

জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় এ ভাষণ দেবেন তিনি। এক বার্তায় তথ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। দেশের সব সম্প্রচার মাধ্যমকে বিটিভির সৌজন্যে ভাষণটি সম্প্রচারের অনুরোধ করেছে তথ্য মন্ত্রণালয়। এর আগে, মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাকে শপথ পড়ান। একই দিন বিকেলে নতুন মন্ত্রিসভার শপথও অনুষ্ঠিত হয়।

জুলাই জাতীয় সনদ অবৈধ ও সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণার নির্দেশনা চেয়ে রিট দায়ের করা হয়েছে। রিটে জুলাই জাতীয় সনদের কার্যকারিতা স্থগিত চাওয়া হয়েছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউনুছ আলী আকন্দ জনস্বার্থে এ রিট দায়ের করেন। বিস্তারিত আসছে...

দীর্ঘ ১৮ মাসের যাত্রার ইতি টেনে বন্ধ হয়ে গেল অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিদায়ী পোস্টে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। ফেসবুক পোস্টে জানানো হয়, ‘Chief Adviser GOB (Head of the Government)’ নামের এই অফিসিয়াল পেজটি এখন থেকে আর সক্রিয় থাকবে না। ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর জনযোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে এই পেজটি খোলা হয়েছিল। বর্তমানে পেজটিতে ফলোয়ার সংখ্যা ৪৪ লাখেরও বেশি। বিদায়ী পোস্টে জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলা হয়, গত ১৮ মাস সময়কালজুড়ে সবার সহায়তা, আগ্রহ ও অংশগ্রহণের জন্য আমরা আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। আপনাদের সমর্থন, সহযোগিতা ও সমালোচনা আমাদের যাত্রাকে আরও মূল্যবান ও সমৃদ্ধ করেছে। এদিকে মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বড় পরিবর্তন সূচিত হয়েছে। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাকে শপথবাক্য পাঠ করান। একই দিন দুপুরে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরাও শপথ গ্রহণ করেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দীনের পরিচালনায় প্রথমে বিএনপি এবং পরে ১১ দলীয় জোট, স্বতন্ত্র ও অন্যান্য সংসদ সদস্যরা শপথ নেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে পাঁচটিতে জয় পাওয়ার পরও নতুন মন্ত্রিসভায় নোয়াখালীর কেউ জায়গা পাননি। এ নিয়ে বিএনপি দলীয় নেতা–কর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারী) বিকেলে নতুন মন্ত্রিপরিষদ শপথ গ্রহণের পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায়। দলীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯১ সালের পর থেকে একতরফা নির্বাচনের সময়গুলো বাদ দিলে নোয়াখালীর অধিকাংশ আসনই বিএনপির দখলে ছিল। এমনকি ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির ভরাডুবির মধ্যেও জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে চারটিতে জয় আসে। এবারের নির্বাচনেও পাঁচটি আসনে জয়ী হওয়ায় স্থানীয় নেতা–কর্মীদের মধ্যে প্রত্যাশা তৈরি হয় যে অন্তত একজন হলেও মন্ত্রিসভায় জায়গা পাবেন। তবে শেষ পর্যন্ত সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-১ আসনে এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, নোয়াখালী-২ আসনে জয়নুল আবদিন ফারুক, নোয়াখালী-৩ আসনে বরকতউল্লা বুলু, নোয়াখালী-৪ আসনে মো. শাহজাহান ও নোয়াখালী-৫ আসনে মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম জয় পেয়েচেন। শুধুমাত্র নোয়াখালী-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী পরাজিত হন এনসিপির প্রার্থীর কাছে। নোয়াখালী-২ আসনের জয়নুল আবদিন ফারুক সর্বোচ্চ ছয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। বরকতউল্লা বুলু ও মো. শাহজাহান পাঁচবার করে নির্বাচিত হয়েছেন। মাহবুব উদ্দিন খোকন দ্বিতীয়বার এবং মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। স্বাধীনতার পর থেকে প্রায় সব সরকারেই নোয়াখালীর প্রতিনিধিত্ব ছিল মন্ত্রিসভায়। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময় ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। ফলে এবারও জেলার মানুষ একই ধরনের প্রতিনিধিত্বের প্রত্যাশা করেছিলেন। জেলা সদরের শ্রীপুরের বাসিন্দা ক্রীড়া সংগঠক মো. জহীর উদ্দিন বলেন, পাঁচটি আসনে ধানের শীষের বিজয়ের পর আমরা আশা করেছিলাম, নোয়াখালীর পরীক্ষিত নেতাদের কেউ না কেউ মন্ত্রী হবেন। দেশনায়ক তারেক রহমান–এর কাছে আমাদের এ প্রত্যাশা রইল। ব্যবসায়ী আশরাফুল এজাজ বলেন, নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে মন্ত্রিসভা হয়েছে, এটি ইতিবাচক। তবে নোয়াখালী থেকে কাউকে না রাখায় আমরা আশাহত। জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন খান তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন, নোয়াখালী বরাবরই দলকে আসন দিয়েছে। এত বর্ষীয়ান নেতা থাকার পরও এবার মন্ত্রী না হওয়াটা দুঃখজনক। লন্ডনপ্রবাসী সাংবাদিক সাহেদ শফিক ফেসবুকে লিখেছেন, দুঃসময়ে রাজপথে যারা রক্ত দিয়েছেন, তাদের কেউই মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ডাক পাননি। গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ সদস্য আব্দুজ জাহের বলেন, অন্তত দুই-তিনজন মন্ত্রী হওয়ার আশা ছিল। বর্ধিত মন্ত্রিসভায় নোয়াখালীর প্রতিনিধিত্ব আশা করছি। নোয়াখালী বিভাগ, সিটি করপোরেশন ও বিমানবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়নে মন্ত্রিসভায় প্রতিনিধিত্ব প্রয়োজন। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর বলেন, হৃদয়টা অত্যন্ত ভারাক্রান্ত। আমাদের প্রতি সুবিচার করা হয়নি। নেতা–কর্মীদের ত্যাগের মূল্যায়ন হওয়া উচিত ছিল। তবে হতাশার মধ্যেও অনেকেই আশা প্রকাশ করেছেন যে নতুন মন্ত্রিসভা দক্ষতার পরিচয় দেবে এবং ভবিষ্যতে বর্ধিত মন্ত্রিসভায় নোয়াখালীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হতে পারে। স্বাধীনতার পর এই প্রথমবার মন্ত্রিসভায় নোয়াখালীর কেউ স্থান না পাওয়ায় জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা ও মূল্যায়নের দাবি উঠেছে।

নোয়াখালীতে রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের জেলা কার্যালয়ের প্রায় ১৮ মাস পর তালা ভেঙে ব্যানার টানিয়ে দিয়েছেন নেতাকর্মীরা। এ ঘটনার পর তাৎক্ষণিক ৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ। বিজ্ঞাপন বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে জেলা শহরের টাউনহল মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তালাবদ্ধ থাকা দলীয় কার্যালয়ের তালা ভেঙে সামনে ব্যানার টানানো হয়। পরে সেখানে জড়ো হয়ে স্লোগান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন নেতাকর্মীরা। প্রায় আধাঘণ্টা এই কর্মসূচি পালন করা হয়। বিজ্ঞাপন এ সময় তারা ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’, ‘এই লড়াইয়ে জিতবে কারা, বঙ্গবন্ধুর সৈনিকেরা’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। বিক্ষোভকারীরা দাবি করেন, তৃণমূল নোয়াখালীর নেতাকর্মীদের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। জানা যায়, জুলাই আন্দোলনের পর থেকে কার্যালয়টি তালাবদ্ধ ছিল। আন্দোলন চলাকালে বিক্ষুব্ধ ছাত্রজনতা কার্যালয়টিতে অগ্নিসংযোগ করলে ভবনটি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কর্মসূচি ফেসবুকে লাইভ করেন মো. জাহাঙ্গীর শেখ নামের একটা আইডি। যিনি লিখেন, আগামী দিনে দেশের স্বাধীনতার পক্ষে সব শক্তি এক সঙ্গে কাজ করব ইনশাল্লাহ। আমরা নোয়াখালী জেলা তৃণমূল আওয়ামী লীগ স্বাধীনতার পক্ষের দলের সঙ্গে কাজ করব ইনশাআল্লাহ। সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে অবগত হয়ে অভিযান পরিচালনা করি এবং জড়িত ৫ জনকে আটক করা হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে।

জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় এ ভাষণ দেবেন তিনি। এক বার্তায় তথ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। দেশের সব সম্প্রচার মাধ্যমকে বিটিভির সৌজন্যে ভাষণটি সম্প্রচারের অনুরোধ করেছে তথ্য মন্ত্রণালয়। এর আগে, মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাকে শপথ পড়ান। একই দিন বিকেলে নতুন মন্ত্রিসভার শপথও অনুষ্ঠিত হয়।

জুলাই জাতীয় সনদ অবৈধ ও সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণার নির্দেশনা চেয়ে রিট দায়ের করা হয়েছে। রিটে জুলাই জাতীয় সনদের কার্যকারিতা স্থগিত চাওয়া হয়েছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউনুছ আলী আকন্দ জনস্বার্থে এ রিট দায়ের করেন। বিস্তারিত আসছে...

দীর্ঘ ১৮ মাসের যাত্রার ইতি টেনে বন্ধ হয়ে গেল অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিদায়ী পোস্টে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। ফেসবুক পোস্টে জানানো হয়, ‘Chief Adviser GOB (Head of the Government)’ নামের এই অফিসিয়াল পেজটি এখন থেকে আর সক্রিয় থাকবে না। ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর জনযোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে এই পেজটি খোলা হয়েছিল। বর্তমানে পেজটিতে ফলোয়ার সংখ্যা ৪৪ লাখেরও বেশি। বিদায়ী পোস্টে জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলা হয়, গত ১৮ মাস সময়কালজুড়ে সবার সহায়তা, আগ্রহ ও অংশগ্রহণের জন্য আমরা আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। আপনাদের সমর্থন, সহযোগিতা ও সমালোচনা আমাদের যাত্রাকে আরও মূল্যবান ও সমৃদ্ধ করেছে। এদিকে মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বড় পরিবর্তন সূচিত হয়েছে। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাকে শপথবাক্য পাঠ করান। একই দিন দুপুরে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরাও শপথ গ্রহণ করেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দীনের পরিচালনায় প্রথমে বিএনপি এবং পরে ১১ দলীয় জোট, স্বতন্ত্র ও অন্যান্য সংসদ সদস্যরা শপথ নেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে পাঁচটিতে জয় পাওয়ার পরও নতুন মন্ত্রিসভায় নোয়াখালীর কেউ জায়গা পাননি। এ নিয়ে বিএনপি দলীয় নেতা–কর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারী) বিকেলে নতুন মন্ত্রিপরিষদ শপথ গ্রহণের পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায়। দলীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯১ সালের পর থেকে একতরফা নির্বাচনের সময়গুলো বাদ দিলে নোয়াখালীর অধিকাংশ আসনই বিএনপির দখলে ছিল। এমনকি ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির ভরাডুবির মধ্যেও জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে চারটিতে জয় আসে। এবারের নির্বাচনেও পাঁচটি আসনে জয়ী হওয়ায় স্থানীয় নেতা–কর্মীদের মধ্যে প্রত্যাশা তৈরি হয় যে অন্তত একজন হলেও মন্ত্রিসভায় জায়গা পাবেন। তবে শেষ পর্যন্ত সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-১ আসনে এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, নোয়াখালী-২ আসনে জয়নুল আবদিন ফারুক, নোয়াখালী-৩ আসনে বরকতউল্লা বুলু, নোয়াখালী-৪ আসনে মো. শাহজাহান ও নোয়াখালী-৫ আসনে মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম জয় পেয়েচেন। শুধুমাত্র নোয়াখালী-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী পরাজিত হন এনসিপির প্রার্থীর কাছে। নোয়াখালী-২ আসনের জয়নুল আবদিন ফারুক সর্বোচ্চ ছয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। বরকতউল্লা বুলু ও মো. শাহজাহান পাঁচবার করে নির্বাচিত হয়েছেন। মাহবুব উদ্দিন খোকন দ্বিতীয়বার এবং মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। স্বাধীনতার পর থেকে প্রায় সব সরকারেই নোয়াখালীর প্রতিনিধিত্ব ছিল মন্ত্রিসভায়। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময় ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। ফলে এবারও জেলার মানুষ একই ধরনের প্রতিনিধিত্বের প্রত্যাশা করেছিলেন। জেলা সদরের শ্রীপুরের বাসিন্দা ক্রীড়া সংগঠক মো. জহীর উদ্দিন বলেন, পাঁচটি আসনে ধানের শীষের বিজয়ের পর আমরা আশা করেছিলাম, নোয়াখালীর পরীক্ষিত নেতাদের কেউ না কেউ মন্ত্রী হবেন। দেশনায়ক তারেক রহমান–এর কাছে আমাদের এ প্রত্যাশা রইল। ব্যবসায়ী আশরাফুল এজাজ বলেন, নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে মন্ত্রিসভা হয়েছে, এটি ইতিবাচক। তবে নোয়াখালী থেকে কাউকে না রাখায় আমরা আশাহত। জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন খান তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন, নোয়াখালী বরাবরই দলকে আসন দিয়েছে। এত বর্ষীয়ান নেতা থাকার পরও এবার মন্ত্রী না হওয়াটা দুঃখজনক। লন্ডনপ্রবাসী সাংবাদিক সাহেদ শফিক ফেসবুকে লিখেছেন, দুঃসময়ে রাজপথে যারা রক্ত দিয়েছেন, তাদের কেউই মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ডাক পাননি। গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ সদস্য আব্দুজ জাহের বলেন, অন্তত দুই-তিনজন মন্ত্রী হওয়ার আশা ছিল। বর্ধিত মন্ত্রিসভায় নোয়াখালীর প্রতিনিধিত্ব আশা করছি। নোয়াখালী বিভাগ, সিটি করপোরেশন ও বিমানবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়নে মন্ত্রিসভায় প্রতিনিধিত্ব প্রয়োজন। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর বলেন, হৃদয়টা অত্যন্ত ভারাক্রান্ত। আমাদের প্রতি সুবিচার করা হয়নি। নেতা–কর্মীদের ত্যাগের মূল্যায়ন হওয়া উচিত ছিল। তবে হতাশার মধ্যেও অনেকেই আশা প্রকাশ করেছেন যে নতুন মন্ত্রিসভা দক্ষতার পরিচয় দেবে এবং ভবিষ্যতে বর্ধিত মন্ত্রিসভায় নোয়াখালীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হতে পারে। স্বাধীনতার পর এই প্রথমবার মন্ত্রিসভায় নোয়াখালীর কেউ স্থান না পাওয়ায় জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা ও মূল্যায়নের দাবি উঠেছে।

নোয়াখালীতে রাজনীতি নিষিদ্ধ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জেলা কার্যালয়ের তালা ভেঙে ব্যানার টানিয়ে দিয়েছেন নেতাকর্মীরা। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে জেলা শহরের টাউনহল মোড়ে অবস্থিত এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তালাবদ্ধ থাকা দলীয় কার্যালয়ের তালা ভেঙে সামনে ব্যানার টানানো হয়। পরে সেখানে জড়ো হয়ে স্লোগান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন নেতাকর্মীরা। প্রায় আধাঘণ্টা এই কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় তারা ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’, ‘এই লড়াইয়ে জিতবে কারা, ‘বঙ্গবন্ধুর সৈনিকেরা’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। বিক্ষোভকারীরা দাবি করেন, তৃণমূল নোয়াখালীর নেতাকর্মীদের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। জানা যায়, জুলাই আন্দোলনের পর থেকে কার্যালয়টি তালাবদ্ধ ছিল। আন্দোলন চলাকালে বিক্ষুব্ধ ছাত্রজনতা কার্যালয়টিতে অগ্নিসংযোগ করলে ভবনটি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কর্মসূচি ফেসবুকে লাইভ করেন মো. জাহাঙ্গীর শেখ নামের একটা আইডি। যিনি লিখেন, আগামী দিনে দেশের স্বাধীনতার পক্ষে সব শক্তি এক সঙ্গে কাজ করব ইনশাল্লাহ, আমরা নোয়াখালী জেলা তৃণমূল আওয়ামী লীগ স্বাধীনতার পক্ষের দলের সঙ্গে কাজ করব ইনশাআল্লাহ,,, সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমার জানা নাই। এ বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছি। কে বা কারা করেছে তা দেখে পরবর্তীতে জানাতে পারব।

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় মধ্যরাতে এক ছাত্রদল নেতার বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ৩টার দিকে উপজেলার চানন্দী ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের নলেরচর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ উঠেছে, দুর্বৃত্তরা উপজেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক পদপ্রার্থী ও ছাত্রদলের নোয়াখালী জেলা শাখার সাবেক সহ-নাট্য বিষয়ক সম্পাদক ইয়াসিন আলী সুজনের বাড়িতে আগুন দেয়। ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, সুজনের বাবা মো. বেলাল মিয়া ওই বাড়িতে বসবাস করতেন এবং কৃষি কাজ করতেন। তবে ঘটনার সময় তারা বয়ারচরে অন্য একটি বাড়িতে অবস্থান করায় প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়। আগুনে বসতঘরের বিভিন্ন আসবাবপত্র ও কাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ইয়াসিন আলী সুজন বলেন, হাতিয়ার প্রকল্প বাজার এলাকায় শাপলা কলিতে ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ে। আমি প্রকাশ্যে বলেছি, অভিযোগটি মিথ্যা। পরে বিষয়টি মিথ্যা প্রমাণিত হয়। এর জেরে সন্ত্রাসীরা আমার বাড়ির গেটে তালা দিয়ে আগুন লাগিয়ে দেয়। তিনি দাবি করেন, একটি নবগঠিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালিয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কারও বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক মামলা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। হাতিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আলাউদ্দিন বলেন, নির্বাচনের পর থেকে এলাকায় একের পর এক সহিংস ঘটনা ঘটছে। আমাদের শান্ত হাতিয়াকে অশান্ত করে তোলা হচ্ছে। আগুন সন্ত্রাস কোনো দলের জন্যই কাম্য নয়। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। এদিকে হাতিয়া উপজেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক শামসুল ব্রিজের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ভুক্তভোগী পরিবার লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিঝুম দ্বীপে মিলল বিরল প্রজাতির মিল্ক ফিশ নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার নিঝুম দ্বীপ এলাকায় বিরল প্রজাতির প্রায় ২ কেজি ওজনের একটি মিল্ক ফিশ পাওয়া গেছে। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. হারুন অর রশিদ। জানা গেছে, রোববার সকালে হাতিয়া উপজেলার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আগমনী কিল্লা এলাকার একটি পুকুরে মাছটি পান স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী মো. আব্দুল মান্নান। মৎস্য ব্যবসায়ী আব্দুল মান্নানের জামাই আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, এমন মাছ আমরা আগে কখনও দেখিনি। মাছটি নিয়ে আত্মীয়স্বজনদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়। স্থানীয় ইউপি সদস্য কেফায়েত উদ্দিন বলেন, আমাদের এলাকায় এমন মাছ আগে কখনও দেখা যায়নি। বিষয়টি জানার পর এলাকাবাসীর মধ্যে বেশ আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে ওই পুকুরে প্রতি বছর ইলিশ মাছ পাওয়া যায়। মো. আব্দুল মান্নান বলেন, সকালবেলা পুকুরে মাছটি দেখতে পাই। প্রথমে বুঝতে পারিনি এটি কী ধরনের মাছ। পরে সবাই বলছে, এটি মিল্ক ফিশ। আমার আত্মীয় স্বজন ছিল সবাইকে নিয়ে রান্না করে খেয়েছি। খুব সুস্বাদু এবং কিছুটা লবনাক্ত ভাব রয়েছে। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. হারুন অর রশিদ বলেন, মিল্ক ফিশ (চ্যানোস চ্যানোস) রশ্মিযুক্ত মাছের একটি বিস্তৃত প্রজাতি, যা সাধারণত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে পাওয়া যায়। এটি Chanidae পরিবারের একমাত্র জীবিত প্রজাতি এবং Chanos গণেরও একমাত্র সদস্য। সাধারণত চীন, কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশে এ মাছের উপস্থিতি দেখা যায়। নোয়াখালী জেলায় সম্ভবত এটিই প্রথমবারের মতো মিল্ক ফিশ শনাক্ত হলো, তাও আবার একটি পুকুরে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করব। চাঁদপুর মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক মুখ্য ইলিশ গবেষক ড. আনিসুর রহমান বলেন, এটি একটি আশাব্যঞ্জক খবর। আমি ওই পুকুরটি আগে দেখেছি, সেখানে ইলিশ মাছও পাওয়া যায়। ধারণা করা হচ্ছে, জোয়ারের পানির সঙ্গে এই মিল্ক ফিশটি পুকুরে প্রবেশ করেছে। উপকূলীয় এলাকায় এমন বিরল প্রজাতির মাছ পাওয়া পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত বহন করে।

পুরো রমজান মাসে সরকারি-বেসরকারি নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক স্কুল বন্ধ রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. ইলিয়াস আলী মন্ডল, অ্যাডভোকেট তানজিনা ববি লিজা। এর আগে পবিত্র রমজান মাসে স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. ইলিয়াছ আলী মন্ডল হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট দায়ের করেন। গত ৫ জানুয়ারি পবিত্র রমজানে স্কুল বন্ধ রাখতে সরকারকে আইনি নোটিশ দেন সুপ্রিম কোর্টের ওই আইনজীবী। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবকে এই নোটিশ পাঠান তিনি। নোটিশে বলা হয়, বাংলাদেশের ৯৮ শতাংশ নাগরিক মুসলমান। বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর থেকে রমজান মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে— এটিই আইন, প্রথা ও নীতি এবং ওইভাবে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রমজান মাসে বন্ধ থাকে। সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, আইন ছাড়া কিছুই করা যাবে না, অনুচ্ছেদ ১৫২(১) অনুযায়ী আইন অর্থ বাংলাদেশে আইনের ক্ষমতা সম্পন্ন যেকোনো প্রথা ও রীতি। তাই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় রমজান মাসে খোলা রাখার সরকারের তর্কিত সিদ্ধান্ত অসাংবিধানিক। নোটিশে আরও বলা হয়, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলের কোমলমতি শিশু-কিশোররা সারাদিন স্কুলে যাতায়াত করে, ক্লাস করে ক্লান্ত হয়ে রোজা রাখতে কষ্টের সম্মুখীন হয়ে রোজা রাখার অভ্যাস থেকে দূরে থাকার সম্ভাব্না দেখা দেয়। যা ধর্মীয় আচার চর্চার অন্তরায়। এ ছাড়া রমজান মাসে স্কুল চালু রাখলে শহরগুলোতে তীব্র জানযটের সৃষ্টি হয়, যাতে নগরবাসীকে চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হয়, যা কারও কাম্য নয়। নোটিশের জবাব না পাওয়ায় এ রিট দায়ের করা হয়।

জনপ্রিয় কৌতুক অভিনেতা হারুন কিসিঞ্জারের মৃত্যুর খবরটি সম্পূর্ণ গুজব বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাত থেকে ফেসবুক ও টিকটকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ভক্তদের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়। তবে এই অভিনেতা বর্তমানে জীবিত আছেন এবং রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, হারুন কিসিঞ্জার দীর্ঘদিন ধরে নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত জটিলতায় ভুগছেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে গত কয়েকদিনের তুলনায় এখন তিনি অনেকটা সুস্থ। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী সব ঠিক থাকলে আগামী দুই-একদিনের মধ্যেই তিনি বাসায় ফিরতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে। বাবার মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হারুন কিসিঞ্জারের ছেলে রুবেল খন্দকার। রোববার রাতে এক ফেসবুক পোস্টে তিনি একে 'নোংরা গুজব' বলে অভিহিত করেন। রুবেল লিখেছেন, কিছু অসাধু ও সস্তা ভিউ-লোভী মানুষ আমার আব্বুর মৃত্যু নিয়ে মিথ্যে সংবাদ প্রচার করছে। অসুস্থতা নিয়ে যারা ব্যবসা করে, তারা সমাজের আবর্জনা। তিনি আরও জানান, তার বাবা এখন আগের চেয়ে সুস্থ আছেন। একইসাথে এই ধরনের সংবেদনশীল বিষয়ে গুজব রটনাকারীদের শনাক্ত করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের আওতায় কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি। নব্বই দশকের জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ও টেলিভিশন নাটকে স্বতন্ত্র কৌতুকাভিনয়ের মাধ্যমে দেশজুড়ে পরিচিতি পান হারুন কিসিঞ্জার। ছোট পর্দার পাশাপাশি বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রেও তাকে দেখা গেছে। দীর্ঘদিন অভিনয়ে অনিয়মিত থাকলেও তার হাস্যরসাত্মক সংলাপ ও স্বতঃস্ফূর্ত অভিনয় এখনো দর্শকদের মনে গেঁথে আছে।

নোয়াখালীর হাতিয়ায় ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে যৌন নির্যাতনের শিকার নারীর সঙ্গে মোবাইলফোনে কথা বলেছেন সরকারের দুই উপদেষ্টা। তারা হলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন, তথ্য ও সম্প্রচার এবং পানিসম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আকতার। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নোয়াখালীর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ভুক্তভোগীকে (৩২) ফোন করে তার খোঁজখবর নেন উপদেষ্টাদ্বয়। এসময় ওই নারীকে আইনি সহায়তার আশ্বাস দেন তারা। সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, দুপুরে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে দুই নারী উপদেষ্টা ফোন করে হাসপাতালে ভর্তি নারীর খোঁজখবর নেন। এসময় উপদেষ্টারা ওই নারীর শারীরিক খোঁজখবর নেন এবং তাকে সর্বাত্মক আইনি সহায়তার আশ্বাস দেন। ভুক্তভোগী নারী বলেন, ‘দুই উপদেষ্টা আমার সঙ্গে সুন্দর করে কথা বলেছেন। আমার এত কষ্টের মাঝেও একটু শান্তি লাগছে। উপদেষ্টারা বলেছেন, আমি যেন মনোবল না হারাই। তারা আমাকে আইনি সহায়তাসহ সব ধরনের সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন। সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলো আন্তরিকতায় আমি স্বস্তি পাচ্ছি।’ এর আগে হাতিয়ার চানন্দি ইউনিয়নের ৩২ বছর বয়সী ওই নারী দাবি করেন, নির্বাচনে শাপলা কলিতে ভোট দেওয়ায় শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টায় স্থানীয় কয়েকজন যুবক তাকে ও তার স্বামীকে পিটিয়ে জখম করেন। এসময় তার স্বামীকে কক্ষে বেঁধে রেখে গোসলখানায় নিয়ে আবদুর রহমান নামের এক ব্যক্তি ওই নারীকে ধর্ষণ করেছেন। পরে শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তাকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিলে ভর্তি করা হয়। হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম বলেন, ‘আমরা এখনো এ ব্যাপারে কোনো অভিযোগ পাইনি। তবে স্থানীয়ভাবে তদন্ত করে শুক্রবার রাতে ও শনিবার সকালে এনসিপি ও বিএনপি কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের প্রমাণ পাওয়া গেছে। অভিযোগ পেলে অধিকতর তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

নবনির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর যখন নির্দেশনা দেবে, তখনই সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফিরে যাবে বলে জানিয়েছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। নির্বাচনের জন্য যে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছিল, তাদের সংখ্যা কমানো হয়েছে বলে তিনি জানান। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সিএএস দরবারে সেনাবাহিনীর সব পদমর্যাদার সদস্যের উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে সেনাপ্রধান এসব কথা বলেন। এতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত সদস্যরাও ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন। অনুষ্ঠানে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের সময় সেনাসদস্যদের চমৎকার দায়িত্বশীলতা ও দক্ষতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন সেনাপ্রধান। সেনাপ্রধান বলেন, ‘দেশ গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে এসেছে এবং সেনাবাহিনী তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছে। জনগণের স্বার্থে যা করণীয় ছিল, তা সম্পন্ন করা হয়েছে। সেনাবাহিনী এখন নতুন সরকারের নির্দেশনার অপেক্ষায় থাকবে। সরকারের নির্দেশনা পেলেই তারা ব্যারাকে ফিরে যাবে। নির্বাচনের সময় অতিরিক্ত যে ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছিল, তা ইতোমধ্যে তুলে নেওয়া হয়েছে।’ ভাষণে সেনাপ্রধান ইউনিট প্রধানদের চেইন অব কমান্ড বজায় রাখার ওপর জোর দেন। পাশাপাশি সেনাসদস্যদের মনোবল দৃঢ় রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা দেন। ভুল ও মিথ্যা তথ্যের বিষয়ে সতর্ক এবং সচেতন থাকতে সেনাসদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।