

ধানের শীষের পক্ষে প্রচারণায় নোয়াখালীতে গেছেন জিয়া সাংস্কৃতিক সংগঠনের (জিসাস) নেতারা। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সংগঠনের সহ-সভাপতি কৌতুক অভিনেতা হারুন কিসিঞ্জারের নেতৃত্বে নোয়াখালী-৫ আসনে প্রচারণা চালান তারা। দুপুর ১২টায় জিসাসের দলটি কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাট পৌরসভা, চরকাঁকড়া, মুছাপুর ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে ধানের শীষের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করেন। এসময় তাদেরকে দেখতে শত শত নারী-পুুরুষ ভিড় করেন। কৌতুক অভিনেতা হারুন কিসিঞ্জার বলেন, ‘শহীদ জিয়াউর রহমানের দল বিএনপি এ দেশের খেটেখাওয়া মানুষের জন্য কাজ করে। এ দলের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের জন্য জীবন দিয়েছেন। বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের মানুষকে উন্নত জীবনের স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করছেন।’ জিসাসের সহ-সভাপতি ও কোম্পানীগঞ্জের বাসিন্দা হারুনুর রশীদ খাঁন শিমুর তত্ত্বাবধানে প্রচারণায় ছিলেন কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও কৌতুক অভিনেতা হারুন কিসিঞ্জার, কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, কৌতুক অভিনেতা শামীম, নায়ক হৃদয় প্রমুখ।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের নির্বাচনী প্রচারণায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ হামলায় জামায়াত ও এনসিপির অন্তত সাত নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। জামায়াতের পক্ষ থেকে এ হামলার জন্য বিএনপির নেতাকর্মীদের দায়ী করা হয়েছে। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বেগমগঞ্জ উপজেলার আলাইয়ারপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাজী বাড়ির দরজায় এ ঘটনা ঘটে। হামলায় আহতরা হলেন— এনসিপির জেলা জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক হাবিব উল্লাহ (২৭), দাঁড়িপাল্লার কর্মী জাহিদ (১৯), হৃদয় (২৭), অনিক (১৯), অপূর্ব (১৯), সাইফ (১৮) ও নজরুল ইসলাম সাগর (২৫)। আহতদের মধ্যে জাহিদকে গুরুতর অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ১১ দলীয় জোট মনোনীত দাড়িপাল্লার জামায়াতের জেলা সেক্রেটারি বোরহান উদ্দিন প্রার্থী মাওলানা বোরহান উদ্দিনের পক্ষে গণসংযোগে যাওয়ার সময় স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। বেগমগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের যুব বিভাগের সভাপতি জাকির হোসেন অভিযোগ করে বলেন, বিকেলে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রচারণা চলাকালে বিএনপির কর্মীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে প্রচারণায় অংশ নেওয়া জামায়াত ও এনসিপির নেতাকর্মীরা আহত হন। এ বিষয়ে বেগমগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কামাখ্যা চন্দ্র দাস বলেন, ঘটনার বিষয়ে আমি কিছু জানি না। খোঁজ নিয়ে পরে জানানো হবে। নোয়াখালী জেলা জামায়াতের প্রচার বিভাগের দায়িত্বে থাকা ডা. বোরহান উদ্দিন বলেন, ১১ দলীয় প্রার্থীর শান্তিপূর্ণ গণসংযোগে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। এতে আমাদের কয়েকজন নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। আমরা এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি। বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। জামায়াতের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় ফেরি ও সি-ট্রাকের একই সময়ের শিডিউল জটিলতায় যাত্রী সংকট দেখা দেওয়ায় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে সি-ট্রাক এস টি শৈবাল। জানা গেছে, চেয়ারম্যানঘাট–হাতিয়া নৌরুটে দীর্ঘদিন ধরে যাত্রী পরিবহন করে আসছিল সি-ট্রাক এস টি শৈবাল। দুর্যোগপূর্ণ সময়েও হাতিয়াবাসীর জন্য এটি ছিল নির্ভরযোগ্য যোগাযোগ মাধ্যম। তবে সম্প্রতি ফেরি মহানন্দা ও সি-ট্রাক এস টি শৈবালের চলাচলের সময়সূচি একই হওয়ায় যাত্রী বিভক্ত হয়ে পড়ে। এতে করে মারাত্মক যাত্রী সংকটে পড়ে সি-ট্রাকটি। এই পরিস্থিতিতে সি-ট্রাক কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে এস টি শৈবালের চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে। এতে স্থানীয় যাত্রীদের মধ্যে হতাশা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় যাত্রী ও সচেতন মহলের মতে, ফেরি ও সি-ট্রাকের জন্য পৃথক ও সমন্বিত শিডিউল নির্ধারণ করা হলে এই সংকট এড়ানো সম্ভব। এতে যাত্রীদের ভোগান্তি কমবে, নৌপথের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত হবে এবং হাতিয়ার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটবে। এদিকে জানা গেছে, একই সংকট অব্যাহত থাকলে আরেকটি সি-ট্রাক এস টি সাঙ্গু-ও বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, ফেরি সার্ভিসে একটি সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। তারা ইচ্ছেমতো ফেরি পরিচালনা ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। গাড়ির ভাড়া নির্ধারিত থাকলেও যাত্রীদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভাড়া নেওয়া হয়। এমনকি ফেরির মাস্টাররা ইচ্ছাকৃতভাবে দেরিতে ফেরি ছাড়েন, যাতে সি-ট্রাক যাত্রী না পায়। এতে বর্তমানে চলমান তিনটি সি-ট্রাকই সংকটে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সি-ট্রাক এস টি শৈবালের মাস্টার আফজাল হোসেন বলেন, ফেরি চালু হওয়ার পর থেকে সি-ট্রাকের সঙ্গে একই সময়ে চলাচল করা হচ্ছে। এতে যাত্রী সংকট তৈরি হচ্ছে। ফেরিতে গাড়ি লোড হয়ে গেলেও ইচ্ছাকৃতভাবে দেরি করা হয়, যাতে যাত্রী সি-ট্রাকে না যায়। এ বিষয়ে ফেরি মহানন্দার মাস্টার মোজাম্মেল হোসেন বলেন, আমাদের এখনো নির্দিষ্ট কোনো শিডিউল দেওয়া হয়নি। জোয়ার-ভাটার সঙ্গে মিল রেখে ফেরি পরিচালনা করছি। যাত্রী নেওয়ার বিষয়ে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। শিডিউল নির্ধারণ করা হলে আমরা সেটি মেনে চলবো। স্থানীয় বাসিন্দা মো. আকবর বলেন, সি-ট্রাক বন্ধ হলে আমাদের যাতায়াত আরও কষ্টকর হয়ে যাবে। হাতিয়ার মানুষের জন্য এটা বড় ক্ষতি। হাতিয়ার স্বার্থে এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে ফেরি ও সি-ট্রাকের মধ্যে দ্রুত সমন্বিত সময়সূচি নির্ধারণ করা জরুরি। এতে নৌযোগাযোগে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে। হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলাউদ্দিন বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের ১১ দলীয় জোট মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী আবদুল হান্নান মাসউদের প্রতি সাধারণ ভোটারদের ভালোবাসা ও আস্থার এক ব্যতিক্রমী দৃশ্য দেখা গেছে নির্বাচনী প্রচারণায়। স্বামীর পক্ষে ভোট চাইতে গিয়ে এক ভোটারের কাছ থেকে স্বর্ণের আংটি উপহার পেয়েছেন হান্নান মাসুদের স্ত্রী শ্যামলী সুলতানা জেদনী। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে হাতিয়া উপজেলার জাহাজমারা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আমির ডুবাইর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। স্বর্ণের আংটিটি উপহার দেন প্রবাসী আমির ডুবাইয়ের বৃদ্ধা মা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওইদিন আমির ডুবাইর বাড়িতে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী আবদুল হান্নান মাসউদের নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে পূর্বনির্ধারিত একটি উঠান বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ছাত্র শক্তির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও হান্নান মাসউদের সহধর্মিণী শ্যামলী সুলতানা জেদনী। উঠান বৈঠক শুরু হওয়ার আগে নির্ধারিত আসনে বসার সময় হঠাৎ এক বৃদ্ধা নারী এগিয়ে এসে শ্যামলী সুলতানা জেদনীর হাতে একটি স্বর্ণের আংটি পরিয়ে দেন। তিনি এটিকে ভালোবাসা ও সম্মানের উপহার হিসেবে গ্রহণ করার অনুরোধ জানান। এ সময় উপস্থিত নারী ভোটাররা করতালির মাধ্যমে ঘটনাটিকে স্বাগত জানান, যা মুহূর্তেই আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি করে। এ বিষয়ে শ্যামলী সুলতানা জেদনী বলেন, এটি হান্নান মাসউদের প্রতি সাধারণ মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। গত দেড় বছরে তিনি সাধারণ মানুষের জন্য যে কাজগুলো করেছেন, এই উপহার তারই প্রতিফলন। একজন স্ত্রী হিসেবে আমি গর্বিত। উঠান বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ছাত্র শক্তি হাতিয়া উপজেলা শাখার সদস্য সচিব আশিক এলাহীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা। পাশাপাশি আশপাশের গ্রামের শতাধিক নারী ভোটার বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।

যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে কাটানো প্রতিটি মিনিটের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন ধনকুবের বিল গেটস। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এপস্টেইনের কয়েক লাখ নথি প্রকাশ করেছে। ওইসব নথির মধ্যে রয়েছে একটি ড্রাফট ইমেইল। এতে এপস্টেইন লিখেছেন, বিল গেটস বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়েছেন। তিনি বলেছেন, বিল গেটস এক রুশ নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেছেন। যার প্রভাবে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। সুস্থ হতে বিল গেটসকে ওষুধও দেন বলে দাবি করেন তিনি। যেন তিনি অন্য বিবাহিত নারীদের সঙ্গে সম্পর্ক করতে পারেন। তবে এ ইমেইলের তথ্য অসত্য বলে দাবি করেছেন বিল গেটস। তিনি সংবাদমাধ্যম ৯নিউজ অস্ট্রেলিয়াকে বলেছেন, “আমি তার সঙ্গে কাটানো প্রতিটি মিনিটের জন্য আমি দুঃখিত, ক্ষমা চাই। ওই ইমেইল কখনো কোথাও পাঠানো হয়নি। ইমেইলটি মিথ্যা। আমি জানি না এ ব্যাপারে তার কি মতলব ছিল। এপস্টেইন কি কোনোভাবে আমাকে আক্রমণ করতে চেয়েছিলেন?” বিল গেটস আরও বলেছেন, এপস্টেইনের ২০১১ সালে প্রথম যোগাযোগ হয় তার। এরপর পরের তিন বছর একাধিকবার এপস্টেইনের সঙ্গে ডিনারে অংশ নেন তিনি। কিন্তু কখনো ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে অবস্থিত তার সেই দ্বীপে যাননি এবং কোনো নারীর সঙ্গে সম্পর্কও ছিল না। বিল গেটসের এক মুখপাত্রও একই দাবি করে বলেছেন, বিল এসব ব্যাপারে অবগত নন। বিজ্ঞাপন সূত্র: এএফপি

আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে মাঠে গড়াতে যাচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আসর। ভারতের মাটিতে নিরাপত্তা ইস্যুর কারণে এবারের আসরে খেলছে না বাংলাদেশ। যে কারণে এই সময়ে ঘরোয়া টুর্নামেন্টের আয়োজন করেছে (বিসিবি)। দেশের ৩৯ জন সেরা ক্রিকেটারকে নিয়ে তিনটি দল বানিয়ে আজ বৃহস্পতিবার থেকে মাঠে গড়াবে ‘অদম্য বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি কাপ’। উদ্বোধনী খেলায় সন্ধ্যা ৬টায় মিরপুর শেরে-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হচ্ছে লিটন দাসের ধূমকেতু একাদশ ও আকবর আলির দুরন্ত একাদশ। ম্যাচের আগের দিন গতকাল দুই দলই অনুশীলনে শেষ সময়ের প্রস্তুতি সেরেছে। পরে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন দল দুটির প্রধান কোচ। ধূমকেতুর কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেছিলেন, 'দিনশেষে যখন আপনি মাঠে নামবেন সবাই তার সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করে। এখানে টপ ৪৫ খেলোয়াড় খেলছে। হেলদি কম্পিটিশন হবে, আগে খেলেছে ওরাও আছে তরুণরাও আছে। প্রতিদিন একেকটা সুযোগ। সিরিয়াসলি নিলে এটা বড় সুযোগ তার জন্য, সিরিয়াসলি না নিলে ডাউনফলও হতে পারে। সবাই সেরাটা দিবে আশা করি।' দুরন্ত একাদশের কোচ হান্নান সরকার বলেছিলেন, ‘আমার কাছে মনে হয় ভালো প্রতিযোগিতা। ভালো একটা টুর্নামেন্ট, ৩ দলের মধ্যে ধাপে ধাপে দল সাজানো হয়েছে। চ্যালেঞ্জ ভিন্ন থাকবে। আমাদের বয়সভিত্তিক দলে যারা আছে তাদের চ্যালেঞ্জ ভিন্ন থাকবে। আমাদের দলে প্লেয়ারের মধ্যে ক্ষুধার্ত প্লেয়ারের সংখ্যা বেশি। ক্ষুধার্ত মানে হচ্ছে তারা পারফর্ম করার জন্য মরিয়া হয়ে আছে। এটা একটা চ্যালেঞ্জ। প্লেয়ারদের পাশাপাশি কোচ, ম্যানেজমেন্ট সবার জন্যই ইতিবাচকভাবেই দেখছি।’ প্রতিটি ম্যাচের দিন বিকাল ৪টা থেকে থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এই টুর্নামেন্টে প্রাইজমানি ও ফি মিলিয়ে মোট বাজেট ধরা হয়েছে ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। খেলায় নতুন মাত্রা যোগ করবে ‘ইমপ্যাক্ট খেলোয়াড়’ নিয়ম। ধূমকেতু স্কোয়াড লিটন কুমার দাস (অধিনায়ক), তানজিদ হাসান, সাইফ হাসান, পারভেজ হোসেন ইমন, তাওহীদ হৃদয়, শামীম হোসেন, শেখ মেহেদী হাসান, রিশাদ হোসেন, নাসুম আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান, তানজিম হাসান সাকিব, মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধ ও শরিফুল ইসলাম দুরন্ত স্কোয়াড জিসান আলম, জাওয়াদ আবরার, মাহফিজুল ইসলাম রবিন, আরিফুল ইসলাম, মাহিদুল ইসলাম, আকবর আলী (অধিনায়ক), আজিজুল হাকিম তামিম, রিপন মন্ডল, আব্দুল গাফফার সাকলায়েন, এস এম মেহরব হোসেন, রাকিবুল হাসান, নাহিদ রানা ও ইকবাল হোসেন ইমন।

নোয়াখালী–২ (সেনবাগ ও সোনাইমুড়ী আংশিক) আসনে ১১–দলীয় নির্বাচনী জোটের প্রার্থী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়ার শাপলা কলি প্রতীকের এক কর্মীর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। আজ বুধবার বিকেলে সেনবাগ উপজেলার উত্তর শাহাপুর এলাকায় শাপলা কলির নির্বাচনী ব্যানার টাঙাতে গেলে এ ঘটনা ঘটে। এনসিপির প্রার্থীর অভিযোগ, স্থানীয় বিএনপি ও ধানের শীষের প্রতীকের কর্মীদের হামলায় তাঁর কর্মী মো. সাখাওয়াত হোসেন (২৮) আহত হয়েছেন। তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার রাতে সেনবাগ বাজারে শাপলা কলির কর্মী–সমর্থকেরা বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। সমাবেশ থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ বিকেলে শাপলা কলি প্রতীকের কর্মী মো. সাখাওয়াত হোসেন উত্তর শাহাপুর এলাকায় ব্যানার টাঙাতে যান। এ সময় স্থানীয় ধানের শীষের কর্মীরা তাঁকে মারধর করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে দলের কর্মীরা খবর পেয়ে তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে আজ রাত পৌনে আটটার দিকে শাপলা কলির প্রার্থী সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়ার নেতৃত্বে সেনবাগ পৌর শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করা হয়। সেনবাগ পৌর শহরের জেলা পরিষদ মার্কেট চত্বর থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সেনবাগ থানার মোড়ে গিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়। সমাবেশে সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়া ছাড়াও উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা আবদুল মালেক এবং পৌর জামায়াতের আমির মোহাম্মদ ইয়াছিন মিয়াজী বক্তব্য দেন। এ সময় বক্তারা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার ঘোষণা দেন তাঁরা। বিষয়টি নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বিএনপির প্রার্থী জয়নুল আবদিন ফারুকের চাচাতো ভাই ও জেলা বিএনপির সদস্য আবদুল্লা আল মামুন বলেন, ‘শাপলা কলি প্রতীকের ব্যানার টাঙানো নিয়ে যে ঘটনাটি ঘটেছে, তার সঙ্গে বিএনপির দলীয় কোনো সম্পর্ক নেই। বিষয়টি নজরে আসার পরপরই অভিযুক্ত মাসুদ আলমকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে দলের কোনো আপত্তি থাকবে না।’ সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবুল বাশার বলেন, ‘শাপলা কলির এক কর্মী ব্যানার টাঙাতে গেলে তাঁর ওপর হামলা হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে শাপলা কলির নেতা–কর্মীরা মিছিল–সমাবেশ করেছেন। থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। যেহেতু ঘটনাটি নির্বাচনী আচরণবিধিসংক্রান্ত, তাই অভিযোগটি সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি—এ তথ্য আমরা জেনেছি।

ধানের শীষের পক্ষে প্রচারণায় নোয়াখালীতে গেছেন জিয়া সাংস্কৃতিক সংগঠনের (জিসাস) নেতারা। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সংগঠনের সহ-সভাপতি কৌতুক অভিনেতা হারুন কিসিঞ্জারের নেতৃত্বে নোয়াখালী-৫ আসনে প্রচারণা চালান তারা। দুপুর ১২টায় জিসাসের দলটি কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাট পৌরসভা, চরকাঁকড়া, মুছাপুর ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে ধানের শীষের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করেন। এসময় তাদেরকে দেখতে শত শত নারী-পুুরুষ ভিড় করেন। কৌতুক অভিনেতা হারুন কিসিঞ্জার বলেন, ‘শহীদ জিয়াউর রহমানের দল বিএনপি এ দেশের খেটেখাওয়া মানুষের জন্য কাজ করে। এ দলের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের জন্য জীবন দিয়েছেন। বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের মানুষকে উন্নত জীবনের স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করছেন।’ জিসাসের সহ-সভাপতি ও কোম্পানীগঞ্জের বাসিন্দা হারুনুর রশীদ খাঁন শিমুর তত্ত্বাবধানে প্রচারণায় ছিলেন কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও কৌতুক অভিনেতা হারুন কিসিঞ্জার, কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, কৌতুক অভিনেতা শামীম, নায়ক হৃদয় প্রমুখ।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের নির্বাচনী প্রচারণায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ হামলায় জামায়াত ও এনসিপির অন্তত সাত নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। জামায়াতের পক্ষ থেকে এ হামলার জন্য বিএনপির নেতাকর্মীদের দায়ী করা হয়েছে। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বেগমগঞ্জ উপজেলার আলাইয়ারপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাজী বাড়ির দরজায় এ ঘটনা ঘটে। হামলায় আহতরা হলেন— এনসিপির জেলা জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক হাবিব উল্লাহ (২৭), দাঁড়িপাল্লার কর্মী জাহিদ (১৯), হৃদয় (২৭), অনিক (১৯), অপূর্ব (১৯), সাইফ (১৮) ও নজরুল ইসলাম সাগর (২৫)। আহতদের মধ্যে জাহিদকে গুরুতর অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ১১ দলীয় জোট মনোনীত দাড়িপাল্লার জামায়াতের জেলা সেক্রেটারি বোরহান উদ্দিন প্রার্থী মাওলানা বোরহান উদ্দিনের পক্ষে গণসংযোগে যাওয়ার সময় স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। বেগমগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের যুব বিভাগের সভাপতি জাকির হোসেন অভিযোগ করে বলেন, বিকেলে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রচারণা চলাকালে বিএনপির কর্মীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে প্রচারণায় অংশ নেওয়া জামায়াত ও এনসিপির নেতাকর্মীরা আহত হন। এ বিষয়ে বেগমগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কামাখ্যা চন্দ্র দাস বলেন, ঘটনার বিষয়ে আমি কিছু জানি না। খোঁজ নিয়ে পরে জানানো হবে। নোয়াখালী জেলা জামায়াতের প্রচার বিভাগের দায়িত্বে থাকা ডা. বোরহান উদ্দিন বলেন, ১১ দলীয় প্রার্থীর শান্তিপূর্ণ গণসংযোগে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। এতে আমাদের কয়েকজন নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। আমরা এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি। বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। জামায়াতের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় ফেরি ও সি-ট্রাকের একই সময়ের শিডিউল জটিলতায় যাত্রী সংকট দেখা দেওয়ায় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে সি-ট্রাক এস টি শৈবাল। জানা গেছে, চেয়ারম্যানঘাট–হাতিয়া নৌরুটে দীর্ঘদিন ধরে যাত্রী পরিবহন করে আসছিল সি-ট্রাক এস টি শৈবাল। দুর্যোগপূর্ণ সময়েও হাতিয়াবাসীর জন্য এটি ছিল নির্ভরযোগ্য যোগাযোগ মাধ্যম। তবে সম্প্রতি ফেরি মহানন্দা ও সি-ট্রাক এস টি শৈবালের চলাচলের সময়সূচি একই হওয়ায় যাত্রী বিভক্ত হয়ে পড়ে। এতে করে মারাত্মক যাত্রী সংকটে পড়ে সি-ট্রাকটি। এই পরিস্থিতিতে সি-ট্রাক কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে এস টি শৈবালের চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে। এতে স্থানীয় যাত্রীদের মধ্যে হতাশা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় যাত্রী ও সচেতন মহলের মতে, ফেরি ও সি-ট্রাকের জন্য পৃথক ও সমন্বিত শিডিউল নির্ধারণ করা হলে এই সংকট এড়ানো সম্ভব। এতে যাত্রীদের ভোগান্তি কমবে, নৌপথের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত হবে এবং হাতিয়ার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটবে। এদিকে জানা গেছে, একই সংকট অব্যাহত থাকলে আরেকটি সি-ট্রাক এস টি সাঙ্গু-ও বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, ফেরি সার্ভিসে একটি সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। তারা ইচ্ছেমতো ফেরি পরিচালনা ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। গাড়ির ভাড়া নির্ধারিত থাকলেও যাত্রীদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভাড়া নেওয়া হয়। এমনকি ফেরির মাস্টাররা ইচ্ছাকৃতভাবে দেরিতে ফেরি ছাড়েন, যাতে সি-ট্রাক যাত্রী না পায়। এতে বর্তমানে চলমান তিনটি সি-ট্রাকই সংকটে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সি-ট্রাক এস টি শৈবালের মাস্টার আফজাল হোসেন বলেন, ফেরি চালু হওয়ার পর থেকে সি-ট্রাকের সঙ্গে একই সময়ে চলাচল করা হচ্ছে। এতে যাত্রী সংকট তৈরি হচ্ছে। ফেরিতে গাড়ি লোড হয়ে গেলেও ইচ্ছাকৃতভাবে দেরি করা হয়, যাতে যাত্রী সি-ট্রাকে না যায়। এ বিষয়ে ফেরি মহানন্দার মাস্টার মোজাম্মেল হোসেন বলেন, আমাদের এখনো নির্দিষ্ট কোনো শিডিউল দেওয়া হয়নি। জোয়ার-ভাটার সঙ্গে মিল রেখে ফেরি পরিচালনা করছি। যাত্রী নেওয়ার বিষয়ে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। শিডিউল নির্ধারণ করা হলে আমরা সেটি মেনে চলবো। স্থানীয় বাসিন্দা মো. আকবর বলেন, সি-ট্রাক বন্ধ হলে আমাদের যাতায়াত আরও কষ্টকর হয়ে যাবে। হাতিয়ার মানুষের জন্য এটা বড় ক্ষতি। হাতিয়ার স্বার্থে এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে ফেরি ও সি-ট্রাকের মধ্যে দ্রুত সমন্বিত সময়সূচি নির্ধারণ করা জরুরি। এতে নৌযোগাযোগে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে। হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলাউদ্দিন বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী কাজী মো. মফিজুর রহমান। আজ দুপুরে সেনবাগ উপজেলার পরিকোট গ্রামের নিজ বাড়িতেছবি: প্রথম আলো নোয়াখালী-২ (সেনবাগ ও সোনাইমুড়ী আংশিক) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী মো. মফিজুর রহমান অভিযোগ করেছেন, ওই আসনের বিএনপির প্রার্থী তাঁকে হুমকি দিচ্ছেন। তাঁর নেতা-কর্মীদেরও মারধর করছেন বিএনপির লোকজন। আজ মঙ্গলবার দুপুরে নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার ডুমুরুয়া ইউনিয়নের পরিকোট গ্রামে নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। কাজী মফিজুর রহমান বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য। এর আগে তিনি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানও ছিলেন। নোয়াখালী-২ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন চেয়েছিলেন তিনি। তবে তাঁকে মনোনয়ন না দেওয়ায় তিনি দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন। এরপর তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে কাজী মফিজুর রহমান বলেন, ‘নির্বাচনী প্রচার শুরুর পর থেকে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের জন্য বিএনপির প্রার্থী জয়নুল আবদিন ফারুক আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি প্রদান করছেন। বিভিন্ন এলাকায় আমার প্রচারের কাজে নিয়োজিত নেতা-কর্মীদের মারধর করছেন ধানের শীষের প্রার্থীর লোকজন।’ কাপ-পিরিচ প্রতীকের এই প্রার্থী বলেন, ‘আমাকে যেহেতু দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে, সেহেতু আমি বিএনপির কেউ না। আমি নির্বাচনে প্রার্থী হলে বিএনপির প্রার্থীর মাথা ঘামানোর কোনো কারণ নেই। কিন্তু তিনি গতকাল সোমবার ডুমুরুয়া ইউনিয়নে একটি নির্বাচনী পথসভায় বলেছেন, আমাকে গাজীর মাজারে গিয়ে তওবা করে বিএনপির ধানের শীষের প্রতীকের পক্ষে ভোট করতে। একজন প্রার্থী কীভাবে আরেকজন প্রার্থীকে উদ্দেশ করে এ ধরনের কথা বলতে পারেন। এই প্রশ্ন আমি নির্বাচন কমিশনের কাছে রাখছি।’ কাজী মফিজুর রহমান অভিযোগ করেন, ১ ফেব্রুয়ারি সোনাইমুড়ী উপজেলার বারগাঁও ইউনিয়নের ভোরের বাজারে তাঁর একটি নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে। তাঁর কর্মীদের মারধর করা হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় প্রচারের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। তাঁর নেতা-কর্মীদের ১২ তারিখের পর দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। হামলা-ভাঙচুর, প্রচারে বাধা ও হুমকির বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে লিখিত অভিযোগ করা হলেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন কাজী মফিজুর রহমান। কাজী মফিজুরের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির প্রার্থী জয়নুল আবদিন ফারুক প্রথম আলোকে বলেন, ‘স্বতন্ত্র প্রার্থীর এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। এসব অভিযোগের সবই ভিত্তিহীন। তাঁকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার জন্য এসব প্রচার করা হচ্ছে

নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের ১১ দলীয় জোট মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী আবদুল হান্নান মাসউদের প্রতি সাধারণ ভোটারদের ভালোবাসা ও আস্থার এক ব্যতিক্রমী দৃশ্য দেখা গেছে নির্বাচনী প্রচারণায়। স্বামীর পক্ষে ভোট চাইতে গিয়ে এক ভোটারের কাছ থেকে স্বর্ণের আংটি উপহার পেয়েছেন হান্নান মাসুদের স্ত্রী শ্যামলী সুলতানা জেদনী। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে হাতিয়া উপজেলার জাহাজমারা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আমির ডুবাইর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। স্বর্ণের আংটিটি উপহার দেন প্রবাসী আমির ডুবাইয়ের বৃদ্ধা মা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওইদিন আমির ডুবাইর বাড়িতে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী আবদুল হান্নান মাসউদের নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে পূর্বনির্ধারিত একটি উঠান বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ছাত্র শক্তির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও হান্নান মাসউদের সহধর্মিণী শ্যামলী সুলতানা জেদনী। উঠান বৈঠক শুরু হওয়ার আগে নির্ধারিত আসনে বসার সময় হঠাৎ এক বৃদ্ধা নারী এগিয়ে এসে শ্যামলী সুলতানা জেদনীর হাতে একটি স্বর্ণের আংটি পরিয়ে দেন। তিনি এটিকে ভালোবাসা ও সম্মানের উপহার হিসেবে গ্রহণ করার অনুরোধ জানান। এ সময় উপস্থিত নারী ভোটাররা করতালির মাধ্যমে ঘটনাটিকে স্বাগত জানান, যা মুহূর্তেই আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি করে। এ বিষয়ে শ্যামলী সুলতানা জেদনী বলেন, এটি হান্নান মাসউদের প্রতি সাধারণ মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। গত দেড় বছরে তিনি সাধারণ মানুষের জন্য যে কাজগুলো করেছেন, এই উপহার তারই প্রতিফলন। একজন স্ত্রী হিসেবে আমি গর্বিত। উঠান বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ছাত্র শক্তি হাতিয়া উপজেলা শাখার সদস্য সচিব আশিক এলাহীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা। পাশাপাশি আশপাশের গ্রামের শতাধিক নারী ভোটার বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।

নোয়াখালীর ৬টি সংসদীয় আসনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। অভিজ্ঞ নেতা থেকে নতুন মুখ, দলীয় প্রভাব থেকে ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা সব মিলিয়ে প্রতিটি আসনে ভোটের সমীকরণ জটিল ও বৈচিত্র্যময়। নোয়াখালী-১ থেকে নোয়াখালী-৬ পর্যন্ত প্রতিটি এলাকায় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন, জাতীয় পার্টি, ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা মাঠে কৌশলগত প্রচারণা চালাচ্ছেন। নোয়াখালী-১ (চাটখিল–সোনাইমুড়ী আংশিক) সংসদীয় আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়ে উঠছে ভোটের সমীকরণ। যাচাই-বাছাই শেষে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী বাদ পড়ায় চূড়ান্তভাবে সাতজন প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে থাকলেও অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক শক্তি ও ভোটব্যাংকের বিচারে এগিয়ে রয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। তবে বিকল্প শক্তি হিসেবে ভোটারদের নজর কাড়তে শুরু করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা মো. ছাইফ উল্লাহ এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জহিরুল ইসলাম। চাটখিল উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এবং সোনাইমুড়ী উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত নোয়াখালী-১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৫২ হাজার ৪২৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৩৩ হাজার ৭১১ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ১৮ হাজার ৭১৪ জন। মোট ১৪১ টা ভোট কেন্দ্রের মধ্যে একটিও নেই অস্থায়ী কেন্দ্র। তবে আছে ৮৮৯ টি ভোট কক্ষের মধ্যে ৩১ টি অস্থায়ী ভোট কক্ষ। বড় ভোটারভিত্তির এই আসনে প্রতিটি দলই নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে মাঠপর্যায়ে তৎপরতা বাড়িয়েছে। এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী সাত প্রার্থী হলেন— ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জামায়াতে ইসলামীর মো. ছাইফ উল্যাহ, হাতপাখা প্রতীকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জহিরুল ইসলাম, লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পার্টির মো. নুরুল আমিন, ডাব প্রতীকে বাংলাদেশ কংগ্রেসের মো. মনিনুল ইসলাম, আপেল প্রতীকে ইনসানিয়াত বাংলাদেশের মো. মশিউর রহমান এবং তারা প্রতীকে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) মনোনীত প্রার্থী রেহানা বেগম। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা প্রার্থীদের হলফনামা পর্যালোচনায় দেখা যায়, বিএনপি প্রার্থী ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন ছাড়া অন্য সব প্রার্থী এবারই প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। খোকন নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে অংশ নিলেও তিনি জয়লাভ করতে পারেননি। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এবং সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি হিসেবে তার রাজনৈতিক পরিচিতি ও দীর্ঘ অভিজ্ঞতা তাকে ভোটের মাঠে বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামো, অতীত নির্বাচনের অভিজ্ঞতা এবং প্রার্থীর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা মিলিয়ে এই আসনে দলটি আপাতত এগিয়ে রয়েছে। তবে ভোটারদের একটি অংশ বিকল্প নেতৃত্বের সন্ধানে থাকায় ধর্মভিত্তিক দলগুলোর প্রার্থীরাও আলোচনায় উঠে আসছেন। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা মো. ছাইফ উল্লাহ পেশায় শিক্ষক। দীর্ঘদিন ধরে তিনি এলাকার সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। ব্যক্তিগত সততা, সহজ-সরল জীবনযাপন এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের কারণে তার প্রতি এক ধরনের আস্থার পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে স্থানীয়রা দাবি করছেন। নীরব সমর্থনও বাড়ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী জহিরুল ইসলাম ভিন্ন পরিচয়ে ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন। তিনি পূর্বে যুক্তরাজ্যের দ্বৈত নাগরিক ছিলেন এবং নির্বাচনে অংশ নিতে গত বছরের ১২ ডিসেম্বর যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেন। ৪৪ বছর বয়সী এই প্রার্থী স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী। প্রবাসে রেমিট্যান্স পাঠানোর স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি গত বছর বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (সিআইপি) হিসেবেও মনোনীত হন। সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকায় তরুণ ও সচেতন ভোটারদের একটি অংশ তার প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা মো. ছাইফ উল্লাহ বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকার মানুষের সঙ্গে আছি। শিক্ষকতা ও সামাজিক কাজের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সুখ–দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। জনগণ যদি আমাকে নির্বাচিত করেন, তাহলে দুর্নীতিমুক্ত ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ গঠনে কাজ করব। এলাকার শিক্ষা, নৈতিকতা ও সামাজিক উন্নয়নই হবে আমার প্রধান অগ্রাধিকার। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী জহিরুল ইসলাম বলেন, দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করার তাগিদ থেকেই আমি প্রবাসের জীবন ছেড়ে নির্বাচনে এসেছি। রাজনীতিকে আমি সেবা হিসেবে দেখি। জনগণ যদি আমাকে সুযোগ দেন, তাহলে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং মানবিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে উন্নয়ন নিশ্চিত করতে চাই। তরুণ সমাজের প্রত্যাশা পূরণে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। বিএনপি প্রার্থী ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, এই আসনের মানুষ আমাকে আগেও সংসদে পাঠিয়েছেন। তাদের সুখ–দুঃখ, সমস্যা ও সম্ভাবনা আমি ভালোভাবে জানি। আমার অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক অবস্থান কাজে লাগিয়ে নোয়াখালী-১ আসনের সার্বিক উন্নয়ন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করব।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের ভেরিফাইড এক্স (সাবেক টুইটার) আইডি হ্যাক করার অভিযোগে বঙ্গভবনের সহকারী প্রোগ্রামার মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলমকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এর পরিপ্রেক্ষিতে জামায়াত আমির জানিয়েছেন, তিনি এখন এই অপরাধের সুষ্ঠু বিচার এবং আইনের বাস্তব প্রয়োগ দেখতে চান। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ কথা বলেন। ফেসবুক পোস্টে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আমার ভেরিফাইড এক্স আইডি (টুইটার), যেখান থেকে হ্যাক হয়েছিল, সেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আটক হয়েছে।’ তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে আরও লেখেন, ‘এখন ন্যায়বিচারটাও পাব এবং তা খুবই প্রয়োজন। দেশে সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও আসন্ন নির্বাচনকে সুষ্ঠু করার পক্ষে এ ধরনের আইনি উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই। শাস্তি নিশ্চিত হলে অনেকেই সাবধান হয়ে যাবে।’ জামায়াত আমির মনে করেন, এই ঘটনা থেকে অনেকেরই শিক্ষা হবে। তিনি বলেন, ‘অপেক্ষায় রইলাম, আইনের বাস্তব প্রয়োগ দেখার জন্য।’ অতি অল্প সময়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ধন্যবাদও জানান।

নোয়াখালীর চেয়ারম্যানঘাট-হাতিয়া ফেরি সার্ভিসে অনিয়ম ও দায়িত্বহীনতার অভিযোগে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে সরকার। নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেনের নির্দেশে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, উপদেষ্টার নির্দেশ অনুযায়ী বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) দুই সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। ঘটনার সত্যতা যাচাই, দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ এবং ভবিষ্যতে ফেরি সার্ভিস সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে কার্যকর সুপারিশ সংবলিত প্রতিবেদন আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে বিআইডব্লিউটিসি চেয়ারম্যানের কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন এই ফেরি সার্ভিসটির মানোন্নয়ন এবং যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে যেকোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ২ ফেব্রুয়ারি সকালে মিডিয়াম রো-রো ফেরি ‘মহানন্দা’ চেয়ারম্যানঘাট থেকে হাতিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করে ১০টার পর গন্তব্যে পৌঁছায়। অভিযোগ উঠেছে, হাতিয়ায় পৌঁছানোর পর ফেরির ইঞ্জিন মাস্টার যাত্রী নামিয়ে দিলেও কোনো যানবাহন বা যাত্রী বোঝাই না করেই ঘাট ত্যাগ করেন। এরপর ফেরিটি দীর্ঘ সময় পর রাত পৌনে ১২টায় পুনরায় ঘাটে ফিরে আসে এবং রাত ১২টা ২০ মিনিটে যাত্রা করে। ফেরি পরিচালনা ও সময় ব্যবস্থাপনার এই চরম অব্যবস্থাপনার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও আকারে ছড়িয়ে পড়লে তা নৌপরিবহন উপদেষ্টার দৃষ্টিগোচর হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে দ্রুত তদন্তের এই নির্দেশ দেওয়া হলো।

নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার তমরদ্দি ইউনিয়নে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাত নেতাকর্মী বিএনপিতে যোগদান করেছেন। এ সময় তারা বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তমরদ্দি ইউনিয়নে ধানের শীষের নির্বাচনী এক উঠান বৈঠকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ যোগদান অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম নবাগত নেতাকর্মীদের ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেন। বিএনপিতে যোগদানকারীরা হলেন—তমরদ্দি ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড এনসিপির সদস্য সচিব হেলাল উদ্দিন, যুগ্ম আহ্বায়ক মতিন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ আলী, যুগ্ম আহ্বায়ক রাব্বি, সদস্য রাসেল উদ্দিন, সাদ্দাম হোসেন ও ফারুক উদ্দিন। জানা গেছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাহবুবের রহমান শামীম ওই উঠান বৈঠকে বক্তব্য দেন। তিনি উপস্থিত ভোটারদের ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে সরকার গঠনে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। এ সময় তিনি হাতিয়ার নদীভাঙন রোধ, ভূমিহীনদের পুনর্বাসন, হাতিয়ার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে হাতিয়াকে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন। উঠান বৈঠকে উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বিএনপি প্রার্থী মাহবুবের রহমান শামীমের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট ও জেলা বিএনপির সদস্য মো. আলাউদ্দিন রনি বলেন, এর আগেও বিভিন্ন পর্যায়ে এনসিপির নেতাকর্মীরা বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। বিএনপি একটি বৃহৎ গণতান্ত্রিক দল। হাতিয়ায় এনসিপির উগ্র কর্মকাণ্ডে হতাশ হয়ে অনেকেই বিএনপিতে যোগ দিচ্ছেন। দিন দিন ধানের শীষের গণজোয়ার হচ্ছে। হাতিয়া উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক শামসুল তিব্রিজ বলেন, হাতিয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা আবদুল হান্নান মাসউদের জনপ্রিয়তা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাধারণ মানুষ তার নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক অবস্থানকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করছে। মাঠপর্যায়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। হাতিয়ার প্রতিটি ইউনিয়নে শাপলা কলির প্রতীকের পক্ষে যে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে, তা আগামী দিনে আরও বিস্তৃত হবে। দুই একজন দল পরিবর্তন করলে এতে কোনো প্রভাব পড়বে না।