
নোয়াখালীর সুবর্ণচরে দীর্ঘ ২০ বছর ধরে ৭নং পূর্বচরবাটা ইউনিয়নের চান্দু মার্কেটে অবস্থিত মঞ্জু চেয়ারম্যান জামে মসজিদের বিশাল পুকুর দখল করে রেখেছে আওয়ামী লীগ নেতা, সেই পুকুর দখল মুক্ত করে ফিরে পেতে মানববন্ধন করেছে ভূক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসি। ২০ জুলাই (সোমবার) বিকেল ৫ টায় সুবর্ণচর উপজেলার পূর্ব চরবাটা ইউনিয়নের চান্দু মার্কেটে মানববন্ধন করেন মসজিদ পরিচালক কমিটি, মুসল্লী ও এলাকাবাসি। এসময় ভূক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসি জানান, বিগত ফ্যাসিষ্ট সরকারের আমলে তৎকালীর উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আ.লীগ সভাপতি সেলিম চেয়ারম্যানের ভাগ্নি জামাই ও পূর্ব চর বাটা ইউনিয়নের সাবেক সচিব আনোয়ার হোসেন হেলাল দখল করে নেয়। হেলাল জোর পূর্বক দখলের পর শের আলী নামক এক দখলবাজের কাছে লিজ দিয়ে দেন, শের আলীর এবং তার ভাটাটিয়া সন্ত্রাসী সোহাগ ঐ পুকুরে মাচ চাষ করে আসছিলো, পুকুরের মাছের খাদ্যসহ নানা ক্যামিকেল চিটানো কারনে মসজিদের মুসল্লীরা কখনো ঐ পুকুরে অজু গোসল করতে পারেনি। বহুবার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক ও প্রশাসনের লোকদের কাছে গিয়েও কোন প্রতিকার পাইনি তারা। এর পর ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট পরবর্তী সময়ে মসজিদ কমিটি পূণরায় পুকুরটি দখল করতে গেলে মিথ্যা মামলা হামলা সহ নানা হয়রানি করে আসছে৷ বক্তারা আওয়ামীলীগের দোসর, দখলবাজ আনোয়ার হোসেন হেলাল, শের আলী এবং সোহাগের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি জানান এবং পুকুরটি মসজিদে বুঝিয়ে দেবার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানান। ,

নোয়াখালীর হাতিয়ায় অস্বাভাবিক জোয়ারের চাপে বেড়িবাঁধ ভেঙে তিনটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে ভেসে গেছে ঘরের আসবাবপত্র, পুকুরের মাছ, গবাদিপশু ও জমির ফসল। শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে উপজেলার চরঈশ্বর ইউনিয়নের তালুকদার গ্রামের পাশের বেড়িবাঁধের একটি অংশ ভেঙে গেলে মুহূর্তেই জোয়ারের পানি আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় ঢুকে পড়ে। এতে চরঈশ্বর ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন গ্রাম পানিতে তলিয়ে যায়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও অস্বাভাবিক উচ্চতার জোয়ারের কারণে বেড়িবাঁধের বিভিন্ন অংশ দুর্বল হয়ে পড়েছিল। শুক্রবার দুপুরের জোয়ারের তীব্র ঢেউয়ের আঘাতে তালুকদার গ্রামের পাশের বাঁধের একটি অংশ ভেঙে যায়। এরপর প্রবল স্রোতে জোয়ারের পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। প্লাবিত এলাকার অনেক স্থানে দুই থেকে তিন ফুট উচ্চতায় পানি ওঠায় গ্রামীণ সড়ক তলিয়ে যায় এবং মানুষের চলাচল ব্যাহত হয়। বাড়িঘর, উঠান ও নিম্নাঞ্চল পানিতে ডুবে যায়। কৃষিজমি, পুকুর ও মাছের ঘেরেও জোয়ারের পানি ঢুকে পড়েছে। আকস্মিক প্লাবনে অনেক পরিবারের আসবাবপত্র, পুকুরের মাছ ও গবাদিপশুর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। চরঈশ্বর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আসার উদ্দিন বলেন, ‘গত কয়েক দিনের অতিরিক্ত বৃষ্টি ও অস্বাভাবিক জোয়ারের কারণে বেড়িবাঁধের বিভিন্ন অংশ ধসে সরু হয়ে পড়েছিল। বিষয়টি আমরা আগেই সংশ্লিষ্টদের জানিয়েছিলাম। কিন্তু কোনো কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আজ দুপুরের জোয়ারের চাপেই বাঁধ ভেঙে যায় এবং বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। দিনের জোয়ারের উচ্চতা তুলনামূলক কম থাকলেও অনেক এলাকা তলিয়ে গেছে।’ স্থানীয় বাসিন্দা অধ্যাপক ফখরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ‘দায়িত্বশীলদের অবহেলার কারণেই আজ আমাদের এই করুণ পরিণতি। রাতে আরও বড় জোয়ার আসার কথা রয়েছে। পানির উচ্চতা আরও বেড়ে গেলে মানুষের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও বিভিন্ন অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।’ এদিকে বাঁধ ভেঙে যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। অনেক পরিবার জরুরি ভিত্তিতে ঘরের মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দারা রাতের জোয়ার নিয়ে চরম উদ্বেগে রয়েছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রাসেল ইকবাল বলেন, ‘চরঈশ্বর ইউনিয়নের এই অংশে বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা আগে থেকেই ছিল। এজন্য একাধিকবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। কিন্তু প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আগেই বাঁধটি ভেঙে যায়। বিষয়টি জেলা প্রশাসক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। তারা দ্রুত জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।’ এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী জামিল উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, ‘ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধের স্থানটি আমরা ইতোমধ্যে পরিদর্শন করেছি। বৈরী আবহাওয়ার কারণে বালুবাহী বার্জ এখনো ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি। তবে জিওটিউব ঘাটে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আমরা আশা করছি, রাতের মধ্যেই ভাঙা বেড়িবাঁধে জরুরি মেরামতকাজ শুরু করা সম্ভব হবে।’ স্থানীয়দের দাবি, জরুরি ভিত্তিতে ভাঙা অংশে জিওব্যাগ বা বালুভর্তি বস্তা ফেলে পানি প্রবেশ বন্ধের ব্যবস্থা না নিলে রাতের জোয়ারে প্লাবিত এলাকার পরিধি আরও বাড়তে পারে। পাশাপাশি স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো দ্রুত সংস্কারের দাবি জানান তারা
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী পৌর এলাকায় অভিযান চালিয়ে পারভেজ ও বিপ্লব নামের দুই মাদক কারবারীকে আটক করেছে পুলিশ। এসময় তাদের সাথে থাকা একটি গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ৮০ হাজার ৩৬০পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়। যার বাজার মূল্য প্রায় আড়াই কোটি টাকা। জব্দ করা হয়েছে তাদের ব্যবহৃত জিপ গাড়িটি। বৃহস্পতিবার সকালে চৌমুহনী পৌরসভার করিমপুর রূপসা শপিং কমপ্লেক্স এর সামনে থেকে তাদের আটক করা হয়। আটকৃত পারভেজ ও বিপ্লবের বাড়ি কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলায়। পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চৌমুহনী পৌরসভার করিমপুর রূপসা শপিং কমপ্লেক্সের সামনে অভিযান চালায় বেগমগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ। অভিযান কালে ফেনী-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কে ফেনী থেকে আসা কালো রংয়ের হার্ডজিপকেয়া নামক জীপ গাড়ীর গতিরোধ করা হয়। পরে সেটিতে তল্লাশি চালিয়ে গাড়ীর পিছনে ডান পাশের দরজায় বিশেষভাবে লুকানো অবস্থায় সাদা স্কচটেপ দ্বারা মোড়ানো ৪১টি কাগজের প্যাকেটের মধ্যে ১৯৬টি নীল রংয়ের জীপারযুক্ত পলি ব্যাগে ৮০হাজার ৩৬০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়। বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শামসুজ্জামান জানান, আটককৃত আসামী পারভেজ এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মোট ৬টি মামলা বিচারাধীন। এই ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হবে।

ইঞ্জিন বিকল হয়ে গভীর বঙ্গোপসাগরে ভাসতে থাকা ১৯ জেলেকে মাছ ধরার ট্রলারসহ উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেলে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান। কোস্ট গার্ড জানায়, গত ৮ জুলাই এফবি মা-২ নামক একটি ফিশিং বোট ১৯ জন জেলেসহ হাতিয়া থেকে মাছ ধরার জন্য সাগরে যায়। ১৩ জুলাই ইঞ্জিন বিকল হয়ে বোটটি সমুদ্রে ভাসতে থাকে। দুই দিন পর ১৫ জুলাই মোবাইল নেটওয়ার্কের মধ্যে আসেন তারা। আজ সকাল ১০টায় বোটের এক জেলে কোস্ট গার্ডকে বিষয়টি অবহিত করে। তথ্য পেয়ে তাৎক্ষণিক কোস্ট গার্ড স্টেশন ভাসানচর ও অপারেশন সুরক্ষায় নিয়োজিত জাহাজ বিসিজিএস কুতুবদিয়া উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। পরে চট্টগ্রামের নরম্যান্স পয়েন্ট থেকে পশ্চিমে গভীর সমুদ্র এলাকা থেকে বিকল হওয়া বোটসহ ১৯ জন জেলেকে জীবিত উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত জেলেদের প্রাথমিক চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় খাবার দেওয়া হয়েছে। বোটসহ জেলেদের মালিকপক্ষের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম বলেন, ‘বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দেশের সুবিশাল সমুদ্র উপকূলীয় এবং নদী তীরবর্তী অঞ্চলের নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। একইসঙ্গে সমুদ্রে মৎস্য আহরণে নিয়োজিত জেলেদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড উপকূলীয় জনগণের মাঝে নিরাপত্তা ও আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, জরুরি উদ্ধার কার্যক্রমে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।

পুরুষ নির্যাতন দমন ও প্রতিরোধ আইন নতুন করে প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। রিট আবেদনে বলা হয়েছে, যদি একটি পুরুষ নির্যাতন দমন ও প্রতিরোধ আইন প্রণয়ন করা হয়, তবে আইনের সমতা ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে নারীরা ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন’-এর অপব্যবহার করতে পারবেন না। এছাড়া বিবাদীর ওপর ‘পুরুষ নির্যাতন দমন ও প্রতিরোধ আইন’ নামে একটি নতুন আইন প্রণয়ন করার জন্য নির্দেশনা দেওয়ার জন্য প্রার্থনা করা হয়েছে রিটে। রিটে ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন’ অপব্যবহারের মাধ্যমে পুরুষদের অপ্রয়োজনীয় হয়রানি থেকে রক্ষা করার জন্য ‘পুরুষ নির্যাতন দমন ও প্রতিরোধ আইন’ নামে একটি নতুন আইন প্রণয়নে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা এবং ব্যর্থতা কেন আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত এবং আইনগতভাবে অকার্যকর ঘোষণা করা হবে না; এবং ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন’ বা ‘যৌতুক আইন’ অপব্যবহারের মাধ্যমে পুরুষদের অপ্রয়োজনীয় হয়রানি থেকে রক্ষা করার জন্য বিবাদীদের কেন ‘পুরুষ নির্যাতন দমন ও প্রতিরোধ আইন’ নামে একটি নতুন আইন প্রণয়নের নির্দেশ দেওয়া হবে না, এই মর্মে রুল জারির আর্জি জানানো হয়েছে। রুল শুনানি পেন্ডিং থাকা অবস্থায়, ‘পুরুষ নির্যাতন দমন ও প্রতিরোধ আইন’-এর অপব্যবহারের মাধ্যমে পুরুষদের অপ্রয়োজনীয় হয়রানি থেকে রক্ষা করার জন্য বিবাদীদের ‘পুরুষ নির্যাতন দমন ও প্রতিরোধ আইন’ নামে একটি নতুন আইন প্রণয়নের নির্দেশ দিতে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ চাওয়া হয়েছে রিটে। রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে। রিটকারীদের দাবি, পুরুষকে ঘায়েল করার জন্য এসব মিথ্যা মামলা করা হয়। সামান্য ঝগড়াঝাঁটির জের ধরে অনেক নারী আদালতে নারী নির্যাতন আইনে মামলা করে বছরের পর বছর স্বামীকে জেল খাটান। মঙ্গলবার হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চে রিট আবেদনের ওপর শুনানি হতে পারে।

ভারতে দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির পাঞ্জাব প্রদেশের কৃষকরা। মূলত প্রস্তাবিত ভারত-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির বিরুদ্ধে আয়োজিত ‘কিষাণ মহাপঞ্চায়েত’-এ যোগ দিতে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) পাঞ্জাব থেকে হাজার হাজার কৃষক দিল্লি অভিমুখে যাত্রা শুরু করেন। জানা গেছে, পাঞ্জাব থেকে হরিয়ানায় প্রবেশের মুখ শম্ভু সীমানায় পৌঁছালে হরিয়ানা পুলিশ ব্যারিকেড বসিয়ে তাদের পথ আটকে দেয়। তবে পাঞ্জাব থেকে আসা কৃষকদের আটকে দেওয়া হলেও আমবালা, কুরুক্ষেত্র ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলো থেকে আসা হরিয়ানার স্থানীয় কৃষকরা অবাধে দিল্লির দিকে তাদের যাত্রা অব্যাহত রেখেছেন। পাঞ্জাব-হরিয়ানা সীমান্তে বিশাল বিশাল ব্যারিকেড বসানোর এই দৃশ্য ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারির সেই বহুল আলোচিত ‘দিল্লি চলো-২’ আন্দোলনের স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে। সেই সময়েও জাতীয় রাজধানীতে কৃষকদের প্রবেশ রুখতে সীমানাকে সিমেন্টের ব্লক, লোহার পেরেক ও বহুস্তরী ব্যারিকেড দিয়ে দুর্গে পরিণত করা হয়েছিল। এদিকে, দিল্লিতে যাওয়ার পথ না পেয়ে ক্ষুব্ধ কৃষকরা শম্ভু সীমানা এলাকাকেই আপাতত তাদের নতুন আন্দোলনস্থলে রূপান্তর করেছেন। দিল্লিতে একত্রিত হওয়ার গণতান্ত্রিক অধিকার দমন করার অভিযোগ তুলে তারা হরিয়ানা ও পাঞ্জাব- উভয় সরকারের তীব্র সমালোচনা করছেন। বিকেইউ (শহীদ ভগত সিং) নেতা তেজবীর সিং মারাত্মক অভিযোগ এনে বলেছেন, হরিয়ানা পুলিশ পাঞ্জাবের নিজস্ব ভূখণ্ডের ভেতরে ঢুকে ব্যারিকেড তৈরি করেছে। তিনি আরও দাবি করেন, হরিয়ানা পুলিশের এই পদক্ষেপে বাধা না দিয়ে পাঞ্জাব সরকার কেবল ‘নীরব দর্শক’ ভূমিকা পালন করছে। সোমবার (২০ জুলাই) মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদ ও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে সংসদ অভিমুখে পদযাত্রা শুরু করে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। হাজারও তরুণের এই পদযাত্রায় পুলিশ লাঠিচার্জ করলে রণক্ষেত্রে রূপ নেয় দিল্লি। এ সময় কয়েকটি এলাকায় বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। ককরোচ পার্টির এই ভয়াবহ বিক্ষোভের মধ্যে দিল্লিতে নতুন করে পাঞ্জাব কৃষকদের ডাকা আন্দোলন মোদী সরকারকে আরও বিপদে ফেলতে পারে বলে মনে করেন দেশটির রাজনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞ মহল। ‘দেশ বাঁচাও মোর্চা’র ব্যানারে ডাকা এই মহাপঞ্চায়েতে পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও হিমাচল প্রদেশের প্রধান প্রধান কৃষক সংগঠনগুলো একত্রিত হয়েছে। কেন্দ্র সরকারকে প্রস্তাবিত ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি পুরোপুরি বাতিল করার দাবি জানাতেই এই আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়েছে। কিষাণ মজদুর সংঘর্ষ কমিটির (কেএমএসসি) শীর্ষ নেতা সারওয়ান সিং পান্ধের জানান, শম্ভু সীমানায় আটকে দেওয়ার আগে কেএমএসসি, কিষাণ মজদুর মোর্চা (পাঞ্জাব শাখা), আজাদ কিষাণ মোর্চা ও বিকেইউ একতা সংঘর্ষের বিশাল বিশাল গাড়ি বহর পাঞ্জাবের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রওনা হয়েছিল। পান্ধের তুলে ধরেন যে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত ভারত-মার্কিন যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছিল- উভয় দেশ ২০২৬ সালের শরৎকালের মধ্যে একটি বহুমুখী দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির প্রথম কিস্তি চূড়ান্ত করতে আলোচনা চালাবে। তিনি যুক্তি দেন, এই প্রস্তাবিত চুক্তিটি কোনো সাধারণ প্রথাগত বাণিজ্য চুক্তি নয়। এটি ভারতের কৃষি, দুগ্ধ (ডেয়ারি) খাত, শিল্প, ডিজিটাল বাণিজ্য, ই-কমার্স, বিনিয়োগ, সরকারি কেনাকাটা, বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি অধিকার এবং সেবা খাতের মতো স্পর্শকাতর ক্ষেত্রগুলোকে উন্মুক্ত করে দেবে। কৃষক নেতারা সতর্ক করে বলেছেন, আগের বিভিন্ন মার্কিন বাণিজ্য প্রতিবেদনে দেখা গেছে- কম শুল্ক এবং সয়াবিন, ভুট্টা, তুলা, ইথানল, আপেল, বাদাম, দুগ্ধজাত পণ্য, হাঁস-মুরগি ও মৎস্যজাত পণ্যের ওপর বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার মাধ্যমে ভারতের কৃষি ও দুগ্ধ বাজারে আমেরিকানদের গভীরভাবে প্রবেশের পথ সহজ করার চেষ্টা করা হয়েছে। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ভর্তুকিপ্রাপ্ত বিপুল পরিমাণ আমেরিকান কৃষি ও দুগ্ধজাত পণ্যের জন্য ভারতের বাজার উন্মুক্ত করে দিলে দেশের কোটি কোটি ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক বাজারে টিকতে পারবে না। পাশাপাশি এই গোপন আলোচনার কোনো তথ্য প্রকাশ না করা ও স্বচ্ছতার চরম অভাব নিয়েও তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সংগঠনগুলো তুলে ধরে যে, শুধুমাত্র ভারতের দুগ্ধ খাতের ওপরই প্রায় ৮ কোটি গ্রামীণ পরিবার সরাসরি জীবিকার জন্য নির্ভরশীল। এই খাতে যেকোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়লে তা পুরো গ্রামীণ অর্থনীতি, দুগ্ধ উৎপাদক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, কৃষিভিত্তিক শিল্প, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাত এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। এই পরিস্থিতিতে ‘দেশ বাঁচাও মোর্চা’ কেন্দ্র সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে- প্রস্তাবিত ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি সংক্রান্ত সব নথিপত্র অবিলম্বে সাধারণ মানুষের সামনে জনসমক্ষে আনতে হবে। একই সাথে কৃষক, শ্রমিক, দুগ্ধ উৎপাদক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও অন্যান্য অংশীদারদের সাথে বিস্তারিত আলোচনা না করে মার্কিন সরকারের সাথে কোনো ধরনের চুক্তি স্বাক্ষর করা থেকে বিরত থাকতে হবে। সূত্র: দ্য হিন্দু
নোয়াখালীর সুবর্ণচরে দীর্ঘ ২০ বছর ধরে ৭নং পূর্বচরবাটা ইউনিয়নের চান্দু মার্কেটে অবস্থিত মঞ্জু চেয়ারম্যান জামে মসজিদের বিশাল পুকুর দখল করে রেখেছে আওয়ামী লীগ নেতা, সেই পুকুর দখল মুক্ত করে ফিরে পেতে মানববন্ধন করেছে ভূক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসি। ২০ জুলাই (সোমবার) বিকেল ৫ টায় সুবর্ণচর উপজেলার পূর্ব চরবাটা ইউনিয়নের চান্দু মার্কেটে মানববন্ধন করেন মসজিদ পরিচালক কমিটি, মুসল্লী ও এলাকাবাসি। এসময় ভূক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসি জানান, বিগত ফ্যাসিষ্ট সরকারের আমলে তৎকালীর উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আ.লীগ সভাপতি সেলিম চেয়ারম্যানের ভাগ্নি জামাই ও পূর্ব চর বাটা ইউনিয়নের সাবেক সচিব আনোয়ার হোসেন হেলাল দখল করে নেয়। হেলাল জোর পূর্বক দখলের পর শের আলী নামক এক দখলবাজের কাছে লিজ দিয়ে দেন, শের আলীর এবং তার ভাটাটিয়া সন্ত্রাসী সোহাগ ঐ পুকুরে মাচ চাষ করে আসছিলো, পুকুরের মাছের খাদ্যসহ নানা ক্যামিকেল চিটানো কারনে মসজিদের মুসল্লীরা কখনো ঐ পুকুরে অজু গোসল করতে পারেনি। বহুবার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক ও প্রশাসনের লোকদের কাছে গিয়েও কোন প্রতিকার পাইনি তারা। এর পর ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট পরবর্তী সময়ে মসজিদ কমিটি পূণরায় পুকুরটি দখল করতে গেলে মিথ্যা মামলা হামলা সহ নানা হয়রানি করে আসছে৷ বক্তারা আওয়ামীলীগের দোসর, দখলবাজ আনোয়ার হোসেন হেলাল, শের আলী এবং সোহাগের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি জানান এবং পুকুরটি মসজিদে বুঝিয়ে দেবার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানান। ,

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় বিচারাধীন জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ১১২ বছরের পুরোনো চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ১১ ফুট উঁচু দেওয়াল তোলায় একটি বাড়ির সাতটি পরিবার অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। আদালতের সিদ্ধান্তের আগেই এমন পদক্ষেপ নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা। শুক্রবার (১৭ জুলাই) কাদিরহানিফ ইউনিয়নে পশ্চিম বাহাদুরপুর গ্রামের মৃদ্দা বাড়িতে গিয়ে এমন অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। সূত্র জানায়, মৃদ্দা বাড়ির বাসিন্দাদের ১১২ বছরের চলাচলের একমাত্র পথটি ১১ ফুট উঁচু দেওয়াল তুলে বন্ধ করে দিয়েছেন হারুনুর রশিদ মিলন নামে এক প্রভাবশালী ব্যক্তি। এতে বাড়ির লোকজন অবরুদ্ধ হয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন। ওই বাড়ির বাসিন্দাদের দাবি, আদালতের সিদ্ধান্ত ছাড়া এবং কোনো আলোচনা না করে হারুনুর রশিদ দেওয়াল তুলে পথ বন্ধ করে দিয়েছেন। এখন নিজের ঘরে তালা লাগিয়ে অন্যত্র অবস্থান করছেন। প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার হয়নি। আদালতের সিদ্ধান্তের আগে এমন ঘটনা মানবাধিকার লঙ্ঘন। ওই এলাকার বাসিন্দা আবুল কালাম বলেন, চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়া অন্যায়। যিনি দেওয়াল তুলেছেন তিনি আলোচনা করে বিষয়টি সমাধান করতে পারতেন। তাহলে বাড়ির বাসিন্দারা দূর্ভোগে পড়তেন না। আর মামলা চলমান থাকলে রায় হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিত। অভিযুক্ত হারুনুর রশিদকে ফোন দিলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে ফোন কেটে দেন। পরে অনেকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে তার এক আত্মীয় বলেন, এ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন আদালতে মামলা চলমান আছে। এ নিয়ে অনেকবার স্থানীয় শালিস-বৈঠক বসেও কোনো সমাধান হয়নি। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হোমায়রা ইসলাম বলেন, মামলা চলমান থাকায় বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন আছে। বিষয়টি আদালতের এখতিয়ারাধীন, তাই এ মুহূর্তে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য করা সম্ভব নয়। তবে আদালতের নির্দেশনার পর যদি কোনো বিষয়ে সহযোগিতার প্রয়োজন হয় তখন অবশ্যই সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

নোয়াখালীর হাতিয়ায় অস্বাভাবিক জোয়ারের চাপে বেড়িবাঁধ ভেঙে তিনটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে ভেসে গেছে ঘরের আসবাবপত্র, পুকুরের মাছ, গবাদিপশু ও জমির ফসল। শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে উপজেলার চরঈশ্বর ইউনিয়নের তালুকদার গ্রামের পাশের বেড়িবাঁধের একটি অংশ ভেঙে গেলে মুহূর্তেই জোয়ারের পানি আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় ঢুকে পড়ে। এতে চরঈশ্বর ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন গ্রাম পানিতে তলিয়ে যায়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও অস্বাভাবিক উচ্চতার জোয়ারের কারণে বেড়িবাঁধের বিভিন্ন অংশ দুর্বল হয়ে পড়েছিল। শুক্রবার দুপুরের জোয়ারের তীব্র ঢেউয়ের আঘাতে তালুকদার গ্রামের পাশের বাঁধের একটি অংশ ভেঙে যায়। এরপর প্রবল স্রোতে জোয়ারের পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। প্লাবিত এলাকার অনেক স্থানে দুই থেকে তিন ফুট উচ্চতায় পানি ওঠায় গ্রামীণ সড়ক তলিয়ে যায় এবং মানুষের চলাচল ব্যাহত হয়। বাড়িঘর, উঠান ও নিম্নাঞ্চল পানিতে ডুবে যায়। কৃষিজমি, পুকুর ও মাছের ঘেরেও জোয়ারের পানি ঢুকে পড়েছে। আকস্মিক প্লাবনে অনেক পরিবারের আসবাবপত্র, পুকুরের মাছ ও গবাদিপশুর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। চরঈশ্বর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আসার উদ্দিন বলেন, ‘গত কয়েক দিনের অতিরিক্ত বৃষ্টি ও অস্বাভাবিক জোয়ারের কারণে বেড়িবাঁধের বিভিন্ন অংশ ধসে সরু হয়ে পড়েছিল। বিষয়টি আমরা আগেই সংশ্লিষ্টদের জানিয়েছিলাম। কিন্তু কোনো কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আজ দুপুরের জোয়ারের চাপেই বাঁধ ভেঙে যায় এবং বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। দিনের জোয়ারের উচ্চতা তুলনামূলক কম থাকলেও অনেক এলাকা তলিয়ে গেছে।’ স্থানীয় বাসিন্দা অধ্যাপক ফখরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ‘দায়িত্বশীলদের অবহেলার কারণেই আজ আমাদের এই করুণ পরিণতি। রাতে আরও বড় জোয়ার আসার কথা রয়েছে। পানির উচ্চতা আরও বেড়ে গেলে মানুষের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও বিভিন্ন অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।’ এদিকে বাঁধ ভেঙে যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। অনেক পরিবার জরুরি ভিত্তিতে ঘরের মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দারা রাতের জোয়ার নিয়ে চরম উদ্বেগে রয়েছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রাসেল ইকবাল বলেন, ‘চরঈশ্বর ইউনিয়নের এই অংশে বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা আগে থেকেই ছিল। এজন্য একাধিকবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। কিন্তু প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আগেই বাঁধটি ভেঙে যায়। বিষয়টি জেলা প্রশাসক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। তারা দ্রুত জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।’ এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী জামিল উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, ‘ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধের স্থানটি আমরা ইতোমধ্যে পরিদর্শন করেছি। বৈরী আবহাওয়ার কারণে বালুবাহী বার্জ এখনো ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি। তবে জিওটিউব ঘাটে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আমরা আশা করছি, রাতের মধ্যেই ভাঙা বেড়িবাঁধে জরুরি মেরামতকাজ শুরু করা সম্ভব হবে।’ স্থানীয়দের দাবি, জরুরি ভিত্তিতে ভাঙা অংশে জিওব্যাগ বা বালুভর্তি বস্তা ফেলে পানি প্রবেশ বন্ধের ব্যবস্থা না নিলে রাতের জোয়ারে প্লাবিত এলাকার পরিধি আরও বাড়তে পারে। পাশাপাশি স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো দ্রুত সংস্কারের দাবি জানান তারা

নোয়াখালীর হাতিয়ায় নিঝুমদ্বীপে জোয়ারে ভেসে আসা অজ্ঞাত ব্যক্তির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধারে জেলা পুলিশ ও নৌ পুলিশের সমন্বয়হীনতার অভিযোগ উঠেছে। দুই সংস্থার দায়িত্বে টানাপোড়েনে মরদেহটি ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ঘটনাস্থলে পড়ে রয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের হাসি মার্কেট সংলগ্ন ৯ নম্বর ওয়ার্ডের একটি কেওড়া বাগানে জোয়ারের পানির সঙ্গে ভেসে আসা একটি অর্ধগলিত মরদেহ দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, খবর দেওয়ার পরও দীর্ঘ সময় ধরে কোনো সংস্থা মরদেহটি উদ্ধার করতে আসেনি। জেলা পুলিশ ঘটনাস্থলকে নৌ পুলিশের আওতাধীন বলে জানালেও নৌ পুলিশ দাবি করছে, ওই এলাকা তাদের দায়িত্ব সীমার মধ্যে পড়ে না। ফলে দায়িত্ব নির্ধারণ নিয়ে জটিলতায় পড়ে রয়েছে মরদেহটি। স্থানীয়রা জানান, খোলা স্থানে পড়ে থাকায় মরদেহটি দ্রুত পচে যাচ্ছে এবং দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এতে আশপাশের মানুষের মধ্যে চরম ভোগান্তি ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, দায়িত্ব নিয়ে টানাপোড়েন না করে দ্রুত মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করা হোক। একই সঙ্গে পরিচয় শনাক্ত করে স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তরের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা। নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়ন নৌ পুলিশ কেন্দ্রের ইনচার্জ আশিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা মাত্র বিষয়টি জেনেছি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।’ হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশকে ঘটনাস্থলে যেতে বলা হয়েছিল। তবে ঘটনাস্থলটি নদীর কাছাকাছি হওয়ায় এটি নৌ পুলিশের আওতাভুক্ত। নৌ পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী পৌর এলাকায় অভিযান চালিয়ে পারভেজ ও বিপ্লব নামের দুই মাদক কারবারীকে আটক করেছে পুলিশ। এসময় তাদের সাথে থাকা একটি গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ৮০ হাজার ৩৬০পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়। যার বাজার মূল্য প্রায় আড়াই কোটি টাকা। জব্দ করা হয়েছে তাদের ব্যবহৃত জিপ গাড়িটি। বৃহস্পতিবার সকালে চৌমুহনী পৌরসভার করিমপুর রূপসা শপিং কমপ্লেক্স এর সামনে থেকে তাদের আটক করা হয়। আটকৃত পারভেজ ও বিপ্লবের বাড়ি কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলায়। পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চৌমুহনী পৌরসভার করিমপুর রূপসা শপিং কমপ্লেক্সের সামনে অভিযান চালায় বেগমগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ। অভিযান কালে ফেনী-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কে ফেনী থেকে আসা কালো রংয়ের হার্ডজিপকেয়া নামক জীপ গাড়ীর গতিরোধ করা হয়। পরে সেটিতে তল্লাশি চালিয়ে গাড়ীর পিছনে ডান পাশের দরজায় বিশেষভাবে লুকানো অবস্থায় সাদা স্কচটেপ দ্বারা মোড়ানো ৪১টি কাগজের প্যাকেটের মধ্যে ১৯৬টি নীল রংয়ের জীপারযুক্ত পলি ব্যাগে ৮০হাজার ৩৬০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়। বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শামসুজ্জামান জানান, আটককৃত আসামী পারভেজ এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মোট ৬টি মামলা বিচারাধীন। এই ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হবে।

ইঞ্জিন বিকল হয়ে গভীর বঙ্গোপসাগরে ভাসতে থাকা ১৯ জেলেকে মাছ ধরার ট্রলারসহ উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেলে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান। কোস্ট গার্ড জানায়, গত ৮ জুলাই এফবি মা-২ নামক একটি ফিশিং বোট ১৯ জন জেলেসহ হাতিয়া থেকে মাছ ধরার জন্য সাগরে যায়। ১৩ জুলাই ইঞ্জিন বিকল হয়ে বোটটি সমুদ্রে ভাসতে থাকে। দুই দিন পর ১৫ জুলাই মোবাইল নেটওয়ার্কের মধ্যে আসেন তারা। আজ সকাল ১০টায় বোটের এক জেলে কোস্ট গার্ডকে বিষয়টি অবহিত করে। তথ্য পেয়ে তাৎক্ষণিক কোস্ট গার্ড স্টেশন ভাসানচর ও অপারেশন সুরক্ষায় নিয়োজিত জাহাজ বিসিজিএস কুতুবদিয়া উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। পরে চট্টগ্রামের নরম্যান্স পয়েন্ট থেকে পশ্চিমে গভীর সমুদ্র এলাকা থেকে বিকল হওয়া বোটসহ ১৯ জন জেলেকে জীবিত উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত জেলেদের প্রাথমিক চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় খাবার দেওয়া হয়েছে। বোটসহ জেলেদের মালিকপক্ষের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম বলেন, ‘বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দেশের সুবিশাল সমুদ্র উপকূলীয় এবং নদী তীরবর্তী অঞ্চলের নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। একইসঙ্গে সমুদ্রে মৎস্য আহরণে নিয়োজিত জেলেদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড উপকূলীয় জনগণের মাঝে নিরাপত্তা ও আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, জরুরি উদ্ধার কার্যক্রমে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।

নোয়াখালীর হাতিয়ায় জলাবদ্ধতা ও ভেঙে পড়া যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে সময়মতো হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয়নি এক প্রসূতি মাকে। চিকিৎসার অভাবে ঘরেই সন্তানসহ মারা গেছেন নাজমা আক্তার (৩০) নামে এক প্রসূতি। বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইসলামপুর গ্রামে হৃদয়বিদারক এ ঘটনা ঘটে। নিহত নাজমা আক্তার ওই গ্রামের মো. হক সাবের স্ত্রী। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ, অস্বাভাবিক জোয়ার এবং দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় নিঝুমদ্বীপের বিস্তীর্ণ এলাকা এখনও পানির নিচে রয়েছে। গত দুই দিনে কিছু এলাকায় পানি কমলেও বুধবার দুপুরে অতিরিক্ত জোয়ারে ইসলামপুর গ্রামের বিভিন্ন সড়ক, কাঁচা রাস্তা ও চলাচলের পথ আবারও পানিতে তলিয়ে যায়। এতে পুরো এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় বুধবার সকালে নাজমা আক্তারের প্রসববেদনা শুরু হলে স্বজনরা দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু চারপাশে পানি জমে থাকায় কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারেনি। বিকল্পভাবে নৌকায় নেওয়ারও উপযুক্ত ব্যবস্থা না থাকায় তাকে ঘর থেকে বের করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ সময় প্রসব যন্ত্রণার পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও শারীরিক জটিলতা দেখা দিলে একপর্যায়ে ঘরেই অনাগত সন্তানসহ তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, বছরের পর বছর ধরে নিঝুমদ্বীপে দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা এবং জলাবদ্ধতার সমস্যা থাকলেও কার্যকর কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। ফলে জরুরি মুহূর্তে রোগীদের হাসপাতালে পৌঁছানো অনেক সময় অসম্ভব হয়ে পড়ে। ইউপি সদস্য কেফায়েত হোসেন বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে জোয়ারের পানি ও জলাবদ্ধতায় নিঝুমদ্বীপের নিম্নাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। অনেক এলাকায় সড়ক পানির নিচে থাকায় জরুরি রোগীদের হাসপাতালে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। নাজমা আক্তারের মৃত্যু সেই দুর্ভোগেরই করুণ উদাহরণ। আমরা এমন মৃত্যু আর দেখতে চাই না।’ স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক বেলাল উদ্দিন বলেন, ‘নিঝুমদ্বীপে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের বসবাস হলেও এখানকার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক। কার্যত জরুরি চিকিৎসা পাওয়ার মতো কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেই। পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের অধীনে একটি স্বাভাবিক (নরমাল) প্রসবসেবা কেন্দ্র এবং তিনটি কমিউনিটি ক্লিনিক থাকলেও সেগুলোতে প্রয়োজনীয় জনবল, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও সেবার ঘাটতি রয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিশেষ করে প্রসূতি মা, শিশু, বৃদ্ধ ও জরুরি রোগীদের জন্য পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ।’ তিনি আরও বলেন, ‘কোনো রোগীর অবস্থা গুরুতর হলে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিতে হয়। কিন্তু দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া, জোয়ার-ভাটা, জলাবদ্ধতা ও যাতায়াত সংকটের কারণে অনেক সময় রোগীকে সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছানো সম্ভব হয় না। নাজমা আক্তারের মৃত্যু এ অঞ্চলের ভঙ্গুর স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও যোগাযোগ সংকটের একটি নির্মম উদাহরণ। অবিলম্বে নিঝুমদ্বীপে একটি পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ২৪ ঘণ্টা মাতৃসেবা এবং জরুরি রোগী পরিবহনের ব্যবস্থা চালু করা না হলে ভবিষ্যতে আরও এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটতে পারে।’ নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লাভলী আক্তার বলেন, ‘নাজমা আক্তারের আগে দুটি সন্তান রয়েছে। এটি ছিল তার তৃতীয় সন্তান। চারপাশে জোয়ারের পানি, চলাচলের মতো রাস্তা নেই। ফলে ঘরের ভেতরেই সন্তানসহ প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। আমাদের এখানে ভালো রাস্তা নেই, উন্নত স্বাস্থ্যসেবাও নেই। মানুষের সামান্য চিকিৎসা পেতেও অনেক কষ্ট করতে হয়। এই মৃত্যুর দায় অবকাঠামোগত সংকট এড়াতে পারে না।’

বিশ্বজুড়ে মানুষের খাদ্য তালিকায় প্রোটিনের অন্যতম প্রধান উৎস এখন পোলট্রি বা ফার্মের মুরগির মাংস। জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং মানুষের অর্থনৈতিক উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে এই মাংসের চাহিদাও দিন দিন বাড়ছে। তবে এই প্রতিযোগিতায় বিশ্ববাজারে এখনো বেশ পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (FAO) তথ্যমতে, বিশ্বে মুরগির মাংস উৎপাদনে শীর্ষ ৫০টি দেশের মধ্যেও নেই বাংলাদেশ। প্রতিবেশী ভারত, পাকিস্তান, এমনকি শ্রীলঙ্কাও এক্ষেত্রে বাংলাদেশের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে। কোন অবস্থানে বাংলাদেশ জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার বৈশ্বিক উৎপাদন ডাটাবেজের (FAOSTAT) সর্বশেষ তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০২৪ সালে বাংলাদেশে ফার্মের মুরগির (তাজা ও প্রক্রিয়াজাত) মোট উৎপাদন হয়েছে ২ লাখ ৩২ হাজার ৫০৭ দশমিক ৬৭ মেট্রিক টন। এই উৎপাদন নিয়ে বিশ্বের ১৮৭টি দেশ ও অঞ্চলের মধ্যে বাংলাদেশ ৫৩তম অবস্থানে জায়গা করে নিয়েছে। মন্ত্রীর কথোপকথন ভাইরাল / ‘এরা তো ফার্মের মুরগি, বৃষ্টিতে ভিজলেই জ্বর আসবে’ দেশের অভ্যন্তরে পোলট্রি শিল্পের ব্যাপক প্রসার ঘটলেও বৈশ্বিক বাজারে উৎপাদন ও প্রতিযোগিতার দৌড়ে বাংলাদেশ এখনো বেশ পেছনে রয়েছে। বিশেষ করে আধুনিক প্রযুক্তির অভাব, পোলট্রি খাদ্যের উচ্চমূল্য এবং খামারিদের সঠিক প্রশিক্ষণের ঘাটতি এই খাতে আশানুরূপ অগ্রগতি অর্জনে বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে। দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ কত নম্বরে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ফার্মের মুরগি উৎপাদনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ শীর্ষ তিন দেশের মধ্যে জায়গা করতে পারেনি। এফএও-এর ডেটা অনুযায়ী, এই অঞ্চলে উৎপাদনের দিক থেকে বাংলাদেশ বর্তমানে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় সবার ওপরে রয়েছে প্রতিবেশী দেশ ভারত। এরপর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তান। অবাক করার মতো বিষয় হলো, জনসংখ্যার দিক থেকে ছোট দেশ হলেও মুরগি উৎপাদনে শ্রীলঙ্কাও বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে এবং তারা তৃতীয় স্থান দখল করেছে। বাংলাদেশের ঠিক পরে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে নেপাল। আর যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তান ও ছোট দেশ ভুটান তালিকার অনেক পেছনে পড়ে আছে। উৎপাদনে বিশ্বসেরা যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বজুড়ে ফার্মের মুরগি উৎপাদনের ক্ষেত্রে একক আধিপত্য বজায় রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। ২০২৪ সালের হিসাব অনুযায়ী, দেশটিতে রেকর্ড ২ কোটি ১৭ লাখ ৬৬ হাজার ৩৭ মেট্রিক টন মুরগির মাংস উৎপাদিত হয়েছে। ফার্মের মুরগি: জঙ্গল থেকে আধুনিক ব্রয়লার হয়ে ওঠার যাত্রা যুক্তরাষ্ট্রের এই বিশাল সাফল্যের পেছনে রয়েছে তাদের শতভাগ আধুনিক ও স্বয়ংক্রিয় খামার ব্যবস্থাপনা। উন্নত জাতের মুরগি প্রতিপালন, কঠোর জৈব-নিরাপত্তা (বায়োসিকিউরিটি) এবং সরকারি প্রণোদনার কারণে তারা বিশ্বের এক নম্বর পোলট্রি উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে পেরেছে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে চীন ও ব্রাজিল উৎপাদনের বিশ্বতালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের পরেই দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে এশিয়ার পরাশক্তি চীন। ২০২৪ সালে চীনের মোট উৎপাদন ছিল ১ কোটি ৬০ লাখ ৬৬ হাজার ৭৮৯ দশমিক ৫৮ মেট্রিক টন। চীনের বিশাল জনসংখ্যার মাংসের চাহিদা মেটাতে দেশটির সরকার পোলট্রি শিল্পে বড় ধরনের বিনিয়োগ করে আসছে। অন্যদিকে, তৃতীয় স্থান দখল করে রেখেছে লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিল। ২০২৪ সালে ব্রাজিলে মুরগির মাংস উৎপাদিত হয়েছে ১ কোটি ৩৭ লাখ ১৪ হাজার ৭০১ দশমিক ৬৯ মেট্রিক টন। ব্রাজিল শুধু উৎপাদনেই সেরা নয়, তারা বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ মুরগির মাংস রপ্তানিকারক দেশও বটে। মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার বহু দেশে ব্রাজিলের হিমায়িত মুরগির মাংস নিয়মিত রপ্তানি হয়। রাশিয়া ও ভারতের অবস্থান এফএও-এর তালিকায় চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে রাশিয়া। ২০২৪ সালে দেশটির খামারগুলো থেকে মোট ৫৪ লাখ ৫৭ হাজার ৩২৯ দশমিক ৮০ মেট্রিক টন মুরগির মাংস উৎপাদিত হয়েছে। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও রাশিয়া তাদের অভ্যন্তরীণ পোলট্রি শিল্পকে বেশ শক্তিশালী করে তুলেছে। অন্যদিকে, ৫০ লাখ ১৯ হাজার ৪১০ মেট্রিক টন উৎপাদন নিয়ে বিশ্বে পঞ্চম স্থানে রয়েছে প্রতিবেশী দেশ ভারত। তাদের বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজার এবং পোলট্রি ফিড বা খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা তাদের এই অবস্থানে আসতে সাহায্য করেছে। শীর্ষ ১০ দেশের বাকিরা তালিকায় ষষ্ঠ থেকে দশম স্থানের মধ্যেও বেশ কিছু দেশের চমকপ্রদ উৎপাদন লক্ষ্য করা গেছে। ৪১ লাখ ৭৯ হাজার ৪৪৪ দশমিক ২০ মেট্রিক টন উৎপাদন নিয়ে ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ইন্দোনেশিয়া। এর ঠিক পরেই ৪০ লাখ ১৩ হাজার ২১৫ দশমিক ৮২ মেট্রিক টন উৎপাদন নিয়ে সপ্তম স্থানে রয়েছে মেক্সিকো। অষ্টম স্থানে জায়গা করে নিয়েছে আফ্রিকার দেশ মিশর, যাদের উৎপাদন ২৫ লাখ ৯৮ হাজার ৬০৩ দশমিক ৫২ মেট্রিক টন। নবম স্থানে রয়েছে তুরস্ক, তাদের উৎপাদন ২৫ লাখ ১২ হাজার ১৩০ দশমিক ৮৬ মেট্রিক টন। আর ২৪ লাখ ৬৬ হাজার ৯৬৬ দশমিক ৫৯ মেট্রিক টন উৎপাদন নিয়ে শীর্ষ ১০ দেশের তালিকা শেষ করেছে এশিয়ার উন্নত দেশ জাপান। এফএও-এর এই ডাটাবেজ থেকে স্পষ্ট যে, বাংলাদেশের পোলট্রি শিল্পে এখনো বিশাল উন্নতির সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ বর্তমানে ৫৩তম অবস্থানে থাকলেও অভ্যন্তরীণ বাজারে ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। দেশে পোলট্রি খাতের মাধ্যমে লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। তবে খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে মুরগির মাংসের উৎপাদন আরও বাড়াতে হলে পোলট্রি ফিডের দাম কমাতে হবে। কারণ মুরগি উৎপাদনের মোট খরচের প্রায় ৭০ শতাংশই চলে যায় খাদ্যের পেছনে। এছাড়া খামারিদের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করা এবং বার্ড ফ্লুসহ বিভিন্ন রোগবালাই প্রতিরোধে উন্নত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ বিশ্বতালিকায় আরও অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারবে।

নরসিংদীতে তিন মাস বয়সী এক শিশুর পা মুচড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার আপন চাচির বিরুদ্ধে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাতে সমাজসেবা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা বাদী হয়ে মাধবদী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ভুক্তভোগী শিশুটির নাম রিজিক। সে সদর উপজেলার মাধবদী থানার আমদিয়া ইউনিয়নের চাঁনগাঁও গ্রামের জহিরুল হক জহির ও সাইফা বেগমের সন্তান। এর আগে গতকাল বিকেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অভিযুক্ত চাচি লতা বেগমের (৩২) স্বামীসহ পরিবারের ৩ সদস্যকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযুক্তের স্বামী কাউছার আহমেদ ও শ্বশুর আলমাছ মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত চাচি পলাতক রয়েছেন। মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, এ ঘটনায় ২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযুক্ত চাচি লতা বেগম পলাতক রয়েছেন। শিশুটির বাবা-মা অভিযুক্তদের সঙ্গে থাকেন, এক সঙ্গে কাজ করেন। তারা কারো বিরুদ্ধে মামলা করতে চাচ্ছেন না। তবে এমন নিষ্ঠুর আচরণে বিচারের দায়িত্ব তো রাষ্ট্র নেবেই। সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে জেলা সমাজসেবা অফিসার বাদী হয়ে মামলা করেছেন। এ ঘটনায় একটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়েছে। অভিযুক্তের স্বামী কাউছার আহমেদ ও শ্বশুর আলমাছ মিয়া গ্রেপ্তার তিনি আরও বলেন, আমরা আজ বাচ্চাকে জেলা হাসপাতালে পাঠাচ্ছি। তারা এক্সরে করে মতামত দেবে। তবে পা ভাঙেনি এটা পরিবারের দাবি। অভিযুক্ত লতা বেগম যে কাজটা করেছে তার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এর আগে শিশুটির বাবা জহিরুল হক জহির ও মা সাইফা জানান, এটি সম্পূর্ণ তাদের পারিবারিক বিষয় এবং তিন দিন আগেই পারিবারিকভাবে এর মীমাংসা হয়ে গেছে। শিশুটি বর্তমানে সুস্থ রয়েছে এবং তার পা ভাঙেনি। পায়ে ব্যান্ডেজ বা কোনো চিকিৎসারও প্রয়োজন হয়নি। তাই এ নিয়ে তাদের কোনো অভিযোগ নেই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কেউ একজন মনগড়া তথ্য দিয়ে ভিডিওটি ছাড়িয়েছে। ভিডিওটি এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence) দিয়ে বানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল করা হয়েছে বলেও দাবি করেছিল শিশুটির পরিবার। পরে এ ঘটনায় অভিযুক্তকে তারা মাফ করে দিয়েছেন বলে দাবি করেন। প্রসঙ্গত, প্রায় ৫ দিন আগের এই ঘটনার একটি ভিডিও গত ১৪ জুলাই দুপুরে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দাবি করা হয়, পারিবারিক বিরোধের জেরে শিশুটির পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নজরে আসার পরপরই অনুসন্ধানে নামে পুলিশ। পুলিশি সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক কলহের জেরে রাগের বশে লতা বেগম ঘরে ঢুকে ৩ মাস বয়সী শিশু রিজিকের পা মোচড় দেন। সে সময় শিশুটির মায়ের গোপনে রেখে যাওয়া মোবাইল ফোনে দৃশ্যটি ধারণ হয়ে যায়। পরে গত ১১ জুলাই তিনি ভিডিওটি তার ভাই ইব্রাহিমকে দেন। তবে কারা এবং কীভাবে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এদিকে, ভাইরাল হওয়া তথ্যের সঙ্গে শিশুটির মা-বাবার বক্তব্যের অমিল পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ওসির তথ্যমতে, শিশুর পা ভাঙার দাবিটি সত্য নয়। তবে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তসহ অভিযুক্ত লতা বেগমের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পলাতক লতা বেগমকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেছেন, জুলাই গণহত্যার দায়ে শেখ হাসিনার জন্য ফাঁসির দড়ি প্রস্তুত করা হচ্ছে। সোমবার (১৩ জুলাই) নোয়াখালী কলেজের ২০২৫-২৬ সেশনের অনার্স প্রথম বর্ষের নবীনবরণ ও শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার গাইডলাইন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, শেখ হাসিনা দেশে আসবো আসবো বলে শুনছি। এদিকে সরকার জুলাই গণহত্যার দায়ে তার জন্য ফাঁসির দড়িও প্রস্তুত করছে। আমরা চাই তিনি (শেখ হাসিনা) তাড়াতাড়ি আসুক আর রায়ও দ্রুত কার্যকর হোক। শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে শিবির সভাপতি বলেন, আপনাকে আসতেই হবে এবং বাংলাদেশে যে গণহত্যা চালিয়েছেন, তার জন্য বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। আপনি দেশে যে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছেন তা আজ পরিষ্কার হয়ে গেছে। আদালতও আপনার বিচারের রায় ঘোষণা করে রেখেছে। সাদ্দাম আরও বলেন, আমরা সরকারকে বলেছি। তিনি (শেখ হাসিনা) একটা বিষধর সাপ। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতেই হবে। মাঝে মাঝে বার্তা দিয়ে তিনি হুঙ্কার ছাড়েন। ডিসেম্বরে দেশে আসছেন। আমরা জানি তার এ ডিসেম্বর কেয়ামত পর্যন্তও দেশে আসবে না। শিবির সভাপতি অভিযোগ করে বলেন, জুলাই পরবর্তীসময়ে দেশের প্রশাসনগুলোতে নগ্ন দলীয়করণ চলছে। সাদা দল না করলে কোনো জায়গায় ভিসি হতে পারবে না। দুনিয়াতে আর কোনো শিক্ষক নেই যাদের কোয়ালিটি আছে। শুধুমাত্র ছাত্রদল-বিএনপি করলে কোয়ালিটি ঠিক থাকে। নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, এমন সিস্টেমকে আমরা ধিক্কার জানাই। নির্বাচন না দিয়ে তারা নিজেদের প্রশাসক বসিয়েছে। এ সিস্টেমের নতুন বন্দোবস্ত আমরা চাইনি। ছাত্ররা এজন্য জীবন দেয়নি। ছাত্র সংসদ ও ক্যাম্পাস রাজনীতি নিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন দিলে কী হয়, সেগুলো আপনারা ডাকসু, চাকসু, রাকসুতে দেখেছেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখতে পারছেন। সেখানে কোনো হল-বাণিজ্য, ভর্তি-বাণিজ্য, সিট দখল চলে না। চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজি চলে না। গাঁজা, হেরোইন, ইয়াবার ব্যবসাসহ সব কিছু যখন বন্ধ হয়ে গেছে, তখন তাদের নেতার মিছিল করার জন্য গাঁজাখোর টোকাইদের ৩০০-৫০০ টাকা দিয়ে ভাড়া করে নেতৃত্ব জাহির করছে। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের আমির ইসহাক খন্দকার, নোয়াখালী শহর জামায়াতের সভাপতি আবদুল্লাহ আল মাহবুব, সেক্রেটারি মো. বোরহান উদ্দিন, নোয়াখালী কলেজ সভাপতি আবদুল কাদের আল-আমিন, সেক্রেটারি মো. ইব্রাহিম প্রমুখ