

নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার ৩ নং পরকোট ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ড বাঁশতলা দুধ মিয়া সরকার বাড়ির প্রবাসী আব্দুল মোতালেব এর স্ত্রী টাকা পয়সা স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়েছে। প্রবাসী আবদুল মোতালেব অভিযোগ করে বলেন, এক প্রবাসী ছেলের সাথে তার স্ত্রী আখি আক্তার আকলিমার পরকীয়া রয়েছে। কয়েকদিন আগে ওই ছেলে দেশে আসে। গত ৭ জুন সকাল ৯ টার দিকে আখি আক্তার আকলিমা দেড় ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ দেড় লক্ষ টাকা ও প্রবাসীর আড়াই বছরের শিশু সন্তান নিয়ে পরকীয়া প্রেমিকের সাথে পালিয়ে যায়। এই ঘটনায় প্রবাসী আব্দুল মোতালেব চাটখিল থানায় অভিযোগ দিয়েছেন এবং আদালতে মামলা করার প্রস্তুতি নিয়েছেন । প্রবাসী আব্দুল মোতালেবের স্ত্রী ইতিপূর্বেও বহু অপকর্মের সাথে জড়িত ছিলেন বলে প্রাপ্ত অভিযোগে জানা গেছে। জানা যায় গত প্রায় চার বছর আগে পুর্ব পরকোট মোল্লা বাড়ির জসীমউদ্দীনের মেয়ে আখি আক্তার আকলিমা সাথে প্রবাসী আব্দুল মোতালেবের ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক বিয়ে সম্পুন্ন হয়। বিয়ের কয়েক মাস পর মোতালেব বিদেশ চলে যায়। আব্দুল মোতালেব বিদেশ যাওয়ার পর তার ঘরে একটি পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। পুত্র সন্তানের জন্মের কয়েক মাস পর আখি আক্তার কারণে-অকারণে স্বামীর সাথে ঝগড়া বিপদে লিপ্ত হয়। আব্দুল মোতালেব অভিযোগ করে বলেন, সে বিদেশ থাকাকালীন তার স্ত্রী একাধিক পুরুষের সাথে পরকীয়ায় লিপ্ত হয়। আর এ পরকীয়ার কারণে ৩বার ঘর থেকে পালিয়ে যায়। এবারও সে পরকীয়া প্রেমিকের সাথে পালিয়েছে।

নোয়াখালীর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শনে এসে বিভিন্ন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীকে তাৎক্ষণিক প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তবে এ ঘোষণার পরপরই হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং মন্ত্রীকে ঘিরে বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে মন্ত্রী বিক্ষোভকারীদের ফ্যাসিস্টের দোষর বলে আখ্যা দেন। মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, জরুরি বিভাগ ও রোগীসেবার সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ সময় হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। পরিদর্শনে চিকিৎসাসেবা, পরিচ্ছন্নতা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার চিত্র উঠে আসে বলে জানান মন্ত্রী। পরিদর্শন শেষে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ককে প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হলে হাসপাতালের বাইরে অবস্থানরত কিছু ব্যক্তি বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে নিরাপত্তার স্বার্থে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে সেখান থেকে সরে যেতে হয়। পরবর্তীতে নোয়াখালী সার্কিট হাউসে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমি হাসপাতালে এসে যে পরিস্থিতি দেখেছি, তা অত্যন্ত হতাশাজনক। এত অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে একটি হাসপাতাল পরিচালিত হতে পারে না। জনগণকে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা দিতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে নোয়াখালীর বর্তমান সিভিল সার্জনকে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যখাতের বর্তমান অবস্থা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিনের অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যেখানেই হাত দিচ্ছি, সেখানেই সমস্যা ও অনিয়মের চিত্র দেখা যাচ্ছে। তবে এসব সমস্যা রাতারাতি দূর করা সম্ভব নয়। ধাপে ধাপে সংস্কারের মাধ্যমে স্বাস্থ্যখাতকে একটি কার্যকর ও জনবান্ধব অবস্থানে ফিরিয়ে আনা হবে। এ সময় নোয়াখালী জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিন, সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ার হোসেন, জেলা পরিষদ প্রশাসক হারুন অর রশিদসহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় বিএনপির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

নোয়াখালী জেলা পুলিশের নতুন পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন জনাব এন এম নাসিরুদ্দিন। সোমবার (১৫ জুন) নোয়াখালী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে তিনি সদ্য বিদায়ী পুলিশ সুপার জনাব টি. এম. মোশাররফ হোসেনের নিকট থেকে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।দায়িত্বভার গ্রহণের পূর্বে নোয়াখালী সার্কিট হাউস প্রাঙ্গণে নবাগত পুলিশ সুপারকে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) জনাব আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন। পরে জেলা পুলিশের একটি চৌকস দল নবাগত পুলিশ সুপারকে গার্ড অব অনার প্রদান করে।অনুষ্ঠান শেষে পুলিশ সুপার জনাব এন এম নাসিরুদ্দিন জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত হন। উল্লেখ্য, জনাব এন এম নাসিরুদ্দিন ২৫তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের মাধ্যমে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন। দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে দক্ষতা, সততা ও সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।নোয়াখালী জেলায় যোগদানের আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)-তে উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর অভিজ্ঞ নেতৃত্বে নোয়াখালী জেলার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও জনসেবামূলক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।

বাইরে থেকে দেখলে সাধারণ একটি ঝুপড়ি ঘর। তবে ভেতরে প্রবেশ করলেই মিলবে ভিন্ন চিত্র। নোয়াখালীর চাটখিল পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ভীমপুর গ্রামের বেদে পল্লীতে সরকারি খাস জায়গায় গড়ে তোলা একটি কুঁড়েঘরেই চলছে কথিত রাজকীয় জীবনযাপন। সেখানে স্থাপন করা হয়েছে বিলাসবহুল এয়ারকন্ডিশনার (এসি) ও পুরো আস্তানাজুড়ে বসানো হয়েছে অত্যাধুনিক সিসিটিভি ক্যামেরা।স্থানীয়দের অভিযোগ, এই আস্তানার মূল হোতা ববিতা আক্তার সুমাইয়া (৩৫) নামে এক নারী। স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন।অভিযোগ রয়েছে,এর আগে চাটখিল থানা পুলিশ কয়েক দফায় তাকে ইয়াবাসহ আটক করে আদালতে পাঠালেও জামিনে বের হয়ে পুনরায় একই ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন।অভিযোগ অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ক্রেতাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য আস্তানার চারপাশে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। প্রযুক্তির এই অপব্যবহারের মাধ্যমে বেদে পল্লী থেকে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি হওয়ায় চাটখিলের ছাত্র ও যুবসমাজ বিপথগামী হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের। তারা এই মাদক সিন্ডিকেটের নেপথ্যে থাকা গডফাদারদের আইনের আওতায় এনে অবৈধ আস্তানা উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছেন।চাটখিল পৌরসভা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হানিফ বলেন, "একজন মাদক কারবারির কাছে পুলিশ, সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতা ও স্থানীয় মানুষ সবাই অসহায়। পুলিশ বা বহিরাগত কারও উপস্থিতি টের পেলেই তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দলবেঁধে বের হয়ে আসে। ববিতার এত ক্ষমতার উৎস খুঁজে বের করা দরকার। যারা তাকে পেছন থেকে সহযোগিতা করছে, তাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।"পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ববিতা আক্তার সুমাইয়ার বিরুদ্ধে থানায় সাতটি মাদক মামলা রয়েছে। এ পর্যন্ত ৬বার তিনি পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন। তবে প্রতিবারই জামিনে মুক্ত হয়ে পুনরায় একই কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। তাকে আটক করতে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও স্থানীয়রা হামলার শিকার হয়েছেন বলেও জানিয়েছে পুলিশ। এ বিষয়ে চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোন্নাফ বলেন, ওই নারী মাদক কারবারি। তাকে কতবার ধরে চালান দিলাম। এখন সড়ক জনপথ বিভাগের একটি জায়গা টার্গেট ছিল। সেটা না পেরে এখন নাকি নতুন করে ঘর দরজা উঠাচ্ছে। আমি আসার পর তার বিরুদ্ধে দুটি মাদকের মামলা দেওয়া হয়েছে। এর আগেও তার বিরুদ্ধে মাদকের মামলা ছিল। কিছু দিন আগেও তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তবে তার এমন বিলাসবহুল জীবনযাপনের বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ছয়ানী ইউনিয়নে তৈয়বপুর মেস্তরী বাড়ির বসতবাড়িতে সন্ত্রাসী হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার পর বেগমগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ দিতে বলেন। গতকাল বেলা ৬ টায় ওই ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের মেস্তরী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগে ভুক্তভোগী আবদুর রহিম জানান, গতকাল সন্ধায় ফাহাদ,সুমন, ছালেহা, ইয়াসমিন, ইসমাইল হোসেন জুয়েলের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী আমাদের বসত ঘরে এসে হুমকি দিয়ে যায়। পরে সন্ধায় ফাহাদ, সুমনের নেতৃত্বে ১৫-২০ জন লোক বাড়িতে ব্যাপক হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এ সময় তারা নগদ টাকা ও অন্যান্য মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। হামলাকারীরা ঘরে থাকা নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবার দ্রব্যাদি সম্পূর্ণ নষ্ট করে ফেলে। ঘরে থাকা মহিলাদের গায়ে হাত দেয় এবং নানা অশ্লীল আচরণ করে। খতিজা বেগম জানান,ফাহাদ নামের সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আমার বাম হাতে আঘাত করে এবং আমার বুকে পিঠে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে। পরবর্তীতে বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি হয়। উক্ত ঘটনায় বাদি হয়ে আবদুর রহিম নোয়াখালী ০৩ নং আমলী আদালতে সি আর মামলা দায়ের করেন।ছয়ানী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জামাল বলেন, সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত থাকলে তার দায় কেউ নেবে না। বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বেগমগঞ্জ থানার (ওসি) জানান, ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নোয়াখালীর সেনবাগে একটি বিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে দুই ছাত্রীকে প্রেমের প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগে তিন কিশোরকে থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। একই ঘটনায় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে দুই ছাত্রীকে বহিষ্কার করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।বুধবার (১৭ জুন) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার কাদরা ইউনিয়নের চাঁদপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।থানায় সোপর্দ করা তিন কিশোর হলেন, কাদরা ইউনিয়নের খলিফা পাড়ার মো.সোলেমানের ছেলে মেহেদী হাসান দুলাল (১৮), একই এলাকার নুরুজ্জামানের ছেলে আবু ইউসুফ ফাহিম (১৮) এবং সেনবাগ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাতানিয়া মিজি বাড়ির শহীদুল ইসলামের ছেলে মাহফুজুল ইসলাম (১৮)। অপরদিকে বহিষ্কৃত দুই ছাত্রী হলেন, চাঁদপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী সমিতা ইসলাম (১৪) ও সুমাইয়া আক্তার প্রীতি (১৪)।বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল পৌনে ১০টার দিকে বহিরাগত দুলাল, ফাহিম ও মাহফুজুল বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। এ সময় তারা অষ্টম শ্রেণির দুই ছাত্রীর কাছে চকলেট দেন, যার গায়ে ‘আই লাভ ইউ’ লেখা ছিল। বিষয়টি বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষার্থীদের নজরে এলে তারা তিন কিশোর ও দুই ছাত্রীকে আটক করে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে নিয়ে যায়। পরে প্রধান শিক্ষক তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য মোবাইল নম্বর চাইলে তারা তা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। একপর্যায়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তিন কিশোরকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে এবং দুই ছাত্রীকে বহিষ্কার করে।চাঁদপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুক্তার হোসেন ইকবাল বলেন, শিক্ষার্থীরা তাদের আটক করে আমার অফিসে নিয়ে আসে। আমি অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তারা অভিভাবকদের নম্বর দিতে রাজি হয়নি। পরে বহিরাগত তিনজনকে থানায় সোপর্দ করা হয়। এছাড়া শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে দুই ছাত্রীকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে এলাকার অনেক শিক্ষার্থী সন্ধ্যা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত দোকানে আড্ডা দেয় এবং কেউ কেউ মাদকের সঙ্গেও জড়িয়ে পড়ছে। এ বিষয়ে অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন।সেনবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুস সালাম বলেন, বিদ্যালয়ে তাদের আটক করা হয়েছিল। খবর পেয়ে পুলিশ তাদের থানায় নিয়ে আসে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত আছেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ২০তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে ডিনস অ্যাওয়ার্ড-২০২৬ এর জন্য সাতটি অনুষদের মোট ২২ জন শিক্ষার্থী চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। আগামী ২২ জুন বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের অনুষ্ঠানে তাদের হাতে এ সম্মাননা তুলে দেওয়া হবে।বুধবার (১৭ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ সেল অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্তদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করে। প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, ২০১৯-২০ ও ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান, বিজনেস স্টাডিজ, বিজ্ঞান, আইন, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি, জীববিজ্ঞান এবং শিক্ষা বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থীরা এ সম্মাননার জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। প্রতিবছর অনুষদভিত্তিক সর্বোচ্চ একাডেমিক সাফল্যের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের এ স্বীকৃতি দেওয়া হয়।বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের নাহিন সুলতানা লিজা ও হৃদয় বণিক এবং ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (আইসিই) বিভাগের নিলয় দাস ডিনস অ্যাওয়ার্ডের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন।একই শিক্ষাবর্ষে বিজনেস স্টাডিজ অনুষদে ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের নাফিসা জান্নাতুল মাওয়া, ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের সাদিউল আলম চৌধুরী এবং ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের আমরান হোসাইন নির্বাচিত হয়েছেন।জীববিজ্ঞান অনুষদে অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের মো. রকিবুল হাসান, ফার্মেসি বিভাগের ফজলে রাব্বী শুভ এবং বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকিউলার বায়োলজি বিভাগের সুকন্যা সাহা এ সম্মাননার জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। আইন অনুষদে আইন বিভাগের মো. মুবদি ইসলাম ডিনস অ্যাওয়ার্ড পাচ্ছেন।বিজ্ঞান অনুষদে পরিসংখ্যান বিভাগের ইশরাত জাহান, সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের মনিকা ধর ও নাদিয়া জাহান নির্বাচিত হয়েছেন। কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে ইনফরমেশন সায়েন্স অ্যান্ড লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ইশরাত জাহান ইভা, সমাজকর্ম বিভাগের সাদিয়া সুলতানা এবং অর্থনীতি বিভাগের কামরুন নাহার এ স্বীকৃতির জন্য নির্বাচিত হয়েছেন।২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষা বিজ্ঞান অনুষদে এডুকেশন বিভাগের রাহনুমা নূরাইন ও আরাফাত উল্লাহ আরমান এবং এডুকেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের হাফসা আক্তার ডিনস অ্যাওয়ার্ডের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। একই শিক্ষাবর্ষে বিজনেস স্টাডিজ অনুষদে ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের মারিয়া তাবাসসুম, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের আয়েশা সিদ্দিকা এবং ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের ডালিয়া রানী শর্মা এ সম্মাননার জন্য নির্বাচিত হয়েছেন।এ বিষয়ে নোবিপ্রবির উপ-উপাচার্য ও রিসার্চ সেলের পরিচালক ড. শফিকুল ইসলাম বলেন, “এবার সাতটি অনুষদের মোট ২২ জন শিক্ষার্থী ডিনস অ্যাওয়ার্ড পাচ্ছেন। এছাড়া গবেষণায় অবদানের জন্য তিনটি ভাইস-চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ডও প্রদান করা হবে।”

নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার ৩ নং পরকোট ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ড বাঁশতলা দুধ মিয়া সরকার বাড়ির প্রবাসী আব্দুল মোতালেব এর স্ত্রী টাকা পয়সা স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়েছে। প্রবাসী আবদুল মোতালেব অভিযোগ করে বলেন, এক প্রবাসী ছেলের সাথে তার স্ত্রী আখি আক্তার আকলিমার পরকীয়া রয়েছে। কয়েকদিন আগে ওই ছেলে দেশে আসে। গত ৭ জুন সকাল ৯ টার দিকে আখি আক্তার আকলিমা দেড় ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ দেড় লক্ষ টাকা ও প্রবাসীর আড়াই বছরের শিশু সন্তান নিয়ে পরকীয়া প্রেমিকের সাথে পালিয়ে যায়। এই ঘটনায় প্রবাসী আব্দুল মোতালেব চাটখিল থানায় অভিযোগ দিয়েছেন এবং আদালতে মামলা করার প্রস্তুতি নিয়েছেন । প্রবাসী আব্দুল মোতালেবের স্ত্রী ইতিপূর্বেও বহু অপকর্মের সাথে জড়িত ছিলেন বলে প্রাপ্ত অভিযোগে জানা গেছে। জানা যায় গত প্রায় চার বছর আগে পুর্ব পরকোট মোল্লা বাড়ির জসীমউদ্দীনের মেয়ে আখি আক্তার আকলিমা সাথে প্রবাসী আব্দুল মোতালেবের ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক বিয়ে সম্পুন্ন হয়। বিয়ের কয়েক মাস পর মোতালেব বিদেশ চলে যায়। আব্দুল মোতালেব বিদেশ যাওয়ার পর তার ঘরে একটি পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। পুত্র সন্তানের জন্মের কয়েক মাস পর আখি আক্তার কারণে-অকারণে স্বামীর সাথে ঝগড়া বিপদে লিপ্ত হয়। আব্দুল মোতালেব অভিযোগ করে বলেন, সে বিদেশ থাকাকালীন তার স্ত্রী একাধিক পুরুষের সাথে পরকীয়ায় লিপ্ত হয়। আর এ পরকীয়ার কারণে ৩বার ঘর থেকে পালিয়ে যায়। এবারও সে পরকীয়া প্রেমিকের সাথে পালিয়েছে।

নোয়াখালীর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শনে এসে বিভিন্ন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীকে তাৎক্ষণিক প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তবে এ ঘোষণার পরপরই হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং মন্ত্রীকে ঘিরে বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে মন্ত্রী বিক্ষোভকারীদের ফ্যাসিস্টের দোষর বলে আখ্যা দেন। মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, জরুরি বিভাগ ও রোগীসেবার সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ সময় হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। পরিদর্শনে চিকিৎসাসেবা, পরিচ্ছন্নতা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার চিত্র উঠে আসে বলে জানান মন্ত্রী। পরিদর্শন শেষে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ককে প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হলে হাসপাতালের বাইরে অবস্থানরত কিছু ব্যক্তি বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে নিরাপত্তার স্বার্থে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে সেখান থেকে সরে যেতে হয়। পরবর্তীতে নোয়াখালী সার্কিট হাউসে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমি হাসপাতালে এসে যে পরিস্থিতি দেখেছি, তা অত্যন্ত হতাশাজনক। এত অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে একটি হাসপাতাল পরিচালিত হতে পারে না। জনগণকে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা দিতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে নোয়াখালীর বর্তমান সিভিল সার্জনকে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যখাতের বর্তমান অবস্থা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিনের অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যেখানেই হাত দিচ্ছি, সেখানেই সমস্যা ও অনিয়মের চিত্র দেখা যাচ্ছে। তবে এসব সমস্যা রাতারাতি দূর করা সম্ভব নয়। ধাপে ধাপে সংস্কারের মাধ্যমে স্বাস্থ্যখাতকে একটি কার্যকর ও জনবান্ধব অবস্থানে ফিরিয়ে আনা হবে। এ সময় নোয়াখালী জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিন, সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ার হোসেন, জেলা পরিষদ প্রশাসক হারুন অর রশিদসহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় বিএনপির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

নোয়াখালী জেলা পুলিশের নতুন পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন জনাব এন এম নাসিরুদ্দিন। সোমবার (১৫ জুন) নোয়াখালী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে তিনি সদ্য বিদায়ী পুলিশ সুপার জনাব টি. এম. মোশাররফ হোসেনের নিকট থেকে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।দায়িত্বভার গ্রহণের পূর্বে নোয়াখালী সার্কিট হাউস প্রাঙ্গণে নবাগত পুলিশ সুপারকে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) জনাব আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন। পরে জেলা পুলিশের একটি চৌকস দল নবাগত পুলিশ সুপারকে গার্ড অব অনার প্রদান করে।অনুষ্ঠান শেষে পুলিশ সুপার জনাব এন এম নাসিরুদ্দিন জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত হন। উল্লেখ্য, জনাব এন এম নাসিরুদ্দিন ২৫তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের মাধ্যমে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন। দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে দক্ষতা, সততা ও সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।নোয়াখালী জেলায় যোগদানের আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)-তে উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর অভিজ্ঞ নেতৃত্বে নোয়াখালী জেলার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও জনসেবামূলক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।

বাইরে থেকে দেখলে সাধারণ একটি ঝুপড়ি ঘর। তবে ভেতরে প্রবেশ করলেই মিলবে ভিন্ন চিত্র। নোয়াখালীর চাটখিল পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ভীমপুর গ্রামের বেদে পল্লীতে সরকারি খাস জায়গায় গড়ে তোলা একটি কুঁড়েঘরেই চলছে কথিত রাজকীয় জীবনযাপন। সেখানে স্থাপন করা হয়েছে বিলাসবহুল এয়ারকন্ডিশনার (এসি) ও পুরো আস্তানাজুড়ে বসানো হয়েছে অত্যাধুনিক সিসিটিভি ক্যামেরা।স্থানীয়দের অভিযোগ, এই আস্তানার মূল হোতা ববিতা আক্তার সুমাইয়া (৩৫) নামে এক নারী। স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন।অভিযোগ রয়েছে,এর আগে চাটখিল থানা পুলিশ কয়েক দফায় তাকে ইয়াবাসহ আটক করে আদালতে পাঠালেও জামিনে বের হয়ে পুনরায় একই ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন।অভিযোগ অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ক্রেতাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য আস্তানার চারপাশে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। প্রযুক্তির এই অপব্যবহারের মাধ্যমে বেদে পল্লী থেকে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি হওয়ায় চাটখিলের ছাত্র ও যুবসমাজ বিপথগামী হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের। তারা এই মাদক সিন্ডিকেটের নেপথ্যে থাকা গডফাদারদের আইনের আওতায় এনে অবৈধ আস্তানা উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছেন।চাটখিল পৌরসভা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হানিফ বলেন, "একজন মাদক কারবারির কাছে পুলিশ, সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতা ও স্থানীয় মানুষ সবাই অসহায়। পুলিশ বা বহিরাগত কারও উপস্থিতি টের পেলেই তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দলবেঁধে বের হয়ে আসে। ববিতার এত ক্ষমতার উৎস খুঁজে বের করা দরকার। যারা তাকে পেছন থেকে সহযোগিতা করছে, তাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।"পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ববিতা আক্তার সুমাইয়ার বিরুদ্ধে থানায় সাতটি মাদক মামলা রয়েছে। এ পর্যন্ত ৬বার তিনি পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন। তবে প্রতিবারই জামিনে মুক্ত হয়ে পুনরায় একই কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। তাকে আটক করতে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও স্থানীয়রা হামলার শিকার হয়েছেন বলেও জানিয়েছে পুলিশ। এ বিষয়ে চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোন্নাফ বলেন, ওই নারী মাদক কারবারি। তাকে কতবার ধরে চালান দিলাম। এখন সড়ক জনপথ বিভাগের একটি জায়গা টার্গেট ছিল। সেটা না পেরে এখন নাকি নতুন করে ঘর দরজা উঠাচ্ছে। আমি আসার পর তার বিরুদ্ধে দুটি মাদকের মামলা দেওয়া হয়েছে। এর আগেও তার বিরুদ্ধে মাদকের মামলা ছিল। কিছু দিন আগেও তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তবে তার এমন বিলাসবহুল জীবনযাপনের বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় এক রাতে তিনটি বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে গেছে ডাকাত দল। পরপর তিনটি ডাকাতির ঘটনায় এলাকায় ডাকাত আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কোম্পানীগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মন্জুর আহমেদ। এর আগে, রোববার দিবাগত রাতে উপজেলার বসুরহাট পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের জামায়ের টেক এলাকার মাসুদ মিয়ার নতুন বাড়ি, বসুরহাট পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের শান্তিপাড়া এলাকার মান্নানের বাড়ি এবং চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নুরুজ্জামান পন্ডিত বাড়িতে এসব ডাকাতির ঘটনা ঘটে।স্থানীয় সূত্র জানায়, রাত প্রায় ২টার দিকে চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নুরুজ্জামান পন্ডিত বাড়িতে আবুধাবি প্রবাসী জনির বিল্ডিংয়ের লোহার দরজার লক ভেঙে ১০ থেকে ১২ জনের একটি মুখোশধারী ডাকাত দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ঘরে প্রবেশ করে। পরে পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ দুই লাখ টাকা ও দুই ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায়।এর প্রায় দেড় ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ৩টার দিকে বসুরহাট পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের জামায়ের টেক এলাকায় কাতার প্রবাসী আব্দুল হাই মাসুদের বাড়িতে হানা দেয় ডাকাত দল। তারা ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে পরিবারের সদস্যদের গলায় ছুরি ধরে ভয়ভীতি দেখিয়ে দুই ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ ৫০ হাজার টাকা লুট করে পালিয়ে যায়। একই রাতে বসুরহাট পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের শান্তিপাড়া এলাকার মান্নানের বাড়িতেও ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় ডাকাতরা ৬ আনা স্বর্ণালঙ্কার ও কিছু নগদ টাকা নিয়ে যায় বলে জানা গেছে।মন্জুর আহমেদ আরও বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ তিনটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নোয়াখালীর সেনবাগ থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে আজ ১৬ জুন ২০২৬ বিভিন্ন মামলার মোট ৪ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন একটি সিআর ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ৯নং নবীপুর ইউনিয়ন বিষ্ণুপুর ৮নং ওয়ার্ডের মো.নিজাম উদ্দিন (২৮),তিনটি জিআর ওয়ারেন্টসহ মাদক ও দস্যুতা মামলার আসামি মো.আরিফ (২০), এবং ৯নং নবীপুরের আরাফাত ফাহিম (১৭) হত্যা মামলার ৪নং আসামি মো.মমিন উল্লাহ (৫০) ও ৫ নং আসামি মো.জাহাঙ্গীর (২৪)। গ্রেফতারকৃতদের আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন। পরিদর্শনকালে হাসপাতাল পরিচালনায় ব্যর্থতার দায়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীকে ক্লোজড করা হয়। একই সঙ্গে নোয়াখালীর সিভিল সার্জন ডা.আনার হোসেনকে হাসপাতালের অস্থায়ী তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করবেন।মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুর দেড়টার দিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতালে পৌঁছে চিকিৎসাসেবা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি এবং সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা সরেজমিনে পর্যালোচনা করেন। হাসপাতালে প্রবেশের পরই তিনি হাজিরা খাতা ও ডিউটি রোস্টার যাচাই করেন। এ সময় বেশিরভাগ চিকিৎসক ও কর্মকর্তার কর্মস্থলে দেরিতে উপস্থিত হওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।মন্ত্রীর আগমনের খবর ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা তার সঙ্গে কথা বলতে ভিড় করেন। তিনি তাদের কাছ থেকে হাসপাতালের সেবার মান, ভোগান্তি এবং বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে সরাসরি অভিযোগ শোনেন। এ সময় রোগী ও স্বজনরা হাসপাতালে কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়া, দালালচক্রের সীমাহীন দৌরাত্ম্য, রোগীদের জন্য সরবরাহ করা খাবারের নিম্নমান এবং টয়লেটের অব্যবস্থাপনার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কয়েকজন স্বজন অভিযোগ করেন, হাসপাতালে বিভিন্ন সেবা পেতে উঠতে-বসতে টাকা লাগে।পরিদর্শনের একপর্যায়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ, প্যাথলজি ল্যাব, বিভিন্ন ওয়ার্ড এবং টয়লেট ঘুরে দেখেন। তিনি হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, ওষুধের মজুত এবং রোগীদের জন্য দেওয়া বিভিন্ন সেবার মানও খাবার পর্যবেক্ষণ করেন। হাসপাতালে অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা দেখে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরে তিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। মন্ত্রীর আকস্মিক উপস্থিতির পর হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে তৎপরতা বেড়ে যায়। পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা তোড়জোড় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে নেমে পড়েন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেল ৩টার দিকে মন্ত্রী হাসপাতালের সাবেক তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীর কক্ষ থেকে বের হলে তার সিন্ডিকেটের ১০০-১৫০ অনুসারী তাৎক্ষণিক হ্যান্ড মাইক নিয়ে এসে তার প্রত্যাহার বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ করে। এ সময় ধাক্কাধাক্কির মধ্যে মন্ত্রী হাসপাতাল থেকে চলে যান। রোগী ও স্বজনদের প্রত্যাশা, এই আকস্মিক পরিদর্শনের মাধ্যমে শুধু অনিয়ম চিহ্নিত করাই নয়, দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধানেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ১৭ বছর ধরে স্বৈরাচারী সরকারের শাসন ছিল। এরপর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ও প্রয়োজনীয় দক্ষতার অভাব দেখা গেছে। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার এমনকি তত্ত্বাবধায়ক সরকারও টিকাদান কার্যক্রমে যথাযথ উদ্যোগ নেয়নি। পরে অনেক কষ্ট করে টিকা সংগ্রহ করে আমরা শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছি। স্বাস্থ্য খাতে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে এমন জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সারা দেশের হাসপাতালগুলোতেই আমরা নানা সমস্যা দেখতে পাচ্ছি; যেখানে হাত দিচ্ছি, সেখানেই ভয়াবহ চিত্র সামনে আসছে। নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে এসে অমানবিক পরিস্থিতি দেখেছি। এখানে নতুন একটি ভবনের নির্মাণকাজ চলছে, তবে এর অগ্রগতি অত্যন্ত ধীরগতির। আজ যেসব অব্যবস্থাপনা আমরা দেখেছি, সেগুলোর দায় তত্ত্বাবধায়ক এড়াতে পারেন না। এ কারণেই তাকে ক্লোজড করা হয়েছে।এ সময় উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার এন. এম. নাসিরুদ্দিন, জেলা সিভিল সার্জন ডা. আনার হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা

নোয়াখালীর সেনবাগে দ্রুতগতির একটি মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে গাছের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা লেগে আপন দুই ভাই নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তাদের চাচাতো ভাই আরও একজন গুরুতর আহত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শনিবার (১৩ জুন) রাতে উপজেলার কানকিরহাট-ছাতারপাইয়া-সোনাইমুড়ী সড়কের কেশারপাড়া এলাকার মুন্সি দোকানসংলগ্ন স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- সেনবাগ উপজেলার ডমুরুয়া গ্রামের বাসিন্দা আশিক ও আরিফ। তারা দুইজনই ডমুরুয়া গ্রামের মুসলিম স্বর্ণকার বাড়ির আলমের ছেলে। একই দুর্ঘটনায় আহত হন তাদের চাচাতো ভাই শাওন। স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে আসা দুলাভাইকে বাড়িতে আনার উদ্দেশ্যে তিনজন এক সঙ্গে একটি মোটরসাইকেলে করে কানকিরহাট থেকে ছাতারপাইয়ার দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে কেশারপাড়া এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারায়। মুহূর্তের মধ্যেই সেটি সড়কের পাশে থাকা একটি গাছের সঙ্গে প্রচণ্ড জোরে ধাক্কা খায়। ধাক্কার তীব্রতায় মোটরসাইকেলে থাকা তিন আরোহীই গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে ছাতারপাইয়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আশিক ও আরিফকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত শাওনের অবস্থার অবনতি হলে তাকে পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এদিকে, আপন দুই ভাইয়ের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয়দের মাঝে চলছে শোকাহত পরিবেশ। পরিবারের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম সরকার বলেন, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুই ভাই নিহত হওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ ও কবিরহাট উপজেলার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা, লবণাক্ততা ও পানি নিষ্কাশন সংকট নিরসনে বামনী নদীতে নির্মাণাধীন ক্লোজার বাঁধের কাজ শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বাস্তবায়নাধীন ‘নোয়াখালী জেলার বামনী নদী অববাহিকার বন্যা ব্যবস্থাপনা এবং নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় নির্মিত এ অবকাঠামো সম্পন্ন হলে প্রায় ৯ লাখ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন। সরেজমিনে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে নির্মাণকাজের অগ্রগতি সম্পর্কে জানা যায়। এসময় সাধারণ মানুষেরা নির্মাণ কাজ নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, নোয়াখালীতে অতিবৃষ্টি ও জোয়ার-ভাটার প্রভাবে প্রায়ই বন্যা ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এর আগে বামনী নদীতে ১৯-ভেন্টের একটি রেগুলেটর নির্মাণ করা হলেও ক্লোজার বাঁধ না থাকায় আলগীর খাল ও নোয়াখালী খালে জোয়ার-ভাটার প্রভাব অব্যাহত ছিল। ফলে লবণাক্ত পানির অনুপ্রবেশ, কৃষিজমির ক্ষতি, ঘরবাড়ি ও সড়ক প্লাবনের মতো সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় জনগণের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এসব সমস্যা সমাধানে নোয়াখালী খালের রিকশাওয়ালা মোড় এলাকায় অস্থায়ী মাটির আড়বাঁধ নির্মাণ করা হলেও তা কার্যকর স্থায়ী সমাধান দিতে পারেনি। পরে সরকার ‘নোয়াখালী জেলার বামনী নদী অববাহিকার বন্যা ব্যবস্থাপনা এবং নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন’ প্রকল্প গ্রহণ করে। প্রকল্পের আওতায় বামনী নদীতে ক্লোজার বাঁধ নির্মাণ, নদী খনন, স্লুইসগেট নির্মাণ এবং পুরোনো বাঁধ অপসারণের কাজ চলছে। ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে পুরো প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৪১৫ মিটার দীর্ঘ ও ১০ মিটার গভীর এই ক্লোজার বাঁধ নির্মিত হলে কোম্পানীগঞ্জ ও কবিরহাট উপজেলার প্রায় ১৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকার ৯ লাখ মানুষ উপকৃত হবেন। একই সঙ্গে প্রায় ২৮০ কোটি টাকার সম্পদ সুরক্ষার আওতায় আসবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে জলাবদ্ধতা ও লবণাক্ততা হ্রাসের পাশাপাশি কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। গত ১০ মার্চ পানিসম্পদ মন্ত্রী শহিদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু যৌথভাবে প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এরপর থেকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রপার্টি ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড (পিডিএল) ও পাউবো যৌথভাবে দিন-রাত কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। প্রকল্পের কর্মকর্তারা জানান, প্রতিকূল আবহাওয়া, ভারী বর্ষণ ও তীব্র জোয়ার-ভাটার মধ্যেও নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। এ কাজে প্রয়োজনীয় জিও টিউব, জিওব্যাগ ও জিওটেক্সটাইল সরবরাহের মাধ্যমে আরএফএল জিও টেক্সটাইল গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা প্রদান করছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও লবণাক্ততার সমস্যা অনেকাংশে কমে আসবে। এতে কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার হবে। পাশাপাশি উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও দুর্যোগ সহনশীলতা বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এই প্রকল্প। নোয়াখালী-৫ (কোম্পানীগঞ্জ-কবিরহাট) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামের ছেলে জুবায়ের ইসলাম ফারুক বলেন, বামনী নদীর ক্লোজার বাঁধ এই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্নের একটি প্রকল্প। এটি বাস্তবায়িত হলে শুধু বন্যা, জলাবদ্ধতা ও লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণই হবে না, বরং এ এলাকাকে ঘিরে পর্যটনেরও নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে। কৃষি, মৎস্য ও স্থানীয় অর্থনীতির বিকাশের পাশাপাশি এই প্রকল্প ভবিষ্যতে কোম্পানীগঞ্জ ও কবিরহাটের সামগ্রিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমরা আশা করছি। প্রপার্টি ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, তীব্র জোয়ার-ভাটা ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও মাত্র তিন মাসে ক্লোজার বাঁধের মূল নির্মাণকাজ শেষ পর্যায়ে নিয়ে আসা সম্ভব হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পুরো প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। নোয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রেফাত জামিল বলেন, টেন্ডার প্রক্রিয়াসহ বিভিন্ন কারণে প্রকল্পের কিছুটা বিলম্ব হলেও জনস্বার্থে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। সাধারণত এ ধরনের কাজ পানির স্তর সর্বনিম্ন থাকাকালে ফেব্রুয়ারি মাসে বাস্তবায়ন করা হয়। কিন্তু মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের কথা বিবেচনায় নিয়ে মে-জুন মাসেই আমরা এ চ্যালেঞ্জিং কাজ হাতে নিয়েছি। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (ফেনী, লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী) অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ বলেন, বামনী নদীর ক্লোজার বাঁধ প্রকল্পটি নোয়াখালীর উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ। দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতা, লবণাক্ততা ও বন্যার কারণে ভোগান্তিতে থাকা মানুষের জন্য এটি স্থায়ী সমাধানের দ্বার উন্মোচন করবে। প্রতিকূল আবহাওয়া ও জোয়ার-ভাটার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেও প্রকল্পের কাজ সন্তোষজনক গতিতে এগিয়ে চলছে। প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে কৃষি, মৎস্য, যোগাযোগ ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। একই সঙ্গে প্রায় ৯ লাখ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং উপকূলীয় অঞ্চলের টেকসই উন্নয়নে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সবাই আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।