

ফেনীতে পুশইন ও চোরাচালান ঠেকাতে সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি)। ফেনী ৪ বিজিবি সূত্র জানায়, বাংলাদেশের সীমান্ত নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি) সর্বদা পেশাদারিত্ব, সতর্কতা ও দৃঢ়তার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছে। সম্প্রতি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশ (পুশইন) এর আশঙ্কা বৃদ্ধি পাওয়ায় ফেনী ব্যাটালিয়ন দায়িত্বপূর্ণ প্রায় ১০২ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থা জারি করেছে। এ লক্ষ্যে সীমান্তবর্তী গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টসমূহে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং সব বিওপি ও টহল দলকে বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম, পুশইন, চোরাচালান ও যেকোনো ধরনের সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে বিজিবি সদস্যদের সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত মোবাইল পেট্রোল, ফুট পেট্রোল, বিশেষ অভিযান এবং গুরুত্বপূর্ণ ও সন্দেহভাজন পয়েন্টসমূহে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে মাদকদ্রব্য, গবাদিপশু, ভারতীয় বিভিন্ন পণ্যসহ অন্যান্য চোরাচালান সামগ্রী পাচার প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং সীমান্ত দিয়ে যেন কোনো ব্যক্তি অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারে সে লক্ষ্যে বিজিবি সদস্যরা নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করছে। বিজিবি আরও জানায়, ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি) দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে, সীমান্ত এলাকার জনগণের সহযোগিতা ও সচেতনতা সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ কারণে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সীমান্তবর্তী জনসাধারণের সাথে সমন্বয় বৃদ্ধি করা হয়েছে যাতে কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি, চলাচল বা কার্যক্রম সম্পর্কে দ্রুত তথ্য পাওয়া যায়। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় বসবাসরত সবাইকে যেকোনো অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালান বা সীমান্ত অপরাধসংক্রান্ত তথ্য নিকটস্থ বিজিবি ক্যাম্পে দ্রুত জানানোর জন্য আহ্বান জানানো হচ্ছে। ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন বলেন, ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি) সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সর্বদা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ও বদ্ধপরিকর। সীমান্তে যে কোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালান ও রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রম প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান, টহল ও নজরদারি কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

অরল্যান্ডো সিটির কাছে গত ম্যাচে হারের ধাক্কা ভুলে জয়ে ফিরেছে ইন্টার মায়ামি। মেজর লিগ সকারে লিওনেল মেসির দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে টরন্টো এফসি-কে ৪-২ গোলে হারিয়েছে ‘দ্য হেরন্স’রা। ম্যাচে মেসি নিজে একটি গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও দুটি গোল। এমএলএস ইতিহাসের দ্রুততম খেলোয়াড় হিসেবে ১০০ গোলে সরাসরি অবদান রাখার অনন্য এক মাইলফলক স্পর্শ করলেন এই আর্জেন্টাইন মহাতারকা। এমএলএসে নিজের ১০০তম গোল অবদানে (৫৯ গোল ও ৪১ অ্যাসিস্ট) পৌঁছতে মেসির লেগেছে মাত্র ৬৪ ম্যাচ। তিনি টরন্টোর সাবেক তারকা সেবাস্টিয়ান জিওভিনকোর ৯৫ ম্যাচের রেকর্ডটি চুরমার করে দিয়েছেন। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ইন্টার মায়ামির হয়ে এখন মেসির গোল সংখ্যা ৮৭ আর অ্যাসিস্ট ৫৭টি। টরন্টোর বিএমও ফিল্ডে শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল মায়ামির হাতে। ম্যাচের প্রথমার্ধে রদ্রিগো ডি পলের দুর্দান্ত এক ভলিতে লিড নেয় সফরকারীরা। ডি পলের নেওয়া ফ্রি-কিক প্রথমে দেওয়ালে লেগে ফিরে আসলেও ফিরতি শটে বল জালে জড়ান এই আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার। দ্বিতীয়ার্ধের ৫৫ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন লুইস সুয়ারেজ। মেসির নিখুঁত পাস থেকে বল পেয়ে ঠান্ডা মাথায় গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন উরুগুয়ের এই স্ট্রাইকার। এরপর ৭২ মিনিটে মেসির ক্রসে পা ছুঁইয়ে স্কোরলাইন ৩-০ করেন সার্জিও রেগুইলন। সহকারী থেকে গোলদাতার ভূমিকায় ফিরতে খুব বেশি সময় নেননি এলএম১০। ৭৪ মিনিটে ডি পলের সাথে বল দেওয়া-নেওয়া করে বক্সের ভেতর থেকে চমৎকার এক কোনাকুনি শটে স্কোরলাইন ৪-০ করেন মেসি। যদিও শেষ দিকে মায়ামির রক্ষণভাগের ভুলে এমিলিও আরিস্তিজাবাল টরন্টোর হয়ে দুটি গোল শোধ করেন, তবে তা জয়ের পথে বাধা হতে পারেনি। এই জয়ের পর ১২ ম্যাচে ২২ পয়েন্ট নিয়ে এমএলএস ইস্টার্ন কনফারেন্সের টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে ইন্টার মায়ামি।

আর কোনো ফ্যাসিবাদী শক্তি যেন পুলিশকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে না পারে, সেজন্য বাহিনীকে নতুন করে শপথ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (১০ মে) সকালে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে ‘জাতীয় পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬’ উদ্বোধন শেষে তিনি মন্তব্যটি করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে এই রাজারবাগ পুলিশ লাইনসেই হানাদার বাহিনী বর্বর হামলা চালিয়ে শত শত পুলিশ সদস্যকে হত্যা করেছিল। স্বাধীনতা অর্জনের জন্য যে পুলিশ সদস্যরা আত্মাহুতি দিয়েছিলেন, যে কোনো মূল্যে সেই স্বাধীনতা আমাদের রক্ষা করতে হবে। হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে আর কোনো রাজনৈতিক দল বা শক্তি যেন পুলিশকে দমন-পীড়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য। পেশাদারিত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচন প্রমাণ করেছে যে, একটি স্বাধীন ও পেশাদার বাহিনীর পক্ষে নিরপেক্ষভাবে কাজ করা সম্ভব। জনগণের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই পুলিশের মূল কাজ। সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তায় সাধ্য ও সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে পুলিশ বাহিনী কাজ করবে, এটাই বর্তমান সরকারের প্রত্যাশা। তারেক রহমান আরও উল্লেখ করেন, শুধু দেশের অভ্যন্তরেই নয়, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনেও বাংলাদেশ পুলিশের ভূমিকা বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিদেশের মাটিতে অর্জিত এই সুনাম দেশের অভ্যন্তরেও বজায় থাকবে এবং জনগণের সঙ্গে পুলিশের আচরণ হবে মানবিক ও জনবান্ধব। ‘আমার পুলিশ, আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’— এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বর্ণিল প্যারেড ও সালাম গ্রহণের মধ্য দিয়ে চার দিনব্যাপী পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬-এর উদ্বোধন করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী এই আয়োজনের সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।

সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ একদিন কেড়ে নিয়েছিল এক জেলেকে। পরিবার ভেবেছিল, তিনি আর নেই। সময়ের দীর্ঘ স্রোতে হারিয়ে যাওয়া সেই মানুষটির স্মৃতি ধীরে ধীরে ঝাপসা হয়ে গিয়েছিল স্বজনদের চোখে। পরিবার ও স্বজনরা ভেবেছিলেন, তিনি আর বেঁচে নেই। কিন্তু ৫৪ বছর পর হঠাৎই গ্রামের একটি বাজারে এসে দাঁড়ালেন সেই মানুষটি। চিনতে পারেননি প্রতিবেশী এবং স্বজনরা। কিন্তু নিজের পরিচয় প্রকাশ করতেই স্তব্ধ হয়ে যায় পুরো গ্রাম। নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের এমপির পুল সংলগ্ন ফজলি বাড়িতে ঘটে গেছে এক অবিশ্বাস্য ঘটনা। ফিরে আসা মানুষটির নাম ছৈয়দ আহাম্মদ। মৃত ধন মিয়ার ছেলে তিনি। বয়সের ভারে ন্যুব্জ, কণ্ঠনালিতে করা হয় অপারেশন, শরীরে নানা অসুস্থতা, তবু চোখে-মুখে যেন দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে আপন ঠিকানায় ফেরার এক শান্তির ছাপ। স্বজনরা জানান, প্রায় ৫৪ বছর আগে কুতুবদিয়া এলাকায় মাছ ধরতে গিয়ে ভয়াবহ ট্রলারডুবির কবলে পড়েন ছৈয়দ আহাম্মদ। উত্তাল সাগরে মুহূর্তেই ছিটকে যায় জেলেরা। কেউ ফিরে এলেও ছৈয়দ আহাম্মদের আর কোনো খোঁজ মেলেনি। অনেক খোঁজাখুঁজির পর পরিবার ধরে নেয় তিনি হয়তো আর বেঁচে নেই। তখন তার স্ত্রী ছামনা খাতুনের কোলজুড়ে ছোট্ট শিশু সন্তান আকরাম। বাবার মুখ না দেখেই বড় হতে থাকে সেই সন্তান। পরিবারের দাবি, ট্রলারডুবির পর কোনোভাবে খড়কুটো আঁকড়ে ভেসে ভারতের অজ্ঞাত এক এলাকায় পৌঁছে যান ছৈয়দ আহাম্মদ। সেখান থেকেই শুরু হয় তার দীর্ঘ অনিশ্চয়তার জীবন। বছরের পর বছর তিনি বিভিন্ন মসজিদ, মাজার ও পথে-প্রান্তরে কাটিয়েছেন। জীবনের অধিকাংশ সময় কেটেছে ভবঘুরের মতো পরিচয়হীন আজমীর শরীফে। সম্প্রতি ভারতের হাওড়া স্টেশন এলাকায় দুষ্কৃতকারীদের কবলে পড়ে সর্বস্ব হারান তিনি। পরে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠায়। এরপর ধীরে ধীরে পথ চিনে, স্মৃতির টানে, বহু বছরের পুরোনো ঠিকানার খোঁজে একদিন তিনি পৌঁছে যান হাতিয়ায় নিজের পৈতৃক বাড়িতে। গত মঙ্গলবার দুপুরে বাড়িতে এসে নিজের পরিচয় দেন বৃদ্ধ ছৈয়দ আহাম্মদ। প্রথমে কেউ বিশ্বাস করতে পারেনি। পরে তার সহপাঠী মুন্সি সারেং, চাচাতো ভাই গেদু মিয়া, সহোদর আবুল খায়ের ওরফে জমিদারসহ কয়েকজন প্রবীণ তাকে শনাক্ত করেন। খবর ছড়িয়ে পড়তেই উৎসুক মানুষের ঢল নামে এলাকায়। শত শত মানুষ ভিড় করেন এক নজর দেখতে।যে মানুষকে মৃত ভেবে ভুলে গিয়েছিল সময়। স্থানীয় বাসিন্দা আলফাজ আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, এত বছর পর আল্লাহ তাকে জীবিত অবস্থায় পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছেন এটা আমাদের জন্যও আনন্দের বিষয়। মানুষটা যেন জীবনের শেষ সময়ে আপনজনদের সান্নিধ্য পায়, এটাই চাই। ছৈয়দ আহাম্মদের ছেলে আকরাম বলেন, জন্মের পরপরই বাবা নিখোঁজ হন। এতদিন তিনি শুধু মানুষের মুখে বাবার গল্প শুনেছেন। এবার জীবনের শেষ প্রান্তে এসে সত্যিকারের বাবাকে ছুঁয়ে দেখার সুযোগ পেলেন। তবে এই ফিরে আসাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে পারিবারিক টানাপোড়েনও। আকরামের অভিযোগ, কয়েকজন স্বজন তাকে বাবার দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে গড়িমসি করছেন। এছাড়া ছৈয়দ আহাম্মদের সঙ্গে থাকা অর্থ নিয়েও তৈরি হয়েছে বিতর্ক। ঘটনাটি ঘিরে পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে আবেগঘন পরিবেশ। অনেকেই এটিকে অলৌকিক প্রত্যাবর্তন বলে আখ্যা দিচ্ছেন। আবার কেউ কেউ পুরো ঘটনাকে দেখছেন ভিন্ন দৃষ্টিতে। স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নও ঘুরপাক খাচ্ছে। দীর্ঘ ৫৪ বছর তিনি কোথায় ছিলেন, কীভাবে জীবন কাটিয়েছেন, কেন এতদিন পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি, আর হঠাৎ করেই বা এখন কেন ফিরে এলেন? চায়ের দোকান থেকে শুরু করে গ্রাম্য আড্ডা সবখানেই চলছে আলোচনা। কেউ বলছেন, হয়তো স্মৃতিভ্রংশ কিংবা ভাগ্যের নির্মম পরিহাস তাকে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছিল। আবার কারও ধারণা, জীবনের শেষ সময়ে শেকড়ের টানেই ফিরে এসেছেন তিনি। তবে রহস্য আর নানা প্রশ্নের ভেতরেও একটি বিষয় স্পষ্ট যে বহু বছর পর হারিয়ে যাওয়া একজন মানুষকে ফিরে পাওয়ার অনুভূতি স্বজনদের চোখে এনে দিয়েছে আনন্দ, বিস্ময় আর আবেগের অশ্রু। হাতিয়া থানার ওসি মো. কবির হোসেন বলেন, ৫৪ বছর পর একজন জেলে ফিরে আসার খবর পেয়েছি। এটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্বজনরা সহযোগিতা চাইলে আইনগতভাবে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।

মা— পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়, সবচেয়ে মায়াময় শব্দ। সন্তানের জীবনে প্রথম স্পর্শ, প্রথম ভালোবাসা, প্রথম অনুভূতির নাম মা। তাই মাকে ভালোবাসার জন্য আলাদা কোনো দিন-তারিখের প্রয়োজন না হলেও, পৃথিবীর কোটি মানুষ বছরের একটি দিন শুধু মায়ের জন্যই তুলে রেখেছে। আর সেই দিনটিই আজ বিশ্বজুড়ে পরিচিত মা দিবস নামে। কিন্তু কবে, কীভাবে আর কার হাত ধরে শুরু হয়েছিল এই বিশেষ দিনটির যাত্রা? এর পেছনে লুকিয়ে আছে ইতিহাস, আবেগ, সংগ্রাম আর এক মেয়ের মায়ের প্রতি অসীম ভালোবাসার গল্প। পৃথিবীর সবচেয়ে মায়াময় মুখ মায়ের। মা শব্দটিতে যে পরিমাণ ভালোবাসা মিশে আছে, তা আর কোনো শব্দেই নেই। মায়ের জন্য ভালোবাসা অকৃত্রিম, চিরন্তন ও অনাবিল। জন্মের পর প্রথম মায়ের স্পর্শ পেয়ে দেহ-মনে শিহরণ জাগে মানবদেহের। পৃথিবীর সভ্যতার উত্থান-পতনের যত গল্পই বলা হোক না কেন, মায়ের জন্য ভালোবাসার গল্পটি সব সময় একই মমতায় মাখা থাকবে। মায়ের হাসিমুখের তুলনা চলে না অনুভূতির ভাণ্ডারে জমে থাকা কোনো আনন্দ বা সুখের সঙ্গে। অজস্র দুঃখ-বেদনার ঝড় সামলে রাখা সেই মমতাময়ীকে ভালোবাসার জন্য নির্দিষ্ট দিনক্ষণের প্রয়োজন নেই। জীবনের প্রতিটি দিনই সন্তানের জন্য মা দিবস। তবুও ব্যস্ত এই পৃথিবীতে একটি বিশেষ দিন শুধু মায়ের জন্য তুলে রাখার আকুলতা মানুষের বহু পুরনো। আজকের বিশ্বে মে মাসের দ্বিতীয় রোববার বিশ্বজুড়ে যে মা দিবস পালিত হয়, তার পেছনে রয়েছে হাজার বছরের ইতিহাস, সংগ্রাম আর এক কন্যার অসামান্য জেদ। মা দিবসের ধারণাটি কিন্তু হুট করে আসেনি। প্রাচীন গ্রিস-এ প্রতি বসন্তকালে দেবতাদের মা ‘রিয়া’-র উদ্দেশ্যে উৎসব পালন করা হতো। যদিও সেই আয়োজন বর্তমানের মতো ব্যাপক ছিল না, তবুও মাতৃত্বকে সম্মান জানানোর বীজ রোপিত হয়েছিল তখনই। পরবর্তীকালে সপ্তদশ শতকে ব্রিটেনে মে মাসের চতুর্থ রবিবারকে ‘মাদারিং সানডে’ হিসেবে পালন শুরু হয়। এদিন মানুষ মায়ের সঙ্গে সময় কাটাতেন এবং উপহার দিতেন। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম ভার্জিনিয়ায় ১৮৫৮ সালে প্রথমবারের মতো মা দিবস পালনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। জুনের ২ তারিখকে বেছে নেওয়া হয়েছিল মা দিবস হিসেবে। পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন প্রথমবারের মতো মা দিবসকে সরকারি ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করেন। আবার কথিত আছে, প্রায় ১৫০ বছর আগে এক রবিবার সকালে মার্কিন সমাজকর্মী অ্যানা জার্ভিসের জীবনে জন্ম নেয় এক নতুন অনুভব। নিজের প্রতিষ্ঠিত সানডে স্কুলে শিশুদের বাইবেল পাঠদান করতে গিয়ে তিনি বারবার নিজের মায়ের মুখচ্ছবি খুঁজে ফিরতেন। সেখান থেকেই জন্ম নেয় মায়ের প্রতি ভালোবাসাকে বিশেষভাবে সম্মান জানানোর ভাবনা। আধুনিক মা দিবসের গল্পের কেন্দ্রে রয়েছেন সমাজকর্মী অ্যান জার্ভিস। তিনি যুদ্ধ-বিধ্বস্ত আমেরিকায় নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও সচেতনতা নিয়ে কাজ করতেন। ১৯০৫ সালে তার মৃত্যুর পর মেয়ে অ্যানা জার্ভিস মায়ের স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখার সংকল্প করেন। তিনি চেয়েছিলেন, বছরের অন্তত একটি দিন যেন পৃথিবীর সব মায়েরা বিশেষ সম্মান ও ভালোবাসা পান। অ্যানা জার্ভিসের এই আন্দোলনে অনুপ্রেরণা ছিলেন সমাজকর্মী জুলিয়া ওয়ার্ডের মতো ব্যক্তিরাও। অবশেষে ১৯০৮ সালের ১০ মে পশ্চিম ভার্জিনিয়ার গ্রাফটন শহরের সেই চার্চে— যেখানে তার মা একসময় পড়াতেন— প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে মা দিবস পালন করেন অ্যানা জার্ভিস। তার নিরলস প্রচেষ্টার ফলেই ১৯১৪ সালে প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন মে মাসের দ্বিতীয় রোববারকে সরকারি ছুটির দিন ও মা দিবস হিসেবে ঘোষণা করেন। ১৯২০ সালের মধ্যে এ ধারণা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে এটি কেবল ক্যালেন্ডারের একটি তারিখ নয়; বরং মাতৃত্বের গুরুত্ব ও প্রভাবকে স্বীকৃতি দেওয়ার বৈশ্বিক মঞ্চ। কেন এত বিশেষ এই দিন? একটি গবেষণায় দেখা গেছে, বছরের অন্য যেকোনো বিশেষ দিনের তুলনায় মা দিবসে সবচেয়ে বেশি ফোন কল করা হয়। উইকিপিডিয়ার তথ্যমতে, দিবসটির তাৎপর্য মূলত তিনটি ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে— সকল মায়ের প্রতি ব্যক্তিগত শ্রদ্ধা মাতৃত্বের সার্বজনীনতাকে সম্মান জানানো সমাজে মায়েদের সুগভীর প্রভাবের স্বীকৃতি আজ মা দিবস শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং ভালোবাসা, কৃতজ্ঞতা ও আবেগের এক বৈশ্বিক উৎসব। দামি উপহার কিংবা জমকালো আয়োজনের চেয়েও বড় হয়ে ওঠে একটি বাক্য— ‘মা, তোমায় অনেক ভালোবাসি।’

ফেনীতে পুশইন ও চোরাচালান ঠেকাতে সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি)। ফেনী ৪ বিজিবি সূত্র জানায়, বাংলাদেশের সীমান্ত নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি) সর্বদা পেশাদারিত্ব, সতর্কতা ও দৃঢ়তার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছে। সম্প্রতি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশ (পুশইন) এর আশঙ্কা বৃদ্ধি পাওয়ায় ফেনী ব্যাটালিয়ন দায়িত্বপূর্ণ প্রায় ১০২ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থা জারি করেছে। এ লক্ষ্যে সীমান্তবর্তী গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টসমূহে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং সব বিওপি ও টহল দলকে বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম, পুশইন, চোরাচালান ও যেকোনো ধরনের সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে বিজিবি সদস্যদের সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত মোবাইল পেট্রোল, ফুট পেট্রোল, বিশেষ অভিযান এবং গুরুত্বপূর্ণ ও সন্দেহভাজন পয়েন্টসমূহে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে মাদকদ্রব্য, গবাদিপশু, ভারতীয় বিভিন্ন পণ্যসহ অন্যান্য চোরাচালান সামগ্রী পাচার প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং সীমান্ত দিয়ে যেন কোনো ব্যক্তি অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারে সে লক্ষ্যে বিজিবি সদস্যরা নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করছে। বিজিবি আরও জানায়, ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি) দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে, সীমান্ত এলাকার জনগণের সহযোগিতা ও সচেতনতা সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ কারণে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সীমান্তবর্তী জনসাধারণের সাথে সমন্বয় বৃদ্ধি করা হয়েছে যাতে কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি, চলাচল বা কার্যক্রম সম্পর্কে দ্রুত তথ্য পাওয়া যায়। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় বসবাসরত সবাইকে যেকোনো অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালান বা সীমান্ত অপরাধসংক্রান্ত তথ্য নিকটস্থ বিজিবি ক্যাম্পে দ্রুত জানানোর জন্য আহ্বান জানানো হচ্ছে। ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন বলেন, ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি) সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সর্বদা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ও বদ্ধপরিকর। সীমান্তে যে কোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালান ও রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রম প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান, টহল ও নজরদারি কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

অরল্যান্ডো সিটির কাছে গত ম্যাচে হারের ধাক্কা ভুলে জয়ে ফিরেছে ইন্টার মায়ামি। মেজর লিগ সকারে লিওনেল মেসির দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে টরন্টো এফসি-কে ৪-২ গোলে হারিয়েছে ‘দ্য হেরন্স’রা। ম্যাচে মেসি নিজে একটি গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও দুটি গোল। এমএলএস ইতিহাসের দ্রুততম খেলোয়াড় হিসেবে ১০০ গোলে সরাসরি অবদান রাখার অনন্য এক মাইলফলক স্পর্শ করলেন এই আর্জেন্টাইন মহাতারকা। এমএলএসে নিজের ১০০তম গোল অবদানে (৫৯ গোল ও ৪১ অ্যাসিস্ট) পৌঁছতে মেসির লেগেছে মাত্র ৬৪ ম্যাচ। তিনি টরন্টোর সাবেক তারকা সেবাস্টিয়ান জিওভিনকোর ৯৫ ম্যাচের রেকর্ডটি চুরমার করে দিয়েছেন। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ইন্টার মায়ামির হয়ে এখন মেসির গোল সংখ্যা ৮৭ আর অ্যাসিস্ট ৫৭টি। টরন্টোর বিএমও ফিল্ডে শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল মায়ামির হাতে। ম্যাচের প্রথমার্ধে রদ্রিগো ডি পলের দুর্দান্ত এক ভলিতে লিড নেয় সফরকারীরা। ডি পলের নেওয়া ফ্রি-কিক প্রথমে দেওয়ালে লেগে ফিরে আসলেও ফিরতি শটে বল জালে জড়ান এই আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার। দ্বিতীয়ার্ধের ৫৫ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন লুইস সুয়ারেজ। মেসির নিখুঁত পাস থেকে বল পেয়ে ঠান্ডা মাথায় গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন উরুগুয়ের এই স্ট্রাইকার। এরপর ৭২ মিনিটে মেসির ক্রসে পা ছুঁইয়ে স্কোরলাইন ৩-০ করেন সার্জিও রেগুইলন। সহকারী থেকে গোলদাতার ভূমিকায় ফিরতে খুব বেশি সময় নেননি এলএম১০। ৭৪ মিনিটে ডি পলের সাথে বল দেওয়া-নেওয়া করে বক্সের ভেতর থেকে চমৎকার এক কোনাকুনি শটে স্কোরলাইন ৪-০ করেন মেসি। যদিও শেষ দিকে মায়ামির রক্ষণভাগের ভুলে এমিলিও আরিস্তিজাবাল টরন্টোর হয়ে দুটি গোল শোধ করেন, তবে তা জয়ের পথে বাধা হতে পারেনি। এই জয়ের পর ১২ ম্যাচে ২২ পয়েন্ট নিয়ে এমএলএস ইস্টার্ন কনফারেন্সের টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে ইন্টার মায়ামি।

আর কোনো ফ্যাসিবাদী শক্তি যেন পুলিশকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে না পারে, সেজন্য বাহিনীকে নতুন করে শপথ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (১০ মে) সকালে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে ‘জাতীয় পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬’ উদ্বোধন শেষে তিনি মন্তব্যটি করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে এই রাজারবাগ পুলিশ লাইনসেই হানাদার বাহিনী বর্বর হামলা চালিয়ে শত শত পুলিশ সদস্যকে হত্যা করেছিল। স্বাধীনতা অর্জনের জন্য যে পুলিশ সদস্যরা আত্মাহুতি দিয়েছিলেন, যে কোনো মূল্যে সেই স্বাধীনতা আমাদের রক্ষা করতে হবে। হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে আর কোনো রাজনৈতিক দল বা শক্তি যেন পুলিশকে দমন-পীড়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য। পেশাদারিত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচন প্রমাণ করেছে যে, একটি স্বাধীন ও পেশাদার বাহিনীর পক্ষে নিরপেক্ষভাবে কাজ করা সম্ভব। জনগণের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই পুলিশের মূল কাজ। সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তায় সাধ্য ও সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে পুলিশ বাহিনী কাজ করবে, এটাই বর্তমান সরকারের প্রত্যাশা। তারেক রহমান আরও উল্লেখ করেন, শুধু দেশের অভ্যন্তরেই নয়, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনেও বাংলাদেশ পুলিশের ভূমিকা বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিদেশের মাটিতে অর্জিত এই সুনাম দেশের অভ্যন্তরেও বজায় থাকবে এবং জনগণের সঙ্গে পুলিশের আচরণ হবে মানবিক ও জনবান্ধব। ‘আমার পুলিশ, আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’— এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বর্ণিল প্যারেড ও সালাম গ্রহণের মধ্য দিয়ে চার দিনব্যাপী পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬-এর উদ্বোধন করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী এই আয়োজনের সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।

সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ একদিন কেড়ে নিয়েছিল এক জেলেকে। পরিবার ভেবেছিল, তিনি আর নেই। সময়ের দীর্ঘ স্রোতে হারিয়ে যাওয়া সেই মানুষটির স্মৃতি ধীরে ধীরে ঝাপসা হয়ে গিয়েছিল স্বজনদের চোখে। পরিবার ও স্বজনরা ভেবেছিলেন, তিনি আর বেঁচে নেই। কিন্তু ৫৪ বছর পর হঠাৎই গ্রামের একটি বাজারে এসে দাঁড়ালেন সেই মানুষটি। চিনতে পারেননি প্রতিবেশী এবং স্বজনরা। কিন্তু নিজের পরিচয় প্রকাশ করতেই স্তব্ধ হয়ে যায় পুরো গ্রাম। নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের এমপির পুল সংলগ্ন ফজলি বাড়িতে ঘটে গেছে এক অবিশ্বাস্য ঘটনা। ফিরে আসা মানুষটির নাম ছৈয়দ আহাম্মদ। মৃত ধন মিয়ার ছেলে তিনি। বয়সের ভারে ন্যুব্জ, কণ্ঠনালিতে করা হয় অপারেশন, শরীরে নানা অসুস্থতা, তবু চোখে-মুখে যেন দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে আপন ঠিকানায় ফেরার এক শান্তির ছাপ। স্বজনরা জানান, প্রায় ৫৪ বছর আগে কুতুবদিয়া এলাকায় মাছ ধরতে গিয়ে ভয়াবহ ট্রলারডুবির কবলে পড়েন ছৈয়দ আহাম্মদ। উত্তাল সাগরে মুহূর্তেই ছিটকে যায় জেলেরা। কেউ ফিরে এলেও ছৈয়দ আহাম্মদের আর কোনো খোঁজ মেলেনি। অনেক খোঁজাখুঁজির পর পরিবার ধরে নেয় তিনি হয়তো আর বেঁচে নেই। তখন তার স্ত্রী ছামনা খাতুনের কোলজুড়ে ছোট্ট শিশু সন্তান আকরাম। বাবার মুখ না দেখেই বড় হতে থাকে সেই সন্তান। পরিবারের দাবি, ট্রলারডুবির পর কোনোভাবে খড়কুটো আঁকড়ে ভেসে ভারতের অজ্ঞাত এক এলাকায় পৌঁছে যান ছৈয়দ আহাম্মদ। সেখান থেকেই শুরু হয় তার দীর্ঘ অনিশ্চয়তার জীবন। বছরের পর বছর তিনি বিভিন্ন মসজিদ, মাজার ও পথে-প্রান্তরে কাটিয়েছেন। জীবনের অধিকাংশ সময় কেটেছে ভবঘুরের মতো পরিচয়হীন আজমীর শরীফে। সম্প্রতি ভারতের হাওড়া স্টেশন এলাকায় দুষ্কৃতকারীদের কবলে পড়ে সর্বস্ব হারান তিনি। পরে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠায়। এরপর ধীরে ধীরে পথ চিনে, স্মৃতির টানে, বহু বছরের পুরোনো ঠিকানার খোঁজে একদিন তিনি পৌঁছে যান হাতিয়ায় নিজের পৈতৃক বাড়িতে। গত মঙ্গলবার দুপুরে বাড়িতে এসে নিজের পরিচয় দেন বৃদ্ধ ছৈয়দ আহাম্মদ। প্রথমে কেউ বিশ্বাস করতে পারেনি। পরে তার সহপাঠী মুন্সি সারেং, চাচাতো ভাই গেদু মিয়া, সহোদর আবুল খায়ের ওরফে জমিদারসহ কয়েকজন প্রবীণ তাকে শনাক্ত করেন। খবর ছড়িয়ে পড়তেই উৎসুক মানুষের ঢল নামে এলাকায়। শত শত মানুষ ভিড় করেন এক নজর দেখতে।যে মানুষকে মৃত ভেবে ভুলে গিয়েছিল সময়। স্থানীয় বাসিন্দা আলফাজ আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, এত বছর পর আল্লাহ তাকে জীবিত অবস্থায় পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছেন এটা আমাদের জন্যও আনন্দের বিষয়। মানুষটা যেন জীবনের শেষ সময়ে আপনজনদের সান্নিধ্য পায়, এটাই চাই। ছৈয়দ আহাম্মদের ছেলে আকরাম বলেন, জন্মের পরপরই বাবা নিখোঁজ হন। এতদিন তিনি শুধু মানুষের মুখে বাবার গল্প শুনেছেন। এবার জীবনের শেষ প্রান্তে এসে সত্যিকারের বাবাকে ছুঁয়ে দেখার সুযোগ পেলেন। তবে এই ফিরে আসাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে পারিবারিক টানাপোড়েনও। আকরামের অভিযোগ, কয়েকজন স্বজন তাকে বাবার দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে গড়িমসি করছেন। এছাড়া ছৈয়দ আহাম্মদের সঙ্গে থাকা অর্থ নিয়েও তৈরি হয়েছে বিতর্ক। ঘটনাটি ঘিরে পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে আবেগঘন পরিবেশ। অনেকেই এটিকে অলৌকিক প্রত্যাবর্তন বলে আখ্যা দিচ্ছেন। আবার কেউ কেউ পুরো ঘটনাকে দেখছেন ভিন্ন দৃষ্টিতে। স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নও ঘুরপাক খাচ্ছে। দীর্ঘ ৫৪ বছর তিনি কোথায় ছিলেন, কীভাবে জীবন কাটিয়েছেন, কেন এতদিন পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি, আর হঠাৎ করেই বা এখন কেন ফিরে এলেন? চায়ের দোকান থেকে শুরু করে গ্রাম্য আড্ডা সবখানেই চলছে আলোচনা। কেউ বলছেন, হয়তো স্মৃতিভ্রংশ কিংবা ভাগ্যের নির্মম পরিহাস তাকে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছিল। আবার কারও ধারণা, জীবনের শেষ সময়ে শেকড়ের টানেই ফিরে এসেছেন তিনি। তবে রহস্য আর নানা প্রশ্নের ভেতরেও একটি বিষয় স্পষ্ট যে বহু বছর পর হারিয়ে যাওয়া একজন মানুষকে ফিরে পাওয়ার অনুভূতি স্বজনদের চোখে এনে দিয়েছে আনন্দ, বিস্ময় আর আবেগের অশ্রু। হাতিয়া থানার ওসি মো. কবির হোসেন বলেন, ৫৪ বছর পর একজন জেলে ফিরে আসার খবর পেয়েছি। এটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্বজনরা সহযোগিতা চাইলে আইনগতভাবে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।

ভারত নিয়ন্ত্রিত বঙ্গোপসাগরের আকাশসীমায় তিন দিনের বিধিনিষেধ জারির মধ্যেই ওডিশা উপকূল থেকে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার জোর জল্পনা তৈরি হয়েছে। আর এই পরীক্ষার রেশ ধরে বাংলাদেশের উপকূলীয় জেলা নোয়াখালীসহ বিভিন্ন অঞ্চলের আকাশে এক রহস্যময় আলোর ঝলকানি দেখা গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। শুক্রবার (৮ মে) সন্ধ্যায় আকস্মিক এই দৃশ্য দেখে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে কৌতূহল ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। আকাশে কী দেখা গিয়েছিল? নোয়াখালীর বিভিন্ন উপজেলা থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে দেখা যায়, সন্ধ্যার আকাশে একটি উজ্জ্বল আলোক পিণ্ড ধীরগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে, যার পেছনে ধোঁয়ার মতো লেজ দৃশ্যমান। অনেক প্রত্যক্ষদর্শী একে 'উল্কাপাত' বা 'অচেনা বস্তু' (UFO) মনে করলেও কেউ কেউ বলছেন, এটি মূলত ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার দৃশ্য হতে পারে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও ভারতের জারি করা 'নোটিশ টু এয়ারম্যানস' (নোটাম) অনুযায়ী, ৬ থেকে ৯ মে পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরের ওপর একটি নির্দিষ্ট করিডরে বিমান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। ওডিশার আবদুল কালাম দ্বীপ থেকে প্রায় ৩,৫৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই এলাকায় সাধারণত অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র বা আইসিবিএম (ICBM) পরীক্ষার সময় এ ধরনের সতর্কতা জারি করা হয়। নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও ভোলা, কক্সবাজারসহ উপকূলীয় অঞ্চলের শত শত মানুষ ফেসবুকে এই আলোর দৃশ্য শেয়ার করেছেন। কেউ কেউ একে মহাজাগতিক ঘটনা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ ভারতের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির সাথে বিষয়টিকে মেলাচ্ছেন। হঠাৎ আকাশে এমন দৃশ্য দেখে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষণিকের জন্য কৌতূহল ছড়িয়ে পড়ে।

পবিত্র হজ পালন করতে বাংলাদেশ থেকে শুক্রবার (৮ মে) রাত ২টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত সৌদি আরবে পৌঁছেছেন ৫০ হাজার ৯৬ হজযাত্রী। শনিবার (৯ মে) হজ সম্পর্কিত সর্বশেষ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এয়ারলাইনস, সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ হজ অফিস ঢাকা এবং সৌদি আরব সূত্রে এ তথ্য জানিয়েছে হেল্প ডেস্ক। হেল্প ডেস্ক জানায়, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ৫৯টি ফ্লাইটে সৌদি পৌঁছান ২৩ হাজার ৫৯১ হজযাত্রী, সৌদি এয়ারলাইনসের ৪৭টি ফ্লাইটে ১৭ হাজার ৬৪৬ জন ও ফ্লাইনাস এয়ারলাইনসের ২২টি ফ্লাইটে ৮ হাজার ৮৮৯ জন হজযাত্রী সৌদি পৌঁছান। তাদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় গেছেন ৪ হাজার ৭১ জন ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় সৌদি পৌঁছান ৪৬ হাজার ২৫ হজযাত্রী। চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজ পালনের অনুমতি পেয়েছেন। ৬৬০টি এজেন্সি এ কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যার মধ্যে ৩০টি প্রধান ও ৬৩০টি সমন্বয়কারী এজেন্সি রয়েছে। এদিকে, গত ১৭ এপ্রিল রাত ১১টা ৫৭ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৪১৯ জন হজযাত্রী নিয়ে প্রথম হজ ফ্লাইট (বিজি৩০০১) জেদ্দার কিং আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। ফ্লাইটটির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। হজ অফিসের তথ্য অনুযায়ী, মোট হজযাত্রীর মধ্যে ৪ হাজার ৫৬৫ জন সরকারি ও ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালন করবেন। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে, আগামী ২৬ মে সৌদি আরবে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। হজ পালন শেষে আগামী ৩০ মে জেদ্দা থেকে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে। আগামী ৩০ জুন শেষ ফ্লাইটটি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবে।

নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ফলোআপ চিকিৎসার জন্য লন্ডনের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন। শনিবার (৯ মে) সকাল পৌনে ৮টায় রাষ্ট্রপতিকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বাণিজ্যিক ফ্লাইট বিজি-২০১ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে। এ সময় আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, ডিপ্লোমেটিক কোরের ডিন ইউসুফ এস ওয়াই রমাদান, ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে তাকে বিদায় জানান। রাষ্ট্রপতির পরিবারের সদস্য, রাষ্ট্রপতির চিকিৎসক, স্টাফ নার্স ও বঙ্গভবনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এ সফরে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে যাচ্ছেন। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবরে সিঙ্গাপুরে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিনের কার্ডিয়াক বাইপাস সার্জারি সম্পন্ন হয়। চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে ফলোআপ হিসেবে যুক্তরাজ্যের একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে রাষ্ট্রপতির প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করা হবে। চিকিৎসা শেষে আগামী ১৮ মে রাষ্ট্রপতির দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবি করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান, সাবেক মন্ত্রী ও নোয়াখালী-৩ বেগমগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য বরকত উল্যাহ বুলু। তিনি বলেন, তরুণ ওসমান হাদিকে যারা হত্যা করেছে, তাদের বিচার হওয়া উচিৎ। এরকম একজন তরুণ-টগবগে জাতীয়তাবাদী নেতাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি এ হত্যার বিচার দাবি করি। নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার কাদিরপুর ইউনিয়নের পৌরণবিবি বাজারে পৌরণবিবি-মুনসির হাট খাল খনন কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। খাল খনন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. কায়েসুর রহমানের সভাপতিত্বে অন্যান্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন পানি উন্নয়ন বোর্ড নোয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম রেফাত জামিল, কেন্দ্রীয় কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ আব্দুল্লাহ আল বাকী, উপজেলা বিএনপি যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল গনি চৌধুরী মান্না, বিএনপি নেতা আহসান উল্লাহ, উপজেলা যুবদলের আহবায়ক রুস্তম আলী, বিএনপি নেতা কাজী আবুল বাশার, ইসমাইল হোসেন সুমন ও কাদিরপুর ইউপি চেয়ারম্যান সালাহ উদ্দিন, বিএনপির নেতাকর্মী সহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ। বরকত উল্লাহ বুলু জামায়াতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা আবুল আলা মওদুদীর ছেলের উক্তি তুলে ধরে বলেন, জামায়াতে ইসলামী হলো একটা আফিম, এটা মাদকের চেয়েও বিপদজনক। এটা একবার যে খায়, সে জীবনে আর ভুলতে পারে না। এখানে তাদের নেতারা যা বলে, শুদ্ধ-অশুদ্ধ, ভুল, এরা এটাই মানে। অথচ মওদুদীর বংশের কেউ কিন্তু জামায়াত ইসলামী করে না। তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বেগমগঞ্জের রসুলপুর ও কাদিরপুরে খাল খনন করেছেন, মাঝখানে এরশাদ এসে খাল কাটা বন্ধ করে দিয়েছেন। বিগত এই ৩০-৩৫ বছর খাল কাটা ছিল না। এটি যদি অব্যাহত থাকতো, বাংলাদেশ শুধু খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়, কয়েক লক্ষ্য টন খাদ্য বিদেশে রপ্তানি করতে পারতো। আমাদের মাছের ও কৃষি কাজের অভাব হতো না, যোগাযোগ ব্যবস্থাও সমুন্নত থাকতো। বিএনপির এ নেতা বলেন, আমাদের নেতা তারেক রহমান আবার খাল কাটা কর্মসূচি শুরু করেছেন। সরকারের আড়াই মাসে আমরা যা করেছি, গত সতের বছরেও তা হয়নি। গুপ্তদের থেকে সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে উন্নয়নের এই ধারা অব্যাহত থাকবে।

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় গভীর রাতে মসজিদের ৩টি তালা ভেঙে দানবাক্সের টাকা চুরির ঘটনা ঘটেছে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের চুরির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। বুধবার (৬ মে) দুপুরে চুরির বিষয়টি নিশ্চিত করেন চরফকিরা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও মসজিদ কমিটির সভাপতি মো. ইউসুফ নবী। এর আগে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে উপজেলার চরফকিরা ইউনিয়নে ফকিরের তাকিয়া শাহি জামে মসজিদে এ চুরির ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো মসজিদের ইমাম আবু বক্কর ছিদ্দিক (২৫) মসজিদের পাশের মক্তব কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন। সুযোগ বুঝে গভীর রাতে একদল চোর মসজিদে প্রবেশ করে। প্রথমে তারা ইমামের কক্ষটি বাইরে থেকে ছিটকিনি দিয়ে বন্ধ করে দেয়। এরপর মসজিদের দুটি তালা ভেঙার পর ভেতরে ঢুকে দানবাক্সের তালা ভেঙে নগদ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। ভোরে ফজরের আজানের জন্য জেগে উঠে ইমাম নিজ কক্ষ বাইরে থেকে ছিটকিনি আটকানো দেখতে পান। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় বের হয়ে তিনি আজান দেন। এসময় চুরির বিষয়টি জানাজানি পায়। ইউপি সদস্য ও ফকিরের তাকিয়া জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি মো. ইউসুফ নবী বলেন, দানবাক্সে আনুমানিক ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা ছিল। তিনি দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ নুরুল হাকিম বলেন, ঘটনাটি এখনো পুলিশকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। তবে বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর নোয়াখালী জেলা ছাত্রদলের কাঙ্ক্ষিত কমিটি ঘোষণা করায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাংগঠনিক অভিভাবক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে শুভেচ্ছা মিছিল ও বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা করেছে নোয়াখালী জেলা ছাত্রদল। বুধবার (৬ মে) বিকেলে জেলার শহীদ ভুলু স্টেডিয়ামের সামনে থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে নতুন বাসস্ট্যান্ড, সুপার মার্কেটের মোড়, টাউন হল মোড়, বড় মসজিদ মোড় প্রদক্ষিণ করে জেলা স্কুলের সামনে এসে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। ছাত্রদলের কয়েক হাজার নেতাকর্মী দলীয় পতাকা ও বিভিন্ন প্লেকার্ড সহ স্বতঃস্ফূর্তভাবে আনন্দ শোভাযাত্রায় অংশ নেয়। এসময় নতুন নেতৃত্বকে ফুলের মালা পরিয়ে ও মাথায় ফুল ছিটিয়ে স্বাগত জানায় নেতাকর্মীরা। মিছিল শেষে বক্তব্য রাখেন জেলা ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটির সভাপতি এনবিএস রাসেল, সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান রায়হান। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম উজ্জ্বল, নোয়াখালী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি রাশেদুল ইসলাম সোহাগ, সাধারণ সম্পাদক সাফরাতুল ইসলাম নাবিল, সদর উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক করিম উদ্দিন চৌধুরী বাবু প্রমুখ। নোয়াখালীতে ছাত্রদলের বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা, নতুন কমিটিকে ঘিরে উচ্ছ্বাস তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীকে মারধর, যুবদল নেতা বহিষ্কার সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এনবিএস রাসেল বলেন, ‘আমরা সবাই বিগত ১৭ বছর ধরে অত্যাচার ও নির্যাতনের শিকার। আমাদের ওপর আস্থা রাখায় কেন্দ্রীয় সংসদ এবং নোয়াখালীর কৃতী সন্তান নাছির উদ্দীন নাছির ভাইয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। নাছির ভাই গোটা বাংলাদেশের জন্য গর্ব। সংগঠনের ভেতরের সব বিভেদ দূর করে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার মাধ্যমে ছাত্রদলকে আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত করা হবে। নোয়াখালীর মাটি ছাত্রদলের ঘাঁটি, নোয়াখালীর মাটি নাছির ভাইয়ের ঘাঁটি।’ উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন পর শনিবার (২ মে) রাতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছিরের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নোয়াখালী জেলা ছাত্রদলের ৩৭ সদস্যবিশিষ্ট নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। নতুন এই নেতৃত্বকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে দ্রুতগতির সিএনজিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় তন্ময় চন্দ্র (১৬) নামে এক এসএসসি পরীক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় আহত হয়েছেন তার সহপাঠী দীপ দেবনাথ (১৬)। দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। বুধবার (৬ মে) বেলা ১১টার দিকে চৌমুহনী চৌরাস্তা-মাইজদী আঞ্চলিক মহাসড়কের বেগমগঞ্জ কৃষি ইনস্টিটিউটের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহত তন্ময় নোয়াখালী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কুরিপাড়া এলাকার কার্তিক চন্দ্রের ছেলে। তিনি স্থানীয় ডেল্টা জুটমিল উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, সকালে তন্ময় তার বন্ধু দীপের সঙ্গে বাইরে যান। বেলা ১১টার দিকে চৌমুহনী চৌরাস্তা এলাকায় রাস্তা পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা তাদের ধাক্কা দেয়। এতে দুজনই গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে তন্ময়ের অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে দুপুর আড়াইটার দিকে তার মৃত্যু হয়। আহত দীপ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তন্ময়ের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা প্রায় দেড় ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এতে সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয় এবং জনদুর্ভোগ দেখা দেয়। বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান জানিয়েছেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দুর্ঘটনার পর সিএনজিচালক পালিয়ে যান। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।