

সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের সব বিচারপতিদের অংশগ্রহণে ফুলকোর্ট সভা ডেকেছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টায় সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে ফুলকোর্ট সভা অনুষ্ঠিত হবে। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সুপ্রিম কোর্টের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (প্রশাসন ও বিচার) মো. মেসবাহ উদ্দিন খান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট সূত্রে জানা গেছে, ফুলকোর্ট সভায় অধস্তন আদালতের ছুটির ক্যালেন্ডার অনুমোদনসহ নানান গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, ফুলকোর্ট সভা বিচারপতিদের কথা বলার নিজস্ব ফোরাম। এতে নীতি-নির্ধারণী বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

নোয়াখালী-৩ (বেগমগঞ্জ) আসনের ১১ দলীয় জোট প্রার্থী মাওলানা বোরহান উদ্দিনের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের একটি নির্বাচনি কার্যালয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) ভোর রাতে বেগমগঞ্জ উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সেতুভাঙ্গা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। জামায়াত নেতাদের অভিযোগ, গভীর রাতে একদল দুর্বৃত্ত মাওলানা বোরহান উদ্দিনের নির্বাচনি অফিসে আগুন লাগিয়ে পালিয়ে যায়। মুহূর্তেই আগুনের ছড়িয়ে পড়ে এবং নির্বাচনি প্রচারণায় ব্যবহৃত ব্যাটারিচালিত রিকশা, আসবাবপত্র ও প্রচারের উপকরণ সামগ্রী পুড়ে যায়। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী বোরহান উদ্দিন বলেন, গণতন্ত্রের সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট করতে এবং ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াতে রাতের আঁধারে এই আগুন দেওয়া হয়েছে। আমরা প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে সকালে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় কারা জড়িত তা খুঁজে বের করতে তদন্ত চলছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) জিএস এসএম ফরহাদ বলেছেন, ৫ আগস্টের পর দেড় বছরে যারা চাঁদাবাজির জন্য ২৭৩ জন মানুষকে হত্যা করেছে, তাদেরকে আর ক্ষমতায় আসতে দেওয়া হবে না। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে নোয়াখালী-৪ আসনের সুবর্ণচরের চরজব্বর ডিগ্রি কলেজ মাঠে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের নির্বাচনি জনসভায় তিনি এ কথা বলেন। এস এম ফরহাদ বলেন, ‘দেশের মোট মারামারির ৯১ শতাংশই করেছে একটি নির্দিষ্ট দল। শুধুমাত্র চাঁদাবাজি, লুটপাট আর ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্বে গত দেড় বছরে (৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত) তারা ২৭৩ জন মানুষকে হত্যা করেছে। এই দলকে আমরা আর ক্ষমতায় আসতে দিতে চাই না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যা-ই করি না কেন, বারবার নিজেদের করণীয় ভুলে যাই। ৯০-পরবর্তী সময়ে আমরা ভুল পথে হেঁটেছি, ৭৫-এর পরেও ভুল পথে হেঁটেছি; এখন চব্বিশের পরেও যদি আমরা ভুল পথে হাঁটি, তবে বাংলাদেশ আবারও দীর্ঘসময়ের জন্য দুর্নীতিবাজদের কবলে পড়ে যাবে।’ ডাকসুর জিএস বলেন, ‘যে বিজয় ডাকসুতে শুরু হয়ে জকসুতে এসে থেমেছে, তারা ভয়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্বাচন বন্ধ করে দিয়েছে। সেই ভয়ের চূড়ান্ত ফলাফল তারা ১২ তারিখে দেখতে পাবে। এই ১২ তারিখ হবে দাঁড়িপাল্লার বিজয়।’ নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ফরহাদ বলেন, ‘আমাদের দায়িত্ব দুটি—প্রথমত, আপনি নিজে ভোট দিতে আসবেন এবং ভোট দেবেন। দ্বিতীয়ত, এই বার্তাটি যদি আমরা প্রত্যেক নাগরিকের কাছে পৌঁছে দিতে পারি, তবেই আমরা সফল হবো।’ তিনি আরও বলেন, ‘শোনা যাচ্ছে বিএনপি নাকি ভোটকেন্দ্র দখল করতে চায়। কিন্তু চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের জাগ্রত জনতা কাউকে আর কেন্দ্র দখল করতে দেবে না। যে জুলাই বিপ্লবে যুবকরা বুকের রক্ত দিয়ে বুলেট নিয়েছে, সেই তরুণরা বেঁচে থাকতে কোনো অপশক্তিকে কেন্দ্র দখলের সুযোগ দেবে না।’ সুবর্ণচর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা জামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন নোয়াখালী-৪ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের আমির মো. ইসহাক খন্দকার, চাকসুর সাবেক জিএস সাইদ বিন হাবিবসহ ১১ দলীয় জোটের নেতারা।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে নোয়াখালী জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে মোট ৮৭৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২৬১টিকে ঝুঁকিপূর্ণ (অতি গুরুত্বপূর্ণ) হিসেবে চিহ্নিত করে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। তবে জেলার সব ভোটকেন্দ্রই সিসি ক্যামেরার আওতায় থাকবে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানানো হলেও সুষ্ঠু ভোট নিয়ে শঙ্কা কাটছে না ভোটারদের। বিশেষ করে নারী ভোটারদের মধ্যে কেন্দ্রে যাওয়া নিয়ে ভীতি ও সহিংসতার আশঙ্কা রয়েছে। জেলা প্রশাসন জানায়, ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনসহ সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভোটারদের ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই বলে আশ্বস্ত করেছেন জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সূত্রে জানা যায়, জেলায় মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৮৭৫টি। এর মধ্যে ৬১৪টি সাধারণ এবং ২৬১টি অতি গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নোয়াখালী-১ আসনে মোট ১৪১টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ৮৮টি সাধারণ এবং ৫৩টি অতি গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নোয়াখালী-২ আসনে মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১১১টি। এর মধ্যে ৭৩টি সাধারণ এবং ৩৮টি অতি গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র রয়েছে। নোয়াখালী-৩ আসনে মোট ১৬৬টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ১০৬টি সাধারণ এবং ৬০টি অতি গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা ছয়টি আসনের মধ্যে সর্বাধিক। নোয়াখালী-৪ আসনে মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১৯৮টি। এর মধ্যে ১৫৬টি সাধারণ এবং ৪২টি অতি গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র। নোয়াখালী-৫ আসনে মোট ১৫৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১০৪টি সাধারণ এবং ৫১টি অতি গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অন্যদিকে, নোয়াখালী-৬ আসনে মোট ১০৪টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ৮৭টি সাধারণ এবং মাত্র ১৭টি অতি গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র রয়েছে, যা ছয়টি আসনের মধ্যে সর্বনিম্ন। একাধিক ভোটারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ছয়টি আসনে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলনসহ মোট ৪৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনি প্রচারণা জোরদার হলেও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলো নিয়ে রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা রয়েছে। ভোটের দিন ও তার আগের দিন সহিংসতার আশঙ্কা করছেন তারা। নোয়াখালী-৪ আসনের জামায়াতের প্রার্থী ইসহাক খন্দকার বলেন, একটি দলের নেতাকর্মীরা ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করছে।বিশেষ করে নারীদের হেনস্থা করছে। এছাড়াও গণসংযোগে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। কেন্দ্রে যাওয়া নিয়ে অনেক এলাকায় শঙ্কা আছে। আমরা নিরপেক্ষ ও কঠোর নিরাপত্তা চাই। নোয়াখালী-৬ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেন, হাতিয়ায় পতিত সরকারের সকল লোক নির্দিষ্ট প্রতীকের পক্ষে ভোট করছে। মানুষকে ভয় দেখাচ্ছে। ভোটকেন্দ্রে কোনো এজেন্ট থাকবেনা বলে প্রচার করছে। ভোটারসহ আমরা সবাই সঙ্কিত। একই আসনের বিএনপির প্রার্থী মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, একটি দলের প্রার্থী আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এই আসনে ঝামেলা সৃষ্টি করার চেষ্টা রয়েছে। ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, তা প্রশাসনকে নিশ্চিত করতে হবে। আমরা চাই সুষ্ঠু নিরপেক্ষ অংশগ্রহণ মূলক নির্বাচন। নির্বাচন নিরাপত্তায় অন্যান্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি নোয়াখালীতে দায়িত্ব পালন করছে ফেনী ৪ বিজিবি ব্যাটালিয়ন। ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল মোশারফ , শান্তিপূর্ণ নির্বাচন ও ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করাই বিজিবির প্রধান লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে ১৬ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। বিজিবির টহল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স কার্যক্রম চলবে। সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে অস্থায়ী বেইজ ক্যাম্প থেকে রোবাস্ট পেট্রোলিং, চেকপোস্ট স্থাপন ও তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। নোয়াখালীর পুলিশ সুপার টিএম মোশাররফ হোসেন বলেন, নোয়াখালীর হাতিয়ায় নৌবাহিনী, কোস্টগার্ডসহ পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া অন্যান্য ৫টি আসনেও সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব, আনসারসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দায়িত্ব পালন করবেন। শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে। ভোটাররা নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে যেতে পারবেন। জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, জেলার ছয়টি আসনের ৮৭৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৬১টি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রসহ সব ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হলে তা মোকাবিলায় প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে।

নোয়াখালীতে জামায়াতে ইসলামীর এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়েছে, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রচারণা চালানোর সময় দলটির নারী কর্মীদের হেনস্তা করছেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। গতকাল শুক্রবার রাতে জেলা জামায়াতের দলীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে দলের হয়ে অভিযোগ তুলে ধরেন জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমির ইসহাক খন্দকার। তিনি নোয়াখালী-৪ (সদর ও সুবর্ণচর) আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ইসহাক খন্দকার বলেন, জেলার চাটখিল, বেগমগঞ্জ, সদর উপজেলা, নোয়াখালী পৌরসভা, সুবর্ণচরসহ বিভিন্ন স্থানে জামায়াতের নারী কর্মীদের উঠান বৈঠকসহ প্রচারণায় বাধা দেওয়া হয়েছে। প্রচারণার সময় জামায়াতের নারী কর্মীদের হেনস্তাও করছেন বিএনপির লোকজন। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও নোয়াখালী-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী মো. শাহজাহানের কাছে অভিযোগ করে কয়েকটি স্থানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা পাওয়া গেছে বলে জানান জেলা জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, ‘অনেক ঘটনা তাঁরও (মো. শাহজাহান) নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল। জামায়াত সর্বোচ্চ ধৈর্যের পরিচয় দিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করে যাচ্ছে।’ ইসহাক খন্দকার আরও বলেন, জামায়াতের নারী কর্মীদের ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার জন্যও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ অবস্থায় নারী ভোটারদের নিরাপদে ভোটকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে দলের শৃঙ্খলা বিভাগকে বলা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে এ ছাড়া জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মো. সাইয়েদ আহমদ, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও নোয়াখালী-৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মো. বোরহান উদ্দিন বক্তব্য দেন। জামায়াতের অভিযোগের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর বলেন, বিএনপি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের জন্য কাজ করছে, সুতরাং হেনস্তার অভিযোগ সত্য নয়; বরং জামায়াতই বিএনপি নেতাদের নিয়ে বিভিন্ন বাজে মন্তব্য করে আসছেন।

একটি বড় দলের প্রধান নিজের অফিস থেকে জামায়াত আমিরের আইডি হ্যাক করে এখন নিজেই বিষোদ্গার করছেন বলে অভিযোগ করেছেন নোয়াখালী-৪ আসনে জামায়াতের প্রার্থী এবং দলটির মজলিশে সূরা সদস্য ও জেলা আমির মো. ইসহাক খন্দকার। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে নোয়াখালী জেলা জামায়াত কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। ইসহাক খন্দকার বলেন, আইডি হ্যাক হয়েছে একটা সত্য কথা। যা সংবাদ সম্মেলন থেকেও বলা হয়েছে। তারপরও একটি বড় দলের প্রধান নেতা হ্যাকের বিষয়টি নিয়ে আর ট্রল করতে পারেন না। ওই দলে আরও ছোট নেতা আছে যাদেরকে দিয়ে তিনি বলাতে পারতেন। তিনি বলেন, ওই প্রধান নেতা যে ভাষায় কথা বলেছেন, তা তিনি জামায়াত আমিরকে বলতে পারেন না। এ ঘটনা নিয়ে গ্রেফতারও হয়েছে, আরও তদন্ত চলছে। আসলে ওই দলের প্রধান নিজের অফিস থেকে নিজের লোক দিয়ে হ্যাক করে এখন নিজেই বিষোদ্গার করছেন। ইসহাক খন্দকার আরও বলেন, জামায়াত আমির নারীদের প্রতি অত্যন্ত বিনয়ী। তিনি এ ধরনের কথা বলতে পারেন না, তা বুঝাই যায়। এখন কারা ধরা পড়ছে তা সবাই দেখছে। আমাদের লোকও তদন্ত করছে। সব বের হবে। তখন সবাই পরিষ্কার হয়ে যাবেন কারা, কেন এ কাজ করেছে। ১১ দলীয় জোটের এ প্রার্থী বলেন, আমাদের নোয়াখালীতে ছয়টি আসনের সবগুলোতেই আমাদের নারী কর্মীদেরকে ঘর থেকে বের হতে দিচ্ছে না। অনেক জায়গায় আমাদের মা-বোনদের অপমান করেছে। আমরা এ ব্যাপারে থানায় জিডি করেছি। আমরা ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ নিয়ে শঙ্কিত। ইসহাক খন্দকার আরও বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের নামে তারা ভুয়া কার্ড বিলাচ্ছে। তারা কী কোনো সংস্থা নাকি সরকারে এসে গেছেন। প্রতারণার এ কার্ড দিতে আবার চাঁদাও নিচ্ছে। নারীদের মিথ্যা আশ্বাস দিচ্ছেন। আমরা এ অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা জানাই। সভায় নোয়াখালী-৩ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী এবং জামায়াতের মজলিশে সূরা সদস্য ও জেলা সেক্রেটারি মাওলানা বোরহান উদ্দিন, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা সাইয়েদ আহমদ চেয়ারম্যান, প্রচার বিভাগের প্রধান ডা. বোরহান উদ্দিন, নোয়াখালী পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা ইউসূফ, জামায়াত নেতা সাংবাদিক আবু তাহের প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের সব বিচারপতিদের অংশগ্রহণে ফুলকোর্ট সভা ডেকেছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টায় সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে ফুলকোর্ট সভা অনুষ্ঠিত হবে। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সুপ্রিম কোর্টের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (প্রশাসন ও বিচার) মো. মেসবাহ উদ্দিন খান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট সূত্রে জানা গেছে, ফুলকোর্ট সভায় অধস্তন আদালতের ছুটির ক্যালেন্ডার অনুমোদনসহ নানান গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, ফুলকোর্ট সভা বিচারপতিদের কথা বলার নিজস্ব ফোরাম। এতে নীতি-নির্ধারণী বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

নোয়াখালী-৩ (বেগমগঞ্জ) আসনের ১১ দলীয় জোট প্রার্থী মাওলানা বোরহান উদ্দিনের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের একটি নির্বাচনি কার্যালয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) ভোর রাতে বেগমগঞ্জ উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সেতুভাঙ্গা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। জামায়াত নেতাদের অভিযোগ, গভীর রাতে একদল দুর্বৃত্ত মাওলানা বোরহান উদ্দিনের নির্বাচনি অফিসে আগুন লাগিয়ে পালিয়ে যায়। মুহূর্তেই আগুনের ছড়িয়ে পড়ে এবং নির্বাচনি প্রচারণায় ব্যবহৃত ব্যাটারিচালিত রিকশা, আসবাবপত্র ও প্রচারের উপকরণ সামগ্রী পুড়ে যায়। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী বোরহান উদ্দিন বলেন, গণতন্ত্রের সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট করতে এবং ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াতে রাতের আঁধারে এই আগুন দেওয়া হয়েছে। আমরা প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে সকালে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় কারা জড়িত তা খুঁজে বের করতে তদন্ত চলছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) জিএস এসএম ফরহাদ বলেছেন, ৫ আগস্টের পর দেড় বছরে যারা চাঁদাবাজির জন্য ২৭৩ জন মানুষকে হত্যা করেছে, তাদেরকে আর ক্ষমতায় আসতে দেওয়া হবে না। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে নোয়াখালী-৪ আসনের সুবর্ণচরের চরজব্বর ডিগ্রি কলেজ মাঠে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের নির্বাচনি জনসভায় তিনি এ কথা বলেন। এস এম ফরহাদ বলেন, ‘দেশের মোট মারামারির ৯১ শতাংশই করেছে একটি নির্দিষ্ট দল। শুধুমাত্র চাঁদাবাজি, লুটপাট আর ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্বে গত দেড় বছরে (৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত) তারা ২৭৩ জন মানুষকে হত্যা করেছে। এই দলকে আমরা আর ক্ষমতায় আসতে দিতে চাই না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যা-ই করি না কেন, বারবার নিজেদের করণীয় ভুলে যাই। ৯০-পরবর্তী সময়ে আমরা ভুল পথে হেঁটেছি, ৭৫-এর পরেও ভুল পথে হেঁটেছি; এখন চব্বিশের পরেও যদি আমরা ভুল পথে হাঁটি, তবে বাংলাদেশ আবারও দীর্ঘসময়ের জন্য দুর্নীতিবাজদের কবলে পড়ে যাবে।’ ডাকসুর জিএস বলেন, ‘যে বিজয় ডাকসুতে শুরু হয়ে জকসুতে এসে থেমেছে, তারা ভয়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্বাচন বন্ধ করে দিয়েছে। সেই ভয়ের চূড়ান্ত ফলাফল তারা ১২ তারিখে দেখতে পাবে। এই ১২ তারিখ হবে দাঁড়িপাল্লার বিজয়।’ নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ফরহাদ বলেন, ‘আমাদের দায়িত্ব দুটি—প্রথমত, আপনি নিজে ভোট দিতে আসবেন এবং ভোট দেবেন। দ্বিতীয়ত, এই বার্তাটি যদি আমরা প্রত্যেক নাগরিকের কাছে পৌঁছে দিতে পারি, তবেই আমরা সফল হবো।’ তিনি আরও বলেন, ‘শোনা যাচ্ছে বিএনপি নাকি ভোটকেন্দ্র দখল করতে চায়। কিন্তু চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের জাগ্রত জনতা কাউকে আর কেন্দ্র দখল করতে দেবে না। যে জুলাই বিপ্লবে যুবকরা বুকের রক্ত দিয়ে বুলেট নিয়েছে, সেই তরুণরা বেঁচে থাকতে কোনো অপশক্তিকে কেন্দ্র দখলের সুযোগ দেবে না।’ সুবর্ণচর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা জামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন নোয়াখালী-৪ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের আমির মো. ইসহাক খন্দকার, চাকসুর সাবেক জিএস সাইদ বিন হাবিবসহ ১১ দলীয় জোটের নেতারা।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে নোয়াখালী জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে মোট ৮৭৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২৬১টিকে ঝুঁকিপূর্ণ (অতি গুরুত্বপূর্ণ) হিসেবে চিহ্নিত করে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। তবে জেলার সব ভোটকেন্দ্রই সিসি ক্যামেরার আওতায় থাকবে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানানো হলেও সুষ্ঠু ভোট নিয়ে শঙ্কা কাটছে না ভোটারদের। বিশেষ করে নারী ভোটারদের মধ্যে কেন্দ্রে যাওয়া নিয়ে ভীতি ও সহিংসতার আশঙ্কা রয়েছে। জেলা প্রশাসন জানায়, ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনসহ সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভোটারদের ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই বলে আশ্বস্ত করেছেন জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সূত্রে জানা যায়, জেলায় মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৮৭৫টি। এর মধ্যে ৬১৪টি সাধারণ এবং ২৬১টি অতি গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নোয়াখালী-১ আসনে মোট ১৪১টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ৮৮টি সাধারণ এবং ৫৩টি অতি গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নোয়াখালী-২ আসনে মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১১১টি। এর মধ্যে ৭৩টি সাধারণ এবং ৩৮টি অতি গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র রয়েছে। নোয়াখালী-৩ আসনে মোট ১৬৬টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ১০৬টি সাধারণ এবং ৬০টি অতি গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা ছয়টি আসনের মধ্যে সর্বাধিক। নোয়াখালী-৪ আসনে মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১৯৮টি। এর মধ্যে ১৫৬টি সাধারণ এবং ৪২টি অতি গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র। নোয়াখালী-৫ আসনে মোট ১৫৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১০৪টি সাধারণ এবং ৫১টি অতি গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অন্যদিকে, নোয়াখালী-৬ আসনে মোট ১০৪টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ৮৭টি সাধারণ এবং মাত্র ১৭টি অতি গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র রয়েছে, যা ছয়টি আসনের মধ্যে সর্বনিম্ন। একাধিক ভোটারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ছয়টি আসনে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলনসহ মোট ৪৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনি প্রচারণা জোরদার হলেও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলো নিয়ে রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা রয়েছে। ভোটের দিন ও তার আগের দিন সহিংসতার আশঙ্কা করছেন তারা। নোয়াখালী-৪ আসনের জামায়াতের প্রার্থী ইসহাক খন্দকার বলেন, একটি দলের নেতাকর্মীরা ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করছে।বিশেষ করে নারীদের হেনস্থা করছে। এছাড়াও গণসংযোগে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। কেন্দ্রে যাওয়া নিয়ে অনেক এলাকায় শঙ্কা আছে। আমরা নিরপেক্ষ ও কঠোর নিরাপত্তা চাই। নোয়াখালী-৬ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেন, হাতিয়ায় পতিত সরকারের সকল লোক নির্দিষ্ট প্রতীকের পক্ষে ভোট করছে। মানুষকে ভয় দেখাচ্ছে। ভোটকেন্দ্রে কোনো এজেন্ট থাকবেনা বলে প্রচার করছে। ভোটারসহ আমরা সবাই সঙ্কিত। একই আসনের বিএনপির প্রার্থী মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, একটি দলের প্রার্থী আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এই আসনে ঝামেলা সৃষ্টি করার চেষ্টা রয়েছে। ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, তা প্রশাসনকে নিশ্চিত করতে হবে। আমরা চাই সুষ্ঠু নিরপেক্ষ অংশগ্রহণ মূলক নির্বাচন। নির্বাচন নিরাপত্তায় অন্যান্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি নোয়াখালীতে দায়িত্ব পালন করছে ফেনী ৪ বিজিবি ব্যাটালিয়ন। ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল মোশারফ , শান্তিপূর্ণ নির্বাচন ও ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করাই বিজিবির প্রধান লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে ১৬ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। বিজিবির টহল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স কার্যক্রম চলবে। সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে অস্থায়ী বেইজ ক্যাম্প থেকে রোবাস্ট পেট্রোলিং, চেকপোস্ট স্থাপন ও তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। নোয়াখালীর পুলিশ সুপার টিএম মোশাররফ হোসেন বলেন, নোয়াখালীর হাতিয়ায় নৌবাহিনী, কোস্টগার্ডসহ পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া অন্যান্য ৫টি আসনেও সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব, আনসারসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দায়িত্ব পালন করবেন। শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে। ভোটাররা নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে যেতে পারবেন। জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, জেলার ছয়টি আসনের ৮৭৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৬১টি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রসহ সব ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হলে তা মোকাবিলায় প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে।

যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে কাটানো প্রতিটি মিনিটের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন ধনকুবের বিল গেটস। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এপস্টেইনের কয়েক লাখ নথি প্রকাশ করেছে। ওইসব নথির মধ্যে রয়েছে একটি ড্রাফট ইমেইল। এতে এপস্টেইন লিখেছেন, বিল গেটস বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়েছেন। তিনি বলেছেন, বিল গেটস এক রুশ নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেছেন। যার প্রভাবে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। সুস্থ হতে বিল গেটসকে ওষুধও দেন বলে দাবি করেন তিনি। যেন তিনি অন্য বিবাহিত নারীদের সঙ্গে সম্পর্ক করতে পারেন। তবে এ ইমেইলের তথ্য অসত্য বলে দাবি করেছেন বিল গেটস। তিনি সংবাদমাধ্যম ৯নিউজ অস্ট্রেলিয়াকে বলেছেন, “আমি তার সঙ্গে কাটানো প্রতিটি মিনিটের জন্য আমি দুঃখিত, ক্ষমা চাই। ওই ইমেইল কখনো কোথাও পাঠানো হয়নি। ইমেইলটি মিথ্যা। আমি জানি না এ ব্যাপারে তার কি মতলব ছিল। এপস্টেইন কি কোনোভাবে আমাকে আক্রমণ করতে চেয়েছিলেন?” বিল গেটস আরও বলেছেন, এপস্টেইনের ২০১১ সালে প্রথম যোগাযোগ হয় তার। এরপর পরের তিন বছর একাধিকবার এপস্টেইনের সঙ্গে ডিনারে অংশ নেন তিনি। কিন্তু কখনো ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে অবস্থিত তার সেই দ্বীপে যাননি এবং কোনো নারীর সঙ্গে সম্পর্কও ছিল না। বিল গেটসের এক মুখপাত্রও একই দাবি করে বলেছেন, বিল এসব ব্যাপারে অবগত নন। বিজ্ঞাপন সূত্র: এএফপি

আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে মাঠে গড়াতে যাচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আসর। ভারতের মাটিতে নিরাপত্তা ইস্যুর কারণে এবারের আসরে খেলছে না বাংলাদেশ। যে কারণে এই সময়ে ঘরোয়া টুর্নামেন্টের আয়োজন করেছে (বিসিবি)। দেশের ৩৯ জন সেরা ক্রিকেটারকে নিয়ে তিনটি দল বানিয়ে আজ বৃহস্পতিবার থেকে মাঠে গড়াবে ‘অদম্য বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি কাপ’। উদ্বোধনী খেলায় সন্ধ্যা ৬টায় মিরপুর শেরে-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হচ্ছে লিটন দাসের ধূমকেতু একাদশ ও আকবর আলির দুরন্ত একাদশ। ম্যাচের আগের দিন গতকাল দুই দলই অনুশীলনে শেষ সময়ের প্রস্তুতি সেরেছে। পরে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন দল দুটির প্রধান কোচ। ধূমকেতুর কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেছিলেন, 'দিনশেষে যখন আপনি মাঠে নামবেন সবাই তার সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করে। এখানে টপ ৪৫ খেলোয়াড় খেলছে। হেলদি কম্পিটিশন হবে, আগে খেলেছে ওরাও আছে তরুণরাও আছে। প্রতিদিন একেকটা সুযোগ। সিরিয়াসলি নিলে এটা বড় সুযোগ তার জন্য, সিরিয়াসলি না নিলে ডাউনফলও হতে পারে। সবাই সেরাটা দিবে আশা করি।' দুরন্ত একাদশের কোচ হান্নান সরকার বলেছিলেন, ‘আমার কাছে মনে হয় ভালো প্রতিযোগিতা। ভালো একটা টুর্নামেন্ট, ৩ দলের মধ্যে ধাপে ধাপে দল সাজানো হয়েছে। চ্যালেঞ্জ ভিন্ন থাকবে। আমাদের বয়সভিত্তিক দলে যারা আছে তাদের চ্যালেঞ্জ ভিন্ন থাকবে। আমাদের দলে প্লেয়ারের মধ্যে ক্ষুধার্ত প্লেয়ারের সংখ্যা বেশি। ক্ষুধার্ত মানে হচ্ছে তারা পারফর্ম করার জন্য মরিয়া হয়ে আছে। এটা একটা চ্যালেঞ্জ। প্লেয়ারদের পাশাপাশি কোচ, ম্যানেজমেন্ট সবার জন্যই ইতিবাচকভাবেই দেখছি।’ প্রতিটি ম্যাচের দিন বিকাল ৪টা থেকে থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এই টুর্নামেন্টে প্রাইজমানি ও ফি মিলিয়ে মোট বাজেট ধরা হয়েছে ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। খেলায় নতুন মাত্রা যোগ করবে ‘ইমপ্যাক্ট খেলোয়াড়’ নিয়ম। ধূমকেতু স্কোয়াড লিটন কুমার দাস (অধিনায়ক), তানজিদ হাসান, সাইফ হাসান, পারভেজ হোসেন ইমন, তাওহীদ হৃদয়, শামীম হোসেন, শেখ মেহেদী হাসান, রিশাদ হোসেন, নাসুম আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান, তানজিম হাসান সাকিব, মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধ ও শরিফুল ইসলাম দুরন্ত স্কোয়াড জিসান আলম, জাওয়াদ আবরার, মাহফিজুল ইসলাম রবিন, আরিফুল ইসলাম, মাহিদুল ইসলাম, আকবর আলী (অধিনায়ক), আজিজুল হাকিম তামিম, রিপন মন্ডল, আব্দুল গাফফার সাকলায়েন, এস এম মেহরব হোসেন, রাকিবুল হাসান, নাহিদ রানা ও ইকবাল হোসেন ইমন।

নোয়াখালী–২ (সেনবাগ ও সোনাইমুড়ী আংশিক) আসনে ১১–দলীয় নির্বাচনী জোটের প্রার্থী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়ার শাপলা কলি প্রতীকের এক কর্মীর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। আজ বুধবার বিকেলে সেনবাগ উপজেলার উত্তর শাহাপুর এলাকায় শাপলা কলির নির্বাচনী ব্যানার টাঙাতে গেলে এ ঘটনা ঘটে। এনসিপির প্রার্থীর অভিযোগ, স্থানীয় বিএনপি ও ধানের শীষের প্রতীকের কর্মীদের হামলায় তাঁর কর্মী মো. সাখাওয়াত হোসেন (২৮) আহত হয়েছেন। তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার রাতে সেনবাগ বাজারে শাপলা কলির কর্মী–সমর্থকেরা বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। সমাবেশ থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ বিকেলে শাপলা কলি প্রতীকের কর্মী মো. সাখাওয়াত হোসেন উত্তর শাহাপুর এলাকায় ব্যানার টাঙাতে যান। এ সময় স্থানীয় ধানের শীষের কর্মীরা তাঁকে মারধর করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে দলের কর্মীরা খবর পেয়ে তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে আজ রাত পৌনে আটটার দিকে শাপলা কলির প্রার্থী সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়ার নেতৃত্বে সেনবাগ পৌর শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করা হয়। সেনবাগ পৌর শহরের জেলা পরিষদ মার্কেট চত্বর থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সেনবাগ থানার মোড়ে গিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়। সমাবেশে সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়া ছাড়াও উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা আবদুল মালেক এবং পৌর জামায়াতের আমির মোহাম্মদ ইয়াছিন মিয়াজী বক্তব্য দেন। এ সময় বক্তারা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার ঘোষণা দেন তাঁরা। বিষয়টি নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বিএনপির প্রার্থী জয়নুল আবদিন ফারুকের চাচাতো ভাই ও জেলা বিএনপির সদস্য আবদুল্লা আল মামুন বলেন, ‘শাপলা কলি প্রতীকের ব্যানার টাঙানো নিয়ে যে ঘটনাটি ঘটেছে, তার সঙ্গে বিএনপির দলীয় কোনো সম্পর্ক নেই। বিষয়টি নজরে আসার পরপরই অভিযুক্ত মাসুদ আলমকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে দলের কোনো আপত্তি থাকবে না।’ সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবুল বাশার বলেন, ‘শাপলা কলির এক কর্মী ব্যানার টাঙাতে গেলে তাঁর ওপর হামলা হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে শাপলা কলির নেতা–কর্মীরা মিছিল–সমাবেশ করেছেন। থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। যেহেতু ঘটনাটি নির্বাচনী আচরণবিধিসংক্রান্ত, তাই অভিযোগটি সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি—এ তথ্য আমরা জেনেছি।

ধানের শীষের পক্ষে প্রচারণায় নোয়াখালীতে গেছেন জিয়া সাংস্কৃতিক সংগঠনের (জিসাস) নেতারা। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সংগঠনের সহ-সভাপতি কৌতুক অভিনেতা হারুন কিসিঞ্জারের নেতৃত্বে নোয়াখালী-৫ আসনে প্রচারণা চালান তারা। দুপুর ১২টায় জিসাসের দলটি কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাট পৌরসভা, চরকাঁকড়া, মুছাপুর ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে ধানের শীষের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করেন। এসময় তাদেরকে দেখতে শত শত নারী-পুুরুষ ভিড় করেন। কৌতুক অভিনেতা হারুন কিসিঞ্জার বলেন, ‘শহীদ জিয়াউর রহমানের দল বিএনপি এ দেশের খেটেখাওয়া মানুষের জন্য কাজ করে। এ দলের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের জন্য জীবন দিয়েছেন। বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের মানুষকে উন্নত জীবনের স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করছেন।’ জিসাসের সহ-সভাপতি ও কোম্পানীগঞ্জের বাসিন্দা হারুনুর রশীদ খাঁন শিমুর তত্ত্বাবধানে প্রচারণায় ছিলেন কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও কৌতুক অভিনেতা হারুন কিসিঞ্জার, কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, কৌতুক অভিনেতা শামীম, নায়ক হৃদয় প্রমুখ।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের নির্বাচনী প্রচারণায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ হামলায় জামায়াত ও এনসিপির অন্তত সাত নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। জামায়াতের পক্ষ থেকে এ হামলার জন্য বিএনপির নেতাকর্মীদের দায়ী করা হয়েছে। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বেগমগঞ্জ উপজেলার আলাইয়ারপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাজী বাড়ির দরজায় এ ঘটনা ঘটে। হামলায় আহতরা হলেন— এনসিপির জেলা জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক হাবিব উল্লাহ (২৭), দাঁড়িপাল্লার কর্মী জাহিদ (১৯), হৃদয় (২৭), অনিক (১৯), অপূর্ব (১৯), সাইফ (১৮) ও নজরুল ইসলাম সাগর (২৫)। আহতদের মধ্যে জাহিদকে গুরুতর অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ১১ দলীয় জোট মনোনীত দাড়িপাল্লার জামায়াতের জেলা সেক্রেটারি বোরহান উদ্দিন প্রার্থী মাওলানা বোরহান উদ্দিনের পক্ষে গণসংযোগে যাওয়ার সময় স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। বেগমগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের যুব বিভাগের সভাপতি জাকির হোসেন অভিযোগ করে বলেন, বিকেলে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রচারণা চলাকালে বিএনপির কর্মীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে প্রচারণায় অংশ নেওয়া জামায়াত ও এনসিপির নেতাকর্মীরা আহত হন। এ বিষয়ে বেগমগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কামাখ্যা চন্দ্র দাস বলেন, ঘটনার বিষয়ে আমি কিছু জানি না। খোঁজ নিয়ে পরে জানানো হবে। নোয়াখালী জেলা জামায়াতের প্রচার বিভাগের দায়িত্বে থাকা ডা. বোরহান উদ্দিন বলেন, ১১ দলীয় প্রার্থীর শান্তিপূর্ণ গণসংযোগে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। এতে আমাদের কয়েকজন নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। আমরা এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি। বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। জামায়াতের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় ফেরি ও সি-ট্রাকের একই সময়ের শিডিউল জটিলতায় যাত্রী সংকট দেখা দেওয়ায় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে সি-ট্রাক এস টি শৈবাল। জানা গেছে, চেয়ারম্যানঘাট–হাতিয়া নৌরুটে দীর্ঘদিন ধরে যাত্রী পরিবহন করে আসছিল সি-ট্রাক এস টি শৈবাল। দুর্যোগপূর্ণ সময়েও হাতিয়াবাসীর জন্য এটি ছিল নির্ভরযোগ্য যোগাযোগ মাধ্যম। তবে সম্প্রতি ফেরি মহানন্দা ও সি-ট্রাক এস টি শৈবালের চলাচলের সময়সূচি একই হওয়ায় যাত্রী বিভক্ত হয়ে পড়ে। এতে করে মারাত্মক যাত্রী সংকটে পড়ে সি-ট্রাকটি। এই পরিস্থিতিতে সি-ট্রাক কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে এস টি শৈবালের চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে। এতে স্থানীয় যাত্রীদের মধ্যে হতাশা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় যাত্রী ও সচেতন মহলের মতে, ফেরি ও সি-ট্রাকের জন্য পৃথক ও সমন্বিত শিডিউল নির্ধারণ করা হলে এই সংকট এড়ানো সম্ভব। এতে যাত্রীদের ভোগান্তি কমবে, নৌপথের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত হবে এবং হাতিয়ার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটবে। এদিকে জানা গেছে, একই সংকট অব্যাহত থাকলে আরেকটি সি-ট্রাক এস টি সাঙ্গু-ও বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, ফেরি সার্ভিসে একটি সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। তারা ইচ্ছেমতো ফেরি পরিচালনা ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। গাড়ির ভাড়া নির্ধারিত থাকলেও যাত্রীদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভাড়া নেওয়া হয়। এমনকি ফেরির মাস্টাররা ইচ্ছাকৃতভাবে দেরিতে ফেরি ছাড়েন, যাতে সি-ট্রাক যাত্রী না পায়। এতে বর্তমানে চলমান তিনটি সি-ট্রাকই সংকটে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সি-ট্রাক এস টি শৈবালের মাস্টার আফজাল হোসেন বলেন, ফেরি চালু হওয়ার পর থেকে সি-ট্রাকের সঙ্গে একই সময়ে চলাচল করা হচ্ছে। এতে যাত্রী সংকট তৈরি হচ্ছে। ফেরিতে গাড়ি লোড হয়ে গেলেও ইচ্ছাকৃতভাবে দেরি করা হয়, যাতে যাত্রী সি-ট্রাকে না যায়। এ বিষয়ে ফেরি মহানন্দার মাস্টার মোজাম্মেল হোসেন বলেন, আমাদের এখনো নির্দিষ্ট কোনো শিডিউল দেওয়া হয়নি। জোয়ার-ভাটার সঙ্গে মিল রেখে ফেরি পরিচালনা করছি। যাত্রী নেওয়ার বিষয়ে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। শিডিউল নির্ধারণ করা হলে আমরা সেটি মেনে চলবো। স্থানীয় বাসিন্দা মো. আকবর বলেন, সি-ট্রাক বন্ধ হলে আমাদের যাতায়াত আরও কষ্টকর হয়ে যাবে। হাতিয়ার মানুষের জন্য এটা বড় ক্ষতি। হাতিয়ার স্বার্থে এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে ফেরি ও সি-ট্রাকের মধ্যে দ্রুত সমন্বিত সময়সূচি নির্ধারণ করা জরুরি। এতে নৌযোগাযোগে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে। হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলাউদ্দিন বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।