

নোয়াখালীতে র্যাব-১১, সিপিসি-৩ এর পৃথক অভিযানে তিনটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) এসব তথ্য নিশ্চিত করেন র্যাব-১১, সিপিসি-৩ নোয়াখালীর কোম্পানি কমান্ডার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মিঠুন কুমার কুণ্ডু। এর আগে, বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও ঢাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তাররা হলেন- মামুন (৪২), মো. ফুরকান আলী (৩১) ও মো. আবু সাইদহ ওরফে সাবিনুর (৪৫)। র্যাব জানায়, মামুনকে বেগমগঞ্জের আমানউল্লাপুর ইউনিয়নের খেমচন্দ্রপুর বড় বাড়ির সামনে থেকে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি সোনাইমুড়ীর আমিশাপাড়া বাজারে ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম (৫৭) হত্যা মামলার আসামি। টাকা-পয়সা নিয়ে বিরোধের জেরে গত বছরের ২৬ নভেম্বর আব্দুর রহিমকে লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে মারধর করা হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ফুরকান আলীকে সোনাইমুড়ীর বারগাঁও ইউনিয়নের কালারাইতা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী আখি আক্তারকে নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগে করা মামলার প্রধান আসামি। অন্যদিকে, আবু সাঈদ ওরফে সাবিনুরকে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জের হানুবাইশ বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে গতকাল সন্ধ্যা ৭টা ৫ মিনিটে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে শাজাহানপুরে সোহাগ (২৫) নামে এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। র্যাব-১১, সিপিসি-৩ নোয়াখালীর কোম্পানি কমান্ডার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মিঠুন কুমার কুণ্ডু বলেন, এসব মামলার পর থেকেই আসামিরা গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

বর্ষা মৌসুমে সাপের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলায় জনসাধারণকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এরই অংশ হিসেবে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এন্টি স্নেক ভেনম (সাপের বিষের প্রতিষেধক) সরবরাহ করা হয়েছে। এর ফলে এখন থেকে সাপের কামড়ে আক্রান্ত রোগীরা সরকারি হাসপাতালেই সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসা নিতে পারবেন। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে এ প্রতিষেধক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হস্তান্তর করা হয়। একই সঙ্গে রোগী পরিবহন ট্রলি, খাবার পরিবেশন ট্রলি, বর্জ্য পরিবহন ট্রলিসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সরঞ্জামও সরবরাহ করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মানসী রানী সরকার এবং হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কবির হোসেন। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বর্ষাকালে হাতিয়ার বিভিন্ন ইউনিয়নে সাপের উপদ্রব বেড়ে যায়। প্রতিবছরই সাপের কামড়ে আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য নোয়াখালী বা চট্টগ্রামে পাঠাতে হতো। এ পরিস্থিতি বিবেচনায় স্থানীয়ভাবে জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যান্টি স্নেক ভেনম সরবরাহ করা হয়েছে। এর আগে চলতি বছরের জুলাই মাসে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রথমবারের মতো অ্যান্টি স্নেক ভেনম প্রয়োগ করে বিষধর সাপের কামড়ে আক্রান্ত এক শিশুর সফল চিকিৎসা করা হয়। শিশুটি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলে স্থানীয়দের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে সাপের কামড়ের চিকিৎসা নিয়ে আস্থা আরও বৃদ্ধি পায়। সেই ধারাবাহিকতায় এবার পর্যাপ্ত অ্যান্টি স্নেক ভেনম মজুদের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন হাতিয়া সম্মিলিত সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা। তাদের মতে, বর্ষা মৌসুমে দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় সাপের উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারি হাসপাতালে অ্যান্টি স্নেক ভেনমের প্রাপ্যতা জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ। এর ফলে প্রত্যন্ত এলাকার সাপের কামড়ে আক্রান্ত রোগীরা দ্রুত ও কার্যকর চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মানসী রানী সরকার বলেন, সাপের কামড়ে আক্রান্ত রোগীকে যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসকরা প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যান্টি স্নেক ভেনম প্রয়োগ করবেন। এ সেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হবে। এ বিষয়ে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও রয়েছে। তিনি জানান, সাপের কামড়ের পর আক্রান্ত ব্যক্তিকে শান্ত রাখা, ক্ষতস্থানে অপ্রয়োজনীয় কাটা, বাঁধা বা ঝাড়ফুঁক না করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়াই জীবন রক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায়। সময়মতো অ্যান্টি স্নেক ভেনম প্রয়োগ করলে বিষধর সাপের কামড়ে আক্রান্ত অধিকাংশ রোগীকেই সুস্থ করে তোলা সম্ভব। ইউএনও রাসেল ইকবাল বলেন, ‘বর্ষাকালে হাতিয়ায় সাপের উপদ্রব বেড়ে যায়। মানুষের জীবন রক্ষায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যান্টি স্নেক ভেনম সরবরাহ করা হয়েছে। সাপের কামড়ে আক্রান্ত হলে কোনো ধরনের ঝাড়ফুঁক বা বিলম্ব না করে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। এখানে রোগীরা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পাবেন।’

নোয়াখালীতে জেলা বিএনপির সাবেক ধর্মবিষয়ক সম্পাদক হাজী আবুল কাশেমকে (৬০) লক্ষ্য করে দুর্বৃত্তরা গুলি ছুড়েছে। এ সময় তাকে গুলি থেকে রক্ষা করতে গিয়ে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাত পৌনে ১২টার দিকে বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী বাজারের হকার্স মার্কেটের মূল গলিতে ওবায়দুলের চায়ের দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ ইয়াছিন সেন্টু (৪৫) চৌমুহনী হকার্স মার্কেটের ফার্মেসি ব্যবসায়ী। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি নেতা হাজী আবুল কাশেম রাজনীতির পাশাপাশি চৌমুহনী বাজারের নোয়াখালী জাতীয় হকার্স সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বৃহস্পতিবার রাতে তিনি চৌমুহনী বাজারে জাতীয় হর্কাস মার্কেটের অফিসে বসেন। এরপর রাত পৌনে ১২টার দিকে তিনি তার সহযোগী সেন্টুসহ অফিস থেকে বের হয়ে যান। একপর্যায়ে তারা দুজন হাঁটতে হাঁটতে হর্কাস মার্কেটের মূল গলির ওবায়দুলের চা দোকানের সামনে পৌঁছলে দুর্বৃত্তরা বিএনপি নেতা কাশেমকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে। এ সময় আবুল কাশেমকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে কাশেমের হাতে গুলির আঁচড় লেগে সেন্টুর বুকের বাঁ পাশ গুলিবিদ্ধ হয়। তাৎক্ষণিক স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বেগমগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো.হাবীবুর রহমান বলেন, দুর্বৃত্তদের গুলিতে একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। পুলিশ ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে চেষ্টা চালাচ্ছে। এ বিষয়ে পরে বিস্তারিত জানানো হবে। নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বেগমগঞ্জ সার্কেল) আ ন ম ইমরান খান বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিএনপি নেতা কাশেমকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে দুর্বৃত্তরা। তবে তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে তার সহযোগী ইয়াসিন সেন্টুর বুকে লেগেছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে নোয়াখালী সরকারি কলেজের উদ্যোগে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও দোয়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচার ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়। প্রায় ১৪০০ শহীদ ও অসংখ্য আহতদের রক্তের বিনিময়ে স্বৈরাচারের কবল থেকে মুক্তি পায় প্রিয় বাংলাদেশ। দিনটিকে স্বরণীয় করে রাখতে জাতীয় দিবস ঘোষণা করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। আজ বুধবার (০৫ আগষ্ট-২০২৬ খ্রিঃ) সকালে নোয়াখালী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল জলিল অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ মনিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোঃ শাহজাহান। এ-সময় কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর এবিএম সানা উল্লাহ, শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক আফসার উদ্দিন জুয়েল সহ অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে জুলাই আহত যোদ্ধা, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, ছাত্র আন্দোলন, ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরে জুলাই শহীদদের স্মরণে দোয়া ও মুনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

নোয়াখালীর কবিরহাটে নিখোঁজের একদিন পর আজাদ হোসেন (৩৪) নামে এক যুবদল নেতার মরদেহ বাড়ির পাশের ডোবা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার গলায় দড়ি পেঁচানো এবং চোখের ওপর আঘাতের চিহ্ন ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে কবিরহাট পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ ঘোষবাগ গ্রামের একটি ডোবায় মরদেহটি ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত আজাদ একই গ্রামের হানিফ মিয়ার বাড়ির মৃত ফজল হকের ছেলে। তিনি কবিরহাট পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের প্রচার সম্পাদক ছিলেন। পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ১টার দিকে আজাদ হোসেন বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন। স্বজনরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরে শুক্রবার বিকেল প্রায় ৫টার দিকে বাড়ির পাশের একটি ডোবায় তার মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, আজাদের চাচাতো ভাই ফারুক (৪০) ও নিজাম (৩৬) এ ঘটনায় জড়িত থাকতে পারেন। ঘটনার পর থেকে তারা পলাতক রয়েছেন বলেও দাবি করেন স্বজনরা। নোয়াখালী জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য গোলাম মোমিত ফয়সাল বলেন, যুবদল নেতা আজাদ ব্যবসা করতেন, পাশাপাশি যুবদলের একজন সক্রিয় নেতা ছিলেন। তার মৃত্যুর রহস্য দ্রুত উদঘাটন করে জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে পুলিশের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। কবিরহাট থানার ওসি রোমেল বড়ুয়া বলেন, ঘটনাস্থলে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। তার গলায় দড়ি পেঁচানো ছিল এবং চোখের ওপর আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নোয়াখালীতে র্যাব-১১, সিপিসি-৩ এর পৃথক অভিযানে তিনটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) এসব তথ্য নিশ্চিত করেন র্যাব-১১, সিপিসি-৩ নোয়াখালীর কোম্পানি কমান্ডার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মিঠুন কুমার কুণ্ডু। এর আগে, বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও ঢাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তাররা হলেন- মামুন (৪২), মো. ফুরকান আলী (৩১) ও মো. আবু সাইদহ ওরফে সাবিনুর (৪৫)। র্যাব জানায়, মামুনকে বেগমগঞ্জের আমানউল্লাপুর ইউনিয়নের খেমচন্দ্রপুর বড় বাড়ির সামনে থেকে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি সোনাইমুড়ীর আমিশাপাড়া বাজারে ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম (৫৭) হত্যা মামলার আসামি। টাকা-পয়সা নিয়ে বিরোধের জেরে গত বছরের ২৬ নভেম্বর আব্দুর রহিমকে লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে মারধর করা হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ফুরকান আলীকে সোনাইমুড়ীর বারগাঁও ইউনিয়নের কালারাইতা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী আখি আক্তারকে নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগে করা মামলার প্রধান আসামি। অন্যদিকে, আবু সাঈদ ওরফে সাবিনুরকে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জের হানুবাইশ বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে গতকাল সন্ধ্যা ৭টা ৫ মিনিটে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে শাজাহানপুরে সোহাগ (২৫) নামে এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। র্যাব-১১, সিপিসি-৩ নোয়াখালীর কোম্পানি কমান্ডার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মিঠুন কুমার কুণ্ডু বলেন, এসব মামলার পর থেকেই আসামিরা গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

বর্ষা মৌসুমে সাপের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলায় জনসাধারণকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এরই অংশ হিসেবে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এন্টি স্নেক ভেনম (সাপের বিষের প্রতিষেধক) সরবরাহ করা হয়েছে। এর ফলে এখন থেকে সাপের কামড়ে আক্রান্ত রোগীরা সরকারি হাসপাতালেই সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসা নিতে পারবেন। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে এ প্রতিষেধক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হস্তান্তর করা হয়। একই সঙ্গে রোগী পরিবহন ট্রলি, খাবার পরিবেশন ট্রলি, বর্জ্য পরিবহন ট্রলিসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সরঞ্জামও সরবরাহ করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মানসী রানী সরকার এবং হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কবির হোসেন। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বর্ষাকালে হাতিয়ার বিভিন্ন ইউনিয়নে সাপের উপদ্রব বেড়ে যায়। প্রতিবছরই সাপের কামড়ে আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য নোয়াখালী বা চট্টগ্রামে পাঠাতে হতো। এ পরিস্থিতি বিবেচনায় স্থানীয়ভাবে জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যান্টি স্নেক ভেনম সরবরাহ করা হয়েছে। এর আগে চলতি বছরের জুলাই মাসে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রথমবারের মতো অ্যান্টি স্নেক ভেনম প্রয়োগ করে বিষধর সাপের কামড়ে আক্রান্ত এক শিশুর সফল চিকিৎসা করা হয়। শিশুটি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলে স্থানীয়দের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে সাপের কামড়ের চিকিৎসা নিয়ে আস্থা আরও বৃদ্ধি পায়। সেই ধারাবাহিকতায় এবার পর্যাপ্ত অ্যান্টি স্নেক ভেনম মজুদের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন হাতিয়া সম্মিলিত সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা। তাদের মতে, বর্ষা মৌসুমে দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় সাপের উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারি হাসপাতালে অ্যান্টি স্নেক ভেনমের প্রাপ্যতা জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ। এর ফলে প্রত্যন্ত এলাকার সাপের কামড়ে আক্রান্ত রোগীরা দ্রুত ও কার্যকর চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মানসী রানী সরকার বলেন, সাপের কামড়ে আক্রান্ত রোগীকে যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসকরা প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যান্টি স্নেক ভেনম প্রয়োগ করবেন। এ সেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হবে। এ বিষয়ে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও রয়েছে। তিনি জানান, সাপের কামড়ের পর আক্রান্ত ব্যক্তিকে শান্ত রাখা, ক্ষতস্থানে অপ্রয়োজনীয় কাটা, বাঁধা বা ঝাড়ফুঁক না করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়াই জীবন রক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায়। সময়মতো অ্যান্টি স্নেক ভেনম প্রয়োগ করলে বিষধর সাপের কামড়ে আক্রান্ত অধিকাংশ রোগীকেই সুস্থ করে তোলা সম্ভব। ইউএনও রাসেল ইকবাল বলেন, ‘বর্ষাকালে হাতিয়ায় সাপের উপদ্রব বেড়ে যায়। মানুষের জীবন রক্ষায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যান্টি স্নেক ভেনম সরবরাহ করা হয়েছে। সাপের কামড়ে আক্রান্ত হলে কোনো ধরনের ঝাড়ফুঁক বা বিলম্ব না করে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। এখানে রোগীরা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পাবেন।’

নোয়াখালীতে জেলা বিএনপির সাবেক ধর্মবিষয়ক সম্পাদক হাজী আবুল কাশেমকে (৬০) লক্ষ্য করে দুর্বৃত্তরা গুলি ছুড়েছে। এ সময় তাকে গুলি থেকে রক্ষা করতে গিয়ে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাত পৌনে ১২টার দিকে বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী বাজারের হকার্স মার্কেটের মূল গলিতে ওবায়দুলের চায়ের দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ ইয়াছিন সেন্টু (৪৫) চৌমুহনী হকার্স মার্কেটের ফার্মেসি ব্যবসায়ী। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি নেতা হাজী আবুল কাশেম রাজনীতির পাশাপাশি চৌমুহনী বাজারের নোয়াখালী জাতীয় হকার্স সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বৃহস্পতিবার রাতে তিনি চৌমুহনী বাজারে জাতীয় হর্কাস মার্কেটের অফিসে বসেন। এরপর রাত পৌনে ১২টার দিকে তিনি তার সহযোগী সেন্টুসহ অফিস থেকে বের হয়ে যান। একপর্যায়ে তারা দুজন হাঁটতে হাঁটতে হর্কাস মার্কেটের মূল গলির ওবায়দুলের চা দোকানের সামনে পৌঁছলে দুর্বৃত্তরা বিএনপি নেতা কাশেমকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে। এ সময় আবুল কাশেমকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে কাশেমের হাতে গুলির আঁচড় লেগে সেন্টুর বুকের বাঁ পাশ গুলিবিদ্ধ হয়। তাৎক্ষণিক স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বেগমগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো.হাবীবুর রহমান বলেন, দুর্বৃত্তদের গুলিতে একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। পুলিশ ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে চেষ্টা চালাচ্ছে। এ বিষয়ে পরে বিস্তারিত জানানো হবে। নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বেগমগঞ্জ সার্কেল) আ ন ম ইমরান খান বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিএনপি নেতা কাশেমকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে দুর্বৃত্তরা। তবে তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে তার সহযোগী ইয়াসিন সেন্টুর বুকে লেগেছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে নোয়াখালী সরকারি কলেজের উদ্যোগে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও দোয়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচার ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়। প্রায় ১৪০০ শহীদ ও অসংখ্য আহতদের রক্তের বিনিময়ে স্বৈরাচারের কবল থেকে মুক্তি পায় প্রিয় বাংলাদেশ। দিনটিকে স্বরণীয় করে রাখতে জাতীয় দিবস ঘোষণা করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। আজ বুধবার (০৫ আগষ্ট-২০২৬ খ্রিঃ) সকালে নোয়াখালী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল জলিল অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ মনিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোঃ শাহজাহান। এ-সময় কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর এবিএম সানা উল্লাহ, শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক আফসার উদ্দিন জুয়েল সহ অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে জুলাই আহত যোদ্ধা, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, ছাত্র আন্দোলন, ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরে জুলাই শহীদদের স্মরণে দোয়া ও মুনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

বিশ্বকাপের স্বত্ব বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রিসহ নানা বিতর্কিত সিদ্ধান্তের জন্য ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। মরক্কোর রাজধানী রাবাতে অনুষ্ঠিত ফিফার জরুরি বৈঠক শেষে ২১১টি সদস্য সংস্থাকে চিঠি পাঠায় ফিফা। স্প্যানিশ দৈনিক 'এস'-এ জানায়, চিঠিতে বিগত কয়েক দিনের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে আলোচনা করা এবং সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরাই ছিল বৈঠকের উদ্দেশ্য। সভার শুরুতেই সফল বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য ফিফা প্রশাসনের প্রশংসা করা হয়। চিঠিতে আরও বলা হয়, বিভ্রান্তি দূর করতে বৈঠকে উপস্থিত সাধারণ সম্পাদক এবং ফিফা বোর্ডের সদস্যরা ফিফা সভাপতি জান্নি ইনফান্তিনোর প্রতি তাদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তারা জানান, ইনফান্তিনো ফিফার ২১১টি সদস্য সংস্থার ভোটে নির্বাচিত একমাত্র প্রতিনিধি। একইসঙ্গে ফিফা সভাপতিও তার ভিশন বাস্তবায়নে মৌলিক ও অসাধারণ ভূমিকার জন্য ফিফা প্রশাসনের প্রতি তার পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেছেন। রাবাতের আলোচনার সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে ফিফা আরও জানায়, আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আজকের বৈঠকের সিদ্ধান্তগুলো ফিফার সুশাসনকে শক্তিশালী করবে এবং সংস্থায় আস্থা ফিরিয়ে আনবে। বিশ্বব্যাপী ফুটবলের উন্নয়নের লক্ষ্য অব্যাহত রেখে পেশাদারিত্ব ও স্বচ্ছতার সঙ্গে ভবিষ্যতের বড় ইভেন্ট ও চ্যালেঞ্জগুলোর প্রস্তুতিতে সহায়ক হবে। স্বত্ব বিক্রির প্রকল্পের উদ্যোগ ভুল স্বীকার করে বলা হয়, আমরা স্বীকার করছি যে, নতুন প্রকল্প তৈরির প্রস্তাবে কিছু ভুল ছিল। ফিফা কাউন্সিল ও সদস্য সংস্থাগুলোকে এই প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেওয়া কখনোই আমাদের উদ্দেশ্য ছিল না। সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি ফাঁস হওয়ার পর যেভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়েছে, সেখানেও ভুল ত্রুটি ছিল বলে আমরা মেনে নিচ্ছি। এই অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য আমরা আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইছি। একই সঙ্গে কড়া সতর্কবার্তাও দেওয়া চিঠিতে, যেহেতু প্রস্তাবটি প্রত্যাহার করা হয়েছে, তাই ফিফার ভাবমূর্তি, সুশাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার ওপর কোনো আঘাত মেনে নেওয়া হবে না। সংস্থার নাম ও সুনাম রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। চিঠির শেষ অংশে ফিফা সাধারণ সম্পাদক মাতিয়াস গ্রাফস্ট্রম লিখেছেন, অভিজ্ঞতাই মানুষের শিক্ষার মূল উৎস। এটি আমাদের কার্যক্রমকে আরও উন্নত করতে সাহায্য করবে। ২১১টি সদস্য সংস্থা, কনফেডারেশন ও আঞ্চলিক সংস্থাগুলোর সুবিধার্থে ফিফা ফরোয়ার্ড প্রোগ্রামের মাধ্যমে ফুটবলের প্রসার কীভাবে বাড়ানো যায়, তা নিয়ে আমরা আপনাদের সঙ্গে কাজ করব। আপনাদের যে কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে আমরা প্রস্তুত।

নোয়াখালীর হাতিয়ায় ১১ বছরের এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে হেলাল উদ্দিন নামে এক জামায়াত কর্মীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গ্রাম্য সালিশে তাকে ৫০ বেত্রাঘাত ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়। এর আগে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে সালিশ বসে। অভিযুক্ত হেলাল উদ্দিন পেশায় পল্লী চিকিৎসক। স্থানীয়দের দাবি, তিনি একসময় ইউনিয়ন যুবলীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। সরকার পরিবর্তনের পর বর্তমানে জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে এক শিশু পাশের একটি দোকান থেকে জিরা মসলা কিনে বাড়ি ফেরার পথে হেলাল উদ্দিন তাকে দোকানে ডাকেন। এ সময় শিশুটির সঙ্গে তার আরও এক ছোট বোন ছিল। অভিযোগ রয়েছে, ছোট বোনকে বসিয়ে রেখে শিশুটিকে দোকানের পেছনে নিয়ে যান তিনি। সেখানে তাকে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ করলে শিশুটি চিৎকার করে বাইরে বেরিয়ে আসে। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে বিকেলে স্থানীয়ভাবে একটি গ্রাম্য সালিশ অনুষ্ঠিত হয়। গ্রাম্য সালিশে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি জানান, শিশুর পরিবারের অনুরোধে সালিশের আয়োজন করা হয়। সালিশে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা প্রমাণিত হয়নি। তবে শিশুকে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ করার অভিযোগের ভিত্তিতে উপস্থিত সবার সম্মতিতে হেলাল উদ্দিনকে ৫০ বেত্রাঘাত এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা দাবি করেন, ভিকটিম পরিবার গরিব এবং অসহায়। তাই তারা প্রকৃত বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। হেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে অতীতেও নারীদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছিল। এই ঘটনার তদন্ত করে তার শাস্তি নিশ্চত করতে হবে। যাতে ভবিষ্যতে এমন কাজ করার সাহস না পায়। অভিযোগ অস্বীকার করে হেলাল উদ্দিন বলেন, আমি এ ধরনের কোনো কাজ করিনি। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে মানসম্মান ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। হরণী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মমতাজ বেগম বলেন, এ ধরনের ঘটনার বিচার গ্রাম্য সালিশে বা ইউনিয়ন পরিষদে করার কোনো আইনগত এখতিয়ার নেই। ভুক্তভোগী পরিবার থানায় অভিযোগ করতে চাইলে আমরা প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করব। হরণী ইউনিয়ন জামায়াতের আমির হাফেজ তারিফুল মাওলা বলেন, হেলাল উদ্দিন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। ৫ আগস্টের পর অনেকেই নিজেকে রক্ষার জন্য জামায়াত বা বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত হওয়ার চেষ্টা করেছেন। হেলাল উদ্দিনও জামায়াতের বিভিন্ন কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকতেন। তবে তাকে দলের কোনো পর্যায়ের কর্মী বা সদস্য করা হয়নি। হাতিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ কবির হোসেন বলেন, হরণী ইউনিয়ন হাতিয়ার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় সব ঘটনা তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হয় না। বিষয়টি এখন আপনার মাধ্যমে জানতে পেরেছি। এখন পর্যন্ত থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নোয়াখালীর হাতিয়ায় সংরক্ষিত বনের গাছ কেটে নদীতে মাছের ঘের নির্মাণের অভিযোগে ২২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে নৌ-পুলিশ ও বন বিভাগের সদস্যরা। উপজেলার ইসলাম চর সংলগ্ন নদীতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার (৫ আগস্ট) মামলার পর আসামিদের হাতিয়া থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার ইসলাম চর এলাকায় অভিযান শেষে রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাদের নলচিরা নৌঘাটে আনা হয়। তারা হলেন- নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের চর তরবালি এলাকার অলি উদ্দিন (৩৫), ইব্রাহিম (৩০), মো. মাঈন উদ্দিন (৩৫), মো. সাদ্দাম হোসেন (২৬), মোস্তাফিজুর রহমান (৩০), মইনুদ্দিন (২৭), মো. সেলিম (৩০), মো. সোহেল (২৭), মো. হামিদ (৩০), নূর জামাল, জাফরুল্লাহ জাকের (৪৮), মনির হোসেন (২৫), নূর করিম (২৮) এবং কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চর এলাহী ইউনিয়নের মো. বেলাল (২৩), মো. আকবর (২৩), মো. শরীফ (৩০) ও সোহাগ (২৮)। একজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। নৌ-পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বহিরাগত একটি চক্র সংরক্ষিত বনের কেওড়া ও গেওয়া গাছ কেটে নদীতে অবৈধ ঘের নির্মাণ করে মাছ শিকার করে আসছিল। এসব ঘেরের কারণে বাল্কহেড, কার্গোসহ বিভিন্ন নৌযানের চলাচলে সমস্যায় পড়ছিল। একইসঙ্গে ঘেরে বালি ও পলি জমে নদীর নাব্যতা কমার পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছিল। এতে উন্মুক্ত নদীতে মাছ শিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন স্থানীয় জেলেরা। নলচিরা রেঞ্জের বিট কর্মকর্তা বাবুল হক বলেন, বহিরাগতরা সংরক্ষিত বনের গাছ কেটে নদীতে অবৈধ ঘের নির্মাণ করে মাছ শিকার করছিল। এতে বনজ সম্পদ ধ্বংসের পাশাপাশি নদীর স্বাভাবিক পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। তাই তাদের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। নলচিরা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আশীষ চন্দ্র সাহা বলেন, নদীতে অবৈধ ঘের নির্মাণের কারণে বাল্কহেড, কার্গোসহ বিভিন্ন নৌযানের চলাচলে সমস্যা হচ্ছিল। অভিযান চালিয়ে ২২ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ ঘের ও মৎস্য আইনের ৫(১) ধারায় মামলা করার পর হাতিয়া থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, নদী, বন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে।

আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউটের উদ্বোধন করেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। একই সঙ্গে ভিডিও টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে সাভার, বরিশাল, বগুড়া, চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা ও যশোরে প্রতিষ্ঠিতব্য এই ইনস্টিটিউটের আরও সাতটি শাখার ভিত্তিপ্রস্তর উন্মোচন করেন তিনি। সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে রাজধানীর জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউটের উদ্বোধন করেন তিনি। সেনাপ্রধান বলেছেন, বর্তমান সময়ের পরিবর্তিত চাহিদার আলোকে আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে নৈতিক মূল্যবোধের সমন্বয়ে জ্ঞান, নেতৃত্বগুণ ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন আদর্শ নাগরিক গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই ইনস্টিটিউটটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এখানে কেমব্রিজ কারিকুলামভিত্তিক ইংরেজি মাধ্যমের আধুনিক শিক্ষাপদ্ধতি এবং মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার চমৎকার সমন্বয় ঘটানো হবে। আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউটের উদ্বোধন করলেন সেনাপ্রধান গ্যাস সংকটের মধ্যেই মূল্যবৃদ্ধি / আজ কত দামে বিক্রি হচ্ছে এলপিজির সিলিন্ডার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সেনাসদরের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, বিভিন্ন ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি), ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা, প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও নোয়াখালী-৩ (বেগমগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য বরকত উল্লাহ বুলু বলেছেন, আওয়ামী সাংবাদিক-বুদ্ধিজীবীদের জন্য শেখ হাসিনার পতন হয়েছে। সাংবাদিকরা হচ্ছে জাতির বিবেক। তাদের কোনো দল নেই। মানুষের কল্যাণে, সমাজের অসঙ্গতি তুলে ধরাই তাদের কাজ। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে। রোববার (২ আগস্ট) বিকেলে বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নে নোয়াখালী সাংবাদিক ইউনিয়নের উদ্যোগে এক প্রীতি ফুটবল ম্যাচ শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। বরকত উল্লাহ বুলু বলেন, যে কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে স্বাধীন সাংবাদিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাংবাদিকরা যদি নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করেন তাহলে সমাজ ও রাষ্ট্র উপকৃত হয়। রাজনৈতিক প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনার পতন হয়েছে। এখন দেশের মানুষ একটি নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে রয়েছে। এ সময়ে সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, ব্যবসায়ীসহ সমাজের প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষের উচিত দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া। সাংবাদিকদের ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। সংসদ সদস্য বলেন, সাংবাদিকদের কাজ কোনো ব্যক্তি বা দলের পক্ষে অবস্থান নেওয়া নয়, বরং সত্য তুলে ধরা। জনগণ প্রকৃত তথ্য জানতে চায়, তাই বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা করতে হলে সাংবাদিকদের পেশাগত নৈতিকতা বজায় রাখতে হবে। সাংবাদিকদের উদ্দেশে বুলু বলেন, গণমাধ্যম সমাজের দর্পণ। এ দর্পণ যেন কখনো ম্লান না হয়। সাংবাদিকদের ঐক্য, পেশাদারিত্ব এবং দায়িত্বশীলতাই গণমাধ্যমকে আরও শক্তিশালী করবে। পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সুস্থ বিনোদন ও ক্রীড়া কার্যক্রম সাংবাদিকদের মানসিক প্রশান্তি এনে দেয়। এতে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়। নোয়াখালী সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি অধ্যাপক লিয়াকত আলী খানের সভাপতিত্বে সিনিয়র সহসভাপতি আজাদ ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- নোয়াখালী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলো, জেলা বিএনপির সদস্য শামিমা বরকত লাকি, সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদুল ইসলাম কিরন, বেগমগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কামাখ্যা চন্দ্র দাস ও জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন খান। আরও উপস্থিত ছিলেন- নোয়াখালী সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, সহসভাপতি তাজুল ইসলাম মানিক ভূঁইয়া, সহসভাপতি এমবি আলম, সহসভাপতি, সহসভাপতি এস এম রিজোয়ান, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মোজাম্মেল হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক মোজাম্মেল কামাল, যুগ্ম সম্পাদক ইমাম উদ্দিন আজাদ কোষাধ্যক্ষ কামরুল কানন, সাংগঠনিক সম্পাদক জুয়েল রানা লিটন, দপ্তর সম্পাদক নাসিম শুভ, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া রাহাত, তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক মো. মাহবুবুর রহমান, ক্রীড়া ও প্রচার সম্পাদক এবং ফজলুল কাদের রাজু,নির্বাহী সদস্য আকাশ মো. জসিম, আনোয়ার তোহা, মো. সালাহ উদ্দিন, সিরাজ উদ্দিন শাহিন ও মুজাহিদুল ইসলাম সোহেল।
হেযবুত তওহীদকে নিষিদ্ধের দাবিতে (১ আগস্ট) নোয়াখালীর মাইজদী জেলা স্কুল মাঠে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের উদ্যোগে এক বিশাল জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও দূর-দূরান্ত থেকে আগত হাজারো মানুষ এ সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নোয়াখালী-৪ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. শাহজাহান আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আন্দোলনের সময় কোনো ধরনের সহিংসতা বা আইনশৃঙ্খলার অবনতি যেন না ঘটে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।তিনি আরও বলেন, জনগণের দাবি গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে উপস্থাপন করাই উচিত। আন্দোলনকারীদের ন্যায্য দাবির প্রতি তিনি সমর্থন ও সহযোগিতার আশ্বাস ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সমাবেশে অংশ নিতে আসা সকল ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের ধন্যবাদ জানান।বক্তব্যে তিনি ইসলামবিদ্বেষী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং আন্দোলনের সফলতা কামনা করেন। সমাবেশে বক্তারা হেযবুত তওহীদকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান। সমাবেশ শেষে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি সমাপ্ত হয়।

নোয়াখালীর হাতিয়ায় মোহছেনা বেগম (৯০) নামে এক বৃদ্ধাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে নিজ সন্তানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার বিচার চেয়ে থানায় অভিযোগ করেছেন ওই বৃদ্ধা। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ছেলে মো. আরিফ উদ্দিন। শনিবার (১ আগস্ট) বিকেলে হাতিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেন তিনি। মোহছেনা বেগম উপজেলার সোনাদিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ছেলে মো. আরিফ উদ্দিন, পুত্রবধূ ও পরিবারের কয়েকজন সদস্য দীর্ঘদিন ধরে মোহছেনা বেগমের ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছেন। সর্বশেষ শনিবার সকালে তারা বসতবাড়িতে গিয়ে তাকে মারধর করেন। এ সময় স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়া এবং বসতঘরে থাকা গবাদি পশু জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। এতে বাধা দিলে মোহছেনা বেগমকে মারধর করা হয়। তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসা অন্য পুত্রবধূ জান্নাত বেগমও হামলার শিকার হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। হামলায় আহত মোহছেনা বেগম ও জান্নাত বেগমকে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে মোহছেনা বেগম থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। মোহছেনা বেগম বলেন, ‘যে সন্তানকে কষ্ট করে মানুষ করেছি, সেই সন্তানই আমার ওপর হামলা করছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই। একই সঙ্গে আমার জীবনের নিরাপত্তা চাই।’ তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ছেলে মো. আরিফ উদ্দিন বলেন, আমি আমার মাকে মারধর করিনি। আমার ভাইয়ের বউ আমাদের সঙ্গে ঝগড়া করছিল। তার সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়েছে। মাকে মারধরের বিষয়টি সত্য নয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কবির হোসেন বলেন, বৃদ্ধাকে মারধরের ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তের জন্য জাহাজমারা তদন্তকেন্দ্রকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।