

স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান, ছাত্রদলের পদ হারিয়ে মিষ্টি বিতরণ দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ওমর ফারুক শাকিলকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। তবে বহিষ্কারের খবরে ক্ষুব্ধ না হয়ে উল্টো সাধারণ মানুষের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করে আলোচনায় এসেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন। কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে নোয়াখালী জেলা শাখার অধীন সেনবাগ উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আনোয়ার হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক সোলেমান রাজু ও ওমর ফারুক শাকিল এবং সেনবাগ পৌরসভা ছাত্রদলের সদস্য সচিব ওয়ালিদ বিন হায়দার আদনানকে সাংগঠনিক পদ থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ছাত্রদলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বহিষ্কৃতদের সঙ্গে কোনো ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এদিকে বহিষ্কারের আদেশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সেনবাগে মিষ্টি বিতরণ করেন ওমর ফারুক শাকিল। এ বিষয়ে তিনি বলেন, আমি খুশিতেই মিষ্টি বিতরণ করছি। আলহামদুলিল্লাহ। পদত্যাগের পরও বহিষ্কার-এটাই বাস্তব। একজন ওমর ফারুক শাকিল আবিষ্কার কঠিন, বহিষ্কার সহজ। তিনি আরও বলেন, প্রহসনমূলক বহিষ্কার দিয়ে বসন্তের আগমন ঠেকানো যায় না। ইনশাআল্লাহ, স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী আলহাজ্ব কাজী মোহাম্মদ মফিজুর রহমানের সঙ্গেই আছি। ১২ তারিখ তাকে নির্বাচিত করেই ঘরে ফিরব। ওমর ফারুক শাকিল দাবি করেন, বহিষ্কারের আগেই তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে ভোট দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে নিজ দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। কারণ দল এমন একজনকে মনোনয়ন দিয়েছে, যিনি বিগত স্বৈরাচারের আমলে নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন না। অথচ স্বতন্ত্র প্রার্থী তাদের ছেড়ে যাননি। মামলা ও হামলার সময় তাদের পাশে ছিলেন। তাই ঘোষণা দিয়েই দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। বহিষ্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাকে সাময়িক বহিষ্কার করায় কেন্দ্রীয় ছাত্রদলকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। আমি ভেবেছিলাম হয়তো স্থায়ী বহিষ্কার হবে। কিন্তু দল আমার ত্যাগ ও শ্রমের মূল্যায়ন করেছে। যোগ্য নেতৃত্ব প্রমাণ করেছে ত্যাগীদের অবমূল্যায়ন হয় না। ইনশাআল্লাহ, ফেরাটা হবে রাজার বেশেই। ঘটনাটি স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। হাবিবুর রহমান সুমন নামের মিষ্টি পাওয়া এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, হঠাৎ মিষ্টি পেয়ে আমরাও অবাক হয়েছি। সাধারণত বহিষ্কারের খবরে মানুষ মন খারাপ করে, কিন্তু তিনি হাসিমুখে মিষ্টি দিলেন। রাজনীতি এমনও হতে পারে-এই ঘটনাই তার উদাহরণ।

অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় বাবাকে হারিয়ে চরম দারিদ্র্যের মাঝেও অদম্য সংগ্রাম চালিয়ে মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার জান্নাতুল আরফিন। ঢাকা পোস্টে তার জীবনসংগ্রামের সংবাদ প্রকাশের পর তার পাশে দাঁড়িয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) বিকেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে জান্নাতুল আরফিনের কাছে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক। এর আগে গত ১৫ ডিসেম্বর ঢাকা পোস্টে ‘মেডিকেলে চান্স পেয়ে দুশ্চিন্তায় জান্নাত’ শিরোনামে জান্নাতুল আরফিনের সংগ্রামী জীবনের সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি তারেক রহমানের নজরে এলে তিনি তার পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেন। জান্নাতুল আরফিন নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার ডুমুরিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কইয়াজলা গ্রামের আনসার আলী ভুঁইয়া বাড়ির মৃত আব্দুল ওয়াদুদ ও শাহিদা আক্তার দম্পতির বড় মেয়ে। তিন বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় জান্নাত। অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় বাবাকে হারানোর পর পরিবারটির জীবনসংগ্রাম শুরু হয়। বিজ্ঞাপন চার সন্তানকে মানুষ করতে একাই সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন জান্নাতের মা শাহিদা আক্তার। সংসার চালাতে ও সন্তানদের পড়াশোনা অব্যাহত রাখতে তাকে বাড়িতে সেলাইয়ের কাজ, টিউশনি এবং আত্মীয়দের সহায়তার ওপর নির্ভর করতে হয়। বড় মেয়ের পড়াশোনার খরচ জোগাতে স্বামীর ভাগে পাওয়া মাত্র পাঁচ শতাংশ ধানের জমি ২০২৩ সালে তিন লাখ টাকায় বিক্রি করেন তিনি। জানা গেছে, জান্নাতুল আরফিন নোয়াখালীর গাজীরহাট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি পাস করেন। আর্থিক সংকটের কারণে উচ্চমাধ্যমিকে পড়াশোনা অনিশ্চিত হয়ে পড়লেও আত্মীয়দের সহায়তায় তিনি ফেনীর জিয়া মহিলা কলেজে ভর্তি হন। সেখান থেকেও জিপিএ-৫ পেয়ে এইচএসসি উত্তীর্ণ হন। এইচএসসি শেষে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতিতে প্রথম দফায় কোচিং বাবদ প্রায় ৫০ হাজার টাকা ব্যয় হয়। প্রথমবার কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ায় হতাশ হয়ে জান্নাত বাড়ি ফিরে আসেন। পরে আবার চট্টগ্রামে কোচিংয়ে ভর্তি হয়ে আরও প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ করেন তিনি। অবশেষে কঠোর পরিশ্রম ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির ফল হিসেবে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের মেডিকেল ও ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষায় ৪ হাজার ৪১তম স্থান অর্জন করে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পান জান্নাতুল আরফিন। তবে ভর্তি, বইপত্র ও অন্যান্য ব্যয় নিয়ে পরিবারটি নতুন করে দুশ্চিন্তায় পড়ে। জান্নাতের মা শাহিদা আক্তার বলেন, স্বামী মারা যাওয়ার পর খুব কষ্টের মধ্যে দিন কেটেছে। তবুও মেয়েকে কখনো হাল ছাড়তে দিইনি। আল্লাহর রহমতে সে আজ মেডিকেলে সুযোগ পেয়েছে। আজ তারেক রহমানের প্রতিনিধি হিসেবে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক আমাদের বাড়িতে এসেছেন এ জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে জান্নাতুল আরফিন বলেন, স্বপ্নের মেডিকেলে চান্স পাওয়ায় আল্লাহর দরবারে লাখো কোটি শুকরিয়া। মা একাই আমার বাবা-মা। তার ত্যাগ আমাকে বারবার লড়াই করতে শিখিয়েছে। জনাব তারেক রহমান আমার খোঁজ নিয়েছেন এ জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। ভবিষ্যতে একজন মানবিক চিকিৎসক হয়ে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই। সবার কাছে দোয়া চাই। স্থানীয় বাসিন্দা মো. ওমর ফারুক বলেন, জান্নাত অত্যন্ত মেধাবী শিক্ষার্থী। আর্থিক সংকটের মধ্যেও সে নিজের চেষ্টা থামায়নি। তার সাফল্য আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা। চরম প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে লড়াই করে জান্নাত আজ এখানে এসেছে। তার এই অর্জনে আমি গর্বিত। সে যেন মানুষের মতো মানুষ হয়ে মানবতার সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দিতে পারে। এ বিষয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, অজপাড়া গ্রামের খবরও লন্ডনে অবস্থানরত আমাদের নেতা তারেক রহমানের কাছে পৌঁছে গেছে। তিনি আমাদের এলাকার সন্তান জান্নাতুল আরফিনের পাশে দাঁড়িয়েছেন এটি আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। বর্তমানে আচরণবিধি অনুযায়ী কিছু বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তাই নির্বাচন শেষে আমরা তার সব দায়িত্ব গ্রহণ করব। আমার দুটি মেয়ে আছে আজ থেকে জান্নাত আমার আরেকটি মেয়ে। পিতৃহারা জান্নাত একদিন অনেক বড় হবে, ইনশাআল্লাহ। আমরা সবাই তার উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য দোয়া করি। এ সময় সেনবাগ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মুক্তার হোসেন পাটোয়ারী, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আবদুল্লা আল মামুন, যুগ্ম আহ্বায়ক মিয়া আহ্বায়ক মিয়া মো. ইলিয়াস, সেনবাগ উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব সাহাব উদ্দিন রাসেল, পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সহিদ উল্যাহ, উপজেলা মহিলা দলের সভানেত্রী সুফিয়া আক্তার মনি, ডুমুরিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জসিম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

নোয়াখালীর সেনবাগে গ্যারেজ থেকে মো. আরিফ হোসেন নামের এক চালকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এর আগে, সকাল ১০টা থেকে ১টার মধ্যে উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের উত্তর মোহাম্মদপুর গ্রামের আবুল হোসেনের গ্যারেজে গলায় ফাঁস দিয়ে ওই চালক আত্মহত্যা করে। মো. আরিফ হোসেন (৩০) উপজেলার উত্তর মোহাম্মদপুর গ্রামের মো. মনির আহমেদের ছেলে। স্থানীয়রা জানায়, আরিফ পেশায় একজন পিকআপভ্যানচালক ছিলেন। তিনি উত্তর মোহাম্মদপুর গ্রামের আবুল হোসেন মিয়ার গ্যারেজে গাড়ি রাখতেন। ওই গ্যারেজে বুধবার সকালে সবার অগোচরে ঢুকে সিলিং ফ্যানের হুকের সঙ্গে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। পরে দুপুরের দিকে আরেকজন চালক গ্যারেজে গাড়ি রাখতে গিয়ে তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পায়। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। তবে তাৎক্ষণিক পুলিশ আত্মহত্যার কোনো কারণ জানাতে পারেনি। সেনবাগ থানার ওসি মোহাম্মদ আবুল বাশার বলেন, এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা নেওয়া হবে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলা শাখার আহ্বায়ক মো. সানা উল্লাহর সাময়িক বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ খবরে তার অনুসারী ও নেতাকর্মীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) ভোরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক (সহ-সভাপতি পদমর্যাদায়) মো. জাহাঙ্গীর আলম। এর আগে রোববার (১৪ ডিসেম্বর) রাতে তার স্বাক্ষরিত এক পত্রের মাধ্যমে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের বিষয়টি জানানো হয়। ওই চিঠিতে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এ সিদ্ধান্তের অনুমোদন দেন। অনুমোদনপত্রে বলা হয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নোয়াখালী জেলা শাখার অধীনস্থ সেনবাগ উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোহাম্মদ সানা উল্লাহর সাংগঠনিক পদের সাময়িক বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হলো। এর ফলে তার সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনায় আর কোনো বিধিনিষেধ থাকছে না। জানা গেছে, গত ২৬ জুন (বৃহস্পতিবার) সকালে সেনবাগ উপজেলার সুলতান মাহমুদ ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষা শুরুর আগে দলবল নিয়ে সরাসরি পরীক্ষাকেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশের অভিযোগে সেনবাগ উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোহাম্মদ সানা উল্লাহকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়। পরদিন শুক্রবার (২৭ জুন) বিকেলে সেনবাগ বাজারে উপজেলা ছাত্রদলের ব্যানারে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা দাবি করেন, সানা উল্লাহ দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং দলের প্রতি তার আনুগত্য প্রশ্নাতীত। পরীক্ষার দিন পরীক্ষাকেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ কোনো পরিকল্পিত কাজ ছিল না, এটি ছিল একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল বোঝাবুঝির ফল। তারা বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষে নিষ্পত্তির দাবি জানান এবং দ্রুত বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের আহ্বান জানান। মিছিলে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের ছাত্রদলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়ায় সেনবাগ উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোহাম্মদ সানা উল্লাহ বলেন, আমার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, আগামী দিনের রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমান এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আমি ধৈর্য ধারণ করেছি এবং দলের সিদ্ধান্তের ওপর আমার পূর্ণ আস্থা ছিল। আলহামদুলিল্লাহ, অবশেষে দল বিষয়টি বুঝতে পেরেছে। আমি আমার সকল নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাজ করে যাব, ইনশাআল্লাহ। বিষয়টি নিশ্চিত করে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির বলেন, সংগঠনের শৃঙ্খলা ও নীতিমালা রক্ষার প্রশ্নে ছাত্রদল সবসময় আপসহীন। তবে প্রাপ্ত তথ্য, সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে আমরা দেখেছি- এটি কোনো পরিকল্পিত বা সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ড ছিল না, বরং একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল বোঝাবুঝির ফল। কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাই মোহাম্মদ সানা উল্লাহর সাময়িক বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। আমরা আশা করি, তিনি ভবিষ্যতে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে ছাত্রদলের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে শক্তিশালী করতে কাজ করবেন।

উপজেলা প্রতিনিধি, সেনবাগ নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় দীর্ঘদিনের অবহেলিত ও জরাজীর্ণ সড়ক সংস্কারসহ একগুচ্ছ উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের পথে অগ্রসর হচ্ছে। এসব উন্নয়নের মূল অগ্রদূত হিসেবে উঠে এসেছেন নোয়াখালী-২ (সেনবাগ–সোনাইমুড়ী আংশিক) আসনে এনসিপির সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়া। ২০২৫ সালের ২৬ মে সেনবাগ উপজেলার ২১টি রাস্তা মেরামত, ১৩টি নতুন সড়ক নির্মাণ, উপজেলা স্টেডিয়ামের জন্য বরাদ্দ, ১১টি স্কুল মাঠ সংস্কারসহ পৌরসভা ও উপজেলার জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষ বরাদ্দের বিস্তারিত তালিকা তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন। তালিকা হস্তান্তরের সময় উপস্থিত ছিলেন সেনবাগের কৃতী সন্তান ও জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় বিভাগীয় সম্পাদক নিজাম উদ্দিন এবং এনটিভির সিনিয়র সাংবাদিক সোহরাব মাহাদি। উন্নয়নকাজের তালিকা প্রস্তুতে সহায়তা করেন এনসিপির যুব সংগঠন ‘যুবশক্তি’র সংগঠক মো. কামরুজ্জামান। এ উদ্যোগের প্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সেনবাগ উপজেলার ৯টি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সংস্কারের জন্য ইতোমধ্যে টেন্ডার আহ্বান করেছে। সড়কগুলো হলো—বালিয়াকান্দি কলেজ সড়ক, বসন্তপুর–বিরাহিমপুর সড়ক, সাতবাড়িয়া–নলুয়া সড়ক, ফকিরহাট–সামেরগাঁও সড়ক, ফকিরহাট–ভাটেরচর সড়ক, কুতুবেরহাট–চাঁদেরহাট–সেবারহাট সড়ক, নজরপুর বেড়িবাঁধ সড়ক, ছাতারপাইয়া–তেমুহনী মানিকমুড়া সড়ক, দৌলতপুর–নাজিমনগর সড়ক দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে এসব সড়ক অবহেলিত অবস্থায় পড়ে ছিল এবং স্থানীয় মানুষের চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়ার নিরলস প্রচেষ্টায় উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া নিজে এসব সমস্যার দ্রুত সমাধানে আগ্রহ দেখান এবং সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে সহায়তা করেন। স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়া বলেন,সেনবাগবাসীর দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমাতে এই উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি ছিল। বিষয়টি দ্রুত কার্যকর হওয়ায় আমি মাননীয় উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।

সাবেক বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক বলেছেন, আমাদের বিভিন্ন ইসুতে ভিন্ন মত থাকতে পারে কিন্তু এদেশের মানুষের জন্য আমরা সকলে বিভাজন ভুলে গিয়ে মিলে মিশে কাজ করি। বিভিন্ন সরকারি অফিসে এখন অনেক সমস্য আছে গত ১৬ বছরের সেই সমস্যা দূর করতে হলে আগামীতে তারেক রহমানের ৩১ দফা বাস্তবায়ন করে একটি সুষ্টু সন্দর নির্বাচনে উপহার দেই, তাহলে আর কোন সমস্যা থাকবে না। বুধবার (১৯ নভেম্বর) সকালে নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড কাউন্সিলের উদ্যোগে উপজেলা মডেল মসজিদের সেনবাগ মুক্ত দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সেনবাগ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড কাউন্সিলের আহবায়ক আবদুল আজিম চৌধুরীর সভাপতিত্বে এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে নোয়াখালী জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ, নোয়াখালী জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা ভুইয়া ও সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু তাহের, সেনবাগ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্য সচিব মফিজুর রহমান, কালিপুর ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সোলেমা বাহার বক্তব্য রাখেন। এ সময় জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আবদুল্লা আল মামুন,উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব সহিদুল ইসলাম, বিএনপি নেতা নুরনবী বাচ্চু, ফারুক বাবুল, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি হুমায়ুন করিব ও সাহেব উদ্দিন রাসেল উপস্থিত ছিলেন।

চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাই ঠেকাতে মধ্যরাতে নোয়াখালীর বিভিন্নস্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি করছে পুলিশ। এ সময় প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, অটোরিকশা, মোটরসাইকেল ও বাস থামিয়ে কাগজপত্র যাচাই ও তল্লাশি চালানো হয়। সোমবার (১০ নভেম্বর) রাত ১টায় জেলার সেনবাগ থানার সামনে পুলিশ সদস্যদের বিভিন্ন গাড়ি তল্লাশি করতে দেখা যায়। একযোগে প্রতিটি থানায় গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে জানান নোয়াখালী পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আব্দুল্লাহ আল ফারুক। জানা যায়, চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতি ঠেকাতে পুলিশ সদস্যরা দিন-রাত চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি করছে। এসময় পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আব্দুল্লাহ আল ফারুক বিভিন্ন প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, অটোরিকশা, মোটরসাইকেল ও বাস থামিয়ে কাগজপত্র যাচাই ও তল্লাশি চালান। কাউকে সন্দেহ হলে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সড়কে চলাচল করা ব্যক্তিদের গন্তব্য ও বের হওয়ার কারণ জানতে চাওয়া হয়। নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, ছিনতাই, ডাকাতি ও চাঁদাবাজি রোধে আমরা বিভিন্ন উপজেলায় চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি করছি। ইতোমধ্যে কয়েকজন আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে। অপরাধ দমনে টহল ও চেকপোস্টের সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে। এ সময় জনগণকে যেকোন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে পুলিশকে জানানোর অনুরোধও করছি। আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আব্দুল্লাহ-আল-ফারুক বলেন, অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার এবং জনসাধারণের চলাচলকে নির্বিঘ্ন করতে রাতভর পুলিশ সদস্যরা চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি করেন। পুলিশ চেকপোস্টে তল্লাশি করলেও কোনো ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছে না যাত্রীরা। তল্লাশি শেষে দ্রুত প্রস্থানের ব্যবস্থা করছে পুলিশ। আমি নিজেই সরেজমিনে মনিটরিং করছি। কোনো অপরাধী ছাড় পাবে না। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেনসহ জেলা পুলিশের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও অপরাধ দমনে পুলিশের এই তৎপরতা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহ আল ফারুক।

নোয়াখালীর সেনবাগে সরকারি খাস জমি থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সময় ম্যাজিস্ট্রেটকে দেখে পালিয়ে গেছেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাকায়েত লিটন। শনিবার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার ডুমুরিয়া ইউনিয়নের গাজীরহাট স্কুলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সেনবাগ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাকায়েত লিটন দুই দিন ধরে সরকারি খাস জমি থেকে বালু উত্তোলন করে আসছিলেন। এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়ে সেনবাগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শিরীন আক্তার অভিযান পরিচালনা করেন। সরেজমিনে দেখা যায়, ঘটনাস্থলে অ্যাডভোকেট সাকায়েত লিটন উপস্থিত ছিলেন। তবে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তাকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি। এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ একাধিক ব্যক্তি তাকে ফোন দিলেও তিনি আর ফিরে আসেননি। পরে ইউএনও অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে ড্রেজার মেশিনের মালিক আবুল বাশারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন এবং বালু উত্তোলন বন্ধের নির্দেশ দেন। স্থানীয়রা জানান, বিএনপির পরিচয় দিয়ে একই স্থান থেকে জুলাই মাসে বালু উত্তোলন করেন সেনবাগ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাকায়েত লিটন। তখন সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে বন্ধ হয়। কিন্তু কিছু দিন না যেতেই তিনি সেখানে বালু উত্তোলন করেন। আজকে ইউএনও আসার পর উনি পালিয়ে যান। অভিযোগের বিষয় জানতে তার মুঠোফোনে কল দিলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে কিছুক্ষণ শুনে বলেন, আমি মাইজদী আছি। আমি বালু উত্তোলন করি নাই। তারপর তিনি কল কেটে দেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সেনবাগ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোক্তার হোসেন পাটওয়ারী বলেন, বিএনপি পরিচয় দিয়ে নয়, উনি আইনের লোক। উনি আইনজীবী হয়ে যদি বেআইনি কাজ করেন উনার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। দলের পরিচয় দিয়ে কেউ অন্যায় করলে আমরা তা সাপোর্ট করবো না। সেনবাগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শিরীন আক্তারবলেন, অ্যাডভোকেট সাকায়েত লিটনকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি আসেননি। প্রায় দুই ঘণ্টা সেখানে ছিলাম আমরা। তারপর ড্রেজার মেশিনের মালিক আবুল বাশারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

সেনবাগ প্রতিনিধিঃ সেনবাগ উপজেলা কাবিলপুর ইউনিয়ন এর দিলদার মার্কেটে এলাকাযর কতিপয় কিশোর দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ মারামারিতে লিপ্ত হলে স্থানীয় লোকজন পুলিশকে সংবাদ দেয়। এ সময় উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ স্থানীয় জনতার সহায়তায় দুইজন কিশোরকে আটক করে এবং তাদের ব্যবহৃত একটি চাইনিজ কুড়াল, দুইটি দেশীয় তৈরি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করে। জানা গেছে, ঘটনায় জড়িত সকলের বিরুদ্ধে সেনবাগ থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় গ্রেফতারকৃত আসামী হলেন কাবিল পুর ইউনিয়ন পশ্চিম লাল পুর গ্রামের দই বেপারী বাড়ি ১/মোঃ শাহদাত হোসেন ( ১৮), পিতার নাম: মোঃ সাইফুল, মাতার নাম: নাসরীন আক্তার, ২/মোঃ বাবলু (২০), পিতার নাম: মৃত আবুল কাশেম, মাতার নাম: শেফালী বেগম। সেনবাগ থানা পুলিশ জানায়, আসামিদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

নোয়াখালীর সেনবাগ থানার ব্যারাকে নিজ কক্ষ থেকে মোহাম্মদ মোহন মজুমদার (৩৫) নামে এক পুলিশ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে, তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। শনিবার (৪ অক্টোবর) দুপুরে সেনবাগ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত কনস্টেবল মোহাম্মদ মোহন মজুমদার কুমিল্লা জেলার লালমাই উপজেলার বাগমারা ইউনিয়নের আলী মজুমদারের ছেলে। থানা সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ডিউটি শেষে শুক্রবার ভোরে কনস্টেবল মোহন ব্যারাকে ফিরে আসেন। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তিনি থানার ব্যারাকের ৪র্থ তলায় নিজ কক্ষে ঘুমাতে যান। দুপুর ৩টা ৩০ মিনিটের দিকে সহকর্মীরা তাকে খাবারের জন্য ডাকাডাকি করলেও সাড়া পাননি। পরে বিষয়টি থানার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়। দ্রুত তাকে সেনবাগ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ বিষয়ে সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। মরদেহের সুরতহাল শেষে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এদিকে পুলিশ কনস্টেবল মোহাম্মদ মোহন মজুমদারের অকস্মিক মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন নোয়াখালীর পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আবদুল্লাহ্-আল-ফারুক। তিনি বলেন, এ ঘটনায় আমি গভীর শোক প্রকাশ করছি। মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারবর্গ ও সহকর্মীদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি। সহকর্মীদের উপস্থিতিতে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এবং জানাজা শেষে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়।