

নোয়াখালী-৪ আসনের সদরে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের দুটি নির্বাচনি ব্যানার চুরির অভিযোগে অভিনব প্রতিবাদ জানিয়েছে কর্মী-সমর্থকরা। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) চুরি হওয়া ব্যানারের স্থলে নতুন দুটি প্রতীকী ব্যানার লাগিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন তারা। জানা গেছে, নোয়াখালী সরকারি কলেজ গেটের সামনে লাগানো ১১ দলীয় জোটের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের দুটি ব্যানার কে বা কারা চুরি করে নিয়ে যায়। পরে সেই জায়গায় নতুন দুটি ব্যানার লাগিয়ে এর প্রতিবাদ করে দাঁড়িপাল্লার সমর্থকরা। নতুন ব্যানারে লেখা রয়েছে, ‘নোয়াখালী সরকারি কলেজ গেটের সামনে দাঁড়িপাল্লার দুইটি ব্যানার ছিল জালেমরা রাতে নিয়ে গেছে। প্রতিহিংসার রাজনীতি ছেড়ে আসুন, সকলে মিলেমিশে গড়ি বাংলাদেশ।’ সকালে নতুন ব্যানার দুটি দেখে স্থানীয়রা কৌতূহলী হয়ে ওঠেন। এ নিয়ে নানা ধরনের মুখরোচক আলোচনা-সমালোচনা করেন। অনেকে অভিনব এ ব্যানার দেখতে ছুটে আসেন। মহিউদ্দিন নামে এক বাসিন্দা বলেন, ব্যানার চুরি করে ভোট কমানো যায় না। আর ব্যানার দিয়ে ভোটও আসে না। তবে সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে কেউ কারো প্রচারণায় বাধা দেওয়া উচিত নয়। আবুল কালাম নামে একজন বলেন, দাঁড়িপাল্লার চুরি হওয়া ব্যানারের চাইতে, চুরির প্রতিবাদে দেওয়া ব্যানার দেখতে অনেক মানুষ এসেছে। বলা যায়, এটা নতুন আইডিয়া। নোয়াখালী সরকারি কলেজ ছাত্রশিবিরের সভাপতি নাজিম মাহমুদ শুভ বলেন, ভোটকে সামনে রেখে এমন ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে। এটি প্রতিহিংসামূলক রাজনীতির বহিঃপ্রকাশ। যা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনি পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকাই শ্রেয়। তিনি আরও বলেন, এটি নতুন দুটি ব্যানার চুরির ঘটনার নীরব প্রতিবাদ। তবে রাজনৈতিক সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রেখে সবাইকে মিলেমিশে দেশ গঠনে এগিয়ে আসতে হবে।

নোয়াখালী-৫ (কোম্পানীগঞ্জ, কবিরহাট ও সদরের দুই ইউনিয়ন) আসনে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দিতে মঞ্চে ওঠেন সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রয়াত বিএনপি নেতা মওদুদ আহমেদের স্ত্রী হাসনা জসীমউদ্দীন মওদুদ। বক্তব্য দিতে এসে প্রার্থীর মনোনয়ন পাওয়ার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। এতে বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মীরা তাঁর মাইক কেড়ে নেন। এ সময় দ্রুত সভাস্থল ত্যাগ করেন হাসনা মওদুদ। আজ সোমবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে সদর উপজেলার অশ্বদিয়া ইউনিয়নের বাল্লাকোট্টা নামক স্থানে ওই ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, সোমবার নির্বাচনী প্রচারের শেষ দিনে বাল্লাকোট্টা নামের স্থানে মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করে অশ্বদিয়া ইউনিয়ন বিএনপি। সেখানে অতিথি হিসেবে আসেন সাবেক সংসদ সদস্য, জেলা বিএনপির সদস্য হাসনা জসীমউদ্দীন মওদুদ। তিনি আসার পর অশ্বদিয়া ও নেয়াজপুর ইউনিয়নে নির্বাচন সমন্বয়ক ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু হাসান মো. নোমানসহ দলীয় নেতারা তাঁকে অভ্যর্থনা জানান। পরে বক্তৃতার পর্বে তাঁকে (হাসনা মওদুদ) বক্তব্য দিতে দেওয়া হলে তিনি এক পর্যায়ে বলতে থাকেন, ‘এই আসনে আমি মনোনয়ন চেয়েছিলাম। কিন্তু আমাকে মনোনয়ন কেন দেওয়া হয়নি আমি জানি না। যাঁকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, তাঁর কোনো যোগ্যতাই নাই।’ এ কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে উপস্থিত ধানের শীষের সমর্থকেরা হইচই শুরু করেন। একপর্যায়ে কয়েকজন এসে তাঁর হাত থেকে মাইক ছিনিয়ে নেন এবং তাঁর গাড়িতে লাগানো ধানের শীষের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলেন। এ সময় সেখানে উপস্থিত জ্যেষ্ঠ নেতাদের হস্তক্ষেপে তিনি রক্ষা পান। পরে অবস্থা বেগতিক দেখে হাসনা মওদুদ ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। জানতে চাইলে হাসনা জসীমউদ্দীন মওদুদ প্রথম , বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অনুরোধে তিনি ধানের শীষের প্রচারে অংশ নিতে এলাকায় এসেছেন। তিনি উপস্থিত লোকজনের উদ্দেশে বলেছিলেন, তিনি মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। পরে প্রত্যাহার করেছেন। দল কেন তাঁকে মনোনয়ন দিল না, তা জানেন না। কিন্তু যাঁকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, তাঁর কোনো যোগ্যতাই নেই। হাসনা মওদুদ বলেন, ‘আমি ওই কথা বলতেই কয়েকজন হইচই শুরু করেন। এর মধ্যে বোতল হাতে এক ব্যক্তি উত্তেজিত হয়ে আমার দিকে তেড়ে আসেন।’ ঘটনাস্থলে থাকা বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে ইউনিয়ন নির্বাচন সমন্বয়ক আবু হাসান মো. নোমান বলেন, হাসনা মওদুদ ধানের শীষের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিতে এসে তাঁকে মনোনয়ন না দেওয়ার প্রসঙ্গ তোলেন। ধানের শীষের প্রার্থী মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামের সমালোচনা শুরু করেন। এতে সেখানে উপস্থিত নেতা-কর্মীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। হট্টগোল বাধে। কয়েকজন তাঁর গাড়িতে থাকা ধানের শীষের পোস্টার খুলে ফেলেন। তখন তাঁরা তাঁকে নিরাপদে সেখান থেকে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন। তবে এ নিয়ে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। প্রসঙ্গত, নোয়াখালী-৫ আসনে বিএনপি থেকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয় উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামকে। তিনি পেশায় একজন ব্যবসায়ী। একই আসনে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন প্রয়াত বিএনপি নেতা মওদুদ আহমেদের স্ত্রী হাসনা জসীমউদ্দীন মওদুদ। তিনি মনোনয়নপত্র দাখিল করে বৈধ প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে দলের শীর্ষ নেতাদের অনুরোধে তিনি প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দল না থাকায় এই সময়ে বিকল্প আরেকটি টুর্নামেন্ট আয়োজন করেছে বিসিবি। গত বৃহস্পতিবার থেকে তিন দল নিয়ে সংক্ষিপ্ত সংস্করণের এই প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। টুর্নামেন্টে সবচেয়ে কমবয়সী ও সদ্য অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলে আসা ক্রিকেটারদের নিয়ে গড়া হয়েছিল ইমার্জিং স্কোয়াডের দল দুরন্ত একাদশ। এ ছাড়া ছিল জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের নিয়ে ধূমকেতু এবং ‘এ’ দলের ক্রিকেটারদের নিয়ে দুর্বার দল। ইতোমধ্যে তিন দলের এই টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বের খেলা শেষ হয়েছে। আজ (সোমবার) মাঠে গড়াবে টুর্নামেন্টটির ফাইনাল ম্যাচ। মিরপুর শেরে-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শিরোপার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে লিটন দাসের ধূমকেতু একাদশ ও নাজমুল হোসেন শান্তর দুর্বার একাদশ। সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হবে ম্যাচটি। আড়াই কোটি টাকা প্রাইজমানির টুর্নামেন্ট অবশ্য সেভাবে সাড়া ফেলতে পারেনি। একটি ম্যাচে ছিল কেবল উত্তেজনা। সেভাবে ছিল না খুব বেশি দর্শক। নাজমুলের দুর্বার একাদশ টুর্নামেন্টে দুটি জয় নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে রয়েছে। অপরদিকে লিটনের ধূমকেতু একটি জয় নিয়ে ফাইনালে উঠেছে। তরুণদের নিয়ে গড়া দুর্দান্ত একাদশ কোনো জয় পায়নি। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) মূলত খেলোয়াড়দের মনোবল ধরে রাখতে এবং কিছুটা আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করতে বিশ্বকাপের সময় এই টুর্নামেন্ট আয়োজন করেছে। বিসিবি তিনটি গ্রুপে ভাগ করে দেয় ক্রিকেটারদের। বিশ্বকাপের দল নিয়ে গঠিত হয় ধূমকেতু একাদশ। তবে টুর্নামেন্টে তরুণদের কেউ তেমন ভালো করতে পারেননি।

নোয়াখালী-২ (সেনবাগ–সোনাইমুড়ী) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী জয়নুল আবদিন ফারুকের গাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টার দিকে সেনবাগ বাজারে এ হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী মফিজুর রহমান ও বিএনপির প্রার্থী জয়নুল আবদিন ফারুকের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনবাগ বাজারে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ফলে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। একই সঙ্গে সেনবাগ ও সোনাইমুড়ীর বিভিন্ন বাজারে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ মিছিলের খবর পাওয়া গেছে। বিএনপির প্রার্থী জয়নুল আবদিন ফারুক অভিযোগ করে বলেন, ধানের শীষ প্রতীকযুক্ত গাড়িতে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে ধানের শীষের প্রচারণার গাড়িতেও হামলা করা হয়েছে এবং নেতাকর্মীদের আহত করা হয়েছে। তিনি দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী মফিজুর রহমান নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, কেউ কোনো ষড়যন্ত্রে পা দেবেন না এবং কোনো ধরনের সহিংসতায় জড়াবেন না। নির্বাচন বানচাল করার অপচেষ্টা চলছে। আল্লাহর রহমতে আমি সুস্থ আছি। এই হামলার জবাব আপনারা ১২ তারিখ ব্যালট পেপারের মাধ্যমে দেবেন। এ বিষয়ে সেনবাগ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাশার জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন আছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এর আগে একই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী মফিজুর রহমানের গাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছিল, যা নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, নোয়াখালী-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী মোহাম্মদ মফিজুর রহমানের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। এবারের নির্বাচন সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে। ১২ তারিখ ব্যালটের মাধ্যমেই এসব অপশক্তির বিরুদ্ধে জবাব দেওয়া হবে। ঐক্যবদ্ধভাবে সন্ত্রাসমুক্ত সেনবাগ গড়ে তুলতে তিনি সবাইকে ১১ দলীয় জোটের পাশে থাকার আহ্বান জানান।

আপনার মূল্যবান ভোট দিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ার দরজা খুলে দিন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আয়োজিত গণভোট সামনে রেখে দেশবাসীকে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে তিনি বলেন, ‘আপনার মূল্যবান ভোট দিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ার দরজা খুলে দিন। দেশের চাবি আপনার হাতে। সে চাবিটি সঠিকভাবে ব্যবহার করুন।’ আসন্ন নির্বাচনের দিনটিকে ‘নতুন বাংলাদেশের জন্মদিন’ হিসেবে অভিহিত করে প্রধান উপদেষ্টা ভোটারদের দ্বিধাহীন চিত্তে কেন্দ্রে যাওয়ার অনুরোধ জানান। নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ করতে সরকার সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এবার রেকর্ডসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাসম্পন্ন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদেরও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তার নতুন অনুষঙ্গ নিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রথমবারের মতো সারা দেশে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। নজরদারিতে ড্রোন ও ডগ স্কোয়াড ব্যবহারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। ভোটাররা যেন নির্ভয়ে ও সম্মানের সঙ্গে ভোট দিতে পারেন, এটাই আমাদের লক্ষ্য।’ নির্বাচনকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে ঐতিহাসিক পদক্ষেপের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশিরা ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন। এ ছাড়া সরকারি কাজে নিয়োজিত ব্যক্তি এবং আইনি হেফাজতে বা কারাগারে থাকা যোগ্য নাগরিকদের জন্য পোস্টাল ব্যালটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্র কাউকে বাদ দিয়ে নয়, সবাইকে নিয়ে এগোতে চায়।’ রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি প্রধান উপদেষ্টা আহ্বান জানান, যেন কোনো স্তরের কর্মী বিশৃঙ্খলা বা সহিংসতায় জড়িয়ে না পড়ে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘ইতিহাস শিক্ষা দেয়– একটি ত্রুটিপূর্ণ বা সহিংস নির্বাচন শেষ পর্যন্ত কারও জন্যই মঙ্গল বয়ে আনে না। যারা জনগণের মতামত উপেক্ষা করে অনিয়মের মাধ্যমে ক্ষমতায় থাকতে চেয়েছে, তারা কঠিন জবাবদিহিতার মুখোমুখি হয়েছে।’ নির্বাচন নিয়ে অপপ্রচার ও গুজব ছড়ানো মহলের বিষয়ে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, তথ্য যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজনে ‘নির্বাচনবন্ধু’ হটলাইন ৩৩৩-এ যোগাযোগ করতে হবে। জুলাই জাতীয় সনদকে গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ও ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থার দিকনির্দেশনা হিসেবে উল্লেখ করেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ৩০টিরও বেশি রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে এই সনদ প্রস্তুত করা হয়েছে। গণভোটের মাধ্যমে জনগণই ঠিক করবেন তারা এই সংস্কার কাঠামো চান কি না। ক্ষমতা হস্তান্তর প্রসঙ্গে বিভ্রান্তি দূর করে তিনি বলেন, ‘এখন অপপ্রচার চালানো হচ্ছে যে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করবে না। এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আপনারা নিশ্চিত থাকুন, নির্বাচনে বিজয়ী প্রতিনিধিদের কাছে দ্রুততম সময়ে ক্ষমতা হস্তান্তর করে এই সরকার বিদায় নেবে। আমরা এই শুভ মুহূর্তের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।’ প্রধান উপদেষ্টা তার ভাষণের শেষাংশে বলেন, ‘ভয় নয়– আশা নিয়ে; উদাসীনতা নয়– দায়িত্ববোধ নিয়ে আমরা ভোটকেন্দ্রে যাব। আপনার ভোটেই রচিত হবে গৌরবময় আগামীর বাংলাদেশের ইতিহাস।’

নোয়াখালী-৪ আসনের সদরে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের দুটি নির্বাচনি ব্যানার চুরির অভিযোগে অভিনব প্রতিবাদ জানিয়েছে কর্মী-সমর্থকরা। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) চুরি হওয়া ব্যানারের স্থলে নতুন দুটি প্রতীকী ব্যানার লাগিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন তারা। জানা গেছে, নোয়াখালী সরকারি কলেজ গেটের সামনে লাগানো ১১ দলীয় জোটের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের দুটি ব্যানার কে বা কারা চুরি করে নিয়ে যায়। পরে সেই জায়গায় নতুন দুটি ব্যানার লাগিয়ে এর প্রতিবাদ করে দাঁড়িপাল্লার সমর্থকরা। নতুন ব্যানারে লেখা রয়েছে, ‘নোয়াখালী সরকারি কলেজ গেটের সামনে দাঁড়িপাল্লার দুইটি ব্যানার ছিল জালেমরা রাতে নিয়ে গেছে। প্রতিহিংসার রাজনীতি ছেড়ে আসুন, সকলে মিলেমিশে গড়ি বাংলাদেশ।’ সকালে নতুন ব্যানার দুটি দেখে স্থানীয়রা কৌতূহলী হয়ে ওঠেন। এ নিয়ে নানা ধরনের মুখরোচক আলোচনা-সমালোচনা করেন। অনেকে অভিনব এ ব্যানার দেখতে ছুটে আসেন। মহিউদ্দিন নামে এক বাসিন্দা বলেন, ব্যানার চুরি করে ভোট কমানো যায় না। আর ব্যানার দিয়ে ভোটও আসে না। তবে সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে কেউ কারো প্রচারণায় বাধা দেওয়া উচিত নয়। আবুল কালাম নামে একজন বলেন, দাঁড়িপাল্লার চুরি হওয়া ব্যানারের চাইতে, চুরির প্রতিবাদে দেওয়া ব্যানার দেখতে অনেক মানুষ এসেছে। বলা যায়, এটা নতুন আইডিয়া। নোয়াখালী সরকারি কলেজ ছাত্রশিবিরের সভাপতি নাজিম মাহমুদ শুভ বলেন, ভোটকে সামনে রেখে এমন ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে। এটি প্রতিহিংসামূলক রাজনীতির বহিঃপ্রকাশ। যা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনি পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকাই শ্রেয়। তিনি আরও বলেন, এটি নতুন দুটি ব্যানার চুরির ঘটনার নীরব প্রতিবাদ। তবে রাজনৈতিক সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রেখে সবাইকে মিলেমিশে দেশ গঠনে এগিয়ে আসতে হবে।

নোয়াখালী-৫ (কোম্পানীগঞ্জ, কবিরহাট ও সদরের দুই ইউনিয়ন) আসনে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দিতে মঞ্চে ওঠেন সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রয়াত বিএনপি নেতা মওদুদ আহমেদের স্ত্রী হাসনা জসীমউদ্দীন মওদুদ। বক্তব্য দিতে এসে প্রার্থীর মনোনয়ন পাওয়ার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। এতে বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মীরা তাঁর মাইক কেড়ে নেন। এ সময় দ্রুত সভাস্থল ত্যাগ করেন হাসনা মওদুদ। আজ সোমবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে সদর উপজেলার অশ্বদিয়া ইউনিয়নের বাল্লাকোট্টা নামক স্থানে ওই ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, সোমবার নির্বাচনী প্রচারের শেষ দিনে বাল্লাকোট্টা নামের স্থানে মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করে অশ্বদিয়া ইউনিয়ন বিএনপি। সেখানে অতিথি হিসেবে আসেন সাবেক সংসদ সদস্য, জেলা বিএনপির সদস্য হাসনা জসীমউদ্দীন মওদুদ। তিনি আসার পর অশ্বদিয়া ও নেয়াজপুর ইউনিয়নে নির্বাচন সমন্বয়ক ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু হাসান মো. নোমানসহ দলীয় নেতারা তাঁকে অভ্যর্থনা জানান। পরে বক্তৃতার পর্বে তাঁকে (হাসনা মওদুদ) বক্তব্য দিতে দেওয়া হলে তিনি এক পর্যায়ে বলতে থাকেন, ‘এই আসনে আমি মনোনয়ন চেয়েছিলাম। কিন্তু আমাকে মনোনয়ন কেন দেওয়া হয়নি আমি জানি না। যাঁকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, তাঁর কোনো যোগ্যতাই নাই।’ এ কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে উপস্থিত ধানের শীষের সমর্থকেরা হইচই শুরু করেন। একপর্যায়ে কয়েকজন এসে তাঁর হাত থেকে মাইক ছিনিয়ে নেন এবং তাঁর গাড়িতে লাগানো ধানের শীষের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলেন। এ সময় সেখানে উপস্থিত জ্যেষ্ঠ নেতাদের হস্তক্ষেপে তিনি রক্ষা পান। পরে অবস্থা বেগতিক দেখে হাসনা মওদুদ ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। জানতে চাইলে হাসনা জসীমউদ্দীন মওদুদ প্রথম , বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অনুরোধে তিনি ধানের শীষের প্রচারে অংশ নিতে এলাকায় এসেছেন। তিনি উপস্থিত লোকজনের উদ্দেশে বলেছিলেন, তিনি মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। পরে প্রত্যাহার করেছেন। দল কেন তাঁকে মনোনয়ন দিল না, তা জানেন না। কিন্তু যাঁকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, তাঁর কোনো যোগ্যতাই নেই। হাসনা মওদুদ বলেন, ‘আমি ওই কথা বলতেই কয়েকজন হইচই শুরু করেন। এর মধ্যে বোতল হাতে এক ব্যক্তি উত্তেজিত হয়ে আমার দিকে তেড়ে আসেন।’ ঘটনাস্থলে থাকা বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে ইউনিয়ন নির্বাচন সমন্বয়ক আবু হাসান মো. নোমান বলেন, হাসনা মওদুদ ধানের শীষের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিতে এসে তাঁকে মনোনয়ন না দেওয়ার প্রসঙ্গ তোলেন। ধানের শীষের প্রার্থী মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামের সমালোচনা শুরু করেন। এতে সেখানে উপস্থিত নেতা-কর্মীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। হট্টগোল বাধে। কয়েকজন তাঁর গাড়িতে থাকা ধানের শীষের পোস্টার খুলে ফেলেন। তখন তাঁরা তাঁকে নিরাপদে সেখান থেকে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন। তবে এ নিয়ে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। প্রসঙ্গত, নোয়াখালী-৫ আসনে বিএনপি থেকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয় উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামকে। তিনি পেশায় একজন ব্যবসায়ী। একই আসনে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন প্রয়াত বিএনপি নেতা মওদুদ আহমেদের স্ত্রী হাসনা জসীমউদ্দীন মওদুদ। তিনি মনোনয়নপত্র দাখিল করে বৈধ প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে দলের শীর্ষ নেতাদের অনুরোধে তিনি প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন।

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়াকে ‘জেলা’তে রূপান্তরের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ২১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসুদ। সোমবার (৮ জানুয়ারি) বিকেলে হাতিয়া উপজেলার একটি নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই ইশতেহার ঘোষণা করেন। হান্নান মাসুদ বলেন, হাতিয়াকে তিনটি উপজেলা নিয়ে জেলা করা হবে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বুড়িরচরকে পৌরসভা, সোনাদিয়া ও জাহাজমারাকে উপজেলা এবং চানন্দী ও হরনী ইউনিয়ন যুক্ত করে নতুন আরেকটি উপজেলা গঠন করা হবে। এর মাধ্যমে হাতিয়াকে একটি পূর্ণাঙ্গ জেলায় রূপান্তর করা হবে। তিনি বলেন, সারা বিশ্বের মধ্যে এই দ্বীপকে ভ্যাটিকান সিটির মতো উন্নত ও পরিকল্পিত এলাকায় রূপান্তর করার পরিকল্পনা রয়েছে। আপনারা আমার সঙ্গে থাকুন। আপনাদের একটি ভোটেই আগামী দিনের হাতিয়ার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে। তাই ভেবে-চিন্তে ভোট দিন। নদীভাঙন রোধকে প্রথম অগ্রাধিকার দিয়ে ২১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার জনসভায় তুলে ধরেন তিনি। এ সময় দ্বীপটিকে উন্নত, আধুনিক ও বাসযোগ্য করে গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন এনসিপির এই নেতা। ইশতেহারের উল্লেখযোগ্য দফাগুলোর মধ্যে রয়েছে—নদীভাঙন রোধে কংক্রিট ব্লক বাঁধ, বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও ক্রসড্যাম তৈরি, রাস্তাঘাট ও সেতু নির্মাণ, খাসজমি ভূমিহীনদের বন্দোবস্ত, স্বাস্থ্যখাতে উন্নয়ন, সীমান্তবিরোধ নিরসন, শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন, প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা শক্তিশালীকরণ, ফেরি ও ফেরিঘাট ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎসেবা নিশ্চিতকরণ, পর্যটন শিল্পের বিকাশ, জেলেদের হয়রানি বন্ধ ও জীবনমান উন্নয়ন, নদীবন্দর বাস্তবায়ন, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি নির্মূলে কার্যকর উদ্যোগ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ, ওছখালী পৌরসভার উন্নয়ন, ক্রীড়া খাতের উন্নয়ন, স্থায়ী নৌ-ক্যাম্প স্থাপন, হাইটেক পার্ক নির্মাণ, শ্বেতপত্র প্রকাশ এবং জনগণের মুখোমুখি জবাবদিহি। জনসভায় সভাপতিত্ব করেন হাতিয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাস্টার বোরহান। এতে আরও বক্তব্য দেন শাহবাগ থানার জামায়াতে ইসলামীর আমির অ্যাডভোকেট শাহ মাহফুজ, উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক মাস্টার আলাউদ্দিন এবং ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক নেয়ামতউল্লাহ নিরবসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দল না থাকায় এই সময়ে বিকল্প আরেকটি টুর্নামেন্ট আয়োজন করেছে বিসিবি। গত বৃহস্পতিবার থেকে তিন দল নিয়ে সংক্ষিপ্ত সংস্করণের এই প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। টুর্নামেন্টে সবচেয়ে কমবয়সী ও সদ্য অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলে আসা ক্রিকেটারদের নিয়ে গড়া হয়েছিল ইমার্জিং স্কোয়াডের দল দুরন্ত একাদশ। এ ছাড়া ছিল জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের নিয়ে ধূমকেতু এবং ‘এ’ দলের ক্রিকেটারদের নিয়ে দুর্বার দল। ইতোমধ্যে তিন দলের এই টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বের খেলা শেষ হয়েছে। আজ (সোমবার) মাঠে গড়াবে টুর্নামেন্টটির ফাইনাল ম্যাচ। মিরপুর শেরে-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শিরোপার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে লিটন দাসের ধূমকেতু একাদশ ও নাজমুল হোসেন শান্তর দুর্বার একাদশ। সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হবে ম্যাচটি। আড়াই কোটি টাকা প্রাইজমানির টুর্নামেন্ট অবশ্য সেভাবে সাড়া ফেলতে পারেনি। একটি ম্যাচে ছিল কেবল উত্তেজনা। সেভাবে ছিল না খুব বেশি দর্শক। নাজমুলের দুর্বার একাদশ টুর্নামেন্টে দুটি জয় নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে রয়েছে। অপরদিকে লিটনের ধূমকেতু একটি জয় নিয়ে ফাইনালে উঠেছে। তরুণদের নিয়ে গড়া দুর্দান্ত একাদশ কোনো জয় পায়নি। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) মূলত খেলোয়াড়দের মনোবল ধরে রাখতে এবং কিছুটা আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করতে বিশ্বকাপের সময় এই টুর্নামেন্ট আয়োজন করেছে। বিসিবি তিনটি গ্রুপে ভাগ করে দেয় ক্রিকেটারদের। বিশ্বকাপের দল নিয়ে গঠিত হয় ধূমকেতু একাদশ। তবে টুর্নামেন্টে তরুণদের কেউ তেমন ভালো করতে পারেননি।

নোয়াখালী-২ আসনের (সেনবাগ–সোনাইমুড়ী) ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক এবং আন্তর্জাতিক সেলের প্রধান সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়ার এজেন্টকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছে দুর্বৃত্তরা। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় নির্বাচনী গণসংযোগ শেষে বাড়ি ফেরার পথে সেনবাগ উপজেলার ৩নং ডুমুরিয়া ইউনিয়নের ২নং মতইন ওয়ার্ড কেন্দ্রের প্রধান এজেন্ট মো. মনির হোসেনের ওপর এই হামলার ঘটনা ঘটে। তিনি মতইন গ্রামের আবদুর রবের ছেলে। দুর্বৃত্তরা তাকে ধারালো অস্ত্র (চাপাতি) দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে যায়। আহত মো. মনির হোসেনকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে এনসিপি প্রার্থী সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, ইতোমধ্যে আমাদের কয়েক ব্যানার ও ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে, অনেক জায়গায় আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কয়েকদিন আগে সাহাপুরে আমাদের একজন প্রতিনিধির ওপর হামলা চালানো হয়। মনির হোসেনকে হত্যার চেষ্টা করা হয়। এলাকায় সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েমের চেষ্টা চলছে। তিনি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাশার বলেন, এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে

নোয়াখালী-২ (সেনবাগ–সোনাইমুড়ী) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী জয়নুল আবদিন ফারুকের গাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টার দিকে সেনবাগ বাজারে এ হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী মফিজুর রহমান ও বিএনপির প্রার্থী জয়নুল আবদিন ফারুকের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনবাগ বাজারে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ফলে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। একই সঙ্গে সেনবাগ ও সোনাইমুড়ীর বিভিন্ন বাজারে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ মিছিলের খবর পাওয়া গেছে। বিএনপির প্রার্থী জয়নুল আবদিন ফারুক অভিযোগ করে বলেন, ধানের শীষ প্রতীকযুক্ত গাড়িতে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে ধানের শীষের প্রচারণার গাড়িতেও হামলা করা হয়েছে এবং নেতাকর্মীদের আহত করা হয়েছে। তিনি দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী মফিজুর রহমান নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, কেউ কোনো ষড়যন্ত্রে পা দেবেন না এবং কোনো ধরনের সহিংসতায় জড়াবেন না। নির্বাচন বানচাল করার অপচেষ্টা চলছে। আল্লাহর রহমতে আমি সুস্থ আছি। এই হামলার জবাব আপনারা ১২ তারিখ ব্যালট পেপারের মাধ্যমে দেবেন। এ বিষয়ে সেনবাগ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাশার জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন আছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এর আগে একই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী মফিজুর রহমানের গাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছিল, যা নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, নোয়াখালী-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী মোহাম্মদ মফিজুর রহমানের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। এবারের নির্বাচন সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে। ১২ তারিখ ব্যালটের মাধ্যমেই এসব অপশক্তির বিরুদ্ধে জবাব দেওয়া হবে। ঐক্যবদ্ধভাবে সন্ত্রাসমুক্ত সেনবাগ গড়ে তুলতে তিনি সবাইকে ১১ দলীয় জোটের পাশে থাকার আহ্বান জানান।

নোয়াখালী-৪ (সদর–সুবর্ণচর) আসনটি জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও ভোটারসংখ্যায় বড় একটি আসন। রাজনৈতিকভাবে এই আসন বরাবরই আলোচিত। এবারের নির্বাচনে এখানে অভিজ্ঞ রাজনীতিক বনাম পরিবর্তনমুখী রাজনীতির লড়াই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। সদর উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এবং সুবর্ণচর উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত নোয়াখালী-৪ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৭ লাখ ৩৩৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩ লাখ ৬৬ হাজার ৬৫৬ জন এবং নারী ভোটার ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৬৭৯ জন। মোট ১৯৮টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে একটিও নেই অস্থায়ী কেন্দ্র। তবে আছে ১৩৬৬টি ভোট কক্ষের মধ্যে ৪৪টি অস্থায়ী ভোট কক্ষ। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে ৪২টি। নোয়াখালী-৪ (সদর-সুবর্ণচর) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৭ জন প্রার্থী। তারা হলেন, বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মো. শাহজাহান, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মো. ইসহাক খন্দকার, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাত পাখা প্রতীকের প্রার্থী মো. ফিরোজ আলম মাসুদ, গণঅধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী আবদুজ জাহের, জাতীয় পার্টি মনোনীত লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী মো. শরীফুল ইসলাম, ইনসানিয়াত বাংলাদেশ মনোনীত আপেল প্রতীকের প্রার্থী মো. ইউনুস নবী ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) মনোনীত কাঁচি প্রতীকের প্রার্থী বিটুল চন্দ্র মজুমদার। ভোটকেন্দ্র ও অবকাঠামোগত দিক থেকে আসনটি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল হলেও বিশাল ভোটার সংখ্যার কারণে এখানে প্রতিটি ভোটই গুরুত্বপূর্ণ। বিএনপি এই আসনে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছে দলের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহানকে। তিনি ইতোপূর্বে চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং ১৯৯১ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত টানা তিন মেয়াদে এমপি ছিলেন। রাজনৈতিক অঙ্গণে তিনি একজন পরিচ্ছন্ন ও অভিজ্ঞ রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত। মনোনয়ন ঘোষণার আগে একাধিক প্রত্যাশী থাকলেও পরে কোনো অভ্যন্তরীণ বিরোধ দৃশ্যমান হয়নি। মনোনয়ন ঘোষণার আগেই তিনি ও তার সমর্থকরা এলাকায় গণসংযোগ শুরু করেন, যা নির্বাচনী মাঠে তাকে কিছুটা এগিয়ে রেখেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। মো. শাহজাহান বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে আমি কখনো নিজের স্বার্থ দেখেনি। সবসময় সদর ও সুবর্ণচরের মানুষের পাশে ছিলাম। সে কারণেই দলীয় পরিচয়ের বাইরে গিয়েও সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে আমার পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন। আমি মিথ্যা আশ্বাস আর মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিতে পছন্দ করি না। তবে আমি মানুষের কথা ভাবি। উন্নয়ন নিয়ে ভাবি। আমাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে পাল্টে যাবে এই অঞ্চলের চিত্র। জনগণ আমার শক্তি। আমি সব সময় জনগণের পাশে থাকতে চাই। এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী জেলা আমির ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মো. ইসহাক খন্দকার। জুলাই আন্দোলনের পর থেকেই তিনি মাঠে সক্রিয়ভাবে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। ইসহাক খন্দকার দাবি করেন, যেখানে যাচ্ছেন সেখানেই সাধারণ মানুষের মধ্যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা লক্ষ্য করছেন। তার ভাষায়, কে কোন দল থেকে প্রার্থী এটা মুখ্য নয়, মানুষ এবার দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিতে চায়। আদর্শিক রাজনীতি ও পরিবর্তনের স্লোগানকে সামনে রেখে তিনি শক্ত অবস্থান তৈরি করার চেষ্টা করছেন। এই আসনে গণঅধিকার পরিষদের তরুণ প্রার্থী আব্দুজ জাহের, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ফিরোজ আলম মাসুদসহ অন্য প্রার্থীরাও নিয়মিত গণসংযোগ চালাচ্ছেন। তবে ভোটের মূল লড়াই যে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে সে বিষয়ে অধিকাংশ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক একমত। সাধারণ ভোটারদের ভাষ্যে, ইপিজেড নির্মাণ, বিমানবন্দর স্থাপন, সুবর্ণচর পৌরসভা বাস্তবায়ন, রেললাইন সম্প্রসারণ ও নোয়াখালী সিটি করপোরেশন গঠনের মতো বড় প্রকল্পগুলোই তাদের প্রধান চাওয়া। তারা কেবল আশ্বাস নয়, বাস্তবায়ন করতে পারবেন এমন প্রতিনিধিকেই সংসদে পাঠাতে চান। সব মিলিয়ে নোয়াখালী-৪ আসনে এবারের নির্বাচন হতে যাচ্ছে অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতা বনাম পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার মুখোমুখি লড়াই। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা নিয়ে এগিয়ে থাকা মো. শাহজাহানের বিপরীতে আদর্শিক ও পরিবর্তনের বার্তা নিয়ে মাঠে সক্রিয় ইসহাক খন্দকার কার দিকে শেষ পর্যন্ত ভোটাররা আস্থা রাখেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

নোয়াখালীতে জামায়াতে ইসলামীর এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়েছে, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রচারণা চালানোর সময় দলটির নারী কর্মীদের হেনস্তা করছেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। গতকাল শুক্রবার রাতে জেলা জামায়াতের দলীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে দলের হয়ে অভিযোগ তুলে ধরেন জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমির ইসহাক খন্দকার। তিনি নোয়াখালী-৪ (সদর ও সুবর্ণচর) আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ইসহাক খন্দকার বলেন, জেলার চাটখিল, বেগমগঞ্জ, সদর উপজেলা, নোয়াখালী পৌরসভা, সুবর্ণচরসহ বিভিন্ন স্থানে জামায়াতের নারী কর্মীদের উঠান বৈঠকসহ প্রচারণায় বাধা দেওয়া হয়েছে। প্রচারণার সময় জামায়াতের নারী কর্মীদের হেনস্তাও করছেন বিএনপির লোকজন। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও নোয়াখালী-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী মো. শাহজাহানের কাছে অভিযোগ করে কয়েকটি স্থানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা পাওয়া গেছে বলে জানান জেলা জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, ‘অনেক ঘটনা তাঁরও (মো. শাহজাহান) নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল। জামায়াত সর্বোচ্চ ধৈর্যের পরিচয় দিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করে যাচ্ছে।’ ইসহাক খন্দকার আরও বলেন, জামায়াতের নারী কর্মীদের ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার জন্যও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ অবস্থায় নারী ভোটারদের নিরাপদে ভোটকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে দলের শৃঙ্খলা বিভাগকে বলা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে এ ছাড়া জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মো. সাইয়েদ আহমদ, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও নোয়াখালী-৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মো. বোরহান উদ্দিন বক্তব্য দেন। জামায়াতের অভিযোগের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর বলেন, বিএনপি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের জন্য কাজ করছে, সুতরাং হেনস্তার অভিযোগ সত্য নয়; বরং জামায়াতই বিএনপি নেতাদের নিয়ে বিভিন্ন বাজে মন্তব্য করে আসছেন।

একটি বড় দলের প্রধান নিজের অফিস থেকে জামায়াত আমিরের আইডি হ্যাক করে এখন নিজেই বিষোদ্গার করছেন বলে অভিযোগ করেছেন নোয়াখালী-৪ আসনে জামায়াতের প্রার্থী এবং দলটির মজলিশে সূরা সদস্য ও জেলা আমির মো. ইসহাক খন্দকার। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে নোয়াখালী জেলা জামায়াত কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। ইসহাক খন্দকার বলেন, আইডি হ্যাক হয়েছে একটা সত্য কথা। যা সংবাদ সম্মেলন থেকেও বলা হয়েছে। তারপরও একটি বড় দলের প্রধান নেতা হ্যাকের বিষয়টি নিয়ে আর ট্রল করতে পারেন না। ওই দলে আরও ছোট নেতা আছে যাদেরকে দিয়ে তিনি বলাতে পারতেন। তিনি বলেন, ওই প্রধান নেতা যে ভাষায় কথা বলেছেন, তা তিনি জামায়াত আমিরকে বলতে পারেন না। এ ঘটনা নিয়ে গ্রেফতারও হয়েছে, আরও তদন্ত চলছে। আসলে ওই দলের প্রধান নিজের অফিস থেকে নিজের লোক দিয়ে হ্যাক করে এখন নিজেই বিষোদ্গার করছেন। ইসহাক খন্দকার আরও বলেন, জামায়াত আমির নারীদের প্রতি অত্যন্ত বিনয়ী। তিনি এ ধরনের কথা বলতে পারেন না, তা বুঝাই যায়। এখন কারা ধরা পড়ছে তা সবাই দেখছে। আমাদের লোকও তদন্ত করছে। সব বের হবে। তখন সবাই পরিষ্কার হয়ে যাবেন কারা, কেন এ কাজ করেছে। ১১ দলীয় জোটের এ প্রার্থী বলেন, আমাদের নোয়াখালীতে ছয়টি আসনের সবগুলোতেই আমাদের নারী কর্মীদেরকে ঘর থেকে বের হতে দিচ্ছে না। অনেক জায়গায় আমাদের মা-বোনদের অপমান করেছে। আমরা এ ব্যাপারে থানায় জিডি করেছি। আমরা ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ নিয়ে শঙ্কিত। ইসহাক খন্দকার আরও বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের নামে তারা ভুয়া কার্ড বিলাচ্ছে। তারা কী কোনো সংস্থা নাকি সরকারে এসে গেছেন। প্রতারণার এ কার্ড দিতে আবার চাঁদাও নিচ্ছে। নারীদের মিথ্যা আশ্বাস দিচ্ছেন। আমরা এ অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা জানাই। সভায় নোয়াখালী-৩ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী এবং জামায়াতের মজলিশে সূরা সদস্য ও জেলা সেক্রেটারি মাওলানা বোরহান উদ্দিন, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা সাইয়েদ আহমদ চেয়ারম্যান, প্রচার বিভাগের প্রধান ডা. বোরহান উদ্দিন, নোয়াখালী পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা ইউসূফ, জামায়াত নেতা সাংবাদিক আবু তাহের প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের সব বিচারপতিদের অংশগ্রহণে ফুলকোর্ট সভা ডেকেছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টায় সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে ফুলকোর্ট সভা অনুষ্ঠিত হবে। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সুপ্রিম কোর্টের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (প্রশাসন ও বিচার) মো. মেসবাহ উদ্দিন খান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট সূত্রে জানা গেছে, ফুলকোর্ট সভায় অধস্তন আদালতের ছুটির ক্যালেন্ডার অনুমোদনসহ নানান গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, ফুলকোর্ট সভা বিচারপতিদের কথা বলার নিজস্ব ফোরাম। এতে নীতি-নির্ধারণী বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

নোয়াখালী-৩ (বেগমগঞ্জ) আসনের ১১ দলীয় জোট প্রার্থী মাওলানা বোরহান উদ্দিনের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের একটি নির্বাচনি কার্যালয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) ভোর রাতে বেগমগঞ্জ উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সেতুভাঙ্গা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। জামায়াত নেতাদের অভিযোগ, গভীর রাতে একদল দুর্বৃত্ত মাওলানা বোরহান উদ্দিনের নির্বাচনি অফিসে আগুন লাগিয়ে পালিয়ে যায়। মুহূর্তেই আগুনের ছড়িয়ে পড়ে এবং নির্বাচনি প্রচারণায় ব্যবহৃত ব্যাটারিচালিত রিকশা, আসবাবপত্র ও প্রচারের উপকরণ সামগ্রী পুড়ে যায়। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী বোরহান উদ্দিন বলেন, গণতন্ত্রের সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট করতে এবং ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াতে রাতের আঁধারে এই আগুন দেওয়া হয়েছে। আমরা প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে সকালে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় কারা জড়িত তা খুঁজে বের করতে তদন্ত চলছে।