

ইরানের ১৬টি যুদ্ধবিমান ধ্বংস করার দাবি করেছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। আজ রোববার এক বিবৃতিতে আইডিএফ জানিয়েছে, ধ্বংস হওয়া বিমানগুলো ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর কুদস বাহিনীর। গতকাল শনিবার রাতে ইরানের মেহরাবাদ বিমানবন্দরে অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলের বিমানবাহিনী (আইএএফ)। সেই অভিযানেই বিমনগুলো ধ্বংস হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে বিবৃতিতে। এ প্রসঙ্গে ইরান কিংবা আইআরজিসির পক্ষ থেকে এখনও কোনো দাপ্তরিক প্রতিক্রিয়া আসেনি। কুদস বাহিনী বা কুদস ব্রিগেড আইআরজিসির বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্রিগেড। নিয়মিত নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা দায়িত্বের পাশপাাশি হিজবুল্লাহ, হামাস-সহ মধ্যপ্রাচ্যে সক্রিয় সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র ও রসদ সরবরাহ করাও কুদস ফোর্সের বিশেষ দায়িত্ব। মেহরাবাদ বিমানবন্দরটিও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি কেবল কুদস ব্রিগেডের ব্যবহারের জন্য এবং এই বিমানবন্দর দিয়েই সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠীকে অস্ত্র ও রসদ সহায়তা প্রদান করে কুদস ফোর্স। ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে সংলাপ চলে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে। ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো প্রকার সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই শেষ হয় সেই সংলাপ। তার পরের দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই সময়ে ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েলও। যুদ্ধের গত ৮ দিনে ইরানের নৌবাহিনীর বেশ কয়েকটি যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করেছে যুক্তরাষ্ট্র। আর ইসরায়েল মনোযোগ দিয়েছে ইরানের বিমানবাহিনীর দিকে। সূত্র : এএফপি

আহমেদাবাদে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালের প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারত। টিম ম্যানেজমেন্ট ও ক্রিকেট বোর্ড সবকিছু তাদের পক্ষে রাখতে সম্ভাব্য সব ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। এমনকি কুসংস্কারকেও গুরুত্ব দিচ্ছে তারা। সম্প্রতি বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বকাপ চলাকালে দল যে শহরে খেলেছে, সেখানেই ভারতীয় সাপোর্ট স্টাফদের এক সদস্য মন্দিরে গিয়ে পূজা অর্চনা করেছেন। আর চন্দ্রগ্রহণের খারাপ প্রভাব কাটাতে সেমিফাইনালের আগে মুম্বাইয়ে তারা ৪৫ মিনিট দেরিতে ট্রেনিং সেশন শুরু করেছিল। সবশেষ আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে শিরোপা লড়াইয়ের আগে হোটেল বদলে ফেলল টিম ইন্ডিয়া, যেটি তাদের জন্য ‘অপয়া’ মনে করা হচ্ছে। দলীয় সূত্রে খবর, ফাইনালের আগে ভারতীয় ক্রিকেটাররা হোটেল বদল কেন করেছেন, তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যায়নি। তবে অতীতের কিছু অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতা নাকি এই সিদ্ধান্তের পেছনে কাজ করেছে। জানা গিয়েছে, ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে ও এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সুপার এইট পর্বে দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হওয়ার আগে একই হোটেলে ছিল ভারতীয় দল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে দুটি ম্যাচই হেরেছে তারা। সেই কারণেই ফাইনালের আগে ঝুঁকি নিতে নারাজ টিম ম্যানেজমেন্ট। আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামকে ঘিরেও নানা কুসংস্কার ছড়িয়ে পড়েছে ভারতীয় ক্রিকেটে। অনেকেই একে ভারতের জন্য ‘অপয়া’ মাঠ বলেও উল্লেখ করছেন। তবে সূর্যকুমার যাদবদের সামনে সুযোগ রয়েছে এই বদনাম মুছে দেওয়ার। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে ফাইনাল জিতে শিরোপা হাতে নিয়ে সেই তকমা ঝেড়ে ফেলার সুযোগ তাদের সামনে।

আহমেদাবাদে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালের প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারত। টিম ম্যানেজমেন্ট ও ক্রিকেট বোর্ড সবকিছু তাদের পক্ষে রাখতে সম্ভাব্য সব ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। এমনকি কুসংস্কারকেও গুরুত্ব দিচ্ছে তারা। সম্প্রতি বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বকাপ চলাকালে দল যে শহরে খেলেছে, সেখানেই ভারতীয় সাপোর্ট স্টাফদের এক সদস্য মন্দিরে গিয়ে পূজা অর্চনা করেছেন। আর চন্দ্রগ্রহণের খারাপ প্রভাব কাটাতে সেমিফাইনালের আগে মুম্বাইয়ে তারা ৪৫ মিনিট দেরিতে ট্রেনিং সেশন শুরু করেছিল। সবশেষ আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে শিরোপা লড়াইয়ের আগে হোটেল বদলে ফেলল টিম ইন্ডিয়া, যেটি তাদের জন্য ‘অপয়া’ মনে করা হচ্ছে। দলীয় সূত্রে খবর, ফাইনালের আগে ভারতীয় ক্রিকেটাররা হোটেল বদল কেন করেছেন, তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যায়নি। তবে অতীতের কিছু অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতা নাকি এই সিদ্ধান্তের পেছনে কাজ করেছে। জানা গিয়েছে, ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে ও এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সুপার এইট পর্বে দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হওয়ার আগে একই হোটেলে ছিল ভারতীয় দল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে দুটি ম্যাচই হেরেছে তারা। সেই কারণেই ফাইনালের আগে ঝুঁকি নিতে নারাজ টিম ম্যানেজমেন্ট। আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামকে ঘিরেও নানা কুসংস্কার ছড়িয়ে পড়েছে ভারতীয় ক্রিকেটে। অনেকেই একে ভারতের জন্য ‘অপয়া’ মাঠ বলেও উল্লেখ করছেন। তবে সূর্যকুমার যাদবদের সামনে সুযোগ রয়েছে এই বদনাম মুছে দেওয়ার। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে ফাইনাল জিতে শিরোপা হাতে নিয়ে সেই তকমা ঝেড়ে ফেলার সুযোগ তাদের সামনে।

স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমে একটি দীর্ঘ ও চাঞ্চল্যকর পোস্ট দিয়েছেন আলোচিত অভিনেতা জাহের আলভী। ইকরার মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে বেশ কিছু তথ্য প্রকাশ করেন তিনি। তার দাবি, অন্যায়ভাবে ফাঁসানো হচ্ছে আলভীকে। শুধু তাই নয়, প্রয়াত স্ত্রীকে নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করেছেন এই অভিনেতা। তে পোস্টটি দেন আলভী। সেখানে বাসার সিসিটিভি ফুটেজকে এই ঘটনার অন্যতম আলামত হিসেবে উল্লেখ করেছেন অভিনেতা। জানান, মিরপুরের বাসার ড্রয়িং রুমের সিসিটিভি ক্যামেরার নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণভাবে ইকরার ফোনে ছিল এবং সেই ফোন বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। আলভী আরও জানান, ২৫ থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তার অনুপস্থিতিতে বাসায় ইকরার বন্ধু-বান্ধবদের যাতায়াত ছিল এবং সেখানে মাদক সেবনের আসর বসেছিল যার প্রমাণ সিসিটিভি ফুটেজে রয়েছে। তার দাবি অনুযায়ী দুর্ঘটনার আগের রাতে ইকরা তার সহকারীকে দিয়ে সিগারেট ও ঘুমের ওষুধ আনিয়েছিলেন এবং সেই সময়ের ইকরার আচরণ স্বাভাবিক ছিল না। পাল্টাপাল্টি পোস্ট, পরকীয়ার গুঞ্জন— আলভীর স্ত্রীর আত্মহত্যার নেপথ্যে কী? আলভী লেখেন, গত ২৫ ও ২৬ তারিখ শুধু বান্ধবী এবং ২৭ তারিখ ২ জন বান্ধবী ও ১ জন ছেলে বন্ধু বাসায় এসেছে এবং মধ্যরাত পর্যন্ত ছিলো। এ সময় তিন দিনই তারা সিগারেট, গাজা ও মদ্যপান করেছে। দুর্ঘটনার আগেরদিন ২৭ তারিখ ইকরা আমার সহকারীকে দিয়ে সিগারেট ও ঘুমের ওষুধও আনিয়েছে, ওই সময়ে যা সিসিটিভির নিচেই ইকরাকে দেওয়া হয়েছে। আলভী লেখেন, এই সমগ্র ভাষ্য আমার সহকারীর এবং তা ইতোমধ্যেই পুলিশের কাছে স্টেটমেন্ট আকারে পেশ আছে। সাংবাদিক ভাই ও সাধারণ সবাইকে জানিয়ে রাখলাম বিষয়টি যেন সিসিটিভি ফুটেজ থেকে এই তিন দিনের ফুটেজ কোনভাবেই সরানো না হয়, আর সরানো হলেও যেন এর সুষ্ঠু জবাবদিহি বা তদন্ত করা হয়। আলভী আরও উল্লেখ করেন, এই তিন দিন ও দুর্ঘটনার মুহূর্তের ইকরার কথা বার্তা কোনভাবেই সাধারণ মানুষের মত ছিলোনা। ইকরা এর আগেও ১৫ বছরে একাধিক বার আত্নহত্যার চেষ্টা করলেও কখনো সিরিয়াসলি কোন সংযোগ পাওয়া যায়নি। কিন্তু এইবার ইকরা একদমই নরমাল ছিলোনা। এছাড়াও আলভীর দাবি, আগের রাতে মদ্যপান ও ড্রাগস সেবন করতে পারেন ইকরা। তাই পোস্টমর্টেম রিপোর্টে কি আসবে, তা যেন পরিবর্তন না হয় সেদিকেও একটু নজর রাখার জন্য অনুরোধ করেন অভিনেতা। ব্যক্তিগত জীবনের কিছু অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য তুলে ধরে আলভী জানান যে ইকরার সাথে তার সম্পর্কের গভীরতা যেমন ছিল তেমনই ছিল কিছু তিক্ত বাস্তবতা। তিনি অভিযোগ করেন, ২০১০ সালে তাদের পালিয়ে বিয়ের পর তাকে ডিভোর্স না দিয়েই ইকরা পরিবারের সম্মতিতে অন্য একজনকে বিয়ে করেছিলেন এবং বাসরও করেছিলেন। পরবর্তীতে ইকরা ফিরে এলে তিনি তাকে ক্ষমা করে গ্রহণ করেছিলেন। এছাড়া ইকরার এক সহপাঠীর সাথে তার সম্পর্কের দিকেও ইঙ্গিত দিয়েছেন আলভী। লেখেন, ভুল বুঝতে পেরে যখন ইকরা আমার কাছে ফিরে আসতে সিদ্ধান্ত নেয়, আমি তাকে মাফ করে বুকে পাথর রেখে মেনে নিই। একজন স্বামী হয়ে এই সিচুয়েশন বয়ে বেড়ানো খুব একটা সুখের না আবশ্যই। সবশেষে নিজের সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে এই বিষয়গুলোর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এই অভিনেতা।

চাটখিল উপজেলায় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংরক্ষণে অনিয়ম এবং জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অভিযোগে দুটি ফিলিং স্টেশনকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। শনিবার (৭ মার্চ) দুপুরে চাটখিল পৌর বাজার এলাকায় অবস্থিত তারাজ ফিলিং স্টেশন ও আনিতাশ ফিলিং স্টেশনে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চাটখিল পৌর বাজার এলাকার ওই দুটি ফিলিং স্টেশনে অভিযান চালান উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নিশাত ফারাবী। অভিযানে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংরক্ষণে অনিয়ম এবং জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে তারাজ ফিলিং স্টেশনকে ৫ হাজার টাকা এবং আনিতাশ ফিলিং স্টেশনকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ বিষয়ে চাটখিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মিজানুর রহমান বলেন, জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলায় দুই ফিলিং স্টেশনকে জরিমানা করা হয়েছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

শুক্রবার (৬ মার্চ) গভীর রাত থেকে শনিবার (৭ মার্চ) দুপুর পর্যন্ত পৃথকভাবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার গভীর রাতে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কবির হোসেনের নির্দেশনায় এসআই প্রতীক পালের নেতৃত্বে আফাজিয়া বাজারে অভিযান চালানো হয়। এ সময় বাজারের সাহেদ ও রিয়াজ উদ্দিনের ভাড়াকৃত একটি গুদাম থেকে ২০০ বস্তা চিনি জব্দ করা হয়। তবে অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে সংশ্লিষ্টরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে শনিবার দুপুরে হাতিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আলাউদ্দিনের নেতৃত্বে আফাজিয়া বাজার এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় হেলাল বেপারী নামে এক ব্যবসায়ীর গুদাম থেকে ৭ বস্তা এবং তার বাড়ি থেকে আরও ৭৮ বস্তা চিনি জব্দ করা হয়। জব্দ করা চিনির বস্তাগুলোর মধ্যে ৬০ কেজি ও ৪৫ কেজি ওজনের বস্তা রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে হাতিয়ার কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বিভিন্ন স্থান থেকে চোরাই মালামাল কম দামে কিনে বেশি দামে বিক্রি করে আসছে। হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলা উদ্দিন বলেন, জব্দ করা চিনিগুলো সংরক্ষণে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তীতে মামলাসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। বিশ্বব্যাপী নারীর অধিকার, মর্যাদা ও সমতার দাবিকে সামনে এনে উদযাপিত হয় এই দিনটি। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিবসটি উপলক্ষে র্যালি, আলোচনা সভা, মানববন্ধন, সেমিনার এবং গণমাধ্যমে বিশেষ আয়োজন করা হয়। এই দিবসের মাধ্যমে নারীর অধিকার, নিরাপত্তা ও সামাজিক মর্যাদা নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা সামনে আসে। অনেক সংগঠন নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ, অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণের দাবি তুলে ধরে। তবে নারী দিবসকে কেন্দ্র করে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও আলোচিত হয়—ইসলাম নারীর মর্যাদা ও অধিকার সম্পর্কে কী দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করেছে। বিজ্ঞাপন নারী দিবসের ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এর সূচনা ঘটে শ্রমজীবী নারীদের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। ১৮৫৭ সালের ৮ মার্চ নিউইয়র্কের একটি সেলাই কারখানার নারী শ্রমিকরা অমানবিক কর্মপরিবেশ, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা এবং কম মজুরির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন। তাদের এই আন্দোলন পরবর্তীতে নারীর অধিকার আন্দোলনের ভিত্তি তৈরি করে। এরপর ১৯১০ সালে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সমাজতান্ত্রিক নারী সম্মেলনে জার্মান সমাজতান্ত্রিক নেত্রী ক্লারা জেটকিন ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালনের প্রস্তাব দেন। পরবর্তীতে জাতিসংঘ ১৯৭৫ সাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দিবসটি উদযাপন শুরু করে। তখন থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এটি নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতীক হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। তবে ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি বিবেচনা করলে দেখা যায়, নারী অধিকার প্রতিষ্ঠার ধারণা আধুনিক যুগে সৃষ্টি হয়নি। বরং প্রায় পনেরো শত বছর আগে ইসলাম নারীর সম্মান ও অধিকার নিশ্চিত করেছে। ইসলামের আবির্ভাবের পূর্বে পৃথিবীর বিভিন্ন সমাজে নারীর অবস্থা ছিল অত্যন্ত করুণ। বিশেষত আরবের জাহেলি যুগে নারীদের প্রতি অবমাননাকর আচরণ করা হতো। কন্যাসন্তান জন্মগ্রহণকে লজ্জাজনক মনে করা হতো এবং অনেক ক্ষেত্রে জীবন্ত কন্যাশিশুকে মাটিতে পুঁতে ফেলার মতো নিষ্ঠুর ঘটনাও ঘটত। নারীদের উত্তরাধিকার বা সম্পত্তির অধিকার ছিল না। তারা ছিল সামাজিকভাবে অবহেলিত ও নির্যাতিত। শুধু আরব সমাজেই নয়, পৃথিবীর অনেক সভ্যতায় নারীর মর্যাদা প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। কিছু ধর্মীয় ও সামাজিক মতবাদে নারীকে পাপের উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হতো। অনেক ক্ষেত্রে নারীকে কেবল ভোগের বস্তু হিসেবে দেখা হতো এবং তাদের মানবিক মর্যাদা অস্বীকার করা হতো। এমন একটি অন্ধকারাচ্ছন্ন সমাজব্যবস্থার মধ্যে ইসলাম আবির্ভূত হয়ে নারীর সম্মান, মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠা করে। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) মানবজাতির জন্য যে জীবনব্যবস্থা উপস্থাপন করেছেন, তার মধ্যে নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য ন্যায় ও ভারসাম্যপূর্ণ অধিকার নির্ধারণ করা হয়েছে। ইসলাম মানুষের মৌলিক মর্যাদাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। আল্লাহ তাআলা মানুষকে সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব হিসেবে মর্যাদা দিয়েছেন এবং নারী-পুরুষ উভয়ই এই মর্যাদার অংশীদার। মানব সমাজ নারী ও পুরুষের সম্মিলিত অস্তিত্বের ওপর প্রতিষ্ঠিত। একে অপরের পরিপূরক হিসেবেই তারা পৃথিবীতে জীবনযাপন করে। নারী ছাড়া পুরুষের কিংবা পুরুষ ছাড়া নারীর অস্তিত্ব ও সামাজিক কাঠামো কল্পনা করা যায় না। তাই ইসলাম নারীকে সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ইসলাম পরিবারকে কেন্দ্রীয় গুরুত্ব দিয়েছে। একজন নারী মা হিসেবে যে মর্যাদা লাভ করেন তা ইসলামে অত্যন্ত উচ্চ। হাদিসে বর্ণিত আছে, ‘মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের জান্নাত।’ এই বক্তব্যের মাধ্যমে মায়ের সম্মান ও মর্যাদা কতটা উচ্চ তা স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। কোরআনেও মায়ের কষ্ট ও ত্যাগের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। সন্তানকে গর্ভধারণ, জন্মদান ও লালন-পালনের কঠিন দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে আল্লাহ তাআলা সন্তানদের পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণের নির্দেশ দিয়েছেন। স্ত্রী হিসেবে নারীর অধিকারও ইসলাম সুস্পষ্টভাবে নির্ধারণ করেছে। ইসলামে বিবাহের সময় স্বামীর ওপর স্ত্রীকে মোহরানা প্রদান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এটি নারীর আর্থিক নিরাপত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। কোরআনে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, স্বামীরা যেন আনন্দের সাথে তাদের স্ত্রীদের মোহর প্রদান করে। এর মাধ্যমে ইসলাম নারীর সম্মান ও স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্বকে স্বীকৃতি দিয়েছে। ইসলামে নারীর অর্থনৈতিক অধিকারও নিশ্চিত করা হয়েছে। নারী নিজের সম্পদের মালিক হতে পারে এবং সে তার সম্পদ স্বাধীনভাবে ব্যবহার করার অধিকার রাখে। একইভাবে উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রেও নারীর নির্দিষ্ট অংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। ইসলামের আগের সমাজে যেখানে নারীরা উত্তরাধিকার থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত ছিল, সেখানে ইসলাম তাদের জন্য সুস্পষ্ট অংশ নির্ধারণ করে দিয়েছে। এটি নারীর আর্থিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এছাড়া ইসলাম কন্যাসন্তানকে অবহেলা করার পরিবর্তে তাদের লালন-পালনের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। মহানবী (সা.) বলেছেন, যার তিনটি কন্যাসন্তান আছে এবং সে তাদের সঠিকভাবে লালন-পালন করে, তাদের প্রতি সদয় আচরণ করে, তার জন্য জান্নাত অবধারিত। এই শিক্ষা সমাজে কন্যাসন্তানের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করেছে এবং নারীর সম্মানকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ইসলাম নারীর ইজ্জত ও সম্মান রক্ষার জন্য পর্দার বিধান প্রবর্তন করেছে। কোরআনে নারী ও পুরুষ উভয়কেই দৃষ্টি সংযত রাখা এবং পবিত্রতা রক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পর্দা মূলত নারীর নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষার একটি সামাজিক ব্যবস্থা। এটি নারীকে বন্দি করার জন্য নয়, বরং তাকে সম্মান ও সুরক্ষা দেওয়ার জন্য প্রণীত। ইসলাম নারীদের প্রয়োজনের ক্ষেত্রে সমাজে অংশগ্রহণের অনুমতিও দিয়েছে, তবে তা শালীনতা ও নৈতিকতার সীমার মধ্যে থেকে। ইসলাম নারী-পুরুষের অধিকারকে সম্পূর্ণ সমান করে দেখেনি; বরং তাদের স্বভাব, দায়িত্ব ও সামাজিক ভূমিকার ভিত্তিতে ভারসাম্যপূর্ণ অধিকার নির্ধারণ করেছে। কিছু ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের অধিকার সমান, আবার কিছু ক্ষেত্রে ভিন্ন। তবে এই পার্থক্য কোনোভাবেই নারীর মর্যাদা হ্রাস করে না; বরং এটি সমাজের ভারসাম্য রক্ষার জন্য নির্ধারিত হয়েছে। মহানবী (সা.) নারীদের সাথে সদাচরণ করার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম, যে তার স্ত্রীর কাছে উত্তম।’ এই হাদিস থেকে বোঝা যায় যে, পারিবারিক জীবনে নারীর প্রতি সদ্ব্যবহার ইসলাম অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে। নারী দিবস বছরে একদিন নারীর অধিকার ও মর্যাদার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। কিন্তু ইসলাম নারীর সম্মানকে কোনো নির্দিষ্ট দিবসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেনি। বরং ইসলামের জীবনব্যবস্থা নারীকে প্রতিদিন, প্রতিটি অবস্থায় সম্মান ও মর্যাদা প্রদান করেছে। একজন নারী মাতা, কন্যা, স্ত্রী বা সমাজের সদস্য—সব অবস্থাতেই ইসলাম তাকে যথাযথ মর্যাদা দিয়েছে। নারীর প্রকৃত সম্মান ও অধিকার নিশ্চিত করতে হলে ইসলামের নির্দেশনাকে সঠিকভাবে বুঝতে হবে এবং তা বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করতে হবে। ইসলাম সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে অনেক সময় নারীর অধিকার নিয়ে ভুল ধারণা তৈরি হয়। তাই সমাজের সবাইকে সচেতন হয়ে ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা তুলে ধরতে হবে, যাতে নারী তার প্রকৃত মর্যাদা ও সম্মান লাভ করতে পারে। নারীর অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা কেবল একটি দিবস পালনের মাধ্যমে সম্ভব নয়; বরং এটি একটি অব্যাহত সামাজিক দায়িত্ব। ইসলাম এই দায়িত্ব পালনের জন্য একটি ন্যায়ভিত্তিক ও ভারসাম্যপূর্ণ পথ নির্দেশ করেছে, যা অনুসরণ করলে নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্য একটি সম্মানজনক ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

ইরানের ১৬টি যুদ্ধবিমান ধ্বংস করার দাবি করেছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। আজ রোববার এক বিবৃতিতে আইডিএফ জানিয়েছে, ধ্বংস হওয়া বিমানগুলো ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর কুদস বাহিনীর। গতকাল শনিবার রাতে ইরানের মেহরাবাদ বিমানবন্দরে অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলের বিমানবাহিনী (আইএএফ)। সেই অভিযানেই বিমনগুলো ধ্বংস হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে বিবৃতিতে। এ প্রসঙ্গে ইরান কিংবা আইআরজিসির পক্ষ থেকে এখনও কোনো দাপ্তরিক প্রতিক্রিয়া আসেনি। কুদস বাহিনী বা কুদস ব্রিগেড আইআরজিসির বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্রিগেড। নিয়মিত নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা দায়িত্বের পাশপাাশি হিজবুল্লাহ, হামাস-সহ মধ্যপ্রাচ্যে সক্রিয় সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র ও রসদ সরবরাহ করাও কুদস ফোর্সের বিশেষ দায়িত্ব। মেহরাবাদ বিমানবন্দরটিও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি কেবল কুদস ব্রিগেডের ব্যবহারের জন্য এবং এই বিমানবন্দর দিয়েই সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠীকে অস্ত্র ও রসদ সহায়তা প্রদান করে কুদস ফোর্স। ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে সংলাপ চলে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে। ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো প্রকার সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই শেষ হয় সেই সংলাপ। তার পরের দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই সময়ে ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েলও। যুদ্ধের গত ৮ দিনে ইরানের নৌবাহিনীর বেশ কয়েকটি যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করেছে যুক্তরাষ্ট্র। আর ইসরায়েল মনোযোগ দিয়েছে ইরানের বিমানবাহিনীর দিকে। সূত্র : এএফপি

মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। শনিবার (৭ মার্চ) ২০টিসহ গত সাত দিনে বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের মোট ২৬৮টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সূত্র ঢাকা পোস্টকে জানায়, যুদ্ধপরিস্থিতিতে আকাশপথ বন্ধের কারণে ঢাকা থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২৩টি, ১ মার্চ ৪০টি ফ্লাইট, ২ মার্চ ৪৬টি এবং ৩ মার্চ ৩৯টি, ৪ মার্চ ২৮টি, ৫ মার্চ ৩৬টি ও ৬ মার্চ ৩৪টি ফ্লাইট বাতিল হয়। শনিবার (আজ) বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে—কুয়েত ২টি, জাজিরা (কুয়েত) ২টি, এয়ার অ্যারাবিয়া (শারজাহ, ইউএই) ৬টি, কাতার ৪টি, গালফ এয়ার (বাহরাইন) ২টি, এমিরেটস এয়ারলাইনস (সংযুক্ত আরব আমিরাত) ৪টি সহ মোট ২০টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত সর্বমোট বাতিল করা ফ্লাইট ২৪৫টি।

নোয়াখালী-৫ (কবিরহাট-কোম্পানীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামের মমতাময়ী মা রিজিয়া বেগম (৮৫) ইন্তেকাল করেছেন। শনিবার (৭ মার্চ) সকাল ১০টা ০৫ মিনিটে রাজধানীর ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। জানা গেছে, রিজিয়া বেগম দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। সর্বশেষ অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজধানীর ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং তিনি লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি ৫ ছেলে ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার মৃত্যুতে নোয়াখালী জেলা বিএনপি ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে তারা মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বাদ জোহর ঢাকায় মরহুমার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মরদেহ নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডে তাদের গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, রাত ১০টায় সেখানে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর মরহুমাকে তার স্বামীর কবরের পাশে দাফন করা হবে। আমার মায়ের রুহের মাগফিরাত কামনায় সবার দোয়া কামনা করছি। এদিকে রিজিয়া বেগমের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এক শোকবার্তায় তিনি মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তিনি আল্লাহর কাছে মরহুমাকে জান্নাত নসীব ও পরিবারের সদস্যদের ধৈর্য দানের জন্য দোয়া করেন।

ইরানের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য হামলার অজুহাতে টানা অষ্টম দিনের মতো অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে পবিত্র আল-আকসা মসজিদ। শুক্রবার, ৬ মার্চ রমজানের তৃতীয় জুমার নামাজ আদায়ে ফিলিস্তিনিদের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা ছিল ইসরায়েলি পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে। জেরুজালেম গভর্নরেট ও ইসরায়েলি পুলিশ জানিয়েছে, জরুরি অবস্থা এবং ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, আল-আকসা প্রাঙ্গণ জনমানবহীন পড়ে আছে। ভোরের আজান ধ্বনিত হলেও সেখানে কোনো মুসল্লিকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। সূর্যোদয়ের পর আল-আকসার বিশাল চত্বর পুরোপুরি খালি পড়ে থাকার দৃশ্য ফিলিস্তিনিদের মনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। এর আগে রমজানের প্রথম ও দ্বিতীয় জুমায় কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল দখলদার বাহিনী। সে সময় পশ্চিম তীরের পুরুষদের ক্ষেত্রে ৫৫ বছর এবং নারীদের ক্ষেত্রে ৫০ বছর বয়সসীমা নির্ধারণ করে মাত্র ১০ হাজার মানুষকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এবার ইরান-সংঘাতকে সামনে এনে পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে পবিত্র এই মসজিদ। এই পদক্ষেপকে শতাব্দীর সেরা প্রতারণা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি আন্দোলনকর্মীরা। তাদের দাবি, ইসরায়েল মূলত আল-আকসা বন্ধ করার একটি উছিলা খুঁজছিল এবং এখন ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ভয় দেখিয়ে সেই কাজটিই করছে। অথচ জেরুজালেমের ভেতরে কট্টরপন্থি ইহুদিদের ধর্মীয় স্কুল বা তালমুদীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ঠিকই খোলা রাখা হয়েছে। সেখানে নিয়মিত উৎসব ও জমায়েত চলছে। ফিলিস্তিনিদের প্রশ্ন, ক্ষেপণাস্ত্রের ভয় কি শুধু মুসলমানদের জন্য? নাকি ইসরায়েলিদের শরীরে রকেট প্রতিরোধক কোনো বিশেষ ক্ষমতা আছে? নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ফিলিস্তিনি নাগরিক বলেন, এটি নেতানিয়াহুর একটি সুপরিকল্পিত মিডিয়া গেম। নিরাপত্তার কথা বলে তারা আসলে আল-আকসাকে মুসল্লিশূন্য করে সেখানে দীর্ঘমেয়াদী নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চায়। এটি সাময়িক কোনো ব্যবস্থা নয়, বরং জেরুজালেমকে পুরোপুরি ইহুদিকরণের একটি অংশ। পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, রমজান মাসে তারাবিহ ও জুমার নামাজ বন্ধ করা শুধু নিরাপত্তা ইস্যু নয়, বরং এটি আল-আকসার ঐতিহাসিক স্থিতাবস্থা বা স্ট্যাটাস-কো পরিবর্তনের একটি গভীর ষড়যন্ত্র। ফিলিস্তিনি ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ফেব্রুয়ারি মাসের প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে যে, আল-আকসা ও ইব্রাহিমি মসজিদে ইসরায়েলি হামলার মাত্রা এখন অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। ফিলিস্তিনিদের মতে, আল-আকসাকে ঘিরে এই ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়া এখন অস্তিত্বের লড়াই হয়ে দাঁড়িয়েছে। দখলদারদের এই নরম যুদ্ধের বিরুদ্ধে সচেতনতা ও প্রতিবাদই এখন তাদের একমাত্র পথ। সূত্র : আল জাজিরা

আহমেদাবাদে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালের প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারত। টিম ম্যানেজমেন্ট ও ক্রিকেট বোর্ড সবকিছু তাদের পক্ষে রাখতে সম্ভাব্য সব ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। এমনকি কুসংস্কারকেও গুরুত্ব দিচ্ছে তারা। সম্প্রতি বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বকাপ চলাকালে দল যে শহরে খেলেছে, সেখানেই ভারতীয় সাপোর্ট স্টাফদের এক সদস্য মন্দিরে গিয়ে পূজা অর্চনা করেছেন। আর চন্দ্রগ্রহণের খারাপ প্রভাব কাটাতে সেমিফাইনালের আগে মুম্বাইয়ে তারা ৪৫ মিনিট দেরিতে ট্রেনিং সেশন শুরু করেছিল। সবশেষ আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে শিরোপা লড়াইয়ের আগে হোটেল বদলে ফেলল টিম ইন্ডিয়া, যেটি তাদের জন্য ‘অপয়া’ মনে করা হচ্ছে। দলীয় সূত্রে খবর, ফাইনালের আগে ভারতীয় ক্রিকেটাররা হোটেল বদল কেন করেছেন, তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যায়নি। তবে অতীতের কিছু অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতা নাকি এই সিদ্ধান্তের পেছনে কাজ করেছে। জানা গিয়েছে, ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে ও এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সুপার এইট পর্বে দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হওয়ার আগে একই হোটেলে ছিল ভারতীয় দল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে দুটি ম্যাচই হেরেছে তারা। সেই কারণেই ফাইনালের আগে ঝুঁকি নিতে নারাজ টিম ম্যানেজমেন্ট। আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামকে ঘিরেও নানা কুসংস্কার ছড়িয়ে পড়েছে ভারতীয় ক্রিকেটে। অনেকেই একে ভারতের জন্য ‘অপয়া’ মাঠ বলেও উল্লেখ করছেন। তবে সূর্যকুমার যাদবদের সামনে সুযোগ রয়েছে এই বদনাম মুছে দেওয়ার। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে ফাইনাল জিতে শিরোপা হাতে নিয়ে সেই তকমা ঝেড়ে ফেলার সুযোগ তাদের সামনে।

আহমেদাবাদে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালের প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারত। টিম ম্যানেজমেন্ট ও ক্রিকেট বোর্ড সবকিছু তাদের পক্ষে রাখতে সম্ভাব্য সব ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। এমনকি কুসংস্কারকেও গুরুত্ব দিচ্ছে তারা। সম্প্রতি বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বকাপ চলাকালে দল যে শহরে খেলেছে, সেখানেই ভারতীয় সাপোর্ট স্টাফদের এক সদস্য মন্দিরে গিয়ে পূজা অর্চনা করেছেন। আর চন্দ্রগ্রহণের খারাপ প্রভাব কাটাতে সেমিফাইনালের আগে মুম্বাইয়ে তারা ৪৫ মিনিট দেরিতে ট্রেনিং সেশন শুরু করেছিল। সবশেষ আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে শিরোপা লড়াইয়ের আগে হোটেল বদলে ফেলল টিম ইন্ডিয়া, যেটি তাদের জন্য ‘অপয়া’ মনে করা হচ্ছে। দলীয় সূত্রে খবর, ফাইনালের আগে ভারতীয় ক্রিকেটাররা হোটেল বদল কেন করেছেন, তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যায়নি। তবে অতীতের কিছু অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতা নাকি এই সিদ্ধান্তের পেছনে কাজ করেছে। জানা গিয়েছে, ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে ও এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সুপার এইট পর্বে দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হওয়ার আগে একই হোটেলে ছিল ভারতীয় দল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে দুটি ম্যাচই হেরেছে তারা। সেই কারণেই ফাইনালের আগে ঝুঁকি নিতে নারাজ টিম ম্যানেজমেন্ট। আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামকে ঘিরেও নানা কুসংস্কার ছড়িয়ে পড়েছে ভারতীয় ক্রিকেটে। অনেকেই একে ভারতের জন্য ‘অপয়া’ মাঠ বলেও উল্লেখ করছেন। তবে সূর্যকুমার যাদবদের সামনে সুযোগ রয়েছে এই বদনাম মুছে দেওয়ার। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে ফাইনাল জিতে শিরোপা হাতে নিয়ে সেই তকমা ঝেড়ে ফেলার সুযোগ তাদের সামনে।

স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমে একটি দীর্ঘ ও চাঞ্চল্যকর পোস্ট দিয়েছেন আলোচিত অভিনেতা জাহের আলভী। ইকরার মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে বেশ কিছু তথ্য প্রকাশ করেন তিনি। তার দাবি, অন্যায়ভাবে ফাঁসানো হচ্ছে আলভীকে। শুধু তাই নয়, প্রয়াত স্ত্রীকে নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করেছেন এই অভিনেতা। তে পোস্টটি দেন আলভী। সেখানে বাসার সিসিটিভি ফুটেজকে এই ঘটনার অন্যতম আলামত হিসেবে উল্লেখ করেছেন অভিনেতা। জানান, মিরপুরের বাসার ড্রয়িং রুমের সিসিটিভি ক্যামেরার নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণভাবে ইকরার ফোনে ছিল এবং সেই ফোন বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। আলভী আরও জানান, ২৫ থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তার অনুপস্থিতিতে বাসায় ইকরার বন্ধু-বান্ধবদের যাতায়াত ছিল এবং সেখানে মাদক সেবনের আসর বসেছিল যার প্রমাণ সিসিটিভি ফুটেজে রয়েছে। তার দাবি অনুযায়ী দুর্ঘটনার আগের রাতে ইকরা তার সহকারীকে দিয়ে সিগারেট ও ঘুমের ওষুধ আনিয়েছিলেন এবং সেই সময়ের ইকরার আচরণ স্বাভাবিক ছিল না। পাল্টাপাল্টি পোস্ট, পরকীয়ার গুঞ্জন— আলভীর স্ত্রীর আত্মহত্যার নেপথ্যে কী? আলভী লেখেন, গত ২৫ ও ২৬ তারিখ শুধু বান্ধবী এবং ২৭ তারিখ ২ জন বান্ধবী ও ১ জন ছেলে বন্ধু বাসায় এসেছে এবং মধ্যরাত পর্যন্ত ছিলো। এ সময় তিন দিনই তারা সিগারেট, গাজা ও মদ্যপান করেছে। দুর্ঘটনার আগেরদিন ২৭ তারিখ ইকরা আমার সহকারীকে দিয়ে সিগারেট ও ঘুমের ওষুধও আনিয়েছে, ওই সময়ে যা সিসিটিভির নিচেই ইকরাকে দেওয়া হয়েছে। আলভী লেখেন, এই সমগ্র ভাষ্য আমার সহকারীর এবং তা ইতোমধ্যেই পুলিশের কাছে স্টেটমেন্ট আকারে পেশ আছে। সাংবাদিক ভাই ও সাধারণ সবাইকে জানিয়ে রাখলাম বিষয়টি যেন সিসিটিভি ফুটেজ থেকে এই তিন দিনের ফুটেজ কোনভাবেই সরানো না হয়, আর সরানো হলেও যেন এর সুষ্ঠু জবাবদিহি বা তদন্ত করা হয়। আলভী আরও উল্লেখ করেন, এই তিন দিন ও দুর্ঘটনার মুহূর্তের ইকরার কথা বার্তা কোনভাবেই সাধারণ মানুষের মত ছিলোনা। ইকরা এর আগেও ১৫ বছরে একাধিক বার আত্নহত্যার চেষ্টা করলেও কখনো সিরিয়াসলি কোন সংযোগ পাওয়া যায়নি। কিন্তু এইবার ইকরা একদমই নরমাল ছিলোনা। এছাড়াও আলভীর দাবি, আগের রাতে মদ্যপান ও ড্রাগস সেবন করতে পারেন ইকরা। তাই পোস্টমর্টেম রিপোর্টে কি আসবে, তা যেন পরিবর্তন না হয় সেদিকেও একটু নজর রাখার জন্য অনুরোধ করেন অভিনেতা। ব্যক্তিগত জীবনের কিছু অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য তুলে ধরে আলভী জানান যে ইকরার সাথে তার সম্পর্কের গভীরতা যেমন ছিল তেমনই ছিল কিছু তিক্ত বাস্তবতা। তিনি অভিযোগ করেন, ২০১০ সালে তাদের পালিয়ে বিয়ের পর তাকে ডিভোর্স না দিয়েই ইকরা পরিবারের সম্মতিতে অন্য একজনকে বিয়ে করেছিলেন এবং বাসরও করেছিলেন। পরবর্তীতে ইকরা ফিরে এলে তিনি তাকে ক্ষমা করে গ্রহণ করেছিলেন। এছাড়া ইকরার এক সহপাঠীর সাথে তার সম্পর্কের দিকেও ইঙ্গিত দিয়েছেন আলভী। লেখেন, ভুল বুঝতে পেরে যখন ইকরা আমার কাছে ফিরে আসতে সিদ্ধান্ত নেয়, আমি তাকে মাফ করে বুকে পাথর রেখে মেনে নিই। একজন স্বামী হয়ে এই সিচুয়েশন বয়ে বেড়ানো খুব একটা সুখের না আবশ্যই। সবশেষে নিজের সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে এই বিষয়গুলোর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এই অভিনেতা।

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় অবৈধ বালুবাহী ড্রাম ট্রাক ও ওভারলোডেড লাইসেন্সবিহীন ট্রাক চালানোর দায়ে ৯ জনকে অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় অর্থদণ্ড পরিশোধ না করায় একজনকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত উপজেলার বসুরহাট পৌরসভার বিভিন্ন পয়েন্টে এ অভিযান পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুবাইয়া বিনতে কাশেম। ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, বালুবাহী ও বালু নিতে আসা ড্রাম ট্রাক এবং ওভারলোডেড ট্রাক চালানোর অপরাধে সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ ও বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন-২০১০ অনুযায়ী মহিউদ্দিন, নূর হোসেন, ইসমাইল ও সাজু নামের চার ট্রাকচালককে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া ট্রাক চালানোর দায়ে মাইনুদ্দীন নামের আরেক চালককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই আইনে এমদাদুল হক, দেলোয়ার হোসেন, রুপম ও সাকিব নামের চার ড্রাম ট্রাক চালককে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হলেও তাদের মধ্যে একজন অর্থদণ্ড পরিশোধ না করায় তাকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার মুছাপুর ও চর এলাহী এলাকায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া নৌকা ও বাল্কহেডের মাধ্যমে বালু উত্তোলন ও ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। এর ফলে উপজেলার অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এছাড়া খোলা ট্রাকে বালু পরিবহনের কারণে ধুলাবালি, শব্দদূষণ ও যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে স্কুল-মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। একই সঙ্গে নদীর তীর ভাঙন বেড়ে যাওয়ায় অনেকের ঘরবাড়িও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রুবাইয়া বিনতে কাশেম বলেন, অবৈধভাবে বালু বহনের কারণে যেমন রাস্তা-ঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি সাধারণ মানুষের ভোগান্তিও বাড়ছে। তাই অনুমোদনহীন বালু ব্যবসায়ী ও ট্রাকচালকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

নোয়াখালী পৌর এলাকার সোনাপুর মাছের আড়তে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে অ্যনিমেল রাইটস বিডি-৬৪ (Animal Rights BD-64) ও উপকূলীয় বন বিভাগ। এ সময় মাছের আড়তে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ১১৩ কেজি (প্রায় ৩ মণ) ওজনের একটি শাপলাপাতা মাছ (স্টিংরে) অর্ধকাটা অবস্থায় জব্দ করা হয়। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় মাছটি মাটিচাপা দিয়ে বিনষ্ট করা হয়। শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে উপকূলীয় বন বিভাগ নোয়াখালীর বন্য প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা ইব্রাহিম খলিলের নির্দেশনায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান সূত্রে জানা গেছে, শাপলাপাতা মাছ দেশের নদী ও উপকূলীয় জলজ বাস্তুতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অতিরিক্ত শিকার, অবৈধ বাণিজ্য ও আবাসস্থল ধ্বংসের কারণে এই প্রজাতি হুমকির মুখে পড়েছে। বাংলাদেশ বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) অধ্যাদেশ, ২০২৬ অনুযায়ী এই প্রাণী শিকার, ক্রয়-বিক্রয়, মজুত বা পরিবহন নিষিদ্ধ। বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, ভোরে সোনাপুর বাজারের একজন ব্যবসায়ী বিক্রির উদ্দেশ্যে একটি শাপলাপাতা মাছ নিয়ে আসেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে মাঝখানে কাটা অবস্থায় মাছটি জব্দ করা হয়। জেলা বন্য প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা ইব্রাহিম খলিল জানান, আগামীতে এমন কাজ করবেন না মর্মে মুচলেকা দিলে ব্যবসায়ীকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বন্য প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।