

নোয়াখালী-২ (সেনবাগ-সোনাইমুড়ী আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবেদীন ফারুক বলেছেন, ‘তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী—স্বর্ণের চেইন পরা গলার কোনো সচ্ছল মানুষ যেন ফ্যামিলি কার্ড না পায়। সেদিকে আপনাদের কঠোর দৃষ্টি রাখতে হবে।’ শনিবার (১৬ মে) বিকেলে নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় ‘এক আইডি এক পরিবার’ কর্মসূচির আওতায় গরিব ও দুস্থ মানুষের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘মানুষের কাছে আড়াই হাজার টাকা বড় কথা নয়; বড় কথা হলো নেতা তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছেন।’ ভার্চুয়ালি যুক্ত হওয়া শীর্ষ নেতৃত্বের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আমরা কী পেয়েছি বা কী পাইনি, সেটা আমাদের বিবেচ্য নয়। আমরা সবার আগে পেয়েছি বাংলাদেশ। আমরা চাই দুর্নীতিমুক্ত, ঘুষমুক্ত ও কিশোর গ্যাংমুক্ত বাংলাদেশ। ইয়াবা ও রাস্তায় ইভটিজিং বন্ধের বাংলাদেশ। সর্বোপরি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের সর্বোচ্চ উন্নয়ন চাই।’ অনুষ্ঠানে সেনবাগ উপজেলার ৪নং কাদরা ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ৩৮৮ জন নারীর মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হয়। উপজেলা মডেল মসজিদ কমপ্লেক্স ভবনে উৎসবমুখর পরিবেশে উপকারভোগী নারীদের হাতে কার্ড তুলে দেওয়া হয়। এর আগে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সারাদেশে একযোগে এই কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যায়ের উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ৩৮৮টি উপকারভোগী পরিবারের সদস্যদের মোবাইল ফোনে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে অর্থ সহায়তা পৌঁছে যায়। মোবাইল ফোনে অর্থ সহায়তার বার্তা পেয়ে উপস্থিত নারীদের মাঝে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। পরে নির্বাচিত নারীদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন জয়নুল আবেদীন ফারুক। মাদক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জেলা পুলিশ সুপারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আপনি যে অফিসার পাঠাবেন, সেখানে যদি কোনো বিএনপি নেতাও ইয়াবা ব্যবসায়ী হয়, সে কিন্তু পুলিশ অফিসারকে ম্যানেজ করবে। যেহেতু সরকার বিএনপির, সেদিকে আপনাকে নজর রাখতে হবে। সে বিএনপি হোক বা যে দলেরই হোক—ইয়াবা ব্যবসায়ী, রাস্তায় মেয়েদের ইভটিজার ও কিশোর গ্যাংয়ের আড্ডা যেদিন বন্ধ করতে পারবেন, সেদিনই আপনি একজন সৎ অফিসার।’ সেনবাগ উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম। এসময় উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালীর পুলিশ সুপার টি. এম. মোশাররফ হোসেন, সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক জে. এম. মিজানুর রহমান, সেনবাগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহসিয়া তাবাসসুম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) নূর পেয়ারা বেগমসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও সুবিধাভোগীরা।

বিশ্ব টেলিযোগাযোগ ও তথ্য সংঘ দিবস (ডব্লিউটিআইএসডি) আজ (১৭ মে)। বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশও দিবসটি উপলক্ষ্যে দিনব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া দিবসটি উপলক্ষ্যে একটি মেলার আয়োজন করা হয়েছে। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘ডিজিটাল লাইফলাইন : একটি সংযুক্ত বিশ্বে স্থিতিস্থাপকতা শক্তিশালী করা’, যেখানে বিভিন্ন দেশ সংযুক্ত বিশ্বের সবার জন্য সংযোগ, সেবার ধারাবাহিকতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে স্থিতিস্থাপক ডিজিটাল ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরে দিনটি পালন করবে। এ বছরের মূল বার্তা হলো ডিজিটাল নেটওয়ার্ক এবং প্রযুক্তি অবকাঠামো যেন প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সাইবার আক্রমণ বা যেকোনো বিপর্যয়ের পরেও টিকে থাকতে পারে এবং কেউ যেন সংযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন না হয়। দিবসটি উপলক্ষ্যে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ (পিটিডি) বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ভবনে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব বিলকিস জাহান রিমির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং আইসিটি বিভাগের সচিব কাজী আনোয়ার হোসেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেবেন বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদুল বারী। দিবসটি উপলক্ষ্যে একই স্থানে একটি টেলিযোগাযোগ মেলাও আয়োজন করা হবে। ১৮৬৫ সালের ১৭ মে আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন (আইটিইউ) প্রতিষ্ঠার স্মরণে ডব্লিউটিআইএসডি প্রতিবছর ১৭ মে দিবসটি উদযাপন করে।

লালমনিরহাটের হাতিবান্ধার বনচৌকি সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে খাদেমুল ইসলাম নামের এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। বুধবার (১৩ মে) রাত ২টার দিকে সীমান্তের বনচৌকি বিওপি সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত যুবকের নাম মো. খাদেমুল (২৫)। তিনি উপজেলার উত্তর আমঝোল গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে। জানা গেছে, বুধবার রাত ২টার দিকে বনচৌকি সিমান্ত পিলার ৯০৫/৬ এস থেকে ১৫০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে কয়েকজন বাংলাদেশি কাঁটাতারের বেড়ার কাছে গেলে ভারতীয় ৭৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের পাগলামারী ক্যাম্পের টহল দল তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তিনি দ্রুত বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ফিরে আসেন। পরে স্থানীয় ও তার সহযোগীরা তাকে উদ্ধার করে রংপুরের একটি ক্লিনিকে ভর্তি করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। লালমনিরহাট ব্যাটালিয়নের (১৫ বিজিবি) কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিএসএফের গুলিতে একজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। তবে কী কারণে বিএসএফ গুলি চালিয়েছে তা জানা যায়নি।

নিজের বিরুদ্ধে করা মামলায় নাম প্রত্যাহারের বিনিময়ে এক কোটি টাকা দাবি করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশের রাজনীতি, মামলা, জাতীয় দলে ফেরা এবং নিজের বর্তমান জীবন নিয়ে খোলামেলা আলোচনায় তিনি এমন দাবি করেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলটির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে জুলাই অভ্যুত্থানে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে সারা দেশে মামলা হয়েছে। বাদ নেই ক্রিকেটার ও দলটির সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসানও। তবে সাকিবের দাবি একটি মহল থেকে অর্থের বিনিময়ে মামলা থেকে রেহাই দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, একটি পক্ষ তার কাছে প্রস্তাব দিয়েছিল— নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দিলে মামলার তালিকা থেকে তার নাম সরিয়ে দেওয়া হবে। তবে তিনি মনে করেন, যারা এই প্রস্তাব দিয়েছে তারা নিজেরাও জানে না যে মামলা হওয়ার পর শুধু বাদীপক্ষ চাইলে নাম সরিয়ে ফেলা সম্ভব নয়। ‘বলেছে, এক কোটি টাকা দিলে নাম কেস থেকে উঠিয়ে দেবে’ সেঞ্চুরি করে দ্রুততম ১৪ হাজারি ক্লাবে কোহলি সাক্ষাৎকারে এ ক্রিকেটার বলেন, ‘বলেছে, এক কোটি টাকা দিলে আমার নাম কেস থেকে উঠিয়ে দেবে। কিন্তু যারা বলছে, তাদের ধারণা নেই যে কেস হয়ে যাওয়ার পর চাইলেই নাম উঠানো যায় না। শেষ পর্যন্ত পুলিশের তদন্তেই ঠিক হবে আমার সম্পৃক্ততা ছিল কি না।’ কারা এই প্রস্তাব দিয়েছিল— এমন প্রশ্নে সাকিব জানান, এফআইআরে বাদীপক্ষের যোগাযোগের জন্য যার নাম ছিল, তিনি কয়েকজনের মাধ্যমে বিষয়টি পৌঁছে দেন। তবে কার মাধ্যমে যোগাযোগ হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত বলতে চাননি তিনি। প্রস্তাব পেয়ে কী জবাব দিয়েছিলেন এমন প্রশ্নে সাকিব বলেন, ‘এসব টাকা দিয়ে কেন করতে হবে ভাই? টাকা দেওয়া মানে তো হচ্ছে আমার সমস্যা আছে, আমি চাচ্ছি যে আমাকে এখান থেকে বাঁচিয়ে দেওয়া হোক। হতে পারে তারা ভেবেছে আমার কাছে অনেক বেশি টাকা, চাইলেই হলো।’ দেশে ফেরা নিয়ে নিজের অবস্থানও ব্যাখ্যা করেছেন সাবেক এই অলরাউন্ডার। তার ভাষ্য, দেশে ফিরতে আইনগত কোনো বাধা নেই, তবে তিনি নিরাপত্তা ও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টিকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন। সাকিব বলেন, ‘আমি চাই স্বাভাবিক একটা নিরাপত্তা এবং দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞা উঠে যাক। এ দুটি বিষয় আমার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞা না ওঠানো পর্যন্ত আমার পক্ষে যাওয়া সম্ভব নয়।’ তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তার হওয়ার ভয় তার নেই। তবে অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি বা ব্যক্তিগত আক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। ‘মব হতে পারে, ব্যক্তিগত শত্রুতা থেকেও কিছু হতে পারে। অন্তত এমন একটা জায়গা তো থাকা উচিত, যেখানে বিপদ হলে কেউ দায়িত্ব নেবে,’ বলেন তিনি। জাতীয় দলে না খেলতে পারার বিষয়েও আক্ষেপ আছে জানিয়ে সাকিব বলেন, তিনি এখনো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার মতো অবস্থায় আছেন বলে বিশ্বাস করেন। বিশেষ করে ওয়ানডে ক্রিকেটে এখনো অবদান রাখার সুযোগ দেখছেন তিনি। ২০২৭ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নিজের পরিকল্পনার কথাও জানান সাকিব। তিনি বলেন, ‘সুযোগ পেলে আবার নিজেকে প্রস্তুত করতে চাই। এক-দুটি সিরিজ খেললে তখন বোঝা যাবে আমি কোথায় আছি, দলও বুঝতে পারবে।’ রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও অনুশোচনা নেই বলে জানান সাবেক এই অধিনায়ক। তার ভাষায়, ‘আজকে যেটা ঠিক মনে হয় না, পাঁচ বা দশ বছর পরে হয়তো সেটাই ঠিক মনে হবে। মানুষ বারবার ভুলে যায় যে, আমি একটি নির্দিষ্ট এলাকা থেকে সংসদ সদস্য হয়েছিলাম। এলাকার মানুষ আমাকে ভোট দিয়েছেন দেখেই আমি জিতেছি। তারা যদি ভোট না দিতেন, আমি জিততাম না। সারা দেশের মানুষ তো আমাকে ভোট দেননি।’ সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়েও নিজের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন সাকিব। তিনি বলেন, দেশের মানুষ রাজনীতিকে খারাপ হিসেবে দেখে, কারণ অনেকেই সেবা করার বদলে সুবিধা নিতে রাজনীতিতে আসেন। তবে রাজনীতির মাধ্যমেই পরিবর্তন সম্ভব বলে বিশ্বাস করেন তিনি।

হামের টিকা নিয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্তের নির্দেশনা চেয়ে রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। একইসঙ্গে, সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস ও সাবেক সব উপদেষ্টাসহ ২৪ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে রিটে। হামের টিকাকে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা থেকে বেসরকারি খাতে দেওয়ার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে রোববার (১৭ মে) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম আশরাফুল ইসলাম এ রিট আবেদন দায়ের করেন। রিটে তদন্ত কমিটি গঠন ও ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ উপদেষ্টা পরিষদের সব সদস্যের বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। রিটে কেবিনেট সচিব, স্বাস্থ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, মন্ত্রিপরিষদসচিব, জনপ্রশাসন সচিব,, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সরকারের সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে। এর আগে গত ৬ এপ্রিল নোটিশ পাঠানো হয়। সেদিন ব্যারিস্টার মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম জানান, সারাদেশে অকস্মাৎ বিলুপ্ত রোগ হাম-এর মারাত্মক প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে শতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং অগণিত শিশু ও সাধারণ নাগরিক হাম-এ আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। হামের মতো টিকাকরণের ব্যবস্থাকে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা থেকে প্রাইভেট খাতে দেওয়ার অশুভ অপরাধ মূলক কর্মকান্ডের স্বার্থে জড়িত থাকায় এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠনপূর্বক তদন্তের দাবি জানিয়ে এবং ড. মুহাম্মদ ইউনূস, ড. আসিফ নজরুল, সৈয়দ রিজওয়ানা হাসান, আদিলুর রহমান খাঁন শুভ্র, নূর জাহান বেগম, ব্রিগেডিয়ার (অব.) সাখাওয়াত হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, মোস্তফা সরয়ার ফারুকীসহ সব উপদেষ্টা, সাবেক প্রধান উপদেষ্টার প্রেস-সচিব শফিকুল আলম এবং সংশ্লিষ্ট সব সাবেক ব্যক্তিগত সহকারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য সরকারের প্রতি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

আফ্রিকার দেশ কঙ্গোতে ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্যের জন্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশে এ প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। রোববার (১৭ মে) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত প্রায় ২৪৬টি সন্দেহভাজন সংক্রমণ এবং ৮০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে পরিস্থিতি এখনও বৈশ্বিক মহামারির মানদণ্ডে পৌঁছায়নি। সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়াসুস বলেন, বর্তমানে আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা ও রোগের ভৌগোলিক বিস্তার নিয়ে ‘বিরাট অনিশ্চয়তা’ রয়েছে। স্বাস্থ্য সংস্থাটি জানিয়েছে, এবারের ইবোলা সংক্রমণ ‘বুন্ডিবুগিও’ ভাইরাসজনিত। এর বিরুদ্ধে এখনো কোনো অনুমোদিত ওষুধ বা টিকা নেই। এখন পর্যন্ত ভাইরাসটির আটটি পরীক্ষাগারে নিশ্চিত সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া ইতুরি প্রদেশের রাজধানী বুনিয়া এবং স্বর্ণখনি এলাকা মংগওয়ালু ও রওয়াম্পারায় আরও অনেক সন্দেহভাজন রোগী ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ভাইরাসটি ডিআর কঙ্গোর সীমানা ছাড়িয়ে প্রতিবেশী উগান্ডাতেও পৌঁছেছে, যেখানে দুটি নিশ্চিত সংক্রমণের খবর পাওয়া গেছে। উগান্ডার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার মারা যাওয়া ৫৯ বছর বয়সী এক ব্যক্তির শরীরে ইবোলা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডিআর কঙ্গোর প্রতিবেশী দেশগুলোকে উচ্চ ঝুঁকিতে বিবেচনা করা হচ্ছে। কারণ সীমান্তবর্তী অঞ্চলে মানুষের চলাচল, বাণিজ্য ও ভ্রমণ অব্যাহত রয়েছে। ডব্লিউএইচও ডিআর কঙ্গো ও উগান্ডাকে জরুরি অপারেশন সেন্টার স্থাপনের আহ্বান জানিয়েছে। রোগ পর্যবেক্ষণ, সংক্রমণ শনাক্তকরণ ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য এ অনুরোধ জানানো হয়েছে। নিশ্চিত রোগীদের দ্রুত আলাদা করে চিকিৎসাসেবা দেওয়া এবং অন্তত ৪৮ ঘণ্টা ব্যবধানে করা দুটি বুন্ডিবুগিও ভাইরাস-নির্দিষ্ট পরীক্ষার ফল নেগেটিভ না আসা পর্যন্ত সংক্রমিতদের পর্যবেক্ষণে রাখার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি। এছাড়া যেসব দেশের সীমান্ত আক্রান্ত অঞ্চলের কাছাকাছি, তাদের নজরদারি ও স্বাস্থ্য-রিপোর্টিং ব্যবস্থা জোরদার করার পরামর্শও দিয়েছে ডব্লিউএইচও। তবে সংস্থাটি বলেছে, আক্রান্ত অঞ্চলের বাইরের দেশগুলোর সীমান্ত বন্ধ করা বা ভ্রমণ ও বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রয়োজন নেই। এ ধরনের পদক্ষেপ সাধারণত ভয় থেকে নেওয়া হয় এবং এর পেছনে বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। ইবোলা ভাইরাস প্রথম শনাক্ত হয় ১৯৭৬ সালে বর্তমান ডিআর কঙ্গো এলাকায়। ধারণা করা হয়, বাদুড় থেকে এ ভাইরাস মানুষের মধ্যে ছড়িয়েছে। দেশটিতে এটি এখন পর্যন্ত ১৭তম ইবোলা প্রাদুর্ভাব। ভাইরাসটি আক্রান্ত ব্যক্তির শারীরিক তরল বা ক্ষতস্থানের সংস্পর্শের মাধ্যমে ছড়ায় এবং এটি তীব্র রক্তক্ষরণ ও অঙ্গ বিকল করে দিতে পারে। প্রাথমিক উপসর্গের মধ্যে রয়েছে জ্বর, পেশীতে ব্যথা, দুর্বলতা, মাথাব্যথা ও গলাব্যথা। পরে বমি, ডায়রিয়া, ত্বকে ফুসকুড়ি ও রক্তক্ষরণ দেখা দিতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইবোলার এখনো কোনো নিশ্চিত চিকিৎসা নেই। ডব্লিউএইচওর তথ্যমতে, এ রোগে গড়ে মৃত্যুহার প্রায় ৫০ শতাংশ।

নোয়াখালী-২ (সেনবাগ-সোনাইমুড়ী আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবেদীন ফারুক বলেছেন, ‘তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী—স্বর্ণের চেইন পরা গলার কোনো সচ্ছল মানুষ যেন ফ্যামিলি কার্ড না পায়। সেদিকে আপনাদের কঠোর দৃষ্টি রাখতে হবে।’ শনিবার (১৬ মে) বিকেলে নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় ‘এক আইডি এক পরিবার’ কর্মসূচির আওতায় গরিব ও দুস্থ মানুষের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘মানুষের কাছে আড়াই হাজার টাকা বড় কথা নয়; বড় কথা হলো নেতা তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছেন।’ ভার্চুয়ালি যুক্ত হওয়া শীর্ষ নেতৃত্বের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আমরা কী পেয়েছি বা কী পাইনি, সেটা আমাদের বিবেচ্য নয়। আমরা সবার আগে পেয়েছি বাংলাদেশ। আমরা চাই দুর্নীতিমুক্ত, ঘুষমুক্ত ও কিশোর গ্যাংমুক্ত বাংলাদেশ। ইয়াবা ও রাস্তায় ইভটিজিং বন্ধের বাংলাদেশ। সর্বোপরি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের সর্বোচ্চ উন্নয়ন চাই।’ অনুষ্ঠানে সেনবাগ উপজেলার ৪নং কাদরা ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ৩৮৮ জন নারীর মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হয়। উপজেলা মডেল মসজিদ কমপ্লেক্স ভবনে উৎসবমুখর পরিবেশে উপকারভোগী নারীদের হাতে কার্ড তুলে দেওয়া হয়। এর আগে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সারাদেশে একযোগে এই কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যায়ের উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ৩৮৮টি উপকারভোগী পরিবারের সদস্যদের মোবাইল ফোনে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে অর্থ সহায়তা পৌঁছে যায়। মোবাইল ফোনে অর্থ সহায়তার বার্তা পেয়ে উপস্থিত নারীদের মাঝে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। পরে নির্বাচিত নারীদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন জয়নুল আবেদীন ফারুক। মাদক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জেলা পুলিশ সুপারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আপনি যে অফিসার পাঠাবেন, সেখানে যদি কোনো বিএনপি নেতাও ইয়াবা ব্যবসায়ী হয়, সে কিন্তু পুলিশ অফিসারকে ম্যানেজ করবে। যেহেতু সরকার বিএনপির, সেদিকে আপনাকে নজর রাখতে হবে। সে বিএনপি হোক বা যে দলেরই হোক—ইয়াবা ব্যবসায়ী, রাস্তায় মেয়েদের ইভটিজার ও কিশোর গ্যাংয়ের আড্ডা যেদিন বন্ধ করতে পারবেন, সেদিনই আপনি একজন সৎ অফিসার।’ সেনবাগ উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম। এসময় উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালীর পুলিশ সুপার টি. এম. মোশাররফ হোসেন, সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক জে. এম. মিজানুর রহমান, সেনবাগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহসিয়া তাবাসসুম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) নূর পেয়ারা বেগমসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও সুবিধাভোগীরা।

শেষ বাঁশি বাজতেই যেন থমকে গেলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। স্টেডিয়ামের আলো তখনও ঝলমল করছে, গ্যালারিতে হাজারো দর্শকের গর্জন ধীরে ধীরে স্তিমিত হচ্ছে, কিন্তু আল নাসর তারকার চোখে তখন শুধু হতাশার ছায়া। হাঁটছিলেন, অথচ মনে হচ্ছিল পা যেন এগোচ্ছে না। ধীরে ধীরে ডাগআউটের বেঞ্চে গিয়ে বসে পড়লেন। এরপর ক্যামেরায় ধরা পড়ল এক অন্য রোনালদো—চোখ ভেজা, মুখ নিচু, বারবার হাত দিয়ে চোখ মুছছেন। শনিবার (১৬ মে) রাতে এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগ টু-এর ফাইনালে জাপানের গাম্বা ওসাকার কাছে ১-০ গোলে হেরে আরও একবার শিরোপাহীন থেকে গেল আল নাসর। আর সেই সঙ্গে দীর্ঘ হলো রোনালদোর ট্রফি খরাও। রিয়াদের কিং সৌদ ইউনিভার্সিটি স্টেডিয়ামে ফাইনালের আগে ফেভারিট ছিল সৌদি জায়ান্ট আল নাসরই। পুরো টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা দলটি টানা ১০ ম্যাচ জিতে ফাইনালে উঠেছিল। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে এসে ভেঙে গেল সেই ছন্দ। ম্যাচের ৩০তম মিনিটে ডেনিজ হুমেটের একমাত্র গোলেই ইতিহাস গড়ে গাম্বা ওসাকা। পুরো ম্যাচজুড়ে বল দখল, আক্রমণ, শট—সব পরিসংখ্যানেই এগিয়ে ছিল আল নাসর। তারা নেয় ২০টি শট, যেখানে গাম্বা ওসাকার ছিল মাত্র ৩টি। লক্ষ্যে শটও ছিল ৬-১ ব্যবধানে আল নাসরের পক্ষে। কিন্তু গোলটাই যে ফুটবলের শেষ কথা, সেটাই আবার মনে করিয়ে দিল জাপানি ক্লাবটি। রোনালদো ছিলেন সবচেয়ে বেশি সক্রিয়। ম্যাচে ৫টি শট নিয়েছেন তিনি, প্রতিপক্ষের বক্সে সবচেয়ে বেশি ৭ বার বল স্পর্শও তারই। সাদিও মানে, জোয়াও ফেলিক্সরাও একের পর এক সুযোগ তৈরি করেছিলেন। কিন্তু ১৮ বছর বয়সী গোলরক্ষক রুই আরাকি যেন একাই দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। ফেলিক্সের শক্তিশালী শট, মানের কাছাকাছি সুযোগ কিংবা রোনালদোর নিশ্চিত গোল—সবই থামিয়ে দেন এই তরুণ গোলরক্ষক। বিশেষ করে ৮৬তম মিনিটে রোনালদোর প্রায় নিশ্চিত গোললাইন প্রচেষ্টা জেন্তা মিউরার ব্লকে কর্নারে পরিণত হলে হতাশা আরও বাড়ে। শেষ দিকে মরিয়া হয়ে আক্রমণ চালিয়েও সমতায় ফিরতে পারেনি আল নাসর। ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানেও দেখা যায়নি রোনালদোকে। সাধারণত অধিনায়ক হিসেবেই সবার আগে রানার্সআপ পদক নিতে হয়। কিন্তু আল নাসরের খেলোয়াড়েরা কোচের সঙ্গে মঞ্চে উঠলেও রোনালদো ছিলেন দূরে। হতাশা যেন তাকে গিলে ফেলেছিল। এই হার রোনালদোর জন্য শুধুই আরেকটি ফাইনাল হার নয়, বরং আরও দীর্ঘ হওয়া এক শিরোপা অপেক্ষার গল্প। ইউরোপে পাঁচটি চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতা, অসংখ্য রেকর্ড গড়া এই পর্তুগিজ মহাতারকা আল নাসরে যোগ দেওয়ার পর এখন পর্যন্ত কোনো স্বীকৃত বড় ট্রফি জিততে পারেননি। ২০২৩ সালে সৌদি ক্লাবটিতে যোগ দেওয়ার পর তিনি ১৪টি প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন, কিন্তু প্রতিবারই শিরোপা হাতছাড়া হয়েছে। রোনালদোর শেষ বড় ক্লাব ট্রফি ছিল জুভেন্টাসের হয়ে কোপা ইতালিয়া জয়। এরপর কেটে গেছে পাঁচ বছর। এর মধ্যে সৌদি প্রো লিগ, কিংস কাপ, সৌদি সুপার কাপ ও মহাদেশীয় প্রতিযোগিতা—সব জায়গাতেই হতাশা সঙ্গী হয়েছে তার। যদিও আরব ক্লাব চ্যাম্পিয়নস কাপ জিতেছিল আল নাসর, তবে সেটিকে ফিফা বা এএফসির আনুষ্ঠানিক শিরোপা হিসেবে ধরা হয় না। ফলে রোনালদোর অফিসিয়াল ক্যারিয়ারে সেই ট্রফির স্বীকৃতি নিয়ে বিতর্ক থেকেই গেছে। তবে সব শেষ হয়ে যায়নি এখনো। সৌদি প্রো লিগে শিরোপার দৌড়ে এখনো এগিয়ে আছে আল নাসর। আল হিলালের চেয়ে দুই পয়েন্টে এগিয়ে থাকা দলটি বৃহস্পতিবার দামাক এফসির বিপক্ষে জিতলেই লিগ চ্যাম্পিয়ন হবে। সেটাই এখন রোনালদোর সামনে শেষ সুযোগ। তার আগে পর্যন্ত হয়তো শনিবার রাতের সেই দৃশ্যই ঘুরে ফিরে আসবে ফুটবলপ্রেমীদের চোখে—এক কিংবদন্তি বসে আছেন ডাগআউটে, চোখ ভেজা, আরেকটি ট্রফি হাতছাড়া হওয়ার বেদনায় নীরব হয়ে।

বিশ্ব টেলিযোগাযোগ ও তথ্য সংঘ দিবস (ডব্লিউটিআইএসডি) আজ (১৭ মে)। বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশও দিবসটি উপলক্ষ্যে দিনব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া দিবসটি উপলক্ষ্যে একটি মেলার আয়োজন করা হয়েছে। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘ডিজিটাল লাইফলাইন : একটি সংযুক্ত বিশ্বে স্থিতিস্থাপকতা শক্তিশালী করা’, যেখানে বিভিন্ন দেশ সংযুক্ত বিশ্বের সবার জন্য সংযোগ, সেবার ধারাবাহিকতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে স্থিতিস্থাপক ডিজিটাল ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরে দিনটি পালন করবে। এ বছরের মূল বার্তা হলো ডিজিটাল নেটওয়ার্ক এবং প্রযুক্তি অবকাঠামো যেন প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সাইবার আক্রমণ বা যেকোনো বিপর্যয়ের পরেও টিকে থাকতে পারে এবং কেউ যেন সংযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন না হয়। দিবসটি উপলক্ষ্যে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ (পিটিডি) বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ভবনে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব বিলকিস জাহান রিমির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং আইসিটি বিভাগের সচিব কাজী আনোয়ার হোসেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেবেন বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদুল বারী। দিবসটি উপলক্ষ্যে একই স্থানে একটি টেলিযোগাযোগ মেলাও আয়োজন করা হবে। ১৮৬৫ সালের ১৭ মে আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন (আইটিইউ) প্রতিষ্ঠার স্মরণে ডব্লিউটিআইএসডি প্রতিবছর ১৭ মে দিবসটি উদযাপন করে।

ভারতের রাজস্থানে দিল্লিগামী রাজধানী এক্সপ্রেস ট্রেনে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। চলন্ত অবস্থায় ট্রেনটির শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত একটি বগিতে আগুন ধরে যায়। সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, আজ রোববার ভোর প্রায় সাড়ে ৫টার দিকে আগুন লাগে। তবে এ ঘটনা কেউ হতাহত হননি। তার আগেই তাদের উদ্ধার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বি-১ নামের ওই বগিতে ৬৮ জন যাত্রী ছিলেন। তিনি বলেছেন, ভোর ৫টা ১৫ মিনিটে কোটার বিক্রমগড় আলোত স্টেশনের কাছে ট্রেনটিতে আগুন ধরে যায়। এরপর আক্রান্ত বগিটি অন্য বগি থেকে বিচ্ছিন্ন এবং এটির বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়। যাত্রীদের বগিটি থেকে নামিয়ে অন্যান্য বগিতে তুলে দেওয়া হয়। তাদের কোটা পর্যন্ত এভাবে নিয়ে যাওয়া হবে। এরপর সেখান থেকে বিকল্প ব্যবস্থা করা হবে। সেখানে ট্রেনে নতুন আরেকটি বগি যুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন এক কর্মকর্তা। ১২৪৩১ রাজধানী এক্সপ্রেস ট্রেনটি গত শুক্রবার কেরালার থিরুভানানথাপুরাম থেকে যাত্রা শুরু করে। আজ দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে এটির দিল্লির নিজামুদ্দিন রেলস্টেশনে পৌঁছানোর কথা ছিল। আগুন লাগার আগে ট্রেনটি ২ হাজার ৬০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছে। যখন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে তখন এটি রাজধানী দিল্লি থেকে প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার দূরে ছিল। সূত্র: এনডিটিভি

লালমনিরহাটের হাতিবান্ধার বনচৌকি সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে খাদেমুল ইসলাম নামের এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। বুধবার (১৩ মে) রাত ২টার দিকে সীমান্তের বনচৌকি বিওপি সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত যুবকের নাম মো. খাদেমুল (২৫)। তিনি উপজেলার উত্তর আমঝোল গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে। জানা গেছে, বুধবার রাত ২টার দিকে বনচৌকি সিমান্ত পিলার ৯০৫/৬ এস থেকে ১৫০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে কয়েকজন বাংলাদেশি কাঁটাতারের বেড়ার কাছে গেলে ভারতীয় ৭৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের পাগলামারী ক্যাম্পের টহল দল তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তিনি দ্রুত বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ফিরে আসেন। পরে স্থানীয় ও তার সহযোগীরা তাকে উদ্ধার করে রংপুরের একটি ক্লিনিকে ভর্তি করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। লালমনিরহাট ব্যাটালিয়নের (১৫ বিজিবি) কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিএসএফের গুলিতে একজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। তবে কী কারণে বিএসএফ গুলি চালিয়েছে তা জানা যায়নি।

নিজের বিরুদ্ধে করা মামলায় নাম প্রত্যাহারের বিনিময়ে এক কোটি টাকা দাবি করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশের রাজনীতি, মামলা, জাতীয় দলে ফেরা এবং নিজের বর্তমান জীবন নিয়ে খোলামেলা আলোচনায় তিনি এমন দাবি করেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলটির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে জুলাই অভ্যুত্থানে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে সারা দেশে মামলা হয়েছে। বাদ নেই ক্রিকেটার ও দলটির সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসানও। তবে সাকিবের দাবি একটি মহল থেকে অর্থের বিনিময়ে মামলা থেকে রেহাই দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, একটি পক্ষ তার কাছে প্রস্তাব দিয়েছিল— নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দিলে মামলার তালিকা থেকে তার নাম সরিয়ে দেওয়া হবে। তবে তিনি মনে করেন, যারা এই প্রস্তাব দিয়েছে তারা নিজেরাও জানে না যে মামলা হওয়ার পর শুধু বাদীপক্ষ চাইলে নাম সরিয়ে ফেলা সম্ভব নয়। ‘বলেছে, এক কোটি টাকা দিলে নাম কেস থেকে উঠিয়ে দেবে’ সেঞ্চুরি করে দ্রুততম ১৪ হাজারি ক্লাবে কোহলি সাক্ষাৎকারে এ ক্রিকেটার বলেন, ‘বলেছে, এক কোটি টাকা দিলে আমার নাম কেস থেকে উঠিয়ে দেবে। কিন্তু যারা বলছে, তাদের ধারণা নেই যে কেস হয়ে যাওয়ার পর চাইলেই নাম উঠানো যায় না। শেষ পর্যন্ত পুলিশের তদন্তেই ঠিক হবে আমার সম্পৃক্ততা ছিল কি না।’ কারা এই প্রস্তাব দিয়েছিল— এমন প্রশ্নে সাকিব জানান, এফআইআরে বাদীপক্ষের যোগাযোগের জন্য যার নাম ছিল, তিনি কয়েকজনের মাধ্যমে বিষয়টি পৌঁছে দেন। তবে কার মাধ্যমে যোগাযোগ হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত বলতে চাননি তিনি। প্রস্তাব পেয়ে কী জবাব দিয়েছিলেন এমন প্রশ্নে সাকিব বলেন, ‘এসব টাকা দিয়ে কেন করতে হবে ভাই? টাকা দেওয়া মানে তো হচ্ছে আমার সমস্যা আছে, আমি চাচ্ছি যে আমাকে এখান থেকে বাঁচিয়ে দেওয়া হোক। হতে পারে তারা ভেবেছে আমার কাছে অনেক বেশি টাকা, চাইলেই হলো।’ দেশে ফেরা নিয়ে নিজের অবস্থানও ব্যাখ্যা করেছেন সাবেক এই অলরাউন্ডার। তার ভাষ্য, দেশে ফিরতে আইনগত কোনো বাধা নেই, তবে তিনি নিরাপত্তা ও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টিকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন। সাকিব বলেন, ‘আমি চাই স্বাভাবিক একটা নিরাপত্তা এবং দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞা উঠে যাক। এ দুটি বিষয় আমার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞা না ওঠানো পর্যন্ত আমার পক্ষে যাওয়া সম্ভব নয়।’ তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তার হওয়ার ভয় তার নেই। তবে অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি বা ব্যক্তিগত আক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। ‘মব হতে পারে, ব্যক্তিগত শত্রুতা থেকেও কিছু হতে পারে। অন্তত এমন একটা জায়গা তো থাকা উচিত, যেখানে বিপদ হলে কেউ দায়িত্ব নেবে,’ বলেন তিনি। জাতীয় দলে না খেলতে পারার বিষয়েও আক্ষেপ আছে জানিয়ে সাকিব বলেন, তিনি এখনো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার মতো অবস্থায় আছেন বলে বিশ্বাস করেন। বিশেষ করে ওয়ানডে ক্রিকেটে এখনো অবদান রাখার সুযোগ দেখছেন তিনি। ২০২৭ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নিজের পরিকল্পনার কথাও জানান সাকিব। তিনি বলেন, ‘সুযোগ পেলে আবার নিজেকে প্রস্তুত করতে চাই। এক-দুটি সিরিজ খেললে তখন বোঝা যাবে আমি কোথায় আছি, দলও বুঝতে পারবে।’ রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও অনুশোচনা নেই বলে জানান সাবেক এই অধিনায়ক। তার ভাষায়, ‘আজকে যেটা ঠিক মনে হয় না, পাঁচ বা দশ বছর পরে হয়তো সেটাই ঠিক মনে হবে। মানুষ বারবার ভুলে যায় যে, আমি একটি নির্দিষ্ট এলাকা থেকে সংসদ সদস্য হয়েছিলাম। এলাকার মানুষ আমাকে ভোট দিয়েছেন দেখেই আমি জিতেছি। তারা যদি ভোট না দিতেন, আমি জিততাম না। সারা দেশের মানুষ তো আমাকে ভোট দেননি।’ সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়েও নিজের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন সাকিব। তিনি বলেন, দেশের মানুষ রাজনীতিকে খারাপ হিসেবে দেখে, কারণ অনেকেই সেবা করার বদলে সুবিধা নিতে রাজনীতিতে আসেন। তবে রাজনীতির মাধ্যমেই পরিবর্তন সম্ভব বলে বিশ্বাস করেন তিনি।

চট্টগ্রাম মহানগরীর সাগরিকা ফ্লাইওভারে ঝুলন্ত অবস্থায় কাউসার আহমেদ নামে এক ছাত্রলীগ নেতার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, কায়সারকে খুন করে ফ্লাইওভারে মরদেহ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ মে) ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় নগরের পাহাড়তলী থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করেছে পুলিশ। নিহত কাউসার আহমেদ (২৭) আকবর শাহ থানা ছাত্রলীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। পাহাড়তলী থানার ওসি নুরুল আবছার গণমাধ্যমকে বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে সংবাদ পেয়ে আবু কাউসারের মরদেহ উদ্ধার করি। মারা যাওয়া যুবক ওই এলাকার একটি কারখানায় পাহারাদার হিসেবে কাজ করতেন। সে দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিল এবং তার মানসিক সমস্যা ছিল বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছে। তিনি আরও বলেন, হত্যার অভিযোগ সঠিক নয়। কাউসারের শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। আমাদের ধারণা, ফ্লাইওভার থেকে ঝুলে ওই যুবক আত্মহত্যা করে থাকতে পারে। তারপরও আমরা ঘটনা তদন্ত করে দেখছি। ওসি নুরুল আবছার বলেন, আমরা মারা যাওয়া যুবকের লাশের ময়নাতদন্ত করার পর পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করেছি। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যে ইরানের ভেতরে গোপনে একাধিক হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব। পশ্চিমা ও ইরানি কয়েকজন কর্মকর্তার বরাতে এমন তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টারার্স। প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি আরবের ওপর চালানো হামলার জবাবে পাল্টা এই সামরিক অভিযান চালানো হয়। তবে হামলাগুলোর বিষয়ে আগে প্রকাশ্যে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। দুই পশ্চিমা কর্মকর্তার দাবি, মার্চের শেষ দিকে সৌদি বিমানবাহিনী এসব হামলা চালায়। তাদের একজন বলেন, “সৌদি আরবে হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে।” তবে কোন কোন স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি রয়টার্স। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সরাসরি হামলার বিষয়টি স্বীকার বা অস্বীকার করেননি। অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও কোনো মন্তব্য করেনি। এই ঘটনা সৌদি আরবের নিরাপত্তানীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এতদিন দেশটি নিরাপত্তার জন্য মূলত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সুরক্ষার ওপর নির্ভরশীল ছিল। তবে ১০ সপ্তাহ ধরে চলা আঞ্চলিক সংঘাতে সেই নিরাপত্তা বলয়ে দুর্বলতা দেখা দেওয়ার পর সৌদি আরব আরও সরাসরি ও আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সৌদি আরব ও ইরান দীর্ঘদিন ধরেই মধ্যপ্রাচ্যে প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গভীর সমুদ্রে মাছ শিকার করায় অভিযান চালিয়ে নোয়াখালী হাতিয়ায় ৪৫ জেলেকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। এ সময় প্রায় ৩৭ লাখ টাকার সামুদ্রিক মাছও ৪টি ট্রলার জব্দ করা হয়। মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, দক্ষিণ জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট মো. আবুল কাশেম। এর আগে সোমবার (১১ মে) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে হাতিয়া উপজেলার নলচিরা ও চেয়ারম্যান ঘাট সংলগ্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করে কোস্ট গার্ড স্টেশন হাতিয়া। হাতিয়ায় ৩৭ লাখ টাকার সামুদ্রিক মাছ জব্দ, ৪৫ জেলে আটক মোবাইল কোর্টের অভিযানে স্থানীয়দের হামলা, ম্যাজিস্ট্রেটসহ আহত ১৫ কোস্ট গার্ড সূত্র জানায়, সন্দেহজনক চারটি ফিশিং বোটে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ১ হাজার ৮০০ কেজি ইলিশ ও ২ হাজার ৫০০ কেজি বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ জব্দ করা হয়। জব্দকৃত মাছের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩৭ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। পরে হাতিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মশিয়ুর রহমানের ভ্রাম্যমাণ আদালত আটক জেলেদের প্রত্যেককে ২০০ টাকা করে মোট ৯ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জব্দকৃত মাছ স্থানীয় এতিমখানা, মাদ্রাসা ও দরিদ্র মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট মো. আবুল কাশেম বলেন, সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ রক্ষা ও নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে চলবে।

চলতি বছরের শেষের দিক নাগাদ কৌশলগত নতুন পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘সারমাত’ মোতায়েন করবে রাশিয়া। মঙ্গলবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন নতুন এই অস্ত্র মোতায়েনের সময়সীমা ঘোষণা করেছেন। রাশিয়ার নিজের তৈরি এই ক্ষেপণাস্ত্রকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী’ অস্ত্র হিসেবেও অভিহিত করেছেন তিনি। কয়েক হাজার মাইল দূরে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ইউরোপের যেকোনও লক্ষ্যবস্তুতে পারমাণবিক ওয়ারহেড নিয়ে আঘাত হানতে সক্ষম এই আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম)। কয়েক বছরের কারিগরি জটিলতা ও বারবার পিছিয়ে যাওয়ার পর অবশেষে এটি মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্রেমলিন। মঙ্গলবার রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে পুতিন বলেছেন, এই ক্ষেপণাস্ত্রের ওয়ারহেডের বিধ্বংসী ক্ষমতা যেকোনও পশ্চিমা অস্ত্রের চেয়ে চার গুণেরও বেশি। এছাড়া এর পাল্লা ৩৫ হাজার কিলোমিটারের (২১ হাজার ৭৫০ মাইল) বেশি। তিনি বলেছেন, সারমাত ক্ষেপণাস্ত্রর বর্তমান সময়ের, এমনকি ভবিষ্যতের যেকোনও অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করার সক্ষমতা রয়েছে। যদিও পশ্চিমা নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, পুতিন প্রায়ই রাশিয়ার নতুন প্রজন্মের এই পারমাণবিক অস্ত্রের সক্ষমতা নিয়ে অতিরঞ্জিত দাবি করেন। ২০১৮ সালে তিনি যখন প্রথম রাশিয়ার অস্ত্রাগার আধুনিকায়নের এই উচ্চাভিলাষী কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন, তখন থেকেই বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। অতীতের কিছু পরীক্ষায় ‘সারমাত’ ব্যর্থ হওয়ার রেকর্ড রয়েছে। পশ্চিমা বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে এক পরীক্ষার সময় উৎক্ষেপণ স্থলেই সারমাত ক্ষেপণাস্ত্রের বিস্ফোরণ ঘটেছিল। এতে সেখানে বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়। এমনকি ২০১৫ সালের নভেম্বরেও আরেকটি পরীক্ষা ব্যর্থ হওয়ার খবর পাওয়া যায়। তবে মঙ্গলবার রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। সেখানে দেখা যায়, রাশিয়ার কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনীর কমান্ডার সের্গেই কারাকায়েভ প্রেসিডেন্ট পুতিনকে বলছেন, সারমাতের সর্বশেষ পরীক্ষা সফল হয়েছে। কারাকায়েভ বলেন, সারমাত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থায় সজ্জিত এসব লাঞ্চার মোতায়েনের ফলে আমাদের স্থলভিত্তিক কৌশলগত পারমাণবিক বাহিনীর যুদ্ধ সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। এটি লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসের নিশ্চয়তা এবং কৌশলগত প্রতিবন্ধকতা তৈরির সমস্যা সমাধানে বড় ভূমিকা রাখবে। ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে পুতিন বারবার রাশিয়ার পারমাণবিক শক্তি ও বিশাল ভাণ্ডারের কথা বিশ্বকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন। পশ্চিমা দেশগুলো পুতিনের এই হুমকিকে ইউক্রেনের পক্ষে সরাসরি যুদ্ধে হস্তক্ষেপ থেকে তাদের বিরত রাখার জন্য এক ধরনের ‘পারমাণবিক হুমকি’ হিসেবে দেখছে। সূত্র: রয়টার্স।