

বিজ্ঞান, মেধা ও প্রগতির দুরন্ত ছন্দে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি বিশ্ব জয় করল বাংলাদেশের তিন খুদে রোবোটিক্স উদ্ভাবক। সেন্ট যোসেফ স্কুল অ্যান্ড কলেজের ষষ্ঠ শ্রেণির তিন মেধাবী শিক্ষার্থী—আলবি আহমেদ খান আহনাফ, অরনী শাহা এবং সাফওয়াত জামান আন্তর্জাতিক রোবোটিক্স প্রতিযোগিতা Robo RAVE World Championship 2026’-এ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। জাপানের ওসাকায় আয়োজিত বহুজাতিক এই প্রযুক্তির মহাযুদ্ধে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিযোগীদের পেছনে ফেলে প্রথম স্থান ছিনিয়ে নেয় বাংলাদেশের দল ‘Team Atlas’। মাত্র ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া এই তিন শিক্ষার্থী তাদের সৃজনশীলতা, উদ্ভাবনী চিন্তা ও অসামান্য প্রযুক্তিগত দক্ষতার মাধ্যমে বৈশ্বিক মঞ্চকে তাক লাগিয়ে দেয়। লাল-সবুজের পতাকা হাতে ওসাকার মাটিতে দাঁড়িয়ে তাদের এই বিশ্বজয় শুধু সেন্ট যোসেফ নয়; বরং গোটা বাংলাদেশের প্রযুক্তি অঙ্গনের জন্য এক অভূতপূর্ব মাইলফলক। খুদে এই প্রযুক্তিবিদদের অদম্য অধ্যবসায় ও সাফল্য প্রমাণ করেছে, বয়সের সীমানা ছাড়িয়ে স্বপ্ন আর মেধার জোর থাকলে যে কোনো বিশ্বমঞ্চ জয় করা সম্ভব। আন্তর্জাতিক রোবোটিক্স মানচিত্রে এই গৌরবময় বিজয় বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মকে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও আধুনিক উদ্ভাবনের পথে এগিয়ে যেতে যুগান্তকারী অনুপ্রেরণা জোগাবে।

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় লাইলি বেগম (৫০) নামের এক নারীকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় তার ছেলে সৌরভ হোসেন (২৮) ও তার শাশুড়ি তফুরা বেগমকে (৭৫) গ্রেপ্তার করেছে সুধারাম থানা পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, সৌরভ মাদকাসক্ত ও মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে গ্রেপ্তার দুজনকে বিচারিক আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে শুক্রবার ভোরে উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের গোপাই গ্রামের আলী আজম মহুরী বাড়িতে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত লাইলি বেগম ওই বাড়ির আলমগীর হোসেনের স্ত্রী। স্থানীয় সূত্র জানায়, লাইলি বেগম ও তার ছেলে সৌরভ একই বসতঘরের পৃথক কক্ষে থাকতেন। লাইলির স্বামী আলমগীর হোসেন গ্রাম পুলিশ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি বাড়ি থেকে প্রায় ১৫০ গজ দূরে একটি চায়ের দোকান পরিচালনা করেন তিনি এবং রাতে সেখানেই ঘুমান। প্রায় ৮ থেকে ১০ দিন আগে বাড়ির সামনের পুকুরঘাটে পড়ে লাইলি বেগমের বাঁ হাত ভেঙে যায়। এতে তিনি স্বাভাবিকভাবে ঘরের কাজ করতে পারছিলেন না। এ কারণে কয়েক দিন ধরে পরিবারের সদস্যদের খাবারের ব্যবস্থা পাশের ঘরে থাকা লাইলির শাশুড়ি তফুরা বেগমের ঘরে করা হচ্ছিল। বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে লাইলি তফুরা বেগমের ঘরে গিয়ে রাতের খাবার খান। পরে নিজ কক্ষে ফিরে যান। রাত ১২টার দিকে আলমগীর হোসেনও তফুরার ঘরে খাবার খেয়ে চায়ের দোকানে চলে যান। পরে লাইলি ও তার ছেলে নিজ নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। শুক্রবার ভোর ৬টার দিকে সৌরভ ঘুম থেকে উঠে তার দাদি তফুরা বেগমকে জানান, তার মা শয়নকক্ষের মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন। তফুরা ঘরে গিয়ে লাইলির নিথর দেহ দেখতে পান। এ সময় তিনি চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। পরে সৌরভ চায়ের দোকানে গিয়ে তার বাবা আলমগীর হোসেনকে ঘুম থেকে তুলে জানান, তার মা মারা গেছেন। বাড়িতে এসে আলমগীর স্ত্রীকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। লাইলির গলার ডান পাশে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর কাটা জখম ছিল। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া তার বাঁ হাতের কাঁধের সামনের অংশ ও বাঁ হাঁটুতে জখমের চিহ্ন পাওয়া যায়। খবর পেয়ে সুধারাম থানার এসআই সুমন বণিক সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন পিবিআই, সিআইডি ও ডিবির সদস্যরা। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সুধারাম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুমন বণিক বলেন, এ ঘটনায় নিহতের ছেলেকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার কথাবার্তায় অসংলগ্নতা পাওয়া যায়। প্রথমে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করে মামলা নেওয়া হয়। পরে তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহতের ছেলে সৌরভ হোসেন ও তার দাদি তফুরা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সৌরভ মাদকাসক্ত ও মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত। অপরদিকে তফুরাকে হত্যাকাণ্ডের আলামত লোপাটের চেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনো জানা যায়নি।

রাজধানীর উত্তরা এলাকায় ব্যাংকে টাকা জমা দিতে যাওয়ার পথে পেট্রোল পাম্পের কর্মীর কাছ থেকে পিস্তল ঠেকিয়ে ১ কোটি ২১ লাখ ২৫ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার সাগর বাড়ৈকে (৪১) সাত দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। পেট্রোল পাম্পের মালিক তাসীন আক্তার হক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের খালাতো ভাই। শনিবার (১৫ আগস্ট) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। এর আগে বিকেলে আসামিকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক মো. নজরুল ইসলাম। রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, সাগর বাড়ৈ তার সহযোগীদের সঙ্গে যোগসাজশে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতি করে আসছিলেন। তার নাম-ঠিকানা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে এবং তা যাচাই করা হচ্ছে। মামলার ঘটনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের সক্রিয় সদস্য হওয়ায় বিভিন্ন কৌশলে অসংলগ্ন তথ্য দিয়েছেন। সময়ের স্বল্পতার কারণে তাকে ঘটনার বিষয়ে ব্যাপক ও নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা সম্ভব হয়নি। আবেদনে আরও বলা হয়, মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, ঘটনায় জড়িত অজ্ঞাতনামা আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং লুণ্ঠিত টাকা উদ্ধারের স্বার্থে আসামিকে ১০ দিনের পুলিশ রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন। শুনানি শেষে আদালত সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ঢাকা মহানগর প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক আবু বক্কর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, শুনানির সময় আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। তাঁর বিরুদ্ধে একই ধরনের আরও নয়টি মামলা রয়েছে বলেও জানান তিনি। মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৯ আগস্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী সিএনজি অপারেটর সেলিমুজ্জামান ও কাভার্ডভ্যানচালক মো. খোরশেদকে সঙ্গে নিয়ে ফিলিং স্টেশনের সহকারী ম্যানেজার মোহাম্মদ আল আমিন উত্তরা ১ নম্বর সেক্টরের পূবালী ব্যাংকে টাকা জমা দিতে যাচ্ছিলেন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কাভার্ডভ্যানটি ঢাকা-ময়মনসিংহ রোডের ক্রাউন প্লাজার সামনে পৌঁছালে পেছন থেকে তিনটি মোটরসাইকেলে আসা ৬-৭ জন দুর্বৃত্ত গাড়িটির সামনে এসে গতিরোধ করে। এ সময় তারা সহকারী ম্যানেজার আল আমিনের বুকে পিস্তল ঠেকিয়ে টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। ওই ব্যাগে ১ কোটি ২১ লাখ ২৫ হাজার টাকা ছিল। দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যাওয়ার সময় আল আমিনকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম করে বলেও মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় অজ্ঞাতনামা ৬-৭ জনের বিরুদ্ধে মৃত্যু বা গুরুতর আঘাতের চেষ্টা এবং ডাকাতির অভিযোগে মামলা করেন ডিএল ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো. আব্দুল করিম। প্রসঙ্গত, ডিএল ফিলিং স্টেশনের মালিক তাসীন আক্তার হক। তার মা প্রয়াত খুরশীদ জাহান হক সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় বোন। তাসীন আক্তার হক সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের খালাতো ভাই।

বাবার মরদেহ বাড়িতে রেখে এসএসসি পরীক্ষার শেষ বিষয়ে অংশ নেওয়া নোয়াখালীর শিক্ষার্থী আবতাহি উদ্দিন লাবিব গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে। বাবার স্বপ্ন পূরণের প্রত্যয়ে গভীর শোককে শক্তিতে পরিণত করে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল সে। তার এই সাফল্যে পরিবার, শিক্ষক ও সহপাঠীদের মধ্যে আনন্দের পাশাপাশি আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে নোয়াখালী জিলা স্কুল থেকে ২৩৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ১৩১ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। তাদেরই একজন বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আবতাহি উদ্দিন লাবিব। সে সব বিষয়ে এ-প্লাস পেয়ে গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। এর আগে গত ২০ মে জীববিজ্ঞান পরীক্ষার দিন বাবার মরদেহ বাড়িতে রেখেই পরীক্ষাকেন্দ্রে গিয়েছিল লাবিব। ওই দিনই ছিল তার এসএসসি পরীক্ষার শেষ বিষয়। পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফিরে বাবার জানাজা ও দাফনে অংশ নেয় সে। ঘটনাটি সে সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। জানা যায়, লাবিবের বাবা মফিদুল আলম চাটখিল মহিলা ডিগ্রি কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন। গত ১৯ মে রাতে ঢাকায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৪ বছর। পরিবারের সদস্যরা জানান, সন্তানের ভালো ফলাফল ও উচ্চশিক্ষা ছিল মফিদুল আলমের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন। বাবার সেই স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যেই গভীর শোকের মধ্যেও পরীক্ষায় অংশ নেয় লাবিব। আজকের এই ফলাফল বাবার প্রতি তার ভালোবাসা ও শ্রদ্ধারই বহিঃপ্রকাশ। লাবিবের এই সাফল্যে নোয়াখালীর শিক্ষাঙ্গনে প্রশংসার পাশাপাশি আবেগঘন প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে তার এই অর্জন অন্য শিক্ষার্থীদের জন্য সাহস ও অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলাফল প্রকাশের পর লাবিব বলেন, বাবা সব সময় চাইতেন আমি ভালো ফল করি। পরীক্ষার সময় বাবাকে হারানো আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্ত ছিল। কিন্তু বাবার স্বপ্ন পূরণের কথা ভেবেই নিজেকে সামলে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলাম। আজ গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছি, কিন্তু বাবা পাশে নেই। তিনি ফলাফল পেলে খুব খুশি হতেন। এদিকে লাবিব ফলাফল প্রকাশের পর নিজের ফেসবুকেও বাবাকে স্মরণ করে আবেগঘন একটি স্ট্যাটাস দিয়েছে। সেখানে সে লিখেছে, আজকের দিনে যদি আমার বাবা বেঁচে থাকতেন, তাহলে হয়তো নিজের আইডি থেকে পোস্ট করে বলতেন— আমার ছেলে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে। সে আরও লিখেছে, ভালো রেজাল্ট হওয়ার পরেও মনের মধ্যে কেমন যেন এক নীরব ব্যথা কাজ করছে। আপনারা সবাই আমার জন্য, আমার বাবার জন্য এবং আমার পরিবারের জন্য দোয়া করবেন। মহান আল্লাহ যেন আমার বাবাকে জান্নাতের উচ্চ মাকাম দান করেন এবং আমি যেন বড় হয়ে আমার বাবার স্বপ্ন পূরণ করতে পারি। লাবিবের আবেগঘন স্ট্যাটাসটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অনেকেই তার প্রতি সমবেদনা জানিয়ে শুভকামনা জানান। শিক্ষক, সহপাঠী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তার এই সাফল্যকে প্রয়াত বাবার স্বপ্ন পূরণের পথে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখছেন। নোয়াখালী জিলা স্কুলের এক শিক্ষক বলেন, লাবিব শুরু থেকেই অত্যন্ত মেধাবী ও পরিশ্রমী শিক্ষার্থী। ব্যক্তিগত জীবনের এত বড় শোককে জয় করে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া এবং গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জন করা তার অসাধারণ মানসিক দৃঢ়তার পরিচয়। চাটখিল মহিলা ডিগ্রি কলেজের উপাধ্যক্ষ ফারুক সিদ্দিকী ফরহাদ বলেন, মফিদুল আলমের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন ছিল সন্তানের সাফল্য। লাবিবের এই অর্জন নিঃসন্দেহে তার বাবার স্বপ্ন পূরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। আমরা তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি। চাটখিল মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, লাবিবের এই সাফল্য শুধু ভালো ফলাফল নয়, এটি অধ্যবসায়, দায়িত্ববোধ ও মানসিক শক্তির অনন্য উদাহরণ। বাবাকে হারানোর গভীর শোকের মধ্যেও তার ধৈর্য ও সাহস অন্য শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

ডারউইন টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ। এই জয়ের মধ্য দিয়ে টেস্টে অজিদের ঘরে মাঠে হারানোর কৃতিত্ব অর্জন করল টাইগাররা। বাংলাদেশের হয়ে ওপেনার তানজিদ হাসানের সেঞ্চুরি এবং ৯ উইকেট নিয়েছেন তরুণ পেসার হাসান মাহমুদ। এর আগে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ১০ উইকেট হারিয়ে ২৮৪ রান সংগ্রহ করে অস্ট্রেলিয়া। ফলে ৫৭ রানের লক্ষ্য পায় বাংলাদেশ। সহজ লক্ষ্য পেয়ে উইকেট ১ হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। ম্যাচে অজিদের ১৯৮ রানের জবাবে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৪২৬ রান করেছিল। তারপর অস্ট্রেলিয়াকে তারা দ্বিতীয় ইনিংসে ২৮৪ রানে অলআউট করল। স্বাগতিকের পক্ষে সর্বোচ্চ রান করেন ক্যামেরন গ্রিন। অস্ট্রেলিয়া ৫৬ রানের লিড নিয়ে এই ইনিংস শেষ করে। রেকর্ড গড়ে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয় ডারউইনে জিততে বাংলাদেশের দরকার ৫৭ রান গ্রিন একটা সময় বাংলাদেশের জন্য ভয়ংকর হয়ে উঠেছিলেন। তাকে ফিরিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে ম্যাচ থেকেই ছিটকে দেয় টাইগাররা। দলগত ২৭৮ রানে ৯ উইকেট হারায় অজিরা। আর পেরে ওঠেনি। মেহেদী হাসান মিরাজ তার পঞ্চম উইকেট নিয়ে স্বাগতিকদের অলআউট করেন। শেষ ব্যাটার হিসেবে নাথান লায়ন এলবিডব্লিউ হন। তার আগে চতুর্থ দিন প্রথমবার বল হাতে নিয়েই গুরুত্বপূর্ণ উইকেট পান হাসান মাহমুদ। অফস্টাম্প বরাবর ডেলিভারিতে বোল্ড করেন তিনি। ২০১ বলে ৪ চার ও ১ ছয়ে ১০৪ রানে থামেন গ্রিন। প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নেওয়া হাসান দ্বিতীয় ইনিংসে তৃতীয় উইকেট তুলে নেন। ম্যাচে ৯ উইকেট হয় তার। দ্বিতীয় সেশনের শুরুতে ৯৫ রানে জীবন পান গ্রিন। অজি ব্যাটার সুযোগ কাজে লাগিয়ে করে শতক হাঁকান। কিন্তু দলের কঠিন পরিস্থিতিতে সেঞ্চুরি করলেও ইনিংস বাড়াতে পারলেন না তিনি। এর আগে লাঞ্চ থেকে ফিরে তৃতীয় ওভারে বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়ার অষ্টম উইকেটের পতন ঘটায়। ৮৭তম ওভারের পঞ্চম বলে মিচেল স্টার্ককে লিটন দাসের ক্যাচ বানান তাসকিন আহমেদ। ৩৪ বলে দুই চারে ১৮ রান করেন স্টার্ক। ক্যামেরন গ্রিনের সঙ্গে তার জুটি ছিল ৪৩ রানের। ২৫০ রানে ৮ উইকেট নেই অস্ট্রেলিয়ার। ২২ রানের লিড তাদের। চতুর্থ দিনেও প্রথম সেশন নিজেদের করে নিয়েছিল বাংলাদেশ। এই সেশনে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে একাই লড়েছেন ক্যামেরন গ্রিন। তার হাফ সেঞ্চুরির ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া ১৫ রানের লিড নিয়ে লাঞ্চে যায়। গ্রিন ঘরের মাঠে সর্বোচ্চ টেস্ট রান ৮৫ ও মিচেল স্টার্ক ১৪ রানে অপরাজিত ছিলেন। মিরাজ প্রথম দেড় ঘণ্টায় স্পিন জাদুতে অ্যালেক্স ক্যারি, বেউ ওয়েবস্টার ও প্যাট কামিন্সকে ফেরান। বাংলাদেশি অফস্পিনারের বোলিং নৈপুণ্যে বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়াকে ইনিংস ব্যবধানে হারানোর ইঙ্গিত দিচ্ছিল। কিন্তু গ্রিন ও স্টার্কের জুটিতে দ্বিতীয় ইনিংস লিড নেয় স্বাগতিকরা। রোববার প্রথম সেশন শেষে তাদের সংগ্রহ ৭ উইকেটে ২৪৩ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে ৪ উইকেটে ১৬১ রান নিয়ে দিন শুরু করেছিল অজিরা। দিনের সপ্তম ওভারে তারা পঞ্চম উইকেট হারায়। ক্যারিকে ফিরিয়ে গ্রিনের সঙ্গে ৫৬ রানের জুটি ভেঙে দেন মিরাজ। ক্যারি ৭২ বলে ৩০ রান করে লিটন দাসের ক্যাচ হন। ১৩ মাস পর ও ১৩ ইনিংসে প্রথম হাফ সেঞ্চুরিতে অপরাজিত গ্রিনের সঙ্গে ক্রিজে থাকতে পারেননি ওয়েবস্টার। মিরাজ তাকে ৫ রানে বোল্ড করেন। ১০৯ বলে ২ চারে ফিফটি করা গ্রিনকে সঙ্গ দিতে নেমে প্যাট কামিন্স মাত্র ৮ রান করে সাদমান ইসলামের ক্যাচ হন। তাকেও ফেরান মিরাজ। এটি ছিল নতুন দিনে তার তৃতীয় ও ইনিংসে চতুর্থ উইকেট। ২০৭ রানে সপ্তম উইকেট পড়ে অস্ট্রেলিয়ার। দ্বিতীয় ইনিংসে তারা ২২৮ রানে পিছিয়ে থেকে খেলতে নেমেছিল।

বিজ্ঞান, মেধা ও প্রগতির দুরন্ত ছন্দে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি বিশ্ব জয় করল বাংলাদেশের তিন খুদে রোবোটিক্স উদ্ভাবক। সেন্ট যোসেফ স্কুল অ্যান্ড কলেজের ষষ্ঠ শ্রেণির তিন মেধাবী শিক্ষার্থী—আলবি আহমেদ খান আহনাফ, অরনী শাহা এবং সাফওয়াত জামান আন্তর্জাতিক রোবোটিক্স প্রতিযোগিতা Robo RAVE World Championship 2026’-এ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। জাপানের ওসাকায় আয়োজিত বহুজাতিক এই প্রযুক্তির মহাযুদ্ধে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিযোগীদের পেছনে ফেলে প্রথম স্থান ছিনিয়ে নেয় বাংলাদেশের দল ‘Team Atlas’। মাত্র ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া এই তিন শিক্ষার্থী তাদের সৃজনশীলতা, উদ্ভাবনী চিন্তা ও অসামান্য প্রযুক্তিগত দক্ষতার মাধ্যমে বৈশ্বিক মঞ্চকে তাক লাগিয়ে দেয়। লাল-সবুজের পতাকা হাতে ওসাকার মাটিতে দাঁড়িয়ে তাদের এই বিশ্বজয় শুধু সেন্ট যোসেফ নয়; বরং গোটা বাংলাদেশের প্রযুক্তি অঙ্গনের জন্য এক অভূতপূর্ব মাইলফলক। খুদে এই প্রযুক্তিবিদদের অদম্য অধ্যবসায় ও সাফল্য প্রমাণ করেছে, বয়সের সীমানা ছাড়িয়ে স্বপ্ন আর মেধার জোর থাকলে যে কোনো বিশ্বমঞ্চ জয় করা সম্ভব। আন্তর্জাতিক রোবোটিক্স মানচিত্রে এই গৌরবময় বিজয় বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মকে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও আধুনিক উদ্ভাবনের পথে এগিয়ে যেতে যুগান্তকারী অনুপ্রেরণা জোগাবে।

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় লাইলি বেগম (৫০) নামের এক নারীকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় তার ছেলে সৌরভ হোসেন (২৮) ও তার শাশুড়ি তফুরা বেগমকে (৭৫) গ্রেপ্তার করেছে সুধারাম থানা পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, সৌরভ মাদকাসক্ত ও মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে গ্রেপ্তার দুজনকে বিচারিক আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে শুক্রবার ভোরে উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের গোপাই গ্রামের আলী আজম মহুরী বাড়িতে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত লাইলি বেগম ওই বাড়ির আলমগীর হোসেনের স্ত্রী। স্থানীয় সূত্র জানায়, লাইলি বেগম ও তার ছেলে সৌরভ একই বসতঘরের পৃথক কক্ষে থাকতেন। লাইলির স্বামী আলমগীর হোসেন গ্রাম পুলিশ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি বাড়ি থেকে প্রায় ১৫০ গজ দূরে একটি চায়ের দোকান পরিচালনা করেন তিনি এবং রাতে সেখানেই ঘুমান। প্রায় ৮ থেকে ১০ দিন আগে বাড়ির সামনের পুকুরঘাটে পড়ে লাইলি বেগমের বাঁ হাত ভেঙে যায়। এতে তিনি স্বাভাবিকভাবে ঘরের কাজ করতে পারছিলেন না। এ কারণে কয়েক দিন ধরে পরিবারের সদস্যদের খাবারের ব্যবস্থা পাশের ঘরে থাকা লাইলির শাশুড়ি তফুরা বেগমের ঘরে করা হচ্ছিল। বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে লাইলি তফুরা বেগমের ঘরে গিয়ে রাতের খাবার খান। পরে নিজ কক্ষে ফিরে যান। রাত ১২টার দিকে আলমগীর হোসেনও তফুরার ঘরে খাবার খেয়ে চায়ের দোকানে চলে যান। পরে লাইলি ও তার ছেলে নিজ নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। শুক্রবার ভোর ৬টার দিকে সৌরভ ঘুম থেকে উঠে তার দাদি তফুরা বেগমকে জানান, তার মা শয়নকক্ষের মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন। তফুরা ঘরে গিয়ে লাইলির নিথর দেহ দেখতে পান। এ সময় তিনি চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। পরে সৌরভ চায়ের দোকানে গিয়ে তার বাবা আলমগীর হোসেনকে ঘুম থেকে তুলে জানান, তার মা মারা গেছেন। বাড়িতে এসে আলমগীর স্ত্রীকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। লাইলির গলার ডান পাশে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর কাটা জখম ছিল। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া তার বাঁ হাতের কাঁধের সামনের অংশ ও বাঁ হাঁটুতে জখমের চিহ্ন পাওয়া যায়। খবর পেয়ে সুধারাম থানার এসআই সুমন বণিক সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন পিবিআই, সিআইডি ও ডিবির সদস্যরা। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সুধারাম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুমন বণিক বলেন, এ ঘটনায় নিহতের ছেলেকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার কথাবার্তায় অসংলগ্নতা পাওয়া যায়। প্রথমে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করে মামলা নেওয়া হয়। পরে তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহতের ছেলে সৌরভ হোসেন ও তার দাদি তফুরা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সৌরভ মাদকাসক্ত ও মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত। অপরদিকে তফুরাকে হত্যাকাণ্ডের আলামত লোপাটের চেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনো জানা যায়নি।

রাজধানীর উত্তরা এলাকায় ব্যাংকে টাকা জমা দিতে যাওয়ার পথে পেট্রোল পাম্পের কর্মীর কাছ থেকে পিস্তল ঠেকিয়ে ১ কোটি ২১ লাখ ২৫ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার সাগর বাড়ৈকে (৪১) সাত দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। পেট্রোল পাম্পের মালিক তাসীন আক্তার হক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের খালাতো ভাই। শনিবার (১৫ আগস্ট) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। এর আগে বিকেলে আসামিকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক মো. নজরুল ইসলাম। রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, সাগর বাড়ৈ তার সহযোগীদের সঙ্গে যোগসাজশে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতি করে আসছিলেন। তার নাম-ঠিকানা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে এবং তা যাচাই করা হচ্ছে। মামলার ঘটনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের সক্রিয় সদস্য হওয়ায় বিভিন্ন কৌশলে অসংলগ্ন তথ্য দিয়েছেন। সময়ের স্বল্পতার কারণে তাকে ঘটনার বিষয়ে ব্যাপক ও নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা সম্ভব হয়নি। আবেদনে আরও বলা হয়, মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, ঘটনায় জড়িত অজ্ঞাতনামা আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং লুণ্ঠিত টাকা উদ্ধারের স্বার্থে আসামিকে ১০ দিনের পুলিশ রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন। শুনানি শেষে আদালত সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ঢাকা মহানগর প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক আবু বক্কর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, শুনানির সময় আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। তাঁর বিরুদ্ধে একই ধরনের আরও নয়টি মামলা রয়েছে বলেও জানান তিনি। মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৯ আগস্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী সিএনজি অপারেটর সেলিমুজ্জামান ও কাভার্ডভ্যানচালক মো. খোরশেদকে সঙ্গে নিয়ে ফিলিং স্টেশনের সহকারী ম্যানেজার মোহাম্মদ আল আমিন উত্তরা ১ নম্বর সেক্টরের পূবালী ব্যাংকে টাকা জমা দিতে যাচ্ছিলেন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কাভার্ডভ্যানটি ঢাকা-ময়মনসিংহ রোডের ক্রাউন প্লাজার সামনে পৌঁছালে পেছন থেকে তিনটি মোটরসাইকেলে আসা ৬-৭ জন দুর্বৃত্ত গাড়িটির সামনে এসে গতিরোধ করে। এ সময় তারা সহকারী ম্যানেজার আল আমিনের বুকে পিস্তল ঠেকিয়ে টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। ওই ব্যাগে ১ কোটি ২১ লাখ ২৫ হাজার টাকা ছিল। দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যাওয়ার সময় আল আমিনকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম করে বলেও মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় অজ্ঞাতনামা ৬-৭ জনের বিরুদ্ধে মৃত্যু বা গুরুতর আঘাতের চেষ্টা এবং ডাকাতির অভিযোগে মামলা করেন ডিএল ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো. আব্দুল করিম। প্রসঙ্গত, ডিএল ফিলিং স্টেশনের মালিক তাসীন আক্তার হক। তার মা প্রয়াত খুরশীদ জাহান হক সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় বোন। তাসীন আক্তার হক সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের খালাতো ভাই।

বাবা হোর্হে মেসির মৃত্যুর পর শোক এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেননি আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি লিওনেল মেসি। যদিও লিগস কাপে ৩-২ গোলে মায়ামির হারের ম্যাচে খেলেছেন তিনি। দলের প্রধান তারকার খারাপ সময়ে সবার প্রতি বিশেষ অনুরোধ করলেন ইন্টার মায়ামি কোচ গুইলেরমো হোয়োস। ক্রীড়াভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘গোলডটকম’ তাদের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) মায়ামি কোচ বললেন, আমি বিশ্বাস করি সবকিছু ধীরে ধীরে হওয়া উচিত। খেলোয়াড়ের মাঝে এখনো গভীর যন্ত্রণা আছে। এটা রাতারাতি পাল্টে যাবে না। আর্জেন্টাইন কোচ যোগ করলেন, তাই, আমি মনে করি এই মুহূর্তে নীরবতাই সর্বোত্তম পথ। নীরবতা, স্থিরতা এবং প্রশান্তি, যাতে সে নিজের জন্য একটি জায়গা খুঁজে নিতে পারে। তার পাশে থাকা এবং তার সাথে এই নীরবতা ভাগ করে নেওয়া আমাদের কর্তব্য। আমার কাছে নীরবতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। এটিই শেষ পর্যন্ত একজন মানুষকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ খুঁজে পেতে সাহায্য করে। সে সত্যিই একজন চমৎকার মানুষ এবং তার একটি চমৎকার পরিবার রয়েছে। এর আগে বাবার মৃত্যু সংবাদ পেয়েই দেশে ফিরে যান মেসি। আর্জেন্টাইন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মায়ামিতে ফেরার আগে একটি ব্যক্তিগত স্মরণ অনুষ্ঠানে ছিলেন তিনি। তারপর মায়ামিতে ফিরে দলের অনুশীলনে যোগ দেন এবং মেক্সিকান ক্লাবের মুখোমুখি হন। লেওনের বিপক্ষে ম্যাচের শুরুতে বেঞ্চে ছিলেন মেসি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে তাকে নামানো হয় এবং ৪৫ মিনিট খেলেন। মাঠে ঢোকার মুহূর্তে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানান দর্শক-সমর্থকরা। দলের প্রতি মেসির দায়িত্ববোধ নিয়ে হোয়োস বলেছেন, তাকে যথার্থ মূল্যায়ন করার মতো কোনো শব্দ নেই। একজন মানুষ হিসেবে তার মূল্য বোঝানোর মতো ভাষা আমি খুঁজে পাই না। আমরা এখানে একজন ফুটবলার হিসেবে তার মূল্য নিয়ে কথা বলছি না, বরং বিশাল হৃদয়ের অধিকারী একজন চমৎকার মানুষ সম্পর্কে কথা বলছি।

ডিজিটাল লেনদেনকে আরও সহজ ও জনপ্রিয় করতে বাংলা কিউআরভিত্তিক লেনদেনে বড় পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগামী ১ অক্টোবর থেকে বাংলা কিউআর কোডের সব লেনদেনে ইন্টারচেঞ্জ রিইম্বার্সমেন্ট ফি বা আন্তঃব্যাংক চার্জ শূন্য হবে। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ব্যবসায়ী ও সেবা প্রদানকারীদের বাংলা কিউআর ব্যবহারে উৎসাহিত করতে ১০০ কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল গঠন করা হয়েছে। তবে এই প্রণোদনা সরাসরি ব্যবসায়ীর হাতে নগদ হিসেবে না গিয়ে লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত ব্যাংক বা এমএফএস প্রতিষ্ঠান পাবে, যার সুফল মার্চেন্টদের মাশুল কমানোর মাধ্যমে পাওয়ার কথা। বাংলা কিউআর কী? বাংলা কিউআর হলো বাংলাদেশ ব্যাংকের চালু করা একটি একক ও আন্তঃসংযুক্ত (ইন্টারঅপারেবল) কিউআর পেমেন্ট ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে একজন গ্রাহক অংশগ্রহণকারী ব্যাংক বা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) অ্যাপ ব্যবহার করে কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বাংলা কিউআর স্ক্যান করে মূল্য পরিশোধ করতে পারেন। ফলে একজন ব্যবসায়ীকে আলাদা আলাদা ব্যাংক বা এমএফএসের জন্য একাধিক কিউআর কোড রাখার প্রয়োজন হয় না। বাংলাদেশ ব্যাংক ১ জুলাই থেকে মার্চেন্ট পেমেন্টের ক্ষেত্রে বাংলা কিউআর ব্যবস্থাকে দেশজুড়ে বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেয়। এর লক্ষ্য নগদনির্ভরতা কমিয়ে ডিজিটাল লেনদেন বাড়ানো। এবার লেনদেনে চার্জ কত? বাংলা কিউআরভিত্তিক সব ধরনের লেনদেনে ইন্টারচেঞ্জ রিইম্বার্সমেন্ট ফি (আইআরএফ) শূন্য করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। অর্থাৎ গ্রাহকের টাকা যে প্রতিষ্ঠান থেকে যাচ্ছে এবং মার্চেন্টের টাকা যে প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গ্রহণ করা হচ্ছে- তাদের মধ্যে এই আন্তঃপ্রতিষ্ঠান ফি বা সার্ভিস চার্জ আর নেওয়া যাবে না। সিদ্ধান্তটি ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হবে। এর আগে বাংলা কিউআর লেনদেনে মোট ১ থেকে ১ দশমিক ১৫ শতাংশ পর্যন্ত মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (এমডিআর) ছিল। এর মধ্যে শূন্য দশমিক ৩৫ থেকে শূন্য দশমিক ৭০ শতাংশ পর্যন্ত আইআরএফ হিসেবে গ্রাহকের আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে দিতে হতো। নতুন সিদ্ধান্তে আইআরএফ তুলে দেওয়ায় ব্যবসায়ীদের ওপর থাকা মাশুল কমানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। তাহলে ‘ফ্রি’ বলতে কী বোঝায়? এখানে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে বোঝা জরুরি। বাংলা কিউআর ব্যবহারে ‘ফ্রি’ সুবিধাটি মূলত আইআরএফ শূন্য করার সঙ্গে সম্পর্কিত। অর্থাৎ আন্তঃব্যাংক এই নির্দিষ্ট চার্জ থাকবে না। তবে ব্যবসায়ীর ক্ষেত্রে চূড়ান্ত মার্চেন্ট মাশুল শূন্য হবে কি না, তা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে পারে। যদিও আইআরএফ শূন্য হওয়ায় কিউআর গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য মার্চেন্টদের ওপর আরোপিত মাশুল কমানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে এবং বাংলাদেশ ব্যাংক আশা করছে এতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। কারা পাবেন প্রণোদনা? বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ১০০ কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল অনুমোদন করেছে। এই সুবিধা মূলত ব্যক্তিপর্যায়ে নিবন্ধিত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক পণ্য বিক্রেতা এবং সেবা প্রদানকারীদের বাংলা কিউআর ব্যবহারে উৎসাহিত করার জন্য। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- প্রণোদনার টাকা সরাসরি মার্চেন্টকে দেওয়ার কথা নয়। যোগ্য লেনদেনের বিপরীতে প্রণোদনা পাবে লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত দুটি প্রতিষ্ঠান: অ্যাকোয়ারিং প্রতিষ্ঠান- যে ব্যাংক বা এমএফএস মার্চেন্টের কাছে বাংলা কিউআর স্থাপন করেছে, তারা পাবে লেনদেনের ০.১০ শতাংশ। ইস্যুয়িং প্রতিষ্ঠান- গ্রাহক যে ব্যাংক বা এমএফএস অ্যাপের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করেছেন, সেই প্রতিষ্ঠান পাবে ০.২০ শতাংশ। অর্থাৎ যোগ্য লেনদেনে মোট প্রণোদনার হার ০.৩০ শতাংশ। ২ হাজার টাকা পর্যন্ত লেনদেনে কীভাবে হিসাব হবে? প্রণোদনার আওতায় প্রতিটি যোগ্য বাংলা কিউআরভিত্তিক এনপিএসবি লেনদেনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকা পর্যন্ত লেনদেনের পরিমাণ বিবেচনা করা হবে। সহজভাবে ধরলে, কোনো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বাংলা কিউআর দিয়ে ১ হাজার টাকা গ্রহণ করলে- অ্যাকোয়ারিং প্রতিষ্ঠান পাবে ০.১০% = ১ টাকা ইস্যুয়িং প্রতিষ্ঠান পাবে ০.২০% = ২ টাকা মোট প্রণোদনা = ৩ টাকা আর ২ হাজার টাকার যোগ্য লেনদেন হলে মোট প্রণোদনা হবে ৬ টাকা- যার ২ টাকা অ্যাকোয়ারিং প্রতিষ্ঠান এবং ৪ টাকা ইস্যুয়িং প্রতিষ্ঠান পাবে। এখানে ২ হাজার টাকা বলতে প্রতিটি যোগ্য লেনদেনের হিসাবযোগ্য সর্বোচ্চ পরিমাণ বোঝানো হয়েছে; মার্চেন্ট সরাসরি ২ হাজার টাকা প্রণোদনা পাবেন- এমনটি নয়। তাহলে ব্যবসায়ীর লাভ কোথায়? ব্যবসায়ীর সরাসরি প্রণোদনা না থাকলেও উদ্যোগটির মূল সুবিধা হলো লেনদেনের মাশুল কমানো। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য ১ থেকে ১ দশমিক ১৫ শতাংশ পর্যন্ত মাশুল আগে তুলনামূলক বড় চাপ ছিল। নতুন ব্যবস্থায় আইআরএফ শূন্য হওয়ায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর খরচ কমবে এবং প্রতিযোগিতার মাধ্যমে মার্চেন্টদের ওপর আরোপিত মাশুলও কমার সুযোগ তৈরি হবে। অর্থাৎ, একজন ছোট দোকানি বাংলা কিউআর গ্রহণ করলে তার জন্য ডিজিটাল পেমেন্ট নেওয়ার খরচ আগের তুলনায় কম হওয়ার কথা। একই সঙ্গে গ্রাহকরাও নগদ টাকা বহনের ঝামেলা ছাড়াই ব্যাংক বা এমএফএস অ্যাপ থেকে সরাসরি মূল্য পরিশোধ করতে পারবেন। প্রণোদনা পেতে কী কী শর্ত? বাংলাদেশ ব্যাংক প্রণোদনার অপব্যবহার ঠেকাতে বেশ কিছু শর্ত দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- বড় লেনদেন ভেঙে ছোট করা যাবে না: শুধু বেশি প্রণোদনা পাওয়ার জন্য একটি বড় লেনদেনকে একাধিক ছোট লেনদেনে ভাগ করা নিষিদ্ধ। কৃত্রিমভাবে লেনদেন বাড়ানো যাবে না: ‘Transaction Structuring’ করে লেনদেনের সংখ্যা বাড়ানো যাবে না। সব লেনদেনে প্রণোদনা নেই: ব্যর্থ, বাতিল, রিভার্স, রিফান্ড, চার্জব্যাক বা বিতর্কিত লেনদেনের বিপরীতে প্রণোদনা দেওয়া হবে না। কোনো মার্চেন্টের লেনদেনে অস্বাভাবিকতা দেখা গেলে সংশ্লিষ্ট অ্যাকোয়ারিং প্রতিষ্ঠানকে তা পর্যবেক্ষণ ও যাচাই করতে হবে। কৃত্রিম লেনদেন বা অন্য কোনোভাবে ব্যবস্থাটির অপব্যবহার প্রমাণিত হলে প্রণোদনার অর্থ ফেরত নেওয়া বা পরবর্তী প্রণোদনার সঙ্গে সমন্বয় করা হতে পারে। কবে থেকে কার্যকর? বাংলা কিউআরভিত্তিক চার্জ শূন্য এবং নতুন প্রণোদনা-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত আগামী ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট ১০ আগস্ট এ বিষয়ে পৃথক নির্দেশনা জারি করেছে। কেন এই উদ্যোগ? বাংলাদেশ ব্যাংকের লক্ষ্য হলো ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থায় আরও বেশি যুক্ত করা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বাংলা কিউআর ব্যবস্থায় এরই মধ্যে বিপুলসংখ্যক ব্যবসায়ী যুক্ত হয়েছেন। ১ জুলাই থেকে দেশজুড়ে একক বাংলা কিউআর ব্যবস্থা চালুর পর লেনদেনও দ্রুত বাড়ছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে একদিকে যেমন নগদ লেনদেনের ওপর নির্ভরতা কমবে, অন্যদিকে ছোট ব্যবসায়ীদের ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণে উৎসাহ বাড়বে। পাশাপাশি লেনদেনের রেকর্ড তৈরি হওয়ায় আর্থিক স্বচ্ছতাও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক বাংলা কিউআরকে একটি নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও আন্তঃসংযুক্ত ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা হিসেবে বিস্তৃত করতে চাইছে। উল্লেখ্য, ১ অক্টোবর থেকে বাংলা কিউআরে আন্তঃপ্রতিষ্ঠান আইআরএফ থাকবে না, ফলে লেনদেনের খরচ কমার সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের বাংলা কিউআরভিত্তিক যোগ্য লেনদেন বাড়াতে ১০০ কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও এমএফএস প্রতিষ্ঠানকে প্রণোদনা দেওয়া হবে। তবে এই প্রণোদনা পাওয়ার জন্য কৃত্রিমভাবে লেনদেন ভাগ করা বা বাড়ানোর সুযোগ নেই।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিদেশি নাগরিকদের ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি ভিসা বাতিল করেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবে এসব ভিসা বাতিল করা হয়েছে। খবর রয়টার্স। পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, ভিসার শর্ত ভঙ্গ, অপরাধে জড়ানো, মার্কিন নাগরিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতার আহ্বান, প্রতারণা, অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদের ভিসা বাতিল করা হয়েছে। দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বেশির ভাগ ভিসা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঘটনার পর বাতিল হয়েছে। এসব ঘটনায় হামলা, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, চুরি ও মাদকসংক্রান্ত অপরাধ ছিল প্রধান কারণ। পররাষ্ট্র দপ্তর কয়েকটি নির্দিষ্ট ঘটনার কথাও জানিয়েছে। এর মধ্যে যৌন নিপীড়ন, অপহরণ ও মানবপাচার ও শিশু যৌন নির্যাতনের উপকরণ রাখার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ভিসা বাতিল করা হয়েছে। উত্তর আফ্রিকার একটি মার্কিন দূতাবাস এমন ১০০টির বেশি ভিসা বাতিল করেছে, যাদের বিরুদ্ধে মূলত সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে শিশুকে মার্কিন নাগরিকত্ব দেওয়ার চেষ্টা করার অভিযোগ ছিল। এ ছাড়া রক্ষণশীল রাজনৈতিক কর্মী চার্লি কার্কের হত্যাকে উদযাপন বা হত্যার পক্ষে মন্তব্য করা কয়েকজন বিদেশির ভিসাও বাতিল করা হয়েছে। এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছিল, ট্রাম্প প্রশাসন ১ লাখের বেশি ভিসা বাতিল করেছে। তখন সেটিকে রেকর্ডসংখ্যক ভিসা বাতিল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। নতুন তথ্য অনুযায়ী, সেই সংখ্যা এখন ১ লাখ ৭৫ হাজার ছাড়িয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসন ও ভিসা নীতিতে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যাচাইসহ বিভিন্ন ধরনের অতিরিক্ত নজরদারি ও যাচাই প্রক্রিয়াও চালু করা হয়েছে। তবে মানবাধিকারকর্মীরা এসব পদক্ষেপের সমালোচনা করে বলেছেন, এতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং অভিবাসীদের ওপর অতিরিক্ত নজরদারি তৈরি হচ্ছে।

বাবার মরদেহ বাড়িতে রেখে এসএসসি পরীক্ষার শেষ বিষয়ে অংশ নেওয়া নোয়াখালীর শিক্ষার্থী আবতাহি উদ্দিন লাবিব গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে। বাবার স্বপ্ন পূরণের প্রত্যয়ে গভীর শোককে শক্তিতে পরিণত করে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল সে। তার এই সাফল্যে পরিবার, শিক্ষক ও সহপাঠীদের মধ্যে আনন্দের পাশাপাশি আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে নোয়াখালী জিলা স্কুল থেকে ২৩৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ১৩১ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। তাদেরই একজন বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আবতাহি উদ্দিন লাবিব। সে সব বিষয়ে এ-প্লাস পেয়ে গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। এর আগে গত ২০ মে জীববিজ্ঞান পরীক্ষার দিন বাবার মরদেহ বাড়িতে রেখেই পরীক্ষাকেন্দ্রে গিয়েছিল লাবিব। ওই দিনই ছিল তার এসএসসি পরীক্ষার শেষ বিষয়। পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফিরে বাবার জানাজা ও দাফনে অংশ নেয় সে। ঘটনাটি সে সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। জানা যায়, লাবিবের বাবা মফিদুল আলম চাটখিল মহিলা ডিগ্রি কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন। গত ১৯ মে রাতে ঢাকায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৪ বছর। পরিবারের সদস্যরা জানান, সন্তানের ভালো ফলাফল ও উচ্চশিক্ষা ছিল মফিদুল আলমের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন। বাবার সেই স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যেই গভীর শোকের মধ্যেও পরীক্ষায় অংশ নেয় লাবিব। আজকের এই ফলাফল বাবার প্রতি তার ভালোবাসা ও শ্রদ্ধারই বহিঃপ্রকাশ। লাবিবের এই সাফল্যে নোয়াখালীর শিক্ষাঙ্গনে প্রশংসার পাশাপাশি আবেগঘন প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে তার এই অর্জন অন্য শিক্ষার্থীদের জন্য সাহস ও অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলাফল প্রকাশের পর লাবিব বলেন, বাবা সব সময় চাইতেন আমি ভালো ফল করি। পরীক্ষার সময় বাবাকে হারানো আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্ত ছিল। কিন্তু বাবার স্বপ্ন পূরণের কথা ভেবেই নিজেকে সামলে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলাম। আজ গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছি, কিন্তু বাবা পাশে নেই। তিনি ফলাফল পেলে খুব খুশি হতেন। এদিকে লাবিব ফলাফল প্রকাশের পর নিজের ফেসবুকেও বাবাকে স্মরণ করে আবেগঘন একটি স্ট্যাটাস দিয়েছে। সেখানে সে লিখেছে, আজকের দিনে যদি আমার বাবা বেঁচে থাকতেন, তাহলে হয়তো নিজের আইডি থেকে পোস্ট করে বলতেন— আমার ছেলে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে। সে আরও লিখেছে, ভালো রেজাল্ট হওয়ার পরেও মনের মধ্যে কেমন যেন এক নীরব ব্যথা কাজ করছে। আপনারা সবাই আমার জন্য, আমার বাবার জন্য এবং আমার পরিবারের জন্য দোয়া করবেন। মহান আল্লাহ যেন আমার বাবাকে জান্নাতের উচ্চ মাকাম দান করেন এবং আমি যেন বড় হয়ে আমার বাবার স্বপ্ন পূরণ করতে পারি। লাবিবের আবেগঘন স্ট্যাটাসটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অনেকেই তার প্রতি সমবেদনা জানিয়ে শুভকামনা জানান। শিক্ষক, সহপাঠী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তার এই সাফল্যকে প্রয়াত বাবার স্বপ্ন পূরণের পথে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখছেন। নোয়াখালী জিলা স্কুলের এক শিক্ষক বলেন, লাবিব শুরু থেকেই অত্যন্ত মেধাবী ও পরিশ্রমী শিক্ষার্থী। ব্যক্তিগত জীবনের এত বড় শোককে জয় করে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া এবং গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জন করা তার অসাধারণ মানসিক দৃঢ়তার পরিচয়। চাটখিল মহিলা ডিগ্রি কলেজের উপাধ্যক্ষ ফারুক সিদ্দিকী ফরহাদ বলেন, মফিদুল আলমের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন ছিল সন্তানের সাফল্য। লাবিবের এই অর্জন নিঃসন্দেহে তার বাবার স্বপ্ন পূরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। আমরা তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি। চাটখিল মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, লাবিবের এই সাফল্য শুধু ভালো ফলাফল নয়, এটি অধ্যবসায়, দায়িত্ববোধ ও মানসিক শক্তির অনন্য উদাহরণ। বাবাকে হারানোর গভীর শোকের মধ্যেও তার ধৈর্য ও সাহস অন্য শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় জামিনে কারামুক্ত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বরণ করতে এসে ফুলের মালাসহ দলটির চার নেতাকর্মী আটক হয়েছেন। রোববার (৯ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে নোয়াখালী জেলা কারাগারের ফটক থেকে তাদের আটক করে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে এক ব্যাগ ফুলের মালা উদ্ধার করা হয়। আটকরা হলেন- সদর উপজেলার এওজবালিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম এওজবালিয়া গ্রামের মৃত শফি উল্যার ছেলে ছেরাজল হক চৌধুরী (৬৩), একই গ্রামের আজিজুল হকের ছেলে মেহেদী হাসান হৃদয় (২০), মো. বাহারের ছেলে মো. ফারুক হোসেন (১৮) ও মো. খোকনের ছেলে মো. নাজিম (১৮)। পুলিশ জানিয়েছে, তারা সবাই নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ জুন জুমার নামাজের পর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের বাঁধের হাট বাজারে ইউনিয়ন ছাত্রলীগ ও যুবলীগের যৌথ উদ্যোগে প্রায় তিন হাজার নেতাকর্মী বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন। ওই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুরো উপজেলা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের প্রায় দুই শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে। রোববার তাদের মধ্যে কয়েকজন জামিনে মুক্তি পেলে খবর পেয়ে ফুলের মালা নিয়ে দলটির নেতাকর্মীরা জেলা কারাগারের ফটকে অবস্থান নেন। বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে ফুলের মালাসহ চারজনকে আটক করে। সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, স্বজনরা জামিনে মুক্ত ব্যক্তিদের জন্য ফুলের মালা নিয়ে আসতে পারেন। কিন্তু আটক ব্যক্তিরা জামিনে মুক্তি পাওয়া ব্যক্তিদের আত্মীয়-স্বজন নন। তারা বিভিন্ন এলাকা থেকে এসে ফুলের মালা দিয়ে ছবি তোলা ও শোডাউনের মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চেয়েছিলেন। এ কারণে তাদের আটক করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ওই মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হবে।

যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ইতালির রাজধানী রোমের ফিউমিচিনো বিমানবন্দরে প্রায় ৪০ ঘণ্টা আটকে থাকার পর ঢাকায় ফিরেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৩০৬ ফ্লাইট। রোববার (৯ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে। এর আগে স্থানীয় সময় শনিবার রাত ১১টায় (বাংলাদেশ সময় রোববার রাত ৩টা) রোমের ফিউমিচিনো বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয় ফ্লাইটটি। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ কর্মকর্তা বোসরা ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ৪০ ঘণ্টা পর ঢাকায় ফিরল রোমে আটকে পড়া বিমানের ফ্লাইট ত্রুটিমুক্ত হয়েছে রোমে আটকে থাকা প্লেন, ঢাকায় পৌঁছবে আজ বেলা সাড়ে ১১টায় বিমান সূত্রে জানা যায়, বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজটি আড়াই শতাধিক যাত্রী নিয়ে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা ১৮ মিনিটে কানাডার টরন্টোর পিয়ারসন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে। প্রায় আট ঘণ্টা উড্ডয়নের পর উড়োজাহাজটিতে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে সেটি রোমের ফিউমিচিনো বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে। স্থানীয় সময় শুক্রবার সকাল ৭টা ১৯ মিনিটে উড়োজাহাজটি বিমানবন্দরে অবতরণ করে। দীর্ঘ সময় চেষ্টা করেও ত্রুটি মেরামত করা সম্ভব না হলে ঢাকা থেকে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ এবং দুই সদস্যের প্রকৌশলী দল রোমে পাঠানো হয়। শনিবার দুপুরে বিমানের বিজি-৩০৫ ফ্লাইটে প্রকৌশলী দলটি রোমের উদ্দেশে রওনা হয়। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ১৬ মিনিটে তারা রোমে পৌঁছান। এরপর প্রকৌশলীরা প্রয়োজনীয় কাজ শেষে উড়োজাহাজটির কারিগরি ত্রুটি সমাধান করেন। পরে ফ্লাইটটিকে গ্রাউন্ডেড অবস্থা থেকে অপারেশনের জন্য ছাড়পত্র দেওয়া হয়। রাতে সেটি ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেয়। এদিকে, দীর্ঘ সময় রোমে আটকে থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন আড়াই শতাধিক যাত্রী। যাত্রীদের অভিযোগ, বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী অন্তত ১৭০ জনকে প্রায় ৪০ ঘণ্টা বিমানবন্দরের লাউঞ্জেই অবস্থান করতে হয়েছে। অন্যদিকে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্টধারী যাত্রীদের জন্য বিমান কর্তৃপক্ষ হোটেলের ব্যবস্থা করেছিল বলে অভিযোগ করেন তারা।

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য জোটের প্রার্থী হিসেবে এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নাম চূড়ান্ত করেছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। রোববার (৯ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনে জোট শরিকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ কথা জানান বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। এর মধ্য দিয়ে ১৯৯১ সালের পর রাষ্ট্রপতি পদে দ্বিতীয় বারের মতো নির্বাচন হতে যাচ্ছে। বৈঠককে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, জাগপা সহসভাপতি রাশেদ প্রধান, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার ফুয়াদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ প্রমুখ। সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তনের পর ১৯৯১ সালে একমাত্র বিরোধী দল থেকে প্রার্থী দেওয়ার নজির রয়েছে। সেই সময়ে আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে থেকে রাষ্ট্রপতি পদে বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরীকে মনোনয়ন দিয়েছিল। সেই নির্বাচনে তিনি বিএনপি প্রার্থী আব্দুর রহমান বিশ্বাসের কাছে ৮০ ভোটে পরাজিত হন। এর পর থেকে প্রতিবারই ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন। চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০টি আসনের মধ্যে বিএনপি ২১১ আসন পেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। আর জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোট ৬৮টি আসন অর্জন করেছে। এছাড়া বিএনপি জোট শরিকদের মধ্যে বিজেপি, গণসংহতি আন্দোলন ও গনঅধিকার পরিষদ একটি করে আসন লাভ করে। জামায়াতে জোটের জাতীয় নাগরিক পার্টি ৬টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি ও খেলাফত মজলিস একটি আসন লাভ করে। এ ছাড়া স্বতন্ত্র ৭ জন ও ইসলামী আন্দোলন একটি আসন অর্জন করেছে।

সৌদিতে তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথিরা। এতে স্থাপনাটিতে আগুন ধরে গেছে। রোববার (৯ আগস্ট) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। হুথিদের পরিচালিত আল মাসিরাহ টিভি জানিয়েছে, ইয়েমেনের এই গোষ্ঠীটি আজ সকালে জিজানে সৌদি আরামকোর তেল স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। গোষ্ঠীটির হামলায় স্থাপনাটি দাউ দাউ করে জ্বলছে। এক বিবৃতিতে গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, ইয়েমেনের সাদা ও হাজ্জাহ প্রদেশে সৌদি ড্রোন হামলার জবাবে তারা স্থাপনাটিকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে। এর আগে সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানায়, ইয়েমেন সীমান্তের কাছে লোহিত সাগরের বন্দর জিজানে অবস্থিত সৌদি আরামকো শোধনাগারের একটি স্থাপনায় হামলা হয়েছে। তবে ভোরবেলায় লাগা এ আগুন দমকলকর্মীরা নিভিয়ে ফেলেছেন। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। এর আগে শুক্রবারও সৌদিতে হামলা চালিয়েছিল হুথিরা। এ হামলার পর সৌদি আরবের গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, গোষ্ঠীটি বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থনকারী সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি বলেন, দক্ষিণাঞ্চলীয় নাজরান প্রদেশে এই হামলায় সাতজন সৌদি, একজন ইয়েমেনি, দুজন মিসরীয় এবং একজন পাকিস্তানি নাগরিক আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে চার বছর বয়সী একটি শিশুও রয়েছে। মালিকি হুথিদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘন করে বেসামরিক এলাকায় নির্বিচারে গোলাবর্ষণের অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষায় জোট সব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রাখবে। তবে জোটের এ বিবৃতির বিষয়ে হুথি বা ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। সূত্র : আল জাজিরা