
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী পৌর এলাকায় অভিযান চালিয়ে পারভেজ ও বিপ্লব নামের দুই মাদক কারবারীকে আটক করেছে পুলিশ। এসময় তাদের সাথে থাকা একটি গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ৮০ হাজার ৩৬০পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়। যার বাজার মূল্য প্রায় আড়াই কোটি টাকা। জব্দ করা হয়েছে তাদের ব্যবহৃত জিপ গাড়িটি। বৃহস্পতিবার সকালে চৌমুহনী পৌরসভার করিমপুর রূপসা শপিং কমপ্লেক্স এর সামনে থেকে তাদের আটক করা হয়। আটকৃত পারভেজ ও বিপ্লবের বাড়ি কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলায়। পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চৌমুহনী পৌরসভার করিমপুর রূপসা শপিং কমপ্লেক্সের সামনে অভিযান চালায় বেগমগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ। অভিযান কালে ফেনী-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কে ফেনী থেকে আসা কালো রংয়ের হার্ডজিপকেয়া নামক জীপ গাড়ীর গতিরোধ করা হয়। পরে সেটিতে তল্লাশি চালিয়ে গাড়ীর পিছনে ডান পাশের দরজায় বিশেষভাবে লুকানো অবস্থায় সাদা স্কচটেপ দ্বারা মোড়ানো ৪১টি কাগজের প্যাকেটের মধ্যে ১৯৬টি নীল রংয়ের জীপারযুক্ত পলি ব্যাগে ৮০হাজার ৩৬০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়। বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শামসুজ্জামান জানান, আটককৃত আসামী পারভেজ এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মোট ৬টি মামলা বিচারাধীন। এই ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হবে।

ইঞ্জিন বিকল হয়ে গভীর বঙ্গোপসাগরে ভাসতে থাকা ১৯ জেলেকে মাছ ধরার ট্রলারসহ উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেলে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান। কোস্ট গার্ড জানায়, গত ৮ জুলাই এফবি মা-২ নামক একটি ফিশিং বোট ১৯ জন জেলেসহ হাতিয়া থেকে মাছ ধরার জন্য সাগরে যায়। ১৩ জুলাই ইঞ্জিন বিকল হয়ে বোটটি সমুদ্রে ভাসতে থাকে। দুই দিন পর ১৫ জুলাই মোবাইল নেটওয়ার্কের মধ্যে আসেন তারা। আজ সকাল ১০টায় বোটের এক জেলে কোস্ট গার্ডকে বিষয়টি অবহিত করে। তথ্য পেয়ে তাৎক্ষণিক কোস্ট গার্ড স্টেশন ভাসানচর ও অপারেশন সুরক্ষায় নিয়োজিত জাহাজ বিসিজিএস কুতুবদিয়া উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। পরে চট্টগ্রামের নরম্যান্স পয়েন্ট থেকে পশ্চিমে গভীর সমুদ্র এলাকা থেকে বিকল হওয়া বোটসহ ১৯ জন জেলেকে জীবিত উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত জেলেদের প্রাথমিক চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় খাবার দেওয়া হয়েছে। বোটসহ জেলেদের মালিকপক্ষের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম বলেন, ‘বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দেশের সুবিশাল সমুদ্র উপকূলীয় এবং নদী তীরবর্তী অঞ্চলের নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। একইসঙ্গে সমুদ্রে মৎস্য আহরণে নিয়োজিত জেলেদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড উপকূলীয় জনগণের মাঝে নিরাপত্তা ও আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, জরুরি উদ্ধার কার্যক্রমে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।

নোয়াখালীর হাতিয়ায় জলাবদ্ধতা ও ভেঙে পড়া যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে সময়মতো হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয়নি এক প্রসূতি মাকে। চিকিৎসার অভাবে ঘরেই সন্তানসহ মারা গেছেন নাজমা আক্তার (৩০) নামে এক প্রসূতি। বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইসলামপুর গ্রামে হৃদয়বিদারক এ ঘটনা ঘটে। নিহত নাজমা আক্তার ওই গ্রামের মো. হক সাবের স্ত্রী। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ, অস্বাভাবিক জোয়ার এবং দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় নিঝুমদ্বীপের বিস্তীর্ণ এলাকা এখনও পানির নিচে রয়েছে। গত দুই দিনে কিছু এলাকায় পানি কমলেও বুধবার দুপুরে অতিরিক্ত জোয়ারে ইসলামপুর গ্রামের বিভিন্ন সড়ক, কাঁচা রাস্তা ও চলাচলের পথ আবারও পানিতে তলিয়ে যায়। এতে পুরো এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় বুধবার সকালে নাজমা আক্তারের প্রসববেদনা শুরু হলে স্বজনরা দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু চারপাশে পানি জমে থাকায় কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারেনি। বিকল্পভাবে নৌকায় নেওয়ারও উপযুক্ত ব্যবস্থা না থাকায় তাকে ঘর থেকে বের করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ সময় প্রসব যন্ত্রণার পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও শারীরিক জটিলতা দেখা দিলে একপর্যায়ে ঘরেই অনাগত সন্তানসহ তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, বছরের পর বছর ধরে নিঝুমদ্বীপে দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা এবং জলাবদ্ধতার সমস্যা থাকলেও কার্যকর কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। ফলে জরুরি মুহূর্তে রোগীদের হাসপাতালে পৌঁছানো অনেক সময় অসম্ভব হয়ে পড়ে। ইউপি সদস্য কেফায়েত হোসেন বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে জোয়ারের পানি ও জলাবদ্ধতায় নিঝুমদ্বীপের নিম্নাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। অনেক এলাকায় সড়ক পানির নিচে থাকায় জরুরি রোগীদের হাসপাতালে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। নাজমা আক্তারের মৃত্যু সেই দুর্ভোগেরই করুণ উদাহরণ। আমরা এমন মৃত্যু আর দেখতে চাই না।’ স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক বেলাল উদ্দিন বলেন, ‘নিঝুমদ্বীপে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের বসবাস হলেও এখানকার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক। কার্যত জরুরি চিকিৎসা পাওয়ার মতো কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেই। পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের অধীনে একটি স্বাভাবিক (নরমাল) প্রসবসেবা কেন্দ্র এবং তিনটি কমিউনিটি ক্লিনিক থাকলেও সেগুলোতে প্রয়োজনীয় জনবল, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও সেবার ঘাটতি রয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিশেষ করে প্রসূতি মা, শিশু, বৃদ্ধ ও জরুরি রোগীদের জন্য পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ।’ তিনি আরও বলেন, ‘কোনো রোগীর অবস্থা গুরুতর হলে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিতে হয়। কিন্তু দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া, জোয়ার-ভাটা, জলাবদ্ধতা ও যাতায়াত সংকটের কারণে অনেক সময় রোগীকে সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছানো সম্ভব হয় না। নাজমা আক্তারের মৃত্যু এ অঞ্চলের ভঙ্গুর স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও যোগাযোগ সংকটের একটি নির্মম উদাহরণ। অবিলম্বে নিঝুমদ্বীপে একটি পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ২৪ ঘণ্টা মাতৃসেবা এবং জরুরি রোগী পরিবহনের ব্যবস্থা চালু করা না হলে ভবিষ্যতে আরও এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটতে পারে।’ নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লাভলী আক্তার বলেন, ‘নাজমা আক্তারের আগে দুটি সন্তান রয়েছে। এটি ছিল তার তৃতীয় সন্তান। চারপাশে জোয়ারের পানি, চলাচলের মতো রাস্তা নেই। ফলে ঘরের ভেতরেই সন্তানসহ প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। আমাদের এখানে ভালো রাস্তা নেই, উন্নত স্বাস্থ্যসেবাও নেই। মানুষের সামান্য চিকিৎসা পেতেও অনেক কষ্ট করতে হয়। এই মৃত্যুর দায় অবকাঠামোগত সংকট এড়াতে পারে না।’

বিশ্বজুড়ে মানুষের খাদ্য তালিকায় প্রোটিনের অন্যতম প্রধান উৎস এখন পোলট্রি বা ফার্মের মুরগির মাংস। জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং মানুষের অর্থনৈতিক উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে এই মাংসের চাহিদাও দিন দিন বাড়ছে। তবে এই প্রতিযোগিতায় বিশ্ববাজারে এখনো বেশ পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (FAO) তথ্যমতে, বিশ্বে মুরগির মাংস উৎপাদনে শীর্ষ ৫০টি দেশের মধ্যেও নেই বাংলাদেশ। প্রতিবেশী ভারত, পাকিস্তান, এমনকি শ্রীলঙ্কাও এক্ষেত্রে বাংলাদেশের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে। কোন অবস্থানে বাংলাদেশ জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার বৈশ্বিক উৎপাদন ডাটাবেজের (FAOSTAT) সর্বশেষ তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০২৪ সালে বাংলাদেশে ফার্মের মুরগির (তাজা ও প্রক্রিয়াজাত) মোট উৎপাদন হয়েছে ২ লাখ ৩২ হাজার ৫০৭ দশমিক ৬৭ মেট্রিক টন। এই উৎপাদন নিয়ে বিশ্বের ১৮৭টি দেশ ও অঞ্চলের মধ্যে বাংলাদেশ ৫৩তম অবস্থানে জায়গা করে নিয়েছে। মন্ত্রীর কথোপকথন ভাইরাল / ‘এরা তো ফার্মের মুরগি, বৃষ্টিতে ভিজলেই জ্বর আসবে’ দেশের অভ্যন্তরে পোলট্রি শিল্পের ব্যাপক প্রসার ঘটলেও বৈশ্বিক বাজারে উৎপাদন ও প্রতিযোগিতার দৌড়ে বাংলাদেশ এখনো বেশ পেছনে রয়েছে। বিশেষ করে আধুনিক প্রযুক্তির অভাব, পোলট্রি খাদ্যের উচ্চমূল্য এবং খামারিদের সঠিক প্রশিক্ষণের ঘাটতি এই খাতে আশানুরূপ অগ্রগতি অর্জনে বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে। দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ কত নম্বরে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ফার্মের মুরগি উৎপাদনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ শীর্ষ তিন দেশের মধ্যে জায়গা করতে পারেনি। এফএও-এর ডেটা অনুযায়ী, এই অঞ্চলে উৎপাদনের দিক থেকে বাংলাদেশ বর্তমানে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় সবার ওপরে রয়েছে প্রতিবেশী দেশ ভারত। এরপর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তান। অবাক করার মতো বিষয় হলো, জনসংখ্যার দিক থেকে ছোট দেশ হলেও মুরগি উৎপাদনে শ্রীলঙ্কাও বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে এবং তারা তৃতীয় স্থান দখল করেছে। বাংলাদেশের ঠিক পরে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে নেপাল। আর যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তান ও ছোট দেশ ভুটান তালিকার অনেক পেছনে পড়ে আছে। উৎপাদনে বিশ্বসেরা যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বজুড়ে ফার্মের মুরগি উৎপাদনের ক্ষেত্রে একক আধিপত্য বজায় রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। ২০২৪ সালের হিসাব অনুযায়ী, দেশটিতে রেকর্ড ২ কোটি ১৭ লাখ ৬৬ হাজার ৩৭ মেট্রিক টন মুরগির মাংস উৎপাদিত হয়েছে। ফার্মের মুরগি: জঙ্গল থেকে আধুনিক ব্রয়লার হয়ে ওঠার যাত্রা যুক্তরাষ্ট্রের এই বিশাল সাফল্যের পেছনে রয়েছে তাদের শতভাগ আধুনিক ও স্বয়ংক্রিয় খামার ব্যবস্থাপনা। উন্নত জাতের মুরগি প্রতিপালন, কঠোর জৈব-নিরাপত্তা (বায়োসিকিউরিটি) এবং সরকারি প্রণোদনার কারণে তারা বিশ্বের এক নম্বর পোলট্রি উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে পেরেছে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে চীন ও ব্রাজিল উৎপাদনের বিশ্বতালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের পরেই দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে এশিয়ার পরাশক্তি চীন। ২০২৪ সালে চীনের মোট উৎপাদন ছিল ১ কোটি ৬০ লাখ ৬৬ হাজার ৭৮৯ দশমিক ৫৮ মেট্রিক টন। চীনের বিশাল জনসংখ্যার মাংসের চাহিদা মেটাতে দেশটির সরকার পোলট্রি শিল্পে বড় ধরনের বিনিয়োগ করে আসছে। অন্যদিকে, তৃতীয় স্থান দখল করে রেখেছে লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিল। ২০২৪ সালে ব্রাজিলে মুরগির মাংস উৎপাদিত হয়েছে ১ কোটি ৩৭ লাখ ১৪ হাজার ৭০১ দশমিক ৬৯ মেট্রিক টন। ব্রাজিল শুধু উৎপাদনেই সেরা নয়, তারা বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ মুরগির মাংস রপ্তানিকারক দেশও বটে। মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার বহু দেশে ব্রাজিলের হিমায়িত মুরগির মাংস নিয়মিত রপ্তানি হয়। রাশিয়া ও ভারতের অবস্থান এফএও-এর তালিকায় চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে রাশিয়া। ২০২৪ সালে দেশটির খামারগুলো থেকে মোট ৫৪ লাখ ৫৭ হাজার ৩২৯ দশমিক ৮০ মেট্রিক টন মুরগির মাংস উৎপাদিত হয়েছে। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও রাশিয়া তাদের অভ্যন্তরীণ পোলট্রি শিল্পকে বেশ শক্তিশালী করে তুলেছে। অন্যদিকে, ৫০ লাখ ১৯ হাজার ৪১০ মেট্রিক টন উৎপাদন নিয়ে বিশ্বে পঞ্চম স্থানে রয়েছে প্রতিবেশী দেশ ভারত। তাদের বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজার এবং পোলট্রি ফিড বা খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা তাদের এই অবস্থানে আসতে সাহায্য করেছে। শীর্ষ ১০ দেশের বাকিরা তালিকায় ষষ্ঠ থেকে দশম স্থানের মধ্যেও বেশ কিছু দেশের চমকপ্রদ উৎপাদন লক্ষ্য করা গেছে। ৪১ লাখ ৭৯ হাজার ৪৪৪ দশমিক ২০ মেট্রিক টন উৎপাদন নিয়ে ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ইন্দোনেশিয়া। এর ঠিক পরেই ৪০ লাখ ১৩ হাজার ২১৫ দশমিক ৮২ মেট্রিক টন উৎপাদন নিয়ে সপ্তম স্থানে রয়েছে মেক্সিকো। অষ্টম স্থানে জায়গা করে নিয়েছে আফ্রিকার দেশ মিশর, যাদের উৎপাদন ২৫ লাখ ৯৮ হাজার ৬০৩ দশমিক ৫২ মেট্রিক টন। নবম স্থানে রয়েছে তুরস্ক, তাদের উৎপাদন ২৫ লাখ ১২ হাজার ১৩০ দশমিক ৮৬ মেট্রিক টন। আর ২৪ লাখ ৬৬ হাজার ৯৬৬ দশমিক ৫৯ মেট্রিক টন উৎপাদন নিয়ে শীর্ষ ১০ দেশের তালিকা শেষ করেছে এশিয়ার উন্নত দেশ জাপান। এফএও-এর এই ডাটাবেজ থেকে স্পষ্ট যে, বাংলাদেশের পোলট্রি শিল্পে এখনো বিশাল উন্নতির সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ বর্তমানে ৫৩তম অবস্থানে থাকলেও অভ্যন্তরীণ বাজারে ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। দেশে পোলট্রি খাতের মাধ্যমে লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। তবে খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে মুরগির মাংসের উৎপাদন আরও বাড়াতে হলে পোলট্রি ফিডের দাম কমাতে হবে। কারণ মুরগি উৎপাদনের মোট খরচের প্রায় ৭০ শতাংশই চলে যায় খাদ্যের পেছনে। এছাড়া খামারিদের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করা এবং বার্ড ফ্লুসহ বিভিন্ন রোগবালাই প্রতিরোধে উন্নত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ বিশ্বতালিকায় আরও অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারবে।

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় বিচারাধীন জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ১১২ বছরের পুরোনো চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ১১ ফুট উঁচু দেওয়াল তোলায় একটি বাড়ির সাতটি পরিবার অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। আদালতের সিদ্ধান্তের আগেই এমন পদক্ষেপ নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা। শুক্রবার (১৭ জুলাই) কাদিরহানিফ ইউনিয়নে পশ্চিম বাহাদুরপুর গ্রামের মৃদ্দা বাড়িতে গিয়ে এমন অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। সূত্র জানায়, মৃদ্দা বাড়ির বাসিন্দাদের ১১২ বছরের চলাচলের একমাত্র পথটি ১১ ফুট উঁচু দেওয়াল তুলে বন্ধ করে দিয়েছেন হারুনুর রশিদ মিলন নামে এক প্রভাবশালী ব্যক্তি। এতে বাড়ির লোকজন অবরুদ্ধ হয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন। ওই বাড়ির বাসিন্দাদের দাবি, আদালতের সিদ্ধান্ত ছাড়া এবং কোনো আলোচনা না করে হারুনুর রশিদ দেওয়াল তুলে পথ বন্ধ করে দিয়েছেন। এখন নিজের ঘরে তালা লাগিয়ে অন্যত্র অবস্থান করছেন। প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার হয়নি। আদালতের সিদ্ধান্তের আগে এমন ঘটনা মানবাধিকার লঙ্ঘন। ওই এলাকার বাসিন্দা আবুল কালাম বলেন, চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়া অন্যায়। যিনি দেওয়াল তুলেছেন তিনি আলোচনা করে বিষয়টি সমাধান করতে পারতেন। তাহলে বাড়ির বাসিন্দারা দূর্ভোগে পড়তেন না। আর মামলা চলমান থাকলে রায় হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিত। অভিযুক্ত হারুনুর রশিদকে ফোন দিলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে ফোন কেটে দেন। পরে অনেকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে তার এক আত্মীয় বলেন, এ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন আদালতে মামলা চলমান আছে। এ নিয়ে অনেকবার স্থানীয় শালিস-বৈঠক বসেও কোনো সমাধান হয়নি। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হোমায়রা ইসলাম বলেন, মামলা চলমান থাকায় বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন আছে। বিষয়টি আদালতের এখতিয়ারাধীন, তাই এ মুহূর্তে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য করা সম্ভব নয়। তবে আদালতের নির্দেশনার পর যদি কোনো বিষয়ে সহযোগিতার প্রয়োজন হয় তখন অবশ্যই সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

নোয়াখালীর হাতিয়ায় অস্বাভাবিক জোয়ারের চাপে বেড়িবাঁধ ভেঙে তিনটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে ভেসে গেছে ঘরের আসবাবপত্র, পুকুরের মাছ, গবাদিপশু ও জমির ফসল। শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে উপজেলার চরঈশ্বর ইউনিয়নের তালুকদার গ্রামের পাশের বেড়িবাঁধের একটি অংশ ভেঙে গেলে মুহূর্তেই জোয়ারের পানি আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় ঢুকে পড়ে। এতে চরঈশ্বর ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন গ্রাম পানিতে তলিয়ে যায়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও অস্বাভাবিক উচ্চতার জোয়ারের কারণে বেড়িবাঁধের বিভিন্ন অংশ দুর্বল হয়ে পড়েছিল। শুক্রবার দুপুরের জোয়ারের তীব্র ঢেউয়ের আঘাতে তালুকদার গ্রামের পাশের বাঁধের একটি অংশ ভেঙে যায়। এরপর প্রবল স্রোতে জোয়ারের পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। প্লাবিত এলাকার অনেক স্থানে দুই থেকে তিন ফুট উচ্চতায় পানি ওঠায় গ্রামীণ সড়ক তলিয়ে যায় এবং মানুষের চলাচল ব্যাহত হয়। বাড়িঘর, উঠান ও নিম্নাঞ্চল পানিতে ডুবে যায়। কৃষিজমি, পুকুর ও মাছের ঘেরেও জোয়ারের পানি ঢুকে পড়েছে। আকস্মিক প্লাবনে অনেক পরিবারের আসবাবপত্র, পুকুরের মাছ ও গবাদিপশুর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। চরঈশ্বর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আসার উদ্দিন বলেন, ‘গত কয়েক দিনের অতিরিক্ত বৃষ্টি ও অস্বাভাবিক জোয়ারের কারণে বেড়িবাঁধের বিভিন্ন অংশ ধসে সরু হয়ে পড়েছিল। বিষয়টি আমরা আগেই সংশ্লিষ্টদের জানিয়েছিলাম। কিন্তু কোনো কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আজ দুপুরের জোয়ারের চাপেই বাঁধ ভেঙে যায় এবং বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। দিনের জোয়ারের উচ্চতা তুলনামূলক কম থাকলেও অনেক এলাকা তলিয়ে গেছে।’ স্থানীয় বাসিন্দা অধ্যাপক ফখরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ‘দায়িত্বশীলদের অবহেলার কারণেই আজ আমাদের এই করুণ পরিণতি। রাতে আরও বড় জোয়ার আসার কথা রয়েছে। পানির উচ্চতা আরও বেড়ে গেলে মানুষের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও বিভিন্ন অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।’ এদিকে বাঁধ ভেঙে যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। অনেক পরিবার জরুরি ভিত্তিতে ঘরের মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দারা রাতের জোয়ার নিয়ে চরম উদ্বেগে রয়েছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রাসেল ইকবাল বলেন, ‘চরঈশ্বর ইউনিয়নের এই অংশে বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা আগে থেকেই ছিল। এজন্য একাধিকবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। কিন্তু প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আগেই বাঁধটি ভেঙে যায়। বিষয়টি জেলা প্রশাসক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। তারা দ্রুত জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।’ এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী জামিল উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, ‘ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধের স্থানটি আমরা ইতোমধ্যে পরিদর্শন করেছি। বৈরী আবহাওয়ার কারণে বালুবাহী বার্জ এখনো ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি। তবে জিওটিউব ঘাটে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আমরা আশা করছি, রাতের মধ্যেই ভাঙা বেড়িবাঁধে জরুরি মেরামতকাজ শুরু করা সম্ভব হবে।’ স্থানীয়দের দাবি, জরুরি ভিত্তিতে ভাঙা অংশে জিওব্যাগ বা বালুভর্তি বস্তা ফেলে পানি প্রবেশ বন্ধের ব্যবস্থা না নিলে রাতের জোয়ারে প্লাবিত এলাকার পরিধি আরও বাড়তে পারে। পাশাপাশি স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো দ্রুত সংস্কারের দাবি জানান তারা

নোয়াখালীর হাতিয়ায় নিঝুমদ্বীপে জোয়ারে ভেসে আসা অজ্ঞাত ব্যক্তির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধারে জেলা পুলিশ ও নৌ পুলিশের সমন্বয়হীনতার অভিযোগ উঠেছে। দুই সংস্থার দায়িত্বে টানাপোড়েনে মরদেহটি ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ঘটনাস্থলে পড়ে রয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের হাসি মার্কেট সংলগ্ন ৯ নম্বর ওয়ার্ডের একটি কেওড়া বাগানে জোয়ারের পানির সঙ্গে ভেসে আসা একটি অর্ধগলিত মরদেহ দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, খবর দেওয়ার পরও দীর্ঘ সময় ধরে কোনো সংস্থা মরদেহটি উদ্ধার করতে আসেনি। জেলা পুলিশ ঘটনাস্থলকে নৌ পুলিশের আওতাধীন বলে জানালেও নৌ পুলিশ দাবি করছে, ওই এলাকা তাদের দায়িত্ব সীমার মধ্যে পড়ে না। ফলে দায়িত্ব নির্ধারণ নিয়ে জটিলতায় পড়ে রয়েছে মরদেহটি। স্থানীয়রা জানান, খোলা স্থানে পড়ে থাকায় মরদেহটি দ্রুত পচে যাচ্ছে এবং দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এতে আশপাশের মানুষের মধ্যে চরম ভোগান্তি ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, দায়িত্ব নিয়ে টানাপোড়েন না করে দ্রুত মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করা হোক। একই সঙ্গে পরিচয় শনাক্ত করে স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তরের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা। নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়ন নৌ পুলিশ কেন্দ্রের ইনচার্জ আশিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা মাত্র বিষয়টি জেনেছি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।’ হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশকে ঘটনাস্থলে যেতে বলা হয়েছিল। তবে ঘটনাস্থলটি নদীর কাছাকাছি হওয়ায় এটি নৌ পুলিশের আওতাভুক্ত। নৌ পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী পৌর এলাকায় অভিযান চালিয়ে পারভেজ ও বিপ্লব নামের দুই মাদক কারবারীকে আটক করেছে পুলিশ। এসময় তাদের সাথে থাকা একটি গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ৮০ হাজার ৩৬০পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়। যার বাজার মূল্য প্রায় আড়াই কোটি টাকা। জব্দ করা হয়েছে তাদের ব্যবহৃত জিপ গাড়িটি। বৃহস্পতিবার সকালে চৌমুহনী পৌরসভার করিমপুর রূপসা শপিং কমপ্লেক্স এর সামনে থেকে তাদের আটক করা হয়। আটকৃত পারভেজ ও বিপ্লবের বাড়ি কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলায়। পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চৌমুহনী পৌরসভার করিমপুর রূপসা শপিং কমপ্লেক্সের সামনে অভিযান চালায় বেগমগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ। অভিযান কালে ফেনী-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কে ফেনী থেকে আসা কালো রংয়ের হার্ডজিপকেয়া নামক জীপ গাড়ীর গতিরোধ করা হয়। পরে সেটিতে তল্লাশি চালিয়ে গাড়ীর পিছনে ডান পাশের দরজায় বিশেষভাবে লুকানো অবস্থায় সাদা স্কচটেপ দ্বারা মোড়ানো ৪১টি কাগজের প্যাকেটের মধ্যে ১৯৬টি নীল রংয়ের জীপারযুক্ত পলি ব্যাগে ৮০হাজার ৩৬০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়। বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শামসুজ্জামান জানান, আটককৃত আসামী পারভেজ এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মোট ৬টি মামলা বিচারাধীন। এই ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হবে।

ইঞ্জিন বিকল হয়ে গভীর বঙ্গোপসাগরে ভাসতে থাকা ১৯ জেলেকে মাছ ধরার ট্রলারসহ উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেলে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান। কোস্ট গার্ড জানায়, গত ৮ জুলাই এফবি মা-২ নামক একটি ফিশিং বোট ১৯ জন জেলেসহ হাতিয়া থেকে মাছ ধরার জন্য সাগরে যায়। ১৩ জুলাই ইঞ্জিন বিকল হয়ে বোটটি সমুদ্রে ভাসতে থাকে। দুই দিন পর ১৫ জুলাই মোবাইল নেটওয়ার্কের মধ্যে আসেন তারা। আজ সকাল ১০টায় বোটের এক জেলে কোস্ট গার্ডকে বিষয়টি অবহিত করে। তথ্য পেয়ে তাৎক্ষণিক কোস্ট গার্ড স্টেশন ভাসানচর ও অপারেশন সুরক্ষায় নিয়োজিত জাহাজ বিসিজিএস কুতুবদিয়া উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। পরে চট্টগ্রামের নরম্যান্স পয়েন্ট থেকে পশ্চিমে গভীর সমুদ্র এলাকা থেকে বিকল হওয়া বোটসহ ১৯ জন জেলেকে জীবিত উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত জেলেদের প্রাথমিক চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় খাবার দেওয়া হয়েছে। বোটসহ জেলেদের মালিকপক্ষের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম বলেন, ‘বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দেশের সুবিশাল সমুদ্র উপকূলীয় এবং নদী তীরবর্তী অঞ্চলের নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। একইসঙ্গে সমুদ্রে মৎস্য আহরণে নিয়োজিত জেলেদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড উপকূলীয় জনগণের মাঝে নিরাপত্তা ও আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, জরুরি উদ্ধার কার্যক্রমে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।

নোয়াখালীর হাতিয়ায় জলাবদ্ধতা ও ভেঙে পড়া যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে সময়মতো হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয়নি এক প্রসূতি মাকে। চিকিৎসার অভাবে ঘরেই সন্তানসহ মারা গেছেন নাজমা আক্তার (৩০) নামে এক প্রসূতি। বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইসলামপুর গ্রামে হৃদয়বিদারক এ ঘটনা ঘটে। নিহত নাজমা আক্তার ওই গ্রামের মো. হক সাবের স্ত্রী। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ, অস্বাভাবিক জোয়ার এবং দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় নিঝুমদ্বীপের বিস্তীর্ণ এলাকা এখনও পানির নিচে রয়েছে। গত দুই দিনে কিছু এলাকায় পানি কমলেও বুধবার দুপুরে অতিরিক্ত জোয়ারে ইসলামপুর গ্রামের বিভিন্ন সড়ক, কাঁচা রাস্তা ও চলাচলের পথ আবারও পানিতে তলিয়ে যায়। এতে পুরো এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় বুধবার সকালে নাজমা আক্তারের প্রসববেদনা শুরু হলে স্বজনরা দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু চারপাশে পানি জমে থাকায় কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারেনি। বিকল্পভাবে নৌকায় নেওয়ারও উপযুক্ত ব্যবস্থা না থাকায় তাকে ঘর থেকে বের করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ সময় প্রসব যন্ত্রণার পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও শারীরিক জটিলতা দেখা দিলে একপর্যায়ে ঘরেই অনাগত সন্তানসহ তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, বছরের পর বছর ধরে নিঝুমদ্বীপে দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা এবং জলাবদ্ধতার সমস্যা থাকলেও কার্যকর কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। ফলে জরুরি মুহূর্তে রোগীদের হাসপাতালে পৌঁছানো অনেক সময় অসম্ভব হয়ে পড়ে। ইউপি সদস্য কেফায়েত হোসেন বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে জোয়ারের পানি ও জলাবদ্ধতায় নিঝুমদ্বীপের নিম্নাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। অনেক এলাকায় সড়ক পানির নিচে থাকায় জরুরি রোগীদের হাসপাতালে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। নাজমা আক্তারের মৃত্যু সেই দুর্ভোগেরই করুণ উদাহরণ। আমরা এমন মৃত্যু আর দেখতে চাই না।’ স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক বেলাল উদ্দিন বলেন, ‘নিঝুমদ্বীপে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের বসবাস হলেও এখানকার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক। কার্যত জরুরি চিকিৎসা পাওয়ার মতো কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেই। পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের অধীনে একটি স্বাভাবিক (নরমাল) প্রসবসেবা কেন্দ্র এবং তিনটি কমিউনিটি ক্লিনিক থাকলেও সেগুলোতে প্রয়োজনীয় জনবল, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও সেবার ঘাটতি রয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিশেষ করে প্রসূতি মা, শিশু, বৃদ্ধ ও জরুরি রোগীদের জন্য পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ।’ তিনি আরও বলেন, ‘কোনো রোগীর অবস্থা গুরুতর হলে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিতে হয়। কিন্তু দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া, জোয়ার-ভাটা, জলাবদ্ধতা ও যাতায়াত সংকটের কারণে অনেক সময় রোগীকে সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছানো সম্ভব হয় না। নাজমা আক্তারের মৃত্যু এ অঞ্চলের ভঙ্গুর স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও যোগাযোগ সংকটের একটি নির্মম উদাহরণ। অবিলম্বে নিঝুমদ্বীপে একটি পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ২৪ ঘণ্টা মাতৃসেবা এবং জরুরি রোগী পরিবহনের ব্যবস্থা চালু করা না হলে ভবিষ্যতে আরও এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটতে পারে।’ নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লাভলী আক্তার বলেন, ‘নাজমা আক্তারের আগে দুটি সন্তান রয়েছে। এটি ছিল তার তৃতীয় সন্তান। চারপাশে জোয়ারের পানি, চলাচলের মতো রাস্তা নেই। ফলে ঘরের ভেতরেই সন্তানসহ প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। আমাদের এখানে ভালো রাস্তা নেই, উন্নত স্বাস্থ্যসেবাও নেই। মানুষের সামান্য চিকিৎসা পেতেও অনেক কষ্ট করতে হয়। এই মৃত্যুর দায় অবকাঠামোগত সংকট এড়াতে পারে না।’

বিশ্বজুড়ে মানুষের খাদ্য তালিকায় প্রোটিনের অন্যতম প্রধান উৎস এখন পোলট্রি বা ফার্মের মুরগির মাংস। জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং মানুষের অর্থনৈতিক উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে এই মাংসের চাহিদাও দিন দিন বাড়ছে। তবে এই প্রতিযোগিতায় বিশ্ববাজারে এখনো বেশ পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (FAO) তথ্যমতে, বিশ্বে মুরগির মাংস উৎপাদনে শীর্ষ ৫০টি দেশের মধ্যেও নেই বাংলাদেশ। প্রতিবেশী ভারত, পাকিস্তান, এমনকি শ্রীলঙ্কাও এক্ষেত্রে বাংলাদেশের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে। কোন অবস্থানে বাংলাদেশ জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার বৈশ্বিক উৎপাদন ডাটাবেজের (FAOSTAT) সর্বশেষ তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০২৪ সালে বাংলাদেশে ফার্মের মুরগির (তাজা ও প্রক্রিয়াজাত) মোট উৎপাদন হয়েছে ২ লাখ ৩২ হাজার ৫০৭ দশমিক ৬৭ মেট্রিক টন। এই উৎপাদন নিয়ে বিশ্বের ১৮৭টি দেশ ও অঞ্চলের মধ্যে বাংলাদেশ ৫৩তম অবস্থানে জায়গা করে নিয়েছে। মন্ত্রীর কথোপকথন ভাইরাল / ‘এরা তো ফার্মের মুরগি, বৃষ্টিতে ভিজলেই জ্বর আসবে’ দেশের অভ্যন্তরে পোলট্রি শিল্পের ব্যাপক প্রসার ঘটলেও বৈশ্বিক বাজারে উৎপাদন ও প্রতিযোগিতার দৌড়ে বাংলাদেশ এখনো বেশ পেছনে রয়েছে। বিশেষ করে আধুনিক প্রযুক্তির অভাব, পোলট্রি খাদ্যের উচ্চমূল্য এবং খামারিদের সঠিক প্রশিক্ষণের ঘাটতি এই খাতে আশানুরূপ অগ্রগতি অর্জনে বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে। দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ কত নম্বরে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ফার্মের মুরগি উৎপাদনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ শীর্ষ তিন দেশের মধ্যে জায়গা করতে পারেনি। এফএও-এর ডেটা অনুযায়ী, এই অঞ্চলে উৎপাদনের দিক থেকে বাংলাদেশ বর্তমানে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় সবার ওপরে রয়েছে প্রতিবেশী দেশ ভারত। এরপর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তান। অবাক করার মতো বিষয় হলো, জনসংখ্যার দিক থেকে ছোট দেশ হলেও মুরগি উৎপাদনে শ্রীলঙ্কাও বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে এবং তারা তৃতীয় স্থান দখল করেছে। বাংলাদেশের ঠিক পরে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে নেপাল। আর যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তান ও ছোট দেশ ভুটান তালিকার অনেক পেছনে পড়ে আছে। উৎপাদনে বিশ্বসেরা যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বজুড়ে ফার্মের মুরগি উৎপাদনের ক্ষেত্রে একক আধিপত্য বজায় রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। ২০২৪ সালের হিসাব অনুযায়ী, দেশটিতে রেকর্ড ২ কোটি ১৭ লাখ ৬৬ হাজার ৩৭ মেট্রিক টন মুরগির মাংস উৎপাদিত হয়েছে। ফার্মের মুরগি: জঙ্গল থেকে আধুনিক ব্রয়লার হয়ে ওঠার যাত্রা যুক্তরাষ্ট্রের এই বিশাল সাফল্যের পেছনে রয়েছে তাদের শতভাগ আধুনিক ও স্বয়ংক্রিয় খামার ব্যবস্থাপনা। উন্নত জাতের মুরগি প্রতিপালন, কঠোর জৈব-নিরাপত্তা (বায়োসিকিউরিটি) এবং সরকারি প্রণোদনার কারণে তারা বিশ্বের এক নম্বর পোলট্রি উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে পেরেছে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে চীন ও ব্রাজিল উৎপাদনের বিশ্বতালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের পরেই দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে এশিয়ার পরাশক্তি চীন। ২০২৪ সালে চীনের মোট উৎপাদন ছিল ১ কোটি ৬০ লাখ ৬৬ হাজার ৭৮৯ দশমিক ৫৮ মেট্রিক টন। চীনের বিশাল জনসংখ্যার মাংসের চাহিদা মেটাতে দেশটির সরকার পোলট্রি শিল্পে বড় ধরনের বিনিয়োগ করে আসছে। অন্যদিকে, তৃতীয় স্থান দখল করে রেখেছে লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিল। ২০২৪ সালে ব্রাজিলে মুরগির মাংস উৎপাদিত হয়েছে ১ কোটি ৩৭ লাখ ১৪ হাজার ৭০১ দশমিক ৬৯ মেট্রিক টন। ব্রাজিল শুধু উৎপাদনেই সেরা নয়, তারা বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ মুরগির মাংস রপ্তানিকারক দেশও বটে। মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার বহু দেশে ব্রাজিলের হিমায়িত মুরগির মাংস নিয়মিত রপ্তানি হয়। রাশিয়া ও ভারতের অবস্থান এফএও-এর তালিকায় চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে রাশিয়া। ২০২৪ সালে দেশটির খামারগুলো থেকে মোট ৫৪ লাখ ৫৭ হাজার ৩২৯ দশমিক ৮০ মেট্রিক টন মুরগির মাংস উৎপাদিত হয়েছে। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও রাশিয়া তাদের অভ্যন্তরীণ পোলট্রি শিল্পকে বেশ শক্তিশালী করে তুলেছে। অন্যদিকে, ৫০ লাখ ১৯ হাজার ৪১০ মেট্রিক টন উৎপাদন নিয়ে বিশ্বে পঞ্চম স্থানে রয়েছে প্রতিবেশী দেশ ভারত। তাদের বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজার এবং পোলট্রি ফিড বা খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা তাদের এই অবস্থানে আসতে সাহায্য করেছে। শীর্ষ ১০ দেশের বাকিরা তালিকায় ষষ্ঠ থেকে দশম স্থানের মধ্যেও বেশ কিছু দেশের চমকপ্রদ উৎপাদন লক্ষ্য করা গেছে। ৪১ লাখ ৭৯ হাজার ৪৪৪ দশমিক ২০ মেট্রিক টন উৎপাদন নিয়ে ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ইন্দোনেশিয়া। এর ঠিক পরেই ৪০ লাখ ১৩ হাজার ২১৫ দশমিক ৮২ মেট্রিক টন উৎপাদন নিয়ে সপ্তম স্থানে রয়েছে মেক্সিকো। অষ্টম স্থানে জায়গা করে নিয়েছে আফ্রিকার দেশ মিশর, যাদের উৎপাদন ২৫ লাখ ৯৮ হাজার ৬০৩ দশমিক ৫২ মেট্রিক টন। নবম স্থানে রয়েছে তুরস্ক, তাদের উৎপাদন ২৫ লাখ ১২ হাজার ১৩০ দশমিক ৮৬ মেট্রিক টন। আর ২৪ লাখ ৬৬ হাজার ৯৬৬ দশমিক ৫৯ মেট্রিক টন উৎপাদন নিয়ে শীর্ষ ১০ দেশের তালিকা শেষ করেছে এশিয়ার উন্নত দেশ জাপান। এফএও-এর এই ডাটাবেজ থেকে স্পষ্ট যে, বাংলাদেশের পোলট্রি শিল্পে এখনো বিশাল উন্নতির সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ বর্তমানে ৫৩তম অবস্থানে থাকলেও অভ্যন্তরীণ বাজারে ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। দেশে পোলট্রি খাতের মাধ্যমে লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। তবে খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে মুরগির মাংসের উৎপাদন আরও বাড়াতে হলে পোলট্রি ফিডের দাম কমাতে হবে। কারণ মুরগি উৎপাদনের মোট খরচের প্রায় ৭০ শতাংশই চলে যায় খাদ্যের পেছনে। এছাড়া খামারিদের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করা এবং বার্ড ফ্লুসহ বিভিন্ন রোগবালাই প্রতিরোধে উন্নত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ বিশ্বতালিকায় আরও অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারবে।

নরসিংদীতে তিন মাস বয়সী এক শিশুর পা মুচড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার আপন চাচির বিরুদ্ধে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাতে সমাজসেবা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা বাদী হয়ে মাধবদী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ভুক্তভোগী শিশুটির নাম রিজিক। সে সদর উপজেলার মাধবদী থানার আমদিয়া ইউনিয়নের চাঁনগাঁও গ্রামের জহিরুল হক জহির ও সাইফা বেগমের সন্তান। এর আগে গতকাল বিকেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অভিযুক্ত চাচি লতা বেগমের (৩২) স্বামীসহ পরিবারের ৩ সদস্যকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযুক্তের স্বামী কাউছার আহমেদ ও শ্বশুর আলমাছ মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত চাচি পলাতক রয়েছেন। মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, এ ঘটনায় ২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযুক্ত চাচি লতা বেগম পলাতক রয়েছেন। শিশুটির বাবা-মা অভিযুক্তদের সঙ্গে থাকেন, এক সঙ্গে কাজ করেন। তারা কারো বিরুদ্ধে মামলা করতে চাচ্ছেন না। তবে এমন নিষ্ঠুর আচরণে বিচারের দায়িত্ব তো রাষ্ট্র নেবেই। সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে জেলা সমাজসেবা অফিসার বাদী হয়ে মামলা করেছেন। এ ঘটনায় একটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়েছে। অভিযুক্তের স্বামী কাউছার আহমেদ ও শ্বশুর আলমাছ মিয়া গ্রেপ্তার তিনি আরও বলেন, আমরা আজ বাচ্চাকে জেলা হাসপাতালে পাঠাচ্ছি। তারা এক্সরে করে মতামত দেবে। তবে পা ভাঙেনি এটা পরিবারের দাবি। অভিযুক্ত লতা বেগম যে কাজটা করেছে তার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এর আগে শিশুটির বাবা জহিরুল হক জহির ও মা সাইফা জানান, এটি সম্পূর্ণ তাদের পারিবারিক বিষয় এবং তিন দিন আগেই পারিবারিকভাবে এর মীমাংসা হয়ে গেছে। শিশুটি বর্তমানে সুস্থ রয়েছে এবং তার পা ভাঙেনি। পায়ে ব্যান্ডেজ বা কোনো চিকিৎসারও প্রয়োজন হয়নি। তাই এ নিয়ে তাদের কোনো অভিযোগ নেই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কেউ একজন মনগড়া তথ্য দিয়ে ভিডিওটি ছাড়িয়েছে। ভিডিওটি এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence) দিয়ে বানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল করা হয়েছে বলেও দাবি করেছিল শিশুটির পরিবার। পরে এ ঘটনায় অভিযুক্তকে তারা মাফ করে দিয়েছেন বলে দাবি করেন। প্রসঙ্গত, প্রায় ৫ দিন আগের এই ঘটনার একটি ভিডিও গত ১৪ জুলাই দুপুরে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দাবি করা হয়, পারিবারিক বিরোধের জেরে শিশুটির পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নজরে আসার পরপরই অনুসন্ধানে নামে পুলিশ। পুলিশি সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক কলহের জেরে রাগের বশে লতা বেগম ঘরে ঢুকে ৩ মাস বয়সী শিশু রিজিকের পা মোচড় দেন। সে সময় শিশুটির মায়ের গোপনে রেখে যাওয়া মোবাইল ফোনে দৃশ্যটি ধারণ হয়ে যায়। পরে গত ১১ জুলাই তিনি ভিডিওটি তার ভাই ইব্রাহিমকে দেন। তবে কারা এবং কীভাবে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এদিকে, ভাইরাল হওয়া তথ্যের সঙ্গে শিশুটির মা-বাবার বক্তব্যের অমিল পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ওসির তথ্যমতে, শিশুর পা ভাঙার দাবিটি সত্য নয়। তবে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তসহ অভিযুক্ত লতা বেগমের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পলাতক লতা বেগমকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেছেন, জুলাই গণহত্যার দায়ে শেখ হাসিনার জন্য ফাঁসির দড়ি প্রস্তুত করা হচ্ছে। সোমবার (১৩ জুলাই) নোয়াখালী কলেজের ২০২৫-২৬ সেশনের অনার্স প্রথম বর্ষের নবীনবরণ ও শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার গাইডলাইন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, শেখ হাসিনা দেশে আসবো আসবো বলে শুনছি। এদিকে সরকার জুলাই গণহত্যার দায়ে তার জন্য ফাঁসির দড়িও প্রস্তুত করছে। আমরা চাই তিনি (শেখ হাসিনা) তাড়াতাড়ি আসুক আর রায়ও দ্রুত কার্যকর হোক। শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে শিবির সভাপতি বলেন, আপনাকে আসতেই হবে এবং বাংলাদেশে যে গণহত্যা চালিয়েছেন, তার জন্য বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। আপনি দেশে যে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছেন তা আজ পরিষ্কার হয়ে গেছে। আদালতও আপনার বিচারের রায় ঘোষণা করে রেখেছে। সাদ্দাম আরও বলেন, আমরা সরকারকে বলেছি। তিনি (শেখ হাসিনা) একটা বিষধর সাপ। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতেই হবে। মাঝে মাঝে বার্তা দিয়ে তিনি হুঙ্কার ছাড়েন। ডিসেম্বরে দেশে আসছেন। আমরা জানি তার এ ডিসেম্বর কেয়ামত পর্যন্তও দেশে আসবে না। শিবির সভাপতি অভিযোগ করে বলেন, জুলাই পরবর্তীসময়ে দেশের প্রশাসনগুলোতে নগ্ন দলীয়করণ চলছে। সাদা দল না করলে কোনো জায়গায় ভিসি হতে পারবে না। দুনিয়াতে আর কোনো শিক্ষক নেই যাদের কোয়ালিটি আছে। শুধুমাত্র ছাত্রদল-বিএনপি করলে কোয়ালিটি ঠিক থাকে। নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, এমন সিস্টেমকে আমরা ধিক্কার জানাই। নির্বাচন না দিয়ে তারা নিজেদের প্রশাসক বসিয়েছে। এ সিস্টেমের নতুন বন্দোবস্ত আমরা চাইনি। ছাত্ররা এজন্য জীবন দেয়নি। ছাত্র সংসদ ও ক্যাম্পাস রাজনীতি নিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন দিলে কী হয়, সেগুলো আপনারা ডাকসু, চাকসু, রাকসুতে দেখেছেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখতে পারছেন। সেখানে কোনো হল-বাণিজ্য, ভর্তি-বাণিজ্য, সিট দখল চলে না। চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজি চলে না। গাঁজা, হেরোইন, ইয়াবার ব্যবসাসহ সব কিছু যখন বন্ধ হয়ে গেছে, তখন তাদের নেতার মিছিল করার জন্য গাঁজাখোর টোকাইদের ৩০০-৫০০ টাকা দিয়ে ভাড়া করে নেতৃত্ব জাহির করছে। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের আমির ইসহাক খন্দকার, নোয়াখালী শহর জামায়াতের সভাপতি আবদুল্লাহ আল মাহবুব, সেক্রেটারি মো. বোরহান উদ্দিন, নোয়াখালী কলেজ সভাপতি আবদুল কাদের আল-আমিন, সেক্রেটারি মো. ইব্রাহিম প্রমুখ

টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ, জোয়ারের পানি ও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় পানির নিচে তলিয়ে গেছে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি। এর ফলে কৃষি খাতে প্রাথমিকভাবে ২০ কোটি টাকারও বেশি ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছে কৃষি বিভাগ। এতে প্রায় ৮০ হাজার কৃষক চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিনের টানা বর্ষণে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। অনেক এলাকায় এখনো পানি নামেনি। এতে প্রায় ২১ হাজার ৫২০ হেক্টর আউস ধান, ১ হাজার ৯২০ হেক্টর আমনের বীজতলা, ৯৫০ হেক্টর মৌসুমি শাকসবজি, ৫৮ হেক্টর ফলের বাগান, ৪ হেক্টর মরিচ এবং ১০ হেক্টর পানের বরজসহ প্রায় ২৫ হাজার হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হাতিয়ার চরাঞ্চল ও নিচু এলাকার অধিকাংশ কৃষিজমিতে এখনো হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে রয়েছে। দীর্ঘ সময় পানির নিচে থাকায় অনেক ক্ষেতের ধান পচে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। অন্যদিকে সবজির ক্ষেত প্রায় সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করা কৃষকেরা এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। চরকিং ইউনিয়নের কৃষক মোজাহের উদ্দিন বলেন, এবার প্রায় দুই একর জমিতে আউস ধান আবাদ করেছিলাম। হঠাৎ টানা বৃষ্টিতে পুরো জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ধান হলুদ হয়ে নষ্ট হতে শুরু করেছে। কয়েক লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছি। এখন সেই টাকা কীভাবে উঠবে, বুঝতে পারছি না। চর ইশ্বর ইউনিয়নের কৃষক মো. ইব্রাহিম বলেন, সবজি চাষ করেই সংসার চলে। বেগুন, ঢেঁড়স ও মরিচের পুরো ক্ষেত পানিতে ডুবে গেছে। বাজারে বিক্রি করার মতো কিছুই নেই। সরকারি সহায়তা না পেলে নতুন করে চাষাবাদ করা সম্ভব হবে না। সোনাদিয়া ইউনিয়নের কৃষক মো. শাহ আলম বলেন, বীজতলা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় আগামী মৌসুমের আমন চাষ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। নতুন করে বীজ সংগ্রহ ও জমি প্রস্তুত করতে অতিরিক্ত খরচ হবে। আগের বিনিয়োগও শেষ, এখন কী করব বুঝতে পারছি না। পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষক মো. আহসান বলেন, প্রতি বছরই জলাবদ্ধতায় একই ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। পানি দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় কৃষকরাই সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন। স্থায়ী পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না হলে কৃষকেরা চাষাবাদে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে খাল-নালা ভরাট, পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ সংকুচিত হওয়া এবং অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণের কারণে বৃষ্টির পানি দ্রুত নামতে পারছে না। ফলে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে একই ধরনের দুর্ভোগ ও ক্ষতির মুখে পড়ছেন কৃষকেরা। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল বাছেদ সবুজ বলেন, অতিবৃষ্টিতে হাতিয়ার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে প্রায় ৮০ হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ইউনিয়ন পর্যায় থেকে তথ্য সংগ্রহ করে প্রাথমিক প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। চূড়ান্ত ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নিরূপণের কাজ চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কৃষি বিভাগ কাজ করছে।

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী-চাটখিল চার লেন সড়কের পাশের সরকারি জায়গা দখল করে গড়ে তোলা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে প্রশাসন। রোববার (১২ জুলাই) বিকেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে নতুন করে নির্মিত এসব স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট উদ্দিনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে সড়ক বিভাগের কর্মকর্তারা, আনসার ও পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, সড়ক বিভাগের চাহিদার ভিত্তিতে এবং সোনাইমুড়ী-চাটখিল চার লেন সড়ক নির্মাণকাজ নির্বিঘ্ন করতে সরকারি জায়গা থেকে অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা হয়েছে। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে নতুন করে গড়ে ওঠা এসব স্থাপনা ভেঙে দেওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা। এর আগে গত শনিবার দুপুরে, সরকারি জায়গা দখলের চেষ্টার অভিযোগে স্থানীয় বিএনপির কিছু নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে শনিবার মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচিতে দেড় শতাধিক মানুষ অংশ নেন। ভুক্তভোগীরা জানান, ১৯৬০ সালের পর সড়ক নির্মাণের জন্য সরকার জমি অধিগ্রহণ করলে ভুক্তভোগীরা তাদের মালিকানাধীন ও ভোগদখলীয় জমি স্বেচ্ছায় ছেড়ে দেন। ২০২৪ সালে সোনাইমুড়ী-চাটখিল-রামগঞ্জ সড়ক চার লেনে উন্নীত করার প্রকল্প অনুমোদনের পর পুনরায় জায়গা খালি করার নোটিশ পেয়ে তারা স্বেচ্ছায় স্থাপনা সরিয়ে নিয়ে সরকারকে সহযোগিতা করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, গত বৃহস্পতিবার রাতে সোনাইমুড়ী পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলমগীর হোসেন চেম্পু, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনির ভূঁইয়া, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক রুবেল ভূঁইয়া, পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেল ভূঁইয়া ও যুবদল নেতা মোজাম্মেল হোসেন অপুর নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে টিনের বেড়া দিয়ে কলেজ পুকুরপাড় থেকে শিমুলিয়া কালভার্ট পর্যন্ত প্রায় ৩০০ ফুট জায়গা দখলের চেষ্টা করে। অভিযুক্তরা পার্শ্ববর্তী ভানুয়াই গ্রামের বাসিন্দা এবং শিমুলিয়া গ্রামে তাদের কোনো জমি বা ওয়ারিশ নেই। শুধু রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তারা এ ধরনের দখলচেষ্টা চালাচ্ছিলেন। এ বিষয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি

ইয়েমেনের রাজধানী সানার আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে হামলার জন্য সৌদি আরবকে দায়ী করে দেশটির একটি বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরানের মদতপুষ্ট হুথি বিদ্রোহীরা। গতকাল সোমবার ঘটেছে এ হামলা। বিজ্ঞাপন ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শোক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তেহরানে গিয়েছিল হুথি বিদ্রোহীদের একটি প্রতিনিধি দল। গতকাল তাদের ফিরে আসার কথা ছিল। কিন্তু দলটি ফেরার পথে থাকা অবস্থায় সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঘটে এবং এতে বিমানবন্দরের রানওয়ে বিধ্বস্ত হয়। উড়োজাহাজটি পরে যাত্রাপথ পরিবর্তন করে হোদেইদা বিমানবন্দরে অবতরণ করতে বাধ্য হয়। পরে ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলে ক্ষমতাসীন সৌদিপন্থি ইয়েমেনি সরকার সানা বিমানবন্দরে হামলার দায় স্বীকার করে এবং তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সৌদির দক্ষিণাঞ্চলীয় আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা করে হুথি বিদ্রোহীরা। বিজ্ঞাপন সৌদিতে হামলার পর হুথি বিদ্রোহীদের মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি গতকাল এক ভিডিওবার্তায় বলেন, “সৌদির অপরাধমূলক আগ্রাসনের জবাব দিতে দেশটির আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী; অভিযানে বেশ কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং বিস্ফোরকবাহী ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে।” ইয়েমেনে অভিযানরত সৌদি জোটের মুখপাত্র তুরকি আল-মালিকি হামলার তথ্য স্বীকার করে এএফপিকে বলেছেন, “হুথি বিদ্রোহীরা কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে এবং এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ব্যবহারের মাধ্যমে সেগুলোকে আটকে দিয়ে ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে।” ইরানের মদতপুষ্ট হুথি বিদ্রোহীরা ২০১৫ সালে সানা দখল করার পর দেশটির তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মনসুর আব্দ আল হাদি সৌদিতে পালিয়ে আসেন। তারপর ওই ইয়েমেনে অভিযান শুরু করে সৌদি কোয়ালিশন বাহিনী। বর্তমানে ইয়েমেন কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। দেশটির উত্তরাঞ্চল শাসন করছে সৌদিপন্থি সরকার এবং দক্ষিণাঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করছে হুথি বিদ্রোহীরা। বিজ্ঞাপন ২০২২ সালে সৌদি এবং হুথিদের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। সেই চুক্তি স্বাক্ষরের ৪ বছর পর প্রথম তা ভঙ্গ করে সৌদিতে হামলা চালাল হুথি বিদ্রোহীরা। তবে ইয়েমেনের প্রেসিডেনশিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের প্রধান রাশেদ আল আলিমি জানিয়েছেন, তিনি সৌদির সঙ্গে উত্তেজনা বাড়াতে আগ্রহী নন।