

নোয়াখালীর সদরে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হতে লোকজন নিয়ে বিদ্যালয় ঘেরাও করার অভিযোগ উঠেছে মো. আবদুস সোবহান পারভেজ নামে স্থানীয় এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুরে বিনোদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এসময় বিদ্যালয়সহ আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অভিযুক্ত আবদুস সোবহান পারভেজ বিনোদপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি স্থানীয় ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব এবং জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। এদিকে বিদ্যালয় ঘেরাও কর্মসূচীর এক মিনিট ২১ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এতে সঙ্গে থাকা লোকজনের উদ্দেশ্যে ওই নেতাকে বলতে শোনা যায়, ‘গত ১৭ বছরে বিনোদপুরের সামাজিক কাজ, বিদ্যালয়ের উন্নয়ন কিংবা গরিব-মেহনতি মানুষের পাশে কোনো অরাজনৈতিক ব্যক্তি ছিল না। মানুষের সুখে-দুঃখে আমরাই ছিলাম। এখন আমাকে যদি সভাপতি হিসেবে আপনারা যোগ্য মনে করেন তাহলে সবাই এ পদে আমার নাম এক নম্বরে দিতে অনুরোধ করেন।’ এ সময় উপস্থিত সবাই ‘যোগ্য’ ‘যোগ্য’ বলে আওয়াজ তোলেন। ভিডিওর শেষে বিদ্যালয়ের একটি কক্ষের দরজার সামনে লোকজনকে জড়ো হয়ে উচ্চস্বরে চিৎকার করতে দেখা যায়। যুবদল নেতা আবদুস সোবহান পারভেজ জাগো নিউজকে বলেন, আমি দীর্ঘদিন এলাকার মানুষের সুখে-দুঃখে জড়িত আছি। সভাপতি পদে বিদ্যালয় থেকে তিন জনের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। এরমধ্যে প্রথমে জনের সনদ ভুয়া। পরে এক রাজনৈতিক নেতার অনুরোধে দ্বিতীয় জনকে সভাপতি মনোনীত করা হচ্ছে। এলাকার মানুষ তা মানে না। তাই আজ আমিসহ অভিভাবকরা ওই তালিকা পরিবর্তন করে আমার নাম যুক্ত করতে বিদ্যালয়ে গেছে। এখানে ঘোরাও করার মতো কিছু হয়নি। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. কামাল উদ্দিনকে বার বার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক জানান, সভাপতি মনোনয়ন নিয়ে বিভিন্ন হুমকি-ধমকিতে নিরাপত্তাহীনতার কারণে প্রধান শিক্ষক গত ৫দিন বিদ্যালয়ে আসেন না। কারো ফোনও ধরছেন না। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হোমায়রা ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমাকে কেউ জানায়নি। খোঁজ নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

লাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম যোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার পরিকল্পনাকারীরা তার জানাজা নামাজের সামনের কাতারেই ছিল বলে মন্তব্য করেছেন সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার মুখপাত্র ফাতিমা তাসনিম জুমা। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টার দিকে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন। পোস্টে ফাতিমা তাসনিম জুমা লিখেছেন, ‘হুটহাট মাথায় এসে হিট করে, ভাইরে (হাদি) হত্যার পরিকল্পনাকারীদের কেউ কেউ হয়তো ভাইয়ের জানাজার সামনের দুই তিন কাতারেই ছিল। আমরা হয়তো বুঝি নাই, চিনি নাই, কিচ্ছু করতে পারি নাই। সকল ষড়যন্ত্র উন্মোচিত করে দাও খোদা। আমরা তোমার সাহায্য ছাড়া নিরুপায়।’ ওই পোস্টের এক কমেন্টে জুমা বলেন, ‘আগামীকাল কোর্টে শুনানি। চার্জশিট যা দিয়েছে শুধু মাসুদ আর বাপ্পি আছে হত্যার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। ঘটনা ঘটার পরের সব আছে। আগের কিছুই নাই। মাস্টারমাইন্ডদের বের করা কি পসিবল না, নাকি ইচ্ছে করেই করতে দেয় না জানি না।’ তিনি আরও বলেন, ‘এরা কারা, কী এমন শক্তি তাদের যে তাদের কখনো সামনে আনা পসিবল (অসম্ভব) না, শুনে আমাদের মেনে নিতে বলা হয়? এরা কি হাসিনার চাইতেও শক্তিশালী?’ উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার পরদিন ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা দুই সন্ত্রাসীর গুলিতে মারাত্মক আহত হন ওসমান হাদি। রিকশায় থাকা অবস্থায় তার মাথায় গুলি লাগে। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, পরে অবস্থার অবনতি হলে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠানো হলে সেখানে ১৮ ডিসেম্বর রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে মৃত্যু হয় তার। এ ঘটনায় পল্টন থানায় একটি মামলা হয়। ওই মামলার পর প্রধান আসামি শ্যুটার ফয়সালের বাবা মাকে গ্রেফতার করা হয়। তবে মূল অভিযুক্ত ফয়সালসহ তার সহযোগীকে এখনো ধরতে পারেনি পুলিশ। তারা ভারতে চলে গেছেন ধারণা করা হচ্ছিল। অবশেষে আজ পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি স্বীকার করা হয়।

নোয়াখালী জেলা কারাগারে বর্তমানে ৯৪১ জন বন্দি থাকলেও আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য আবেদন করেছেন মাত্র ৪৪ জন বন্দি। যা মোট বন্দির মাত্র ৪ দশমিক ৭ শতাংশ। জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নোয়াখালী জেলায় সরকারি চাকরিজীবীসহ মোট ১৩ হাজার ৮৫১ জন পোস্টাল ব্যালটের জন্য আবেদন করেছেন। এর মধ্যে পুরুষ ১০ হাজার ২৪৬ জন এবং নারী ৩ হাজার ৬০৫ জন। আবেদনকারীদের মধ্যে সরকারি চাকরিজীবী ৯ হাজার ৯৪৪ জন, নির্বাচনি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী ৩ হাজার ৭০৪ জন, আনসার ও ভিডিপি সদস্য ১৩১ জন এবং কারাবন্দি ৭২ জন রয়েছেন। এদিকে সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে নোয়াখালীর ছয়টি সংসদীয় আসনের জন্য মোট ৬১ হাজার ২৫১ জন প্রবাসী ভোটার পোস্টাল ব্যালটের আবেদন করেছেন। এর মধ্যে নোয়াখালী-১ আসনে ১৩ হাজার ৬৬৭ জন, নোয়াখালী-২ আসনে ৯ হাজার ২২৭ জন, নোয়াখালী-৩ আসনে ১২ হাজার ৮৫৯ জন, নোয়াখালী-৪ আসনে ১০ হাজার ৩৬০ জন, নোয়াখালী-৫ আসনে ১১ হাজার ৭০৩ জন ও নোয়াখালী-৬ আসনে ৩ হাজার ৪৩৫ জন আবেদন করেছেন। নোয়াখালী জেলা কারাগারের জেল সুপার আবদুল বারেকবলেন, ভোটের আগে অনেক বন্দিই জামিন পাওয়ার আশায় পোস্টাল ব্যালটে আবেদন করতে আগ্রহ দেখাননি। কারণ পোস্টাল ব্যালটে আবেদন করলে পরবর্তীতে জামিন পেলে আর কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকে না। বিষয়টি বোঝানোর পর ৪৪ জন বন্দিকে আবেদন করতে রাজি করানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, নোয়াখালীর ছয়টি সংসদীয় আসনসহ দেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে মোট ৭২ জন কারাবন্দি পোস্টাল ব্যালটের জন্য আবেদন করেছেন। আসনভিত্তিক আবেদনকারীর সংখ্যা হলো- নোয়াখালী-১ এ ১২ জন, নোয়াখালী-২ এ ৬ জন, নোয়াখালী-৩ এ ৭ জন, নোয়াখালী-৪ এ ৩১ জন, নোয়াখালী-৫ এ ১২ জন এবং নোয়াখালী-৬ এ ৪ জন। নোয়াখালী জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাদেকুল ইসলাম বলেন, ভোটারদের কাছে সরবরাহ করা খামের মাধ্যমে পোস্টাল ব্যালট ডাকযোগে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে পৌঁছাবে। পরে সেগুলো সংশ্লিষ্ট ছয়টি সংসদীয় আসনের আলাদা ব্যালট বাক্সে সংরক্ষণ করা হবে। ভোটের দিন ১২ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৪টার পর প্রার্থীদের মনোনীত এজেন্টদের উপস্থিতিতে ব্যালটগুলো খোলা হবে। তিনি আরও বলেন, কর্মস্থলে, বিদেশে বা কারাবন্দি থাকার কারণে যারা এতদিন সরাসরি ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারতেন না, পোস্টাল ব্যালট পদ্ধতির মাধ্যমে তাদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে। এটি নির্বাচন ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, পোস্টাল ব্যালট ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নিরাপদ করতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের অনিয়ম যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। পোস্টাল ব্যালট পদ্ধতি চালুর ফলে নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি বাড়বে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী হবে।

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত স্মারক আসল ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি আজ বাংলাদেশে এসেছে। ‘ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ ট্রফি ট্যুর’-এর অংশ হিসেবে এই আয়োজন ফুটবল ভক্তদের ট্রফিটি কাছ থেকে দেখার সুযোগ করে দিচ্ছে। এর আগে ২০০২, ২০১৩ এবং ২০২২ সালে ট্রফিটি বাংলাদেশে এসেছিল। চলতি সফরটি ৩ জানুয়ারি সৌদি আরব থেকে শুরু হয়েছে এবং ভারত হয়ে বাংলাদেশে পৌঁছাল। ১৫০ দিনের এই যাত্রা শেষ হবে মেক্সিকোতে, যেখানে ১২ জুন বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। ৩০টি দেশের ৭৫টি ভেন্যুতে এই ট্রফি প্রদর্শন করা হবে। বাংলাদেশ ছেড়ে পরবর্তী সফরে ট্রফি যাবে দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, কাজাখস্তান এবং উজবেকিস্তানে। তারপর আফ্রিকার দক্ষিণ আফ্রিকা, আইভরি কোস্ট, মরক্কো এবং আলজেরিয়ায় সফর করবে। এরপর ইউরোপের পর্তুগাল, স্পেন ও ফ্রান্স হয়ে চূড়ান্ত গন্তব্য উত্তর আমেরিকায়। সবশেষে ট্রফিটি বিশ্বকাপের তিন আয়োজক দেশ মেক্সিকো, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডায় পৌঁছানোর মাধ্যমে তার যাত্রা শেষ করবে। মাঝেমধ্যে প্রশ্ন ওঠে, ট্যুরে কি আসল ট্রফি থাকে? ফিফা নিশ্চিত করেছে যে প্রদর্শিত ট্রফিটি আসল এবং এটি নিখাদ সোনা দিয়ে তৈরি, যার ওজন ৬.১৭৫ কেজি। আর বিজয়ী দল উদযাপনের সময় আসল ট্রফি নিয়ে উদযাপন করলেও তাদেরকে স্থায়ীভাবে দেওয়া হয় সোনার প্রলেপ দেওয়া রেপ্লিকা ট্রফি। এবারের সফরে ট্রফির সঙ্গে আছেন ব্রাজিলের ২০০২ বিশ্বকাপজয়ী মিডফিল্ডার গিলবার্টো সিলভা। ২০২২ সালের ট্রফি ট্যুরে ফ্রান্সের বিশ্বকাপ জয়ী ক্রিস্টিয়ান কারেম্বেউ ছিলেন বাংলাদেশে। প্রদর্শনী ও দেখার নিয়মাবলী বাংলাদেশে ট্রফিটি শুধুমাত্র ঢাকার রেডিসন ব্লু হোটেলে প্রদর্শন করা হবে। তবে সবাই এটি দেখার সুযোগ পাবেন না। কোকা-কোলার ‘আন্ডার দ্য ক্যাপ’ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে নির্বাচিত বিজয়ীরাই কেবল এটি দেখার এবং ছবি তোলার সুযোগ পাবেন। ট্রফি দেখার যত নিয়ম অবশ্যই টিকিটের একটি বৈধ কপি সাথে রাখতে হবে। ট্রফি স্পর্শ করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। অনুমোদিত আকারের চেয়ে বড় ব্যাকপ্যাক বহন করা, ধূমপান করা এবং টিকিট অন্য কারো কাছে হস্তান্তর করা যাবে না। ধারালো বা অন্য কোনো নিষিদ্ধ বস্তু বহন করা সম্পূর্ণ নিষেধ। এছাড়া, প্রদর্শনী এলাকার ভেতরে কোনো দেশ বা ফুটবল দলের পতাকা নিয়ে প্রবেশের অনুমতি নেই। আজ সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ট্রফিটিকে স্বাগত জানানো হয় এবং দুপুর ১টার পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এটি রেডিসন ব্লু হোটেলে প্রদর্শিত হবে।

মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ অভিযান চালিয়ে বাংলাদেশিসহ ১৫০ জন বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে। অভিযানের সময় গ্রেপ্তার এড়াতে প্রবাসীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও মরিয়া ভাব লক্ষ্য করা গেছে। ‘অপারেশন কুটিপ’ নামে এই অভিযান চলাকালে গ্রেপ্তার এড়াতে কেউ কেউ ওপর তলা থেকে দা ছুড়ে মারেন, কেউ ছাদের ওপর উঠে পড়েন, আবার কাউকে পানির ট্যাঙ্কের ভেতর লুকিয়ে থাকতে দেখা যায়। কর্তৃপক্ষ জানায়, সেলায়াং এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্ট ব্লক এবং জালান ক্লাং লামার একটি অবৈধ বসতিতে এই অভিযান চালানো হয়। মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের উপ-মহাপরিচালক (অপারেশন) লোকমান এফেন্দি রামলি জানান, দুই সপ্তাহের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সেলায়াং এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “অভিযানে মোট ৩২৬ জনের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। এর মধ্যে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ৭৯ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে।” সেলায়াং থেকে আটক হওয়া এই ৭৯ জনের মধ্যে বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, নেপাল, ভারত, পাকিস্তান ও মিয়ানমারের নাগরিক রয়েছেন। তাদের বয়স ১৭ থেকে ৫৫ বছরের মধ্যে। যাদের আটক করা হয়েছে তারা মূলত সিকিউরিটি গার্ড, ফুড স্টল সহকারী, লন্ড্রি কর্মী, কনভিনিয়েন্স স্টোর বা মুদি দোকানের কর্মচারী এবং নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। লোকমান এফেন্দি জানান, পরিদর্শনে দেখা গেছে প্রবাসীরা অত্যন্ত ঘিঞ্জি পরিবেশে বসবাস করছেন। সাধারণত তিন কক্ষের একটি ফ্ল্যাট প্রায় ৬০০ রিঙ্গিতে ভাড়া নিয়ে সেখানে পাঁচ থেকে ছয়জন গাদাগাদি করে থাকছিলেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এমন অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার ফলে দুর্গন্ধ ও পরিবেশ দূষণসহ নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং সামাজিক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। এক সপ্তাহের গোয়েন্দা নজরদারির পর জালান ক্লাং লামার একটি অবৈধ বসতিতে দ্বিতীয় অভিযানটি চালানো হয়। সেখান থেকে মোট ৭১ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে। আটককৃতদের মধ্যে ৬৬ জন ইন্দোনেশিয়ান, ৩ জন মিয়ানমারের নাগরিক এবং ভারত ও পাকিস্তানের একজন করে নাগরিক রয়েছেন। বার্নামার এক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ওই বসতিতে মৌলিক সুযোগ-সুবিধা থাকলেও বাসিন্দারা অনানুষ্ঠানিকভাবে জায়গা ভাড়া নিয়ে বসবাস করছিলেন। এমনকি তারা প্রকৃত বাড়ির মালিক কে, সে সম্পর্কেও কিছুই জানতেন না। ওই এলাকায় কোনো বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ছিল না। মূলত আশপাশের বিভিন্ন উৎস থেকে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে বসতিটি গড়ে তোলা হয়েছিল। লোকমান এফেন্দি জোর দিয়ে বলেন, অভিবাসন কর্তৃপক্ষের এই অভিযান হবে ব্যাপক এবং এ বিষয়ে কোনো আপস করা হবে না। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, “শুধু অবৈধ অভিবাসীই নয়, যারা তাদের নিয়োগ দিয়েছেন সেই নিয়োগকর্তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” আটককৃত সবার বিরুদ্ধে ১৯৫৯/৬৩ সালের অভিবাসন আইনের আওতায় অভিযোগ আনা হয়েছে। তাদের কাছে বৈধ কোনো পাস বা পারমিট ছিল না এবং অনেকের ভিসার মেয়াদও শেষ হয়ে গিয়েছিল। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে প্যারিসে শোক বই উন্মুক্ত অভিযানকালে কুয়ালালামপুর ফেডারেল টেরিটরি অভিবাসন বিভাগের পরিচালক ওয়ান মোহাম্মদ সাউপি ওয়ান ইউসুফ উপস্থিত ছিলেন। সূত্র : দ্য সান মালয়েশিয়া।

দেশে মোবাইল ফোন আমদানিতে ৬০ শতাংশ শুল্ক কমিয়েছে সরকার। সরকারের এ সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন দেশের মোবাইল ফোন উৎপাদক ও আমদানিকারকরা। এরই মধ্যে মোবাইল ফোনের দাম কমানোরও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আগামী মাসখানেকের মধ্যেই সব ধরনের মোবাইল ফোনের দাম কম-বেশি কমতে পারে। বাজারে এখন যেসব মোবাইল ফোনের দাম ৩০ হাজার টাকার বেশি সেগুলোতে সাড়ে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কমার আভাস রয়েছে। তবে এরচেয়ে কম দামের মোবাইল ফোনের দাম কমতে পারে মাত্র ১ শতাংশ! মোবাইল উৎপাদক ও আমদানিকারকদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্যই পাওয়া গেছে। ব্যবসায়ীদের প্রতিশ্রুতি পূরণে মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) মোবাইল ফোন আমদানিতে ৬০ শতাংশ শুল্ক কমিয়েছে সরকার। এতে আমদানি করা ৩০ হাজার টাকার বেশি দামের স্মার্টফোনের দাম সাড়ে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কমবে বলে প্রত্যাশা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। একই সঙ্গে দেশে সংযোজিত ৩০ হাজার টাকার বেশি দামের মোবাইল ফোনের দাম আনুমানিক দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত কমবে বলে প্রত্যাশা রাজস্ব আহরণকারী এ প্রতিষ্ঠানটির। গ্রাহক পর্যায়ে মোবাইল ফোনের দাম কমাতেই সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি মেনে মোবাইলের উৎপাদন ও আমদানি পর্যায়ে শুল্ক কমিয়ে মঙ্গলবার দুটি পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে এনবিআর। এতে মোবাইল আমদানিতে ৬০ শতাংশ শুল্ক কমেছে। দেশে অবৈধপথে আসা মোবাইল ফোনের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে সরকার সম্প্রতি ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। এতে মোবাইল দোকানি ও ব্যবসায়ীরা চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এ নিয়ে টেলিযোগাযোগ খাতের নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনে (বিটিআরসি) ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। হয় প্রতিবাদ-বিক্ষোভ। বিক্ষোভকারীদের দমাতে মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীদের গ্রেফতারও করে সরকার। মোবাইল ফোন আমদানিতে শুল্ক কমানোর দাবি ছিল বেশ কিছুদিন ধরেই। সরকারের পক্ষ থেকেও শুল্ক কমানোর আশ্বাস দেওয়া হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে পণ্যটির আমদানি শুল্ক কমিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। জানতে চাইলে মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এমআইওবি) সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সাইফুদ্দীন টিপু জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা আশা করি সামনে মোবাইল ফোনের দাম কিছুটা সহনীয় পর্যায়ে চলে আসবে। এখন পর্যন্ত যেসব মোবাইল বিক্রি করছি সেগুলো আগের শুল্ক বা ট্যাক্স দিয়ে আনা। নতুন করে যখন স্পেয়ার পার্টস আমদানি করবো অথবা এখন যেসব মোবাইল ফোন বৈধভাবে আমদানি করা হবে বাজারে গ্রাহক পর্যায়ে সেগুলোর দামে শুল্ক কমানোর প্রভাব পড়বে।’ কবে নাগাদ দাম কমবে—এমন প্রশ্নে এমআইওবির সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘দাম ঠিক কবে নাগাদ কমবে সেটি নির্দিষ্ট করে এখনই বলা যাবে না। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে আমরা দাম কমিয়ে আনার চেষ্টা করবো। সর্বোচ্চ এক মাসের মধ্যে দাম কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে।’ বাংলাদেশে অফিসিয়াল মোবাইল ফোন বিক্রি হয় ১ কোটির মতো। আনঅফিসিয়াল ২০ লাখের মতো। এরমধ্যে আমরা দেশে যে ১ কোটি মোবাইল উৎপাদন করি, সেখাকার ৯০ শতাংশেরই দাম ৩০ হাজারের কম—জিয়াউদ্দিন চৌধুরী স্যামসাং মোবাইল উৎপাদক ও দেশব্যাপী পরিবেশক এক্সেল টেলিকম প্রাইভেট লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ সাইফুদ্দীন টিপু বলেন, ‘সরকার ৬০ শতাংশ শুল্ক কমিয়েছে, আমরা যারা এখানে উৎপাদন ও সংযোজন করি এবং বৈধপথে আমদানি করি, আরও যৌক্তিক পর্যায়ে শুল্ক কমিয়ে আনার দাবি করেছিলাম। এনবিআর বলেছে, আগামী বাজেটে আরও শুল্ক কমানো হবে। আপাতত যেটুকু কমেছে এতে ভোক্তারা উপকৃত হবেন। তবে আরও কমানো হলে ভোক্তাদের জন্য আরও ভালো হতো।’ তিনি বলেন, ‘এনবিআর জানিয়েছে শুল্ক কমায় একটি মোবাইলের দাম যদি ৩০ হাজার টাকা হয়, তাহলে সেটার দাম ৫ হাজার টাকার মতো কমবে। আমরা মনে করছি, দাম এমনই কমবে। এনবিআরের এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই।’ ‘বিশ্বে মোমরি চিপ সংকটের কারণে মোবাইল ফোনের দাম বেড়েছে। ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও নেপালে দাম বেড়েছে। বাংলাদেশেও সে প্রভাব পড়েছে। আমরা এরই মধ্যে দাম এডজাস্ট করেছি, এখনো দাম পুনর্মূল্যায়ন করা হবে’—যোগ করেন সাইফুদ্দীন টিপু। জানতে চাইলে এমআইওবির কার্যকারী সদস্য ও শাওমি বাংলাদেশ-এর কান্ট্রি ম্যানেজার জিয়াউদ্দিন চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, ‘সরকার যেহেতু আমদানি শুল্ক কমিয়েছে, আমরা এখন দাম পুনর্নির্ধারণ করবো। এ প্রক্রিয়া শেষ হলে বলা যাবে দাম কতটুকু কমছে।’ তিনি বলেন, আমরা এরই মধ্যে প্রাইস স্ট্রাকচার করা শুরু করে দিয়েছি। তবে আমরা যেসব মোবাইল ফোন দেশে উৎপাদন করি, সেগুলোর দাম খুব বেশি কমবে না। আমদানি করা ফোন অর্থাৎ ৩০ হাজার টাকার ফোনে ৫ থেকে সাড়ে ৫ হাজার টাকার বেশি কমবে, এনবিআর এমনটিই জানিয়েছে। আমরা এখন সেখানেই থাকতে চাই।’ ‘আমরা যারা স্থানীয়ভাবে মোবাইল ফোন উৎপাদন করি, সেখানে এর প্রভাব খুব কম পড়বে। এখানে প্রভাব হবে ইনসিগনিফিকেন্ট। মানে দেশে উৎপাদিত ফোনের দাম ১ শতাংশেরও কম কমবে।’ অন্য এক প্রশ্নে জিয়াউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘গত নভেম্বর-ডিসেম্বর থেকেই বিশ্বে মোবাইল ফোনের দাম বেড়েছে। এটি হয়েছে এআই মেমোরি সংকটের কারণে। সে কারণে দেশে ফোনের দাম এডজাস্টমেন্ট করেছি। এখন যে ঘোষণা এসেছে সেখানে আমরা মূল্য পুনর্নির্ধারণ করবো।’ ‘বাংলাদেশে অফিসিয়াল মোবাইল ফোন বিক্রি হয় ১ কোটির মতো। আনঅফিসিয়াল ২০ লাখের মতো। এরমধ্যে আমরা দেশে যে ১ কোটি মোবাইল উৎপাদন করি, সেখাকার ৯০ শতাংশেরই দাম ৩০ হাজারের কম। এই সেগমেন্টে দাম কমার সম্ভাবনা খুবই কম। আমরা আগে সরাসরি মোবাইল আমদানি করিনি। যেহেতু শুল্ক কমেছে, এখন আমরাও দামি ফোনগুলো বিদেশ থেকে আমদানির চেষ্টা করবো’—বলেন শাওমি বাংলাদেশের এ কান্ট্রি ম্যানেজার। এ বিষয়ে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘সরকারের শুল্ক কমানোর এ উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী। এটি খুবই ভালো সিদ্ধান্ত। এর প্রভাবে মোবাইল ফোন গ্রাহকরা উপকৃত হবেন। তবে সরকার শুল্ক কমালেও ব্যবসায়ীরা অনেক সময় পণ্যের দাম দ্রুত কমায় না। কিন্তু ১ টাকা ট্যাক্স বাড়লে বাজারে ঠিকই তাৎক্ষণিক তার প্রভাব পড়ে।’ অনিবন্ধিত মোবাইল ফোন নিবন্ধনের সময় বাড়লো তিনি বলেন, ‘সরকার যেহেতু মোবাইল ফোন আমদানিতে শুল্ক কমিয়েছে, আমদানিকারক ও উৎপাদকদের উচিত হবে দ্রুত সময়ের মধ্যে ফোনের দাম কমানো। এটি যত দ্রুত করা যাবে গ্রাহকরা তত উপকৃত হবেন।’ শুল্ক কমানোর ফলে ৩০ হাজার টাকার বেশি মূল্যের প্রতিটি আমদানি করা মোবাইল ফোনের দাম আনুমানিক ৫ হাজার ৫০০ টাকা কমবে। আর ৩০ হাজার টাকার বেশি মূল্যের দেশে সংযোজিত প্রতিটি মোবাইল ফোনের দাম আনুমানিক দেড় হাজার টাকা কমবে—এনবিআর এদিকে, মোবাইল ফোনের দাম সাধারণ ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে আমদানিতে কাস্টমস ডিউটি ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে এনবিআর। এতে মোবাইল ফোন আমদানিতে প্রযোজ্য বিদ্যমান আমদানি শুল্ক ৬০ শতাংশ কমেছে। এনবিআর জানিয়েছে, কাস্টমস ডিউটি কমানোর কারণে মোবাইল ফোন সংযোজনকারী দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো যেন বিরূপ প্রতিযোগিতার মুখে না পড়ে, সে লক্ষ্যে মোবাইল ফোন সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক উপকরণ আমদানিতে কাস্টমস ডিউটি ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ ধার্য করা হয়েছে। এতে এ উপকরণ আমদানি শুল্ক ৫০ শতাংশ কমেছে। সংস্থাটি আরও জানায়, শুল্ক কমানোর ফলে ৩০ হাজার টাকার বেশি মূল্যের প্রতিটি আমদানি করা মোবাইল ফোনের দাম আনুমানিক ৫ হাজার ৫০০ টাকা কমবে। আর ৩০ হাজার টাকার বেশি মূল্যের দেশে সংযোজিত প্রতিটি মোবাইল ফোনের দাম আনুমানিক দেড় হাজার টাকা কমবে। মোবাইল ফোন আমদানি ও সংযোজন শিল্পের উপকরণ আমদানিতে সরকার উল্লেখযোগ্য হারে শুল্ক কমানোয় সব ধরনের মোবাইল ফোনের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকবে। এতে নাগরিকরা ডিজিটাল সেবাগ্রহণে সুবিধা পাবেন। সরকারের এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে—বলছে এনবিআর। দাম কমাতে দেশে উৎপাদিত ফোনের যন্ত্রাংশ ও আমদানি করা মোবাইল ফোনে গত ১ জানুয়ারি শুল্ক ছাড়ের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। ‘ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিফিকেশন রেজিস্টার’ বা এনইআইআর চালুর উদ্যোগ ঘিরে ব্যবসায়ীদের আন্দোলন ও দাবির মধ্যে ওইদিন উপদেষ্টা পরিষদের সভায় শুল্ক ছাড়ের এ সিদ্ধান্ত হয়। দেশে মোবাইল উৎপাদন, ম্যানুফেকচারিং ও আমদানির সঙ্গে জড়িত একটি গোষ্ঠীকে সুযোগ দিতেই সরকার এনইআইআর বাস্তবায়ন করছে। মূলত, একটি গোষ্ঠীকে সুযোগ দিতে কোম্পানিগুলোর অর্থায়নেই মোবাইল নিবন্ধনের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে সরকার—দাবি ব্যবসায়ীদের এদিকে, এনইআইআর বাস্তবায়নের ঘোষণায় নতুন বছরের শুরু থেকেই দেশের বাজারে মোবাইল ফোনের দাম বেড়েছে। যদিও মোবাইল কোম্পানিগুলোর দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে মেমোরি চিপ সংকটের কারণে বিশ্ববাজারেই ফোনের দাম বেড়েছে। যার প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারেও। এর সাথে এনইআইআর বাস্তবায়নের সম্পর্ক নেই। তবে আন্দোলনে থাকা মোবাইল ব্যবসায়ীদের দাবি, দেশে মোবাইল উৎপাদন, ম্যানুফেকচারিং ও আমদানির সঙ্গে জড়িত একটি গোষ্ঠীকে সুযোগ দিতেই সরকার এনইআইআর বাস্তবায়ন করছে। মূলত, একটি গোষ্ঠীকে সুযোগ দিতে কোম্পানিগুলোর অর্থায়নেই মোবাইল নিবন্ধনের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে সরকার। তবে বাংলাদেশ মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স এ্যাসোসিয়েশন (এমআইওবি) ও বিটিআরসি তথা সরকার এসব অভিযোগ নাকচ করে আসছে। এর মধ্যেই সরকার শুল্ক কমানোর যে ঘোষণা দিয়েছিল প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন করেছে এনবিআর। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন বছরের শুরুতে দাম না বাড়লে শুল্ক কমানোর প্রভাব গ্রাহক পর্যায়ে অনেক বেশি পড়ার সম্ভাবনা ছিল। তবে এখন দাম কমলেও ডিসেম্বরের তুলনায় বাজারে দাম খুব বেশি কমবে না।

নারী ফুটবল লিগে ঋতুপর্ণার রাজশাহী স্টারের জয় অব্যাহত রয়েছে। প্রথম দুই ম্যাচে তিনি গোল পাননি। তৃতীয় ম্যাচে জোড়া গোল করেছেন। আজ এক গোল করলেও জাতীয় নারী দলের তারকা ফুটবলার ম্যাচ সেরা হয়েছেন। আনসারকে ৮-০ গোলে হারিয়েছে রাজশাহী। রেশমির জোড়া গোলের পাশাপাশি ঋতুপর্ণা চাকমা, আলপি আক্তার, মুনকি আক্তার, শাহেদা আক্তার রিপা, পূজা ও সৌরভী আকন্দ প্রীতি একটি করে গোল করেন। রাজশাহী প্রথমার্ধে ৩-০ গোলে এগিয়ে ছিল। ৬৩ মিনিটে আলপির কাছ থেকে বল পেয়ে বক্সের বাইরে থেকে দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় বাঁ পায়ের শটে গোল করেন ঋতুপর্ণা। এই ম্যাচে রাজশাহীর অধিনায়কও ছিলেন ঋতুপর্ণা। আজ মঙ্গলবারও ছিল পাঁচ ম্যাচ। প্রত্যাশিত জয়ই পেয়েছে আর্মি, রাজশাহী ও ফরাশগঞ্জ। দিনের তৃতীয় ম্যাচে ফরাশগঞ্জ মোকাবিলা করে রংপুরের ক্লাব সদ্যপুস্করিনীকে। এই ম্যাচে শামসুন্নাহারের হ্যাটট্রিকে ৭-০ গোলের জয় পেয়েছে পুরান ঢাকার ক্লাবটি। ম্যাচে ৪ গোল করেন ছোট শামসুন্নাহার। একটি করে গোলের দেখা পান নেপালের পূজা রানা, শামসুন্নাহার সিনিয়র, অনামিকা ত্রিপুরা। এর আগে ঢাকা রেঞ্জার্সকে ৭-০ গোলে হারায় বাংলাদেশ আর্মি। উন্নতি খাতুন করেন ৪ গোল। জোড়া গোল পেয়েছেন জয়নব বিবি রিতা। অন্য গোলটি আসে মোসাম্মৎ সুলতানার পা থেকে। দিনের প্রথম ম্যাচে কাচারিপাড়া একাদশের বিপক্ষে নাসরিনের ৯-১ জেতা ম্যাচে পপি রানী করেন ৫ গোল। হ্যাটট্রিক করেছেন আসমা থাতুন। অন্য গোলটি মোসাম্মৎ সোমা আক্তারের। কাচারিপাড়ার হয়ে এক গোল শোধ দেন সোহেলী শারমিন। দিনের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিকেএসপিকে আইরিন আক্তারের একমাত্র গোলে হারায় বাংলাদেশ পুলিশ ফুটবল ক্লাব।

পাসপোর্টের র্যাংকিং বিশ্বের সপ্তম দুর্বল অবস্থানে বাংলাদেশ। হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্সের ২০২৬ সালের জানুয়ারির হালনাগাদ তথ্যে এমন অবস্থান দেখা গেছে। এ ছাড়াও দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে পঞ্চম দুর্বল হিসেবে স্থান পেয়েছে বাংলাদেশের পাসপোর্ট। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) হেনলি অ্যান্ড পার্টনারস তাদের সর্বশেষ পাসপোর্ট ইনডেক্স প্রকাশ করেছে। পাসপোর্ট ইনডেক্সের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা এখন বিশ্বের ৩৭টি দেশে ভিসা ছাড়া ভ্রমণ করতে পারেন। তালিকায় মোট ১০১টি অবস্থানের মধ্যে বাংলাদেশের পাসপোর্ট ৯৫তম স্থানে রয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের জানুয়ারি সংস্করণে ১০৬টি অবস্থানের মধ্যে বাংলাদেশ ১০০তম স্থানে ছিল। এই ইনডেক্স বৈশ্বিক ভিসামুক্ত ভ্রমণের সুযোগের ভিত্তিতে র্যাংকিং তৈরি করা হয়। পাসপোর্ট র্যাংকিংয়ে এবারও এককভাবে শীর্ষে রয়েছে সিঙ্গাপুর। দেশটির পাসপোর্টধারীরা বিশ্বের ১৯২টি দেশে ভিসা ছাড়া প্রবেশ করতে পারেন। র্যাংকিংয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া। এসব দেশের পাসপোর্টধারীরা বিশ্বের ১৮৮টি দেশে ভিসা ছাড়া প্রবেশ করতে পারেন। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে পাঁচটি দেশ– ডেনমার্ক, লুক্সেমবার্গ, স্পেন, সুইডেন ও সুইজারল্যান্ড। এসব দেশের পাসপোর্টধারীরা বিশ্বের ১৮৬টি দেশে ভিসা ছাড়া প্রবেশ করতে পারেন। চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, গ্রিস, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, নেদারল্যান্ড ও নরওয়ে। এসব দেশের পাসপোর্টধারীরা বিশ্বের ১৮৫টি দেশে ভিসা ছাড়া প্রবেশ করতে পারেন। পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে হাঙ্গেরি, পর্তুগাল, স্লোভাকিয়া, স্লোভেনিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। এসব দেশের পাসপোর্টধারীরা বিশ্বের ১৮৪টি দেশে ভিসা ছাড়া প্রবেশ করতে পারেন। পাসপোর্ট ইনডেক্সের একেবারে তলানিতে রয়েছে পাকিস্তান (৯৮তম), ইয়েমেন (৯৮তম), ইরাক (৯৯তম), সিরিয়া (১০০তম) ও আফগানিস্তান (১০১তম)। এসব দেশের নাগরিকরা যথাক্রমে ৩১, ২৯, ২৬ ও ২৪টি গন্তব্যে ভিসা ছাড়া ভ্রমণ করতে পারেন। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে মালদ্বীপের পাসপোর্ট। দেশটি রয়েছে ৫২তম স্থানে। মালদ্বীপের নাগরিকরা ভিসা ছাড়াই ৯২টি গন্তব্যে ভ্রমণ করতে পারেন। হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্সে ১৯৯টি পাসপোর্ট ও ২২৭টি গন্তব্য বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে

নোয়াখালী সদরে ডাকাতিকালে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় করা মামলার অন্যতম আসামি ইউসুফ ওরফে রুবেলকে (৩৭) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। ঘটনার এক বছর পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেলে নোয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। এর আগে সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাতে তথ্য প্রযুক্তি ও র্যাব-৭ পতেঙ্গার সহযোগিতায় আসামি ইউসুফ ওরফে রুবেলকে সুধারাম থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ইউসুফ প্রকাশ রুবেল লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলার চরগাজী ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের চরলক্ষ্মী গ্রামের আবদুল হালিমের ছেলে। মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১১ জানুয়ারি রাতে নোয়াখালীর সদরের কালাদরাপ ইউনিয়নে ডাকাতিকালে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে রামগতির ইউসুফ প্রকাশ রুবেলকে শনাক্ত করে র্যাব। র্যাব-১১ (সিপিসি-৩) নোয়াখালী কার্যালয়ের কোম্পানি কামান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মুহিত কবীর সেরনিয়াবাত বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আসামি ইউসুফ ওরফে রুবেলকে আদালতে পাঠালে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তারপর তাকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অপরাধ দমনে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে

রোববার (১১ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলার চরমটুয়া ইউনিয়নের খলিশাটোলা এলাকার লোকমানের চা দোকানের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত মো. মুরাদ চরমটুয়া ইউনিয়নের কালা মিয়া সেরাং বাড়ির নুরুল আলম কন্ট্রাক্টরের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চাঁদাবাজি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার বিকেল ৩টা ১০ মিনিটে সুধারাম থানাধীন ১নং চরমটুয়া ইউনিয়নের খলিশাটোলা এলাকার লোকমানের চা দোকানের সামনে থেকে মো. মুরাদকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কোমরের পেছনে প্যান্টের বেল্টে গোঁজানো অবস্থায় একটি বিদেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি ভর্তি একটি ম্যাগজিন উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গ্রেপ্তারকৃত মুরাদ এর আগেও অস্ত্র প্রদর্শন করে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল। তার গ্রেপ্তারে এলাকাবাসী স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, মো. মুরাদের বিরুদ্ধে সুধারাম মডেল থানায় আগেও একাধিক মামলা রয়েছে। সর্বশেষ ঘটনায় এসআই মো. মুক্তার হোসেন ভূঁইয়া বাদী হয়ে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করলে থানায় মামলা নং-১২/২০২৬ রুজু হয়। তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তারের পর আসামিকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি নিজের দোষ স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেন। অপরাধ দমনে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

নোয়াখালী-৪ (সদর-সূবর্ণচর) আসনে বিএনপির প্রার্থী দলের ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহানের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে অ্যাকাউন্ট খুলে টাকা চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (১২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় এ ঘটনায় সুধারাম মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন মোহাম্মদ শাহজাহান। এতে তিনি উল্লেখ করেন, আমার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর হ্যাক করে হোয়াটসঅ্যাপ খুলে বিভিন্ন জনকে মেসেজে টাকা দাবি করা হচ্ছে। প্রতারকরা ভিন্ন একটি বিকাশ নম্বর দিয়ে টাকা পাঠাতে বলছে। এছাড়া একটি অপরিচিত নম্বর থেকে আমাকে মোবাইল বন্ধ রাখতে নির্দেশ দিচ্ছে। অন্যথায় আমার অপূরণীয় ক্ষতি হবে বলা হচ্ছে। মোহাম্মদ শাহজাহানের মিডিয়া সেলের সদস্য জহির মাহবুব বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, প্রতারকচক্র বিএনপি প্রার্থীর নম্বর হুবহু ব্যবহার করে রাজশাহীর বাঘা উপজেলা থেকে টাকা দাবি করছে। এ ব্যাপারে থানায় সাধারণ ডায়েরি করে আইনগত সহায়তা চাওয়া হয়েছে। মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, এ বিষয়ে বিভ্রান্ত না হওয়া অনুরোধ জানাচ্ছি। প্রতারক চক্রের সঙ্গে কেউ যাতে টাকা লেনদেন না করে এজন্য সবাই সতর্ক থাকবেন। পারলে এ ব্যাপারে তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করবেন। সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ শাহজাহানের অভিযোগ পেয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। এ ব্যাপারে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে হঠাৎ করেই সরগরম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। ফেসবুকে ঢুকলেই চোখে পড়ছে দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে নানা পোস্ট ও মন্তব্য। কেউ প্রশ্ন তুলছেন, প্রথম স্ত্রী থাকতে দ্বিতীয় বিয়ে কেন, কেউ জানতে চাইছেন আর্থিক সক্ষমতার বিষয়টি, আবার কেউ বলছেন, প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া কীভাবে দ্বিতীয় বিয়ে সম্ভব? আইন কী বলে, হাইকোর্টের রায়ে কী বলা হয়েছে, এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন নেটিজেনরা। এই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর বহুবিবাহ সংক্রান্ত ধারা এবং এ বিষয়ে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়। রিট করেছিলেন আইনজীবী ইশরাত জাহান মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ৬ ধারা (বহুবিবাহ) চ্যালেঞ্জ করে ২০২১ সালের ১৩ ডিসেম্বর হাইকোর্টে রিট করেন আইনজীবী ইশরাত জাহান। রিটে তার যুক্তি ছিল, এই ধারার মাধ্যমে নারীর সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তিনি বলেন, ইসলামে একাধিক বিয়ের অনুমতি থাকলেও শর্ত হিসেবে সব স্ত্রীর প্রতি সমান সুবিচারের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু আইনে সেই শর্ত বাস্তবায়নের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেই। শুধু ‘বিয়ে করার অনুমতি’ অংশটি নেওয়া হচ্ছে, কিন্তু সুবিচার, ভরণপোষণ কিংবা আর্থিক সক্ষমতা যাচাইয়ের সুযোগ সালিসি কাউন্সিলের নেই। এতে নারীরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। হাইকোর্টের রুল ও চূড়ান্ত রায় রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০২২ সালের ৫ জানুয়ারি বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের বেঞ্চ একটি রুল জারি করেন। রুলে বহুবিবাহ সংক্রান্ত আইনের বিষয়ে নীতিমালা প্রণয়ন এবং স্ত্রীদের সম-অধিকার নিশ্চিত না করে বহুবিবাহের অনুমতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। রুলের শুনানি শেষে গত বছরের ২০ আগস্ট হাইকোর্ট রুল খারিজ করেন। ফলে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর বহুবিবাহ সংক্রান্ত ধারা বহাল থাকে। এই রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি প্রকাশ পাওয়ার পর নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। হাইকোর্ট কী বলেছেন পূর্ণাঙ্গ রায় হাতে পাওয়ার পর আইনজীবী ইশরাত জাহান জানান, হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়েছে, মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের ৬ ধারা কোনোভাবেই বৈষম্যমূলক বা স্বেচ্ছাচারী নয়। এই আইন নারী ও পুরুষ, কোনো পক্ষেরই মৌলিক অধিকার খর্ব করে না। রায়ে আরও বলা হয়, সালিসি কাউন্সিল একতরফাভাবে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে পারে না এবং বহুবিবাহের অনুমতি দেওয়ার বা না দেওয়ার ক্ষেত্রে আইনি কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই। এই ধারা দেশের নারীদের কোনো মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করে না বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়। ফলে রুল সমর্থনে উত্থাপিত যুক্তির সারবত্তা নেই বলে রুল ডিসচার্জ করা হয়েছে। দ্বিতীয় বিয়েতে তবে কার অনুমতি লাগবে? মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ৬ (১) ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির বিয়ে বহাল থাকা অবস্থায় তিনি সালিসি কাউন্সিলের লিখিত অনুমতি ছাড়া আরেকটি বিয়ে করতে পারবেন না। অনুমতি ছাড়া করা বিয়ে নিবন্ধনযোগ্যও নয়। আইনে বলা হয়েছে, আবেদনকারীকে নির্ধারিত ফি দিয়ে চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করতে হবে। আবেদনে প্রস্তাবিত বিয়ের কারণ ও বর্তমান স্ত্রী বা স্ত্রীদের সম্মতি নেওয়া হয়েছে কি না, তা উল্লেখ করতে হবে। চেয়ারম্যান আবেদনকারী ও বর্তমান স্ত্রী বা স্ত্রীর প্রতিনিধি মনোনয়ন করতে বলবেন। সালিসি কাউন্সিল প্রস্তাবিত বিয়ে প্রয়োজনীয় ও ন্যায়সঙ্গত মনে করলে অনুমতি দিতে পারবেন। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সহকারী জজের কাছে পুনর্বিবেচনারও সুযোগ রয়েছে। অনুমতি ছাড়া বিয়ে করলে শাস্তি ও জরিমানা সালিসি কাউন্সিলের অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করলে বর্তমান স্ত্রী বা স্ত্রীদের দেনমোহরের পুরো টাকা তাৎক্ষণিক পরিশোধ করতে হবে। অর্থ পরিশোধ না করলে তা ভূমি রাজস্বের মতো আদায়যোগ্য হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে এক বছর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে। আইনজীবী ইশরাত জাহান বলেন, বহুদিন ধরেই ভুলভাবে বলা হচ্ছিল যে দ্বিতীয় বিয়ের জন্য প্রথম স্ত্রীর অনুমতি বাধ্যতামূলক। বাস্তবে আইনে কোথাও প্রথম স্ত্রীর অনুমতিকে শর্ত করা হয়নি। বরং শুরু থেকেই সালিসি কাউন্সিলের অনুমতির বিধান ছিল। তিনি বলেন, ‘হাইকোর্ট নতুন করে কিছু বলেননি। আগে যা ছিল, রুল খারিজের মাধ্যমে সেটিই বহাল রাখা হয়েছে। অর্থাৎ সালিসি কাউন্সিলের অনুমতি পেলে দ্বিতীয় বিয়ে করা যাবে, আইনের অবস্থান আগেও এমন ছিল, এখনও তাই আছে।’ রিট করার বিষয়ে ইশরাত জাহান বলেন, বহুবিবাহের বিধান (আইনের ৬ ধারা) চ্যালেঞ্জ করেই রিট আবেদনটি করা হয়। কেননা আরবিট্রেশন কাউন্সিলের কাছে এই ক্ষমতাটা থাকা সমীচীন নয়, চেয়ারম্যান পক্ষপাতদুষ্ট হতে পারেন। তাই আমরা চাচ্ছিলাম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া হবে না, নতুন করে একটি নীতিমালা হোক। শুধু তাই নয়, স্ত্রীদের সম-অধিকার কীভাবে নিশ্চিত হবে, সে বিষয়ে কোনো নীতিমালা নেই। উপরন্তু একজন ব্যক্তি একাধিক বিয়ের জন্য শারীরিক, মানসিক ও অর্থনৈতিকভাবে সক্ষম কি না, তা যাচাইয়ের সক্ষমতা কাউন্সিলের নেই।

২০২৬ বছরটা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর জন্য ভালো কাটছে না মোটেও। সৌদি প্রো লিগে চলতি বছর ম্যাচ খেলে সবকটিতেই হেরেছে দলটা। এবার রোনালদো গোল করেছেন নিজে, তবে এরপরও দল জিততে পারেনি। আল হিলালের কাছে ৩-১ গোলে হেরেছে তার দল আল নাসর। ম্যাচের ৪২ মিনিটে আল নাসরকে এগিয়ে দেন রোনালদো। বাম পাশ থেকে আক্রমণে উঠে আসা কিংসলে কোমান সুযোগ তৈরি করেন। সেই বল থেকেই ভলিতে গোল করেন রোনালদো। তবে বিরতির পর ম্যাচের চিত্র বদলে যায়। আল নাসরের মোহাম্মদ সিমাকান মালকমকে ফাউল করলে পেনাল্টি পায় আল হিলাল। সালেম আল দাওসারি সেই পেনাল্টি থেকে গোল করেন। গোলের পর বল দ্রুত মাঠের মাঝখানে নিতে গিয়ে আল হিলালের রুবেন নেভেসের সঙ্গে আল নাসরের গোলরক্ষক নওয়াফ আল আকিদির ঝামেলা হয়। ভিএআর পর্যালোচনার পর সহিংস আচরণের দায়ে লাল কার্ড দেখেন আল আকিদি। এতে ১০ জনের দলে পরিণত হয় আল নাসর। এরপর ম্যাচ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নেয় আল হিলাল। ৮১ মিনিটে মোহাম্মদ কান্নো গোল করেন। যোগ করা সময়ে দ্বিতীয় পেনাল্টি থেকে গোল করেন রুবেন নেভেস। এই জয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষে থাকা আল হিলাল এখন সাত পয়েন্টে এগিয়ে গেছে। অন্যদিকে আল নাসর টানা চার ম্যাচে জয়ের মুখ দেখল না। এর মধ্যে শেষ তিন ম্যাচেই তারা হেরেছে। ২০২১ সালের পর এটি তাদের সবচেয়ে দীর্ঘ জয়হীন সময়। আল হিলাল টানা ১১টি লিগ ম্যাচ জিতেছে। এর আগে তারা সবচেয়ে বেশি টানা জয় পেয়েছিল ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের মে পর্যন্ত। তখন জয়সংখ্যা ছিল ২৪।

ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে এখন পর্যন্ত এক লাখের বেশি ভিসা বাতিল করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। অভিবাসনবিরোধী কঠোর নীতির অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দপ্তরটি।খবর আল জাজিরার। স্থানীয় সময় সোমবার (১২ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, বাতিল হওয়া ভিসার মধ্যে প্রায় আট হাজার শিক্ষার্থী ও দুই হাজার ৫০০ বিশেষায়িত কর্মী রয়েছেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দাবি, অধিকাংশ ভিসা বাতিল করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ‘অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার’ কারণে। তবে এসব ঘটনায় আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা বা অভিযোগ দায়ের হয়েছে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি। এই বিপুলসংখ্যক ভিসা বাতিল ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসনবিরোধী অভিযানের ব্যাপকতাই তুলে ধরে। গত মাসে ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করে, তাদের সময়ে ২৫ লাখের বেশি স্বেচ্ছা প্রস্থান ও বহিষ্কার সম্পন্ন হয়েছে, যা তারা ‘রেকর্ড সাফল্য’ হিসেবে উল্লেখ করে। তবে এসব বহিষ্কারের মধ্যে বৈধ ভিসাধারীরাও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, যা যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ও মানবাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। একই সঙ্গে ভিসা প্রদানের নীতিও আরও কঠোর করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পর্যবেক্ষণ জোরদার করা হয়েছে এবং আবেদনকারীদের জন্য নিরাপত্তা যাচাইয়ের পরিধি বাড়ানো হয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আমরা আমেরিকাকে নিরাপদ রাখতে এসব অপরাধীকে বহিষ্কার অব্যাহত রাখব।’ পররাষ্ট্র দপ্তরের উপ-মুখপাত্র টমি পিগট জানান, ভিসা বাতিলের চারটি প্রধান কারণ হলো—ভিসার মেয়াদ অতিক্রম, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, হামলা এবং চুরি। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে ভিসা বাতিলের হার ১৫০ শতাংশ বেড়েছে। এ ছাড়া পররাষ্ট্র দপ্তর ‘কন্টিনিউয়াস ভেটিং সেন্টার’ চালু করেছে, যার উদ্দেশ্য হলো—যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত সব বিদেশি নাগরিক যেন আইন মেনে চলে এবং যারা মার্কিন নাগরিকদের জন্য হুমকি, তাদের ভিসা দ্রুত বাতিল করা যায়। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে মার্কিন কূটনীতিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—যেসব ভিসা আবেদনকারীকে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী বা রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় মনে করা হতে পারে, তাদের বিষয়ে বিশেষ সতর্ক থাকতে। গত নভেম্বরেই মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছিল, ট্রাম্পের শপথগ্রহণের পর থেকে প্রায় ৮০ হাজার অ-অভিবাসী ভিসা বাতিল করা হয়েছে। এসব অপরাধের মধ্যে ছিল মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, হামলা ও চুরি। ২০২৪ সালের নির্বাচনি প্রচারে ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তিনি ‘আমেরিকার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অপরাধী বহিষ্কার কর্মসূচি’ পরিচালনা করবেন। তিনি দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি। তবে সমালোচকদের অভিযোগ, ট্রাম্প প্রশাসনের এই কঠোর নীতিতে অপরাধী ও নিরপরাধ—উভয়ই লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছেন। এমনকি ভিন্নমত পোষণকারী ভিসাধারীদেরও টার্গেট করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। চলতি বছরের মার্চে ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ভিসা বাতিলের উদ্যোগ নেয় প্রশাসন। এর মধ্যে টাফটস বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রুমেইসা ওজতুর্ক কেবল ক্যাম্পাস পত্রিকায় একটি সম্পাদকীয় লেখার কারণেই ভিসা বাতিলের মুখে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে। অক্টোবরে আরও ছয়জন বিদেশির ভিসা বাতিল করা হয়, যাদের বিরুদ্ধে অনলাইনে রক্ষণশীল কর্মী চার্লি কার্কের হত্যাকাণ্ডকে ‘উদযাপন’ করার অভিযোগ আনা হয়। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছিল, ‘যারা আমেরিকানদের মৃত্যুকামনা করে, যুক্তরাষ্ট্রের তাদের আশ্রয় দেওয়ার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।’ তবে এসব পদক্ষেপ মতপ্রকাশের স্বাধীনতা—বিশেষ করে প্রথম সংশোধনী লঙ্ঘন করছে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন অভিযান ঘিরে সহিংসতা নিয়েও দেশজুড়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিসে অভিবাসন অভিযানের সময় ৩৭ বছর বয়সী তিন সন্তানের মা রেনে নিকোল গুড নিজের গাড়িতে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। এ ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

বিপিএলের সিলেট পর্ব শেষ হয়েছে গতকাল (সোমবার) রাতেই। ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের জয়ের পরই তিনটি দলের প্লে-অফ নিশ্চিত হয়ে যায়। এবার ঢাকা পর্বে লিগ পর্বের বাকি ম্যাচগুলোতে মূলত লড়াই হবে আর একটি জায়গার জন্য। বিপিএল ঢাকায় পা রাখার আগেই প্লে-অফ নিশ্চিত হয়েছে রাজশাহী, চট্টগ্রাম রয়্যালস ও সিলেট টাইটান্সের। পয়েন্ট টেবিলে এই তিনটি দল রয়েছে শীর্ষ তিনে। এর মধ্যে রাজশাহী ৮ ম্যাচে ৬ জয়ে ১২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে রয়েছে। ৭ ম্যাচে ৫ জয়ে চট্টগ্রামের পয়েন্ট ১০, তারা আছে পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে। আর ৯ ম্যাচে ৫ জয় নিয়ে সিলেট আছে তালিকার তিনে, তাদের পয়েন্টও ১০। পয়েন্ট তালিকার চারে নম্বরে থাকলেও এখনও প্লে-অফ নিশ্চিত হয়নি রংপুর রাইডার্সের। ৮ ম্যাচে ৪ জয় ও ৪ পরাজয় নিয়ে তাদের পয়েন্ট ৮। এছাড়া ঢাকা ও নোয়াখালী এক্সপ্রেস ৮টি করে ম্যাচ খেলে ২টি করে জয় পেয়েছে। যদিও কাগজে-কলমে এখনও দল দুটির প্লে-অফের আশা রয়েছে। দুই দলকেই তাদের শেষ দুটি ম্যাচ জিততেই হবে। ঢাকা ও নোয়াখালী উভয় দলের বিপক্ষে একটি করে ম্যাচ খেলবে রংপুর। যে কোনো একটি জিতলেই নিশ্চিত হবে তাদের প্লে-অফ। নোয়াখালী ও ঢাকার অন্য দুটি ম্যাচই চট্টগ্রামের বিপক্ষে। বিপিএলের লিগ পর্বে আর বেশি ম্যাচ বাকি নেই। ১৫, ১৬ ও ১৭ জানুয়ারি মোট ৬টি ম্যাচ বাকি আছে রাউন্ড রবিন লিগের। ১৯ জানুয়ারি শুরু হবে প্লে-অফ, ফাইনাল হবে ২৩ জানুয়ারি।

মাইজদীতে স্বাস্থ্য সহকারী নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ নোয়াখালী জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের অধীনে অনুষ্ঠিত স্বাস্থ্য সহকারী নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ পওয়া গেছে। এ ঘটনায় লিখিত পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় পরীক্ষা গ্রহণ এবং নোয়াখালী সিভিল সার্জন ডা. মরিয়ম সিমির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থীরা। সোমবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে এ ঘটনায় নোয়াখালী প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে পরীক্ষার্থীরা। পরে তারা পরীক্ষা বাতিল ও নোয়াখালীর সিভিল সার্জন ডা. মরিয়ম সিমির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলামের কাছে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব বরাবর লিখিত স্মারকলিপি প্রদান করেন।স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, গত ১০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে নোয়াখালী সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের অধীনে স্বাস্থ্য সহকারী পদে নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা এমসিকিউ পদ্ধতিতে না হয়ে লিখিত আকারে গ্রহণ করা হয়। পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্রের সঙ্গে উত্তরপত্র সরবরাহ করে লিখিতভাবে উত্তর দিতে বলা হয়। এতে প্রায় ৮ হাজার পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। পরীক্ষা শেষ হওয়ার মাত্র ১১–১২ ঘণ্টার ব্যবধানে একই দিন রাতেই সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ফলাফল প্রকাশ করা হয়। যা একটি লিখিত পরীক্ষার ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক ও প্রশ্নবিদ্ধ। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে জানা যায়, পরীক্ষায় অংশ না নিয়েও কয়েকজনের রোল নম্বর চূড়ান্ত ফলাফলে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।পরীক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, সিভিল সার্জন ডা. মরিয়ম সিমির সঙ্গে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের এক জুনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তার ঘনিষ্ঠতার সুযোগে সুবিধাভোগী প্রার্থী বাছাই করা হয়েছে। এমনকি বিপুল অর্থের বিনিময়ে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দেওয়ার কথাও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়। এমতাবস্থায় পরীক্ষার্থীরা ১০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত লিখিত পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় নিয়মতান্ত্রিক ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় পরীক্ষা গ্রহণ, অভিযুক্ত সিভিল সার্জনকে অন্যত্র বদলি এবং তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে বিকেল সোয়া ৩টার দিকে নোয়াখালী সিভিল সার্জন ডা. মরিয়ম সিমির মুঠোফোনে একাধিক ফোন করা হলে তিনি রিসভি করেনি। অফিসে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।

ভারতেরই নতুন দুটি ভেন্যুতে বাংলাদেশকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলার প্রস্তাব দিতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। এমন খবর ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। ফিকশ্চার অনুযায়ী, কলকাতা আর মুম্বাইয়ে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ম্যাচ হওয়ার কথা থাকলেও আইসিসি চেন্নাই আর থিরুভানান্তপুরামকে বাংলাদেশের ম্যাচের নতুন ভেন্যু হিসেবে প্রস্তাবনা দিতে যাচ্ছে বলে প্রতিবেদনগুলোতে দাবি করা হচ্ছে। তবে ভারতের অন্য ভেন্যুতে খেলার প্রস্তাব দেওয়া হলে বাংলাদেশ খেলতে সম্মতি জানাবে কি না, গত ১০ই জানুয়ারি সিলেটে এক সংবাদ সম্মেলনে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে সেই প্রশ্ন করা হলে জবাবে তিনি বলেছিলেন, 'ভারতের অন্য ভেন্যু তো ভারতেই।' বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ম্যাচ ভারতের পরিবর্তে শ্রীলঙ্কায় আয়োজন করার দাবি জানিয়ে বিসিবি আইসিসিকে যে চিঠি পাঠিয়েছিল, আইসিসির পক্ষ থেকে আজ বা কাল সেটির উত্তর দেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছিলেন বুলবুল। অবশ্য আইসিসি যদি শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশের ম্যাচ আয়োজন করতে অস্বীকৃতি জানায়, সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত কী হবে, সংবাদ সম্মেলনে সেই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেননি বিসিবি সভাপতি। "এই বিষয়ে এই মুহূর্তে কিছু বলতে পারছি না, চিঠিটা (আইসিসি'র) না আসা পর্যন্ত"-জানিয়েছিলেন বুলবুল। অর্থাৎ বাংলাদেশ ভারতে বিশ্বকাপের ম্যাচ না খেলার বিষয়ে তাদের অবস্থানে অনড় থাকার কথা বললেও এ বিষয়ে আইসিসির প্রতিক্রিয়া জানার পরই বিসিবি তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। ভারতের ভেতরে ভিন্ন ভেন্যুতে খেলা আয়োজনের প্রস্তাবের পাশাপাশি বাংলাদেশের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টিও আইসিসির চিঠিতে উল্লেখ করা হতে পারে। খবরে বলা হচ্ছে, নিরাপত্তা ইস্যুতে বাংলাদেশকে আশ্বস্ত করার প্রচেষ্টা হিসেবে বাংলাদেশি আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা সৈকতের উদাহরণ টানা হতে পারে। গতকাল (রোববার) ভারতের বরোদায় নিউজিল্যান্ড-ভারত ওয়ানডে ম্যাচে আম্পায়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন সৈকত। খবরে উঠে এসেছে যে সৈকত যেহেতু নিরাপদে ভারতে আম্পায়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, সেই উদাহরণ টেনে আইসিসি বিসিবিকে অনুরোধ করবে যেন বাংলাদেশ ভারতে খেলতে যেতে সম্মত হয়। আসন্ন বিশ্বকাপে বাংলাদেশি শরফুদ্দৌলা সৈকত ও গাজী সোহেলের ম্যাচ অফিসিয়াল হিসেবে দায়িত্ব পালনের কথা রয়েছে। এ ছাড়া এনডিটিভির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বাংলাদেশ আশা করছে যেন ভারতের সরকারি পর্যায় থেকে বাংলাদেশের সরকারের সাথে 'নিরাপত্তা বিষয়ক উদ্বেগ' নিয়ে আলোচনা করা হয়। যদিও শনিবার যখন বিসিবি সভাপতিকে জিজ্ঞেস করা হয় যে, দুই দেশের সরকারি পর্যায়ে কোনো আলোচনার সুযোগ আছে কি না, তখন বুলবুল বলেন যে, "আমি এ ব্যাপারে কিছু শুনিনি।" তবে বিসিবি চিঠি পাঠানোর পর আইসিসির পক্ষ থেকে বিসিবির নিরাপত্তা বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে বলে জানান বুলবুল। ক্রিকেটের ইতিহাসে এর আগে বেশ কয়েকবার এমন ঘটনা ঘটেছে, যখন কোনো দেশ নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে নির্দিষ্ট কোনো একটি দেশে বিশ্বকাপ বা আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির মত আসরে খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ১৯৯৬ সালের বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ তাদের গ্রুপ পর্বের ম্যাচ খেলতে শ্রীলঙ্কায় যায়নি। সেসময় শ্রীলঙ্কায় গৃহযুদ্ধ চলছিলো এবং আসর শুরুর সপ্তাহ দুয়েক আগে কলম্বোতে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এরপর ২০০৩ বিশ্বকাপে জিম্বাবুয়েতে খেলতে যায়নি ইংল্যান্ড। যুক্তরাজ্যের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার সেসময় জিম্বাবুয়ের নেতা রবার্ট মুগাবের সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল। একই বিশ্বকাপে আরেক আয়োজক দেশ কেনিয়ার নাইরোবিতে নিরাপত্তাজনিত কারণে খেলতে যায়নি নিউজিল্যান্ড। ঐ ম্যাচের কয়েকমাস আগে মোম্বাসায় বোমা বিস্ফোরনের ঘটনা ঘটেছিল। ছয় বছর পর, ২০০৯ সালে জিম্বাবুয়ে টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে। সেসময়ও কারণ ছিল জিম্বাবুয়ে আর যুক্তরাজ্যের মধ্যেকার বৈরি সম্পর্ক। ২০১৬ সালে বাংলাদেশে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয় অস্ট্রেলিয়া। অস্ট্রেলিয়া সেসময় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশ সফর করেনি। সবশেষ ২০২৫ সালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ম্যাচ খেলতে পাকিস্তানে যেতে অস্বীকৃতি জানায় ভারত। ভারতের ক্রিকেট বোর্ড কারণ হিসেবে জানায় যে ভারতের সরকার পাকিস্তানে দল পাঠাতে অনুমতি দেয়নি। সেসময় দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ড আর আইসিসি কয়েক দফা আলোচনার পর সিদ্ধান্তে আসে যে ২০২৪ থেকে ২০২৭ এর মধ্যে ভারত বা পাকিস্তানে কোনো আইসিসি টুর্নামেন্ট হলে আরেক দেশের ম্যাচ নিরপেক্ষ ভেন্যুতে আয়োজিত হবে। যেই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ২০২৫ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ভারতের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হয় দুবাইয়ে এবং আগামী মাসে হতে যাওয়া বিশ্বকাপে পাকিস্তানের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে শ্রীলঙ্কায়। তবে ২০২৫ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ঘটনাটি ছাড়া এর আগে যতবারই কোনো দেশ আইসিসি ইভেন্টে খেলতে কোনো দেশে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, হয় তাদের নিজেদের টুর্নামেন্ট থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করতে হয়েছে বা ম্যাচের পয়েন্ট খোয়াতে হয়েছে।

ইলন মাস্কের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সের (সাবেক টুইটার) কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট গ্রোক ঘিরে আন্তর্জাতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে। ডিপফেক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আপত্তিকর ছবি তৈরির অভিযোগ উঠেছে এই এআই টুলের বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। শুরু হয়েছে তদন্তও। এই প্রেক্ষাপটে ইলন মাস্ক বলেছেন, এআই নিয়ে যে সমালোচনা চলছে তা আসলে ‘সেন্সরশিপের অজুহাত’। তার দাবি, সরকারগুলো নিয়ন্ত্রণ আরোপের সুযোগ খুঁজছে। শনিবার এক্সে দেওয়া একাধিক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার এরই মধ্যে এক্সকে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেছেন, গ্রোকের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপে এক্সকে “দায়িত্বশীল হতে হবে”। একই সঙ্গে তিনি দেশটির গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফকমকে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তার ভাষায়, “সব বিকল্প টেবিলে থাকতে হবে।” গ্রোক নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হয় যখন ইন্টারনেট ওয়াচ ফাউন্ডেশন জানায়, অপরাধীরা এই এআই টুল ব্যবহার করে শিশু যৌন নির্যাতনের ছবি তৈরি করছে। এই তথ্য প্রকাশের পর সরকার ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর উদ্বেগ বাড়ে। এদিকে শনিবার ইন্দোনেশিয়া সাময়িকভাবে গ্রোক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এটি প্রথম কোনো দেশ, যারা সরাসরি এই এআই চ্যাটবট বন্ধের সিদ্ধান্ত নিল। দেশটির যোগাযোগ ও ডিজিটাল মন্ত্রী মেতিয়া হাফিদ বলেন, সম্মতি ছাড়া ডিপফেক তৈরি মানবাধিকার ও নাগরিক নিরাপত্তার মারাত্মক লঙ্ঘন। বিতর্কের মধ্যেই এক্স গ্রোকের কিছু সেটিংসে পরিবর্তন আনে। এখন থেকে ছবি সম্পাদনার সুবিধা শুধু অর্থপ্রদত্ত ব্যবহারকারীদের জন্য সীমিত করা হয়েছে। তবে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ডাউনিং স্ট্রিট এই পরিবর্তনকে “অপমানজনক” বলে মন্তব্য করেছে। তাদের মতে, এটি সমস্যার সমাধান নয়। ইলন মাস্ক অবশ্য অনড় অবস্থানে। তিনি এক্সে এক ব্যবহারকারীর পোস্ট শেয়ার করে বলেন, সরকারগুলো অন্য এআই টুলের দিকে নজর না দিয়ে শুধু গ্রোককে লক্ষ্য করছে। ওই পোস্টে বলা হয়, বহু অ্যাপ আগেই এ ধরনের ছবি তৈরি করতে পারে। মাস্ক বলেন, “এটা নতুন সমস্যা নয়। এটা নতুন একটি টুল মাত্র।” এর আগে মাস্ক দাবি করেছিলেন, গ্রোক ব্যবহার করে কেউ অবৈধ কনটেন্ট তৈরি করলে সেটি আপলোড করার মতোই শাস্তির মুখে পড়তে হবে। তবে সমালোচকদের মতে, বাস্তবে সেই নিয়ন্ত্রণ কার্যকর নয়। যুক্তরাজ্যের প্রযুক্তিমন্ত্রী লিজ কেন্ডাল আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, নারী ও শিশুদের ছবি যৌনভাবে বিকৃত করা জঘন্য ও নিন্দনীয়। এক্স যদি যুক্তরাজ্যের আইন মানতে ব্যর্থ হয় তবে অফকম চাইলে প্ল্যাটফর্মটি বন্ধের উদ্যোগ নিতে পারে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, কয়েক দিনের মধ্যেই অফকম পরবর্তী পদক্ষেপ জানাবে। অফকম জানিয়েছে, তারা বিষয়টি নিয়ে দ্রুত মূল্যায়ন শুরু করেছে। এক্সের সঙ্গে জরুরি ভিত্তিতে যোগাযোগ করা হয়েছে। অনলাইন সেফটি অ্যাক্ট অনুযায়ী, অফকম সর্বোচ্চ ১ কোটি ৮০ লাখ পাউন্ড বা বৈশ্বিক আয়ের ১০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা করতে পারে। প্রয়োজনে ফৌজদারি ব্যবস্থাও নেওয়া সম্ভব। এ ছাড়া আদালতের অনুমোদন সাপেক্ষে বিজ্ঞাপনদাতা, পেমেন্ট সেবা ও ইন্টারনেট সেবাদাতাদের ওই প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে কাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া যেতে পারে। কার্যত এতে প্ল্যাটফর্মটি নিষিদ্ধ হয়ে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার নিয়ন্ত্রণের বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। একদিকে উদ্ভাবন। অন্যদিকে অপব্যবহার। গ্রোক বিতর্ক সেই দ্বন্দ্বই সামনে আনছে। বিশ্বজুড়ে সরকারগুলো এখন প্রশ্ন তুলছে। প্রযুক্তি কতটা স্বাধীন হবে। আর নিয়ন্ত্রণই বা কোথায় প্রয়োজন। গ্রোক নিয়ে চলমান বিতর্ক সেই আলোচনাকে আরও তীব্র করেছে।

মোটরসাইকেল বিক্রির ক্ষেত্রে ক্রেতাকে অবশ্যই বিএসটিআই অনুমোদিত দুটি হেলমেট ফ্রি দিতে হবে—এমন নীতিমালা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) আবু মমতাজ সাদ উদ্দিন আহমেদ। শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে নোয়াখালী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিআরটিএ চেয়ারম্যান বলেন, আমরা মোটরসাইকেল বিক্রেতাদের জন্য একটি নীতিমালা তৈরি করেছি, যা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। এই নীতিমালা অনুযায়ী, কেউ মোটরসাইকেল বিক্রি করলে তাকে অবশ্যই বিএসটিআই অনুমোদিত দুইটি হেলমেট ক্রেতার সঙ্গে ফ্রি দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, মোটরসাইকেল ড্রাইভিং লাইসেন্সের ক্ষেত্রে আমরা কোনো ছাড় দিচ্ছি না। বয়স পূর্ণ না হলে লাইসেন্স দেওয়া হবে না। পুলিশ সদস্যদের অনুরোধ করবো, আপনারা আরও কঠোর ব্যবস্থা নেবেন। দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশে মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৭৩ শতাংশই ঘটে মোটরসাইকেলে। এসব দুর্ঘটনায় নিহতদের বড় একটি অংশের বয়স ৫ থেকে ২৯ বছরের মধ্যে। অথচ এই তরুণরাই আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ। এই জায়গায় কোনো কম্প্রোমাইজ করা হবে না। বিআরটিএ চেয়ারম্যান বলেন, দেশের অর্থনীতি এগিয়ে নিতে হলে এই বয়সী মানুষের মৃত্যুহার কমাতে হবে। এজন্য আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সচেতনতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বিআরটিএর কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিআরটিএ এখন আগের জায়গায় নেই। আমরা সব কার্যক্রম অটোমেশনের আওতায় নিয়ে আসছি। খুব শিগগিরই সব সেবা অনলাইনে চালু হবে, যেন মানুষকে আর হয়রানির শিকার হতে না হয়। আশা করছি, এই মাসের শেষ নাগাদ অনলাইন কার্যক্রম চালু করতে পারবো। তিনি বলেন, বিআরটিএ একা কিছু করতে পারে না। জেলা প্রশাসন, পুলিশ, পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠন এবং সর্বোপরি সাধারণ মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলার সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারের সহায়তায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) নোয়াখালী সার্কেলের উদ্যোগে ৪১টি পরিবারের মাঝে এক কোটি ৬৫ লাখ টাকার আর্থিক অনুদান বিতরণ করা হয়। নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাসলিমুন নেছার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বিআরটিএ পরিচালক (যুগ্ম সচিব) রুবাইয়াৎ-ই-আশিক। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিআরটিএ চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) মো. মাসুদ আলম, সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন মাহামুদ চৌধুরী, পুলিশ সুপারের প্রতিনিধি ট্রাফিক ইনস্পেক্টর পুলক চাকমা, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য বাহার উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্টরা। বিআরটিএ সূত্র জানায়, নোয়াখালী জেলায় নিহত ২০ জনের পরিবার ও আহত ১ জনসহ ২১টি পরিবারকে ১ কোটি ১ লাখ টাকা, লক্ষ্মীপুর জেলায় নিহত ১১ জনের পরিবার ও আহত ৯ জনসহ ২০টি পরিবারকে ৬৪ লাখ টাকা প্রদান করা হয়। সব মিলিয়ে ৪১টি পরিবারকে মোট ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের সাতজন নিহত হওয়ার ঘটনায় ওমান প্রবাসী মো. বাহার উদ্দিনকে ৩৫ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণের চেক দিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে নোয়াখালী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে বিআরটিএ চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) আবু মমতাজ সাদ উদ্দিন আহমেদ ও জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম আনুষ্ঠানিকভাবে তার হাতে ক্ষতিপূরণের চেক তুলে দেন। জানা গেছে, গত ৬ আগস্ট (বুধবার) ভোরে ওমান থেকে লক্ষীপুরের বাড়িতে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় বেগমগঞ্জে মাইক্রোবাস খালে ডুবে গিয়ে স্ত্রী সন্তানসহ ৭ জনকে হারান। নিহতরা হলেন- ওমান প্রবাসী বাহারের স্ত্রী কবিতা আক্তার (২৪), তার মেয়ে মীম আক্তার (২), মা মুরশিদা বেগম (৫০), নানি ফয়জুন নেছা (৭০), ভাতিজি রেশমা আক্তার (৯) ও লামিয়া আক্তার (৮) এবং বড় ভাইয়ের স্ত্রী লাবনী আক্তার (২৫)। তারা সবাই লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার উত্তর জয়পুর ইউনিয়নের চৌপল্লী এলাকার কাশারি বাড়ির বাসিন্দা। এদিকে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) নিহত ব্যক্তির ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৫ লাখ টাকার অনুদানের চেক হিসেবে মোট ৩৫ লাখ দেওয়া হয়। বিআরটিএ সূত্র জানায়, নোয়াখালী জেলায় দুর্ঘটনায় নিহত ২০ জনের পরিবার ও আহত ১ জনসহ মোট ২১টি পরিবারকে এক কোটি এক লাখ টাকা এবং লক্ষ্মীপুর জেলায় নিহত ১১ জনের পরিবার ও আহত ৯ জনসহ ২০টি পরিবারকে ৬৪ লাখ টাকা প্রদান করা হয়। সব মিলিয়ে ৪১টি পরিবারের মধ্যে মোট এক কোটি ৬৫ লাখ টাকার অনুদান বিতরণ করা হয়েছে। এ সময় বাহার উদ্দিন বলেন, আমার মতো কেউ যেন ভুল না করে। একটা দুর্ঘটনায় আমার সব উলোটপালোট হয়ে গেছে। তারপরও বিআরটিএ আমার পাশে থাকায় আমি কৃতজ্ঞ। এ বিষয়ে বিআরটিএ চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) আবু মমতাজ সাদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, মানুষের মূল্য কখনো টাকায় হয় না। তবে আমরা সবাই সচেতন হলে এমন দুর্ঘটনা কমে আসবে। সেই জন্য আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে। আমি আমানতের জায়গা থেকে নিজে এসে এই সহমর্মিতা হিসেবে চেক গুলো তুলে দিচ্ছি। জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা এখন একটি বড় সামাজিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামান্য অসচেতনতা ও নিয়ম না মানার কারণে পরিবারগুলো চিরতরে সর্বস্ব হারাচ্ছে। দুর্ঘটনা রোধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি। সবার সম্মিলিত উদ্যোগেই নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা সম্ভব। নোয়াখালীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাসলিমুন নেছারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিআরটিএ পরিচালক (যুগ্ম-সচিব) রুবাইয়াৎ-ই-আশিক, বিআরটিএ চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) মো. মাসুদ আলম, সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি সিনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ সাইফু্দ্দিন মাহামুদ চৌধুরী, পুলিশ সুপারের প্রতিনিধি ট্রাফিক ইন্সপেক্টর পুলক চাকমা, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য বাহার উদ্দিন, নোয়াখালী জেলা মালবাহী ট্রাক ও ট্যাংকলরী শ্রমিক ইউনিয়নের মো. আবুল বাহার, বৃহত্তর নোয়াখালী জেলা বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতি গোলাম রাব্বানীসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি, পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিআরটিএ নোয়াখালীর সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) উথোয়াইনু চৌধুরী, সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা সুজিত রায়, মোটরযান পরিদর্শক মো. মোশাররফ হোসেন ও মো. জিয়াউর রহমান, বিআরটিএ লক্ষ্মীপুর সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) আবদুল্লাহ আল মামুনসহ বিআরটিএ নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর সার্কেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিহিংসা বর্জন ও জনকল্যাণের রাজনীতি করার আহ্বান জানালেন তারেক রহমান যে কোনো মূল্যে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া চালু করার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, এক্ষেত্রে মতপার্থক্য ভুলে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। হিংসা প্রতিশোধের পরিণতি কি হতে পারে, সেটা আমরা দেখেছি চব্বিশের ৫ আগস্ট। মতপার্থক্য যাতে মতবিভেদ না হয়ে যায়, বিভেদের কারণ না হয়। সবাই মিলে কাজ করতে হবে। শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। বক্তব্যের শুরুতেই তারেক রহমান দেশের মানুষের রাজনৈতিক অধিকার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশে আর কোনো প্রতিহিংসা বা প্রতিশোধের রাজনীতি দেখতে চান না। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক, তবে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বিভেদ দূর করে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখাই সময়ের দাবি। তিনি বলেন, অতীতে বিভেদের রাজনীতি জাতিকে কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, তার অভিজ্ঞতা সবার জানা। তাই দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করাই রাজনৈতিক কর্মীদের প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত। তিনি বলেন, আমাদের সমস্যা ছিল, সমস্যা আছে। আমরা অবশ্যই ৫ আগস্টের আগের অবস্থায় ফিরে যেতে চাই না। তারেক রহমান বলেন, আমি একটি রাজনৈতিক দলের কর্মী। আগামী ২২ তারিখ থেকে আমাদের সব (নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা) নিয়ে জনগণের কাছে যাবো। ৪ কোটি পরিবারের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেশের প্রায় ৪ কোটি পরিবারের জন্য একটি যুগান্তকারী ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর প্রস্তাব দেন তারেক রহমান। এই পরিকল্পনার মূল কেন্দ্রে থাকবেন পরিবারের গৃহিণীরা। এই কার্ডের মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারের গৃহিণী ৫ থেকে ৭ বছর আর্থিক বা খাদ্য সহায়তা পাবেন বলে জানান তিনি। তারেক রহমান বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে নারীদের হাতে অর্থ থাকলে তা মূলত স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও ক্ষুদ্র বিনিয়োগে ব্যয় হয়, যা পরিবার ও স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে। তিনি আরও জানান, এই সুবিধা হবে সর্বজনীন, যাতে দলীয় পরিচয় বা শ্রেণিবিভাগের কারণে কোনো ধরনের দুর্নীতি বা বৈষম্যের সুযোগ না থাকে। স্বাস্থ্যখাতে ‘প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা’ ও নতুন কর্মসংস্থান স্বাস্থ্যখাতে আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে উন্নত বিশ্বের আদলে ‘প্রিভেনশন’ বা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার ওপর জোর দেন বিএনপির চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, জনগণকে রোগে আক্রান্ত হওয়ার আগেই সচেতন করতে প্রায় ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। এই স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ হবেন নারী। তারা ঘরে ঘরে গিয়ে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা এবং জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখবেন। এর ফলে একদিকে জনস্বাস্থ্য উন্নত হবে, অন্যদিকে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিভিন্ন গণমাধ্যম ব্যক্তিদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, এমন সমালোচনা করুন, যাতে আমরা দেশের জনগণের সমস্যা সমাধান করতে পারি।

সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মেজর জেনারেল (অব.) মাহমুদুল হাসান আর নেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মেজর জেনারেল (অব.) মাহমুদুল হাসান আর নেই। বুধবার বিকেল ৩টায় রাজধানীর নিজ বাসভবনে বার্ধক্যজনিত কারণে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন টাঙ্গাইল-৫ আসনের এই সাবেক সংসদ সদস্য (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানি তেল কেনার অভিযোগে ভারত, চীন ও ব্রাজিল— এই তিন দেশের ওপর ৫০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব সংক্রান্ত একটি বিলে সম্মতি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আজ বৃহস্পতিবার মার্কিন পার্লামেন্ট কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটের সদস্য লিন্ডসে গ্রাহাম এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছেন এ তথ্য। বর্তমানে ভারত ও ব্রাজিলের ওপর ৫০ শতাংশ এবং চীনের ওপর ৩০ শতাংশ রপ্তানি শুল্ক জারি আছে। যদি ‘গ্রাহাম-ব্লুমেন্টাল নিষেধাজ্ঞা বিল’ নামের এ বিলটি পাস হয়, তাহলে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে সেইসব দেশের উপর ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়া হবে যারা জেনেশুনে রাশিয়ান তেল বা ইউরেনিয়াম কিনে ‘রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের যুদ্ধযন্ত্রে জ্বালানি’ যুগিয়েছে। এই বিলের আরও একটি উদ্দেশ্য হলো রাশিয়াকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে দেওয়া। বিবৃতিতে গ্রাহাম বলেছেন, গতকাল বুধবার ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন হোয়াইট হাউসে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে এই বিলের ব্যাপারে ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা হয় তার। ট্রাম্প এই বিলে সমর্থন জানিয়েছেন বলে দাবি করেছেন গ্রাহাম। “এটা সঠিক সময়ে পাস হবে। কারণ ইউক্রেন শান্তির জন্য ছাড় দিচ্ছে অন্যদিকে পুতিন কেবল কথাই বলছেন, আর রাশিয়ার সেনারা এখনও নিরপরাধ লোকজনকে হত্যা করছে”, বিবৃতিতে বলেছেন গ্রাহাম। তিনি আরও জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহেই এই বিলটির ওপর মার্কিন এমপিদের ভোটগ্রহণ শুরু হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের সাংবিধানিক বিধি অনুসারে, প্রথমে বিলটি যাবে নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ বা হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে। সেখানে পাস হলে সেটি যাবে উচ্চকক্ষ সিনেটে। সিনেটে সবুজ সংকেত মিললে শেষে বিলটি পাঠানো হবে প্রেসিডেন্টের দপ্তরে। সেখানে প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের পর বিলটি কার্যকর হবে।

বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ–মুলাদী) আসনে আলোচিত প্রার্থী আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদের নির্বাচনী তহবিল নির্ধারিত ব্যয়ের সীমা অতিক্রম করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমর্থকদের কাছে আর্থিক সহায়তার আহ্বানের পর অল্প সময়েই উল্লেখযোগ্য অঙ্কের অনুদান জমা পড়েছে তার নামে খোলা নির্বাচনী হিসাবে। সম্প্রতি ফেসবুকে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় দেশ ও বিদেশে অবস্থানরত সমর্থকদের কাছে নির্বাচনী ব্যয় নির্বাহের জন্য সহযোগিতা চান ব্যারিস্টার ফুয়াদ। তার সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে প্রথম ২৫ ঘণ্টায় প্রায় ২২ লাখ টাকা অনুদান জমা হয়। পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাত ১টার দিক (বুধবার দিবাগত রাত) নিজের ফেসবুক পেজে অনুদান সংগ্রহের সর্বশেষ হালনাগাদ হিসাব প্রকাশ করেন তিনি। ব্যারিস্টার ফুয়াদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তার নির্বাচনী এলাকায় মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৩২ হাজার ১০১ জন। নির্বাচন কমিশনের বিধিমালা অনুসারে ভোটার প্রতি ১০ টাকা হিসাবে তার সর্বোচ্চ নির্বাচনী ব্যয়ের সীমা নির্ধারিত হয়েছে ৩৩ লাখ ২১ হাজার ১০ টাকা। তবে ৭ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত বিভিন্ন মাধ্যমে প্রাপ্ত অনুদানের পরিমাণ সেই সীমা ছাড়িয়েছে। হালনাগাদ হিসাব অনুযায়ী, বিকাশের মাধ্যমে এসেছে ১৯ লাখ ২৩ হাজার ৫৫২ টাকা, নগদের মাধ্যমে ২ লাখ ৩৫ হাজার ৫৬ টাকা এবং ব্যাংক হিসাবে জমা হয়েছে ১৮ লাখ ৭ হাজার ৯৪৮ টাকা। সব মিলিয়ে মোট অনুদানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৯ লাখ ৬৬ হাজার ৫৫৬ টাকা। ব্যারিস্টার ফুয়াদ জানান, দেশ-বিদেশের অসংখ্য মানুষ অর্থ সহায়তার পাশাপাশি ফোনকল ও বার্তার মাধ্যমে তার প্রতি ভালোবাসা, উৎসাহ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পুরো নির্বাচনকালজুড়ে অনুদানসংক্রান্ত সব হিসাব অডিট করে প্রকাশ করা হবে। পাশে থাকার জন্য সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

আইপিএল থেকে বাদ পড়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান। তার বাদ পড়ার এই ঘটনাকে নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের ক্রিকেটীয় সম্পর্ক প্রায় তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। তবে সেসবের মধ্যেই ফেসবুকে নতুন করে রহস্যময় এক পোস্ট করেছেন মোস্তাফিজ। আইপিএলের আসন্ন মৌসুম কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে খেলবেন বলে ঠিক থাকলেও বিসিসিআইয়ের নির্দেশে তাকে স্কোয়াড থেকে বাদ দিতে হয় ফ্র্যাঞ্চাইজিকে। নিরাপত্তার কারণে তাকে বাদ দেওয়া হলেও বিষয়টি দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ড ছাড়িয়ে সরকারের পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। আইপিএল ইস্যুতে যত আলোচনা-সমালোচনাই হোক না কেন, মোস্তাফিজ চলমান বিপিএলে তার ছাপ পড়তে দেননি। রংপুর রাইডার্সের জার্সিতে বল হাতে প্রতি ম্যাচেই আগুন ঝরাচ্ছেন এই কার্টার। কখনো উইকেট নিয়ে প্রতিপক্ষকে ধসিয়ে দিচ্ছেন, আবার কখনো স্লগ ওভারে অবিশ্বাস্য কিপটে বোলিংয়ে ব্যাটারদের বোকা বানাচ্ছেন। মূলত তার এই অতিমানবীয় ফর্মই রংপুরকে টুর্নামেন্টে শক্ত অবস্থানে রেখেছে। আপাতত একটু অবসর পেয়েছেন মোস্তাফিজ ও তার সতীর্থরা। আগামী ৯ জানুয়ারির আগে আর মাঠে নামতে হচ্ছে না তাদের। সে কারণেই হয়তো, একটু ফুরসত পেয়েছেন প্রকৃতি উপভোগ করার। তার পোস্টটাও সে বিষয়েই। হোটেলের ছাদে তোলা এক ছবি পোস্ট করে মোস্তাফিজ বলেছেন, ‘প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য উপভোগ করছি।’ তার আগে গত রাতেও তিনি এক ফেসবুক পোস্ট করেছিলেন। সেখানে লিখেছিলেন, ‘চোখ মাঠে, মন জয়ের দিকে।’ তবে মোস্তাফিজ এই ফেসবুক পোস্টের বাইরেও যে বেশ শান্তই আছেন, সেটা বলে গেছেন তার একাধিক গুরু ও সতীর্থরা। মাঠে পারফর্ম করাটাই আপাতত তার কাছে মূখ্য।

জনপ্রিয় আলেম ড. মিজানুর রহমান আজহারী মানুষকে সতর্ক করে বলেছেন, নেশা ও জুয়া মানুষের সুন্দর জীবনকে তিলে তিলে বিষণ্নতার অন্ধকারে ঠেলে দেয়। সোমবার (৫ জানুয়ারি) নিজের ফেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি লিখেছেন, নেশা ও জুয়া— কেবল টাকা-পয়সার অপচয় নয়; এগুলো সুন্দর জীবনকে তিলে তিলে বিষণ্ণতার অন্ধকারে ঠেলে দেয়। এসবের ফাঁদে পড়ে মানুষ সর্বস্ব হারায়। ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যায় তিলে তিলে গড়ে ওঠা শত-সহস্র রঙিন পরিবার। সুন্দর এই জীবন ধীরে ধীরে হারিয়ে ফেলে তার আসল উদ্দেশ্য। অথচ জীবন তো আল্লাহর দেয়া এক অমূল্য আমানত। মানব জীবন ধ্বংসের জন্য নয় উল্লেখ করে তিনি আরও লেখেন- আল্লাহর স্মরণ, ইবাদত ও ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে জীবনকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করতে এবং কল্যাণের সুবাতাস জগৎময় ছড়িয়ে দিতেই এ ধরায় আমাদের আগমন। তাই আসুন, স্রষ্টার দেয়া এই অনন্য আমানতকে রক্ষা করি। জীবনকে অর্থবহ করে গড়ে তুলি। সব ধরনের নেশা ও জুয়া থেকে স্থায়ীভাবে বিরত থাকার পণ করি।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেভাবে একটি দলের দিকে ‘ঝুঁকে’ পড়েছে, প্রশাসন যেভাবে ‘আনুগত্য’ দেখাচ্ছে, তাতে অতীতের মতো আরেকটি পাতানো নির্বাচনের শঙ্কা প্রকাশ করেছেন জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তার মতে, এ ধরনের পাতানো নির্বাচন দেশকে আবারও ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাবে। বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীতে জামায়াতে আমিরের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে এই শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেছেন, ইইউকে জানানো হয়েছে, আগামী নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ প্রত্যাশা করে জামায়াত। তবে প্রশাসন একটি দলকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। জামায়াতের এ নেতা জানালেন, তার দল ক্ষমতায় গেলে সব রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে সরকার গঠন করা হবে। এদিকে এনসিপিকে ১০ আসনে ছাড় দেওয়ার যে খবর রটেছে, বিষয়টিকে ‘কাল্পনিক’ বলছেন তিনি। জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনি আসন সমঝোতা শিগগিরই হচ্ছে বলে জানান সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এক মাস আগে নাটকীয়তা জমে উঠেছে রীতিমতো। বাংলাদেশ বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যেতে চায় না। এ বিষয়ে আইসিসিকে একটি ই-মেইলও পাঠিয়ে দিয়েছে বিসিবি। ক্রিকইনফোর খবর, আইসিসি এই ইস্যুতে শক্ত অবস্থানে যাচ্ছে। তবে জবাবে বিসিবি বলছে, এমন কোনো বার্তাই তাদের কাছে আসেনি। ইএসপিএনক্রিকইনফো জানিয়েছে, মঙ্গলবার একটি ভার্চুয়াল বৈঠকে আইসিসি বিসিবিকে জানায় যে নিরাপত্তার কারণে ভারতের বাইরে ম্যাচ খেলার অনুরোধ তারা মানছে না। আইসিসি আরও জানায়, বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ খেলতে হলে ভারতে যেতে হবে। না গেলে পয়েন্ট হারানোর ঝুঁকি থাকবে। তবে বিসিবি আবার পুরোপুরি উলটো দাবি করছে। বোর্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আইসিসি তাদের এমন কোনো চূড়ান্ত বার্তা দেয়নি। বিসিবি বলছে, পয়েন্ট হারানোর বিষয়ে কোনো আলটিমেটামও জানানো হয়নি। বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, ‘ক্রিকইনফোর এই খবর সত্য নয়। আইসিসি কখনই বলেনি যে বিশ্বকাপ খেলতে হলে বাংলাদেশকে ভারতেই যেতে হবে। আমাদের সঙ্গে ব্যক্তিগত পর্যায়ে আইসিসির একাধিক কর্মকর্তার কথা হচ্ছে।’ গত রোববার বিসিবির আইসিসিকে ভারতে গিয়ে খেলতে অপারগতা জানিয়ে একটি ই-মেইল করে। এই মেইল দেওয়ার পেছনে বড় কারণ ছিল বিসিসিআইয়ের সিদ্ধান্ত। বিসিসিআই কলকাতা নাইট রাইডার্সকে মোস্তাফিজুর রহমানকে ছেড়ে দিতে ‘নির্দেশ’ দেয়। আইপিএল নিলামে গত ডিসেম্বরে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে মোস্তাফিজকে দলে নেয় কেকেআর। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হচ্ছে ২০ দলের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। টুর্নামেন্ট চলবে ৮ মার্চ পর্যন্ত। আয়োজন হবে ভারত ও শ্রীলঙ্কায়। গ্রুপ সিতে থাকা বাংলাদেশের প্রথম তিনটি ম্যাচ কলকাতায়। ৭ ফেব্রুয়ারি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে, ৯ ফেব্রুয়ারি ইতালির বিপক্ষে এবং ১৪ ফেব্রুয়ারি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ ১৭ ফেব্রুয়ারি মুম্বাইয়ে নেপালের বিপক্ষে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলার সম্ভাবনাটাকে ক্ষীণ বলেই মনে হচ্ছে।

শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ফিলিপাইন। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৭। তবে ভূমিকম্পের পর সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানিয়েছে, বুধবার দক্ষিণ ফিলিপাইনের উপকূলে ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। তবে কোনো সুনামি সতর্কতা বা তাৎক্ষণিক ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। ইউএসজিএস জানিয়েছে, ভূমিকম্পটি প্রথমে ৬ দশমিক ৭ মাত্রা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছিল এবং মিন্দানাও দ্বীপের সান্তিয়াগো শহর থেকে প্রায় ২৭ কিলোমিটার পূর্বে ৫৮.৫ কিলোমিটার (৩৬ মাইল) গভীরতায় আঘাত হেনেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আবেদনের ক্ষেত্রে যেসব দেশের নাগরিকদের অবশ্যই ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ‘ভিসা বন্ড’ বা জামানত দিতে হবে, সে তালিকা প্রায় তিন গুণ বাড়িয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ভিসা বন্ডের শর্তযুক্ত দেশগুলোর তালিকায় সাতটি দেশকে যুক্ত করার এক সপ্তাহ পার হওয়ার আগেই মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বাংলাদেশসহ বেশ কয়েকটি দেশের নাম যোগ করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। মঙ্গলবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ভ্রমণবিষয়ক ওয়েবসাইটে এই তথ্য জানানো হয়। বন্ডের সর্বোচ্চ যে পরিমাণ, তা প্রতি ডলার ১২২ দশমিক ৩১ টাকা হিসেবে বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৮ লাখ ৩৫ হাজার। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের হালনাগাদ তথ্যে এই নতুন দেশগুলোর তালিকা ও কার্যকর হওয়ার তারিখ প্রকাশ করা হয়েছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই নিয়ম আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, কোনো আবেদনকারী ভিসার জন্য যোগ্য বিবেচিত হলেও কনস্যুলার অফিসার চাইলে তার ওপর এই বন্ডের শর্তারোপ করতে পারেন। বন্ডের পরিমাণ নির্ধারিত হবে তিনটি ধাপে— পাঁচ হাজার, ১০ হাজার অথবা ১৫ হাজার মার্কিন ডলার। আবেদনকারীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি ও ইন্টারভিউয়ের ওপর ভিত্তি করে এই পরিমাণ নির্ধারণ করবেন সংশ্লিষ্ট ভিসা কর্মকর্তা। ভিসা বন্ড কী ভিসা বন্ড হলো একধরনের আর্থিক নিশ্চয়তা। কিছু দেশ নির্দিষ্ট বিদেশি নাগরিকদের সাময়িক ভিসা দেওয়ার আগে এমন জামানত বা নিশ্চয়তা নিয়ে থাকে; যেন তারা ভিসার শর্ত, বিশেষ করে থাকার সময়সীমা মেনে চলেন। প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্র হাজারো বিদেশি শিক্ষার্থী, পর্যটক ও কর্মীকে অস্থায়ী নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা দেয়। এসব ভিসার মেয়াদ কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত হতে পারে। কোনো নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাধারী অনুমোদিত মেয়াদের চেয়ে বেশি সময় যুক্তরাষ্ট্রে থাকলে সেটি ভিসা ওভারস্টে বলে গণ্য হয়। বেশির ভাগ দেশই ভিসার জন্য পর্যাপ্ত অর্থ থাকার প্রমাণ চায়। কিন্তু ফেরতযোগ্য জামানত দিয়ে দেশে প্রবেশের অনুমতি প্রদানের ব্যবস্থা চালু করেনি। নিউজিল্যান্ড একসময় ওভারস্টে নিয়ন্ত্রণে ভিসা বন্ড চালু করেছিল, পরে তা আর কার্যকর হয়নি। ২০১৩ সালে যুক্তরাজ্য কিছু ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ দেশের ভ্রমণকারীদের জন্য ভিসা বন্ড চালুর উদ্যোগ নেয়, কিন্তু পরে তা বাতিল করে।

দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) মজুত পর্যাপ্ত থাকার পরও বড় কোম্পানিগুলোর সরবরাহ কমে যাওয়ায় চরম সংকটে পড়েছেন ডিলার ও ব্যবসায়ীরা। নোয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এলপি গ্যাসের এই সংকট ডিলারদের জীবিকা অনিশ্চিত করে তুলেছে। একই সঙ্গে বাড়তি দামে গ্যাস কিনতে বাধ্য হচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা। সরবরাহ সংকটের সুযোগে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রির অভিযোগে দেশের বিভিন্নস্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালাচ্ছে। কোথাও জেল-জরিমানাও করা হচ্ছে। তবে তাতেও বাজার পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নতি হয়নি। সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় একের পর এক এলপি গ্যাস বিক্রির ডিপো বন্ধ হয়ে গেছে। পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ না থাকায় অনেক পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ী দোকানপাট বন্ধ করে বাসায় বসে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। একদিকে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সিলিন্ডার মিলছে না, অন্যদিকে সরকার নির্ধারিত মূল্যের বাইরে বিক্রির অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান—এই দ্বিমুখী চাপে পড়েছেন বিক্রেতারা। ফলে গ্যাস না থাকলেও আতঙ্কে দোকান খুলতে পারছেন না অনেক ব্যবসায়ী। সরবরাহ সংকট ও প্রশাসনিক অভিযানের মধ্যে পড়ে চরম দিশেহারা অবস্থায় দিন পার করছেন এলপি গ্যাস বিক্রেতারা। সেনবাগ উপজেলায় বসুন্ধরা এলপিজি গ্যাসের এক্সক্লুসিভ ডিস্ট্রিবিউটর রেজাউল করিম জুয়েল বলেন, আগে প্রতি মাসে গড়ে ৭ হাজার পিস গ্যাস সিলিন্ডার পেতাম। পুরো ডিসেম্বর মাসে পেয়েছি মাত্র ১ হাজার ৮৩৪ পিস। চলতি জানুয়ারিতে এখনো একটাও পাইনি। অথচ ব্যবসা বন্ধ থাকলেও খরচ একটুও কমেনি। গ্যাস না পেলেও কর্মচারীদের বেতন, গোডাউন ও অফিস ভাড়া, গাড়ির কিস্তি, ব্যাংক লোন—সবই আগের মতোই দিতে হচ্ছে। গ্যাস না পেলেই কি এই খরচ বন্ধ হয়ে যাবে? তিনি আরও বলেন, আমরা কখনোই বেশি দামে গ্যাস বিক্রি করতে চাই না। কিন্তু সরবরাহ না থাকলে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা অসম্ভব। এলপি গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না হলে শুধু ডিলার নয়, এই খাতের সঙ্গে জড়িত হাজারো শ্রমিক ও ব্যবসায়ীর জীবন-জীবিকা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে। একই ধরনের সংকটের কথা জানান নোয়াখালী শহরের আরেক এলপি গ্যাস ডিলার মো. রায়হান। তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, ৩০০ পিস ধারণক্ষমতার ট্রাক পাঠিয়ে এখন ১০০ থেকে ১২০ পিস গ্যাস আনতে হচ্ছে। তাও অনেক দিন অপেক্ষার পর। এতে পরিবহন খরচ উঠে না, লোকসান গুনতে হচ্ছে। এই সংকট অব্যাহত থাকলে থমকে যাবে ব্যবসা-বাণিজ্য। এটি শুধু একটি খাতের নয়, বরং দেশের অর্থনীতির জন্যও অশনিসংকেত। সরবরাহ বন্ধ থাকায় অনেক ডিলার দোকানপাট বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে কর্মচারীরাও পড়েছেন চরম অনিশ্চয়তায়। একজন গ্যাস ডিপোর শ্রমিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কাজ না থাকায় মালিক আমাদের গ্রামে পাঠিয়ে দিয়েছেন। এখন ক্ষেতের কাজ আর দিনমজুরি করে চলতে হচ্ছে। গ্যাস সংকটে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহকরা। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট বাজারের গৃহিণী রেহানা বেগম ঢাকা পোস্টকে বলেন, আগে নির্ধারিত দামেই গ্যাস পাওয়া যেত। এখন কোথাও গ্যাস নেই, আর যেখানে আছে সেখানে বেশি দাম চাইছে। রান্না চালানোই কঠিন হয়ে গেছে। একই অভিযোগ করেন বেসরকারি চাকরিজীবী আবুল কালাম। তিনি বলেন, সরকারি গ্যাসের টালবাহানা হয়। সারাদিন গ্যাস থাকেনা। আমাদের ভোগান্তির শেষ নাই। সিলিন্ডারের অতিরিক্ত দাম। আমরা অসহায় অবস্থায় আছি। জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, গ্যাসের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক বলেন, সরকার ও বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) কর্তৃক নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী এলপিজি গ্যাস বিক্রি করতে হবে। নির্ধারিত দামের অতিরিক্ত কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি। ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত ও তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি আরও বলেন, কেউ যদি সিন্ডিকেট করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রির চেষ্টা করে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভোক্তাদের সচেতন হওয়ার পাশাপাশি অনিয়মের তথ্য জেলা প্রশাসন বা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে জানাতে অনুরোধ জানান তিনি।

নোয়াখালীতে প্রায় ৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকার নির্মাণ সামগ্রী ১৯ লাখ টাকায় গোপনভাবে নিলামে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। অভিযোগের জেরে একদিন ঠিকাদারদের হাতে অবরুদ্ধ থাকার পর পরদিন অফিসে অনুপস্থিত রয়েছেন। তবে তাকে পলাতক বলে দাবি করেছেন স্থানীয় ঠিকাদাররা। সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন না। এর আগের দিন রোববার (৪ জানুয়ারি) বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নোয়াখালী জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কার্যালয়ে সাধারণ ঠিকাদাররা তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। ঠিকাদারদের অভিযোগ, ড্যানিডা অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন একটি প্রকল্পের আওতায় প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার বিভিন্ন ধরনের পাইপ ও নির্মাণ সামগ্রী নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের একটি গুদামে সংরক্ষিত ছিল। এসব মালামাল অত্যন্ত গোপনীয়ভাবে কথিত দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে নামমাত্র একটি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে নিলামে তোলা হয়। এতে অধিকাংশ ঠিকাদার বিষয়টি জানতে না পারায় দরপত্র প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারেননি। বিজ্ঞাপন এ সুযোগে নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মেসার্স শাহনাজ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রায় ৬ কোটি টাকার মালামাল মাত্র ১৮ লাখ ৮৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২০ অক্টোবর এই নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। সূত্র জানায়, দেড় ইঞ্চি ব্যাসের ৪৮ হাজার ও তিন ইঞ্চি ব্যাসের ২৮ হাজার পাইপ যা প্রায় ১৫ লাখ ২০ হাজার ফুট বিভিন্ন মাপের পাইপ নিলামে বিক্রি করা হয়। নিলামের পর রাতারাতি এসব সামগ্রী গুদাম থেকে সরিয়ে চরবাটা ও চর আমান উল্লা এলাকায় সংরক্ষণ করা হয়। ঘটনাটি জানাজানি হলে সাধারণ ঠিকাদারদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তারা বিষয়টি জানতে নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে গেলে তিনি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে ঠিকাদাররা সংঘবদ্ধ হয়ে তাকে নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন এবং তার অপসারণ ও শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ ও স্লোগান দেন। পরে নিলাম বাতিলের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। অভিযোগ রয়েছে, নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলামের দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের একটি প্রকল্পের জন্য বরাদ্দকৃত প্রায় ৯০ কোটি টাকা ফেরত চলে গেছে। এতে নোয়াখালীর সুবিধাবঞ্চিত মানুষ উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এছাড়া যেসব ঠিকাদার মোটা অঙ্কের কমিশন দিতে পারেননি, তাদের কাজের কার্যাদেশ ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্বিত করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে, কমিশন দিয়ে কাজ পাওয়া ঠিকাদাররা নিম্নমানের ও দায়সারা কাজ করছেন, যার ফলে প্রকল্পের গুণগত মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মেসার্স এস এম এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. দুলাল বলেন, আমি প্রায় ৩০ বছর ধরে ঠিকাদারি করি। এভাবে প্রকাশ্য লুটপাট আগে কখনো দেখিনি। জুলাই আন্দোলনের পর ভেবেছিলাম অনিয়ম বন্ধ হবে, কিন্তু পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়েছে। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, আমি কোনো নিলাম দেইনি। নিলাম প্রক্রিয়া ঢাকা থেকে পরিচালিত হয়েছে। ঠিকাদারদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নিলাম কার্যাদেশ বাতিলের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। আমি পলাতক নই, অফিসের কাজে সাইটে ছিলাম।

ঘন কুয়াশার কারণে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রোববার (৪ জানুয়ারি) ৮টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট অবতরণ করতে পারেনি। কুয়াশায় রানওয়ে দৃশ্যমান না থাকায় নিরাপত্তাজনিত কারণে ফ্লাইটগুলোকে বিকল্প বিমানবন্দরে পাঠানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এসএম রাগীব সামাদ। তিনি জানান, কুয়াশার কারণে ৬টি ফ্লাইট সিলেট বিমানবন্দরে, ১টি ফ্লাইট কলকাতা বিমানবন্দরে ও ১টি ফ্লাইট ভিয়েতনামের হ্যানয় বিমানবন্দরে অবতরণ করে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে ডাইভারশন হওয়া ফ্লাইটগুলোকে ফিরিয়ে আনা শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি। আবহাওয়া অধিদপ্তর রোববার (৪ জানুয়ারি) সকাল ৭টায় এক পূর্বাভাসে জানিয়েছে, দুপুর পর্যন্ত ঢাকাসহ আশপাশের এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা থাকতে পারে। এ সময় আকাশ আংশিক মেঘাচ্ছন্ন থাকলেও দিনের তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে। এছাড়া বর্ধিত পাঁচ দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, আগামী দিনগুলোতে সারা দেশে তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে।

টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এক মাস বাকি আর। টুর্নামেন্টটি হবে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় যৌথভাবে। তবে বাংলাদেশের গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচই ভারতে। এরই মধ্যে আইপিএল থেকে মুস্তাফিজুর রহমান বাদ পড়ায় দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। দেশের ক্রিকেট পরিস্থিতি নিয়ে শনিবার রাতে জরুরি বৈঠকে বসেন বিসিবির ১৭ জন পরিচালক। বৈঠকে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সিদ্ধান্ত হয়, আজ ৪ জানুয়ারি আইসিসিকে একটি চিঠি পাঠাবে বিসিবি। ওই চিঠিতে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তোলা হবে। বর্তমান অবস্থার কথা বিবেচনা করে বিসিবি আইসিসির নিরাপত্তা বিভাগে ইমেইল করবে। সেখানে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হবে। একই সঙ্গে মুস্তাফিজ ইস্যু নিয়েও জানতে চাওয়া হবে। শুধু খেলোয়াড় নয়, বোর্ড পরিচালক ও অন্যান্য সদস্যদের নিরাপত্তার বিষয়ও তুলে ধরা হবে। চিঠিতে দর্শক ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তার কথাও থাকবে। জানা গেছে, বর্তমান বাস্তবতায় নিরাপত্তাই বোর্ডের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, সব পক্ষের জন্য স্পষ্ট নিশ্চয়তা না মিললে ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্তে তার প্রভাব পড়তে পারে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই চিঠি শুধু মুস্তাফিজ ইস্যুতে সীমাবদ্ধ নয়। ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়েও এটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে দুই দেশের ক্রিকেট সম্পর্কের ভবিষ্যতেও এর বড় প্রভাব থাকতে পারে।
তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) নিয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছে দেশ। ১২৫৩ টাকার ১২ কেজির গ্যাসের সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার টাকায়। শীতে গ্যাসের চাহিদা বেশি থাকে বাসা-বাড়িতে। পাইপলাইনের গ্যাস সরবরাহ কম। তীব্র সংকট বাসাবাড়ি ও সিএনজি স্টেশনগুলোয়। অন্যদিকে এলপিজির সিলিন্ডার সহজে পাওয়া যাচ্ছে না। এলপি গ্যাসের সংকট ভয়াবহ। পেলেও সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা বেশি দিয়ে কিনতে হচ্ছে ১২ কেজির এলপিজির সিলিন্ডার। সংশ্লিষ্টরা জানান, এলপিজি সিলিন্ডারের সংকট সহজে কাটবে না। কারণ, বিভিন্ন কারণে আগের চেয়ে এলপিজি আমদানি কমে গেছে। এ অবস্থায় সামনের দিনগুলোয় সাধারণ মানুষকে আরও কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। হাবিবুর রহমান থাকেন রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায়। বাসায় ব্যবহার করেন এলপি গ্যাস। এক সপ্তাহ ধরে বেশ সমস্যা যাচ্ছে এলপিজি নিয়ে। তিনি বলেন, আগে এক ফোন কলে এলপিজি পাওয়া যেত। এখন কল বা চাহিদা দিলেও ২/৩ দিনেও পাওয়া যাচ্ছে না। তাও ১২/১৩শ টাকার এলপিজি চাইছে ২ হাজার টাকা। হঠাৎ এমন পরিস্থিতি কেন হলো? রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে খবর নিয়ে জানা যায়, বাসাবাড়িতে পাইপলাইনের গ্যাস বলতে গেলে থাকে না। মধ্যরাতে বা ভোরে যা আসে, তা দিয়ে রান্না করা যায় না। তাই অনেকে এলপিজি দিয়ে রান্না করছেন। কিন্তু এলপিজি কিনতে গিয়ে তারা বিপাকে পড়ছেন। ১৩০০ টাকার এলপিজি বিক্রি হচ্ছে ১৯০০/২০০০ টাকায়। তেজগাঁও এলাকার সিএনজি স্টেশনগুলোয় খবর নিয়ে জানা গেছে, অনেকদিন ধরে গ্যাসের সংকট। তবে ২/৩ দিনে এ সংকট আরও বেড়েছে। বিশেষ করে শীতের প্রকোপ বাড়ার পর লাইনে গ্যাস নেই বললেই চলে। সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশন ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ফারহান নুর বলেন, সিএনজি স্টেশনে অনেকদিন ধরে গ্যাসের সমস্যা চলছে। এ ব্যাপারে জ্বালানি উপদেষ্টা ও সচিবকে বারবার বলা হলেও কোনো সমাধান হচ্ছে না। তিনি বলেন, এতে একদিকে ব্যবসায়িক ক্ষতি হচ্ছে। অন্যদিকে সিএনজি ব্যবহারকারীরা চরম দুর্ভোগে পড়ছেন। সারা দেশে ৪০০’র মতো সিএনজি স্টেশন থাকলেও রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় আছে ২০০’র বেশি স্টেশন। খবর নিয়ে জানা যায়, শুক্রবার তিতাসের ডেমরা সিজিএস থেকে তেজগাঁও টিবিএসগামী পাইপলাইনের মেরামতের কাজ হয়েছে। এ কারণে গুলশান, বনানী, রামপুরা, মালিবাগ থেকে চৌধুরীপাড়া পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ বন্ধ ছিল। এছাড়া শীতের কারণে চুলায় পানি গরম করাসহ বিভিন্ন কারণে তিতাস এলাকায় গ্যাসের চাহিদা বেড়েছে দৈনিক ১০ কোটি ঘনফুটের মতো। তিতাস গ্যাস কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহনেওয়াজ পারভেজ যুগান্তরকে বলেন, পাইপলাইন মেরামতের কারণে ঢাকার বেশকিছু এলাকায় গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে। রোববার থেকে ওইসব এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বাড়বে। তবে এর আগে থেকেই গ্যাসের সংকট কিছুটা রয়েছে। শীতে গ্যাসের চাহিদা বাড়ে বলে জানান তিনি। এলপিজির সংকট কেন : কিছু দিন আগেও এলপিজি চাহিদামতো পাওয়া যেত। এখন কেন পাওয়া যায় না। এর উত্তরে ভিন্ন ভিন্ন মত পাওয়া গেছে। আজ বিইআরসি এলপিজির নতুন দাম ঘোষণা করবে। কিন্তু এর আগে বাজারে এলপিজির তীব্র সংকট। সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, বাংলাদেশে এলপিজি আমদানিতে ব্যবহার হতো এমন ২৯টি জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পড়েছে। এ কারণে জাহাজ পাওয়া যাচ্ছে না। তবে এলপিজি আমদানি এবং বোটলিং কোম্পানিদের সংগঠন এলপিজি অপারেটরস অব বাংলাদেশ-লোয়াবের সভাপতি আমিরুল হক যুগান্তরকে বলেন, এলপিজির সংকট তৈরি হয়েছে নানা কারণে। মাসিক চাহিদা ১ লাখ ২০ হাজার থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টন। কিন্তু এখন সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে ৯০ হাজার টনের মতো। তিনি বলেন, এলপিজি ব্যবসায় জড়িত ৫টি কোম্পানি এখন নানা কারণে তরল এলপিজি আমদানি বন্ধ রেখেছে। তাদের জায়গায় অন্য কোম্পানিগুলো আমদানি করতে চাইলেও সরকার তা করতে দিচ্ছে না। এ কারণে সংকট ভয়াবহ হচ্ছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বেশ কয়েকটি এলপিজিবাহী জাহাজকে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় এলপিজির খরচ টনে ১২০ ডলার থেকে বেড়ে ১৮০ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। তাই এলপিজির দাম পড়ছে বেশি। অন্য এক ব্যবসায়ী জানান, এলপিজির চাহিদা মাসে ১ লাখ ৫০ হাজার টনের বেশি। সিটি গ্রুপের এলপিজি কোম্পানির পরিচালক ফিরোজ আহমেদ জানান, এলপিজির পরিস্থিতি ভালো নয়। আগের মতো এ খাতে ট্রেডার নেই। চাহিদামতো এলপিজি পাওয়া যাচ্ছে না। কারণ, আগে অনেকে আমদানি করত। তারা এখন করে না। স্বভাবত এতে কিছুটা সংকট দেখা দিয়েছে। তেজগাঁও এলাকার এলপিজির ডিলার তাহের এন্টারপ্রাইজের মালিক আবু তাহের বলেন, এলপিজি পরিস্থিতি ভয়াবহ। আগে দৈনিক ২০০ সিলিন্ডার বিক্রি করতাম। এখন সপ্তাহে ২০০টি বিক্রি করার মতো সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। কারণ, এলপিজি সংকট। তিনি বলেন, তাহের এন্টারপ্রাইজ ৮টি কোম্পানির ডিলার। কিন্তু এলপিজি পাওয়া যাচ্ছে নিয়মিতভাবে শুধু ওমেরা থেকে। তাও চাহিদামতো নয়। বাকিগুলো নিয়মিত এলপিজি দেয় না বললেই চলে। তাছাড়া এলপিজি সংগ্রহে খরচও বেড়েছে। যেমন : একটি গাড়ি আগে একদিনে এলপিজি প্ল্যান্ট থেকে নিয়ে আসতে পারত। এখন ৩/৪ দিন প্ল্যান্টে বসে থাকতে হচ্ছে। এতে প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা লোকসান দিতে হচ্ছে। একই কারণে এলপিজির দামও পড়ছে বেশি। তার তথ্যানুযায়ী, তাহের এন্টারপ্রাইজ প্রতি সিলিন্ডার বিক্রি করছে ১৩০০ বা ১৪০০ টাকায়। কিন্তু চাহিদা বেশি থাকায় সেই সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ১৮০০ থেকে ২০০০ হাজার টাকায়। এলপিজির দাম সমন্বয় করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন-বিইআরসি। কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ শনিবার যুগান্তরকে বলেন, এলপিজি সংকটের বিষয়টি নজরে এসেছে। কিন্তু বাজার তদারকি করার দায়িত্ব তো বিইআরসির নয়। তাই এ ব্যাপারে কিছু করা যাচ্ছে না। এলপি গ্যাস

বাংলাদেশের তারকা পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল দল কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘিরে ভারতজুড়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র আকার নিয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে এবার প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুললেন কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর। তার মন্তব্যে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে খেলাধুলা ও রাজনীতির সীমারেখা। ডিসেম্বর মাসে আইপিএল ২০২৬ মিনি নিলামে ৯ দশমিক ২০ কোটি রুপিতে মুস্তাফিজুর রহমানকে দলে নিয়েছিল শাহরুখ খানের মালিকানাধীন কেকেআর। তখন বিষয়টি ছিল পুরোপুরি ক্রিকেটকেন্দ্রিক। মুস্তাফিজের অভিজ্ঞতা এবং আন্তর্জাতিক সাফল্যকে গুরুত্ব দিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে হিন্দু সংখ্যালঘুদের উপর হামলার খবর প্রকাশ্যে আসতেই পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। একাধিক বিজেপি নেতা প্রকাশ্যে দাবি তোলেন বাংলাদেশের কোনও ক্রিকেটারকে এই সময় আইপিএলে খেলতে দেওয়া উচিত নয়। সেই চাপের মধ্যেই বিসিসিআইয়ের নির্দেশে কেকেআর মুস্তাফিজকে দল থেকে মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়। এই সিদ্ধান্ত সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, ‘আমরা এখানে কাকে শাস্তি দিচ্ছি একজন ক্রিকেটারকে না একটি দেশকে না তার ধর্মকে। তার মতে খেলাধুলাকে এভাবে রাজনৈতিক রঙে রাঙানো অত্যন্ত বিপজ্জনক প্রবণতা। থারুর আরও বলেন মুস্তাফিজ কোনও ঘৃণা ছড়াননি তিনি কোনও হিংসাত্মক ঘটনার সঙ্গে যুক্ত নন তিনি একজন পেশাদার ক্রীড়াবিদ। একটি দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বা সামাজিক সমস্যার দায় একজন খেলোয়াড়ের ঘাড়ে চাপানো অন্যায্য।’ থারুর আরও প্রশ্ন তোলেন, ‘মুস্তাফিজের জায়গায় যদি বাংলাদেশের কোনও হিন্দু ক্রিকেটার থাকতেন তাহলে কি একই সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো। তার এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই ধর্মীয় বৈষম্যের অভিযোগ নতুন করে উঠে এসেছে।’ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে থারুর বলেন, ‘বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর হামলার ঘটনা নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক। ভারত সরকারের উচিত কূটনৈতিক স্তরে এই বিষয়টি তুলে ধরা এবং ঢাকা সরকারের উপর চাপ বজায় রাখা। কিন্তু সেই চাপ দেওয়ার পথ কখনওই খেলাধুলা হতে পারে না।’ এই বিতর্কের মাঝেই বিজেপি নেতা সঙ্গীত সোম কেকেআরের মালিক শাহরুখ খানকে দেশদ্রোহী বলেও আক্রমণ করেন। শিবসেনা এবং বিজেপির একাধিক নেতা দাবি করেন বাংলাদেশের পরিস্থিতির মধ্যে সে দেশের ক্রিকেটারকে আইপিএলে খেলতে দেওয়া অনুচিত। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে এই ঘটনা শুধু একটি ক্রিকেট দলের সিদ্ধান্ত নয় বরং প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক এবং খেলাধুলার সার্বজনীন চরিত্র নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে। শশী থারুরের বক্তব্য সেই প্রশ্নকে আরও জোরালো করেছে। ভারতের মতো বড় দেশের উচিত উদার দৃষ্টিভঙ্গি রাখা এবং খেলাধুলাকে রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের বাইরে রাখা এই মতই উঠে আসছে বিভিন্ন মহল থেকে।

১৯৮৯ সালে পানামার নেতা ম্যানুয়েল নরিয়েগাকে গ্রেফতারের পর দীর্ঘ সময় লাতিন আমেরিকার কোনো দেশে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ করেনি যুক্তরাষ্ট্র। তবে ২০২৬ সালের শুরুতেই সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটালেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত শুক্রবার রাতে ভেনেজুয়েলার বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আচমকা হামলা চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে মার্কিন বাহিনী। রাতের অন্ধকারে একজন ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টকে তার রাজধানী থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার এই ঘটনাকে অনেক বিশ্লেষক লাগামহীন ক্ষমতার নগ্ন বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বার্তার মাধ্যমে এই অভিযানের কথা জানান। ৭৪ শব্দের সেই পোস্টে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, নিজের বিচিত্র সব পররাষ্ট্র নীতি বাস্তবায়নে তিনি কতটা বেপরোয়া হতে পারেন। আন্তর্জাতিক আইন বা এই ধরনের পদক্ষেপের সুদূরপ্রসারী পরিণতির তোয়াক্কা না করেই তিনি মাদুরোকে মার্কিন একটি জাহাজে করে নিউইয়র্ক নিয়ে আসার ঘোষণা দিয়েছেন, যেখানে তাকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। এই ঘটনা ১৯৮৯ সালে পানামার ম্যানুয়েল নরিয়েগাকে গ্রেফতারের স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়। মাদুরো ও নরিয়েগা—উভয়ের বিরুদ্ধেই বিতর্কিত নির্বাচন এবং মাদক পাচারের অভিযোগ ছিল। তবে নরিয়েগার ক্ষেত্রে একটি ছোটখাটো যুদ্ধের পর তিনি ভ্যাটিকান দূতাবাসে আশ্রয় নিয়েছিলেন এবং পরে আত্মসমর্পণ করেছিলেন। অন্যদিকে মাদুরোর পরিণতি অনেকটা ২০০৩ সালে ইরাকের প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের ধরা পড়ার ঘটনার সঙ্গেও তুলনীয়। মজার ব্যাপার হলো, নরিয়েগা এবং সাদ্দাম—উভয়েই একসময় ওয়াশিংটনের ঘনিষ্ঠ মিত্র ছিলেন, ঠিক যেমন ভেনেজুয়েলার তেল রাজনীতি একসময় যুক্তরাষ্ট্রের অনুকূলে ছিল। মাদুরোর বিরুদ্ধে অভিযোগ ও ট্রাম্পের ‘মনরো’ মতবাদ যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, মাদুরো অবৈধভাবে ক্ষমতায় বসেছেন এবং ব্যক্তিগতভাবে মাদক পাচারে জড়িত। এই অভিযোগে গত কয়েক মাস ধরেই ক্যারিবীয় সাগরে নৌবহর ও পরমাণু-ডুবোজাহাজ মোতায়েন করে রেখেছিল যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের পেছনে কেবল অপরাধ দমন নয়, বরং ১৯ শতকের ‘মনরো’ মতবাদ পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যও রয়েছে। এই মতবাদ অনুযায়ী পশ্চিম গোলার্ধকে যুক্তরাষ্ট্রের একক ‘প্রভাব অঞ্চল’ হিসেবে গণ্য করা হয়। ট্রাম্পের মূল লক্ষ্য হলো এই অঞ্চলে চীনের প্রভাব খর্ব করা এবং ভেনেজুয়েলার বিশাল তেলের মজুদের ওপর নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনা। মাদুরোকে আটকের পর ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে। মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি জানিয়েছেন, মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক-সন্ত্রাসবাদ এবং অবৈধ অস্ত্র রাখার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। যদিও এই বিচারকে অনেকেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হিসেবে দেখছেন, কারণ হোয়াইট হাউস দীর্ঘকাল ধরেই ভেনেজুয়েলার বামপন্থি সরকারকে হটাতে মরিয়া ছিল। বর্তমানে প্রশ্ন উঠছে, মাদুরোর পতনের পর ভেনেজুয়েলায় কি শান্তি ফিরবে নাকি গৃহযুদ্ধ শুরু হবে? বিরোধীদলীয় নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো বা এডমান্ডো গঞ্জালেসের ক্ষমতায় আসার পথ প্রশস্ত হলেও দেশটির সেনাবাহিনী এখনো মাদুরোর অনুগত থাকতে পারে। ট্রাম্পের জন্য এটি একটি বড় বিজয় হলেও, এর ফলে ভেনেজুয়েলায় যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে তা পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলে দিয়েছে।

নোয়াখালীতে বইছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। চলতি শীত মৌসুমে জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় এ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। পৌষ মাসের শুরু থেকেই নোয়াখালীতে তাপমাত্রা ১৩ থেকে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছিল। তবে পৌষের মাঝামাঝি এসে হঠাৎ করেই তীব্র শীতের প্রকোপ বেড়েছে। কয়েকদিন ধরে সূর্যের দেখা মিলছে না বললেই চলে। ঘন কুয়াশা আর হিমেল বাতাসে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জেলার মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। ঘন কুয়াশার কারণে দিনের বেলাতেও সড়কে ছোট-বড় যানবাহনগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে। শীতের তীব্রতায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন দিনমজুর, কৃষিশ্রমিক, রিকশাচালকসহ নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষ। কাজের খোঁজে ঘর থেকে বের হলেও কনকনে ঠান্ডায় স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারছেন না তারা। বিশেষ করে নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চল ও উপকূলীয় এলাকার মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। এসব এলাকায় এখনো সরকারি ও বেসরকারি কোনো শীতবস্ত্র সহায়তা পৌঁছায়নি বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। পর্যাপ্ত কম্বল ও শীতবস্ত্রের অভাবে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থরা সবচেয়ে বেশি কষ্টে রয়েছেন। চরাঞ্চলের বাসিন্দারা জানান, গত কয়েকদিন ধরে কুয়াশার সঙ্গে ঠান্ডা বাতাস বইতে থাকায় শীতের অনুভূতি আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। আগের দিনের তুলনায় শনিবারের কনকনে ঠান্ডায় মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে কয়েকগুণ। শীত নিবারণের জন্য অনেককে খড়কুটো ও জ্বালানি পুড়িয়ে আগুন পোহাতে দেখা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত চর ও উপকূলীয় এলাকায় সরকারি উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণের দাবি জানিয়েছেন। মো. আকবর ও মো. আবদুল্লাহ বলেন, চর আতাউরসহ হাতিয়া উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলে এখনো সহায়তা পৌঁছে নাই। মানুষ খুব কষ্ট করছে। কর্মহীন হয়ে আছে। অবিলম্বে সহায়তা না পৌঁছালে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি আরও বাড়বে। জেলা আবহাওয়া কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, চলতি শীত মৌসুমে জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগামী কয়েকদিন নোয়াখালীসহ উপকূলীয় অঞ্চলে শীতের প্রকোপ অব্যাহত থাকতে পারে এবং ভোর পর্যন্ত ঘন কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। হাতিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলাউদ্দিন বলেন, আমরা নিঝুমদ্বীপসহ বিভিন্ন স্থানে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। কিছু বিচ্ছিন্ন দ্বীপে সহায়তা পৌঁছেনি। চর আতাউরসহ অন্যান্য স্থানে দ্রুত পৌঁছে দেওয়া হবে। দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মাঝে পর্যায়ক্রমে শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, গত কয়েকদিনের শীতে সাধারণ মানুষের কষ্টের শেষ নাই। অনেকেই কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। শীতার্ত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো সরকারের মানবিক দায়িত্ব, একজন মানুষও যেন শীতের কষ্টে অবহেলিত না থাকে সে লক্ষ্যেই জেলা প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে।

সবাইকে কাঁদিয়ে বিদায় নিল ২০২৫, শুরু হলো চ্যালেঞ্জিং নির্বাচনী বছর সময়ের আবর্তে ক্যালেন্ডারের পাতা থেকে ঝরে গেল আরও একটি বছর। ঘড়ির কাঁটা মধ্যরাত স্পর্শ করতেই ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই নিল ২০২৫ সাল। পূর্ব আকাশে উদিত নতুন সূর্য আজ বহন করে এনেছে ২০২৬ সালের শুভ বার্তা। তবে, বিদায়ী ২০২৫ সাল পেছনে রেখে গেছে ইতিহাসের এক বিশাল খতিয়ান— যেখানে অমলিন হয়ে আছে রাজনৈতিক নাটকীয়তা, রাষ্ট্র সংস্কারের সংগ্রাম আর একরাশ শোকাতুর স্মৃতি। অন্যদিকে, বাংলাদেশের মানুষের জন্য ২০২৬ সাল কেবল একটি নতুন বর্ষবরণ নয় বরং এক কঠিন অগ্নিপরীক্ষার নাম। কারণ, দোরগোড়ায় কড়া নাড়ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। চলুন, একনজরে ফিরে দেখা যাক ২০২৫ সালের সেই ঘটনাবহুল দিনলিপি। জানুয়ারি : সংস্কারের রোডম্যাপ ও নতুন বাংলাদেশের সূচনা সংস্কারের অঙ্গীকার : ১৭ জানুয়ারি জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ বাস্তবায়নের শপথ পুনর্ব্যক্ত করেন। পুলিশ, বিচার বিভাগ ও নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কার কমিশনগুলো মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করে। জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিচ্ছেন প্রধান উপদেষ্টা ঐতিহাসিক রায় ও মুক্তি : ১৫ জানুয়ারি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার সাজা বাতিল করেন উচ্চ আদালত। পরদিন ১৬ জানুয়ারি দীর্ঘ সাড়ে ১৭ বছর পর কারামুক্ত হন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর। ক্যাম্পাস ও রাজপথ : সাত কলেজের স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবিতে উত্তাল হয়ে ওঠে ঢাকা। মাসের শেষে রানিং স্টাফদের ধর্মঘটে স্থবির হয়ে পড়ে দেশের রেলযোগাযোগ। ফেব্রুয়ারি : কূটনৈতিক তৎপরতা ও ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ অপারেশন ডেভিল হান্ট : এক দিনে সারা দেশে গ্রেপ্তার ৪৬১ নিরাপত্তা অভিযান : অপরাধ দমনে গত ৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হয় যৌথ বাহিনীর ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’। প্রথম দিনেই সহস্রাধিক গ্রেপ্তার দেশজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে। কূটনৈতিক টানাপড়েন : সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য ও উসকানিমূলক তৎপরতার অভিযোগে ভারতীয় হাইকমিশনারকে তলব করা হয়। ১২ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘ জুলাই বিপ্লবের ওপর ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের’ আলামত সম্বলিত প্রতিবেদন প্রকাশ করে। নতুন রাজনৈতিক শক্তি : ২৮ ফেব্রুয়ারি আত্মপ্রকাশ করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’। মার্চ-এপ্রিল : উত্তপ্ত হয় দ্রব্যমূল্যের বাজার ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক। আর রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণই ছিল সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ। জাতীয় নাগরিক পার্টির ২১৭ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন চুক্তি পুনর্বিবেচনা : আদানি গ্রুপসহ বিতর্কিত বিদ্যুৎ চুক্তিগুলো তদন্তে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠিত হয়। আইনি পরিবর্তন : বিতর্কিত সাইবার নিরাপত্তা আইন বাতিল করে ‘সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫’ প্রবর্তিত হয়। বিনিয়োগ ও কূটনীতি : এপ্রিলে ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট সামিট’-এ ৫০টি দেশের প্রতিনিধি অংশ নেন। দীর্ঘ ১৫ বছরের শীতল সম্পর্ক কাটিয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে শুরু হয় উচ্চপর্যায়ের আনুষ্ঠানিক বৈঠক। মে : খালেদা জিয়ার প্রত্যাবর্তন আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত : ১২ মে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নির্দেশে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের সব কার্যক্রম নিষিদ্ধ এবং নিবন্ধন স্থগিত করা হয়। খালেদা জিয়ার ফিরে আসা : দীর্ঘ চিকিৎসার পর ৬ মে লন্ডন থেকে দেশে ফেরেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। খালেদা জিয়ার কণ্ঠ নকল করে চাঁদাবাজি, সাড়ে ৫ কোটি টাকা ফ্রিজ করল সিআইডি মব ভায়োলেন্স ও দুর্যোগ : একই মাসেই দেশের বিভিন্ন স্থানে ‘মব জাস্টিস’ বা গণপিটুনির মতো ঘটনা উদ্বেগ সৃষ্টি করে। মাসের শেষে ঘূর্ণিঝড় ও ভূমিধসে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে মানবিক বিপর্যয় নেমে আসে। জুন-জুলাই : বাজেট ও আকাশপথে ট্র্যাজেডি গত ২ জুন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার উচ্চাভিলাষী বাজেট পেশ করেন। তবে, জুলাই মাসে ঢাকার উত্তরার মাইলস্টোন কলেজের ওপর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তে ৩২ জনের মৃত্যু জাতিকে শোকাতুর করে তোলে। সেই সঙ্গে ২৪ জুলাই গ্রেপ্তার হন সাবেক প্রধান বিচারপতি এ. বি. এম. খায়রুল হক। রোববার খুলছে না মাইলস্টোন, কলেজ খোলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত সোমবার আগস্ট-সেপ্টেম্বর : অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের এক বছর পূর্তিতে ‘জুলাই বিপ্লব দিবস’ পালিত হয়। অক্টোবর-নভেম্বর : রায় ও নির্বাচনের সানাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল জুলাই হত্যাকাণ্ডের দায়ে (অনুপস্থিতিতে) সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। সুপ্রিম কোর্টের রায়ে সংবিধানে ফিরে আসে ‘নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার’ ব্যবস্থা। আর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দীর্ঘক্ষণ বিমান চলাচল বন্ধ থাকে। শাহজালালের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ারের ৩৭ ইউনিট ডিসেম্বর : এক নক্ষত্রের বিদায় ও শোকার্ত সমাপ্তি বছরের শেষ মাসটি ছিল বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য সবচেয়ে বেদনাবিধুর। এই মাসের ১১ তারিখ নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করে বহু প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল। তফসিল অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন নির্ধারিত হয়। ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড : পল্টনে তরুণ নেতা ওসমান হাদির ওপর নৃশংস হামলা ও ১৮ ডিসেম্বর তার শাহাদাত বরণ পুরো দেশকে স্তব্ধ করে দেয়। তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন : দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। ঢাকায় পৌঁছালেন তারেক রহমান খালেদা জিয়ার প্রয়াণ : বছরের শেষলগ্নে ইন্তেকাল করেন দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। ৩১ ডিসেম্বর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে লাখো মানুষের অংশগ্রহণে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। শহীদ জিয়ার কবরের পাশেই তাকে দাফন করা হয়। ২০২৬ সাল : যে চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে হবে ২০২৫ সালকে বিদায় জানিয়ে ২০২৬ সালে পা রাখল বাংলাদেশ। নতুন বছরে অন্তর্বর্তী সরকারের মূল চ্যালেঞ্জ হলো একটি অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্পন্ন করা। আর রাজনৈতিক সমঝোতা বজায় রাখা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং আকাশচুম্বী দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের নাগালে রাখাই হবে নতুন সরকারের ও প্রশাসনের জন্য কঠিনতম পরীক্ষা। গণভোট ও অধ্যাদেশসহ ৪ উপায়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সুপারিশ সংসদ নির্বাচনের চ্যালেঞ্জ গণভোট ও জুলাই চার্টার : নির্বাচনের দিনই জুলাই চার্টার বা জুলাই ঘোষণার ওপর ভিত্তি করে সংবিধানের আমূল পরিবর্তন (যেমন—দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদের সীমাবদ্ধতা) নিয়ে গণভোট হবে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সফলভাবে সম্পন্ন করা নির্বাচন কমিশনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করা হচ্ছে।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) আওয়ামী লীগের ফেসবুক পেজে লেখা হয়, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করছি। বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তার অবদান অপরিসীম। তার মৃত্যুতে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতিতে এবং বিএনপি নেতৃত্বের এক অপূরণীয় ক্ষতি হলো। আমি খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। আমি তার ছেলে তারেক রহমান ও পরিবারের অন্যান্য শোকাহত সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। আশা করছি, মহান আল্লাহ তার পরিবারের সদস্যদের এবং বিএনপির সবাইকে এই শোক কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করবেন।

বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিন বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। বিএনপি মিডিয়া সেলের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে বলা হয়েছে, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজ সকাল ৬টায় ফজরের ঠিক পরে ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। আমরা তার রূহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং সকলের নিকট তার বিদেহী আত্মার জন্য দোয়া চাচ্ছি।’ গত ২৩ নভেম্বর থেকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন খালেদা জিয়া। আইসিইউতে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার অবস্থা অত্যন্ত জটিল এবং তিনি সংকটময় মুহূর্ত পার করছিলেন বলে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানিয়েছিলেন। বেগম খালেদা জিয়া ১৯৪৬ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ইস্কান্দার মজুমদার ও মা তৈয়বা মজুমদার। শৈশবে তিনি দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং পরবর্তীতে সুরেন্দ্রনাথ কলেজে পড়াশোনা করেন। ১৯৬০ সালে তিনি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন তিনি ফার্স্ট লেডি হিসেবে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন। ১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদতবরণের পর দলের সংকটময় মুহূর্তে তিনি রাজনীতিতে পদার্পণ করেন। ১৯৮২ সালের ২ জানুয়ারি বিএনপির প্রাথমিক সদস্য হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে তার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়। এরপর ১৯৮৩ সালে তিনি দলের ভাইস-চেয়ারম্যান এবং ১৯৮৪ সালে চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন। আশির দশকে তৎকালীন সামরিক স্বৈরশাসক এইচ এম এরশাদের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে তিনি নেতৃত্ব দেন। আপসহীন সংগ্রামের কারণে তিনি ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। এই দীর্ঘ আন্দোলনে তিনি সাত দলীয় জোট গঠন করেন এবং স্বৈরাচারের পতন না হওয়া পর্যন্ত কোনো নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার দৃঢ় ঘোষণা দেন। এই দীর্ঘ লড়াইয়ে তাকে ১৯৮৩ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত সাতবার আটক ও গৃহবন্দী করা হয়েছিল। ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে জয়লাভ করে তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। তার সময়েই দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি শিক্ষা খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনেন; যার মধ্যে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা, মেয়েদের জন্য দশম শ্রেণি পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা এবং উপবৃত্তি কর্মসূচি উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া তিনি সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ২৭ থেকে ৩০ বছরে উন্নীত করেন। ১৯৯৬ সালের জুন মাসের নির্বাচনে বিএনপি পরাজিত হলেও তিনি ১১৬টি আসন নিয়ে সংসদে বৃহত্তম বিরোধী দলীয় নেত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৯ সালে তিনি চারদলীয় জোট গঠন করেন এবং ২০০১ সালের সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় নিয়ে আবারও প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। ২০০৫ সালে ফোর্বস ম্যাগাজিন তাকে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর নারীদের তালিকায় ২৯ নম্বরে স্থান দেয়। বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে কোনো আসনেই পরাজিত না হওয়ার অনন্য রেকর্ডের অধিকারী। তিনি ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত প্রতিটি নির্বাচনে যে কয়টি আসনে দাঁড়িয়েছেন, তার সবকটিতেই জয়লাভ করেছেন। ২০১১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি স্টেট সিনেট গণতন্ত্রের প্রতি তার অবদানের জন্য তাঁকে ‘গণতন্ত্রের যোদ্ধা’ উপাধিতে ভূষিত করে। ২০১৮ সালে একটি বিতর্কিত মামলার রায়ে তাকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। যদিও আন্তর্জাতিক এবং দেশীয় আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই বিচারের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। পরে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতন হলে একে একে সব মামলায় খালাস পান বিএনপি চেয়ারপারসন।

ইউক্রেনে যুদ্ধাবসানের জন্য ওয়াশিংটনের নেতৃত্বে যে শান্তি সংলাপ ও কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে, তা বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল রোববার যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে সাংবাদিকদের সঙ্গে মত বিনিময়কালে এ ইস্যুতে কথা বলেন তিনি। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি রোববার ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করতে ফ্লোরিডা যান। ফ্লোরিডার পাম বিচ শহরে ট্রাম্পের বিলাসবহুল প্রাসাদ মার-আ-লাগোতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক হয় তার। বৈঠক শেষে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, “আমরা মনে হয় আমরা শান্তি সংলাপের চূড়ান্ত পর্যায়ে আছি। এখন আমাদের আরও সতর্ক হতে হবে। নয়তো ফের এই ব্যাপারটি দীর্ঘদিনের জন্য ঝুলে যাবে।” জেলেনস্কির সঙ্গে রোববারের বেঠক সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, “আমাদের আলোচনা চমৎকার হয়েছে। কিছু ব্যাপার এখনও অমীমাংসিত থেকে গেছে। আশা করছি শিগগিরই সেগুলোর মীমাংসা হবে।” ট্রাম্প যদিও ভেঙে বলেননি, তবে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে রাশিয়াকে ভূখণ্ড ছাড় দেওয়ার দেওয়ার ব্যাপারটি এখনও অমীমাংসিত থেকে গেছে। ইউক্রেনে যুদ্ধাবসানের জন্য দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় দুই প্রদেশ দোনেৎস্ক, লুহানস্ক এবং মধ্যাঞ্চলীয় প্রদেশ ঝাপোরিজ্জিয়ার কিছু অংশ দাবি করেছে রাশিয়া। ইউক্রেন এখনও তাতে ইতিবাচক সাড়া দেয়নি। তবে সংবাদ সম্মেলনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রাশিয়ার যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যে নিরাপত্তা নিশ্চয়তার দাবি করেছে ইউক্রেন, রোববারের আলোচনায় সে বিষয়টি অনেকটা অগ্রসর হয়েছে। সামনের সপ্তাহে যুদ্ধাবসানের সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য বিষয়গুলো নিয়ে ফের বৈঠক হবে বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি। এদিকে জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক ও বৈঠক পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনের বেশ কিছু সময় পর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করা এক বার্তায় ট্রাম্প জানান, জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের আগে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টা টেলিফোনে কথা হয়েছে তার। ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে ট্রাম্প বলেন, “রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট (ভ্লাদিমির) পুতিনের সঙ্গে খুবই ভালো এবং ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। তিনি ইউক্রেনে যুদ্ধাবসানের ব্যাপারটি খুব গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন।” ক্রিমিয়া উপদ্বীপকে রুশ ভূখণ্ড হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা রক্ষা না করা এবং ন্যাটোর সদস্যপদের জন্য কিয়েভের তদবিরের জেরে কয়েক বছর ধরে টানাপোড়েন চলার পর ২০২২ সালে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে রুশ বাহিনী। এ অভিযান এখনও চলছে। ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের শপথ গ্রহণ করার পর থেকে এই সংঘাত থামানোর জন্য চেষ্টা করে আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার নেতৃত্বাধীন মার্কিন প্রশাসন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্য ফেনী-১, বগুড়া-৭ ও দিনাজপুর-৩ আসন থেকে তার জন্য মনোনয়ন সংগ্রহ করা হয়েছিল। আজ (সোমবার) এই তিন আসনে তার পক্ষে থেকে মনোনয়ন জমা দেওয়া হবে। তবে, কোনো কারণে বিএনপির চেয়ারপারসন নির্বাচনে অংশ নিতে না পারলে তার জন্য এসব আসনে বিকল্প প্রার্থীও রাখা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিলের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আজ ২৯ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণে ইচ্ছুক প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। ফেনী-১ (ফুলগাজী-পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া) আসনে বেগম খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র জমা দেবেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু। খালেদা জিয়ার পাশাপাশি এই আসন থেকে নিজের জন্য মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন মজনু। রফিকুল আলম মজনু বলেন, আজকে ম্যাডামের মনোনয়ন জমা দেব। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার জন্য মনোনয়ন সংগ্রহ করেছি। তবে, জমা দেব কিনা তা নির্ভর করছে দলের সিদ্ধান্তের ওপর। বগুড়া-৭ (গাবতলী) আসন থেকে খালেদা জিয়ার পাশাপাশি মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোরশেদ আলম। আর দিনাজপুর-৩ (সদর) আসনে সাবেক পৌর মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম। মোরশেদ আলম বলেন, বগুড়া-৭ থেকে আজ ম্যাডামের মনোনয়ন জমা দেওয়া হবে। ম্যাডামের সাপোর্টিং হিসেবে আমাকে মনোনয়ন সংগ্রহ করতে বলা হয়েছিল। ম্যাডামের পাশাপাশি আমার মনোনয়ন জমা দিচ্ছি। জিবিকে প্রস্তুতির নির্দেশ গত ২৩ নভেম্বর থেকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন খালেদা জিয়া। বর্তমানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার অবস্থা অত্যন্ত জটিল এবং তিনি সংকটময় মুহূর্ত পার করছেন বলে জানিয়েছেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, এখন ম্যাডামের নির্বাচন করা বা না করা নিয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। যার কারণে উনার পাশাপাশি এসব আসনে বিকল্প প্রার্থী রাখা হচ্ছে। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পাশাপাশি, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ থেকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

৭১ জন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার সনদ বাতিল করেছে সরকার। সনদ বাতিল করে গত ২৪ ডিসেম্বর গেজেট জারি করা হয়েছে। এর আগে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়েছে, ‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন, ২০২২’ এর ৬ (গ) ধারা এবং ‘রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬’ এর সিডিউল-১ (অ্যালোকেশন অব বিজনেস) এ দেওয়া ক্ষমতাবলে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) ১০১তম সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক এদের গেজেট বাতিল করা হয়েছে। এদের মধ্যে বেসামরিক, ভারতীয় তালিকা, লালমুক্তিবার্তা, আনসার বাহিনী, সেনাবাহিনী, শহীদ পুলিশ বাহিনীর মুক্তিযোদ্ধারা রয়েছেন। জামুকা সূত্রে জানা গেছে, মুক্তিযোদ্ধা না হয়েও তারা সনদ নিয়েছেন। যাচাই-বাছাইয়ে সেটি প্রমাণিত হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষায় এই যাচাই-বাছাই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। ভবিষ্যতেও কেউ ভুয়া পরিচয়ে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি নিলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনী জোটের সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে চিঠি দিয়েছেন দলটির ১৭০ জন কেন্দ্রীয় নেতা। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) রাতে এনসিপির আহ্বায়কের কাছে পাঠানো এই চিঠিতে জোটের পক্ষে থাকা নেতারা গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত বিষয়ে নিজেদের সম্মতি দিয়েছেন। এর আগে জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠনে আপত্তি জানিয়ে ৩০ নেতার একটি চিঠিকে কেন্দ্র করে দলের অভ্যন্তরে মতবিরোধ প্রকাশ্যে আসার পর এর পাল্টা পদক্ষেপ নিলেন জোটপন্থিরা। তারা জানান, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এমন কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, জোটের পক্ষে স্বাক্ষরকারীর সংখ্যা ১৭০ ছাড়িয়ে যেতে পারে। চিঠিতে এনসিপির কেন্দ্রীয় পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতারা বলেন, আমরা দলীয় আদর্শ, লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ কৌশলগত অবস্থানকে সমুন্নত রাখার স্বার্থে এই মতামত পেশ করছি। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনর্গঠন, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারকে টেকসই করা এবং একটি জনমুখী ও দায়বদ্ধ রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য রাজনৈতিকভাবে সময়োপযোগী ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে আমরা মনে করি। নেতারা আরও উল্লেখ করেন, দলীয় ও জাতীয় স্বার্থে এবং গণতান্ত্রিক রূপান্তরের বৃহত্তর লক্ষ্যকে সামনে রেখে এনসিপি যদি কোনো রাজনৈতিক দল বা জোটের সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতা কিংবা জোট গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, তবে সে বিষয়ে তাদের পূর্ণ সমর্থন ও সম্মতি রয়েছে। তারা স্পষ্ট করেন যে, নির্বাহী কাউন্সিলের সুপারিশের আলোকে আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব কর্তৃক গৃহীত যে কোনো জোট বা নির্বাচনী সমঝোতা সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের প্রতি তাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে।

দীর্ঘ ১৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ শুরু হয়েছে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা। চলবে আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এ বছর পাঁচটি বিষয়ে মোট ৪০০ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়া হবে। দেশের ৬১১ কেন্দ্রে একযোগে এ মেধা যাচাই লড়াইয়ে অংশ নিচ্ছে প্রায় সাড়ে তিন লাখ শিক্ষার্থী। পরীক্ষা নির্বিঘ্ন করতে শিক্ষা বোর্ডগুলো জারি করেছে একগুচ্ছ কঠোর নির্দেশনা, যা অমান্য করলে বাতিল হতে পারে পরীক্ষার্থীর প্রার্থিতা। জানা গেছে, প্রতিটি কেন্দ্র ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ফেরাতে প্রতিটি কক্ষে সিসি ক্যামেরা স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রতি ২০ শিক্ষার্থীর জন্য রাখা হয়েছে একজন করে কক্ষ পরিদর্শক। ডিজিটাল জালিয়াতি রুখতে পরীক্ষার কেন্দ্রে কোনো ধরনের স্মার্টফোন, স্মার্টওয়াচ বা ব্লুটুথ ডিভাইস নিয়ে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে গাণিতিক সমস্যা সমাধানের জন্য পরীক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট ৮টি মডেলের সায়েন্টিফিক নন-প্রোগ্রামেবল ক্যালকুলেটর ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অনুমতিপ্রাপ্ত ক্যাসিও ব্র্যান্ডের নির্দিষ্ট কিছু মডেল (যেমন: Fx-82MS, Fx-100MS, Fx-991ES Plus, Fx-991CW প্রভৃতি) এবং সাধারণ ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারবে। প্রোগ্রামেবল কোনো ক্যালকুলেটর পাওয়া গেলে তা তাৎক্ষণিক বাজেয়াপ্ত করা হবে। ৪০০ নম্বরের এই পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি ও গণিতে ১০০ এবং বিজ্ঞান ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ে ৫০ নম্বর করে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পরীক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় বরাদ্দ রেখেছে এনসিটিবি। এর আগে ২০০৯ সালের পর জেএসসি-জেডিসিপ্রথা চালু হওয়ায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল এই বিশেষ বৃত্তি পরীক্ষা। বৈষম্যবিরোঘী ছাত্র অভ্যুত্থানপরবর্তী সময়ে আবারও এই ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এবারের নীতিমালায় ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ—এই দুই ক্যাটাগরিতে বৃত্তি দেওয়া হবে, যার ৫০ শতাংশ ছাত্র এবং ৫০ শতাংশ ছাত্রীর জন্য সংরক্ষিত।

দেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে বঙ্গভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাকে শপথবাক্য পাঠ করান। শপথ অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস উপস্থিত ছিলেন। গত ২৩ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে আইন মন্ত্রণালয়। সংবিধানের ৯৫ (১) অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি তাকে এ নিয়োগ দেন। আজ শপথ গ্রহণের দিন থেকেই তার এ নিয়োগ কার্যকর হবে। বিদায়ী প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ গতকাল শনিবার অবসরে যান। এদিন তার চাকরির মেয়াদ ৬৭ বছর পূর্ণ হয়। নতুন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী আইন পেশায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন। তিনি ১৯৮৫ সালে জেলা জজ আদালতে এবং ১৯৮৭ সালে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। ২০০৩ সালের ২৭ আগস্ট তিনি হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারপতি হন এবং দুই বছর পর স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। ২০২৪ সালের ১২ আগস্ট তাকে আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয়। শিক্ষাজীবনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি (সম্মান) ও এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে যুক্তরাজ্য থেকে আন্তর্জাতিক আইন বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।

তাবলিগ জামাতের পুরোনো সাথীদের নিয়ে ৩ দিনব্যাপী খুরুজের জোড় শুরু হবে আগামী ২ জানুয়ারি। টঙ্গীতে অবস্থিত বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে এ খুরুজের জোড় অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষে প্রয়োজনীয় মাঠ প্রস্তুতির কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) কালবেলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন তাবলিগ জামাত বাংলাদেশ শুরায়ি নেজামের মিডিয়া সমন্বয়ক হাবিবুল্লাহ রায়হান। তিনি বলেন, আগামী ২, ৩ ও ৪ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে তাবলিগ জামাত বাংলাদেশের (শুরায়ী নেজাম) অধীনে খুরুজের জোড় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এতে অংশগ্রহণ করবেন যারা মহান আল্লাহর রাস্তায় এক চিল্লা, তিন চিল্লা ও বিদেশ সফরের উদ্দেশ্যে বের হবেন এবং যারা মেহনতের মাধ্যমে সাথীদের এ কাজে উদ্বুদ্ধ করে নিয়ে আসবেন শুধু তারাই। হাবিবুল্লাহ রায়হান বলেন, এ সময় টঙ্গীতে ৫৯তম বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের পর তা আয়োজন করা হবে। সরকারের এ সিদ্ধান্তের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে তাবলিগ জামাত বাংলাদেশ (শুরায়ী নেজাম) গত ৩ নভেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি দেশবাসীকে অবহিত করেছে। তিনি আরও বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য, ‘সাদপন্থি’ নামে পরিচিত একটি মহল এই খুরুজের জোড়কে ইজতেমা আখ্যা দিয়ে বিভিন্ন স্থানে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। এমনকি তারা নিজেরাও একই স্থানে ইজতেমা আয়োজনের দাবি জানাচ্ছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। হাবিবুল্লাহ বলেন, অতীতে তারা দুইবার প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত অমান্য করে সহিংসতার আশ্রয় নিয়েছে। ২০১৮ সালের ১ ডিসেম্বর তারা ইজতেমা মাঠ প্রস্তুতির কাজে নিয়োজিত তাবলিগের সাথীদের ওপর হামলা চালায়, যেখানে প্রায় ৫ হাজার সাথী আহত হন। দ্বিতীয়বার, ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে তারা পুনরায় বর্বর হামলা চালায়, এতে চারজন সাথী শহীদ হন এবং শতাধিক সাথী আহত হন। এই ন্যাক্কারজনক কর্মকাণ্ডের ফলে তারা নীতিগত ও নৈতিকভাবে ইজতেমা মাঠে কোনো প্রকার জোড় বা ইজতেমা আয়োজনের অধিকার হারিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, এ প্রেক্ষাপটে, ৫৮তম বিশ্ব ইজতেমার পূর্বে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়-- সাদপন্থিরা ১৪-১৬ ফেব্রুয়ারি ইজতেমা করতে পারবে, তবে পরবর্তী বছরগুলোতে তারা টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানে কোনো ধরনের ইজতেমা বা তাবলিগী কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না। নির্ধারিত শর্ত পূরণের সাপেক্ষেই তারা উক্ত সময়ের ইজতেমা সম্পন্ন করে, যা পুরো দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছে। সবশেষ তিনি বলেন, পরবর্তীতে তারা এ শর্ত মেনেই চলতি বছরে তাদের কার্যক্রম বিভাগীয় পর্যায়ে সম্পন্ন করেছেন। অথচ হঠাৎ করেই আবার তারা ইজতেমা মাঠকে কেন্দ্র করে ষড়যন্ত্রমূলক তৎপরতায় লিপ্ত হয়েছে, যা শান্তিপূর্ণ ধর্মীয় পরিবেশ ও জাতীয় স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি।

জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর অভিবাসন নীতি কঠোর করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর ফলে অবৈধ অভিবাসীরা যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন। তবে শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, অন্য অনেক দেশও নানা কারণে ভারতীয় নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে দেয়। গত পাঁচ বছরের পরিসংখ্যান দেখায়, শীর্ষে রয়েছে সৌদি আরব। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সৌদি আরব থেকে সবচেয়ে বেশি ভারতীয় নাগরিককে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বিতাড়নের মূল কারণ সাধারণত অবৈধ সীমান্ত অতিক্রম নয়; বরং ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়া, শ্রম আইন ভঙ্গ, বৈধ ওয়ার্ক পারমিট ছাড়া কাজ, নিয়োগদাতার কাছ থেকে পালিয়ে যাওয়া বা দেওয়ানি-ফৌজদারি মামলায় জড়িয়ে পড়া। রিয়াদের ভারতীয় মিশনের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরব থেকে বিতাড়নের সংখ্যা ছিল—২০২১ সালে ৮ হাজার ৮৮৭, ২০২২ সালে ১০ হাজার ২৭৭, ২০২৩ সালে ১১ হাজার ৪৮৬, ২০২৪ সালে ৯ হাজার ২০৬ ও ২০২৫ সালে এখন পর্যন্ত ৭ হাজার ১৯ জন। এর তুলনায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতীয়দের বিতাড়নের সংখ্যা অনেক কম। ওয়াশিংটন ডিসি থেকে ২০২১ সালে ৮০৫ জন, ২০২২ সালে ৮৬২, ২০২৩ সালে ৬১৭, ২০২৪ সালে ১ হাজার ৩৬৮ ও ২০২৫ সালে ৩ হাজার ৪১৪ জন। অন্য শহর যেমন সানফ্রানসিসকো, নিউইয়র্ক, আটলান্টা, হিউস্টন ও শিকাগোতে সংখ্যা সাধারণত দুই অঙ্ক বা কম। উল্লেখযোগ্যভাবে, অন্যান্য দেশ থেকেও ভারতীয়দের ফেরত পাঠানো হয়েছে। মিয়ানমার থেকে ১ হাজার ৫৯১, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ১ হাজার ৪৬৯, মালয়েশিয়া থেকে ১ হাজার ৪৮৫, বাহরাইন থেকে ৭৬৪, থাইল্যান্ড থেকে ৪৮১ ও কম্বোডিয়া থেকে ৩০৫ জনকে ফেরত পাঠানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিদেশে থাকা ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। ভারতীয় মিশনগুলো সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রেখে উদ্ধার ও প্রত্যাবাসনের কাজ করছে। তথ্যসূত্র : এনডিটিভি

এনসিপি থেকে পদত্যাগ করেছেন তাসনিম জারা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা। একইসঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তিনি (তাসনিম জারা) পদত্যাগ করেছেন। তাসনিম জারা নিজেও ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে বিষয়টি জানিয়েছেন। এর আগে, এদিন সন্ধ্যায় ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে তাসনিম জারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়ার ঘোষণা দেন। পোস্টে তাসনিম জারা লেখেন, ‘প্রিয় খিলগাঁও, সবুজবাগ ও মুগদাবাসী, আমি আপনাদের ঘরের মেয়ে। খিলগাঁওয়েই আমার জন্ম ও বেড়ে ওঠা। আমার স্বপ্ন ছিল একটি রাজনৈতিক দলের প্ল্যাটফর্ম থেকে সংসদে গিয়ে আমার এলাকার মানুষের ও দেশের সেবা করা। তবে বাস্তবিক প্রেক্ষাপটের কারণে আমি কোনো নির্দিষ্ট দল বা জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি আপনাদের এবং দেশের মানুষকে ওয়াদা করেছিলাম যে আপনাদের জন্য ও নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ার জন্য আমি লড়ব। পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, আমি আমার সেই ওয়াদা রক্ষা করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তাই এই নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে ঢাকা-৯ থেকে অংশগ্রহণ করব। একটা দলের প্রার্থী হলে সেই দলের স্থানীয় অফিস থাকে, সুসংগঠিত কর্মী বাহিনী থাকে। সরকার ও প্রশাসনের সাথে নিরাপত্তা বা অন্যান্য বিষয়ে আপত্তি ও শঙ্কা নিয়ে কথা বলার সুযোগ থাকে। তবে আমি যেহেতু কোনো দলের সাথে থাকছি না, তাই আমার সে সব কিছুই থাকবে না। আমার একমাত্র ভরসা আপনারা। আপনাদের মেয়ে হিসেবে আমার সততা, নিষ্ঠা, এবং নতুন রাজনীতি করার অদম্য ইচ্ছাশক্তির প্রেক্ষিতে আপনারা যদি স্নেহ ও সমর্থন দেন, তবেই আমি আপনাদের সেবা করার সুযোগ পাব। দুইটি বিশেষ বিষয়: এক. নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাঁড়াতে আইনি বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী আমাদের ঢাকা-৯ আসনের ৪৬৯৩ জন ভোটারের সমর্থনযুক্ত স্বাক্ষর একটি নির্দিষ্ট ফর্মে প্রয়োজন। আগামীকাল এই স্বাক্ষর সংগ্রহের কাজ শুরু করব। মাত্র এক দিনে এত মানুষের স্বাক্ষর গোছানো প্রায় অসম্ভব একটি কাজ। আপনাদের স্বতঃস্ফূর্ত সাহায্য ছাড়া এটা করতে পারব না। এই কাজে যারা আগামীকাল বসার জায়গা দিয়ে বা স্বেচ্ছাসেবক হিসাবে সাহায্য করতে চান, তারা অনুগ্রহ করে এই গ্রুপে যুক্ত হন। আপনাদেরকে নির্দিষ্ট স্থান ও লোকেশন জানিয়ে দেওয়া হবে: https://www.facebook.com/share/g/1DCkLvMvRX/ দুই. কিছুদিন আগে নির্বাচনী ফান্ডরেইজিংয়ের সময় আপনারা অনেকে ডোনেট করেছেন। আমার এই পরিবর্তিত সিদ্ধান্তের কারণে (স্বতন্ত্র হিসেবে লড়াই করা) যারা ডোনেট করা অর্থ ফেরত পেতে চান, তাদের প্রতি আমার শ্রদ্ধা। যারা বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠিয়েছেন তারা অর্থ ফেরত পেতে নিচে দেওয়া এই ফর্মটি পূরণ করুন: https://forms.gle/NKTkkNVZvUvyrsGYA আপনাদের ট্রানজেকশন আইডি ও ডিটেইলস ভেরিফাই করার পরে অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। আর যারা ব্যাংকের মাধ্যমে পাঠিয়েছিলেন, তাদেরকে শীঘ্রই জানাব কী প্রক্রিয়ায় আপনাদের অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। আপনাদেরই মেয়ে, তাসনিম জারা

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে ম্যাচ শুরুর ঠিক আগে অসুস্থ হয়ে পড়েন ঢাকা ক্যাপিটালসের সহকারী কোচ মাহবুব আলী। মিনিট বিশেক পর খেলা শুরুর প্রস্তুতিতে দুই দলের ক্রিকেটার ও কোচিং স্টাফ যখন মাঠে ওয়ার্ম আপে ব্যস্ত, তখনই হঠাৎ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। ঘটনার পরপরই মাঠে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়। দলীয় স্টাফরা দ্রুত তাকে ঘিরে ধরেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে সিপিআর দেওয়া হয়। পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে মাহবুব আলীকে সিলেটের আল হারামাইন হাসপাতালে নেওয়া হয়। ঢাকা ক্যাপিটালস এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, অনুশীলনের সময় অসুস্থ বোধ করার পর তিনি মাঠেই পড়ে যান। বর্তমানে তিনি চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী আপডেট জানানো হবে। ঢাকা দলের টিম ম্যানেজমেন্টের সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের বরাত দিয়ে দেশের একটি গণমাধ্যম জানিয়েছে, মাহবুব আলীর শারীরিক অবস্থা গুরুতর। তবে তার চিকিৎসা শুরু হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার ধাক্কা সামলেও নির্ধারিত সময়েই ম্যাচ শুরু হয়। টস জিতে রাজশাহীর বিপক্ষে ফিল্ডিংয়ে নামে ঢাকা ক্যাপিটালস।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ফিঙ্গারপ্রিন্ট দেওয়ার পর ৭ থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এনআইডি পাবেন বলে জানিয়েছেন জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক এস এম হুমায়ুন কবীর। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নির্বাচন কমিশনে সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে জানান তিনি। হুমায়ুন কবীর বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ফিঙ্গারপ্রিন্ট দেওয়ার পর সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টা এবং সর্বনিম্ন ৭-৮ ঘণ্টার মধ্যে এনআইডি পাবেন। তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন তাদের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। যে রুমে বসে তারেক রহমান বায়োমেট্রিক দেবেন সেটাও প্রস্তুত করেছে ইসি। এদিকে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পাশাপাশি জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করবেন আজ। তারেক রহমানের সঙ্গে মেয়ে জাইমা রহমানও এনআইডির জন্য আবেদন করবেন। এর আগে, এদিন বেলা সাড়ে ১১টায় তারেক রহমান ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদির কবর জিয়ারত করেন।

শহীদ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করতে তার সমাধিস্থলে পৌঁছেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ উপলক্ষ্যে শাহবাগে অবস্থান নিয়েছেন ছাত্র দলের বিভিন্ন শাখার নেতৃবৃন্দ। স্লোগানে স্লোগানে উজ্জীবিত নেতাকমীরা। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) বেলা ১১টায় শাহবাগে এমন চিত্র দেখা যায়। জানা গেছে, এসময় শহীদ ওসমান হাদির কবর জিয়ারতের পাশাপাশি তারেক রহমান জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরও জিয়ারত করবেন। তারেক রহমানের সঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসসহ শীর্ষ নেতারা উপস্থিত রয়েছেন । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রদল নেতা সোহেল রহমান বলেন, আমাদের নেতা আজকে শহীদ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করতে আসছেন। আমাদের ক্যাম্পাসে নেতা আসছেন। আমরা নেতাকে স্বাগত জানাবো। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগ নেতা ইসরাফিল ইসলাম বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শহীদ ওসমান হাদীর কবর জিয়ারতে আসছেন, এটি আমাদের জন্য গভীর আবেগ ও গর্বের বিষয়। শহীদ হাদী শুধু একটি নাম নয়, তিনি গণতন্ত্র ও ছাত্ররাজনীতির আত্মত্যাগের প্রতীক। তারেক রহমানের এই কবর জিয়ারত শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ধারাবাহিকতারই প্রকাশ। এদিকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শহীদ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত উপলক্ষ্যে শাহবাগ মোড় ছেড়ে দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) ইনকিলাব মঞ্চের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বার্তায় বলা হয়, ‘আজ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের শহীদ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত উপলক্ষ্যে ইনকিলাব মঞ্চ শাহবাগ মোড় থেকে ডানদিকে আজিজ সুপারমার্কেটের সামনে অবস্থান নিয়েছে। ঠিক দুপুর ১২টায় পুনরায় শাহবাগ মোড়ে শহীদ হাদি চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে। বিচার আদায়ের দাবিতে সারা দেশের জনতাকে শহীদ হাদি চত্বরে উপস্থিত হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।’

বিপিএলে নোয়াখালী এক্সপ্রেসকে সমর্থন দিতে সিলেটে ছুটছেন ভক্তরা বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) দ্বাদশ আসরে প্রথমবারের মতো অংশগ্রহণ করছে নোয়াখালীর কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি। নোয়াখালী এক্সপ্রেসকে সরাসরি মাঠে সমর্থন দিতে সিলেটে জড়ো হয়েছেন ওই জেলার ক্রিকেটভক্তরা। ক্রিকেটারদের প্রেরণা যোগানো এবং দলের সঙ্গী হয়ে স্টেডিয়াম কাঁপাতে প্রস্তুত তারা। আজ (শুক্রবার) সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে বিপিএলের উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে স্বাগতিক সিলেট টাইটান্স এবং রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে চট্টগ্রাম রয়্যালসের বিপক্ষে লড়াইয়ে নামবে নোয়াখালী এক্সপ্রেস। নিজেদের প্রথম ম্যাচ থেকে সমর্থন দিতে এদিন সকাল ৯টায় সিলেটের হুমায়ুন রশিদ চত্বরে পৌঁছায় নোয়াখালী সমর্থকবাহী অর্ধশতাধিক বাস। এর আগে বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) রাত ৯টার দিকে নোয়াখালীর বিভিন্ন এলাকা থেকে একাধিক বাস সিলেটের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। বাসগুলোয় নোয়াখালী এক্সপ্রেসের পতাকা, ব্যানার ও ফেস্টুনে সাজানো সমর্থকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। সমর্থকদের স্লোগান, ঢোল-বাদ্য আর দলীয় রঙে রাঙানো পরিবেশে পুরো যাত্রা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। অনেকেই পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের সঙ্গে দল বেঁধে সিলেটে পা রাখেন। নোয়াখালীর ক্রিকেটভক্ত তারপিনা শাহনাজ রজব বলেন, বিপিএলের ইতিহাসে প্রথমবার নোয়াখালীর দল অংশ নিচ্ছে, এটা আমাদের জন্য অনেক গর্বের বিষয়। তাই কষ্ট হলেও মাঠে গিয়ে প্রিয় দল নোয়াখালী এক্সপ্রেসকে সমর্থন জানাতে এসেছি। এখানে আমরা নোয়াখালী বিভাগ আন্দোলনের দাবি তুলব, মিছিল করব। আশা করছি দল ভালো খেলবে এবং জেলার মুখ উজ্জ্বল করবে। আরেক সমর্থক মো. ওয়াসিম বলেন, নোয়াখালী এক্সপ্রেস আমাদের গর্ব। তারা প্রথমবার বিপিএলে খেলছে, এই ইতিহাসের সাক্ষী হতে আমরা ৬টা বাস নিয়ে ‘ট্রাভেল গ্রুপ অব নোয়াখালী’র প্রায় ৩০০ মানুষ সিলেটে এসেছি। দূরত্ব কোনো বাধা নয়। মাঠে গিয়ে খেলোয়াড়দের উৎসাহ দিলে জয়ের শক্তি বাড়ে, এই বিশ্বাস থেকেই আসা। আমরা দেশ ট্রাভেলসকে ধন্যবাদ এবং অশেষ কৃতজ্ঞতা। নোয়াখালী জেলা ক্রীড়া সংস্থার আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. আরিফুর রহমান , নোয়াখালী এক্সপ্রেস বিপিএলে অংশ নেওয়ায় জেলার ক্রীড়াঙ্গনে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। সমর্থকদের এই ঢল খেলোয়াড়দের মনোবল বাড়াবে। নোয়াখালী এক্সপ্রেসকে ঘিরে যে উন্মাদনা তৈরি হয়েছে, তা বিপিএলে নতুন মাত্রা যোগ করবে। এ ছাড়া তরুণদের মধ্যে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ আরও বাড়বে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

বৈভব সূর্যবংশী এবং রেকর্ড, এ যেন মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। ১৪ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার মাঠে নামলেই তার ব্যাটে কোনো না কোনো রেকর্ড হবেই। বিজয় হাজারে ট্রফির প্রথম দিনেই ঝড় উঠল বৈভব সূর্যবংশীর ব্যাটে। মাত্র ৮৪ বলে ১৯০ রান করলেন তরুণ এই ব্যাটার। গড়লেন বিশ্বরেকর্ডও। বিরাট কোহলি এবং রোহিত শর্মা দু’জনেই এবারের বিজয় হাজারে ট্রফি খেলছেন। ভারতের দুই সিনিয়র ব্যাটার দীর্ঘদিন পর ঘরোয়া এই প্রতিযোগিতায় ফেরায় উচ্ছ্বাস রয়েছে সমর্থকদেরও। তবে প্রথম দিনে সব আলো কেড়ে নিলেন ১৪ বছর বয়সী বৈভব। বিজয় হাজারে ট্রফিতে বিহারের অভিযান শুরু হয়েছে অরুণাচল প্রদেশের বিরুদ্ধে। রাঁচিতে আয়োজিত ম্যাচে টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় বিহার। আর শুরুতেই বৈভব-ঝড়। মাত্র ৩৬ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন বৈভব। যার মধ্যে আছে ১০টি চার ও ৮টি ছক্কার মার। অর্থাৎ শুধু বাউন্ডারি থেকেই এসেছে ৮৮ রান। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ভারতীয়দের মধ্যে এটা দ্বিতীয় দ্রুততম সেঞ্চুরি। এর আগে আছে অনমোলপ্রীত সিং। পাঞ্জাবের এই ক্রিকেটার গত বছর ৩৫ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন। অন্যদিকে বিশ্বের কনিষ্ঠতম হিসেবে সেঞ্চুরির নজির গড়লেন বৈভব। তবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দ্রুততম সেঞ্চুরির নজির রয়েছে জেক ফ্রেজার ম্যাকগার্কের। ২০২৩ সালে তিনি তাসমানিয়ার বিরুদ্ধে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ২৯ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন। দ্রুততম সেঞ্চুরির তালিকায় সূর্যবংশী চতুর্থ হলেও এই সংস্করণে দ্রুততম দেড় শ রানের ইনিংস খেলার রেকর্ড গড়েছেন বাঁহাতি ওপেনার। মাত্র ৫৯ বলে আজ ১৫০ রান করেন সূর্যবংশী, ভেঙেছেন ২০১৫ সালে এবি ডি ভিলিয়ার্সের ৬৪ বলে ১৫০ করার রেকর্ড। যদিও অল্পের জন্য ডাবল সেঞ্চুরি হাতছাড়া হয়েছে বৈভবের। শেষ পর্যন্ত সে আউট হয় ১৯০ রানে। ৮৪ বলের ইনিংস সাজানো ছিল ১৬টি চার ও ১৫টি ছক্কা দিয়ে। অর্থাৎ শেষ পর্যন্ত শুধু বাউন্ডারি থেকেই তার রান ওঠে ১৫৪।

জুলাই অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার আন্দোলন ঘিরে রাজধানীর রামপুরায় ২৮ জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিজিবি কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলামসহ চারজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুর সোয়া ১২টায় ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। অন্য দুই সদস্য হলেন- বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। এদিন শুরুতেই আসামিদের অব্যাহতির জন্য আইনজীবীদের আবেদন খারিজ করে দেন ট্রাইব্যুনাল। প্রসিকিউশনের পক্ষে রয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর আবদুল্লাহ আল নোমান, সহিদুল ইসলামসহ অন্যরা। রেদোয়ানসহ গ্রেপ্তার দুজনের পক্ষে আইনজীবী হামিদুল মিসবাহ ও স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী মো. আমির হোসেনও উপস্থিত আছেন। ২১ ডিসেম্বর পলাতক দুই আসামির পক্ষে শুনানি করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন। উপস্থিত দুই আসামির হয়ে লড়েন আইনজীবী হামিদুল মিসবাহ। শুনানিতে প্রত্যেকেই ডিসচার্জের আবেদন করেন। রেদোয়ানুল ছাড়া গ্রেপ্তার অপরজন হলেন- বিজিবির সাবেক কর্মকর্তা মেজর মো. রাফাত বিন আলম। এদিন সকালে ঢাকার সেনানিবাসের সাব-জেল থেকে প্রিজনভ্যানে করে তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। এ মামলায় পলাতক রয়েছেন ডিএমপির খিলগাঁও অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম ও রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মশিউর রহমান। এর আগে, ১৪ ডিসেম্বর এ বিষয়ে শুনানির কথা ছিল। কিন্তু বিশেষ কারণে হয়নি। ৬ ডিসেম্বর ফরমাল চার্জের ওপর শুনানি শেষ করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। ২২ অক্টোবর সেনা হেফাজতে থাকা রেদোয়ান ও রাফাতকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। শুনানি শেষে তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠান ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে পলাতকদের হাজিরে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় দেশজুড়ে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চলেছে। এর মধ্যে রামপুরায় নিহত হয়েছেন ২৮ জন। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। রামপুরায় বিজিবি কর্মকর্তা রেদোয়ানুলকে আন্দোলনকারীদের সরাসরি গুলি ছুড়তে দেখা যায়। এছাড়া অন্যরাও নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এ হত্যাযজ্ঞে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী ট্রাইবুনালে চারজনের বিরুদ্ধে আলাদা ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন।

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই যোদ্ধা শহীদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পুঙ্খানুপুঙ্খ ও বিস্তারিত তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে ভারত। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) বার্তাসংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, গতকাল (মঙ্গলবার) বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহকে তলব করে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ সময় তাকে শহীদ হাদি হত্যার তদন্তের আহ্বান জানান। বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে পিটিআই জানিয়েছে, হাদিকে হত্যার সঙ্গে ভারতের সংশ্লিষ্টতা আছে এমন অভিযোগ ওঠায় বাংলাদেশকে এ ব্যাপারে বিস্তারিত তদন্ত করতে আহ্বান জানিয়েছে নয়াদিল্লি। দুর্বৃত্তের গুলিতে হাদি আহত হওয়ার পর ভারতের দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছিল। তার মৃত্যুর পর বাংলাদেশে ভারতবিরোধী মনোভাব দেখা যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেছে পিটিআই। এদিকে মঙ্গলবার ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে তলব করে ঢাকা। ভারতীয় দূতকে তলব করে পররাষ্ট্রসচিব নয়াদিল্লি ও শিলিগুড়িতে বাংলাদেশের কূটনৈতিক স্থাপনায় হামলা এবং ভাঙচুরের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে দেশটিতে থাকা বাংলাদেশের কূটনীতিকদের নিরাপত্তা বিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছে। এরআগে ১৪ ডিসেম্বর প্রণয় ভার্মাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়েছিল। সেদিন ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অব্যাহত উসকানিমূলক বক্তব্যে সরকারের উদ্বেগের কথা জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলাকারীদের ভারতে পালিয়ে যাওয়া প্রতিরোধে দেশটির সহযোগিতা কামনা করা হয়। অন্যদিকে গত ১৭ ডিসেম্বর নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পালটা তলব করা হয়। আবারও সপ্তাহ না যেতেই বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে গতকাল আবারও পালটা তলব করেছে ভারত।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের দল মুসলিম লীগ-এনের এক নেতা ভারতকে হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যদি ভারত বাংলাদেশে খারাপ কোনো অভিপ্রায়ে নজর দেয় (হামলা করে) তাহলে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ও মিসাইল এর জবাব দেবে। কামরান সাঈদ উসমানী নামে এ নেতা বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সামরিক জোট গঠনের আহ্বানও জায়েছেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে। কামরান সাঈদ উসমানী এক ভিডিওতে বলেছেন, “যদি ভারত বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে হামলা করে। যদি কেউ খারাপ অভিপ্রায়ে বাংলাদেশের দিকে চোখ দেওয়ার সাহস দেখায়, মনে রাখুন, পাকিস্তানের জনগণ, পাকিস্তানের সেনাবাহিনী আর আমাদের মিসাইল কিন্তু দূরে নয়।” উসমানী বলেন, বাংলাদেশে যদি ভারত ‘অখণ্ড ভারত’ চিন্তাভাবনা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে তাহলে পাকিস্তান এটি সহ্য করবে না। তিনি দাবি করেন, পাকিস্তান এর আগেও ভারতকে কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলেছে, যদি প্রয়োজন হয় তাহলে আবারও এমনটি করবে। তিনি বলেন, সীমান্তে বিএসএফ বাংলাদেশকে বিরক্ত করছে এবং বাংলাদেশকে হিন্দু রাষ্ট্র বানানোর চেষ্টা করছে। বাংলাদেশে আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে ভারত টার্গেট কিলিং শুরু করেছে তিনি প্রস্তাব দিয়ে বলেন, “আমাদের প্রস্তাব হলো বাংলাদেশের পাকিস্তানের সঙ্গে সামরিক জোট গঠন করা উচিত। বাংলাদেশে পাকিস্তানের আর পাকিস্তানে বাংলাদেশের ঘাঁটি স্থাপন করা উচিত।” বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সামরিক জোট হলে এই অঞ্চলের আঞ্চলিক শক্তির গতিপথ ব্যাপকভাবে উল্টে যাবে।

নোয়াখালী থেকে ঢাকায় যাবেন বিএনপির লক্ষাধিক নেতাকর্মী দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছরের নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে আগামী ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার এই ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে নোয়াখালী জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। ইতোমধ্যে নোয়াখালী থেকে প্রায় ৩০০টি বাস ও ২০০টি মাইক্রোবাসে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ঢাকায় নেওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) দুপুরে ঢাকা পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন নোয়াখালী জেলা বিএনপির দপ্তরের দায়িত্বে থাকা অ্যাডভোকেট রবিউল হাসান পলাশ। জানা গেছে, আগামী ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে জেলার শীর্ষস্থানীয় নেতারা কয়েক দিন ধরে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন। নোয়াখালীর ছয়টি সংসদীয় আসনের জন্য ৫০টি করে বাস বরাদ্দ দিয়ে মোট ৩০০টি বাস প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ ছাড়া ট্রেনে এবং ব্যক্তিগতভাবেও নেতাকর্মীরা ঢাকায় যাবেন বলে জানা গেছে। পাশাপাশি নেতাকর্মীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতে আলাদা আলাদা সমন্বয় টিম গঠন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বানও জানানো হয়েছে। নোয়াখালী জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আজগর উদ্দিন দুখু বলেন, তারেক রহমান শুধু একজন নেতা নন, তিনি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রতীক। তার আগমন উপলক্ষে নোয়াখালীর নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। আমরা শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে ঢাকায় যাব। জেলা বিএনপির দপ্তরের দায়িত্বে থাকা অ্যাডভোকেট রবিউল হাসান পলাশ বলেন, তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে নোয়াখালী জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা গত কয়েক দিন ধরে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন। জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের জন্য আলাদাভাবে পরিবহন ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিটি আসন থেকে ৫০টি করে বাস বরাদ্দ দিয়ে মোট ৩০০টি বাস প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বেগমগঞ্জ পৌরসভা বিএনপির সভাপতি তুহিন বলেন, তারেক রহমানের দেশে ফেরা দেশের রাজনীতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। আমাদের নেতা বরকত উল্যাহ বুলুর নেতৃত্বে বেগমগঞ্জ উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপির পক্ষ থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ২৪ ডিসেম্বর ঢাকায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন। নোয়াখালী জেলা বিএনপির সদস্য সচিব হারুনুর রশিদ আজাদ বলেন, এটি শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, এটি গণতন্ত্রকামী মানুষের আবেগের বহিঃপ্রকাশ। নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা, যাতায়াত ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছি। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী সবকিছু সম্পন্ন করা হচ্ছে। নোয়াখালী জেলা বিএনপি ঐক্যবদ্ধভাবে এই কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। ৪ (সদর-সুবর্ণচর) আসনের ধানের শীষের প্রার্থী মো. শাহজাহান ঢাকা পোস্টকে বলেন, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা হবে। নোয়াখালীর মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই কর্মসূচিতে অংশ নেবে। দলীয়ভাবে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তবে অনেকেই আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতির অপেক্ষা না করে ইতোমধ্যে নিজ উদ্যোগে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। মানুষের অন্তর থেকে ভালোবাসা ও আবেগের জায়গা থেকে হাজার হাজার মানুষ প্রিয় নেতা, গণতন্ত্রের পথিকৃৎ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সন্তান তারেক রহমানকে একনজর দেখতে এবং তার বক্তব্য শোনার জন্য সমবেত হতে শুরু করেছেন। তিনি আরও বলেন, দেখা যাচ্ছে দলীয় প্রস্তুতির চেয়েও সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত প্রস্তুতি অনেক বেশি। কোনো নেতার প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে এমন স্বতঃস্ফূর্ত প্রস্তুতি বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে একটি স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে বলেই আমি মনে করি। ঢাকায় অবস্থানরত নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা তো থাকবেনই, পাশাপাশি নোয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ ঢাকায় যোগ দেবেন। সব মিলিয়ে রাজধানীতে মানুষের ঢল নামবে। এ সময় একটি বিষয় বিশেষভাবে ভাবনার এত মানুষের আগমনে খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের চাহিদা বাড়বে। আমরা আশা করি, খাবার ও অন্যান্য পণ্যের ব্যবসার সঙ্গে জড়িতরা বিষয়টি বিবেচনায় রেখে দাম সহনীয় রাখবেন

নিরাপত্তাজনিত কারণে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বুধবার সন্ধ্যা থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত নির্ধারিত যাত্রী ছাড়া কেউ ঢুকতে পারবেন না। মঙ্গলবার বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালকের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীসেবা, নিরাপত্তা এবং অপারেশনাল শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সকল যাত্রীসাধারণের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, বিশেষ অপারেশনাল ও নিরাপত্তাজনিত কারণে ২৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টা থেকে ২৫ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বিমানবন্দর এলাকায় নির্ধারিত যাত্রী ব্যতিত সকল সহযাত্রী/ ভিজিটর প্রবেশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে। বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রেক্ষিতে যাত্রীসাধারণ ও সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।

নির্বাচনী ব্যয় মেটাতে ভোটারদের কাছে অর্থ সহায়তা চাওয়ার মাত্র সাত ঘণ্টার মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা ১২ লাখ টাকার বেশি অনুদান পেয়েছেন। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) ভোরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে তিনি এই তথ্য জানান। ডা. তাসনিম জারা লিখেছেন, এতটা অভূতপূর্বভাবে আপনারা পাশে দাঁড়াবেন, তা সত্যিই আমাদের কল্পনার বাইরে ছিল। আপনাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। তিনি জানান, আমাদের মোট লক্ষ্যমাত্রা ৪৬ লাখ ৯৩ হাজার ৫৮০ টাকা। আর ৩৪ লাখ টাকা সংগ্রহ সম্পন্ন হলেই আমরা ফান্ডরেইজিং বন্ধ করে দেব। তিনি আরও বলেন, আমরা অবগত আছি যে, রাত ২টার পর থেকে নির্ধারিত লিমিট অতিক্রম করার কারণে বিকাশে আর টাকা পাঠানো যাচ্ছে না। আপাতত ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ডোনেশন গ্রহণ করা যাচ্ছে। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) রাতে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসন থেকে লড়তে নির্বাচনী ব্যয় মেটাতে ভোটার-সমর্থক, শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে আর্থিক সহায়তা চেয়ে ফেসবুকে একটি ভিডিও বার্তা শেয়ার করেন ডা. তাসনিম জারা।

মদিনার পবিত্র মসজিদে নববীর মুয়াজ্জিন শেখ ফয়সাল নোমান ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। সৌদি আরবের দুই পবিত্র মসজিদভিত্তিক ওয়েবসাইট ‘ইনসাইড দ্য হারামাইন’ সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে জানিয়েছে, মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) ফজরের পর মসজিদে নববীতে তার জানাজা আদায় করা হয়। এরপর তাকে মদিনার ঐতিহাসিক জান্নাতুল বাকি কবরস্থানে দাফন করা হয় বলে জানা গেছে। শেখ ফয়সাল নোমান দীর্ঘদিন ধরে মসজিদে নববীর মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তার সুমধুর আজান ও ধর্মীয় নিষ্ঠা বিশ্বের লাখো মুসলমানের হৃদয়ে গভীর প্রভাব ফেলে। শেখ ফয়সাল নোমানের মৃত্যুতে মুসলিম উম্মাহ এক নিবেদিতপ্রাণ খাদেমকে হারাল। ইনসাইড দ্য হারামাইন জানিয়েছে, শেখ ফয়সাল নোমান ১৪২২ হিজরিতে (২০০১) মসজিদে নববীর মুয়াজ্জিন নিযুক্ত হন। তিনি বংশ পরম্পরায় মসজিদে নববীতে আজান দেওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেছিলেন। তার দাদা মসজিদে নববীর মুয়াজ্জিন ছিলেন এবং তার বাবা ১৪ বছর বয়সে এই সম্মানিত পেশায় নিযুক্ত হন। শেখ ফয়সাল নোমান ১৪২২ থেকে ১৪৪৭ হিজরি পর্যন্ত ২৫ বছর ধরে মসজিদে নববীর মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

নোয়াখালীতে ধীরে ধীরে জেঁকে বসছে শীত। সেই সঙ্গে ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি)। শীতের আবহে ভিন্ন এক রূপে ধরা দিয়েছে সবুজে ঘেরা ১০১ একর বিস্তৃত এই ক্যাম্পাস। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরো এলাকা ঘন কুয়াশায় ঢাকা পড়ে। আগে শীত অনুভূত হলেও কুয়াশার তেমন দেখা না মিললেও গত কয়েকদিন ধরে ক্যাম্পাসজুড়ে তীব্র কুয়াশা পড়তে দেখা যাচ্ছে। এতে শীতের তীব্রতাও বেড়েছে। সবুজে ঘেরা নোবিপ্রবি ক্যাম্পাস গ্রামীণ আবহে নির্মিত হওয়ায় শীতের মৌসুমে এর সৌন্দর্য আরও অনন্য হয়ে ওঠে। নানান প্রজাতির ফুলের সৌরভে মুখরিত থাকে ক্যাম্পাস। সকালে ঘুরে দেখা যায়, কুয়াশার কারণে এক আবাসিক হল থেকে অন্য হল কিংবা একাডেমিক ভবন থেকে অন্য ভবন স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে না। কিছু দূর গেলে মানুষও চোখে পড়ে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস গেট, গোলচত্বর, প্যারিস রোড ও নীল দিঘির পাড়—সবকিছুই যেন প্রকৃতিপ্রেমীদের ডেকে নিচ্ছে শীতের সকালের রূপ-রস উপভোগে। কুয়াশায় মোড়া মৃদু আলো ক্যাম্পাসের প্রকৃতিকে করে তুলেছে আরও রহস্যময় ও মোহনীয়। গাছের পাতা ও ঘাসের ডগায় জমে আছে শিশির। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গাছের ফাঁক গলে সূর্যের কোমল কিরণ শিশির ভেজা ঘাসে এসে পড়ে। তখন ধীরে ধীরে কুয়াশা কেটে যায়। প্রাণভরে শ্বাস নেওয়া যায় খোলা বাতাসে। শীতের ছোঁয়ায় ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য যেন আরও বহুগুণে বেড়ে গেছে। গোলাপ, ডালিয়া, চন্দ্রমল্লিকা, কসমস, অ্যাস্টার, সিলভিয়া, জিনিয়া ও গাঁদাসহ নানা প্রজাতির ফুলে রঙিন হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। সকালে তীব্র কুয়াশার মধ্যে হাঁটতে বের হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্র বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী জান্নাতুল আরেফিন সাজিয়া বলেন , গত কয়েকদিন ধরে প্রচুর কুয়াশা পড়ছে। এই কুয়াশায় ক্যাম্পাসটা অতিরিক্ত সুন্দর লাগছে। ছোটবেলায় কুয়াশা উপভোগ করার সুযোগ পাইনি, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে সেটা উপভোগ করতে পারছি। তাই সকাল সকাল খালি পায়ে বের হয়েছি। স্মৃতিতে ১০১ একরের শীতের সকাল থেকে যাবে সব সময়। ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী হাসান শরীফ বলেন, নোবিপ্রবির ১০১ একর ক্যাম্পাস সৌন্দর্যের লীলাভূমি। সকালের কুয়াশা সেই সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। অনেকেই কুয়াশার সঙ্গে ছবি তুলতে আসে, আমিও ছবি তুলতে বের হয়েছি। নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন শাখার চালক মো. মিলন বলেন, ভোর থেকেই ঘন কুয়াশা পড়ে যায়। বিশেষ করে সকাল ৬টা থেকে ৮টা পর্যন্ত কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বেশি থাকে যে গাড়ির সামনের অংশ স্পষ্ট দেখা যায় না। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই আমাদের বাধ্য হয়ে হেডলাইট জ্বালিয়ে এবং খুব ধীরে গাড়ি চালাতে হচ্ছে। শীতও আগের তুলনায় বেশ অনুভূত হচ্ছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুয়াশা ধীরে ধীরে কেটে যায়। তখন আবার দিনের বেলায় কিছুটা গরম অনুভূত হয়। নোবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল বলেন, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘন কুয়াশা ছড়িয়ে দিয়েছে এক অপার্থিব মুগ্ধতা। মনে হয় যেন প্রকৃতি নিজ হাতে এঁকে দিয়েছে স্বর্গীয় সৌন্দর্যের ক্যানভাস। কুয়াশার আড়ালে এসে ভিড় করেছে শীতের পাখিরা, আর তাদের কলরবে প্রাণ ফিরে পেয়েছে নোবিপ্রবি ক্যাম্পাস। ১০১ একর বিস্তৃত এই ক্যাম্পাস এমনিতেই সৌন্দর্যের লীলাভূমি, আর সকালের কুয়াশায় সেই সৌন্দর্য হয়ে উঠেছে আরও মোহনীয়, আরও স্বপ্নীল। এদিকে নোয়াখালীতে দিন দিন তাপমাত্রা কমে শীতের প্রকোপ বাড়ছে। ঘন কুয়াশায় ঢেকে যাচ্ছে পথঘাট ও প্রকৃতি। গত এক সপ্তাহ ধরে জেলার তাপমাত্রা ১৫ থেকে ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে গরম কাপড় ও লেপ-তোষকের চাহিদা। মৌসুমের শুরুতেই মানুষ ভিড় করছেন গরম কাপড়ের দোকানগুলোতে এবং সাধ্যমতো শীতবস্ত্র সংগ্রহ করছেন। জানা গেছে, দিনের বেলায় তাপমাত্রা তুলনামূলক সহনীয় থাকলেও মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত ঠাণ্ডা বেশি অনুভূত হয়। এ সময় বিস্তীর্ণ এলাকা ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন থাকে। ফলে যাত্রী ও চালকদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হচ্ছে। অন্যদিকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। অন্যদিকে শীত ও কুয়াশার কারণে খেতমজুর ও দিনমজুরসহ খেটে খাওয়া মানুষগুলো পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। সময়মতো কাজে যেতে না পারায় তাদের আয়েও প্রভাব পড়ছে। শীতের কবলে পড়েছে নদ-নদী তীরবর্তী চর ও দ্বীপচরের হতদরিদ্র মানুষজন। সদর উপজেলার কৃষক রবিউল হোসেন বলেন, ভোরের দিকে কুয়াশার কারণে জমিতে যেতে অনেক সময় দেরি হয়ে যায়। চোখের সামনে কিছুই পরিষ্কার দেখা যায় না। তারপরও সংসার চালানোর তাগিদে মাঠে নামতে হচ্ছে। কুয়াশার মধ্যেই জমিতে গিয়ে ফসলের অবস্থা দেখছি, টুকটাক পরিষ্কার করছি। গতবার ফসল ভালো হয়নি, অনেক ক্ষতি হয়েছে। এবার যেন ভালো ফলন হয়—এই আশায় বেশি সময় দিচ্ছি। শীত আর কুয়াশা উপেক্ষা করেই কাজ করতে হচ্ছে। নোয়াখালী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে তাপমাত্রা ১৫ থেকে ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। তবে এটিকে এখনো পুরোপুরি শীত বলা যাবে না। জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে উত্তর দিক থেকে হিমেল বাতাস প্রবাহিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তখন তাপমাত্রা আরও কমে শীতের তীব্রতা বাড়তে পারে। নোয়াখালী সিভিল সার্জন ডা. মরিয়ম সিমি বলেন, শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালসহ বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। এ সময় তাদের উষ্ণ পোশাক পরানো, ঠাণ্ডা এড়িয়ে চলা এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। সর্দি, কাশি, জ্বর বা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি।

নোয়াখালী জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে নোয়াখালী জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী জেলার জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী জেলার পুলিশ সুপার টি, এম, মোশাররফ হোসেন অনুষ্ঠানে বক্তারা মহান বীর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে দেশ গঠনে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অসামান্য আত্মত্যাগ জাতি চিরদিন গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে বলে উল্লেখ করেন। পরিশেষে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে সম্মাননা স্মারক ও উপহার সামগ্রী প্রদান করা হয়।

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে ওষুধ কোম্পানির এক বিক্রয় কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার নোয়াখালী ইউনিয়নের পশ্চিম চরউরিয়া গ্রামের সোনাপুর টু চেয়ারম্যানঘাট সড়কের খলিল মিয়ার বাড়ির সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মো. মাইনউদ্দিন (৩৭) সুবর্ণচর উপজেলার পূর্বচরবাটা ইউনিয়নের ৭নম্বর ওয়ার্ডের চরমজিদ গ্রামের সাহাব উদ্দিনের ছেলে। তিনি জিসকা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড ওষুধ কোম্পানির আঞ্চলিক কর্মকর্তা ছিলেন।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে চরমজিদ গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে মোটরসাইকেলে করে বাবাসহ স্থানীয় জোবায়ের বাজার যান মাইনউদ্দিন। ওই বাজারে বাবাকে রেখে তিনি মোটরসাইকেলে করে কুমল্লিা কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। এ সময় সোনাপুর টু চেয়ারম্যানঘাট সড়কের খলিল মিয়ার বাড়ির সামনে পৌঁছলে সুবর্ণচরগামী একটি অটোরিকশার সাথে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মাইনউদ্দিন গুরুত্বর আহত হন। তাৎক্ষণিক স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি গণমাধ্যম কর্মীদের থেকে জেনে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। নিহতের পরিবারের সাথে কথা বলে পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কনকনে ঠান্ডায় নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ৮শতাধিক শিক্ষার্থীর অংশ গ্রহণে ‘রান ফর ইউনিটি’ ম্যারাথন দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৬ ডিসেম্বর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে এ ম্যরাথন দৌড় শুরু হয়ে বাংলা বাজার প্রদক্ষিণ করে ফটকেই শেষ হয় । নোবিপ্রবি শাখা ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় অনলাইনে নিবন্ধন করেন প্রায় ৮০০ শিক্ষার্থী। নারী-পুরুষ সবার অংশগ্রহণে পুরো ক্যাম্পাসে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়। প্রতিযোগিতা শেষে ২০ জন বিজয়ীর মধ্যে পুরস্কার ও অংশগ্রহণকারীদের সম্মাননা দেওয়া হয়। দৌড়ে প্রথম স্থান অর্জন করা শিক্ষার্থী জাহিদ হাসান বলেন, তরুণদের মানসিক ও শারীরিক সুস্থতা ধরে রাখতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।আমি প্রথম হওয়ার লক্ষ্য নিয়েই দৌড়েছি। এমন আয়োজন শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রশিবিরের সভাপতি আরিফুল ইসলাম বলেন, সুস্থ, ইতিবাচক ক্যাম্পাস গড়তেই আমাদের এই প্রচেষ্টা। ভবিষ্যতেও এমন আয়োজন চলবে। এ সময় নোবিপ্রবি ছাত্র শিবিরের সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান সৈকত, ছাত্র অধিকার সম্পাদক বনি ইয়ামিন, অর্থ ও প্রচার সম্পাদক আবদুর রহমান, অফিস সম্পাদক মেহেদী হাসান, আইন সম্পাদক মাহবুবুল আলম তারেকসহ ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন স্তরের নেতাককর্মিরা উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপির চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনা ও তার সুস্থতা প্রত্যাশা করে নোয়াখালী জেলা ছাত্রদলের উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) মধ্যরাতে জেলা শহর মাইজদী পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের হাতে কম্বল তুলে দেন জেলা ছাত্রদলের সভাপতি প্রার্থী আনোয়ার হোসেন রকি। শীতের তীব্রতায় বিপর্যস্ত মানুষের কষ্ট লাঘবে মানবিক উদ্যোগ হিসেবে এই কম্বল বিতরণ আয়োজন করা হয়। শহরের রেলস্টেশন এলাকা, হাসপাতাল চত্বর, বাজারসংলগ্ন পথচারীদের মাঝে একে একে শীতবস্ত্র পৌঁছে দেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। কম্বল পেয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন অনেকে। এক ছিন্নমূল নারী চোখের কোণে পানি নিয়ে বলেন, সারাদিন ঠান্ডায় কাঁপছিলাম। রাতটা কীভাবে কাটবে জানতাম না। এ কম্বলটা আমার জন্য অনেক বড় উপহার। আল্লাহ তাদের ভালো করুক। অংশগ্রহণকারী একজন তরুণ ছাত্রদল কর্মী জানান, “শীত শুধু ধনীদের মতো নয়, গরিব মানুষের জন্য আরও কঠিন। তাই নেতার নির্দেশে আমরা চেষ্টা করেছি অন্তত কিছু মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে। শীতবস্ত্র বিতরণ শেষে ছাত্রদল নেতারা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে দোয়া পরিচালনা করেন। জেলা ছাত্রদলের সভাপতি প্রার্থী আনোয়ার হোসেন রকি বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত রোগমুক্তি কামনাই আজকের আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে শীতের রাতে মানুষের কষ্ট কিছুটা লাঘব করতে পারলে আমরা নিজেদের ধন্য মনে করি। রাজনীতি মানুষের কল্যাণের জন্য ছাত্রদল সবসময় মানবিক কর্মকাণ্ডে পাশে থাকবে।

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় গভীর রাতে এক ব্যবসায়ীকে গুলি করে মোটরসাইকেল, মোবাইল ও টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার (৩ ডিসেম্বর) রাত ১২টার দিকে উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নের বারাইপুর গ্রামের লেদু মিয়ারগো বাড়ির সামনের সড়কে এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ সাদ্দাম হোসেন (২৭) একই গ্রামের মৃত শাহ আলম মেম্বারের ছেলে এবং স্থানীয় খলিফারহাট বাজারের মোবাইল ব্যবসায়ী। গুলিবিদ্ধ সাদ্দামের বড় ভাই মো.লিটন বলেন, আমাদের বাড়ির পাশে খলিফারহাট বাজারে আমার ছোট ভাই সাদ্দামের দুটি মোবাইল দোকান রয়েছে। প্রতিদিনের ন্যায় সে রাত সাড়ে ১১টার দিকে দোকান বন্ধ করে। এরপর মোটরসাইকেল নিয়ে শ্বশুর বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। যাত্রা পথে মোটরসাইকেল বারাইপুর গ্রামের লেদু মিয়ারগো বাড়ির সামনে পৌঁছলে সড়কে স্পিড ব্রেকার থাকায় সে মোটরসাইকেলের গতি কমিয়ে দেয়। ওই সময় দুর্বৃত্তরা তার দিকে এগিয়ে আসে। তাৎক্ষণিক সে মোটরসাইকেল রেখে পালাতে চেষ্টা করলে সন্ত্রাসীরা তাকে পেছন থেকে পিঠে গুলি করে দেয়। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। শরীরে গুলি আটকে থাকায় সেখান থেকে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে। যোগাযোগ করা হলে সুধারাম থানার ভারপ্রাস্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.কামরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কেউ এ ঘটনায় অভিযোগ করেনি, তাই জানা নেই। অভিযোগ করলে জানা যাবে।

নোয়াখালীর সোনাপুরে গভীর রাতে দুর্বৃত্তদের আগুনে বিআরটিসি ডিপোতে থাকা দুটি যাত্রীবাহী বাস সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। বুধবার (৩ ডিসেম্বর) রাত আড়াইটার দিকে ডিপোর ভেতরে এ নাশকতার ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত প্রায় ২টা ৩০ মিনিটে হঠাৎ আগুনের শিখা ছড়িয়ে পড়তে দেখে তারা দ্রুত ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। খবর পাওয়ার ১০–১৫ মিনিটের মধ্যেই মাইজদী ফায়ার স্টেশনের দুইটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। তবে বাসগুলোর বডিতে ফোম থাকায় আগুন মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে এবং ‘গুলবাহার’ ও ‘মালতি’ নামের নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে চলাচলকারী দুটি বাস সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায়। আরেকটি বাস আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সোনাপুর বিআরটিসি ডিপোর ম্যানেজার মো. আরিফুর রহমান তুষার বলেন, খবর পেয়েই আমি দ্রুত এসে উপস্থিত হই। ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশও সঙ্গে সঙ্গে এসে কাজ শুরু করে। পুরো ঘটনাটি স্পষ্ট নাশকতা। আজই আমার বদলি হওয়ার কথা ছিল—সব প্রস্তুতিও শেষ। যাকে এখানে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তিনি আসতে অনাগ্রহী। আমার ধারণা, বদলি ঠেকাতে পরিকল্পিতভাবেই এ অপকর্ম করা হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত প্রফেশনালভাবে ঘটানো হয়েছে। তিনি আরও যোগ করেন, আমার সহকর্মীরা অত্যন্ত ভালো। আজ আমাকে বিদায় সংবর্ধনা দেওয়ার কথা তাদের। এদিকে এক এলাকাবাসী সবসময় আমাদের সহযোগিতা করেছে। রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়েও কোনো সমস্যা হয়নি। তাই এটি স্থানীয় সাধারণ মানুষের কাজ নয়—পরিকল্পিত নাশকতাই। নোয়াখালী ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মো. ফরিদ আহমেদ বলেন, রাত ২টা ৪০ মিনিটে খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই এবং ১০ মিনিটের ভেতর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনি। দুটি বাস সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে, একটি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত। আগুনের কারণ তদন্ত ছাড়া বলা সম্ভব নয়।

নোয়াখালী জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বদলি হওয়া পুলিশ সুপার জনাব মোঃআব্দুল্লাহ-আল-ফারুকের সম্মানে এক অনাড়ম্বর বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। নোয়াখালী সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে এ সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক জনাব মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম। উপস্থিত অতিথিরা তাঁদের বক্তব্যে বলেন, পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ-আল-ফারুক দায়িত্ব পালনকালে জেলার সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অসাধারণ নেতৃত্ব ও মেধার পরিচয় দিয়েছেন। তিনি দুঃসময় মোকাবেলা, মানবিক সেবা, কমিউনিটি পুলিশিং এবং জনবান্ধব প্রশাসনিক কার্যক্রমে ব্যাপক অবদান রেখে যান। বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, তাঁর সততা, প্রজ্ঞা, ন্যায়পরায়ণতা ও কর্মনিষ্ঠা নোয়াখালীর আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করেছে। একজন প্রশিক্ষিত, নিবেদিতপ্রাণ ও দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে তিনি জেলার মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী অবস্থান তৈরি করে গেছেন। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিদায়ী পুলিশ সুপারকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।

বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আজিজুল হক বকশীর মৃত্যুতে শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৩০ নভেম্বর রবিবার দুপুর ২টায় জেলা আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতি জেলা শাখা এ শোকসভা আয়োজন করে। শোকসভায় সভাপতিত্ব করেন গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতি জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট মোল্লা মোহাম্মদ হাবিবুর রাছুল মামুন। অ্যাডভোকেট প্রদ্যুৎ কান্তি পালের সঞ্চালনায় শোকসভায় বক্তব্য রাখেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আমীর হোসেন বুলবুল, সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন, সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুর রহিম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল হক, সাবেক সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী মানছুরুল হক খসরু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক বাবুল কান্তি মজুমদার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল গোফরান ভূঞা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ মো. তাহের, বীর মুক্তিযোদ্ধা মিয়া মো. শাহজাহান, সাংবাদিক আবু নাছের মঞ্জু, কবি ফারুক আল ফয়সাল, জেলা জাসদের যুগ্ম আহবায়ক এস.এম রহিম উল্যাহ, অ্যাডভোকেট তুহিন চৌধুরী, অ্যাডভোকেট মাহমুদ হাসান, অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান তালুকদার, অ্যাডভোকেট আজিজুল হক বকশীর কন্যা ওছয়াতুন হাসনা বিনতে আজিজ হাসি। বক্তাগণ অ্যাডভোকেট আজিজুল হক বকশীর পেশাগত, রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, তাঁর মতো সৎ, নিবেদিতপ্রাণ রাজনীতিক, আইনজীবী ও সমাজকর্মীর আজকের সমাজে বড়ই অভাব। আমৃত্যু তিনি অধিকারহারা মানুষের পক্ষে রাজনীতি করেছেন, গরিব, অসহায় মানুষের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে আদালতে লড়েছেন এবং আলোকিত সমাজ গড়ার লক্ষ্যে সামাজিক সাংস্কৃতিক আন্দোলন করেছেন। উল্লেখ্য অ্যাডভোকেট আজীজুল হক বকশী ১০ নভেম্বর ২০২৫ মৃত্যুবরণ করেন।

আমার ময়না আর নেই, ডাক্তার আমার ময়নাকে খুন করেছে। ভুল চিকিৎসা আমার ময়নাকে আমার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে। সে আর কখনো আমার সঙ্গে কথা বলবে না, হাসবে না। তার দুই বছরের ছোট্ট শিশু আছে— মায়ের জন্য কাঁদে, কিন্তু তার মা আর ফিরে আসবে না। এই দৃশ্য আমরা সহ্য করতে পারছি না।’ শনিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে জেলা শহরের হাউজিং এলাকায় মেয়েকে হারিয়ে এভাবেই কান্না করতে করতে কথাগুলো বলছিলেন নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা শাহিন আক্তার। নিহত রিংকি আক্তার বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নের আব্দুল আজিজ বাবুলের মেয়ে। তার স্বামীর বাড়ি পার্শ্ববর্তী সোনাইমুড়ী উপজেলার বজরা ইউনিয়নের বদরপুর গ্রামে। তার স্বামী নুর হোসেন ইতালি প্রবাসী। তাদের দুই বছরের একটা ছেলে সন্তান রয়েছে। জানা গেছে, কিছুদিন আগে নোয়াখালীর একলাশপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা রিংকি আক্তার অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবার তাকে হাউজিং এলাকার ডা. মো. মুজিবুল হকের কাছে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান। চিকিৎসক জানান, রোগীর অস্ত্রোপচার প্রয়োজন। পরিবারের সদস্যরা ২৫ নভেম্বর অপারেশনে সম্মতি দিলে সেদিনই অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। অপারেশনের পর রোগীকে তড়িঘড়ি করে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। বাড়িতে নেওয়ার পরই রিংকির তলপেটে ব্যথা তীব্র আকার ধারণ করে এবং অতিরিক্ত রক্তপাত শুরু হয়। বিষয়টি চিকিৎসককে জানালে তিনি রক্তপাতকে স্বাভাবিক বলে দাবি করেন এবং কোনো ধরনের গুরুত্ব দেননি বলে অভিযোগ নিহতের পরিবারের। রোগীর অবস্থার আরও অবনতি হলে শনিবার (২৯ নভেম্বর) সকাল ৯টার দিকে তাকে পুনরায় ডা. মুজিবুল হকের হাসপাতালে আনা হয়। সকাল ১০টার কিছু পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় রিংকি আক্তারের মৃত্যু হয়। নিহতের মা শাহিন আক্তার বলেন, আমি মনে করি চিকিৎসকের অবহেলা, দায়িত্বহীনতা এবং ভুল চিকিৎসার কারণেই আমার মেয়েকে আমরা হারিয়েছি। তার ব্যথা ও রক্তপাতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি, সে একটু পানিও খেতে পারে নাই। আজ সকালে আনলে ডাক্তার বলেছে সে স্বাভাবিক আছে। কিন্তু রক্তক্ষরণ হয়েছে প্রচুর। যেখানে দ্রুত সঠিক চিকিৎসা পেলেই হয়তো আজ সে বেঁচে থাকতো। নিহতের ভাই আলাউদ্দিন শাকিল বলেন, আমি শুধু আমার বোনের জন্য নয়, ভবিষ্যতে যেন আর কোনো পরিবার এভাবে প্রিয়জনকে হারাতে না হয়—সেই ন্যায়বিচারের জন্য চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা চাই। আমার বোনের মৃত্যুর সঠিক বিচার হোক— এটাই আমার একমাত্র দাবি। তিনি আরও বলেন, ডা. মুজিবুল হকের বিরুদ্ধে এর আগেও ভুল চিকিৎসার অভিযোগ রয়েছে। মৃত্যুর ঘটনা জানাতে গেলে চিকিৎসক ও তার সহযোগীরা পরিবারকে ধাওয়া দিয়ে বের করে দেন এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। আমরা সুধারাম মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। এলাকাবাসী জানান, তার বাড়িতেই তিনি চিকিৎসা করান এবং অপারেশন করান। তার কোনো বৈধতা নেই। তবে বারবার চেষ্টা করেও ডা. মুজিবুল হকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে সুধারাম মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম বলেন, আমরা খবর পেয়েই পুলিশ প্রেরণ করেছি। এছাড়াও ভুক্তভোগীর ভাই অভিযোগ দিয়েছে। আমরা সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও নোয়াখালী-৪ আসনে দলের মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মো. শাহজাহান বলেছেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে নোয়াখালীকে সিটি করপোরেশন ঘোষণাসহ আধুনিক শহরে রূপান্তরিত করা হবে। এসময় তিনি নোয়াখালী বিভাগ আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতাও প্রকাশ করেন। শনিবার (২৯ নভেম্বর) নোয়াখালী প্রেস ক্লাবে নোয়াখালী-৪ (সদর-সূবর্ণচর) আসনের উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। মো. শাহজাহান বলেন, ১৯৯১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত টানা চারবার আমি এ আসনের বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য ছিলাম। এ সময় এলাকার অবকাঠামোসহ আইনশৃঙ্খলার ব্যাপক উন্নতি করা হয়। কিন্তু বিগত ফ্যাসিস্টরা এলাকায় উন্নয়নের নামে লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করেছে। তাদের সময়ে কিশোর গ্যাংয়ের উন্নতি হয়েছে। তিনি বলেন, সারা দেশে ধানের শীষের জোয়ার উঠছে। ইনশাল্লাহ জনগণের সমর্থন নিয়ে বিএনপি আবারও ক্ষমতায় আসবে। তখন নোয়াখালীর বড় বড় মেঘা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে ঐতিহ্যবাহী এ জেলাকে আধুনিক শহরে রূপান্তরিত করা হবে। মো. শাহজাহান বলেন, হাতিয়ার চেয়ারম্যান ঘাট পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণ, সূবর্ণচর এক্সপ্রেস চালু, স্বাস্থ্যসেবাকে আধুনিকায়ন, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, স্কুল-কলেজ জাতীয়করণ, পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করে আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন, বয়োজ্যেষ্ঠদের দিয়ে সমাজ নিয়ন্ত্রণ করা, কিশোর গ্যাং নির্মূল, জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রকল্প গ্রহণসহ নদীশাসন করে পর্যটনকে উৎসাহিত করা হবে। তিনি নির্বাচনি আসনের সদর ও সূবর্ণচর উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনার ফিরিস্তি তুলে ধরে সাংবাদিকদের বলেন, এটা প্রাথমিক উন্নয়ন ভাবনা। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হলে পূর্ণাঙ্গ ইশতেহার ঘোষণা করা হবে। গুরুত্বপূর্ণ কিছু জানা থাকলে আপনারা লিখিত আকারে দিলে আমরা তা অন্তর্ভুক্ত করে নিবো। এ সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আপোসহীন অকুতোভয় সৈনিক উল্লেখ করে তার দ্রুত সুস্থতার জন্য সাংবাদিকদের নিয়ে দোয়া-মোনাজাত করেন বিএনপির এ নেতা। মতবিনিময় সভায় নোয়াখালী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলো, সদস্য সচিব হারুনুর রশিদ আজাদ, যুগ্ম-আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এবিএম জাকারিয়া, সদস্য অ্যাডভোকেট আবদুর রহমান, কামরুজ্জামান হাফিজ, দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য অ্যাডভোকেট রবিউল হাসান পলাশ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সাবের আহমেদ, জেলা যুবদলের সেক্রেটারি নুরুল আমিন খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সোনাপুর কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান মরহুম মোস্তাফিজুর রহমান সাহেবের প্রথম মত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে এক স্বরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোনাপুর ডিগ্রী কলেজ মিলনায়তনে এই স্মরণসভার আয়োজন করা হয়। অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান পরিবার এই স্মরণ সভার আয়োজনে করে। এতে তাঁর সহধর্মিনী রহিমা ফেরদৌস লিপি বক্তব্যে, তিনি প্রয়াত স্বামীর জন্য ক্ষমা ও দোয়া চান। কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের কর্মসূচি শুরু হয়। বক্তব্যে তার দীর্ঘ কর্মময় জীবন, শিক্ষাক্ষেত্রে অসামান্য অবদান এবং ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ করেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সহকর্মী, গুণগ্রাহী ও পরিবারের সদস্যরা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, সোনাপুর কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন, উপাধ্যক্ষ জাফর আহমেদ ভূঁইয়া, শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক ও সহকারী অধ্যাপক মাহমুদ হোসেন, বিভাগীয় প্রধান ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ হাবিবুর রহমান,সহকারী অধ্যাপক শাকিলা পারভীন,সঞ্চালনায় মোঃ রশিদ আহমেদ প্রভাষক সামাজিক বিজ্ঞান সোনাপুর ডিগ্রী কলেজ।আরো বক্তব্য রাখেন, সোনাপুর কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি গিয়াস উদ্দিন রুবেল, সাধারণ সম্পাদক জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল বোরহান উদ্দিন বিশালসহ প্রমূখ।

নোয়াখালী সদর উপজেলার বিনোদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে পরীক্ষার সময় চিরকুট জব্দের ঘটনায় এক ফারহানা আক্তার মোহনা (১২) নামে এক ছাত্রী আত্মহত্যা করেছে। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে পাশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের টয়লেটে সে আত্মহত্যা করে। ফারহানা আক্তার মোহনা বিনোদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী এবং উপজেলার পণ্ডিতপুর গ্রামের মো. ফরহাদের মেয়ে। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাহফুজুল আকবর বলেন, সকাল সাড়ে ৯টায় বাংলা দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা শুরু হয় এবং ১১টার দিকে পরীক্ষা শেষ হয়। পরীক্ষা চলাকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক মিথুন চন্দ্র শীল ফারহানাকে চিরকুট ব্যবহার করতে দেখে শুধুমাত্র চিরকুটটি নিয়ে নেন। খাতা জব্দ বা কোনো শাস্তি দেওয়া হয়নি। মেয়েটি স্বাভাবিকভাবেই পরীক্ষা শেষ করে হল থেকে বেরিয়ে যায়। পরীক্ষা শেষে ফারহানা পাশের বিনোদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের টয়লেটে যায়। কিছুক্ষণ পর শিক্ষার্থীদের চিৎকারে শিক্ষকরা ছুটে গিয়ে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। তাকে দ্রুত উদ্ধার করে আমরা নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। বিনোদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন বলেন, পরীক্ষা ছিল দেড় ঘণ্টার। চিরকুট নেওয়া ছাড়া কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তারপরও এমন ঘটনা বেদনাদায়ক এবং অপ্রত্যাশিত। আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

মালয়েশিয়া ফেরত এক প্রবাসীর সফলতার গল্প শোনালেন নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক (ডিসি) মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম। বুধবার (২৬ নভেম্বর) জাতীয় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ গল্প তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আমি তখন কুড়িগ্রামের ইউএনও। একজন মালয়েশিয়া ফেরত প্রবাসী দেশে ফিরে হাঁসের খামার শুরু করেন। সেই খামারই তাকে কোটিপতি বানিয়েছে। অথচ প্রায় দশ বছর মালয়েশিয়ায় থেকেও তিনি তেমন কিছু করতে পারেননি। আপনাদের মধ্যেও উদ্যোক্তা হওয়ার ইচ্ছা থাকতে হবে। স্বপ্ন থাকতে হবে। তাহলেই সফলতা আসবে। আমাদের দেশ প্রাণিসম্পদে আরও এগিয়ে যাবে। জেলা প্রশাসক বলেন, সঠিক পরিকল্পনা ও প্রশিক্ষণের অভাবে অনেক খামারি ভালো করতে পারেন না। নোয়াখালীর চরাঞ্চলে দুধের দাম কম। কিন্তু যদি এই দুধ প্রক্রিয়াজাত করে মিষ্টি জাতীয় খাবার তৈরি করা যায়, তাহলে এর বাজারমূল্য অনেক বেড়ে যাবে। প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আবদুল্লাহ-আল-ফারুক বলেন, বাংলাদেশের সার্বিক আর্থ–সামাজিক উন্নয়নে প্রাণিসম্পদ খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। জাতীয় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ উদযাপনের মাধ্যমে আধুনিক প্রযুক্তির বিস্তার, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, নারী ও যুব উদ্যোক্তা সৃষ্টি, আন্তর্জাতিক মান অর্জন এবং সরকারি–বেসরকারি সমন্বয় আরও জোরদার হবে। আমি এর সার্বিক সফলতা কামনা করি। জানা গেছে, আধুনিক প্রযুক্তির প্রসার, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং নারী ও যুব উদ্যোক্তা সৃষ্টিকে লক্ষ্য ধরে নোয়াখালীতে বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে জাতীয় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ ২০২৫ শুরু হয়েছে। বুধবার (২৬ নভেম্বর) সকালে ‘দেশীয় জাত, আধুনিক প্রযুক্তি: প্রাণিসম্পদে হবে উন্নতি’ স্লোগানকে সামনে রেখে র্যালি, আলোচনা সভা ও প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। সোনাপুর পৌর শিশু নার্সিং বিদ্যালয়ের সামনে থেকে র্যালিটি শুরু হয়ে একই স্থানে এসে আলোচনা সভায় মিলিত হয়। পরে রঙিন বেলুন উড়িয়ে জাতীয় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহের উদ্বোধন করেন অতিথিরা। এরপর অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। সভা শেষে অতিথিরা সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে স্থাপিত ৩১টি প্রদর্শনী স্টল পরিদর্শন করেন। পরে সফল উদ্যোক্তা ও খামারিদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। জেলা প্রশাসন ও প্রাণিসম্পদ দপ্তর যৌথভাবে এসব কর্মসূচির আয়োজন করে। সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. তাসলীমা ফেরদৌসী জানান, সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে— প্রাণিসম্পদ বিষয়ক ভ্রাম্যমাণ আদালতের প্রচারণা, কৃত্রিম প্রজনন সেবা ও ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্প, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক স্কুল ফিডিং ও সচেতনতামূলক সভা, চিত্রাঙ্কন ও কুইজ প্রতিযোগিতা এবং সমাপনী দিনে ‘প্রাণিসম্পদের টেকসই উন্নয়নে তরুণ, নারী উদ্যোক্তা ও অংশীজনদের ভাবনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হোমায়রা ইসলাম বলেন, জাতীয় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ আধুনিক প্রযুক্তি, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও নতুন উদ্যোক্তা তৈরির গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। নোয়াখালীতে দেশীয় জাত সংরক্ষণ ও খামারিদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে আমরা কাজ করছি। প্রাণিসম্পদ খাত এগোলে গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।

ছাত্রাবাসের সামনে ব্যাডমিন্টন খেলার সময় স্ট্রোক করে নোসক শিক্ষার্থী তাহমিদের মৃত্যু। নোয়াখালী সরকারি কলেজের পুরাতন ক্যাম্পাসে অবস্থিত একমাত্র ছাত্রাবাস শহীদ অধ্যাপক আবুল হাসেম হলের সামনের মাঠে সহপাঠীদের সাথে ব্যাডমিন্টন খেলার সময় আকষ্মিকভাবে স্ট্রোক করে মাঠে লুটিয়ে পড়ে নোয়াখালী সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী তাসবীহুল হাসান তাহমীদ। পরবর্তীতে সহপাঠীরা উদ্ধার করে স্থানীয় হসপিটালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তাহমীদের এমন মৃত্যুতে শোকে স্তব্ধ হয়ে গেছে অধ্যাপক আবুল হাসেম হলের আঙ্গিনা। নিহতের পরিবার, আত্মীয়স্বজন, এলাকাবাসী ও কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

Best IT Agency

ভূমিকম্পে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ভাষা শহীদ আবদুস সালাম হলের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং পলেস্তারা খসে পড়েছে। এতে আবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকালে ভূমিকম্পের সময় এসব ফাটল ও পলেস্তারা খসে পড়ার ঘটনা ঘটে। ভূমিকম্পের পর সরেজমিনে দেখা যায়, হলের দেয়াল ও সিঁড়ির বেশ কিছু জায়গায় নতুন ফাটল দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি চতুর্থ তলার ওয়াশরুমের দরজার বেশ কয়েকটি অংশে পলেস্তারা খসে পড়েছে। বিষয়টি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই শিক্ষার্থীরা হল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান। নাইমুর রহমান নামের এক আবাসিক শিক্ষার্থী বলেন, ভূমিকম্পের সময় আমি হলে ছিলাম। হঠাৎ ভবনটি প্রায় ১০ সেকেন্ড ধরে তীব্রভাবে কাঁপতে থাকে। মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আমি ও বন্ধুরা দ্রুত সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে আসি। অনেকেই চিৎকার করছিল। নিচে নেমে সবার মুখে একই ধরনের ভয় দেখেছি। ভবনটি এতটাই কাঁপছিল যে মনে হচ্ছিল বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। পরে দেয়ালসহ বিভিন্ন জায়গায় ফাটল দেখি, যা আমাদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দেয়। ভাষা শহীদ আবদুস সালাম হলের প্রভোস্ট মো. ফরিদ দেওয়ান বলেন, আমি দায়িত্ব নেওয়ার আগেই হলের বি ব্লকের ওয়াশরুমের দরজার পাশে পলেস্তারা খসে পড়েছিল। তবে আজকের ভূমিকম্পে তা আরও দৃশ্যমান হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন সিঁড়িতেও আগে ফাটল ছিল, যা আজ আরও স্পষ্ট হয়েছে। বিষয়গুলো পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল বলেন, প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ যাচাই করা হচ্ছে। দ্রুতই প্রকৌশলী দলকে দিয়ে হলে বিস্তারিত পরিদর্শন করানো হবে এবং প্রয়োজনীয় মেরামত ও সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে

নোয়াখালী জেলার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে যোগদান করেছেন মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম। তিনি বিসিএস (প্রশাসন) ২৭তম ব্যাচের একজন কর্মকর্তা। ইতোপূর্বে তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এর সচিব হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর নিজ জেলা টাঙ্গাইল।
.jpeg&w=3840&q=75)
নোয়াখালীর জেলা শহর মাইজদীর একটি হাসপাতালে হাতের অপারেশন করাতে গিয়ে রাবেয়া বেগম (৪৮) নামে এক নারীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। রোববার (১৬ নভেম্বর) দুপুরে মৃতের মেজো ছেলে মো. রাজন হোসেন এমন অভিযোগ করেন। এর আগে শনিবার রাত পৌনে ১২টার দিকে প্রাইম হসপিটালের অপারেশন থিয়েটারে ওই নারী মারা যান। মৃত রাবেয়া লক্ষ্মীপুর জেলার চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের শেখপুর গ্রামের সর্দার বাড়ির শামছুল হুদার স্ত্রী। নিহতের ছেলে রাজন হোসেন অভিযোগ করে বলেন, দুই মাস আগে বাড়ির উঠানে পা পিছলে পড়ে বাম হাতের কবজির ওপরে ভেঙে ফেলেন মা। তাৎক্ষণিক চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের এক ডাক্তারের কাছে ভাঙা হাতে প্লাস্টার করা হয়। দুই মাস পর প্লাস্টার খুলে এক্সরে করলে দেখা যায় ভাঙা হাড় জোড়া লাগেনি। এরপর মাইজদীর প্রাইম হসপিটালের ডাক্তার ফরিদুল ইসলামের সঙ্গে ৭৫ হাজার টাকায় মায়ের বাম হাতের ভাঙা স্থানে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পাত বসানোর চুক্তি হয়। তিনি জানান, চুক্তি মোতাবেক শনিবার সন্ধ্যায় মাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। একই দিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে অজ্ঞান করেন অ্যানেসথেসিয়ান গোলাম হায়দার। পরে তার আর জ্ঞান ফেরেনি। রাজন অভিযোগ আরও বলেন, অজ্ঞান করার এক ঘণ্টা পর তাকে আইসিইউতে নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তীতে ব্যাপক টালবাহানা করে রাত সাড়ে ৩টার দিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান আমার মা মারা গেছেন। প্রকৃতপক্ষে আমার মা অজ্ঞান করার কিছুক্ষণের মধ্যেই মারা যান। রোববার সকালে হাসপাতাল থেকে আমাদের জানানো হয় অপারেশন, আইসিইউ ও অ্যাম্বুলেন্সের কোনো খরচ লাগবে না আপনারা মরদেহ নিয়ে যান। হাসপাতাল থেকে আমাকে বলা হয়েছে- আমার মায়ের হাইপ্রেশার থাকায় এমন হয়েছে। আবার বলে লো প্রেশার ছিল, এজন্য এমন হয়েছে। রোববার দুপুর সোয়া ১টার দিকে আমার বড় ভাই ও চাচা হাসপাতালে এসে সমঝোতা করে মরদেহ নিয়ে গেছেন। কী সমঝোতা হয়েছে সেটা আমি এখনো জানি না। যোগাযোগ করা হলে মাইজদী প্রাইম হসপিটালের সিনিয়র এজিএম শিপন শাহ ভুল চিকিৎসার মৃত্যু অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বলেন, অপারেশনের পর রোগীর অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। ডাক্তার রোগীর স্বজনদের বলেছেন আপনারা মামলা করার প্রয়োজন মনে করলে করেন। নোয়াখালী সিভিল সার্জন ডাক্তার মরিয়ম সিমি বলেন, এ ঘটনায় কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আগে গণভোট পরে জাতীয় নির্বাচন, না হয় নির্বাচন হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম মাসুম। (শুক্রবার) সকালে নোয়াখালীর পৌরবাজারে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে এটিএম মাসুম বলেন, জুলাই সনদের ভিত্তিতে আগামী দিনে বাংলাদেশে একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের অঙ্গীকারে এ দেশের জনগণ আবদ্ধ হয়। আমাদের পক্ষ থেকে আমরা এই সনদকে আদর্শের মাধ্যমে এবং পরবর্তীতে গণভোটের মাধ্যমে এটাকে সাংবিধানিক মর্যাদা দেওয়ার জন্য দাবি জানিয়েছিলাম। তিনি আরও বলেন, এই দাবিতে আমরা যখন আন্দোলন শুরু করেছিলাম তখন একটি দল বলছিল, এগুলো তো আলোচনার পথে থাকার কথা, জামায়াত এগুলোকে নিয়ে রাজপথে কেন যাচ্ছে। গতকাল প্রধান উপদেষ্টার ভাষণের পর আপনারা কি বুঝতে পেরেছেন আমাদের আন্দোলনের যৌক্তিকতা কী। আমরা আগেই সন্দেহ করেছিলাম প্রধান উপদেষ্টার আশপাশে এমন কিছু কুচক্রী মহল আছে যারা এই দেশকে অতীতেও সঠিক পথে চলতে দেয়নি, আর ভবিষ্যতেও এই দেশকে সঠিক পথে চলতে দেবে না। তিনি বলেন, আমরা এই চক্রান্ত আঁচ করতে পেরে ৫ দফা দাবীর ভিত্তিতে রাজপথে আন্দোলন শুরু করি। এই আশঙ্কার জেরে আমাদের সাথে আরও কয়েকটি ইসলামি দল রাজপথের আন্দোলনে শামিল হয়। আমাদের ৫ দফা দাবি ছিল জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করা ও সাংবিধানিক মর্যাদা দেওয়া, গণভোটের মধ্যে দিয়ে এই সনদকে এই জাতির জন্য স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্য একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য এটাকে একটি মহাসনদ হিসেবে মর্যাদা দান করা, আগামী নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা, বিগত স্বৈরশাসকের বিচার নিশ্চিত করা, নতুন কোনো স্বৈরশাসক যাতে তৈরি না হতে পারে সেজন্য নির্বাচন পরিষদকে স্বাধীনসত্ত্বা দান করা। এটা শুধু আমাদের দাবি নয়, দেশের ৭০ ভাগ জনগণ এই দাবির পক্ষে। সমাবেশ শেষে পৌর বাজার থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নাশকতা ও দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে এবং জুলাই গণহত্যার বিচার দ্রুত সম্পন্নের দাবিতে নোয়াখালীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। বুধবার (১২ নভেম্বর) রাত ১০টার দিকে জেলা শহরের বড় মসজিদ মোড় থেকে শহর শাখা শিবিরের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। এতে সংগঠনের সাবেক ও বর্তমান নেতাকর্মীরা অংশ নেন। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় বড় মসজিদ মোড়ে এসে সমাবেশে মিলিত হয়। বিক্ষোভ-সমাবেশে স্থানীয় নেতাকর্মী ও এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে পুরো এলাকা সরব হয়ে ওঠে। সমাবেশে বক্তারা বলেন, আওয়ামী লীগ অতীতের মতো আবারও দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। গণহত্যার বিচারে ধীরগতি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদাসীনতার সুযোগে দলটি ফের নাশকতার পথে হাঁটছে। তারা জুলাই হত্যাকাণ্ডসহ সব হত্যার দ্রুত বিচার সম্পন্নের দাবি জানান। বক্তারা আরও বলেন, জুলাই সনদকে আইনি স্বীকৃতি দিতে হবে এবং আওয়ামী লীগের অতীত ও চলমান গণহত্যার বিচার সম্পন্ন করে দলটিকে চিরতরে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে হবে।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি ২০০৬ সালের ২৮শে অক্টোবর রাজধানীর পুরানা পল্টনে আওয়ামী লীগ লগি-বৈঠা হামলার বিচারের দাবিতে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ও বসুরহাট পৌরসভা জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর)বিকালে বাদ আসর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি সূচনা হয়ে বসুরহাট বাজারের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো পদক্ষীণ করে বাজারের কেন্দ্রস্থলে আরডি শপিং মলের সম্মুখে সমাবেশ মিলিত হয়। এই নৃশংস ঘটনার প্রতিবাদে দেশের সকল মহানগরী, জেলা, উপজেলা ও থানা পর্যায়ে সভা-সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়, তারই অংশ হিসেবে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা জামায়াত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে আয়োজন করেছে। বিক্ষোভ মিছিল পরিচালনা ও সমাবেশ অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জামায়াতের পৌরসভার সেক্রেটারি মাওলানা হেলাল উদ্দিন। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,উপজেলা জামায়াতের আমির ও নোয়াখালী- ৫ আসনে জামায়াতের এমপি প্রার্থী অধ্যক্ষ বেলায়েত হোসাইন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বসুরহাট পৌরসভার জামায়াতের আমির ও বসুরহাট পৌরসভার জামায়াতের মেয়র প্রার্থী মাওলানা মোশারফ হোসাইন। বক্তৃতারা বলেন, ২৮শে অক্টোবর জাতির ইতিহাসে এক ভয়াল দিন। ওই দিন আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসরদের হামলায় ঢাকাসহ সারা দেশে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের ১৪ জন নেতাকর্মী শহীদ হন এবং আহত হন সহস্রাধিক নেতাকর্মী। শুধু ঢাকায় নয়, সারা দেশেই ১৪ দলের সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে চরম নৈরাজ্য সৃষ্টি করে। আওয়ামী সন্ত্রাসীরা মানুষ হত্যা করে মৃতদেহের ওপর নৃত্য করে বর্বর আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠে- যা সারা বিশ্বের গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়। এই ঘটনা ছিল পূর্বপরিকল্পিত মানবতাবিরোধী গণহত্যা। আরো বলেন,আগামীতে জাতি জামায়াত ইসলামীকে দাঁড়িপাল্লা ভোট দিতে উন্মুখ হয়ে আছে, জাতি সন্ত্রাসী,লুটেরা, চাঁদাবাজদের ক্ষমতায় দেখতে চায় না।জনগণ শান্তি চায় ,নিরাপত্তা চায় এবং মাথা উঁচু করে চলতে চায়। এই নৃশংস ঘটনার প্রতিবাদে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা শাখা সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা মহি উদ্দিন,পৌর সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা ইয়াকুব, পৌর সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আবু ইউসুফসহ উপজেলা ও পৌরসভা জামায়াতের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সৌদি আরব থেকে ওমরা পালন শেষে দেশে ফিরে মাইক্রোবাসে করে স্ত্রী, মা ও ভাতিজাকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি আসছিলেন আবুল কালাম আজাদ (৫৫)। তবে বাড়ি ফেরা হলো না তার। পথে মাইক্রোবাস দুর্ঘটনায় নিহত হন আজাদ। এছাড়া আহত হয়েছেন তার স্ত্রী নাসিমা আক্তার, মা ও ভাতিজা লিমন। রোববার (২৬ অক্টোবর) ভোররাতে মাইজদী বাজারের টিভি সেন্টার এলাকায় মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আবুল কালাম আজাদ নোয়াখালীর সদর উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের ব্যবসায়ী ও সদর উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চরদরবেশ গ্রামের নুরুল হক ছোট মিয়ার ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পবিত্র ওমরা হজ পালন শেষে মাইক্রোবাসে করে স্ত্রী, মা ও ভাতিজাকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি ফিরছিলেন আজাদ। মাইজদী বাজারের টিভি সেন্টার এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দেয়। এতে মাইক্রোবাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। নিহতের ছেলে মো. ফাহাদ হাসান বলেন, আমাদের বাড়ি পৌঁছাতে মাত্র ২০ মিনিট বাকি ছিল। হঠাৎ এক দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ির পেছনে ধাক্কা দিয়ে চালক পালিয়ে যায়। রাত হওয়ায় কেউ দুর্ঘটনাটি টের পায়নি। চারপাশ আলোকিত হওয়ার পর স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়। তিনি আরও বলেন, আহতদের নোয়াখালী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার্ড করা হয়। বাবা ঘটনাস্থলে মারা গেছেন। সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। পুলিশের সহযোগিতায় প্রথমেই আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়, পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নোয়াখালীর সদর উপজেলার নেয়াজপুরে বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৪০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। রোববার (১৯ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার নেয়াজপুর ইউনিয়নের কাশেম বাজারের মসজিদের সামনে এ ঘটনা ঘটে। দুই পক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, শনিবার মসজিদে শিবিরের আয়োজিত কুরআন শিক্ষার কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা শুরু হয়। রোববার আসরের নামাজের পর একই স্থানে কর্মসূচি হলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া–পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা আহত হন। নোয়াখালী জেলা ছাত্রশিবিরের প্রচার সম্পাদক ফজলে রাব্বী অভিযোগ করে বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা মসজিদে হামলা চালায় এবং কয়েকজনকে অবরুদ্ধ করে রাখে। এতে সংগঠনের অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদিকে স্থানীয় একাধিক বিএনপির নেতাকর্মী অভিযোগ করে বলেন, মসজিদে শিবির নেতাকর্মীরা দলীয় স্লোগান দিলে বাধা দেওয়ায় তারা হামলা চালায়। এতে ইউনিয়ন বিএনপির অন্তত ১৫ জন নেতাকর্মী আহত হন। কয়েকজনকে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ এলাকার (সিইপিজেড) একটি ভবনে চিকিৎসা সরঞ্জাম তৈরির একটি কোম্পানির দুইটি তলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১৫টি ইউনিট কাজ করছে। তবে আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে কোনো কিছু জানা যায়নি। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আগুন জ্বলছে। বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে সিইপিজেডের ১ নম্বর সেক্টরের ৫ নম্বর সড়কের ‘অ্যাডামস ক্যাপ অ্যান্ড টেক্সটাইল লিমিটেড’ নামের ওই কোম্পানিতে আগুন লাগে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ৮ তলা ভবনের মেডিকেল ইকুইপমেন্ট তৈরির প্রতিষ্ঠানের ৭ তলায় আগুন লাগার পর ৬ তলায় ছড়িয়ে পড়ে। সিইপিজেড, বন্দর, কেইপিজেড ও আগ্রাবাদের ১৫টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। প্রচুর পুলিশ মোতায়ন রয়েছে। যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, বহুতল কারখানার ওপরের তলায় আগুন জ্বলছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস। কারখানাটিতে কত শ্রমিক ছিলেন, কেউ আটকা পড়েছেন কিনা, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি। ফায়ার সার্ভিসের চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপসহকারী পরিচালক আবদুল মান্নান বলেন, ওই কারখানায় কোনো শ্রমিক কর্মচারী আটকা পড়েছে কিনা তা নিশ্চিত করে বলতে পারছি না। আমরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছি। ইপিজেড থানার ওসি মোহাম্মদ জামির হোসেন জিয়া বলেন, সিইপিজেডে একটি ভবনে চিকিৎসা সরঞ্জাম তৈরির একটি কোম্পানির দুইটি তলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ওই দুই তলায় গুদাম বলে ধারণা করছি। আগুন লাগার খবরে সিঁড়ি দিয়ে হুড়োহুড়ি করে নারীদের নামতে দেখা গেছে। গুরুতর তেমন আহত হয়নি। এখনও সেখানে আগুন জ্বলছে।

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) নবগঠিত ছাত্রী সংস্থার আত্মপ্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক প্রশাসনিক কর্মকর্তার অশালীন মন্তব্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। জানা গেছে, ১৫ অক্টোবর বুধবার নবীন নারী শিক্ষার্থীদের বরণের মাধ্যমে প্রকাশ্যে আসার ঘোষণা দিয়েছে নোবিপ্রবি ইসলামী ছাত্রীসংস্থা। বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ আব্দুর রহমান পোস্টের কমেন্টে 'আর নয় গুপ্ত ও পরকীয়া। এবার স্বামী হিসেবে স্বীকৃতি' মন্তব্য করেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও প্রশাসনের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। এতে শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে কর্মকর্তার বিচার দাবি করেন। শিক্ষার্থীরা বলেন, ফেসবুকে নারী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে একজন সহকারী রেজিস্ট্রার ও বিএনপি নেতার এমন অশালীন, নারী-বিদ্বেষী ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য আমাদের ব্যথিত করেছে। আমরা সেই কর্মকর্তার বিচার দাবি করছি। ইসরাত জাহান নামের এক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বলেন, একজন বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তার কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ শুধু অনৈতিক নয়, এটি শিক্ষাঙ্গনের মূল্যবোধ ও পেশাগত নীতির চরম লঙ্ঘন। আমরা ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। ভবিষ্যতে যেন কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী নারী-বিদ্বেষী বা অবমাননাকর আচরণে লিপ্ত না হন, এজন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে কঠোর নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নিতে হবে। অভিযোগের বিষয়ে মোহাম্মদ আব্দুর রহমান বলেন, আমরা দীর্ঘ ১৭ বছর ত্যাগ শিকার করেছি। আমার নামে ১৭টি মামলা আছে। আমাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। আমি একটা মন্তব্য করেছি এটা আমার ভুল হয়েছে। তবে এতদিন তারা কোথায় ছিল? কখনো তো তাদের কাউকে দেখি নাই। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ এফ এম আরিফুর রহমান বলেন, এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ রয়েছে কিন্তু তিনি কারও কথা শুনেন না। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ প্রায় সবার নামেই কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে থাকেন। একটা মানুষ ব্যক্তিগত না পরিবর্তন হলে আমরা কিছুই করতে পারি না। তাকে বিষয় গুলো অবহিত করা হলেও তিনি গুরুত্ব দেন না।

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় সিঁধ কেটে ঘরে ঢুকে গৃহবধূকে ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি মো. জসিমকে (৩২) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১১, সিপিসি-৩, নোয়াখালী। রোববার (১২ অক্টোবর) বিকেলে লক্ষ্মীপুর জেলার সদর উপজেলা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত জসিম সদর উপজেলার আন্ডারচর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম মাইজচরা গ্রামের জামাল উদ্দিনের ছেলে। মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগীর স্বামী জেলা শহরে রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন এবং সপ্তাহে একদিন বাড়িতে যান। এ সময় গৃহবধূ পালিত কন্যাসন্তানকে নিয়ে বাড়িতে থাকতেন। গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে গৃহবধূর ঘরে সিঁধ কেটে প্রবেশ করে অভিযুক্ত জসিম ও তার সহযোগী। পরে জসিম গৃহবধূর মুখ চেপে ধরলে তিনি জসিমকে চিনে ফেলেন। পরবর্তীতে গৃহবধূর ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে ধর্ষণ করা হয়। এ ঘটনায় সুধারাম মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়। র্যাব-১১, সিপিসি-৩ নোয়াখালী ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার ও সহকারী পুলিশ সুপার মিঠুন কুমার কুণ্ডু বলেন, গৃহবধূর স্বামী অনুপস্থিত থাকার সুযোগে প্রতিবেশী জসিম দীর্ঘদিন ধরে ভুক্তভোগীকে নানা অঙ্গভঙ্গি ও কটূক্তির মাধ্যমে উত্ত্যক্ত করতেন। গৃহবধূর মামলা দায়েরের পর থেকেই আসামি জসিম পলাতক ছিলেন। আমরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হই। তাকে সুধারাম মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী শহীদ আবরার ফাহাদের ৬ষ্ঠ শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, নোয়াখালী সরকারি কলেজ শাখা। মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) সকালে নোয়াখালী সরকারি কলেজ কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন কলেজ শিবির সভাপতি নাজিম মাহমুদ শুভ এবং সঞ্চালনা করেন সেক্রেটারি আব্দুল কাদের আল আমিন। পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী শহর ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি আব্দুল্লাহ আল মাহবুব। এছাড়া শহর ও কলেজ শাখার বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। বক্তারা বলেন, ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। তাঁর একমাত্র অপরাধ ছিল সত্যের পক্ষে কথা বলা এবং আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া। তাঁরা দিনটিকে ‘নিপীড়নবিরোধী দিবস’ হিসেবে পালনের আহ্বান জানান। বক্তারা আরও বলেন, ২০০৯ সাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতির নামে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন হাজারো শিক্ষার্থী। জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী নতুন বাস্তবতায় ছাত্রসমাজ এমন সহিংসতার পুনরাবৃত্তি আর দেখতে চায় না। আলোচনা সভা শেষে শহীদ আবরার ফাহাদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মুনাজাত করা হয়।

সদর উপজেলা প্রতিনিধিঃ নোয়াখালী সদর উপজেলায় মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে মো.সাঈদ (২৯) নামে এক দিনমজুরের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার উপজেলার চরমটুয়া ইউনিয়নের ৪নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব চরমটুয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সাঈদ একই গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে এবং পেশায় একজন দিনমজুর ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে উপজেলার পূর্বচরমটুয়া গ্রামে হালকা বৃষ্টিপাত শুরু হয়। এ সময় থেমে থেমে বজ্রপাতও হয়। ওই সময় বৃষ্টিতে বাড়ির পাশে ধানক্ষেতে মাছ ধরতে যান। একপর্যায়ে সেখানে বজ্রপাতে তিনি মারা যান। পরে সকালে স্থানীয়রা তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পরিবারের সদস্যদের খবর দেন। এ বিষয়ে সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.কামরুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পরবর্তীতে এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নোয়াখালী জেলা শহর মাইজদীর সুধারাম থানার সংলগ্ন হাউজিং এলাকায় প্রকাশ্যে কিশোর গ্যাংয়ের ভয়ঙ্কর দৌরাত্ম্যের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সংঘটিত এ হামলার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, একদল কিশোর রিকশা থামিয়ে আরেক কিশোরের ওপর হঠাৎ ঝাঁপিয়ে পড়ে। এ সময় তারা তাকে এলোপাতাড়ি কিল, ঘুষি ও লাথি মারতে থাকে। বাবা-মা বলে ডেকেও ছেলেটা রক্ষা পায়নি। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ২ মিনিট ২১ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, প্রায় ৯ জন কিশোর রিকশায় থাকা এক কিশোরকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মারছে। একপর্যায়ে ওই তরুণ দৌড়ে প্রাণে রক্ষা পান, তবে গ্যাং সদস্যরা তাকে ধাওয়া করতে থাকে। স্থানীয় বাসিন্দা আফসার হোসেন অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই এসব কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্যে সাধারণ মানুষ ভীত-সন্ত্রস্ত। হয়তো একটা ভিডিও ভাইরাল হয়েছে বলে মানুষ জানতে পেরেছে কিন্তু বাস্তবে এর সং খ্যা অনেক বেশি। দিন কি রাত কিশোর গ্যাং উৎপাত চালিয়ে যাচ্ছে। মুখ খুলছে না কেউ। আমাদের দাবি, দ্রুত এ ধরনের অপরাধ দমনে প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম বলেন, আমরা ভিডিওটি পেয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে হামলাকারীদের পরিচয় পাওয়া গেছে তবে ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় তারা সবাই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।