

মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের আবহাওয়া পরিস্থিতিতে পরিবর্তনের আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এরই ধারাবাহিকতায় সারাদেশে বজ্রসহ বৃষ্টির আভাস দিয়েছে সংস্থাটি। আজ (সোমবার) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ খোঃ হাফিজুর রহমানের দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়। আবহাওয়া অফিস জানায়, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। আগামীকাল (মঙ্গলবার) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। বুধবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

শিশুদের অনলাইন ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দিতে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে ইন্দোনেশিয়া সরকার। ২৮ মার্চ থেকে ধাপে ধাপে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হবে। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে শিশু-কিশোরদের অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করা হবে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দেশটির যোগাযোগ ও ডিজিটালবিষয়ক মন্ত্রী মুত্যা হাফিদ। প্রাথমিকভাবে যেসব প্ল্যাটফর্মে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হবে তার মধ্যে রয়েছে ইউটিউব, টিকটক, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, থ্রেডস, এক্স, বিগো লাইভ এবং রোবলক্স। মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে অনেক শিশু পর্নোগ্রাফি, সাইবার বুলিং, অনলাইন প্রতারণা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্তির মতো ঝুঁকির মুখে পড়ছে। অ্যালগরিদমভিত্তিক বড় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে এই অসম লড়াইয়ে অভিভাবকদের একা না রেখে সহায়তা করতেই সরকার এই উদ্যোগ নিয়েছে। ইউনিসেফ–এর এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির প্রায় অর্ধেক শিশু কোনো না কোনোভাবে অনলাইনে যৌনধর্মী কনটেন্টের মুখোমুখি হয়েছে। সরকারের এ সিদ্ধান্তকে অনেক কর্মজীবী অভিভাবক স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, সন্তানদের অনলাইন কার্যক্রম সব সময় পর্যবেক্ষণ করা কঠিন হওয়ায় এই নিয়ম তাদের দুশ্চিন্তা কিছুটা কমাবে। তবে কিছু কিশোর মনে করছে, সব প্ল্যাটফর্ম পুরোপুরি বন্ধ না করে বিকল্প ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারত। তাদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বর্তমানে তরুণদের বিনোদনের বড় অংশ হওয়ায় টেলিভিশনে মানসম্মত ও শিক্ষামূলক অনুষ্ঠানের সুযোগও বাড়ানো প্রয়োজন। নীতি গবেষক ও অধিকারকর্মীরা বলছেন, শুধু বয়সসীমা নির্ধারণ করলেই সমস্যা পুরোপুরি সমাধান হবে না। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও শক্ত নীতিমালা ও সুরক্ষা ব্যবস্থা প্রয়োজন। এর আগে গত ডিসেম্বরে অস্ট্রেলিয়া শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা আরোপ করে। একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে স্পেন এবং এ বিষয়ে জনমত সংগ্রহ শুরু করেছে যুক্তরাজ্য সরকার।

৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। বিশ্বব্যাপী নারীর অধিকার, মর্যাদা ও সমতার দাবিকে সামনে এনে উদযাপিত হয় এই দিনটি। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিবসটি উপলক্ষে র্যালি, আলোচনা সভা, মানববন্ধন, সেমিনার এবং গণমাধ্যমে বিশেষ আয়োজন করা হয়। এই দিবসের মাধ্যমে নারীর অধিকার, নিরাপত্তা ও সামাজিক মর্যাদা নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা সামনে আসে। অনেক সংগঠন নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ, অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণের দাবি তুলে ধরে। তবে নারী দিবসকে কেন্দ্র করে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও আলোচিত হয়—ইসলাম নারীর মর্যাদা ও অধিকার সম্পর্কে কী দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করেছে। বিজ্ঞাপন নারী দিবসের ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এর সূচনা ঘটে শ্রমজীবী নারীদের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। ১৮৫৭ সালের ৮ মার্চ নিউইয়র্কের একটি সেলাই কারখানার নারী শ্রমিকরা অমানবিক কর্মপরিবেশ, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা এবং কম মজুরির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন। তাদের এই আন্দোলন পরবর্তীতে নারীর অধিকার আন্দোলনের ভিত্তি তৈরি করে। এরপর ১৯১০ সালে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সমাজতান্ত্রিক নারী সম্মেলনে জার্মান সমাজতান্ত্রিক নেত্রী ক্লারা জেটকিন ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালনের প্রস্তাব দেন। পরবর্তীতে জাতিসংঘ ১৯৭৫ সাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দিবসটি উদযাপন শুরু করে। তখন থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এটি নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতীক হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। তবে ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি বিবেচনা করলে দেখা যায়, নারী অধিকার প্রতিষ্ঠার ধারণা আধুনিক যুগে সৃষ্টি হয়নি। বরং প্রায় পনেরো শত বছর আগে ইসলাম নারীর সম্মান ও অধিকার নিশ্চিত করেছে। ইসলামের আবির্ভাবের পূর্বে পৃথিবীর বিভিন্ন সমাজে নারীর অবস্থা ছিল অত্যন্ত করুণ। বিশেষত আরবের জাহেলি যুগে নারীদের প্রতি অবমাননাকর আচরণ করা হতো। কন্যাসন্তান জন্মগ্রহণকে লজ্জাজনক মনে করা হতো এবং অনেক ক্ষেত্রে জীবন্ত কন্যাশিশুকে মাটিতে পুঁতে ফেলার মতো নিষ্ঠুর ঘটনাও ঘটত। নারীদের উত্তরাধিকার বা সম্পত্তির অধিকার ছিল না। তারা ছিল সামাজিকভাবে অবহেলিত ও নির্যাতিত। শুধু আরব সমাজেই নয়, পৃথিবীর অনেক সভ্যতায় নারীর মর্যাদা প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। কিছু ধর্মীয় ও সামাজিক মতবাদে নারীকে পাপের উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হতো। অনেক ক্ষেত্রে নারীকে কেবল ভোগের বস্তু হিসেবে দেখা হতো এবং তাদের মানবিক মর্যাদা অস্বীকার করা হতো। এমন একটি অন্ধকারাচ্ছন্ন সমাজব্যবস্থার মধ্যে ইসলাম আবির্ভূত হয়ে নারীর সম্মান, মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠা করে। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) মানবজাতির জন্য যে জীবনব্যবস্থা উপস্থাপন করেছেন, তার মধ্যে নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য ন্যায় ও ভারসাম্যপূর্ণ অধিকার নির্ধারণ করা হয়েছে। ইসলাম মানুষের মৌলিক মর্যাদাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। আল্লাহ তাআলা মানুষকে সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব হিসেবে মর্যাদা দিয়েছেন এবং নারী-পুরুষ উভয়ই এই মর্যাদার অংশীদার। মানব সমাজ নারী ও পুরুষের সম্মিলিত অস্তিত্বের ওপর প্রতিষ্ঠিত। একে অপরের পরিপূরক হিসেবেই তারা পৃথিবীতে জীবনযাপন করে। নারী ছাড়া পুরুষের কিংবা পুরুষ ছাড়া নারীর অস্তিত্ব ও সামাজিক কাঠামো কল্পনা করা যায় না। তাই ইসলাম নারীকে সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ইসলাম পরিবারকে কেন্দ্রীয় গুরুত্ব দিয়েছে। একজন নারী মা হিসেবে যে মর্যাদা লাভ করেন তা ইসলামে অত্যন্ত উচ্চ। হাদিসে বর্ণিত আছে, ‘মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের জান্নাত।’ এই বক্তব্যের মাধ্যমে মায়ের সম্মান ও মর্যাদা কতটা উচ্চ তা স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। কোরআনেও মায়ের কষ্ট ও ত্যাগের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। সন্তানকে গর্ভধারণ, জন্মদান ও লালন-পালনের কঠিন দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে আল্লাহ তাআলা সন্তানদের পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণের নির্দেশ দিয়েছেন। স্ত্রী হিসেবে নারীর অধিকারও ইসলাম সুস্পষ্টভাবে নির্ধারণ করেছে। ইসলামে বিবাহের সময় স্বামীর ওপর স্ত্রীকে মোহরানা প্রদান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এটি নারীর আর্থিক নিরাপত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। কোরআনে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, স্বামীরা যেন আনন্দের সাথে তাদের স্ত্রীদের মোহর প্রদান করে। এর মাধ্যমে ইসলাম নারীর সম্মান ও স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্বকে স্বীকৃতি দিয়েছে। ইসলামে নারীর অর্থনৈতিক অধিকারও নিশ্চিত করা হয়েছে। নারী নিজের সম্পদের মালিক হতে পারে এবং সে তার সম্পদ স্বাধীনভাবে ব্যবহার করার অধিকার রাখে। একইভাবে উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রেও নারীর নির্দিষ্ট অংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। ইসলামের আগের সমাজে যেখানে নারীরা উত্তরাধিকার থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত ছিল, সেখানে ইসলাম তাদের জন্য সুস্পষ্ট অংশ নির্ধারণ করে দিয়েছে। এটি নারীর আর্থিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এছাড়া ইসলাম কন্যাসন্তানকে অবহেলা করার পরিবর্তে তাদের লালন-পালনের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। মহানবী (সা.) বলেছেন, যার তিনটি কন্যাসন্তান আছে এবং সে তাদের সঠিকভাবে লালন-পালন করে, তাদের প্রতি সদয় আচরণ করে, তার জন্য জান্নাত অবধারিত। এই শিক্ষা সমাজে কন্যাসন্তানের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করেছে এবং নারীর সম্মানকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ইসলাম নারীর ইজ্জত ও সম্মান রক্ষার জন্য পর্দার বিধান প্রবর্তন করেছে। কোরআনে নারী ও পুরুষ উভয়কেই দৃষ্টি সংযত রাখা এবং পবিত্রতা রক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পর্দা মূলত নারীর নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষার একটি সামাজিক ব্যবস্থা। এটি নারীকে বন্দি করার জন্য নয়, বরং তাকে সম্মান ও সুরক্ষা দেওয়ার জন্য প্রণীত। ইসলাম নারীদের প্রয়োজনের ক্ষেত্রে সমাজে অংশগ্রহণের অনুমতিও দিয়েছে, তবে তা শালীনতা ও নৈতিকতার সীমার মধ্যে থেকে। ইসলাম নারী-পুরুষের অধিকারকে সম্পূর্ণ সমান করে দেখেনি; বরং তাদের স্বভাব, দায়িত্ব ও সামাজিক ভূমিকার ভিত্তিতে ভারসাম্যপূর্ণ অধিকার নির্ধারণ করেছে। কিছু ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের অধিকার সমান, আবার কিছু ক্ষেত্রে ভিন্ন। তবে এই পার্থক্য কোনোভাবেই নারীর মর্যাদা হ্রাস করে না; বরং এটি সমাজের ভারসাম্য রক্ষার জন্য নির্ধারিত হয়েছে। মহানবী (সা.) নারীদের সাথে সদাচরণ করার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম, যে তার স্ত্রীর কাছে উত্তম।’ এই হাদিস থেকে বোঝা যায় যে, পারিবারিক জীবনে নারীর প্রতি সদ্ব্যবহার ইসলাম অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে। নারী দিবস বছরে একদিন নারীর অধিকার ও মর্যাদার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। কিন্তু ইসলাম নারীর সম্মানকে কোনো নির্দিষ্ট দিবসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেনি। বরং ইসলামের জীবনব্যবস্থা নারীকে প্রতিদিন, প্রতিটি অবস্থায় সম্মান ও মর্যাদা প্রদান করেছে। একজন নারী মাতা, কন্যা, স্ত্রী বা সমাজের সদস্য—সব অবস্থাতেই ইসলাম তাকে যথাযথ মর্যাদা দিয়েছে। নারীর প্রকৃত সম্মান ও অধিকার নিশ্চিত করতে হলে ইসলামের নির্দেশনাকে সঠিকভাবে বুঝতে হবে এবং তা বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করতে হবে। ইসলাম সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে অনেক সময় নারীর অধিকার নিয়ে ভুল ধারণা তৈরি হয়। তাই সমাজের সবাইকে সচেতন হয়ে ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা তুলে ধরতে হবে, যাতে নারী তার প্রকৃত মর্যাদা ও সম্মান লাভ করতে পারে। নারীর অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা কেবল একটি দিবস পালনের মাধ্যমে সম্ভব নয়; বরং এটি একটি অব্যাহত সামাজিক দায়িত্ব। ইসলাম এই দায়িত্ব পালনের জন্য একটি ন্যায়ভিত্তিক ও ভারসাম্যপূর্ণ পথ নির্দেশ করেছে, যা অনুসরণ করলে নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্য একটি সম্মানজনক ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

ইরানের ১৬টি যুদ্ধবিমান ধ্বংস করার দাবি করেছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। আজ রোববার এক বিবৃতিতে আইডিএফ জানিয়েছে, ধ্বংস হওয়া বিমানগুলো ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর কুদস বাহিনীর। গতকাল শনিবার রাতে ইরানের মেহরাবাদ বিমানবন্দরে অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলের বিমানবাহিনী (আইএএফ)। সেই অভিযানেই বিমনগুলো ধ্বংস হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে বিবৃতিতে। এ প্রসঙ্গে ইরান কিংবা আইআরজিসির পক্ষ থেকে এখনও কোনো দাপ্তরিক প্রতিক্রিয়া আসেনি। কুদস বাহিনী বা কুদস ব্রিগেড আইআরজিসির বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্রিগেড। নিয়মিত নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা দায়িত্বের পাশপাাশি হিজবুল্লাহ, হামাস-সহ মধ্যপ্রাচ্যে সক্রিয় সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র ও রসদ সরবরাহ করাও কুদস ফোর্সের বিশেষ দায়িত্ব। মেহরাবাদ বিমানবন্দরটিও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি কেবল কুদস ব্রিগেডের ব্যবহারের জন্য এবং এই বিমানবন্দর দিয়েই সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠীকে অস্ত্র ও রসদ সহায়তা প্রদান করে কুদস ফোর্স। ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে সংলাপ চলে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে। ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো প্রকার সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই শেষ হয় সেই সংলাপ। তার পরের দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই সময়ে ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েলও। যুদ্ধের গত ৮ দিনে ইরানের নৌবাহিনীর বেশ কয়েকটি যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করেছে যুক্তরাষ্ট্র। আর ইসরায়েল মনোযোগ দিয়েছে ইরানের বিমানবাহিনীর দিকে। সূত্র : এএফপি

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মাঝপথে ভারতের তারকা ক্রিকেটার রিংকু সিং তার বাবাকে হারান। ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান খানচাঁদ সিং। তার মৃত্যু শোক নিয়েই বিশ্বকাপে খেলে গেছেন এই ব্যাটার। এবার শোকাহত হৃদয় নিয়ে ফাইনাল খেললেন ভারতের আরেক তারকা– ইশান কিষাণ। ফাইনালের দুই দিন আগে পরিবারের দুই সদসদ্যকে হারিয়েছেন ভারতের এই ব্যাটার। তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় রাতে তাই শোকের সঙ্গেও লড়তে হয়েছে তাকে। এবং তিনি সফল। ব্যাট হাতে ২৫ বলে ৫৪ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেছেন তিনি। ফিল্ডিংয়ে দারুণ অবদান রাখেন তিনটি দুর্দান্ত ক্যাচ নিয়ে। নিউজিল্যান্ডকে ৯৬ রানে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিতে মাঠে যখন উদযাপন করছিলেন ক্রিকেটাররা, তখন ইশানের চোখেমুখে আনন্দের সঙ্গে বিষাদের ছায়া। তার মামাতো বোন ও ভগ্নিপতি একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার সময় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন। ইশানের বাবা প্রণভ পান্ডে ছেলের ফাইনালের ট্রেনিং ও ম্যাচ দেখতে আহমেদাবাদে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এজন্য পাটনা বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তাকে শিলিগুঁড়ি চলে যেতে হয়। যখন আহমেদাবাদের পথে থাকার কথা, দুই আত্মীয়ের মরদেহ নিতে তখন মর্গের সামনে অপেক্ষা করছিলেন তিনি। ম্যাচের আগ দিয়ে প্রণবের উদ্ধৃতি দিয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়া লেখে, ‘আমাদের সর্বনাশ হয়ে গেছে। আমরা খুবই বড় সমস্যায় আছি। আমরা সবাই হতভম্ব। ইশান আমাদের সঙ্গে আসতে চেয়েছিল। কিন্তু ফাইনালের কারণে আসেনি। সে সত্যিই বিমর্ষ।’ আবেগের সঙ্গে সংগ্রাম করতে থাকা ইশান যখন ফিফটি করলেন, তখন ড্রেসিং রুমের দিকে ব্যাট তাক করে উদযাপন করলেন, তারপর আকাশের দিকে, যেটা সাধারণত দেখা যায় না। হয়তো ঝলমলে ইনিংস তার বোন ও ভগ্নিপতিকে উৎসর্গ করলেন!

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছেলের নাম মোজতবা খামেনির নাম ঘোষণা করা হয়েছে। ফক্স নিউজের উপস্থাপক ব্রায়ান কিলমিড বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে বলেছেন, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনিকে নির্বাচিত করার ব্যাপারে ‘আমি খুশি নই’। তবে ট্রাম্প এখনো এই পদক্ষেপ সম্পর্কে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি। এর দ্য টাইমস অফ ইসরায়েল জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতার নিয়োগ নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি কেবল বলেছেন, আমরা দেখব কী হয়। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম বলছে, ট্রাম্প বলেছেন যে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে তিনি নেতানিয়াহুর সঙ্গে ‘পারস্পরিক’ সিদ্ধান্ত নেবেন। তিনি বলেন, আমি মনে করি এটি পারস্পরিক... কিছুটা। আমরা কথা বলছি। আমি সঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত নেব, তবে সবকিছু বিবেচনায় নেওয়া হবে। ট্রাম্প ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হার্জগকে দুর্নীতির অভিযোগে বিচারাধীন নেতানিয়াহুকে ক্ষমা করার জন্যও অনুরোধ করেছেন। নেতানিয়াহুর ডাকনাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিবি নেতানিয়াহুকে অবিলম্বে ক্ষমা করা উচিত। আমি মনে করি (হার্জোগ) তা না করে একটি ভয়াবহ কাজ করছেন। আমরা চাই বিবি যুদ্ধের দিকে মনোনিবেশ করুক, হাস্যকর ক্ষমার দিকে নয়। রোববার ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দেশটির প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনির নাম ঘোষণা করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের যৌথ হামলায় গত সপ্তাহে নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি এমন এক সময় এই বিশাল দায়িত্বভার কাঁধে নিলেন যখন দেশটি ৪৭ বছরের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের আবহাওয়া পরিস্থিতিতে পরিবর্তনের আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এরই ধারাবাহিকতায় সারাদেশে বজ্রসহ বৃষ্টির আভাস দিয়েছে সংস্থাটি। আজ (সোমবার) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ খোঃ হাফিজুর রহমানের দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়। আবহাওয়া অফিস জানায়, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। আগামীকাল (মঙ্গলবার) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। বুধবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

সৌদি আরব সতর্কবার্তা দেওয়ার পরেও দেশটির অন্যতম বৃহৎ তেলের খনি শায়েবাহ অয়েলফিল্ড-কে লক্ষ্য করে ফের ড্রোন হামলা করেছে ইরান। আজ সোমবার ভোরের দিকে সৌদির শায়েবাহ তেলখনি লক্ষ্য করে ৪টি বিস্ফোরকবাহী ড্রোন ছুড়েছে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী। অবশ্য তেলখনিতে আঘাত হানার আগেই এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের মাধ্যমে সেসব ড্রোন ধ্বংস করে ফেলতে সক্ষম হয়েছে সৌদি। দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীর বিবৃতিতে নিশ্চিত করা হয়েছে এসব তথ্য। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান মিত্র সৌদি আরব। দেশটিতে একাধিক মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ বাঁধার পর গত ৯ দিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র আরব দেশগুলোর মার্কিন সেনাঘাঁটি, স্থাপনা ও তেল স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে একের পর এক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে ইরান। ৯ দিনে ৩ বার শায়েবাহ তেলখনি লক্ষ্য করে হামলার পর গতকাল রোববার ইরানকে কড়া সতর্কবার্তা দেয় সৌদি আরব। এক বিবৃতিতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ইরান যদি প্রতিবেশী দেশগুলোর তেল অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা অব্যাহত রাখে, তাহলে চলমান যুদ্ধে দেশটির সর্বোচ্চ পরাজয় ঘটবে। এই সতর্কবার্তা দেওয়ার পর ২৪ ঘণ্টা পেরোনোর আগেই চতুর্থবারের মতো শায়েবাহ তেলখনিতে হামলা করল ইরান। সূত্র : আলজাজিরা

শিশুদের অনলাইন ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দিতে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে ইন্দোনেশিয়া সরকার। ২৮ মার্চ থেকে ধাপে ধাপে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হবে। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে শিশু-কিশোরদের অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করা হবে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দেশটির যোগাযোগ ও ডিজিটালবিষয়ক মন্ত্রী মুত্যা হাফিদ। প্রাথমিকভাবে যেসব প্ল্যাটফর্মে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হবে তার মধ্যে রয়েছে ইউটিউব, টিকটক, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, থ্রেডস, এক্স, বিগো লাইভ এবং রোবলক্স। মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে অনেক শিশু পর্নোগ্রাফি, সাইবার বুলিং, অনলাইন প্রতারণা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্তির মতো ঝুঁকির মুখে পড়ছে। অ্যালগরিদমভিত্তিক বড় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে এই অসম লড়াইয়ে অভিভাবকদের একা না রেখে সহায়তা করতেই সরকার এই উদ্যোগ নিয়েছে। ইউনিসেফ–এর এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির প্রায় অর্ধেক শিশু কোনো না কোনোভাবে অনলাইনে যৌনধর্মী কনটেন্টের মুখোমুখি হয়েছে। সরকারের এ সিদ্ধান্তকে অনেক কর্মজীবী অভিভাবক স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, সন্তানদের অনলাইন কার্যক্রম সব সময় পর্যবেক্ষণ করা কঠিন হওয়ায় এই নিয়ম তাদের দুশ্চিন্তা কিছুটা কমাবে। তবে কিছু কিশোর মনে করছে, সব প্ল্যাটফর্ম পুরোপুরি বন্ধ না করে বিকল্প ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারত। তাদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বর্তমানে তরুণদের বিনোদনের বড় অংশ হওয়ায় টেলিভিশনে মানসম্মত ও শিক্ষামূলক অনুষ্ঠানের সুযোগও বাড়ানো প্রয়োজন। নীতি গবেষক ও অধিকারকর্মীরা বলছেন, শুধু বয়সসীমা নির্ধারণ করলেই সমস্যা পুরোপুরি সমাধান হবে না। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও শক্ত নীতিমালা ও সুরক্ষা ব্যবস্থা প্রয়োজন। এর আগে গত ডিসেম্বরে অস্ট্রেলিয়া শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা আরোপ করে। একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে স্পেন এবং এ বিষয়ে জনমত সংগ্রহ শুরু করেছে যুক্তরাজ্য সরকার।

চাটখিল উপজেলায় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংরক্ষণে অনিয়ম এবং জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অভিযোগে দুটি ফিলিং স্টেশনকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। শনিবার (৭ মার্চ) দুপুরে চাটখিল পৌর বাজার এলাকায় অবস্থিত তারাজ ফিলিং স্টেশন ও আনিতাশ ফিলিং স্টেশনে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চাটখিল পৌর বাজার এলাকার ওই দুটি ফিলিং স্টেশনে অভিযান চালান উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নিশাত ফারাবী। অভিযানে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংরক্ষণে অনিয়ম এবং জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে তারাজ ফিলিং স্টেশনকে ৫ হাজার টাকা এবং আনিতাশ ফিলিং স্টেশনকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ বিষয়ে চাটখিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মিজানুর রহমান বলেন, জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলায় দুই ফিলিং স্টেশনকে জরিমানা করা হয়েছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

শুক্রবার (৬ মার্চ) গভীর রাত থেকে শনিবার (৭ মার্চ) দুপুর পর্যন্ত পৃথকভাবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার গভীর রাতে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কবির হোসেনের নির্দেশনায় এসআই প্রতীক পালের নেতৃত্বে আফাজিয়া বাজারে অভিযান চালানো হয়। এ সময় বাজারের সাহেদ ও রিয়াজ উদ্দিনের ভাড়াকৃত একটি গুদাম থেকে ২০০ বস্তা চিনি জব্দ করা হয়। তবে অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে সংশ্লিষ্টরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে শনিবার দুপুরে হাতিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আলাউদ্দিনের নেতৃত্বে আফাজিয়া বাজার এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় হেলাল বেপারী নামে এক ব্যবসায়ীর গুদাম থেকে ৭ বস্তা এবং তার বাড়ি থেকে আরও ৭৮ বস্তা চিনি জব্দ করা হয়। জব্দ করা চিনির বস্তাগুলোর মধ্যে ৬০ কেজি ও ৪৫ কেজি ওজনের বস্তা রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে হাতিয়ার কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বিভিন্ন স্থান থেকে চোরাই মালামাল কম দামে কিনে বেশি দামে বিক্রি করে আসছে। হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলা উদ্দিন বলেন, জব্দ করা চিনিগুলো সংরক্ষণে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তীতে মামলাসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। বিশ্বব্যাপী নারীর অধিকার, মর্যাদা ও সমতার দাবিকে সামনে এনে উদযাপিত হয় এই দিনটি। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিবসটি উপলক্ষে র্যালি, আলোচনা সভা, মানববন্ধন, সেমিনার এবং গণমাধ্যমে বিশেষ আয়োজন করা হয়। এই দিবসের মাধ্যমে নারীর অধিকার, নিরাপত্তা ও সামাজিক মর্যাদা নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা সামনে আসে। অনেক সংগঠন নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ, অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণের দাবি তুলে ধরে। তবে নারী দিবসকে কেন্দ্র করে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও আলোচিত হয়—ইসলাম নারীর মর্যাদা ও অধিকার সম্পর্কে কী দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করেছে। বিজ্ঞাপন নারী দিবসের ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এর সূচনা ঘটে শ্রমজীবী নারীদের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। ১৮৫৭ সালের ৮ মার্চ নিউইয়র্কের একটি সেলাই কারখানার নারী শ্রমিকরা অমানবিক কর্মপরিবেশ, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা এবং কম মজুরির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন। তাদের এই আন্দোলন পরবর্তীতে নারীর অধিকার আন্দোলনের ভিত্তি তৈরি করে। এরপর ১৯১০ সালে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সমাজতান্ত্রিক নারী সম্মেলনে জার্মান সমাজতান্ত্রিক নেত্রী ক্লারা জেটকিন ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালনের প্রস্তাব দেন। পরবর্তীতে জাতিসংঘ ১৯৭৫ সাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দিবসটি উদযাপন শুরু করে। তখন থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এটি নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতীক হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। তবে ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি বিবেচনা করলে দেখা যায়, নারী অধিকার প্রতিষ্ঠার ধারণা আধুনিক যুগে সৃষ্টি হয়নি। বরং প্রায় পনেরো শত বছর আগে ইসলাম নারীর সম্মান ও অধিকার নিশ্চিত করেছে। ইসলামের আবির্ভাবের পূর্বে পৃথিবীর বিভিন্ন সমাজে নারীর অবস্থা ছিল অত্যন্ত করুণ। বিশেষত আরবের জাহেলি যুগে নারীদের প্রতি অবমাননাকর আচরণ করা হতো। কন্যাসন্তান জন্মগ্রহণকে লজ্জাজনক মনে করা হতো এবং অনেক ক্ষেত্রে জীবন্ত কন্যাশিশুকে মাটিতে পুঁতে ফেলার মতো নিষ্ঠুর ঘটনাও ঘটত। নারীদের উত্তরাধিকার বা সম্পত্তির অধিকার ছিল না। তারা ছিল সামাজিকভাবে অবহেলিত ও নির্যাতিত। শুধু আরব সমাজেই নয়, পৃথিবীর অনেক সভ্যতায় নারীর মর্যাদা প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। কিছু ধর্মীয় ও সামাজিক মতবাদে নারীকে পাপের উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হতো। অনেক ক্ষেত্রে নারীকে কেবল ভোগের বস্তু হিসেবে দেখা হতো এবং তাদের মানবিক মর্যাদা অস্বীকার করা হতো। এমন একটি অন্ধকারাচ্ছন্ন সমাজব্যবস্থার মধ্যে ইসলাম আবির্ভূত হয়ে নারীর সম্মান, মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠা করে। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) মানবজাতির জন্য যে জীবনব্যবস্থা উপস্থাপন করেছেন, তার মধ্যে নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য ন্যায় ও ভারসাম্যপূর্ণ অধিকার নির্ধারণ করা হয়েছে। ইসলাম মানুষের মৌলিক মর্যাদাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। আল্লাহ তাআলা মানুষকে সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব হিসেবে মর্যাদা দিয়েছেন এবং নারী-পুরুষ উভয়ই এই মর্যাদার অংশীদার। মানব সমাজ নারী ও পুরুষের সম্মিলিত অস্তিত্বের ওপর প্রতিষ্ঠিত। একে অপরের পরিপূরক হিসেবেই তারা পৃথিবীতে জীবনযাপন করে। নারী ছাড়া পুরুষের কিংবা পুরুষ ছাড়া নারীর অস্তিত্ব ও সামাজিক কাঠামো কল্পনা করা যায় না। তাই ইসলাম নারীকে সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ইসলাম পরিবারকে কেন্দ্রীয় গুরুত্ব দিয়েছে। একজন নারী মা হিসেবে যে মর্যাদা লাভ করেন তা ইসলামে অত্যন্ত উচ্চ। হাদিসে বর্ণিত আছে, ‘মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের জান্নাত।’ এই বক্তব্যের মাধ্যমে মায়ের সম্মান ও মর্যাদা কতটা উচ্চ তা স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। কোরআনেও মায়ের কষ্ট ও ত্যাগের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। সন্তানকে গর্ভধারণ, জন্মদান ও লালন-পালনের কঠিন দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে আল্লাহ তাআলা সন্তানদের পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণের নির্দেশ দিয়েছেন। স্ত্রী হিসেবে নারীর অধিকারও ইসলাম সুস্পষ্টভাবে নির্ধারণ করেছে। ইসলামে বিবাহের সময় স্বামীর ওপর স্ত্রীকে মোহরানা প্রদান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এটি নারীর আর্থিক নিরাপত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। কোরআনে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, স্বামীরা যেন আনন্দের সাথে তাদের স্ত্রীদের মোহর প্রদান করে। এর মাধ্যমে ইসলাম নারীর সম্মান ও স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্বকে স্বীকৃতি দিয়েছে। ইসলামে নারীর অর্থনৈতিক অধিকারও নিশ্চিত করা হয়েছে। নারী নিজের সম্পদের মালিক হতে পারে এবং সে তার সম্পদ স্বাধীনভাবে ব্যবহার করার অধিকার রাখে। একইভাবে উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রেও নারীর নির্দিষ্ট অংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। ইসলামের আগের সমাজে যেখানে নারীরা উত্তরাধিকার থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত ছিল, সেখানে ইসলাম তাদের জন্য সুস্পষ্ট অংশ নির্ধারণ করে দিয়েছে। এটি নারীর আর্থিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এছাড়া ইসলাম কন্যাসন্তানকে অবহেলা করার পরিবর্তে তাদের লালন-পালনের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। মহানবী (সা.) বলেছেন, যার তিনটি কন্যাসন্তান আছে এবং সে তাদের সঠিকভাবে লালন-পালন করে, তাদের প্রতি সদয় আচরণ করে, তার জন্য জান্নাত অবধারিত। এই শিক্ষা সমাজে কন্যাসন্তানের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করেছে এবং নারীর সম্মানকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ইসলাম নারীর ইজ্জত ও সম্মান রক্ষার জন্য পর্দার বিধান প্রবর্তন করেছে। কোরআনে নারী ও পুরুষ উভয়কেই দৃষ্টি সংযত রাখা এবং পবিত্রতা রক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পর্দা মূলত নারীর নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষার একটি সামাজিক ব্যবস্থা। এটি নারীকে বন্দি করার জন্য নয়, বরং তাকে সম্মান ও সুরক্ষা দেওয়ার জন্য প্রণীত। ইসলাম নারীদের প্রয়োজনের ক্ষেত্রে সমাজে অংশগ্রহণের অনুমতিও দিয়েছে, তবে তা শালীনতা ও নৈতিকতার সীমার মধ্যে থেকে। ইসলাম নারী-পুরুষের অধিকারকে সম্পূর্ণ সমান করে দেখেনি; বরং তাদের স্বভাব, দায়িত্ব ও সামাজিক ভূমিকার ভিত্তিতে ভারসাম্যপূর্ণ অধিকার নির্ধারণ করেছে। কিছু ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের অধিকার সমান, আবার কিছু ক্ষেত্রে ভিন্ন। তবে এই পার্থক্য কোনোভাবেই নারীর মর্যাদা হ্রাস করে না; বরং এটি সমাজের ভারসাম্য রক্ষার জন্য নির্ধারিত হয়েছে। মহানবী (সা.) নারীদের সাথে সদাচরণ করার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম, যে তার স্ত্রীর কাছে উত্তম।’ এই হাদিস থেকে বোঝা যায় যে, পারিবারিক জীবনে নারীর প্রতি সদ্ব্যবহার ইসলাম অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে। নারী দিবস বছরে একদিন নারীর অধিকার ও মর্যাদার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। কিন্তু ইসলাম নারীর সম্মানকে কোনো নির্দিষ্ট দিবসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেনি। বরং ইসলামের জীবনব্যবস্থা নারীকে প্রতিদিন, প্রতিটি অবস্থায় সম্মান ও মর্যাদা প্রদান করেছে। একজন নারী মাতা, কন্যা, স্ত্রী বা সমাজের সদস্য—সব অবস্থাতেই ইসলাম তাকে যথাযথ মর্যাদা দিয়েছে। নারীর প্রকৃত সম্মান ও অধিকার নিশ্চিত করতে হলে ইসলামের নির্দেশনাকে সঠিকভাবে বুঝতে হবে এবং তা বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করতে হবে। ইসলাম সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে অনেক সময় নারীর অধিকার নিয়ে ভুল ধারণা তৈরি হয়। তাই সমাজের সবাইকে সচেতন হয়ে ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা তুলে ধরতে হবে, যাতে নারী তার প্রকৃত মর্যাদা ও সম্মান লাভ করতে পারে। নারীর অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা কেবল একটি দিবস পালনের মাধ্যমে সম্ভব নয়; বরং এটি একটি অব্যাহত সামাজিক দায়িত্ব। ইসলাম এই দায়িত্ব পালনের জন্য একটি ন্যায়ভিত্তিক ও ভারসাম্যপূর্ণ পথ নির্দেশ করেছে, যা অনুসরণ করলে নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্য একটি সম্মানজনক ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

ইরানের ১৬টি যুদ্ধবিমান ধ্বংস করার দাবি করেছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। আজ রোববার এক বিবৃতিতে আইডিএফ জানিয়েছে, ধ্বংস হওয়া বিমানগুলো ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর কুদস বাহিনীর। গতকাল শনিবার রাতে ইরানের মেহরাবাদ বিমানবন্দরে অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলের বিমানবাহিনী (আইএএফ)। সেই অভিযানেই বিমনগুলো ধ্বংস হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে বিবৃতিতে। এ প্রসঙ্গে ইরান কিংবা আইআরজিসির পক্ষ থেকে এখনও কোনো দাপ্তরিক প্রতিক্রিয়া আসেনি। কুদস বাহিনী বা কুদস ব্রিগেড আইআরজিসির বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্রিগেড। নিয়মিত নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা দায়িত্বের পাশপাাশি হিজবুল্লাহ, হামাস-সহ মধ্যপ্রাচ্যে সক্রিয় সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র ও রসদ সরবরাহ করাও কুদস ফোর্সের বিশেষ দায়িত্ব। মেহরাবাদ বিমানবন্দরটিও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি কেবল কুদস ব্রিগেডের ব্যবহারের জন্য এবং এই বিমানবন্দর দিয়েই সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠীকে অস্ত্র ও রসদ সহায়তা প্রদান করে কুদস ফোর্স। ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে সংলাপ চলে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে। ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো প্রকার সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই শেষ হয় সেই সংলাপ। তার পরের দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই সময়ে ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েলও। যুদ্ধের গত ৮ দিনে ইরানের নৌবাহিনীর বেশ কয়েকটি যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করেছে যুক্তরাষ্ট্র। আর ইসরায়েল মনোযোগ দিয়েছে ইরানের বিমানবাহিনীর দিকে। সূত্র : এএফপি

মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। শনিবার (৭ মার্চ) ২০টিসহ গত সাত দিনে বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের মোট ২৬৮টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সূত্র ঢাকা পোস্টকে জানায়, যুদ্ধপরিস্থিতিতে আকাশপথ বন্ধের কারণে ঢাকা থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২৩টি, ১ মার্চ ৪০টি ফ্লাইট, ২ মার্চ ৪৬টি এবং ৩ মার্চ ৩৯টি, ৪ মার্চ ২৮টি, ৫ মার্চ ৩৬টি ও ৬ মার্চ ৩৪টি ফ্লাইট বাতিল হয়। শনিবার (আজ) বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে—কুয়েত ২টি, জাজিরা (কুয়েত) ২টি, এয়ার অ্যারাবিয়া (শারজাহ, ইউএই) ৬টি, কাতার ৪টি, গালফ এয়ার (বাহরাইন) ২টি, এমিরেটস এয়ারলাইনস (সংযুক্ত আরব আমিরাত) ৪টি সহ মোট ২০টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত সর্বমোট বাতিল করা ফ্লাইট ২৪৫টি।

নোয়াখালী-৫ (কবিরহাট-কোম্পানীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামের মমতাময়ী মা রিজিয়া বেগম (৮৫) ইন্তেকাল করেছেন। শনিবার (৭ মার্চ) সকাল ১০টা ০৫ মিনিটে রাজধানীর ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। জানা গেছে, রিজিয়া বেগম দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। সর্বশেষ অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজধানীর ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং তিনি লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি ৫ ছেলে ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার মৃত্যুতে নোয়াখালী জেলা বিএনপি ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে তারা মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বাদ জোহর ঢাকায় মরহুমার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মরদেহ নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডে তাদের গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, রাত ১০টায় সেখানে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর মরহুমাকে তার স্বামীর কবরের পাশে দাফন করা হবে। আমার মায়ের রুহের মাগফিরাত কামনায় সবার দোয়া কামনা করছি। এদিকে রিজিয়া বেগমের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এক শোকবার্তায় তিনি মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তিনি আল্লাহর কাছে মরহুমাকে জান্নাত নসীব ও পরিবারের সদস্যদের ধৈর্য দানের জন্য দোয়া করেন।

ইরানের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য হামলার অজুহাতে টানা অষ্টম দিনের মতো অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে পবিত্র আল-আকসা মসজিদ। শুক্রবার, ৬ মার্চ রমজানের তৃতীয় জুমার নামাজ আদায়ে ফিলিস্তিনিদের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা ছিল ইসরায়েলি পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে। জেরুজালেম গভর্নরেট ও ইসরায়েলি পুলিশ জানিয়েছে, জরুরি অবস্থা এবং ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, আল-আকসা প্রাঙ্গণ জনমানবহীন পড়ে আছে। ভোরের আজান ধ্বনিত হলেও সেখানে কোনো মুসল্লিকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। সূর্যোদয়ের পর আল-আকসার বিশাল চত্বর পুরোপুরি খালি পড়ে থাকার দৃশ্য ফিলিস্তিনিদের মনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। এর আগে রমজানের প্রথম ও দ্বিতীয় জুমায় কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল দখলদার বাহিনী। সে সময় পশ্চিম তীরের পুরুষদের ক্ষেত্রে ৫৫ বছর এবং নারীদের ক্ষেত্রে ৫০ বছর বয়সসীমা নির্ধারণ করে মাত্র ১০ হাজার মানুষকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এবার ইরান-সংঘাতকে সামনে এনে পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে পবিত্র এই মসজিদ। এই পদক্ষেপকে শতাব্দীর সেরা প্রতারণা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি আন্দোলনকর্মীরা। তাদের দাবি, ইসরায়েল মূলত আল-আকসা বন্ধ করার একটি উছিলা খুঁজছিল এবং এখন ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ভয় দেখিয়ে সেই কাজটিই করছে। অথচ জেরুজালেমের ভেতরে কট্টরপন্থি ইহুদিদের ধর্মীয় স্কুল বা তালমুদীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ঠিকই খোলা রাখা হয়েছে। সেখানে নিয়মিত উৎসব ও জমায়েত চলছে। ফিলিস্তিনিদের প্রশ্ন, ক্ষেপণাস্ত্রের ভয় কি শুধু মুসলমানদের জন্য? নাকি ইসরায়েলিদের শরীরে রকেট প্রতিরোধক কোনো বিশেষ ক্ষমতা আছে? নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ফিলিস্তিনি নাগরিক বলেন, এটি নেতানিয়াহুর একটি সুপরিকল্পিত মিডিয়া গেম। নিরাপত্তার কথা বলে তারা আসলে আল-আকসাকে মুসল্লিশূন্য করে সেখানে দীর্ঘমেয়াদী নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চায়। এটি সাময়িক কোনো ব্যবস্থা নয়, বরং জেরুজালেমকে পুরোপুরি ইহুদিকরণের একটি অংশ। পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, রমজান মাসে তারাবিহ ও জুমার নামাজ বন্ধ করা শুধু নিরাপত্তা ইস্যু নয়, বরং এটি আল-আকসার ঐতিহাসিক স্থিতাবস্থা বা স্ট্যাটাস-কো পরিবর্তনের একটি গভীর ষড়যন্ত্র। ফিলিস্তিনি ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ফেব্রুয়ারি মাসের প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে যে, আল-আকসা ও ইব্রাহিমি মসজিদে ইসরায়েলি হামলার মাত্রা এখন অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। ফিলিস্তিনিদের মতে, আল-আকসাকে ঘিরে এই ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়া এখন অস্তিত্বের লড়াই হয়ে দাঁড়িয়েছে। দখলদারদের এই নরম যুদ্ধের বিরুদ্ধে সচেতনতা ও প্রতিবাদই এখন তাদের একমাত্র পথ। সূত্র : আল জাজিরা