

আওয়ামী লীগের এক নেতাকে বিমানবন্দর পর্যন্ত পৌঁছে দিতে ৩ কোটি টাকা দাবি করেছিলেন হান্নান মাসউদ বলে অভিযোগ তুলেছেন গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান বিএনপি নেতা মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন। বুধবার (৩ জুন) ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে এ অভিযোগ করেন রাশেদ খাঁন। রাশেদ খাঁন বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর সমন্বয়কদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ে হান্নান মাসউদ! গণঅভ্যুত্থানের পরে হান্নান মাসউদের মিটিং শুরু হয় আওয়ামী লীগ নেতাদের দিয়ে। আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে তার অসংখ্য মিটিং হয়েছে। পল্টনের হোটেল ফার্সের কয়েকটা টেবিল যেন একপ্রকার হান্নান মাসউদের জন্য বরাদ্দ থাকত। তিনি বলেন, একবার আওয়ামী লীগের এক এমপিকে ৪ কোটিতে বিমানবন্দর পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার আলাপ ওঠে। আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষ করে হান্নান মাসউদ জিসানকে বলে, ‘ভাই, ওরা ১ কোটি দিতে চায়, আপনি ৩ কোটিতে ডিল করেন। ওদের সব কাঁচা টাকা, টাকা-পয়সার দরকার আছে!’ এ কথা শুনে এক ধরনের স্তব্ধ হয়ে যায় জিসান! হান্নান মাসউদের অনেক ঘটনার রাজসাক্ষী হাতিয়ার এই সন্তান আবদুল গাফফার জিসান। স্ট্যাটাসে রাশেদ বলেন, ২৭ জুলাই থেকে রিফাত রশিদ, মাহিন সরকার ও আবদুল গফফার জিসান আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় তাদের সঙ্গে এই ছেলেটি ছিল। ৩ জন সমন্বয়কদের ভিডিও বা ছবি তুলতে ক্যামেরার পেছনের মানুষটিই ছিলেন এই আবদুল গফফার জিসান। জিসান সম্পর্কে রিফাত রশিদ ও মাহিন সরকারকে জিজ্ঞেস করলেও উত্তর পাবেন। জিসানের ছোট ভাই হান্নান মাসউদের বন্ধু। সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে এবং শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। ‘আর জিসান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী। হান্নান মাসউদের সঙ্গে গণঅভ্যুত্থানের পরেও বেশকিছুদিন জিসান ছিল। মূলত গণঅভ্যুত্থানের সময় থেকে জিসান-হান্নান মাসউদকে নিরাপত্তা দেওয়ার কাজেই সঙ্গে থাকত। কিন্তু হান্নান মাসউদের টাকার প্রতি মোহ ও আকস্মিক পরিবর্তন জিসান মেনে নিতে পারেনি। যে কারণে সে আর হান্নান মাসউদের সঙ্গে থাকেনি।’ স্ট্যাটাসের শেষে রাশেদ বলেন, নোয়াখালীর হাতিয়ার আওয়ামী লীগের এমপি মোহাম্মদ আলী যেন ছিল হান্নান মাসউদের এমপি হওয়ার পথের কাঁটা! হান্নান মাসউদ এটা বুঝতে পেরে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রভাব খাটিয়ে শুরুতেই তাকে গ্রেপ্তার করাতে ভূমিকা রাখে। বিভিন্ন জায়গায় মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে বক্তব্যও দিয়েছে হান্নান মাসউদ। ঘরোয়া আলাপে সে বলেছে, নোয়াখালীর যত আওয়ামী লীগ আছে, কারও সঙ্গে আমার কোনো দ্বন্দ্ব নেই। আমার একমাত্র দ্বন্দ্ব মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে। এমনকি বিভিন্ন আলাপে সে লোকজনকে বোঝাতে চেয়েছে, নোয়াখালীর এমপি হতে কোয়ালিটি ও কোয়ানটিটিতে তাকে মোহাম্মদ আলীর মতো অর্থবিত্তের মালিক হতে হবে।

পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটি শেষে সোমবার থেকে সরকারি-বেসরকারি অফিস, আদালত ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান খুলে যাওয়ায় কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন হাজারো মানুষ। ঈদের আগে ও ছুটির সময়ে তুলনামূলক নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারলেও ছুটি শেষে ফেরার পথে নোয়াখালীর হাতিয়ায় যাত্রীদের ভোগান্তির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদের অপেক্ষায় নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে ফেরি ছেড়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা। রোববার (৩১ মে) সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত হাতিয়ার নলচিরা ফেরিঘাটে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ফেরি ‘মহানন্দা’ ছেড়ে যেতে বিলম্ব হওয়ায় শত শত যাত্রী, ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেল আরোহীরা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে বাধ্য হন। একপর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ হান্নান মাসউদের বাগ্বিতণ্ডার ঘটনাও ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফেরি মহানন্দা রোববার বিকেল সোয়া ৪টায় চেয়ারম্যানঘাট থেকে ছেড়ে আসে। যেটি বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে নলচিরা ঘাটে পৌঁছে। সাধারণত ফেরি ভিড়ার পর যাত্রী, মালামাল ও যানবাহন ওঠানামা সম্পন্ন করতে প্রায় এক ঘণ্টা সময় লাগে। সে হিসেবে সন্ধ্যা ৭টার আগেই ফেরিটির পুনরায় চেয়ারম্যানঘাটের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল। সে ফেরি ছাড়ে রাত প্রায় ৯টায়। যাত্রীদের অভিযোগ, সংসদ সদস্যের আগমনের অপেক্ষায় ফেরিটি দীর্ঘ সময় ঘাটে নোঙর করে রাখা হয়। ফলে নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে ফেরিটি চেয়ারম্যানঘাটের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। যাত্রীরা জানান, বিকেল থেকেই মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহনের বুকিং নেওয়া হলেও ফেরি ঘাটে ভেড়ার পর দীর্ঘ সময় গাড়ি উঠাতে দেওয়া হয়নি। এতে প্রচণ্ড গরম ও ভিড়ের মধ্যে নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছে। অপেক্ষমাণ কয়েকজন যাত্রী অভিযোগ করে বলেন, নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও ফেরি না ছাড়ার কারণ জানতে চাইলে সংশ্লিষ্টরা জানান, এমপি সাহেব আসবেন, তারপর ফেরি ছাড়বে। একজন জনপ্রতিনিধির জন্য শত শত সাধারণ মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অনেক যাত্রীরই রাতের মধ্যে চেয়ারম্যানঘাট হয়ে সোনাপুর, মাইজদী কিংবা ঢাকাগামী বাস ধরার পরিকল্পনা ছিল। ফেরি দেরি করায় তাদের অনেকের নির্ধারিত পরিবহন মিস হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। যাত্রী শরিফুল ইসলাম বলেন, আমরা সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারলে বাস কাউন্টারে রাত কাটাতে হবে। অনেকের আবার পরদিন অফিসে যোগ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। অথচ একজন ব্যক্তির জন্য এত মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ঢাকা থেকে হাতিয়ায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আসা হিমেল নামে এক যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল নির্ধারিত সময়েই ফেরি ছাড়বে। তাই বিকেল ৪টা থেকেই গাড়ির সিরিয়াল দিয়ে অপেক্ষা করছিলাম। কিন্তু সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায়ও ফেরি ছাড়েনি। পরে জানতে পারলাম স্থানীয় এমপি আসবেন বলে ফেরি আটকে রাখা হয়েছে। একজন জনপ্রতিনিধির কাণ্ডজ্ঞান থাকা উচিত। একজনের জন্য এত মানুষের কষ্ট হওয়া উচিত নয়। ফেরি মহানন্দার মাস্টার মোজাম্মেল হক বলেন, বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটের দিকে ফেরি নলচিরা ঘাটে পৌঁছায়। সাধারণত আনলোড ও লোড করতে ৪০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা সময় লাগে। আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, এমপি সাহেব আসবেন, তাই ফেরি ছাড়তে কিছুটা দেরি হবে। এজন্য শুরুতে গাড়িগুলো উঠতে দেওয়া হয়নি। তিনি আরও বলেন, এ নিয়ে যাত্রীরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। পরে রাত ৮টার পর ফেরিটি চেয়ারম্যানঘাটের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। তবে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় ৪৫ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা বিলম্ব হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সংসদ সদস্য মোহাম্মদ হান্নান মাসউদের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে বিষয়টি নিয়ে তার সমর্থকরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পোস্ট করেছেন। এসব পোস্টে দাবি করা হয়, ঈদের ছুটি শেষে ঢাকায় যাওয়ার উদ্দেশে নির্দিষ্ট সময়ে হাতিয়া ফেরিঘাটে পৌঁছান সংসদ সদস্য মোহাম্মদ হান্নান মাসউদ। তবে সেখানে পৌঁছানোর পর তাকেও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। তাদের দাবি, একটি স্বার্থান্বেষী রাজনৈতিক মহল ও অসাধু সিন্ডিকেট সংসদ সদস্যকে রাজনৈতিকভাবে হেয় ও ব্যর্থ প্রমাণ করার উদ্দেশে পরিকল্পিতভাবে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। এমপি ঘাটে পৌঁছানোর আগেই ওই চক্রটি মোটরসাইকেল, ট্রাক ও মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন যানবাহন ফেরিতে না তুলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় দাঁড় করিয়ে রাখে। এর ফলে ঘাটসংলগ্ন সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ে। সমর্থকদের পোস্টে আরও বলা হয়, ফেরিঘাটকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা কথিত অসাধু সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংসদ সদস্য। একই সঙ্গে এসব অপতৎপরতার বিরুদ্ধে সাধারণ জনগণকে সজাগ ও সতর্ক থাকারও আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে ফেরি বিলম্বের প্রকৃত কারণ নিয়ে যাত্রীদের অভিযোগ এবং সংসদ সদস্যের সমর্থকদের দাবির মধ্যে ভিন্নতা থাকায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই যাত্রীসেবার স্বার্থে ফেরি পরিচালনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সময়সূচি মেনে চলার দাবি জানিয়েছেন।

প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি আনা, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং রাজনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে খুব শিগগিরই মন্ত্রিসভায় যুক্ত হতে যাচ্ছে নতুন মুখ। একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রীদের কাজের চাপ কমাতে দপ্তর পুনর্বণ্টনের সিদ্ধান্তও আসছে একইসঙ্গে। সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রগুলো বলছে, তাদের মধ্যে নারায়ণগঞ্জের একজন তরুণ এমপির নাম বেশ আলোচনায় আছে। প্রধানমন্ত্রীর খুব কাছের হিসেবে তার পরিচিতি রয়েছে। পাশাপাশি নরসিংদী থেকে আরও একজনকে মন্ত্রিসভায় দেখা যেতে পারে। এছাড়া নেত্রকোনা থেকে একজন এবং বৃহত্তর ময়মনসিংহের একজন নারী এমপির নাম মন্ত্রী হিসেবে বেশ আলোচনা রয়েছে। বৃহত্তর নোয়াখালী জেলার একজন সিনিয়র বিএনপি নেতাকেও তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় শিগগিরই দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, খুলনা, ঢাকা ও বৃহত্তর পাবনা জেলা থেকেও মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে যাচ্ছেন কয়েকজন। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পরিষদের কাউকে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার কথাও শোনা যাচ্ছে। সেসঙ্গে একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা কয়েকজন মন্ত্রীর দপ্তর পুনর্বণ্টন হতে পারে বলে জোর আলোচনা চলছে। এদিকে শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। সোমবার (১ জুন) প্রধানমন্ত্রীর কাছে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। তবে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র তিন মাসের মাথায় একজন মন্ত্রীর পদত্যাগে মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যরা বেশ বিব্রত ও অস্বস্তিতে রয়েছেন বলে জানা গেছে। দীপেন দেওয়ান সত্যিই অসুস্থতার কারণে পদত্যাগ করেছেন, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে, তা নিয়ে নানা আলোচনা ও গুঞ্জন চলছে সরকার ও প্রশাসনে। দীপেন দেওয়ানের আকস্মিক পদত্যাগের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে রাঙামাটিতে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছেন স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। উল্লেখ্য, বর্তমান সরকারের মন্ত্রিসভা প্রধানমন্ত্রীসহ মোট ৫০ সদস্যের। এর মধ্যে ২৫ জন পূর্ণ মন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন।

নোয়াখালীতে বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে সড়কে পথরোধ করে জোবায়ের হোসেন ওরফে রাকিব (২৩) নামে এক তরুণকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।শনিবার (৩০ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের খানপুর গ্রামের পাকমুন্সিরহাট বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।নিহত রাকিব একই ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের খানপুর গ্রামের ভোলা গাজী বাড়ির সৌদি প্রবাসী মো. হানিফের ছেলে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত রাকিবের বাবা ও এক ভাই প্রবাসে থাকেন। রাকিব ঢাকা ও নোয়াখালীর বিভিন্ন শপিংমলে চাকরি করতেন। তিন-চার দিন আগে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাকিবের চাচাতো ভাইয়ের ছেলের সঙ্গে স্থানীয় এক দোকানদারের কথাকাটাকাটি হয়। পরে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়। শনিবার রাতে পাকমুন্সিরহাট বাজারে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য উভয় পক্ষের লোকজন জড়ো হয়। এ সময় এলাকার লোকজন রাকিবকে সেখান থেকে চলে যেতে বলেন। পরে তিনি তার ছোট ভাই রিমনকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। পথে পাকমুন্সিরহাট বাজার এলাকার একটি অন্ধকার স্থানে পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা তার পথরোধ করে হামলা চালায়। এ সময় ভাইকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে তার ছোট ভাই রিমনকে পিটিয়ে আহত করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা লোহার রড দিয়ে রাকিবের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করে তাকে গুরুতর জখম করে। পরে স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনায় জড়িতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। হত্যাকাণ্ডের কারণ উদঘাটন এবং হামলাকারীদের শনাক্তে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশ। মার্কিন প্রশাসন এ অভিযোগে সেসব দেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপ বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির ওপর সম্ভাব্য প্রভাব ফেলতে পারে, যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং সম্ভাব্য অব্যাহতির বিষয়গুলো এখনও স্পষ্ট নয়। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর জানিয়েছে, প্রস্তাবিত শুল্ক নিয়ে আগামী ৬ জুলাই পর্যন্ত জনমত গ্রহণ করা হবে এবং ৭ জুলাই একটি প্রকাশ্য শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এক বিবৃতিতে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, আমাদের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদারদের জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের আমদানি বন্ধে ব্যর্থতা গ্রহণযোগ্য নয়। এর ফলে মার্কিন শ্রমিকদের বৈশ্বিক বাজারে অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের পরিচালিত সেকশন ৩০১ তদন্তে এ ধরনের অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় নতুন শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, বাংলাদেশ, কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, মেক্সিকো, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, তাইওয়ান, কম্বোডিয়া, গুয়াতেমালা, এল সালভাদর, আর্জেন্টিনা, ইন্দোনেশিয়াসহ ১৫টি দেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। বাকি ৪৫টি দেশের ক্ষেত্রে শুল্কের হার হবে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ।

বিশ্ব সাইকেল দিবস আজ। প্রতি বছর বিশেষ এই দিনটি বিশ্বজুড়ে পালন করা হয়। বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে। এ উপলক্ষে বিভিন্ন সাইকেল রাইড সংগঠনগুলো নিয়েছে নানা কর্মসূচি। মূলত যুক্তরাষ্ট্রের একজন অধ্যাপক লেসজেক সিবিলস্কি, তিনি বাইসাইকেল নিয়ে একটি প্রচারাভিযান শুরু করেন। তার অন্যতম লক্ষ্য ছিল জাতিসংঘ বিশ্বে সাইকেলের সমর্থনে একটি দিন নির্ধারণ করবে। ২০১৫ সালে সিবিলস্কি একটি একাডেমিক প্রকল্প নিয়ে কাজ শুরু করেন। এই প্রকল্পটি একটি বড় আন্দোলনে পরিণত হয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত বাইসাইকেলের জন্য জাতিসংঘ একটি দিন নির্ধারিত করে। ২০১৮ সালের ১২ এপ্রিল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্র সর্বসম্মতিক্রমে ৩ জুনকে বিশ্ব বাইসাইকেল দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এই প্রস্তাবে তুর্কমেনিস্তান ব্যাপক সমর্থন জানিয়েছিল এবং প্রায় ৫৬টি দেশ সহ-পৃষ্ঠপোষকতা করেছিল।

আওয়ামী লীগের এক নেতাকে বিমানবন্দর পর্যন্ত পৌঁছে দিতে ৩ কোটি টাকা দাবি করেছিলেন হান্নান মাসউদ বলে অভিযোগ তুলেছেন গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান বিএনপি নেতা মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন। বুধবার (৩ জুন) ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে এ অভিযোগ করেন রাশেদ খাঁন। রাশেদ খাঁন বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর সমন্বয়কদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ে হান্নান মাসউদ! গণঅভ্যুত্থানের পরে হান্নান মাসউদের মিটিং শুরু হয় আওয়ামী লীগ নেতাদের দিয়ে। আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে তার অসংখ্য মিটিং হয়েছে। পল্টনের হোটেল ফার্সের কয়েকটা টেবিল যেন একপ্রকার হান্নান মাসউদের জন্য বরাদ্দ থাকত। তিনি বলেন, একবার আওয়ামী লীগের এক এমপিকে ৪ কোটিতে বিমানবন্দর পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার আলাপ ওঠে। আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষ করে হান্নান মাসউদ জিসানকে বলে, ‘ভাই, ওরা ১ কোটি দিতে চায়, আপনি ৩ কোটিতে ডিল করেন। ওদের সব কাঁচা টাকা, টাকা-পয়সার দরকার আছে!’ এ কথা শুনে এক ধরনের স্তব্ধ হয়ে যায় জিসান! হান্নান মাসউদের অনেক ঘটনার রাজসাক্ষী হাতিয়ার এই সন্তান আবদুল গাফফার জিসান। স্ট্যাটাসে রাশেদ বলেন, ২৭ জুলাই থেকে রিফাত রশিদ, মাহিন সরকার ও আবদুল গফফার জিসান আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় তাদের সঙ্গে এই ছেলেটি ছিল। ৩ জন সমন্বয়কদের ভিডিও বা ছবি তুলতে ক্যামেরার পেছনের মানুষটিই ছিলেন এই আবদুল গফফার জিসান। জিসান সম্পর্কে রিফাত রশিদ ও মাহিন সরকারকে জিজ্ঞেস করলেও উত্তর পাবেন। জিসানের ছোট ভাই হান্নান মাসউদের বন্ধু। সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে এবং শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। ‘আর জিসান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী। হান্নান মাসউদের সঙ্গে গণঅভ্যুত্থানের পরেও বেশকিছুদিন জিসান ছিল। মূলত গণঅভ্যুত্থানের সময় থেকে জিসান-হান্নান মাসউদকে নিরাপত্তা দেওয়ার কাজেই সঙ্গে থাকত। কিন্তু হান্নান মাসউদের টাকার প্রতি মোহ ও আকস্মিক পরিবর্তন জিসান মেনে নিতে পারেনি। যে কারণে সে আর হান্নান মাসউদের সঙ্গে থাকেনি।’ স্ট্যাটাসের শেষে রাশেদ বলেন, নোয়াখালীর হাতিয়ার আওয়ামী লীগের এমপি মোহাম্মদ আলী যেন ছিল হান্নান মাসউদের এমপি হওয়ার পথের কাঁটা! হান্নান মাসউদ এটা বুঝতে পেরে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রভাব খাটিয়ে শুরুতেই তাকে গ্রেপ্তার করাতে ভূমিকা রাখে। বিভিন্ন জায়গায় মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে বক্তব্যও দিয়েছে হান্নান মাসউদ। ঘরোয়া আলাপে সে বলেছে, নোয়াখালীর যত আওয়ামী লীগ আছে, কারও সঙ্গে আমার কোনো দ্বন্দ্ব নেই। আমার একমাত্র দ্বন্দ্ব মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে। এমনকি বিভিন্ন আলাপে সে লোকজনকে বোঝাতে চেয়েছে, নোয়াখালীর এমপি হতে কোয়ালিটি ও কোয়ানটিটিতে তাকে মোহাম্মদ আলীর মতো অর্থবিত্তের মালিক হতে হবে।

কুয়েত ও বাহরাইনে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পাল্টা জবাব দিতে দেশটির কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ কেশমে বোমাবর্ষণ করেছে মার্কিন বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড সেন্টকোম এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। কেশম দ্বীপে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর ‘গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন’-কে লক্ষ্য করে বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছে এবং হামলা সফল হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে বিবৃতিতে। সেন্টকোমের পক্ষ থেকে বলা আরও বলা হয়েছে হয়েছে, মঙ্গলবার মাঝরাতে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী কুয়েতে মার্কিন বিমানবাহিনীর ঘাঁটি এবং বাহরাইনে নৌবাহিনীর ঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। ‘শত্রুতাপূর্ণ’ এই হামলার জবাব দিতেই কেশম দ্বীপে বোমাবর্ষণ করেছে মার্কিন বাহিনী। ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাত হানার আগেই ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে বলেও দাবি করে সেন্টকোম। “ইরান তার প্রতিবেশী দেশগুলোতে বেশ কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, কিন্তু একটিও লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারেনি। এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম সক্রিয় থাকায় কুয়েতে ইরানের ২টি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ ভূপাতিত হয়েছে। এছাড়া বাহরাইনে তিনটি ক্ষেপণাস্ত্রকে ভূপাতিত করা হয়েছে।” মঙ্গলবার পারস্য উপসাগরে কয়েকটি বেসামরিক জাহাজ লক্ষ্য করে ড্রোন নিক্ষেপ করেছিল এবং সেগুলো মার্কিন নৌবাহিনী ভূপাতিত করেছে বলেও দাবি করা হয়েছে সেন্টকোমের বিবৃতিতে। অর্থনীতি এবং কৌশলগত কারণে কেশম দ্বীপ ইরানের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। দ্বীপটিতে ইরানের তেল ও গ্যাসের বেশ কয়েকটি বড় ডিপো আছে এবং এই দ্বীপের বন্দর থেকে থেকেই বহির্বিশ্বে রওনা হয় ইরানের জ্বালানিপণ্যবাহী জাহাজগুলো। যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের কারণে বর্তমানে এই দ্বীপ থেকে কোনো বাণিজ্যিক জাহাজকে বন্দর ছেড়ে যেতে দেওয়া হচ্ছে না এবং যেসব জাহাজ বন্দর ছেড়ে গিয়েছিল, সেগুলোকে ভিড়তে দেওয়া হচ্ছে না। এদিকে কুয়েত ও বাহরাইনে হামলার তথ্য স্বীকার করে বিবৃতি দিয়েছে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। পৃথক এক প্রতিবেদনে দেশটির আধা সরকারি সংবাদমাদ্যম মেহের নিউজ বলেছে, কেশম বিস্ফোরণ হয়েছে— এমন তথ্য পাওয়ার পর কুয়েত বাহরাইনে হামলার সিদ্ধান্ত নেয় আইআরজিসি। সূত্র : এএফপি, এনডিটিভি

পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটি শেষে সোমবার থেকে সরকারি-বেসরকারি অফিস, আদালত ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান খুলে যাওয়ায় কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন হাজারো মানুষ। ঈদের আগে ও ছুটির সময়ে তুলনামূলক নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারলেও ছুটি শেষে ফেরার পথে নোয়াখালীর হাতিয়ায় যাত্রীদের ভোগান্তির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদের অপেক্ষায় নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে ফেরি ছেড়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা। রোববার (৩১ মে) সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত হাতিয়ার নলচিরা ফেরিঘাটে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ফেরি ‘মহানন্দা’ ছেড়ে যেতে বিলম্ব হওয়ায় শত শত যাত্রী, ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেল আরোহীরা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে বাধ্য হন। একপর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ হান্নান মাসউদের বাগ্বিতণ্ডার ঘটনাও ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফেরি মহানন্দা রোববার বিকেল সোয়া ৪টায় চেয়ারম্যানঘাট থেকে ছেড়ে আসে। যেটি বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে নলচিরা ঘাটে পৌঁছে। সাধারণত ফেরি ভিড়ার পর যাত্রী, মালামাল ও যানবাহন ওঠানামা সম্পন্ন করতে প্রায় এক ঘণ্টা সময় লাগে। সে হিসেবে সন্ধ্যা ৭টার আগেই ফেরিটির পুনরায় চেয়ারম্যানঘাটের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল। সে ফেরি ছাড়ে রাত প্রায় ৯টায়। যাত্রীদের অভিযোগ, সংসদ সদস্যের আগমনের অপেক্ষায় ফেরিটি দীর্ঘ সময় ঘাটে নোঙর করে রাখা হয়। ফলে নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে ফেরিটি চেয়ারম্যানঘাটের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। যাত্রীরা জানান, বিকেল থেকেই মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহনের বুকিং নেওয়া হলেও ফেরি ঘাটে ভেড়ার পর দীর্ঘ সময় গাড়ি উঠাতে দেওয়া হয়নি। এতে প্রচণ্ড গরম ও ভিড়ের মধ্যে নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছে। অপেক্ষমাণ কয়েকজন যাত্রী অভিযোগ করে বলেন, নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও ফেরি না ছাড়ার কারণ জানতে চাইলে সংশ্লিষ্টরা জানান, এমপি সাহেব আসবেন, তারপর ফেরি ছাড়বে। একজন জনপ্রতিনিধির জন্য শত শত সাধারণ মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অনেক যাত্রীরই রাতের মধ্যে চেয়ারম্যানঘাট হয়ে সোনাপুর, মাইজদী কিংবা ঢাকাগামী বাস ধরার পরিকল্পনা ছিল। ফেরি দেরি করায় তাদের অনেকের নির্ধারিত পরিবহন মিস হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। যাত্রী শরিফুল ইসলাম বলেন, আমরা সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারলে বাস কাউন্টারে রাত কাটাতে হবে। অনেকের আবার পরদিন অফিসে যোগ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। অথচ একজন ব্যক্তির জন্য এত মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ঢাকা থেকে হাতিয়ায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আসা হিমেল নামে এক যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল নির্ধারিত সময়েই ফেরি ছাড়বে। তাই বিকেল ৪টা থেকেই গাড়ির সিরিয়াল দিয়ে অপেক্ষা করছিলাম। কিন্তু সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায়ও ফেরি ছাড়েনি। পরে জানতে পারলাম স্থানীয় এমপি আসবেন বলে ফেরি আটকে রাখা হয়েছে। একজন জনপ্রতিনিধির কাণ্ডজ্ঞান থাকা উচিত। একজনের জন্য এত মানুষের কষ্ট হওয়া উচিত নয়। ফেরি মহানন্দার মাস্টার মোজাম্মেল হক বলেন, বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটের দিকে ফেরি নলচিরা ঘাটে পৌঁছায়। সাধারণত আনলোড ও লোড করতে ৪০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা সময় লাগে। আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, এমপি সাহেব আসবেন, তাই ফেরি ছাড়তে কিছুটা দেরি হবে। এজন্য শুরুতে গাড়িগুলো উঠতে দেওয়া হয়নি। তিনি আরও বলেন, এ নিয়ে যাত্রীরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। পরে রাত ৮টার পর ফেরিটি চেয়ারম্যানঘাটের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। তবে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় ৪৫ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা বিলম্ব হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সংসদ সদস্য মোহাম্মদ হান্নান মাসউদের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে বিষয়টি নিয়ে তার সমর্থকরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পোস্ট করেছেন। এসব পোস্টে দাবি করা হয়, ঈদের ছুটি শেষে ঢাকায় যাওয়ার উদ্দেশে নির্দিষ্ট সময়ে হাতিয়া ফেরিঘাটে পৌঁছান সংসদ সদস্য মোহাম্মদ হান্নান মাসউদ। তবে সেখানে পৌঁছানোর পর তাকেও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। তাদের দাবি, একটি স্বার্থান্বেষী রাজনৈতিক মহল ও অসাধু সিন্ডিকেট সংসদ সদস্যকে রাজনৈতিকভাবে হেয় ও ব্যর্থ প্রমাণ করার উদ্দেশে পরিকল্পিতভাবে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। এমপি ঘাটে পৌঁছানোর আগেই ওই চক্রটি মোটরসাইকেল, ট্রাক ও মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন যানবাহন ফেরিতে না তুলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় দাঁড় করিয়ে রাখে। এর ফলে ঘাটসংলগ্ন সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ে। সমর্থকদের পোস্টে আরও বলা হয়, ফেরিঘাটকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা কথিত অসাধু সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংসদ সদস্য। একই সঙ্গে এসব অপতৎপরতার বিরুদ্ধে সাধারণ জনগণকে সজাগ ও সতর্ক থাকারও আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে ফেরি বিলম্বের প্রকৃত কারণ নিয়ে যাত্রীদের অভিযোগ এবং সংসদ সদস্যের সমর্থকদের দাবির মধ্যে ভিন্নতা থাকায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই যাত্রীসেবার স্বার্থে ফেরি পরিচালনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সময়সূচি মেনে চলার দাবি জানিয়েছেন।

প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি আনা, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং রাজনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে খুব শিগগিরই মন্ত্রিসভায় যুক্ত হতে যাচ্ছে নতুন মুখ। একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রীদের কাজের চাপ কমাতে দপ্তর পুনর্বণ্টনের সিদ্ধান্তও আসছে একইসঙ্গে। সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রগুলো বলছে, তাদের মধ্যে নারায়ণগঞ্জের একজন তরুণ এমপির নাম বেশ আলোচনায় আছে। প্রধানমন্ত্রীর খুব কাছের হিসেবে তার পরিচিতি রয়েছে। পাশাপাশি নরসিংদী থেকে আরও একজনকে মন্ত্রিসভায় দেখা যেতে পারে। এছাড়া নেত্রকোনা থেকে একজন এবং বৃহত্তর ময়মনসিংহের একজন নারী এমপির নাম মন্ত্রী হিসেবে বেশ আলোচনা রয়েছে। বৃহত্তর নোয়াখালী জেলার একজন সিনিয়র বিএনপি নেতাকেও তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় শিগগিরই দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, খুলনা, ঢাকা ও বৃহত্তর পাবনা জেলা থেকেও মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে যাচ্ছেন কয়েকজন। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পরিষদের কাউকে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার কথাও শোনা যাচ্ছে। সেসঙ্গে একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা কয়েকজন মন্ত্রীর দপ্তর পুনর্বণ্টন হতে পারে বলে জোর আলোচনা চলছে। এদিকে শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। সোমবার (১ জুন) প্রধানমন্ত্রীর কাছে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। তবে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র তিন মাসের মাথায় একজন মন্ত্রীর পদত্যাগে মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যরা বেশ বিব্রত ও অস্বস্তিতে রয়েছেন বলে জানা গেছে। দীপেন দেওয়ান সত্যিই অসুস্থতার কারণে পদত্যাগ করেছেন, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে, তা নিয়ে নানা আলোচনা ও গুঞ্জন চলছে সরকার ও প্রশাসনে। দীপেন দেওয়ানের আকস্মিক পদত্যাগের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে রাঙামাটিতে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছেন স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। উল্লেখ্য, বর্তমান সরকারের মন্ত্রিসভা প্রধানমন্ত্রীসহ মোট ৫০ সদস্যের। এর মধ্যে ২৫ জন পূর্ণ মন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন।

সৌদি আরবে পবিত্র হজ পালনে গিয়ে মোট ৪১ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। মৃত এই হজযাত্রীদের মধ্যে ২৭ জন পুরুষ এবং ১৪ জন নারী। মৃত এই হজযাত্রীদের মধ্যে ৩০ জন শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন মক্কায়, বাকি ১১ জন মদিনায়। বাংলাদেশ সরকারের হজ ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ডয়েচে ভেলের বরাতে জানা গেছে এ তথ্য। সর্বশেষ গতকাল যে দুই বাংলাদেশি মারা গেছেন, তারা হলেন মো. আবদুল মজিদ ও মো. শাহজাহান আলী। আবদুল মজিদের বাড়ি নওগাঁ। তিনি মদিনায় মারা গেছেন। শাহজাহান আলীর বাড়ি ঢাকার খিলগাঁও। তার মৃত্যু হয়েছে মক্কায়। পবিত্র হজ পালন শেষে সৌদি আরব থেকে এখন দেশে ফিরছেন হাজিরা। গতকাল পর্যন্ত সৌদি আরব থেকে এখন পর্যন্ত ১১ হাজার ৬১৩ জন হাজি দেশে ফিরেছেন। এ বছর পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হয়েছে গত ২৬ মে। ঢাকা থেকে প্রথম হজ ফ্লাইট ছেড়েছে গত ১৮ এপ্রিল, শেষ ফ্লাইট ২১ মে। ফিরতি হজ ফ্লাইট শুরু হয়েছে ৩০ মে থেকে, চলবে ৩০ জুন পর্যন্ত। ২০২৬ সালের হজ পালনের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরব গিয়েছেন প্রায় ৭৮ হাজার ৫০০ জন। তাদের মধ্যে ৪ হাজার ৫৬৫ জন সরকারি ব্যবস্থাপনায়, বআকি ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গিয়েছেন। সৌদি আরবের হজ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, এ বছর পবিত্র হজ পালনের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে গড়ে ১৫ লাখের বেশি মুসল্লি দেশটিতে যান।

নোয়াখালীতে বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে সড়কে পথরোধ করে জোবায়ের হোসেন ওরফে রাকিব (২৩) নামে এক তরুণকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।শনিবার (৩০ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের খানপুর গ্রামের পাকমুন্সিরহাট বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।নিহত রাকিব একই ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের খানপুর গ্রামের ভোলা গাজী বাড়ির সৌদি প্রবাসী মো. হানিফের ছেলে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত রাকিবের বাবা ও এক ভাই প্রবাসে থাকেন। রাকিব ঢাকা ও নোয়াখালীর বিভিন্ন শপিংমলে চাকরি করতেন। তিন-চার দিন আগে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাকিবের চাচাতো ভাইয়ের ছেলের সঙ্গে স্থানীয় এক দোকানদারের কথাকাটাকাটি হয়। পরে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়। শনিবার রাতে পাকমুন্সিরহাট বাজারে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য উভয় পক্ষের লোকজন জড়ো হয়। এ সময় এলাকার লোকজন রাকিবকে সেখান থেকে চলে যেতে বলেন। পরে তিনি তার ছোট ভাই রিমনকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। পথে পাকমুন্সিরহাট বাজার এলাকার একটি অন্ধকার স্থানে পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা তার পথরোধ করে হামলা চালায়। এ সময় ভাইকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে তার ছোট ভাই রিমনকে পিটিয়ে আহত করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা লোহার রড দিয়ে রাকিবের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করে তাকে গুরুতর জখম করে। পরে স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনায় জড়িতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। হত্যাকাণ্ডের কারণ উদঘাটন এবং হামলাকারীদের শনাক্তে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

নোয়াখালীতে হামের উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু, আইসোলেশনে ১০৮ নোয়াখালীতে হামের উপসর্গে আক্রান্ত আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় হামের উপসর্গে দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটল। একই সময়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছে ৫৫ শিশু। বর্তমানে হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছে ১০৮ শিশু।রোববার (৩১ মে) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) রাজীব আহমেদ চৌধুরী। এর আগে, গত শুক্রবার বিকেলে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।মৃত শিশুর নাম সাওবান (সাড়ে ৩ বছর)। সে জেলার সোনাইমুড়ী উপজেলার পৌরকড়া গ্রামের মো. ওসমানের ছেলে।হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত ২৪ মে হামের উপসর্গ নিয়ে সাওবানকে শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। তার তীব্র জ্বরের পাশাপাশি নিউমোনিয়াও ছিল। চিকিৎসকরা তাকে শিশু ওয়ার্ডে রেখে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন। শুক্রবার বিকেল থেকে তার শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায় এবং অক্সিজেন সাপোর্ট দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।আরএমও রাজীব আহমেদ চৌধুরী বলেন, এপ্রিল মাসের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত এক হাজারের বেশি শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। এর মধ্যে ১০ থেকে ১৫ জন শিশুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা ও চট্টগ্রামে রেফার করা হয়েছে।” তিনি আরও জানান, বর্তমানে হাসপাতালের আইসোলেশন ও শিশু ওয়ার্ডে হামসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ১০৮ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ভর্তি হয়েছে ৫৫ জন শিশু। পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা অব্যাহত রেখেছে।

প্রথমবার নেদারল্যান্ডসের কাছে হারল বাংলাদেশ জয়ের জন্য শেষ তিন বলে দরকার ছিল দুটি ছক্কার। ডাচ স্পিনার হেথার সিজারের করা বলে দারুণ দুটি শট হাঁকিয়েছিলেন দলনেতা নিগার সুলতানা জ্যোতি ও নাহিদা আক্তার। কিন্তু দুজনের শটিই বাউন্ডারিতে ক্যাচে পরিণত হয়। তাতেই ৮ রানে হারে বাংলাদেশ। ত্রিদেশীয় সিরিজে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে হারল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এদিকে এই জয়ের মাধ্যমে রীতিমতো রেকর্ডই গড়েছে নেদারল্যান্ডস নারী দল। ক্রিকেটের যেকোনো ফরম্যাটে বাংলাদেশের বিপক্ষে এটাই তাদের প্রথম জয়। এডিনবার্গে টস জিতে নেদারল্যান্ডসকে ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানান বাংলাদেশের অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। ব্যাটিংয়ে নেমে দারুণ সূচনা পায় ডাচরা। এরপর মিডলঅর্ডার ব্যাটারদের দারুণ নৈপুন্যে ১৬২ রানের পুঁজি পায় তারা। সর্বোচ্চ ৫২ রান করেন ওপেনার হেথার সিজার। বাংলাদেশের হয়ে দুটি উইকেট নেন ফারিহা তৃষ্ণা। একটি করে উইকেট পেয়েছেন মারুফা আক্তার ও রাবেয়া খান। রান তাড়া করতে নেমে দলনেতা নিগার সুলতানা জ্যোতি ছাড়া বলার মতো সুবিধা করতে পারেননি কেউই। ফিফটি পূরণের পর ৭৭ রানে থামে তার ইনিংস। ২৪ বলে ২২ রান করেন ওপেনার জুয়াইরিয়া ফেরদৌস। আর বাকি ব্যাটারদের কেউই বিশের কোটায় পার করতে পারেননি। ফলে বাংলাদেশের ইনিংস থামে ১৫৪ রানে।

এবার ইউক্রেনের প্রতিবেশী দেশ রোমানিয়ায় ড্রোন হামলা করেছে রুশ বাহিনী। গতকাল শুক্রবার পূর্ব রোমানিয়ার গালাতি শহরের একটি বেসামরিক ১১ তলা ভবনে আঘাত হেনেছে রাশিয়ার একটি বিস্ফোরকবাহী ড্রোন। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্যরাষ্ট্র রোমানিয়ার সঙ্গে ইউক্রেনের ৬৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত আছে। গালাতি শহরটি রোমানিয়া-ইউক্রেনের সীমান্তবর্তী শহর। এক বিবৃতিতে রোমানিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রুশ ড্রোনের আঘাতে অ্যাপার্টমেন্ট ভবনটির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং একজন নারী ও একজন শিশু আহত হয়েছে। নিহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি এবং যারা আহত হয়েছেন, তাদের আঘাতও গুরুতর নয়। রুশ বার্তাসংস্থা তাস নিউজ এজেন্সিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের অন্যতম মুখপাত্র ও প্রেস সচিব দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট পুতিনকে ঘটনাটি জানানো হয়েছে। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা এক বার্তায় জানিয়েছেন, এই হামলার জন্য যে রাশিয়াই দায়ী— তা এখনও প্রমাণিত নয়। এদিকে রাশিয়ার সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থা রাশিয়ান সিকিউরিটি কাউন্সিলের উপ-প্রধান এবং দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ ইউরোপীয় নেতাদের সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, ভবিষ্যতে ইউরোপের দেশগুলোতে এমন ড্রোন হামলা আরও হতে পারে এবং তার জেরে সেসব দেশের জনগণের শান্তির ঘুম উড়ে যেতে পারে। ২০১৪ সালে স্বাক্ষরিত মিনস্ক চুক্তির শর্ত মেনে কৃষ্ণ সাগরের দ্বীপ ক্রিমিয়াকে রাশিয়ার ভূখণ্ড হিসেবে ইউক্রেনের স্বীকৃতি না দেওয়া এবং ন্যাটোর সদস্যপদের জন্য ইউক্রেনের তদবিরকে ঘিরে কয়েক বছর টানাপোড়েন চলার পর ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রেসিডেন্ট পুতিনের নির্দেশে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে রুশ বাহিনী। সেই অভিযান এখনও চলছে। তবে সেই যুদ্ধের অংশ হিসেবে এই প্রথম ন্যাটোভুক্ত কোনো রাষ্ট্রে হামলা চালাল রুশ বাহিনী। রোমানিয়ায় ড্রোন হামলার পর ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় বলেছেন, “রাশিয়ার বেপরোয়া আচরণ আমাদের সবার জন্য বিপদের। আমি নিশ্চয়তা দিচ্ছি যে ন্যাটো জোট তার প্রতি ইঞ্চি ভূমি রক্ষা যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুত।” ড্রোন হামলার পর রোমানিয়ার প্রেসিডেন্ট নিকুসর ড্যানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন বলেও জানিয়েছেন ন্যাটোর মহাসচিব। সূত্র : রয়টার্স

প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও নোয়াখালীর বামনী নদীতে ক্লোজার নির্মাণের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অধীনে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বামনী নদীতে ক্লোজার নির্মাণ প্রকল্পটি দেশের উপকূলীয় অঞ্চল সুরক্ষা ও নদী ব্যবস্থাপনার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত উদ্যোগ। প্রকল্পটির কাজ বাস্তবায়ন করছে প্রোপার্টি ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড (পিডিএল)। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর থেকেই পিডিএল এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কয়েক মাস ধরে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটির মাধ্যমে জোয়ার-ভাটার প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ, নদী ভাঙন প্রতিরোধ, নদীর স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং আশপাশের জনপদ, মৎস্য খামার, কৃষিজমি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে বন্যা ও ভাঙনের ক্ষয়ক্ষতি থেকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে। প্রকল্পের কর্মকর্তারা জানান, প্রতিকূল আবহাওয়া, ভারী বর্ষণ, তীব্র জোয়ারের চাপ এবং অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং কর্মপরিবেশের মধ্যেও প্রকল্পের কাজ সফলভাবে এগিয়ে চলছে। এই বৃহৎ কার্যক্রমে আরএফএল জিও টেক্সটাইল গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা করছে। প্রতিষ্ঠানটি প্রয়োজনীয় জিওটিউব, জিওব্যাগ এবং জিওটেক্সটাইল শিটের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করে প্রকল্পের নির্মাণকাজকে গতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এছাড়াও পিডিএল, আরএফএল ও বিডব্লিউডিবির ব্যবস্থাপনা দল, প্রকৌশলী, কর্মকর্তা, প্রযুক্তিগত কর্মী এবং মাঠপর্যায়ের শ্রমিকরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতা, দক্ষতা ও প্রতিশ্রুতি নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে, যাতে প্রকল্পটি সফলভাবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা যায়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নোয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী রেফাত জামিল নিউজকে বলেন, টেন্ডার প্রক্রিয়া ও উদ্বোধনসহ বিভিন্ন কারণে কাজ কিছুটা বিলম্বিত হয়েছে। তবে জনস্বার্থ বিবেচনায় ও নোয়াখালীর মানুষের দুর্ভোগের কথা মাথায় রেখে তারা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এ বছর ও গত বছর নোয়াখালী অনেক ভুগেছে। এজন্যই আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। রেফাত জামিল জানান, নদীর দুই দিক থেকে এক মাস ধরে কাজ চালিয়ে এনে এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে নেওয়া হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য মঙ্গলবার ফাইনাল ক্লোজ করা। যদি সফল হই তাহলে পুরো সেকশনটি উঠে আসবে। এরপর জোয়ার ও পূর্ণিমার সময় বাড়তি পানির চাপ সামাল দিতে সেকশন ডেভেলপমেন্ট করতে হবে। সার্বিক বিষয়ে প্রকল্পের কাজ পাওয়া প্রোপার্টি ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের (পিডিএল) চিফ অপারেটিং অফিসার সাইফুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, বৈরী আবহাওয়া, ঈদের ছুটি ও অন্যান্য প্রতিকূলতা থাকলেও কাজ বন্ধ রাখা হয়নি। আজও (সোমবার) কাজ করেছি, কালও (মঙ্গলবার) করবো। আমাদের স্টাফরা শিফট করে কাজ করছেন। তিনি জানান, জোয়ার-ভাটার কারণে কাজটি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছে। দিনে খুব অল্প সময় কাজ করার সুযোগ পাওয়া যায়। আজ আমরা বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত কাজ করতে পেরেছি। আবার রাতের শিফটে রাত ৩টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত কাজ চলবে। প্রকল্পের সময়সীমা প্রসঙ্গে সাইফুল ইসলাম বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে। এটি খুবই চ্যালেঞ্জিং একটি কাজ। বাংলাদেশে এ ধরনের ক্লোজার খুব বেশি হয়নি। তারপরও আমরা সফলভাবে কাজটি শেষ করার চেষ্টা করছি। তিনি জানান, যদি পরিকল্পনা অনুযায়ী ক্লোজার সম্পন্ন করা যায়, তাহলে পরবর্তীতে কিছু স্ট্যান্ডিং ওয়ার্ক এবং উচ্চতা বৃদ্ধির কাজ চলমান থাকবে। জানা গেছে, বামনী নদীর প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নদীভাঙন ও জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। একই সঙ্গে জোয়ার-ভাটার প্রবাহ ও পানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরও কার্যকর হবে, যা উপকূলীয় এলাকার সামগ্রিক পরিবেশ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করবে। এ প্রকল্পের ফলে মৎস্য ও কৃষি কার্যক্রমেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। পাশাপাশি স্থানীয় জনপদ ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে। এতে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটার পাশাপাশি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও আরও গতিশীল হবে। জানা গেছে, চলতি ২০২৬ সালের ১০ মার্চ পানিসম্পদ মন্ত্রী শাহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু যৌথভাবে এই প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।