

নোয়াখালীর হাতিয়ায় ১১ বছরের এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে হেলাল উদ্দিন নামে এক জামায়াত কর্মীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গ্রাম্য সালিশে তাকে ৫০ বেত্রাঘাত ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়। এর আগে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে সালিশ বসে। অভিযুক্ত হেলাল উদ্দিন পেশায় পল্লী চিকিৎসক। স্থানীয়দের দাবি, তিনি একসময় ইউনিয়ন যুবলীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। সরকার পরিবর্তনের পর বর্তমানে জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে এক শিশু পাশের একটি দোকান থেকে জিরা মসলা কিনে বাড়ি ফেরার পথে হেলাল উদ্দিন তাকে দোকানে ডাকেন। এ সময় শিশুটির সঙ্গে তার আরও এক ছোট বোন ছিল। অভিযোগ রয়েছে, ছোট বোনকে বসিয়ে রেখে শিশুটিকে দোকানের পেছনে নিয়ে যান তিনি। সেখানে তাকে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ করলে শিশুটি চিৎকার করে বাইরে বেরিয়ে আসে। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে বিকেলে স্থানীয়ভাবে একটি গ্রাম্য সালিশ অনুষ্ঠিত হয়। গ্রাম্য সালিশে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি জানান, শিশুর পরিবারের অনুরোধে সালিশের আয়োজন করা হয়। সালিশে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা প্রমাণিত হয়নি। তবে শিশুকে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ করার অভিযোগের ভিত্তিতে উপস্থিত সবার সম্মতিতে হেলাল উদ্দিনকে ৫০ বেত্রাঘাত এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা দাবি করেন, ভিকটিম পরিবার গরিব এবং অসহায়। তাই তারা প্রকৃত বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। হেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে অতীতেও নারীদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছিল। এই ঘটনার তদন্ত করে তার শাস্তি নিশ্চত করতে হবে। যাতে ভবিষ্যতে এমন কাজ করার সাহস না পায়। অভিযোগ অস্বীকার করে হেলাল উদ্দিন বলেন, আমি এ ধরনের কোনো কাজ করিনি। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে মানসম্মান ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। হরণী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মমতাজ বেগম বলেন, এ ধরনের ঘটনার বিচার গ্রাম্য সালিশে বা ইউনিয়ন পরিষদে করার কোনো আইনগত এখতিয়ার নেই। ভুক্তভোগী পরিবার থানায় অভিযোগ করতে চাইলে আমরা প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করব। হরণী ইউনিয়ন জামায়াতের আমির হাফেজ তারিফুল মাওলা বলেন, হেলাল উদ্দিন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। ৫ আগস্টের পর অনেকেই নিজেকে রক্ষার জন্য জামায়াত বা বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত হওয়ার চেষ্টা করেছেন। হেলাল উদ্দিনও জামায়াতের বিভিন্ন কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকতেন। তবে তাকে দলের কোনো পর্যায়ের কর্মী বা সদস্য করা হয়নি। হাতিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ কবির হোসেন বলেন, হরণী ইউনিয়ন হাতিয়ার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় সব ঘটনা তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হয় না। বিষয়টি এখন আপনার মাধ্যমে জানতে পেরেছি। এখন পর্যন্ত থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নোয়াখালীর হাতিয়ায় সংরক্ষিত বনের গাছ কেটে নদীতে মাছের ঘের নির্মাণের অভিযোগে ২২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে নৌ-পুলিশ ও বন বিভাগের সদস্যরা। উপজেলার ইসলাম চর সংলগ্ন নদীতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার (৫ আগস্ট) মামলার পর আসামিদের হাতিয়া থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার ইসলাম চর এলাকায় অভিযান শেষে রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাদের নলচিরা নৌঘাটে আনা হয়। তারা হলেন- নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের চর তরবালি এলাকার অলি উদ্দিন (৩৫), ইব্রাহিম (৩০), মো. মাঈন উদ্দিন (৩৫), মো. সাদ্দাম হোসেন (২৬), মোস্তাফিজুর রহমান (৩০), মইনুদ্দিন (২৭), মো. সেলিম (৩০), মো. সোহেল (২৭), মো. হামিদ (৩০), নূর জামাল, জাফরুল্লাহ জাকের (৪৮), মনির হোসেন (২৫), নূর করিম (২৮) এবং কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চর এলাহী ইউনিয়নের মো. বেলাল (২৩), মো. আকবর (২৩), মো. শরীফ (৩০) ও সোহাগ (২৮)। একজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। নৌ-পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বহিরাগত একটি চক্র সংরক্ষিত বনের কেওড়া ও গেওয়া গাছ কেটে নদীতে অবৈধ ঘের নির্মাণ করে মাছ শিকার করে আসছিল। এসব ঘেরের কারণে বাল্কহেড, কার্গোসহ বিভিন্ন নৌযানের চলাচলে সমস্যায় পড়ছিল। একইসঙ্গে ঘেরে বালি ও পলি জমে নদীর নাব্যতা কমার পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছিল। এতে উন্মুক্ত নদীতে মাছ শিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন স্থানীয় জেলেরা। নলচিরা রেঞ্জের বিট কর্মকর্তা বাবুল হক বলেন, বহিরাগতরা সংরক্ষিত বনের গাছ কেটে নদীতে অবৈধ ঘের নির্মাণ করে মাছ শিকার করছিল। এতে বনজ সম্পদ ধ্বংসের পাশাপাশি নদীর স্বাভাবিক পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। তাই তাদের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। নলচিরা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আশীষ চন্দ্র সাহা বলেন, নদীতে অবৈধ ঘের নির্মাণের কারণে বাল্কহেড, কার্গোসহ বিভিন্ন নৌযানের চলাচলে সমস্যা হচ্ছিল। অভিযান চালিয়ে ২২ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ ঘের ও মৎস্য আইনের ৫(১) ধারায় মামলা করার পর হাতিয়া থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, নদী, বন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে।

আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউটের উদ্বোধন করেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। একই সঙ্গে ভিডিও টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে সাভার, বরিশাল, বগুড়া, চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা ও যশোরে প্রতিষ্ঠিতব্য এই ইনস্টিটিউটের আরও সাতটি শাখার ভিত্তিপ্রস্তর উন্মোচন করেন তিনি। সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে রাজধানীর জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউটের উদ্বোধন করেন তিনি। সেনাপ্রধান বলেছেন, বর্তমান সময়ের পরিবর্তিত চাহিদার আলোকে আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে নৈতিক মূল্যবোধের সমন্বয়ে জ্ঞান, নেতৃত্বগুণ ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন আদর্শ নাগরিক গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই ইনস্টিটিউটটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এখানে কেমব্রিজ কারিকুলামভিত্তিক ইংরেজি মাধ্যমের আধুনিক শিক্ষাপদ্ধতি এবং মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার চমৎকার সমন্বয় ঘটানো হবে। আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউটের উদ্বোধন করলেন সেনাপ্রধান গ্যাস সংকটের মধ্যেই মূল্যবৃদ্ধি / আজ কত দামে বিক্রি হচ্ছে এলপিজির সিলিন্ডার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সেনাসদরের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, বিভিন্ন ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি), ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা, প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও নোয়াখালী-৩ (বেগমগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য বরকত উল্লাহ বুলু বলেছেন, আওয়ামী সাংবাদিক-বুদ্ধিজীবীদের জন্য শেখ হাসিনার পতন হয়েছে। সাংবাদিকরা হচ্ছে জাতির বিবেক। তাদের কোনো দল নেই। মানুষের কল্যাণে, সমাজের অসঙ্গতি তুলে ধরাই তাদের কাজ। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে। রোববার (২ আগস্ট) বিকেলে বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নে নোয়াখালী সাংবাদিক ইউনিয়নের উদ্যোগে এক প্রীতি ফুটবল ম্যাচ শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। বরকত উল্লাহ বুলু বলেন, যে কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে স্বাধীন সাংবাদিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাংবাদিকরা যদি নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করেন তাহলে সমাজ ও রাষ্ট্র উপকৃত হয়। রাজনৈতিক প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনার পতন হয়েছে। এখন দেশের মানুষ একটি নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে রয়েছে। এ সময়ে সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, ব্যবসায়ীসহ সমাজের প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষের উচিত দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া। সাংবাদিকদের ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। সংসদ সদস্য বলেন, সাংবাদিকদের কাজ কোনো ব্যক্তি বা দলের পক্ষে অবস্থান নেওয়া নয়, বরং সত্য তুলে ধরা। জনগণ প্রকৃত তথ্য জানতে চায়, তাই বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা করতে হলে সাংবাদিকদের পেশাগত নৈতিকতা বজায় রাখতে হবে। সাংবাদিকদের উদ্দেশে বুলু বলেন, গণমাধ্যম সমাজের দর্পণ। এ দর্পণ যেন কখনো ম্লান না হয়। সাংবাদিকদের ঐক্য, পেশাদারিত্ব এবং দায়িত্বশীলতাই গণমাধ্যমকে আরও শক্তিশালী করবে। পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সুস্থ বিনোদন ও ক্রীড়া কার্যক্রম সাংবাদিকদের মানসিক প্রশান্তি এনে দেয়। এতে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়। নোয়াখালী সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি অধ্যাপক লিয়াকত আলী খানের সভাপতিত্বে সিনিয়র সহসভাপতি আজাদ ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- নোয়াখালী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলো, জেলা বিএনপির সদস্য শামিমা বরকত লাকি, সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদুল ইসলাম কিরন, বেগমগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কামাখ্যা চন্দ্র দাস ও জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন খান। আরও উপস্থিত ছিলেন- নোয়াখালী সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, সহসভাপতি তাজুল ইসলাম মানিক ভূঁইয়া, সহসভাপতি এমবি আলম, সহসভাপতি, সহসভাপতি এস এম রিজোয়ান, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মোজাম্মেল হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক মোজাম্মেল কামাল, যুগ্ম সম্পাদক ইমাম উদ্দিন আজাদ কোষাধ্যক্ষ কামরুল কানন, সাংগঠনিক সম্পাদক জুয়েল রানা লিটন, দপ্তর সম্পাদক নাসিম শুভ, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া রাহাত, তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক মো. মাহবুবুর রহমান, ক্রীড়া ও প্রচার সম্পাদক এবং ফজলুল কাদের রাজু,নির্বাহী সদস্য আকাশ মো. জসিম, আনোয়ার তোহা, মো. সালাহ উদ্দিন, সিরাজ উদ্দিন শাহিন ও মুজাহিদুল ইসলাম সোহেল।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে নোয়াখালী সরকারি কলেজের উদ্যোগে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও দোয়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচার ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়। প্রায় ১৪০০ শহীদ ও অসংখ্য আহতদের রক্তের বিনিময়ে স্বৈরাচারের কবল থেকে মুক্তি পায় প্রিয় বাংলাদেশ। দিনটিকে স্বরণীয় করে রাখতে জাতীয় দিবস ঘোষণা করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। আজ বুধবার (০৫ আগষ্ট-২০২৬ খ্রিঃ) সকালে নোয়াখালী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল জলিল অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ মনিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোঃ শাহজাহান। এ-সময় কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর এবিএম সানা উল্লাহ, শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক আফসার উদ্দিন জুয়েল সহ অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে জুলাই আহত যোদ্ধা, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, ছাত্র আন্দোলন, ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরে জুলাই শহীদদের স্মরণে দোয়া ও মুনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

বিশ্বকাপের স্বত্ব বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রিসহ নানা বিতর্কিত সিদ্ধান্তের জন্য ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। মরক্কোর রাজধানী রাবাতে অনুষ্ঠিত ফিফার জরুরি বৈঠক শেষে ২১১টি সদস্য সংস্থাকে চিঠি পাঠায় ফিফা। স্প্যানিশ দৈনিক 'এস'-এ জানায়, চিঠিতে বিগত কয়েক দিনের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে আলোচনা করা এবং সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরাই ছিল বৈঠকের উদ্দেশ্য। সভার শুরুতেই সফল বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য ফিফা প্রশাসনের প্রশংসা করা হয়। চিঠিতে আরও বলা হয়, বিভ্রান্তি দূর করতে বৈঠকে উপস্থিত সাধারণ সম্পাদক এবং ফিফা বোর্ডের সদস্যরা ফিফা সভাপতি জান্নি ইনফান্তিনোর প্রতি তাদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তারা জানান, ইনফান্তিনো ফিফার ২১১টি সদস্য সংস্থার ভোটে নির্বাচিত একমাত্র প্রতিনিধি। একইসঙ্গে ফিফা সভাপতিও তার ভিশন বাস্তবায়নে মৌলিক ও অসাধারণ ভূমিকার জন্য ফিফা প্রশাসনের প্রতি তার পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেছেন। রাবাতের আলোচনার সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে ফিফা আরও জানায়, আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আজকের বৈঠকের সিদ্ধান্তগুলো ফিফার সুশাসনকে শক্তিশালী করবে এবং সংস্থায় আস্থা ফিরিয়ে আনবে। বিশ্বব্যাপী ফুটবলের উন্নয়নের লক্ষ্য অব্যাহত রেখে পেশাদারিত্ব ও স্বচ্ছতার সঙ্গে ভবিষ্যতের বড় ইভেন্ট ও চ্যালেঞ্জগুলোর প্রস্তুতিতে সহায়ক হবে। স্বত্ব বিক্রির প্রকল্পের উদ্যোগ ভুল স্বীকার করে বলা হয়, আমরা স্বীকার করছি যে, নতুন প্রকল্প তৈরির প্রস্তাবে কিছু ভুল ছিল। ফিফা কাউন্সিল ও সদস্য সংস্থাগুলোকে এই প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেওয়া কখনোই আমাদের উদ্দেশ্য ছিল না। সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি ফাঁস হওয়ার পর যেভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়েছে, সেখানেও ভুল ত্রুটি ছিল বলে আমরা মেনে নিচ্ছি। এই অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য আমরা আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইছি। একই সঙ্গে কড়া সতর্কবার্তাও দেওয়া চিঠিতে, যেহেতু প্রস্তাবটি প্রত্যাহার করা হয়েছে, তাই ফিফার ভাবমূর্তি, সুশাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার ওপর কোনো আঘাত মেনে নেওয়া হবে না। সংস্থার নাম ও সুনাম রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। চিঠির শেষ অংশে ফিফা সাধারণ সম্পাদক মাতিয়াস গ্রাফস্ট্রম লিখেছেন, অভিজ্ঞতাই মানুষের শিক্ষার মূল উৎস। এটি আমাদের কার্যক্রমকে আরও উন্নত করতে সাহায্য করবে। ২১১টি সদস্য সংস্থা, কনফেডারেশন ও আঞ্চলিক সংস্থাগুলোর সুবিধার্থে ফিফা ফরোয়ার্ড প্রোগ্রামের মাধ্যমে ফুটবলের প্রসার কীভাবে বাড়ানো যায়, তা নিয়ে আমরা আপনাদের সঙ্গে কাজ করব। আপনাদের যে কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে আমরা প্রস্তুত।

নোয়াখালীর হাতিয়ায় ১১ বছরের এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে হেলাল উদ্দিন নামে এক জামায়াত কর্মীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গ্রাম্য সালিশে তাকে ৫০ বেত্রাঘাত ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়। এর আগে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে সালিশ বসে। অভিযুক্ত হেলাল উদ্দিন পেশায় পল্লী চিকিৎসক। স্থানীয়দের দাবি, তিনি একসময় ইউনিয়ন যুবলীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। সরকার পরিবর্তনের পর বর্তমানে জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে এক শিশু পাশের একটি দোকান থেকে জিরা মসলা কিনে বাড়ি ফেরার পথে হেলাল উদ্দিন তাকে দোকানে ডাকেন। এ সময় শিশুটির সঙ্গে তার আরও এক ছোট বোন ছিল। অভিযোগ রয়েছে, ছোট বোনকে বসিয়ে রেখে শিশুটিকে দোকানের পেছনে নিয়ে যান তিনি। সেখানে তাকে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ করলে শিশুটি চিৎকার করে বাইরে বেরিয়ে আসে। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে বিকেলে স্থানীয়ভাবে একটি গ্রাম্য সালিশ অনুষ্ঠিত হয়। গ্রাম্য সালিশে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি জানান, শিশুর পরিবারের অনুরোধে সালিশের আয়োজন করা হয়। সালিশে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা প্রমাণিত হয়নি। তবে শিশুকে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ করার অভিযোগের ভিত্তিতে উপস্থিত সবার সম্মতিতে হেলাল উদ্দিনকে ৫০ বেত্রাঘাত এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা দাবি করেন, ভিকটিম পরিবার গরিব এবং অসহায়। তাই তারা প্রকৃত বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। হেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে অতীতেও নারীদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছিল। এই ঘটনার তদন্ত করে তার শাস্তি নিশ্চত করতে হবে। যাতে ভবিষ্যতে এমন কাজ করার সাহস না পায়। অভিযোগ অস্বীকার করে হেলাল উদ্দিন বলেন, আমি এ ধরনের কোনো কাজ করিনি। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে মানসম্মান ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। হরণী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মমতাজ বেগম বলেন, এ ধরনের ঘটনার বিচার গ্রাম্য সালিশে বা ইউনিয়ন পরিষদে করার কোনো আইনগত এখতিয়ার নেই। ভুক্তভোগী পরিবার থানায় অভিযোগ করতে চাইলে আমরা প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করব। হরণী ইউনিয়ন জামায়াতের আমির হাফেজ তারিফুল মাওলা বলেন, হেলাল উদ্দিন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। ৫ আগস্টের পর অনেকেই নিজেকে রক্ষার জন্য জামায়াত বা বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত হওয়ার চেষ্টা করেছেন। হেলাল উদ্দিনও জামায়াতের বিভিন্ন কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকতেন। তবে তাকে দলের কোনো পর্যায়ের কর্মী বা সদস্য করা হয়নি। হাতিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ কবির হোসেন বলেন, হরণী ইউনিয়ন হাতিয়ার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় সব ঘটনা তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হয় না। বিষয়টি এখন আপনার মাধ্যমে জানতে পেরেছি। এখন পর্যন্ত থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নোয়াখালীর হাতিয়ায় সংরক্ষিত বনের গাছ কেটে নদীতে মাছের ঘের নির্মাণের অভিযোগে ২২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে নৌ-পুলিশ ও বন বিভাগের সদস্যরা। উপজেলার ইসলাম চর সংলগ্ন নদীতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার (৫ আগস্ট) মামলার পর আসামিদের হাতিয়া থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার ইসলাম চর এলাকায় অভিযান শেষে রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাদের নলচিরা নৌঘাটে আনা হয়। তারা হলেন- নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের চর তরবালি এলাকার অলি উদ্দিন (৩৫), ইব্রাহিম (৩০), মো. মাঈন উদ্দিন (৩৫), মো. সাদ্দাম হোসেন (২৬), মোস্তাফিজুর রহমান (৩০), মইনুদ্দিন (২৭), মো. সেলিম (৩০), মো. সোহেল (২৭), মো. হামিদ (৩০), নূর জামাল, জাফরুল্লাহ জাকের (৪৮), মনির হোসেন (২৫), নূর করিম (২৮) এবং কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চর এলাহী ইউনিয়নের মো. বেলাল (২৩), মো. আকবর (২৩), মো. শরীফ (৩০) ও সোহাগ (২৮)। একজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। নৌ-পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বহিরাগত একটি চক্র সংরক্ষিত বনের কেওড়া ও গেওয়া গাছ কেটে নদীতে অবৈধ ঘের নির্মাণ করে মাছ শিকার করে আসছিল। এসব ঘেরের কারণে বাল্কহেড, কার্গোসহ বিভিন্ন নৌযানের চলাচলে সমস্যায় পড়ছিল। একইসঙ্গে ঘেরে বালি ও পলি জমে নদীর নাব্যতা কমার পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছিল। এতে উন্মুক্ত নদীতে মাছ শিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন স্থানীয় জেলেরা। নলচিরা রেঞ্জের বিট কর্মকর্তা বাবুল হক বলেন, বহিরাগতরা সংরক্ষিত বনের গাছ কেটে নদীতে অবৈধ ঘের নির্মাণ করে মাছ শিকার করছিল। এতে বনজ সম্পদ ধ্বংসের পাশাপাশি নদীর স্বাভাবিক পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। তাই তাদের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। নলচিরা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আশীষ চন্দ্র সাহা বলেন, নদীতে অবৈধ ঘের নির্মাণের কারণে বাল্কহেড, কার্গোসহ বিভিন্ন নৌযানের চলাচলে সমস্যা হচ্ছিল। অভিযান চালিয়ে ২২ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ ঘের ও মৎস্য আইনের ৫(১) ধারায় মামলা করার পর হাতিয়া থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, নদী, বন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে।

আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউটের উদ্বোধন করেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। একই সঙ্গে ভিডিও টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে সাভার, বরিশাল, বগুড়া, চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা ও যশোরে প্রতিষ্ঠিতব্য এই ইনস্টিটিউটের আরও সাতটি শাখার ভিত্তিপ্রস্তর উন্মোচন করেন তিনি। সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে রাজধানীর জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউটের উদ্বোধন করেন তিনি। সেনাপ্রধান বলেছেন, বর্তমান সময়ের পরিবর্তিত চাহিদার আলোকে আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে নৈতিক মূল্যবোধের সমন্বয়ে জ্ঞান, নেতৃত্বগুণ ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন আদর্শ নাগরিক গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই ইনস্টিটিউটটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এখানে কেমব্রিজ কারিকুলামভিত্তিক ইংরেজি মাধ্যমের আধুনিক শিক্ষাপদ্ধতি এবং মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার চমৎকার সমন্বয় ঘটানো হবে। আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউটের উদ্বোধন করলেন সেনাপ্রধান গ্যাস সংকটের মধ্যেই মূল্যবৃদ্ধি / আজ কত দামে বিক্রি হচ্ছে এলপিজির সিলিন্ডার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সেনাসদরের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, বিভিন্ন ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি), ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা, প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও নোয়াখালী-৩ (বেগমগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য বরকত উল্লাহ বুলু বলেছেন, আওয়ামী সাংবাদিক-বুদ্ধিজীবীদের জন্য শেখ হাসিনার পতন হয়েছে। সাংবাদিকরা হচ্ছে জাতির বিবেক। তাদের কোনো দল নেই। মানুষের কল্যাণে, সমাজের অসঙ্গতি তুলে ধরাই তাদের কাজ। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে। রোববার (২ আগস্ট) বিকেলে বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নে নোয়াখালী সাংবাদিক ইউনিয়নের উদ্যোগে এক প্রীতি ফুটবল ম্যাচ শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। বরকত উল্লাহ বুলু বলেন, যে কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে স্বাধীন সাংবাদিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাংবাদিকরা যদি নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করেন তাহলে সমাজ ও রাষ্ট্র উপকৃত হয়। রাজনৈতিক প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনার পতন হয়েছে। এখন দেশের মানুষ একটি নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে রয়েছে। এ সময়ে সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, ব্যবসায়ীসহ সমাজের প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষের উচিত দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া। সাংবাদিকদের ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। সংসদ সদস্য বলেন, সাংবাদিকদের কাজ কোনো ব্যক্তি বা দলের পক্ষে অবস্থান নেওয়া নয়, বরং সত্য তুলে ধরা। জনগণ প্রকৃত তথ্য জানতে চায়, তাই বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা করতে হলে সাংবাদিকদের পেশাগত নৈতিকতা বজায় রাখতে হবে। সাংবাদিকদের উদ্দেশে বুলু বলেন, গণমাধ্যম সমাজের দর্পণ। এ দর্পণ যেন কখনো ম্লান না হয়। সাংবাদিকদের ঐক্য, পেশাদারিত্ব এবং দায়িত্বশীলতাই গণমাধ্যমকে আরও শক্তিশালী করবে। পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সুস্থ বিনোদন ও ক্রীড়া কার্যক্রম সাংবাদিকদের মানসিক প্রশান্তি এনে দেয়। এতে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়। নোয়াখালী সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি অধ্যাপক লিয়াকত আলী খানের সভাপতিত্বে সিনিয়র সহসভাপতি আজাদ ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- নোয়াখালী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলো, জেলা বিএনপির সদস্য শামিমা বরকত লাকি, সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদুল ইসলাম কিরন, বেগমগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কামাখ্যা চন্দ্র দাস ও জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন খান। আরও উপস্থিত ছিলেন- নোয়াখালী সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, সহসভাপতি তাজুল ইসলাম মানিক ভূঁইয়া, সহসভাপতি এমবি আলম, সহসভাপতি, সহসভাপতি এস এম রিজোয়ান, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মোজাম্মেল হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক মোজাম্মেল কামাল, যুগ্ম সম্পাদক ইমাম উদ্দিন আজাদ কোষাধ্যক্ষ কামরুল কানন, সাংগঠনিক সম্পাদক জুয়েল রানা লিটন, দপ্তর সম্পাদক নাসিম শুভ, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া রাহাত, তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক মো. মাহবুবুর রহমান, ক্রীড়া ও প্রচার সম্পাদক এবং ফজলুল কাদের রাজু,নির্বাহী সদস্য আকাশ মো. জসিম, আনোয়ার তোহা, মো. সালাহ উদ্দিন, সিরাজ উদ্দিন শাহিন ও মুজাহিদুল ইসলাম সোহেল।
হেযবুত তওহীদকে নিষিদ্ধের দাবিতে (১ আগস্ট) নোয়াখালীর মাইজদী জেলা স্কুল মাঠে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের উদ্যোগে এক বিশাল জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও দূর-দূরান্ত থেকে আগত হাজারো মানুষ এ সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নোয়াখালী-৪ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. শাহজাহান আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আন্দোলনের সময় কোনো ধরনের সহিংসতা বা আইনশৃঙ্খলার অবনতি যেন না ঘটে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।তিনি আরও বলেন, জনগণের দাবি গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে উপস্থাপন করাই উচিত। আন্দোলনকারীদের ন্যায্য দাবির প্রতি তিনি সমর্থন ও সহযোগিতার আশ্বাস ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সমাবেশে অংশ নিতে আসা সকল ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের ধন্যবাদ জানান।বক্তব্যে তিনি ইসলামবিদ্বেষী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং আন্দোলনের সফলতা কামনা করেন। সমাবেশে বক্তারা হেযবুত তওহীদকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান। সমাবেশ শেষে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি সমাপ্ত হয়।

নোয়াখালীর হাতিয়ায় মোহছেনা বেগম (৯০) নামে এক বৃদ্ধাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে নিজ সন্তানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার বিচার চেয়ে থানায় অভিযোগ করেছেন ওই বৃদ্ধা। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ছেলে মো. আরিফ উদ্দিন। শনিবার (১ আগস্ট) বিকেলে হাতিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেন তিনি। মোহছেনা বেগম উপজেলার সোনাদিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ছেলে মো. আরিফ উদ্দিন, পুত্রবধূ ও পরিবারের কয়েকজন সদস্য দীর্ঘদিন ধরে মোহছেনা বেগমের ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছেন। সর্বশেষ শনিবার সকালে তারা বসতবাড়িতে গিয়ে তাকে মারধর করেন। এ সময় স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়া এবং বসতঘরে থাকা গবাদি পশু জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। এতে বাধা দিলে মোহছেনা বেগমকে মারধর করা হয়। তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসা অন্য পুত্রবধূ জান্নাত বেগমও হামলার শিকার হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। হামলায় আহত মোহছেনা বেগম ও জান্নাত বেগমকে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে মোহছেনা বেগম থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। মোহছেনা বেগম বলেন, ‘যে সন্তানকে কষ্ট করে মানুষ করেছি, সেই সন্তানই আমার ওপর হামলা করছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই। একই সঙ্গে আমার জীবনের নিরাপত্তা চাই।’ তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ছেলে মো. আরিফ উদ্দিন বলেন, আমি আমার মাকে মারধর করিনি। আমার ভাইয়ের বউ আমাদের সঙ্গে ঝগড়া করছিল। তার সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়েছে। মাকে মারধরের বিষয়টি সত্য নয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কবির হোসেন বলেন, বৃদ্ধাকে মারধরের ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তের জন্য জাহাজমারা তদন্তকেন্দ্রকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নোয়াখালীতে অনুষ্ঠিত ইসলামি মহাসমাবেশ থেকে ‘হেযবুত তাওহীদ’কে কালো তালিকাভুক্ত করার পাশাপাশি সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। সমাবেশে বক্তারা সংগঠনটিকে ‘ঈমান বিধ্বংসী’ ও ‘জঙ্গি সংগঠন’ হিসেবে উল্লেখ করে সরকারের প্রতি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে নোয়াখালী জেলা স্কুল মাঠে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের তত্ত্বাবধানে জমইয়্যাতুল মাদারিসিল কওমিয়া নোয়াখালী-লক্ষ্মীপুর ও ইসলামবিরোধী কার্যকলাপ প্রতিরোধ কমিটির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ইসলামি মহাসমাবেশে এ দাবি জানানো হয়। আয়োজকদের দাবি, এতে লক্ষাধিক ধর্মপ্রাণ মুসল্লির সমাগম ঘটে। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী অভিযোগ করেন, ‘হেযবুত তাওহীদ’ সেবামূলক কর্মকাণ্ডের আড়ালে সুকৌশলে হাজার হাজার মুসলমানকে ঈমানচ্যুত করছে। তিনি বলেন, এর ফলে দেশের হক্কানি ওলামায়ে কেরাম ও তাওহিদি জনতার চেতনা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হচ্ছে, স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত হচ্ছে এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়ছে। এ অবস্থায় তিনি সরকারের কাছে সংগঠনটিকে সরকারিভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণার দাবি জানান। সমাবেশের দুই অধিবেশনে জমইয়্যাতুল মাদারিসিল কওমিয়া নোয়াখালী-লক্ষ্মীপুরের সভাপতি মাওলানা সিদ্দিকুর রহমান এবং হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ নোয়াখালী জেলার আমির মাওলানা নিজাম উদ্দিন সভাপতিত্ব করেন। যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন মুফতি মুঈনুদ্দিন তৈয়বপুরী ও মাওলানা মহিউদ্দিন। এতে বক্তব্য দেন জামিয়া আহলিয়া দারুল উলুম হাটহাজারীর মহাপরিচালক আল্লামা খলিল আহমদ কুরাইশী, খতমে নবুওত সংরক্ষণ কমিটির আমির আল্লামা আব্দুল হামিদ মধুপুরী, ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বসুন্ধরার মহাপরিচালক মুফতি আরশাদ রহমানী, জামেয়া ওবায়দিয়া নানুপুরের মুহতামিম আল্লামা সালাউদ্দিন নানুপুরী, ইসলামি মহাসমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক আল্লামা মুফতি মুস্তাকুন্নবী কাসেমী, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় মহাসচিব শায়খ সাজিদুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মো. ফয়জুল করিম, মাওলানা আজিজুল্লাহ নবাব, মাওলানা সিদ্দিক আহমদ নোমান ও মাওলানা নুরুল ইসলামসহ অন্যরা। সমাবেশে নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. শাহজাহান, নোয়াখালী জেলা পরিষদের প্রশাসক হারুনুর রশিদ আজাদ, ব্যবসায়ী নেতা মো. ইকরাম উল্লাহ ডিপটিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা সংহতি প্রকাশ করেন। সমাবেশে বক্তারা সরকারের প্রতি কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, ‘হেযবুত তাওহীদ’কে অনতিবিলম্বে নিষিদ্ধ ঘোষণা, সংগঠনটির প্রকাশিত বই-পুস্তক, পত্রপত্রিকা ও ওয়েবসাইট বন্ধ করা, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত বলে অভিযোগ করা ব্যাংক হিসাব জব্দ করা এবং সংগঠনটির পক্ষ থেকে বিভিন্ন মুসলমানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো প্রত্যাহার করা। এ ছাড়া ঘোষিত দাবিগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দেশব্যাপী ওলামায়ে কেরাম ও তাওহিদি জনতার সমন্বয়ে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে স্মারকলিপি প্রদান এবং আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ‘হেযবুত তাওহীদ’-এর কার্যক্রম সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরিতে সেমিনার, মাহফিল ও মতবিনিময় সভাসহ ধারাবাহিক কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়।

অনিয়ম, ঘুষ, লাইসেন্স ভাড়া ও বিপুল রাজস্ব ফাঁকির এক অগোছালো জালে বন্দি দেশের মুসলিম বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন ব্যবস্থা। সরকারের নামে কোটি কোটি টাকা কমিশন আদায় হলেও সেই অর্থের ১ শতাংশও রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে লাইসেন্স বাণিজ্য, রাজনৈতিক সুপারিশ, ভুয়া প্রতিনিধি নিয়োগ এবং আয়কর ফাঁকির মতো নানা অনিয়মে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে পুরো নিকাহ নিবন্ধন ব্যবস্থা। আইন মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও কালবেলার অনুসন্ধানে জানা গেছে, দেশে বর্তমানে নিবন্ধিত নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজি) রয়েছেন প্রায় ৬ হাজার। গড়ে একজন কাজির মাসিক আয় প্রায় ২ লাখ টাকা হিসেবে বছরে এ খাতে মোট লেনদেন বা আয় দাঁড়ায় প্রায় ১ হাজার ৪৪০ কোটি টাকা। অথচ বিয়ের সময় সরকারের নামে কমিশন বা নিবন্ধন ফি আদায় করা হলেও সেই অর্থের ১ শতাংশও সরকারি কোষাগারে জমা পড়ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। অনিয়মের এখানেই শেষ নয়; লাখ লাখ টাকার ঘুষ-বাণিজ্য ও রাজনৈতিক সুপারিশে লাইসেন্স পাওয়া এখন ‘ওপেন সিক্রেট’। অনৈতিকভাবে নিয়োগ পাওয়া এসব কাজি আবার ভুয়া প্রতিনিধি নিয়োগ দিয়ে নিজের ‘কমিশনটা’ ঠিকই আদায় করে নিচ্ছেন। কিন্তু সরকারের ন্যায্য পাওনাটা দিতে তাদের অনীহা। বর্তমান বিধিমালা অনুযায়ী, দেনমোহরের প্রথম ৫ লাখ টাকার ক্ষেত্রে প্রতি ১ হাজার টাকায় ১৪ টাকা হারে নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু এই অর্থ আদায়ের পর তার কতটুকু সরকার পাচ্ছে, সে বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের কাছেও কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য নেই। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কাজিদের বার্ষিক ফি বা কমিশন জমার হিসাব সংরক্ষণের দায়িত্ব তাদের নয়। অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, একজন কাজি হতে জেলা পর্যায়ে ৩ থেকে ১০ লাখ এবং রাজধানীর অভিজাত এলাকায় ২০ থেকে ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয়। পাশাপাশি রাজনৈতিক সুপারিশ ছাড়া লাইসেন্স পাওয়া কঠিন বলেও জানিয়েছেন একাধিক নিবন্ধিত কাজি। অভিযোগ রয়েছে, মন্ত্রণালয়, জেলা রেজিস্ট্রি অফিস এবং বিভিন্ন পর্যায়ে নিয়মিত মাসোহারা ও সমিতির নামে চাঁদাও দিতে হয়। এদিকে অনেক নিবন্ধিত কাজি নিজে দায়িত্ব পালন না করে লাইসেন্স ভাড়া দিয়ে প্রতিনিধি দিয়ে কাজ করাচ্ছেন। কোথাও কোথাও একটি নিবন্ধন নম্বর ব্যবহার করে একাধিক ব্যক্তি বিবাহ নিবন্ধনের কাজ করছেন, যদিও আইনে এমন কোনো সুযোগ নেই। এতে মাঠপর্যায়ে জবাবদিহি ও তদারকি মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। সরকারের করনীতি অনুযায়ী, বছরে ৪ লাখ টাকার বেশি আয় হলে আয়কর দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু ঢাকার অভিজাত এলাকা ছাড়াও অধিকাংশ এলাকার ওয়ার্ডে একজন কাজি মাসে ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা আয় করেন। এসব কাজি লাইসেন্সের বিপরীতে বছরে নামমাত্র টাকা পরিশোধ করে বাকি সব টাকাই হাতিয়ে নেন। কিন্তু সরকারকে আয়কর দেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের তীব্র অনীহা লক্ষণীয়। কোনো কোনো কাজি আবার নিজের স্থাবর সম্পত্তির ওপর আয়কর দিয়ে কাজি পেশার আয় গোপন করেন। রাজধানীর একজন কাজি কম করে হলেও বছরে অর্ধকোটি টাকা আয় করেন। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, একটি রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করে একাধিক ব্যক্তি কাজি হিসেবে কাজ করছেন, যার ফলে মাঠপর্যায়ে জবাবদিহি ও তদারকি দুর্বল হয়ে পড়েছে। এ ধরনের অনিয়মের কারণে পুরো বিবাহ নিবন্ধন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে প্রায় ৩০০ কাজির নিবন্ধন বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হলে বিষয়টি আদালতে গড়ায়। বর্তমানে এসব বিষয়ে একাধিক মামলা ও রিট বিচারাধীন রয়েছে। আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিচার শাখা-৭-এর সিনিয়র সহকারী সচিব মো. আবদুল ওয়াহাব কালবেলাকে বলেন, ‘সারা দেশে প্রায় ৬ হাজার রেজিস্ট্রারভুক্ত কাজি আছেন। বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ৫ শতাধিক কাজির কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।’ তবে কাজিদের বার্ষিক ফি বা সরকারের রাজস্ব আয়ের তথ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এই তথ্য রাখার দায়িত্ব আমাদের না।’ এ বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের এক যুগ্ম সচিব বলেন, কাজিদের নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এসব অনিয়ম কমাতে সরকার পর্যায়ক্রমে সারা দেশে ডিজিটালাইজেশন চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ মুসলিম নিকাহ রেজিস্ট্রার কল্যাণ সমিতির নির্বাহী সভাপতি অধ্যক্ষ ড. মো. গোলাম কিবরিয়া দাবি করেন, নিয়ম অনুযায়ী সরকারের নামে আদায়কৃত কমিশন বছরে দুবার কোষাগারে জমা দেওয়া হয় এবং কাজিরা আয়করও পরিশোধ করেন। তবে তিনি স্বীকার করেন, কিছু ভুয়া কাজি বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের মতে, শতভাগ ডিজিটাল পেমেন্ট, কেন্দ্রীয় হিসাব নম্বর, অনলাইন মনিটরিং, স্বচ্ছ নিয়োগপ্রক্রিয়া এবং লাইসেন্স ভাড়া দেওয়ার সংস্কৃতি বন্ধ করা গেলে রাজস্ব ফাঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। একই সঙ্গে সরকারের আয় বাড়বে এবং মুসলিম বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন ব্যবস্থায় জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত এবং ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকায় পৌঁছাবেন বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে। তিন দিনের এ সফর নতুন বিএনপি সরকারের সময়ে কোনো সিনিয়র মার্কিন কূটনীতিকের প্রথম সফর হিসেবে গণ্য হচ্ছে। কূটনৈতিক মহল এ সফরকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির গতিপথ যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকায় পৌঁছানোর পর আজ সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করবেন সার্জিও গোর। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর রাতে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গেও বৈঠকের কথা রয়েছে সার্জিও গোরের। আগামীকাল শুক্রবার সার্জিও গোর কক্সবাজার সফর করবেন এবং রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কয়েকটি ক্যাম্প সরেজমিন পরিদর্শন করবেন। সফরের শেষ দিন শনিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সার্জিও গোরের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এরপর দুপুরে তিনি ঢাকা ত্যাগ করবেন। সার্জিও গোরের ঢাকা সফর প্রসঙ্গে ঢাকাস্থ যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোরের বাংলাদেশে আসার বিষয়টি রুটিন সফরের অংশ। গতকাল পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘ম্যানিলায় সার্জিও গোরের সঙ্গে আমার দেখা হয়েছে, কথা হয়েছে। আমরা দুই দেশের সম্পর্ক রিভিউ করেছি। আমেরিকার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক বহুমাত্রিক। তারাও চাইছেন সম্পর্কটা আরও এগিয়ে নিতে।’ তিনি আরও বলেন, ‘উনি শুধু ভারতে আমেরিকার রাষ্ট্রদূত নন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক প্রতিনিধি। বাংলাদেশে তার এটি প্রথম সফর। এ সফরে তিনি বাংলাদেশ সম্পর্কে বুঝতে চাইবেন। অনেক স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে কথাবার্তা বলবেন। আমাদের রোহিঙ্গা সমস্যা সম্পর্কে তিনি অবগত আছেন।’ রোহিঙ্গা ইস্যুতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সব বৈদেশিক সাহায্য আমরা যা পেয়েছি, আন্তর্জাতিকভাবে তাদের আমরা ধন্যবাদ দিচ্ছি। এর মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্যের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি এবং এটি আমরা ধন্যবাদের সঙ্গে স্মরণ করি। তিনি (সার্জিও গোর) রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে যাবেন।’ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ এ দূত দুদেশের পারস্পরিক সম্পর্কের প্রধান প্রধান দিক বোঝার চেষ্টা করবেন। এটি গোরের জন্য উপলব্ধিমূলক সফর।’ গোরের সফর নিয়ে কেন এত আলোচনা: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরের পর সার্জিও গোরের বাংলাদেশ সফরের বিষয়টি ঘিরে নানা আলোচনা চলছে। অনেকেই ভাবছেন, গোরের সফরে ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ নিয়ে আলোচনা হতে পারে। তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলো এ সফরকে নিয়মিত সফরের অংশ হিসেবেই দেখছেন। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, সফরে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আলোচনায় উঠে আসতে পারে। সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক বাণিজ্য ব্যবস্থা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এসব বিষয় সফরে আরও গভীরভাবে পর্যালোচনা হতে পারে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাংলাদেশ বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে। একদিকে চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সম্পর্ক ও বাণিজ্য বাড়ছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঐতিহ্যগত সম্পর্ক ধরে রাখার চেষ্টাও চলছে। এমন পরিস্থিতিতে সার্জিও গোরের সফর ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের অবস্থান যাচাইয়েরই একটি পদক্ষেপ। একই সঙ্গে নতুন সরকারের ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির আওতায় দেশের পররাষ্ট্রনীতি বোঝার চেষ্টাও এ সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য। এদিকে বাংলাদেশ সরকার এ সফরকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও গভীর করার সুযোগ হিসেবে দেখছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এর আগে বলেছেন, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক সবসময়ই ভালো ছিল এবং বর্তমান সরকারের আমলে তা আরও শক্তিশালী হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সার্জিও গোরের এ সফরের মাধ্যমে বাণিজ্য, অর্থনৈতিক কূটনীতি ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়বে। চীন সফরে মোংলা বন্দর আধুনিকায়ন, তিস্তা প্রকল্প, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং চট্টগ্রামে চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ বেশকিছু বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ওয়াশিংটন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকার, আঞ্চলিক কৌশলগত অবস্থান এবং চীনের সঙ্গে সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা স্পষ্টভাবে বুঝতে চায় বলছেন বিশ্লেষকরা। উল্লেখ্য, সার্জিও গোর ১৯৮৬ সালে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের উজবেকিস্তানের তাসখন্দে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত। আগে তিনি হোয়াইট হাউসের প্রেসিডেন্সিয়াল পার্সোনেল অফিসের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৫ সালের আগস্টে তাকে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত এবং ভারতে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি চলতি বছরের জানুয়ারিতে নয়াদিল্লিতে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ট্রাম্প প্রশাসনের প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে তার এ সফর আরও বেশি মনোযোগ আকর্ষণ করেছে

নোয়াখালীর ভাসানচরের গাংগুরিয়ার চর সংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় অভিযান চালিয়ে মিয়ানমারে পাচারের সময় বিপুল পরিমাণ সার ও খাদ্যপণ্য জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড। এ সময় পাচার কাজে ব্যবহৃত একটি কার্গো বোটসহ ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। বুধবার (২৯ জুলাই) রাতে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান। কোস্ট গার্ড জানায়, মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) কোস্ট গার্ড স্টেশন ভাসানচর গাংগুরিয়ার চর সংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান চালায়। অভিযানে একটি সন্দেহভাজন কার্গো বোটে তল্লাশি চালিয়ে অবৈধভাবে মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে বহন করা প্রায় ১৭ লাখ ৪ হাজার ২৫০ টাকা মূল্যের ২৪ হাজার ৫০০ কেজি ইউরিয়া সার, ৩ হাজার ৭০০ কেজি ছোলা এবং ৬ হাজার ৮৫০ কেজি বুটের ডাল জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে পাচারকাজে ব্যবহৃত কার্গো বোটটি জব্দ এবং ছয়জন পাচারকারীকে আটক করা হয়। কোস্ট গার্ড আরও জানায়, জব্দ করা মালামাল, কার্গো বোট এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, দেশের উপকূলীয় এলাকায় চোরাচালান ও সীমান্তবর্তী জলপথে অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে কোস্ট গার্ডের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ভবিষ্যতেও চোরাচালান রোধে এ ধরনের অভিযান আরও জোরদারভাবে চালানো হবে।