

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় কিশোরদের হামলায় মো. সেলিম (৫০) নামে এক কৃষক দলের নেতা নিহত হয়েছেন। শনিবার (৪ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে দাদপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের গৌরিপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মো. সেলিম ওই গ্রামের মৃত মো. শাহজানের ছেলে এবং স্থানীয় ৪নং ওয়ার্ড কৃষক দলের সভাপতি ছিলেন। তিনি দুই ছেলে ও দুই মেয়ের জনক। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সেলিমের ছেলে অন্তরের সঙ্গে এলাকার কয়েকজন কিশোর- সজল, শাওন, ফাহাদ ও রিয়াজের মধ্যে বিরোধ চলছিল। শনিবার দুপুরে এ নিয়ে ফোনে অন্তর ও সজলের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। পরবর্তীতে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সজল তার সহযোগীদের নিয়ে সেলিমের বাড়ির সামনে আসে এবং অন্তরের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় অন্তরের বড় ভাই শাকিল এগিয়ে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শোরগোল শুনে নিজের দোকান থেকে বের হয়ে ছেলেদের রক্ষা করতে এগিয়ে যান সেলিম। তখন অভিযুক্তরা তাকে ঘিরে ধরে বেধড়ক মারধর করে এবং মাথায় গুরুতর আঘাত করে। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই অচেতন হয়ে পড়েন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের বড় ছেলে শাকিল অভিযোগ করেন, পূর্বের বিরোধের জের ধরে পরিকল্পিতভাবে তাদের বাড়িতে হামলা চালানো হয় এবং তার বাবাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। নিহতের ছোট ভাই মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, আমার ভাই ছেলেদের বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ দিল। যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তারা কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য। আমরা এ হত্যার বিচার চাই। দাদপুর ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি সেলিম বলেন, নিহত সেলিম একজন সাধারণ কৃষক ও চা দোকানি ছিলেন এবং দলের সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। আমরা এ হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার দাবি করেছি। হাসপাতালের ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, প্রায় রাত ৯ টার দিকে আমাদের কাছে সেলিমকে আনা হয়। আমরা তাকে মৃত অবস্থায় পাই। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে। সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা জানতে পেরেছি সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে দুইপক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এ সময় সেলিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং আঘাত পেয়ে পড়ে যান। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার দীর্ঘদিনের নৌ-যান ও ফেরি সংকট নিরসনে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পরিস্থিতি পর্যালোচনায় সরেজমিনে এসে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান জানিয়েছেন, ঈদুল আজহার আগেই একটি নতুন ফেরি যুক্ত করার চেষ্টা চলছে। এ ছাড়াও বেশকিছু পদক্ষেপ নেওয়া হবে। শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে হাতিয়ার চেয়ারম্যান ঘাটে পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি নলচিরা ঘাট এলাকা পরিদর্শন করেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, দ্বীপাঞ্চলের মানুষের যাতায়াত সহজ ও নিরাপদ করতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। সে লক্ষ্যেই বাস্তব পরিস্থিতি যাচাই করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আমরা স্ব উদ্যোগে সরেজমিনে এসেছি সকল মতের মানুষের স্বার্থে। দলমত নির্বিশেষে সবার উন্নয়ন নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য। পরিদর্শনকালে তিনি জানান, দেশের মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। যার ফলশ্রুতিতে আমরা নিজ দায়িত্ব থেকে হাতিয়ার মানুষের পথ চলা সহজ করতে সমস্যাসমূহ সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করতে এসেছি। হাতিয়ার উভয়পাশের ফেরিঘাট আরও প্রশস্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নদীর নাব্যতা স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত ড্রেজিং কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলেও জানান তিনি। ফেরি চলাচল আরও নিরাপদ ও টেকসই করতে ঘাটের র্যাম্প উন্নয়ন এবং দুই পাশের নদীর তীর স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চলমান রয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। এছাড়াও নৌপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে মন্ত্রণালয়ের আরও কিছু দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি জানান। এ সময় বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নুরুন্নাহার চৌধুরী, নোয়াখালী জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সাবের আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ভাইস চেয়ারম্যান ও নোয়াখালী-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. বরকত উল্লাহ বুলু বলেছেন, যারা ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তকে অস্বীকার করেন, যারা ৭১কে অস্বীকার করে ৪৭শে ফিরে যেতে যান। মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করেন, দুই লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমহানি অস্বীকার করতে চান। তাদের ব্যাপারে একটি কথা বলতে চাই। মুক্তিযুদ্ধকে যারা অস্বীকার করেন, ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তের সাথে যারা বেঈমানী করেন। দুই লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমহানির সাথে যারা বেঈমানী করেন। তাদের বাংলাদেশে রাজনীতি করার কোন অধিকার নেই। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকেলে মাইজদী হাউজিং বালুর মাঠে নোয়াখালী শিল্প ও বাণিজ্য মেলা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ত্রয়োদশ নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে বুলু বলেন, একটি কথা আমি সুস্পষ্ট ভাবে বলতে চাই। আজকে যারা আমাদের প্রান্তিক অঞ্চলের মা-বোনকে ভুল বুঝিয়ে বেহেশতের টিকেট বিক্রি করে তাদের ঈমান আকিদা নষ্ট করেছেন। তাদের ব্যাপারেও হুশিয়ার থাকতে হবে। সে দিন মা-বোনের ইজ্জত সম্ভ্রমহানির পর জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মওদুদী বলেছিলেন যুদ্ধের ময়দানে মা-বোনেরা নাকি গনিমতের মাল, এটা নাকি জায়েজ। নাউজুবিল্লাহ। তিনি আরও বলেন, বেহেশতের টিকেট কেউ বিক্রি করতে পারেনা। আল্লাহর রসুলও বেহেশতের টিকেট দিতে পারে নাই। একদিন ঊনার প্রিয় কন্যা ফাতেমা ঊনাকে জিজ্ঞাসা করলেন ইয়া রাসুলুল্লাহ আমি বেহেশতে যাব কিনা। মা আমি তোমাকে বেহেশতে যাওয়ার গ্যারান্টি দিতে পারিনা। আল্লাহর কাছ থেকে একটি অনুমতি নিয়ে এসেছি। হাশরের ময়দানে উম্মতদের জন্য সুপারিশ করার অনুমতি নিয়ে এসেছি। তোমার আখলাক, ইবাদত বন্দেগি, স্বামীর খেদমত, সব কিছু যদি আল্লাহ রাজি খুশি থাকে। তাহলে তুমি বেহেশতে যাবে। হাশরের ময়দানে তোমার জন্য সুপারিশ করতে পারি। বুলু বলেন,আজকে বাংলাদেশের গরিব মা-বোনকে এবার যারা বেহেশতের টিকেট বিক্রি করে ভোট করেছেন। তারা ইসলামকে বিদয়াত পথে নিয়ে গেছেন। ঈমান আকিদা নষ্ট করেছেন। এদের ব্যাপারে আল্লাহ ইনশাআল্লাহ কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করবেন। আগামি দিনে আল্লাহ নিজেই করবেন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, নোয়াখালীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো.সরওয়ার উদ্দিন, নোয়াখালী সদর সার্কেল অফিসার মো.লিয়াকত আকবর,পরিচালক কামাখ্যা চন্দ্র দাস,শহীদুল ইসলাম কিরণ,একরাম উল্যাহ ডিপটি, গোলাম জিলানী দিদার, মঞ্জুরুল আজিম সুমন প্রমুখ। মেলার উদ্বোধন করেন দি নোয়াখালী চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি ফিরোজ আলম মতিন।

দেশে চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয় প্রচেষ্টায় সরকারকে সহযোগিতার লক্ষ্যে রাত ৮টার মধ্যে রাজধানীসহ সারা দেশের সব দোকান, বাণিজ্য বিতান এবং শপিংমল বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে সংগঠনটি। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুর রহমান টিপু ঢাকা পোস্টকে বলেন, এটি ব্যবসায়ীদের নিজস্ব উদ্যোগ। সরকার থেকে এ বিষয়ে কোনো নির্দেশনা আসেনি। সারা দেশের ব্যবসায়ীরা এটি মেনে চলবেন বলে আমরা আশাবাদী। সংগঠনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি ও ঢাকা মহানগর দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতির স্ট্যান্ডিং কমিটির যৌথ সভায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারকে সহযোগিতার লক্ষ্যে ঢাকাসহ বাংলাদেশের সব দোকান, বাণিজ্য বিতান এবং শপিংমল রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে হোটেল, ফার্মেসি, জরুরি প্রয়োজনীয় সেবার দোকান এবং কাঁচাবাজার এই সিদ্ধান্তের আওতামুক্ত থাকবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

শ্যালোমেশিন (সেচযন্ত্র) নিয়ে ফিলিং স্টেশনে পেট্রোল নিতে এসেছেন জমেলা বেগম (৬৫)। তিনি ফিলিং স্টেশন থেকে ২০০ টাকার তেল পেয়েছেন। তার মতো অন্য চাষিরাও সেচযন্ত্র নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে তেল পেলেও চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল বলে জানান তারা। পবার মাধপপুর কুঠিপাড়ার বাসিন্দা জমেলা বেগম জানান, তার তিন মেয়ে, স্বামী নেই। নিজে ও শ্রমিক নিয়ে তাকে জমিতে তিনি বোরো ধানের চাষ করেছেন। তবে গেল ১০ দিন ধরে তেলের অভাবে তিনি জমিতে সেচ দিতে পারছেন না। জমেলা বলেন, জমি শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে। বিগত বছরে তিন দিন পরপর জমিতে পানি দিয়েছি। কিন্তু এ বছর ১০ দিন হলো জমিতে সেচ দিতে পারিনি। কয়েকদিন এই পাম্পে (ফিলিং স্টেশন) এসে ঘুরে গিয়েছি। তারাই আজ আসার কথা বলেছিল, এসে তেল পেলাম। মাথায় করে শ্যালোমেশিন (সেচযন্ত্র) নিয়ে এসেছেন রাকিব হোসেন। তিনি জানান, এই ফিলিং স্টেশন থেকে ২০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে। এই তেলে খুব বেশি তিন ঘণ্টা মেশিন চলবে। আমার জমিতে ৯ ঘণ্টা পানি লাগে। যেহেতু তেল পাওয়া যাচ্ছে না, তাই এভাবে প্রতিদিন ২০০ টাকা করে তেল কিনে সেচ দিতে হচ্ছে। যারা বোরো ধানের জমিতে সেচ দেবে তাদের কমপক্ষে ৪০০-৫০০ টাকার দিলে ভালো হয়। রুচিতা ফিলিং স্টেশনের কয়েকজন কর্মী বলেন, যারা সেচ মেশিন নিয়ে পাম্পে আসছেন তাদেরকে তেল দেওয়া হচ্ছে। যেহেতু সীমাবদ্ধতা আছে, তাই একটি নির্দিষ্ট পরিমাণের তেল সবাইকে দেওয়া হচ্ছে। যাতে করে সবাই যেন তেল পায়। ফিলিং স্টেশনটিতে ১৭ থেকে ২০ জন চাষিকে পর্যায়ক্রমে তেল দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। সেখানে মাইক্রোবাস ও কারে জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাধারণত বর্ষার শেষে শীতে শুকিয়ে যায় পানি। সেই সব জমিতে সবচেয়ে বেশি চাষাবাদ হয় বোরো ধানের। কারণ শুষ্ক মৌসুমে এই ধানে প্রচুর সেচ প্রয়োজন হয়, একটু নিচু জমিতে বোরো চাষের জন্য বেশি উপযোগী, কম সেচের কারণে। রাজশাহী অঞ্চলে বোরো চাষের সেচের জোগান আসে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) গভীর নলকূপ ও ইঞ্জিন চালিত সেচযন্ত্র থেকে। তবে তুলনামূলক তিনভাগের দুইভাগ জমিতে জ্বালানিতে চলা ইঞ্জিনচালিত সেচযন্ত্র ব্যবহার হয়। এ অঞ্চলের ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেল কেনা-বেচায় নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। চাইলে একজন গ্রাহক নিজের ইচ্ছে মত তেল কিনতে পারছেন না। শুধু ফিলিং স্টেশনগুলো নয়- জেলা ছাড়াও গ্রামগঞ্জের খুচরা ও পাইকারি দোকানগুলোতে আগের মতো স্বাভাবিকভাবে মিলছে না ডিজেল (জ্বালানি তেল)। ফলে সেচ কাজ চালিয়ে নিতে দূর-দূরান্তের দোকান থেকে কিনতে হচ্ছে ডিজেল। তবে সেখানেও মিলছে না চাহিদা মাফিক। রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র বলছে, রাজশাহী অঞ্চলে ৩ লাখ ৬৫ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষের লক্ষ্যমাত্রা। আর রাজশাহী জেলায় এবছর বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ৫৪ হাজার হেক্টর জমিতে। অঞ্চলের রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে সবচেয়ে বেশি বোরোধানের চাষ হয়। কিন্তু জ্বালানি সংকটের কারণে সেচ কার্যক্রমে বিঘ্ন দেখা দেওয়ায় কৃষকদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ। সময়মতো সেচ না পেলে ধানের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কৃষি কর্মকর্তারা জানান, বোরো মৌসুমে জমিতে নিয়মিত সেচ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ধানের কুশি গঠন ও শীষ বের হওয়ার সময় পানির অভাব হলে ফলনে বড় ধরনের প্রভাব পড়ে। রাজশাহী অঞ্চল দেশের খাদ্য উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। তাই সেচ কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় চলতি মৌসুমে বোরো ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হয়ে পড়তে পারে। নগরীর বুধপাড়া এলাকায় পাঁচবিঘা জমিতে বোরো ধানের চাষ করেছেন আক্কাস আলী। জমিতে শেষ দিতে ঠিকমতো তেল পাচ্ছে না এমন কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ফিলিং স্টেশনে ১০১ টাকা লিটার ডিজেল। বাইরে ১৪০ টাকা লিটার। পাঁচ বিঘা জমিতে ৯ ঘণ্টা পানি লাগে। স্বাভাবিক সময়ে তিন থেকে চার দিন পরপর পানি দেওয়া হয়। ১০ দিন পরে পানি দেওয়া হলো তেল না পাওয়ার বেকায়দায়। তিনি আরও বলেন, টাকা দিয়েও তেল পাওয়া যাচ্ছে না। যেভাবেই হোক সেচ দিতেই হবে ধানে। হওয়া ধান আর এক মাসের মধ্যে ধান কাটা পড়বে জমিতে। এখন এমন পরিস্থিতি যে ধান রেখে পালিয়ে যাওয়া যাচ্ছে না। এক বিঘা ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়। তবে এবার তেলের দাম বেশি থাকায় খরচ বাড়বে। জেলার বাগমারা, মোহনপুর, পবা, তানোর উপজেলার ফিলিং স্টেশনগুলোতে বোরো চাষিরা তেল নিতে শ্যালোমেশিন নিয়ে আসছেন। বালানগর, কালচিকার বোরো চাষি কালাম ও কোরবান আলী বলেন, তেল পাম্পে তেল পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক সময় বাড়িতে পানি তোলা মটার চালিয়ে জমিতে সেচ দিতে হচ্ছে। কোন কোন সময় জমিতে পাইপ বিছানোর পরে দেখা যাচ্ছে বিদ্যুৎ নেই। এ সময় ঠিকমত জমিতে সেচ দিতে না পারলে ফলন মারাত্মকভাবে ক্ষতি হবে। তারা আরও বলেন, দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি না হলে রাজশাহী অঞ্চলের বিস্তীর্ণ বোরো মাঠে উৎপাদন কমে যেতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে জাতীয় খাদ্য মজুত ও বাজার ব্যবস্থার ওপরও। রাজশাহী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহীতে মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে ধীরে ধীরে তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করেছে। এর মধ্যে কালবৈশাখীর প্রভাবে বৃষ্টি হওয়াতে তাপমাত্রা কমে এসেছিল। তবে কয়েক দিন ধরে তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করেছে। এটি অব্যাহত থাকতে পারে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিকেল ৩টার দিকে ৩৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এটি চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। রাজশাহী বিভাগীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক ড. মো. আজিজুর রহমান বলেন, সংকট কথাটা না বলি, এটা ডে টু ডে সিচুয়েশন ডিমান্ডেড। তো আমরা অবজার্ভ করছি, আমরা নজর রাখছি যাতে বোরো চাষের সমস্যা না হয়। রাজশাহী অঞ্চলে ৩ লাখ ৬৫ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। সেচ কার্যক্রম চলছে। জেলা প্রশাসক এ বিষয়টা নজর রাখতে আমরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। বোরোতে সেচ দিতে কৃষকদের জন্য জ্বালানি নিশ্চিতের বিষয়ে এই কর্মকর্তা বলেন, বিদ্যুতের যেটা কানেকশন আছে, সেখানে সেভাবে সেচ দিচ্ছে। মোট কথায় আমরা সজাগ আছি। সেচের বিষয়টা আমরা নিয়ে তৎপর আছি। প্রশাসন অন্য ক্ষেত্রে রেস্ট্রিকশন (নিষেধাজ্ঞা) দিলেও, কৃষকদের যেন ফুয়েল (তেল) পেতে সমস্যা না হয়, এটা আমরা বলছি আলোচনায়। আমরা এটা নিয়ে তৎপর আছি এবং পাম্প মালিকদেরও বলা হয়েছে।

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় কিশোরদের হামলায় মো. সেলিম (৫০) নামে এক কৃষক দলের নেতা নিহত হয়েছেন। শনিবার (৪ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে দাদপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের গৌরিপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মো. সেলিম ওই গ্রামের মৃত মো. শাহজানের ছেলে এবং স্থানীয় ৪নং ওয়ার্ড কৃষক দলের সভাপতি ছিলেন। তিনি দুই ছেলে ও দুই মেয়ের জনক। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সেলিমের ছেলে অন্তরের সঙ্গে এলাকার কয়েকজন কিশোর- সজল, শাওন, ফাহাদ ও রিয়াজের মধ্যে বিরোধ চলছিল। শনিবার দুপুরে এ নিয়ে ফোনে অন্তর ও সজলের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। পরবর্তীতে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সজল তার সহযোগীদের নিয়ে সেলিমের বাড়ির সামনে আসে এবং অন্তরের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় অন্তরের বড় ভাই শাকিল এগিয়ে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শোরগোল শুনে নিজের দোকান থেকে বের হয়ে ছেলেদের রক্ষা করতে এগিয়ে যান সেলিম। তখন অভিযুক্তরা তাকে ঘিরে ধরে বেধড়ক মারধর করে এবং মাথায় গুরুতর আঘাত করে। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই অচেতন হয়ে পড়েন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের বড় ছেলে শাকিল অভিযোগ করেন, পূর্বের বিরোধের জের ধরে পরিকল্পিতভাবে তাদের বাড়িতে হামলা চালানো হয় এবং তার বাবাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। নিহতের ছোট ভাই মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, আমার ভাই ছেলেদের বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ দিল। যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তারা কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য। আমরা এ হত্যার বিচার চাই। দাদপুর ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি সেলিম বলেন, নিহত সেলিম একজন সাধারণ কৃষক ও চা দোকানি ছিলেন এবং দলের সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। আমরা এ হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার দাবি করেছি। হাসপাতালের ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, প্রায় রাত ৯ টার দিকে আমাদের কাছে সেলিমকে আনা হয়। আমরা তাকে মৃত অবস্থায় পাই। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে। সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা জানতে পেরেছি সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে দুইপক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এ সময় সেলিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং আঘাত পেয়ে পড়ে যান। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার দীর্ঘদিনের নৌ-যান ও ফেরি সংকট নিরসনে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পরিস্থিতি পর্যালোচনায় সরেজমিনে এসে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান জানিয়েছেন, ঈদুল আজহার আগেই একটি নতুন ফেরি যুক্ত করার চেষ্টা চলছে। এ ছাড়াও বেশকিছু পদক্ষেপ নেওয়া হবে। শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে হাতিয়ার চেয়ারম্যান ঘাটে পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি নলচিরা ঘাট এলাকা পরিদর্শন করেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, দ্বীপাঞ্চলের মানুষের যাতায়াত সহজ ও নিরাপদ করতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। সে লক্ষ্যেই বাস্তব পরিস্থিতি যাচাই করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আমরা স্ব উদ্যোগে সরেজমিনে এসেছি সকল মতের মানুষের স্বার্থে। দলমত নির্বিশেষে সবার উন্নয়ন নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য। পরিদর্শনকালে তিনি জানান, দেশের মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। যার ফলশ্রুতিতে আমরা নিজ দায়িত্ব থেকে হাতিয়ার মানুষের পথ চলা সহজ করতে সমস্যাসমূহ সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করতে এসেছি। হাতিয়ার উভয়পাশের ফেরিঘাট আরও প্রশস্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নদীর নাব্যতা স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত ড্রেজিং কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলেও জানান তিনি। ফেরি চলাচল আরও নিরাপদ ও টেকসই করতে ঘাটের র্যাম্প উন্নয়ন এবং দুই পাশের নদীর তীর স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চলমান রয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। এছাড়াও নৌপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে মন্ত্রণালয়ের আরও কিছু দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি জানান। এ সময় বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নুরুন্নাহার চৌধুরী, নোয়াখালী জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সাবের আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ইরানের বিভিন্ন অঞ্চল লক্ষ্য করে সারারাত হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও দখলদার ইসরায়েল। সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার সাংবাদিক তৌহিদ আসাদি রোববার (৪ এপ্রিল) সকালে ইরানের রাজধানী তেহরান থেকে বলেছেন, তেহরানের পশ্চিম এবং পূর্বাঞ্চল লক্ষ্য করে দীর্ঘ সময় হামলা হয়েছে। যেখানে বড় বড় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তিনি জানিয়েছেন, এই হামলা শুধুমাত্র রাজধানীতেই সীমাবদ্ধ ছিল না, শিল্প শহর ইস্ফাহানও হামলার জেরে কেঁপে উঠেছে। যেখানে লাখ লাখ মানুষ থাকেন। আলজাজিরার এ সাংবাদিক বলেছেন, এখন হামলার ধরন দেখে যা মনে হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ইরানের শিল্প কাঠামোকে টার্গেট করা বাড়িয়ে দিয়েছে। তেহরান ও ইস্ফাহানের পাশাপাশি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে উরমিয়াতে, খোররামাবাদে, কারাজে এবং কোমে। এছাড়া কারাজের বি-১ সেতুতে যৌথ হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৩ জনে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের যুদ্ধ বন্ধে পাকিস্তানের চেষ্টা ব্যর্থ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতার ভূমিকা নিয়েছিল পাকিস্তান। তবে তাদের এ প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। ইরানি কর্মকর্তারা পাকিস্তানে গিয়ে মার্কিনিদের সঙ্গে আলোচনা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় যেসব শর্ত দিচ্ছে সেগুলো অগ্রহণযোগ্যও বলে জানিয়েছে তারা। সংবাদমাধ্যম ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল গতকাল শুক্রবার এক প্রতিবেদনে জানায়, যুদ্ধ বন্ধে আঞ্চলিক মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা এখন একদমই থমকে গেছে। পাকিস্তান যে চেষ্টা করেছিল সেটি কোনো ফলাফলই বের করতে পারেনি। ইরান তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার জন্য ইসলামাবাদে তারা তাদের কোনো প্রতিনিধিকে পাঠাবে না। এখন পাকিস্তানের বদলে কাতার ও তুরস্ক মধ্যস্থতার ভূমিকা নিতে পারে। সূত্র: আলজাজিরা

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের দুবাই মেরিনাতে হামলা চালিয়েছে ইরান। আজ শনিবার (৪ এপ্রিল) সকালে সেখানে ড্রোন বা মিসাইল ছোড়ে তেহরান। এরপর সেটি প্রতিহত করার চেষ্টা করে আমিরাত। তবে প্রতিহত করা মিসাইল বা ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ দুবাই মেরিনার একটি ভবনে গিয়ে আঘাত হানে। দুবাই মিডিয়া অফিস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘এ ঘটনায় সেখানে কোনো আগুন লাগা বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।’ এর আগে আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, তাদের রাজধানী আবুধাবির হাবসান গ্যাস স্থাপনায় ইরানের হামলায় একজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তি মিসরের ব্যক্তি। আর আহতদের মধ্যে দুজন পাকিস্তানি ও দুজন মিসরীয় হিসেবে শনাক্ত হয়। গতকাল শুক্রবার এ হামলা হয়। হাবসান গ্যাস স্থাপনা আমিরাতের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক গ্যাস প্রসেসিং কেন্দ্র। হামলার পর সেখানে আগুন ধরে যায়। এতে স্থাপনাটিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ হামলা চালায় যুক্তরাস্ট্র ও দখলদার ইসরায়েল। এরপর উপসাগরীয় আবর দেশগুলোতে থাকা মার্কিন অবকাঠামো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা শুরু করে ইরান। প্রথমে এটি শুধুমাত্র সামরিক অবকাঠামোতে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু ইরান এখন বাণিজ্যিক স্থাপনাতেও হামলা চালাচ্ছে। মূলত নিজেদের বাণিজ্যিক স্থাপনায় হামলার পর মার্কিনিদের স্থাপনায় হামলার হুমকি দেয় ইরান। দুবাই মেরিনাতে আজকের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রতিষ্ঠানকে টার্গেট করা হয়েছে কি না সেটি নিশ্চিত নয়। সূত্র: আলজাজিরা

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে মোটরসাইকেলে তেল আনতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় এক তরুণ নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দাগনভূঞা-ফেনী আঞ্চলিক মহাসড়কের এনায়েতভূঞা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম মো. অন্তর (২০)। তিনি উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের টেকের বাজার-সংলগ্ন মিদ্দা বাড়ির একরামুল হকের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলমান পরিস্থিতির কারণে কোম্পানীগঞ্জ এলাকায় অকটেন ও পেট্রোলের সংকট দেখা দিয়েছে। এ কারণে বিকেলে অন্তর মোটরসাইকেলের জন্য তেল আনতে ফেনীর একটি পাম্পের উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হন। তেল সংগ্রহ করে ফেরার পথে এনায়েতভূঞা এলাকায় পৌঁছালে অজ্ঞাত একটি যানবাহনের সঙ্গে তার মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়। দুর্ঘটনায় অন্তর সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার সময় পথেই তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আরও এক মোটরসাইকেল আরোহী গুরুতর আহত হয়েছেন। চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য হুমায়ন কবির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, নিহতের স্বজনরা দুর্ঘটনার সঠিক কারণ উদ্ঘাটন ও জড়িত যানবাহন দ্রুত শনাক্ত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। এ বিষয়ে ফেনী হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সাখায়েত হোসেন বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিএনপিতে দখলদার-চাঁদাবাজদের স্থান নেই বলে মন্তব্য করেছেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান ও নোয়াখালী-৩ আসনের সংসদ সদস্য বরকত উল্লাহ বুলু। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টায় নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের ছয়ানী ইউনিয়নে দোয়ালিয়া- দেবীপুর খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। বরকত উল্লাহ বুলু বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষণা অনুযায়ী কোনো দখলদার, চাঁদাবাজ, মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসী বিএনপি করার অধিকার রাখেন না। তাই এ জাতীয় লোক বিএনপিতে থাকতে পারে না। স্থানীয় নেতাকর্মীদের হুশিয়ারি করে তিনি বলেন, ছয়ানী এলাকায় মাদক ব্যবসা, দখলদারী, টেম্পু স্ট্যান্ড দখল ও চাঁদাবাজিসহ নানা অসামাজিক কার্যকলাপ চলে। এসব বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। অভিযোগ আমলে নিয়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বরকত উল্লাহ বুলু বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্ষমতা পাওয়ার দুই দিনের মধ্যেই ২০ হাজার বর্গকিলোমিটার খাল খনন ও ২৫ কোটি গাছ রোপণের ঘোষণা দেন। তার সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ খাল খনন করা হচ্ছে। এতে এলাকার মানুষ উপকৃত হবে, পানির ব্যবস্থা হবে, কৃষি ও মাছ উৎপাদন বাড়বে এবং খালের পাড়ে বনায়ন হবে। বিএনপিতে দখলদার-চাঁদাবাজদের স্থান নেই: বুলু শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রশংসা করে তিনি বলেন, স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খনন করে কোটি মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন জিয়াউর রহমান। তার পুত্র তারেক রহমানও খাল খননে অংশ নিয়েছেন। তবে বিগত ১৭ বছরের তথাকথিত উন্নয়নের মতো এ কর্মসূচিকে ভেস্তে দেওয়া যাবে না। প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বুলু বলেন, জিয়াউর রহমানের পথ অনুসরণ করে দেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করাই যার লক্ষ্য তার পক্ষে দেশের জনগণ না থেকে পারে না। নির্বাচনের পর গোটা বাংলাদেশ এখন তারেক রহমানের সঙ্গে রয়েছে। অনুষ্ঠানে বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কায়েসুর রহমান, পানি উন্নয়ন বোর্ড নোয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম রেফাত জামিল, বেগমগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কামাখ্যা চন্দ্র দাস, নোয়াখালী জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট বরিউল হাসান পলাশ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

নোয়াখালী সদর উপজেলার দত্তেরহাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইয়াবা ও গাঁজাসহ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুরের দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সুব্রত সরকার শুভ। এর আগে, গতকাল বুধবার বিকেলে উপজেলার দত্তেরহাট আল হেরা বিদ্যানিকেতন স্কুলের প্রধান ফটকের সামনে এ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, মো. নাছির (২৬), মো. টিপু (২০), মো. রকি (২৪), মো. স্বাধীন (২২) ও মো. আরিয়ান (২৬)। ডিএনসি সূত্র জানায়, এলাকাবাসীর দেওয়া গোপন তথ্যের ভিত্তিতে দত্তেরহাট এলাকায় অভিযান চালায় ডিএনসি। অভিযানে গ্রেপ্তার নাছিরের বিরুদ্ধে পরিদর্শক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে সুধারাম মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। এছাড়া অপর চারজনের বিরুদ্ধে ঘটনাস্থলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। অভিযানে তাদের কাছ থেকে ৬৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং ১.২৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। অভিযান পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম জাহিদা আক্তার মৌসুমী, মুকসুদুস সালেহীন এবং মো. জাহিদ হাসান অপু। জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সুব্রত সরকার শুভ আরও জানান, মাদকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

নোয়াখালী হাতিয়া উপজেলায় পৃথক অভিযানে ১৩৩০ লিটার চোরাই ডিজেল উদ্ধারসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কবির হোসেন। এর আগে, বুধবার দুপুরে উপজেলার হাতিয়া পৌরসভার পাঁচ বিঘা ও এমপির পোল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, হাতিয়া পৌরসভার ৪নম্বর ওয়ার্ডের আবুল কাশেমের ছেলে মো.রাসেল (২২) এবং ফরাজি গ্রামের আজহার আহম্মদের ছেলে মো. জাফর (৩৫)। পুলিশ জানায়, দেশের চলমান পরিস্থিতিতে তেলের মজুদ ঠেকাতে হাতিয়া পৌরসভার বিভিন্ন বাজারে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় দুপুর ১২টার দিকে পাঁচ বিঘা গ্রামের নবীর ভূঁইয়া স’মিলের উত্তর পাশের সড়ক থেকে ৪ ড্রাম (৭৬০ লিটার) চোরাই ডিজেল উদ্ধার করা হয়। পরে দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে এমপির পোল এলাকা থেকে আরও ৩ ড্রাম (৫৭০ লিটার) ডিজেল উদ্ধার করে পুলিশ। ওই সময় চোরাই ডিজেল সংরক্ষণের অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। জানতে চাইলে হাতিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ কবির হোসেন আরও জানান, এ ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ভাইস চেয়ারম্যান ও নোয়াখালী-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. বরকত উল্লাহ বুলু বলেছেন, যারা ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তকে অস্বীকার করেন, যারা ৭১কে অস্বীকার করে ৪৭শে ফিরে যেতে যান। মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করেন, দুই লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমহানি অস্বীকার করতে চান। তাদের ব্যাপারে একটি কথা বলতে চাই। মুক্তিযুদ্ধকে যারা অস্বীকার করেন, ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তের সাথে যারা বেঈমানী করেন। দুই লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমহানির সাথে যারা বেঈমানী করেন। তাদের বাংলাদেশে রাজনীতি করার কোন অধিকার নেই। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকেলে মাইজদী হাউজিং বালুর মাঠে নোয়াখালী শিল্প ও বাণিজ্য মেলা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ত্রয়োদশ নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে বুলু বলেন, একটি কথা আমি সুস্পষ্ট ভাবে বলতে চাই। আজকে যারা আমাদের প্রান্তিক অঞ্চলের মা-বোনকে ভুল বুঝিয়ে বেহেশতের টিকেট বিক্রি করে তাদের ঈমান আকিদা নষ্ট করেছেন। তাদের ব্যাপারেও হুশিয়ার থাকতে হবে। সে দিন মা-বোনের ইজ্জত সম্ভ্রমহানির পর জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মওদুদী বলেছিলেন যুদ্ধের ময়দানে মা-বোনেরা নাকি গনিমতের মাল, এটা নাকি জায়েজ। নাউজুবিল্লাহ। তিনি আরও বলেন, বেহেশতের টিকেট কেউ বিক্রি করতে পারেনা। আল্লাহর রসুলও বেহেশতের টিকেট দিতে পারে নাই। একদিন ঊনার প্রিয় কন্যা ফাতেমা ঊনাকে জিজ্ঞাসা করলেন ইয়া রাসুলুল্লাহ আমি বেহেশতে যাব কিনা। মা আমি তোমাকে বেহেশতে যাওয়ার গ্যারান্টি দিতে পারিনা। আল্লাহর কাছ থেকে একটি অনুমতি নিয়ে এসেছি। হাশরের ময়দানে উম্মতদের জন্য সুপারিশ করার অনুমতি নিয়ে এসেছি। তোমার আখলাক, ইবাদত বন্দেগি, স্বামীর খেদমত, সব কিছু যদি আল্লাহ রাজি খুশি থাকে। তাহলে তুমি বেহেশতে যাবে। হাশরের ময়দানে তোমার জন্য সুপারিশ করতে পারি। বুলু বলেন,আজকে বাংলাদেশের গরিব মা-বোনকে এবার যারা বেহেশতের টিকেট বিক্রি করে ভোট করেছেন। তারা ইসলামকে বিদয়াত পথে নিয়ে গেছেন। ঈমান আকিদা নষ্ট করেছেন। এদের ব্যাপারে আল্লাহ ইনশাআল্লাহ কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করবেন। আগামি দিনে আল্লাহ নিজেই করবেন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, নোয়াখালীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো.সরওয়ার উদ্দিন, নোয়াখালী সদর সার্কেল অফিসার মো.লিয়াকত আকবর,পরিচালক কামাখ্যা চন্দ্র দাস,শহীদুল ইসলাম কিরণ,একরাম উল্যাহ ডিপটি, গোলাম জিলানী দিদার, মঞ্জুরুল আজিম সুমন প্রমুখ। মেলার উদ্বোধন করেন দি নোয়াখালী চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি ফিরোজ আলম মতিন।

জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে আজ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যদি আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে তাদের শর্ত অনুযায়ী ইরান চুক্তি না করে তাহলে ইরানকে তারা প্রস্তর যুগে ফেরাবেন। ইরানকে প্রস্তর যুগে ফেরানোর যে হুমকি ট্রাম্প দিয়েছেন, এটির পেছনে রয়েছে ভয়াবহ নির্মমতা। সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা বলেছে, প্রস্তর যুগে ফেরানোর মাধ্যমে মূলত ইরানে ‘কার্পেট বোম্বিংয়ের’ ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। এই কার্পেট বোম্বিং করে আধুনিক সবকিছু— হাসপাতাল, স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয়, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, হোটেল, উঁচু ভবন এবং পার্ক ধ্বংস করে দেওয়া হবে। অর্থাৎ আধুনিক বিশ্বের সব সুযোগ সুবিধা ইরানিদের থেকে কেড়ে নেওয়া হবে। যা গত কয়েক বছরে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় করেছে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দখলদার ইসরায়েল। কার্পেট বোম্বিং অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও নতুন কিছু নয়। তারা এ হুমকি এর আগেও অন্যান্য দেশকে দিয়েছে এবং এটি করেছেও। ক্রাউন প্রিন্সকে নিয়ে ট্রাম্পের অশালীন মন্তব্যে ক্ষুব্ধ সৌদি শত্রুদের আত্মসমর্পণ পর্যন্ত যুদ্ধ চলবে, বলল ইরানের সেনাবাহিনী ‘প্রস্তর যুগে ফেরত পাঠানোর’ যে ভাষা— সেটির ব্যবহার শুরু করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর কর্মকর্তা কার্টিস লিমে। তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানের শহরগুলোতে কার্পেট বোম্বিং চালিয়ে সেগুলো ধ্বংস করে দিয়েছিলেন। এরআগে ১৯৫০ সালের দিকে উত্তর কোরিয়ায় এই কার্পেট বোম্বিং করেছিল মার্কিন সেনারা। ওই সময় তারা দেশটির ৯৫ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ও প্রায় ৮০ ভাগ ঘরবাড়ি ধ্বংস করে দিয়েছিল। মার্কিন বিমানবাহিনীর কর্মকর্তা কার্টিস লিমে তার ‘স্মৃতিকথা’ বইয়ে পরবর্তীতে ভিয়েতনামকেও ‘প্রস্তর যুগে ফেরত পাঠানোর’ আহ্বান করেছিলেন। ১৯৭২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিন্টে রিচার্ড নিক্সন দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশ ভিয়েতনামের দক্ষিণাঞ্চলে কার্পেট বোম্বিংয়ের নির্দেশ দিয়েছিলেন। অপরদিকে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ পাকিস্তানকে হুমকি দিয়েছিলেন, যদি তালেবানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে পাকিস্তান যুদ্ধ না করে তাহলে তাদের ‘প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে নেওয়া হবে।’ মার্কিন প্রেসিডেন্টের সেই হুমকির কথা পরবর্তীতে জানান প্রয়াত পাক প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশারফ। সূত্র: আলজাজিরা

দেশে চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয় প্রচেষ্টায় সরকারকে সহযোগিতার লক্ষ্যে রাত ৮টার মধ্যে রাজধানীসহ সারা দেশের সব দোকান, বাণিজ্য বিতান এবং শপিংমল বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে সংগঠনটি। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুর রহমান টিপু ঢাকা পোস্টকে বলেন, এটি ব্যবসায়ীদের নিজস্ব উদ্যোগ। সরকার থেকে এ বিষয়ে কোনো নির্দেশনা আসেনি। সারা দেশের ব্যবসায়ীরা এটি মেনে চলবেন বলে আমরা আশাবাদী। সংগঠনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি ও ঢাকা মহানগর দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতির স্ট্যান্ডিং কমিটির যৌথ সভায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারকে সহযোগিতার লক্ষ্যে ঢাকাসহ বাংলাদেশের সব দোকান, বাণিজ্য বিতান এবং শপিংমল রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে হোটেল, ফার্মেসি, জরুরি প্রয়োজনীয় সেবার দোকান এবং কাঁচাবাজার এই সিদ্ধান্তের আওতামুক্ত থাকবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।