

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহতের পর প্রতিবেশী দেশ ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রে দূতাবাস ভবনে হামলা চালিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা। এক প্রতিবেদনে এএফপি জানিয়েছে, যুদ্ধের কারণে সম্প্রতি ইরাকের মার্কিন দূতাবাস ভবনে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছিল। রোববার বেলা ১১ টার দিকে দূতাবাস ভবনের সামনে জড়ো হয় শত শত মানুষ। তাদের বেশিরভাগের পরনে ছিল কালো রঙের পোশাক এবং হাতে ছিল লাঠি-পাথর। দূতাবাসের সামনে নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় বিক্ষোভকারীদের এবং একসময় বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দিতে সক্ষম হয় নিরাপত্তা কর্মরা। এই সংঘর্ষে হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া আলী নামে এক ব্যক্তি এএফপিকে বলেন, “আমরা ইরাক থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে উৎখাত করতে চাই। এ করনেই এখানে এসেছি।”

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে চরম দারিদ্র্য ও মানবেতর জীবনযাপনের করা বিধবা আয়েশা বেগমের পাশে দাঁড়িয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির। তিন সন্তানকে নিয়ে পান্তা ভাত খেয়েই সেহরি-ইফতার করার সংবাদ প্রকাশের পর মানবিক উদ্যোগ হিসেবে তার জন্য ঘর নির্মাণের আশ্বাস দেন তিনি। একইসঙ্গে জরুরি প্রয়োজন মেটাতে নগদ অর্থ ও এক মাসের প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হয়েছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আয়েশা বেগমের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেন নাছির উদ্দীন নাছির। এ সময় তিনি তার পরিবারের সার্বিক খোঁজখবর নেন এবং দ্রুত একটি নিরাপদ ঘর নির্মাণে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন। পরে তার পক্ষ থেকে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা আয়েশা বেগমের বাড়িতে গিয়ে নগদ অর্থ ও এক মাসের প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেন। জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে দুর্ঘটনায় স্বামীকে হারানোর পর আয়েশা বেগম তিন সন্তানকে নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন। পরিবারের উপার্জনক্ষম কেউ না থাকায় অনেক সময় না খেয়েই দিন পার করতে হয়েছে তাদের। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকা পোস্ট ডটকম 'পচা ভাত খেয়েই সেহরি-ইফতার, তিন সন্তান নিয়ে দিশেহারা বিধবা আয়েশা' সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আলোচনায় আসে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি বিভিন্ন মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। খবরটি নজরে আসার পর মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দ্রুত উদ্যোগ নেন ছাত্রদল নেতা নাছির উদ্দীন নাছির। তিনি বলেন, সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো সবার নৈতিক দায়িত্ব। আয়েশা বেগমের পরিবারের জন্য একটি নিরাপদ বাসস্থান নিশ্চিত করতে আমি ব্যক্তিগতভাবে সহযোগিতা করবো এবং ভবিষ্যতেও প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত থাকবে। তিনি আরও বলেন, যেহেতু আয়েশা বেগম মানবেতর জীবনযাপন করছেন, তাই দ্রুত খাদ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থ প্রদান করা হয়েছে। স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলাপ করে ঈদের আগেই কীভাবে ঘর করা যায় সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। বিধবা আয়েশা বেগম একা নন তার পাশে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল আছে। এদিন উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি নুরুল ইসলাম আজাদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুহিবুল্লাহ বাবুল, ইউনিয়ন কৃষক দলের আহ্বায়ক ডা. বোরহান, ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি জাফর উল্লাহ, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সুমন, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ফাহিমসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি নুরুল ইসলাম আজাদ বলেন, আয়েশা বেগম দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করছিলেন। ছাত্রদল নেতা নাছির উদ্দীন নাছিরের পক্ষ থেকে ঘর নির্মাণের আশ্বাস এবং খাদ্য সহায়তা পাওয়ায় পরিবারটির মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। আমরা আশা প্রকাশ করি, দ্রুত ঘর নির্মাণকাজ বাস্তবায়িত হলে পরিবারটি নতুন করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে। স্থানীয় সবজি ব্যবসায়ী মো. সিরাজ উদ্দিন বলেন, সমাজের বিত্তবান ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা এগিয়ে এলে এমন অসহায় পরিবারগুলো নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখতে পারে। আয়েশা বেগমের প্রতি এই সহায়তা অন্যদেরও মানবিক কাজে উদ্বুদ্ধ করবে। নাছির উদ্দীন নাছির যে মানবিক সহায়তা হিসেবে পাশে দাঁড়িয়েছেন তাদের কাছে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। বিধবা আয়েশা বেগম বলেন, আমার কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়ানোর জন্য নাছির উদ্দীন নাছির ভাইয়ের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দিন। দীর্ঘদিন ধরে সন্তানদের নিয়ে খুব কষ্টে ছিলাম। আজ সাহায্য পেয়ে মনে হচ্ছে এখনও আমাদের কথা ভাবার মানুষ আছে। সবাইকে আমি ধন্যবাদ জানাই। এর আগে বিধবা আয়েশা বেগমের জন্য খাদ্যসামগ্রী পাঠিয়েছেন নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. শাহজাহান, পারি ফাউন্ডেশন, সুবর্নচর উপজেলা যুবদলের সভাপতি বেলাল হোসেন সুমন প্রমুখ।

দেশে শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। ২০২৫ সালে সারাদেশে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসার মোট ৪০৩ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। এর মধ্যে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই ১৩ থেকে ১৯ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরী। হতাশা ও অভিমান—এই দুটি কারণই সবচেয়ে বড় অনুঘটক হিসেবে উঠে এসেছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক সংগঠন আঁচল ফাউন্ডেশন আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। দেশের ১৬৫টি স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত আত্মহত্যা সংক্রান্ত প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে এ সমীক্ষা প্রকাশ করা হয়। জরিপের ফলে দেখা গেছে, ৪০৩ জন আত্মহননকারী শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৯০ জনই স্কুল পর্যায়ের। যা মোট ঘটনার ৪৭ দশমিক ৪০ শতাংশ। কলেজ পর্যায়ে ৯২ জন (২২.৮ শতাংশ), বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭৭ জন (১৯.১০ শতাংশ) এবং মাদ্রাসায় ৪৪ জন (১০.৭২ শতাংশ) শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, কৈশোরের সূচনালগ্নে আবেগীয় অস্থিরতা, পরিচয় সংকট এবং একাডেমিক চাপ শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। নারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি লিঙ্গভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, আত্মহত্যাকারীদের মধ্যে ২৪৯ জন (৬১.৮ শতাংশ) নারী এবং ১৫৪ জন (৩৮.২ শতাংশ) পুরুষ। স্কুল পর্যায়ে ১৩৯ জন নারী ও ৫১ জন পুরুষ, কলেজে ৫০ জন নারী ও ৪২ জন পুরুষ আত্মহত্যা করেছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে চিত্র কিছুটা ভিন্ন। সেখানে ৪১ জন পুরুষের বিপরীতে ৩৬ জন নারী শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। বিশ্লেষণে বলা হয়, কৈশোরে মেয়েরা পারিবারিক ও সামাজিক চাপ, সম্পর্কগত টানাপড়েন এবং আবেগীয় সংকটে বেশি ভঙ্গুর হয়ে পড়ছে। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পুরুষ শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা ও কর্মসংস্থান সংকট বড় ভূমিকা রাখতে পারে। হতাশা ও অভিমান প্রধান কারণ কারণভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, হতাশা ২৭.৭৯ শতাংশ এবং অভিমান ২৩.৩২ শতাংশ ঘটনার পেছনে দায়ী। হতাশাজনিত আত্মহত্যার ক্ষেত্রে নারী ৬২ জন (৫৫.৩৫ শতাংশ) এবং পুরুষ ৫০ জন (৪৪.৬৫ শতাংশ)। অভিমানে আত্মহত্যাকারীদের মধ্যে নারী ৫৮ জন (৬১.৭০ শতাংশ) ও পুরুষ ৩৬ জন (৩৮.২৯ শতাংশ)। একাডেমিক চাপে ৭২ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে, যার অধিকাংশই স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের এবং এর মধ্যে প্রায় ৭১ শতাংশ নারী। প্রেমঘটিত কারণে ৫৩ জন (১৩.১৫ শতাংশ), পারিবারিক টানাপড়েনে ৩২ জন (৭.৯৪ শতাংশ), মানসিক অস্থিতিশীলতায় ২৫ জন (৬.২০ শতাংশ) এবং যৌন নির্যাতনের কারণে ১৪ জন (৩.৪৭ শতাংশ) শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। সাইবার বুলিংয়ের কারণেও একজন নারী শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। বয়সভিত্তিক চিত্র সবচেয়ে উদ্বেগজনক ১৩ থেকে ১৯ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে আত্মহত্যার হার ৬৬.৫০ শতাংশ। এদের মধ্যে ১৯০ জন নারী ও ৭৮ জন পুরুষ। ২০ থেকে ২৫ বছর বয়সীদের মধ্যে আত্মহত্যার হার ২২.৬ শতাংশ; যেখানে পুরুষ ৫১ জন এবং নারী ৪০ জন। ১ থেকে ১২ বছর বয়সী ৪৪ জন শিশুর আত্মহত্যা সমাজের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বিভাগভিত্তিক পরিস্থিতি ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ১১৮ জন (২৯.২৪ শতাংশ) শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। চট্টগ্রামে ৬৩ জন (১৫.৬৩ শতাংশ), বরিশালে ৫৭ জন (১৪.৪ শতাংশ) এবং রাজশাহীতে ৫০ জন (১২.৪০ শতাংশ)। সমীক্ষায় বলা হয়, এটি কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের সমস্যা নয়; বরং জাতীয় পর্যায়ে বিস্তৃত এক সামাজিক সংকট। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের বিশ্লেষণ বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ৭৭ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪৪ জন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের, ১৭ জন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের, ৬ জন মেডিকেল কলেজের এবং ১০ জন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও অধিভুক্ত কলেজের শিক্ষার্থী। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আত্মহত্যার ক্ষেত্রে হতাশা (৩৬.৩৬ শতাংশ) এবং প্রেমঘটিত কারণ (২৯.৫৪ শতাংশ) উল্লেখযোগ্য। মানসিক অস্থিরতা দায়ী ১৮.১৮ শতাংশ ক্ষেত্রে। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে হতাশার হার আরও বেশি—৪৭.০৫ শতাংশ। এছাড়া অভিমান (১৭.৬৭ শতাংশ), পারিবারিক টানাপড়েন (১১.৭৬ শতাংশ) ও প্রেমঘটিত কারণ (৫.৮৮ শতাংশ) আত্মহত্যার পেছনে ভূমিকা রেখেছে। কাঠামোগত পরিবর্তনের আহ্বান সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, পরিবারে খোলামেলা যোগাযোগের অভাব, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পেশাদার কাউন্সেলিং ব্যবস্থার ঘাটতি এবং মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সামাজিক অজ্ঞতা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে। আঁচল ফাউন্ডেশন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলক মানসিক স্বাস্থ্য স্ক্রিনিং, শিক্ষক ও সহপাঠীদের প্রশিক্ষণ, সামাজিক স্টিগমা কমাতে প্রচারণা এবং প্রাথমিক পর্যায়ে সাইকো-সোশ্যাল প্রশিক্ষণ চালুর প্রস্তাব দিয়েছে। তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের জীবন রক্ষা করা নৈতিক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব। ২০২৫ সালের এই পরিসংখ্যান কেবল একটি প্রতিবেদন নয়; এটি ভবিষ্যতের জন্য সতর্কবার্তা। এখনই সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় পচা ভাত খেয়েই সেহরি-ইফতার করা তিন সন্তানসহ দিশেহারা জীবনযাপন করা বিধবা আয়েশা বেগমের পাশে দাঁড়িয়েছেন নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আকিব ওসমান। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তার হাতে এক মাসের খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। আয়েশা বেগম সুবর্ণচর উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের চরলক্ষ্মী গ্রামের মৃত আমির হোসেন লেদুর স্ত্রী। জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে দুর্ঘটনায় স্বামীকে হারানোর পর থেকেই তিন সন্তানকে নিয়ে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন তিনি। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির মৃত্যুতে তাদের জীবনে নেমে আসে দুর্ভোগ। এতিম হয়ে পড়ে তিন সন্তান— মো. সজিব, মো. সৌরভ ও মো. সবুজ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভাব-অনটনের কারণে অনেক সময় না খেয়ে কিংবা পঁচা ভাত খেয়েই সেহরি ও ইফতার করতে হচ্ছে পরিবারটিকে। বিদ্যুৎবিহীন জরাজীর্ণ ঝুপড়ি ঘরে মানবেতর জীবন কাটছে তাদের। নিহত আমির হোসেন পেশায় পিকআপ চালক ছিলেন। অন্যের গাড়ি ভাড়া নিয়ে সবজি পরিবহন করে সংসার চালাতেন। পরে জীবিকার তাগিদে গাছ টানার কাজে যুক্ত হন। ২০২৪ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর গাছ উত্তোলনের সময় একটি বড় গাছ ভেঙে তার ওপর পড়ে গেলে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। স্বামীর মৃত্যুর পর আয়েশা বেগমের পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তায় পড়ে যায়। উপার্জনের কোনো পথ না থাকায় অর্ধাহার-অনাহারে দিন কাটছে তাদের। আয়েশা বেগম বলেন, স্বামী মারা যাওয়ার পর তিন সন্তান নিয়ে খুব কষ্টে আছি। অনেক সময় ভালো খাবার জোটে না। সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে অসহায় লাগে। দুইটা ছেলে অসুস্থ। তাদের চিকিৎসা করাতে পারছি না। ইউএনও স্যার এক মাসের খাদ্য সামগ্রী দিয়েছেন। স্যারের জন্য দোয়া করি। স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. সিরাজ উদ্দিন বলেন, আমির হোসেন ছিলেন পরিশ্রমী ও হাসিখুশি মানুষ। মৃত্যুর সময় তার দাফনের খরচও এলাকাবাসী মিলে বহন করতে হয়েছিল। এখন তার পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে। তাদের একটা মাথা গোঁজার ঠাঁই দরকার। এ বিষয়ে ইউএনও আকিব ওসমান বলেন, পরিবারটির দুরবস্থার কথা জানতে পেরে তাৎক্ষণিকভাবে এক মাসের খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে চাল, ডাল, ছোলা, তেলসহ বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী ছিল। এছাড়াও ২টা কম্বল দিয়েছি। ভবিষ্যতেও প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় ১৩৩টি অধ্যাদেশের বিষয়ে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই উপস্থাপন করা হবে। পরে জাতীয় সংসদ সেগুলোর বিষয়ে কি করা হবে সেটা নির্ধারণ করবে। রোববার (১ মার্চ) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। গত দেড় বছর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করেছে। এর মধ্যে কতগুলো স্পর্শকাতর অধ্যাদেশ রয়েছে। বিএনপি এগুলোকে কীভাবে মূল্যায়ন করবে? এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় ১৩৩টি অধ্যাদেশ এবং একটি আদেশ জারি করা হয়েছে। জাতীয় সংসদ অধিবেশনের প্রথম দিনেই এই অধ্যাদেশগুলো উপস্থাপন করা হবে। পার্লামেন্টের নিয়ম অনুসারে সেই অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে হুবহু কোনগুলো গ্রহণ করবে তা জাতীয় সংসদে নির্ধারিত হবে। কিছু কিছু অধ্যাদেশ হয়তো সংশোধনীসহ গ্রহণ করা হতে পারে, সেটিও জাতীয় সংসদে নির্ধারিত হবে। আর কোনগুলো তাদের হয়তো প্রয়োজন হবে না, ল্যাপস হয়ে যাবে তাও জাতীয় সংসদে নির্ধারিত হবে। তিনি বলেন, সে বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয় কাজ করছে। আশাকরি সংসদ অধিবেশন শুরু হলে আপনারা সবাই এ বিষয়ে অবহিত হবেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় ১৩৩টি অধ্যাদেশের বিষয়ে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই উপস্থাপন করা হবে। পরে জাতীয় সংসদ সেগুলোর বিষয়ে কি করা হবে সেটা নির্ধারণ করবে। রোববার (১ মার্চ) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। গত দেড় বছর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করেছে। এর মধ্যে কতগুলো স্পর্শকাতর অধ্যাদেশ রয়েছে। বিএনপি এগুলোকে কীভাবে মূল্যায়ন করবে? এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় ১৩৩টি অধ্যাদেশ এবং একটি আদেশ জারি করা হয়েছে। জাতীয় সংসদ অধিবেশনের প্রথম দিনেই এই অধ্যাদেশগুলো উপস্থাপন করা হবে। পার্লামেন্টের নিয়ম অনুসারে সেই অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে হুবহু কোনগুলো গ্রহণ করবে তা জাতীয় সংসদে নির্ধারিত হবে। কিছু কিছু অধ্যাদেশ হয়তো সংশোধনীসহ গ্রহণ করা হতে পারে, সেটিও জাতীয় সংসদে নির্ধারিত হবে। আর কোনগুলো তাদের হয়তো প্রয়োজন হবে না, ল্যাপস হয়ে যাবে তাও জাতীয় সংসদে নির্ধারিত হবে। তিনি বলেন, সে বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয় কাজ করছে। আশাকরি সংসদ অধিবেশন শুরু হলে আপনারা সবাই এ বিষয়ে অবহিত হবেন।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহতের পর প্রতিবেশী দেশ ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রে দূতাবাস ভবনে হামলা চালিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা। এক প্রতিবেদনে এএফপি জানিয়েছে, যুদ্ধের কারণে সম্প্রতি ইরাকের মার্কিন দূতাবাস ভবনে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছিল। রোববার বেলা ১১ টার দিকে দূতাবাস ভবনের সামনে জড়ো হয় শত শত মানুষ। তাদের বেশিরভাগের পরনে ছিল কালো রঙের পোশাক এবং হাতে ছিল লাঠি-পাথর। দূতাবাসের সামনে নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় বিক্ষোভকারীদের এবং একসময় বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দিতে সক্ষম হয় নিরাপত্তা কর্মরা। এই সংঘর্ষে হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া আলী নামে এক ব্যক্তি এএফপিকে বলেন, “আমরা ইরাক থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে উৎখাত করতে চাই। এ করনেই এখানে এসেছি।”

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে চরম দারিদ্র্য ও মানবেতর জীবনযাপনের করা বিধবা আয়েশা বেগমের পাশে দাঁড়িয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির। তিন সন্তানকে নিয়ে পান্তা ভাত খেয়েই সেহরি-ইফতার করার সংবাদ প্রকাশের পর মানবিক উদ্যোগ হিসেবে তার জন্য ঘর নির্মাণের আশ্বাস দেন তিনি। একইসঙ্গে জরুরি প্রয়োজন মেটাতে নগদ অর্থ ও এক মাসের প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হয়েছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আয়েশা বেগমের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেন নাছির উদ্দীন নাছির। এ সময় তিনি তার পরিবারের সার্বিক খোঁজখবর নেন এবং দ্রুত একটি নিরাপদ ঘর নির্মাণে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন। পরে তার পক্ষ থেকে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা আয়েশা বেগমের বাড়িতে গিয়ে নগদ অর্থ ও এক মাসের প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেন। জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে দুর্ঘটনায় স্বামীকে হারানোর পর আয়েশা বেগম তিন সন্তানকে নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন। পরিবারের উপার্জনক্ষম কেউ না থাকায় অনেক সময় না খেয়েই দিন পার করতে হয়েছে তাদের। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকা পোস্ট ডটকম 'পচা ভাত খেয়েই সেহরি-ইফতার, তিন সন্তান নিয়ে দিশেহারা বিধবা আয়েশা' সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আলোচনায় আসে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি বিভিন্ন মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। খবরটি নজরে আসার পর মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দ্রুত উদ্যোগ নেন ছাত্রদল নেতা নাছির উদ্দীন নাছির। তিনি বলেন, সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো সবার নৈতিক দায়িত্ব। আয়েশা বেগমের পরিবারের জন্য একটি নিরাপদ বাসস্থান নিশ্চিত করতে আমি ব্যক্তিগতভাবে সহযোগিতা করবো এবং ভবিষ্যতেও প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত থাকবে। তিনি আরও বলেন, যেহেতু আয়েশা বেগম মানবেতর জীবনযাপন করছেন, তাই দ্রুত খাদ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থ প্রদান করা হয়েছে। স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলাপ করে ঈদের আগেই কীভাবে ঘর করা যায় সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। বিধবা আয়েশা বেগম একা নন তার পাশে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল আছে। এদিন উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি নুরুল ইসলাম আজাদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুহিবুল্লাহ বাবুল, ইউনিয়ন কৃষক দলের আহ্বায়ক ডা. বোরহান, ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি জাফর উল্লাহ, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সুমন, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ফাহিমসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি নুরুল ইসলাম আজাদ বলেন, আয়েশা বেগম দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করছিলেন। ছাত্রদল নেতা নাছির উদ্দীন নাছিরের পক্ষ থেকে ঘর নির্মাণের আশ্বাস এবং খাদ্য সহায়তা পাওয়ায় পরিবারটির মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। আমরা আশা প্রকাশ করি, দ্রুত ঘর নির্মাণকাজ বাস্তবায়িত হলে পরিবারটি নতুন করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে। স্থানীয় সবজি ব্যবসায়ী মো. সিরাজ উদ্দিন বলেন, সমাজের বিত্তবান ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা এগিয়ে এলে এমন অসহায় পরিবারগুলো নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখতে পারে। আয়েশা বেগমের প্রতি এই সহায়তা অন্যদেরও মানবিক কাজে উদ্বুদ্ধ করবে। নাছির উদ্দীন নাছির যে মানবিক সহায়তা হিসেবে পাশে দাঁড়িয়েছেন তাদের কাছে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। বিধবা আয়েশা বেগম বলেন, আমার কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়ানোর জন্য নাছির উদ্দীন নাছির ভাইয়ের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দিন। দীর্ঘদিন ধরে সন্তানদের নিয়ে খুব কষ্টে ছিলাম। আজ সাহায্য পেয়ে মনে হচ্ছে এখনও আমাদের কথা ভাবার মানুষ আছে। সবাইকে আমি ধন্যবাদ জানাই। এর আগে বিধবা আয়েশা বেগমের জন্য খাদ্যসামগ্রী পাঠিয়েছেন নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. শাহজাহান, পারি ফাউন্ডেশন, সুবর্নচর উপজেলা যুবদলের সভাপতি বেলাল হোসেন সুমন প্রমুখ।

ইরানর সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। ইরানের সরকারি বার্তাসংস্থা ফার্স নিউজের বরাতে জানা গেছে এ তথ্য। রোববার বাংলাদেশ সময় সকালে সরকারিভাবে তেহরান খামেনির নিহতের তথ্য নিশ্চিত করার পর এক বিবৃতিতে আইআরজিসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “আমরা একজন মহান নেতাকে হারিয়েছি এবং আমরা তার জন্য শোকাহত। মানবতার সবচেয়ে নিষ্ঠুর সন্ত্রাসী ও জল্লাদদের হাতে আমাদের মহান নেতার এই শাহাদাৎ বরণ প্রমাণ করে যে তার ব্যক্তিত্ব, নেতৃত্ব এবং দেশপ্রেম তাদের জন্য আতঙ্কজনক হয়ে উঠেছিল।” “যাদের হাতে আমাদের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হয়েছেন– তাদের এই জাতি ছাড়বে না। ইরান প্রতিশোধ নেবে এবং আইআরজিসি দেশি-বিদেশি যে কোনো ষড়যন্ত্র-কে নির্মূল করতে বদ্ধ পরিকর।” গতকাল ২৮ ফেব্রুয়ারি শনিবার ইরানে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল। তারপর গতকাল রাতেই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জানান যে খামেনি নিহত হয়েছেন। তার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও খামেনির নিহতের তথ্য নিশ্চিত করেন। আজ রোববার বাংলাদেশ সময় সকালে সরকারিভাবে খামেনি নিহত হওয়ার তথ্য স্বীকার করেছে ইরান। ৮৬ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা। ক্ষমতাসীন শিয়াপন্থি ইসলামি প্রজাতান্ত্রিক সরকারের সামরিক বিভাগ, বিচার বিভাগ, রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা বিভাগ-সহ দেশটির সর্বক্ষেত্রে খামেনির প্রভাব ছিল অত্যন্ত গভীর এবং সর্বব্যাপী। মূলত তার নির্দেশনাতেই ইরানের সরকার চলতো। ১৯৭৯ সালে ইরানের তৎকালীন শাহ (রাজা) মুহম্মদ রেজা শাহ পাহলভিকে হটিয়ে ইরানের জাতীয় ক্ষমতা দখল করে শিয়াপন্থি বিভিন্ন সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী, শাহবিরোধী রাজনৈতিক দল এবং কমিউনিস্ট দলগুলো। সেই বিপ্লবে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি। বিপ্লবের পর তিনি হন ইরানের প্রথম সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা। ১৯৮৯ সালে বয়সজনিত অসুস্থতায় মারা যান খোমেনি। তার মৃত্যুর পর দেশটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। সূত্র : আলজাজিরা

দেশে শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। ২০২৫ সালে সারাদেশে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসার মোট ৪০৩ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। এর মধ্যে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই ১৩ থেকে ১৯ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরী। হতাশা ও অভিমান—এই দুটি কারণই সবচেয়ে বড় অনুঘটক হিসেবে উঠে এসেছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক সংগঠন আঁচল ফাউন্ডেশন আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। দেশের ১৬৫টি স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত আত্মহত্যা সংক্রান্ত প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে এ সমীক্ষা প্রকাশ করা হয়। জরিপের ফলে দেখা গেছে, ৪০৩ জন আত্মহননকারী শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৯০ জনই স্কুল পর্যায়ের। যা মোট ঘটনার ৪৭ দশমিক ৪০ শতাংশ। কলেজ পর্যায়ে ৯২ জন (২২.৮ শতাংশ), বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭৭ জন (১৯.১০ শতাংশ) এবং মাদ্রাসায় ৪৪ জন (১০.৭২ শতাংশ) শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, কৈশোরের সূচনালগ্নে আবেগীয় অস্থিরতা, পরিচয় সংকট এবং একাডেমিক চাপ শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। নারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি লিঙ্গভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, আত্মহত্যাকারীদের মধ্যে ২৪৯ জন (৬১.৮ শতাংশ) নারী এবং ১৫৪ জন (৩৮.২ শতাংশ) পুরুষ। স্কুল পর্যায়ে ১৩৯ জন নারী ও ৫১ জন পুরুষ, কলেজে ৫০ জন নারী ও ৪২ জন পুরুষ আত্মহত্যা করেছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে চিত্র কিছুটা ভিন্ন। সেখানে ৪১ জন পুরুষের বিপরীতে ৩৬ জন নারী শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। বিশ্লেষণে বলা হয়, কৈশোরে মেয়েরা পারিবারিক ও সামাজিক চাপ, সম্পর্কগত টানাপড়েন এবং আবেগীয় সংকটে বেশি ভঙ্গুর হয়ে পড়ছে। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পুরুষ শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা ও কর্মসংস্থান সংকট বড় ভূমিকা রাখতে পারে। হতাশা ও অভিমান প্রধান কারণ কারণভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, হতাশা ২৭.৭৯ শতাংশ এবং অভিমান ২৩.৩২ শতাংশ ঘটনার পেছনে দায়ী। হতাশাজনিত আত্মহত্যার ক্ষেত্রে নারী ৬২ জন (৫৫.৩৫ শতাংশ) এবং পুরুষ ৫০ জন (৪৪.৬৫ শতাংশ)। অভিমানে আত্মহত্যাকারীদের মধ্যে নারী ৫৮ জন (৬১.৭০ শতাংশ) ও পুরুষ ৩৬ জন (৩৮.২৯ শতাংশ)। একাডেমিক চাপে ৭২ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে, যার অধিকাংশই স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের এবং এর মধ্যে প্রায় ৭১ শতাংশ নারী। প্রেমঘটিত কারণে ৫৩ জন (১৩.১৫ শতাংশ), পারিবারিক টানাপড়েনে ৩২ জন (৭.৯৪ শতাংশ), মানসিক অস্থিতিশীলতায় ২৫ জন (৬.২০ শতাংশ) এবং যৌন নির্যাতনের কারণে ১৪ জন (৩.৪৭ শতাংশ) শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। সাইবার বুলিংয়ের কারণেও একজন নারী শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। বয়সভিত্তিক চিত্র সবচেয়ে উদ্বেগজনক ১৩ থেকে ১৯ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে আত্মহত্যার হার ৬৬.৫০ শতাংশ। এদের মধ্যে ১৯০ জন নারী ও ৭৮ জন পুরুষ। ২০ থেকে ২৫ বছর বয়সীদের মধ্যে আত্মহত্যার হার ২২.৬ শতাংশ; যেখানে পুরুষ ৫১ জন এবং নারী ৪০ জন। ১ থেকে ১২ বছর বয়সী ৪৪ জন শিশুর আত্মহত্যা সমাজের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বিভাগভিত্তিক পরিস্থিতি ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ১১৮ জন (২৯.২৪ শতাংশ) শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। চট্টগ্রামে ৬৩ জন (১৫.৬৩ শতাংশ), বরিশালে ৫৭ জন (১৪.৪ শতাংশ) এবং রাজশাহীতে ৫০ জন (১২.৪০ শতাংশ)। সমীক্ষায় বলা হয়, এটি কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের সমস্যা নয়; বরং জাতীয় পর্যায়ে বিস্তৃত এক সামাজিক সংকট। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের বিশ্লেষণ বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ৭৭ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪৪ জন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের, ১৭ জন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের, ৬ জন মেডিকেল কলেজের এবং ১০ জন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও অধিভুক্ত কলেজের শিক্ষার্থী। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আত্মহত্যার ক্ষেত্রে হতাশা (৩৬.৩৬ শতাংশ) এবং প্রেমঘটিত কারণ (২৯.৫৪ শতাংশ) উল্লেখযোগ্য। মানসিক অস্থিরতা দায়ী ১৮.১৮ শতাংশ ক্ষেত্রে। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে হতাশার হার আরও বেশি—৪৭.০৫ শতাংশ। এছাড়া অভিমান (১৭.৬৭ শতাংশ), পারিবারিক টানাপড়েন (১১.৭৬ শতাংশ) ও প্রেমঘটিত কারণ (৫.৮৮ শতাংশ) আত্মহত্যার পেছনে ভূমিকা রেখেছে। কাঠামোগত পরিবর্তনের আহ্বান সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, পরিবারে খোলামেলা যোগাযোগের অভাব, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পেশাদার কাউন্সেলিং ব্যবস্থার ঘাটতি এবং মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সামাজিক অজ্ঞতা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে। আঁচল ফাউন্ডেশন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলক মানসিক স্বাস্থ্য স্ক্রিনিং, শিক্ষক ও সহপাঠীদের প্রশিক্ষণ, সামাজিক স্টিগমা কমাতে প্রচারণা এবং প্রাথমিক পর্যায়ে সাইকো-সোশ্যাল প্রশিক্ষণ চালুর প্রস্তাব দিয়েছে। তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের জীবন রক্ষা করা নৈতিক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব। ২০২৫ সালের এই পরিসংখ্যান কেবল একটি প্রতিবেদন নয়; এটি ভবিষ্যতের জন্য সতর্কবার্তা। এখনই সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।

পরমাণু প্রকল্প নিয়ে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় নাগরিকদের ইরান ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, কানাডা, ইতালি, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, চীন-সহ ১৫টিরও বেশি দেশ। পাশাপাশি ইরানে ভ্রমণ বিষয়ক সতর্কতাও জারি করেছে দেশগুলো। দেশগুলোর এ পদক্ষেপের প্রধান কারণ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুক্রবারের একটি মন্তব্য। ইরানের পরামাণু প্রকল্প নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত মোট ৫ দফা সংলাপ হয়েছে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের প্রতিনিধিদের মধ্যে। গতকাল ২৭ ফেব্রুয়ারি জেনেভায় পঞ্চম দফা সংলাপ শেষ হওয়ার মাধ্যমে সমাপ্তি ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠকের। গতকাল সংলাপ শেষ হওয়ার পর ওয়াশিংটনে এ বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়েছিলেন সাংবাদিকরা। জবাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, ৫ দফা সংলাপের পর যে ফলফল এসেছে, তাতে তিনি সন্তুষ্ট নন। কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন ছোটোখাটো বিষয় নিয়ে সমঝোতা হলেও ইরানের ইউরেনিয়ামের মজুত এবং দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্প নিয়ে কোনো ঐকমত্য ছাড়াই শেষ হয়েছে সংলাপ। ট্রাম্পের অসন্তুষ্টির কারণ এটাই। কিন্তু শুক্রবার মন্তব্যের পর থেকেই নাগরিকদেদের অবিলম্বে ইরান ছাড়ার আহ্বান জানানো শুরু করে বিভিন্ন দেশ। কারণ জানুয়ারির মাঝামাঝি থেকে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমা এবং ইসরায়েলে যুদ্ধজাহাজ, বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ এবং যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গত কয়েক দিনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং তার নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের কর্মকর্তারা একাধিকবার ইঙ্গিত দিয়েছেন—যে কোনো সময় হামলা হতে পারে ইরানে। ফ্লাইট বাতিল নিষেধাজ্ঞা থাকার কারণে কোনো দেশ থেকে সরাসরি তেহরানে নামতে পারে না কোনো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট, এ কারণে যারা ইরানে যেতে ইচ্ছুক কিংবা ইরান থেকে বাইরের কোনো দেশে যেতে চান— তাদের প্রথমে তুরস্কের ইস্তাম্বুল আসতে হয়— তারপর সেখান থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে উঠতে হয়। এক প্রতিবেদনে এএফপি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উদ্বেগ বাড়তে থাকায় তেহরান-ইস্তাম্বুল আপডাউন ফ্লাইট বন্ধ রাখা হয়েছে। পরবর্তী আদেশ না আসা পর্যন্ত ফ্লাইট বন্ধ থাকবে। সূত্র : এএফপি, গালফ নিউজ

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় পচা ভাত খেয়েই সেহরি-ইফতার করা তিন সন্তানসহ দিশেহারা জীবনযাপন করা বিধবা আয়েশা বেগমের পাশে দাঁড়িয়েছেন নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আকিব ওসমান। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তার হাতে এক মাসের খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। আয়েশা বেগম সুবর্ণচর উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের চরলক্ষ্মী গ্রামের মৃত আমির হোসেন লেদুর স্ত্রী। জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে দুর্ঘটনায় স্বামীকে হারানোর পর থেকেই তিন সন্তানকে নিয়ে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন তিনি। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির মৃত্যুতে তাদের জীবনে নেমে আসে দুর্ভোগ। এতিম হয়ে পড়ে তিন সন্তান— মো. সজিব, মো. সৌরভ ও মো. সবুজ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভাব-অনটনের কারণে অনেক সময় না খেয়ে কিংবা পঁচা ভাত খেয়েই সেহরি ও ইফতার করতে হচ্ছে পরিবারটিকে। বিদ্যুৎবিহীন জরাজীর্ণ ঝুপড়ি ঘরে মানবেতর জীবন কাটছে তাদের। নিহত আমির হোসেন পেশায় পিকআপ চালক ছিলেন। অন্যের গাড়ি ভাড়া নিয়ে সবজি পরিবহন করে সংসার চালাতেন। পরে জীবিকার তাগিদে গাছ টানার কাজে যুক্ত হন। ২০২৪ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর গাছ উত্তোলনের সময় একটি বড় গাছ ভেঙে তার ওপর পড়ে গেলে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। স্বামীর মৃত্যুর পর আয়েশা বেগমের পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তায় পড়ে যায়। উপার্জনের কোনো পথ না থাকায় অর্ধাহার-অনাহারে দিন কাটছে তাদের। আয়েশা বেগম বলেন, স্বামী মারা যাওয়ার পর তিন সন্তান নিয়ে খুব কষ্টে আছি। অনেক সময় ভালো খাবার জোটে না। সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে অসহায় লাগে। দুইটা ছেলে অসুস্থ। তাদের চিকিৎসা করাতে পারছি না। ইউএনও স্যার এক মাসের খাদ্য সামগ্রী দিয়েছেন। স্যারের জন্য দোয়া করি। স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. সিরাজ উদ্দিন বলেন, আমির হোসেন ছিলেন পরিশ্রমী ও হাসিখুশি মানুষ। মৃত্যুর সময় তার দাফনের খরচও এলাকাবাসী মিলে বহন করতে হয়েছিল। এখন তার পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে। তাদের একটা মাথা গোঁজার ঠাঁই দরকার। এ বিষয়ে ইউএনও আকিব ওসমান বলেন, পরিবারটির দুরবস্থার কথা জানতে পেরে তাৎক্ষণিকভাবে এক মাসের খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে চাল, ডাল, ছোলা, তেলসহ বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী ছিল। এছাড়াও ২টা কম্বল দিয়েছি। ভবিষ্যতেও প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

রমজানের মানবিকতা ও সহমর্মিতার বার্তা তুলে ধরতে মসজিদুল হারামে এতিম শিশুদের সঙ্গে ইফতার করেছেন পবিত্র দুই মসজিদের পরিচালনা পর্ষদের প্রধান শায়খ ড. আব্দুর রহমান আস-সুদাইস। বুধবার সন্ধ্যায় তিনি আল-ওয়েদাদ অ্যাসোসিয়েশন ফর অরফান কেয়ারের অধিভুক্ত শিশুদের নিয়ে একসঙ্গে ইফতার করেন। ইফতারের আয়োজনটি হয় মসজিদুল হারাম প্রাঙ্গণে। ইফতার টেবিলে শায়খ সুদাইসের পাশে বসে শিশুদের আনন্দমুখর উপস্থিতি রমজানের সৌহার্দ্য ও সামাজিক দায়িত্ববোধের প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠে। ইফতার শেষে শায়খ সুদাইস বলেন, এতিমদের লালন-পালন ও তাদের পাশে দাঁড়ানো ইসলামের অন্যতম উচ্চ মানবিক আদর্শ। সৌদি আরব রাষ্ট্রীয় নেতৃত্ব সব স্তরে সমাজের ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে এতিমদের কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আসছে। তিনি উল্লেখ করেন, ইসলামী শিক্ষা ও সৌদি সমাজের মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এতিমদের কল্যাণে ধারাবাহিক উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

আগামী ২ মার্চ (সোমবার) সারাদেশে পালিত হতে যাচ্ছে ‘৮ম জাতীয় ভোটার দিবস’। দিবসটি বর্ণাঢ্য ও যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপনের লক্ষ্যে ঢাকায় কর্মরত নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সব স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে সংস্থাটি। সম্প্রতি ইসি সচিবালয়ের সহকারী সচিব মোহাম্মদ শহীদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই নির্দেশনা জারি করা হয়। আদেশে জানানো হয়েছে, ২ মার্চ সকালে নির্বাচন ভবনের সামনে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে দিবসের শুভ উদ্বোধন করা হবে। এরপর একটি র্যালি ও বিশেষ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। ভোটারদের সচেতন করতে এবং তরুণদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তিতে উৎসাহিত করতে প্রতি বছর এই দিনটি পালন করা হয়। আগামী ২ মার্চ সকাল ৯টার মধ্যে নির্বাচন ভবনের সামনে নির্ধারিত ৭টি দপ্তরের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে সমবেত হতে বলা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়, জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ (NID), নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (ETI), নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অধীনে পরিচালিত সকল প্রকল্প, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়, সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার সকল থানা নির্বাচন অফিসারের কার্যালয়। অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমেই এই আদেশ জারি করা হয়েছে। কোনো প্রকার ব্যত্যয় ছাড়াই সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দিষ্ট সময়ে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য বলা হয়েছে।

বাবার সঙ্গে দোকানে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়া সাইদুর রহমান ছয় দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছিলেন তার বাবা শফিকুর রহমান। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের আইসিউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সাইদুর রহমান। নিহত সাইদুর রহমান নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের বড় রামদেবপুর গ্রামের মৃত শফিকুর রহমানের ছেলে। তিনি নোয়াখালী সরকারি কলেজের অনার্সের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি ছাত্রদল কর্মী ছিলেন। জানা যায়, গত শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সুন্দলপুর ইউনিয়নের ট্রান্সমিটার এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় তার বাবা শফিকুর রহমান নিহত হন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোনাপুর থেকে কবিরহাটগামী একটি তেলবাহী ট্রাক ট্রান্সমিটার এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। এ সময় ট্রাকটি রাস্তার পাশে একটি দোকানে ঢুকে পড়ে। এতে শফিকুর রহমান ঘটনাস্থলেই নিহত হন এবং সাইদুর রহমান অন্তত তিনজন আহত হন। স্থানীয়রা জানান, শফিকুর রহমান তার দুই সন্তানকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে দোকানের সামনে আসেন। এ সময় মাইজদী–সোনাপুর সড়ক দিয়ে আসা তেলবাহী ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোটরসাইকেল ও শফিকুর রহমানকে ধাক্কা দিয়ে দোকানের ভেতরে ঢুকে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় দুই সন্তানকে প্রথমে মাইজদী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সাইদুর রহমানের অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকায় রেফার করা হয়। দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এতে কিছু সময় ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সাইদুর রহমানের বড় বোন সুমি আক্তার বলেন, ভাই ছয় দিন ধরে লাইফ সাপোর্টে ছিল। আমরা সবাই তার সুস্থতার জন্য অপেক্ষা করছিলাম, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে আর ফিরে পেলাম না। এক সড়ক দুর্ঘটনায় আমরা বাবা এবং ভাইকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছি। সাইদুরের বন্ধু ইখতিয়ার হোসেন বলেন, সাইদুর খুব মিশুক ও মানবিক একজন মানুষ ছিল। ছয় দিন হাসপাতালে থাকলেও তার জ্ঞান আর ফেরেনি। চিকিৎসার জন্য সবাই সহযোগিতা করলেও আমরা তাকে বাঁচাতে পারলাম না। আমরা একজন বিশ্বস্ত বন্ধুকে হারালাম। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির বলেন, গতকাল আমি হাসপাতালে গিয়ে তাকে দেখে এসেছি। সে জাতীয়তাবাদী আদর্শের কর্মী ছিল। তার চিকিৎসায় বিএনপি ও ছাত্রদল পাশে ছিল। তার মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নিজামুল উদ্দিন ভুঁইয়া বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে সড়ক পরিবহন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার ঘাতক ট্রাকচালককে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় বিএনপি ও এনসিপির নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই পুলিশ সদস্যসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত উপজেলার চানন্দী ইউনিয়নের প্রকল্প বাজার এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশের নিরাপত্তায় সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। জানা যায়, বুধবার সকালে নির্বাচন সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যান সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ। প্রকল্প বাজারে কয়েকটি ক্ষতিগ্রস্ত ঘর পরিদর্শন শেষে ফেরার পথে তার গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় কয়েকজন আহত হন। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে তার সমর্থক ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় স্থানীয় বিএনপির কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে উভয় পক্ষ সড়কে অবস্থান নিলে পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে এমপি হান্নান মাসউদ ঘটনাস্থলের সড়কে অবস্থান নিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। সংঘর্ষে হাতিয়া থানা পুলিশের পরিদর্শক শহীদুল্লাহ ও উপপরিদর্শক (এসআই) শহীদুল ইসলামসহ বিএনপি ও এনসিপির প্রায় ৫০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে উভয়পক্ষ দাবি করেছে। আহতদের হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ সময় এমপি আবদুল হান্নান মাসউদ অভিযোগ করে বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনকে দেখে ফেরার পথে স্থানীয় বেলাল নামের এক ব্যক্তির নেতৃত্বে তার গাড়িবহরের পেছন থেকে হামলা চালানো হয়। তিনি দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। অন্যদিকে চানন্দী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাহবুবুর রহমান দাবি করেন, প্রকল্প বাজারে হান্নান মাসউদ উস্কানিমূলক বক্তব্য দেন। তার বক্তব্যের পর তার দলের নেতাকর্মীরা প্রথমে বিএনপির কার্যালয় ভাঙচুর করে। পরে বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও মোটরসাইকেল ভাঙচুর শুরু করলে স্থানীয় লোকজন প্রতিরোধ গড়ে তোলে। হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম বলেন, উভয় পক্ষের সংঘর্ষে পুলিশের পরিদর্শক শহীদুল্লাহ ও এসআই শহীদুল ইসলাম আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ফাঁকা গুলি ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করা হয়েছে। এলাকায় পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।