

নোয়াখালী-৩ (বেগমগঞ্জ) আসনের এমপি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু বলেছেন, সাংবাদিকতা হলো সমাজের দর্পন এবং মানবিক পেশা। তাই এই পেশাকে খাটো করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচার করলে দেশ, জাতি, সমাজ, গণতন্ত্র, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব এবং রাষ্ট্রের উন্নয়ন হবে। তবে কিছু অশিক্ষিত এবং অভাবী লোক এ পেশায় এসে পেশার ভাবমূর্তি বিনষ্ট করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হচ্ছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নোয়াখালী টিভি সাংবাদিক ফোরাম কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন এমপি বুলু। তিনি আরও বলেন, আপনারা যারা পেশাদার সাংবাদিক, আপনাদেরকে সঠিক সাংবাদিকতার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার সাথে সাথে অপসাংবাদিকতা রোধেও সোচ্চার থাকতে হবে। নতুবা গুটিকয়েক সাংবাদিকের কারণে আপনাদের কর্ম এবং অর্জন বিফলে যাবে। তিনি আরও বলেন, ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্র ক্ষমতায় শেখ হাসিনার শাসনামল তেমন একটা খারাপ ছিল না। কারণ সে তো শেখ মুজিবুর রহমানের মেয়ে ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে তার পতন হয়েছে কিছু অতি উৎসাহী চাটুকার সাংবাদিক, হাইব্রিড আওয়ামী লীগ ও ব্যবসায়ীদের কারণে। এসময় আরও বক্তব্য রাখেন নোয়াখালী জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য শামীমা বরকত লাকী, বেগমগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কামাক্ষ্যা চন্দ্র দাস, চৌমুহনী পৌর বিএনপির আহ্বায়ক জহির উদ্দিন হারুন, নোয়াখালী টিভি সাংবাদিক ফোরামের কার্যকরী সভাপতি তাজুল ইসলাম মানিক ভুইয়া, যুগ্ম সম্পাদক ইয়াকুব নবী ইমনসহ আরও অনেকে।
বেগমগঞ্জ থানাধীন ০৯ নং মীর ওয়ারিশপুর ইউনিয়নস্থ ০৯ নং ওয়ার্ডের কেন্দুরবাগ সাকিনে ধৃত আসামী মোঃ মাসুম (২৯) এর বসত বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে মাদক সেবন কারী মোঃ মাসুম (২৯), পিতা-গিয়াস উদ্দিন, মাতা-পারভিন আক্তার, সাং-কেন্দুরবাগ (করিম উদ্দিন ভুইয়া বাড়ি), ০৯ নং ওয়ার্ড, ০৯ নং মীর ওয়ারিশপুর ইউপি, থানা-বেগমগঞ্জ, জেলা-নোয়াখালী'কে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করিলে আসামীকে ১৫ দিন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ (পঞ্চাশ) টাকা করে জরিমান করেন।
নোয়াখালীর চৌমুহনী পৌরসভার নাপিতের পোল থেকে কিসমত করিমপুর মসজিদ পর্যন্ত ইউনি ব্লক দ্বারা সড়ক উন্নয়ন এবং গনিপুর টক্কারপোল থেকে ধোপাবাড়ি পর্যন্ত রাস্তার কার্পেটিং দ্বারা উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। নোয়াখালী-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ বরকত উল্লাহ বুলু এ উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করেন। এ উপলক্ষে কিছমত করিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে সুধি সমাবেশের আয়োজন করা হয়। স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির আহবায়ক মোস্তাফা কামালের সভাপতিত্বে এ সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ কায়েসুর রহমান, চৌমুহনী পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির হোসেন, চৌমুহনী পৌরসভা নির্বাহি প্রকৌশলী কাজি মোহাম্মদ ফজলুল হক, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য শামীমা বরকত লাকী, উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কামাখ্যা চন্দ্র দাস, চৌমুহনী পৌর বিএনপির আহবায়ক জহির উদ্দিন হারুন সহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

একটি ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে বাসিন্দাদের দিকে আগ্নেয়াস্ত্র তাক করে আছেন এক যুবক। তাঁর পাশে আরও কয়েকজন যুবক। তাঁদের কেউ লাঠি হাতে কাউকে মারধর করছেন, কেউ আবার ইট ছুড়ছেন ঘরটির দিকে। অস্ত্র তাক করে রাখা ব্যক্তির উদ্দেশে একজন চিৎকার করে কিছুক্ষণ পরপর বলছেন, ‘গুলি কর, গুলি কর।’ এ সময় ঘরটির ভেতরে আর্তনাদ করছেন কয়েকজন নারী। এমন ঘটনার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার বেলা আড়াইটার দিকে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার আমানউল্যাপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৬ নম্বর ওয়ার্ডের লাকুড়িয়াকান্দি পাটোয়ারী বাড়িতে ঘটনাটি ঘটেছে। পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ঘটেছে ঘটনাটি। লাকুড়িয়াকান্দি পাটোয়ারী বাড়ির বাসিন্দা দুই ভাই মজিব উল্যাহ ও শরিফ উল্যাহর মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে বাড়ির জায়গাজমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। ইউপি চেয়ারম্যান-সদস্যসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের চেষ্টায় বিষয়টি একাধিকবার সমাধানের চেষ্টা করা হয়। তবে দুজনের মধ্যে বিরোধের নিষ্পত্তি হয়নি। বিরোধের জেরে গতকাল দুপুরে দুই পক্ষের মধ্যে ঝগড়াঝাঁটি হয়। এর জেরে মজিব উল্যাহর পরিবারের সদস্যরা বহিরাগত সন্ত্রাসীদের নিয়ে এসে শরিফ উল্যাহর ঘরে হামলা চালান। হামলাকারীদের লাঠির আঘাত ও ছুড়ে মারা ইটপাটকেলে শরিফ উল্যাহর পরিবারের চার সদস্য আহত হয়েছেন। বাসিন্দারা জানান, বহিরাগত সন্ত্রাসীদের একজন আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে আসায় এলাকায় আতঙ্ক দেখা দেয়। এলোপাতাড়ি গুলিও ছুড়েছেন তিনি। তবে কারও গায়ে গুলি লাগেনি। মুখোশ পরে ঘটনাস্থলে আসেন ওই অস্ত্রধারী। বহিরাগত ব্যক্তিদের মধ্যে আরও কয়েকজনকে মুখোশ পরে হামলায় অংশ নিতে দেখা গেছে। বাসিন্দারা জানান, বহিরাগত সন্ত্রাসীদের একজন আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে আসায় এলাকায় আতঙ্ক দেখা দেয়। এলোপাতাড়ি গুলিও ছুড়েছেন তিনি। তবে এতে কেউ আহত হননি। মুখোশ পরে ঘটনাস্থলে আসেন ওই অস্ত্রধারী। বহিরাগতদের মধ্যে আরও কয়েকজনকে মুখোশ পরে হামলায় অংশ নিতে দেখা গেছে। জানতে চাইলে আমানউল্যাপুর ইউপির চেয়ারম্যান মো. বাহরুল আলম ওরফে সুমনও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, এক পক্ষ বহিরাগত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী এনে প্রতিপক্ষের ওপর হামলা এবং বাড়িঘরে ভাঙচুর করেছে। হামলাকারীদের একজন আগ্নেয়াস্ত্র হাতে প্রকাশ্যে গুলি করেছেন। তিনজন গ্রেপ্তার হামলার ঘটনায় রাতে মামলা করেন শরিফ উল্যাহর ছেলে মোবারক উল্যাহ। এরপর পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁরা হলেন মো. ইসরাফিল (৩৪), মজিব উল্যাহ (৬৫) ও তোফায়েল আহমেদ (৬০)। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ইসরাফিলই আগ্নেয়াস্ত্র হাতে নিয়ে ঘটনাস্থলে ছিলেন। জানতে চাইলে বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান বলেন, পারিবারিক এবং সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। এ সময় অস্ত্র উঁচিয়ে সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা ও আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়েছে। তবে গুলি ছোড়ার বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ওসি আরও বলেন, ভাইরাল হওয়া অডিও-ভিডিও পর্যালোচনা করে হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত ব্যক্তি, যাঁর হাতে অস্ত্র ছিল, তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া দুজন গ্রেপ্তার হয়েছেন। অন্যদের ধরতে পুলিশের অভিযান চলমান

অপ্রতিমকে হত্যার ঘটনায় তার মায়ের আইফোনটি অভিযুক্ত তুহিনের বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। গণমাধ্যমের কাছে এরই মধ্যে হত্যায় অভিযুক্ত তুহিনের মা বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এমনকি তিনি ঘটনার দিন তুহিনের গতিবিধিও জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আইফোনটি তুহিনের ঘরের বিছানার নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়। সাদা পোশাকে একদল পুলিশ সদস্য আমার ছেলেকে (তুহিন) সঙ্গে নিয়ে এসে তার ঘরে তল্লাশি চালিয়ে আইফোনটি উদ্ধার করে। এ সময় মোবাইল ফোনটি একটি কালো শপিং ব্যাগের মধ্যে ছিল। ঘটনার দিনের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, গত শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর খাওয়া-দাওয়া শেষে তুহিন ঘর থেকে বের হন। এরপর বিকালে তিনি আবার বাসায় ফিরে আসেন বলেও জানান অভিযুক্ত তুহিনের মা। ঘটনার দিন তুহিনের গতিবিধি কেমন ছিল জানালেন মা যদিও সন্ধ্যার কিছু সময় পর সে আবারও বাসা থেকে বের হয়েছিলেন বলেও দাবি করেন অভিযুক্ত তুহিনের মা। পরে তুহিন রাত ৯টার দিকে ঘরে ফিরে আসেন। এরপর রাতে তিনি ঘুমিয়েও পড়েন। অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডে আটকের আগে আনাসের করা পোস্ট ঘিরে তোলপাড় পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত অপ্রতিমের মুঠোফোনের অবস্থান গন্ধমতী এলাকায় শনাক্ত করা হয়েছিল। এরপর ফোনটির আর কোনো অবস্থান পাওয়া যায়নি। অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসহ আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে পুলিশ। ফুটেজে অপ্রতিমের সঙ্গে তুহিনকে দেখা যায়। পরবর্তীকালে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আনাসকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। সর্বশেষ ফাহিম আহমেদসহ আরও দুজনকে আটক করা হয়েছে। অপ্রতিম স্থানীয় বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে ড. নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান। এদিকে অপ্রতিমের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের শনাক্ত ও দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবিতে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন। তারা ১২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন এবং দাবি পূরণ না হলে বিশ্ববিদ্যালয় অচল করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ, সিসিটিভি ফুটেজ, মুঠোফোনের তথ্যসহ বিভিন্ন আলামত যাচাই করে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে। কোটবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক জানান, অপ্রতিমের মৃত্যুর ঘটনায় বিভিন্ন তথ্য যাচাই ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আটকদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য এবং অন্যান্য আলামত যাচাই করে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে

নোয়াখালী-৩ (বেগমগঞ্জ) আসনের এমপি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু বলেছেন, সাংবাদিকতা হলো সমাজের দর্পন এবং মানবিক পেশা। তাই এই পেশাকে খাটো করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচার করলে দেশ, জাতি, সমাজ, গণতন্ত্র, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব এবং রাষ্ট্রের উন্নয়ন হবে। তবে কিছু অশিক্ষিত এবং অভাবী লোক এ পেশায় এসে পেশার ভাবমূর্তি বিনষ্ট করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হচ্ছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নোয়াখালী টিভি সাংবাদিক ফোরাম কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন এমপি বুলু। তিনি আরও বলেন, আপনারা যারা পেশাদার সাংবাদিক, আপনাদেরকে সঠিক সাংবাদিকতার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার সাথে সাথে অপসাংবাদিকতা রোধেও সোচ্চার থাকতে হবে। নতুবা গুটিকয়েক সাংবাদিকের কারণে আপনাদের কর্ম এবং অর্জন বিফলে যাবে। তিনি আরও বলেন, ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্র ক্ষমতায় শেখ হাসিনার শাসনামল তেমন একটা খারাপ ছিল না। কারণ সে তো শেখ মুজিবুর রহমানের মেয়ে ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে তার পতন হয়েছে কিছু অতি উৎসাহী চাটুকার সাংবাদিক, হাইব্রিড আওয়ামী লীগ ও ব্যবসায়ীদের কারণে। এসময় আরও বক্তব্য রাখেন নোয়াখালী জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য শামীমা বরকত লাকী, বেগমগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কামাক্ষ্যা চন্দ্র দাস, চৌমুহনী পৌর বিএনপির আহ্বায়ক জহির উদ্দিন হারুন, নোয়াখালী টিভি সাংবাদিক ফোরামের কার্যকরী সভাপতি তাজুল ইসলাম মানিক ভুইয়া, যুগ্ম সম্পাদক ইয়াকুব নবী ইমনসহ আরও অনেকে।
বেগমগঞ্জ থানাধীন ০৯ নং মীর ওয়ারিশপুর ইউনিয়নস্থ ০৯ নং ওয়ার্ডের কেন্দুরবাগ সাকিনে ধৃত আসামী মোঃ মাসুম (২৯) এর বসত বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে মাদক সেবন কারী মোঃ মাসুম (২৯), পিতা-গিয়াস উদ্দিন, মাতা-পারভিন আক্তার, সাং-কেন্দুরবাগ (করিম উদ্দিন ভুইয়া বাড়ি), ০৯ নং ওয়ার্ড, ০৯ নং মীর ওয়ারিশপুর ইউপি, থানা-বেগমগঞ্জ, জেলা-নোয়াখালী'কে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করিলে আসামীকে ১৫ দিন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ (পঞ্চাশ) টাকা করে জরিমান করেন।
নোয়াখালীর চৌমুহনী পৌরসভার নাপিতের পোল থেকে কিসমত করিমপুর মসজিদ পর্যন্ত ইউনি ব্লক দ্বারা সড়ক উন্নয়ন এবং গনিপুর টক্কারপোল থেকে ধোপাবাড়ি পর্যন্ত রাস্তার কার্পেটিং দ্বারা উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। নোয়াখালী-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ বরকত উল্লাহ বুলু এ উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করেন। এ উপলক্ষে কিছমত করিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে সুধি সমাবেশের আয়োজন করা হয়। স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির আহবায়ক মোস্তাফা কামালের সভাপতিত্বে এ সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ কায়েসুর রহমান, চৌমুহনী পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির হোসেন, চৌমুহনী পৌরসভা নির্বাহি প্রকৌশলী কাজি মোহাম্মদ ফজলুল হক, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য শামীমা বরকত লাকী, উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কামাখ্যা চন্দ্র দাস, চৌমুহনী পৌর বিএনপির আহবায়ক জহির উদ্দিন হারুন সহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

একটি ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে বাসিন্দাদের দিকে আগ্নেয়াস্ত্র তাক করে আছেন এক যুবক। তাঁর পাশে আরও কয়েকজন যুবক। তাঁদের কেউ লাঠি হাতে কাউকে মারধর করছেন, কেউ আবার ইট ছুড়ছেন ঘরটির দিকে। অস্ত্র তাক করে রাখা ব্যক্তির উদ্দেশে একজন চিৎকার করে কিছুক্ষণ পরপর বলছেন, ‘গুলি কর, গুলি কর।’ এ সময় ঘরটির ভেতরে আর্তনাদ করছেন কয়েকজন নারী। এমন ঘটনার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার বেলা আড়াইটার দিকে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার আমানউল্যাপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৬ নম্বর ওয়ার্ডের লাকুড়িয়াকান্দি পাটোয়ারী বাড়িতে ঘটনাটি ঘটেছে। পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ঘটেছে ঘটনাটি। লাকুড়িয়াকান্দি পাটোয়ারী বাড়ির বাসিন্দা দুই ভাই মজিব উল্যাহ ও শরিফ উল্যাহর মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে বাড়ির জায়গাজমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। ইউপি চেয়ারম্যান-সদস্যসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের চেষ্টায় বিষয়টি একাধিকবার সমাধানের চেষ্টা করা হয়। তবে দুজনের মধ্যে বিরোধের নিষ্পত্তি হয়নি। বিরোধের জেরে গতকাল দুপুরে দুই পক্ষের মধ্যে ঝগড়াঝাঁটি হয়। এর জেরে মজিব উল্যাহর পরিবারের সদস্যরা বহিরাগত সন্ত্রাসীদের নিয়ে এসে শরিফ উল্যাহর ঘরে হামলা চালান। হামলাকারীদের লাঠির আঘাত ও ছুড়ে মারা ইটপাটকেলে শরিফ উল্যাহর পরিবারের চার সদস্য আহত হয়েছেন। বাসিন্দারা জানান, বহিরাগত সন্ত্রাসীদের একজন আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে আসায় এলাকায় আতঙ্ক দেখা দেয়। এলোপাতাড়ি গুলিও ছুড়েছেন তিনি। তবে কারও গায়ে গুলি লাগেনি। মুখোশ পরে ঘটনাস্থলে আসেন ওই অস্ত্রধারী। বহিরাগত ব্যক্তিদের মধ্যে আরও কয়েকজনকে মুখোশ পরে হামলায় অংশ নিতে দেখা গেছে। বাসিন্দারা জানান, বহিরাগত সন্ত্রাসীদের একজন আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে আসায় এলাকায় আতঙ্ক দেখা দেয়। এলোপাতাড়ি গুলিও ছুড়েছেন তিনি। তবে এতে কেউ আহত হননি। মুখোশ পরে ঘটনাস্থলে আসেন ওই অস্ত্রধারী। বহিরাগতদের মধ্যে আরও কয়েকজনকে মুখোশ পরে হামলায় অংশ নিতে দেখা গেছে। জানতে চাইলে আমানউল্যাপুর ইউপির চেয়ারম্যান মো. বাহরুল আলম ওরফে সুমনও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, এক পক্ষ বহিরাগত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী এনে প্রতিপক্ষের ওপর হামলা এবং বাড়িঘরে ভাঙচুর করেছে। হামলাকারীদের একজন আগ্নেয়াস্ত্র হাতে প্রকাশ্যে গুলি করেছেন। তিনজন গ্রেপ্তার হামলার ঘটনায় রাতে মামলা করেন শরিফ উল্যাহর ছেলে মোবারক উল্যাহ। এরপর পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁরা হলেন মো. ইসরাফিল (৩৪), মজিব উল্যাহ (৬৫) ও তোফায়েল আহমেদ (৬০)। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ইসরাফিলই আগ্নেয়াস্ত্র হাতে নিয়ে ঘটনাস্থলে ছিলেন। জানতে চাইলে বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান বলেন, পারিবারিক এবং সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। এ সময় অস্ত্র উঁচিয়ে সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা ও আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়েছে। তবে গুলি ছোড়ার বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ওসি আরও বলেন, ভাইরাল হওয়া অডিও-ভিডিও পর্যালোচনা করে হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত ব্যক্তি, যাঁর হাতে অস্ত্র ছিল, তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া দুজন গ্রেপ্তার হয়েছেন। অন্যদের ধরতে পুলিশের অভিযান চলমান
নোয়াখালীর হাতিয়ায় পুলিশের অভিযানে ফেরিঘাটের পন্টুন থেকে ১ হাজার ৮০০ লিটার চোরাই ডিজেল ও ২০০ লিটার মবিল উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। উদ্ধারকৃত তেল ও মবিলের আনুমানিক মূল্য ৩ লাখ ২৭ হাজার টাকা। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.কবির হোসেন। এর আগে, শনিবার রাত সোয়া ১০টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার চরঈশ্বর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের নলচিরা ঘাটের পূর্ব পাশে ফেরির পন্টুনে অভিযান চালিয়ে তেল গুলো জব্দ করা হয়। গ্রেপ্তার মো. জাকের উদ্দিন (৩৫) উপজেলার চরঈশ্বর ইউনিয়নের তালুকদার গ্রামের তালুকদার গ্রামের তালুকদার বাড়ির খোরশেদ আলমের ছেলে। পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার রাত সোয়া ১০টার দিকে উপজেলার চরঈশ্বর ইউনিয়নের নলচিরা ঘাটের পূর্ব পাশে ফেরির পন্টুনে অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানের সময় শাহেদ উদ্দিন প্রকাশ তেল শাহেদ (২৮), মো. রিয়াজ উদ্দিন (৩২)সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩ থেকে ৪ জন পালিয়ে যায়। অভিযানে চারটি টিনের বড় ড্রামে ৭২০ লিটার, ৩০টি প্লাস্টিকের জারিকেনে ৯০০ লিটার এবং ৯টি জারিকেনে ১৮০ লিটার ডিজেল। এছাড়া একটি বড় ড্রামে ২০০ লিটার মবিল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ১ হাজার ৮০০ লিটার ডিজেলের আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ৭ হাজার টাকা এবং ২০০ লিটার মবিলের আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ। হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.কবির হোসেন আরও বলেন, গ্রেপ্তার আসামির হেফাজত থেকে বৈধ কাগজপত্রবিহীন ১ হাজার ৮০০ লিটার ডিজেল ও ২০০ লিটার মবিল উদ্ধার করে জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় হাতিয়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে ইয়াবাসহ এক যুবককে আটকের পর তাকে ছিনিয়ে নিতে গেলে স্বজনদের সঙ্গে স্থানীয়দের হাতাহাতি ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে উপজেলার চর হাজারী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড বিদ্যুৎ অফিসের সামনে এ ঘটনা ঘটে। আটক মো. পিয়াস (৩৫) চর হাজারী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের আবুল হাশেমের ছেলে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার রাতে এলাকার চিহ্নিত মাদককারবারি পিয়াস ও রাজু নামে দুই যুবকের গতিবিধি দেখে সন্দেহ হলে স্থানীয় লোকজন তাদেরকে ধাওয়া করে। এ সময় রাজু পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও পিয়াসকে আটক করে এলাকার লোকজন। নোয়াখালীতে আটক মাদক কারবারিকে ছাড়িয়ে নিতে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া বেরোবিতে ছাত্রদল-শিবিরের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটি পরে স্থানীয় রহমতের দোকানে তার দেহ তল্লাশি করে ৫২ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে উপস্থিত এলাকাবাসী। এ সময় পিয়াসকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তার সহযোগীদের নাম বের করার চেষ্টা করে এলাকার লোকজন। এদিকে পিয়াসকে আটকের খবর পেয়ে তার পরিবারের সদস্যরা এসে অতর্কিতে তাকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে তাদের হাতাহাতি ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ নুরুল হাকিম কালবেলাকে বলেন, ‘খবর পেয়ে রাত ১১টার দিকে কোম্পানীগঞ্জ থানার এসআই আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পিয়াসকে তাদের হেফাজতে নেন। এ সময় তার কাছ থেকে ৫২ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। তার বিরুদ্ধে মাদক আইনে কোম্পানীগঞ্জ থানায় ইতোপূর্বের একটি মামলা রয়েছে। এছাড়া পালিয়ে যাওয়ার রাজুর বিরুদ্ধে একই থানায় ৫টি মামলা রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘এ ঘটনায় ওই রাতে এসআই আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে পিয়াসের বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা দায়ের করে। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে নোয়াখালী চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রেরণ করা হয়। পরে আদালত তাকে কারাগারে প্রেরণ করার নির্দেশ দেন। এরপর আসামিকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।’

নোয়াখালীর হাতিয়ায় শ্রেণিকক্ষে হঠাৎ ঝাঁঝালো গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার পর একে একে ২৭ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এরমধ্যে ১৫ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য ১২ শিক্ষার্থীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার তমরদ্দি জোড়খালী উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। অসুস্থ শিক্ষার্থীরা সবাই ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো সকাল ১০টার দিকে বিদ্যালয়ে পাঠদান শুরু হয়। এর প্রায় এক ঘণ্টা পর সপ্তম শ্রেণির চার ছাত্রী হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়ে। পরে তাদের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হলে জ্ঞান ফিরে আসে। এর কিছুক্ষণ পর অন্যান্য শ্রেণিকক্ষেও ১৫ থেকে ২০ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং কয়েকজন অজ্ঞান হয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় অসুস্থ শিক্ষার্থীদের হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে ১৫ জনকে ভর্তি করা হয়। অসুস্থদের মধ্যে ফাতেমা বেগম (১২), নিপা আক্তার (১২), মেহেরাব উদ্দিন (১১), ফারহানা আক্তার (১২), জামেলা বেগম (১৪), সুরাইয়া আক্তার (১৩) ও পারভিন আক্তারসহ (১৫) আরো কয়েকজন রয়েছে। তাদের সবার বাড়ি তমরদ্দি জোড়খালী গ্রামে। হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত উপসহকারী মেডিকেল অফিসার মানসুর উদ্দিন জানান, দুপুর ২টা পর্যন্ত হাসপাতালে মোট ১০ জন শিক্ষার্থীকে আনা হয়েছিল। তাদের সবাইকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের তখনো জ্ঞান ফেরেনি। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জসীমউদ্দিন জানান, প্রথমে যে শিক্ষার্থীরা অজ্ঞান হয়েছিল, তাদের বাড়িতে পাঠানোর পর জ্ঞান ফিরে আসে। পরে আরো কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। তবে কী কারণে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ বা অজ্ঞান হয়েছে তা তিনি নিশ্চিত করে বলতে পারেননি। হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. রবিউল ইসলাম নিলয় বলেন, অসুস্থ শিক্ষার্থীদের অবস্থা সংকটাপন্ন কি না তা ১২ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণের পর বলা যাবে। অনেকের এখনো পুরোপুরি জ্ঞান ফেরেনি। তাদের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। রোগীর অভিভাবক ও শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে শ্রেণিকক্ষে ঝাঁঝালো গন্ধ থাকার বিষয়টি জানা গেছে। এদিকে খবর পেয়ে অসুস্থ শিক্ষার্থীদের দেখতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছুটে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল ইকবাল ও হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন। এ সময় হাসপাতালে অসুস্থ শিক্ষার্থীদের দেখতে স্বজন ও সাধারণ মানুষের ভিড় জমে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাসপাতাল এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়। তবে শ্রেণিকক্ষে কী ধরনের ঝাঁঝালো গন্ধ ছড়িয়েছিল এবং এর উৎস কী তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে।

নোয়াখালী সদর উপজেলাধীন দত্তেরহাট বাজারে অবস্থিত নোয়াখালী ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় মো. মোসলিম নামে এক শিশু মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আবুল হোসেনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আবুল হোসেনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে নোয়াখালী চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়। পরে সদর কোর্টের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. হামিদুল ইসলাম তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। মো. মোসলিম (১২) লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরবসু গ্রামের মাহফুজুর রহমানের ছেলে। গত শনিবার বিকেলে সমবয়সীদের সঙ্গে খেলার সময় অন্য এক শিশুর আঘাতে তার চোখে রক্ত জমে ফুলে যায়। পরে স্বজনরা তাকে নোয়াখালী সদর উপজেলার দত্তেরহাটের নোয়াখালী ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে নিয়ে যান। স্বজনদের অভিযোগ, সেখানে হাসপাতালের এমডি আবুল হোসেন শিশুটিকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে চোখে তিনটি ইনজেকশন দেন। এর কিছুক্ষণ পর শিশুটির মুখ দিয়ে ফেনা বের হয়ে সে অচেতন হয়ে পড়ে। পরে তাকে ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর আবুল হোসেনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। রোববার বিকেল সাড়ে ৪টায় নিহত শিশুর ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্যারামেডিকস ও দত্তেরহাটের নোয়াখালী ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল হোসেন অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বলেন, চোখের ওপরের ও নিচের পাতায় লোকাল অ্যানেসথেসিয়ার ড্রপ দেওয়া হয়েছিল। চিকিৎসকের মতে, এ ধরনের অ্যানেসথেসিয়ার কারণে মৃত্যুর কোনো আশঙ্কা নেই। জেলা সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ার হোসেন বলেন, ঘটনার পর হাসপাতালটি পরিদর্শন করে সিলগালা করে দিয়েছি। ঘটনা তদন্তে নোয়াখালী সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাঈমা নুসরাত জাবিন চৌধুরীকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। সুধারাম মডেল থানার ওসি মো. নজরুল ইসলাম বলেন, আবুল হোসেনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। নিহত শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগের জন্য অপেক্ষা করা হলেও তারা সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করায় তাকে আপাতত ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার চাইলে পরবর্তী সময় মামলা করতে পারবে।
চৌমুহনীতে মাদক ও কিশোর অপরাধকে লাল কার্ড দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের শপথ নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে মাদক, কিশোর অপরাধ ও স্মার্টফোনের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরিতে ব্যতিক্রমী কর্মসূচি পালন করেছে শিক্ষার্থীরা। এ সময় মাদক ও সামাজিক অপরাধকে ‘না’ বলার পাশাপাশি উন্নত চরিত্র গঠনের শপথ নেয় তারা।বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বেগমগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের হলরুমে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন লাল সবুজ উন্নয়ন সংঘের উদ্যোগে সচেতনতামূলক আলোচনা সভা ও চরিত্র গঠনের শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কায়েসুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নোয়াখালী পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিন। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেগমগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আ ন ম ইমরান খান এবং বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান।পরে পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিন শিক্ষার্থীদের উন্নত চরিত্র গঠন, মাদক ও কিশোর অপরাধ থেকে দূরে থাকা এবং স্মার্টফোনের অপব্যবহার না করার শপথ পাঠ করান।আয়োজক সংগঠনটি জানায়, শিক্ষার্থীদের টিফিনের টাকা সাশ্রয় করে পরিচালিত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন লাল সবুজ উন্নয়ন সংঘ গত ১৫ বছর ধরে দেশের ৬৪ জেলায় শিক্ষার্থীদের সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে। বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে গঠিত সংগঠনটি এ পর্যন্ত প্রায় ৪৫ লাখ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে উদ্বুদ্ধ করেছে।
নোয়াখালীকে পৃথক বিভাগ ঘোষণার দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করেছেন আন্দোলনকারীরা। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে শাহবাগে অবস্থান নেন তারা। এতে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়ে আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।জুমার নামাজ শেষে বিকেল ৩টার দিকে চকবাজার চক মসজিদ থেকে শাহবাগের উদ্দেশে মিছিল নিয়ে রওনা হন আন্দোলনকারীরা। প্রায় ৪৫ মিনিট পর তারা শাহবাগে পৌঁছে সড়ক অবরোধ করে অবস্থান নেন। এ সময় নোয়াখালীকে দ্রুত পৃথক বিভাগ ঘোষণার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন আন্দোলনকারীরা। তাদের দাবি, দীর্ঘদিনের এই দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন করে নোয়াখালীকে পৃথক বিভাগ হিসেবে ঘোষণা আন্দোলনকারীরা বলেন, নোয়াখালীকে বিভাগ ঘোষণা করা হলে প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং বৃহত্তর এলাকার মানুষের নাগরিক সেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়বে।এদিকে আন্দোলনকারীদের সড়ক অবরোধের কারণে শাহবাগ দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এর প্রভাব পড়ে আশপাশের সড়কগুলোতেও। ফলে ওই এলাকায় যানজট তৈরি হয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।পরিস্থিতি সামাল দিতে আইন শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা ব্যস্ত থাকায় এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।পুলিশের সঙ্গে কথা হলে সদস্যরা জানিয়েছেন, তারা বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন। পরে বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কথা বলবেন।
নোয়াখালী জেলা পুলিশের মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ২১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় ১১২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ৪ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। সোমবার (৩১ আগস্ট) বেলা সোয়া ১১টার দিকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন নোয়াখালী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) আহমেদ পেয়ার। এর আগে, রোববার দিনব্যাপী জেলার বিভিন্ন থানা ও বিট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। জেলা পুলিশ জানায়, পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিনের সার্বিক নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে মোট ১৮টি অভিযান পরিচালনা করা হয়। গ্রেপ্তার ২১ জনের মধ্যে ২ জন মাদক ব্যবসায়ী ও ১৯ জন মাদকসেবী রয়েছেন। বেগমগঞ্জ মডেল থানার পৃথক অভিযানে ১১২ পিস ইয়াবাসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ছয়জনকে সাজা দেওয়া হয়। সেনবাগ থানায় মাদকসেবনের দায়ে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সোনাইমুড়ী থানায় ২ গ্রাম গাঁজাসহ একজনকে গ্রেপ্তার করে নিয়মিত মামলা করা হয়। কবিরহাট থানায় আরও ২ গ্রাম গাঁজাসহ একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মোবাইল কোর্ট তাকে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন। নোয়াখালী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) আহমেদ পেয়ার আরও বলেন, মাদক ব্যবসা, সরবরাহ, বহন ও সেবনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি জনসচেতনতা ও সামাজিক প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।