

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের ভেরিফাইড এক্স (সাবেক টুইটার) আইডি হ্যাক করার অভিযোগে বঙ্গভবনের সহকারী প্রোগ্রামার মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলমকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এর পরিপ্রেক্ষিতে জামায়াত আমির জানিয়েছেন, তিনি এখন এই অপরাধের সুষ্ঠু বিচার এবং আইনের বাস্তব প্রয়োগ দেখতে চান। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ কথা বলেন। ফেসবুক পোস্টে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আমার ভেরিফাইড এক্স আইডি (টুইটার), যেখান থেকে হ্যাক হয়েছিল, সেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আটক হয়েছে।’ তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে আরও লেখেন, ‘এখন ন্যায়বিচারটাও পাব এবং তা খুবই প্রয়োজন। দেশে সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও আসন্ন নির্বাচনকে সুষ্ঠু করার পক্ষে এ ধরনের আইনি উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই। শাস্তি নিশ্চিত হলে অনেকেই সাবধান হয়ে যাবে।’ জামায়াত আমির মনে করেন, এই ঘটনা থেকে অনেকেরই শিক্ষা হবে। তিনি বলেন, ‘অপেক্ষায় রইলাম, আইনের বাস্তব প্রয়োগ দেখার জন্য।’ অতি অল্প সময়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ধন্যবাদও জানান।

নোয়াখালীর চেয়ারম্যানঘাট-হাতিয়া ফেরি সার্ভিসে অনিয়ম ও দায়িত্বহীনতার অভিযোগে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে সরকার। নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেনের নির্দেশে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, উপদেষ্টার নির্দেশ অনুযায়ী বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) দুই সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। ঘটনার সত্যতা যাচাই, দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ এবং ভবিষ্যতে ফেরি সার্ভিস সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে কার্যকর সুপারিশ সংবলিত প্রতিবেদন আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে বিআইডব্লিউটিসি চেয়ারম্যানের কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন এই ফেরি সার্ভিসটির মানোন্নয়ন এবং যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে যেকোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ২ ফেব্রুয়ারি সকালে মিডিয়াম রো-রো ফেরি ‘মহানন্দা’ চেয়ারম্যানঘাট থেকে হাতিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করে ১০টার পর গন্তব্যে পৌঁছায়। অভিযোগ উঠেছে, হাতিয়ায় পৌঁছানোর পর ফেরির ইঞ্জিন মাস্টার যাত্রী নামিয়ে দিলেও কোনো যানবাহন বা যাত্রী বোঝাই না করেই ঘাট ত্যাগ করেন। এরপর ফেরিটি দীর্ঘ সময় পর রাত পৌনে ১২টায় পুনরায় ঘাটে ফিরে আসে এবং রাত ১২টা ২০ মিনিটে যাত্রা করে। ফেরি পরিচালনা ও সময় ব্যবস্থাপনার এই চরম অব্যবস্থাপনার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও আকারে ছড়িয়ে পড়লে তা নৌপরিবহন উপদেষ্টার দৃষ্টিগোচর হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে দ্রুত তদন্তের এই নির্দেশ দেওয়া হলো।

নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার তমরদ্দি ইউনিয়নে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাত নেতাকর্মী বিএনপিতে যোগদান করেছেন। এ সময় তারা বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তমরদ্দি ইউনিয়নে ধানের শীষের নির্বাচনী এক উঠান বৈঠকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ যোগদান অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম নবাগত নেতাকর্মীদের ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেন। বিএনপিতে যোগদানকারীরা হলেন—তমরদ্দি ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড এনসিপির সদস্য সচিব হেলাল উদ্দিন, যুগ্ম আহ্বায়ক মতিন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ আলী, যুগ্ম আহ্বায়ক রাব্বি, সদস্য রাসেল উদ্দিন, সাদ্দাম হোসেন ও ফারুক উদ্দিন। জানা গেছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাহবুবের রহমান শামীম ওই উঠান বৈঠকে বক্তব্য দেন। তিনি উপস্থিত ভোটারদের ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে সরকার গঠনে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। এ সময় তিনি হাতিয়ার নদীভাঙন রোধ, ভূমিহীনদের পুনর্বাসন, হাতিয়ার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে হাতিয়াকে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন। উঠান বৈঠকে উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বিএনপি প্রার্থী মাহবুবের রহমান শামীমের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট ও জেলা বিএনপির সদস্য মো. আলাউদ্দিন রনি বলেন, এর আগেও বিভিন্ন পর্যায়ে এনসিপির নেতাকর্মীরা বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। বিএনপি একটি বৃহৎ গণতান্ত্রিক দল। হাতিয়ায় এনসিপির উগ্র কর্মকাণ্ডে হতাশ হয়ে অনেকেই বিএনপিতে যোগ দিচ্ছেন। দিন দিন ধানের শীষের গণজোয়ার হচ্ছে। হাতিয়া উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক শামসুল তিব্রিজ বলেন, হাতিয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা আবদুল হান্নান মাসউদের জনপ্রিয়তা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাধারণ মানুষ তার নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক অবস্থানকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করছে। মাঠপর্যায়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। হাতিয়ার প্রতিটি ইউনিয়নে শাপলা কলির প্রতীকের পক্ষে যে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে, তা আগামী দিনে আরও বিস্তৃত হবে। দুই একজন দল পরিবর্তন করলে এতে কোনো প্রভাব পড়বে না।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের রাজগঞ্জ ইউনিয়নে বিএনপি প্রার্থীর একটি নির্বাচনি ক্যাম্পে (অফিস) অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুনে ওই ক্যাম্পের চেয়ার টেবিল ও পার্শ্ববর্তী আরও তিনটি দোকান পুড়ে গেছে। সোমবার (২ ফেব্রয়ারি) ভোরে নোয়াখালী-৩ আসনের রাজগঞ্জের বাকীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন বিএনপির নির্বাচনি ক্যাম্পে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি পরিকল্পিত বলে অভিযোগ করছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। স্থানীয়রা জানান, ফজরের নামাজ পড়তে বের হওয়া মুসল্লীরা দেখতে পান বিএনপির নির্বাচনি কার্যালয়সহ পাশের দোকানগুলোতে আগুন জ্বলছে। পরে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিলে মুসল্লিরা এসে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এর আগেই বিএনপির নির্বাচনি কার্যালয়, পাশের সাইকেল মার্ট দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। অপর একটি দোকান আংশিক পুড়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। নোয়াখালী-৩ আসনের ধানের শীষ প্রতীকের নির্বাচনি সমন্বয়ক মুরাদ জিয়াউর রহমান সুমন বলেন, আগুনের ধরণ অনুযায়ী আলাদা আলাদা ভাবে আগুন লাগানো হয়েছে। মূলত বিএনপি অফিস পোড়ানো হয়, আর সেটাকে ভিন্নখাতে নেওয়ার জন্য পাশেরগুলোতেও আগুন লাগানো হয়। বেগমগঞ্জ থানার ওসি শামসুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী কাজী মো. মফিজুর রহমান। আজ দুপুরে সেনবাগ উপজেলার পরিকোট গ্রামের নিজ বাড়িতেছবি: প্রথম আলো নোয়াখালী-২ (সেনবাগ ও সোনাইমুড়ী আংশিক) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী মো. মফিজুর রহমান অভিযোগ করেছেন, ওই আসনের বিএনপির প্রার্থী তাঁকে হুমকি দিচ্ছেন। তাঁর নেতা-কর্মীদেরও মারধর করছেন বিএনপির লোকজন। আজ মঙ্গলবার দুপুরে নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার ডুমুরুয়া ইউনিয়নের পরিকোট গ্রামে নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। কাজী মফিজুর রহমান বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য। এর আগে তিনি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানও ছিলেন। নোয়াখালী-২ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন চেয়েছিলেন তিনি। তবে তাঁকে মনোনয়ন না দেওয়ায় তিনি দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন। এরপর তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে কাজী মফিজুর রহমান বলেন, ‘নির্বাচনী প্রচার শুরুর পর থেকে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের জন্য বিএনপির প্রার্থী জয়নুল আবদিন ফারুক আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি প্রদান করছেন। বিভিন্ন এলাকায় আমার প্রচারের কাজে নিয়োজিত নেতা-কর্মীদের মারধর করছেন ধানের শীষের প্রার্থীর লোকজন।’ কাপ-পিরিচ প্রতীকের এই প্রার্থী বলেন, ‘আমাকে যেহেতু দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে, সেহেতু আমি বিএনপির কেউ না। আমি নির্বাচনে প্রার্থী হলে বিএনপির প্রার্থীর মাথা ঘামানোর কোনো কারণ নেই। কিন্তু তিনি গতকাল সোমবার ডুমুরুয়া ইউনিয়নে একটি নির্বাচনী পথসভায় বলেছেন, আমাকে গাজীর মাজারে গিয়ে তওবা করে বিএনপির ধানের শীষের প্রতীকের পক্ষে ভোট করতে। একজন প্রার্থী কীভাবে আরেকজন প্রার্থীকে উদ্দেশ করে এ ধরনের কথা বলতে পারেন। এই প্রশ্ন আমি নির্বাচন কমিশনের কাছে রাখছি।’ কাজী মফিজুর রহমান অভিযোগ করেন, ১ ফেব্রুয়ারি সোনাইমুড়ী উপজেলার বারগাঁও ইউনিয়নের ভোরের বাজারে তাঁর একটি নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে। তাঁর কর্মীদের মারধর করা হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় প্রচারের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। তাঁর নেতা-কর্মীদের ১২ তারিখের পর দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। হামলা-ভাঙচুর, প্রচারে বাধা ও হুমকির বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে লিখিত অভিযোগ করা হলেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন কাজী মফিজুর রহমান। কাজী মফিজুরের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির প্রার্থী জয়নুল আবদিন ফারুক প্রথম আলোকে বলেন, ‘স্বতন্ত্র প্রার্থীর এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। এসব অভিযোগের সবই ভিত্তিহীন। তাঁকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার জন্য এসব প্রচার করা হচ্ছে

নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের ১১ দলীয় জোট মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী আবদুল হান্নান মাসউদের প্রতি সাধারণ ভোটারদের ভালোবাসা ও আস্থার এক ব্যতিক্রমী দৃশ্য দেখা গেছে নির্বাচনী প্রচারণায়। স্বামীর পক্ষে ভোট চাইতে গিয়ে এক ভোটারের কাছ থেকে স্বর্ণের আংটি উপহার পেয়েছেন হান্নান মাসুদের স্ত্রী শ্যামলী সুলতানা জেদনী। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে হাতিয়া উপজেলার জাহাজমারা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আমির ডুবাইর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। স্বর্ণের আংটিটি উপহার দেন প্রবাসী আমির ডুবাইয়ের বৃদ্ধা মা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওইদিন আমির ডুবাইর বাড়িতে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী আবদুল হান্নান মাসউদের নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে পূর্বনির্ধারিত একটি উঠান বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ছাত্র শক্তির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও হান্নান মাসউদের সহধর্মিণী শ্যামলী সুলতানা জেদনী। উঠান বৈঠক শুরু হওয়ার আগে নির্ধারিত আসনে বসার সময় হঠাৎ এক বৃদ্ধা নারী এগিয়ে এসে শ্যামলী সুলতানা জেদনীর হাতে একটি স্বর্ণের আংটি পরিয়ে দেন। তিনি এটিকে ভালোবাসা ও সম্মানের উপহার হিসেবে গ্রহণ করার অনুরোধ জানান। এ সময় উপস্থিত নারী ভোটাররা করতালির মাধ্যমে ঘটনাটিকে স্বাগত জানান, যা মুহূর্তেই আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি করে। এ বিষয়ে শ্যামলী সুলতানা জেদনী বলেন, এটি হান্নান মাসউদের প্রতি সাধারণ মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। গত দেড় বছরে তিনি সাধারণ মানুষের জন্য যে কাজগুলো করেছেন, এই উপহার তারই প্রতিফলন। একজন স্ত্রী হিসেবে আমি গর্বিত। উঠান বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ছাত্র শক্তি হাতিয়া উপজেলা শাখার সদস্য সচিব আশিক এলাহীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা। পাশাপাশি আশপাশের গ্রামের শতাধিক নারী ভোটার বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।

নোয়াখালীর ৬টি সংসদীয় আসনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। অভিজ্ঞ নেতা থেকে নতুন মুখ, দলীয় প্রভাব থেকে ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা সব মিলিয়ে প্রতিটি আসনে ভোটের সমীকরণ জটিল ও বৈচিত্র্যময়। নোয়াখালী-১ থেকে নোয়াখালী-৬ পর্যন্ত প্রতিটি এলাকায় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন, জাতীয় পার্টি, ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা মাঠে কৌশলগত প্রচারণা চালাচ্ছেন। নোয়াখালী-১ (চাটখিল–সোনাইমুড়ী আংশিক) সংসদীয় আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়ে উঠছে ভোটের সমীকরণ। যাচাই-বাছাই শেষে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী বাদ পড়ায় চূড়ান্তভাবে সাতজন প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে থাকলেও অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক শক্তি ও ভোটব্যাংকের বিচারে এগিয়ে রয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। তবে বিকল্প শক্তি হিসেবে ভোটারদের নজর কাড়তে শুরু করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা মো. ছাইফ উল্লাহ এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জহিরুল ইসলাম। চাটখিল উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এবং সোনাইমুড়ী উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত নোয়াখালী-১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৫২ হাজার ৪২৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৩৩ হাজার ৭১১ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ১৮ হাজার ৭১৪ জন। মোট ১৪১ টা ভোট কেন্দ্রের মধ্যে একটিও নেই অস্থায়ী কেন্দ্র। তবে আছে ৮৮৯ টি ভোট কক্ষের মধ্যে ৩১ টি অস্থায়ী ভোট কক্ষ। বড় ভোটারভিত্তির এই আসনে প্রতিটি দলই নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে মাঠপর্যায়ে তৎপরতা বাড়িয়েছে। এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী সাত প্রার্থী হলেন— ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জামায়াতে ইসলামীর মো. ছাইফ উল্যাহ, হাতপাখা প্রতীকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জহিরুল ইসলাম, লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পার্টির মো. নুরুল আমিন, ডাব প্রতীকে বাংলাদেশ কংগ্রেসের মো. মনিনুল ইসলাম, আপেল প্রতীকে ইনসানিয়াত বাংলাদেশের মো. মশিউর রহমান এবং তারা প্রতীকে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) মনোনীত প্রার্থী রেহানা বেগম। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা প্রার্থীদের হলফনামা পর্যালোচনায় দেখা যায়, বিএনপি প্রার্থী ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন ছাড়া অন্য সব প্রার্থী এবারই প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। খোকন নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে অংশ নিলেও তিনি জয়লাভ করতে পারেননি। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এবং সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি হিসেবে তার রাজনৈতিক পরিচিতি ও দীর্ঘ অভিজ্ঞতা তাকে ভোটের মাঠে বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামো, অতীত নির্বাচনের অভিজ্ঞতা এবং প্রার্থীর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা মিলিয়ে এই আসনে দলটি আপাতত এগিয়ে রয়েছে। তবে ভোটারদের একটি অংশ বিকল্প নেতৃত্বের সন্ধানে থাকায় ধর্মভিত্তিক দলগুলোর প্রার্থীরাও আলোচনায় উঠে আসছেন। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা মো. ছাইফ উল্লাহ পেশায় শিক্ষক। দীর্ঘদিন ধরে তিনি এলাকার সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। ব্যক্তিগত সততা, সহজ-সরল জীবনযাপন এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের কারণে তার প্রতি এক ধরনের আস্থার পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে স্থানীয়রা দাবি করছেন। নীরব সমর্থনও বাড়ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী জহিরুল ইসলাম ভিন্ন পরিচয়ে ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন। তিনি পূর্বে যুক্তরাজ্যের দ্বৈত নাগরিক ছিলেন এবং নির্বাচনে অংশ নিতে গত বছরের ১২ ডিসেম্বর যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেন। ৪৪ বছর বয়সী এই প্রার্থী স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী। প্রবাসে রেমিট্যান্স পাঠানোর স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি গত বছর বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (সিআইপি) হিসেবেও মনোনীত হন। সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকায় তরুণ ও সচেতন ভোটারদের একটি অংশ তার প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা মো. ছাইফ উল্লাহ বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকার মানুষের সঙ্গে আছি। শিক্ষকতা ও সামাজিক কাজের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সুখ–দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। জনগণ যদি আমাকে নির্বাচিত করেন, তাহলে দুর্নীতিমুক্ত ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ গঠনে কাজ করব। এলাকার শিক্ষা, নৈতিকতা ও সামাজিক উন্নয়নই হবে আমার প্রধান অগ্রাধিকার। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী জহিরুল ইসলাম বলেন, দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করার তাগিদ থেকেই আমি প্রবাসের জীবন ছেড়ে নির্বাচনে এসেছি। রাজনীতিকে আমি সেবা হিসেবে দেখি। জনগণ যদি আমাকে সুযোগ দেন, তাহলে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং মানবিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে উন্নয়ন নিশ্চিত করতে চাই। তরুণ সমাজের প্রত্যাশা পূরণে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। বিএনপি প্রার্থী ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, এই আসনের মানুষ আমাকে আগেও সংসদে পাঠিয়েছেন। তাদের সুখ–দুঃখ, সমস্যা ও সম্ভাবনা আমি ভালোভাবে জানি। আমার অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক অবস্থান কাজে লাগিয়ে নোয়াখালী-১ আসনের সার্বিক উন্নয়ন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করব।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের ভেরিফাইড এক্স (সাবেক টুইটার) আইডি হ্যাক করার অভিযোগে বঙ্গভবনের সহকারী প্রোগ্রামার মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলমকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এর পরিপ্রেক্ষিতে জামায়াত আমির জানিয়েছেন, তিনি এখন এই অপরাধের সুষ্ঠু বিচার এবং আইনের বাস্তব প্রয়োগ দেখতে চান। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ কথা বলেন। ফেসবুক পোস্টে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আমার ভেরিফাইড এক্স আইডি (টুইটার), যেখান থেকে হ্যাক হয়েছিল, সেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আটক হয়েছে।’ তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে আরও লেখেন, ‘এখন ন্যায়বিচারটাও পাব এবং তা খুবই প্রয়োজন। দেশে সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও আসন্ন নির্বাচনকে সুষ্ঠু করার পক্ষে এ ধরনের আইনি উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই। শাস্তি নিশ্চিত হলে অনেকেই সাবধান হয়ে যাবে।’ জামায়াত আমির মনে করেন, এই ঘটনা থেকে অনেকেরই শিক্ষা হবে। তিনি বলেন, ‘অপেক্ষায় রইলাম, আইনের বাস্তব প্রয়োগ দেখার জন্য।’ অতি অল্প সময়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ধন্যবাদও জানান।

নোয়াখালীর চেয়ারম্যানঘাট-হাতিয়া ফেরি সার্ভিসে অনিয়ম ও দায়িত্বহীনতার অভিযোগে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে সরকার। নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেনের নির্দেশে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, উপদেষ্টার নির্দেশ অনুযায়ী বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) দুই সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। ঘটনার সত্যতা যাচাই, দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ এবং ভবিষ্যতে ফেরি সার্ভিস সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে কার্যকর সুপারিশ সংবলিত প্রতিবেদন আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে বিআইডব্লিউটিসি চেয়ারম্যানের কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন এই ফেরি সার্ভিসটির মানোন্নয়ন এবং যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে যেকোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ২ ফেব্রুয়ারি সকালে মিডিয়াম রো-রো ফেরি ‘মহানন্দা’ চেয়ারম্যানঘাট থেকে হাতিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করে ১০টার পর গন্তব্যে পৌঁছায়। অভিযোগ উঠেছে, হাতিয়ায় পৌঁছানোর পর ফেরির ইঞ্জিন মাস্টার যাত্রী নামিয়ে দিলেও কোনো যানবাহন বা যাত্রী বোঝাই না করেই ঘাট ত্যাগ করেন। এরপর ফেরিটি দীর্ঘ সময় পর রাত পৌনে ১২টায় পুনরায় ঘাটে ফিরে আসে এবং রাত ১২টা ২০ মিনিটে যাত্রা করে। ফেরি পরিচালনা ও সময় ব্যবস্থাপনার এই চরম অব্যবস্থাপনার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও আকারে ছড়িয়ে পড়লে তা নৌপরিবহন উপদেষ্টার দৃষ্টিগোচর হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে দ্রুত তদন্তের এই নির্দেশ দেওয়া হলো।

নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার তমরদ্দি ইউনিয়নে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাত নেতাকর্মী বিএনপিতে যোগদান করেছেন। এ সময় তারা বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তমরদ্দি ইউনিয়নে ধানের শীষের নির্বাচনী এক উঠান বৈঠকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ যোগদান অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম নবাগত নেতাকর্মীদের ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেন। বিএনপিতে যোগদানকারীরা হলেন—তমরদ্দি ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড এনসিপির সদস্য সচিব হেলাল উদ্দিন, যুগ্ম আহ্বায়ক মতিন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ আলী, যুগ্ম আহ্বায়ক রাব্বি, সদস্য রাসেল উদ্দিন, সাদ্দাম হোসেন ও ফারুক উদ্দিন। জানা গেছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাহবুবের রহমান শামীম ওই উঠান বৈঠকে বক্তব্য দেন। তিনি উপস্থিত ভোটারদের ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে সরকার গঠনে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। এ সময় তিনি হাতিয়ার নদীভাঙন রোধ, ভূমিহীনদের পুনর্বাসন, হাতিয়ার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে হাতিয়াকে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন। উঠান বৈঠকে উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বিএনপি প্রার্থী মাহবুবের রহমান শামীমের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট ও জেলা বিএনপির সদস্য মো. আলাউদ্দিন রনি বলেন, এর আগেও বিভিন্ন পর্যায়ে এনসিপির নেতাকর্মীরা বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। বিএনপি একটি বৃহৎ গণতান্ত্রিক দল। হাতিয়ায় এনসিপির উগ্র কর্মকাণ্ডে হতাশ হয়ে অনেকেই বিএনপিতে যোগ দিচ্ছেন। দিন দিন ধানের শীষের গণজোয়ার হচ্ছে। হাতিয়া উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক শামসুল তিব্রিজ বলেন, হাতিয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা আবদুল হান্নান মাসউদের জনপ্রিয়তা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাধারণ মানুষ তার নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক অবস্থানকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করছে। মাঠপর্যায়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। হাতিয়ার প্রতিটি ইউনিয়নে শাপলা কলির প্রতীকের পক্ষে যে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে, তা আগামী দিনে আরও বিস্তৃত হবে। দুই একজন দল পরিবর্তন করলে এতে কোনো প্রভাব পড়বে না।
.jpg&w=3840&q=75)
শবে বরাত ইসলামী বর্ষপঞ্জির শাবান মাসের মধ্যরাতে পালিত একটি তাৎপর্যপূর্ণ রজনী। এই রাতকে ক্ষমা লাভ ও মুক্তি লাভের রাত হিসেবে গণ্য করেন মুসলিমরা। শাবান মাসের ১৪ তারিখ সন্ধ্যার পর শুরু হয়ে ১৫ তারিখ ভোর পর্যন্ত সময়কে শবে বরাত বা নিসফে শাবান বলা হয়। দক্ষিণ এশিয়ায় এটি শবে বরাত নামে পরিচিত হলেও আরব বিশ্বে একে বলা হয় লাইলাতুল বরাত। ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ায় পরিচিত নিসফু শাবান নামে এবং তুরস্কে একে বলা হয় বেরাত কান্দিলি। অনেক মুসলমান এই রাতে জেগে নামাজ, দোয়া ও কোরআন তিলাওয়াতে মশগুল থাকেন। এই রাতে আল্লাহ তায়ালা হিংসা ও বিদ্বেষপোষণকারী ও মুশরিক ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করেন। এক হাদিসে মুয়াজ বিন জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) ইরশাদ করেছেন— আল্লাহ তাআলা অর্ধ-শাবানের রাতে অর্থাৎ শাবানের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতে তার সৃষ্টির দিকে রহমতের দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন। (সহিহ ইবনে হিব্বান: ৫৬৬৫) অন্য হাদিসে আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন—‘একবার রাসুলুল্লাহ (সা.) রাতে নামাজে দাঁড়ান এবং এত দীর্ঘ সিজদা করেন যে, আমার ধারণা হলো, তিনি হয়ত মৃত্যুবরণ করেছেন। আমি তখন উঠে তার বৃদ্ধাঙ্গুলি নাড়া দিলাম। তার বৃদ্ধাঙ্গুলি নড়ল। যখন তিনি সিজদা থেকে উঠলেন এবং নামাজ শেষ করলেন, তখন আমাকে লক্ষ্য করে বললেন— হে আয়েশা তোমার কি এই আশঙ্কা হয়েছে যে, আল্লাহর রাসুল তোমার হক নষ্ট করবেন? আমি উত্তরে বললাম, না, হে আল্লাহর রাসুল। আপনার দীর্ঘ সেজদা থেকে আমার এই আশঙ্কা হয়েছিল, আপনি মৃত্যুবরণ করেছেন কি না। তখন নবী (সা.) জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কি জানো এটা কোন রাত? আমি বললাম, আল্লাহ ও তার রাসুলই ভালো জানেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) তখন ইরশাদ করলেন, ‘এটা হলো অর্ধ শাবানের রাত (শবে বরাত)। আল্লাহ তায়ালা অর্ধ-শাবানের রাতে তার বান্দার প্রতি মনোযোগ দেন এবং ক্ষমাপ্রার্থনাকারীদের ক্ষমা করেন এবং অনুগ্রহপ্রার্থীদের অনুগ্রহ করেন আর বিদ্বেষ পোষণকারীদের ছেড়ে দেন তাদের অবস্থাতেই।’ (শুআবুল ঈমান, বায়হাকি: ৩/৩৮২-৩৮৩; তাবারানি: ১৯৪)

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের রাজগঞ্জ ইউনিয়নে বিএনপি প্রার্থীর একটি নির্বাচনি ক্যাম্পে (অফিস) অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুনে ওই ক্যাম্পের চেয়ার টেবিল ও পার্শ্ববর্তী আরও তিনটি দোকান পুড়ে গেছে। সোমবার (২ ফেব্রয়ারি) ভোরে নোয়াখালী-৩ আসনের রাজগঞ্জের বাকীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন বিএনপির নির্বাচনি ক্যাম্পে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি পরিকল্পিত বলে অভিযোগ করছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। স্থানীয়রা জানান, ফজরের নামাজ পড়তে বের হওয়া মুসল্লীরা দেখতে পান বিএনপির নির্বাচনি কার্যালয়সহ পাশের দোকানগুলোতে আগুন জ্বলছে। পরে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিলে মুসল্লিরা এসে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এর আগেই বিএনপির নির্বাচনি কার্যালয়, পাশের সাইকেল মার্ট দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। অপর একটি দোকান আংশিক পুড়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। নোয়াখালী-৩ আসনের ধানের শীষ প্রতীকের নির্বাচনি সমন্বয়ক মুরাদ জিয়াউর রহমান সুমন বলেন, আগুনের ধরণ অনুযায়ী আলাদা আলাদা ভাবে আগুন লাগানো হয়েছে। মূলত বিএনপি অফিস পোড়ানো হয়, আর সেটাকে ভিন্নখাতে নেওয়ার জন্য পাশেরগুলোতেও আগুন লাগানো হয়। বেগমগঞ্জ থানার ওসি শামসুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে বিএনপি এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দুটি নির্বাচনি অফিসকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। রোববার সন্ধ্যায় উপজেলার চরওয়াপদা ইউনিয়নের আল-আমীন বাজারে এই অভিযান পরিচালিত হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন সুবর্ণচর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ছেনমং রাখাইন। অভিযান সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনি অফিসে আলোকসজ্জা করা এবং বিধি বহির্ভূতভাবে রঙিন পোস্টার লাগানোর দায়ে দল দুটিকে আর্থিক দণ্ড দেওয়া হয়। এতে বিএনপি অফিসকে ৫,০০০ টাকা এবং জামায়াত ইসলামী অফিসকে ৫,০০০ টাকা জরিমানা করা হয়। নির্বাচনি পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে আমাদের এ তৎপরতা অব্যাহত থাকবে বলে জানান সহকারী কমিশনার (ভূমি) ছেনমং রাখাইন। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় পুলিশ, সেনাবাহিনীসহ যৌথবাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতা করেন। প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনি আচরণবিধি বজায় রাখতে ভ্রাম্যমাণ আদালত নিয়মিত মাঠে কাজ করে যাচ্ছে।

দেশে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সীমান্ত এলাকায় এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। ইউরো-মেডিটেরেনিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৪.১। ভূমিকম্পটি আজ মঙ্গলবার ভোর ৪টা ৩৬ মিনিটে ঘটে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল বাংলাদেশের সাতক্ষীরা শহর থেকে প্রায় ১৬ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে। ভারতের হাওড়া শহর থেকে এর দূরত্ব ছিল প্রায় ৩৬ কিলোমিটার পূর্বে। এই এলাকা ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলের কাছাকাছি। তাই এখানে মাঝেমধ্যে কম মাত্রার ভূমিকম্প হয়। ভূমিকম্পে সাতক্ষীরা, খুলনা, যশোরসহ আশপাশের এলাকা মৃদু কেঁপে ওঠে। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক হতাহত বা ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি। এখন পর্যন্ত কোনো স্থাপনার ক্ষতি বা প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। এর আগে, গত ১ ফেব্রুয়ারি ৩ মাত্রার ও ২৫ জানুয়ারি ৩.৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয় দেশে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও নোয়াখালী-৩ আসনে দলের সংসদ সদস্য প্রার্থী বরকত উল্লাহ বুলু বলেছেন, একাত্তর সালের দেশ বিরোধীরা এখন ছাব্বিশে এসে দেশের জন্য মায়াকান্না দেখাচ্ছে। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের এখলাশপুরে স্থানীয় বিএনপির আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় তিনি এ কথা বলেন। বরকত উল্লাহ বুলু বলেন, ধর্মকে রাজনীতিতে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে জামায়াত। তারা কখনোই দেশের ভালো চায়নি। ভবিষ্যতেও চাইবে না। এ বিষয়ে জনগণকে খেয়াল রাখতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের নবী (সা.) নিজেও কাউকে জান্নাতের টিকিটের গ্যারান্টি দিয়ে যাননি। সেখানে একটি রাজনৈতিক দল কীভাবে মানুষকে জান্নাতের নিশ্চয়তা দেয়! এটা জনগণের বিবেকের কাছে প্রশ্ন। এ সময় বিএনপির এই ভাইস চেয়ারম্যান অভিযোগ করে বলেন, ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা ধর্মের মৌলিক শিক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। যা জামায়াত প্রতিনিয়ত করে যাচ্ছে। ইসলাম কখনোই ক্ষমতার সিঁড়ি হতে পারে না। ধর্মকে ভোটের বাজারে পণ্য বানানো ধর্মেরই অবমাননা করা। দেশের মানুষ এখন অনেক সচেতন উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণ ধর্মীয় আবেগে নয়, বরং উন্নয়ন, গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও ন্যায়বিচারের প্রশ্নে সিদ্ধান্ত নিতে চায়। বরকত উল্লাহ বুলু আরও বলেন, দেশের মানুষ জানে জান্নাতের মালিক স্বয়ং আল্লাহ। কোনো রাজনৈতিক দল, কোনো নেতা জান্নাতের চাবি হাতে নিয়ে বসে নেই। যখন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে জান্নাত-জাহান্নামের কথা বলা হয়, তখন বুঝতে হবে রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব কোথায় গিয়ে ঠেকেছে। অনুষ্ঠানে নোয়াখালী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলো, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য শামিমা বরকত লাকি, বেগমগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কামাখ্যা চন্দ্র দাস, সদস্য সচিব মাহফুজুল হক আবেদ, চৌমুহনী পৌর বিএনপির আহ্বায়ক জহির উদ্দিন হারুনসহ বিভিন্ন স্তরের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

নোয়াখালী অঞ্চলের গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার সুকুক বা ইসলামী বন্ড ইস্যু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। সোমবার (৩ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের শরিয়াহ অ্যাডভাইজরি কমিটির সভায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়। সভায় নতুন এই প্রজেক্টের নাম দেওয়া হয়েছে সপ্তম বিনিয়োগ সুকুক বন্ড। এর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে আড়াই হাজার কোটি টাকা। খোলা বাজার থেকে এই টাকা উত্তোলন করা হবে। ব্যয় করা হবে নোয়াখালী, ফেনী ও লক্ষ্মীপুর পল্লী এলাকার গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়নে। ৭ বছর মেয়াদি এই সুকুক প্রজেক্টটি ইস্যু করা হবে ইজারা পদ্ধতিতে। সুকুক প্রজেক্টে বিনিয়োগ করতে পারেন আপনিও। তবে সেজন্য কমপক্ষে ১০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করতে হবে। এতে অবশ্য মেয়াদ শেষে উচ্চ মুনাফাও পাওয়া যাবে। নোয়াখালী অঞ্চলের উন্নয়নে ২৫০০ কোটি টাকার বন্ড আসছে, কিনবেন যেভাবে রিজার্ভ আরও বাড়ল যেভাবে বিনিয়োগ করবেন বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকই সাধারণত ট্রেজারি বন্ড বিক্রি করে। পাশাপাশি সহযোগী কিছু ব্যাংকও এই সেবা দিয়ে থাকে। সেজন্য বিনিয়োগের আগে দেখতে হবে, যে ব্যাংকে আপনার হিসাব আছে, ওই ব্যাংক ট্রেজারি পণ্য বিক্রি করে কিনা। যদি না করে, তাহলে যে ব্যাংক ট্রেজারি পণ্য বিক্রি করে, ওই ব্যাংকে হিসাব খুলে কিনতে হবে। যারা আবেদন করবেন, তারা সবাই বন্ড পাবেন। তবে আনুপাতিক ভিত্তিতে আবেদনকারীদের মাঝে এই বন্ড বিতরণ করা হবে। নিলামে অংশগ্রহণের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ ফেব্রুয়ারি ১০টা থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত। সুকুকের এই প্রজেক্টটি ৭ বছর মেয়াদি। তবে ৬ মাস পরপর এর মুনাফা দেওয়া হবে। পাশাপাশি কর রেয়াতেরও সুবিধা রয়েছে। এই প্রজেক্টে সম্ভাব্য মুনাফার হার ৯ দশমিক ৬০ শতাংশ। মুনাফা যা মিলবে, পুরোটাই আবেদনকারীরা পাবেন। প্রচলিত সঞ্চয়পত্রের তুলনায় সুকুকের গঠনতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ভিন্ন। সেজন্য এটি শরিয়াহসম্মত বিনিয়োগকারীদের জন্য যেমন আদর্শ, তেমনি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্যও ঝুঁকিহীন বিনিয়োগের সুযোগ। এতে সরাসরি রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টি থাকে।