

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় জামিনে কারামুক্ত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বরণ করতে এসে ফুলের মালাসহ দলটির চার নেতাকর্মী আটক হয়েছেন। রোববার (৯ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে নোয়াখালী জেলা কারাগারের ফটক থেকে তাদের আটক করে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে এক ব্যাগ ফুলের মালা উদ্ধার করা হয়। আটকরা হলেন- সদর উপজেলার এওজবালিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম এওজবালিয়া গ্রামের মৃত শফি উল্যার ছেলে ছেরাজল হক চৌধুরী (৬৩), একই গ্রামের আজিজুল হকের ছেলে মেহেদী হাসান হৃদয় (২০), মো. বাহারের ছেলে মো. ফারুক হোসেন (১৮) ও মো. খোকনের ছেলে মো. নাজিম (১৮)। পুলিশ জানিয়েছে, তারা সবাই নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ জুন জুমার নামাজের পর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের বাঁধের হাট বাজারে ইউনিয়ন ছাত্রলীগ ও যুবলীগের যৌথ উদ্যোগে প্রায় তিন হাজার নেতাকর্মী বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন। ওই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুরো উপজেলা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের প্রায় দুই শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে। রোববার তাদের মধ্যে কয়েকজন জামিনে মুক্তি পেলে খবর পেয়ে ফুলের মালা নিয়ে দলটির নেতাকর্মীরা জেলা কারাগারের ফটকে অবস্থান নেন। বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে ফুলের মালাসহ চারজনকে আটক করে। সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, স্বজনরা জামিনে মুক্ত ব্যক্তিদের জন্য ফুলের মালা নিয়ে আসতে পারেন। কিন্তু আটক ব্যক্তিরা জামিনে মুক্তি পাওয়া ব্যক্তিদের আত্মীয়-স্বজন নন। তারা বিভিন্ন এলাকা থেকে এসে ফুলের মালা দিয়ে ছবি তোলা ও শোডাউনের মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চেয়েছিলেন। এ কারণে তাদের আটক করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ওই মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হবে।

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য জোটের প্রার্থী হিসেবে এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নাম চূড়ান্ত করেছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। রোববার (৯ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনে জোট শরিকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ কথা জানান বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। এর মধ্য দিয়ে ১৯৯১ সালের পর রাষ্ট্রপতি পদে দ্বিতীয় বারের মতো নির্বাচন হতে যাচ্ছে। বৈঠককে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, জাগপা সহসভাপতি রাশেদ প্রধান, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার ফুয়াদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ প্রমুখ। সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তনের পর ১৯৯১ সালে একমাত্র বিরোধী দল থেকে প্রার্থী দেওয়ার নজির রয়েছে। সেই সময়ে আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে থেকে রাষ্ট্রপতি পদে বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরীকে মনোনয়ন দিয়েছিল। সেই নির্বাচনে তিনি বিএনপি প্রার্থী আব্দুর রহমান বিশ্বাসের কাছে ৮০ ভোটে পরাজিত হন। এর পর থেকে প্রতিবারই ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন। চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০টি আসনের মধ্যে বিএনপি ২১১ আসন পেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। আর জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোট ৬৮টি আসন অর্জন করেছে। এছাড়া বিএনপি জোট শরিকদের মধ্যে বিজেপি, গণসংহতি আন্দোলন ও গনঅধিকার পরিষদ একটি করে আসন লাভ করে। জামায়াতে জোটের জাতীয় নাগরিক পার্টি ৬টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি ও খেলাফত মজলিস একটি আসন লাভ করে। এ ছাড়া স্বতন্ত্র ৭ জন ও ইসলামী আন্দোলন একটি আসন অর্জন করেছে।

নোয়াখালীর কবিরহাটে নিখোঁজের একদিন পর আজাদ হোসেন (৩৪) নামে এক যুবদল নেতার মরদেহ বাড়ির পাশের ডোবা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার গলায় দড়ি পেঁচানো এবং চোখের ওপর আঘাতের চিহ্ন ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে কবিরহাট পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ ঘোষবাগ গ্রামের একটি ডোবায় মরদেহটি ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত আজাদ একই গ্রামের হানিফ মিয়ার বাড়ির মৃত ফজল হকের ছেলে। তিনি কবিরহাট পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের প্রচার সম্পাদক ছিলেন। পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ১টার দিকে আজাদ হোসেন বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন। স্বজনরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরে শুক্রবার বিকেল প্রায় ৫টার দিকে বাড়ির পাশের একটি ডোবায় তার মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, আজাদের চাচাতো ভাই ফারুক (৪০) ও নিজাম (৩৬) এ ঘটনায় জড়িত থাকতে পারেন। ঘটনার পর থেকে তারা পলাতক রয়েছেন বলেও দাবি করেন স্বজনরা। নোয়াখালী জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য গোলাম মোমিত ফয়সাল বলেন, যুবদল নেতা আজাদ ব্যবসা করতেন, পাশাপাশি যুবদলের একজন সক্রিয় নেতা ছিলেন। তার মৃত্যুর রহস্য দ্রুত উদঘাটন করে জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে পুলিশের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। কবিরহাট থানার ওসি রোমেল বড়ুয়া বলেন, ঘটনাস্থলে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। তার গলায় দড়ি পেঁচানো ছিল এবং চোখের ওপর আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নোয়াখালীতে র্যাব-১১, সিপিসি-৩ এর পৃথক অভিযানে তিনটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) এসব তথ্য নিশ্চিত করেন র্যাব-১১, সিপিসি-৩ নোয়াখালীর কোম্পানি কমান্ডার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মিঠুন কুমার কুণ্ডু। এর আগে, বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও ঢাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তাররা হলেন- মামুন (৪২), মো. ফুরকান আলী (৩১) ও মো. আবু সাইদহ ওরফে সাবিনুর (৪৫)। র্যাব জানায়, মামুনকে বেগমগঞ্জের আমানউল্লাপুর ইউনিয়নের খেমচন্দ্রপুর বড় বাড়ির সামনে থেকে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি সোনাইমুড়ীর আমিশাপাড়া বাজারে ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম (৫৭) হত্যা মামলার আসামি। টাকা-পয়সা নিয়ে বিরোধের জেরে গত বছরের ২৬ নভেম্বর আব্দুর রহিমকে লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে মারধর করা হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ফুরকান আলীকে সোনাইমুড়ীর বারগাঁও ইউনিয়নের কালারাইতা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী আখি আক্তারকে নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগে করা মামলার প্রধান আসামি। অন্যদিকে, আবু সাঈদ ওরফে সাবিনুরকে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জের হানুবাইশ বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে গতকাল সন্ধ্যা ৭টা ৫ মিনিটে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে শাজাহানপুরে সোহাগ (২৫) নামে এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। র্যাব-১১, সিপিসি-৩ নোয়াখালীর কোম্পানি কমান্ডার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মিঠুন কুমার কুণ্ডু বলেন, এসব মামলার পর থেকেই আসামিরা গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিজিটাল লেনদেনকে আরও সহজ ও জনপ্রিয় করতে বাংলা কিউআরভিত্তিক লেনদেনে বড় পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগামী ১ অক্টোবর থেকে বাংলা কিউআর কোডের সব লেনদেনে ইন্টারচেঞ্জ রিইম্বার্সমেন্ট ফি বা আন্তঃব্যাংক চার্জ শূন্য হবে। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ব্যবসায়ী ও সেবা প্রদানকারীদের বাংলা কিউআর ব্যবহারে উৎসাহিত করতে ১০০ কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল গঠন করা হয়েছে। তবে এই প্রণোদনা সরাসরি ব্যবসায়ীর হাতে নগদ হিসেবে না গিয়ে লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত ব্যাংক বা এমএফএস প্রতিষ্ঠান পাবে, যার সুফল মার্চেন্টদের মাশুল কমানোর মাধ্যমে পাওয়ার কথা। বাংলা কিউআর কী? বাংলা কিউআর হলো বাংলাদেশ ব্যাংকের চালু করা একটি একক ও আন্তঃসংযুক্ত (ইন্টারঅপারেবল) কিউআর পেমেন্ট ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে একজন গ্রাহক অংশগ্রহণকারী ব্যাংক বা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) অ্যাপ ব্যবহার করে কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বাংলা কিউআর স্ক্যান করে মূল্য পরিশোধ করতে পারেন। ফলে একজন ব্যবসায়ীকে আলাদা আলাদা ব্যাংক বা এমএফএসের জন্য একাধিক কিউআর কোড রাখার প্রয়োজন হয় না। বাংলাদেশ ব্যাংক ১ জুলাই থেকে মার্চেন্ট পেমেন্টের ক্ষেত্রে বাংলা কিউআর ব্যবস্থাকে দেশজুড়ে বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেয়। এর লক্ষ্য নগদনির্ভরতা কমিয়ে ডিজিটাল লেনদেন বাড়ানো। এবার লেনদেনে চার্জ কত? বাংলা কিউআরভিত্তিক সব ধরনের লেনদেনে ইন্টারচেঞ্জ রিইম্বার্সমেন্ট ফি (আইআরএফ) শূন্য করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। অর্থাৎ গ্রাহকের টাকা যে প্রতিষ্ঠান থেকে যাচ্ছে এবং মার্চেন্টের টাকা যে প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গ্রহণ করা হচ্ছে- তাদের মধ্যে এই আন্তঃপ্রতিষ্ঠান ফি বা সার্ভিস চার্জ আর নেওয়া যাবে না। সিদ্ধান্তটি ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হবে। এর আগে বাংলা কিউআর লেনদেনে মোট ১ থেকে ১ দশমিক ১৫ শতাংশ পর্যন্ত মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (এমডিআর) ছিল। এর মধ্যে শূন্য দশমিক ৩৫ থেকে শূন্য দশমিক ৭০ শতাংশ পর্যন্ত আইআরএফ হিসেবে গ্রাহকের আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে দিতে হতো। নতুন সিদ্ধান্তে আইআরএফ তুলে দেওয়ায় ব্যবসায়ীদের ওপর থাকা মাশুল কমানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। তাহলে ‘ফ্রি’ বলতে কী বোঝায়? এখানে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে বোঝা জরুরি। বাংলা কিউআর ব্যবহারে ‘ফ্রি’ সুবিধাটি মূলত আইআরএফ শূন্য করার সঙ্গে সম্পর্কিত। অর্থাৎ আন্তঃব্যাংক এই নির্দিষ্ট চার্জ থাকবে না। তবে ব্যবসায়ীর ক্ষেত্রে চূড়ান্ত মার্চেন্ট মাশুল শূন্য হবে কি না, তা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে পারে। যদিও আইআরএফ শূন্য হওয়ায় কিউআর গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য মার্চেন্টদের ওপর আরোপিত মাশুল কমানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে এবং বাংলাদেশ ব্যাংক আশা করছে এতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। কারা পাবেন প্রণোদনা? বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ১০০ কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল অনুমোদন করেছে। এই সুবিধা মূলত ব্যক্তিপর্যায়ে নিবন্ধিত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক পণ্য বিক্রেতা এবং সেবা প্রদানকারীদের বাংলা কিউআর ব্যবহারে উৎসাহিত করার জন্য। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- প্রণোদনার টাকা সরাসরি মার্চেন্টকে দেওয়ার কথা নয়। যোগ্য লেনদেনের বিপরীতে প্রণোদনা পাবে লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত দুটি প্রতিষ্ঠান: অ্যাকোয়ারিং প্রতিষ্ঠান- যে ব্যাংক বা এমএফএস মার্চেন্টের কাছে বাংলা কিউআর স্থাপন করেছে, তারা পাবে লেনদেনের ০.১০ শতাংশ। ইস্যুয়িং প্রতিষ্ঠান- গ্রাহক যে ব্যাংক বা এমএফএস অ্যাপের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করেছেন, সেই প্রতিষ্ঠান পাবে ০.২০ শতাংশ। অর্থাৎ যোগ্য লেনদেনে মোট প্রণোদনার হার ০.৩০ শতাংশ। ২ হাজার টাকা পর্যন্ত লেনদেনে কীভাবে হিসাব হবে? প্রণোদনার আওতায় প্রতিটি যোগ্য বাংলা কিউআরভিত্তিক এনপিএসবি লেনদেনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকা পর্যন্ত লেনদেনের পরিমাণ বিবেচনা করা হবে। সহজভাবে ধরলে, কোনো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বাংলা কিউআর দিয়ে ১ হাজার টাকা গ্রহণ করলে- অ্যাকোয়ারিং প্রতিষ্ঠান পাবে ০.১০% = ১ টাকা ইস্যুয়িং প্রতিষ্ঠান পাবে ০.২০% = ২ টাকা মোট প্রণোদনা = ৩ টাকা আর ২ হাজার টাকার যোগ্য লেনদেন হলে মোট প্রণোদনা হবে ৬ টাকা- যার ২ টাকা অ্যাকোয়ারিং প্রতিষ্ঠান এবং ৪ টাকা ইস্যুয়িং প্রতিষ্ঠান পাবে। এখানে ২ হাজার টাকা বলতে প্রতিটি যোগ্য লেনদেনের হিসাবযোগ্য সর্বোচ্চ পরিমাণ বোঝানো হয়েছে; মার্চেন্ট সরাসরি ২ হাজার টাকা প্রণোদনা পাবেন- এমনটি নয়। তাহলে ব্যবসায়ীর লাভ কোথায়? ব্যবসায়ীর সরাসরি প্রণোদনা না থাকলেও উদ্যোগটির মূল সুবিধা হলো লেনদেনের মাশুল কমানো। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য ১ থেকে ১ দশমিক ১৫ শতাংশ পর্যন্ত মাশুল আগে তুলনামূলক বড় চাপ ছিল। নতুন ব্যবস্থায় আইআরএফ শূন্য হওয়ায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর খরচ কমবে এবং প্রতিযোগিতার মাধ্যমে মার্চেন্টদের ওপর আরোপিত মাশুলও কমার সুযোগ তৈরি হবে। অর্থাৎ, একজন ছোট দোকানি বাংলা কিউআর গ্রহণ করলে তার জন্য ডিজিটাল পেমেন্ট নেওয়ার খরচ আগের তুলনায় কম হওয়ার কথা। একই সঙ্গে গ্রাহকরাও নগদ টাকা বহনের ঝামেলা ছাড়াই ব্যাংক বা এমএফএস অ্যাপ থেকে সরাসরি মূল্য পরিশোধ করতে পারবেন। প্রণোদনা পেতে কী কী শর্ত? বাংলাদেশ ব্যাংক প্রণোদনার অপব্যবহার ঠেকাতে বেশ কিছু শর্ত দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- বড় লেনদেন ভেঙে ছোট করা যাবে না: শুধু বেশি প্রণোদনা পাওয়ার জন্য একটি বড় লেনদেনকে একাধিক ছোট লেনদেনে ভাগ করা নিষিদ্ধ। কৃত্রিমভাবে লেনদেন বাড়ানো যাবে না: ‘Transaction Structuring’ করে লেনদেনের সংখ্যা বাড়ানো যাবে না। সব লেনদেনে প্রণোদনা নেই: ব্যর্থ, বাতিল, রিভার্স, রিফান্ড, চার্জব্যাক বা বিতর্কিত লেনদেনের বিপরীতে প্রণোদনা দেওয়া হবে না। কোনো মার্চেন্টের লেনদেনে অস্বাভাবিকতা দেখা গেলে সংশ্লিষ্ট অ্যাকোয়ারিং প্রতিষ্ঠানকে তা পর্যবেক্ষণ ও যাচাই করতে হবে। কৃত্রিম লেনদেন বা অন্য কোনোভাবে ব্যবস্থাটির অপব্যবহার প্রমাণিত হলে প্রণোদনার অর্থ ফেরত নেওয়া বা পরবর্তী প্রণোদনার সঙ্গে সমন্বয় করা হতে পারে। কবে থেকে কার্যকর? বাংলা কিউআরভিত্তিক চার্জ শূন্য এবং নতুন প্রণোদনা-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত আগামী ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট ১০ আগস্ট এ বিষয়ে পৃথক নির্দেশনা জারি করেছে। কেন এই উদ্যোগ? বাংলাদেশ ব্যাংকের লক্ষ্য হলো ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থায় আরও বেশি যুক্ত করা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বাংলা কিউআর ব্যবস্থায় এরই মধ্যে বিপুলসংখ্যক ব্যবসায়ী যুক্ত হয়েছেন। ১ জুলাই থেকে দেশজুড়ে একক বাংলা কিউআর ব্যবস্থা চালুর পর লেনদেনও দ্রুত বাড়ছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে একদিকে যেমন নগদ লেনদেনের ওপর নির্ভরতা কমবে, অন্যদিকে ছোট ব্যবসায়ীদের ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণে উৎসাহ বাড়বে। পাশাপাশি লেনদেনের রেকর্ড তৈরি হওয়ায় আর্থিক স্বচ্ছতাও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক বাংলা কিউআরকে একটি নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও আন্তঃসংযুক্ত ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা হিসেবে বিস্তৃত করতে চাইছে। উল্লেখ্য, ১ অক্টোবর থেকে বাংলা কিউআরে আন্তঃপ্রতিষ্ঠান আইআরএফ থাকবে না, ফলে লেনদেনের খরচ কমার সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের বাংলা কিউআরভিত্তিক যোগ্য লেনদেন বাড়াতে ১০০ কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও এমএফএস প্রতিষ্ঠানকে প্রণোদনা দেওয়া হবে। তবে এই প্রণোদনা পাওয়ার জন্য কৃত্রিমভাবে লেনদেন ভাগ করা বা বাড়ানোর সুযোগ নেই।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিদেশি নাগরিকদের ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি ভিসা বাতিল করেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবে এসব ভিসা বাতিল করা হয়েছে। খবর রয়টার্স। পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, ভিসার শর্ত ভঙ্গ, অপরাধে জড়ানো, মার্কিন নাগরিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতার আহ্বান, প্রতারণা, অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদের ভিসা বাতিল করা হয়েছে। দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বেশির ভাগ ভিসা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঘটনার পর বাতিল হয়েছে। এসব ঘটনায় হামলা, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, চুরি ও মাদকসংক্রান্ত অপরাধ ছিল প্রধান কারণ। পররাষ্ট্র দপ্তর কয়েকটি নির্দিষ্ট ঘটনার কথাও জানিয়েছে। এর মধ্যে যৌন নিপীড়ন, অপহরণ ও মানবপাচার ও শিশু যৌন নির্যাতনের উপকরণ রাখার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ভিসা বাতিল করা হয়েছে। উত্তর আফ্রিকার একটি মার্কিন দূতাবাস এমন ১০০টির বেশি ভিসা বাতিল করেছে, যাদের বিরুদ্ধে মূলত সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে শিশুকে মার্কিন নাগরিকত্ব দেওয়ার চেষ্টা করার অভিযোগ ছিল। এ ছাড়া রক্ষণশীল রাজনৈতিক কর্মী চার্লি কার্কের হত্যাকে উদযাপন বা হত্যার পক্ষে মন্তব্য করা কয়েকজন বিদেশির ভিসাও বাতিল করা হয়েছে। এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছিল, ট্রাম্প প্রশাসন ১ লাখের বেশি ভিসা বাতিল করেছে। তখন সেটিকে রেকর্ডসংখ্যক ভিসা বাতিল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। নতুন তথ্য অনুযায়ী, সেই সংখ্যা এখন ১ লাখ ৭৫ হাজার ছাড়িয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসন ও ভিসা নীতিতে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যাচাইসহ বিভিন্ন ধরনের অতিরিক্ত নজরদারি ও যাচাই প্রক্রিয়াও চালু করা হয়েছে। তবে মানবাধিকারকর্মীরা এসব পদক্ষেপের সমালোচনা করে বলেছেন, এতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং অভিবাসীদের ওপর অতিরিক্ত নজরদারি তৈরি হচ্ছে।

বাবার মরদেহ বাড়িতে রেখে এসএসসি পরীক্ষার শেষ বিষয়ে অংশ নেওয়া নোয়াখালীর শিক্ষার্থী আবতাহি উদ্দিন লাবিব গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে। বাবার স্বপ্ন পূরণের প্রত্যয়ে গভীর শোককে শক্তিতে পরিণত করে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল সে। তার এই সাফল্যে পরিবার, শিক্ষক ও সহপাঠীদের মধ্যে আনন্দের পাশাপাশি আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে নোয়াখালী জিলা স্কুল থেকে ২৩৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ১৩১ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। তাদেরই একজন বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আবতাহি উদ্দিন লাবিব। সে সব বিষয়ে এ-প্লাস পেয়ে গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। এর আগে গত ২০ মে জীববিজ্ঞান পরীক্ষার দিন বাবার মরদেহ বাড়িতে রেখেই পরীক্ষাকেন্দ্রে গিয়েছিল লাবিব। ওই দিনই ছিল তার এসএসসি পরীক্ষার শেষ বিষয়। পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফিরে বাবার জানাজা ও দাফনে অংশ নেয় সে। ঘটনাটি সে সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। জানা যায়, লাবিবের বাবা মফিদুল আলম চাটখিল মহিলা ডিগ্রি কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন। গত ১৯ মে রাতে ঢাকায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৪ বছর। পরিবারের সদস্যরা জানান, সন্তানের ভালো ফলাফল ও উচ্চশিক্ষা ছিল মফিদুল আলমের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন। বাবার সেই স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যেই গভীর শোকের মধ্যেও পরীক্ষায় অংশ নেয় লাবিব। আজকের এই ফলাফল বাবার প্রতি তার ভালোবাসা ও শ্রদ্ধারই বহিঃপ্রকাশ। লাবিবের এই সাফল্যে নোয়াখালীর শিক্ষাঙ্গনে প্রশংসার পাশাপাশি আবেগঘন প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে তার এই অর্জন অন্য শিক্ষার্থীদের জন্য সাহস ও অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলাফল প্রকাশের পর লাবিব বলেন, বাবা সব সময় চাইতেন আমি ভালো ফল করি। পরীক্ষার সময় বাবাকে হারানো আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্ত ছিল। কিন্তু বাবার স্বপ্ন পূরণের কথা ভেবেই নিজেকে সামলে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলাম। আজ গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছি, কিন্তু বাবা পাশে নেই। তিনি ফলাফল পেলে খুব খুশি হতেন। এদিকে লাবিব ফলাফল প্রকাশের পর নিজের ফেসবুকেও বাবাকে স্মরণ করে আবেগঘন একটি স্ট্যাটাস দিয়েছে। সেখানে সে লিখেছে, আজকের দিনে যদি আমার বাবা বেঁচে থাকতেন, তাহলে হয়তো নিজের আইডি থেকে পোস্ট করে বলতেন— আমার ছেলে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে। সে আরও লিখেছে, ভালো রেজাল্ট হওয়ার পরেও মনের মধ্যে কেমন যেন এক নীরব ব্যথা কাজ করছে। আপনারা সবাই আমার জন্য, আমার বাবার জন্য এবং আমার পরিবারের জন্য দোয়া করবেন। মহান আল্লাহ যেন আমার বাবাকে জান্নাতের উচ্চ মাকাম দান করেন এবং আমি যেন বড় হয়ে আমার বাবার স্বপ্ন পূরণ করতে পারি। লাবিবের আবেগঘন স্ট্যাটাসটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অনেকেই তার প্রতি সমবেদনা জানিয়ে শুভকামনা জানান। শিক্ষক, সহপাঠী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তার এই সাফল্যকে প্রয়াত বাবার স্বপ্ন পূরণের পথে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখছেন। নোয়াখালী জিলা স্কুলের এক শিক্ষক বলেন, লাবিব শুরু থেকেই অত্যন্ত মেধাবী ও পরিশ্রমী শিক্ষার্থী। ব্যক্তিগত জীবনের এত বড় শোককে জয় করে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া এবং গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জন করা তার অসাধারণ মানসিক দৃঢ়তার পরিচয়। চাটখিল মহিলা ডিগ্রি কলেজের উপাধ্যক্ষ ফারুক সিদ্দিকী ফরহাদ বলেন, মফিদুল আলমের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন ছিল সন্তানের সাফল্য। লাবিবের এই অর্জন নিঃসন্দেহে তার বাবার স্বপ্ন পূরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। আমরা তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি। চাটখিল মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, লাবিবের এই সাফল্য শুধু ভালো ফলাফল নয়, এটি অধ্যবসায়, দায়িত্ববোধ ও মানসিক শক্তির অনন্য উদাহরণ। বাবাকে হারানোর গভীর শোকের মধ্যেও তার ধৈর্য ও সাহস অন্য শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় জামিনে কারামুক্ত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বরণ করতে এসে ফুলের মালাসহ দলটির চার নেতাকর্মী আটক হয়েছেন। রোববার (৯ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে নোয়াখালী জেলা কারাগারের ফটক থেকে তাদের আটক করে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে এক ব্যাগ ফুলের মালা উদ্ধার করা হয়। আটকরা হলেন- সদর উপজেলার এওজবালিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম এওজবালিয়া গ্রামের মৃত শফি উল্যার ছেলে ছেরাজল হক চৌধুরী (৬৩), একই গ্রামের আজিজুল হকের ছেলে মেহেদী হাসান হৃদয় (২০), মো. বাহারের ছেলে মো. ফারুক হোসেন (১৮) ও মো. খোকনের ছেলে মো. নাজিম (১৮)। পুলিশ জানিয়েছে, তারা সবাই নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ জুন জুমার নামাজের পর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের বাঁধের হাট বাজারে ইউনিয়ন ছাত্রলীগ ও যুবলীগের যৌথ উদ্যোগে প্রায় তিন হাজার নেতাকর্মী বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন। ওই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুরো উপজেলা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের প্রায় দুই শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে। রোববার তাদের মধ্যে কয়েকজন জামিনে মুক্তি পেলে খবর পেয়ে ফুলের মালা নিয়ে দলটির নেতাকর্মীরা জেলা কারাগারের ফটকে অবস্থান নেন। বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে ফুলের মালাসহ চারজনকে আটক করে। সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, স্বজনরা জামিনে মুক্ত ব্যক্তিদের জন্য ফুলের মালা নিয়ে আসতে পারেন। কিন্তু আটক ব্যক্তিরা জামিনে মুক্তি পাওয়া ব্যক্তিদের আত্মীয়-স্বজন নন। তারা বিভিন্ন এলাকা থেকে এসে ফুলের মালা দিয়ে ছবি তোলা ও শোডাউনের মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চেয়েছিলেন। এ কারণে তাদের আটক করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ওই মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হবে।

যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ইতালির রাজধানী রোমের ফিউমিচিনো বিমানবন্দরে প্রায় ৪০ ঘণ্টা আটকে থাকার পর ঢাকায় ফিরেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৩০৬ ফ্লাইট। রোববার (৯ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে। এর আগে স্থানীয় সময় শনিবার রাত ১১টায় (বাংলাদেশ সময় রোববার রাত ৩টা) রোমের ফিউমিচিনো বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয় ফ্লাইটটি। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ কর্মকর্তা বোসরা ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ৪০ ঘণ্টা পর ঢাকায় ফিরল রোমে আটকে পড়া বিমানের ফ্লাইট ত্রুটিমুক্ত হয়েছে রোমে আটকে থাকা প্লেন, ঢাকায় পৌঁছবে আজ বেলা সাড়ে ১১টায় বিমান সূত্রে জানা যায়, বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজটি আড়াই শতাধিক যাত্রী নিয়ে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা ১৮ মিনিটে কানাডার টরন্টোর পিয়ারসন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে। প্রায় আট ঘণ্টা উড্ডয়নের পর উড়োজাহাজটিতে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে সেটি রোমের ফিউমিচিনো বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে। স্থানীয় সময় শুক্রবার সকাল ৭টা ১৯ মিনিটে উড়োজাহাজটি বিমানবন্দরে অবতরণ করে। দীর্ঘ সময় চেষ্টা করেও ত্রুটি মেরামত করা সম্ভব না হলে ঢাকা থেকে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ এবং দুই সদস্যের প্রকৌশলী দল রোমে পাঠানো হয়। শনিবার দুপুরে বিমানের বিজি-৩০৫ ফ্লাইটে প্রকৌশলী দলটি রোমের উদ্দেশে রওনা হয়। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ১৬ মিনিটে তারা রোমে পৌঁছান। এরপর প্রকৌশলীরা প্রয়োজনীয় কাজ শেষে উড়োজাহাজটির কারিগরি ত্রুটি সমাধান করেন। পরে ফ্লাইটটিকে গ্রাউন্ডেড অবস্থা থেকে অপারেশনের জন্য ছাড়পত্র দেওয়া হয়। রাতে সেটি ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেয়। এদিকে, দীর্ঘ সময় রোমে আটকে থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন আড়াই শতাধিক যাত্রী। যাত্রীদের অভিযোগ, বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী অন্তত ১৭০ জনকে প্রায় ৪০ ঘণ্টা বিমানবন্দরের লাউঞ্জেই অবস্থান করতে হয়েছে। অন্যদিকে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্টধারী যাত্রীদের জন্য বিমান কর্তৃপক্ষ হোটেলের ব্যবস্থা করেছিল বলে অভিযোগ করেন তারা।

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য জোটের প্রার্থী হিসেবে এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নাম চূড়ান্ত করেছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। রোববার (৯ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনে জোট শরিকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ কথা জানান বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। এর মধ্য দিয়ে ১৯৯১ সালের পর রাষ্ট্রপতি পদে দ্বিতীয় বারের মতো নির্বাচন হতে যাচ্ছে। বৈঠককে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, জাগপা সহসভাপতি রাশেদ প্রধান, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার ফুয়াদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ প্রমুখ। সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তনের পর ১৯৯১ সালে একমাত্র বিরোধী দল থেকে প্রার্থী দেওয়ার নজির রয়েছে। সেই সময়ে আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে থেকে রাষ্ট্রপতি পদে বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরীকে মনোনয়ন দিয়েছিল। সেই নির্বাচনে তিনি বিএনপি প্রার্থী আব্দুর রহমান বিশ্বাসের কাছে ৮০ ভোটে পরাজিত হন। এর পর থেকে প্রতিবারই ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন। চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০টি আসনের মধ্যে বিএনপি ২১১ আসন পেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। আর জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোট ৬৮টি আসন অর্জন করেছে। এছাড়া বিএনপি জোট শরিকদের মধ্যে বিজেপি, গণসংহতি আন্দোলন ও গনঅধিকার পরিষদ একটি করে আসন লাভ করে। জামায়াতে জোটের জাতীয় নাগরিক পার্টি ৬টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি ও খেলাফত মজলিস একটি আসন লাভ করে। এ ছাড়া স্বতন্ত্র ৭ জন ও ইসলামী আন্দোলন একটি আসন অর্জন করেছে।

সৌদিতে তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথিরা। এতে স্থাপনাটিতে আগুন ধরে গেছে। রোববার (৯ আগস্ট) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। হুথিদের পরিচালিত আল মাসিরাহ টিভি জানিয়েছে, ইয়েমেনের এই গোষ্ঠীটি আজ সকালে জিজানে সৌদি আরামকোর তেল স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। গোষ্ঠীটির হামলায় স্থাপনাটি দাউ দাউ করে জ্বলছে। এক বিবৃতিতে গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, ইয়েমেনের সাদা ও হাজ্জাহ প্রদেশে সৌদি ড্রোন হামলার জবাবে তারা স্থাপনাটিকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে। এর আগে সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানায়, ইয়েমেন সীমান্তের কাছে লোহিত সাগরের বন্দর জিজানে অবস্থিত সৌদি আরামকো শোধনাগারের একটি স্থাপনায় হামলা হয়েছে। তবে ভোরবেলায় লাগা এ আগুন দমকলকর্মীরা নিভিয়ে ফেলেছেন। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। এর আগে শুক্রবারও সৌদিতে হামলা চালিয়েছিল হুথিরা। এ হামলার পর সৌদি আরবের গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, গোষ্ঠীটি বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থনকারী সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি বলেন, দক্ষিণাঞ্চলীয় নাজরান প্রদেশে এই হামলায় সাতজন সৌদি, একজন ইয়েমেনি, দুজন মিসরীয় এবং একজন পাকিস্তানি নাগরিক আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে চার বছর বয়সী একটি শিশুও রয়েছে। মালিকি হুথিদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘন করে বেসামরিক এলাকায় নির্বিচারে গোলাবর্ষণের অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষায় জোট সব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রাখবে। তবে জোটের এ বিবৃতির বিষয়ে হুথি বা ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। সূত্র : আল জাজিরা

নোয়াখালীর কবিরহাটে নিখোঁজের একদিন পর আজাদ হোসেন (৩৪) নামে এক যুবদল নেতার মরদেহ বাড়ির পাশের ডোবা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার গলায় দড়ি পেঁচানো এবং চোখের ওপর আঘাতের চিহ্ন ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে কবিরহাট পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ ঘোষবাগ গ্রামের একটি ডোবায় মরদেহটি ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত আজাদ একই গ্রামের হানিফ মিয়ার বাড়ির মৃত ফজল হকের ছেলে। তিনি কবিরহাট পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের প্রচার সম্পাদক ছিলেন। পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ১টার দিকে আজাদ হোসেন বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন। স্বজনরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরে শুক্রবার বিকেল প্রায় ৫টার দিকে বাড়ির পাশের একটি ডোবায় তার মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, আজাদের চাচাতো ভাই ফারুক (৪০) ও নিজাম (৩৬) এ ঘটনায় জড়িত থাকতে পারেন। ঘটনার পর থেকে তারা পলাতক রয়েছেন বলেও দাবি করেন স্বজনরা। নোয়াখালী জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য গোলাম মোমিত ফয়সাল বলেন, যুবদল নেতা আজাদ ব্যবসা করতেন, পাশাপাশি যুবদলের একজন সক্রিয় নেতা ছিলেন। তার মৃত্যুর রহস্য দ্রুত উদঘাটন করে জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে পুলিশের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। কবিরহাট থানার ওসি রোমেল বড়ুয়া বলেন, ঘটনাস্থলে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। তার গলায় দড়ি পেঁচানো ছিল এবং চোখের ওপর আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নোয়াখালীতে র্যাব-১১, সিপিসি-৩ এর পৃথক অভিযানে তিনটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) এসব তথ্য নিশ্চিত করেন র্যাব-১১, সিপিসি-৩ নোয়াখালীর কোম্পানি কমান্ডার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মিঠুন কুমার কুণ্ডু। এর আগে, বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও ঢাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তাররা হলেন- মামুন (৪২), মো. ফুরকান আলী (৩১) ও মো. আবু সাইদহ ওরফে সাবিনুর (৪৫)। র্যাব জানায়, মামুনকে বেগমগঞ্জের আমানউল্লাপুর ইউনিয়নের খেমচন্দ্রপুর বড় বাড়ির সামনে থেকে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি সোনাইমুড়ীর আমিশাপাড়া বাজারে ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম (৫৭) হত্যা মামলার আসামি। টাকা-পয়সা নিয়ে বিরোধের জেরে গত বছরের ২৬ নভেম্বর আব্দুর রহিমকে লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে মারধর করা হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ফুরকান আলীকে সোনাইমুড়ীর বারগাঁও ইউনিয়নের কালারাইতা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী আখি আক্তারকে নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগে করা মামলার প্রধান আসামি। অন্যদিকে, আবু সাঈদ ওরফে সাবিনুরকে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জের হানুবাইশ বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে গতকাল সন্ধ্যা ৭টা ৫ মিনিটে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে শাজাহানপুরে সোহাগ (২৫) নামে এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। র্যাব-১১, সিপিসি-৩ নোয়াখালীর কোম্পানি কমান্ডার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মিঠুন কুমার কুণ্ডু বলেন, এসব মামলার পর থেকেই আসামিরা গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

বর্ষা মৌসুমে সাপের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলায় জনসাধারণকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এরই অংশ হিসেবে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এন্টি স্নেক ভেনম (সাপের বিষের প্রতিষেধক) সরবরাহ করা হয়েছে। এর ফলে এখন থেকে সাপের কামড়ে আক্রান্ত রোগীরা সরকারি হাসপাতালেই সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসা নিতে পারবেন। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে এ প্রতিষেধক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হস্তান্তর করা হয়। একই সঙ্গে রোগী পরিবহন ট্রলি, খাবার পরিবেশন ট্রলি, বর্জ্য পরিবহন ট্রলিসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সরঞ্জামও সরবরাহ করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মানসী রানী সরকার এবং হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কবির হোসেন। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বর্ষাকালে হাতিয়ার বিভিন্ন ইউনিয়নে সাপের উপদ্রব বেড়ে যায়। প্রতিবছরই সাপের কামড়ে আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য নোয়াখালী বা চট্টগ্রামে পাঠাতে হতো। এ পরিস্থিতি বিবেচনায় স্থানীয়ভাবে জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যান্টি স্নেক ভেনম সরবরাহ করা হয়েছে। এর আগে চলতি বছরের জুলাই মাসে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রথমবারের মতো অ্যান্টি স্নেক ভেনম প্রয়োগ করে বিষধর সাপের কামড়ে আক্রান্ত এক শিশুর সফল চিকিৎসা করা হয়। শিশুটি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলে স্থানীয়দের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে সাপের কামড়ের চিকিৎসা নিয়ে আস্থা আরও বৃদ্ধি পায়। সেই ধারাবাহিকতায় এবার পর্যাপ্ত অ্যান্টি স্নেক ভেনম মজুদের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন হাতিয়া সম্মিলিত সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা। তাদের মতে, বর্ষা মৌসুমে দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় সাপের উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারি হাসপাতালে অ্যান্টি স্নেক ভেনমের প্রাপ্যতা জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ। এর ফলে প্রত্যন্ত এলাকার সাপের কামড়ে আক্রান্ত রোগীরা দ্রুত ও কার্যকর চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মানসী রানী সরকার বলেন, সাপের কামড়ে আক্রান্ত রোগীকে যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসকরা প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যান্টি স্নেক ভেনম প্রয়োগ করবেন। এ সেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হবে। এ বিষয়ে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও রয়েছে। তিনি জানান, সাপের কামড়ের পর আক্রান্ত ব্যক্তিকে শান্ত রাখা, ক্ষতস্থানে অপ্রয়োজনীয় কাটা, বাঁধা বা ঝাড়ফুঁক না করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়াই জীবন রক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায়। সময়মতো অ্যান্টি স্নেক ভেনম প্রয়োগ করলে বিষধর সাপের কামড়ে আক্রান্ত অধিকাংশ রোগীকেই সুস্থ করে তোলা সম্ভব। ইউএনও রাসেল ইকবাল বলেন, ‘বর্ষাকালে হাতিয়ায় সাপের উপদ্রব বেড়ে যায়। মানুষের জীবন রক্ষায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যান্টি স্নেক ভেনম সরবরাহ করা হয়েছে। সাপের কামড়ে আক্রান্ত হলে কোনো ধরনের ঝাড়ফুঁক বা বিলম্ব না করে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। এখানে রোগীরা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পাবেন।’

নোয়াখালীতে জেলা বিএনপির সাবেক ধর্মবিষয়ক সম্পাদক হাজী আবুল কাশেমকে (৬০) লক্ষ্য করে দুর্বৃত্তরা গুলি ছুড়েছে। এ সময় তাকে গুলি থেকে রক্ষা করতে গিয়ে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাত পৌনে ১২টার দিকে বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী বাজারের হকার্স মার্কেটের মূল গলিতে ওবায়দুলের চায়ের দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ ইয়াছিন সেন্টু (৪৫) চৌমুহনী হকার্স মার্কেটের ফার্মেসি ব্যবসায়ী। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি নেতা হাজী আবুল কাশেম রাজনীতির পাশাপাশি চৌমুহনী বাজারের নোয়াখালী জাতীয় হকার্স সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বৃহস্পতিবার রাতে তিনি চৌমুহনী বাজারে জাতীয় হর্কাস মার্কেটের অফিসে বসেন। এরপর রাত পৌনে ১২টার দিকে তিনি তার সহযোগী সেন্টুসহ অফিস থেকে বের হয়ে যান। একপর্যায়ে তারা দুজন হাঁটতে হাঁটতে হর্কাস মার্কেটের মূল গলির ওবায়দুলের চা দোকানের সামনে পৌঁছলে দুর্বৃত্তরা বিএনপি নেতা কাশেমকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে। এ সময় আবুল কাশেমকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে কাশেমের হাতে গুলির আঁচড় লেগে সেন্টুর বুকের বাঁ পাশ গুলিবিদ্ধ হয়। তাৎক্ষণিক স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বেগমগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো.হাবীবুর রহমান বলেন, দুর্বৃত্তদের গুলিতে একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। পুলিশ ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে চেষ্টা চালাচ্ছে। এ বিষয়ে পরে বিস্তারিত জানানো হবে। নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বেগমগঞ্জ সার্কেল) আ ন ম ইমরান খান বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিএনপি নেতা কাশেমকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে দুর্বৃত্তরা। তবে তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে তার সহযোগী ইয়াসিন সেন্টুর বুকে লেগেছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে নোয়াখালী সরকারি কলেজের উদ্যোগে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও দোয়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচার ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়। প্রায় ১৪০০ শহীদ ও অসংখ্য আহতদের রক্তের বিনিময়ে স্বৈরাচারের কবল থেকে মুক্তি পায় প্রিয় বাংলাদেশ। দিনটিকে স্বরণীয় করে রাখতে জাতীয় দিবস ঘোষণা করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। আজ বুধবার (০৫ আগষ্ট-২০২৬ খ্রিঃ) সকালে নোয়াখালী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল জলিল অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ মনিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোঃ শাহজাহান। এ-সময় কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর এবিএম সানা উল্লাহ, শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক আফসার উদ্দিন জুয়েল সহ অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে জুলাই আহত যোদ্ধা, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, ছাত্র আন্দোলন, ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরে জুলাই শহীদদের স্মরণে দোয়া ও মুনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।