

মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ অভিযান চালিয়ে বাংলাদেশিসহ ১৫০ জন বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে। অভিযানের সময় গ্রেপ্তার এড়াতে প্রবাসীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও মরিয়া ভাব লক্ষ্য করা গেছে। ‘অপারেশন কুটিপ’ নামে এই অভিযান চলাকালে গ্রেপ্তার এড়াতে কেউ কেউ ওপর তলা থেকে দা ছুড়ে মারেন, কেউ ছাদের ওপর উঠে পড়েন, আবার কাউকে পানির ট্যাঙ্কের ভেতর লুকিয়ে থাকতে দেখা যায়। কর্তৃপক্ষ জানায়, সেলায়াং এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্ট ব্লক এবং জালান ক্লাং লামার একটি অবৈধ বসতিতে এই অভিযান চালানো হয়। মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের উপ-মহাপরিচালক (অপারেশন) লোকমান এফেন্দি রামলি জানান, দুই সপ্তাহের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সেলায়াং এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “অভিযানে মোট ৩২৬ জনের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। এর মধ্যে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ৭৯ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে।” সেলায়াং থেকে আটক হওয়া এই ৭৯ জনের মধ্যে বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, নেপাল, ভারত, পাকিস্তান ও মিয়ানমারের নাগরিক রয়েছেন। তাদের বয়স ১৭ থেকে ৫৫ বছরের মধ্যে। যাদের আটক করা হয়েছে তারা মূলত সিকিউরিটি গার্ড, ফুড স্টল সহকারী, লন্ড্রি কর্মী, কনভিনিয়েন্স স্টোর বা মুদি দোকানের কর্মচারী এবং নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। লোকমান এফেন্দি জানান, পরিদর্শনে দেখা গেছে প্রবাসীরা অত্যন্ত ঘিঞ্জি পরিবেশে বসবাস করছেন। সাধারণত তিন কক্ষের একটি ফ্ল্যাট প্রায় ৬০০ রিঙ্গিতে ভাড়া নিয়ে সেখানে পাঁচ থেকে ছয়জন গাদাগাদি করে থাকছিলেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এমন অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার ফলে দুর্গন্ধ ও পরিবেশ দূষণসহ নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং সামাজিক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। এক সপ্তাহের গোয়েন্দা নজরদারির পর জালান ক্লাং লামার একটি অবৈধ বসতিতে দ্বিতীয় অভিযানটি চালানো হয়। সেখান থেকে মোট ৭১ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে। আটককৃতদের মধ্যে ৬৬ জন ইন্দোনেশিয়ান, ৩ জন মিয়ানমারের নাগরিক এবং ভারত ও পাকিস্তানের একজন করে নাগরিক রয়েছেন। বার্নামার এক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ওই বসতিতে মৌলিক সুযোগ-সুবিধা থাকলেও বাসিন্দারা অনানুষ্ঠানিকভাবে জায়গা ভাড়া নিয়ে বসবাস করছিলেন। এমনকি তারা প্রকৃত বাড়ির মালিক কে, সে সম্পর্কেও কিছুই জানতেন না। ওই এলাকায় কোনো বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ছিল না। মূলত আশপাশের বিভিন্ন উৎস থেকে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে বসতিটি গড়ে তোলা হয়েছিল। লোকমান এফেন্দি জোর দিয়ে বলেন, অভিবাসন কর্তৃপক্ষের এই অভিযান হবে ব্যাপক এবং এ বিষয়ে কোনো আপস করা হবে না। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, “শুধু অবৈধ অভিবাসীই নয়, যারা তাদের নিয়োগ দিয়েছেন সেই নিয়োগকর্তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” আটককৃত সবার বিরুদ্ধে ১৯৫৯/৬৩ সালের অভিবাসন আইনের আওতায় অভিযোগ আনা হয়েছে। তাদের কাছে বৈধ কোনো পাস বা পারমিট ছিল না এবং অনেকের ভিসার মেয়াদও শেষ হয়ে গিয়েছিল। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে প্যারিসে শোক বই উন্মুক্ত অভিযানকালে কুয়ালালামপুর ফেডারেল টেরিটরি অভিবাসন বিভাগের পরিচালক ওয়ান মোহাম্মদ সাউপি ওয়ান ইউসুফ উপস্থিত ছিলেন। সূত্র : দ্য সান মালয়েশিয়া।
১৪ জানুয়ারী, ২০২৬
পাসপোর্টের র্যাংকিং বিশ্বের সপ্তম দুর্বল অবস্থানে বাংলাদেশ। হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্সের ২০২৬ সালের জানুয়ারির হালনাগাদ তথ্যে এমন অবস্থান দেখা গেছে। এ ছাড়াও দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে পঞ্চম দুর্বল হিসেবে স্থান পেয়েছে বাংলাদেশের পাসপোর্ট। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) হেনলি অ্যান্ড পার্টনারস তাদের সর্বশেষ পাসপোর্ট ইনডেক্স প্রকাশ করেছে। পাসপোর্ট ইনডেক্সের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা এখন বিশ্বের ৩৭টি দেশে ভিসা ছাড়া ভ্রমণ করতে পারেন। তালিকায় মোট ১০১টি অবস্থানের মধ্যে বাংলাদেশের পাসপোর্ট ৯৫তম স্থানে রয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের জানুয়ারি সংস্করণে ১০৬টি অবস্থানের মধ্যে বাংলাদেশ ১০০তম স্থানে ছিল। এই ইনডেক্স বৈশ্বিক ভিসামুক্ত ভ্রমণের সুযোগের ভিত্তিতে র্যাংকিং তৈরি করা হয়। পাসপোর্ট র্যাংকিংয়ে এবারও এককভাবে শীর্ষে রয়েছে সিঙ্গাপুর। দেশটির পাসপোর্টধারীরা বিশ্বের ১৯২টি দেশে ভিসা ছাড়া প্রবেশ করতে পারেন। র্যাংকিংয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া। এসব দেশের পাসপোর্টধারীরা বিশ্বের ১৮৮টি দেশে ভিসা ছাড়া প্রবেশ করতে পারেন। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে পাঁচটি দেশ– ডেনমার্ক, লুক্সেমবার্গ, স্পেন, সুইডেন ও সুইজারল্যান্ড। এসব দেশের পাসপোর্টধারীরা বিশ্বের ১৮৬টি দেশে ভিসা ছাড়া প্রবেশ করতে পারেন। চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, গ্রিস, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, নেদারল্যান্ড ও নরওয়ে। এসব দেশের পাসপোর্টধারীরা বিশ্বের ১৮৫টি দেশে ভিসা ছাড়া প্রবেশ করতে পারেন। পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে হাঙ্গেরি, পর্তুগাল, স্লোভাকিয়া, স্লোভেনিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। এসব দেশের পাসপোর্টধারীরা বিশ্বের ১৮৪টি দেশে ভিসা ছাড়া প্রবেশ করতে পারেন। পাসপোর্ট ইনডেক্সের একেবারে তলানিতে রয়েছে পাকিস্তান (৯৮তম), ইয়েমেন (৯৮তম), ইরাক (৯৯তম), সিরিয়া (১০০তম) ও আফগানিস্তান (১০১তম)। এসব দেশের নাগরিকরা যথাক্রমে ৩১, ২৯, ২৬ ও ২৪টি গন্তব্যে ভিসা ছাড়া ভ্রমণ করতে পারেন। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে মালদ্বীপের পাসপোর্ট। দেশটি রয়েছে ৫২তম স্থানে। মালদ্বীপের নাগরিকরা ভিসা ছাড়াই ৯২টি গন্তব্যে ভ্রমণ করতে পারেন। হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্সে ১৯৯টি পাসপোর্ট ও ২২৭টি গন্তব্য বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে

দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে হঠাৎ করেই সরগরম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। ফেসবুকে ঢুকলেই চোখে পড়ছে দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে নানা পোস্ট ও মন্তব্য। কেউ প্রশ্ন তুলছেন, প্রথম স্ত্রী থাকতে দ্বিতীয় বিয়ে কেন, কেউ জানতে চাইছেন আর্থিক সক্ষমতার বিষয়টি, আবার কেউ বলছেন, প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া কীভাবে দ্বিতীয় বিয়ে সম্ভব? আইন কী বলে, হাইকোর্টের রায়ে কী বলা হয়েছে, এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন নেটিজেনরা। এই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর বহুবিবাহ সংক্রান্ত ধারা এবং এ বিষয়ে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়। রিট করেছিলেন আইনজীবী ইশরাত জাহান মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ৬ ধারা (বহুবিবাহ) চ্যালেঞ্জ করে ২০২১ সালের ১৩ ডিসেম্বর হাইকোর্টে রিট করেন আইনজীবী ইশরাত জাহান। রিটে তার যুক্তি ছিল, এই ধারার মাধ্যমে নারীর সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তিনি বলেন, ইসলামে একাধিক বিয়ের অনুমতি থাকলেও শর্ত হিসেবে সব স্ত্রীর প্রতি সমান সুবিচারের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু আইনে সেই শর্ত বাস্তবায়নের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেই। শুধু ‘বিয়ে করার অনুমতি’ অংশটি নেওয়া হচ্ছে, কিন্তু সুবিচার, ভরণপোষণ কিংবা আর্থিক সক্ষমতা যাচাইয়ের সুযোগ সালিসি কাউন্সিলের নেই। এতে নারীরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। হাইকোর্টের রুল ও চূড়ান্ত রায় রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০২২ সালের ৫ জানুয়ারি বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের বেঞ্চ একটি রুল জারি করেন। রুলে বহুবিবাহ সংক্রান্ত আইনের বিষয়ে নীতিমালা প্রণয়ন এবং স্ত্রীদের সম-অধিকার নিশ্চিত না করে বহুবিবাহের অনুমতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। রুলের শুনানি শেষে গত বছরের ২০ আগস্ট হাইকোর্ট রুল খারিজ করেন। ফলে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর বহুবিবাহ সংক্রান্ত ধারা বহাল থাকে। এই রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি প্রকাশ পাওয়ার পর নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। হাইকোর্ট কী বলেছেন পূর্ণাঙ্গ রায় হাতে পাওয়ার পর আইনজীবী ইশরাত জাহান জানান, হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়েছে, মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের ৬ ধারা কোনোভাবেই বৈষম্যমূলক বা স্বেচ্ছাচারী নয়। এই আইন নারী ও পুরুষ, কোনো পক্ষেরই মৌলিক অধিকার খর্ব করে না। রায়ে আরও বলা হয়, সালিসি কাউন্সিল একতরফাভাবে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে পারে না এবং বহুবিবাহের অনুমতি দেওয়ার বা না দেওয়ার ক্ষেত্রে আইনি কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই। এই ধারা দেশের নারীদের কোনো মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করে না বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়। ফলে রুল সমর্থনে উত্থাপিত যুক্তির সারবত্তা নেই বলে রুল ডিসচার্জ করা হয়েছে। দ্বিতীয় বিয়েতে তবে কার অনুমতি লাগবে? মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ৬ (১) ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির বিয়ে বহাল থাকা অবস্থায় তিনি সালিসি কাউন্সিলের লিখিত অনুমতি ছাড়া আরেকটি বিয়ে করতে পারবেন না। অনুমতি ছাড়া করা বিয়ে নিবন্ধনযোগ্যও নয়। আইনে বলা হয়েছে, আবেদনকারীকে নির্ধারিত ফি দিয়ে চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করতে হবে। আবেদনে প্রস্তাবিত বিয়ের কারণ ও বর্তমান স্ত্রী বা স্ত্রীদের সম্মতি নেওয়া হয়েছে কি না, তা উল্লেখ করতে হবে। চেয়ারম্যান আবেদনকারী ও বর্তমান স্ত্রী বা স্ত্রীর প্রতিনিধি মনোনয়ন করতে বলবেন। সালিসি কাউন্সিল প্রস্তাবিত বিয়ে প্রয়োজনীয় ও ন্যায়সঙ্গত মনে করলে অনুমতি দিতে পারবেন। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সহকারী জজের কাছে পুনর্বিবেচনারও সুযোগ রয়েছে। অনুমতি ছাড়া বিয়ে করলে শাস্তি ও জরিমানা সালিসি কাউন্সিলের অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করলে বর্তমান স্ত্রী বা স্ত্রীদের দেনমোহরের পুরো টাকা তাৎক্ষণিক পরিশোধ করতে হবে। অর্থ পরিশোধ না করলে তা ভূমি রাজস্বের মতো আদায়যোগ্য হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে এক বছর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে। আইনজীবী ইশরাত জাহান বলেন, বহুদিন ধরেই ভুলভাবে বলা হচ্ছিল যে দ্বিতীয় বিয়ের জন্য প্রথম স্ত্রীর অনুমতি বাধ্যতামূলক। বাস্তবে আইনে কোথাও প্রথম স্ত্রীর অনুমতিকে শর্ত করা হয়নি। বরং শুরু থেকেই সালিসি কাউন্সিলের অনুমতির বিধান ছিল। তিনি বলেন, ‘হাইকোর্ট নতুন করে কিছু বলেননি। আগে যা ছিল, রুল খারিজের মাধ্যমে সেটিই বহাল রাখা হয়েছে। অর্থাৎ সালিসি কাউন্সিলের অনুমতি পেলে দ্বিতীয় বিয়ে করা যাবে, আইনের অবস্থান আগেও এমন ছিল, এখনও তাই আছে।’ রিট করার বিষয়ে ইশরাত জাহান বলেন, বহুবিবাহের বিধান (আইনের ৬ ধারা) চ্যালেঞ্জ করেই রিট আবেদনটি করা হয়। কেননা আরবিট্রেশন কাউন্সিলের কাছে এই ক্ষমতাটা থাকা সমীচীন নয়, চেয়ারম্যান পক্ষপাতদুষ্ট হতে পারেন। তাই আমরা চাচ্ছিলাম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া হবে না, নতুন করে একটি নীতিমালা হোক। শুধু তাই নয়, স্ত্রীদের সম-অধিকার কীভাবে নিশ্চিত হবে, সে বিষয়ে কোনো নীতিমালা নেই। উপরন্তু একজন ব্যক্তি একাধিক বিয়ের জন্য শারীরিক, মানসিক ও অর্থনৈতিকভাবে সক্ষম কি না, তা যাচাইয়ের সক্ষমতা কাউন্সিলের নেই।

সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মেজর জেনারেল (অব.) মাহমুদুল হাসান আর নেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মেজর জেনারেল (অব.) মাহমুদুল হাসান আর নেই। বুধবার বিকেল ৩টায় রাজধানীর নিজ বাসভবনে বার্ধক্যজনিত কারণে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন টাঙ্গাইল-৫ আসনের এই সাবেক সংসদ সদস্য (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
৮ জানুয়ারী, ২০২৬
ঘন কুয়াশার কারণে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রোববার (৪ জানুয়ারি) ৮টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট অবতরণ করতে পারেনি। কুয়াশায় রানওয়ে দৃশ্যমান না থাকায় নিরাপত্তাজনিত কারণে ফ্লাইটগুলোকে বিকল্প বিমানবন্দরে পাঠানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এসএম রাগীব সামাদ। তিনি জানান, কুয়াশার কারণে ৬টি ফ্লাইট সিলেট বিমানবন্দরে, ১টি ফ্লাইট কলকাতা বিমানবন্দরে ও ১টি ফ্লাইট ভিয়েতনামের হ্যানয় বিমানবন্দরে অবতরণ করে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে ডাইভারশন হওয়া ফ্লাইটগুলোকে ফিরিয়ে আনা শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি। আবহাওয়া অধিদপ্তর রোববার (৪ জানুয়ারি) সকাল ৭টায় এক পূর্বাভাসে জানিয়েছে, দুপুর পর্যন্ত ঢাকাসহ আশপাশের এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা থাকতে পারে। এ সময় আকাশ আংশিক মেঘাচ্ছন্ন থাকলেও দিনের তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে। এছাড়া বর্ধিত পাঁচ দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, আগামী দিনগুলোতে সারা দেশে তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে।
৪ জানুয়ারী, ২০২৬তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) নিয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছে দেশ। ১২৫৩ টাকার ১২ কেজির গ্যাসের সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার টাকায়। শীতে গ্যাসের চাহিদা বেশি থাকে বাসা-বাড়িতে। পাইপলাইনের গ্যাস সরবরাহ কম। তীব্র সংকট বাসাবাড়ি ও সিএনজি স্টেশনগুলোয়। অন্যদিকে এলপিজির সিলিন্ডার সহজে পাওয়া যাচ্ছে না। এলপি গ্যাসের সংকট ভয়াবহ। পেলেও সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা বেশি দিয়ে কিনতে হচ্ছে ১২ কেজির এলপিজির সিলিন্ডার। সংশ্লিষ্টরা জানান, এলপিজি সিলিন্ডারের সংকট সহজে কাটবে না। কারণ, বিভিন্ন কারণে আগের চেয়ে এলপিজি আমদানি কমে গেছে। এ অবস্থায় সামনের দিনগুলোয় সাধারণ মানুষকে আরও কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। হাবিবুর রহমান থাকেন রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায়। বাসায় ব্যবহার করেন এলপি গ্যাস। এক সপ্তাহ ধরে বেশ সমস্যা যাচ্ছে এলপিজি নিয়ে। তিনি বলেন, আগে এক ফোন কলে এলপিজি পাওয়া যেত। এখন কল বা চাহিদা দিলেও ২/৩ দিনেও পাওয়া যাচ্ছে না। তাও ১২/১৩শ টাকার এলপিজি চাইছে ২ হাজার টাকা। হঠাৎ এমন পরিস্থিতি কেন হলো? রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে খবর নিয়ে জানা যায়, বাসাবাড়িতে পাইপলাইনের গ্যাস বলতে গেলে থাকে না। মধ্যরাতে বা ভোরে যা আসে, তা দিয়ে রান্না করা যায় না। তাই অনেকে এলপিজি দিয়ে রান্না করছেন। কিন্তু এলপিজি কিনতে গিয়ে তারা বিপাকে পড়ছেন। ১৩০০ টাকার এলপিজি বিক্রি হচ্ছে ১৯০০/২০০০ টাকায়। তেজগাঁও এলাকার সিএনজি স্টেশনগুলোয় খবর নিয়ে জানা গেছে, অনেকদিন ধরে গ্যাসের সংকট। তবে ২/৩ দিনে এ সংকট আরও বেড়েছে। বিশেষ করে শীতের প্রকোপ বাড়ার পর লাইনে গ্যাস নেই বললেই চলে। সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশন ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ফারহান নুর বলেন, সিএনজি স্টেশনে অনেকদিন ধরে গ্যাসের সমস্যা চলছে। এ ব্যাপারে জ্বালানি উপদেষ্টা ও সচিবকে বারবার বলা হলেও কোনো সমাধান হচ্ছে না। তিনি বলেন, এতে একদিকে ব্যবসায়িক ক্ষতি হচ্ছে। অন্যদিকে সিএনজি ব্যবহারকারীরা চরম দুর্ভোগে পড়ছেন। সারা দেশে ৪০০’র মতো সিএনজি স্টেশন থাকলেও রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় আছে ২০০’র বেশি স্টেশন। খবর নিয়ে জানা যায়, শুক্রবার তিতাসের ডেমরা সিজিএস থেকে তেজগাঁও টিবিএসগামী পাইপলাইনের মেরামতের কাজ হয়েছে। এ কারণে গুলশান, বনানী, রামপুরা, মালিবাগ থেকে চৌধুরীপাড়া পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ বন্ধ ছিল। এছাড়া শীতের কারণে চুলায় পানি গরম করাসহ বিভিন্ন কারণে তিতাস এলাকায় গ্যাসের চাহিদা বেড়েছে দৈনিক ১০ কোটি ঘনফুটের মতো। তিতাস গ্যাস কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহনেওয়াজ পারভেজ যুগান্তরকে বলেন, পাইপলাইন মেরামতের কারণে ঢাকার বেশকিছু এলাকায় গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে। রোববার থেকে ওইসব এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বাড়বে। তবে এর আগে থেকেই গ্যাসের সংকট কিছুটা রয়েছে। শীতে গ্যাসের চাহিদা বাড়ে বলে জানান তিনি। এলপিজির সংকট কেন : কিছু দিন আগেও এলপিজি চাহিদামতো পাওয়া যেত। এখন কেন পাওয়া যায় না। এর উত্তরে ভিন্ন ভিন্ন মত পাওয়া গেছে। আজ বিইআরসি এলপিজির নতুন দাম ঘোষণা করবে। কিন্তু এর আগে বাজারে এলপিজির তীব্র সংকট। সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, বাংলাদেশে এলপিজি আমদানিতে ব্যবহার হতো এমন ২৯টি জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পড়েছে। এ কারণে জাহাজ পাওয়া যাচ্ছে না। তবে এলপিজি আমদানি এবং বোটলিং কোম্পানিদের সংগঠন এলপিজি অপারেটরস অব বাংলাদেশ-লোয়াবের সভাপতি আমিরুল হক যুগান্তরকে বলেন, এলপিজির সংকট তৈরি হয়েছে নানা কারণে। মাসিক চাহিদা ১ লাখ ২০ হাজার থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টন। কিন্তু এখন সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে ৯০ হাজার টনের মতো। তিনি বলেন, এলপিজি ব্যবসায় জড়িত ৫টি কোম্পানি এখন নানা কারণে তরল এলপিজি আমদানি বন্ধ রেখেছে। তাদের জায়গায় অন্য কোম্পানিগুলো আমদানি করতে চাইলেও সরকার তা করতে দিচ্ছে না। এ কারণে সংকট ভয়াবহ হচ্ছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বেশ কয়েকটি এলপিজিবাহী জাহাজকে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় এলপিজির খরচ টনে ১২০ ডলার থেকে বেড়ে ১৮০ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। তাই এলপিজির দাম পড়ছে বেশি। অন্য এক ব্যবসায়ী জানান, এলপিজির চাহিদা মাসে ১ লাখ ৫০ হাজার টনের বেশি। সিটি গ্রুপের এলপিজি কোম্পানির পরিচালক ফিরোজ আহমেদ জানান, এলপিজির পরিস্থিতি ভালো নয়। আগের মতো এ খাতে ট্রেডার নেই। চাহিদামতো এলপিজি পাওয়া যাচ্ছে না। কারণ, আগে অনেকে আমদানি করত। তারা এখন করে না। স্বভাবত এতে কিছুটা সংকট দেখা দিয়েছে। তেজগাঁও এলাকার এলপিজির ডিলার তাহের এন্টারপ্রাইজের মালিক আবু তাহের বলেন, এলপিজি পরিস্থিতি ভয়াবহ। আগে দৈনিক ২০০ সিলিন্ডার বিক্রি করতাম। এখন সপ্তাহে ২০০টি বিক্রি করার মতো সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। কারণ, এলপিজি সংকট। তিনি বলেন, তাহের এন্টারপ্রাইজ ৮টি কোম্পানির ডিলার। কিন্তু এলপিজি পাওয়া যাচ্ছে নিয়মিতভাবে শুধু ওমেরা থেকে। তাও চাহিদামতো নয়। বাকিগুলো নিয়মিত এলপিজি দেয় না বললেই চলে। তাছাড়া এলপিজি সংগ্রহে খরচও বেড়েছে। যেমন : একটি গাড়ি আগে একদিনে এলপিজি প্ল্যান্ট থেকে নিয়ে আসতে পারত। এখন ৩/৪ দিন প্ল্যান্টে বসে থাকতে হচ্ছে। এতে প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা লোকসান দিতে হচ্ছে। একই কারণে এলপিজির দামও পড়ছে বেশি। তার তথ্যানুযায়ী, তাহের এন্টারপ্রাইজ প্রতি সিলিন্ডার বিক্রি করছে ১৩০০ বা ১৪০০ টাকায়। কিন্তু চাহিদা বেশি থাকায় সেই সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ১৮০০ থেকে ২০০০ হাজার টাকায়। এলপিজির দাম সমন্বয় করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন-বিইআরসি। কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ শনিবার যুগান্তরকে বলেন, এলপিজি সংকটের বিষয়টি নজরে এসেছে। কিন্তু বাজার তদারকি করার দায়িত্ব তো বিইআরসির নয়। তাই এ ব্যাপারে কিছু করা যাচ্ছে না। এলপি গ্যাস

সবাইকে কাঁদিয়ে বিদায় নিল ২০২৫, শুরু হলো চ্যালেঞ্জিং নির্বাচনী বছর সময়ের আবর্তে ক্যালেন্ডারের পাতা থেকে ঝরে গেল আরও একটি বছর। ঘড়ির কাঁটা মধ্যরাত স্পর্শ করতেই ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই নিল ২০২৫ সাল। পূর্ব আকাশে উদিত নতুন সূর্য আজ বহন করে এনেছে ২০২৬ সালের শুভ বার্তা। তবে, বিদায়ী ২০২৫ সাল পেছনে রেখে গেছে ইতিহাসের এক বিশাল খতিয়ান— যেখানে অমলিন হয়ে আছে রাজনৈতিক নাটকীয়তা, রাষ্ট্র সংস্কারের সংগ্রাম আর একরাশ শোকাতুর স্মৃতি। অন্যদিকে, বাংলাদেশের মানুষের জন্য ২০২৬ সাল কেবল একটি নতুন বর্ষবরণ নয় বরং এক কঠিন অগ্নিপরীক্ষার নাম। কারণ, দোরগোড়ায় কড়া নাড়ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। চলুন, একনজরে ফিরে দেখা যাক ২০২৫ সালের সেই ঘটনাবহুল দিনলিপি। জানুয়ারি : সংস্কারের রোডম্যাপ ও নতুন বাংলাদেশের সূচনা সংস্কারের অঙ্গীকার : ১৭ জানুয়ারি জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ বাস্তবায়নের শপথ পুনর্ব্যক্ত করেন। পুলিশ, বিচার বিভাগ ও নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কার কমিশনগুলো মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করে। জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিচ্ছেন প্রধান উপদেষ্টা ঐতিহাসিক রায় ও মুক্তি : ১৫ জানুয়ারি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার সাজা বাতিল করেন উচ্চ আদালত। পরদিন ১৬ জানুয়ারি দীর্ঘ সাড়ে ১৭ বছর পর কারামুক্ত হন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর। ক্যাম্পাস ও রাজপথ : সাত কলেজের স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবিতে উত্তাল হয়ে ওঠে ঢাকা। মাসের শেষে রানিং স্টাফদের ধর্মঘটে স্থবির হয়ে পড়ে দেশের রেলযোগাযোগ। ফেব্রুয়ারি : কূটনৈতিক তৎপরতা ও ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ অপারেশন ডেভিল হান্ট : এক দিনে সারা দেশে গ্রেপ্তার ৪৬১ নিরাপত্তা অভিযান : অপরাধ দমনে গত ৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হয় যৌথ বাহিনীর ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’। প্রথম দিনেই সহস্রাধিক গ্রেপ্তার দেশজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে। কূটনৈতিক টানাপড়েন : সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য ও উসকানিমূলক তৎপরতার অভিযোগে ভারতীয় হাইকমিশনারকে তলব করা হয়। ১২ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘ জুলাই বিপ্লবের ওপর ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের’ আলামত সম্বলিত প্রতিবেদন প্রকাশ করে। নতুন রাজনৈতিক শক্তি : ২৮ ফেব্রুয়ারি আত্মপ্রকাশ করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’। মার্চ-এপ্রিল : উত্তপ্ত হয় দ্রব্যমূল্যের বাজার ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক। আর রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণই ছিল সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ। জাতীয় নাগরিক পার্টির ২১৭ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন চুক্তি পুনর্বিবেচনা : আদানি গ্রুপসহ বিতর্কিত বিদ্যুৎ চুক্তিগুলো তদন্তে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠিত হয়। আইনি পরিবর্তন : বিতর্কিত সাইবার নিরাপত্তা আইন বাতিল করে ‘সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫’ প্রবর্তিত হয়। বিনিয়োগ ও কূটনীতি : এপ্রিলে ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট সামিট’-এ ৫০টি দেশের প্রতিনিধি অংশ নেন। দীর্ঘ ১৫ বছরের শীতল সম্পর্ক কাটিয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে শুরু হয় উচ্চপর্যায়ের আনুষ্ঠানিক বৈঠক। মে : খালেদা জিয়ার প্রত্যাবর্তন আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত : ১২ মে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নির্দেশে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের সব কার্যক্রম নিষিদ্ধ এবং নিবন্ধন স্থগিত করা হয়। খালেদা জিয়ার ফিরে আসা : দীর্ঘ চিকিৎসার পর ৬ মে লন্ডন থেকে দেশে ফেরেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। খালেদা জিয়ার কণ্ঠ নকল করে চাঁদাবাজি, সাড়ে ৫ কোটি টাকা ফ্রিজ করল সিআইডি মব ভায়োলেন্স ও দুর্যোগ : একই মাসেই দেশের বিভিন্ন স্থানে ‘মব জাস্টিস’ বা গণপিটুনির মতো ঘটনা উদ্বেগ সৃষ্টি করে। মাসের শেষে ঘূর্ণিঝড় ও ভূমিধসে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে মানবিক বিপর্যয় নেমে আসে। জুন-জুলাই : বাজেট ও আকাশপথে ট্র্যাজেডি গত ২ জুন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার উচ্চাভিলাষী বাজেট পেশ করেন। তবে, জুলাই মাসে ঢাকার উত্তরার মাইলস্টোন কলেজের ওপর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তে ৩২ জনের মৃত্যু জাতিকে শোকাতুর করে তোলে। সেই সঙ্গে ২৪ জুলাই গ্রেপ্তার হন সাবেক প্রধান বিচারপতি এ. বি. এম. খায়রুল হক। রোববার খুলছে না মাইলস্টোন, কলেজ খোলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত সোমবার আগস্ট-সেপ্টেম্বর : অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের এক বছর পূর্তিতে ‘জুলাই বিপ্লব দিবস’ পালিত হয়। অক্টোবর-নভেম্বর : রায় ও নির্বাচনের সানাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল জুলাই হত্যাকাণ্ডের দায়ে (অনুপস্থিতিতে) সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। সুপ্রিম কোর্টের রায়ে সংবিধানে ফিরে আসে ‘নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার’ ব্যবস্থা। আর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দীর্ঘক্ষণ বিমান চলাচল বন্ধ থাকে। শাহজালালের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ারের ৩৭ ইউনিট ডিসেম্বর : এক নক্ষত্রের বিদায় ও শোকার্ত সমাপ্তি বছরের শেষ মাসটি ছিল বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য সবচেয়ে বেদনাবিধুর। এই মাসের ১১ তারিখ নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করে বহু প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল। তফসিল অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন নির্ধারিত হয়। ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড : পল্টনে তরুণ নেতা ওসমান হাদির ওপর নৃশংস হামলা ও ১৮ ডিসেম্বর তার শাহাদাত বরণ পুরো দেশকে স্তব্ধ করে দেয়। তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন : দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। ঢাকায় পৌঁছালেন তারেক রহমান খালেদা জিয়ার প্রয়াণ : বছরের শেষলগ্নে ইন্তেকাল করেন দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। ৩১ ডিসেম্বর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে লাখো মানুষের অংশগ্রহণে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। শহীদ জিয়ার কবরের পাশেই তাকে দাফন করা হয়। ২০২৬ সাল : যে চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে হবে ২০২৫ সালকে বিদায় জানিয়ে ২০২৬ সালে পা রাখল বাংলাদেশ। নতুন বছরে অন্তর্বর্তী সরকারের মূল চ্যালেঞ্জ হলো একটি অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্পন্ন করা। আর রাজনৈতিক সমঝোতা বজায় রাখা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং আকাশচুম্বী দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের নাগালে রাখাই হবে নতুন সরকারের ও প্রশাসনের জন্য কঠিনতম পরীক্ষা। গণভোট ও অধ্যাদেশসহ ৪ উপায়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সুপারিশ সংসদ নির্বাচনের চ্যালেঞ্জ গণভোট ও জুলাই চার্টার : নির্বাচনের দিনই জুলাই চার্টার বা জুলাই ঘোষণার ওপর ভিত্তি করে সংবিধানের আমূল পরিবর্তন (যেমন—দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদের সীমাবদ্ধতা) নিয়ে গণভোট হবে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সফলভাবে সম্পন্ন করা নির্বাচন কমিশনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করা হচ্ছে।

বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিন বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। বিএনপি মিডিয়া সেলের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে বলা হয়েছে, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজ সকাল ৬টায় ফজরের ঠিক পরে ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। আমরা তার রূহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং সকলের নিকট তার বিদেহী আত্মার জন্য দোয়া চাচ্ছি।’ গত ২৩ নভেম্বর থেকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন খালেদা জিয়া। আইসিইউতে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার অবস্থা অত্যন্ত জটিল এবং তিনি সংকটময় মুহূর্ত পার করছিলেন বলে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানিয়েছিলেন। বেগম খালেদা জিয়া ১৯৪৬ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ইস্কান্দার মজুমদার ও মা তৈয়বা মজুমদার। শৈশবে তিনি দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং পরবর্তীতে সুরেন্দ্রনাথ কলেজে পড়াশোনা করেন। ১৯৬০ সালে তিনি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন তিনি ফার্স্ট লেডি হিসেবে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন। ১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদতবরণের পর দলের সংকটময় মুহূর্তে তিনি রাজনীতিতে পদার্পণ করেন। ১৯৮২ সালের ২ জানুয়ারি বিএনপির প্রাথমিক সদস্য হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে তার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়। এরপর ১৯৮৩ সালে তিনি দলের ভাইস-চেয়ারম্যান এবং ১৯৮৪ সালে চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন। আশির দশকে তৎকালীন সামরিক স্বৈরশাসক এইচ এম এরশাদের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে তিনি নেতৃত্ব দেন। আপসহীন সংগ্রামের কারণে তিনি ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। এই দীর্ঘ আন্দোলনে তিনি সাত দলীয় জোট গঠন করেন এবং স্বৈরাচারের পতন না হওয়া পর্যন্ত কোনো নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার দৃঢ় ঘোষণা দেন। এই দীর্ঘ লড়াইয়ে তাকে ১৯৮৩ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত সাতবার আটক ও গৃহবন্দী করা হয়েছিল। ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে জয়লাভ করে তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। তার সময়েই দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি শিক্ষা খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনেন; যার মধ্যে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা, মেয়েদের জন্য দশম শ্রেণি পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা এবং উপবৃত্তি কর্মসূচি উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া তিনি সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ২৭ থেকে ৩০ বছরে উন্নীত করেন। ১৯৯৬ সালের জুন মাসের নির্বাচনে বিএনপি পরাজিত হলেও তিনি ১১৬টি আসন নিয়ে সংসদে বৃহত্তম বিরোধী দলীয় নেত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৯ সালে তিনি চারদলীয় জোট গঠন করেন এবং ২০০১ সালের সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় নিয়ে আবারও প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। ২০০৫ সালে ফোর্বস ম্যাগাজিন তাকে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর নারীদের তালিকায় ২৯ নম্বরে স্থান দেয়। বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে কোনো আসনেই পরাজিত না হওয়ার অনন্য রেকর্ডের অধিকারী। তিনি ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত প্রতিটি নির্বাচনে যে কয়টি আসনে দাঁড়িয়েছেন, তার সবকটিতেই জয়লাভ করেছেন। ২০১১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি স্টেট সিনেট গণতন্ত্রের প্রতি তার অবদানের জন্য তাঁকে ‘গণতন্ত্রের যোদ্ধা’ উপাধিতে ভূষিত করে। ২০১৮ সালে একটি বিতর্কিত মামলার রায়ে তাকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। যদিও আন্তর্জাতিক এবং দেশীয় আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই বিচারের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। পরে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতন হলে একে একে সব মামলায় খালাস পান বিএনপি চেয়ারপারসন।

৭১ জন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার সনদ বাতিল করেছে সরকার। সনদ বাতিল করে গত ২৪ ডিসেম্বর গেজেট জারি করা হয়েছে। এর আগে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়েছে, ‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন, ২০২২’ এর ৬ (গ) ধারা এবং ‘রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬’ এর সিডিউল-১ (অ্যালোকেশন অব বিজনেস) এ দেওয়া ক্ষমতাবলে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) ১০১তম সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক এদের গেজেট বাতিল করা হয়েছে। এদের মধ্যে বেসামরিক, ভারতীয় তালিকা, লালমুক্তিবার্তা, আনসার বাহিনী, সেনাবাহিনী, শহীদ পুলিশ বাহিনীর মুক্তিযোদ্ধারা রয়েছেন। জামুকা সূত্রে জানা গেছে, মুক্তিযোদ্ধা না হয়েও তারা সনদ নিয়েছেন। যাচাই-বাছাইয়ে সেটি প্রমাণিত হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষায় এই যাচাই-বাছাই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। ভবিষ্যতেও কেউ ভুয়া পরিচয়ে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি নিলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫
দেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে বঙ্গভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাকে শপথবাক্য পাঠ করান। শপথ অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস উপস্থিত ছিলেন। গত ২৩ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে আইন মন্ত্রণালয়। সংবিধানের ৯৫ (১) অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি তাকে এ নিয়োগ দেন। আজ শপথ গ্রহণের দিন থেকেই তার এ নিয়োগ কার্যকর হবে। বিদায়ী প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ গতকাল শনিবার অবসরে যান। এদিন তার চাকরির মেয়াদ ৬৭ বছর পূর্ণ হয়। নতুন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী আইন পেশায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন। তিনি ১৯৮৫ সালে জেলা জজ আদালতে এবং ১৯৮৭ সালে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। ২০০৩ সালের ২৭ আগস্ট তিনি হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারপতি হন এবং দুই বছর পর স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। ২০২৪ সালের ১২ আগস্ট তাকে আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয়। শিক্ষাজীবনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি (সম্মান) ও এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে যুক্তরাজ্য থেকে আন্তর্জাতিক আইন বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যায় জড়িত প্রধান সন্দেভাজন মূল আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর শেখকে ভারতে পালাতে সহযোগিতার অভিযোগে দুই ভারতীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে মেঘালয় পুলিশ। তারা হলেন, পুর্তি ও সামী। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, হাদির হত্যাকাণ্ডটি পূর্বপরিকল্পিত। ঘটনার পর ফয়সাল ও আলমগীর শেখ ঢাকা থেকে সিএনজিতে করে আমিনবাজারে যান। সেখান থেকে গাড়িতে করে কালামপুরে যান। কালামপুর থেকে আরেকটি গাড়িতে করে ময়মনসিংহ সীমান্তে যান। সেখানে ফয়সাল ও আলমগীরকে গ্রহণ করে ফিলিপ স্নাল ও সঞ্জয়। তারা সীমান্তে অবৈধভাবে মানুষ পারাপার করেন। পরে ফিলিপ দুজনকে ভারতের মেঘালয় রাজ্যে নিয়ে যান। নজরুল ইসলাম বলেন, ফিলিপ ফয়সাল ও আলমগীরকে ভারতের তুরা নামক স্থানে নিয়ে যান। সেখানে ভারতীয় নাগরিক পুর্তির কাছে দুজনকে পৌঁছে দেন। পরে সামী নামের এক ব্যক্তির গাড়িতে করে সেখান থেকে পালিয়ে যান তারা। পুলিশের এ কর্মকর্তা আরও বলেন, হাদি হত্যার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৬ জন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ ছাড়া চারজন সাক্ষীও আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, হাদি হত্যা মামলাটি তদন্ত একেবারে শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আগামী ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে এ মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হবে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের অনেককেই শনাক্ত করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে সবার নাম বলা যাচ্ছে না। এখন পর্যন্ত প্রাপ্ততথ্যে এটাকে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডই মনে হচ্ছে।

তাবলিগ জামাতের পুরোনো সাথীদের নিয়ে ৩ দিনব্যাপী খুরুজের জোড় শুরু হবে আগামী ২ জানুয়ারি। টঙ্গীতে অবস্থিত বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে এ খুরুজের জোড় অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষে প্রয়োজনীয় মাঠ প্রস্তুতির কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) কালবেলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন তাবলিগ জামাত বাংলাদেশ শুরায়ি নেজামের মিডিয়া সমন্বয়ক হাবিবুল্লাহ রায়হান। তিনি বলেন, আগামী ২, ৩ ও ৪ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে তাবলিগ জামাত বাংলাদেশের (শুরায়ী নেজাম) অধীনে খুরুজের জোড় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এতে অংশগ্রহণ করবেন যারা মহান আল্লাহর রাস্তায় এক চিল্লা, তিন চিল্লা ও বিদেশ সফরের উদ্দেশ্যে বের হবেন এবং যারা মেহনতের মাধ্যমে সাথীদের এ কাজে উদ্বুদ্ধ করে নিয়ে আসবেন শুধু তারাই। হাবিবুল্লাহ রায়হান বলেন, এ সময় টঙ্গীতে ৫৯তম বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের পর তা আয়োজন করা হবে। সরকারের এ সিদ্ধান্তের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে তাবলিগ জামাত বাংলাদেশ (শুরায়ী নেজাম) গত ৩ নভেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি দেশবাসীকে অবহিত করেছে। তিনি আরও বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য, ‘সাদপন্থি’ নামে পরিচিত একটি মহল এই খুরুজের জোড়কে ইজতেমা আখ্যা দিয়ে বিভিন্ন স্থানে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। এমনকি তারা নিজেরাও একই স্থানে ইজতেমা আয়োজনের দাবি জানাচ্ছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। হাবিবুল্লাহ বলেন, অতীতে তারা দুইবার প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত অমান্য করে সহিংসতার আশ্রয় নিয়েছে। ২০১৮ সালের ১ ডিসেম্বর তারা ইজতেমা মাঠ প্রস্তুতির কাজে নিয়োজিত তাবলিগের সাথীদের ওপর হামলা চালায়, যেখানে প্রায় ৫ হাজার সাথী আহত হন। দ্বিতীয়বার, ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে তারা পুনরায় বর্বর হামলা চালায়, এতে চারজন সাথী শহীদ হন এবং শতাধিক সাথী আহত হন। এই ন্যাক্কারজনক কর্মকাণ্ডের ফলে তারা নীতিগত ও নৈতিকভাবে ইজতেমা মাঠে কোনো প্রকার জোড় বা ইজতেমা আয়োজনের অধিকার হারিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, এ প্রেক্ষাপটে, ৫৮তম বিশ্ব ইজতেমার পূর্বে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়-- সাদপন্থিরা ১৪-১৬ ফেব্রুয়ারি ইজতেমা করতে পারবে, তবে পরবর্তী বছরগুলোতে তারা টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানে কোনো ধরনের ইজতেমা বা তাবলিগী কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না। নির্ধারিত শর্ত পূরণের সাপেক্ষেই তারা উক্ত সময়ের ইজতেমা সম্পন্ন করে, যা পুরো দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছে। সবশেষ তিনি বলেন, পরবর্তীতে তারা এ শর্ত মেনেই চলতি বছরে তাদের কার্যক্রম বিভাগীয় পর্যায়ে সম্পন্ন করেছেন। অথচ হঠাৎ করেই আবার তারা ইজতেমা মাঠকে কেন্দ্র করে ষড়যন্ত্রমূলক তৎপরতায় লিপ্ত হয়েছে, যা শান্তিপূর্ণ ধর্মীয় পরিবেশ ও জাতীয় স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি।

জুলাই অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার আন্দোলন ঘিরে রাজধানীর রামপুরায় ২৮ জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিজিবি কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলামসহ চারজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুর সোয়া ১২টায় ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। অন্য দুই সদস্য হলেন- বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। এদিন শুরুতেই আসামিদের অব্যাহতির জন্য আইনজীবীদের আবেদন খারিজ করে দেন ট্রাইব্যুনাল। প্রসিকিউশনের পক্ষে রয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর আবদুল্লাহ আল নোমান, সহিদুল ইসলামসহ অন্যরা। রেদোয়ানসহ গ্রেপ্তার দুজনের পক্ষে আইনজীবী হামিদুল মিসবাহ ও স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী মো. আমির হোসেনও উপস্থিত আছেন। ২১ ডিসেম্বর পলাতক দুই আসামির পক্ষে শুনানি করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন। উপস্থিত দুই আসামির হয়ে লড়েন আইনজীবী হামিদুল মিসবাহ। শুনানিতে প্রত্যেকেই ডিসচার্জের আবেদন করেন। রেদোয়ানুল ছাড়া গ্রেপ্তার অপরজন হলেন- বিজিবির সাবেক কর্মকর্তা মেজর মো. রাফাত বিন আলম। এদিন সকালে ঢাকার সেনানিবাসের সাব-জেল থেকে প্রিজনভ্যানে করে তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। এ মামলায় পলাতক রয়েছেন ডিএমপির খিলগাঁও অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম ও রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মশিউর রহমান। এর আগে, ১৪ ডিসেম্বর এ বিষয়ে শুনানির কথা ছিল। কিন্তু বিশেষ কারণে হয়নি। ৬ ডিসেম্বর ফরমাল চার্জের ওপর শুনানি শেষ করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। ২২ অক্টোবর সেনা হেফাজতে থাকা রেদোয়ান ও রাফাতকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। শুনানি শেষে তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠান ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে পলাতকদের হাজিরে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় দেশজুড়ে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চলেছে। এর মধ্যে রামপুরায় নিহত হয়েছেন ২৮ জন। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। রামপুরায় বিজিবি কর্মকর্তা রেদোয়ানুলকে আন্দোলনকারীদের সরাসরি গুলি ছুড়তে দেখা যায়। এছাড়া অন্যরাও নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এ হত্যাযজ্ঞে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী ট্রাইবুনালে চারজনের বিরুদ্ধে আলাদা ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন।

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই যোদ্ধা শহীদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পুঙ্খানুপুঙ্খ ও বিস্তারিত তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে ভারত। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) বার্তাসংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, গতকাল (মঙ্গলবার) বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহকে তলব করে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ সময় তাকে শহীদ হাদি হত্যার তদন্তের আহ্বান জানান। বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে পিটিআই জানিয়েছে, হাদিকে হত্যার সঙ্গে ভারতের সংশ্লিষ্টতা আছে এমন অভিযোগ ওঠায় বাংলাদেশকে এ ব্যাপারে বিস্তারিত তদন্ত করতে আহ্বান জানিয়েছে নয়াদিল্লি। দুর্বৃত্তের গুলিতে হাদি আহত হওয়ার পর ভারতের দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছিল। তার মৃত্যুর পর বাংলাদেশে ভারতবিরোধী মনোভাব দেখা যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেছে পিটিআই। এদিকে মঙ্গলবার ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে তলব করে ঢাকা। ভারতীয় দূতকে তলব করে পররাষ্ট্রসচিব নয়াদিল্লি ও শিলিগুড়িতে বাংলাদেশের কূটনৈতিক স্থাপনায় হামলা এবং ভাঙচুরের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে দেশটিতে থাকা বাংলাদেশের কূটনীতিকদের নিরাপত্তা বিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছে। এরআগে ১৪ ডিসেম্বর প্রণয় ভার্মাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়েছিল। সেদিন ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অব্যাহত উসকানিমূলক বক্তব্যে সরকারের উদ্বেগের কথা জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলাকারীদের ভারতে পালিয়ে যাওয়া প্রতিরোধে দেশটির সহযোগিতা কামনা করা হয়। অন্যদিকে গত ১৭ ডিসেম্বর নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পালটা তলব করা হয়। আবারও সপ্তাহ না যেতেই বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে গতকাল আবারও পালটা তলব করেছে ভারত।

নিরাপত্তাজনিত কারণে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বুধবার সন্ধ্যা থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত নির্ধারিত যাত্রী ছাড়া কেউ ঢুকতে পারবেন না। মঙ্গলবার বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালকের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীসেবা, নিরাপত্তা এবং অপারেশনাল শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সকল যাত্রীসাধারণের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, বিশেষ অপারেশনাল ও নিরাপত্তাজনিত কারণে ২৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টা থেকে ২৫ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বিমানবন্দর এলাকায় নির্ধারিত যাত্রী ব্যতিত সকল সহযাত্রী/ ভিজিটর প্রবেশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে। বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রেক্ষিতে যাত্রীসাধারণ ও সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।
২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫
প্রতিবেশী বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চলমান উত্তেজনা আর যেন বাড়তে না পারে, সেজন্য উভয়পক্ষকে একটি উপায় খুঁজে বের করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার জি খোজিন। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) ঢাকার রাশিয়ান দূতাবাসে এক সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানান রাষ্ট্রদূত। রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে হবে। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের উত্তেজনা হ্রাস করাটা জরুরি। আর এটি যত তাড়াতাড়ি হবে ততই ভালো হবে। রাশিয়া বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে হস্তক্ষেপ করতে চায় না। তবে রাশিয়া মনে করে, দুই দেশের সম্পর্ক বর্তমানে যে স্তরে রয়েছে সেখান থেকে উত্তেজনা যেন আর বাড়তে পারে, সেজন্য একটি উপায় খুঁজে বের করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। সম্পর্ক পারস্পরিক বিশ্বাস এবং আস্থার উপর ভিত্তি করে হওয়া উচিত বলে অভিমত ব্যক্ত করেন খোজিন। তিনি নির্বাচন কমিশন (ইসি) কর্তৃক ঘোষিত নির্বাচনের তারিখ ঘোষণাকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, রাশিয়া আশা করছে, নির্বাচন যথা সময়ে অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে রাশিয়ার পর্যবেক্ষক পাঠানোর প্রশ্নে রাষ্ট্রদূত জানান, তারা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং তারা কমিশনের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণের অপেক্ষায় রয়েছেন।
২২ ডিসেম্বর, ২০২৫
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক অবস্থা পর্যালোচনায় তিন বাহিনীর প্রধানের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এন নাসির উদ্দিন। রোববার (২১ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে নির্বাচন ভবনে আসেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান ও বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান। পরে সিইসির সঙ্গে বৈঠকে বসেন তারা। দেশের বর্তমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং নির্বাচনের আগে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে বলে জানা গেছে। এরপর দুপুর আড়াইটায় নির্বাচন ভবনে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সিইসি নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে এ সভায় চার নির্বাচন কমিশনার ও ইসি সচিব উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে এবার ভোটের আগে-পরে ৫ দিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেক্ষেত্রে ভোটের আগে ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ভোটের পরদিন ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাঠে থাকবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তফশিল ঘোষণার আগে দুই দফা এবং তফসিলের পর বিদ্যমান পরিস্থিতি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক বিশেষ পরিপত্র জারি করে ইসি।
২১ ডিসেম্বর, ২০২৫
সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট ভবনে হামলা, অগ্নিসংযোগ লুটপাটের ঘটনায় ধানমন্ডি থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। রোববার (২১ ডিসেম্বর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম। তিনি জানান, ধানমন্ডি থানায় হামলা ভাঙচুর অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনায় ২০ ডিসেম্বর রাতে একটি মামলা দায়ের হয়। মামলায় ৩০০ থেকে ৩৫০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন ছায়ানটের প্রধান ব্যবস্থাপক দুলাল ঘোষ। ছায়ানট কর্তৃপক্ষ জানায়, ওসমান হাদির মৃত্যুর ঘটনা রাতে দুর্বৃত্তরা ভেতরে ঢুকে সিসি ক্যামেরা, আসবাবপত্র, তবলা, হারমোনিয়াম, বেহালা এবং বিভিন্ন কক্ষে হামলা চালায় ও সেগুলোকে পুড়িয়ে দেয়। তবে কত টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সে বিষয়টি এখনো জানা যায়নি। ঘটনার পর ছায়ানট পরিদর্শনে যান অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। এ সময় তিনি সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দুর্বৃত্তদের আইনের আওতায় আনার কথা জানান। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদি মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ডেইলি স্টার, প্রথম আলো এবং ছায়ানটে হামলা হামলা-ভাঙচুর-লুটপাট ও অগ্নি সংযোগ করা হয়।
২১ ডিসেম্বর, ২০২৫
সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সন্ত্রাসীদের ড্রোন হামলায় নিহত ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (২১ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা সেনানিবাসের কেন্দ্রীয় সেনা মসজিদ প্রাঙ্গণে তাদের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান ও বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁনসহ সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ৬ শান্তিরক্ষী হলেন— নাটোরের করপোরাল মো. মাসুদ রানা, কুড়িগ্রামের সৈনিক মো. মমিনুল ইসলাম ও সৈনিক শান্ত মণ্ডল, রাজবাড়ীর সৈনিক শামীম রেজা, কিশোরগঞ্জের বাসিন্দা মেস ওয়েটার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম এবং গাইবান্ধার বাসিন্দা লন্ড্রি কর্মচারী মো. সবুজ মিয়া। জানাজা শেষে রাষ্ট্রপতি, প্রধান উপদেষ্টা, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী প্রধানের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। গত ১৩ ডিসেম্বর (শনিবার) সুদানের আবেই এলাকায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের (ইউএনআইএসএফএ) আওতাধীন কাদুগলি লজিস্টিকস বেইসে এই বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়। স্থানীয় সময় আনুমানিক দুপুর ৩টা ৪০ মিনিট থেকে ৩টা ৫০ মিনিটের মধ্যে বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠী ঘাঁটিতে আকস্মিক ড্রোন হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান ৬ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী। হামলায় আহত ৮ জন শান্তিরক্ষীকে দ্রুততম সময়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিতে অবস্থিত আগা খান ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তারা হলেন— ১। লেফটেন্যান্ট কর্নেল খোন্দকার খালেকুজ্জামান ২। সার্জেন্ট মো. মোস্তাকিম হোসেন, বীর (দিনাজপুর) ৩। কর্পোরাল আফরোজা পারভিন ইতি, সিগনালস (ঢাকা) ৪। ল্যান্স কর্পোরাল মহিবুল ইসলাম, ইএমই (বরগুনা) ৫। সৈনিক মো. মেজবাউল কবির, বীর (কুড়িগ্রাম) ৬। সৈনিক মোসা. উম্মে হানি আক্তার, ইঞ্জি. (রংপুর) ৭। সৈনিক চুমকি আক্তার, অর্ডন্যান্স (মানিকগঞ্জ) ৮। সৈনিক মো. মানাজির আহসান, বীর (নোয়াখালী) আহতদের মধ্যে সৈনিক মো. মেজবাউল কবিরের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তার সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে এবং তিনি নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। এছাড়া বাকিরা শঙ্কামুক্ত। এদের মধ্যে একজন চিকিৎসা শেষে ইতোমধ্যে হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন। ১৯৮৮ সালে মাত্র ১৫ জন সদস্য নিয়ে শান্তিরক্ষা মিশনে যাত্রা শুরু করেছিল বাংলাদেশ। বর্তমানে বিশ্বের ১১৯টি দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান শীর্ষে। তবে শান্তির এই পথ সবসময় মসৃণ ছিল না। এ পর্যন্ত জাতিসংঘ মিশনে বাংলাদেশের ১৬৮ জন বীর সদস্য (সেনা, নৌ, বিমান ও পুলিশ) বিশ্বশান্তির জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন। সুদানের মরুভূমিতে ঝরে যাওয়া এই ৬টি প্রাণ সেই ত্যাগের মিছিলে নতুন নাম, যা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের পতাকাকে আরও মহিমান্বিত করেছে।

আওয়ামী লীগের মধ্যে যারা সন্ত্রাসী তাদের দেখামাত্র আইনিব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) নারায়ণগঞ্জে বিকেএমইএ কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে শরিফ ওসমান হাদির সমর্থকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ নির্দেশ দেন। সেখানে হাদির একজন সমর্থক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে বলেন, আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। পুলিশকে তাদের বিষয়ে তথ্য দিলেও পুলিশ তাদের ধরে না। তাদের নামে মামলা নেই বলে জানায় পুলিশ। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, আওয়ামী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে মামলা আছে কি না, তা বিবেচ্য নয়, তাদের দেখামাত্রই আইনের আওতায় আনতে হবে। এ সময় পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে উপদেষ্টা বলেন, যদি আওয়ামী সন্ত্রাসীদের ধরা না হয়, তাহলে আপনাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিরাপত্তার শঙ্কায় নারায়ণগঞ্জে একজন প্রার্থী নির্বাচন না করার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, কোনো প্রার্থী কেন নির্বাচনে অংশ নেবেন না, তা সম্পূর্ণ তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে মন্তব্য করার সুযোগ নেই। উপদেষ্টা বলেন, নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করে যিনি প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন, তিনি আসলে কী ধরনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন, সেটি তিনি নিজেই ভালো বলতে পারবেন। তবে সামগ্রিকভাবে দেশে নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ধরনের সংশয় নেই। তিনি বলেন, এখানে সাংবাদিক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ উপস্থিত আছেন। এমন পরিবেশে যদি কেউ বলেন, তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন, সেটি তার ব্যক্তিগত অনুভূতির বিষয়। কিন্তু সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার দিক থেকে কোনো উদ্বেগের কারণ নেই। উপদেষ্টা বলেন, আমাদের ওসমান হাদি সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন। আপনারা সবাই তার জন্য দোয়া করবেন। তিনি যেন সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসেন। তিনি একজন জুলাই যোদ্ধা। দেশের জন্য তার ব্যাপক অংশগ্রহণ রয়েছে। আপনারা তার জন্য খাস দিলে দোয়া করবেন। নিরাপত্তা শঙ্কায় ঢাকায় ভারতীয় ভিসা সেন্টার বন্ধের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। আপনাদের কাছ থেকেই শুনেছি। উপদেষ্টা বলেন, বিকেএমইএর মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ ও শিল্প পুলিশকে যে পুলিশ ভ্যান প্রদান করা হয়েছে, তা একটি প্রশংসনীয় ও দৃষ্টান্তমূলক উদ্যোগ। নারায়ণগঞ্জ অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলা পুলিশ ও শিল্প পুলিশের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। নতুন এ যানবাহন পুলিশের দায়িত্ব পালনে কার্যকর সহায়তা করবে। ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো এভাবে পাশে দাঁড়ানো নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময় পুলিশের অনেক যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ অবস্থায় ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে পুলিশের জন্য যানবাহন উপহার দেওয়া হলে পুলিশের কাজ আরও সহজ হয়। বিকেএমইএর সভাপতি মো. হাতেমের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়) মো. খোদা বখস চৌধুরী, অতিরিক্ত আইজিপি ও শিল্প পুলিশ প্রধান গাজী জসিম উদ্দিন, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক, শিল্প পুলিশ-৪ এর প্রধান (অতিরিক্ত ডিআইজি) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির ও নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী প্রমুখ।

সাংবাদিক আনিস আলমগীর, অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওনসহ চারজনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। রোববার (১৪ ডিসেম্বর) রাতে জুলাই রেভ্যুলেশনারি অ্যালায়েন্সের কেন্দ্রীয় সংগঠক আরিয়ান আহমেদ রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযুক্ত অপর দুজন হলেন, মারিয়া কিশপট্ট ও ইমতু রাতিশ ইমতিয়াজ। উত্তরা পশ্চিম থানার ডিউটি অফিসার উপপরিদর্শক (এসআই) জুয়েল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, সাংবাদিক আনিস আলমগীর ও মেহের আফরোজ শাওনসহ চারজনের বিরুদ্ধে একসঙ্গেই অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। থানায় দায়ের করা অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মধ্যেও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুসারীরা বিভিন্ন কৌশলে দেশে অবস্থান করে রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা বিনষ্টের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। অভিযুক্তরা এসব কর্মকাণ্ডে নানাভাবে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত। অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে অভিযুক্তরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন টেলিভিশন টক শোতে অংশ নিয়ে নিষিদ্ধ সংগঠনকে পুনরুজ্জীবিত করার প্রচারণা চালাচ্ছে। এর মাধ্যমে তারা আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের অপচেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, অভিযুক্তদের এসব বক্তব্য ও অনলাইন কার্যক্রমের কারণে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কর্মীরা উসকানি পাচ্ছে। ফলে তারা রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র, সহিংসতা এবং অবকাঠামো ধ্বংসের মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত হচ্ছে। এদিকে, একই রাতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) কার্যালয়ে নেওয়া হয়।
১৫ ডিসেম্বর, ২০২৫
উন্নত চিকিৎসার জন্য গুলিবিদ্ধ জুলাই যোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদিকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যেতে একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ঢাকায় এসেছে। অ্যাম্বুলেন্সটি বেলা ১১টা ২২ মিনিটে সিঙ্গাপুর থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এসএম রাগীব সামাদ ঢাকা পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে শরিফ ওসমান হাদিকে বহন করে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করার কথা রয়েছে। শরিফ ওসমান হাদি জুলাই আন্দোলনের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র। তিনি ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থী। গত শুক্রবার দুপুরে ঢাকার পল্টন এলাকায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর থেকে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নির্দেশনায় আয়োজিত একটি জরুরি টেলিকনফারেন্সে হাদিকে বিদেশে পাঠিয়ে বিশেষায়িত চিকিৎসা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রেস উইং জানায়, গত দুদিনে সরকার সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার একাধিক হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করে চিকিৎসা সুবিধা যাচাই করেছে।
১৫ ডিসেম্বর, ২০২৫
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে একাধিক মামলার আসামি ফখরুল ইসলাম মন্জু ওরফে বলি (৩৭) হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন হয়েছে। রোববার (১৪ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে এলাকাবাসী ও স্বজনেরা এ কর্মসূচি পালন করে। মানববন্ধনে বক্তারা এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। বক্তারা বলেন, গত সোমবার ৮ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বোনের বাড়ি থেকে অসুস্থ ভাগনিকে দেখে বাড়ি ফিরছিলেন। ওই সময় উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের মান্দার বাড়ির দরজায় পূর্ব শক্রতার জেরে মন্জুকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করে। কিন্ত পুলিশ ঘটনার সাত দিনেও ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি। আসামিদের গ্রেপ্তার করা না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, নিহতের বাবা বদিউজ্জামান, বোন রেহানা আক্তার রুম্পা ও স্থানীয় বাসিন্দা মো.হাসান, মো.আনোয়ার, মোসাম্মৎ বিউটি, মোসাম্মৎ নিলুফার ইয়াসমিন প্রমূখ। যোগাযোগ করা হলে বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এ বারী বলেন, পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে,জড়িতদের গ্রেপ্তার হবে।

আগামী ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫৪ বছর উদযাপনে সর্ববৃহৎ পতাকা-প্যারাস্যুটিং দেখবে বিশ্ব। বিজয় দিবসের এদিন বেলা ১১টা থেকে ঢাকার তেজগাঁওয়ে পুরাতন বিমানবন্দরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী পৃথকভাবে ফ্লাই পাস্ট মহড়া পরিচালনা করবে। চলবে বিজয় দিবসের বিশেষ ব্যান্ড-শো। বেলা ১১টা ৪০ মিনিট থেকে ‘টিম বাংলাদেশ’ এর ৫৪ জন প্যারাট্রুপার স্বাধীনতার ৫৪ বছর উদযাপনে পতাকা হাতে প্যারাস্যুটিং করবেন। জনসাধারণের জন্য এই বিশেষ আয়োজন উন্মুক্ত থাকবে।
১৪ ডিসেম্বর, ২০২৫
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্রপ্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করার ঘটনার সঙ্গে জড়িত শ্যুটার সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান ও তার সহযোগী বাইকচালক আলমগীর হোসেন বর্তমানে আসামের গুয়াহাটিতে অবস্থান করছেন বলে দাবি করেছেন আল-জাজিরার সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের। রোববার (১৪ ডিসেম্বর) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এমন দাবি করেন। পোস্টে সায়ের বলেন, তারা ১২ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাদের বর্তমান অবস্থান আসামের গুয়াহাটি শহরে। জুলকারনাইনের দাবি, ভারতে তাদের সহায়তা করছেন আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানকের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) মো. মাসুদুর রহমান বিপ্লব। বিপ্লবের তত্বাবধানে এই হত্যাকারীরা ভারতে অবস্থান করছে। হাদির ওপর হামলার বিষয়ে তিনি বলেন, নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে- অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এই আক্রমণ করা হয়েছে এবং আরও কয়েকটি হিট টিমের একইরকম ঘটনার পুনরাবৃত্তির পরিকল্পনা রয়েছে। সায়ের বলেন, এদিকে মূল শ্যুটার ফয়সাল তার ঘনিষ্ঠ মহলে দাবি করেছেন, ব্যবহৃত অস্ত্রটি জ্যাম হয়ে যাওয়ায় তিনি কেবল একটি গুলি করতে সক্ষম হন। তার পরিকল্পনা ছিল চারটি গুলি করার। সায়েরের পোস্ট অনুযায়ী, সূত্র দাবি করেছে ফয়সালের মতোই আরেক অস্ত্রধারী ক্যাডার চট্টগ্রাম নগর যুবলীগের সাবেক কার্যনির্বাহী সদস্য মো. সাজ্জাদ, যাকে গত ১৩ মে রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়- বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে চট্টগ্রামের মুরাদপুরে ফয়সাল আহমেদ শান্ত হত্যার মামলায়। তবে ২৯ জুলাই সাজ্জাদ সুপ্রিম কোর্ট থেকে জামিন নিয়ে কারামুক্ত হন। সাংবাদিক সায়ের বলেন, অনতিবিলম্বে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের যে সব অস্ত্রধারী ক্যাডারকে বিভিন্ন মামলায় জামিন দেওয়া হয়েছে, তাদের প্রত্যকের বর্তমান অবস্থান যাচাই ও কর্মকাণ্ড সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া জরুরি।

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান বিন হাদির ওপর হামলার ঘটনায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল শনাক্ত করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। একইসঙ্গে মোটরসাইকেলটির মালিক সন্দেহে একজনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে বলে দাবি করেছে র্যাব। আটকের নাম মো. আব্দুল হান্নান (৪৩)। রোববার (১৪ ডিসেম্বর) রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে তাকে আটক করে র্যাব। র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, আজ সকালে আব্দুল হান্নানকে র্যাব-২ রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে আটক করে। আটক করার পর আজ সকালেই তাকে পল্টন থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। র্যাব জানায়, ঘটনার পর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ, সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর (ঢাকা মেট্রো-ল-৫৪-৬৩৭৫) শনাক্ত করা হয়। পরে বিআরটিএর মাধ্যমে যাচাই করে মোটরসাইকেলটির মালিক হিসেবে মো. আব্দুল হান্নানের নাম পাওয়া যায়। এরই ধারাবাহিকত মোহাম্মদপুর থানাধীন চাঁদ উদ্যান এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আব্দুল হান্নান মোটরসাইকেলটির মালিক বলে স্বীকার করেছেন। এর আগে পুলিশ জানায়, ওসমান হাদির ওপর হামলাকারীদের একজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওসমান হাদি। তিনি এখনো আশঙ্কামুক্ত নন বলে জানা গেছে। গত শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুর ২টা ২৪ মিনিটের দিকে ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট এলাকায় ওসমান হাদিকে গুলি করা হয়। পেছন থেকে অনুসরণ করে আসা একটি মোটরসাইকেল থেকে এক ব্যক্তি ব্যাটারিচালিত রিকশায় থাকা হাদিকে গুলি করেন। গুরুতর অবস্থায় দ্রুত তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

আজ ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। ১৯৭১ সালের এ দিনে দখলদার পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার, আলবদর, আলশামসরা বাংলার শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে। বুদ্ধিজীবী হত্যার ঠিক দুই দিন পর ১৬ ডিসেম্বর জেনারেল নিয়াজীর নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করে এবং স্বাধীন দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। যথাযোগ্য মর্যাদায় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালনের লক্ষ্যে সরকারিভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এ ছাড়া দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এদিন সকালে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টা মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এ সময় তারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধার অংশ হিসেবে সেখানে নীরবে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকবেন। এ সময় বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টাকে রাষ্ট্রীয় স্যালুট প্রদান করবে। শহীদ বুদ্ধিজীবী পরিবারের সদস্যরা এবং যুদ্ধাহত ও উপস্থিত বীর মুক্তিযোদ্ধারা একই দিনে সকালে মিরপুর বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে এবং রায়েরবাজার বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন। দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকা আজ বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে। বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ অন্যান্য বেসরকারি টিভি চ্যানেল দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করবে। দেশের সব জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। দিবসটি উপলক্ষে সব মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডা ও অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনা করা হবে। একাত্তরে ত্রিশ লাখ মানুষ শহীদ হন। এদের মধ্যে বেছে বেছে বুদ্ধিজীবীদের হত্যার ঘটনা বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। তারা শহীদ হন এক সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে। হানাদার পাকিস্তানী বাহিনী তাদের পরাজয় আসন্ন জেনে বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য করার লক্ষ্যে বুদ্ধিজীবী নিধনের এই পরিকল্পনা করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শহীদ জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতার সহধর্মিণী বাসন্তী গুহঠাকুরতা তার একটি গ্রন্থে লিখেছেন, ‘নীল নকশার রেখা অংকন শুরু হয়েছিল একাত্তরের পয়লা মার্চের আগেই সত্তরের ১৭ ডিসেম্বর গণভোট বা তারো অনেক আগে ঊনসত্তরের গণআন্দোলনের সময় থেকেই, কিংবা বাহান্নর ভাষা আন্দোলনের পরে। একাত্তরে তারা প্ল্যান করে যুদ্ধে নামে। যুদ্ধ তো নয়, কেবল নিরস্ত্র মানুষ নিধন। প্রথমে ওদের এলোপাতাড়ি মার, তারপর শহরে, গ্রামে-গঞ্জে বেছে বেছে ধনী, ব্যাবসায়ী, বুদ্ধিজীবী নিধন করে নদীতে খালে ফেলে দেওয়া। অনেকে মনে করেন চরম বিপর্যয় আসন্ন, পরাজয় একেবারেই সন্নিকটে—তখনই তারা সেই পরিকল্পনা কার্যকর করে। তালিকাভুক্ত বুদ্ধিজীবীদের চোখ বেঁধে নিয়ে হত্যা করে। তারা স্বাধীন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎকে এভাবেই অন্ধকার করার পাঁয়তারা করেছিল।’ একাত্তরের সেই যুদ্ধাপরাধী ও বুদ্ধিজীবী হত্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেকের বিচারের রায় কার্যকর হয়েছে। এর মধ্যে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত অনেকের বিরুদ্ধে ফাঁসির রায় ঘোষিত হয়েছে। মানবতাবিরোধী হত্যা মামলায় জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লার ফাঁসির কার্যকর হয়েছে। জামায়াতের অন্য নেতা মো. কামারুজ্জামান এবং বুদ্ধিজীবী হত্যার অন্যতম হোতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসির রায় কার্যকর হয়েছে। ২০১৬ সালের ১১ মে মুক্তিযুদ্ধকালে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের নীলনকশা বাস্তবায়নকারী গুপ্তঘাতক আলবদর বাহিনীর প্রধান ও জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসির দণ্ড কার্যকর হয়। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানের এ দেশীয় দোসর আলবদরের সাহায্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ও বিভিন্ন স্থান থেকে শিক্ষক, সাংবাদিক, চিকিৎসক, সংস্কৃতি কর্মীসহ বিভিন্ন পেশার বরেণ্য ব্যক্তিদের অপহরণ করা হয়। পরে নিদারুণ যন্ত্রণা দিয়ে রায়েরবাজার ও মিরপুরে তাদের হত্যা করা হয়। এ দুটি স্থান এখন বধ্যভূমি হিসেবে সংরক্ষিত। মুক্তিযুদ্ধের শেষ লগ্নে ১০ থেকে ১৪ ডিসেম্বরের মধ্যে আলবদর বাহিনী আরও অনেক বুদ্ধিজীবীকে ধরে নিয়ে মোহাম্মদপুর ফিজিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে স্থাপিত আলবদর ঘাঁটিতে নির্যাতনের পর রায়েরবাজার বধ্যভূমি ও মিরপুর কবরস্থানে নিয়ে হত্যা করে। শহীদ বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে রয়েছেন অধ্যাপক মুনির চৌধুরী, ডা. আলিম চৌধুরী, অধ্যাপক মুনিরুজ্জামান, ড. ফজলে রাব্বী, সিরাজ উদ্দিন হোসেন, শহীদুল্লাহ কায়সার, অধ্যাপক জিসি দেব, জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা, অধ্যাপক সন্তোষ ভট্টাচার্য, মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী, অধ্যাপক গিয়াস উদ্দিন, অধ্যাপক আনোয়ার পাশা, অধ্যাপক রশীদুল হাসান, ড. আবুল খায়ের, ড.মুর্তজা, সাংবাদিক খন্দকার আবু তাহের, নিজামউদ্দিন আহমেদ, এস এ মান্নান (লাডু ভাই), এ এন এম গোলাম মোস্তফা, সৈয়দ নাজমুল হক, সেলিনা পারভিনসহ আরও অনেকে।

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে বসেছে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রতিনিধি দল। বৈঠকে তিন দলের দুইজন করে প্রতিনিধি রয়েছে। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিএনপির প্রতিনিধিদলে রয়েছে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ ও অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধিদলে আছে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। এছাড়া এনসিপির প্রতিনিধিদলে রয়েছে দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ। গতকাল শুক্রবার ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদি সন্ত্রাসী হামলায় গুলিবিদ্ধ হন। এ হামলার পর শুক্রবার সন্ধ্যায় যমুনায় উপদেষ্টা পরিষদের কয়েকজন সদস্য এবং আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন প্রধান উপদেষ্টা। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ডাকা ওই বৈঠকে তিনি সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এ পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করছেন প্রধান উপদেষ্টা।
১৩ ডিসেম্বর, ২০২৫
লক্ষ্মীপুর জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের স্টোর রুমে গভীর রাতে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়েছে এক দুর্বৃত্ত। সিসিটিভির ফুটেজে মাস্ক পরিহিত এক যুবককে দেওয়াল টপকে কার্যালয়ে ঢুকতে ও বের হতে দেখা যায়। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। সিসি টিভি ফুটেজে দেখা যায় মাস্ক পরিহিত এক যুবক গেটের পশ্চিম পাশের দেওয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশ করে। কিছুক্ষণের মধ্যেই আগুনের রশ্মি দেখা যায়। এরপর ওই যুবক গেট টপকে বের হয়ে যায়। সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ফারুক হোসাইন বলেন, মাস্ক পরিহিত এক যুবক জানালার কাঁচ ভেঙে অথবা খুলে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়। ভেতরে আমাদের দারোয়ান হামিম ঘুমে ছিল। সে টের পেয়ে কে কে বলতেই আগুন লাগানো যুবক পালিয়ে যায়। এরমধ্যেই ২০০৮ ও ৯ সালের ভোটারদের দ্বিতীয় ফরম পুড়ে গেছে। এ ছাড়া, একটি অকেজো ডেস্কটপ-সিপিইউসহ কিছু সরঞ্জামও পুড়েছে। আগুন নেভাতে বেশি সময় লাগেনি। তিনি আরও বলেন, খবর পেয়ে আমি ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ কার্যালয়ে এসে আগুনের ঘটনা দেখি। পরে জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এসেছেন। তারা নিয়মিত নিরাপত্তা জোরদার করবেন বলে জানিয়েছেন। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আবদুর রশিদ বলেন, আগুনে অফিসের কিছু নথিপত্র পুড়ে গেছে। তবে বিষয়টি টের পাওয়ার কারণে বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেবে পুলিশ। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) রেজাউল হক বলেন, তদন্ত এবং জড়িতদের ধরতে অভিযান চলছে। জেলা প্রশাসক এস এম মেহেদী হাসান বলেন, নির্বাচন কার্যালয়গুলোতে নিরাপত্তা জোরদারের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
১৩ ডিসেম্বর, ২০২৫
ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, গুলিটি তার মাথার ডান দিক দিয়ে ঢুকে বাম কানের পাশ দিয়ে বেরিয়ে গেলেও এর দুই-একটি অংশবিশেষ এখনো মস্তিষ্কের ভেতরে রয়ে গেছে। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঢামেক হাসপাতাল থেকে হাদীকে বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সটি এভারকেয়ারের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। পরে রাত ৮টা ৫ মিনিটে সেখানে পৌছায় এর আগে তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে সর্বশেষ তথ্য জানিয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ঢামেক) কর্তৃপক্ষ। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক (আরএস) ডা. মোস্তাক আহমেদ বলেন, শরিফ ওসমান হাদীর ডান দিক দিয়ে গুলি ঢুকে বাম কানের পাশ দিয়ে বেরিয়ে গিয়েছে। সেই গুলির দুই-একটি অংশবিশেষ ব্রেনে রয়ে গেছে। তিনি আরও বলেন, গুলিবিদ্ধ হাদীর নিউরোর অভিজ্ঞ সিনিয়র চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচার করেছেন। এর আগে তার সিটিস্ক্যান করা হয়। সেখানে দেখা যায়, ছোট ছোট দুই-একটি প্রিলেট মানে ছোট পুঁতি থেকেও আরও ছোট ধাতব বলের অস্তিত্ব। অস্ত্রোপচারের সময় সেই রকম একটি প্রিলেট বের করা হয়েছে। আরও দুই-একটি ব্রেনের মধ্যে আছে। এই গুলির কারণে রোগীর ব্রেনের প্রেসার অনেক বেড়ে গিয়ে রক্তক্ষরণ হয়। রক্তক্ষরণ বন্ধের পাশাপাশি প্রেসার কমিয়ে আনার জন্য অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। অস্ত্রোপচার শেষে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
১২ ডিসেম্বর, ২০২৫
চুরি ধরে ফেলায় রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মা ও মেয়েকে হত্যা করেছেন গৃহকর্মী আয়েশা। বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সকালে এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। গ্রেপ্তার আয়েশা নরসিংদী সদর থানার সলিমগঞ্জের রবিউল ইসলামের মেয়ে। ঢাকার সাভারের হেমায়েতপুর পূর্বহাটি এলাকায় স্বামী রাব্বী সিকদারকে নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকতেন। তাকে গ্রেপ্তারের পর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সহিদুল ওসমান মাসুম বলেন, আয়েশাকে স্বামীর বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তেজগাঁও বিভাগের মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, মা-মেয়েকে হত্যার পর থেকে একাধিক টিম নিয়ে সিসি ফুটেজ এবং প্রযুক্তির সহায়তায় আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনের জন্য কাজ করছিলাম। এরই ধারাবাহিকতায় আমরা প্রথমে তার বর্তমান বাসা খুঁজে বের করি। পরে আমরা তার মায়ের কাছ থেকে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে নিশ্চিত হতে পারি যে, সে ঝালকাঠির নলছিটি এলাকায় অবস্থান করছে। পরে আমরা সেখানে গিয়ে আয়েশাকে গ্রেপ্তার করি। সেখানে তার স্বামী রাব্বীকেও পাওয়া যায়, তাকেও আমরা হেফাজতে নিই। গত সোমবার সকালে মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডের ১৪ তলা আবাসিক ভবনের সপ্তম তলায় লায়লা আফরোজ (৪৮) ও তার মেয়ে নাফিসা লাওয়াল বিনতে আজিজকে (১৫) ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। নাফিসা মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। স্ত্রী ও মেয়েকে হত্যার ঘটনায় গৃহকর্মী আয়েশাকে আসামি করে সোমবার রাতেই মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন আ জ ম আজিজুল ইসলাম। মামলায় তিনি বাসার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজের একটি বর্ণনা দিয়েছেন। এতে বলা হয়েছে, আসামি সকাল ৭টা ৫১ মিনিটের সময় কাজ করার জন্য বাসায় আসে। সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটের সময় আসামি তার (বাদী) মেয়ের স্কুল ড্রেস পরে বাসা থেকে পালিয়ে যায়। যাওয়ার সময় একটি মোবাইল ফোন, একটি ল্যাপটপ, স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থসহ অন্যান্য মূলবান সামগ্রী নিয়ে যায়। মামলার বাদী আজিজুল পেশায় স্কুল শিক্ষক। মোহাম্মদপুরে পরিবার নিয়ে থাকেন। ঘটনার চার দিন আগে আয়েশাকে তার বাসায় খণ্ডকালীন গৃহকর্মী হিসেবে রাখেন। সোমবার সকাল ৭টার দিকে তিনি (আজিজুল) কর্মস্থল উত্তরায় চলে যান। কর্মস্থলে থাকাকালে স্ত্রীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করে যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হন। পরে বেলা ১১টার দিকে বাসায় আসেন। এসে দেখতে পান, মেয়ের গলার নিচে ডান পাশ কাটা। মেয়ে গুরুতর অবস্থায় বাসার প্রধান ফটকে পড়ে আছে। মেয়ের এ অবস্থা দেখে তিনি দ্রুত তাকে উদ্ধার করেন। পরিচ্ছন্নতা কর্মী আশিকের মাধ্যমে মেয়েকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। হাসপাতালে নেওয়ার পর তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। আর স্ত্রীর গলাসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ছিল কাটা। স্ত্রী রক্তাক্ত-জখম হয়ে মৃত অবস্থায় পড়ে ছিলেন রান্নাঘর লাগোয়া করিডোরে।

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ মহিবুল হাসানকে তার বর্তমান পদ থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এতে জানানো হয়, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ মহিবুল হাসানকে বর্তমান পদ থেকে প্রত্যাহার করে নিজ কর্ম-অধিক্ষেত্রে প্রত্যাবর্তনের জন্য তার চাকরি স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগে প্রত্যর্পণ করা হয়েছে। এ জন্য তার চাকরি স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
১১ ডিসেম্বর, ২০২৫
২১ ঘণ্টা পার হলেও এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি রাজশাহীর তানোরে গর্তে পড়ে যাওয়া শিশু সাজিদকে (২)। নলকূপের পাশে প্রায় ৩০ ফুট গর্ত খোঁড়ার কাজ শেষ। বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) ভোর থেকে শিশুটিকে উদ্ধারের জন্য ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা সুড়ঙ্গ খোঁড়ার কাজ শুরু করছেন। জানা গেছে, বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজশাহীর তানোর উপজেলায় পরিত্যক্ত গভীর নলকূপে শিশুটি পড়ে যায়। শিশুটিকে উদ্ধারের জন্য ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়। প্রথম অবস্থায় একটি হলেও পরবর্তীতে আরও দুটি স্কেভেটর দিয়ে মাটি খনন করা হয়।এমনভাবে রাতভর অভিযান পরিচালনা করে তানোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহী সদর স্টেশনের তিনটি ইউনিট। বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সকাল ৭টায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত শিশুটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তবে সকাল হতে না হতেই উদ্ধার অভিযানস্থলে শত শত উৎসুক মানুষ ভিড় জমিয়েছে। তাদের সরাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বেগ পেতে হচ্ছে । এর আগে বুধবার (১০ ডিসেম্বর) বিকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কয়েক দফা নলকূপের ৩০ ফুট গর্তে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ক্যামেরা নামিয়ে দেখার চেষ্টা করেছে। কিন্তু ওপর থেকে পড়া মাটি ও খড়ের কারণে শিশুটিকে তারা দেখতে পায়নি। তবে একই দিন দুপুরে শিশুটির কান্নার আওয়াজ শোনা যায়। বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা, সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত, রাত গড়িয়ে পরদিন সকাল হলেও উদ্ধার করা যায়নি শিশুটিকে। তবে থেমে নেই ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার অভিযান। রাজশাহী ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক দিদারুল আলম জানান, ৩৫ ফুট নামার পর শিশুটিকে না পাওয়া গেলে বিকল্প ব্যবস্থা নেয়া হবে।
১১ ডিসেম্বর, ২০২৫
মধ্যরাতে মাত্র পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে দুবার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে সিলেটে। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) রাত ২টা ২০ মিনিট ৩১ সেকেন্ডে প্রথমবার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এরপর ২টা ২৫ মিনিট ১৪ সেকেন্ডে দ্বিতীয়বার ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে সিলেট। এদিকে দেশে ৫ মিনিটে দুইবার ভূমিকম্পের বিষয়টি নিশ্চত করে ভোর ৪টায় ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন কানাডার সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ। পোস্টে মোস্তফা কামাল পলাশ লিখেন, বুধবার রাত ৩টার কাছাকাছি সময়ে সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার উপজেলায় পরপর ২টি ভূমিকম্প হওয়ার নিশ্চিত সংবাদ পাওয়া গেছে। তিনি লিখেন, প্রথম ভূমিকম্পটি সংঘটিত হয়েছে রাত ২টা বেজে ৫০মিনিটে। যার মান ছিল ৩ দশমিক ৫ এবং দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি হয়েছে রাত ২টা বেজে ৫৫ মিনিটে। যার মান ছিল ৩ দশমিক ৩। প্রথম ভূমিকম্পটির হয়েছে ভূপৃষ্ঠ থেকে ২০ কিলোমিটার গভীরে এবং দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি হয়েছে ভূপৃষ্ঠ থেকে ৩০ কিলোমিটার গভীরে। পরিশেষে আবহাওয়াবিদ পলাশ লিখেন, ভারতের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ অধিদপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে আজকের এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল সিলেট জেলায়।
১১ ডিসেম্বর, ২০২৫
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মা ও মেয়ে হত্যার ঘটনায় মূল আসামি তাদের বাসার গৃহকর্মী আয়েশাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঝালকাঠির নলছিটি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের মোহাম্মদপুর জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার জুয়েল রানা জানান, মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডে মা ও মেয়েকে হত্যার ঘটনায় মূল আসামি গৃহকর্মী আয়েশাকে ঝালকাঠি জেলার নলছিটি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। নলছিটিতে তার দাদা শ্বশুর বাড়িতে আত্মগোপনে ছিলেন। তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার, এডিসি এবং এসির সরাসরি তত্ত্বাবধানে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শহিদুল ওসমান মাসুম ও এস আই খোরশেদ আলমসহ এই অভিযানে নেতৃত্ব দিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। রাজধানীর মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডের বহুতল ভবনের সপ্তম তলার ফ্ল্যাটে সংঘটিত মা ও মেয়ে হত্যার ঘটনাটি নাড়া দিয়েছে সব মহলে। গত সোমবার (৮ ডিসেম্বর) সকালে এই জোড়া হত্যাকাণ্ড ঘটে, যখন নিহত লায়লা আফরোজের (৪৮) স্বামী ও শিক্ষক আ জ ম আজিজুল ইসলাম কর্মস্থলে ছিলেন। এ ঘটনায় নিহতরা হলেন লায়লা আফরোজ এবং তার মেয়ে নাফিসা লাওয়াল বিনতে আজিজ (১৫), যিনি নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের দুজনকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। লায়লা আফরোজের শরীরে প্রায় ৩০টি এবং নাফিসার দেহে ৬টি গভীর ক্ষতের চিহ্ন পাওয়া যায়। শুরু থেকেই এই ঘটনার প্রধান সন্দেহভাজন ছিলেন তাদের বাসায় মাত্র চার দিন আগে কাজে আসা এক গৃহকর্মী, যার নাম আয়েশা বলে জানিয়েছিলেন সেই গৃহকর্মী। হত্যাকাণ্ডের দিনের ওই বাসার সিসিটিভি ফুটেজে দেখতে পাওয়া যায়— অভিযুক্ত গৃহকর্মী সকাল ৭টা ৫১ মিনিটে বাসায় প্রবেশ করেন এবং সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে নিহত মেয়ের স্কুল ড্রেস পরে কাঁধে ব্যাগ নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে যান। ঘটনার নৃশংসতা দেখে পুলিশ ধারণা করছিল হয় ‘প্রশিক্ষিত কিলার’ অথবা অতিরিক্ত ক্ষোভ থেকে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। পুলিশ বলছে, সাধারণ মানুষের পক্ষে এমন নৃশংসতা প্রদর্শন প্রায় অসম্ভব। পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, এমন সুরতহাল সাম্প্রতিক সময়ে তারা দেখেননি।

নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে শাপলা কলি প্রতীকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে নির্বাচন করবেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) বেলা ১১টায় প্রথম ধাপের ১২৫ জন দলীয় মনোনীত প্রার্থীর তালিকা ঘোষণা করে এনসিপি। এতে নোয়াখালীর ৬টি আসনের মধ্যে ৩টি আসনে শাপলা কলি প্রতীকে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। আসন গুলো হলো—নোয়াখালী-১ (চাটখিল-সোনাইমুড়ী) আসনে ব্যারিস্টার ওমর ফারুক, নোয়াখালী-৫ (কোম্পানীগঞ্জ-কবিরহাট) আসনে অ্যাডভোকেট হুমায়রা নূর ও নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে আবদুল হান্নান মাসউদ। অন্যদিকে নোয়াখালী-২ (সেনবাগ-সোনাইমুড়ী), নোয়াখালী-৩ (বেগমগঞ্জ) ও নোয়াখালী-৪ (সদর-সুবর্ণচর) আসনের প্রার্থী এখনো ঘোষণা করা হয়নি।
১০ ডিসেম্বর, ২০২৫
বাংলাদেশ রেলওয়ের লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) রক্ষণাবেক্ষণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মীরা প্রশিক্ষণ নিতে দক্ষিণ কোরিয়ায় গেছেন। রেলওয়ের ইতিহাসে কর্মী পর্যায়ে এ ধরনের প্রশিক্ষণের উদ্যোগ এবারই প্রথম। দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের অনুদানভিত্তিক ‘বাংলাদেশ রেলওয়ের রোলিংস্টক ব্যবস্থাপনা এবং রক্ষণাবেক্ষণ উন্নয়ন’ প্রকল্পের অংশ হিসেবে লোকোমোটিভ রক্ষণাবেক্ষণ কর্মীদের দক্ষতা বাড়াতে এই বিশেষ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ ডিসেম্বর) রাতে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা রেজাউল করিম সিদ্দিকী বিষয়টি জানান। তিনি জানান, লোকোমোটিভ রক্ষণাবেক্ষণবিষয়ক এ প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছেন দেশের বিভিন্ন লোকোমোটিভ কারখানা ও লোকোসেডের মোট ১০ জন কর্মী এবং সমন্বয়ক হিসেবে আরও দুজন কর্মকর্তা। ৯ থেকে ২১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দক্ষিণ কোরিয়ার বুসানে অবস্থিত কোরিয়া রেল ওয়ার্কশপে অনুষ্ঠিত হবে এই প্রশিক্ষণ। পুরো কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের অর্থ সহায়তায়। সোমবার (৮ ডিসেম্বর) প্রশিক্ষণার্থীরা ঢাকা ত্যাগ করছেন দক্ষিণ কোরিয়ার উদ্দেশে। প্রকল্পের আওতায় এর আগে পাহাড়তলী ডিজেল ওয়ার্কশপে দুই দফায় মোট ৬০ জন কর্মীকে কোরিয়ান বিশেষজ্ঞরা প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। প্রশিক্ষণ শেষে পরীক্ষার মাধ্যমে বাংলাদেশ রেলওয়েকে মূল্যায়ন প্রতিবেদন জমা দেন তারা। ওই মূল্যায়নের ভিত্তিতেই এবার দক্ষিণ কোরিয়া সফরের জন্য প্রশিক্ষণার্থীদের নির্বাচন করা হয়েছে। প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন— বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী (লোকো) মো. রেজওয়ান উল–ইসলাম, ঊর্ধ্বতন উপ–সহকারী প্রকৌশলী (মেকানিক্যাল) নিরঞ্জন সিকদার, ঊর্ধ্বতন উপ–সহকারী প্রকৌশলী (ইলেকট্রিক্যাল) শহিদুল ইসলাম, ইলেকট্রিক মিস্ত্রি (গ্রেড–১) মো. মোজাম্মেল হক, মো. মামুনুর রশিদ, ইলেকট্রিশিয়ান (গ্রেড–১) মো. শামীম হোসেন, শাহিনুর আলম, ফিটার (গ্রেড–১) হারুন অর রশিদ, মো. সৈয়দ ওয়াকত হোসেন ও মো. সালাউদ্দিন। পাশাপাশি অংশ নিচ্ছেন বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী (ক্যারেজ) রাসেল আলম এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধি। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম প্রশিক্ষণার্থীদের শুভকামনা জানিয়ে বলেন, আন্তরিকভাবে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে কর্মক্ষেত্রে এর ব্যবহারিক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচির উদ্যোগ নেওয়ার জন্য তিনি বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক ও প্রকল্প পরিচালকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও ৩১ জন বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। সোমবার (৮ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশেষ সামরিক ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তারা। এরপর বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে দেশে ফেরত কর্মীদের ব্র্যাকের পক্ষ থেকে পরিবহন সহায়তাসহ জরুরি সহায়তা দেওয়া হয়। ফেরত আসা কর্মীদের অধিকাংশই নোয়াখালীর। এ ছাড়া সিলেট, ফেনী, শরীয়তপুর, কুমিল্লাসহ বিভিন্ন জেলার কর্মী আছেন। ফেরত আসা বাংলাদেশিরা জানান, তাদেরকেই প্রায় ৬০ ঘণ্টা হাতে হ্যান্ডকাফ ও শরীরে শেকল পরিয়ে রেখে দেশে আনা হয়েছে। ঢাকা বিমানবন্দরে এনে তাদের শেকলমুক্ত করা হয়। এর আগে চলতি বছরে ২২৬ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন। তাদের বেশিরভাগকেও একইভাবে হ্যান্ডকাফ ও শেকল পরানো হয়েছিল। ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক (মাইগ্রেশন ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্ম) শরিফুল হাসান বলেন, দেশে ফেরত এই কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে আমরা জেনেছি এই ৩১ জনের মধ্যে অন্তত সাত জন জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) ছাড়পত্র নিয়ে ব্রাজিল গিয়েছিলেন। এরপর সেখান থেকে মেক্সিকো হয়ে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। তারা যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের জন্য আবেদন করলে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। নথিপত্রহীন কাউকে ফেরত পাঠানোটা হয়ত স্বাভাবিক কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা হাতে হাতকড়া, পায়ে শেকল পরিয়ে রাখার ঘটনা অমানবিক। তিনি বলেন, আমরা আগেও বলেছি ব্রাজিলে যাদের কাজের নামে পাঠানো হচ্ছে তাদের অধিকাংশই ব্রাজিল থেকে মেক্সিকো হয়ে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন। এজন্য একেকজন ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা খরচ করছেন কিন্তু ফিরছেন শূন্য হাতে। যে এজেন্সি তাদের পাঠিয়েছিল এবং যারা এই অনুমোদন প্রক্রিয়ায় ছিল তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা উচিত। নতুন করে ব্রাজিলে কর্মী পাঠানোর অনুমতি দেওয়ার আগে সরকারের সতর্ক হওয়া জরুরি। ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর অবৈধ অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় একাধিক দফায় বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের ফেরত পাঠানো হচ্ছে। এর আগে চলতি বছরের ২৮ নভেম্বর একটি চার্টার্ড ফ্লাইটে ৩৯ জন ও ৮ জুন একটি চার্টার্ড ফ্লাইটে ৪২ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানো হয়। এর আগে চলতি বছরের ৬ মার্চ থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত একাধিক ফ্লাইটে আরও অন্তত ৩৪ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। ২০২৪ সালের শুরু থেকে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত পাঠানো বাংলাদেশির সংখ্যা ২২০ ছাড়িয়েছে। মার্কিন আইন অনুযায়ী বৈধ কাগজপত্র ছাড়া অবস্থানকারী অভিবাসীদের আদালতের রায় বা প্রশাসনিক আদেশে দেশে ফেরত পাঠানো যায়। আশ্রয়ের আবেদন ব্যর্থ হলে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ (আইসিই) তাদের প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করে। সাম্প্রতিক সময়ে এ প্রক্রিয়া দ্রুততর করার কারণে চার্টার্ড ও সামরিক ফ্লাইটের ব্যবহার বেড়েছে।

বিদেশ থেকে মোবাইল ফোন আনা নিয়ে প্রবাসীদের বিভিন্ন ধোঁয়াশা স্পষ্ট করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। সোমবার (৮ ডিসেম্বর) ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে দেওয়া এক পোস্টে প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে তিনি এ বার্তা দেন। আসিফ নজরুল সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য তুলে ধরে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার বা আমার সম্পর্কে মিথ্যাচার নতুন কিছু নয়। সোশ্যাল মিডিয়াতে কিছু মানুষ এখন প্রচার করছে যে মোবাইল ফোন সেট নিয়ে প্রবাসীদের প্রতি অন্যায় ও বৈষম্য করা হচ্ছে। এ সম্পর্কে প্রকৃত তথ্য নিচে তুলে ধরছি। মিথ্যা— সরকার নতুন নিয়ম করেছে একটার বেশি মোবাইল সেট বিদেশ থেকে নিয়ে আসলে ট্যাক্স দিতে হবে। সত্য— শেখ হাসিনা আমলে প্রবাসী কর্মীরা নিজের ব্যবহৃত ফোনসেটের সঙ্গে মাত্র একটা নতুন সেট আনতে পারত। প্রবাসীদের সুবিধা বাড়ানোর জন্য বর্তমান সরকার আরও বেশি (২টা নতুন) ফোনসেট আনার অনুমতি দিয়েছে। অর্থাৎ প্রবাসী কর্মীরা নিজের ব্যবহৃত সেটের সঙ্গে ২টা নতুন সেট আনতে পারছে। ২টার বেশি আনলে তার জন্য শুধু ট্যক্স দিতে হবে। এনবিআর ব্যগেজ রুল পরিবর্তন করে এই আইনটা করেছে প্রবাসীদের সুবিধা দেওয়ার জন্য। তবে এই সুবিধা বিএমইটি (প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়) থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বিদেশে যাওয়া প্রবাসী কর্মী ভাইদের জন্য। অন্যদের জন্য আগের নিয়মই প্রযোজ্য থাকছে। মিথ্যা— প্রবাসী ভাইদের ফোন রেজিস্ট্রেশন করতে হবে।
৮ ডিসেম্বর, ২০২৫
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির চূড়ান্ত অধ্যাদেশ জারির দাবিতে গতকাল (রোববার) সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক অবরোধ করে রাখেন তারা। পরে জনদুর্ভোগ এড়াতে অবরোধ তুলে নিলেও ঘোষণা দেন— অধ্যাদেশ না পাওয়া পর্যন্ত কেউ বাসায় ফিরবেন না। ফলে রাতেও শিক্ষা ভবনের সামনেই অবস্থান নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যান শিক্ষার্থীরা। ঢাকা কলেজ শিক্ষার্থী আব্দুর রহমান বলেন, দিনভর রাস্তায় থেকেও কোনো নিশ্চয়তা পাইনি। তাই রাতেও সেখানেই থেকেছি। আমরা ঘরে ফিরে গিয়ে আবার অনিশ্চয়তায় ডুবতে চাই না। অধ্যাদেশ জারি না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষা ভবনের সামনে অবস্থানই আমাদের একমাত্র উপায়। কারণ, আমরা এবার অধ্যাদেশের ১ দফা দাবিতেই রাস্তায় নেমেছি। আন্দোলনে অংশ নেওয়া ইডেন মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী স্মৃতি আক্তার বলেন, যত কষ্টই হোক, অধ্যাদেশ হাতে না পাওয়া পর্যন্ত আমরা এখানেই থাকব। গতকাল থেকে আমরা ১ দফা দাবিতে যে আন্দোলন শুরু করেছি তার একমাত্র সমাধান অধ্যাদেশ। এর আগে আমরা এখান থেকে যাচ্ছি না। রাতদিন শিক্ষা ভবনের সামনেই থাকব। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন দাবি জানালেও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কোনো অগ্রগতি না থাকায় দেড় লক্ষাধিক শিক্ষার্থী পরিচয় সংকট ও একাডেমিক অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। তাই চূড়ান্ত অধ্যাদেশ জারি না হওয়া পর্যন্ত সড়ক অবরোধ, অবস্থান ও ঘেরাওসহ ধারাবাহিক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। একইসাথে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির চূড়ান্ত অধ্যাদেশের দাবিতে আন্দোলন আরও জোরদার করার ঘোষণাও দিয়েছেন তারা। সে ধারাবাহিকতায় আজ সোমবার সকাল থেকে নতুন করে অবস্থান-অবরোধ কর্মসূচিতে আরও শিক্ষার্থী যুক্ত হবেন। সাত কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তর আন্দোলনের প্রতিনিধি নাঈম হাওলাদার বলেন, গতকাল সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর সাত কলেজের সাতটি পয়েন্ট থেকে পৃথক পদযাত্রা বের হয়ে শিক্ষা ভবনের সামনে আসে। এরপর কলেজ রোড, আব্দুল গণি রোড, দোয়েল চত্বর ও হাইকোর্টের মাজার রোডসহ চারটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ব্লকেড করা হয়। প্রায় ৫ ঘণ্টার ওই অবরোধে সচিবালয় এলাকার আশপাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। জনদুর্ভোগ বিবেচনায় রেখে পরে শিক্ষার্থীরা চৌরাস্তার অবরোধ প্রত্যাহার করে নিলেও অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যান। তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের এক দফা দাবি হচ্ছে - ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির চূড়ান্ত অধ্যাদেশ দ্রুত জারি করতে হবে। কারণ, অধিকার অর্জনের জন্য সংগ্রাম করতে করতে আমরা ক্লান্ত। দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। অধ্যাদেশ ছাড়া আর কেউ বাসায় ফিরবে না। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মধ্যে আর থাকতে চাই না। অধ্যাদেশ না আসা পর্যন্ত এই অবস্থান কর্মসূচি চলবে বলেও জানান তিনি। উল্লেখ্য, গত ১২ নভেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয় সাত কলেজকে একীভূত করে ‘ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়’ নামে একটি নতুন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা জানায়। একই বার্তায় আরও জানানো হয়েছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তিও বাতিল করা হয়েছে।

আজ (সোমবার) ঢাকার ইতালি দূতাবাস ওয়ার্ক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য এক বিজ্ঞপ্তিতে এ বার্তা জানিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ওয়ার্ক ভিসা আবেদনের জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট কীভাবে পাবেন সে সম্পর্কে কিছু প্রশ্নের উত্তরে, দূতাবাস নিম্নলিখিত বিষয়গুলো মনে করিয়ে দিতে চায়। যাদের ২০২৫ সালে ইস্যু করা অথবা ২০২৫ সালে পুনঃনিশ্চিত করা একটি ওয়ার্ক নুলাওস্তা আছে তাদের নিম্নলিখিত লিঙ্কে ভিএফএস গ্লোবালের নির্দিষ্ট ওয়েব পোর্টালে নিবন্ধন করতে হবে । ইতালিতে নিয়োগকর্তা কর্তৃক সরবরাহ করা ২০২৫ এর নুলাওস্তা কপি আপলোড করতে হবে। দূতাবাস নুলাওস্তার বৈধতা যাচাই করবে এবং নিবন্ধনের পরের কয়েক দিনের মধ্যে একটি অ্যাপয়েন্টমেন্ট প্রদান করবে। ২০২৯ পর্যন্ত যুক্তরাজ্যে পণ্য রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে বাংলাদেশ যাদের কাছে ২০২৩-২০২৪ সালে ইস্যু করা একটি নুলওস্তা আছে, তাদের ইতালিয়ান ইমিগ্রেশন অফিস কর্তৃক তাদের নুলাওস্তার পর্যালোচনা সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। পর্যালোচনা সম্পন্ন হওয়ার পরে, ভিএফএস গ্লোবাল তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করবে।
৮ ডিসেম্বর, ২০২৫
কওমি মাদরাসার দাওরায়ে হাদিস সনদধারীরা আজ রোববার (৭ ডিসেম্বর) থেকে নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজী) হতে পারবেন। রোববার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে এক স্ট্যাটাসে এ তথ্য জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল। তিনি লিখেছেন, এখন থেকে কওমি মাদরাসার স্বীকৃত ডিগ্রিধারীরা নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজী) হতে পারবেন। আগে এই সুযোগ আলিম সনদধারী ব্যক্তিদের জন্য সীমাবদ্ধ ছিল। আইন মন্ত্রণালয় এই সুযোগ বাড়ানোর জন্য আইন সংশোধন করেছে। স্যাটাসে তিনি আরও লিখেছেন, আজ থেকে কওমি মাদরাসার স্বীকৃত বোর্ড থেকে দাওরায়ে হাদিস সনদধারী ব্যক্তিরাও এই পদে আবেদন করতে পারবেন। এর আগে, গত ৫ আগস্ট ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন দাওরায়ে হাদিস সনদধারীদের নিকাহ রেজিস্ট্রারের লাইসেন্স দিতে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টাকে উদ্যোগ নিতে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছিলেন। ২০১৮ সালে সেপ্টেম্বরে মহান জাতীয় সংসদে আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি'আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ- এর অধীন কওমি মাদরাসার দাওরায়ে হাদিসের (তাকমীল) সনদকে মাস্টার্স ডিগ্রি (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি) এর সমমান প্রদান আইন, ২০১৮ পাস হয় এবং সেদিনই বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় এটি প্রকাশিত হয়।
৭ ডিসেম্বর, ২০২৫
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন দেশ থেকে ভোট দেওয়ার জন্য ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে প্রবাসী নিবন্ধন দুই লাখ ২৪ হাজার ১৪২। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৪ হাজার ২ জন এবং মহিলা ২০ হাজার ১৪০ জন। বেলা ১১টা পর্যন্ত পোস্টাল ব্যালট অ্যাপ থেকে এ তথ্য জানা গেছে। নিবন্ধনের পর নির্দিষ্ট সময়ে সংশ্লিষ্ট প্রবাসীদের ঠিকানায় ব্যালট পেপার পাঠিয়ে দেবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রোববার (৭ ডিসেম্বর) সকালে ইসির ওয়েবসাইট থেকে বিষয়টি জানা গেছে। গত ১৯ নভেম্বর থেকে বিভিন্ন দেশে বসবাসকারীদের নিবন্ধন শুরু হয়েছে, চলবে ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত। যে সব দেশে নিবন্ধন চলছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, দক্ষিণ আফ্রিকা, চীন, মিশর, মোজাম্বিক, লিবিয়া, মরিশাস, হংকং, ব্রাজিল, উগান্ডা, ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গো, ইথিওপিয়া, নাইজেরিয়া, লাইবেরিয়া, বতসোয়ানা, কেনিয়া, রুয়ান্ডা, আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, তানজানিয়া, সোমালিয়া, ঘানা, গিনি, মরক্কো, দক্ষিণ সুদান, চিলি, সিয়েরা লিওন, ইকুয়েডর, তাইওয়ান, আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, গাম্বিয়া, পেরু, জিম্বাবুয়ে, যুক্তরাষ্ট্র ইত্যাদি। মোট নিবন্ধন করেছেন (সকাল সাড়ে নয়টা পর্যন্ত) দুই লাখ ২৩ হাজার ২২৬ প্রবাসী, যা প্রতি মুহুর্তে বাড়ছে। ইসি জানিয়েছে, অ্যাপে নিবন্ধনকারীদের ঠিকানায় পোস্টাল ব্যালট ডাকযোগে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। ভোটার ভোট দিয়ে ফিরতি খামে তা আবার রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠাবেন। উল্লেখ্য, আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসি। এক্ষেত্রে ৫০ লাখ প্রবাসী ভোট টানার টার্গেট নিয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছে সংস্থাটি।
৭ ডিসেম্বর, ২০২৫
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে সুবজ নামের এক বাংলাদেশি যুবককে গুলি করে হত্যা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ)। বৃহস্পতিবার (৪ নভেম্বর) ভোরে সীমান্তের ৮৬৪ ও ৮৬৫ নং পিলারের মাঝামাঝি ভারতের অভ্যন্তরে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সবুজ (২৫) উপজেলার জগতবেড় ইউনিয়নের পঁচাভান্ডার এলাকার শেরাজুল ইসলামের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সবুজসহ কয়েকজন যুবক সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতের দিকে প্রবেশ করলে ১৬৯ বিএসএফের চেনাকাটা ক্যাম্পের সদস্যরা গুলি ছোড়ে। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই সবুজ মারা যায়। পরে বিএসএফ তার মরদেহ ভারতের ভেতরে নিয়ে যায়। ৬১ বিজিবির শমসেরনগর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার কামাল উদ্দিন বলেন, সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। মরদেহ বর্তমানে বিএসএফ ভারতের ভেতরে নিয়ে গেছে। পতাকা বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা হবে।
৪ ডিসেম্বর, ২০২৫
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) ভোর ৬টা ১৫ মিনিটের দিকে এ কম্পন অনুভূত হয়। ইউরোপিয়ান মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টারের তথ্যমতে এর উৎপত্তিস্থল টঙ্গী থেকে ৩৩ কিলোমিটার উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে ও নরসিংদীর ৩ কিলোমিটার উত্তরে। তথ্যমতে, ভূমিকম্পের গভীরতা ভূপৃষ্ঠ থেকে ৩০ কিলোমিটার গভীরে। মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ১। তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এর আগে মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) সকাল ৭টা ৫৬ মিনিটে বঙ্গোপসাগরে ৪.২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। উৎপত্তিস্থল উপকূল থেকে দূরে হওয়ায় তা টের পাননি বাসিন্দারা। ভারতের ভূবিজ্ঞান মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন জাতীয় ভূকম্পন কেন্দ্রের বরাতে টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া এ তথ্য জানায়। প্রতিবেদনের তথ্যমতে, মঙ্গলবার সকাল ৭টা ৫৬ মিনিটে বঙ্গোপসাগরে ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল ২০.৫৬ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯২.৩১ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে, যার গভীরতা ৩৫ কিলোমিটার।
৪ ডিসেম্বর, ২০২৫
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারছেন বলে জানিয়েছেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। একইসঙ্গে তিনি খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে গুজবে কান না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) রাজধানীর বসুন্ধরায় এভারকেয়ার হাসপাতালের মূল ফটকের সামনে খালেদা জিয়ার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসা নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি। গত ২৩ নভেম্বর থেকে এভারকেয়ার হাসপাতালে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া চিকিৎসাধীন। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ফুসফুসে ইনফেকশন ধরা পড়ে। পরে তার অবস্থা সংকটময় বলে বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়। এরপর গত বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) থেকে খালেদা জিয়াকে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ) নিয়ে চিকিৎসকরা নিবিড়ভাবে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। এভারকেয়ার হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে দেশি-বিদেশি চিকিৎসকদের সমন্বয়ে একটি মেডিকেল বোর্ডের অধীনে খালেদা জিয়া চিকিৎসা চলছে। এদিকে, গত রাত থেকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। হাসপাতালের মূল ফটকের সামনে দুই দিকে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে, নিরাপত্তার স্বার্থে রয়েছে পুলিশের উপস্থিতি। সংশ্লিষ্ট লোকজন ছাড়া অন্যদের ভিড় করতে দেওয়া হচ্ছে না। উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত রাত ২টার দিকে হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে পুলিশ ব্যারিকেড দেয়। পাশাপাশি আশপাশে কাউকে ভিড় করতে দেওয়া হচ্ছে না। হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, রোগী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের নির্বিঘ্নে চলাচল নিশ্চিত করতে, হাসপাতালের আশপাশে ভিড় ঠেকাতে ও খালেদা জিয়ার নিরাপত্তা জোরদার করতে পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

জারে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এ ছাড়াও পার্শ্ববর্তী পার্বত্য চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রাম শহরেও এ ভূমিকম্প অনুভূত হয়। সোমবার (১ ডিসেম্বর) রাত ১২টা ৫৭ মিনিটে কক্সবাজার শহর, উখিয়া, চকরিয়ায় স্থানীয়রা ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে বলে জানা গেছে। এখন পর্যন্ত কোনো ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি, তবে স্থানীয়দের ভাষ্যমতে কম্পনের স্থায়িত্ব ছিল কয়েক সেকেন্ড। ভূমিকম্পের তথ্য প্রদানকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউরোপিয়ান মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) তাদের ওয়েবসাইটে সর্বশেষ তথ্যে জানিয়েছে, ৪.৯ মাত্রার এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল মিয়ানমার।
২ ডিসেম্বর, ২০২৫
ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়াহ ভারতের দক্ষিণ উপকূলের দিকে দ্রুত এগিয়ে আসছে। এ কারণে তামিলনাডু, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরিতে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। উপকূলজুড়ে ইতোমধ্যেই বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া শুরু হয়েছে। পরিস্থিতির কারণে বিভিন্ন স্থানে ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। শুক্রবার মধ্যরাতে এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, ভারতের আবহাওয়া দপ্তর (আইএমডি) জানায়, ঘূর্ণিঝড়টি রোববার দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর থেকে উত্তর তামিলনাডু, পুদুচেরি ও দক্ষিণ অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের কাছ দিয়ে অতিক্রম করবে। তামিলনাডুর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী কে এস এস আর রামাচন্দ্রন বলেন, ঘূর্ণিঝড়টি চেন্নাইয়ের কাছে আঘাত হানবে কি না এখনও নিশ্চিত নয়। তবে রাজ্য সরকার উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতার জন্য প্রস্তুত। চেন্নাই বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আবহাওয়া খারাপ থাকায় ৫৪টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। আইএমডির মহাপরিচালক মৃগুঞ্জয় মহাপাত্র জানান, তামিলনাডু ও পুদুচেরির উপকূলে বাতাসের গতি ঘণ্টায় ৭০–৮০ কিলোমিটার, দমকা হাওয়ায় যা ৯০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠছে। রোববার সকালে ঘূর্ণিঝড়টি উপকূল থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূর দিয়ে যাবে, তবে এর প্রভাব সন্ধ্যা পর্যন্ত থাকবে। তিনি বলেন, বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা কম। তবে কৃষিজমির ফসল নষ্ট হতে পারে। ইতোমধ্যে তিন রাজ্যে ভারী বৃষ্টি হয়েছে। কেরালাতেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। স্থানীয় মানুষকে সতর্ক থাকতে এবং অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতার ঝুঁকি রয়েছে। জেলেদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। আইএমডি জানায়, অন্ধ্র উপকূলে বাতাসের গতি ঘণ্টায় ৫০–৬০ কিলোমিটার, আর তামিলনাডু-পুদুচেরিতে ঢেউয়ের উচ্চতা ৮ মিটার পর্যন্ত উঠছে। উপকূলের মানুষকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
৩০ নভেম্বর, ২০২৫
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ৬ লেনের দাবিতে ব্লকেড কর্মসূচি পালন করছে স্থানীয়রা। রোববার (৩০ নভেম্বর) সকাল ৯টা থেকে বিক্ষোভকারীরা উপজেলার কেরানিহাট এলাকায় সড়কে অবস্থান নেয়। এতে করে করে সড়কটিতে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা ৬ লেনের দাবিতে নানা স্লোগান দিতে থাকেন। বিক্ষোভকারীরা বলেন, এই মহাসড়কটি মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই এই সড়কের কোথাও না কোথাও ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটছে—সংবাদপত্র খুললেই তার প্রমাণ মেলে। আমরা এই পরিস্থিতি আর দেখতে চাই না। বারবার অনুরোধ ও দাবি জানিয়েও এখনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে পাইনি। তাই বাধ্য হয়ে ব্লকেড কর্মসূচি পালন করছি। তারা আরও বলেন, এই সড়ক শুধু স্থানীয়রা ব্যবহার করেন না। এটি দেশের অর্থনীতি, পর্যটন এবং রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মানবিক ত্রাণ পৌঁছানোর কার্যক্রমের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন লক্ষাধিক মানুষ কক্সবাজারে যাতায়াত করেন। অথচ দেশের অন্যতম ব্যস্ত এই সড়কটি অনেক জায়গায় পাড়ার গলির চেয়েও সরু। জাঙ্গালিয়ার মতো কিছু অংশ ঢালু ও আঁকাবাঁকা। আবার রাতে লবণের গাড়ি চলাচলের কারণে রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়ে যায়। প্রতিটি দুর্ঘটনার পর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সড়ক প্রশস্ত করার আশ্বাস মিললেও বাস্তবে কোনো উদ্যোগ দেখা যায় না। প্রসঙ্গত, এর আগে একই দাবিতে গত ৬ এপ্রিল নগরীর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালনের পর প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। এরপর ১১ এপ্রিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সড়ক ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের কাছেও স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। তবে এতদিনেও বাস্তব কোনো পদক্ষেপ না থাকায় এলাকাবাসী পুনরায় আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন।
৩০ নভেম্বর, ২০২৫
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, বিশেষ সভায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন । সভায় বৈদেশিক অনুদান (স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম) রেগুলেশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫–এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্তভাবে অনুমোদন হয়। এই সংশোধনের ফলে বর্তমান আইনের কয়েকটি ধারায় পরিবর্তন এসেছে, এনজিও নিবন্ধনের নিয়ম সহজ হয়েছে এবং অনুদান অবমুক্তির শর্তগুলোও সহজ করা হয়েছে। এখন থেকে বছরে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত অনুদানের ক্ষেত্রে আর অনুমোদনের প্রয়োজন হবে না। আইনটিকে আরও অংশীজনবান্ধব করা হয়েছে। এছাড়াও, পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫–এর খসড়া আজকের সভায় উত্থাপিত হয়েছে। অধ্যাদেশটি আরও বিস্তারিতভাবে এবং সংশোধিত আকারে পরবর্তী পরিষদ সভায় উত্থাপনের নির্দেশ দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ। সভায় প্রবাসী কল্যাণ উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল আরব আমিরাতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়ার অভিযোগে বিভিন্ন সময়ে বন্দী থাকা অবশিষ্ট ২৪ জনকে অচিরেই মুক্তি দেওয়ার বিষয়ে উপদেষ্টা পরিষদকে অবহিত করেন। তিনি জানান, দুই-তিন দিনের মধ্যেই তারা দেশে ফিরবেন।
২৯ নভেম্বর, ২০২৫
আরও ৩৯ জন বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে একটি বিশেষ সামরিক ফ্লাইটে তারা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেন। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ব্র্যাক তাদের তাৎক্ষণিক সহায়তা ও পরিবহণ সুবিধা প্রদান করেছে। ফেরত আসা ৩৯ জনের মধ্যে ২৬ জনের বাড়ি নোয়াখালীতে। এ ছাড়া কুমিল্লা, সিলেট, ফেনী ও লক্ষ্মীপুরের দুজন করে এবং চট্টগ্রাম, গাজীপুর, ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ ও নরসিংদী থেকে একজন করে রয়েছেন। চলতি বছর এ নিয়ে মোট ১৮৭ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাল যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন। ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ফেরত আসাদের মধ্যে ৩৪ জন বিএমইটি ছাড়পত্র নিয়ে বৈধভাবে ব্রাজিলে গিয়েছিলেন। পরে সেখান থেকে মেক্সিকো হয়ে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। বাকি পাঁচজনের মধ্যে দুজন সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে এবং তিনজন দক্ষিণ আফ্রিকা হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছান। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের আবেদন করলে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক (মাইগ্রেশন ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্ম) শরিফুল হাসান বলেন, এই যে সরকারের পক্ষ থেকে ব্রাজিলে বৈধভাবে কর্মী পাঠানোর অনুমতি দেওয়া হলো সেক্ষেত্রে তারা ব্রাজিল না যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন সেটি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকার বা এজেন্সির কি কোনো সতর্কতা বা কৌশল ছিল? তিনি বলেন, ৩০–৩৫ লাখ টাকা খরচ করে যেসব কর্মী শূন্য হাতে ফিরলেন—এর দায় কার? যেসব এজেন্সি তাদের পাঠিয়েছে এবং যারা অনুমোদন প্রক্রিয়ায় জড়িত ছিলেন তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত। ফেরত আসা যাত্রী ও বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, এর আগে ফেরত পাঠানো বাংলাদেশিদের হাত-পায়ে শিকল পরিয়ে আনা হলেও এবার সেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বার মার্কিন প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর অবৈধ অভিবাসী প্রত্যাবাসন কার্যক্রম আরও কড়াকড়িভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এ ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশিসহ বহু দেশের নাগরিককে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। চলতি বছরের ৮ জুন ৪২ বাংলাদেশিকে এবং মার্চ থেকে এপ্রিলের মধ্যে আরও অন্তত ৩৪ জনকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। ২০২৪ সালের শুরু থেকে এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত পাঠানো বাংলাদেশির সংখ্যা ২২০–এর বেশি। মার্কিন আইনে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া অবস্থান করলে আদালতের রায় বা প্রশাসনিক নির্দেশে অভিবাসীদের দেশে ফেরত পাঠানো যায়। আশ্রয় আবেদন বাতিল হলে আইসিই দ্রুত প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করে। এ কারণে সাম্প্রতিক সময়ে চার্টার্ড ও সামরিক ফ্লাইটের ব্যবহার বেড়েছে।

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ফের ভূমিকম্প ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ৩.৬ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা ১৫ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডে এ কম্পন অনুভূত হয়। ইউরোপিয়ান মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) এ তথ্য জানিয়েছে। ভলকানো ডিসকভারি জানিয়েছে, ঢাকা থেকে ৩১ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল। যার মাত্রা ছিল ৩.৬। আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৬। এটা স্বল্পমাত্রার ভূমিকম্প। এর উৎপত্তিস্থল নরসিংদীর ঘোড়াশাল। এ নিয়ে গতকাল মধ্যরাত ৩টার পর থেকে আজ (বৃহস্পতিবার) বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত, অর্থাৎ প্রায় ১৩ ঘণ্টার ব্যবধানে দেশে তিনবার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। রিখটার স্কেলে কম্পনগুলোর মাত্রা ছিল মাঝারি বা হালকা। এর মধ্যে প্রথম ভূমিকম্প অনুভূত হয় গতকাল মধ্যরাতে। রাত ৩টা ২৯ মিনিটে টেকনাফ থেকে ১১৮ কিলোমিটার দূরে ৪ মাত্রার ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হয়। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট এ ভূমিকম্পে কেঁপেছে কক্সবাজার জেলার টেকনাফ শহর। এরপর রাত ৩টা ৩০ মিনিট ৪৯ সেকেন্ডে সিলেটে মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৪। এটি মৃদু ভূমিকম্প হওয়ায় অনেকেই টের পাননি। সর্বশেষ আজ বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে ৩.৬ মাত্রার কম্পন অনুভূত হয়। • ভূমিকম্পের পূর্বাভাস কি দেওয়া যায়? বাংলাদেশে এখন যে আতঙ্ক বা গুজব ছড়িয়েছে, ২০২৩ সালে এমনটি হয়েছিল ভারত ও পাকিস্তানে। ওই বছর তুরস্ক-সিরিয়া সীমান্তে আঘাত হেনেছিল শতাব্দীর অন্যতম ভয়াবহ ভূমিকম্প। ওই ভূমিকম্পে প্রায় ৬০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। তুরস্ক-সিরিয়া সীমান্তের ভূমিকম্পের পর গুজব ছড়ানো হয় ১৫ দিনের মধ্যে ভারত-পাকিস্তানে একইরকম ভূমিকম্প আঘাত হানবে। তখন বিশেষজ্ঞরা জানান, কবে, কোথায় আর কোন সময় ভূমিকম্প আঘাত হানবে সেটি পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব নয়। পৃথিবীর ইতিহাসে এখন পর্যন্ত কোনো বিজ্ঞানী ভূমিকম্পের পূর্বাভাস দিতে পারেননি। যুক্তরাষ্ট্রের বাফেলো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূকম্পন প্রকৌশল বিশেষজ্ঞ প্রফেসর মাইকেল ব্রুনো ওই সময় বলেন, “এ মুহূর্তে এমন কোনো বিজ্ঞান, ম্যাজিক বা জাদুবিদ্যা নেই যেটি ভূমিকম্প আঘাত হানার নির্দিষ্ট সময়ের পূর্বাভাস দিতে পারবে। বিজ্ঞানীদের ভূমিকম্পের সুনির্দিষ্ট সময় বলতে পারার ক্ষমতা নেই।” তিনি আরও বলেন, “ভূমিকম্পের পূর্বাভাস দেওয়ার জন্য সব পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন বিজ্ঞানীরা। কিন্তু কেউ সফল হননি এবং বিশ্বাসযোগ্য পূর্বাভাস দিতে পারেননি।” ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির ভূপদার্থবিদ্যার গবেষক প্রফেসর এগিল হোকসন বলেছেন, “ভূমিকম্প কখন হবে ওই সময় নির্দিষ্ট করা বলা এখন পর্যন্ত সম্ভব হয়নি।

বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারের ক্ষেত্রে প্রতি মাসের প্রথম রিচার্জে ডিমান্ড চার্জ ও মিটার ভাড়া কাটা হয় বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। আর কোনো মাসে রিচার্জ করা না হলে পরবর্তী রিচার্জে তা সমন্বয় করা হয়। বুধবার (২৬ নভেম্বর) এক বার্তায় এ তথ্য জানায় বিদ্যুৎ বিভাগ। বার্তায় বলা হয়, প্রিপেইড মিটার ও পোস্ট পেইড মিটার উভয়ের ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ ও খরচ সমান। প্রিপেইড মিটারে ব্যবহার্য বিদ্যুতের বিপরীতে রিচার্জ করা এনার্জির ওপর সরকারের প্রণোদনা হিসেবে ০.৫ শতাংশ রিবেট (ছাড়) দেওয়া হয়। প্রিপেইড মিটার সংযোগের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা জামানত লাগে না। পোস্ট পেইড মিটারের মতো প্রিপেইড মিটারের অনুমোদিত লোডের বিপরীতে ডিমান্ড চার্জ কিলোওয়াট প্রতি মাসিক ৪২ টাকা হারে (আবাসিক গ্রাহকের ক্ষেত্রে) ও ভ্যাট ৫ শতাংশ নিয়ম অনুসারে কাটা হয়। এ ছাড়া বিতরণ প্রতিষ্ঠানের সরবরাহ করা মিটারের ক্ষেত্রে প্রতি মাসে সিঙ্গেল ফেজ ৪০ টাকা ও থ্রি ফেজ ২৫০ টাকা হারে মিটার ভাড়া কাটা হয়। এক্ষেত্রে প্রাকৃতিক/যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে মিটার নষ্ট হলে সংস্থা কর্তৃক বিনামূল্যে মিটার বদলে দেওয়া হয়। গ্রাহকের সরবরাহ করা মিটারের ক্ষেত্রে মিটার ভাড়া প্রযোজ্য নয়। এতে আরও বলা হয়, গ্রাহক আর্থিক সক্ষমতা অনুযায়ী প্রয়োজনমাফিক প্রিপেইড মিটার রিচার্জ করতে পারেন। যেকোনো সময় ও স্থান হতে অনলাইনে যেমন– বিকাশ/নগদ/জিপি/রবি/উপায়/ডেবিট কার্ড/ক্রেডিট কার্ড ইত্যাদির মাধ্যমে রিচার্জ করার সুযোগ থাকায় যাতায়াতের সময় ও অর্থের সাশ্রয় হয়। এছাড়াও সংস্থার ভেন্ডিং স্টেশন, পস এজেন্ট ও ব্যাংক বুথের মাধ্যমেও প্রিপেইড মিটার রিচার্জ করা যায়। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে মিটার থেকে এনার্জি ব্যালেন্স জানা যায় এবং মিটারের ব্যালেন্স কমে গেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অ্যালার্ম/নোটিফিকেশন দেওয়া হয়। বিদ্যুৎ বিভাগ জানায়, প্রিপেইড মিটারের ব্যালেন্স শেষ হয়ে গেলেও গ্রাহক বিকেল ৪টা থেকে পরদিন সকাল ১০টা পর্যন্ত, সাপ্তাহিক ছুটির দিন (শুক্রবার ও শনিবার) ও ইমার্জেন্সি ক্রেডিট ফ্যাসিলিটিজ ভোগ করতে পারেন। এক্ষেত্রে গ্রাহকের ব্যবহৃত ইউনিটের বিপরীতে অগ্রিম হিসেবে ইতোপূর্বে গৃহীত বকেয়া ব্যালেন্স হিসেবে মিটারে জমা হয়, যা পরবর্তী রিচার্জের সময় এনার্জি ব্যালেন্স থেকে কাটা হয়ে থাকে। মিটারে এনার্জি ব্যালেন্স অবশিষ্ট থাকলে পরবর্তী মাসে মিটার রিচার্জ না করলে অবশিষ্ট ব্যালেন্স হতে ব্যবহৃত এনার্জি খরচ কাটা হয়। তবে জমা (অবশিষ্ট) ব্যালেন্স থেকে ডিমান্ড চার্জ ও মিটার ভাড়া কাটা হয় না। শুধু প্রতি মাসের প্রথম রিচার্জে ডিমান্ড চার্জ ও মিটার ভাড়া কাটা হয়। যদি কোনো মাসে রিচার্জ করা না হয় তাহলে পরবর্তী রিচার্জের সময় পূর্ববর্তী সব মাসের অপরিশোধিত ডিমান্ড চার্জ ও মিটার ভাড়ার বকেয়া কাটা হয়।

৭তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার তারিখ পেছানোর দাবিতে আবারও রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার অভিমুখে মিছিলের ডাক দিয়েছেন আন্দোলরত শিক্ষার্থীরা। এ সময় শহীদ মিনার এলাকা থেকে আন্দোলনকারীরা যমুনা অভিমুখে মিছিল নিয়ে যাবেন শিক্ষার্থীরা। বুধবার (২৬ নভেম্বর) দুপর ১২টার দিকে আবারও যমুনা অভিমুখে মিছিলের ডাক দেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় পরীক্ষার্থীরা জানান, তাদের যৌক্তিক দাবি না মেনে নিয়ে বরং পুলিশ দিয়ে নিপীড়ন করা হয়েছে। কিন্তু তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। লিখিত পরীক্ষার তারিখ পেছানোর দাবিতে এক মাসের বেশি সময় ধরে আন্দোলন চলছে। গতকাল মঙ্গলবার আন্দোলনকারীদের যমুনা অভিমুখী পদযাত্রা শাহবাগে আটকে দেয় পুলিশ। পুলিশের সঙ্গে দুই দফা সংঘর্ষ হয় আন্দোলনকারীদের। এতে আহত হন অন্তত ১৫ জন। শাহবাগ ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন ৪৭তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি উত্তীর্ণ প্রার্থীদের একটি অংশ। ৪৭তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা আগামী ২৭ নভেম্বর থেকে শুরু হবে। পরীক্ষা একযোগে ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে। কারিগরি বা পেশাগত ক্যাডারের পদসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর লিখিত পরীক্ষা চলবে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত। উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকাসহ ৮টি বিভাগীয় শহরের ২৫৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে ৪৭তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা হয়েছে। এবার ৩ লাখ ৭৪ হাজার ৭৪৭ জন চাকরিপ্রার্থী আবেদন করেছিলেন, যেখানে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১০ হাজার ৬৪৪ জন। প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল ২৮ সেপ্টেম্বর সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) প্রকাশ করে।
২৬ নভেম্বর, ২০২৫
একটি ভালো নির্বাচনের জন্য সবার সহযোগিতা লাগবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) দেশিয় ৪০টি পর্যবেক্ষক সংস্থার প্রতিনিধির সঙ্গে চলা সংলাপে তিনি এমন কথা বলেছেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, একটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে চাই। অতীতের ভুল-ভ্রান্তি থেকে শিক্ষা নিয়ে কমিশন সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চায়। আমাদের এজেন্ডা একটাই, একটি ক্রেডিবল ইলেকশন জাতিকে উপহার দেওয়া। একটি ভালো নির্বাচন আয়োজন আমাদের দায়িত্ব। ভালো নির্বাচনের জন্য সবার সহযোগিতা লাগবে। তিনি বলেন, এই নির্বাচনে আমাদের একটি অফিশিয়াল মেকানিজম থাকবে। তারপরও পর্যবেক্ষকদের চোখ দিয়ে এই নির্বাচনটিকে দেখতে চাই। যারা নতুন পর্যবেক্ষক আছেন তারা অবশ্যই যত দ্রুত সম্ভব প্রশিক্ষণ দেবেন তাদের লোকবলকে। তারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন না করলে আপনাদের সংস্থার সুনাম ক্ষুণ্ন হবে। পর্যবেক্ষকদের সতর্ক করে তিনি আরও বলেন, পর্যবেক্ষক সংস্থার দায়িত্ব হবে ভোটের অনিয়ম তুলে ধরা, রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়া না। পর্যবেক্ষকদের চোখ দুষ্টু হলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। নির্বাচনে পর্যবেক্ষকদের রাজনীতিতে না জড়ানোর আহ্বান জানিয়ে ইসি বলেন, বাংলাদেশিরা খুব বেশি রাজনীতি সচেতন। যারা পর্যবেক্ষণ করবেন তারা রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়লে সব ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়বে। যাদের নিয়োগ দেবেন তারা কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত আছে কি না সেটা অবশ্যই চেক করবেন। এদিকে ইসি আবুল ফজল মোহাম্মদ সানাউল্লাহ বলেন, দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে স্বচ্ছ নির্বাচন হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ সংসদ জাতীয় নির্বাচন। এবারের নির্বাচনে ভোটার টার্ন আউট অনেক বেশি হবে। তিনি আরও বলেন, অতীতকে কোনোভাবে সামনে আনতে চাই না। অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চায় ইসি। কোনো অবস্থাতেই পক্ষপাতিত্বমূলক আচরণ করা যাবে না। এর ব্যত্যয় ঘটলে ভবিষ্যতে নির্বাচনে আসতে সমস্যা হবে।

দেশজুড়ে তিন দফা দাবিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা তিন দিনের পূর্ণদিবস কর্মবিরতি শুরু করেছেন। মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) শুরু হওয়া এই কর্মবিরতি চলবে আগামী বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) পর্যন্ত। প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষকদের ১১টি সংগঠনের মোর্চা ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদ’ এ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে। গত সোমবার (২৪ নভেম্বর) সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক সাবেরা বেগমের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক সাবেরা বেগম জানান, সহকারী শিক্ষক পদকে এন্ট্রি পদ হিসেবে ১১তম গ্রেড প্রদান, শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি এবং ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার জটিলতা দূর—এই তিন দফা দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে সরকারের সঙ্গে আলোচনা হলেও আশ্বাস ছাড়া কোনো বাস্তব অগ্রগতি হয়নি। তাই তারা বাধ্য হয়ে পূর্ণদিবস কর্মবিরতিতে যেতে হয়েছে। তিনি আরও বলেন, টানা তিন দিন এই পূর্ণদিবস কর্মবিরতি চলবে। দাবি আদায়ে অগ্রগতি না হলে বার্ষিক পরীক্ষা বর্জন এবং ১১ ডিসেম্বর থেকে লাগাতার অনশনে যাওয়ার ঘোষণা রয়েছে সংগঠনের। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে ৬৫ হাজার ৫৬৭টি এবং এসব স্কুলে কর্মরত শিক্ষক সংখ্যা ৩ লাখ ৮৪ হাজার। গত ২৪ এপ্রিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রধান শিক্ষকদের বেতন ১১তম থেকে ১০তম গ্রেডে এবং ১৩তম গ্রেডের শিক্ষকদের ১২তম গ্রেডে উন্নীত করার উদ্যোগ নেয়। তবে এ সিদ্ধান্তে সহকারী শিক্ষকরা অসন্তুষ্ট। তাদের অভিযোগ, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, নার্স, কৃষি কর্মকর্তা, পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর এবং সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি নিয়েই ১০ম গ্রেড পাচ্ছেন। অথচ প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকরা স্নাতকের পাশাপাশি সিএনএড, বিপিএড বা বিটিপিটি কোর্স সম্পন্ন করেও এখনো ১৩তম গ্রেডেই সীমাবদ্ধ রয়েছেন।

সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের সব বিচারপতিদের অংশগ্রহণে ফুলকোর্ট সভা ডেকেছেন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ। আগামী ২৭ নভেম্বর বিকেল ৩টায় সুপ্রিম কোর্টের কনফারেন্স রুমে ফুলকোর্ট সভা অনুষ্ঠিত হবে। সোমবার (২৪ নভেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (প্রশাসন ও বিচার) মো. আতিকুস সামাদ স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট সূত্রে জানা গেছে, ফুলকোর্ট সভায় অধস্তন আদালতের বিচারকদের বদলি-পদোন্নতিসহ নানান গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, ফুলকোর্ট সভা বিচারপতিদের কথা বলার নিজস্ব ফোরাম। এতে নীতি-নির্ধারণী বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়
২৪ নভেম্বর, ২০২৫
গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের দুই মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন নির্ধারণ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। দুই মামলার একটির অভিযোগ গঠনের শুনানি ৩ ডিসেম্বর ও অন্যটির ৭ ডিসেম্বর। রোববার (২৩ নভেম্বর) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই দিন ধার্য করেন। এর আগে, গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের দুই মামলায় অভিযুক্ত ১৩ সেনা কর্মকর্তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ হাজির করা হয়। এদিন মামলার পরবর্তী শুনানির দিন সেনাকর্মকর্তাদের সশরীরে উপস্থিতির পরিবর্তে ভার্চুয়ালি হাজিরা দেয়ার অনুমতি চেয়ে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছে তাদের আইনজীবীরা। এদিকে, আজ রোববার শেখ হাসিনার মামলার রায় ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে প্রচারিত ট্রাইব্যুনালের বিচারকদের ছবি অপসারণ করতে বিটিআরসির ও তথ্য সচিবকে নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। পাশাপাশি আদালত অবমাননাকর মন্তব্য অপসারণেরও নির্দেশ দেয়া হয়। প্রসঙ্গত, গত ৮ অক্টোবর এই দুই মামলা এবং অভ্যুত্থানের সময় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা আরেকটি মামলায় ২৫ জন সাবেক ও বর্তমান সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। একইদিন প্রসিকিউশন ফরমাল চার্জ দাখিল করে। পরবর্তীতে ২২ অক্টোবর সকালে সেনাবাহিনীর হেফাজতে থাকা ১৫ কর্মকর্তাকে সাধারণ পোশাকে বিশেষ প্রিজন ভ্যানে করে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। শুনানি শেষে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। পরে তাদের ঢাকা সেনানিবাসের ঘোষিত সাব-জেলে নেয়া হয়। এর আগে, পৃথক দুই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার নিরাপত্তা উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল তারিক আহমেদ সিদ্দিক এবং ডিজিএফআইয়ের সাবেক পাঁচ মহাপরিচালকসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধেও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল-১।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালসহ তিনজনের রায় ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিচারক সংশ্লিষ্ট ছবি ও মন্তব্য মুছে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। রোববার (২৩ নভেম্বর) ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল বিটিআরসি ও তথ্য সচিবকে এ আদেশ দেন। ১৩ নভেম্বর জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড, আর সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের সাজা দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এই রায় ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনাল-১। রায় ঘোষণার পর সামাজিক ও সংবাদমাধ্যমে বিচারকদের ছবি ব্যবহার করে অবমাননাকর মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ায় ট্রাইব্যুনাল এ বিষয় নজরে আনে। এরপর স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে বিটিআরসির চেয়ারম্যান ও তথ্য সচিবকে এসব ছবি ও মন্তব্য মুছে ফেলার নির্দেশ দেন। ট্রাইব্যুনাল বলেন, মুক্ত চিন্তা ও বাক স্বাধীনতা সবার জন্য স্বীকৃত, তবে তা দেশের আইনের মধ্যে থেকে ও অবমাননা ছাড়া হতে হবে। ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, গাজী এমএইচ তামিমসহ অন্যান্যরা। এ ছাড়া আসামিপক্ষের আইনজীবী ও সাংবাদিকরাও উপস্থিত ছিলেন।
২৩ নভেম্বর, ২০২৫
সাগরে সুস্পষ্ট লঘুচাপ, আরও ঘনীভূত হওয়ার আভাস দক্ষিণ আন্দামান সাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় সৃষ্ট লঘুচাপটি ঘনীভূত হয়ে বর্তমানে সুস্পষ্ট লঘুচাপ আকারে একই এলাকায় অবস্থান করছে। এটি পশ্চিম-উত্তর পশ্চিম দিকে অগ্রসর ও আরও ঘনীভূত হতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। রোববার (২৩ নভেম্বর) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হকের দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়। আবহাওয়া অফিস জানায়, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। একইসঙ্গে ভোরের দিকে সারা দেশের কোথাও কোথাও হালকা কুয়াশা পড়তে পারে। এছাড়া সারা দেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। আগামীকাল সোমবার (২৪ নভেম্বর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। একইসঙ্গে ভোরের দিকে সারা দেশের কোথাও কোথাও হালকা কুয়াশা পড়তে পারে। এছাড়া সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। একইসঙ্গে ভোরের দিকে সারা দেশের কোথাও কোথাও হালকা কুয়াশা পড়তে পারে। এছাড়া সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। বুধবার (২৬ নভেম্বর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। একইসঙ্গে ভোরের দিকে সারা দেশের কোথাও কোথাও হালকা কুয়াশা পড়তে পারে। এছাড়া সারা দেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। একইসঙ্গে ভোরের দিকে সারা দেশের কোথাও কোথাও হালকা কুয়াশা পড়তে পারে এবং সারা দেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। এছাড়া আগামী পাঁচদিনের মধ্যে সামান্য পরিবর্তন হতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

‘সশস্ত্র বাহিনী দিবস-২০২৫’ উপলক্ষে আজ প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন তিন বাহিনীর প্রধানগণ। শুক্রবার (২১ নভেম্বর) এ তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার। তিনি বলেন, আজ সকালে ঢাকা সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার‑উজ‑জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। সাক্ষাতের আগে অধ্যাপক ইউনূস ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করা বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
২১ নভেম্বর, ২০২৫
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ৭ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ঢাকায় ৩ জন, গাজীপুরে ১ জন, নারায়ণগঞ্জে ১ জন এবং নরসিংদীতে ২ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। এ ঘটনায় সারা দেশে দুশতাধিক মানুষ আহত এবং বেশ কয়েকটি ভবন ও স্থাপনায় ফাটল দেখা গেছে। শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে এই ভূমিকম্প হয়। বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৭। এর উৎপত্তিস্থল নরসিংদীর মাধবদী। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) বলছে, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির তীব্রতা ছিল ৫ দশমিক ৫। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল নরসিংদী। এদিন ভূমিকম্পে সারা দেশে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটে। বিস্তারিত কালবেলার প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে— ঢাকা পুরান ঢাকার বংশালের কসাইটুলীতে ৫ তলা ভবনের রেলিং ধসে ৩ জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২১ নভেম্বর) বেলা সোয়া ১১টার দিকে বংশাল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সোহেল হোসেন তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন নিহতরা হলেন— সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের (মিটফোর্ড) ৫২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী রাফিউল ইসলাম, হাজি আব্দুর রহিম (৪৭) ও মেহরাব হোসেন রিমন (১২)। তিনজনের মরদেহ মিটফোর্ড হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, ভূমিকম্পের সময় হঠাৎ করে পাঁচতলা ভবনের রেলিং ধসে তিন পথচারী ঘটনাস্থলে নিহত হন। তারা সড়ক দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত হন। নারায়ণগঞ্জ নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ভূমিকম্পে দেয়াল ধসে ফাতেমা নামের এক নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় নবজাতকের মা কুলসুম বেগম ও প্রতিবেশী জেসমিন বেগম আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। শুক্রবার (২১ নভেম্বর) এ ঘটনা ঘটে। মৃত ফাতেমা গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের ইসলামবাগ ৫ নম্বর ক্যানেল এলাকার আব্দুল হকের মেয়ে। স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে ভূমিকম্পের সময় ঘটনাস্থলে হয়ে ভুলতা গাউছিয়া যাওয়ার সময় সড়কের পাশের দেয়াল ধসে নবজাতক ফাতেমা, তার মা কুলসুম বেগম ও প্রতিবেশী জেসমিন বেগমের ওপর পড়ে। এ সময় ঘটনাস্থলেই নবজাতকের মৃত্যু হয়। পরে তারা দেয়ালের নিচ থেকে নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করেন। আহত অবস্থায় নবজাতকের মা কুলসুম বেগম ও প্রতিবেশী জেসমিন বেগমকে উদ্ধার করে স্থানীয় প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করেন স্থানীয়রা। এ বিষয়ে ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মোখলেসুর রহমান বলেন, ভূমিকম্পে দেয়াল ধসে এক নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় নবজাতকের মা ও প্রতিবেশী গুরুতর আহত হয়েছেন। গাজীপুর গাজীপুরের কালীগঞ্জের নাগরী ইউনিয়নে ভূমিকম্পের গাছ থেকে পড়ে গিয়ে সুজিৎ দাস (৩৮) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। গাছ থেকে পড়ার পর তাকে উদ্ধার করে কালীগঞ্জ সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া শাদেরগাঁও জামে মসজিদের দুটি গম্বুজ কাত হয়ে গেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা গেছে। নবনির্মিত সাদেরগাঁও চারতলা বিশিষ্ট স্কুলে বেশ কয়েকটি ফাটল দেখা গেছে। নরসিংদী নরসিংদীতে ভূমিকম্পের প্রভাবে ভবনের দেয়াল ধসে শিশুসহ ২ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া জেলার ছয়টি উপজেলায় প্রায় শতাধিক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকালে নরসিংদীর দুই উপজেলায় এ ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, নরসিংদী সদর উপজেলার গাবতলী এলাকায় নির্মাণাধীন ভবনের দেয়াল ধসে ওমর (১২) নামে এক শিশু ও পলাশ উপজেলার চরসিন্দুর ইউনিয়নের মালিতা গ্রামের কাজম আলী (৭৫) নামে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ বিষয়ে পুলিশ সুপার মেনহাজুল আলম বলেন, ভূমিকম্পে জেলায় বিভিন্ন জায়গায় আহত হওয়ার খবর পেয়েছি। আমরা একজনের মৃত্যুর খবর পেয়েছি। যে কোনো দুর্যোগে জেলা পুলিশ সাধারণ মানুষের পাশে রয়েছে। পুলিশ তাদের নিরাপত্তায় সচেষ্ট রয়েছে

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প, তীব্র ঝাঁকুনি ভূমিকম্পের পর আতঙ্কিত হয়ে মানুষজন রাস্তায় নেমে আসে, বেশ কিছু ভবনে ফাটলের খবরও পাওয়া যাচ্ছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির মাত্রা ৫ দশমিক ৭ বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহওয়া অধিদপ্তর। শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকাল ১০টা ৩৮ মিনিট ২৬ সেকেন্ড থেকে কম্পন শুরু হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ ফারজানা সুলতানা ঢাকা পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ঢাকায় সকাল শুরু ১৯ ডিগ্রি তাপমাত্রায়, দিনভর থাকবে শুষ্ক আবহাওয়া তিনি বলেন, আজ সকাল ১০টা ৩৮ মিনিট ২৬ সেকেন্ডে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। আমরা সবাইকে অনুরোধ করছি, আতঙ্কিত না হয়ে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করুন। আফটার শকের সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাইলে ফারজানা সুলতানা বলেন, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী— এই ধরনের ভূমিকম্পের পর ছোটখাটো আফটার শকের সম্ভাবনা থাকতেই পারে। তবে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এখন পর্যন্ত তেমন সম্ভাবনা আমরা দেখতে পাইনি। এর আগে, চলতি বছরের ৫ মার্চ রাজধানীতে মাঝারি ধরনের ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল৷ রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৬। এ ছাড়া ২৮ মে বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ২টা ২৪ মিনিটে ভারতের মণিপুর রাজ্যের মোইরাং শহরের কাছাকাছি আরেকটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। সে সময় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলসহ রাজধানী ঢাকা এবং পার্শ্ববর্তী কয়েকটি জেলায় হালকা কম্পন অনুভূত হয়েছিল।

বিয়ে ও তালাক নিবন্ধন ডিজিটালাইজেশন করার বিষয়ে জারি করা রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষ হয়েছে। এ বিষয়ে আগামী ১১ ডিসেম্বর রায় ঘোষণা করবেন হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মোহাম্মদ আসিফ হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ দিন নির্ধারণ করেন। ২০২১ সালের ৪ মার্চ ভুক্তভোগী চারজনের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান এ সংক্রান্ত রিট দায়ের করেন। রিটে বলা হয়, প্রতারণা ঠেকানো ও পারিবারিক সম্মান রক্ষায় বিয়ে ও তালাকের নিবন্ধন প্রক্রিয়া ডিজিটালাইজ করা জরুরি। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২১ সালের ২২ মার্চ বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুল জারি করেন। রুলে বিয়ে ও তালাকের ঘটনা ডিজিটালভাবে নিবন্ধনের জন্য কেন্দ্রীয় ওয়েবসাইট কেন তৈরি করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। আজ এ রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে আদালত রায়ের তারিখ ঘোষণা করেন।
২০ নভেম্বর, ২০২৫
লালদিয়া এবং পানগাঁও কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়া দুই বিদেশি কোম্পানি আগামী ১০ বছরব্যাপী ১০০ শতাংশ করমুক্ত সুবিধা পাবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান। তবে এই সুবিধা কোনো নতুন প্রণোদনা নয়, এটি সরকারের আগের আদেশ অনুযায়ী দেওয়া হচ্ছে। গতকাল বুধবার রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, পরশু আমরা লালদিয়া ও পানগাঁও বন্দরের দুটি চুক্তি সই করেছি। এসব চুক্তির অংশ হিসেবে আমরা কোম্পানিগুলোকে ১০ বছরের জন্য ১০০% করমুক্ত সুবিধা দিতে হয়েছে। শুধু তাই নয়, সেখানে কর্মরত বিদেশি টেকনিক্যাল স্টাফও করমুক্ত সুবিধা পাবেন। এছাড়া তাদের (কোম্পানিগুলোর) রয়্যালটি, টেকনিক্যাল নলেজ ফি, লভ্যাংশ—সবকিছুই এখন করের আওতামুক্ত।’ সরকারের বিদ্যমান কর প্রণোদনা ব্যবস্থার প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘অর্থনৈতিক অঞ্চল, রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড), হাইটেক পার্ক—সবখানেই করছাড়। এমনকি আমাদের হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ যেকোনো প্রতিষ্ঠানকে যোগ্য ঘোষণা করতে পারে। আমি যদি নিজের বাড়ির সামনে একটা শিল্প স্থাপন করি, তাহলেও তারা সেটিকে হাইটেক পার্ক ঘোষণা করে কর ছাড় দিতে পারে। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, যাদের কর দেওয়ার কথা, তাদের এভাবে নির্বিচারে করমুক্ত সুবিধা দিলে আমরা প্রত্যক্ষ কর সংগ্রহ করব কীভাবে? ২০১৭ সালের বিদ্যমান সরকারি আদেশ (এসআরও) অনুযায়ী, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) ভিত্তিতে ১২ ধরনের অবকাঠামো প্রকল্পে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ১০ বছরের জন্য ১০০% আয়করমুক্ত সুবিধা পায়। এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে—জাতীয় মহাসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে ও সংশ্লিষ্ট সার্ভিস রোড; ফ্লাইওভার; এলিভেটেড ও গ্রেড-লেভেল এক্সপ্রেসওয়ে; নদী সেতু; টানেল; রিভার পোর্ট; সি পোর্ট; এয়ারপোর্ট; সাবওয়ে; মনোরেল; রেললাইন; বাস টার্মিনাল; বাস ডিপো; এবং বৃদ্ধাশ্রম। আরেক আদেশে উল্লেখ আছে, এসব প্রকল্পে কর্মরত বিদেশি টেকনিশিয়ানরা প্রথম তিন বছর আয়ের ওপর ৫০ শতাংশ করমুক্ত সুবিধা পাবেন। প্রসঙ্গত গত ১৭ নভেম্বর অন্তর্বর্তী সরকার দুটি গুরুত্বপূর্ণ কনটেইনার টার্মিনাল—চট্টগ্রামের লালদিয়া ও ঢাকার কাছে পানগাঁও—বিদেশি অপারেটরদের কাছে হস্তান্তরের জন্য চুক্তি স্বাক্ষর করে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি প্রধান বন্দর অবকাঠামো দীর্ঘমেয়াদি লিজে বিদেশি কোম্পানির কাছে যাওয়ার প্রথম ঘটনা। ডেনমার্কভিত্তিক এপি মোলার-মায়েরস্কের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান নেদারল্যান্ডস-ভিত্তিক এপিএম টার্মিনালস বিএভি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (সিপিএ) সঙ্গে ৩০ বছরের কনসেশন চুক্তি করেছে লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল উন্নয়ন ও পরিচালনার জন্য, যা একটি বড় পিপিপি প্রকল্প। পিপিপি কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন জানান, কোম্পানিটি প্রথম তিন বছরে নির্মাণ, সরঞ্জাম সাপ্লাই ও সংশ্লিষ্ট কাজে ৫৫০ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৬ হাজার ৭০০ কোটি টাকা) বিনিয়োগ করবে। সাইনিং মানি হিসেবে এপিএম টার্মিনালস ২৫০ কোটি টাকা দেবে।

সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বৈধ ঘোষণা করে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের রায় দিয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত আপিল বিভাগ। বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ আপিল বিভাগ ঐতিহাসিক এ রায় ঘোষণা করেন। বেঞ্চের অপর ছয় বিচারপতি হলেন— বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম, বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, বিচারপতি মো. রেজাউল হক, বিচারপতি এস এম ইমদাদুল হক, বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি ফারাহ মাহবুব। আপিল বিভাগ বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আর চতুর্দশ সংসদ নির্বাচন থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা কার্যকর হবে। ২০১১ সালের ১০ মে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করে রায় দেন তৎকালীন আপিল বিভাগ। ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফেরাতে নতুন করে আইনি লড়াই শুরু হয়। চলতি বছরের ২৭ আগস্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে করা আবেদন মঞ্জুর করেন সর্বোচ্চ আদালত। দেওয়া হয় আপিলের অনুমতি। এরপর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম পরওয়ার ও পাঁচ বিশিষ্ট নাগরিক আপিল করেন। এরপর ২২, ২৩, ২৮, ২৯ অক্টোবর এবং ২, ৪, ৫, ৬ ও ১১ নভেম্বর শুনানি হয়। শুনানি শেষ করে রায়ের জন্য ২০ নভেম্বর দিন ধার্য করেন আপিল বিভাগ। এ আপিলে বিএনপি মহাসচিবের করা আপিলের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী জয়নুল আবেদীন ও ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। জামায়াতের করা আপিলের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। পাঁচ বিশিষ্ট নাগরিকের পক্ষে আপিল শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া। আর রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। এর আগে, আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির সাংবাদিকদের বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সম্ভব নয়। কারণ সংসদ ভেঙে দেওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের কথা বলা আছে। এখন তো কোনো সংসদ নেই। সংসদ ভেঙে গেছে এক বছরের বেশি সময় আগে। আমরা আশা করছি, চতুর্দশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হবে। আমরা সব আবেদনকারী আপিল বিভাগে এর পরের নির্বাচন থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার চেয়েছি। উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের আন্দোলনের চাপে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী আনে বিএনপি সরকার। ওই বছর ২৭ মার্চ সংবিধানে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতির প্রবর্তন ঘটে। এরপর এ পদ্ধতির অধীনে ১৯৯৬ সালে সপ্তম, ২০০১ সালে অষ্টম এবং ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়। ২০০৪ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে অগণতান্ত্রিক ও সংবিধানবহির্ভূত আখ্যা দিয়ে আইনজীবী এম সলিমউল্যাহসহ তিন আইনজীবী হাইকোর্টে একটি রিট করেন। শুনানির পর তিন বিচারপতির বৃহত্তর বেঞ্চ ২০০৪ সালের ৪ আগস্ট রায় দেন। রায়ে বলা হয়, ত্রয়োদশ সংশোধনী সংবিধানসম্মত ও বৈধ। এ সংশোধনী সংবিধানের কোনো মৌলিক কাঠামোকে ক্ষতিগ্রস্ত করেনি। পরে রিট আবেদনকারীরা হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন। ২০১০ সালে আপিলে শুনানি শুরু হয়। সর্বোচ্চ আদালত এ মামলায় অ্যামিকাস কিউরি (আদালতকে সহায়তাকারী) হিসেবে দেশের আটজন সংবিধান বিশেষজ্ঞের বক্তব্য শোনেন। তাদের প্রায় সবাই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বহাল রাখার পক্ষে মত দেন। এমনকি সে সময়ের অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার পক্ষে মত দেন। তখনকার প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকসহ আপিল বিভাগের সাতজন বিচারপতি শুনানি গ্রহণ করেন। ২০১১ সালের ১০ মে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে রায় দেন। এ ব্যবস্থা বাতিলের পক্ষে ছিলেন বিচারপতি খায়রুল হকসহ চারজন। আর তিনজন ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বহাল রাখার পক্ষে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে ২০১১ সালের ১০ মে সংখ্যাগরিষ্ঠের দেওয়া রায়ে বলা হয়, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা অর্থাৎ সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী আইন অগণতান্ত্রিক এবং তা সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ফলে তা বাতিলযোগ্য। তবে প্রয়োজনের নিরিখে দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হতে পারে। এ রায় ঘোষণার সাত দিন পর অর্থাৎ ১৭ মে অবসরে যান এ বি এম খায়রুল হক। অবসরে যাওয়ার প্রায় ১৬ মাস পর ২০১২ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়। তখন সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের বিরুদ্ধে রায় পরিবর্তনের অভিযোগ ওঠে। পূর্ণাঙ্গ রায় থেকে ‘তবে প্রয়োজনের নিরিখে দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হতে পারে।’ এ পর্যবেক্ষণ বাদ দেওয়া হয়। পরে এ পূর্ণাঙ্গ রায়কে আশ্রয় করে দলীয় সরকারের অধীনে পরপর তিনটি বিতর্কিত নির্বাচন করে ক্ষমতায় টিকে থাকেন শেখ হাসিনা। জুলাই অভ্যুত্থানে গত বছর ৫ আগস্ট তার পতন ঘটে। অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর ওই রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে (রিভিউ) আপিল বিভাগে আবেদন করা হয়।

কক্সবাজারের টেকনাফে সাগর পথে পাচারের সময় আটজন রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় মানব পাচারকারী চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। টেকনাফ (২ বিজিবির) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিকুর রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সোমবার (১৭ নভেম্বর) রাতে বিজিবির-২ ব্যাটালিয়নের একটি বিশেষ দল সাবরাং ইউনিয়নের পানছড়ি এলাকায় মানব পাচারবিরোধী এ অভিযান চালায়। বিজিবি জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় সক্রিয় মানব পাচারকারী চক্র সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছিল। বিজিবি সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারী চক্রের কয়েকজন পালিয়ে যায়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন আসমা (১৯), শাবনূর (২০), জহুরা (৪৩) ও সাহারা খাতুন (৬২)। গ্রেপ্তার হওয়ারা সাবরাং ইউনিয়নের পানছড়ি পাড়ার বাসিন্দা। পলাতক আসামির মধ্যে আছেন একই এলাকার আব্দুল মোতালেব ওরফে কালা বদ্দা (৩০)। অভিযানে আটজন ভুক্তভোগীকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তাদের মধ্যে ছয়জন নারী এবং দুই শিশু। বিজিবি জানায়, তারা সবাই বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা। উদ্ধারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বিজিবিকে জানায়, পাচারকারীদের সহযোগীরা তাদের উচ্চ বেতনের চাকরি, সহজে বিদেশ যাওয়ার সুযোগ এবং ভবিষ্যৎ আয়ের মাধ্যমে খরচ পরিশোধের প্রলোভন দেখায়। পরে সুযোগ বুঝে পাচারকারী চক্র তাদের বাড়ি বা নিরাপদ আশ্রয়ে আটকে রাখে এবং সাগরপথে পাঠানোর প্রস্তুতি নিত। বিজিবি জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে পাহাড়ি এলাকা দিয়ে পাচারের পথ কঠিন হয়ে পড়ায় চক্রটি এখন লোকালয় ব্যবহার করছে। আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে পাচারকারীদের সক্রিয় নেটওয়ার্ক সম্পর্কে নতুন তথ্য পাওয়া গেছে বলে তারা জানিয়েছে। টেকনাফ (বিজিবি-২) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিকুর রহমান বলেন, ‘মানব পাচার সংঘবদ্ধ অপরাধ। সীমান্ত এলাকায় পাহাড় থেকে সমুদ্র—কোথাও অপরাধীদের জন্য নিরাপদ জায়গা থাকতে দেওয়া হবে না। পাচার প্রতিরোধে আমাদের নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।’ গ্রেপ্তার হওয়া চারজনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাদের স্থানীয় থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। উদ্ধার হওয়া আটজনকে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দেওয়া হবে। সীমান্ত সুরক্ষা ও মানব পাচার প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে বিজিবি।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহির্গমন টার্মিনালে হঠাৎ আগুনের ধোঁয়া দেখা গেছে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা। সোমবার (১৭ নভেম্বর) বিকাল সোয়া ৩টার দিকে বিমানবন্দরের ১ নম্বর বহির্গমন টার্মিনাল ভবনে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় উপস্থিত বিদেশগামী যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন বেসামরিক বিমান চলাচল (বেবিচক) কর্তৃপক্ষের ফায়ার সার্ভিস বিভাগের প্রধান ডেপুটি পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘বিমানবন্দর ১ নম্বর বহির্গমন টার্মিনাল এলাকায় আগুনের ঘটনা ঘটেছে। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কেউ সিগারেট খেয়ে তা টার্মিনাল ভবনের দুই দেয়ালের মাঝে ফেলে দিয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিমানবন্দরের কর্মকতারা।
১৮ নভেম্বর, ২০২৫
মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ সোমবার (১৭ নভেম্বর)। ১৯৭৬ সালের ১৭ নভেম্বর রাজধানীর তৎকালীন পিজি হাসপাতালে (বর্তমানে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে টাঙ্গাইলের সন্তোষে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। তার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা ও টাঙ্গাইলের সন্তোষে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী অধিকারবঞ্চিত, অবহেলিত ও মেহনতি মানুষের অধিকার ও স্বার্থরক্ষায় আজীবন নিরবচ্ছিন্নভাবে সংগ্রাম করে গেছেন। জাতীয় সংকটে জনগণের পাশে থেকে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি দেশ ও জনগণের জন্য নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে গেছেন। মওলানা ভাসানী সবসময় ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিতেন। ক্ষমতার কাছে থাকলেও ক্ষমতার মোহ তাকে কখনও আবিষ্ট করতে পারেনি। ব্যক্তি জীবনে তিনি ছিলেন নির্মোহ, অনাড়ম্বর ও অত্যন্ত সাদাসিধে। তার সাধারণ জীবনযাপন এ দেশ ও জনগণের প্রতি গভীর ভালোবাসার প্রতিফলন। শোষণ ও বঞ্চনাহীন, প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠনের জন্য মওলানা ভাসানী আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। বাঙালি জাতিসত্তা বিকাশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন তিনি। মওলানা ভাসানীর মৃত্যুবার্ষিকীতে বাণী দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বাণীতে তিনি বলেন, মওলানা ভাসানী আমাদের জাতীয় ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় ও গুরুত্বপূর্ণ নাম। সাম্রাজ্যবাদ, ঔপনিবেশবাদ ও আধিপত্যবাদবিরোধী সংগ্রামের প্রবাদ পুরুষ মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে উপমহাদেশের নিপীড়িত-নির্যাতিত মানুষের পক্ষে আপসহীন ও সাহসী নেতৃত্ব দিয়েছেন। মওলানা ভাসানী দেশমাতৃকার মুক্তির পথপ্রদর্শক হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম, গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং কৃষক-শ্রমিক-মেহনতি মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায়ের সংগ্রামে মওলানা ভাসানী ছিলেন এক উজ্জ্বল জ্যোতিষ্ক। তার অবস্থান ছিল শোষণের বিরুদ্ধে এবং শোষিতের পক্ষে। তিনি আরও বলেন, অধিকার আদায়ে মওলানা ভাসানী সর্বদা এ দেশের মানুষকে সাহস জুগিয়েছেন তার নির্ভীক ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বের দ্বারা। তার হুংকারে অত্যাচারী শাসক ও শোষকগোষ্ঠীর মসনদ কেঁপে উঠত। জাতির ভয়াবহ দুর্দিনগুলোতে তিনি জনস্বার্থের পক্ষে থাকতেন বলেই জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করেছিলেন। বাণীতে তারেক রহমান মওলানা ভাসানীর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। দিবসটি উপলক্ষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পৃথক বাণী দিয়েছেন। সিরাজগঞ্জের ধানগড়া গ্রামে ১৮৬০ সালের ১২ ডিসেম্বর মওলানা ভাসানী জন্মগ্রহণ করেন। সিরাজগঞ্জে জন্ম হলেও মওলানা ভাসানী তার জীবনের সিংহভাগই কাটিয়েছেন টাঙ্গাইলের সন্তোষে। তিনি কৈশোর-যৌবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তিনি প্রবাসী সরকারের উপদেষ্টা ছিলেন। ১৯৪৯ সালে গঠিত আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৫৭ সালের ২৪ জুন ভাসানীর সঙ্গে আওয়ামী লীগের সম্পর্কের স্থায়ী বিচ্ছেদ ঘটে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বহুল আলোচিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সোমবার (১৭ নভেম্বর) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ মামলার রায়ের তারিখ ঘোষণা করবেন। এদিন সকালের দিকে হাইকোর্ট মাজারসংলগ্ন ট্রাইব্যুনালের ফটকে দেখা যায় পর্যাপ্তসংখ্যক সেনাসদস্য সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। তবে রাজধানীতে অফিসগামী ও সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচল দেখা গেছে। সড়কে রয়েছে যানবাহনের ভিড়, চলছে গণপরিবহন ও মেট্রোরেল। পুলিশ জানান, যে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে মাঠে রয়েছে পুলিশ, র্যাব, বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এ ছাড়া আজ এই রায় সরসারি সম্প্রচার করবে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) বিটিভি ও বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এ ছাড়া, ট্রাইব্যুনালের ফেসবুক পেজ থেকেও সরাসরি দেখানো হবে। পাশাপাশি ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্থানে বড় স্ক্রিনে লাইভ সম্প্রচারের আয়োজন করেছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়। এর আগে গতকাল রাত থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় চেকপোস্ট স্থাপন করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি প্রতিরোধের জন্য সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। রোববার রাজধানীর ফার্মগেট, বাংলামটর, গুলিস্তান, যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, পুলিশ তল্লাশি চেকপোস্ট স্থাপন করেছে। সন্দেহভাজন কাউকে দেখলেই থামিয়ে তল্লাশি করা হচ্ছে। এমনকি মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনও সন্দেহ হলে থামিয়ে তল্লাশি করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঢাকাসহ চার জেলায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। অতিরিক্ত সতর্কতার অংশ হিসেবে রোববার থেকে ঢাকা, গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর ও মাদারীপুরে মাঠে টহল দিচ্ছে বিজিবি। মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও আশপাশের এলাকায় পর্যাপ্তসংখ্যক সেনা সদস্য মোতায়েন করে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন রোববার সেনা সদরে চিঠি পাঠিয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় আজ সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ঘোষণা করবে। ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত তিন সদস্যের প্যানেল রায় ঘোষণা করবেন। প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম জানিয়েছেন, আজ বেলা ১১টার দিকে রায় ঘোষণা শুরু হতে পারে। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে প্রায় ১,৪০০ মানুষের প্রাণহানি এবং প্রায় ২৫,০০০ মানুষকে মারাত্মক আহত করার অভিযোগের ভিত্তিতে এই মামলা দায়ের করা হয়। গত বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ রায়ের দিন ধার্য করেছেন।

নতুন ইউনিফর্ম পেলো বাংলাদেশ পুলিশ। শনিবার (১৫ নভেম্বর) থেকে ঢাকা মহানগর পুলিশসহ (ডিএমপি) দেশের সব মহানগর পুলিশ ও বিশেষায়িত ইউনিটে নতুন পোশাক পরেছে পুলিশ। পুলিশের এ নতুন পোশাকের রঙ লৌহের (আয়রন)। র্যাবের পোশাক জলপাই (অলিভ) আর আনসারের পোশাক সোনালি গমের (গোল্ডেন হুইট) রঙের। পুলিশ বাহিনীর সংস্কার ও পোশাক পরিবর্তনের দাবি উঠলে অন্তর্বর্তী সরকার নতুন পোশাক অনুমোদন করে। এরই অংশ হিসেবে মহানগর পুলিশে লৌহ রঙের নতুন পোশাক দেওয়া হয়েছে। পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), ট্যুরিস্ট পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ ও নৌ পুলিশ এই পোশাক পরবে। ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, আজ থেকে সব মহানগরে পুলিশের নতুন পোশাক চালু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব সদস্য এই পোশাক পাবেন। পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) এএইচএম শাহাদাত হোসাইন বলেন, জেলা ও রেঞ্জ পুলিশ পর্যায়ক্রমে নতুন এই পোশাক পরবেন। তবে এপিবিএন ও স্পেশাল প্রটেকশন ব্যাটালিয়নের আগের পোশাক থাকবে।
১৬ নভেম্বর, ২০২৫
বাংলাদেশে বেড়েছে ইন্টারনেট ব্যবহারের স্বাধীনতা : ফ্রিডম হাউসের প্রতিবেদন ঢাকা পোস্ট ডেস্ক ঢাকা পোস্ট ডেস্ক ১৫ নভেম্বর ২০২৫, ১১:০২ বাংলাদেশে বেড়েছে ইন্টারনেট ব্যবহারের স্বাধীনতা : ফ্রিডম হাউসের প্রতিবেদন বিশ্বে অনলাইনের স্বাধীনতা কমে গেলেও বাংলাদেশে এর উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংস্থা ফ্রিডম হাউস। গত শুক্রবার প্রকাশিত ‘ফ্রিডম অন দ্য নেট ২০২৫’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বছর মূল্যায়নে থাকা ৭২টি দেশের মধ্যে ইন্টারনেট স্বাধীনতায় সবচেয়ে বেশি অগ্রগতি হয়েছে বাংলাদেশে। এ গবেষণায় ২০২৪ সালের জুন থেকে ২০২৫ সালের মে পর্যন্ত পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গণতন্ত্র পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ফ্রিডম হাউস বলছে, বাংলাদেশে ২০২৪ সালের আগস্টে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে হওয়া অভ্যুত্থানে একটি কর্তৃত্ববাদী সরকার ক্ষমতা হারায়। এরপর অন্তর্বর্তী সরকার ডিজিটাল ক্ষেত্রে কিছু ইতিবাচক সংস্কার আনে। এর ফলে বাংলাদেশের ইন্টারনেট স্বাধীনতা সূচক ৫ পয়েন্ট বেড়ে ১০০-এর মধ্যে ৪৫ হয়েছে। গত বছর এই স্কোর ছিল ৪০। এটি গত ৭ বছরের সেরা অবস্থান। তবে এত উন্নতির পরও বাংলাদেশ এখনও ‘আংশিক মুক্ত’ দেশ হিসেবে তালিকায় রয়ে গেছে। এই তালিকায় বাংলাদেশ ২০১৩ সাল থেকে অবস্থান করছে। ফ্রিডম হাউস তিনটি বড় বিষয় দেখে স্কোর নির্ধারণ করে। এগুলো হলো– ১. ইন্টারনেটে প্রবেশের বাধা, ২. অনলাইনে প্রকাশিত বিষয়বস্তুর ওপর নিয়ন্ত্রণ, ৩. ব্যবহারকারীর অধিকার লঙ্ঘন। এই তিনটি বিভাগে মোট ২১টি সূচক ব্যবহার করে প্রতিটি দেশের অনলাইন স্বাধীনতার মাত্রা নির্ধারণ করা হয়। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ইন্টারনেট বন্ধ না করার নীতি গ্রহণ করে এবং ইন্টারনেট প্রবেশাধিকারকে মানবাধিকার হিসেবে দেখার কথা বলে। ২০২৫ সালের মে মাসে সরকার বিতর্কিত সাইবার নিরাপত্তা আইন (সিএসএ) বাতিল করে। এর বদলে সাইবার নিরাপত্তা অধ্যাদেশ (সিএসও) জারি হয়। এতে কিছু ভালো দিক, যেমন– অনলাইনে হয়রানি ও যৌন নির্যাতনবিরোধী সুরক্ষা রয়েছে। তবে আগের মতোই কিছু উদ্বেগজনক বিষয়– যেমন অনলাইনে বক্তব্যের জন্য শাস্তি ও নজরদারি রয়ে গেছে। ফ্রিডম হাউসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ায় পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। তবে ভারত ও শ্রীলঙ্কার চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে। পাকিস্তান ২৭ পয়েন্ট পেয়ে ‘মুক্ত নয়’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। শ্রীলঙ্কা ৫৩ ও ভারত ৫১ পয়েন্ট পেয়ে দুটিই ‘আংশিক মুক্ত’ শ্রেণিতে রয়েছে

সংসদ নির্বাচনের দিন গণভোট আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) দুপুরে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এ কথা বলেন তিনি। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনে গণভোটের আয়োজন করা হবে। অর্থাৎ জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে মিলিয়ে ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথমার্ধে একই দিনে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এতে কোনোভাবেই সংস্কারের লক্ষ্য ব্যাহত হবে না। নির্বাচন আরও উৎসবমুখর ও সাশ্রয়ী হবে। গণভোটের আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় আইন উপযুক্ত সময়ে প্রণয়ন করা হবে। তিনি বলেন, গত ৯ মাস ধরে রাষ্ট্র গঠনের জন্য জাতীয় ঐকমত্য কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করেছে। সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ ৩০টি বিষয়ে একমত হয়েছে দলগুলো। এটি ভবিষ্যত রাজনীতির জন্য আশাব্যঞ্জক। এজন্য কমিশন ও রাজনৈতিক দলগুলোকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। ড. ইউনূস আরও বলেন, জুলাই সনদের আলোকে আমরা গণভোটের ব্যালটে উপস্থাপনীয় প্রশ্নও নির্ধারণ করেছি। আমি প্রশ্নটি এখন আপনাদের সামনে পাঠ করে শোনাচ্ছি। প্রশ্নটি হবে এরকম : আপনি কি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং জুলাই জাতীয় সনদে লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত নিম্নলিখিত প্রস্তাবগুলোর প্রতি আপনার সম্মতি জ্ঞাপন করছেন? ক) নির্বাচনকালীন সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে গঠন করা হবে। খ) আগামী সংসদ হবে দুই কক্ষ বিশিষ্ট। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ জন সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে এবং সংবিধান সংশোধন করতে হলে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন দরকার হবে। গ) সংসদে নারীর প্রতিনিধি বৃদ্ধি, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি, মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও স্থানীয় সরকার-সহ বিভিন্ন বিষয়ে যে ৩০টি প্রস্তাবে জুলাই জাতীয় সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যমত হয়েছে সেগুলো বাস্তবায়নে আগামী নির্বাচনে বিজয়ী দলগুলো বাধ্য থাকবে। ঘ) জুলাই সনদে বর্ণিত অন্যান্য সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুসারে বাস্তবায়ন করা হবে। গণভোটের দিন এই চারটি বিষয়ের ওপর একটিমাত্র প্রশ্নে আপনি ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিয়ে আপনার মতামত জানাবেন। এর আগে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশে স্বাক্ষর করেছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) দুপুরে তিনি এই আদেশে স্বাক্ষর করেন। এর আগে প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে তার কার্যালয়ে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা হয়। গত ২৮ অক্টোবার জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে দুটি বিকল্প সুপারিশ জমা দেয় জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি যে আদেশে স্বাক্ষর করেছেন তার ভিত্তিতে গণভোট হবে। এর আগে গত ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছিলেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ওইদিন জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের অনুষ্ঠানে জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করেন প্রধান উপদেষ্টা।

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশে স্বাক্ষর করেছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) দুপুরে তিনি এই আদেশে স্বাক্ষর করেন। এই আদেশের ভিত্তিতে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলো যে সংস্কার প্রস্তাবগুলো চূড়ান্ত করে জুলাই সনদে অন্তর্ভুক্ত করেছে, সেগুলোর বিষয়ে জনগণের রায় নেওয়া হবে সেই গণভোটে। এদিকে, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিচ্ছেন। বাংলাদেশ টেলিভিশন, বিটিভি নিউজ ও বিটিভি ওয়ার্ল্ডে প্রধান উপদেষ্টার ভাষণ সরাসরি সম্প্রচার করছে। এর আগে প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে তার কার্যালয়ে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
১৩ নভেম্বর, ২০২৫
জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সর্বোচ্চ সাজার প্রত্যাশা করেছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম। এ মামলার রায় আগামী ১৭ নভেম্বর (সোমবার) ঘোষণা করা হবে। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) দুপুরে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে শেখ হাসিনার মামলার রায়ের দিন ধার্যের পরিপ্রেক্ষিতে প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ প্রত্যাশার কথা জানান। চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, আমরা আদালতের কাছে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়ে আবেদন করেছি। আদালত সুবিবেচনা প্রয়োগ করবেন। তবে আমাদের পক্ষ থেকে প্রেয়ার হচ্ছে যে, এই অপরাধের দায়ে আসামিদের যেন সর্বোচ্চ সাজা দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার বেলা ১২টা ৯ মিনিটে ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ তিনজনের রায়ের এ দিন নির্ধারণ করেন। প্রসঙ্গত, গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় প্রথম মামলাটি (মিসকেস বা বিবিধ মামলা) হয় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে। গত বছরের ১৭ অক্টোবর পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালের প্রথম বিচারকাজ অনুষ্ঠিত হয়। সেদিনই এ মামলায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। প্রথম দিকে এ মামলায় শেখ হাসিনাই একমাত্র আসামি ছিলেন। চলতি বছরের ১৬ মার্চ এ মামলায় শেখ হাসিনার পাশাপাশি সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে আসামি করার আবেদন করে প্রসিকিউশন (রাষ্ট্রপক্ষ) এবং ট্রাইব্যুনাল তা মঞ্জুর করেন। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় মোট পাঁচটি অভিযোগ আনে প্রসিকিউশন। গত ১২ মে প্রতিবেদন জমা দেয় ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। আনুষ্ঠানিক অভিযোগ মোট ৮ হাজার ৭৪৭ পৃষ্ঠার। এর মধ্যে তথ্যসূত্র ২ হাজার ১৮ পৃষ্ঠার, জব্দতালিকা ও দালিলিক প্রমাণাদি ৪ হাজার পাঁচ পৃষ্ঠার এবং শহীদদের তালিকার বিবরণ ২ হাজার ৭২৪ পৃষ্ঠার রয়েছে। এর ভিত্তিতে ১ জুন ট্রাইব্যুনালে হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান ও আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন।

অন্তর্বর্তী সরকারের ‘বেঁধে’ দেওয়া সময়ের মধ্যে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন পদ্ধতি ও বহুল আলোচিত গণভোট নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছতে পারেনি রাজনৈতিক দলগুলো। এমন প্রেক্ষাপটে সরকারই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে। আজ বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবেন প্রধান উপদেষ্টা ও তার উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা। বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের বিষয়টি রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। রাজনৈতিক ‘অচলাবস্থা’ বিবেচনায় নিয়েই সিদ্ধান্ত নিতে পারে সরকার। বৈঠকের পর এ ইস্যুতে সরকারের অবস্থান সম্পর্কে ধারণা মিলতে পারে বলে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে। এদিকে, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোট নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিভক্তি ও উত্তেজনার মধ্যে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকের পর আজ দুপুরে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তার প্রেস উইং থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এ ভাষণ বাংলাদেশ টেলিভিশন, বিটিভি নিউজ ও বিটিভি ওয়ার্ল্ড সরাসরি সম্প্রচার করবে। গতকাল সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টেও এ তথ্য জানানো হয়। ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা ঠিক কোন বিষয় উপস্থাপন করবেন, তা উল্লেখ করা হয়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, ড. ইউনূস তার ভাষণে দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এবং জুলাই জাতীয় সনদ বা সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তগুলো জানাতে পারেন। প্রধান উপদেষ্টা জাতির উদ্দেশে ভাষণে জুলাই সনদ ও গণভোট নিয়ে চূড়ান্ত কী কী সিদ্ধান্ত তুলে ধরতে যাচ্ছেন, তা নিয়ে দলগুলোর মধ্যে ও জনমনে চলছে নানান জল্পনা। বিএনপি সংসদ নির্বাচনের দিনই গণভোট আয়োজনের দাবি জানাচ্ছে, তবে জামায়াত এর আগেই গণভোট চায়। অন্যদিকে এনসিপির দাবি, মতভিন্নতা প্রকাশ করে বিএনপির দেওয়া নোট অব ডিসেন্ট ছাড়াই ঐকমত্য কমিশনের সব সুপারিশ বাস্তবায়ন। এমন প্রেক্ষাপটে সব পক্ষকে সন্তুষ্ট করে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্ত আসতে যাচ্ছে বলে কালবেলাকে জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের দায়িত্বশীল একটি সূত্র। তা হলো বিএনপির দাবি অনুযায়ী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই হবে গণভোট, আর জামায়াতের চাওয়া অনুযায়ী পিআর (আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) পদ্ধতিতে গঠন হবে সংসদের উচ্চকক্ষ। অন্যদিকে এনসিপির শর্ত মেনে নোট অব ডিসেন্ট ছাড়াই জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আদেশ জারি হবে। এর আগে গত ৩ নভেম্বর উপদেষ্টা পরিষদের সভা থেকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আদেশ ও গণভোট নিয়ে রাজনৈতিক দল বিশেষ করে বিএনপি ও জামায়াতকে সমঝোতার আহ্বান জানিয়েছিল সরকার। এজন্য এক সপ্তাহ সময়ও দেওয়া হয়। কিন্তু সমঝোতায় পৌঁছতে পারেনি দলগুলো। সেদিন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেছিলেন, গণভোট কখন হবে, গণভোটের বিষয়বস্তু কী হবে, জুলাই সনদে বর্ণিত ভিন্নমতগুলো প্রসঙ্গে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা নিয়ে ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাবগুলোর আলোকে জরুরি ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা প্রয়োজন বলে মনে করে উপদেষ্টা পরিষদ। এ ক্ষেত্রে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের দীর্ঘদিনের মিত্র রাজনৈতিক দলগুলোকে নিজস্ব উদ্যোগে নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করে সম্ভাব্য দ্রুততম সময়ে, সম্ভব হলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সরকারকে ঐক্যবদ্ধ দিকনির্দেশনা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। দলগুলো একমত হতে না পারলে সরকার নিজের মতো করে সিদ্ধান্ত নেবে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি। এরপর গত শনিবার রাজধানীতে ‘নির্বাচনী ইশতেহারে প্রযুক্তির ব্যবহার’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন পদ্ধতি ও গণভোট ইস্যুতে যদি রাজনৈতিক দলগুলো সিদ্ধান্ত নিতে না পারে, তাহলে অন্তর্বর্তী সরকার সিদ্ধান্ত নেবে। এরপর সবশেষ গত সোমবার সচিবালয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান জানান, দলগুলো মতৈক্যে পৌঁছতে না পারায় জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকার নিজ থেকেই একটি সিদ্ধান্ত নেবে। তিনি বলেন, ‘সরকার দলগুলোকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় দিয়েছে। সেখান থেকে সিদ্ধান্ত আসেনি। তারা যেহেতু সাত দিনের মধ্যে আলোচনায় বসেনি, সে ক্ষেত্রে সরকার একটা সিদ্ধান্ত নেবে। আমি তো কাউকে বলতে শুনিনি যে সরকার সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না।’ এমন প্রেক্ষাপটে গত মঙ্গলবার আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের জানান, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ব্যাপারে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে, তা পরবর্তী তিন-চার দিনের মধ্যে পরিষ্কারভাবে জানা যাবে। দুই উপদেষ্টা ও প্রেস সচিবের বক্তব্য থেকে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাচ্ছে যে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আদেশ ও গণভোট নিয়ে সরকারই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে। খুব শিগগির এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসবে। ফলে বিষয়টি নিয়ে আজ উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে আলোচনা হবে। দলগুলো একমত হবে—এমন সিদ্ধান্তই সরকার নেবে বলে দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানিয়েছে। এদিকে, গতকাল বুধবার জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি এবং ওই আদেশের ওপর গণভোট আয়োজন করাসহ পাঁচ দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় যমুনার সামনে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবস্থানের হুঁশিয়ারি দিয়েছে জামায়াতে ইসলামীসহ আন্দোলনরত ৮টি দল। তাদের হুঁশিয়ারির পর অন্তর্বর্তী সরকারও এ বিষয়ে বেশ চিন্তিত। একসঙ্গে বিএনপি-জামায়াত ও এনসিপিকে খুশি করতে সরকার দৃশ্যত টানাপোড়েনে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আদেশ এবং নির্বাচনের আগে নাকি নির্বাচনের দিনই গণভোট আয়োজন করা হবে, তা নিয়ে দ্বন্দ্বে পড়েছে সরকার। তবে আজ উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকের পর বিষয়টি নিয়ে সরকারের অবস্থান সম্পর্কে মোটামুটি ধারণা মিলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

চব্বিশের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ তিনজনের রায়ের দিন নির্ধারণ ঘিরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নেওয়া হয়েছে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) সকাল থেকেই ট্রাইব্যুনাল চত্বরে নিয়োজিত রয়েছেন পুলিশ-র্যাব, বিজিবি-সেনাবাহিনী ও সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। একইসঙ্গে আশপাশে স্থাপন করা হয়েছে নিরাপত্তা বলয়। এমনকি তল্লাশি চালিয়ে জনসাধারণ ও সাংবাদিকদের ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে। জানা গেছে, রায়ের তারিখ ঘিরে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ট্রাইব্যুনাল ও আশপাশে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। সংশ্লিষ্টরা জানান, রায়ের দিনকে কেন্দ্র করে কেউ যেন উসকানিমূলক কার্যকলাপ বা বিশৃঙ্খলা ঘটাতে না পারে, সেজন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যেন আদালতের কার্যক্রম নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়। এদিন সকাল ১০টার পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ মামলার রায়ের তারিখ নির্ধারণ করা হবে। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন- বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। গত ২৩ অক্টোবর এ মামলায় সমাপনী বক্তব্য দেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রধানমন্ত্রীসহ হেভিওয়েট নেতাদের যেভাবে বিচারের মুখোমুখি হতে হয়েছিল; সেসব বর্ণনা ট্রাইব্যুনালে তুলে ধরেন তিনি। একইসঙ্গে শেখ হাসিনা ও কামালের সর্বোচ্চ সাজা দাবি করেন। পরে আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীর যুক্তি উপস্থাপনের কয়েকটি বিষয়ে জবাব দেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। এরপর তাদের কিছু কথার পাল্টা উত্তর দেন স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী আমির হোসেন। পরে রায়ের তারিখ ঘোষণার জন্য আজকের দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল। এ মামলায় সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের নামও রয়েছে। রাজসাক্ষী হয়ে ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দিয়েছেন তিনি। এজন্য যুক্তিতর্কে শেখ হাসিনা-কামালের চরম দণ্ড বা সর্বোচ্চ সাজা চাইলেও তার ব্যাপারে ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দিয়েছে প্রসিকিউশন। মামুনের আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদও তার অ্যাকুইটাল (খালাস) চেয়েছেন। সবমিলিয়ে সাবেক এই আইজিপির মুখে হাসি ফুটবে নাকি অন্য কিছু; তা জানা যাবে রায় ঘোষণার দিন। এ মামলায় তাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ আনে প্রসিকিউশন। এর মধ্যে রয়েছে উসকানি, মারণাস্ত্র ব্যবহার, আবু সাঈদ হত্যা, চানখারপুলে হত্যা ও আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানো। আনুষ্ঠানিক অভিযোগ মোট আট হাজার ৭৪৭ পৃষ্ঠার। এর মধ্যে তথ্যসূত্র দুই হাজার ১৮ পৃষ্ঠার, জব্দতালিকা ও দালিলিক প্রমাণাদি চার হাজার পাঁচ পৃষ্ঠার ও শহীদদের তালিকার বিবরণ দুই হাজার ৭২৪ পৃষ্ঠার। সাক্ষী করা হয়েছে ৮৪ জনকে। গত ১২ মে চিফ প্রসিকিউটরের কাছে এ মামলার প্রতিবেদন জমা দেয় ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। এদিকে, শেখ হাসিনার রায়ের দিন নির্ধারণ ঘিরে লকডাউন কর্মসূচি দিয়েছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগ। ফলে আগুন-ককটেলসহ বিভিন্ন অপকর্মে দেশজুড়ে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন দলটির নেতাকর্মীরা। এরই মধ্যে বেশ কয়েকজন গ্রেপ্তারও হয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে। তবে এমন কর্মকাণ্ডে কোনো ধরনের অনিরাপদ বোধ করছে না বলে জানিয়েছে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন।

জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার অন্যতম আসামি থেকে রাজসাক্ষী হওয়া সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনা হয়েছে। এ মামলায় পলাতক রয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) সকাল ৯টার পর কড়া নিরাপত্তায় কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে মামুনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করে পুলিশ। এদিন ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ মামলার রায়ের তারিখ নির্ধারণ করা হবে। হাসিনা-কামাল পলাতক থাকলেও বছরখানেক ধরেই কারাগারে রয়েছেন চৌধুরী মামুন। তবে রাজসাক্ষী হয়ে ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দিয়েছেন তিনি। ফলে সাবেক এই আইজিপির শাস্তির বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন প্রসিকিউশন। একইসঙ্গে শেখ হাসিনা ও কামালের সর্বোচ্চ সাজা চাওয়া হয়েছে। মোট ২৮ কার্যদিবসে ৫৪ জনের সাক্ষ্য-জেরা শেষে গত ২৩ অক্টোবর শেখ হাসিনার মামলায় সমাপনী বক্তব্য দেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রধানমন্ত্রীসহ হেভিওয়েট নেতাদের যেভাবে বিচারের মুখোমুখি হতে হয়েছিল; সেসব বর্ণনা ট্রাইব্যুনালে তুলে ধরেন তিনি। পরে আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীর যুক্তি উপস্থাপনের কয়েকটি বিষয়ে জবাব দেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। এছাড়া তাদের কিছু কথার পাল্টা উত্তর দেন স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী আমির হোসেন। এরপর রায়ের তারিখ ঘোষণার জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়। আগামী সপ্তাহের যেকোনো দিন এ রায় ঘোষণা হতে পারে বলে জানিয়েছে ট্রাইব্যুনাল সূত্র। শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় চলতি বছরের ৩ আগস্ট। প্রথম সাক্ষী হিসেবে ট্রাইব্যুনালে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের বীভৎসতার চিত্র তুলে ধরেন খোকন চন্দ্র বর্মণ। ৮ অক্টোবর মূল তদন্ত কর্মকর্তা মো. আলমগীরের জেরার মাধ্যমে শেষ হয় সাক্ষ্যগ্রহণের ধাপ। এরপর প্রসিকিউশন ও স্টেট ডিফেন্স আইনজীবীর যুক্তিতর্ক সম্পন্ন হয় ২৩ অক্টোবর। এ মামলায় তাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ আনে প্রসিকিউশন। এর মধ্যে রয়েছে উসকানি, মারণাস্ত্র ব্যবহার, আবু সাঈদ হত্যা, চানখারপুলে হত্যা ও আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানো। আনুষ্ঠানিক অভিযোগ মোট আট হাজার ৭৪৭ পৃষ্ঠার। এর মধ্যে তথ্যসূত্র দুই হাজার ১৮ পৃষ্ঠার, জব্দতালিকা ও দালিলিক প্রমাণাদি চার হাজার পাঁচ পৃষ্ঠার ও শহীদদের তালিকার বিবরণ দুই হাজার ৭২৪ পৃষ্ঠার। সাক্ষী করা হয়েছে ৮৪ জনকে। গত ১২ মে চিফ প্রসিকিউটরের কাছে এ মামলার প্রতিবেদন জমা দেয় ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।

বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীতে কর্মরত সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন ও তদূর্ধ্ব সমপদমর্যাদার কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা আরও সাড়ে তিন মাসের জন্য বাড়িয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এ মেয়াদ বৃদ্ধির ফলে সেনাবাহিনী, কোস্টগার্ড ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে (বিজিবি) প্রেষণে থাকা সমপদমর্যাদার কর্মকর্তারাও বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং বিশেষ দায়িত্ব পালনে প্রশাসনিক সমন্বয় নিশ্চিত করতে এ মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর আগে গত ১১ সেপ্টেম্বর থেকে তাদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতার মেয়াদ দুই মাস (৬০ দিন) বাড়ানো হয়েছিল। সেই মেয়াদ শেষ হচ্ছে আজ মঙ্গলবার।
১১ নভেম্বর, ২০২৫
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, ১৩ নভেম্বর ঘিরে শক্ত অবস্থানের জন্য আমাদের প্যাট্রোলিং বাড়ানো হয়েছে। কেপিআইগুলোতে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া যেখানে-সেখানে খোলা তেল বিক্রি বন্ধসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে এসব কথা বলেন তিনি। উপদেষ্টা বলেন, সন্ত্রাসীদের কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। আগামী ১৩ তারিখ ঘিরে আমাদের কার্যক্রম চলছে। সন্দেহভাজন কাউকে দেখলেই আমাদের পুলিশকে সবাই সেটা জানান।জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, আমাদের নির্বাচনের প্রস্তুতি মোটামুটি সন্তোষজনক। প্রস্তুতি শেষ হলে আমরা একটা মহড়াও দেব।
১১ নভেম্বর, ২০২৫
নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফেরাতে দশম দিনের শুনানি চলছে। মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) সকাল ৯টা ৫০ মিনিট থেকে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে ৭ বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চে এ শুনানি শুরু হয়। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করছেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া। এর আগে গত ২, ৪, ৫ ও ৬ নভেম্বর এবং ২২, ২৩, ২৮ ও ২৯ অক্টোবর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবিতে আপিলের ধারাবাহিক শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফেরানোর বিষয়ে আপিলের শুনানি শুরু হয় গত ২১ অক্টোবর। গত ২৭ আগস্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) জন্য করা আবেদনের শুনানি শেষে আপিলের অনুমতি দেওয়া হয়। এরপর ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচজন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার আপিল করেন। ১৯৯৬ সালে ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ১৯৯৮ সালে অ্যাডভোকেট এম. সলিম উল্লাহসহ তিনজন আইনজীবী হাইকোর্টে রিট করেন। প্রাথমিক শুনানি ও রুল প্রদানের পর হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০০৪ সালের ৪ আগস্ট রিটটি খারিজ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে বৈধ ঘোষণা করে। এই রায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি আপিলের অনুমতি দেওয়া হয় এবং ২০০৫ সালে রিট আবেদনকারীরা আপিল দায়ের করেন। আপিল বিভাগে সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ ২০১১ সালের ১০ মে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করে। ঘোষিত রায়ের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলোপসহ অন্যান্য পরিবর্তন আনা হয় পঞ্চদশ সংশোধনী আইনে, যা ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পাস হয় এবং ৩ জুলাই গেজেট প্রকাশ করা হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর রায় পুনর্বিবেচনার জন্য সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচ বিশিষ্ট ব্যক্তি আবেদন করেন। অন্য চারজন হলেন তোফায়েল আহমেদ, এম. হাফিজউদ্দিন খান, জোবাইরুল হক ভূঁইয়া এবং জাহরা রহমান। এরপর ১৬ অক্টোবর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আপিল বিভাগের রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন। এ ছাড়া, গত বছরের ২৩ অক্টোবর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারও একই আবেদন দাখিল করেন। পরে নওগাঁর রানীনগরের নারায়ণপাড়া এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোফাজ্জল হোসেনও আপিল বিভাগের রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে গত বছর একটি আবেদন করেন।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৫০ শতাংশ সদস্যকে মাঠ থেকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। রোববার (৯ নভেম্বর) বিকেলে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা এ তথ্য জানান। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা সেনাবাহিনীর ৫০ শতাংশ সদস্যকে মাঠ থেকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে না; এ সংক্রান্ত যা ছড়িয়েছে সেটা গুজব, এরকম কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আওয়ামী লীগের কর্মসূচিতে সরকার শঙ্কিত কিনা জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, তারা লকডাউন বা শাটডাউনের যে কর্মসূচি রেখেছে সেই বিষয়ে সরকার শঙ্কিত নয়।
৯ নভেম্বর, ২০২৫
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে পোশাক শ্রমিক মিনারুল হত্যা মামলাসহ ৫টি মামলায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। রোববার (৯ নভেম্বর) বিচারপতি এ এস এম আব্দুল মোবিন ও বিচারপতি সগীর হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।
৯ নভেম্বর, ২০২৫
রাজধানীর শাহবাগে আন্দোলনরত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। এতে ১২০ জন শিক্ষক আহত হয়েছেন। শনিবার (৮ নভেম্বর) বিকেলে আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক। তিনি জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১২০ জন শিক্ষক আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে এসেছেন। অনেকের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা চলছে। আবার কিছু শিক্ষক চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন। প্রসঙ্গত, শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ১০ম গ্রেডে বেতনসহ তিন দফা দাবিতে ‘কলম বিসর্জন কর্মসূচি’ পালন করতে শাহবাগে অবস্থান নিতে গেলে প্রাথমিকের শিক্ষকদের ওপর সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে পুলিশ। এর আগে দুপুরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি পালন শেষে ‘কলম বিসর্জন কর্মসূচি’র ঘোষণা দেন শিক্ষকরা। এরপর তিন দফা দাবিতে তারা শাহবাগের দিকে যাত্রা শুরু করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে শিক্ষকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরে অনেক শিক্ষক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আশ্রয় নেন। শিক্ষকদের দাবিগুলো হলো— সহকারী শিক্ষকদের বেতন ১০ম গ্রেডে উন্নীতকরণ, ১০ ও ১৬ বছর চাকরি পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড সংক্রান্ত জটিলতার স্থায়ী সমাধান এবং শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতির নিশ্চয়তা প্রদান। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৫ হাজার ৫৬৭টি এবং শিক্ষক সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৮৪ হাজার। গত ২৪ এপ্রিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রধান শিক্ষকদের বেতন ১১তম থেকে ১০ম এবং ১৩তম থেকে ১২তম গ্রেডে উন্নীত করার উদ্যোগ নেয়। তবে এতে সহকারী শিক্ষকরা বঞ্চিত হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা। অন্যদিকে, প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকদের আরেক অংশ ‘প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদ’-এর ব্যানারে একাদশ গ্রেডে বেতন, উচ্চতর গ্রেডের জটিলতা নিরসন ও শতভাগ পদোন্নতির দাবিতে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা দিয়েছে। তাদের দাবি মানা না হলে ২৩ ও ২৪ নভেম্বর অর্ধদিবস কর্মবিরতি, ২৫ ও ২৬ নভেম্বর পূর্ণদিবস কর্মবিরতি এবং ২৭ নভেম্বর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি। এ ছাড়া ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে পরীক্ষা বর্জন ও আমরণ অনশন কর্মসূচি শুরু করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে তারা।

সাপের কামড়ের অ্যান্টিভেনম দেশের সব উপজেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিমাণে সরবরাহ করতে সিভিল সার্জনদের নির্দেশনা পাঠিয়েছেন ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর। প্রত্যেক উপজেলা সদরের কমপক্ষে দুটি ফার্মেসিতে সাপের কামড়ের অ্যান্টিভেনম রাখতে বলা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বিচারপতি ফাহমিদা কাদেরের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের দাখিল করা প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। শনিবার (৮ নভেম্বর) রিটকারী আইনজীবী অ্যাডভোকেট মীর এ কে এম নুরন্নবী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গত ১৭ আগস্ট উপজেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিমাণে অ্যান্টিভেনম সরবরাহের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। স্বাস্থ্যসচিব, ওষুধ প্রশাসন অধিপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের এ নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়। জনস্বার্থে দায়ের করা এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ১৮ আগস্ট বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি সৈয়দ জাহেদ মনসুরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। সেদনি আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মীর এ কে এম নুরন্নবী। তাকে সহযোগিতা করেন অ্যাডভোকেট ইসমাঈল হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শফিকুর রহমান ও তানিম খান এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ইকরামুল কবির। এর আগে সাপের কামড়ের অ্যান্টিভেনম দেশের সব উপজেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালে সরবরাহের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন অ্যাডভোকেট মীর এ কে এম নুরুন্নবী। বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন সংযুক্ত করে হাইকোর্টে এ রিট করা হয়। পত্রিকায় প্রকাশিত একটি পরিসংখ্যান দিয়ে বলা হয়, সারা দেশে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে ১ জুলাই পর্যন্ত সাপের কামড়ে ৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এই পাঁচ মাসে সাপের দংশনের শিকার হয়েছেন ৬১০ জন। রাজধানীর মহাখালীর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে রাসেলস ভাইপার নিয়ে জনসচেতনতা বিষয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। এসব তথ্য উপস্থাপন করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমিন। তিনি জানান, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত সাপের দংশনের শিকার হয়ে মোট ৪১৬ জন রোগী ভর্তি হন। এদের মধ্যে বিষধর সাপের কামড় ৯১টি। ১৮টি রাসেলস ভাইপারের (চন্দ্রবোড়া) কামড়। এদের মধ্যে মোট ১১ জন রোগী মারা যান, যার মধ্যে চন্দ্রবোড়ার দংশনের কারণে মারা যান পাঁচজন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সাম্প্রতিক সময়ে রাসেলস ভাইপার নিয়ে সারাদেশে বিভিন্ন তত্ত্ব, তথ্য, গুজব, কিছুটা ভয় ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। বাংলাদেশে সর্পদংশন নীতিগতভাবে একটি স্বীকৃত গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত। ২০২২ সালে পরিচালিত জাতীয় জরিপ অনুযায়ী বাংলাদেশের চার লাখের বেশি মানুষ সাপের দংশনের শিকার হন। যার মধ্যে দুঃখজনকভাবে প্রায় সাড়ে সাত হাজার মানুষ মৃত্যুবরণ করেন। সাপ বিষয়ে অপর্যাপ্ত তথ্য থাকা সত্ত্বেও প্রধান বিষধর সাপের মধ্যে গোখরা, ক্রেইট (কালাচ্), চন্দ্রবোড়া বা রাসেলস ভাইপার ও সবুজ সাপ অন্যতম। কিছু কিছু সামুদ্রিক সাপের দংশনের তথ্যও আছে। চন্দ্রবোড়া ভাইপারিড গ্রুপের একটি বিষাক্ত সাপ। বাংলাদেশে চন্দ্রবোড়ার অস্তিত্ব এবং এর দংশনে মৃত্যুর ইতিহাস ১৯২০ সালেই স্বীকৃত আছে। ২০১৩ সালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চন্দ্রবোড়া অথবা উলুবোড়া সাপের দংশনের প্রথম রিপোর্ট হিসেবে লিপিবদ্ধ আছে। প্রাথমিকভাবে রাজশাহী ও বরেন্দ্র অঞ্চলে এর প্রভাব বেশি দেখা গেলেও পরে ধীরে ধীরে চন্দ্রবোড়ার বিস্তৃতি ২৭টি জেলায় ছড়িয়েছে। ডা. রোবেদ আমিন জানান, বিষধর সর্পদংশনের স্বীকৃত চিকিৎসা হচ্ছে অ্যান্টিভেনম। দেশের প্রধান বিষধর সাপের বিষ সংগ্রহ করে তা ঘোড়ার শরীরে প্রয়োগ করা, ঘোড়ার রক্তের সিরাম থেকে বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অ্যান্টিভেনম তৈরি করা হয়। বাংলাদেশে বর্তমানে অ্যান্টিভেনম তৈরি করা হয় না। ভারতে তৈরি (৪টি প্রধান বিষধর সাপের বিরুদ্ধে প্রস্তুত) অ্যান্টিভেনম সংগ্রহ করে অসংক্রামক ব্যধি কর্মসূচি বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে সরবারহ করা হয়ে থাকে। অ্যান্টিভেনম ক্রয়, বিতরণ, সংরক্ষণ, ব্যবহার, ব্যবহার পরবর্তী প্রভাব (নজরদারি) দেখার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কমসূচি না থাকা সত্ত্বেও অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের সুফল লক্ষ্যণীয়।

জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), ভোটার তালিকা এবং নির্বাচন ব্যবস্থাপনা তথ্য প্রযুক্তির প্রয়োগ সংক্রান্ত কমিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা আগামীকাল (রোববার) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। রোববার (৯ নভেম্বর) নির্বাচন ভবনের সম্মেলন কক্ষে (৫২০) বিকেল ৩টায় এ সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন কমিটির সভাপতি নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ (অব.)। এনআইডির পরিচালক (অপারেশন্স) মো. সাইফুল ইসলামের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা গেছে। সভায় যে-সব বিষয় নিয়ে আলোচনা হব— জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন : জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের আবেদন দাখিল ও নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও দায়িত্ব নির্ধারণ সংক্রান্ত আদর্শ পরিচালনা পদ্ধতি (এসওপি) সংশোধনের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে। এছাড়া ভোটার নিবন্ধন ও এনআইডি প্রণয়ন, দেশে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকদের ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়া, বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকদের ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়া এবং বিবিধ অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয় নিয়েও আলোচনা হবে।
৮ নভেম্বর, ২০২৫
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর অপপ্রচার হচ্ছে। এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। শুক্রবার (৭ নভেম্বর) বিকাল ৩টা ৩২ মিনিটে সেনাবাহিনীর ফেসবুক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ওই পোস্টে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন কিছু ছবি কার্ড যুক্ত করে ক্যাপশনে লেখা হয়, ইদানীং পরিলক্ষিত হচ্ছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধানকে জড়িয়ে নির্বাচন পরিচালনা-সংক্রান্ত বিভিন্ন অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। জনসাধারণকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন প্রচারণা থেকে সতর্ক থাকতে বিনীতভাবে অনুরোধ জানানো যাচ্ছে। ক্যাপশনে উল্লেখ্য জানিয়ে আরও লেখা হয়, গত ১৯ জুন একই ধরনের প্রচারণার বিরুদ্ধে সতর্কতামূলক বিজ্ঞপ্তি প্রচার করা হয়েছিল।
৮ নভেম্বর, ২০২৫
কীভূতের প্রক্রিয়ায় থাকা পাঁচ ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন স্থগিত করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) নোটিশ দিয়ে ডিএসই ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক (এসআইবিএল), এক্সিম ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন স্থগিত করে। পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর শেয়ার লেনদেন স্থগিত থাকবে। লেনদেন স্থগিত করার কারণ হিসেবে ডিএসই থেকে জানানো হয়েছে, ব্যাংক রেজোলিউশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর ধারা ১৫ অনুসারে ৫ নভেম্বর থেকে ব্যাংকগুলোকে অ-কার্যকর হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে। ডিএসই আরও জানিয়েছে, ব্যাংকগুলো জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক ৫ নভেম্বর চিঠির মাধ্যমে নির্দেশ দিয়েছে ব্যাংকগুলো এখন থেকে ব্যাংক রেজোলিউশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ অনুসারে পরিচালিত হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক আরেকটি চিঠির মাধ্যমে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদও ভেঙে দিয়েছে। এদিকে গতকাল বুধবার এক সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, পাঁচ ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডারদের ইকুইটির মূল্য এখন শূন্যের নিচে। ফলে শেয়ারগুলোর ভ্যালু জিরো হিসেবে বিবেচিত হবে। কাউকে কোনো ধরনের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না।
৬ নভেম্বর, ২০২৫
রাজধানীর উত্তরায় দিয়াবাড়িতে প্রশিক্ষণরত যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে শিক্ষার্থীসহ ৩৩ জন নিহতের ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৫ নভেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার কাছে এই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। পরে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তদন্তে উঠে এসেছে, উড্ডয়নজনিত ত্রুটির কারণে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনা ঘটে। জননিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে ঢাকার বাইরে বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ পরিচালনা করার সুপারিশ করা হয়। এ ছাড়া বিমানবাহিনীর বিমানের স্বল্পতা, টেক অফ ও ল্যান্ডিংয়ের ক্ষেত্রে বিমানবন্দরের আশপাশের স্থাপনা এবং বিমানবন্দরের আশেপাশে আগুন নিয়ন্ত্রণসহ ৩৩টি সুপারিশ এসেছে। সে বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানান প্রেস সচিব। এর আগে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে জুলাই দুপুরে প্রশিক্ষণ বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।
৬ নভেম্বর, ২০২৫
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়। সিসি ক্যামেরা রয়েছে এমন ভোটকেন্দ্রগুলোর একটি বিস্তারিত তালিকা প্রস্তুত করে দ্রুত পাঠাতে জেলা নির্বাচন অফিসারদের নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। আজ (বুধবার) নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. নাসির উদ্দিন চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। নির্বাচন কমিশন থেকে পাঠানো চিঠিতে সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসার/জেলা নির্বাচন অফিসারদের আগামী ১২ নভেম্বরের মধ্যে এই তালিকা সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার মাধ্যমে ‘নির্বাচন সহায়তা-১’ শাখায় প্রেরণের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। তালিকাটির হার্ডকপি এবং নিকস ফন্টে সফটকপি উভয়ই নির্ধারিত ছক মোতাবেক জমা দিতে হবে। আসন্ন নির্বাচনে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও ত্রুটিমুক্ত রাখতে এবং যেকোনো ধরনের অনিয়ম তাৎক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য সিসি ক্যামেরার ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইসি মনে করছে, এই তালিকা হাতে পেলে সিসি ক্যামেরার সার্বিক চিত্র সম্পর্কে তারা ওয়াকিবহাল থাকবে এবং নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় নজরদারি আরও জোরদার করা সম্ভব হবে।
৬ নভেম্বর, ২০২৫
‘বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ অধ্যাদেশ ২০২৫’ এর খসড়া প্রকাশ করেছে সরকারের ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ। যেখানে ইন্টারনেট বন্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপসহ টেলিযোগাযোগ খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নাগরিক অধিকারের সুরক্ষায় বেশকিছু মৌলিক ও যুগোপযোগী পরিবর্তনের প্রস্তাব আনা হয়েছে। বুধবার (৫ নভেম্বর) সকালে এ খসড়া প্রকাশ করা হয়েছে। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট অংশীজন ও সাধারণ জনগণের অবগতি এবং মতামত গ্রহণের উদ্দেশ্যে খসড়াটি ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের ওয়েবসাইটে উন্মুক্ত করা হয়েছে। প্রস্তাবিত অধ্যাদেশে টেলিযোগাযোগ খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নাগরিক অধিকারের সুরক্ষা আরও জোরদার করার লক্ষ্যে একাধিক ধারা সংশোধন করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো– ইন্টারনেট বন্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব, যা ডিজিটাল যুগে তথ্যপ্রবাহ ও নাগরিক স্বাধীনতা রক্ষা। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, খসড়া অধ্যাদেশের ওপর মতামত পাঠানো যাবে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত। মতামত পাঠাতে হবে ই-মেইলে ([email protected]) বা ডাকযোগে সচিব, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা ঠিকানায়।
৫ নভেম্বর, ২০২৫
জুলাই জাতীয় সনদের গণভোট নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়ে সরকারকে সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়েছে। সোমবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ সভা শেষে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এ তথ্য জানান। এ দিন দুপুর ১২টায় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের করবী হলে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে ডাকা সংবাদ সম্মেলন শুরু হয়। সংবাদ সম্মেলনে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান ও প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম উপস্থিত আছেন।
৩ নভেম্বর, ২০২৫
কাতারের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের ওপর যে কোনো হুমকির বিরুদ্ধে বাংলাদেশের দৃঢ় সংহতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাহরাইনে চলমান ২১তম আইআইএসএস মানামা সংলাপের ফাঁকে শনিবার (১ নভেম্বর) কাতারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সুলতান বিন সাদ বিন সুলতান আল মুরাইখির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে তিনি এ আশ্বাস দেন। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও বোঝাপড়া আরও গভীর করার ওপর গুরুত্ব দেন তারা। পাশাপাশি বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকারগুলোতে কাতারের অব্যাহত সমর্থনের প্রশংসা করেন। একইসঙ্গে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে কাতারের প্রতিশ্রুতিকেও সাধুবাদ জানান। এ ছাড়া পররাষ্ট্র উপদেষ্টা পৃথক একটি বৈঠকে এশিয়ায় পারস্পরিক আস্থা ও সংলাপ বৃদ্ধির লক্ষ্যে গঠিত সংস্থা ‘কনফারেন্স অন ইন্টারেকশন অ্যান্ড কনফিডেন্স বিল্ডিং মেজারস ইন এশিয়া (সিআইসিএ)’-এর মহাসচিবের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন। রাজনৈতিক সংলাপ, আঞ্চলিক শান্তি ও সহযোগিতা বাড়াতে সংস্থাটি কীভাবে আরও জোরালো ভূমিকা রাখতে পারে, তা নিয়ে তারা আলোচনা করেন। তৌহিদ হোসেন বর্তমানে ২১তম মানামা সংলাপে অংশ নিচ্ছেন। এই সংলাপে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে বিশ্ব নেতারা, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও নীতিনির্ধারকরা আলোচনা করছেন।
২ নভেম্বর, ২০২৫
বিশিষ্ট ইসলামি স্কলার ড. জাকির নায়েকের সম্ভাব্য বাংলাদেশ সফর প্রসঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের মন্তব্য বাংলাদেশের নজরে এসেছে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। শনিবার (১ নভেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এস এম মাহবুবুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র একজন বিশিষ্ট ইসলামি স্কলার বা ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের সম্ভাব্য বাংলাদেশ সফর প্রসঙ্গে যে মন্তব্য করেছেন, তা আমাদের নজরে এসেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরাও বিশ্বাস করি, কোনো দেশের অন্য দেশের কোনো অভিযুক্ত বা পলাতক ব্যক্তিকে আশ্রয় দেওয়া উচিত নয়।’ উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ভারত আশা করে, জাকির নায়েক ঢাকা সফরে এলে তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকার যথাযথ পদক্ষেপ নেবে এবং ভারতের নিরাপত্তাসংক্রান্ত উদ্বেগ দূর করবে। ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তিনি একজন পলাতক আসামি। ভারতে তার খোঁজ চলছে। তাই আমরা আশা করি, তিনি যেখানেই যাক, সেখানকার লোকরা তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে। আমাদের নিরাপত্তার উদ্বেগগুলো পূরণ করবে।’ এর আগে গত ২৮ অক্টোবর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন জানান, জাকির নায়েকের সফরের বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবগত নয়। জাকির নায়েক রাষ্ট্রীয় আমন্ত্রণে বাংলাদেশে আসছেন এবং বিভিন্ন জেলায় ঘুরে তার কর্মসূচি পালন করবেন এমন প্রশ্নে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, জাকির নায়েককে দাওয়াত দেওয়া হয়েছে বলে আমি জানি না। আমি এরকম কিছু শুনিনি। এটা আপনার কাছ থেকেই প্রথম শুনলাম। স্পার্ক ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সূত্রে জানা গেছে, ড. জাকির নায়েক সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ২৮ অথবা ২৯ নভেম্বর ঢাকায় আসবেন।

আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলে বিরোধী মতাদর্শের লোকদের গুম করার অন্যতম মাস্টারমাইন্ড হিসেবে পরিচিত বরিশাল রেঞ্জের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলেপ উদ্দিনের সহযোগী সিআইডির এডিশনাল এসপি মো. মশিউর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে সিআইডিতে কর্মরত অবস্থায় ডিবি পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন সূত্র। মশিউরের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুমের মামলা রয়েছে। এ মামলায় তাকে ট্রাইব্যুনালে আনা হবে বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন। র্যাব-১১ এ থাকাকালীন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন আলেপ। গত বছরের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনেও মরিয়া ছিলেন তিনি। তবে সরকার পতনের পর বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত থাকা অবস্থায় গত বছরের ১২ নভেম্বর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। র্যাব-১১ এ থাকাকালীন আলেপের এসব অবৈধ কর্মকাণ্ডে অন্যতম সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন এডিশনাল এসপি মশিউর। রাজসাক্ষী হিসেবে দেওয়া জবানবন্দিতেও আলেপের কুকীর্তির কথা তুলে ধরেন সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। তিনি বলেছিলেন, র্যাবের আলেপ উদ্দিন প্রথমে নারায়ণগঞ্জে র্যাবে ছিলেন। পরে এডিশনাল ডিরেক্টর জেনারেলের (অপারেশন) প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে র্যাবে (ইন্টেলিজেন্স) পদায়ন করা হয়। এখানে অনেক অফিসার ছিলেন। তবে গুমসহ বিভিন্ন অপেশাদার কর্মকাণ্ডে বিশেষ দক্ষতা থাকায় আলেপকে র্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বেশ পছন্দ করতেন। কেননা এসব কাজে বিশেষ কুখ্যাতি অর্জন করেছিলেন তিনি।
৩০ অক্টোবর, ২০২৫
হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। সহজে বার্তা বা ছবি আদান-প্রদানের সুযোগ থাকায় জনপ্রিয় এই অ্যাপ ব্যবহার করেন অনেকে। হোয়াটসঅ্যাপে প্রাপক বার্তা পেলেন কি না, তা বোঝা যায় বার্তার ঠিক নিচে থাকা নীল রঙের দুটি টিক চিহ্ন দেখে। তবে অনেক সময় বিভিন্ন পরিস্থিতির কারণে প্রাপক চান, বার্তা পড়ার বিষয়টি প্রেরক যেন জানতে না পারেন। আর তাই কেউ কেউ ‘ব্লু টিক’ বা বার্তা পড়ার চিহ্ন প্রদর্শন সুবিধা বন্ধ রাখেন। কিন্তু তখন আরেক ধরনের সমস্যায় পড়তে হয়। সুবিধাটি বন্ধ থাকলে কোনো প্রেরকই তাদের পাঠানো বার্তা পড়া হয়েছে কি না, তা জানতে পারেন না। ফলে ভুল-বোঝাবুঝি হয়ে থাকে। ফলে বারবার এই সেটিংস চালু ও বন্ধ করতে হয়। তবে চাইলেই হোয়াটসঅ্যাপ না খুলেই যেকোনো ব্যক্তির পাঠানো বার্তা পড়া সম্ভব। অ্যাপ না খুলে হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা পড়ার জন্য স্মার্টফোনের হোমস্ক্রিনে হোয়াটসঅ্যাপের একটি উইজেট যোগ করতে হবে। এ জন্য প্রথমে হোমস্ক্রিনে আঙুল চেপে কিছুক্ষণ ধরে রাখতে হবে। এরপর ‘উইজেটস’ মেনু থেকে হোয়াটসঅ্যাপের ৪ বাই ২ ফরম্যাটের উইজেট বেছে নিয়ে হোমস্ক্রিনে যুক্ত করতে হবে। উইজেটটি হোমস্ক্রিনে একটি ছোট উইন্ডোর মতো জায়গা তৈরি করবে। সেখানে নতুন আসা বার্তাগুলো দেখা যাবে। বার্তা বড় হলে স্ক্রল করে সম্পূর্ণ বার্তাও পড়া যাবে। অ্যাপ খোলার দরকার হবে না। উইজেট ব্যবহারের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, বার্তা পড়লেও কোনো ব্লু টিক দেখা যাবে না; অর্থাৎ ব্যবহারকারী বার্তা পড়ে ফেললেও প্রেরক তা জানতে পারবে না। যারা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বজায় রাখতে চান বা বারবার ব্লু টিক অপশন চালু বন্ধ করতে বিরক্ত হন, তাদের জন্য এটি একটি কার্যকর সমাধান। সূত্র : টেকলুসিভ
৩০ অক্টোবর, ২০২৫
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি ২০০৬ সালের ২৮শে অক্টোবর রাজধানীর পুরানা পল্টনে আওয়ামী লীগ লগি-বৈঠা হামলার বিচারের দাবিতে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ও বসুরহাট পৌরসভা জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর)বিকালে বাদ আসর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি সূচনা হয়ে বসুরহাট বাজারের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো পদক্ষীণ করে বাজারের কেন্দ্রস্থলে আরডি শপিং মলের সম্মুখে সমাবেশ মিলিত হয়। এই নৃশংস ঘটনার প্রতিবাদে দেশের সকল মহানগরী, জেলা, উপজেলা ও থানা পর্যায়ে সভা-সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়, তারই অংশ হিসেবে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা জামায়াত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে আয়োজন করেছে। বিক্ষোভ মিছিল পরিচালনা ও সমাবেশ অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জামায়াতের পৌরসভার সেক্রেটারি মাওলানা হেলাল উদ্দিন। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,উপজেলা জামায়াতের আমির ও নোয়াখালী- ৫ আসনে জামায়াতের এমপি প্রার্থী অধ্যক্ষ বেলায়েত হোসাইন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বসুরহাট পৌরসভার জামায়াতের আমির ও বসুরহাট পৌরসভার জামায়াতের মেয়র প্রার্থী মাওলানা মোশারফ হোসাইন। বক্তৃতারা বলেন, ২৮শে অক্টোবর জাতির ইতিহাসে এক ভয়াল দিন। ওই দিন আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসরদের হামলায় ঢাকাসহ সারা দেশে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের ১৪ জন নেতাকর্মী শহীদ হন এবং আহত হন সহস্রাধিক নেতাকর্মী। শুধু ঢাকায় নয়, সারা দেশেই ১৪ দলের সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে চরম নৈরাজ্য সৃষ্টি করে। আওয়ামী সন্ত্রাসীরা মানুষ হত্যা করে মৃতদেহের ওপর নৃত্য করে বর্বর আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠে- যা সারা বিশ্বের গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়। এই ঘটনা ছিল পূর্বপরিকল্পিত মানবতাবিরোধী গণহত্যা। আরো বলেন,আগামীতে জাতি জামায়াত ইসলামীকে দাঁড়িপাল্লা ভোট দিতে উন্মুখ হয়ে আছে, জাতি সন্ত্রাসী,লুটেরা, চাঁদাবাজদের ক্ষমতায় দেখতে চায় না।জনগণ শান্তি চায় ,নিরাপত্তা চায় এবং মাথা উঁচু করে চলতে চায়। এই নৃশংস ঘটনার প্রতিবাদে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা শাখা সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা মহি উদ্দিন,পৌর সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা ইয়াকুব, পৌর সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আবু ইউসুফসহ উপজেলা ও পৌরসভা জামায়াতের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ (আরপিও) সংশোধনী ২০২৫-এর খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ। বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। এ সময় বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। পরে বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল বৈঠকের বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন। আরপিওর সংশোধনীতে ‘না ভোট’-এর বিধান ফিরিয়ে আনার কথা জানিয়ে আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘না ভোট’-এর একটা বিধান করা হয়েছে। যেই নির্বাচনে একজন প্রার্থী থাকবে... আপনাদের ২০১৪ সালের ভুয়া নির্বাচনের কথা নিশ্চয়ই মনে আছে। ১৫৩ বা ১৫৪টি আসনে একজন প্রার্থী ছিল, সাজানো নির্বাচন ছিল। এই ধরনের নির্বাচন যেন আর না হয়। একজন প্রার্থী থাকলে সেখানে যারা ভোটার আছেন, তারা ‘না ভোট’ দিতে পারবেন, যে এই প্রার্থী তাদের পছন্দ না। তখন সেখানে আবার নির্বাচন হবে। আসিফ নজরুল আরও জানান, সংশোধিত আরপিওতে ইভিএম সম্পর্কিত যেসব বিধান ছিল, সেগুলো বিলুপ্ত করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংজ্ঞায় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিভিন্ন মামলায় পলাতক ব্যক্তিরা নির্বাচন করতে পারবে না, সংশোধিত আরপিওতে সেটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নির্বাচনে প্রার্থীদের তাদের দেশি ও বিদেশি সব আয় ও সম্পত্তির বিস্তারিত বিবরণ নির্বাচন কমিশনকে দিতে হবে। নির্বাচন কমিশন তা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করবে এবং তা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানত ২০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে। জোটবদ্ধ নির্বাচন করলেও প্রার্থীদের নিজ দলের প্রতীকে নির্বাচন করতে হবে। ভোটাররা যাতে পরিষ্কার ধারণা পান, প্রার্থী কোন দলের, এ জন্য এই বিধান করা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রবাসীরা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে পারবেন। একইভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রিসাইডিং অফিসার, রিটার্নিং অফিসারসহ নির্বাচনী কাজে সম্পৃক্তদের জন্য পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। সংশোধিত আরপিওতে ভোট গণনার স্থানে মিডিয়া থাকতে পারবে, এমন বিধান রাখা হয়েছে। রাজনৈতিক দলকে চাঁদা বা অনুদান হিসেবে ৫০ হাজার টাকা বা তার বেশি টাকা দিলে তা ব্যাংকিং চ্যানেলে দেওয়ার বিধান করা হয়েছে। যিনি চাঁদা দেবেন, তার ট্যাক্স রিটার্নও জমা দিতে হবে। আগে ভোটকেন্দ্রে গন্ডগোল হলে নির্বাচন কমিশন সেই কেন্দ্রের ফলাফল বাতিল করতে পারত, সেই বিধান ছিল। এখন অনিয়মের কারণে নির্বাচন কমিশন চাইলে পুরো নির্বাচনী এলাকার ভোটই বাতিল করতে পারবে, সেই বিধান করা হয়েছে বলে জানান আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম

আলোচিত সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে উচ্চ পর্যায়ের টাস্কফোর্স কমিটিকে ৬ মাসের সময় দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, শেষবারের মতো সময় দেওয়া হলো। এই ৬ মাসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতেই হবে। বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আরশাদুর রউফ। সাগর-রুনির পরিবারের পক্ষে ছিলেন, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। রিটের পক্ষে ছিলেন, অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। এর আগে গত ২২ এপ্রিল আলোচিত সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে ৬ মাস সময় দেন হাইকোর্ট। বিজ্ঞাপন গত বছরের ২৩ অক্টোবর হাইকোর্টের নির্দেশে সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যার ঘটনায় করা মামলার তদন্তে পিবিআই প্রধানকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের টাস্কফোর্স কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে অ্যাডিশনাল ডিআইজি পদমর্যাদার নিচে নয় পুলিশের একজন প্রতিনিধি, সিআইডির একজন প্রতিনিধি ও র্যাবের একজন প্রতিনিধিকে রাখা হয়েছে। গত বছরের ১৭ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন নিরাপত্তা বিভাগ থেকে টাস্কফোর্স গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যার ঘটনায় করা মামলার তদন্তে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। তাদেরকে ছয় মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করতে বলা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে বলা হয়। বিভিন্ন বাহিনীর অভিজ্ঞ তদন্ত কর্মকর্তাদের নিয়ে টাস্কফোর্স গঠন করতে বলা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি মুহাম্মদ মাহবুব উল ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আরশাদুর রউফ ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক। মামলার বাদীর পক্ষে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির ও রিটের পক্ষে অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ শুনানি করেন। এর আগে সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যার ঘটনায় করা মামলার তদন্ত থেকে র্যাবকে সরিয়ে দিতে সম্পূরক আবেদন করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এ আবেদন করা হয়। ২৯ সেপ্টেম্বর সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যার ঘটনায় করা মামলায় নতুন আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়। বিশিষ্ট ফৌজদারি আইন বিশেষজ্ঞ অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনিরকে আলোচিত এ মামলার আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যার ঘটনায় করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য এ পর্যন্ত ১১৩ বার সময় বাড়ানো হয়েছে। ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে সাংবাদিক দম্পতি মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরোয়ার এবং এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি তাদের ভাড়া বাসায় নির্মমভাবে খুন হন।

নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফেরাতে আপিলের তৃতীয় দিনের শুনানি চলছে। আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে ৭ বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চে শুনানি শুরু হয়। আদালতে ইন্টারভেনর হিসেবে শুনানি করছেন ব্যারিস্টার এহসান এ সিদ্দিকী। এর আগে গতকাল নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফেরাতে আপিলের দ্বিতীয় দিনের শুনানি শেষ হয়। এদিন রিটকারী বদিউল আলম মজুমদারের পক্ষে শুনানি শেষ করেন আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া। গত ২১ অক্টোবর নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফেরাতে আপিলের শুনানি শুরু হয়। গত ২৭ আগস্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে করা আবেদনের শুনানি শেষে আপিলের অনুমতি দেওয়া হয়। এরপর ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ ৫ জন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার আপিল করেন। সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী জাতীয় সংসদে গৃহীত হয় ১৯৯৬ সালে। এ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ১৯৯৮ সালে অ্যাডভোকেট এম সলিম উল্লাহসহ তিনজন আইনজীবী হাইকোর্টে রিট করেন। ২০০৪ সালের ৪ আগস্ট হাইকোর্ট বিভাগ এ রিট খারিজ করেন এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে বৈধ ঘোষণা করা হয়। এই সংশোধনীর বৈধতা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এম সলিমউল্লাহসহ অন্যরা ১৯৯৮ সালে হাইকোর্টে রিট করেন। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রুল দেন। হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০০৪ সালের ৪ আগস্ট রায় দেন। এ রায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি আপিলের অনুমতি দেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২০০৫ সালে আপিল করে রিট আবেদনকারীপক্ষ। এই আপিল মঞ্জুর করে আপিল বিভাগের সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ ২০১১ সালের ১০ মে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করে রায় দেন। ঘোষিত রায়ের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিলোপসহ বেশ কিছু বিষয়ে আনা পঞ্চদশ সংশোধনী আইন ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পাস হয়। ২০১১ সালের ৩ জুলাই এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করা হয়। ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর এ রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে আবেদন করেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচ বিশিষ্ট ব্যক্তি। অন্য চারজন হলেন— তোফায়েল আহমেদ, এম হাফিজউদ্দিন খান, জোবাইরুল হক ভূঁইয়া ও জাহরা রহমান। আপিল বিভাগের ওই রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে ১৬ অক্টোবর একটি আবেদন করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ ছাড়া রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে গত বছরের ২৩ অক্টোবর আরেকটি আবেদন করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। পরবর্তীতে নওগাঁর রানীনগরের নারায়ণপাড়ার বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোফাজ্জল হোসেন আপিল বিভাগের রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে গত বছর একটি আবেদন করেন।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের মোট ৩৬টি ইউনিট কাজ করছে। শনিবার (১৮ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে এ তথ্য জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিসের সদর দপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তাহলা বিন জসিম। তিনি বলেন, বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজের আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৩৬টি ইউনিট কাজ করছে। প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি। আগুনে কেউ হতাহত হয়েছে এমন সংবাদও আমাদের কাছে আসেনি। দুপুর ২টা ৩৪ মিনিটে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের প্রথমে নয়টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। পরে আরও ইউনিট যোগ হয়ে এখন মোট ৩৬টি ইউনিট কাজ করছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর দুটি ফায়ার ইউনিট, নৌবাহিনী ও সেনাবাহিনী আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। এছাড়া উদ্ধার সহায়তায় যোগ দিয়েছে বিজিবির ২ প্লাটুন সদস্য। এদিকে বিমানবন্দরের কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয়, সেজন্য বিমান কর্তৃপক্ষ বিকল্প ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিমানবন্দরের এক কর্মকর্তা। তিনি জানান, আগুন মূলত কার্গো ভিলেজ এলাকায়, যাত্রী টার্মিনালে এর প্রভাব পড়েনি। তবে বিমান চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া বেশ কয়েকটি ফ্লাইট চট্টগ্রাম, সিলেট ও কলকাতায় ডাইভার্ট করা হয়েছে। এমএসি/জেডএস শাহজালাল বিমানবন্দর
১৮ অক্টোবর, ২০২৫
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে আগুন লাগায় চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৪টি ফ্লাইট জরুরি অবতরণ করেছে। এর মধ্যে ২টি আন্তর্জাতিক ও ২টি ডোমেস্টিক ফ্লাইট। বিমানবন্দর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। জানা গেছে, ডাইভার্ট হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে দুটি চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট এবং দুটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট। আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের মধ্যে একটি ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ব্যাংকক থেকে ঢাকা এবং অন্যটি এয়ার আরাবিয়ার মধ্যপ্রাচ্য থেকে ঢাকা রুটের ফ্লাইট। এদিকে, বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজের আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৩০টি ইউনিট করছে। আগুনের তীব্রতার কারণে রাজধানীর বিভিন্ন ফায়ার স্টেশন থেকে ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে আরও ৬টি ইউনিট রওনা দিয়েছে। তবে ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে নৌ ও বিমানবাহিনী। অন্যদিকে, বিমানবন্দরের কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয়, সেজন্য বিমান কর্তৃপক্ষ বিকল্প ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিমানবন্দরের এক কর্মকর্তা। তিনি জানান, আগুন মূলত কার্গো ভিলেজ এলাকায়, যাত্রী টার্মিনালে এর প্রভাব পড়েনি। তবে বিমান চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। এআর/জেডএস শাহজালাল বিমানবন্দর
১৮ অক্টোবর, ২০২৫.webp&w=3840&q=75)
রোববার (১৯ অক্টোবর) দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দেশের সব মহাসড়ক অবরোধের ঘোষণা দিয়েছেন ‘জুলাই যোদ্ধারা’। শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) জুলাই যোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক মাসুদ রানা সৌরভ এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তিনি জানান, জুলাই যোদ্ধাদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ও তিন দফা দাবি বাস্তবায়নে আগামী রোববার দেশের প্রতিটি জেলায় দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালিত হবে। সৌরভ বলেন, আমরা হামলার শিকার হয়েছি। আমাদের ওপর হওয়া হামলার প্রতিবাদ এবং আমাদের তিন দফা দাবি বাস্তবায়নের জন্য রোববার দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্রতিটি জেলা শহরের মহাসড়কে অবরোধ পালিত হবে। অবরোধে জুলাই আহতদের সঙ্গে সাধারণ জনগণের অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা যদি আমাদের জীবন ও রক্তের স্বীকৃতি না পাই, ভবিষ্যতে এ রাষ্ট্রে আর বিপ্লবী জন্ম হবে না। তিন দফা দাবি উল্লেখ করে তিনি বলেন, জুলাই শহীদদের ‘জাতীয় বীর’ হিসেবে স্বীকৃতি, আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারীদের ‘বীর’ মর্যাদা দিয়ে সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান, আহত ও শহীদ পরিবারদের পুনর্বাসনের জন্য নির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা করা এবং আহতদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত হামলা ও হয়রানি বন্ধ রাখতে দায়মুক্তি ও সুরক্ষা আইনের ব্যবস্থা করতে হবে। জুলাই যোদ্ধাদের নতুন কর্মসূচি রোববার জুলাই যোদ্ধাদের ওপর হামলার নিন্দা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এর আগে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় প্রবেশ করা জুলাই যোদ্ধাদের ধাওয়া দিয়ে ওই এলাকা থেকে বের করে দেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। এরপর পুরো সংসদ ভবন ঘিরে রাখে নিরাপত্তা বাহিনী। শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) দুপুর ১টা ২৬ মিনিটের দিকে জুলাই যোদ্ধা দাবি করা একটি পক্ষ ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। দুপুর ২টার পর পর্যন্ত চলতে থাকে তাদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া। জানা যায়, গেট ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়া জুলাই যোদ্ধাদের মঞ্চ এলাকা থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে তারা সংসদ ভবন এলাকার বিভিন্ন স্থানে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর চালান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও এবিপিএন সদস্যরা সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ এবং লাঠি হাতে বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া দেন। এর আগে, শুক্রবার সকালে ‘জুলাই শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধা’ ব্যানারে অনেকেই সংসদ ভবনের ১২ নম্বর গেটের সামনে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা গেট টপকে ভেতরে প্রবেশ করে মঞ্চের সামনে অতিথিদের চেয়ারে বসে স্লোগান দিতে থাকেন।

হজ কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের শাখা বা উপশাখা আগামী ১৮ অক্টোবর (শনিবার) খোলা রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) এক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, 'হজ নিবন্ধনের অর্থ জমা দেওয়ার জন্য আমানতকারীরা যতক্ষণ পর্যন্ত উপস্থিত থাকবেন, ততক্ষণ ব্যাংকগুলোকে ওই অর্থ গ্রহণ অব্যাহত রাখতে হবে। এছাড়া, সংশ্লিষ্ট শাখাগুলোর পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারা অনুসা এ নির্দেশনা জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।'
১৬ অক্টোবর, ২০২৫
চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ এলাকার (সিইপিজেড) একটি ভবনে চিকিৎসা সরঞ্জাম তৈরির একটি কোম্পানির দুইটি তলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১৫টি ইউনিট কাজ করছে। তবে আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে কোনো কিছু জানা যায়নি। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আগুন জ্বলছে। বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে সিইপিজেডের ১ নম্বর সেক্টরের ৫ নম্বর সড়কের ‘অ্যাডামস ক্যাপ অ্যান্ড টেক্সটাইল লিমিটেড’ নামের ওই কোম্পানিতে আগুন লাগে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ৮ তলা ভবনের মেডিকেল ইকুইপমেন্ট তৈরির প্রতিষ্ঠানের ৭ তলায় আগুন লাগার পর ৬ তলায় ছড়িয়ে পড়ে। সিইপিজেড, বন্দর, কেইপিজেড ও আগ্রাবাদের ১৫টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। প্রচুর পুলিশ মোতায়ন রয়েছে। যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, বহুতল কারখানার ওপরের তলায় আগুন জ্বলছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস। কারখানাটিতে কত শ্রমিক ছিলেন, কেউ আটকা পড়েছেন কিনা, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি। ফায়ার সার্ভিসের চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপসহকারী পরিচালক আবদুল মান্নান বলেন, ওই কারখানায় কোনো শ্রমিক কর্মচারী আটকা পড়েছে কিনা তা নিশ্চিত করে বলতে পারছি না। আমরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছি। ইপিজেড থানার ওসি মোহাম্মদ জামির হোসেন জিয়া বলেন, সিইপিজেডে একটি ভবনে চিকিৎসা সরঞ্জাম তৈরির একটি কোম্পানির দুইটি তলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ওই দুই তলায় গুদাম বলে ধারণা করছি। আগুন লাগার খবরে সিঁড়ি দিয়ে হুড়োহুড়ি করে নারীদের নামতে দেখা গেছে। গুরুতর তেমন আহত হয়নি। এখনও সেখানে আগুন জ্বলছে।

ভারতের ত্রিপুরায় তিন বাংলাদেশিকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বুধবার (১৫ অক্টোবর) ত্রিপুরা রাজ্যের খোয়াই বিভাগের একটি সীমান্তবর্তী গ্রামে গরুচোর সন্দেহে তাদের পিটিয়ে মারে ভারতীয়রা। এ ঘটনায় ভারতের আরও দুই নাগরিক আহত হয়েছেন। সংবাদমাধ্যম ইকোনোমিক টাইমস জানিয়েছে, বিদায়বিলের দুই গ্রামবাসী একটি রাবার বাগানে কাজ করতে যান। তখন তারা তিন বাংলাদেশিকে লুকিয়ে থাকতে দেখার দাবি করেন। এখানে থাকার কারণ জিজ্ঞেস করলে ওই তিন বাংলাদেশি আক্রমণাত্মক হয়ে তাদের ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। এরপর তারা আহত অবস্থায় গ্রামে ফিরে গিয়ে অন্যদের ঘটনা জানালে অনেকে এসে এ তিনজনের ওপর হামলা চালায় এবং তাদের পিটিয়ে হত্যা করে। আহত ওই দুই ভারতীয়কে বেহলাবাড়ী সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন এ পুলিশ কর্মকর্তা। তিনজনকে পিটিয়ে হত্যার পর ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। এরপর তাদের মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে বাংলাদেশ ও ভারতের ৮৫৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। কিছু বাদে এ সীমান্তের বেশিরভাগ জায়গায় কাঁটাতারের বেড়া রয়েছে। ভারতের সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে প্রায়ই বাংলাদেশিদের হত্যার ঘটনা ঘটে থাকে। বেশিরভাগ মৃত্যু হয় দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে। সূত্র: ইকোনোমিক টাইমস
১৬ অক্টোবর, ২০২৫
বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিকের দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়। আবহাওয়া অফিস জানায়, শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৯টার মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। এছাড়া সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে। শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুদ্ধ থাকতে পারে। সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। শনিবার (১৮ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় হালকা থেকে মাঝারী ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। রোববার (১৯ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় হালকা থেকে মাঝরি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। সোমবার (২০ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সেই সঙ্গে সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে। এছাড়া আগামী পাঁচদিনে দিনের তাপমাত্রা বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ তিনজনের বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন সম্পন্ন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। টানা পাঁচদিনের যুক্তিতর্ক শেষে বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ রাষ্ট্রপক্ষের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের সর্বোচ্চ শাস্তি- মৃত্যুদণ্ড দাবি করেন। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যবিশিষ্ট ট্রাইব্যুনাল প্যানেলে তিনি এ আবেদন জানান। একই সঙ্গে রাজসাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেওয়া সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের শাস্তির বিষয়টি আদালতের বিবেচনার ওপর ছেড়ে দেন রাষ্ট্রপক্ষের এই প্রধান প্রসিকিউটর। চিফ প্রসিকিউটর বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ১ হাজার ৪০০ ছাত্র-জনতা নিহত হয়েছেন। একজন মানুষকে হত্যার দায়ে যদি একবার মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়, তবে ১ হাজার ৪০০ মানুষের হত্যার দায়ে শেখ হাসিনাকে ১ হাজার ৪০০ বার মৃত্যুদণ্ড দেওয়া উচিত। তবে আইন অনুযায়ী তা সম্ভব নয়। শেখ হাসিনা-আসাদুজ্জামান খানের মৃত্যুদণ্ডের আবেদন তিনি বলেন, এই কারণে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আমরা তার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার আবেদন করছি। এ দণ্ড কার্যকর হলে দেশের জনগণ ন্যায়বিচার পাবে বলেও জানান তিনি। তাজুল ইসলাম আরও বলেন, অপরাধীদের সম্পত্তি বিক্রি করে শহীদ ও আহত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আবেদন করেছে প্রসিকিউশন। আগামী সোমবার এ মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করবেন শেখ হাসিনা ও কামালের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী। সেটি শেষ হলে মামলাটি রায়ের দিকে যাবে। গত ১০ জুলাই শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে আন্দোলন দমনে ১৪০০ জনকে হত্যার উসকানি, প্ররোচনা ও নির্দেশ দান, ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসেবলিটি’ এবং ‘জয়েন্ট ক্রিমিনাল এন্টারপ্রাইজের’ মোট পাঁচ অভিযোগে বিচার শুরুর আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। মামলার ৫৪তম ও শেষ সাক্ষী ছিলেন তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. আলমগীর। গত ৬ অক্টোবর তার জেরা শেষ করেন আসামি পক্ষের রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, জুলাই সনদের আইনিভিত্তি ছাড়া অর্ডারে স্বাক্ষর করা মূল্যহীন হবে। সেই বিষয়টি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা অনুষ্ঠানে অংশীদার হবো না। বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) সকালে দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। বিস্তারিত আসছে...
১৬ অক্টোবর, ২০২৫
ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেছেন, আগামীর স্বপ্নপূরণে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসতে হবে। এজন্য প্রস্তুতি লাগবে। যোগ্য হয়েই সুযোগ্য স্থানে অধিষ্ঠিত হতে হবে। প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ সকল ক্ষেত্রে যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখতে হবে। দেশ ও জাতির উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে হবে। গতকাল রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে প্রতিষ্ঠানটির ছাত্র সংসদের আয়োজনে ১ম এমডিসি জাতীয় স্কুল, কলেজ ও আন্তঃমাদ্রাসা বিতর্ক প্রতিযোগিতার গ্রান্ড ফিনালে ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ধর্ম উপদেষ্টা আরও বলেন, আমাদের অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। আমরা একটি স্থানে আসতে পেরেছি। এখানেই শেষ নয়, আরো বহুদূর যেতে হবে। এই পথ পাড়ি দিতে কোনো বাধা আসলে আমাদের থেমে গেলে চলবে না। সকল বাধা অতিক্রম করেই এগিয়ে যেতে হবে। ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ড. খালিদ বলেন, সকল ভেদাভেদ ও মতপার্থক্য ভুলে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। যে সুযোগ এসেছে সেটাকে পরিপূর্ণ কাজে লাগাতে হবে। এ সুযোগ হাতছাড়া হয়ে গেলে আমাদের বহু বছর সুযোগের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। তিনি সবাইকে কালেমা তায়্যেবার পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার অনুরোধ জানান। পরে উপদেষ্টা চ্যাম্পিয়ন ও রানারআপ ক্যাটাগরিতে বিজয়ী দলের সদস্যদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। তিন মাসব্যাপী স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা ক্যাটাগরিতে এ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় সারাদেশের ৫৪টি প্রসিদ্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে। স্কুল ক্যাটেগরিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে মুগদা আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং রানারআপ হয়েছে বনশ্রী আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ। কলেজ ও উন্মুক্ত ক্যাটাগরিতে নটর ডেম কলেজ চ্যাম্পিয়ন এবং মনিপুর স্কুল ও কলেজ রানারআপ হয়েছে। মাদ্রাসা ক্যাটাগরিতে তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসা চ্যাম্পিয়ন এবং বায়তুশ শরফ আদর্শ কামিল মাদরাসা রানারআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে। তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ খলিলুর রহমান মাদানীর সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্য়োরম্যান ড. শামসুল আলম, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বিভাগের যুগ্মসচিব মো. মনিরুজ্জামান ভূইয়া, আল ফাতাহ পাবলিকেশন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ সাঈদ, ডাকসুর নির্বাচিত ভিপি আবু সাদিক কায়েম, তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান প্রফেসর নুরুন্নবী মানিক প্রমুখ বক্তৃতা করেন।

মধ্যরাতে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। নেওয়া হয়েছে নজিরবিহীন পদক্ষেপ। দূতাবাসের নিরাপত্তায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বিশেষায়িত টিম সোয়াত মোতায়েন করা হয়েছে। সোমবার (১৩ অক্টোবর) মধ্যরাতে দূতাবাসের নিরাপত্তায় এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ডিএমপির একাধিক কর্মকর্তা জানান, সোমবার মার্কিন দূতাবাসে ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম ও ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের বেশকিছু সদস্যকে মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে সিটিটিসির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও বিশেষায়িত সোয়াট টিমের সদস্যরা রয়েছেন। গুলশান বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার (ডিসি) আলী আহমেদ মাসুদ গণমাধ্যমকে বলেন, এটা আমাদের রুটিন ডিউটি। মাঝেমধ্যে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। এখানে ডিএমপির সোয়াট ও বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া আমিও দূতাবাসের সামনে রয়েছি। তিনি বলেন, নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে এমন আশঙ্কায় মার্কিন দূতাবাস এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, হামলার হুমকি ও নিরাপত্তা শঙ্কার বিষয়টি মার্কিন দূতাবাস কর্তৃপক্ষ ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশকে (ডিএমপি) জানায়। এরপর পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ), ডিএমপির ডিপ্লোম্যাটিক সিকিউরিটি বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার, গুলশান বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ও সোয়াত টিম ঘটনাস্থলে যান এবং নিরাপত্তা জোরদার করেন। সোমবার রাত ৯টার পর থেকে মার্কিন দূতাবাস ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়। এক কথায়, সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে নজিরবিহীন নিরাপত্তাবলয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটসহ অন্যান্য বাহিনীও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মোতায়েন রয়েছে।

গাজা অভিমুখে থাকা কনশানস নৌযানে ছিলেন দৃকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও আলোকচিত্রী শহিদুল আলম। তিনি শঙ্কা প্রকাশ করে জানিয়েছেন, সমুদ্রে তাদের আটক করা হয়েছে এবং তারা ইসরায়েলের দখলদার বাহিনীর দ্বারা অপহৃত হয়েছেন। বুধবার (৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ফেসবুকে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ শঙ্কার কথা জানান। ওই বার্তার ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, আমি শহিদুল আলম, বাংলাদেশের একজন ফটোগ্রাফার ও লেখক। যদি আপনারা এই ভিডিওটি দেখে থাকেন, তবে জেনে রাখুন– আমাদের সমুদ্রে আটক করা হয়েছে এবং ইসরায়েলের দখলদার বাহিনীর দ্বারা আমি অপহৃত হয়েছি। যে দেশটি গাজায় গণহত্যা চালাচ্ছে এবং যাদের সক্রিয় সহযোগিতা ও সহায়তা করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য পশ্চিমা শক্তিগুলো। আমি আমার সব কমরেড ও বন্ধুর কাছে আবেদন জানাচ্ছি যেন তারা ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার জন্য লড়াই চালিয়ে যায়। কনশানস জাহাজটি আন্তর্জাতিক উদ্যোগ ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন (এফএফসি) ও থাউজেন্ড ম্যাডলিনস টু গাজা (টিএমটিজি) নৌবহরের অংশ হিসেবে গাজা অভিমুখে ৩০ সেপ্টেম্বর যাত্রা করে।
৮ অক্টোবর, ২০২৫
সদর উপজেলা প্রতিনিধিঃ নোয়াখালী সদর উপজেলায় মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে মো.সাঈদ (২৯) নামে এক দিনমজুরের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার উপজেলার চরমটুয়া ইউনিয়নের ৪নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব চরমটুয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সাঈদ একই গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে এবং পেশায় একজন দিনমজুর ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে উপজেলার পূর্বচরমটুয়া গ্রামে হালকা বৃষ্টিপাত শুরু হয়। এ সময় থেমে থেমে বজ্রপাতও হয়। ওই সময় বৃষ্টিতে বাড়ির পাশে ধানক্ষেতে মাছ ধরতে যান। একপর্যায়ে সেখানে বজ্রপাতে তিনি মারা যান। পরে সকালে স্থানীয়রা তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পরিবারের সদস্যদের খবর দেন। এ বিষয়ে সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.কামরুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পরবর্তীতে এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১ অক্টোবর, ২০২৫