

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবারের মতো তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অফিস করছেন। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা ১০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এলে তাকে স্বাগত জানান কার্যালয়ে মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার ও অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। প্রধানমন্ত্রী নিজের কার্যালয়ের মূল ভবনে প্রবেশের আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া সরকারের সময় দায়িত্বপালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কুশলাদি বিনিময় করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কার্যালয়ের পুরনো অনেক কর্মকর্তা ও কর্মচারীর নাম ধরে কাছে ডেকে কথা বলেন। এদিকে, প্রধানমন্ত্রী একটি স্বর্ণচাঁপা ফুলের চারা কার্যালয় চত্বরে রোপন করেন এবং মহান আল্লাহপাকের কাছে শুকরিয়া আদায় করে বিশেষ মোনাজাত করেন। এসময় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. একেএম শামছুল ইসলামসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে ডাক টিকিট উন্মোচন করেন।

যদিও রোজা রাখার অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে তবে এর কারণে শরীর ক্লান্ত হওয়া স্বাভাবিক। সারাদিন না খেয়ে থাকার কারণে শরীর কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। তবে চিন্তার কিছু নেই। কিছু বিষয়ে খেয়াল রাখলে পুরো রমজানজুড়ে আপনি সুস্থ ও শক্তিশালী থাকতে পারবেন। দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে উঠলে ক্লান্তিবোধ কমে আসবে। চলুন জেনে নেওয়া যাক, রোজায় শক্তি ধরে রাখতে কী করবেন- ১. সেহরিতে পুষ্টিকর খাবার খান সুষম সেহরি দিনের বেলায় রোজার জন্য শরীরকে প্রস্তুত করতে সাহায্য করবে, পাশাপাশি হজমকে আরও মসৃণ করে তুলবে। জটিল কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি, ফল ও শাক-সবজির মিশ্রণ শরীরকে টিকিয়ে রাখবে। লবণাক্ত বা গভীর ভাজা খাবার এড়িয়ে স্বাস্থ্যকর খাবার উপভোগ করুন। হোল গ্রেইন রুটি, বাদামি চাল, ডিম, অ্যাভোকাডো, পনির এবং কলা বেছে নিন। সেইসঙ্গে পর্যাপ্ত পানি পান করুন। ২. মৃদু ব্যায়াম শরীর যখন রোজার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়, তখন প্রথম কয়েক দিন শক্তির মাত্রা কমে যেতে পারে। এটিকে সামঞ্জস্য করার জন্য, আপনার দিনের মধ্যে মৃদু কার্যকলাপ অন্তর্ভুক্ত করুন। কয়েক মিনিট স্ট্রেচিং, অল্প হাঁটা, অথবা কিছু সহজ শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম আপনাকে পুনরুজ্জীবিত এবং সতেজ করতে সাহায্য করবে। ৩. ঘুমের সময়সূচী ঠিক রাখুন ঐতিহ্যগতভাবে বন্ধুবান্ধব এবং পরিবার একত্রিত হওয়ার সময় হলো রমজান মাস। ইফতার, নামাজ, সেহরি সবকিছু মিলিয়ে রাতে ঘুমের সময়ে পরিবর্তন আসে। যদি সম্ভব হয়, আগে আগে ঘুমাতে যাওয়ার চেষ্টা করুন, অথবা সম্ভব হলে নিয়মিত ঘুমের সময়সূচী বজায় রাখুন। ৪. ঠান্ডা পরিবেশে থাকুন তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে রোজায় পানিশূন্যতার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। ফ্যান এবং এয়ার কন্ডিশনিং সমৃদ্ধ পরিবেশে থাকার চেষ্টা করুন, সেইসঙ্গে সম্ভব হলে তাপ থেকে দূরে থাকুন। তীব্র পানিশূন্যতা এড়াতে নিজের ও প্রিয়জনদের দিকে খেয়াল রাখুন। পানিশূন্যতার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।

মানুষের জীবনে যে নিয়ামতগুলো সবচেয়ে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে, মাতৃভাষা তার অন্যতম। ভাষার মাধ্যমেই মানুষ ভাব প্রকাশ করে, জ্ঞান অর্জন করে, অনুভূতি ভাগ করে নেয় এবং সভ্যতা গড়ে তোলে। ইসলাম মাতৃভাষাকে অবজ্ঞা করেনি; বরং কোরআন ও হাদিসে ভাষা ও বৈচিত্র্যকে আল্লাহ তায়ালার অসীম কুদরতের নিদর্শন হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আর তার নিদর্শনাবলির মধ্যে রয়েছে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টি এবং তোমাদের ভাষা ও বর্ণের বৈচিত্র্য। নিশ্চয় এতে জ্ঞানীদের জন্য নিদর্শন রয়েছে। এই আয়াতে ভাষার ভিন্নতাকে আল্লাহর কুদরতের নিদর্শন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ মাতৃভাষা শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং সৃষ্টিকর্তার পক্ষ থেকে প্রদত্ত এক বিশেষ দান, যা মানুষের পরিচয় ও স্বাতন্ত্র্য বহন করে। আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেক জাতির কাছে তাদের নিজস্ব ভাষাভাষী রাসুল পাঠিয়েছেন। এ কথাও কোরআনে স্পষ্টভাবে এসেছে। এর উদ্দেশ্য ছিল, যেন মানুষ সহজে দ্বীন বুঝতে পারে এবং বার্তা গ্রহণে কোনো অসুবিধা না হয়। এটি প্রমাণ করে, ভাষা মানুষের হৃদয়ে পৌঁছানোর সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম। মাতৃভাষার প্রতি এই সম্মান ইসলামের সার্বজনীন দৃষ্টিভঙ্গিকেই তুলে ধরে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ কওমের ভাষায় কথা বলতেন এবং সাহাবায়ে কেরামকেও মানুষের বোধগম্য ভাষায় দাওয়াত দিতে উৎসাহিত করেছেন। হাদিসে আছে, তিনি সহজ ও স্পষ্ট ভাষায় কথা বলতেন, যেন শ্রোতারা অনায়াসে বুঝতে পারে। এর মাধ্যমে আমাদের শেখনো হয়েছে, ভাষা যত সহজ ও হৃদয়ের কাছাকাছি হবে, ততই সত্য ও ন্যায়ের বাণী মানুষের অন্তরে গেঁথে যাবে। মাতৃভাষা মানুষের আবেগ, সংস্কৃতি ও বিশ্বাসের বাহক। শিশুর প্রথম শিক্ষা, মায়ের ডাক, আল্লাহর ইবাদত ও প্রার্থনার স্বতঃস্ফূর্ত ভাষা, সবই মাতৃভাষায়। তাই মাতৃভাষাকে অবহেলা করা মানে নিজের শিকড়কে অবহেলা করা। ইসলাম কখনোই শিকড়চ্যুতি সমর্থন করে না; বরং নিজ পরিচয় রক্ষা করে আল্লাহর পথে চলার শিক্ষা দেয়। একই সঙ্গে ইসলাম অন্য ভাষার প্রতিও শ্রদ্ধাশীল হতে শেখায়। কোরআনের ভাষা আরবি হলেও ইসলাম শুধু আরবদের জন্য নয়। পৃথিবীর প্রতিটি ভাষাভাষী মানুষ ইসলামের আহ্বানের অন্তর্ভুক্ত। তাই মাতৃভাষাকে ভালোবাসা ও লালন করার সঙ্গে সঙ্গে অন্য ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতিও সম্মান দেখানো ঈমানি শিষ্টাচারের অংশ।

নতুন বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতেই দেশের সড়কে ঝরেছে ৪৮৭ প্রাণ। মাসজুড়ে মোট ৫৫৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ১ হাজার ১৯৪ জন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়, যা মোট নিহতের ৪০ দশমিক ২৪ শতাংশ। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমানের পাঠানো জানুয়ারি মাসের সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এ উদ্বেগজনক চিত্র। ৯টি জাতীয় দৈনিক, ৭টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে তারা এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে নারী ৬৮ জন ও শিশু ৫৭ জন। এছাড়া ২০৮টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৯৬ জন, যা মোট নিহতের ৪০ দশমিক ২৪ শতাংশ। এই সময়ে ৪টি নৌ-দুর্ঘটনায় ৬ জন নিহত ও ৭ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া ৪১টি রেল ট্র্যাক দুর্ঘটনায় ৩২ জন নিহত এবং ১৭ জন আহত হয়েছেন। যানবাহনভিত্তিক নিহতের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ১৯৬ জন; বাসের যাত্রী ২১ জন; ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকআপ ও ট্রাক্টরের আরোহী ২৮ জন; প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, অ্যাম্বুলেন্স ও জিপের আরোহী ৯ জন; থ্রি-হুইলার যাত্রী ৭৭ জন; স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী ১৩ জন এবং বাইসাইকেল আরোহী ১১ জন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ১৩৫টি মুখোমুখি সংঘর্ষ, ২০৯টি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ১৩৭টি পথচারীকে চাপা বা ধাক্কা দিয়ে, ৭২টি যানবাহনের পেছনে আঘাত এবং ৬টি অন্যান্য কারণে ঘটেছে। সড়কের ধরন অনুযায়ী, ১৫৬টি জাতীয় মহাসড়কে, ২০৭টি আঞ্চলিক সড়কে, ৮৫টি গ্রামীণ সড়কে, ১০৩টি শহরের সড়কে এবং ৮টি অন্যান্য স্থানে দুর্ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের সংখ্যা ছিল ৮৮৫টি। এর মধ্যে বাস ১০৮টি, ট্রাক ১৪৪টি, কাভার্ডভ্যান ১৬টি, পিকআপ ৩২টি, ট্রাক্টর ২১টি, মোটরসাইকেল ২১৭টি, থ্রি-হুইলার ১৬৪টি, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন ৩৫টি, বাইসাইকেল ৮টি, রিকশা ১১টি এবং অজ্ঞাত যানবাহন ৪৮টি। বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ১৪৩টি দুর্ঘটনায় ১১৯ জন নিহত হয়েছেন। বিপরীতে সিলেট বিভাগে সবচেয়ে কম ২৪টি দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত হয়েছেন। রাজধানী ঢাকায় ২৬টি দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত ও ৪১ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের পেশাগত পরিচয়ের মধ্যে পুলিশ সদস্য ২ জন, শিক্ষক ১৩ জন, চিকিৎসক ২ জন, সাংবাদিক ৬ জন, আইনজীবী ৪ জন, ব্যাংক ও বীমা কর্মকর্তা-কর্মচারী ১১ জন, এনজিও কর্মী ১৯ জন, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ২৭ জন, ব্যবসায়ী ২১ জন, বিক্রয় প্রতিনিধি ২৬ জন, পোশাক শ্রমিক ৯ জন, নির্মাণ শ্রমিক ৬ জন, প্রতিবন্ধী ৩ জন এবং শিক্ষার্থী ৫৭ জন রয়েছেন। প্রতিবেদনে সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও সড়ক, বেপরোয়া গতি, চালকদের অদক্ষতা, কর্মঘণ্টা ও বেতন নির্ধারিত না থাকা, মহাসড়কে স্বল্পগতির যান চলাচল, ট্রাফিক আইন না মানা, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)-এর সক্ষমতার ঘাটতি এবং গণপরিবহনে চাঁদাবাজিকে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ বৃদ্ধি, চালকদের বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্ধারণ, বিআরটিএ’র সক্ষমতা বৃদ্ধি, ট্রাফিক আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করা, মহাসড়কে সার্ভিস রোড নির্মাণ, রোড ডিভাইডার নির্মাণ, গণপরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধ, রেল ও নৌপথ উন্নয়ন এবং সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়েছে।

ফেব্রুয়ারির একুশ মানেই বাঙালির হৃদয়ে শোক আর গৌরবের এক অপার্থিব অনুভূতি। ১৯৫২ সালের এই দিনে রাজপথ রঞ্জিত করে যে বীর সন্তানেরা মায়ের ভাষার মান বাঁচিয়েছিলেন, আজ সারা দেশ তাদের জানাচ্ছে বিনম্র শ্রদ্ধা। জাতির এই পরম আবেগের দিনে অনন্য সাধারণ এক ভঙ্গিতে ভাষা শহীদদের স্মরণ করেছেন ঢালিউড মেগাস্টার শাকিব খান। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে একটি বিশেষ পোস্টের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের প্রতি এই শ্রদ্ধা নিবেদন করেন নায়ক। শাকিব খানের নিজস্ব প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘এসকে ফিল্মস’ -এর পেজ থেকেও একই ছবি ও বার্তা দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। শাকিব খানের শেয়ার করা পোস্টটির কার্ডে ভাষা দিবসের অর্থবহ গ্রাফিক্স ব্যবহার করা হয়েছে। শাকিবের সিনেমায় পাকিস্তানি নায়িকার গুঞ্জন, মুখ খুললেন পরিচালক ছবিতে দেখা যাচ্ছে, চলচ্চিত্রের তিনটি ফিল্ম রোল লম্বালম্বিভাবে দাঁড় করিয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের আদল তৈরি করা হয়েছে এবং পাশে একটি ফিল্ম রিল রাখা হয়েছে। নিজের পেশা অর্থাৎ চলচ্চিত্রের অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ ফিল্ম রোলের সাথে জাতীয় শোক, অহংকার ও গৌরবের প্রতীক শহীদ মিনারকে এক সুতোয় গেঁথেছেন এই শীর্ষ নায়ক। এই ছবিটির ভেতরে এবং পোস্টের ক্যাপশনে লেখা রয়েছে, ‘মাতৃভাষার জন্য জীবন দেওয়া সকল বীর শহীদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা।’ উল্লেখ্য, শাকিব খানের দেশপ্রেম ও মাতৃভাষার প্রতি এমন ব্যতিক্রমী ভালোবাসার প্রশংসা করেছেন তার ভক্ত-অনুরাগীরা।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবারের মতো তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অফিস করছেন। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা ১০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এলে তাকে স্বাগত জানান কার্যালয়ে মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার ও অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। প্রধানমন্ত্রী নিজের কার্যালয়ের মূল ভবনে প্রবেশের আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া সরকারের সময় দায়িত্বপালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কুশলাদি বিনিময় করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কার্যালয়ের পুরনো অনেক কর্মকর্তা ও কর্মচারীর নাম ধরে কাছে ডেকে কথা বলেন। এদিকে, প্রধানমন্ত্রী একটি স্বর্ণচাঁপা ফুলের চারা কার্যালয় চত্বরে রোপন করেন এবং মহান আল্লাহপাকের কাছে শুকরিয়া আদায় করে বিশেষ মোনাজাত করেন। এসময় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. একেএম শামছুল ইসলামসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে ডাক টিকিট উন্মোচন করেন।

যদিও রোজা রাখার অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে তবে এর কারণে শরীর ক্লান্ত হওয়া স্বাভাবিক। সারাদিন না খেয়ে থাকার কারণে শরীর কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। তবে চিন্তার কিছু নেই। কিছু বিষয়ে খেয়াল রাখলে পুরো রমজানজুড়ে আপনি সুস্থ ও শক্তিশালী থাকতে পারবেন। দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে উঠলে ক্লান্তিবোধ কমে আসবে। চলুন জেনে নেওয়া যাক, রোজায় শক্তি ধরে রাখতে কী করবেন- ১. সেহরিতে পুষ্টিকর খাবার খান সুষম সেহরি দিনের বেলায় রোজার জন্য শরীরকে প্রস্তুত করতে সাহায্য করবে, পাশাপাশি হজমকে আরও মসৃণ করে তুলবে। জটিল কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি, ফল ও শাক-সবজির মিশ্রণ শরীরকে টিকিয়ে রাখবে। লবণাক্ত বা গভীর ভাজা খাবার এড়িয়ে স্বাস্থ্যকর খাবার উপভোগ করুন। হোল গ্রেইন রুটি, বাদামি চাল, ডিম, অ্যাভোকাডো, পনির এবং কলা বেছে নিন। সেইসঙ্গে পর্যাপ্ত পানি পান করুন। ২. মৃদু ব্যায়াম শরীর যখন রোজার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়, তখন প্রথম কয়েক দিন শক্তির মাত্রা কমে যেতে পারে। এটিকে সামঞ্জস্য করার জন্য, আপনার দিনের মধ্যে মৃদু কার্যকলাপ অন্তর্ভুক্ত করুন। কয়েক মিনিট স্ট্রেচিং, অল্প হাঁটা, অথবা কিছু সহজ শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম আপনাকে পুনরুজ্জীবিত এবং সতেজ করতে সাহায্য করবে। ৩. ঘুমের সময়সূচী ঠিক রাখুন ঐতিহ্যগতভাবে বন্ধুবান্ধব এবং পরিবার একত্রিত হওয়ার সময় হলো রমজান মাস। ইফতার, নামাজ, সেহরি সবকিছু মিলিয়ে রাতে ঘুমের সময়ে পরিবর্তন আসে। যদি সম্ভব হয়, আগে আগে ঘুমাতে যাওয়ার চেষ্টা করুন, অথবা সম্ভব হলে নিয়মিত ঘুমের সময়সূচী বজায় রাখুন। ৪. ঠান্ডা পরিবেশে থাকুন তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে রোজায় পানিশূন্যতার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। ফ্যান এবং এয়ার কন্ডিশনিং সমৃদ্ধ পরিবেশে থাকার চেষ্টা করুন, সেইসঙ্গে সম্ভব হলে তাপ থেকে দূরে থাকুন। তীব্র পানিশূন্যতা এড়াতে নিজের ও প্রিয়জনদের দিকে খেয়াল রাখুন। পানিশূন্যতার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।

মানুষের জীবনে যে নিয়ামতগুলো সবচেয়ে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে, মাতৃভাষা তার অন্যতম। ভাষার মাধ্যমেই মানুষ ভাব প্রকাশ করে, জ্ঞান অর্জন করে, অনুভূতি ভাগ করে নেয় এবং সভ্যতা গড়ে তোলে। ইসলাম মাতৃভাষাকে অবজ্ঞা করেনি; বরং কোরআন ও হাদিসে ভাষা ও বৈচিত্র্যকে আল্লাহ তায়ালার অসীম কুদরতের নিদর্শন হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আর তার নিদর্শনাবলির মধ্যে রয়েছে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টি এবং তোমাদের ভাষা ও বর্ণের বৈচিত্র্য। নিশ্চয় এতে জ্ঞানীদের জন্য নিদর্শন রয়েছে। এই আয়াতে ভাষার ভিন্নতাকে আল্লাহর কুদরতের নিদর্শন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ মাতৃভাষা শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং সৃষ্টিকর্তার পক্ষ থেকে প্রদত্ত এক বিশেষ দান, যা মানুষের পরিচয় ও স্বাতন্ত্র্য বহন করে। আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেক জাতির কাছে তাদের নিজস্ব ভাষাভাষী রাসুল পাঠিয়েছেন। এ কথাও কোরআনে স্পষ্টভাবে এসেছে। এর উদ্দেশ্য ছিল, যেন মানুষ সহজে দ্বীন বুঝতে পারে এবং বার্তা গ্রহণে কোনো অসুবিধা না হয়। এটি প্রমাণ করে, ভাষা মানুষের হৃদয়ে পৌঁছানোর সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম। মাতৃভাষার প্রতি এই সম্মান ইসলামের সার্বজনীন দৃষ্টিভঙ্গিকেই তুলে ধরে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ কওমের ভাষায় কথা বলতেন এবং সাহাবায়ে কেরামকেও মানুষের বোধগম্য ভাষায় দাওয়াত দিতে উৎসাহিত করেছেন। হাদিসে আছে, তিনি সহজ ও স্পষ্ট ভাষায় কথা বলতেন, যেন শ্রোতারা অনায়াসে বুঝতে পারে। এর মাধ্যমে আমাদের শেখনো হয়েছে, ভাষা যত সহজ ও হৃদয়ের কাছাকাছি হবে, ততই সত্য ও ন্যায়ের বাণী মানুষের অন্তরে গেঁথে যাবে। মাতৃভাষা মানুষের আবেগ, সংস্কৃতি ও বিশ্বাসের বাহক। শিশুর প্রথম শিক্ষা, মায়ের ডাক, আল্লাহর ইবাদত ও প্রার্থনার স্বতঃস্ফূর্ত ভাষা, সবই মাতৃভাষায়। তাই মাতৃভাষাকে অবহেলা করা মানে নিজের শিকড়কে অবহেলা করা। ইসলাম কখনোই শিকড়চ্যুতি সমর্থন করে না; বরং নিজ পরিচয় রক্ষা করে আল্লাহর পথে চলার শিক্ষা দেয়। একই সঙ্গে ইসলাম অন্য ভাষার প্রতিও শ্রদ্ধাশীল হতে শেখায়। কোরআনের ভাষা আরবি হলেও ইসলাম শুধু আরবদের জন্য নয়। পৃথিবীর প্রতিটি ভাষাভাষী মানুষ ইসলামের আহ্বানের অন্তর্ভুক্ত। তাই মাতৃভাষাকে ভালোবাসা ও লালন করার সঙ্গে সঙ্গে অন্য ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতিও সম্মান দেখানো ঈমানি শিষ্টাচারের অংশ।

পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) আবাসিক হলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সেহরি করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) ভোর রাতে ভাষা শহিদ আব্দুস সালাম হলের ডাইনিং হলে তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসে সেহরি গ্রহণ করেন। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, রমজানের প্রথম দিকেই শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নিতে এবং আবাসিক হলের সার্বিক পরিবেশ পর্যবেক্ষণে এ অনানুষ্ঠানিক সফরে যান উপাচার্য। সেহরির সময় তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের পড়াশোনা, হলের খাবারের মান ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে জানতে চান। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সবসময় শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। রমজান মাসে যেন সুষ্ঠু ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে তারা সেহরি ও ইফতার করতে পারে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ভাষা শহিদ আব্দুস সালাম হলের প্রভোস্ট ও সংশ্লিষ্ট হল প্রশাসনের সদস্যরাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন। তারা জানান, রমজান উপলক্ষে বিশেষ মেনু নির্ধারণ করা হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। হলের একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, উপাচার্যের এমন উপস্থিতি তাদের মাঝে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। প্রশাসনের সর্বোচ্চ দায়িত্বশীল ব্যক্তি সরাসরি এসে তাদের সঙ্গে সেহরি করায় তারা আনন্দিত ও উৎসাহিত হয়েছেন। উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল বলেন, শিক্ষার্থীরা আমার সন্তানের মতো। তারা কি খাচ্ছে তা তদারকি করা আমার দায়িত্ব। তাই আমি নিজেই তাদের সঙ্গে খাবার খেয়েছি। খাবারের মান ভালো ছিল আশা করি এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। শিক্ষার্থীদের সার্বিক কল্যাণ, একাডেমিক অগ্রগতি এবং মানসিক সুস্থতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। তিনি সবাইকে পারস্পরিক সহমর্মিতা ও সহযোগিতার মাধ্যমে একটি সুন্দর ও ইতিবাচক ক্যাম্পাস পরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

নতুন বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতেই দেশের সড়কে ঝরেছে ৪৮৭ প্রাণ। মাসজুড়ে মোট ৫৫৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ১ হাজার ১৯৪ জন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়, যা মোট নিহতের ৪০ দশমিক ২৪ শতাংশ। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমানের পাঠানো জানুয়ারি মাসের সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এ উদ্বেগজনক চিত্র। ৯টি জাতীয় দৈনিক, ৭টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে তারা এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে নারী ৬৮ জন ও শিশু ৫৭ জন। এছাড়া ২০৮টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৯৬ জন, যা মোট নিহতের ৪০ দশমিক ২৪ শতাংশ। এই সময়ে ৪টি নৌ-দুর্ঘটনায় ৬ জন নিহত ও ৭ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া ৪১টি রেল ট্র্যাক দুর্ঘটনায় ৩২ জন নিহত এবং ১৭ জন আহত হয়েছেন। যানবাহনভিত্তিক নিহতের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ১৯৬ জন; বাসের যাত্রী ২১ জন; ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকআপ ও ট্রাক্টরের আরোহী ২৮ জন; প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, অ্যাম্বুলেন্স ও জিপের আরোহী ৯ জন; থ্রি-হুইলার যাত্রী ৭৭ জন; স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী ১৩ জন এবং বাইসাইকেল আরোহী ১১ জন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ১৩৫টি মুখোমুখি সংঘর্ষ, ২০৯টি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ১৩৭টি পথচারীকে চাপা বা ধাক্কা দিয়ে, ৭২টি যানবাহনের পেছনে আঘাত এবং ৬টি অন্যান্য কারণে ঘটেছে। সড়কের ধরন অনুযায়ী, ১৫৬টি জাতীয় মহাসড়কে, ২০৭টি আঞ্চলিক সড়কে, ৮৫টি গ্রামীণ সড়কে, ১০৩টি শহরের সড়কে এবং ৮টি অন্যান্য স্থানে দুর্ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের সংখ্যা ছিল ৮৮৫টি। এর মধ্যে বাস ১০৮টি, ট্রাক ১৪৪টি, কাভার্ডভ্যান ১৬টি, পিকআপ ৩২টি, ট্রাক্টর ২১টি, মোটরসাইকেল ২১৭টি, থ্রি-হুইলার ১৬৪টি, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন ৩৫টি, বাইসাইকেল ৮টি, রিকশা ১১টি এবং অজ্ঞাত যানবাহন ৪৮টি। বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ১৪৩টি দুর্ঘটনায় ১১৯ জন নিহত হয়েছেন। বিপরীতে সিলেট বিভাগে সবচেয়ে কম ২৪টি দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত হয়েছেন। রাজধানী ঢাকায় ২৬টি দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত ও ৪১ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের পেশাগত পরিচয়ের মধ্যে পুলিশ সদস্য ২ জন, শিক্ষক ১৩ জন, চিকিৎসক ২ জন, সাংবাদিক ৬ জন, আইনজীবী ৪ জন, ব্যাংক ও বীমা কর্মকর্তা-কর্মচারী ১১ জন, এনজিও কর্মী ১৯ জন, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ২৭ জন, ব্যবসায়ী ২১ জন, বিক্রয় প্রতিনিধি ২৬ জন, পোশাক শ্রমিক ৯ জন, নির্মাণ শ্রমিক ৬ জন, প্রতিবন্ধী ৩ জন এবং শিক্ষার্থী ৫৭ জন রয়েছেন। প্রতিবেদনে সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও সড়ক, বেপরোয়া গতি, চালকদের অদক্ষতা, কর্মঘণ্টা ও বেতন নির্ধারিত না থাকা, মহাসড়কে স্বল্পগতির যান চলাচল, ট্রাফিক আইন না মানা, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)-এর সক্ষমতার ঘাটতি এবং গণপরিবহনে চাঁদাবাজিকে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ বৃদ্ধি, চালকদের বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্ধারণ, বিআরটিএ’র সক্ষমতা বৃদ্ধি, ট্রাফিক আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করা, মহাসড়কে সার্ভিস রোড নির্মাণ, রোড ডিভাইডার নির্মাণ, গণপরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধ, রেল ও নৌপথ উন্নয়ন এবং সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়েছে।

পবিত্র রমজানের প্রথম দিনেই রাজধানীর বাজারে অস্থির হয়ে উঠেছে পেঁয়াজের দাম। সরবরাহ সংকট ও চাহিদার অজুহাতে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়ে বর্তমানে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রমজানের শুরুতেই নিত্যপণ্যের এমন চড়া দামে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে কাঁচাবাজার ও রায়েরবাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, বিভিন্ন খুচরা বাজারে গত কয়েক দিনের ব্যবধানে কেজিপ্রতি পেঁয়াজের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রতি কেজিতে দাম বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ টাকা। রমজান মাসের প্রথম দিনেই প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। আকারে একটু ছোট পেঁয়াজ আবার ৫৫ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। তবে কোনো দোকানেই ৬০ টাকার নিচে ভালো মানের পেঁয়াজ মিলছে না। পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বাড়তি চাপের মুখে পড়ছেন সাধারণ ক্রেতারা। পেঁয়াজ বিক্রেতা হাসান মাহমুদ বলেন, আজকে নয়, গত দুই-তিন দিন ধরেই পেঁয়াজের দাম বাড়ছে। মৌসুমের শেষের দিকে সরবরাহ কমে যাওয়া, পরিবহন খরচ বৃদ্ধি এবং চাহিদা বাড়ার কারণে বাজারে পেঁয়াজের দাম বাড়তির দিকে। রমজানকে কেন্দ্র করে পাইকারি পর্যায়ে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, পাইকারি বাজারে বেশি দামে পেঁয়াজ কিনতে হওয়ায় বাধ্য হয়েই বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। অনেক বিক্রেতা জানান, আগের তুলনায় মোকামে পেঁয়াজের দাম কেজিতে কয়েক দফা বেড়েছে; ফলে খুচরা পর্যায়ে দাম সমন্বয় করা ছাড়া তাদের হাতে বিকল্প নেই। রমজানের প্রভাবও পাইকারি বাজারে দেখা যাচ্ছে। এদিকে মারুফ হোসেন নামে এক ক্রেতা বলেন, রমজান এলেই ব্যবসায়ীদের ক্রেতাদের পকেট কাটার ধান্দা থাকে। গত সপ্তাহে আমি ১০০ টাকার নিচে দুই কেজি পেঁয়াজ কিনেছি, আর আজকে দাম চাচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা। রিকশাচালক মো. শুক্কুর আল আমিন বলেন, ভ্যানগাড়ি থেকে দুই দিন আগে ৫০ টাকা কেজি দরে কিনেছি। আমার ছোট পরিবার, সপ্তাহখানেক চলে যাবে। তারপর তো বেশি দামেই কিনতে হবে। রোজার সময় দাম বাড়বে এটা তো জানতামই, ব্যবসায়ীরা রোজা আসলেই দাম বাড়িয়ে দেয়।

নোয়াখালীর হাতিয়ায় আলোচিত ধর্ষণ অভিযোগের ঘটনায় পাঁচদিন পর ছয়জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ভুক্তভোগী নারী (৪০) বাদী হয়ে নোয়াখালী জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলাটি করেন। বিচারক এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দিয়েছেন। মামলায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন- চানন্দী ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের ধানসিঁড়ি আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে আবদুর রহমান (৩২), আবদুল গফুরের ছেলে মো. মতিন (৩৫), হালিম ডুবাইর ছেলে হেলাল উদ্দিন কেরানী (৪০), আবুল কাশেমের ছেলে মো. রুবেল (৩০), ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মোস্তফা সর্দারের ছেলে এমরান হোসেন ওরফে কালা এমরান (৩৫) এবং ২ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর আজিমপুর গ্রামের মো. মোস্তফার ছেলে বেলাল মাঝি (৪৮)। মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টার পর ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে আসামিরা অজ্ঞাতপরিচয় সন্ত্রাসীদের সঙ্গে নিয়ে ধানসিঁড়ি আশ্রয়ণ প্রকল্পে হামলা চালায়। এ সময় তারা বাদীর বসতঘরে প্রবেশ করে তাকে ও তার স্বামীকে মারধর করে। পরে স্বামীকে একটি কক্ষে আটকে রেখে গোসলখানায় নিয়ে ১ নম্বর আসামি আবদুর রহমান তাকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনাটি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তারা চলে যায়। পরদিন ভোরে একই ব্যক্তিরা আবারও হামলা চালিয়ে দম্পতিকে মারধর করে এবং বাদীর শ্লীলতাহানি করে। এ সময় ‘শাপলা কলি’র আরেক নারী কর্মীর ঘর দেখিয়ে দিতে চাপ প্রয়োগ করা হয় এবং ওই ঘরেও ভাঙচুর চালানো হয়। এর আগে ১৪ ফেব্রুয়ারি বিকেলে ভুক্তভোগীকে নোয়াখালীর ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি পুলিশ পাহারায় চিকিৎসাধীন। বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. নোমান সিদ্দিক রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, অভিযোগ গ্রহণের পর আদালত হাতিয়া থানাকে মামলা রুজু করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে ভুক্তভোগী ও তার পরিবারকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী জানান, ভুক্তভোগীর চিকিৎসার জন্য তিন সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। পুলিশের চাহিদাপত্রের আলোকে শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। মেডিকেল বোর্ডে রয়েছেন গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. শিরিন সুলতানা, ডা. ফাতেমা জোয়ান মুনিয়া ও ডা. তাহমিনা আক্তার। ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন বলেন, আদালতের নির্দেশে মামলা রুজু করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মামলার কপি হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। ভুক্তভোগীকে সার্বক্ষণিক পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে।

নোয়াখালীতে রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের জেলা কার্যালয়ের প্রায় ১৮ মাস পর তালা ভেঙে ব্যানার টানিয়ে দিয়েছেন নেতাকর্মীরা। এ ঘটনার পর তাৎক্ষণিক ৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ। বিজ্ঞাপন বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে জেলা শহরের টাউনহল মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তালাবদ্ধ থাকা দলীয় কার্যালয়ের তালা ভেঙে সামনে ব্যানার টানানো হয়। পরে সেখানে জড়ো হয়ে স্লোগান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন নেতাকর্মীরা। প্রায় আধাঘণ্টা এই কর্মসূচি পালন করা হয়। বিজ্ঞাপন এ সময় তারা ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’, ‘এই লড়াইয়ে জিতবে কারা, বঙ্গবন্ধুর সৈনিকেরা’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। বিক্ষোভকারীরা দাবি করেন, তৃণমূল নোয়াখালীর নেতাকর্মীদের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। জানা যায়, জুলাই আন্দোলনের পর থেকে কার্যালয়টি তালাবদ্ধ ছিল। আন্দোলন চলাকালে বিক্ষুব্ধ ছাত্রজনতা কার্যালয়টিতে অগ্নিসংযোগ করলে ভবনটি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কর্মসূচি ফেসবুকে লাইভ করেন মো. জাহাঙ্গীর শেখ নামের একটা আইডি। যিনি লিখেন, আগামী দিনে দেশের স্বাধীনতার পক্ষে সব শক্তি এক সঙ্গে কাজ করব ইনশাল্লাহ। আমরা নোয়াখালী জেলা তৃণমূল আওয়ামী লীগ স্বাধীনতার পক্ষের দলের সঙ্গে কাজ করব ইনশাআল্লাহ। সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে অবগত হয়ে অভিযান পরিচালনা করি এবং জড়িত ৫ জনকে আটক করা হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে।

জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় এ ভাষণ দেবেন তিনি। এক বার্তায় তথ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। দেশের সব সম্প্রচার মাধ্যমকে বিটিভির সৌজন্যে ভাষণটি সম্প্রচারের অনুরোধ করেছে তথ্য মন্ত্রণালয়। এর আগে, মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাকে শপথ পড়ান। একই দিন বিকেলে নতুন মন্ত্রিসভার শপথও অনুষ্ঠিত হয়।

জুলাই জাতীয় সনদ অবৈধ ও সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণার নির্দেশনা চেয়ে রিট দায়ের করা হয়েছে। রিটে জুলাই জাতীয় সনদের কার্যকারিতা স্থগিত চাওয়া হয়েছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউনুছ আলী আকন্দ জনস্বার্থে এ রিট দায়ের করেন। বিস্তারিত আসছে...

দীর্ঘ ১৮ মাসের যাত্রার ইতি টেনে বন্ধ হয়ে গেল অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিদায়ী পোস্টে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। ফেসবুক পোস্টে জানানো হয়, ‘Chief Adviser GOB (Head of the Government)’ নামের এই অফিসিয়াল পেজটি এখন থেকে আর সক্রিয় থাকবে না। ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর জনযোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে এই পেজটি খোলা হয়েছিল। বর্তমানে পেজটিতে ফলোয়ার সংখ্যা ৪৪ লাখেরও বেশি। বিদায়ী পোস্টে জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলা হয়, গত ১৮ মাস সময়কালজুড়ে সবার সহায়তা, আগ্রহ ও অংশগ্রহণের জন্য আমরা আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। আপনাদের সমর্থন, সহযোগিতা ও সমালোচনা আমাদের যাত্রাকে আরও মূল্যবান ও সমৃদ্ধ করেছে। এদিকে মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বড় পরিবর্তন সূচিত হয়েছে। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাকে শপথবাক্য পাঠ করান। একই দিন দুপুরে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরাও শপথ গ্রহণ করেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দীনের পরিচালনায় প্রথমে বিএনপি এবং পরে ১১ দলীয় জোট, স্বতন্ত্র ও অন্যান্য সংসদ সদস্যরা শপথ নেন।