

নোয়াখালীর সেনবাগে অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে ভোজ্য তেল বাজার থেকে উধাও হওয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) সেনবাগ উপজেলা কমিটি। এ কর্মসূচিতে সার্বিক সহযোগিতা করে ক্যাবের জেলা কমিটি। বুধবার (০৮ এপ্রিল ২০২৬) দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে সেনবাগ থানা মোড়ে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ক্যাবের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় সাংবাদিকরা অংশগ্রহণ করেন।মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রুমানা ইসলাম, সেনবাগ উপজেলা কমিটির সভাপতি মোঃ রেজাউল করিম রাজু, সাধারণ সম্পাদক রহমত উল্যাহ জসিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হৃদয়েল হোসেন, আইন বিষয়ক সম্পাদক মোঃ নুরুল হুদা শাহজাহান, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মোঃ রাইছুল ইসলাম মিঠু, শিক্ষা ও সাহিত্য সম্পাদক মোঃ জাকের হোসেন এবং কার্যনির্বাহী সদস্য মোঃ এমাম হোসেন ভূঁইয়া।এছাড়াও সেনবাগ উপজেলা প্রেসক্লাব সেনবাগ কমিটির সহ-সভাপতি সাংবাদিক মোঃ হারুন এবং দপ্তর সম্পাদক মোঃ হাবিবুর রহমান হারুন,সমাজকল্যাণ ও দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক সম্পাদক মোঃ আবদুল মোতালেব সহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরাও কর্মসূচিতে অংশ নেন।মানববন্ধন শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-এর নিকট একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন দোকানপাটে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়। উক্ত মানববন্ধনে বক্তারা বলেন,অসাধু ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে ভোজ্য তেলের বাজার অস্থিতিশীল করে তুলছে, যা সাধারণ ভোক্তাদের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা দ্রুত এসব অনিয়ম বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

সরকারিভাবে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১০২ টাকা নির্ধারিত থাকলেও বাজারের ‘মঞ্জু ব্রাদার্স’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে তা বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকায়। অর্থাৎ, প্রতি লিটারে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ৩৩ থেকে ৩৮ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ। মঞ্জু ব্রাদার্স কে আরটিডি নিউজ২৪ কল করলে তিনি কলটি এড়িয়ে যান- সাধারণ ভুক্তভোগীদের থেকে তথ্য নিয়ে যা জানা যায় -সরকার সম্প্রতি তেলের দাম বৃদ্ধি না করলেও মঞ্জু ব্রাদাসেন্ট্রাল কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা করা হচ্ছে না। অতিরিক্ত দামের কারণ জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে অদ্ভুত দাবি করা হয়। তাদের দাবি, তারা নিজেরাই নাকি সরকারি রেট ১২৮ থেকে ১২৯ টাকা দরে পাইকারি কিনছেন। ভুক্তভোগীদের ক্ষোভ স্থানীয় একজন ভুক্তভোগী ক্রেতা জানান, "আমরা জানি সরকার দাম বাড়ায়নি, কিন্তু বাজারে এলেই বলা হচ্ছে দাম বেশি। প্রতিবাদ করলে তেল দিচ্ছে না। এরা নিজেরা সিন্ডিকেট করে সাধারণ মানুষের পকেট কাটছে।" রহস্যজনক সিন্ডিকেট প্রশ্ন উঠছে, যেখানে জ্বালানি মন্ত্রণালয় বা বিপিসি (BPC) নতুন করে কোনো দাম বাড়ায়নি, সেখানে ১২৯ টাকা কেনা রেট হওয়ার দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এটি একটি কৃত্রিম সংকট ও সিন্ডিকেট। খুচরা বিক্রেতারা পাইকারি পর্যায়ে অতিরিক্ত দামের অজুহাত দিলেও এর সপক্ষে কোনো বৈধ রসিদ দেখাতে পারছেন না। প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন খুচরা বাজারে এমন মনগড়া দাম নির্ধারণের ফলে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষক ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। ডিজেলের দাম বৃদ্ধির এই প্রভাব সরাসরি কৃষি ও নিত্যপণ্যের ওপর পড়ছে। এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে করমুল্লা বাজারের মঞ্জু ব্রাদার্সসহ সংশ্লিষ্ট দোকানগুলোতে অভিযান চালানো হোক এবং এই অদৃশ্য সিন্ডিকেটের উৎস খুঁজে বের করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।

জাটকা ধরা থামাই যদি, ইলিশে ভরবে সাগর নদী”এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ-২০২৬-এর উদ্বোধন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকালে উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তরের আয়োজনে উপজেলার চরএলাহী ইউনিয়নের চরএলাহী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুদুর রহমানের সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. হারুন-অর রশীদ। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড নোয়াখালী পেটি অফিসার খলিলুর রহমান, বেগমগঞ্জ সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাসুমা আক্তার, সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মানুষ মন্ডল, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম সরকার এবং চরএলাহী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মায়া আক্তার। সভায় বক্তারা জাটকা সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, দেশের ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধি এবং মৎস্য সম্পদ রক্ষায় জাটকা ধরা বন্ধে সবাইকে সচেতন হতে হবে। এ সময় জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থান ও সরকারি সহায়তা কার্যক্রম জোরদারের ওপরও গুরুত্বারোপ করা।

নোয়াখালী বেগমগঞ্জে শিশুদের হামের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফলে ২ শিশুর রক্ত সংগ্রহ করে পাঠানো হয়েছে। যানা যায় বেগমগঞ্জের ১৬ ইউনিয়ন ও চৌমুহনী পৌরসভা এলাকায় হামের আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় ৩০টি শিশুর শরীরে রক্ত পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে বেগমগঞ্জ ৫০ শয্যা হাসপাতালে ২ শিশুর শরীরে সন্দেহ জনক ভাবে হামের সংক্রমক দেখা দেওয়ায় আলামত পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে এখনো রির্পোট আসেনি। বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হাসান খায়ের চৌধুরী বলেন কয়েকটি শিশুর রক্ত সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য জেলা পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। হামের প্রার্দুভাব বেড়ে গেলে টিকার কোন সমস্যা হবে না । কারন টিকা সরবারহ ও মজুদ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, রবিবার থেকে শিশুদের সুরক্ষা ও হাম প্রতিরোধে প্রচার ও প্রচারনা করা হচ্ছে। কোথাও হামের সন্ধান পাওয়া গেলে সাথে সাথে হামের শিশু রোগীকে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলার সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করার জন্য সকলকে অনুরোধ করেন।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ছয়ানী ইউনিয়নে খাল দখলের অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করেন বেগমগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি ও বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সাদাত হোসেন এসময় ছয়ানি-রাজগঞ্জ খাল দখল করে নির্মাণাধীন পাকা ভবন তাৎক্ষণিক সরকারি সার্ভেয়ার দ্বারা পরিমাপ পূর্বক উক্ত ভবন উচ্ছেদ করা হয়। দখলকারীকে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯ অনুসারে ৫,০০০/- এবং একই সময় খোলা পায়খানা ব্যবহার করে রাস্তার পাশে দুর্গন্ধ সৃষ্টি করায় স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯ অনুসারে মোট ০২ টি মামলায় ৬,০০০/- অর্থ দন্ড প্রদান করা হয়।অভিযানে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা, সার্ভেয়ার, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং রাজগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশের চৌকস টিম সহযোগিতা করেন। জনস্বার্থে অভিযান চলমান থাকবে বলে জানান ম্যাজিস্ট্রেট

নোয়াখালীর সেনবাগে অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে ভোজ্য তেল বাজার থেকে উধাও হওয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) সেনবাগ উপজেলা কমিটি। এ কর্মসূচিতে সার্বিক সহযোগিতা করে ক্যাবের জেলা কমিটি। বুধবার (০৮ এপ্রিল ২০২৬) দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে সেনবাগ থানা মোড়ে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ক্যাবের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় সাংবাদিকরা অংশগ্রহণ করেন।মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রুমানা ইসলাম, সেনবাগ উপজেলা কমিটির সভাপতি মোঃ রেজাউল করিম রাজু, সাধারণ সম্পাদক রহমত উল্যাহ জসিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হৃদয়েল হোসেন, আইন বিষয়ক সম্পাদক মোঃ নুরুল হুদা শাহজাহান, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মোঃ রাইছুল ইসলাম মিঠু, শিক্ষা ও সাহিত্য সম্পাদক মোঃ জাকের হোসেন এবং কার্যনির্বাহী সদস্য মোঃ এমাম হোসেন ভূঁইয়া।এছাড়াও সেনবাগ উপজেলা প্রেসক্লাব সেনবাগ কমিটির সহ-সভাপতি সাংবাদিক মোঃ হারুন এবং দপ্তর সম্পাদক মোঃ হাবিবুর রহমান হারুন,সমাজকল্যাণ ও দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক সম্পাদক মোঃ আবদুল মোতালেব সহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরাও কর্মসূচিতে অংশ নেন।মানববন্ধন শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-এর নিকট একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন দোকানপাটে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়। উক্ত মানববন্ধনে বক্তারা বলেন,অসাধু ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে ভোজ্য তেলের বাজার অস্থিতিশীল করে তুলছে, যা সাধারণ ভোক্তাদের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা দ্রুত এসব অনিয়ম বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

সরকারিভাবে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১০২ টাকা নির্ধারিত থাকলেও বাজারের ‘মঞ্জু ব্রাদার্স’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে তা বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকায়। অর্থাৎ, প্রতি লিটারে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ৩৩ থেকে ৩৮ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ। মঞ্জু ব্রাদার্স কে আরটিডি নিউজ২৪ কল করলে তিনি কলটি এড়িয়ে যান- সাধারণ ভুক্তভোগীদের থেকে তথ্য নিয়ে যা জানা যায় -সরকার সম্প্রতি তেলের দাম বৃদ্ধি না করলেও মঞ্জু ব্রাদাসেন্ট্রাল কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা করা হচ্ছে না। অতিরিক্ত দামের কারণ জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে অদ্ভুত দাবি করা হয়। তাদের দাবি, তারা নিজেরাই নাকি সরকারি রেট ১২৮ থেকে ১২৯ টাকা দরে পাইকারি কিনছেন। ভুক্তভোগীদের ক্ষোভ স্থানীয় একজন ভুক্তভোগী ক্রেতা জানান, "আমরা জানি সরকার দাম বাড়ায়নি, কিন্তু বাজারে এলেই বলা হচ্ছে দাম বেশি। প্রতিবাদ করলে তেল দিচ্ছে না। এরা নিজেরা সিন্ডিকেট করে সাধারণ মানুষের পকেট কাটছে।" রহস্যজনক সিন্ডিকেট প্রশ্ন উঠছে, যেখানে জ্বালানি মন্ত্রণালয় বা বিপিসি (BPC) নতুন করে কোনো দাম বাড়ায়নি, সেখানে ১২৯ টাকা কেনা রেট হওয়ার দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এটি একটি কৃত্রিম সংকট ও সিন্ডিকেট। খুচরা বিক্রেতারা পাইকারি পর্যায়ে অতিরিক্ত দামের অজুহাত দিলেও এর সপক্ষে কোনো বৈধ রসিদ দেখাতে পারছেন না। প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন খুচরা বাজারে এমন মনগড়া দাম নির্ধারণের ফলে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষক ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। ডিজেলের দাম বৃদ্ধির এই প্রভাব সরাসরি কৃষি ও নিত্যপণ্যের ওপর পড়ছে। এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে করমুল্লা বাজারের মঞ্জু ব্রাদার্সসহ সংশ্লিষ্ট দোকানগুলোতে অভিযান চালানো হোক এবং এই অদৃশ্য সিন্ডিকেটের উৎস খুঁজে বের করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।

নোয়াখালী জেলার চাটখিলের খিলপাড়া বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সদস্য, ৯নং খিলপাড়া ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান আহবায়ক আমির হোসেন খোকনের বিরুদ্ধে ফেইজবুক সহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা, অশালীন ও ভিত্তিহীন অপ-প্রচারের বিরুদ্ধে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে ৯নং খিলপাড়া ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা খিলপাড়ায় বিএনপি কার্যালয়ের সামনে মানবন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করেছে। মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠানটি খিলপাড়া বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের সদস্য ও বিএনপি’র নেতা বেলাল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য রাখেন উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক শাহ পরান, ইউনিয়ন বিএনপি’র সহ-সভাপতি নূর আলম ওরফে মাওলানা কেফায়েত, প্রচার সম্পাদক মনির হোসেন, বিএনপি’র নেতা কামরুল হাসান সিজু, মিলন, মাইন উদ্দিন, ব্যবসায়ী নুর ইসলাম প্রমুখ। বক্তারা এ সমস্ত অপ-প্রচারের তীব্র নিন্দা জানান।

জাটকা ধরা থামাই যদি, ইলিশে ভরবে সাগর নদী”এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ-২০২৬-এর উদ্বোধন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকালে উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তরের আয়োজনে উপজেলার চরএলাহী ইউনিয়নের চরএলাহী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুদুর রহমানের সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. হারুন-অর রশীদ। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড নোয়াখালী পেটি অফিসার খলিলুর রহমান, বেগমগঞ্জ সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাসুমা আক্তার, সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মানুষ মন্ডল, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম সরকার এবং চরএলাহী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মায়া আক্তার। সভায় বক্তারা জাটকা সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, দেশের ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধি এবং মৎস্য সম্পদ রক্ষায় জাটকা ধরা বন্ধে সবাইকে সচেতন হতে হবে। এ সময় জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থান ও সরকারি সহায়তা কার্যক্রম জোরদারের ওপরও গুরুত্বারোপ করা।

নোয়াখালী জেলায় হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড়ে রেললাইনের ওপর গাছ উপড়ে পড়ায় ঢাকার সঙ্গে রেল যোগাযোগে সাময়িক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। এতে আন্তঃনগর উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেন দীর্ঘ সময় আটকে পড়ে যাত্রীদের দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়। তবে ট্রেন চলাচল এখন স্বাভাবিক রয়েছে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে নোয়াখালীর মাইজদী শহরসহ জেলার বিভিন্নস্থানে ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হয়। প্রবল ঝড়ে মাইজদী কোর্ট স্টেশন এলাকার রেললাইনের ১৭৩নং পিলারের ৩, ৪, ৫ ও ৬নং অংশের কাছাকাছি একটি বড় কড়ই গাছ উপড়ে লাইনের ওপর পড়ে যায়। এর ফলে ভোর থেকে নোয়াখালী-ঢাকা রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সকাল ৬টায় নোয়াখালী স্টেশন থেকে ছেড়ে আসা উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনটি হরিনারায়ণপুর এলাকায়ও গাছ পড়ে থাকায় বাধার সম্মুখীন হয়। পরে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় গাছ সরিয়ে ট্রেনটি মাইজদী কোর্ট স্টেশনে পৌঁছায়, তবে সেখানে আবারও আটকে পড়ে। রেলওয়ে কর্মী, ফায়ার সার্ভিস সদস্য ও স্থানীয়দের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে মাইজদী এলাকায় রেললাইন থেকে গাছ অপসারণ করা হয়। এরপর সকাল ৮টা ২০ মিনিটে সোনাপুর স্টেশন থেকে ঢাকামুখী উপকূল এক্সপ্রেস যাত্রা শুরু করে। ট্রেনটির চালক রফিকুল ইসলাম বলেন, সামনে আরও কয়েকটি স্থানে গাছ পড়ে থাকার খবর রয়েছে, ফলে নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। হঠাৎ এ বিলম্বের কারণে অনেক যাত্রী বিকল্প যাতায়াত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। ফলে কিছু সময়ের মধ্যে ট্রেনটি প্রায় যাত্রীশূন্য হয়ে পড়ে, যদিও অল্পসংখ্যক যাত্রী ট্রেনেই অপেক্ষা করতে থাকেন। মাইজদী কোর্ট স্টেশনের স্টেশন মাস্টার কামরুজ্জামান বলেন, কালবৈশাখী ঝড়ের কারণে এ বিলম্ব হয়েছে। তবে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় ট্রেন চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়েছে।

গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে যুদ্ধরত ইরান ও ইসরায়েল শিগগিরই ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতিতে রাজি হতে পরে। যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েলি এবং মধ্যপ্রাচ্যের সূত্রের বরাত দিয়ে সোমবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মাার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওস। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর এবং গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালী থেকে অবরোধ তুলতে মার্চের শেষ দিকে ইরানকে ১০ দিনের ডেডলাইন দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই ডেডলাইন শেষ হচ্ছে আজ সোমবার। এদিকে রোববার ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। শনিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগামাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় তিনি বলেছেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে যদি ইরান হরমুজ প্রণালি থেকে অবরোধ প্রত্যাহার না করে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তিতে না আসে, তাহলে দেশটির সব বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করে দেওয়া হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের সূত্রগুলো এক্সিওসকে জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এসব আল্টিমেটাম-ডেডলাইন ইরান মেনে নেবে— এমন সম্ভাবনা ক্ষীণ, বরং এই ৪৫ দিনের সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতিই এই যুদ্ধের উত্তেজনা নাটকীয়ভাবে হ্রাস করতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ৪৫ দিনের এই সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি হবে দুই স্তরের। ইরান যদি ইতিবাচক সাড়া দেয়, তাহলে প্রথম স্তরে ৪৫ দিন পরস্পরকে লক্ষ্য করে হামলা করা থেকে বিরত থাকবে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল। এবং প্রথম স্তরেই স্থায়ী যুদ্ধবিরতির জন্য মধ্যস্থতাকারীদের উপস্থিতিতে আলাপ-আলোচনা শুরু হবে ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি প্রতিনিধিদের মধ্যে। আশা করা হচ্ছে, এই ৪৫ দিনের আলোচনা ৩ দেশকে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির দিকে নিয়ে যাবে। মার্কিন-ইসরায়েলি ও মধ্যপ্রাচ্যের সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রস্তাবিত ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে। এদিকে গতকাল রোববার এক্সিওসকে দেওয়া এক সক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও স্বীকার করেছেন যে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের ‘গভীর আলোচনা’ চলছে এবং তার ঘোষিত ডেডলাইন পেরোনোর আগেই এই আলোচনার ফলাফল মিলবে বলে আশা করছেন তিনি। “একটি ভালো সুযোগ ইরানের সামনে আছে, কিন্তু যদি তারা কোনো সমঝোতা চুক্তিতে না পৌঁছায়— আমি ইরানের সবকিছু উড়িয়ে দেবো”, এক্সিওসকে বলেছেন ট্রাম্প। সূত্র : এক্সিওস

নোয়াখালী বেগমগঞ্জে শিশুদের হামের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফলে ২ শিশুর রক্ত সংগ্রহ করে পাঠানো হয়েছে। যানা যায় বেগমগঞ্জের ১৬ ইউনিয়ন ও চৌমুহনী পৌরসভা এলাকায় হামের আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় ৩০টি শিশুর শরীরে রক্ত পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে বেগমগঞ্জ ৫০ শয্যা হাসপাতালে ২ শিশুর শরীরে সন্দেহ জনক ভাবে হামের সংক্রমক দেখা দেওয়ায় আলামত পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে এখনো রির্পোট আসেনি। বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হাসান খায়ের চৌধুরী বলেন কয়েকটি শিশুর রক্ত সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য জেলা পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। হামের প্রার্দুভাব বেড়ে গেলে টিকার কোন সমস্যা হবে না । কারন টিকা সরবারহ ও মজুদ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, রবিবার থেকে শিশুদের সুরক্ষা ও হাম প্রতিরোধে প্রচার ও প্রচারনা করা হচ্ছে। কোথাও হামের সন্ধান পাওয়া গেলে সাথে সাথে হামের শিশু রোগীকে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলার সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করার জন্য সকলকে অনুরোধ করেন।

নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলায় দুটি বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে অভিযান চালিয়ে দেড় লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে অনিয়মের অভিযোগে সিলগালা করা হয়েছে একাধিক কক্ষ ও অপারেশন থিয়েটার (ওটি)। রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিশাত ফারাবীর নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে চাটখিল ইসলামিয়া হাসপাতালে বিভিন্ন অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। এদিকে, চাটখিল ফিজিওথেরাপি সেন্টারে অবৈধভাবে রোগী ভর্তি রাখার দায়ে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে রোগী ভর্তি রাখার কক্ষগুলো সিলগালা করে দেওয়া হয়। অভিযানের বিষয়ে বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিশাত ফারাবী বলেন, জনস্বার্থে স্বাস্থ্যসেবার মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের প্রধান দায়িত্ব। কোনো প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম বা অবহেলা বরদাশত করা হবে না। নিয়ম মেনে সেবা প্রদান না করলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। অভিযান চলাকালে উপস্থিত ছিলেন চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত ইউএইচএফপিও ডা. শহিদুল আহমেদ নয়ন এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

শ্যালোমেশিন (সেচযন্ত্র) নিয়ে ফিলিং স্টেশনে পেট্রোল নিতে এসেছেন জমেলা বেগম (৬৫)। তিনি ফিলিং স্টেশন থেকে ২০০ টাকার তেল পেয়েছেন। তার মতো অন্য চাষিরাও সেচযন্ত্র নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে তেল পেলেও চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল বলে জানান তারা। পবার মাধপপুর কুঠিপাড়ার বাসিন্দা জমেলা বেগম জানান, তার তিন মেয়ে, স্বামী নেই। নিজে ও শ্রমিক নিয়ে তাকে জমিতে তিনি বোরো ধানের চাষ করেছেন। তবে গেল ১০ দিন ধরে তেলের অভাবে তিনি জমিতে সেচ দিতে পারছেন না। জমেলা বলেন, জমি শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে। বিগত বছরে তিন দিন পরপর জমিতে পানি দিয়েছি। কিন্তু এ বছর ১০ দিন হলো জমিতে সেচ দিতে পারিনি। কয়েকদিন এই পাম্পে (ফিলিং স্টেশন) এসে ঘুরে গিয়েছি। তারাই আজ আসার কথা বলেছিল, এসে তেল পেলাম। মাথায় করে শ্যালোমেশিন (সেচযন্ত্র) নিয়ে এসেছেন রাকিব হোসেন। তিনি জানান, এই ফিলিং স্টেশন থেকে ২০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে। এই তেলে খুব বেশি তিন ঘণ্টা মেশিন চলবে। আমার জমিতে ৯ ঘণ্টা পানি লাগে। যেহেতু তেল পাওয়া যাচ্ছে না, তাই এভাবে প্রতিদিন ২০০ টাকা করে তেল কিনে সেচ দিতে হচ্ছে। যারা বোরো ধানের জমিতে সেচ দেবে তাদের কমপক্ষে ৪০০-৫০০ টাকার দিলে ভালো হয়। রুচিতা ফিলিং স্টেশনের কয়েকজন কর্মী বলেন, যারা সেচ মেশিন নিয়ে পাম্পে আসছেন তাদেরকে তেল দেওয়া হচ্ছে। যেহেতু সীমাবদ্ধতা আছে, তাই একটি নির্দিষ্ট পরিমাণের তেল সবাইকে দেওয়া হচ্ছে। যাতে করে সবাই যেন তেল পায়। ফিলিং স্টেশনটিতে ১৭ থেকে ২০ জন চাষিকে পর্যায়ক্রমে তেল দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। সেখানে মাইক্রোবাস ও কারে জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাধারণত বর্ষার শেষে শীতে শুকিয়ে যায় পানি। সেই সব জমিতে সবচেয়ে বেশি চাষাবাদ হয় বোরো ধানের। কারণ শুষ্ক মৌসুমে এই ধানে প্রচুর সেচ প্রয়োজন হয়, একটু নিচু জমিতে বোরো চাষের জন্য বেশি উপযোগী, কম সেচের কারণে। রাজশাহী অঞ্চলে বোরো চাষের সেচের জোগান আসে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) গভীর নলকূপ ও ইঞ্জিন চালিত সেচযন্ত্র থেকে। তবে তুলনামূলক তিনভাগের দুইভাগ জমিতে জ্বালানিতে চলা ইঞ্জিনচালিত সেচযন্ত্র ব্যবহার হয়। এ অঞ্চলের ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেল কেনা-বেচায় নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। চাইলে একজন গ্রাহক নিজের ইচ্ছে মত তেল কিনতে পারছেন না। শুধু ফিলিং স্টেশনগুলো নয়- জেলা ছাড়াও গ্রামগঞ্জের খুচরা ও পাইকারি দোকানগুলোতে আগের মতো স্বাভাবিকভাবে মিলছে না ডিজেল (জ্বালানি তেল)। ফলে সেচ কাজ চালিয়ে নিতে দূর-দূরান্তের দোকান থেকে কিনতে হচ্ছে ডিজেল। তবে সেখানেও মিলছে না চাহিদা মাফিক। রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র বলছে, রাজশাহী অঞ্চলে ৩ লাখ ৬৫ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষের লক্ষ্যমাত্রা। আর রাজশাহী জেলায় এবছর বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ৫৪ হাজার হেক্টর জমিতে। অঞ্চলের রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে সবচেয়ে বেশি বোরোধানের চাষ হয়। কিন্তু জ্বালানি সংকটের কারণে সেচ কার্যক্রমে বিঘ্ন দেখা দেওয়ায় কৃষকদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ। সময়মতো সেচ না পেলে ধানের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কৃষি কর্মকর্তারা জানান, বোরো মৌসুমে জমিতে নিয়মিত সেচ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ধানের কুশি গঠন ও শীষ বের হওয়ার সময় পানির অভাব হলে ফলনে বড় ধরনের প্রভাব পড়ে। রাজশাহী অঞ্চল দেশের খাদ্য উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। তাই সেচ কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় চলতি মৌসুমে বোরো ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হয়ে পড়তে পারে। নগরীর বুধপাড়া এলাকায় পাঁচবিঘা জমিতে বোরো ধানের চাষ করেছেন আক্কাস আলী। জমিতে শেষ দিতে ঠিকমতো তেল পাচ্ছে না এমন কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ফিলিং স্টেশনে ১০১ টাকা লিটার ডিজেল। বাইরে ১৪০ টাকা লিটার। পাঁচ বিঘা জমিতে ৯ ঘণ্টা পানি লাগে। স্বাভাবিক সময়ে তিন থেকে চার দিন পরপর পানি দেওয়া হয়। ১০ দিন পরে পানি দেওয়া হলো তেল না পাওয়ার বেকায়দায়। তিনি আরও বলেন, টাকা দিয়েও তেল পাওয়া যাচ্ছে না। যেভাবেই হোক সেচ দিতেই হবে ধানে। হওয়া ধান আর এক মাসের মধ্যে ধান কাটা পড়বে জমিতে। এখন এমন পরিস্থিতি যে ধান রেখে পালিয়ে যাওয়া যাচ্ছে না। এক বিঘা ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়। তবে এবার তেলের দাম বেশি থাকায় খরচ বাড়বে। জেলার বাগমারা, মোহনপুর, পবা, তানোর উপজেলার ফিলিং স্টেশনগুলোতে বোরো চাষিরা তেল নিতে শ্যালোমেশিন নিয়ে আসছেন। বালানগর, কালচিকার বোরো চাষি কালাম ও কোরবান আলী বলেন, তেল পাম্পে তেল পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক সময় বাড়িতে পানি তোলা মটার চালিয়ে জমিতে সেচ দিতে হচ্ছে। কোন কোন সময় জমিতে পাইপ বিছানোর পরে দেখা যাচ্ছে বিদ্যুৎ নেই। এ সময় ঠিকমত জমিতে সেচ দিতে না পারলে ফলন মারাত্মকভাবে ক্ষতি হবে। তারা আরও বলেন, দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি না হলে রাজশাহী অঞ্চলের বিস্তীর্ণ বোরো মাঠে উৎপাদন কমে যেতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে জাতীয় খাদ্য মজুত ও বাজার ব্যবস্থার ওপরও। রাজশাহী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহীতে মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে ধীরে ধীরে তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করেছে। এর মধ্যে কালবৈশাখীর প্রভাবে বৃষ্টি হওয়াতে তাপমাত্রা কমে এসেছিল। তবে কয়েক দিন ধরে তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করেছে। এটি অব্যাহত থাকতে পারে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিকেল ৩টার দিকে ৩৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এটি চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। রাজশাহী বিভাগীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক ড. মো. আজিজুর রহমান বলেন, সংকট কথাটা না বলি, এটা ডে টু ডে সিচুয়েশন ডিমান্ডেড। তো আমরা অবজার্ভ করছি, আমরা নজর রাখছি যাতে বোরো চাষের সমস্যা না হয়। রাজশাহী অঞ্চলে ৩ লাখ ৬৫ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। সেচ কার্যক্রম চলছে। জেলা প্রশাসক এ বিষয়টা নজর রাখতে আমরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। বোরোতে সেচ দিতে কৃষকদের জন্য জ্বালানি নিশ্চিতের বিষয়ে এই কর্মকর্তা বলেন, বিদ্যুতের যেটা কানেকশন আছে, সেখানে সেভাবে সেচ দিচ্ছে। মোট কথায় আমরা সজাগ আছি। সেচের বিষয়টা আমরা নিয়ে তৎপর আছি। প্রশাসন অন্য ক্ষেত্রে রেস্ট্রিকশন (নিষেধাজ্ঞা) দিলেও, কৃষকদের যেন ফুয়েল (তেল) পেতে সমস্যা না হয়, এটা আমরা বলছি আলোচনায়। আমরা এটা নিয়ে তৎপর আছি এবং পাম্প মালিকদেরও বলা হয়েছে।

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় কিশোরদের হামলায় মো. সেলিম (৫০) নামে এক কৃষক দলের নেতা নিহত হয়েছেন। শনিবার (৪ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে দাদপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের গৌরিপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মো. সেলিম ওই গ্রামের মৃত মো. শাহজানের ছেলে এবং স্থানীয় ৪নং ওয়ার্ড কৃষক দলের সভাপতি ছিলেন। তিনি দুই ছেলে ও দুই মেয়ের জনক। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সেলিমের ছেলে অন্তরের সঙ্গে এলাকার কয়েকজন কিশোর- সজল, শাওন, ফাহাদ ও রিয়াজের মধ্যে বিরোধ চলছিল। শনিবার দুপুরে এ নিয়ে ফোনে অন্তর ও সজলের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। পরবর্তীতে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সজল তার সহযোগীদের নিয়ে সেলিমের বাড়ির সামনে আসে এবং অন্তরের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় অন্তরের বড় ভাই শাকিল এগিয়ে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শোরগোল শুনে নিজের দোকান থেকে বের হয়ে ছেলেদের রক্ষা করতে এগিয়ে যান সেলিম। তখন অভিযুক্তরা তাকে ঘিরে ধরে বেধড়ক মারধর করে এবং মাথায় গুরুতর আঘাত করে। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই অচেতন হয়ে পড়েন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের বড় ছেলে শাকিল অভিযোগ করেন, পূর্বের বিরোধের জের ধরে পরিকল্পিতভাবে তাদের বাড়িতে হামলা চালানো হয় এবং তার বাবাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। নিহতের ছোট ভাই মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, আমার ভাই ছেলেদের বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ দিল। যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তারা কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য। আমরা এ হত্যার বিচার চাই। দাদপুর ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি সেলিম বলেন, নিহত সেলিম একজন সাধারণ কৃষক ও চা দোকানি ছিলেন এবং দলের সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। আমরা এ হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার দাবি করেছি। হাসপাতালের ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, প্রায় রাত ৯ টার দিকে আমাদের কাছে সেলিমকে আনা হয়। আমরা তাকে মৃত অবস্থায় পাই। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে। সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা জানতে পেরেছি সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে দুইপক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এ সময় সেলিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং আঘাত পেয়ে পড়ে যান। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার দীর্ঘদিনের নৌ-যান ও ফেরি সংকট নিরসনে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পরিস্থিতি পর্যালোচনায় সরেজমিনে এসে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান জানিয়েছেন, ঈদুল আজহার আগেই একটি নতুন ফেরি যুক্ত করার চেষ্টা চলছে। এ ছাড়াও বেশকিছু পদক্ষেপ নেওয়া হবে। শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে হাতিয়ার চেয়ারম্যান ঘাটে পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি নলচিরা ঘাট এলাকা পরিদর্শন করেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, দ্বীপাঞ্চলের মানুষের যাতায়াত সহজ ও নিরাপদ করতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। সে লক্ষ্যেই বাস্তব পরিস্থিতি যাচাই করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আমরা স্ব উদ্যোগে সরেজমিনে এসেছি সকল মতের মানুষের স্বার্থে। দলমত নির্বিশেষে সবার উন্নয়ন নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য। পরিদর্শনকালে তিনি জানান, দেশের মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। যার ফলশ্রুতিতে আমরা নিজ দায়িত্ব থেকে হাতিয়ার মানুষের পথ চলা সহজ করতে সমস্যাসমূহ সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করতে এসেছি। হাতিয়ার উভয়পাশের ফেরিঘাট আরও প্রশস্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নদীর নাব্যতা স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত ড্রেজিং কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলেও জানান তিনি। ফেরি চলাচল আরও নিরাপদ ও টেকসই করতে ঘাটের র্যাম্প উন্নয়ন এবং দুই পাশের নদীর তীর স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চলমান রয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। এছাড়াও নৌপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে মন্ত্রণালয়ের আরও কিছু দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি জানান। এ সময় বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নুরুন্নাহার চৌধুরী, নোয়াখালী জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সাবের আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।