
নোয়াখালীর হাতিয়ায় পুলিশের অভিযানে ফেরিঘাটের পন্টুন থেকে ১ হাজার ৮০০ লিটার চোরাই ডিজেল ও ২০০ লিটার মবিল উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। উদ্ধারকৃত তেল ও মবিলের আনুমানিক মূল্য ৩ লাখ ২৭ হাজার টাকা। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.কবির হোসেন। এর আগে, শনিবার রাত সোয়া ১০টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার চরঈশ্বর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের নলচিরা ঘাটের পূর্ব পাশে ফেরির পন্টুনে অভিযান চালিয়ে তেল গুলো জব্দ করা হয়। গ্রেপ্তার মো. জাকের উদ্দিন (৩৫) উপজেলার চরঈশ্বর ইউনিয়নের তালুকদার গ্রামের তালুকদার গ্রামের তালুকদার বাড়ির খোরশেদ আলমের ছেলে। পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার রাত সোয়া ১০টার দিকে উপজেলার চরঈশ্বর ইউনিয়নের নলচিরা ঘাটের পূর্ব পাশে ফেরির পন্টুনে অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানের সময় শাহেদ উদ্দিন প্রকাশ তেল শাহেদ (২৮), মো. রিয়াজ উদ্দিন (৩২)সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩ থেকে ৪ জন পালিয়ে যায়। অভিযানে চারটি টিনের বড় ড্রামে ৭২০ লিটার, ৩০টি প্লাস্টিকের জারিকেনে ৯০০ লিটার এবং ৯টি জারিকেনে ১৮০ লিটার ডিজেল। এছাড়া একটি বড় ড্রামে ২০০ লিটার মবিল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ১ হাজার ৮০০ লিটার ডিজেলের আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ৭ হাজার টাকা এবং ২০০ লিটার মবিলের আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ। হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.কবির হোসেন আরও বলেন, গ্রেপ্তার আসামির হেফাজত থেকে বৈধ কাগজপত্রবিহীন ১ হাজার ৮০০ লিটার ডিজেল ও ২০০ লিটার মবিল উদ্ধার করে জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় হাতিয়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে ইয়াবাসহ এক যুবককে আটকের পর তাকে ছিনিয়ে নিতে গেলে স্বজনদের সঙ্গে স্থানীয়দের হাতাহাতি ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে উপজেলার চর হাজারী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড বিদ্যুৎ অফিসের সামনে এ ঘটনা ঘটে। আটক মো. পিয়াস (৩৫) চর হাজারী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের আবুল হাশেমের ছেলে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার রাতে এলাকার চিহ্নিত মাদককারবারি পিয়াস ও রাজু নামে দুই যুবকের গতিবিধি দেখে সন্দেহ হলে স্থানীয় লোকজন তাদেরকে ধাওয়া করে। এ সময় রাজু পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও পিয়াসকে আটক করে এলাকার লোকজন। নোয়াখালীতে আটক মাদক কারবারিকে ছাড়িয়ে নিতে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া বেরোবিতে ছাত্রদল-শিবিরের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটি পরে স্থানীয় রহমতের দোকানে তার দেহ তল্লাশি করে ৫২ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে উপস্থিত এলাকাবাসী। এ সময় পিয়াসকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তার সহযোগীদের নাম বের করার চেষ্টা করে এলাকার লোকজন। এদিকে পিয়াসকে আটকের খবর পেয়ে তার পরিবারের সদস্যরা এসে অতর্কিতে তাকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে তাদের হাতাহাতি ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ নুরুল হাকিম কালবেলাকে বলেন, ‘খবর পেয়ে রাত ১১টার দিকে কোম্পানীগঞ্জ থানার এসআই আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পিয়াসকে তাদের হেফাজতে নেন। এ সময় তার কাছ থেকে ৫২ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। তার বিরুদ্ধে মাদক আইনে কোম্পানীগঞ্জ থানায় ইতোপূর্বের একটি মামলা রয়েছে। এছাড়া পালিয়ে যাওয়ার রাজুর বিরুদ্ধে একই থানায় ৫টি মামলা রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘এ ঘটনায় ওই রাতে এসআই আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে পিয়াসের বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা দায়ের করে। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে নোয়াখালী চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রেরণ করা হয়। পরে আদালত তাকে কারাগারে প্রেরণ করার নির্দেশ দেন। এরপর আসামিকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।’

নোয়াখালীর হাতিয়ায় শ্রেণিকক্ষে হঠাৎ ঝাঁঝালো গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার পর একে একে ২৭ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এরমধ্যে ১৫ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য ১২ শিক্ষার্থীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার তমরদ্দি জোড়খালী উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। অসুস্থ শিক্ষার্থীরা সবাই ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো সকাল ১০টার দিকে বিদ্যালয়ে পাঠদান শুরু হয়। এর প্রায় এক ঘণ্টা পর সপ্তম শ্রেণির চার ছাত্রী হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়ে। পরে তাদের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হলে জ্ঞান ফিরে আসে। এর কিছুক্ষণ পর অন্যান্য শ্রেণিকক্ষেও ১৫ থেকে ২০ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং কয়েকজন অজ্ঞান হয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় অসুস্থ শিক্ষার্থীদের হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে ১৫ জনকে ভর্তি করা হয়। অসুস্থদের মধ্যে ফাতেমা বেগম (১২), নিপা আক্তার (১২), মেহেরাব উদ্দিন (১১), ফারহানা আক্তার (১২), জামেলা বেগম (১৪), সুরাইয়া আক্তার (১৩) ও পারভিন আক্তারসহ (১৫) আরো কয়েকজন রয়েছে। তাদের সবার বাড়ি তমরদ্দি জোড়খালী গ্রামে। হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত উপসহকারী মেডিকেল অফিসার মানসুর উদ্দিন জানান, দুপুর ২টা পর্যন্ত হাসপাতালে মোট ১০ জন শিক্ষার্থীকে আনা হয়েছিল। তাদের সবাইকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের তখনো জ্ঞান ফেরেনি। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জসীমউদ্দিন জানান, প্রথমে যে শিক্ষার্থীরা অজ্ঞান হয়েছিল, তাদের বাড়িতে পাঠানোর পর জ্ঞান ফিরে আসে। পরে আরো কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। তবে কী কারণে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ বা অজ্ঞান হয়েছে তা তিনি নিশ্চিত করে বলতে পারেননি। হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. রবিউল ইসলাম নিলয় বলেন, অসুস্থ শিক্ষার্থীদের অবস্থা সংকটাপন্ন কি না তা ১২ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণের পর বলা যাবে। অনেকের এখনো পুরোপুরি জ্ঞান ফেরেনি। তাদের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। রোগীর অভিভাবক ও শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে শ্রেণিকক্ষে ঝাঁঝালো গন্ধ থাকার বিষয়টি জানা গেছে। এদিকে খবর পেয়ে অসুস্থ শিক্ষার্থীদের দেখতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছুটে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল ইকবাল ও হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন। এ সময় হাসপাতালে অসুস্থ শিক্ষার্থীদের দেখতে স্বজন ও সাধারণ মানুষের ভিড় জমে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাসপাতাল এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়। তবে শ্রেণিকক্ষে কী ধরনের ঝাঁঝালো গন্ধ ছড়িয়েছিল এবং এর উৎস কী তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে।

নোয়াখালী সদর উপজেলাধীন দত্তেরহাট বাজারে অবস্থিত নোয়াখালী ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় মো. মোসলিম নামে এক শিশু মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আবুল হোসেনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আবুল হোসেনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে নোয়াখালী চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়। পরে সদর কোর্টের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. হামিদুল ইসলাম তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। মো. মোসলিম (১২) লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরবসু গ্রামের মাহফুজুর রহমানের ছেলে। গত শনিবার বিকেলে সমবয়সীদের সঙ্গে খেলার সময় অন্য এক শিশুর আঘাতে তার চোখে রক্ত জমে ফুলে যায়। পরে স্বজনরা তাকে নোয়াখালী সদর উপজেলার দত্তেরহাটের নোয়াখালী ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে নিয়ে যান। স্বজনদের অভিযোগ, সেখানে হাসপাতালের এমডি আবুল হোসেন শিশুটিকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে চোখে তিনটি ইনজেকশন দেন। এর কিছুক্ষণ পর শিশুটির মুখ দিয়ে ফেনা বের হয়ে সে অচেতন হয়ে পড়ে। পরে তাকে ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর আবুল হোসেনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। রোববার বিকেল সাড়ে ৪টায় নিহত শিশুর ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্যারামেডিকস ও দত্তেরহাটের নোয়াখালী ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল হোসেন অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বলেন, চোখের ওপরের ও নিচের পাতায় লোকাল অ্যানেসথেসিয়ার ড্রপ দেওয়া হয়েছিল। চিকিৎসকের মতে, এ ধরনের অ্যানেসথেসিয়ার কারণে মৃত্যুর কোনো আশঙ্কা নেই। জেলা সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ার হোসেন বলেন, ঘটনার পর হাসপাতালটি পরিদর্শন করে সিলগালা করে দিয়েছি। ঘটনা তদন্তে নোয়াখালী সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাঈমা নুসরাত জাবিন চৌধুরীকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। সুধারাম মডেল থানার ওসি মো. নজরুল ইসলাম বলেন, আবুল হোসেনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। নিহত শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগের জন্য অপেক্ষা করা হলেও তারা সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করায় তাকে আপাতত ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার চাইলে পরবর্তী সময় মামলা করতে পারবে।

একটি ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে বাসিন্দাদের দিকে আগ্নেয়াস্ত্র তাক করে আছেন এক যুবক। তাঁর পাশে আরও কয়েকজন যুবক। তাঁদের কেউ লাঠি হাতে কাউকে মারধর করছেন, কেউ আবার ইট ছুড়ছেন ঘরটির দিকে। অস্ত্র তাক করে রাখা ব্যক্তির উদ্দেশে একজন চিৎকার করে কিছুক্ষণ পরপর বলছেন, ‘গুলি কর, গুলি কর।’ এ সময় ঘরটির ভেতরে আর্তনাদ করছেন কয়েকজন নারী। এমন ঘটনার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার বেলা আড়াইটার দিকে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার আমানউল্যাপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৬ নম্বর ওয়ার্ডের লাকুড়িয়াকান্দি পাটোয়ারী বাড়িতে ঘটনাটি ঘটেছে। পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ঘটেছে ঘটনাটি। লাকুড়িয়াকান্দি পাটোয়ারী বাড়ির বাসিন্দা দুই ভাই মজিব উল্যাহ ও শরিফ উল্যাহর মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে বাড়ির জায়গাজমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। ইউপি চেয়ারম্যান-সদস্যসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের চেষ্টায় বিষয়টি একাধিকবার সমাধানের চেষ্টা করা হয়। তবে দুজনের মধ্যে বিরোধের নিষ্পত্তি হয়নি। বিরোধের জেরে গতকাল দুপুরে দুই পক্ষের মধ্যে ঝগড়াঝাঁটি হয়। এর জেরে মজিব উল্যাহর পরিবারের সদস্যরা বহিরাগত সন্ত্রাসীদের নিয়ে এসে শরিফ উল্যাহর ঘরে হামলা চালান। হামলাকারীদের লাঠির আঘাত ও ছুড়ে মারা ইটপাটকেলে শরিফ উল্যাহর পরিবারের চার সদস্য আহত হয়েছেন। বাসিন্দারা জানান, বহিরাগত সন্ত্রাসীদের একজন আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে আসায় এলাকায় আতঙ্ক দেখা দেয়। এলোপাতাড়ি গুলিও ছুড়েছেন তিনি। তবে কারও গায়ে গুলি লাগেনি। মুখোশ পরে ঘটনাস্থলে আসেন ওই অস্ত্রধারী। বহিরাগত ব্যক্তিদের মধ্যে আরও কয়েকজনকে মুখোশ পরে হামলায় অংশ নিতে দেখা গেছে। বাসিন্দারা জানান, বহিরাগত সন্ত্রাসীদের একজন আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে আসায় এলাকায় আতঙ্ক দেখা দেয়। এলোপাতাড়ি গুলিও ছুড়েছেন তিনি। তবে এতে কেউ আহত হননি। মুখোশ পরে ঘটনাস্থলে আসেন ওই অস্ত্রধারী। বহিরাগতদের মধ্যে আরও কয়েকজনকে মুখোশ পরে হামলায় অংশ নিতে দেখা গেছে। জানতে চাইলে আমানউল্যাপুর ইউপির চেয়ারম্যান মো. বাহরুল আলম ওরফে সুমনও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, এক পক্ষ বহিরাগত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী এনে প্রতিপক্ষের ওপর হামলা এবং বাড়িঘরে ভাঙচুর করেছে। হামলাকারীদের একজন আগ্নেয়াস্ত্র হাতে প্রকাশ্যে গুলি করেছেন। তিনজন গ্রেপ্তার হামলার ঘটনায় রাতে মামলা করেন শরিফ উল্যাহর ছেলে মোবারক উল্যাহ। এরপর পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁরা হলেন মো. ইসরাফিল (৩৪), মজিব উল্যাহ (৬৫) ও তোফায়েল আহমেদ (৬০)। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ইসরাফিলই আগ্নেয়াস্ত্র হাতে নিয়ে ঘটনাস্থলে ছিলেন। জানতে চাইলে বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান বলেন, পারিবারিক এবং সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। এ সময় অস্ত্র উঁচিয়ে সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা ও আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়েছে। তবে গুলি ছোড়ার বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ওসি আরও বলেন, ভাইরাল হওয়া অডিও-ভিডিও পর্যালোচনা করে হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত ব্যক্তি, যাঁর হাতে অস্ত্র ছিল, তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া দুজন গ্রেপ্তার হয়েছেন। অন্যদের ধরতে পুলিশের অভিযান চলমান
নোয়াখালীর হাতিয়ায় পুলিশের অভিযানে ফেরিঘাটের পন্টুন থেকে ১ হাজার ৮০০ লিটার চোরাই ডিজেল ও ২০০ লিটার মবিল উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। উদ্ধারকৃত তেল ও মবিলের আনুমানিক মূল্য ৩ লাখ ২৭ হাজার টাকা। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.কবির হোসেন। এর আগে, শনিবার রাত সোয়া ১০টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার চরঈশ্বর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের নলচিরা ঘাটের পূর্ব পাশে ফেরির পন্টুনে অভিযান চালিয়ে তেল গুলো জব্দ করা হয়। গ্রেপ্তার মো. জাকের উদ্দিন (৩৫) উপজেলার চরঈশ্বর ইউনিয়নের তালুকদার গ্রামের তালুকদার গ্রামের তালুকদার বাড়ির খোরশেদ আলমের ছেলে। পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার রাত সোয়া ১০টার দিকে উপজেলার চরঈশ্বর ইউনিয়নের নলচিরা ঘাটের পূর্ব পাশে ফেরির পন্টুনে অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানের সময় শাহেদ উদ্দিন প্রকাশ তেল শাহেদ (২৮), মো. রিয়াজ উদ্দিন (৩২)সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩ থেকে ৪ জন পালিয়ে যায়। অভিযানে চারটি টিনের বড় ড্রামে ৭২০ লিটার, ৩০টি প্লাস্টিকের জারিকেনে ৯০০ লিটার এবং ৯টি জারিকেনে ১৮০ লিটার ডিজেল। এছাড়া একটি বড় ড্রামে ২০০ লিটার মবিল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ১ হাজার ৮০০ লিটার ডিজেলের আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ৭ হাজার টাকা এবং ২০০ লিটার মবিলের আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ। হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.কবির হোসেন আরও বলেন, গ্রেপ্তার আসামির হেফাজত থেকে বৈধ কাগজপত্রবিহীন ১ হাজার ৮০০ লিটার ডিজেল ও ২০০ লিটার মবিল উদ্ধার করে জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় হাতিয়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে ইয়াবাসহ এক যুবককে আটকের পর তাকে ছিনিয়ে নিতে গেলে স্বজনদের সঙ্গে স্থানীয়দের হাতাহাতি ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে উপজেলার চর হাজারী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড বিদ্যুৎ অফিসের সামনে এ ঘটনা ঘটে। আটক মো. পিয়াস (৩৫) চর হাজারী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের আবুল হাশেমের ছেলে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার রাতে এলাকার চিহ্নিত মাদককারবারি পিয়াস ও রাজু নামে দুই যুবকের গতিবিধি দেখে সন্দেহ হলে স্থানীয় লোকজন তাদেরকে ধাওয়া করে। এ সময় রাজু পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও পিয়াসকে আটক করে এলাকার লোকজন। নোয়াখালীতে আটক মাদক কারবারিকে ছাড়িয়ে নিতে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া বেরোবিতে ছাত্রদল-শিবিরের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটি পরে স্থানীয় রহমতের দোকানে তার দেহ তল্লাশি করে ৫২ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে উপস্থিত এলাকাবাসী। এ সময় পিয়াসকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তার সহযোগীদের নাম বের করার চেষ্টা করে এলাকার লোকজন। এদিকে পিয়াসকে আটকের খবর পেয়ে তার পরিবারের সদস্যরা এসে অতর্কিতে তাকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে তাদের হাতাহাতি ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ নুরুল হাকিম কালবেলাকে বলেন, ‘খবর পেয়ে রাত ১১টার দিকে কোম্পানীগঞ্জ থানার এসআই আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পিয়াসকে তাদের হেফাজতে নেন। এ সময় তার কাছ থেকে ৫২ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। তার বিরুদ্ধে মাদক আইনে কোম্পানীগঞ্জ থানায় ইতোপূর্বের একটি মামলা রয়েছে। এছাড়া পালিয়ে যাওয়ার রাজুর বিরুদ্ধে একই থানায় ৫টি মামলা রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘এ ঘটনায় ওই রাতে এসআই আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে পিয়াসের বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা দায়ের করে। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে নোয়াখালী চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রেরণ করা হয়। পরে আদালত তাকে কারাগারে প্রেরণ করার নির্দেশ দেন। এরপর আসামিকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।’

নোয়াখালীর হাতিয়ায় শ্রেণিকক্ষে হঠাৎ ঝাঁঝালো গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার পর একে একে ২৭ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এরমধ্যে ১৫ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য ১২ শিক্ষার্থীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার তমরদ্দি জোড়খালী উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। অসুস্থ শিক্ষার্থীরা সবাই ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো সকাল ১০টার দিকে বিদ্যালয়ে পাঠদান শুরু হয়। এর প্রায় এক ঘণ্টা পর সপ্তম শ্রেণির চার ছাত্রী হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়ে। পরে তাদের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হলে জ্ঞান ফিরে আসে। এর কিছুক্ষণ পর অন্যান্য শ্রেণিকক্ষেও ১৫ থেকে ২০ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং কয়েকজন অজ্ঞান হয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় অসুস্থ শিক্ষার্থীদের হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে ১৫ জনকে ভর্তি করা হয়। অসুস্থদের মধ্যে ফাতেমা বেগম (১২), নিপা আক্তার (১২), মেহেরাব উদ্দিন (১১), ফারহানা আক্তার (১২), জামেলা বেগম (১৪), সুরাইয়া আক্তার (১৩) ও পারভিন আক্তারসহ (১৫) আরো কয়েকজন রয়েছে। তাদের সবার বাড়ি তমরদ্দি জোড়খালী গ্রামে। হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত উপসহকারী মেডিকেল অফিসার মানসুর উদ্দিন জানান, দুপুর ২টা পর্যন্ত হাসপাতালে মোট ১০ জন শিক্ষার্থীকে আনা হয়েছিল। তাদের সবাইকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের তখনো জ্ঞান ফেরেনি। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জসীমউদ্দিন জানান, প্রথমে যে শিক্ষার্থীরা অজ্ঞান হয়েছিল, তাদের বাড়িতে পাঠানোর পর জ্ঞান ফিরে আসে। পরে আরো কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। তবে কী কারণে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ বা অজ্ঞান হয়েছে তা তিনি নিশ্চিত করে বলতে পারেননি। হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. রবিউল ইসলাম নিলয় বলেন, অসুস্থ শিক্ষার্থীদের অবস্থা সংকটাপন্ন কি না তা ১২ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণের পর বলা যাবে। অনেকের এখনো পুরোপুরি জ্ঞান ফেরেনি। তাদের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। রোগীর অভিভাবক ও শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে শ্রেণিকক্ষে ঝাঁঝালো গন্ধ থাকার বিষয়টি জানা গেছে। এদিকে খবর পেয়ে অসুস্থ শিক্ষার্থীদের দেখতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছুটে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল ইকবাল ও হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন। এ সময় হাসপাতালে অসুস্থ শিক্ষার্থীদের দেখতে স্বজন ও সাধারণ মানুষের ভিড় জমে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাসপাতাল এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়। তবে শ্রেণিকক্ষে কী ধরনের ঝাঁঝালো গন্ধ ছড়িয়েছিল এবং এর উৎস কী তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে।

নোয়াখালী সদর উপজেলাধীন দত্তেরহাট বাজারে অবস্থিত নোয়াখালী ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় মো. মোসলিম নামে এক শিশু মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আবুল হোসেনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আবুল হোসেনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে নোয়াখালী চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়। পরে সদর কোর্টের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. হামিদুল ইসলাম তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। মো. মোসলিম (১২) লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরবসু গ্রামের মাহফুজুর রহমানের ছেলে। গত শনিবার বিকেলে সমবয়সীদের সঙ্গে খেলার সময় অন্য এক শিশুর আঘাতে তার চোখে রক্ত জমে ফুলে যায়। পরে স্বজনরা তাকে নোয়াখালী সদর উপজেলার দত্তেরহাটের নোয়াখালী ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে নিয়ে যান। স্বজনদের অভিযোগ, সেখানে হাসপাতালের এমডি আবুল হোসেন শিশুটিকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে চোখে তিনটি ইনজেকশন দেন। এর কিছুক্ষণ পর শিশুটির মুখ দিয়ে ফেনা বের হয়ে সে অচেতন হয়ে পড়ে। পরে তাকে ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর আবুল হোসেনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। রোববার বিকেল সাড়ে ৪টায় নিহত শিশুর ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্যারামেডিকস ও দত্তেরহাটের নোয়াখালী ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল হোসেন অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বলেন, চোখের ওপরের ও নিচের পাতায় লোকাল অ্যানেসথেসিয়ার ড্রপ দেওয়া হয়েছিল। চিকিৎসকের মতে, এ ধরনের অ্যানেসথেসিয়ার কারণে মৃত্যুর কোনো আশঙ্কা নেই। জেলা সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ার হোসেন বলেন, ঘটনার পর হাসপাতালটি পরিদর্শন করে সিলগালা করে দিয়েছি। ঘটনা তদন্তে নোয়াখালী সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাঈমা নুসরাত জাবিন চৌধুরীকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। সুধারাম মডেল থানার ওসি মো. নজরুল ইসলাম বলেন, আবুল হোসেনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। নিহত শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগের জন্য অপেক্ষা করা হলেও তারা সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করায় তাকে আপাতত ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার চাইলে পরবর্তী সময় মামলা করতে পারবে।
চৌমুহনীতে মাদক ও কিশোর অপরাধকে লাল কার্ড দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের শপথ নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে মাদক, কিশোর অপরাধ ও স্মার্টফোনের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরিতে ব্যতিক্রমী কর্মসূচি পালন করেছে শিক্ষার্থীরা। এ সময় মাদক ও সামাজিক অপরাধকে ‘না’ বলার পাশাপাশি উন্নত চরিত্র গঠনের শপথ নেয় তারা।বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বেগমগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের হলরুমে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন লাল সবুজ উন্নয়ন সংঘের উদ্যোগে সচেতনতামূলক আলোচনা সভা ও চরিত্র গঠনের শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কায়েসুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নোয়াখালী পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিন। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেগমগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আ ন ম ইমরান খান এবং বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান।পরে পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিন শিক্ষার্থীদের উন্নত চরিত্র গঠন, মাদক ও কিশোর অপরাধ থেকে দূরে থাকা এবং স্মার্টফোনের অপব্যবহার না করার শপথ পাঠ করান।আয়োজক সংগঠনটি জানায়, শিক্ষার্থীদের টিফিনের টাকা সাশ্রয় করে পরিচালিত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন লাল সবুজ উন্নয়ন সংঘ গত ১৫ বছর ধরে দেশের ৬৪ জেলায় শিক্ষার্থীদের সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে। বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে গঠিত সংগঠনটি এ পর্যন্ত প্রায় ৪৫ লাখ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে উদ্বুদ্ধ করেছে।
নোয়াখালীকে পৃথক বিভাগ ঘোষণার দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করেছেন আন্দোলনকারীরা। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে শাহবাগে অবস্থান নেন তারা। এতে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়ে আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।জুমার নামাজ শেষে বিকেল ৩টার দিকে চকবাজার চক মসজিদ থেকে শাহবাগের উদ্দেশে মিছিল নিয়ে রওনা হন আন্দোলনকারীরা। প্রায় ৪৫ মিনিট পর তারা শাহবাগে পৌঁছে সড়ক অবরোধ করে অবস্থান নেন। এ সময় নোয়াখালীকে দ্রুত পৃথক বিভাগ ঘোষণার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন আন্দোলনকারীরা। তাদের দাবি, দীর্ঘদিনের এই দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন করে নোয়াখালীকে পৃথক বিভাগ হিসেবে ঘোষণা আন্দোলনকারীরা বলেন, নোয়াখালীকে বিভাগ ঘোষণা করা হলে প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং বৃহত্তর এলাকার মানুষের নাগরিক সেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়বে।এদিকে আন্দোলনকারীদের সড়ক অবরোধের কারণে শাহবাগ দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এর প্রভাব পড়ে আশপাশের সড়কগুলোতেও। ফলে ওই এলাকায় যানজট তৈরি হয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।পরিস্থিতি সামাল দিতে আইন শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা ব্যস্ত থাকায় এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।পুলিশের সঙ্গে কথা হলে সদস্যরা জানিয়েছেন, তারা বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন। পরে বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কথা বলবেন।
নোয়াখালী জেলা পুলিশের মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ২১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় ১১২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ৪ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। সোমবার (৩১ আগস্ট) বেলা সোয়া ১১টার দিকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন নোয়াখালী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) আহমেদ পেয়ার। এর আগে, রোববার দিনব্যাপী জেলার বিভিন্ন থানা ও বিট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। জেলা পুলিশ জানায়, পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিনের সার্বিক নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে মোট ১৮টি অভিযান পরিচালনা করা হয়। গ্রেপ্তার ২১ জনের মধ্যে ২ জন মাদক ব্যবসায়ী ও ১৯ জন মাদকসেবী রয়েছেন। বেগমগঞ্জ মডেল থানার পৃথক অভিযানে ১১২ পিস ইয়াবাসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ছয়জনকে সাজা দেওয়া হয়। সেনবাগ থানায় মাদকসেবনের দায়ে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সোনাইমুড়ী থানায় ২ গ্রাম গাঁজাসহ একজনকে গ্রেপ্তার করে নিয়মিত মামলা করা হয়। কবিরহাট থানায় আরও ২ গ্রাম গাঁজাসহ একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মোবাইল কোর্ট তাকে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন। নোয়াখালী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) আহমেদ পেয়ার আরও বলেন, মাদক ব্যবসা, সরবরাহ, বহন ও সেবনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি জনসচেতনতা ও সামাজিক প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
সুধারাম মডেল থানাধীন আন্ডারচরে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প উদ্বোধন নোয়াখালী জেলার পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিন মহোদয় প্রধান অতিথি হিসেবে সুধারাম মডেল থানাধীন আন্ডারচর এলাকায় আন্ডারচর অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পের শুভ উদ্বোধন করেন। অদ্য রবিবার পুলিশ সুপার মহোদয় ফিতা কেটে ক্যাম্পটির উদ্বোধন করেন। উল্লেখ্য, আন্ডারচর, চরমটুয়া ও কালাদরফ—এই ৩টি ইউনিয়নের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, অপরাধ প্রতিরোধ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও পুলিশি সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আন্ডারচরে এ অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। ক্যাম্প উদ্বোধন শেষে সুধারাম মডেল থানার ওসি নজরুল ইসলাম-এর সভাপতিত্বে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিন বলেন, একটি শান্ত ও নিরাপদ সমাজ বিনির্মাণে পুলিশ প্রশাসন ও জনগণের পারস্পরিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আন্ডারচর এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা, অপরাধ দমন এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। পুলিশ সুপার মহোদয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ দমন এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে পুলিশ ও জনগণের সমন্বিত ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ লিয়াকত আকবর, শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার নোয়াখালী,ড. মোঃ নূরুল হুদা ভূঁইয়া, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।

সীমান্ত সুরক্ষায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ভূমিকার প্রশংসা করে চোরাচালান, মাদক ও মানব পাচারসহ পুশইন ও সীমান্ত হত্যা বন্ধে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে তিনি সীমান্ত রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে বিজিবির (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) কাজের প্রশংসাও করেন। গতকাল সোমবার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীর সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান। সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবিতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সংযোজনের উদ্যোগেরও প্রশংসা করেন রাষ্ট্রপ্রধান। এ বিষয়ে বিজিবিকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি। সাক্ষাতে বিজিবি মহাপরিচালক রাষ্ট্রপতিকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। তিনি বিজিবির সার্বিক কার্যক্রম এবং সীমান্তে নজরদারি বাড়াতে অত্যাধুনিক ড্রোন ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। রাষ্ট্রপতির সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে নোবিপ্রবি উপাচার্যের সাক্ষাৎ: সোমবার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। সাক্ষাৎকালে নোবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান। তিনি রাষ্ট্রপতির সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সফলতা কামনা করেন। এ সময় উপাচার্য নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও সামগ্রিক অগ্রগতি সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। দেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার বিকাশে নোবিপ্রবির অবদান, বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও তিনি আলোচনা করেন। সাক্ষাৎকালে আগামী ২৪ জানুয়ারি ২০২৭ নোবিপ্রবির তৃতীয় সমাবর্তনে উপস্থিত থাকার জন্য রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আমন্ত্রণ জানান উপাচার্য। রাষ্ট্রপতি আমন্ত্রণ গ্রহণ করে সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার বিষয়ে সম্মতি জানান।

সৌদি আরবের তায়েফে মো. কামরুল হোসেন নামের এক প্রবাসী বাংলাদেশি যুবককে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পর হামলাকারী সৌদি নাগরিকও নিজের মাথায় গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেন। রোববার (৩০ আগস্ট) স্থানীয় সময় ভোর ৪টার দিকে তায়েফের হাওয়াইয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত কামরুল হোসেন (৩৭) নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কুতুবপুর গ্রামের কাজী বাড়ির খোরশেদ আলমের ছেলে। তিনি দুই ছেলের জনক ছিলেন। নিহতের চাচাতো ভাই মো. সোলেমান রাসেল বলেন, ঘটনার দিন কামরুল সুপার মার্কেটের ডিউটি শেষ করে ঘটনাস্থলের পাশে দাঁড়িয়ে তার স্ত্রীর সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলছিলেন। এসময় হঠাৎ এক অস্ত্রধারী সৌদি তরুণ কামরুলকে গুলি করে। প্রাণ বাঁচাতে কামরুল দৌড়ে কর্মস্থল সুপার মার্কেটের ভেতরে ঢুকে পড়েন। হামলাকারী মার্কেটের ভেতরে ঢুকে কামরুলকে পরপর তিন রাউন্ড গুলি করলে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। এরপর হামলাকারী নিজের মাথায় গুলি করে আত্মহত্যা করেন। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে আবেদন জানাই, কামরুল হোসেনের মরদেহটি যেন দেশের মাটিতে এনে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। একই সঙ্গে অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানাই। কুতুবপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবু নাসের চৌধুরী বলেন, কামরুলের বাবা পেশায় কৃষক। জীবিকার তাগিদে প্রায় আড়াই বছর আগে সৌদি আরবে যান কামরুল। রোববার বেলা ১১টার দিকে পরিবারের সদস্যরা তার মৃত্যুর খবর জানতে পারেন। কামরুলের আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তবে কী কারণে ওই সৌদি তরুণ কামরুলকে গুলি করে হত্যা করেছেন, তা এখনো জানা যায়নি।
হাতিয়ায় খাদ্য গুদামের দারোয়ান কালামের বিরুদ্ধে নানান অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ হাতিয়ায় খাদ্য গুদামের দারোয়ান আবুল কালামের বিরুদ্ধে নানান অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। নোয়াখালী হাতিয়া উপজেলার চৌমুহনী বাজারের পাশে অবস্থিত উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ অফিসের দারোয়ান আবুল কালামের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে নোয়াখালী জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বরাবরসহ সংশ্লিষ্ট একাধিক কতৃপক্ষের নিকট একটি দরখাস্ত করেছে মোহাম্মদ রাশেদ নামের এক স্থানীয় ব্যক্তি।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, হাতিয়া উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ অফিসের দারোয়ান আবুল কালামের বিরুদ্ধে টোকেন বাণিজ্য, প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয় না করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ধান ক্রয় করা, মণ প্রতি ৩/৫ কেজি ধান বেশি নেওয়া, লেবারের দৈনিক মজুরির টাকা আর্তসাৎ করা, সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের কাছ থেকে নামেমাত্র ধান কিনে বাকি শত শত টন নিজে কিনে বিভিন্ন কৃষকের নামে বিল তুলে নেয়া ও একই কর্মস্থলে এক যুগের বেশি সময় ধরে চাকরি করাসহ নানান অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও একই উপজেলায় দীর্ঘদিন চাকরি করার কারণে সবকিছুতে তার একচ্ছত্র বলয় ও নিয়ন্ত্রণ থাকায় তার কূটকৌশলে অন্যান্য কর্মকর্তা কর্মচারিরা নামেমাত্র টিকে আছে বলে জানা যায়। তার বিরুদ্ধে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিকট অভিযোগ দিয়েও মিলছে না প্রতিকার। দারোয়ান আবুল কালাম বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির দায়ে স্থানীয় এলাকাবাসীর হাতে গণধোলাইয়ের শিকার হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে আরো বলা হয়েছে, দারোয়ান আবুল কালাম হাতিয়া উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে থাকায় সে গত ১৫ বছর আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মী ও নোয়াখালী সোনাপুরের লেবার শ্রমিক নিয়ন্ত্রণ বা হ্যান্ডিং ঠিকাদার তাইজুল ইসলাম ওরুফে তাজু কমিশনার এবং জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ অফিসের হিসাবরক্ষক মাসুদুর রহমান মাসুদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে একটি সিন্ডিকেট তৈরি করে গুদামের কয়েল, লেবার, শ্রমিকসহ সবাইকে নিজের আয়ত্তে রেখে সকল অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। যার ফলে হাতিয়া উপজেলা স্থানীয় লোকজন ও ব্যবসায়ীরা ব্যবসায়িক সকল সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এছাড়াও গত ১ যুগ ধরে কোন নিয়ম নীতি তোয়াক্কা না করে হ্যান্ডিং ঠিকাদার একজন ব্যক্তি নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। যা প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা চরম হুমকির মুখে পড়ে। এমতাবস্থায় সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের নিকট স্থানীয় এলাকাবাসীর দাবি দারোয়ান কালামকে অন্যত্রে বদলী ও হ্যান্ডিং ঠিকাদার তাজু কমিশনারকে টেন্ডারের মাধ্যমে দ্রুত পরিবর্তন করে নতুন লোক দেওয়া হোক।এবিষয়ে হাতিয়া উপজেলার খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিসের অভিযুক্ত দারোয়ান আবুল কালাম বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগগুলো মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমি এ গুদামঘরে চতুর্থ শ্রেণীর বেতনভুক্ত একজন দারোয়ান। আমি কোন অনিয়ম ও দুর্নীতির সাথে জড়িত নয়। যদি ধান, গম ও চাল কেনাবেচায় কোন অনিয়ম হয়ে থাকে তার সাথে উপরের স্যারেরা জড়িত। সকল কাজের বিল পাশ হয় সব উপরের স্যারদের মাধ্যমে। এসবের সাথে আমার কোন সম্পৃক্ততা নেই। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, সকল অপকর্মের সাথে আমি জড়িত আছি। আপনারা আমার বিরুদ্ধে নিউজ করেন। আমি এ উপজেলা থেকে চলে যেতে চাই। এদিকে হাতিয়া উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোঃ শাহাদাত হোসেনের মোবাইল নাম্বারে কল দিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি।