

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দুবাই, আবুধাবি ও শারজাহর এয়ারফিল্ড বন্ধ থাকায় শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আরও ৫ ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। সোমবার (২ মার্চ) চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী একাধিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। বিমানবন্দর সূত্র জানায়, সকালের নির্ধারিত ফ্লাইটগুলোর মধ্যে—বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মধ্যপ্রাচ্যগামী দুটি ফ্লাইট বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ও একটি আগমন ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এয়ার আরাবিয়াের একটি মধ্যপ্রাচ্যগামী ফ্লাইটও স্থগিত রয়েছে। তবে সব ফ্লাইট বন্ধ হয়নি। মাস্কাট থেকে আসা সালাম এয়ারের ফ্লাইট OV-401 সোমবার সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে চট্টগ্রামে অবতরণ করে। পরে যাত্রী নিয়ে একই এয়ারলাইনের OV-402 ফ্লাইট সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে মাস্কাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া অস্থিরতার পরিপ্রেক্ষিতে এ পর্যন্ত মোট ২৫টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ফ্লাইট সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। যাত্রীদের ফ্লাইট সংক্রান্ত সর্বশেষ তথ্য জানার জন্য সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনস বা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশসহ নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা প্রদান স্থগিত করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। গত ২১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। সোমবার (২ মার্চ) সকালে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস নিজেদের ভেরিফায়েড ফেসবুকের এক পোস্টে এসব নিশ্চিত করেছে। এতে বলা হয়, ‘২১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকরভাবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বাংলাদেশসহ কিছু দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা দেওয়া স্থগিত করেছে। যেসব দেশের অভিবাসীরা যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের ব্যয়ে তুলনামূলক বেশি হারে সরকারি সহায়তা নেন, তাদের ক্ষেত্রেই এই সিদ্ধান্ত প্রযোজ্য।’ পোস্টে আরও বলা হয়, ‘এই স্থগিতাদেশ ভিজিটর ভিসার জন্য প্রযোজ্য নয়।’ মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ‘প্রভাবিত দেশগুলোর নাগরিকরা অভিবাসী ভিসার আবেদন জমা দিতে পারবেন এবং নির্ধারিত সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে পারবেন। পররাষ্ট্র দপ্তর ভিসা সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় ১৩৩টি অধ্যাদেশের বিষয়ে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই উপস্থাপন করা হবে। পরে জাতীয় সংসদ সেগুলোর বিষয়ে কি করা হবে সেটা নির্ধারণ করবে। রোববার (১ মার্চ) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। গত দেড় বছর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করেছে। এর মধ্যে কতগুলো স্পর্শকাতর অধ্যাদেশ রয়েছে। বিএনপি এগুলোকে কীভাবে মূল্যায়ন করবে? এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় ১৩৩টি অধ্যাদেশ এবং একটি আদেশ জারি করা হয়েছে। জাতীয় সংসদ অধিবেশনের প্রথম দিনেই এই অধ্যাদেশগুলো উপস্থাপন করা হবে। পার্লামেন্টের নিয়ম অনুসারে সেই অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে হুবহু কোনগুলো গ্রহণ করবে তা জাতীয় সংসদে নির্ধারিত হবে। কিছু কিছু অধ্যাদেশ হয়তো সংশোধনীসহ গ্রহণ করা হতে পারে, সেটিও জাতীয় সংসদে নির্ধারিত হবে। আর কোনগুলো তাদের হয়তো প্রয়োজন হবে না, ল্যাপস হয়ে যাবে তাও জাতীয় সংসদে নির্ধারিত হবে। তিনি বলেন, সে বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয় কাজ করছে। আশাকরি সংসদ অধিবেশন শুরু হলে আপনারা সবাই এ বিষয়ে অবহিত হবেন।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহতের পর প্রতিবেশী দেশ ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রে দূতাবাস ভবনে হামলা চালিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা। এক প্রতিবেদনে এএফপি জানিয়েছে, যুদ্ধের কারণে সম্প্রতি ইরাকের মার্কিন দূতাবাস ভবনে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছিল। রোববার বেলা ১১ টার দিকে দূতাবাস ভবনের সামনে জড়ো হয় শত শত মানুষ। তাদের বেশিরভাগের পরনে ছিল কালো রঙের পোশাক এবং হাতে ছিল লাঠি-পাথর। দূতাবাসের সামনে নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় বিক্ষোভকারীদের এবং একসময় বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দিতে সক্ষম হয় নিরাপত্তা কর্মরা। এই সংঘর্ষে হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া আলী নামে এক ব্যক্তি এএফপিকে বলেন, “আমরা ইরাক থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে উৎখাত করতে চাই। এ করনেই এখানে এসেছি।”

‘চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনা’ উল্লেখ করে ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত’ কুয়েতে মার্কিন দূতাবাসে বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এক্স অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি জাতিয়েছে দূতাবাস। পোস্টে দূতাবাস বলেছে, আমরা সব নিয়মিত এবং জরুরি কনস্যুলার অ্যাপয়েন্টমেন্ট (আবেদন) বাতিল করেছি। এছাড়া ইসলামাবাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস দেশের ‘বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি’ উল্লেখ করে সব ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট বাতিলের ঘোষণা করেছে। এর আগে, সোমবার (২ মার্চ) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে (কুয়েতসহ) আমেরিকানদের ‘গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকি’র কারণে বাণিজ্যিক পরিবহনে স্থান ত্যাগ করার আহ্বান জানানো হয়। সূত্র : সিএনএন

এক মাসের জন্য সব এন্ট্রি ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কাতার সরকার। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) এক বিবৃতিতে কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই তথ্য জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সব ধরনের এন্ট্রি ভিসার মেয়াদ এক মাসের জন্য বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে, যা পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে আরও বাড়ানো হতে পারে। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ভিসার মেয়াদ বাড়ানো প্রক্রিয়াটি ইলেকট্রনিক সিস্টেমের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে হবে, কোনো ফি লাগবে না এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোতে যাওয়ার বা অতিরিক্ত আবেদন জমা দেওয়ার প্রয়োজন হবে না।

ঝড় থেমেছে অনেক আগেই। কিন্তু সেই ঝড়ের ক্ষত এখনো থামেনি বিধবা রহিমা খাতুনের জীবনে। ২০২৫ সালের ১৯ জুনের আকস্মিক টর্নেডো এক মুহূর্তেই তার ঘরটা ভেঙে দিয়ে যায়। আট মাস পেরিয়ে গেলেও ভাঙা ঘরে ভয় আর অসহায়ত্ব নিয়েই দিন কাটছে তার। নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর গোপালপুর গ্রামের মৃত আব্দুল মালেকের স্ত্রী রহিমা খাতুন এখনো বসবাস করছেন সেই বিধ্বস্ত ঘরেই। ঝড়-বৃষ্টিতে ভিজে আর রোদে শুকিয়েই কাটে তার জীবন। উপার্জন করার মতো কেউ নেই পরিবারে তাই অসহায়ত্বই যেন তার নিত্যসঙ্গী। সরেজমিনে দেখা যায়, ভেঙে পড়া ঘরের ভেতর নামাজের বিছানায় বসে কোরআন তিলাওয়াত করছেন রহিমা খাতুন। পাশে মেয়ে রোকসানা আক্তার। মানুষের দয়া-সহযোগিতার ওপর নির্ভর করেই চলে তাদের সেহরি ও ইফতার। সেই ভয়াল দিনের কথা বলতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন রহিমা খাতুন। তিনি বলেন, ভোরে হঠাৎ বাতাসের ভয়ংকর শব্দ শুনি। গাছ ভাঙার শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই একটা বড় গাছ ঘরের ওপর পড়ে। আমি, আমার মেয়ে আর নাতি ঘুমিয়ে ছিলাম। তারা চিৎকার করে কোনোভাবে আমাকে বের করে। তারপর থেকে ঘরটা আর ঠিক করতে পারিনি। আমার সামর্থ্য নেই। অনেকেই আসে, ছবি তোলে কিন্তু কেউ ঘর করে দেয় না। স্থানীয়দের ভাষ্য, টর্নেডোর পর সেনবাগ উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ২১টি পরিবারকে দুই বান টিন, ৬ হাজার টাকা ও শুকনা খাবার দেওয়া হয়েছিল। অন্য পরিবারগুলো কোনোভাবে ঘুরে দাঁড়ালেও রহিমা খাতুনের ভাগ্যে জোটেনি স্থায়ী আশ্রয়। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হক ডিলার বলেন, প্রায় এক বছর ধরে ঝড়-বৃষ্টির মধ্যেই ভাঙা ঘরে বসবাস করছেন এই অসহায় নারী। টর্নেডো সেদিন পুরো এলাকাকে তছনছ করে দিয়েছিল। আরেক বাসিন্দা শাহরিয়ার অরুপ বলেন, রহিমা খাতুনের মতো অসহায় মানুষ খুব কম দেখা যায়। সমাজের বিত্তবানরা কিংবা সরকার এগিয়ে এলে তার অন্তত মাথা গোঁজার একটি ঘর হতো। নবীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. বেলায়েত হোসেন সোহেল বলেন, রহিমা খাতুন এখনো জরাজীর্ণ ঘরে আছেন বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আমি দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করবো।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উদ্ভূত পরিস্থিতির মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে কুয়েত ও বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও কাতারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী টেলিফোন করেছেন। সোমবার (২ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এ তথ্য জানান খলিলুর রহমান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতিতে আমাকে কুয়েত ও বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও কাতারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী টেলিফোন করেছেন। তাদের সঙ্গে আমার প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তারা আমাদের প্রবাসীদের নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়েছেন।’

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দুবাই, আবুধাবি ও শারজাহর এয়ারফিল্ড বন্ধ থাকায় শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আরও ৫ ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। সোমবার (২ মার্চ) চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী একাধিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। বিমানবন্দর সূত্র জানায়, সকালের নির্ধারিত ফ্লাইটগুলোর মধ্যে—বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মধ্যপ্রাচ্যগামী দুটি ফ্লাইট বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ও একটি আগমন ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এয়ার আরাবিয়াের একটি মধ্যপ্রাচ্যগামী ফ্লাইটও স্থগিত রয়েছে। তবে সব ফ্লাইট বন্ধ হয়নি। মাস্কাট থেকে আসা সালাম এয়ারের ফ্লাইট OV-401 সোমবার সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে চট্টগ্রামে অবতরণ করে। পরে যাত্রী নিয়ে একই এয়ারলাইনের OV-402 ফ্লাইট সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে মাস্কাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া অস্থিরতার পরিপ্রেক্ষিতে এ পর্যন্ত মোট ২৫টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ফ্লাইট সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। যাত্রীদের ফ্লাইট সংক্রান্ত সর্বশেষ তথ্য জানার জন্য সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনস বা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশসহ নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা প্রদান স্থগিত করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। গত ২১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। সোমবার (২ মার্চ) সকালে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস নিজেদের ভেরিফায়েড ফেসবুকের এক পোস্টে এসব নিশ্চিত করেছে। এতে বলা হয়, ‘২১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকরভাবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বাংলাদেশসহ কিছু দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা দেওয়া স্থগিত করেছে। যেসব দেশের অভিবাসীরা যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের ব্যয়ে তুলনামূলক বেশি হারে সরকারি সহায়তা নেন, তাদের ক্ষেত্রেই এই সিদ্ধান্ত প্রযোজ্য।’ পোস্টে আরও বলা হয়, ‘এই স্থগিতাদেশ ভিজিটর ভিসার জন্য প্রযোজ্য নয়।’ মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ‘প্রভাবিত দেশগুলোর নাগরিকরা অভিবাসী ভিসার আবেদন জমা দিতে পারবেন এবং নির্ধারিত সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে পারবেন। পররাষ্ট্র দপ্তর ভিসা সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় ১৩৩টি অধ্যাদেশের বিষয়ে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই উপস্থাপন করা হবে। পরে জাতীয় সংসদ সেগুলোর বিষয়ে কি করা হবে সেটা নির্ধারণ করবে। রোববার (১ মার্চ) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। গত দেড় বছর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করেছে। এর মধ্যে কতগুলো স্পর্শকাতর অধ্যাদেশ রয়েছে। বিএনপি এগুলোকে কীভাবে মূল্যায়ন করবে? এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় ১৩৩টি অধ্যাদেশ এবং একটি আদেশ জারি করা হয়েছে। জাতীয় সংসদ অধিবেশনের প্রথম দিনেই এই অধ্যাদেশগুলো উপস্থাপন করা হবে। পার্লামেন্টের নিয়ম অনুসারে সেই অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে হুবহু কোনগুলো গ্রহণ করবে তা জাতীয় সংসদে নির্ধারিত হবে। কিছু কিছু অধ্যাদেশ হয়তো সংশোধনীসহ গ্রহণ করা হতে পারে, সেটিও জাতীয় সংসদে নির্ধারিত হবে। আর কোনগুলো তাদের হয়তো প্রয়োজন হবে না, ল্যাপস হয়ে যাবে তাও জাতীয় সংসদে নির্ধারিত হবে। তিনি বলেন, সে বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয় কাজ করছে। আশাকরি সংসদ অধিবেশন শুরু হলে আপনারা সবাই এ বিষয়ে অবহিত হবেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় ১৩৩টি অধ্যাদেশের বিষয়ে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই উপস্থাপন করা হবে। পরে জাতীয় সংসদ সেগুলোর বিষয়ে কি করা হবে সেটা নির্ধারণ করবে। রোববার (১ মার্চ) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। গত দেড় বছর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করেছে। এর মধ্যে কতগুলো স্পর্শকাতর অধ্যাদেশ রয়েছে। বিএনপি এগুলোকে কীভাবে মূল্যায়ন করবে? এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় ১৩৩টি অধ্যাদেশ এবং একটি আদেশ জারি করা হয়েছে। জাতীয় সংসদ অধিবেশনের প্রথম দিনেই এই অধ্যাদেশগুলো উপস্থাপন করা হবে। পার্লামেন্টের নিয়ম অনুসারে সেই অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে হুবহু কোনগুলো গ্রহণ করবে তা জাতীয় সংসদে নির্ধারিত হবে। কিছু কিছু অধ্যাদেশ হয়তো সংশোধনীসহ গ্রহণ করা হতে পারে, সেটিও জাতীয় সংসদে নির্ধারিত হবে। আর কোনগুলো তাদের হয়তো প্রয়োজন হবে না, ল্যাপস হয়ে যাবে তাও জাতীয় সংসদে নির্ধারিত হবে। তিনি বলেন, সে বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয় কাজ করছে। আশাকরি সংসদ অধিবেশন শুরু হলে আপনারা সবাই এ বিষয়ে অবহিত হবেন।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহতের পর প্রতিবেশী দেশ ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রে দূতাবাস ভবনে হামলা চালিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা। এক প্রতিবেদনে এএফপি জানিয়েছে, যুদ্ধের কারণে সম্প্রতি ইরাকের মার্কিন দূতাবাস ভবনে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছিল। রোববার বেলা ১১ টার দিকে দূতাবাস ভবনের সামনে জড়ো হয় শত শত মানুষ। তাদের বেশিরভাগের পরনে ছিল কালো রঙের পোশাক এবং হাতে ছিল লাঠি-পাথর। দূতাবাসের সামনে নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় বিক্ষোভকারীদের এবং একসময় বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দিতে সক্ষম হয় নিরাপত্তা কর্মরা। এই সংঘর্ষে হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া আলী নামে এক ব্যক্তি এএফপিকে বলেন, “আমরা ইরাক থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে উৎখাত করতে চাই। এ করনেই এখানে এসেছি।”

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে চরম দারিদ্র্য ও মানবেতর জীবনযাপনের করা বিধবা আয়েশা বেগমের পাশে দাঁড়িয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির। তিন সন্তানকে নিয়ে পান্তা ভাত খেয়েই সেহরি-ইফতার করার সংবাদ প্রকাশের পর মানবিক উদ্যোগ হিসেবে তার জন্য ঘর নির্মাণের আশ্বাস দেন তিনি। একইসঙ্গে জরুরি প্রয়োজন মেটাতে নগদ অর্থ ও এক মাসের প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হয়েছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আয়েশা বেগমের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেন নাছির উদ্দীন নাছির। এ সময় তিনি তার পরিবারের সার্বিক খোঁজখবর নেন এবং দ্রুত একটি নিরাপদ ঘর নির্মাণে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন। পরে তার পক্ষ থেকে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা আয়েশা বেগমের বাড়িতে গিয়ে নগদ অর্থ ও এক মাসের প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেন। জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে দুর্ঘটনায় স্বামীকে হারানোর পর আয়েশা বেগম তিন সন্তানকে নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন। পরিবারের উপার্জনক্ষম কেউ না থাকায় অনেক সময় না খেয়েই দিন পার করতে হয়েছে তাদের। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকা পোস্ট ডটকম 'পচা ভাত খেয়েই সেহরি-ইফতার, তিন সন্তান নিয়ে দিশেহারা বিধবা আয়েশা' সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আলোচনায় আসে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি বিভিন্ন মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। খবরটি নজরে আসার পর মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দ্রুত উদ্যোগ নেন ছাত্রদল নেতা নাছির উদ্দীন নাছির। তিনি বলেন, সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো সবার নৈতিক দায়িত্ব। আয়েশা বেগমের পরিবারের জন্য একটি নিরাপদ বাসস্থান নিশ্চিত করতে আমি ব্যক্তিগতভাবে সহযোগিতা করবো এবং ভবিষ্যতেও প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত থাকবে। তিনি আরও বলেন, যেহেতু আয়েশা বেগম মানবেতর জীবনযাপন করছেন, তাই দ্রুত খাদ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থ প্রদান করা হয়েছে। স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলাপ করে ঈদের আগেই কীভাবে ঘর করা যায় সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। বিধবা আয়েশা বেগম একা নন তার পাশে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল আছে। এদিন উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি নুরুল ইসলাম আজাদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুহিবুল্লাহ বাবুল, ইউনিয়ন কৃষক দলের আহ্বায়ক ডা. বোরহান, ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি জাফর উল্লাহ, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সুমন, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ফাহিমসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি নুরুল ইসলাম আজাদ বলেন, আয়েশা বেগম দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করছিলেন। ছাত্রদল নেতা নাছির উদ্দীন নাছিরের পক্ষ থেকে ঘর নির্মাণের আশ্বাস এবং খাদ্য সহায়তা পাওয়ায় পরিবারটির মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। আমরা আশা প্রকাশ করি, দ্রুত ঘর নির্মাণকাজ বাস্তবায়িত হলে পরিবারটি নতুন করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে। স্থানীয় সবজি ব্যবসায়ী মো. সিরাজ উদ্দিন বলেন, সমাজের বিত্তবান ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা এগিয়ে এলে এমন অসহায় পরিবারগুলো নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখতে পারে। আয়েশা বেগমের প্রতি এই সহায়তা অন্যদেরও মানবিক কাজে উদ্বুদ্ধ করবে। নাছির উদ্দীন নাছির যে মানবিক সহায়তা হিসেবে পাশে দাঁড়িয়েছেন তাদের কাছে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। বিধবা আয়েশা বেগম বলেন, আমার কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়ানোর জন্য নাছির উদ্দীন নাছির ভাইয়ের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দিন। দীর্ঘদিন ধরে সন্তানদের নিয়ে খুব কষ্টে ছিলাম। আজ সাহায্য পেয়ে মনে হচ্ছে এখনও আমাদের কথা ভাবার মানুষ আছে। সবাইকে আমি ধন্যবাদ জানাই। এর আগে বিধবা আয়েশা বেগমের জন্য খাদ্যসামগ্রী পাঠিয়েছেন নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. শাহজাহান, পারি ফাউন্ডেশন, সুবর্নচর উপজেলা যুবদলের সভাপতি বেলাল হোসেন সুমন প্রমুখ।

ইরানর সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। ইরানের সরকারি বার্তাসংস্থা ফার্স নিউজের বরাতে জানা গেছে এ তথ্য। রোববার বাংলাদেশ সময় সকালে সরকারিভাবে তেহরান খামেনির নিহতের তথ্য নিশ্চিত করার পর এক বিবৃতিতে আইআরজিসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “আমরা একজন মহান নেতাকে হারিয়েছি এবং আমরা তার জন্য শোকাহত। মানবতার সবচেয়ে নিষ্ঠুর সন্ত্রাসী ও জল্লাদদের হাতে আমাদের মহান নেতার এই শাহাদাৎ বরণ প্রমাণ করে যে তার ব্যক্তিত্ব, নেতৃত্ব এবং দেশপ্রেম তাদের জন্য আতঙ্কজনক হয়ে উঠেছিল।” “যাদের হাতে আমাদের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হয়েছেন– তাদের এই জাতি ছাড়বে না। ইরান প্রতিশোধ নেবে এবং আইআরজিসি দেশি-বিদেশি যে কোনো ষড়যন্ত্র-কে নির্মূল করতে বদ্ধ পরিকর।” গতকাল ২৮ ফেব্রুয়ারি শনিবার ইরানে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল। তারপর গতকাল রাতেই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জানান যে খামেনি নিহত হয়েছেন। তার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও খামেনির নিহতের তথ্য নিশ্চিত করেন। আজ রোববার বাংলাদেশ সময় সকালে সরকারিভাবে খামেনি নিহত হওয়ার তথ্য স্বীকার করেছে ইরান। ৮৬ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা। ক্ষমতাসীন শিয়াপন্থি ইসলামি প্রজাতান্ত্রিক সরকারের সামরিক বিভাগ, বিচার বিভাগ, রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা বিভাগ-সহ দেশটির সর্বক্ষেত্রে খামেনির প্রভাব ছিল অত্যন্ত গভীর এবং সর্বব্যাপী। মূলত তার নির্দেশনাতেই ইরানের সরকার চলতো। ১৯৭৯ সালে ইরানের তৎকালীন শাহ (রাজা) মুহম্মদ রেজা শাহ পাহলভিকে হটিয়ে ইরানের জাতীয় ক্ষমতা দখল করে শিয়াপন্থি বিভিন্ন সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী, শাহবিরোধী রাজনৈতিক দল এবং কমিউনিস্ট দলগুলো। সেই বিপ্লবে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি। বিপ্লবের পর তিনি হন ইরানের প্রথম সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা। ১৯৮৯ সালে বয়সজনিত অসুস্থতায় মারা যান খোমেনি। তার মৃত্যুর পর দেশটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। সূত্র : আলজাজিরা

দেশে শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। ২০২৫ সালে সারাদেশে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসার মোট ৪০৩ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। এর মধ্যে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই ১৩ থেকে ১৯ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরী। হতাশা ও অভিমান—এই দুটি কারণই সবচেয়ে বড় অনুঘটক হিসেবে উঠে এসেছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক সংগঠন আঁচল ফাউন্ডেশন আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। দেশের ১৬৫টি স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত আত্মহত্যা সংক্রান্ত প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে এ সমীক্ষা প্রকাশ করা হয়। জরিপের ফলে দেখা গেছে, ৪০৩ জন আত্মহননকারী শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৯০ জনই স্কুল পর্যায়ের। যা মোট ঘটনার ৪৭ দশমিক ৪০ শতাংশ। কলেজ পর্যায়ে ৯২ জন (২২.৮ শতাংশ), বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭৭ জন (১৯.১০ শতাংশ) এবং মাদ্রাসায় ৪৪ জন (১০.৭২ শতাংশ) শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, কৈশোরের সূচনালগ্নে আবেগীয় অস্থিরতা, পরিচয় সংকট এবং একাডেমিক চাপ শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। নারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি লিঙ্গভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, আত্মহত্যাকারীদের মধ্যে ২৪৯ জন (৬১.৮ শতাংশ) নারী এবং ১৫৪ জন (৩৮.২ শতাংশ) পুরুষ। স্কুল পর্যায়ে ১৩৯ জন নারী ও ৫১ জন পুরুষ, কলেজে ৫০ জন নারী ও ৪২ জন পুরুষ আত্মহত্যা করেছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে চিত্র কিছুটা ভিন্ন। সেখানে ৪১ জন পুরুষের বিপরীতে ৩৬ জন নারী শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। বিশ্লেষণে বলা হয়, কৈশোরে মেয়েরা পারিবারিক ও সামাজিক চাপ, সম্পর্কগত টানাপড়েন এবং আবেগীয় সংকটে বেশি ভঙ্গুর হয়ে পড়ছে। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পুরুষ শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা ও কর্মসংস্থান সংকট বড় ভূমিকা রাখতে পারে। হতাশা ও অভিমান প্রধান কারণ কারণভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, হতাশা ২৭.৭৯ শতাংশ এবং অভিমান ২৩.৩২ শতাংশ ঘটনার পেছনে দায়ী। হতাশাজনিত আত্মহত্যার ক্ষেত্রে নারী ৬২ জন (৫৫.৩৫ শতাংশ) এবং পুরুষ ৫০ জন (৪৪.৬৫ শতাংশ)। অভিমানে আত্মহত্যাকারীদের মধ্যে নারী ৫৮ জন (৬১.৭০ শতাংশ) ও পুরুষ ৩৬ জন (৩৮.২৯ শতাংশ)। একাডেমিক চাপে ৭২ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে, যার অধিকাংশই স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের এবং এর মধ্যে প্রায় ৭১ শতাংশ নারী। প্রেমঘটিত কারণে ৫৩ জন (১৩.১৫ শতাংশ), পারিবারিক টানাপড়েনে ৩২ জন (৭.৯৪ শতাংশ), মানসিক অস্থিতিশীলতায় ২৫ জন (৬.২০ শতাংশ) এবং যৌন নির্যাতনের কারণে ১৪ জন (৩.৪৭ শতাংশ) শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। সাইবার বুলিংয়ের কারণেও একজন নারী শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। বয়সভিত্তিক চিত্র সবচেয়ে উদ্বেগজনক ১৩ থেকে ১৯ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে আত্মহত্যার হার ৬৬.৫০ শতাংশ। এদের মধ্যে ১৯০ জন নারী ও ৭৮ জন পুরুষ। ২০ থেকে ২৫ বছর বয়সীদের মধ্যে আত্মহত্যার হার ২২.৬ শতাংশ; যেখানে পুরুষ ৫১ জন এবং নারী ৪০ জন। ১ থেকে ১২ বছর বয়সী ৪৪ জন শিশুর আত্মহত্যা সমাজের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বিভাগভিত্তিক পরিস্থিতি ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ১১৮ জন (২৯.২৪ শতাংশ) শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। চট্টগ্রামে ৬৩ জন (১৫.৬৩ শতাংশ), বরিশালে ৫৭ জন (১৪.৪ শতাংশ) এবং রাজশাহীতে ৫০ জন (১২.৪০ শতাংশ)। সমীক্ষায় বলা হয়, এটি কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের সমস্যা নয়; বরং জাতীয় পর্যায়ে বিস্তৃত এক সামাজিক সংকট। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের বিশ্লেষণ বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ৭৭ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪৪ জন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের, ১৭ জন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের, ৬ জন মেডিকেল কলেজের এবং ১০ জন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও অধিভুক্ত কলেজের শিক্ষার্থী। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আত্মহত্যার ক্ষেত্রে হতাশা (৩৬.৩৬ শতাংশ) এবং প্রেমঘটিত কারণ (২৯.৫৪ শতাংশ) উল্লেখযোগ্য। মানসিক অস্থিরতা দায়ী ১৮.১৮ শতাংশ ক্ষেত্রে। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে হতাশার হার আরও বেশি—৪৭.০৫ শতাংশ। এছাড়া অভিমান (১৭.৬৭ শতাংশ), পারিবারিক টানাপড়েন (১১.৭৬ শতাংশ) ও প্রেমঘটিত কারণ (৫.৮৮ শতাংশ) আত্মহত্যার পেছনে ভূমিকা রেখেছে। কাঠামোগত পরিবর্তনের আহ্বান সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, পরিবারে খোলামেলা যোগাযোগের অভাব, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পেশাদার কাউন্সেলিং ব্যবস্থার ঘাটতি এবং মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সামাজিক অজ্ঞতা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে। আঁচল ফাউন্ডেশন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলক মানসিক স্বাস্থ্য স্ক্রিনিং, শিক্ষক ও সহপাঠীদের প্রশিক্ষণ, সামাজিক স্টিগমা কমাতে প্রচারণা এবং প্রাথমিক পর্যায়ে সাইকো-সোশ্যাল প্রশিক্ষণ চালুর প্রস্তাব দিয়েছে। তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের জীবন রক্ষা করা নৈতিক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব। ২০২৫ সালের এই পরিসংখ্যান কেবল একটি প্রতিবেদন নয়; এটি ভবিষ্যতের জন্য সতর্কবার্তা। এখনই সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।