

নোয়াখালীতে হামের উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু, আইসোলেশনে ১০৮ নোয়াখালীতে হামের উপসর্গে আক্রান্ত আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় হামের উপসর্গে দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটল। একই সময়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছে ৫৫ শিশু। বর্তমানে হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছে ১০৮ শিশু।রোববার (৩১ মে) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) রাজীব আহমেদ চৌধুরী। এর আগে, গত শুক্রবার বিকেলে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।মৃত শিশুর নাম সাওবান (সাড়ে ৩ বছর)। সে জেলার সোনাইমুড়ী উপজেলার পৌরকড়া গ্রামের মো. ওসমানের ছেলে।হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত ২৪ মে হামের উপসর্গ নিয়ে সাওবানকে শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। তার তীব্র জ্বরের পাশাপাশি নিউমোনিয়াও ছিল। চিকিৎসকরা তাকে শিশু ওয়ার্ডে রেখে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন। শুক্রবার বিকেল থেকে তার শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায় এবং অক্সিজেন সাপোর্ট দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।আরএমও রাজীব আহমেদ চৌধুরী বলেন, এপ্রিল মাসের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত এক হাজারের বেশি শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। এর মধ্যে ১০ থেকে ১৫ জন শিশুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা ও চট্টগ্রামে রেফার করা হয়েছে।” তিনি আরও জানান, বর্তমানে হাসপাতালের আইসোলেশন ও শিশু ওয়ার্ডে হামসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ১০৮ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ভর্তি হয়েছে ৫৫ জন শিশু। পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা অব্যাহত রেখেছে।

প্রথমবার নেদারল্যান্ডসের কাছে হারল বাংলাদেশ জয়ের জন্য শেষ তিন বলে দরকার ছিল দুটি ছক্কার। ডাচ স্পিনার হেথার সিজারের করা বলে দারুণ দুটি শট হাঁকিয়েছিলেন দলনেতা নিগার সুলতানা জ্যোতি ও নাহিদা আক্তার। কিন্তু দুজনের শটিই বাউন্ডারিতে ক্যাচে পরিণত হয়। তাতেই ৮ রানে হারে বাংলাদেশ। ত্রিদেশীয় সিরিজে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে হারল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এদিকে এই জয়ের মাধ্যমে রীতিমতো রেকর্ডই গড়েছে নেদারল্যান্ডস নারী দল। ক্রিকেটের যেকোনো ফরম্যাটে বাংলাদেশের বিপক্ষে এটাই তাদের প্রথম জয়। এডিনবার্গে টস জিতে নেদারল্যান্ডসকে ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানান বাংলাদেশের অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। ব্যাটিংয়ে নেমে দারুণ সূচনা পায় ডাচরা। এরপর মিডলঅর্ডার ব্যাটারদের দারুণ নৈপুন্যে ১৬২ রানের পুঁজি পায় তারা। সর্বোচ্চ ৫২ রান করেন ওপেনার হেথার সিজার। বাংলাদেশের হয়ে দুটি উইকেট নেন ফারিহা তৃষ্ণা। একটি করে উইকেট পেয়েছেন মারুফা আক্তার ও রাবেয়া খান। রান তাড়া করতে নেমে দলনেতা নিগার সুলতানা জ্যোতি ছাড়া বলার মতো সুবিধা করতে পারেননি কেউই। ফিফটি পূরণের পর ৭৭ রানে থামে তার ইনিংস। ২৪ বলে ২২ রান করেন ওপেনার জুয়াইরিয়া ফেরদৌস। আর বাকি ব্যাটারদের কেউই বিশের কোটায় পার করতে পারেননি। ফলে বাংলাদেশের ইনিংস থামে ১৫৪ রানে।

প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও নোয়াখালীর বামনী নদীতে ক্লোজার নির্মাণের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অধীনে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বামনী নদীতে ক্লোজার নির্মাণ প্রকল্পটি দেশের উপকূলীয় অঞ্চল সুরক্ষা ও নদী ব্যবস্থাপনার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত উদ্যোগ। প্রকল্পটির কাজ বাস্তবায়ন করছে প্রোপার্টি ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড (পিডিএল)। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর থেকেই পিডিএল এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কয়েক মাস ধরে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটির মাধ্যমে জোয়ার-ভাটার প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ, নদী ভাঙন প্রতিরোধ, নদীর স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং আশপাশের জনপদ, মৎস্য খামার, কৃষিজমি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে বন্যা ও ভাঙনের ক্ষয়ক্ষতি থেকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে। প্রকল্পের কর্মকর্তারা জানান, প্রতিকূল আবহাওয়া, ভারী বর্ষণ, তীব্র জোয়ারের চাপ এবং অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং কর্মপরিবেশের মধ্যেও প্রকল্পের কাজ সফলভাবে এগিয়ে চলছে। এই বৃহৎ কার্যক্রমে আরএফএল জিও টেক্সটাইল গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা করছে। প্রতিষ্ঠানটি প্রয়োজনীয় জিওটিউব, জিওব্যাগ এবং জিওটেক্সটাইল শিটের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করে প্রকল্পের নির্মাণকাজকে গতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এছাড়াও পিডিএল, আরএফএল ও বিডব্লিউডিবির ব্যবস্থাপনা দল, প্রকৌশলী, কর্মকর্তা, প্রযুক্তিগত কর্মী এবং মাঠপর্যায়ের শ্রমিকরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতা, দক্ষতা ও প্রতিশ্রুতি নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে, যাতে প্রকল্পটি সফলভাবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা যায়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নোয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী রেফাত জামিল নিউজকে বলেন, টেন্ডার প্রক্রিয়া ও উদ্বোধনসহ বিভিন্ন কারণে কাজ কিছুটা বিলম্বিত হয়েছে। তবে জনস্বার্থ বিবেচনায় ও নোয়াখালীর মানুষের দুর্ভোগের কথা মাথায় রেখে তারা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এ বছর ও গত বছর নোয়াখালী অনেক ভুগেছে। এজন্যই আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। রেফাত জামিল জানান, নদীর দুই দিক থেকে এক মাস ধরে কাজ চালিয়ে এনে এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে নেওয়া হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য মঙ্গলবার ফাইনাল ক্লোজ করা। যদি সফল হই তাহলে পুরো সেকশনটি উঠে আসবে। এরপর জোয়ার ও পূর্ণিমার সময় বাড়তি পানির চাপ সামাল দিতে সেকশন ডেভেলপমেন্ট করতে হবে। সার্বিক বিষয়ে প্রকল্পের কাজ পাওয়া প্রোপার্টি ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের (পিডিএল) চিফ অপারেটিং অফিসার সাইফুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, বৈরী আবহাওয়া, ঈদের ছুটি ও অন্যান্য প্রতিকূলতা থাকলেও কাজ বন্ধ রাখা হয়নি। আজও (সোমবার) কাজ করেছি, কালও (মঙ্গলবার) করবো। আমাদের স্টাফরা শিফট করে কাজ করছেন। তিনি জানান, জোয়ার-ভাটার কারণে কাজটি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছে। দিনে খুব অল্প সময় কাজ করার সুযোগ পাওয়া যায়। আজ আমরা বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত কাজ করতে পেরেছি। আবার রাতের শিফটে রাত ৩টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত কাজ চলবে। প্রকল্পের সময়সীমা প্রসঙ্গে সাইফুল ইসলাম বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে। এটি খুবই চ্যালেঞ্জিং একটি কাজ। বাংলাদেশে এ ধরনের ক্লোজার খুব বেশি হয়নি। তারপরও আমরা সফলভাবে কাজটি শেষ করার চেষ্টা করছি। তিনি জানান, যদি পরিকল্পনা অনুযায়ী ক্লোজার সম্পন্ন করা যায়, তাহলে পরবর্তীতে কিছু স্ট্যান্ডিং ওয়ার্ক এবং উচ্চতা বৃদ্ধির কাজ চলমান থাকবে। জানা গেছে, বামনী নদীর প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নদীভাঙন ও জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। একই সঙ্গে জোয়ার-ভাটার প্রবাহ ও পানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরও কার্যকর হবে, যা উপকূলীয় এলাকার সামগ্রিক পরিবেশ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করবে। এ প্রকল্পের ফলে মৎস্য ও কৃষি কার্যক্রমেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। পাশাপাশি স্থানীয় জনপদ ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে। এতে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটার পাশাপাশি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও আরও গতিশীল হবে। জানা গেছে, চলতি ২০২৬ সালের ১০ মার্চ পানিসম্পদ মন্ত্রী শাহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু যৌথভাবে এই প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে সম্পত্তি ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের জেরে মা ও তার শিশুপুত্রকে হত্যার দুই বছর পর পুকুর খুঁড়ে তাদের কঙ্কাল উদ্ধার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এ ঘটনায় নিহত নারীর দুই সৎ ছেলে ও এক নাতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার (২৪ মে) দুপুরে উপজেলার জয়াগ ইউনিয়নের জয়াগ গ্রামের আবু আমিনের বাড়ির পুকুরে ভেকু মেশিন দিয়ে খননকাজ চালিয়ে কঙ্কাল দুটি উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন—কমলা বেগম (৩২) ও তার ছেলে মো. নোমান (৯)। কমলা একই এলাকার আবুল কালাম আজাদের স্ত্রী। সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক সম্পত্তি ভাগাভাগি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জেরে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে কমলা বেগম ও তার শিশুপুত্র নোমানকে হত্যা করা হয়। পরে শুকনো মৌসুমের সুযোগ নিয়ে মরদেহ দুটি বিবস্ত্র অবস্থায় পুকুরে মাটিচাপা দিয়ে গুম করা হয়। দীর্ঘ তদন্তের একপর্যায়ে সিআইডি নিহতের দুই সৎ ছেলে রাজু ও সাগর এবং নাতি টিপুকে গ্রেপ্তার করে। তাদের দেওয়া তথ্য ও স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে রোববার পুকুরে খনন চালিয়ে মা-ছেলের কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়। নোয়াখালী সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার ও ইনচার্জ মো. রাইছুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনার পর প্রথমে আদালতে একটি মামলা হয়। পরে সোনাইমুড়ী থানায় একটি জিআর মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলার তদন্তে জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। কঙ্কাল উদ্ধারের সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে এলাকাবাসী ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ করে স্লোগান দেন।

নোয়াখালীতে বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে সড়কে পথরোধ করে জোবায়ের হোসেন ওরফে রাকিব (২৩) নামে এক তরুণকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।শনিবার (৩০ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের খানপুর গ্রামের পাকমুন্সিরহাট বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।নিহত রাকিব একই ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের খানপুর গ্রামের ভোলা গাজী বাড়ির সৌদি প্রবাসী মো. হানিফের ছেলে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত রাকিবের বাবা ও এক ভাই প্রবাসে থাকেন। রাকিব ঢাকা ও নোয়াখালীর বিভিন্ন শপিংমলে চাকরি করতেন। তিন-চার দিন আগে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাকিবের চাচাতো ভাইয়ের ছেলের সঙ্গে স্থানীয় এক দোকানদারের কথাকাটাকাটি হয়। পরে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়। শনিবার রাতে পাকমুন্সিরহাট বাজারে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য উভয় পক্ষের লোকজন জড়ো হয়। এ সময় এলাকার লোকজন রাকিবকে সেখান থেকে চলে যেতে বলেন। পরে তিনি তার ছোট ভাই রিমনকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। পথে পাকমুন্সিরহাট বাজার এলাকার একটি অন্ধকার স্থানে পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা তার পথরোধ করে হামলা চালায়। এ সময় ভাইকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে তার ছোট ভাই রিমনকে পিটিয়ে আহত করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা লোহার রড দিয়ে রাকিবের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করে তাকে গুরুতর জখম করে। পরে স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনায় জড়িতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। হত্যাকাণ্ডের কারণ উদঘাটন এবং হামলাকারীদের শনাক্তে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

নোয়াখালীতে হামের উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু, আইসোলেশনে ১০৮ নোয়াখালীতে হামের উপসর্গে আক্রান্ত আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় হামের উপসর্গে দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটল। একই সময়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছে ৫৫ শিশু। বর্তমানে হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছে ১০৮ শিশু।রোববার (৩১ মে) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) রাজীব আহমেদ চৌধুরী। এর আগে, গত শুক্রবার বিকেলে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।মৃত শিশুর নাম সাওবান (সাড়ে ৩ বছর)। সে জেলার সোনাইমুড়ী উপজেলার পৌরকড়া গ্রামের মো. ওসমানের ছেলে।হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত ২৪ মে হামের উপসর্গ নিয়ে সাওবানকে শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। তার তীব্র জ্বরের পাশাপাশি নিউমোনিয়াও ছিল। চিকিৎসকরা তাকে শিশু ওয়ার্ডে রেখে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন। শুক্রবার বিকেল থেকে তার শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায় এবং অক্সিজেন সাপোর্ট দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।আরএমও রাজীব আহমেদ চৌধুরী বলেন, এপ্রিল মাসের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত এক হাজারের বেশি শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। এর মধ্যে ১০ থেকে ১৫ জন শিশুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা ও চট্টগ্রামে রেফার করা হয়েছে।” তিনি আরও জানান, বর্তমানে হাসপাতালের আইসোলেশন ও শিশু ওয়ার্ডে হামসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ১০৮ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ভর্তি হয়েছে ৫৫ জন শিশু। পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা অব্যাহত রেখেছে।

প্রথমবার নেদারল্যান্ডসের কাছে হারল বাংলাদেশ জয়ের জন্য শেষ তিন বলে দরকার ছিল দুটি ছক্কার। ডাচ স্পিনার হেথার সিজারের করা বলে দারুণ দুটি শট হাঁকিয়েছিলেন দলনেতা নিগার সুলতানা জ্যোতি ও নাহিদা আক্তার। কিন্তু দুজনের শটিই বাউন্ডারিতে ক্যাচে পরিণত হয়। তাতেই ৮ রানে হারে বাংলাদেশ। ত্রিদেশীয় সিরিজে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে হারল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এদিকে এই জয়ের মাধ্যমে রীতিমতো রেকর্ডই গড়েছে নেদারল্যান্ডস নারী দল। ক্রিকেটের যেকোনো ফরম্যাটে বাংলাদেশের বিপক্ষে এটাই তাদের প্রথম জয়। এডিনবার্গে টস জিতে নেদারল্যান্ডসকে ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানান বাংলাদেশের অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। ব্যাটিংয়ে নেমে দারুণ সূচনা পায় ডাচরা। এরপর মিডলঅর্ডার ব্যাটারদের দারুণ নৈপুন্যে ১৬২ রানের পুঁজি পায় তারা। সর্বোচ্চ ৫২ রান করেন ওপেনার হেথার সিজার। বাংলাদেশের হয়ে দুটি উইকেট নেন ফারিহা তৃষ্ণা। একটি করে উইকেট পেয়েছেন মারুফা আক্তার ও রাবেয়া খান। রান তাড়া করতে নেমে দলনেতা নিগার সুলতানা জ্যোতি ছাড়া বলার মতো সুবিধা করতে পারেননি কেউই। ফিফটি পূরণের পর ৭৭ রানে থামে তার ইনিংস। ২৪ বলে ২২ রান করেন ওপেনার জুয়াইরিয়া ফেরদৌস। আর বাকি ব্যাটারদের কেউই বিশের কোটায় পার করতে পারেননি। ফলে বাংলাদেশের ইনিংস থামে ১৫৪ রানে।

এবার ইউক্রেনের প্রতিবেশী দেশ রোমানিয়ায় ড্রোন হামলা করেছে রুশ বাহিনী। গতকাল শুক্রবার পূর্ব রোমানিয়ার গালাতি শহরের একটি বেসামরিক ১১ তলা ভবনে আঘাত হেনেছে রাশিয়ার একটি বিস্ফোরকবাহী ড্রোন। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্যরাষ্ট্র রোমানিয়ার সঙ্গে ইউক্রেনের ৬৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত আছে। গালাতি শহরটি রোমানিয়া-ইউক্রেনের সীমান্তবর্তী শহর। এক বিবৃতিতে রোমানিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রুশ ড্রোনের আঘাতে অ্যাপার্টমেন্ট ভবনটির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং একজন নারী ও একজন শিশু আহত হয়েছে। নিহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি এবং যারা আহত হয়েছেন, তাদের আঘাতও গুরুতর নয়। রুশ বার্তাসংস্থা তাস নিউজ এজেন্সিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের অন্যতম মুখপাত্র ও প্রেস সচিব দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট পুতিনকে ঘটনাটি জানানো হয়েছে। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা এক বার্তায় জানিয়েছেন, এই হামলার জন্য যে রাশিয়াই দায়ী— তা এখনও প্রমাণিত নয়। এদিকে রাশিয়ার সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থা রাশিয়ান সিকিউরিটি কাউন্সিলের উপ-প্রধান এবং দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ ইউরোপীয় নেতাদের সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, ভবিষ্যতে ইউরোপের দেশগুলোতে এমন ড্রোন হামলা আরও হতে পারে এবং তার জেরে সেসব দেশের জনগণের শান্তির ঘুম উড়ে যেতে পারে। ২০১৪ সালে স্বাক্ষরিত মিনস্ক চুক্তির শর্ত মেনে কৃষ্ণ সাগরের দ্বীপ ক্রিমিয়াকে রাশিয়ার ভূখণ্ড হিসেবে ইউক্রেনের স্বীকৃতি না দেওয়া এবং ন্যাটোর সদস্যপদের জন্য ইউক্রেনের তদবিরকে ঘিরে কয়েক বছর টানাপোড়েন চলার পর ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রেসিডেন্ট পুতিনের নির্দেশে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে রুশ বাহিনী। সেই অভিযান এখনও চলছে। তবে সেই যুদ্ধের অংশ হিসেবে এই প্রথম ন্যাটোভুক্ত কোনো রাষ্ট্রে হামলা চালাল রুশ বাহিনী। রোমানিয়ায় ড্রোন হামলার পর ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় বলেছেন, “রাশিয়ার বেপরোয়া আচরণ আমাদের সবার জন্য বিপদের। আমি নিশ্চয়তা দিচ্ছি যে ন্যাটো জোট তার প্রতি ইঞ্চি ভূমি রক্ষা যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুত।” ড্রোন হামলার পর রোমানিয়ার প্রেসিডেন্ট নিকুসর ড্যানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন বলেও জানিয়েছেন ন্যাটোর মহাসচিব। সূত্র : রয়টার্স

প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও নোয়াখালীর বামনী নদীতে ক্লোজার নির্মাণের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অধীনে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বামনী নদীতে ক্লোজার নির্মাণ প্রকল্পটি দেশের উপকূলীয় অঞ্চল সুরক্ষা ও নদী ব্যবস্থাপনার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত উদ্যোগ। প্রকল্পটির কাজ বাস্তবায়ন করছে প্রোপার্টি ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড (পিডিএল)। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর থেকেই পিডিএল এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কয়েক মাস ধরে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটির মাধ্যমে জোয়ার-ভাটার প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ, নদী ভাঙন প্রতিরোধ, নদীর স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং আশপাশের জনপদ, মৎস্য খামার, কৃষিজমি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে বন্যা ও ভাঙনের ক্ষয়ক্ষতি থেকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে। প্রকল্পের কর্মকর্তারা জানান, প্রতিকূল আবহাওয়া, ভারী বর্ষণ, তীব্র জোয়ারের চাপ এবং অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং কর্মপরিবেশের মধ্যেও প্রকল্পের কাজ সফলভাবে এগিয়ে চলছে। এই বৃহৎ কার্যক্রমে আরএফএল জিও টেক্সটাইল গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা করছে। প্রতিষ্ঠানটি প্রয়োজনীয় জিওটিউব, জিওব্যাগ এবং জিওটেক্সটাইল শিটের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করে প্রকল্পের নির্মাণকাজকে গতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এছাড়াও পিডিএল, আরএফএল ও বিডব্লিউডিবির ব্যবস্থাপনা দল, প্রকৌশলী, কর্মকর্তা, প্রযুক্তিগত কর্মী এবং মাঠপর্যায়ের শ্রমিকরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতা, দক্ষতা ও প্রতিশ্রুতি নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে, যাতে প্রকল্পটি সফলভাবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা যায়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নোয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী রেফাত জামিল নিউজকে বলেন, টেন্ডার প্রক্রিয়া ও উদ্বোধনসহ বিভিন্ন কারণে কাজ কিছুটা বিলম্বিত হয়েছে। তবে জনস্বার্থ বিবেচনায় ও নোয়াখালীর মানুষের দুর্ভোগের কথা মাথায় রেখে তারা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এ বছর ও গত বছর নোয়াখালী অনেক ভুগেছে। এজন্যই আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। রেফাত জামিল জানান, নদীর দুই দিক থেকে এক মাস ধরে কাজ চালিয়ে এনে এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে নেওয়া হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য মঙ্গলবার ফাইনাল ক্লোজ করা। যদি সফল হই তাহলে পুরো সেকশনটি উঠে আসবে। এরপর জোয়ার ও পূর্ণিমার সময় বাড়তি পানির চাপ সামাল দিতে সেকশন ডেভেলপমেন্ট করতে হবে। সার্বিক বিষয়ে প্রকল্পের কাজ পাওয়া প্রোপার্টি ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের (পিডিএল) চিফ অপারেটিং অফিসার সাইফুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, বৈরী আবহাওয়া, ঈদের ছুটি ও অন্যান্য প্রতিকূলতা থাকলেও কাজ বন্ধ রাখা হয়নি। আজও (সোমবার) কাজ করেছি, কালও (মঙ্গলবার) করবো। আমাদের স্টাফরা শিফট করে কাজ করছেন। তিনি জানান, জোয়ার-ভাটার কারণে কাজটি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছে। দিনে খুব অল্প সময় কাজ করার সুযোগ পাওয়া যায়। আজ আমরা বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত কাজ করতে পেরেছি। আবার রাতের শিফটে রাত ৩টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত কাজ চলবে। প্রকল্পের সময়সীমা প্রসঙ্গে সাইফুল ইসলাম বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে। এটি খুবই চ্যালেঞ্জিং একটি কাজ। বাংলাদেশে এ ধরনের ক্লোজার খুব বেশি হয়নি। তারপরও আমরা সফলভাবে কাজটি শেষ করার চেষ্টা করছি। তিনি জানান, যদি পরিকল্পনা অনুযায়ী ক্লোজার সম্পন্ন করা যায়, তাহলে পরবর্তীতে কিছু স্ট্যান্ডিং ওয়ার্ক এবং উচ্চতা বৃদ্ধির কাজ চলমান থাকবে। জানা গেছে, বামনী নদীর প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নদীভাঙন ও জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। একই সঙ্গে জোয়ার-ভাটার প্রবাহ ও পানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরও কার্যকর হবে, যা উপকূলীয় এলাকার সামগ্রিক পরিবেশ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করবে। এ প্রকল্পের ফলে মৎস্য ও কৃষি কার্যক্রমেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। পাশাপাশি স্থানীয় জনপদ ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে। এতে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটার পাশাপাশি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও আরও গতিশীল হবে। জানা গেছে, চলতি ২০২৬ সালের ১০ মার্চ পানিসম্পদ মন্ত্রী শাহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু যৌথভাবে এই প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে সম্পত্তি ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের জেরে মা ও তার শিশুপুত্রকে হত্যার দুই বছর পর পুকুর খুঁড়ে তাদের কঙ্কাল উদ্ধার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এ ঘটনায় নিহত নারীর দুই সৎ ছেলে ও এক নাতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার (২৪ মে) দুপুরে উপজেলার জয়াগ ইউনিয়নের জয়াগ গ্রামের আবু আমিনের বাড়ির পুকুরে ভেকু মেশিন দিয়ে খননকাজ চালিয়ে কঙ্কাল দুটি উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন—কমলা বেগম (৩২) ও তার ছেলে মো. নোমান (৯)। কমলা একই এলাকার আবুল কালাম আজাদের স্ত্রী। সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক সম্পত্তি ভাগাভাগি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জেরে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে কমলা বেগম ও তার শিশুপুত্র নোমানকে হত্যা করা হয়। পরে শুকনো মৌসুমের সুযোগ নিয়ে মরদেহ দুটি বিবস্ত্র অবস্থায় পুকুরে মাটিচাপা দিয়ে গুম করা হয়। দীর্ঘ তদন্তের একপর্যায়ে সিআইডি নিহতের দুই সৎ ছেলে রাজু ও সাগর এবং নাতি টিপুকে গ্রেপ্তার করে। তাদের দেওয়া তথ্য ও স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে রোববার পুকুরে খনন চালিয়ে মা-ছেলের কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়। নোয়াখালী সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার ও ইনচার্জ মো. রাইছুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনার পর প্রথমে আদালতে একটি মামলা হয়। পরে সোনাইমুড়ী থানায় একটি জিআর মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলার তদন্তে জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। কঙ্কাল উদ্ধারের সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে এলাকাবাসী ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ করে স্লোগান দেন।

নোয়াখালীর চাটখিলে তাসপিয়া আক্তার রাশেদা (১৬) নামে এক এসএসসি পরীক্ষার্থী নিখোঁজ হওয়ার চার দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো তার কোনো সন্ধান মেলেনি। পরীক্ষা দিতে গিয়ে শিক্ষার্থীর রহস্যজনক নিখোঁজের ঘটনায় পরিবারে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। নিখোঁজ তাসপিয়া উপজেলার উত্তর মোহাম্মদপুর গ্রামের রাশেদুল ইসলাম ওরফে ইমনের মেয়ে। সে স্থানীয় মোহাম্মদপুর জনতা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছিল। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালে বাড়ি থেকে পার্শ্ববর্তী সোনাইমুড়ী উপজেলার জয়াগ কলেজে ব্যবহারিক পরীক্ষা দিতে যায় রাশেদা। পরীক্ষা শেষে দীর্ঘ সময় পার হলেও সে আর বাড়ি ফিরে আসেনি। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে এবং আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরে শুক্রবার রাতে রাশেদার মা লাইলী বেগম বাদী হয়ে চাটখিল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। নিখোঁজের চার দিন পার হলেও এখন পর্যন্ত তার সন্ধান না মেলায় পরিবারে উৎকণ্ঠা আরও বেড়েছে। দ্রুত তাকে উদ্ধারে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন স্বজনরা। রাশেদার পরিবারের সদস্যরা জানান, মেয়েটির সঙ্গে কারও কোনো বিরোধ ছিল না। পরীক্ষা দিতে গিয়ে সে কীভাবে নিখোঁজ হলো, তা নিয়ে তারা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। রাশেদার মা লাইলী বেগম ও বাবা রাশেদুল ইসলাম বলেন, আমাদের মেয়ে পরীক্ষা দিতে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছে। চারদিন পেরিয়ে গেলেও এখনো তার কোনো সন্ধান পাইনি। সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ করেছি, আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতেও খুঁজেছি, কিন্তু কোথাও তাকে পাওয়া যায়নি। আমরা খুবই উদ্বিগ্ন ও দুশ্চিন্তায় আছি। প্রশাসনের কাছে আমাদের আকুল আবেদন, দ্রুত আমাদের মেয়েকে খুঁজে বের করে আমাদের কাছে ফিরিয়ে দিন। এ বিষয়ে চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল মোন্নাফ বলেন, আমি ছুটিতে থাকায় বিষয়টি আগে জানতে পারিনি। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিখোঁজ শিক্ষার্থীকে দ্রুত উদ্ধারে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং তাকে খুঁজে বের করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে

আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নোয়াখালীতে কোরবানির পশুর হাট মাতাচ্ছে ‘নোয়াখালীর বস’। হলস্টেইন ফ্রিজিয়ান জাতের এই গরুটির ওজন প্রায় ৩০ মণ। ধবধবে সাদা রঙের বিশাল আকৃতির গরুটি দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন উৎসুক মানুষ। গরুটির দাম হাঁকা হচ্ছে ১০ লাখ টাকা। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এসে ভিড় করছেন বিশাল আকৃতির গরুটি দেখতে। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করছেন। শিশু-কিশোরদের মধ্যেও দেখা গেছে বাড়তি আগ্রহ। অনেকেই গরুটিকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভ ও ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এলাকায় এত বড় গরু আগে খুব একটা দেখা যায়নি। তাই প্রতিদিনই মানুষ ভিড় করছেন। বিশেষ করে বিকেলের দিকে খামারে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বেড়ে যায়। স্থানীয় আবদুল কাদের নামে একজন বলেন, এত বড় গরু জীবনে খুব কম দেখছি। দূর থেকে দেখলে মনে হয় ছোট একটা পাহাড় দাঁড়িয়ে আছে। এলাকার মানুষ প্রতিদিন ভিড় করছে। খামারটির পরিচালনাকারী মো. শাহরিয়ার বলেন, চার বছর ধরে গরুটিকে খুব যত্নে লালন-পালন করা হয়েছে। কোনো ধরনের ক্ষতিকর ওষুধ বা মোটাতাজাকরণ ইনজেকশন ব্যবহার করা হয়নি। খড়, ঘাস, ভুসি, ভুট্টা ও প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে বড় করা হয়েছে। গরুটির ওজন প্রায় ৩০ মণ হয়েছে। আমেরিকা প্রবাসী মোস্তফা আমির ফয়সাল চার বছর ধরে লালন-পালন করে বিশাল আকৃতির এই গরুটি বড় করে তুলেছেন। আরেক আমেরিকা প্রবাসী আবু জাফর মোহাম্মদ সালেহের অর্থায়নে নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার নোয়াখলা ইউনিয়নে গরুটি লালন-পালন করা হচ্ছে। খামারটির দেখভাল করছেন স্থানীয় কয়েকজন কর্মী। জন্মের পর থেকেই প্রাকৃতিক খাবার ও বিশেষ যত্নে বড় করা হয়েছে ‘নোয়াখালীর বস’-কে। গরু দেখতে আসা মো. আবু হানিফ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও দেখে এখানে এসেছি। কাছে এসে দেখে সত্যিই অবাক হয়েছি। এত বড় গরু সচরাচর দেখা যায় না। যদি ন্যায্যমূল্য পায় তাহলে খামারির মুখে হাসি ফুটবে। চাটখিল উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, খামারিরা এখন বাণিজ্যিকভাবে বড় গরু লালন-পালনে আগ্রহী হচ্ছেন। ‘নোয়াখালীর বস’ গরুটি প্রাকৃতিক উপায়ে লালন-পালন করা হয়েছে বলে আমরা জেনেছি। কোরবানির ঈদ সামনে রেখে এমন বড় গরু ক্রেতাদেরও আকর্ষণ করছে।

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে ৭ বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ফরেনসিক রিপোর্ট প্রস্তত হয়েছে। ফরেনসিক রিপোর্টে মৃত্যুর আগে রামিসাকে ধর্ষণেরও প্রমাণ মিলেছে। রোববার (২৪ মে) ফরেনসিক রিপোর্ট বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনার পর এ তথ্য পাওয়া গেছে। ফরেনসিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ঘটনার দিন শিশু রামিসাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। এরপর ধর্ষণ শেষে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরবর্তীতে তার দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে রোববার আদালতে চার্জশিট দেওয়া হবে। এদিকে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শনিবার (২৩ মে) তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে ডিএনএ রিপোর্ট হস্তান্তর করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। শনিবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান বলেন, ‘আমরা চার্জশিট প্রস্তুত করছি। আগামীকালই (রোববার) আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হবে।’ মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ঘটনার পরপরই বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ এবং জড়িত দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, অভিযোগপত্রে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ ও সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা উল্লেখ করা হয়েছে। আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার পর মামলার বিচারিক কার্যক্রম দ্রুত শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এদিকে মামলার বাদী শিশুটির বাবা আব্দুল হান্নান বলেন, ‘আমি চাই এ হত্যার সুষ্ঠু বিচার হোক; যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো পরিবারকে এমন মর্মান্তিক ঘটনার শিকার হতে না হয়।’ রামিসা হত্যার ঘটনায় দায়ী ব্যক্তির সর্বোচ্চ শাস্তি আগামী এক মাসের মধ্যে নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, এই নৃশংস ঘটনায় গোটা জাতি স্তম্ভিত। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই অপরাধীকে সাজার আওতায় আনতে সরকার সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। শনিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক ফাউন্ডেশনের অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি এসব কথা বলেন।

মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম অধ্যুষিত রাষ্ট্র সৌদি আরবে পবিত্র হজ পালনে গিয়ে এ পর্যন্ত ২৭ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৮ জন পুরুষ ও ৯ জন নারী রয়েছেন। মৃতদের মধ্যে মক্কায় ১৮ জন এবং মদিনায় ৯ জন ইন্তেকাল করেছেন। রোববার (২৪ মে) এয়ারলাইন্স, সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ হজ অফিস এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। তথ্য মতে, এ বছর এখন পর্যন্ত মোট ৭৯ হাজার ১৬৪ জন বাংলাদেশী হজযাত্রী ও ব্যবস্থাপনা সদস্য সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় গেছেন চার হাজার ৪৬৪ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯২৬ জন। এছাড়া হজ এজেন্সি, হাব প্রতিনিধি ও বিভিন্ন টিমের ব্যবস্থাপনা সদস্য রয়েছেন ৭৭৪ জন। হজযাত্রী পরিবহনে মোট ২০১টি ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিচালনা করেছে ৯৮টি, সৌদি এয়ারলাইন্স ৭৩টি এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স ৩০টি ফ্লাইট। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে গেছেন ৩৮ হাজার ৭০২ জন, সৌদি এয়ারলাইন্সে ২৭ হাজার ৩৪০ জন এবং ফ্লাইনাসে ১২ হাজার ১৫৭ জন হজযাত্রী। চলতি বছর পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৬ মে। বাংলাদেশ থেকে হজযাত্রীদের সৌদি আরবে যাত্রা শুরু হয়েছিল গত ১৮ এপ্রিল এবং শেষ ফ্লাইট গিয়েছে ২১ মে। হজ শেষে ফিরতি ফ্লাইট আগামী ৩০ মে শুরু হয়ে আগামী ৩০ জুন শেষ হবে।

এ বছর পবিত্র হজে ইন্দোনেশীয় হজযাত্রীদের কোরবানির পশুর মাংস যাবে নিপীড়িত ফিলিস্তিনিদের কাছে। ইন্দোনেশিয়ার হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী দাহনীল আনজার সিমানজুনাতাক এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, হজের সময় কোরবানি করা পশুর মাংস ফিলিস্তিনিদের কাছে পৌঁছে দিতে সৌদি সরকারের সঙ্গে তাদের চুক্তি হয়েছে। হজের মাংসের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে আচে সৌদির ‘আদাহি প্রজেক্ট’। তাদের কাছেও এ ব্যাপারে অনুরোধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইন্দোনেশীয় মন্ত্রী। প্রেসিডেন্ট প্রাবো সুবিয়ান্তোর নির্দেশে এ ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। এখন পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়ার ১ লাখ ২৬ হাজার ৮৩২ জন হজযাত্রী তাদের কোরবানির পশুর অর্থ পরিশোধ করেছেন। সূত্র: টেম্পো

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধ বন্ধে চুক্তি করার দ্বারপ্রান্তে আছে। আর চুক্তিটি হলে বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ৬০দিন বৃদ্ধি করা হবে। এ সময় ইরান হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণভাবে উন্মুক্ত করে দেবে। এর বদলে যুক্তরাষ্ট্র তাদে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করবে এবং নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার করে নেবে। এতে করে ইরান কোনো বাধা ছাড়া তাদের তেল বিক্রি করতে পারবে। চুক্তিটি কার্যকর হওয়ার পর ইরান তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করবে। আজ রোববার (২৪ মে) সংবাদমাধ্যম এক্সিওসকে এসব তথ্য জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা। তিনি বলেছেন, ইরান হরমুজ খুলে দিয়ে সেখান দিয়ে সব জাহাজকে অবাধে চলতে দেবে। এ সময় তারা কোনো টোল আদায় করবে না। এছাড়া হরমুজের যেসব জায়গায় মাইন স্থাপন করা হয়েছে সেগুলোও অপসারণের প্রতিশ্রুতি দেবে তারা। এছাড়া ইরান কথা দেবে তারা কোনোদিন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। চুক্তি হলে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যেও যুদ্ধ শেষ হবে বলে জানিয়েছেন এ মার্কিন কর্মকর্তা। তবে হিজবুল্লাহ যদি কোনো হামলা বা উস্কানি দেয় তাহলে ইসরায়েলকে হামলার অনুমতি দেওয়া হবে। আলাদা দুটি সূত্র এক্সিওসকে বলেছেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরান মৌখিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করে দেবে এবং সমৃদ্ধকৃত যেসব ইউরেনিয়াম আছে সেগুলো ছেড়ে দেবে। মার্কিন ওই কর্মকর্তা বলেছেন, তাদের আশা আজকেই চুক্তির ঘোষণা আসতে পারে। এক্সিওসের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম নিয়ে যেসব দাবি জানাচ্ছে, সেগুলো যদি তেহরান মানে তাহলে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আবারও কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের সুযোগ থাকবে। অপরদিকে ইরান অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হতে পারবে। সূত্র: এক্সিওস