

ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে আসবে, অন্য সময়ের মতো নিজ দেশে ঘুরবে-ফিরবে, অনুশীলন করবে এবং জাতীয় দলের হয়ে খেলবে- এমন প্রত্যাশাই ছিল সাধারণ ক্রিকেট অনুরাগী ও সাকিব ভক্তদের; কিন্তু দীর্ঘদিন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের তকমা গায়ে থাকা সাকিব আল হাসানের দেশে ফেরার পথে বাধা ছিল জুলাই আন্দোলনে শহীদ পরিবার ও আন্দোলনের সফল রূপকারদের পক্ষ থেকে। তাদের অকাট্য যুক্তি- সাকিব আল হাসান ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর এবং আওয়ামী লীগের এমপি। যেখানে খোদ আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে, দলের নেতাকর্মীরা জনরোষের মুখে দেশ ছেড়েছেন কিংবা অন্তরালে চলে গেছেন- সেখানে সাকিব আল হাসান আওয়ামী লীগের এমপি হয়ে কিভাবে দেশে এসে সাধারণ জীবনযাপন করবেন এবং জাতীয় দলের হয়ে খেলবেন? মূলত এই চিন্তা থেকেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সাকিব আল হাসানকে দেশে আনার চেষ্টা করেনি বরং সাকিব যাতে দেশের বাইরে থাকেন, সে ব্যবস্থাই করা হয়েছে। পাশাপাশি আরেকটি বিষয় সাকিবের দেশে আসার পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়- তার বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা রয়েছে। সেই মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আইনের চোখে সাকিব একজন আসামি। তিনি প্রকৃতপক্ষে দোষী কি না, তা নির্ধারণের দায়িত্ব আদালতের। যতক্ষণ পর্যন্ত আদালত তাকে নির্দোষ ঘোষণা না দিচ্ছে, ততক্ষণ তিনি অভিযুক্ত। এটিও একটি বড় কারণ ছিল। মামলা যেহেতু হয়েছে এবং সেটা হত্যা মামলা, সেহেতু মামলা থেকে অব্যাহতি না পাওয়া পর্যন্ত কিংবা নির্দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত দেশে ফেরা মানেই গ্রেপ্তারের ঝুঁকি। এসব কারণ মিলিয়ে সাকিব আল হাসান ১৮ মাসের বেশি সময় দেশের বাইরে ছিলেন এবং জাতীয় দলের হয়েও খেলতে পারেননি। তবে আশার কথা- এখন তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ চলছে। বিসিবি সাকিবের ব্যাপারে অনেকটাই ইতিবাচক। তার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বিসিবির উদ্যোগেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। বোর্ড জানিয়েছে, সাকিবকে দেশে ফেরাতে করণীয় কাজের একটি অংশ তারা সম্পন্ন করেছে। এখন বাকি বিষয় সরকারের হাতে। অর্থাৎ হত্যা মামলায় নিষ্কৃতি পাওয়া এবং সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সরকারের দায়িত্ব। ধারণা করা হচ্ছে, আইনি জটিলতা কাটিয়ে নির্দোষ ঘোষণার পরই সাকিবকে দেশে আনা হতে পারে। যেহেতু দেশে ফেরার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং বিসিবি সরকারের কাছে কাগজপত্র পাঠিয়েছে, তাই ধরে নেওয়া যায় সরকারেরও এতে সম্মতি ও সবুজ সংকেত রয়েছে। সে হিসেবে সাকিবের দেশে ফেরার পথে বড় ধরনের বাধা বা শঙ্কা আপাতত নেই। তিনি দেশে ফিরতে পারেন এবং আবার জাতীয় দলে খেলতে পারেন- এমন প্রত্যাশাই অনেকের। তবে অনেকে ধরে নিয়েছেন, টি-টোয়েন্টি ও টি-টেন লিগে নিয়মিত খেলা সাকিব দেশে ফিরলেই জাতীয় দলে জায়গা পাবেন। যুক্তরাষ্ট্র, আমিরাত, দুবাই, শারজাহ, ওয়েস্ট ইন্ডিজসহ বিভিন্ন দেশে তিনি ২০ ও ১০ ওভারের ক্রিকেট খেলছেন। তাই ভক্তদের একটি অংশ মনে করছেন, তিনি সহজেই দলে অন্তর্ভুক্ত হবেন। কিন্তু বাস্তবতা কি তাই? দেশে ফিরলেই কি তিনি জাতীয় দলে সুযোগ পাবেন? জাতীয় দলের পরিচালনা ও তত্ত্বাবধানে থাকা টিম ম্যানেজমেন্ট এবং নির্বাচকদের সঙ্গে কথা বলে যে ধারণা মিলেছে তা হলো- ক্রিকেটার হিসেবে সাকিব অনন্য এবং বাংলাদেশের অন্যতম সেরা পারফরমার। তবে দীর্ঘদিন তিনি টি-টোয়েন্টি ও টি-টেন ছাড়া উচ্চমানের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেননি। ফলে তার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার মতো পর্যাপ্ত ফিটনেস আছে কি না, শারীরিকভাবে কতটা সক্ষম- তা খুঁটিয়ে দেখা হবে। তার ব্যাটিং-বোলিংয়ের বর্তমান অবস্থাও যাচাই করা হবে। যেভাবে অন্য একজন ক্রিকেটারকে জাতীয় দলে নেওয়ার আগে নিক্তির পাল্লায় মেপে দেখা হয়, সাকিবের ক্ষেত্রেও সেটাই প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ তিনি এলেন আর সরাসরি দলে ঢুকে গেলেন- বিষয়টি এমন হবে না। ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদীন ফাহিম জানিয়েছেন, ‘অন্য ক্রিকেটাররা যেমন নির্বাচকদের আস্থা অর্জন করে এবং ফিজিও-ট্রেনারের ফিটনেস সার্টিফিকেট নিয়ে দলে বিবেচনায় আসেন, সাকিবের ক্ষেত্রেও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। প্রথমেই দেখা হবে তিনি শারীরিকভাবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার উপযুক্ত কি না। এরপর তার বর্তমান পারফরম্যান্স, নেটে বা ঘরোয়া টুর্নামেন্টে- যাচাই করা হবে। তার প্রকৃত অবস্থা মূল্যায়নের পরই নির্বাচকরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে স্পষ্ট- সাকিবকে পরীক্ষার মধ্য দিয়েই জাতীয় দলে ফিরতে হবে, তা ফিটনেস হোক বা পারফরম্যান্স। এ কারণেই আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি বিসিবির সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও গাজী আশরাফ হোসেন লিপুকে প্রধান নির্বাচক হিসেবে আরও এক মাস দায়িত্ব পালনের অনুরোধ করেছে ক্রিকেট বোর্ড এবং বিষয়টি ইতিবাচকভাবে গৃহীত হয়েছে। তিনি আরও একমাস জাতীয় দলের সঙ্গে কাজ করবেন। অর্থাৎ ১১ মার্চ থেকে পাকিস্তানের বিপক্ষে ঢাকায় শুরু হওয়া তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ এবং মে মাসে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজকে সামনে রেখে সাকিবের খেলার মতো অবস্থা আছে কি না, তা যাচাইয়ের দায়িত্বও তার ওপর বর্তাবে। সব মিলিয়ে স্পষ্ট- জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার যে মানদণ্ড, সাকিবকেও সেই একই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। নিজের শারীরিক সক্ষমতা ও পারফরম্যান্সের সর্বোচ্চ মান প্রমাণ করেই তাকে দলে ফিরতে হবে, অন্যথায় নয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য দোয়া চেয়ে ১০ হাজার রোগীর চিকিৎসার টোকেনের টাকা নিজ তহবিল থেকে পরিশোধের ঘোষণা দিয়েছেন নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) মো. ফখরুল ইসলাম। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রথমবার পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এ ঘোষণা দেন। মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া চাই এবং তাদের জ্যেষ্ঠ সন্তান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার নতুন সরকারের জন্য সহযোগিতা চাই। তিনি বলেন, রমজান ও ঈদ উপলক্ষে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য আসা ১০ হাজার রোগীর টোকেন খরচ আমি পরিশোধ করবো। এক মাস রোগীরা বিনামূল্যে চিকিৎসা নিবেন। এমপি ফখরুল ইসলাম বলেন, সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা আমাদের সরকারের অন্যতম প্রতিশ্রুতি। এখানে যত সমস্যা রয়েছে তা অচিরেই সমাধানের চেষ্টা করা হবে। তবে চিকিৎসকদের সঠিক সময়ে অফিসে উপস্থিত হয়ে রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। পরে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য প্রতিটি ওয়ার্ডে গিয়ে চিকিৎসাধীন রোগীদের খোঁজখবর নেন। এসময় হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, রোগীদের নিরাপত্তা, সেবা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ প্রদান করেন তিনি। পরিদর্শনের আগে মতবিনিময় সভায় উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ সেলিমের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক নুরুল আলম শিকদার, বসুরহাট পৌরসভা বিএনপির আহ্বায়ক আবদুল মতিন লিটন, মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. শওকত আল-ইমরান ইমরোজ, সিনিয়র স্টাফ নার্স কহিনুর বেগম প্রমুখ। ডা. মোহাম্মদ সেলিম জাগো নিউজকে বলেন, বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ৪০০ রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এসব রোগীদের ৫ টাকা দিয়ে টোকেন নিতে হয়। আজ স্থানীয় এমপি ফখরুল ইসলাম ১০ হাজার রোগীর টোকেনের ৫০ হাজার টাকা নিজ তহবিল থেকে পরিশোধের ঘোষণা দিয়েছেন।

পিলখানা ট্র্যাজেডির ১৭ বছর আজ। ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি বিডিআরের (বর্তমানে বিজিবি) ঢাকার পিলখানা সদর দপ্তরে বিদ্রোহের নামে তৎকালীন বিডিআর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদসহ ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ নিহত হন। গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গতবছর বাংলাদেশের ইতিহাসে বিভীষিকাময় ও শোকাবহ এ দিনটি জাতীয় শহীদ সেনা দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত হয়। ২০০৯ সালে পিলখানায় সেনা কর্মকর্তাদের নৃশংসভাবে হত্যা করে লাশ গুম এবং পুড়িয়ে ফেলার চেষ্টা করা হয়। তাদের পরিবারের সদস্যদের ওপরও নির্যাতন চালানো হয়। দেশের প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা ওই নৃশংস ঘটনাকে দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর প্রথম বড় ধরনের আঘাত হিসেবেই মূল্যায়ন করে থাকেন। এ ভয়াবহ ঘটনায় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় শপথ গ্রহণকারী দেশের সুরক্ষা কবচ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী হারায় তার মেধাবী ও দেশপ্রেমিক কর্মকর্তাদের, যা সমগ্র সশস্ত্র বাহিনীর মনোবলে বিরূপ প্রভাব ফেলে। এ দিনটি শুধু বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর জন্য নয়, পুরো জাতির জন্যই শোকাবহ ও হৃদয়বিদারক। দিবসটি উপলক্ষ্যে দেওয়া বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘২৫ ফেব্রুয়ারি, জাতীয় শহীদ সেনা দিবস। ২০০৯ সালের এই দিনে বিডিআর সদর দপ্তর পিলখানায় সেনা হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত হয়েছিল। হত্যাযজ্ঞে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন শহীদ হয়েছিল। ২০০৯ সালের পর দিনটি যথাযোগ্য গুরুত্ব সহকারে পালন করা হয়নি। ২০২৪ সালে দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হওয়ার পর থেকে দিনটি ‘শহীদ সেনা দিবস’ হিসেবে পালিত হচ্ছে। আজকের এই বিশেষ দিনে আমরা সেনা হত্যাযজ্ঞে শহীদদের মাগফিরাত কামনা করছি। তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সহানুভূতি ও সহমর্মিতা প্রকাশ করছি। ‘পিলখানায় সংঘটিত সেনা হত্যাকাণ্ডের বিচার চলমান। বিচারাধীন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলার অবকাশ নেই। তবে এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিরোধী তৎপরতা বিদ্যমান ছিল, নাগরিক হিসেবে এই বিষয়টি আমাদের উপলব্ধিতে থাকা জরুরি বলে আমি মনে করি। এই হত্যাকাণ্ডের পর নানা রকম মিথ্যা কিংবা অপতথ্য দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা হয়েছিল।’ ‘সশস্ত্র বাহিনী একটি স্বাধীন দেশের সম্মান, বীরত্ব এবং গৌরবের প্রতীক। ভবিষ্যতে আর কেউ যাতে সশস্ত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হতে না পারে, আজ পুনরায় সেই শপথে বলীয়ান হতে হবে।’

নোয়াখালীর সেনবাগের সেবারহাট বাজারের ফলের আড়ৎ থেকে প্রায় ৯হাজার ইয়াবাসহ আটক। সেনবাগ থানাধীন ফেনী টু নোয়াখালী মহাসড়কস্হ সেবারহাট পূর্ব বাজার নাছির উদ্দিনের ফলের আড়তের সামনে মহাসড়কের উপর *আসামীর নাম ও ঠিকানা:* ১) মো: আমির হোসেন (৪২), পিতা: মৃত. জাহাঙ্গীর কবির, ঠিকানা: উত্তর গনিপুর (ছাদু মিয়ার বাড়ি), পো: রাজাপুর, থানা: দাগনভূঁঞা, জেলা: ফেনী ২) মো: হারুন ভূঁঞা (৪০), পিতা: মো: রফিক, সাং- জয়নারায়নপুর (দপাদার বাড়ি), পো: রাজাপুর, থানা: দাগনভূঁঞা, জেলা: ফেনী *আলামত:* ১) কমলা বর্ণের অ্যামফিটামিনযুক্ত ইয়াবা নামীয় ট্যাবলেট ৮,৮৪০ (আট হাজার আটশত চল্লিশ) পিচ, যার ওজন ৮৫০ গ্রাম, ০২) চাবিসহ ঢাকা মেট্রো- গ-২৬-৬০৫৬ নং টয়োটা কালো প্রাইভেট কার ০১ (এক)টি, ০৩) মাদক ব্যবসায় ব্যবহৃত নগদ অর্থ ৬৭,৯০০/- (সাতষট্টি হাজার নয়শত) টাকা, ০৪) মাদক ব্যবসায় ব্যবহৃত তিনটি স্মার্ট ফোন ও একটি বাটন মোবাইল।

নির্বাচন সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে হামলার মুখে পড়েছেন সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদ। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে সংঘর্ষ চলছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টার দিকে নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার চানন্দী ইউনিয়নের প্রকল্প বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের একপর্যায়ে এমপি হান্নান মাসউদ ঘটনাস্থলের সড়কে অবস্থান নেন। বর্তমানে সড়কের দুই পাশে দুই পক্ষ অবস্থান নিয়ে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছে বলে জানা গেছে। এদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় পুরো এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। এমপি হান্নান মাসউদ বলেন, বেলাল মাঝিকে গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত আমি এখান থেকে সরব না। সে ২০১৮ সালেও সাবেক এমপি ফজলুল আজিমের ওপর হামলা করেছিল। এ বিষয়ে অভিযুক্ত বেলাল মাঝির বক্তব্য পাওয়া যায়নি। হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম বলেন, আমি ঘটনাস্থলে আছি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ কাজ করছে।

ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে আসবে, অন্য সময়ের মতো নিজ দেশে ঘুরবে-ফিরবে, অনুশীলন করবে এবং জাতীয় দলের হয়ে খেলবে- এমন প্রত্যাশাই ছিল সাধারণ ক্রিকেট অনুরাগী ও সাকিব ভক্তদের; কিন্তু দীর্ঘদিন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের তকমা গায়ে থাকা সাকিব আল হাসানের দেশে ফেরার পথে বাধা ছিল জুলাই আন্দোলনে শহীদ পরিবার ও আন্দোলনের সফল রূপকারদের পক্ষ থেকে। তাদের অকাট্য যুক্তি- সাকিব আল হাসান ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর এবং আওয়ামী লীগের এমপি। যেখানে খোদ আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে, দলের নেতাকর্মীরা জনরোষের মুখে দেশ ছেড়েছেন কিংবা অন্তরালে চলে গেছেন- সেখানে সাকিব আল হাসান আওয়ামী লীগের এমপি হয়ে কিভাবে দেশে এসে সাধারণ জীবনযাপন করবেন এবং জাতীয় দলের হয়ে খেলবেন? মূলত এই চিন্তা থেকেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সাকিব আল হাসানকে দেশে আনার চেষ্টা করেনি বরং সাকিব যাতে দেশের বাইরে থাকেন, সে ব্যবস্থাই করা হয়েছে। পাশাপাশি আরেকটি বিষয় সাকিবের দেশে আসার পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়- তার বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা রয়েছে। সেই মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আইনের চোখে সাকিব একজন আসামি। তিনি প্রকৃতপক্ষে দোষী কি না, তা নির্ধারণের দায়িত্ব আদালতের। যতক্ষণ পর্যন্ত আদালত তাকে নির্দোষ ঘোষণা না দিচ্ছে, ততক্ষণ তিনি অভিযুক্ত। এটিও একটি বড় কারণ ছিল। মামলা যেহেতু হয়েছে এবং সেটা হত্যা মামলা, সেহেতু মামলা থেকে অব্যাহতি না পাওয়া পর্যন্ত কিংবা নির্দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত দেশে ফেরা মানেই গ্রেপ্তারের ঝুঁকি। এসব কারণ মিলিয়ে সাকিব আল হাসান ১৮ মাসের বেশি সময় দেশের বাইরে ছিলেন এবং জাতীয় দলের হয়েও খেলতে পারেননি। তবে আশার কথা- এখন তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ চলছে। বিসিবি সাকিবের ব্যাপারে অনেকটাই ইতিবাচক। তার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বিসিবির উদ্যোগেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। বোর্ড জানিয়েছে, সাকিবকে দেশে ফেরাতে করণীয় কাজের একটি অংশ তারা সম্পন্ন করেছে। এখন বাকি বিষয় সরকারের হাতে। অর্থাৎ হত্যা মামলায় নিষ্কৃতি পাওয়া এবং সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সরকারের দায়িত্ব। ধারণা করা হচ্ছে, আইনি জটিলতা কাটিয়ে নির্দোষ ঘোষণার পরই সাকিবকে দেশে আনা হতে পারে। যেহেতু দেশে ফেরার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং বিসিবি সরকারের কাছে কাগজপত্র পাঠিয়েছে, তাই ধরে নেওয়া যায় সরকারেরও এতে সম্মতি ও সবুজ সংকেত রয়েছে। সে হিসেবে সাকিবের দেশে ফেরার পথে বড় ধরনের বাধা বা শঙ্কা আপাতত নেই। তিনি দেশে ফিরতে পারেন এবং আবার জাতীয় দলে খেলতে পারেন- এমন প্রত্যাশাই অনেকের। তবে অনেকে ধরে নিয়েছেন, টি-টোয়েন্টি ও টি-টেন লিগে নিয়মিত খেলা সাকিব দেশে ফিরলেই জাতীয় দলে জায়গা পাবেন। যুক্তরাষ্ট্র, আমিরাত, দুবাই, শারজাহ, ওয়েস্ট ইন্ডিজসহ বিভিন্ন দেশে তিনি ২০ ও ১০ ওভারের ক্রিকেট খেলছেন। তাই ভক্তদের একটি অংশ মনে করছেন, তিনি সহজেই দলে অন্তর্ভুক্ত হবেন। কিন্তু বাস্তবতা কি তাই? দেশে ফিরলেই কি তিনি জাতীয় দলে সুযোগ পাবেন? জাতীয় দলের পরিচালনা ও তত্ত্বাবধানে থাকা টিম ম্যানেজমেন্ট এবং নির্বাচকদের সঙ্গে কথা বলে যে ধারণা মিলেছে তা হলো- ক্রিকেটার হিসেবে সাকিব অনন্য এবং বাংলাদেশের অন্যতম সেরা পারফরমার। তবে দীর্ঘদিন তিনি টি-টোয়েন্টি ও টি-টেন ছাড়া উচ্চমানের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেননি। ফলে তার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার মতো পর্যাপ্ত ফিটনেস আছে কি না, শারীরিকভাবে কতটা সক্ষম- তা খুঁটিয়ে দেখা হবে। তার ব্যাটিং-বোলিংয়ের বর্তমান অবস্থাও যাচাই করা হবে। যেভাবে অন্য একজন ক্রিকেটারকে জাতীয় দলে নেওয়ার আগে নিক্তির পাল্লায় মেপে দেখা হয়, সাকিবের ক্ষেত্রেও সেটাই প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ তিনি এলেন আর সরাসরি দলে ঢুকে গেলেন- বিষয়টি এমন হবে না। ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদীন ফাহিম জানিয়েছেন, ‘অন্য ক্রিকেটাররা যেমন নির্বাচকদের আস্থা অর্জন করে এবং ফিজিও-ট্রেনারের ফিটনেস সার্টিফিকেট নিয়ে দলে বিবেচনায় আসেন, সাকিবের ক্ষেত্রেও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। প্রথমেই দেখা হবে তিনি শারীরিকভাবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার উপযুক্ত কি না। এরপর তার বর্তমান পারফরম্যান্স, নেটে বা ঘরোয়া টুর্নামেন্টে- যাচাই করা হবে। তার প্রকৃত অবস্থা মূল্যায়নের পরই নির্বাচকরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে স্পষ্ট- সাকিবকে পরীক্ষার মধ্য দিয়েই জাতীয় দলে ফিরতে হবে, তা ফিটনেস হোক বা পারফরম্যান্স। এ কারণেই আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি বিসিবির সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও গাজী আশরাফ হোসেন লিপুকে প্রধান নির্বাচক হিসেবে আরও এক মাস দায়িত্ব পালনের অনুরোধ করেছে ক্রিকেট বোর্ড এবং বিষয়টি ইতিবাচকভাবে গৃহীত হয়েছে। তিনি আরও একমাস জাতীয় দলের সঙ্গে কাজ করবেন। অর্থাৎ ১১ মার্চ থেকে পাকিস্তানের বিপক্ষে ঢাকায় শুরু হওয়া তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ এবং মে মাসে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজকে সামনে রেখে সাকিবের খেলার মতো অবস্থা আছে কি না, তা যাচাইয়ের দায়িত্বও তার ওপর বর্তাবে। সব মিলিয়ে স্পষ্ট- জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার যে মানদণ্ড, সাকিবকেও সেই একই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। নিজের শারীরিক সক্ষমতা ও পারফরম্যান্সের সর্বোচ্চ মান প্রমাণ করেই তাকে দলে ফিরতে হবে, অন্যথায় নয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য দোয়া চেয়ে ১০ হাজার রোগীর চিকিৎসার টোকেনের টাকা নিজ তহবিল থেকে পরিশোধের ঘোষণা দিয়েছেন নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) মো. ফখরুল ইসলাম। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রথমবার পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এ ঘোষণা দেন। মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া চাই এবং তাদের জ্যেষ্ঠ সন্তান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার নতুন সরকারের জন্য সহযোগিতা চাই। তিনি বলেন, রমজান ও ঈদ উপলক্ষে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য আসা ১০ হাজার রোগীর টোকেন খরচ আমি পরিশোধ করবো। এক মাস রোগীরা বিনামূল্যে চিকিৎসা নিবেন। এমপি ফখরুল ইসলাম বলেন, সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা আমাদের সরকারের অন্যতম প্রতিশ্রুতি। এখানে যত সমস্যা রয়েছে তা অচিরেই সমাধানের চেষ্টা করা হবে। তবে চিকিৎসকদের সঠিক সময়ে অফিসে উপস্থিত হয়ে রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। পরে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য প্রতিটি ওয়ার্ডে গিয়ে চিকিৎসাধীন রোগীদের খোঁজখবর নেন। এসময় হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, রোগীদের নিরাপত্তা, সেবা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ প্রদান করেন তিনি। পরিদর্শনের আগে মতবিনিময় সভায় উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ সেলিমের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক নুরুল আলম শিকদার, বসুরহাট পৌরসভা বিএনপির আহ্বায়ক আবদুল মতিন লিটন, মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. শওকত আল-ইমরান ইমরোজ, সিনিয়র স্টাফ নার্স কহিনুর বেগম প্রমুখ। ডা. মোহাম্মদ সেলিম জাগো নিউজকে বলেন, বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ৪০০ রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এসব রোগীদের ৫ টাকা দিয়ে টোকেন নিতে হয়। আজ স্থানীয় এমপি ফখরুল ইসলাম ১০ হাজার রোগীর টোকেনের ৫০ হাজার টাকা নিজ তহবিল থেকে পরিশোধের ঘোষণা দিয়েছেন।

পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নে ৫০টি অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করেছে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের হাতে এসব ইফতার সামগ্রী পৌঁছে দেন সংগঠনটির স্বেচ্ছাসেবীরা। সংগঠন সূত্রে জানা যায়, রমজানে দরিদ্র মানুষের কষ্ট লাঘবের লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি প্যাকেজে ছিল ২ কেজি ছোলা, ২ কেজি মসুর ডাল, ১ লিটার সয়াবিন তেল, ১ কেজি খেজুর ও ১ কেজি মুড়ি। এছাড়া ইবাদতে উৎসাহ দিতে ‘মাহে রমজানের ২৭ আমল’ শীর্ষক একটি বই উপহার দেওয়া হয়। আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের নোয়াখালী প্রতিনিধি বলেন, রমজান উপলক্ষে দেশের দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়াতে সংগঠনটি দেশব্যাপী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। চলতি বছর ৬৪ জেলার ৬২৭টি স্থানে ৩৩ হাজার ৩০০ পরিবারের কাছে ইফতার সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য প্রায় ২৩৩ টন খাদ্যসামগ্রী প্রস্তুত করা হচ্ছে। প্রতিটি পরিবার প্রায় এক হাজার টাকা সমমূল্যের সহায়তা পেয়েছে। ইফতার সামগ্রী পেয়ে উপকারভোগীরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বিবি জুলেখা নামের এক উপকারভোগী বলেন, আমরা দ্বীপের শেষ প্রান্তে থাকা অসহায় মানুষ। রমজানে সংসারের খরচ বেড়ে যায়, এই সহায়তা আমাদের অনেক উপকারে এসেছে। আমরা আস সুন্নাহ ফাউন্ডেশনকে ধন্যবাদ জানাই। স্থানীয় বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম ও ইলিয়াস হোসেন বলেন, রমজানের শুরুতেই এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ দরিদ্র পরিবারের জন্য স্বস্তি নিয়ে আসে। সমাজের বিত্তবান ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো এগিয়ে এলে অসহায় মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে।

পিলখানা ট্র্যাজেডির ১৭ বছর আজ। ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি বিডিআরের (বর্তমানে বিজিবি) ঢাকার পিলখানা সদর দপ্তরে বিদ্রোহের নামে তৎকালীন বিডিআর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদসহ ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ নিহত হন। গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গতবছর বাংলাদেশের ইতিহাসে বিভীষিকাময় ও শোকাবহ এ দিনটি জাতীয় শহীদ সেনা দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত হয়। ২০০৯ সালে পিলখানায় সেনা কর্মকর্তাদের নৃশংসভাবে হত্যা করে লাশ গুম এবং পুড়িয়ে ফেলার চেষ্টা করা হয়। তাদের পরিবারের সদস্যদের ওপরও নির্যাতন চালানো হয়। দেশের প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা ওই নৃশংস ঘটনাকে দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর প্রথম বড় ধরনের আঘাত হিসেবেই মূল্যায়ন করে থাকেন। এ ভয়াবহ ঘটনায় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় শপথ গ্রহণকারী দেশের সুরক্ষা কবচ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী হারায় তার মেধাবী ও দেশপ্রেমিক কর্মকর্তাদের, যা সমগ্র সশস্ত্র বাহিনীর মনোবলে বিরূপ প্রভাব ফেলে। এ দিনটি শুধু বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর জন্য নয়, পুরো জাতির জন্যই শোকাবহ ও হৃদয়বিদারক। দিবসটি উপলক্ষ্যে দেওয়া বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘২৫ ফেব্রুয়ারি, জাতীয় শহীদ সেনা দিবস। ২০০৯ সালের এই দিনে বিডিআর সদর দপ্তর পিলখানায় সেনা হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত হয়েছিল। হত্যাযজ্ঞে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন শহীদ হয়েছিল। ২০০৯ সালের পর দিনটি যথাযোগ্য গুরুত্ব সহকারে পালন করা হয়নি। ২০২৪ সালে দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হওয়ার পর থেকে দিনটি ‘শহীদ সেনা দিবস’ হিসেবে পালিত হচ্ছে। আজকের এই বিশেষ দিনে আমরা সেনা হত্যাযজ্ঞে শহীদদের মাগফিরাত কামনা করছি। তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সহানুভূতি ও সহমর্মিতা প্রকাশ করছি। ‘পিলখানায় সংঘটিত সেনা হত্যাকাণ্ডের বিচার চলমান। বিচারাধীন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলার অবকাশ নেই। তবে এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিরোধী তৎপরতা বিদ্যমান ছিল, নাগরিক হিসেবে এই বিষয়টি আমাদের উপলব্ধিতে থাকা জরুরি বলে আমি মনে করি। এই হত্যাকাণ্ডের পর নানা রকম মিথ্যা কিংবা অপতথ্য দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা হয়েছিল।’ ‘সশস্ত্র বাহিনী একটি স্বাধীন দেশের সম্মান, বীরত্ব এবং গৌরবের প্রতীক। ভবিষ্যতে আর কেউ যাতে সশস্ত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হতে না পারে, আজ পুনরায় সেই শপথে বলীয়ান হতে হবে।’

নোয়াখালীর সেনবাগের সেবারহাট বাজারের ফলের আড়ৎ থেকে প্রায় ৯হাজার ইয়াবাসহ আটক। সেনবাগ থানাধীন ফেনী টু নোয়াখালী মহাসড়কস্হ সেবারহাট পূর্ব বাজার নাছির উদ্দিনের ফলের আড়তের সামনে মহাসড়কের উপর *আসামীর নাম ও ঠিকানা:* ১) মো: আমির হোসেন (৪২), পিতা: মৃত. জাহাঙ্গীর কবির, ঠিকানা: উত্তর গনিপুর (ছাদু মিয়ার বাড়ি), পো: রাজাপুর, থানা: দাগনভূঁঞা, জেলা: ফেনী ২) মো: হারুন ভূঁঞা (৪০), পিতা: মো: রফিক, সাং- জয়নারায়নপুর (দপাদার বাড়ি), পো: রাজাপুর, থানা: দাগনভূঁঞা, জেলা: ফেনী *আলামত:* ১) কমলা বর্ণের অ্যামফিটামিনযুক্ত ইয়াবা নামীয় ট্যাবলেট ৮,৮৪০ (আট হাজার আটশত চল্লিশ) পিচ, যার ওজন ৮৫০ গ্রাম, ০২) চাবিসহ ঢাকা মেট্রো- গ-২৬-৬০৫৬ নং টয়োটা কালো প্রাইভেট কার ০১ (এক)টি, ০৩) মাদক ব্যবসায় ব্যবহৃত নগদ অর্থ ৬৭,৯০০/- (সাতষট্টি হাজার নয়শত) টাকা, ০৪) মাদক ব্যবসায় ব্যবহৃত তিনটি স্মার্ট ফোন ও একটি বাটন মোবাইল।

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার বিস্তীর্ণ উপকূলে ধরা পড়ে বিপুল পরিমাণ সামুদ্রিক চেউয়া মাছ। এই মাছ থেকেই বছরে কয়েকশ কোটি টাকার শুঁটকি উৎপাদন করেন স্থানীয় জেলেরা। তবে আধুনিক সংরক্ষণাগারের অভাব, উন্নত শুকানো ও প্রক্রিয়াজাতকরণ সুবিধার সংকট এবং সরাসরি বাজারজাতের সুযোগ না থাকায় সম্ভাবনাময় এই খাত থেকে ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না তারা। ফলে চেউয়া শুঁটকি শিল্পের বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও বঞ্চিত থেকে যাচ্ছেন উপকূলের মৎস্যজীবীরা। জানা গেছে, হাতিয়ার চরাঞ্চলে প্রায় ১০ হাজার একর জমিতে গড়ে উঠেছে শুঁটকি মহল। মূলত সামুদ্রিক চেউয়া মাছের শুঁটকি প্রক্রিয়াজাত করা হয় এসব চরে। এ কাজে প্রায় ২০ হাজার জেলে জড়িত। নদী থেকে মাছ তোলার পর রোদে শুকিয়ে শুঁটকি বানাতে সময় লাগে ৩ থেকে ৪ দিন। প্রতিদিন দেশের বিভিন্নস্থান থেকে আসা পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা জড়ো হন এসব শুঁটকি ক্রয় করতে। এসব শুঁটকি যায় ঢাকা, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। তবে যাতায়াত ব্যবস্থা ভালো না থাকায় লোকসানের মুখে পড়তে হয় জেলেদের। চেউয়া মাছের প্রাচুর্যে ব্যস্ত সময় পার করছেন জেলে মো. শরীফ হোসেন। মাছ বিক্রির টাকায় মাথা গোজার ঠাই নির্মাণের স্বপ্ন। সাথে রয়েছে জমি ক্রয়, স্কুল-মাদরাসা ও মসজিদ নির্মাণের স্বপ্ন। মো. শরীফ হোসেন ৩ নং ওয়ার্ডের ছায়াবীথি কিল্লা এলাকার মৃত জাফর উল্লাহ ছেলে। চলতি মৌসুমে নোয়াখালী জেলা-র দ্বীপ উপজেলা হাতিয়া উপজেলা-র বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চল ও প্রত্যন্ত এলাকাজুড়ে চেউয়া শুঁটকির ধুম পড়েছে। নদীতে ঝাঁকে ঝাঁকে ধরা পড়ছে চেউয়া মাছ। এসব মাছ শুকিয়ে শুঁটকি তৈরি করে জেলেরা পাচ্ছেন নতুন আয়ের সুযোগ। ফলে দিন দিন বাড়ছে এর বাণিজ্যিক সম্ভাবনা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ বছর চেউয়া শুঁটকির সম্ভাব্য বাজারমূল্য শতকোটি টাকা ছাড়াতে পারে। তবে সম্ভাবনার বিপরীতে রয়েছে নানা সীমাবদ্ধতা। সংরক্ষণাগারের অভাব, উন্নত পরিবহনব্যবস্থার ঘাটতি ও আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণ সুবিধা না থাকায় চরাঞ্চলে উৎপাদিত অধিকাংশ চেউয়া শুঁটকি শেষ পর্যন্ত মৎস্য ও পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। ফলে জেলেরা কাঙ্ক্ষিত ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ইলিশ ধরার সময় শেষ হলে বাংলা অগ্রহায়ণ মাস থেকে শুরু হয়ে চৈত্রের মাঝামাঝি পর্যন্ত চলে চেউয়া মাছের মৌসুম। স্থানীয়দের দাবি, দেশের মোট চাহিদার অর্ধেকেরও বেশি চেউয়া মাছ আসে এই দ্বীপ থেকে। প্রায় ১০ হাজার মানুষের শ্রমে উৎপাদিত চেউয়া শুঁটকি ঢাকা, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়। এসব শুঁটকি দিয়ে তৈরি হয় মাছ ও মুরগির খাদ্য (ফিড)। নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের জেলে আব্দুল আলী মাঝি বলেন, গত বছর তেমন মাছ পাননি। তবে এ বছর মৌসুমের শুরুতেই ভালো মাছ ধরা পড়ছে। সারাদেশ থেকে পাইকাররা শুটকি কিনতে আসেন। মাছের দাম কম হওয়ায় আমরা শুটকি বিক্রি করে লাভবান হই। পাইকারি ব্যবসায়ী মো. ইব্রাহিম পার্টি বলেন, নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের প্রায় ৯০/৯৫ শতাংশ মানুষ জেলে পেশায় জড়িত। গত বছর ইলিশ কম ছিল এবং চেউয়া মাছ পাওয়া যায়নি। এখন চেউয়া শুঁটকির সিজন চলছে। শুরু থেকেই মাছের দেখা মিলছে। উৎপাদন বাড়লে জেলেরা আগের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন। তবে পরিবহন, সংরক্ষণ ও কারখানা না থাকায় জেলেরা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না। নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মো. কেফায়েত হোসেন বলেন, চেউয়া মাছ রান্না করে খেতে যেমন সুস্বাদু শুঁটকি খেতেও তেমন সুস্বাদু। গত বছর ইলিশ কম ছিল। এখন চেউয়া শুঁটকির সিজন চলছে। শুরু থেকেই মাছের দেখা মিলছে। উৎপাদন বাড়লে জেলেরা আগের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন এবং জেলেদের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি ঘটবে। নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সাইন্স বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, হাতিয়া এলাকার কয়েক লাখ মানুষের খাদ্য পুষ্টি নিরাপত্তায় চেউয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আমরা স্টাডি করে দেখেছি তারা সারাবছর যে পরিমাণ মাছ খায় তার ৩০/৪০ ভাগ চেউয়া। তাদের যে বাজেট অন্য মাছের থেকে দশ ভাগের এক ভাগ টাকা দিয়ে এই মাছ ক্রয় করতে পারে। এই অঞ্চলের মানুষের জীবন জীবিকার সাথে চেউয়া মাছ ওতোপ্রতোভাবে জড়িত। ব্যক্তিগত উন্নয়ন সামাজিক কার্যক্রমে সাথে চেউয়া মাছ জড়িত। নোয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ বলেন, চেউয়া মাছ নরম প্রকৃতির হওয়ায় এটি বেশিক্ষণ স্টোরেজ করা যায় না। হাতিয়া দুর্গম এলাকা হওয়ায় বেশ সমস্যা হয়। যদি পরিবহন সুবিধা নিশ্চিত করা যায় তাহলে জেলেদের ভাগ্যোন্নয়ন হবে এবং তাদের জীবনযাত্রার মানের পরিবর্তন হবে। আমাদের মৎস্য খাদ্য উৎপাদনে যে ইনিগ্রেরেন্ট বাইরের দেশ হতে আনতে হয় এতে খরচ বেশি পড়ে যায়। যদি দেশের চাহিদা দেশে মেটাতে পারি তাহলে আমরা লাভবান হব।

পবিত্র রমজান উপলক্ষ্যে নোয়াখালীর জেলা শহর মাইজদীতে বাজারে তদারকি অভিযান পরিচালনা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। অভিযানে ভোক্তা অধিকারবিরোধী বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের দায়ে দুই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের নোয়াখালী জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে সদর উপজেলার মাইজদী বাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় নিত্যপণ্য, ফল ও ইফতারি সামগ্রী প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তদারকি কার্যক্রম চালানো হয়। অভিযানকালে ব্যবসায়ী ও দোকানিদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে লিফলেট বিতরণ করা হয় এবং দৃশ্যমান স্থানে মূল্যতালিকা প্রদর্শনের জন্য উদ্বুদ্ধ করা হয়। এতে জেলা বিশেষ টাস্কফোর্সের সদস্যরা এবং সুধারাম থানা পুলিশের একটি দল অংশ নেয়। জানা গেছে, ভোক্তা অধিকারবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে পুলিশ লাইন্স রোড এলাকায় বাসি জিলাপি পুনরায় ভেজে বিক্রির চেষ্টা এবং মেয়াদ উল্লেখবিহীন প্যাকেটজাত পণ্য বিক্রির অভিযোগে মেসার্স আয়োজন (মাইজদী শাখা) প্রতিষ্ঠানকে সতর্ক করে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পরে বাসি ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার জব্দ করে ধ্বংস করা হয়। এছাড়া ময়লাযুক্ত খেজুর প্যাকেটজাত করে বিক্রি এবং মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করায় মাইজদী বাজার এলাকার মেসার্স আলমগীর স্টোরকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। প্রতিষ্ঠানটিকে মানহীন খাদ্য বিক্রি থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, নোয়াখালী জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আছাদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, রমজানকে সামনে রেখে বাজারে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণে সচেতনতা বাড়ানো আমাদের মূল লক্ষ্য। আজকের অভিযানে অনিয়ম ও ভোক্তা অধিকারবিরোধী কর্মকাণ্ড প্রতিহত করতে দুটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে। আমরা ব্যবসায়ী ও দোকানিদের সচেতন করার পাশাপাশি, মানহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্য বিক্রির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে সদা প্রস্তুত। জনস্বার্থে এমন তদারকি অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

নোয়াখালীর সুবর্ণচরের যুবকের আমজাদ হোসেন দিপুর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এসময় দুইটা চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। বিজ্ঞাপন রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাতে গাজীপুরের শ্রীপুরের ভাড়া বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃত আমজাদ হোসেন দিপু নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চর আমান উল্লাহ ইউনিয়নের মো. ফখরুল ইসলামের ছেলে। তিনি গাজীপুরের শ্রীপুরের একটি গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। বিজ্ঞাপন প্রথম চিরকুটে মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী না উল্লেখ করে আমজাদ হোসেন দিপু লিখেন, ‘বিদায়টা দরকার ছিল শান্তির জন্য। পরিবার, আত্মীয়-স্বজনরা, বন্ধুবান্ধব ইত্যাদি এই দুনিয়াটা একটা মরিচিকা।’ দ্বিতীয় চিরকুটে দিপু লিখেন, ‘কী পেলাম এই জীবনে। না আছে পরকালের জন্য, না আছে দুনিয়াবি কাজ। ভালো থাকুক দুনিয়ার মানুষ।’ মৃতের বন্ধু আব্দুল মালেক শাওন বলেন, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি দিপু এলাকার একটি মসজিদে পারিবারিকভাবে বিয়ে করেছিলেন। বিয়ের মাত্র ১০ দিনের মাথায় আজ দিপু আর নেই। তার বাড়িতে রয়েছেন নববধূ, যার হাতের মেহেদীর রং এখনো শুকায়নি। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মারাত্মক হতাশায় ভুগছিলেন। হয়তো সেই হতাশা থেকেই এভাবে নিজের জীবন শেষ করে দিয়েছেন। দিপুর মতো মিশুক মানুষ আমি জীবনে খুব কমই দেখেছি। চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লুৎফর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষ হলে মরদেহ স্বজনরা বাড়িতে আনবে। এবিষয়ে শ্রীপুর থানা পুলিশ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

প্লাস্টিকের জুতার ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে ইয়াবা পাচারের সময় নোয়াখালীর সদর উপজেলায় এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এ সময় তার কাছ থেকে ২ হাজার ৯৭০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। বিজ্ঞাপন সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৭টা থেকে ৮টা ২০ মিনিট পর্যন্ত সুধারাম মডেল থানার পূর্ব চাকলা গ্রামের খন্দকার মসজিদ মোড় এলাকায় দুলাল অটো সার্ভিসিং সেন্টারের সামনে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ইসমাইল হোসেন (৪০) নোয়াখালীর সদর উপজেলার কালাদরাফ ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের রামহরি তালুক এলাকার উত্তর চাকলা রাজের বাড়ির মৃত ফয়েজ আহমেদের ছেলে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, দুটি প্লাস্টিকের জুতার ভেতরে লুকিয়ে রাখা দুটি পলি প্যাকেট থেকে কমলা রঙের অ্যামফিটামিনযুক্ত মোট ২ হাজার ৯৭০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার ইয়াবার মোট ওজন প্রায় ২৮০ গ্রাম। এ ছাড়া, তার কাছ থেকে দুটি সিমযুক্ত একটি অপো A3s স্মার্টফোন ও একটি নকিয়া বাটন ফোন জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) ধারায় সুধারাম মডেল থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন। নোয়াখালী জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সুব্রত সরকার শুভ ঢাকা পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মাদকবিরোধী চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান। আজ (সোমবার) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে লেফটেন্যান্ট জেনারেল র্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে তিন বাহিনীর প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। এ বিষয়ে আইএসপিআর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান আজ থেকে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। সোমবার সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নবনিযুক্ত প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারকে লেফটেন্যান্ট জেনারেল র্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেন। এ সময় সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান ও বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান ২১ জুন ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কোর অব ইনফেনট্রিতে কমিশন লাভ করেন। তিনি ২৪ ডিভিশনের জিওসি, প্রতিরক্ষা ক্রয় মহাপরিদপ্তরে সামরিক সচিব ও মহাপরিচালক পদেসহ সেনাবাহিনীতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।

নতুন পণ্য ঘোষণায় প্রচলিত ধারার বাইরে যেতে পারে প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল। ৪ মার্চ ‘স্পেশাল অ্যাপল এক্সপেরিয়েন্স’-এ অংশ নিতে প্রযুক্তিবিষয়ক গণমাধ্যমকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে এবারের আয়োজন প্রচলিত একক কি-নোট অনুষ্ঠানের মতো নাও হতে পারে। জানা গেছে, একদিনে সব ঘোষণা না করে তিন দিনজুড়ে ধারাবাহিকভাবে নতুন পণ্যের ঘোষণা দিতে পারে অ্যাপল। অনলাইনে এসব ঘোষণা আসবে। এরপর ৪ মার্চ নিউইয়র্ক, লন্ডন ও সাংহাইয়ে সরাসরি আয়োজনের মাধ্যমে সাংবাদিকদের হাতে-কলমে পণ্য ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হতে পারে। এ ধরনের আয়োজনকে ‘হ্যান্ডস-অন’ অভিজ্ঞতা বলেই মনে করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকেরা। এটি হতে পারে সরাসরি ডেমো প্রদর্শনের একটি বিশেষ আয়োজন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ সময় অন্তত পাঁচটি নতুন পণ্য উন্মোচন করতে পারে অ্যাপল। আলোচনায় রয়েছে স্বল্পমূল্যের একটি ম্যাকবুক। পাশাপাশি আসতে পারে আইফোন ১৭ই, এম৪ চিপসংবলিত আইপ্যাড এয়ার, নতুন এন্ট্রি-লেভেল আইপ্যাড এবং আপগ্রেড সংস্করণের ম্যাকবুক এয়ার ও ম্যাকবুক প্রো। যদিও এসব পণ্য বসন্তেই আসার কথা, ঠিক কোনটি কবে ঘোষণা হবে— তা নিয়ে এখনো স্পষ্ট নয়। তবে প্রযুক্তি বিশ্বে জোর গুঞ্জন, মার্চের শুরুতেই একাধিক চমক নিয়ে হাজির হবে অ্যাপল। প্রচলিত মঞ্চভিত্তিক কি-নোটের বদলে যদি ধাপে ধাপে ঘোষণা আসে, তাহলে তা অ্যাপলের কৌশলে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেবে। এতে পণ্যের প্রতি আগ্রহ কয়েক দিন ধরে ধরে রাখা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।