

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-এর হযরত বিবি খাদিজা হলের দেয়ালে আপত্তিকর চিত্র অঙ্কন এবং নির্মাণ শ্রমিকদের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের উত্যক্ত করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে মধ্যরাতে বিক্ষোভ করেছেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা। বুধবার (২০ মে) রাত ১১টা থেকে প্রায় ১২টা পর্যন্ত হলের মূল ফটকে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ, স্লোগান ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন তারা। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা সাময়িকভাবে আন্দোলন স্থগিত করেন। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, গত কয়েকদিন ধরে হলের ছাদে ‘জলছাদ’ সংস্কারের কাজ চলছিল। কাজের জন্য প্রতিদিনই নির্মাণ শ্রমিকদের হল এলাকায় প্রবেশ করতে দেখা যায়। বুধবার কাজের শেষ দিনে দায়িত্বপ্রাপ্ত এক শ্রমিক হলের পেছনের ব্লকের ছাদে একটি আপত্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ ছবি এঁকে রেখে যান। পরে বিষয়টি কয়েকজন শিক্ষার্থীর নজরে আসলে মুহূর্তেই হলজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। দীর্ঘদিন ধরেই নির্মাণ কাজে নিয়োজিত কিছু শ্রমিক ছাত্রীদের উদ্দেশে অশোভন আচরণ করে আসছিলেন। ছাত্রীবাসে পুরুষ কর্মীদের প্রবেশের সময় নিয়ম অনুযায়ী হুইসেল বা বাঁশি বাজানোর কথা থাকলেও, অনেক শ্রমিক সেই নিয়মের অপব্যবহার করে ছাত্রীদের উদ্দেশে শিষ দিতেন এবং অশালীন ইঙ্গিত করতেন বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা। একাধিক শিক্ষার্থী জানান, এর আগেও শ্রমিকদের আচরণ নিয়ে হল প্রশাসনকে মৌখিকভাবে অবহিত করা হয়েছিল। কিন্তু দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় পরিস্থিতি দিন দিন আরও খারাপ হয়ে ওঠে। সর্বশেষ দেয়ালে আপত্তিকর চিত্র আঁকার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং তারা রাতেই বিক্ষোভে নামেন। বিক্ষোভ চলাকালে শিক্ষার্থীরা হলের নিরাপত্তা জোরদার, বহিরাগত শ্রমিকদের নিয়ন্ত্রণ, দায়ীদের শনাক্ত করে শাস্তির আওতায় আনা এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। এ সময় তারা বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান দেন এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন। রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন হযরত বিবি খাদিজা হলের সহকারী প্রভোস্ট নাজমুন নাহার ও তাসনিম আলম। তারা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে বলে আশ্বাস দেন। হলের সহকারী প্রভোস্ট তাসনিম আলম বলেন, শিক্ষার্থীদের অভিযোগ আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে শুনেছি। আগামীকাল সকালে প্রভোস্ট স্যারের উপস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। অভিযোগ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, হলের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ভবিষ্যতে যেন কোনো শিক্ষার্থী এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি না হন, সে বিষয়েও প্রশাসন সতর্ক থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আশ্বাসের পর রাত ১২টার দিকে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত করেন। তবে, দ্রুত দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আরও কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নোয়াখালীর কোরবানির পশুর হাটে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে দুটি বিশালাকৃতির গরু—‘রাজাবাবু’ ও ‘বাহাদুর’। শাহীওয়াল জাতের এই দুই গরুর ওজন যথাক্রমে ২৫ মণ ও ২৩ মণ। জেলার সদর উপজেলার চর উড়িয়া গ্রামের একটি খামারে বেড়ে ওঠা গরু দুটি দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন বিভিন্ন এলাকার মানুষ ও সম্ভাব্য ক্রেতারা। গরু দুটির মালিক নোয়াখালী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. নিজাম উদ্দিন। প্রায় ৩৫ বছর ধরে গরু পালনের সঙ্গে জড়িত তিনি। শখের বশে চার বছর আগে নিজ বাড়িতে ছোট পরিসরে গড়ে তোলেন খামার। এবার তার খামারেই বড় হয়েছে জেলার সবচেয়ে বড় গরু রাজাবাবু। খামার সূত্রে জানা গেছে, তিন বছর আগে কুমিল্লার নিমসার বাজার থেকে বাছুর অবস্থায় রাজাবাবুকে কিনে আনেন নিজাম উদ্দিন। দেশীয় ও প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে গরুটিকে লালন-পালন করা হয়েছে। বর্তমানে গরুটির ওজন এক হাজার কেজিরও বেশি। এর দাম হাঁকা হয়েছে ১৩ লাখ টাকা। একই খামারে বড় হওয়া বাহাদুরের ওজন প্রায় ৯০০ কেজির বেশি, যা প্রায় ২৩ মণের সমান। গরুটির দাম চাওয়া হচ্ছে ১১ লাখ টাকা। এ ছাড়া, খামারে ছোট ও মাঝারি আকারের আরও কয়েকটি গরু বিক্রির জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে শেষ মুহূর্তের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারি নিজাম উদ্দিন ও তার পরিবার। ছেলে রাহাত হোসেন, স্ত্রী কামরুন নাহারসহ পরিবারের সদস্যরাই গরুগুলোর দেখভাল করছেন। খামারে কাজ করেন আবুল কালাম নামের এক কর্মচারীও। খামারি ইউপি সদস্য মো. নিজাম উদ্দিন বলেন, গত তিন বছর ধরে রাজাবাবু ও বাহাদুরকে দেশীয় পদ্ধতিতে লালন-পালন করছি। রাজাবাবুর ওজন ২৫ মণ আর বাহাদুরের প্রায় ২৩ মণ। রাজাবাবুর দাম ১৩ লাখ এবং বাহাদুরের দাম ১১ লাখ টাকা নির্ধারণ করেছি। ২৪ লাখ টাকার কমে বিক্রি করলে আমাদের ক্ষতি হবে। তিনি আরও বলেন, অসৎ কোনো উপায়ে গরু মোটাতাজা করিনি। প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে বড় করেছি। কম দামে বিক্রি করার চেয়ে খামারে রেখে আরও এক বছর পালন করবো। খামারির ছেলে রাহাত হোসেন বলেন, ছোটবেলা থেকেই গরু দুটিকে পরিবারের সদস্যের মতো করে বড় করেছি। তাদের খাবার, পরিচর্যা সবকিছুতেই আমরা বিশেষ যত্ন নিয়েছি। এখন মানুষ দূর-দূরান্ত থেকে দেখতে আসছে, ভালো লাগছে। খামারির স্ত্রী কামরুন নাহার বলেন, রাজাবাবু একটু উত্তেজিত স্বভাবের, তবে বাহাদুর অনেক শান্ত। আমাকে দেখলেই দুটোই শান্ত হয়ে যায়। ওরা এখন আমাদের পরিবারেরই সদস্য। গরু দেখতে আসা সম্ভাব্য ক্রেতা মো. সেলিম রেজা বলেন, নোয়াখালীতে এত বড় ও সুস্থ গরু খুব কমই দেখা যায়। রাজাবাবু ও বাহাদুর দুটিই দেখতে বেশ আকর্ষণীয় এবং পরিচর্যাও ভালো হয়েছে। দাম কিছুটা বেশি হলেও যারা বড় ও ব্যতিক্রমী গরু কোরবানির জন্য কিনতে চান, তাদের কাছে গরু দুটি বেশ পছন্দের হবে। আমি নিজেও দামাদামি করছি, এখন দেখি শেষ পর্যন্ত ক্রয় করা যায় কি না। সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. তাসলীমা ফেরদৌসী বলেন, নোয়াখালী জেলায় ১ হাজার কেজির বেশি ওজনের গরু বর্তমানে রাজাবাবু ছাড়া আর নেই। তাই এটিই জেলার সবচেয়ে বড় গরু। এ ছাড়া, বাহাদুরও প্রায় ৯০০ কেজির ওপরে। গরুগুলোর স্বাস্থ্য, ভ্যাকসিন ও সার্বিক বিষয়ে নিয়মিত খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। এ বছর গো খাদ্যের অতিরিক্ত দাম হওয়ায় গরুর পেছনে অনেক খরচ হচ্ছে। যদি ন্যায্যমূল্য পায় তাহলে খামারির মুখে হাসি ফুটবে। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, প্রাণিসম্পদ বিভাগ ছোট-বড় সব খামারির পাশে রয়েছে। এ বছর জেলায় কোরবানির পশুর পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। ন্যায্য দাম পেলে খামারিরা লাভবান হবেন বলে আমরা আশা করছি।

নোয়াখালীর সেনবাগে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৩০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এক শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে সেনবাগ থানা পুলিশ। মঙ্গলবার (১৯ মে ২০২৬) সেনবাগ থানাধীন ছাতারপাইয়া গ্রামস্থ বৈশার বাপের পুল সংলগ্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি হলেন মোঃ নিজাম উদ্দিন (২৭)। তিনি ছাতারপাইয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের আম্বর আলী চৌকিদার বাড়ীর বাসিন্দা এবং আমির হোসেনের ছেলে। পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে পূর্বে ০৯টি মাদক মামলার এজাহার রয়েছে। সেনবাগ থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তার কাছ থেকে ৩০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়। পুলিশ আরও জানায়, মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং মাদকের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নোয়াখালীর জেলা শহর মাইজদীতে অবৈধভাবে কমপ্রেসড ন্যাচারাল গ্যাস (সিএনজি) গ্যাস ব্যবহার করে রান্নার দায়ে ‘নিউ ভোজন বিলাস’ নামে একটি রেস্তোরাঁকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে রেস্তোরাঁটি সিলগালা এবং গ্যাস বহনে ব্যবহৃত একটি পিকআপ জব্দ করা হয়েছে। সোমবার (১৮ মে) রাত ১১টার দিকে শহরের হাসপাতাল সড়কে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) তথ্যের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করেন সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহনেওয়াজ তানভীর। ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, একটি পিকআপে করে সিএনজি ফিলিং স্টেশন থেকে গ্যাস ভর্তি করে এনে পাইপলাইনের মাধ্যমে রেস্তোরাঁয় রান্নার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছিল। বিষয়টি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে রেস্তোরাঁ মালিককে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা এবং গ্যাস পরিবহনে ব্যবহৃত পিকআপটি জব্দ করা হয়। অভিযানে সুধারাম মডেল থানা পুলিশ সহযোগিতা করে। সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহনেওয়াজ তানভীর বলেন, অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণভাবে সিএনজি গ্যাস ব্যবহার জননিরাপত্তার জন্য হুমকি। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার বাসিন্দা নাজিয়া আবু লেহিয়ার ইচ্ছে ছিল স্বামীর সঙ্গে মক্কায় হজ করতে যাবেন। ২০২৪ সালে চেষ্টাও করেছিলেন নাজিয়া এবং তার স্বামী, কিন্তু সীমান্ত বন্ধ থাকায় পারেননি। চলতি বছরও হজ পালন করা হবে না নাজিয়ার, কারণ সীমান্ত এখনও বন্ধ আছে এবং গত বছর নাজিয়ার স্বামী ইসরায়েলি বোমার আঘাতে নিহত হয়েছেন। তাদের বাড়ি-ঘরও ভেঙে গেছে, বর্তমানে দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস একটি তাঁবুতে থাকছেন নাজিয়া। নাজিয়ার সঙ্গে তার তাঁবুতে বসে কথা বলেছে এএফপি। বার্তাসংস্থা এএফপিকে নাজিয়া বলেন, “আমি এবং আমার স্বামী ২০২৪ সালের হজের জন্য নাম নিবন্ধন করেছিলাম, সিলেক্টও হয়েছিলাম। কিন্তু এর মধ্যেই যুদ্ধ শুরু হয়ে গেলো, সীমান্ত বন্ধ হয়ে গেলো…আমাদের আর হজে যাওয়া হলো না।” “ভেবেছিলাম, যুদ্ধ শেষ হলে সীমান্ত খুলে দেওয়া হবে; কিন্তু গত বছর এক বোমা হামলায় স্বামী নিহত হয়েছেন।” ৬৪ বছর বয়সী নাজিয়া বলেন, “আমি হজের নিয়্যত করেছি বেশ কয়েক বছর আগে। আমার মাঝে মাঝে দুশ্চিন্তা হয় যে আমিও হয়তো তার (স্বামী) মতো কোনো একদিন নিহত হবো, কিন্তু তারপরও এখনও আশা ছাড়িনি। যদি আল্লাহর ইচ্ছে হয়— অবশ্যই আমি একদিন হজ করতে পারব।” যুদ্ধের আগে গাজার হজযাত্রীরা রাফা ক্রসিং পেরিয়ে মিসর হয়ে সৌদি আরবে হজ করতে যেতেন। তবে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর গাজাবাসীদের ‘লাইফলাইন’ হিসেবে পরিচিত এ ক্রসিং বন্ধ করে দেয় ইসরায়েল। যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর থেকে গাজায় যে যুদ্ধবিরতি শুরু হয়েছে, তার আওতায় চলতি বছর ফেব্রুয়ারি মাস থেকে রাফা ক্রসিং আংশিক ভাবে খুলে দিয়েছে ইসরায়েল; কিন্তু সপ্তাহে মাত্র কয়েক শ গাজাবাসীকে এই সীমান্তপথ পেরোনোর অনুমতি দিচ্ছে ইসরায়েল। মূলত অসুস্থ বা আহতদেরই এক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। নিজের মোবাইলে হজের ভিডিও ফুটেজ দেখতে দেখতে নাজিয়া বলেন, “হজযাত্রীদের জন্য সীমান্ত বন্ধ রাখা হয়েছে, কিন্তু কেন? হজযাত্রীরা তো শুধু তাদের ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা পালন করতে চায়। আজ এই দিনে আমাদের মক্কায় থাকার কথা ছিল।” গাজার সীমান্ত ক্রসিং ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা ইসরায়েলি সামরিক সংস্থা কোগাট জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে কেবলমাত্র মানবিক কারণে রাফা ক্রসিং উন্মুক্ত করার বিষয়ে বলা আছে। হজযাত্রা এই ক্যাটাগরির মধ্যে পড়ে না। পশু কোরবানি বন্ধ ২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ বাঁধার আগ পর্যন্ত প্রতি বছর গাজার মুসলিমরা ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার গরু-উট এবং ৩০ হাজার থেকে ৪০ হাজার ভেড়া-দুম্বা আমদানি করত। কিন্তু যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজায় জীবন্ত পশু আমদানি বন্ধ আছে। ফলে ২০২৪ সাল থেকে পশু কোরবানি ছাড়াই ঈদুল আজহা উদযাপন করতে বাধ্য হচ্ছে গাজার ফিলিস্তিনিরা। গাজায় ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে আগামী ২৭ মে। কোগাট সূত্রে জানা গেছে, গত মাসে প্রায় ৮ হাজার টন মাংস, মুরগি, ডিম ও দুধ প্রবেশ করতে এবং তা গাজার বাসিন্দাদের মাঝে বিতরণের অনুমতি দিয়েছে ইসরায়েলের সরকার, তবে কোরবানির পশু আমদানির অনুমতি এখনও দেয়নি। সূত্র : এএফপি, এনডিটিভি অনলাইন

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় বাবার মরদেহ বাড়িতে রেখে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে আবতাহি উদ্দিন লাবিব নামের এক পরীক্ষার্থী। বুধবার (২০ মে) সকাল ১০টায় নোয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে জীববিজ্ঞান বিষয়ের পরীক্ষায় অংশ নেয় সে। লাবিব নোয়াখালী জিলা স্কুলের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। বিজ্ঞাপন লাবিবের বাবা চাটখিল মহিলা ডিগ্রি কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মফিদুল আলম আরজু। সোমবার (১৯ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৪ বছর। তিনি নোয়াখালী সদর উপজেলার জেলা বোর্ড কলোনীর বাসিন্দা ছিলেন। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বুধবার ছিল লাবিবের এসএসসি পরীক্ষার শেষ দিন। বাবার মৃত্যুর শোক বুকে নিয়েই সকালে পরীক্ষাকেন্দ্রে যায় সে। পরীক্ষা শেষে বাড়িতে ফিরে বাবার জানাজা ও দাফনে অংশ নেয়। এসময় সহপাঠীরাও তার পাশে ছিলেন। বুধবার বাদ জোহর নোয়াখালী কারামাতিয়া আলিয়া মাদরাসা মাঠে মফিদুল আলমের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে জেলা পরিষদ কলোনী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। বিজ্ঞাপন পরিবারের সদস্যরা জানান, হঠাৎ শারীরিক জটিলতা দেখা দিলে মফিদুল আলমকে ঢাকায় নেওয়া হয়। একটি বেসরকারি হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে আত্মীয়ের বাসায় অবস্থানকালে তিনি আকস্মিক অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। চিকিৎসকদের ধারণা, তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। শিক্ষাজীবনে মফিদুল আলম ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। তিনি ১৯৮৭ সালে কক্সবাজারের উখিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ১৯৮৯ সালে কক্সবাজার সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১৯৯৩ সালে বিএসসি (অনার্স) ও ১৯৯৪ সালে এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৯৯ সালের ১ মার্চ তিনি চাটখিল মহিলা ডিগ্রি কলেজে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। দীর্ঘ প্রায় ২৭ বছর ধরে তিনি সুনাম ও নিষ্ঠার সঙ্গে শিক্ষকতা করে আসছিলেন। সহকর্মীরা জানান, তিনি প্রতিদিন সোনাপুরের বাসা থেকে চাটখিল মহিলা কলেজে যাতায়াত করতেন। শিক্ষার্থীদের পাঠদানে নিবেদিত এই শিক্ষক প্রতিদিন দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েও নিয়মিত ক্লাস নিতেন। সহজ ও সাবলীল পাঠদানের কারণে শিক্ষার্থীদের কাছে তিনি ছিলেন অত্যন্ত জনপ্রিয়। তার মৃত্যুতে কলেজের গভর্নিং বডি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কলেজ প্রশাসন এক শোকবার্তায় মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে। চাটখিল মহিলা ডিগ্রি কলেজের উপাধ্যক্ষ ফারুক সিদ্দিকী ফরহাদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, একজন বাবার স্বপ্ন ছিল সন্তানের সফলতা, আর সেই স্বপ্ন পূরণের দায়িত্ববোধ থেকেই হয়তো লাবিব শোকের মাঝেও পরীক্ষার হলে বসেছে। বাবাকে হারানোর এই বেদনা ভাষায় প্রকাশের নয়। মরহুম মফিদুল আলম স্যার ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক ও আদর্শ মানুষ। তার কর্ম ও ভালোবাসা শিক্ষার্থী ও সহকর্মীদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। মহান আল্লাহ তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন এবং লাবিবসহ শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এই কঠিন সময় মোকাবেলার শক্তি দান করুন।

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-এর হযরত বিবি খাদিজা হলের দেয়ালে আপত্তিকর চিত্র অঙ্কন এবং নির্মাণ শ্রমিকদের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের উত্যক্ত করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে মধ্যরাতে বিক্ষোভ করেছেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা। বুধবার (২০ মে) রাত ১১টা থেকে প্রায় ১২টা পর্যন্ত হলের মূল ফটকে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ, স্লোগান ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন তারা। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা সাময়িকভাবে আন্দোলন স্থগিত করেন। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, গত কয়েকদিন ধরে হলের ছাদে ‘জলছাদ’ সংস্কারের কাজ চলছিল। কাজের জন্য প্রতিদিনই নির্মাণ শ্রমিকদের হল এলাকায় প্রবেশ করতে দেখা যায়। বুধবার কাজের শেষ দিনে দায়িত্বপ্রাপ্ত এক শ্রমিক হলের পেছনের ব্লকের ছাদে একটি আপত্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ ছবি এঁকে রেখে যান। পরে বিষয়টি কয়েকজন শিক্ষার্থীর নজরে আসলে মুহূর্তেই হলজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। দীর্ঘদিন ধরেই নির্মাণ কাজে নিয়োজিত কিছু শ্রমিক ছাত্রীদের উদ্দেশে অশোভন আচরণ করে আসছিলেন। ছাত্রীবাসে পুরুষ কর্মীদের প্রবেশের সময় নিয়ম অনুযায়ী হুইসেল বা বাঁশি বাজানোর কথা থাকলেও, অনেক শ্রমিক সেই নিয়মের অপব্যবহার করে ছাত্রীদের উদ্দেশে শিষ দিতেন এবং অশালীন ইঙ্গিত করতেন বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা। একাধিক শিক্ষার্থী জানান, এর আগেও শ্রমিকদের আচরণ নিয়ে হল প্রশাসনকে মৌখিকভাবে অবহিত করা হয়েছিল। কিন্তু দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় পরিস্থিতি দিন দিন আরও খারাপ হয়ে ওঠে। সর্বশেষ দেয়ালে আপত্তিকর চিত্র আঁকার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং তারা রাতেই বিক্ষোভে নামেন। বিক্ষোভ চলাকালে শিক্ষার্থীরা হলের নিরাপত্তা জোরদার, বহিরাগত শ্রমিকদের নিয়ন্ত্রণ, দায়ীদের শনাক্ত করে শাস্তির আওতায় আনা এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। এ সময় তারা বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান দেন এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন। রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন হযরত বিবি খাদিজা হলের সহকারী প্রভোস্ট নাজমুন নাহার ও তাসনিম আলম। তারা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে বলে আশ্বাস দেন। হলের সহকারী প্রভোস্ট তাসনিম আলম বলেন, শিক্ষার্থীদের অভিযোগ আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে শুনেছি। আগামীকাল সকালে প্রভোস্ট স্যারের উপস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। অভিযোগ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, হলের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ভবিষ্যতে যেন কোনো শিক্ষার্থী এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি না হন, সে বিষয়েও প্রশাসন সতর্ক থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আশ্বাসের পর রাত ১২টার দিকে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত করেন। তবে, দ্রুত দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আরও কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নোয়াখালীর কোরবানির পশুর হাটে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে দুটি বিশালাকৃতির গরু—‘রাজাবাবু’ ও ‘বাহাদুর’। শাহীওয়াল জাতের এই দুই গরুর ওজন যথাক্রমে ২৫ মণ ও ২৩ মণ। জেলার সদর উপজেলার চর উড়িয়া গ্রামের একটি খামারে বেড়ে ওঠা গরু দুটি দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন বিভিন্ন এলাকার মানুষ ও সম্ভাব্য ক্রেতারা। গরু দুটির মালিক নোয়াখালী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. নিজাম উদ্দিন। প্রায় ৩৫ বছর ধরে গরু পালনের সঙ্গে জড়িত তিনি। শখের বশে চার বছর আগে নিজ বাড়িতে ছোট পরিসরে গড়ে তোলেন খামার। এবার তার খামারেই বড় হয়েছে জেলার সবচেয়ে বড় গরু রাজাবাবু। খামার সূত্রে জানা গেছে, তিন বছর আগে কুমিল্লার নিমসার বাজার থেকে বাছুর অবস্থায় রাজাবাবুকে কিনে আনেন নিজাম উদ্দিন। দেশীয় ও প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে গরুটিকে লালন-পালন করা হয়েছে। বর্তমানে গরুটির ওজন এক হাজার কেজিরও বেশি। এর দাম হাঁকা হয়েছে ১৩ লাখ টাকা। একই খামারে বড় হওয়া বাহাদুরের ওজন প্রায় ৯০০ কেজির বেশি, যা প্রায় ২৩ মণের সমান। গরুটির দাম চাওয়া হচ্ছে ১১ লাখ টাকা। এ ছাড়া, খামারে ছোট ও মাঝারি আকারের আরও কয়েকটি গরু বিক্রির জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে শেষ মুহূর্তের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারি নিজাম উদ্দিন ও তার পরিবার। ছেলে রাহাত হোসেন, স্ত্রী কামরুন নাহারসহ পরিবারের সদস্যরাই গরুগুলোর দেখভাল করছেন। খামারে কাজ করেন আবুল কালাম নামের এক কর্মচারীও। খামারি ইউপি সদস্য মো. নিজাম উদ্দিন বলেন, গত তিন বছর ধরে রাজাবাবু ও বাহাদুরকে দেশীয় পদ্ধতিতে লালন-পালন করছি। রাজাবাবুর ওজন ২৫ মণ আর বাহাদুরের প্রায় ২৩ মণ। রাজাবাবুর দাম ১৩ লাখ এবং বাহাদুরের দাম ১১ লাখ টাকা নির্ধারণ করেছি। ২৪ লাখ টাকার কমে বিক্রি করলে আমাদের ক্ষতি হবে। তিনি আরও বলেন, অসৎ কোনো উপায়ে গরু মোটাতাজা করিনি। প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে বড় করেছি। কম দামে বিক্রি করার চেয়ে খামারে রেখে আরও এক বছর পালন করবো। খামারির ছেলে রাহাত হোসেন বলেন, ছোটবেলা থেকেই গরু দুটিকে পরিবারের সদস্যের মতো করে বড় করেছি। তাদের খাবার, পরিচর্যা সবকিছুতেই আমরা বিশেষ যত্ন নিয়েছি। এখন মানুষ দূর-দূরান্ত থেকে দেখতে আসছে, ভালো লাগছে। খামারির স্ত্রী কামরুন নাহার বলেন, রাজাবাবু একটু উত্তেজিত স্বভাবের, তবে বাহাদুর অনেক শান্ত। আমাকে দেখলেই দুটোই শান্ত হয়ে যায়। ওরা এখন আমাদের পরিবারেরই সদস্য। গরু দেখতে আসা সম্ভাব্য ক্রেতা মো. সেলিম রেজা বলেন, নোয়াখালীতে এত বড় ও সুস্থ গরু খুব কমই দেখা যায়। রাজাবাবু ও বাহাদুর দুটিই দেখতে বেশ আকর্ষণীয় এবং পরিচর্যাও ভালো হয়েছে। দাম কিছুটা বেশি হলেও যারা বড় ও ব্যতিক্রমী গরু কোরবানির জন্য কিনতে চান, তাদের কাছে গরু দুটি বেশ পছন্দের হবে। আমি নিজেও দামাদামি করছি, এখন দেখি শেষ পর্যন্ত ক্রয় করা যায় কি না। সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. তাসলীমা ফেরদৌসী বলেন, নোয়াখালী জেলায় ১ হাজার কেজির বেশি ওজনের গরু বর্তমানে রাজাবাবু ছাড়া আর নেই। তাই এটিই জেলার সবচেয়ে বড় গরু। এ ছাড়া, বাহাদুরও প্রায় ৯০০ কেজির ওপরে। গরুগুলোর স্বাস্থ্য, ভ্যাকসিন ও সার্বিক বিষয়ে নিয়মিত খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। এ বছর গো খাদ্যের অতিরিক্ত দাম হওয়ায় গরুর পেছনে অনেক খরচ হচ্ছে। যদি ন্যায্যমূল্য পায় তাহলে খামারির মুখে হাসি ফুটবে। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, প্রাণিসম্পদ বিভাগ ছোট-বড় সব খামারির পাশে রয়েছে। এ বছর জেলায় কোরবানির পশুর পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। ন্যায্য দাম পেলে খামারিরা লাভবান হবেন বলে আমরা আশা করছি।

নোয়াখালীর সেনবাগে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৩০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এক শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে সেনবাগ থানা পুলিশ। মঙ্গলবার (১৯ মে ২০২৬) সেনবাগ থানাধীন ছাতারপাইয়া গ্রামস্থ বৈশার বাপের পুল সংলগ্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি হলেন মোঃ নিজাম উদ্দিন (২৭)। তিনি ছাতারপাইয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের আম্বর আলী চৌকিদার বাড়ীর বাসিন্দা এবং আমির হোসেনের ছেলে। পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে পূর্বে ০৯টি মাদক মামলার এজাহার রয়েছে। সেনবাগ থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তার কাছ থেকে ৩০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়। পুলিশ আরও জানায়, মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং মাদকের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

"জনবান্ধব অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্থাপনা: সুরক্ষিত ভূমি, সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ"এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নোয়াখালী সুবর্ণচর উপজেলায় বর্ণাঢ্য র্যালি ও সেমিনারের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে ভূমি সেবা মেলা-২০২৬। এ মেলা আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য হলো ভূমিসেবা সহজীকরণ, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও নাগরিক সেবা সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা এবং প্রান্তিক পর্যায়ে সেবাগুলো পৌঁছে দেওয়া। আজ ১৯ মে (মঙ্গলবার) সকালে সুবর্ণচর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা ভূমি অফিস থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালী বের হয়ে উপজেলা কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়। এ সময় র্যালিতে ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সুধীসমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ র্যালিটিকে সর্বস্তরের মানুষের মাঝে আকর্ষণীয় করে তোলে। পরে উপজেলা হল রুমে জনসচেতনতানূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা কমিশনার (ভূমি) চেনমং রাখাইন এর সভাপতিত্বে সেমিনারে বক্তব্য প্রদান করেন, উপজেলা মৎস্য অফিসার ফয়েজুর রহমান, উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার ফখরুল ইসলাম, উপজেলা আনসার ভিডিপির কর্মকর্তা কামরুন নাহার মর্জিনা প্রমুখ। চেনমং রাখাইন বলেন, আধুনিক ও ডিজিটাল পদ্ধতিতে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সহজে ভূমি সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই মেলার আয়োজন। মেলা চলাকালীন নাগরিকেরা ই-নামজারি, খতিয়ান, ভূমি উন্নয়ন কর প্রদানসহ ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন ডিজিটাল সেবা ও পরামর্শ সরাসরি গ্রহণ করতে পারবেন। ভূমি মন্ত্রণালয় ও উপজেলা প্রশাসন যৌথ আয়োজনে এই মেলা আগামী ৩দিন ব্যাপী সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

নোয়াখালীর জেলা শহর মাইজদীতে অবৈধভাবে কমপ্রেসড ন্যাচারাল গ্যাস (সিএনজি) গ্যাস ব্যবহার করে রান্নার দায়ে ‘নিউ ভোজন বিলাস’ নামে একটি রেস্তোরাঁকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে রেস্তোরাঁটি সিলগালা এবং গ্যাস বহনে ব্যবহৃত একটি পিকআপ জব্দ করা হয়েছে। সোমবার (১৮ মে) রাত ১১টার দিকে শহরের হাসপাতাল সড়কে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) তথ্যের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করেন সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহনেওয়াজ তানভীর। ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, একটি পিকআপে করে সিএনজি ফিলিং স্টেশন থেকে গ্যাস ভর্তি করে এনে পাইপলাইনের মাধ্যমে রেস্তোরাঁয় রান্নার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছিল। বিষয়টি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে রেস্তোরাঁ মালিককে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা এবং গ্যাস পরিবহনে ব্যবহৃত পিকআপটি জব্দ করা হয়। অভিযানে সুধারাম মডেল থানা পুলিশ সহযোগিতা করে। সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহনেওয়াজ তানভীর বলেন, অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণভাবে সিএনজি গ্যাস ব্যবহার জননিরাপত্তার জন্য হুমকি। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।

মেঘনা নদীর ভয়াবহ ভাঙন রোধে আগামী অর্থবছর থেকেই স্থায়ী প্রতিরক্ষা কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেন, বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন প্রতিরোধের কাজও শুরু করা হয়েছে। রোববার (১৭ মে) দুপুরে নোয়াখালীর সুবর্ণচরের মেঘনা নদীভাঙন কবলিত মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের কাটাখালি বাজার ও আশপাশের এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, চোখের সামনে মানুষের বসতভিটা, বাজার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। জনগণের জানমাল রক্ষা করা সরকারের দায়িত্ব। সে কারণেই আমরা সরেজমিনে পরিস্থিতি দেখতে এসেছি। তিনি বলেন, সামনে বর্ষা মৌসুম থাকায় জরুরি ভিত্তিতে ‘ইমার্জেন্সি ওয়ার্ক’ হাতে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকটি পয়েন্টে দ্রুত কাজ শুরু করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্থায়ী সমাধানের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সুবর্ণচরের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি একটি টেকসই বাঁধ নির্মাণ। যেখানে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, সেখানে স্থায়ী কাজ করা হবে। স্টাডি রিপোর্ট শেষ হলে আগামী অর্থবছরের মধ্যেই প্রকল্প বাস্তবায়নের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে। তিনি আরও বলেন, উড়িরচর, স্বর্ণদ্বীপ ও ভাসানচরসহ হাতিয়ার ভাঙনকবলিত এলাকাগুলোতেও সরকারের বিশেষ নজর রয়েছে। এসব এলাকায় ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রকল্প চলমান রয়েছে। সরকারের কার্যক্রম প্রসঙ্গে শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সরকার জনগণের স্বার্থে কাজ করছে। উন্নয়ন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি সেক্টরে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এ সময় স্থানীয়রা নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে দ্রুত কার্যকর প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান। পরে মন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শাহজাহান, জেলা প্রশাসক শফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার এটিএম মোশাররফ হোসেন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর চৌধুরী আলো, সদস্য সচিব হারুন অর রশীদ আজাদ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা।

হামের টিকা নিয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্তের নির্দেশনা চেয়ে রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। একইসঙ্গে, সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস ও সাবেক সব উপদেষ্টাসহ ২৪ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে রিটে। হামের টিকাকে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা থেকে বেসরকারি খাতে দেওয়ার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে রোববার (১৭ মে) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম আশরাফুল ইসলাম এ রিট আবেদন দায়ের করেন। রিটে তদন্ত কমিটি গঠন ও ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ উপদেষ্টা পরিষদের সব সদস্যের বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। রিটে কেবিনেট সচিব, স্বাস্থ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, মন্ত্রিপরিষদসচিব, জনপ্রশাসন সচিব,, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সরকারের সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে। এর আগে গত ৬ এপ্রিল নোটিশ পাঠানো হয়। সেদিন ব্যারিস্টার মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম জানান, সারাদেশে অকস্মাৎ বিলুপ্ত রোগ হাম-এর মারাত্মক প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে শতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং অগণিত শিশু ও সাধারণ নাগরিক হাম-এ আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। হামের মতো টিকাকরণের ব্যবস্থাকে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা থেকে প্রাইভেট খাতে দেওয়ার অশুভ অপরাধ মূলক কর্মকান্ডের স্বার্থে জড়িত থাকায় এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠনপূর্বক তদন্তের দাবি জানিয়ে এবং ড. মুহাম্মদ ইউনূস, ড. আসিফ নজরুল, সৈয়দ রিজওয়ানা হাসান, আদিলুর রহমান খাঁন শুভ্র, নূর জাহান বেগম, ব্রিগেডিয়ার (অব.) সাখাওয়াত হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, মোস্তফা সরয়ার ফারুকীসহ সব উপদেষ্টা, সাবেক প্রধান উপদেষ্টার প্রেস-সচিব শফিকুল আলম এবং সংশ্লিষ্ট সব সাবেক ব্যক্তিগত সহকারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য সরকারের প্রতি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

আফ্রিকার দেশ কঙ্গোতে ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্যের জন্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশে এ প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। রোববার (১৭ মে) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত প্রায় ২৪৬টি সন্দেহভাজন সংক্রমণ এবং ৮০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে পরিস্থিতি এখনও বৈশ্বিক মহামারির মানদণ্ডে পৌঁছায়নি। সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়াসুস বলেন, বর্তমানে আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা ও রোগের ভৌগোলিক বিস্তার নিয়ে ‘বিরাট অনিশ্চয়তা’ রয়েছে। স্বাস্থ্য সংস্থাটি জানিয়েছে, এবারের ইবোলা সংক্রমণ ‘বুন্ডিবুগিও’ ভাইরাসজনিত। এর বিরুদ্ধে এখনো কোনো অনুমোদিত ওষুধ বা টিকা নেই। এখন পর্যন্ত ভাইরাসটির আটটি পরীক্ষাগারে নিশ্চিত সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া ইতুরি প্রদেশের রাজধানী বুনিয়া এবং স্বর্ণখনি এলাকা মংগওয়ালু ও রওয়াম্পারায় আরও অনেক সন্দেহভাজন রোগী ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ভাইরাসটি ডিআর কঙ্গোর সীমানা ছাড়িয়ে প্রতিবেশী উগান্ডাতেও পৌঁছেছে, যেখানে দুটি নিশ্চিত সংক্রমণের খবর পাওয়া গেছে। উগান্ডার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার মারা যাওয়া ৫৯ বছর বয়সী এক ব্যক্তির শরীরে ইবোলা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডিআর কঙ্গোর প্রতিবেশী দেশগুলোকে উচ্চ ঝুঁকিতে বিবেচনা করা হচ্ছে। কারণ সীমান্তবর্তী অঞ্চলে মানুষের চলাচল, বাণিজ্য ও ভ্রমণ অব্যাহত রয়েছে। ডব্লিউএইচও ডিআর কঙ্গো ও উগান্ডাকে জরুরি অপারেশন সেন্টার স্থাপনের আহ্বান জানিয়েছে। রোগ পর্যবেক্ষণ, সংক্রমণ শনাক্তকরণ ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য এ অনুরোধ জানানো হয়েছে। নিশ্চিত রোগীদের দ্রুত আলাদা করে চিকিৎসাসেবা দেওয়া এবং অন্তত ৪৮ ঘণ্টা ব্যবধানে করা দুটি বুন্ডিবুগিও ভাইরাস-নির্দিষ্ট পরীক্ষার ফল নেগেটিভ না আসা পর্যন্ত সংক্রমিতদের পর্যবেক্ষণে রাখার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি। এছাড়া যেসব দেশের সীমান্ত আক্রান্ত অঞ্চলের কাছাকাছি, তাদের নজরদারি ও স্বাস্থ্য-রিপোর্টিং ব্যবস্থা জোরদার করার পরামর্শও দিয়েছে ডব্লিউএইচও। তবে সংস্থাটি বলেছে, আক্রান্ত অঞ্চলের বাইরের দেশগুলোর সীমান্ত বন্ধ করা বা ভ্রমণ ও বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রয়োজন নেই। এ ধরনের পদক্ষেপ সাধারণত ভয় থেকে নেওয়া হয় এবং এর পেছনে বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। ইবোলা ভাইরাস প্রথম শনাক্ত হয় ১৯৭৬ সালে বর্তমান ডিআর কঙ্গো এলাকায়। ধারণা করা হয়, বাদুড় থেকে এ ভাইরাস মানুষের মধ্যে ছড়িয়েছে। দেশটিতে এটি এখন পর্যন্ত ১৭তম ইবোলা প্রাদুর্ভাব। ভাইরাসটি আক্রান্ত ব্যক্তির শারীরিক তরল বা ক্ষতস্থানের সংস্পর্শের মাধ্যমে ছড়ায় এবং এটি তীব্র রক্তক্ষরণ ও অঙ্গ বিকল করে দিতে পারে। প্রাথমিক উপসর্গের মধ্যে রয়েছে জ্বর, পেশীতে ব্যথা, দুর্বলতা, মাথাব্যথা ও গলাব্যথা। পরে বমি, ডায়রিয়া, ত্বকে ফুসকুড়ি ও রক্তক্ষরণ দেখা দিতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইবোলার এখনো কোনো নিশ্চিত চিকিৎসা নেই। ডব্লিউএইচওর তথ্যমতে, এ রোগে গড়ে মৃত্যুহার প্রায় ৫০ শতাংশ।

নোয়াখালী-২ (সেনবাগ-সোনাইমুড়ী আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবেদীন ফারুক বলেছেন, ‘তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী—স্বর্ণের চেইন পরা গলার কোনো সচ্ছল মানুষ যেন ফ্যামিলি কার্ড না পায়। সেদিকে আপনাদের কঠোর দৃষ্টি রাখতে হবে।’ শনিবার (১৬ মে) বিকেলে নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় ‘এক আইডি এক পরিবার’ কর্মসূচির আওতায় গরিব ও দুস্থ মানুষের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘মানুষের কাছে আড়াই হাজার টাকা বড় কথা নয়; বড় কথা হলো নেতা তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছেন।’ ভার্চুয়ালি যুক্ত হওয়া শীর্ষ নেতৃত্বের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আমরা কী পেয়েছি বা কী পাইনি, সেটা আমাদের বিবেচ্য নয়। আমরা সবার আগে পেয়েছি বাংলাদেশ। আমরা চাই দুর্নীতিমুক্ত, ঘুষমুক্ত ও কিশোর গ্যাংমুক্ত বাংলাদেশ। ইয়াবা ও রাস্তায় ইভটিজিং বন্ধের বাংলাদেশ। সর্বোপরি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের সর্বোচ্চ উন্নয়ন চাই।’ অনুষ্ঠানে সেনবাগ উপজেলার ৪নং কাদরা ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ৩৮৮ জন নারীর মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হয়। উপজেলা মডেল মসজিদ কমপ্লেক্স ভবনে উৎসবমুখর পরিবেশে উপকারভোগী নারীদের হাতে কার্ড তুলে দেওয়া হয়। এর আগে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সারাদেশে একযোগে এই কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যায়ের উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ৩৮৮টি উপকারভোগী পরিবারের সদস্যদের মোবাইল ফোনে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে অর্থ সহায়তা পৌঁছে যায়। মোবাইল ফোনে অর্থ সহায়তার বার্তা পেয়ে উপস্থিত নারীদের মাঝে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। পরে নির্বাচিত নারীদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন জয়নুল আবেদীন ফারুক। মাদক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জেলা পুলিশ সুপারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আপনি যে অফিসার পাঠাবেন, সেখানে যদি কোনো বিএনপি নেতাও ইয়াবা ব্যবসায়ী হয়, সে কিন্তু পুলিশ অফিসারকে ম্যানেজ করবে। যেহেতু সরকার বিএনপির, সেদিকে আপনাকে নজর রাখতে হবে। সে বিএনপি হোক বা যে দলেরই হোক—ইয়াবা ব্যবসায়ী, রাস্তায় মেয়েদের ইভটিজার ও কিশোর গ্যাংয়ের আড্ডা যেদিন বন্ধ করতে পারবেন, সেদিনই আপনি একজন সৎ অফিসার।’ সেনবাগ উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম। এসময় উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালীর পুলিশ সুপার টি. এম. মোশাররফ হোসেন, সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক জে. এম. মিজানুর রহমান, সেনবাগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহসিয়া তাবাসসুম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) নূর পেয়ারা বেগমসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও সুবিধাভোগীরা।

শেষ বাঁশি বাজতেই যেন থমকে গেলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। স্টেডিয়ামের আলো তখনও ঝলমল করছে, গ্যালারিতে হাজারো দর্শকের গর্জন ধীরে ধীরে স্তিমিত হচ্ছে, কিন্তু আল নাসর তারকার চোখে তখন শুধু হতাশার ছায়া। হাঁটছিলেন, অথচ মনে হচ্ছিল পা যেন এগোচ্ছে না। ধীরে ধীরে ডাগআউটের বেঞ্চে গিয়ে বসে পড়লেন। এরপর ক্যামেরায় ধরা পড়ল এক অন্য রোনালদো—চোখ ভেজা, মুখ নিচু, বারবার হাত দিয়ে চোখ মুছছেন। শনিবার (১৬ মে) রাতে এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগ টু-এর ফাইনালে জাপানের গাম্বা ওসাকার কাছে ১-০ গোলে হেরে আরও একবার শিরোপাহীন থেকে গেল আল নাসর। আর সেই সঙ্গে দীর্ঘ হলো রোনালদোর ট্রফি খরাও। রিয়াদের কিং সৌদ ইউনিভার্সিটি স্টেডিয়ামে ফাইনালের আগে ফেভারিট ছিল সৌদি জায়ান্ট আল নাসরই। পুরো টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা দলটি টানা ১০ ম্যাচ জিতে ফাইনালে উঠেছিল। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে এসে ভেঙে গেল সেই ছন্দ। ম্যাচের ৩০তম মিনিটে ডেনিজ হুমেটের একমাত্র গোলেই ইতিহাস গড়ে গাম্বা ওসাকা। পুরো ম্যাচজুড়ে বল দখল, আক্রমণ, শট—সব পরিসংখ্যানেই এগিয়ে ছিল আল নাসর। তারা নেয় ২০টি শট, যেখানে গাম্বা ওসাকার ছিল মাত্র ৩টি। লক্ষ্যে শটও ছিল ৬-১ ব্যবধানে আল নাসরের পক্ষে। কিন্তু গোলটাই যে ফুটবলের শেষ কথা, সেটাই আবার মনে করিয়ে দিল জাপানি ক্লাবটি। রোনালদো ছিলেন সবচেয়ে বেশি সক্রিয়। ম্যাচে ৫টি শট নিয়েছেন তিনি, প্রতিপক্ষের বক্সে সবচেয়ে বেশি ৭ বার বল স্পর্শও তারই। সাদিও মানে, জোয়াও ফেলিক্সরাও একের পর এক সুযোগ তৈরি করেছিলেন। কিন্তু ১৮ বছর বয়সী গোলরক্ষক রুই আরাকি যেন একাই দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। ফেলিক্সের শক্তিশালী শট, মানের কাছাকাছি সুযোগ কিংবা রোনালদোর নিশ্চিত গোল—সবই থামিয়ে দেন এই তরুণ গোলরক্ষক। বিশেষ করে ৮৬তম মিনিটে রোনালদোর প্রায় নিশ্চিত গোললাইন প্রচেষ্টা জেন্তা মিউরার ব্লকে কর্নারে পরিণত হলে হতাশা আরও বাড়ে। শেষ দিকে মরিয়া হয়ে আক্রমণ চালিয়েও সমতায় ফিরতে পারেনি আল নাসর। ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানেও দেখা যায়নি রোনালদোকে। সাধারণত অধিনায়ক হিসেবেই সবার আগে রানার্সআপ পদক নিতে হয়। কিন্তু আল নাসরের খেলোয়াড়েরা কোচের সঙ্গে মঞ্চে উঠলেও রোনালদো ছিলেন দূরে। হতাশা যেন তাকে গিলে ফেলেছিল। এই হার রোনালদোর জন্য শুধুই আরেকটি ফাইনাল হার নয়, বরং আরও দীর্ঘ হওয়া এক শিরোপা অপেক্ষার গল্প। ইউরোপে পাঁচটি চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতা, অসংখ্য রেকর্ড গড়া এই পর্তুগিজ মহাতারকা আল নাসরে যোগ দেওয়ার পর এখন পর্যন্ত কোনো স্বীকৃত বড় ট্রফি জিততে পারেননি। ২০২৩ সালে সৌদি ক্লাবটিতে যোগ দেওয়ার পর তিনি ১৪টি প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন, কিন্তু প্রতিবারই শিরোপা হাতছাড়া হয়েছে। রোনালদোর শেষ বড় ক্লাব ট্রফি ছিল জুভেন্টাসের হয়ে কোপা ইতালিয়া জয়। এরপর কেটে গেছে পাঁচ বছর। এর মধ্যে সৌদি প্রো লিগ, কিংস কাপ, সৌদি সুপার কাপ ও মহাদেশীয় প্রতিযোগিতা—সব জায়গাতেই হতাশা সঙ্গী হয়েছে তার। যদিও আরব ক্লাব চ্যাম্পিয়নস কাপ জিতেছিল আল নাসর, তবে সেটিকে ফিফা বা এএফসির আনুষ্ঠানিক শিরোপা হিসেবে ধরা হয় না। ফলে রোনালদোর অফিসিয়াল ক্যারিয়ারে সেই ট্রফির স্বীকৃতি নিয়ে বিতর্ক থেকেই গেছে। তবে সব শেষ হয়ে যায়নি এখনো। সৌদি প্রো লিগে শিরোপার দৌড়ে এখনো এগিয়ে আছে আল নাসর। আল হিলালের চেয়ে দুই পয়েন্টে এগিয়ে থাকা দলটি বৃহস্পতিবার দামাক এফসির বিপক্ষে জিতলেই লিগ চ্যাম্পিয়ন হবে। সেটাই এখন রোনালদোর সামনে শেষ সুযোগ। তার আগে পর্যন্ত হয়তো শনিবার রাতের সেই দৃশ্যই ঘুরে ফিরে আসবে ফুটবলপ্রেমীদের চোখে—এক কিংবদন্তি বসে আছেন ডাগআউটে, চোখ ভেজা, আরেকটি ট্রফি হাতছাড়া হওয়ার বেদনায় নীরব হয়ে।