

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দল-মত নির্বিশেষে তিনি দেশের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করছেন। প্রতিটি পরিবারকে স্বনির্ভর করাই বিএনপির লক্ষ্য। এভাবে বিএনপি স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে চায় বলেন তিনি। তিনি এতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন। স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ায় কোনো বিরোধ থাকতে পারে না, বিরোধ নেই বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী ওই কথা বলেন। এর আগে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের পর বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১১টার কিছু আগে বক্তব্য শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি ১৯৭১ সাল থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত আন্দোলন, সংগ্রামে সব শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তারেক রহমান বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন। স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদের সঙ্গে আপস করেননি। তিনি খালেদা জিয়ার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান।

লঞ্চের কেবিনে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে নোয়াখালীর হাতিয়ায় পৃথকভাবে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে এনসিপি ও বিএনপির নেতাকর্মীরা। এসময় দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থানের একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৭ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সন্ধ্যায় উপজেলা সদরে এ প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিল থেকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত সাকিব উদ্দিন ও নুরুজ্জামান মিঠুর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যার দিকে এনসিপি ও বিএনপির নেতাকর্মীরা পৃথকভাবে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপজেলা সদরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মিছিল মুখোমুখি হলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত সাতজন আহত হন। লঞ্চে কলেজছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় বিএনপি-এনসিপির পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ, সংঘর্ষ এনসিপি নেতার জন্য দোয়া করায় ইমামকে পেটালেন স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা আহতরা হলেন, হাতিয়া উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ইসমাইল হোসেন ইলিয়াস, পৌরসভা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম দুখু, পৌর যুবদল নেতা আশিক ও সাখাওয়াত হোসেন হিরো। অপরপক্ষের আহতরা হলেন, হাতিয়া উপজেলা যুবশক্তির আহ্বায়ক ইউসুফ রেজা, ছাত্র শক্তির আহ্বায়ক নেয়ামত উল্লাহ নীরব এবং সমর্থক জহির উদ্দিন। আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। জানা যায়, গত ৮ মার্চ রোববার দুপুরে হাতিয়ার তমুরদ্দিন লঞ্চঘাট থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া ফারহান-০৪ লঞ্চের কেবিনে ওই কলেজছাত্রীকে তুলে দেন তার বাবা। একই সময় লঞ্চে ওঠেন মোহাম্মদ সাকিব উদ্দিন ও মোহাম্মদ নুরুজ্জামান মিঠু। লঞ্চ ছাড়ার কিছুক্ষণ পর তারা ওই ছাত্রীর কেবিনের দরজায় নক করেন এবং কৌশলে কেবিনে প্রবেশ করে ধর্ষণ করেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর ভাই বাদী হয়ে সোমবার সকালে কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় উল্লেখ করেন, লঞ্চ ছাড়ার কিছুক্ষণ পর তারা ওই ছাত্রীর কেবিনের দরজায় নক করেন এবং কৌশলে কেবিনে প্রবেশ করেন। কেবিনে ঢুকে একপর্যায়ে সাকিব উদ্দিন ওই ছাত্রীকে বিভিন্ন ধরনের কুপ্রস্তাব দেন। এতে রাজি না হলে তারা তার গলা ও মুখ চেপে ধরে ধর্ষণ করেন। এসময় ভুক্তভোগী চিৎকার করার চেষ্টা করলে ঘটনাটি কাউকে জানালে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে রাত ৮টার দিকে সাকিব ও মিঠু আবারও কেবিনে প্রবেশ করলে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে তারা তাকে পুনরায় ধর্ষণ করেন। বর্তমানে ধর্ষণের শিকার ওই শিক্ষার্থী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মামলার প্রেক্ষিতে অভিযুক্ত দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, হাতিয়া উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড পশ্চিম বড়দেইল গ্রামের সাহাব উদ্দিনের ছেলে মোহাম্মদ সাকিব উদ্দিন (২৬) ও একই ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড জোটখালী গ্রামের আবুল কালামের ছেলে মোহাম্মদ নুরুজ্জামান মিঠু (৩২)। হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কবির উদ্দিন বলেন, বিক্ষোভ মিছিলে উভয় পক্ষের হাতাহাতির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সপ্তাহখানেক পরই পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদের কেনাকাটায় বিপণীবিতানগুলোতে বাড়ছে ভিড়। ঈদে নতুন পোশাকের সঙ্গে প্রয়োজন নতুন জুতা। ফলে নোয়াখালীর বাণিজ্যিক শহর চৌমুহনীতে জুতার কারখানাগুলোতে বাহারি ধরনের জুতা বানাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে নোয়াখালীর বাণিজ্যিক শহর চৌমুহনীসহ জেলার বিভিন্ন পাদুকা পল্লীতে ব্যস্ততা তুঙ্গে। বছরের অন্য সময়ের তুলনায় কাজের চাপ কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় কারিগররা এখন নাওয়া-খাওয়া ভুলে দিনরাত পার করছেন জুতা তৈরিতে। স্থানীয়ভাবে তৈরি এসব জুতার গুণগত মান ভালো ও দামে সাশ্রয়ী হওয়ায় জেলা ছাড়িয়ে এখন তা পৌঁছে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। সরেজমিনে জেলার বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র চৌমুহনীর পাদুকাপল্লী ঘুরে দেখা গেছে উৎসবের আমেজ। কারখানায় কারখানায় চলছে চামড়া কাটা, সেলাই, সোল লাগানো আর ফিনিশিংয়ের কাজ। কেউ পালিশ করছেন, কেউবা নতুন জুতা প্যাকেটজাত করতে ব্যস্ত। ঈদ উপলক্ষ্যে বাড়তি চাহিদা সামাল দিতে অনেক কারখানায় অতিরিক্ত শ্রমিকও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কারখানা মালিক ও কারিগরদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ট্যানারি থেকে জুতা বানানোর প্রক্রিয়া করে আনা চামড়া প্রথমে সাইজ মতো কাটা হচ্ছে। বিভিন্ন সাইজ মতো কাটা হলে তা মেশিনের সাহায্যে ফিনিশিং দেওয়া হয়। ফিনিশিং দেওয়ার পর পেস্টিং দিয়ে সাইজ মতো ডিজাইন করা হয় ও পুডিং মারা হয়। পেস্টিং দেওয়া শেষে জুতা পুরোপুরি হয়ে গেলে রং স্প্রে করে শুকাতে দেওয়া হয় এবং পরে তা বাজারজাত করা হয়। কারিগর মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, ঢাকার বংশাল থেকে পাকা চামড়া এনে স্লিপার, হাফ সু, নাগরা ও লোফার তৈরি করেন। মানভেদে এসব জুতা ৪০০ থেকে ৭০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। আরেক কারিগর মিলন দাস বলেন, আমার পরিবার এই পেশার আয়ের ওপরই নির্ভরশীল। ঈদের আগে প্রতিদিন ১০০ থেকে ২০০ জোড়া পর্যন্ত জুতা বিক্রির আশা করছি। বেচাকেনা ভালো হলে পরিবার নিয়ে আনন্দমুখর ঈদ কাটাতে পারব। স্থানীয় ক্রেতা আলাউদ্দিন ও মো. জসিম উদ্দিন বলেন , ব্র্যান্ডের জুতার চেয়ে স্থানীয় কারিগরদের তৈরি চামড়ার জুতা অনেক বেশি আরামদায়ক ও টেকসই। দাম সাশ্রয়ী হওয়ায় সাধারণ মানুষের কাছে এর জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। চৌমুহনী এখন জুতা তৈরির অন্যতম বড় হাব। এখানকার তৈরি জুতার টেকসই গুণ আর আধুনিক ডিজাইনের কারণে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রাজশাহী থেকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা এখানে ভিড় করছেন। ইফাত সুজের স্বত্বাধিকারী মো. শেখ রাসেল বলেন, রমজান উপলক্ষ্যে এখানে কয়েক কোটি টাকার জুতা বিক্রি হয়। আমাদের জুতাগুলো শতভাগ লেদার দিয়ে তৈরি। তাই এর চাহিদা অনেক। এখানকার তৈরি জুতার টেকসই গুণ আর আধুনিক ডিজাইনের কারণে নোয়াখালীর বাহিরে বিভিন্ন জেলায় জুতা যায়। এতে করে বাড়ছে কর্মসংস্থান। চৌমুহনী পৌরসভার প্রশাসক ও বেগমগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কায়েসুর রহমান বলেন, চৌমুহনী বাণিজ্যিক এলাকা। এখানে জুতা শিল্পের নীরব বিপ্লব ঘটছে। এখানকার ছোট ছোট কারখানায় অনেক উন্নত মানের জুতা তৈরি হয়। ঈদে যেন তারা ন্যায্যমূল্য পায় সেসব বিষয়ে আমরা সজাগ দৃষ্টি রাখছি।

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: মাহমুদুর রহমান মনজু লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার বাঙ্গাখা ইউনিয়নের রাধাপুর এলাকায় পুলিশের চিরুনি অভিযানে একটি বিদেশি রিভলবার ও ৪৬ রাউন্ড তাজা গুলিসহ এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাত আনুমানিক সোয়া ২টার দিকে রাধাপুর গ্রামের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে এ অভিযান পরিচালনা করে লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত যুবকের নাম মো. শহিদ, প্রকাশ শিপন (৩০)। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাধাপুর গ্রামের আবুল কালামের নতুন বাড়ির দ্বিতীয় তলায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ঝলক মোহন্ত। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলে শিপনকে আটক করা হয়। পরে তার শয়নকক্ষে তল্লাশি চালিয়ে বিছানার এক কোণ থেকে একটি বিদেশি রিভলবার, ৪৬ রাউন্ড তাজা গুলি, চারটি গুলির খোসা এবং অস্ত্র বহনের কিছু সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ জানান, পুলিশ সুপার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের (প্রশাসন ও অর্থ) প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এ ঘটনায় এসআই মোহাম্মদ আমিনুর ইসলাম বাদী হয়ে গ্রেপ্তারকৃত শিপনের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করেছেন। উদ্ধারকৃত অস্ত্রের উৎস এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃত শিপনকে আজ বিকেলে সংশ্লিষ্ট মামলায় আদালতে সোপর্দ করা হবে।

সুবর্ণচর প্রতিনিধিঃ নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলাতে চলছে সরকারি খাসজমি দখলের মহোৎসব। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় কিছু ব্যক্তি প্রশাসনের নিরব সমর্থন এবং নামমাত্র “ম্যানেজমেন্ট”-এর আশীর্বাদে খাসজমি দখল করে স্থায়ী ইমারত নির্মাণ করছেন। সবকিছু হচ্ছে উপজেলা প্রশাসনের চোখের সামনেই। সরেজমিনে দেখা যায়, খোদ উপজেলা প্রশাসন ও জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতাধীন আঞ্চলিক হাইওয়ে সড়কটির পাশে ২নং চরবাটা ইউনিয়নের ৩০৩ নং চরমজিদ মৌজার খাস খতিয়ানের আন্দরে ২১৪৬ দাগে সড়কের অংশে ০.৭২ একর ভূমিতে ভূঞারহাট এলাকায় সরকারি খাস জমি দখলের মহোৎসব চলছে। উক্ত দাগে যেটুকু বাকি আছে সেটাও দখল হয়ে যাওয়ার উপক্রম। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ করে জনবসতি সংলগ্ন খাসজমি গুলোতে এখন একের পর এক দখল অভিযানে মেতে উঠেছে ভূমিদস্যুরা। উল্লেখ্য পূর্বে উক্ত ভূমিতে অবৈধ খাস জমি দখলের কারণে নোয়াখালী জেলা প্রশাসক কার্যালয় এবং জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগ বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিট্রেট দেবাশীষ দাস কর্তৃক খাস জমি হইতে অবৈধ স্থাপনায় গড়ে উঠা ২০টি দোকানঘর গুড়িয়ে দেন। পূর্বের উচ্ছেদ অভিযানের একটি কপি এ প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। অনুসন্ধানে জানাগেছে, প্রভাবশালীদের একটি সিন্ডিকেট কেউ আবার মিথ্যা তথ্যে দিয়ে নিজেদের ভূমিহীন দাবি করে, কেউ আবার নিজেদের নিকট আত্নীয়স্বজন, রাজনৈতিক দলের কর্মী- সমর্থকদের স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ভূমিহীন সনদ নেন। এরপর নামে-বেনামে একসনা বনধোবন্ত নথি সৃজন করে খাসজমি দখল করে স্থায়ী ঘর তুলে মাসে লাখ লাখ টাকা ভাড়া আদায় করছেন। এসব প্রভাবশালী ব্যক্তিরা মূলত নামধারী ভূমিহীন ও জমি-ব্যবসায়ী। সমাজে এদের মূল্যায়ন তোলা তোলা। যদিও ভূমি নীতিমালা অনুযারী প্রকৃত ব্যবসায়ী ছাড়া কোথাও কোন (চান্দিনা) দোকান ভিটি বনধোবন্ত দেওয়ার বিধান নেই। এছাড়াও দারিদ্র সীমার নিচে বসবাস করে, কোন স্থায়ী সম্পদ নেই এমন শ্রেণীর ব্যক্তিরা খাস জমি ভূমিহীন হিসেবে বনধোবস্ত দেওয়ার বিধান রয়েছে ভূমি আইনে। অথচ প্রকৃত ভূমিহীনরা পাচ্ছে না ভূমি বনধোবস্ত। প্রশাসনের এক শ্রেণীর লোভী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে প্রভাবশালীদের কব্জায় সরকারি খাস জমির আজ অস্তিত্ব সংকটে। সরেজমিনে দেখাযায়, ভূমিদস্যুরা এসব ক্যাটাগরির কোনটিতে নেই। পারিবারিক ও স্থানীয় মদদে প্রশাসনের উদাসীনতায় চলছে জমি দখল ও স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ। আরও জানা গেছে, কিছু কিছু দখলকারী উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলে ওই সুযোগেই নির্বিঘ্নে দখল কার্যক্রম চালাচ্ছে। অনুসন্ধানে আরো জানাগেছে, স্বৈরশাসন আমলে দখল করা ফ্যাসিস্ট সরকারের লোকজন দোকান ভিটি, খাস জমি দখল করে বর্তমান সরকার আমলের অনেকের নিকট লাখ লাখ টাকা বিক্রি করে দেশের বাহিরে অর্থ পাচার করছেন। কেউ কেউ অন্যত্র সম্পদ গড়ে তুলছেন, নানা ব্যবসার অংশীদার হচ্ছেন। প্রশাসনের স্বেচ্ছাচারিতায় অত্র উপজেলায় ভূমি খাতটি থেকে কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আদায় বার বার প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। তথ্যসহ সকল কিছু জানলেও নিরব থাকে প্রশাসন! সরকারি ভূমি রক্ষায় আইন কাগজে কলমে বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি ভূমিকা নেই সংশ্লিষ্ট দপ্তর গুলোর। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে ইউএনও অবগত থাকলেও কোন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। দখলকারীরা প্রকাশ্যেই বলে বেড়ায়-‘সব ম্যানেজ করা আছে।’ সরকারি খাসজমি ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার দায়িত্ব প্রশাসনের হলেও বছরের পর বছর ধরে এসব জায়গা দখল হয়ে যাচ্ছে- আর এসব বিষয়ে প্রশাসনের নীরব সমর্থন রয়েছে বলে খবর নিয়ে জানা গেছে। খাসজমি দখল ঠেকাতে সরকারের কঠোর আইন থাকা সত্ত্বেও সুবর্ণচরে যেন তার কোনো প্রয়োগ নেই। দিন দিন বাড়ছে দখলের পরিধি, আর কমছে সরকারি সম্পত্তি। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, এভাবে যদি প্রশাসন নিরব থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে সরকারি খাসজমি নামমাত্র কাগজে থাকলেও বাস্তবে পুরোপুরি দখল হয়ে যাবে কিছু প্রভাবশালীর হাতে। অপরদিকে এমনও অনেক ভিপি সম্পত্তি লিজ দেওয়া আছে যেগুলোর প্রকৃত লিজাররা জমি বুঝে পায়নি কিন্তু প্রতি বছর খাজনা পরিশোধ করেন। অথচ সেই জায়গা দখল করে বাড়ি-ঘর করে আছে অন্য কেউ সেদিকেও নজর নেই প্রশাসনের। প্রকৃত লিজাররা ইউএনও এসিল্যান্ড এর কাছে বহুবার অভিযোগ করেও কোন সমাধান পাননি। বরং তারা অন্য আইনের গল্প শুনিয়ে ছেড়ে দেয় ভিকটিমদের। দেখলে মনে হয় এখন সব মগের মুল্লুক। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাজারের প্রকৃত সচেতন ভাড়াটিয়া ব্যবসায়ী, সাধারণ মানুষ, একাধিক পথচারীদের দাবি, খাসজমি দখল বন্ধে প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি ইতোমধ্যেই যারা সরকারি খাসজমি দখল করেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ বিষয়ে সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আকিব ওসমান বলেন, আচ্ছা আমি বিষয়টি জানি না। জেনে বিস্তারিত আইনগত পদক্ষেপ নিবো। রিপোর্টটি লেখার আগ পর্যন্ত কোন পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি প্রশাসনের তরফ হতে। এতে কানাঘুষা করছে সচেতন নাগরিক সমাজের মানুষজন তাহলে মনে হচ্ছে 'সর্ষের মধ্যে কি ভূত?? এ ব্যাপারে সুবর্ণচর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ছেনমং রাখাইন জানান, আসলে অর্পিত বা ভিপি সম্পত্তি বাদে অন্যান্য খাস জায়গাগুলো তেমন ভাবে তদারকি করা হয় না। তবে আমরা চেষ্টা করছি সরকারি সম্পদ রক্ষায়। যখন যেটা প্রয়োজন হয় তখন সে জায়গা আমরা নিয়ে নেই। প্রয়োজন হলে উচ্ছেদ অভিযানও পরিচালনা করা হয়। উচ্ছেদকৃত জমিতে স্থায়ী ইমারত নির্মাণে না কি আপনি অনুমতি দিয়েছেন গুঞ্জন উঠেছে ? তাই কোন পদক্ষেপ না নিয়ে নিরব আছেন। এ বিষয়ে আপনার বক্তব্য কি? আপনি কি সড়ক ও ফুটপাত দখল করে দোকান ভিটি করার অনুমতি দেওয়ার এখতিয়ার রাখেন?? রাখলে সেই আইন কোনটি, জানান। বিগত সময়ে আমরা অনেক জায়গা উদ্ধার করে সরকারি ভাবে আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। এখন যারা খাস জায়গা দখল করে আছে তাদের কারণে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হলে আমরা সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেবো। তারপরও এ বিষয়ে আমরা পদক্ষেপ নেব।

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে হামলার ৪০তম ধাপ শুরু করেছে ইরান। দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, এই হামলায় ইসরায়েল এবং অঞ্চলে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করা হয়েছে। ইরানের সামরিক কমান্ড ‘খাতাম আল-আনবিয়া’ এক বিবৃতিতে জানায়, এ অভিযানে ড্রোন ও বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। এর মধ্যে কাদের, এমাদ, খেইবার শেকান ও ফাত্তাহ ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। ইরানের দাবি, এসব ক্ষেপণাস্ত্র তেলআবিব, জেরুজালেম ও হাইফাসহ ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থানে নিক্ষেপ করা হয়েছে। পাশাপাশি জর্ডানের আল-আজরাক এবং সৌদি আরবের আল-খারজে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাও লক্ষ্যবস্তু ছিল। এদিকে উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করেছে। কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা আটটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং কয়েকটি ড্রোন প্রতিহত করেছে। একটি ক্ষেপণাস্ত্র জনবসতিহীন এলাকায় পড়ে। সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে একটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। অন্যদিকে কুয়েতের সেনাবাহিনী বলেছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মোকাবিলা করছে।

মিরপুরের উইকেট কেমন হবে—বাংলাদেশ-পাকিস্তান সিরিজ শুরুর আগেই এটা নিয়ে চলতে থাকে আলাপ-আলোচনা। ব্যাটারদের বধ্যভূমি নামে পরিচিত এই উইকেটে রীতিমতো বোলারদের রাজত্ব দেখা যায়। আজ সিরিজের প্রথম ওয়ানডের প্রথম ইনিংসে দেখা গেল তেমন কিছুই। তবে এখানে উইকেটের যতটা না দায়, তার চেয়ে বেশি কৃতিত্ব বাংলাদেশের বোলারদের। আর বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে লজ্জার রেকর্ডে নাম লিখিয়েছে পাকিস্তান। পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে দিয়েই বছরের প্রথম আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে নামছে বাংলাদেশ। মিরপুরে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় টাইগার অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। প্রথমে ব্যাটিং পেয়ে পাকিস্তান শুরুটা ধীরস্থিরভাবে করলেও পরে হঠাৎ হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে পাকিস্তান। মাত্র ৭৩ রানেই শেষ ১০ উইকেট হারিয়ে ১১৪ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তান। ওয়ানডেতে এটাই বাংলাদেশের বিপক্ষে পাকিস্তানের সবচেয়ে কম রানে অলআউট হওয়ার রেকর্ড। এর আগে নর্দাম্পটনে ১৯৯৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে ১৬১ রানে অলআউট করেছিল বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে বাংলাদেশ পেয়েছিল ৬১ রানের জয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দল-মত নির্বিশেষে তিনি দেশের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করছেন। প্রতিটি পরিবারকে স্বনির্ভর করাই বিএনপির লক্ষ্য। এভাবে বিএনপি স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে চায় বলেন তিনি। তিনি এতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন। স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ায় কোনো বিরোধ থাকতে পারে না, বিরোধ নেই বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী ওই কথা বলেন। এর আগে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের পর বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১১টার কিছু আগে বক্তব্য শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি ১৯৭১ সাল থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত আন্দোলন, সংগ্রামে সব শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তারেক রহমান বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন। স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদের সঙ্গে আপস করেননি। তিনি খালেদা জিয়ার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবির পুরোনো বিমানবন্দরে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। আকাশে অজ্ঞাত বস্তু প্রতিহত করার সময় তার ধ্বংসাবশেষ পড়ে এই আগুনের ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আবুধাবি মিডিয়া অফিস এক বিবৃতিতে জানায়, জরুরি সেবা দলের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং এলাকা নিরাপদ করেন। এদিকে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি বন্দরের আশপাশে বসবাসকারী ও কর্মরত মানুষকে সতর্ক থাকতে বলেছেন। তার দাবি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলি, খলিফা ও পোর্ট রশিদ বন্দর এবং বাহরাইনের খলিফা বিন সালমান বন্দরের কিছু বেসামরিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রম চলছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেছেন।

লঞ্চের কেবিনে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে নোয়াখালীর হাতিয়ায় পৃথকভাবে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে এনসিপি ও বিএনপির নেতাকর্মীরা। এসময় দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থানের একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৭ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সন্ধ্যায় উপজেলা সদরে এ প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিল থেকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত সাকিব উদ্দিন ও নুরুজ্জামান মিঠুর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যার দিকে এনসিপি ও বিএনপির নেতাকর্মীরা পৃথকভাবে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপজেলা সদরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মিছিল মুখোমুখি হলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত সাতজন আহত হন। লঞ্চে কলেজছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় বিএনপি-এনসিপির পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ, সংঘর্ষ এনসিপি নেতার জন্য দোয়া করায় ইমামকে পেটালেন স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা আহতরা হলেন, হাতিয়া উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ইসমাইল হোসেন ইলিয়াস, পৌরসভা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম দুখু, পৌর যুবদল নেতা আশিক ও সাখাওয়াত হোসেন হিরো। অপরপক্ষের আহতরা হলেন, হাতিয়া উপজেলা যুবশক্তির আহ্বায়ক ইউসুফ রেজা, ছাত্র শক্তির আহ্বায়ক নেয়ামত উল্লাহ নীরব এবং সমর্থক জহির উদ্দিন। আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। জানা যায়, গত ৮ মার্চ রোববার দুপুরে হাতিয়ার তমুরদ্দিন লঞ্চঘাট থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া ফারহান-০৪ লঞ্চের কেবিনে ওই কলেজছাত্রীকে তুলে দেন তার বাবা। একই সময় লঞ্চে ওঠেন মোহাম্মদ সাকিব উদ্দিন ও মোহাম্মদ নুরুজ্জামান মিঠু। লঞ্চ ছাড়ার কিছুক্ষণ পর তারা ওই ছাত্রীর কেবিনের দরজায় নক করেন এবং কৌশলে কেবিনে প্রবেশ করে ধর্ষণ করেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর ভাই বাদী হয়ে সোমবার সকালে কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় উল্লেখ করেন, লঞ্চ ছাড়ার কিছুক্ষণ পর তারা ওই ছাত্রীর কেবিনের দরজায় নক করেন এবং কৌশলে কেবিনে প্রবেশ করেন। কেবিনে ঢুকে একপর্যায়ে সাকিব উদ্দিন ওই ছাত্রীকে বিভিন্ন ধরনের কুপ্রস্তাব দেন। এতে রাজি না হলে তারা তার গলা ও মুখ চেপে ধরে ধর্ষণ করেন। এসময় ভুক্তভোগী চিৎকার করার চেষ্টা করলে ঘটনাটি কাউকে জানালে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে রাত ৮টার দিকে সাকিব ও মিঠু আবারও কেবিনে প্রবেশ করলে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে তারা তাকে পুনরায় ধর্ষণ করেন। বর্তমানে ধর্ষণের শিকার ওই শিক্ষার্থী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মামলার প্রেক্ষিতে অভিযুক্ত দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, হাতিয়া উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড পশ্চিম বড়দেইল গ্রামের সাহাব উদ্দিনের ছেলে মোহাম্মদ সাকিব উদ্দিন (২৬) ও একই ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড জোটখালী গ্রামের আবুল কালামের ছেলে মোহাম্মদ নুরুজ্জামান মিঠু (৩২)। হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কবির উদ্দিন বলেন, বিক্ষোভ মিছিলে উভয় পক্ষের হাতাহাতির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সপ্তাহখানেক পরই পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদের কেনাকাটায় বিপণীবিতানগুলোতে বাড়ছে ভিড়। ঈদে নতুন পোশাকের সঙ্গে প্রয়োজন নতুন জুতা। ফলে নোয়াখালীর বাণিজ্যিক শহর চৌমুহনীতে জুতার কারখানাগুলোতে বাহারি ধরনের জুতা বানাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে নোয়াখালীর বাণিজ্যিক শহর চৌমুহনীসহ জেলার বিভিন্ন পাদুকা পল্লীতে ব্যস্ততা তুঙ্গে। বছরের অন্য সময়ের তুলনায় কাজের চাপ কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় কারিগররা এখন নাওয়া-খাওয়া ভুলে দিনরাত পার করছেন জুতা তৈরিতে। স্থানীয়ভাবে তৈরি এসব জুতার গুণগত মান ভালো ও দামে সাশ্রয়ী হওয়ায় জেলা ছাড়িয়ে এখন তা পৌঁছে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। সরেজমিনে জেলার বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র চৌমুহনীর পাদুকাপল্লী ঘুরে দেখা গেছে উৎসবের আমেজ। কারখানায় কারখানায় চলছে চামড়া কাটা, সেলাই, সোল লাগানো আর ফিনিশিংয়ের কাজ। কেউ পালিশ করছেন, কেউবা নতুন জুতা প্যাকেটজাত করতে ব্যস্ত। ঈদ উপলক্ষ্যে বাড়তি চাহিদা সামাল দিতে অনেক কারখানায় অতিরিক্ত শ্রমিকও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কারখানা মালিক ও কারিগরদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ট্যানারি থেকে জুতা বানানোর প্রক্রিয়া করে আনা চামড়া প্রথমে সাইজ মতো কাটা হচ্ছে। বিভিন্ন সাইজ মতো কাটা হলে তা মেশিনের সাহায্যে ফিনিশিং দেওয়া হয়। ফিনিশিং দেওয়ার পর পেস্টিং দিয়ে সাইজ মতো ডিজাইন করা হয় ও পুডিং মারা হয়। পেস্টিং দেওয়া শেষে জুতা পুরোপুরি হয়ে গেলে রং স্প্রে করে শুকাতে দেওয়া হয় এবং পরে তা বাজারজাত করা হয়। কারিগর মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, ঢাকার বংশাল থেকে পাকা চামড়া এনে স্লিপার, হাফ সু, নাগরা ও লোফার তৈরি করেন। মানভেদে এসব জুতা ৪০০ থেকে ৭০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। আরেক কারিগর মিলন দাস বলেন, আমার পরিবার এই পেশার আয়ের ওপরই নির্ভরশীল। ঈদের আগে প্রতিদিন ১০০ থেকে ২০০ জোড়া পর্যন্ত জুতা বিক্রির আশা করছি। বেচাকেনা ভালো হলে পরিবার নিয়ে আনন্দমুখর ঈদ কাটাতে পারব। স্থানীয় ক্রেতা আলাউদ্দিন ও মো. জসিম উদ্দিন বলেন , ব্র্যান্ডের জুতার চেয়ে স্থানীয় কারিগরদের তৈরি চামড়ার জুতা অনেক বেশি আরামদায়ক ও টেকসই। দাম সাশ্রয়ী হওয়ায় সাধারণ মানুষের কাছে এর জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। চৌমুহনী এখন জুতা তৈরির অন্যতম বড় হাব। এখানকার তৈরি জুতার টেকসই গুণ আর আধুনিক ডিজাইনের কারণে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রাজশাহী থেকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা এখানে ভিড় করছেন। ইফাত সুজের স্বত্বাধিকারী মো. শেখ রাসেল বলেন, রমজান উপলক্ষ্যে এখানে কয়েক কোটি টাকার জুতা বিক্রি হয়। আমাদের জুতাগুলো শতভাগ লেদার দিয়ে তৈরি। তাই এর চাহিদা অনেক। এখানকার তৈরি জুতার টেকসই গুণ আর আধুনিক ডিজাইনের কারণে নোয়াখালীর বাহিরে বিভিন্ন জেলায় জুতা যায়। এতে করে বাড়ছে কর্মসংস্থান। চৌমুহনী পৌরসভার প্রশাসক ও বেগমগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কায়েসুর রহমান বলেন, চৌমুহনী বাণিজ্যিক এলাকা। এখানে জুতা শিল্পের নীরব বিপ্লব ঘটছে। এখানকার ছোট ছোট কারখানায় অনেক উন্নত মানের জুতা তৈরি হয়। ঈদে যেন তারা ন্যায্যমূল্য পায় সেসব বিষয়ে আমরা সজাগ দৃষ্টি রাখছি।

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: মাহমুদুর রহমান মনজু লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার বাঙ্গাখা ইউনিয়নের রাধাপুর এলাকায় পুলিশের চিরুনি অভিযানে একটি বিদেশি রিভলবার ও ৪৬ রাউন্ড তাজা গুলিসহ এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাত আনুমানিক সোয়া ২টার দিকে রাধাপুর গ্রামের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে এ অভিযান পরিচালনা করে লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত যুবকের নাম মো. শহিদ, প্রকাশ শিপন (৩০)। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাধাপুর গ্রামের আবুল কালামের নতুন বাড়ির দ্বিতীয় তলায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ঝলক মোহন্ত। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলে শিপনকে আটক করা হয়। পরে তার শয়নকক্ষে তল্লাশি চালিয়ে বিছানার এক কোণ থেকে একটি বিদেশি রিভলবার, ৪৬ রাউন্ড তাজা গুলি, চারটি গুলির খোসা এবং অস্ত্র বহনের কিছু সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ জানান, পুলিশ সুপার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের (প্রশাসন ও অর্থ) প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এ ঘটনায় এসআই মোহাম্মদ আমিনুর ইসলাম বাদী হয়ে গ্রেপ্তারকৃত শিপনের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করেছেন। উদ্ধারকৃত অস্ত্রের উৎস এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃত শিপনকে আজ বিকেলে সংশ্লিষ্ট মামলায় আদালতে সোপর্দ করা হবে।

পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, মুসাপুর রেগুলেটর প্রকল্প বাস্তবায়ন না হলে প্রতিবছর ঢলের পানিতে উপকূলবাসীকে ভেসে থাকতে হবে। তিনি বলেন, মুসাপুর রেগুলেটর পুনর্নির্মাণ কাজ দ্রুত শুরু হবে এবং অচিরেই এর কাজ দৃশ্যমান হবে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মুসাপুর ইউনিয়নে প্রস্তাবিত মুসাপুর রেগুলেটর নির্মাণসহ ছোট ফেনী ও বামনী নদী অববাহিকায় সমন্বিত বন্যা ও নদী ব্যবস্থাপনা এবং নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, মুসাপুর রেগুলেটর প্রকল্প বাস্তবায়ন না হলে প্রতিবছর ঢলের পানিতে আমাদের ভেসে থাকতে হবে। এ সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে হলে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা জরুরি। দীর্ঘদিন পর এই সুযোগ এসেছে এবং জনগণ আমাদের নির্বাচিত করেছেন বলেই আমরা এ দাবিটি বাস্তবায়নের চেষ্টা করছি। তিনি বলেন, অতীতে দেশনেত্রী খালেদা জিয়া এই এলাকার মানুষের দাবির প্রতি একমত হয়েছিলেন বলেই এখানে একটি রেগুলেটর ও বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে সেটি বর্তমানে ভেঙে যাওয়ায় নতুন করে প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকায় সমন্বিত প্রকল্প গ্রহণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী জানান, তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মুসাপুর রেগুলেটর পুনর্নির্মাণ প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করেছেন। ২০২৪ সালের বন্যার পর রেগুলেটরের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী অবগত হয়েছেন বলেই তাকে সরেজমিনে পরিদর্শনে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি আগামী একনেক সভায় উপস্থাপন করা হবে এবং দ্রুত কাজ শুরু করার আশা প্রকাশ করেন তিনি। বিজ্ঞাপন শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, মুসাপুর রেগুলেটর শুধু মুসাপুর এলাকার সমস্যা নয়, এটি বৃহত্তর নোয়াখালীবাসীর সমস্যা। ২০০৩ সালে বিষয়টি চিহ্নিত হওয়ার পর ২০০৫ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া নিজেই মুসাপুর রেগুলেটর প্রকল্পের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেছিলেন। তিনি বলেন, ২০২৪ সালে ভারতীয় নদীর উজান থেকে আসা ঢলের তীব্র স্রোতে মুসাপুর রেগুলেটরটি বিলীন হয়ে যায়। এরপর থেকেই উপকূলের মানুষ আবারও ঘরবাড়ি রক্ষার লড়াই শুরু করেছে। সামনে বর্ষা মৌসুমে কী হবে তা নিয়ে এলাকাবাসী উদ্বেগে রয়েছে। মন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, মুসাপুর রেগুলেটর পুনর্নির্মাণ হলে ছোট ফেনী ও বামনী নদী অববাহিকার বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদী ব্যবস্থাপনা এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন হবে, যা বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চলের মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নোয়াখালী জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে নোয়াখালী জেলা বিএনপির সদস্য নুরুল ইসলাম শিকদারের সঞ্চালনায় সভায় গেস্ট অব অনার পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলো, সদস্য সচিব হারুনুর রশিদ আজাদ প্রমুখ বক্তব্য দেন। এ সময় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. এনায়েত উল্লাহ, অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. মাহবুবুর রহমান, পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু বকর সিদ্দিক, ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ, জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) টিএম মোশাররফ হোসেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড নোয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী এস.এম. রেফাত জামিল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলায় সরকারি খাল দখল করে গড়ে তোলা ১৫টি অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে উপজেলার শাহাপুর বাজার এলাকায় এই অভিযান চালিয়ে অবৈধ স্থাপনাগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে এবং সরকারি জমি দখলমুক্ত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন চাটখিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মিজানুর রহমান। এ সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিশাত ফারাবী উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া অভিযানে চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল মোন্নাফ এবং সাহাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ খোকনসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি খাল দখল করে সেখানে অবৈধভাবে দোকান ও স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছিল। এতে খালের পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল। খালটি দখলমুক্ত করতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। অভিযান চলাকালে খালের ওপর নির্মিত প্রায় ১৫টি দোকান ভেকু দিয়ে ভেঙে ফেলা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মিজানুর রহমান বলেন, সরকারি খাল দখল করে অবৈধভাবে নির্মিত দোকান ও স্থাপনা উচ্ছেদ করতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। খালটি দখলমুক্ত রাখতে প্রায় ১৫টি অবৈধ দোকান ভেঙে ফেলা হয়েছে। সরকারি খাল, জলাশয় ও খাসজমি দখলমুক্ত রাখতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মাঝপথে ভারতের তারকা ক্রিকেটার রিংকু সিং তার বাবাকে হারান। ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান খানচাঁদ সিং। তার মৃত্যু শোক নিয়েই বিশ্বকাপে খেলে গেছেন এই ব্যাটার। এবার শোকাহত হৃদয় নিয়ে ফাইনাল খেললেন ভারতের আরেক তারকা– ইশান কিষাণ। ফাইনালের দুই দিন আগে পরিবারের দুই সদসদ্যকে হারিয়েছেন ভারতের এই ব্যাটার। তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় রাতে তাই শোকের সঙ্গেও লড়তে হয়েছে তাকে। এবং তিনি সফল। ব্যাট হাতে ২৫ বলে ৫৪ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেছেন তিনি। ফিল্ডিংয়ে দারুণ অবদান রাখেন তিনটি দুর্দান্ত ক্যাচ নিয়ে। নিউজিল্যান্ডকে ৯৬ রানে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিতে মাঠে যখন উদযাপন করছিলেন ক্রিকেটাররা, তখন ইশানের চোখেমুখে আনন্দের সঙ্গে বিষাদের ছায়া। তার মামাতো বোন ও ভগ্নিপতি একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার সময় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন। ইশানের বাবা প্রণভ পান্ডে ছেলের ফাইনালের ট্রেনিং ও ম্যাচ দেখতে আহমেদাবাদে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এজন্য পাটনা বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তাকে শিলিগুঁড়ি চলে যেতে হয়। যখন আহমেদাবাদের পথে থাকার কথা, দুই আত্মীয়ের মরদেহ নিতে তখন মর্গের সামনে অপেক্ষা করছিলেন তিনি। ম্যাচের আগ দিয়ে প্রণবের উদ্ধৃতি দিয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়া লেখে, ‘আমাদের সর্বনাশ হয়ে গেছে। আমরা খুবই বড় সমস্যায় আছি। আমরা সবাই হতভম্ব। ইশান আমাদের সঙ্গে আসতে চেয়েছিল। কিন্তু ফাইনালের কারণে আসেনি। সে সত্যিই বিমর্ষ।’ আবেগের সঙ্গে সংগ্রাম করতে থাকা ইশান যখন ফিফটি করলেন, তখন ড্রেসিং রুমের দিকে ব্যাট তাক করে উদযাপন করলেন, তারপর আকাশের দিকে, যেটা সাধারণত দেখা যায় না। হয়তো ঝলমলে ইনিংস তার বোন ও ভগ্নিপতিকে উৎসর্গ করলেন!

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছেলের নাম মোজতবা খামেনির নাম ঘোষণা করা হয়েছে। ফক্স নিউজের উপস্থাপক ব্রায়ান কিলমিড বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে বলেছেন, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনিকে নির্বাচিত করার ব্যাপারে ‘আমি খুশি নই’। তবে ট্রাম্প এখনো এই পদক্ষেপ সম্পর্কে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি। এর দ্য টাইমস অফ ইসরায়েল জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতার নিয়োগ নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি কেবল বলেছেন, আমরা দেখব কী হয়। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম বলছে, ট্রাম্প বলেছেন যে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে তিনি নেতানিয়াহুর সঙ্গে ‘পারস্পরিক’ সিদ্ধান্ত নেবেন। তিনি বলেন, আমি মনে করি এটি পারস্পরিক... কিছুটা। আমরা কথা বলছি। আমি সঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত নেব, তবে সবকিছু বিবেচনায় নেওয়া হবে। ট্রাম্প ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হার্জগকে দুর্নীতির অভিযোগে বিচারাধীন নেতানিয়াহুকে ক্ষমা করার জন্যও অনুরোধ করেছেন। নেতানিয়াহুর ডাকনাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিবি নেতানিয়াহুকে অবিলম্বে ক্ষমা করা উচিত। আমি মনে করি (হার্জোগ) তা না করে একটি ভয়াবহ কাজ করছেন। আমরা চাই বিবি যুদ্ধের দিকে মনোনিবেশ করুক, হাস্যকর ক্ষমার দিকে নয়। রোববার ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দেশটির প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনির নাম ঘোষণা করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের যৌথ হামলায় গত সপ্তাহে নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি এমন এক সময় এই বিশাল দায়িত্বভার কাঁধে নিলেন যখন দেশটি ৪৭ বছরের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।