

নোয়াখালীর ভাসানচরের গাংগুরিয়ার চর সংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় অভিযান চালিয়ে মিয়ানমারে পাচারের সময় বিপুল পরিমাণ সার ও খাদ্যপণ্য জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড। এ সময় পাচার কাজে ব্যবহৃত একটি কার্গো বোটসহ ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। বুধবার (২৯ জুলাই) রাতে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান। কোস্ট গার্ড জানায়, মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) কোস্ট গার্ড স্টেশন ভাসানচর গাংগুরিয়ার চর সংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান চালায়। অভিযানে একটি সন্দেহভাজন কার্গো বোটে তল্লাশি চালিয়ে অবৈধভাবে মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে বহন করা প্রায় ১৭ লাখ ৪ হাজার ২৫০ টাকা মূল্যের ২৪ হাজার ৫০০ কেজি ইউরিয়া সার, ৩ হাজার ৭০০ কেজি ছোলা এবং ৬ হাজার ৮৫০ কেজি বুটের ডাল জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে পাচারকাজে ব্যবহৃত কার্গো বোটটি জব্দ এবং ছয়জন পাচারকারীকে আটক করা হয়। কোস্ট গার্ড আরও জানায়, জব্দ করা মালামাল, কার্গো বোট এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, দেশের উপকূলীয় এলাকায় চোরাচালান ও সীমান্তবর্তী জলপথে অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে কোস্ট গার্ডের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ভবিষ্যতেও চোরাচালান রোধে এ ধরনের অভিযান আরও জোরদারভাবে চালানো হবে।

নোয়াখালীর সেনবাগে ‘সুন্দরপুর-৪’ নামে একটি মূল্যায়ন-কাম-উন্নয়ন গ্যাসকূপের খননকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। বাপেক্সের (বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড) প্রাথমিক মূল্যায়নে এই কূপ থেকে প্রতিদিন ৫ থেকে ৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলনের সম্ভাবনা রয়েছে। বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাপেক্সের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ড্রিলিং) ও ড্রিলিং ইনচার্জ জাকির হোসেন খান। তিনি জানান, মঙ্গলবার দুপুর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কূপ খননের কাজ শুরু করা হয়েছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, কূপটি সেনবাগ উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নের বড় চারিগাঁও গ্রামে অবস্থিত। তবে এটি একই ভূগর্ভস্থ গ্যাস ফিল্ডের অংশ হওয়ায় এর নাম রাখা হয়েছে ‘সুন্দরপুর-৪’। এর আগে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সিরাজপুর এলাকায় সুন্দরপুর গ্যাস ফিল্ডের ১, ২ ও ৩ নম্বর কূপ খনন করা হয়েছিল। নতুন কূপটি সুন্দরপুর-২ কূপ থেকে প্রায় ১২ থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরে হলেও একই রিজার্ভের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এ নামকরণ করা হয়েছে। সেনবাগে নতুন গ্যাসকূপ খনন শুরু, দৈনিক মিলতে পারে ৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস ভাড়া বাসায় মিলল নারীর ঝুলন্ত মরদেহ, দ্বিতীয় স্বামী পলাতক এই খনন প্রকল্পের কারিগরি পরিকল্পনা ও সময়সীমা নিয়ে কূপের ড্রিলিং ইনচার্জ জাকির হোসেন খান বলেন, কূপটির লক্ষ্যমাত্রিক গভীরতা প্রায় ১ হাজার ৬০০ মিটার। প্রায় ১ হাজার ৩৬১ মিটার গভীরে সম্ভাব্য গ্যাস স্তর রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে খনন কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। এরপর ড্রিল স্টেম টেস্ট (ডিএসটি) করতে আরও ১৫ থেকে ২০ দিন লাগবে। সব মিলিয়ে আড়াই মাসের মধ্যে কূপটির চূড়ান্ত ফলাফল জানা যাবে। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে গ্যাসের মোট মজুত নির্ধারণ করা সম্ভব না হলেও আশপাশের কূপগুলোর তথ্য বিশ্লেষণ করে বাপেক্স আশা করছে, এ কূপ থেকে প্রতিদিন ৫ থেকে ৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা যেতে পারে। বাপেক্স সূত্র জানায়, জমি অধিগ্রহণ ও অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ শেষে গত এপ্রিলের শেষ দিকে কূপ এলাকায় রিগ স্থাপন করা হয়। সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পর মঙ্গলবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে খনন শুরু হয়েছে। কূপটি সফল হলে জাতীয় গ্রিডে নতুন করে গ্যাস সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও দমকা হাওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ ১৪০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে উপজেলায়। টানা বর্ষণ ও জোয়ারের প্রভাবে উপজেলার নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। দমকা হাওয়ায় উপকূলজুড়ে বিরাজ করছে উদ্বেগ। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে হাতিয়া আবহাওয়া অফিসের দায়িত্বে থাকা তথ্য সহকারী সোহাগ বিশ্বাস এ তথ্য নিশ্চিত করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টানা বৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের নিচু এলাকা, গ্রামীণ সড়ক, বাজার ও বসতবাড়ির আঙিনায় পানি জমে গেছে। অনেক স্থানে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। কোথাও কোথাও কৃষিজমিও পানিতে তলিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। দমকা হাওয়ার কারণে নদী ও উপকূলীয় এলাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। হাতিয়া আবহাওয়া অফিসের তথ্য সহকারী সোহাগ বিশ্বাস বলেন, ‘রোববার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় হাতিয়ায় ১৪০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা এ সময়ে দেশের সর্বোচ্চ।’ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলে আরও কয়েক দিন ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। একই সঙ্গে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে। হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাসেল ইকবাল বলেন, প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। ইউনিয়ন প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে যাতে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলা করা যায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনে ঘর থেকে বের না হওয়ার এবং নদী ও সাগরে চলাচলে সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ এদিকে টানা বৃষ্টিপাত ও দমকা হাওয়ার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে নদীভাঙনপ্রবণ ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দারা সম্ভাব্য জলোচ্ছ্বাস ও জলাবদ্ধতা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) তার পদত্যাগের পরপরই একটি প্রশ্নই জনমনে ঘুরে ফিরছে- কে হচ্ছেন বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন দেশের বর্তমান প্রধান রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) শীর্ষ চার নেতা। তারা হলেন- বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আব্দুল মঈন খান ও নজরুল ইসলাম খান। তবে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, গ্রহণযোগ্যতা এবং সার্বিক সমীকরণে দল ও দলের বাইরে পছন্দের শীর্ষে উঠে এসেছে বিএনপি মহাসচিব ও বর্তমান সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম। রাজনৈতিক বিশ্লেষক, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং সামাজিকমাধ্যমের আলোচনায় তাকেই সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে এগিয়ে রাখা হচ্ছে। আলোচনায় তার নাম সামনে আসার পেছনে কয়েকটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি শালীন ও সংযত রাজনৈতিক আচরণ, মার্জিত ব্যক্তিত্ব, পরিমিত ও সাবলীল বক্তব্য এবং বিরোধী মতের প্রতিও সম্মানজনক অবস্থানের জন্য পরিচিত। পাশাপাশি দলের সংকটময় সময়ে নেতৃত্ব দেওয়া, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ত্যাগ ও কারাবরণ, নেতাকর্মীদের প্রতি মানবিক ও আত্মিক সম্পর্ক বজায় রাখা এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানও তার পক্ষে আলোচনায় উল্লেখযোগ্যভাবে উঠে আসছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি ধারাবাহিক অবস্থান, শালীন রাজনৈতিক সংস্কৃতির চর্চা এবং দেশ-বিদেশে তার গ্রহণযোগ্যতাও রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাকে এগিয়ে রাখছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ব্যক্তিগত প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল তিনটি বিষয়। ফ্যাসিবাদী শাসনামলে কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন এবং একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপির রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ। রাজনৈতিক বাস্তবতার ধারাবাহিকতায় তিনি এসব ঘটনার প্রত্যক্ষ সাক্ষী হয়েছেন। এই প্রেক্ষাপটে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক ও মর্যাদাপূর্ণ পদ রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম আলোচনায় উঠে আসাকে অনেকেই স্বাভাবিক ও প্রত্যাশিত হিসেবে দেখছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, বিএনপির দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রায় বিশ্বস্ততা, ধৈর্য ও সংকট মোকাবিলার সক্ষমতার প্রতীক হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে তিনি শুধু একজন মহাসচিব নন, বরং দুঃসময়ের নির্ভরযোগ্য কাণ্ডারি। রাজনৈতিক অঙ্গনে তিনি একজন সাদামাটা, সজ্জন ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির রাজনীতিবিদ হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনো প্রমাণিত অভিযোগ সামনে আসেনি। একই সঙ্গে রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও তীব্র বিরোধের মধ্যেও শালীন ভাষা, সংযত বক্তব্য এবং মার্জিত আচরণ বজায় রাখার কারণে তিনি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কাছেও সম্মান অর্জন করেছেন। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিএনপির সবচেয়ে কঠিন রাজনৈতিক পর্বে দলের সাংগঠনিক ঐক্য ধরে রাখতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বিএনপির তৎকালীন চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দি এবং বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিদেশে অবস্থানকালে মির্জা ফখরুল অত্যন্ত ধৈর্য, বিচক্ষণতা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞার সঙ্গে দলের নেতৃত্ব দেন। এ সময় তিনি শত শত মামলা, একাধিকবার কারাবরণ এবং রাজনৈতিক চাপ মোকাবিলা করেও দলীয় কর্মসূচি পরিচালনা ও নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখতে সচেষ্ট ছিলেন। পর্যবেক্ষকদের মতে, জিয়া পরিবারের প্রতি তার অবিচল আস্থা, দলের প্রতি দীর্ঘদিনের নিবেদন, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং ব্যক্তিগত সততার ভাবমূর্তি তাকে বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছে বিশেষ মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের অন্যতম বড় শক্তি তার বিস্তৃত রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা। তাদের ভাষ্য, রাষ্ট্রপতির পদটি দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। ফলে এ পদে এমন একজন ব্যক্তিত্ব প্রয়োজন, যিনি রাজনৈতিক বিভাজনের বাইরে থেকে রাষ্ট্রের অভিভাবকসুলভ ভূমিকা পালন করতে সক্ষম। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মির্জা ফখরুল সংলাপ, সহনশীলতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির পক্ষে ধারাবাহিক অবস্থান নিয়েছেন। রাজনৈতিক মতভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও তিনি শালীনতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের সংস্কৃতি বজায় রাখার চেষ্টা করেছেন। পাশাপাশি ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের অধিকার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং নাগরিক স্বাধীনতার প্রশ্নেও তার অবস্থান তাকে বিভিন্ন মহলে গ্রহণযোগ্যতা এনে দিয়েছে। এ ছাড়া সুশীল সমাজ, পেশাজীবী মহল এবং বিভিন্ন কূটনৈতিক মহলের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের যোগাযোগ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কও আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পেলে তার এই অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতা দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরতে সহায়ক হতে পারে। ১৯৪৮ সালে ঠাকুরগাঁওয়ে জন্ম নেওয়া এই বর্ষীয়ান রাজনীতিক একজন সাবেক শিক্ষক এবং অভিজ্ঞ সংসদ সদস্য। ৭৯ বছর বয়সী এই নেতার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও ধীরস্থির সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তাকে অভিভাবকত্বের আসনে বসানোর জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত করে তুলেছে। মির্জা ফখরুল ১৯৭২ সালে বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে শিক্ষা ক্যাডারে ঢাকা কলেজে অর্থনীতি বিভাগে শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেন। পরবর্তী সময়ে বেশ কয়েকটি সরকারি কলেজে অধ্যাপনা করেন। তিনি বাংলাদেশ সরকারের পরিদর্শন ও আয়-ব্যয় পরীক্ষণ অধিদপ্তরে নিরীক্ষক হিসেবেও কাজ করেন। ১৯৭৯ সালে জিয়াউর রহমানের শাসনামলে তৎকালীন উপপ্রধানমন্ত্রী এস এ বারীর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পান। ১৯৮২ সালে এইচ এম এরশাদ রাষ্ট্রের ক্ষমতায় আসার পর বারী পদত্যাগ করার আগ পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করেন। বারী পদত্যাগ করার পর মির্জা ফখরুল ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজে অর্থনীতির অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত শিক্ষকতা করেন। তার বাবা মরহুম রুহুল আমিন (চখা মিয়া) ছিলেন কৃষি প্রতিমন্ত্রী। মির্জা ফখরুলও ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ থেকে বিএনপির মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে প্রথমে কৃষি মন্ত্রণালয় ও পরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিএনপি নতুন সরকার গঠন করলে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব চাইবে এমন একজনকে রাষ্ট্রপতি করতে, যিনি রাষ্ট্রের সংকটময় মুহূর্তে শক্ত হাতে হাল ধরতে পারবেন এবং সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হবেন। মির্জা ফখরুল যেহেতু নিজে এবার নির্বাচন করে রাজনীতি থেকে অবসরের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন (সাম্প্রতিক কিছু জনসভায়), তাই তাকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনীত করাটা হবে তার দীর্ঘ ত্যাগের একটি যথাযোগ্য সম্মান। মির্জা ফখরুল কেবল বিএনপি মহাসচিব নন, তিনি বর্তমান বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের এক জীবন্ত কিংবদন্তি। তার মতো একজন মানুষকে রাষ্ট্রপতি করা হলে তা সংসদীয় গণতন্ত্রের মর্যাদা আরও বাড়াবে। বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা জানান, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে একজন দক্ষ ও বিতর্কহীন রাষ্ট্রপতির গুরুত্ব অপরিসীম। সেই মানদণ্ডে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কেবল বিএনপির প্রথম পছন্দই নন, বরং সাধারণ মানুষের কাছেও এক আস্থার নাম। তবে নতুন রাষ্ট্রপতি যিনিই হন না কেন, তাকে পরবর্তী সংসদ নির্বাচন ঘিরে সম্ভাব্য রাজনৈতিক চাপও সামলাতে হবে। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তাই সরকার, বিরোধী দল ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতাও গুরুত্ব পাচ্ছে। ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মো. সাহাবুদ্দিন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৮ সালের এপ্রিলে। এরই মধ্যে ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে এবং দেশ ছেড়ে ভারতে গিয়ে আশ্রয় নেন সেই সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আমূল বদলে যায়। সংসদ ভেঙে দেওয়া এবং অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ রাজনৈতিক পালাবদলের মধ্যেও রাষ্ট্রপতি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেন মো. সাহাবুদ্দিন।

অনিয়ম, ঘুষ, লাইসেন্স ভাড়া ও বিপুল রাজস্ব ফাঁকির এক অগোছালো জালে বন্দি দেশের মুসলিম বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন ব্যবস্থা। সরকারের নামে কোটি কোটি টাকা কমিশন আদায় হলেও সেই অর্থের ১ শতাংশও রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে লাইসেন্স বাণিজ্য, রাজনৈতিক সুপারিশ, ভুয়া প্রতিনিধি নিয়োগ এবং আয়কর ফাঁকির মতো নানা অনিয়মে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে পুরো নিকাহ নিবন্ধন ব্যবস্থা। আইন মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও কালবেলার অনুসন্ধানে জানা গেছে, দেশে বর্তমানে নিবন্ধিত নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজি) রয়েছেন প্রায় ৬ হাজার। গড়ে একজন কাজির মাসিক আয় প্রায় ২ লাখ টাকা হিসেবে বছরে এ খাতে মোট লেনদেন বা আয় দাঁড়ায় প্রায় ১ হাজার ৪৪০ কোটি টাকা। অথচ বিয়ের সময় সরকারের নামে কমিশন বা নিবন্ধন ফি আদায় করা হলেও সেই অর্থের ১ শতাংশও সরকারি কোষাগারে জমা পড়ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। অনিয়মের এখানেই শেষ নয়; লাখ লাখ টাকার ঘুষ-বাণিজ্য ও রাজনৈতিক সুপারিশে লাইসেন্স পাওয়া এখন ‘ওপেন সিক্রেট’। অনৈতিকভাবে নিয়োগ পাওয়া এসব কাজি আবার ভুয়া প্রতিনিধি নিয়োগ দিয়ে নিজের ‘কমিশনটা’ ঠিকই আদায় করে নিচ্ছেন। কিন্তু সরকারের ন্যায্য পাওনাটা দিতে তাদের অনীহা। বর্তমান বিধিমালা অনুযায়ী, দেনমোহরের প্রথম ৫ লাখ টাকার ক্ষেত্রে প্রতি ১ হাজার টাকায় ১৪ টাকা হারে নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু এই অর্থ আদায়ের পর তার কতটুকু সরকার পাচ্ছে, সে বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের কাছেও কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য নেই। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কাজিদের বার্ষিক ফি বা কমিশন জমার হিসাব সংরক্ষণের দায়িত্ব তাদের নয়। অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, একজন কাজি হতে জেলা পর্যায়ে ৩ থেকে ১০ লাখ এবং রাজধানীর অভিজাত এলাকায় ২০ থেকে ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয়। পাশাপাশি রাজনৈতিক সুপারিশ ছাড়া লাইসেন্স পাওয়া কঠিন বলেও জানিয়েছেন একাধিক নিবন্ধিত কাজি। অভিযোগ রয়েছে, মন্ত্রণালয়, জেলা রেজিস্ট্রি অফিস এবং বিভিন্ন পর্যায়ে নিয়মিত মাসোহারা ও সমিতির নামে চাঁদাও দিতে হয়। এদিকে অনেক নিবন্ধিত কাজি নিজে দায়িত্ব পালন না করে লাইসেন্স ভাড়া দিয়ে প্রতিনিধি দিয়ে কাজ করাচ্ছেন। কোথাও কোথাও একটি নিবন্ধন নম্বর ব্যবহার করে একাধিক ব্যক্তি বিবাহ নিবন্ধনের কাজ করছেন, যদিও আইনে এমন কোনো সুযোগ নেই। এতে মাঠপর্যায়ে জবাবদিহি ও তদারকি মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। সরকারের করনীতি অনুযায়ী, বছরে ৪ লাখ টাকার বেশি আয় হলে আয়কর দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু ঢাকার অভিজাত এলাকা ছাড়াও অধিকাংশ এলাকার ওয়ার্ডে একজন কাজি মাসে ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা আয় করেন। এসব কাজি লাইসেন্সের বিপরীতে বছরে নামমাত্র টাকা পরিশোধ করে বাকি সব টাকাই হাতিয়ে নেন। কিন্তু সরকারকে আয়কর দেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের তীব্র অনীহা লক্ষণীয়। কোনো কোনো কাজি আবার নিজের স্থাবর সম্পত্তির ওপর আয়কর দিয়ে কাজি পেশার আয় গোপন করেন। রাজধানীর একজন কাজি কম করে হলেও বছরে অর্ধকোটি টাকা আয় করেন। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, একটি রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করে একাধিক ব্যক্তি কাজি হিসেবে কাজ করছেন, যার ফলে মাঠপর্যায়ে জবাবদিহি ও তদারকি দুর্বল হয়ে পড়েছে। এ ধরনের অনিয়মের কারণে পুরো বিবাহ নিবন্ধন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে প্রায় ৩০০ কাজির নিবন্ধন বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হলে বিষয়টি আদালতে গড়ায়। বর্তমানে এসব বিষয়ে একাধিক মামলা ও রিট বিচারাধীন রয়েছে। আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিচার শাখা-৭-এর সিনিয়র সহকারী সচিব মো. আবদুল ওয়াহাব কালবেলাকে বলেন, ‘সারা দেশে প্রায় ৬ হাজার রেজিস্ট্রারভুক্ত কাজি আছেন। বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ৫ শতাধিক কাজির কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।’ তবে কাজিদের বার্ষিক ফি বা সরকারের রাজস্ব আয়ের তথ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এই তথ্য রাখার দায়িত্ব আমাদের না।’ এ বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের এক যুগ্ম সচিব বলেন, কাজিদের নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এসব অনিয়ম কমাতে সরকার পর্যায়ক্রমে সারা দেশে ডিজিটালাইজেশন চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ মুসলিম নিকাহ রেজিস্ট্রার কল্যাণ সমিতির নির্বাহী সভাপতি অধ্যক্ষ ড. মো. গোলাম কিবরিয়া দাবি করেন, নিয়ম অনুযায়ী সরকারের নামে আদায়কৃত কমিশন বছরে দুবার কোষাগারে জমা দেওয়া হয় এবং কাজিরা আয়করও পরিশোধ করেন। তবে তিনি স্বীকার করেন, কিছু ভুয়া কাজি বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের মতে, শতভাগ ডিজিটাল পেমেন্ট, কেন্দ্রীয় হিসাব নম্বর, অনলাইন মনিটরিং, স্বচ্ছ নিয়োগপ্রক্রিয়া এবং লাইসেন্স ভাড়া দেওয়ার সংস্কৃতি বন্ধ করা গেলে রাজস্ব ফাঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। একই সঙ্গে সরকারের আয় বাড়বে এবং মুসলিম বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন ব্যবস্থায় জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত এবং ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকায় পৌঁছাবেন বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে। তিন দিনের এ সফর নতুন বিএনপি সরকারের সময়ে কোনো সিনিয়র মার্কিন কূটনীতিকের প্রথম সফর হিসেবে গণ্য হচ্ছে। কূটনৈতিক মহল এ সফরকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির গতিপথ যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকায় পৌঁছানোর পর আজ সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করবেন সার্জিও গোর। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর রাতে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গেও বৈঠকের কথা রয়েছে সার্জিও গোরের। আগামীকাল শুক্রবার সার্জিও গোর কক্সবাজার সফর করবেন এবং রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কয়েকটি ক্যাম্প সরেজমিন পরিদর্শন করবেন। সফরের শেষ দিন শনিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সার্জিও গোরের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এরপর দুপুরে তিনি ঢাকা ত্যাগ করবেন। সার্জিও গোরের ঢাকা সফর প্রসঙ্গে ঢাকাস্থ যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোরের বাংলাদেশে আসার বিষয়টি রুটিন সফরের অংশ। গতকাল পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘ম্যানিলায় সার্জিও গোরের সঙ্গে আমার দেখা হয়েছে, কথা হয়েছে। আমরা দুই দেশের সম্পর্ক রিভিউ করেছি। আমেরিকার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক বহুমাত্রিক। তারাও চাইছেন সম্পর্কটা আরও এগিয়ে নিতে।’ তিনি আরও বলেন, ‘উনি শুধু ভারতে আমেরিকার রাষ্ট্রদূত নন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক প্রতিনিধি। বাংলাদেশে তার এটি প্রথম সফর। এ সফরে তিনি বাংলাদেশ সম্পর্কে বুঝতে চাইবেন। অনেক স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে কথাবার্তা বলবেন। আমাদের রোহিঙ্গা সমস্যা সম্পর্কে তিনি অবগত আছেন।’ রোহিঙ্গা ইস্যুতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সব বৈদেশিক সাহায্য আমরা যা পেয়েছি, আন্তর্জাতিকভাবে তাদের আমরা ধন্যবাদ দিচ্ছি। এর মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্যের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি এবং এটি আমরা ধন্যবাদের সঙ্গে স্মরণ করি। তিনি (সার্জিও গোর) রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে যাবেন।’ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ এ দূত দুদেশের পারস্পরিক সম্পর্কের প্রধান প্রধান দিক বোঝার চেষ্টা করবেন। এটি গোরের জন্য উপলব্ধিমূলক সফর।’ গোরের সফর নিয়ে কেন এত আলোচনা: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরের পর সার্জিও গোরের বাংলাদেশ সফরের বিষয়টি ঘিরে নানা আলোচনা চলছে। অনেকেই ভাবছেন, গোরের সফরে ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ নিয়ে আলোচনা হতে পারে। তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলো এ সফরকে নিয়মিত সফরের অংশ হিসেবেই দেখছেন। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, সফরে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আলোচনায় উঠে আসতে পারে। সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক বাণিজ্য ব্যবস্থা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এসব বিষয় সফরে আরও গভীরভাবে পর্যালোচনা হতে পারে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাংলাদেশ বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে। একদিকে চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সম্পর্ক ও বাণিজ্য বাড়ছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঐতিহ্যগত সম্পর্ক ধরে রাখার চেষ্টাও চলছে। এমন পরিস্থিতিতে সার্জিও গোরের সফর ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের অবস্থান যাচাইয়েরই একটি পদক্ষেপ। একই সঙ্গে নতুন সরকারের ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির আওতায় দেশের পররাষ্ট্রনীতি বোঝার চেষ্টাও এ সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য। এদিকে বাংলাদেশ সরকার এ সফরকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও গভীর করার সুযোগ হিসেবে দেখছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এর আগে বলেছেন, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক সবসময়ই ভালো ছিল এবং বর্তমান সরকারের আমলে তা আরও শক্তিশালী হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সার্জিও গোরের এ সফরের মাধ্যমে বাণিজ্য, অর্থনৈতিক কূটনীতি ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়বে। চীন সফরে মোংলা বন্দর আধুনিকায়ন, তিস্তা প্রকল্প, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং চট্টগ্রামে চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ বেশকিছু বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ওয়াশিংটন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকার, আঞ্চলিক কৌশলগত অবস্থান এবং চীনের সঙ্গে সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা স্পষ্টভাবে বুঝতে চায় বলছেন বিশ্লেষকরা। উল্লেখ্য, সার্জিও গোর ১৯৮৬ সালে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের উজবেকিস্তানের তাসখন্দে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত। আগে তিনি হোয়াইট হাউসের প্রেসিডেন্সিয়াল পার্সোনেল অফিসের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৫ সালের আগস্টে তাকে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত এবং ভারতে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি চলতি বছরের জানুয়ারিতে নয়াদিল্লিতে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ট্রাম্প প্রশাসনের প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে তার এ সফর আরও বেশি মনোযোগ আকর্ষণ করেছে

নোয়াখালীর ভাসানচরের গাংগুরিয়ার চর সংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় অভিযান চালিয়ে মিয়ানমারে পাচারের সময় বিপুল পরিমাণ সার ও খাদ্যপণ্য জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড। এ সময় পাচার কাজে ব্যবহৃত একটি কার্গো বোটসহ ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। বুধবার (২৯ জুলাই) রাতে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান। কোস্ট গার্ড জানায়, মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) কোস্ট গার্ড স্টেশন ভাসানচর গাংগুরিয়ার চর সংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান চালায়। অভিযানে একটি সন্দেহভাজন কার্গো বোটে তল্লাশি চালিয়ে অবৈধভাবে মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে বহন করা প্রায় ১৭ লাখ ৪ হাজার ২৫০ টাকা মূল্যের ২৪ হাজার ৫০০ কেজি ইউরিয়া সার, ৩ হাজার ৭০০ কেজি ছোলা এবং ৬ হাজার ৮৫০ কেজি বুটের ডাল জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে পাচারকাজে ব্যবহৃত কার্গো বোটটি জব্দ এবং ছয়জন পাচারকারীকে আটক করা হয়। কোস্ট গার্ড আরও জানায়, জব্দ করা মালামাল, কার্গো বোট এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, দেশের উপকূলীয় এলাকায় চোরাচালান ও সীমান্তবর্তী জলপথে অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে কোস্ট গার্ডের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ভবিষ্যতেও চোরাচালান রোধে এ ধরনের অভিযান আরও জোরদারভাবে চালানো হবে।

নোয়াখালীর সেনবাগে ‘সুন্দরপুর-৪’ নামে একটি মূল্যায়ন-কাম-উন্নয়ন গ্যাসকূপের খননকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। বাপেক্সের (বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড) প্রাথমিক মূল্যায়নে এই কূপ থেকে প্রতিদিন ৫ থেকে ৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলনের সম্ভাবনা রয়েছে। বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাপেক্সের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ড্রিলিং) ও ড্রিলিং ইনচার্জ জাকির হোসেন খান। তিনি জানান, মঙ্গলবার দুপুর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কূপ খননের কাজ শুরু করা হয়েছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, কূপটি সেনবাগ উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নের বড় চারিগাঁও গ্রামে অবস্থিত। তবে এটি একই ভূগর্ভস্থ গ্যাস ফিল্ডের অংশ হওয়ায় এর নাম রাখা হয়েছে ‘সুন্দরপুর-৪’। এর আগে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সিরাজপুর এলাকায় সুন্দরপুর গ্যাস ফিল্ডের ১, ২ ও ৩ নম্বর কূপ খনন করা হয়েছিল। নতুন কূপটি সুন্দরপুর-২ কূপ থেকে প্রায় ১২ থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরে হলেও একই রিজার্ভের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এ নামকরণ করা হয়েছে। সেনবাগে নতুন গ্যাসকূপ খনন শুরু, দৈনিক মিলতে পারে ৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস ভাড়া বাসায় মিলল নারীর ঝুলন্ত মরদেহ, দ্বিতীয় স্বামী পলাতক এই খনন প্রকল্পের কারিগরি পরিকল্পনা ও সময়সীমা নিয়ে কূপের ড্রিলিং ইনচার্জ জাকির হোসেন খান বলেন, কূপটির লক্ষ্যমাত্রিক গভীরতা প্রায় ১ হাজার ৬০০ মিটার। প্রায় ১ হাজার ৩৬১ মিটার গভীরে সম্ভাব্য গ্যাস স্তর রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে খনন কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। এরপর ড্রিল স্টেম টেস্ট (ডিএসটি) করতে আরও ১৫ থেকে ২০ দিন লাগবে। সব মিলিয়ে আড়াই মাসের মধ্যে কূপটির চূড়ান্ত ফলাফল জানা যাবে। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে গ্যাসের মোট মজুত নির্ধারণ করা সম্ভব না হলেও আশপাশের কূপগুলোর তথ্য বিশ্লেষণ করে বাপেক্স আশা করছে, এ কূপ থেকে প্রতিদিন ৫ থেকে ৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা যেতে পারে। বাপেক্স সূত্র জানায়, জমি অধিগ্রহণ ও অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ শেষে গত এপ্রিলের শেষ দিকে কূপ এলাকায় রিগ স্থাপন করা হয়। সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পর মঙ্গলবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে খনন শুরু হয়েছে। কূপটি সফল হলে জাতীয় গ্রিডে নতুন করে গ্যাস সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় সরকারি হাসপাতালে প্রথমবারের মতো অ্যান্টি স্নেক ভেনম (সর্পদংশনবিরোধী বিষনাশক) প্রয়োগ করে বিষধর সাপের কামড়ে আক্রান্ত এক শিশুর প্রাণ রক্ষা করা হয়েছে। চিকিৎসকদের দাবি, জনবল ও চিকিৎসা-সুবিধার সীমাবদ্ধতার মধ্যেও এই সফল চিকিৎসা হাতিয়ার স্বাস্থ্যসেবায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। জানা গেছে, গত শনিবার (২৬ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার সোনাদিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ফিরোজ উদ্দিনের ছেলে রাহাত (৮) মাগরিবের নামাজ পড়তে যাওয়ার পথে বিষধর সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়। প্রথমে স্থানীয় কয়েকজন কবিরাজের শরণাপন্ন হলেও তার অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। পরে রাত ১২টার দিকে তাকে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। দায়িত্বরত মেডিকেল অফিসার ডা. রবিউল হোসেন নিলয় বলেন, হাসপাতালে আনার পর শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষায় বিষধর সাপের দংশনের একাধিক লক্ষণ শনাক্ত করা হয়। শিশুটির মধ্যে ঘাড় ভেঙে পড়ার লক্ষণ (Broken Neck Sign), চোখের পাতা ঝুলে পড়া (Ptosis) এবং অচেতনতার মতো উপসর্গ দেখা যায়। এছাড়া ২০ মিনিট ক্লট অবজারভেশন টেস্ট (20 Minute Clot Observation Test) করে বিষক্রিয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। তিনি বলেন, পরে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ও আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তার (আরএমও) সঙ্গে পরামর্শ করে এবং শিশুটির বাবার সম্মতিক্রমে হাসপাতালে প্রথমবারের মতো অ্যান্টি স্নেক ভেনম প্রয়োগ করা হয়। তিনি আরও বলেন, চিকিৎসা শুরুর পর ধীরে ধীরে শিশুটির অবস্থার উন্নতি হতে থাকে। বর্তমানে সে আশঙ্কামুক্ত এবং সুস্থ রয়েছে। প্রয়োজনীয় জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জাম বাড়ানো গেলে ভবিষ্যতে আরও উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। শিশুটির বাবা ফিরোজ উদ্দিন বলেন, আমার ছেলে মাগরিবের নামাজ পড়তে যাওয়ার পথে সাপে কামড় দেয়। তার চিৎকার শুনে আমরা ছুটে যাই। প্রথমে স্থানীয় কয়েকজন কবিরাজের শরণাপন্ন হয়েছিলাম। কিন্তু অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসি। ছেলের অবস্থা দেখে মনে হয়েছিল, হয়তো আর বাঁচবে না। ডাক্তাররা প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর একটি ইনজেকশন দেন। এখন আমার ছেলে অনেকটাই সুস্থ। হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মানসী রানী সরকার বলেন, এটি হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো অ্যান্টি স্নেক ভেনম প্রয়োগের ঘটনা। চিকিৎসক, নার্স, স্যাকমো, স্টোরকিপার, ওয়ার্ডবয় ও আয়াসহ সংশ্লিষ্ট সবাই আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। ভবিষ্যতেও এ ধরনের জরুরি চিকিৎসাসেবা আরও দক্ষতার সঙ্গে চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক, নার্স ও শয্যাসংকটের কারণে রোগীরা কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাব, জনবল সংকট এবং সীমিত চিকিৎসা-সুবিধার কারণে অনেক জটিল রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হাতিয়ার বাইরে রেফার করা হয়। তবে এসব সীমাবদ্ধতার মধ্যেও প্রথমবারের মতো অ্যান্টি স্নেক ভেনম প্রয়োগ করে বিষধর সাপের দংশনে আক্রান্ত এক শিশুর সফল চিকিৎসা স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবায় একটি ব্যতিক্রমী ও আশাব্যঞ্জক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। স্থানীয়দের আশা, প্রয়োজনীয় ওষুধ, জনবল ও প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে সর্পদংশনে আক্রান্ত অধিকাংশ রোগীর চিকিৎসাই হাতিয়াতেই দেওয়া সম্ভব হবে।

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও দমকা হাওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ ১৪০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে উপজেলায়। টানা বর্ষণ ও জোয়ারের প্রভাবে উপজেলার নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। দমকা হাওয়ায় উপকূলজুড়ে বিরাজ করছে উদ্বেগ। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে হাতিয়া আবহাওয়া অফিসের দায়িত্বে থাকা তথ্য সহকারী সোহাগ বিশ্বাস এ তথ্য নিশ্চিত করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টানা বৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের নিচু এলাকা, গ্রামীণ সড়ক, বাজার ও বসতবাড়ির আঙিনায় পানি জমে গেছে। অনেক স্থানে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। কোথাও কোথাও কৃষিজমিও পানিতে তলিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। দমকা হাওয়ার কারণে নদী ও উপকূলীয় এলাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। হাতিয়া আবহাওয়া অফিসের তথ্য সহকারী সোহাগ বিশ্বাস বলেন, ‘রোববার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় হাতিয়ায় ১৪০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা এ সময়ে দেশের সর্বোচ্চ।’ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলে আরও কয়েক দিন ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। একই সঙ্গে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে। হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাসেল ইকবাল বলেন, প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। ইউনিয়ন প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে যাতে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলা করা যায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনে ঘর থেকে বের না হওয়ার এবং নদী ও সাগরে চলাচলে সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ এদিকে টানা বৃষ্টিপাত ও দমকা হাওয়ার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে নদীভাঙনপ্রবণ ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দারা সম্ভাব্য জলোচ্ছ্বাস ও জলাবদ্ধতা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) তার পদত্যাগের পরপরই একটি প্রশ্নই জনমনে ঘুরে ফিরছে- কে হচ্ছেন বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন দেশের বর্তমান প্রধান রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) শীর্ষ চার নেতা। তারা হলেন- বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আব্দুল মঈন খান ও নজরুল ইসলাম খান। তবে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, গ্রহণযোগ্যতা এবং সার্বিক সমীকরণে দল ও দলের বাইরে পছন্দের শীর্ষে উঠে এসেছে বিএনপি মহাসচিব ও বর্তমান সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম। রাজনৈতিক বিশ্লেষক, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং সামাজিকমাধ্যমের আলোচনায় তাকেই সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে এগিয়ে রাখা হচ্ছে। আলোচনায় তার নাম সামনে আসার পেছনে কয়েকটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি শালীন ও সংযত রাজনৈতিক আচরণ, মার্জিত ব্যক্তিত্ব, পরিমিত ও সাবলীল বক্তব্য এবং বিরোধী মতের প্রতিও সম্মানজনক অবস্থানের জন্য পরিচিত। পাশাপাশি দলের সংকটময় সময়ে নেতৃত্ব দেওয়া, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ত্যাগ ও কারাবরণ, নেতাকর্মীদের প্রতি মানবিক ও আত্মিক সম্পর্ক বজায় রাখা এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানও তার পক্ষে আলোচনায় উল্লেখযোগ্যভাবে উঠে আসছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি ধারাবাহিক অবস্থান, শালীন রাজনৈতিক সংস্কৃতির চর্চা এবং দেশ-বিদেশে তার গ্রহণযোগ্যতাও রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাকে এগিয়ে রাখছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ব্যক্তিগত প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল তিনটি বিষয়। ফ্যাসিবাদী শাসনামলে কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন এবং একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপির রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ। রাজনৈতিক বাস্তবতার ধারাবাহিকতায় তিনি এসব ঘটনার প্রত্যক্ষ সাক্ষী হয়েছেন। এই প্রেক্ষাপটে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক ও মর্যাদাপূর্ণ পদ রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম আলোচনায় উঠে আসাকে অনেকেই স্বাভাবিক ও প্রত্যাশিত হিসেবে দেখছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, বিএনপির দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রায় বিশ্বস্ততা, ধৈর্য ও সংকট মোকাবিলার সক্ষমতার প্রতীক হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে তিনি শুধু একজন মহাসচিব নন, বরং দুঃসময়ের নির্ভরযোগ্য কাণ্ডারি। রাজনৈতিক অঙ্গনে তিনি একজন সাদামাটা, সজ্জন ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির রাজনীতিবিদ হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনো প্রমাণিত অভিযোগ সামনে আসেনি। একই সঙ্গে রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও তীব্র বিরোধের মধ্যেও শালীন ভাষা, সংযত বক্তব্য এবং মার্জিত আচরণ বজায় রাখার কারণে তিনি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কাছেও সম্মান অর্জন করেছেন। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিএনপির সবচেয়ে কঠিন রাজনৈতিক পর্বে দলের সাংগঠনিক ঐক্য ধরে রাখতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বিএনপির তৎকালীন চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দি এবং বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিদেশে অবস্থানকালে মির্জা ফখরুল অত্যন্ত ধৈর্য, বিচক্ষণতা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞার সঙ্গে দলের নেতৃত্ব দেন। এ সময় তিনি শত শত মামলা, একাধিকবার কারাবরণ এবং রাজনৈতিক চাপ মোকাবিলা করেও দলীয় কর্মসূচি পরিচালনা ও নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখতে সচেষ্ট ছিলেন। পর্যবেক্ষকদের মতে, জিয়া পরিবারের প্রতি তার অবিচল আস্থা, দলের প্রতি দীর্ঘদিনের নিবেদন, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং ব্যক্তিগত সততার ভাবমূর্তি তাকে বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছে বিশেষ মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের অন্যতম বড় শক্তি তার বিস্তৃত রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা। তাদের ভাষ্য, রাষ্ট্রপতির পদটি দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। ফলে এ পদে এমন একজন ব্যক্তিত্ব প্রয়োজন, যিনি রাজনৈতিক বিভাজনের বাইরে থেকে রাষ্ট্রের অভিভাবকসুলভ ভূমিকা পালন করতে সক্ষম। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মির্জা ফখরুল সংলাপ, সহনশীলতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির পক্ষে ধারাবাহিক অবস্থান নিয়েছেন। রাজনৈতিক মতভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও তিনি শালীনতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের সংস্কৃতি বজায় রাখার চেষ্টা করেছেন। পাশাপাশি ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের অধিকার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং নাগরিক স্বাধীনতার প্রশ্নেও তার অবস্থান তাকে বিভিন্ন মহলে গ্রহণযোগ্যতা এনে দিয়েছে। এ ছাড়া সুশীল সমাজ, পেশাজীবী মহল এবং বিভিন্ন কূটনৈতিক মহলের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের যোগাযোগ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কও আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পেলে তার এই অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতা দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরতে সহায়ক হতে পারে। ১৯৪৮ সালে ঠাকুরগাঁওয়ে জন্ম নেওয়া এই বর্ষীয়ান রাজনীতিক একজন সাবেক শিক্ষক এবং অভিজ্ঞ সংসদ সদস্য। ৭৯ বছর বয়সী এই নেতার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও ধীরস্থির সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তাকে অভিভাবকত্বের আসনে বসানোর জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত করে তুলেছে। মির্জা ফখরুল ১৯৭২ সালে বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে শিক্ষা ক্যাডারে ঢাকা কলেজে অর্থনীতি বিভাগে শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেন। পরবর্তী সময়ে বেশ কয়েকটি সরকারি কলেজে অধ্যাপনা করেন। তিনি বাংলাদেশ সরকারের পরিদর্শন ও আয়-ব্যয় পরীক্ষণ অধিদপ্তরে নিরীক্ষক হিসেবেও কাজ করেন। ১৯৭৯ সালে জিয়াউর রহমানের শাসনামলে তৎকালীন উপপ্রধানমন্ত্রী এস এ বারীর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পান। ১৯৮২ সালে এইচ এম এরশাদ রাষ্ট্রের ক্ষমতায় আসার পর বারী পদত্যাগ করার আগ পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করেন। বারী পদত্যাগ করার পর মির্জা ফখরুল ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজে অর্থনীতির অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত শিক্ষকতা করেন। তার বাবা মরহুম রুহুল আমিন (চখা মিয়া) ছিলেন কৃষি প্রতিমন্ত্রী। মির্জা ফখরুলও ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ থেকে বিএনপির মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে প্রথমে কৃষি মন্ত্রণালয় ও পরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিএনপি নতুন সরকার গঠন করলে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব চাইবে এমন একজনকে রাষ্ট্রপতি করতে, যিনি রাষ্ট্রের সংকটময় মুহূর্তে শক্ত হাতে হাল ধরতে পারবেন এবং সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হবেন। মির্জা ফখরুল যেহেতু নিজে এবার নির্বাচন করে রাজনীতি থেকে অবসরের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন (সাম্প্রতিক কিছু জনসভায়), তাই তাকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনীত করাটা হবে তার দীর্ঘ ত্যাগের একটি যথাযোগ্য সম্মান। মির্জা ফখরুল কেবল বিএনপি মহাসচিব নন, তিনি বর্তমান বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের এক জীবন্ত কিংবদন্তি। তার মতো একজন মানুষকে রাষ্ট্রপতি করা হলে তা সংসদীয় গণতন্ত্রের মর্যাদা আরও বাড়াবে। বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা জানান, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে একজন দক্ষ ও বিতর্কহীন রাষ্ট্রপতির গুরুত্ব অপরিসীম। সেই মানদণ্ডে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কেবল বিএনপির প্রথম পছন্দই নন, বরং সাধারণ মানুষের কাছেও এক আস্থার নাম। তবে নতুন রাষ্ট্রপতি যিনিই হন না কেন, তাকে পরবর্তী সংসদ নির্বাচন ঘিরে সম্ভাব্য রাজনৈতিক চাপও সামলাতে হবে। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তাই সরকার, বিরোধী দল ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতাও গুরুত্ব পাচ্ছে। ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মো. সাহাবুদ্দিন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৮ সালের এপ্রিলে। এরই মধ্যে ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে এবং দেশ ছেড়ে ভারতে গিয়ে আশ্রয় নেন সেই সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আমূল বদলে যায়। সংসদ ভেঙে দেওয়া এবং অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ রাজনৈতিক পালাবদলের মধ্যেও রাষ্ট্রপতি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেন মো. সাহাবুদ্দিন।

বৈরী আবহাওয়া ও অস্বাভাবিক জোয়ারে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার চরঈশ্বর, নলচিরা, চরকিং ও সোনাদিয়া ইউনিয়নের বেড়িবাঁধের বিভিন্ন অংশের প্রায় ৮০০ মিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কয়েকটি স্থানে বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছে একাধিক গ্রাম। দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত করা না হলে আগামী পূর্ণিমার জোয়ার ও বর্ষার শেষ দিকে চার ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ আবারও প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় প্রায় সাড়ে সাত লাখ মানুষের বসবাস। ঝড়-জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন ও নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে লড়াই করেই তাদের জীবনযাপন। চলতি বর্ষার শুরুতেই টানা ভারী বৃষ্টি এবং মেঘনা নদী ও বঙ্গোপসাগরের অস্বাভাবিক জোয়ারে উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করেন। এ পরিস্থিতির মধ্যেই অস্বাভাবিক জোয়ারে ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ উপকূলবাসীর মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। কোথাও কোথাও বাঁধ এতটাই সরু ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে যে, সামনের পূর্ণিমার জোয়ার কিংবা কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতেই তা ভেঙে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। ফলে চারটি ইউনিয়নের নদীতীরবর্তী এলাকার হাজারো পরিবার প্রতিদিন উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। অনেকেই আগাম প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে রাখছেন, আবার কেউ কেউ স্বজনদের বাড়িতে আশ্রয় নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অতীতের জলোচ্ছ্বাস ও প্লাবনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা তাদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। নলচিরা ইউনিয়নের তুপানিয়া গ্রামের বেড়িবাঁধসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা রোকেয়া বেগম বলেন, জোয়ারের ঢেউয়ের আঘাতে তাদের এলাকার বাঁধটি খুবই সরু হয়ে গেছে। যে কোনো সময় এটি ভেঙে যেতে পারে। বাঁধ ভেঙে গেলে তাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই থাকবে না। আক্ষেপ করে তিনি বলেন, আমরা ভোট দিয়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করেছি। এখন আমাদের দেখার যেন কেউ নেই। তারা ঢাকায় অবস্থান করছেন, আর আমরা দিন-রাত পানিতে ভেসে যাওয়ার আতঙ্কে কাটাচ্ছি। একই এলাকার বাসিন্দা আব্দুল খালেক বলেন, রাতে জোয়ারের পানির স্রোতের শব্দে ঘুম আসে না। মনে হয়, এই বুঝি বেড়িবাঁধ ভেঙে গেল। আতঙ্কে পরিবারের অনেক সদস্য অন্যত্র অবস্থান করছেন। বাড়ির প্রয়োজনীয় আসবাবপত্রও নিরাপদ স্থানে সরিয়ে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমানে কাটাল শেষ হলেও সামনে পূর্ণিমার জোয়ারে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ টিকে থাকা কঠিন হবে। তাই নলচিরা ইউনিয়নের উত্তর পাশের চারটি ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে জরুরি ভিত্তিতে মেরামতের দাবি জানান তিনি। কয়েক দিন আগে স্বাভাবিকের তুলনায় চার থেকে পাঁচ ফুট উচ্চতার জোয়ারে চরঈশ্বর ইউনিয়নের আফাজিয়া এলাকায় প্রায় ৩০ মিটার বেড়িবাঁধ ভেঙে তিনটি গ্রাম প্লাবিত হয়। চরঈশ্বর ইউনিয়নের বাসিন্দা নিপু খিলজী বলেন, ভেঙে যাওয়া অংশটি পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলে মেরামত করেছে। তবে পাশের ঝুঁকিপূর্ণ অংশ এখনো সংস্কার করা হয়নি। কোথাও কোথাও মাত্র এক ফুটের মতো বাঁধ অবশিষ্ট রয়েছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। একই চিত্র সোনাদিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম সোনাদিয়া গ্রামেও। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মন্নান রানা জানান, গ্রামের মানুষ নিজ উদ্যোগে গাছের গুঁড়ি, ডালপালা ও মাটিভর্তি বস্তা দিয়ে বাঁধটি কোনোভাবে টিকিয়ে রেখেছেন। কিন্তু আগামী পূর্ণিমার জোয়ারে সেটি আর ধরে রাখা সম্ভব হবে না। বাঁধ ভেঙে গেলে ফসলি জমি, মাছের ঘের, বসতঘর, সড়ক, গবাদিপশু ও বিভিন্ন স্থাপনার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো জনপ্রতিনিধি এলাকা পরিদর্শনে আসেননি। স্থানীয়রাই পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দেখিয়েছেন। তারা ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। স্থানীয়দের আশঙ্কা, বর্ষার শেষ দিকে অথবা আগামী পূর্ণিমার অস্বাভাবিক জোয়ারে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ দিয়ে আবারও লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়তে পারে। এতে চারটি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি ফসলি জমি, মাছের ঘের, বসতবাড়ি ও গ্রামীণ সড়কের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। তাই বড় ধরনের বিপর্যয়ের আগেই ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ দ্রুত মেরামতের দাবি জানিয়েছেন তারা। নোয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী জামিল উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, চলতি বছর অস্বাভাবিক জোয়ারের পাশাপাশি অতিবৃষ্টির কারণে নদীতীরবর্তী চারটি ইউনিয়নের প্রায় ৮০০ মিটার বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করে বাস্তব পরিস্থিতির প্রতিবেদন জেলা কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে জরুরি ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু করা হবে।
পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো: শাহজাহান। এছাড়াও তিনি বলেন,জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই সংকট মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। আমরা যদি আজ বেশি বেশি গাছ লাগাই এবং সেগুলোকে সঠিকভাবে পরিচর্যা করি, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। পরিবেশ রক্ষাকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি আরও বলেন,বর্তমান সরকার পরিবেশ সংরক্ষণ ও বনভূমি সম্প্রসারণে নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এসব উদ্যোগ সফল করতে সরকারি প্রচেষ্টার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,সরকারি-বেসরকারি অফিস,ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং প্রতিটি পরিবারে বৃক্ষরোপণের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা,বায়ুদূষণ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে পরিকল্পিতভাবে বৃক্ষরোপণ ও বন সংরক্ষণ অত্যন্ত প্রয়োজন।ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ লাগানোর পাশাপাশি বিদ্যমান গাছ সংরক্ষণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।শুক্রবার বিকালে নোয়াখালী সদর উপজেলার পৌরপার্কে জেলা কৃষকদলের উদ্যােগে বৃক্ষরোপণের সময় এসব মন্তব্য করেন তিনি।এ সময় উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলো,নোয়াখালী জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ আজাদ,জেলা বিএনপির সদস্য রবিউল আলম পলাশ,সদস্য শহীদুল ইসলাম কিরণ,জেলা কৃষক দলের সভাপতি ফজলে এলাহী পলাশ,সাধারণ সম্পাদক জিএস হারুনসহ বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সাইয়েদ আব্দুল্লাহর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় পাবনার সাঁথিয়ায় মসজিদে জামায়াতের নেতাকর্মী ও মুসল্লিদের ওপর হামলা হয়েছে বলে দাবি করেছেন। অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছেন তিনি। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী যদি দায়িত্বের বাইরে গিয়ে অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলান, তাহলে এর দায় তাকেই নিতে হবে। প্রয়োজনে এর দায়ভার প্রধানমন্ত্রীকেও নিতে হবে। আজকে বড় ধরনের ষড়যন্ত্র ছিল, জনগণ প্রতিহত করেছে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে সাঁথিয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ের ইমাম হোসাইন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন। তিনি সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিছুর রহমানকে ফ্যাসিবাদের দোসর আখ্যা দিয়ে তার প্রত্যাহারের দাবি জানান। তিনি অভিযোগ করেন, ওসির বিরুদ্ধে ঘুষ ও চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে এবং তিনি জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের হয়রানি করছেন। ফ্যাসিবাদের দোসরদের থেকে টাকা খাচ্ছেন। হামলার শিকার ব্যক্তিরা মামলা করতে থানায় গেলে সেখানে গেট আটকিয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছেন ওসি। মামলা করতে তাদের বাঁধা দেওয়া হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, জুমার নামাজকে কেন্দ্র করে বিএনপি পরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাসী জড়ো করেছিল এবং পুলিশ তাদের হামলার সুযোগ করে দেয়। এ সময় তার সমর্থকদের বাড়িতেও হামলা করা হয়। আজ বিএনপি তাদের ফ্যাসিবাদী চরিত্রের পরিচয় দিয়েছে। তারা ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের হৃদয়ে আঘাত করেছে। আমাকে ঠিকমতো নামাজ পড়তে দেওয়া হয়নি। রাজনৈতিকভাবে পরাজিত হয়ে সন্ত্রাসীর পথ বেঁচে নিয়েছে বিএনপি। ফ্যাসিবাদ বিদায় নিলেও ফ্যাসিবাদের ভূত কিন্তু এখনো যায়নি। ফ্যাসিবাদ ভারতে পালিয়েছে, আপনারা কিন্তু ভারতে পালাতে পারবেন না। এটা মনে রাখতে হবে আপনাদের। তিনি বলেন, সে কে আমাকে বলার যে আমি মসজিদে ইমামতি করতে পারব না? জনগণ ভালোবেসে আমাকে ইমামতি করাচ্ছে। বিএনপির অনুমতি নিয়ে যদি ইমামতি করতে হয়, তাহলে এর চেয়ে দুঃখজনক ঘটনা আর কিছু হতে পারে না। নিজের পারিবারিক পরিচয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমার বাবার ফাঁসি হয়েছে, আমি তারই সন্তান। তারা ভেবেছে হামলা করলে আমি ঢাকা বা লন্ডনে পালিয়ে যাব। কিন্তু আমি পালাব না। বিকেলে একটি ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে এটা নিয়ে তারা পরিকল্পিত নাটক সাজাচ্ছে। আসলে এই ছুরিকাঘাতের ঘটনায় যাকে অভিযুক্ত করা হচ্ছে সে আমাদের দলের কেউ না। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, সাঁথিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা মোখলেসুর রহমান, উপজেলা ভারপ্রাপ্ত আমির অধ্যাপক আনিছুর রহমান, উপজেলা ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি মোস্তফা কামাল মানিক, পৌর আমির হাফেজ আব্দুল গফুর, জেলা যুব বিভাগের সেক্রেটারি তাইজুল ইসলামসহ অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতারা। আরকে

ফেসবুকে ভুয়া বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করা সহজ করতে নতুন ‘ফেসবুক ভেরিফায়েড’ ব্যাজ চালু করেছে মেটা। নতুন এই ব্যাজের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা সহজেই বুঝতে পারবেন প্রোফাইলটি প্রকৃত একজন মানুষের। এই সুবিধাটি মূলত সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য আনা হয়েছে। সেলিব্রিটি বা পরিচিত ব্যক্তিদের জন্য নয়। বিশেষ করে মার্কেটপ্লেস, ডেটিং এবং গ্রুপসে প্রতারণা কমিয়ে ব্যবহারকারীদের মধ্যে আস্থা বাড়ানোই এর লক্ষ্য। ভেরিফিকেশন পেতে ব্যবহারকারীকে একটি ছোট ভিডিও সেলফি ধারণ করতে হবে। এরপর সেটি প্রোফাইলে থাকা ছবির সঙ্গে মিলিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করবে ফেসবুক। এই সেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। তবে এটি ব্যবহার করতে হলে ব্যবহারকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে, অ্যাকাউন্টটি ভালো অবস্থায় থাকতে হবে এবং মেটার নিরাপত্তা ও কমিউনিটি নীতিমালা পূরণ করতে হবে। তবে পেজ এবং প্রফেশনাল মোডে থাকা প্রোফাইলগুলো আপাতত এই সুবিধা পাবে না। ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হলে ব্যাজটি ব্যবহারকারীর প্রোফাইল, মার্কেটপ্লেসের তালিকা এবং ডেটিং প্রোফাইলে দেখা যাবে। ভবিষ্যতে ফেসবুকের নিউজ ফিডের পোস্টেও এই ব্যাজ দেখানো হবে বলে জানিয়েছে মেটা। তবে মেটা জানিয়েছে, এই ব্যাজ থাকার অর্থ শুধু অ্যাকাউন্টটি একজন প্রকৃত মানুষের এটি নিশ্চিত হওয়া। এর মানে এই নয় যে, ওই ব্যবহারকারী সব সময় ফেসবুকের সব নীতিমালা মেনে চলছেন। প্রাথমিকভাবে কয়েকটি দেশে এই সুবিধা চালু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বিশ্বের অন্যান্য দেশেও এটি চালু করা হবে বলে জানিয়েছে মেটা। সূত্র: নিউজ বাইট
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় লক্ষ্মীপুরের রামগতি বাজার শাখার সাবেক রূপালী ব্যাংক ব্যবস্থাপক মো. আবদুল মজিদকে ২৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ১৮ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অর্জিত এক কোটি ২৪ লাখ ১৫ হাজার ৫৪৩ টাকার সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্তের আদেশ দেওয়া হয়েছে। দন্ডপ্রাপ্ত আব্দুল মজিদ (৪৮) লক্ষীপুর সদর থানার কাফিলাতলি এলাকার মৃত আমিনুল হকের ছেলে এবং রামগতি বাজার শাখার রুপালী ব্যাংক লিমেটেডের সাবেক ব্যবস্থাপক ছিলেন। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে নোয়াখালীর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. শওকত আলী এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে অনুপস্থিত থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করা হয়। দুদক জানায়,আবদুল মজিদ ২০০৭ সালের ১৪ নভেম্বর থেকে ২০১৩ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত রূপালী ব্যাংক লিমিটেডের লক্ষ্মীপুরের রামগতি বাজার শাখার ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এ সময় তিনি ব্যাংকের এসটিডি হিসাব নম্বর-৪-এ থাকা ৪ লাখ ৬৫ হাজার ৭৯৮ টাকা, এসটিডি হিসাব নম্বর-৬-এ থাকা ৪৯ লাখ ৬১ হাজার ১১৭ টাকা এবং সরকারি কর্মচারীদের পেনশন বাবদ উত্তোলন করা ১৬ লাখ ৩০ হাজার ২৩১ টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেন। এছাড়া ব্যাংকিং নীতিমালা লঙ্ঘন করে তিনি মোট ৭০ লাখ ৫৭ হাজার ১৪৫ টাকা আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। পরবর্তী তদন্তে দুদক তার বিরুদ্ধে সর্বমোট ১ কোটি ২৪ লাখ ১৫ হাজার ৫৪৩ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পায়। নোয়াখালী দুদক পিপি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জহির উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মামলাটি তদন্ত শেষে তৎকালীন দুদকের উপসহকারী পরিচালক মো.হোসাইন শরীফ ও সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আজগর হোসেন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। আদালত দণ্ডবিধির ৪৬৭ ধারায় ১০ বছর, ৪০৯ ধারায় ১০ বছর এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। পৃথক তিন ধারায় দেওয়া সাজা মিলিয়ে তাকে মোট ২৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।