

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) চলাকালে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু ফ্র্যাঞ্চাইজির ঘরের মাঠ এম. চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের নিরাপত্তা সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত করার কারণে দুজনকে গ্রেফতার করেছে বেঙ্গালুরু পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে গত ২৪ এপ্রিল, রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ও গুজরাট টাইটান্সের ম্যাচের দিনে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গেছে, ইচ্ছাকৃতভাবে নেটওয়ার্ক ভিডিও রেকর্ডার (এনভিআর) সিস্টেম ও ফাইবার অপটিক লিঙ্কের ক্ষতি করার কারণে ২৪০টিরও বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এমন হাই প্রোফাইল ইভেন্টের নিরাপত্তা দুর্বলতা বেশ ভালোভাবে ফুটে উঠল। সন্দেহভাজন দুজন হলেন ৩৭ বছর বয়সী মানজুনাথ ও ১৯ বছরের আব্দুল কালাম। দুজনেই ভেন্যুর ডিজিটাল ও সার্ভেইল্যান্স সার্ভিসের জন্য চুক্তিবদ্ধ সাব ভেন্ডর আইভিএস ডিজিটাল সলিউশন্সে কাজ করেন। গুরুগ্রামের এআই সার্ভেইল্যান্স ফার্ম স্টাকু টেকনোলজিসের কর্মী আদিত্য ভাট আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছেন। তার অভিযোগ, আটক দুজন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই সংরক্ষিত সিসিটিভি কন্ট্রোল রুমের ভেতরে ঢোকে এবং নিরাপত্তা সরঞ্জামের ক্ষতি করে। হাতে পাওয়া প্রমাণের মধ্যে সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে। যেখানে দেখা গেছে, তারা কন্ট্রোল রুম ও পার্কিং ফ্যাসিলিটিজের কাছে অবস্থিত বিভিন্ন কানেকশন বক্সের মতো স্পর্শকাতর জায়গায় অবস্থান করছে। স্টেডিয়ামের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ধাক্কা দেওয়া এই ঘটনার পেছনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানতে তদন্ত শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানা গেছে, ১০ লাখ রুপির বকেয়া থাকার প্রতিবাদ হিসেবে তারা এমন কাজ করেছে। দুই অভিযুক্ত পুলিশকে জানিয়েছে, বারবার তাড়া দিলেও বেতন অপরিশোধিত থাকার হতাশা থেকে তারা এমন কাণ্ড ঘটিয়েছে। ইচ্ছাকৃতভাবে সম্পত্তি ধ্বংসের অভিযোগে দুজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে এবং অধিকতর তদন্ত চলমান। আইপিএলের সূচি অনুযায়ী চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে বেঙ্গালুরুর এই মৌসুমে সব ম্যাচ খেলা হয়ে গেছে। এই ফ্র্যাঞ্চাইজি বাকি হোম ম্যাচ খেলবে নতুন ভেন্যুতে। আগের লজিস্টিক্যাল ব্যবস্থাপনার কারণে তাদের পরবর্তী দুটি হোম ম্যাচ রায়পুরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে নানার বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে পুকুরে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে দুই বোনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২৬ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চরক্লার্ক ইউনিয়নের দক্ষিণ চরক্লার্ক গ্রামের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলো রোকসানা আক্তার (৯) ও আফসানা আক্তার (৭)। তারা দুজন নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার গাংছিল গ্রামের কৃষক মহি উদ্দিনের মেয়ে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার সকাল ১০টার দিকে বাড়ির পাশের একটি মাছের ঘেরের পুকুরে গোসল করতে নামে দুই বোন। এ সময় ছোট বোন আফসানা পানিতে ডুবে যেতে থাকলে তাকে বাঁচাতে বড় বোন রোকসানা এগিয়ে যায়। একপর্যায়ে দুজনই পানিতে তলিয়ে যায়। পরে স্বজনরা অনেক খোঁজাখুঁজির পর তাদের পুকুর থেকে উদ্ধার করে স্থানীয় পল্লী চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন। চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। এ বিষয়ে একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষার হলে এক পরীক্ষার্থীর মাথার ওপর সিলিং ফ্যান খুলে পড়ে আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে শিক্ষার্থীর মাথার একপাশ কেটে যায়। পরে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। রোববার (২৬ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার চৌমুহনী মদন মোহন উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের ১১ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।আহত শিক্ষার্থী জাফরুল হুসাইনের ছেলে মো. নিয়ামুল হাসান। সে দুর্গাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তার রোল নম্বর ১৯২২৬৭। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পরীক্ষা চলাকালে হঠাৎ কক্ষের সিলিং ফ্যান খুলে শিক্ষার্থীর মাথার ওপর পড়ে। এতে ফ্যানের পাখার আঘাতে ওই শিক্ষার্থী সামান্য আহত হয় এবং মাথার একপাশ কেটে যায়। এ ঘটনায় কক্ষে থাকা অন্যান্য পরীক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কিছু সময়ের জন্য পরীক্ষা কার্যক্রমেও বিঘ্ন ঘটে। খবর পেয়ে বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনায় উপজেলা হাসপাতাল থেকে একটি মেডিকেল টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত শিক্ষার্থীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়। পরে তিনি আবার পরীক্ষায় অংশ নেন। আহত হওয়া ও চিকিৎসা নিতে সময় লাগায় তাকে অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় দিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়। স্থানীয়দের দাবি, কেন্দ্রের কিছু কক্ষে পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ ফ্যান থাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। তারা দ্রুত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম সংস্কারের দাবি জানান। বেগমগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, পরীক্ষা চলাকালে ফ্যান খুলে পড়ে এক শিক্ষার্থী আহত হয়। তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়ার পর সে আবার পরীক্ষায় অংশ নেয়। কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের প্রতিনিধিরাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে যায়নি বাংলাদেশ। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এই সিদ্ধান্তে নিয়ে এখনও হাহুতাশ করেন অনেকে। বিশ্বকাপের পর এবারই প্রথম টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে টাইগাররা। তাই বিশ্বকাপে যেতে না পারার আক্ষেপের প্রসঙ্গ ঘুরেফিরেই আসছে। তবে কিউই স্পিনার ইশ সোধি দারুণ এক টোটকা দিলেন বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের উদ্দেশে। বিশ্বকাপ দুঃখ ভুলে পরের বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তাছাড়া, আব্দুল গাফফার সাকলাইন, রিপন মণ্ডলদের উদ্দেশেও দিলেন উজ্জীবিত হওয়ার বার্তা। শনিবার (২৫ এপ্রিল) চট্টগ্রামে সংবাদ সম্মেলনে সোধি বলেন, ‘জানি না এটা তাদের মানসিকভাবে কতটা প্রভাব ফেলবে। সবাই নিশ্চয়ই পরের বিশ্বকাপে অনেক ভালো করতে চাইবে। অতীতে যা চলে গেছে তা নিয়ে ভেবে লাভ নেই।’ সোধির চাওয়া, রিপন-সাকলাইনরা যেন পরবর্তী বিশ্বকাপে ভালো করার লক্ষ্য নিয়ে এগোতে থাকেন। তার ভাষ্য, ‘বাংলাদেশ খুব ভালো দল। এখন তরুণরা আসছে, কেউ কেউ এই প্রথম খেলবে। তারা নিশ্চয়ই এটা ভাববে, আমি আমার হোম ক্রাউডের সামনে দেশের হয়ে খেলছি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২ বছর পরপর হয়; ব্যাপারটা দারুণ। তাই বিশ্বকাপের জন্য তারা এখনই তৈরি হওয়ার সুযোগ পাবে। যেটা চলে গেছে তা তো চলেই গেছে। সামনের বিশ্বকাপে নিজেদের প্রমাণের সুযোগ তারা পাচ্ছে।’ বিশ্বকাপে না খেলার সেই দুঃখ মনে করিয়ে ভোলারও টোটকা দিলেন সোধি এ সময় বাংলাদেশ দলের প্রশংসাও করেন তিনি। বললেন, ‘বাংলাদেশ খুব প্যাশনেট ক্রিকেট জাতি। ছেলেরা খুব প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সিরিজ আশা করছি। হ্যাঁ এটা বেশ কঠিন। দলে নতুন অনেকে আছে। অভিজ্ঞরাও আছে, লিটন, হৃদয়ের মতো। আমাদের তাদের স্পিনের বিপক্ষেও মানিয়ে নিতে হবে।’ ২০১৩ সালে বাংলাদেশে নিজের প্রথম ম্যাচ খেলেছিলেন সোধি। মাঝখানে এসেছেন অনেকবার। দীর্ঘদিন পর আবারো বাংলাদেশে আসতে পেরে প্রকাশ করেছেন উচ্ছ্বাস। তিনি বলেন, ‘আমরা এই চ্যালেঞ্জের জন্য মুখিয়ে আছি। ফিরতে পেরে ভালো লাগছে। আমি এই জায়গাকে চিনতাম চিটাগং হিসেবে। এখন দেখছি চট্টগ্রাম। জানি না কেন নাম বদলে গেল। বাংলাদেশে আগে টি-টোয়েন্টি খেলা হয়নি আমার। এই কন্ডিশনে তারা বেশ ভালো দল। তাই এখানে এসে খেলতে সবসময় ভালো লাগে। আমাদের দলে নতুন অনেক খেলোয়াড় আছে। তাদের নিয়ে খেলতে নামা নতুন এক অভিজ্ঞতা।

দেশের গ্রাম অঞ্চলে লোডশেডিং নিয়ে বিপাকে জনজীবন। তবে আগামী সপ্তাহ থেকে বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়বে এবং লোডশেডিং কমে আসবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। সোমবার (২৭ এপ্রিল) সিপিডি আয়োজিত বাংলাদেশ-চীন নবায়নযোগ্য জ্বালানি ফোরামের আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, আগামী ৫ বছরে সরকার ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করতে চায়। আগামী সপ্তাহ থেকে দেশে বিদ্যুতের অবস্থা ভালো হবে। কমে আসবে লোডশেডিং। তেলের আমদানি খরচ ২ বিলিয়ন ডলার বেড়ে গেছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎ খাতে ৫৬ হাজার কোটি টাকা বকেয়া পরিশোধ বাকি। আর বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বলেছেন, আগামী বাজেটে ব্যাটারির উৎপাদন ও আমদানি পর্যায়ে শুল্ক সুবিধা দেওয়া হবে।

জাপানের উত্তরাঞ্চলীয় দ্বীপ হোক্কাইডোতে ৬ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছে। আজ সোমবার জাপানের স্থানীয় সময় ভোর ৫টা ২৩ মিনিটে (বাংলাদশে সময় রাত রোববার রাত ৩টা ২৩ মিনিট) এই ভূমিকম্প ঘটেছে বলে জানিয়েছে জাপানের আবহাওয়া দপ্তর এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভূতত্ত্ব জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)। জাপানের আবহাওয়া দপ্তর (জেএমএ) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল বা এপিসেন্টার ছিল হোক্কাইডো দ্বীপের দক্ষিণাঞ্চলী শহর সাপ্পোরো-এর ২০০ কিলোমিটার পূর্বে, ভূপৃষ্ঠের ৮৩ কিলোমিটার গভীরে। জেএমএ জানিয়েছে, ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত নিহত, আহত কিংবা ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি, সুনামির আশঙ্কাও নেই; তবে শক্তিশঅলী ঝাঁকুনির কারণে হোক্কাইডোর পাহাড়গুলো থেকে বড় পাথরের পতন ও ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে ভূমিকম্প। ৬ দশমিক ২ মাত্রার এই ভূমিকম্পের এক ঘণ্টা আগে হোক্কাইডোর দক্ষিণাঞ্চলে ৫ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়ে গেছে বলেও জানিয়েছে জেএমএ। জেএমএর বিবৃতি বলা হয়েছে, এই ভূমিকম্পে সুনামির কোনো আশঙ্কা নেই। তবে সামনের সপ্তাহে এমন শক্তিশালী ভূমিকম্প হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে বিবৃতিতে। গত সপ্তাহের সোমবার হোক্কাইডোর আইওয়াত জেলায় ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল। এপিসেন্টার থেকে শত শত মাইল দূরে রাজধানী টোকিওতেও অনুভূত হয়েছিল সেই ভূমিকম্পের শক্তিশালী কম্পন। গত সপ্তাহের ভূমিকম্পে ৬ জন আহত হয়েছিলেন। ভৌগলিক ভাবে প্রশান্ত মহাসাগরের ‘আগ্নেয় মেখলা’ অঞ্চলের ওপর অবস্থানের কারণে জাপানে ভূমিকম্প একটি নিয়মিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ। ১২ কোটি ৫০ লাখ মানুষ অধ্যুষিত এই দেশটিতে প্রতি বছর গড়ে ১ হাজার ৫০০টি ভূমিকম্প হয়। শতকরা হিসেবে বলা যায়, প্রতিবছর বিশ্বে যত ভূমিকম্প হয়, তার ১৮ শতাংশই ঘটে জাপানে। সূত্র : এএফপি, এনডিটিভি অনলাইন

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) চলাকালে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু ফ্র্যাঞ্চাইজির ঘরের মাঠ এম. চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের নিরাপত্তা সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত করার কারণে দুজনকে গ্রেফতার করেছে বেঙ্গালুরু পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে গত ২৪ এপ্রিল, রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ও গুজরাট টাইটান্সের ম্যাচের দিনে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গেছে, ইচ্ছাকৃতভাবে নেটওয়ার্ক ভিডিও রেকর্ডার (এনভিআর) সিস্টেম ও ফাইবার অপটিক লিঙ্কের ক্ষতি করার কারণে ২৪০টিরও বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এমন হাই প্রোফাইল ইভেন্টের নিরাপত্তা দুর্বলতা বেশ ভালোভাবে ফুটে উঠল। সন্দেহভাজন দুজন হলেন ৩৭ বছর বয়সী মানজুনাথ ও ১৯ বছরের আব্দুল কালাম। দুজনেই ভেন্যুর ডিজিটাল ও সার্ভেইল্যান্স সার্ভিসের জন্য চুক্তিবদ্ধ সাব ভেন্ডর আইভিএস ডিজিটাল সলিউশন্সে কাজ করেন। গুরুগ্রামের এআই সার্ভেইল্যান্স ফার্ম স্টাকু টেকনোলজিসের কর্মী আদিত্য ভাট আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছেন। তার অভিযোগ, আটক দুজন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই সংরক্ষিত সিসিটিভি কন্ট্রোল রুমের ভেতরে ঢোকে এবং নিরাপত্তা সরঞ্জামের ক্ষতি করে। হাতে পাওয়া প্রমাণের মধ্যে সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে। যেখানে দেখা গেছে, তারা কন্ট্রোল রুম ও পার্কিং ফ্যাসিলিটিজের কাছে অবস্থিত বিভিন্ন কানেকশন বক্সের মতো স্পর্শকাতর জায়গায় অবস্থান করছে। স্টেডিয়ামের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ধাক্কা দেওয়া এই ঘটনার পেছনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানতে তদন্ত শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানা গেছে, ১০ লাখ রুপির বকেয়া থাকার প্রতিবাদ হিসেবে তারা এমন কাজ করেছে। দুই অভিযুক্ত পুলিশকে জানিয়েছে, বারবার তাড়া দিলেও বেতন অপরিশোধিত থাকার হতাশা থেকে তারা এমন কাণ্ড ঘটিয়েছে। ইচ্ছাকৃতভাবে সম্পত্তি ধ্বংসের অভিযোগে দুজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে এবং অধিকতর তদন্ত চলমান। আইপিএলের সূচি অনুযায়ী চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে বেঙ্গালুরুর এই মৌসুমে সব ম্যাচ খেলা হয়ে গেছে। এই ফ্র্যাঞ্চাইজি বাকি হোম ম্যাচ খেলবে নতুন ভেন্যুতে। আগের লজিস্টিক্যাল ব্যবস্থাপনার কারণে তাদের পরবর্তী দুটি হোম ম্যাচ রায়পুরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে নানার বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে পুকুরে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে দুই বোনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২৬ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চরক্লার্ক ইউনিয়নের দক্ষিণ চরক্লার্ক গ্রামের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলো রোকসানা আক্তার (৯) ও আফসানা আক্তার (৭)। তারা দুজন নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার গাংছিল গ্রামের কৃষক মহি উদ্দিনের মেয়ে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার সকাল ১০টার দিকে বাড়ির পাশের একটি মাছের ঘেরের পুকুরে গোসল করতে নামে দুই বোন। এ সময় ছোট বোন আফসানা পানিতে ডুবে যেতে থাকলে তাকে বাঁচাতে বড় বোন রোকসানা এগিয়ে যায়। একপর্যায়ে দুজনই পানিতে তলিয়ে যায়। পরে স্বজনরা অনেক খোঁজাখুঁজির পর তাদের পুকুর থেকে উদ্ধার করে স্থানীয় পল্লী চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন। চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। এ বিষয়ে একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষার হলে এক পরীক্ষার্থীর মাথার ওপর সিলিং ফ্যান খুলে পড়ে আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে শিক্ষার্থীর মাথার একপাশ কেটে যায়। পরে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। রোববার (২৬ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার চৌমুহনী মদন মোহন উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের ১১ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।আহত শিক্ষার্থী জাফরুল হুসাইনের ছেলে মো. নিয়ামুল হাসান। সে দুর্গাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তার রোল নম্বর ১৯২২৬৭। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পরীক্ষা চলাকালে হঠাৎ কক্ষের সিলিং ফ্যান খুলে শিক্ষার্থীর মাথার ওপর পড়ে। এতে ফ্যানের পাখার আঘাতে ওই শিক্ষার্থী সামান্য আহত হয় এবং মাথার একপাশ কেটে যায়। এ ঘটনায় কক্ষে থাকা অন্যান্য পরীক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কিছু সময়ের জন্য পরীক্ষা কার্যক্রমেও বিঘ্ন ঘটে। খবর পেয়ে বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনায় উপজেলা হাসপাতাল থেকে একটি মেডিকেল টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত শিক্ষার্থীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়। পরে তিনি আবার পরীক্ষায় অংশ নেন। আহত হওয়া ও চিকিৎসা নিতে সময় লাগায় তাকে অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় দিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়। স্থানীয়দের দাবি, কেন্দ্রের কিছু কক্ষে পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ ফ্যান থাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। তারা দ্রুত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম সংস্কারের দাবি জানান। বেগমগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, পরীক্ষা চলাকালে ফ্যান খুলে পড়ে এক শিক্ষার্থী আহত হয়। তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়ার পর সে আবার পরীক্ষায় অংশ নেয়। কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের প্রতিনিধিরাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের এক অনুষ্ঠানে গোলাগুলি হয়েছে। ওয়াশিংটন হিলটন হোটেলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের হোয়াইট হাউস সংবাদদাতাদের নৈশভোজের অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটেছে। একই জায়গাতেই সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানও হামলার শিকার হয়েছিলেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন হিলটনে ১৯৮১ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানের ওপর হামলা চালানো হয়েছিল। ওই বছরের ৩১ মার্চ হোটেলের ভেতরে একটি বক্তব্য শেষ করে লিমুজিনে ফেরার পথে রিগ্যানের ওপর গুলি চালানো হয়। জন হিঙ্কলি জুনিয়র নামের এক অস্ত্রধারী এ হামলা চালান। একই হোটেলে হামলার শিকার হয়েছিলেন আরেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট হোয়াইট হাউসের অনুষ্ঠানে গুলি, সরিয়ে নেওয়া হলো ট্রাম্পকে ওই হামলায় রিগ্যান প্রাণে বেঁচে গেলেও গুরুতর আহত হন। একটি গুলি প্রেসিডেন্টের লিমুজিনের পাশে লেগে প্রতিফলিত হয়ে তার শরীরে আঘাত করে। এতে তার একটি পাঁজরের হাড় ভেঙে যায় এবং ফুসফুসে ছিদ্র হয়। তাকে দ্রুত কাছের জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসার পর ১১ এপ্রিল তিনি হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান। বিবিসি জানিয়েছে, হামলায় তৎকালীন হোয়াইট হাউস প্রেস সেক্রেটারি জেমস ব্রাডিও আহত হন। পাশাপাশি একজন সিক্রেট সার্ভিস এজেন্ট এবং স্থানীয় পুলিশ বিভাগের একজন কর্মকর্তাও গুলিবিদ্ধ হন। ব্র্যাডি মাথায় গুরুতর আঘাত পান। এর ফলে তিনি সারাজীবনের জন্য প্রতিবন্ধী হয়ে পড়েন। এই আঘাতজনিত জটিলতায় পরবর্তীতে ২০১৪ সালে তার মৃত্যু হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হিঙ্কলিকে মানসিক অসুস্থতার কারণে দোষী সাব্যস্ত করা হয়নি। তবে তাকে ওয়াশিংটনের সেন্ট এলিজাবেথ হাসাপাতালের উচ্চ নিরাপত্তা বিভাগে রাখা হয় এবং ২০১৬ সালে মুক্তি দেওয়া হয়। আজও হোটেলের দেয়ালে একটি ফলক রয়েছে, যা সেই গুলির ঘটনার স্থানকে চিহ্নিত করে।

এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে যায়নি বাংলাদেশ। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এই সিদ্ধান্তে নিয়ে এখনও হাহুতাশ করেন অনেকে। বিশ্বকাপের পর এবারই প্রথম টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে টাইগাররা। তাই বিশ্বকাপে যেতে না পারার আক্ষেপের প্রসঙ্গ ঘুরেফিরেই আসছে। তবে কিউই স্পিনার ইশ সোধি দারুণ এক টোটকা দিলেন বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের উদ্দেশে। বিশ্বকাপ দুঃখ ভুলে পরের বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তাছাড়া, আব্দুল গাফফার সাকলাইন, রিপন মণ্ডলদের উদ্দেশেও দিলেন উজ্জীবিত হওয়ার বার্তা। শনিবার (২৫ এপ্রিল) চট্টগ্রামে সংবাদ সম্মেলনে সোধি বলেন, ‘জানি না এটা তাদের মানসিকভাবে কতটা প্রভাব ফেলবে। সবাই নিশ্চয়ই পরের বিশ্বকাপে অনেক ভালো করতে চাইবে। অতীতে যা চলে গেছে তা নিয়ে ভেবে লাভ নেই।’ সোধির চাওয়া, রিপন-সাকলাইনরা যেন পরবর্তী বিশ্বকাপে ভালো করার লক্ষ্য নিয়ে এগোতে থাকেন। তার ভাষ্য, ‘বাংলাদেশ খুব ভালো দল। এখন তরুণরা আসছে, কেউ কেউ এই প্রথম খেলবে। তারা নিশ্চয়ই এটা ভাববে, আমি আমার হোম ক্রাউডের সামনে দেশের হয়ে খেলছি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২ বছর পরপর হয়; ব্যাপারটা দারুণ। তাই বিশ্বকাপের জন্য তারা এখনই তৈরি হওয়ার সুযোগ পাবে। যেটা চলে গেছে তা তো চলেই গেছে। সামনের বিশ্বকাপে নিজেদের প্রমাণের সুযোগ তারা পাচ্ছে।’ বিশ্বকাপে না খেলার সেই দুঃখ মনে করিয়ে ভোলারও টোটকা দিলেন সোধি এ সময় বাংলাদেশ দলের প্রশংসাও করেন তিনি। বললেন, ‘বাংলাদেশ খুব প্যাশনেট ক্রিকেট জাতি। ছেলেরা খুব প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সিরিজ আশা করছি। হ্যাঁ এটা বেশ কঠিন। দলে নতুন অনেকে আছে। অভিজ্ঞরাও আছে, লিটন, হৃদয়ের মতো। আমাদের তাদের স্পিনের বিপক্ষেও মানিয়ে নিতে হবে।’ ২০১৩ সালে বাংলাদেশে নিজের প্রথম ম্যাচ খেলেছিলেন সোধি। মাঝখানে এসেছেন অনেকবার। দীর্ঘদিন পর আবারো বাংলাদেশে আসতে পেরে প্রকাশ করেছেন উচ্ছ্বাস। তিনি বলেন, ‘আমরা এই চ্যালেঞ্জের জন্য মুখিয়ে আছি। ফিরতে পেরে ভালো লাগছে। আমি এই জায়গাকে চিনতাম চিটাগং হিসেবে। এখন দেখছি চট্টগ্রাম। জানি না কেন নাম বদলে গেল। বাংলাদেশে আগে টি-টোয়েন্টি খেলা হয়নি আমার। এই কন্ডিশনে তারা বেশ ভালো দল। তাই এখানে এসে খেলতে সবসময় ভালো লাগে। আমাদের দলে নতুন অনেক খেলোয়াড় আছে। তাদের নিয়ে খেলতে নামা নতুন এক অভিজ্ঞতা।

ইরানের চাহারবাগ শহরের আঘদাসিয়েহ এলাকায় একটি আঠা কারখানায় ভয়াবহ আগুন লেগেছে। স্থানীয় গণমাধ্যম ও দেশটির অফিসিয়াল সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ এ তথ্য জানিয়েছে। শনিবার এ আগুন লাগে। কারখানায় আগুন লাগার খবর পাওয়ার পর চাহারবাগ ও আশপাশের শহর থেকে ফায়ার ফাইটার বাহিনী ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। চাহারবাগের সিটি কর্তৃপক্ষ আইআরএনএকে বলেছেন, দমকল বাহিনী ও উদ্ধারকারী ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি। এখন পর্যন্ত আগুনের কারণ এবং হতাহতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে তীব্র প্রচেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা।

সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে আবারও ব্যর্থ হয়েছে উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স কমিটি। তাই শেষবারের মতো আরও ৬ মাস সময় বেঁধে দিয়েছেন হাইকোর্ট। রোববার (২৬ এপ্রিল) বিচারপতি ফাতেমা নজিব ও বিচারপতি সাইফুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। রিটকারী আইনজীবী শিশির মনির ও মঞ্জিল মোরশেদ তদন্ত কর্মকর্তাকে তলবের আবেদন জানায়। পরে হাইকোর্ট জানায় সাগর রুনি হত্যা মামলার অগ্রগতি হওয়া প্রতিবেদন হাইকোর্টের কাছে পাঠিয়েছেন টাস্কফোর্স কমিটি। পরে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দিতে আরও ৬ মাস সময় চান অ্যাটর্নি জেনারেল। পরে রিটকারী আইনজীবীরা ৩ মাস সময় দিতে বলেন। পরে ৬ মাসের সময় দেন হাইকোর্ট। সাগর-রুনি হত্যার তদন্ত প্রতিবেদন জমা আরও ৬ মাস পেছাল কাতারে আটকে থাকা নাগরিকদের দেশে ফিরতে বলল আফগানিস্তান এদিন আলোচিত এ মামলায় ১৩ বছরেও চার্জশিট দিতে না পারায় তা বেদনাদায়ক বলে উল্লেখ করেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল। এর আগে ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ এবং তদন্তের জন্য ছয় মাস সময় দিয়েছিলেন। পিবিআই প্রধানকে আহ্বায়ক করে ৪ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স এই মামলাটি তদন্ত করছে। সর্বশেষ গত বছরের ২৩ অক্টোবর সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স কমিটিকে ৬ মাসের সময় দিয়েছিলেন বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের হাইকোর্ট বেঞ্চ। উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় সাংবাদিক সাগর ও রুনি খুন হন

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে এক ছাত্রীকে (১৯) বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার দেলোয়ার হোসেন (৪৯) কুতুবপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরের দিকে আসামিকে নোয়াখালী চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এর আগে, শুক্রবার রাতে পশ্চিম মির্জা নগর গ্রামের বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ২০ এপ্রিল দুই স্কুল শিক্ষকসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী ছাত্রী। গ্রেপ্তার দেলোয়ার উপজেলার পূর্ব মির্জা নগর গ্রামের আবদুস সোবহানের ছেলে। অপরদিকে মামলার অন্য আসামিরা হলেন, শংকর চন্দ্র মজুমদার (৪৮), তিনি তিন তক্তা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। এ ছাড়া আরও ৩-৪ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে মামলায় আসামি করা হয়েছে। বাকি আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালে এসএসসি পরীক্ষার প্রাইভেট পড়ার সুবাদে শিক্ষক দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে ওই ছাত্রীর পরিচয় হয়। তখন ছাত্রীর বয়স ছিল মাত্র ১৬ বছর। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৩ সালের ২৬ মার্চ দেলোয়ার হোসেন ছাত্রীকে একটি প্রাইভেট রুমে নিয়ে যান এবং সেখানে তাকে দিয়ে জোরপূর্বক কিছু আপত্তিকর স্বীকারোক্তি কাগজে লিখিয়ে নেন ও ভিডিও ধারণ করেন। পরে ওই ভিডিও ও কাগজের মাধ্যমে ব্ল্যাকমেইল করে ছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভনে দীর্ঘ সময় ধরে একাধিক স্থানে ধর্ষণ করা হয়। মামলার অপর আসামি শংকর চন্দ্র মজুমদার এই কাজে সরাসরি সহযোগিতা করেছেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। গত বছরের ডিসেম্বর মাসে ভুক্তভোগী ছাত্রীর অন্যত্র বিয়ে হয়। কিন্তু তাতেও ক্ষান্ত হননি অভিযুক্ত দেলোয়ার। তিনি ছাত্রীর স্বামীর মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে এবং ভুয়া ফেসবুক আইডি খুলে ছাত্রীর আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও তার স্বামীর কাছে পাঠিয়ে দেন। এর ফলে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ছাত্রীর বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। বিবাহ বিচ্ছেদের পর আসামিরা পুনরায় তাকে শারীরিক সম্পর্কের জন্য চাপ দিতে থাকে এবং টাকা দাবি করে ব্ল্যাকমেইল করতে থাকে। সর্বশেষ গত ১৩ এপ্রিল ভুক্তভোগী ছাত্রী নোয়াখালী মহিলা কলেজে অনার্স পরীক্ষা দিতে যাওয়ার সময় আসামিরা তার পথরোধ করে পুনরায় কুপ্রস্তাব দেয়। এতে রাজি না হওয়ায় তাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ভাইরাল করার হুমকি দেওয়া হয়। এ অবস্থায় ভুক্তভোগী ছাত্রী প্রথমে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় অভিযোগ করতে গেলে তাকে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেয়। পরে তিনি আদালত অভিযোগ দায়ের করলে আদালত অভিযোগটি নিয়মিত মামলা হিসেবে রেকর্ড করার নির্দেশ দেন। বেগমগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হাবিবুর রহমান বলেন, ছাত্রীকে ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা নেওয়া হয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিকে বিচারিক আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অপর আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা অব্যাহত আছে।

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়াতে ২৭শ লিটার অবৈধ ডিজেলসহ এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন। এর আগে, শুক্রবার রাত ১টার দিকে উপজেলার জাহাজমারা ইউনিয়নের ৯নম্বর ওয়ার্ডের কালামচর মুক্তারিয়া এলাকার ঘাটে এ অভিযান চালানো হয়। গ্রেপ্তার মোহাম্মদ মহিউদ্দিন (৪৫) একই ইউনিয়নের আজিমনগর গ্রামের মজল করিমের ছেলে। পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার রাত ১টার দিকে উপজেলার জাহাজমারা ইউনিয়নের কালামচর সুইচ ঘাট সংলগ্ন এলাকায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী কন্টিনজেন্ট ও হাতিয়া থানা পুলিশ অভিযান চালায়। অভিযানে ‘মা-বাবার দোয়া বরফ কল’ সংলগ্ন এলাকা থেকে ১৫টি ব্যারেলে সংরক্ষিত ২৭শ লিটার ডিজেল জব্দ করা হয়। এ সময় অতিরিক্ত মুনাফার উদ্দেশে অবৈধভাবে জ্বালানি মজুত করে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অভিযোগে মহিউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওসি কবির হোসেন আরও বলেন, জব্দ ডিজেল জাহাজমারা তদন্ত কেন্দ্রে রাখা হয়। এ ঘটনায় হাতিয়া থানায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

চলমান এসএসসি, দাখিল ও সমমানের পরীক্ষা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন পাঠদান অব্যাহত রাখতে নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলায় শিক্ষকদের জন্য এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মিজানুর রহমান। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেল থেকে উপজেলার একটি ফিলিং স্টেশনে প্রাথমিক বিদ্যালয়, স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের জন্য আলাদা লাইনে অকটেন সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের প্রশংসা করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহল। জ্বালানি সংকটের কারণে গত কয়েকদিন ধরে এলাকার পাম্পগুলোতে সাধারণ মানুষের দীর্ঘ লাইন ও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়। বিষয়টি নজরে আসার পর শিক্ষকদের বিড়ম্বনা কমাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান এই বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেন। শিক্ষকরা যেন তেলের লাইনে দাঁড়িয়ে সময় নষ্ট না করেন, সেজন্য তারা নিজেদের পরিচয়পত্র দেখিয়ে আলাদা বিশেষ লাইনে জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারছেন। এই উদ্যোগ সম্পর্কে চাটখিল উপজেলার কলেজ শিক্ষক মহি উদ্দীন বাবু সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘জ্বালানি সংকটের এই সময়ে তেলের পাম্পে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা সবার জন্যই বড় একটা ভোগান্তি। যা কর্মজীবীদের জন্য সাধারণের চেয়ে বেশি। দীর্ঘ লাইনের কারণে অনেক সময় কলেজের নির্ধারিত ক্লাসে সময়মতো পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। ইউএনও শিক্ষকদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেছেন। আমাদের সময়ের গুরুত্ব বুঝে এই বিশেষ ব্যবস্থা করেছেন, তার জন্য আমরা তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মিজানুর রহমান বলেন, ‘একদিকে এসএসসি, দাখিল ও সমমনান পরীক্ষা চলমান, অপরদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পুরোদমে ক্লাস চলছে। এসময়ে প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু করে বিদ্যালয়, কলেজ, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা যাতে তেল নিতে এসে দীর্ঘক্ষণ রোদে বা লাইনে দাঁড়িয়ে কষ্ট না পান, সময় নষ্ট না হয়, সেজন্যই মূলত এই ব্যবস্থা। তারা যেন কোনো বিড়ম্বনা ছাড়াই তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সেটি নিশ্চিত করতেই প্রশাসনের এই বিশেষ ব্যবস্থা।’ অন্যান্য পেশাজীবীদেরকেও পর্যায়ক্রমে এই সুবিধার আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। শুক্রবার বিকেলে চাটখিলের তারাজ ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, সাধারণ গ্রাহকদের লেনের পাশেই শিক্ষকদের জন্য রাখা বিশেষ লেনে সুশৃঙ্খলভাবে পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেখানে উপস্থিত থেকে তেল সরবরাহ তদারকি করছেন। এই সুবিধার ফলে উপজেলার সকল স্তরের শিক্ষকরা অত্যন্ত খুশি। স্থানীয়রা বলছেন, শিক্ষকদের সম্মান দেওয়ার এই সংস্কৃতি সমাজের অন্যান্য ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।