

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় বাবার মরদেহ বাড়িতে রেখে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে আবতাহি উদ্দিন লাবিব নামের এক পরীক্ষার্থী। বুধবার (২০ মে) সকাল ১০টায় নোয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে জীববিজ্ঞান বিষয়ের পরীক্ষায় অংশ নেয় সে। লাবিব নোয়াখালী জিলা স্কুলের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। বিজ্ঞাপন লাবিবের বাবা চাটখিল মহিলা ডিগ্রি কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মফিদুল আলম আরজু। সোমবার (১৯ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৪ বছর। তিনি নোয়াখালী সদর উপজেলার জেলা বোর্ড কলোনীর বাসিন্দা ছিলেন। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বুধবার ছিল লাবিবের এসএসসি পরীক্ষার শেষ দিন। বাবার মৃত্যুর শোক বুকে নিয়েই সকালে পরীক্ষাকেন্দ্রে যায় সে। পরীক্ষা শেষে বাড়িতে ফিরে বাবার জানাজা ও দাফনে অংশ নেয়। এসময় সহপাঠীরাও তার পাশে ছিলেন। বুধবার বাদ জোহর নোয়াখালী কারামাতিয়া আলিয়া মাদরাসা মাঠে মফিদুল আলমের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে জেলা পরিষদ কলোনী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। বিজ্ঞাপন পরিবারের সদস্যরা জানান, হঠাৎ শারীরিক জটিলতা দেখা দিলে মফিদুল আলমকে ঢাকায় নেওয়া হয়। একটি বেসরকারি হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে আত্মীয়ের বাসায় অবস্থানকালে তিনি আকস্মিক অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। চিকিৎসকদের ধারণা, তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। শিক্ষাজীবনে মফিদুল আলম ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। তিনি ১৯৮৭ সালে কক্সবাজারের উখিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ১৯৮৯ সালে কক্সবাজার সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১৯৯৩ সালে বিএসসি (অনার্স) ও ১৯৯৪ সালে এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৯৯ সালের ১ মার্চ তিনি চাটখিল মহিলা ডিগ্রি কলেজে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। দীর্ঘ প্রায় ২৭ বছর ধরে তিনি সুনাম ও নিষ্ঠার সঙ্গে শিক্ষকতা করে আসছিলেন। সহকর্মীরা জানান, তিনি প্রতিদিন সোনাপুরের বাসা থেকে চাটখিল মহিলা কলেজে যাতায়াত করতেন। শিক্ষার্থীদের পাঠদানে নিবেদিত এই শিক্ষক প্রতিদিন দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েও নিয়মিত ক্লাস নিতেন। সহজ ও সাবলীল পাঠদানের কারণে শিক্ষার্থীদের কাছে তিনি ছিলেন অত্যন্ত জনপ্রিয়। তার মৃত্যুতে কলেজের গভর্নিং বডি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কলেজ প্রশাসন এক শোকবার্তায় মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে। চাটখিল মহিলা ডিগ্রি কলেজের উপাধ্যক্ষ ফারুক সিদ্দিকী ফরহাদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, একজন বাবার স্বপ্ন ছিল সন্তানের সফলতা, আর সেই স্বপ্ন পূরণের দায়িত্ববোধ থেকেই হয়তো লাবিব শোকের মাঝেও পরীক্ষার হলে বসেছে। বাবাকে হারানোর এই বেদনা ভাষায় প্রকাশের নয়। মরহুম মফিদুল আলম স্যার ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক ও আদর্শ মানুষ। তার কর্ম ও ভালোবাসা শিক্ষার্থী ও সহকর্মীদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। মহান আল্লাহ তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন এবং লাবিবসহ শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এই কঠিন সময় মোকাবেলার শক্তি দান করুন।

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-এর হযরত বিবি খাদিজা হলের দেয়ালে আপত্তিকর চিত্র অঙ্কন এবং নির্মাণ শ্রমিকদের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের উত্যক্ত করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে মধ্যরাতে বিক্ষোভ করেছেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা। বুধবার (২০ মে) রাত ১১টা থেকে প্রায় ১২টা পর্যন্ত হলের মূল ফটকে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ, স্লোগান ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন তারা। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা সাময়িকভাবে আন্দোলন স্থগিত করেন। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, গত কয়েকদিন ধরে হলের ছাদে ‘জলছাদ’ সংস্কারের কাজ চলছিল। কাজের জন্য প্রতিদিনই নির্মাণ শ্রমিকদের হল এলাকায় প্রবেশ করতে দেখা যায়। বুধবার কাজের শেষ দিনে দায়িত্বপ্রাপ্ত এক শ্রমিক হলের পেছনের ব্লকের ছাদে একটি আপত্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ ছবি এঁকে রেখে যান। পরে বিষয়টি কয়েকজন শিক্ষার্থীর নজরে আসলে মুহূর্তেই হলজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। দীর্ঘদিন ধরেই নির্মাণ কাজে নিয়োজিত কিছু শ্রমিক ছাত্রীদের উদ্দেশে অশোভন আচরণ করে আসছিলেন। ছাত্রীবাসে পুরুষ কর্মীদের প্রবেশের সময় নিয়ম অনুযায়ী হুইসেল বা বাঁশি বাজানোর কথা থাকলেও, অনেক শ্রমিক সেই নিয়মের অপব্যবহার করে ছাত্রীদের উদ্দেশে শিষ দিতেন এবং অশালীন ইঙ্গিত করতেন বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা। একাধিক শিক্ষার্থী জানান, এর আগেও শ্রমিকদের আচরণ নিয়ে হল প্রশাসনকে মৌখিকভাবে অবহিত করা হয়েছিল। কিন্তু দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় পরিস্থিতি দিন দিন আরও খারাপ হয়ে ওঠে। সর্বশেষ দেয়ালে আপত্তিকর চিত্র আঁকার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং তারা রাতেই বিক্ষোভে নামেন। বিক্ষোভ চলাকালে শিক্ষার্থীরা হলের নিরাপত্তা জোরদার, বহিরাগত শ্রমিকদের নিয়ন্ত্রণ, দায়ীদের শনাক্ত করে শাস্তির আওতায় আনা এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। এ সময় তারা বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান দেন এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন। রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন হযরত বিবি খাদিজা হলের সহকারী প্রভোস্ট নাজমুন নাহার ও তাসনিম আলম। তারা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে বলে আশ্বাস দেন। হলের সহকারী প্রভোস্ট তাসনিম আলম বলেন, শিক্ষার্থীদের অভিযোগ আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে শুনেছি। আগামীকাল সকালে প্রভোস্ট স্যারের উপস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। অভিযোগ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, হলের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ভবিষ্যতে যেন কোনো শিক্ষার্থী এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি না হন, সে বিষয়েও প্রশাসন সতর্ক থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আশ্বাসের পর রাত ১২টার দিকে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত করেন। তবে, দ্রুত দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আরও কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নোয়াখালীর কোরবানির পশুর হাটে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে দুটি বিশালাকৃতির গরু—‘রাজাবাবু’ ও ‘বাহাদুর’। শাহীওয়াল জাতের এই দুই গরুর ওজন যথাক্রমে ২৫ মণ ও ২৩ মণ। জেলার সদর উপজেলার চর উড়িয়া গ্রামের একটি খামারে বেড়ে ওঠা গরু দুটি দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন বিভিন্ন এলাকার মানুষ ও সম্ভাব্য ক্রেতারা। গরু দুটির মালিক নোয়াখালী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. নিজাম উদ্দিন। প্রায় ৩৫ বছর ধরে গরু পালনের সঙ্গে জড়িত তিনি। শখের বশে চার বছর আগে নিজ বাড়িতে ছোট পরিসরে গড়ে তোলেন খামার। এবার তার খামারেই বড় হয়েছে জেলার সবচেয়ে বড় গরু রাজাবাবু। খামার সূত্রে জানা গেছে, তিন বছর আগে কুমিল্লার নিমসার বাজার থেকে বাছুর অবস্থায় রাজাবাবুকে কিনে আনেন নিজাম উদ্দিন। দেশীয় ও প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে গরুটিকে লালন-পালন করা হয়েছে। বর্তমানে গরুটির ওজন এক হাজার কেজিরও বেশি। এর দাম হাঁকা হয়েছে ১৩ লাখ টাকা। একই খামারে বড় হওয়া বাহাদুরের ওজন প্রায় ৯০০ কেজির বেশি, যা প্রায় ২৩ মণের সমান। গরুটির দাম চাওয়া হচ্ছে ১১ লাখ টাকা। এ ছাড়া, খামারে ছোট ও মাঝারি আকারের আরও কয়েকটি গরু বিক্রির জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে শেষ মুহূর্তের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারি নিজাম উদ্দিন ও তার পরিবার। ছেলে রাহাত হোসেন, স্ত্রী কামরুন নাহারসহ পরিবারের সদস্যরাই গরুগুলোর দেখভাল করছেন। খামারে কাজ করেন আবুল কালাম নামের এক কর্মচারীও। খামারি ইউপি সদস্য মো. নিজাম উদ্দিন বলেন, গত তিন বছর ধরে রাজাবাবু ও বাহাদুরকে দেশীয় পদ্ধতিতে লালন-পালন করছি। রাজাবাবুর ওজন ২৫ মণ আর বাহাদুরের প্রায় ২৩ মণ। রাজাবাবুর দাম ১৩ লাখ এবং বাহাদুরের দাম ১১ লাখ টাকা নির্ধারণ করেছি। ২৪ লাখ টাকার কমে বিক্রি করলে আমাদের ক্ষতি হবে। তিনি আরও বলেন, অসৎ কোনো উপায়ে গরু মোটাতাজা করিনি। প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে বড় করেছি। কম দামে বিক্রি করার চেয়ে খামারে রেখে আরও এক বছর পালন করবো। খামারির ছেলে রাহাত হোসেন বলেন, ছোটবেলা থেকেই গরু দুটিকে পরিবারের সদস্যের মতো করে বড় করেছি। তাদের খাবার, পরিচর্যা সবকিছুতেই আমরা বিশেষ যত্ন নিয়েছি। এখন মানুষ দূর-দূরান্ত থেকে দেখতে আসছে, ভালো লাগছে। খামারির স্ত্রী কামরুন নাহার বলেন, রাজাবাবু একটু উত্তেজিত স্বভাবের, তবে বাহাদুর অনেক শান্ত। আমাকে দেখলেই দুটোই শান্ত হয়ে যায়। ওরা এখন আমাদের পরিবারেরই সদস্য। গরু দেখতে আসা সম্ভাব্য ক্রেতা মো. সেলিম রেজা বলেন, নোয়াখালীতে এত বড় ও সুস্থ গরু খুব কমই দেখা যায়। রাজাবাবু ও বাহাদুর দুটিই দেখতে বেশ আকর্ষণীয় এবং পরিচর্যাও ভালো হয়েছে। দাম কিছুটা বেশি হলেও যারা বড় ও ব্যতিক্রমী গরু কোরবানির জন্য কিনতে চান, তাদের কাছে গরু দুটি বেশ পছন্দের হবে। আমি নিজেও দামাদামি করছি, এখন দেখি শেষ পর্যন্ত ক্রয় করা যায় কি না। সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. তাসলীমা ফেরদৌসী বলেন, নোয়াখালী জেলায় ১ হাজার কেজির বেশি ওজনের গরু বর্তমানে রাজাবাবু ছাড়া আর নেই। তাই এটিই জেলার সবচেয়ে বড় গরু। এ ছাড়া, বাহাদুরও প্রায় ৯০০ কেজির ওপরে। গরুগুলোর স্বাস্থ্য, ভ্যাকসিন ও সার্বিক বিষয়ে নিয়মিত খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। এ বছর গো খাদ্যের অতিরিক্ত দাম হওয়ায় গরুর পেছনে অনেক খরচ হচ্ছে। যদি ন্যায্যমূল্য পায় তাহলে খামারির মুখে হাসি ফুটবে। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, প্রাণিসম্পদ বিভাগ ছোট-বড় সব খামারির পাশে রয়েছে। এ বছর জেলায় কোরবানির পশুর পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। ন্যায্য দাম পেলে খামারিরা লাভবান হবেন বলে আমরা আশা করছি।

নোয়াখালীর সেনবাগে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৩০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এক শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে সেনবাগ থানা পুলিশ। মঙ্গলবার (১৯ মে ২০২৬) সেনবাগ থানাধীন ছাতারপাইয়া গ্রামস্থ বৈশার বাপের পুল সংলগ্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি হলেন মোঃ নিজাম উদ্দিন (২৭)। তিনি ছাতারপাইয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের আম্বর আলী চৌকিদার বাড়ীর বাসিন্দা এবং আমির হোসেনের ছেলে। পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে পূর্বে ০৯টি মাদক মামলার এজাহার রয়েছে। সেনবাগ থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তার কাছ থেকে ৩০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়। পুলিশ আরও জানায়, মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং মাদকের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে ৭ বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ফরেনসিক রিপোর্ট প্রস্তত হয়েছে। ফরেনসিক রিপোর্টে মৃত্যুর আগে রামিসাকে ধর্ষণেরও প্রমাণ মিলেছে। রোববার (২৪ মে) ফরেনসিক রিপোর্ট বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনার পর এ তথ্য পাওয়া গেছে। ফরেনসিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ঘটনার দিন শিশু রামিসাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। এরপর ধর্ষণ শেষে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরবর্তীতে তার দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে রোববার আদালতে চার্জশিট দেওয়া হবে। এদিকে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শনিবার (২৩ মে) তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে ডিএনএ রিপোর্ট হস্তান্তর করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। শনিবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান বলেন, ‘আমরা চার্জশিট প্রস্তুত করছি। আগামীকালই (রোববার) আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হবে।’ মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ঘটনার পরপরই বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ এবং জড়িত দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, অভিযোগপত্রে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ ও সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা উল্লেখ করা হয়েছে। আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার পর মামলার বিচারিক কার্যক্রম দ্রুত শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এদিকে মামলার বাদী শিশুটির বাবা আব্দুল হান্নান বলেন, ‘আমি চাই এ হত্যার সুষ্ঠু বিচার হোক; যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো পরিবারকে এমন মর্মান্তিক ঘটনার শিকার হতে না হয়।’ রামিসা হত্যার ঘটনায় দায়ী ব্যক্তির সর্বোচ্চ শাস্তি আগামী এক মাসের মধ্যে নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, এই নৃশংস ঘটনায় গোটা জাতি স্তম্ভিত। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই অপরাধীকে সাজার আওতায় আনতে সরকার সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। শনিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক ফাউন্ডেশনের অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি এসব কথা বলেন।

মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম অধ্যুষিত রাষ্ট্র সৌদি আরবে পবিত্র হজ পালনে গিয়ে এ পর্যন্ত ২৭ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৮ জন পুরুষ ও ৯ জন নারী রয়েছেন। মৃতদের মধ্যে মক্কায় ১৮ জন এবং মদিনায় ৯ জন ইন্তেকাল করেছেন। রোববার (২৪ মে) এয়ারলাইন্স, সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ হজ অফিস এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। তথ্য মতে, এ বছর এখন পর্যন্ত মোট ৭৯ হাজার ১৬৪ জন বাংলাদেশী হজযাত্রী ও ব্যবস্থাপনা সদস্য সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় গেছেন চার হাজার ৪৬৪ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯২৬ জন। এছাড়া হজ এজেন্সি, হাব প্রতিনিধি ও বিভিন্ন টিমের ব্যবস্থাপনা সদস্য রয়েছেন ৭৭৪ জন। হজযাত্রী পরিবহনে মোট ২০১টি ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিচালনা করেছে ৯৮টি, সৌদি এয়ারলাইন্স ৭৩টি এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স ৩০টি ফ্লাইট। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে গেছেন ৩৮ হাজার ৭০২ জন, সৌদি এয়ারলাইন্সে ২৭ হাজার ৩৪০ জন এবং ফ্লাইনাসে ১২ হাজার ১৫৭ জন হজযাত্রী। চলতি বছর পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৬ মে। বাংলাদেশ থেকে হজযাত্রীদের সৌদি আরবে যাত্রা শুরু হয়েছিল গত ১৮ এপ্রিল এবং শেষ ফ্লাইট গিয়েছে ২১ মে। হজ শেষে ফিরতি ফ্লাইট আগামী ৩০ মে শুরু হয়ে আগামী ৩০ জুন শেষ হবে।

এ বছর পবিত্র হজে ইন্দোনেশীয় হজযাত্রীদের কোরবানির পশুর মাংস যাবে নিপীড়িত ফিলিস্তিনিদের কাছে। ইন্দোনেশিয়ার হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী দাহনীল আনজার সিমানজুনাতাক এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, হজের সময় কোরবানি করা পশুর মাংস ফিলিস্তিনিদের কাছে পৌঁছে দিতে সৌদি সরকারের সঙ্গে তাদের চুক্তি হয়েছে। হজের মাংসের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে আচে সৌদির ‘আদাহি প্রজেক্ট’। তাদের কাছেও এ ব্যাপারে অনুরোধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইন্দোনেশীয় মন্ত্রী। প্রেসিডেন্ট প্রাবো সুবিয়ান্তোর নির্দেশে এ ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। এখন পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়ার ১ লাখ ২৬ হাজার ৮৩২ জন হজযাত্রী তাদের কোরবানির পশুর অর্থ পরিশোধ করেছেন। সূত্র: টেম্পো

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধ বন্ধে চুক্তি করার দ্বারপ্রান্তে আছে। আর চুক্তিটি হলে বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ৬০দিন বৃদ্ধি করা হবে। এ সময় ইরান হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণভাবে উন্মুক্ত করে দেবে। এর বদলে যুক্তরাষ্ট্র তাদে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করবে এবং নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার করে নেবে। এতে করে ইরান কোনো বাধা ছাড়া তাদের তেল বিক্রি করতে পারবে। চুক্তিটি কার্যকর হওয়ার পর ইরান তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করবে। আজ রোববার (২৪ মে) সংবাদমাধ্যম এক্সিওসকে এসব তথ্য জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা। তিনি বলেছেন, ইরান হরমুজ খুলে দিয়ে সেখান দিয়ে সব জাহাজকে অবাধে চলতে দেবে। এ সময় তারা কোনো টোল আদায় করবে না। এছাড়া হরমুজের যেসব জায়গায় মাইন স্থাপন করা হয়েছে সেগুলোও অপসারণের প্রতিশ্রুতি দেবে তারা। এছাড়া ইরান কথা দেবে তারা কোনোদিন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। চুক্তি হলে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যেও যুদ্ধ শেষ হবে বলে জানিয়েছেন এ মার্কিন কর্মকর্তা। তবে হিজবুল্লাহ যদি কোনো হামলা বা উস্কানি দেয় তাহলে ইসরায়েলকে হামলার অনুমতি দেওয়া হবে। আলাদা দুটি সূত্র এক্সিওসকে বলেছেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরান মৌখিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করে দেবে এবং সমৃদ্ধকৃত যেসব ইউরেনিয়াম আছে সেগুলো ছেড়ে দেবে। মার্কিন ওই কর্মকর্তা বলেছেন, তাদের আশা আজকেই চুক্তির ঘোষণা আসতে পারে। এক্সিওসের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম নিয়ে যেসব দাবি জানাচ্ছে, সেগুলো যদি তেহরান মানে তাহলে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আবারও কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের সুযোগ থাকবে। অপরদিকে ইরান অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হতে পারবে। সূত্র: এক্সিওস

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার বাসিন্দা নাজিয়া আবু লেহিয়ার ইচ্ছে ছিল স্বামীর সঙ্গে মক্কায় হজ করতে যাবেন। ২০২৪ সালে চেষ্টাও করেছিলেন নাজিয়া এবং তার স্বামী, কিন্তু সীমান্ত বন্ধ থাকায় পারেননি। চলতি বছরও হজ পালন করা হবে না নাজিয়ার, কারণ সীমান্ত এখনও বন্ধ আছে এবং গত বছর নাজিয়ার স্বামী ইসরায়েলি বোমার আঘাতে নিহত হয়েছেন। তাদের বাড়ি-ঘরও ভেঙে গেছে, বর্তমানে দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস একটি তাঁবুতে থাকছেন নাজিয়া। নাজিয়ার সঙ্গে তার তাঁবুতে বসে কথা বলেছে এএফপি। বার্তাসংস্থা এএফপিকে নাজিয়া বলেন, “আমি এবং আমার স্বামী ২০২৪ সালের হজের জন্য নাম নিবন্ধন করেছিলাম, সিলেক্টও হয়েছিলাম। কিন্তু এর মধ্যেই যুদ্ধ শুরু হয়ে গেলো, সীমান্ত বন্ধ হয়ে গেলো…আমাদের আর হজে যাওয়া হলো না।” “ভেবেছিলাম, যুদ্ধ শেষ হলে সীমান্ত খুলে দেওয়া হবে; কিন্তু গত বছর এক বোমা হামলায় স্বামী নিহত হয়েছেন।” ৬৪ বছর বয়সী নাজিয়া বলেন, “আমি হজের নিয়্যত করেছি বেশ কয়েক বছর আগে। আমার মাঝে মাঝে দুশ্চিন্তা হয় যে আমিও হয়তো তার (স্বামী) মতো কোনো একদিন নিহত হবো, কিন্তু তারপরও এখনও আশা ছাড়িনি। যদি আল্লাহর ইচ্ছে হয়— অবশ্যই আমি একদিন হজ করতে পারব।” যুদ্ধের আগে গাজার হজযাত্রীরা রাফা ক্রসিং পেরিয়ে মিসর হয়ে সৌদি আরবে হজ করতে যেতেন। তবে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর গাজাবাসীদের ‘লাইফলাইন’ হিসেবে পরিচিত এ ক্রসিং বন্ধ করে দেয় ইসরায়েল। যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর থেকে গাজায় যে যুদ্ধবিরতি শুরু হয়েছে, তার আওতায় চলতি বছর ফেব্রুয়ারি মাস থেকে রাফা ক্রসিং আংশিক ভাবে খুলে দিয়েছে ইসরায়েল; কিন্তু সপ্তাহে মাত্র কয়েক শ গাজাবাসীকে এই সীমান্তপথ পেরোনোর অনুমতি দিচ্ছে ইসরায়েল। মূলত অসুস্থ বা আহতদেরই এক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। নিজের মোবাইলে হজের ভিডিও ফুটেজ দেখতে দেখতে নাজিয়া বলেন, “হজযাত্রীদের জন্য সীমান্ত বন্ধ রাখা হয়েছে, কিন্তু কেন? হজযাত্রীরা তো শুধু তাদের ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা পালন করতে চায়। আজ এই দিনে আমাদের মক্কায় থাকার কথা ছিল।” গাজার সীমান্ত ক্রসিং ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা ইসরায়েলি সামরিক সংস্থা কোগাট জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে কেবলমাত্র মানবিক কারণে রাফা ক্রসিং উন্মুক্ত করার বিষয়ে বলা আছে। হজযাত্রা এই ক্যাটাগরির মধ্যে পড়ে না। পশু কোরবানি বন্ধ ২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ বাঁধার আগ পর্যন্ত প্রতি বছর গাজার মুসলিমরা ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার গরু-উট এবং ৩০ হাজার থেকে ৪০ হাজার ভেড়া-দুম্বা আমদানি করত। কিন্তু যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজায় জীবন্ত পশু আমদানি বন্ধ আছে। ফলে ২০২৪ সাল থেকে পশু কোরবানি ছাড়াই ঈদুল আজহা উদযাপন করতে বাধ্য হচ্ছে গাজার ফিলিস্তিনিরা। গাজায় ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে আগামী ২৭ মে। কোগাট সূত্রে জানা গেছে, গত মাসে প্রায় ৮ হাজার টন মাংস, মুরগি, ডিম ও দুধ প্রবেশ করতে এবং তা গাজার বাসিন্দাদের মাঝে বিতরণের অনুমতি দিয়েছে ইসরায়েলের সরকার, তবে কোরবানির পশু আমদানির অনুমতি এখনও দেয়নি। সূত্র : এএফপি, এনডিটিভি অনলাইন

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় বাবার মরদেহ বাড়িতে রেখে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে আবতাহি উদ্দিন লাবিব নামের এক পরীক্ষার্থী। বুধবার (২০ মে) সকাল ১০টায় নোয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে জীববিজ্ঞান বিষয়ের পরীক্ষায় অংশ নেয় সে। লাবিব নোয়াখালী জিলা স্কুলের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। বিজ্ঞাপন লাবিবের বাবা চাটখিল মহিলা ডিগ্রি কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মফিদুল আলম আরজু। সোমবার (১৯ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৪ বছর। তিনি নোয়াখালী সদর উপজেলার জেলা বোর্ড কলোনীর বাসিন্দা ছিলেন। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বুধবার ছিল লাবিবের এসএসসি পরীক্ষার শেষ দিন। বাবার মৃত্যুর শোক বুকে নিয়েই সকালে পরীক্ষাকেন্দ্রে যায় সে। পরীক্ষা শেষে বাড়িতে ফিরে বাবার জানাজা ও দাফনে অংশ নেয়। এসময় সহপাঠীরাও তার পাশে ছিলেন। বুধবার বাদ জোহর নোয়াখালী কারামাতিয়া আলিয়া মাদরাসা মাঠে মফিদুল আলমের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে জেলা পরিষদ কলোনী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। বিজ্ঞাপন পরিবারের সদস্যরা জানান, হঠাৎ শারীরিক জটিলতা দেখা দিলে মফিদুল আলমকে ঢাকায় নেওয়া হয়। একটি বেসরকারি হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে আত্মীয়ের বাসায় অবস্থানকালে তিনি আকস্মিক অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। চিকিৎসকদের ধারণা, তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। শিক্ষাজীবনে মফিদুল আলম ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। তিনি ১৯৮৭ সালে কক্সবাজারের উখিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ১৯৮৯ সালে কক্সবাজার সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১৯৯৩ সালে বিএসসি (অনার্স) ও ১৯৯৪ সালে এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৯৯ সালের ১ মার্চ তিনি চাটখিল মহিলা ডিগ্রি কলেজে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। দীর্ঘ প্রায় ২৭ বছর ধরে তিনি সুনাম ও নিষ্ঠার সঙ্গে শিক্ষকতা করে আসছিলেন। সহকর্মীরা জানান, তিনি প্রতিদিন সোনাপুরের বাসা থেকে চাটখিল মহিলা কলেজে যাতায়াত করতেন। শিক্ষার্থীদের পাঠদানে নিবেদিত এই শিক্ষক প্রতিদিন দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েও নিয়মিত ক্লাস নিতেন। সহজ ও সাবলীল পাঠদানের কারণে শিক্ষার্থীদের কাছে তিনি ছিলেন অত্যন্ত জনপ্রিয়। তার মৃত্যুতে কলেজের গভর্নিং বডি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কলেজ প্রশাসন এক শোকবার্তায় মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে। চাটখিল মহিলা ডিগ্রি কলেজের উপাধ্যক্ষ ফারুক সিদ্দিকী ফরহাদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, একজন বাবার স্বপ্ন ছিল সন্তানের সফলতা, আর সেই স্বপ্ন পূরণের দায়িত্ববোধ থেকেই হয়তো লাবিব শোকের মাঝেও পরীক্ষার হলে বসেছে। বাবাকে হারানোর এই বেদনা ভাষায় প্রকাশের নয়। মরহুম মফিদুল আলম স্যার ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক ও আদর্শ মানুষ। তার কর্ম ও ভালোবাসা শিক্ষার্থী ও সহকর্মীদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। মহান আল্লাহ তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন এবং লাবিবসহ শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এই কঠিন সময় মোকাবেলার শক্তি দান করুন।

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-এর হযরত বিবি খাদিজা হলের দেয়ালে আপত্তিকর চিত্র অঙ্কন এবং নির্মাণ শ্রমিকদের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের উত্যক্ত করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে মধ্যরাতে বিক্ষোভ করেছেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা। বুধবার (২০ মে) রাত ১১টা থেকে প্রায় ১২টা পর্যন্ত হলের মূল ফটকে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ, স্লোগান ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন তারা। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা সাময়িকভাবে আন্দোলন স্থগিত করেন। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, গত কয়েকদিন ধরে হলের ছাদে ‘জলছাদ’ সংস্কারের কাজ চলছিল। কাজের জন্য প্রতিদিনই নির্মাণ শ্রমিকদের হল এলাকায় প্রবেশ করতে দেখা যায়। বুধবার কাজের শেষ দিনে দায়িত্বপ্রাপ্ত এক শ্রমিক হলের পেছনের ব্লকের ছাদে একটি আপত্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ ছবি এঁকে রেখে যান। পরে বিষয়টি কয়েকজন শিক্ষার্থীর নজরে আসলে মুহূর্তেই হলজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। দীর্ঘদিন ধরেই নির্মাণ কাজে নিয়োজিত কিছু শ্রমিক ছাত্রীদের উদ্দেশে অশোভন আচরণ করে আসছিলেন। ছাত্রীবাসে পুরুষ কর্মীদের প্রবেশের সময় নিয়ম অনুযায়ী হুইসেল বা বাঁশি বাজানোর কথা থাকলেও, অনেক শ্রমিক সেই নিয়মের অপব্যবহার করে ছাত্রীদের উদ্দেশে শিষ দিতেন এবং অশালীন ইঙ্গিত করতেন বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা। একাধিক শিক্ষার্থী জানান, এর আগেও শ্রমিকদের আচরণ নিয়ে হল প্রশাসনকে মৌখিকভাবে অবহিত করা হয়েছিল। কিন্তু দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় পরিস্থিতি দিন দিন আরও খারাপ হয়ে ওঠে। সর্বশেষ দেয়ালে আপত্তিকর চিত্র আঁকার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং তারা রাতেই বিক্ষোভে নামেন। বিক্ষোভ চলাকালে শিক্ষার্থীরা হলের নিরাপত্তা জোরদার, বহিরাগত শ্রমিকদের নিয়ন্ত্রণ, দায়ীদের শনাক্ত করে শাস্তির আওতায় আনা এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। এ সময় তারা বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান দেন এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন। রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন হযরত বিবি খাদিজা হলের সহকারী প্রভোস্ট নাজমুন নাহার ও তাসনিম আলম। তারা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে বলে আশ্বাস দেন। হলের সহকারী প্রভোস্ট তাসনিম আলম বলেন, শিক্ষার্থীদের অভিযোগ আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে শুনেছি। আগামীকাল সকালে প্রভোস্ট স্যারের উপস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। অভিযোগ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, হলের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ভবিষ্যতে যেন কোনো শিক্ষার্থী এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি না হন, সে বিষয়েও প্রশাসন সতর্ক থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আশ্বাসের পর রাত ১২টার দিকে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত করেন। তবে, দ্রুত দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আরও কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নোয়াখালীর কোরবানির পশুর হাটে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে দুটি বিশালাকৃতির গরু—‘রাজাবাবু’ ও ‘বাহাদুর’। শাহীওয়াল জাতের এই দুই গরুর ওজন যথাক্রমে ২৫ মণ ও ২৩ মণ। জেলার সদর উপজেলার চর উড়িয়া গ্রামের একটি খামারে বেড়ে ওঠা গরু দুটি দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন বিভিন্ন এলাকার মানুষ ও সম্ভাব্য ক্রেতারা। গরু দুটির মালিক নোয়াখালী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. নিজাম উদ্দিন। প্রায় ৩৫ বছর ধরে গরু পালনের সঙ্গে জড়িত তিনি। শখের বশে চার বছর আগে নিজ বাড়িতে ছোট পরিসরে গড়ে তোলেন খামার। এবার তার খামারেই বড় হয়েছে জেলার সবচেয়ে বড় গরু রাজাবাবু। খামার সূত্রে জানা গেছে, তিন বছর আগে কুমিল্লার নিমসার বাজার থেকে বাছুর অবস্থায় রাজাবাবুকে কিনে আনেন নিজাম উদ্দিন। দেশীয় ও প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে গরুটিকে লালন-পালন করা হয়েছে। বর্তমানে গরুটির ওজন এক হাজার কেজিরও বেশি। এর দাম হাঁকা হয়েছে ১৩ লাখ টাকা। একই খামারে বড় হওয়া বাহাদুরের ওজন প্রায় ৯০০ কেজির বেশি, যা প্রায় ২৩ মণের সমান। গরুটির দাম চাওয়া হচ্ছে ১১ লাখ টাকা। এ ছাড়া, খামারে ছোট ও মাঝারি আকারের আরও কয়েকটি গরু বিক্রির জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে শেষ মুহূর্তের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারি নিজাম উদ্দিন ও তার পরিবার। ছেলে রাহাত হোসেন, স্ত্রী কামরুন নাহারসহ পরিবারের সদস্যরাই গরুগুলোর দেখভাল করছেন। খামারে কাজ করেন আবুল কালাম নামের এক কর্মচারীও। খামারি ইউপি সদস্য মো. নিজাম উদ্দিন বলেন, গত তিন বছর ধরে রাজাবাবু ও বাহাদুরকে দেশীয় পদ্ধতিতে লালন-পালন করছি। রাজাবাবুর ওজন ২৫ মণ আর বাহাদুরের প্রায় ২৩ মণ। রাজাবাবুর দাম ১৩ লাখ এবং বাহাদুরের দাম ১১ লাখ টাকা নির্ধারণ করেছি। ২৪ লাখ টাকার কমে বিক্রি করলে আমাদের ক্ষতি হবে। তিনি আরও বলেন, অসৎ কোনো উপায়ে গরু মোটাতাজা করিনি। প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে বড় করেছি। কম দামে বিক্রি করার চেয়ে খামারে রেখে আরও এক বছর পালন করবো। খামারির ছেলে রাহাত হোসেন বলেন, ছোটবেলা থেকেই গরু দুটিকে পরিবারের সদস্যের মতো করে বড় করেছি। তাদের খাবার, পরিচর্যা সবকিছুতেই আমরা বিশেষ যত্ন নিয়েছি। এখন মানুষ দূর-দূরান্ত থেকে দেখতে আসছে, ভালো লাগছে। খামারির স্ত্রী কামরুন নাহার বলেন, রাজাবাবু একটু উত্তেজিত স্বভাবের, তবে বাহাদুর অনেক শান্ত। আমাকে দেখলেই দুটোই শান্ত হয়ে যায়। ওরা এখন আমাদের পরিবারেরই সদস্য। গরু দেখতে আসা সম্ভাব্য ক্রেতা মো. সেলিম রেজা বলেন, নোয়াখালীতে এত বড় ও সুস্থ গরু খুব কমই দেখা যায়। রাজাবাবু ও বাহাদুর দুটিই দেখতে বেশ আকর্ষণীয় এবং পরিচর্যাও ভালো হয়েছে। দাম কিছুটা বেশি হলেও যারা বড় ও ব্যতিক্রমী গরু কোরবানির জন্য কিনতে চান, তাদের কাছে গরু দুটি বেশ পছন্দের হবে। আমি নিজেও দামাদামি করছি, এখন দেখি শেষ পর্যন্ত ক্রয় করা যায় কি না। সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. তাসলীমা ফেরদৌসী বলেন, নোয়াখালী জেলায় ১ হাজার কেজির বেশি ওজনের গরু বর্তমানে রাজাবাবু ছাড়া আর নেই। তাই এটিই জেলার সবচেয়ে বড় গরু। এ ছাড়া, বাহাদুরও প্রায় ৯০০ কেজির ওপরে। গরুগুলোর স্বাস্থ্য, ভ্যাকসিন ও সার্বিক বিষয়ে নিয়মিত খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। এ বছর গো খাদ্যের অতিরিক্ত দাম হওয়ায় গরুর পেছনে অনেক খরচ হচ্ছে। যদি ন্যায্যমূল্য পায় তাহলে খামারির মুখে হাসি ফুটবে। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, প্রাণিসম্পদ বিভাগ ছোট-বড় সব খামারির পাশে রয়েছে। এ বছর জেলায় কোরবানির পশুর পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। ন্যায্য দাম পেলে খামারিরা লাভবান হবেন বলে আমরা আশা করছি।

নোয়াখালীর সেনবাগে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৩০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এক শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে সেনবাগ থানা পুলিশ। মঙ্গলবার (১৯ মে ২০২৬) সেনবাগ থানাধীন ছাতারপাইয়া গ্রামস্থ বৈশার বাপের পুল সংলগ্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি হলেন মোঃ নিজাম উদ্দিন (২৭)। তিনি ছাতারপাইয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের আম্বর আলী চৌকিদার বাড়ীর বাসিন্দা এবং আমির হোসেনের ছেলে। পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে পূর্বে ০৯টি মাদক মামলার এজাহার রয়েছে। সেনবাগ থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তার কাছ থেকে ৩০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়। পুলিশ আরও জানায়, মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং মাদকের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

"জনবান্ধব অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্থাপনা: সুরক্ষিত ভূমি, সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ"এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নোয়াখালী সুবর্ণচর উপজেলায় বর্ণাঢ্য র্যালি ও সেমিনারের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে ভূমি সেবা মেলা-২০২৬। এ মেলা আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য হলো ভূমিসেবা সহজীকরণ, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও নাগরিক সেবা সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা এবং প্রান্তিক পর্যায়ে সেবাগুলো পৌঁছে দেওয়া। আজ ১৯ মে (মঙ্গলবার) সকালে সুবর্ণচর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা ভূমি অফিস থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালী বের হয়ে উপজেলা কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়। এ সময় র্যালিতে ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সুধীসমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ র্যালিটিকে সর্বস্তরের মানুষের মাঝে আকর্ষণীয় করে তোলে। পরে উপজেলা হল রুমে জনসচেতনতানূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা কমিশনার (ভূমি) চেনমং রাখাইন এর সভাপতিত্বে সেমিনারে বক্তব্য প্রদান করেন, উপজেলা মৎস্য অফিসার ফয়েজুর রহমান, উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার ফখরুল ইসলাম, উপজেলা আনসার ভিডিপির কর্মকর্তা কামরুন নাহার মর্জিনা প্রমুখ। চেনমং রাখাইন বলেন, আধুনিক ও ডিজিটাল পদ্ধতিতে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সহজে ভূমি সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই মেলার আয়োজন। মেলা চলাকালীন নাগরিকেরা ই-নামজারি, খতিয়ান, ভূমি উন্নয়ন কর প্রদানসহ ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন ডিজিটাল সেবা ও পরামর্শ সরাসরি গ্রহণ করতে পারবেন। ভূমি মন্ত্রণালয় ও উপজেলা প্রশাসন যৌথ আয়োজনে এই মেলা আগামী ৩দিন ব্যাপী সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

নোয়াখালীর জেলা শহর মাইজদীতে অবৈধভাবে কমপ্রেসড ন্যাচারাল গ্যাস (সিএনজি) গ্যাস ব্যবহার করে রান্নার দায়ে ‘নিউ ভোজন বিলাস’ নামে একটি রেস্তোরাঁকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে রেস্তোরাঁটি সিলগালা এবং গ্যাস বহনে ব্যবহৃত একটি পিকআপ জব্দ করা হয়েছে। সোমবার (১৮ মে) রাত ১১টার দিকে শহরের হাসপাতাল সড়কে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) তথ্যের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করেন সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহনেওয়াজ তানভীর। ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, একটি পিকআপে করে সিএনজি ফিলিং স্টেশন থেকে গ্যাস ভর্তি করে এনে পাইপলাইনের মাধ্যমে রেস্তোরাঁয় রান্নার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছিল। বিষয়টি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে রেস্তোরাঁ মালিককে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা এবং গ্যাস পরিবহনে ব্যবহৃত পিকআপটি জব্দ করা হয়। অভিযানে সুধারাম মডেল থানা পুলিশ সহযোগিতা করে। সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহনেওয়াজ তানভীর বলেন, অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণভাবে সিএনজি গ্যাস ব্যবহার জননিরাপত্তার জন্য হুমকি। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।

মেঘনা নদীর ভয়াবহ ভাঙন রোধে আগামী অর্থবছর থেকেই স্থায়ী প্রতিরক্ষা কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেন, বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন প্রতিরোধের কাজও শুরু করা হয়েছে। রোববার (১৭ মে) দুপুরে নোয়াখালীর সুবর্ণচরের মেঘনা নদীভাঙন কবলিত মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের কাটাখালি বাজার ও আশপাশের এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, চোখের সামনে মানুষের বসতভিটা, বাজার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। জনগণের জানমাল রক্ষা করা সরকারের দায়িত্ব। সে কারণেই আমরা সরেজমিনে পরিস্থিতি দেখতে এসেছি। তিনি বলেন, সামনে বর্ষা মৌসুম থাকায় জরুরি ভিত্তিতে ‘ইমার্জেন্সি ওয়ার্ক’ হাতে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকটি পয়েন্টে দ্রুত কাজ শুরু করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্থায়ী সমাধানের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সুবর্ণচরের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি একটি টেকসই বাঁধ নির্মাণ। যেখানে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, সেখানে স্থায়ী কাজ করা হবে। স্টাডি রিপোর্ট শেষ হলে আগামী অর্থবছরের মধ্যেই প্রকল্প বাস্তবায়নের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে। তিনি আরও বলেন, উড়িরচর, স্বর্ণদ্বীপ ও ভাসানচরসহ হাতিয়ার ভাঙনকবলিত এলাকাগুলোতেও সরকারের বিশেষ নজর রয়েছে। এসব এলাকায় ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রকল্প চলমান রয়েছে। সরকারের কার্যক্রম প্রসঙ্গে শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সরকার জনগণের স্বার্থে কাজ করছে। উন্নয়ন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি সেক্টরে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এ সময় স্থানীয়রা নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে দ্রুত কার্যকর প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান। পরে মন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শাহজাহান, জেলা প্রশাসক শফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার এটিএম মোশাররফ হোসেন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর চৌধুরী আলো, সদস্য সচিব হারুন অর রশীদ আজাদ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা।