
নোয়াখালী জেলা পুলিশের মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ২১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় ১১২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ৪ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। সোমবার (৩১ আগস্ট) বেলা সোয়া ১১টার দিকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন নোয়াখালী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) আহমেদ পেয়ার। এর আগে, রোববার দিনব্যাপী জেলার বিভিন্ন থানা ও বিট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। জেলা পুলিশ জানায়, পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিনের সার্বিক নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে মোট ১৮টি অভিযান পরিচালনা করা হয়। গ্রেপ্তার ২১ জনের মধ্যে ২ জন মাদক ব্যবসায়ী ও ১৯ জন মাদকসেবী রয়েছেন। বেগমগঞ্জ মডেল থানার পৃথক অভিযানে ১১২ পিস ইয়াবাসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ছয়জনকে সাজা দেওয়া হয়। সেনবাগ থানায় মাদকসেবনের দায়ে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সোনাইমুড়ী থানায় ২ গ্রাম গাঁজাসহ একজনকে গ্রেপ্তার করে নিয়মিত মামলা করা হয়। কবিরহাট থানায় আরও ২ গ্রাম গাঁজাসহ একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মোবাইল কোর্ট তাকে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন। নোয়াখালী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) আহমেদ পেয়ার আরও বলেন, মাদক ব্যবসা, সরবরাহ, বহন ও সেবনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি জনসচেতনতা ও সামাজিক প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
সুধারাম মডেল থানাধীন আন্ডারচরে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প উদ্বোধন নোয়াখালী জেলার পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিন মহোদয় প্রধান অতিথি হিসেবে সুধারাম মডেল থানাধীন আন্ডারচর এলাকায় আন্ডারচর অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পের শুভ উদ্বোধন করেন। অদ্য রবিবার পুলিশ সুপার মহোদয় ফিতা কেটে ক্যাম্পটির উদ্বোধন করেন। উল্লেখ্য, আন্ডারচর, চরমটুয়া ও কালাদরফ—এই ৩টি ইউনিয়নের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, অপরাধ প্রতিরোধ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও পুলিশি সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আন্ডারচরে এ অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। ক্যাম্প উদ্বোধন শেষে সুধারাম মডেল থানার ওসি নজরুল ইসলাম-এর সভাপতিত্বে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিন বলেন, একটি শান্ত ও নিরাপদ সমাজ বিনির্মাণে পুলিশ প্রশাসন ও জনগণের পারস্পরিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আন্ডারচর এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা, অপরাধ দমন এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। পুলিশ সুপার মহোদয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ দমন এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে পুলিশ ও জনগণের সমন্বিত ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ লিয়াকত আকবর, শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার নোয়াখালী,ড. মোঃ নূরুল হুদা ভূঁইয়া, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।

সীমান্ত সুরক্ষায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ভূমিকার প্রশংসা করে চোরাচালান, মাদক ও মানব পাচারসহ পুশইন ও সীমান্ত হত্যা বন্ধে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে তিনি সীমান্ত রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে বিজিবির (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) কাজের প্রশংসাও করেন। গতকাল সোমবার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীর সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান। সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবিতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সংযোজনের উদ্যোগেরও প্রশংসা করেন রাষ্ট্রপ্রধান। এ বিষয়ে বিজিবিকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি। সাক্ষাতে বিজিবি মহাপরিচালক রাষ্ট্রপতিকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। তিনি বিজিবির সার্বিক কার্যক্রম এবং সীমান্তে নজরদারি বাড়াতে অত্যাধুনিক ড্রোন ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। রাষ্ট্রপতির সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে নোবিপ্রবি উপাচার্যের সাক্ষাৎ: সোমবার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। সাক্ষাৎকালে নোবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান। তিনি রাষ্ট্রপতির সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সফলতা কামনা করেন। এ সময় উপাচার্য নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও সামগ্রিক অগ্রগতি সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। দেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার বিকাশে নোবিপ্রবির অবদান, বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও তিনি আলোচনা করেন। সাক্ষাৎকালে আগামী ২৪ জানুয়ারি ২০২৭ নোবিপ্রবির তৃতীয় সমাবর্তনে উপস্থিত থাকার জন্য রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আমন্ত্রণ জানান উপাচার্য। রাষ্ট্রপতি আমন্ত্রণ গ্রহণ করে সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার বিষয়ে সম্মতি জানান।
হাতিয়ায় খাদ্য গুদামের দারোয়ান কালামের বিরুদ্ধে নানান অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ হাতিয়ায় খাদ্য গুদামের দারোয়ান আবুল কালামের বিরুদ্ধে নানান অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। নোয়াখালী হাতিয়া উপজেলার চৌমুহনী বাজারের পাশে অবস্থিত উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ অফিসের দারোয়ান আবুল কালামের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে নোয়াখালী জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বরাবরসহ সংশ্লিষ্ট একাধিক কতৃপক্ষের নিকট একটি দরখাস্ত করেছে মোহাম্মদ রাশেদ নামের এক স্থানীয় ব্যক্তি।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, হাতিয়া উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ অফিসের দারোয়ান আবুল কালামের বিরুদ্ধে টোকেন বাণিজ্য, প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয় না করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ধান ক্রয় করা, মণ প্রতি ৩/৫ কেজি ধান বেশি নেওয়া, লেবারের দৈনিক মজুরির টাকা আর্তসাৎ করা, সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের কাছ থেকে নামেমাত্র ধান কিনে বাকি শত শত টন নিজে কিনে বিভিন্ন কৃষকের নামে বিল তুলে নেয়া ও একই কর্মস্থলে এক যুগের বেশি সময় ধরে চাকরি করাসহ নানান অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও একই উপজেলায় দীর্ঘদিন চাকরি করার কারণে সবকিছুতে তার একচ্ছত্র বলয় ও নিয়ন্ত্রণ থাকায় তার কূটকৌশলে অন্যান্য কর্মকর্তা কর্মচারিরা নামেমাত্র টিকে আছে বলে জানা যায়। তার বিরুদ্ধে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিকট অভিযোগ দিয়েও মিলছে না প্রতিকার। দারোয়ান আবুল কালাম বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির দায়ে স্থানীয় এলাকাবাসীর হাতে গণধোলাইয়ের শিকার হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে আরো বলা হয়েছে, দারোয়ান আবুল কালাম হাতিয়া উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে থাকায় সে গত ১৫ বছর আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মী ও নোয়াখালী সোনাপুরের লেবার শ্রমিক নিয়ন্ত্রণ বা হ্যান্ডিং ঠিকাদার তাইজুল ইসলাম ওরুফে তাজু কমিশনার এবং জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ অফিসের হিসাবরক্ষক মাসুদুর রহমান মাসুদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে একটি সিন্ডিকেট তৈরি করে গুদামের কয়েল, লেবার, শ্রমিকসহ সবাইকে নিজের আয়ত্তে রেখে সকল অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। যার ফলে হাতিয়া উপজেলা স্থানীয় লোকজন ও ব্যবসায়ীরা ব্যবসায়িক সকল সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এছাড়াও গত ১ যুগ ধরে কোন নিয়ম নীতি তোয়াক্কা না করে হ্যান্ডিং ঠিকাদার একজন ব্যক্তি নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। যা প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা চরম হুমকির মুখে পড়ে। এমতাবস্থায় সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের নিকট স্থানীয় এলাকাবাসীর দাবি দারোয়ান কালামকে অন্যত্রে বদলী ও হ্যান্ডিং ঠিকাদার তাজু কমিশনারকে টেন্ডারের মাধ্যমে দ্রুত পরিবর্তন করে নতুন লোক দেওয়া হোক।এবিষয়ে হাতিয়া উপজেলার খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিসের অভিযুক্ত দারোয়ান আবুল কালাম বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগগুলো মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমি এ গুদামঘরে চতুর্থ শ্রেণীর বেতনভুক্ত একজন দারোয়ান। আমি কোন অনিয়ম ও দুর্নীতির সাথে জড়িত নয়। যদি ধান, গম ও চাল কেনাবেচায় কোন অনিয়ম হয়ে থাকে তার সাথে উপরের স্যারেরা জড়িত। সকল কাজের বিল পাশ হয় সব উপরের স্যারদের মাধ্যমে। এসবের সাথে আমার কোন সম্পৃক্ততা নেই। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, সকল অপকর্মের সাথে আমি জড়িত আছি। আপনারা আমার বিরুদ্ধে নিউজ করেন। আমি এ উপজেলা থেকে চলে যেতে চাই। এদিকে হাতিয়া উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোঃ শাহাদাত হোসেনের মোবাইল নাম্বারে কল দিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি।
চৌমুহনীতে মাদক ও কিশোর অপরাধকে লাল কার্ড দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের শপথ নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে মাদক, কিশোর অপরাধ ও স্মার্টফোনের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরিতে ব্যতিক্রমী কর্মসূচি পালন করেছে শিক্ষার্থীরা। এ সময় মাদক ও সামাজিক অপরাধকে ‘না’ বলার পাশাপাশি উন্নত চরিত্র গঠনের শপথ নেয় তারা।বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বেগমগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের হলরুমে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন লাল সবুজ উন্নয়ন সংঘের উদ্যোগে সচেতনতামূলক আলোচনা সভা ও চরিত্র গঠনের শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কায়েসুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নোয়াখালী পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিন। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেগমগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আ ন ম ইমরান খান এবং বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান।পরে পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিন শিক্ষার্থীদের উন্নত চরিত্র গঠন, মাদক ও কিশোর অপরাধ থেকে দূরে থাকা এবং স্মার্টফোনের অপব্যবহার না করার শপথ পাঠ করান।আয়োজক সংগঠনটি জানায়, শিক্ষার্থীদের টিফিনের টাকা সাশ্রয় করে পরিচালিত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন লাল সবুজ উন্নয়ন সংঘ গত ১৫ বছর ধরে দেশের ৬৪ জেলায় শিক্ষার্থীদের সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে। বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে গঠিত সংগঠনটি এ পর্যন্ত প্রায় ৪৫ লাখ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে উদ্বুদ্ধ করেছে।
নোয়াখালীকে পৃথক বিভাগ ঘোষণার দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করেছেন আন্দোলনকারীরা। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে শাহবাগে অবস্থান নেন তারা। এতে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়ে আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।জুমার নামাজ শেষে বিকেল ৩টার দিকে চকবাজার চক মসজিদ থেকে শাহবাগের উদ্দেশে মিছিল নিয়ে রওনা হন আন্দোলনকারীরা। প্রায় ৪৫ মিনিট পর তারা শাহবাগে পৌঁছে সড়ক অবরোধ করে অবস্থান নেন। এ সময় নোয়াখালীকে দ্রুত পৃথক বিভাগ ঘোষণার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন আন্দোলনকারীরা। তাদের দাবি, দীর্ঘদিনের এই দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন করে নোয়াখালীকে পৃথক বিভাগ হিসেবে ঘোষণা আন্দোলনকারীরা বলেন, নোয়াখালীকে বিভাগ ঘোষণা করা হলে প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং বৃহত্তর এলাকার মানুষের নাগরিক সেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়বে।এদিকে আন্দোলনকারীদের সড়ক অবরোধের কারণে শাহবাগ দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এর প্রভাব পড়ে আশপাশের সড়কগুলোতেও। ফলে ওই এলাকায় যানজট তৈরি হয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।পরিস্থিতি সামাল দিতে আইন শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা ব্যস্ত থাকায় এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।পুলিশের সঙ্গে কথা হলে সদস্যরা জানিয়েছেন, তারা বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন। পরে বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কথা বলবেন।
নোয়াখালী জেলা পুলিশের মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ২১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় ১১২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ৪ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। সোমবার (৩১ আগস্ট) বেলা সোয়া ১১টার দিকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন নোয়াখালী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) আহমেদ পেয়ার। এর আগে, রোববার দিনব্যাপী জেলার বিভিন্ন থানা ও বিট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। জেলা পুলিশ জানায়, পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিনের সার্বিক নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে মোট ১৮টি অভিযান পরিচালনা করা হয়। গ্রেপ্তার ২১ জনের মধ্যে ২ জন মাদক ব্যবসায়ী ও ১৯ জন মাদকসেবী রয়েছেন। বেগমগঞ্জ মডেল থানার পৃথক অভিযানে ১১২ পিস ইয়াবাসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ছয়জনকে সাজা দেওয়া হয়। সেনবাগ থানায় মাদকসেবনের দায়ে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সোনাইমুড়ী থানায় ২ গ্রাম গাঁজাসহ একজনকে গ্রেপ্তার করে নিয়মিত মামলা করা হয়। কবিরহাট থানায় আরও ২ গ্রাম গাঁজাসহ একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মোবাইল কোর্ট তাকে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন। নোয়াখালী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) আহমেদ পেয়ার আরও বলেন, মাদক ব্যবসা, সরবরাহ, বহন ও সেবনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি জনসচেতনতা ও সামাজিক প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
সুধারাম মডেল থানাধীন আন্ডারচরে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প উদ্বোধন নোয়াখালী জেলার পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিন মহোদয় প্রধান অতিথি হিসেবে সুধারাম মডেল থানাধীন আন্ডারচর এলাকায় আন্ডারচর অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পের শুভ উদ্বোধন করেন। অদ্য রবিবার পুলিশ সুপার মহোদয় ফিতা কেটে ক্যাম্পটির উদ্বোধন করেন। উল্লেখ্য, আন্ডারচর, চরমটুয়া ও কালাদরফ—এই ৩টি ইউনিয়নের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, অপরাধ প্রতিরোধ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও পুলিশি সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আন্ডারচরে এ অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। ক্যাম্প উদ্বোধন শেষে সুধারাম মডেল থানার ওসি নজরুল ইসলাম-এর সভাপতিত্বে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিন বলেন, একটি শান্ত ও নিরাপদ সমাজ বিনির্মাণে পুলিশ প্রশাসন ও জনগণের পারস্পরিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আন্ডারচর এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা, অপরাধ দমন এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। পুলিশ সুপার মহোদয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ দমন এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে পুলিশ ও জনগণের সমন্বিত ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ লিয়াকত আকবর, শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার নোয়াখালী,ড. মোঃ নূরুল হুদা ভূঁইয়া, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।

সীমান্ত সুরক্ষায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ভূমিকার প্রশংসা করে চোরাচালান, মাদক ও মানব পাচারসহ পুশইন ও সীমান্ত হত্যা বন্ধে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে তিনি সীমান্ত রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে বিজিবির (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) কাজের প্রশংসাও করেন। গতকাল সোমবার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীর সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান। সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবিতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সংযোজনের উদ্যোগেরও প্রশংসা করেন রাষ্ট্রপ্রধান। এ বিষয়ে বিজিবিকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি। সাক্ষাতে বিজিবি মহাপরিচালক রাষ্ট্রপতিকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। তিনি বিজিবির সার্বিক কার্যক্রম এবং সীমান্তে নজরদারি বাড়াতে অত্যাধুনিক ড্রোন ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। রাষ্ট্রপতির সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে নোবিপ্রবি উপাচার্যের সাক্ষাৎ: সোমবার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। সাক্ষাৎকালে নোবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান। তিনি রাষ্ট্রপতির সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সফলতা কামনা করেন। এ সময় উপাচার্য নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও সামগ্রিক অগ্রগতি সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। দেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার বিকাশে নোবিপ্রবির অবদান, বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও তিনি আলোচনা করেন। সাক্ষাৎকালে আগামী ২৪ জানুয়ারি ২০২৭ নোবিপ্রবির তৃতীয় সমাবর্তনে উপস্থিত থাকার জন্য রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আমন্ত্রণ জানান উপাচার্য। রাষ্ট্রপতি আমন্ত্রণ গ্রহণ করে সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার বিষয়ে সম্মতি জানান।

সৌদি আরবের তায়েফে মো. কামরুল হোসেন নামের এক প্রবাসী বাংলাদেশি যুবককে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পর হামলাকারী সৌদি নাগরিকও নিজের মাথায় গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেন। রোববার (৩০ আগস্ট) স্থানীয় সময় ভোর ৪টার দিকে তায়েফের হাওয়াইয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত কামরুল হোসেন (৩৭) নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কুতুবপুর গ্রামের কাজী বাড়ির খোরশেদ আলমের ছেলে। তিনি দুই ছেলের জনক ছিলেন। নিহতের চাচাতো ভাই মো. সোলেমান রাসেল বলেন, ঘটনার দিন কামরুল সুপার মার্কেটের ডিউটি শেষ করে ঘটনাস্থলের পাশে দাঁড়িয়ে তার স্ত্রীর সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলছিলেন। এসময় হঠাৎ এক অস্ত্রধারী সৌদি তরুণ কামরুলকে গুলি করে। প্রাণ বাঁচাতে কামরুল দৌড়ে কর্মস্থল সুপার মার্কেটের ভেতরে ঢুকে পড়েন। হামলাকারী মার্কেটের ভেতরে ঢুকে কামরুলকে পরপর তিন রাউন্ড গুলি করলে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। এরপর হামলাকারী নিজের মাথায় গুলি করে আত্মহত্যা করেন। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে আবেদন জানাই, কামরুল হোসেনের মরদেহটি যেন দেশের মাটিতে এনে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। একই সঙ্গে অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানাই। কুতুবপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবু নাসের চৌধুরী বলেন, কামরুলের বাবা পেশায় কৃষক। জীবিকার তাগিদে প্রায় আড়াই বছর আগে সৌদি আরবে যান কামরুল। রোববার বেলা ১১টার দিকে পরিবারের সদস্যরা তার মৃত্যুর খবর জানতে পারেন। কামরুলের আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তবে কী কারণে ওই সৌদি তরুণ কামরুলকে গুলি করে হত্যা করেছেন, তা এখনো জানা যায়নি।
হাতিয়ায় খাদ্য গুদামের দারোয়ান কালামের বিরুদ্ধে নানান অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ হাতিয়ায় খাদ্য গুদামের দারোয়ান আবুল কালামের বিরুদ্ধে নানান অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। নোয়াখালী হাতিয়া উপজেলার চৌমুহনী বাজারের পাশে অবস্থিত উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ অফিসের দারোয়ান আবুল কালামের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে নোয়াখালী জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বরাবরসহ সংশ্লিষ্ট একাধিক কতৃপক্ষের নিকট একটি দরখাস্ত করেছে মোহাম্মদ রাশেদ নামের এক স্থানীয় ব্যক্তি।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, হাতিয়া উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ অফিসের দারোয়ান আবুল কালামের বিরুদ্ধে টোকেন বাণিজ্য, প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয় না করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ধান ক্রয় করা, মণ প্রতি ৩/৫ কেজি ধান বেশি নেওয়া, লেবারের দৈনিক মজুরির টাকা আর্তসাৎ করা, সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের কাছ থেকে নামেমাত্র ধান কিনে বাকি শত শত টন নিজে কিনে বিভিন্ন কৃষকের নামে বিল তুলে নেয়া ও একই কর্মস্থলে এক যুগের বেশি সময় ধরে চাকরি করাসহ নানান অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও একই উপজেলায় দীর্ঘদিন চাকরি করার কারণে সবকিছুতে তার একচ্ছত্র বলয় ও নিয়ন্ত্রণ থাকায় তার কূটকৌশলে অন্যান্য কর্মকর্তা কর্মচারিরা নামেমাত্র টিকে আছে বলে জানা যায়। তার বিরুদ্ধে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিকট অভিযোগ দিয়েও মিলছে না প্রতিকার। দারোয়ান আবুল কালাম বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির দায়ে স্থানীয় এলাকাবাসীর হাতে গণধোলাইয়ের শিকার হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে আরো বলা হয়েছে, দারোয়ান আবুল কালাম হাতিয়া উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে থাকায় সে গত ১৫ বছর আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মী ও নোয়াখালী সোনাপুরের লেবার শ্রমিক নিয়ন্ত্রণ বা হ্যান্ডিং ঠিকাদার তাইজুল ইসলাম ওরুফে তাজু কমিশনার এবং জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ অফিসের হিসাবরক্ষক মাসুদুর রহমান মাসুদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে একটি সিন্ডিকেট তৈরি করে গুদামের কয়েল, লেবার, শ্রমিকসহ সবাইকে নিজের আয়ত্তে রেখে সকল অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। যার ফলে হাতিয়া উপজেলা স্থানীয় লোকজন ও ব্যবসায়ীরা ব্যবসায়িক সকল সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এছাড়াও গত ১ যুগ ধরে কোন নিয়ম নীতি তোয়াক্কা না করে হ্যান্ডিং ঠিকাদার একজন ব্যক্তি নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। যা প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা চরম হুমকির মুখে পড়ে। এমতাবস্থায় সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের নিকট স্থানীয় এলাকাবাসীর দাবি দারোয়ান কালামকে অন্যত্রে বদলী ও হ্যান্ডিং ঠিকাদার তাজু কমিশনারকে টেন্ডারের মাধ্যমে দ্রুত পরিবর্তন করে নতুন লোক দেওয়া হোক।এবিষয়ে হাতিয়া উপজেলার খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিসের অভিযুক্ত দারোয়ান আবুল কালাম বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগগুলো মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমি এ গুদামঘরে চতুর্থ শ্রেণীর বেতনভুক্ত একজন দারোয়ান। আমি কোন অনিয়ম ও দুর্নীতির সাথে জড়িত নয়। যদি ধান, গম ও চাল কেনাবেচায় কোন অনিয়ম হয়ে থাকে তার সাথে উপরের স্যারেরা জড়িত। সকল কাজের বিল পাশ হয় সব উপরের স্যারদের মাধ্যমে। এসবের সাথে আমার কোন সম্পৃক্ততা নেই। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, সকল অপকর্মের সাথে আমি জড়িত আছি। আপনারা আমার বিরুদ্ধে নিউজ করেন। আমি এ উপজেলা থেকে চলে যেতে চাই। এদিকে হাতিয়া উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোঃ শাহাদাত হোসেনের মোবাইল নাম্বারে কল দিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি।
জনগণের পাশে না থাকলে আগামীতে বিএনপিকেও ক্ষমতায় বসাবে না মানুষ: কামাক্ষ্যা চন্দ্র দাস জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী উন্নয়নমুলুক কাজ ও শাধারণ মানুষের পাশে না থাকলে, আগামী দিনে মানুষ বিএনপিকে ও ভোট দিয়ে ক্ষমতায় বসাবে না বলে মন্তব্য করেছেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কামাক্ষ্যা চন্দ্র দাস।শুক্রবার বিকেলে ১০ নম্বর নরোত্তমপুর ইউনিয়নের পণ্ডিত বাজারে আয়োজিত শ্রমিক দলের এক কর্মী শম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।উপজেলা শ্রমিক দলের আহ্বায়ক মোহাম্মদ আবু হানিফের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব নাছির উদ্দীন ইমনের সঞ্চালনায়,তিনি আরো বলেন, বিগত ১৭ বছরের শাসনের কথা উল্লেখ করে বলেন, একটি রাজনৈতিক দল দীর্ঘ সময় ধরে দেশে স্বৈরাচারী শাসন চালিয়ে অবশেষে গণরোষের মুখে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জনগণের দেওয়া ভোটে ক্ষমতায় এসে মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল, কলেজ, মন্দির ও রাস্তাসহ: প্রয়োজনীয় উন্নয়নমূলক কাজ করতে না পারে, তবে ভবিষ্যতে মানুষ আর বিএপিকে ভোট দেবে না। অতীতের ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়াতে এখন থেকেই নেতাকর্মীদের সাধারণ মানুষের পাশে থেকে উন্নয়নের মনোভাব নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। এবং নেতা কর্মীদের সাধারণ জনগনের পাশে থেকে মানবিক কাজ করার ও আহ্বান জানান তিনি। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোহাম্মদ মাহফুজুল হক আবেদ। সম্মেলনের উদ্বোধন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা শ্রমিক দলের সদস্য সচিব নিজাম উদ্দিন চৌধুরী।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য ও উপস্থিতি নিশ্চিত করেন উপজেলা বিএনপির শদস্য রফিক উল্লা পাটোয়ারী, ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক শাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন, উপজেলা বিএনপির সদস্য মামুনুর রশীদ মামুন, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক রুস্তম আলী, সাবেক সভাপতি শামছুতীবরিজ স্বপন এবং উপজেলা শ্রমিক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ রূপক।এ ছাড়া অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চৌমুহনী পৌর শ্রমিক দলের আহ্বায়ক আনোয়ার টিপু, সদস্য সচিব মোশাররফ হোসেন সাগর এবং চৌমুহনী সরকারি এস. এ. কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক টি. আই. শুজন। এছাড়া, ইউনিয়ন বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
নোয়াখালী-৫ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামের নির্দেশে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের পেশকারহাট রাস্তার মাথায় দানব আকৃতির ১৪টি অবৈধ বালুভর্তি ট্রাক আটক করা হয়েছে।শনিবার (২৯ আগষ্ট) এ অভিযানে স্থানীয় বিএনপি নেতা গোলাম কিবরিয়া বিএসসির নেতৃত্বে ট্রাকগুলো আটক করা হয় বলে জানা গেছে।খবর পেয়ে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জনাব মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছেন।এদিকে, অবৈধ বালুভর্তি ট্রাক আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন সড়কে আরও অসংখ্য বালুবাহী ট্রাক চলাচল বন্ধ করে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে বালু পরিবহন করা হচ্ছে। এতে একদিকে পরিবেশ ও সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে ভারী ও অতিরিক্ত বালুবাহী যানবাহনের কারণে সাধারণ মানুষের চলাচলেও ভোগান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। স্থানীয়রা বিষয়টি তদন্ত করে সকল অবৈধ বালুর গাড়ি চলাচল বন্ধ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।তবে এ ঘটনায় আটক ট্রাকগুলোর বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের সিদ্ধান্ত কী—তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি।

ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে নোয়াখালী সরকারি কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের মেধাবী শিক্ষার্থী মোঃ আরিফ খান ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না-লিল্লাহি ওয়া-ইন্না ইলাইহি রাজিউন। আজ বুধবার (২৬ আগষ্ট-২০২৬) বাদ যোহর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে আরিফের দাফন সম্পন্ন করা হয়। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে নোয়াখালী জেলা শহর মাইজদীর প্রাইম হসপিটালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। জানা যায়, গত প্রায় এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ডেঙ্গু জ্বরে ভুগছিলেন তিনি। তার গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার রামনারায়নপুর গ্রামের শামসুল হক প্রফেসর (মাইজের)বাড়ি। বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু তাহেরের ৬ সন্তানের মধ্যে ৫ম ছিলেন আরিফ খান। তাঁর এমন অকাল মৃত্যুতে পরিবার, আত্মীয়স্বজন সহপাঠী ও বন্ধুবান্ধবদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
সোনাইমুড়ী থানাধীন পশ্চিম বজরা শাহী মসজিদ রোডস্থ মোঃ শফি উল্লাহ এর চায়ের দোকানের সামনে রাজর উপর। জেলা-নোয়াখালী। আসামীর নাম ও ঠিকানাঃ মোঃ কামাল প্রকাশ কানু (৩৭), পিতা-মৃত মোবারক উল্লা, মাতা- সালমা খাতুন, স্ত্রী তসলিমা খাতুন, সাং-বজরা (জহির উদ্দিন হাজী বাড়ি), ০৭নং ওয়ার্ড, বজরা ইউ.পি, থানা-সোনাইমুড়ী, জেলা-নোয়াখালী। এনআইডি-১৯৮৯৯১২৪৯০০২১৯। আলামতঃ ১। একটি সাদা টিস্যু কাগজে মোড়ানো স্বচ্ছ পলি প্যাকেটের ভিতর লালচে বর্ণের মিথাইল এ্যাম্ফিাটিমিনযুক্ত ইয়াব নামীয় ট্যাবলেট ৩৩ (তেত্রিশ) পিস, যাহার ওজন ০৩ (তিন) গ্রাম ও ২। মাদক ব্যবসায় ব্যবহৃত SYMPHONY Hero 20 মডেলের সিমযুক্ত বার্টন মোবাইল-০১ (এক) টি। ধারা: মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ সনের ৩৬ (১) এর সারনির ক্রমিক নং-১০ (ক) গৃহীত আইনগত ব্যবস্থাঃ গ্রেপ্তারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে মো: কামাল প্রকাশ কানু (৩৭) এর বিরুদ্ধে মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম পরিদর্শক ডিএনসি
সোনাইমুড়ি থানাধীন বজরা ইউপির ০৭ নং ওয়ার্ডের বজরা উত্তর সাকিনস্থ ধৃত আসামী ছাব্বির হোসেন এর বসত ঘরের পশ্চিম কক্ষে অভিযান পরিচালনা করে মাদক ব্যবসায়ী ১। ছাব্বির হোসেন(২২), পিতা-নুর নবী, মাতা-রৌশন আক্তার, সাং-উত্তর বজরা(আকরাম আলী বাড়ি), ০৭ নং ওয়ার্ড, থানা-সোনাইমুড়ি, জেলা-নোয়াখালীকে আটক করে এবং তাহাদের দেহ তল্লাশি করিয়া ৩০ (ত্রিশ) পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেন। আসামিদের বিরুদ্ধে সোনাইমুড়ী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজু প্রক্রিয়াধীন।