

নোয়াখালীর হাতিয়াতে কোস্ট গার্ডের বিশেষ অভিযানে একটি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র ও দুই রাউন্ড তাজা কার্তুজসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, উপজেলার দক্ষিণ সুল্লুকিয়া গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে রুবেল উদ্দিন (২৪) ও হামদ উল্লাহ গ্রামের আকবর হোসেনের ছেলে মামুন উদ্দিন (২৪)। বুধবার (১৪ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেলে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে, গতকাল মঙ্গলবার রাতে উপজেলার ক্ষিরোদিয়া বলির ব্রিজ সংলগ্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল মঙ্গলবার রাত ৯টায় হাতিয়া কোস্ট গার্ড স্টেশনের একদল সদস্য উপজেলার ক্ষিরোদিয়া বলির ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় “অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২”-এর আওতায় বিশেষ অভিযান চালায়। অভিযানে ১টি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র ও ২ রাউন্ড তাজা কার্তুজসহ ২জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা বিভিন্ন নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এলাকায় জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে আসছিল। জব্দকৃত আলামতসহ গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য হাতিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদের নির্বাচনী এলাকা নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় বিএনপি ও এনসিপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাতে উপজেলার চানন্দী ইউনিয়নের দরবেশ বাজার এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নদীভাঙন কবলিত একটি এলাকায় স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা ইট-বালু সরিয়ে সড়ক মেরামতের কাজ করেন। পরে ওই সড়কে ইট-বালু না থাকায় এনসিপির কয়েকজন কর্মী বিএনপির নেতারা ইট-বালু বিক্রি করে দিয়েছেন—এমন অভিযোগ তুলে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেন। ভিডিওটিকে বিএনপির সম্মানহানিকর দাবি করে স্থানীয় বিএনপি নেতারা সেটি ফেসবুক থেকে সরিয়ে নিতে বলেন। পরে ভিডিওটি সরানো হলেও বিষয়টি নিয়ে দুঃখ প্রকাশের দাবি ওঠে। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন নেতাকর্মী আহত হন। এনসিপির যুবশক্তির হাতিয়া উপজেলা আহ্বায়ক মো. ইউসুফ রেজা বলেন, “চানন্দী ইউনিয়নের করিম বাজার এলাকার একটি পিচঢালা রাস্তা কেটে স্থানীয় বিএনপির নেতা সারোয়ার মাঝি, চানন্দী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি সারোয়ার হোসেন ও সেক্রেটারি রবি আলম শান্তসহ অন্যরা ইট, বালু, পাথর ও পিচ বিক্রি করছিলেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় জনগণ ও এনসিপির নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করে বাড়ি ফেরার পথে আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা বিএনপির সশস্ত্র লোকজন তাদের ওপর ন্যাক্কারজনক হামলা চালায়।” ইউসুফ রেজা আরও বলেন, “হামলায় চানন্দী ইউনিয়ন এনসিপির আহ্বায়ক জাকের হোসেন, হাতিয়া উপজেলা জাতীয় যুবশক্তির যুগ্ম আহ্বায়ক আলমগীর হোসেন ও আরিফ হোসেন, ছাত্রশক্তির নেতা রবিন, এনসিপির জাফের, দুলাল, শাহাদাতসহ সাধারণ মানুষ মিলিয়ে অন্তত ১০ জন রক্তাক্ত হন। এ সময় বিএনপির লোকজন এনসিপির প্রায় আটটি মোটরসাইকেল লুট করে নিয়ে যায়। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন। আমরা এই ন্যাক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।” এদিকে এনসিপির অভিযোগ অস্বীকার করে হাতিয়া উপজেলা ছাত্রদলের নেতা ইয়াসিন আলী সুজন বলেন, “ছাত্রলীগের সিনিয়র সহসভাপতি থেকে বর্তমানে এনসিপি নেতা হওয়া রিপনের নেতৃত্বে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।” সুজন , “দরবেশ বাজার এলাকায় বালু ব্যবসায়ী জাকের ব্যাপারী ও ইঞ্জিনিয়ার তানভীরের সহযোগী পারভেজ স্থানীয়দের দাবির মুখে বালু পরিবহনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামত করছিলেন। এ সময় এনসিপির লোকজন ভিডিও ধারণ করে বিএনপির বিরুদ্ধে মাটি বিক্রির অপপ্রচার চালায়। বিএনপির নেতাকর্মীরা প্রতিবাদ করলে এনসিপির সমর্থকরা মরিচের গুঁড়া নিক্ষেপ করে। এতে স্থানীয়রা উত্তেজিত হয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় জড়িয়ে পড়েন।” তিনি আরও বলেন, “চানন্দী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সিনিয়র সহসভাপতি নূর আলম রিপন (বর্তমানে এনসিপি নেতা) এর নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে সারোয়ার (৫২) ও শারীরিক প্রতিবন্ধী সাইফুল ইসলাম সারু (৫৫) গুরুতর আহত হন। আহতদের সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।” অন্যদিকে, ঘটনার বিষয়ে আব্দুল হান্নান মাসউদ তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে লিখেন, “চানন্দী ইউনিয়নের করিম বাজারের একটা পিচ ঢালাই রাস্তা কেটে ইট, বালি, পাথর,পিচ সব বিক্রি করে দিচ্ছে স্থানীয় বিএনপির সারোয়ার মাঝি ও ছাত্রদলের নেতা সারোয়ার ও রবিসহ অন্যান্য নেতারা। এর বিরুদ্ধে স্থানীয় জনগণসহ এনসিপি নেতারা প্রতিবাদ করে যখন ফিরছিলো, তখন পথে বিএনপির সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়। এতে এনসিপি ও সাধারণ মানুষসহ সর্বমোট ১০জন রক্তাক্ত হয়। তারা এ দ্বীপের মাটি বিক্রি করে খায়। আর আমরা মাটি রক্ষায় রক্ত ঝরাই। তাদেগর দ্বীপহাতিয়ার মানুষ জবাব দেবেই। ইনশাআল্লাহ!” ঘটনার বিষয়ে হান্নান মাসউদ , “রাস্তা কাটার মাধ্যমে ইট-বালু বিক্রির প্রতিবাদ করতে গিয়ে আমাদের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ওপর পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে। এতে এনসিপির একাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি দাবি জানাচ্ছি।” এ বিষয়ে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের এমপি প্রার্থী মো. মাহবুবুর রহমান শামীম বলেন, “বিএনপির সম্মানহানি করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে ফেসবুকে গুজব ছড়ানো হয়েছে। সেখান থেকেই এই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।” হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। আহতরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিচ্ছেন। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

প্রচণ্ড শীতের দাপটে বিপর্যস্ত নোয়াখালীর জনজীবন। টানা কয়েকদিন ধরে সূর্যের দেখা নেই, ঘন কুয়াশা আর হিমেল বাতাসে জুবুথুবু হয়ে পড়েছে উপকূলীয় এই জেলার মানুষ। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন আয়ের ও খেটে খাওয়া মানুষ। শীতের সঙ্গে যোগ হয়েছে কর্মহীনতা, ফলে অনেক পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে। জেলা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, নোয়াখালীতে গত কয়েকদিন ধরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এসেছে, যা এই মৌসুমে জেলার সর্বনিম্ন। তাপমাত্রা আরও কমতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকে চারপাশ। সূর্যের মুখ না দেখায় শীতের তীব্রতা আরও বেড়েছে। রিকশাচালক, দিনমজুর, জেলে ও কৃষিশ্রমিকরা কাজে যেতে পারছেন না। আয় বন্ধ থাকায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে উপকূলীয় চর ও বিচ্ছিন্ন দ্বীপ এলাকার মানুষের দুর্ভোগ সীমাহীন। সরকারি-বেসরকারি সহায়তা পর্যাপ্ত না পৌঁছানোয় শীতবস্ত্রের অভাবে কাঁপছে শিশু, নারী ও বৃদ্ধরা। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরবালুয়া গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ নুরুউদ্দিন বলেন, প্রচণ্ড শীতে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে গেছে। আমরা বিচ্ছিন্ন দ্বীপ এলাকায় থাকি, তাই আমাদের দিকে তেমন কেউ তাকায় না। মানুষ খুব কষ্টে আছে, বলার ভাষা নেই। কাজ না থাকায় খাবার জোটানোই দায়। অনেকেই আছেন শীতের কাপড় না থাকায় রাতে ঘুমাতে পারেনা, কিন্তু কেউ একটা কম্বলও দেয়নি। একই চিত্র হাতিয়ার নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নসহ বিভিন্ন বিচ্ছিন্ন দ্বীপে। মিজানুর রহমান নামের সেখানকার বাসিন্দা ঢাকা পোস্টকে বলেন,নদীতে মাছ নেই, উপরে কাজ নেই। চারদিকে শুধু শীত আর শীত। সারাদিন সূর্যের দেখা মেলে না। ঘরে খাবার নেই, গায়ে দেওয়ার কাপড় নেই। মানুষ খুব কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। জেলা আবহাওয়া কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, গত তিন দিন ধরে জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে রয়েছে। সূর্যের দেখা না পাওয়ায় শীতের অনুভূতি আরও তীব্র হচ্ছে। এদিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শীতবস্ত্র বিতরণ অব্যাহত থাকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা। টানা শীতের এই দুর্দিনে উপকূলীয় নোয়াখালীর নিম্ন আয়ের মানুষের পাশে দাঁড়াতে সরকারি সহায়তার পাশাপাশি সামাজিক উদ্যোগ জোরদারের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা সরকারিভাবে শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। তবে চাহিদার তুলনায় আরও বেশি শীতবস্ত্র প্রয়োজন। সমাজের স্বচ্ছল ও বিত্তবানরা যদি এগিয়ে এসে সামান্য উষ্ণতার হাত বাড়িয়ে দেন, তাহলে শীতে কষ্ট করা মানুষের উপকার হবে।

নোয়াখালীর হাতিয়ায় ইউটিউবে ইসলামি ওয়াজ শুনে অনুপ্রাণিত হয়ে হৃদয় চন্দ্র দাস নামে এক যুবক ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। ধর্মান্তরের পর তার নতুন নাম রাখা হয়েছে মোহাম্মদ আবদুল্লাহ। সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাত ৯টার দিকে উপজেলা সদরে অ্যাডভোকেট ফজলে আজিম তুহিনের চেম্বারে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্নের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। নওমুসলিম মোহাম্মদ আবদুল্লাহ নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার সোনাদিয়া ইউনিয়নের বাংলাবাজার এলাকার বাসিন্দা। তিনি গৌরাঙ্গ বাবুর বাড়ির জগন্নাথ চন্দ্র দাসের ছেলে। তার বয়স ২৭ বছর। পেশায় তিনি একজন পল্লী চিকিৎসক। পারিবারিক জীবনে তিনি বিবাহিত এবং দুই সন্তানের জনক। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে হৃদয় চন্দ্র দাস ইউটিউবের মাধ্যমে ইসলামি ওয়াজ, কুরআনের তাফসির এবং মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনকথা নিয়মিত শুনে আসছিলেন। এসব বয়ান ও আলোচনা ধীরে ধীরে তার হৃদয়ে গভীর প্রভাব ফেলে। ইসলামের শান্তি, শৃঙ্খলা, ন্যায়বোধ ও মানবিক জীবনব্যবস্থা তাকে নতুনভাবে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করে। এক পর্যায়ে আত্মিক প্রশান্তির সন্ধানে তিনি নিজ সিদ্ধান্তে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন। ধর্মান্তরের পুরো প্রক্রিয়াটি দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী সম্পন্ন করা হয়। এ সময় প্রয়োজনীয় হলফনামা ও নোটারি কার্যক্রম শেষ করা হয়। পরে স্থানীয় আলেম, ইমাম, মুসল্লি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে তিনি কালেমা শাহাদাত পাঠের মাধ্যমে ইসলাম গ্রহণ করেন। এ সময় সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। উপস্থিত মুসল্লিরা নবাগত মুসলমান ভাইকে আন্তরিকভাবে আলিঙ্গন করেন এবং তার জন্য দোয়া করেন। উপস্থিত স্থানীয় আলেমগণ বলেন, আল্লাহ তায়ালা যাকে হেদায়েত দিতে চান, তার জন্য তিনি নানা পথ খুলে দেন। ইউটিউবের মাধ্যমে ইসলামি ওয়াজ শোনা তারই একটি মাধ্যম। আমরা নবাগত মুসলমান ভাইয়ের জন্য দোয়া করি—আল্লাহ যেন তার ইমান দৃঢ় রাখেন এবং ইসলামের পথে অটল রাখেন। ইসলাম গ্রহণের পর নিজের অনুভূতির কথা জানিয়ে মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেন, ইউটিউবে ওয়াজ শুনতে শুনতে আমার ভেতরে এক ধরনের আলো কাজ করতে শুরু করে। আজ মনে হচ্ছে আমি সঠিক পথ খুঁজে পেয়েছি। হৃদয়ে এক অদ্ভুত শান্তি অনুভব করছি। ইনশাআল্লাহ, আমার পরিবারের সবাইকে ইসলামের ছায়াতলে আসার দাওয়াত দেব। এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট ফজলে আজিম তুহিন বলেন, স্থানীয় কয়েকজন ইমাম ও গণ্যমান্য ব্যক্তি আমার চেম্বারে এসে হৃদয় চন্দ্র দাসের ইসলাম গ্রহণের ইচ্ছার কথা জানান। পরে আমি যথাযথ নিয়ম মেনে কোর্ট এফিডেভিটের মাধ্যমে তার প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের কাজ সম্পন্ন করি। স্থানীয়ভাবে এ ঘটনাটি ইতোমধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। ধর্মীয় অনুভূতি ও ব্যক্তিগত বিশ্বাসের স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এলাকাবাসী নওমুসলিম মোহাম্মদ আবদুল্লাহর জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন।

শীত মৌসুমের শুরুতেই নোয়াখালীর উপকূলীয় এলাকায় সমুদ্রে মাছের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন সারি সারি মাছ ধরার ট্রলার ঘাটে ভিড়লেও পর্যাপ্ত মাছ না থাকায় আড়তে উঠছে খুবই অল্প পরিমাণ মাছ। এতে জেলে ও মাছ ব্যবসায়ীরা চরম হতাশার মধ্যে পড়েছেন। জেলেরা জানান, ১৫ থেকে ২০ দিন সমুদ্রে অবস্থান করেও তারা কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ মাছ পাচ্ছেন না। অল্প পরিমাণে লইট্টা, পোয়া, ইলিশ ও কোরাল ধরা পড়লেও তা দিয়ে লোকসান পোষানো সম্ভব হচ্ছে না। সমুদ্রে মাছের এই দীর্ঘস্থায়ী সংকট দ্রুত কাটবে-এই আশায় দিন গুনছেন উপকূলীয় এলাকার হাজারো জেলে ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। সরেজমিনে হাতিয়ার চেয়ারম্যান ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, বেশিরভাগ মাছের আড়তই বন্ধ। যেগুলো খোলা রয়েছে, সেখানেও স্বাভাবিক কর্মচাঞ্চল্যের অভাব স্পষ্ট। মাছ না থাকায় শ্রমিকরা অলস সময় কাটাচ্ছেন। ঘাটজুড়ে নেই চেনা মাছের হাকডাক কিংবা ক্রেতা-বিক্রেতার কোলাহল। কেউ যদি সামান্য কিছু মাছ পান, তখনই তা ঘিরে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের ভিড় জমে। তবে মাছের সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই ইচ্ছা থাকলেও মাছ কিনতে পারছেন না। ফলে পুরো ঘাটজুড়ে এক ধরনের স্থবিরতা ও হতাশা বিরাজ করছে। জেলে আলাউদ্দিন বলেন, নদী ও সাগরে এখন মাছ প্রায় নেই বললেই চলে। আগে যেখানে ১০ দিন সমুদ্রে থাকলেই কিছু না কিছু মাছ পাওয়া যেত, এখন সেখানে ১৫ দিন, এমনকি তারও বেশি সময় অবস্থান করেও কাঙ্ক্ষিত মাছ মিলছে না। এতে জ্বালানি, খাবার ও শ্রমিকের খরচ উঠছে না। দিন দিন ঋণের বোঝা বাড়ছে, পরিবার-পরিজন নিয়ে আমরা চরম দুশ্চিন্তায় আছি। আরেক মাঝি মো. নবির বলেন, যে পরিমাণ খাবার ও মালামাল নিয়ে সমুদ্রে যাই, তার ১০ ভাগের এক ভাগ মাছও পাই না। সবাই ঋণের বোঝায় জর্জরিত। অনেক মাঝি ও জেলে ব্যবসা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে গেছে। সাগরের কাছে থেকেও আমরা মাছের কাছে অসহায়। মাছ ব্যবসায়ীরাও একই ধরনের অভিযোগ করছেন। বেপারি ইকবাল হোসেন বলেন, জেলেরা মাছ না পেয়ে খালি হাতে ফিরে আসছে। আমরা আড়তে বসে থাকি, কিন্তু মাছ নেই। যা আসে, তাও আকারে ছোট। সব মিলিয়ে ইলিশের তীব্র আকাল চলছে। আড়তদার মো. আকবর হোসেন বলেন, নদী ও সাগরে মাছ না থাকায় জেলে ও ব্যবসায়ী-সবাই দেউলিয়ার পথে। অনেকে দোকান বন্ধ করে অন্য পেশায় চলে গেছে। গত দুই বছর শীত মৌসুমে মাছ একেবারেই পাওয়া যাচ্ছে না। আগে বর্ষা মৌসুমে কিছু মাছ পাওয়া যেত, এখন সেটাও হচ্ছে না। পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক। এ বিষয়ে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ বলেন, শীতকালে পানির গভীরতা কমে যাওয়ায় মাছের উৎপাদন হ্রাস পায়। মাছের উৎপাদন বাড়াতে আমরা বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। অবৈধভাবে মাছ ধরা বন্ধে নিয়মিত অভিযান ও কম্বিং অপারেশন পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থানের জন্য জালসহ অন্যান্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। আমরা আশা করছি, এসব উদ্যোগের ফলে ভবিষ্যতে মাছের পরিমাণ বাড়বে এবং জেলেরা লাভবান হবেন।

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে বিয়ে করায় মসজিদের ইমামকে লাঞ্ছিত করে বিক্ষোভ মিছিল করেছে এলাকাবাসী। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকালে ইমামকে লাঞ্ছিত করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে রোববার (৪ জানুয়ারি) সকালে হাতিয়া উপজেলার সোনাদিয়া ইউনিয়নের চরচেঙ্গা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভিডিওতে দেখা যায়, স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত ইমামকে ঘিরে মিছিল করছেন এবং তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন। অভিযুক্ত ইমাম মাওলানা আব্দুল করিম সোনাদিয়া চৌরাস্তা বাজার এলাকার রাস্তার মাথা মসজিদ ও মাদরাসার ইমাম। তিনি হাতিয়া পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মাহমুদ হকের ছেলে। ভুক্তভোগী ছাত্রী স্থানীয় একটি মাদরাসার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২০ দিন আগে ওই ছাত্রী নিখোঁজ হয়। পরে জানা যায়, একই এলাকার মসজিদের ইমাম তাকে নিয়ে পালিয়ে বিয়ে করেছেন। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা ছাত্রীকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেন এবং বিক্ষোভ মিছিল করেন। অভিযোগ করে মাওলানা আব্দুল করিম বলেন, মেয়েটির পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি মীমাংসার কথা বলে কৌশলে তাকে এলাকায় ডেকে আনা হয়। পরে মেয়েটিকে তার কাছ থেকে আলাদা করে প্রকাশ্যে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। এ ঘটনায় সুমন, শাহাদাত, ছাইফুলসহ কয়েকজন জড়িত বলে তিনি দাবি করেন। তিনি আরও বলেন, ঘটনার দিন তাকে সারাদিন চরচেঙ্গা বাজার কমিটির সেক্রেটারি আব্দুল মান্নান রানার বাড়িতে আটকে রাখা হয়। রাতে এক তরফা সালিশ বসিয়ে শরিয়াহ মোতাবেক সম্পন্ন বিয়েটি বাতিল করে তালাক দেওয়া হয় এবং দুই লাখ টাকা জরিমানা ধার্য করা হয়। মাওলানা করিম দাবি করেন, মেয়েটির সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল এবং উভয়ের সম্মতিতে শরিয়াহ মোতাবেক বিয়ে হয়েছে। আমার কোনো অপরাধ থাকলে আইনি শাস্তি মেনে নেব, কিন্তু এভাবে প্রকাশ্যে অপমান ও নির্যাতনের বিচার চাই। চরচেঙ্গা বাজার কমিটির সেক্রেটারি আব্দুল মান্নান বলেন, মেয়েটি নাবালিকা হওয়ায় তার ভবিষ্যৎ ও অন্যান্য বিষয় অভিভাবকরাই সিদ্ধান্ত নেবেন। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে। ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার মেয়ে এখনো নাবালিকা। তাকে ভুল বুঝিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আমি এই ঘটনার সঠিক বিচার চাই। অন্যদিকে একজন ইমামকে এভাবে লাঞ্ছিত করে বিক্ষোভ মিছিল করায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন সচেতন মহল। তারা বলেন, ভুল যে কেউ করতে পারে, এজন্য রাষ্ট্রে আদালত ও আইন রয়েছে। কিন্তু আলেম হওয়ার কারণে কাউকে এভাবে প্রকাশ্যে ব্যক্তিগতভাবে হেনস্তা করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট মেয়ের পরিবার ও মেয়ের নিজস্ব ভূমিকা থাকা সত্ত্বেও কেন শাস্তি বা লাঞ্ছনা শুধু একজনের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে—সে প্রশ্ন থেকেই যায়। অবিচার যখন স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়, তখন আলেম বা সাধারণ মানুষ নির্বিশেষে সবারই সোচ্চার হওয়া প্রয়োজন। আমি এই একপাক্ষিক ও অনৈতিক আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এ বিষয়ে হাতিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম বলেন, বিষয়টি জেনেছি এবং ভিডিওটা দেখেছি। তবে এখনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) সংসদীয় আসনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ ও তার বাবা আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আবদুল মালেকের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার (৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সভায় এ তথ্য জানান জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম। জানা গেছে, নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে এবারের নির্বাচনে মোট ১৪ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এর মধ্যে ১১ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হলেও তিনজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন না থাকায় রুহুল আমিন হাওলাদার মনোনীত জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী নাসিম উদ্দিন মো. বায়েজিদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী নুরুল আমিন ও শামীমা আজিমের মনোনয়নপত্রও বাতিল করা হয়েছে। বৈধ প্রার্থীরা হলেন- বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে অ্যাডভোকেট শাহ মোহাম্মদ মাহফুজুল হক, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে আব্দুল হান্নান মাসউদ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে মো. মাহবুবুর রহমান এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মোহাম্মদ ফজলুল আজিম ও তানভীর উদ্দিন রাজিব। এ ছাড়াও জাতীয় পার্টি (জাপা) থেকে এ. টি. এম. নবী উল্যাহ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) থেকে মোহাম্মদ আবদুল মোতালেব, গণঅধিকার পরিষদ থেকে মোহাম্মদ আজহার উদ্দিন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম শরীফ, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) থেকে মোহাম্মদ আবুল হোসেন এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসপি) থেকে আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আবদুল মালেক বৈধ প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। বাবা ও ছেলে দুজনই প্রার্থী হওয়ায় নির্বাচনী মাঠে সৃষ্টি হয়েছে ভিন্নমাত্রার আলোচনা। দুজনের দাখিল করা হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বাবার তুলনায় হান্নান মাসউদের সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১৮ গুণ বেশি। জেলা রিটার্নিং কার্যালয়ে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, হান্নান মাসউদের হাতে বর্তমানে নগদ রয়েছে ৩৫ লাখ টাকা। অন্যদিকে তার বাবা আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আবদুল মালেকের কাছে নগদ টাকার পরিমাণ ১ লাখ ৯৩ হাজার টাকা। সে হিসেবে ছেলের কাছে বাবার তুলনায় ১৮ গুণের বেশি নগদ অর্থ রয়েছে। হলফনামায় হান্নান মাসউদ নিজেকে একজন ব্যবসায়ী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। শিক্ষাগত যোগ্যতায় তিনি আলিম (উচ্চমাধ্যমিক সমমান) পাস। তিনি ঢাকার ‘ডিজিল্যান্ট গ্লোবাল’ নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক বলে উল্লেখ করেছেন। তার বাৎসরিক আয় দেখানো হয়েছে ৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা। এ ছাড়া তার নামে বন্ড ও ঋণপত্রে রয়েছে ১ লাখ টাকা, স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতু ৮ লাখ টাকা, ইলেকট্রনিক সামগ্রী ১ লাখ টাকা এবং আসবাবপত্র ১ লাখ টাকার। অন্যদিকে বাবা আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আবদুল মালেকের আয়ের প্রধান খাত কৃষি। হলফনামা অনুযায়ী, তার ইলেকট্রিক সামগ্রীর মূল্য ২৫ হাজার টাকা এবং আসবাবপত্রের মূল্য ৭৫ হাজার টাকা। এদিকে মনোনয়ন বৈধ ঘোষণার পর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ। তিনি বলেন, এনসিপি সর্বপ্রথম হাতিয়ায় জয়ী হবে। তবে নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে আমরা শঙ্কা প্রকাশ করছি। প্রশাসনকে অস্ত্র উদ্ধারের কথা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসলেও তারা এখনো কোনো অভিযান পরিচালনা করেনি। মিথ্যা মামলা দিয়ে আমার নেতাকর্মীদের হয়রানি করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যৌথবাহিনীর অভিযান প্রয়োজন। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে। যেহেতু হাতিয়া একটি ভিন্ন ভৌগোলিক এলাকা, তাই এখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি আরও বেশি প্রয়োজন। তারা যদি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে চায়, তাহলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। নাহলে আমরা মাঠে নামতে বাধ্য হবো। প্রশাসনের বিরুদ্ধে রাজপথে আন্দোলন করবো। জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, নোয়াখালীর ছয়টি সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ১৫ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল এবং ৪৭ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। যাচাই-বাছাইয়ে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী মনোনীত কোনো প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়নি। যাদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে বা কারও মনোনয়নপত্র গ্রহণের বিরুদ্ধে অন্য কোনো প্রার্থী সংক্ষুব্ধ হলে, নির্বাচন কমিশনে নির্ধারিত পদ্ধতিতে আপিল করতে হবে। আপিলের রায় অনুযায়ী আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবো। মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের সময় নোয়াখালী জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু তাহের ও মো. আরিফ হোসেন, জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাদেকুল ইসলামসহ সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন পর্যায়ের ম্যাজিস্ট্রেটরা উপস্থিত ছিলেন।

নোয়াখালী–৬ (হাতিয়া) সংসদীয় আসনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যতিক্রমী ও আলোচিত এক নির্বাচনী লড়াইয়ের মুখোমুখি হচ্ছে হাতিয়াবাসী। একই পরিবারের বাবা ও ছেলে এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক দল ও প্রতীকে। বাবা আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আবদুল মালেক বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (বিএসপি) হয়ে একতারা প্রতীকে এবং ছেলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ শাপলা কলি প্রতীকে নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন। এ নিয়ে এলাকায় চলছে আলোচনা, সমালোচনা ও কৌতূহলের শেষ নেই। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলামের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন বাবা ও ছেলে উভয়েই। বাবা–ছেলের একসঙ্গে নির্বাচনী মাঠে নামাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। কেউ বলছেন এটি নবীন ও প্রবীণের প্রতীকী লড়াই, আবার কেউ দেখছেন রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের নতুন এক মাত্রা অথবা ভিন্ন কৌশল। এই ধরনের প্রার্থী বিন্যাস ভোটের মাঠে শক্তির ভারসাম্যকে প্রভাবিত করতে পারে। এতে প্রকৃত রাজনৈতিক আলোচনা ও উন্নয়ন ইস্যুর বদলে শক্তির প্রদর্শনী সামনে চলে আসে, যা শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। জানা গেছে, নোয়াখালী–৬ (হাতিয়া) আসনে এবারের নির্বাচনে মোট ১৪ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এর মধ্যে জামায়াতে ইসলামী থেকে অ্যাডভোকেট শাহ মোহাম্মদ মাহফুজুল হক, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে আবদুল হান্নান মাসউদ, বিএনপি থেকে মো. মাহবুবুর রহমান, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন মোহাম্মদ ফজলুল আজিম, শামীমা আজিম, তানভীর উদ্দিন রাজিব, মুহাম্মদ নুরুল আমীন। এ ছাড়া জাতীয় পার্টি (জাপা) থেকে এ. টি. এম নবী উল্যাহ, নাছিম উদ্দিন মো. বায়েজীদ। অন্যান্য দলের মধ্যে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) মোহাম্মদ আবদুল মোতালেব, গণঅধিকার পরিষদের মোহাম্মদ আজহার উদ্দিন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম শরীফ, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) মোহাম্মদ আবুল হোসেন, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (বিএসপি) আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আবদুল মালেক। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একই পরিবার থেকে একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থীর অংশগ্রহণ কেবল রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা নয়, বরং এটি পেশিশক্তির দাপট দেখানোর একটি মাধ্যম। এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট পরিবার বা গোষ্ঠী এলাকাজুড়ে নিজেদের শক্ত অবস্থান জানান দিতে চায় এবং প্রতিপক্ষকে আগে ভাগেই চাপে রাখার কৌশল গ্রহণ করে। হাতিয়ার বাসিন্দা আবদুস সালাম বলেন , একই পরিবার থেকে দুই বা ততোধিক প্রার্থীর নির্বাচনে অংশগ্রহণ হাতিয়ার রাজনীতিতে নতুন কোনো বিষয় নয়। এটি মূলত একটি সুপরিকল্পিত কৌশল, যার মাধ্যমে ভোটকেন্দ্রভিত্তিক প্রভাব বজায় রাখা যায়। একাধিক প্রার্থী থাকলে একদিকে যেমন বেশি এজেন্ট নিয়োগ করা সম্ভব হয়, তেমনি মাঠে লোকবল ও শক্তির উপস্থিতিও বাড়ে, যা নির্বাচনের দিন বড় ভূমিকা রাখে। এ বিষয়ে আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী বাংলাদেশের আন্দোলনে আমি সক্রিয়ভাবে লড়াই করেছি। তবে ভোটের অভিজ্ঞতা আমার জন্য একেবারেই নতুন। ভোটার হওয়ার পর এখন পর্যন্ত কোনো জাতীয় বা স্থানীয় নির্বাচনে ভোট দিতে পারিনি। নোয়াখালী–৬ আসনের বাকি ১৩ জনের মধ্যে আমার বাবা একজন প্রবীণ ও অভিজ্ঞ মানুষ। তাই তার মনোনয়নপত্র দাখিল করাকে আমি উৎসাহিত করেছি। ভোটের মাঠে তার কাছ থেকেও নতুন কিছু শেখার সুযোগ হবে। আমি শাপলা কলি প্রতীকে লড়ব এবং বাবার এই নির্বাচনী লড়াইকেও আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই। তবে এ বিষয়ে আব্দুল মালেকের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, নোয়াখালীর ছয়টি আসনে ৮৮ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও জমা দিয়েছেন ৬২ জন প্রার্থী। আগামী ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত মনোনয়নপত্র বাছাই কার্যক্রম চলবে। তিনি আরও জানান, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। ২২ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হয়ে চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত। নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

দলীয় টিকিট না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেন স্বামী-স্ত্রী নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফজলুল আজিম দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মনোনয়নপ্রত্যাশী থাকলেও শেষ পর্যন্ত দলীয় টিকিট পাননি তিনি। দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ার পর মোহাম্মদ ফজলুল আজিম স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। একইসঙ্গে তার স্ত্রী শামীমা আজিমও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) বিকেলে তাদের পক্ষে নেতাকর্মীরা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলামের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। স্বামী–স্ত্রীর একসঙ্গে নির্বাচনী মাঠে নামাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক। জানা গেছে, নোয়াখালী–৬ (হাতিয়া) আসনে এবারের নির্বাচনে মোট ১৪ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এর মধ্যে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে অ্যাডভোকেট শাহ মোহাম্মদ মাহফুজুল হক, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে আবদুল হান্নান মাসউদ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে মো. মাহবুবুর রহমান, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন মোহাম্মদ ফজলুল আজিম, শামীমা আজিম, তানভীর উদ্দিন রাজিব, মুহাম্মদ নুরুল আমীন। এ ছাড়া, জাতীয় পার্টি (জাপা) থেকে এ. টি. এম নবী উল্যাহ, নাছিম উদ্দিন মো. বায়েজীদ। অন্যান্য দলের মধ্যে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) মোহাম্মদ আবদুল মোতালেব, গণঅধিকার পরিষদের মোহাম্মদ আজহার উদ্দিন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম শরীফ, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) মোহাম্মদ আবুল হোসেন, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (বিএসপি) আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আবদুল মালেক। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একই পরিবার থেকে একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থীর অংশগ্রহণ ভোটের হিসাবকে জটিল করে তুলতে পারে। এতে ভোট বিভাজনের পাশাপাশি দলীয় শৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক নৈতিকতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। স্থানীয় বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে এমন পদক্ষেপ দলীয় রাজনীতিতে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। তবে ফজলুল আজিমের ঘনিষ্ঠদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় জনগণের ওপর আস্থা রেখেই তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মো. রাশেদুল ইসলাম নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, নোয়াখালী–৬ (হাতিয়া) আসনে এবারের নির্বাচন বহুমাত্রিক ও আলোচিত হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর অংশগ্রহণে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেশ কঠিন হবে। এদিকে একাধিক নেতাকর্মী বলেন, হাতিয়ার রাজনীতিতে ফজলুল আজিমের উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। হাতিয়ার উন্নয়নে তার ভূমিকা রয়েছে এবং স্থানীয়ভাবে তার সমর্থন এখনও শক্ত অবস্থানে আছে। তবে তিনি শারীরিকভাবে ফিট না, তা ছাড়া তার ঋণ খেলাপি রয়েছে। সম্ভবত তার প্রার্থীতা বাতিল হতে পারে সেজন্য তিনি স্ত্রীকেও প্রার্থী করেছেন। এ বিষয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ ফজলুল আজিম বলেন, আমি ১৯৯০ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগদান করি। এরপর তিনবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার গৌরব অর্জন করেছি। এর মধ্যে দুইবার ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে এবং একবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে। দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে ধানের শীষের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলেও এবার আমাকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। তবুও আমি আশাবাদী, দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার মানুষ আমাকে শেষবারের মতো নির্বাচিত করে সংসদে পাঠাবেন। আমি সংসদে গিয়ে দ্বীপ হাতিয়ার মানুষের অধিকার, উন্নয়ন ও ন্যায্য দাবিগুলো দৃঢ়ভাবে তুলে ধরতে চাই। একইসঙ্গে এই আসনটি বিজয়ী করে দেশনায়ক তারেক রহমানের কাছে উপহার দিতে চাই। আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী তার স্ত্রী শামীমা আজিম বলেন, যারা অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেছেন এবং নানা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তারাই আজ ধানের শীষের প্রার্থী হয়ে মাঠে নেমেছেন এবং তাদের পক্ষে কাজ করছেন—এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমার স্বামী এই সংসদীয় এলাকার ধানের শীষের আন্দোলন ও রাজনীতির একজন প্রধান সংগঠক ও কান্ডারী ছিলেন। তাকে সহযোগিতা করতেই আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। আমরা আশাবাদী, হাতিয়ার মানুষ বিভ্রান্তি ও ছদ্মবেশী রাজনীতির বেড়াজাল ভেঙে ঐক্যবদ্ধ হবেন এবং নিজেদের প্রকৃত, পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতাকে চিনে নেবেন। নোয়াখালী জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, নোয়াখালীর ছয়টি আসনে ৮৮ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও জমা দিয়েছেন ৬২ জন প্রার্থী। ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত মনোনয়নপত্র বাছাই কার্যক্রম চলবে। তফসিল অনুযায়ী আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একযোগে অনুষ্ঠিত হবে। তিনি আরও বলেন, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে এবং ২২ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হয়ে চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে।

নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার মেঘনা নদীতে জাল ছাড়াই ধরা পড়েছে ২৩ কেজি ওজনের একটি কোরাল মাছ। মাছটি স্থানীয় বাজারে নিলামের মাধ্যমে ১৭ হাজার ২৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) বিকেলে হাতিয়া উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের হরিক্ষিত বাজার-সংলগ্ন মেঘনা নদীতে মাছটি পাওয়া যায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুড়িরচর ইউনিয়নের বড়দেইল ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. আব্দুল গনির ছোট ছেলে জেলে আনোয়ার হোসেন নদীতে জাল ফেলতে গিয়ে তীরে কাদার মধ্যে কোরাল মাছটি দেখতে পান। পরে বড় ভাইয়ের সহায়তায় মাছটি স্থানীয় বাজারে নিয়ে আসা হলে উৎসুক জনতা ভিড় জমায়। পরে নিলামে কেজিপ্রতি ৭৫০ টাকা দরে মোট ১৭ হাজার ২৫০ টাকায় এক মাছ ব্যবসায়ীর কাছে এটি বিক্রি করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, মেঘনা নদীতে অতীতে বড় আকারের মাছ পাওয়া গেলেও বর্তমানে তা অনেক কমে গেছে। কোরাল মাছের চাহিদা ও দাম অনেক বেশি। সেই হিসেবে মাছটি আরও বেশি দামে বিক্রি হতে পারত। তবে জাল ছাড়াই এমন বড় মাছ পাওয়াকে সবাই সৌভাগ্যের বিষয় হিসেবে দেখছেন। জেলে আনোয়ার হোসেন আনন্দ প্রকাশ করে বলেন, আমরা প্রতিদিনই জীবিকার তাগিদে নদীতে যাই। অনেক সময় সারাদিন জাল ফেলেও কিছুই পাওয়া যায় না। অভাবের এই সময়ে কোনো জাল ছাড়াই নদীর তীরে ভাসতে থাকা এত বড় মাছ পাওয়া নিঃসন্দেহে আল্লাহর পক্ষ থেকে এক বিরাট নেয়ামত। আল্লাহ যা দেন, তা সময়মতোই দেন—আজকের ঘটনাই তার প্রমাণ। আনোয়ারের বড় ভাই সিরাজ বলেন, হঠাৎ এত বড় কোরাল পাওয়াটা আমাদের জন্য অকল্পনীয় ছিল। মাছটি বাজারে নিয়ে আসার পর আশপাশের মানুষজন ভিড় করে দেখতে আসেন এবং ছবি ও ভিডিও তোলেন। পরিবারের সবাই এই ঘটনায় খুবই আনন্দিত। এ বিষয়ে হাতিয়ার মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. ফয়জুর রহমান বলেন, মেঘনা নদী সামুদ্রিক ও আধা-সামুদ্রিক মাছের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রজনন ক্ষেত্র। মাঝে মাঝে প্রাকৃতিক কারণে বড় আকৃতির কোরাল মাছ নদীর তীরে ভেসে উঠতে পারে। বর্তমানে বাজারে কোরাল মাছের দর তুলনামূলক বেশি। এ ধরনের মাছ পাওয়া নদীর জীববৈচিত্র্যের জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত।

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়া থেকে মায়ানমারে পাচারকালে বিপুল পরিমাণ সিমেন্টসহ ২ জন পাচারকারীকে আটক করেছে কোস্ট গার্ড। শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) বিকেলে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক এ তথ্য জানান। আটককৃতরা হলেন, ভেওলা মানিক চরের বহদ্দারহাট এলাকার মৃত দলিলুর রহমানের ছেলে সালাহউদ্দিন (৩৮) ও কক্সবাজার সদর উপজেলার সমিতি পাড়া এলাকার মোহাম্মদ সাফির ছেলে নূর মোহাম্মদ (৫২)। কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার ভোররাতের দিকে হাতিয়ার টাংকির খাল সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালায় কোস্ট গার্ড। অভিযান চলাকালে ওই এলাকায় একটি বোটে তল্লাশি করা হয়। তল্লাশি করে অবৈধভাবে শুল্ক-কর ফাঁকি দিয়ে মায়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে বহনকৃত প্রায় ৪ লক্ষ ৩৮ হাজার ৯০০ টাকা মূল্যের ৭৭০ বস্তা সিমেন্টসহ ২ জন পাঁচারকারীকে আটক করা হয়। কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক আরও বলেন, জব্দকৃত আলামত ও আটককৃত ব্যক্তিদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পাঁচার ও চোরাচালান রোধে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার জাগলার চরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গোলাগুলিতে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অন্তত ৮ থেকে ১০ জন আহত হয়েছেন। তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ একজন নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারলেও অপর চারজনের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার সুখচর ইউনিয়নের ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সীমান্তবর্তী জাগলার চর গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে একজন হলেন আলাউদ্দিন (৪০)। তিনি সুখচর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চর আমান উল্যাহ গ্রামের ছেরাং বাড়ির মহিউদ্দিনের ছেলে। হাতিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জাগলার চরের জমি এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে কাউকে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়নি। এ সুযোগে গত ৫ আগস্টের পর জাহাজমারা ইউনিয়নের কোপা সামছু বাহিনী ওই চরের বেশ কিছু জমি বিক্রি করে। পরে সুখচর ইউনিয়নের আলাউদ্দিন বাহিনী ওই জমির দখল নিতে মরিয়া হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে আলাউদ্দিন বাহিনী আরও বেশি দামে কিছু জমি বিক্রি করে। উভয় পক্ষ আলাদাভাবে চরের জমি বিক্রির চেষ্টা চালাতে থাকে। অভিযোগ রয়েছে, চর দখলের সঙ্গে যুক্ত ডাকাত আলাউদ্দিনের সঙ্গে সুখচর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি বেলায়েত হোসেন সেলিম, আওয়ামী লীগ নেতা নিজাম মেম্বার ও বিএনপি নেতা নবীর ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। তাদের সহযোগিতায় কোপা সামছু বাহিনীকে চর থেকে বিতাড়িত করে জমির দখল নিতে আলাউদ্দিন বাহিনীর সঙ্গে আঁতাত করা হয়। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে একাধিকবার বিরোধ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে চরের জমি দখলকে কেন্দ্র করে কোপা সামছু ও আলাউদ্দিন গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে বন্দুকযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। এতে প্রতিপক্ষের ছোড়া গুলিতে আলাউদ্দিনসহ চারজন গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। পরে আলাউদ্দিনকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অপর চারজনের মরদেহ ঘটনাস্থলেই পড়ে ছিল। স্থানীয়দের ধারণা, জাগলার চরে সংঘর্ষে তিন বাহিনী— ফরিদ কমান্ডার, শামসু বাহিনী এবং আলাউদ্দিন বাহিনী মুখোমুখি হয়ে গুলি চালিয়েছে। এতে সামসু বাহিনীর প্রধান এবং আলাউদ্দিন বাহিনীর প্রধান আলাউদ্দিন নিহত হয়েছেন। তবে ফরিদ ডাকাত তার বাহিনী নিয়ে পালিয়ে গেছে। বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে এই চর এলাকায় উশৃঙ্খলা বিরাজ করছে। সংঘর্ষের সময়ে বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং বাহিনীগুলো এখান থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। দুর্গম চরাঞ্চল হওয়ায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। স্থানীয় বাসিন্দা হাছান উদ্দিন বলেন, চর নিয়ে চলমান দ্বন্দ্বে তিন বাহিনী— ফরিদ কমান্ডার, শামসু বাহিনী এবং আলাউদ্দিন বাহিনী মুখোমুখি হয়ে গোলাগুলিতে জড়ায়। এতে সামসু বাহিনীর প্রধান সামসুদ্দিন ও আলাউদ্দিন বাহিনীর প্রধান আলাউদ্দিন নিহত হয়েছেন। তবে ফরিদ ডাকাত তার বাহিনী নিয়ে পালিয়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে এই চর এলাকায় উশৃঙ্খলা বিরাজ করছে। বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং বাহিনীগুলো এখানে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে সুখচর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি বেলায়েত হোসেন সেলিমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। হাতিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম বলেন, নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে একটি মরদেহ রাখা আছে, চারটি মরদেহ ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্গম চরাঞ্চলের কারণে পুলিশ বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে সক্ষম হয়। ময়নাতদন্তের পরই মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিতভাবে জানা যাবে।

নোয়াখালীর হাতিয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের প্রার্থী আব্দুল হান্নান মাসউদকে ফেসবুকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার চরঈশ্বর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের নন্দরোড বাজার থেকে তাকে আটক করা হয়। আটক যুবকের নাম ইসরাত রায়হান অমি (২৭)। তিনি হাতিয়া উপজেলার চরঈশ্বর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হালিম আজাদের ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল হান্নান মাসউদকে ফেসবুকে প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে হাতিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। হান্নান মাসউদের চাচা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির হাতিয়া উপজেলা সমন্বয় কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী শামছল তিব্রিজ এই জিডিটি করেন। জিডিতে মোট সাতজনের নাম উল্লেখ করে বলা হয়, বিবাদীরা বিভিন্ন সময় নানা কৌশলে আব্দুল হান্নান মাসউদ ও তার সহযোগীদের হত্যার হুমকি দিয়ে আসছে। এতে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয় যে, বিবাদীরা যেকোনো সময় বড় ধরনের ক্ষতিসাধন করতে পারে। এ ঘটনায় গত শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় হাতিয়া থানার প্রধান ফটকের সামনে বিক্ষুব্ধ জনতা সমবেত হয়ে হুমকিদাতাদের গ্রেপ্তারে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেয়। জিডির তথ্য অনুযায়ী, ‘ইসরাত রায়হান ওমি’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে এনসিপির এক কর্মীর মেসেঞ্জারে বার্তা পাঠিয়ে আব্দুল হান্নান মাসউদ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। মেসেঞ্জারের ওই স্ক্রিনশটে দেখা যায়, অমি লিখেছেন, ‘আবদুল হালিম আজাদকে নাকি গ্রেপ্তার করার চেষ্টা করছে কতিপয় নেতা। হান্নান বল আর তানভির বল যেই নেতাই হোক, খোদার কসম করে বললাম, উত্তর অঞ্চলে চলাচল হারাম হয়ে যাবে। আমাদের নেতাকর্মীরা ডাইরেক্ট গিলে খেয়ে ফেলবে। এখনো ধৈর্য ধরে আছি। তোর নেতাকে এটা কপি করে পাঠাইছ।’ এ বিষয়ে হান্নান মাসউদের চাচা শামছল তিব্রিজ বলেন, ‘আমরা সাতজনকে উল্লেখ করে সাধারণ ডায়েরি করেছি। ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছিলাম, আশা করি পুলিশ সবাইকে গ্রেপ্তার করবে। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।’ নিজের প্রতিক্রিয়ায় আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেন, ‘হত্যার হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো ন্যাক্কারজনক অপরাধ কোনো অবস্থাতেই মেনে নেওয়া যায় না। এ ধরনের কর্মকাণ্ড আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করার সুস্পষ্ট অপচেষ্টা এবং গণতান্ত্রিক চেতনার ওপর সরাসরি আঘাত। জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় না আনলে এ ধরনের অপরাধপ্রবণতা আরও বাড়বে।’ হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অভিযুক্ত ইসরাত রায়হান অমিকে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভূমিহীনদের পক্ষে কথা বলায় নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থী আব্দুল হান্নান মাসউদের তিন সমর্থককে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সকালে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম। এর আগে বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) বিকেলে হাতিয়া থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলায় আটজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। গুরুতর আহত মো. হাছান উদ্দিন নিজেই বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, মোটরসাইকেলে যাওয়ার পথে আসামিরা লাঠি, লোহার রড ও বটি-দাসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের গতিরোধ করে। পরে অতর্কিতভাবে প্রাণে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালানো হয়। এতে মো. হাছান উদ্দিন গুরুতর জখম হন। এ সময় হামলাকারীরা নগদ এক লাখ ৩৭ হাজার ২০০ টাকা লুটসহ মোট এক লাখ ৮৭ হাজার ২০০ টাকার ক্ষতিসাধন করে। জানা গেছে, মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার চরকিং ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের মধ্যম শুল্লকিয়া গ্রামের কিল্লার বাজার এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন- মধ্যম শুল্লকিয়া গ্রামের মো. ওমর ফারুকের ছেলে মো. হাছান উদ্দিন, মো. সালাউদ্দিনের ছেলে এমদাদ হোসেন এবং এমরান হোসেনের ছেলে রাজিব উদ্দিন। তারা সবাই জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এবং নিয়মিত শাপলা কলি প্রতীকের পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন। স্থানীয় সূত্র জানায়, হাতিয়ার নতুন জেগে ওঠা চর জাগলার ভূমি বন্দোবস্তকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। অভিযোগ রয়েছে, অতীতে ভূমিদস্যুদের কাছ থেকে নতুন চর প্রতি ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা দিয়ে কিনতে হতো। এ বিষয়ে এনসিপির প্রার্থী আব্দুল হান্নান মাসউদ ভূমিহীনদের উদ্দেশে স্পষ্টভাবে বলেন, সরকারি বন্দোবস্ত ছাড়া কোনোভাবেই জমির জন্য টাকা দেওয়া যাবে না। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভূমিহীনদের পক্ষে কথা বলার কারণেই মো. হাছান উদ্দিনের ওপর হামলা চালানো হয়। শামসুদ্দিনের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি দা দিয়ে তার পিঠ ও বুকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে এবং ডান হাত ভেঙে দেয়। এ সময় এমদাদ হোসেনকেও কুপিয়ে জখম করা হয়। তাদের রক্ষা করতে গেলে রাজিব উদ্দিন আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। গুরুতর আহত মো. হাছান উদ্দিন , ভূমিহীনদের পক্ষে কথা বলায় আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে দার কোপ রয়েছে। যারা হামলা করেছে তারা আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিল। ৫ আগস্টের পর তারা বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছে। হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম বলেন, এ ঘটনায় একটি মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।

হান্নান মাসউদের ৩ সমর্থককে কুপিয়ে জখম নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থী আব্দুল হান্নান মাসউদের তিন সমর্থককে কুপিয়ে জখমের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) রাতে আহতদের হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার চরকিং ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের মধ্যম শুল্লকিয়া গ্রামের কিল্লার বাজার এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন- মধ্যম শুল্লকিয়া গ্রামের মো. ওমর ফারুকের ছেলে মো. হাছান উদ্দিন, মো. সালাউদ্দিনের ছেলে এমদাদ হোসেন এবং এমরান হোসেনের ছেলে রাজিব উদ্দিন। তারা সবাই জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এবং নিয়মিত শাপলা কলি প্রতীকের পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাতিয়ার নতুন জেগে ওঠা চর জাগলার ভূমি বন্দোবস্তকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। অতীতে ভূমিদস্যুদের কাছ থেকে নতুন চর ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকার বিনিময়ে কিনে নিতে হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে এনসিপির প্রার্থী আব্দুল হান্নান মাসউদ ভূমিহীনদের জলদস্যুদের কাছ থেকে কোনো টাকা দিয়ে জমি না কেনার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সরকারি বন্দোবস্ত হলে ভূমিহীনদের কোনো টাকা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভূমিহীনদের পক্ষে কথা বলার কারণে মো. হাছান উদ্দিনের ওপর হামলা চালানো হয়। শামসুদ্দিনের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি তাকে দা দিয়ে পিঠ ও বুকে কুপিয়ে জখম করে এবং ডান হাত ভেঙে দেয়। এ সময় এমদাদ হোসেনকেও কুপিয়ে জখম করা হয়। তাদের রক্ষা করতে গেলে রাজিব উদ্দিনও আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। গুরুতর আহত মো. হাছান উদ্দিন বলেন , ভূমিহীনদের পক্ষে কথা বলায় আব্দুল মান্নান, সুমন উদ্দিন, মোসলেহ উদ্দিন, আলাউদ্দিন, আবদুল হক ধনু, সাকিল, সিরাজ, শামসুদ্দিন ও মহিউদ্দিন আমাদের ওপর হামলা চালায়। আমাদের শরীরের বিভিন্নস্থানে দার কোপ রয়েছে। তারা অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল, ৫ আগস্টের পর তারা বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হয় এবং বর্তমানে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর অনুসারী। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। অভিযোগ অস্বীকার করে বাজারের ব্যবসায়ী মহিউদ্দিন ঢাকা পোস্টকে বলেন, ভূমি নিয়ে বিরোধের জেরে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। আমি এর সঙ্গে জড়িত নই। আরেক অভিযুক্ত ও চরকিং ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক শামসুদ্দিন বলেন, আমাদের বাড়িতে এসে প্রথমে এনসিপির লোকজন হামলা চালায়। তাদের কে বা কারা হামলা করেছে, তা নিশ্চিতভাবে বলতে পারছি না। তবে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেন, এ ধরনের হামলা গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার ওপর সরাসরি আঘাত। রাজনৈতিক মতভিন্নতা থাকতে পারে, কিন্তু সন্ত্রাস ও সহিংসতার কোনো স্থান নেই। হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি। বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাহবুবের রহমান শামীমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং আহতদের সঙ্গে হাসপাতালে কথা বলেছে। এ ঘটনায় একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থী আব্দুল হান্নান মাসউদ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন। রোববার (১৪ ডিসেম্বর) বিকেলে হাতিয়া পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পুরাতন বাজার এলাকায় জনসংযোগ চালানোর সময় পেছন দিক থেকে একটি অটোরিকশা এসে তার বাম পায়ের ওপর উঠে যায়। এ ঘটনায় তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ব্যথায় আক্রান্ত হন। পরে কিছুটা স্বাভাবিক হলেও অতিরিক্ত জনসংযোগ চালিয়ে যাওয়ার কারণে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। বর্তমানে তিনি বিশ্রামে রয়েছেন বলে জানা গেছে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হাতিয়া উপজেলা যুবশক্তির আহ্বায়ক মো. ইউসুফ রেজা বলেন, পেছন দিক থেকে একটি অটোরিকশা এসে হান্নান মাসউদের বাম পায়ের ওপর উঠে যায়। প্রাথমিকভাবে অসুস্থ হলেও তিনি তখন প্রচারণা চালিয়ে যান। পরে জনসংযোগের কারণে তিনি আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং বর্তমানে বিশ্রামে রয়েছেন। আরেক প্রত্যক্ষদর্শী মো. হাফিজুর রহমান বলেন, গণসংযোগ পরিচালনার সময় হান্নান মাসউদ ভাই দুর্ঘটনার শিকার হন। এ সময় একটি অটোরিকশা দ্রুতগতিতে চালাচ্ছিলেন অল্প বয়সী এক চালক। সাধারণ জনগণের সঙ্গে মুসাফাহা করার মুহূর্তে পেছন দিক থেকে আসা অটোরিকশাটি হান্নান মাসউদের শরীরের সঙ্গে সামান্য লেগে যায়। এতে তিনি পায়ে আঘাত পান। পরে হান্নান মাসউদের এক্স-রে করানো হয়েছে। এতে কোনো ধরনের ফ্র্যাকচার ধরা পড়েনি। তবে আঘাতপ্রাপ্ত পা কিছুটা ফুলে গেছে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি ওষুধ সেবন করছেন এবং দুই-একদিন বেড রেস্টে থাকবেন। ইনশাআল্লাহ খুব দ্রুতই তিনি সুস্থ হয়ে আবার গণসংযোগে ফিরবেন। এ বিষয়ে আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেন, এটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা। অসাবধানতাবশত ঘটনাটি ঘটেছে। অটোরিকশাচালক ছিল অল্প বয়সী, এখানে কারও কোনো দোষ নেই। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি বুঝতে না পারলেও পরে জনসংযোগ চালিয়ে যাওয়ায় পায়ের অবস্থা কিছুটা খারাপ হয়েছে। তবে আমি আশঙ্কামুক্ত রয়েছি। এটি কোনো পূর্বপরিকল্পিত নাশকতা বা ষড়যন্ত্রমূলক ঘটনা নয়।

নোয়াখালীর হাতিয়ায় জেলের জালে ধরা পড়েছে ১০ মণ ওজনের এক শাপলা পাতা মাছ। বিরল এই মাছটি ঘিরে স্থানীয় জেলে ও ক্রেতাদের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) বিকেলে বুড়িরচর ইউনিয়নের দানারদোল মাছ বাজারে নিলামে তোলা হয়। ধরা ও বিক্রি নিষিদ্ধ হলেও মাছটি ১ লাখ ৩১ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। জানা গেছে, বুধবার দিবাগত রাতে হাতিয়ার মেঘনার মোহনায় সাগরে গ্যাসকূপের কাছে ধরা পড়ে এই বিরল ও বিশাল আকারের শাপলা পাতা মাছটি। সাত দিন আগে বেহুন্দি নৌকা নিয়ে জাল ফেলতে সাগরে গিয়েছিলেন কামাল মাঝি ওরফে মালয়েশিয়া মাঝি। নিয়মিত মাছ ধরার মতোই দীর্ঘ রাত পার করে ভোরে যখন তারা জাল টানতে যান, তখনই অস্বাভাবিক ভার অনুভব করেন। প্রথমে তারা ধারণা করেন জালে হয়তো একসঙ্গে অনেক মাছ আটকা পড়েছে, কিন্তু ধীরে ধীরে বোঝা যায়, এটি কোনো সাধারণ মাছ নয়—এর ওজন এত বেশি যে বোটে থাকা ১৫ জন মাঝি-মাল্লা মিলে জাল তুলতে সক্ষম হচ্ছিলেন না। পরিস্থিতি সামাল দিতে পাশের একটি নৌকার জেলেদের সাহায্য নিতে হয়। দুই নৌকার মাঝিদের যৌথ প্রচেষ্টায় শেষ পর্যন্ত উত্তোলন করা হয় ১০ মণ ওজনের বিশাল শাপলা পাতা মাছটি। পরে তা নিয়ে যাওয়া হয় হাতিয়ার দানারদোল মাছঘাটে। সেখানে নিলামে তোলা হলে স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী খবির উদ্দিন ব্যাপারী ১ লাখ ৩১ হাজার টাকায় মাছটি ক্রয় করেন। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কামাল মাঝি ওরফে মালয়েশিয়া মাঝি আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, অনেক দিন ধরে ধারদেনা করে ব্যবসা টিকিয়ে রেখেছি। এত বড় মাছ পাওয়ায় আল্লাহর কাছে হাজার শুকরিয়া। মাঝি-মাল্লাদের প্রত্যেকে ৫ হাজার টাকা করে পেয়েছেন। তবে ভালো দামের ব্যবসায়ী না থাকায় প্রত্যাশার তুলনায় দাম কম পেয়েছি। ক্রেতা খবির উদ্দিন ব্যাপারী বলেন, বিরল এই সামুদ্রিক প্রাণীটি ধরা পড়া ও বিক্রিকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। মোকামে শাপলা মাছের ভালো চাহিদা। তাই বেশি দামে বিক্রির আশায় মাছটি কিনেছি। সব মিলিয়ে হয়তো ২০ হাজার টাকা লাভ হতে পারে। এদিকে ঘটনাটি জানার পর হাতিয়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. ফয়জুর রহমান আইনগত বিষয়টি স্পষ্ট করে বলেন, বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী শাপলা পাতা মাছ ধরা ও বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কারণ এটি বিপন্ন প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত এবং সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এদের উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

নির্বাচনী কাজে সহযোগিতার জন্য ধান বিক্রি করে পাওয়া অর্থ জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে শাপলা প্রতীকের প্রার্থী আব্দুল হান্নান মাসউদকে দেন কৃষক আনোয়ার হোসেন বেচু। তবে হান্নান মাসউদ সেই টাকা গ্রহণ করলেও সঙ্গে সঙ্গেই কৃষকের হাতে ফেরত দিয়ে দেন। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুরে হাতিয়ার ওছখালী এলাকায় নির্বাচন কমিশন ও আরপিওর নির্দেশনা অনুযায়ী নিজের পোস্টার-ব্যানার অপসারণের তদারকির সময় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কৃষক আনোয়ার হোসেন বেচু নলচিরা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। নদী ভাঙনে সব হারিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ভূমিহীন অবস্থায় ছিলেন। ২০১২ সালে সরকার জমি বন্দোবস্ত দিলেও নানা বাধার কারণে তা দখলে নিতে পারেননি। জুলাই বিপ্লবের পর আব্দুল হান্নান মাসউদের উদ্যোগে হাতিয়ার প্রায় ১০ হাজার ভূমিহীন তাদের জমি ফেরত পান। সেই সময়ে কৃষক বেচুও নিজের বন্দোবস্তের জমি ফিরে পান। এরপর সেই জমিতে ধান চাষ করে এবার ফসল বিক্রির পর পাওয়া অর্থের একটি অংশ তিনি কৃতজ্ঞতা হিসেবে নির্বাচনী কাজে দিতে চান। হান্নান মাসউদ টাকা গ্রহণ করে পরে আবার তার হাতেই ফেরত দেন এবং শাপলা কলি প্রতীকের পক্ষে খরচ করার কথা বলেন। কৃষক আনোয়ার হোসেন বেচু বলেন, নদী ভাঙনে সব হারিয়ে বহু বছর ভূমিহীন হয়ে কষ্ট করেছি। সরকার জমি দিলেও নানা ঝামেলায় দখল পাইনি। জুলাই বিপ্লবের পর হান্নান মাসউদ ভাইয়ের উদ্যোগেই আমি আমার জমি ফেরত পাই। সেই জমিতে এ বছর প্রথমবারের মতো ধান তুলেছি। কৃতজ্ঞতা থেকেই ধান বিক্রির কিছু টাকা তার নির্বাচনী কাজে দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করে আবার আমার হাতেই ফেরত দেন এবং এনসিপির জন্য খরচ করতে বলেন। তিনি আরও বলেন, আমার এলাকায় হান্নান মাসউদ ভাইয়ের ভোটের দায়িত্ব আমরা নিয়েছি। আমরা তার জন্য প্রচারণা চালাবো। তিনি ভূমিহীনদের বন্ধু। তার মতো মানুষ রাজনীতিতে থাকলে আমাদের মতো গরিব মানুষের ভরসা আরও শক্ত হবে। ভূমিহীন মানুষের এমন ভালোবাসা পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন হান্নান মাসউদ। তিনি বলেন, ভূমিহীন মানুষের কাছ থেকে এমন ভালোবাসা পাওয়ার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। তাদের দীর্ঘদিনের কষ্ট, বঞ্চনা আর সংগ্রামের গল্প আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি। জমি পাওয়ার পর আজ তারা যে হাসি ও আস্থা নিয়ে আমার পাশে দাঁড়াচ্ছেন এটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। তিনি বলেন, কৃষক বেচু ভাই ধান বিক্রি করে যে টাকা আমাকে দিতে চেয়েছেন, তা শুধু টাকা নয় এটি তাদের বিশ্বাসের প্রতীক। কিন্তু এই টাকা নেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়। আমি চাই তারা নিজেদের পরিবার, জমি আর ভবিষ্যতের জন্যই তা ব্যয় করুন। জনগণের দোয়া, ভালোবাসা ও আস্থাই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি। শাপলা কলির পক্ষে এই মানুষের সমর্থনই আমাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে। এ সময় হাতিয়া কলেজের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মফিজ উদ্দিন আহমদ, কৃষক বেলাল উদ্দিন, এনসিপির হাতিয়া উপজেলা প্রধান সমন্বয়কারী শামছুল তিব্রিজ, যুবশক্তির আহ্বায়ক মো. ইউসুফ রেজা, বাগছাসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক হাফিজুর রহমানসহ ভূমিহীন মানুষজন উপস্থিত ছিলেন।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস স্যারকে দিয়ে হাতিয়ার ব্লকবাঁধের জন্য ২১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করিয়েছেন বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) বিকেলে শাপলা প্রতীকে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে মনোনয়ন পেয়ে হাতিয়ার আফাজিয়া বাজারে পথসভায় তিনি এ কথা জানান। আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেন, অনেকে বলে ক্ষমতায় আসলে এই করবে সেই করবে, ব্লকবাঁধ করবে। মোহাম্মদ আলী (আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি) করে নাই, তার আগে কেউ করে নাই। কেন আফাজিয়া বাজার থেকে ১৫ কিলোমিটার ভাঙতে হলো। সব দোষ মোহাম্মদ আলীর। স্পিডবোট ভাড়া ৪০০-৫০০ টাকা মোহাম্মদ আলীর আগেও ছিল। তখন এত টাকা কারা খাইসে। তেলের দাম ৬৫ টাকা ছিল, কিন্তু আমাদের থেকে ৪০০-৫০০ টাকা করে কারা নিছে। তিনি আরও বলেন, বড় বড় গলাবাজি যারা করে তাদের বইলেন আপনারা কারা তা দেখেছি। আপনাদের সামনে একটা জিনিস দেখাতে চাচ্ছি। ড. মুহাম্মদ ইউনূস স্যারের সাথে দেখা করে পুরো হাতিয়ার জন্য সাড়ে ২১ কিলোমিটারের স্থায়ী ব্লকবাঁধ ও বেড়িবাঁধের প্রজেক্ট রেডি করেছি। সুখচর থেকে বাংলা বাজার পর্যন্ত সাড়ে ১১ কিলোমিটার ব্লক এবং তার ১০০ মিটার উপরে স্থায়ী বেড়িবাঁধের জন্য ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। আমাদের বলেছে ৮০০ কোটি টাকায় কাজ করতে হবে। আমি ইউনুস স্যারকে বলেছি ২১০০ কোটি টাকা লাগবে। সেই টাকার প্রথম ধাপে সাড়ে ১১ কিলোমিটার কাজ হবে ইনশাআল্লাহ। আপনারা ক্ষমতায় আসার পর যদি করতে হয়, তাহলে হান্নান মাসউদের রিভিউ করা কাজ করতে হবে। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে হান্নান মাসউদ বলেন, বিএনপি-জামায়াত-এনসিপি-গণঅধিকারসহ যত দল আছে এবং যারা হাতিয়াতে আছে তাদের সবাইকে বলছি আপনারা ঐক্যবদ্ধ হন। আর আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে দ্বীপ হাতিয়াকে বাঁচাই। আমরা হাতিয়ার লোকজন সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে এ দ্বীপকে ভূমিদস্যু থেকে বাঁচাবো, জলদস্যু থেকে বাঁচাবো, নদী ভাঙন থেকে বাঁচাবো। তাই আমি দলমত নির্বিশেষে সকলকে আহ্বান করব আসেন আমরা সবাই মিলে যায়, সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে হাতিয়াকে বদলাই। তিনি আরও বলেন, হাতিয়াকে বাঁচাতে হলে দলে দলে লড়াই করা যাবে না, মারামারি হানাহানি করা যাবে না। হাতিয়ার মানুষ যদি নিজেদের মধ্যে আরেকবার সংঘাতে জড়ায় তাহলে আর হাতিয়ার মানুষের মুক্তি মিলবে না। হান্নান মাসউদ বলেন, আমি আজ এখানে কোনো নির্বাচনী জনসভা করতে আসিনি। যদিও আমাকে আমার দল থেকে নির্বাচন করার জন্য মনোনয়ন দিয়ে শাপলা কলি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমি বলব হাতিয়ার মানুষ না চাইলে আমি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব না। হাতিয়ার মানুষ চাইলে আমি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো। হাতিয়ার উন্নয়নের স্বার্থে আমরা কোনো দলের বিরুদ্ধে বলবো না, তাই দলবল নির্বিশেষে আমরা সবাইকে নিয়ে নতুন একটি হাতিয়া গড়তে চাই। এদিকে পথসভাকে কেন্দ্র করে দুপুর থেকে দ্বীপের বিভিন্ন স্থান থেকে মিছিল নিয়ে আফাজিয়া ঘাটে আসতে থাকে লোকজন। এ সময় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) হাতিয়া উপজেলার প্রধান সমন্বয়কারী শামছুল তিব্রিজ, হাতিয়া উপজেলা যুবশক্তির আহ্বায়ক মো. ইউসুফ রেজা, হাতিয়া উপজেলার ছাত্রশসক্তির আহ্বায়ক নেয়ামত উল্লাহ নিরবসহ এনসিপির কেন্দ্রীয় ও উপজেলা কমিটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে শাপলা কলি প্রতীকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে নির্বাচন করবেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) বেলা ১১টায় প্রথম ধাপের ১২৫ জন দলীয় মনোনীত প্রার্থীর তালিকা ঘোষণা করে এনসিপি। এতে নোয়াখালীর ৬টি আসনের মধ্যে ৩টি আসনে শাপলা কলি প্রতীকে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। আসন গুলো হলো—নোয়াখালী-১ (চাটখিল-সোনাইমুড়ী) আসনে ব্যারিস্টার ওমর ফারুক, নোয়াখালী-৫ (কোম্পানীগঞ্জ-কবিরহাট) আসনে অ্যাডভোকেট হুমায়রা নূর ও নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে আবদুল হান্নান মাসউদ। অন্যদিকে নোয়াখালী-২ (সেনবাগ-সোনাইমুড়ী), নোয়াখালী-৩ (বেগমগঞ্জ) ও নোয়াখালী-৪ (সদর-সুবর্ণচর) আসনের প্রার্থী এখনো ঘোষণা করা হয়নি।

হাতিয়ার তমরদ্দি ইউনিয়নে বাঁশের সাঁকোতেই চলছে দুই হাজার মানুষের জীবনযুদ্ধ ছবির ক্যাপশন: হাতিয়ার তমরদ্দিতে বাঁশের সাঁকোতেই চলছে দুই হাজার মানুষের জীবনযুদ্ধ। নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার তমরদ্দি ইউনিয়নের ৪ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তরাঞ্চলের প্রায় দুই হাজার মানুষের একমাত্র ভরসা একটি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো। যুগের পর যুগ পার হয়ে গেলেও আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থার ছোঁয়া পৌঁছায়নি এই অঞ্চলে। শিক্ষার্থী থেকে কৃষক, শ্রমজীবী থেকে গৃহিণী—প্রতিদিনই সবাইকে এই সাঁকো পার হতে হয় মৃত্যু-ঝুঁকি মাথায় নিয়ে। প্রতিদিন এক হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী এই সাঁকো দিয়ে স্কুল–কলেজ ও মাদ্রাসায় যায়। অনেকেই প্রায়ই পিছলে পড়ে আহত হয়, কেউ গুরুতর শারীরিক ক্ষতির শিকার হয়। আরও বড় সমস্যা দেখা দেয় জরুরি চিকিৎসার সময়—কারণ এখানে অ্যাম্বুলেন্স যাওয়ার সুযোগ নেই। রোগীকে কাঁধে তুলে পথ পার করানো ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না।বর্ষা এলেই দুর্দশা ভয়াবহ রূপ নেয়। সাঁকোটি তখন প্রায় অচল হয়ে পড়ে। মানুষকে কোমর–সমান পানিতে নেমে নৌকায় ভর করে যাতায়াত করতে হয়। এতে নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের জীবন হয়ে ওঠে আরও দুর্বিষহ। এ অঞ্চলের মানুষ বছরের পর বছর শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, সাংস্কৃতিক সুযোগ–সুবিধা ও মৌলিক নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে। অথচ প্রতিটি নির্বাচনে এই সাঁকোই হয়ে ওঠে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির প্রধান হাতিয়ার। প্রার্থীরা বলেন—“পাকা সেতু হবে, দুর্ভোগ শেষ হবে”—কিন্তু নির্বাচন শেষ হলেই প্রতিশ্রুতি হারিয়ে যায়।স্থানীয়রা জানান, তারা বিনা কারণে সাহায্য চান না—তারা শুধু চান মানুষের মতো নিরাপদে চলাচলের মৌলিক অধিকার। তাদের একটাই দাবি, এই নড়বড়ে সাঁকোর বদলে একটি স্থায়ী, নিরাপদ পাকা সেতু নির্মাণ করা হোক।নোয়াখালী জেলা প্রশাসন, হাতিয়া উপজেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমের প্রতি তারা দাবি জানিয়েছেন—একবার এসে নিজের চোখে দেখুন এই মানুষের কষ্ট। একটি সেতু শুধু ইট–পাথরের কাঠামো নয়; এটি হবে উন্নয়নের প্রতীক, নিরাপত্তার নিশ্চয়তা এবং একটি মানবিক ভবিষ্যতের পথ।

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় দ্বিতীয় বিয়ে করায় আবদুর রহমান (২৪) নামের এক যুবককে প্রথম স্ত্রীর বাড়িতে পাঁচদিন ধরে শিকলবন্দি করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। জাহাজমারা ইউনিয়নে কাটাখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সোমবার (১ ডিসেম্বর) ঘটনাটি জানাজানির পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত আব্দুর রহমান বুড়িরচর ইউনিয়নের রেহানিয়া গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে। প্রথম স্ত্রী হাসিনা বেগম (২১) জাহাজমারা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাটাখালী গ্রামের আবুল কাশেমের মেয়ে। হাসিনা বেগম বলেন, তিন বছর আগে আমাদের বিয়ে হয়েছে। আমি দুই বছর ধরে বাবার বাড়িতে থাকি। বাবার বাড়িতে আসার পর স্বামী খোঁজ নিতেন না। পরে জানতে পারি তিনি আবারও বিয়ে করেছেন। এ কারণে ঘরের লোকদের দিয়ে কৌশলে ডেকে আনা হয়েছে। হাসিনা বেগমের দাবি, আমাদের বিয়ের সময় এক ভরি সোনার গয়না, এক লাখ টাকা এবং আসবাবপত্র যৌতুক দেওয়া হয়। কিন্তু বিয়ের ছয় মাস না যেতেই সংসারে শুরু হয় নানা অশান্তি। অন্য নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানোকে কেন্দ্র করে কয়েকবার শালিসও হয়। না শোধরানোয় আমি চলে আসি। তিনি আরও বলেন, বাবার বাড়িতে আসার পর দুই বছর ধরে স্বামী আমার খোঁজখবর নিতেন না। পরে জানতে পারি তিনি আবারও বিয়ে করেছেন। এ পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে স্ত্রীর অধিকার আদায় করার জন্য তাকে আটকে রেখেছি। দুই বিয়ের কথা স্বীকার করে শিকলবন্দি স্বামী বলেন, বিয়ের তিন বছর ধরে কোনো সন্তান হয়নি আমাদের। এ নিয়ে কলহ হয়। একপর্যায়ে আমার স্ত্রী বাবার বাড়িতে চলে যান। গত এক-দেড় মাস আগে আমি আরেকটি বিয়ে করি। এরপর শ্বশুরবাড়ির লোকজন আমাকে ধরে এনে মারধর করেন এবং পায়ে শিকল দিয়ে আটকে রাখেন। শিকলবন্দী যুবকের বাবা আনোয়ার হোসেন বলেন, গত বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) দুপুরে আমার ছেলেকে ধরে নিয়ে যান শ্বশুরবাড়ির লোকজন। খবর পেয়ে আমি গিয়ে দেখি, ছেলেকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে হাতিয়া থানায় করা হয়েছে। হাতিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনিছুর রহমান বলেন, অভিযোগ দিয়েছেন কি না, আমার জানা নাই। বিষয়টি জাহাজমারা তদন্ত কেন্দ্র দেখবে। জাহাজমারা তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) খোরশেদ আলম বলেন, ঘটনাটি লোকমুখে শুনেছি। এখনো অভিযোগ পাইনি। পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যে সাকিব বাড়িতে ফিরলেই মা ডাক দিতেন, আজ সেই সাকিব আর কোনো শব্দ করছে না। বাড়ির উঠানে স্বজনদের ভিড়, ঘরের ভেতর কান্নার রোল। আর্তনাদ করে সাকিবের মা বলছিলেন, ছেলে আমার বড় অফিসার হইবো, কিন্তু কথা কয় না কেন? আমারে মা বলে ডাক দেয় না কেন? বাড়ি এলেই বলতো- মা, আপনার হাতের রান্নার স্বাদ বিশ্ববিদ্যালয়ে পাই না। এখন আমি কার জন্য রান্না করমু? আমার সাকিব আমারে কিছু খেতে আর আবদার করবে না। এভাবেই কথা বলছিলেন ফুটবল খেলতে গিয়ে আহত হয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মারা যাওয়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ সাকিবের মা রোজিনা আক্তার। আরিফুল ইসলাম সাকিব নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার জাহাজমারা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চর হেয়ার গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন মেঝো। ঠিক এক বছর আগে সন্তান প্রসবের সময় সাকিবের একমাত্র বোন লিজা আক্তার সাথী মারা যান। এক বছরে দুই সন্তান হারিয়ে বাকরুদ্ধ বাবা-মা। বিজ্ঞাপন নাতির মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন সাকিবের দাদা-দাদি। সাকিবের অকাল মৃত্যুতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়েও নেমেছে শোকের ছায়া। সহপাঠীরা হারিয়েছে একজন প্রাণবন্ত ও সদালাপী তরুণকে। মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) সকালে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। সহপাঠীরা বলেন, সাকিব কিছুদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। অসুস্থতা থাকা সত্ত্বেও তিনি ফুটবল খেলতে নেমেছিলেন। তার অবস্থার অবনতি হলে তিনি কয়েকবার বমি করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টার থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। চিকিৎসকদের মতে, মাথায় সামান্য আঘাত থেকেও মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হতে পারে, এবং সেই রক্তক্ষরণেই সাকিবের মৃত্যু হয়েছে। প্রায় এক বছর আগে প্রসব জটিলতায় গর্ভের নয় মাসের কন্যাসন্তানসহ প্রাণ হারানো লিজা আক্তার সাথীর কবরের পাশে সাকিবকেও দাফন করা হয়েছে। শোকাচ্ছন্ন পরিবেশ ছড়িয়ে আছে পুরো বাড়িজুড়ে। সাকিবের মা রোজিনা আক্তার বলেন, ছেলে আমার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে বড় অফিসার হইতো, মানুষের সেবা করতো- এই স্বপ্নই দেখতাম রাইতে-দিনে। কিন্তু আজ এত মানুষ, এত কান্না… তবুও আমার সাকিব একটা শব্দও করে না। কথা কয় না কেন? মা বলে ডাক দেয় না কেন? তিনি আরও বলেন, বাড়ি আসলেই দরজা দিয়া ঢুকতে ঢুকতেই বলতো- মা, তোমার হাতের রান্নার স্বাদ কোথাও পাই না। বিশ্ববিদ্যালয়ের খাবার ভালো লাগে না। এখন আমি কার জন্য রান্না করমু? আমার সাকিব আমারে আর আবদার করবে না। আমি রাইতে ভাবি- আমার ছেলে এখনো হাসতেছে, খেলতেছে… পরে মনে পড়ে- আমার ঘরের সোনা আজ আর শ্বাস নেয় না। সাকিবের বাবা আনোয়ার হোসেন ঢাকা পোস্টকে বলেন, গত বছর আমার মাইয়াডারে মাটিতে দিলাম। এক বছরও যায় নাই- এই বছর আমার ছেলেডা। এক বছরে দুইটা সন্তানকে নিজের হাতে কবরে নামালাম। আল্লাহ মানুষে কতো পরীক্ষা দেন? বাবা-মায়ের বুক এভাবে ভাঙলে কি আল্লাহরও কষ্ট লাগে না? আমি সন্তান হারিয়ে পাগলপ্রায়। এ সময় তিনি আর্তনাদ করে বলেন, আল্লাহ, আমারে নাও, আমি পারতেছি না আর। আমার বুক বড় ভারী হইয়া গেছে। আমারে ছাড়া অন্য কাউরে নিতে পারলেন না? আমার দুই চোখ আজ আমার দুই বাচ্চার জন্য পাথর হইয়া আছে। আমি শুধু সন্তান হারাই নাই- হারাইছি বাড়ির হাসি, আলো আর স্বপ্ন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন বলেন, সাকিবের মৃত্যুতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার গভীরভাবে শোকাহত। উপাচার্য মহোদয় শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। এমন এক মেধাবী শিক্ষার্থী, যিনি প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে উঠে এসে নিজের যোগ্যতায় এগিয়ে যাচ্ছিলেন- তার অকাল মৃত্যু আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। আরও বেদনাদায়ক হলো, এক বছরের মধ্যে তার বাবা-মা দুই সন্তানের মৃত্যু বেদনা সহ্য করছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন হিসেবে আমরা তাদের পরিবারের পাশে থাকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো, ইনশাআল্লাহ।
হাতিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত প্রকৌশলী তানভীর উদ্দিন রাজিব বলেছেন, এমপি না হলেও কিংবা রাজনীতিতে বড় কিছু না হলেও হাতিয়ার মানুষকে ছেড়ে কোথাও যাব না। হাতিয়ার সাড়ে ৭ লাখ মানুষ ভাড়াটে বা উড়ে আসা নেতৃত্ব মেনে নেব না। হাতিয়ায় জন্ম নেওয়া বা নেতৃত্ব দেওয়া যে কাউকে আমরা মেনে নেব। বহিরাগত যাকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আপাতত মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে- হাতিয়ার মানুষ তা পরিবর্তন চাই। রোববার (২৩ নভেম্বর) দুপুরে হাতিয়ায় আগমন করে আফাজিয়া বাজারে এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (চট্টগ্রাম) মাহবুবুর রহমান শামীম হাতিয়া আসনে ধানের শীষের মনোনয়ন প্রাপ্তির পর প্রথম হাতিয়ায় এসে তিনি (প্রকৌশলী তানভীর) বলেন, আমি যখন (২০২০) হাতিয়ায় বিএনপির দায়িত্বে ছিলাম, তখন ঈমানী দায়িত্ব হিসেবে বিএনপিকে আঁকড়ে রেখেছিলাম। তখন বহিরাগতরা কোথায় ছিল। দেশনায়ক তারেক রহমান দেশের বাইরে, হাইকমান্ডকে তারা ভুল বুঝিয়ে হাতিয়া আসনকে বহিরাগতর হাতে তুলে দিয়েছেন। এটি সম্ভাব্য মনোনয়ন, পরিবর্তনের সুযোগ আছে। হাতিয়ার প্রকৃত বাসিন্দা যাকেই বিএনপির মনোনয়ন দেবে আমরা তাকে মেনে নেব। তিনি আরও বলেন, জন্মের পর থেকে এই হাতিয়ার রাস্তা-ঘাট, হাট-বাজারের নাম আমাদের মুখস্থ। কেউ শিখিয়ে দেওয়া লাগেনি। সুতরাং বহিরাগত যারা যেখানে নেতৃত্ব দিয়েছে তারা সেখানে মূল্যায়িত হোক। গতকাল সন্ধ্যায় বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফজলুল আজিমের মশাল মিছিলে শামীম পন্থীদের বাধা এবং তার (ইঞ্জিনিয়ার তানভীর) ব্যানার পোস্টার ছিঁড়ে ফেলারও তীব্র নিন্দা জানান পথসভায়। পরে সভা শেষে নলচিরা ঘাট থেকে আফাজিয়া বাজার হয়ে হাজারো হোন্ডা, জিপ ও বাস একযোগে শোডাউন করে উপজেলা শহর ওছখালী মাস্টার পাড়া তার বাসভবনে অবস্থান নেন। এর আগে হাতিয়ার প্রত্যন্ত এলাকা থেকে প্রায় দশ হাজারের অধিক বিএনপির কর্মী-সমর্থকরা প্রকৌশলী তানভীরকে অভিবাদন জানানোর জন্য নলচিরা নৌ-ঘাটে অবস্থান নেয়।

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ৩০জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। হাতিয়া থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূএ জানায়, শনিবার সন্ধ্যার দিকে উপজেলার ওছখালী জিরো পয়েন্টে বিএনপি মনোনীত প্রাথী কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম এবং হাতিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য ফজলুল আজিমের অনুসারীদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আজিম অনুসারী হাতিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ইফতেখার হোসেন জানান, শনিবার সন্ধ্যায় স্থানীয় ওছখালী বাজারে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের বিএনপির মনোনীত প্রাথী কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীমের প্রার্থীতা পরিবর্তনের দাবিতে মশাল মিছিল কর্মসূচি দেয় সাবেক সংসদ সদস্য ফজলুল আজিমের অনুসারীরা। সন্ধ্যার দিকে উপজেলার তমরুদ্দি থেকে মশাল মিছিলে যোগ দিতে আজিম অনুসারী বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা তার ওছখালীর বাড়ির উদ্দেশ্যে আসতে থাকলে শামীম অনুসারীরা তাদেরকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়ে হামলা চালায়। এতে সাবেক সাংসদ আজিম অনুসারী ১৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়। পরে আজিম অনুসারী নেতাকর্মীরা একত্রিত হয়ে শামীম অনুসারীদের ওপর লাঠি সোটা ও ইট পাটকেল নিয়ে পাল্টা হামলা চালায়। একপর্যায়ে শামীম অনুসারীরা পিছু হটতে বাধ্য হয়। এই হামলা-পাল্টা হামলায় ১৫/১৬ জন নেতাকর্মী আহত হয়ে উপজেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। শামীম অনুসারী হাতিয়া পৌরসভা যুবদলের সদস্য সচিব কাউছার মোস্তফা বলেন, ওছখালী বাজারের রেডট্রি হোটেলের সামনে থেকে ধানের শীষ মার্কার সমর্থনে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা একটি মিছিল বের করে। ওই সময় উপজেলার তমরদ্দি থেকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে আজিম অনুসারী নেতাকর্মীরা একটি মিছিল নিয়ে ওছখালি বাজারে আসে। এক পর্যায়ে ওছখালি বাজার মোড়ে দুটি মিছিল মুখোমুখি হয়। এ সময় আজিম অনুসারী নেতাকর্মীরা আমাদের ওপর হামলা চালায়। এতে আমাদের ১০-১২জন নেতাকর্মী আহত হয়। পরবর্তীতে তারা শামীম অনুসারী হাতিয়া পৌরসভা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোকারম বিল্লাহ শাহদাতের বাসায় হামলা চালায় এবং ছররা গুলি ছোড়ে। ওই সময় সড়কে শামীম অনুসারীদের কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয় তারা। বর্তমানে ওছখালী বাজার আমাদের দখলে রয়েছে। হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম আজমল হুদা বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষের অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বলেন, দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। তবে আমার কাছে আহত হওয়ার কোন সংবাদ নেই।

নোয়াখালীর হাতিয়ায় বিএনপির প্রার্থী মাহবুবের রহমান শামীমকে হাত তুলে সমর্থন জানালেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। বুধবার (১৯ নভেম্বর) বিকেলে উপজেলার চরঈশ্বর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের শ্রীশ্রী গৌর নিতাই সেবাশ্রমে নবান্ন উৎসব উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তারা এ সমর্থন জানান। অনুষ্ঠানে মন্দির কমিটির সভাপতি ধনেশ্বর চন্দ্র দাস বক্তব্যের শেষে উপস্থিত সবাইকে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে হাত তুলে সমর্থন জানানোর অনুরোধ করেন। তার আহ্বানের সঙ্গে সঙ্গেই সবাই দুই হাত তুলে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী ও দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীমের প্রতি সমর্থন জানান। অনুষ্ঠানে সাবেক ইউপি সদস্য সুনীল চন্দ্র দাস, মন্দিরের পুরোহিত বিন্দা সাধু, উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাবেক সভাপতি রিপন দন্দ্র দাস, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিরুল হায়দার চৌধুরী সাজ্জাদ, পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মিল্লাতুর রহিম মিল্লাত, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব ফাহিম উদ্দিন, পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম হাওলাদার, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব সুমন তালুকদার, ছাত্রদলের আহ্বায়ক রিয়াজ মাহমুদ, সদস্য সচিব আইয়ুব চৌধুরীসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ার পর প্রতিদিনই হাতিয়ার বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ, উঠান বৈঠক, সভা-সমাবেশসহ প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। এরই অংশ হিসেবে তিনি বুধবার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আমন্ত্রণে চরঈশ্বর ইউনিয়নের শ্রীশ্রী গৌর নিতাই সেবাশ্রমে নবান্ন উৎসবে যোগ দেন। সেখানে প্রায় সহস্রাধিক ভক্ত-অনুরাগী উপস্থিত ছিলেন। হিন্দু সম্প্রদায়ের উদ্দেশে মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, ৫ আগস্টের পর আপনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ছিল আমাদের প্রধান দায়িত্ব। আমরা সেই দায়িত্ব পালন করতে পেরেছি বলে মনে করি। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিই আমাদের শক্তি। আগামী দিনেও হিন্দু-মুসলিম সবাই মিলে একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ গড়ে তুলতে চাই। আপনারা আগামী নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে আমাকে বিজয়ী করবেন।

বাংলাদেশের জনগণ এখন নির্বাচনের ট্রেনে উঠে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাহবুবের রহমান শামীম। রোববার (১৬ নভেম্বর) বিকেলে হাতিয়ার বুড়িচর শহীদ আলী আহমেদ মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে হাতিয়া উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। শামীম বলেন, সারাদেশের মানুষ ভোট দিতে উদগ্রীব। নির্বাচনী ট্রেন চলতে শুরু করেছে, সেই ট্রেনে বাংলাদেশের জনগণ উঠে পড়েছে অলরেডি। মাঠে-মাঠে, রাস্তায়-রাস্তায় মানুষের ঢল প্রমাণ করে আগামী ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ধানের শীষকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করবে জনগণ। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনকে বানচাল করতে একটি মহল সক্রিয় হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশকে নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে, নির্বাচনকে ঘিরে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে এসব অপচেষ্টা মোকাবিলা করতে হবে। হাতিয়ার সার্বিক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শামীম বলেন, গত ১৭ বছরে হাতিয়া দ্বীপ বঞ্চনার শিকার হয়েছে। সন্ত্রাস আর চাঁদাবাজির কারণে মানুষ কষ্টে ছিল। বিএনপি সরকার গঠন করলে নৌপথ, সড়ক, শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যবস্থা সংস্কার করা হবে। হাতিয়ার পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে এটিকে সারা দেশের মধ্যে একটি রোল মডেল করা হবে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে নদীভাঙন রোধে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হবে। হাতিয়ায় উন্নত হাসপাতাল স্থাপন করা হবে। নৌ ও সড়ক যোগাযোগ উন্নত করে মানুষের দুর্ভোগ কমানো হবে। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সদস্য এ কে এম ফজলুল হক খোকন। বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব হারুন উর রশিদ আজাদ এবং হাতিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আলা উদ্দিন, সাবেক সভাপতি এ কে এম ফজলুল হক খোকন, সাবেক সহ-সভাপতি মাসউদুর রহমান বাবর, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিরুল হায়দার সাজ্জাদ, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লুৎফুল্লাহিল মজিদ নিশানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। সমাবেশস্থলে দুপুর থেকেই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে নেতাকর্মীরা দলীয় পতাকা, ব্যানার, ফেস্টুন ও মিছিল নিয়ে মাঠে আসতে থাকেন। একেক ইউনিয়নের মিছিল একেক রঙে মুখরিত ছিল। এতে সমাবেশস্থলে হাজারো নেতাকর্মীর অংশগ্রহণে পুরো মাঠে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়।

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদে কর্মকর্তার অনিয়মের ফিরিস্তি টাঙিয়ে দিলেন এলাকাবাসী। এতে তিনি কোন কোন খাতে ঘুষ গ্রহণ করেন তা পরিমাণসহ উল্লেখ করা হয়। শনিবার (১৫ নভেম্বর) সকালে ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে হরণী ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ, ঘুষ গ্রহণ এবং পরিষদকেন্দ্রিক জনদুর্ভোগ সৃষ্টির অভিযোগ তুলে তাকে অপসারণের দাবিতে ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক-সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা মানববন্ধনে অংশ নেন। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন হরণী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আক্তারুজ্জামান দোলন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ উত্তর শাখার সভাপতি মো. আবুযর গিফারী সুমন, হরণী ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি তারিকুল মাওলা, জাতীয় নাগরিক পার্টির সহসভাপতি গিয়াস উদ্দিন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ইউনিয়ন সভাপতি ইলিয়াস গাজী, বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমিনুল এহসান জুয়েল, কৃষকদল হাতিয়া উত্তর শাখার সভাপতি হুমায়ুন কবির, যুব আন্দোলনের সভাপতি আসাদুল্লাহ গালিব, ছাত্রদলের সভাপতি মো. সাদ্দাম হোসেন এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রতিনিধি মো. রাসেল মাহমুদ। বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সরকারি বিভিন্ন সেবা- ভিজিডি কার্ড, বয়স্ক ও বিধবা ভাতা, জেলে চাল, ট্রেড লাইসেন্স, জন্ম নিবন্ধনসহ প্রায় সব ধরনের সুবিধার বিনিময়ে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে নিয়মিত টাকা আদায় করছেন। সদ্য চালু হওয়া অনলাইনভিত্তিক ভিজিডি রেজিস্ট্রেশনেও দরিদ্র মানুষের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ তুলে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ভুক্তভোগীরা জানান, সচিবের স্বেচ্ছাচারিতা, দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে ইউনিয়ন পরিষদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বহুবার স্থানীয় প্রশাসন ও উচ্চতর কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানালেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি বলে দাবি করেন তারা। এসময় বক্তারা তিনটি দাবি তুলে ধরেন- সচিবের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনতে জরুরি প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ, দুর্নীতির অভিযোগে জড়িত সচিবকে দ্রুত অপসারণ করে দুর্নীতিমুক্ত পরিষদ পরিচালনা নিশ্চিত করা। মানববন্ধনে নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সের প্রায় তিন শতাধিক স্থানীয় মানুষ অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে তারা আরও বৃহত্তর আন্দোলনের ঘোষণা দিতে বাধ্য হবেন। হরণী ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা নজরুল ইসলামের মতামত জানতে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। এদিকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানালেন নোয়াখালীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (স্থানীয় সরকার) মুহাম্মদ ইসমাইল। তিনি বলেন, আমরা বিষয়গুলো জেনেছি। জেলা প্রশাসক স্যারের সঙ্গে এসব বিষয়ে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় ৬০০ পরিবারকে ১ কোটি ২০ লাখ টাকার অনুদান তুলে দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ। বুধবার (১২ নভেম্বর) বিকেলে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলোর হাতে এই অনুদান তুলে দেওয়া হয়। জানা গেছে, হাতিয়ায় ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একযোগে ৬০০ নিম্নবিত্ত পরিবারকে ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকার অনুদান দিয়েছে বেসরকারি দাতব্য সংস্থা আল-মানাহিল ফাউন্ডেশন। প্রতিটি পরিবারকে নগদ এককালীন ২০ হাজার টাকা করে অনুদান প্রদান করা হয়।আব্দুল হান্নান মাসউদের অনুরোধে আল-মানাহিল ফাউন্ডেশন পূর্বে প্রস্তুত করা তালিকার ভিত্তিতে এই অর্থ সহায়তা প্রদান করে। মাসউদ সবাইকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “কেবল সরকারি অনুদানের ওপর নির্ভর করে যুগ যুগ ধরে বঞ্চিত দ্বীপ হাতিয়ার উন্নয়ন সম্ভব নয়। এজন্য আমি দেশি-বিদেশি বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার দ্বারস্থ হয়েছি। তারা আগামীতে হাতিয়ার অবকাঠামোগত ও আর্থিক উন্নয়নে আরও সহযোগিতা করবেন বলে জানিয়েছেন।” তিনি আরও বলেন, “সংস্থাটি সারাদেশে মোট ১ হাজার ৫৫৫ জনকে সহায়তার জন্য নির্বাচিত করলেও, আমার উদ্যোগে শুধু হাতিয়া উপজেলাতেই ৬০০ জনকে নগদ অনুদান প্রদান করা হয়। আশাকরি সামান্য সামান্য সহযোগীতা আপনাদের অনেক দূর এগিয়ে নিবে। এই উদ্যোগ হাতিয়ার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনে আশার আলো জ্বালাবে এবং ভবিষ্যতে আরও এ ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যাশা করি।”

বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের মনোনীত প্রার্থী মাহবুবের রহমান শামীম বলেছেন, গণতন্ত্র ও নির্বাচনকে নিয়ে ষড়যন্ত্র মানে তারেক রহমানকে নিয়ে ষড়যন্ত্র। যারা নির্বাচনকে বানচাল বা বিলম্বিত করার চেষ্টা করছে তাদের নির্বাচনে ভরাডুবি হবে। এসব জেনেই তারা নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে। ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। রোববার (৯ নভেম্বর) সন্ধ্যায় নিজ নির্বাচনী এলাকা হাতিয়ার চেয়ারম্যানঘাটে এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, আজকে বাংলাদেশ, গণতন্ত্র ও নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে। জনগণের প্রচেষ্টায় সব ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়া হবে। জনগণের ভোটাধিকার যারা বাধাগ্রস্ত করবে জনগণ তাদের রুখে দেবে। তিনি আরও বলেন, প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচন নিয়ে কোনো সংশয় নেই। ভোট দেওয়ার জন্য সারা দেশের মানুষের উদ্গ্রীব হয়ে আছে। যতই ষড়যন্ত্র হোক, আমরা আপনারা ঐক্যবদ্ধ থাকলে নির্বাচনকে বানচাল করা যাবে না। জনগণ ভোটে নেমে পড়েছে, ভোটের ট্রেনে জনগণ উঠে গেছে। নির্বাচনকে ঘিরে প্রতিটি অঞ্চলে মিছিল মিটিং হচ্ছে। হরিণী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আখতারুজ্জামান দোলনের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন হাতিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আলা উদ্দিন, সাবেক সভাপতি এ কে এম ফজলুল হক খোকন, সাবেক সহসভাপতি মাসউদুর রহমান বাবর, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিরুল হায়দার সাজ্জাদ, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লুৎফুল্লাহিল মজিদ নিশান।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ২৩৭টি সংসদীয় আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। সোমবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ তালিকা প্রকাশ করেন। তালিকায় নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম। সম্প্রতি রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন ছিল—হাতিয়া আসনটি বিএনপির পরিবর্তে জোটের শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদকে দেওয়া হতে পারে। তবে ঘোষিত তালিকায় ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে মাহবুবের রহমান শামীমের নাম আসায় এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। একদিকে বিএনপি প্রার্থীর মনোনয়নে আনন্দ মিছিল করেছেন ধানের শীষের সমর্থকরা, অন্যদিকে এনসিপি নেতা হান্নান মাসউদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে হতাশা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাতিয়ার প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নে শামীমের সমর্থনে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় গণসংযোগ ও উঠান বৈঠক করে আসা হান্নান মাসউদের পক্ষের নেতাকর্মীরা বলছেন, জোটের আসন সমঝোতায় তাকে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে বলে আশা করেছিলেন তারা। স্থানীয় বিএনপি সমর্থক রাসেল উদ্দিন বলেন, তারেক রহমান বলেছিলেন, “মনোনয়ন পাবেন তারা, যারা মানুষের সঙ্গে সংযুক্ত।” কিন্তু আজ বুঝলাম, রাজনীতিতে জনগণের মূল্য এক টাকার নোটের চেয়েও কম। আজ হাতিয়ার জন্য দুঃসংবাদ। এখন আশার নাম শুধু আবদুল হান্নান মাসউদ। হাতিয়ার উন্নয়নের জন্য আপনাকেই মাঠে চাই। আরেক সমর্থক রুবেল উদ্দিন রবি বলেন, ধানের শীষ প্রতীক যে বহন করবে আমরা তার পক্ষেই কাজ করবো। তবে চাই এমন কাউকে প্রার্থী করা হোক, যিনি ত্যাগী ও সৎ। শামীম ভাই তেমনই একজন মানুষ। সবাই মিলে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করব, ইনশাআল্লাহ। জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখা মো. কামরুজ্জামান বলেন, বিএনপি মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় কোনো চমক আনতে পারেনি। বরং সাবেক এমপিদের প্রাধান্যই দিয়েছে। অনেক বহিষ্কৃত ও বিতর্কিত ব্যক্তিও তালিকায় রয়েছেন। তরুণ প্রার্থীদের প্রতিনিধিত্ব হতাশাজনক। এ বিষয়ে নোয়াখালী-৬ আসনের মনোনীত প্রার্থী মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, বিএনপি জোটের শরিকদের জন্য কিছু আসন রেখে ২৩৭ আসনের তালিকা প্রকাশ করেছে। মানুষ ধানের শীষে ভোট দিতে মুখিয়ে আছে। ১৭ বছর পর ধানের শীষের জয় হবেই। আমরা উন্নত হাতিয়ার গড়তে কাজ চালিয়ে যাব। একই বিষয়ে এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ বলেন, আমি সবসময় অসহায় মানুষের পাশে ছিলাম, আছি, থাকবো ইনশাআল্লাহ। হাতিয়ার নদীভাঙন রোধে আমি প্রাণপণ লড়ছি, এই লড়াই চলবে। আমার শক্তি জনগণ—তাদের রায়কেই আমি শ্রদ্ধা করবো।

স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের নিরাপদ যাতায়াতের জন্য নোয়াখালীর হাতিয়ায় কাঠের সেতু নির্মাণ করেছেন বিএনপি নেতা প্রকৌশলী তানভীর উদ্দিন রাজিব। চানন্দী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের মৌলভী গ্রামে প্রায় ৫০ ফুট লম্বা কাঠের সেতুটি স্থানীয়দের অংশগ্রহণে নির্মাণ করা হয়। হাতিয়া উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক আরেফিন আলী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মৌলভী গ্রামে খালের ওপর দিয়ে পারাপারের কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষকে প্রতিদিনই চরম ভোগান্তি পোহাতে হতো। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠত। বিষয়টি প্রকৌশলী তানভীর উদ্দিন রাজিবকে জানালে তিনি দ্রুত সেতুটি নির্মাণের উদ্যোগ নেন। স্থানীয় বাসিন্দা জহির উদ্দিন বলেন, সেতুটি নির্মাণ হওয়ায় এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে। বিশেষ করে স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীরা এখন নিরাপদে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে পারবে। রাজিব সাহেবের আন্তরিক সহযোগিতা ছাড়া এটি সম্ভব হতো না। আমরা তার প্রতি কৃতজ্ঞ। এ বিষয়ে নোয়াখালী জেলা বিএনপির সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী তানভীর উদ্দিন রাজিব বলেন, দীর্ঘদিন এখানে কোনো সেতু না থাকায় স্থানীয়দের যাতায়াতে ভোগান্তি হচ্ছিল। বিষয়টি জানার পর আমি নিজ উদ্যোগে সেতুটি নির্মাণের কাজ শুরু করি। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৩১ দফা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এবং সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্ট লাঘবে সবসময় জনগণের পাশে থাকতে চাই।

নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার সূর্যমুখী ঘাট সংলগ্ন মেঘনা নদীতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক সারসহ ৯ পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করেছে কোস্টগার্ড। মিয়ানমার থেকে মাদকের বিনিময়ে এসব সার পাচার হচ্ছিল বলে জানা গেছে। রোববার (২ নভেম্বর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক। এর আগে শুক্রবার দিবাগত মধ্যরাতে বিসিজি স্টেশন হাতিয়া একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। তারপর শনিবার (১ নভেম্বর) রাতে তাদের হাতিয়া থানায় সোপর্দ করা হয়। কোস্টগার্ড সূত্রে জানা যায়, একটি অসাধু চক্র বাংলাদেশি পণ্যের বিনিময়ে ইয়াবা, মদসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য মিয়ানমার থেকে দেশে আনছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার রাত ১টার দিকে সূর্যমুখী ঘাট সংলগ্ন মেঘনা নদীতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে সন্দেহভাজন তিনটি বোটে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ১৪ লাখ ২৮ হাজার টাকা মূল্যের ১ হাজার ১৯৪ বস্তা রাসায়নিক সার, পাচার কাজে ব্যবহৃত তিনটি বোট এবং ৯ জন পাচারকারীকে আটক করা হয়। আরও জানা যায়, আটক সারের চালান অবৈধভাবে শুল্ক-কর ফাঁকি দিয়ে মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে বহন করা হচ্ছিল। জব্দ করা সার, বোট ও আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য হাতিয়া থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক বলেন, ১ হাজার ১৯৪ বস্তা সার, ৯ জন পাচারকারী ও জব্দকৃত ৩টি ট্রলারসহ হাতিয়া থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। কোস্টগার্ড বাদী হয়ে তাদের নামে মামলা দায়ের করেছে। আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। চোরাচালান রোধে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ইলিশের প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় মৎস্য বিভাগের অভিযানে ৪টি ট্রলারসহ প্রায় ১৫ মণ ইলিশ মাছ জব্দ ও ৫০ জন জেলেকে আটক করা হয়েছে। শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) রাতে মেঘনা নদীতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। কোস্টগার্ডের সহযোগিতায় অভিযানে মৎস্য দপ্তরের কর্মকর্তারাও এতে অংশ নেন। অভিযান সূত্রে জানা যায়, সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চারটি ট্রলারের জেলেরা মেঘনা নদীতে মাছ ধরছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মৎস্য বিভাগ ও কোস্টগার্ড যৌথ অভিযান চালিয়ে চারটি ট্রলারসহ ৫০ জন জেলেকে আটক করে এবং ট্রলারগুলো থেকে প্রায় ১৫ মণ ইলিশ মাছ জব্দ করে। পরে জব্দকৃত মাছগুলো উপজেলার বিভিন্ন এতিমখানায় বিতরণ করা হয়। হাতিয়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ফাহাদ হাসান বলেন, আটক জেলেদের ১ লাখ ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মা ইলিশ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন বলেন, ২৫ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে জেলেরা নদী ও সাগরে নামতে পারবে, কিন্তু তারা একদিন আগে নামায় জরিমানার মুখোমুখি হয়েছে। এই সময়ে মা ইলিশ ধরা পড়লে আগামী বছরের উৎপাদন কমে যাবে।

ইলিশের প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় নোয়াখালীর হাতিয়ায় মৎস্য বিভাগের অভিযানে প্রায় ২ টন ইলিশ মাছ জব্দ এবং ৪৬ জন জেলেকে আটক করা হয়েছে। সোমবার (২০ অক্টোবর) রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরের ভাসানচর এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন। এ সময় নৌ-পুলিশের একটি দল এবং মৎস্য দপ্তরের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। অভিযান সূত্রে জানা যায়, সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর থেকে আসা পাঁচটি ট্রলারের জেলেরা ভাসানচর এলাকায় মাছ ধরছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ওই পাঁচটি ট্রলারসহ ৪৬ জন জেলেকে আটক করা হয় এবং ট্রলারগুলো থেকে প্রায় ২ টন ইলিশ মাছ জব্দ করা হয়। পরে মঙ্গলবার দুপুরে হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আলাউদ্দিন জব্দকৃত মাছগুলো উপজেলার বিভিন্ন এতিমখানায় বিতরণ করেন। হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আলাউদ্দিন বলেন, আটক জেলেদের মধ্যে ৪১ জনকে ২ হাজার টাকা করে মোট ৮২ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৫ জনের বিরুদ্ধে মৎস্য সংরক্ষণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মা ইলিশ রক্ষায় এমন অভিযান নিয়মিতভাবে চলবে বলেও তিনি জানান। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন বলেন, ৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশের প্রজনন মৌসুম হওয়ায় সরকারিভাবে নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। এ সময়ে ইলিশ ধরা, পরিবহন ও বিক্রি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এই নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এ সময়ে মা ইলিশ বা জাটকা ধরা হলে আগামী বছর ইলিশের উৎপাদন কমে যাবে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন জেলেরা নিজেরাই। তাই বড় আকারের ইলিশ উৎপাদনের স্বার্থে সবাইকে এ সময়ে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান তিনি।

সাজানো হয়েছে কনের বাড়ি। চলছে রান্নাবান্না আর অতিথি আপ্যায়নের তোড়জোড়। গাড়িবহর নিয়ে বরযাত্রীও এসে পৌঁছেছে। সবাই অপেক্ষায়- কখন হবে আকদ, কখন শুরু হবে বরযাত্রীদের আপ্যায়ন। কিন্তু ঘণ্টা দুয়েক কেটে গেলেও শুরু হয়নি বিয়ের কাজ। কাজী বসে আছেন। অতিথিদের মধ্যে গুঞ্জন আর হইচই। অবশেষে জানা গেল- বর কবুল বলবেন না, যদি না তার প্রিয় বন্ধু আসে। মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে এমন ঘটনা ঘটেছে নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার তমরদ্দি ইউনিয়নের ক্ষিরোদিয়া গ্রামে। পরে ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা বলছেন- এমন বন্ধুত্ব আজকাল বিরল। যার জন্য বর নিজের বিয়েই থামিয়ে দেয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সোনাদিয়া ইউনিয়নের মাইজচরা গ্রামের করিম বেপারীর ছেলে আরমান হোসেনের বিয়ে ঠিক হয় তমরদ্দি ইউনিয়নের ক্ষিরোদিয়া গ্রামের এক তরুণীর সঙ্গে। দুপুরের আগে বরযাত্রী রওনা হওয়ার সময় আরমানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু রিয়াজের সঙ্গে গাড়িতে বসা নিয়ে মনোমালিন্য হয়। এতে রাগ করে বিয়েতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন রিয়াজ। বরযাত্রী কনের বাড়িতে পৌঁছানোর পর বর বন্ধুকে না দেখে গাড়ি থেকে নামতেই অস্বীকৃতি জানান। পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজন ও গ্রামবাসী বহু অনুরোধ করলেও তিনি অনড় থাকেন। স্পষ্ট জানিয়ে দেন- ‘রিয়াজ না আসলে কবুল বলব না।’ অবশেষে প্রায় দুই ঘণ্টা পর বরপক্ষের লোকজন গিয়ে বন্ধুকে নিয়ে আসেন। এরপরই আরমান হাসিমুখে মঞ্চে বসে ‘কবুল’ বলেন এবং বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মান্নান রানা বলেন, দারুণ এক বন্ধুত্বের বন্ধন দেখলাম আজ। এমন আজব, আবার হৃদয়ছোঁয়া এক বিয়ের অনুষ্ঠান জীবনে প্রথম দেখলাম। আমি ছিলাম অতিথি- ভাবিনি বন্ধুর অনুপস্থিতিতে বর কবুল বলা থেকে বিরত থাকবে। কিন্তু সে স্পষ্ট জানিয়ে দিল, প্রিয় বন্ধুকে ছাড়া জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত বিয়ের পিঁড়িতে বসবে না। শেষ পর্যন্ত সবাই নিরুপায় হয়ে বন্ধুকে ডেকে আনে, আর তার উপস্থিতিতেই সম্পন্ন হয় বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা। সত্যিই এমন বন্ধুত্ব আজকাল খুব বিরল কনেপক্ষের আত্মীয় আলতাফ হোসেন বলেন, আমরা দুপুর ১২টা থেকেই খাওয়ানো শুরু করি। বর আসে দেড়টার দিকে। কিন্তু এক বন্ধুর জন্য দুই ঘণ্টা বিয়ের কাজ বন্ধ ছিল। অনেক অতিথি রাগ করে চলে গেছেন। পরে বন্ধুকে এনে বিয়ে সম্পন্ন হয়। কনের মামা সেলিম হোসেন বলেন, এমন ঘটনা জীবনে দেখিনি। সবাই দাওয়াত খেয়ে অপেক্ষা করছে, কাজি সাহেব বসে আছেন, কিন্তু বর কবুল বলছে না। আমরা ভেবেছিলাম হয়তো কোনো ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। পরে শুনলাম বন্ধুর জন্য বসে আছে। শেষমেশ সেই বন্ধুই আসায় বিয়ে সম্পন্ন হলো। স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তি আবদুল গফুর মিয়া বলেন, এই ছেলেটার বন্ধুত্ব দেখে আমরা অবাক। আজকাল বন্ধুরা এতটা গুরুত্ব দেয় না। কিন্তু আরমান যা করেছে, তাতে বোঝা যায় বন্ধুত্ব এখনো অনেকের কাছে মনের সম্পর্ক। তবে বিয়ের দিনে এমন নাটক না হলেই ভালো হতো। এ বিষয়ে বর আরমান হোসেন বলেন, রিয়াজ আমার ছোটবেলার বন্ধু। এক আত্মীয়ের সঙ্গে গাড়িতে বসা নিয়ে রাগ করে বিয়েতে আসেনি সে। আমার জীবনের সবচেয়ে আনন্দের দিনে সে থাকবে না- এটা আমি মেনে নিতে পারিনি। তাই ও আসার পরই বিয়ে করেছি।

ইলিশ প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় ৩ অক্টোবর দিবাগত রাত ১২টা থেকে ২৫ অক্টোবর রাত ১২টা পর্যন্ত পদ্মা-মেঘনা ও সংলগ্ন নদ-নদী এবং সাগরে ইলিশসহ সবধরনের মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে মৎস্য অধিদপ্তর। তবে এই সময়ে জীবিকা হারানো জেলেদের জন্য সরকারি ত্রাণ সহায়তা বরাদ্দ থাকলেও নোয়াখালীর নিবন্ধিত জেলেদের অর্ধেকেরও কম পরিবার এ সহায়তা পাচ্ছে। মৎস্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে নোয়াখালী জেলার মেঘনা নদী ও বঙ্গোপসাগর থেকে ২২ হাজার ৪১৫ মেট্রিক টন ইলিশ আহরণ হয়েছে। জেলায় বর্তমানে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৪৪ হাজার ১৫৪ জন। কিন্তু তাদের মধ্যে মাত্র ১৯ হাজার ৭৮৩ পরিবারকে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় ২৫ কেজি করে চাল দেওয়া হবে। ফলে অর্ধেকেরও বেশি জেলে পরিবার সরকারি সহায়তার বাইরে থেকে যাচ্ছে। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সূত্রে জানা যায়, ইলিশ প্রজনন রক্ষায় প্রতিবছরই সরকার নির্দিষ্ট সময় মাছ ধরা, পরিবহন, বিক্রি ও মজুতের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এই সময়ে জেলেদের জীবিকা নির্বাহে সহায়তা হিসেবে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় চাল বিতরণ করা হয়। এ বছর নোয়াখালী জেলায় বরাদ্দ পাওয়া গেছে ৪৯৪ দশমিক ৫৮ মেট্রিক টন চাল, যা জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে উপজেলার মাধ্যমে বিতরণ করা হবে। তবে বাস্তবে অনেক জেলে অভিযোগ করেছেন, ভিজিএফ তালিকায় অসহায় ও প্রকৃত জেলেরা বাদ পড়ছেন, আর অনেক অপ্রকৃত ব্যক্তি সুবিধাভোগীর তালিকায় উঠে আসছেন। ফলে নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন পরিবার নিয়ে না খেয়ে দিন কাটানোর শঙ্কায় রয়েছেন তারা। হাতিয়ার জেলে আবদুল মান্নান বলেন, যারা নদীতে যায় না তাদের নামে জেলে কার্ড। আমরা নদী-সাগরে যুদ্ধ করি, অথচ আমাদের জেলে কার্ড নাই। আমরা বৈষম্যের শিকার হই। নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় আমরা নদীতে নামতে পারব না, ঘরে খাবারও নেই। তালিকায় নাম না থাকায় সরকারি চালও পাব না। এখন পরিবার নিয়ে কীভাবে টিকব বুঝতে পারছি না। আমরা কেউ রিকশা চালিয়ে অথবা কেউ জাল-নৌকা মেরামত করে দিন কাটাচ্ছি। আব্দুল্লাহ আল মামুন নামের আরেক জেলে বলেন, এবার সাগর-নদীতে ছিল ইলিশের অকাল। পুরো মৌসুমজুড়ে জেলেদের জালে আশানুরূপ মাছ ধরা পড়েনি। এরমধ্যেই ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে। নদীতে মাছ ধরা না পড়ায় এবার অভাব-অনটনের মধ্যে পড়তে হয়েছে তাদের। ধারদেনা করে নদীতে নৌকা ভাসিয়েছি। কিন্তু মৌসুম শেষে তাদের খরচও ওঠেনি। সরকারি ভাতা যেটা দেওয়ার কথা সেটাও আমরা পাবো কিনা তার নিশ্চয়তা নাই। অনেক সময় অভিযান শেষের দিকে চাল দেওয়া হয় এতে আমাদের কোনো লাভ হয় না। চাল বিতরণ কার্যক্রম দ্রুত শুরু করা হোক। কেফায়েত উদ্দিন নামের আরেক জেলে বলেন, কয়েক বছর ধরেই তেমন মাছ নেই। আমরা জেলেরা অভাব-অনটনে আছি। সরকারি যে সহায়তা দেওয়া হয়, তাও যৎসামান্য। আবার অনেক প্রকৃত জেলেরা সহায়তাও পায় না। জেলেদের প্রতি সরকারের আরও বেশি নজর দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করি। নিষেধাজ্ঞার সময়ে নিবন্ধনকৃত জেলেদের সরকারের পক্ষ থেকে ২৫ কেজি করে চাল দেওয়া হয়। কিন্তু একটি পরিবারে শুধু চাল দিয়ে কিছুই হয় না। আনুষাঙ্গিক অনেক কিছুই তো লাগে। তাই এ নিষেধাজ্ঞার সময় আমরা কীভাবে চলবো, সে দুশ্চিন্তায় আছি। মো. রিপন উদ্দিন নামের আরেক জেলে বলেন, আমরা সরকার ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা মেনে নদীতে নামি না। কিন্তু দক্ষিণ-পশ্চিম দিক দিয়ে ভারতীয় ফিশিং বোটগুলো বঙ্গোপসাগরের বাংলাদেশ জলসীমায় প্রবেশ করে নির্বিচারে মাছ শিকার করছে। তারা মা ইলিশ ধরে নিয়ে যাচ্ছে, অথচ আমরা খালি হাতে ঘরে বসে আছি। এতে আমাদের কষ্ট আরও বেড়ে যাচ্ছে। আমরা যদি আইন মানি, কিন্তু অন্য দেশের জেলেরা এসে ইলিশ ধরে নিয়ে যায়—তাহলে ইলিশ রক্ষার এই উদ্যোগ কতটা সফল হবে? মৎস্য ব্যবসায়ী মো. আকবর হোসেন বলেন, ইলিশ রক্ষায় সরকারের এই উদ্যোগ প্রশংসনীয় হলেও জেলেদের পর্যাপ্ত সহায়তা নিশ্চিত না হলে তাদের জীবন অতিবাহিত করা কঠিন হয়ে যায়। শুধু সংসার চালানোর খরচ নয়, জাল ও নৌকা তৈরি করতে ঋণের চাপও সামাল দিতে হয় জেলেদের। ইলিশ রক্ষায় সরকার কঠোর অবস্থানে থাকলেও জীবিকার নিরাপত্তা ছাড়া হাজারো জেলে পরিবারের মুখে আবারও অনিশ্চয়তার ছায়া নেমে এসেছে। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেলাল হোসেন বলেন, প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের অভিযান আগামী ২৫ অক্টোবর শেষ হবে। এ সময়টাতে মেঘনা নদীতে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাত, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড ও সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রয়েছে। তিনি বলেন, সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী নির্ধারিত সংখ্যক জেলে পরিবারকে সহায়তা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। এবারও বরাদ্দ সীমিত হওয়ায় সব জেলেকে সহায়তা দেওয়া যাচ্ছে না। জেলায় বর্তমানে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৪৪ হাজার ১৫৪ জন। কিন্তু তাদের মধ্যে মাত্র ১৯ হাজার ৭৮৩ পরিবারকে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় ২৫ কেজি করে চাল দেওয়া হবে। জেলা প্রশাসক খন্দকার ইসতিয়াক আহমেদ বলেন, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে ইলিশ ধরা ঠেকাতে এলাকাজুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তৎপর রয়েছে। নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে মোবাইল কোর্ট, জেল জরিমানা ও ট্রলার জব্দ অভিযান জোরদার করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। মৎস্য সংরক্ষণে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন হলে ইলিশের প্রাচুর্যতা বাড়বে। যা জেলেদের মুখে হাসি ফোটাবে এবং বাজারেও সাড়া ফেলবে।

নোয়াখালীর হাতিয়া পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও স্থানীয় আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এ কে এম ছাইফ উদ্দিনকে (৫৯) গ্রেপ্তার করেছে যৌথ বাহিনী। সোমবার (৬ অক্টোবর) বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে হাতিয়া আদালত প্রাঙ্গণ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরের পর থেকেই যৌথ বাহিনীর সদস্যরা আদালত এলাকায় অবস্থান করছিলেন। বিকেলে ছাইফ উদ্দিন আদালতে উপস্থিত হলে তাকে ঘিরে ধরে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনার পরপরই উপজেলা সদরের ওছখালী বাজারে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। তারা ছাইফ উদ্দিনের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়ে স্লোগান দেন এবং থানা ঘেরাওয়ের চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া দিলে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি। হাতিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম আজমল হুদা বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা ছাইফ উদ্দিনকে বিকেলে উপজেলা সদর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে একটি মামলায় তিনি জামিনে ছিলেন। আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হবে। মিছিলের বিষয়ে তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা মিছিলের চেষ্টা করলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়েছে। তারপর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়।

হাতিয়া প্রতিনিধি ইলিশ প্রজনন মৌসুমে সরকারি নিষেধাজ্ঞার প্রথম দিনেই নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার চেয়ারম্যান ঘাটে নেমে এসেছে নিস্তব্ধতা। সাধারণত এই সময়ে ঘাটে থাকে জেলেদের হাকডাক, মাছ বিক্রির ধুম। কিন্তু আজ তা নেই। দুই-তিনজনকে দেখা গেলেও তারা ব্যস্ত ছিলেন আড়ৎ ধোয়া-মোছার কাজে। সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, ৩ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে ২৫ অক্টোবর মধ্যরাত পর্যন্ত টানা ২২ দিন ইলিশ ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। এই আইন অমান্য করলে মৎস্য আইনে রয়েছে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড অথবা পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, প্রজনন মৌসুমে ইলিশ সংরক্ষণে জেলেদের সহযোগিতা প্রশংসনীয়। আব্দুর রহিম নামে এক জেলে বলেন, প্রতি বছর এই সময়ে নিষেধাজ্ঞা মানার কারণে ইলিশের সংখ্যা বাড়ে। আমরা জানি দীর্ঘমেয়াদে এটা আমাদের উপকার করবে। তবে সামান্য অসুবিধা হচ্ছে, আয় বন্ধ থাকায় সংসার সামলানো কঠিন। কুতুবউদ্দিন বাবু নামে চেয়ারম্যান ঘাটের অন্য একজন ব্যবসায়ী বলেন, আমরা সচেতন আছি। আমাদের সাথে যারা জড়িত সকলকে সচেতন করেছি। নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন সময়ে স্থানীয় প্রশাসন এবং মৎস্য বিভাগ নিয়মিত পরিদর্শন চালিয়ে যাচ্ছেন, যাতে কেউ আইন অমান্য করতে না পারে। চেয়ারম্যান ঘাটের ব্যবসায়ী মো. আকবর হোসেন বলেন, আজ ঘাটে অনেকটা নীরবতা, শুধু ধোয়া-মোছার কাজ চলছে। সবাই সরকারি নিষেধাজ্ঞা মেনে ইলিশ সংরক্ষণে কাজ করছে। আমরা চাই সবাই আইন মেনে ইলিশের প্রজনন নিশ্চিত করুক। সদর উপজেলার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মানস মন্ডল বলেন, নোয়াখালী সদর উপজেলার পৌর বাজার ও সোনাপুর বাজারের মাছ বাজার এবং আড়তে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য দপ্তরের উদ্যোগে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানকালে ইলিশ মাছ না পাওয়া গেলেও শিং মাছের সঙ্গে রং মিশানোর ঘটনায় একজন বিক্রেতাকে ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়। জব্দকৃত মাছ বিনষ্ট করা হয়েছে। এমন ধরনের অভিযান ও মোবাইল কোর্ট ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে, যা গ্রাহককে সঠিক ও সতেজ মাছ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সহায়ক। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. বেলাল হোসেন বলেন, নিষেধাজ্ঞা সফল করতে নদী ও সাগরে টহল অব্যাহত থাকবে। আমরা চাই সবাই আইন মানুক, যাতে ইলিশের প্রজনন ও ভবিষ্যৎ সংরক্ষণ নিশ্চিত করা যায়।

মাছ শিকারে গিয়ে প্রায় চার মাস সাগরের মাঝে প্রকৃতির সঙ্গে একরকম লড়াই করেছেন নোয়াখালীর হাতিয়ার এমভি আহাদ-২ ট্রলারের ২১ জন জেলে। সমুদ্রের উত্তাল তরঙ্গ আর ঘূর্ণিঝড়ের ভয়কে জয় করে তারা আহরণ করেছেন প্রায় ৪০ লাখ টাকার মাছ। অবশেষে ট্রলার নিয়ে তারা ফিরেছেন আপন ভিটেমাটিতে। তবে এবারের ফেরা একেবারেই ভিন্ন আঙ্গিকে। পুরো ট্রলার সাজিয়ে, একই রকম পোশাক পরে, গান-বাজনা আর নেচে-গেয়ে উৎসবের আমেজে ঘরে ফিরেছেন তারা। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৩ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন ইলিশ ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। এই আইন অমান্য করলে মৎস্য আইনে রয়েছে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান। তাই এ সময়টুকু পরিবারের সঙ্গে কাটানোর জন্য ঘরে ফিরেছেন জেলেরা। হাতিয়ার চেয়ারম্যান ঘাটে সরেজমিনে দেখা যায়, এমভি আহাদ-২ ট্রলারটিকে নানাভাবে সজ্জিত করে ফিরছেন জেলেরা। তাদের সবার গায়ে একই ধরনের পোশাক, মুখে হাসি আর চোখে বাড়ি ফেরার আনন্দ। দৃশ্যটি দেখতে ভিড় করেছেন অসংখ্য মানুষ। গত কয়েক বছর ধরে সরকারি নিষেধাজ্ঞার এই বিরতিকে জেলেরা উৎসবে পরিণত করেছেন। জেলে মো. রাফুল বলেন, আমাদের সবার বাড়ি হাতিয়া উপজেলায়। প্রায় চার মাস আমরা সাগরে মাছ শিকার করেছি। সাগরের ভেতরে কেমন সময় কাটিয়েছি, তা আল্লাহ আর আমরা ছাড়া কেউ জানে না। ঘূর্ণিঝড়ের সময় তো মনে হয়েছিল- হয়তো আর কেউই বাঁচব না, উদ্ধার হওয়ারও কোনো আশা ছিল না। তাই আজ ঘরে ফেরার আনন্দ আমাদের ভেতরে অন্যরকম অনুভূতি জাগিয়েছে। সেই আনন্দকে ভাগাভাগি করতেই আমরা ট্রলার সাজিয়েছি, একই রকম পোশাক পরেছি। হাতিয়ার চেয়ারম্যান ঘাটে সরেজমিনে দেখা যায়, এমভি আহাদ-২ ট্রলারটিকে নানাভাবে সজ্জিত করে ফিরছেন জেলেরা। তাদের সবার গায়ে একই ধরনের পোশাক, মুখে হাসি আর চোখে বাড়ি ফেরার আনন্দ। দৃশ্যটি দেখতে ভিড় করেছেন অসংখ্য মানুষ। গত কয়েক বছর ধরে সরকারি নিষেধাজ্ঞার এই বিরতিকে জেলেরা উৎসবে পরিণত করেছেন। মো. মামুন নামে এক জেলে বলেন, মাছ ধরতে আমার ভালোই লাগে। চার মাস সাগরে থেকে মাছ শিকার করে হাতে এসেছে প্রায় ৪০ হাজার টাকা। এই টাকায় নতুন একটি জায়গা কিনেছি। নদী ভাঙনে আমাদের আগের বাড়িঘর বিলীন হয়ে গেছে, তাই নতুন জায়গা কেনা ছাড়া উপায় ছিল না। সরকার যদি হাতিয়ার নদীভাঙন রোধে উদ্যোগ নিত, তবে আমাদের মতো জেলেদের জীবন অনেক সহজ হতো। ট্রলারের মাঝি শুভ চন্দ্র দাস বলেন, আমি প্রায় এক দশক ধরে সাগরে মাছ ধরছি। আমাদের এমভি আহাদ-২ ট্রলারটির বয়স মাত্র চার বছর। এখানে আমরা ২১ জন জেলে মিলে রোজগারের সংগ্রাম চালাই। এই ট্রলারটিই আমাদের জীবনের ভরসা। শেষ দিনের ফেরা স্মরণীয় করে রাখতে বাড়ি ফেরার আগে আমরা পুরো ট্রলারটি সাজিয়েছি। সবাই একই ধরনের পোশাক পরেছি, যেন উৎসবের আবহ তৈরি হয়। আমাদের মালিক আরিফ মাঝিকেও কৃতজ্ঞতা স্বরূপ পাঞ্জাবি উপহার দিয়েছি। এ আয়োজনের সব খরচ আমি নিজেই বহন করেছি। ট্রলারের মালিক মো. আরিফ মাঝি বলেন, আমি ট্রলারের মালিক হলেও একইসঙ্গে মাঝিও। দীর্ঘদিন ধরে আমরা এই জেলে পেশার সঙ্গেই আছি। আমাদের ২১ জন যেন একটা পরিবারের মতো। সবসময় একে অন্যের পাশে থাকি। এ বছর চার মাস সাগরে থেকে পেয়েছি প্রায় ৪০ লাখ টাকার মাছ। যদিও গত বছর এই অঙ্ক ছিল প্রায় ৭০ লাখ। এবারে খরচ হয়েছে প্রায় ১৮ লাখ টাকা। খরচ বাদে প্রতিজনের ভাগে আসবে গড়ে ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা। তারা সবাই খুশি হয়েছে, আর সেই আনন্দের প্রকাশেই আমরা ট্রলারটিকে সাজিয়েছি। ব্যবসায়ী মো. আকবর হোসেন বলেন, আজ জেলেদের বিদায়ের উৎসব, আর আগামীকাল থেকেই শুরু হবে ব্যবসায়ী ও দোকানদারদের হালখাতা উৎসব। সাগর ফেরা জেলেরা অবসরের প্রথম চার-পাঁচ দিন ঘরে বসেই কাটান, কোনো কাজকর্ম করেন না। তবে কয়েক দিনের মধ্যেই তারা জাল ও নৌকা মেরামতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন, পাশাপাশি সামলান সংসারের অন্যান্য কাজও। এই সময় আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে যাওয়া হয়, আবার অনেকে সুযোগটি কাজে লাগিয়ে বিয়েশাদির আয়োজনও করেন। চেয়ারম্যান ঘাটের আড়ৎদার মাহবুবুল আলম ইউসুফ বলেন, আগে প্রচলিত ছিল, দীর্ঘসময় সাগরে মাছ শিকারের পর জেলেরা বাড়ি ফেরার পথে নৌকা বা ট্রলার সাজিয়ে ঘরে ফিরতেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মাছের পরিমাণ কমে যাওয়ায় সেই রেওয়াজ আজ অনেকটাই হারিয়ে গেছে। তবে এবার সেই ঐতিহ্য আবারও জীবন্ত করে তুলেছে এমভি আহাদ-২ ট্রলার। তাদের সাজসজ্জা দেখতে চেয়ারম্যান ঘাটে উপচে পড়েছে জনতার ভিড়। এমন রঙিন সাজে সজ্জিত ট্রলার দেখতে সত্যিই এক অন্যরকম আনন্দের অনুভূতি জাগে। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন বলেন, ৩ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত মা ইলিশ রক্ষায় নদীতে কঠোর নজরদারি থাকবে। মৎস্য বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যৌথভাবে অভিযান চালাবে। আশা করি নিষেধাজ্ঞা সফল হলে এরপর প্রচুর মাছ পাওয়া যাবে। মাছ পেলে জেলে ও সংশ্লিষ্টরা উপকৃত হবে।