

নোয়াখালীর সদর উপজেলার ২০নং আন্ডারচর ইউনিয়নে ফার্নিচার ব্যবসার আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে তেল মজুদ ও চড়া দামে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে। গতকাল রাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক বিশেষ অভিযানে ওই ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ তেল জব্দ করা হয়। ঘটনার বিবরণ: স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আন্ডারচর ইউনিয়নের জামায়াতের সহ-সেক্রেটারি হাফেজ ইব্রাহিম তার ভাই মোঃ হোসেন (ওরফে হোসেন জর্দা)-এর সহযোগিতায় দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। তারা লোকচক্ষুর আড়ালে থাকার জন্য “ভাই ভাই ফার্নিচার” নামক একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে মাত্র এক ঘণ্টার জন্য দোকানটি খুলে গোপনে এই তেল বিক্রি করা হতো। প্রতি লিটার তেলের দাম রাখা হতো ২৮০ থেকে ৩২০ টাকা পর্যন্ত। অভিযান ও উদ্ধার: গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল রাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ওই স্থানে ঝটিকা অভিযান চালায়। স্থানীয়দের দাবি, মজুদে মোট ১১ ড্রাম তেল থাকলেও অভিযানের খবর টের পেয়ে তড়িঘড়ি করে ৩ ড্রাম সরিয়ে ফেলা হয়। অভিযানে অবশিষ্ট ৮ ড্রাম ভর্তি প্রায় ১,৭৬০ লিটার তেল জব্দ করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। জনমনে ক্ষোভ: দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে এমন অবৈধ মজুদের কর্মকাণ্ড চললেও আগে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, তা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এলাকাবাসী জানান, অবৈধ মুনাফা লোটার উদ্দেশ্যে এই সিন্ডিকেট সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে আসছিল। দাবি: এ ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আন্ডারচর ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত হাফেজ ইব্রাহিম ও তার সহযোগীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন। তারা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর আহ্বান জানিয়েছেন।

নোয়াখালীর সুধারাম মডেল থানাধীন মাইজদী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৩,৭১৫ পিস ইয়াবাসহ দুই নারীকে আটক করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ টিম। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) নোয়াখালী-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পূর্ব পাশে মাইজদীর মেসার্স আবদুল হক ফিলিং স্টেশনের সামনে থেকে তাদের আটক করা হয়। আটককৃতরা হলেন: ১) তানিয়া আক্তার (৩৩), স্বামী: মোঃ মোবারক, সাং- মানিকপুর (মাসনের বাড়ি), ০৬নং ওয়ার্ড, চকরিয়া, কক্সবাজার। ২) জুলেখা (২২), পিতা: মৃত হোসেন আহমদ, সাং- পশ্চিম গজালিয়া, ০৯নং ওয়ার্ড, ইসলামাবাদ ইউপি, চকরিয়া, কক্সবাজার। অভিযান সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজার থেকে নোয়াখালীতে ইয়াবা পাচারের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) নোয়াখালী জেলা কার্যালয়, জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এবং র্যাব-৭, সিপিসি-১, ফেনী এর সমন্বয়ে একটি যৌথ টিম অভিযান পরিচালনা করে। টিমটি আগে থেকেই অবস্থান নিয়ে আসামীদের অনুসরণ করতে থাকে। পরে তারা মাইজদীতে পৌঁছালে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। উদ্ধারকৃত আলামত: ইয়াবা ট্যাবলেট মোট ৩,৭১৫ পিস (ওজন ৩৫২ গ্রাম)। তানিয়া আক্তারের কাছ থেকে: ২,০০০ পিস। জুলেখার কাছ থেকে: ১,৭১৫ পিস। সীমযুক্ত বাটন মোবাইল: ১টি। স্মার্টফোন: ১টি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা স্বীকার করেন, তারা কক্সবাজারের চকরিয়া এলাকার পেশাদার ইয়াবা পাচারকারী। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে ফাঁকি দিতে তারা পাচারের সময় ১৫ মাস বয়সী শিশুকে সঙ্গে রাখতেন, যা এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। তারা আরও জানান, এর আগেও কয়েকবার নোয়াখালীতে ইয়াবা সরবরাহ করেছেন এবং প্রতি চালানে ৩০-৪০ হাজার টাকা পারিশ্রমিক পেতেন। আটককৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্ক শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ৩৬(১) ধারার সারনির ক্রমিক নং-১০(খ) ও ৪১ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ডিএনসি নোয়াখালীর পরিদর্শক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে সুধারাম মডেল থানায় মামলাটি করেন।

কোপা সুদামেরিকানা গ্রুপ পর্বের ম্যাচে গতকাল (মঙ্গলবার) দেপোর্তিভো রিকোলেতার বিপক্ষে ১-১ গোলের ড্রয়ে সান্তোসের একমাত্র গোল করেন নেইমার জুনিয়র। তীব্র দুয়োধ্বনির মাঝে দল মাঠ ছাড়ার সময় এক ভক্তের সঙ্গে বিতণ্ডায় জড়ান তিনি। ইনজুরি থেকে ফেরার পর প্রথম গোল করলেন নেইমার। কনমেবল ক্লাব প্রতিযোগিতায় ১৪ বছর পর এটি তার প্রথম গোল। ২০১২ সালের ২০ জুন কোপা লিবার্তাদোরেস সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে সবশেষ গোল করেছিলেন তিনি। কিন্তু তার গোল বিফলে গেল। প্রথমবার আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট খেলতে এসে প্যারাগুয়ান দল সমতা ফেরায়। তাতে ‘ই’ গ্রুপে সবার শেষে সান্তোস। ইএসপিএন ব্রাজিলকে সাক্ষাৎকার দেওয়ার আগে নেইমার বিদ্রূপ করা ভক্তদের ‘চুপ’ করার ভঙ্গি করেন। পরে তিনি দলের জয় পেতে ব্যর্থতার ব্যাখ্যা দেন। তার কথা, ‘আমরা অনেক ভুল করেছি। আমরা সবাই ভুল করি; এটা হয়েই থাকে। আমি মনে করি আমরা অনেক সুযোগ তৈরি করেছিলাম। ভালো খেলেছি, অবশ্যই বাজে খেলিনি। ভক্তরা চাপের মুখে দাবি করেছিল যেন আমরা আরও ভালো খেলি। কিন্তু আমাদের দল খেলছে এবং সুযোগ তৈরি করছে। আমি হতাশা বুঝতে পারছি। কিন্তু তাদের বুঝতে হবে ফুটবল এমনই, মাঝেমধ্যে বল ভেতরে যায় না।’ সাইডলাইনে সাক্ষাৎকার দেওয়ার পর নেইমার টানেলের দিকে যান। এমন সময়ে এক ভক্ত উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে তাকে ‘মোটা’ বলে ডাকেন। তিনি হাসতে হাসতে বলছিলেন, ‘তোমার আরও বেশি ট্রেনিং করা উচিত। তুমি মোটা হয়ে যাচ্ছ।’ নেইমার চলেই যাচ্ছিলেন। কিন্তু ফিরে এসে তিনি বলেন, ‘তুমি ঠিক.... এখন খুশি? আমি আমার সর্বস্ব দিয়ে যাচ্ছি। আমি তোমাকে তোমার খ্যাতির সময় দিচ্ছি।’ নেইমার চতুর্থবার বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। ইনজুরির কারণে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে জাতীয় দলে খেলেননি। ২২ ডিসেম্বর তার বাঁ পায়ের হাঁটুতে ছোট অস্ত্রোপচার করা হয়। সম্প্রতি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠতে আরেকটি ছোট অস্ত্রোপচার করানো হয়। ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি তাকে স্কোয়াডে রাখবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার সাবেক ছাত্রলীগ নেতা লায়ন স্বপনকে আটক করেছে ইমিগ্রেশন পুলিশ। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকেলে সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরার পর তাকে আটক করা হয়। আটক লায়ন স্বপন চাটখিল পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের ফতেহপুর গ্রামের মৃত আবুল কালাম আজাদের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর থেকেই লায়ন স্বপন কিছুদিন পলাতক ছিলেন। এরপর তিনি সৌদি আরবে তার দুই ভাইয়ের কাছে চলে যান। দীর্ঘদিন সেখানে অবস্থান করার পর মঙ্গলবার বিকেলে দেশে ফেরার পর শাহজালাল বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটক করে। স্বপনের বিরুদ্ধে চাটখিল থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি হত্যা মামলা এবং বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার অভিযোগে দায়ের করা মামলাও রয়েছে। চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোন্নাফ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বিকেলের দিকে বিমানবন্দর পুলিশ স্বপনকে আটক করার পর চাটখিল থানাকে অবহিত করে। এরপর চাটখিল থানা পুলিশ তাকে গ্রহণ করতে ঢাকা রওনা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, চাটখিল থানায় তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে বিমানবন্দর থানার পুলিশ চাটখিল থানার কাছে হস্তান্তর করবে। তার বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে এবং যাচাই-বাছাই শেষে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় এক মুদি দোকান থেকে ৩০০০ লিটার অবৈধ ডিজেল জব্দ করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মুদি দোকানদারকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার চানন্দী ইউনিয়নের নলেরচর আজিমের ঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। আটক মুদি দোকানদারের নাম মো.আলাউদ্দিন (৪৬)। তিনি উপজেলার চানন্দী ইউনিয়নের আজিমনগর এলাকার মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নলেরচর আজিমের ঘাট এলাকার মুদি দোকানদার আলাউদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে ডিজেল বিক্রি করে আসছিলেন। এতে চলমান তেল সঙ্কটে স্থানীয় গ্রাহকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। জেলা এনএসআইয়ের এমন তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালায় থানারহাট পুলিশ ফাঁড়ির একদল সদস্য। অভিযানে প্রায় ৩ হাজার লিটার ডিজেল জব্দ করা হয়। হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.কবির হোসেন বলেন, জব্দকৃত ডিজেল থানারহাট পুলিশ ফাঁড়িতে জমা রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় আটক মুদি দোকানদারের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে নোয়াখালী চীফ জুুুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হবে।

নোয়াখালীর সদর উপজেলার ২০নং আন্ডারচর ইউনিয়নে ফার্নিচার ব্যবসার আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে তেল মজুদ ও চড়া দামে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে। গতকাল রাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক বিশেষ অভিযানে ওই ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ তেল জব্দ করা হয়। ঘটনার বিবরণ: স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আন্ডারচর ইউনিয়নের জামায়াতের সহ-সেক্রেটারি হাফেজ ইব্রাহিম তার ভাই মোঃ হোসেন (ওরফে হোসেন জর্দা)-এর সহযোগিতায় দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। তারা লোকচক্ষুর আড়ালে থাকার জন্য “ভাই ভাই ফার্নিচার” নামক একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে মাত্র এক ঘণ্টার জন্য দোকানটি খুলে গোপনে এই তেল বিক্রি করা হতো। প্রতি লিটার তেলের দাম রাখা হতো ২৮০ থেকে ৩২০ টাকা পর্যন্ত। অভিযান ও উদ্ধার: গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল রাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ওই স্থানে ঝটিকা অভিযান চালায়। স্থানীয়দের দাবি, মজুদে মোট ১১ ড্রাম তেল থাকলেও অভিযানের খবর টের পেয়ে তড়িঘড়ি করে ৩ ড্রাম সরিয়ে ফেলা হয়। অভিযানে অবশিষ্ট ৮ ড্রাম ভর্তি প্রায় ১,৭৬০ লিটার তেল জব্দ করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। জনমনে ক্ষোভ: দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে এমন অবৈধ মজুদের কর্মকাণ্ড চললেও আগে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, তা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এলাকাবাসী জানান, অবৈধ মুনাফা লোটার উদ্দেশ্যে এই সিন্ডিকেট সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে আসছিল। দাবি: এ ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আন্ডারচর ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত হাফেজ ইব্রাহিম ও তার সহযোগীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন। তারা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর আহ্বান জানিয়েছেন।

নোয়াখালীর সুধারাম মডেল থানাধীন মাইজদী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৩,৭১৫ পিস ইয়াবাসহ দুই নারীকে আটক করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ টিম। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) নোয়াখালী-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পূর্ব পাশে মাইজদীর মেসার্স আবদুল হক ফিলিং স্টেশনের সামনে থেকে তাদের আটক করা হয়। আটককৃতরা হলেন: ১) তানিয়া আক্তার (৩৩), স্বামী: মোঃ মোবারক, সাং- মানিকপুর (মাসনের বাড়ি), ০৬নং ওয়ার্ড, চকরিয়া, কক্সবাজার। ২) জুলেখা (২২), পিতা: মৃত হোসেন আহমদ, সাং- পশ্চিম গজালিয়া, ০৯নং ওয়ার্ড, ইসলামাবাদ ইউপি, চকরিয়া, কক্সবাজার। অভিযান সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজার থেকে নোয়াখালীতে ইয়াবা পাচারের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) নোয়াখালী জেলা কার্যালয়, জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এবং র্যাব-৭, সিপিসি-১, ফেনী এর সমন্বয়ে একটি যৌথ টিম অভিযান পরিচালনা করে। টিমটি আগে থেকেই অবস্থান নিয়ে আসামীদের অনুসরণ করতে থাকে। পরে তারা মাইজদীতে পৌঁছালে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। উদ্ধারকৃত আলামত: ইয়াবা ট্যাবলেট মোট ৩,৭১৫ পিস (ওজন ৩৫২ গ্রাম)। তানিয়া আক্তারের কাছ থেকে: ২,০০০ পিস। জুলেখার কাছ থেকে: ১,৭১৫ পিস। সীমযুক্ত বাটন মোবাইল: ১টি। স্মার্টফোন: ১টি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা স্বীকার করেন, তারা কক্সবাজারের চকরিয়া এলাকার পেশাদার ইয়াবা পাচারকারী। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে ফাঁকি দিতে তারা পাচারের সময় ১৫ মাস বয়সী শিশুকে সঙ্গে রাখতেন, যা এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। তারা আরও জানান, এর আগেও কয়েকবার নোয়াখালীতে ইয়াবা সরবরাহ করেছেন এবং প্রতি চালানে ৩০-৪০ হাজার টাকা পারিশ্রমিক পেতেন। আটককৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্ক শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ৩৬(১) ধারার সারনির ক্রমিক নং-১০(খ) ও ৪১ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ডিএনসি নোয়াখালীর পরিদর্শক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে সুধারাম মডেল থানায় মামলাটি করেন।

কোপা সুদামেরিকানা গ্রুপ পর্বের ম্যাচে গতকাল (মঙ্গলবার) দেপোর্তিভো রিকোলেতার বিপক্ষে ১-১ গোলের ড্রয়ে সান্তোসের একমাত্র গোল করেন নেইমার জুনিয়র। তীব্র দুয়োধ্বনির মাঝে দল মাঠ ছাড়ার সময় এক ভক্তের সঙ্গে বিতণ্ডায় জড়ান তিনি। ইনজুরি থেকে ফেরার পর প্রথম গোল করলেন নেইমার। কনমেবল ক্লাব প্রতিযোগিতায় ১৪ বছর পর এটি তার প্রথম গোল। ২০১২ সালের ২০ জুন কোপা লিবার্তাদোরেস সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে সবশেষ গোল করেছিলেন তিনি। কিন্তু তার গোল বিফলে গেল। প্রথমবার আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট খেলতে এসে প্যারাগুয়ান দল সমতা ফেরায়। তাতে ‘ই’ গ্রুপে সবার শেষে সান্তোস। ইএসপিএন ব্রাজিলকে সাক্ষাৎকার দেওয়ার আগে নেইমার বিদ্রূপ করা ভক্তদের ‘চুপ’ করার ভঙ্গি করেন। পরে তিনি দলের জয় পেতে ব্যর্থতার ব্যাখ্যা দেন। তার কথা, ‘আমরা অনেক ভুল করেছি। আমরা সবাই ভুল করি; এটা হয়েই থাকে। আমি মনে করি আমরা অনেক সুযোগ তৈরি করেছিলাম। ভালো খেলেছি, অবশ্যই বাজে খেলিনি। ভক্তরা চাপের মুখে দাবি করেছিল যেন আমরা আরও ভালো খেলি। কিন্তু আমাদের দল খেলছে এবং সুযোগ তৈরি করছে। আমি হতাশা বুঝতে পারছি। কিন্তু তাদের বুঝতে হবে ফুটবল এমনই, মাঝেমধ্যে বল ভেতরে যায় না।’ সাইডলাইনে সাক্ষাৎকার দেওয়ার পর নেইমার টানেলের দিকে যান। এমন সময়ে এক ভক্ত উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে তাকে ‘মোটা’ বলে ডাকেন। তিনি হাসতে হাসতে বলছিলেন, ‘তোমার আরও বেশি ট্রেনিং করা উচিত। তুমি মোটা হয়ে যাচ্ছ।’ নেইমার চলেই যাচ্ছিলেন। কিন্তু ফিরে এসে তিনি বলেন, ‘তুমি ঠিক.... এখন খুশি? আমি আমার সর্বস্ব দিয়ে যাচ্ছি। আমি তোমাকে তোমার খ্যাতির সময় দিচ্ছি।’ নেইমার চতুর্থবার বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। ইনজুরির কারণে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে জাতীয় দলে খেলেননি। ২২ ডিসেম্বর তার বাঁ পায়ের হাঁটুতে ছোট অস্ত্রোপচার করা হয়। সম্প্রতি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠতে আরেকটি ছোট অস্ত্রোপচার করানো হয়। ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি তাকে স্কোয়াডে রাখবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

মাথায় ব্যান্ডেজ, হাতে রঙিন বেলুন আর বাঁশি- এই সামান্য সম্বল নিয়েই জীবনের সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করে চলেছেন আব্দুল মান্নান। স্বাধীনতার পর থেকেই বেলুন ও বাঁশি বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন তিনি। বয়সের ভার ও শারীরিক অসুস্থতা তাকে থামাতে পারেনি। বরং সংগ্রামই হয়ে উঠেছে তার জীবনের একমাত্র ভরসা। বর্তমানে নোয়াখালীর চৌমুহনীতে বসবাস করেন মান্নান। প্রতিদিন সেখান থেকে বেলুন ও বাঁশি সংগ্রহ করে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে বিক্রি করেন। দিন শেষে যা আয় হয়, তা দিয়েই কোনোভাবে জোটে দু’মুঠো খাবার। জানা যায়, তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে। তিনি বজলুর রহমানের ছেলে। তবে জীবিকার তাগিদে দীর্ঘদিন ধরেই চৌমুহনীতেই অবস্থান করছেন তিনি। নোয়াখালী জেলা শিল্পকলা একাডেমির মাঠে বৈশাখের লোকজ মেলায় দেখা যায়, একটি পুরোনো ব্যাগে জোড়া তালি দিয়ে তাতে কিছু বেলুন ও বাঁশি নিয়ে বিক্রি করছেন এই প্রবীণ মানুষটি। ক্লান্ত শরীর, মাথায় ব্যান্ডেজ—তবুও থামেনি তার পথচলা। মেলা থেকে বেলুন ক্রেতা মো. আব্দুর রহমান বলেন, একটি ছোট ব্যাগে কিছু বেলুন নিয়ে তিনি পুরো নোয়াখালীতে ঘুরে বিক্রি করেন। বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছেন, তবুও থেমে নেই। সংস্কৃতিকর্মী রাশেদ রানা বলেন, দু’মুঠো ভাতের জন্য তিনি এই কাজ করেন। সন্তানেরা তার খোঁজ নেয় না। এমন মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের মানবিক দায়িত্ব। দর্শনার্থী দেলোয়ার হোসেন বলেন, ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন স্কুলে তাকে বেলুন-বাঁশি বিক্রি করতে দেখেছি। এখনো সেই একইভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। আব্দুল মান্নান নিজেই বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে এই কাজ করছি। সারাদিনে প্রায় ৩০০ টাকার মতো বিক্রি হয়। তা দিয়েই কোনোভাবে চলি। ছেলেরা খোঁজ নেয় না, তাই নিজেকেই চলতে হয়। নোয়াখালী জেলা প্রশাসনের শিক্ষা ও কল্যাণ শাখার সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইউসুফ আলী বলেন, আব্দুল মান্নান জীর্ণ শীর্ণ শরীরে একটি জোড়া তালি দেওয়া ব্যাগ নিয়ে বেলুন বাসে বিক্রি করছেন। আমরা তার কাছ থেকে বেলুন ও বাঁশি কিনেছি। তিনি খুবই কষ্টে আছেন। এমন মানুষের কাছ থেকে পণ্য কিনে সহায়তা করা উচিত। তিনি আরও বলেন, আব্দুল মান্নানের মতো অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো সমাজের সবার দায়িত্ব। তার কাছ থেকে একটি বেলুন বা বাঁশি কেনাও হতে পারে তার জীবনের জন্য বড় সহায়তা। একটু সহমর্মিতাই বদলে দিতে পারে এমন অনেক সংগ্রামী মানুষের জীবন।

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার সাবেক ছাত্রলীগ নেতা লায়ন স্বপনকে আটক করেছে ইমিগ্রেশন পুলিশ। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকেলে সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরার পর তাকে আটক করা হয়। আটক লায়ন স্বপন চাটখিল পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের ফতেহপুর গ্রামের মৃত আবুল কালাম আজাদের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর থেকেই লায়ন স্বপন কিছুদিন পলাতক ছিলেন। এরপর তিনি সৌদি আরবে তার দুই ভাইয়ের কাছে চলে যান। দীর্ঘদিন সেখানে অবস্থান করার পর মঙ্গলবার বিকেলে দেশে ফেরার পর শাহজালাল বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটক করে। স্বপনের বিরুদ্ধে চাটখিল থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি হত্যা মামলা এবং বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার অভিযোগে দায়ের করা মামলাও রয়েছে। চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোন্নাফ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বিকেলের দিকে বিমানবন্দর পুলিশ স্বপনকে আটক করার পর চাটখিল থানাকে অবহিত করে। এরপর চাটখিল থানা পুলিশ তাকে গ্রহণ করতে ঢাকা রওনা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, চাটখিল থানায় তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে বিমানবন্দর থানার পুলিশ চাটখিল থানার কাছে হস্তান্তর করবে। তার বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে এবং যাচাই-বাছাই শেষে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

নোয়াখালীর চাঞ্চল্যকর অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাসনিয়া হোসেন অদিতাকে (১৪) ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার রায় আজ ঘোষণা করা হবে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে নোয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক আলোচিত এই মামলার রায় পাঠ করবেন। মামলার একমাত্র আসামি সাবেক গৃহশিক্ষক আবদুর রহিম রনি (৩৪)। এই রায়কে কেন্দ্র করে আদালত চত্বরে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। নিহত অদিতার পরিবার ও সচেতন মহলের দৃষ্টি এখন আদালতের রায়ের দিকে। জানা গেছে, নিহত তাসনিয়া হোসেন অদিতা নোয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।সে নোয়াখালী পৌরসভার লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকার মৃত রিয়াজ হোসেনের মেয়ে। তার মা রাজিয়া সুলতানা স্থানীয় একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। পুলিশি তদন্তে জানা যায়, ঘটনার দিন অদিতাকে একা পেয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালায় তার সাবেক গৃহশিক্ষক রনি। এতে ব্যর্থ হয়ে সে অদিতাকে নির্মমভাবে হত্যা করে। এই ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়েছিল। হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালিয়ে রনিসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছিল। দীর্ঘ তদন্ত শেষে পুলিশ অন্য তিনজনকে অব্যাহতি দিয়ে রনিকে একমাত্র অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেয়। গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে রনি স্বীকার করেছিলেন, তিনি অদিতাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে তাকে হত্যা করেন।২০২৩ সালের ২১ জুন নোয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মোহাম্মদ আবদুর রহিম আসামি রনির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজ এই আলোচিত মামলার রায় প্রদান করা হচ্ছে। নিহতের স্বজনরা আসামির সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। অদিতির মা রাজিয়া সুলতানা বলেন, আমার মেয়েকে তার গৃহশিক্ষক আবদুর রহমান রনি নির্মমভাবে গলা কেটে এবং হাতের রগ কেটে হত্যা করেছে। আমি আমার বাচ্চার খুনির ফাঁসি চাই এবং সেই রায় যেন দ্রুত কার্যকর করা হয়। আজ আমার মেয়ের বিচার পেলে কাল আপনার মেয়ে নিরাপদে ঘুমাবে। আমি একটি নিরাপদ বাংলাদেশ চাই, যেখানে সব মেয়েরা নিরাপদে ঘুমাতে পারবে। নোয়াখালী জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও সুশাসনের জন্য নাগরিক জেলা কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোল্লা হাবিবুর রাছুল মামুন বলেন, দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আজ সেই বহুল প্রতীক্ষিত রায়ের দিন। আমরা আশা করি, এই রায়ের মাধ্যমে নিহতের পরিবারের দীর্ঘদিনের আর্তনাদ ও ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা প্রতিফলিত হবে। শুধু নোয়াখালী নয়, বরং সারাদেশের মানুষ আজ এই রায়ের দিকে তাকিয়ে আছে। মনে রাখতে হবে, এই ন্যায়বিচারের দাবিতেই ছাত্র-জনতা রাজপথে নেমেছিল। আজ যেন সত্য ও ন্যায়ের জয় হয়।

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় অবৈধভাবে ৫ হাজার লিটার তেল মজুদ রাখার অভিযোগে এক ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়েছে। মঙ্গলবার ১৪ এপ্রিল সকালে উপজেলার মধ্যম কাদরা এলাকায় ইশতিয়াক সাঈদ ভূঁইয়া ট্রেডার্সে অভিযান পরিচালনা করে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। এ সময় অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানটি পরিচালনা করেন এসিল্যান্ড নুর পেয়ারা বেগম ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও অতিরিক্ত মুনাফা প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি হতে বিএনপির মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন নোয়াখালীর চার নেত্রী। তারা হলেন, ভিপি শাহনাজ পারভিন, হাসনা জসীমউদ্দিন মওদুদ, শাহীনুর রহমান (সাগর) ও ফৌজিয়া সাফদার সোহেলী। দল থেকে মনোনয়ন পাবেন বলে তারা সবাই-ই আশাবাদী। এই চার নেত্রীর মধ্যে বেশি আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান জেলা মহিলা দলের সভাপতি ভিপি শাহনাজ পারভিন। তিনি নোয়াখালী মহিলা কলেজের ৯৪-৯৫ সালের নির্বাচিত ভিপি। জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ছাত্র ফোরামের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন, ১১ বছর জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন সাত বছর। ভিপি শাহনাজ পারভিন জেলা বিএনপির সাবেক মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। সাবেক এই অ্যাথলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যও। দলের দুর্দিনে দলীয় আন্দোলন সংগ্রামে সম্মুখ সারিতে থেকে আন্দোলন করেছেন বলে জানান শাহনাজ পারভিন। তিনি জেলা শহর মাইজদীর হাউজিং এলাকায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বসবাস করেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রয়াত সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের স্ত্রী হাসনা মওদুদও রয়েছেন মনোনন দৌড়ে। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৫ (কোম্পানীগঞ্জ-কবিরহাট) আসনে দলীয় মনোনয়ন চেয়ে শেষ পর্যন্ত দলের হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। তিনিও সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। হাসনা জসীমউদ্দিন মওদুদ পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের মেয়ে। তিনি ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালে স্বামী ব্যরিস্টার মওদুদ আহমদের ছেড়ে দেওয়া নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। তিনি ঢাকায় বসবাস করলেও রাজনৈতিক ও সামাজিক অনুষ্ঠানে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে আসেন। মনোনয়ন প্রসঙ্গে হাসনা জসীমউদ্দীন মওদুদ বলেন, মনোনয়ন ফরম কিনে জমা দিয়েছি। আমার স্বামী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ এবং আমি ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এলাকার সেবা করেছি। আলোচনায় রয়েছেন অ্যাডভোকেট শাহীনুর রহমান সাগরও। কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহীনুর রহমান ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। নোয়াখালীর পৌরসভার করিমপুরের বাসিন্দা শাহীনুর রহমান ২০০১ সালে ইডেন কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। আইন পেশা ও রাজনীতির কারণে ঢাকায় অবস্থান করেন তিনি। ঢাকার রাজনীতিতে সক্রিয় হলেও নোয়াখালীর রাজনীতিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কয়েকটি দলীয় অনুষ্ঠানে অংশ নেন এই নেত্রী। মনোনয়নপ্রত্যাশী আরেক নেত্রী ফৌজিয়া সাফদার সোহেলী কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য। নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় জন্ম নেওয়া ফৌজিয়া সাফদার সোহেলী রাজনৈতিক পরিবারে বেড়ে উঠেছেন। তিনি হাতিয়ার প্রখ্যাত জমিদার ও দানবীর আলহাজ আজহার উদ্দিন মিয়ার বংশধর। ২০১৩ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত দলীয় নেতাকর্মীদের জন্য নিজ বাসভবন ছেড়ে দেন তিনি। মনোনয়ন প্রসঙ্গে ফৌজিয়া সাফদার সোহেলী বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলকে বিজয়ী করতে তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করেছি। দল আমার প্রতি আস্থা রাখবে বলে আশা করি। সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি হিসেবে জনগণের সেবা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখতে চাই। জেলা বিএনপির সদস্য সচিব হারুনুর রশিদ আজাদ দৈনিক নোয়াখালী সময় অনলাইন নিউজ পোর্টালকে বলেন, দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে আমাদের কোনো মন্তব্য নেই। দলের প্রধান যাচাই-বাছাই করে যাকে মনোনয়ন দেবেন, আমরা তার পক্ষে কাজ করব।

নোয়াখালীর বসুরহাটে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বুলডোজার দিয়ে ব্যবসায়ী ফিরোজ আলম মিলনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স ফিরোজ অ্যান্ড ব্রাদার্স’ এবং ‘হুমায়ুন টিম্বার অ্যান্ড স-মিল’ গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলাটি এখন অধিকতর তদন্তাধীন। বসুরহাট পৌরসভার সাবেক মেয়র আবদুল কাদের মির্জার প্রধান সহযোগী হিসেবে পরিচিত পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা গোলাম ছারওয়ার বুলবুলসহ ৪৩ জনের বিরুদ্ধে এই লুটপাট ও ভাঙচুরের মামলা দায়ের করা হয়েছে। নোয়াখালী বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট ২নং আমলি আদালত, সিআর মামলা নং- ৫৪৩/২০২৪ (কোম্পানীগঞ্জ)। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে বর্তমানে সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর বর্ণনা অনুযায়ী, ২০২১ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর ভোর রাত ৪টার দিকে আবদুল কাদের মির্জার নির্দেশে প্রায় ২০০-৩০০ জনের এক সশস্ত্র বাহিনী বসুরহাট পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডে অবস্থিত ফিরোজ আলম মিলনের স'মিলে অতর্কিত হামলা চালায়। বুলডোজার দিয়ে মিলের সব স্থাপনা মুহূর্তেই মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়া হয়। ফিরোজ আলম মিলনের দাবি, ওই জমিটি তিনি ক্রয়সূত্রে মালিক এবং এ নিয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকায় উচ্চ আদালতের স্থিতাবস্থা ছিল। কিন্তু আদালতের তোয়াক্কা না করেই কোটি কোটি টাকার ফার্নিচার তৈরির মেশিন, লোহা ও সেগুন কাঠ লুট করে ট্রাকে করে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে ওই জমিতে ‘শিশুপার্ক’-এর সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দখল নিশ্চিত করেন তৎকালীন মেয়র ও তার অনুসারীরা। মামলার এজাহারে বসুরহাট পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা গোলাম ছারওয়ার বুলবুলকে অন্যতম আসামি করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ এবং মামলার প্রেক্ষাপট অনুযায়ী বুলবুল পৌরসভার সরকারি পদের অপব্যবহার করে আবদুল কাদের মির্জার ব্যক্তিগত বাহিনীর প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মিলনের সমিল গুঁড়িয়ে দেওয়ার সময় তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে প্রশাসনিক দোহাই দিয়ে উচ্ছেদ প্রক্রিয়াকে তদারকি করেছিলেন, যা ছিল সম্পূর্ণ অবৈধ। দীর্ঘ তিন দশক ধরে একই পৌরসভায় কর্মরত থেকে নিয়োগ বাণিজ্য, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ এবং হাট-বাজার ইজারা থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ৫ই আগস্টের পটপরিবর্তনের পর তার এই বিপুল সম্পদের উৎস নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মুছাপুর থানারহাটে নিজ বাড়িতে গত ডিসেম্বরে তিন তলা ভবন নির্মাণ সহ অবৈধ সাম্রাজ্য, বসুরহাটে স্ত্রী ফেরদৌস আরার নামে ফ্ল্যাট ক্রয়, চর এলাহীতে খামার বাড়ি ও মাছের ঘের, স্ত্রীর নামে ২১ ভরি স্বর্ণ ও বিদেশী প্রসাধনী সামগ্রী, ছেলে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা অপির দামি মোটরসাইকেল সহ বিপুল অবৈধ সম্পদ রয়েছে। অপরাধ দুর্ণীতি করেও বিএনপির কিছু নেতা ম্যানেজ প্রকাশ্যে চলাফেরা করছে। ব্যবসায়ী ফিরোজ আলম মিলন বলেন, "কাদের মির্জার ডান হাত হিসেবে পরিচিত এই বুলবুলরাই আমাকে পথে বসিয়েছে। আদালতের ইনজাংশন থাকার পরও তারা ডাকাতের মতো আমার কারখানা লুট করেছে। আমি এর দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।" সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির জানান, অভিযুক্ত আসামীদের বিরুদ্ধে তথ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয়া হয়েছে। অভিযুক্ত গোলাম ছারওয়ার জানান, উপরের নির্দেশে আমি এসব করেছি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্ণীতি বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বিষয়টি এডিয়ে যান। বর্তমানে মামলার প্রধান আসামি আবদুল কাদের মির্জাসহ বেশিরভাগ অভিযুক্ত আত্মগোপনে থাকলেও গোলাম সরওয়ার বুলবুল প্রকাশ্যে নির্বিঘ্নে ঘুরে বেড়াচ্ছে। পৌরসভা প্রশাসনিক কার্যক্রম ও তার বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ নিয়ে এলাকায় চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

নোয়াখালীর হাতিয়ার নিঝুমদ্বীপে বনভূমি, চর ও সী-বিচ এর জায়গা দখলের পর এবার নদী-খাল দখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী ‘ইব্রাহিম পার্টি’র বিরুদ্ধে। তার অনুমতি ছাড়া নদীতে মাছ ধরতে যাওয়ায় জেলেদের জাল লুট, মারধর ও চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। গত শনিবার (১১ এপ্রিল) দিবাগত রাত সাড়ে ৮টার দিকে চর কবিরা সংলগ্ন নদীতে মাছ ধরতে গেলে ভোলার চরফেশন এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মাঝির আড়াই লাখ টাকার জাল লুটের ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী আব্দুল মাঝি জানান, “আমরা কোরাল জাল ফেলতে গেলে একদল লোক ইব্রাহিম পার্টির নাম বলে আমাদের জোর করে নদী থেকে তুলে নেয়। পরে ইব্রাহিম পার্টি বলেন—‘চার কবিরা থেকে মনপুরার কালকিনি সীমান্ত পর্যন্ত সব আমার। এখানে মাছ ধরতে হলে আমার কাছ থেকে হার (ফার) ভাড়া নিতে হবে, না হলে নৌকা ছিদ্র করে দেব।’ আব্দুল মাঝি আরও বলেন, “হুমকি দিয়ে আমাদের তাড়িয়ে দেওয়ার পর দেখি নদীতে ফেলা আড়াই লাখ টাকার জাল নেই। পরে তার কাছে গেলে প্রথমে অস্বীকার করেন। আমাদের ৮ কেজি ৮০০ গ্রামের একটি কোরাল মাছও নিয়ে যায় তার লোকজন। প্রায় ১০ হাজার টাকার মাছের বিপরীতে মাত্র দুই হাজার টাকা দিয়ে আমাদের পাঠিয়ে দেওয়া হয়।”এ বিষয়ে ইব্রাহিম পার্টির সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জাল লুটের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “জাল আমি নিইনি, নৌ-পুলিশ নিয়েছে।” তবে নিঝুম দ্বীপ নৌ-পুলিশ ইনচার্জ আশিক জানান, এ ধরনের কোনো ঘটনার বিষয়ে তিনি অবগত নন। ঘটনার পর চারদিকে বিষয়টি জানাজানি হলে গতকাল রোববার (১২ এপ্রিল) রাতে লুট হওয়া জালের অর্ধেক ফেরত পাঠানো হয় বলে জানান আব্দুল মাঝি। তবে বাকি জাল ফেরত না পাওয়ায় তিনি অভিযুক্তদের বিচার দাবি করেছেন।এদিকে এ ঘটনার মধ্যে গতরাতে নিঝুমদ্বীপের নামারবাজারে বিলাসের চা দোকানে স্থানীয় সোহরাব মাঝির ছেলে রাজিবকে মারধর করে ইব্রাহিম পার্টির ভাতিজা ইলিয়াস। ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, সাগরে জাল বসানোর ভাড়া না দেওয়ায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে অন্তত ১০ জন জেলে জানান, তারা ১০ থেকে ৩০ বছর ধরে নিঝুম দ্বীপের বিভিন্ন এলাকায় মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করছেন। কিন্তু বর্তমানে ইব্রাহিম পার্টি ও তার ভাই খায়ের পার্টির গ্রুপকে চাঁদা না দিলে নদী বা সাগরে যাওয়া যায় না। প্রতি হার (ফার) বাবদ ৩০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। জেলেদের অভিযোগ, “চাঁদা না দিলে মারধর, জাল কেটে দেওয়া কিংবা নৌকা ডুবিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এছাড়া সাগর থেকে মাছ এনে তাদের গদিতে দিতে বাধ্য করা হয়, কিন্তু সঠিক মূল্য পাওয়া যায় না। ৮০০ টাকার মাছের দাম দেওয়া হয় ১৫০ থেকে ২০০ টাকা, ৫০০ টাকার চিংড়ি দেওয়া হয় মাত্র ৬০ টাকা।” খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ইব্রাহিম পার্টি বিভিন্ন গ্রুপ তৈরি করে নিঝুম দ্বীপের সী-বিচের উত্তর পাশে শতাধিক দাগ জমি, বনভূমি ও চর এলাকার বিস্তীর্ণ অংশ দখলে নিয়েছেন। নামার বাজারে বিলাসবহুল হোটেলসহ কোটি কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে নৌপুলিশ ইনচার্জ আশিক জানান, ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দীর্ঘদিন জাতীয় দলের বাইরে থাকা অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানকে নিয়ে মুখ খুলেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন। শনিবার (১১ এপ্রিল) মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান নির্বাচক বলেন, ‘সর্বোসম্মতিক্রমে বোর্ড গ্রহণ করেছে যে, সাকিব আল হাসানের অ্যাভেইলঅ্যাবিলিটি, ফিটনেস এবং অ্যাকসেসিবিলিটির ওপর ভিত্তি করে এবং পাশাপাশি যেখানে খেলা হবে ভেন্যুতে, সেখানে যদি উপস্থিত থাকার মতো ক্যাপাসিটি থাকে, অবশ্যই বোর্ড বা নির্বাচক কমিটি সাকিবকে পরবর্তীতে নির্বাচনের জন্য বিবেচিত করবে।’ সুমন বলেন, ‘আমার সাথে (সাকিবের সঙ্গে) দু-একবার কথা হয়েছে। আমার মূল প্রশ্ন ছিল, সে প্রস্তুত কি না। যেহেতু ও যেখানে আছে, ওখানে ক্রিকেট নিয়মিত হয় না। ট্রেনিংয়ের পর্যাপ্ত সুযোগ নেই। ফিটনেস ট্রেনিং করা যায়, কিন্তু ক্রিকেট খেলা অত রেগুলার হয় না। আমি আসলে ওর সঙ্গে এসব বিষয় নিয়ে বেশি কথা বলেছি।’ এরপর সাকিবকে দলে ফেরানো ব্যাপারে সুমন বলেন, ‘বাকিটা ওকে (সাকিব) এখানে পাওয়ার ব্যাপার। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আমরা অবশ্যই তাকে লম্বা সময়ের জন্যই চাই।’