

জনপ্রিয় কৌতুক অভিনেতা হারুন কিসিঞ্জারের মৃত্যুর খবরটি সম্পূর্ণ গুজব বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাত থেকে ফেসবুক ও টিকটকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ভক্তদের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়। তবে এই অভিনেতা বর্তমানে জীবিত আছেন এবং রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, হারুন কিসিঞ্জার দীর্ঘদিন ধরে নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত জটিলতায় ভুগছেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে গত কয়েকদিনের তুলনায় এখন তিনি অনেকটা সুস্থ। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী সব ঠিক থাকলে আগামী দুই-একদিনের মধ্যেই তিনি বাসায় ফিরতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে। বাবার মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হারুন কিসিঞ্জারের ছেলে রুবেল খন্দকার। রোববার রাতে এক ফেসবুক পোস্টে তিনি একে 'নোংরা গুজব' বলে অভিহিত করেন। রুবেল লিখেছেন, কিছু অসাধু ও সস্তা ভিউ-লোভী মানুষ আমার আব্বুর মৃত্যু নিয়ে মিথ্যে সংবাদ প্রচার করছে। অসুস্থতা নিয়ে যারা ব্যবসা করে, তারা সমাজের আবর্জনা। তিনি আরও জানান, তার বাবা এখন আগের চেয়ে সুস্থ আছেন। একইসাথে এই ধরনের সংবেদনশীল বিষয়ে গুজব রটনাকারীদের শনাক্ত করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের আওতায় কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি। নব্বই দশকের জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ও টেলিভিশন নাটকে স্বতন্ত্র কৌতুকাভিনয়ের মাধ্যমে দেশজুড়ে পরিচিতি পান হারুন কিসিঞ্জার। ছোট পর্দার পাশাপাশি বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রেও তাকে দেখা গেছে। দীর্ঘদিন অভিনয়ে অনিয়মিত থাকলেও তার হাস্যরসাত্মক সংলাপ ও স্বতঃস্ফূর্ত অভিনয় এখনো দর্শকদের মনে গেঁথে আছে।

নোয়াখালীর হাতিয়ায় ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে যৌন নির্যাতনের শিকার নারীর সঙ্গে মোবাইলফোনে কথা বলেছেন সরকারের দুই উপদেষ্টা। তারা হলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন, তথ্য ও সম্প্রচার এবং পানিসম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আকতার। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নোয়াখালীর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ভুক্তভোগীকে (৩২) ফোন করে তার খোঁজখবর নেন উপদেষ্টাদ্বয়। এসময় ওই নারীকে আইনি সহায়তার আশ্বাস দেন তারা। সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, দুপুরে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে দুই নারী উপদেষ্টা ফোন করে হাসপাতালে ভর্তি নারীর খোঁজখবর নেন। এসময় উপদেষ্টারা ওই নারীর শারীরিক খোঁজখবর নেন এবং তাকে সর্বাত্মক আইনি সহায়তার আশ্বাস দেন। ভুক্তভোগী নারী বলেন, ‘দুই উপদেষ্টা আমার সঙ্গে সুন্দর করে কথা বলেছেন। আমার এত কষ্টের মাঝেও একটু শান্তি লাগছে। উপদেষ্টারা বলেছেন, আমি যেন মনোবল না হারাই। তারা আমাকে আইনি সহায়তাসহ সব ধরনের সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন। সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলো আন্তরিকতায় আমি স্বস্তি পাচ্ছি।’ এর আগে হাতিয়ার চানন্দি ইউনিয়নের ৩২ বছর বয়সী ওই নারী দাবি করেন, নির্বাচনে শাপলা কলিতে ভোট দেওয়ায় শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টায় স্থানীয় কয়েকজন যুবক তাকে ও তার স্বামীকে পিটিয়ে জখম করেন। এসময় তার স্বামীকে কক্ষে বেঁধে রেখে গোসলখানায় নিয়ে আবদুর রহমান নামের এক ব্যক্তি ওই নারীকে ধর্ষণ করেছেন। পরে শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তাকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিলে ভর্তি করা হয়। হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম বলেন, ‘আমরা এখনো এ ব্যাপারে কোনো অভিযোগ পাইনি। তবে স্থানীয়ভাবে তদন্ত করে শুক্রবার রাতে ও শনিবার সকালে এনসিপি ও বিএনপি কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের প্রমাণ পাওয়া গেছে। অভিযোগ পেলে অধিকতর তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

নবনির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর যখন নির্দেশনা দেবে, তখনই সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফিরে যাবে বলে জানিয়েছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। নির্বাচনের জন্য যে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছিল, তাদের সংখ্যা কমানো হয়েছে বলে তিনি জানান। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সিএএস দরবারে সেনাবাহিনীর সব পদমর্যাদার সদস্যের উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে সেনাপ্রধান এসব কথা বলেন। এতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত সদস্যরাও ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন। অনুষ্ঠানে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের সময় সেনাসদস্যদের চমৎকার দায়িত্বশীলতা ও দক্ষতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন সেনাপ্রধান। সেনাপ্রধান বলেন, ‘দেশ গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে এসেছে এবং সেনাবাহিনী তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছে। জনগণের স্বার্থে যা করণীয় ছিল, তা সম্পন্ন করা হয়েছে। সেনাবাহিনী এখন নতুন সরকারের নির্দেশনার অপেক্ষায় থাকবে। সরকারের নির্দেশনা পেলেই তারা ব্যারাকে ফিরে যাবে। নির্বাচনের সময় অতিরিক্ত যে ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছিল, তা ইতোমধ্যে তুলে নেওয়া হয়েছে।’ ভাষণে সেনাপ্রধান ইউনিট প্রধানদের চেইন অব কমান্ড বজায় রাখার ওপর জোর দেন। পাশাপাশি সেনাসদস্যদের মনোবল দৃঢ় রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা দেন। ভুল ও মিথ্যা তথ্যের বিষয়ে সতর্ক এবং সচেতন থাকতে সেনাসদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় শাপলা কলিতে ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে নির্যাতনের অভিযোগ তোলা এক নারীর নিরাপত্তায় হাসপাতালে বডি ওর্ন ক্যামেরাসহ পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে ভুক্তভোগীর স্বামী নিখোঁজ থাকায় এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা বা লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বডি ওর্ন ক্যামেরাসহ একজন উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও একজন সহকারী উপ-পরিদর্শকের (এএসআই) নেতৃত্বে সাত সদস্যের পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুপুরে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, এসআই সায়মার নেতৃত্বে একজন নারী এএসআই, দুইজন নারী কনস্টেবল ও তিনজন পুরুষ কনস্টেবল ভুক্তভোগীর কেবিনের সামনে নিরাপত্তায় রয়েছেন। ভুক্তভোগীর সঙ্গে থাকা এনসিপির ছাত্র সংগঠন ছাত্রশক্তির চানন্দি ইউনিয়ন আহ্বায়ক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রাণনাশের হুমকি পেয়ে ভুক্তভোগীর স্বামী হাতিয়ার নিঝুম দ্বীপে আশ্রয় নিয়েছেন। তাকে ফিরিয়ে এনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ভুক্তভোগীকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে থানা বা আদালতের নির্দেশনা না থাকায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা এখনো করা সম্ভব হয়নি। সুধারাম মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, পুলিশ শুধু নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছে। হাসপাতালে একজন নারী এসআই ও একজন এএসআইয়ের নেতৃত্বে পাঁচজন কনস্টেবল নিয়োজিত রয়েছেন। অন্যদিকে হাতিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম বলেন, এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। প্রাথমিক অনুসন্ধানে শুক্রবার রাত ও শনিবার সকালে এনসিপি ও বিএনপি কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের তথ্য মিললেও ধর্ষণের অভিযোগের সত্যতা মেলেনি। অভিযোগ পেলে বিস্তারিত তদন্ত করা হবে। অভিযোগ অনুযায়ী, হাতিয়ার চানন্দি ইউনিয়নের ৩২ বছর বয়সী এক নারী দাবি করেন, নির্বাচনে শাপলা প্রতীকে ভোট দেওয়ার জেরে শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টার দিকে স্থানীয় কয়েকজন যুবক তাকে ও তার স্বামীকে মারধর করেন। তার স্বামীকে একটি কক্ষে বেঁধে রেখে আবদুর রহমান নামে এক ব্যক্তি তাকে ধর্ষণ করেন। পরদিন বিকেলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এদিকে শনিবার রাতে নোয়াখালী-৬ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম-মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ এবং নোয়াখালী-৪ আসনে পরাজিত জেলা জামায়াতের আমির ইসহাক খন্দকার হাসপাতালে গিয়ে ভুক্তভোগীর খোঁজ নেন। এ সময় ডা. শফিকুর রহমান ও নাহিদ ইসলাম ভিডিও কলে ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলেন। ডা. শফিকুর রহমানসহ কেন্দ্রীয় নেতারা সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) নোয়াখালী সফরের আশ্বাস দিয়েছেন। এ সময় পরদিন রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারী) দুপুর ১২টায় নোয়াখালী জিলা জামে মসজিদ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দেন। তবে সেই কর্মসূচি বাস্তবায়ন হয়নি। এ বিষয়ে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. বোরহান উদ্দিন বলেন, আমিরে জামায়াত সোমবার সকালে আসবেন। আমরা প্রোগ্রাম একদিন পিছিয়ে সোমবার নিয়েছি। সোমবার সকালে একসাথে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এদিকে ভুক্তভোগী নারীর বাড়িতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা সরেজমিনে পরিদর্শন করছেন। এ বিষয়ে ধানের শীষের প্রার্থী মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, এটা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ঘটনা। মব সৃষ্টি করে এসব করা হচ্ছে। আমরা তীব্র নিন্দা জানাই। যারা এসব অন্যায়ের সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।

পুরো রমজান মাসে সরকারি-বেসরকারি নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক স্কুল বন্ধ রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. ইলিয়াস আলী মন্ডল, অ্যাডভোকেট তানজিনা ববি লিজা। এর আগে পবিত্র রমজান মাসে স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. ইলিয়াছ আলী মন্ডল হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট দায়ের করেন। গত ৫ জানুয়ারি পবিত্র রমজানে স্কুল বন্ধ রাখতে সরকারকে আইনি নোটিশ দেন সুপ্রিম কোর্টের ওই আইনজীবী। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবকে এই নোটিশ পাঠান তিনি। নোটিশে বলা হয়, বাংলাদেশের ৯৮ শতাংশ নাগরিক মুসলমান। বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর থেকে রমজান মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে— এটিই আইন, প্রথা ও নীতি এবং ওইভাবে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রমজান মাসে বন্ধ থাকে। সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, আইন ছাড়া কিছুই করা যাবে না, অনুচ্ছেদ ১৫২(১) অনুযায়ী আইন অর্থ বাংলাদেশে আইনের ক্ষমতা সম্পন্ন যেকোনো প্রথা ও রীতি। তাই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় রমজান মাসে খোলা রাখার সরকারের তর্কিত সিদ্ধান্ত অসাংবিধানিক। নোটিশে আরও বলা হয়, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলের কোমলমতি শিশু-কিশোররা সারাদিন স্কুলে যাতায়াত করে, ক্লাস করে ক্লান্ত হয়ে রোজা রাখতে কষ্টের সম্মুখীন হয়ে রোজা রাখার অভ্যাস থেকে দূরে থাকার সম্ভাব্না দেখা দেয়। যা ধর্মীয় আচার চর্চার অন্তরায়। এ ছাড়া রমজান মাসে স্কুল চালু রাখলে শহরগুলোতে তীব্র জানযটের সৃষ্টি হয়, যাতে নগরবাসীকে চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হয়, যা কারও কাম্য নয়। নোটিশের জবাব না পাওয়ায় এ রিট দায়ের করা হয়।

জনপ্রিয় কৌতুক অভিনেতা হারুন কিসিঞ্জারের মৃত্যুর খবরটি সম্পূর্ণ গুজব বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাত থেকে ফেসবুক ও টিকটকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ভক্তদের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়। তবে এই অভিনেতা বর্তমানে জীবিত আছেন এবং রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, হারুন কিসিঞ্জার দীর্ঘদিন ধরে নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত জটিলতায় ভুগছেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে গত কয়েকদিনের তুলনায় এখন তিনি অনেকটা সুস্থ। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী সব ঠিক থাকলে আগামী দুই-একদিনের মধ্যেই তিনি বাসায় ফিরতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে। বাবার মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হারুন কিসিঞ্জারের ছেলে রুবেল খন্দকার। রোববার রাতে এক ফেসবুক পোস্টে তিনি একে 'নোংরা গুজব' বলে অভিহিত করেন। রুবেল লিখেছেন, কিছু অসাধু ও সস্তা ভিউ-লোভী মানুষ আমার আব্বুর মৃত্যু নিয়ে মিথ্যে সংবাদ প্রচার করছে। অসুস্থতা নিয়ে যারা ব্যবসা করে, তারা সমাজের আবর্জনা। তিনি আরও জানান, তার বাবা এখন আগের চেয়ে সুস্থ আছেন। একইসাথে এই ধরনের সংবেদনশীল বিষয়ে গুজব রটনাকারীদের শনাক্ত করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের আওতায় কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি। নব্বই দশকের জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ও টেলিভিশন নাটকে স্বতন্ত্র কৌতুকাভিনয়ের মাধ্যমে দেশজুড়ে পরিচিতি পান হারুন কিসিঞ্জার। ছোট পর্দার পাশাপাশি বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রেও তাকে দেখা গেছে। দীর্ঘদিন অভিনয়ে অনিয়মিত থাকলেও তার হাস্যরসাত্মক সংলাপ ও স্বতঃস্ফূর্ত অভিনয় এখনো দর্শকদের মনে গেঁথে আছে।

নোয়াখালীর হাতিয়ায় ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে যৌন নির্যাতনের শিকার নারীর সঙ্গে মোবাইলফোনে কথা বলেছেন সরকারের দুই উপদেষ্টা। তারা হলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন, তথ্য ও সম্প্রচার এবং পানিসম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আকতার। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নোয়াখালীর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ভুক্তভোগীকে (৩২) ফোন করে তার খোঁজখবর নেন উপদেষ্টাদ্বয়। এসময় ওই নারীকে আইনি সহায়তার আশ্বাস দেন তারা। সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, দুপুরে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে দুই নারী উপদেষ্টা ফোন করে হাসপাতালে ভর্তি নারীর খোঁজখবর নেন। এসময় উপদেষ্টারা ওই নারীর শারীরিক খোঁজখবর নেন এবং তাকে সর্বাত্মক আইনি সহায়তার আশ্বাস দেন। ভুক্তভোগী নারী বলেন, ‘দুই উপদেষ্টা আমার সঙ্গে সুন্দর করে কথা বলেছেন। আমার এত কষ্টের মাঝেও একটু শান্তি লাগছে। উপদেষ্টারা বলেছেন, আমি যেন মনোবল না হারাই। তারা আমাকে আইনি সহায়তাসহ সব ধরনের সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন। সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলো আন্তরিকতায় আমি স্বস্তি পাচ্ছি।’ এর আগে হাতিয়ার চানন্দি ইউনিয়নের ৩২ বছর বয়সী ওই নারী দাবি করেন, নির্বাচনে শাপলা কলিতে ভোট দেওয়ায় শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টায় স্থানীয় কয়েকজন যুবক তাকে ও তার স্বামীকে পিটিয়ে জখম করেন। এসময় তার স্বামীকে কক্ষে বেঁধে রেখে গোসলখানায় নিয়ে আবদুর রহমান নামের এক ব্যক্তি ওই নারীকে ধর্ষণ করেছেন। পরে শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তাকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিলে ভর্তি করা হয়। হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম বলেন, ‘আমরা এখনো এ ব্যাপারে কোনো অভিযোগ পাইনি। তবে স্থানীয়ভাবে তদন্ত করে শুক্রবার রাতে ও শনিবার সকালে এনসিপি ও বিএনপি কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের প্রমাণ পাওয়া গেছে। অভিযোগ পেলে অধিকতর তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

নবনির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর যখন নির্দেশনা দেবে, তখনই সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফিরে যাবে বলে জানিয়েছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। নির্বাচনের জন্য যে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছিল, তাদের সংখ্যা কমানো হয়েছে বলে তিনি জানান। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সিএএস দরবারে সেনাবাহিনীর সব পদমর্যাদার সদস্যের উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে সেনাপ্রধান এসব কথা বলেন। এতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত সদস্যরাও ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন। অনুষ্ঠানে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের সময় সেনাসদস্যদের চমৎকার দায়িত্বশীলতা ও দক্ষতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন সেনাপ্রধান। সেনাপ্রধান বলেন, ‘দেশ গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে এসেছে এবং সেনাবাহিনী তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছে। জনগণের স্বার্থে যা করণীয় ছিল, তা সম্পন্ন করা হয়েছে। সেনাবাহিনী এখন নতুন সরকারের নির্দেশনার অপেক্ষায় থাকবে। সরকারের নির্দেশনা পেলেই তারা ব্যারাকে ফিরে যাবে। নির্বাচনের সময় অতিরিক্ত যে ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছিল, তা ইতোমধ্যে তুলে নেওয়া হয়েছে।’ ভাষণে সেনাপ্রধান ইউনিট প্রধানদের চেইন অব কমান্ড বজায় রাখার ওপর জোর দেন। পাশাপাশি সেনাসদস্যদের মনোবল দৃঢ় রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা দেন। ভুল ও মিথ্যা তথ্যের বিষয়ে সতর্ক এবং সচেতন থাকতে সেনাসদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় শাপলা কলিতে ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে নির্যাতনের অভিযোগ তোলা এক নারীর নিরাপত্তায় হাসপাতালে বডি ওর্ন ক্যামেরাসহ পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে ভুক্তভোগীর স্বামী নিখোঁজ থাকায় এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা বা লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বডি ওর্ন ক্যামেরাসহ একজন উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও একজন সহকারী উপ-পরিদর্শকের (এএসআই) নেতৃত্বে সাত সদস্যের পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুপুরে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, এসআই সায়মার নেতৃত্বে একজন নারী এএসআই, দুইজন নারী কনস্টেবল ও তিনজন পুরুষ কনস্টেবল ভুক্তভোগীর কেবিনের সামনে নিরাপত্তায় রয়েছেন। ভুক্তভোগীর সঙ্গে থাকা এনসিপির ছাত্র সংগঠন ছাত্রশক্তির চানন্দি ইউনিয়ন আহ্বায়ক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রাণনাশের হুমকি পেয়ে ভুক্তভোগীর স্বামী হাতিয়ার নিঝুম দ্বীপে আশ্রয় নিয়েছেন। তাকে ফিরিয়ে এনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ভুক্তভোগীকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে থানা বা আদালতের নির্দেশনা না থাকায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা এখনো করা সম্ভব হয়নি। সুধারাম মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, পুলিশ শুধু নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছে। হাসপাতালে একজন নারী এসআই ও একজন এএসআইয়ের নেতৃত্বে পাঁচজন কনস্টেবল নিয়োজিত রয়েছেন। অন্যদিকে হাতিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম বলেন, এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। প্রাথমিক অনুসন্ধানে শুক্রবার রাত ও শনিবার সকালে এনসিপি ও বিএনপি কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের তথ্য মিললেও ধর্ষণের অভিযোগের সত্যতা মেলেনি। অভিযোগ পেলে বিস্তারিত তদন্ত করা হবে। অভিযোগ অনুযায়ী, হাতিয়ার চানন্দি ইউনিয়নের ৩২ বছর বয়সী এক নারী দাবি করেন, নির্বাচনে শাপলা প্রতীকে ভোট দেওয়ার জেরে শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টার দিকে স্থানীয় কয়েকজন যুবক তাকে ও তার স্বামীকে মারধর করেন। তার স্বামীকে একটি কক্ষে বেঁধে রেখে আবদুর রহমান নামে এক ব্যক্তি তাকে ধর্ষণ করেন। পরদিন বিকেলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এদিকে শনিবার রাতে নোয়াখালী-৬ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম-মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ এবং নোয়াখালী-৪ আসনে পরাজিত জেলা জামায়াতের আমির ইসহাক খন্দকার হাসপাতালে গিয়ে ভুক্তভোগীর খোঁজ নেন। এ সময় ডা. শফিকুর রহমান ও নাহিদ ইসলাম ভিডিও কলে ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলেন। ডা. শফিকুর রহমানসহ কেন্দ্রীয় নেতারা সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) নোয়াখালী সফরের আশ্বাস দিয়েছেন। এ সময় পরদিন রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারী) দুপুর ১২টায় নোয়াখালী জিলা জামে মসজিদ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দেন। তবে সেই কর্মসূচি বাস্তবায়ন হয়নি। এ বিষয়ে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. বোরহান উদ্দিন বলেন, আমিরে জামায়াত সোমবার সকালে আসবেন। আমরা প্রোগ্রাম একদিন পিছিয়ে সোমবার নিয়েছি। সোমবার সকালে একসাথে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এদিকে ভুক্তভোগী নারীর বাড়িতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা সরেজমিনে পরিদর্শন করছেন। এ বিষয়ে ধানের শীষের প্রার্থী মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, এটা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ঘটনা। মব সৃষ্টি করে এসব করা হচ্ছে। আমরা তীব্র নিন্দা জানাই। যারা এসব অন্যায়ের সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।

শাপলা কলিতে ভোট দেওয়ায় যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ করা নারীকে দেখতে সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) নোয়াখালী যাচ্ছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তার সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামও যাওয়ার কথা রয়েছে। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে ২৫০ শয্যার নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই নারীর সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলে দুই নেতা তাকে দেখতে নোয়াখালী যাওয়ার কথা বলেছেন। এসময় সেখানে উপস্থিত নোয়াখালী-৬ আসনে সংসদ সদস্য পদে বিজয়ী এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম-মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ ও নোয়াখালী-৪ আসনে পরাজিত জেলা জামায়াতের আমির ইসহাক খন্দকার বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন। নির্যাতনের শিকার নারীকে দেখতে সোমবার হাতিয়ায় যাচ্ছেন জামায়াত আমির জেলা জামায়াতের আমির ইসহাক খন্দাকার বলেন, আমিরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান নির্যাতিতার সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেছেন। এসময় তিনি ওই নারীকে নিজের বোন আখ্যা দিয়ে বলেছেন, ‘আমি সোমবার তাকে দেখতে নোয়াখালী আসবো।’ পৃথক কলে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামও ওই নারীকে মা বলে সম্বোধন করে বলেছেন, ‘পুরো বাংলাদেশ আপনার সঙ্গে আছে। আমিও আপনাকে দেখতে আসবো।’ হান্নান মাসউদ বলেন, ‘হাতিয়ার মানুষ বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন একটি দ্বীপে বসবাস করে। এখানে মাহবুবের রহমান শামীমের নির্দেশে নব্য বিএনপির লোকজন তাণ্ডব চালাচ্ছে। আমি উনার সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলাম। আমার সব এজেন্টকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে হামলা করা হচ্ছে। তাদের দাবি, আমাদের নেতা তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী, আমাদের দল ক্ষমতায়, হান্নান মাসউদ কিছু করতে পারবে না। এই ধর্ষণের ঘটনা তারই একটি অংশ।’ তিনি বলেন, ‘২০১৮ সালে সূবর্ণচরের মতো হাতিয়াতেও আরেক নারীকে ধর্ষণ করা হয়েছে। আমরা ফ্যাসিবাদকে পেছনে ফেলে এসেছি। এখন তারেক রহমান সাহেবকেই নির্দেশনা দিতে হবে এসব তাণ্ডব চলতে পারে কিনা। আমরা আগামীতে সংসদে এসব বিষয় তুলে ধরবো। হাতিয়ার মানুষের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেলে ভয়াবহ রূপ নিবে। আগামীর সরকার ও বর্তমান সরকার এসবের দায়িত্ব নিতে হবে। এখন তারেক রহমান কি নতুন ফ্যাসিবাদ জন্ম দিবে নাকি গণতন্ত্র উপহার দিবেন তা উনি ভালো বলতে পারবেন।’ নির্যাতনের শিকার নারীকে দেখতে সোমবার হাতিয়ায় যাচ্ছেন জামায়াত আমির এর আগে হাতিয়ার চানন্দি ইউনিয়নের ৩২ বছর বয়সের এক নারী দাবি করেন, নির্বাচনে শাপলা কলিতে ভোট দেওয়ায় শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে স্থানীয় কয়েকজন যুবক তাকে ও তার স্বামীকে পিটিয়ে জখম করেন। এসময় তার স্বামীকে কক্ষে বেঁধে রেখে গোসলখানায় নিয়ে আবদুর রহমান নামে এক ব্যক্তি ওই নারীকে ধর্ষণ করেছেন। পরে শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তাকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিলে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানান জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মোস্তাফিজুর রহমান। তবে অভিযুক্ত আবদুর রহমান এক ভিডিও বার্তায় বলেন, আমার বিরুদ্ধে অভিযোগটি মিথ্যা। শুক্রবার রাতে ৮টায় এনসিপির লোকজন আমাকে আক্রমণ করে আহত করে। আমি স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়ে রাত সাড়ে ১০টায় নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হই। তাহলে রাত ১১টায় কীভাবে আমি ধর্ষণ করি তা বুঝতেছি না। এ ব্যাপারে নোয়াখালী-৬ আসনের পরাজিত বিএনপির প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম হামলার ঘটনা অস্বীকার করে ধর্ষণের বিষয়ে বলেন, এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে কিনা প্রশাসনকে জিজ্ঞেস করেন। এ বিষয়ে আমার কিছু জানা নাই। এ ব্যাপারে নোয়াখালী পুলিশ সুপার টিএম মোশারেফ হোসেন বলেন, বিষয়টি আমরা শুনেছি। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি যখন নির্বাচনে ভূমিধস জয় পেলো তখন ভারত নতুন সরকারকে সতর্কতার সঙ্গে উষ্ণ শুভেচ্ছা জানাল। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ৬০ বছর বয়সী তারেক রহমানকে জয়ের জন্য শুভেচ্ছা জানান। তিনি একটি গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও অন্তর্বর্তী বাংলাদেশকে সমর্থনের আশ্বাস দেন। এছাড়া বাংলাদেশের সঙ্গে বহুমুখী সম্পর্ক জোরদারে গভীরভাবে কাজ করবেন বলে জানান। তার এ শুভেচ্ছা ছিল সম্পর্ককে এগিয়ে নেওয়ার বার্তা। তবে খুব সতর্কতার সঙ্গে তিনি এ বার্তা দিয়েছেন। সাবেক স্বৈরাচার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জেন-জির গণঅভ্যুত্থানে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে বিশ্বাসে ব্যাপক অবনতি হয়। এরপর সদ্য হওয়া জাতীয় নির্বাচনে হাসিনার আওয়ামী লীগকে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। হাসিনার স্বৈরাচার হওয়ার জন্য অনেক বাংলাদেশি ভারতেক দোষারোপ করেন। এর ওপর সীমান্ত হত্যা, পানি নিয়ে বিরোধ, বাণিজ্যে বিধিনিষেধ ও ভারতের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় আগে থেকেই ছিল। দুই দেশের মধ্যে ভিসা দেওয়া প্রায় বন্ধ আছে। আন্তঃদেশীয় বাস, ট্রেন এখন আর চলছে না। সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে বিমান চলাচলও বহুলাংশে হ্রাস পেয়েছে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে এ মুহূর্তে ভারত সরকার যোগাযোগ তৈরি করবে?— প্রশ্ন এটি নয়, প্রশ্ন হলো কীভাবে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দমনের সীমারেখা নিশ্চিত রেখে এবং বাংলাদেশের সঙ্গে উত্তেজনা কমিয়ে যোগাযোগ করবে। বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপন সম্ভব? বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে আবারও ভারত সম্পর্ক গড়তে পারবে। তবে এক্ষেত্রে সংযম ও পারস্পরিক সহযোগিতা প্রয়োজন হবে। লন্ডনের সোয়াস বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের প্রফেসর অবিনাশ পালিওয়াল সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে বলেছেন, "নির্বাচনী দৌড়ে থাকা দলগুলোর মধ্যে রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে অভিজ্ঞ এবং মধ্যপন্থী হিসেবে বিএনপিই এখন ভারতের জন্য সামনে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে নিরাপদ বা নির্ভরযোগ্য বিকল্প। তবে প্রশ্ন থেকে যায়— তারেক রহমান কীভাবে দেশ শাসন করবেন? তিনি পরিষ্কারভাবেই ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক স্থিতিশীল করতে চাইছেন। কিন্তু এটি মুখে বলা যত সহজ, কাজে পরিণত করা ততটা সহজ নয়।" ভারতের জন্য বিএনপি কোনো অজানা কোনো দল নয়। জামায়াতের সঙ্গে জোট করে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ২০০১ সালে যখন দলটি আবারও ক্ষমতায় ফিরেছিল তখন ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক খুব দ্রুত সময়ে ঠান্ডা হয়ে যায়। জামায়াত-বিএনপি ওই সরকারের পুরোটা ছিল ভারতের জন্য ছিল ‘অবিশ্বাস আর সমস্যার সময়’। যদিও ভারতের সঙ্গে ওই সরকারের শুরুটা হয়েছিল সৌজন্যতার সঙ্গে। ভারতের তৎকালীন নিরাপত্তা উপদেষ্টা ব্রাজেস মিশ্রা প্রথম বিদেশি কূটনীতিক হিসেবে খালেদা জিয়াকে সবার আগে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন। কিন্তু তবুও দুই দেশের মধ্যে বিশ্বাস ছিল খুবই কম। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন ওই বিএনপি সরকার যুক্তরাষ্ট্র, চীন এবং পাকিস্তানের সঙ্গে সৌহায্যপূর্ণ সম্পর্ক রেখেছিল। এতে করে ভারতের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয় বাংলাদেশ হয়ত তাদের বলয় থেকে বের হয়ে যাচ্ছে। এরপর বিচ্ছিন্নতাবাদীদের কার্যক্রম, ১০ ট্রাক অস্ত্র উদ্ধার এবং সংখ্যালঘুদের ওপর কথিত হামলা নিয়ে সম্পর্কে অবনতি ঘটে। যা দিনদিন আরও খারাপ হয়। ২০১৪ সালে খালেদা জিয়া নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ভারতের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট প্রণব মুখার্জির সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠক বাতিল করেন। যা ব্যাপকভাবে ভারতকে বিএনপির প্রত্যাখ্যান করা হিসেবে দেখা হয়েছিল। আর এ কারণেই স্বৈরাচার শেখ হাসিনার ওপর ভারত তার সর্বোচ্চ বিনিয়োগ করেছিল। ক্ষমতায় থাকার ১৫ বছরে হাসিনা দিল্লিকে এমন কিছু দিয়েছেন যা ভারত তার প্রতিবেশীদের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি আশা করে: বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা সহযোগিতা, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং এমন একটি সরকার যা চীনের চেয়ে ভারতের সাথে বেশি জোটবদ্ধ ছিল। যদিও কৌশলগতভাবে এটি খুবই মূল্যবান ছিল। কিন্তু রাজনৈতিক দিক দিয়ে এটি ছিল চরম ব্যয়বহুল। শেখ হাসিনা বর্তমানে পালিয়ে ভারতে আছেন। গণঅভ্যুত্থানে ১ হাজার ৪০০ মানুষকে হত্যার দায়ে তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত। তার ভারতে পালিয়ে থাকা এবং তাকে ফেরত না দেওয়ার বিষয়টি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আরও খারাপ করেছে। খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর গত বছরের ডিসেম্বরে বাংলাদেশে আসেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। এরমধ্যে তিনি তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠ করেন। এরমধ্যে সম্প্রতি তারেক রহমান স্লোগান দেন ‘দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, সবার আগে বাংলাদেশ’। যারমাধ্যমে তিনি ভারত ও পাকিস্তানের প্রভাব থেকে স্বাধীন থাকার ইঙ্গিত দিয়েছেন। শেখ হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশ কোনো সময় নষ্ট না করে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্জীবিত করে। ১৪ বছর বন্ধ থাকার পর সরাসরি দুই দেশের মধ্যে বিমান চলাচল শুরু হয়েছে। ১৩ বছর পর পাকিস্তানের কোনো পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ সফর করেছেন। উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তারা আসা-যাওয়া করেছেন। দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা-সহযোগিতা সম্পর্ক আবারও ফিরে এসেছে এবং ২০২৪-২৫ সালে বাণিজ্য ২৭ শতাংশ বেড়েছে। ভারতের নয়াদিল্লিভিত্তিক ইনস্টিটিউট ফর ডিফেন্স স্টাডিস অ্যান্ড অ্যানালাইসিসের স্মৃতি পট্টনায়ক বলেছেন, “আমাদের উদ্বেগের কারণ এটা নয় যে, পাকিস্তানের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক আছে। একটি সার্বভৌম দেশ হিসেবে তাদের সেই অধিকার রয়েছে। যেটি অস্বাভাবিক ছিল তা হলো, হাসিনার শাসনামলে পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক একেবারেই ছিল না। সম্পর্ক একদিকে (ভারতের দিকে) ঝুকে ছিল। এখন শঙ্কা দেখা দিয়েছে এটি অন্যদিকে (পাকিস্তানের দিকে) ঝুকে যাবে।” হাসিনার ভারতে আশ্রিত থাকার বিষয়টি নতুন সম্পর্ক গড়ার ক্ষেত্রে সমস্যার কারণ হতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, “বিএনপিকে এই কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে যে, হাসিনাকে ভারতের ফেরত দেওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। একই সাথে, ঢাকার অন্যান্য বিরোধী দলগুলো সরকারের ওপর চাপ দিয়ে যাবে যেন তারা ভারতকে হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার জন্য ক্রমাগত চাপ দেয়। বিএনপির পররাষ্ট্রনীতিকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য এটিই হবে বিরোধী দলগুলোর অন্যতম শক্তি।” যা বিএনপির জন্য সহজ হবে না। ওপি জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির শ্রীরাধা দত্ত বলেছেন, হাসিনা ও আওয়ামী লীগের যেসব নেতাকর্মী ভারতে পালিয়ে আছেন তারা সম্পর্কের ক্ষেত্রে আরেক বাধা হবেন। তিনি বলেছেন, "দিল্লি যদি তাদের মাটি ব্যবহার করে আওয়ামী লীগকে আবার রাজনীতিতে পুনর্বাসিত করার চেষ্টা করে, তবে তা হবে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। নির্বাসনে থেকে নির্বাচনের আগে হাসিনা যেসব সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন, সেগুলো ছিল বেশ বিভ্রান্তিকর। তিনি যদি নিজের ভুল স্বীকার না করেন অথবা দলের নেতৃত্বের পরিবর্তনের সুযোগ দিয়ে নিজে সরে না দাঁড়ান, তবে ভারতে তার এই অবস্থান দুই দেশের সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলবে।" এছাড়া সীমান্ত সমস্যা, ভারতীয় রাজনীতি ও টেলিভিশনে উস্কানিকমূলক কথাবার্তাও আরেক সমস্যার বিষয়। কারণ এসবের কারণে বাংলাদেশিদের মধ্যে বিশ্বাস জন্মেছে ভারত বাংলাদেশকে সার্বভৌম দেশের বদলে নিজেদের হাতের পুতুল মনে করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন সম্পর্ক নির্ভর করবে বাংলাদেশের নতুন সরকার ভারত বিরোধী মনোভাব কতটা কমাতে পারে। অপরদিকে ভারত বাংলাদেশকে নিয়ে উস্কানি কতটা বন্ধ করতে পারে।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গত আসরে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল নেপাল। অল্পের জন্য ইতিহাস গড়ে জেতা হয়নি তাদের। এবারের বিশ্বকাপেও তারা শুরুতে চমক দেখালেও বড় হার হেরেছে নবাগত ইতালির কাছে। টানা দুই হারের পর দলের খেলোয়াড়দের সামাজিক মাধ্যম থেকে দূরে থাকতে বললেন নেপাল কোচ স্টুয়ার্ট ল। বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ডের সঙ্গে ভালো প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছিল নেপাল। মাত্র ৪ রানে হারতে হয় তাদের। কিন্তু ইতালির বিপক্ষে একতরফা ম্যাচে তারা হেরেছে ১০ উইকেটে। টানা হারে ‘সি’ গ্রুপের তলানিতে নেমেছে দল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আজ (রোববার) বাঁচামরার লড়াইয়ে দলের উদ্দেশ্যে বার্তা দিলেন— ‘সামাজিক মাধ্যম থেকে দূরে থাকো।’ সামাজিক মাধ্যমের বিশাল বিভ্রান্তির কথা বলে ল সতর্ক করেছেন, ‘আমি মনে করি এখন আমাদের যে বিষয়টি ভালোভাবে দেখতে হবে, সেটি হলো ইংল্যান্ড ও ইতালি ম্যাচের মধ্যে এত পার্থক্য কেন হলো সেই কারণ খোঁজার কাজ করতে হবে।’ সামাজিক মাধ্যম যে নেপালের সংস্কৃতির অংশ সেটা স্বীকার করে বাংলাদেশের সাবেক কোচ বললেন, ‘আমি মনে করি এই রুমে (সংবাদ সম্মেলনে) যে নেপালিরা আছেন, তারা বুঝবেন যে সামাজিক মাধ্যম নেপালি সংস্কৃতির একটি অংশ। তবে আমার মতে সামাজিক মাধ্যম বিশাল বিভ্রান্তি হতে পারে। আপনি যদি সামাজিক মাধ্যমে কী করছেন, সেখানে লোকেরা আপনাকে নিয়ে কী বলছে সেদিকে মনোযোগ দেন এবং দলের কী প্রয়োজন, সতীর্থরা কী বলছে, দলকে কী করতে হবে সেদিকে মনোযোগ না দেন তাহলে আসল কাজ থেকে আপনি ছিটকে যাবেন।’ নেপালের খেলোয়াড়দের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পারছেন । অস্ট্রেলিয়ান কোচ বললেন, ‘এটা কঠিন, কারণ অনেক খেলোয়াড় এনডোর্সমেন্ট ও স্পন্সরশিপের মতো বিষয়গুলোর জন্য এর ওপর নির্ভর করে। কিন্তু আমি এটাও মনে করি যে বিশ্বকাপে ক্রিকেট প্রধান বিষয়। আমি তাদের বোঝানোর চেষ্টা করেছি যে যদি ক্রিকেটে জয়ের ধারা অব্যাহত রাখো, তাহলে এমনিতেই লাইক পাবে।’ ‘নেপালে ক্রিকেট এগিয়ে যাচ্ছে এবং আমরা জিতছি, এটা দেখাতে পারলে আপনাদের বারবার নিজেদের মুখ দেখানোর (সোশ্যাল মিডিয়ায় উপস্থিত থাকার) প্রয়োজন নেই। তাহলে সোশ্যাল মিডিয়ায় আপনাদের জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী হবে। আমার জন্য এটি বোঝা কিছুটা কঠিন কারণ আমি সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে একজন ‘ডাইনোসর’ (সেকেলে মানুষ), আমি এগুলো বুঝি না। আমি এর নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে জানি, কিন্তু ইতিবাচক দিকগুলো ঠিক বুঝে উঠতে পারি না। তাই আমিও এ বিষয়ে শিখছি এবং খেলোয়াড়দের সঙ্গে একটি ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছি, যাতে তারা এক নম্বরে তাদের ক্রিকেটে মনোযোগ দেয়। আর বাকি সব বিষয়কে আমি ‘বাজে কথা’ বা ‘বাজে কাজ’ বলি— আমি আজ ছেলেদেরও সেটা বলেছি— এসব ক্রিকেট থেকে দূরে রাখো, ক্রিকেটের বাইরে এসব করো। যখন তোমরা ক্রিকেটের ভেতরে আছ, তখন শুধু ক্রিকেটটাই খেলো।’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে বিরল এক রাজনৈতিক ঘটনার জন্ম হয়েছে। একই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ছেলের কাছে জামানত হারিয়েছেন বাবা। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ ও তার বাবা আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আবদুল মালেক পৃথক দল থেকে নির্বাচনে অংশ নেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত বেসরকারি ফলাফলে দেখা যায়, ছেলে বিপুল ভোটে জয়ী হলেও বাবা মাত্র ৫০৫ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পরিপত্র অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় প্রদত্ত মোট ভোটের আট ভাগের এক ভাগের কম পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। প্রয়োজনীয় ভোট না পাওয়ায় আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আবদুল মালেকের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, এনসিপি মনোনীত শাপলা প্রতীকের প্রার্থী আব্দুল হান্নান মাসউদ পেয়েছেন ৯১ হাজার ৮৯৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী মাহবুবের রহমান শামীম পেয়েছেন ৬৪ হাজার ২১ ভোট। আসনের অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে হরিণ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ফজলুল আজিম পেয়েছেন ৪ হাজার ৭৮৩ ভোট, ফুটবল প্রতীকের তানভীর উদ্দিন রাজিব ৩ হাজার ৭৬৪ ভোট, হাতপাখা প্রতীকের মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম শরীফ ২ হাজার ১৭৯ ভোট, তারা প্রতীকের মোহাম্মদ আবদুল মোতালেব ১ হাজার ২৩৯ ভোট, লাঙ্গল প্রতীকের এটিএম নাবী উল্যাহ ২৮০ ভোট, ট্রাক প্রতীকের মোহাম্মদ আজহার উদ্দিন ১৯১ ভোট এবং ছাতা প্রতীকের মোহাম্মদ আবুল হোসেন পেয়েছেন ৮৬ ভোট। নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৩৯ হাজার ১৮৪ জন। মোট প্রাপ্ত ভোট ১ লাখ ৭৪ হাজার ৩৩২। বাতিল ভোটের সংখ্যা ৫ হাজার ৩৬৭। ভোটদানের হার ৫১ দশমিক ৪০ শতাংশ। এর মধ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ১ লাখ ৯২৫টি এবং ‘না’ ভোট পড়েছে ৫৩ হাজার ২৪৮টি। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও হাতিয়া উপজেলার ইউএনও মো. আলাউদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, শাপলা কলি ও ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ছাড়া আরও আটজন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। হাতিয়ায় কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া সুন্দরভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। তবে নির্বাচন-পরবর্তী কয়েকটি ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। বিচ্ছিন্ন দ্বীপ হাতিয়া নানা দিক থেকে বঞ্চিত— সবাই মিলে এই জনপদকে আলোকিত করবে, এমনটাই প্রত্যাশা করি।

দ্বীপ হাতিয়ার মানুষ আনন্দের বদলে ভীত-সন্ত্রস্ত বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের বেসরকারিভাবে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ। তিনি বলেন, নির্বাচনে বিজয়ের পর যেখানে দ্বীপ হাতিয়ার মানুষের আনন্দ-উল্লাস করার কথা ছিল, সেখানে তারা এখন ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে দিন কাটাচ্ছেন। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলা সদরে এনসিপির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। হান্নান মাসউদ অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনের পর কয়েকদিন ধরে পুরো হাতিয়াজুড়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। মানুষের ঘরবাড়ি পোড়ানো, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা এবং সাধারণ মানুষকে মারধরের মতো নানা অপকর্ম সংঘটিত হয়েছে। তার দাবি, হাতিয়ার ইতিহাসে কোনো নির্বাচনে এমন সহিংসতার নজির নেই। তিনি বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের হাতিয়ায় এনে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ করে তোলা হয়েছে। গত কয়েক দিনে প্রায় সাড়ে চারশ’ বাড়িঘরে হামলা হয়েছে এবং শতাধিক দোকানে লুটপাট ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে। সকালে হাসপাতালে গিয়ে দেখি, জুলাই অভ্যুত্থানের মতো আহত মানুষ পড়ে আছে। আমরা হাতিয়ার মানুষ এ তাণ্ডব থেকে মুক্তি চাই। সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভোটের দিন সকালে তার গাড়িতে হামলা চালানো হয়। এ সময় তার স্ত্রী, বাবা ও ভাইদের ওপরও একাধিকবার সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। কয়েকজন সাংবাদিককেও পিটিয়ে আহত করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এসব হামলার নেতৃত্ব ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মাহবুবুর রহমান শামীম দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন হান্নান মাসউদ। তবে তিনি দাবি করেন, হাতিয়ার জনগণ ব্যালটের মাধ্যমে সন্ত্রাস ও সহিংসতার জবাব দিয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রমনা থানার আমির অ্যাডভোকেট শাহ মাহফুজুল হক, উপজেলা আমির মাস্টার বোরহান উদ্দিন, জামায়াতের পৌর মেয়র প্রার্থী সাব্বির আহমেদ তাফসির, উপজেলা যুব শক্তির আহ্বায়ক ইউসুফ রেজা, ব্যবসায়ী আবদুল কাদেরসহ হামলায় আহত এনসিপির প্রায় ১০ জন নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

নোয়াখালী-৩ আসনের বেগমগঞ্জে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীকে ভোট দিলে তাদের চিহ্নিত করে এলাকাছাড়া করার হুমকির অভিযোগ উঠেছে মির জুমলা মিঠু নামের এক বিএনপি নেতা বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তাকে শোকজ করেছে নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে বেগমগঞ্জ উপজেলার বিচারিক কমিটির সিভিল জজ নিশি আক্তার শোকজের বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নোয়াখালী-৩ আসনের বিএনপির প্রার্থী বরকত উল্লাহ বুলুর পক্ষে ভোট করছেন মির জুমলা মিঠু। তিনি বেগমগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক, আলাইয়ারপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এবং একই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান। আলাইয়ারপুর ইউনিয়নের একটি উঠান বৈঠকে দেওয়া তার একটি বক্তব্য ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। ওই ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘মনে রাখবেন, যারা স্থানীয় জামায়াতের ভোট করে তাদের চিহ্নিত করে রাখবেন। আমরা তাদের থেকে জবাব আদায় করে ছাড়বো। আমরা তাদেরকে এলাকায় থাকতে দেবো না—এইটা হলো আমাদের সাফ কথা। এই বক্তব্য অনেকে রেকর্ড করলেও কিছু যায় আসে না।’ পরে বিষয়টি জানার পর বেগমগঞ্জ নির্বাচনি অনুসন্ধান কমিটি মির জুমলা মিঠুকে শোকজ করেন। মঙ্গলবার ওই শোকজের জবাব দিয়েছেন অভিযুক্ত বিএনপি নেতা মিঠু। বিষয়টি নিশ্চিত করে বিচারিক কমিটির সিভিল জজ নিশি আক্তার বলেন, ‘অভিযুক্ত বিএনপি নেতা শোকজের জবাব দিয়েছেন। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) অভিযোগকারীদের পক্ষের সাক্ষীদের ডাকা হয়েছে। এরপর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ এ বিষয়ে জানতে বিএনপি নেতা মির জুমলা মিঠুকে বারবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরে খুদেবার্তা পাঠালেও তিনি তার কোনো উত্তর দেননি। তবে বেগমগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কামাখ্যা চন্দ্র দাস ভিডিওর কণ্ঠ বিএনপি নেতা মির জুমলা মিঠুর বলে নিশ্চিত করেন। তিনি দাবি করেন, জামায়াতের বাহিরাগত লোকজন এলাকায় গিয়ে মারামারি করে। তাদেরকে চিহ্নিত করে রাখতে বলেছেন মির জুমলা মিঠু। নোয়াখালী-৩ আসনে সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এদের মধ্যে বিএনপির প্রার্থী দলের ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু এবং ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী জামায়াতের জেলা সেক্রেটারি মাওলানা বোরহান উদ্দিন।

নোয়াখালীর ছয়টি সংসদীয় আসনের ৮৭৫টি ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় ৭টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মোট ১৬ হাজার ৩৭৯ জন সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, নোয়াখালীর সবগুলো আসনে ভোটের পরিবেশ অত্যন্ত সন্তোষজনক। ছয়টি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মোট ৪৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ, বিজিবি, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও আনসার সদস্যদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ এলাকা হওয়ায় সেখানে পুলিশ ও আনসারের পাশাপাশি কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী দায়িত্ব পালন করবে। অপর পাঁচটি আসনে সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ, বিজিবি ও আনসার সদস্যরা নিয়োজিত থাকবেন। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসংখ্যার মধ্যে রয়েছে— সেনাবাহিনী ৭০০ জন, বিজিবি ২৫০ জন, পুলিশ ২ হাজার ৬৫০ জন, র্যাব ১০০ জন, নৌবাহিনী ২৪০ জন, কোস্টগার্ড ১ হাজার ৬৪ জন এবং আনসার সদস্য ১১ হাজার ৩৭৫ জন। এছাড়া একজন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার নেতৃত্বে ১৪ জন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা, ১৪ জন প্রথম শ্রেণির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ৮৭৫ জন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, ৫ হাজার ৬০৯ জন সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা এবং ১১ হাজার ২১৮ জন পোলিং কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাদেকুল ইসলাম বলেন, ছয়টি আসনের ৯টি উপজেলায় নির্বাচনী ব্যালটসহ সব প্রয়োজনীয় মালামাল পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। বুধবার বিকেলের মধ্যে এসব মালামাল সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্রে পৌঁছানো হবে। ব্যালট পেপার ও ভোটের বাক্সের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, জেলার ৬টি আসনে আটটি পৌরসভা ও ৯১টি ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ২৮ লাখ ৬৭ হাজার ৬৩৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৪ লাখ ৯৬ হাজার ৩৮০ জন, নারী ভোটার ১৩ লাখ ৭১ হাজার ২৪৫ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১৪ জন। জেলায় মোট ৮৭৫টি ভোটকেন্দ্র ও ৫ হাজার ৬০৯টি ভোটকক্ষ রয়েছে। প্রার্থীসংখ্যার হিসাবে নোয়াখালী-১ আসনে ৭ জন, নোয়াখালী-২ আসনে ৫ জন, নোয়াখালী-৩ আসনে ৭ জন, নোয়াখালী-৪ আসনে ৭ জন, নোয়াখালী-৫ আসনে ১২ জন এবং নোয়াখালী-৬ আসনে ১০ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।