

রমজানের মানবিকতা ও সহমর্মিতার বার্তা তুলে ধরতে মসজিদুল হারামে এতিম শিশুদের সঙ্গে ইফতার করেছেন পবিত্র দুই মসজিদের পরিচালনা পর্ষদের প্রধান শায়খ ড. আব্দুর রহমান আস-সুদাইস। বুধবার সন্ধ্যায় তিনি আল-ওয়েদাদ অ্যাসোসিয়েশন ফর অরফান কেয়ারের অধিভুক্ত শিশুদের নিয়ে একসঙ্গে ইফতার করেন। ইফতারের আয়োজনটি হয় মসজিদুল হারাম প্রাঙ্গণে। ইফতার টেবিলে শায়খ সুদাইসের পাশে বসে শিশুদের আনন্দমুখর উপস্থিতি রমজানের সৌহার্দ্য ও সামাজিক দায়িত্ববোধের প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠে। ইফতার শেষে শায়খ সুদাইস বলেন, এতিমদের লালন-পালন ও তাদের পাশে দাঁড়ানো ইসলামের অন্যতম উচ্চ মানবিক আদর্শ। সৌদি আরব রাষ্ট্রীয় নেতৃত্ব সব স্তরে সমাজের ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে এতিমদের কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আসছে। তিনি উল্লেখ করেন, ইসলামী শিক্ষা ও সৌদি সমাজের মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এতিমদের কল্যাণে ধারাবাহিক উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
ইতালির রোমে বাংলাদেশ দূতাবাসে যথাযোগ্য মর্যাদায় ‘শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৬’ পালন করা হয়েছে। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে দূতাবাসের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা দিবসটির ঐতিহাসিক তাৎপর্য ও চেতনার কথা তুলে ধরেন। দিবসটি উদযাপনের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয় ২১ ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে। রোমের আইজাক রবিন পার্কে স্থাপিত স্থায়ী শহিদ মিনারে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করেন দূতাবাসের কর্মকর্তারা। এরপর সকালে দূতাবাস প্রাঙ্গণে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করা হয় এবং সেখানে স্থাপিত অস্থায়ী শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় দূতাবাসের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন প্রবাসী সংগঠনের নেতারা, বাংলাদেশি শিক্ষার্থী এবং ইতালীয় নাগরিকেরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়। এছাড়া ইউনেস্কোর সাধারণ অধিবেশনের সভাপতির ভিডিও বার্তা এবং মহাসচিবের বাণী পাঠ করা হয়। রাষ্ট্রদূত রকিবুল হক তার বক্তব্যে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে অমর একুশের ঐতিহাসিক ভূমিকা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতায় একটি মাইলফলক। তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যে প্রতিফলিত সুশাসন ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় দেশে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘ইউথ ভয়েস অন মাল্টিলিঙ্গুয়াল এডুকেশন’ উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মকে মাতৃভাষার পাশাপাশি অন্যান্য ভাষা শিক্ষায় গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি সবাইকে অমর একুশের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আত্মমর্যাদাশীল বাংলাদেশ বিনির্মাণে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করার অনুরোধ করেন। সভায় উপস্থিত প্রবাসী নেতারা অমর একুশের চেতনাকে গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অনুপ্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করেন এবং সরকারের নতুন পরিকল্পনাকে স্বাগত জানান।

মানুষের জীবনে যে নিয়ামতগুলো সবচেয়ে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে, মাতৃভাষা তার অন্যতম। ভাষার মাধ্যমেই মানুষ ভাব প্রকাশ করে, জ্ঞান অর্জন করে, অনুভূতি ভাগ করে নেয় এবং সভ্যতা গড়ে তোলে। ইসলাম মাতৃভাষাকে অবজ্ঞা করেনি; বরং কোরআন ও হাদিসে ভাষা ও বৈচিত্র্যকে আল্লাহ তায়ালার অসীম কুদরতের নিদর্শন হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আর তার নিদর্শনাবলির মধ্যে রয়েছে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টি এবং তোমাদের ভাষা ও বর্ণের বৈচিত্র্য। নিশ্চয় এতে জ্ঞানীদের জন্য নিদর্শন রয়েছে। এই আয়াতে ভাষার ভিন্নতাকে আল্লাহর কুদরতের নিদর্শন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ মাতৃভাষা শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং সৃষ্টিকর্তার পক্ষ থেকে প্রদত্ত এক বিশেষ দান, যা মানুষের পরিচয় ও স্বাতন্ত্র্য বহন করে। আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেক জাতির কাছে তাদের নিজস্ব ভাষাভাষী রাসুল পাঠিয়েছেন। এ কথাও কোরআনে স্পষ্টভাবে এসেছে। এর উদ্দেশ্য ছিল, যেন মানুষ সহজে দ্বীন বুঝতে পারে এবং বার্তা গ্রহণে কোনো অসুবিধা না হয়। এটি প্রমাণ করে, ভাষা মানুষের হৃদয়ে পৌঁছানোর সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম। মাতৃভাষার প্রতি এই সম্মান ইসলামের সার্বজনীন দৃষ্টিভঙ্গিকেই তুলে ধরে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ কওমের ভাষায় কথা বলতেন এবং সাহাবায়ে কেরামকেও মানুষের বোধগম্য ভাষায় দাওয়াত দিতে উৎসাহিত করেছেন। হাদিসে আছে, তিনি সহজ ও স্পষ্ট ভাষায় কথা বলতেন, যেন শ্রোতারা অনায়াসে বুঝতে পারে। এর মাধ্যমে আমাদের শেখনো হয়েছে, ভাষা যত সহজ ও হৃদয়ের কাছাকাছি হবে, ততই সত্য ও ন্যায়ের বাণী মানুষের অন্তরে গেঁথে যাবে। মাতৃভাষা মানুষের আবেগ, সংস্কৃতি ও বিশ্বাসের বাহক। শিশুর প্রথম শিক্ষা, মায়ের ডাক, আল্লাহর ইবাদত ও প্রার্থনার স্বতঃস্ফূর্ত ভাষা, সবই মাতৃভাষায়। তাই মাতৃভাষাকে অবহেলা করা মানে নিজের শিকড়কে অবহেলা করা। ইসলাম কখনোই শিকড়চ্যুতি সমর্থন করে না; বরং নিজ পরিচয় রক্ষা করে আল্লাহর পথে চলার শিক্ষা দেয়। একই সঙ্গে ইসলাম অন্য ভাষার প্রতিও শ্রদ্ধাশীল হতে শেখায়। কোরআনের ভাষা আরবি হলেও ইসলাম শুধু আরবদের জন্য নয়। পৃথিবীর প্রতিটি ভাষাভাষী মানুষ ইসলামের আহ্বানের অন্তর্ভুক্ত। তাই মাতৃভাষাকে ভালোবাসা ও লালন করার সঙ্গে সঙ্গে অন্য ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতিও সম্মান দেখানো ঈমানি শিষ্টাচারের অংশ।

নোয়াখালী জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে নোয়াখালী জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী জেলার জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী জেলার পুলিশ সুপার টি, এম, মোশাররফ হোসেন অনুষ্ঠানে বক্তারা মহান বীর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে দেশ গঠনে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অসামান্য আত্মত্যাগ জাতি চিরদিন গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে বলে উল্লেখ করেন। পরিশেষে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে সম্মাননা স্মারক ও উপহার সামগ্রী প্রদান করা হয়।
১৭ ডিসেম্বর, ২০২৫
শিল্পকলায় আসছে নোবেলজয়ী নাট্যকারের ‘ডিজায়ার আন্ডার দ্য এলমস’ 62 Shares facebook sharing buttonmessenger sharing buttonwhatsapp sharing buttontwitter sharing buttonlinkedin sharing buttoncopy sharing buttonprint sharing button অ- অ+ শিল্পকলায় আসছে নোবেলজয়ী নাট্যকারের ‘ডিজায়ার আন্ডার দ্য এলম্স’ X শিল্পকলায় আসছে নোবেলজয়ী নাট্যকারের ‘ডিজায়ার আন্ডার দ্য এলমস’। ছবি : সংগৃহীত বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে আসছে সাহিত্যে নোবেলপ্রাপ্ত মার্কিন নাট্যকার ইউজীন ও নীলের রচিত বিখ্যাত নাটক ‘ডিজায়ার আন্ডার দ্য এলমস’। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) নাট্যকলা বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের প্রযোজনায় নাটকটি অভিনীত হবে। শনিবার (২৫ অক্টোবর) ও পরদিন রোববার টিকিটের বিনিময়ে সন্ধ্যা ৭টায় শিল্পকলা একাডেমির এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে দুদিনব্যাপী নাটকটির প্রদর্শনী হবে। নাটকটি অনুবাদ করেছেন কবীর চৌধুরী। পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় রয়েছেন নাট্যকলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রুবাইয়া জাবীন প্রিয়তা। নাটকের বিখ্যাত এফরায়েম ক্যাবট চরিত্রে অভিনয় করা শিক্ষার্থী তাকরিম আহমেদ বলেন, চরিত্রটি আমার কাছে সাধারণ কোনো চরিত্র নয়। বরং এক প্রজন্মের প্রতীক। মঞ্চে তার নিঃসঙ্গতা অনুভব করা সহজ ছিল না। জমি মানেই তার জীবন, কিন্তু সেই বিশ্বাসই শেষ পর্যন্ত তার কবর। বাইরে দৃঢ়, ভেতরে অসহায়, এই দ্বৈততাই নাটকের ব্যথা। ক্যাবটের মতো মানুষ আজও আছে, যারা ভালোবাসতে চায় কিন্তু তা প্রকাশ করতে পারে না। আশা করি, নাটকটি সবার ভালো লাগবে। অ্যাবেন চরিত্রে অভিনয় করা মনন মোস্তাকিন বলেন, অ্যাবেন এমন এক ছেলে, যে ছোটবেলা থেকে মায়ের স্নেহ পায়নি। আর বাবার ওপর প্রচণ্ড রাগ জমে আছে। সেই রাগ আর ভালোবাসা দুইটাই তার মধ্যে লড়াই করে। এই দোটানার জায়গাটা মঞ্চে প্রকাশ করতে চেষ্টা করেছি। অ্যাবি চরিত্রে অভিনয় করা শিক্ষার্থী রোকসানা আক্তার সায়মা বলেন, অ্যাবি আসলে ভালোবাসা পেতে চায়। কিন্তু সমাজ তাকে সেই সুযোগ দেয় না। তাই সে যেমন ভালোবাসে, তেমন ভয়ও পায়। তার ভেতরে দোষ আর মায়া একসঙ্গে কাজ করে। আমি অভিনয়ের সময় চেষ্টা করেছি যেন দর্শক ওর কষ্টটা বুঝতে পারে। অত্যন্ত সুন্দর ও বিখ্যাত এ নাটকটি দেখতে চলে আসুন শিল্পকলা একাডেমিতে। নাটকটির নির্দেশক জবি নাট্যকলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রুবাইয়া জাবীন প্রিয়তা বলেন, নোবেলজয়ী বিখ্যাত নাট্যকার ইউজিন ও নীল-এর এ নাটকটি শুধু এক পারিবারিক সংঘাতের গল্প নয়। এটি মানুষের গভীরতম আকাঙ্ক্ষা, অপরাধবোধ ও মুক্তির তীব্র অনুসন্ধানের নাটক। এই নাটকে যে মানুষদের দেখি— তারা সবাই ভালোবাসা খোঁজে। কিন্তু তাদের ভালোবাসা মিশে থাকে অধিকার, ঈর্ষা ও দোষবোধের সঙ্গে। সেই মিশ্র অনুভূতিই এই নাটকের মূলে থাকা ‘ইচ্ছা’ বা ‘ডিজায়ার’-কে জটিল করে তোলে। এই নাটকের পটভূমি সম্পূর্ণ আমেরিকান। তিনি আরো বলেন, এই প্রযোজনার মাধ্যমে আমি দর্শকদের সামনে একটি আবেদন রাখতে চেয়েছি- মানুষ কি কখনো তার ইচ্ছার ঊর্ধ্বে উঠতে পারে? নাকি প্রতিটি ইচ্ছাই শেষ পর্যন্ত তাকে তার নিজের তৈরি কারাগারে বন্দি করে ফেলে? আমার অভিনেতারা, আলো-সংগীত-ডিজাইনের সহকর্মীরা—সবাই এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে একসঙ্গে ভ্রমণ শুরু করেছে। এই ভ্রমণই আমাদের আসল প্রাপ্তি। দর্শক যদি সেই ভ্রমণে সামান্য সময়ের জন্যও আমাদের সঙ্গে অংশ নেন, তবেই আমাদের প্রয়াস সার্থক হবে। এ ছাড়া নাটকে অভিনয় করেছেন নাট্যকলা বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তাকরিম, মোস্তাকিন, সায়মা, শোভন, খুশি, মিঠুন, জ্যা চাকমা, অর্থি, পলক, রিভা, ইসরাত, সুরুজ ও তুলি। আবহ সংগীতে আছেন নওমী, শোভন, পলক ও সুরুজ। মঞ্চ নির্মাণে নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থী স্পর্শ ও টনি। আলোক প্রক্ষেপণে আছেন খন্দকার রাকিবুল হক এবং রাজিন। নাটকের পোস্টার বানিয়েছেন সাদিয়া নিশা এবং প্রকাশনায় ছিলেন মুগ্ধ আনন।