

দেশে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সীমান্ত এলাকায় এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। ইউরো-মেডিটেরেনিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৪.১। ভূমিকম্পটি আজ মঙ্গলবার ভোর ৪টা ৩৬ মিনিটে ঘটে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল বাংলাদেশের সাতক্ষীরা শহর থেকে প্রায় ১৬ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে। ভারতের হাওড়া শহর থেকে এর দূরত্ব ছিল প্রায় ৩৬ কিলোমিটার পূর্বে। এই এলাকা ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলের কাছাকাছি। তাই এখানে মাঝেমধ্যে কম মাত্রার ভূমিকম্প হয়। ভূমিকম্পে সাতক্ষীরা, খুলনা, যশোরসহ আশপাশের এলাকা মৃদু কেঁপে ওঠে। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক হতাহত বা ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি। এখন পর্যন্ত কোনো স্থাপনার ক্ষতি বা প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। এর আগে, গত ১ ফেব্রুয়ারি ৩ মাত্রার ও ২৫ জানুয়ারি ৩.৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয় দেশে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও নোয়াখালী-৩ আসনে দলের সংসদ সদস্য প্রার্থী বরকত উল্লাহ বুলু বলেছেন, একাত্তর সালের দেশ বিরোধীরা এখন ছাব্বিশে এসে দেশের জন্য মায়াকান্না দেখাচ্ছে। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের এখলাশপুরে স্থানীয় বিএনপির আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় তিনি এ কথা বলেন। বরকত উল্লাহ বুলু বলেন, ধর্মকে রাজনীতিতে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে জামায়াত। তারা কখনোই দেশের ভালো চায়নি। ভবিষ্যতেও চাইবে না। এ বিষয়ে জনগণকে খেয়াল রাখতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের নবী (সা.) নিজেও কাউকে জান্নাতের টিকিটের গ্যারান্টি দিয়ে যাননি। সেখানে একটি রাজনৈতিক দল কীভাবে মানুষকে জান্নাতের নিশ্চয়তা দেয়! এটা জনগণের বিবেকের কাছে প্রশ্ন। এ সময় বিএনপির এই ভাইস চেয়ারম্যান অভিযোগ করে বলেন, ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা ধর্মের মৌলিক শিক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। যা জামায়াত প্রতিনিয়ত করে যাচ্ছে। ইসলাম কখনোই ক্ষমতার সিঁড়ি হতে পারে না। ধর্মকে ভোটের বাজারে পণ্য বানানো ধর্মেরই অবমাননা করা। দেশের মানুষ এখন অনেক সচেতন উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণ ধর্মীয় আবেগে নয়, বরং উন্নয়ন, গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও ন্যায়বিচারের প্রশ্নে সিদ্ধান্ত নিতে চায়। বরকত উল্লাহ বুলু আরও বলেন, দেশের মানুষ জানে জান্নাতের মালিক স্বয়ং আল্লাহ। কোনো রাজনৈতিক দল, কোনো নেতা জান্নাতের চাবি হাতে নিয়ে বসে নেই। যখন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে জান্নাত-জাহান্নামের কথা বলা হয়, তখন বুঝতে হবে রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব কোথায় গিয়ে ঠেকেছে। অনুষ্ঠানে নোয়াখালী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলো, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য শামিমা বরকত লাকি, বেগমগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কামাখ্যা চন্দ্র দাস, সদস্য সচিব মাহফুজুল হক আবেদ, চৌমুহনী পৌর বিএনপির আহ্বায়ক জহির উদ্দিন হারুনসহ বিভিন্ন স্তরের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

নোয়াখালী অঞ্চলের গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার সুকুক বা ইসলামী বন্ড ইস্যু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। সোমবার (৩ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের শরিয়াহ অ্যাডভাইজরি কমিটির সভায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়। সভায় নতুন এই প্রজেক্টের নাম দেওয়া হয়েছে সপ্তম বিনিয়োগ সুকুক বন্ড। এর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে আড়াই হাজার কোটি টাকা। খোলা বাজার থেকে এই টাকা উত্তোলন করা হবে। ব্যয় করা হবে নোয়াখালী, ফেনী ও লক্ষ্মীপুর পল্লী এলাকার গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়নে। ৭ বছর মেয়াদি এই সুকুক প্রজেক্টটি ইস্যু করা হবে ইজারা পদ্ধতিতে। সুকুক প্রজেক্টে বিনিয়োগ করতে পারেন আপনিও। তবে সেজন্য কমপক্ষে ১০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করতে হবে। এতে অবশ্য মেয়াদ শেষে উচ্চ মুনাফাও পাওয়া যাবে। নোয়াখালী অঞ্চলের উন্নয়নে ২৫০০ কোটি টাকার বন্ড আসছে, কিনবেন যেভাবে রিজার্ভ আরও বাড়ল যেভাবে বিনিয়োগ করবেন বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকই সাধারণত ট্রেজারি বন্ড বিক্রি করে। পাশাপাশি সহযোগী কিছু ব্যাংকও এই সেবা দিয়ে থাকে। সেজন্য বিনিয়োগের আগে দেখতে হবে, যে ব্যাংকে আপনার হিসাব আছে, ওই ব্যাংক ট্রেজারি পণ্য বিক্রি করে কিনা। যদি না করে, তাহলে যে ব্যাংক ট্রেজারি পণ্য বিক্রি করে, ওই ব্যাংকে হিসাব খুলে কিনতে হবে। যারা আবেদন করবেন, তারা সবাই বন্ড পাবেন। তবে আনুপাতিক ভিত্তিতে আবেদনকারীদের মাঝে এই বন্ড বিতরণ করা হবে। নিলামে অংশগ্রহণের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ ফেব্রুয়ারি ১০টা থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত। সুকুকের এই প্রজেক্টটি ৭ বছর মেয়াদি। তবে ৬ মাস পরপর এর মুনাফা দেওয়া হবে। পাশাপাশি কর রেয়াতেরও সুবিধা রয়েছে। এই প্রজেক্টে সম্ভাব্য মুনাফার হার ৯ দশমিক ৬০ শতাংশ। মুনাফা যা মিলবে, পুরোটাই আবেদনকারীরা পাবেন। প্রচলিত সঞ্চয়পত্রের তুলনায় সুকুকের গঠনতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ভিন্ন। সেজন্য এটি শরিয়াহসম্মত বিনিয়োগকারীদের জন্য যেমন আদর্শ, তেমনি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্যও ঝুঁকিহীন বিনিয়োগের সুযোগ। এতে সরাসরি রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টি থাকে।

নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের ১১ দলীয় জোট মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদের নির্বাচনী তহবিলে ১০ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছেন তার বন্ধু ও মাদরাসার সহপাঠীরা। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাতে হাতিয়ার ওছখালীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে ২০১৭ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত পুনর্মিলনী ও মতবিনিময় সভায় বন্ধুদের পক্ষ থেকে এই অনুদানের চেক হস্তান্তর করা হয়। অনুদান প্রদানকারীদের মধ্যে ছিলেন হাতিয়া রাহমানিয়া ফাজিল মাদরাসার ফজলে এলাহী হৃদয়, চর কৈলাশ হাদিয়া ফাজিল মাদরাসার মো. আব্দুর রবসহ বিভিন্ন মাদরাসার ২০১৭ ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থীরা। মতবিনিময় সভায় আবদুল হান্নান মাসউদ বলেন, দীর্ঘদিন পর বন্ধুদের সঙ্গে একত্র হতে পেরে সত্যিই ভালো লাগছে। তারা সব সময় আমার পাশে থেকেছে এবং গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছে। সহপাঠীদের সঙ্গে আমার সম্পর্ক এখনো অটুট রয়েছে। তাদের এই ভালোবাসা ও সহযোগিতা আমি আজীবন স্মরণে রাখব। তিনি আরও বলেন, তরুণরাই দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। শিক্ষিত ও সচেতন তরুণ সমাজকে সঙ্গে নিয়েই একটি সুন্দর, নিরাপদ ও উন্নত হাতিয়া গড়ে তোলা সম্ভব। নির্বাচিত হলে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। এ সময় ২০১৭ ব্যাচের শিক্ষার্থী ফজলে এলাহী হৃদয় বলেন, আবদুল হান্নান মাসউদ একজন সৎ, যোগ্য ও জনবান্ধব নেতা। তার নেতৃত্বে হাতিয়ার উন্নয়ন আরও গতিশীল হবে এই বিশ্বাস থেকেই আমরা তার পাশে দাঁড়িয়েছি। মো. আব্দুর রব নামের আরেক সহপাঠী বলেন, হান্নান মাসউদের কোন দল বা জোটের প্রার্থী এটি আমাদের কাছে মুখ্য নয়। সে আমাদের বন্ধু। তার দীর্ঘ লড়াইয়ে পাশে থাকার অঙ্গীকার থেকেই এই সম্মান ও সহযোগিতা। আমরা সব সময় তার পাশে থাকব। অনুষ্ঠানে ২০১৭ সালের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাবেক শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে সবাই একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন কামনা করেন এবং হাতিয়ার সার্বিক উন্নয়নে তরুণ সমাজকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
.jpg&w=3840&q=75)
শবে বরাত ইসলামী বর্ষপঞ্জির শাবান মাসের মধ্যরাতে পালিত একটি তাৎপর্যপূর্ণ রজনী। এই রাতকে ক্ষমা লাভ ও মুক্তি লাভের রাত হিসেবে গণ্য করেন মুসলিমরা। শাবান মাসের ১৪ তারিখ সন্ধ্যার পর শুরু হয়ে ১৫ তারিখ ভোর পর্যন্ত সময়কে শবে বরাত বা নিসফে শাবান বলা হয়। দক্ষিণ এশিয়ায় এটি শবে বরাত নামে পরিচিত হলেও আরব বিশ্বে একে বলা হয় লাইলাতুল বরাত। ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ায় পরিচিত নিসফু শাবান নামে এবং তুরস্কে একে বলা হয় বেরাত কান্দিলি। অনেক মুসলমান এই রাতে জেগে নামাজ, দোয়া ও কোরআন তিলাওয়াতে মশগুল থাকেন। এই রাতে আল্লাহ তায়ালা হিংসা ও বিদ্বেষপোষণকারী ও মুশরিক ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করেন। এক হাদিসে মুয়াজ বিন জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) ইরশাদ করেছেন— আল্লাহ তাআলা অর্ধ-শাবানের রাতে অর্থাৎ শাবানের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতে তার সৃষ্টির দিকে রহমতের দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন। (সহিহ ইবনে হিব্বান: ৫৬৬৫) অন্য হাদিসে আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন—‘একবার রাসুলুল্লাহ (সা.) রাতে নামাজে দাঁড়ান এবং এত দীর্ঘ সিজদা করেন যে, আমার ধারণা হলো, তিনি হয়ত মৃত্যুবরণ করেছেন। আমি তখন উঠে তার বৃদ্ধাঙ্গুলি নাড়া দিলাম। তার বৃদ্ধাঙ্গুলি নড়ল। যখন তিনি সিজদা থেকে উঠলেন এবং নামাজ শেষ করলেন, তখন আমাকে লক্ষ্য করে বললেন— হে আয়েশা তোমার কি এই আশঙ্কা হয়েছে যে, আল্লাহর রাসুল তোমার হক নষ্ট করবেন? আমি উত্তরে বললাম, না, হে আল্লাহর রাসুল। আপনার দীর্ঘ সেজদা থেকে আমার এই আশঙ্কা হয়েছিল, আপনি মৃত্যুবরণ করেছেন কি না। তখন নবী (সা.) জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কি জানো এটা কোন রাত? আমি বললাম, আল্লাহ ও তার রাসুলই ভালো জানেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) তখন ইরশাদ করলেন, ‘এটা হলো অর্ধ শাবানের রাত (শবে বরাত)। আল্লাহ তায়ালা অর্ধ-শাবানের রাতে তার বান্দার প্রতি মনোযোগ দেন এবং ক্ষমাপ্রার্থনাকারীদের ক্ষমা করেন এবং অনুগ্রহপ্রার্থীদের অনুগ্রহ করেন আর বিদ্বেষ পোষণকারীদের ছেড়ে দেন তাদের অবস্থাতেই।’ (শুআবুল ঈমান, বায়হাকি: ৩/৩৮২-৩৮৩; তাবারানি: ১৯৪)

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের রাজগঞ্জ ইউনিয়নে বিএনপি প্রার্থীর একটি নির্বাচনি ক্যাম্পে (অফিস) অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুনে ওই ক্যাম্পের চেয়ার টেবিল ও পার্শ্ববর্তী আরও তিনটি দোকান পুড়ে গেছে। সোমবার (২ ফেব্রয়ারি) ভোরে নোয়াখালী-৩ আসনের রাজগঞ্জের বাকীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন বিএনপির নির্বাচনি ক্যাম্পে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি পরিকল্পিত বলে অভিযোগ করছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। স্থানীয়রা জানান, ফজরের নামাজ পড়তে বের হওয়া মুসল্লীরা দেখতে পান বিএনপির নির্বাচনি কার্যালয়সহ পাশের দোকানগুলোতে আগুন জ্বলছে। পরে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিলে মুসল্লিরা এসে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এর আগেই বিএনপির নির্বাচনি কার্যালয়, পাশের সাইকেল মার্ট দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। অপর একটি দোকান আংশিক পুড়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। নোয়াখালী-৩ আসনের ধানের শীষ প্রতীকের নির্বাচনি সমন্বয়ক মুরাদ জিয়াউর রহমান সুমন বলেন, আগুনের ধরণ অনুযায়ী আলাদা আলাদা ভাবে আগুন লাগানো হয়েছে। মূলত বিএনপি অফিস পোড়ানো হয়, আর সেটাকে ভিন্নখাতে নেওয়ার জন্য পাশেরগুলোতেও আগুন লাগানো হয়। বেগমগঞ্জ থানার ওসি শামসুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে বিএনপি এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দুটি নির্বাচনি অফিসকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। রোববার সন্ধ্যায় উপজেলার চরওয়াপদা ইউনিয়নের আল-আমীন বাজারে এই অভিযান পরিচালিত হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন সুবর্ণচর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ছেনমং রাখাইন। অভিযান সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনি অফিসে আলোকসজ্জা করা এবং বিধি বহির্ভূতভাবে রঙিন পোস্টার লাগানোর দায়ে দল দুটিকে আর্থিক দণ্ড দেওয়া হয়। এতে বিএনপি অফিসকে ৫,০০০ টাকা এবং জামায়াত ইসলামী অফিসকে ৫,০০০ টাকা জরিমানা করা হয়। নির্বাচনি পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে আমাদের এ তৎপরতা অব্যাহত থাকবে বলে জানান সহকারী কমিশনার (ভূমি) ছেনমং রাখাইন। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় পুলিশ, সেনাবাহিনীসহ যৌথবাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতা করেন। প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনি আচরণবিধি বজায় রাখতে ভ্রাম্যমাণ আদালত নিয়মিত মাঠে কাজ করে যাচ্ছে।

দেশে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সীমান্ত এলাকায় এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। ইউরো-মেডিটেরেনিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৪.১। ভূমিকম্পটি আজ মঙ্গলবার ভোর ৪টা ৩৬ মিনিটে ঘটে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল বাংলাদেশের সাতক্ষীরা শহর থেকে প্রায় ১৬ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে। ভারতের হাওড়া শহর থেকে এর দূরত্ব ছিল প্রায় ৩৬ কিলোমিটার পূর্বে। এই এলাকা ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলের কাছাকাছি। তাই এখানে মাঝেমধ্যে কম মাত্রার ভূমিকম্প হয়। ভূমিকম্পে সাতক্ষীরা, খুলনা, যশোরসহ আশপাশের এলাকা মৃদু কেঁপে ওঠে। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক হতাহত বা ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি। এখন পর্যন্ত কোনো স্থাপনার ক্ষতি বা প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। এর আগে, গত ১ ফেব্রুয়ারি ৩ মাত্রার ও ২৫ জানুয়ারি ৩.৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয় দেশে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও নোয়াখালী-৩ আসনে দলের সংসদ সদস্য প্রার্থী বরকত উল্লাহ বুলু বলেছেন, একাত্তর সালের দেশ বিরোধীরা এখন ছাব্বিশে এসে দেশের জন্য মায়াকান্না দেখাচ্ছে। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের এখলাশপুরে স্থানীয় বিএনপির আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় তিনি এ কথা বলেন। বরকত উল্লাহ বুলু বলেন, ধর্মকে রাজনীতিতে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে জামায়াত। তারা কখনোই দেশের ভালো চায়নি। ভবিষ্যতেও চাইবে না। এ বিষয়ে জনগণকে খেয়াল রাখতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের নবী (সা.) নিজেও কাউকে জান্নাতের টিকিটের গ্যারান্টি দিয়ে যাননি। সেখানে একটি রাজনৈতিক দল কীভাবে মানুষকে জান্নাতের নিশ্চয়তা দেয়! এটা জনগণের বিবেকের কাছে প্রশ্ন। এ সময় বিএনপির এই ভাইস চেয়ারম্যান অভিযোগ করে বলেন, ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা ধর্মের মৌলিক শিক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। যা জামায়াত প্রতিনিয়ত করে যাচ্ছে। ইসলাম কখনোই ক্ষমতার সিঁড়ি হতে পারে না। ধর্মকে ভোটের বাজারে পণ্য বানানো ধর্মেরই অবমাননা করা। দেশের মানুষ এখন অনেক সচেতন উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণ ধর্মীয় আবেগে নয়, বরং উন্নয়ন, গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও ন্যায়বিচারের প্রশ্নে সিদ্ধান্ত নিতে চায়। বরকত উল্লাহ বুলু আরও বলেন, দেশের মানুষ জানে জান্নাতের মালিক স্বয়ং আল্লাহ। কোনো রাজনৈতিক দল, কোনো নেতা জান্নাতের চাবি হাতে নিয়ে বসে নেই। যখন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে জান্নাত-জাহান্নামের কথা বলা হয়, তখন বুঝতে হবে রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব কোথায় গিয়ে ঠেকেছে। অনুষ্ঠানে নোয়াখালী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলো, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য শামিমা বরকত লাকি, বেগমগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কামাখ্যা চন্দ্র দাস, সদস্য সচিব মাহফুজুল হক আবেদ, চৌমুহনী পৌর বিএনপির আহ্বায়ক জহির উদ্দিন হারুনসহ বিভিন্ন স্তরের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

নোয়াখালী অঞ্চলের গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার সুকুক বা ইসলামী বন্ড ইস্যু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। সোমবার (৩ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের শরিয়াহ অ্যাডভাইজরি কমিটির সভায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়। সভায় নতুন এই প্রজেক্টের নাম দেওয়া হয়েছে সপ্তম বিনিয়োগ সুকুক বন্ড। এর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে আড়াই হাজার কোটি টাকা। খোলা বাজার থেকে এই টাকা উত্তোলন করা হবে। ব্যয় করা হবে নোয়াখালী, ফেনী ও লক্ষ্মীপুর পল্লী এলাকার গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়নে। ৭ বছর মেয়াদি এই সুকুক প্রজেক্টটি ইস্যু করা হবে ইজারা পদ্ধতিতে। সুকুক প্রজেক্টে বিনিয়োগ করতে পারেন আপনিও। তবে সেজন্য কমপক্ষে ১০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করতে হবে। এতে অবশ্য মেয়াদ শেষে উচ্চ মুনাফাও পাওয়া যাবে। নোয়াখালী অঞ্চলের উন্নয়নে ২৫০০ কোটি টাকার বন্ড আসছে, কিনবেন যেভাবে রিজার্ভ আরও বাড়ল যেভাবে বিনিয়োগ করবেন বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকই সাধারণত ট্রেজারি বন্ড বিক্রি করে। পাশাপাশি সহযোগী কিছু ব্যাংকও এই সেবা দিয়ে থাকে। সেজন্য বিনিয়োগের আগে দেখতে হবে, যে ব্যাংকে আপনার হিসাব আছে, ওই ব্যাংক ট্রেজারি পণ্য বিক্রি করে কিনা। যদি না করে, তাহলে যে ব্যাংক ট্রেজারি পণ্য বিক্রি করে, ওই ব্যাংকে হিসাব খুলে কিনতে হবে। যারা আবেদন করবেন, তারা সবাই বন্ড পাবেন। তবে আনুপাতিক ভিত্তিতে আবেদনকারীদের মাঝে এই বন্ড বিতরণ করা হবে। নিলামে অংশগ্রহণের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ ফেব্রুয়ারি ১০টা থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত। সুকুকের এই প্রজেক্টটি ৭ বছর মেয়াদি। তবে ৬ মাস পরপর এর মুনাফা দেওয়া হবে। পাশাপাশি কর রেয়াতেরও সুবিধা রয়েছে। এই প্রজেক্টে সম্ভাব্য মুনাফার হার ৯ দশমিক ৬০ শতাংশ। মুনাফা যা মিলবে, পুরোটাই আবেদনকারীরা পাবেন। প্রচলিত সঞ্চয়পত্রের তুলনায় সুকুকের গঠনতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ভিন্ন। সেজন্য এটি শরিয়াহসম্মত বিনিয়োগকারীদের জন্য যেমন আদর্শ, তেমনি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্যও ঝুঁকিহীন বিনিয়োগের সুযোগ। এতে সরাসরি রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টি থাকে।

নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের ১১ দলীয় জোট মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদের নির্বাচনী তহবিলে ১০ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছেন তার বন্ধু ও মাদরাসার সহপাঠীরা। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাতে হাতিয়ার ওছখালীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে ২০১৭ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত পুনর্মিলনী ও মতবিনিময় সভায় বন্ধুদের পক্ষ থেকে এই অনুদানের চেক হস্তান্তর করা হয়। অনুদান প্রদানকারীদের মধ্যে ছিলেন হাতিয়া রাহমানিয়া ফাজিল মাদরাসার ফজলে এলাহী হৃদয়, চর কৈলাশ হাদিয়া ফাজিল মাদরাসার মো. আব্দুর রবসহ বিভিন্ন মাদরাসার ২০১৭ ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থীরা। মতবিনিময় সভায় আবদুল হান্নান মাসউদ বলেন, দীর্ঘদিন পর বন্ধুদের সঙ্গে একত্র হতে পেরে সত্যিই ভালো লাগছে। তারা সব সময় আমার পাশে থেকেছে এবং গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছে। সহপাঠীদের সঙ্গে আমার সম্পর্ক এখনো অটুট রয়েছে। তাদের এই ভালোবাসা ও সহযোগিতা আমি আজীবন স্মরণে রাখব। তিনি আরও বলেন, তরুণরাই দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। শিক্ষিত ও সচেতন তরুণ সমাজকে সঙ্গে নিয়েই একটি সুন্দর, নিরাপদ ও উন্নত হাতিয়া গড়ে তোলা সম্ভব। নির্বাচিত হলে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। এ সময় ২০১৭ ব্যাচের শিক্ষার্থী ফজলে এলাহী হৃদয় বলেন, আবদুল হান্নান মাসউদ একজন সৎ, যোগ্য ও জনবান্ধব নেতা। তার নেতৃত্বে হাতিয়ার উন্নয়ন আরও গতিশীল হবে এই বিশ্বাস থেকেই আমরা তার পাশে দাঁড়িয়েছি। মো. আব্দুর রব নামের আরেক সহপাঠী বলেন, হান্নান মাসউদের কোন দল বা জোটের প্রার্থী এটি আমাদের কাছে মুখ্য নয়। সে আমাদের বন্ধু। তার দীর্ঘ লড়াইয়ে পাশে থাকার অঙ্গীকার থেকেই এই সম্মান ও সহযোগিতা। আমরা সব সময় তার পাশে থাকব। অনুষ্ঠানে ২০১৭ সালের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাবেক শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে সবাই একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন কামনা করেন এবং হাতিয়ার সার্বিক উন্নয়নে তরুণ সমাজকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নেতা মাওলানা মো. ইউসুফ বিএনপিতে যোগদান করেছেন। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাতে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি বিএনপিতে যোগদান করেন। পরে তাকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সুবর্ণচর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এনায়েত উল্যাহ বাবুল, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক বেলাল হোসেন সুমন, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আজগর উদ্দিন দুখুসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীরা। মাওলানা মো. ইউসুফ সুবর্ণচর উপজেলার আমানউল্লাহ ইউনিয়নের কাটাবুনিয়া ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। যোগদান অনুষ্ঠানে মাওলানা ইউসুফ বলেন, জামায়াতের আদর্শ ও উদ্দেশ্যের পরিবর্তন হয়েছে। ৫ আগস্টের পর ক্ষমতার জন্য তাদের এই পরিবর্তন মেনে নেওয়া যায় না। ইসলামী দল হিসেবে তারা শরীয়াহভিত্তিক রাষ্ট্র পরিচালনার কথা বলছে না, অথচ ক্ষমতায় যেতে চায়। এসব কারণে আমি জামায়াতে ইসলামী ত্যাগ করে বিএনপিতে যোগদান করেছি। এ বিষয়ে সুবর্ণচর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এনায়েত উল্যাহ বাবুল বলেন, দেশ ও গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনে বিএনপি সবসময় উদার ও গণতান্ত্রিক শক্তিকে স্বাগত জানায়। মাওলানা মো. ইউসুফের মতো রাজনৈতিকভাবে সচেতন একজন নেতার বিএনপিতে যোগদান দলকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আমরা আশা করি।

স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা, বিএনপির ৯ নেতা বহিষ্কার দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর অভিযোগে নোয়াখালীতে বিএনপির ৯ জন নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) সংসদীয় আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রকৌশলী ফজলুল আজিমের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বহিষ্কৃতদের মধ্যে রয়েছেন- নোয়াখালী জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য খন্দকার আবুল কালাম, হাতিয়া পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি কাজী আব্দুর রহিম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন আলো, হাতিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি মোছলে উদ্দিন নিজাম চৌধুরী, এ্যাড. মো. ইউনুছ, সাংগঠনিক সম্পাদক ইকবাল উদ্দিন রাশেদ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ইমাম হাসান, শেখ ফরিদ ও সহ-কোষাধ্যক্ষ ফয়জুর রহমান নান্টু। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এতে বলা হয়, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সংগঠন বিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার জন্য এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বহিষ্কার প্রসঙ্গে হাতিয়া পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন আলো ঢাকা পোস্টকে বলেন, এমন সিদ্ধান্তে আমরা বিচলিত নই। আমরা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি হরিণ মার্কা জয়ী হয়ে তারেক রহমানকে এই আসন উপহার দিতে চাই। আমাদের প্রার্থী তিনবারের সংসদ সদস্য। তিনি ব্যপক জনপ্রিয় ব্যক্তি। আমরা আশাবাদী প্রার্থীকে জয়ী করে পরবর্তীতে সুযোগ পেলে দলে আসব ইনশাআল্লাহ। নোয়াখালী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলো বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ না করায় কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বহিষ্কার কার্যকর করা হয়েছে বলে আমি জানতে পেরেছি। যারা দলীয় সিদ্ধান্তের বাহিরে যাবে তাদের সবার বিরুদ্ধে এভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রসঙ্গত, নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে এবারের নির্বাচনে মোট ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন—বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মাহবুবের রহমান শামীম, ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী জাতীয় নাগরিক পার্টির শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থী আবদুল হান্নান মাসউদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাত পাখা প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম শরীফ, জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী এটিএম নবী উল্যাহ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) মনোনীত তারা প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল মোতালেব, গণঅধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ আজহার উদ্দিন, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির একতারা প্রতীকের প্রার্থী আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আব্দুল মালেক, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির ছাতা প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ আবুল হোসেন, ফুটবল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী তানবীর উদ্দিন রাজীব এবং হরিণ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ ফজলুল আজিম। ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত নোয়াখালী-৬ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৩৯ হাজার ১৮৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭৮ হাজার ৩১০ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৬৯ হাজার ৮৮৪ জন। এ আসনে মোট ১০৪টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে, যার একটিও অস্থায়ী নয়। তবে ৬৬৫টি ভোটকক্ষের মধ্যে ৬৮টি অস্থায়ী ভোটকক্ষ রয়েছে।

নোয়াখালীতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ পুড়ে ছাই নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার বীজবাগ ডিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে বিদ্যালয়ের একটি ভবনের নিচতলার একটি শ্রেণিকক্ষ সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে উপজেলার বকশিরহাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা বিদ্যালয়ের মাঠে থাকা বালু ও পানি দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করেন। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. নুরুল কাউছার বলেন, আগুনে শ্রেণিকক্ষটির ভেতরে থাকা ১৪ জোড়া বেঞ্চ, তিনটি বৈদ্যুতিক পাখা, শিক্ষকদের বসার চেয়ার ও টেবিল সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। এ ছাড়া আগুনের ধোঁয়ায় পাশের শ্রেণিকক্ষগুলোর দেয়াল কালো হয়ে গেছে এবং পুড়ে যাওয়া কক্ষটির দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়েছে। তিনি আরও জানান, এই বিদ্যালয় ভবনটি ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয় না। তবে একই কম্পাউন্ডের ভেতরে অবস্থিত বীজবাগ এন কে উচ্চ বিদ্যালয় আসন্ন নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হবে। স্থানীয় অভিভাবক সানা উল্লাহ বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ড আমাদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করা জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর না ঘটে।’ সেনবাগ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্তব্যরত কর্মকর্তা মো. ইলিয়াছ বলেন, বিকেল ৫টা ২৫ মিনিটে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বর থেকে আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়। তবে কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার সময় ওই ভবনে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু ছিল। সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল বাশার বলেন, বিদ্যুৎ সংযোগ থাকায় শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগার সম্ভাবনা রয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

১৮ মাসেও উদ্ধার হয়নি থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র নোয়াখালীতে থানা থেকে লুট হওয়া বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদের একটি অংশ ১৮ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনও উদ্ধার হয়নি। জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এসব অস্ত্র আইনশৃঙ্খলার জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষ। জানা গেছে, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন চাটখিল ও সোনাইমুড়ী থানা থেকে লুট করা হয় মোট ১১৫টি আগ্নেয়াস্ত্র, ১০ হাজার ২০২টি গোলাবারুদ এবং ১৩টি গ্যাসগান। এর মধ্যে অধিকাংশ উদ্ধার হলেও এখনো উদ্ধার হয়নি ২০টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৫ হাজার ১৩২টি বিভিন্ন ধরনের গোলাবারুদ ও ২টি গ্যাসগান। উদ্ধার না হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে, চায়না রাইফেল ৭টি, এসএমজি ১টি, পিস্তল ৪টি, শর্টগান ৮টি। রাজনৈতিক দলগুলো বলছে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এসব অস্ত্র বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী আবদুল হান্নান মাসউদ বলেন, থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র যেমন উদ্ধার হয়নি, তেমনি অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানিও রয়েছে। দ্রুত এসব অস্ত্র উদ্ধার এবং অস্ত্রধারীদের গ্রেপ্তার করা অত্যন্ত জরুরি। নোয়াখালী-১ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ছাইফ উল্লাহ বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার বিষয়ে আশাবাদী হলেও পুরোপুরি নিশ্চিন্ত নই। কারণ এখনো এজাহারভুক্ত ও অতীতের সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। অস্ত্র উদ্ধার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরাও। আন্দোলনে অংশ নেওয়া এক যুবক বলেন, থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্রগুলো এখনো জব্দ হয়নি। আমরা চাই, এসব অস্ত্র দ্রুত উদ্ধার করা হোক। জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন ঢাকা পোস্টকে বলেন, এ পর্যন্ত ৯৬টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৫ হাজার ৭০টি গোলাবারুদ ও ১১টি গ্যাসগান উদ্ধার করা হয়েছে। গোয়েন্দা কার্যক্রমসহ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গত দেড় মাসে আরও ১৪টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৩৪ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে, যার মধ্যে থানা লুটের ৫ রাউন্ড গুলিও রয়েছে। নির্বাচনী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে দাবি করেছে প্রশাসন। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক শফিকুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে জেলা পুলিশ ও যৌথ বাহিনী অভিযান পরিচালনা করছে। কেউ অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অস্ত্র উদ্ধারে নির্দিষ্ট তথ্য পেলে অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় জাতীয় যুবশক্তির নেতা কামাল উদ্দিন বিএনপিতে যোগদান করেছেন। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাতে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও নোয়াখালী-৬ আসনের প্রার্থী মাহবুবুর রহমান শামীমের হাতে ফুল দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে দলে বরণ করে নেওয়া হয়। কামাল উদ্দিন হাতিয়া উপজেলার জাহাজমারা ইউনিয়নের জাহাজমারা পশ্চিম শাখা জাতীয় যুবশক্তির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। বিএনপিতে যোগদান উপলক্ষে কামাল উদ্দিন বলেন, আমি পারিবারিক সিদ্ধান্তে জাতীয় যুবশক্তির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক পদ থেকে পদত্যাগ করে সব সাংগঠনিক কার্যক্রম বন্ধ করেছি। দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিএনপির আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে দলে যোগ দিয়েছি। আগামী দিনে বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে সক্রিয়ভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করছি। এ সময় উপস্থিত হাতিয়া উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লুৎফুল্লাহিল মজিদ নিশান বলেন, কামাল উদ্দিনের পাশাপাশি আরও অনেক নেতা-কর্মী বিএনপিতে যোগদান করেছেন। তারা সবাই বিএনপির আদর্শ ও ধানের শীষের পক্ষে কাজ করার জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। আসন্ন নির্বাচনে দলকে শক্তিশালী করতে এবং জনগণের সমর্থন আদায়ে তারা সম্মিলিতভাবে মাঠে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। বিএনপি প্রার্থী মাহবুবুর রহমান শামীমের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট ও জেলা বিএনপির সদস্য মো. আলাউদ্দিন রনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, এর আগেও বিভিন্ন পর্যায়ে এনসিপির নেতাকর্মীরা বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। বিএনপি একটি বৃহৎ গণতান্ত্রিক দল। হাতিয়ায় এনসিপির উগ্র কর্মকাণ্ডে হতাশ হয়ে অনেকেই বিএনপিতে যোগ দিচ্ছেন। হাতিয়া উপজেলা যুবশক্তির আহ্বায়ক মো. ইউসুফ রেজা বলেন, হাতিয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা আবদুল হান্নান মাসউদের জনপ্রিয়তা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাধারণ মানুষ তার নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক অবস্থানকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করছে। মাঠপর্যায়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। হাতিয়ার প্রতিটি ইউনিয়নে শাপলা কলির প্রতীকের পক্ষে যে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে, তা আগামী দিনে আরও বিস্তৃত হবে। দুই একজন দল পরিবর্তন করলে এতে কোনো প্রভাব পড়বেনা।