

নিজের বিরুদ্ধে করা মামলায় নাম প্রত্যাহারের বিনিময়ে এক কোটি টাকা দাবি করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশের রাজনীতি, মামলা, জাতীয় দলে ফেরা এবং নিজের বর্তমান জীবন নিয়ে খোলামেলা আলোচনায় তিনি এমন দাবি করেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলটির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে জুলাই অভ্যুত্থানে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে সারা দেশে মামলা হয়েছে। বাদ নেই ক্রিকেটার ও দলটির সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসানও। তবে সাকিবের দাবি একটি মহল থেকে অর্থের বিনিময়ে মামলা থেকে রেহাই দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, একটি পক্ষ তার কাছে প্রস্তাব দিয়েছিল— নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দিলে মামলার তালিকা থেকে তার নাম সরিয়ে দেওয়া হবে। তবে তিনি মনে করেন, যারা এই প্রস্তাব দিয়েছে তারা নিজেরাও জানে না যে মামলা হওয়ার পর শুধু বাদীপক্ষ চাইলে নাম সরিয়ে ফেলা সম্ভব নয়। ‘বলেছে, এক কোটি টাকা দিলে নাম কেস থেকে উঠিয়ে দেবে’ সেঞ্চুরি করে দ্রুততম ১৪ হাজারি ক্লাবে কোহলি সাক্ষাৎকারে এ ক্রিকেটার বলেন, ‘বলেছে, এক কোটি টাকা দিলে আমার নাম কেস থেকে উঠিয়ে দেবে। কিন্তু যারা বলছে, তাদের ধারণা নেই যে কেস হয়ে যাওয়ার পর চাইলেই নাম উঠানো যায় না। শেষ পর্যন্ত পুলিশের তদন্তেই ঠিক হবে আমার সম্পৃক্ততা ছিল কি না।’ কারা এই প্রস্তাব দিয়েছিল— এমন প্রশ্নে সাকিব জানান, এফআইআরে বাদীপক্ষের যোগাযোগের জন্য যার নাম ছিল, তিনি কয়েকজনের মাধ্যমে বিষয়টি পৌঁছে দেন। তবে কার মাধ্যমে যোগাযোগ হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত বলতে চাননি তিনি। প্রস্তাব পেয়ে কী জবাব দিয়েছিলেন এমন প্রশ্নে সাকিব বলেন, ‘এসব টাকা দিয়ে কেন করতে হবে ভাই? টাকা দেওয়া মানে তো হচ্ছে আমার সমস্যা আছে, আমি চাচ্ছি যে আমাকে এখান থেকে বাঁচিয়ে দেওয়া হোক। হতে পারে তারা ভেবেছে আমার কাছে অনেক বেশি টাকা, চাইলেই হলো।’ দেশে ফেরা নিয়ে নিজের অবস্থানও ব্যাখ্যা করেছেন সাবেক এই অলরাউন্ডার। তার ভাষ্য, দেশে ফিরতে আইনগত কোনো বাধা নেই, তবে তিনি নিরাপত্তা ও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টিকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন। সাকিব বলেন, ‘আমি চাই স্বাভাবিক একটা নিরাপত্তা এবং দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞা উঠে যাক। এ দুটি বিষয় আমার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞা না ওঠানো পর্যন্ত আমার পক্ষে যাওয়া সম্ভব নয়।’ তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তার হওয়ার ভয় তার নেই। তবে অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি বা ব্যক্তিগত আক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। ‘মব হতে পারে, ব্যক্তিগত শত্রুতা থেকেও কিছু হতে পারে। অন্তত এমন একটা জায়গা তো থাকা উচিত, যেখানে বিপদ হলে কেউ দায়িত্ব নেবে,’ বলেন তিনি। জাতীয় দলে না খেলতে পারার বিষয়েও আক্ষেপ আছে জানিয়ে সাকিব বলেন, তিনি এখনো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার মতো অবস্থায় আছেন বলে বিশ্বাস করেন। বিশেষ করে ওয়ানডে ক্রিকেটে এখনো অবদান রাখার সুযোগ দেখছেন তিনি। ২০২৭ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নিজের পরিকল্পনার কথাও জানান সাকিব। তিনি বলেন, ‘সুযোগ পেলে আবার নিজেকে প্রস্তুত করতে চাই। এক-দুটি সিরিজ খেললে তখন বোঝা যাবে আমি কোথায় আছি, দলও বুঝতে পারবে।’ রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও অনুশোচনা নেই বলে জানান সাবেক এই অধিনায়ক। তার ভাষায়, ‘আজকে যেটা ঠিক মনে হয় না, পাঁচ বা দশ বছর পরে হয়তো সেটাই ঠিক মনে হবে। মানুষ বারবার ভুলে যায় যে, আমি একটি নির্দিষ্ট এলাকা থেকে সংসদ সদস্য হয়েছিলাম। এলাকার মানুষ আমাকে ভোট দিয়েছেন দেখেই আমি জিতেছি। তারা যদি ভোট না দিতেন, আমি জিততাম না। সারা দেশের মানুষ তো আমাকে ভোট দেননি।’ সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়েও নিজের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন সাকিব। তিনি বলেন, দেশের মানুষ রাজনীতিকে খারাপ হিসেবে দেখে, কারণ অনেকেই সেবা করার বদলে সুবিধা নিতে রাজনীতিতে আসেন। তবে রাজনীতির মাধ্যমেই পরিবর্তন সম্ভব বলে বিশ্বাস করেন তিনি।

চট্টগ্রাম মহানগরীর সাগরিকা ফ্লাইওভারে ঝুলন্ত অবস্থায় কাউসার আহমেদ নামে এক ছাত্রলীগ নেতার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, কায়সারকে খুন করে ফ্লাইওভারে মরদেহ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ মে) ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় নগরের পাহাড়তলী থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করেছে পুলিশ। নিহত কাউসার আহমেদ (২৭) আকবর শাহ থানা ছাত্রলীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। পাহাড়তলী থানার ওসি নুরুল আবছার গণমাধ্যমকে বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে সংবাদ পেয়ে আবু কাউসারের মরদেহ উদ্ধার করি। মারা যাওয়া যুবক ওই এলাকার একটি কারখানায় পাহারাদার হিসেবে কাজ করতেন। সে দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিল এবং তার মানসিক সমস্যা ছিল বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছে। তিনি আরও বলেন, হত্যার অভিযোগ সঠিক নয়। কাউসারের শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। আমাদের ধারণা, ফ্লাইওভার থেকে ঝুলে ওই যুবক আত্মহত্যা করে থাকতে পারে। তারপরও আমরা ঘটনা তদন্ত করে দেখছি। ওসি নুরুল আবছার বলেন, আমরা মারা যাওয়া যুবকের লাশের ময়নাতদন্ত করার পর পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করেছি। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।

সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গভীর সমুদ্রে মাছ শিকার করায় অভিযান চালিয়ে নোয়াখালী হাতিয়ায় ৪৫ জেলেকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। এ সময় প্রায় ৩৭ লাখ টাকার সামুদ্রিক মাছও ৪টি ট্রলার জব্দ করা হয়। মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, দক্ষিণ জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট মো. আবুল কাশেম। এর আগে সোমবার (১১ মে) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে হাতিয়া উপজেলার নলচিরা ও চেয়ারম্যান ঘাট সংলগ্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করে কোস্ট গার্ড স্টেশন হাতিয়া। হাতিয়ায় ৩৭ লাখ টাকার সামুদ্রিক মাছ জব্দ, ৪৫ জেলে আটক মোবাইল কোর্টের অভিযানে স্থানীয়দের হামলা, ম্যাজিস্ট্রেটসহ আহত ১৫ কোস্ট গার্ড সূত্র জানায়, সন্দেহজনক চারটি ফিশিং বোটে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ১ হাজার ৮০০ কেজি ইলিশ ও ২ হাজার ৫০০ কেজি বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ জব্দ করা হয়। জব্দকৃত মাছের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩৭ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। পরে হাতিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মশিয়ুর রহমানের ভ্রাম্যমাণ আদালত আটক জেলেদের প্রত্যেককে ২০০ টাকা করে মোট ৯ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জব্দকৃত মাছ স্থানীয় এতিমখানা, মাদ্রাসা ও দরিদ্র মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট মো. আবুল কাশেম বলেন, সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ রক্ষা ও নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে চলবে।

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কোরবানির পশুর হাট ও খামারগুলোতে এবারও দেখা মিলছে ব্যতিক্রমী নামের গরু-মহিষ। সেই তালিকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে নারায়ণগঞ্জের একটি খামারের একটি বিশাল আকৃতির মহিষ, যার নাম রাখা হয়েছে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। নারায়ণগঞ্জ শহরের পাইকপাড়ায় অবস্থিত রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্মে থাকা এই মহিষটির ওজন ৭০০ কেজিরও বেশি। খামারের স্বত্বাধিকারী জিয়াউদ্দিন মৃধা জানান, এটি এলভিনো জাতের মহিষ। এর গায়ের গোলাপি আভাযুক্ত সাদা রং এবং সামনের দিকের চুলের বিশেষ আকৃতির কারণে মজার ছলে এই নামটি রাখা হয়েছে। খামার কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নামটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই মহিষটি দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন অসংখ্য দর্শনার্থী। অনেক ক্রেতা এটি কেনার আগ্রহ দেখালেও ইতোমধ্যে একজন ক্রেতা মহিষটি বুকিং দিয়ে রেখেছেন। খামারের কর্মচারীরা জানান, মহিষটি সাধারণ খাবার হিসেবে ঘাস, ভুট্টা ও ভুসি খায়। বিশেষ যত্নে লালন-পালন করা হয়েছে এটিকে। স্থানীয়দের মতে, ঈদুল আজহায় বড় ও আকর্ষণীয় পশুর পাশাপাশি ব্যতিক্রমী নামের কারণে এসব পশু নিয়ে আলাদা আগ্রহ তৈরি হয়। প্রতিবছরই বিভিন্ন খামারে ‘রাজা’, ‘সুলতান’, ‘বাহুবলী’ কিংবা আলোচিত ব্যক্তিত্বদের নামে পশুর নাম রাখার প্রবণতা দেখা যায়, যা ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের মধ্যে বাড়তি কৌতূহল তৈরি করে।

লালমনিরহাটের হাতিবান্ধার বনচৌকি সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে খাদেমুল ইসলাম নামের এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। বুধবার (১৩ মে) রাত ২টার দিকে সীমান্তের বনচৌকি বিওপি সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত যুবকের নাম মো. খাদেমুল (২৫)। তিনি উপজেলার উত্তর আমঝোল গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে। জানা গেছে, বুধবার রাত ২টার দিকে বনচৌকি সিমান্ত পিলার ৯০৫/৬ এস থেকে ১৫০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে কয়েকজন বাংলাদেশি কাঁটাতারের বেড়ার কাছে গেলে ভারতীয় ৭৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের পাগলামারী ক্যাম্পের টহল দল তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তিনি দ্রুত বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ফিরে আসেন। পরে স্থানীয় ও তার সহযোগীরা তাকে উদ্ধার করে রংপুরের একটি ক্লিনিকে ভর্তি করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। লালমনিরহাট ব্যাটালিয়নের (১৫ বিজিবি) কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিএসএফের গুলিতে একজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। তবে কী কারণে বিএসএফ গুলি চালিয়েছে তা জানা যায়নি।

নিজের বিরুদ্ধে করা মামলায় নাম প্রত্যাহারের বিনিময়ে এক কোটি টাকা দাবি করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশের রাজনীতি, মামলা, জাতীয় দলে ফেরা এবং নিজের বর্তমান জীবন নিয়ে খোলামেলা আলোচনায় তিনি এমন দাবি করেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলটির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে জুলাই অভ্যুত্থানে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে সারা দেশে মামলা হয়েছে। বাদ নেই ক্রিকেটার ও দলটির সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসানও। তবে সাকিবের দাবি একটি মহল থেকে অর্থের বিনিময়ে মামলা থেকে রেহাই দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, একটি পক্ষ তার কাছে প্রস্তাব দিয়েছিল— নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দিলে মামলার তালিকা থেকে তার নাম সরিয়ে দেওয়া হবে। তবে তিনি মনে করেন, যারা এই প্রস্তাব দিয়েছে তারা নিজেরাও জানে না যে মামলা হওয়ার পর শুধু বাদীপক্ষ চাইলে নাম সরিয়ে ফেলা সম্ভব নয়। ‘বলেছে, এক কোটি টাকা দিলে নাম কেস থেকে উঠিয়ে দেবে’ সেঞ্চুরি করে দ্রুততম ১৪ হাজারি ক্লাবে কোহলি সাক্ষাৎকারে এ ক্রিকেটার বলেন, ‘বলেছে, এক কোটি টাকা দিলে আমার নাম কেস থেকে উঠিয়ে দেবে। কিন্তু যারা বলছে, তাদের ধারণা নেই যে কেস হয়ে যাওয়ার পর চাইলেই নাম উঠানো যায় না। শেষ পর্যন্ত পুলিশের তদন্তেই ঠিক হবে আমার সম্পৃক্ততা ছিল কি না।’ কারা এই প্রস্তাব দিয়েছিল— এমন প্রশ্নে সাকিব জানান, এফআইআরে বাদীপক্ষের যোগাযোগের জন্য যার নাম ছিল, তিনি কয়েকজনের মাধ্যমে বিষয়টি পৌঁছে দেন। তবে কার মাধ্যমে যোগাযোগ হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত বলতে চাননি তিনি। প্রস্তাব পেয়ে কী জবাব দিয়েছিলেন এমন প্রশ্নে সাকিব বলেন, ‘এসব টাকা দিয়ে কেন করতে হবে ভাই? টাকা দেওয়া মানে তো হচ্ছে আমার সমস্যা আছে, আমি চাচ্ছি যে আমাকে এখান থেকে বাঁচিয়ে দেওয়া হোক। হতে পারে তারা ভেবেছে আমার কাছে অনেক বেশি টাকা, চাইলেই হলো।’ দেশে ফেরা নিয়ে নিজের অবস্থানও ব্যাখ্যা করেছেন সাবেক এই অলরাউন্ডার। তার ভাষ্য, দেশে ফিরতে আইনগত কোনো বাধা নেই, তবে তিনি নিরাপত্তা ও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টিকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন। সাকিব বলেন, ‘আমি চাই স্বাভাবিক একটা নিরাপত্তা এবং দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞা উঠে যাক। এ দুটি বিষয় আমার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞা না ওঠানো পর্যন্ত আমার পক্ষে যাওয়া সম্ভব নয়।’ তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তার হওয়ার ভয় তার নেই। তবে অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি বা ব্যক্তিগত আক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। ‘মব হতে পারে, ব্যক্তিগত শত্রুতা থেকেও কিছু হতে পারে। অন্তত এমন একটা জায়গা তো থাকা উচিত, যেখানে বিপদ হলে কেউ দায়িত্ব নেবে,’ বলেন তিনি। জাতীয় দলে না খেলতে পারার বিষয়েও আক্ষেপ আছে জানিয়ে সাকিব বলেন, তিনি এখনো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার মতো অবস্থায় আছেন বলে বিশ্বাস করেন। বিশেষ করে ওয়ানডে ক্রিকেটে এখনো অবদান রাখার সুযোগ দেখছেন তিনি। ২০২৭ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নিজের পরিকল্পনার কথাও জানান সাকিব। তিনি বলেন, ‘সুযোগ পেলে আবার নিজেকে প্রস্তুত করতে চাই। এক-দুটি সিরিজ খেললে তখন বোঝা যাবে আমি কোথায় আছি, দলও বুঝতে পারবে।’ রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও অনুশোচনা নেই বলে জানান সাবেক এই অধিনায়ক। তার ভাষায়, ‘আজকে যেটা ঠিক মনে হয় না, পাঁচ বা দশ বছর পরে হয়তো সেটাই ঠিক মনে হবে। মানুষ বারবার ভুলে যায় যে, আমি একটি নির্দিষ্ট এলাকা থেকে সংসদ সদস্য হয়েছিলাম। এলাকার মানুষ আমাকে ভোট দিয়েছেন দেখেই আমি জিতেছি। তারা যদি ভোট না দিতেন, আমি জিততাম না। সারা দেশের মানুষ তো আমাকে ভোট দেননি।’ সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়েও নিজের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন সাকিব। তিনি বলেন, দেশের মানুষ রাজনীতিকে খারাপ হিসেবে দেখে, কারণ অনেকেই সেবা করার বদলে সুবিধা নিতে রাজনীতিতে আসেন। তবে রাজনীতির মাধ্যমেই পরিবর্তন সম্ভব বলে বিশ্বাস করেন তিনি।

চট্টগ্রাম মহানগরীর সাগরিকা ফ্লাইওভারে ঝুলন্ত অবস্থায় কাউসার আহমেদ নামে এক ছাত্রলীগ নেতার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, কায়সারকে খুন করে ফ্লাইওভারে মরদেহ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ মে) ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় নগরের পাহাড়তলী থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করেছে পুলিশ। নিহত কাউসার আহমেদ (২৭) আকবর শাহ থানা ছাত্রলীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। পাহাড়তলী থানার ওসি নুরুল আবছার গণমাধ্যমকে বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে সংবাদ পেয়ে আবু কাউসারের মরদেহ উদ্ধার করি। মারা যাওয়া যুবক ওই এলাকার একটি কারখানায় পাহারাদার হিসেবে কাজ করতেন। সে দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিল এবং তার মানসিক সমস্যা ছিল বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছে। তিনি আরও বলেন, হত্যার অভিযোগ সঠিক নয়। কাউসারের শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। আমাদের ধারণা, ফ্লাইওভার থেকে ঝুলে ওই যুবক আত্মহত্যা করে থাকতে পারে। তারপরও আমরা ঘটনা তদন্ত করে দেখছি। ওসি নুরুল আবছার বলেন, আমরা মারা যাওয়া যুবকের লাশের ময়নাতদন্ত করার পর পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করেছি। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যে ইরানের ভেতরে গোপনে একাধিক হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব। পশ্চিমা ও ইরানি কয়েকজন কর্মকর্তার বরাতে এমন তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টারার্স। প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি আরবের ওপর চালানো হামলার জবাবে পাল্টা এই সামরিক অভিযান চালানো হয়। তবে হামলাগুলোর বিষয়ে আগে প্রকাশ্যে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। দুই পশ্চিমা কর্মকর্তার দাবি, মার্চের শেষ দিকে সৌদি বিমানবাহিনী এসব হামলা চালায়। তাদের একজন বলেন, “সৌদি আরবে হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে।” তবে কোন কোন স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি রয়টার্স। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সরাসরি হামলার বিষয়টি স্বীকার বা অস্বীকার করেননি। অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও কোনো মন্তব্য করেনি। এই ঘটনা সৌদি আরবের নিরাপত্তানীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এতদিন দেশটি নিরাপত্তার জন্য মূলত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সুরক্ষার ওপর নির্ভরশীল ছিল। তবে ১০ সপ্তাহ ধরে চলা আঞ্চলিক সংঘাতে সেই নিরাপত্তা বলয়ে দুর্বলতা দেখা দেওয়ার পর সৌদি আরব আরও সরাসরি ও আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সৌদি আরব ও ইরান দীর্ঘদিন ধরেই মধ্যপ্রাচ্যে প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গভীর সমুদ্রে মাছ শিকার করায় অভিযান চালিয়ে নোয়াখালী হাতিয়ায় ৪৫ জেলেকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। এ সময় প্রায় ৩৭ লাখ টাকার সামুদ্রিক মাছও ৪টি ট্রলার জব্দ করা হয়। মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, দক্ষিণ জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট মো. আবুল কাশেম। এর আগে সোমবার (১১ মে) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে হাতিয়া উপজেলার নলচিরা ও চেয়ারম্যান ঘাট সংলগ্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করে কোস্ট গার্ড স্টেশন হাতিয়া। হাতিয়ায় ৩৭ লাখ টাকার সামুদ্রিক মাছ জব্দ, ৪৫ জেলে আটক মোবাইল কোর্টের অভিযানে স্থানীয়দের হামলা, ম্যাজিস্ট্রেটসহ আহত ১৫ কোস্ট গার্ড সূত্র জানায়, সন্দেহজনক চারটি ফিশিং বোটে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ১ হাজার ৮০০ কেজি ইলিশ ও ২ হাজার ৫০০ কেজি বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ জব্দ করা হয়। জব্দকৃত মাছের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩৭ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। পরে হাতিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মশিয়ুর রহমানের ভ্রাম্যমাণ আদালত আটক জেলেদের প্রত্যেককে ২০০ টাকা করে মোট ৯ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জব্দকৃত মাছ স্থানীয় এতিমখানা, মাদ্রাসা ও দরিদ্র মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট মো. আবুল কাশেম বলেন, সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ রক্ষা ও নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে চলবে।

চলতি বছরের শেষের দিক নাগাদ কৌশলগত নতুন পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘সারমাত’ মোতায়েন করবে রাশিয়া। মঙ্গলবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন নতুন এই অস্ত্র মোতায়েনের সময়সীমা ঘোষণা করেছেন। রাশিয়ার নিজের তৈরি এই ক্ষেপণাস্ত্রকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী’ অস্ত্র হিসেবেও অভিহিত করেছেন তিনি। কয়েক হাজার মাইল দূরে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ইউরোপের যেকোনও লক্ষ্যবস্তুতে পারমাণবিক ওয়ারহেড নিয়ে আঘাত হানতে সক্ষম এই আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম)। কয়েক বছরের কারিগরি জটিলতা ও বারবার পিছিয়ে যাওয়ার পর অবশেষে এটি মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্রেমলিন। মঙ্গলবার রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে পুতিন বলেছেন, এই ক্ষেপণাস্ত্রের ওয়ারহেডের বিধ্বংসী ক্ষমতা যেকোনও পশ্চিমা অস্ত্রের চেয়ে চার গুণেরও বেশি। এছাড়া এর পাল্লা ৩৫ হাজার কিলোমিটারের (২১ হাজার ৭৫০ মাইল) বেশি। তিনি বলেছেন, সারমাত ক্ষেপণাস্ত্রর বর্তমান সময়ের, এমনকি ভবিষ্যতের যেকোনও অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করার সক্ষমতা রয়েছে। যদিও পশ্চিমা নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, পুতিন প্রায়ই রাশিয়ার নতুন প্রজন্মের এই পারমাণবিক অস্ত্রের সক্ষমতা নিয়ে অতিরঞ্জিত দাবি করেন। ২০১৮ সালে তিনি যখন প্রথম রাশিয়ার অস্ত্রাগার আধুনিকায়নের এই উচ্চাভিলাষী কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন, তখন থেকেই বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। অতীতের কিছু পরীক্ষায় ‘সারমাত’ ব্যর্থ হওয়ার রেকর্ড রয়েছে। পশ্চিমা বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে এক পরীক্ষার সময় উৎক্ষেপণ স্থলেই সারমাত ক্ষেপণাস্ত্রের বিস্ফোরণ ঘটেছিল। এতে সেখানে বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়। এমনকি ২০১৫ সালের নভেম্বরেও আরেকটি পরীক্ষা ব্যর্থ হওয়ার খবর পাওয়া যায়। তবে মঙ্গলবার রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। সেখানে দেখা যায়, রাশিয়ার কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনীর কমান্ডার সের্গেই কারাকায়েভ প্রেসিডেন্ট পুতিনকে বলছেন, সারমাতের সর্বশেষ পরীক্ষা সফল হয়েছে। কারাকায়েভ বলেন, সারমাত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থায় সজ্জিত এসব লাঞ্চার মোতায়েনের ফলে আমাদের স্থলভিত্তিক কৌশলগত পারমাণবিক বাহিনীর যুদ্ধ সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। এটি লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসের নিশ্চয়তা এবং কৌশলগত প্রতিবন্ধকতা তৈরির সমস্যা সমাধানে বড় ভূমিকা রাখবে। ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে পুতিন বারবার রাশিয়ার পারমাণবিক শক্তি ও বিশাল ভাণ্ডারের কথা বিশ্বকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন। পশ্চিমা দেশগুলো পুতিনের এই হুমকিকে ইউক্রেনের পক্ষে সরাসরি যুদ্ধে হস্তক্ষেপ থেকে তাদের বিরত রাখার জন্য এক ধরনের ‘পারমাণবিক হুমকি’ হিসেবে দেখছে। সূত্র: রয়টার্স।

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কোরবানির পশুর হাট ও খামারগুলোতে এবারও দেখা মিলছে ব্যতিক্রমী নামের গরু-মহিষ। সেই তালিকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে নারায়ণগঞ্জের একটি খামারের একটি বিশাল আকৃতির মহিষ, যার নাম রাখা হয়েছে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। নারায়ণগঞ্জ শহরের পাইকপাড়ায় অবস্থিত রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্মে থাকা এই মহিষটির ওজন ৭০০ কেজিরও বেশি। খামারের স্বত্বাধিকারী জিয়াউদ্দিন মৃধা জানান, এটি এলভিনো জাতের মহিষ। এর গায়ের গোলাপি আভাযুক্ত সাদা রং এবং সামনের দিকের চুলের বিশেষ আকৃতির কারণে মজার ছলে এই নামটি রাখা হয়েছে। খামার কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নামটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই মহিষটি দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন অসংখ্য দর্শনার্থী। অনেক ক্রেতা এটি কেনার আগ্রহ দেখালেও ইতোমধ্যে একজন ক্রেতা মহিষটি বুকিং দিয়ে রেখেছেন। খামারের কর্মচারীরা জানান, মহিষটি সাধারণ খাবার হিসেবে ঘাস, ভুট্টা ও ভুসি খায়। বিশেষ যত্নে লালন-পালন করা হয়েছে এটিকে। স্থানীয়দের মতে, ঈদুল আজহায় বড় ও আকর্ষণীয় পশুর পাশাপাশি ব্যতিক্রমী নামের কারণে এসব পশু নিয়ে আলাদা আগ্রহ তৈরি হয়। প্রতিবছরই বিভিন্ন খামারে ‘রাজা’, ‘সুলতান’, ‘বাহুবলী’ কিংবা আলোচিত ব্যক্তিত্বদের নামে পশুর নাম রাখার প্রবণতা দেখা যায়, যা ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের মধ্যে বাড়তি কৌতূহল তৈরি করে।

পাকিস্তানের বিপক্ষে চলমান মিরপুর টেস্টের প্রথম ইনিংসে ১০১ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলেছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। দ্বিতীয় ইনিংসেও তিনি ম্যাজিক ফিগার ছোঁয়ার দ্বারপ্রান্তে ছিলেন। কিন্তু ১৩ রানের হতাশা নিয়ে ফিরতে হলো বাঁ-হাতি এই ব্যাটারকে। একইসঙ্গে একটি বিশ্বরেকর্ড গড়ার কাছাকাছি থাকলেও শান্ত’র সেই অপেক্ষাটা দীর্ঘায়িত হলো। পাকিস্তানকে বড় টার্গেট দেওয়ার লক্ষ্যে তৃতীয় ইনিংসে ব্যাট করছিল বাংলাদেশ। এবারও অধিনায়ক শান্ত ব্যাট হাতে নেতৃত্বের কাতারে। কিন্তু বাঁ-হাতি স্পিনার নোমান আলির বলে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে মিস করেছেন তিনি। ফলে বল তার প্যাডে আঘাত করলে আবেদনে সাড়া দিয়ে লেগ বিফোর আউটের সিদ্ধান্ত দেন আম্পায়ার। রিভিউ নিলেও লাভ হয়নি শান্ত’র। ১৫০ বলে তাকে ৮৭ রানে ক্রিজ ছাড়তে হয়েছে। ‘বাংলাদেশে কখনোই ভারতের জন্য হুমকি ছিল না, তারা এলে স্টেডিয়াম ভরে যায়’ এর আগে টেস্ট ক্যারিয়ারে দু’বার পরপর দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি করার রেকর্ড রয়েছে শান্ত’র। ২০২৩ সালে আফগানিস্তানের বিপক্ষে এই মিরপুরেই তিনি যথাক্রমে ১৪৬ এবং ১২৪ রানের দুটি দুর্দান্ত ইনিংস খেলেছিলেন। সেই ম্যাচটিতে বাংলাদেশ রেকর্ড ৫৪৬ রানের ব্যবধানে জয় পেয়েছিল। এরপর ২০২৫ সালের জুনেও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গল টেস্টের দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি করেন শান্ত। খেলেছেন ১৪৮ এবং ১২৫ রানের ইনিংস। যদিও ম্যাচটি ড্রতে নিষ্পত্তি হয়। বিজ্ঞাপন মিরপুরে দ্বিতীয় এবং সবমিলিয়ে তৃতীয়বার টেস্টের দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরির কাছাকাছি ছিলেন শান্ত। তেমন কিছু হলে বিশ্বের মাত্র চতুর্থ ব্যাটার হিসেবে তিন টেস্টে জোড়া সেঞ্চুরির বিশ্বরেকর্ডে নাম লেখাতেন টাইগার অধিনায়ক। আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্যারিয়ারে কেবল তিন ক্রিকেটার তিনবার করে এই কীর্তি গড়েছেন– সুনীল গাভাস্কার, রিকি পন্টিং ও ডেভিড ওয়ার্নার। ১৩ রানের জন্য সেই রেকর্ডে ভাগ বসানোর সুযোগ হাতছাড়া হলো শান্ত’র। প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ অধিনায়কের বিদায়ের পর আর বেশিক্ষণ টেকেনি স্বাগতিকদের দ্বিতীয় ইনিংস। পঞ্চম দিনে জয়ের তাড়নায় তারা পাকিস্তানকে ২৬৮ রানের লক্ষ্য দিয়েছে। ২৪০ রানে ৯ উইকেট পড়তেই দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে টাইগাররা। এর আগে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ২৭ রানের লিড পায়। দ্বিতীয় ইনিংসে তাদের পক্ষে শান্ত ৮৭ এবং মুমিনুল হক ৫৬ রান করেন। পাকিস্তানের হাসান আলি ও নোমান আলি নেন ৩টি করে উইকেট।

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের নাবাতিহ জেলার জেবদিনের একটি বাড়িতে দখলদার ইসরায়েলের ড্রোন হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। নিহত অপরজন সিরীয় নাগরিক। সংবাদমাধ্যম লরিয়েন্ট টুডে আজ সোমবার (১১ মে) এ তথ্য জানিয়েছে। তবে বাংলাদেশিদের নাম বা পরিচয় কিছু জানায়নি তারা। নিহতরা সেখানে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন বলে উল্লেখ করেছে লরিয়েন্ট টুডে। যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ব্যাপক হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। ধারণা করা হচ্ছে গতকাল এ হামলা চালানো হয়। ইসরায়েলি হামলার জবাবে লেবাননের শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহও পাল্টা হামলা চালাচ্ছে। তারা আজও ইসরায়েলি সেনাদের বিরুদ্ধে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। গত ১৬ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু ইসরায়েলি সেনারা এটি অমান্য করে দক্ষিণ লেবাননে সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি ধ্বংস করতে থাকে। এর পাশাপাশি হিজবুল্লাহর যোদ্ধাদেরও টার্গেট করে তারা। জবাবে হিজবুল্লাহ পাল্টা হামলা চালায়। সূত্র: লরিয়েন্ট টুডে

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার জয়াগ ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মহিন উদ্দীন মোহনকে চাঁদাবাজি ও জালিয়াতি মামলায় গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) ১১। রোববার (১০ মে) দুপুরে জয়াগ ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে আলোচনায় ছিলেন মহিন উদ্দীন মোহন। সর্বশেষ তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া চাঁদাবাজি ও জালিয়াতি মামলার অভিযোগে র্যাব তাকে গ্রেপ্তার করে। র্যাব জানায়, মিজানুর রহমান নামের একজনের দায়ের করা চাঁদাবাজি ও প্রতারণা মামলায় মহিন উদ্দীন মোহনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে সোনাইমুড়ী থানায় মামলা রয়েছে। র্যাব-১১, সিপিসি-৩ নোয়াখালী ক্যাম্পের অধিনায়ক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুহিত কবির জানান, রোববার দুপর আড়াইটার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাবের একটি দল ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। সেখান থেকে মহিন উদ্দীন মোহনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অন্যদিকে, মহিন উদ্দীন মোহনের পক্ষ থেকে মামলাটিকে মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করা হয়।

মিয়ানমারে গভীর রাতে ৫.০ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এর প্রভাব পড়ে বাংলাদেশেও। বিশেষ করে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় মৃদু কম্পন অনুভূত হয়েছে বলে জানা গেছে। জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর জিওসায়েন্সেস (জিএফজেড) জানিয়েছে, রোববার (১০ মে) রাত ১টা ৩৬ মিনিটে (বাংলাদেশ সময়) ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। সংস্থাটির তথ্যমতে, ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার নিচে। প্রাথমিকভাবে এর অবস্থান নির্ণয় করা হয়েছে ২০.৪৬ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯৩.৯৪ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে। অন্যদিকে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল মিয়ানমারের সিদোকতাইয়া এলাকার প্রায় ১১ কিলোমিটার দূরে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। ভূমিকম্পের কম্পন বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলেও অনুভূত হয়। চট্টগ্রাম নগরীর কয়েকটি এলাকায় বাসিন্দারা জানান, হঠাৎ করেই কয়েক সেকেন্ডের জন্য ঘরবাড়ি কেঁপে ওঠে। অনেকেই আতঙ্কে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন। এর আগেও শনিবার (৯ মে) বিকেলে দেশের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল। বিকেল ৩টা ১০ মিনিটের দিকে হওয়া ওই কম্পনে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি না হলেও জনমনে আতঙ্ক তৈরি হয়। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার তথ্যে জানা গেছে, শনিবারের ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৪.৪ থেকে ৪.৫ এর মধ্যে। ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ৪.৫ উল্লেখ করলেও ইউএসজিএস বলেছে ৪.৪। ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূমিকম্প বিজ্ঞান কেন্দ্র জানিয়েছে, ওই ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল ভারতের আসামের বিলাসিপাড়া এলাকায়। ভূমিকম্পটির গভীরতা কম হওয়ায় সীমান্তঘেঁষা বাংলাদেশের জেলাগুলোতে কম্পন বেশি অনুভূত হয়। লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রংপুর, দিনাজপুর ও ময়মনসিংহসহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকা থেকে স্থানীয়রা মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের ঝাঁকুনি অনুভবের কথা জানান। কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী এই কম্পনে আতঙ্কিত হয়ে অনেকেই ঘরবাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবে এক সপ্তাহে আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ১১ হাজার ১৭৫ জন অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত ৩০ এপ্রিল থেকে ৬ মে পর্যন্ত দেশটির সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত অভিযানে ওই অভিবাসীদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে আবাসন আইন লঙ্ঘনের দায়ে ৬ হাজার ১৫৩ জন, সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের দায়ে ৩ হাজার ৬১৯ জন এবং শ্রম আইন লঙ্ঘনের দায়ে ১ হাজার ৪০৩ জন রয়েছেন। এছাড়া অবৈধভাবে সৌদি আরবে প্রবেশের চেষ্টার সময় আরও ১ হাজার ৪১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলাবাহিনী। তাদের মধ্যে ৩৬ শতাংশ ইয়েমেনি, ৬২ শতাংশ ইথিওপিয়ান এবং ২ শতাংশ অন্যান্য দেশের নাগরিক। পাশাপাশি অবৈধভাবে দেশ ছাড়ার চেষ্টার সময় আরও ২৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, বিভিন্ন ধরনের আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ইতোমধ্যে ১১ হাজার ২৭২ জন অভিবাসীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বাকিদের ভ্রমণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট দেশের কূটনৈতিক মিশনে পাঠানো হয়েছে। একই সময়ে অবৈধ অভিবাসীদের পরিবহন, আশ্রয় কিংবা কর্মসংস্থানে সহায়তার অভিযোগে ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই অপরাধের বিষয়ে সতর্ক করে দেশটির কর্তৃপক্ষ বলেছে, এ ধরনের কাজের জন্য সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। আইন লঙ্ঘনকারীদের বিষয়ে নির্দিষ্ট জরুরি নম্বরে তথ্য দিয়ে কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করার জন্য জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। সূত্র: গালফ নিউজ।