

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে মো. আলমগীর হোসেন ফরাজী (৪৫) নামে জামায়াতের সাবেক এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেন বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান। তিনি জানান, শনিবার রাত সোয়া ১১টার দিকে উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম খানপুর গ্রামের ফরাজী বাড়ি থেকে আলমগীরকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার আলমগীর শরীফপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সাবেক বায়তুল মাল সম্পাদক, সেক্রেটারি ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি একই ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ফরাজী বাড়ির মৃত ইউনুছ আলীর ছেলে। মামলা ও ভুক্তভোগী পরিবারের সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশু স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র। গত ১৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে মাথাব্যথা হওয়ায় সে বাবুনগর এলাকার হাসানহাট বাজারে আলমগীরের ওষুধের দোকানে যায়। আলমগীর ওষুধ বিক্রির পাশাপাশি ঝাড়ফুঁক করেন। শিশুটির বাবার অভিযোগ, মাথাব্যথা ঝাড়ফুঁক করলে ভালো হয়ে যাবে বলে আলমগীর শিশুটিকে দোকানের পেছনের একটি কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে শিশুটিকে বলাৎকার করা হয়। এ ঘটনা কাউকে জানালে প্রাণে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। পরে শিশুটি শরীরে ব্যথা অনুভব করলে পরিবারের সদস্যরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে শিশুটি পরিবারের কাছে ঘটনার বিস্তারিত জানায়। শরীফপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি মোজাম্মেল হোসেন কালবেলাকে জানান, আলমগীর জামায়াতের সাথে সম্পৃক্ত থাকলেও ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর থেকে ক্রমান্বয়ে নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয়ায় উনার সঙ্গে সংগঠনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। এর আগে ওয়ার্ড পর্যায়ে তিনি কিছু দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি পুরোপুরি নিষ্ক্রিয়। দলের সাথে উনার কোনো রকমের সম্পর্ক নেই এবং দলীয় কোনো কার্যক্রমের সঙ্গে তিনি সম্পৃক্ত নন। তবে অভিযুক্ত আলমগীরের দাবি তুলে ধরে মোজাম্মেল হোসেন বলেন, ঝাড়ফুঁকের কাজ করতে গিয়ে রতন নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে আলমগীরের বিরোধ তৈরি হয়। টাকা দাবি করে না পাওয়ায় তার বিরুদ্ধে কথা বলানো হচ্ছে। পরে ওই শিশুর পরিবারকে উসকানি দিয়ে মামলা করানো হয়েছে বলে আলমগীর দাবি করেছে। বেগমগঞ্জ থানার ওসি মো. শামসুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় শিশুটির বাবা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন। ওই মামলায় আলমগীরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে নোয়াখালী চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। শিশুটির মেডিকেল চেকআপের জন্য হাসপাতালে পাঠানো করা হয়েছে। মেডিকেল রিপোর্টের আলোকে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে প্রশাসন পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

অপ্রতিমকে হত্যার ঘটনায় তার মায়ের আইফোনটি অভিযুক্ত তুহিনের বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। গণমাধ্যমের কাছে এরই মধ্যে হত্যায় অভিযুক্ত তুহিনের মা বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এমনকি তিনি ঘটনার দিন তুহিনের গতিবিধিও জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আইফোনটি তুহিনের ঘরের বিছানার নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়। সাদা পোশাকে একদল পুলিশ সদস্য আমার ছেলেকে (তুহিন) সঙ্গে নিয়ে এসে তার ঘরে তল্লাশি চালিয়ে আইফোনটি উদ্ধার করে। এ সময় মোবাইল ফোনটি একটি কালো শপিং ব্যাগের মধ্যে ছিল। ঘটনার দিনের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, গত শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর খাওয়া-দাওয়া শেষে তুহিন ঘর থেকে বের হন। এরপর বিকালে তিনি আবার বাসায় ফিরে আসেন বলেও জানান অভিযুক্ত তুহিনের মা। ঘটনার দিন তুহিনের গতিবিধি কেমন ছিল জানালেন মা যদিও সন্ধ্যার কিছু সময় পর সে আবারও বাসা থেকে বের হয়েছিলেন বলেও দাবি করেন অভিযুক্ত তুহিনের মা। পরে তুহিন রাত ৯টার দিকে ঘরে ফিরে আসেন। এরপর রাতে তিনি ঘুমিয়েও পড়েন। অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডে আটকের আগে আনাসের করা পোস্ট ঘিরে তোলপাড় পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত অপ্রতিমের মুঠোফোনের অবস্থান গন্ধমতী এলাকায় শনাক্ত করা হয়েছিল। এরপর ফোনটির আর কোনো অবস্থান পাওয়া যায়নি। অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসহ আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে পুলিশ। ফুটেজে অপ্রতিমের সঙ্গে তুহিনকে দেখা যায়। পরবর্তীকালে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আনাসকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। সর্বশেষ ফাহিম আহমেদসহ আরও দুজনকে আটক করা হয়েছে। অপ্রতিম স্থানীয় বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে ড. নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান। এদিকে অপ্রতিমের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের শনাক্ত ও দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবিতে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন। তারা ১২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন এবং দাবি পূরণ না হলে বিশ্ববিদ্যালয় অচল করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ, সিসিটিভি ফুটেজ, মুঠোফোনের তথ্যসহ বিভিন্ন আলামত যাচাই করে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে। কোটবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক জানান, অপ্রতিমের মৃত্যুর ঘটনায় বিভিন্ন তথ্য যাচাই ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আটকদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য এবং অন্যান্য আলামত যাচাই করে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে

নোয়াখালী-৩ (বেগমগঞ্জ) আসনের এমপি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু বলেছেন, সাংবাদিকতা হলো সমাজের দর্পন এবং মানবিক পেশা। তাই এই পেশাকে খাটো করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচার করলে দেশ, জাতি, সমাজ, গণতন্ত্র, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব এবং রাষ্ট্রের উন্নয়ন হবে। তবে কিছু অশিক্ষিত এবং অভাবী লোক এ পেশায় এসে পেশার ভাবমূর্তি বিনষ্ট করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হচ্ছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নোয়াখালী টিভি সাংবাদিক ফোরাম কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন এমপি বুলু। তিনি আরও বলেন, আপনারা যারা পেশাদার সাংবাদিক, আপনাদেরকে সঠিক সাংবাদিকতার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার সাথে সাথে অপসাংবাদিকতা রোধেও সোচ্চার থাকতে হবে। নতুবা গুটিকয়েক সাংবাদিকের কারণে আপনাদের কর্ম এবং অর্জন বিফলে যাবে। তিনি আরও বলেন, ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্র ক্ষমতায় শেখ হাসিনার শাসনামল তেমন একটা খারাপ ছিল না। কারণ সে তো শেখ মুজিবুর রহমানের মেয়ে ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে তার পতন হয়েছে কিছু অতি উৎসাহী চাটুকার সাংবাদিক, হাইব্রিড আওয়ামী লীগ ও ব্যবসায়ীদের কারণে। এসময় আরও বক্তব্য রাখেন নোয়াখালী জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য শামীমা বরকত লাকী, বেগমগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কামাক্ষ্যা চন্দ্র দাস, চৌমুহনী পৌর বিএনপির আহ্বায়ক জহির উদ্দিন হারুন, নোয়াখালী টিভি সাংবাদিক ফোরামের কার্যকরী সভাপতি তাজুল ইসলাম মানিক ভুইয়া, যুগ্ম সম্পাদক ইয়াকুব নবী ইমনসহ আরও অনেকে।
বেগমগঞ্জ থানাধীন ০৯ নং মীর ওয়ারিশপুর ইউনিয়নস্থ ০৯ নং ওয়ার্ডের কেন্দুরবাগ সাকিনে ধৃত আসামী মোঃ মাসুম (২৯) এর বসত বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে মাদক সেবন কারী মোঃ মাসুম (২৯), পিতা-গিয়াস উদ্দিন, মাতা-পারভিন আক্তার, সাং-কেন্দুরবাগ (করিম উদ্দিন ভুইয়া বাড়ি), ০৯ নং ওয়ার্ড, ০৯ নং মীর ওয়ারিশপুর ইউপি, থানা-বেগমগঞ্জ, জেলা-নোয়াখালী'কে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করিলে আসামীকে ১৫ দিন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ (পঞ্চাশ) টাকা করে জরিমান করেন।

নোয়াখালী সদর উপজেলায় অটোরিকশায় চার্জ দেওয়ার সময় বিদ্যুৎস্পর্শে মো. বোরহান উদ্দিন ওরফে রিপন (২৮) নামের এক ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার নোয়াখালী ইউনিয়নের পূর্ব চর উরিয়া গ্রামের হোরন মিয়ার রিকশা গ্যারেজে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত রিপন ওই গ্রামের মো. মিলনের ছেলে। তিনি পেশায় একজন অটোরিকশাচালক ছিলেন। পুলিশ জানায়, সারাদিন অটোরিকশা চালানোর পর রাতে গ্যারেজে ফিরে রিপন নিজের অটোরিকশায় চার্জ দিচ্ছিলেন। এ সময় অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পর্শে গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সোনাপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) কাউচারউজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বিয়ের আশ্বাসে এক নারীকে দুবাইয়ে নিয়ে ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা করার অভিযোগ উঠেছে প্রবাসী মো. বাহারের বিরুদ্ধে। বর্তমানে ওই নারীর সাত মাস বয়সী সন্তান অসুস্থ হয়ে পড়লেও অভিযুক্ত ব্যক্তি কোনো খোঁজখবর নিচ্ছেন না বলেও দাবি করেছেন ভুক্তভোগী নারী। অভিযুক্ত প্রবাসী বাহার নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চর আমান উল্লাহ ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের মসজিদ মার্কেট এলাকার বাসিন্দা। ভুক্তভোগী আসমা আক্তার মুক্তার অভিযোগ, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন বাহার। একপর্যায়ে তাকে বিয়ে করার কথা বলে দুবাই নিয়ে যান। সেখানে দিনের পর দিন তার সঙ্গে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা হয়। বাহার তাকে স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দিলেও আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে করেননি বলেও অভিযোগ করেন মুক্তা। তিনি আরও জানান, একপর্যায়ে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে বিষয়টি গোপন রাখতে তাকে গর্ভের সন্তান নষ্ট করার জন্য চাপ দেওয়া হয়। পরে তাকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। দেশে ফেরার পর বাহার মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্লক করে দেন বলেও অভিযোগ করেন মুক্তা। তার দাবি, বর্তমানে তার সন্তানের বয়স সাত মাস। সন্তান অসুস্থ হওয়ায় তার চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে তিনি চরম অসহায় অবস্থায় রয়েছেন। বাহারের আর্থিক সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও তার ও সন্তানের কোনো খোঁজ নিচ্ছেন না এবং চিকিৎসার দায়িত্বও নিচ্ছেন না। ভুক্তভোগী আরও দাবি করেন, তিনি সুবর্ণচরে বাহারের বাড়িতে আসার চেষ্টা করলে তাকে হত্যার জন্য ১৪ লাখ টাকার চুক্তি করা হয়েছে বলে জানতে পারেন। এ কারণে নিরাপত্তার আশঙ্কায় তিনি সুবর্ণচরে না এসে বর্তমানে বাগেরহাটে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন। তিনি বলেন, ‘আমি আমার সন্তানের বাবার স্বীকৃতি চাই। প্রয়োজনে ডিএনএ পরীক্ষা করা হোক। সত্য প্রকাশ পাক। আমার সন্তান যেন ভবিষ্যতে বাবার পরিচয় নিয়ে কোনো সংকটে না পড়ে, সেটিই আমার দাবি। আমি ন্যায়বিচার ও আইনগত ব্যবস্থা চাই।’ ভুক্তভোগীর অভিযোগ, বাহার তাকে ১২ লাখ টাকা দিয়ে বিষয়টি মীমাংসার প্রস্তাব দিলেও সন্তানের দায়িত্ব নিতে রাজি হননি। তবে এ বিষয়ে কোনো লিখিত সমঝোতা বা অর্থ লেনদেন হয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এদিকে বাহারের প্রথম স্ত্রী বলে পরিচয় দেওয়া এক নারীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগগুলো নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তার বক্তব্য, তার স্বামীর সঙ্গে ওই নারীর সম্পর্কের জন্য ওই নারীই দায়ী এবং এসব অভিযোগের মাধ্যমে তার সংসারে সমস্যা তৈরি করা হচ্ছে। একপর্যায়ে তিনি এ বিষয়ে সুবর্ণচর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক হোসেন সুমনের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। অন্যদিকে স্থানীয়ভাবে প্রবাসী বাহার একজন সমাজসেবী হিসেবে পরিচিত বলে জানা গেছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক কার্যক্রমে বিদেশ থেকে সহযোগিতা এনে দেওয়ার কারণে স্থানীয়দের অনেকে তাকে দাতা হিসেবে পরিচয় দেন। বাহারের প্রতিবেশী ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে কথা বললে তারা বিষয়টি সম্পর্কে শুনেছেন বলে জানান। তবে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য তাদের জানা নেই বলে দাবি করেন তারা। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে তারা ঘটনার নিন্দা জানানোসহ এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। অভিযোগের বিষয়ে প্রবাসী বাহারের সঙ্গে মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন মাধ্যমে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে। ভুক্তভোগী আসমা আক্তার মুক্তা বর্তমানে বাগেরহাটে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন। সন্তানের ভবিষ্যৎ, পিতৃপরিচয় ও চিকিৎসা নিয়ে তিনি উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন বলে জানান। তিনি বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন, সন্তানের পিতৃপরিচয় নিশ্চিত করা এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে মো. আলমগীর হোসেন ফরাজী (৪৫) নামে জামায়াতের সাবেক এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেন বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান। তিনি জানান, শনিবার রাত সোয়া ১১টার দিকে উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম খানপুর গ্রামের ফরাজী বাড়ি থেকে আলমগীরকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার আলমগীর শরীফপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সাবেক বায়তুল মাল সম্পাদক, সেক্রেটারি ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি একই ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ফরাজী বাড়ির মৃত ইউনুছ আলীর ছেলে। মামলা ও ভুক্তভোগী পরিবারের সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশু স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র। গত ১৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে মাথাব্যথা হওয়ায় সে বাবুনগর এলাকার হাসানহাট বাজারে আলমগীরের ওষুধের দোকানে যায়। আলমগীর ওষুধ বিক্রির পাশাপাশি ঝাড়ফুঁক করেন। শিশুটির বাবার অভিযোগ, মাথাব্যথা ঝাড়ফুঁক করলে ভালো হয়ে যাবে বলে আলমগীর শিশুটিকে দোকানের পেছনের একটি কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে শিশুটিকে বলাৎকার করা হয়। এ ঘটনা কাউকে জানালে প্রাণে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। পরে শিশুটি শরীরে ব্যথা অনুভব করলে পরিবারের সদস্যরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে শিশুটি পরিবারের কাছে ঘটনার বিস্তারিত জানায়। শরীফপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি মোজাম্মেল হোসেন কালবেলাকে জানান, আলমগীর জামায়াতের সাথে সম্পৃক্ত থাকলেও ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর থেকে ক্রমান্বয়ে নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয়ায় উনার সঙ্গে সংগঠনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। এর আগে ওয়ার্ড পর্যায়ে তিনি কিছু দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি পুরোপুরি নিষ্ক্রিয়। দলের সাথে উনার কোনো রকমের সম্পর্ক নেই এবং দলীয় কোনো কার্যক্রমের সঙ্গে তিনি সম্পৃক্ত নন। তবে অভিযুক্ত আলমগীরের দাবি তুলে ধরে মোজাম্মেল হোসেন বলেন, ঝাড়ফুঁকের কাজ করতে গিয়ে রতন নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে আলমগীরের বিরোধ তৈরি হয়। টাকা দাবি করে না পাওয়ায় তার বিরুদ্ধে কথা বলানো হচ্ছে। পরে ওই শিশুর পরিবারকে উসকানি দিয়ে মামলা করানো হয়েছে বলে আলমগীর দাবি করেছে। বেগমগঞ্জ থানার ওসি মো. শামসুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় শিশুটির বাবা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন। ওই মামলায় আলমগীরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে নোয়াখালী চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। শিশুটির মেডিকেল চেকআপের জন্য হাসপাতালে পাঠানো করা হয়েছে। মেডিকেল রিপোর্টের আলোকে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে প্রশাসন পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

অপ্রতিমকে হত্যার ঘটনায় তার মায়ের আইফোনটি অভিযুক্ত তুহিনের বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। গণমাধ্যমের কাছে এরই মধ্যে হত্যায় অভিযুক্ত তুহিনের মা বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এমনকি তিনি ঘটনার দিন তুহিনের গতিবিধিও জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আইফোনটি তুহিনের ঘরের বিছানার নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়। সাদা পোশাকে একদল পুলিশ সদস্য আমার ছেলেকে (তুহিন) সঙ্গে নিয়ে এসে তার ঘরে তল্লাশি চালিয়ে আইফোনটি উদ্ধার করে। এ সময় মোবাইল ফোনটি একটি কালো শপিং ব্যাগের মধ্যে ছিল। ঘটনার দিনের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, গত শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর খাওয়া-দাওয়া শেষে তুহিন ঘর থেকে বের হন। এরপর বিকালে তিনি আবার বাসায় ফিরে আসেন বলেও জানান অভিযুক্ত তুহিনের মা। ঘটনার দিন তুহিনের গতিবিধি কেমন ছিল জানালেন মা যদিও সন্ধ্যার কিছু সময় পর সে আবারও বাসা থেকে বের হয়েছিলেন বলেও দাবি করেন অভিযুক্ত তুহিনের মা। পরে তুহিন রাত ৯টার দিকে ঘরে ফিরে আসেন। এরপর রাতে তিনি ঘুমিয়েও পড়েন। অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডে আটকের আগে আনাসের করা পোস্ট ঘিরে তোলপাড় পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত অপ্রতিমের মুঠোফোনের অবস্থান গন্ধমতী এলাকায় শনাক্ত করা হয়েছিল। এরপর ফোনটির আর কোনো অবস্থান পাওয়া যায়নি। অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসহ আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে পুলিশ। ফুটেজে অপ্রতিমের সঙ্গে তুহিনকে দেখা যায়। পরবর্তীকালে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আনাসকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। সর্বশেষ ফাহিম আহমেদসহ আরও দুজনকে আটক করা হয়েছে। অপ্রতিম স্থানীয় বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে ড. নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান। এদিকে অপ্রতিমের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের শনাক্ত ও দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবিতে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন। তারা ১২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন এবং দাবি পূরণ না হলে বিশ্ববিদ্যালয় অচল করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ, সিসিটিভি ফুটেজ, মুঠোফোনের তথ্যসহ বিভিন্ন আলামত যাচাই করে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে। কোটবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক জানান, অপ্রতিমের মৃত্যুর ঘটনায় বিভিন্ন তথ্য যাচাই ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আটকদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য এবং অন্যান্য আলামত যাচাই করে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে

নোয়াখালী-৩ (বেগমগঞ্জ) আসনের এমপি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু বলেছেন, সাংবাদিকতা হলো সমাজের দর্পন এবং মানবিক পেশা। তাই এই পেশাকে খাটো করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচার করলে দেশ, জাতি, সমাজ, গণতন্ত্র, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব এবং রাষ্ট্রের উন্নয়ন হবে। তবে কিছু অশিক্ষিত এবং অভাবী লোক এ পেশায় এসে পেশার ভাবমূর্তি বিনষ্ট করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হচ্ছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নোয়াখালী টিভি সাংবাদিক ফোরাম কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন এমপি বুলু। তিনি আরও বলেন, আপনারা যারা পেশাদার সাংবাদিক, আপনাদেরকে সঠিক সাংবাদিকতার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার সাথে সাথে অপসাংবাদিকতা রোধেও সোচ্চার থাকতে হবে। নতুবা গুটিকয়েক সাংবাদিকের কারণে আপনাদের কর্ম এবং অর্জন বিফলে যাবে। তিনি আরও বলেন, ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্র ক্ষমতায় শেখ হাসিনার শাসনামল তেমন একটা খারাপ ছিল না। কারণ সে তো শেখ মুজিবুর রহমানের মেয়ে ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে তার পতন হয়েছে কিছু অতি উৎসাহী চাটুকার সাংবাদিক, হাইব্রিড আওয়ামী লীগ ও ব্যবসায়ীদের কারণে। এসময় আরও বক্তব্য রাখেন নোয়াখালী জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য শামীমা বরকত লাকী, বেগমগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কামাক্ষ্যা চন্দ্র দাস, চৌমুহনী পৌর বিএনপির আহ্বায়ক জহির উদ্দিন হারুন, নোয়াখালী টিভি সাংবাদিক ফোরামের কার্যকরী সভাপতি তাজুল ইসলাম মানিক ভুইয়া, যুগ্ম সম্পাদক ইয়াকুব নবী ইমনসহ আরও অনেকে।
বেগমগঞ্জ থানাধীন ০৯ নং মীর ওয়ারিশপুর ইউনিয়নস্থ ০৯ নং ওয়ার্ডের কেন্দুরবাগ সাকিনে ধৃত আসামী মোঃ মাসুম (২৯) এর বসত বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে মাদক সেবন কারী মোঃ মাসুম (২৯), পিতা-গিয়াস উদ্দিন, মাতা-পারভিন আক্তার, সাং-কেন্দুরবাগ (করিম উদ্দিন ভুইয়া বাড়ি), ০৯ নং ওয়ার্ড, ০৯ নং মীর ওয়ারিশপুর ইউপি, থানা-বেগমগঞ্জ, জেলা-নোয়াখালী'কে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করিলে আসামীকে ১৫ দিন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ (পঞ্চাশ) টাকা করে জরিমান করেন।
নোয়াখালীর চৌমুহনী পৌরসভার নাপিতের পোল থেকে কিসমত করিমপুর মসজিদ পর্যন্ত ইউনি ব্লক দ্বারা সড়ক উন্নয়ন এবং গনিপুর টক্কারপোল থেকে ধোপাবাড়ি পর্যন্ত রাস্তার কার্পেটিং দ্বারা উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। নোয়াখালী-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ বরকত উল্লাহ বুলু এ উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করেন। এ উপলক্ষে কিছমত করিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে সুধি সমাবেশের আয়োজন করা হয়। স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির আহবায়ক মোস্তাফা কামালের সভাপতিত্বে এ সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ কায়েসুর রহমান, চৌমুহনী পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির হোসেন, চৌমুহনী পৌরসভা নির্বাহি প্রকৌশলী কাজি মোহাম্মদ ফজলুল হক, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য শামীমা বরকত লাকী, উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কামাখ্যা চন্দ্র দাস, চৌমুহনী পৌর বিএনপির আহবায়ক জহির উদ্দিন হারুন সহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

একটি ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে বাসিন্দাদের দিকে আগ্নেয়াস্ত্র তাক করে আছেন এক যুবক। তাঁর পাশে আরও কয়েকজন যুবক। তাঁদের কেউ লাঠি হাতে কাউকে মারধর করছেন, কেউ আবার ইট ছুড়ছেন ঘরটির দিকে। অস্ত্র তাক করে রাখা ব্যক্তির উদ্দেশে একজন চিৎকার করে কিছুক্ষণ পরপর বলছেন, ‘গুলি কর, গুলি কর।’ এ সময় ঘরটির ভেতরে আর্তনাদ করছেন কয়েকজন নারী। এমন ঘটনার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার বেলা আড়াইটার দিকে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার আমানউল্যাপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৬ নম্বর ওয়ার্ডের লাকুড়িয়াকান্দি পাটোয়ারী বাড়িতে ঘটনাটি ঘটেছে। পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ঘটেছে ঘটনাটি। লাকুড়িয়াকান্দি পাটোয়ারী বাড়ির বাসিন্দা দুই ভাই মজিব উল্যাহ ও শরিফ উল্যাহর মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে বাড়ির জায়গাজমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। ইউপি চেয়ারম্যান-সদস্যসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের চেষ্টায় বিষয়টি একাধিকবার সমাধানের চেষ্টা করা হয়। তবে দুজনের মধ্যে বিরোধের নিষ্পত্তি হয়নি। বিরোধের জেরে গতকাল দুপুরে দুই পক্ষের মধ্যে ঝগড়াঝাঁটি হয়। এর জেরে মজিব উল্যাহর পরিবারের সদস্যরা বহিরাগত সন্ত্রাসীদের নিয়ে এসে শরিফ উল্যাহর ঘরে হামলা চালান। হামলাকারীদের লাঠির আঘাত ও ছুড়ে মারা ইটপাটকেলে শরিফ উল্যাহর পরিবারের চার সদস্য আহত হয়েছেন। বাসিন্দারা জানান, বহিরাগত সন্ত্রাসীদের একজন আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে আসায় এলাকায় আতঙ্ক দেখা দেয়। এলোপাতাড়ি গুলিও ছুড়েছেন তিনি। তবে কারও গায়ে গুলি লাগেনি। মুখোশ পরে ঘটনাস্থলে আসেন ওই অস্ত্রধারী। বহিরাগত ব্যক্তিদের মধ্যে আরও কয়েকজনকে মুখোশ পরে হামলায় অংশ নিতে দেখা গেছে। বাসিন্দারা জানান, বহিরাগত সন্ত্রাসীদের একজন আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে আসায় এলাকায় আতঙ্ক দেখা দেয়। এলোপাতাড়ি গুলিও ছুড়েছেন তিনি। তবে এতে কেউ আহত হননি। মুখোশ পরে ঘটনাস্থলে আসেন ওই অস্ত্রধারী। বহিরাগতদের মধ্যে আরও কয়েকজনকে মুখোশ পরে হামলায় অংশ নিতে দেখা গেছে। জানতে চাইলে আমানউল্যাপুর ইউপির চেয়ারম্যান মো. বাহরুল আলম ওরফে সুমনও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, এক পক্ষ বহিরাগত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী এনে প্রতিপক্ষের ওপর হামলা এবং বাড়িঘরে ভাঙচুর করেছে। হামলাকারীদের একজন আগ্নেয়াস্ত্র হাতে প্রকাশ্যে গুলি করেছেন। তিনজন গ্রেপ্তার হামলার ঘটনায় রাতে মামলা করেন শরিফ উল্যাহর ছেলে মোবারক উল্যাহ। এরপর পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁরা হলেন মো. ইসরাফিল (৩৪), মজিব উল্যাহ (৬৫) ও তোফায়েল আহমেদ (৬০)। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ইসরাফিলই আগ্নেয়াস্ত্র হাতে নিয়ে ঘটনাস্থলে ছিলেন। জানতে চাইলে বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান বলেন, পারিবারিক এবং সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। এ সময় অস্ত্র উঁচিয়ে সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা ও আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়েছে। তবে গুলি ছোড়ার বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ওসি আরও বলেন, ভাইরাল হওয়া অডিও-ভিডিও পর্যালোচনা করে হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত ব্যক্তি, যাঁর হাতে অস্ত্র ছিল, তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া দুজন গ্রেপ্তার হয়েছেন। অন্যদের ধরতে পুলিশের অভিযান চলমান
নোয়াখালীর হাতিয়ায় পুলিশের অভিযানে ফেরিঘাটের পন্টুন থেকে ১ হাজার ৮০০ লিটার চোরাই ডিজেল ও ২০০ লিটার মবিল উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। উদ্ধারকৃত তেল ও মবিলের আনুমানিক মূল্য ৩ লাখ ২৭ হাজার টাকা। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.কবির হোসেন। এর আগে, শনিবার রাত সোয়া ১০টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার চরঈশ্বর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের নলচিরা ঘাটের পূর্ব পাশে ফেরির পন্টুনে অভিযান চালিয়ে তেল গুলো জব্দ করা হয়। গ্রেপ্তার মো. জাকের উদ্দিন (৩৫) উপজেলার চরঈশ্বর ইউনিয়নের তালুকদার গ্রামের তালুকদার গ্রামের তালুকদার বাড়ির খোরশেদ আলমের ছেলে। পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার রাত সোয়া ১০টার দিকে উপজেলার চরঈশ্বর ইউনিয়নের নলচিরা ঘাটের পূর্ব পাশে ফেরির পন্টুনে অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানের সময় শাহেদ উদ্দিন প্রকাশ তেল শাহেদ (২৮), মো. রিয়াজ উদ্দিন (৩২)সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩ থেকে ৪ জন পালিয়ে যায়। অভিযানে চারটি টিনের বড় ড্রামে ৭২০ লিটার, ৩০টি প্লাস্টিকের জারিকেনে ৯০০ লিটার এবং ৯টি জারিকেনে ১৮০ লিটার ডিজেল। এছাড়া একটি বড় ড্রামে ২০০ লিটার মবিল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ১ হাজার ৮০০ লিটার ডিজেলের আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ৭ হাজার টাকা এবং ২০০ লিটার মবিলের আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ। হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.কবির হোসেন আরও বলেন, গ্রেপ্তার আসামির হেফাজত থেকে বৈধ কাগজপত্রবিহীন ১ হাজার ৮০০ লিটার ডিজেল ও ২০০ লিটার মবিল উদ্ধার করে জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় হাতিয়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে ইয়াবাসহ এক যুবককে আটকের পর তাকে ছিনিয়ে নিতে গেলে স্বজনদের সঙ্গে স্থানীয়দের হাতাহাতি ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে উপজেলার চর হাজারী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড বিদ্যুৎ অফিসের সামনে এ ঘটনা ঘটে। আটক মো. পিয়াস (৩৫) চর হাজারী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের আবুল হাশেমের ছেলে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার রাতে এলাকার চিহ্নিত মাদককারবারি পিয়াস ও রাজু নামে দুই যুবকের গতিবিধি দেখে সন্দেহ হলে স্থানীয় লোকজন তাদেরকে ধাওয়া করে। এ সময় রাজু পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও পিয়াসকে আটক করে এলাকার লোকজন। নোয়াখালীতে আটক মাদক কারবারিকে ছাড়িয়ে নিতে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া বেরোবিতে ছাত্রদল-শিবিরের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটি পরে স্থানীয় রহমতের দোকানে তার দেহ তল্লাশি করে ৫২ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে উপস্থিত এলাকাবাসী। এ সময় পিয়াসকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তার সহযোগীদের নাম বের করার চেষ্টা করে এলাকার লোকজন। এদিকে পিয়াসকে আটকের খবর পেয়ে তার পরিবারের সদস্যরা এসে অতর্কিতে তাকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে তাদের হাতাহাতি ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ নুরুল হাকিম কালবেলাকে বলেন, ‘খবর পেয়ে রাত ১১টার দিকে কোম্পানীগঞ্জ থানার এসআই আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পিয়াসকে তাদের হেফাজতে নেন। এ সময় তার কাছ থেকে ৫২ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। তার বিরুদ্ধে মাদক আইনে কোম্পানীগঞ্জ থানায় ইতোপূর্বের একটি মামলা রয়েছে। এছাড়া পালিয়ে যাওয়ার রাজুর বিরুদ্ধে একই থানায় ৫টি মামলা রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘এ ঘটনায় ওই রাতে এসআই আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে পিয়াসের বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা দায়ের করে। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে নোয়াখালী চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রেরণ করা হয়। পরে আদালত তাকে কারাগারে প্রেরণ করার নির্দেশ দেন। এরপর আসামিকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।’

নোয়াখালীর হাতিয়ায় শ্রেণিকক্ষে হঠাৎ ঝাঁঝালো গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার পর একে একে ২৭ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এরমধ্যে ১৫ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য ১২ শিক্ষার্থীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার তমরদ্দি জোড়খালী উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। অসুস্থ শিক্ষার্থীরা সবাই ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো সকাল ১০টার দিকে বিদ্যালয়ে পাঠদান শুরু হয়। এর প্রায় এক ঘণ্টা পর সপ্তম শ্রেণির চার ছাত্রী হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়ে। পরে তাদের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হলে জ্ঞান ফিরে আসে। এর কিছুক্ষণ পর অন্যান্য শ্রেণিকক্ষেও ১৫ থেকে ২০ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং কয়েকজন অজ্ঞান হয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় অসুস্থ শিক্ষার্থীদের হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে ১৫ জনকে ভর্তি করা হয়। অসুস্থদের মধ্যে ফাতেমা বেগম (১২), নিপা আক্তার (১২), মেহেরাব উদ্দিন (১১), ফারহানা আক্তার (১২), জামেলা বেগম (১৪), সুরাইয়া আক্তার (১৩) ও পারভিন আক্তারসহ (১৫) আরো কয়েকজন রয়েছে। তাদের সবার বাড়ি তমরদ্দি জোড়খালী গ্রামে। হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত উপসহকারী মেডিকেল অফিসার মানসুর উদ্দিন জানান, দুপুর ২টা পর্যন্ত হাসপাতালে মোট ১০ জন শিক্ষার্থীকে আনা হয়েছিল। তাদের সবাইকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের তখনো জ্ঞান ফেরেনি। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জসীমউদ্দিন জানান, প্রথমে যে শিক্ষার্থীরা অজ্ঞান হয়েছিল, তাদের বাড়িতে পাঠানোর পর জ্ঞান ফিরে আসে। পরে আরো কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। তবে কী কারণে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ বা অজ্ঞান হয়েছে তা তিনি নিশ্চিত করে বলতে পারেননি। হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. রবিউল ইসলাম নিলয় বলেন, অসুস্থ শিক্ষার্থীদের অবস্থা সংকটাপন্ন কি না তা ১২ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণের পর বলা যাবে। অনেকের এখনো পুরোপুরি জ্ঞান ফেরেনি। তাদের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। রোগীর অভিভাবক ও শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে শ্রেণিকক্ষে ঝাঁঝালো গন্ধ থাকার বিষয়টি জানা গেছে। এদিকে খবর পেয়ে অসুস্থ শিক্ষার্থীদের দেখতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছুটে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল ইকবাল ও হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন। এ সময় হাসপাতালে অসুস্থ শিক্ষার্থীদের দেখতে স্বজন ও সাধারণ মানুষের ভিড় জমে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাসপাতাল এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়। তবে শ্রেণিকক্ষে কী ধরনের ঝাঁঝালো গন্ধ ছড়িয়েছিল এবং এর উৎস কী তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে।

নোয়াখালী সদর উপজেলাধীন দত্তেরহাট বাজারে অবস্থিত নোয়াখালী ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় মো. মোসলিম নামে এক শিশু মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আবুল হোসেনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আবুল হোসেনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে নোয়াখালী চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়। পরে সদর কোর্টের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. হামিদুল ইসলাম তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। মো. মোসলিম (১২) লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরবসু গ্রামের মাহফুজুর রহমানের ছেলে। গত শনিবার বিকেলে সমবয়সীদের সঙ্গে খেলার সময় অন্য এক শিশুর আঘাতে তার চোখে রক্ত জমে ফুলে যায়। পরে স্বজনরা তাকে নোয়াখালী সদর উপজেলার দত্তেরহাটের নোয়াখালী ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে নিয়ে যান। স্বজনদের অভিযোগ, সেখানে হাসপাতালের এমডি আবুল হোসেন শিশুটিকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে চোখে তিনটি ইনজেকশন দেন। এর কিছুক্ষণ পর শিশুটির মুখ দিয়ে ফেনা বের হয়ে সে অচেতন হয়ে পড়ে। পরে তাকে ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর আবুল হোসেনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। রোববার বিকেল সাড়ে ৪টায় নিহত শিশুর ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্যারামেডিকস ও দত্তেরহাটের নোয়াখালী ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল হোসেন অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বলেন, চোখের ওপরের ও নিচের পাতায় লোকাল অ্যানেসথেসিয়ার ড্রপ দেওয়া হয়েছিল। চিকিৎসকের মতে, এ ধরনের অ্যানেসথেসিয়ার কারণে মৃত্যুর কোনো আশঙ্কা নেই। জেলা সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ার হোসেন বলেন, ঘটনার পর হাসপাতালটি পরিদর্শন করে সিলগালা করে দিয়েছি। ঘটনা তদন্তে নোয়াখালী সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাঈমা নুসরাত জাবিন চৌধুরীকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। সুধারাম মডেল থানার ওসি মো. নজরুল ইসলাম বলেন, আবুল হোসেনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। নিহত শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগের জন্য অপেক্ষা করা হলেও তারা সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করায় তাকে আপাতত ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার চাইলে পরবর্তী সময় মামলা করতে পারবে।