

মিয়ানমারে গভীর রাতে ৫.০ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এর প্রভাব পড়ে বাংলাদেশেও। বিশেষ করে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় মৃদু কম্পন অনুভূত হয়েছে বলে জানা গেছে। জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর জিওসায়েন্সেস (জিএফজেড) জানিয়েছে, রোববার (১০ মে) রাত ১টা ৩৬ মিনিটে (বাংলাদেশ সময়) ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। সংস্থাটির তথ্যমতে, ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার নিচে। প্রাথমিকভাবে এর অবস্থান নির্ণয় করা হয়েছে ২০.৪৬ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯৩.৯৪ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে। অন্যদিকে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল মিয়ানমারের সিদোকতাইয়া এলাকার প্রায় ১১ কিলোমিটার দূরে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। ভূমিকম্পের কম্পন বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলেও অনুভূত হয়। চট্টগ্রাম নগরীর কয়েকটি এলাকায় বাসিন্দারা জানান, হঠাৎ করেই কয়েক সেকেন্ডের জন্য ঘরবাড়ি কেঁপে ওঠে। অনেকেই আতঙ্কে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন। এর আগেও শনিবার (৯ মে) বিকেলে দেশের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল। বিকেল ৩টা ১০ মিনিটের দিকে হওয়া ওই কম্পনে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি না হলেও জনমনে আতঙ্ক তৈরি হয়। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার তথ্যে জানা গেছে, শনিবারের ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৪.৪ থেকে ৪.৫ এর মধ্যে। ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ৪.৫ উল্লেখ করলেও ইউএসজিএস বলেছে ৪.৪। ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূমিকম্প বিজ্ঞান কেন্দ্র জানিয়েছে, ওই ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল ভারতের আসামের বিলাসিপাড়া এলাকায়। ভূমিকম্পটির গভীরতা কম হওয়ায় সীমান্তঘেঁষা বাংলাদেশের জেলাগুলোতে কম্পন বেশি অনুভূত হয়। লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রংপুর, দিনাজপুর ও ময়মনসিংহসহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকা থেকে স্থানীয়রা মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের ঝাঁকুনি অনুভবের কথা জানান। কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী এই কম্পনে আতঙ্কিত হয়ে অনেকেই ঘরবাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার আমানউল্লাহপুর ইউনিয়নে দুর্বৃত্তের ছোড়া গুলিতে মাইনুল ইসলাম মাহিন (২৫) নামে এক জামায়াত কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় রেফার করেন চিকিৎসকরা। রোববার (১০ মে) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার আমানউল্লাহপুর ইউনিয়নের আইয়ুবপুর গ্রামের ছাদু নেতার বাড়ি সংলগ্ন সড়কে এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ মাহিন ওই গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে। তিনি স্থানীয়ভাবে জামায়াতের কর্মী বলে জানা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত সাড়ে ১১টার দিকে মাহিন বাড়ির সামনে বন্ধুদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন। এ সময় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে মুখ কাপড়ে ঢাকা ৪-৫ জন সেখানে এসে টর্চলাইট জ্বালিয়ে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। প্রথম গুলি তার পায়ে লাগে। পরে তিনি মাটিতে পড়ে গেলে আরও একটি গুলি করা হয়। এরপর হামলাকারীরা দ্রুত সিএনজিযোগে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী শাইখুল আরেফিন শিহাব বলেন, আমরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে কথা বলছিলাম। হঠাৎ কয়েকজন অটোরিকশায় এসে গুলি করে দ্রুত চলে যায়। তাদের মুখ কাপড় দিয়ে বাঁধা ছিল। বেগমগঞ্জ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি আবদুর রহিম বলেন, অজ্ঞাত কয়েকজন অটোরিকশায় এসে আমাদের কর্মী মাহিনকে গুলি করে পালিয়ে যায়। এটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ঘটনা হতে পারে বলে আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি। ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. হাসান আল মুলক বলেন, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে আনা হয়। তার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বেগমগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হাবিবুর রহমান বলেন, আমানউল্লাহপুরে একজন গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। কারা গুলি করেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণ ও তা প্রকাশের অনৈতিক চর্চা বন্ধে গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ২০২৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি এ রায় ঘোষণা করেন। বিজ্ঞাপন সোমবার (১১ মে) রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়েছে। রায়ে বলা হয়েছে, অনাগত শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণ ও প্রকাশ নারীর প্রতি বৈষম্য, কন্যাশিশু হত্যার প্রবণতা, সামাজিক ভারসাম্যহীনতা এবং সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থি। আদালতের মতে, এ ধরনের চর্চা নারীর মর্যাদা, সমতা ও জীবনের অধিকারের বিরুদ্ধে যায় এবং এটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বাধ্যবাধকতারও লঙ্ঘন। আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, বাংলাদেশে এ বিষয়ে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ, মনিটরিং ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা দীর্ঘদিন অনুপস্থিত ছিল। শুধু একটি গাইডলাইন প্রণয়ন করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; বাস্তবায়ন, ডিজিটাল নজরদারি ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ছাড়া এই অনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ করা সম্ভব নয়। বিজ্ঞাপন রায়ে উল্লেখ করা হয়, নিবন্ধিত হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরিচালিত অনাগত শিশুর ডায়াগনস্টিক রিপোর্ট সংরক্ষণ ও তদারকির জন্য একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ থাকা প্রয়োজন। হাইকোর্ট স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে ৬ মাসের মধ্যে একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি ও নিয়মিত হালনাগাদ করার নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে আদালত বলেন, ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণের মাধ্যমে কন্যাশিশুর বিরুদ্ধে বৈষম্য ও সম্ভাব্য নারী ভ্রূণ হত্যার ঝুঁকি তৈরি হয়, যা সংবিধানের ১৮, ২৭, ২৮, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আদালত আরও উল্লেখ করেন, ভারতসহ বিভিন্ন দেশে এ ধরনের কার্যক্রম আইন দ্বারা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত। রায়ে আদালত এ নির্দেশনাকে “continuous mandamus” হিসেবে ঘোষণা করেন, যাতে ভবিষ্যতে নির্দেশনার বাস্তবায়ন আদালত তদারকি করতে পারেন। ২০২০ সালের ২৬ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান গর্ভের শিশুর পরিচয় প্রকাশ বন্ধে এ রিট আবেদন দায়ের করেন। আদালতে রিটের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ইশরাত হাসান। তাকে সহযোগিতা করেন তানজিলা রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাশ গুপ্ত।

মা— পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়, সবচেয়ে মায়াময় শব্দ। সন্তানের জীবনে প্রথম স্পর্শ, প্রথম ভালোবাসা, প্রথম অনুভূতির নাম মা। তাই মাকে ভালোবাসার জন্য আলাদা কোনো দিন-তারিখের প্রয়োজন না হলেও, পৃথিবীর কোটি মানুষ বছরের একটি দিন শুধু মায়ের জন্যই তুলে রেখেছে। আর সেই দিনটিই আজ বিশ্বজুড়ে পরিচিত মা দিবস নামে। কিন্তু কবে, কীভাবে আর কার হাত ধরে শুরু হয়েছিল এই বিশেষ দিনটির যাত্রা? এর পেছনে লুকিয়ে আছে ইতিহাস, আবেগ, সংগ্রাম আর এক মেয়ের মায়ের প্রতি অসীম ভালোবাসার গল্প। পৃথিবীর সবচেয়ে মায়াময় মুখ মায়ের। মা শব্দটিতে যে পরিমাণ ভালোবাসা মিশে আছে, তা আর কোনো শব্দেই নেই। মায়ের জন্য ভালোবাসা অকৃত্রিম, চিরন্তন ও অনাবিল। জন্মের পর প্রথম মায়ের স্পর্শ পেয়ে দেহ-মনে শিহরণ জাগে মানবদেহের। পৃথিবীর সভ্যতার উত্থান-পতনের যত গল্পই বলা হোক না কেন, মায়ের জন্য ভালোবাসার গল্পটি সব সময় একই মমতায় মাখা থাকবে। মায়ের হাসিমুখের তুলনা চলে না অনুভূতির ভাণ্ডারে জমে থাকা কোনো আনন্দ বা সুখের সঙ্গে। অজস্র দুঃখ-বেদনার ঝড় সামলে রাখা সেই মমতাময়ীকে ভালোবাসার জন্য নির্দিষ্ট দিনক্ষণের প্রয়োজন নেই। জীবনের প্রতিটি দিনই সন্তানের জন্য মা দিবস। তবুও ব্যস্ত এই পৃথিবীতে একটি বিশেষ দিন শুধু মায়ের জন্য তুলে রাখার আকুলতা মানুষের বহু পুরনো। আজকের বিশ্বে মে মাসের দ্বিতীয় রোববার বিশ্বজুড়ে যে মা দিবস পালিত হয়, তার পেছনে রয়েছে হাজার বছরের ইতিহাস, সংগ্রাম আর এক কন্যার অসামান্য জেদ। মা দিবসের ধারণাটি কিন্তু হুট করে আসেনি। প্রাচীন গ্রিস-এ প্রতি বসন্তকালে দেবতাদের মা ‘রিয়া’-র উদ্দেশ্যে উৎসব পালন করা হতো। যদিও সেই আয়োজন বর্তমানের মতো ব্যাপক ছিল না, তবুও মাতৃত্বকে সম্মান জানানোর বীজ রোপিত হয়েছিল তখনই। পরবর্তীকালে সপ্তদশ শতকে ব্রিটেনে মে মাসের চতুর্থ রবিবারকে ‘মাদারিং সানডে’ হিসেবে পালন শুরু হয়। এদিন মানুষ মায়ের সঙ্গে সময় কাটাতেন এবং উপহার দিতেন। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম ভার্জিনিয়ায় ১৮৫৮ সালে প্রথমবারের মতো মা দিবস পালনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। জুনের ২ তারিখকে বেছে নেওয়া হয়েছিল মা দিবস হিসেবে। পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন প্রথমবারের মতো মা দিবসকে সরকারি ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করেন। আবার কথিত আছে, প্রায় ১৫০ বছর আগে এক রবিবার সকালে মার্কিন সমাজকর্মী অ্যানা জার্ভিসের জীবনে জন্ম নেয় এক নতুন অনুভব। নিজের প্রতিষ্ঠিত সানডে স্কুলে শিশুদের বাইবেল পাঠদান করতে গিয়ে তিনি বারবার নিজের মায়ের মুখচ্ছবি খুঁজে ফিরতেন। সেখান থেকেই জন্ম নেয় মায়ের প্রতি ভালোবাসাকে বিশেষভাবে সম্মান জানানোর ভাবনা। আধুনিক মা দিবসের গল্পের কেন্দ্রে রয়েছেন সমাজকর্মী অ্যান জার্ভিস। তিনি যুদ্ধ-বিধ্বস্ত আমেরিকায় নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও সচেতনতা নিয়ে কাজ করতেন। ১৯০৫ সালে তার মৃত্যুর পর মেয়ে অ্যানা জার্ভিস মায়ের স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখার সংকল্প করেন। তিনি চেয়েছিলেন, বছরের অন্তত একটি দিন যেন পৃথিবীর সব মায়েরা বিশেষ সম্মান ও ভালোবাসা পান। অ্যানা জার্ভিসের এই আন্দোলনে অনুপ্রেরণা ছিলেন সমাজকর্মী জুলিয়া ওয়ার্ডের মতো ব্যক্তিরাও। অবশেষে ১৯০৮ সালের ১০ মে পশ্চিম ভার্জিনিয়ার গ্রাফটন শহরের সেই চার্চে— যেখানে তার মা একসময় পড়াতেন— প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে মা দিবস পালন করেন অ্যানা জার্ভিস। তার নিরলস প্রচেষ্টার ফলেই ১৯১৪ সালে প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন মে মাসের দ্বিতীয় রোববারকে সরকারি ছুটির দিন ও মা দিবস হিসেবে ঘোষণা করেন। ১৯২০ সালের মধ্যে এ ধারণা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে এটি কেবল ক্যালেন্ডারের একটি তারিখ নয়; বরং মাতৃত্বের গুরুত্ব ও প্রভাবকে স্বীকৃতি দেওয়ার বৈশ্বিক মঞ্চ। কেন এত বিশেষ এই দিন? একটি গবেষণায় দেখা গেছে, বছরের অন্য যেকোনো বিশেষ দিনের তুলনায় মা দিবসে সবচেয়ে বেশি ফোন কল করা হয়। উইকিপিডিয়ার তথ্যমতে, দিবসটির তাৎপর্য মূলত তিনটি ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে— সকল মায়ের প্রতি ব্যক্তিগত শ্রদ্ধা মাতৃত্বের সার্বজনীনতাকে সম্মান জানানো সমাজে মায়েদের সুগভীর প্রভাবের স্বীকৃতি আজ মা দিবস শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং ভালোবাসা, কৃতজ্ঞতা ও আবেগের এক বৈশ্বিক উৎসব। দামি উপহার কিংবা জমকালো আয়োজনের চেয়েও বড় হয়ে ওঠে একটি বাক্য— ‘মা, তোমায় অনেক ভালোবাসি।’

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার জয়াগ ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মহিন উদ্দীন মোহনকে চাঁদাবাজি ও জালিয়াতি মামলায় গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) ১১। রোববার (১০ মে) দুপুরে জয়াগ ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে আলোচনায় ছিলেন মহিন উদ্দীন মোহন। সর্বশেষ তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া চাঁদাবাজি ও জালিয়াতি মামলার অভিযোগে র্যাব তাকে গ্রেপ্তার করে। র্যাব জানায়, মিজানুর রহমান নামের একজনের দায়ের করা চাঁদাবাজি ও প্রতারণা মামলায় মহিন উদ্দীন মোহনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে সোনাইমুড়ী থানায় মামলা রয়েছে। র্যাব-১১, সিপিসি-৩ নোয়াখালী ক্যাম্পের অধিনায়ক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুহিত কবির জানান, রোববার দুপর আড়াইটার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাবের একটি দল ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। সেখান থেকে মহিন উদ্দীন মোহনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অন্যদিকে, মহিন উদ্দীন মোহনের পক্ষ থেকে মামলাটিকে মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করা হয়।

মিয়ানমারে গভীর রাতে ৫.০ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এর প্রভাব পড়ে বাংলাদেশেও। বিশেষ করে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় মৃদু কম্পন অনুভূত হয়েছে বলে জানা গেছে। জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর জিওসায়েন্সেস (জিএফজেড) জানিয়েছে, রোববার (১০ মে) রাত ১টা ৩৬ মিনিটে (বাংলাদেশ সময়) ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। সংস্থাটির তথ্যমতে, ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার নিচে। প্রাথমিকভাবে এর অবস্থান নির্ণয় করা হয়েছে ২০.৪৬ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯৩.৯৪ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে। অন্যদিকে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল মিয়ানমারের সিদোকতাইয়া এলাকার প্রায় ১১ কিলোমিটার দূরে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। ভূমিকম্পের কম্পন বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলেও অনুভূত হয়। চট্টগ্রাম নগরীর কয়েকটি এলাকায় বাসিন্দারা জানান, হঠাৎ করেই কয়েক সেকেন্ডের জন্য ঘরবাড়ি কেঁপে ওঠে। অনেকেই আতঙ্কে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন। এর আগেও শনিবার (৯ মে) বিকেলে দেশের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল। বিকেল ৩টা ১০ মিনিটের দিকে হওয়া ওই কম্পনে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি না হলেও জনমনে আতঙ্ক তৈরি হয়। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার তথ্যে জানা গেছে, শনিবারের ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৪.৪ থেকে ৪.৫ এর মধ্যে। ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ৪.৫ উল্লেখ করলেও ইউএসজিএস বলেছে ৪.৪। ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূমিকম্প বিজ্ঞান কেন্দ্র জানিয়েছে, ওই ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল ভারতের আসামের বিলাসিপাড়া এলাকায়। ভূমিকম্পটির গভীরতা কম হওয়ায় সীমান্তঘেঁষা বাংলাদেশের জেলাগুলোতে কম্পন বেশি অনুভূত হয়। লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রংপুর, দিনাজপুর ও ময়মনসিংহসহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকা থেকে স্থানীয়রা মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের ঝাঁকুনি অনুভবের কথা জানান। কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী এই কম্পনে আতঙ্কিত হয়ে অনেকেই ঘরবাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবে এক সপ্তাহে আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ১১ হাজার ১৭৫ জন অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত ৩০ এপ্রিল থেকে ৬ মে পর্যন্ত দেশটির সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত অভিযানে ওই অভিবাসীদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে আবাসন আইন লঙ্ঘনের দায়ে ৬ হাজার ১৫৩ জন, সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের দায়ে ৩ হাজার ৬১৯ জন এবং শ্রম আইন লঙ্ঘনের দায়ে ১ হাজার ৪০৩ জন রয়েছেন। এছাড়া অবৈধভাবে সৌদি আরবে প্রবেশের চেষ্টার সময় আরও ১ হাজার ৪১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলাবাহিনী। তাদের মধ্যে ৩৬ শতাংশ ইয়েমেনি, ৬২ শতাংশ ইথিওপিয়ান এবং ২ শতাংশ অন্যান্য দেশের নাগরিক। পাশাপাশি অবৈধভাবে দেশ ছাড়ার চেষ্টার সময় আরও ২৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, বিভিন্ন ধরনের আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ইতোমধ্যে ১১ হাজার ২৭২ জন অভিবাসীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বাকিদের ভ্রমণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট দেশের কূটনৈতিক মিশনে পাঠানো হয়েছে। একই সময়ে অবৈধ অভিবাসীদের পরিবহন, আশ্রয় কিংবা কর্মসংস্থানে সহায়তার অভিযোগে ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই অপরাধের বিষয়ে সতর্ক করে দেশটির কর্তৃপক্ষ বলেছে, এ ধরনের কাজের জন্য সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। আইন লঙ্ঘনকারীদের বিষয়ে নির্দিষ্ট জরুরি নম্বরে তথ্য দিয়ে কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করার জন্য জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। সূত্র: গালফ নিউজ।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার আমানউল্লাহপুর ইউনিয়নে দুর্বৃত্তের ছোড়া গুলিতে মাইনুল ইসলাম মাহিন (২৫) নামে এক জামায়াত কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় রেফার করেন চিকিৎসকরা। রোববার (১০ মে) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার আমানউল্লাহপুর ইউনিয়নের আইয়ুবপুর গ্রামের ছাদু নেতার বাড়ি সংলগ্ন সড়কে এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ মাহিন ওই গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে। তিনি স্থানীয়ভাবে জামায়াতের কর্মী বলে জানা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত সাড়ে ১১টার দিকে মাহিন বাড়ির সামনে বন্ধুদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন। এ সময় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে মুখ কাপড়ে ঢাকা ৪-৫ জন সেখানে এসে টর্চলাইট জ্বালিয়ে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। প্রথম গুলি তার পায়ে লাগে। পরে তিনি মাটিতে পড়ে গেলে আরও একটি গুলি করা হয়। এরপর হামলাকারীরা দ্রুত সিএনজিযোগে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী শাইখুল আরেফিন শিহাব বলেন, আমরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে কথা বলছিলাম। হঠাৎ কয়েকজন অটোরিকশায় এসে গুলি করে দ্রুত চলে যায়। তাদের মুখ কাপড় দিয়ে বাঁধা ছিল। বেগমগঞ্জ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি আবদুর রহিম বলেন, অজ্ঞাত কয়েকজন অটোরিকশায় এসে আমাদের কর্মী মাহিনকে গুলি করে পালিয়ে যায়। এটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ঘটনা হতে পারে বলে আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি। ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. হাসান আল মুলক বলেন, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে আনা হয়। তার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বেগমগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হাবিবুর রহমান বলেন, আমানউল্লাহপুরে একজন গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। কারা গুলি করেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণ ও তা প্রকাশের অনৈতিক চর্চা বন্ধে গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ২০২৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি এ রায় ঘোষণা করেন। বিজ্ঞাপন সোমবার (১১ মে) রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়েছে। রায়ে বলা হয়েছে, অনাগত শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণ ও প্রকাশ নারীর প্রতি বৈষম্য, কন্যাশিশু হত্যার প্রবণতা, সামাজিক ভারসাম্যহীনতা এবং সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থি। আদালতের মতে, এ ধরনের চর্চা নারীর মর্যাদা, সমতা ও জীবনের অধিকারের বিরুদ্ধে যায় এবং এটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বাধ্যবাধকতারও লঙ্ঘন। আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, বাংলাদেশে এ বিষয়ে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ, মনিটরিং ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা দীর্ঘদিন অনুপস্থিত ছিল। শুধু একটি গাইডলাইন প্রণয়ন করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; বাস্তবায়ন, ডিজিটাল নজরদারি ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ছাড়া এই অনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ করা সম্ভব নয়। বিজ্ঞাপন রায়ে উল্লেখ করা হয়, নিবন্ধিত হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরিচালিত অনাগত শিশুর ডায়াগনস্টিক রিপোর্ট সংরক্ষণ ও তদারকির জন্য একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ থাকা প্রয়োজন। হাইকোর্ট স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে ৬ মাসের মধ্যে একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি ও নিয়মিত হালনাগাদ করার নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে আদালত বলেন, ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণের মাধ্যমে কন্যাশিশুর বিরুদ্ধে বৈষম্য ও সম্ভাব্য নারী ভ্রূণ হত্যার ঝুঁকি তৈরি হয়, যা সংবিধানের ১৮, ২৭, ২৮, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আদালত আরও উল্লেখ করেন, ভারতসহ বিভিন্ন দেশে এ ধরনের কার্যক্রম আইন দ্বারা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত। রায়ে আদালত এ নির্দেশনাকে “continuous mandamus” হিসেবে ঘোষণা করেন, যাতে ভবিষ্যতে নির্দেশনার বাস্তবায়ন আদালত তদারকি করতে পারেন। ২০২০ সালের ২৬ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান গর্ভের শিশুর পরিচয় প্রকাশ বন্ধে এ রিট আবেদন দায়ের করেন। আদালতে রিটের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ইশরাত হাসান। তাকে সহযোগিতা করেন তানজিলা রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাশ গুপ্ত।

মা— পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়, সবচেয়ে মায়াময় শব্দ। সন্তানের জীবনে প্রথম স্পর্শ, প্রথম ভালোবাসা, প্রথম অনুভূতির নাম মা। তাই মাকে ভালোবাসার জন্য আলাদা কোনো দিন-তারিখের প্রয়োজন না হলেও, পৃথিবীর কোটি মানুষ বছরের একটি দিন শুধু মায়ের জন্যই তুলে রেখেছে। আর সেই দিনটিই আজ বিশ্বজুড়ে পরিচিত মা দিবস নামে। কিন্তু কবে, কীভাবে আর কার হাত ধরে শুরু হয়েছিল এই বিশেষ দিনটির যাত্রা? এর পেছনে লুকিয়ে আছে ইতিহাস, আবেগ, সংগ্রাম আর এক মেয়ের মায়ের প্রতি অসীম ভালোবাসার গল্প। পৃথিবীর সবচেয়ে মায়াময় মুখ মায়ের। মা শব্দটিতে যে পরিমাণ ভালোবাসা মিশে আছে, তা আর কোনো শব্দেই নেই। মায়ের জন্য ভালোবাসা অকৃত্রিম, চিরন্তন ও অনাবিল। জন্মের পর প্রথম মায়ের স্পর্শ পেয়ে দেহ-মনে শিহরণ জাগে মানবদেহের। পৃথিবীর সভ্যতার উত্থান-পতনের যত গল্পই বলা হোক না কেন, মায়ের জন্য ভালোবাসার গল্পটি সব সময় একই মমতায় মাখা থাকবে। মায়ের হাসিমুখের তুলনা চলে না অনুভূতির ভাণ্ডারে জমে থাকা কোনো আনন্দ বা সুখের সঙ্গে। অজস্র দুঃখ-বেদনার ঝড় সামলে রাখা সেই মমতাময়ীকে ভালোবাসার জন্য নির্দিষ্ট দিনক্ষণের প্রয়োজন নেই। জীবনের প্রতিটি দিনই সন্তানের জন্য মা দিবস। তবুও ব্যস্ত এই পৃথিবীতে একটি বিশেষ দিন শুধু মায়ের জন্য তুলে রাখার আকুলতা মানুষের বহু পুরনো। আজকের বিশ্বে মে মাসের দ্বিতীয় রোববার বিশ্বজুড়ে যে মা দিবস পালিত হয়, তার পেছনে রয়েছে হাজার বছরের ইতিহাস, সংগ্রাম আর এক কন্যার অসামান্য জেদ। মা দিবসের ধারণাটি কিন্তু হুট করে আসেনি। প্রাচীন গ্রিস-এ প্রতি বসন্তকালে দেবতাদের মা ‘রিয়া’-র উদ্দেশ্যে উৎসব পালন করা হতো। যদিও সেই আয়োজন বর্তমানের মতো ব্যাপক ছিল না, তবুও মাতৃত্বকে সম্মান জানানোর বীজ রোপিত হয়েছিল তখনই। পরবর্তীকালে সপ্তদশ শতকে ব্রিটেনে মে মাসের চতুর্থ রবিবারকে ‘মাদারিং সানডে’ হিসেবে পালন শুরু হয়। এদিন মানুষ মায়ের সঙ্গে সময় কাটাতেন এবং উপহার দিতেন। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম ভার্জিনিয়ায় ১৮৫৮ সালে প্রথমবারের মতো মা দিবস পালনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। জুনের ২ তারিখকে বেছে নেওয়া হয়েছিল মা দিবস হিসেবে। পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন প্রথমবারের মতো মা দিবসকে সরকারি ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করেন। আবার কথিত আছে, প্রায় ১৫০ বছর আগে এক রবিবার সকালে মার্কিন সমাজকর্মী অ্যানা জার্ভিসের জীবনে জন্ম নেয় এক নতুন অনুভব। নিজের প্রতিষ্ঠিত সানডে স্কুলে শিশুদের বাইবেল পাঠদান করতে গিয়ে তিনি বারবার নিজের মায়ের মুখচ্ছবি খুঁজে ফিরতেন। সেখান থেকেই জন্ম নেয় মায়ের প্রতি ভালোবাসাকে বিশেষভাবে সম্মান জানানোর ভাবনা। আধুনিক মা দিবসের গল্পের কেন্দ্রে রয়েছেন সমাজকর্মী অ্যান জার্ভিস। তিনি যুদ্ধ-বিধ্বস্ত আমেরিকায় নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও সচেতনতা নিয়ে কাজ করতেন। ১৯০৫ সালে তার মৃত্যুর পর মেয়ে অ্যানা জার্ভিস মায়ের স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখার সংকল্প করেন। তিনি চেয়েছিলেন, বছরের অন্তত একটি দিন যেন পৃথিবীর সব মায়েরা বিশেষ সম্মান ও ভালোবাসা পান। অ্যানা জার্ভিসের এই আন্দোলনে অনুপ্রেরণা ছিলেন সমাজকর্মী জুলিয়া ওয়ার্ডের মতো ব্যক্তিরাও। অবশেষে ১৯০৮ সালের ১০ মে পশ্চিম ভার্জিনিয়ার গ্রাফটন শহরের সেই চার্চে— যেখানে তার মা একসময় পড়াতেন— প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে মা দিবস পালন করেন অ্যানা জার্ভিস। তার নিরলস প্রচেষ্টার ফলেই ১৯১৪ সালে প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন মে মাসের দ্বিতীয় রোববারকে সরকারি ছুটির দিন ও মা দিবস হিসেবে ঘোষণা করেন। ১৯২০ সালের মধ্যে এ ধারণা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে এটি কেবল ক্যালেন্ডারের একটি তারিখ নয়; বরং মাতৃত্বের গুরুত্ব ও প্রভাবকে স্বীকৃতি দেওয়ার বৈশ্বিক মঞ্চ। কেন এত বিশেষ এই দিন? একটি গবেষণায় দেখা গেছে, বছরের অন্য যেকোনো বিশেষ দিনের তুলনায় মা দিবসে সবচেয়ে বেশি ফোন কল করা হয়। উইকিপিডিয়ার তথ্যমতে, দিবসটির তাৎপর্য মূলত তিনটি ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে— সকল মায়ের প্রতি ব্যক্তিগত শ্রদ্ধা মাতৃত্বের সার্বজনীনতাকে সম্মান জানানো সমাজে মায়েদের সুগভীর প্রভাবের স্বীকৃতি আজ মা দিবস শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং ভালোবাসা, কৃতজ্ঞতা ও আবেগের এক বৈশ্বিক উৎসব। দামি উপহার কিংবা জমকালো আয়োজনের চেয়েও বড় হয়ে ওঠে একটি বাক্য— ‘মা, তোমায় অনেক ভালোবাসি।’

ফেনীতে পুশইন ও চোরাচালান ঠেকাতে সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি)। ফেনী ৪ বিজিবি সূত্র জানায়, বাংলাদেশের সীমান্ত নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি) সর্বদা পেশাদারিত্ব, সতর্কতা ও দৃঢ়তার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছে। সম্প্রতি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশ (পুশইন) এর আশঙ্কা বৃদ্ধি পাওয়ায় ফেনী ব্যাটালিয়ন দায়িত্বপূর্ণ প্রায় ১০২ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থা জারি করেছে। এ লক্ষ্যে সীমান্তবর্তী গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টসমূহে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং সব বিওপি ও টহল দলকে বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম, পুশইন, চোরাচালান ও যেকোনো ধরনের সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে বিজিবি সদস্যদের সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত মোবাইল পেট্রোল, ফুট পেট্রোল, বিশেষ অভিযান এবং গুরুত্বপূর্ণ ও সন্দেহভাজন পয়েন্টসমূহে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে মাদকদ্রব্য, গবাদিপশু, ভারতীয় বিভিন্ন পণ্যসহ অন্যান্য চোরাচালান সামগ্রী পাচার প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং সীমান্ত দিয়ে যেন কোনো ব্যক্তি অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারে সে লক্ষ্যে বিজিবি সদস্যরা নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করছে। বিজিবি আরও জানায়, ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি) দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে, সীমান্ত এলাকার জনগণের সহযোগিতা ও সচেতনতা সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ কারণে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সীমান্তবর্তী জনসাধারণের সাথে সমন্বয় বৃদ্ধি করা হয়েছে যাতে কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি, চলাচল বা কার্যক্রম সম্পর্কে দ্রুত তথ্য পাওয়া যায়। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় বসবাসরত সবাইকে যেকোনো অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালান বা সীমান্ত অপরাধসংক্রান্ত তথ্য নিকটস্থ বিজিবি ক্যাম্পে দ্রুত জানানোর জন্য আহ্বান জানানো হচ্ছে। ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন বলেন, ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি) সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সর্বদা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ও বদ্ধপরিকর। সীমান্তে যে কোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালান ও রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রম প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান, টহল ও নজরদারি কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

অরল্যান্ডো সিটির কাছে গত ম্যাচে হারের ধাক্কা ভুলে জয়ে ফিরেছে ইন্টার মায়ামি। মেজর লিগ সকারে লিওনেল মেসির দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে টরন্টো এফসি-কে ৪-২ গোলে হারিয়েছে ‘দ্য হেরন্স’রা। ম্যাচে মেসি নিজে একটি গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও দুটি গোল। এমএলএস ইতিহাসের দ্রুততম খেলোয়াড় হিসেবে ১০০ গোলে সরাসরি অবদান রাখার অনন্য এক মাইলফলক স্পর্শ করলেন এই আর্জেন্টাইন মহাতারকা। এমএলএসে নিজের ১০০তম গোল অবদানে (৫৯ গোল ও ৪১ অ্যাসিস্ট) পৌঁছতে মেসির লেগেছে মাত্র ৬৪ ম্যাচ। তিনি টরন্টোর সাবেক তারকা সেবাস্টিয়ান জিওভিনকোর ৯৫ ম্যাচের রেকর্ডটি চুরমার করে দিয়েছেন। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ইন্টার মায়ামির হয়ে এখন মেসির গোল সংখ্যা ৮৭ আর অ্যাসিস্ট ৫৭টি। টরন্টোর বিএমও ফিল্ডে শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল মায়ামির হাতে। ম্যাচের প্রথমার্ধে রদ্রিগো ডি পলের দুর্দান্ত এক ভলিতে লিড নেয় সফরকারীরা। ডি পলের নেওয়া ফ্রি-কিক প্রথমে দেওয়ালে লেগে ফিরে আসলেও ফিরতি শটে বল জালে জড়ান এই আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার। দ্বিতীয়ার্ধের ৫৫ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন লুইস সুয়ারেজ। মেসির নিখুঁত পাস থেকে বল পেয়ে ঠান্ডা মাথায় গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন উরুগুয়ের এই স্ট্রাইকার। এরপর ৭২ মিনিটে মেসির ক্রসে পা ছুঁইয়ে স্কোরলাইন ৩-০ করেন সার্জিও রেগুইলন। সহকারী থেকে গোলদাতার ভূমিকায় ফিরতে খুব বেশি সময় নেননি এলএম১০। ৭৪ মিনিটে ডি পলের সাথে বল দেওয়া-নেওয়া করে বক্সের ভেতর থেকে চমৎকার এক কোনাকুনি শটে স্কোরলাইন ৪-০ করেন মেসি। যদিও শেষ দিকে মায়ামির রক্ষণভাগের ভুলে এমিলিও আরিস্তিজাবাল টরন্টোর হয়ে দুটি গোল শোধ করেন, তবে তা জয়ের পথে বাধা হতে পারেনি। এই জয়ের পর ১২ ম্যাচে ২২ পয়েন্ট নিয়ে এমএলএস ইস্টার্ন কনফারেন্সের টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে ইন্টার মায়ামি।

আর কোনো ফ্যাসিবাদী শক্তি যেন পুলিশকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে না পারে, সেজন্য বাহিনীকে নতুন করে শপথ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (১০ মে) সকালে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে ‘জাতীয় পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬’ উদ্বোধন শেষে তিনি মন্তব্যটি করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে এই রাজারবাগ পুলিশ লাইনসেই হানাদার বাহিনী বর্বর হামলা চালিয়ে শত শত পুলিশ সদস্যকে হত্যা করেছিল। স্বাধীনতা অর্জনের জন্য যে পুলিশ সদস্যরা আত্মাহুতি দিয়েছিলেন, যে কোনো মূল্যে সেই স্বাধীনতা আমাদের রক্ষা করতে হবে। হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে আর কোনো রাজনৈতিক দল বা শক্তি যেন পুলিশকে দমন-পীড়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য। পেশাদারিত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচন প্রমাণ করেছে যে, একটি স্বাধীন ও পেশাদার বাহিনীর পক্ষে নিরপেক্ষভাবে কাজ করা সম্ভব। জনগণের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই পুলিশের মূল কাজ। সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তায় সাধ্য ও সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে পুলিশ বাহিনী কাজ করবে, এটাই বর্তমান সরকারের প্রত্যাশা। তারেক রহমান আরও উল্লেখ করেন, শুধু দেশের অভ্যন্তরেই নয়, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনেও বাংলাদেশ পুলিশের ভূমিকা বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিদেশের মাটিতে অর্জিত এই সুনাম দেশের অভ্যন্তরেও বজায় থাকবে এবং জনগণের সঙ্গে পুলিশের আচরণ হবে মানবিক ও জনবান্ধব। ‘আমার পুলিশ, আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’— এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বর্ণিল প্যারেড ও সালাম গ্রহণের মধ্য দিয়ে চার দিনব্যাপী পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬-এর উদ্বোধন করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী এই আয়োজনের সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।

সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ একদিন কেড়ে নিয়েছিল এক জেলেকে। পরিবার ভেবেছিল, তিনি আর নেই। সময়ের দীর্ঘ স্রোতে হারিয়ে যাওয়া সেই মানুষটির স্মৃতি ধীরে ধীরে ঝাপসা হয়ে গিয়েছিল স্বজনদের চোখে। পরিবার ও স্বজনরা ভেবেছিলেন, তিনি আর বেঁচে নেই। কিন্তু ৫৪ বছর পর হঠাৎই গ্রামের একটি বাজারে এসে দাঁড়ালেন সেই মানুষটি। চিনতে পারেননি প্রতিবেশী এবং স্বজনরা। কিন্তু নিজের পরিচয় প্রকাশ করতেই স্তব্ধ হয়ে যায় পুরো গ্রাম। নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের এমপির পুল সংলগ্ন ফজলি বাড়িতে ঘটে গেছে এক অবিশ্বাস্য ঘটনা। ফিরে আসা মানুষটির নাম ছৈয়দ আহাম্মদ। মৃত ধন মিয়ার ছেলে তিনি। বয়সের ভারে ন্যুব্জ, কণ্ঠনালিতে করা হয় অপারেশন, শরীরে নানা অসুস্থতা, তবু চোখে-মুখে যেন দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে আপন ঠিকানায় ফেরার এক শান্তির ছাপ। স্বজনরা জানান, প্রায় ৫৪ বছর আগে কুতুবদিয়া এলাকায় মাছ ধরতে গিয়ে ভয়াবহ ট্রলারডুবির কবলে পড়েন ছৈয়দ আহাম্মদ। উত্তাল সাগরে মুহূর্তেই ছিটকে যায় জেলেরা। কেউ ফিরে এলেও ছৈয়দ আহাম্মদের আর কোনো খোঁজ মেলেনি। অনেক খোঁজাখুঁজির পর পরিবার ধরে নেয় তিনি হয়তো আর বেঁচে নেই। তখন তার স্ত্রী ছামনা খাতুনের কোলজুড়ে ছোট্ট শিশু সন্তান আকরাম। বাবার মুখ না দেখেই বড় হতে থাকে সেই সন্তান। পরিবারের দাবি, ট্রলারডুবির পর কোনোভাবে খড়কুটো আঁকড়ে ভেসে ভারতের অজ্ঞাত এক এলাকায় পৌঁছে যান ছৈয়দ আহাম্মদ। সেখান থেকেই শুরু হয় তার দীর্ঘ অনিশ্চয়তার জীবন। বছরের পর বছর তিনি বিভিন্ন মসজিদ, মাজার ও পথে-প্রান্তরে কাটিয়েছেন। জীবনের অধিকাংশ সময় কেটেছে ভবঘুরের মতো পরিচয়হীন আজমীর শরীফে। সম্প্রতি ভারতের হাওড়া স্টেশন এলাকায় দুষ্কৃতকারীদের কবলে পড়ে সর্বস্ব হারান তিনি। পরে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠায়। এরপর ধীরে ধীরে পথ চিনে, স্মৃতির টানে, বহু বছরের পুরোনো ঠিকানার খোঁজে একদিন তিনি পৌঁছে যান হাতিয়ায় নিজের পৈতৃক বাড়িতে। গত মঙ্গলবার দুপুরে বাড়িতে এসে নিজের পরিচয় দেন বৃদ্ধ ছৈয়দ আহাম্মদ। প্রথমে কেউ বিশ্বাস করতে পারেনি। পরে তার সহপাঠী মুন্সি সারেং, চাচাতো ভাই গেদু মিয়া, সহোদর আবুল খায়ের ওরফে জমিদারসহ কয়েকজন প্রবীণ তাকে শনাক্ত করেন। খবর ছড়িয়ে পড়তেই উৎসুক মানুষের ঢল নামে এলাকায়। শত শত মানুষ ভিড় করেন এক নজর দেখতে।যে মানুষকে মৃত ভেবে ভুলে গিয়েছিল সময়। স্থানীয় বাসিন্দা আলফাজ আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, এত বছর পর আল্লাহ তাকে জীবিত অবস্থায় পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছেন এটা আমাদের জন্যও আনন্দের বিষয়। মানুষটা যেন জীবনের শেষ সময়ে আপনজনদের সান্নিধ্য পায়, এটাই চাই। ছৈয়দ আহাম্মদের ছেলে আকরাম বলেন, জন্মের পরপরই বাবা নিখোঁজ হন। এতদিন তিনি শুধু মানুষের মুখে বাবার গল্প শুনেছেন। এবার জীবনের শেষ প্রান্তে এসে সত্যিকারের বাবাকে ছুঁয়ে দেখার সুযোগ পেলেন। তবে এই ফিরে আসাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে পারিবারিক টানাপোড়েনও। আকরামের অভিযোগ, কয়েকজন স্বজন তাকে বাবার দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে গড়িমসি করছেন। এছাড়া ছৈয়দ আহাম্মদের সঙ্গে থাকা অর্থ নিয়েও তৈরি হয়েছে বিতর্ক। ঘটনাটি ঘিরে পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে আবেগঘন পরিবেশ। অনেকেই এটিকে অলৌকিক প্রত্যাবর্তন বলে আখ্যা দিচ্ছেন। আবার কেউ কেউ পুরো ঘটনাকে দেখছেন ভিন্ন দৃষ্টিতে। স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নও ঘুরপাক খাচ্ছে। দীর্ঘ ৫৪ বছর তিনি কোথায় ছিলেন, কীভাবে জীবন কাটিয়েছেন, কেন এতদিন পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি, আর হঠাৎ করেই বা এখন কেন ফিরে এলেন? চায়ের দোকান থেকে শুরু করে গ্রাম্য আড্ডা সবখানেই চলছে আলোচনা। কেউ বলছেন, হয়তো স্মৃতিভ্রংশ কিংবা ভাগ্যের নির্মম পরিহাস তাকে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছিল। আবার কারও ধারণা, জীবনের শেষ সময়ে শেকড়ের টানেই ফিরে এসেছেন তিনি। তবে রহস্য আর নানা প্রশ্নের ভেতরেও একটি বিষয় স্পষ্ট যে বহু বছর পর হারিয়ে যাওয়া একজন মানুষকে ফিরে পাওয়ার অনুভূতি স্বজনদের চোখে এনে দিয়েছে আনন্দ, বিস্ময় আর আবেগের অশ্রু। হাতিয়া থানার ওসি মো. কবির হোসেন বলেন, ৫৪ বছর পর একজন জেলে ফিরে আসার খবর পেয়েছি। এটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্বজনরা সহযোগিতা চাইলে আইনগতভাবে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।

ভারত নিয়ন্ত্রিত বঙ্গোপসাগরের আকাশসীমায় তিন দিনের বিধিনিষেধ জারির মধ্যেই ওডিশা উপকূল থেকে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার জোর জল্পনা তৈরি হয়েছে। আর এই পরীক্ষার রেশ ধরে বাংলাদেশের উপকূলীয় জেলা নোয়াখালীসহ বিভিন্ন অঞ্চলের আকাশে এক রহস্যময় আলোর ঝলকানি দেখা গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। শুক্রবার (৮ মে) সন্ধ্যায় আকস্মিক এই দৃশ্য দেখে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে কৌতূহল ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। আকাশে কী দেখা গিয়েছিল? নোয়াখালীর বিভিন্ন উপজেলা থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে দেখা যায়, সন্ধ্যার আকাশে একটি উজ্জ্বল আলোক পিণ্ড ধীরগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে, যার পেছনে ধোঁয়ার মতো লেজ দৃশ্যমান। অনেক প্রত্যক্ষদর্শী একে 'উল্কাপাত' বা 'অচেনা বস্তু' (UFO) মনে করলেও কেউ কেউ বলছেন, এটি মূলত ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার দৃশ্য হতে পারে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও ভারতের জারি করা 'নোটিশ টু এয়ারম্যানস' (নোটাম) অনুযায়ী, ৬ থেকে ৯ মে পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরের ওপর একটি নির্দিষ্ট করিডরে বিমান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। ওডিশার আবদুল কালাম দ্বীপ থেকে প্রায় ৩,৫৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই এলাকায় সাধারণত অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র বা আইসিবিএম (ICBM) পরীক্ষার সময় এ ধরনের সতর্কতা জারি করা হয়। নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও ভোলা, কক্সবাজারসহ উপকূলীয় অঞ্চলের শত শত মানুষ ফেসবুকে এই আলোর দৃশ্য শেয়ার করেছেন। কেউ কেউ একে মহাজাগতিক ঘটনা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ ভারতের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির সাথে বিষয়টিকে মেলাচ্ছেন। হঠাৎ আকাশে এমন দৃশ্য দেখে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষণিকের জন্য কৌতূহল ছড়িয়ে পড়ে।

পবিত্র হজ পালন করতে বাংলাদেশ থেকে শুক্রবার (৮ মে) রাত ২টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত সৌদি আরবে পৌঁছেছেন ৫০ হাজার ৯৬ হজযাত্রী। শনিবার (৯ মে) হজ সম্পর্কিত সর্বশেষ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এয়ারলাইনস, সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ হজ অফিস ঢাকা এবং সৌদি আরব সূত্রে এ তথ্য জানিয়েছে হেল্প ডেস্ক। হেল্প ডেস্ক জানায়, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ৫৯টি ফ্লাইটে সৌদি পৌঁছান ২৩ হাজার ৫৯১ হজযাত্রী, সৌদি এয়ারলাইনসের ৪৭টি ফ্লাইটে ১৭ হাজার ৬৪৬ জন ও ফ্লাইনাস এয়ারলাইনসের ২২টি ফ্লাইটে ৮ হাজার ৮৮৯ জন হজযাত্রী সৌদি পৌঁছান। তাদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় গেছেন ৪ হাজার ৭১ জন ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় সৌদি পৌঁছান ৪৬ হাজার ২৫ হজযাত্রী। চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজ পালনের অনুমতি পেয়েছেন। ৬৬০টি এজেন্সি এ কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যার মধ্যে ৩০টি প্রধান ও ৬৩০টি সমন্বয়কারী এজেন্সি রয়েছে। এদিকে, গত ১৭ এপ্রিল রাত ১১টা ৫৭ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৪১৯ জন হজযাত্রী নিয়ে প্রথম হজ ফ্লাইট (বিজি৩০০১) জেদ্দার কিং আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। ফ্লাইটটির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। হজ অফিসের তথ্য অনুযায়ী, মোট হজযাত্রীর মধ্যে ৪ হাজার ৫৬৫ জন সরকারি ও ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালন করবেন। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে, আগামী ২৬ মে সৌদি আরবে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। হজ পালন শেষে আগামী ৩০ মে জেদ্দা থেকে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে। আগামী ৩০ জুন শেষ ফ্লাইটটি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবে।