

নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চাকরিতে যোগ দিতে আসেন দুই ব্যক্তি। তবে তাদের পরিচয় ও তথ্য নিয়ে সন্দেহ হলে কর্তৃপক্ষ বিষয়টি খতিয়ে দেখে। যাচাই-বাছাইয়ে জানা যায়, প্রবেশপত্রে ছবি জালিয়াতি করে অন্যের মাধ্যমে পরীক্ষা দিয়ে তারা পাস করেছেন। পরে তাদের আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। রোববার (২১ জুন) রাত সোয়া ৯টার দিকে নোয়াখালীর মাইজদী বাজারে কর অঞ্চল নোয়াখালীর কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। আটকরা হলেন, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে নিয়োগপত্র পাওয়া কামাল উদ্দিন এবং অফিস সহায়ক পদে নিয়োগপত্র পাওয়া নাসফুর উল্যাহ হুমায়ুন। তারা সদর উপজেলার ব্রহ্মপুর ও হাতিয়া উপজেলার গুল্যাখালীর বাসিন্দা। জানা গেছে, নাসফুর উল্যাহ হুমায়ুনের মামা আয়কর বিভাগে কর্মরত রয়েছেন। কর অঞ্চল নোয়াখালী কার্যালয়ের উপ কর কমিশনার এনামুল হাসান আল নোমান বলেন, গত ১১ জুন লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা শেষে কর অঞ্চল নোয়াখালীর ১৩ থেকে ২০তম গ্রেডের বিভিন্ন পদে ১১২ জন প্রার্থীকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়। রোববার নির্বাচিতদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও মেডিকেল রিপোর্টসহ যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। নির্দেশনা অনুযায়ী যোগদান করতে গেলে কামাল ও হুমায়ুনকে দেখে কর্তৃপক্ষের সন্দেহ হয়। পরে তাদের দুজনের হাতের লেখা যাচাই করলে গড়মিল পাওয়া যায়। একপর্যায়ে তারা স্বীকার করেন, পরীক্ষায় তাদের পরিবর্তে অন্য ব্যক্তি অংশ নিয়েছিলেন। তাৎক্ষণিক তাদের দুজনকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। এ ঘটনায় আটক দুজনের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটকরা জানান, সরকারি চাকরি পাওয়ার আশায় তারা একটি জালিয়াত চক্রের সঙ্গে ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকার চুক্তি করেন। ওই চক্র টাকার বিনিময়ে অন্য লোক দিয়ে চাকরির পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করে। তারা আরও জানান, আবেদন করার সময়ই প্রবেশপত্রে ছবি পরিবর্তন করে দেওয়া হয়েছিল, যাতে পরীক্ষার সময় কেউ বিষয়টি বুঝতে না পারে। সুধারাম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইদ্রিসুর রহমান বলেন, দুজনকে আটক করে কর কার্যালয় থেকে থানায় দেওয়া হয়েছে। তাদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জুলাই মাসের মধ্যে মাদ্রাসার শিক্ষকদের বেতন পরিশোধ করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষাখাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর সবচেয়ে প্রিয় ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাত হচ্ছে শিক্ষা। সোমবার (২২ জুন) দুপুরে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন ও ডিনস এবং ভাইস-চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমানে অনেক মাদরাসা শিক্ষক মে ও জুন মাসের বেতন পাননি। তিনি জানান, ২০১৭ সালে নেওয়া ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইটিএফ) প্রকল্পের ব্যয় ১০ কোটি টাকা থেকে বেড়ে প্রায় ৮০ কোটি টাকায় পৌঁছালেও প্রকল্পটি শেষ হয়নি। মন্ত্রী বলেন, ‘গত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রায় ১৭ হাজার মাদ্রাসা শিক্ষক নিয়োগ দিলেও তাদের বেতনের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করেনি। প্রতি মাসে মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন পরিশোধে ৫০০ কোটিরও বেশি টাকা প্রয়োজন হয়। আমাদের হাতে থাকা ১০০ কোটি টাকা ইতিমধ্যে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জুলাই মাসের মধ্যে সব শিক্ষকের বেতন পরিশোধ করা হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীকে যদি জিজ্ঞাসা করা হয় তার সবচেয়ে পছন্দের বিভাগ কোনটি, তিনি বলবেন শিক্ষা। দ্বিতীয়বার জিজ্ঞাসা করলেও উত্তর হবে শিক্ষা। আর যদি জানতে চান কোন খাতকে তিনি অর্থনৈতিকভাবে সবচেয়ে বেশি স্বাবলম্বী করতে চান, সেখানেও তার উত্তর হবে শিক্ষা।’ এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘দেশের বিপুল জনসংখ্যাকে মানবসম্পদে রূপান্তর করতে হলে কারিগরি শিক্ষার প্রসার ঘটাতে হবে। সরকার ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই শিক্ষার্থীদের কারিগরি শিক্ষার আওতায় আনার বিষয়ে চিন্তাভাবনা করছে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা যদি আমাদের তরুণ জনগোষ্ঠীকে কারিগরি শিক্ষায় দক্ষ করে তুলতে পারি, তাহলে দেশের আয় বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে মাদ্রাসা শিক্ষাকে আধুনিকায়নের কাজও চলমান রয়েছে।’ প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের প্রশংসা করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, তিনি প্রতিনিয়ত দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবছেন এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করছেন। মন্ত্রী বলেন, ‘একটি দক্ষ ও শিক্ষিত প্রজন্ম গড়ে তুলতে পারলে বাংলাদেশ আরও এগিয়ে যাবে। দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির মূল চাবিকাঠি হচ্ছে শিক্ষা।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো.শাহজাহান, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড.মামুন আহমেদ, নোবিপ্রবির উপ-উপাচার্য ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃতিত্বের স্বীকৃতি হিসেবে ৪৯ জন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীকে ডিনস অ্যাওয়ার্ড এবং তিনজনকে ভাইস-চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। এর আগে, বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে সকালে কেক কেটে, পায়রা উড়িয়ে ও বর্ণাঢ্য র্যালির মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

নোয়াখালীতে ইয়াবা ট্যাবলেটসহ নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (২১ জুন) দুপুরে আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে শনিবার (২০ জুন) রাত দেড়টার দিকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আসামি নাম মো. শাওন হোসেন ওরফে শাওন গাজী (১৯)। তিনি উপজেলার ভীমপুর গ্রামের মন গাজী বেপারী বাড়ির সিরাজুল ইসলামের ছেলে ও নিষিদ্ধ সংগঠন চাটখিল পৌরসভা ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চাটখিল থানা পুলিশের একটি দল উপজেলার হালিমা দীঘিরপাড় এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় সন্দেহভাজন হিসেবে শাওন গাজীকে আটক করা হয়। পরে তল্লাশি চালিয়ে তার কাছ থেকে ৩টি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার শাওন গাজী মাদক বহনের পাশাপাশি গত জুলাই-আগস্টে অনুষ্ঠিত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া একটি মামলার অন্যতম এজাহারনামীয় আসামি। দীর্ঘদিন ধরে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। চাটখিল থানার ওসি আব্দুল মোন্নাফ বলেন, আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নতুন একটি মামলা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার মামলার আসামি। পুলিশের নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে তাকে মাদকসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপরাধ দমনে পুলিশের এ ধরনের কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে।

নোয়াখালীর চাটখিলে পুকুরে গোসলে নেমে পানিতে ডুবে দুই বোনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২০ জুন) বিকেলে উপজেলার রামনারায়ণপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আজম উদ্দিনের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলো- ওই এলাকার আব্দুল মান্নানের দুই মেয়ে রোকেয়া (৯) ও রহিমা (৭)। স্থানীয় সূত্র জানায়, বসতঘরের পাশে পুকুরে গোসল করতে যায় দুই বোন। একপর্যায়ে ছোট বোন রহিমা ঘাট থেকে পা পিছলে পানিতে পড়ে যায়। তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে বড় বোন রোকেয়াও পানিতে ডুবে যায়। দীর্ঘ সময় তাদের কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

২০২৬ বিশ্বকাপে দুই ম্যাচ শেষ হতেই জমে উঠেছে গোল্ডেন বুটের লড়াই। শীর্ষে রয়েছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি। তবে তার পেছনে হুমকি হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন বিশ্বের আরও কয়েকজন সেরা গোলদাতা। ফলে এবারের বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার জিততে মেসিকে কঠিন প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হবে। এখন পর্যন্ত দুই ম্যাচে ৫ গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এগিয়ে আছেন মেসি। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করে তিনি বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডও নিজের করে নিয়েছেন। ৩৮ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড এখনো আর্জেন্টিনার মূল ভরসা। তবে খুব কাছেই রয়েছেন ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। ইরাকের বিপক্ষে জোড়া গোল করে তিনি নিজের গোলসংখ্যা বাড়িয়ে ৪-এ নিয়েছেন। বিশ্বকাপে মাত্র ১৬ ম্যাচে ১৬ গোল করে তিনি ইতোমধ্যে মিরোস্লাভ ক্লোসার রেকর্ড স্পর্শ করেছেন। ফ্রান্স যত দূর এগোবে, এমবাপ্পের গোলসংখ্যাও তত বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গোল্ডেন বুটের আরেক শক্তিশালী দাবিদার নরওয়ের স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড। সেনেগালের বিপক্ষে জোড়া গোলসহ দুই ম্যাচে তার গোলসংখ্যাও ৪। বিশ্বকাপে প্রথমবার খেলেই দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন এই তারকা। জাতীয় দলের হয়ে ৫২ ম্যাচে ৫৯ গোল করা হালান্ড এখন প্রতিটি ম্যাচেই প্রতিপক্ষের জন্য বড় হুমকি। তিনটি করে গোল করেছেন জার্মানির দেনিজ উনদাভ ও কানাডার জোনাথন ডেভিড। এ ছাড়া ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইন ও ব্রাজিলের ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ২ গোল করে এই দৌড়ে আছেন। প্রথম ম্যাচে জোড়া গোল করা কেইন পরবর্তী ম্যাচগুলোতে গোল করলে শীর্ষ লড়াইয়ে যোগ দিতে পারেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এবারের বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট লড়াই মূলত মেসি, এমবাপ্পে ও হালান্ডকে ঘিরেই আবর্তিত হচ্ছে। তিন তারকার দুর্দান্ত ফর্মের কারণে টুর্নামেন্ট যত এগোবে, এই প্রতিযোগিতা ততই রোমাঞ্চকর হয়ে উঠবে। বর্তমান অবস্থান : মেসি (আর্জেন্টিনা) – ৫ গোল এমবাপ্পে (ফ্রান্স) – ৪ গোল হালান্ড (নরওয়ে) – ৪ গোল কেইন (ইংল্যান্ড) – ২ গোল। বিশ্বকাপের মঞ্চে রেকর্ডের পর রেকর্ড গড়ছেন এই তারকারা। এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত গোল্ডেন বুট কার হাতে ওঠে— মেসি কি এগিয়ে থাকবেন, নাকি এমবাপ্পে কিংবা হালান্ড তাকে ছাড়িয়ে যাবেন।

মধ্যপ্রাচ্যের হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন বাড়তে থাকায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনার পর পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ায় বাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কমেছে। মঙ্গলবার ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম সামান্য কমে ব্যারেলপ্রতি ৭৭.৭০ ডলার হয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট তেলের দাম কমে ৭৩.৭৪ ডলার হয়েছে। এর আগের দিনও তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি কমে যায়। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞায় ৬০ দিনের ছাড় দেওয়ার পর বাজারে এই পরিবর্তন দেখা দেয়। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। সোমবার প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেলবাহী দুটি ট্যাংকার ওই পথ দিয়ে পার হয়েছে বলে শিপ-ট্র্যাকিং তথ্য জানিয়েছে। তবে বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আস্থার ঘাটতি থাকায় পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল নয়। ফলে তেলের দাম দ্রুত আগের অবস্থায় ফিরে যাবে কি না, তা অনিশ্চিত। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি তথ্য অনুযায়ী দেশটির কৌশলগত তেল মজুদও সাম্প্রতিক সময়ে কমে গেছে, যা বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতিকে আরও প্রভাবিত করছে। সূত্র : রয়টার্স

স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে ব্রাজিল তারকা নেইমারের মাঠে নামা নিয়ে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। ইনজুরির কারণে বিশ্বকাপের প্রথম দুই ম্যাচে খেলতে না পারলেও এবার তার ফেরার সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো নেননি ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি। কাফের চোটে ভুগে গত পাঁচ সপ্তাহ ধরে মাঠের বাইরে ছিলেন ৩৪ বছর বয়সী নেইমার। সেই কারণে মরক্কো ও হাইতির বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচে তাকে ছাড়াই খেলতে হয়েছে ব্রাজিলকে। তবে গত সপ্তাহে পূর্ণমাত্রার অনুশীলনে ফিরেছেন এই ফরোয়ার্ড। সোমবার (২২ জুন) তিনি দলের সঙ্গে কৌশলগত অনুশীলনেও অংশ নেন। আর এতেই তার প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়েছে। নেইমারের জাতীয় দলে ফেরা নিয়ে শুরু থেকেই ছিল নানা আলোচনা। ২০২৩ সালে উরুগুয়ের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে গুরুতর হাঁটুর চোট পাওয়ার পর দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে ছিলেন তিনি। এরপর সৌদি আরব ও ব্রাজিলে ক্লাব ফুটবল খেলতে গিয়ে আরও কয়েকটি ইনজুরিতে পড়েন। প্রায় ৬৫০ দিনের বেশি সময় ধরে জাতীয় দলের বাইরে থাকার পর সম্প্রতি আবারও সেলেসাওদের জার্সিতে ফিরেছেন। ব্রাজিলের উইঙ্গার গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেলি জানিয়েছেন, অনুশীলনে নেইমারকে দারুণ ছন্দে দেখা গেছে। তিনি বলেন, ‘নেইমারের মান নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। অনুশীলনে তার তীব্রতা দেখেই বোঝা যায়, সে খেলতে কতটা মুখিয়ে আছে।’ দুই ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে বর্তমানে গ্রুপ ‘সি’-এর শীর্ষে রয়েছে ব্রাজিল। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জয় কিংবা ড্র করলে এবং অন্য ম্যাচে মরক্কো হাইতিকে হারাতে না পারলে গ্রুপসেরা হিসেবেই নকআউট পর্ব নিশ্চিত করবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তাই স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে নেইমার মাঠে নামবেন কি না, সেটিই এখন ব্রাজিল সমর্থকদের সবচেয়ে বড় কৌতূহল। সবকিছু ঠিক থাকলে বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও দেখা যেতে পারে সেলেসাওদের এই মহাতারকাকে।

নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চাকরিতে যোগ দিতে আসেন দুই ব্যক্তি। তবে তাদের পরিচয় ও তথ্য নিয়ে সন্দেহ হলে কর্তৃপক্ষ বিষয়টি খতিয়ে দেখে। যাচাই-বাছাইয়ে জানা যায়, প্রবেশপত্রে ছবি জালিয়াতি করে অন্যের মাধ্যমে পরীক্ষা দিয়ে তারা পাস করেছেন। পরে তাদের আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। রোববার (২১ জুন) রাত সোয়া ৯টার দিকে নোয়াখালীর মাইজদী বাজারে কর অঞ্চল নোয়াখালীর কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। আটকরা হলেন, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে নিয়োগপত্র পাওয়া কামাল উদ্দিন এবং অফিস সহায়ক পদে নিয়োগপত্র পাওয়া নাসফুর উল্যাহ হুমায়ুন। তারা সদর উপজেলার ব্রহ্মপুর ও হাতিয়া উপজেলার গুল্যাখালীর বাসিন্দা। জানা গেছে, নাসফুর উল্যাহ হুমায়ুনের মামা আয়কর বিভাগে কর্মরত রয়েছেন। কর অঞ্চল নোয়াখালী কার্যালয়ের উপ কর কমিশনার এনামুল হাসান আল নোমান বলেন, গত ১১ জুন লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা শেষে কর অঞ্চল নোয়াখালীর ১৩ থেকে ২০তম গ্রেডের বিভিন্ন পদে ১১২ জন প্রার্থীকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়। রোববার নির্বাচিতদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও মেডিকেল রিপোর্টসহ যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। নির্দেশনা অনুযায়ী যোগদান করতে গেলে কামাল ও হুমায়ুনকে দেখে কর্তৃপক্ষের সন্দেহ হয়। পরে তাদের দুজনের হাতের লেখা যাচাই করলে গড়মিল পাওয়া যায়। একপর্যায়ে তারা স্বীকার করেন, পরীক্ষায় তাদের পরিবর্তে অন্য ব্যক্তি অংশ নিয়েছিলেন। তাৎক্ষণিক তাদের দুজনকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। এ ঘটনায় আটক দুজনের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটকরা জানান, সরকারি চাকরি পাওয়ার আশায় তারা একটি জালিয়াত চক্রের সঙ্গে ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকার চুক্তি করেন। ওই চক্র টাকার বিনিময়ে অন্য লোক দিয়ে চাকরির পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করে। তারা আরও জানান, আবেদন করার সময়ই প্রবেশপত্রে ছবি পরিবর্তন করে দেওয়া হয়েছিল, যাতে পরীক্ষার সময় কেউ বিষয়টি বুঝতে না পারে। সুধারাম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইদ্রিসুর রহমান বলেন, দুজনকে আটক করে কর কার্যালয় থেকে থানায় দেওয়া হয়েছে। তাদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জুলাই মাসের মধ্যে মাদ্রাসার শিক্ষকদের বেতন পরিশোধ করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষাখাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর সবচেয়ে প্রিয় ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাত হচ্ছে শিক্ষা। সোমবার (২২ জুন) দুপুরে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন ও ডিনস এবং ভাইস-চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমানে অনেক মাদরাসা শিক্ষক মে ও জুন মাসের বেতন পাননি। তিনি জানান, ২০১৭ সালে নেওয়া ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইটিএফ) প্রকল্পের ব্যয় ১০ কোটি টাকা থেকে বেড়ে প্রায় ৮০ কোটি টাকায় পৌঁছালেও প্রকল্পটি শেষ হয়নি। মন্ত্রী বলেন, ‘গত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রায় ১৭ হাজার মাদ্রাসা শিক্ষক নিয়োগ দিলেও তাদের বেতনের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করেনি। প্রতি মাসে মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন পরিশোধে ৫০০ কোটিরও বেশি টাকা প্রয়োজন হয়। আমাদের হাতে থাকা ১০০ কোটি টাকা ইতিমধ্যে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জুলাই মাসের মধ্যে সব শিক্ষকের বেতন পরিশোধ করা হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীকে যদি জিজ্ঞাসা করা হয় তার সবচেয়ে পছন্দের বিভাগ কোনটি, তিনি বলবেন শিক্ষা। দ্বিতীয়বার জিজ্ঞাসা করলেও উত্তর হবে শিক্ষা। আর যদি জানতে চান কোন খাতকে তিনি অর্থনৈতিকভাবে সবচেয়ে বেশি স্বাবলম্বী করতে চান, সেখানেও তার উত্তর হবে শিক্ষা।’ এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘দেশের বিপুল জনসংখ্যাকে মানবসম্পদে রূপান্তর করতে হলে কারিগরি শিক্ষার প্রসার ঘটাতে হবে। সরকার ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই শিক্ষার্থীদের কারিগরি শিক্ষার আওতায় আনার বিষয়ে চিন্তাভাবনা করছে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা যদি আমাদের তরুণ জনগোষ্ঠীকে কারিগরি শিক্ষায় দক্ষ করে তুলতে পারি, তাহলে দেশের আয় বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে মাদ্রাসা শিক্ষাকে আধুনিকায়নের কাজও চলমান রয়েছে।’ প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের প্রশংসা করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, তিনি প্রতিনিয়ত দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবছেন এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করছেন। মন্ত্রী বলেন, ‘একটি দক্ষ ও শিক্ষিত প্রজন্ম গড়ে তুলতে পারলে বাংলাদেশ আরও এগিয়ে যাবে। দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির মূল চাবিকাঠি হচ্ছে শিক্ষা।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো.শাহজাহান, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড.মামুন আহমেদ, নোবিপ্রবির উপ-উপাচার্য ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃতিত্বের স্বীকৃতি হিসেবে ৪৯ জন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীকে ডিনস অ্যাওয়ার্ড এবং তিনজনকে ভাইস-চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। এর আগে, বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে সকালে কেক কেটে, পায়রা উড়িয়ে ও বর্ণাঢ্য র্যালির মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

নোয়াখালীতে ইয়াবা ট্যাবলেটসহ নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (২১ জুন) দুপুরে আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে শনিবার (২০ জুন) রাত দেড়টার দিকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আসামি নাম মো. শাওন হোসেন ওরফে শাওন গাজী (১৯)। তিনি উপজেলার ভীমপুর গ্রামের মন গাজী বেপারী বাড়ির সিরাজুল ইসলামের ছেলে ও নিষিদ্ধ সংগঠন চাটখিল পৌরসভা ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চাটখিল থানা পুলিশের একটি দল উপজেলার হালিমা দীঘিরপাড় এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় সন্দেহভাজন হিসেবে শাওন গাজীকে আটক করা হয়। পরে তল্লাশি চালিয়ে তার কাছ থেকে ৩টি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার শাওন গাজী মাদক বহনের পাশাপাশি গত জুলাই-আগস্টে অনুষ্ঠিত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া একটি মামলার অন্যতম এজাহারনামীয় আসামি। দীর্ঘদিন ধরে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। চাটখিল থানার ওসি আব্দুল মোন্নাফ বলেন, আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নতুন একটি মামলা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার মামলার আসামি। পুলিশের নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে তাকে মাদকসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপরাধ দমনে পুলিশের এ ধরনের কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে।

নোয়াখালীর চাটখিলে পুকুরে গোসলে নেমে পানিতে ডুবে দুই বোনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২০ জুন) বিকেলে উপজেলার রামনারায়ণপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আজম উদ্দিনের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলো- ওই এলাকার আব্দুল মান্নানের দুই মেয়ে রোকেয়া (৯) ও রহিমা (৭)। স্থানীয় সূত্র জানায়, বসতঘরের পাশে পুকুরে গোসল করতে যায় দুই বোন। একপর্যায়ে ছোট বোন রহিমা ঘাট থেকে পা পিছলে পানিতে পড়ে যায়। তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে বড় বোন রোকেয়াও পানিতে ডুবে যায়। দীর্ঘ সময় তাদের কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

নোয়াখালীর চাটখিলে সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের দলিল লেখক সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনে ৭ পদে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সমর্থিতদের বিজয় হয়েছে। বাকি ৪ পদের মধ্যে ৩ পদে বিএনপি এবং ১টিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সমর্থিত প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। শনিবার (২০ জুন) সকাল ৯টা থেকে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হয়। দলিল লেখক সমিতির আহ্বায়ক ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবদুল মতিন ভোট গণনা শেষে বিকেলে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করেন। নির্বাচনে ১১টি পদের বিপরীতে মোট ২৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং সমিতির মোট ৭৯ জন ভোটারের সবাই তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত কোনো প্রার্থী ছিল না। দলিল লেখক সমিতির নির্বাচনে ৭ পদে আ.লীগ, ৩ পদে বিএনপির বিজয় ‘যারা এখন গণভোটকে সংবিধানবিরোধী বলেন তারাও হ্যাঁ ভোট দিয়েছিলেন’ দীর্ঘ ১৪ বছর পর অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে সভাপতি পদে বিএনপি সমর্থিত জি এম ওমর ফারুক এবং সাধারণ সম্পাদক পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মো. স্বপন পাটওয়ারী বিজয়ী হয়েছেন। সবশেষ ২০১২ সালে সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এর পরবর্তী সময়গুলোতে স্থানীয় এমপির ডিও লেটারে কমিটি গঠন হওয়ার কারণে কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, সভাপতি পদে জি এম ওমর ফারুক ৪৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন এবং প্রতিদ্বন্দ্বী সফিউল বাশার শেখ পেয়েছেন ৩৪ ভোট। সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে মাহবুবুল আবরার ৫০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন, যেখানে অন্য প্রার্থীদের মধ্যে দেলোয়ার হোসেন স্বপন ২১ ভোট এবং আবু জাফর ৮ ভোট পান। সহ-সভাপতি পদে মো. আবুল কালাম ৪২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন এবং প্রতিদ্বন্দ্বী শিব্বির আহমদ পেয়েছেন ৩৬ ভোট। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সাধারণ সম্পাদক পদের সাতজনের লড়াইয়ে মো. স্বপন পাটওয়ারী ২২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। এই পদে অন্য প্রার্থীদের মধ্যে আলমগীর হোসেন ১৬ ভোট, মনির হোসেন মাহী ১৪ ভোট, আনিছ আহম্মদ ১২ ভোট, সালেহ আহম্মদ ৭ ভোট, মাকছুদুর রহমান ৫ ভোট এবং মো. ইলিয়াছ কাঞ্চন ৩ ভোট পেয়েছেন। সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে মো. আবদুর রহিম ৩৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন, অন্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে রিয়াজ উদ্দিন পেয়েছেন ৩১ ভোট এবং মো. জিয়াউর রহমান পেয়েছেন ৯ ভোট। সাংগঠনিক সম্পাদক পদে মিজানুর রহমান ৪৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন এবং প্রতিদ্বন্দ্বী মো. জাবেদ আলম পেয়েছেন ৩৬ ভোট। কোষাধ্যক্ষ পদে ইমাম হোসেন মুরাদ ৩৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন, যেখানে অন্য প্রার্থীদের মধ্যে মো. ইউনুছ ২৬ ভোট এবং নাজমুল আলম কামাল ১৭ ভোট পেয়েছেন। দপ্তর সম্পাদক পদে আনিছুর রহমান সজীব ৪৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন এবং প্রতিদ্বন্দ্বী মো. নুর হোসেন পেয়েছেন ৩৩ ভোট। কার্যকরী সদস্য পদে ৫ জন প্রার্থীর মধ্যে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে প্রথম তিনজন নির্বাচিত হয়েছেন। তারা হলেন যথাক্রমে— নূরুজ্জামান (৫৪ ভোট), রহমত উল্যাহ (৪২ ভোট) এবং আবদুল মন্নান কাওয়াল (৪০ ভোট)। এই পদের অন্য দুই প্রতিদ্বন্দ্বী সিরাজুল ইসলাম ৩৯ ভোট এবং শ্রী কল্যান চক্রবর্তী ২৯ ভোট পেয়েছেন। দীর্ঘ সময় পর নির্বাচন হওয়ায় সাব-রেজিস্ট্রার অফিস প্রাঙ্গণে প্রার্থী ও সমর্থকদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়। ফলাফল ঘোষণার পর নবনির্বাচিত প্রতিনিধিরা সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটি সমিতির উন্নয়ন, দলিল লেখকদের পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি ও সাধারণ সদস্যদের স্বার্থ রক্ষায় দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।
ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনাকে কেবল মাঠের খেলা বা আনন্দ ও উল্লাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তা প্রকৃতির কল্যাণে নিয়োজিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ফুটবলপ্রেমীরা। ‘আর্জেন্টিনা ফ্যানস ফর নেচার’ নামক সংগঠনের উদ্যোগে আজ শনিবার (২০ জুন) সুবর্ণচরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও চারা বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার জন্য শুভকামনা জানিয়ে চার হাজার গাছের চারা রোপণের কর্মসূচি নিয়ে দেশব্যাপী এই আয়োজনের শুরু। কর্মসূচির অংশ হিসেবে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন জেলায় ২৬০০ গাছের চারা রোপণ ও বিতরণ করা হয়েছে। এ উপলক্ষে এদিন বিকেলে সুবর্ণচর উপজেলার গ্রিন ফিউচার স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রাঙ্গণে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন চন্দ্রকলি ফাউন্ডেশনের সভাপতি শাখাওয়াত উল্লাহ। আলোচনায় অংশ নেন- গ্রিন ফিউচার স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাডেমিক ডিরেক্টর মো. নুর নবী, সুবর্ণচর প্রেসক্লাবের সভাপতি কামাল উদ্দিন। অনুষ্ঠানে আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের দুই শতাধিক সমর্থকের মধ্যে সর্বোচ্চ ১০টি করে ফলদ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হয়। সংগঠকরা জানান, বিশ্বকাপ উন্মাদনার ইতিবাচক জোয়ারকে কাজে লাগিয়ে তারা তরুণ প্রজন্মকে পরিবেশ সচেতন করে তুলতে চান। প্রকৃতি ও গাছের সঙ্গে মিশে থেকে মানুষের মনোবল বৃদ্ধি ও পরিবেশকে আরও মনোরম করে তোলাই এই কর্মসূচির লক্ষ্য। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশকে সবুজে সাজিয়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন সমর্থকেরা। কর্মসূচিতে ৫০টি ভিন্ন প্রজাতির এক হাজার গাছের চারা বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে আম, জাম, কাঁঠাল, নারকেল, ডেউয়া, গোলাপজাম, কাঠ বাদাম, বক্স বাদাম, চাপালিশ, মহুয়া, শজনে, জারুল, কৃষ্ণচূড়া, সোনালু, বহেরা, অর্জুন, আমলকী, ডালিম, বেল ও ঔষধি গুণের নিমগাছ। সংগঠনের নিয়ম অনুযায়ী, প্রত্যেকে সর্বোচ্চ ১০টি করে চারা সংগ্রহ করতে পারছেন। কমপক্ষে ২০০ সমর্থকের মধ্যে এই চারা বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন চন্দ্রকলির পক্ষ থেকে জানানো হয়, কেবল বিশ্বকাপ নয়, তারা যে কোনো সামাজিক ও পারিবারিক অনুষ্ঠানেও গাছ লাগাতে উদ্বুদ্ধ করে, যেমন বিয়ে, জন্মদিন কিংবা কারও মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মারক বৃক্ষরোপণ। এমনকি মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জন্ম নেওয়া শিশুদের পরিবারকে গত পাঁচ বছরে তারা প্রায় দুই হাজার চারা উপহার দিয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে তারা তালিকা তৈরি করে রাখে এবং বর্ষা আসা মাত্রই সেসব চারা বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে চন্দ্রকলির সভাপতি শাখাওয়াত উল্লাহ ঘোষণা দেন, আর্জেন্টিনা যদি এবারের বিশ্বকাপ জেতে, তবে দেশজুড়ে তার সংগঠনের উদ্যোগে আরও ৪০ হাজার গাছের চারা রোপণ করা হবে।

বাবা শব্দটি ছোট, তবে এর অর্থ অনেক বিস্তৃত। বাবা শব্দের মাঝেই জড়িয়ে আছে ভালোবাসা, মায়া, নির্ভরতা। আর তাই প্রত্যেক বাবাকে শ্রদ্ধা জানাতে প্রতি বছর জুন মাসের তৃতীয় রোববার বিশ্বব্যাপী পালন করা হয় ‘বিশ্ব বাবা দিবস’। আজ রোববার (২১ জুন) বিশ্ব বাবা দিবস। সন্তানের জীবনে শক্তি, সাহস ও নির্ভরতার প্রতীক বাবাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানাতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে দিনটি। একজন বাবা শুধু পরিবারের উপার্জনকারী নন, তিনি সন্তানের প্রথম শিক্ষক, প্রথম নায়ক এবং জীবনের কঠিন সময়ে সবচেয়ে বড় আশ্রয়। নিজের স্বপ্ন, ইচ্ছা ও আরাম বিসর্জন দিয়ে সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার নেপথ্য কারিগর এই মানুষটিই। মায়ের ভালোবাসা প্রকাশ্য, দৃশ্যমান। কিন্তু বাবার ভালোবাসা অনেকটা নদীর গভীর স্রোতের মতো— নিঃশব্দ, অথচ প্রবল। তিনি হয়তো খুব কম বলেন, কিন্তু প্রতিটি সিদ্ধান্ত, প্রতিটি পরিশ্রম, প্রতিটি দুশ্চিন্তার ভেতর লুকিয়ে থাকে পরিবারের প্রতি অসীম দায়িত্ববোধ। বিশ্ব বাবা দিবসের সূচনা যুক্তরাষ্ট্রে। বাবা দিবসকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দিতে অগ্রণী ভূমিকা রয়েছে সনোরা স্মার্ট ডড নামে এক নারীর। ১৯০৯ সালের আগে ওয়াশিংটনে বাবা দিবস বলে কোনও বিশেষ দিন ছিল না। সে সময় স্থানীয় গির্জায় ডড মা দিবস পালনের কথা শোনেন। মা দিবস পালনের রীতি রয়েছে কিন্তু বাবা দিবস পালনের রীতি নেই জেনে তিনি ভীষণ অবাক হন। তারপর তিনি বাবা দিবসের স্বীকৃতির জন্য সোচ্চার হয়ে ওঠেন। ডড তার বাবাকে অসম্ভব ভালোবাসতেন। মা ছিল না তার। মায়ের মৃত্যুর পর শত দুঃখ-কষ্টের মধ্যে থেকেও তাদের সাত ভাইবোনকে বড় করে তুলেছিলেন তাদের সিঙ্গেল বাবা। বাবার এই ত্যাগ দেখে ডডের মনে হলো, মা দিবসের এত আয়োজন হলে বাবা দিবস কেন বাদ থাকবে। বাবাকে সম্মান জানানোর জন্যও একটা দিন থাকা দরকার। তারপর অনেক চেষ্টা করে দীর্ঘ এক বছরের সাধনায় স্থানীয় কমিউনিটিগুলোতে বাবা দিবস পালন করতে পারেন ডড। ১৯১০ সালের ১৯ জুন বিশ্বে প্রথমবারের মতো পালিত হয় বাবা দিবস। বিশেষ এই দিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাবাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ, শুভেচ্ছা ও ভালোবাসার বার্তায় ভরে উঠেছে মানুষের টাইমলাইন। কেউ তুলে ধরছেন বাবার সংগ্রামের গল্প, কেউ আবার জানাচ্ছেন কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাবাকে নিয়ে ছবি, স্মৃতি আর আবেগঘন কথার ভিড়ে হয়তো অনেকেই বাবাকে নতুন করে ভাবছেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো— আমরা কি সত্যিই বাবাকে বুঝতে পারি? সংসারের সবচেয়ে নির্ভরতার মানুষটিকে আমরা কতটা দেখি? বাংলা সমাজে বাবাদের একটি অদ্ভুত চরিত্র দেখা যায়। তারা নিজের কষ্ট খুব কমই প্রকাশ করেন। সংসারের বাজার, সন্তানের পড়াশোনা, ভবিষ্যতের চিন্তা, চিকিৎসা কিংবা সামাজিক দায়িত্ব— সবকিছু নিজের কাঁধে নিয়ে নীরবে চলতে থাকেন। অনেক সময় পরিবারের মানুষ বুঝতেও পারেন না, একজন বাবা কতটা চাপের মধ্যে দিন কাটান। আমাদের আশপাশে এমন অসংখ্য বাবা আছেন, যারা নিজের ইচ্ছা-স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে সন্তানের স্বপ্ন গড়ে তুলেছেন। হয়তো নিজের জন্য নতুন পোশাক কেনেননি, কিন্তু সন্তানের বই কিনতে কার্পণ্য করেননি। হয়তো নিজের চিকিৎসা পিছিয়ে দিয়েছেন, কিন্তু সন্তানের কোচিং ফি ঠিকই দিয়েছেন। এই আত্মত্যাগের হিসাব কোনো দিন লেখা হয় না। বাবাদের আবেগ নিয়ে আমাদের সমাজে এক ধরনের নীরব নিষেধাজ্ঞাও আছে। ছোটোবেলা থেকেই তাদের শেখানো হয়— পুরুষ মানুষ কাঁদে না। ফলে একজন বাবা নিজের ভয়, ব্যর্থতা কিংবা মানসিক ক্লান্তি কাউকে বলতে পারেন না। সংসারের সামনে তাকে সব সময় দৃঢ় থাকতে হয়। অথচ তিনিও মানুষ। তারও ক্লান্তি আছে, ভাঙন আছে, না বলা কষ্ট আছে। একসময় পরিবারে সন্ধ্যার আড্ডা ছিল, একসঙ্গে খাওয়ার অভ্যাস ছিল। এখন সবাই ব্যস্ত নিজের স্ক্রিনে। ফলে বাবার নীরব উপস্থিতিটাও অনেক সময় অদৃশ্য হয়ে যায়। বিশ্ব বাবা দিবস তাই কেবল আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছার দিন নয়; এটি একজন বাবার নীরব অবদানকে স্বীকার করার দিন। যে মানুষটি হয়তো কখনও বলেননি ‘আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি, কিন্তু প্রতিটি কাজে তা প্রমাণ করেছেন। আমাদের সমাজে বাবা-মাকে নিয়ে আবেগ প্রকাশের সংস্কৃতি খুব বেশি নেই। বিশেষ করে বাবার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতে অনেকেই সংকোচবোধ করেন। অথচ একটি ফোনকল, একটি ধন্যবাদ, কিংবা পাশে বসে কিছু সময় কাটানো— এগুলোই একজন বাবার জন্য সবচেয়ে বড় উপহার হতে পারে। যাদের বাবা বেঁচে আছেন, তারা হয়তো আজ একটু সময় দিতে পারেন। বাবার সঙ্গে বসে কথা বলতে পারেন, জানতে পারেন তিনি কেমন আছেন। আর যাদের বাবা নেই, তাদের জন্য দিনটি স্মৃতির। হয়তো পুরোনো কোনো ছবি, কোনো উপদেশ কিংবা শৈশবের কোনো মুহূর্ত আজ নতুন করে মনে পড়বে। বাবারা সাধারণত জীবনের শেষ বয়সে সবচেয়ে বেশি একাকী হয়ে পড়েন। সন্তান বড় হয়ে ব্যস্ত হয়ে যায়, সংসারের ব্যস্ততা বাড়ে। কিন্তু যে মানুষটি একসময় পুরো পরিবারকে আগলে রেখেছিলেন, তিনিই ধীরে ধীরে নীরব হয়ে যান। এই বাস্তবতা আমাদের ভাবায়। বিশ্ব বাবা দিবসে তাই শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট নয়, প্রয়োজন সম্পর্কের পুনর্জাগরণ। বাবাকে বোঝা, তার ক্লান্তি উপলব্ধি করা, তার নীরব ভালোবাসাকে সম্মান করা— এটাই হোক আজকের প্রতিজ্ঞা। কারণ পৃথিবীর অনেক সম্পর্ক শব্দে প্রকাশ পায়, কিন্তু বাবার ভালোবাসা প্রকাশ পায় দায়িত্বে। আর সেই দায়িত্বের ভেতরেই লুকিয়ে থাকে এক অনন্ত ভালোবাসার গল্প।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আগামী পাঁচ দিন বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণও হতে পারে। আজ শুক্রবার (১৯ জুন) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, শনিবার (২০ জুন) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী ও ঢাকা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে। এদিন দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে, তবে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। রবিবার (২১ জুন) রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও ভারি বর্ষণ হতে পারে। এদিন দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। সোমবার (২২ জুন) রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে। এ সময় দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে। এদিন দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে, তবে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, পরবর্তী বর্ধিত পাঁচ দিনেও বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। লঘুচাপের বর্ধিতাংশ গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এ অবস্থায় মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরের অন্যত্র দুর্বল থেকে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।

নোয়াখালীর চাটখিলে মোটরের তারে স্পর্শে মা ও ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুর সোয়া ১টার দিকে চাটখিল পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ছয়ানী টবগা গ্রামের মুনছুর মেম্বারের বাড়িতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- ছয়ানী টবগা গ্রামের খোকন চন্দ্র ঘোষের স্ত্রী অঞ্জনা রানী ঘোষ (৩৫) এবং তার ছেলে রাহুল (৮)। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুলাল চন্দ্র ঘোষসহ একাধিক মালিকানাধীন একটি পুকুর থেকে মোটর দিয়ে পানি সেচ করা হচ্ছিল। এ সময় রাহুল মোটরের তার স্পর্শ করলে বিদ্যুতায়িত হয়। ছেলেকে উদ্ধার করতে গিয়ে তার মা অঞ্জনা রানী ঘোষও বিদ্যুতায়িত হন। এতে ঘটনাস্থলেই মা-ছেলের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোন্নাফ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।