

পবিত্র রমজানের প্রথম দিনেই রাজধানীর বাজারে অস্থির হয়ে উঠেছে পেঁয়াজের দাম। সরবরাহ সংকট ও চাহিদার অজুহাতে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়ে বর্তমানে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রমজানের শুরুতেই নিত্যপণ্যের এমন চড়া দামে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে কাঁচাবাজার ও রায়েরবাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, বিভিন্ন খুচরা বাজারে গত কয়েক দিনের ব্যবধানে কেজিপ্রতি পেঁয়াজের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রতি কেজিতে দাম বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ টাকা। রমজান মাসের প্রথম দিনেই প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। আকারে একটু ছোট পেঁয়াজ আবার ৫৫ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। তবে কোনো দোকানেই ৬০ টাকার নিচে ভালো মানের পেঁয়াজ মিলছে না। পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বাড়তি চাপের মুখে পড়ছেন সাধারণ ক্রেতারা। পেঁয়াজ বিক্রেতা হাসান মাহমুদ বলেন, আজকে নয়, গত দুই-তিন দিন ধরেই পেঁয়াজের দাম বাড়ছে। মৌসুমের শেষের দিকে সরবরাহ কমে যাওয়া, পরিবহন খরচ বৃদ্ধি এবং চাহিদা বাড়ার কারণে বাজারে পেঁয়াজের দাম বাড়তির দিকে। রমজানকে কেন্দ্র করে পাইকারি পর্যায়ে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, পাইকারি বাজারে বেশি দামে পেঁয়াজ কিনতে হওয়ায় বাধ্য হয়েই বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। অনেক বিক্রেতা জানান, আগের তুলনায় মোকামে পেঁয়াজের দাম কেজিতে কয়েক দফা বেড়েছে; ফলে খুচরা পর্যায়ে দাম সমন্বয় করা ছাড়া তাদের হাতে বিকল্প নেই। রমজানের প্রভাবও পাইকারি বাজারে দেখা যাচ্ছে। এদিকে মারুফ হোসেন নামে এক ক্রেতা বলেন, রমজান এলেই ব্যবসায়ীদের ক্রেতাদের পকেট কাটার ধান্দা থাকে। গত সপ্তাহে আমি ১০০ টাকার নিচে দুই কেজি পেঁয়াজ কিনেছি, আর আজকে দাম চাচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা। রিকশাচালক মো. শুক্কুর আল আমিন বলেন, ভ্যানগাড়ি থেকে দুই দিন আগে ৫০ টাকা কেজি দরে কিনেছি। আমার ছোট পরিবার, সপ্তাহখানেক চলে যাবে। তারপর তো বেশি দামেই কিনতে হবে। রোজার সময় দাম বাড়বে এটা তো জানতামই, ব্যবসায়ীরা রোজা আসলেই দাম বাড়িয়ে দেয়।

নোয়াখালীর হাতিয়ায় আলোচিত ধর্ষণ অভিযোগের ঘটনায় পাঁচদিন পর ছয়জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ভুক্তভোগী নারী (৪০) বাদী হয়ে নোয়াখালী জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলাটি করেন। বিচারক এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দিয়েছেন। মামলায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন- চানন্দী ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের ধানসিঁড়ি আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে আবদুর রহমান (৩২), আবদুল গফুরের ছেলে মো. মতিন (৩৫), হালিম ডুবাইর ছেলে হেলাল উদ্দিন কেরানী (৪০), আবুল কাশেমের ছেলে মো. রুবেল (৩০), ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মোস্তফা সর্দারের ছেলে এমরান হোসেন ওরফে কালা এমরান (৩৫) এবং ২ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর আজিমপুর গ্রামের মো. মোস্তফার ছেলে বেলাল মাঝি (৪৮)। মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টার পর ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে আসামিরা অজ্ঞাতপরিচয় সন্ত্রাসীদের সঙ্গে নিয়ে ধানসিঁড়ি আশ্রয়ণ প্রকল্পে হামলা চালায়। এ সময় তারা বাদীর বসতঘরে প্রবেশ করে তাকে ও তার স্বামীকে মারধর করে। পরে স্বামীকে একটি কক্ষে আটকে রেখে গোসলখানায় নিয়ে ১ নম্বর আসামি আবদুর রহমান তাকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনাটি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তারা চলে যায়। পরদিন ভোরে একই ব্যক্তিরা আবারও হামলা চালিয়ে দম্পতিকে মারধর করে এবং বাদীর শ্লীলতাহানি করে। এ সময় ‘শাপলা কলি’র আরেক নারী কর্মীর ঘর দেখিয়ে দিতে চাপ প্রয়োগ করা হয় এবং ওই ঘরেও ভাঙচুর চালানো হয়। এর আগে ১৪ ফেব্রুয়ারি বিকেলে ভুক্তভোগীকে নোয়াখালীর ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি পুলিশ পাহারায় চিকিৎসাধীন। বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. নোমান সিদ্দিক রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, অভিযোগ গ্রহণের পর আদালত হাতিয়া থানাকে মামলা রুজু করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে ভুক্তভোগী ও তার পরিবারকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী জানান, ভুক্তভোগীর চিকিৎসার জন্য তিন সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। পুলিশের চাহিদাপত্রের আলোকে শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। মেডিকেল বোর্ডে রয়েছেন গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. শিরিন সুলতানা, ডা. ফাতেমা জোয়ান মুনিয়া ও ডা. তাহমিনা আক্তার। ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন বলেন, আদালতের নির্দেশে মামলা রুজু করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মামলার কপি হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। ভুক্তভোগীকে সার্বক্ষণিক পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে।

নোয়াখালীতে রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের জেলা কার্যালয়ের প্রায় ১৮ মাস পর তালা ভেঙে ব্যানার টানিয়ে দিয়েছেন নেতাকর্মীরা। এ ঘটনার পর তাৎক্ষণিক ৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ। বিজ্ঞাপন বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে জেলা শহরের টাউনহল মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তালাবদ্ধ থাকা দলীয় কার্যালয়ের তালা ভেঙে সামনে ব্যানার টানানো হয়। পরে সেখানে জড়ো হয়ে স্লোগান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন নেতাকর্মীরা। প্রায় আধাঘণ্টা এই কর্মসূচি পালন করা হয়। বিজ্ঞাপন এ সময় তারা ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’, ‘এই লড়াইয়ে জিতবে কারা, বঙ্গবন্ধুর সৈনিকেরা’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। বিক্ষোভকারীরা দাবি করেন, তৃণমূল নোয়াখালীর নেতাকর্মীদের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। জানা যায়, জুলাই আন্দোলনের পর থেকে কার্যালয়টি তালাবদ্ধ ছিল। আন্দোলন চলাকালে বিক্ষুব্ধ ছাত্রজনতা কার্যালয়টিতে অগ্নিসংযোগ করলে ভবনটি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কর্মসূচি ফেসবুকে লাইভ করেন মো. জাহাঙ্গীর শেখ নামের একটা আইডি। যিনি লিখেন, আগামী দিনে দেশের স্বাধীনতার পক্ষে সব শক্তি এক সঙ্গে কাজ করব ইনশাল্লাহ। আমরা নোয়াখালী জেলা তৃণমূল আওয়ামী লীগ স্বাধীনতার পক্ষের দলের সঙ্গে কাজ করব ইনশাআল্লাহ। সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে অবগত হয়ে অভিযান পরিচালনা করি এবং জড়িত ৫ জনকে আটক করা হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে।

জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় এ ভাষণ দেবেন তিনি। এক বার্তায় তথ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। দেশের সব সম্প্রচার মাধ্যমকে বিটিভির সৌজন্যে ভাষণটি সম্প্রচারের অনুরোধ করেছে তথ্য মন্ত্রণালয়। এর আগে, মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাকে শপথ পড়ান। একই দিন বিকেলে নতুন মন্ত্রিসভার শপথও অনুষ্ঠিত হয়।

নতুন বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতেই দেশের সড়কে ঝরেছে ৪৮৭ প্রাণ। মাসজুড়ে মোট ৫৫৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ১ হাজার ১৯৪ জন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়, যা মোট নিহতের ৪০ দশমিক ২৪ শতাংশ। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমানের পাঠানো জানুয়ারি মাসের সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এ উদ্বেগজনক চিত্র। ৯টি জাতীয় দৈনিক, ৭টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে তারা এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে নারী ৬৮ জন ও শিশু ৫৭ জন। এছাড়া ২০৮টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৯৬ জন, যা মোট নিহতের ৪০ দশমিক ২৪ শতাংশ। এই সময়ে ৪টি নৌ-দুর্ঘটনায় ৬ জন নিহত ও ৭ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া ৪১টি রেল ট্র্যাক দুর্ঘটনায় ৩২ জন নিহত এবং ১৭ জন আহত হয়েছেন। যানবাহনভিত্তিক নিহতের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ১৯৬ জন; বাসের যাত্রী ২১ জন; ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকআপ ও ট্রাক্টরের আরোহী ২৮ জন; প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, অ্যাম্বুলেন্স ও জিপের আরোহী ৯ জন; থ্রি-হুইলার যাত্রী ৭৭ জন; স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী ১৩ জন এবং বাইসাইকেল আরোহী ১১ জন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ১৩৫টি মুখোমুখি সংঘর্ষ, ২০৯টি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ১৩৭টি পথচারীকে চাপা বা ধাক্কা দিয়ে, ৭২টি যানবাহনের পেছনে আঘাত এবং ৬টি অন্যান্য কারণে ঘটেছে। সড়কের ধরন অনুযায়ী, ১৫৬টি জাতীয় মহাসড়কে, ২০৭টি আঞ্চলিক সড়কে, ৮৫টি গ্রামীণ সড়কে, ১০৩টি শহরের সড়কে এবং ৮টি অন্যান্য স্থানে দুর্ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের সংখ্যা ছিল ৮৮৫টি। এর মধ্যে বাস ১০৮টি, ট্রাক ১৪৪টি, কাভার্ডভ্যান ১৬টি, পিকআপ ৩২টি, ট্রাক্টর ২১টি, মোটরসাইকেল ২১৭টি, থ্রি-হুইলার ১৬৪টি, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন ৩৫টি, বাইসাইকেল ৮টি, রিকশা ১১টি এবং অজ্ঞাত যানবাহন ৪৮টি। বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ১৪৩টি দুর্ঘটনায় ১১৯ জন নিহত হয়েছেন। বিপরীতে সিলেট বিভাগে সবচেয়ে কম ২৪টি দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত হয়েছেন। রাজধানী ঢাকায় ২৬টি দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত ও ৪১ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের পেশাগত পরিচয়ের মধ্যে পুলিশ সদস্য ২ জন, শিক্ষক ১৩ জন, চিকিৎসক ২ জন, সাংবাদিক ৬ জন, আইনজীবী ৪ জন, ব্যাংক ও বীমা কর্মকর্তা-কর্মচারী ১১ জন, এনজিও কর্মী ১৯ জন, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ২৭ জন, ব্যবসায়ী ২১ জন, বিক্রয় প্রতিনিধি ২৬ জন, পোশাক শ্রমিক ৯ জন, নির্মাণ শ্রমিক ৬ জন, প্রতিবন্ধী ৩ জন এবং শিক্ষার্থী ৫৭ জন রয়েছেন। প্রতিবেদনে সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও সড়ক, বেপরোয়া গতি, চালকদের অদক্ষতা, কর্মঘণ্টা ও বেতন নির্ধারিত না থাকা, মহাসড়কে স্বল্পগতির যান চলাচল, ট্রাফিক আইন না মানা, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)-এর সক্ষমতার ঘাটতি এবং গণপরিবহনে চাঁদাবাজিকে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ বৃদ্ধি, চালকদের বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্ধারণ, বিআরটিএ’র সক্ষমতা বৃদ্ধি, ট্রাফিক আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করা, মহাসড়কে সার্ভিস রোড নির্মাণ, রোড ডিভাইডার নির্মাণ, গণপরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধ, রেল ও নৌপথ উন্নয়ন এবং সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়েছে।

পবিত্র রমজানের প্রথম দিনেই রাজধানীর বাজারে অস্থির হয়ে উঠেছে পেঁয়াজের দাম। সরবরাহ সংকট ও চাহিদার অজুহাতে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়ে বর্তমানে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রমজানের শুরুতেই নিত্যপণ্যের এমন চড়া দামে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে কাঁচাবাজার ও রায়েরবাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, বিভিন্ন খুচরা বাজারে গত কয়েক দিনের ব্যবধানে কেজিপ্রতি পেঁয়াজের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রতি কেজিতে দাম বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ টাকা। রমজান মাসের প্রথম দিনেই প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। আকারে একটু ছোট পেঁয়াজ আবার ৫৫ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। তবে কোনো দোকানেই ৬০ টাকার নিচে ভালো মানের পেঁয়াজ মিলছে না। পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বাড়তি চাপের মুখে পড়ছেন সাধারণ ক্রেতারা। পেঁয়াজ বিক্রেতা হাসান মাহমুদ বলেন, আজকে নয়, গত দুই-তিন দিন ধরেই পেঁয়াজের দাম বাড়ছে। মৌসুমের শেষের দিকে সরবরাহ কমে যাওয়া, পরিবহন খরচ বৃদ্ধি এবং চাহিদা বাড়ার কারণে বাজারে পেঁয়াজের দাম বাড়তির দিকে। রমজানকে কেন্দ্র করে পাইকারি পর্যায়ে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, পাইকারি বাজারে বেশি দামে পেঁয়াজ কিনতে হওয়ায় বাধ্য হয়েই বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। অনেক বিক্রেতা জানান, আগের তুলনায় মোকামে পেঁয়াজের দাম কেজিতে কয়েক দফা বেড়েছে; ফলে খুচরা পর্যায়ে দাম সমন্বয় করা ছাড়া তাদের হাতে বিকল্প নেই। রমজানের প্রভাবও পাইকারি বাজারে দেখা যাচ্ছে। এদিকে মারুফ হোসেন নামে এক ক্রেতা বলেন, রমজান এলেই ব্যবসায়ীদের ক্রেতাদের পকেট কাটার ধান্দা থাকে। গত সপ্তাহে আমি ১০০ টাকার নিচে দুই কেজি পেঁয়াজ কিনেছি, আর আজকে দাম চাচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা। রিকশাচালক মো. শুক্কুর আল আমিন বলেন, ভ্যানগাড়ি থেকে দুই দিন আগে ৫০ টাকা কেজি দরে কিনেছি। আমার ছোট পরিবার, সপ্তাহখানেক চলে যাবে। তারপর তো বেশি দামেই কিনতে হবে। রোজার সময় দাম বাড়বে এটা তো জানতামই, ব্যবসায়ীরা রোজা আসলেই দাম বাড়িয়ে দেয়।

নোয়াখালীর হাতিয়ায় আলোচিত ধর্ষণ অভিযোগের ঘটনায় পাঁচদিন পর ছয়জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ভুক্তভোগী নারী (৪০) বাদী হয়ে নোয়াখালী জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলাটি করেন। বিচারক এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দিয়েছেন। মামলায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন- চানন্দী ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের ধানসিঁড়ি আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে আবদুর রহমান (৩২), আবদুল গফুরের ছেলে মো. মতিন (৩৫), হালিম ডুবাইর ছেলে হেলাল উদ্দিন কেরানী (৪০), আবুল কাশেমের ছেলে মো. রুবেল (৩০), ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মোস্তফা সর্দারের ছেলে এমরান হোসেন ওরফে কালা এমরান (৩৫) এবং ২ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর আজিমপুর গ্রামের মো. মোস্তফার ছেলে বেলাল মাঝি (৪৮)। মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টার পর ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে আসামিরা অজ্ঞাতপরিচয় সন্ত্রাসীদের সঙ্গে নিয়ে ধানসিঁড়ি আশ্রয়ণ প্রকল্পে হামলা চালায়। এ সময় তারা বাদীর বসতঘরে প্রবেশ করে তাকে ও তার স্বামীকে মারধর করে। পরে স্বামীকে একটি কক্ষে আটকে রেখে গোসলখানায় নিয়ে ১ নম্বর আসামি আবদুর রহমান তাকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনাটি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তারা চলে যায়। পরদিন ভোরে একই ব্যক্তিরা আবারও হামলা চালিয়ে দম্পতিকে মারধর করে এবং বাদীর শ্লীলতাহানি করে। এ সময় ‘শাপলা কলি’র আরেক নারী কর্মীর ঘর দেখিয়ে দিতে চাপ প্রয়োগ করা হয় এবং ওই ঘরেও ভাঙচুর চালানো হয়। এর আগে ১৪ ফেব্রুয়ারি বিকেলে ভুক্তভোগীকে নোয়াখালীর ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি পুলিশ পাহারায় চিকিৎসাধীন। বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. নোমান সিদ্দিক রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, অভিযোগ গ্রহণের পর আদালত হাতিয়া থানাকে মামলা রুজু করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে ভুক্তভোগী ও তার পরিবারকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী জানান, ভুক্তভোগীর চিকিৎসার জন্য তিন সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। পুলিশের চাহিদাপত্রের আলোকে শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। মেডিকেল বোর্ডে রয়েছেন গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. শিরিন সুলতানা, ডা. ফাতেমা জোয়ান মুনিয়া ও ডা. তাহমিনা আক্তার। ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন বলেন, আদালতের নির্দেশে মামলা রুজু করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মামলার কপি হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। ভুক্তভোগীকে সার্বক্ষণিক পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে।

নোয়াখালীতে রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের জেলা কার্যালয়ের প্রায় ১৮ মাস পর তালা ভেঙে ব্যানার টানিয়ে দিয়েছেন নেতাকর্মীরা। এ ঘটনার পর তাৎক্ষণিক ৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ। বিজ্ঞাপন বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে জেলা শহরের টাউনহল মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তালাবদ্ধ থাকা দলীয় কার্যালয়ের তালা ভেঙে সামনে ব্যানার টানানো হয়। পরে সেখানে জড়ো হয়ে স্লোগান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন নেতাকর্মীরা। প্রায় আধাঘণ্টা এই কর্মসূচি পালন করা হয়। বিজ্ঞাপন এ সময় তারা ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’, ‘এই লড়াইয়ে জিতবে কারা, বঙ্গবন্ধুর সৈনিকেরা’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। বিক্ষোভকারীরা দাবি করেন, তৃণমূল নোয়াখালীর নেতাকর্মীদের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। জানা যায়, জুলাই আন্দোলনের পর থেকে কার্যালয়টি তালাবদ্ধ ছিল। আন্দোলন চলাকালে বিক্ষুব্ধ ছাত্রজনতা কার্যালয়টিতে অগ্নিসংযোগ করলে ভবনটি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কর্মসূচি ফেসবুকে লাইভ করেন মো. জাহাঙ্গীর শেখ নামের একটা আইডি। যিনি লিখেন, আগামী দিনে দেশের স্বাধীনতার পক্ষে সব শক্তি এক সঙ্গে কাজ করব ইনশাল্লাহ। আমরা নোয়াখালী জেলা তৃণমূল আওয়ামী লীগ স্বাধীনতার পক্ষের দলের সঙ্গে কাজ করব ইনশাআল্লাহ। সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে অবগত হয়ে অভিযান পরিচালনা করি এবং জড়িত ৫ জনকে আটক করা হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে।

জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় এ ভাষণ দেবেন তিনি। এক বার্তায় তথ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। দেশের সব সম্প্রচার মাধ্যমকে বিটিভির সৌজন্যে ভাষণটি সম্প্রচারের অনুরোধ করেছে তথ্য মন্ত্রণালয়। এর আগে, মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাকে শপথ পড়ান। একই দিন বিকেলে নতুন মন্ত্রিসভার শপথও অনুষ্ঠিত হয়।

জুলাই জাতীয় সনদ অবৈধ ও সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণার নির্দেশনা চেয়ে রিট দায়ের করা হয়েছে। রিটে জুলাই জাতীয় সনদের কার্যকারিতা স্থগিত চাওয়া হয়েছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউনুছ আলী আকন্দ জনস্বার্থে এ রিট দায়ের করেন। বিস্তারিত আসছে...

দীর্ঘ ১৮ মাসের যাত্রার ইতি টেনে বন্ধ হয়ে গেল অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিদায়ী পোস্টে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। ফেসবুক পোস্টে জানানো হয়, ‘Chief Adviser GOB (Head of the Government)’ নামের এই অফিসিয়াল পেজটি এখন থেকে আর সক্রিয় থাকবে না। ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর জনযোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে এই পেজটি খোলা হয়েছিল। বর্তমানে পেজটিতে ফলোয়ার সংখ্যা ৪৪ লাখেরও বেশি। বিদায়ী পোস্টে জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলা হয়, গত ১৮ মাস সময়কালজুড়ে সবার সহায়তা, আগ্রহ ও অংশগ্রহণের জন্য আমরা আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। আপনাদের সমর্থন, সহযোগিতা ও সমালোচনা আমাদের যাত্রাকে আরও মূল্যবান ও সমৃদ্ধ করেছে। এদিকে মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বড় পরিবর্তন সূচিত হয়েছে। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাকে শপথবাক্য পাঠ করান। একই দিন দুপুরে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরাও শপথ গ্রহণ করেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দীনের পরিচালনায় প্রথমে বিএনপি এবং পরে ১১ দলীয় জোট, স্বতন্ত্র ও অন্যান্য সংসদ সদস্যরা শপথ নেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে পাঁচটিতে জয় পাওয়ার পরও নতুন মন্ত্রিসভায় নোয়াখালীর কেউ জায়গা পাননি। এ নিয়ে বিএনপি দলীয় নেতা–কর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারী) বিকেলে নতুন মন্ত্রিপরিষদ শপথ গ্রহণের পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায়। দলীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯১ সালের পর থেকে একতরফা নির্বাচনের সময়গুলো বাদ দিলে নোয়াখালীর অধিকাংশ আসনই বিএনপির দখলে ছিল। এমনকি ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির ভরাডুবির মধ্যেও জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে চারটিতে জয় আসে। এবারের নির্বাচনেও পাঁচটি আসনে জয়ী হওয়ায় স্থানীয় নেতা–কর্মীদের মধ্যে প্রত্যাশা তৈরি হয় যে অন্তত একজন হলেও মন্ত্রিসভায় জায়গা পাবেন। তবে শেষ পর্যন্ত সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-১ আসনে এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, নোয়াখালী-২ আসনে জয়নুল আবদিন ফারুক, নোয়াখালী-৩ আসনে বরকতউল্লা বুলু, নোয়াখালী-৪ আসনে মো. শাহজাহান ও নোয়াখালী-৫ আসনে মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম জয় পেয়েচেন। শুধুমাত্র নোয়াখালী-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী পরাজিত হন এনসিপির প্রার্থীর কাছে। নোয়াখালী-২ আসনের জয়নুল আবদিন ফারুক সর্বোচ্চ ছয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। বরকতউল্লা বুলু ও মো. শাহজাহান পাঁচবার করে নির্বাচিত হয়েছেন। মাহবুব উদ্দিন খোকন দ্বিতীয়বার এবং মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। স্বাধীনতার পর থেকে প্রায় সব সরকারেই নোয়াখালীর প্রতিনিধিত্ব ছিল মন্ত্রিসভায়। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময় ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। ফলে এবারও জেলার মানুষ একই ধরনের প্রতিনিধিত্বের প্রত্যাশা করেছিলেন। জেলা সদরের শ্রীপুরের বাসিন্দা ক্রীড়া সংগঠক মো. জহীর উদ্দিন বলেন, পাঁচটি আসনে ধানের শীষের বিজয়ের পর আমরা আশা করেছিলাম, নোয়াখালীর পরীক্ষিত নেতাদের কেউ না কেউ মন্ত্রী হবেন। দেশনায়ক তারেক রহমান–এর কাছে আমাদের এ প্রত্যাশা রইল। ব্যবসায়ী আশরাফুল এজাজ বলেন, নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে মন্ত্রিসভা হয়েছে, এটি ইতিবাচক। তবে নোয়াখালী থেকে কাউকে না রাখায় আমরা আশাহত। জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন খান তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন, নোয়াখালী বরাবরই দলকে আসন দিয়েছে। এত বর্ষীয়ান নেতা থাকার পরও এবার মন্ত্রী না হওয়াটা দুঃখজনক। লন্ডনপ্রবাসী সাংবাদিক সাহেদ শফিক ফেসবুকে লিখেছেন, দুঃসময়ে রাজপথে যারা রক্ত দিয়েছেন, তাদের কেউই মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ডাক পাননি। গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ সদস্য আব্দুজ জাহের বলেন, অন্তত দুই-তিনজন মন্ত্রী হওয়ার আশা ছিল। বর্ধিত মন্ত্রিসভায় নোয়াখালীর প্রতিনিধিত্ব আশা করছি। নোয়াখালী বিভাগ, সিটি করপোরেশন ও বিমানবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়নে মন্ত্রিসভায় প্রতিনিধিত্ব প্রয়োজন। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর বলেন, হৃদয়টা অত্যন্ত ভারাক্রান্ত। আমাদের প্রতি সুবিচার করা হয়নি। নেতা–কর্মীদের ত্যাগের মূল্যায়ন হওয়া উচিত ছিল। তবে হতাশার মধ্যেও অনেকেই আশা প্রকাশ করেছেন যে নতুন মন্ত্রিসভা দক্ষতার পরিচয় দেবে এবং ভবিষ্যতে বর্ধিত মন্ত্রিসভায় নোয়াখালীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হতে পারে। স্বাধীনতার পর এই প্রথমবার মন্ত্রিসভায় নোয়াখালীর কেউ স্থান না পাওয়ায় জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা ও মূল্যায়নের দাবি উঠেছে।

নোয়াখালীতে রাজনীতি নিষিদ্ধ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জেলা কার্যালয়ের তালা ভেঙে ব্যানার টানিয়ে দিয়েছেন নেতাকর্মীরা। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে জেলা শহরের টাউনহল মোড়ে অবস্থিত এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তালাবদ্ধ থাকা দলীয় কার্যালয়ের তালা ভেঙে সামনে ব্যানার টানানো হয়। পরে সেখানে জড়ো হয়ে স্লোগান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন নেতাকর্মীরা। প্রায় আধাঘণ্টা এই কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় তারা ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’, ‘এই লড়াইয়ে জিতবে কারা, ‘বঙ্গবন্ধুর সৈনিকেরা’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। বিক্ষোভকারীরা দাবি করেন, তৃণমূল নোয়াখালীর নেতাকর্মীদের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। জানা যায়, জুলাই আন্দোলনের পর থেকে কার্যালয়টি তালাবদ্ধ ছিল। আন্দোলন চলাকালে বিক্ষুব্ধ ছাত্রজনতা কার্যালয়টিতে অগ্নিসংযোগ করলে ভবনটি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কর্মসূচি ফেসবুকে লাইভ করেন মো. জাহাঙ্গীর শেখ নামের একটা আইডি। যিনি লিখেন, আগামী দিনে দেশের স্বাধীনতার পক্ষে সব শক্তি এক সঙ্গে কাজ করব ইনশাল্লাহ, আমরা নোয়াখালী জেলা তৃণমূল আওয়ামী লীগ স্বাধীনতার পক্ষের দলের সঙ্গে কাজ করব ইনশাআল্লাহ,,, সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমার জানা নাই। এ বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছি। কে বা কারা করেছে তা দেখে পরবর্তীতে জানাতে পারব।

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় মধ্যরাতে এক ছাত্রদল নেতার বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ৩টার দিকে উপজেলার চানন্দী ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের নলেরচর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ উঠেছে, দুর্বৃত্তরা উপজেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক পদপ্রার্থী ও ছাত্রদলের নোয়াখালী জেলা শাখার সাবেক সহ-নাট্য বিষয়ক সম্পাদক ইয়াসিন আলী সুজনের বাড়িতে আগুন দেয়। ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, সুজনের বাবা মো. বেলাল মিয়া ওই বাড়িতে বসবাস করতেন এবং কৃষি কাজ করতেন। তবে ঘটনার সময় তারা বয়ারচরে অন্য একটি বাড়িতে অবস্থান করায় প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়। আগুনে বসতঘরের বিভিন্ন আসবাবপত্র ও কাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ইয়াসিন আলী সুজন বলেন, হাতিয়ার প্রকল্প বাজার এলাকায় শাপলা কলিতে ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ে। আমি প্রকাশ্যে বলেছি, অভিযোগটি মিথ্যা। পরে বিষয়টি মিথ্যা প্রমাণিত হয়। এর জেরে সন্ত্রাসীরা আমার বাড়ির গেটে তালা দিয়ে আগুন লাগিয়ে দেয়। তিনি দাবি করেন, একটি নবগঠিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালিয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কারও বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক মামলা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। হাতিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আলাউদ্দিন বলেন, নির্বাচনের পর থেকে এলাকায় একের পর এক সহিংস ঘটনা ঘটছে। আমাদের শান্ত হাতিয়াকে অশান্ত করে তোলা হচ্ছে। আগুন সন্ত্রাস কোনো দলের জন্যই কাম্য নয়। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। এদিকে হাতিয়া উপজেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক শামসুল ব্রিজের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ভুক্তভোগী পরিবার লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিঝুম দ্বীপে মিলল বিরল প্রজাতির মিল্ক ফিশ নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার নিঝুম দ্বীপ এলাকায় বিরল প্রজাতির প্রায় ২ কেজি ওজনের একটি মিল্ক ফিশ পাওয়া গেছে। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. হারুন অর রশিদ। জানা গেছে, রোববার সকালে হাতিয়া উপজেলার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আগমনী কিল্লা এলাকার একটি পুকুরে মাছটি পান স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী মো. আব্দুল মান্নান। মৎস্য ব্যবসায়ী আব্দুল মান্নানের জামাই আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, এমন মাছ আমরা আগে কখনও দেখিনি। মাছটি নিয়ে আত্মীয়স্বজনদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়। স্থানীয় ইউপি সদস্য কেফায়েত উদ্দিন বলেন, আমাদের এলাকায় এমন মাছ আগে কখনও দেখা যায়নি। বিষয়টি জানার পর এলাকাবাসীর মধ্যে বেশ আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে ওই পুকুরে প্রতি বছর ইলিশ মাছ পাওয়া যায়। মো. আব্দুল মান্নান বলেন, সকালবেলা পুকুরে মাছটি দেখতে পাই। প্রথমে বুঝতে পারিনি এটি কী ধরনের মাছ। পরে সবাই বলছে, এটি মিল্ক ফিশ। আমার আত্মীয় স্বজন ছিল সবাইকে নিয়ে রান্না করে খেয়েছি। খুব সুস্বাদু এবং কিছুটা লবনাক্ত ভাব রয়েছে। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. হারুন অর রশিদ বলেন, মিল্ক ফিশ (চ্যানোস চ্যানোস) রশ্মিযুক্ত মাছের একটি বিস্তৃত প্রজাতি, যা সাধারণত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে পাওয়া যায়। এটি Chanidae পরিবারের একমাত্র জীবিত প্রজাতি এবং Chanos গণেরও একমাত্র সদস্য। সাধারণত চীন, কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশে এ মাছের উপস্থিতি দেখা যায়। নোয়াখালী জেলায় সম্ভবত এটিই প্রথমবারের মতো মিল্ক ফিশ শনাক্ত হলো, তাও আবার একটি পুকুরে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করব। চাঁদপুর মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক মুখ্য ইলিশ গবেষক ড. আনিসুর রহমান বলেন, এটি একটি আশাব্যঞ্জক খবর। আমি ওই পুকুরটি আগে দেখেছি, সেখানে ইলিশ মাছও পাওয়া যায়। ধারণা করা হচ্ছে, জোয়ারের পানির সঙ্গে এই মিল্ক ফিশটি পুকুরে প্রবেশ করেছে। উপকূলীয় এলাকায় এমন বিরল প্রজাতির মাছ পাওয়া পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত বহন করে।

পুরো রমজান মাসে সরকারি-বেসরকারি নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক স্কুল বন্ধ রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. ইলিয়াস আলী মন্ডল, অ্যাডভোকেট তানজিনা ববি লিজা। এর আগে পবিত্র রমজান মাসে স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. ইলিয়াছ আলী মন্ডল হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট দায়ের করেন। গত ৫ জানুয়ারি পবিত্র রমজানে স্কুল বন্ধ রাখতে সরকারকে আইনি নোটিশ দেন সুপ্রিম কোর্টের ওই আইনজীবী। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবকে এই নোটিশ পাঠান তিনি। নোটিশে বলা হয়, বাংলাদেশের ৯৮ শতাংশ নাগরিক মুসলমান। বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর থেকে রমজান মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে— এটিই আইন, প্রথা ও নীতি এবং ওইভাবে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রমজান মাসে বন্ধ থাকে। সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, আইন ছাড়া কিছুই করা যাবে না, অনুচ্ছেদ ১৫২(১) অনুযায়ী আইন অর্থ বাংলাদেশে আইনের ক্ষমতা সম্পন্ন যেকোনো প্রথা ও রীতি। তাই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় রমজান মাসে খোলা রাখার সরকারের তর্কিত সিদ্ধান্ত অসাংবিধানিক। নোটিশে আরও বলা হয়, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলের কোমলমতি শিশু-কিশোররা সারাদিন স্কুলে যাতায়াত করে, ক্লাস করে ক্লান্ত হয়ে রোজা রাখতে কষ্টের সম্মুখীন হয়ে রোজা রাখার অভ্যাস থেকে দূরে থাকার সম্ভাব্না দেখা দেয়। যা ধর্মীয় আচার চর্চার অন্তরায়। এ ছাড়া রমজান মাসে স্কুল চালু রাখলে শহরগুলোতে তীব্র জানযটের সৃষ্টি হয়, যাতে নগরবাসীকে চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হয়, যা কারও কাম্য নয়। নোটিশের জবাব না পাওয়ায় এ রিট দায়ের করা হয়।