২২টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে। একই সঙ্গে চলতি হজ মৌসুমে সৌদি আরবে ৫৪ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে হজ অফিস। হজ অফিস জানায়, সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৩১৯ জন এবং বেসরকারি ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে ৫৭ হাজার ৩৭৮ জন হাজি দেশে ফিরেছেন। এয়ারলাইন্সভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ৭৮টি ফ্লাইটে ২৭ হাজার ৩৬৩ জন, সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের ৫৬টি ফ্লাইটে ২১ হাজার ৬৫২ জন, ফ্লাইনাসের ২২টি ফ্লাইটে ৮ হাজার ৬৭২ জন এবং অন্যান্য এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে ৪ হাজার ১০ জন হাজি দেশে ফিরেছেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বাকি হাজিরা নির্ধারিত এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে দেশে ফিরবেন। এদিকে চলতি হজ মৌসুমে সৌদি আরবে ৩৬ জন পুরুষ ও ১৮ জন নারীসহ ৫৪ জন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে মক্কায় ৩৭ জন, মদিনায় ১৬ জন এবং জেদ্দায় একজন মৃত্যুবরণ করেন। তবে মিনা বা মুজদালিফায় কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। হজ বুলেটিন অনুযায়ী, ৪১৫ জন বাংলাদেশি হাজি সৌদি আরবের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন এবং ১১ জন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। সৌদি মেডিকেল সেন্টারগুলো ৬৬ হাজার ২৪৯ জন হাজিকে স্বাস্থ্যসেবা দিয়েছে এবং মক্কা ও মদিনার আইটি হেল্প ডেস্ক ২৮ হাজার ১৯৮ জন হাজিকে বিভিন্ন তথ্য ও সেবা দিয়ে সহায়তা করেছে। গত ১৮ এপ্রিল প্রথম বহির্গামী ফ্লাইটের মাধ্যমে চলতি বছরের হজ পরিবহন কার্যক্রম শুরু হয় এবং ২১ মে প্রাক-হজ ফ্লাইট সম্পন্ন হয়। চলতি বছরের ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হয়। হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ৩০ মে থেকে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হয় এবং তা আগামী ১ জুলাই পর্যন্ত চলবে। হজ অফিসের তথ্য মতে, এবার বাংলাদেশের জন্য সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯৩৫ জনসহ মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজযাত্রীর কোটা বরাদ্দ ছিল।

বিশ্বকাপে ব্রাজিলের হয়ে প্রথমবার শুরুর একাদশে খেলার সুযোগ পেয়েই মুহূর্তটি দারুণভাবে কাজে লাগালেন ম্যাথিউস কুনহা। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই স্ট্রাইকার হাইতির বিপক্ষে ম্যাচে দুটি গোল করেন এবং উদযাপন দিয়ে সবার নজর কাড়েন। সার্ফবোর্ডে সার্ফিং করার ভঙ্গিতে গোল উদযাপন করতে দেখা গেছে তাকে। খুব বেশি মানুষের সম্ভবত জানা নেই যে, এই ভঙ্গির উৎস এসেছে ফুটবলের গণ্ডি ছাড়িয়ে যাওয়া একটি আবেগ থেকে। মাঠের বাইরে কুনিয়ার সার্ফিংয়ের সাথে একটি ভালো সংযোগ রয়েছে। এই খেলা শখ হিসেবে শুরু হলেও ধীরে ধীরে তার অবসরের রুটিনে জায়গা করে নিয়েছে। এমনকি ব্রাজিলিয়ান সার্ফিংয়ের ইতিহাসের অন্যতম সেরা নাম ইতালো ফেরেরার সাথেও এই খেলোয়াড়ের দারুণ বন্ধুত্ব রয়েছে। কুনহা একবার বলেছিলেন যে, রিও গ্রান্দে দো নর্তে সফরের সময় তিনি প্রথম সার্ফিংয়ের সংস্পর্শে আসেন। সেখানে তিনি স্থানীয় সার্ফারদের সাথে পরিচিত হন এবং ইতালোর ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। এই অভিজ্ঞতা তার মাঝে এমন এক আবেগ জাগিয়ে তোলে যা দ্রুত একটি অভ্যাসে পরিণত হয় এবং ইংল্যান্ডে যাওয়ার পরও তার দৈনন্দিন রুটিনের অংশ হিসেবে থেকে যায়। ইউরোপে বসবাস করার পরও কীভাবে তিনি এই সার্ফিংয়ের অভ্যাস বজায় রাখেন, সেটিও তিনি ব্যাখ্যা করেছেন—ইংল্যান্ডের ব্রিস্টলে আর্টিফিশিয়াল ওয়েভ স্ট্রাকচার সার্ফিং করার জন্য তিনি তার ছুটির সময়কে কাজে লাগান। তিনি বলেন, ‘সার্ফিং আমার জীবনে এসেছিল অবসর ও বিনোদনের একটি মুহূর্তে। আমি রিও গ্রান্দে দো নর্তের বাইয়া ফর্মোসায় কয়েক দিনের ছুটিতে ছিলাম এবং সেখানে কিছু সার্ফারের সাথে দেখা করার সৌভাগ্য হয়েছিল। তখন থেকেই এই খেলার প্রতি আমার আগ্রহ জন্মায় এবং যখনই অবসর সময় পাই, এটি অনুশীলন করার চেষ্টা করি।’ ফিলাডেলফিয়াতে তো ইতালোকে উদ্দেশ্য করেই উদযাপন করলেন। তার এই বন্ধুও সাড়া দিয়েছেন। কুনহাকে তার কাছে ঋণী থাকা উচিত মনে করিয়ে তিনি বলেছেন, ‘তার কাছে আমার একটি সার্ফবোর্ড পাওনা থাকল।’

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ছয়ানী ইউনিয়নে তৈয়বপুর মেস্তরী বাড়ির বসতবাড়িতে সন্ত্রাসী হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার পর বেগমগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ দিতে বলেন। গতকাল বেলা ৬ টায় ওই ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের মেস্তরী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগে ভুক্তভোগী আবদুর রহিম জানান, গতকাল সন্ধায় ফাহাদ,সুমন, ছালেহা, ইয়াসমিন, ইসমাইল হোসেন জুয়েলের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী আমাদের বসত ঘরে এসে হুমকি দিয়ে যায়। পরে সন্ধায় ফাহাদ, সুমনের নেতৃত্বে ১৫-২০ জন লোক বাড়িতে ব্যাপক হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এ সময় তারা নগদ টাকা ও অন্যান্য মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। হামলাকারীরা ঘরে থাকা নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবার দ্রব্যাদি সম্পূর্ণ নষ্ট করে ফেলে। ঘরে থাকা মহিলাদের গায়ে হাত দেয় এবং নানা অশ্লীল আচরণ করে। খতিজা বেগম জানান,ফাহাদ নামের সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আমার বাম হাতে আঘাত করে এবং আমার বুকে পিঠে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে। পরবর্তীতে বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি হয়। উক্ত ঘটনায় বাদি হয়ে আবদুর রহিম নোয়াখালী ০৩ নং আমলী আদালতে সি আর মামলা দায়ের করেন।ছয়ানী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জামাল বলেন, সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত থাকলে তার দায় কেউ নেবে না। বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বেগমগঞ্জ থানার (ওসি) জানান, ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নোয়াখালীর সেনবাগে একটি বিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে দুই ছাত্রীকে প্রেমের প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগে তিন কিশোরকে থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। একই ঘটনায় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে দুই ছাত্রীকে বহিষ্কার করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।বুধবার (১৭ জুন) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার কাদরা ইউনিয়নের চাঁদপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।থানায় সোপর্দ করা তিন কিশোর হলেন, কাদরা ইউনিয়নের খলিফা পাড়ার মো.সোলেমানের ছেলে মেহেদী হাসান দুলাল (১৮), একই এলাকার নুরুজ্জামানের ছেলে আবু ইউসুফ ফাহিম (১৮) এবং সেনবাগ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাতানিয়া মিজি বাড়ির শহীদুল ইসলামের ছেলে মাহফুজুল ইসলাম (১৮)। অপরদিকে বহিষ্কৃত দুই ছাত্রী হলেন, চাঁদপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী সমিতা ইসলাম (১৪) ও সুমাইয়া আক্তার প্রীতি (১৪)।বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল পৌনে ১০টার দিকে বহিরাগত দুলাল, ফাহিম ও মাহফুজুল বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। এ সময় তারা অষ্টম শ্রেণির দুই ছাত্রীর কাছে চকলেট দেন, যার গায়ে ‘আই লাভ ইউ’ লেখা ছিল। বিষয়টি বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষার্থীদের নজরে এলে তারা তিন কিশোর ও দুই ছাত্রীকে আটক করে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে নিয়ে যায়। পরে প্রধান শিক্ষক তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য মোবাইল নম্বর চাইলে তারা তা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। একপর্যায়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তিন কিশোরকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে এবং দুই ছাত্রীকে বহিষ্কার করে।চাঁদপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুক্তার হোসেন ইকবাল বলেন, শিক্ষার্থীরা তাদের আটক করে আমার অফিসে নিয়ে আসে। আমি অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তারা অভিভাবকদের নম্বর দিতে রাজি হয়নি। পরে বহিরাগত তিনজনকে থানায় সোপর্দ করা হয়। এছাড়া শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে দুই ছাত্রীকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে এলাকার অনেক শিক্ষার্থী সন্ধ্যা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত দোকানে আড্ডা দেয় এবং কেউ কেউ মাদকের সঙ্গেও জড়িয়ে পড়ছে। এ বিষয়ে অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন।সেনবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুস সালাম বলেন, বিদ্যালয়ে তাদের আটক করা হয়েছিল। খবর পেয়ে পুলিশ তাদের থানায় নিয়ে আসে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত আছেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ২০তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে ডিনস অ্যাওয়ার্ড-২০২৬ এর জন্য সাতটি অনুষদের মোট ২২ জন শিক্ষার্থী চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। আগামী ২২ জুন বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের অনুষ্ঠানে তাদের হাতে এ সম্মাননা তুলে দেওয়া হবে।বুধবার (১৭ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ সেল অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্তদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করে। প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, ২০১৯-২০ ও ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান, বিজনেস স্টাডিজ, বিজ্ঞান, আইন, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি, জীববিজ্ঞান এবং শিক্ষা বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থীরা এ সম্মাননার জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। প্রতিবছর অনুষদভিত্তিক সর্বোচ্চ একাডেমিক সাফল্যের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের এ স্বীকৃতি দেওয়া হয়।বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের নাহিন সুলতানা লিজা ও হৃদয় বণিক এবং ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (আইসিই) বিভাগের নিলয় দাস ডিনস অ্যাওয়ার্ডের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন।একই শিক্ষাবর্ষে বিজনেস স্টাডিজ অনুষদে ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের নাফিসা জান্নাতুল মাওয়া, ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের সাদিউল আলম চৌধুরী এবং ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের আমরান হোসাইন নির্বাচিত হয়েছেন।জীববিজ্ঞান অনুষদে অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের মো. রকিবুল হাসান, ফার্মেসি বিভাগের ফজলে রাব্বী শুভ এবং বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকিউলার বায়োলজি বিভাগের সুকন্যা সাহা এ সম্মাননার জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। আইন অনুষদে আইন বিভাগের মো. মুবদি ইসলাম ডিনস অ্যাওয়ার্ড পাচ্ছেন।বিজ্ঞান অনুষদে পরিসংখ্যান বিভাগের ইশরাত জাহান, সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের মনিকা ধর ও নাদিয়া জাহান নির্বাচিত হয়েছেন। কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে ইনফরমেশন সায়েন্স অ্যান্ড লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ইশরাত জাহান ইভা, সমাজকর্ম বিভাগের সাদিয়া সুলতানা এবং অর্থনীতি বিভাগের কামরুন নাহার এ স্বীকৃতির জন্য নির্বাচিত হয়েছেন।২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষা বিজ্ঞান অনুষদে এডুকেশন বিভাগের রাহনুমা নূরাইন ও আরাফাত উল্লাহ আরমান এবং এডুকেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের হাফসা আক্তার ডিনস অ্যাওয়ার্ডের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। একই শিক্ষাবর্ষে বিজনেস স্টাডিজ অনুষদে ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের মারিয়া তাবাসসুম, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের আয়েশা সিদ্দিকা এবং ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের ডালিয়া রানী শর্মা এ সম্মাননার জন্য নির্বাচিত হয়েছেন।এ বিষয়ে নোবিপ্রবির উপ-উপাচার্য ও রিসার্চ সেলের পরিচালক ড. শফিকুল ইসলাম বলেন, “এবার সাতটি অনুষদের মোট ২২ জন শিক্ষার্থী ডিনস অ্যাওয়ার্ড পাচ্ছেন। এছাড়া গবেষণায় অবদানের জন্য তিনটি ভাইস-চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ডও প্রদান করা হবে।”