
পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো: শাহজাহান। এছাড়াও তিনি বলেন,জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই সংকট মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। আমরা যদি আজ বেশি বেশি গাছ লাগাই এবং সেগুলোকে সঠিকভাবে পরিচর্যা করি, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। পরিবেশ রক্ষাকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি আরও বলেন,বর্তমান সরকার পরিবেশ সংরক্ষণ ও বনভূমি সম্প্রসারণে নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এসব উদ্যোগ সফল করতে সরকারি প্রচেষ্টার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,সরকারি-বেসরকারি অফিস,ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং প্রতিটি পরিবারে বৃক্ষরোপণের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা,বায়ুদূষণ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে পরিকল্পিতভাবে বৃক্ষরোপণ ও বন সংরক্ষণ অত্যন্ত প্রয়োজন।ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ লাগানোর পাশাপাশি বিদ্যমান গাছ সংরক্ষণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।শুক্রবার বিকালে নোয়াখালী সদর উপজেলার পৌরপার্কে জেলা কৃষকদলের উদ্যােগে বৃক্ষরোপণের সময় এসব মন্তব্য করেন তিনি।এ সময় উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলো,নোয়াখালী জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ আজাদ,জেলা বিএনপির সদস্য রবিউল আলম পলাশ,সদস্য শহীদুল ইসলাম কিরণ,জেলা কৃষক দলের সভাপতি ফজলে এলাহী পলাশ,সাধারণ সম্পাদক জিএস হারুনসহ বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সাইয়েদ আব্দুল্লাহর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় পাবনার সাঁথিয়ায় মসজিদে জামায়াতের নেতাকর্মী ও মুসল্লিদের ওপর হামলা হয়েছে বলে দাবি করেছেন। অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছেন তিনি। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী যদি দায়িত্বের বাইরে গিয়ে অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলান, তাহলে এর দায় তাকেই নিতে হবে। প্রয়োজনে এর দায়ভার প্রধানমন্ত্রীকেও নিতে হবে। আজকে বড় ধরনের ষড়যন্ত্র ছিল, জনগণ প্রতিহত করেছে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে সাঁথিয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ের ইমাম হোসাইন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন। তিনি সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিছুর রহমানকে ফ্যাসিবাদের দোসর আখ্যা দিয়ে তার প্রত্যাহারের দাবি জানান। তিনি অভিযোগ করেন, ওসির বিরুদ্ধে ঘুষ ও চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে এবং তিনি জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের হয়রানি করছেন। ফ্যাসিবাদের দোসরদের থেকে টাকা খাচ্ছেন। হামলার শিকার ব্যক্তিরা মামলা করতে থানায় গেলে সেখানে গেট আটকিয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছেন ওসি। মামলা করতে তাদের বাঁধা দেওয়া হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, জুমার নামাজকে কেন্দ্র করে বিএনপি পরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাসী জড়ো করেছিল এবং পুলিশ তাদের হামলার সুযোগ করে দেয়। এ সময় তার সমর্থকদের বাড়িতেও হামলা করা হয়। আজ বিএনপি তাদের ফ্যাসিবাদী চরিত্রের পরিচয় দিয়েছে। তারা ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের হৃদয়ে আঘাত করেছে। আমাকে ঠিকমতো নামাজ পড়তে দেওয়া হয়নি। রাজনৈতিকভাবে পরাজিত হয়ে সন্ত্রাসীর পথ বেঁচে নিয়েছে বিএনপি। ফ্যাসিবাদ বিদায় নিলেও ফ্যাসিবাদের ভূত কিন্তু এখনো যায়নি। ফ্যাসিবাদ ভারতে পালিয়েছে, আপনারা কিন্তু ভারতে পালাতে পারবেন না। এটা মনে রাখতে হবে আপনাদের। তিনি বলেন, সে কে আমাকে বলার যে আমি মসজিদে ইমামতি করতে পারব না? জনগণ ভালোবেসে আমাকে ইমামতি করাচ্ছে। বিএনপির অনুমতি নিয়ে যদি ইমামতি করতে হয়, তাহলে এর চেয়ে দুঃখজনক ঘটনা আর কিছু হতে পারে না। নিজের পারিবারিক পরিচয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমার বাবার ফাঁসি হয়েছে, আমি তারই সন্তান। তারা ভেবেছে হামলা করলে আমি ঢাকা বা লন্ডনে পালিয়ে যাব। কিন্তু আমি পালাব না। বিকেলে একটি ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে এটা নিয়ে তারা পরিকল্পিত নাটক সাজাচ্ছে। আসলে এই ছুরিকাঘাতের ঘটনায় যাকে অভিযুক্ত করা হচ্ছে সে আমাদের দলের কেউ না। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, সাঁথিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা মোখলেসুর রহমান, উপজেলা ভারপ্রাপ্ত আমির অধ্যাপক আনিছুর রহমান, উপজেলা ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি মোস্তফা কামাল মানিক, পৌর আমির হাফেজ আব্দুল গফুর, জেলা যুব বিভাগের সেক্রেটারি তাইজুল ইসলামসহ অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতারা। আরকে

ফেসবুকে ভুয়া বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করা সহজ করতে নতুন ‘ফেসবুক ভেরিফায়েড’ ব্যাজ চালু করেছে মেটা। নতুন এই ব্যাজের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা সহজেই বুঝতে পারবেন প্রোফাইলটি প্রকৃত একজন মানুষের। এই সুবিধাটি মূলত সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য আনা হয়েছে। সেলিব্রিটি বা পরিচিত ব্যক্তিদের জন্য নয়। বিশেষ করে মার্কেটপ্লেস, ডেটিং এবং গ্রুপসে প্রতারণা কমিয়ে ব্যবহারকারীদের মধ্যে আস্থা বাড়ানোই এর লক্ষ্য। ভেরিফিকেশন পেতে ব্যবহারকারীকে একটি ছোট ভিডিও সেলফি ধারণ করতে হবে। এরপর সেটি প্রোফাইলে থাকা ছবির সঙ্গে মিলিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করবে ফেসবুক। এই সেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। তবে এটি ব্যবহার করতে হলে ব্যবহারকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে, অ্যাকাউন্টটি ভালো অবস্থায় থাকতে হবে এবং মেটার নিরাপত্তা ও কমিউনিটি নীতিমালা পূরণ করতে হবে। তবে পেজ এবং প্রফেশনাল মোডে থাকা প্রোফাইলগুলো আপাতত এই সুবিধা পাবে না। ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হলে ব্যাজটি ব্যবহারকারীর প্রোফাইল, মার্কেটপ্লেসের তালিকা এবং ডেটিং প্রোফাইলে দেখা যাবে। ভবিষ্যতে ফেসবুকের নিউজ ফিডের পোস্টেও এই ব্যাজ দেখানো হবে বলে জানিয়েছে মেটা। তবে মেটা জানিয়েছে, এই ব্যাজ থাকার অর্থ শুধু অ্যাকাউন্টটি একজন প্রকৃত মানুষের এটি নিশ্চিত হওয়া। এর মানে এই নয় যে, ওই ব্যবহারকারী সব সময় ফেসবুকের সব নীতিমালা মেনে চলছেন। প্রাথমিকভাবে কয়েকটি দেশে এই সুবিধা চালু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বিশ্বের অন্যান্য দেশেও এটি চালু করা হবে বলে জানিয়েছে মেটা। সূত্র: নিউজ বাইট
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় লক্ষ্মীপুরের রামগতি বাজার শাখার সাবেক রূপালী ব্যাংক ব্যবস্থাপক মো. আবদুল মজিদকে ২৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ১৮ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অর্জিত এক কোটি ২৪ লাখ ১৫ হাজার ৫৪৩ টাকার সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্তের আদেশ দেওয়া হয়েছে। দন্ডপ্রাপ্ত আব্দুল মজিদ (৪৮) লক্ষীপুর সদর থানার কাফিলাতলি এলাকার মৃত আমিনুল হকের ছেলে এবং রামগতি বাজার শাখার রুপালী ব্যাংক লিমেটেডের সাবেক ব্যবস্থাপক ছিলেন। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে নোয়াখালীর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. শওকত আলী এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে অনুপস্থিত থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করা হয়। দুদক জানায়,আবদুল মজিদ ২০০৭ সালের ১৪ নভেম্বর থেকে ২০১৩ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত রূপালী ব্যাংক লিমিটেডের লক্ষ্মীপুরের রামগতি বাজার শাখার ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এ সময় তিনি ব্যাংকের এসটিডি হিসাব নম্বর-৪-এ থাকা ৪ লাখ ৬৫ হাজার ৭৯৮ টাকা, এসটিডি হিসাব নম্বর-৬-এ থাকা ৪৯ লাখ ৬১ হাজার ১১৭ টাকা এবং সরকারি কর্মচারীদের পেনশন বাবদ উত্তোলন করা ১৬ লাখ ৩০ হাজার ২৩১ টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেন। এছাড়া ব্যাংকিং নীতিমালা লঙ্ঘন করে তিনি মোট ৭০ লাখ ৫৭ হাজার ১৪৫ টাকা আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। পরবর্তী তদন্তে দুদক তার বিরুদ্ধে সর্বমোট ১ কোটি ২৪ লাখ ১৫ হাজার ৫৪৩ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পায়। নোয়াখালী দুদক পিপি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জহির উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মামলাটি তদন্ত শেষে তৎকালীন দুদকের উপসহকারী পরিচালক মো.হোসাইন শরীফ ও সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আজগর হোসেন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। আদালত দণ্ডবিধির ৪৬৭ ধারায় ১০ বছর, ৪০৯ ধারায় ১০ বছর এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। পৃথক তিন ধারায় দেওয়া সাজা মিলিয়ে তাকে মোট ২৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) তার পদত্যাগের পরপরই একটি প্রশ্নই জনমনে ঘুরে ফিরছে- কে হচ্ছেন বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন দেশের বর্তমান প্রধান রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) শীর্ষ চার নেতা। তারা হলেন- বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আব্দুল মঈন খান ও নজরুল ইসলাম খান। তবে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, গ্রহণযোগ্যতা এবং সার্বিক সমীকরণে দল ও দলের বাইরে পছন্দের শীর্ষে উঠে এসেছে বিএনপি মহাসচিব ও বর্তমান সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম। রাজনৈতিক বিশ্লেষক, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং সামাজিকমাধ্যমের আলোচনায় তাকেই সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে এগিয়ে রাখা হচ্ছে। আলোচনায় তার নাম সামনে আসার পেছনে কয়েকটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি শালীন ও সংযত রাজনৈতিক আচরণ, মার্জিত ব্যক্তিত্ব, পরিমিত ও সাবলীল বক্তব্য এবং বিরোধী মতের প্রতিও সম্মানজনক অবস্থানের জন্য পরিচিত। পাশাপাশি দলের সংকটময় সময়ে নেতৃত্ব দেওয়া, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ত্যাগ ও কারাবরণ, নেতাকর্মীদের প্রতি মানবিক ও আত্মিক সম্পর্ক বজায় রাখা এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানও তার পক্ষে আলোচনায় উল্লেখযোগ্যভাবে উঠে আসছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি ধারাবাহিক অবস্থান, শালীন রাজনৈতিক সংস্কৃতির চর্চা এবং দেশ-বিদেশে তার গ্রহণযোগ্যতাও রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাকে এগিয়ে রাখছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ব্যক্তিগত প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল তিনটি বিষয়। ফ্যাসিবাদী শাসনামলে কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন এবং একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপির রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ। রাজনৈতিক বাস্তবতার ধারাবাহিকতায় তিনি এসব ঘটনার প্রত্যক্ষ সাক্ষী হয়েছেন। এই প্রেক্ষাপটে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক ও মর্যাদাপূর্ণ পদ রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম আলোচনায় উঠে আসাকে অনেকেই স্বাভাবিক ও প্রত্যাশিত হিসেবে দেখছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, বিএনপির দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রায় বিশ্বস্ততা, ধৈর্য ও সংকট মোকাবিলার সক্ষমতার প্রতীক হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে তিনি শুধু একজন মহাসচিব নন, বরং দুঃসময়ের নির্ভরযোগ্য কাণ্ডারি। রাজনৈতিক অঙ্গনে তিনি একজন সাদামাটা, সজ্জন ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির রাজনীতিবিদ হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনো প্রমাণিত অভিযোগ সামনে আসেনি। একই সঙ্গে রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও তীব্র বিরোধের মধ্যেও শালীন ভাষা, সংযত বক্তব্য এবং মার্জিত আচরণ বজায় রাখার কারণে তিনি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কাছেও সম্মান অর্জন করেছেন। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিএনপির সবচেয়ে কঠিন রাজনৈতিক পর্বে দলের সাংগঠনিক ঐক্য ধরে রাখতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বিএনপির তৎকালীন চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দি এবং বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিদেশে অবস্থানকালে মির্জা ফখরুল অত্যন্ত ধৈর্য, বিচক্ষণতা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞার সঙ্গে দলের নেতৃত্ব দেন। এ সময় তিনি শত শত মামলা, একাধিকবার কারাবরণ এবং রাজনৈতিক চাপ মোকাবিলা করেও দলীয় কর্মসূচি পরিচালনা ও নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখতে সচেষ্ট ছিলেন। পর্যবেক্ষকদের মতে, জিয়া পরিবারের প্রতি তার অবিচল আস্থা, দলের প্রতি দীর্ঘদিনের নিবেদন, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং ব্যক্তিগত সততার ভাবমূর্তি তাকে বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছে বিশেষ মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের অন্যতম বড় শক্তি তার বিস্তৃত রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা। তাদের ভাষ্য, রাষ্ট্রপতির পদটি দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। ফলে এ পদে এমন একজন ব্যক্তিত্ব প্রয়োজন, যিনি রাজনৈতিক বিভাজনের বাইরে থেকে রাষ্ট্রের অভিভাবকসুলভ ভূমিকা পালন করতে সক্ষম। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মির্জা ফখরুল সংলাপ, সহনশীলতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির পক্ষে ধারাবাহিক অবস্থান নিয়েছেন। রাজনৈতিক মতভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও তিনি শালীনতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের সংস্কৃতি বজায় রাখার চেষ্টা করেছেন। পাশাপাশি ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের অধিকার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং নাগরিক স্বাধীনতার প্রশ্নেও তার অবস্থান তাকে বিভিন্ন মহলে গ্রহণযোগ্যতা এনে দিয়েছে। এ ছাড়া সুশীল সমাজ, পেশাজীবী মহল এবং বিভিন্ন কূটনৈতিক মহলের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের যোগাযোগ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কও আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পেলে তার এই অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতা দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরতে সহায়ক হতে পারে। ১৯৪৮ সালে ঠাকুরগাঁওয়ে জন্ম নেওয়া এই বর্ষীয়ান রাজনীতিক একজন সাবেক শিক্ষক এবং অভিজ্ঞ সংসদ সদস্য। ৭৯ বছর বয়সী এই নেতার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও ধীরস্থির সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তাকে অভিভাবকত্বের আসনে বসানোর জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত করে তুলেছে। মির্জা ফখরুল ১৯৭২ সালে বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে শিক্ষা ক্যাডারে ঢাকা কলেজে অর্থনীতি বিভাগে শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেন। পরবর্তী সময়ে বেশ কয়েকটি সরকারি কলেজে অধ্যাপনা করেন। তিনি বাংলাদেশ সরকারের পরিদর্শন ও আয়-ব্যয় পরীক্ষণ অধিদপ্তরে নিরীক্ষক হিসেবেও কাজ করেন। ১৯৭৯ সালে জিয়াউর রহমানের শাসনামলে তৎকালীন উপপ্রধানমন্ত্রী এস এ বারীর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পান। ১৯৮২ সালে এইচ এম এরশাদ রাষ্ট্রের ক্ষমতায় আসার পর বারী পদত্যাগ করার আগ পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করেন। বারী পদত্যাগ করার পর মির্জা ফখরুল ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজে অর্থনীতির অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত শিক্ষকতা করেন। তার বাবা মরহুম রুহুল আমিন (চখা মিয়া) ছিলেন কৃষি প্রতিমন্ত্রী। মির্জা ফখরুলও ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ থেকে বিএনপির মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে প্রথমে কৃষি মন্ত্রণালয় ও পরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিএনপি নতুন সরকার গঠন করলে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব চাইবে এমন একজনকে রাষ্ট্রপতি করতে, যিনি রাষ্ট্রের সংকটময় মুহূর্তে শক্ত হাতে হাল ধরতে পারবেন এবং সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হবেন। মির্জা ফখরুল যেহেতু নিজে এবার নির্বাচন করে রাজনীতি থেকে অবসরের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন (সাম্প্রতিক কিছু জনসভায়), তাই তাকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনীত করাটা হবে তার দীর্ঘ ত্যাগের একটি যথাযোগ্য সম্মান। মির্জা ফখরুল কেবল বিএনপি মহাসচিব নন, তিনি বর্তমান বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের এক জীবন্ত কিংবদন্তি। তার মতো একজন মানুষকে রাষ্ট্রপতি করা হলে তা সংসদীয় গণতন্ত্রের মর্যাদা আরও বাড়াবে। বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা জানান, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে একজন দক্ষ ও বিতর্কহীন রাষ্ট্রপতির গুরুত্ব অপরিসীম। সেই মানদণ্ডে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কেবল বিএনপির প্রথম পছন্দই নন, বরং সাধারণ মানুষের কাছেও এক আস্থার নাম। তবে নতুন রাষ্ট্রপতি যিনিই হন না কেন, তাকে পরবর্তী সংসদ নির্বাচন ঘিরে সম্ভাব্য রাজনৈতিক চাপও সামলাতে হবে। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তাই সরকার, বিরোধী দল ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতাও গুরুত্ব পাচ্ছে। ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মো. সাহাবুদ্দিন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৮ সালের এপ্রিলে। এরই মধ্যে ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে এবং দেশ ছেড়ে ভারতে গিয়ে আশ্রয় নেন সেই সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আমূল বদলে যায়। সংসদ ভেঙে দেওয়া এবং অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ রাজনৈতিক পালাবদলের মধ্যেও রাষ্ট্রপতি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেন মো. সাহাবুদ্দিন।

বৈরী আবহাওয়া ও অস্বাভাবিক জোয়ারে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার চরঈশ্বর, নলচিরা, চরকিং ও সোনাদিয়া ইউনিয়নের বেড়িবাঁধের বিভিন্ন অংশের প্রায় ৮০০ মিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কয়েকটি স্থানে বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছে একাধিক গ্রাম। দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত করা না হলে আগামী পূর্ণিমার জোয়ার ও বর্ষার শেষ দিকে চার ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ আবারও প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় প্রায় সাড়ে সাত লাখ মানুষের বসবাস। ঝড়-জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন ও নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে লড়াই করেই তাদের জীবনযাপন। চলতি বর্ষার শুরুতেই টানা ভারী বৃষ্টি এবং মেঘনা নদী ও বঙ্গোপসাগরের অস্বাভাবিক জোয়ারে উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করেন। এ পরিস্থিতির মধ্যেই অস্বাভাবিক জোয়ারে ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ উপকূলবাসীর মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। কোথাও কোথাও বাঁধ এতটাই সরু ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে যে, সামনের পূর্ণিমার জোয়ার কিংবা কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতেই তা ভেঙে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। ফলে চারটি ইউনিয়নের নদীতীরবর্তী এলাকার হাজারো পরিবার প্রতিদিন উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। অনেকেই আগাম প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে রাখছেন, আবার কেউ কেউ স্বজনদের বাড়িতে আশ্রয় নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অতীতের জলোচ্ছ্বাস ও প্লাবনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা তাদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। নলচিরা ইউনিয়নের তুপানিয়া গ্রামের বেড়িবাঁধসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা রোকেয়া বেগম বলেন, জোয়ারের ঢেউয়ের আঘাতে তাদের এলাকার বাঁধটি খুবই সরু হয়ে গেছে। যে কোনো সময় এটি ভেঙে যেতে পারে। বাঁধ ভেঙে গেলে তাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই থাকবে না। আক্ষেপ করে তিনি বলেন, আমরা ভোট দিয়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করেছি। এখন আমাদের দেখার যেন কেউ নেই। তারা ঢাকায় অবস্থান করছেন, আর আমরা দিন-রাত পানিতে ভেসে যাওয়ার আতঙ্কে কাটাচ্ছি। একই এলাকার বাসিন্দা আব্দুল খালেক বলেন, রাতে জোয়ারের পানির স্রোতের শব্দে ঘুম আসে না। মনে হয়, এই বুঝি বেড়িবাঁধ ভেঙে গেল। আতঙ্কে পরিবারের অনেক সদস্য অন্যত্র অবস্থান করছেন। বাড়ির প্রয়োজনীয় আসবাবপত্রও নিরাপদ স্থানে সরিয়ে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমানে কাটাল শেষ হলেও সামনে পূর্ণিমার জোয়ারে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ টিকে থাকা কঠিন হবে। তাই নলচিরা ইউনিয়নের উত্তর পাশের চারটি ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে জরুরি ভিত্তিতে মেরামতের দাবি জানান তিনি। কয়েক দিন আগে স্বাভাবিকের তুলনায় চার থেকে পাঁচ ফুট উচ্চতার জোয়ারে চরঈশ্বর ইউনিয়নের আফাজিয়া এলাকায় প্রায় ৩০ মিটার বেড়িবাঁধ ভেঙে তিনটি গ্রাম প্লাবিত হয়। চরঈশ্বর ইউনিয়নের বাসিন্দা নিপু খিলজী বলেন, ভেঙে যাওয়া অংশটি পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলে মেরামত করেছে। তবে পাশের ঝুঁকিপূর্ণ অংশ এখনো সংস্কার করা হয়নি। কোথাও কোথাও মাত্র এক ফুটের মতো বাঁধ অবশিষ্ট রয়েছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। একই চিত্র সোনাদিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম সোনাদিয়া গ্রামেও। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মন্নান রানা জানান, গ্রামের মানুষ নিজ উদ্যোগে গাছের গুঁড়ি, ডালপালা ও মাটিভর্তি বস্তা দিয়ে বাঁধটি কোনোভাবে টিকিয়ে রেখেছেন। কিন্তু আগামী পূর্ণিমার জোয়ারে সেটি আর ধরে রাখা সম্ভব হবে না। বাঁধ ভেঙে গেলে ফসলি জমি, মাছের ঘের, বসতঘর, সড়ক, গবাদিপশু ও বিভিন্ন স্থাপনার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো জনপ্রতিনিধি এলাকা পরিদর্শনে আসেননি। স্থানীয়রাই পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দেখিয়েছেন। তারা ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। স্থানীয়দের আশঙ্কা, বর্ষার শেষ দিকে অথবা আগামী পূর্ণিমার অস্বাভাবিক জোয়ারে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ দিয়ে আবারও লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়তে পারে। এতে চারটি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি ফসলি জমি, মাছের ঘের, বসতবাড়ি ও গ্রামীণ সড়কের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। তাই বড় ধরনের বিপর্যয়ের আগেই ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ দ্রুত মেরামতের দাবি জানিয়েছেন তারা। নোয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী জামিল উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, চলতি বছর অস্বাভাবিক জোয়ারের পাশাপাশি অতিবৃষ্টির কারণে নদীতীরবর্তী চারটি ইউনিয়নের প্রায় ৮০০ মিটার বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করে বাস্তব পরিস্থিতির প্রতিবেদন জেলা কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে জরুরি ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু করা হবে।
পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো: শাহজাহান। এছাড়াও তিনি বলেন,জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই সংকট মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। আমরা যদি আজ বেশি বেশি গাছ লাগাই এবং সেগুলোকে সঠিকভাবে পরিচর্যা করি, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। পরিবেশ রক্ষাকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি আরও বলেন,বর্তমান সরকার পরিবেশ সংরক্ষণ ও বনভূমি সম্প্রসারণে নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এসব উদ্যোগ সফল করতে সরকারি প্রচেষ্টার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,সরকারি-বেসরকারি অফিস,ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং প্রতিটি পরিবারে বৃক্ষরোপণের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা,বায়ুদূষণ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে পরিকল্পিতভাবে বৃক্ষরোপণ ও বন সংরক্ষণ অত্যন্ত প্রয়োজন।ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ লাগানোর পাশাপাশি বিদ্যমান গাছ সংরক্ষণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।শুক্রবার বিকালে নোয়াখালী সদর উপজেলার পৌরপার্কে জেলা কৃষকদলের উদ্যােগে বৃক্ষরোপণের সময় এসব মন্তব্য করেন তিনি।এ সময় উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলো,নোয়াখালী জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ আজাদ,জেলা বিএনপির সদস্য রবিউল আলম পলাশ,সদস্য শহীদুল ইসলাম কিরণ,জেলা কৃষক দলের সভাপতি ফজলে এলাহী পলাশ,সাধারণ সম্পাদক জিএস হারুনসহ বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সাইয়েদ আব্দুল্লাহর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় পাবনার সাঁথিয়ায় মসজিদে জামায়াতের নেতাকর্মী ও মুসল্লিদের ওপর হামলা হয়েছে বলে দাবি করেছেন। অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছেন তিনি। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী যদি দায়িত্বের বাইরে গিয়ে অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলান, তাহলে এর দায় তাকেই নিতে হবে। প্রয়োজনে এর দায়ভার প্রধানমন্ত্রীকেও নিতে হবে। আজকে বড় ধরনের ষড়যন্ত্র ছিল, জনগণ প্রতিহত করেছে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে সাঁথিয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ের ইমাম হোসাইন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন। তিনি সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিছুর রহমানকে ফ্যাসিবাদের দোসর আখ্যা দিয়ে তার প্রত্যাহারের দাবি জানান। তিনি অভিযোগ করেন, ওসির বিরুদ্ধে ঘুষ ও চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে এবং তিনি জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের হয়রানি করছেন। ফ্যাসিবাদের দোসরদের থেকে টাকা খাচ্ছেন। হামলার শিকার ব্যক্তিরা মামলা করতে থানায় গেলে সেখানে গেট আটকিয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছেন ওসি। মামলা করতে তাদের বাঁধা দেওয়া হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, জুমার নামাজকে কেন্দ্র করে বিএনপি পরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাসী জড়ো করেছিল এবং পুলিশ তাদের হামলার সুযোগ করে দেয়। এ সময় তার সমর্থকদের বাড়িতেও হামলা করা হয়। আজ বিএনপি তাদের ফ্যাসিবাদী চরিত্রের পরিচয় দিয়েছে। তারা ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের হৃদয়ে আঘাত করেছে। আমাকে ঠিকমতো নামাজ পড়তে দেওয়া হয়নি। রাজনৈতিকভাবে পরাজিত হয়ে সন্ত্রাসীর পথ বেঁচে নিয়েছে বিএনপি। ফ্যাসিবাদ বিদায় নিলেও ফ্যাসিবাদের ভূত কিন্তু এখনো যায়নি। ফ্যাসিবাদ ভারতে পালিয়েছে, আপনারা কিন্তু ভারতে পালাতে পারবেন না। এটা মনে রাখতে হবে আপনাদের। তিনি বলেন, সে কে আমাকে বলার যে আমি মসজিদে ইমামতি করতে পারব না? জনগণ ভালোবেসে আমাকে ইমামতি করাচ্ছে। বিএনপির অনুমতি নিয়ে যদি ইমামতি করতে হয়, তাহলে এর চেয়ে দুঃখজনক ঘটনা আর কিছু হতে পারে না। নিজের পারিবারিক পরিচয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমার বাবার ফাঁসি হয়েছে, আমি তারই সন্তান। তারা ভেবেছে হামলা করলে আমি ঢাকা বা লন্ডনে পালিয়ে যাব। কিন্তু আমি পালাব না। বিকেলে একটি ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে এটা নিয়ে তারা পরিকল্পিত নাটক সাজাচ্ছে। আসলে এই ছুরিকাঘাতের ঘটনায় যাকে অভিযুক্ত করা হচ্ছে সে আমাদের দলের কেউ না। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, সাঁথিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা মোখলেসুর রহমান, উপজেলা ভারপ্রাপ্ত আমির অধ্যাপক আনিছুর রহমান, উপজেলা ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি মোস্তফা কামাল মানিক, পৌর আমির হাফেজ আব্দুল গফুর, জেলা যুব বিভাগের সেক্রেটারি তাইজুল ইসলামসহ অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতারা। আরকে

ফেসবুকে ভুয়া বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করা সহজ করতে নতুন ‘ফেসবুক ভেরিফায়েড’ ব্যাজ চালু করেছে মেটা। নতুন এই ব্যাজের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা সহজেই বুঝতে পারবেন প্রোফাইলটি প্রকৃত একজন মানুষের। এই সুবিধাটি মূলত সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য আনা হয়েছে। সেলিব্রিটি বা পরিচিত ব্যক্তিদের জন্য নয়। বিশেষ করে মার্কেটপ্লেস, ডেটিং এবং গ্রুপসে প্রতারণা কমিয়ে ব্যবহারকারীদের মধ্যে আস্থা বাড়ানোই এর লক্ষ্য। ভেরিফিকেশন পেতে ব্যবহারকারীকে একটি ছোট ভিডিও সেলফি ধারণ করতে হবে। এরপর সেটি প্রোফাইলে থাকা ছবির সঙ্গে মিলিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করবে ফেসবুক। এই সেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। তবে এটি ব্যবহার করতে হলে ব্যবহারকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে, অ্যাকাউন্টটি ভালো অবস্থায় থাকতে হবে এবং মেটার নিরাপত্তা ও কমিউনিটি নীতিমালা পূরণ করতে হবে। তবে পেজ এবং প্রফেশনাল মোডে থাকা প্রোফাইলগুলো আপাতত এই সুবিধা পাবে না। ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হলে ব্যাজটি ব্যবহারকারীর প্রোফাইল, মার্কেটপ্লেসের তালিকা এবং ডেটিং প্রোফাইলে দেখা যাবে। ভবিষ্যতে ফেসবুকের নিউজ ফিডের পোস্টেও এই ব্যাজ দেখানো হবে বলে জানিয়েছে মেটা। তবে মেটা জানিয়েছে, এই ব্যাজ থাকার অর্থ শুধু অ্যাকাউন্টটি একজন প্রকৃত মানুষের এটি নিশ্চিত হওয়া। এর মানে এই নয় যে, ওই ব্যবহারকারী সব সময় ফেসবুকের সব নীতিমালা মেনে চলছেন। প্রাথমিকভাবে কয়েকটি দেশে এই সুবিধা চালু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বিশ্বের অন্যান্য দেশেও এটি চালু করা হবে বলে জানিয়েছে মেটা। সূত্র: নিউজ বাইট
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় লক্ষ্মীপুরের রামগতি বাজার শাখার সাবেক রূপালী ব্যাংক ব্যবস্থাপক মো. আবদুল মজিদকে ২৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ১৮ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অর্জিত এক কোটি ২৪ লাখ ১৫ হাজার ৫৪৩ টাকার সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্তের আদেশ দেওয়া হয়েছে। দন্ডপ্রাপ্ত আব্দুল মজিদ (৪৮) লক্ষীপুর সদর থানার কাফিলাতলি এলাকার মৃত আমিনুল হকের ছেলে এবং রামগতি বাজার শাখার রুপালী ব্যাংক লিমেটেডের সাবেক ব্যবস্থাপক ছিলেন। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে নোয়াখালীর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. শওকত আলী এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে অনুপস্থিত থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করা হয়। দুদক জানায়,আবদুল মজিদ ২০০৭ সালের ১৪ নভেম্বর থেকে ২০১৩ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত রূপালী ব্যাংক লিমিটেডের লক্ষ্মীপুরের রামগতি বাজার শাখার ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এ সময় তিনি ব্যাংকের এসটিডি হিসাব নম্বর-৪-এ থাকা ৪ লাখ ৬৫ হাজার ৭৯৮ টাকা, এসটিডি হিসাব নম্বর-৬-এ থাকা ৪৯ লাখ ৬১ হাজার ১১৭ টাকা এবং সরকারি কর্মচারীদের পেনশন বাবদ উত্তোলন করা ১৬ লাখ ৩০ হাজার ২৩১ টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেন। এছাড়া ব্যাংকিং নীতিমালা লঙ্ঘন করে তিনি মোট ৭০ লাখ ৫৭ হাজার ১৪৫ টাকা আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। পরবর্তী তদন্তে দুদক তার বিরুদ্ধে সর্বমোট ১ কোটি ২৪ লাখ ১৫ হাজার ৫৪৩ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পায়। নোয়াখালী দুদক পিপি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জহির উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মামলাটি তদন্ত শেষে তৎকালীন দুদকের উপসহকারী পরিচালক মো.হোসাইন শরীফ ও সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আজগর হোসেন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। আদালত দণ্ডবিধির ৪৬৭ ধারায় ১০ বছর, ৪০৯ ধারায় ১০ বছর এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। পৃথক তিন ধারায় দেওয়া সাজা মিলিয়ে তাকে মোট ২৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

নোয়াখালী সরকারি কলেজ সাংবাদিক সমিতির অফিসিয়াল (নিউজ পোর্টাল) ওয়েবসাইট উদ্বোধন অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (২১ জুলাই-২০২৬ খ্রিঃ) দুপুরে কলেজের ছাত্রসংসদ কার্যালয় মিলনায়তনে উৎসবমুখর ও আনন্দঘন পরিবেশে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে ওয়েবসাইট উদ্বোধন অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে নোসক সাংবাদিক সমিতির সদস্য সচিব মোঃ নুর হোসাইনের সভাপতিত্বে ও সদস্য আকরাম উদ্দিনের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী সরকারি কলেজের ইসলাম শিক্ষা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর মোজাম্মেলুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. এজি আল মোরশেদ, ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ওমর মারুফ, নোবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতির সাবেক সহ-সভাপতি মোঃ ফাহাদ হোসেন, নোসক ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি আব্দুল কাদের আল আমিন প্রমূখ। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ ও সাংবাদিক সমিতির সদস্যদের অংশগ্রহণে লাল ফিঁতা কেটে ওয়েবসাইটের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়। নোসক সাংবাদিক সমিতির ওয়েবসাইটে কলেজের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের লেখা বিভিন্ন ফিচার, কলাম ও আর্টিকেল প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে আয়োজকেরা।

নোয়াখালীর চাটখিলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে এক সাংবাদিকের নাম ও ছবি বিকৃত করে অপপ্রচার চালানো এবং হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ভুক্তভোগী সাংবাদিক কামরুল ইসলাম কানন চাটখিল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। ভুক্তভোগী কামরুল ইসলাম কানন একটি বেসরকারি টেলিভিশনের নোয়াখালী প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত। পাশাপাশি তিনি নোয়াখালী সাংবাদিক ইউনিয়নের কোষাধ্যক্ষ (ট্রেজারার) এবং নোয়াখালী টিভি জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ জুলাই কামরুল ইসলাম কানন তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন নিয়ে একটি সচেতনতামূলক পোস্ট দেন। পোস্টটিতে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নাম-পরিচয় উল্লেখ ছিল না। তবে পোস্টটি দেওয়ার পরপরই চাটখিল উপজেলার নয়নপুর এলাকার মো. সুমন, মোহন (প্রকাশ 'ঠোঁট কাটা মোহন') ও মহিন নামে তিন ব্যক্তি নিজ নিজ ফেসবুক আইডি থেকে সাংবাদিক কাননের নাম ও ছবি বিকৃত করে বিভ্রান্তিকর পোস্ট দেন এবং বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, অভিযুক্ত সুমন ও মোহন এলাকায় যুবদলের পরিচয় দিয়ে এবং নোয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনের নাম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করা ও এতিমের জমি দখলসহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত। অন্যদিকে মহিন বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় স্থানীয় ‘ভাগিনা বাহিনীর’ অন্যতম সশস্ত্র ক্যাডার হিসেবে পরিচিত ছিল এবং তিনি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। বর্তমানে তিনি পলাতক বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া হাফিজুর রহমান শাওন নামে আরেক ব্যক্তি অভিযুক্তদের করা অবমাননাকর পোস্ট বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ ও নিজের টাইমলাইনে শেয়ার করে অপপ্রচারে সহায়তা করছেন বলেও অভিযোগে বলা হয়েছে। সাংবাদিক কামরুল ইসলাম কানন বলেন, অভিযুক্তদের এসব কর্মকাণ্ডের কারণে তার দুই যুগেরও বেশি সময়ের সাংবাদিকতা জীবনে অর্জিত সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে। বর্তমানে তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি। চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মুন্নাফ বলেন, আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুরুষ নির্যাতন দমন ও প্রতিরোধ আইন নতুন করে প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। রিট আবেদনে বলা হয়েছে, যদি একটি পুরুষ নির্যাতন দমন ও প্রতিরোধ আইন প্রণয়ন করা হয়, তবে আইনের সমতা ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে নারীরা ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন’-এর অপব্যবহার করতে পারবেন না। এছাড়া বিবাদীর ওপর ‘পুরুষ নির্যাতন দমন ও প্রতিরোধ আইন’ নামে একটি নতুন আইন প্রণয়ন করার জন্য নির্দেশনা দেওয়ার জন্য প্রার্থনা করা হয়েছে রিটে। রিটে ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন’ অপব্যবহারের মাধ্যমে পুরুষদের অপ্রয়োজনীয় হয়রানি থেকে রক্ষা করার জন্য ‘পুরুষ নির্যাতন দমন ও প্রতিরোধ আইন’ নামে একটি নতুন আইন প্রণয়নে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা এবং ব্যর্থতা কেন আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত এবং আইনগতভাবে অকার্যকর ঘোষণা করা হবে না; এবং ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন’ বা ‘যৌতুক আইন’ অপব্যবহারের মাধ্যমে পুরুষদের অপ্রয়োজনীয় হয়রানি থেকে রক্ষা করার জন্য বিবাদীদের কেন ‘পুরুষ নির্যাতন দমন ও প্রতিরোধ আইন’ নামে একটি নতুন আইন প্রণয়নের নির্দেশ দেওয়া হবে না, এই মর্মে রুল জারির আর্জি জানানো হয়েছে। রুল শুনানি পেন্ডিং থাকা অবস্থায়, ‘পুরুষ নির্যাতন দমন ও প্রতিরোধ আইন’-এর অপব্যবহারের মাধ্যমে পুরুষদের অপ্রয়োজনীয় হয়রানি থেকে রক্ষা করার জন্য বিবাদীদের ‘পুরুষ নির্যাতন দমন ও প্রতিরোধ আইন’ নামে একটি নতুন আইন প্রণয়নের নির্দেশ দিতে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ চাওয়া হয়েছে রিটে। রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে। রিটকারীদের দাবি, পুরুষকে ঘায়েল করার জন্য এসব মিথ্যা মামলা করা হয়। সামান্য ঝগড়াঝাঁটির জের ধরে অনেক নারী আদালতে নারী নির্যাতন আইনে মামলা করে বছরের পর বছর স্বামীকে জেল খাটান। মঙ্গলবার হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চে রিট আবেদনের ওপর শুনানি হতে পারে।

ভারতে দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির পাঞ্জাব প্রদেশের কৃষকরা। মূলত প্রস্তাবিত ভারত-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির বিরুদ্ধে আয়োজিত ‘কিষাণ মহাপঞ্চায়েত’-এ যোগ দিতে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) পাঞ্জাব থেকে হাজার হাজার কৃষক দিল্লি অভিমুখে যাত্রা শুরু করেন। জানা গেছে, পাঞ্জাব থেকে হরিয়ানায় প্রবেশের মুখ শম্ভু সীমানায় পৌঁছালে হরিয়ানা পুলিশ ব্যারিকেড বসিয়ে তাদের পথ আটকে দেয়। তবে পাঞ্জাব থেকে আসা কৃষকদের আটকে দেওয়া হলেও আমবালা, কুরুক্ষেত্র ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলো থেকে আসা হরিয়ানার স্থানীয় কৃষকরা অবাধে দিল্লির দিকে তাদের যাত্রা অব্যাহত রেখেছেন। পাঞ্জাব-হরিয়ানা সীমান্তে বিশাল বিশাল ব্যারিকেড বসানোর এই দৃশ্য ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারির সেই বহুল আলোচিত ‘দিল্লি চলো-২’ আন্দোলনের স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে। সেই সময়েও জাতীয় রাজধানীতে কৃষকদের প্রবেশ রুখতে সীমানাকে সিমেন্টের ব্লক, লোহার পেরেক ও বহুস্তরী ব্যারিকেড দিয়ে দুর্গে পরিণত করা হয়েছিল। এদিকে, দিল্লিতে যাওয়ার পথ না পেয়ে ক্ষুব্ধ কৃষকরা শম্ভু সীমানা এলাকাকেই আপাতত তাদের নতুন আন্দোলনস্থলে রূপান্তর করেছেন। দিল্লিতে একত্রিত হওয়ার গণতান্ত্রিক অধিকার দমন করার অভিযোগ তুলে তারা হরিয়ানা ও পাঞ্জাব- উভয় সরকারের তীব্র সমালোচনা করছেন। বিকেইউ (শহীদ ভগত সিং) নেতা তেজবীর সিং মারাত্মক অভিযোগ এনে বলেছেন, হরিয়ানা পুলিশ পাঞ্জাবের নিজস্ব ভূখণ্ডের ভেতরে ঢুকে ব্যারিকেড তৈরি করেছে। তিনি আরও দাবি করেন, হরিয়ানা পুলিশের এই পদক্ষেপে বাধা না দিয়ে পাঞ্জাব সরকার কেবল ‘নীরব দর্শক’ ভূমিকা পালন করছে। সোমবার (২০ জুলাই) মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদ ও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে সংসদ অভিমুখে পদযাত্রা শুরু করে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। হাজারও তরুণের এই পদযাত্রায় পুলিশ লাঠিচার্জ করলে রণক্ষেত্রে রূপ নেয় দিল্লি। এ সময় কয়েকটি এলাকায় বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। ককরোচ পার্টির এই ভয়াবহ বিক্ষোভের মধ্যে দিল্লিতে নতুন করে পাঞ্জাব কৃষকদের ডাকা আন্দোলন মোদী সরকারকে আরও বিপদে ফেলতে পারে বলে মনে করেন দেশটির রাজনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞ মহল। ‘দেশ বাঁচাও মোর্চা’র ব্যানারে ডাকা এই মহাপঞ্চায়েতে পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও হিমাচল প্রদেশের প্রধান প্রধান কৃষক সংগঠনগুলো একত্রিত হয়েছে। কেন্দ্র সরকারকে প্রস্তাবিত ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি পুরোপুরি বাতিল করার দাবি জানাতেই এই আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়েছে। কিষাণ মজদুর সংঘর্ষ কমিটির (কেএমএসসি) শীর্ষ নেতা সারওয়ান সিং পান্ধের জানান, শম্ভু সীমানায় আটকে দেওয়ার আগে কেএমএসসি, কিষাণ মজদুর মোর্চা (পাঞ্জাব শাখা), আজাদ কিষাণ মোর্চা ও বিকেইউ একতা সংঘর্ষের বিশাল বিশাল গাড়ি বহর পাঞ্জাবের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রওনা হয়েছিল। পান্ধের তুলে ধরেন যে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত ভারত-মার্কিন যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছিল- উভয় দেশ ২০২৬ সালের শরৎকালের মধ্যে একটি বহুমুখী দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির প্রথম কিস্তি চূড়ান্ত করতে আলোচনা চালাবে। তিনি যুক্তি দেন, এই প্রস্তাবিত চুক্তিটি কোনো সাধারণ প্রথাগত বাণিজ্য চুক্তি নয়। এটি ভারতের কৃষি, দুগ্ধ (ডেয়ারি) খাত, শিল্প, ডিজিটাল বাণিজ্য, ই-কমার্স, বিনিয়োগ, সরকারি কেনাকাটা, বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি অধিকার এবং সেবা খাতের মতো স্পর্শকাতর ক্ষেত্রগুলোকে উন্মুক্ত করে দেবে। কৃষক নেতারা সতর্ক করে বলেছেন, আগের বিভিন্ন মার্কিন বাণিজ্য প্রতিবেদনে দেখা গেছে- কম শুল্ক এবং সয়াবিন, ভুট্টা, তুলা, ইথানল, আপেল, বাদাম, দুগ্ধজাত পণ্য, হাঁস-মুরগি ও মৎস্যজাত পণ্যের ওপর বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার মাধ্যমে ভারতের কৃষি ও দুগ্ধ বাজারে আমেরিকানদের গভীরভাবে প্রবেশের পথ সহজ করার চেষ্টা করা হয়েছে। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ভর্তুকিপ্রাপ্ত বিপুল পরিমাণ আমেরিকান কৃষি ও দুগ্ধজাত পণ্যের জন্য ভারতের বাজার উন্মুক্ত করে দিলে দেশের কোটি কোটি ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক বাজারে টিকতে পারবে না। পাশাপাশি এই গোপন আলোচনার কোনো তথ্য প্রকাশ না করা ও স্বচ্ছতার চরম অভাব নিয়েও তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সংগঠনগুলো তুলে ধরে যে, শুধুমাত্র ভারতের দুগ্ধ খাতের ওপরই প্রায় ৮ কোটি গ্রামীণ পরিবার সরাসরি জীবিকার জন্য নির্ভরশীল। এই খাতে যেকোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়লে তা পুরো গ্রামীণ অর্থনীতি, দুগ্ধ উৎপাদক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, কৃষিভিত্তিক শিল্প, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাত এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। এই পরিস্থিতিতে ‘দেশ বাঁচাও মোর্চা’ কেন্দ্র সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে- প্রস্তাবিত ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি সংক্রান্ত সব নথিপত্র অবিলম্বে সাধারণ মানুষের সামনে জনসমক্ষে আনতে হবে। একই সাথে কৃষক, শ্রমিক, দুগ্ধ উৎপাদক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও অন্যান্য অংশীদারদের সাথে বিস্তারিত আলোচনা না করে মার্কিন সরকারের সাথে কোনো ধরনের চুক্তি স্বাক্ষর করা থেকে বিরত থাকতে হবে। সূত্র: দ্য হিন্দু
নোয়াখালীর সুবর্ণচরে দীর্ঘ ২০ বছর ধরে ৭নং পূর্বচরবাটা ইউনিয়নের চান্দু মার্কেটে অবস্থিত মঞ্জু চেয়ারম্যান জামে মসজিদের বিশাল পুকুর দখল করে রেখেছে আওয়ামী লীগ নেতা, সেই পুকুর দখল মুক্ত করে ফিরে পেতে মানববন্ধন করেছে ভূক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসি। ২০ জুলাই (সোমবার) বিকেল ৫ টায় সুবর্ণচর উপজেলার পূর্ব চরবাটা ইউনিয়নের চান্দু মার্কেটে মানববন্ধন করেন মসজিদ পরিচালক কমিটি, মুসল্লী ও এলাকাবাসি। এসময় ভূক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসি জানান, বিগত ফ্যাসিষ্ট সরকারের আমলে তৎকালীর উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আ.লীগ সভাপতি সেলিম চেয়ারম্যানের ভাগ্নি জামাই ও পূর্ব চর বাটা ইউনিয়নের সাবেক সচিব আনোয়ার হোসেন হেলাল দখল করে নেয়। হেলাল জোর পূর্বক দখলের পর শের আলী নামক এক দখলবাজের কাছে লিজ দিয়ে দেন, শের আলীর এবং তার ভাটাটিয়া সন্ত্রাসী সোহাগ ঐ পুকুরে মাচ চাষ করে আসছিলো, পুকুরের মাছের খাদ্যসহ নানা ক্যামিকেল চিটানো কারনে মসজিদের মুসল্লীরা কখনো ঐ পুকুরে অজু গোসল করতে পারেনি। বহুবার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক ও প্রশাসনের লোকদের কাছে গিয়েও কোন প্রতিকার পাইনি তারা। এর পর ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট পরবর্তী সময়ে মসজিদ কমিটি পূণরায় পুকুরটি দখল করতে গেলে মিথ্যা মামলা হামলা সহ নানা হয়রানি করে আসছে৷ বক্তারা আওয়ামীলীগের দোসর, দখলবাজ আনোয়ার হোসেন হেলাল, শের আলী এবং সোহাগের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি জানান এবং পুকুরটি মসজিদে বুঝিয়ে দেবার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানান। ,

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় বিচারাধীন জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ১১২ বছরের পুরোনো চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ১১ ফুট উঁচু দেওয়াল তোলায় একটি বাড়ির সাতটি পরিবার অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। আদালতের সিদ্ধান্তের আগেই এমন পদক্ষেপ নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা। শুক্রবার (১৭ জুলাই) কাদিরহানিফ ইউনিয়নে পশ্চিম বাহাদুরপুর গ্রামের মৃদ্দা বাড়িতে গিয়ে এমন অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। সূত্র জানায়, মৃদ্দা বাড়ির বাসিন্দাদের ১১২ বছরের চলাচলের একমাত্র পথটি ১১ ফুট উঁচু দেওয়াল তুলে বন্ধ করে দিয়েছেন হারুনুর রশিদ মিলন নামে এক প্রভাবশালী ব্যক্তি। এতে বাড়ির লোকজন অবরুদ্ধ হয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন। ওই বাড়ির বাসিন্দাদের দাবি, আদালতের সিদ্ধান্ত ছাড়া এবং কোনো আলোচনা না করে হারুনুর রশিদ দেওয়াল তুলে পথ বন্ধ করে দিয়েছেন। এখন নিজের ঘরে তালা লাগিয়ে অন্যত্র অবস্থান করছেন। প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার হয়নি। আদালতের সিদ্ধান্তের আগে এমন ঘটনা মানবাধিকার লঙ্ঘন। ওই এলাকার বাসিন্দা আবুল কালাম বলেন, চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়া অন্যায়। যিনি দেওয়াল তুলেছেন তিনি আলোচনা করে বিষয়টি সমাধান করতে পারতেন। তাহলে বাড়ির বাসিন্দারা দূর্ভোগে পড়তেন না। আর মামলা চলমান থাকলে রায় হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিত। অভিযুক্ত হারুনুর রশিদকে ফোন দিলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে ফোন কেটে দেন। পরে অনেকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে তার এক আত্মীয় বলেন, এ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন আদালতে মামলা চলমান আছে। এ নিয়ে অনেকবার স্থানীয় শালিস-বৈঠক বসেও কোনো সমাধান হয়নি। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হোমায়রা ইসলাম বলেন, মামলা চলমান থাকায় বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন আছে। বিষয়টি আদালতের এখতিয়ারাধীন, তাই এ মুহূর্তে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য করা সম্ভব নয়। তবে আদালতের নির্দেশনার পর যদি কোনো বিষয়ে সহযোগিতার প্রয়োজন হয় তখন অবশ্যই সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।