

কোপা সুদামেরিকানা গ্রুপ পর্বের ম্যাচে গতকাল (মঙ্গলবার) দেপোর্তিভো রিকোলেতার বিপক্ষে ১-১ গোলের ড্রয়ে সান্তোসের একমাত্র গোল করেন নেইমার জুনিয়র। তীব্র দুয়োধ্বনির মাঝে দল মাঠ ছাড়ার সময় এক ভক্তের সঙ্গে বিতণ্ডায় জড়ান তিনি। ইনজুরি থেকে ফেরার পর প্রথম গোল করলেন নেইমার। কনমেবল ক্লাব প্রতিযোগিতায় ১৪ বছর পর এটি তার প্রথম গোল। ২০১২ সালের ২০ জুন কোপা লিবার্তাদোরেস সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে সবশেষ গোল করেছিলেন তিনি। কিন্তু তার গোল বিফলে গেল। প্রথমবার আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট খেলতে এসে প্যারাগুয়ান দল সমতা ফেরায়। তাতে ‘ই’ গ্রুপে সবার শেষে সান্তোস। ইএসপিএন ব্রাজিলকে সাক্ষাৎকার দেওয়ার আগে নেইমার বিদ্রূপ করা ভক্তদের ‘চুপ’ করার ভঙ্গি করেন। পরে তিনি দলের জয় পেতে ব্যর্থতার ব্যাখ্যা দেন। তার কথা, ‘আমরা অনেক ভুল করেছি। আমরা সবাই ভুল করি; এটা হয়েই থাকে। আমি মনে করি আমরা অনেক সুযোগ তৈরি করেছিলাম। ভালো খেলেছি, অবশ্যই বাজে খেলিনি। ভক্তরা চাপের মুখে দাবি করেছিল যেন আমরা আরও ভালো খেলি। কিন্তু আমাদের দল খেলছে এবং সুযোগ তৈরি করছে। আমি হতাশা বুঝতে পারছি। কিন্তু তাদের বুঝতে হবে ফুটবল এমনই, মাঝেমধ্যে বল ভেতরে যায় না।’ সাইডলাইনে সাক্ষাৎকার দেওয়ার পর নেইমার টানেলের দিকে যান। এমন সময়ে এক ভক্ত উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে তাকে ‘মোটা’ বলে ডাকেন। তিনি হাসতে হাসতে বলছিলেন, ‘তোমার আরও বেশি ট্রেনিং করা উচিত। তুমি মোটা হয়ে যাচ্ছ।’ নেইমার চলেই যাচ্ছিলেন। কিন্তু ফিরে এসে তিনি বলেন, ‘তুমি ঠিক.... এখন খুশি? আমি আমার সর্বস্ব দিয়ে যাচ্ছি। আমি তোমাকে তোমার খ্যাতির সময় দিচ্ছি।’ নেইমার চতুর্থবার বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। ইনজুরির কারণে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে জাতীয় দলে খেলেননি। ২২ ডিসেম্বর তার বাঁ পায়ের হাঁটুতে ছোট অস্ত্রোপচার করা হয়। সম্প্রতি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠতে আরেকটি ছোট অস্ত্রোপচার করানো হয়। ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি তাকে স্কোয়াডে রাখবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

মাথায় ব্যান্ডেজ, হাতে রঙিন বেলুন আর বাঁশি- এই সামান্য সম্বল নিয়েই জীবনের সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করে চলেছেন আব্দুল মান্নান। স্বাধীনতার পর থেকেই বেলুন ও বাঁশি বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন তিনি। বয়সের ভার ও শারীরিক অসুস্থতা তাকে থামাতে পারেনি। বরং সংগ্রামই হয়ে উঠেছে তার জীবনের একমাত্র ভরসা। বর্তমানে নোয়াখালীর চৌমুহনীতে বসবাস করেন মান্নান। প্রতিদিন সেখান থেকে বেলুন ও বাঁশি সংগ্রহ করে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে বিক্রি করেন। দিন শেষে যা আয় হয়, তা দিয়েই কোনোভাবে জোটে দু’মুঠো খাবার। জানা যায়, তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে। তিনি বজলুর রহমানের ছেলে। তবে জীবিকার তাগিদে দীর্ঘদিন ধরেই চৌমুহনীতেই অবস্থান করছেন তিনি। নোয়াখালী জেলা শিল্পকলা একাডেমির মাঠে বৈশাখের লোকজ মেলায় দেখা যায়, একটি পুরোনো ব্যাগে জোড়া তালি দিয়ে তাতে কিছু বেলুন ও বাঁশি নিয়ে বিক্রি করছেন এই প্রবীণ মানুষটি। ক্লান্ত শরীর, মাথায় ব্যান্ডেজ—তবুও থামেনি তার পথচলা। মেলা থেকে বেলুন ক্রেতা মো. আব্দুর রহমান বলেন, একটি ছোট ব্যাগে কিছু বেলুন নিয়ে তিনি পুরো নোয়াখালীতে ঘুরে বিক্রি করেন। বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছেন, তবুও থেমে নেই। সংস্কৃতিকর্মী রাশেদ রানা বলেন, দু’মুঠো ভাতের জন্য তিনি এই কাজ করেন। সন্তানেরা তার খোঁজ নেয় না। এমন মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের মানবিক দায়িত্ব। দর্শনার্থী দেলোয়ার হোসেন বলেন, ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন স্কুলে তাকে বেলুন-বাঁশি বিক্রি করতে দেখেছি। এখনো সেই একইভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। আব্দুল মান্নান নিজেই বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে এই কাজ করছি। সারাদিনে প্রায় ৩০০ টাকার মতো বিক্রি হয়। তা দিয়েই কোনোভাবে চলি। ছেলেরা খোঁজ নেয় না, তাই নিজেকেই চলতে হয়। নোয়াখালী জেলা প্রশাসনের শিক্ষা ও কল্যাণ শাখার সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইউসুফ আলী বলেন, আব্দুল মান্নান জীর্ণ শীর্ণ শরীরে একটি জোড়া তালি দেওয়া ব্যাগ নিয়ে বেলুন বাসে বিক্রি করছেন। আমরা তার কাছ থেকে বেলুন ও বাঁশি কিনেছি। তিনি খুবই কষ্টে আছেন। এমন মানুষের কাছ থেকে পণ্য কিনে সহায়তা করা উচিত। তিনি আরও বলেন, আব্দুল মান্নানের মতো অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো সমাজের সবার দায়িত্ব। তার কাছ থেকে একটি বেলুন বা বাঁশি কেনাও হতে পারে তার জীবনের জন্য বড় সহায়তা। একটু সহমর্মিতাই বদলে দিতে পারে এমন অনেক সংগ্রামী মানুষের জীবন।

নোয়াখালীর চাঞ্চল্যকর অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাসনিয়া হোসেন অদিতাকে (১৪) ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার রায় আজ ঘোষণা করা হবে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে নোয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক আলোচিত এই মামলার রায় পাঠ করবেন। মামলার একমাত্র আসামি সাবেক গৃহশিক্ষক আবদুর রহিম রনি (৩৪)। এই রায়কে কেন্দ্র করে আদালত চত্বরে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। নিহত অদিতার পরিবার ও সচেতন মহলের দৃষ্টি এখন আদালতের রায়ের দিকে। জানা গেছে, নিহত তাসনিয়া হোসেন অদিতা নোয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।সে নোয়াখালী পৌরসভার লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকার মৃত রিয়াজ হোসেনের মেয়ে। তার মা রাজিয়া সুলতানা স্থানীয় একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। পুলিশি তদন্তে জানা যায়, ঘটনার দিন অদিতাকে একা পেয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালায় তার সাবেক গৃহশিক্ষক রনি। এতে ব্যর্থ হয়ে সে অদিতাকে নির্মমভাবে হত্যা করে। এই ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়েছিল। হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালিয়ে রনিসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছিল। দীর্ঘ তদন্ত শেষে পুলিশ অন্য তিনজনকে অব্যাহতি দিয়ে রনিকে একমাত্র অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেয়। গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে রনি স্বীকার করেছিলেন, তিনি অদিতাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে তাকে হত্যা করেন।২০২৩ সালের ২১ জুন নোয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মোহাম্মদ আবদুর রহিম আসামি রনির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজ এই আলোচিত মামলার রায় প্রদান করা হচ্ছে। নিহতের স্বজনরা আসামির সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। অদিতির মা রাজিয়া সুলতানা বলেন, আমার মেয়েকে তার গৃহশিক্ষক আবদুর রহমান রনি নির্মমভাবে গলা কেটে এবং হাতের রগ কেটে হত্যা করেছে। আমি আমার বাচ্চার খুনির ফাঁসি চাই এবং সেই রায় যেন দ্রুত কার্যকর করা হয়। আজ আমার মেয়ের বিচার পেলে কাল আপনার মেয়ে নিরাপদে ঘুমাবে। আমি একটি নিরাপদ বাংলাদেশ চাই, যেখানে সব মেয়েরা নিরাপদে ঘুমাতে পারবে। নোয়াখালী জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও সুশাসনের জন্য নাগরিক জেলা কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোল্লা হাবিবুর রাছুল মামুন বলেন, দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আজ সেই বহুল প্রতীক্ষিত রায়ের দিন। আমরা আশা করি, এই রায়ের মাধ্যমে নিহতের পরিবারের দীর্ঘদিনের আর্তনাদ ও ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা প্রতিফলিত হবে। শুধু নোয়াখালী নয়, বরং সারাদেশের মানুষ আজ এই রায়ের দিকে তাকিয়ে আছে। মনে রাখতে হবে, এই ন্যায়বিচারের দাবিতেই ছাত্র-জনতা রাজপথে নেমেছিল। আজ যেন সত্য ও ন্যায়ের জয় হয়।

দীর্ঘদিন জাতীয় দলের বাইরে থাকা অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানকে নিয়ে মুখ খুলেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন। শনিবার (১১ এপ্রিল) মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান নির্বাচক বলেন, ‘সর্বোসম্মতিক্রমে বোর্ড গ্রহণ করেছে যে, সাকিব আল হাসানের অ্যাভেইলঅ্যাবিলিটি, ফিটনেস এবং অ্যাকসেসিবিলিটির ওপর ভিত্তি করে এবং পাশাপাশি যেখানে খেলা হবে ভেন্যুতে, সেখানে যদি উপস্থিত থাকার মতো ক্যাপাসিটি থাকে, অবশ্যই বোর্ড বা নির্বাচক কমিটি সাকিবকে পরবর্তীতে নির্বাচনের জন্য বিবেচিত করবে।’ সুমন বলেন, ‘আমার সাথে (সাকিবের সঙ্গে) দু-একবার কথা হয়েছে। আমার মূল প্রশ্ন ছিল, সে প্রস্তুত কি না। যেহেতু ও যেখানে আছে, ওখানে ক্রিকেট নিয়মিত হয় না। ট্রেনিংয়ের পর্যাপ্ত সুযোগ নেই। ফিটনেস ট্রেনিং করা যায়, কিন্তু ক্রিকেট খেলা অত রেগুলার হয় না। আমি আসলে ওর সঙ্গে এসব বিষয় নিয়ে বেশি কথা বলেছি।’ এরপর সাকিবকে দলে ফেরানো ব্যাপারে সুমন বলেন, ‘বাকিটা ওকে (সাকিব) এখানে পাওয়ার ব্যাপার। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আমরা অবশ্যই তাকে লম্বা সময়ের জন্যই চাই।’

দক্ষিণ লেবাননের কানা শহরে ইসরায়েলের বিমান হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) জানিয়েছে, হামলার পরপরই সিভিল ডিফেন্স দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে নিকটবর্তী শহর টাইরের হাসপাতালগুলোতে পাঠায়। একই সময়ে টাইর জেলার অন্যান্য এলাকাতেও পৃথক হামলা চালানো হয়। মা’রাকা এলাকায় আরেকটি হামলায় অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। উল্লেখ্য, কানা শহরটি অতীতেও ভয়াবহ হামলার শিকার হয়েছে। ১৯৯৬ ও ২০০৬ সালে এখানে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

পুরোনো বছরের গ্লানি ও নতুন বছরের সুখ-শান্তির আশায় রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদের জলে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে বাংলা নববর্ষ বরণের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে নৃতাত্ত্বিক জাতিগোষ্ঠীর মানুষ বন থেকে ফুল সংগ্রহ করে গঙ্গাদেবীর উদ্দেশ্যে জলে ভাসিয়ে দেন। পরে বাড়ি ফিরে ফুল ও নিমপাতা দিয়ে ঘর সাজানো হয় এবং বয়োবৃদ্ধদের পা ধুয়ে দিয়ে নতুন কাপড় উপহার দেওয়া হয়। বর্ষবরণের তিনদিনের মূল আনুষ্ঠানিকতার প্রথমদিন রাঙামাটি কেরানি পাহাড় এলাকায় কাপ্তাই হ্রদের জলে ফুল ভাসাতে নৃতাত্ত্বিক জাতিগোষ্ঠীর মানুষরা জড়ো হন। এতে যোগ দেন দেশি বিদেশি অনেক পর্যটক। এ ছাড়া শহরের গজনতলী, রাজবাড়ীঘাটসহ জেলার বিভিন্ন স্থানেও ফুল ভাসানো হয়। ফুল ভাসাতে আসা রত্না ত্রিপুরা বলেন, আমরা প্রতি বছর পুরোনো বছরের গ্লানি ও নতুন বছরের সুখ শান্তির আশায় ফুল বিজুর সকালে গঙ্গাদেবীর উদ্দেশ্যে কাপ্তাই হ্রদের জলে ফুল ভাসাই। ভাসানো শেষে আমরা ফুল ও নিমপাতা দিয়ে ঘর সাজাই। সোমবার (১৩ এপ্রিল) মূল বিজু বা চৈত্রসংক্রান্তি পালন করা হবে। এই দিন নানা ধরনের সবজি দিয়ে বিশেষ তরকারি রান্না করে অতিথিদের আপ্যায়ন এবং মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বাংলা নববর্ষ পালন করা হবে। এদিন নৃতাত্ত্বিক জাতিগোষ্ঠীর মানুষ নিজ নিজ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে গিয়ে প্রার্থনা জানাবেন তারা। উৎসব প্রিয় পাহাড়িরা সারা বছর মেতে থাকেন নানা অনুষ্ঠানে। তবে তার সবকিছুকে ছাপিয়ে যায় বর্ষ বিদায়ের এই উৎসব। চাকমারা বিজু, ত্রিপুরা বৈসুক, মারমারা সাংগ্রাই, তঞ্চঙ্গ্যারা বিষু, অহমিয়ারা বিহু এভাবে ভিন্ন ভিন্ন নামে পালন করে এই উৎসব।

বছরের পর বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের যে দ্বন্দ্ব চলছে, তা এক বৈঠকেই শেষ হয়ে দুই দেশের মধ্যে শান্তিচুক্তি হবে—এমনটা কেউই-ই আশা করেনি বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই। ইসলমাবাদে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার হওয়ার পর ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ব টেলিভিশন চ্যানেল আআরআইবিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানিয়েছেন ইসমাইল। সাক্ষৎেকারে বাকাই বলেছেন, “স্বাভাবিকভাবেই, শুরু থেকেই একটি বৈঠকে (যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে) চুক্তিতে পৌঁছানোর আশা আমাদের করা উচিত ছিল না এবং শুধু আমরাই নই— কেউই এমনটা আশা করেনি। তবে আমাদের বিশ্বাস, পাকিস্তান এবং এ অঞ্চলে অন্যান্য মিত্রদের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে।” উল্লেখ্য,ইরানের পরমাণু প্রকল্প এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি গত দু’যুগ ধরে দেশটির সঙ্গে দ্বন্দ্ব চলছে যুক্তরাষ্ট্রের। এ দুই ইস্যুতে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে সংলাপ চলে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে। ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো প্রকার সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই শেষ হয় সেই সংলাপ। তার পরের দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই সময়ে ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েলও। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রথম দিনই নিহত হন আয়তুল্লাহ খামেনি, যিনি টানা ৩৭ বছর ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা ছিলেন। ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির স্ত্রী, কন্যা, নাতি, এবং ছেলে মোজতবা খামেনির স্ত্রীও নিহত হন, এবং মোজতবা নিজে হন গুরুতর আহত। সংলাপ ও কূটনৈতিক পন্থায় উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে গত ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। তারই ধারাবাহিকতায় গতকাল ১১ এপ্রিল সংলাপে বসেছিলেন দুই দেশের সরকারি প্রতিনিধিরা। ২১ ঘণ্টা ধরে আলোচনার পর কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছে সেই বৈঠক। সূত্র : টাইমস অব ইসরায়েল

সুধারাম মডেল থানাধীন নোয়াখালী পৌরসভা ০৬নং ওয়ার্ড আইয়ুবপুর মোমিন মিয়ার বাড়ির বাসিন্দা আসামী মোঃ জাবেদ এর নিজ দখলীয় ভাড়াকৃত দোচালা টিনের বেড়া ও টিনের ছাউনীযুক্ত দক্ষিণ মুখী বসতঘর তল্লাশী করে আলামত উদ্বার ও জব্দকৃত, জেলা-নোয়াখালী। আসামীর নাম ও ঠিকানাঃ মোঃ জাবেদ (২৬), পিতা-মোঃ জামাল, মাতা- বিউটি বেগম, স্থায়ী সাং-মধ্যম করিমপুর (শেখ আহম্মদ মুরী বাড়ি), থানা-সুধারাম মডেল, জেলা- নোয়াখালী, বর্তমান সাং- আইয়ুবপুর (মোমিন মিয়ার বাড়ি/জনৈক মিরাজ মিয়ার ভাড়াটিয়া), ০৬নং ওয়ার্ড, নোয়াখালী পৌরসভা, থানা- সুধারাম মডেল, জেলা- নোয়াখালী। আলামত: ০১। একটি স্বচ্চ পলি প্যাকেটের মধ্যে কমলা বর্ণের অ্যামফিটামিনযুক্ত ইয়াবা নামীয় ট্যাবলেট ১০১ (একশত এক) পিস, ওজন ০৯ (নয়) গ্রাম। ০২। নগদ অর্থ- ২,৩৮০/-(দুই হাজার তিনশত আশি) টাকা। ধারা: মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ৩৬ (১) এর সারনির ক্রমিক নং-১০ (ক) ও ২৬ (১)।

ইরানের সঙ্গে নির্ধারিত সংলাপে যোগ দিতে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলাবাদে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের নেতৃত্বাধী মার্কিন প্রতিনিধি দল। পাকিস্তানের সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্টের সরকারি বিমান এয়ারফোর্স ২-তে চেপে গতকাল শুক্রবার ওয়াশিংটন থেকে রওনা হয় মার্কিন প্রতিনিধি দলটি। দলে ভ্যান্স ও অন্যান্য মার্কিন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি আছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনার। মার্কিন প্রতিনিধি দলটির যাত্রা শুরুর পর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, তিনি দলটিকে কিছু পরিষ্কার নির্দেশনা দিয়েছেন। এদিকে ওয়াশিংটন থেকে মার্কিন প্রতিনিধি দলটির রওনা হওয়ার কিছু সময় আগে ইসলামাবাদে পৌঁছে গেছে ইরানি প্রতিনিধি দলটি। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এই দলে আরও আছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আবদোলনাসের হেম্মাতি, ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থা সুপ্রিম ন্যাশনাল ডিফেন্স কাউন্সিলের সচিব আলী আকবর আহমদিয়ান, উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কেজেম ঘারিবাবাদি, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসলাইল বাঘাইসহ মোট ৭১ জন কর্মকর্তা।

কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ কূটনীতি শুরু হতে যাচ্ছে। এ নিয়ে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে সতর্ক আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। তবে পুরো প্রক্রিয়াটি যে অত্যন্ত নাজুক, সেটিও তারা স্বীকার করেছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের ওপর আস্থার কথা জানান। তবে আলোচনার ফলাফল আগে থেকেই নির্ধারিত—এমন কোনো আভাস দেওয়া থেকে বিরত থাকেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, “দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কী হয়। সেখানে জেডি (ভ্যান্স), স্টিভ এবং জ্যারেড আছে। আমাদের একটি দক্ষ দল রয়েছে এবং আগামীকাল তারা বৈঠকে বসছে। আমরা দেখব সব কেমন চলছে।” মূলত ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং শীর্ষ উপদেষ্টাদের সমন্বয়ে গঠিত প্রতিনিধি দলের কথা উল্লেখ করে তিনি এসব বলেন। একই সময়ে ট্রাম্প এই আলোচনাকে স্পষ্টভাবে কৌশলগত এবং স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি ইঙ্গিত দেন যে, ওই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ও কৌশলগত পয়েন্টগুলোর সঙ্গে জড়িত অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থই শেষ পর্যন্ত এই আলোচনার ফলাফল নির্ধারণ করবে। ট্রাম্প বলেন, “প্রণালিটি (হরমুজ) খুলে যাবে। আমরা যদি কেবল এটি ছেড়ে দিই, তবে এটি এমনিতেই খুলবে।” যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি এই নৌপথের ওপর নির্ভরশীল নয় উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “আমরা এই প্রণালি ব্যবহার করি না... অন্যান্য দেশগুলো এ কাজে এগিয়ে আসবে।” কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে কোনো বিকল্প পরিকল্পনা (ব্যাকআপ প্ল্যান) আছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প সরাসরি তা নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, “এটি সহজ হবে না.. তবে আমরা খুব দ্রুতই পথটি খুলে দিতে পারব।” বিকল্প পরিকল্পনা নিয়ে সরাসরি জানতে চাইলে তিনি উত্তর দেন, “কোনো ব্যাকআপ প্ল্যানের প্রয়োজন নেই।” ট্রাম্পের এসব মন্তব্য তার আত্মবিশ্বাস এবং অনিশ্চয়তা—উভয়ের সংমিশ্রণকেই স্পষ্ট করে তুলেছে। তিনি আলোচনার কলাকৌশল বা প্রক্রিয়াটি পরিকল্পিতভাবে সবার জন্য উন্মুক্ত রাখলেও এর চূড়ান্ত ফলাফলের ওপরই সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছেন। অন্যদিকে, ইসলামাবাদে মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিতে যাওয়া ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের কণ্ঠে ছিল প্রথাগত কূটনীতির সুর। তিনি এই আলোচনা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করার পাশাপাশি প্রতিপক্ষ যাতে কোনো ধরনের কারসাজি বা চতুরতার আশ্রয় নিতে না পারে, সে বিষয়েও সতর্কবার্তা দিয়েছেন। ভ্যান্স বলেন, আলোচনা ‘ইতিবাচক হতে যাচ্ছে’। তবে তেহরানকে সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, তারা যেন আমাদের সঙ্গে ‘চতুরতা করার চেষ্টা’ না করে। উভয় পক্ষ একই আলোচনার টেবিলে বসলেও তাদের মধ্যে যে গভীর অবিশ্বাস রয়ে গেছে, ভ্যান্সের এই মন্তব্যে তারই প্রতিফলন ঘটেছে। এমন এক প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান নিজেকে কেবল প্রভাব বিস্তারকারী মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নয়, বরং একটি ‘সহায়ক প্ল্যাটফর্ম’ হিসেবে উপস্থাপন করেছে। দেশটি মূলত আলোচনার দিকনির্দেশনা দেওয়ার চেয়ে আলোচনার পরিবেশ তৈরিতে একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে। এনবিসির ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে ওয়াশিংটনে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত রিজওয়ান সাঈদ শেখ বর্তমান অবস্থাকে একটি ‘কূটনৈতিক প্রচেষ্টার’ ফল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, “আমার মনে হয় অনেক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা, বিশেষ করে একটি নিবিড় কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমেই বিষয়গুলো আজকের এই ইতিবাচক পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে।” এই সাফল্যের জন্য তিনি পাকিস্তানের পাশাপাশি আঞ্চলিক বিভিন্ন দেশের ভূমিকারও প্রশংসা করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইসলামাবাদের এই ভূমিকা একটি বৃহত্তর বহুপাক্ষিক প্রচেষ্টারই অংশ। রিজওয়ান সাঈদ শেখ বলেন, “তুরস্ক, সৌদি আরব এবং মিসরের মতো একাধিক দেশ এক্ষেত্রে ব্যাপক প্রচেষ্টা চালিয়েছে। আরও অনেকেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।” প্রতিনিধি দলগুলো পৌঁছাতে শুরু করায় তিনি জানান, “আলোচনা এখন একেবারেই চূড়ান্ত পর্যায়ে।” তার এই মন্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, মূল সংলাপে বসার জন্য প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক ভিত্তি ইতিমধ্যেই তৈরি হয়ে গেছে। আলোচনায় অগ্রগতির মূল শর্ত হিসেবে তিনি প্রারম্ভিক প্রস্তুতিমূলক আলোচনার অনানুষ্ঠানিক সমঝোতাগুলো মেনে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, “সংলাপ শুরুর আগে আলোচনায় যেসব বিষয় স্থান পেয়েছে, সেগুলোর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা জরুরি। এটি কেবল আলোচনার বাহ্যিক পরিবেশই নয়, বরং মূল আলোচনার বিষয়বস্তুর ওপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। আলোচনা শুরু হওয়ার পর দুই পক্ষের আচরণের ধরন এবং আলাপ-আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াটিই হবে এই সফলতার আসল পরীক্ষা।” তিনি বলেন, ইসলামাবাদে যে নতুন অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে, তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো উভয় পক্ষের গঠনমূলক মনোভাব। তিনি মনে করেন, আলোচনার মূল বিষয়ের চেয়েও দুই পক্ষের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিই তাৎক্ষণিক সাফল্যের চাবিকাঠি হবে। আলোচনাটিকে একটি চলমান প্রক্রিয়া হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, এটি একটি চলমান কাজ (ওয়ার্ক ইন প্রগ্রেস)। যদি কোনো বিষয়ে সামান্য পরিবর্তন বা সমন্বয়ের প্রয়োজন হয়, তবে আলোচনার মাধ্যমেই সেই সমস্যার সমাধান করা হবে। সূত্র : ডন

২০২৫–২০২৬ শিক্ষাবর্ষের সমন্বিত গুচ্ছ পদ্ধতির প্রথম বর্ষের ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে উত্তর মেলানোর সময় এক পরীক্ষার্থীকে আটক করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে নোয়াখালী সরকারি কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষা চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। পরে ওই শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়। বহিষ্কৃত পরীক্ষার্থীর নাম মো. হিজবুল্লাহ ইসলাম অভি। ভর্তি পরীক্ষা কমিটি সূত্রে জানা যায়, বেলা ১১টায় পরীক্ষা শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পর হলের দায়িত্বে থাকা এক শিক্ষক ওই শিক্ষার্থীর অস্বাভাবিক আচরণ লক্ষ্য করেন। পরে তাকে তল্লাশি করে একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। যাচাই-বাছাইয়ে জানা যায়, তিনি মোবাইলের মাধ্যমে গুগল জেমিনি ব্যবহার করে প্রশ্নের উত্তর জানার চেষ্টা করছিলেন। পরে তাকে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কক্ষে নেওয়া হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে পরীক্ষার হল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রেজওয়ানুল হক বলেন, পরীক্ষায় কোনো ধরনের অসদুপায় বরদাস্ত করা হবে না। পরীক্ষাকে সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত রাখতে কঠোর নজরদারি বজায় রাখা হয়েছে এবং প্রশাসনের তৎপরতায় সামগ্রিকভাবে পরীক্ষা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এদিকে শেষ দিনের ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা নোবিপ্রবিসহ মোট ৭টি কেন্দ্রে একযোগে অনুষ্ঠিত হয়। এতে ১০,৭৯৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উপস্থিত ছিল ৭,৮০১ জন এবং অনুপস্থিত ছিল ২,৯৯৬ জন। উপস্থিতির হার ছিল ৭২.২৫ শতাংশ। পরীক্ষা চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এ সময় বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মহিনুজ্জামান, (GST) ভর্তি পরীক্ষার প্রতিনিধিবৃন্দ, নোয়াখালী জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তারা, পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির সদস্য এবং সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া, উপউপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রেজওয়ানুল হক ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হানিফ মুরাদ পৃথক কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে উপাচার্য বলেন, ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পাশাপাশি জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট সবাই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছেন। মূল ক্যাম্পাস ছাড়াও ৬টি বহিঃস্থ কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। যানজট ও সম্ভাব্য অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়, ফলে পরীক্ষার্থীরা নির্বিঘ্নে পরীক্ষায় অংশ নিতে পেরেছে। তিনি আরও বলেন, অভিভাবকদের জন্য প্যান্ডেলের ব্যবস্থা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং পরিবহন সুবিধা নিশ্চিত করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পর্যাপ্ত পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন ছিল। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ক্লাব ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন শিক্ষার্থীদের সার্বিক সহায়তা প্রদান করে, যার ফলে পুরো আয়োজনটি উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়। শেষে উপাচার্য ভর্তি পরীক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব কমিটি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, নোয়াখালী পৌরসভা, বিএনসিসি, রোভার স্কাউট সদস্য এবং সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এ ছাড়া, স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গসহ সবার সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান।

সরকারিভাবে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১০২ টাকা নির্ধারিত থাকলেও বাজারের ‘মঞ্জু ব্রাদার্স’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে তা বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকায়। অর্থাৎ, প্রতি লিটারে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ৩৩ থেকে ৩৮ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ। মঞ্জু ব্রাদার্স কে আরটিডি নিউজ২৪ কল করলে তিনি কলটি এড়িয়ে যান- সাধারণ ভুক্তভোগীদের থেকে তথ্য নিয়ে যা জানা যায় -সরকার সম্প্রতি তেলের দাম বৃদ্ধি না করলেও মঞ্জু ব্রাদাসেন্ট্রাল কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা করা হচ্ছে না। অতিরিক্ত দামের কারণ জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে অদ্ভুত দাবি করা হয়। তাদের দাবি, তারা নিজেরাই নাকি সরকারি রেট ১২৮ থেকে ১২৯ টাকা দরে পাইকারি কিনছেন। ভুক্তভোগীদের ক্ষোভ স্থানীয় একজন ভুক্তভোগী ক্রেতা জানান, "আমরা জানি সরকার দাম বাড়ায়নি, কিন্তু বাজারে এলেই বলা হচ্ছে দাম বেশি। প্রতিবাদ করলে তেল দিচ্ছে না। এরা নিজেরা সিন্ডিকেট করে সাধারণ মানুষের পকেট কাটছে।" রহস্যজনক সিন্ডিকেট প্রশ্ন উঠছে, যেখানে জ্বালানি মন্ত্রণালয় বা বিপিসি (BPC) নতুন করে কোনো দাম বাড়ায়নি, সেখানে ১২৯ টাকা কেনা রেট হওয়ার দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এটি একটি কৃত্রিম সংকট ও সিন্ডিকেট। খুচরা বিক্রেতারা পাইকারি পর্যায়ে অতিরিক্ত দামের অজুহাত দিলেও এর সপক্ষে কোনো বৈধ রসিদ দেখাতে পারছেন না। প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন খুচরা বাজারে এমন মনগড়া দাম নির্ধারণের ফলে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষক ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। ডিজেলের দাম বৃদ্ধির এই প্রভাব সরাসরি কৃষি ও নিত্যপণ্যের ওপর পড়ছে। এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে করমুল্লা বাজারের মঞ্জু ব্রাদার্সসহ সংশ্লিষ্ট দোকানগুলোতে অভিযান চালানো হোক এবং এই অদৃশ্য সিন্ডিকেটের উৎস খুঁজে বের করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।

নোয়াখালী জেলায় হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড়ে রেললাইনের ওপর গাছ উপড়ে পড়ায় ঢাকার সঙ্গে রেল যোগাযোগে সাময়িক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। এতে আন্তঃনগর উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেন দীর্ঘ সময় আটকে পড়ে যাত্রীদের দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়। তবে ট্রেন চলাচল এখন স্বাভাবিক রয়েছে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে নোয়াখালীর মাইজদী শহরসহ জেলার বিভিন্নস্থানে ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হয়। প্রবল ঝড়ে মাইজদী কোর্ট স্টেশন এলাকার রেললাইনের ১৭৩নং পিলারের ৩, ৪, ৫ ও ৬নং অংশের কাছাকাছি একটি বড় কড়ই গাছ উপড়ে লাইনের ওপর পড়ে যায়। এর ফলে ভোর থেকে নোয়াখালী-ঢাকা রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সকাল ৬টায় নোয়াখালী স্টেশন থেকে ছেড়ে আসা উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনটি হরিনারায়ণপুর এলাকায়ও গাছ পড়ে থাকায় বাধার সম্মুখীন হয়। পরে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় গাছ সরিয়ে ট্রেনটি মাইজদী কোর্ট স্টেশনে পৌঁছায়, তবে সেখানে আবারও আটকে পড়ে। রেলওয়ে কর্মী, ফায়ার সার্ভিস সদস্য ও স্থানীয়দের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে মাইজদী এলাকায় রেললাইন থেকে গাছ অপসারণ করা হয়। এরপর সকাল ৮টা ২০ মিনিটে সোনাপুর স্টেশন থেকে ঢাকামুখী উপকূল এক্সপ্রেস যাত্রা শুরু করে। ট্রেনটির চালক রফিকুল ইসলাম বলেন, সামনে আরও কয়েকটি স্থানে গাছ পড়ে থাকার খবর রয়েছে, ফলে নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। হঠাৎ এ বিলম্বের কারণে অনেক যাত্রী বিকল্প যাতায়াত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। ফলে কিছু সময়ের মধ্যে ট্রেনটি প্রায় যাত্রীশূন্য হয়ে পড়ে, যদিও অল্পসংখ্যক যাত্রী ট্রেনেই অপেক্ষা করতে থাকেন। মাইজদী কোর্ট স্টেশনের স্টেশন মাস্টার কামরুজ্জামান বলেন, কালবৈশাখী ঝড়ের কারণে এ বিলম্ব হয়েছে। তবে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় ট্রেন চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়েছে।

গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে যুদ্ধরত ইরান ও ইসরায়েল শিগগিরই ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতিতে রাজি হতে পরে। যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েলি এবং মধ্যপ্রাচ্যের সূত্রের বরাত দিয়ে সোমবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মাার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওস। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর এবং গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালী থেকে অবরোধ তুলতে মার্চের শেষ দিকে ইরানকে ১০ দিনের ডেডলাইন দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই ডেডলাইন শেষ হচ্ছে আজ সোমবার। এদিকে রোববার ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। শনিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগামাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় তিনি বলেছেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে যদি ইরান হরমুজ প্রণালি থেকে অবরোধ প্রত্যাহার না করে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তিতে না আসে, তাহলে দেশটির সব বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করে দেওয়া হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের সূত্রগুলো এক্সিওসকে জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এসব আল্টিমেটাম-ডেডলাইন ইরান মেনে নেবে— এমন সম্ভাবনা ক্ষীণ, বরং এই ৪৫ দিনের সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতিই এই যুদ্ধের উত্তেজনা নাটকীয়ভাবে হ্রাস করতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ৪৫ দিনের এই সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি হবে দুই স্তরের। ইরান যদি ইতিবাচক সাড়া দেয়, তাহলে প্রথম স্তরে ৪৫ দিন পরস্পরকে লক্ষ্য করে হামলা করা থেকে বিরত থাকবে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল। এবং প্রথম স্তরেই স্থায়ী যুদ্ধবিরতির জন্য মধ্যস্থতাকারীদের উপস্থিতিতে আলাপ-আলোচনা শুরু হবে ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি প্রতিনিধিদের মধ্যে। আশা করা হচ্ছে, এই ৪৫ দিনের আলোচনা ৩ দেশকে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির দিকে নিয়ে যাবে। মার্কিন-ইসরায়েলি ও মধ্যপ্রাচ্যের সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রস্তাবিত ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে। এদিকে গতকাল রোববার এক্সিওসকে দেওয়া এক সক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও স্বীকার করেছেন যে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের ‘গভীর আলোচনা’ চলছে এবং তার ঘোষিত ডেডলাইন পেরোনোর আগেই এই আলোচনার ফলাফল মিলবে বলে আশা করছেন তিনি। “একটি ভালো সুযোগ ইরানের সামনে আছে, কিন্তু যদি তারা কোনো সমঝোতা চুক্তিতে না পৌঁছায়— আমি ইরানের সবকিছু উড়িয়ে দেবো”, এক্সিওসকে বলেছেন ট্রাম্প। সূত্র : এক্সিওস

নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলায় দুটি বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে অভিযান চালিয়ে দেড় লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে অনিয়মের অভিযোগে সিলগালা করা হয়েছে একাধিক কক্ষ ও অপারেশন থিয়েটার (ওটি)। রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিশাত ফারাবীর নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে চাটখিল ইসলামিয়া হাসপাতালে বিভিন্ন অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। এদিকে, চাটখিল ফিজিওথেরাপি সেন্টারে অবৈধভাবে রোগী ভর্তি রাখার দায়ে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে রোগী ভর্তি রাখার কক্ষগুলো সিলগালা করে দেওয়া হয়। অভিযানের বিষয়ে বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিশাত ফারাবী বলেন, জনস্বার্থে স্বাস্থ্যসেবার মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের প্রধান দায়িত্ব। কোনো প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম বা অবহেলা বরদাশত করা হবে না। নিয়ম মেনে সেবা প্রদান না করলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। অভিযান চলাকালে উপস্থিত ছিলেন চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত ইউএইচএফপিও ডা. শহিদুল আহমেদ নয়ন এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

শ্যালোমেশিন (সেচযন্ত্র) নিয়ে ফিলিং স্টেশনে পেট্রোল নিতে এসেছেন জমেলা বেগম (৬৫)। তিনি ফিলিং স্টেশন থেকে ২০০ টাকার তেল পেয়েছেন। তার মতো অন্য চাষিরাও সেচযন্ত্র নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে তেল পেলেও চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল বলে জানান তারা। পবার মাধপপুর কুঠিপাড়ার বাসিন্দা জমেলা বেগম জানান, তার তিন মেয়ে, স্বামী নেই। নিজে ও শ্রমিক নিয়ে তাকে জমিতে তিনি বোরো ধানের চাষ করেছেন। তবে গেল ১০ দিন ধরে তেলের অভাবে তিনি জমিতে সেচ দিতে পারছেন না। জমেলা বলেন, জমি শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে। বিগত বছরে তিন দিন পরপর জমিতে পানি দিয়েছি। কিন্তু এ বছর ১০ দিন হলো জমিতে সেচ দিতে পারিনি। কয়েকদিন এই পাম্পে (ফিলিং স্টেশন) এসে ঘুরে গিয়েছি। তারাই আজ আসার কথা বলেছিল, এসে তেল পেলাম। মাথায় করে শ্যালোমেশিন (সেচযন্ত্র) নিয়ে এসেছেন রাকিব হোসেন। তিনি জানান, এই ফিলিং স্টেশন থেকে ২০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে। এই তেলে খুব বেশি তিন ঘণ্টা মেশিন চলবে। আমার জমিতে ৯ ঘণ্টা পানি লাগে। যেহেতু তেল পাওয়া যাচ্ছে না, তাই এভাবে প্রতিদিন ২০০ টাকা করে তেল কিনে সেচ দিতে হচ্ছে। যারা বোরো ধানের জমিতে সেচ দেবে তাদের কমপক্ষে ৪০০-৫০০ টাকার দিলে ভালো হয়। রুচিতা ফিলিং স্টেশনের কয়েকজন কর্মী বলেন, যারা সেচ মেশিন নিয়ে পাম্পে আসছেন তাদেরকে তেল দেওয়া হচ্ছে। যেহেতু সীমাবদ্ধতা আছে, তাই একটি নির্দিষ্ট পরিমাণের তেল সবাইকে দেওয়া হচ্ছে। যাতে করে সবাই যেন তেল পায়। ফিলিং স্টেশনটিতে ১৭ থেকে ২০ জন চাষিকে পর্যায়ক্রমে তেল দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। সেখানে মাইক্রোবাস ও কারে জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাধারণত বর্ষার শেষে শীতে শুকিয়ে যায় পানি। সেই সব জমিতে সবচেয়ে বেশি চাষাবাদ হয় বোরো ধানের। কারণ শুষ্ক মৌসুমে এই ধানে প্রচুর সেচ প্রয়োজন হয়, একটু নিচু জমিতে বোরো চাষের জন্য বেশি উপযোগী, কম সেচের কারণে। রাজশাহী অঞ্চলে বোরো চাষের সেচের জোগান আসে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) গভীর নলকূপ ও ইঞ্জিন চালিত সেচযন্ত্র থেকে। তবে তুলনামূলক তিনভাগের দুইভাগ জমিতে জ্বালানিতে চলা ইঞ্জিনচালিত সেচযন্ত্র ব্যবহার হয়। এ অঞ্চলের ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেল কেনা-বেচায় নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। চাইলে একজন গ্রাহক নিজের ইচ্ছে মত তেল কিনতে পারছেন না। শুধু ফিলিং স্টেশনগুলো নয়- জেলা ছাড়াও গ্রামগঞ্জের খুচরা ও পাইকারি দোকানগুলোতে আগের মতো স্বাভাবিকভাবে মিলছে না ডিজেল (জ্বালানি তেল)। ফলে সেচ কাজ চালিয়ে নিতে দূর-দূরান্তের দোকান থেকে কিনতে হচ্ছে ডিজেল। তবে সেখানেও মিলছে না চাহিদা মাফিক। রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র বলছে, রাজশাহী অঞ্চলে ৩ লাখ ৬৫ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষের লক্ষ্যমাত্রা। আর রাজশাহী জেলায় এবছর বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ৫৪ হাজার হেক্টর জমিতে। অঞ্চলের রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে সবচেয়ে বেশি বোরোধানের চাষ হয়। কিন্তু জ্বালানি সংকটের কারণে সেচ কার্যক্রমে বিঘ্ন দেখা দেওয়ায় কৃষকদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ। সময়মতো সেচ না পেলে ধানের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কৃষি কর্মকর্তারা জানান, বোরো মৌসুমে জমিতে নিয়মিত সেচ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ধানের কুশি গঠন ও শীষ বের হওয়ার সময় পানির অভাব হলে ফলনে বড় ধরনের প্রভাব পড়ে। রাজশাহী অঞ্চল দেশের খাদ্য উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। তাই সেচ কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় চলতি মৌসুমে বোরো ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হয়ে পড়তে পারে। নগরীর বুধপাড়া এলাকায় পাঁচবিঘা জমিতে বোরো ধানের চাষ করেছেন আক্কাস আলী। জমিতে শেষ দিতে ঠিকমতো তেল পাচ্ছে না এমন কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ফিলিং স্টেশনে ১০১ টাকা লিটার ডিজেল। বাইরে ১৪০ টাকা লিটার। পাঁচ বিঘা জমিতে ৯ ঘণ্টা পানি লাগে। স্বাভাবিক সময়ে তিন থেকে চার দিন পরপর পানি দেওয়া হয়। ১০ দিন পরে পানি দেওয়া হলো তেল না পাওয়ার বেকায়দায়। তিনি আরও বলেন, টাকা দিয়েও তেল পাওয়া যাচ্ছে না। যেভাবেই হোক সেচ দিতেই হবে ধানে। হওয়া ধান আর এক মাসের মধ্যে ধান কাটা পড়বে জমিতে। এখন এমন পরিস্থিতি যে ধান রেখে পালিয়ে যাওয়া যাচ্ছে না। এক বিঘা ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়। তবে এবার তেলের দাম বেশি থাকায় খরচ বাড়বে। জেলার বাগমারা, মোহনপুর, পবা, তানোর উপজেলার ফিলিং স্টেশনগুলোতে বোরো চাষিরা তেল নিতে শ্যালোমেশিন নিয়ে আসছেন। বালানগর, কালচিকার বোরো চাষি কালাম ও কোরবান আলী বলেন, তেল পাম্পে তেল পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক সময় বাড়িতে পানি তোলা মটার চালিয়ে জমিতে সেচ দিতে হচ্ছে। কোন কোন সময় জমিতে পাইপ বিছানোর পরে দেখা যাচ্ছে বিদ্যুৎ নেই। এ সময় ঠিকমত জমিতে সেচ দিতে না পারলে ফলন মারাত্মকভাবে ক্ষতি হবে। তারা আরও বলেন, দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি না হলে রাজশাহী অঞ্চলের বিস্তীর্ণ বোরো মাঠে উৎপাদন কমে যেতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে জাতীয় খাদ্য মজুত ও বাজার ব্যবস্থার ওপরও। রাজশাহী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহীতে মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে ধীরে ধীরে তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করেছে। এর মধ্যে কালবৈশাখীর প্রভাবে বৃষ্টি হওয়াতে তাপমাত্রা কমে এসেছিল। তবে কয়েক দিন ধরে তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করেছে। এটি অব্যাহত থাকতে পারে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিকেল ৩টার দিকে ৩৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এটি চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। রাজশাহী বিভাগীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক ড. মো. আজিজুর রহমান বলেন, সংকট কথাটা না বলি, এটা ডে টু ডে সিচুয়েশন ডিমান্ডেড। তো আমরা অবজার্ভ করছি, আমরা নজর রাখছি যাতে বোরো চাষের সমস্যা না হয়। রাজশাহী অঞ্চলে ৩ লাখ ৬৫ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। সেচ কার্যক্রম চলছে। জেলা প্রশাসক এ বিষয়টা নজর রাখতে আমরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। বোরোতে সেচ দিতে কৃষকদের জন্য জ্বালানি নিশ্চিতের বিষয়ে এই কর্মকর্তা বলেন, বিদ্যুতের যেটা কানেকশন আছে, সেখানে সেভাবে সেচ দিচ্ছে। মোট কথায় আমরা সজাগ আছি। সেচের বিষয়টা আমরা নিয়ে তৎপর আছি। প্রশাসন অন্য ক্ষেত্রে রেস্ট্রিকশন (নিষেধাজ্ঞা) দিলেও, কৃষকদের যেন ফুয়েল (তেল) পেতে সমস্যা না হয়, এটা আমরা বলছি আলোচনায়। আমরা এটা নিয়ে তৎপর আছি এবং পাম্প মালিকদেরও বলা হয়েছে।

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় কিশোরদের হামলায় মো. সেলিম (৫০) নামে এক কৃষক দলের নেতা নিহত হয়েছেন। শনিবার (৪ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে দাদপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের গৌরিপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মো. সেলিম ওই গ্রামের মৃত মো. শাহজানের ছেলে এবং স্থানীয় ৪নং ওয়ার্ড কৃষক দলের সভাপতি ছিলেন। তিনি দুই ছেলে ও দুই মেয়ের জনক। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সেলিমের ছেলে অন্তরের সঙ্গে এলাকার কয়েকজন কিশোর- সজল, শাওন, ফাহাদ ও রিয়াজের মধ্যে বিরোধ চলছিল। শনিবার দুপুরে এ নিয়ে ফোনে অন্তর ও সজলের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। পরবর্তীতে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সজল তার সহযোগীদের নিয়ে সেলিমের বাড়ির সামনে আসে এবং অন্তরের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় অন্তরের বড় ভাই শাকিল এগিয়ে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শোরগোল শুনে নিজের দোকান থেকে বের হয়ে ছেলেদের রক্ষা করতে এগিয়ে যান সেলিম। তখন অভিযুক্তরা তাকে ঘিরে ধরে বেধড়ক মারধর করে এবং মাথায় গুরুতর আঘাত করে। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই অচেতন হয়ে পড়েন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের বড় ছেলে শাকিল অভিযোগ করেন, পূর্বের বিরোধের জের ধরে পরিকল্পিতভাবে তাদের বাড়িতে হামলা চালানো হয় এবং তার বাবাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। নিহতের ছোট ভাই মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, আমার ভাই ছেলেদের বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ দিল। যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তারা কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য। আমরা এ হত্যার বিচার চাই। দাদপুর ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি সেলিম বলেন, নিহত সেলিম একজন সাধারণ কৃষক ও চা দোকানি ছিলেন এবং দলের সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। আমরা এ হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার দাবি করেছি। হাসপাতালের ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, প্রায় রাত ৯ টার দিকে আমাদের কাছে সেলিমকে আনা হয়। আমরা তাকে মৃত অবস্থায় পাই। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে। সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা জানতে পেরেছি সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে দুইপক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এ সময় সেলিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং আঘাত পেয়ে পড়ে যান। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইরানের বিভিন্ন অঞ্চল লক্ষ্য করে সারারাত হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও দখলদার ইসরায়েল। সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার সাংবাদিক তৌহিদ আসাদি রোববার (৪ এপ্রিল) সকালে ইরানের রাজধানী তেহরান থেকে বলেছেন, তেহরানের পশ্চিম এবং পূর্বাঞ্চল লক্ষ্য করে দীর্ঘ সময় হামলা হয়েছে। যেখানে বড় বড় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তিনি জানিয়েছেন, এই হামলা শুধুমাত্র রাজধানীতেই সীমাবদ্ধ ছিল না, শিল্প শহর ইস্ফাহানও হামলার জেরে কেঁপে উঠেছে। যেখানে লাখ লাখ মানুষ থাকেন। আলজাজিরার এ সাংবাদিক বলেছেন, এখন হামলার ধরন দেখে যা মনে হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ইরানের শিল্প কাঠামোকে টার্গেট করা বাড়িয়ে দিয়েছে। তেহরান ও ইস্ফাহানের পাশাপাশি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে উরমিয়াতে, খোররামাবাদে, কারাজে এবং কোমে। এছাড়া কারাজের বি-১ সেতুতে যৌথ হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৩ জনে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের যুদ্ধ বন্ধে পাকিস্তানের চেষ্টা ব্যর্থ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতার ভূমিকা নিয়েছিল পাকিস্তান। তবে তাদের এ প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। ইরানি কর্মকর্তারা পাকিস্তানে গিয়ে মার্কিনিদের সঙ্গে আলোচনা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় যেসব শর্ত দিচ্ছে সেগুলো অগ্রহণযোগ্যও বলে জানিয়েছে তারা। সংবাদমাধ্যম ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল গতকাল শুক্রবার এক প্রতিবেদনে জানায়, যুদ্ধ বন্ধে আঞ্চলিক মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা এখন একদমই থমকে গেছে। পাকিস্তান যে চেষ্টা করেছিল সেটি কোনো ফলাফলই বের করতে পারেনি। ইরান তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার জন্য ইসলামাবাদে তারা তাদের কোনো প্রতিনিধিকে পাঠাবে না। এখন পাকিস্তানের বদলে কাতার ও তুরস্ক মধ্যস্থতার ভূমিকা নিতে পারে। সূত্র: আলজাজিরা

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের দুবাই মেরিনাতে হামলা চালিয়েছে ইরান। আজ শনিবার (৪ এপ্রিল) সকালে সেখানে ড্রোন বা মিসাইল ছোড়ে তেহরান। এরপর সেটি প্রতিহত করার চেষ্টা করে আমিরাত। তবে প্রতিহত করা মিসাইল বা ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ দুবাই মেরিনার একটি ভবনে গিয়ে আঘাত হানে। দুবাই মিডিয়া অফিস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘এ ঘটনায় সেখানে কোনো আগুন লাগা বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।’ এর আগে আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, তাদের রাজধানী আবুধাবির হাবসান গ্যাস স্থাপনায় ইরানের হামলায় একজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তি মিসরের ব্যক্তি। আর আহতদের মধ্যে দুজন পাকিস্তানি ও দুজন মিসরীয় হিসেবে শনাক্ত হয়। গতকাল শুক্রবার এ হামলা হয়। হাবসান গ্যাস স্থাপনা আমিরাতের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক গ্যাস প্রসেসিং কেন্দ্র। হামলার পর সেখানে আগুন ধরে যায়। এতে স্থাপনাটিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ হামলা চালায় যুক্তরাস্ট্র ও দখলদার ইসরায়েল। এরপর উপসাগরীয় আবর দেশগুলোতে থাকা মার্কিন অবকাঠামো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা শুরু করে ইরান। প্রথমে এটি শুধুমাত্র সামরিক অবকাঠামোতে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু ইরান এখন বাণিজ্যিক স্থাপনাতেও হামলা চালাচ্ছে। মূলত নিজেদের বাণিজ্যিক স্থাপনায় হামলার পর মার্কিনিদের স্থাপনায় হামলার হুমকি দেয় ইরান। দুবাই মেরিনাতে আজকের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রতিষ্ঠানকে টার্গেট করা হয়েছে কি না সেটি নিশ্চিত নয়। সূত্র: আলজাজিরা

নোয়াখালী সদর উপজেলার দত্তেরহাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইয়াবা ও গাঁজাসহ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুরের দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সুব্রত সরকার শুভ। এর আগে, গতকাল বুধবার বিকেলে উপজেলার দত্তেরহাট আল হেরা বিদ্যানিকেতন স্কুলের প্রধান ফটকের সামনে এ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, মো. নাছির (২৬), মো. টিপু (২০), মো. রকি (২৪), মো. স্বাধীন (২২) ও মো. আরিয়ান (২৬)। ডিএনসি সূত্র জানায়, এলাকাবাসীর দেওয়া গোপন তথ্যের ভিত্তিতে দত্তেরহাট এলাকায় অভিযান চালায় ডিএনসি। অভিযানে গ্রেপ্তার নাছিরের বিরুদ্ধে পরিদর্শক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে সুধারাম মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। এছাড়া অপর চারজনের বিরুদ্ধে ঘটনাস্থলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। অভিযানে তাদের কাছ থেকে ৬৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং ১.২৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। অভিযান পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম জাহিদা আক্তার মৌসুমী, মুকসুদুস সালেহীন এবং মো. জাহিদ হাসান অপু। জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সুব্রত সরকার শুভ আরও জানান, মাদকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ভাইস চেয়ারম্যান ও নোয়াখালী-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. বরকত উল্লাহ বুলু বলেছেন, যারা ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তকে অস্বীকার করেন, যারা ৭১কে অস্বীকার করে ৪৭শে ফিরে যেতে যান। মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করেন, দুই লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমহানি অস্বীকার করতে চান। তাদের ব্যাপারে একটি কথা বলতে চাই। মুক্তিযুদ্ধকে যারা অস্বীকার করেন, ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তের সাথে যারা বেঈমানী করেন। দুই লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমহানির সাথে যারা বেঈমানী করেন। তাদের বাংলাদেশে রাজনীতি করার কোন অধিকার নেই। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকেলে মাইজদী হাউজিং বালুর মাঠে নোয়াখালী শিল্প ও বাণিজ্য মেলা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ত্রয়োদশ নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে বুলু বলেন, একটি কথা আমি সুস্পষ্ট ভাবে বলতে চাই। আজকে যারা আমাদের প্রান্তিক অঞ্চলের মা-বোনকে ভুল বুঝিয়ে বেহেশতের টিকেট বিক্রি করে তাদের ঈমান আকিদা নষ্ট করেছেন। তাদের ব্যাপারেও হুশিয়ার থাকতে হবে। সে দিন মা-বোনের ইজ্জত সম্ভ্রমহানির পর জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মওদুদী বলেছিলেন যুদ্ধের ময়দানে মা-বোনেরা নাকি গনিমতের মাল, এটা নাকি জায়েজ। নাউজুবিল্লাহ। তিনি আরও বলেন, বেহেশতের টিকেট কেউ বিক্রি করতে পারেনা। আল্লাহর রসুলও বেহেশতের টিকেট দিতে পারে নাই। একদিন ঊনার প্রিয় কন্যা ফাতেমা ঊনাকে জিজ্ঞাসা করলেন ইয়া রাসুলুল্লাহ আমি বেহেশতে যাব কিনা। মা আমি তোমাকে বেহেশতে যাওয়ার গ্যারান্টি দিতে পারিনা। আল্লাহর কাছ থেকে একটি অনুমতি নিয়ে এসেছি। হাশরের ময়দানে উম্মতদের জন্য সুপারিশ করার অনুমতি নিয়ে এসেছি। তোমার আখলাক, ইবাদত বন্দেগি, স্বামীর খেদমত, সব কিছু যদি আল্লাহ রাজি খুশি থাকে। তাহলে তুমি বেহেশতে যাবে। হাশরের ময়দানে তোমার জন্য সুপারিশ করতে পারি। বুলু বলেন,আজকে বাংলাদেশের গরিব মা-বোনকে এবার যারা বেহেশতের টিকেট বিক্রি করে ভোট করেছেন। তারা ইসলামকে বিদয়াত পথে নিয়ে গেছেন। ঈমান আকিদা নষ্ট করেছেন। এদের ব্যাপারে আল্লাহ ইনশাআল্লাহ কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করবেন। আগামি দিনে আল্লাহ নিজেই করবেন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, নোয়াখালীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো.সরওয়ার উদ্দিন, নোয়াখালী সদর সার্কেল অফিসার মো.লিয়াকত আকবর,পরিচালক কামাখ্যা চন্দ্র দাস,শহীদুল ইসলাম কিরণ,একরাম উল্যাহ ডিপটি, গোলাম জিলানী দিদার, মঞ্জুরুল আজিম সুমন প্রমুখ। মেলার উদ্বোধন করেন দি নোয়াখালী চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি ফিরোজ আলম মতিন।

জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে আজ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যদি আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে তাদের শর্ত অনুযায়ী ইরান চুক্তি না করে তাহলে ইরানকে তারা প্রস্তর যুগে ফেরাবেন। ইরানকে প্রস্তর যুগে ফেরানোর যে হুমকি ট্রাম্প দিয়েছেন, এটির পেছনে রয়েছে ভয়াবহ নির্মমতা। সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা বলেছে, প্রস্তর যুগে ফেরানোর মাধ্যমে মূলত ইরানে ‘কার্পেট বোম্বিংয়ের’ ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। এই কার্পেট বোম্বিং করে আধুনিক সবকিছু— হাসপাতাল, স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয়, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, হোটেল, উঁচু ভবন এবং পার্ক ধ্বংস করে দেওয়া হবে। অর্থাৎ আধুনিক বিশ্বের সব সুযোগ সুবিধা ইরানিদের থেকে কেড়ে নেওয়া হবে। যা গত কয়েক বছরে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় করেছে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দখলদার ইসরায়েল। কার্পেট বোম্বিং অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও নতুন কিছু নয়। তারা এ হুমকি এর আগেও অন্যান্য দেশকে দিয়েছে এবং এটি করেছেও। ক্রাউন প্রিন্সকে নিয়ে ট্রাম্পের অশালীন মন্তব্যে ক্ষুব্ধ সৌদি শত্রুদের আত্মসমর্পণ পর্যন্ত যুদ্ধ চলবে, বলল ইরানের সেনাবাহিনী ‘প্রস্তর যুগে ফেরত পাঠানোর’ যে ভাষা— সেটির ব্যবহার শুরু করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর কর্মকর্তা কার্টিস লিমে। তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানের শহরগুলোতে কার্পেট বোম্বিং চালিয়ে সেগুলো ধ্বংস করে দিয়েছিলেন। এরআগে ১৯৫০ সালের দিকে উত্তর কোরিয়ায় এই কার্পেট বোম্বিং করেছিল মার্কিন সেনারা। ওই সময় তারা দেশটির ৯৫ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ও প্রায় ৮০ ভাগ ঘরবাড়ি ধ্বংস করে দিয়েছিল। মার্কিন বিমানবাহিনীর কর্মকর্তা কার্টিস লিমে তার ‘স্মৃতিকথা’ বইয়ে পরবর্তীতে ভিয়েতনামকেও ‘প্রস্তর যুগে ফেরত পাঠানোর’ আহ্বান করেছিলেন। ১৯৭২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিন্টে রিচার্ড নিক্সন দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশ ভিয়েতনামের দক্ষিণাঞ্চলে কার্পেট বোম্বিংয়ের নির্দেশ দিয়েছিলেন। অপরদিকে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ পাকিস্তানকে হুমকি দিয়েছিলেন, যদি তালেবানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে পাকিস্তান যুদ্ধ না করে তাহলে তাদের ‘প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে নেওয়া হবে।’ মার্কিন প্রেসিডেন্টের সেই হুমকির কথা পরবর্তীতে জানান প্রয়াত পাক প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশারফ। সূত্র: আলজাজিরা

দেশে চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয় প্রচেষ্টায় সরকারকে সহযোগিতার লক্ষ্যে রাত ৮টার মধ্যে রাজধানীসহ সারা দেশের সব দোকান, বাণিজ্য বিতান এবং শপিংমল বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে সংগঠনটি। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুর রহমান টিপু ঢাকা পোস্টকে বলেন, এটি ব্যবসায়ীদের নিজস্ব উদ্যোগ। সরকার থেকে এ বিষয়ে কোনো নির্দেশনা আসেনি। সারা দেশের ব্যবসায়ীরা এটি মেনে চলবেন বলে আমরা আশাবাদী। সংগঠনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি ও ঢাকা মহানগর দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতির স্ট্যান্ডিং কমিটির যৌথ সভায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারকে সহযোগিতার লক্ষ্যে ঢাকাসহ বাংলাদেশের সব দোকান, বাণিজ্য বিতান এবং শপিংমল রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে হোটেল, ফার্মেসি, জরুরি প্রয়োজনীয় সেবার দোকান এবং কাঁচাবাজার এই সিদ্ধান্তের আওতামুক্ত থাকবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

বাংলাদেশ থেকে স্বাস্থ্যকর্মী নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে মালদ্বীপ। বুধবার (১ এপ্রিল) পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এ কথা জানান ঢাকায় নিযুক্ত মালদ্বীপের হাইকমিশনার শিউনিন রশীদ। বৈঠকে উভয়পক্ষ বাণিজ্য, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করে। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বিপুল অনাবিষ্কৃত সম্ভাবনা কাজে লাগানোর বিষয়েও এ সময় আলোচনা হয়। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী দুই দেশের মধ্যে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের পাস্পরিক সম্পর্ক বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বাংলাদেশি শ্রমশক্তিকে কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়ার জন্য মালদ্বীপ সরকারের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এছাড়া আরও দক্ষ ও আধাদক্ষ কর্মী নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনার অনুরোধ জানান। এ সময় হাইকমিশনার বাংলাদেশ থেকে স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগে মালদ্বীপের আগ্রহের কথা জানান। তিনি মালদ্বীপের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মীদের অবদানের প্রশংসা করেন। এদিকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে মালদ্বীপ সরকারের অব্যাহত সমর্থনের জন্য প্রতিমন্ত্রী কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করেন এবং উভয়পক্ষ আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের গুরুত্বের ওপর জোর দেন।

সৌদি আরবে অবস্থিত প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতে মার্কিন সেনাদের লক্ষ্য করে গত শুক্রবার (২৭ মার্চ) হামলা চালায় ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি। এই হামলায় ২০০ মার্কিন সেনা হতাহত হয়েছে বলে বুধবার (১ এপ্রিল) সংবাদ প্রকাশ করেছে ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি। এক বিবৃতিতে আইআরজিসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর ওপর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে এই হামলা চালানো হয়। এতে ২০০ জন হতাহত হয়েছে যাদের বেশিরভাগই যুদ্ধবিমান চালক। এদিকে ২৯ মার্চ টাইমস অব ইসরায়েলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রিন্স সুলতান ঘাঁটিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন এয়ারবর্ন ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম (এডব্লিএসিএস) বিমান, বোয়িং ই-৩ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ইরানি হামলায় অন্তত ১২ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন, পাশাপাশি কয়েকটি রিফুয়েলিং বিমানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জানা গেছে, এই বিমান উন্নত রাডার ব্যবহার করে শতাধিক কিলোমিটার দূরের বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করে এবং কমান্ডারদেরকে যুদ্ধক্ষেত্রের লাইভ চিত্র সরবরাহ করে। হামলার আগে যুক্তরাষ্ট্রের এডব্লিএসিএস ফ্লিটের মাত্র ১৬টি বিমান কার্যকর অবস্থায় ছিল। তবে এই দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র কিংবা সৌদি আরব এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। ইউক্রেনের দাবি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, রাশিয়া সম্প্রতি এই বিমান ঘাঁটির স্যাটেলাইট ছবি ইরানের কাছে পাঠিয়েছে, যা হামলার জন্য ইরানকে লক্ষ্য নির্ধারণে সহায়তা করেছে। তিনি বলেন, আমি শতভাগ নিশ্চিত যে রাশিয়া তথ্য শেয়ার করেছে। উল্লেখ্য, রাশিয়ার স্যাটেলাইট ২০, ২৩ এবং ২৫ মার্চ ঘাঁটিটির ছবি নিয়মিতভাবে ধারণ করেছিল। জেলেনস্কি-এর মতে, ধারাবাহিক ছবি ইঙ্গিত দেয় যে হামলার পরিকল্পনা চলছে। সূত্র: তাস/তাসনিম নিউজ/টাইমস অব ইসরায়েল

বাংলাদেশের জনপ্রিয় ধর্মীয় আলোচক মিজানুর রহমান আজহারিকে অস্ট্রেলিয়া ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে দেশটির সরকার। বুধবার (১ এপ্রিল) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আজহারি তার ‘লিগ্যাসি অব ফেইথ’ নামক সিরিজের অংশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেন, মেলবোর্ন, সিডনি ও ক্যানবেরা সফর করছিলেন। তবে সফরের মাঝপথেই মঙ্গলবার তার ভিসা বাতিল করে দেয় অস্ট্রেলীয় কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে তিনি দেশটি ত্যাগের অপেক্ষায় রয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার লিবারেল সিনেটর জোনাথন ডুনিয়াম সিনেটে জানান, আজহারির অস্ট্রেলিয়া আগমন সম্পর্কে সংসদ সদস্যদের আগে থেকেই বিভিন্ন গোষ্ঠী সতর্ক করেছিল। ডেইলি মেইলের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, এর আগে ২০২৩ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এক আলোচনায় হিটলারের প্রশংসা এবং ইহুদিবিদ্বেষী মন্তব্য করেন আজহারি। ওই আলোচনায় ইহুদিদের অমানবিক আখ্যায়িত করে তাদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানান আজহারি।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহতে ড্রোন হামলায় এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। দেশটির সরকারি বার্তাসংস্থা ডব্লিউএএম বুধবার (১ এপ্রিল) জানিয়েছে, একটি ড্রোন ফুজাইরাহতে আসার পর এটিকে ভূপাতিত করা হয়। ওই সময় ড্রোনটির ধ্বংসাবশেষ এসে আঘাত হানে ওই বাংলাদেশির ওপর। তিনি ফুজাইরাহর আল রিফা এলাকার একটি ফার্মে কাজ করছিলেন। এই বাংলাদেশির নাম পরিচয় কোনো কিছু এখনো জানায়নি আমিরাত। ‘ইউএই লেবার্স’ নামে একটি সংগঠন জানিয়েছে, আল রিফার একটি ফার্মের ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় ড্রোনটি টার্গেট করা হয়। ওই সময় ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ সেখানে পড়ে। আর সেই ধ্বংসাবশেষ গিয়ে পড়ে বাংলাদেশির ওপর। এতে তার মৃত্যু হয়। সংগঠনটি আরও বলেছে, আমিরাতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে ড্রোনটি ধ্বংস করেছে। কিন্তু এটির ধ্বংসাবশেষ পড়ে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা সঠিক খবরের জন্য শুধুমাত্র সরকারি তথ্যের ওপর নির্ভর করতে আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, ঘটনাস্থলে জরুরি পরিষেবার কর্মীরা আছেন। সূত্র: আলজাজিরা

দখলদার ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্লাস্টার মিসাইল ছুড়েছে। যা সরাসরি ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চল ও বাণিজ্যিক রাজধানী তেলআবিবে আঘাত হেনেছে। বুধবার (১ এপ্রিল) ছোড়া এ মিসাইলের বোমা সরাসরি বেনি ব্রাকের একটি বাড়িতে আছড়ে পড়ে। এতে অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। হিব্রু ভাষার সংবাদমাধ্যম চ্যানেল-১২ জানিয়েছে, ইরান থেকে মিসাইল ছোড়ার পর মধ্যাঞ্চলে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এছাড়া মিসাইল কয়েক জায়গায় আঘাত হেনেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এরপর সেখানে ছুটে যান উদ্ধারকারীরা। হামলার পর তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি। সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল

দুবাইয়ের জলসীমায় কুয়েতি ট্যাংকার জাহাজে ইরানের ড্রোন হামলা মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত দুবাইয়ের জলসীমায় কুয়েতের একটি ট্যাংকার জাহাজ ইরানের ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। গতকাল এ হামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে সিএনএন। হামলায় এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো তথ্য আসেনি। তবে জাহাজটি তেলে পরিপূর্ণ থাকায় সাগরে তেল ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কুয়েত যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মিত্ররাষ্ট্র। গত ৩১ মার্চ রোববার ইরানের তেলসম্পদ এবং জ্বালানি রপ্তানি ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপ দখলের হুমকি দেন ট্রাম্প। তার পরেই এ হামলা চালাল ইরান। ইরানের পরমাণু প্রকল্প এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি গত দু’যুগ ধরে দেশটির সঙ্গে দ্বন্দ্ব চলছে পশ্চিমা বিশ্বের। এ দুই ইস্যুতে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে সংলাপ চলে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে। ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো প্রকার সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই শেষ হয় সেই সংলাপ। তার পরের দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই সময়ে ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েলও। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের অভিযানের প্রথম দিনই নিহত হন খামেনিসহ ইরানের সামরিক ও সরকারি প্রশাসনের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা। সমানতালে হামলার পাল্টা জবাব দিচ্ছে ইরানও। যুদ্ধের শুরু থেকেই ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের ৬ দেশ সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্তর আরব আমিরাত, ওমানে অবস্থিত মার্কিন সেনাঘাঁটি ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে দফায় দফায় ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা শুরু করে ইরান, যা এখনও চলছে। সূত্র : এএফপি

কৃষকদের জন্য বরাদ্দ ৩ হাজার লিটার ডিজেল বাইরে বিক্রি করায় বাগেরহাটের অগ্রণী ট্রেডার্সে তেল প্রদান সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড। সোমবার (৩০ মার্চ) ইস্যুকৃত এক চিঠিতে এ তথ্য জানায় প্রতিষ্ঠানটি। চিঠিতে বলা হয়, গত ২৯ মার্চ দৌলতপুর ডিপো থেকে আপনার প্যাকড্ পয়েন্ট ডিলারের অনুকূলে ৩ হাজার লিটার ডিজেল এলাকার কৃষকদের স্থানীয় চাহিদা মেটানোর জন্য সরবরাহ করা হয়। কিন্তু আপনারা এই পরিমাণ জ্বালানি তেল আপনার প্রতিষ্ঠানে না নিয়ে বিক্রি করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। যা সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক নিশ্চিত করেছেন। প্যাকড্ পয়েন্ট ডিলারের অনুকূলে উত্তোলিত জ্বালানি তেল প্রতিষ্ঠান থেকে বিক্রি না করে অন্য জায়গায় বিক্রি করার কারণে আপনার প্যাকড পয়েন্ট ডিলারের অনুকূলে জ্বালানি তেলের সরবরাহ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হলো, যা অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং আপনার প্যাকড পয়েন্ট ডিলার নিযুক্তিপত্র কেন বাতিল করা হবে না তার ব্যাখ্যা আগামী ৩ দিনের মধ্যে লিখিতভাবে বরাবর দাখিল করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

ইনস্টাগ্রামে আসছে প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন আয়ের পথ খুঁজছে মেটা। এর অংশ হিসেবে কয়েকটি দেশে প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন সেবা পরীক্ষামূলকভাবে চালু করেছে প্রতিষ্ঠানটি। যার নাম ‘ইনস্টাগ্রাম প্লাস’। এই সেবার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা পাবেন কিছু বিশেষ ফিচার। যা সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত নয়। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ‘ইনস্টাগ্রাম প্লাস’ নামের এই সাবস্ক্রিপশনের আওতায় ব্যবহারকারীরা স্টোরি দেখলেও সেটি পোস্টদাতার কাছে ধরা পড়বে না। অর্থাৎ গোপনে স্টোরি দেখার সুযোগ থাকবে। পাশাপাশি নিজের স্টোরি কতজন একাধিকবার দেখেছেন সেই তথ্যও জানা যাবে। এছাড়া স্টোরি শেয়ারের ক্ষেত্রে বাড়তি নিয়ন্ত্রণ পাবেন গ্রাহকেরা। এখন পর্যন্ত ‘ক্লোজ ফ্রেন্ডস’ তালিকার বাইরে আলাদা করে দর্শক নির্ধারণের সুযোগ সীমিত ছিল। নতুন এই ফিচারে একাধিক অডিয়েন্স তালিকা তৈরি করা যাবে। ফলে ব্যবহারকারীরা নির্দিষ্ট গ্রুপ বেছে নিয়ে স্টোরি শেয়ার করতে পারবেন। স্টোরির সময়সীমাও বাড়ানো হয়েছে। সাধারণত ২৪ ঘণ্টা পর স্টোরি মুছে যায়। তবে সাবস্ক্রিপশন নিলে এটি আরও ২৪ ঘণ্টা বাড়ানো যাবে। একই সঙ্গে সপ্তাহে একবার স্টোরিকে ‘স্পটলাইট’ করার সুযোগ থাকবে। যা অনুসারীদের স্টোরি তালিকার শুরুতে প্রদর্শিত হবে। ইনস্টাগ্রাম প্লাসে আরও যুক্ত হয়েছে ‘সুপারলাইক’ নামের একটি অ্যানিমেটেড প্রতিক্রিয়া। এছাড়া স্টোরি ভিউয়ার তালিকায় নির্দিষ্ট কোনো ব্যবহারকারীকে দ্রুত খুঁজে পাওয়ার সুবিধাও থাকছে। যদিও মেটা আনুষ্ঠানিকভাবে কোন কোন দেশে এই পরীক্ষা চলছে তা জানায়নি। তবে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, মেক্সিকো, জাপান এবং ফিলিপাইন-এ এটি পরীক্ষা করা হচ্ছে। দেশভেদে সাবস্ক্রিপশনের মূল্য ভিন্ন। মেক্সিকোতে এর মাসিক খরচ প্রায় ২ ডলার, জাপানে প্রায় একই আর ফিলিপাইনে এর চেয়েও কম। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই উদ্যোগ মেটার আয়ের নতুন উৎস তৈরি করতে পারে। তবে একই সঙ্গে ‘সাবস্ক্রিপশন ক্লান্তি’ বা অতিরিক্ত সাবস্ক্রিপশন সেবার কারণে ব্যবহারকারীদের অনাগ্রহও তৈরি হতে পারে। প্রিমিয়াম ফিচারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন ব্যবসায়িক সম্ভাবনা যাচাই করছে মেটা। এখন দেখার বিষয়, পরীক্ষার পর এই সেবা কতটা বিস্তৃতভাবে চালু করা হয়।

দেশে চলমান তথাকথিত ‘মব কালচার’ বা বিশৃঙ্খল গণপিটুনির সংস্কৃতি আর বরদাস্ত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, দাবি আদায়ের নামে রাস্তাঘাট অবরোধ বা মব তৈরি করে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে। সোমবার (৩০ মার্চ) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অধিবেশনে রুমিন ফারহানা বিগত সরকারের সময়ের গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার প্রসঙ্গ টেনে বর্তমান সময়ের ‘মব কালচার’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, মব কালচারের শিকার হয়ে ২৫০ থেকে ৩০০ মানুষ নিহত হয়েছে। এমনকি আমি নিজেও ২১ ফেব্রুয়ারি এর ভুক্তভোগী। এই কালচার বন্ধে সরকার কী পদক্ষেপ নিচ্ছে? জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর স্পষ্ট উচ্চারণ করেছি—বাংলাদেশে কোনো রকমের মব কালচার আর থাকবে না। দাবি আদায়ের জন্য মহাসড়ক বা সড়ক অবরোধ করার যে প্রবণতা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে দেখা গিয়েছে, সেটাকে আমরা আর কখনো অ্যালাউ করব না। মব এবং সুসংগঠিত অপরাধের পার্থক্য তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, সবকিছুকে মব বলা ঠিক হবে না। কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানে হামলা বা ভাঙচুর করা সুসংগঠিত পরিকল্পিত অপরাধ। এর বিরুদ্ধে মামলা হয়, তদন্ত হয় এবং আসামিদের বিচারের আওতায় আনা হয়। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় দাবি জানানোর আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, জনগণের দাবি থাকবেই, তবে তা জানাতে হবে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা দপ্তরে স্মারকলিপি দেওয়া, সেমিনার করা বা জনসমাবেশ করার অধিকার সবার আছে। আমরা বাকস্বাধীনতা ও সংগঠনের অধিকার নিশ্চিত করব। কিন্তু মবের মাধ্যমে দাবি আদায়ের প্রবণতা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি ‘বেঁচে আছেন কি-না’— এই মর্মে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট সংশয় জানানোর পর মস্কো থেকে বার্তা দিয়েছেন মোজতবা। লিখিত সেই বার্তায় এ যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিপক্ষে থাকার জন্য ইরাকের জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। ইরাকের শিয়াপন্থি মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় নেতা ইমাম আয়াতুল্লাহ আলী সিস্তানির বরাত দিয়ে রোববার এক প্রতিবেদনে ইরানি সংবাদমাধ্যম আইএসএনএ নিউজ বলেছে, “সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনে ইরানে চলমান আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এবং ইরানি জনগণের পক্ষে সুস্পষ্ট অবস্থান নেওয়ায় ইরাকের সর্বোচ্চ ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ এবং ইরাকি জনতার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি।” গতকাল রোববার ইরাকের শিয়াপন্থি রাজনৈতিক দল ইসলামিক সুপ্রিম কাউন্সিল অব ইরাকের সঙ্গে বৈঠক করেন বাগদাদে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত। সেই বৈঠকের পরেই মোজতবা এ বার্তা দেন বলে জানিয়েছে আইএসএনএ নিউজ। এ বিষয়ে বিস্তারিত আর কিছু জানা যায়নি। গত ২৭ মার্চ শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের উপকূলীয় শহর মিয়ামিতে ফিউচার ইনভেস্টমেন্ট ইনিশিয়েটিভ প্রায়োরিটি নামের একটি ফোরামের সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সেখানে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ ইরানের নেতৃত্ব ও প্রতিরক্ষা ক্ষমতা ধ্বংস করে দিয়েছে। তাদের নেতারা সব মৃত। তাদের সর্বোচ্চ নেতা (আয়াতুল্লাহ খামেনি) আর সর্বোচ্চ পর্যায়ে নেই, তিনি মারা গেছেন; আর তার ছেলে হয় মারা গেছেন, নয়তো খুবই খারাপ অবস্থায় আছেন।” প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই সংশয় প্রকাশের ২ দিনের মধ্যে বার্তা দিলেন মোজতবা খামেনি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রথম দিনই নিহত হন মোজতবা খামেনির বাবা এবং ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। সেই হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির স্ত্রী, কন্যা, নাতি, এবং মোজতবা খামেনির স্ত্রীও নিহত হন, এবং মোজতবা নিজে হন আহত। মোজতবা আহত থাকা অবস্থাতেই তাকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচন করে ইরান। মার্কিন বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলায় মোজতবা খামেনি গুরুতর আহত হয়েছেন। তবে একাধিক ইরানি সূত্রে জানা গেছে, মোজতবা পায়ে আঘাত পেয়েছেন এবং সেই আঘাত প্রাণঘাতী নয়। যুদ্ধের দ্বাদশ দিনে, অর্থাৎ ১২ মার্চ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের আমন্ত্রণে রুশ সামরিক বাহিনীর একটি বিমানে চেপে মস্কোতে যান মোজতবা খামেনি। বর্তমানে মস্কোর এক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন তিনি। সূত্র : এএফপি, এনডিটিভি

মহান স্বাধীনতা দিবসে অশ্বদিয়া ইউনিয়নে দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত দিদারুল আলম শাকিল এর উদ্যোগে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে নোয়াখালী সদর উপজেলার ১০নং অশ্বদিয়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের বক্তারপুর স্কুল মাঠে দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৬শে মার্চ মঙ্গলবার স্থানীয় অসহায় ও দুস্থ মানুষের সেবায় এই মহতী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। অশ্বদিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং নোয়াখালী সরকারি কলেজের সাবেক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক দিদারুল আলম শাকিল-এর উদ্যোগে এই ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। ক্যাম্পে আগত রোগীদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রদান করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য জনাব শহিদুল ইসলাম কিরণ। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, "দেশের এই ঐতিহাসিক দিনে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোই প্রকৃত দেশপ্রেম। রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে আর্তমানবতার সেবায় তরুণ প্রজন্মের এমন উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়।" অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন: • জনাব আব্দুল্লাহ আল ফারুক, সাবেক সভাপতি, অশ্বদিয়া ইউনিয়ন বিএনপি। • জনাব জয়নাল আবেদিন , সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি, অশ্বদিয়া ইউনিয়ন বিএনপি। • জামালুর রহিম -আহবায়ক শহর স্বেচ্ছাসেবক দল। • তৌহিদ হাসান, ৫নং বিনোদপুর ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী। °এডভোকেট রিয়াজ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম। ° মোঃ রিপন, জেলা যুবদল। এছাড়াও স্থানীয় বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন। দিনব্যাপী পরিচালিত এই ক্যাম্পে কয়েকশত রোগীকে রক্তচাপ পরীক্ষা, ডায়াবেটিস স্ক্রিনিং এবং সাধারণ রোগের পরামর্শ দেওয়া হয়। আয়োজক দিদারুল আলম শাকিল জানান, এলাকার সুবিধাবঞ্চিত মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতেই এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা। ভবিষ্যতে এই ধরনের সেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

রমজান ও ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ বিরতির পর রোববার (২৯ মার্চ) থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবারও পাঠদান শুরু হচ্ছে। প্রায় এক মাসেরও বেশি সময় বন্ধ থাকার পর শিক্ষার্থীরা ফিরবে শ্রেণিকক্ষে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ছুটির সূচি অনুযায়ী, কলেজগুলোতে ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে রমজান, ঈদুল ফিতর ও গ্রীষ্মকালীন ছুটি মিলিয়ে টানা ছুটি শুরু হয়, যা ২৫ মার্চ পর্যন্ত চলে। এরপর ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের সরকারি ছুটি এবং সাপ্তাহিক ছুটি যোগ হওয়ায় বিরতি আরও দীর্ঘ হয়। ফলে ২৯ মার্চ থেকে কলেজগুলোতে নিয়মিত ক্লাস পুনরায় চালু হচ্ছে। একইভাবে, সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক এবং নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত মোট ৩৬ দিনের ছুটি ছিল। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতেও ৮ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ছুটি একই সময়ে শেষ হচ্ছে। এর ফলে সব স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একযোগে খুলছে। দীর্ঘ ছুটি শেষে রোববার খুলছে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নকলের পরীক্ষা আর চলবে না : শিক্ষামন্ত্রী দীর্ঘ ছুটির কারণে সৃষ্ট শিখন ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছে, স্কুল খোলার পর টানা ১০টি শনিবারও ক্লাস চলবে। এতে নির্ধারিত পাঠসূচি সময়মতো সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলিকে গত বছরের প্রাণঘাতী জেনজি বিক্ষোভে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নতুন প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ শপথ নেওয়ার পরদিনই তাকে গ্রেপ্তার করা হলো। শনিবার (২৮ মার্চ) কাঠমান্ডু পোস্টের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, নেপাল পুলিশ ভক্তপুরের গুন্ডু এলাকার বাসা থেকে তাকে আটক করে। ওলির সঙ্গে তার সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নেপালে নতুন সরকার শপথের পরদিনই সাবেক প্রধানমন্ত্রী গ্রেপ্তার পরমাণু স্থাপনায় হামলার জন্য ইসরায়েলকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিল ইরান কাঠমান্ডু ভ্যালি পুলিশের মুখপাত্র ওম অধিকারী বলেন, শনিবার সকালে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনের বিধান অনুযায়ী পরবর্তী প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে। ওলিকে গ্রেপ্তারের কিছুক্ষণ পরই নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং বলেন, প্রতিশ্রুতি মানেই প্রতিশ্রুতি এবং আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, আমরা সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি এবং বিদায়ী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককে আটক করেছি। এটি কারও বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নয়; এটি ন্যায়বিচারের শুরু মাত্র। আমি বিশ্বাস করি, এখন দেশ একটি নতুন পথে এগোবে। তবে ওলি দাবি করেছেন, তাকে প্রতিহিংসামূলকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমি আইনি লড়াই চালিয়ে যাব। গত বছরের ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর দুর্নীতিবিরোধী যুব আন্দোলনে ৭০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হন। এর মধ্যে কমপক্ষে ১৯ জন তরুণ। এই বিক্ষোভ শুরু হয় সোশ্যাল মিডিয়ায় স্বল্প সময়ের এক নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করে। কিন্তু এর পেছনে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক অসন্তোষ কাজ করছিল। পরের দিন এই আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। সংসদ ও সরকারি ভবনগুলোতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। ফলে কেপি শর্মা ওলির সরকারের পতন ঘটে। এরপর নেপালের প্রথম নারী প্রধান বিচারপতি সুশিলা কার্কি স্বল্প সময়ের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্ব দেন। অবসর ভেঙে দায়িত্ব নেওয়া তার এই সময়কালকে নেপালের নাজুক গণতন্ত্রে স্থিতিশীলতার একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় হিসেবে দেখা হয়। পরবর্তীতে র্যাপার থেকে রাজনীতিবিদ বালেন্দ্র শাহ নির্বাচনে জয়লাভ করার পর বিক্ষোভের সহিংসতা তদন্তে একটি প্যানেল গঠন করা হয়। শুক্রবার বালেন্দ্র শাহের সভাপতিত্বে নতুন সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে ওই উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন দ্রুত বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, উচ্চপদে থাকা সত্ত্বেও বিক্ষোভ চলাকালে অবহেলার কারণে ওলি ও লেখকসহ দায়ীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডের সুপারিশ করা হয়েছে। কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গুলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে গুলি বন্ধ বা নিয়ন্ত্রণে আনার কোনো চেষ্টা করা হয়নি এবং দায়িত্বহীন আচরণের কারণে অপ্রাপ্তবয়স্করাও প্রাণ হারিয়েছে। তদন্ত কমিশন আরও অনেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে নেপাল পুলিশের তৎকালীন মহাপরিদর্শক চন্দ্র কুবের খাপুংও রয়েছেন।

ঢাকাসহ দেশের ১৫টি অঞ্চলে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। ভোর থেকে দুপুরের মধ্যে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া এক পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়। দেশের ১৫ অঞ্চলে ঝড়বৃষ্টির আভাস, নদীবন্দরে সতর্কতা স্মৃতিসৌধে স্লোগান / মডেল মিস্টি সুবাসসহ ২ জন রিমান্ডে আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক স্বাক্ষরিত পূর্বাভাসে বলা হয়েছে— ঢাকা, রাজশাহী, রংপুর, দিনাজপুর, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এ সময় অস্থায়ীভাবে দমকা কিংবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। তাই এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। অন্যদিকে, শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাতে আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে প্রকাশিত সারা দেশের সম্ভাব্য পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আজ সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎচমকানোসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা ১-২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

চলমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জ্বালানি ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয়ের লক্ষ্যে দেশে সব পেট্রোল পাম্পে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়। শনিবার (২৮ মার্চ) এক বার্তায় মন্ত্রণালয় জানায়, শুক্রবার জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক অনলাইন সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সিদ্ধান্তে বলা হয়, দেশের সব পেট্রোল পাম্পের জন্য একজন ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করতে হবে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকায় বিপিসি ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করবে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকা ব্যতীত জেলা ও বিভাগীয় শহরে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকরা ও উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা তাদের অধিক্ষেত্রাধীন প্রতিটি পেট্রোল পাম্পের জন্য একজন সরকারি কর্মকর্তাকে ট্যাগ অফিসার হিসেবে নিয়োগ করবেন। ট্যাগ অফিসাররা জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ/বিপিসি নির্ধারিত পদ্ধতিতে কাজ করবেন ও দৈনিক প্রতিবেদন দেবেন। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিটি পেট্রোল পাম্পের জন্য একজন সরকারি কর্মকর্তাকে ট্যাগ অফিসার হিসেবে নিয়োগপূর্বক জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে তথ্য পাঠানোর জন্য সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর/সংস্থাকে অনুরোধ করা হয়েছে।

জীবন কার কোথায় থমকে যাবে, কেউ জানে না। জানতেন না নাসিমা বেগমও। তাই তো ১২ বছর আগে রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি থেকে বেঁচে ফিরলেও গত ২৫ মার্চ দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মায় বাসডুবিতে প্রাণ হারিয়েছেন তিনি। নাসিমা বেগম ২০১৩ সালে রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি থেকে বেঁচে ফেরা একটি আলোচিত নাম। ঘটনার তিন দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার হয়েছিলেন তিনি। তবে এবার আর ভাগ্য সহায় হলো না নাসিমা বেগমের। টানা ৭২ ঘণ্টা ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে জীবন নিয়ে বেঁচে ফিরলেও এবারের দুর্ঘটনার ছয় ঘণ্টা পরই পদ্মা থেকে উদ্ধার হয় নাসিমার নিথর দেহ। সৃষ্টিকর্তার ইশারায় পদ্মায় ডুবে হেরে গেল জীবিকার যুদ্ধের ‘নিঃসঙ্গ শেরপা’ নাসিমা। দুই স্বজনসহ নাসিমার (৪০) মৃত্যুতে তার গ্রামের বাড়িতে বিরাজ করছে শোকের ছায়া। জানা গেছে, দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার ৪নং পলাশবাড়ী ইউনিয়নের মধ্য আটরাই গ্রামের মৃত নুর ইসলামের স্ত্রী নাসিমা বেগম। জীবিকার সন্ধানে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকার সাভারে ভাগনি আজমিরা খাতুনের বাড়িতে যান। তবে দীর্ঘ এক মাস চেষ্টার পরও কোনো চাকরি পাননি তিনি। পরে ঈদ উপলক্ষ্যে তিনি আজমিরার শ্বশুরবাড়ি ফরিদপুরে যান। ঈদ শেষে গত ২৫ মার্চ বুধবার বিকেলে নাসিমা, তার অন্তঃসত্ত্বা ভাগনি আজমিরা খাতুন, ভাগনির স্বামী আব্দুল আজিজ আজাদ ও চার বছরের শিশু আব্দুর রহমান বাসযোগে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় বাসটি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। এ দুর্ঘটনায় তারা সবাই ডুবে যান। কিছুক্ষণ পর আব্দুল আজিজ জীবিত উদ্ধার হলেও প্রায় ছয় ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে নাসিমাসহ বাকি তিনজনের লাশ উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এদিকে স্বজনরা অ্যাম্বুলেন্সে করে নিহতদের লাশ নিয়ে বাড়ির পথে রওনা দিলে কুষ্টিয়া এলাকায় লাশবাহী গাড়িটি আবারও দুর্ঘটনার শিকার হয়। তবে এতে তেমন গুরুতর কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে জানান নাসিমার চাচাতো ভাই জুলফিকার আলী ভুট্টু। গতকাল শুক্রবার জুমার পর পারিবারিক কবরে তাদের দাফন করা হয়েছে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রানা প্লাজা দুর্ঘটনার সময় সেখানে কর্মরত ছিলেন নাসিমা বেগম। ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে তিনি তিন দিন আটকে থাকার পর অলৌকিকভাবে জীবিত উদ্ধার হন। এরপর তিনি গ্রামের বাড়িতে ছিলেন। তবে স্বামীর মৃত্যুর পর জীবিকার তাগিদে তিনি আবারও ঢাকা গিয়েছিলেন। সেটাই যেন তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়াল। পার্বতীপুর মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল ওয়াদুদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে নিহতের বাড়িতে গিয়ে খোঁজখবর নিয়েছি এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছি। পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদ্দাম হোসেন বলেন, নিহত নাসিমার বাড়িতে গিয়ে জেলা প্রশাসকের পক্ষে নগদ ২৫ হাজার টাকা সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

সৌদি আরবে রমজানের ২৯তম দিন আজ। রমজান মাসের ২৯তম রজনীতে খতম তারাবি অনুষ্ঠিত হয়েছে মক্কার মসজিদুল হারামে। এই উপলক্ষে পবিত্র এই মসজিদে নেমেছিল মুসল্লি ও ওমরাহ পালনকারীদের ঢল। ইশা ও তারাবির নামাজ শেষে কোরআন খতমের বিশেষ মোনাজাতে অংশ নিতে এক আবেগঘন ও আধ্যাত্মিক পরিবেশে সমবেত হন লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলমান। দিনের শুরু থেকেই মসজিদুল হারামের চত্বর, করিডোর, মাতাফ এলাকা এবং আশপাশের রাস্তাগুলোতে মুসল্লিদের ভিড় বাড়তে থাকে। সৌদি আরবের শীর্ষ নেতৃত্বের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ও ব্যাপক সেবামূলক ব্যবস্থার কল্যাণে বিশাল এই জনসমাগমের মধ্যেও ওমরাহ ও নামাজ আদায়ের প্রক্রিয়া ছিল অত্যন্ত সুশৃঙ্খল এবং নিরাপদ। দুই পবিত্র মসজিদের পরিচালনা পর্ষদ (জেনারেল অথরিটি ফর দ্য কেয়ার অফ দ্য অ্যাফেয়ার্স অফ দ্য গ্র্যান্ড মস্ক অ্যান্ড দ্য প্রফেট'স মস্ক) অন্যান্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে তাদের পূর্ণ জনবল ও সক্ষমতা নিয়ে মাঠে ছিল। ভিড় সামলানো, মুসল্লিদের দিকনির্দেশনা দেওয়া এবং নামাজের স্থানগুলোতে নির্বিঘ্নে যাতায়াত নিশ্চিত করতে কাজ করেছে বিশেষ টিম। বিশেষত বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধীদের চলাচলের জন্য নেওয়া হয়েছিল বাড়তি সতর্কতা। ৩৬ বছর ধরে মসজিদুল হারামে খতম তারাবির দোয়া পরিচালনা করেন শায়খ সুদাইস রমজানে ২০ দিনে মক্কা-মদিনায় ৯ কোটি ৬৬ লাখের বেশি মুসল্লি মসজিদুল হারাম ও নববীতে ইতিকাফে অংশ নিয়েছেন হাজারো মুসল্লি মসজিদ চত্বরে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, জীবাণুমুক্তকরণ এবং সুগন্ধি ছিটানোর কাজ চালানো হয়েছে কয়েক গুণ বেশি। এছাড়া ২৪ ঘণ্টা জমজম পানির সরবরাহ নিশ্চিত করতে নির্ধারিত স্থানগুলোতে পানির ড্রাম ও বোতলের ব্যবস্থা ছিল পর্যাপ্ত। মসজিদে প্রবেশ ও বের হওয়ার পথগুলো সুনির্দিষ্ট গেটের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। বৃদ্ধ ও শারীরিকভাবে অক্ষম ব্যক্তিদের জন্য আলাদা প্রবেশপথ এবং তানকল অ্যাপের মাধ্যমে ইলেকট্রিক ও ম্যানুয়াল কার্ট বা হুইলচেয়ারের ব্যবস্থা ছিল। ডিজিটাল স্ক্রিনে বিভিন্ন ভাষায় নির্দেশনার পাশাপাশি ফিল্ড রেসপন্স টিমগুলো যেকোনো প্রয়োজনে পর্যটকদের তাৎক্ষণিক সহায়তা প্রদান করেছে। মসজিদের শব্দ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, এসির শীতলীকরণ, ভেন্টিলেশন এবং আলোর ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ সচল রাখা হয়েছিল। এছাড়া এসকেলেটর, লিফট ও জরুরি উদ্ধার ব্যবস্থার সার্বক্ষণিক তদারকি নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। সূত্র : সৌদি গেজেট

ভারতের পর এবার পাকিস্তানকে হ্রাসকৃত মূল্যে জ্বালানি তেল বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছে রাশিয়া। পাকিস্তানে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত অ্যালবার্ট খোরেভ গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, ইসলামাবাদকে হ্রাসকৃত মূল্যে জ্বালানি তেল দিতে রাজি আছে মস্কো। ইসলামাবাদে আয়োজিত সেই সংবাদ সম্মেলনে খোরেভ বলেন, ইসলামাবাদ যদি আনুষ্ঠানিকভাবে আগ্রহ প্রকাশ করে, তাহলে পাকিস্তানের কাছে হ্রাসকৃত মূল্যে তেল বিক্রি করবে রাশিয়া। রুশ রাষ্ট্রদূত জোর দিয়ে বলেন, দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হলো জ্বালানি খাত এবং এই খাতের যেকোনো অগ্রগতি ইসলামাবাদের উদ্যোগ গ্রহণের ওপর নির্ভর করবে। রাষ্ট্রদূত জোর দিয়ে বলেন যে, জ্বালানি খাতই দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ এবং এই খাতে যেকোনো অগ্রগতি ইসলামাবাদের উদ্যোগ গ্রহণের ওপর নির্ভর করবে। বিজ্ঞাপন প্রসঙ্গত, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ এবং তার জেরে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য রুট হরমুজ প্রণালিতে ইরান অবরোধ আরোপ করায় অন্য অনেক দেশের মতো পাকিস্তানও ভোগান্তিতে পড়েছে। কারণ, দেশটি জ্বালানি তেলের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর ওপর নির্ভরশীল এবং হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ থাকার কারণে জ্বালানির নতুন চালান আসতে পারছে না। এ কারণে ইতোমধ্যে সাধারণ ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেলের দাম ২০ শতাংশ বাড়াতে বাধ্য হয়েছে পাকিস্তানের সরকার। সংবাদ সম্মেলনে খোরেভ বলেন, ইরানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সামরিক পদক্ষেপ বিশ্বকে হতবাক করে দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘জটিল ও অপ্রত্যাশিত’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বর্তমান উত্তেজনা কখন ও কীভাবে শেষ হবে— তা বলা কঠিন।” সূত্র : জিও নিউজ

সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বহাল করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের দেওয়া রায় প্রকাশ করা হয়েছে। রোববার (১৫ মার্চ) সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ৭৪ পৃষ্ঠার এ রায় প্রকাশ করা হয়। তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ রায়টি লিখেছেন। এর আগে গত ২০ নভেম্বর আপিল বিভাগ এ রায় দেন। এই রায়ের ফলে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার বিধান আবার ফিরলো। এ–সংক্রান্ত বিধান পুনরুজ্জীবিত হলেও এখনই তা কার্যকর হচ্ছে না। জাতীয় সংসদের চতুর্দশ নির্বাচন থেকে তা প্রয়োগ হতে পারে। প্রায় তিন দশক আগে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী আইনের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছিল। এ–সংক্রান্ত বিধান পুনরুজ্জীবিত করে রায় দিয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। আইনজীবীরা বলছেন, এ রায়ের ফলে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার বিধান পুনর্বহাল হলো। যাতে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথ প্রশস্ত হবে। ত্রয়োদশ সংশোধনী আইনকে সংবিধান পরিপন্থী ও বাতিল ঘোষণা করে ১৪ বছর আগে আপিল বিভাগ রায় দিয়েছিলেন। সেই রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল মঞ্জুর এবং এ-সংক্রান্ত রিভিউ (পুনর্বিবেচনা) আবেদন নিষ্পত্তি করে ২০ নভেম্বর। তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের আপিল বিভাগ সর্বসম্মতিতে এ রায় দেন। ওইদিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে প্রধান বিচারপতি ও অপর ছয় বিচারপতি এজলাসে আসেন। আসন গ্রহণের পর রায়ের সংক্ষিপ্ত আদেশ ঘোষণা করেন প্রধান বিচারপতি। বেঞ্চের অপর ছয় সদস্য হলেন বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম, বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী (বর্তমান প্রধান বিচারপতি), বিচারপতি মো. রেজাউল হক, বিচারপতি এস এম এমদাদুল হক, বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি ফারাহ মাহবুব। রায়ে বলা হয়, সর্বসম্মতিতে আপিলগুলো মঞ্জুর করা হলো, সে আলোকে রিভিউ আবেদনগুলো নিষ্পত্তি করা হলো। নথিদৃষ্টে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে আপিল বিভাগের রায়টি (২০১১ সালের রায়) একাধিক ক্রটিপূর্ণ। অতএব পর্যালোচনাধীন রায়টি (২০১১ সালের রায়) সম্পূর্ণরূপে বাতিল করা হলো। ১৯৯৬ সালের ত্রয়োদশ সংশোধন আইনের ধারা ৩ দিয়ে সন্নিবেশিত হওয়া সংবিধানের চতুর্থ ভাগের পরিচ্ছেদ ‘২ক পরিচ্ছেদ-নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার’ সম্পর্কিত বিধানাবলি এ রায়ের মাধ্যমে পুনরুজ্জীবিত ও সক্রিয় করা হলো বলে আপিল বিভাগ উল্লেখ করেন। রায়ে আরও বলা হয়, এরূপ পুনরুজ্জীবন ‘পরিচ্ছেদ ২ক’–এ উল্লেখিত নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার-সংক্রান্ত বিধানাবলির স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুনর্বহাল নিশ্চিত করে। তবে পুনরুজ্জীবিত অনুচ্ছেদ ৫৮খ(১) এবং অনুচ্ছেদ ৫৮গ(২)–এর বিধানের প্রয়োগ সাপেক্ষে তা কার্যকর হবে। পুনর্বহাল ও পুনরুজ্জীবিত ‘পরিচ্ছেদ ২ক’–এ উল্লেখিত নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারসংক্রান্ত বিধানাবলি কেবল ভবিষ্যৎ প্রয়োগযোগ্যতার ভিত্তিতে কার্যকর হবে।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাচ্ছে তেহরান। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র তার নাগরিকদের কমপক্ষে ১২টি দেশ থেকে নিরাপদে সরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। বাগদাদের মার্কিন দূতাবাস ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর দেশটিতে থাকা মার্কিন নাগরিকদের অতি দ্রুত ইরাক ছাড়তে বলা হয়েছে। খবর বিবিসির। পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে হামলা অব্যাহত আছে এবং ড্রোন হামলার শিকার হওয়ার পর সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দরে এখনো আগুন জ্বলছে। এদিকে আজ ভোরে ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলোকে আকাশেই প্রতিরোধ বা ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী। জরুরি সেবা সংস্থাগুলো বলছে, এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্য ছিল ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চল। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত এই হামলায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। মার্কিন নাগরিকদের বিভিন্ন দেশ ছাড়ার নির্দেশ বাগদাদে মার্কিন দূতাবাস তাদের নাগরিকদের দেশটি ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য নতুন করে সতর্কতা জারি করেছে। শনিবার একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর ইরাকে থাকা তাদের নাগরিকদের সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দূতাবাসের সতর্ক বার্তায় নাগরিকদের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে, এখনই ইরাক ছেড়ে যাওয়া উচিত। তারা আরও লিখেছে, যারা ইরাকে থাকতেই চাইছেন, তাদের অত্যন্ত সতর্ক হতে হবে, কারণ ইরানের সঙ্গে যুক্ত থাকা মিলিশিয়া গোষ্ঠীর কারণে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ইরান যখন মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাচ্ছে, তখন যুক্তরাষ্ট্র তার নাগরিকদের আরও কমপক্ষে ১২টি দেশের বাইরে চলে যেতে বলেছে। শনিবার যুক্তরাষ্ট্র সরকার জানিয়েছে, ওমান থেকে জরুরি নয়, এমন সব সরকারি কর্মচারী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদেরও দেশে ফেরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রথম এবং দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সঙ্গে বেশ ভালো একটি মিল রয়েছে। দু’দলই একবার করে অলআউট হয়েছিল ১১৪ রানে। প্রতিবারই পরাজিতের কাতারে থেকেছে ১১৪ রান করা দলটি। একটি পাকিস্তান এবং অন্য দলটি বাংলাদেশ। তিন ম্যাচ সিরিজের শেষ ম্যাচটি আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। যেটি অঘোষিত ফাইনাল। জিতলেই সিরিজ নিজেদের করে নেবে বিজয়ী দল। সে লক্ষ্যে এরই মধ্যে টস করতে নেমেছে বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানের দুই অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ ও শাহিন শাহ আফ্রিদি। টস জিতলেন পাকিস্তান অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি। টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন পাকিস্তান অধিনায়ক শাহিন আফ্রিদি।

নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং সংসদে বেসরকারি সদস্যদের বিল ও বেসরকারি সদস্যদের সিদ্ধান্ত প্রস্তাব সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি মো. শাহজাহান বলেছেন, রোগীর চিকিৎসা দেবে ডাক্তার। মানুষের হায়াত-মউত আল্লাহর হাতে। তবে কোথাও কোনো হাসপাতালে রোগী মারা গেলে মব সৃষ্টি করা যাবে না। শুক্রবার (১৩ মার্চ) নোয়াখালীতে প্রাইভেট হাসপাতাল এবং ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশনের নতুন কমিটির পরিচিতি সভা ও ইফতার অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন। মো. শাহজাহান বলেন বলেন, বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা খাতের মানোন্নয়ন এবং রোগীদের সঠিক সেবা নিশ্চিত করতে নবগঠিত এ কমিটিকে দায়িত্ব নিতে হবে। প্রতিটি হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের মাধ্যমে জনগণের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে হবে। অনুষ্ঠানে অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক মো. সহিদুল ইসলাম সাঈদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব হারুন রশিদ আজাদ, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এবিএম জাকারিয়া, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুর রহমান। এসময় জেলা বিএনপি সদস্য ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম কিরণ, ড্যাবের সভাপতি ডা. সাইফুল ইসলাম, ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের (এনডিএফ) সভাপতি ডা. সোহরাব ফারুকী, প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশনের নতুন সদস্য সচিব মিজানুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে হামলার ৪০তম ধাপ শুরু করেছে ইরান। দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, এই হামলায় ইসরায়েল এবং অঞ্চলে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করা হয়েছে। ইরানের সামরিক কমান্ড ‘খাতাম আল-আনবিয়া’ এক বিবৃতিতে জানায়, এ অভিযানে ড্রোন ও বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। এর মধ্যে কাদের, এমাদ, খেইবার শেকান ও ফাত্তাহ ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। ইরানের দাবি, এসব ক্ষেপণাস্ত্র তেলআবিব, জেরুজালেম ও হাইফাসহ ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থানে নিক্ষেপ করা হয়েছে। পাশাপাশি জর্ডানের আল-আজরাক এবং সৌদি আরবের আল-খারজে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাও লক্ষ্যবস্তু ছিল। এদিকে উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করেছে। কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা আটটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং কয়েকটি ড্রোন প্রতিহত করেছে। একটি ক্ষেপণাস্ত্র জনবসতিহীন এলাকায় পড়ে। সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে একটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। অন্যদিকে কুয়েতের সেনাবাহিনী বলেছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মোকাবিলা করছে।

মিরপুরের উইকেট কেমন হবে—বাংলাদেশ-পাকিস্তান সিরিজ শুরুর আগেই এটা নিয়ে চলতে থাকে আলাপ-আলোচনা। ব্যাটারদের বধ্যভূমি নামে পরিচিত এই উইকেটে রীতিমতো বোলারদের রাজত্ব দেখা যায়। আজ সিরিজের প্রথম ওয়ানডের প্রথম ইনিংসে দেখা গেল তেমন কিছুই। তবে এখানে উইকেটের যতটা না দায়, তার চেয়ে বেশি কৃতিত্ব বাংলাদেশের বোলারদের। আর বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে লজ্জার রেকর্ডে নাম লিখিয়েছে পাকিস্তান। পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে দিয়েই বছরের প্রথম আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে নামছে বাংলাদেশ। মিরপুরে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় টাইগার অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। প্রথমে ব্যাটিং পেয়ে পাকিস্তান শুরুটা ধীরস্থিরভাবে করলেও পরে হঠাৎ হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে পাকিস্তান। মাত্র ৭৩ রানেই শেষ ১০ উইকেট হারিয়ে ১১৪ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তান। ওয়ানডেতে এটাই বাংলাদেশের বিপক্ষে পাকিস্তানের সবচেয়ে কম রানে অলআউট হওয়ার রেকর্ড। এর আগে নর্দাম্পটনে ১৯৯৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে ১৬১ রানে অলআউট করেছিল বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে বাংলাদেশ পেয়েছিল ৬১ রানের জয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দল-মত নির্বিশেষে তিনি দেশের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করছেন। প্রতিটি পরিবারকে স্বনির্ভর করাই বিএনপির লক্ষ্য। এভাবে বিএনপি স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে চায় বলেন তিনি। তিনি এতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন। স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ায় কোনো বিরোধ থাকতে পারে না, বিরোধ নেই বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী ওই কথা বলেন। এর আগে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের পর বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১১টার কিছু আগে বক্তব্য শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি ১৯৭১ সাল থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত আন্দোলন, সংগ্রামে সব শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তারেক রহমান বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন। স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদের সঙ্গে আপস করেননি। তিনি খালেদা জিয়ার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবির পুরোনো বিমানবন্দরে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। আকাশে অজ্ঞাত বস্তু প্রতিহত করার সময় তার ধ্বংসাবশেষ পড়ে এই আগুনের ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আবুধাবি মিডিয়া অফিস এক বিবৃতিতে জানায়, জরুরি সেবা দলের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং এলাকা নিরাপদ করেন। এদিকে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি বন্দরের আশপাশে বসবাসকারী ও কর্মরত মানুষকে সতর্ক থাকতে বলেছেন। তার দাবি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলি, খলিফা ও পোর্ট রশিদ বন্দর এবং বাহরাইনের খলিফা বিন সালমান বন্দরের কিছু বেসামরিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রম চলছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেছেন।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মাঝপথে ভারতের তারকা ক্রিকেটার রিংকু সিং তার বাবাকে হারান। ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান খানচাঁদ সিং। তার মৃত্যু শোক নিয়েই বিশ্বকাপে খেলে গেছেন এই ব্যাটার। এবার শোকাহত হৃদয় নিয়ে ফাইনাল খেললেন ভারতের আরেক তারকা– ইশান কিষাণ। ফাইনালের দুই দিন আগে পরিবারের দুই সদসদ্যকে হারিয়েছেন ভারতের এই ব্যাটার। তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় রাতে তাই শোকের সঙ্গেও লড়তে হয়েছে তাকে। এবং তিনি সফল। ব্যাট হাতে ২৫ বলে ৫৪ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেছেন তিনি। ফিল্ডিংয়ে দারুণ অবদান রাখেন তিনটি দুর্দান্ত ক্যাচ নিয়ে। নিউজিল্যান্ডকে ৯৬ রানে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিতে মাঠে যখন উদযাপন করছিলেন ক্রিকেটাররা, তখন ইশানের চোখেমুখে আনন্দের সঙ্গে বিষাদের ছায়া। তার মামাতো বোন ও ভগ্নিপতি একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার সময় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন। ইশানের বাবা প্রণভ পান্ডে ছেলের ফাইনালের ট্রেনিং ও ম্যাচ দেখতে আহমেদাবাদে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এজন্য পাটনা বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তাকে শিলিগুঁড়ি চলে যেতে হয়। যখন আহমেদাবাদের পথে থাকার কথা, দুই আত্মীয়ের মরদেহ নিতে তখন মর্গের সামনে অপেক্ষা করছিলেন তিনি। ম্যাচের আগ দিয়ে প্রণবের উদ্ধৃতি দিয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়া লেখে, ‘আমাদের সর্বনাশ হয়ে গেছে। আমরা খুবই বড় সমস্যায় আছি। আমরা সবাই হতভম্ব। ইশান আমাদের সঙ্গে আসতে চেয়েছিল। কিন্তু ফাইনালের কারণে আসেনি। সে সত্যিই বিমর্ষ।’ আবেগের সঙ্গে সংগ্রাম করতে থাকা ইশান যখন ফিফটি করলেন, তখন ড্রেসিং রুমের দিকে ব্যাট তাক করে উদযাপন করলেন, তারপর আকাশের দিকে, যেটা সাধারণত দেখা যায় না। হয়তো ঝলমলে ইনিংস তার বোন ও ভগ্নিপতিকে উৎসর্গ করলেন!

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছেলের নাম মোজতবা খামেনির নাম ঘোষণা করা হয়েছে। ফক্স নিউজের উপস্থাপক ব্রায়ান কিলমিড বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে বলেছেন, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনিকে নির্বাচিত করার ব্যাপারে ‘আমি খুশি নই’। তবে ট্রাম্প এখনো এই পদক্ষেপ সম্পর্কে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি। এর দ্য টাইমস অফ ইসরায়েল জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতার নিয়োগ নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি কেবল বলেছেন, আমরা দেখব কী হয়। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম বলছে, ট্রাম্প বলেছেন যে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে তিনি নেতানিয়াহুর সঙ্গে ‘পারস্পরিক’ সিদ্ধান্ত নেবেন। তিনি বলেন, আমি মনে করি এটি পারস্পরিক... কিছুটা। আমরা কথা বলছি। আমি সঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত নেব, তবে সবকিছু বিবেচনায় নেওয়া হবে। ট্রাম্প ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হার্জগকে দুর্নীতির অভিযোগে বিচারাধীন নেতানিয়াহুকে ক্ষমা করার জন্যও অনুরোধ করেছেন। নেতানিয়াহুর ডাকনাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিবি নেতানিয়াহুকে অবিলম্বে ক্ষমা করা উচিত। আমি মনে করি (হার্জোগ) তা না করে একটি ভয়াবহ কাজ করছেন। আমরা চাই বিবি যুদ্ধের দিকে মনোনিবেশ করুক, হাস্যকর ক্ষমার দিকে নয়। রোববার ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দেশটির প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনির নাম ঘোষণা করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের যৌথ হামলায় গত সপ্তাহে নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি এমন এক সময় এই বিশাল দায়িত্বভার কাঁধে নিলেন যখন দেশটি ৪৭ বছরের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের আবহাওয়া পরিস্থিতিতে পরিবর্তনের আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এরই ধারাবাহিকতায় সারাদেশে বজ্রসহ বৃষ্টির আভাস দিয়েছে সংস্থাটি। আজ (সোমবার) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ খোঃ হাফিজুর রহমানের দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়। আবহাওয়া অফিস জানায়, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। আগামীকাল (মঙ্গলবার) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। বুধবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

সৌদি আরব সতর্কবার্তা দেওয়ার পরেও দেশটির অন্যতম বৃহৎ তেলের খনি শায়েবাহ অয়েলফিল্ড-কে লক্ষ্য করে ফের ড্রোন হামলা করেছে ইরান। আজ সোমবার ভোরের দিকে সৌদির শায়েবাহ তেলখনি লক্ষ্য করে ৪টি বিস্ফোরকবাহী ড্রোন ছুড়েছে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী। অবশ্য তেলখনিতে আঘাত হানার আগেই এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের মাধ্যমে সেসব ড্রোন ধ্বংস করে ফেলতে সক্ষম হয়েছে সৌদি। দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীর বিবৃতিতে নিশ্চিত করা হয়েছে এসব তথ্য। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান মিত্র সৌদি আরব। দেশটিতে একাধিক মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ বাঁধার পর গত ৯ দিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র আরব দেশগুলোর মার্কিন সেনাঘাঁটি, স্থাপনা ও তেল স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে একের পর এক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে ইরান। ৯ দিনে ৩ বার শায়েবাহ তেলখনি লক্ষ্য করে হামলার পর গতকাল রোববার ইরানকে কড়া সতর্কবার্তা দেয় সৌদি আরব। এক বিবৃতিতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ইরান যদি প্রতিবেশী দেশগুলোর তেল অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা অব্যাহত রাখে, তাহলে চলমান যুদ্ধে দেশটির সর্বোচ্চ পরাজয় ঘটবে। এই সতর্কবার্তা দেওয়ার পর ২৪ ঘণ্টা পেরোনোর আগেই চতুর্থবারের মতো শায়েবাহ তেলখনিতে হামলা করল ইরান। সূত্র : আলজাজিরা

শিশুদের অনলাইন ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দিতে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে ইন্দোনেশিয়া সরকার। ২৮ মার্চ থেকে ধাপে ধাপে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হবে। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে শিশু-কিশোরদের অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করা হবে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দেশটির যোগাযোগ ও ডিজিটালবিষয়ক মন্ত্রী মুত্যা হাফিদ। প্রাথমিকভাবে যেসব প্ল্যাটফর্মে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হবে তার মধ্যে রয়েছে ইউটিউব, টিকটক, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, থ্রেডস, এক্স, বিগো লাইভ এবং রোবলক্স। মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে অনেক শিশু পর্নোগ্রাফি, সাইবার বুলিং, অনলাইন প্রতারণা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্তির মতো ঝুঁকির মুখে পড়ছে। অ্যালগরিদমভিত্তিক বড় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে এই অসম লড়াইয়ে অভিভাবকদের একা না রেখে সহায়তা করতেই সরকার এই উদ্যোগ নিয়েছে। ইউনিসেফ–এর এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির প্রায় অর্ধেক শিশু কোনো না কোনোভাবে অনলাইনে যৌনধর্মী কনটেন্টের মুখোমুখি হয়েছে। সরকারের এ সিদ্ধান্তকে অনেক কর্মজীবী অভিভাবক স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, সন্তানদের অনলাইন কার্যক্রম সব সময় পর্যবেক্ষণ করা কঠিন হওয়ায় এই নিয়ম তাদের দুশ্চিন্তা কিছুটা কমাবে। তবে কিছু কিশোর মনে করছে, সব প্ল্যাটফর্ম পুরোপুরি বন্ধ না করে বিকল্প ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারত। তাদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বর্তমানে তরুণদের বিনোদনের বড় অংশ হওয়ায় টেলিভিশনে মানসম্মত ও শিক্ষামূলক অনুষ্ঠানের সুযোগও বাড়ানো প্রয়োজন। নীতি গবেষক ও অধিকারকর্মীরা বলছেন, শুধু বয়সসীমা নির্ধারণ করলেই সমস্যা পুরোপুরি সমাধান হবে না। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও শক্ত নীতিমালা ও সুরক্ষা ব্যবস্থা প্রয়োজন। এর আগে গত ডিসেম্বরে অস্ট্রেলিয়া শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা আরোপ করে। একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে স্পেন এবং এ বিষয়ে জনমত সংগ্রহ শুরু করেছে যুক্তরাজ্য সরকার।

৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। বিশ্বব্যাপী নারীর অধিকার, মর্যাদা ও সমতার দাবিকে সামনে এনে উদযাপিত হয় এই দিনটি। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিবসটি উপলক্ষে র্যালি, আলোচনা সভা, মানববন্ধন, সেমিনার এবং গণমাধ্যমে বিশেষ আয়োজন করা হয়। এই দিবসের মাধ্যমে নারীর অধিকার, নিরাপত্তা ও সামাজিক মর্যাদা নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা সামনে আসে। অনেক সংগঠন নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ, অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণের দাবি তুলে ধরে। তবে নারী দিবসকে কেন্দ্র করে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও আলোচিত হয়—ইসলাম নারীর মর্যাদা ও অধিকার সম্পর্কে কী দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করেছে। বিজ্ঞাপন নারী দিবসের ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এর সূচনা ঘটে শ্রমজীবী নারীদের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। ১৮৫৭ সালের ৮ মার্চ নিউইয়র্কের একটি সেলাই কারখানার নারী শ্রমিকরা অমানবিক কর্মপরিবেশ, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা এবং কম মজুরির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন। তাদের এই আন্দোলন পরবর্তীতে নারীর অধিকার আন্দোলনের ভিত্তি তৈরি করে। এরপর ১৯১০ সালে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সমাজতান্ত্রিক নারী সম্মেলনে জার্মান সমাজতান্ত্রিক নেত্রী ক্লারা জেটকিন ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালনের প্রস্তাব দেন। পরবর্তীতে জাতিসংঘ ১৯৭৫ সাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দিবসটি উদযাপন শুরু করে। তখন থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এটি নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতীক হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। তবে ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি বিবেচনা করলে দেখা যায়, নারী অধিকার প্রতিষ্ঠার ধারণা আধুনিক যুগে সৃষ্টি হয়নি। বরং প্রায় পনেরো শত বছর আগে ইসলাম নারীর সম্মান ও অধিকার নিশ্চিত করেছে। ইসলামের আবির্ভাবের পূর্বে পৃথিবীর বিভিন্ন সমাজে নারীর অবস্থা ছিল অত্যন্ত করুণ। বিশেষত আরবের জাহেলি যুগে নারীদের প্রতি অবমাননাকর আচরণ করা হতো। কন্যাসন্তান জন্মগ্রহণকে লজ্জাজনক মনে করা হতো এবং অনেক ক্ষেত্রে জীবন্ত কন্যাশিশুকে মাটিতে পুঁতে ফেলার মতো নিষ্ঠুর ঘটনাও ঘটত। নারীদের উত্তরাধিকার বা সম্পত্তির অধিকার ছিল না। তারা ছিল সামাজিকভাবে অবহেলিত ও নির্যাতিত। শুধু আরব সমাজেই নয়, পৃথিবীর অনেক সভ্যতায় নারীর মর্যাদা প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। কিছু ধর্মীয় ও সামাজিক মতবাদে নারীকে পাপের উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হতো। অনেক ক্ষেত্রে নারীকে কেবল ভোগের বস্তু হিসেবে দেখা হতো এবং তাদের মানবিক মর্যাদা অস্বীকার করা হতো। এমন একটি অন্ধকারাচ্ছন্ন সমাজব্যবস্থার মধ্যে ইসলাম আবির্ভূত হয়ে নারীর সম্মান, মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠা করে। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) মানবজাতির জন্য যে জীবনব্যবস্থা উপস্থাপন করেছেন, তার মধ্যে নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য ন্যায় ও ভারসাম্যপূর্ণ অধিকার নির্ধারণ করা হয়েছে। ইসলাম মানুষের মৌলিক মর্যাদাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। আল্লাহ তাআলা মানুষকে সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব হিসেবে মর্যাদা দিয়েছেন এবং নারী-পুরুষ উভয়ই এই মর্যাদার অংশীদার। মানব সমাজ নারী ও পুরুষের সম্মিলিত অস্তিত্বের ওপর প্রতিষ্ঠিত। একে অপরের পরিপূরক হিসেবেই তারা পৃথিবীতে জীবনযাপন করে। নারী ছাড়া পুরুষের কিংবা পুরুষ ছাড়া নারীর অস্তিত্ব ও সামাজিক কাঠামো কল্পনা করা যায় না। তাই ইসলাম নারীকে সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ইসলাম পরিবারকে কেন্দ্রীয় গুরুত্ব দিয়েছে। একজন নারী মা হিসেবে যে মর্যাদা লাভ করেন তা ইসলামে অত্যন্ত উচ্চ। হাদিসে বর্ণিত আছে, ‘মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের জান্নাত।’ এই বক্তব্যের মাধ্যমে মায়ের সম্মান ও মর্যাদা কতটা উচ্চ তা স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। কোরআনেও মায়ের কষ্ট ও ত্যাগের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। সন্তানকে গর্ভধারণ, জন্মদান ও লালন-পালনের কঠিন দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে আল্লাহ তাআলা সন্তানদের পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণের নির্দেশ দিয়েছেন। স্ত্রী হিসেবে নারীর অধিকারও ইসলাম সুস্পষ্টভাবে নির্ধারণ করেছে। ইসলামে বিবাহের সময় স্বামীর ওপর স্ত্রীকে মোহরানা প্রদান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এটি নারীর আর্থিক নিরাপত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। কোরআনে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, স্বামীরা যেন আনন্দের সাথে তাদের স্ত্রীদের মোহর প্রদান করে। এর মাধ্যমে ইসলাম নারীর সম্মান ও স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্বকে স্বীকৃতি দিয়েছে। ইসলামে নারীর অর্থনৈতিক অধিকারও নিশ্চিত করা হয়েছে। নারী নিজের সম্পদের মালিক হতে পারে এবং সে তার সম্পদ স্বাধীনভাবে ব্যবহার করার অধিকার রাখে। একইভাবে উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রেও নারীর নির্দিষ্ট অংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। ইসলামের আগের সমাজে যেখানে নারীরা উত্তরাধিকার থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত ছিল, সেখানে ইসলাম তাদের জন্য সুস্পষ্ট অংশ নির্ধারণ করে দিয়েছে। এটি নারীর আর্থিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এছাড়া ইসলাম কন্যাসন্তানকে অবহেলা করার পরিবর্তে তাদের লালন-পালনের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। মহানবী (সা.) বলেছেন, যার তিনটি কন্যাসন্তান আছে এবং সে তাদের সঠিকভাবে লালন-পালন করে, তাদের প্রতি সদয় আচরণ করে, তার জন্য জান্নাত অবধারিত। এই শিক্ষা সমাজে কন্যাসন্তানের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করেছে এবং নারীর সম্মানকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ইসলাম নারীর ইজ্জত ও সম্মান রক্ষার জন্য পর্দার বিধান প্রবর্তন করেছে। কোরআনে নারী ও পুরুষ উভয়কেই দৃষ্টি সংযত রাখা এবং পবিত্রতা রক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পর্দা মূলত নারীর নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষার একটি সামাজিক ব্যবস্থা। এটি নারীকে বন্দি করার জন্য নয়, বরং তাকে সম্মান ও সুরক্ষা দেওয়ার জন্য প্রণীত। ইসলাম নারীদের প্রয়োজনের ক্ষেত্রে সমাজে অংশগ্রহণের অনুমতিও দিয়েছে, তবে তা শালীনতা ও নৈতিকতার সীমার মধ্যে থেকে। ইসলাম নারী-পুরুষের অধিকারকে সম্পূর্ণ সমান করে দেখেনি; বরং তাদের স্বভাব, দায়িত্ব ও সামাজিক ভূমিকার ভিত্তিতে ভারসাম্যপূর্ণ অধিকার নির্ধারণ করেছে। কিছু ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের অধিকার সমান, আবার কিছু ক্ষেত্রে ভিন্ন। তবে এই পার্থক্য কোনোভাবেই নারীর মর্যাদা হ্রাস করে না; বরং এটি সমাজের ভারসাম্য রক্ষার জন্য নির্ধারিত হয়েছে। মহানবী (সা.) নারীদের সাথে সদাচরণ করার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম, যে তার স্ত্রীর কাছে উত্তম।’ এই হাদিস থেকে বোঝা যায় যে, পারিবারিক জীবনে নারীর প্রতি সদ্ব্যবহার ইসলাম অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে। নারী দিবস বছরে একদিন নারীর অধিকার ও মর্যাদার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। কিন্তু ইসলাম নারীর সম্মানকে কোনো নির্দিষ্ট দিবসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেনি। বরং ইসলামের জীবনব্যবস্থা নারীকে প্রতিদিন, প্রতিটি অবস্থায় সম্মান ও মর্যাদা প্রদান করেছে। একজন নারী মাতা, কন্যা, স্ত্রী বা সমাজের সদস্য—সব অবস্থাতেই ইসলাম তাকে যথাযথ মর্যাদা দিয়েছে। নারীর প্রকৃত সম্মান ও অধিকার নিশ্চিত করতে হলে ইসলামের নির্দেশনাকে সঠিকভাবে বুঝতে হবে এবং তা বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করতে হবে। ইসলাম সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে অনেক সময় নারীর অধিকার নিয়ে ভুল ধারণা তৈরি হয়। তাই সমাজের সবাইকে সচেতন হয়ে ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা তুলে ধরতে হবে, যাতে নারী তার প্রকৃত মর্যাদা ও সম্মান লাভ করতে পারে। নারীর অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা কেবল একটি দিবস পালনের মাধ্যমে সম্ভব নয়; বরং এটি একটি অব্যাহত সামাজিক দায়িত্ব। ইসলাম এই দায়িত্ব পালনের জন্য একটি ন্যায়ভিত্তিক ও ভারসাম্যপূর্ণ পথ নির্দেশ করেছে, যা অনুসরণ করলে নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্য একটি সম্মানজনক ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

ইরানের ১৬টি যুদ্ধবিমান ধ্বংস করার দাবি করেছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। আজ রোববার এক বিবৃতিতে আইডিএফ জানিয়েছে, ধ্বংস হওয়া বিমানগুলো ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর কুদস বাহিনীর। গতকাল শনিবার রাতে ইরানের মেহরাবাদ বিমানবন্দরে অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলের বিমানবাহিনী (আইএএফ)। সেই অভিযানেই বিমনগুলো ধ্বংস হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে বিবৃতিতে। এ প্রসঙ্গে ইরান কিংবা আইআরজিসির পক্ষ থেকে এখনও কোনো দাপ্তরিক প্রতিক্রিয়া আসেনি। কুদস বাহিনী বা কুদস ব্রিগেড আইআরজিসির বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্রিগেড। নিয়মিত নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা দায়িত্বের পাশপাাশি হিজবুল্লাহ, হামাস-সহ মধ্যপ্রাচ্যে সক্রিয় সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র ও রসদ সরবরাহ করাও কুদস ফোর্সের বিশেষ দায়িত্ব। মেহরাবাদ বিমানবন্দরটিও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি কেবল কুদস ব্রিগেডের ব্যবহারের জন্য এবং এই বিমানবন্দর দিয়েই সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠীকে অস্ত্র ও রসদ সহায়তা প্রদান করে কুদস ফোর্স। ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে সংলাপ চলে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে। ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো প্রকার সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই শেষ হয় সেই সংলাপ। তার পরের দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই সময়ে ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েলও। যুদ্ধের গত ৮ দিনে ইরানের নৌবাহিনীর বেশ কয়েকটি যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করেছে যুক্তরাষ্ট্র। আর ইসরায়েল মনোযোগ দিয়েছে ইরানের বিমানবাহিনীর দিকে। সূত্র : এএফপি

মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। শনিবার (৭ মার্চ) ২০টিসহ গত সাত দিনে বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের মোট ২৬৮টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সূত্র ঢাকা পোস্টকে জানায়, যুদ্ধপরিস্থিতিতে আকাশপথ বন্ধের কারণে ঢাকা থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২৩টি, ১ মার্চ ৪০টি ফ্লাইট, ২ মার্চ ৪৬টি এবং ৩ মার্চ ৩৯টি, ৪ মার্চ ২৮টি, ৫ মার্চ ৩৬টি ও ৬ মার্চ ৩৪টি ফ্লাইট বাতিল হয়। শনিবার (আজ) বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে—কুয়েত ২টি, জাজিরা (কুয়েত) ২টি, এয়ার অ্যারাবিয়া (শারজাহ, ইউএই) ৬টি, কাতার ৪টি, গালফ এয়ার (বাহরাইন) ২টি, এমিরেটস এয়ারলাইনস (সংযুক্ত আরব আমিরাত) ৪টি সহ মোট ২০টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত সর্বমোট বাতিল করা ফ্লাইট ২৪৫টি।

ইরানের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য হামলার অজুহাতে টানা অষ্টম দিনের মতো অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে পবিত্র আল-আকসা মসজিদ। শুক্রবার, ৬ মার্চ রমজানের তৃতীয় জুমার নামাজ আদায়ে ফিলিস্তিনিদের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা ছিল ইসরায়েলি পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে। জেরুজালেম গভর্নরেট ও ইসরায়েলি পুলিশ জানিয়েছে, জরুরি অবস্থা এবং ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, আল-আকসা প্রাঙ্গণ জনমানবহীন পড়ে আছে। ভোরের আজান ধ্বনিত হলেও সেখানে কোনো মুসল্লিকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। সূর্যোদয়ের পর আল-আকসার বিশাল চত্বর পুরোপুরি খালি পড়ে থাকার দৃশ্য ফিলিস্তিনিদের মনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। এর আগে রমজানের প্রথম ও দ্বিতীয় জুমায় কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল দখলদার বাহিনী। সে সময় পশ্চিম তীরের পুরুষদের ক্ষেত্রে ৫৫ বছর এবং নারীদের ক্ষেত্রে ৫০ বছর বয়সসীমা নির্ধারণ করে মাত্র ১০ হাজার মানুষকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এবার ইরান-সংঘাতকে সামনে এনে পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে পবিত্র এই মসজিদ। এই পদক্ষেপকে শতাব্দীর সেরা প্রতারণা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি আন্দোলনকর্মীরা। তাদের দাবি, ইসরায়েল মূলত আল-আকসা বন্ধ করার একটি উছিলা খুঁজছিল এবং এখন ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ভয় দেখিয়ে সেই কাজটিই করছে। অথচ জেরুজালেমের ভেতরে কট্টরপন্থি ইহুদিদের ধর্মীয় স্কুল বা তালমুদীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ঠিকই খোলা রাখা হয়েছে। সেখানে নিয়মিত উৎসব ও জমায়েত চলছে। ফিলিস্তিনিদের প্রশ্ন, ক্ষেপণাস্ত্রের ভয় কি শুধু মুসলমানদের জন্য? নাকি ইসরায়েলিদের শরীরে রকেট প্রতিরোধক কোনো বিশেষ ক্ষমতা আছে? নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ফিলিস্তিনি নাগরিক বলেন, এটি নেতানিয়াহুর একটি সুপরিকল্পিত মিডিয়া গেম। নিরাপত্তার কথা বলে তারা আসলে আল-আকসাকে মুসল্লিশূন্য করে সেখানে দীর্ঘমেয়াদী নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চায়। এটি সাময়িক কোনো ব্যবস্থা নয়, বরং জেরুজালেমকে পুরোপুরি ইহুদিকরণের একটি অংশ। পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, রমজান মাসে তারাবিহ ও জুমার নামাজ বন্ধ করা শুধু নিরাপত্তা ইস্যু নয়, বরং এটি আল-আকসার ঐতিহাসিক স্থিতাবস্থা বা স্ট্যাটাস-কো পরিবর্তনের একটি গভীর ষড়যন্ত্র। ফিলিস্তিনি ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ফেব্রুয়ারি মাসের প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে যে, আল-আকসা ও ইব্রাহিমি মসজিদে ইসরায়েলি হামলার মাত্রা এখন অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। ফিলিস্তিনিদের মতে, আল-আকসাকে ঘিরে এই ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়া এখন অস্তিত্বের লড়াই হয়ে দাঁড়িয়েছে। দখলদারদের এই নরম যুদ্ধের বিরুদ্ধে সচেতনতা ও প্রতিবাদই এখন তাদের একমাত্র পথ। সূত্র : আল জাজিরা

আহমেদাবাদে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালের প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারত। টিম ম্যানেজমেন্ট ও ক্রিকেট বোর্ড সবকিছু তাদের পক্ষে রাখতে সম্ভাব্য সব ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। এমনকি কুসংস্কারকেও গুরুত্ব দিচ্ছে তারা। সম্প্রতি বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বকাপ চলাকালে দল যে শহরে খেলেছে, সেখানেই ভারতীয় সাপোর্ট স্টাফদের এক সদস্য মন্দিরে গিয়ে পূজা অর্চনা করেছেন। আর চন্দ্রগ্রহণের খারাপ প্রভাব কাটাতে সেমিফাইনালের আগে মুম্বাইয়ে তারা ৪৫ মিনিট দেরিতে ট্রেনিং সেশন শুরু করেছিল। সবশেষ আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে শিরোপা লড়াইয়ের আগে হোটেল বদলে ফেলল টিম ইন্ডিয়া, যেটি তাদের জন্য ‘অপয়া’ মনে করা হচ্ছে। দলীয় সূত্রে খবর, ফাইনালের আগে ভারতীয় ক্রিকেটাররা হোটেল বদল কেন করেছেন, তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যায়নি। তবে অতীতের কিছু অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতা নাকি এই সিদ্ধান্তের পেছনে কাজ করেছে। জানা গিয়েছে, ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে ও এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সুপার এইট পর্বে দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হওয়ার আগে একই হোটেলে ছিল ভারতীয় দল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে দুটি ম্যাচই হেরেছে তারা। সেই কারণেই ফাইনালের আগে ঝুঁকি নিতে নারাজ টিম ম্যানেজমেন্ট। আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামকে ঘিরেও নানা কুসংস্কার ছড়িয়ে পড়েছে ভারতীয় ক্রিকেটে। অনেকেই একে ভারতের জন্য ‘অপয়া’ মাঠ বলেও উল্লেখ করছেন। তবে সূর্যকুমার যাদবদের সামনে সুযোগ রয়েছে এই বদনাম মুছে দেওয়ার। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে ফাইনাল জিতে শিরোপা হাতে নিয়ে সেই তকমা ঝেড়ে ফেলার সুযোগ তাদের সামনে।

আহমেদাবাদে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালের প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারত। টিম ম্যানেজমেন্ট ও ক্রিকেট বোর্ড সবকিছু তাদের পক্ষে রাখতে সম্ভাব্য সব ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। এমনকি কুসংস্কারকেও গুরুত্ব দিচ্ছে তারা। সম্প্রতি বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বকাপ চলাকালে দল যে শহরে খেলেছে, সেখানেই ভারতীয় সাপোর্ট স্টাফদের এক সদস্য মন্দিরে গিয়ে পূজা অর্চনা করেছেন। আর চন্দ্রগ্রহণের খারাপ প্রভাব কাটাতে সেমিফাইনালের আগে মুম্বাইয়ে তারা ৪৫ মিনিট দেরিতে ট্রেনিং সেশন শুরু করেছিল। সবশেষ আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে শিরোপা লড়াইয়ের আগে হোটেল বদলে ফেলল টিম ইন্ডিয়া, যেটি তাদের জন্য ‘অপয়া’ মনে করা হচ্ছে। দলীয় সূত্রে খবর, ফাইনালের আগে ভারতীয় ক্রিকেটাররা হোটেল বদল কেন করেছেন, তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যায়নি। তবে অতীতের কিছু অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতা নাকি এই সিদ্ধান্তের পেছনে কাজ করেছে। জানা গিয়েছে, ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে ও এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সুপার এইট পর্বে দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হওয়ার আগে একই হোটেলে ছিল ভারতীয় দল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে দুটি ম্যাচই হেরেছে তারা। সেই কারণেই ফাইনালের আগে ঝুঁকি নিতে নারাজ টিম ম্যানেজমেন্ট। আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামকে ঘিরেও নানা কুসংস্কার ছড়িয়ে পড়েছে ভারতীয় ক্রিকেটে। অনেকেই একে ভারতের জন্য ‘অপয়া’ মাঠ বলেও উল্লেখ করছেন। তবে সূর্যকুমার যাদবদের সামনে সুযোগ রয়েছে এই বদনাম মুছে দেওয়ার। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে ফাইনাল জিতে শিরোপা হাতে নিয়ে সেই তকমা ঝেড়ে ফেলার সুযোগ তাদের সামনে।

স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমে একটি দীর্ঘ ও চাঞ্চল্যকর পোস্ট দিয়েছেন আলোচিত অভিনেতা জাহের আলভী। ইকরার মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে বেশ কিছু তথ্য প্রকাশ করেন তিনি। তার দাবি, অন্যায়ভাবে ফাঁসানো হচ্ছে আলভীকে। শুধু তাই নয়, প্রয়াত স্ত্রীকে নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করেছেন এই অভিনেতা। তে পোস্টটি দেন আলভী। সেখানে বাসার সিসিটিভি ফুটেজকে এই ঘটনার অন্যতম আলামত হিসেবে উল্লেখ করেছেন অভিনেতা। জানান, মিরপুরের বাসার ড্রয়িং রুমের সিসিটিভি ক্যামেরার নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণভাবে ইকরার ফোনে ছিল এবং সেই ফোন বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। আলভী আরও জানান, ২৫ থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তার অনুপস্থিতিতে বাসায় ইকরার বন্ধু-বান্ধবদের যাতায়াত ছিল এবং সেখানে মাদক সেবনের আসর বসেছিল যার প্রমাণ সিসিটিভি ফুটেজে রয়েছে। তার দাবি অনুযায়ী দুর্ঘটনার আগের রাতে ইকরা তার সহকারীকে দিয়ে সিগারেট ও ঘুমের ওষুধ আনিয়েছিলেন এবং সেই সময়ের ইকরার আচরণ স্বাভাবিক ছিল না। পাল্টাপাল্টি পোস্ট, পরকীয়ার গুঞ্জন— আলভীর স্ত্রীর আত্মহত্যার নেপথ্যে কী? আলভী লেখেন, গত ২৫ ও ২৬ তারিখ শুধু বান্ধবী এবং ২৭ তারিখ ২ জন বান্ধবী ও ১ জন ছেলে বন্ধু বাসায় এসেছে এবং মধ্যরাত পর্যন্ত ছিলো। এ সময় তিন দিনই তারা সিগারেট, গাজা ও মদ্যপান করেছে। দুর্ঘটনার আগেরদিন ২৭ তারিখ ইকরা আমার সহকারীকে দিয়ে সিগারেট ও ঘুমের ওষুধও আনিয়েছে, ওই সময়ে যা সিসিটিভির নিচেই ইকরাকে দেওয়া হয়েছে। আলভী লেখেন, এই সমগ্র ভাষ্য আমার সহকারীর এবং তা ইতোমধ্যেই পুলিশের কাছে স্টেটমেন্ট আকারে পেশ আছে। সাংবাদিক ভাই ও সাধারণ সবাইকে জানিয়ে রাখলাম বিষয়টি যেন সিসিটিভি ফুটেজ থেকে এই তিন দিনের ফুটেজ কোনভাবেই সরানো না হয়, আর সরানো হলেও যেন এর সুষ্ঠু জবাবদিহি বা তদন্ত করা হয়। আলভী আরও উল্লেখ করেন, এই তিন দিন ও দুর্ঘটনার মুহূর্তের ইকরার কথা বার্তা কোনভাবেই সাধারণ মানুষের মত ছিলোনা। ইকরা এর আগেও ১৫ বছরে একাধিক বার আত্নহত্যার চেষ্টা করলেও কখনো সিরিয়াসলি কোন সংযোগ পাওয়া যায়নি। কিন্তু এইবার ইকরা একদমই নরমাল ছিলোনা। এছাড়াও আলভীর দাবি, আগের রাতে মদ্যপান ও ড্রাগস সেবন করতে পারেন ইকরা। তাই পোস্টমর্টেম রিপোর্টে কি আসবে, তা যেন পরিবর্তন না হয় সেদিকেও একটু নজর রাখার জন্য অনুরোধ করেন অভিনেতা। ব্যক্তিগত জীবনের কিছু অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য তুলে ধরে আলভী জানান যে ইকরার সাথে তার সম্পর্কের গভীরতা যেমন ছিল তেমনই ছিল কিছু তিক্ত বাস্তবতা। তিনি অভিযোগ করেন, ২০১০ সালে তাদের পালিয়ে বিয়ের পর তাকে ডিভোর্স না দিয়েই ইকরা পরিবারের সম্মতিতে অন্য একজনকে বিয়ে করেছিলেন এবং বাসরও করেছিলেন। পরবর্তীতে ইকরা ফিরে এলে তিনি তাকে ক্ষমা করে গ্রহণ করেছিলেন। এছাড়া ইকরার এক সহপাঠীর সাথে তার সম্পর্কের দিকেও ইঙ্গিত দিয়েছেন আলভী। লেখেন, ভুল বুঝতে পেরে যখন ইকরা আমার কাছে ফিরে আসতে সিদ্ধান্ত নেয়, আমি তাকে মাফ করে বুকে পাথর রেখে মেনে নিই। একজন স্বামী হয়ে এই সিচুয়েশন বয়ে বেড়ানো খুব একটা সুখের না আবশ্যই। সবশেষে নিজের সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে এই বিষয়গুলোর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এই অভিনেতা।

নোয়াখালী পৌর এলাকার সোনাপুর মাছের আড়তে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে অ্যনিমেল রাইটস বিডি-৬৪ (Animal Rights BD-64) ও উপকূলীয় বন বিভাগ। এ সময় মাছের আড়তে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ১১৩ কেজি (প্রায় ৩ মণ) ওজনের একটি শাপলাপাতা মাছ (স্টিংরে) অর্ধকাটা অবস্থায় জব্দ করা হয়। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় মাছটি মাটিচাপা দিয়ে বিনষ্ট করা হয়। শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে উপকূলীয় বন বিভাগ নোয়াখালীর বন্য প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা ইব্রাহিম খলিলের নির্দেশনায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান সূত্রে জানা গেছে, শাপলাপাতা মাছ দেশের নদী ও উপকূলীয় জলজ বাস্তুতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অতিরিক্ত শিকার, অবৈধ বাণিজ্য ও আবাসস্থল ধ্বংসের কারণে এই প্রজাতি হুমকির মুখে পড়েছে। বাংলাদেশ বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) অধ্যাদেশ, ২০২৬ অনুযায়ী এই প্রাণী শিকার, ক্রয়-বিক্রয়, মজুত বা পরিবহন নিষিদ্ধ। বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, ভোরে সোনাপুর বাজারের একজন ব্যবসায়ী বিক্রির উদ্দেশ্যে একটি শাপলাপাতা মাছ নিয়ে আসেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে মাঝখানে কাটা অবস্থায় মাছটি জব্দ করা হয়। জেলা বন্য প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা ইব্রাহিম খলিল জানান, আগামীতে এমন কাজ করবেন না মর্মে মুচলেকা দিলে ব্যবসায়ীকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বন্য প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালের শুরুতে ব্যাট করতে নেমে স্যাঞ্জু স্যামসনের ঝোড়ো ফিফটি এবং ইশান-দুবের ক্যামিও ইনিংসের সুবাদে রানের পাহাড় গড়েছে ভারত। ম্যাচের শুরুতে ব্যাট করতে নেমে ২০ ওভারে ৭ উইকেটের বিনিময়ে সূর্যকুমাররা তুলেছে ২৫৩ রান। ফলে ফাইনালে উঠতে হলে ইংল্যান্ডকে করতে হবে ২৫৪ রান। ওয়াংখেড়েতে টস হেরে ব্যাট করতে নামে ভারত। সুবিধা করতে পারেননি ওপেনার অভিষেক শর্মা। মাত্র ৯ রান করে আউট হন তিনি। শুরুতেই উইকেট হারালেও দলকে চাপে পড়তে দেননি স্যাঞ্জু স্যামসন ও ইশান কিষাণ। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে আসে ৯৭ রান। মাত্র ১৮ বলে ৩৯ রান করে সাজঘরে ফেরেন ইশান। এদিকে ফিফটি তুলে নেন স্যামসন। সেঞ্চুরির পথেই ছিলেন ডানহাতি ব্যাটার। কিন্তু সেঞ্চুরির আক্ষেপটা থেকে যায় তার। উইল জ্যাকসের করা বলে ফিল সল্টের হাতে ক্যাচ তুলে দেওয়ার আগে ৮৯ রান করেন তিনি। মাত্র ৪২ বলে খেলা তার এই ইনিংসটি আটটি চার এবং সাতটি ছয়ে সাজানো। দ্রুত রান তোলার জন্য শিবম দুবেকে চার নম্বরে ব্যাট করার জন্য পাঠানো হয়। আস্থার প্রতিদান দেন তিনি। মাত্র ২৫ বলে একটি চার ও চারটি ছয়ের সাহায্যে করেন ৪৩ রান। তবে সুবিধা করতে পারেননি দলনেতা সূর্যকুমার যাদব। ৬ বলে ১১ রান করেন তিনি। শেষদিকে ব্যাট হাতে ক্রিজে ঝড় তোলেন হার্দিক পান্ডিয়া ও তিলক ভার্মা। হার্দিক ১২ বলে ২৭ ও তিলক ৭ বলে ২১ রান করেন। এছাড়া অক্ষর প্যাটেল ২ ও বরুণ চক্রবর্তী শূন্যরানে অপরাজিত থাকেন। ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ দুটি করে উইকেট নেন উইল জ্যাকস ও আদিল রশিদ। জোফরা আর্চার পেয়েছেন একটি করে উইকেট।

আবু ধাবিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইরানের মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে দফায় দফায় বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের পাল্টা হামলার মাঝে আবু ধাবিতে ওই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। আমিরাতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে বৃহস্পতিবার ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে দেশটির জাতীয় জরুরি সঙ্কট ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ বলেছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে বর্তমানে একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাব দেওয়া হচ্ছে। আবুধাবির বাসিন্দারা বলেছেন, তারা কিছু শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। অন্য একজন প্রত্যক্ষদর্শী আবু ধাবির জায়েদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন বলে জানিয়েছেন। • দুবাইয়ে জরুরি সরঞ্জাম সরবরাহ কার্যক্রম স্থগিত ডব্লিউএইচওর মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে দুবাইয়ে অবস্থিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) বৈশ্বিক জরুরি সরঞ্জাম সরবরাহ কেন্দ্রের কার্যক্রম স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে সংস্থাটি। ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, অনিরাপদ পরিস্থিতির কারণে দুবাইয়ে ডব্লিউএইচওর বৈশ্বিক জরুরি স্বাস্থ্য সরঞ্জাম সরবরাহ কেন্দ্রের কার্যক্রম বর্তমানে স্থগিত রাখা হয়েছে। ডব্লিউএইচওর পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের পরিচালক হানান বালখি সাংবাদিকদের বলেছেন, গত বছর এই সরঞ্জাম সরবরাহ কেন্দ্র থেকে বিশ্বের ৭৫টি দেশে ৫০০টিরও বেশি জরুরি অর্ডার সম্পন্ন করা হয়েছিল। সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, মানবিক স্বাস্থ্য সরঞ্জামের সরবরাহ ব্যবস্থা এখন ঝুঁকির মুখে পড়েছে। তিনি বলেন, এই অচলাবস্থার কারণে ১ কোটি ৮০ লাখ ডলার মূল্যের মানবিক স্বাস্থ্য সরঞ্জাম সরবরাহ করা যাচ্ছে না এবং আরও ৮০ লাখ ডলার সমমূল্যের চালান এই কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারছে না। সূত্র: রয়টার্স, এএফপি।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল সবে শুরু হচ্ছে। তবে চার দল বাদে বাকিরা পরবর্তী মিশনে নামার অপেক্ষায়। সুপার এইট থেকে ছিটকে পড়ায় পাকিস্তানও বাংলাদেশ সিরিজ নিয়ে ভাবছে। তার আগে হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পেয়েছেন তারকা ব্যাটার ফখর জামান। ফলে আগামী ১১ থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশের মাটিতে হতে যাওয়া সিরিজ থেকে তিনি ছিটকে পড়ার শঙ্কায় আছেন। বিশ্বকাপে নিজেদের সর্বশেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলেছিল পাকিস্তান। ম্যাচটি জিতলেও বড় ব্যবধানে জয়ের সমীকরণ মেলাতে না পারায় তারা সেমিতে উঠতে পারেনি। সেই ম্যাচে ৪২ বলে ৮৪ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলার পথে চোট পান ফখর। যার জন্য তিনি বর্তমানে পুনর্বাসনে প্রক্রিয়ায় আছেন বলে জানিয়েছে পাকিস্তানি গণমাধ্যম। একইসঙ্গে বাংলাদেশ সফরে তাকে না পাওয়ার সম্ভাবনার কথাও বলা হচ্ছে। বিশ্বকাপেও অবশ্য বেশি খেলা হয়নি ফখর জামানের। শেষ দুটি ম্যাচে খেলে যথাক্রমে ২৫ ও ৮৪ রান করেছেন। এদিকে, আগামী ৯ মার্চ ঢাকায় পা রাখার কথা রয়েছে পাকিস্তানের। এরপর ১১, ১৩ ও ১৫ মার্চ মিরপুর শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ-পাকিস্তানি তিনটি ওয়ানডে ম্যাচের সিরিজ খেলবে। যদিও সিরিজটি নির্ধারিত সময়ে হওয়া নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কারণ ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধে কারণে অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে পুরো মধ্যপ্রাচ্য। ফলে ওই অঞ্চলের আকাশসীমায় ফ্লাইটের পরিমাণ বেশ সীমিত। অন্যদিকে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়ার পর ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপকে নিশানা বানাতে চায় পাকিস্তান। সে কারণে বাবর আজম, সাইম আইয়ুব ও মোহাম্মদ নেওয়াজের মতো ক্রিকেটারদের বিশ্রাম দিয়ে তরুণদের সুযোগ দিতে চায় দেশটি। সাম্প্রতিক সূচিতে তাদের কোনো টি-টোয়েন্টি ম্যাচ না থাকা–ও এমন ভাবনার অন্যতম কারণ। এ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যের অংশ হিসেবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলা ৫-৬ জনকে ধীরে ধীরে বিবেচনার বাইরে রাখা শুরু হতে পারে। পাকিস্তান গত নভেম্বরে সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজ খেলেছে। যেখানে লঙ্কানদের ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করেছিল সালমান-শাহিনরা। বাংলাদেশ সিরিজ হবে শাহিন শাহ আফ্রিদির জন্য দ্বিতীয় এসাইনমেন্ট। ওয়ানডেতে নেতৃত্ব পাওয়ার পর তার অধীনে পাকিস্তান প্রথম সিরিজে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ঘরের মাঠে ২-১ ব্যবধানে জিতেছিল।

‘চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনা’ উল্লেখ করে ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত’ কুয়েতে মার্কিন দূতাবাসে বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এক্স অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি জাতিয়েছে দূতাবাস। পোস্টে দূতাবাস বলেছে, আমরা সব নিয়মিত এবং জরুরি কনস্যুলার অ্যাপয়েন্টমেন্ট (আবেদন) বাতিল করেছি। এছাড়া ইসলামাবাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস দেশের ‘বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি’ উল্লেখ করে সব ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট বাতিলের ঘোষণা করেছে। এর আগে, সোমবার (২ মার্চ) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে (কুয়েতসহ) আমেরিকানদের ‘গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকি’র কারণে বাণিজ্যিক পরিবহনে স্থান ত্যাগ করার আহ্বান জানানো হয়। সূত্র : সিএনএন

এক মাসের জন্য সব এন্ট্রি ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কাতার সরকার। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) এক বিবৃতিতে কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই তথ্য জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সব ধরনের এন্ট্রি ভিসার মেয়াদ এক মাসের জন্য বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে, যা পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে আরও বাড়ানো হতে পারে। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ভিসার মেয়াদ বাড়ানো প্রক্রিয়াটি ইলেকট্রনিক সিস্টেমের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে হবে, কোনো ফি লাগবে না এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোতে যাওয়ার বা অতিরিক্ত আবেদন জমা দেওয়ার প্রয়োজন হবে না।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উদ্ভূত পরিস্থিতির মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে কুয়েত ও বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও কাতারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী টেলিফোন করেছেন। সোমবার (২ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এ তথ্য জানান খলিলুর রহমান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতিতে আমাকে কুয়েত ও বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও কাতারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী টেলিফোন করেছেন। তাদের সঙ্গে আমার প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তারা আমাদের প্রবাসীদের নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়েছেন।’

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দুবাই, আবুধাবি ও শারজাহর এয়ারফিল্ড বন্ধ থাকায় শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আরও ৫ ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। সোমবার (২ মার্চ) চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী একাধিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। বিমানবন্দর সূত্র জানায়, সকালের নির্ধারিত ফ্লাইটগুলোর মধ্যে—বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মধ্যপ্রাচ্যগামী দুটি ফ্লাইট বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ও একটি আগমন ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এয়ার আরাবিয়াের একটি মধ্যপ্রাচ্যগামী ফ্লাইটও স্থগিত রয়েছে। তবে সব ফ্লাইট বন্ধ হয়নি। মাস্কাট থেকে আসা সালাম এয়ারের ফ্লাইট OV-401 সোমবার সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে চট্টগ্রামে অবতরণ করে। পরে যাত্রী নিয়ে একই এয়ারলাইনের OV-402 ফ্লাইট সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে মাস্কাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া অস্থিরতার পরিপ্রেক্ষিতে এ পর্যন্ত মোট ২৫টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ফ্লাইট সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। যাত্রীদের ফ্লাইট সংক্রান্ত সর্বশেষ তথ্য জানার জন্য সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনস বা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশসহ নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা প্রদান স্থগিত করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। গত ২১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। সোমবার (২ মার্চ) সকালে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস নিজেদের ভেরিফায়েড ফেসবুকের এক পোস্টে এসব নিশ্চিত করেছে। এতে বলা হয়, ‘২১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকরভাবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বাংলাদেশসহ কিছু দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা দেওয়া স্থগিত করেছে। যেসব দেশের অভিবাসীরা যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের ব্যয়ে তুলনামূলক বেশি হারে সরকারি সহায়তা নেন, তাদের ক্ষেত্রেই এই সিদ্ধান্ত প্রযোজ্য।’ পোস্টে আরও বলা হয়, ‘এই স্থগিতাদেশ ভিজিটর ভিসার জন্য প্রযোজ্য নয়।’ মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ‘প্রভাবিত দেশগুলোর নাগরিকরা অভিবাসী ভিসার আবেদন জমা দিতে পারবেন এবং নির্ধারিত সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে পারবেন। পররাষ্ট্র দপ্তর ভিসা সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় ১৩৩টি অধ্যাদেশের বিষয়ে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই উপস্থাপন করা হবে। পরে জাতীয় সংসদ সেগুলোর বিষয়ে কি করা হবে সেটা নির্ধারণ করবে। রোববার (১ মার্চ) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। গত দেড় বছর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করেছে। এর মধ্যে কতগুলো স্পর্শকাতর অধ্যাদেশ রয়েছে। বিএনপি এগুলোকে কীভাবে মূল্যায়ন করবে? এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় ১৩৩টি অধ্যাদেশ এবং একটি আদেশ জারি করা হয়েছে। জাতীয় সংসদ অধিবেশনের প্রথম দিনেই এই অধ্যাদেশগুলো উপস্থাপন করা হবে। পার্লামেন্টের নিয়ম অনুসারে সেই অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে হুবহু কোনগুলো গ্রহণ করবে তা জাতীয় সংসদে নির্ধারিত হবে। কিছু কিছু অধ্যাদেশ হয়তো সংশোধনীসহ গ্রহণ করা হতে পারে, সেটিও জাতীয় সংসদে নির্ধারিত হবে। আর কোনগুলো তাদের হয়তো প্রয়োজন হবে না, ল্যাপস হয়ে যাবে তাও জাতীয় সংসদে নির্ধারিত হবে। তিনি বলেন, সে বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয় কাজ করছে। আশাকরি সংসদ অধিবেশন শুরু হলে আপনারা সবাই এ বিষয়ে অবহিত হবেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় ১৩৩টি অধ্যাদেশের বিষয়ে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই উপস্থাপন করা হবে। পরে জাতীয় সংসদ সেগুলোর বিষয়ে কি করা হবে সেটা নির্ধারণ করবে। রোববার (১ মার্চ) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। গত দেড় বছর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করেছে। এর মধ্যে কতগুলো স্পর্শকাতর অধ্যাদেশ রয়েছে। বিএনপি এগুলোকে কীভাবে মূল্যায়ন করবে? এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় ১৩৩টি অধ্যাদেশ এবং একটি আদেশ জারি করা হয়েছে। জাতীয় সংসদ অধিবেশনের প্রথম দিনেই এই অধ্যাদেশগুলো উপস্থাপন করা হবে। পার্লামেন্টের নিয়ম অনুসারে সেই অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে হুবহু কোনগুলো গ্রহণ করবে তা জাতীয় সংসদে নির্ধারিত হবে। কিছু কিছু অধ্যাদেশ হয়তো সংশোধনীসহ গ্রহণ করা হতে পারে, সেটিও জাতীয় সংসদে নির্ধারিত হবে। আর কোনগুলো তাদের হয়তো প্রয়োজন হবে না, ল্যাপস হয়ে যাবে তাও জাতীয় সংসদে নির্ধারিত হবে। তিনি বলেন, সে বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয় কাজ করছে। আশাকরি সংসদ অধিবেশন শুরু হলে আপনারা সবাই এ বিষয়ে অবহিত হবেন।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহতের পর প্রতিবেশী দেশ ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রে দূতাবাস ভবনে হামলা চালিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা। এক প্রতিবেদনে এএফপি জানিয়েছে, যুদ্ধের কারণে সম্প্রতি ইরাকের মার্কিন দূতাবাস ভবনে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছিল। রোববার বেলা ১১ টার দিকে দূতাবাস ভবনের সামনে জড়ো হয় শত শত মানুষ। তাদের বেশিরভাগের পরনে ছিল কালো রঙের পোশাক এবং হাতে ছিল লাঠি-পাথর। দূতাবাসের সামনে নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় বিক্ষোভকারীদের এবং একসময় বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দিতে সক্ষম হয় নিরাপত্তা কর্মরা। এই সংঘর্ষে হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া আলী নামে এক ব্যক্তি এএফপিকে বলেন, “আমরা ইরাক থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে উৎখাত করতে চাই। এ করনেই এখানে এসেছি।”

ইরানর সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। ইরানের সরকারি বার্তাসংস্থা ফার্স নিউজের বরাতে জানা গেছে এ তথ্য। রোববার বাংলাদেশ সময় সকালে সরকারিভাবে তেহরান খামেনির নিহতের তথ্য নিশ্চিত করার পর এক বিবৃতিতে আইআরজিসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “আমরা একজন মহান নেতাকে হারিয়েছি এবং আমরা তার জন্য শোকাহত। মানবতার সবচেয়ে নিষ্ঠুর সন্ত্রাসী ও জল্লাদদের হাতে আমাদের মহান নেতার এই শাহাদাৎ বরণ প্রমাণ করে যে তার ব্যক্তিত্ব, নেতৃত্ব এবং দেশপ্রেম তাদের জন্য আতঙ্কজনক হয়ে উঠেছিল।” “যাদের হাতে আমাদের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হয়েছেন– তাদের এই জাতি ছাড়বে না। ইরান প্রতিশোধ নেবে এবং আইআরজিসি দেশি-বিদেশি যে কোনো ষড়যন্ত্র-কে নির্মূল করতে বদ্ধ পরিকর।” গতকাল ২৮ ফেব্রুয়ারি শনিবার ইরানে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল। তারপর গতকাল রাতেই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জানান যে খামেনি নিহত হয়েছেন। তার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও খামেনির নিহতের তথ্য নিশ্চিত করেন। আজ রোববার বাংলাদেশ সময় সকালে সরকারিভাবে খামেনি নিহত হওয়ার তথ্য স্বীকার করেছে ইরান। ৮৬ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা। ক্ষমতাসীন শিয়াপন্থি ইসলামি প্রজাতান্ত্রিক সরকারের সামরিক বিভাগ, বিচার বিভাগ, রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা বিভাগ-সহ দেশটির সর্বক্ষেত্রে খামেনির প্রভাব ছিল অত্যন্ত গভীর এবং সর্বব্যাপী। মূলত তার নির্দেশনাতেই ইরানের সরকার চলতো। ১৯৭৯ সালে ইরানের তৎকালীন শাহ (রাজা) মুহম্মদ রেজা শাহ পাহলভিকে হটিয়ে ইরানের জাতীয় ক্ষমতা দখল করে শিয়াপন্থি বিভিন্ন সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী, শাহবিরোধী রাজনৈতিক দল এবং কমিউনিস্ট দলগুলো। সেই বিপ্লবে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি। বিপ্লবের পর তিনি হন ইরানের প্রথম সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা। ১৯৮৯ সালে বয়সজনিত অসুস্থতায় মারা যান খোমেনি। তার মৃত্যুর পর দেশটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। সূত্র : আলজাজিরা

দেশে শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। ২০২৫ সালে সারাদেশে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসার মোট ৪০৩ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। এর মধ্যে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই ১৩ থেকে ১৯ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরী। হতাশা ও অভিমান—এই দুটি কারণই সবচেয়ে বড় অনুঘটক হিসেবে উঠে এসেছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক সংগঠন আঁচল ফাউন্ডেশন আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। দেশের ১৬৫টি স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত আত্মহত্যা সংক্রান্ত প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে এ সমীক্ষা প্রকাশ করা হয়। জরিপের ফলে দেখা গেছে, ৪০৩ জন আত্মহননকারী শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৯০ জনই স্কুল পর্যায়ের। যা মোট ঘটনার ৪৭ দশমিক ৪০ শতাংশ। কলেজ পর্যায়ে ৯২ জন (২২.৮ শতাংশ), বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭৭ জন (১৯.১০ শতাংশ) এবং মাদ্রাসায় ৪৪ জন (১০.৭২ শতাংশ) শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, কৈশোরের সূচনালগ্নে আবেগীয় অস্থিরতা, পরিচয় সংকট এবং একাডেমিক চাপ শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। নারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি লিঙ্গভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, আত্মহত্যাকারীদের মধ্যে ২৪৯ জন (৬১.৮ শতাংশ) নারী এবং ১৫৪ জন (৩৮.২ শতাংশ) পুরুষ। স্কুল পর্যায়ে ১৩৯ জন নারী ও ৫১ জন পুরুষ, কলেজে ৫০ জন নারী ও ৪২ জন পুরুষ আত্মহত্যা করেছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে চিত্র কিছুটা ভিন্ন। সেখানে ৪১ জন পুরুষের বিপরীতে ৩৬ জন নারী শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। বিশ্লেষণে বলা হয়, কৈশোরে মেয়েরা পারিবারিক ও সামাজিক চাপ, সম্পর্কগত টানাপড়েন এবং আবেগীয় সংকটে বেশি ভঙ্গুর হয়ে পড়ছে। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পুরুষ শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা ও কর্মসংস্থান সংকট বড় ভূমিকা রাখতে পারে। হতাশা ও অভিমান প্রধান কারণ কারণভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, হতাশা ২৭.৭৯ শতাংশ এবং অভিমান ২৩.৩২ শতাংশ ঘটনার পেছনে দায়ী। হতাশাজনিত আত্মহত্যার ক্ষেত্রে নারী ৬২ জন (৫৫.৩৫ শতাংশ) এবং পুরুষ ৫০ জন (৪৪.৬৫ শতাংশ)। অভিমানে আত্মহত্যাকারীদের মধ্যে নারী ৫৮ জন (৬১.৭০ শতাংশ) ও পুরুষ ৩৬ জন (৩৮.২৯ শতাংশ)। একাডেমিক চাপে ৭২ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে, যার অধিকাংশই স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের এবং এর মধ্যে প্রায় ৭১ শতাংশ নারী। প্রেমঘটিত কারণে ৫৩ জন (১৩.১৫ শতাংশ), পারিবারিক টানাপড়েনে ৩২ জন (৭.৯৪ শতাংশ), মানসিক অস্থিতিশীলতায় ২৫ জন (৬.২০ শতাংশ) এবং যৌন নির্যাতনের কারণে ১৪ জন (৩.৪৭ শতাংশ) শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। সাইবার বুলিংয়ের কারণেও একজন নারী শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। বয়সভিত্তিক চিত্র সবচেয়ে উদ্বেগজনক ১৩ থেকে ১৯ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে আত্মহত্যার হার ৬৬.৫০ শতাংশ। এদের মধ্যে ১৯০ জন নারী ও ৭৮ জন পুরুষ। ২০ থেকে ২৫ বছর বয়সীদের মধ্যে আত্মহত্যার হার ২২.৬ শতাংশ; যেখানে পুরুষ ৫১ জন এবং নারী ৪০ জন। ১ থেকে ১২ বছর বয়সী ৪৪ জন শিশুর আত্মহত্যা সমাজের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বিভাগভিত্তিক পরিস্থিতি ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ১১৮ জন (২৯.২৪ শতাংশ) শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। চট্টগ্রামে ৬৩ জন (১৫.৬৩ শতাংশ), বরিশালে ৫৭ জন (১৪.৪ শতাংশ) এবং রাজশাহীতে ৫০ জন (১২.৪০ শতাংশ)। সমীক্ষায় বলা হয়, এটি কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের সমস্যা নয়; বরং জাতীয় পর্যায়ে বিস্তৃত এক সামাজিক সংকট। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের বিশ্লেষণ বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ৭৭ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪৪ জন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের, ১৭ জন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের, ৬ জন মেডিকেল কলেজের এবং ১০ জন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও অধিভুক্ত কলেজের শিক্ষার্থী। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আত্মহত্যার ক্ষেত্রে হতাশা (৩৬.৩৬ শতাংশ) এবং প্রেমঘটিত কারণ (২৯.৫৪ শতাংশ) উল্লেখযোগ্য। মানসিক অস্থিরতা দায়ী ১৮.১৮ শতাংশ ক্ষেত্রে। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে হতাশার হার আরও বেশি—৪৭.০৫ শতাংশ। এছাড়া অভিমান (১৭.৬৭ শতাংশ), পারিবারিক টানাপড়েন (১১.৭৬ শতাংশ) ও প্রেমঘটিত কারণ (৫.৮৮ শতাংশ) আত্মহত্যার পেছনে ভূমিকা রেখেছে। কাঠামোগত পরিবর্তনের আহ্বান সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, পরিবারে খোলামেলা যোগাযোগের অভাব, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পেশাদার কাউন্সেলিং ব্যবস্থার ঘাটতি এবং মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সামাজিক অজ্ঞতা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে। আঁচল ফাউন্ডেশন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলক মানসিক স্বাস্থ্য স্ক্রিনিং, শিক্ষক ও সহপাঠীদের প্রশিক্ষণ, সামাজিক স্টিগমা কমাতে প্রচারণা এবং প্রাথমিক পর্যায়ে সাইকো-সোশ্যাল প্রশিক্ষণ চালুর প্রস্তাব দিয়েছে। তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের জীবন রক্ষা করা নৈতিক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব। ২০২৫ সালের এই পরিসংখ্যান কেবল একটি প্রতিবেদন নয়; এটি ভবিষ্যতের জন্য সতর্কবার্তা। এখনই সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।

পরমাণু প্রকল্প নিয়ে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় নাগরিকদের ইরান ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, কানাডা, ইতালি, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, চীন-সহ ১৫টিরও বেশি দেশ। পাশাপাশি ইরানে ভ্রমণ বিষয়ক সতর্কতাও জারি করেছে দেশগুলো। দেশগুলোর এ পদক্ষেপের প্রধান কারণ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুক্রবারের একটি মন্তব্য। ইরানের পরামাণু প্রকল্প নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত মোট ৫ দফা সংলাপ হয়েছে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের প্রতিনিধিদের মধ্যে। গতকাল ২৭ ফেব্রুয়ারি জেনেভায় পঞ্চম দফা সংলাপ শেষ হওয়ার মাধ্যমে সমাপ্তি ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠকের। গতকাল সংলাপ শেষ হওয়ার পর ওয়াশিংটনে এ বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়েছিলেন সাংবাদিকরা। জবাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, ৫ দফা সংলাপের পর যে ফলফল এসেছে, তাতে তিনি সন্তুষ্ট নন। কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন ছোটোখাটো বিষয় নিয়ে সমঝোতা হলেও ইরানের ইউরেনিয়ামের মজুত এবং দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্প নিয়ে কোনো ঐকমত্য ছাড়াই শেষ হয়েছে সংলাপ। ট্রাম্পের অসন্তুষ্টির কারণ এটাই। কিন্তু শুক্রবার মন্তব্যের পর থেকেই নাগরিকদেদের অবিলম্বে ইরান ছাড়ার আহ্বান জানানো শুরু করে বিভিন্ন দেশ। কারণ জানুয়ারির মাঝামাঝি থেকে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমা এবং ইসরায়েলে যুদ্ধজাহাজ, বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ এবং যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গত কয়েক দিনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং তার নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের কর্মকর্তারা একাধিকবার ইঙ্গিত দিয়েছেন—যে কোনো সময় হামলা হতে পারে ইরানে। ফ্লাইট বাতিল নিষেধাজ্ঞা থাকার কারণে কোনো দেশ থেকে সরাসরি তেহরানে নামতে পারে না কোনো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট, এ কারণে যারা ইরানে যেতে ইচ্ছুক কিংবা ইরান থেকে বাইরের কোনো দেশে যেতে চান— তাদের প্রথমে তুরস্কের ইস্তাম্বুল আসতে হয়— তারপর সেখান থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে উঠতে হয়। এক প্রতিবেদনে এএফপি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উদ্বেগ বাড়তে থাকায় তেহরান-ইস্তাম্বুল আপডাউন ফ্লাইট বন্ধ রাখা হয়েছে। পরবর্তী আদেশ না আসা পর্যন্ত ফ্লাইট বন্ধ থাকবে। সূত্র : এএফপি, গালফ নিউজ

রমজানের মানবিকতা ও সহমর্মিতার বার্তা তুলে ধরতে মসজিদুল হারামে এতিম শিশুদের সঙ্গে ইফতার করেছেন পবিত্র দুই মসজিদের পরিচালনা পর্ষদের প্রধান শায়খ ড. আব্দুর রহমান আস-সুদাইস। বুধবার সন্ধ্যায় তিনি আল-ওয়েদাদ অ্যাসোসিয়েশন ফর অরফান কেয়ারের অধিভুক্ত শিশুদের নিয়ে একসঙ্গে ইফতার করেন। ইফতারের আয়োজনটি হয় মসজিদুল হারাম প্রাঙ্গণে। ইফতার টেবিলে শায়খ সুদাইসের পাশে বসে শিশুদের আনন্দমুখর উপস্থিতি রমজানের সৌহার্দ্য ও সামাজিক দায়িত্ববোধের প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠে। ইফতার শেষে শায়খ সুদাইস বলেন, এতিমদের লালন-পালন ও তাদের পাশে দাঁড়ানো ইসলামের অন্যতম উচ্চ মানবিক আদর্শ। সৌদি আরব রাষ্ট্রীয় নেতৃত্ব সব স্তরে সমাজের ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে এতিমদের কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আসছে। তিনি উল্লেখ করেন, ইসলামী শিক্ষা ও সৌদি সমাজের মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এতিমদের কল্যাণে ধারাবাহিক উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

আগামী ২ মার্চ (সোমবার) সারাদেশে পালিত হতে যাচ্ছে ‘৮ম জাতীয় ভোটার দিবস’। দিবসটি বর্ণাঢ্য ও যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপনের লক্ষ্যে ঢাকায় কর্মরত নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সব স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে সংস্থাটি। সম্প্রতি ইসি সচিবালয়ের সহকারী সচিব মোহাম্মদ শহীদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই নির্দেশনা জারি করা হয়। আদেশে জানানো হয়েছে, ২ মার্চ সকালে নির্বাচন ভবনের সামনে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে দিবসের শুভ উদ্বোধন করা হবে। এরপর একটি র্যালি ও বিশেষ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। ভোটারদের সচেতন করতে এবং তরুণদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তিতে উৎসাহিত করতে প্রতি বছর এই দিনটি পালন করা হয়। আগামী ২ মার্চ সকাল ৯টার মধ্যে নির্বাচন ভবনের সামনে নির্ধারিত ৭টি দপ্তরের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে সমবেত হতে বলা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়, জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ (NID), নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (ETI), নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অধীনে পরিচালিত সকল প্রকল্প, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়, সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার সকল থানা নির্বাচন অফিসারের কার্যালয়। অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমেই এই আদেশ জারি করা হয়েছে। কোনো প্রকার ব্যত্যয় ছাড়াই সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দিষ্ট সময়ে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য বলা হয়েছে।

ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে আসবে, অন্য সময়ের মতো নিজ দেশে ঘুরবে-ফিরবে, অনুশীলন করবে এবং জাতীয় দলের হয়ে খেলবে- এমন প্রত্যাশাই ছিল সাধারণ ক্রিকেট অনুরাগী ও সাকিব ভক্তদের; কিন্তু দীর্ঘদিন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের তকমা গায়ে থাকা সাকিব আল হাসানের দেশে ফেরার পথে বাধা ছিল জুলাই আন্দোলনে শহীদ পরিবার ও আন্দোলনের সফল রূপকারদের পক্ষ থেকে। তাদের অকাট্য যুক্তি- সাকিব আল হাসান ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর এবং আওয়ামী লীগের এমপি। যেখানে খোদ আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে, দলের নেতাকর্মীরা জনরোষের মুখে দেশ ছেড়েছেন কিংবা অন্তরালে চলে গেছেন- সেখানে সাকিব আল হাসান আওয়ামী লীগের এমপি হয়ে কিভাবে দেশে এসে সাধারণ জীবনযাপন করবেন এবং জাতীয় দলের হয়ে খেলবেন? মূলত এই চিন্তা থেকেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সাকিব আল হাসানকে দেশে আনার চেষ্টা করেনি বরং সাকিব যাতে দেশের বাইরে থাকেন, সে ব্যবস্থাই করা হয়েছে। পাশাপাশি আরেকটি বিষয় সাকিবের দেশে আসার পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়- তার বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা রয়েছে। সেই মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আইনের চোখে সাকিব একজন আসামি। তিনি প্রকৃতপক্ষে দোষী কি না, তা নির্ধারণের দায়িত্ব আদালতের। যতক্ষণ পর্যন্ত আদালত তাকে নির্দোষ ঘোষণা না দিচ্ছে, ততক্ষণ তিনি অভিযুক্ত। এটিও একটি বড় কারণ ছিল। মামলা যেহেতু হয়েছে এবং সেটা হত্যা মামলা, সেহেতু মামলা থেকে অব্যাহতি না পাওয়া পর্যন্ত কিংবা নির্দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত দেশে ফেরা মানেই গ্রেপ্তারের ঝুঁকি। এসব কারণ মিলিয়ে সাকিব আল হাসান ১৮ মাসের বেশি সময় দেশের বাইরে ছিলেন এবং জাতীয় দলের হয়েও খেলতে পারেননি। তবে আশার কথা- এখন তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ চলছে। বিসিবি সাকিবের ব্যাপারে অনেকটাই ইতিবাচক। তার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বিসিবির উদ্যোগেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। বোর্ড জানিয়েছে, সাকিবকে দেশে ফেরাতে করণীয় কাজের একটি অংশ তারা সম্পন্ন করেছে। এখন বাকি বিষয় সরকারের হাতে। অর্থাৎ হত্যা মামলায় নিষ্কৃতি পাওয়া এবং সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সরকারের দায়িত্ব। ধারণা করা হচ্ছে, আইনি জটিলতা কাটিয়ে নির্দোষ ঘোষণার পরই সাকিবকে দেশে আনা হতে পারে। যেহেতু দেশে ফেরার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং বিসিবি সরকারের কাছে কাগজপত্র পাঠিয়েছে, তাই ধরে নেওয়া যায় সরকারেরও এতে সম্মতি ও সবুজ সংকেত রয়েছে। সে হিসেবে সাকিবের দেশে ফেরার পথে বড় ধরনের বাধা বা শঙ্কা আপাতত নেই। তিনি দেশে ফিরতে পারেন এবং আবার জাতীয় দলে খেলতে পারেন- এমন প্রত্যাশাই অনেকের। তবে অনেকে ধরে নিয়েছেন, টি-টোয়েন্টি ও টি-টেন লিগে নিয়মিত খেলা সাকিব দেশে ফিরলেই জাতীয় দলে জায়গা পাবেন। যুক্তরাষ্ট্র, আমিরাত, দুবাই, শারজাহ, ওয়েস্ট ইন্ডিজসহ বিভিন্ন দেশে তিনি ২০ ও ১০ ওভারের ক্রিকেট খেলছেন। তাই ভক্তদের একটি অংশ মনে করছেন, তিনি সহজেই দলে অন্তর্ভুক্ত হবেন। কিন্তু বাস্তবতা কি তাই? দেশে ফিরলেই কি তিনি জাতীয় দলে সুযোগ পাবেন? জাতীয় দলের পরিচালনা ও তত্ত্বাবধানে থাকা টিম ম্যানেজমেন্ট এবং নির্বাচকদের সঙ্গে কথা বলে যে ধারণা মিলেছে তা হলো- ক্রিকেটার হিসেবে সাকিব অনন্য এবং বাংলাদেশের অন্যতম সেরা পারফরমার। তবে দীর্ঘদিন তিনি টি-টোয়েন্টি ও টি-টেন ছাড়া উচ্চমানের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেননি। ফলে তার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার মতো পর্যাপ্ত ফিটনেস আছে কি না, শারীরিকভাবে কতটা সক্ষম- তা খুঁটিয়ে দেখা হবে। তার ব্যাটিং-বোলিংয়ের বর্তমান অবস্থাও যাচাই করা হবে। যেভাবে অন্য একজন ক্রিকেটারকে জাতীয় দলে নেওয়ার আগে নিক্তির পাল্লায় মেপে দেখা হয়, সাকিবের ক্ষেত্রেও সেটাই প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ তিনি এলেন আর সরাসরি দলে ঢুকে গেলেন- বিষয়টি এমন হবে না। ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদীন ফাহিম জানিয়েছেন, ‘অন্য ক্রিকেটাররা যেমন নির্বাচকদের আস্থা অর্জন করে এবং ফিজিও-ট্রেনারের ফিটনেস সার্টিফিকেট নিয়ে দলে বিবেচনায় আসেন, সাকিবের ক্ষেত্রেও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। প্রথমেই দেখা হবে তিনি শারীরিকভাবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার উপযুক্ত কি না। এরপর তার বর্তমান পারফরম্যান্স, নেটে বা ঘরোয়া টুর্নামেন্টে- যাচাই করা হবে। তার প্রকৃত অবস্থা মূল্যায়নের পরই নির্বাচকরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে স্পষ্ট- সাকিবকে পরীক্ষার মধ্য দিয়েই জাতীয় দলে ফিরতে হবে, তা ফিটনেস হোক বা পারফরম্যান্স। এ কারণেই আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি বিসিবির সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও গাজী আশরাফ হোসেন লিপুকে প্রধান নির্বাচক হিসেবে আরও এক মাস দায়িত্ব পালনের অনুরোধ করেছে ক্রিকেট বোর্ড এবং বিষয়টি ইতিবাচকভাবে গৃহীত হয়েছে। তিনি আরও একমাস জাতীয় দলের সঙ্গে কাজ করবেন। অর্থাৎ ১১ মার্চ থেকে পাকিস্তানের বিপক্ষে ঢাকায় শুরু হওয়া তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ এবং মে মাসে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজকে সামনে রেখে সাকিবের খেলার মতো অবস্থা আছে কি না, তা যাচাইয়ের দায়িত্বও তার ওপর বর্তাবে। সব মিলিয়ে স্পষ্ট- জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার যে মানদণ্ড, সাকিবকেও সেই একই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। নিজের শারীরিক সক্ষমতা ও পারফরম্যান্সের সর্বোচ্চ মান প্রমাণ করেই তাকে দলে ফিরতে হবে, অন্যথায় নয়।

পিলখানা ট্র্যাজেডির ১৭ বছর আজ। ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি বিডিআরের (বর্তমানে বিজিবি) ঢাকার পিলখানা সদর দপ্তরে বিদ্রোহের নামে তৎকালীন বিডিআর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদসহ ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ নিহত হন। গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গতবছর বাংলাদেশের ইতিহাসে বিভীষিকাময় ও শোকাবহ এ দিনটি জাতীয় শহীদ সেনা দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত হয়। ২০০৯ সালে পিলখানায় সেনা কর্মকর্তাদের নৃশংসভাবে হত্যা করে লাশ গুম এবং পুড়িয়ে ফেলার চেষ্টা করা হয়। তাদের পরিবারের সদস্যদের ওপরও নির্যাতন চালানো হয়। দেশের প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা ওই নৃশংস ঘটনাকে দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর প্রথম বড় ধরনের আঘাত হিসেবেই মূল্যায়ন করে থাকেন। এ ভয়াবহ ঘটনায় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় শপথ গ্রহণকারী দেশের সুরক্ষা কবচ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী হারায় তার মেধাবী ও দেশপ্রেমিক কর্মকর্তাদের, যা সমগ্র সশস্ত্র বাহিনীর মনোবলে বিরূপ প্রভাব ফেলে। এ দিনটি শুধু বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর জন্য নয়, পুরো জাতির জন্যই শোকাবহ ও হৃদয়বিদারক। দিবসটি উপলক্ষ্যে দেওয়া বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘২৫ ফেব্রুয়ারি, জাতীয় শহীদ সেনা দিবস। ২০০৯ সালের এই দিনে বিডিআর সদর দপ্তর পিলখানায় সেনা হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত হয়েছিল। হত্যাযজ্ঞে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন শহীদ হয়েছিল। ২০০৯ সালের পর দিনটি যথাযোগ্য গুরুত্ব সহকারে পালন করা হয়নি। ২০২৪ সালে দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হওয়ার পর থেকে দিনটি ‘শহীদ সেনা দিবস’ হিসেবে পালিত হচ্ছে। আজকের এই বিশেষ দিনে আমরা সেনা হত্যাযজ্ঞে শহীদদের মাগফিরাত কামনা করছি। তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সহানুভূতি ও সহমর্মিতা প্রকাশ করছি। ‘পিলখানায় সংঘটিত সেনা হত্যাকাণ্ডের বিচার চলমান। বিচারাধীন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলার অবকাশ নেই। তবে এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিরোধী তৎপরতা বিদ্যমান ছিল, নাগরিক হিসেবে এই বিষয়টি আমাদের উপলব্ধিতে থাকা জরুরি বলে আমি মনে করি। এই হত্যাকাণ্ডের পর নানা রকম মিথ্যা কিংবা অপতথ্য দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা হয়েছিল।’ ‘সশস্ত্র বাহিনী একটি স্বাধীন দেশের সম্মান, বীরত্ব এবং গৌরবের প্রতীক। ভবিষ্যতে আর কেউ যাতে সশস্ত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হতে না পারে, আজ পুনরায় সেই শপথে বলীয়ান হতে হবে।’

পবিত্র রমজান উপলক্ষ্যে নোয়াখালীর জেলা শহর মাইজদীতে বাজারে তদারকি অভিযান পরিচালনা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। অভিযানে ভোক্তা অধিকারবিরোধী বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের দায়ে দুই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের নোয়াখালী জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে সদর উপজেলার মাইজদী বাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় নিত্যপণ্য, ফল ও ইফতারি সামগ্রী প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তদারকি কার্যক্রম চালানো হয়। অভিযানকালে ব্যবসায়ী ও দোকানিদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে লিফলেট বিতরণ করা হয় এবং দৃশ্যমান স্থানে মূল্যতালিকা প্রদর্শনের জন্য উদ্বুদ্ধ করা হয়। এতে জেলা বিশেষ টাস্কফোর্সের সদস্যরা এবং সুধারাম থানা পুলিশের একটি দল অংশ নেয়। জানা গেছে, ভোক্তা অধিকারবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে পুলিশ লাইন্স রোড এলাকায় বাসি জিলাপি পুনরায় ভেজে বিক্রির চেষ্টা এবং মেয়াদ উল্লেখবিহীন প্যাকেটজাত পণ্য বিক্রির অভিযোগে মেসার্স আয়োজন (মাইজদী শাখা) প্রতিষ্ঠানকে সতর্ক করে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পরে বাসি ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার জব্দ করে ধ্বংস করা হয়। এছাড়া ময়লাযুক্ত খেজুর প্যাকেটজাত করে বিক্রি এবং মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করায় মাইজদী বাজার এলাকার মেসার্স আলমগীর স্টোরকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। প্রতিষ্ঠানটিকে মানহীন খাদ্য বিক্রি থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, নোয়াখালী জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আছাদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, রমজানকে সামনে রেখে বাজারে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণে সচেতনতা বাড়ানো আমাদের মূল লক্ষ্য। আজকের অভিযানে অনিয়ম ও ভোক্তা অধিকারবিরোধী কর্মকাণ্ড প্রতিহত করতে দুটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে। আমরা ব্যবসায়ী ও দোকানিদের সচেতন করার পাশাপাশি, মানহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্য বিক্রির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে সদা প্রস্তুত। জনস্বার্থে এমন তদারকি অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

নোয়াখালীর সুবর্ণচরের যুবকের আমজাদ হোসেন দিপুর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এসময় দুইটা চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। বিজ্ঞাপন রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাতে গাজীপুরের শ্রীপুরের ভাড়া বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃত আমজাদ হোসেন দিপু নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চর আমান উল্লাহ ইউনিয়নের মো. ফখরুল ইসলামের ছেলে। তিনি গাজীপুরের শ্রীপুরের একটি গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। বিজ্ঞাপন প্রথম চিরকুটে মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী না উল্লেখ করে আমজাদ হোসেন দিপু লিখেন, ‘বিদায়টা দরকার ছিল শান্তির জন্য। পরিবার, আত্মীয়-স্বজনরা, বন্ধুবান্ধব ইত্যাদি এই দুনিয়াটা একটা মরিচিকা।’ দ্বিতীয় চিরকুটে দিপু লিখেন, ‘কী পেলাম এই জীবনে। না আছে পরকালের জন্য, না আছে দুনিয়াবি কাজ। ভালো থাকুক দুনিয়ার মানুষ।’ মৃতের বন্ধু আব্দুল মালেক শাওন বলেন, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি দিপু এলাকার একটি মসজিদে পারিবারিকভাবে বিয়ে করেছিলেন। বিয়ের মাত্র ১০ দিনের মাথায় আজ দিপু আর নেই। তার বাড়িতে রয়েছেন নববধূ, যার হাতের মেহেদীর রং এখনো শুকায়নি। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মারাত্মক হতাশায় ভুগছিলেন। হয়তো সেই হতাশা থেকেই এভাবে নিজের জীবন শেষ করে দিয়েছেন। দিপুর মতো মিশুক মানুষ আমি জীবনে খুব কমই দেখেছি। চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লুৎফর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষ হলে মরদেহ স্বজনরা বাড়িতে আনবে। এবিষয়ে শ্রীপুর থানা পুলিশ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

প্লাস্টিকের জুতার ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে ইয়াবা পাচারের সময় নোয়াখালীর সদর উপজেলায় এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এ সময় তার কাছ থেকে ২ হাজার ৯৭০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। বিজ্ঞাপন সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৭টা থেকে ৮টা ২০ মিনিট পর্যন্ত সুধারাম মডেল থানার পূর্ব চাকলা গ্রামের খন্দকার মসজিদ মোড় এলাকায় দুলাল অটো সার্ভিসিং সেন্টারের সামনে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ইসমাইল হোসেন (৪০) নোয়াখালীর সদর উপজেলার কালাদরাফ ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের রামহরি তালুক এলাকার উত্তর চাকলা রাজের বাড়ির মৃত ফয়েজ আহমেদের ছেলে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, দুটি প্লাস্টিকের জুতার ভেতরে লুকিয়ে রাখা দুটি পলি প্যাকেট থেকে কমলা রঙের অ্যামফিটামিনযুক্ত মোট ২ হাজার ৯৭০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার ইয়াবার মোট ওজন প্রায় ২৮০ গ্রাম। এ ছাড়া, তার কাছ থেকে দুটি সিমযুক্ত একটি অপো A3s স্মার্টফোন ও একটি নকিয়া বাটন ফোন জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) ধারায় সুধারাম মডেল থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন। নোয়াখালী জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সুব্রত সরকার শুভ ঢাকা পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মাদকবিরোধী চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান। আজ (সোমবার) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে লেফটেন্যান্ট জেনারেল র্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে তিন বাহিনীর প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। এ বিষয়ে আইএসপিআর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান আজ থেকে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। সোমবার সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নবনিযুক্ত প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারকে লেফটেন্যান্ট জেনারেল র্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেন। এ সময় সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান ও বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান ২১ জুন ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কোর অব ইনফেনট্রিতে কমিশন লাভ করেন। তিনি ২৪ ডিভিশনের জিওসি, প্রতিরক্ষা ক্রয় মহাপরিদপ্তরে সামরিক সচিব ও মহাপরিচালক পদেসহ সেনাবাহিনীতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।

নতুন পণ্য ঘোষণায় প্রচলিত ধারার বাইরে যেতে পারে প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল। ৪ মার্চ ‘স্পেশাল অ্যাপল এক্সপেরিয়েন্স’-এ অংশ নিতে প্রযুক্তিবিষয়ক গণমাধ্যমকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে এবারের আয়োজন প্রচলিত একক কি-নোট অনুষ্ঠানের মতো নাও হতে পারে। জানা গেছে, একদিনে সব ঘোষণা না করে তিন দিনজুড়ে ধারাবাহিকভাবে নতুন পণ্যের ঘোষণা দিতে পারে অ্যাপল। অনলাইনে এসব ঘোষণা আসবে। এরপর ৪ মার্চ নিউইয়র্ক, লন্ডন ও সাংহাইয়ে সরাসরি আয়োজনের মাধ্যমে সাংবাদিকদের হাতে-কলমে পণ্য ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হতে পারে। এ ধরনের আয়োজনকে ‘হ্যান্ডস-অন’ অভিজ্ঞতা বলেই মনে করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকেরা। এটি হতে পারে সরাসরি ডেমো প্রদর্শনের একটি বিশেষ আয়োজন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ সময় অন্তত পাঁচটি নতুন পণ্য উন্মোচন করতে পারে অ্যাপল। আলোচনায় রয়েছে স্বল্পমূল্যের একটি ম্যাকবুক। পাশাপাশি আসতে পারে আইফোন ১৭ই, এম৪ চিপসংবলিত আইপ্যাড এয়ার, নতুন এন্ট্রি-লেভেল আইপ্যাড এবং আপগ্রেড সংস্করণের ম্যাকবুক এয়ার ও ম্যাকবুক প্রো। যদিও এসব পণ্য বসন্তেই আসার কথা, ঠিক কোনটি কবে ঘোষণা হবে— তা নিয়ে এখনো স্পষ্ট নয়। তবে প্রযুক্তি বিশ্বে জোর গুঞ্জন, মার্চের শুরুতেই একাধিক চমক নিয়ে হাজির হবে অ্যাপল। প্রচলিত মঞ্চভিত্তিক কি-নোটের বদলে যদি ধাপে ধাপে ঘোষণা আসে, তাহলে তা অ্যাপলের কৌশলে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেবে। এতে পণ্যের প্রতি আগ্রহ কয়েক দিন ধরে ধরে রাখা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) নতুন মৌসুম শুরু হয়েছে। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ইন্টার মায়ামি গত শনিবার রাতে লস অ্যাঞ্জেলস এফসির মাঠে নেমে হেরেছে ৩-০ গোলে। পুরো ম্যাচে লক্ষ্যে কোনো শট রাখতে পারেননি লিওনেল মেসি। নিষ্প্রভ আর্জেন্টাইন তারকা স্বাভাবিকভাবে হতাশ ছিলেন। তবে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, কারো অনুমতি ছাড়া ম্যাচ শেষে রেফারিদের রুমে ঢুকেছিলেন আর্জেন্টাইন তারকা। এই অভিযোগের ভিত্তিতে বিস্তর পর্যালোচনা করেছে লিগ কর্তৃপক্ষ। ভিডিও বিশ্লেষণের পর তারা রায় দিয়েছে, মেসি লিগের কোনো নীতি লংঘন করেননি। তাই কোনো শাস্তি পাচ্ছেন না এলএমটেন। এমনকি এমএলএসের ডিসিপ্লিনারি কমিটিতেও নেওয়া হবে না এই বিষয়টি। ম্যাচের পর একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দেখা যায় মায়ামি অধিনায়ক রেফারিদের প্রাঙ্গনে প্রবেশ করছেন। অনেকে অভিযোগ করেন, আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড ম্যাচ অফিসিয়ালদের রুমে প্রবেশ করেছেন কারো অনুমতি ছাড়াই। কিন্তু এমএলএস রায় দিয়েছে, মেসি যে পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, সেটা লিগের কোনো সীমাবদ্ধ এলাকা নয়। আর মেসি যে দরজা দিয়ে ঢুকেছিলেন, সেটা রেফারিদের লকার রুমের নয়। পেশাদার রেফারি সংস্থার কমিউনিকেশন পরিচালক ক্রিস রিভেট ইএসপিএন-কে নিশ্চিত করেছে, মেসি অফিসিয়ালদের রুমে প্রবেশ করেননি। তার কথা, ‘ম্যাচ অফিসিয়ালদের সঙ্গে কথা বলার পর আমরা নিশ্চিত করছি তিনি তাদের রুমে প্রবেশ করেননি।’ ম্যাচের রেফারির ওপর মেসি বিরক্ত ছিলেন কি না প্রশ্নে মায়ামি কোচ জাভিয়ের মাসচেরানো জানান, আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডকে বিষণ্ন থাকতে দেখেননি তিনি। তার বক্তব্য, ‘না, না। আমি কিছুই দেখিনি। সত্যি হচ্ছে ম্যাচ শেষ হওয়ার পর আমি লকার রুমে চলে গেছি।’

মালয়েশিয়ার বোর্নিও দ্বীপের সাবাহ অঙ্গরাজ্যের উপকূলে একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৭.১। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সময় রাত ১২টা ৫৭ মিনিটে এই কম্পন অনুভূত হয়। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল সাবাহ অঙ্গরাজ্যের রাজধানী কোটা কিনাবলু থেকে ১০০ কিলোমিটারেরও (৬২ মাইল) কম উত্তর-পূর্বে। ভূপৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল ৬১৯.৮ কিলোমিটার। ভূমিকম্পটির গভীরতা অনেক বেশি হওয়ায় এতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের সম্ভাবনা কম বলে জানিয়েছে ইউএসজিএস। এছাড়া মার্কিন সুনামি সতর্কীকরণ কেন্দ্র কোনো ধরনের সতর্কতা জারি করেনি। তারা স্পষ্ট করেছে যে, গভীর সমুদ্রতলে এই কম্পন হওয়ায় সুনামির কোনো আশঙ্কা নেই। মালয়েশিয়ার আবহাওয়া অধিদপ্তর এই ভূমিকম্পের মাত্রা ৬.৮ বলে রেকর্ড করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, সাবাহ-এর পশ্চিম উপকূল ছাড়াও সারাওয়াক রাজ্যের বেশ কিছু এলাকায় মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের কম্পন অনুভূত হয়েছে।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় প্রতিবন্ধী এক চালককে হত্যা করে অটোরিকশা ছিনতাই করেছে দুর্বৃত্তরা। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মুন্সী বাড়ির পেছনের একটি ধানক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত আবদুল আহাদ (২৪) একই ইউনিয়নের বাসিন্দা নুরুল আলমের ছেলে। তিনি শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী ছিলেন এবং অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার দুপুরে মুন্সী বাড়ির পেছনের ধানক্ষেতে একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে এলাকাবাসী। পরে কাছে গিয়ে তারা মরদেহটি নিখোঁজ অটোরিকশা চালক আহাদের বলে শনাক্ত করেন। খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে শত শত মানুষ ভিড় করেন। তবে আহাদের ব্যবহৃত অটোরিকশাটি ঘটনাস্থল বা আশপাশে পাওয়া যায়নি। এ সময় তার মুখ ও গলায় টেপ প্যাঁচানো অবস্থায় ছিল বলে স্থানীয়রা জানান। নিহতের মামা মো. আজাদ বলেন, দুই বছর আগে আহাদের মায়ের সঙ্গে তার বাবার ছাড়াছাড়ি হয়। এরপর থেকে সে নানার বাড়িতে থাকত। স্থানীয় জিলানী নামে এক ব্যক্তির গ্যারেজে থেকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করত আহাদ। শনিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে অটোরিকশার মালিক ফোনে আহাদের মাকে জানান, সে রিকশা নিয়ে গ্যারেজে ফেরেনি। এরপর থেকে অটোরিকশাসহ নিখোঁজ ছিল। রোববার দুপুরে জমির মালিক ধানক্ষেতে পানি দিতে গিয়ে মুখে কসটেপ মোড়ানো অবস্থায় আহাদের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়দের জানান। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য মানিক বলেন, এলাকাবাসীর মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আহাদকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তার অটোরিকশাটি পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে অটোরিকশাটি ছিনতাই করা হয়েছে। আমরা দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাই। বেগমগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) হাবিবুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। তবে নিহতের অটোরিকশার এখনও কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। হত্যার কারণ ও ঘটনায় জড়িতদের পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ না থাকায় ওই সময়ে অদম্য টি-টোয়েন্টি কাপে খেলেছিলেন জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা। এরপর কিছুদিন বিশ্রামে থেকে তারা আবারও মাঠে নামছেন। আগামীকাল (সোমবার) থেকে শুরু হবে ওয়ানডে ফরম্যাটের বিসিএল। তার আগে রাজশাহীর উইকেট নিয়ে কথা বলেছেন ক্রিকেটার সাইফ হাসান। গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় মিরপুরে উইকেট যে খুব খারাপ হয় তা না। রাতের ম্যাচগুলোয় সবসময় উইকেট ভালো থাকে। যখন শিশির পড়ে তখনও ভালো থাকে। এটা নির্ভর করে আসলে, একেক দিন একেক রকম থাকে। আমরা জানি রাজশাহী এবং বগুড়ায়–ও ভালো উইকেট থাকে। তাই আমার মনে হয় এটা নির্ভর করে আসলে কোন দিনে কেমন থাকে, এর সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াটা খুব জরুরি।’ বাংলাদেশ দলে ওপেনারদের মধ্যে প্রতিযোগিতা প্রসঙ্গে সাইফ বলেন, ‘(দলের মধ্যে) প্রতিযোগিতা আছে কি না জানি না। সর্বশেষ দলে কে ছিল না ছিল... আসলে অনেকদিন হয়ে গেছে। নতুন টুর্নামেন্ট আছে। এখন আমরা বিসিএল খেলব, সবার নজর এখানে। এখানে যদি একটা ভালো শেপে সবাই আসতে পারে আশা করি ভালো হবে। আমরা বেশিরভাগ ম্যাচ টি-টোয়েন্টি খেলছি গত কয়েক মাস। তাই খুব ভালো হলো আমাদের জন্য (এখন বিসিএলে ওয়ানডে খেলার সুযোগ), ভালো একটা প্রস্তুতি হবে আমাদের জন্য।’ ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ নিয়ে এখনই ভাবতে চান না ডানহাতি এই ব্যাটার, ‘একেক জনের গোল একেক রকম হতে পারে। তবে আমার মনে হয় এত দূরেরটা না দেখে প্রথমে দেখা উচিত আমরা ওয়ানডে খেলা শুরু করছি অনেকদিন পর। কীভাবে নিজেদেরকে তাড়াতাড়ি খাপ খাইয়ে নিতে পারি দেখতে হবে। তারপর ধাপে ধাপে সামনে যে সিরিজগুলো আসবে, সেগুলোর ওপর নজর রাখা উচিত।’

প্রায় ১৭ বছর আগে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের আশ্রাফাবাদে এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় চার যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ রায় দেন। দণ্ডিতরা হলেন- শহিদুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, নিজাম এবং মনির হোসেন ওরফে সেন্টু। সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর এরশাদ আলম (জর্জ) সাজার তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, দণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আসামিদের স্থাবর/অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে অর্থদণ্ডের টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিতে ঢাকার জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আসামিদের মধ্যে সাইফুল ইসলাম পলাতক রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে ট্রাইব্যুনাল। অপর তিন আসামি আদালতে হাজির ছিলেন। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০০৯ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর ২৫ বছর বয়সে ওই নারীর তার বান্ধবীর সঙ্গে কামরাঙ্গীরচর থানাধীন আশ্রাফাবাদে ময়দার মিলের পার্শ্বে নৌকা ঘাটে বেড়িবাধে রেড়াতে বের হয়েছিলেন। এক পর্যায়ে তার বান্ধবী তাকে রেখে বাসায় চলে যায়। তার বান্ধবী চলে যাওয়ার পর ঐদিন বিকেল ৬টা ৪৫ মিনিটে আসামি মো. শহিদুল, মো. সাইফুল, মো. নিজাম, সুজন, মো. পলাশ এবং মো. সেন্টু জোর পূর্বক তার প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাকে একটি নৌকায় উঠায় এবং বুড়িগঙ্গা নদীর মাঝখানে নিয়ে মাঝিকে নদীর মধ্যে ফেলে দেন। পরে নৌকার মধ্যে আসামিরা পালাক্রমে ওই নারীকে ধর্ষণ করে। ধর্ষণ করার পর আসামির ভিকটিমকে ছালাম কন্ট্রাকদারের বাড়ির একটি রুমের মধ্যে তালাবদ্ধ করে রাখেন। এরপর সংবাদ পেয়ে তার বাবা-মা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেন। ওই ঘটনায় ভিকটিম বাদী হয়ে কামরাঙ্গীরচর থানায় ধর্ষণের অভিযোগে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে ২০১০ সালের ৩১ অক্টোবর তদন্ত কর্মকর্তা কামরাঙ্গীরচর থানার উপ-পরিদর্শক মো. শফিকুল ইসলাম শিকদার আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আব্দুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় সচিবালয়ে মন্ত্রীপরিষদ বিভাগে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সকাল ৯টা ৫ মিনিটে সচিবালয়ে মন্ত্রীপরিষদ বিভাগে অফিস করতে আসেন। এ সময় মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান।

ইতালির রোমে বাংলাদেশ দূতাবাসে যথাযোগ্য মর্যাদায় ‘শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৬’ পালন করা হয়েছে। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে দূতাবাসের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা দিবসটির ঐতিহাসিক তাৎপর্য ও চেতনার কথা তুলে ধরেন। দিবসটি উদযাপনের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয় ২১ ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে। রোমের আইজাক রবিন পার্কে স্থাপিত স্থায়ী শহিদ মিনারে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করেন দূতাবাসের কর্মকর্তারা। এরপর সকালে দূতাবাস প্রাঙ্গণে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করা হয় এবং সেখানে স্থাপিত অস্থায়ী শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় দূতাবাসের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন প্রবাসী সংগঠনের নেতারা, বাংলাদেশি শিক্ষার্থী এবং ইতালীয় নাগরিকেরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়। এছাড়া ইউনেস্কোর সাধারণ অধিবেশনের সভাপতির ভিডিও বার্তা এবং মহাসচিবের বাণী পাঠ করা হয়। রাষ্ট্রদূত রকিবুল হক তার বক্তব্যে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে অমর একুশের ঐতিহাসিক ভূমিকা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতায় একটি মাইলফলক। তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যে প্রতিফলিত সুশাসন ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় দেশে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘ইউথ ভয়েস অন মাল্টিলিঙ্গুয়াল এডুকেশন’ উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মকে মাতৃভাষার পাশাপাশি অন্যান্য ভাষা শিক্ষায় গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি সবাইকে অমর একুশের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আত্মমর্যাদাশীল বাংলাদেশ বিনির্মাণে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করার অনুরোধ করেন। সভায় উপস্থিত প্রবাসী নেতারা অমর একুশের চেতনাকে গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অনুপ্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করেন এবং সরকারের নতুন পরিকল্পনাকে স্বাগত জানান।

ভারত মহাসাগর ও দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি আরও ঘনীভূত হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। এটি বর্তমানে দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আরও শক্তিশালী হয়ে উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম এর দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়। আবহাওয়া অফিস জানায়, সুস্পষ্ট লঘুচাপটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও আরও ঘনীভূত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ বর্তমানে ভারতের বিহার এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। সংস্থাটি আরও জানায়, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সারাদেশের আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। তবে প্রধানত সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। সেইসঙ্গে সারাদেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। অর্থাৎ শীত বা গরমের বর্তমান তীব্রতায় বড় কোনো পরিবর্তনের আভাস নেই। আগামীকাল সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। সেইসঙ্গে সারাদেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। আগামী মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় খুলনা বিভাগের দু’এক জায়গায় বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সেইসঙ্গে সারাদেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। আগামী বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু’এক জায়গায় বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সেইসঙ্গে সারাদেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। আগামী বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। সেইসঙ্গে সারাদেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। এছাড়া আগামী পাঁচদিনের মধ্যে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা বাড়তে পারে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

ফেব্রুয়ারির একুশ মানেই বাঙালির হৃদয়ে শোক আর গৌরবের এক অপার্থিব অনুভূতি। ১৯৫২ সালের এই দিনে রাজপথ রঞ্জিত করে যে বীর সন্তানেরা মায়ের ভাষার মান বাঁচিয়েছিলেন, আজ সারা দেশ তাদের জানাচ্ছে বিনম্র শ্রদ্ধা। জাতির এই পরম আবেগের দিনে অনন্য সাধারণ এক ভঙ্গিতে ভাষা শহীদদের স্মরণ করেছেন ঢালিউড মেগাস্টার শাকিব খান। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে একটি বিশেষ পোস্টের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের প্রতি এই শ্রদ্ধা নিবেদন করেন নায়ক। শাকিব খানের নিজস্ব প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘এসকে ফিল্মস’ -এর পেজ থেকেও একই ছবি ও বার্তা দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। শাকিব খানের শেয়ার করা পোস্টটির কার্ডে ভাষা দিবসের অর্থবহ গ্রাফিক্স ব্যবহার করা হয়েছে। শাকিবের সিনেমায় পাকিস্তানি নায়িকার গুঞ্জন, মুখ খুললেন পরিচালক ছবিতে দেখা যাচ্ছে, চলচ্চিত্রের তিনটি ফিল্ম রোল লম্বালম্বিভাবে দাঁড় করিয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের আদল তৈরি করা হয়েছে এবং পাশে একটি ফিল্ম রিল রাখা হয়েছে। নিজের পেশা অর্থাৎ চলচ্চিত্রের অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ ফিল্ম রোলের সাথে জাতীয় শোক, অহংকার ও গৌরবের প্রতীক শহীদ মিনারকে এক সুতোয় গেঁথেছেন এই শীর্ষ নায়ক। এই ছবিটির ভেতরে এবং পোস্টের ক্যাপশনে লেখা রয়েছে, ‘মাতৃভাষার জন্য জীবন দেওয়া সকল বীর শহীদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা।’ উল্লেখ্য, শাকিব খানের দেশপ্রেম ও মাতৃভাষার প্রতি এমন ব্যতিক্রমী ভালোবাসার প্রশংসা করেছেন তার ভক্ত-অনুরাগীরা।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবারের মতো তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অফিস করছেন। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা ১০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এলে তাকে স্বাগত জানান কার্যালয়ে মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার ও অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। প্রধানমন্ত্রী নিজের কার্যালয়ের মূল ভবনে প্রবেশের আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া সরকারের সময় দায়িত্বপালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কুশলাদি বিনিময় করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কার্যালয়ের পুরনো অনেক কর্মকর্তা ও কর্মচারীর নাম ধরে কাছে ডেকে কথা বলেন। এদিকে, প্রধানমন্ত্রী একটি স্বর্ণচাঁপা ফুলের চারা কার্যালয় চত্বরে রোপন করেন এবং মহান আল্লাহপাকের কাছে শুকরিয়া আদায় করে বিশেষ মোনাজাত করেন। এসময় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. একেএম শামছুল ইসলামসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে ডাক টিকিট উন্মোচন করেন।

যদিও রোজা রাখার অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে তবে এর কারণে শরীর ক্লান্ত হওয়া স্বাভাবিক। সারাদিন না খেয়ে থাকার কারণে শরীর কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। তবে চিন্তার কিছু নেই। কিছু বিষয়ে খেয়াল রাখলে পুরো রমজানজুড়ে আপনি সুস্থ ও শক্তিশালী থাকতে পারবেন। দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে উঠলে ক্লান্তিবোধ কমে আসবে। চলুন জেনে নেওয়া যাক, রোজায় শক্তি ধরে রাখতে কী করবেন- ১. সেহরিতে পুষ্টিকর খাবার খান সুষম সেহরি দিনের বেলায় রোজার জন্য শরীরকে প্রস্তুত করতে সাহায্য করবে, পাশাপাশি হজমকে আরও মসৃণ করে তুলবে। জটিল কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি, ফল ও শাক-সবজির মিশ্রণ শরীরকে টিকিয়ে রাখবে। লবণাক্ত বা গভীর ভাজা খাবার এড়িয়ে স্বাস্থ্যকর খাবার উপভোগ করুন। হোল গ্রেইন রুটি, বাদামি চাল, ডিম, অ্যাভোকাডো, পনির এবং কলা বেছে নিন। সেইসঙ্গে পর্যাপ্ত পানি পান করুন। ২. মৃদু ব্যায়াম শরীর যখন রোজার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়, তখন প্রথম কয়েক দিন শক্তির মাত্রা কমে যেতে পারে। এটিকে সামঞ্জস্য করার জন্য, আপনার দিনের মধ্যে মৃদু কার্যকলাপ অন্তর্ভুক্ত করুন। কয়েক মিনিট স্ট্রেচিং, অল্প হাঁটা, অথবা কিছু সহজ শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম আপনাকে পুনরুজ্জীবিত এবং সতেজ করতে সাহায্য করবে। ৩. ঘুমের সময়সূচী ঠিক রাখুন ঐতিহ্যগতভাবে বন্ধুবান্ধব এবং পরিবার একত্রিত হওয়ার সময় হলো রমজান মাস। ইফতার, নামাজ, সেহরি সবকিছু মিলিয়ে রাতে ঘুমের সময়ে পরিবর্তন আসে। যদি সম্ভব হয়, আগে আগে ঘুমাতে যাওয়ার চেষ্টা করুন, অথবা সম্ভব হলে নিয়মিত ঘুমের সময়সূচী বজায় রাখুন। ৪. ঠান্ডা পরিবেশে থাকুন তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে রোজায় পানিশূন্যতার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। ফ্যান এবং এয়ার কন্ডিশনিং সমৃদ্ধ পরিবেশে থাকার চেষ্টা করুন, সেইসঙ্গে সম্ভব হলে তাপ থেকে দূরে থাকুন। তীব্র পানিশূন্যতা এড়াতে নিজের ও প্রিয়জনদের দিকে খেয়াল রাখুন। পানিশূন্যতার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।

মানুষের জীবনে যে নিয়ামতগুলো সবচেয়ে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে, মাতৃভাষা তার অন্যতম। ভাষার মাধ্যমেই মানুষ ভাব প্রকাশ করে, জ্ঞান অর্জন করে, অনুভূতি ভাগ করে নেয় এবং সভ্যতা গড়ে তোলে। ইসলাম মাতৃভাষাকে অবজ্ঞা করেনি; বরং কোরআন ও হাদিসে ভাষা ও বৈচিত্র্যকে আল্লাহ তায়ালার অসীম কুদরতের নিদর্শন হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আর তার নিদর্শনাবলির মধ্যে রয়েছে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টি এবং তোমাদের ভাষা ও বর্ণের বৈচিত্র্য। নিশ্চয় এতে জ্ঞানীদের জন্য নিদর্শন রয়েছে। এই আয়াতে ভাষার ভিন্নতাকে আল্লাহর কুদরতের নিদর্শন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ মাতৃভাষা শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং সৃষ্টিকর্তার পক্ষ থেকে প্রদত্ত এক বিশেষ দান, যা মানুষের পরিচয় ও স্বাতন্ত্র্য বহন করে। আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেক জাতির কাছে তাদের নিজস্ব ভাষাভাষী রাসুল পাঠিয়েছেন। এ কথাও কোরআনে স্পষ্টভাবে এসেছে। এর উদ্দেশ্য ছিল, যেন মানুষ সহজে দ্বীন বুঝতে পারে এবং বার্তা গ্রহণে কোনো অসুবিধা না হয়। এটি প্রমাণ করে, ভাষা মানুষের হৃদয়ে পৌঁছানোর সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম। মাতৃভাষার প্রতি এই সম্মান ইসলামের সার্বজনীন দৃষ্টিভঙ্গিকেই তুলে ধরে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ কওমের ভাষায় কথা বলতেন এবং সাহাবায়ে কেরামকেও মানুষের বোধগম্য ভাষায় দাওয়াত দিতে উৎসাহিত করেছেন। হাদিসে আছে, তিনি সহজ ও স্পষ্ট ভাষায় কথা বলতেন, যেন শ্রোতারা অনায়াসে বুঝতে পারে। এর মাধ্যমে আমাদের শেখনো হয়েছে, ভাষা যত সহজ ও হৃদয়ের কাছাকাছি হবে, ততই সত্য ও ন্যায়ের বাণী মানুষের অন্তরে গেঁথে যাবে। মাতৃভাষা মানুষের আবেগ, সংস্কৃতি ও বিশ্বাসের বাহক। শিশুর প্রথম শিক্ষা, মায়ের ডাক, আল্লাহর ইবাদত ও প্রার্থনার স্বতঃস্ফূর্ত ভাষা, সবই মাতৃভাষায়। তাই মাতৃভাষাকে অবহেলা করা মানে নিজের শিকড়কে অবহেলা করা। ইসলাম কখনোই শিকড়চ্যুতি সমর্থন করে না; বরং নিজ পরিচয় রক্ষা করে আল্লাহর পথে চলার শিক্ষা দেয়। একই সঙ্গে ইসলাম অন্য ভাষার প্রতিও শ্রদ্ধাশীল হতে শেখায়। কোরআনের ভাষা আরবি হলেও ইসলাম শুধু আরবদের জন্য নয়। পৃথিবীর প্রতিটি ভাষাভাষী মানুষ ইসলামের আহ্বানের অন্তর্ভুক্ত। তাই মাতৃভাষাকে ভালোবাসা ও লালন করার সঙ্গে সঙ্গে অন্য ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতিও সম্মান দেখানো ঈমানি শিষ্টাচারের অংশ।

পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) আবাসিক হলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সেহরি করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) ভোর রাতে ভাষা শহিদ আব্দুস সালাম হলের ডাইনিং হলে তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসে সেহরি গ্রহণ করেন। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, রমজানের প্রথম দিকেই শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নিতে এবং আবাসিক হলের সার্বিক পরিবেশ পর্যবেক্ষণে এ অনানুষ্ঠানিক সফরে যান উপাচার্য। সেহরির সময় তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের পড়াশোনা, হলের খাবারের মান ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে জানতে চান। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সবসময় শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। রমজান মাসে যেন সুষ্ঠু ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে তারা সেহরি ও ইফতার করতে পারে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ভাষা শহিদ আব্দুস সালাম হলের প্রভোস্ট ও সংশ্লিষ্ট হল প্রশাসনের সদস্যরাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন। তারা জানান, রমজান উপলক্ষে বিশেষ মেনু নির্ধারণ করা হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। হলের একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, উপাচার্যের এমন উপস্থিতি তাদের মাঝে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। প্রশাসনের সর্বোচ্চ দায়িত্বশীল ব্যক্তি সরাসরি এসে তাদের সঙ্গে সেহরি করায় তারা আনন্দিত ও উৎসাহিত হয়েছেন। উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল বলেন, শিক্ষার্থীরা আমার সন্তানের মতো। তারা কি খাচ্ছে তা তদারকি করা আমার দায়িত্ব। তাই আমি নিজেই তাদের সঙ্গে খাবার খেয়েছি। খাবারের মান ভালো ছিল আশা করি এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। শিক্ষার্থীদের সার্বিক কল্যাণ, একাডেমিক অগ্রগতি এবং মানসিক সুস্থতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। তিনি সবাইকে পারস্পরিক সহমর্মিতা ও সহযোগিতার মাধ্যমে একটি সুন্দর ও ইতিবাচক ক্যাম্পাস পরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

নতুন বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতেই দেশের সড়কে ঝরেছে ৪৮৭ প্রাণ। মাসজুড়ে মোট ৫৫৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ১ হাজার ১৯৪ জন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়, যা মোট নিহতের ৪০ দশমিক ২৪ শতাংশ। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমানের পাঠানো জানুয়ারি মাসের সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এ উদ্বেগজনক চিত্র। ৯টি জাতীয় দৈনিক, ৭টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে তারা এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে নারী ৬৮ জন ও শিশু ৫৭ জন। এছাড়া ২০৮টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৯৬ জন, যা মোট নিহতের ৪০ দশমিক ২৪ শতাংশ। এই সময়ে ৪টি নৌ-দুর্ঘটনায় ৬ জন নিহত ও ৭ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া ৪১টি রেল ট্র্যাক দুর্ঘটনায় ৩২ জন নিহত এবং ১৭ জন আহত হয়েছেন। যানবাহনভিত্তিক নিহতের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ১৯৬ জন; বাসের যাত্রী ২১ জন; ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকআপ ও ট্রাক্টরের আরোহী ২৮ জন; প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, অ্যাম্বুলেন্স ও জিপের আরোহী ৯ জন; থ্রি-হুইলার যাত্রী ৭৭ জন; স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী ১৩ জন এবং বাইসাইকেল আরোহী ১১ জন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ১৩৫টি মুখোমুখি সংঘর্ষ, ২০৯টি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ১৩৭টি পথচারীকে চাপা বা ধাক্কা দিয়ে, ৭২টি যানবাহনের পেছনে আঘাত এবং ৬টি অন্যান্য কারণে ঘটেছে। সড়কের ধরন অনুযায়ী, ১৫৬টি জাতীয় মহাসড়কে, ২০৭টি আঞ্চলিক সড়কে, ৮৫টি গ্রামীণ সড়কে, ১০৩টি শহরের সড়কে এবং ৮টি অন্যান্য স্থানে দুর্ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের সংখ্যা ছিল ৮৮৫টি। এর মধ্যে বাস ১০৮টি, ট্রাক ১৪৪টি, কাভার্ডভ্যান ১৬টি, পিকআপ ৩২টি, ট্রাক্টর ২১টি, মোটরসাইকেল ২১৭টি, থ্রি-হুইলার ১৬৪টি, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন ৩৫টি, বাইসাইকেল ৮টি, রিকশা ১১টি এবং অজ্ঞাত যানবাহন ৪৮টি। বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ১৪৩টি দুর্ঘটনায় ১১৯ জন নিহত হয়েছেন। বিপরীতে সিলেট বিভাগে সবচেয়ে কম ২৪টি দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত হয়েছেন। রাজধানী ঢাকায় ২৬টি দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত ও ৪১ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের পেশাগত পরিচয়ের মধ্যে পুলিশ সদস্য ২ জন, শিক্ষক ১৩ জন, চিকিৎসক ২ জন, সাংবাদিক ৬ জন, আইনজীবী ৪ জন, ব্যাংক ও বীমা কর্মকর্তা-কর্মচারী ১১ জন, এনজিও কর্মী ১৯ জন, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ২৭ জন, ব্যবসায়ী ২১ জন, বিক্রয় প্রতিনিধি ২৬ জন, পোশাক শ্রমিক ৯ জন, নির্মাণ শ্রমিক ৬ জন, প্রতিবন্ধী ৩ জন এবং শিক্ষার্থী ৫৭ জন রয়েছেন। প্রতিবেদনে সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও সড়ক, বেপরোয়া গতি, চালকদের অদক্ষতা, কর্মঘণ্টা ও বেতন নির্ধারিত না থাকা, মহাসড়কে স্বল্পগতির যান চলাচল, ট্রাফিক আইন না মানা, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)-এর সক্ষমতার ঘাটতি এবং গণপরিবহনে চাঁদাবাজিকে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ বৃদ্ধি, চালকদের বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্ধারণ, বিআরটিএ’র সক্ষমতা বৃদ্ধি, ট্রাফিক আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করা, মহাসড়কে সার্ভিস রোড নির্মাণ, রোড ডিভাইডার নির্মাণ, গণপরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধ, রেল ও নৌপথ উন্নয়ন এবং সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়েছে।

পবিত্র রমজানের প্রথম দিনেই রাজধানীর বাজারে অস্থির হয়ে উঠেছে পেঁয়াজের দাম। সরবরাহ সংকট ও চাহিদার অজুহাতে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়ে বর্তমানে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রমজানের শুরুতেই নিত্যপণ্যের এমন চড়া দামে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে কাঁচাবাজার ও রায়েরবাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, বিভিন্ন খুচরা বাজারে গত কয়েক দিনের ব্যবধানে কেজিপ্রতি পেঁয়াজের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রতি কেজিতে দাম বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ টাকা। রমজান মাসের প্রথম দিনেই প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। আকারে একটু ছোট পেঁয়াজ আবার ৫৫ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। তবে কোনো দোকানেই ৬০ টাকার নিচে ভালো মানের পেঁয়াজ মিলছে না। পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বাড়তি চাপের মুখে পড়ছেন সাধারণ ক্রেতারা। পেঁয়াজ বিক্রেতা হাসান মাহমুদ বলেন, আজকে নয়, গত দুই-তিন দিন ধরেই পেঁয়াজের দাম বাড়ছে। মৌসুমের শেষের দিকে সরবরাহ কমে যাওয়া, পরিবহন খরচ বৃদ্ধি এবং চাহিদা বাড়ার কারণে বাজারে পেঁয়াজের দাম বাড়তির দিকে। রমজানকে কেন্দ্র করে পাইকারি পর্যায়ে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, পাইকারি বাজারে বেশি দামে পেঁয়াজ কিনতে হওয়ায় বাধ্য হয়েই বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। অনেক বিক্রেতা জানান, আগের তুলনায় মোকামে পেঁয়াজের দাম কেজিতে কয়েক দফা বেড়েছে; ফলে খুচরা পর্যায়ে দাম সমন্বয় করা ছাড়া তাদের হাতে বিকল্প নেই। রমজানের প্রভাবও পাইকারি বাজারে দেখা যাচ্ছে। এদিকে মারুফ হোসেন নামে এক ক্রেতা বলেন, রমজান এলেই ব্যবসায়ীদের ক্রেতাদের পকেট কাটার ধান্দা থাকে। গত সপ্তাহে আমি ১০০ টাকার নিচে দুই কেজি পেঁয়াজ কিনেছি, আর আজকে দাম চাচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা। রিকশাচালক মো. শুক্কুর আল আমিন বলেন, ভ্যানগাড়ি থেকে দুই দিন আগে ৫০ টাকা কেজি দরে কিনেছি। আমার ছোট পরিবার, সপ্তাহখানেক চলে যাবে। তারপর তো বেশি দামেই কিনতে হবে। রোজার সময় দাম বাড়বে এটা তো জানতামই, ব্যবসায়ীরা রোজা আসলেই দাম বাড়িয়ে দেয়।

নোয়াখালীতে রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের জেলা কার্যালয়ের প্রায় ১৮ মাস পর তালা ভেঙে ব্যানার টানিয়ে দিয়েছেন নেতাকর্মীরা। এ ঘটনার পর তাৎক্ষণিক ৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ। বিজ্ঞাপন বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে জেলা শহরের টাউনহল মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তালাবদ্ধ থাকা দলীয় কার্যালয়ের তালা ভেঙে সামনে ব্যানার টানানো হয়। পরে সেখানে জড়ো হয়ে স্লোগান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন নেতাকর্মীরা। প্রায় আধাঘণ্টা এই কর্মসূচি পালন করা হয়। বিজ্ঞাপন এ সময় তারা ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’, ‘এই লড়াইয়ে জিতবে কারা, বঙ্গবন্ধুর সৈনিকেরা’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। বিক্ষোভকারীরা দাবি করেন, তৃণমূল নোয়াখালীর নেতাকর্মীদের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। জানা যায়, জুলাই আন্দোলনের পর থেকে কার্যালয়টি তালাবদ্ধ ছিল। আন্দোলন চলাকালে বিক্ষুব্ধ ছাত্রজনতা কার্যালয়টিতে অগ্নিসংযোগ করলে ভবনটি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কর্মসূচি ফেসবুকে লাইভ করেন মো. জাহাঙ্গীর শেখ নামের একটা আইডি। যিনি লিখেন, আগামী দিনে দেশের স্বাধীনতার পক্ষে সব শক্তি এক সঙ্গে কাজ করব ইনশাল্লাহ। আমরা নোয়াখালী জেলা তৃণমূল আওয়ামী লীগ স্বাধীনতার পক্ষের দলের সঙ্গে কাজ করব ইনশাআল্লাহ। সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে অবগত হয়ে অভিযান পরিচালনা করি এবং জড়িত ৫ জনকে আটক করা হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে।

জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় এ ভাষণ দেবেন তিনি। এক বার্তায় তথ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। দেশের সব সম্প্রচার মাধ্যমকে বিটিভির সৌজন্যে ভাষণটি সম্প্রচারের অনুরোধ করেছে তথ্য মন্ত্রণালয়। এর আগে, মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাকে শপথ পড়ান। একই দিন বিকেলে নতুন মন্ত্রিসভার শপথও অনুষ্ঠিত হয়।

জুলাই জাতীয় সনদ অবৈধ ও সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণার নির্দেশনা চেয়ে রিট দায়ের করা হয়েছে। রিটে জুলাই জাতীয় সনদের কার্যকারিতা স্থগিত চাওয়া হয়েছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউনুছ আলী আকন্দ জনস্বার্থে এ রিট দায়ের করেন। বিস্তারিত আসছে...

দীর্ঘ ১৮ মাসের যাত্রার ইতি টেনে বন্ধ হয়ে গেল অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিদায়ী পোস্টে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। ফেসবুক পোস্টে জানানো হয়, ‘Chief Adviser GOB (Head of the Government)’ নামের এই অফিসিয়াল পেজটি এখন থেকে আর সক্রিয় থাকবে না। ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর জনযোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে এই পেজটি খোলা হয়েছিল। বর্তমানে পেজটিতে ফলোয়ার সংখ্যা ৪৪ লাখেরও বেশি। বিদায়ী পোস্টে জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলা হয়, গত ১৮ মাস সময়কালজুড়ে সবার সহায়তা, আগ্রহ ও অংশগ্রহণের জন্য আমরা আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। আপনাদের সমর্থন, সহযোগিতা ও সমালোচনা আমাদের যাত্রাকে আরও মূল্যবান ও সমৃদ্ধ করেছে। এদিকে মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বড় পরিবর্তন সূচিত হয়েছে। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাকে শপথবাক্য পাঠ করান। একই দিন দুপুরে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরাও শপথ গ্রহণ করেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দীনের পরিচালনায় প্রথমে বিএনপি এবং পরে ১১ দলীয় জোট, স্বতন্ত্র ও অন্যান্য সংসদ সদস্যরা শপথ নেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে পাঁচটিতে জয় পাওয়ার পরও নতুন মন্ত্রিসভায় নোয়াখালীর কেউ জায়গা পাননি। এ নিয়ে বিএনপি দলীয় নেতা–কর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারী) বিকেলে নতুন মন্ত্রিপরিষদ শপথ গ্রহণের পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায়। দলীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯১ সালের পর থেকে একতরফা নির্বাচনের সময়গুলো বাদ দিলে নোয়াখালীর অধিকাংশ আসনই বিএনপির দখলে ছিল। এমনকি ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির ভরাডুবির মধ্যেও জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে চারটিতে জয় আসে। এবারের নির্বাচনেও পাঁচটি আসনে জয়ী হওয়ায় স্থানীয় নেতা–কর্মীদের মধ্যে প্রত্যাশা তৈরি হয় যে অন্তত একজন হলেও মন্ত্রিসভায় জায়গা পাবেন। তবে শেষ পর্যন্ত সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-১ আসনে এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, নোয়াখালী-২ আসনে জয়নুল আবদিন ফারুক, নোয়াখালী-৩ আসনে বরকতউল্লা বুলু, নোয়াখালী-৪ আসনে মো. শাহজাহান ও নোয়াখালী-৫ আসনে মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম জয় পেয়েচেন। শুধুমাত্র নোয়াখালী-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী পরাজিত হন এনসিপির প্রার্থীর কাছে। নোয়াখালী-২ আসনের জয়নুল আবদিন ফারুক সর্বোচ্চ ছয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। বরকতউল্লা বুলু ও মো. শাহজাহান পাঁচবার করে নির্বাচিত হয়েছেন। মাহবুব উদ্দিন খোকন দ্বিতীয়বার এবং মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। স্বাধীনতার পর থেকে প্রায় সব সরকারেই নোয়াখালীর প্রতিনিধিত্ব ছিল মন্ত্রিসভায়। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময় ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। ফলে এবারও জেলার মানুষ একই ধরনের প্রতিনিধিত্বের প্রত্যাশা করেছিলেন। জেলা সদরের শ্রীপুরের বাসিন্দা ক্রীড়া সংগঠক মো. জহীর উদ্দিন বলেন, পাঁচটি আসনে ধানের শীষের বিজয়ের পর আমরা আশা করেছিলাম, নোয়াখালীর পরীক্ষিত নেতাদের কেউ না কেউ মন্ত্রী হবেন। দেশনায়ক তারেক রহমান–এর কাছে আমাদের এ প্রত্যাশা রইল। ব্যবসায়ী আশরাফুল এজাজ বলেন, নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে মন্ত্রিসভা হয়েছে, এটি ইতিবাচক। তবে নোয়াখালী থেকে কাউকে না রাখায় আমরা আশাহত। জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন খান তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন, নোয়াখালী বরাবরই দলকে আসন দিয়েছে। এত বর্ষীয়ান নেতা থাকার পরও এবার মন্ত্রী না হওয়াটা দুঃখজনক। লন্ডনপ্রবাসী সাংবাদিক সাহেদ শফিক ফেসবুকে লিখেছেন, দুঃসময়ে রাজপথে যারা রক্ত দিয়েছেন, তাদের কেউই মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ডাক পাননি। গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ সদস্য আব্দুজ জাহের বলেন, অন্তত দুই-তিনজন মন্ত্রী হওয়ার আশা ছিল। বর্ধিত মন্ত্রিসভায় নোয়াখালীর প্রতিনিধিত্ব আশা করছি। নোয়াখালী বিভাগ, সিটি করপোরেশন ও বিমানবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়নে মন্ত্রিসভায় প্রতিনিধিত্ব প্রয়োজন। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর বলেন, হৃদয়টা অত্যন্ত ভারাক্রান্ত। আমাদের প্রতি সুবিচার করা হয়নি। নেতা–কর্মীদের ত্যাগের মূল্যায়ন হওয়া উচিত ছিল। তবে হতাশার মধ্যেও অনেকেই আশা প্রকাশ করেছেন যে নতুন মন্ত্রিসভা দক্ষতার পরিচয় দেবে এবং ভবিষ্যতে বর্ধিত মন্ত্রিসভায় নোয়াখালীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হতে পারে। স্বাধীনতার পর এই প্রথমবার মন্ত্রিসভায় নোয়াখালীর কেউ স্থান না পাওয়ায় জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা ও মূল্যায়নের দাবি উঠেছে।

নোয়াখালীতে রাজনীতি নিষিদ্ধ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জেলা কার্যালয়ের তালা ভেঙে ব্যানার টানিয়ে দিয়েছেন নেতাকর্মীরা। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে জেলা শহরের টাউনহল মোড়ে অবস্থিত এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তালাবদ্ধ থাকা দলীয় কার্যালয়ের তালা ভেঙে সামনে ব্যানার টানানো হয়। পরে সেখানে জড়ো হয়ে স্লোগান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন নেতাকর্মীরা। প্রায় আধাঘণ্টা এই কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় তারা ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’, ‘এই লড়াইয়ে জিতবে কারা, ‘বঙ্গবন্ধুর সৈনিকেরা’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। বিক্ষোভকারীরা দাবি করেন, তৃণমূল নোয়াখালীর নেতাকর্মীদের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। জানা যায়, জুলাই আন্দোলনের পর থেকে কার্যালয়টি তালাবদ্ধ ছিল। আন্দোলন চলাকালে বিক্ষুব্ধ ছাত্রজনতা কার্যালয়টিতে অগ্নিসংযোগ করলে ভবনটি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কর্মসূচি ফেসবুকে লাইভ করেন মো. জাহাঙ্গীর শেখ নামের একটা আইডি। যিনি লিখেন, আগামী দিনে দেশের স্বাধীনতার পক্ষে সব শক্তি এক সঙ্গে কাজ করব ইনশাল্লাহ, আমরা নোয়াখালী জেলা তৃণমূল আওয়ামী লীগ স্বাধীনতার পক্ষের দলের সঙ্গে কাজ করব ইনশাআল্লাহ,,, সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমার জানা নাই। এ বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছি। কে বা কারা করেছে তা দেখে পরবর্তীতে জানাতে পারব।

পুরো রমজান মাসে সরকারি-বেসরকারি নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক স্কুল বন্ধ রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. ইলিয়াস আলী মন্ডল, অ্যাডভোকেট তানজিনা ববি লিজা। এর আগে পবিত্র রমজান মাসে স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. ইলিয়াছ আলী মন্ডল হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট দায়ের করেন। গত ৫ জানুয়ারি পবিত্র রমজানে স্কুল বন্ধ রাখতে সরকারকে আইনি নোটিশ দেন সুপ্রিম কোর্টের ওই আইনজীবী। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবকে এই নোটিশ পাঠান তিনি। নোটিশে বলা হয়, বাংলাদেশের ৯৮ শতাংশ নাগরিক মুসলমান। বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর থেকে রমজান মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে— এটিই আইন, প্রথা ও নীতি এবং ওইভাবে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রমজান মাসে বন্ধ থাকে। সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, আইন ছাড়া কিছুই করা যাবে না, অনুচ্ছেদ ১৫২(১) অনুযায়ী আইন অর্থ বাংলাদেশে আইনের ক্ষমতা সম্পন্ন যেকোনো প্রথা ও রীতি। তাই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় রমজান মাসে খোলা রাখার সরকারের তর্কিত সিদ্ধান্ত অসাংবিধানিক। নোটিশে আরও বলা হয়, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলের কোমলমতি শিশু-কিশোররা সারাদিন স্কুলে যাতায়াত করে, ক্লাস করে ক্লান্ত হয়ে রোজা রাখতে কষ্টের সম্মুখীন হয়ে রোজা রাখার অভ্যাস থেকে দূরে থাকার সম্ভাব্না দেখা দেয়। যা ধর্মীয় আচার চর্চার অন্তরায়। এ ছাড়া রমজান মাসে স্কুল চালু রাখলে শহরগুলোতে তীব্র জানযটের সৃষ্টি হয়, যাতে নগরবাসীকে চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হয়, যা কারও কাম্য নয়। নোটিশের জবাব না পাওয়ায় এ রিট দায়ের করা হয়।

নবনির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর যখন নির্দেশনা দেবে, তখনই সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফিরে যাবে বলে জানিয়েছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। নির্বাচনের জন্য যে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছিল, তাদের সংখ্যা কমানো হয়েছে বলে তিনি জানান। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সিএএস দরবারে সেনাবাহিনীর সব পদমর্যাদার সদস্যের উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে সেনাপ্রধান এসব কথা বলেন। এতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত সদস্যরাও ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন। অনুষ্ঠানে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের সময় সেনাসদস্যদের চমৎকার দায়িত্বশীলতা ও দক্ষতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন সেনাপ্রধান। সেনাপ্রধান বলেন, ‘দেশ গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে এসেছে এবং সেনাবাহিনী তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছে। জনগণের স্বার্থে যা করণীয় ছিল, তা সম্পন্ন করা হয়েছে। সেনাবাহিনী এখন নতুন সরকারের নির্দেশনার অপেক্ষায় থাকবে। সরকারের নির্দেশনা পেলেই তারা ব্যারাকে ফিরে যাবে। নির্বাচনের সময় অতিরিক্ত যে ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছিল, তা ইতোমধ্যে তুলে নেওয়া হয়েছে।’ ভাষণে সেনাপ্রধান ইউনিট প্রধানদের চেইন অব কমান্ড বজায় রাখার ওপর জোর দেন। পাশাপাশি সেনাসদস্যদের মনোবল দৃঢ় রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা দেন। ভুল ও মিথ্যা তথ্যের বিষয়ে সতর্ক এবং সচেতন থাকতে সেনাসদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি যখন নির্বাচনে ভূমিধস জয় পেলো তখন ভারত নতুন সরকারকে সতর্কতার সঙ্গে উষ্ণ শুভেচ্ছা জানাল। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ৬০ বছর বয়সী তারেক রহমানকে জয়ের জন্য শুভেচ্ছা জানান। তিনি একটি গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও অন্তর্বর্তী বাংলাদেশকে সমর্থনের আশ্বাস দেন। এছাড়া বাংলাদেশের সঙ্গে বহুমুখী সম্পর্ক জোরদারে গভীরভাবে কাজ করবেন বলে জানান। তার এ শুভেচ্ছা ছিল সম্পর্ককে এগিয়ে নেওয়ার বার্তা। তবে খুব সতর্কতার সঙ্গে তিনি এ বার্তা দিয়েছেন। সাবেক স্বৈরাচার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জেন-জির গণঅভ্যুত্থানে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে বিশ্বাসে ব্যাপক অবনতি হয়। এরপর সদ্য হওয়া জাতীয় নির্বাচনে হাসিনার আওয়ামী লীগকে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। হাসিনার স্বৈরাচার হওয়ার জন্য অনেক বাংলাদেশি ভারতেক দোষারোপ করেন। এর ওপর সীমান্ত হত্যা, পানি নিয়ে বিরোধ, বাণিজ্যে বিধিনিষেধ ও ভারতের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় আগে থেকেই ছিল। দুই দেশের মধ্যে ভিসা দেওয়া প্রায় বন্ধ আছে। আন্তঃদেশীয় বাস, ট্রেন এখন আর চলছে না। সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে বিমান চলাচলও বহুলাংশে হ্রাস পেয়েছে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে এ মুহূর্তে ভারত সরকার যোগাযোগ তৈরি করবে?— প্রশ্ন এটি নয়, প্রশ্ন হলো কীভাবে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দমনের সীমারেখা নিশ্চিত রেখে এবং বাংলাদেশের সঙ্গে উত্তেজনা কমিয়ে যোগাযোগ করবে। বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপন সম্ভব? বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে আবারও ভারত সম্পর্ক গড়তে পারবে। তবে এক্ষেত্রে সংযম ও পারস্পরিক সহযোগিতা প্রয়োজন হবে। লন্ডনের সোয়াস বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের প্রফেসর অবিনাশ পালিওয়াল সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে বলেছেন, "নির্বাচনী দৌড়ে থাকা দলগুলোর মধ্যে রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে অভিজ্ঞ এবং মধ্যপন্থী হিসেবে বিএনপিই এখন ভারতের জন্য সামনে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে নিরাপদ বা নির্ভরযোগ্য বিকল্প। তবে প্রশ্ন থেকে যায়— তারেক রহমান কীভাবে দেশ শাসন করবেন? তিনি পরিষ্কারভাবেই ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক স্থিতিশীল করতে চাইছেন। কিন্তু এটি মুখে বলা যত সহজ, কাজে পরিণত করা ততটা সহজ নয়।" ভারতের জন্য বিএনপি কোনো অজানা কোনো দল নয়। জামায়াতের সঙ্গে জোট করে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ২০০১ সালে যখন দলটি আবারও ক্ষমতায় ফিরেছিল তখন ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক খুব দ্রুত সময়ে ঠান্ডা হয়ে যায়। জামায়াত-বিএনপি ওই সরকারের পুরোটা ছিল ভারতের জন্য ছিল ‘অবিশ্বাস আর সমস্যার সময়’। যদিও ভারতের সঙ্গে ওই সরকারের শুরুটা হয়েছিল সৌজন্যতার সঙ্গে। ভারতের তৎকালীন নিরাপত্তা উপদেষ্টা ব্রাজেস মিশ্রা প্রথম বিদেশি কূটনীতিক হিসেবে খালেদা জিয়াকে সবার আগে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন। কিন্তু তবুও দুই দেশের মধ্যে বিশ্বাস ছিল খুবই কম। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন ওই বিএনপি সরকার যুক্তরাষ্ট্র, চীন এবং পাকিস্তানের সঙ্গে সৌহায্যপূর্ণ সম্পর্ক রেখেছিল। এতে করে ভারতের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয় বাংলাদেশ হয়ত তাদের বলয় থেকে বের হয়ে যাচ্ছে। এরপর বিচ্ছিন্নতাবাদীদের কার্যক্রম, ১০ ট্রাক অস্ত্র উদ্ধার এবং সংখ্যালঘুদের ওপর কথিত হামলা নিয়ে সম্পর্কে অবনতি ঘটে। যা দিনদিন আরও খারাপ হয়। ২০১৪ সালে খালেদা জিয়া নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ভারতের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট প্রণব মুখার্জির সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠক বাতিল করেন। যা ব্যাপকভাবে ভারতকে বিএনপির প্রত্যাখ্যান করা হিসেবে দেখা হয়েছিল। আর এ কারণেই স্বৈরাচার শেখ হাসিনার ওপর ভারত তার সর্বোচ্চ বিনিয়োগ করেছিল। ক্ষমতায় থাকার ১৫ বছরে হাসিনা দিল্লিকে এমন কিছু দিয়েছেন যা ভারত তার প্রতিবেশীদের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি আশা করে: বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা সহযোগিতা, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং এমন একটি সরকার যা চীনের চেয়ে ভারতের সাথে বেশি জোটবদ্ধ ছিল। যদিও কৌশলগতভাবে এটি খুবই মূল্যবান ছিল। কিন্তু রাজনৈতিক দিক দিয়ে এটি ছিল চরম ব্যয়বহুল। শেখ হাসিনা বর্তমানে পালিয়ে ভারতে আছেন। গণঅভ্যুত্থানে ১ হাজার ৪০০ মানুষকে হত্যার দায়ে তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত। তার ভারতে পালিয়ে থাকা এবং তাকে ফেরত না দেওয়ার বিষয়টি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আরও খারাপ করেছে। খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর গত বছরের ডিসেম্বরে বাংলাদেশে আসেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। এরমধ্যে তিনি তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠ করেন। এরমধ্যে সম্প্রতি তারেক রহমান স্লোগান দেন ‘দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, সবার আগে বাংলাদেশ’। যারমাধ্যমে তিনি ভারত ও পাকিস্তানের প্রভাব থেকে স্বাধীন থাকার ইঙ্গিত দিয়েছেন। শেখ হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশ কোনো সময় নষ্ট না করে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্জীবিত করে। ১৪ বছর বন্ধ থাকার পর সরাসরি দুই দেশের মধ্যে বিমান চলাচল শুরু হয়েছে। ১৩ বছর পর পাকিস্তানের কোনো পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ সফর করেছেন। উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তারা আসা-যাওয়া করেছেন। দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা-সহযোগিতা সম্পর্ক আবারও ফিরে এসেছে এবং ২০২৪-২৫ সালে বাণিজ্য ২৭ শতাংশ বেড়েছে। ভারতের নয়াদিল্লিভিত্তিক ইনস্টিটিউট ফর ডিফেন্স স্টাডিস অ্যান্ড অ্যানালাইসিসের স্মৃতি পট্টনায়ক বলেছেন, “আমাদের উদ্বেগের কারণ এটা নয় যে, পাকিস্তানের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক আছে। একটি সার্বভৌম দেশ হিসেবে তাদের সেই অধিকার রয়েছে। যেটি অস্বাভাবিক ছিল তা হলো, হাসিনার শাসনামলে পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক একেবারেই ছিল না। সম্পর্ক একদিকে (ভারতের দিকে) ঝুকে ছিল। এখন শঙ্কা দেখা দিয়েছে এটি অন্যদিকে (পাকিস্তানের দিকে) ঝুকে যাবে।” হাসিনার ভারতে আশ্রিত থাকার বিষয়টি নতুন সম্পর্ক গড়ার ক্ষেত্রে সমস্যার কারণ হতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, “বিএনপিকে এই কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে যে, হাসিনাকে ভারতের ফেরত দেওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। একই সাথে, ঢাকার অন্যান্য বিরোধী দলগুলো সরকারের ওপর চাপ দিয়ে যাবে যেন তারা ভারতকে হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার জন্য ক্রমাগত চাপ দেয়। বিএনপির পররাষ্ট্রনীতিকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য এটিই হবে বিরোধী দলগুলোর অন্যতম শক্তি।” যা বিএনপির জন্য সহজ হবে না। ওপি জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির শ্রীরাধা দত্ত বলেছেন, হাসিনা ও আওয়ামী লীগের যেসব নেতাকর্মী ভারতে পালিয়ে আছেন তারা সম্পর্কের ক্ষেত্রে আরেক বাধা হবেন। তিনি বলেছেন, "দিল্লি যদি তাদের মাটি ব্যবহার করে আওয়ামী লীগকে আবার রাজনীতিতে পুনর্বাসিত করার চেষ্টা করে, তবে তা হবে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। নির্বাসনে থেকে নির্বাচনের আগে হাসিনা যেসব সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন, সেগুলো ছিল বেশ বিভ্রান্তিকর। তিনি যদি নিজের ভুল স্বীকার না করেন অথবা দলের নেতৃত্বের পরিবর্তনের সুযোগ দিয়ে নিজে সরে না দাঁড়ান, তবে ভারতে তার এই অবস্থান দুই দেশের সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলবে।" এছাড়া সীমান্ত সমস্যা, ভারতীয় রাজনীতি ও টেলিভিশনে উস্কানিকমূলক কথাবার্তাও আরেক সমস্যার বিষয়। কারণ এসবের কারণে বাংলাদেশিদের মধ্যে বিশ্বাস জন্মেছে ভারত বাংলাদেশকে সার্বভৌম দেশের বদলে নিজেদের হাতের পুতুল মনে করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন সম্পর্ক নির্ভর করবে বাংলাদেশের নতুন সরকার ভারত বিরোধী মনোভাব কতটা কমাতে পারে। অপরদিকে ভারত বাংলাদেশকে নিয়ে উস্কানি কতটা বন্ধ করতে পারে।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গত আসরে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল নেপাল। অল্পের জন্য ইতিহাস গড়ে জেতা হয়নি তাদের। এবারের বিশ্বকাপেও তারা শুরুতে চমক দেখালেও বড় হার হেরেছে নবাগত ইতালির কাছে। টানা দুই হারের পর দলের খেলোয়াড়দের সামাজিক মাধ্যম থেকে দূরে থাকতে বললেন নেপাল কোচ স্টুয়ার্ট ল। বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ডের সঙ্গে ভালো প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছিল নেপাল। মাত্র ৪ রানে হারতে হয় তাদের। কিন্তু ইতালির বিপক্ষে একতরফা ম্যাচে তারা হেরেছে ১০ উইকেটে। টানা হারে ‘সি’ গ্রুপের তলানিতে নেমেছে দল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আজ (রোববার) বাঁচামরার লড়াইয়ে দলের উদ্দেশ্যে বার্তা দিলেন— ‘সামাজিক মাধ্যম থেকে দূরে থাকো।’ সামাজিক মাধ্যমের বিশাল বিভ্রান্তির কথা বলে ল সতর্ক করেছেন, ‘আমি মনে করি এখন আমাদের যে বিষয়টি ভালোভাবে দেখতে হবে, সেটি হলো ইংল্যান্ড ও ইতালি ম্যাচের মধ্যে এত পার্থক্য কেন হলো সেই কারণ খোঁজার কাজ করতে হবে।’ সামাজিক মাধ্যম যে নেপালের সংস্কৃতির অংশ সেটা স্বীকার করে বাংলাদেশের সাবেক কোচ বললেন, ‘আমি মনে করি এই রুমে (সংবাদ সম্মেলনে) যে নেপালিরা আছেন, তারা বুঝবেন যে সামাজিক মাধ্যম নেপালি সংস্কৃতির একটি অংশ। তবে আমার মতে সামাজিক মাধ্যম বিশাল বিভ্রান্তি হতে পারে। আপনি যদি সামাজিক মাধ্যমে কী করছেন, সেখানে লোকেরা আপনাকে নিয়ে কী বলছে সেদিকে মনোযোগ দেন এবং দলের কী প্রয়োজন, সতীর্থরা কী বলছে, দলকে কী করতে হবে সেদিকে মনোযোগ না দেন তাহলে আসল কাজ থেকে আপনি ছিটকে যাবেন।’ নেপালের খেলোয়াড়দের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পারছেন । অস্ট্রেলিয়ান কোচ বললেন, ‘এটা কঠিন, কারণ অনেক খেলোয়াড় এনডোর্সমেন্ট ও স্পন্সরশিপের মতো বিষয়গুলোর জন্য এর ওপর নির্ভর করে। কিন্তু আমি এটাও মনে করি যে বিশ্বকাপে ক্রিকেট প্রধান বিষয়। আমি তাদের বোঝানোর চেষ্টা করেছি যে যদি ক্রিকেটে জয়ের ধারা অব্যাহত রাখো, তাহলে এমনিতেই লাইক পাবে।’ ‘নেপালে ক্রিকেট এগিয়ে যাচ্ছে এবং আমরা জিতছি, এটা দেখাতে পারলে আপনাদের বারবার নিজেদের মুখ দেখানোর (সোশ্যাল মিডিয়ায় উপস্থিত থাকার) প্রয়োজন নেই। তাহলে সোশ্যাল মিডিয়ায় আপনাদের জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী হবে। আমার জন্য এটি বোঝা কিছুটা কঠিন কারণ আমি সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে একজন ‘ডাইনোসর’ (সেকেলে মানুষ), আমি এগুলো বুঝি না। আমি এর নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে জানি, কিন্তু ইতিবাচক দিকগুলো ঠিক বুঝে উঠতে পারি না। তাই আমিও এ বিষয়ে শিখছি এবং খেলোয়াড়দের সঙ্গে একটি ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছি, যাতে তারা এক নম্বরে তাদের ক্রিকেটে মনোযোগ দেয়। আর বাকি সব বিষয়কে আমি ‘বাজে কথা’ বা ‘বাজে কাজ’ বলি— আমি আজ ছেলেদেরও সেটা বলেছি— এসব ক্রিকেট থেকে দূরে রাখো, ক্রিকেটের বাইরে এসব করো। যখন তোমরা ক্রিকেটের ভেতরে আছ, তখন শুধু ক্রিকেটটাই খেলো।’

নোয়াখালীর ছয়টি সংসদীয় আসনের ৮৭৫টি ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় ৭টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মোট ১৬ হাজার ৩৭৯ জন সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, নোয়াখালীর সবগুলো আসনে ভোটের পরিবেশ অত্যন্ত সন্তোষজনক। ছয়টি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মোট ৪৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ, বিজিবি, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও আনসার সদস্যদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ এলাকা হওয়ায় সেখানে পুলিশ ও আনসারের পাশাপাশি কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী দায়িত্ব পালন করবে। অপর পাঁচটি আসনে সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ, বিজিবি ও আনসার সদস্যরা নিয়োজিত থাকবেন। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসংখ্যার মধ্যে রয়েছে— সেনাবাহিনী ৭০০ জন, বিজিবি ২৫০ জন, পুলিশ ২ হাজার ৬৫০ জন, র্যাব ১০০ জন, নৌবাহিনী ২৪০ জন, কোস্টগার্ড ১ হাজার ৬৪ জন এবং আনসার সদস্য ১১ হাজার ৩৭৫ জন। এছাড়া একজন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার নেতৃত্বে ১৪ জন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা, ১৪ জন প্রথম শ্রেণির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ৮৭৫ জন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, ৫ হাজার ৬০৯ জন সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা এবং ১১ হাজার ২১৮ জন পোলিং কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাদেকুল ইসলাম বলেন, ছয়টি আসনের ৯টি উপজেলায় নির্বাচনী ব্যালটসহ সব প্রয়োজনীয় মালামাল পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। বুধবার বিকেলের মধ্যে এসব মালামাল সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্রে পৌঁছানো হবে। ব্যালট পেপার ও ভোটের বাক্সের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, জেলার ৬টি আসনে আটটি পৌরসভা ও ৯১টি ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ২৮ লাখ ৬৭ হাজার ৬৩৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৪ লাখ ৯৬ হাজার ৩৮০ জন, নারী ভোটার ১৩ লাখ ৭১ হাজার ২৪৫ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১৪ জন। জেলায় মোট ৮৭৫টি ভোটকেন্দ্র ও ৫ হাজার ৬০৯টি ভোটকক্ষ রয়েছে। প্রার্থীসংখ্যার হিসাবে নোয়াখালী-১ আসনে ৭ জন, নোয়াখালী-২ আসনে ৫ জন, নোয়াখালী-৩ আসনে ৭ জন, নোয়াখালী-৪ আসনে ৭ জন, নোয়াখালী-৫ আসনে ১২ জন এবং নোয়াখালী-৬ আসনে ১০ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

নির্বাচনী প্রচারণার ব্যানার চুরি ও ছিঁড়ে ফেলার ঘটনা রোধে ব্যানারের ওপর সিসি ক্যামেরা স্থাপন করেছেন নোয়াখালী-১ (চাটখিল–সোনাইমুড়ী) আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা মো. ছাইফ উল্লাহ। এ সংক্রান্ত ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নোয়াখালীর বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণার ব্যানার ও পোস্টার চুরি এবং ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ উঠলেও এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারেনি প্রশাসন। এমন পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়েই নিজ উদ্যোগে ব্যানারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, সোনাইমুড়ী উপজেলার দেওটি ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডে অবস্থিত আমিরাবাদ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে নির্বাচনী ব্যানারের ওপর একটি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করে রাখা হয়েছে। এতে দুষ্কৃতকারীরা ব্যানার ক্ষতিসাধন করতে নিরুৎসাহিত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে নোয়াখালী জেলা উত্তর ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে এবং প্রচারণার স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নোয়াখালী-১ (চাটখিল–সোনাইমুড়ী) আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা মো. ছাইফ উল্লাহ বলেন, নির্বাচনী প্রচারণার ব্যানার বারবার চুরি ও ছিঁড়ে ফেলার ঘটনা ঘটছে। প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা না পাওয়ায় বাধ্য হয়েই ব্যানারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সোনাইমুড়ী উপজেলার ইউএনও নাছরিন আকতার বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধি সংক্রান্ত সব ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। প্রতিটি অভিযোগ সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করতে আমরা বদ্ধপরিকর। এ জন্য সবাইকে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার আহ্বান জানাচ্ছি। প্রসঙ্গত, নোয়াখালী-১ (চাটখিল-সোনাইমুড়ী আংশিক) সংসদীয় আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৫২ হাজার ৪২৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৩৩ হাজার ৭১১ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ১৮ হাজার ৭১৪ জন। এই সংসদীয় আসনটি চাটখিল উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এবং সোনাইমুড়ী উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। এ আসনে মোট সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন— ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জামায়াতে ইসলামীর মো. ছাইফ উল্যাহ, হাতপাখা প্রতীকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জহিরুল ইসলাম, লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পার্টির মো. নুরুল আমিন, ডাব প্রতীকে বাংলাদেশ কংগ্রেসের মো. মনিনুল ইসলাম, আপেল প্রতীকে ইনসানিয়াত বাংলাদেশের মো. মশিউর রহমান এবং তারা প্রতীকে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) মনোনীত প্রার্থী রেহানা বেগম।

আপনার মূল্যবান ভোট দিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ার দরজা খুলে দিন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আয়োজিত গণভোট সামনে রেখে দেশবাসীকে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে তিনি বলেন, ‘আপনার মূল্যবান ভোট দিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ার দরজা খুলে দিন। দেশের চাবি আপনার হাতে। সে চাবিটি সঠিকভাবে ব্যবহার করুন।’ আসন্ন নির্বাচনের দিনটিকে ‘নতুন বাংলাদেশের জন্মদিন’ হিসেবে অভিহিত করে প্রধান উপদেষ্টা ভোটারদের দ্বিধাহীন চিত্তে কেন্দ্রে যাওয়ার অনুরোধ জানান। নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ করতে সরকার সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এবার রেকর্ডসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাসম্পন্ন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদেরও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তার নতুন অনুষঙ্গ নিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রথমবারের মতো সারা দেশে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। নজরদারিতে ড্রোন ও ডগ স্কোয়াড ব্যবহারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। ভোটাররা যেন নির্ভয়ে ও সম্মানের সঙ্গে ভোট দিতে পারেন, এটাই আমাদের লক্ষ্য।’ নির্বাচনকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে ঐতিহাসিক পদক্ষেপের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশিরা ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন। এ ছাড়া সরকারি কাজে নিয়োজিত ব্যক্তি এবং আইনি হেফাজতে বা কারাগারে থাকা যোগ্য নাগরিকদের জন্য পোস্টাল ব্যালটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্র কাউকে বাদ দিয়ে নয়, সবাইকে নিয়ে এগোতে চায়।’ রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি প্রধান উপদেষ্টা আহ্বান জানান, যেন কোনো স্তরের কর্মী বিশৃঙ্খলা বা সহিংসতায় জড়িয়ে না পড়ে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘ইতিহাস শিক্ষা দেয়– একটি ত্রুটিপূর্ণ বা সহিংস নির্বাচন শেষ পর্যন্ত কারও জন্যই মঙ্গল বয়ে আনে না। যারা জনগণের মতামত উপেক্ষা করে অনিয়মের মাধ্যমে ক্ষমতায় থাকতে চেয়েছে, তারা কঠিন জবাবদিহিতার মুখোমুখি হয়েছে।’ নির্বাচন নিয়ে অপপ্রচার ও গুজব ছড়ানো মহলের বিষয়ে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, তথ্য যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজনে ‘নির্বাচনবন্ধু’ হটলাইন ৩৩৩-এ যোগাযোগ করতে হবে। জুলাই জাতীয় সনদকে গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ও ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থার দিকনির্দেশনা হিসেবে উল্লেখ করেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ৩০টিরও বেশি রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে এই সনদ প্রস্তুত করা হয়েছে। গণভোটের মাধ্যমে জনগণই ঠিক করবেন তারা এই সংস্কার কাঠামো চান কি না। ক্ষমতা হস্তান্তর প্রসঙ্গে বিভ্রান্তি দূর করে তিনি বলেন, ‘এখন অপপ্রচার চালানো হচ্ছে যে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করবে না। এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আপনারা নিশ্চিত থাকুন, নির্বাচনে বিজয়ী প্রতিনিধিদের কাছে দ্রুততম সময়ে ক্ষমতা হস্তান্তর করে এই সরকার বিদায় নেবে। আমরা এই শুভ মুহূর্তের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।’ প্রধান উপদেষ্টা তার ভাষণের শেষাংশে বলেন, ‘ভয় নয়– আশা নিয়ে; উদাসীনতা নয়– দায়িত্ববোধ নিয়ে আমরা ভোটকেন্দ্রে যাব। আপনার ভোটেই রচিত হবে গৌরবময় আগামীর বাংলাদেশের ইতিহাস।’

নোয়াখালী-৪ আসনের সদরে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের দুটি নির্বাচনি ব্যানার চুরির অভিযোগে অভিনব প্রতিবাদ জানিয়েছে কর্মী-সমর্থকরা। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) চুরি হওয়া ব্যানারের স্থলে নতুন দুটি প্রতীকী ব্যানার লাগিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন তারা। জানা গেছে, নোয়াখালী সরকারি কলেজ গেটের সামনে লাগানো ১১ দলীয় জোটের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের দুটি ব্যানার কে বা কারা চুরি করে নিয়ে যায়। পরে সেই জায়গায় নতুন দুটি ব্যানার লাগিয়ে এর প্রতিবাদ করে দাঁড়িপাল্লার সমর্থকরা। নতুন ব্যানারে লেখা রয়েছে, ‘নোয়াখালী সরকারি কলেজ গেটের সামনে দাঁড়িপাল্লার দুইটি ব্যানার ছিল জালেমরা রাতে নিয়ে গেছে। প্রতিহিংসার রাজনীতি ছেড়ে আসুন, সকলে মিলেমিশে গড়ি বাংলাদেশ।’ সকালে নতুন ব্যানার দুটি দেখে স্থানীয়রা কৌতূহলী হয়ে ওঠেন। এ নিয়ে নানা ধরনের মুখরোচক আলোচনা-সমালোচনা করেন। অনেকে অভিনব এ ব্যানার দেখতে ছুটে আসেন। মহিউদ্দিন নামে এক বাসিন্দা বলেন, ব্যানার চুরি করে ভোট কমানো যায় না। আর ব্যানার দিয়ে ভোটও আসে না। তবে সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে কেউ কারো প্রচারণায় বাধা দেওয়া উচিত নয়। আবুল কালাম নামে একজন বলেন, দাঁড়িপাল্লার চুরি হওয়া ব্যানারের চাইতে, চুরির প্রতিবাদে দেওয়া ব্যানার দেখতে অনেক মানুষ এসেছে। বলা যায়, এটা নতুন আইডিয়া। নোয়াখালী সরকারি কলেজ ছাত্রশিবিরের সভাপতি নাজিম মাহমুদ শুভ বলেন, ভোটকে সামনে রেখে এমন ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে। এটি প্রতিহিংসামূলক রাজনীতির বহিঃপ্রকাশ। যা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনি পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকাই শ্রেয়। তিনি আরও বলেন, এটি নতুন দুটি ব্যানার চুরির ঘটনার নীরব প্রতিবাদ। তবে রাজনৈতিক সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রেখে সবাইকে মিলেমিশে দেশ গঠনে এগিয়ে আসতে হবে।

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়াকে ‘জেলা’তে রূপান্তরের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ২১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসুদ। সোমবার (৮ জানুয়ারি) বিকেলে হাতিয়া উপজেলার একটি নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই ইশতেহার ঘোষণা করেন। হান্নান মাসুদ বলেন, হাতিয়াকে তিনটি উপজেলা নিয়ে জেলা করা হবে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বুড়িরচরকে পৌরসভা, সোনাদিয়া ও জাহাজমারাকে উপজেলা এবং চানন্দী ও হরনী ইউনিয়ন যুক্ত করে নতুন আরেকটি উপজেলা গঠন করা হবে। এর মাধ্যমে হাতিয়াকে একটি পূর্ণাঙ্গ জেলায় রূপান্তর করা হবে। তিনি বলেন, সারা বিশ্বের মধ্যে এই দ্বীপকে ভ্যাটিকান সিটির মতো উন্নত ও পরিকল্পিত এলাকায় রূপান্তর করার পরিকল্পনা রয়েছে। আপনারা আমার সঙ্গে থাকুন। আপনাদের একটি ভোটেই আগামী দিনের হাতিয়ার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে। তাই ভেবে-চিন্তে ভোট দিন। নদীভাঙন রোধকে প্রথম অগ্রাধিকার দিয়ে ২১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার জনসভায় তুলে ধরেন তিনি। এ সময় দ্বীপটিকে উন্নত, আধুনিক ও বাসযোগ্য করে গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন এনসিপির এই নেতা। ইশতেহারের উল্লেখযোগ্য দফাগুলোর মধ্যে রয়েছে—নদীভাঙন রোধে কংক্রিট ব্লক বাঁধ, বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও ক্রসড্যাম তৈরি, রাস্তাঘাট ও সেতু নির্মাণ, খাসজমি ভূমিহীনদের বন্দোবস্ত, স্বাস্থ্যখাতে উন্নয়ন, সীমান্তবিরোধ নিরসন, শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন, প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা শক্তিশালীকরণ, ফেরি ও ফেরিঘাট ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎসেবা নিশ্চিতকরণ, পর্যটন শিল্পের বিকাশ, জেলেদের হয়রানি বন্ধ ও জীবনমান উন্নয়ন, নদীবন্দর বাস্তবায়ন, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি নির্মূলে কার্যকর উদ্যোগ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ, ওছখালী পৌরসভার উন্নয়ন, ক্রীড়া খাতের উন্নয়ন, স্থায়ী নৌ-ক্যাম্প স্থাপন, হাইটেক পার্ক নির্মাণ, শ্বেতপত্র প্রকাশ এবং জনগণের মুখোমুখি জবাবদিহি। জনসভায় সভাপতিত্ব করেন হাতিয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাস্টার বোরহান। এতে আরও বক্তব্য দেন শাহবাগ থানার জামায়াতে ইসলামীর আমির অ্যাডভোকেট শাহ মাহফুজ, উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক মাস্টার আলাউদ্দিন এবং ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক নেয়ামতউল্লাহ নিরবসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দল না থাকায় এই সময়ে বিকল্প আরেকটি টুর্নামেন্ট আয়োজন করেছে বিসিবি। গত বৃহস্পতিবার থেকে তিন দল নিয়ে সংক্ষিপ্ত সংস্করণের এই প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। টুর্নামেন্টে সবচেয়ে কমবয়সী ও সদ্য অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলে আসা ক্রিকেটারদের নিয়ে গড়া হয়েছিল ইমার্জিং স্কোয়াডের দল দুরন্ত একাদশ। এ ছাড়া ছিল জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের নিয়ে ধূমকেতু এবং ‘এ’ দলের ক্রিকেটারদের নিয়ে দুর্বার দল। ইতোমধ্যে তিন দলের এই টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বের খেলা শেষ হয়েছে। আজ (সোমবার) মাঠে গড়াবে টুর্নামেন্টটির ফাইনাল ম্যাচ। মিরপুর শেরে-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শিরোপার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে লিটন দাসের ধূমকেতু একাদশ ও নাজমুল হোসেন শান্তর দুর্বার একাদশ। সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হবে ম্যাচটি। আড়াই কোটি টাকা প্রাইজমানির টুর্নামেন্ট অবশ্য সেভাবে সাড়া ফেলতে পারেনি। একটি ম্যাচে ছিল কেবল উত্তেজনা। সেভাবে ছিল না খুব বেশি দর্শক। নাজমুলের দুর্বার একাদশ টুর্নামেন্টে দুটি জয় নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে রয়েছে। অপরদিকে লিটনের ধূমকেতু একটি জয় নিয়ে ফাইনালে উঠেছে। তরুণদের নিয়ে গড়া দুর্দান্ত একাদশ কোনো জয় পায়নি। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) মূলত খেলোয়াড়দের মনোবল ধরে রাখতে এবং কিছুটা আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করতে বিশ্বকাপের সময় এই টুর্নামেন্ট আয়োজন করেছে। বিসিবি তিনটি গ্রুপে ভাগ করে দেয় ক্রিকেটারদের। বিশ্বকাপের দল নিয়ে গঠিত হয় ধূমকেতু একাদশ। তবে টুর্নামেন্টে তরুণদের কেউ তেমন ভালো করতে পারেননি।

নোয়াখালী-৪ (সদর–সুবর্ণচর) আসনটি জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও ভোটারসংখ্যায় বড় একটি আসন। রাজনৈতিকভাবে এই আসন বরাবরই আলোচিত। এবারের নির্বাচনে এখানে অভিজ্ঞ রাজনীতিক বনাম পরিবর্তনমুখী রাজনীতির লড়াই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। সদর উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এবং সুবর্ণচর উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত নোয়াখালী-৪ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৭ লাখ ৩৩৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩ লাখ ৬৬ হাজার ৬৫৬ জন এবং নারী ভোটার ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৬৭৯ জন। মোট ১৯৮টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে একটিও নেই অস্থায়ী কেন্দ্র। তবে আছে ১৩৬৬টি ভোট কক্ষের মধ্যে ৪৪টি অস্থায়ী ভোট কক্ষ। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে ৪২টি। নোয়াখালী-৪ (সদর-সুবর্ণচর) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৭ জন প্রার্থী। তারা হলেন, বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মো. শাহজাহান, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মো. ইসহাক খন্দকার, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাত পাখা প্রতীকের প্রার্থী মো. ফিরোজ আলম মাসুদ, গণঅধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী আবদুজ জাহের, জাতীয় পার্টি মনোনীত লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী মো. শরীফুল ইসলাম, ইনসানিয়াত বাংলাদেশ মনোনীত আপেল প্রতীকের প্রার্থী মো. ইউনুস নবী ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) মনোনীত কাঁচি প্রতীকের প্রার্থী বিটুল চন্দ্র মজুমদার। ভোটকেন্দ্র ও অবকাঠামোগত দিক থেকে আসনটি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল হলেও বিশাল ভোটার সংখ্যার কারণে এখানে প্রতিটি ভোটই গুরুত্বপূর্ণ। বিএনপি এই আসনে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছে দলের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহানকে। তিনি ইতোপূর্বে চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং ১৯৯১ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত টানা তিন মেয়াদে এমপি ছিলেন। রাজনৈতিক অঙ্গণে তিনি একজন পরিচ্ছন্ন ও অভিজ্ঞ রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত। মনোনয়ন ঘোষণার আগে একাধিক প্রত্যাশী থাকলেও পরে কোনো অভ্যন্তরীণ বিরোধ দৃশ্যমান হয়নি। মনোনয়ন ঘোষণার আগেই তিনি ও তার সমর্থকরা এলাকায় গণসংযোগ শুরু করেন, যা নির্বাচনী মাঠে তাকে কিছুটা এগিয়ে রেখেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। মো. শাহজাহান বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে আমি কখনো নিজের স্বার্থ দেখেনি। সবসময় সদর ও সুবর্ণচরের মানুষের পাশে ছিলাম। সে কারণেই দলীয় পরিচয়ের বাইরে গিয়েও সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে আমার পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন। আমি মিথ্যা আশ্বাস আর মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিতে পছন্দ করি না। তবে আমি মানুষের কথা ভাবি। উন্নয়ন নিয়ে ভাবি। আমাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে পাল্টে যাবে এই অঞ্চলের চিত্র। জনগণ আমার শক্তি। আমি সব সময় জনগণের পাশে থাকতে চাই। এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী জেলা আমির ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মো. ইসহাক খন্দকার। জুলাই আন্দোলনের পর থেকেই তিনি মাঠে সক্রিয়ভাবে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। ইসহাক খন্দকার দাবি করেন, যেখানে যাচ্ছেন সেখানেই সাধারণ মানুষের মধ্যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা লক্ষ্য করছেন। তার ভাষায়, কে কোন দল থেকে প্রার্থী এটা মুখ্য নয়, মানুষ এবার দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিতে চায়। আদর্শিক রাজনীতি ও পরিবর্তনের স্লোগানকে সামনে রেখে তিনি শক্ত অবস্থান তৈরি করার চেষ্টা করছেন। এই আসনে গণঅধিকার পরিষদের তরুণ প্রার্থী আব্দুজ জাহের, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ফিরোজ আলম মাসুদসহ অন্য প্রার্থীরাও নিয়মিত গণসংযোগ চালাচ্ছেন। তবে ভোটের মূল লড়াই যে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে সে বিষয়ে অধিকাংশ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক একমত। সাধারণ ভোটারদের ভাষ্যে, ইপিজেড নির্মাণ, বিমানবন্দর স্থাপন, সুবর্ণচর পৌরসভা বাস্তবায়ন, রেললাইন সম্প্রসারণ ও নোয়াখালী সিটি করপোরেশন গঠনের মতো বড় প্রকল্পগুলোই তাদের প্রধান চাওয়া। তারা কেবল আশ্বাস নয়, বাস্তবায়ন করতে পারবেন এমন প্রতিনিধিকেই সংসদে পাঠাতে চান। সব মিলিয়ে নোয়াখালী-৪ আসনে এবারের নির্বাচন হতে যাচ্ছে অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতা বনাম পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার মুখোমুখি লড়াই। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা নিয়ে এগিয়ে থাকা মো. শাহজাহানের বিপরীতে আদর্শিক ও পরিবর্তনের বার্তা নিয়ে মাঠে সক্রিয় ইসহাক খন্দকার কার দিকে শেষ পর্যন্ত ভোটাররা আস্থা রাখেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

নোয়াখালীতে জামায়াতে ইসলামীর এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়েছে, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রচারণা চালানোর সময় দলটির নারী কর্মীদের হেনস্তা করছেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। গতকাল শুক্রবার রাতে জেলা জামায়াতের দলীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে দলের হয়ে অভিযোগ তুলে ধরেন জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমির ইসহাক খন্দকার। তিনি নোয়াখালী-৪ (সদর ও সুবর্ণচর) আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ইসহাক খন্দকার বলেন, জেলার চাটখিল, বেগমগঞ্জ, সদর উপজেলা, নোয়াখালী পৌরসভা, সুবর্ণচরসহ বিভিন্ন স্থানে জামায়াতের নারী কর্মীদের উঠান বৈঠকসহ প্রচারণায় বাধা দেওয়া হয়েছে। প্রচারণার সময় জামায়াতের নারী কর্মীদের হেনস্তাও করছেন বিএনপির লোকজন। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও নোয়াখালী-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী মো. শাহজাহানের কাছে অভিযোগ করে কয়েকটি স্থানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা পাওয়া গেছে বলে জানান জেলা জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, ‘অনেক ঘটনা তাঁরও (মো. শাহজাহান) নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল। জামায়াত সর্বোচ্চ ধৈর্যের পরিচয় দিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করে যাচ্ছে।’ ইসহাক খন্দকার আরও বলেন, জামায়াতের নারী কর্মীদের ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার জন্যও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ অবস্থায় নারী ভোটারদের নিরাপদে ভোটকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে দলের শৃঙ্খলা বিভাগকে বলা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে এ ছাড়া জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মো. সাইয়েদ আহমদ, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও নোয়াখালী-৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মো. বোরহান উদ্দিন বক্তব্য দেন। জামায়াতের অভিযোগের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর বলেন, বিএনপি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের জন্য কাজ করছে, সুতরাং হেনস্তার অভিযোগ সত্য নয়; বরং জামায়াতই বিএনপি নেতাদের নিয়ে বিভিন্ন বাজে মন্তব্য করে আসছেন।

একটি বড় দলের প্রধান নিজের অফিস থেকে জামায়াত আমিরের আইডি হ্যাক করে এখন নিজেই বিষোদ্গার করছেন বলে অভিযোগ করেছেন নোয়াখালী-৪ আসনে জামায়াতের প্রার্থী এবং দলটির মজলিশে সূরা সদস্য ও জেলা আমির মো. ইসহাক খন্দকার। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে নোয়াখালী জেলা জামায়াত কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। ইসহাক খন্দকার বলেন, আইডি হ্যাক হয়েছে একটা সত্য কথা। যা সংবাদ সম্মেলন থেকেও বলা হয়েছে। তারপরও একটি বড় দলের প্রধান নেতা হ্যাকের বিষয়টি নিয়ে আর ট্রল করতে পারেন না। ওই দলে আরও ছোট নেতা আছে যাদেরকে দিয়ে তিনি বলাতে পারতেন। তিনি বলেন, ওই প্রধান নেতা যে ভাষায় কথা বলেছেন, তা তিনি জামায়াত আমিরকে বলতে পারেন না। এ ঘটনা নিয়ে গ্রেফতারও হয়েছে, আরও তদন্ত চলছে। আসলে ওই দলের প্রধান নিজের অফিস থেকে নিজের লোক দিয়ে হ্যাক করে এখন নিজেই বিষোদ্গার করছেন। ইসহাক খন্দকার আরও বলেন, জামায়াত আমির নারীদের প্রতি অত্যন্ত বিনয়ী। তিনি এ ধরনের কথা বলতে পারেন না, তা বুঝাই যায়। এখন কারা ধরা পড়ছে তা সবাই দেখছে। আমাদের লোকও তদন্ত করছে। সব বের হবে। তখন সবাই পরিষ্কার হয়ে যাবেন কারা, কেন এ কাজ করেছে। ১১ দলীয় জোটের এ প্রার্থী বলেন, আমাদের নোয়াখালীতে ছয়টি আসনের সবগুলোতেই আমাদের নারী কর্মীদেরকে ঘর থেকে বের হতে দিচ্ছে না। অনেক জায়গায় আমাদের মা-বোনদের অপমান করেছে। আমরা এ ব্যাপারে থানায় জিডি করেছি। আমরা ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ নিয়ে শঙ্কিত। ইসহাক খন্দকার আরও বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের নামে তারা ভুয়া কার্ড বিলাচ্ছে। তারা কী কোনো সংস্থা নাকি সরকারে এসে গেছেন। প্রতারণার এ কার্ড দিতে আবার চাঁদাও নিচ্ছে। নারীদের মিথ্যা আশ্বাস দিচ্ছেন। আমরা এ অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা জানাই। সভায় নোয়াখালী-৩ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী এবং জামায়াতের মজলিশে সূরা সদস্য ও জেলা সেক্রেটারি মাওলানা বোরহান উদ্দিন, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা সাইয়েদ আহমদ চেয়ারম্যান, প্রচার বিভাগের প্রধান ডা. বোরহান উদ্দিন, নোয়াখালী পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা ইউসূফ, জামায়াত নেতা সাংবাদিক আবু তাহের প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের সব বিচারপতিদের অংশগ্রহণে ফুলকোর্ট সভা ডেকেছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টায় সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে ফুলকোর্ট সভা অনুষ্ঠিত হবে। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সুপ্রিম কোর্টের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (প্রশাসন ও বিচার) মো. মেসবাহ উদ্দিন খান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট সূত্রে জানা গেছে, ফুলকোর্ট সভায় অধস্তন আদালতের ছুটির ক্যালেন্ডার অনুমোদনসহ নানান গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, ফুলকোর্ট সভা বিচারপতিদের কথা বলার নিজস্ব ফোরাম। এতে নীতি-নির্ধারণী বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে নোয়াখালী জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে মোট ৮৭৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২৬১টিকে ঝুঁকিপূর্ণ (অতি গুরুত্বপূর্ণ) হিসেবে চিহ্নিত করে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। তবে জেলার সব ভোটকেন্দ্রই সিসি ক্যামেরার আওতায় থাকবে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানানো হলেও সুষ্ঠু ভোট নিয়ে শঙ্কা কাটছে না ভোটারদের। বিশেষ করে নারী ভোটারদের মধ্যে কেন্দ্রে যাওয়া নিয়ে ভীতি ও সহিংসতার আশঙ্কা রয়েছে। জেলা প্রশাসন জানায়, ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনসহ সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভোটারদের ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই বলে আশ্বস্ত করেছেন জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সূত্রে জানা যায়, জেলায় মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৮৭৫টি। এর মধ্যে ৬১৪টি সাধারণ এবং ২৬১টি অতি গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নোয়াখালী-১ আসনে মোট ১৪১টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ৮৮টি সাধারণ এবং ৫৩টি অতি গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নোয়াখালী-২ আসনে মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১১১টি। এর মধ্যে ৭৩টি সাধারণ এবং ৩৮টি অতি গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র রয়েছে। নোয়াখালী-৩ আসনে মোট ১৬৬টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ১০৬টি সাধারণ এবং ৬০টি অতি গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা ছয়টি আসনের মধ্যে সর্বাধিক। নোয়াখালী-৪ আসনে মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১৯৮টি। এর মধ্যে ১৫৬টি সাধারণ এবং ৪২টি অতি গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র। নোয়াখালী-৫ আসনে মোট ১৫৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১০৪টি সাধারণ এবং ৫১টি অতি গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অন্যদিকে, নোয়াখালী-৬ আসনে মোট ১০৪টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ৮৭টি সাধারণ এবং মাত্র ১৭টি অতি গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র রয়েছে, যা ছয়টি আসনের মধ্যে সর্বনিম্ন। একাধিক ভোটারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ছয়টি আসনে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলনসহ মোট ৪৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনি প্রচারণা জোরদার হলেও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলো নিয়ে রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা রয়েছে। ভোটের দিন ও তার আগের দিন সহিংসতার আশঙ্কা করছেন তারা। নোয়াখালী-৪ আসনের জামায়াতের প্রার্থী ইসহাক খন্দকার বলেন, একটি দলের নেতাকর্মীরা ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করছে।বিশেষ করে নারীদের হেনস্থা করছে। এছাড়াও গণসংযোগে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। কেন্দ্রে যাওয়া নিয়ে অনেক এলাকায় শঙ্কা আছে। আমরা নিরপেক্ষ ও কঠোর নিরাপত্তা চাই। নোয়াখালী-৬ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেন, হাতিয়ায় পতিত সরকারের সকল লোক নির্দিষ্ট প্রতীকের পক্ষে ভোট করছে। মানুষকে ভয় দেখাচ্ছে। ভোটকেন্দ্রে কোনো এজেন্ট থাকবেনা বলে প্রচার করছে। ভোটারসহ আমরা সবাই সঙ্কিত। একই আসনের বিএনপির প্রার্থী মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, একটি দলের প্রার্থী আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এই আসনে ঝামেলা সৃষ্টি করার চেষ্টা রয়েছে। ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, তা প্রশাসনকে নিশ্চিত করতে হবে। আমরা চাই সুষ্ঠু নিরপেক্ষ অংশগ্রহণ মূলক নির্বাচন। নির্বাচন নিরাপত্তায় অন্যান্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি নোয়াখালীতে দায়িত্ব পালন করছে ফেনী ৪ বিজিবি ব্যাটালিয়ন। ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল মোশারফ , শান্তিপূর্ণ নির্বাচন ও ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করাই বিজিবির প্রধান লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে ১৬ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। বিজিবির টহল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স কার্যক্রম চলবে। সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে অস্থায়ী বেইজ ক্যাম্প থেকে রোবাস্ট পেট্রোলিং, চেকপোস্ট স্থাপন ও তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। নোয়াখালীর পুলিশ সুপার টিএম মোশাররফ হোসেন বলেন, নোয়াখালীর হাতিয়ায় নৌবাহিনী, কোস্টগার্ডসহ পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া অন্যান্য ৫টি আসনেও সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব, আনসারসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দায়িত্ব পালন করবেন। শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে। ভোটাররা নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে যেতে পারবেন। জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, জেলার ছয়টি আসনের ৮৭৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৬১টি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রসহ সব ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হলে তা মোকাবিলায় প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে।

যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে কাটানো প্রতিটি মিনিটের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন ধনকুবের বিল গেটস। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এপস্টেইনের কয়েক লাখ নথি প্রকাশ করেছে। ওইসব নথির মধ্যে রয়েছে একটি ড্রাফট ইমেইল। এতে এপস্টেইন লিখেছেন, বিল গেটস বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়েছেন। তিনি বলেছেন, বিল গেটস এক রুশ নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেছেন। যার প্রভাবে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। সুস্থ হতে বিল গেটসকে ওষুধও দেন বলে দাবি করেন তিনি। যেন তিনি অন্য বিবাহিত নারীদের সঙ্গে সম্পর্ক করতে পারেন। তবে এ ইমেইলের তথ্য অসত্য বলে দাবি করেছেন বিল গেটস। তিনি সংবাদমাধ্যম ৯নিউজ অস্ট্রেলিয়াকে বলেছেন, “আমি তার সঙ্গে কাটানো প্রতিটি মিনিটের জন্য আমি দুঃখিত, ক্ষমা চাই। ওই ইমেইল কখনো কোথাও পাঠানো হয়নি। ইমেইলটি মিথ্যা। আমি জানি না এ ব্যাপারে তার কি মতলব ছিল। এপস্টেইন কি কোনোভাবে আমাকে আক্রমণ করতে চেয়েছিলেন?” বিল গেটস আরও বলেছেন, এপস্টেইনের ২০১১ সালে প্রথম যোগাযোগ হয় তার। এরপর পরের তিন বছর একাধিকবার এপস্টেইনের সঙ্গে ডিনারে অংশ নেন তিনি। কিন্তু কখনো ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে অবস্থিত তার সেই দ্বীপে যাননি এবং কোনো নারীর সঙ্গে সম্পর্কও ছিল না। বিল গেটসের এক মুখপাত্রও একই দাবি করে বলেছেন, বিল এসব ব্যাপারে অবগত নন। বিজ্ঞাপন সূত্র: এএফপি

আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে মাঠে গড়াতে যাচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আসর। ভারতের মাটিতে নিরাপত্তা ইস্যুর কারণে এবারের আসরে খেলছে না বাংলাদেশ। যে কারণে এই সময়ে ঘরোয়া টুর্নামেন্টের আয়োজন করেছে (বিসিবি)। দেশের ৩৯ জন সেরা ক্রিকেটারকে নিয়ে তিনটি দল বানিয়ে আজ বৃহস্পতিবার থেকে মাঠে গড়াবে ‘অদম্য বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি কাপ’। উদ্বোধনী খেলায় সন্ধ্যা ৬টায় মিরপুর শেরে-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হচ্ছে লিটন দাসের ধূমকেতু একাদশ ও আকবর আলির দুরন্ত একাদশ। ম্যাচের আগের দিন গতকাল দুই দলই অনুশীলনে শেষ সময়ের প্রস্তুতি সেরেছে। পরে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন দল দুটির প্রধান কোচ। ধূমকেতুর কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেছিলেন, 'দিনশেষে যখন আপনি মাঠে নামবেন সবাই তার সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করে। এখানে টপ ৪৫ খেলোয়াড় খেলছে। হেলদি কম্পিটিশন হবে, আগে খেলেছে ওরাও আছে তরুণরাও আছে। প্রতিদিন একেকটা সুযোগ। সিরিয়াসলি নিলে এটা বড় সুযোগ তার জন্য, সিরিয়াসলি না নিলে ডাউনফলও হতে পারে। সবাই সেরাটা দিবে আশা করি।' দুরন্ত একাদশের কোচ হান্নান সরকার বলেছিলেন, ‘আমার কাছে মনে হয় ভালো প্রতিযোগিতা। ভালো একটা টুর্নামেন্ট, ৩ দলের মধ্যে ধাপে ধাপে দল সাজানো হয়েছে। চ্যালেঞ্জ ভিন্ন থাকবে। আমাদের বয়সভিত্তিক দলে যারা আছে তাদের চ্যালেঞ্জ ভিন্ন থাকবে। আমাদের দলে প্লেয়ারের মধ্যে ক্ষুধার্ত প্লেয়ারের সংখ্যা বেশি। ক্ষুধার্ত মানে হচ্ছে তারা পারফর্ম করার জন্য মরিয়া হয়ে আছে। এটা একটা চ্যালেঞ্জ। প্লেয়ারদের পাশাপাশি কোচ, ম্যানেজমেন্ট সবার জন্যই ইতিবাচকভাবেই দেখছি।’ প্রতিটি ম্যাচের দিন বিকাল ৪টা থেকে থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এই টুর্নামেন্টে প্রাইজমানি ও ফি মিলিয়ে মোট বাজেট ধরা হয়েছে ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। খেলায় নতুন মাত্রা যোগ করবে ‘ইমপ্যাক্ট খেলোয়াড়’ নিয়ম। ধূমকেতু স্কোয়াড লিটন কুমার দাস (অধিনায়ক), তানজিদ হাসান, সাইফ হাসান, পারভেজ হোসেন ইমন, তাওহীদ হৃদয়, শামীম হোসেন, শেখ মেহেদী হাসান, রিশাদ হোসেন, নাসুম আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান, তানজিম হাসান সাকিব, মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধ ও শরিফুল ইসলাম দুরন্ত স্কোয়াড জিসান আলম, জাওয়াদ আবরার, মাহফিজুল ইসলাম রবিন, আরিফুল ইসলাম, মাহিদুল ইসলাম, আকবর আলী (অধিনায়ক), আজিজুল হাকিম তামিম, রিপন মন্ডল, আব্দুল গাফফার সাকলায়েন, এস এম মেহরব হোসেন, রাকিবুল হাসান, নাহিদ রানা ও ইকবাল হোসেন ইমন।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের ভেরিফাইড এক্স (সাবেক টুইটার) আইডি হ্যাক করার অভিযোগে বঙ্গভবনের সহকারী প্রোগ্রামার মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলমকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এর পরিপ্রেক্ষিতে জামায়াত আমির জানিয়েছেন, তিনি এখন এই অপরাধের সুষ্ঠু বিচার এবং আইনের বাস্তব প্রয়োগ দেখতে চান। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ কথা বলেন। ফেসবুক পোস্টে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আমার ভেরিফাইড এক্স আইডি (টুইটার), যেখান থেকে হ্যাক হয়েছিল, সেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আটক হয়েছে।’ তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে আরও লেখেন, ‘এখন ন্যায়বিচারটাও পাব এবং তা খুবই প্রয়োজন। দেশে সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও আসন্ন নির্বাচনকে সুষ্ঠু করার পক্ষে এ ধরনের আইনি উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই। শাস্তি নিশ্চিত হলে অনেকেই সাবধান হয়ে যাবে।’ জামায়াত আমির মনে করেন, এই ঘটনা থেকে অনেকেরই শিক্ষা হবে। তিনি বলেন, ‘অপেক্ষায় রইলাম, আইনের বাস্তব প্রয়োগ দেখার জন্য।’ অতি অল্প সময়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ধন্যবাদও জানান।
.jpg&w=3840&q=75)
শবে বরাত ইসলামী বর্ষপঞ্জির শাবান মাসের মধ্যরাতে পালিত একটি তাৎপর্যপূর্ণ রজনী। এই রাতকে ক্ষমা লাভ ও মুক্তি লাভের রাত হিসেবে গণ্য করেন মুসলিমরা। শাবান মাসের ১৪ তারিখ সন্ধ্যার পর শুরু হয়ে ১৫ তারিখ ভোর পর্যন্ত সময়কে শবে বরাত বা নিসফে শাবান বলা হয়। দক্ষিণ এশিয়ায় এটি শবে বরাত নামে পরিচিত হলেও আরব বিশ্বে একে বলা হয় লাইলাতুল বরাত। ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ায় পরিচিত নিসফু শাবান নামে এবং তুরস্কে একে বলা হয় বেরাত কান্দিলি। অনেক মুসলমান এই রাতে জেগে নামাজ, দোয়া ও কোরআন তিলাওয়াতে মশগুল থাকেন। এই রাতে আল্লাহ তায়ালা হিংসা ও বিদ্বেষপোষণকারী ও মুশরিক ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করেন। এক হাদিসে মুয়াজ বিন জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) ইরশাদ করেছেন— আল্লাহ তাআলা অর্ধ-শাবানের রাতে অর্থাৎ শাবানের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতে তার সৃষ্টির দিকে রহমতের দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন। (সহিহ ইবনে হিব্বান: ৫৬৬৫) অন্য হাদিসে আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন—‘একবার রাসুলুল্লাহ (সা.) রাতে নামাজে দাঁড়ান এবং এত দীর্ঘ সিজদা করেন যে, আমার ধারণা হলো, তিনি হয়ত মৃত্যুবরণ করেছেন। আমি তখন উঠে তার বৃদ্ধাঙ্গুলি নাড়া দিলাম। তার বৃদ্ধাঙ্গুলি নড়ল। যখন তিনি সিজদা থেকে উঠলেন এবং নামাজ শেষ করলেন, তখন আমাকে লক্ষ্য করে বললেন— হে আয়েশা তোমার কি এই আশঙ্কা হয়েছে যে, আল্লাহর রাসুল তোমার হক নষ্ট করবেন? আমি উত্তরে বললাম, না, হে আল্লাহর রাসুল। আপনার দীর্ঘ সেজদা থেকে আমার এই আশঙ্কা হয়েছিল, আপনি মৃত্যুবরণ করেছেন কি না। তখন নবী (সা.) জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কি জানো এটা কোন রাত? আমি বললাম, আল্লাহ ও তার রাসুলই ভালো জানেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) তখন ইরশাদ করলেন, ‘এটা হলো অর্ধ শাবানের রাত (শবে বরাত)। আল্লাহ তায়ালা অর্ধ-শাবানের রাতে তার বান্দার প্রতি মনোযোগ দেন এবং ক্ষমাপ্রার্থনাকারীদের ক্ষমা করেন এবং অনুগ্রহপ্রার্থীদের অনুগ্রহ করেন আর বিদ্বেষ পোষণকারীদের ছেড়ে দেন তাদের অবস্থাতেই।’ (শুআবুল ঈমান, বায়হাকি: ৩/৩৮২-৩৮৩; তাবারানি: ১৯৪)

দেশে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সীমান্ত এলাকায় এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। ইউরো-মেডিটেরেনিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৪.১। ভূমিকম্পটি আজ মঙ্গলবার ভোর ৪টা ৩৬ মিনিটে ঘটে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল বাংলাদেশের সাতক্ষীরা শহর থেকে প্রায় ১৬ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে। ভারতের হাওড়া শহর থেকে এর দূরত্ব ছিল প্রায় ৩৬ কিলোমিটার পূর্বে। এই এলাকা ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলের কাছাকাছি। তাই এখানে মাঝেমধ্যে কম মাত্রার ভূমিকম্প হয়। ভূমিকম্পে সাতক্ষীরা, খুলনা, যশোরসহ আশপাশের এলাকা মৃদু কেঁপে ওঠে। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক হতাহত বা ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি। এখন পর্যন্ত কোনো স্থাপনার ক্ষতি বা প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। এর আগে, গত ১ ফেব্রুয়ারি ৩ মাত্রার ও ২৫ জানুয়ারি ৩.৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয় দেশে।

নোয়াখালী অঞ্চলের গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার সুকুক বা ইসলামী বন্ড ইস্যু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। সোমবার (৩ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের শরিয়াহ অ্যাডভাইজরি কমিটির সভায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়। সভায় নতুন এই প্রজেক্টের নাম দেওয়া হয়েছে সপ্তম বিনিয়োগ সুকুক বন্ড। এর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে আড়াই হাজার কোটি টাকা। খোলা বাজার থেকে এই টাকা উত্তোলন করা হবে। ব্যয় করা হবে নোয়াখালী, ফেনী ও লক্ষ্মীপুর পল্লী এলাকার গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়নে। ৭ বছর মেয়াদি এই সুকুক প্রজেক্টটি ইস্যু করা হবে ইজারা পদ্ধতিতে। সুকুক প্রজেক্টে বিনিয়োগ করতে পারেন আপনিও। তবে সেজন্য কমপক্ষে ১০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করতে হবে। এতে অবশ্য মেয়াদ শেষে উচ্চ মুনাফাও পাওয়া যাবে। নোয়াখালী অঞ্চলের উন্নয়নে ২৫০০ কোটি টাকার বন্ড আসছে, কিনবেন যেভাবে রিজার্ভ আরও বাড়ল যেভাবে বিনিয়োগ করবেন বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকই সাধারণত ট্রেজারি বন্ড বিক্রি করে। পাশাপাশি সহযোগী কিছু ব্যাংকও এই সেবা দিয়ে থাকে। সেজন্য বিনিয়োগের আগে দেখতে হবে, যে ব্যাংকে আপনার হিসাব আছে, ওই ব্যাংক ট্রেজারি পণ্য বিক্রি করে কিনা। যদি না করে, তাহলে যে ব্যাংক ট্রেজারি পণ্য বিক্রি করে, ওই ব্যাংকে হিসাব খুলে কিনতে হবে। যারা আবেদন করবেন, তারা সবাই বন্ড পাবেন। তবে আনুপাতিক ভিত্তিতে আবেদনকারীদের মাঝে এই বন্ড বিতরণ করা হবে। নিলামে অংশগ্রহণের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ ফেব্রুয়ারি ১০টা থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত। সুকুকের এই প্রজেক্টটি ৭ বছর মেয়াদি। তবে ৬ মাস পরপর এর মুনাফা দেওয়া হবে। পাশাপাশি কর রেয়াতেরও সুবিধা রয়েছে। এই প্রজেক্টে সম্ভাব্য মুনাফার হার ৯ দশমিক ৬০ শতাংশ। মুনাফা যা মিলবে, পুরোটাই আবেদনকারীরা পাবেন। প্রচলিত সঞ্চয়পত্রের তুলনায় সুকুকের গঠনতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ভিন্ন। সেজন্য এটি শরিয়াহসম্মত বিনিয়োগকারীদের জন্য যেমন আদর্শ, তেমনি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্যও ঝুঁকিহীন বিনিয়োগের সুযোগ। এতে সরাসরি রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টি থাকে।

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নেতা মাওলানা মো. ইউসুফ বিএনপিতে যোগদান করেছেন। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাতে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি বিএনপিতে যোগদান করেন। পরে তাকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সুবর্ণচর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এনায়েত উল্যাহ বাবুল, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক বেলাল হোসেন সুমন, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আজগর উদ্দিন দুখুসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীরা। মাওলানা মো. ইউসুফ সুবর্ণচর উপজেলার আমানউল্লাহ ইউনিয়নের কাটাবুনিয়া ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। যোগদান অনুষ্ঠানে মাওলানা ইউসুফ বলেন, জামায়াতের আদর্শ ও উদ্দেশ্যের পরিবর্তন হয়েছে। ৫ আগস্টের পর ক্ষমতার জন্য তাদের এই পরিবর্তন মেনে নেওয়া যায় না। ইসলামী দল হিসেবে তারা শরীয়াহভিত্তিক রাষ্ট্র পরিচালনার কথা বলছে না, অথচ ক্ষমতায় যেতে চায়। এসব কারণে আমি জামায়াতে ইসলামী ত্যাগ করে বিএনপিতে যোগদান করেছি। এ বিষয়ে সুবর্ণচর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এনায়েত উল্যাহ বাবুল বলেন, দেশ ও গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনে বিএনপি সবসময় উদার ও গণতান্ত্রিক শক্তিকে স্বাগত জানায়। মাওলানা মো. ইউসুফের মতো রাজনৈতিকভাবে সচেতন একজন নেতার বিএনপিতে যোগদান দলকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আমরা আশা করি।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলায় মোট ২৬ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে নোয়াখালী জেলায় দায়িত্ব পালন করবেন ১৬ প্লাটুন বিজিবি সদস্য। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ৪ বিজিবি ফেনী ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোশারফ। তিনি জানান, গত শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকাল থেকে নির্বাচনী নিরাপত্তা জোরদারে ৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীন ইউনিটগুলো তাদের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় মোতায়েন কার্যক্রম শুরু করেছে। নির্বাচনের আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বিজিবি সদস্যরা মাঠে সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। জানা গেছে, বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে নোয়াখালী জেলার ৫টি সংসদীয় আসনের অন্তর্ভুক্ত ৮টি উপজেলায় ১৬ প্লাটুন এবং লক্ষ্মীপুর জেলার ৪টি সংসদীয় আসনের অধীনে ৫টি উপজেলায় ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। মোতায়েনকৃত বিজিবি সদস্যরা সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে নির্বাচনী এলাকাগুলোতে স্থাপিত অস্থায়ী বেইজ ক্যাম্পে অবস্থান করছেন। তারা গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে শক্তিশালী টহল (রোবাস্ট পেট্রোলিং), অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন এবং তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। এছাড়া ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে ভোটকেন্দ্রের আশপাশে নিয়মিত টহল জোরদার করা হবে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত এই উদ্যোগে নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলায় শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ। নোয়াখালী সদর উপজেলার বাসিন্দা মো. আবুল কালাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা নিয়ে মানুষের মধ্যে দুশ্চিন্তা থাকে। বিজিবি মোতায়েন করায় আমরা স্বস্তি পাচ্ছি। আশা করছি এবার শান্তিপূর্ণ ভোট হবে। সেনবাগ উপজেলার এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকা পোস্টকে বলেন, আগের নির্বাচনে কিছু এলাকায় উত্তেজনা ছিল। এবার বিজিবি মাঠে থাকলে কেউ বিশৃঙ্খলা করার সাহস পাবে না। এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছে। আমরা সেনবাগে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই। সোনাইমুড়ী উপজেলার তরুণ ভোটার রাশেদ মাহমুদ ঢাকা পোস্টকে বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে আমরা নির্ভয়ে ভোট দিতে পারব। বিজিবি মোতায়েনের সিদ্ধান্ত সময়োপযোগী। এ বিষয়ে ৪ বিজিবি ফেনী ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোশারফ ঢাকা পোস্টকে বলেন, বিজিবি সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সব সময় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জনে সংবিধান ও আইনের আলোকে পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা হবে। তিনি আরও জানান, নির্বাচনকালীন সীমান্ত এলাকায় অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, ৯টি উপজেলা নোয়াখালী জেলা ছয়টি সংসদীয় আসন নিয়ে গঠিত, যেখানে প্রায় ২৯ লাখ ভোটার রয়েছেন। এসব আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৪৮ জন প্রার্থী। তবে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ এলাকা হওয়ায় সেখানে নৌবাহিনী নির্বাচনী পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দায়িত্ব পালন করছে।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় লেথাল ওয়েপন (মারণাস্ত্র) ব্যবহার করবে না বলে জানিয়েছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ঢাকা সেক্টর কমান্ডার কর্নেল এস এম আবুল এহসান। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় মিরপুর জাতীয় সুইমিং কমপ্লেক্সের অস্থায়ী বেস ক্যাম্পে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) দেশব্যাপী বিস্তৃত প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। ভোটাররা যেন নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন পরিবেশে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে লক্ষ্য সামনে রেখেই এই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। দেশের ৪,৪২৭ কিলোমিটার সীমান্ত সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রেখেই সারা দেশে ৩৭ হাজারেরও অধিক বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকবে। দেশের ৪৯৫টি উপজেলার মধ্যে ৪৮৯টি উপজেলায় বিজিবি নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী ৬১টি উপজেলায় বিজিবি এককভাবে নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবে। ঝুঁকি বিবেচনায় সারাদেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনেই বিজিবি মোবাইল ও স্ট্যাটিক ফোর্স হিসেবে দায়িত্বে থাকবে। উপজেলাভেদে ২ থেকে ৪ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকার কথা রয়েছে। তিনি আরও জানান, নির্বাচনকালীন যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবির র্যাপিড অ্যাকশন টিম (আরএটি) এবং হেলিকপ্টারসহ কুইক রেসপন্স ফোর্স (কিউআরএফ) প্রস্তুত থাকবে, যারা প্রয়োজন হলে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে সক্ষম হবে। পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করতে বিশেষায়িত কে-৯ ডগ স্কোয়াড ইউনিটও মোতায়েন থাকবে। নির্বাচনকে সামনে রেখে আপনারা মহড়া চালাচ্ছেন, নির্বাচনে আপনারা কোনো শঙ্কা দেখেন কি না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আবুল এহসান বলেন, নির্বাচনে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের শঙ্কা দেখছি না। আমাদের বিজিবি মহাপরিচালকের নির্দেশ- আমরা নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কোনো ধরনের লেথাল ওয়েপন ব্যবহার করব না। নির্বাচনে আপনাদের কোনো হটলাইন আছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের যে বেস ক্যাম্পগুলো রয়েছে সেগুলোর মোবাইল নম্বর রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে রয়েছে। কোনো ধরনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে তারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের সুরক্ষা অ্যাপ রয়েছে, সেখানেও কোনো ধরনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে জানাতে পারবেন।

দিনের শুরু হোক বা বিকেলের আড্ডা, এক কাপ চা ছাড়া অনেকেরই চলেই না। বাংলাদেশে দুধ চা যেন দৈনন্দিন জীবনের অংশ। কেউ এক কাপ খেলেই চাঙা অনুভব করেন, আবার কেউ দিনে কয়েক কাপ না হলে তৃপ্তি পান না। কিন্তু প্রশ্ন হলো, দুধ মেশানো চা কি সত্যিই শরীরের জন্য উপকারী, নাকি এতে চায়ের আসল গুণ নষ্ট হয়ে যায়? এই প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে চা ও দুধ দুটির গুণাগুণ আলাদা করে বোঝা জরুরি। চা ও দুধ দুটোরই আলাদা উপকারিতা গ্রিন টি ও ব্ল্যাক টি নিয়ে সবচেয়ে বেশি গবেষণা হয়েছে। এই দুই ধরনের চায়েই রয়েছে ফ্ল্যাভোনয়েড নামের অ্যান্টি অক্সিডেন্ট, যা শরীরের কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে। নিয়মিত চা পান করলে হৃদযন্ত্র ভালো থাকে, রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে বলে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে। অন্যদিকে দুধে রয়েছে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম ও পটাশিয়াম। এসব উপাদান হাড় শক্ত রাখতে, পেশি গঠনে এবং শরীরের সামগ্রিক সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই আলাদাভাবে চা ও দুধ দুটোই উপকারী। দুধ চা কি সত্যিই শরীরের জন্য ভালো কোনো ট্রিটমেন্ট ছাড়াই ত্বক উজ্জ্বল রাখতে যা খাবেন দুধ মেশালে কি চায়ের গুণ কমে যায় এই বিষয়টি নিয়ে গবেষণার ফল একরকম নয়। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, দুধের প্রোটিন চায়ের অ্যান্টি অক্সিডেন্টের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তার কার্যকারিতা কিছুটা কমাতে পারে। বিশেষ করে ব্ল্যাক টির ক্ষেত্রে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। একটি গবেষণায় দেখা যায়, দুধ ছাড়া ব্ল্যাক টি রক্তপ্রবাহ বাড়ালেও দুধ মেশালে সেই প্রভাব কমে যায়। তবে সব গবেষণার ফল এমন নয়। অন্য কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, দুধ মেশানো চা খেলেও শরীরে অ্যান্টি অক্সিডেন্টের মাত্রা বাড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, চা ভালোভাবে ভিজিয়ে তৈরি করলে দুধ থাকলেও উপকারী উপাদান শরীরে শোষিত হতে পারে। চায়ের ধরনেও পার্থক্য হতে পারে বেশিরভাগ গবেষণা ব্ল্যাক টি নিয়ে হওয়ায় গ্রিন টি বা ভেষজ চায়ের ক্ষেত্রে দুধের প্রভাব কতটা, তা এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। কিছু গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, গ্রিন টি থেকে ক্যালোরি পোড়ানোর যে উপকার পাওয়া যায়, দুধ মেশালে তা কিছুটা কমে যেতে পারে। তবে এ বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন। তাহলে দুধ চা খাবেন নাকি খাবেন না দুধ চা পুরোপুরি ক্ষতিকর এমন বলা যায় না। যারা চায়ের স্বাস্থ্যগুণ বেশি গুরুত্ব দেন, তারা চাইলে দুধ ছাড়া চা পান করতে পারেন। আবার যারা অভ্যাস বা স্বাদের কারণে দুধ চা পছন্দ করেন, তাদের জন্য মাঝেমধ্যে দুধ চা পান করা সাধারণত সমস্যা নয়। চা ও দুধ দুটোই পুষ্টিকর খাবার। কিছু গবেষণায় দুধ চায়ের উপকার কিছুটা কমতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও তা পুরোপুরি প্রমাণিত নয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পরিমিত চা পান করা এবং সামগ্রিকভাবে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন বজায় রাখা। দুধ চা হোক বা লিকার চা, সঠিক পরিমাণে খেলেই শরীরের জন্য ভালো। সূত্র : Health Line

স্বাস্থ্য সচেতনতা ও দেশপ্রেমের বার্তা ছড়িয়ে দিতে নোয়াখালীতে তিন শতাধিক কিশোর-কিশোরীর সঙ্গে ম্যারাথনে অংশ নিয়েছেন বিশ্বভ্রমণকারী নাজমুন নাহার। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকালে ১৮৪টি দেশে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা ওড়ানো এই ভ্রমণপ্রেমী নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রি) এলাকায় আয়োজিত ম্যারাথনে দৌড়ান। সকালে নোবিপ্রির মূল ফটক থেকে শুরু হওয়া ম্যারাথনের উদ্বোধন করেন নাজমুন নাহার নিজেই। পুরো দৌড়জুড়ে তিনি কিশোর-কিশোরীদের পাশে থেকে উৎসাহ দেন এবং তাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন। জানা গেছে, নোবিপ্রির স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ব্লাড ব্রিগেড-এর উদ্যোগে আয়োজিত ‘রান ফর বাংলাদেশ ২০২৬’ ম্যারাথনটি ২ কিলোমিটার ও ৭.৫ কিলোমিটার এই দুই ক্যাটাগরিতে অনুষ্ঠিত হয়। এটি সংগঠনটির আয়োজনে দ্বিতীয়বারের মতো বড় পরিসরের রানিং ইভেন্ট। দেশপ্রেম, মানবিকতা ও সুস্থ জীবনধারার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই ছিল আয়োজনের মূল লক্ষ্য। আয়োজকরা জানান, কিশোর-কিশোরীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরতেই এই ম্যারাথনের আয়োজন করা হয়। অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরাও এমন উদ্যোগে অংশ নিতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে এবং ভবিষ্যতে নিয়মিত খেলাধুলা করার অঙ্গীকার জানায়। ম্যারাথন শেষে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে সনদ ও স্মারক প্রদান করা হয়। আয়োজকদের আশা, নাজমুন নাহারের এই অংশগ্রহণ তরুণ সমাজকে আরও বেশি স্বাস্থ্যসচেতন ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করবে। আয়োজক মো. আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, রান ফর বাংলাদেশ ২০২৬ কেবল একটি দৌড় প্রতিযোগিতা নয়। এটি তরুণদের মধ্যে দেশপ্রেম, মানবিক চেতনা ও সক্রিয় নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার একটি উদ্যোগ। ভবিষ্যতে এই আয়োজন আরও বৃহৎ পরিসরে নিয়মিত ইভেন্ট হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে বলে আমরা আশাবাদী। ম্যারাথন শেষে নাজমুন নাহার বলেন, আমি ১৮৪টি দেশে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা বহন করেছি। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তরুণদের বলতে চাই—স্বপ্ন দেখো, নিয়মিত শরীরচর্চা করো এবং নিজের দেশকে ভালোবাসো। আজকের এই দৌড় সেই বার্তাই পৌঁছে দেওয়ার একটি প্রয়াস।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকাল ১০টা। নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ হাতিয়ার চেয়ারম্যান ঘাটে আলমের চা দোকানে কথা হয় দিনমজুর মোহাম্মদ আলীর (৫০) সঙ্গে। তিনি প্রথম ভোট দিয়েছেন ১৯৯৬ সালের ১২ জুন সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। ২০০১ ও ২০০৮ সালে ভোট দিতে পারলেও এরপর আর কেন্দ্রে যাওয়ার সুযোগ হয়নি। তিনি চায়ে চুমুক দিয়ে জাগো নিউজকে বলেন, ‘অনেকদিন পর ভোট দেবো। খুব খুশি লাগছে। এখন পর্যন্ত ভোটের পরিবেশও ভালো। কিন্তু ভোটের ব্যালটে নাকি গণভোট দিতে হবে। তা কী সেটা বুঝতেছি না। সবাই বলে এটা নাকি দেশের জন্য ভালো হবে। তবে এটা কীভাবে দেবো তা কেউ বলেনি। এটা যদি ভালোভাবে বুঝিয়ে দিতো ভালো হতো।’ নদী পার হওয়ার সময় স্পিডবোটে কথা হয় ব্যবসায়ী মো. সাহেদের সঙ্গে। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানকে শক্ত অবস্থানে ধরে রাখতে গণভোট দিতে হবে। কিন্তু এটার কোনো প্রচার-প্রচারণা নেই। সরকারি দপ্তরগুলো দায়সারা প্রচারণা চালাচ্ছে। এটা নিয়ে রাজনৈতিক দল এবং সরকার যদি ভালোভাবে প্রচার-প্রচারণা করতো, তাহলে গ্রামের সাধারণ খেটে-খাওয়া মানুষজন আরও বেশি করে এটা সম্পর্কে জানতো।’ মার্কার প্রচারে সরগরম প্রার্থীরা, গণভোট বোঝেন না দ্বীপের ৯০ ভাগ মানুষ একই বোটে আরেক দিনমজুর মো. শহিদ উল্যাহ জাগো নিউজকে বলেন, ‘দ্বীপের সাত লাখ অধিবাসীর মধ্যে ৮০-৮৫ শতাংশ মানুষ দিনমজুর, মৎস্যজীবী ও খেটে-খাওয়া। তারা দিনে এনে দিনে খাওয়া লোক। গণভোট বিষয়ে দ্বীপের ৯০ শতাংশ মানুষ কিছুই জানে না। তবে শুনেছি সরকার বাজারে বাজারে প্রচার চালাচ্ছে। কিন্তু আমার চোখে পড়েনি। আমরা নিজেরা গণভোট বুঝি না। বাড়ির লোকজনও কিছুই জানে না।’ হাতিয়ার নলচিরা ঘাটের মাঝি আবদুস ছোবহান বলেন, ‘গত ১৭ বছর ভোট না থাকায় এবার মানুষ ভোটে আগ্রহ আছে। কিন্তু পরিবেশ ভালো না থাকলে এবারও লোকজন কেন্দ্রে যাবে না। টেলিভিশনে দেখেছি দেশের জন্য গণভোট ভালো হবে। কিন্তু এ সম্পর্কে দ্বীপের মানুষকে আরও সচেতন করতে হবে। তা না হলে এ ব্যালট দিলেও লোকজন তার মর্ম বুঝবে না।’ ওসখালি যাওয়ার পথে সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক আবদুল গফুর বলেন, ‘হাতিয়ায় ১০ জন প্রার্থী হয়েছেন। কিন্তু তারা নিজেদের প্রতীক নিয়ে কথা বললেও হ্যাঁ-না ভোট নিয়ে কোনো কথা বলেন না। এটা নিয়ে আরও বেশি প্রচার-প্রচারণা দরকার।’ প্রবাসী আবদুল কুদ্দুস বলেন, ‘চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর নতুন বাংলাদেশ গড়তে গণভোটের বিকল্প নেই। কিন্তু দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় এর কোনো প্রচার-প্রচারণা নেই। নারী-পুরুষের বেশিরভাগই গণভোট সম্পর্কে কিছুই জানে না। সরকারি দপ্তরগুলো কিছুটা প্রচারণা করলেও তা উপজেলা ও তার আশপাশের এলাকায়। কিন্তু বিশাল জনগোষ্ঠী উপকূলে বসবাস করে। তাদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো জন্য কোনো পদক্ষেপ এখনো চোখে পড়েনি।’ মার্কার প্রচারে সরগরম প্রার্থীরা, গণভোট বোঝেন না দ্বীপের ৯০ ভাগ মানুষ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক মহিউদ্দিন বলেন, ‘আমরা এ ভোট বুঝিও না, দিতেও পারবো না। কেউ শিখিয়ে দিলে হয়তো দিতে পারবো। আর এ ভোট দিলে কী হবে তাও জানি না।’ স্থানীয়রা জানান, বিচ্ছিন্ন দ্বীপ হাতিয়া উপজেলা নিয়ে নোয়াখালী-৬ আসনটি গঠিত। এখানকার মানুষ চলাচলের জন্য একমাত্র নদীপথ ছাড়া কোনো উপায় নেই। ঝড়-তুফান পেরিয়ে এ দ্বীপের প্রায় সাত লাখ অধিবাসী জোয়ার-ভাটার সঙ্গে যুদ্ধ করে চলাচল করেন। দ্বীপের মানুষ অনেক মৌলিক চাহিদা থেকে বঞ্চিত। এখানকার প্রধান সমস্য নদীভাঙন। দ্বীপের বেশিরভাগ মানুষ দিনমজুর, মৎস্যজীবী ও খেটে-খাওয়া। এই আসনে এবার ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরমধ্যে বিএনপি, এনসিপি ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হবে বলে স্থানীয়দের অভিমত। আসন্ন সংসদ নির্বাচনে এ আসনে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ বলেন, ‘আমরা শাপলা কলি প্রতীকের পাশাপাশি গণভোটে হ্যাঁ-তে ভোট দিতে জনগণেকে উদ্বুদ্ধ করছি। ইনশাআল্লাহ এখানে শাপলা কলির পাশাপাশি হ্যাঁ জয়যুক্ত হবে।’ বিএনপির প্রার্থী দলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, ‘আমরা দ্বীপের মানুষের জন্য বিএনপির উন্নয়নসহ জনগণের দোরগোড়ায় ফ্যামিলি-কৃষি কার্ডের সুবিধার কথা বলে ধানের শীষে ভোট চাচ্ছি। পাশাপাশি গণভোটে অংশগ্রহণ করতেও ভোটারদেরকে আহ্বান জানাচ্ছি।’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলা উদ্দিন বলেন, ‘গণভোটে অংশ নিতে জনগণকে সচেতন করার জন্য আমরা বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে আসছি। প্রত্যেক বিদ্যালয়ে এবং প্রতিটি দপ্তরে এর প্রচারণা চালানো হচ্ছে।’ এই আসনে মোট ভোটার তিন লাখ ৩৯ হাজার ১৮৬ জন। পুরুষ ভোটার এক লাখ ৭৮ হাজার ৩৩২ জন, নারী ভোটার এক লাখ ৬০ হাজার ৮৫২ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার দুজন। এখানে মোট ভোটকেন্দ্র ১০৪টি, ভোট কক্ষ ৬৬৫টি। নোয়াখালী-৬ আসনের ১০ জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হলেন বিএনপির মোহাম্মদ মাহবুবের রহমান শামীম (ধানের শীষ), এনসিপির আবদুল হান্নান মাসউদ (শাপলা কলি), বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (বিএসপি) আমিররুল ইসলাম মোহাম্মদ আবদুল মালেক (একতারা), জাতীয় পার্টির এটিএম নাবী উল্যাহ (লাঙ্গল), স্বতন্ত্র তানবীর উদ্দিন রাজিব (ফুটবল), গণঅধিকার পরিষদের (জিওপি) মোহাম্মদ আজহার উদ্দিন (ট্রাক), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) মোহাম্মদ আবদুল মোতালেব (তারা), লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) মোহাম্মদ আবুল হোসেন (ছাতা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম শরীফ (হাতপাখা) এবং স্বতন্ত্র মোহাম্মদ ফজলুল আজিম (হরিণ)।

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় নলকূপের গর্তে পড়ে যাওয়া ৫ বছর বয়সী শিশু মিসবাহকে উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ৮টা ২৫ মিনিটের দিকে তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে শিশুটিকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। শিশুটি রাউজান উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের জয়নগর এলাকার সাইফুল ইসলামের ছেলে। রাউজান ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন ইনচার্জ সামশুল আলম বলেন, আনুমানিক ৩০ ফুট নিচে গর্তে শিশুটি পড়ে গিয়েছিল। বিশেষ যানের সাহায্যে মাটি কেটে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে বিকেলে শিশুটি নলকূপের গর্তে পড়ে যায়। ৫টা ২০ মিনিটের দিকে স্থানীয়রা বিষয়টি ফায়ার সার্ভিসকে জানায়। সঙ্গে সঙ্গে আমাদের টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে। বিজ্ঞাপন এর আগে বুধবার বিকেলে গর্তে পড়ে যাওয়ার খবরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, স্থানীয়রা টর্চলাইট ব্যবহার করে গর্তের ভেতরে শিশুটির অবস্থান দেখার চেষ্টা করছেন। কেউ কেউ গর্তের ভেতরে একটি গাছ ঢুকিয়ে শিশুটিকে তা ধরে রাখার নির্দেশ দিচ্ছেন। তবে পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিশেষ যানের সাহায্যে মাটি কেটে শিশুটিকে উদ্ধার করে। এর আগে গত বছরের ১০ ডিসেম্বর রাজশাহীর তানোরে গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছিল দুই বছরের শিশু সাজিদ। ওই সময় ঘটনাটি সারা দেশে আলোচনা হয়েছিল। পুলিশ, সেনাবাহিনী, প্রশাসন ও স্থানীয়রা টানা ৩২ ঘণ্টা শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান শেষে ১১ ডিসেম্বর শিশুটিকে উদ্ধার করেছিল। ওইদিন হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

দীর্ঘ চার বছর অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আদালতের রায়ে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও নোয়াখালী জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যক্ষ মাওলানা সাইয়েদ আহমদ। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে নোয়াখালী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম। জানা যায়, ২০২২ সালের ৫ জানুয়ারি সোনাইমুড়ী উপজেলার বারগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চশমা প্রতীক নিয়ে অংশ নিয়ে কেন্দ্র ঘোষিত ফলাফলে বিজয়ী হন মাওলানা সাইয়েদ আহমদ। তবে পরবর্তীতে উপজেলা পর্যায়ে ফলাফল পরিবর্তন করে তার প্রতিদ্বন্দ্বী নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. সামছুল আলমকে চেয়ারম্যান ঘোষণা করা হয়। এ ঘটনায় আদালতের দ্বারস্থ হন মাওলানা সাইয়েদ আহমদ। দীর্ঘ সাড়ে তিন বছর বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে গত বছরের ১৪ মে (বুধবার) দুপুরে নোয়াখালী জেলা দায়রা জজ আদালতের সিনিয়র সহকারী জজ দেওয়ান মনিরুজ্জামান রায়ে মাওলানা সাইয়েদ আহমদকে ৪৬৬ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে বিবাদী পক্ষ আপিল করলেও চূড়ান্তভাবে রায় বহাল থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার বিকেলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে শপথ গ্রহণ করেন তিনি। স্থানীয় জামায়াত নেতা মাওলানা রহিমুল্লাহ বলেছেন, ২০২২ সালের ৫ জানুয়ারি আমাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছিল। সেদিন আমাদের বিজয় কেড়ে নিয়ে নৌকার প্রার্থীকে দেওয়া হয়। তখন আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ জানানো ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় ছিল না। আজ আমরা মহা আনন্দিত। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায়ের ভাষা আমাদের নেই। ন্যায় ও ইনসাফের চেয়ারম্যান হবেন মাওলানা সাইয়েদ আহমদ। মাওলানা সাইয়েদ আহমদের ছেলে অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম ফরহাদ বলেন, নৌকার প্রার্থীর ভরাডুবি ঠেকাতে জনগণের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা না দেখিয়ে পেশিশক্তির মাধ্যমে আমার বাবাকে মাত্র ১১ ভোটে হারিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পরে আদালত আমার বাবাকে বৈধ চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা দেন। অবশেষে আজ তিনি শপথ গ্রহণ করলেন। তিনি আরও বলেন, নির্বাচন ট্রাইব্যুনাল আদালতের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, সব আইনজীবী এবং আমাদের ইউনিয়নের সচেতন বাসিন্দাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। একই সঙ্গে ধিক্কার জানাই তাদের, যারা সেই নির্বাচনে কারচুপি করে সত্যকে চাপা দিয়ে মানুষের ভোটাধিকার হরণ করেছিল। এ বিষয়ে নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মাওলানা সাইয়েদ আহমদ বলেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে আজ সত্যের জয় হয়েছে। দীর্ঘ চার বছর আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে শপথ নিতে পেরেছি। যেখানে মামলার নিষ্পত্তি হওয়ার কথা ছিল ছয় মাসে, সেখানে সময় লেগেছে চার বছর। এতে আমার এলাকাবাসী ও ভোটাররা চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি এবং আমার ইউনিয়নের সব বাসিন্দা ও ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। ইনশাআল্লাহ ন্যায় ও ইনসাফের ভিত্তিতে ইউনিয়নের উন্নয়নে কাজ করবো। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসকের উপপরিচালক (স্থানীয় সরকার) ফেরদৌসী বেগম, সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাদেকুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোসাদ্দেক হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বেশি দামে ক্যানুলা বিক্রি, লাজফার্মাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা নোয়াখালী জেলা শহরে ১৮ টাকার ক্যানুলা ৪০ টাকা বিক্রি করায় লাজফার্মাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ে শুনানি শেষে সহকারী পরিচালক (অ.দা) মো. আছাদুল ইসলাম এ জরিমানা করেন। সূত্র জানায়, কবিরহাট এলাকার বাসিন্দা হারুনুর রশিদ গত ১০ জানুয়ারি মাইজদী লাজফার্মাতে গেলে পণ্যের মূল্য ঢেকে ১৮ টাকার ক্যানুলা ৪০ টাকা এবং ২২ টাকার ক্যানুলা ৬০ টাকায় বিক্রি করা হয়। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) ভুক্তভোগী ভোক্তা অধিকারে অভিযোগ দিলে আজ শুনানি শেষে এ রায় দেওয়া হয়। ভুক্তভোগী হারুনুর রশিদ বলেন, পণ্যের দাম বেশি নেওয়ায় প্রতিবাদ করেও প্রতিকার পাইনি। পরে ভোক্তা অধিকারের নোয়াখালী কার্যালয়ে অভিযোগ করি। শুনানি শেষে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সেখান থেকে আমাকে পাঁচ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আছাদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ভুক্তভোগীর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় লাজফার্মাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানার পর সতর্ক করা হয়েছে। একইসঙ্গে সরকারের নিয়ম অনুযায়ী অভিযোগকারীকে জরিমানার ২৫ শতাংশ দেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, সোনাইমুড়ী বাজারে অভিযানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুত ও বাসি খাবার সংরক্ষণের অভিযোগে মেসার্স মামুন হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ সময় ১৫টি বাসি গ্রিজ ও প্রায় ১০ কেজি বাসি খাবার জব্দ করে ধ্বংস করা হয়। এছাড়াও মেয়াদোত্তীর্ণ কোমল পানীয় সংরক্ষণ, বিদেশি পণ্যে অতিরিক্ত মূল্য সংযোজন এবং উৎপাদিত পণ্যে মেয়াদ না থাকায় মেসার্স মিস্টার বাবলু ফুড প্রোডাক্টসকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য ধ্বংস করা হয়।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। কিন্তু নির্বাচন এলেও নোয়াখালীর ছাপাখানাগুলোতে নেই ব্যস্ততা। বরং কাজের অভাবে নীরব সময় পার করছেন শ্রমিক ও মালিকরা। সরেজমিনে নোয়াখালীর চৌমুহনী এলাকার মুদ্রণপল্লিতে গিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশ ছাপাখানার মেশিন বন্ধ। অলস সময় কাটাচ্ছেন শ্রমিক, অপারেটর ও মালিকরা। নির্বাচনী মৌসুমে কাজের অভাবে ছাপাখানা শিল্পে দেখা দিয়েছে স্থবিরতা, যা শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। মেশিন অপারেটর মো. সেলিম হোসেন বলেন, ৩০ বছর ধরে এই পেশায় আছি। কিন্তু এমন কাজের সংকট আগে কখনো দেখিনি। আগে দিন-রাত কাজ করতাম, অতিরিক্ত কাজ করলে অতিরিক্ত আয় হতো। এখন কাজই নেই, আয়ও নেই। মালিকরাও ঠিকমতো বেতন দিতে পারছেন না। সাইন ভিলেজের স্বত্বাধিকারী মো. রাহাত বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে অনেকেই বিনিয়োগ করে নতুন মেশিন এনেছেন। কিন্তু সরকার পোস্টার ছাপানো নিষিদ্ধ করায় বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। এছাড়া ডিজিটাল মেশিন বসানো অনেক ব্যবসায়ীও ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এতে করে অনেকেই ঋণের বোঝায় জর্জরিত। বাংলাদেশ মুদ্রণ শিল্প সমিতির নোয়াখালী শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কেশব দাস বলেন, ৫–৬টি নির্বাচন দেখেছি, কিন্তু এবারের নির্বাচন একেবারেই ভিন্ন। কাজ প্রায় নেই বললেই চলে। কিছু লিফলেট ছাপা হয়, তাতেই কোনোরকম টিকে থাকা যাচ্ছে। অধিকাংশ ছাপাখানার মেশিন বন্ধ। তিনি সরকারের কাছে বিষয়টি বিবেচনার দাবি জানান। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বেগমগঞ্জ উপজেলার ইউএনও মো. কায়েসুর রহমান বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধির কারণে এবার পোস্টার নিষিদ্ধসহ বেশ কিছু নীতিমালা কার্যকর রয়েছে। পরিবেশ রক্ষার কথা বিবেচনা করেই এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমাদের সবারই এসব সিদ্ধান্তের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হবে।

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের নোয়াখালী আগমন উপলক্ষ্যে সংবাদ সম্মেলন করেছে জেলা জামায়াত। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রাত ৮টার দিকে জেলা জামায়াতের কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় নোয়াখালী জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির ও নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ইসহাক খন্দকার বলেন, আগামী ৩০ ও ৩১ জানুয়ারি ডা. শফিকুর রহমান নোয়াখালী, কুমিল্লা, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সফর করবেন এবং বিভিন্ন জনসভায় বক্তব্য দেবেন। তিনি জানান, ৩০ জানুয়ারি সকাল ৯টায় নোয়াখালী জিলা স্কুল মাঠে জনসভা শুরু হবে। ওই জনসভায় আমিরে জামায়াত বেলা ১১টা বা সাড়ে ১১টার দিকে বক্তব্য দেবেন। নোয়াখালীর জনসভা শেষে তিনি বিকেল ৩টায় লক্ষ্মীপুরে এবং পরবর্তীতে কুমিল্লার লাকসামে জনসভায় অংশ নেবেন। এছাড়া ৩১ জানুয়ারি চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন স্থানে জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। ইসহাক খন্দকার আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, নোয়াখালীর জিলা স্কুল মাঠের জনসভায় লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটবে। তিনি সর্বস্তরের জনগণকে উক্ত জনসভায় উপস্থিত থাকার জন্য আহ্বান জানান। সংবাদ সম্মেলনে জেলা জামায়াতের প্রচার সম্পাদক ডা. বোরহান উদ্দিনের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন- নোয়াখালী শহর শাখার আমির মাওলানা মো. ইউসুফ, শহর শাখার সেক্রেটারি মোহাম্মদ মায়াজ, সদর উপজেলা সেক্রেটারি মোহাম্মদ মিরাজ, ইসলামী ছাত্রশিবিরের নোয়াখালী শহর শাখার সভাপতি হাবিবুর রহমান আরমানসহ জেলা জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি সশস্ত্র বাহিনীকে নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ঢাকায় সেনাসদরের হেলমেট অডিটোরিয়ামে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার শুরুতে প্রধান উপদেষ্টা দেশের বিভিন্ন প্রয়োজনে সশস্ত্র বাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল ও দায়িত্বশীল ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে ধৈর্য ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দেশের আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সভায় নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও সমসাময়িক বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয় বলেও জানানো হয়। এ সময় আসন্ন নির্বাচনকে সকলের জন্য অংশগ্রহণমূলক, শঙ্কামুক্ত ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সশস্ত্র বাহিনীকে পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা এবং আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা দিকনির্দেশনা দেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান উপদেষ্টা অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে তাকে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান ও বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লে. জেনারেল এস এম কামরুল হাসান তাকে অভ্যর্থনা জানান। মতবিনিময় সভায় সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা ছাড়াও সংশ্লিষ্ট আমন্ত্রিত অতিথি এবং গণমাধ্যম ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় বড় সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে পাকিস্তান। আইসিসির সিদ্ধান্তকে ‘অন্যায্য ও বৈষম্যমূলক’ মনে করে পাকিস্তান এখন ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ভাবছে। সরকারের ঘনিষ্ঠ সূত্র দ্য নিউজকে জানিয়েছে, ফেডারেল সরকার পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে জাতীয় দল বিশ্বকাপে পাঠানোর অনুমতি নাও দিতে পারে। ভারত ও শ্রীলঙ্কায় যৌথভাবে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্ট নিয়ে ইসলামাবাদে অসন্তোষ বাড়ছে। আইসিসির ‘স্পষ্ট দ্বিমুখী নীতি’ই এর মূল কারণ বলে মনে করছে সরকার। বাংলাদেশ নিরাপত্তার কথা জানিয়ে শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ খেলতে চেয়েছিল। আইসিসি সেই আবেদন নাকচ করে। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে নেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের পরই ইসলামাবাদ নড়েচড়ে বসে। আজ সোমবার ইসলামাবাদে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির বৈঠকে বসার কথা। এরপরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে। একজন জ্যেষ্ঠ সরকারি সূত্র বলেন, ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর হাতে। তবে প্রাথমিক ইঙ্গিত বলছে, সরকার পাকিস্তানকে বিশ্বকাপে অংশ নিতে নাও দিতে পারে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এটা শুধু ক্রিকেটের বিষয় না। এটা নীতির প্রশ্ন। বাংলাদেশকে তার ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। আইসিসির সৎমায়ের মতো আচরণ পাকিস্তানকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে।’ ওই সূত্র জোর দিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে দ্বৈত নীতি চলতে পারে না। তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক খেলায় দুই রকম মানদণ্ড থাকতে পারে না। একদিকে ভারত ইচ্ছেমতো ভেন্যু বেছে নিতে পারে। অন্যদিকে বাংলাদেশ নিরাপত্তার কথা বলেও ভেন্যু বদলাতে পারে না। আইসিসি যদি সত্যিই বিশ্বব্যাপী ক্রিকেট চায়, তাহলে এই বাছাই করা নীতি বন্ধ করতে হবে।’ এর আগে মহসিন নাকভি আইসিসির সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে নেওয়া আইসিসির নীতিগত অসঙ্গতি তুলে ধরে। এতে ন্যায্যতার চেতনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে নাকভি পরিষ্কার করে দেন, পিসিবি সরকারের সিদ্ধান্তই মানবে। তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানের বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া বা না নেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারের। পিসিবি সেই নির্দেশ মানতে বাধ্য।’ এদিকে লাহোরে এক বৈঠকে পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা চেয়ারম্যান নাকভির পাশে থাকার কথা জানিয়েছেন। খেলোয়াড়রা একমত হয়ে বলেন, সরকার যে সিদ্ধান্ত নেবে, বিশ্বকাপ খেলা বা না খেলা সেই সিদ্ধান্তই তারা মানবেন।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এজেন্সি থেকে যেসব হজযাত্রীর বাড়ি ভাড়া হবে না তারা হজ পালন করতে পারবে না বলে বাংলাদেশকে জানিয়েছে সৌদি আরব। এ প্রেক্ষিতে আগামী ২৮ জানুয়ারির মধ্যে লিড এজেন্সিকে তাদের সকল হজযাত্রীর মক্কা-মদিনার বাড়ি ভাড়া সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় থেকে সম্প্রতি ৩০টি লিড এজেন্সিকে পাঠানো এক চিঠিতে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়, বাংলাদেশ থেকে সরকারি ও বেসরকারি দুটি মাধ্যমে হজযাত্রীরা পবিত্র হজ পালন করবেন। বেসরকারি মাধ্যমে ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন হজযাত্রী ৩০টি লিড এজেন্সির মাধ্যমে সৌদি আরবে যাবেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এজেন্সির হজযাত্রীর বাড়ি ভাড়া সম্পন্ন করার জন্য সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় থেকে বারবার তাগাদা দেওয়া হচ্ছে। গত ২৩ জানুয়ারি জুম সভায় সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক জানান যে, এজেন্সি থেকে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের জন্য মক্কা-মদিনায় বাড়ি ভাড়া করার অগ্রগতি অত্যন্ত হতাশাব্যঞ্জক। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এজেন্সির যে সংখ্যক হজযাত্রীর বাড়ি ভাড়া হবে না সে সংখ্যক হজযাত্রী হজ পালন করতে পারবে না মর্মে তিনি উল্লেখ করেন।

ভারতের পাহাড়ি রাজ্য হিমাচল প্রদেশে ভারি তুষারপাতের ফলে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। রোববার (২৫ জানুয়ারি) পর্যন্ত তিনটি জাতীয় মহাসড়কসহ রাজ্যের অন্তত ৮৩৫টি রাস্তা যানবাহন চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, একটি নতুন 'পশ্চিমী ঝঞ্ঝা'র প্রভাবে সোমবার (২৬ জানুয়ারি) থেকে রাজ্যের উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে আবারও ভারি তুষারপাত শুরু হতে পারে। এই পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কায় আবহাওয়া অফিস হিমাচলের বিভিন্ন এলাকায় সতর্কতা জারি করেছে। রাজ্য জরুরি অপারেশন সেন্টারের তথ্য, উপজাতীয় জেলা লাহুল ও স্পিতিতে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে। সেখানে লেহ-মানালি এবং কাজা-গ্রাম্পু জাতীয় মহাসড়কসহ প্রায় ২৮২টি রাস্তা অবরুদ্ধ হয়ে আছে। এছাড়া রাজধানী শিমলায় ২৩৪টি, মান্ডিতে ১১০টি এবং চাম্বায় ৭৮টি রাস্তা বন্ধ রয়েছে। কুল্লু জেলাতেও সাইঞ্জ-লুহরি-আউট জাতীয় মহাসড়কসহ ৬৫টি রাস্তা তুষারে ঢাকা পড়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সিরমৌর, কিন্নর এবং কাংড়া জেলাতেও একই ধরনের সংকটে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। তুষারপাতের কারণে কেবল যাতায়াত নয়, বিদ্যুৎ ব্যবস্থাও চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। রাজ্যজুড়ে প্রায় ১,৯৪২টি ট্রান্সফরমার অকেজো হয়ে যাওয়ায় হাজার হাজার পরিবার বর্তমানে বিদ্যুৎহীন অবস্থায় অন্ধকারে দিন কাটাচ্ছে। বিশেষ করে শিমলা জেলায় সর্বোচ্চ ৭৮৯টি এবং সিরমৌরে ৩৫৪টি ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে আছে। হিমাচলের লাহুল ও স্পিতি জেলার তাবো গ্রামে তাপমাত্রা হিমাঙ্কের ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস নিচে নেমে যাওয়ায় সেখানে হাড়কাঁপানো শৈত্যপ্রবাহ বইছে। এছাড়া মানালি, উনা, হামিরপুর এবং বিলাসপুরেও তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) পর্যন্ত পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আবহাওয়া দপ্তর কুল্লু, কিন্নর, চাম্বা এবং লাহুল ও স্পিতি জেলার জন্য 'অরেঞ্জ অ্যালার্ট' জারি করেছে, যেখানে ভারী তুষারপাত ও বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের বাকি জেলাগুলোর জন্য 'ইয়েলো অ্যালার্ট' জারি করা হয়েছে, যেখানে বজ্রপাত ও ঝোড়ো হাওয়াসহ তীব্র শীতের সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের এই সময়ে পাহাড়ি এলাকায় চলাচলে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন। সূত্র: এনডিটিভি

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজধানীর চানখারপুলে ৬ জনকে হত্যা মামলায় সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের বাকি সদস্যরা হলেন—বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। বিস্তারিত আসছে...

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণের কারণে গণঅভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলা, অভিযোগ বা কার্যধারা বিধান অনুযায়ী প্রত্যাহার করা হবে। এ বিষয়ে নতুন কোনো দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলা, অভিযোগ বা কার্যধারা গণঅভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের আইনত করা যাবে না বলেও অধ্যাদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। রোববার রাতে আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ থেকে আধ্যাদেশের গেজেট জারি করা হয়েছে। এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি উপদেষ্টা পরিষদ বৈঠকে অধ্যাদেশের খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। অধ্যাদেশে বলা হয়, ছাত্র-জনতা ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে ফ্যাসিস্ট শাসকের পতন ঘটানোর মাধ্যমে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি সর্বাত্মক গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করে, যা পরবর্তীকালে জুলাই গণঅভ্যুত্থান হিসেবে স্বীকৃতি পায়। জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন ফ্যাসিবাদী সরকারের নির্দেশে পরিচালিত নির্বিচার হত্যাকাণ্ড ও সশস্ত্র আক্রমণ প্রতিরোধ এবং জনশৃঙ্খলা পুনর্বহাল ও নিশ্চিত করতে আত্মরক্ষাসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ অনিবার্য হয়ে ওঠে। এতে আরও বলা হয়, এ প্রতিরোধ কর্মে এবং জনশৃঙ্খলা পুনর্বহাল ও নিশ্চিত করার প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারী গণঅভ্যুত্থানকারীদের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৬ অনুযায়ী সুরক্ষা দেওয়া প্রয়োজন। তাই এ প্রেক্ষাপটে অধ্যাদেশটি করা হয়েছে। অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, কোনো গণঅভ্যুত্থানকারীর বিরুদ্ধে কোনো মামলা, অভিযোগ বা কার্যধারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করার কারণে দায়ের করা হলে পাবলিক প্রসিকিউটর বা সরকারনিযুক্ত কোনো আইনজীবীর প্রত্যয়নের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট আদালতে আবেদন দাখিল করা হবে। আবেদন দাখিলের পর আদালত এ মামলা বা কার্যধারা সম্পর্কে আর কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করবেন না। এ মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে গণ্য হবে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি অবিলম্বে অব্যাহতি বা খালাস পাবে। অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, কোনো গণঅভ্যুত্থানকারীর বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে হত্যাকাণ্ড সংঘটনের অভিযোগ থাকলে তা মানবাধিকার কমিশনে দাখিল করা যাবে এবং কমিশন অভিযোগ তদন্তের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তবে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫’ এ যা কিছু থাকুক না কেন, যেক্ষেত্রে হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তি কোনো প্রতিষ্ঠান বা বাহিনীতে (পুলিশ বা অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী) কর্মরত ছিলেন, সেক্ষেত্রে কমিশন ওই প্রতিষ্ঠান বা বাহিনীতে বর্তমানে বা আগে কর্মরত কোনো কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দিতে পারবে না। তদন্ত চলাকালে আসামিকে গ্রেপ্তার বা হেফাজতে নেওয়ার প্রয়োজন হলে তদন্তকারী কর্মকর্তা যুক্তিসংগত কারণ উল্লেখ করে কমিশনের অনুমোদন গ্রহণ করবেন বলে অধ্যাদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। কমিশনের তদন্তে যদি দেখা যায়, অভিযোগটি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অপরাধমূলক অপব্যবহার ছিল, তাহলে কমিশন সংশ্লিষ্ট আদালতে প্রতিবেদন দেবে। আদালত সেটিকে পুলিশ প্রতিবেদন হিসেবে গণ্য করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে বলে অধ্যাদেশে জানানো হয়েছে। কমিশনের তদন্তে যদি দেখা যায়- অভিযোগে উল্লিখিত কাজ রাজনৈতিক প্রতিরোধের অংশ ছিল, সেক্ষেত্রে কমিশন উপযুক্ত মনে করলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেও এক্ষেত্রে আদালতে কোনো মামলা করা যাবে না কিংবা অন্য কোনো আইনগত কার্যধারা গ্রহণ করা যাবে না বলেও অধ্যাদেশে জানানো হয়। অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সরকার প্রয়োজনে বিধি প্রণয়ন করতে পারবে।

দীর্ঘ বিরতির পর জাতীয় দলে ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় প্রথমবারের মতো মুখ খুলেছেন সাকিব আল হাসান। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তাকে আবার দলে বিবেচনায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর নিজের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে আপাতত সংযত অবস্থান নিয়েছেন এই অলরাউন্ডার। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিসিবির বোর্ড সভায় সাকিবকে ভবিষ্যৎ স্কোয়াডের জন্য পুনরায় বিবেচনায় রাখার সিদ্ধান্ত হয়। বিষয়টি জানার পর একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের মাধ্যমে সাকিবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে একটু ধীরে-সুস্থে প্রতিক্রিয়া জানাব।’ প্রায় দেড় বছর ধরে জাতীয় দলের বাইরে থাকা সাকিব দেশে ফিরে ঘরের মাঠে খেলে অবসর নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তা বাস্তবায়ন হয়নি। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর তিনি আর দেশে ফেরেননি। এর আগে শনিবার রাতে বোর্ড সভা শেষে বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান ও পরিচালক আমজাদ হোসেন সংবাদমাধ্যমকে জানান, সাকিবকে ফেরানোর বিষয়ে বোর্ডে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিসিবির সিদ্ধান্তের পর প্রতিক্রিয়া জানালেন সাকিব সাকিবের জাতীয় দলে ফেরা ইস্যুতে যা বললেন আসিফ আমজাদ হোসেন বলেন, ‘বোর্ডে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সময়মতো সাকিবকে পাওয়া গেলে, তার ফিটনেস ও অ্যাভেইলেবিলিটি ঠিক থাকলে এবং সংশ্লিষ্ট ভেন্যুতে উপস্থিত থাকার মতো অবস্থা থাকলে, নির্বাচক কমিটি তাকে দলে অন্তর্ভুক্তির জন্য বিবেচনা করবে। প্রয়োজন হলে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের জন্য বোর্ড এনওসি দেবে।’ তিনি আরও জানান, সাকিবকে আবার কেন্দ্রীয় চুক্তির আওতায় আনার প্রস্তাবও দিয়েছে বিসিবি। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে থাকা মামলা ও আইনি বিষয়গুলো নিয়ে সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে। সাকিবের বিষয়টি কীভাবে বোর্ড সভার আলোচনায় আসে—সে প্রসঙ্গে বিসিবি পরিচালক আসিফ আকবর জানান, ক্রিকেট অপারেশন্সের আলোচ্য সূচিতে চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড়দের তালিকা ও গ্রেডিং নিয়ে কথা হচ্ছিল। তিনি বলেন, ‘আলোচনার একপর্যায়ে একজন পরিচালক প্রস্তাব দেন যে, সাকিব খেলতে আগ্রহী এবং বোর্ডের সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়েছে। বিষয়টি সভাপতিকে জানানো হয়েছে, যাতে সরকারিভাবে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ করা যায়।’ আসিফ আকবর আরও যোগ করেন, ‘সাকিবের ব্যক্তিগত ও আইনি বিষয়গুলো সরকারের বিষয়। বোর্ডের দৃষ্টিকোণ থেকে আমরা তাকে দলে চাই। চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড়দের তালিকায় তার নাম রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সাকিব আল হাসান একটি ব্র্যান্ড—এমন ক্রিকেটার হয়তো আগামী বহু বছরেও আর পাওয়া যাবে না।’ সব মিলিয়ে, বিসিবির সিদ্ধান্তের পর জাতীয় দলে সাকিব আল হাসানের সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, ফিটনেস, অ্যাভেইলেবিলিটি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে কবে আবার লাল-সবুজ জার্সিতে মাঠে নামেন এই তারকা অলরাউন্ডার।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তরের ব্যাপারে যথাসাধ্য চেষ্টা করেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থাকে (আইসিসি) আহ্বানও জানানো হয়েছে। পাল্টা আইসিসিও সিদ্ধান্ত বদলাতে বিসিবিকে সময় দেয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আইসিসি-বিসিবি যার যার সিদ্ধান্তে অটল থাকায় বিশ্বকাপ খেলা হচ্ছে না বাংলাদেশের। তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক আসিফ আকবর জানিয়েছেন, গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঘটনার শুরু ৩ জানুয়ারি মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে কলকাতা নাইট রাইডার্স বাদ দেওয়ার পর থেকে। প্রশ্ন উঠতে থাকে নিরাপত্তা নিয়ে। নিরাপত্তাজনিত কারণে বাংলাদেশের ক্রিকেট দলকে ভারতে না পাঠানোর সিদ্ধান্ত সরকারিভাবে নেওয়া হয়েছে বলে ২২ জানুয়ারি হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে জানিয়েছিলেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। গতকাল শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের সভায় বিশ্বকাপে বাংলাদেশের খেলতে না পারার ব্যাপারে প্রশ্ন উঠেছে। ভারতে কেন দল পাঠানো হয়নি, ব্যাখ্যা দিলেন আসিফ আকবর ভাইয়া ডাকলে ভালো লাগবে, শিক্ষার্থীকে তারেক রহমান বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে না পারার প্রসঙ্গ এলে আসিফ আকবর গোয়েন্দা রিপোর্টের কথা উল্লেখ করেছেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বিসিবি পরিচালক বলেন, ‘গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকারের নিজস্ব প্রশ্ন ছিল এখানে। তাদের একটা গোয়েন্দা প্রতিবেদন থাকে যে আমাদের ক্রিকেটার, সাংবাদিক, দর্শক বা ট্যাকটিকাল লোকজন যাবে, তাদের নিরাপত্তা ইস্যু ও সেখানে যে ঘটনাগুলো ঘটে যাচ্ছে, সেগুলোকে মাথায় রেখেই সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই মুহূর্তে যদি কোনো নাশকতামূলক ঘটনাও ঘটে, সেটার দায়দায়িত্ব আমরা নিতে পারি না। এটা সরকারের সিদ্ধান্ত।’ বিসিবির সঙ্গে টানা ২১ দিনের ‘যুদ্ধ’ শেষে গতকাল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের নাম ছেঁটে ফেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা (আইসিসি)। ভারতে বাংলাদেশের দল না পাঠানোর ব্যাপারে দেশের চার মন্ত্রণালয় একসঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন আসিফ আকবর। বিসিবি পরিচালক গতকাল বলেন, ‘(বাংলাদেশ) বিশ্বকাপে যাচ্ছে না নিরাপত্তার হুমকির কারণে। সরকারের সঙ্গে যখন সরকারের আলোচনা হয়, সবার আগে নিরাপত্তা দেখা হয়। ক্যাবিনেটে রাষ্ট্র সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিরাপত্তার কারণে যাব না। সেখানে অনেক কিছু ঘটতে পারে। আইসিসি একটি সংস্থা, বিসিবিও সংস্থা। তবে তারা রাষ্ট্র না। একটা রাষ্ট্র যখন নিরাপত্তার বিষয়ে কথা বলে, তখন সব দিক বিবেচনা করেই কথা বলে। আমাদের সরকার নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা জানানোর পর তথ্য, পররাষ্ট্র, ক্রীড়া, আইন—এই চার মন্ত্রণালয় মন্ত্রিসভায় বসে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে আমরা ঝুঁকি নেব না।’ এদিকে বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ড নিয়ে নতুন সূচি তৈরি করেছে আইসিসি। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে এখন ১৪ নম্বরে স্কটল্যান্ড। ‘সি’ গ্রুপে নবাগত ইতালির পাশাপাশি নেপাল, সাবেক দুই টি-টোয়েন্টি বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং স্কটল্যান্ড খেলবে।

নোয়াখালীতে বিএনপির ৮ পরিকল্পনা নিয়ে ‘জন-জিজ্ঞাসা ও আলাপ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে নোয়াখালী জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে জেলা বিএনপির নির্বাচন সংক্রান্ত গণযোগাযোগ ও তথ্য সহায়তা উপ-কমিটি ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে জনগণ প্রশ্ন করে জানতে চান, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে তাদের ঘোষিত ফ্যামিলি, কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষাকার্ড এবং ক্রিড়া, পরিবেশ, কর্মসংস্থান ও ধর্মীয় নেতাদের সেবা বিনামূল্যে পাওয়া যাবে কি না? এছাড়া এসব কার্ড দলীয় বিবেচনায় দেওয়া হবে কি না? রাজিয়া সুলতানা নামে এক শিক্ষার্থী জানতে চান, ফ্যামিলি কার্ড পেতে কোনো নেতার পিছনে ঘুরতে হবে কি না? তাছাড়া আওয়ামী লীগের সময়ের মতো টাকা দিয়ে এসব কার্ড অর্জন করতে হবে কি না। সাংবাদিক ইকবাল হোসেন মজনু জানতে চান, বিএনপির ৮ পরিকল্পনা জনগণের মৌলিক অধিকারের অংশ। এগুলোর সুষ্ঠু বাস্তবায়ন হবে কি না? গোলাম কিবরিয়া রাহাত নামে আরেক সাংবাদিক জানতে চান, বিগত বিএনপির সরকারের সময় ঢাকায় নকল বন্ধ করা হলেও মফস্বল শহরগুলোতে এ নিয়ে জোরালো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এবার এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নজর দেওয়া হবে কি না? মাহবুবর রহমান নামে এক প্রবাসী বলেন, বিএনপির পরিকল্পনায় কর্মমুখী শিক্ষার বিষয়টি রাখায় তারেক রহমানকে ধন্যবাদ। কারণ বিদেশে শিক্ষা সনদের কোনো মূল্য নেই। সেখানে কর্মমুখী শিক্ষাই গুরুত্বপূর্ণ। জন-জিজ্ঞাসায় সব প্রশ্নের উত্তর দেন অনুষ্ঠানের অতিথি এবং আলোচকরা। এতে অতিথি ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলো, সদস্য সচিব হারুনুর রশিদ আজাদ। মাহবুব আলমগীর আলো বলেন, এবারের নির্বাচন কিংবা নির্বাচন পরবর্তী সরকার জবাবদিহিতার আওতায় থাকবে। আমাদের নেতা তারেক রহমান যে আটটি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন তা নির্বিঘ্নে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে বিএনপি বদ্ধ পরিকর। জনগণ বিএনপিকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিলে সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে দুর্নীতিমুক্তভাবে সকল কার্যক্রম পরিচালিত হবে। প্যানেল আলোচক ছিলেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর সরকার, জেলা বিএনপির সদস্য অ্যাডভোকেট রবিউল হাসান পলাশ, ডক্টর্স অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের (ড্যাব) দপ্তর সম্পাদক সহকারী সার্জন ডা. মো. নুরুল আলম লিটন, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের কাউন্সিল ডেলিগেটর ইকবাল বাহার আজাদ এবং বিএনপির তথ্য ও পরিকল্পনা সহায়তা উপ-কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট মাহমুদ হাসান শাকিল। এতে সভাপতিত্ব করেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) অধ্যাপক ড. আবদুল কাইয়ুম মাসুদ এবং সঞ্চালনা করেন নোয়াখালী সদর উপজেলা যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব মজিবুল হক রনি।

উত্তরের জেলা ঠাকুরগাঁওয়ের ৩৩ কিলোমিটার পূর্বে ৩ দশমিক ৪ মাত্রার একটি মৃদু ভূমিকম্প হয়েছে। রোববার (২৫ জানুয়ারি) সকাল ৮টা ৩৪ মিনিটে এ মৃদু ভূমিকম্প হয়। অগ্ন্যুৎপাত ও ভূমিকম্প বিষয়ক ওয়েবসাইট ভলকানো ডিসকভারি জানিয়েছে, ভূমিকম্পের গভীরতা এখনো নিরূপণ করা যায়নি। যদিও ধারণা করা হচ্ছে এটি অগভীর ভূমিকম্প ছিল। এছাড়া বেশিরভাগ মানুষ এটি অনুভব করেননি বলে জানিয়েছে তারা। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ঠাকুরগাঁওয়ের অনেক বাসিন্দা জানিয়েছেন, তারা ঝাঁকুনি অনুভব করেছেন। কেউ কেউ বলছেন, ঝাঁকুনি বেশ শক্তিশালী ছিল। বিশেষ করে পীরগঞ্জ ও রানীশংকৈলের বাসিন্দারা এটি সবচেয়ে বেশি অনুভব করেছেন। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়া অফিস সহকারী গোলাম মোস্তফা জানান, সকাল ৮টা ৩৪ মিনিটে ৩ দশমিক ৪ মাত্রার মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। ঢাকা থেকে ৩৩১ কিলোমিটার দূরে এবং ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০ কিলোমিটার গভীরে ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল। এরআগে গত ৫ জানুয়ারি সিলেট ও আশপাশের এলাকায় ভোররাতে ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ওইদিন ভোর আনুমানিক ৪টা ৪৭ মিনিটের দিকে কয়েক সেকেন্ডের জন্য কম্পন অনুভূত হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকে ভূকম্পন অনুভব করার কথা জানান। নগরীর জিন্দাবাজার, উপশহর, আম্বরখানা, টিলাগড়, শাহপরান থানা এলাকা ছাড়াও দক্ষিণ সুরমা, জৈন্তাপুর ও কোম্পানিগঞ্জ উপজেলায় ও কম্পন অনুভূত হয়।

আসন্ন গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী জেলার ৬টি সংসদীয় আসনে প্রথমবারের মতো পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেবেন মোট ৬১ পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন প্রবাসী ভোটার, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও কারাগারে থাকা ভোটাররা।জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত নিবন্ধনের সময়সীমা নির্ধারিত ছিল। ইতোমধ্যে নিবন্ধিত ভোটারদের কাছে ডাকযোগে ব্যালট পেপার পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আসনভিত্তিক নিবন্ধনের তথ্যানুযায়ী, নোয়াখালী-১ (চাটখিল-সোনাইমুড়ী আংশিক) আসনে ১৩ হাজার ৬৬৭ জন ভোটার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে নিবন্ধন করেছেন। তারমধ্যে পুরুষ ভোটার ১২ হাজার ৪৩৪ জন এবং মহিলা ভোটার ১ হাজার ২৩৩ জন। নোয়াখালী-১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৫২ হাজার ৪২৫ জন। এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৭ জন প্রার্থী। তারা হলেন, বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী এ এম মাহবুব উদ্দিন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মো. ছাইফ উল্লাহ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাত পাখা প্রতীকের প্রার্থী জহিরুল ইসলাম, জাতীয় পার্টি মনোনীত লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী মো. নুরুল আমিন, বাংলাদেশ কংগ্রেস মনোনীত ডাব প্রতীকের প্রার্থী মো. মনিনুল ইসলাম, ইনসানিয়াত বাংলাদেশ মনোনীত আপেল প্রতীকের প্রার্থী মো. মশিউর রহমান ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডি মনোনীত তারা প্রতীকের প্রার্থী রেহানা বেগম। নোয়াখালী-২ (সেনবাগ-সোনাইমুড়ী আংশিক) আসনে ৯ হাজার ২২৭ জন ভোটার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে নিবন্ধন করেছেন। তারমধ্যে পুরুষ ভোটার ৮ হাজার ৫৬৫ জন এবং মহিলা ভোটার ৬৬২ জন।এই আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৬০ হাজার ৮১ জন। এই আসনে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন, বিএনপি থেকে ধানের শীষ প্রতীকে মনোনীত প্রার্থী জয়নুল আবদিন ফারুক, ১০ দলীয় জোটের শাপলা কলি প্রতীকের মনোনীত প্রার্থী সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়া মজুমদার, জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের মনোনীত প্রার্থী মো. শাহাদাত হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের মনোনীত প্রার্থী খলিলুর রহমান ও কাপ পিরিচ প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী মোহাম্মদ মফিজুর রহমান। নোয়াখালী-৩ (বেগমগঞ্জ) আসনে ১২ হাজার ৮৫৯ জন ভোটার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে নিবন্ধন করেছেন।তারমধ্যে পুরুষ ভোটার ১১ হাজার ৯৫৭ জন এবং মহিলা ভোটার ৯০২ জন।নোয়াখালী-৩ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ১১ হাজার ৭৫৯ জন। নোয়াখালী-৩ (বেগমগঞ্জ) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৭ জন প্রার্থী। তারা হলেন, বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মো. বরকত উল্লাহ বুলু, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মো. বোরহান উদ্দিন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাত পাখা প্রতীকের প্রার্থী মো. নুর উদ্দিন , জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডি মনোনীত তারা প্রতীকের প্রার্থী মো. সিরাজ মিয়া, খেলাফত মজলিসের মনোনীত দেওয়াল ঘড়ি প্রতীকের প্রার্থী মোরশেদ আলম, মোরগ প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. রাজিব উদ দৌলা চৌধুরী ও ফুটবল প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফ আহমেদ। নোয়াখালী-৪ (সদর-সুবর্ণচর) আসনে ১০ হাজার ৩৬০ জন ভোটার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে নিবন্ধন করেছেন।তারমধ্যে পুরুষ ভোটার ৯ হাজার ৩৪১ জন এবং মহিলা ভোটার১ হাজার ১৯ জন।নোয়াখালী-৪ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৭ লাখ ৩৩৮ জন। নোয়াখালী-৪ (সদর-সুবর্ণচর) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৭ জন প্রার্থী। তারা হলেন, বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মো. শাহজাহান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মো. ইসহাক খন্দকার, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাত পাখা প্রতীকের প্রার্থী মো. ফিরোজ আলম মাসুদ , গণঅধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী আবদুজ জাহের, জাতীয় পার্টি মনোনীত লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী মো. শরীফুল ইসলাম, ইনসানিয়াত বাংলাদেশ মনোনীত আপেল প্রতীকের প্রার্থী মো. ইউনুস নবী ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) মনোনীত কাঁচি প্রতীকের প্রার্থী বিটুল চন্দ্র মজুমদার। নোয়াখালী-৫ (কবিরহাট-কোম্পানীগঞ্জ ও সদরের আংশিক) আসনে ১১ হাজার ৭০৩ জন ভোটার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে নিবন্ধন করেছেন।তারমধ্যে পুরুষ ভোটার ১০ হাজার ৭৬৮ জন এবং মহিলা ভোটার ৯৩৫ জন। নোয়াখালী-৫ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৩ হাজার ৮৫২ জন।এবারের নির্বাচনে নোয়াখালী-৫ আসনে মোট ১২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে প্রধান আলোচনায় রয়েছেন- বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন। এছাড়া নির্বাচনে রয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় পার্টি, জেএসডি, ইনসানিয়াত বাংলাদেশ, সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী), ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি, জনতার দল এবং দুইজন স্বতন্ত্র প্রার্থী। নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে ৩ হাজার ৪৩৫ জন ভোটার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে নিবন্ধন করেছেন।তারমধ্যে পুরুষ ভোটার ২ হাজার ৮২৩ জন এবং মহিলা ভোটার ৬১২ জন।নোয়াখালী-৬ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৩৯ হাজার ১৮৬ জন। জানা গেছে, নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে এবারের নির্বাচনে মোট ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন—বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মাহবুবের রহমান শামীম, ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী জাতীয় নাগরিক পার্টির শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থী আবদুল হান্নান মাসউদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাত পাখা প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম শরীফ, জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী এটিএম নবী উল্যাহ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) মনোনীত তারা প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল মোতালেব, গণঅধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ আজহার উদ্দিন, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির একতারা প্রতীকের প্রার্থী আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আব্দুল মালেক, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির ছাতা প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ আবুল হোসেন, ফুটবল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী তানবীর উদ্দিন রাজীব এবং হরিণ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ ফজলুল আজিম। জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাদেকুল ইসলাম বলেন, নিবন্ধিত ভোটাররা ব্যালট পেপার পাওয়ার পর নিজ নিজ পছন্দমতো ভোট দিয়ে নিকটস্থ ডাক বিভাগের মাধ্যমে তা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে ফেরত পাঠাবেন। এখানে ব্যালট বক্স সিলগালা করে রাখা হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রশাসন স্কুলে এই ছোট আসনে ভোট গ্রহণ শেষে ভোট গননা করা হবে। সেখানে প্রতিদলের এজেন্ট থাকবেন। রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে নোয়াখালী জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ২৮ লাখ ৬৭ হাজার ৬৪১ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১৩ লাখ ৭০ হাজার ৯৭৯ জন এবং পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ১৪ লাখ ৯৬ হাজার ৬৪৮ জন। হিজড়া ভোটার রয়েছে ১৪ জন। জেলায় মোট ৮৭৫ টি কেন্দ্রে ৫ হাজার ৬০৯ টি বুথে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

নোয়াখালী সদরে বিএনপি, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল থেকে আসা ৩৬ জন নেতাকর্মীকে সংবর্ধনা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে আন্ডারচর ইউনিয়নে এই সংবর্ধনা সভার আয়োজন করা হয়। এসময় সবাইকে ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। সংবর্ধনার আয়োজকদের দাবি, যোগদানকারীরা স্থানীয় পর্যায়ের ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিএনপি নেতাকর্মী। এর মধ্যে, আন্ডারচর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য আরিফ খান ছোটন, ১ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি মো. রাসেল, ছাত্রদল কর্মী রেজাউন, বাবুল, সোহেল অন্যতম। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, জামায়াতে ইসলামীর নোয়াখালী জেলা আমির ও নোয়াখালী-৪ আসনে দলের সংসদ সদস্য প্রার্থী ইসহাক খন্দকার। তিনি নবাগতদের গলায় মালা পরিয়ে বুকে জড়িয়ে নেন। ইসহাক খন্দকার বলেন, দেশের ক্রান্তিলগ্নে দেশপ্রেমিক জনতা ইনসাফ কায়েমের লক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামীর দিকে ধাবিত হচ্ছে। আন্ডারচর ইউনিয়নের আজকের এ গণ-যোগদান প্রমাণ করে সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন দলের কর্মীরা জামায়াতের আদর্শ ও শৃঙ্খলার প্রতি আস্থা রাখছেন। তিনি আরও বলেন, আমরা সবাইকে নিয়ে ইনসাফভিত্তিক সমাজ গড়তে চাই। যেখানে সব মানুষের অধিকার নিশ্চিত হবে। নতুন যারা আমাদের সঙ্গে যুক্ত হলেন, তাদের নিয়ে আমরা আন্ডারচর তথা নোয়াখালী-৪ আসনের মানুষের সেবায় কাজ করে যাবো। সভায় আন্ডারচর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির ডা. মো. হানিফের সভাপতিত্বে স্থানীয় জামায়াত-শিবিরসহ ১০ দলীয় জোটের নেতারা বক্তব্য রাখেন। তবে এ বিষয়ে নোয়াখালী জেলা বিএনপির দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য অ্যাডভোকেট রবিউল হাসান পলাশ বলেন, যোগদানকারীরা বিএনপি বা আমাদের দলের কোনো পর্যায়ের নেতাকর্মী নয়। বিএনপির নাম বিক্রি করে কোথায় কে যোগ দিলো তা আমাদের জানা নাই।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ (শনিবার)। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছোট ভাই ক্রীড়া সংগঠক কোকোর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে দলীয় ও পারিবারিকভাবে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। আজ সকাল ১১টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানিয়েছেন, আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আজ বিকেল ৪টায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়েছে। এতে তারেক রহমান উপস্থিত থাকবেন। সকাল সাড়ে ৯টায় বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভীর নেতৃত্বে দলের নেতাকর্মীরা বনানী কবরস্থানে কোকোর কবর জিয়ারত করবেন। পরে নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয়ে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে বিএনপির কেন্দ্রীয়, মহানগর এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া দুপুর ২টায় বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক আব্দুস সালাম কবর জিয়ারত করবেন। প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি আরাফাত রহমান কোকো মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেন। তার জন্ম ১৯৬৯ সালের ১২ আগস্ট। তিনি ২০০৩ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ছিলেন। এছাড়া ওল্ড ডিওএইচএস ক্লাবের চেয়ারম্যান ছিলেন। ২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় এলে ওই বছরের ৩ সেপ্টেম্বর ভোরে সেনানিবাসের বাড়ি থেকে মা খালেদা জিয়ার সঙ্গে গ্রেপ্তার হন কোকো। ২০০৮ সালের ১৮ জুলাই চিকিৎসার জন্য সপরিবারে ব্যাংকক যান তিনি। এরপর চিকিৎসা শেষে মালয়েশিয়া চলে যান। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সেখানেই সপরিবারে বাস করছিলেন। তিনি স্ত্রী শর্মিলা রহমান, দুই কন্যা জাফিয়া রহমান ও জাহিয়া রহমানকে রেখে গেছেন।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনি প্রচারণার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান আগামী ৩০ জানুয়ারি (শুক্রবার) নোয়াখালী যাচ্ছেন। সফরকালে তিনি নোয়াখালী জিলা স্কুল মাঠে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন। নির্বাচন ঘিরে জামায়াত আমিরের এই সফরকে কেন্দ্র করে নোয়াখালী জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন ইউনিটে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে এ সফর নিয়ে দেখা দিয়েছে উৎসাহ ও উদ্দীপনা। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জুলাই আন্দোলনের পর ডা. শফিকুর রহমান নোয়াখালী সফর করলেও এটি তার নির্বাচনি কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রথম বড় জনসভা। এ জনসভায় তিনি দলের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা, নির্বাচনকেন্দ্রিক কৌশল এবং সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিতে পারেন। পাশাপাশি নির্বাচনে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা, রাজনৈতিক সমঝোতা এবং বৃহত্তর ইসলামি রাজনীতির কৌশলগত অবস্থান নিয়েও দিকনির্দেশনা দেওয়ার কথা রয়েছে। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন নোয়াখালী-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ও নোয়াখালী জেলা আমির ইসহাক খন্দকার। তিনি বলেন, আমিরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমানের আগমন উপলক্ষে আগামী ৩০ জানুয়ারি সকালে নোয়াখালী জিলা স্কুল মাঠে একটি নির্বাচনি জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন।

চালের বাজার স্থিতিশীল রাখতে বেসরকারিভাবে ২ লাখ টন সিদ্ধ চাল আমদানির জন্য ২৩২টি প্রতিষ্ঠানকে অনুমতি দিচ্ছে সরকার। এ প্রতিষ্ঠানগুলোকে বরাদ্দ দেওয়ার পর তাদের অনুকূলে আমদানির অনুমতি দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। রোববার (১৮ জানুয়ারি) খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে এ চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়, খাদ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী সরু চালের বাজার দর বৃদ্ধির প্রবণতা সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মাঝারি ও মোটা চালের বাজার দর আপাতত স্থিতিশীল থাকলেও সরু চালের মূল্য বৃদ্ধির প্রবণতার ন্যায় মাঝারি ও মোটা চালের বাজার দরও বৃদ্ধি পেতে পারে। এ ক্ষেত্রে বাজার অস্থিতিশীল হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। চাল আমদানি শর্তে বলা হয়েছে, বরাদ্দ প্রাপ্ত আমদানিকারকদের আগামী ১০ মার্চের মধ্যে পুরো চাল বাংলাদেশে বাজারজাত করতে হবে। আমদানি করা চালের পরিমাণ, গুদামজাত ও বাজারজাতকরণের তথ্য সংশ্লিষ্ট জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে অবহিত করতে হবে। বরাদ্দের অতিরিক্ত আইপি (ইমপোর্ট পারমিট) ইস্যু/জারি করা যাবে না। আমদানি করা চাল অন্য কোন প্রতিষ্ঠানের নামে পুনঃপ্যাকেটজাত করা যাবে না। এবং আমদানিকিরা বস্তায় চাল বিক্রি করতে হবে বলেও শর্তে জানিয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। চালে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ ভাঙা দানা থাকতে পারবে বলেও এতে জানানো হয়েছে।

কমিউনিটি গাইডলাইন লঙ্ঘনের কারণে ২০২৫ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে বাংলাদেশ থেকে তৈরি দুই কোটির বেশি ভিডিও ডিলিট করেছে টিকটক। অধিকাংশ কনটেন্ট আগেই শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে এবং সেগুলোর বড় অংশ ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অপসারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্মটি। টিকটক সম্প্রতি ২০২৫ সালের তৃতীয় প্রান্তিকের কমিউনিটি গাইডলাইনস এনফোর্সমেন্ট রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর—এই তিন মাসের তথ্য নিয়ে তৈরি প্রতিবেদনে প্ল্যাটফর্মটির কনটেন্ট নজরদারি, অপসারণ প্রক্রিয়া এবং ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেওয়া পদক্ষেপগুলোর বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। টিকটকের ভাষ্য অনুযায়ী, নিরাপদ ও বিশ্বাসযোগ্য ডিজিটাল পরিবেশ তৈরিতে তারা স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি এবং মানব যাচাই— দুই ধরনের ব্যবস্থাই একসঙ্গে ব্যবহার করছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে ২০২৫ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে মোট ২ কোটি ৭ লাখ ৯৩ হাজার ৫৫১টি ভিডিও কমিউনিটি গাইডলাইন ভাঙার কারণে সরানো হয়েছে। এর মধ্যে ৯৯ দশমিক ৮ শতাংশ কনটেন্ট আপলোডের আগেই বা খুব দ্রুত শনাক্ত করা হয়। শনাক্ত হওয়া ভিডিওগুলোর ৯৭ দশমিক ৩ শতাংশ ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই প্ল্যাটফর্ম থেকে অপসারণ করা হয়েছে। টিকটক বলছে, দ্রুত শনাক্তকরণ ও অপসারণের ফলে ক্ষতিকর বা বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমে। বিশ্বব্যাপী একই সময়ে টিকটক থেকে মোট ২০ কোটি ৪৫ লাখ ৩৪ হাজার ৯৩২টি ভিডিও সরানো হয়েছে। এই সংখ্যা ওই প্রান্তিকে প্ল্যাটফর্মে আপলোড হওয়া মোট কনটেন্টের প্রায় শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ। সরিয়ে ফেলা ভিডিওগুলোর বড় অংশ, প্রায় ১৮ কোটি ৬৬ লাখ ৮ হাজারের বেশি, স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়। তবে সব ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি। যাচাই শেষে ৮৯ লাখ ৫০ হাজার ৭৩৫টি ভিডিও আবার টিকটকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। যা ভুলভাবে শনাক্ত হওয়ার উদাহরণ হিসেবেই দেখছে প্রতিষ্ঠানটি। বৈশ্বিকভাবে সরানো কনটেন্টের ৯৯ দশমিক ৩ শতাংশ আগেই শনাক্ত করা হয়েছিল এবং এর ৯৪ দশমিক ৮ শতাংশ ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অপসারণ করা হয়। কনটেন্টের পাশাপাশি অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার তথ্য রয়েছে প্রতিবেদনে। প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে এই প্রান্তিকে ১১ কোটি ৮৬ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৯টি ভুয়া অ্যাকাউন্ট সরানো হয়েছে। এছাড়া টিকটকের নীতিমালা অনুযায়ী ১৩ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারী হিসেবে শনাক্ত করে আরও ২ কোটি ২২ লাখ ২৬ হাজার ৫৪২টি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়েছে। টিকটক বলছে, কম বয়সী ব্যবহারকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য। প্রতিবেদনে সরানো কনটেন্টের ধরনও বিশ্লেষণ করা হয়েছে। মোট অপসারিত ভিডিওর প্রায় ৩০ শতাংশ ছিল সংবেদনশীল বিষয়বস্তু। যা প্ল্যাটফর্মের নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। নিরাপত্তা নীতিমালা ভাঙার কারণে ১৫ দশমিক ৭ শতাংশ এবং গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নির্দেশনা লঙ্ঘনের কারণে ২ দশমিক ৭ শতাংশ ভিডিও সরানো হয়েছে। এ ছাড়া ভুল তথ্যের কারণে ৩২ দশমিক ৯ শতাংশ ভিডিও অপসারণ করা হয়। অন্যদিকে, ৩৪ দশমিক ৪ শতাংশ ভিডিও এডিট করা বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি কনটেন্ট হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় সরানো হয়েছে। টিকটকের ভাষায়, এসব ভিডিও দর্শকদের বিভ্রান্ত করতে পারে বা বাস্তব তথ্য আড়াল করতে পারে। টিকটক জানিয়েছে, কমিউনিটি গাইডলাইনস এনফোর্সমেন্ট রিপোর্টের বিস্তারিত তথ্য তাদের ট্রান্সপারেন্সি সেন্টারে প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে ২০২৫ সালের তৃতীয় প্রান্তিকের এই রিপোর্টের পাশাপাশি কনটেন্ট নীতিমালা, নিরাপত্তা টুল ও নীতিগত ব্যাখ্যা পাওয়া যাবে। তথ্যগুলো বাংলা ও ইংরেজি— দুই ভাষাতেই উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

চব্বিশের জুলাই-আগস্ট আন্দোলন চলাকালীন নারায়ণগঞ্জে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক এমপি শামীম ওসমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আমলে নিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ১৯ ও ২১ জুলাই এবং ৫ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা-সাইনবোর্ড এলাকায় ১০ জনকে হত্যা করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে মানবতাবিরোধী অপরাধের তিনটি অভিযোগ আনা হয়। এসব অভিযোগ ট্রাইব্যুনালের সামনে উপস্থাপন করেন তিনি। একইসঙ্গে অভিযোগ আমলে নেওয়ার আবেদন করা হয়। পরে অভিযোগ আমলে নেওয়ার পাশাপাশি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে ১২ আসামিকে গ্রেপ্তার আগামী ২৬ জানুয়ারি হাজিরের নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রসিকিউশন জানায়, নারায়ণগঞ্জে জুলাই-আগস্টে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের অন্যতম আসামি শামীম ওসমান ও তার ছেলে অয়ন ওসমান। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আসামিরা সবাই অস্ত্রধারী ছিলেন। এদিন সকালে ১২ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইবুনালে শুনানি করে প্রসিকিউশন।

অভিনয় দিয়ে দর্শকের মন জয় করেছেন তাসনিয়া ফারিণ অনেক আগেই। এরপর গান গেয়েও চলে আসেন আলোচনায়। নিজের একটি সংগীতের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানও রয়েছে তার। কাজ নিয়ে অনেক সময় ব্যস্ত থাকলেও সামাজিক মাধ্যমেও সরব হতে দেখা যায় অভিনেত্রীকে। এরই মধ্যে সামাজিক মাধ্যমে ফারিণের একটি পোস্ট নিয়ে আলোচনা! অভিনেত্রী পোস্টটি মজা ছলে দিয়েছেন কি না, তা বোঝা না গেলেও ভক্তরা মজা করেই তার উত্তর দেন। মূলত সেই পোস্টে ভক্তদের কাছে তাদের জেলার নাম জানতে চেয়ে কৌতূহল তৈরি করেন এই অভিনেত্রী। সম্প্রতি ফারিণ ফেসবুকে ভক্ত-অনুরাগীদের উদ্দেশে একটি প্রশ্ন ছুড়ে দেন। তিনি লেখেন, ‘একটা জিনিস হঠাৎ জানতে ইচ্ছা করল। এখানে কেউ কি আছেন, যারা জীবনেও ঢাকা আসেননি? আর না এলে আপনি কোন জেলায় বাস করেন?’ অভিনেত্রীর সেই পোস্টে মুহূর্তেই মন্তব্যের ঝড় ওঠে। হাজার হাজার অনুসারী নিজ নিজ জেলার নাম জানিয়ে উত্তর দিচ্ছেন। তবে, কেন হঠাৎ ফারিণ এই তথ্য জানতে চাইলেন, তা নিয়ে চলছে নেটিজেনদের মাঝে বিশ্লেষণ। তবে কেউ কেউ ধারণা করছেন, কোনো নতুন কাজের প্রচারণার অংশ হতে পারে এই প্রশ্ন। তবে বিষয়টি নিয়ে কিছুই খোলাসা করেননি অভিনেত্রী। এদিকে বড় পর্দায় নতুন ধামাকা নিয়ে আসছেন ফারিণ। আগামী ঈদুল ফিতরে মুক্তির অপেক্ষায় থাকা ‘প্রিন্স: ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন ঢাকা’ সিনেমায় প্রথমবারের মতো শাকিব খানের বিপরীতে দেখা যাবে তাকে। সিনেমাটি নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত অভিনেত্রী। শুরু হয়েছে শুটিং, শিগগিরই তার শ্রীলঙ্কায় যাওয়ার কথা শোনা যাচ্ছে। উল্লেখ্য, তাসনিয়া ফারিণ সর্বশেষ আলোচনায় ছিলেন শরিফুল রাজের বিপরীতে ‘ইনসাফ’ সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে। অভিনয় জীবনের এক দশকে ছোট পর্দা, ওটিটি এবং বড় পর্দায় সমানতালে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন তিনি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাকে তলব করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে জনসভা করা এবং কর্তব্যরত নির্বাহী হাকিমকে (ম্যাজিস্ট্রেট) হুমকি ও ‘বৃদ্ধাঙ্গুলি’ দেখানোর অভিযোগে তাকে এই তলব করা হয়। আগামী ২২ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) বেলা ১১টার মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তরে সশরীরে উপস্থিত হয়ে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। রোববার (১৮ জানুয়ারি) জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা শারমিন আক্তার জাহান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই নির্দেশ দেওয়া হয়। রিটার্নিং কর্মকর্তার পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, গত জানুয়ারি মাসের একটি নির্বাচনী সভায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের ইসলামপুরে প্রায় ৪০০-৫০০ লোকের উপস্থিতিতে একটি বৃহৎ স্টেজ নির্মাণ করে মাইক দিয়ে বক্তব্য দিচ্ছিলেন রুমিন ফারহানা। এটি রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০২৫-এর সরাসরি লঙ্ঘন। চিঠিতে আরও বলা হয়, ওই সময় মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাৎক্ষণিকভাবে সমাবেশ বন্ধের নির্দেশ দিলে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা তার সঙ্গে অত্যন্ত ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। এক পর্যায়ে তিনি ম্যাজিস্ট্রেটকে হুমকি দিয়ে বলেন, ‘আমি যদি না বলি এখান থেকে বাইরে যেতে পারবেন না, মাথায় রাইখেন। আজকে আমি আঙ্গুল তুলে বলে গেলাম, ভবিষ্যতে শুনব না।’ রিটার্নিং কর্মকর্তা চিঠিতে উল্লেখ করেন, রুমিন ফারহানা জনসমক্ষে ম্যাজিস্ট্রেটকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করেছেন এবং তার কর্মী-সমর্থকরাও মারমুখী আচরণ করেছেন। এভাবে ‘মব’ বা গণজমায়েত সৃষ্টি করে বিচারিক কাজে বাধা প্রদান এবং সরকারি কর্মকর্তাকে হুমকি দেওয়া নির্বাচনী আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এই ঘটনার ভিডিও ও খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। চিঠিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালনার স্বার্থে আগামী ২২ জানুয়ারি বেলা ১১টায় বা তার আগে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে তাকে কারণ দর্শাতে হবে। অন্যথায় তার অনুপস্থিতিতেই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উল্লেখ্য, বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়ছেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

সাংবাদিক ফরিদুর রহমান ও সাংবাদিক মাহমুদুর রহমান মনজুর পিতার ইন্তেকাল বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল জিটিভির সিনিয়র নিউজরুম এডিটর ফরিদুর রহমান ও দৈনিক সংবাদ সারাবেলার লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি মাহমুদুর রহমান মনজুর পিতা মাওলানা এ. এস. এম রুহুল আমিন (৯১) ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাহি রাজেউন)। ১০ জানুয়ারি ২০২৬ রোজ শনিবার সকাল ৭ টায় তিনি ইন্তেকাল করেন। পরে ওই দিন বাদ মাগরিব জানাজা শেষে তাঁকে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ৫নং পার্বতীনগর ইউনিয়নের সোনাপুর কাচারি বাড়ির নিজ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। তিনি বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক) -এর অবসরপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি ২০০০ সালে অবসর গ্রহণ করার পর পবিত্র হজ পালন শেষে তাঁর মরহুম পিতা মৌলভী আব্দুল গোফরানের নামে 'সোনাপুর গোফরানিয়া নূরানী মাদ্রাসা' প্রতিষ্ঠা করেন। এর আগে তিনি দীর্ঘদিন সোনাপুর মুন্সি বাড়ি জামে মসজিদের সভাপতির দায়িত্ব পালনসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি দুই পূত্র, চার মেয়ে নাতি নাতনীসহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন।

নোয়াখালী টিভি সাংবাদিক ফোরামের নতুন কমিটি ঘোষণা। নোয়াখালী জেলার টেলিভিশিন সাংবাদিকদের সংগঠন ‘টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামে’র বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় পুরোনো কমিটি বিলুপ্তি করে একাত্তর টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার মিজানুর রহমানকে সভাপতি ও চ্যানেল টুয়েন্টিফোরের স্টাফ রিপোর্টার সুমন ভৌমিককে সাধারণ সম্পাদক করে ১৫ সদস্য বিশিষ্ট নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। শনিবার রাতে জেলা শহর মাইজদীর দারুচিনি রেস্টুরেন্টে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি তাজুল ইসলাম মানিকের সভাপতিত্বে সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে সভাপতি সাবেক কমিটি বিলুপ্তি ঘোষণা করেন। পরে সকলের সম্মতিতে বাংলা ভিশনের জেলা প্রতিনিধি সিনিয়র সাংবাদিক নুরুল আমিনের সভাপতিত্বে দ্বিতীয় অধিবেশনে সকলের সম্মতিতে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। নবাগত কমিটির অন্যরা হচ্ছেন, সহ-সভাপতি মোহতাসিম বিল্লাহ সবুজ, ফয়জুল ইসলাম জাহান, সহ-সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব নবী ইমন, কোষাধ্যক্ষ আলা উদ্দিন শিবলু, সাংগঠনিক সম্পাদক খায়রুল আনাম রিফাত,প্রচার- প্রকাশনা ও সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক শাকিল আহমদ, দপ্তর ও অফিস সম্পাদক মিজানুর রহমান রিয়াদ, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক আল-শাহরিয়ার শিপন, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক নাজিম উদ্দিন মিলন, তথ্য-সম্প্রচার ও যোগাযোগ সম্পাদক মো. নূর করিম। নির্বাহী সদস্য হচ্ছেন বিদায়ী ও প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি তাজুল ইসলাম মানিক ভূঞা, মনির হোসেন বাবু ও আবুল হাসনাত বাবুল। কমিটি ঘোষণার পরে উপস্থিত সকলে নবাগত কমিটির সদস্যদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। এ সময় কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বলেন, এ সংগঠনের বয়স ১০ বছরের বেশি হলেও নানা কারণে সংগঠনটি পিছিয়ে ছিল। নব নির্বাচিত কমিটি সকল সদস্যদের সাথে নিয়ে আগামী দিনে টেলিভিশন সাংবাদিকদের মান উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি ও সাংগঠনিক ভিত মজবুত করতে কাজ করার অঙ্গিকার করেন। একই সঙ্গে জেলার সাধারণ মানুষের জীবন-মান উন্নয়নসহ অনিয়ম, দুর্নীতি, রাজনৈতিক নেতা ও সরকারি বিভিন্ন দপ্তর কর্তৃপক্ষকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার পাশাপাশি সাংবাদিকতার পাশাপাশি সামাজিক নানা কার্যক্রম পরিচালনা করারও অঙ্গিকার করেন তারা।

বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) নির্বাচনি পর্যবেক্ষণ মিশন দেশের ৬৪ জেলায় ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক মোতায়েন করেছে। আজ শনিবার সকালে রাজধানী ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় রওনা দেওয়ার মাধ্যমে নির্বাচনি পর্যবেক্ষণ মিশনের কাজ শুরু হয়। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মিশনের উপ-প্রধান পর্যবেক্ষক ইন্তা লাসে এ তথ্য তুলে ধরেন। বিজ্ঞাপন তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষকরা আমাদের মিশনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাদের পর্যবেক্ষণ এবং অন্তর্দৃষ্টি নির্বাচনি প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক মূল্যায়নে মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। ইন্তা লাসে বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্বাচনি পর্যবেক্ষণ মিশন দীর্ঘমেয়াদি ও দেশব্যাপী পর্যবেক্ষণের জন্য সুসংহত ও সুপ্রতিষ্ঠিত পদ্ধতি প্রয়োগ করে থাকে, যা নির্বাচনি প্রক্রিয়ার একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ প্রদান করে। দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষকরা আঞ্চলিক পর্যায়ে নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন এবং ঢাকাভিত্তিক মূল দলের বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ কার্যক্রমে সহায়তা করবেন। বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন তিনি আরও বলেন, আমাদের পর্যবেক্ষকরা দুজনের এক-একটি দল হয়ে কাজ করবেন। তারা তাদের পর্যবেক্ষণ এলাকায় ভোটার, নির্বাচন কর্মকর্তা, প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি নাগরিক পর্যবেক্ষক ও তরুণ কর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। তারা শুধু শহরেই নয়, ছোট শহর ও গ্রামাঞ্চলেও এসব কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, পর্যবেক্ষকরা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্রসমূহ, কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ড থেকে আগত। তাদের মাঠ পর্যায়ে মোতায়েনের আগে বাংলাদেশের নির্বাচনি প্রক্রিয়া, রাজনৈতিক পরিবেশ, আইনি কাঠামো এবং গণমাধ্যম ও সামাজিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে সম্যক ধারণা এবং বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আরও পড়ুন ৩৪ বছর পর গণভোট, চলছে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারণা সাড়ে ১৫ বছর আ’লীগের লোকজনও ভোট দিতে পারেনি: প্রেস সচিব বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন মিশনের উপ-প্রধান ইন্তা লাসে আরও বলেন, বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের আমন্ত্রণে এ মিশনটি নিয়োজিত করা হয়েছে। মিশনের নেতৃত্বে রয়েছেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ও প্রধান পর্যবেক্ষক ইভার্স ইজাবস, যিনি গত ১১ জানুয়ারি ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এ মিশনের কার্যক্রম শুরু করেন। নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে মিশনটিকে আরও জোরদার করতে যুক্ত হবেন ৯০ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্রসহ কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের কূটনৈতিক মিশনের পর্যবেক্ষকরা। তারা নির্বাচনের দিনের কার্যক্রম; যেমন- ভোটগ্রহণ, ভোট গণনা এবং ফলাফল তালিকাভুক্ত করার প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবেন। এছাড়া ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যদের একটি প্রতিনিধিদল যুক্ত হয়ে এ মিশনের কার্যক্ষমতা আরও বাড়াবে। পূর্ণাঙ্গ অবস্থায় ইইউ সদস্য রাষ্ট্রগুলো এবং কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ড মিলিয়ে এই মিশনে মোট ২০০ জন পর্যবেক্ষক নিয়োজিত থাকবেন। বিজ্ঞাপন ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্বাচনি পর্যবেক্ষণ মিশন আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নির্বাচনের প্রাথমিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করবে। পরবর্তী সময়ে সম্পূর্ণ নির্বাচনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর প্রয়োজনীয় সুপারিশমালাসহ একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন কর্তৃপক্ষের নিকট পেশ করা হবে। উভয় নথিই সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে এবং মিশনের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্বাচনি পর্যবেক্ষণ মিশন একটি আচরণবিধির অধীনে পরিচালিত হয়, যা কঠোর নিরপেক্ষতা ও কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ থেকে বিরত থাকার বাধ্যবাধকতা আরোপ করে। মিশনটি ২০০৫ সালে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে অনুমোদিত আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণের নীতিমালা অনুযায়ী এর কার্যক্রম পরিচালনা করে।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাজনৈতিক সফরের অংশ হিসেবে আগামী ২৫ জানুয়ারি নোয়াখালীতে যাচ্ছেন। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে নোয়াখালীর নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানা যায়। এ বিষয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মো. শাহজাহান ঢাকা পোস্টকে বলেন, আগামী ২৪ ও ২৫ জানুয়ারি আমাদের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের চট্টগ্রাম বিভাগ সফরের কর্মসূচি রয়েছে। ওই সফরের অংশ হিসেবে এক দিন তিনি নোয়াখালীতে আসবেন। প্রাথমিকভাবে ২৫ জানুয়ারি তার সফরের সম্ভাবনা বেশি। তিনি জানান, এ উপলক্ষে নোয়াখালী ভুলু স্টেডিয়ামকে সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বিএনপির চেয়ারম্যানের নিরাপত্তা বাহিনী সিএসএফ মাঠ পরিদর্শন করেছে। এ সময় জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। মো. শাহজাহান আরও বলেন, তারেক রহমানের আগমনকে ঘিরে নোয়াখালীতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সার্বিক আয়োজন এগিয়ে চলছে। নেতার বক্তব্য শোনার জন্য নোয়াখালীবাসী অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির বলেন, আগামী ২২ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হবে। এর আগের রাতে তারেক রহমান সিলেটে পৌঁছাবেন। পরদিন হজরত শাহজালাল (রহ.) ও শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে প্রচার শুরু করে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠের জনসভায় বক্তব্য দেবেন। তিনি আরও বলেন, দেশে ফেরার পর এটি হবে ঢাকার বাইরে তারেক রহমানের প্রথম সফর। সিলেট থেকে তিনি কুমিল্লা, ফেনী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও চাঁদপুর হয়ে ঢাকায় ফিরবেন। যেহেতু নোয়াখালী বিএনপির ঘাটি তাই লাখো মানুষ তার বক্তব্য শোনার জন্য সমবেত হবে বলে আমরা আশাবাদী। নোয়াখালী জেলা বিএনপির সদস্য ওমর ফারুক টফি বলেন, তারেক রহমানের নোয়াখালী আগমন নেতাকর্মীদের জন্য একটি ঐতিহাসিক ও অনুপ্রেরণামূলক ঘটনা। দীর্ঘদিন পর দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সরাসরি উপস্থিতি তৃণমূল পর্যায়ে নতুন গতি ও আত্মবিশ্বাস সৃষ্টি করবে। জেলা বিএনপির সদস্য সচিব হারুন অর রশিদ বলেন, চেয়ারম্যানের আগমনকে কেন্দ্র করে মাঠপর্যায়ে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। নেতাকর্মীরা ইতোমধ্যে স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রস্তুতিতে নেমে পড়েছেন। এই মহাসমাবেশ নোয়াখালীর রাজনীতিতে নতুন অধ্যায় সূচনা করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। জনসভায় সর্বোচ্চ লোকসমাগম নিশ্চিত করার পাশাপাশি আয়োজন সফল করতে দলের সব পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ, শৃঙ্খলাপূর্ণ ও দায়িত্বশীল থাকার নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, তারেক রহমানের আগমনকে ঘিরে নেতা-কর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। ২০০৩ সালের পর এই প্রথম নোয়াখালীতে এত বড় মহাসমাবেশে তিনি বক্তব্য দেবেন। তিনি আরও বলেন, এই সফর নোয়াখালীর ছয়টি সংসদীয় আসনে ধানের শীষের প্রার্থীদের বিজয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমরা আশাবাদী। নেতার আগমন ঘিরে মাঠপর্যায়ে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হবে।

ভারতের জনপ্রিয় গায়ক জুবিন গার্গের অকাল প্রয়াণের চার মাস পেরিয়ে গেলেও কাটেনি শোকের রেশ। তবে তার রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে নানা গুঞ্জন ও ষড়যন্ত্রের তত্ত্বের মাঝে এবার বিস্ফোরক তথ্য সামনে আনল সিঙ্গাপুর পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, স্কুবা ডাইভিংয়ের সময় জুবিন গর্গ মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন এবং নিরাপত্তা বিধির চরম লঙ্ঘনই তার মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি সিঙ্গাপুরের একটি আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন পেশ করে পুলিশ জানায়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর স্কুবা ডাইভিংয়ে নামার সময় জুবিন গর্গ মদ্যপ ছিলেন। প্রাথমিক অবস্থায় তিনি লাইফ জ্যাকেট পরলেও কিছুক্ষণ পরই তা খুলে ফেলেন। পরবর্তী সময়ে ফের জলে নামার আগে প্রশিক্ষকরা তাকে লাইফ জ্যাকেট পরার অনুরোধ জানালেও তিনি তা কানে তোলেননি। পুলিশের মতে, এই অসাবধানতাই অকাল মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে তাকে। তদন্ত প্রতিবেদনে জুবিনের শারীরিক পরীক্ষার চাঞ্চল্যকর তথ্যও তুলে ধরা হয়েছে। সিঙ্গাপুরের আইন অনুযায়ী, ১০০ মিলিলিটার রক্তে ৮০ মিলিগ্রাম অ্যালকোহল পাওয়া স্বাভাবিক ধরা হলেও জুবিনের শরীরে এর পরিমাণ ছিল ৩৩০ মিলিগ্রাম। স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে প্রায় চার গুণ বেশি মদ্যপান করেছিলেন তিনি। এছাড়া তার হোটেল কক্ষ থেকেও ৭৫০ মিলিলিটারের মদের বোতল উদ্ধার করেছে পুলিশ। উল্লেখ্য, গত সেপ্টেম্বরে সিঙ্গাপুরে 'নর্থ-ইস্ট ফেস্টিভ্যালে' যোগ দিতে গিয়ে স্কুবা ডাইভিং করার সময় নিখোঁজ হন এবং পরে তার মৃত্যু সংবাদ নিশ্চিত করা হয়। আসামের এই ‘ভূমিপুত্রে’র এমন আকস্মিক প্রয়াণকে অনেকেই স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নিতে পারেননি; উঠেছিল ষড়যন্ত্রের অভিযোগও। তবে সিঙ্গাপুর পুলিশের এই নতুন দাবি সেই সব বিতর্ককে ভিন্ন দিকে মোড় নিল।

নোয়াখালীর সদরে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হতে লোকজন নিয়ে বিদ্যালয় ঘেরাও করার অভিযোগ উঠেছে মো. আবদুস সোবহান পারভেজ নামে স্থানীয় এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুরে বিনোদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এসময় বিদ্যালয়সহ আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অভিযুক্ত আবদুস সোবহান পারভেজ বিনোদপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি স্থানীয় ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব এবং জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। এদিকে বিদ্যালয় ঘেরাও কর্মসূচীর এক মিনিট ২১ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এতে সঙ্গে থাকা লোকজনের উদ্দেশ্যে ওই নেতাকে বলতে শোনা যায়, ‘গত ১৭ বছরে বিনোদপুরের সামাজিক কাজ, বিদ্যালয়ের উন্নয়ন কিংবা গরিব-মেহনতি মানুষের পাশে কোনো অরাজনৈতিক ব্যক্তি ছিল না। মানুষের সুখে-দুঃখে আমরাই ছিলাম। এখন আমাকে যদি সভাপতি হিসেবে আপনারা যোগ্য মনে করেন তাহলে সবাই এ পদে আমার নাম এক নম্বরে দিতে অনুরোধ করেন।’ এ সময় উপস্থিত সবাই ‘যোগ্য’ ‘যোগ্য’ বলে আওয়াজ তোলেন। ভিডিওর শেষে বিদ্যালয়ের একটি কক্ষের দরজার সামনে লোকজনকে জড়ো হয়ে উচ্চস্বরে চিৎকার করতে দেখা যায়। যুবদল নেতা আবদুস সোবহান পারভেজ জাগো নিউজকে বলেন, আমি দীর্ঘদিন এলাকার মানুষের সুখে-দুঃখে জড়িত আছি। সভাপতি পদে বিদ্যালয় থেকে তিন জনের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। এরমধ্যে প্রথমে জনের সনদ ভুয়া। পরে এক রাজনৈতিক নেতার অনুরোধে দ্বিতীয় জনকে সভাপতি মনোনীত করা হচ্ছে। এলাকার মানুষ তা মানে না। তাই আজ আমিসহ অভিভাবকরা ওই তালিকা পরিবর্তন করে আমার নাম যুক্ত করতে বিদ্যালয়ে গেছে। এখানে ঘোরাও করার মতো কিছু হয়নি। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. কামাল উদ্দিনকে বার বার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক জানান, সভাপতি মনোনয়ন নিয়ে বিভিন্ন হুমকি-ধমকিতে নিরাপত্তাহীনতার কারণে প্রধান শিক্ষক গত ৫দিন বিদ্যালয়ে আসেন না। কারো ফোনও ধরছেন না। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হোমায়রা ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমাকে কেউ জানায়নি। খোঁজ নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

লাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম যোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার পরিকল্পনাকারীরা তার জানাজা নামাজের সামনের কাতারেই ছিল বলে মন্তব্য করেছেন সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার মুখপাত্র ফাতিমা তাসনিম জুমা। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টার দিকে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন। পোস্টে ফাতিমা তাসনিম জুমা লিখেছেন, ‘হুটহাট মাথায় এসে হিট করে, ভাইরে (হাদি) হত্যার পরিকল্পনাকারীদের কেউ কেউ হয়তো ভাইয়ের জানাজার সামনের দুই তিন কাতারেই ছিল। আমরা হয়তো বুঝি নাই, চিনি নাই, কিচ্ছু করতে পারি নাই। সকল ষড়যন্ত্র উন্মোচিত করে দাও খোদা। আমরা তোমার সাহায্য ছাড়া নিরুপায়।’ ওই পোস্টের এক কমেন্টে জুমা বলেন, ‘আগামীকাল কোর্টে শুনানি। চার্জশিট যা দিয়েছে শুধু মাসুদ আর বাপ্পি আছে হত্যার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। ঘটনা ঘটার পরের সব আছে। আগের কিছুই নাই। মাস্টারমাইন্ডদের বের করা কি পসিবল না, নাকি ইচ্ছে করেই করতে দেয় না জানি না।’ তিনি আরও বলেন, ‘এরা কারা, কী এমন শক্তি তাদের যে তাদের কখনো সামনে আনা পসিবল (অসম্ভব) না, শুনে আমাদের মেনে নিতে বলা হয়? এরা কি হাসিনার চাইতেও শক্তিশালী?’ উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার পরদিন ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা দুই সন্ত্রাসীর গুলিতে মারাত্মক আহত হন ওসমান হাদি। রিকশায় থাকা অবস্থায় তার মাথায় গুলি লাগে। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, পরে অবস্থার অবনতি হলে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠানো হলে সেখানে ১৮ ডিসেম্বর রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে মৃত্যু হয় তার। এ ঘটনায় পল্টন থানায় একটি মামলা হয়। ওই মামলার পর প্রধান আসামি শ্যুটার ফয়সালের বাবা মাকে গ্রেফতার করা হয়। তবে মূল অভিযুক্ত ফয়সালসহ তার সহযোগীকে এখনো ধরতে পারেনি পুলিশ। তারা ভারতে চলে গেছেন ধারণা করা হচ্ছিল। অবশেষে আজ পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি স্বীকার করা হয়।

নোয়াখালী জেলা কারাগারে বর্তমানে ৯৪১ জন বন্দি থাকলেও আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য আবেদন করেছেন মাত্র ৪৪ জন বন্দি। যা মোট বন্দির মাত্র ৪ দশমিক ৭ শতাংশ। জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নোয়াখালী জেলায় সরকারি চাকরিজীবীসহ মোট ১৩ হাজার ৮৫১ জন পোস্টাল ব্যালটের জন্য আবেদন করেছেন। এর মধ্যে পুরুষ ১০ হাজার ২৪৬ জন এবং নারী ৩ হাজার ৬০৫ জন। আবেদনকারীদের মধ্যে সরকারি চাকরিজীবী ৯ হাজার ৯৪৪ জন, নির্বাচনি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী ৩ হাজার ৭০৪ জন, আনসার ও ভিডিপি সদস্য ১৩১ জন এবং কারাবন্দি ৭২ জন রয়েছেন। এদিকে সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে নোয়াখালীর ছয়টি সংসদীয় আসনের জন্য মোট ৬১ হাজার ২৫১ জন প্রবাসী ভোটার পোস্টাল ব্যালটের আবেদন করেছেন। এর মধ্যে নোয়াখালী-১ আসনে ১৩ হাজার ৬৬৭ জন, নোয়াখালী-২ আসনে ৯ হাজার ২২৭ জন, নোয়াখালী-৩ আসনে ১২ হাজার ৮৫৯ জন, নোয়াখালী-৪ আসনে ১০ হাজার ৩৬০ জন, নোয়াখালী-৫ আসনে ১১ হাজার ৭০৩ জন ও নোয়াখালী-৬ আসনে ৩ হাজার ৪৩৫ জন আবেদন করেছেন। নোয়াখালী জেলা কারাগারের জেল সুপার আবদুল বারেকবলেন, ভোটের আগে অনেক বন্দিই জামিন পাওয়ার আশায় পোস্টাল ব্যালটে আবেদন করতে আগ্রহ দেখাননি। কারণ পোস্টাল ব্যালটে আবেদন করলে পরবর্তীতে জামিন পেলে আর কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকে না। বিষয়টি বোঝানোর পর ৪৪ জন বন্দিকে আবেদন করতে রাজি করানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, নোয়াখালীর ছয়টি সংসদীয় আসনসহ দেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে মোট ৭২ জন কারাবন্দি পোস্টাল ব্যালটের জন্য আবেদন করেছেন। আসনভিত্তিক আবেদনকারীর সংখ্যা হলো- নোয়াখালী-১ এ ১২ জন, নোয়াখালী-২ এ ৬ জন, নোয়াখালী-৩ এ ৭ জন, নোয়াখালী-৪ এ ৩১ জন, নোয়াখালী-৫ এ ১২ জন এবং নোয়াখালী-৬ এ ৪ জন। নোয়াখালী জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাদেকুল ইসলাম বলেন, ভোটারদের কাছে সরবরাহ করা খামের মাধ্যমে পোস্টাল ব্যালট ডাকযোগে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে পৌঁছাবে। পরে সেগুলো সংশ্লিষ্ট ছয়টি সংসদীয় আসনের আলাদা ব্যালট বাক্সে সংরক্ষণ করা হবে। ভোটের দিন ১২ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৪টার পর প্রার্থীদের মনোনীত এজেন্টদের উপস্থিতিতে ব্যালটগুলো খোলা হবে। তিনি আরও বলেন, কর্মস্থলে, বিদেশে বা কারাবন্দি থাকার কারণে যারা এতদিন সরাসরি ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারতেন না, পোস্টাল ব্যালট পদ্ধতির মাধ্যমে তাদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে। এটি নির্বাচন ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, পোস্টাল ব্যালট ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নিরাপদ করতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের অনিয়ম যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। পোস্টাল ব্যালট পদ্ধতি চালুর ফলে নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি বাড়বে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী হবে।

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত স্মারক আসল ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি আজ বাংলাদেশে এসেছে। ‘ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ ট্রফি ট্যুর’-এর অংশ হিসেবে এই আয়োজন ফুটবল ভক্তদের ট্রফিটি কাছ থেকে দেখার সুযোগ করে দিচ্ছে। এর আগে ২০০২, ২০১৩ এবং ২০২২ সালে ট্রফিটি বাংলাদেশে এসেছিল। চলতি সফরটি ৩ জানুয়ারি সৌদি আরব থেকে শুরু হয়েছে এবং ভারত হয়ে বাংলাদেশে পৌঁছাল। ১৫০ দিনের এই যাত্রা শেষ হবে মেক্সিকোতে, যেখানে ১২ জুন বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। ৩০টি দেশের ৭৫টি ভেন্যুতে এই ট্রফি প্রদর্শন করা হবে। বাংলাদেশ ছেড়ে পরবর্তী সফরে ট্রফি যাবে দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, কাজাখস্তান এবং উজবেকিস্তানে। তারপর আফ্রিকার দক্ষিণ আফ্রিকা, আইভরি কোস্ট, মরক্কো এবং আলজেরিয়ায় সফর করবে। এরপর ইউরোপের পর্তুগাল, স্পেন ও ফ্রান্স হয়ে চূড়ান্ত গন্তব্য উত্তর আমেরিকায়। সবশেষে ট্রফিটি বিশ্বকাপের তিন আয়োজক দেশ মেক্সিকো, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডায় পৌঁছানোর মাধ্যমে তার যাত্রা শেষ করবে। মাঝেমধ্যে প্রশ্ন ওঠে, ট্যুরে কি আসল ট্রফি থাকে? ফিফা নিশ্চিত করেছে যে প্রদর্শিত ট্রফিটি আসল এবং এটি নিখাদ সোনা দিয়ে তৈরি, যার ওজন ৬.১৭৫ কেজি। আর বিজয়ী দল উদযাপনের সময় আসল ট্রফি নিয়ে উদযাপন করলেও তাদেরকে স্থায়ীভাবে দেওয়া হয় সোনার প্রলেপ দেওয়া রেপ্লিকা ট্রফি। এবারের সফরে ট্রফির সঙ্গে আছেন ব্রাজিলের ২০০২ বিশ্বকাপজয়ী মিডফিল্ডার গিলবার্টো সিলভা। ২০২২ সালের ট্রফি ট্যুরে ফ্রান্সের বিশ্বকাপ জয়ী ক্রিস্টিয়ান কারেম্বেউ ছিলেন বাংলাদেশে। প্রদর্শনী ও দেখার নিয়মাবলী বাংলাদেশে ট্রফিটি শুধুমাত্র ঢাকার রেডিসন ব্লু হোটেলে প্রদর্শন করা হবে। তবে সবাই এটি দেখার সুযোগ পাবেন না। কোকা-কোলার ‘আন্ডার দ্য ক্যাপ’ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে নির্বাচিত বিজয়ীরাই কেবল এটি দেখার এবং ছবি তোলার সুযোগ পাবেন। ট্রফি দেখার যত নিয়ম অবশ্যই টিকিটের একটি বৈধ কপি সাথে রাখতে হবে। ট্রফি স্পর্শ করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। অনুমোদিত আকারের চেয়ে বড় ব্যাকপ্যাক বহন করা, ধূমপান করা এবং টিকিট অন্য কারো কাছে হস্তান্তর করা যাবে না। ধারালো বা অন্য কোনো নিষিদ্ধ বস্তু বহন করা সম্পূর্ণ নিষেধ। এছাড়া, প্রদর্শনী এলাকার ভেতরে কোনো দেশ বা ফুটবল দলের পতাকা নিয়ে প্রবেশের অনুমতি নেই। আজ সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ট্রফিটিকে স্বাগত জানানো হয় এবং দুপুর ১টার পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এটি রেডিসন ব্লু হোটেলে প্রদর্শিত হবে।

মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ অভিযান চালিয়ে বাংলাদেশিসহ ১৫০ জন বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে। অভিযানের সময় গ্রেপ্তার এড়াতে প্রবাসীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও মরিয়া ভাব লক্ষ্য করা গেছে। ‘অপারেশন কুটিপ’ নামে এই অভিযান চলাকালে গ্রেপ্তার এড়াতে কেউ কেউ ওপর তলা থেকে দা ছুড়ে মারেন, কেউ ছাদের ওপর উঠে পড়েন, আবার কাউকে পানির ট্যাঙ্কের ভেতর লুকিয়ে থাকতে দেখা যায়। কর্তৃপক্ষ জানায়, সেলায়াং এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্ট ব্লক এবং জালান ক্লাং লামার একটি অবৈধ বসতিতে এই অভিযান চালানো হয়। মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের উপ-মহাপরিচালক (অপারেশন) লোকমান এফেন্দি রামলি জানান, দুই সপ্তাহের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সেলায়াং এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “অভিযানে মোট ৩২৬ জনের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। এর মধ্যে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ৭৯ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে।” সেলায়াং থেকে আটক হওয়া এই ৭৯ জনের মধ্যে বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, নেপাল, ভারত, পাকিস্তান ও মিয়ানমারের নাগরিক রয়েছেন। তাদের বয়স ১৭ থেকে ৫৫ বছরের মধ্যে। যাদের আটক করা হয়েছে তারা মূলত সিকিউরিটি গার্ড, ফুড স্টল সহকারী, লন্ড্রি কর্মী, কনভিনিয়েন্স স্টোর বা মুদি দোকানের কর্মচারী এবং নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। লোকমান এফেন্দি জানান, পরিদর্শনে দেখা গেছে প্রবাসীরা অত্যন্ত ঘিঞ্জি পরিবেশে বসবাস করছেন। সাধারণত তিন কক্ষের একটি ফ্ল্যাট প্রায় ৬০০ রিঙ্গিতে ভাড়া নিয়ে সেখানে পাঁচ থেকে ছয়জন গাদাগাদি করে থাকছিলেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এমন অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার ফলে দুর্গন্ধ ও পরিবেশ দূষণসহ নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং সামাজিক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। এক সপ্তাহের গোয়েন্দা নজরদারির পর জালান ক্লাং লামার একটি অবৈধ বসতিতে দ্বিতীয় অভিযানটি চালানো হয়। সেখান থেকে মোট ৭১ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে। আটককৃতদের মধ্যে ৬৬ জন ইন্দোনেশিয়ান, ৩ জন মিয়ানমারের নাগরিক এবং ভারত ও পাকিস্তানের একজন করে নাগরিক রয়েছেন। বার্নামার এক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ওই বসতিতে মৌলিক সুযোগ-সুবিধা থাকলেও বাসিন্দারা অনানুষ্ঠানিকভাবে জায়গা ভাড়া নিয়ে বসবাস করছিলেন। এমনকি তারা প্রকৃত বাড়ির মালিক কে, সে সম্পর্কেও কিছুই জানতেন না। ওই এলাকায় কোনো বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ছিল না। মূলত আশপাশের বিভিন্ন উৎস থেকে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে বসতিটি গড়ে তোলা হয়েছিল। লোকমান এফেন্দি জোর দিয়ে বলেন, অভিবাসন কর্তৃপক্ষের এই অভিযান হবে ব্যাপক এবং এ বিষয়ে কোনো আপস করা হবে না। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, “শুধু অবৈধ অভিবাসীই নয়, যারা তাদের নিয়োগ দিয়েছেন সেই নিয়োগকর্তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” আটককৃত সবার বিরুদ্ধে ১৯৫৯/৬৩ সালের অভিবাসন আইনের আওতায় অভিযোগ আনা হয়েছে। তাদের কাছে বৈধ কোনো পাস বা পারমিট ছিল না এবং অনেকের ভিসার মেয়াদও শেষ হয়ে গিয়েছিল। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে প্যারিসে শোক বই উন্মুক্ত অভিযানকালে কুয়ালালামপুর ফেডারেল টেরিটরি অভিবাসন বিভাগের পরিচালক ওয়ান মোহাম্মদ সাউপি ওয়ান ইউসুফ উপস্থিত ছিলেন। সূত্র : দ্য সান মালয়েশিয়া।

দেশে মোবাইল ফোন আমদানিতে ৬০ শতাংশ শুল্ক কমিয়েছে সরকার। সরকারের এ সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন দেশের মোবাইল ফোন উৎপাদক ও আমদানিকারকরা। এরই মধ্যে মোবাইল ফোনের দাম কমানোরও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আগামী মাসখানেকের মধ্যেই সব ধরনের মোবাইল ফোনের দাম কম-বেশি কমতে পারে। বাজারে এখন যেসব মোবাইল ফোনের দাম ৩০ হাজার টাকার বেশি সেগুলোতে সাড়ে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কমার আভাস রয়েছে। তবে এরচেয়ে কম দামের মোবাইল ফোনের দাম কমতে পারে মাত্র ১ শতাংশ! মোবাইল উৎপাদক ও আমদানিকারকদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্যই পাওয়া গেছে। ব্যবসায়ীদের প্রতিশ্রুতি পূরণে মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) মোবাইল ফোন আমদানিতে ৬০ শতাংশ শুল্ক কমিয়েছে সরকার। এতে আমদানি করা ৩০ হাজার টাকার বেশি দামের স্মার্টফোনের দাম সাড়ে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কমবে বলে প্রত্যাশা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। একই সঙ্গে দেশে সংযোজিত ৩০ হাজার টাকার বেশি দামের মোবাইল ফোনের দাম আনুমানিক দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত কমবে বলে প্রত্যাশা রাজস্ব আহরণকারী এ প্রতিষ্ঠানটির। গ্রাহক পর্যায়ে মোবাইল ফোনের দাম কমাতেই সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি মেনে মোবাইলের উৎপাদন ও আমদানি পর্যায়ে শুল্ক কমিয়ে মঙ্গলবার দুটি পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে এনবিআর। এতে মোবাইল আমদানিতে ৬০ শতাংশ শুল্ক কমেছে। দেশে অবৈধপথে আসা মোবাইল ফোনের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে সরকার সম্প্রতি ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। এতে মোবাইল দোকানি ও ব্যবসায়ীরা চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এ নিয়ে টেলিযোগাযোগ খাতের নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনে (বিটিআরসি) ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। হয় প্রতিবাদ-বিক্ষোভ। বিক্ষোভকারীদের দমাতে মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীদের গ্রেফতারও করে সরকার। মোবাইল ফোন আমদানিতে শুল্ক কমানোর দাবি ছিল বেশ কিছুদিন ধরেই। সরকারের পক্ষ থেকেও শুল্ক কমানোর আশ্বাস দেওয়া হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে পণ্যটির আমদানি শুল্ক কমিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। জানতে চাইলে মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এমআইওবি) সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সাইফুদ্দীন টিপু জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা আশা করি সামনে মোবাইল ফোনের দাম কিছুটা সহনীয় পর্যায়ে চলে আসবে। এখন পর্যন্ত যেসব মোবাইল বিক্রি করছি সেগুলো আগের শুল্ক বা ট্যাক্স দিয়ে আনা। নতুন করে যখন স্পেয়ার পার্টস আমদানি করবো অথবা এখন যেসব মোবাইল ফোন বৈধভাবে আমদানি করা হবে বাজারে গ্রাহক পর্যায়ে সেগুলোর দামে শুল্ক কমানোর প্রভাব পড়বে।’ কবে নাগাদ দাম কমবে—এমন প্রশ্নে এমআইওবির সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘দাম ঠিক কবে নাগাদ কমবে সেটি নির্দিষ্ট করে এখনই বলা যাবে না। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে আমরা দাম কমিয়ে আনার চেষ্টা করবো। সর্বোচ্চ এক মাসের মধ্যে দাম কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে।’ বাংলাদেশে অফিসিয়াল মোবাইল ফোন বিক্রি হয় ১ কোটির মতো। আনঅফিসিয়াল ২০ লাখের মতো। এরমধ্যে আমরা দেশে যে ১ কোটি মোবাইল উৎপাদন করি, সেখাকার ৯০ শতাংশেরই দাম ৩০ হাজারের কম—জিয়াউদ্দিন চৌধুরী স্যামসাং মোবাইল উৎপাদক ও দেশব্যাপী পরিবেশক এক্সেল টেলিকম প্রাইভেট লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ সাইফুদ্দীন টিপু বলেন, ‘সরকার ৬০ শতাংশ শুল্ক কমিয়েছে, আমরা যারা এখানে উৎপাদন ও সংযোজন করি এবং বৈধপথে আমদানি করি, আরও যৌক্তিক পর্যায়ে শুল্ক কমিয়ে আনার দাবি করেছিলাম। এনবিআর বলেছে, আগামী বাজেটে আরও শুল্ক কমানো হবে। আপাতত যেটুকু কমেছে এতে ভোক্তারা উপকৃত হবেন। তবে আরও কমানো হলে ভোক্তাদের জন্য আরও ভালো হতো।’ তিনি বলেন, ‘এনবিআর জানিয়েছে শুল্ক কমায় একটি মোবাইলের দাম যদি ৩০ হাজার টাকা হয়, তাহলে সেটার দাম ৫ হাজার টাকার মতো কমবে। আমরা মনে করছি, দাম এমনই কমবে। এনবিআরের এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই।’ ‘বিশ্বে মোমরি চিপ সংকটের কারণে মোবাইল ফোনের দাম বেড়েছে। ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও নেপালে দাম বেড়েছে। বাংলাদেশেও সে প্রভাব পড়েছে। আমরা এরই মধ্যে দাম এডজাস্ট করেছি, এখনো দাম পুনর্মূল্যায়ন করা হবে’—যোগ করেন সাইফুদ্দীন টিপু। জানতে চাইলে এমআইওবির কার্যকারী সদস্য ও শাওমি বাংলাদেশ-এর কান্ট্রি ম্যানেজার জিয়াউদ্দিন চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, ‘সরকার যেহেতু আমদানি শুল্ক কমিয়েছে, আমরা এখন দাম পুনর্নির্ধারণ করবো। এ প্রক্রিয়া শেষ হলে বলা যাবে দাম কতটুকু কমছে।’ তিনি বলেন, আমরা এরই মধ্যে প্রাইস স্ট্রাকচার করা শুরু করে দিয়েছি। তবে আমরা যেসব মোবাইল ফোন দেশে উৎপাদন করি, সেগুলোর দাম খুব বেশি কমবে না। আমদানি করা ফোন অর্থাৎ ৩০ হাজার টাকার ফোনে ৫ থেকে সাড়ে ৫ হাজার টাকার বেশি কমবে, এনবিআর এমনটিই জানিয়েছে। আমরা এখন সেখানেই থাকতে চাই।’ ‘আমরা যারা স্থানীয়ভাবে মোবাইল ফোন উৎপাদন করি, সেখানে এর প্রভাব খুব কম পড়বে। এখানে প্রভাব হবে ইনসিগনিফিকেন্ট। মানে দেশে উৎপাদিত ফোনের দাম ১ শতাংশেরও কম কমবে।’ অন্য এক প্রশ্নে জিয়াউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘গত নভেম্বর-ডিসেম্বর থেকেই বিশ্বে মোবাইল ফোনের দাম বেড়েছে। এটি হয়েছে এআই মেমোরি সংকটের কারণে। সে কারণে দেশে ফোনের দাম এডজাস্টমেন্ট করেছি। এখন যে ঘোষণা এসেছে সেখানে আমরা মূল্য পুনর্নির্ধারণ করবো।’ ‘বাংলাদেশে অফিসিয়াল মোবাইল ফোন বিক্রি হয় ১ কোটির মতো। আনঅফিসিয়াল ২০ লাখের মতো। এরমধ্যে আমরা দেশে যে ১ কোটি মোবাইল উৎপাদন করি, সেখাকার ৯০ শতাংশেরই দাম ৩০ হাজারের কম। এই সেগমেন্টে দাম কমার সম্ভাবনা খুবই কম। আমরা আগে সরাসরি মোবাইল আমদানি করিনি। যেহেতু শুল্ক কমেছে, এখন আমরাও দামি ফোনগুলো বিদেশ থেকে আমদানির চেষ্টা করবো’—বলেন শাওমি বাংলাদেশের এ কান্ট্রি ম্যানেজার। এ বিষয়ে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘সরকারের শুল্ক কমানোর এ উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী। এটি খুবই ভালো সিদ্ধান্ত। এর প্রভাবে মোবাইল ফোন গ্রাহকরা উপকৃত হবেন। তবে সরকার শুল্ক কমালেও ব্যবসায়ীরা অনেক সময় পণ্যের দাম দ্রুত কমায় না। কিন্তু ১ টাকা ট্যাক্স বাড়লে বাজারে ঠিকই তাৎক্ষণিক তার প্রভাব পড়ে।’ অনিবন্ধিত মোবাইল ফোন নিবন্ধনের সময় বাড়লো তিনি বলেন, ‘সরকার যেহেতু মোবাইল ফোন আমদানিতে শুল্ক কমিয়েছে, আমদানিকারক ও উৎপাদকদের উচিত হবে দ্রুত সময়ের মধ্যে ফোনের দাম কমানো। এটি যত দ্রুত করা যাবে গ্রাহকরা তত উপকৃত হবেন।’ শুল্ক কমানোর ফলে ৩০ হাজার টাকার বেশি মূল্যের প্রতিটি আমদানি করা মোবাইল ফোনের দাম আনুমানিক ৫ হাজার ৫০০ টাকা কমবে। আর ৩০ হাজার টাকার বেশি মূল্যের দেশে সংযোজিত প্রতিটি মোবাইল ফোনের দাম আনুমানিক দেড় হাজার টাকা কমবে—এনবিআর এদিকে, মোবাইল ফোনের দাম সাধারণ ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে আমদানিতে কাস্টমস ডিউটি ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে এনবিআর। এতে মোবাইল ফোন আমদানিতে প্রযোজ্য বিদ্যমান আমদানি শুল্ক ৬০ শতাংশ কমেছে। এনবিআর জানিয়েছে, কাস্টমস ডিউটি কমানোর কারণে মোবাইল ফোন সংযোজনকারী দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো যেন বিরূপ প্রতিযোগিতার মুখে না পড়ে, সে লক্ষ্যে মোবাইল ফোন সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক উপকরণ আমদানিতে কাস্টমস ডিউটি ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ ধার্য করা হয়েছে। এতে এ উপকরণ আমদানি শুল্ক ৫০ শতাংশ কমেছে। সংস্থাটি আরও জানায়, শুল্ক কমানোর ফলে ৩০ হাজার টাকার বেশি মূল্যের প্রতিটি আমদানি করা মোবাইল ফোনের দাম আনুমানিক ৫ হাজার ৫০০ টাকা কমবে। আর ৩০ হাজার টাকার বেশি মূল্যের দেশে সংযোজিত প্রতিটি মোবাইল ফোনের দাম আনুমানিক দেড় হাজার টাকা কমবে। মোবাইল ফোন আমদানি ও সংযোজন শিল্পের উপকরণ আমদানিতে সরকার উল্লেখযোগ্য হারে শুল্ক কমানোয় সব ধরনের মোবাইল ফোনের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকবে। এতে নাগরিকরা ডিজিটাল সেবাগ্রহণে সুবিধা পাবেন। সরকারের এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে—বলছে এনবিআর। দাম কমাতে দেশে উৎপাদিত ফোনের যন্ত্রাংশ ও আমদানি করা মোবাইল ফোনে গত ১ জানুয়ারি শুল্ক ছাড়ের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। ‘ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিফিকেশন রেজিস্টার’ বা এনইআইআর চালুর উদ্যোগ ঘিরে ব্যবসায়ীদের আন্দোলন ও দাবির মধ্যে ওইদিন উপদেষ্টা পরিষদের সভায় শুল্ক ছাড়ের এ সিদ্ধান্ত হয়। দেশে মোবাইল উৎপাদন, ম্যানুফেকচারিং ও আমদানির সঙ্গে জড়িত একটি গোষ্ঠীকে সুযোগ দিতেই সরকার এনইআইআর বাস্তবায়ন করছে। মূলত, একটি গোষ্ঠীকে সুযোগ দিতে কোম্পানিগুলোর অর্থায়নেই মোবাইল নিবন্ধনের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে সরকার—দাবি ব্যবসায়ীদের এদিকে, এনইআইআর বাস্তবায়নের ঘোষণায় নতুন বছরের শুরু থেকেই দেশের বাজারে মোবাইল ফোনের দাম বেড়েছে। যদিও মোবাইল কোম্পানিগুলোর দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে মেমোরি চিপ সংকটের কারণে বিশ্ববাজারেই ফোনের দাম বেড়েছে। যার প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারেও। এর সাথে এনইআইআর বাস্তবায়নের সম্পর্ক নেই। তবে আন্দোলনে থাকা মোবাইল ব্যবসায়ীদের দাবি, দেশে মোবাইল উৎপাদন, ম্যানুফেকচারিং ও আমদানির সঙ্গে জড়িত একটি গোষ্ঠীকে সুযোগ দিতেই সরকার এনইআইআর বাস্তবায়ন করছে। মূলত, একটি গোষ্ঠীকে সুযোগ দিতে কোম্পানিগুলোর অর্থায়নেই মোবাইল নিবন্ধনের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে সরকার। তবে বাংলাদেশ মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স এ্যাসোসিয়েশন (এমআইওবি) ও বিটিআরসি তথা সরকার এসব অভিযোগ নাকচ করে আসছে। এর মধ্যেই সরকার শুল্ক কমানোর যে ঘোষণা দিয়েছিল প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন করেছে এনবিআর। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন বছরের শুরুতে দাম না বাড়লে শুল্ক কমানোর প্রভাব গ্রাহক পর্যায়ে অনেক বেশি পড়ার সম্ভাবনা ছিল। তবে এখন দাম কমলেও ডিসেম্বরের তুলনায় বাজারে দাম খুব বেশি কমবে না।

নারী ফুটবল লিগে ঋতুপর্ণার রাজশাহী স্টারের জয় অব্যাহত রয়েছে। প্রথম দুই ম্যাচে তিনি গোল পাননি। তৃতীয় ম্যাচে জোড়া গোল করেছেন। আজ এক গোল করলেও জাতীয় নারী দলের তারকা ফুটবলার ম্যাচ সেরা হয়েছেন। আনসারকে ৮-০ গোলে হারিয়েছে রাজশাহী। রেশমির জোড়া গোলের পাশাপাশি ঋতুপর্ণা চাকমা, আলপি আক্তার, মুনকি আক্তার, শাহেদা আক্তার রিপা, পূজা ও সৌরভী আকন্দ প্রীতি একটি করে গোল করেন। রাজশাহী প্রথমার্ধে ৩-০ গোলে এগিয়ে ছিল। ৬৩ মিনিটে আলপির কাছ থেকে বল পেয়ে বক্সের বাইরে থেকে দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় বাঁ পায়ের শটে গোল করেন ঋতুপর্ণা। এই ম্যাচে রাজশাহীর অধিনায়কও ছিলেন ঋতুপর্ণা। আজ মঙ্গলবারও ছিল পাঁচ ম্যাচ। প্রত্যাশিত জয়ই পেয়েছে আর্মি, রাজশাহী ও ফরাশগঞ্জ। দিনের তৃতীয় ম্যাচে ফরাশগঞ্জ মোকাবিলা করে রংপুরের ক্লাব সদ্যপুস্করিনীকে। এই ম্যাচে শামসুন্নাহারের হ্যাটট্রিকে ৭-০ গোলের জয় পেয়েছে পুরান ঢাকার ক্লাবটি। ম্যাচে ৪ গোল করেন ছোট শামসুন্নাহার। একটি করে গোলের দেখা পান নেপালের পূজা রানা, শামসুন্নাহার সিনিয়র, অনামিকা ত্রিপুরা। এর আগে ঢাকা রেঞ্জার্সকে ৭-০ গোলে হারায় বাংলাদেশ আর্মি। উন্নতি খাতুন করেন ৪ গোল। জোড়া গোল পেয়েছেন জয়নব বিবি রিতা। অন্য গোলটি আসে মোসাম্মৎ সুলতানার পা থেকে। দিনের প্রথম ম্যাচে কাচারিপাড়া একাদশের বিপক্ষে নাসরিনের ৯-১ জেতা ম্যাচে পপি রানী করেন ৫ গোল। হ্যাটট্রিক করেছেন আসমা থাতুন। অন্য গোলটি মোসাম্মৎ সোমা আক্তারের। কাচারিপাড়ার হয়ে এক গোল শোধ দেন সোহেলী শারমিন। দিনের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিকেএসপিকে আইরিন আক্তারের একমাত্র গোলে হারায় বাংলাদেশ পুলিশ ফুটবল ক্লাব।

পাসপোর্টের র্যাংকিং বিশ্বের সপ্তম দুর্বল অবস্থানে বাংলাদেশ। হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্সের ২০২৬ সালের জানুয়ারির হালনাগাদ তথ্যে এমন অবস্থান দেখা গেছে। এ ছাড়াও দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে পঞ্চম দুর্বল হিসেবে স্থান পেয়েছে বাংলাদেশের পাসপোর্ট। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) হেনলি অ্যান্ড পার্টনারস তাদের সর্বশেষ পাসপোর্ট ইনডেক্স প্রকাশ করেছে। পাসপোর্ট ইনডেক্সের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা এখন বিশ্বের ৩৭টি দেশে ভিসা ছাড়া ভ্রমণ করতে পারেন। তালিকায় মোট ১০১টি অবস্থানের মধ্যে বাংলাদেশের পাসপোর্ট ৯৫তম স্থানে রয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের জানুয়ারি সংস্করণে ১০৬টি অবস্থানের মধ্যে বাংলাদেশ ১০০তম স্থানে ছিল। এই ইনডেক্স বৈশ্বিক ভিসামুক্ত ভ্রমণের সুযোগের ভিত্তিতে র্যাংকিং তৈরি করা হয়। পাসপোর্ট র্যাংকিংয়ে এবারও এককভাবে শীর্ষে রয়েছে সিঙ্গাপুর। দেশটির পাসপোর্টধারীরা বিশ্বের ১৯২টি দেশে ভিসা ছাড়া প্রবেশ করতে পারেন। র্যাংকিংয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া। এসব দেশের পাসপোর্টধারীরা বিশ্বের ১৮৮টি দেশে ভিসা ছাড়া প্রবেশ করতে পারেন। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে পাঁচটি দেশ– ডেনমার্ক, লুক্সেমবার্গ, স্পেন, সুইডেন ও সুইজারল্যান্ড। এসব দেশের পাসপোর্টধারীরা বিশ্বের ১৮৬টি দেশে ভিসা ছাড়া প্রবেশ করতে পারেন। চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, গ্রিস, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, নেদারল্যান্ড ও নরওয়ে। এসব দেশের পাসপোর্টধারীরা বিশ্বের ১৮৫টি দেশে ভিসা ছাড়া প্রবেশ করতে পারেন। পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে হাঙ্গেরি, পর্তুগাল, স্লোভাকিয়া, স্লোভেনিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। এসব দেশের পাসপোর্টধারীরা বিশ্বের ১৮৪টি দেশে ভিসা ছাড়া প্রবেশ করতে পারেন। পাসপোর্ট ইনডেক্সের একেবারে তলানিতে রয়েছে পাকিস্তান (৯৮তম), ইয়েমেন (৯৮তম), ইরাক (৯৯তম), সিরিয়া (১০০তম) ও আফগানিস্তান (১০১তম)। এসব দেশের নাগরিকরা যথাক্রমে ৩১, ২৯, ২৬ ও ২৪টি গন্তব্যে ভিসা ছাড়া ভ্রমণ করতে পারেন। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে মালদ্বীপের পাসপোর্ট। দেশটি রয়েছে ৫২তম স্থানে। মালদ্বীপের নাগরিকরা ভিসা ছাড়াই ৯২টি গন্তব্যে ভ্রমণ করতে পারেন। হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্সে ১৯৯টি পাসপোর্ট ও ২২৭টি গন্তব্য বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে

নোয়াখালী সদরে ডাকাতিকালে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় করা মামলার অন্যতম আসামি ইউসুফ ওরফে রুবেলকে (৩৭) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। ঘটনার এক বছর পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেলে নোয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। এর আগে সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাতে তথ্য প্রযুক্তি ও র্যাব-৭ পতেঙ্গার সহযোগিতায় আসামি ইউসুফ ওরফে রুবেলকে সুধারাম থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ইউসুফ প্রকাশ রুবেল লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলার চরগাজী ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের চরলক্ষ্মী গ্রামের আবদুল হালিমের ছেলে। মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১১ জানুয়ারি রাতে নোয়াখালীর সদরের কালাদরাপ ইউনিয়নে ডাকাতিকালে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে রামগতির ইউসুফ প্রকাশ রুবেলকে শনাক্ত করে র্যাব। র্যাব-১১ (সিপিসি-৩) নোয়াখালী কার্যালয়ের কোম্পানি কামান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মুহিত কবীর সেরনিয়াবাত বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আসামি ইউসুফ ওরফে রুবেলকে আদালতে পাঠালে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তারপর তাকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অপরাধ দমনে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে

রোববার (১১ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলার চরমটুয়া ইউনিয়নের খলিশাটোলা এলাকার লোকমানের চা দোকানের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত মো. মুরাদ চরমটুয়া ইউনিয়নের কালা মিয়া সেরাং বাড়ির নুরুল আলম কন্ট্রাক্টরের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চাঁদাবাজি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার বিকেল ৩টা ১০ মিনিটে সুধারাম থানাধীন ১নং চরমটুয়া ইউনিয়নের খলিশাটোলা এলাকার লোকমানের চা দোকানের সামনে থেকে মো. মুরাদকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কোমরের পেছনে প্যান্টের বেল্টে গোঁজানো অবস্থায় একটি বিদেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি ভর্তি একটি ম্যাগজিন উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গ্রেপ্তারকৃত মুরাদ এর আগেও অস্ত্র প্রদর্শন করে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল। তার গ্রেপ্তারে এলাকাবাসী স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, মো. মুরাদের বিরুদ্ধে সুধারাম মডেল থানায় আগেও একাধিক মামলা রয়েছে। সর্বশেষ ঘটনায় এসআই মো. মুক্তার হোসেন ভূঁইয়া বাদী হয়ে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করলে থানায় মামলা নং-১২/২০২৬ রুজু হয়। তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তারের পর আসামিকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি নিজের দোষ স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেন। অপরাধ দমনে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

নোয়াখালী-৪ (সদর-সূবর্ণচর) আসনে বিএনপির প্রার্থী দলের ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহানের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে অ্যাকাউন্ট খুলে টাকা চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (১২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় এ ঘটনায় সুধারাম মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন মোহাম্মদ শাহজাহান। এতে তিনি উল্লেখ করেন, আমার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর হ্যাক করে হোয়াটসঅ্যাপ খুলে বিভিন্ন জনকে মেসেজে টাকা দাবি করা হচ্ছে। প্রতারকরা ভিন্ন একটি বিকাশ নম্বর দিয়ে টাকা পাঠাতে বলছে। এছাড়া একটি অপরিচিত নম্বর থেকে আমাকে মোবাইল বন্ধ রাখতে নির্দেশ দিচ্ছে। অন্যথায় আমার অপূরণীয় ক্ষতি হবে বলা হচ্ছে। মোহাম্মদ শাহজাহানের মিডিয়া সেলের সদস্য জহির মাহবুব বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, প্রতারকচক্র বিএনপি প্রার্থীর নম্বর হুবহু ব্যবহার করে রাজশাহীর বাঘা উপজেলা থেকে টাকা দাবি করছে। এ ব্যাপারে থানায় সাধারণ ডায়েরি করে আইনগত সহায়তা চাওয়া হয়েছে। মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, এ বিষয়ে বিভ্রান্ত না হওয়া অনুরোধ জানাচ্ছি। প্রতারক চক্রের সঙ্গে কেউ যাতে টাকা লেনদেন না করে এজন্য সবাই সতর্ক থাকবেন। পারলে এ ব্যাপারে তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করবেন। সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ শাহজাহানের অভিযোগ পেয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। এ ব্যাপারে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে হঠাৎ করেই সরগরম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। ফেসবুকে ঢুকলেই চোখে পড়ছে দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে নানা পোস্ট ও মন্তব্য। কেউ প্রশ্ন তুলছেন, প্রথম স্ত্রী থাকতে দ্বিতীয় বিয়ে কেন, কেউ জানতে চাইছেন আর্থিক সক্ষমতার বিষয়টি, আবার কেউ বলছেন, প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া কীভাবে দ্বিতীয় বিয়ে সম্ভব? আইন কী বলে, হাইকোর্টের রায়ে কী বলা হয়েছে, এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন নেটিজেনরা। এই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর বহুবিবাহ সংক্রান্ত ধারা এবং এ বিষয়ে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়। রিট করেছিলেন আইনজীবী ইশরাত জাহান মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ৬ ধারা (বহুবিবাহ) চ্যালেঞ্জ করে ২০২১ সালের ১৩ ডিসেম্বর হাইকোর্টে রিট করেন আইনজীবী ইশরাত জাহান। রিটে তার যুক্তি ছিল, এই ধারার মাধ্যমে নারীর সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তিনি বলেন, ইসলামে একাধিক বিয়ের অনুমতি থাকলেও শর্ত হিসেবে সব স্ত্রীর প্রতি সমান সুবিচারের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু আইনে সেই শর্ত বাস্তবায়নের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেই। শুধু ‘বিয়ে করার অনুমতি’ অংশটি নেওয়া হচ্ছে, কিন্তু সুবিচার, ভরণপোষণ কিংবা আর্থিক সক্ষমতা যাচাইয়ের সুযোগ সালিসি কাউন্সিলের নেই। এতে নারীরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। হাইকোর্টের রুল ও চূড়ান্ত রায় রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০২২ সালের ৫ জানুয়ারি বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের বেঞ্চ একটি রুল জারি করেন। রুলে বহুবিবাহ সংক্রান্ত আইনের বিষয়ে নীতিমালা প্রণয়ন এবং স্ত্রীদের সম-অধিকার নিশ্চিত না করে বহুবিবাহের অনুমতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। রুলের শুনানি শেষে গত বছরের ২০ আগস্ট হাইকোর্ট রুল খারিজ করেন। ফলে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর বহুবিবাহ সংক্রান্ত ধারা বহাল থাকে। এই রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি প্রকাশ পাওয়ার পর নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। হাইকোর্ট কী বলেছেন পূর্ণাঙ্গ রায় হাতে পাওয়ার পর আইনজীবী ইশরাত জাহান জানান, হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়েছে, মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের ৬ ধারা কোনোভাবেই বৈষম্যমূলক বা স্বেচ্ছাচারী নয়। এই আইন নারী ও পুরুষ, কোনো পক্ষেরই মৌলিক অধিকার খর্ব করে না। রায়ে আরও বলা হয়, সালিসি কাউন্সিল একতরফাভাবে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে পারে না এবং বহুবিবাহের অনুমতি দেওয়ার বা না দেওয়ার ক্ষেত্রে আইনি কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই। এই ধারা দেশের নারীদের কোনো মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করে না বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়। ফলে রুল সমর্থনে উত্থাপিত যুক্তির সারবত্তা নেই বলে রুল ডিসচার্জ করা হয়েছে। দ্বিতীয় বিয়েতে তবে কার অনুমতি লাগবে? মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ৬ (১) ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির বিয়ে বহাল থাকা অবস্থায় তিনি সালিসি কাউন্সিলের লিখিত অনুমতি ছাড়া আরেকটি বিয়ে করতে পারবেন না। অনুমতি ছাড়া করা বিয়ে নিবন্ধনযোগ্যও নয়। আইনে বলা হয়েছে, আবেদনকারীকে নির্ধারিত ফি দিয়ে চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করতে হবে। আবেদনে প্রস্তাবিত বিয়ের কারণ ও বর্তমান স্ত্রী বা স্ত্রীদের সম্মতি নেওয়া হয়েছে কি না, তা উল্লেখ করতে হবে। চেয়ারম্যান আবেদনকারী ও বর্তমান স্ত্রী বা স্ত্রীর প্রতিনিধি মনোনয়ন করতে বলবেন। সালিসি কাউন্সিল প্রস্তাবিত বিয়ে প্রয়োজনীয় ও ন্যায়সঙ্গত মনে করলে অনুমতি দিতে পারবেন। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সহকারী জজের কাছে পুনর্বিবেচনারও সুযোগ রয়েছে। অনুমতি ছাড়া বিয়ে করলে শাস্তি ও জরিমানা সালিসি কাউন্সিলের অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করলে বর্তমান স্ত্রী বা স্ত্রীদের দেনমোহরের পুরো টাকা তাৎক্ষণিক পরিশোধ করতে হবে। অর্থ পরিশোধ না করলে তা ভূমি রাজস্বের মতো আদায়যোগ্য হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে এক বছর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে। আইনজীবী ইশরাত জাহান বলেন, বহুদিন ধরেই ভুলভাবে বলা হচ্ছিল যে দ্বিতীয় বিয়ের জন্য প্রথম স্ত্রীর অনুমতি বাধ্যতামূলক। বাস্তবে আইনে কোথাও প্রথম স্ত্রীর অনুমতিকে শর্ত করা হয়নি। বরং শুরু থেকেই সালিসি কাউন্সিলের অনুমতির বিধান ছিল। তিনি বলেন, ‘হাইকোর্ট নতুন করে কিছু বলেননি। আগে যা ছিল, রুল খারিজের মাধ্যমে সেটিই বহাল রাখা হয়েছে। অর্থাৎ সালিসি কাউন্সিলের অনুমতি পেলে দ্বিতীয় বিয়ে করা যাবে, আইনের অবস্থান আগেও এমন ছিল, এখনও তাই আছে।’ রিট করার বিষয়ে ইশরাত জাহান বলেন, বহুবিবাহের বিধান (আইনের ৬ ধারা) চ্যালেঞ্জ করেই রিট আবেদনটি করা হয়। কেননা আরবিট্রেশন কাউন্সিলের কাছে এই ক্ষমতাটা থাকা সমীচীন নয়, চেয়ারম্যান পক্ষপাতদুষ্ট হতে পারেন। তাই আমরা চাচ্ছিলাম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া হবে না, নতুন করে একটি নীতিমালা হোক। শুধু তাই নয়, স্ত্রীদের সম-অধিকার কীভাবে নিশ্চিত হবে, সে বিষয়ে কোনো নীতিমালা নেই। উপরন্তু একজন ব্যক্তি একাধিক বিয়ের জন্য শারীরিক, মানসিক ও অর্থনৈতিকভাবে সক্ষম কি না, তা যাচাইয়ের সক্ষমতা কাউন্সিলের নেই।

২০২৬ বছরটা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর জন্য ভালো কাটছে না মোটেও। সৌদি প্রো লিগে চলতি বছর ম্যাচ খেলে সবকটিতেই হেরেছে দলটা। এবার রোনালদো গোল করেছেন নিজে, তবে এরপরও দল জিততে পারেনি। আল হিলালের কাছে ৩-১ গোলে হেরেছে তার দল আল নাসর। ম্যাচের ৪২ মিনিটে আল নাসরকে এগিয়ে দেন রোনালদো। বাম পাশ থেকে আক্রমণে উঠে আসা কিংসলে কোমান সুযোগ তৈরি করেন। সেই বল থেকেই ভলিতে গোল করেন রোনালদো। তবে বিরতির পর ম্যাচের চিত্র বদলে যায়। আল নাসরের মোহাম্মদ সিমাকান মালকমকে ফাউল করলে পেনাল্টি পায় আল হিলাল। সালেম আল দাওসারি সেই পেনাল্টি থেকে গোল করেন। গোলের পর বল দ্রুত মাঠের মাঝখানে নিতে গিয়ে আল হিলালের রুবেন নেভেসের সঙ্গে আল নাসরের গোলরক্ষক নওয়াফ আল আকিদির ঝামেলা হয়। ভিএআর পর্যালোচনার পর সহিংস আচরণের দায়ে লাল কার্ড দেখেন আল আকিদি। এতে ১০ জনের দলে পরিণত হয় আল নাসর। এরপর ম্যাচ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নেয় আল হিলাল। ৮১ মিনিটে মোহাম্মদ কান্নো গোল করেন। যোগ করা সময়ে দ্বিতীয় পেনাল্টি থেকে গোল করেন রুবেন নেভেস। এই জয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষে থাকা আল হিলাল এখন সাত পয়েন্টে এগিয়ে গেছে। অন্যদিকে আল নাসর টানা চার ম্যাচে জয়ের মুখ দেখল না। এর মধ্যে শেষ তিন ম্যাচেই তারা হেরেছে। ২০২১ সালের পর এটি তাদের সবচেয়ে দীর্ঘ জয়হীন সময়। আল হিলাল টানা ১১টি লিগ ম্যাচ জিতেছে। এর আগে তারা সবচেয়ে বেশি টানা জয় পেয়েছিল ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের মে পর্যন্ত। তখন জয়সংখ্যা ছিল ২৪।

ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে এখন পর্যন্ত এক লাখের বেশি ভিসা বাতিল করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। অভিবাসনবিরোধী কঠোর নীতির অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দপ্তরটি।খবর আল জাজিরার। স্থানীয় সময় সোমবার (১২ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, বাতিল হওয়া ভিসার মধ্যে প্রায় আট হাজার শিক্ষার্থী ও দুই হাজার ৫০০ বিশেষায়িত কর্মী রয়েছেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দাবি, অধিকাংশ ভিসা বাতিল করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ‘অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার’ কারণে। তবে এসব ঘটনায় আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা বা অভিযোগ দায়ের হয়েছে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি। এই বিপুলসংখ্যক ভিসা বাতিল ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসনবিরোধী অভিযানের ব্যাপকতাই তুলে ধরে। গত মাসে ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করে, তাদের সময়ে ২৫ লাখের বেশি স্বেচ্ছা প্রস্থান ও বহিষ্কার সম্পন্ন হয়েছে, যা তারা ‘রেকর্ড সাফল্য’ হিসেবে উল্লেখ করে। তবে এসব বহিষ্কারের মধ্যে বৈধ ভিসাধারীরাও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, যা যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ও মানবাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। একই সঙ্গে ভিসা প্রদানের নীতিও আরও কঠোর করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পর্যবেক্ষণ জোরদার করা হয়েছে এবং আবেদনকারীদের জন্য নিরাপত্তা যাচাইয়ের পরিধি বাড়ানো হয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আমরা আমেরিকাকে নিরাপদ রাখতে এসব অপরাধীকে বহিষ্কার অব্যাহত রাখব।’ পররাষ্ট্র দপ্তরের উপ-মুখপাত্র টমি পিগট জানান, ভিসা বাতিলের চারটি প্রধান কারণ হলো—ভিসার মেয়াদ অতিক্রম, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, হামলা এবং চুরি। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে ভিসা বাতিলের হার ১৫০ শতাংশ বেড়েছে। এ ছাড়া পররাষ্ট্র দপ্তর ‘কন্টিনিউয়াস ভেটিং সেন্টার’ চালু করেছে, যার উদ্দেশ্য হলো—যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত সব বিদেশি নাগরিক যেন আইন মেনে চলে এবং যারা মার্কিন নাগরিকদের জন্য হুমকি, তাদের ভিসা দ্রুত বাতিল করা যায়। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে মার্কিন কূটনীতিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—যেসব ভিসা আবেদনকারীকে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী বা রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় মনে করা হতে পারে, তাদের বিষয়ে বিশেষ সতর্ক থাকতে। গত নভেম্বরেই মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছিল, ট্রাম্পের শপথগ্রহণের পর থেকে প্রায় ৮০ হাজার অ-অভিবাসী ভিসা বাতিল করা হয়েছে। এসব অপরাধের মধ্যে ছিল মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, হামলা ও চুরি। ২০২৪ সালের নির্বাচনি প্রচারে ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তিনি ‘আমেরিকার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অপরাধী বহিষ্কার কর্মসূচি’ পরিচালনা করবেন। তিনি দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি। তবে সমালোচকদের অভিযোগ, ট্রাম্প প্রশাসনের এই কঠোর নীতিতে অপরাধী ও নিরপরাধ—উভয়ই লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছেন। এমনকি ভিন্নমত পোষণকারী ভিসাধারীদেরও টার্গেট করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। চলতি বছরের মার্চে ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ভিসা বাতিলের উদ্যোগ নেয় প্রশাসন। এর মধ্যে টাফটস বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রুমেইসা ওজতুর্ক কেবল ক্যাম্পাস পত্রিকায় একটি সম্পাদকীয় লেখার কারণেই ভিসা বাতিলের মুখে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে। অক্টোবরে আরও ছয়জন বিদেশির ভিসা বাতিল করা হয়, যাদের বিরুদ্ধে অনলাইনে রক্ষণশীল কর্মী চার্লি কার্কের হত্যাকাণ্ডকে ‘উদযাপন’ করার অভিযোগ আনা হয়। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছিল, ‘যারা আমেরিকানদের মৃত্যুকামনা করে, যুক্তরাষ্ট্রের তাদের আশ্রয় দেওয়ার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।’ তবে এসব পদক্ষেপ মতপ্রকাশের স্বাধীনতা—বিশেষ করে প্রথম সংশোধনী লঙ্ঘন করছে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন অভিযান ঘিরে সহিংসতা নিয়েও দেশজুড়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিসে অভিবাসন অভিযানের সময় ৩৭ বছর বয়সী তিন সন্তানের মা রেনে নিকোল গুড নিজের গাড়িতে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। এ ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

বিপিএলের সিলেট পর্ব শেষ হয়েছে গতকাল (সোমবার) রাতেই। ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের জয়ের পরই তিনটি দলের প্লে-অফ নিশ্চিত হয়ে যায়। এবার ঢাকা পর্বে লিগ পর্বের বাকি ম্যাচগুলোতে মূলত লড়াই হবে আর একটি জায়গার জন্য। বিপিএল ঢাকায় পা রাখার আগেই প্লে-অফ নিশ্চিত হয়েছে রাজশাহী, চট্টগ্রাম রয়্যালস ও সিলেট টাইটান্সের। পয়েন্ট টেবিলে এই তিনটি দল রয়েছে শীর্ষ তিনে। এর মধ্যে রাজশাহী ৮ ম্যাচে ৬ জয়ে ১২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে রয়েছে। ৭ ম্যাচে ৫ জয়ে চট্টগ্রামের পয়েন্ট ১০, তারা আছে পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে। আর ৯ ম্যাচে ৫ জয় নিয়ে সিলেট আছে তালিকার তিনে, তাদের পয়েন্টও ১০। পয়েন্ট তালিকার চারে নম্বরে থাকলেও এখনও প্লে-অফ নিশ্চিত হয়নি রংপুর রাইডার্সের। ৮ ম্যাচে ৪ জয় ও ৪ পরাজয় নিয়ে তাদের পয়েন্ট ৮। এছাড়া ঢাকা ও নোয়াখালী এক্সপ্রেস ৮টি করে ম্যাচ খেলে ২টি করে জয় পেয়েছে। যদিও কাগজে-কলমে এখনও দল দুটির প্লে-অফের আশা রয়েছে। দুই দলকেই তাদের শেষ দুটি ম্যাচ জিততেই হবে। ঢাকা ও নোয়াখালী উভয় দলের বিপক্ষে একটি করে ম্যাচ খেলবে রংপুর। যে কোনো একটি জিতলেই নিশ্চিত হবে তাদের প্লে-অফ। নোয়াখালী ও ঢাকার অন্য দুটি ম্যাচই চট্টগ্রামের বিপক্ষে। বিপিএলের লিগ পর্বে আর বেশি ম্যাচ বাকি নেই। ১৫, ১৬ ও ১৭ জানুয়ারি মোট ৬টি ম্যাচ বাকি আছে রাউন্ড রবিন লিগের। ১৯ জানুয়ারি শুরু হবে প্লে-অফ, ফাইনাল হবে ২৩ জানুয়ারি।

মাইজদীতে স্বাস্থ্য সহকারী নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ নোয়াখালী জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের অধীনে অনুষ্ঠিত স্বাস্থ্য সহকারী নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ পওয়া গেছে। এ ঘটনায় লিখিত পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় পরীক্ষা গ্রহণ এবং নোয়াখালী সিভিল সার্জন ডা. মরিয়ম সিমির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থীরা। সোমবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে এ ঘটনায় নোয়াখালী প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে পরীক্ষার্থীরা। পরে তারা পরীক্ষা বাতিল ও নোয়াখালীর সিভিল সার্জন ডা. মরিয়ম সিমির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলামের কাছে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব বরাবর লিখিত স্মারকলিপি প্রদান করেন।স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, গত ১০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে নোয়াখালী সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের অধীনে স্বাস্থ্য সহকারী পদে নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা এমসিকিউ পদ্ধতিতে না হয়ে লিখিত আকারে গ্রহণ করা হয়। পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্রের সঙ্গে উত্তরপত্র সরবরাহ করে লিখিতভাবে উত্তর দিতে বলা হয়। এতে প্রায় ৮ হাজার পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। পরীক্ষা শেষ হওয়ার মাত্র ১১–১২ ঘণ্টার ব্যবধানে একই দিন রাতেই সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ফলাফল প্রকাশ করা হয়। যা একটি লিখিত পরীক্ষার ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক ও প্রশ্নবিদ্ধ। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে জানা যায়, পরীক্ষায় অংশ না নিয়েও কয়েকজনের রোল নম্বর চূড়ান্ত ফলাফলে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।পরীক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, সিভিল সার্জন ডা. মরিয়ম সিমির সঙ্গে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের এক জুনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তার ঘনিষ্ঠতার সুযোগে সুবিধাভোগী প্রার্থী বাছাই করা হয়েছে। এমনকি বিপুল অর্থের বিনিময়ে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দেওয়ার কথাও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়। এমতাবস্থায় পরীক্ষার্থীরা ১০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত লিখিত পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় নিয়মতান্ত্রিক ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় পরীক্ষা গ্রহণ, অভিযুক্ত সিভিল সার্জনকে অন্যত্র বদলি এবং তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে বিকেল সোয়া ৩টার দিকে নোয়াখালী সিভিল সার্জন ডা. মরিয়ম সিমির মুঠোফোনে একাধিক ফোন করা হলে তিনি রিসভি করেনি। অফিসে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।

ভারতেরই নতুন দুটি ভেন্যুতে বাংলাদেশকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলার প্রস্তাব দিতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। এমন খবর ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। ফিকশ্চার অনুযায়ী, কলকাতা আর মুম্বাইয়ে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ম্যাচ হওয়ার কথা থাকলেও আইসিসি চেন্নাই আর থিরুভানান্তপুরামকে বাংলাদেশের ম্যাচের নতুন ভেন্যু হিসেবে প্রস্তাবনা দিতে যাচ্ছে বলে প্রতিবেদনগুলোতে দাবি করা হচ্ছে। তবে ভারতের অন্য ভেন্যুতে খেলার প্রস্তাব দেওয়া হলে বাংলাদেশ খেলতে সম্মতি জানাবে কি না, গত ১০ই জানুয়ারি সিলেটে এক সংবাদ সম্মেলনে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে সেই প্রশ্ন করা হলে জবাবে তিনি বলেছিলেন, 'ভারতের অন্য ভেন্যু তো ভারতেই।' বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ম্যাচ ভারতের পরিবর্তে শ্রীলঙ্কায় আয়োজন করার দাবি জানিয়ে বিসিবি আইসিসিকে যে চিঠি পাঠিয়েছিল, আইসিসির পক্ষ থেকে আজ বা কাল সেটির উত্তর দেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছিলেন বুলবুল। অবশ্য আইসিসি যদি শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশের ম্যাচ আয়োজন করতে অস্বীকৃতি জানায়, সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত কী হবে, সংবাদ সম্মেলনে সেই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেননি বিসিবি সভাপতি। "এই বিষয়ে এই মুহূর্তে কিছু বলতে পারছি না, চিঠিটা (আইসিসি'র) না আসা পর্যন্ত"-জানিয়েছিলেন বুলবুল। অর্থাৎ বাংলাদেশ ভারতে বিশ্বকাপের ম্যাচ না খেলার বিষয়ে তাদের অবস্থানে অনড় থাকার কথা বললেও এ বিষয়ে আইসিসির প্রতিক্রিয়া জানার পরই বিসিবি তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। ভারতের ভেতরে ভিন্ন ভেন্যুতে খেলা আয়োজনের প্রস্তাবের পাশাপাশি বাংলাদেশের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টিও আইসিসির চিঠিতে উল্লেখ করা হতে পারে। খবরে বলা হচ্ছে, নিরাপত্তা ইস্যুতে বাংলাদেশকে আশ্বস্ত করার প্রচেষ্টা হিসেবে বাংলাদেশি আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা সৈকতের উদাহরণ টানা হতে পারে। গতকাল (রোববার) ভারতের বরোদায় নিউজিল্যান্ড-ভারত ওয়ানডে ম্যাচে আম্পায়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন সৈকত। খবরে উঠে এসেছে যে সৈকত যেহেতু নিরাপদে ভারতে আম্পায়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, সেই উদাহরণ টেনে আইসিসি বিসিবিকে অনুরোধ করবে যেন বাংলাদেশ ভারতে খেলতে যেতে সম্মত হয়। আসন্ন বিশ্বকাপে বাংলাদেশি শরফুদ্দৌলা সৈকত ও গাজী সোহেলের ম্যাচ অফিসিয়াল হিসেবে দায়িত্ব পালনের কথা রয়েছে। এ ছাড়া এনডিটিভির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বাংলাদেশ আশা করছে যেন ভারতের সরকারি পর্যায় থেকে বাংলাদেশের সরকারের সাথে 'নিরাপত্তা বিষয়ক উদ্বেগ' নিয়ে আলোচনা করা হয়। যদিও শনিবার যখন বিসিবি সভাপতিকে জিজ্ঞেস করা হয় যে, দুই দেশের সরকারি পর্যায়ে কোনো আলোচনার সুযোগ আছে কি না, তখন বুলবুল বলেন যে, "আমি এ ব্যাপারে কিছু শুনিনি।" তবে বিসিবি চিঠি পাঠানোর পর আইসিসির পক্ষ থেকে বিসিবির নিরাপত্তা বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে বলে জানান বুলবুল। ক্রিকেটের ইতিহাসে এর আগে বেশ কয়েকবার এমন ঘটনা ঘটেছে, যখন কোনো দেশ নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে নির্দিষ্ট কোনো একটি দেশে বিশ্বকাপ বা আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির মত আসরে খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ১৯৯৬ সালের বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ তাদের গ্রুপ পর্বের ম্যাচ খেলতে শ্রীলঙ্কায় যায়নি। সেসময় শ্রীলঙ্কায় গৃহযুদ্ধ চলছিলো এবং আসর শুরুর সপ্তাহ দুয়েক আগে কলম্বোতে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এরপর ২০০৩ বিশ্বকাপে জিম্বাবুয়েতে খেলতে যায়নি ইংল্যান্ড। যুক্তরাজ্যের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার সেসময় জিম্বাবুয়ের নেতা রবার্ট মুগাবের সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল। একই বিশ্বকাপে আরেক আয়োজক দেশ কেনিয়ার নাইরোবিতে নিরাপত্তাজনিত কারণে খেলতে যায়নি নিউজিল্যান্ড। ঐ ম্যাচের কয়েকমাস আগে মোম্বাসায় বোমা বিস্ফোরনের ঘটনা ঘটেছিল। ছয় বছর পর, ২০০৯ সালে জিম্বাবুয়ে টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে। সেসময়ও কারণ ছিল জিম্বাবুয়ে আর যুক্তরাজ্যের মধ্যেকার বৈরি সম্পর্ক। ২০১৬ সালে বাংলাদেশে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয় অস্ট্রেলিয়া। অস্ট্রেলিয়া সেসময় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশ সফর করেনি। সবশেষ ২০২৫ সালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ম্যাচ খেলতে পাকিস্তানে যেতে অস্বীকৃতি জানায় ভারত। ভারতের ক্রিকেট বোর্ড কারণ হিসেবে জানায় যে ভারতের সরকার পাকিস্তানে দল পাঠাতে অনুমতি দেয়নি। সেসময় দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ড আর আইসিসি কয়েক দফা আলোচনার পর সিদ্ধান্তে আসে যে ২০২৪ থেকে ২০২৭ এর মধ্যে ভারত বা পাকিস্তানে কোনো আইসিসি টুর্নামেন্ট হলে আরেক দেশের ম্যাচ নিরপেক্ষ ভেন্যুতে আয়োজিত হবে। যেই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ২০২৫ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ভারতের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হয় দুবাইয়ে এবং আগামী মাসে হতে যাওয়া বিশ্বকাপে পাকিস্তানের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে শ্রীলঙ্কায়। তবে ২০২৫ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ঘটনাটি ছাড়া এর আগে যতবারই কোনো দেশ আইসিসি ইভেন্টে খেলতে কোনো দেশে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, হয় তাদের নিজেদের টুর্নামেন্ট থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করতে হয়েছে বা ম্যাচের পয়েন্ট খোয়াতে হয়েছে।

ইলন মাস্কের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সের (সাবেক টুইটার) কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট গ্রোক ঘিরে আন্তর্জাতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে। ডিপফেক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আপত্তিকর ছবি তৈরির অভিযোগ উঠেছে এই এআই টুলের বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। শুরু হয়েছে তদন্তও। এই প্রেক্ষাপটে ইলন মাস্ক বলেছেন, এআই নিয়ে যে সমালোচনা চলছে তা আসলে ‘সেন্সরশিপের অজুহাত’। তার দাবি, সরকারগুলো নিয়ন্ত্রণ আরোপের সুযোগ খুঁজছে। শনিবার এক্সে দেওয়া একাধিক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার এরই মধ্যে এক্সকে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেছেন, গ্রোকের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপে এক্সকে “দায়িত্বশীল হতে হবে”। একই সঙ্গে তিনি দেশটির গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফকমকে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তার ভাষায়, “সব বিকল্প টেবিলে থাকতে হবে।” গ্রোক নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হয় যখন ইন্টারনেট ওয়াচ ফাউন্ডেশন জানায়, অপরাধীরা এই এআই টুল ব্যবহার করে শিশু যৌন নির্যাতনের ছবি তৈরি করছে। এই তথ্য প্রকাশের পর সরকার ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর উদ্বেগ বাড়ে। এদিকে শনিবার ইন্দোনেশিয়া সাময়িকভাবে গ্রোক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এটি প্রথম কোনো দেশ, যারা সরাসরি এই এআই চ্যাটবট বন্ধের সিদ্ধান্ত নিল। দেশটির যোগাযোগ ও ডিজিটাল মন্ত্রী মেতিয়া হাফিদ বলেন, সম্মতি ছাড়া ডিপফেক তৈরি মানবাধিকার ও নাগরিক নিরাপত্তার মারাত্মক লঙ্ঘন। বিতর্কের মধ্যেই এক্স গ্রোকের কিছু সেটিংসে পরিবর্তন আনে। এখন থেকে ছবি সম্পাদনার সুবিধা শুধু অর্থপ্রদত্ত ব্যবহারকারীদের জন্য সীমিত করা হয়েছে। তবে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ডাউনিং স্ট্রিট এই পরিবর্তনকে “অপমানজনক” বলে মন্তব্য করেছে। তাদের মতে, এটি সমস্যার সমাধান নয়। ইলন মাস্ক অবশ্য অনড় অবস্থানে। তিনি এক্সে এক ব্যবহারকারীর পোস্ট শেয়ার করে বলেন, সরকারগুলো অন্য এআই টুলের দিকে নজর না দিয়ে শুধু গ্রোককে লক্ষ্য করছে। ওই পোস্টে বলা হয়, বহু অ্যাপ আগেই এ ধরনের ছবি তৈরি করতে পারে। মাস্ক বলেন, “এটা নতুন সমস্যা নয়। এটা নতুন একটি টুল মাত্র।” এর আগে মাস্ক দাবি করেছিলেন, গ্রোক ব্যবহার করে কেউ অবৈধ কনটেন্ট তৈরি করলে সেটি আপলোড করার মতোই শাস্তির মুখে পড়তে হবে। তবে সমালোচকদের মতে, বাস্তবে সেই নিয়ন্ত্রণ কার্যকর নয়। যুক্তরাজ্যের প্রযুক্তিমন্ত্রী লিজ কেন্ডাল আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, নারী ও শিশুদের ছবি যৌনভাবে বিকৃত করা জঘন্য ও নিন্দনীয়। এক্স যদি যুক্তরাজ্যের আইন মানতে ব্যর্থ হয় তবে অফকম চাইলে প্ল্যাটফর্মটি বন্ধের উদ্যোগ নিতে পারে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, কয়েক দিনের মধ্যেই অফকম পরবর্তী পদক্ষেপ জানাবে। অফকম জানিয়েছে, তারা বিষয়টি নিয়ে দ্রুত মূল্যায়ন শুরু করেছে। এক্সের সঙ্গে জরুরি ভিত্তিতে যোগাযোগ করা হয়েছে। অনলাইন সেফটি অ্যাক্ট অনুযায়ী, অফকম সর্বোচ্চ ১ কোটি ৮০ লাখ পাউন্ড বা বৈশ্বিক আয়ের ১০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা করতে পারে। প্রয়োজনে ফৌজদারি ব্যবস্থাও নেওয়া সম্ভব। এ ছাড়া আদালতের অনুমোদন সাপেক্ষে বিজ্ঞাপনদাতা, পেমেন্ট সেবা ও ইন্টারনেট সেবাদাতাদের ওই প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে কাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া যেতে পারে। কার্যত এতে প্ল্যাটফর্মটি নিষিদ্ধ হয়ে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার নিয়ন্ত্রণের বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। একদিকে উদ্ভাবন। অন্যদিকে অপব্যবহার। গ্রোক বিতর্ক সেই দ্বন্দ্বই সামনে আনছে। বিশ্বজুড়ে সরকারগুলো এখন প্রশ্ন তুলছে। প্রযুক্তি কতটা স্বাধীন হবে। আর নিয়ন্ত্রণই বা কোথায় প্রয়োজন। গ্রোক নিয়ে চলমান বিতর্ক সেই আলোচনাকে আরও তীব্র করেছে।

মোটরসাইকেল বিক্রির ক্ষেত্রে ক্রেতাকে অবশ্যই বিএসটিআই অনুমোদিত দুটি হেলমেট ফ্রি দিতে হবে—এমন নীতিমালা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) আবু মমতাজ সাদ উদ্দিন আহমেদ। শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে নোয়াখালী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিআরটিএ চেয়ারম্যান বলেন, আমরা মোটরসাইকেল বিক্রেতাদের জন্য একটি নীতিমালা তৈরি করেছি, যা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। এই নীতিমালা অনুযায়ী, কেউ মোটরসাইকেল বিক্রি করলে তাকে অবশ্যই বিএসটিআই অনুমোদিত দুইটি হেলমেট ক্রেতার সঙ্গে ফ্রি দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, মোটরসাইকেল ড্রাইভিং লাইসেন্সের ক্ষেত্রে আমরা কোনো ছাড় দিচ্ছি না। বয়স পূর্ণ না হলে লাইসেন্স দেওয়া হবে না। পুলিশ সদস্যদের অনুরোধ করবো, আপনারা আরও কঠোর ব্যবস্থা নেবেন। দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশে মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৭৩ শতাংশই ঘটে মোটরসাইকেলে। এসব দুর্ঘটনায় নিহতদের বড় একটি অংশের বয়স ৫ থেকে ২৯ বছরের মধ্যে। অথচ এই তরুণরাই আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ। এই জায়গায় কোনো কম্প্রোমাইজ করা হবে না। বিআরটিএ চেয়ারম্যান বলেন, দেশের অর্থনীতি এগিয়ে নিতে হলে এই বয়সী মানুষের মৃত্যুহার কমাতে হবে। এজন্য আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সচেতনতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বিআরটিএর কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিআরটিএ এখন আগের জায়গায় নেই। আমরা সব কার্যক্রম অটোমেশনের আওতায় নিয়ে আসছি। খুব শিগগিরই সব সেবা অনলাইনে চালু হবে, যেন মানুষকে আর হয়রানির শিকার হতে না হয়। আশা করছি, এই মাসের শেষ নাগাদ অনলাইন কার্যক্রম চালু করতে পারবো। তিনি বলেন, বিআরটিএ একা কিছু করতে পারে না। জেলা প্রশাসন, পুলিশ, পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠন এবং সর্বোপরি সাধারণ মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলার সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারের সহায়তায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) নোয়াখালী সার্কেলের উদ্যোগে ৪১টি পরিবারের মাঝে এক কোটি ৬৫ লাখ টাকার আর্থিক অনুদান বিতরণ করা হয়। নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাসলিমুন নেছার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বিআরটিএ পরিচালক (যুগ্ম সচিব) রুবাইয়াৎ-ই-আশিক। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিআরটিএ চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) মো. মাসুদ আলম, সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন মাহামুদ চৌধুরী, পুলিশ সুপারের প্রতিনিধি ট্রাফিক ইনস্পেক্টর পুলক চাকমা, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য বাহার উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্টরা। বিআরটিএ সূত্র জানায়, নোয়াখালী জেলায় নিহত ২০ জনের পরিবার ও আহত ১ জনসহ ২১টি পরিবারকে ১ কোটি ১ লাখ টাকা, লক্ষ্মীপুর জেলায় নিহত ১১ জনের পরিবার ও আহত ৯ জনসহ ২০টি পরিবারকে ৬৪ লাখ টাকা প্রদান করা হয়। সব মিলিয়ে ৪১টি পরিবারকে মোট ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের সাতজন নিহত হওয়ার ঘটনায় ওমান প্রবাসী মো. বাহার উদ্দিনকে ৩৫ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণের চেক দিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে নোয়াখালী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে বিআরটিএ চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) আবু মমতাজ সাদ উদ্দিন আহমেদ ও জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম আনুষ্ঠানিকভাবে তার হাতে ক্ষতিপূরণের চেক তুলে দেন। জানা গেছে, গত ৬ আগস্ট (বুধবার) ভোরে ওমান থেকে লক্ষীপুরের বাড়িতে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় বেগমগঞ্জে মাইক্রোবাস খালে ডুবে গিয়ে স্ত্রী সন্তানসহ ৭ জনকে হারান। নিহতরা হলেন- ওমান প্রবাসী বাহারের স্ত্রী কবিতা আক্তার (২৪), তার মেয়ে মীম আক্তার (২), মা মুরশিদা বেগম (৫০), নানি ফয়জুন নেছা (৭০), ভাতিজি রেশমা আক্তার (৯) ও লামিয়া আক্তার (৮) এবং বড় ভাইয়ের স্ত্রী লাবনী আক্তার (২৫)। তারা সবাই লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার উত্তর জয়পুর ইউনিয়নের চৌপল্লী এলাকার কাশারি বাড়ির বাসিন্দা। এদিকে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) নিহত ব্যক্তির ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৫ লাখ টাকার অনুদানের চেক হিসেবে মোট ৩৫ লাখ দেওয়া হয়। বিআরটিএ সূত্র জানায়, নোয়াখালী জেলায় দুর্ঘটনায় নিহত ২০ জনের পরিবার ও আহত ১ জনসহ মোট ২১টি পরিবারকে এক কোটি এক লাখ টাকা এবং লক্ষ্মীপুর জেলায় নিহত ১১ জনের পরিবার ও আহত ৯ জনসহ ২০টি পরিবারকে ৬৪ লাখ টাকা প্রদান করা হয়। সব মিলিয়ে ৪১টি পরিবারের মধ্যে মোট এক কোটি ৬৫ লাখ টাকার অনুদান বিতরণ করা হয়েছে। এ সময় বাহার উদ্দিন বলেন, আমার মতো কেউ যেন ভুল না করে। একটা দুর্ঘটনায় আমার সব উলোটপালোট হয়ে গেছে। তারপরও বিআরটিএ আমার পাশে থাকায় আমি কৃতজ্ঞ। এ বিষয়ে বিআরটিএ চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) আবু মমতাজ সাদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, মানুষের মূল্য কখনো টাকায় হয় না। তবে আমরা সবাই সচেতন হলে এমন দুর্ঘটনা কমে আসবে। সেই জন্য আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে। আমি আমানতের জায়গা থেকে নিজে এসে এই সহমর্মিতা হিসেবে চেক গুলো তুলে দিচ্ছি। জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা এখন একটি বড় সামাজিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামান্য অসচেতনতা ও নিয়ম না মানার কারণে পরিবারগুলো চিরতরে সর্বস্ব হারাচ্ছে। দুর্ঘটনা রোধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি। সবার সম্মিলিত উদ্যোগেই নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা সম্ভব। নোয়াখালীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাসলিমুন নেছারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিআরটিএ পরিচালক (যুগ্ম-সচিব) রুবাইয়াৎ-ই-আশিক, বিআরটিএ চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) মো. মাসুদ আলম, সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি সিনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ সাইফু্দ্দিন মাহামুদ চৌধুরী, পুলিশ সুপারের প্রতিনিধি ট্রাফিক ইন্সপেক্টর পুলক চাকমা, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য বাহার উদ্দিন, নোয়াখালী জেলা মালবাহী ট্রাক ও ট্যাংকলরী শ্রমিক ইউনিয়নের মো. আবুল বাহার, বৃহত্তর নোয়াখালী জেলা বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতি গোলাম রাব্বানীসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি, পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিআরটিএ নোয়াখালীর সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) উথোয়াইনু চৌধুরী, সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা সুজিত রায়, মোটরযান পরিদর্শক মো. মোশাররফ হোসেন ও মো. জিয়াউর রহমান, বিআরটিএ লক্ষ্মীপুর সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) আবদুল্লাহ আল মামুনসহ বিআরটিএ নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর সার্কেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিহিংসা বর্জন ও জনকল্যাণের রাজনীতি করার আহ্বান জানালেন তারেক রহমান যে কোনো মূল্যে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া চালু করার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, এক্ষেত্রে মতপার্থক্য ভুলে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। হিংসা প্রতিশোধের পরিণতি কি হতে পারে, সেটা আমরা দেখেছি চব্বিশের ৫ আগস্ট। মতপার্থক্য যাতে মতবিভেদ না হয়ে যায়, বিভেদের কারণ না হয়। সবাই মিলে কাজ করতে হবে। শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। বক্তব্যের শুরুতেই তারেক রহমান দেশের মানুষের রাজনৈতিক অধিকার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশে আর কোনো প্রতিহিংসা বা প্রতিশোধের রাজনীতি দেখতে চান না। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক, তবে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বিভেদ দূর করে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখাই সময়ের দাবি। তিনি বলেন, অতীতে বিভেদের রাজনীতি জাতিকে কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, তার অভিজ্ঞতা সবার জানা। তাই দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করাই রাজনৈতিক কর্মীদের প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত। তিনি বলেন, আমাদের সমস্যা ছিল, সমস্যা আছে। আমরা অবশ্যই ৫ আগস্টের আগের অবস্থায় ফিরে যেতে চাই না। তারেক রহমান বলেন, আমি একটি রাজনৈতিক দলের কর্মী। আগামী ২২ তারিখ থেকে আমাদের সব (নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা) নিয়ে জনগণের কাছে যাবো। ৪ কোটি পরিবারের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেশের প্রায় ৪ কোটি পরিবারের জন্য একটি যুগান্তকারী ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর প্রস্তাব দেন তারেক রহমান। এই পরিকল্পনার মূল কেন্দ্রে থাকবেন পরিবারের গৃহিণীরা। এই কার্ডের মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারের গৃহিণী ৫ থেকে ৭ বছর আর্থিক বা খাদ্য সহায়তা পাবেন বলে জানান তিনি। তারেক রহমান বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে নারীদের হাতে অর্থ থাকলে তা মূলত স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও ক্ষুদ্র বিনিয়োগে ব্যয় হয়, যা পরিবার ও স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে। তিনি আরও জানান, এই সুবিধা হবে সর্বজনীন, যাতে দলীয় পরিচয় বা শ্রেণিবিভাগের কারণে কোনো ধরনের দুর্নীতি বা বৈষম্যের সুযোগ না থাকে। স্বাস্থ্যখাতে ‘প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা’ ও নতুন কর্মসংস্থান স্বাস্থ্যখাতে আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে উন্নত বিশ্বের আদলে ‘প্রিভেনশন’ বা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার ওপর জোর দেন বিএনপির চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, জনগণকে রোগে আক্রান্ত হওয়ার আগেই সচেতন করতে প্রায় ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। এই স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ হবেন নারী। তারা ঘরে ঘরে গিয়ে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা এবং জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখবেন। এর ফলে একদিকে জনস্বাস্থ্য উন্নত হবে, অন্যদিকে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিভিন্ন গণমাধ্যম ব্যক্তিদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, এমন সমালোচনা করুন, যাতে আমরা দেশের জনগণের সমস্যা সমাধান করতে পারি।

সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মেজর জেনারেল (অব.) মাহমুদুল হাসান আর নেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মেজর জেনারেল (অব.) মাহমুদুল হাসান আর নেই। বুধবার বিকেল ৩টায় রাজধানীর নিজ বাসভবনে বার্ধক্যজনিত কারণে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন টাঙ্গাইল-৫ আসনের এই সাবেক সংসদ সদস্য (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানি তেল কেনার অভিযোগে ভারত, চীন ও ব্রাজিল— এই তিন দেশের ওপর ৫০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব সংক্রান্ত একটি বিলে সম্মতি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আজ বৃহস্পতিবার মার্কিন পার্লামেন্ট কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটের সদস্য লিন্ডসে গ্রাহাম এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছেন এ তথ্য। বর্তমানে ভারত ও ব্রাজিলের ওপর ৫০ শতাংশ এবং চীনের ওপর ৩০ শতাংশ রপ্তানি শুল্ক জারি আছে। যদি ‘গ্রাহাম-ব্লুমেন্টাল নিষেধাজ্ঞা বিল’ নামের এ বিলটি পাস হয়, তাহলে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে সেইসব দেশের উপর ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়া হবে যারা জেনেশুনে রাশিয়ান তেল বা ইউরেনিয়াম কিনে ‘রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের যুদ্ধযন্ত্রে জ্বালানি’ যুগিয়েছে। এই বিলের আরও একটি উদ্দেশ্য হলো রাশিয়াকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে দেওয়া। বিবৃতিতে গ্রাহাম বলেছেন, গতকাল বুধবার ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন হোয়াইট হাউসে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে এই বিলের ব্যাপারে ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা হয় তার। ট্রাম্প এই বিলে সমর্থন জানিয়েছেন বলে দাবি করেছেন গ্রাহাম। “এটা সঠিক সময়ে পাস হবে। কারণ ইউক্রেন শান্তির জন্য ছাড় দিচ্ছে অন্যদিকে পুতিন কেবল কথাই বলছেন, আর রাশিয়ার সেনারা এখনও নিরপরাধ লোকজনকে হত্যা করছে”, বিবৃতিতে বলেছেন গ্রাহাম। তিনি আরও জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহেই এই বিলটির ওপর মার্কিন এমপিদের ভোটগ্রহণ শুরু হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের সাংবিধানিক বিধি অনুসারে, প্রথমে বিলটি যাবে নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ বা হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে। সেখানে পাস হলে সেটি যাবে উচ্চকক্ষ সিনেটে। সিনেটে সবুজ সংকেত মিললে শেষে বিলটি পাঠানো হবে প্রেসিডেন্টের দপ্তরে। সেখানে প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের পর বিলটি কার্যকর হবে।

বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ–মুলাদী) আসনে আলোচিত প্রার্থী আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদের নির্বাচনী তহবিল নির্ধারিত ব্যয়ের সীমা অতিক্রম করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমর্থকদের কাছে আর্থিক সহায়তার আহ্বানের পর অল্প সময়েই উল্লেখযোগ্য অঙ্কের অনুদান জমা পড়েছে তার নামে খোলা নির্বাচনী হিসাবে। সম্প্রতি ফেসবুকে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় দেশ ও বিদেশে অবস্থানরত সমর্থকদের কাছে নির্বাচনী ব্যয় নির্বাহের জন্য সহযোগিতা চান ব্যারিস্টার ফুয়াদ। তার সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে প্রথম ২৫ ঘণ্টায় প্রায় ২২ লাখ টাকা অনুদান জমা হয়। পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাত ১টার দিক (বুধবার দিবাগত রাত) নিজের ফেসবুক পেজে অনুদান সংগ্রহের সর্বশেষ হালনাগাদ হিসাব প্রকাশ করেন তিনি। ব্যারিস্টার ফুয়াদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তার নির্বাচনী এলাকায় মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৩২ হাজার ১০১ জন। নির্বাচন কমিশনের বিধিমালা অনুসারে ভোটার প্রতি ১০ টাকা হিসাবে তার সর্বোচ্চ নির্বাচনী ব্যয়ের সীমা নির্ধারিত হয়েছে ৩৩ লাখ ২১ হাজার ১০ টাকা। তবে ৭ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত বিভিন্ন মাধ্যমে প্রাপ্ত অনুদানের পরিমাণ সেই সীমা ছাড়িয়েছে। হালনাগাদ হিসাব অনুযায়ী, বিকাশের মাধ্যমে এসেছে ১৯ লাখ ২৩ হাজার ৫৫২ টাকা, নগদের মাধ্যমে ২ লাখ ৩৫ হাজার ৫৬ টাকা এবং ব্যাংক হিসাবে জমা হয়েছে ১৮ লাখ ৭ হাজার ৯৪৮ টাকা। সব মিলিয়ে মোট অনুদানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৯ লাখ ৬৬ হাজার ৫৫৬ টাকা। ব্যারিস্টার ফুয়াদ জানান, দেশ-বিদেশের অসংখ্য মানুষ অর্থ সহায়তার পাশাপাশি ফোনকল ও বার্তার মাধ্যমে তার প্রতি ভালোবাসা, উৎসাহ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পুরো নির্বাচনকালজুড়ে অনুদানসংক্রান্ত সব হিসাব অডিট করে প্রকাশ করা হবে। পাশে থাকার জন্য সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

আইপিএল থেকে বাদ পড়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান। তার বাদ পড়ার এই ঘটনাকে নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের ক্রিকেটীয় সম্পর্ক প্রায় তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। তবে সেসবের মধ্যেই ফেসবুকে নতুন করে রহস্যময় এক পোস্ট করেছেন মোস্তাফিজ। আইপিএলের আসন্ন মৌসুম কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে খেলবেন বলে ঠিক থাকলেও বিসিসিআইয়ের নির্দেশে তাকে স্কোয়াড থেকে বাদ দিতে হয় ফ্র্যাঞ্চাইজিকে। নিরাপত্তার কারণে তাকে বাদ দেওয়া হলেও বিষয়টি দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ড ছাড়িয়ে সরকারের পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। আইপিএল ইস্যুতে যত আলোচনা-সমালোচনাই হোক না কেন, মোস্তাফিজ চলমান বিপিএলে তার ছাপ পড়তে দেননি। রংপুর রাইডার্সের জার্সিতে বল হাতে প্রতি ম্যাচেই আগুন ঝরাচ্ছেন এই কার্টার। কখনো উইকেট নিয়ে প্রতিপক্ষকে ধসিয়ে দিচ্ছেন, আবার কখনো স্লগ ওভারে অবিশ্বাস্য কিপটে বোলিংয়ে ব্যাটারদের বোকা বানাচ্ছেন। মূলত তার এই অতিমানবীয় ফর্মই রংপুরকে টুর্নামেন্টে শক্ত অবস্থানে রেখেছে। আপাতত একটু অবসর পেয়েছেন মোস্তাফিজ ও তার সতীর্থরা। আগামী ৯ জানুয়ারির আগে আর মাঠে নামতে হচ্ছে না তাদের। সে কারণেই হয়তো, একটু ফুরসত পেয়েছেন প্রকৃতি উপভোগ করার। তার পোস্টটাও সে বিষয়েই। হোটেলের ছাদে তোলা এক ছবি পোস্ট করে মোস্তাফিজ বলেছেন, ‘প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য উপভোগ করছি।’ তার আগে গত রাতেও তিনি এক ফেসবুক পোস্ট করেছিলেন। সেখানে লিখেছিলেন, ‘চোখ মাঠে, মন জয়ের দিকে।’ তবে মোস্তাফিজ এই ফেসবুক পোস্টের বাইরেও যে বেশ শান্তই আছেন, সেটা বলে গেছেন তার একাধিক গুরু ও সতীর্থরা। মাঠে পারফর্ম করাটাই আপাতত তার কাছে মূখ্য।

জনপ্রিয় আলেম ড. মিজানুর রহমান আজহারী মানুষকে সতর্ক করে বলেছেন, নেশা ও জুয়া মানুষের সুন্দর জীবনকে তিলে তিলে বিষণ্নতার অন্ধকারে ঠেলে দেয়। সোমবার (৫ জানুয়ারি) নিজের ফেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি লিখেছেন, নেশা ও জুয়া— কেবল টাকা-পয়সার অপচয় নয়; এগুলো সুন্দর জীবনকে তিলে তিলে বিষণ্ণতার অন্ধকারে ঠেলে দেয়। এসবের ফাঁদে পড়ে মানুষ সর্বস্ব হারায়। ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যায় তিলে তিলে গড়ে ওঠা শত-সহস্র রঙিন পরিবার। সুন্দর এই জীবন ধীরে ধীরে হারিয়ে ফেলে তার আসল উদ্দেশ্য। অথচ জীবন তো আল্লাহর দেয়া এক অমূল্য আমানত। মানব জীবন ধ্বংসের জন্য নয় উল্লেখ করে তিনি আরও লেখেন- আল্লাহর স্মরণ, ইবাদত ও ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে জীবনকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করতে এবং কল্যাণের সুবাতাস জগৎময় ছড়িয়ে দিতেই এ ধরায় আমাদের আগমন। তাই আসুন, স্রষ্টার দেয়া এই অনন্য আমানতকে রক্ষা করি। জীবনকে অর্থবহ করে গড়ে তুলি। সব ধরনের নেশা ও জুয়া থেকে স্থায়ীভাবে বিরত থাকার পণ করি।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেভাবে একটি দলের দিকে ‘ঝুঁকে’ পড়েছে, প্রশাসন যেভাবে ‘আনুগত্য’ দেখাচ্ছে, তাতে অতীতের মতো আরেকটি পাতানো নির্বাচনের শঙ্কা প্রকাশ করেছেন জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তার মতে, এ ধরনের পাতানো নির্বাচন দেশকে আবারও ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাবে। বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীতে জামায়াতে আমিরের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে এই শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেছেন, ইইউকে জানানো হয়েছে, আগামী নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ প্রত্যাশা করে জামায়াত। তবে প্রশাসন একটি দলকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। জামায়াতের এ নেতা জানালেন, তার দল ক্ষমতায় গেলে সব রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে সরকার গঠন করা হবে। এদিকে এনসিপিকে ১০ আসনে ছাড় দেওয়ার যে খবর রটেছে, বিষয়টিকে ‘কাল্পনিক’ বলছেন তিনি। জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনি আসন সমঝোতা শিগগিরই হচ্ছে বলে জানান সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এক মাস আগে নাটকীয়তা জমে উঠেছে রীতিমতো। বাংলাদেশ বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যেতে চায় না। এ বিষয়ে আইসিসিকে একটি ই-মেইলও পাঠিয়ে দিয়েছে বিসিবি। ক্রিকইনফোর খবর, আইসিসি এই ইস্যুতে শক্ত অবস্থানে যাচ্ছে। তবে জবাবে বিসিবি বলছে, এমন কোনো বার্তাই তাদের কাছে আসেনি। ইএসপিএনক্রিকইনফো জানিয়েছে, মঙ্গলবার একটি ভার্চুয়াল বৈঠকে আইসিসি বিসিবিকে জানায় যে নিরাপত্তার কারণে ভারতের বাইরে ম্যাচ খেলার অনুরোধ তারা মানছে না। আইসিসি আরও জানায়, বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ খেলতে হলে ভারতে যেতে হবে। না গেলে পয়েন্ট হারানোর ঝুঁকি থাকবে। তবে বিসিবি আবার পুরোপুরি উলটো দাবি করছে। বোর্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আইসিসি তাদের এমন কোনো চূড়ান্ত বার্তা দেয়নি। বিসিবি বলছে, পয়েন্ট হারানোর বিষয়ে কোনো আলটিমেটামও জানানো হয়নি। বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, ‘ক্রিকইনফোর এই খবর সত্য নয়। আইসিসি কখনই বলেনি যে বিশ্বকাপ খেলতে হলে বাংলাদেশকে ভারতেই যেতে হবে। আমাদের সঙ্গে ব্যক্তিগত পর্যায়ে আইসিসির একাধিক কর্মকর্তার কথা হচ্ছে।’ গত রোববার বিসিবির আইসিসিকে ভারতে গিয়ে খেলতে অপারগতা জানিয়ে একটি ই-মেইল করে। এই মেইল দেওয়ার পেছনে বড় কারণ ছিল বিসিসিআইয়ের সিদ্ধান্ত। বিসিসিআই কলকাতা নাইট রাইডার্সকে মোস্তাফিজুর রহমানকে ছেড়ে দিতে ‘নির্দেশ’ দেয়। আইপিএল নিলামে গত ডিসেম্বরে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে মোস্তাফিজকে দলে নেয় কেকেআর। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হচ্ছে ২০ দলের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। টুর্নামেন্ট চলবে ৮ মার্চ পর্যন্ত। আয়োজন হবে ভারত ও শ্রীলঙ্কায়। গ্রুপ সিতে থাকা বাংলাদেশের প্রথম তিনটি ম্যাচ কলকাতায়। ৭ ফেব্রুয়ারি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে, ৯ ফেব্রুয়ারি ইতালির বিপক্ষে এবং ১৪ ফেব্রুয়ারি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ ১৭ ফেব্রুয়ারি মুম্বাইয়ে নেপালের বিপক্ষে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলার সম্ভাবনাটাকে ক্ষীণ বলেই মনে হচ্ছে।

শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ফিলিপাইন। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৭। তবে ভূমিকম্পের পর সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানিয়েছে, বুধবার দক্ষিণ ফিলিপাইনের উপকূলে ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। তবে কোনো সুনামি সতর্কতা বা তাৎক্ষণিক ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। ইউএসজিএস জানিয়েছে, ভূমিকম্পটি প্রথমে ৬ দশমিক ৭ মাত্রা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছিল এবং মিন্দানাও দ্বীপের সান্তিয়াগো শহর থেকে প্রায় ২৭ কিলোমিটার পূর্বে ৫৮.৫ কিলোমিটার (৩৬ মাইল) গভীরতায় আঘাত হেনেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আবেদনের ক্ষেত্রে যেসব দেশের নাগরিকদের অবশ্যই ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ‘ভিসা বন্ড’ বা জামানত দিতে হবে, সে তালিকা প্রায় তিন গুণ বাড়িয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ভিসা বন্ডের শর্তযুক্ত দেশগুলোর তালিকায় সাতটি দেশকে যুক্ত করার এক সপ্তাহ পার হওয়ার আগেই মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বাংলাদেশসহ বেশ কয়েকটি দেশের নাম যোগ করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। মঙ্গলবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ভ্রমণবিষয়ক ওয়েবসাইটে এই তথ্য জানানো হয়। বন্ডের সর্বোচ্চ যে পরিমাণ, তা প্রতি ডলার ১২২ দশমিক ৩১ টাকা হিসেবে বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৮ লাখ ৩৫ হাজার। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের হালনাগাদ তথ্যে এই নতুন দেশগুলোর তালিকা ও কার্যকর হওয়ার তারিখ প্রকাশ করা হয়েছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই নিয়ম আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, কোনো আবেদনকারী ভিসার জন্য যোগ্য বিবেচিত হলেও কনস্যুলার অফিসার চাইলে তার ওপর এই বন্ডের শর্তারোপ করতে পারেন। বন্ডের পরিমাণ নির্ধারিত হবে তিনটি ধাপে— পাঁচ হাজার, ১০ হাজার অথবা ১৫ হাজার মার্কিন ডলার। আবেদনকারীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি ও ইন্টারভিউয়ের ওপর ভিত্তি করে এই পরিমাণ নির্ধারণ করবেন সংশ্লিষ্ট ভিসা কর্মকর্তা। ভিসা বন্ড কী ভিসা বন্ড হলো একধরনের আর্থিক নিশ্চয়তা। কিছু দেশ নির্দিষ্ট বিদেশি নাগরিকদের সাময়িক ভিসা দেওয়ার আগে এমন জামানত বা নিশ্চয়তা নিয়ে থাকে; যেন তারা ভিসার শর্ত, বিশেষ করে থাকার সময়সীমা মেনে চলেন। প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্র হাজারো বিদেশি শিক্ষার্থী, পর্যটক ও কর্মীকে অস্থায়ী নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা দেয়। এসব ভিসার মেয়াদ কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত হতে পারে। কোনো নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাধারী অনুমোদিত মেয়াদের চেয়ে বেশি সময় যুক্তরাষ্ট্রে থাকলে সেটি ভিসা ওভারস্টে বলে গণ্য হয়। বেশির ভাগ দেশই ভিসার জন্য পর্যাপ্ত অর্থ থাকার প্রমাণ চায়। কিন্তু ফেরতযোগ্য জামানত দিয়ে দেশে প্রবেশের অনুমতি প্রদানের ব্যবস্থা চালু করেনি। নিউজিল্যান্ড একসময় ওভারস্টে নিয়ন্ত্রণে ভিসা বন্ড চালু করেছিল, পরে তা আর কার্যকর হয়নি। ২০১৩ সালে যুক্তরাজ্য কিছু ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ দেশের ভ্রমণকারীদের জন্য ভিসা বন্ড চালুর উদ্যোগ নেয়, কিন্তু পরে তা বাতিল করে।

দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) মজুত পর্যাপ্ত থাকার পরও বড় কোম্পানিগুলোর সরবরাহ কমে যাওয়ায় চরম সংকটে পড়েছেন ডিলার ও ব্যবসায়ীরা। নোয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এলপি গ্যাসের এই সংকট ডিলারদের জীবিকা অনিশ্চিত করে তুলেছে। একই সঙ্গে বাড়তি দামে গ্যাস কিনতে বাধ্য হচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা। সরবরাহ সংকটের সুযোগে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রির অভিযোগে দেশের বিভিন্নস্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালাচ্ছে। কোথাও জেল-জরিমানাও করা হচ্ছে। তবে তাতেও বাজার পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নতি হয়নি। সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় একের পর এক এলপি গ্যাস বিক্রির ডিপো বন্ধ হয়ে গেছে। পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ না থাকায় অনেক পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ী দোকানপাট বন্ধ করে বাসায় বসে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। একদিকে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সিলিন্ডার মিলছে না, অন্যদিকে সরকার নির্ধারিত মূল্যের বাইরে বিক্রির অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান—এই দ্বিমুখী চাপে পড়েছেন বিক্রেতারা। ফলে গ্যাস না থাকলেও আতঙ্কে দোকান খুলতে পারছেন না অনেক ব্যবসায়ী। সরবরাহ সংকট ও প্রশাসনিক অভিযানের মধ্যে পড়ে চরম দিশেহারা অবস্থায় দিন পার করছেন এলপি গ্যাস বিক্রেতারা। সেনবাগ উপজেলায় বসুন্ধরা এলপিজি গ্যাসের এক্সক্লুসিভ ডিস্ট্রিবিউটর রেজাউল করিম জুয়েল বলেন, আগে প্রতি মাসে গড়ে ৭ হাজার পিস গ্যাস সিলিন্ডার পেতাম। পুরো ডিসেম্বর মাসে পেয়েছি মাত্র ১ হাজার ৮৩৪ পিস। চলতি জানুয়ারিতে এখনো একটাও পাইনি। অথচ ব্যবসা বন্ধ থাকলেও খরচ একটুও কমেনি। গ্যাস না পেলেও কর্মচারীদের বেতন, গোডাউন ও অফিস ভাড়া, গাড়ির কিস্তি, ব্যাংক লোন—সবই আগের মতোই দিতে হচ্ছে। গ্যাস না পেলেই কি এই খরচ বন্ধ হয়ে যাবে? তিনি আরও বলেন, আমরা কখনোই বেশি দামে গ্যাস বিক্রি করতে চাই না। কিন্তু সরবরাহ না থাকলে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা অসম্ভব। এলপি গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না হলে শুধু ডিলার নয়, এই খাতের সঙ্গে জড়িত হাজারো শ্রমিক ও ব্যবসায়ীর জীবন-জীবিকা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে। একই ধরনের সংকটের কথা জানান নোয়াখালী শহরের আরেক এলপি গ্যাস ডিলার মো. রায়হান। তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, ৩০০ পিস ধারণক্ষমতার ট্রাক পাঠিয়ে এখন ১০০ থেকে ১২০ পিস গ্যাস আনতে হচ্ছে। তাও অনেক দিন অপেক্ষার পর। এতে পরিবহন খরচ উঠে না, লোকসান গুনতে হচ্ছে। এই সংকট অব্যাহত থাকলে থমকে যাবে ব্যবসা-বাণিজ্য। এটি শুধু একটি খাতের নয়, বরং দেশের অর্থনীতির জন্যও অশনিসংকেত। সরবরাহ বন্ধ থাকায় অনেক ডিলার দোকানপাট বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে কর্মচারীরাও পড়েছেন চরম অনিশ্চয়তায়। একজন গ্যাস ডিপোর শ্রমিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কাজ না থাকায় মালিক আমাদের গ্রামে পাঠিয়ে দিয়েছেন। এখন ক্ষেতের কাজ আর দিনমজুরি করে চলতে হচ্ছে। গ্যাস সংকটে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহকরা। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট বাজারের গৃহিণী রেহানা বেগম ঢাকা পোস্টকে বলেন, আগে নির্ধারিত দামেই গ্যাস পাওয়া যেত। এখন কোথাও গ্যাস নেই, আর যেখানে আছে সেখানে বেশি দাম চাইছে। রান্না চালানোই কঠিন হয়ে গেছে। একই অভিযোগ করেন বেসরকারি চাকরিজীবী আবুল কালাম। তিনি বলেন, সরকারি গ্যাসের টালবাহানা হয়। সারাদিন গ্যাস থাকেনা। আমাদের ভোগান্তির শেষ নাই। সিলিন্ডারের অতিরিক্ত দাম। আমরা অসহায় অবস্থায় আছি। জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, গ্যাসের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক বলেন, সরকার ও বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) কর্তৃক নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী এলপিজি গ্যাস বিক্রি করতে হবে। নির্ধারিত দামের অতিরিক্ত কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি। ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত ও তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি আরও বলেন, কেউ যদি সিন্ডিকেট করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রির চেষ্টা করে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভোক্তাদের সচেতন হওয়ার পাশাপাশি অনিয়মের তথ্য জেলা প্রশাসন বা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে জানাতে অনুরোধ জানান তিনি।

নোয়াখালীতে প্রায় ৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকার নির্মাণ সামগ্রী ১৯ লাখ টাকায় গোপনভাবে নিলামে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। অভিযোগের জেরে একদিন ঠিকাদারদের হাতে অবরুদ্ধ থাকার পর পরদিন অফিসে অনুপস্থিত রয়েছেন। তবে তাকে পলাতক বলে দাবি করেছেন স্থানীয় ঠিকাদাররা। সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন না। এর আগের দিন রোববার (৪ জানুয়ারি) বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নোয়াখালী জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কার্যালয়ে সাধারণ ঠিকাদাররা তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। ঠিকাদারদের অভিযোগ, ড্যানিডা অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন একটি প্রকল্পের আওতায় প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার বিভিন্ন ধরনের পাইপ ও নির্মাণ সামগ্রী নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের একটি গুদামে সংরক্ষিত ছিল। এসব মালামাল অত্যন্ত গোপনীয়ভাবে কথিত দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে নামমাত্র একটি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে নিলামে তোলা হয়। এতে অধিকাংশ ঠিকাদার বিষয়টি জানতে না পারায় দরপত্র প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারেননি। বিজ্ঞাপন এ সুযোগে নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মেসার্স শাহনাজ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রায় ৬ কোটি টাকার মালামাল মাত্র ১৮ লাখ ৮৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২০ অক্টোবর এই নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। সূত্র জানায়, দেড় ইঞ্চি ব্যাসের ৪৮ হাজার ও তিন ইঞ্চি ব্যাসের ২৮ হাজার পাইপ যা প্রায় ১৫ লাখ ২০ হাজার ফুট বিভিন্ন মাপের পাইপ নিলামে বিক্রি করা হয়। নিলামের পর রাতারাতি এসব সামগ্রী গুদাম থেকে সরিয়ে চরবাটা ও চর আমান উল্লা এলাকায় সংরক্ষণ করা হয়। ঘটনাটি জানাজানি হলে সাধারণ ঠিকাদারদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তারা বিষয়টি জানতে নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে গেলে তিনি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে ঠিকাদাররা সংঘবদ্ধ হয়ে তাকে নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন এবং তার অপসারণ ও শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ ও স্লোগান দেন। পরে নিলাম বাতিলের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। অভিযোগ রয়েছে, নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলামের দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের একটি প্রকল্পের জন্য বরাদ্দকৃত প্রায় ৯০ কোটি টাকা ফেরত চলে গেছে। এতে নোয়াখালীর সুবিধাবঞ্চিত মানুষ উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এছাড়া যেসব ঠিকাদার মোটা অঙ্কের কমিশন দিতে পারেননি, তাদের কাজের কার্যাদেশ ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্বিত করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে, কমিশন দিয়ে কাজ পাওয়া ঠিকাদাররা নিম্নমানের ও দায়সারা কাজ করছেন, যার ফলে প্রকল্পের গুণগত মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মেসার্স এস এম এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. দুলাল বলেন, আমি প্রায় ৩০ বছর ধরে ঠিকাদারি করি। এভাবে প্রকাশ্য লুটপাট আগে কখনো দেখিনি। জুলাই আন্দোলনের পর ভেবেছিলাম অনিয়ম বন্ধ হবে, কিন্তু পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়েছে। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, আমি কোনো নিলাম দেইনি। নিলাম প্রক্রিয়া ঢাকা থেকে পরিচালিত হয়েছে। ঠিকাদারদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নিলাম কার্যাদেশ বাতিলের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। আমি পলাতক নই, অফিসের কাজে সাইটে ছিলাম।

ঘন কুয়াশার কারণে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রোববার (৪ জানুয়ারি) ৮টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট অবতরণ করতে পারেনি। কুয়াশায় রানওয়ে দৃশ্যমান না থাকায় নিরাপত্তাজনিত কারণে ফ্লাইটগুলোকে বিকল্প বিমানবন্দরে পাঠানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এসএম রাগীব সামাদ। তিনি জানান, কুয়াশার কারণে ৬টি ফ্লাইট সিলেট বিমানবন্দরে, ১টি ফ্লাইট কলকাতা বিমানবন্দরে ও ১টি ফ্লাইট ভিয়েতনামের হ্যানয় বিমানবন্দরে অবতরণ করে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে ডাইভারশন হওয়া ফ্লাইটগুলোকে ফিরিয়ে আনা শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি। আবহাওয়া অধিদপ্তর রোববার (৪ জানুয়ারি) সকাল ৭টায় এক পূর্বাভাসে জানিয়েছে, দুপুর পর্যন্ত ঢাকাসহ আশপাশের এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা থাকতে পারে। এ সময় আকাশ আংশিক মেঘাচ্ছন্ন থাকলেও দিনের তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে। এছাড়া বর্ধিত পাঁচ দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, আগামী দিনগুলোতে সারা দেশে তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে।

টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এক মাস বাকি আর। টুর্নামেন্টটি হবে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় যৌথভাবে। তবে বাংলাদেশের গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচই ভারতে। এরই মধ্যে আইপিএল থেকে মুস্তাফিজুর রহমান বাদ পড়ায় দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। দেশের ক্রিকেট পরিস্থিতি নিয়ে শনিবার রাতে জরুরি বৈঠকে বসেন বিসিবির ১৭ জন পরিচালক। বৈঠকে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সিদ্ধান্ত হয়, আজ ৪ জানুয়ারি আইসিসিকে একটি চিঠি পাঠাবে বিসিবি। ওই চিঠিতে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তোলা হবে। বর্তমান অবস্থার কথা বিবেচনা করে বিসিবি আইসিসির নিরাপত্তা বিভাগে ইমেইল করবে। সেখানে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হবে। একই সঙ্গে মুস্তাফিজ ইস্যু নিয়েও জানতে চাওয়া হবে। শুধু খেলোয়াড় নয়, বোর্ড পরিচালক ও অন্যান্য সদস্যদের নিরাপত্তার বিষয়ও তুলে ধরা হবে। চিঠিতে দর্শক ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তার কথাও থাকবে। জানা গেছে, বর্তমান বাস্তবতায় নিরাপত্তাই বোর্ডের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, সব পক্ষের জন্য স্পষ্ট নিশ্চয়তা না মিললে ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্তে তার প্রভাব পড়তে পারে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই চিঠি শুধু মুস্তাফিজ ইস্যুতে সীমাবদ্ধ নয়। ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়েও এটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে দুই দেশের ক্রিকেট সম্পর্কের ভবিষ্যতেও এর বড় প্রভাব থাকতে পারে।
তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) নিয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছে দেশ। ১২৫৩ টাকার ১২ কেজির গ্যাসের সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার টাকায়। শীতে গ্যাসের চাহিদা বেশি থাকে বাসা-বাড়িতে। পাইপলাইনের গ্যাস সরবরাহ কম। তীব্র সংকট বাসাবাড়ি ও সিএনজি স্টেশনগুলোয়। অন্যদিকে এলপিজির সিলিন্ডার সহজে পাওয়া যাচ্ছে না। এলপি গ্যাসের সংকট ভয়াবহ। পেলেও সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা বেশি দিয়ে কিনতে হচ্ছে ১২ কেজির এলপিজির সিলিন্ডার। সংশ্লিষ্টরা জানান, এলপিজি সিলিন্ডারের সংকট সহজে কাটবে না। কারণ, বিভিন্ন কারণে আগের চেয়ে এলপিজি আমদানি কমে গেছে। এ অবস্থায় সামনের দিনগুলোয় সাধারণ মানুষকে আরও কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। হাবিবুর রহমান থাকেন রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায়। বাসায় ব্যবহার করেন এলপি গ্যাস। এক সপ্তাহ ধরে বেশ সমস্যা যাচ্ছে এলপিজি নিয়ে। তিনি বলেন, আগে এক ফোন কলে এলপিজি পাওয়া যেত। এখন কল বা চাহিদা দিলেও ২/৩ দিনেও পাওয়া যাচ্ছে না। তাও ১২/১৩শ টাকার এলপিজি চাইছে ২ হাজার টাকা। হঠাৎ এমন পরিস্থিতি কেন হলো? রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে খবর নিয়ে জানা যায়, বাসাবাড়িতে পাইপলাইনের গ্যাস বলতে গেলে থাকে না। মধ্যরাতে বা ভোরে যা আসে, তা দিয়ে রান্না করা যায় না। তাই অনেকে এলপিজি দিয়ে রান্না করছেন। কিন্তু এলপিজি কিনতে গিয়ে তারা বিপাকে পড়ছেন। ১৩০০ টাকার এলপিজি বিক্রি হচ্ছে ১৯০০/২০০০ টাকায়। তেজগাঁও এলাকার সিএনজি স্টেশনগুলোয় খবর নিয়ে জানা গেছে, অনেকদিন ধরে গ্যাসের সংকট। তবে ২/৩ দিনে এ সংকট আরও বেড়েছে। বিশেষ করে শীতের প্রকোপ বাড়ার পর লাইনে গ্যাস নেই বললেই চলে। সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশন ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ফারহান নুর বলেন, সিএনজি স্টেশনে অনেকদিন ধরে গ্যাসের সমস্যা চলছে। এ ব্যাপারে জ্বালানি উপদেষ্টা ও সচিবকে বারবার বলা হলেও কোনো সমাধান হচ্ছে না। তিনি বলেন, এতে একদিকে ব্যবসায়িক ক্ষতি হচ্ছে। অন্যদিকে সিএনজি ব্যবহারকারীরা চরম দুর্ভোগে পড়ছেন। সারা দেশে ৪০০’র মতো সিএনজি স্টেশন থাকলেও রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় আছে ২০০’র বেশি স্টেশন। খবর নিয়ে জানা যায়, শুক্রবার তিতাসের ডেমরা সিজিএস থেকে তেজগাঁও টিবিএসগামী পাইপলাইনের মেরামতের কাজ হয়েছে। এ কারণে গুলশান, বনানী, রামপুরা, মালিবাগ থেকে চৌধুরীপাড়া পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ বন্ধ ছিল। এছাড়া শীতের কারণে চুলায় পানি গরম করাসহ বিভিন্ন কারণে তিতাস এলাকায় গ্যাসের চাহিদা বেড়েছে দৈনিক ১০ কোটি ঘনফুটের মতো। তিতাস গ্যাস কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহনেওয়াজ পারভেজ যুগান্তরকে বলেন, পাইপলাইন মেরামতের কারণে ঢাকার বেশকিছু এলাকায় গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে। রোববার থেকে ওইসব এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বাড়বে। তবে এর আগে থেকেই গ্যাসের সংকট কিছুটা রয়েছে। শীতে গ্যাসের চাহিদা বাড়ে বলে জানান তিনি। এলপিজির সংকট কেন : কিছু দিন আগেও এলপিজি চাহিদামতো পাওয়া যেত। এখন কেন পাওয়া যায় না। এর উত্তরে ভিন্ন ভিন্ন মত পাওয়া গেছে। আজ বিইআরসি এলপিজির নতুন দাম ঘোষণা করবে। কিন্তু এর আগে বাজারে এলপিজির তীব্র সংকট। সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, বাংলাদেশে এলপিজি আমদানিতে ব্যবহার হতো এমন ২৯টি জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পড়েছে। এ কারণে জাহাজ পাওয়া যাচ্ছে না। তবে এলপিজি আমদানি এবং বোটলিং কোম্পানিদের সংগঠন এলপিজি অপারেটরস অব বাংলাদেশ-লোয়াবের সভাপতি আমিরুল হক যুগান্তরকে বলেন, এলপিজির সংকট তৈরি হয়েছে নানা কারণে। মাসিক চাহিদা ১ লাখ ২০ হাজার থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টন। কিন্তু এখন সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে ৯০ হাজার টনের মতো। তিনি বলেন, এলপিজি ব্যবসায় জড়িত ৫টি কোম্পানি এখন নানা কারণে তরল এলপিজি আমদানি বন্ধ রেখেছে। তাদের জায়গায় অন্য কোম্পানিগুলো আমদানি করতে চাইলেও সরকার তা করতে দিচ্ছে না। এ কারণে সংকট ভয়াবহ হচ্ছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বেশ কয়েকটি এলপিজিবাহী জাহাজকে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় এলপিজির খরচ টনে ১২০ ডলার থেকে বেড়ে ১৮০ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। তাই এলপিজির দাম পড়ছে বেশি। অন্য এক ব্যবসায়ী জানান, এলপিজির চাহিদা মাসে ১ লাখ ৫০ হাজার টনের বেশি। সিটি গ্রুপের এলপিজি কোম্পানির পরিচালক ফিরোজ আহমেদ জানান, এলপিজির পরিস্থিতি ভালো নয়। আগের মতো এ খাতে ট্রেডার নেই। চাহিদামতো এলপিজি পাওয়া যাচ্ছে না। কারণ, আগে অনেকে আমদানি করত। তারা এখন করে না। স্বভাবত এতে কিছুটা সংকট দেখা দিয়েছে। তেজগাঁও এলাকার এলপিজির ডিলার তাহের এন্টারপ্রাইজের মালিক আবু তাহের বলেন, এলপিজি পরিস্থিতি ভয়াবহ। আগে দৈনিক ২০০ সিলিন্ডার বিক্রি করতাম। এখন সপ্তাহে ২০০টি বিক্রি করার মতো সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। কারণ, এলপিজি সংকট। তিনি বলেন, তাহের এন্টারপ্রাইজ ৮টি কোম্পানির ডিলার। কিন্তু এলপিজি পাওয়া যাচ্ছে নিয়মিতভাবে শুধু ওমেরা থেকে। তাও চাহিদামতো নয়। বাকিগুলো নিয়মিত এলপিজি দেয় না বললেই চলে। তাছাড়া এলপিজি সংগ্রহে খরচও বেড়েছে। যেমন : একটি গাড়ি আগে একদিনে এলপিজি প্ল্যান্ট থেকে নিয়ে আসতে পারত। এখন ৩/৪ দিন প্ল্যান্টে বসে থাকতে হচ্ছে। এতে প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা লোকসান দিতে হচ্ছে। একই কারণে এলপিজির দামও পড়ছে বেশি। তার তথ্যানুযায়ী, তাহের এন্টারপ্রাইজ প্রতি সিলিন্ডার বিক্রি করছে ১৩০০ বা ১৪০০ টাকায়। কিন্তু চাহিদা বেশি থাকায় সেই সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ১৮০০ থেকে ২০০০ হাজার টাকায়। এলপিজির দাম সমন্বয় করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন-বিইআরসি। কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ শনিবার যুগান্তরকে বলেন, এলপিজি সংকটের বিষয়টি নজরে এসেছে। কিন্তু বাজার তদারকি করার দায়িত্ব তো বিইআরসির নয়। তাই এ ব্যাপারে কিছু করা যাচ্ছে না। এলপি গ্যাস

বাংলাদেশের তারকা পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল দল কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘিরে ভারতজুড়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র আকার নিয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে এবার প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুললেন কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর। তার মন্তব্যে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে খেলাধুলা ও রাজনীতির সীমারেখা। ডিসেম্বর মাসে আইপিএল ২০২৬ মিনি নিলামে ৯ দশমিক ২০ কোটি রুপিতে মুস্তাফিজুর রহমানকে দলে নিয়েছিল শাহরুখ খানের মালিকানাধীন কেকেআর। তখন বিষয়টি ছিল পুরোপুরি ক্রিকেটকেন্দ্রিক। মুস্তাফিজের অভিজ্ঞতা এবং আন্তর্জাতিক সাফল্যকে গুরুত্ব দিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে হিন্দু সংখ্যালঘুদের উপর হামলার খবর প্রকাশ্যে আসতেই পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। একাধিক বিজেপি নেতা প্রকাশ্যে দাবি তোলেন বাংলাদেশের কোনও ক্রিকেটারকে এই সময় আইপিএলে খেলতে দেওয়া উচিত নয়। সেই চাপের মধ্যেই বিসিসিআইয়ের নির্দেশে কেকেআর মুস্তাফিজকে দল থেকে মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়। এই সিদ্ধান্ত সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, ‘আমরা এখানে কাকে শাস্তি দিচ্ছি একজন ক্রিকেটারকে না একটি দেশকে না তার ধর্মকে। তার মতে খেলাধুলাকে এভাবে রাজনৈতিক রঙে রাঙানো অত্যন্ত বিপজ্জনক প্রবণতা। থারুর আরও বলেন মুস্তাফিজ কোনও ঘৃণা ছড়াননি তিনি কোনও হিংসাত্মক ঘটনার সঙ্গে যুক্ত নন তিনি একজন পেশাদার ক্রীড়াবিদ। একটি দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বা সামাজিক সমস্যার দায় একজন খেলোয়াড়ের ঘাড়ে চাপানো অন্যায্য।’ থারুর আরও প্রশ্ন তোলেন, ‘মুস্তাফিজের জায়গায় যদি বাংলাদেশের কোনও হিন্দু ক্রিকেটার থাকতেন তাহলে কি একই সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো। তার এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই ধর্মীয় বৈষম্যের অভিযোগ নতুন করে উঠে এসেছে।’ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে থারুর বলেন, ‘বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর হামলার ঘটনা নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক। ভারত সরকারের উচিত কূটনৈতিক স্তরে এই বিষয়টি তুলে ধরা এবং ঢাকা সরকারের উপর চাপ বজায় রাখা। কিন্তু সেই চাপ দেওয়ার পথ কখনওই খেলাধুলা হতে পারে না।’ এই বিতর্কের মাঝেই বিজেপি নেতা সঙ্গীত সোম কেকেআরের মালিক শাহরুখ খানকে দেশদ্রোহী বলেও আক্রমণ করেন। শিবসেনা এবং বিজেপির একাধিক নেতা দাবি করেন বাংলাদেশের পরিস্থিতির মধ্যে সে দেশের ক্রিকেটারকে আইপিএলে খেলতে দেওয়া অনুচিত। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে এই ঘটনা শুধু একটি ক্রিকেট দলের সিদ্ধান্ত নয় বরং প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক এবং খেলাধুলার সার্বজনীন চরিত্র নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে। শশী থারুরের বক্তব্য সেই প্রশ্নকে আরও জোরালো করেছে। ভারতের মতো বড় দেশের উচিত উদার দৃষ্টিভঙ্গি রাখা এবং খেলাধুলাকে রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের বাইরে রাখা এই মতই উঠে আসছে বিভিন্ন মহল থেকে।

১৯৮৯ সালে পানামার নেতা ম্যানুয়েল নরিয়েগাকে গ্রেফতারের পর দীর্ঘ সময় লাতিন আমেরিকার কোনো দেশে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ করেনি যুক্তরাষ্ট্র। তবে ২০২৬ সালের শুরুতেই সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটালেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত শুক্রবার রাতে ভেনেজুয়েলার বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আচমকা হামলা চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে মার্কিন বাহিনী। রাতের অন্ধকারে একজন ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টকে তার রাজধানী থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার এই ঘটনাকে অনেক বিশ্লেষক লাগামহীন ক্ষমতার নগ্ন বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বার্তার মাধ্যমে এই অভিযানের কথা জানান। ৭৪ শব্দের সেই পোস্টে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, নিজের বিচিত্র সব পররাষ্ট্র নীতি বাস্তবায়নে তিনি কতটা বেপরোয়া হতে পারেন। আন্তর্জাতিক আইন বা এই ধরনের পদক্ষেপের সুদূরপ্রসারী পরিণতির তোয়াক্কা না করেই তিনি মাদুরোকে মার্কিন একটি জাহাজে করে নিউইয়র্ক নিয়ে আসার ঘোষণা দিয়েছেন, যেখানে তাকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। এই ঘটনা ১৯৮৯ সালে পানামার ম্যানুয়েল নরিয়েগাকে গ্রেফতারের স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়। মাদুরো ও নরিয়েগা—উভয়ের বিরুদ্ধেই বিতর্কিত নির্বাচন এবং মাদক পাচারের অভিযোগ ছিল। তবে নরিয়েগার ক্ষেত্রে একটি ছোটখাটো যুদ্ধের পর তিনি ভ্যাটিকান দূতাবাসে আশ্রয় নিয়েছিলেন এবং পরে আত্মসমর্পণ করেছিলেন। অন্যদিকে মাদুরোর পরিণতি অনেকটা ২০০৩ সালে ইরাকের প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের ধরা পড়ার ঘটনার সঙ্গেও তুলনীয়। মজার ব্যাপার হলো, নরিয়েগা এবং সাদ্দাম—উভয়েই একসময় ওয়াশিংটনের ঘনিষ্ঠ মিত্র ছিলেন, ঠিক যেমন ভেনেজুয়েলার তেল রাজনীতি একসময় যুক্তরাষ্ট্রের অনুকূলে ছিল। মাদুরোর বিরুদ্ধে অভিযোগ ও ট্রাম্পের ‘মনরো’ মতবাদ যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, মাদুরো অবৈধভাবে ক্ষমতায় বসেছেন এবং ব্যক্তিগতভাবে মাদক পাচারে জড়িত। এই অভিযোগে গত কয়েক মাস ধরেই ক্যারিবীয় সাগরে নৌবহর ও পরমাণু-ডুবোজাহাজ মোতায়েন করে রেখেছিল যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের পেছনে কেবল অপরাধ দমন নয়, বরং ১৯ শতকের ‘মনরো’ মতবাদ পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যও রয়েছে। এই মতবাদ অনুযায়ী পশ্চিম গোলার্ধকে যুক্তরাষ্ট্রের একক ‘প্রভাব অঞ্চল’ হিসেবে গণ্য করা হয়। ট্রাম্পের মূল লক্ষ্য হলো এই অঞ্চলে চীনের প্রভাব খর্ব করা এবং ভেনেজুয়েলার বিশাল তেলের মজুদের ওপর নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনা। মাদুরোকে আটকের পর ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে। মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি জানিয়েছেন, মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক-সন্ত্রাসবাদ এবং অবৈধ অস্ত্র রাখার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। যদিও এই বিচারকে অনেকেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হিসেবে দেখছেন, কারণ হোয়াইট হাউস দীর্ঘকাল ধরেই ভেনেজুয়েলার বামপন্থি সরকারকে হটাতে মরিয়া ছিল। বর্তমানে প্রশ্ন উঠছে, মাদুরোর পতনের পর ভেনেজুয়েলায় কি শান্তি ফিরবে নাকি গৃহযুদ্ধ শুরু হবে? বিরোধীদলীয় নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো বা এডমান্ডো গঞ্জালেসের ক্ষমতায় আসার পথ প্রশস্ত হলেও দেশটির সেনাবাহিনী এখনো মাদুরোর অনুগত থাকতে পারে। ট্রাম্পের জন্য এটি একটি বড় বিজয় হলেও, এর ফলে ভেনেজুয়েলায় যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে তা পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলে দিয়েছে।

নোয়াখালীতে বইছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। চলতি শীত মৌসুমে জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় এ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। পৌষ মাসের শুরু থেকেই নোয়াখালীতে তাপমাত্রা ১৩ থেকে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছিল। তবে পৌষের মাঝামাঝি এসে হঠাৎ করেই তীব্র শীতের প্রকোপ বেড়েছে। কয়েকদিন ধরে সূর্যের দেখা মিলছে না বললেই চলে। ঘন কুয়াশা আর হিমেল বাতাসে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জেলার মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। ঘন কুয়াশার কারণে দিনের বেলাতেও সড়কে ছোট-বড় যানবাহনগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে। শীতের তীব্রতায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন দিনমজুর, কৃষিশ্রমিক, রিকশাচালকসহ নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষ। কাজের খোঁজে ঘর থেকে বের হলেও কনকনে ঠান্ডায় স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারছেন না তারা। বিশেষ করে নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চল ও উপকূলীয় এলাকার মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। এসব এলাকায় এখনো সরকারি ও বেসরকারি কোনো শীতবস্ত্র সহায়তা পৌঁছায়নি বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। পর্যাপ্ত কম্বল ও শীতবস্ত্রের অভাবে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থরা সবচেয়ে বেশি কষ্টে রয়েছেন। চরাঞ্চলের বাসিন্দারা জানান, গত কয়েকদিন ধরে কুয়াশার সঙ্গে ঠান্ডা বাতাস বইতে থাকায় শীতের অনুভূতি আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। আগের দিনের তুলনায় শনিবারের কনকনে ঠান্ডায় মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে কয়েকগুণ। শীত নিবারণের জন্য অনেককে খড়কুটো ও জ্বালানি পুড়িয়ে আগুন পোহাতে দেখা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত চর ও উপকূলীয় এলাকায় সরকারি উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণের দাবি জানিয়েছেন। মো. আকবর ও মো. আবদুল্লাহ বলেন, চর আতাউরসহ হাতিয়া উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলে এখনো সহায়তা পৌঁছে নাই। মানুষ খুব কষ্ট করছে। কর্মহীন হয়ে আছে। অবিলম্বে সহায়তা না পৌঁছালে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি আরও বাড়বে। জেলা আবহাওয়া কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, চলতি শীত মৌসুমে জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগামী কয়েকদিন নোয়াখালীসহ উপকূলীয় অঞ্চলে শীতের প্রকোপ অব্যাহত থাকতে পারে এবং ভোর পর্যন্ত ঘন কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। হাতিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলাউদ্দিন বলেন, আমরা নিঝুমদ্বীপসহ বিভিন্ন স্থানে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। কিছু বিচ্ছিন্ন দ্বীপে সহায়তা পৌঁছেনি। চর আতাউরসহ অন্যান্য স্থানে দ্রুত পৌঁছে দেওয়া হবে। দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মাঝে পর্যায়ক্রমে শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, গত কয়েকদিনের শীতে সাধারণ মানুষের কষ্টের শেষ নাই। অনেকেই কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। শীতার্ত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো সরকারের মানবিক দায়িত্ব, একজন মানুষও যেন শীতের কষ্টে অবহেলিত না থাকে সে লক্ষ্যেই জেলা প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে।

সবাইকে কাঁদিয়ে বিদায় নিল ২০২৫, শুরু হলো চ্যালেঞ্জিং নির্বাচনী বছর সময়ের আবর্তে ক্যালেন্ডারের পাতা থেকে ঝরে গেল আরও একটি বছর। ঘড়ির কাঁটা মধ্যরাত স্পর্শ করতেই ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই নিল ২০২৫ সাল। পূর্ব আকাশে উদিত নতুন সূর্য আজ বহন করে এনেছে ২০২৬ সালের শুভ বার্তা। তবে, বিদায়ী ২০২৫ সাল পেছনে রেখে গেছে ইতিহাসের এক বিশাল খতিয়ান— যেখানে অমলিন হয়ে আছে রাজনৈতিক নাটকীয়তা, রাষ্ট্র সংস্কারের সংগ্রাম আর একরাশ শোকাতুর স্মৃতি। অন্যদিকে, বাংলাদেশের মানুষের জন্য ২০২৬ সাল কেবল একটি নতুন বর্ষবরণ নয় বরং এক কঠিন অগ্নিপরীক্ষার নাম। কারণ, দোরগোড়ায় কড়া নাড়ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। চলুন, একনজরে ফিরে দেখা যাক ২০২৫ সালের সেই ঘটনাবহুল দিনলিপি। জানুয়ারি : সংস্কারের রোডম্যাপ ও নতুন বাংলাদেশের সূচনা সংস্কারের অঙ্গীকার : ১৭ জানুয়ারি জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ বাস্তবায়নের শপথ পুনর্ব্যক্ত করেন। পুলিশ, বিচার বিভাগ ও নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কার কমিশনগুলো মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করে। জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিচ্ছেন প্রধান উপদেষ্টা ঐতিহাসিক রায় ও মুক্তি : ১৫ জানুয়ারি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার সাজা বাতিল করেন উচ্চ আদালত। পরদিন ১৬ জানুয়ারি দীর্ঘ সাড়ে ১৭ বছর পর কারামুক্ত হন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর। ক্যাম্পাস ও রাজপথ : সাত কলেজের স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবিতে উত্তাল হয়ে ওঠে ঢাকা। মাসের শেষে রানিং স্টাফদের ধর্মঘটে স্থবির হয়ে পড়ে দেশের রেলযোগাযোগ। ফেব্রুয়ারি : কূটনৈতিক তৎপরতা ও ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ অপারেশন ডেভিল হান্ট : এক দিনে সারা দেশে গ্রেপ্তার ৪৬১ নিরাপত্তা অভিযান : অপরাধ দমনে গত ৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হয় যৌথ বাহিনীর ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’। প্রথম দিনেই সহস্রাধিক গ্রেপ্তার দেশজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে। কূটনৈতিক টানাপড়েন : সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য ও উসকানিমূলক তৎপরতার অভিযোগে ভারতীয় হাইকমিশনারকে তলব করা হয়। ১২ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘ জুলাই বিপ্লবের ওপর ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের’ আলামত সম্বলিত প্রতিবেদন প্রকাশ করে। নতুন রাজনৈতিক শক্তি : ২৮ ফেব্রুয়ারি আত্মপ্রকাশ করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’। মার্চ-এপ্রিল : উত্তপ্ত হয় দ্রব্যমূল্যের বাজার ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক। আর রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণই ছিল সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ। জাতীয় নাগরিক পার্টির ২১৭ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন চুক্তি পুনর্বিবেচনা : আদানি গ্রুপসহ বিতর্কিত বিদ্যুৎ চুক্তিগুলো তদন্তে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠিত হয়। আইনি পরিবর্তন : বিতর্কিত সাইবার নিরাপত্তা আইন বাতিল করে ‘সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫’ প্রবর্তিত হয়। বিনিয়োগ ও কূটনীতি : এপ্রিলে ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট সামিট’-এ ৫০টি দেশের প্রতিনিধি অংশ নেন। দীর্ঘ ১৫ বছরের শীতল সম্পর্ক কাটিয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে শুরু হয় উচ্চপর্যায়ের আনুষ্ঠানিক বৈঠক। মে : খালেদা জিয়ার প্রত্যাবর্তন আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত : ১২ মে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নির্দেশে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের সব কার্যক্রম নিষিদ্ধ এবং নিবন্ধন স্থগিত করা হয়। খালেদা জিয়ার ফিরে আসা : দীর্ঘ চিকিৎসার পর ৬ মে লন্ডন থেকে দেশে ফেরেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। খালেদা জিয়ার কণ্ঠ নকল করে চাঁদাবাজি, সাড়ে ৫ কোটি টাকা ফ্রিজ করল সিআইডি মব ভায়োলেন্স ও দুর্যোগ : একই মাসেই দেশের বিভিন্ন স্থানে ‘মব জাস্টিস’ বা গণপিটুনির মতো ঘটনা উদ্বেগ সৃষ্টি করে। মাসের শেষে ঘূর্ণিঝড় ও ভূমিধসে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে মানবিক বিপর্যয় নেমে আসে। জুন-জুলাই : বাজেট ও আকাশপথে ট্র্যাজেডি গত ২ জুন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার উচ্চাভিলাষী বাজেট পেশ করেন। তবে, জুলাই মাসে ঢাকার উত্তরার মাইলস্টোন কলেজের ওপর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তে ৩২ জনের মৃত্যু জাতিকে শোকাতুর করে তোলে। সেই সঙ্গে ২৪ জুলাই গ্রেপ্তার হন সাবেক প্রধান বিচারপতি এ. বি. এম. খায়রুল হক। রোববার খুলছে না মাইলস্টোন, কলেজ খোলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত সোমবার আগস্ট-সেপ্টেম্বর : অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের এক বছর পূর্তিতে ‘জুলাই বিপ্লব দিবস’ পালিত হয়। অক্টোবর-নভেম্বর : রায় ও নির্বাচনের সানাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল জুলাই হত্যাকাণ্ডের দায়ে (অনুপস্থিতিতে) সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। সুপ্রিম কোর্টের রায়ে সংবিধানে ফিরে আসে ‘নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার’ ব্যবস্থা। আর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দীর্ঘক্ষণ বিমান চলাচল বন্ধ থাকে। শাহজালালের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ারের ৩৭ ইউনিট ডিসেম্বর : এক নক্ষত্রের বিদায় ও শোকার্ত সমাপ্তি বছরের শেষ মাসটি ছিল বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য সবচেয়ে বেদনাবিধুর। এই মাসের ১১ তারিখ নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করে বহু প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল। তফসিল অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন নির্ধারিত হয়। ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড : পল্টনে তরুণ নেতা ওসমান হাদির ওপর নৃশংস হামলা ও ১৮ ডিসেম্বর তার শাহাদাত বরণ পুরো দেশকে স্তব্ধ করে দেয়। তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন : দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। ঢাকায় পৌঁছালেন তারেক রহমান খালেদা জিয়ার প্রয়াণ : বছরের শেষলগ্নে ইন্তেকাল করেন দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। ৩১ ডিসেম্বর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে লাখো মানুষের অংশগ্রহণে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। শহীদ জিয়ার কবরের পাশেই তাকে দাফন করা হয়। ২০২৬ সাল : যে চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে হবে ২০২৫ সালকে বিদায় জানিয়ে ২০২৬ সালে পা রাখল বাংলাদেশ। নতুন বছরে অন্তর্বর্তী সরকারের মূল চ্যালেঞ্জ হলো একটি অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্পন্ন করা। আর রাজনৈতিক সমঝোতা বজায় রাখা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং আকাশচুম্বী দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের নাগালে রাখাই হবে নতুন সরকারের ও প্রশাসনের জন্য কঠিনতম পরীক্ষা। গণভোট ও অধ্যাদেশসহ ৪ উপায়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সুপারিশ সংসদ নির্বাচনের চ্যালেঞ্জ গণভোট ও জুলাই চার্টার : নির্বাচনের দিনই জুলাই চার্টার বা জুলাই ঘোষণার ওপর ভিত্তি করে সংবিধানের আমূল পরিবর্তন (যেমন—দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদের সীমাবদ্ধতা) নিয়ে গণভোট হবে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সফলভাবে সম্পন্ন করা নির্বাচন কমিশনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করা হচ্ছে।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) আওয়ামী লীগের ফেসবুক পেজে লেখা হয়, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করছি। বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তার অবদান অপরিসীম। তার মৃত্যুতে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতিতে এবং বিএনপি নেতৃত্বের এক অপূরণীয় ক্ষতি হলো। আমি খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। আমি তার ছেলে তারেক রহমান ও পরিবারের অন্যান্য শোকাহত সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। আশা করছি, মহান আল্লাহ তার পরিবারের সদস্যদের এবং বিএনপির সবাইকে এই শোক কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করবেন।

বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিন বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। বিএনপি মিডিয়া সেলের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে বলা হয়েছে, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজ সকাল ৬টায় ফজরের ঠিক পরে ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। আমরা তার রূহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং সকলের নিকট তার বিদেহী আত্মার জন্য দোয়া চাচ্ছি।’ গত ২৩ নভেম্বর থেকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন খালেদা জিয়া। আইসিইউতে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার অবস্থা অত্যন্ত জটিল এবং তিনি সংকটময় মুহূর্ত পার করছিলেন বলে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানিয়েছিলেন। বেগম খালেদা জিয়া ১৯৪৬ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ইস্কান্দার মজুমদার ও মা তৈয়বা মজুমদার। শৈশবে তিনি দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং পরবর্তীতে সুরেন্দ্রনাথ কলেজে পড়াশোনা করেন। ১৯৬০ সালে তিনি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন তিনি ফার্স্ট লেডি হিসেবে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন। ১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদতবরণের পর দলের সংকটময় মুহূর্তে তিনি রাজনীতিতে পদার্পণ করেন। ১৯৮২ সালের ২ জানুয়ারি বিএনপির প্রাথমিক সদস্য হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে তার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়। এরপর ১৯৮৩ সালে তিনি দলের ভাইস-চেয়ারম্যান এবং ১৯৮৪ সালে চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন। আশির দশকে তৎকালীন সামরিক স্বৈরশাসক এইচ এম এরশাদের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে তিনি নেতৃত্ব দেন। আপসহীন সংগ্রামের কারণে তিনি ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। এই দীর্ঘ আন্দোলনে তিনি সাত দলীয় জোট গঠন করেন এবং স্বৈরাচারের পতন না হওয়া পর্যন্ত কোনো নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার দৃঢ় ঘোষণা দেন। এই দীর্ঘ লড়াইয়ে তাকে ১৯৮৩ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত সাতবার আটক ও গৃহবন্দী করা হয়েছিল। ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে জয়লাভ করে তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। তার সময়েই দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি শিক্ষা খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনেন; যার মধ্যে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা, মেয়েদের জন্য দশম শ্রেণি পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা এবং উপবৃত্তি কর্মসূচি উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া তিনি সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ২৭ থেকে ৩০ বছরে উন্নীত করেন। ১৯৯৬ সালের জুন মাসের নির্বাচনে বিএনপি পরাজিত হলেও তিনি ১১৬টি আসন নিয়ে সংসদে বৃহত্তম বিরোধী দলীয় নেত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৯ সালে তিনি চারদলীয় জোট গঠন করেন এবং ২০০১ সালের সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় নিয়ে আবারও প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। ২০০৫ সালে ফোর্বস ম্যাগাজিন তাকে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর নারীদের তালিকায় ২৯ নম্বরে স্থান দেয়। বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে কোনো আসনেই পরাজিত না হওয়ার অনন্য রেকর্ডের অধিকারী। তিনি ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত প্রতিটি নির্বাচনে যে কয়টি আসনে দাঁড়িয়েছেন, তার সবকটিতেই জয়লাভ করেছেন। ২০১১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি স্টেট সিনেট গণতন্ত্রের প্রতি তার অবদানের জন্য তাঁকে ‘গণতন্ত্রের যোদ্ধা’ উপাধিতে ভূষিত করে। ২০১৮ সালে একটি বিতর্কিত মামলার রায়ে তাকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। যদিও আন্তর্জাতিক এবং দেশীয় আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই বিচারের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। পরে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতন হলে একে একে সব মামলায় খালাস পান বিএনপি চেয়ারপারসন।

ইউক্রেনে যুদ্ধাবসানের জন্য ওয়াশিংটনের নেতৃত্বে যে শান্তি সংলাপ ও কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে, তা বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল রোববার যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে সাংবাদিকদের সঙ্গে মত বিনিময়কালে এ ইস্যুতে কথা বলেন তিনি। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি রোববার ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করতে ফ্লোরিডা যান। ফ্লোরিডার পাম বিচ শহরে ট্রাম্পের বিলাসবহুল প্রাসাদ মার-আ-লাগোতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক হয় তার। বৈঠক শেষে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, “আমরা মনে হয় আমরা শান্তি সংলাপের চূড়ান্ত পর্যায়ে আছি। এখন আমাদের আরও সতর্ক হতে হবে। নয়তো ফের এই ব্যাপারটি দীর্ঘদিনের জন্য ঝুলে যাবে।” জেলেনস্কির সঙ্গে রোববারের বেঠক সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, “আমাদের আলোচনা চমৎকার হয়েছে। কিছু ব্যাপার এখনও অমীমাংসিত থেকে গেছে। আশা করছি শিগগিরই সেগুলোর মীমাংসা হবে।” ট্রাম্প যদিও ভেঙে বলেননি, তবে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে রাশিয়াকে ভূখণ্ড ছাড় দেওয়ার দেওয়ার ব্যাপারটি এখনও অমীমাংসিত থেকে গেছে। ইউক্রেনে যুদ্ধাবসানের জন্য দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় দুই প্রদেশ দোনেৎস্ক, লুহানস্ক এবং মধ্যাঞ্চলীয় প্রদেশ ঝাপোরিজ্জিয়ার কিছু অংশ দাবি করেছে রাশিয়া। ইউক্রেন এখনও তাতে ইতিবাচক সাড়া দেয়নি। তবে সংবাদ সম্মেলনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রাশিয়ার যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যে নিরাপত্তা নিশ্চয়তার দাবি করেছে ইউক্রেন, রোববারের আলোচনায় সে বিষয়টি অনেকটা অগ্রসর হয়েছে। সামনের সপ্তাহে যুদ্ধাবসানের সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য বিষয়গুলো নিয়ে ফের বৈঠক হবে বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি। এদিকে জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক ও বৈঠক পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনের বেশ কিছু সময় পর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করা এক বার্তায় ট্রাম্প জানান, জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের আগে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টা টেলিফোনে কথা হয়েছে তার। ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে ট্রাম্প বলেন, “রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট (ভ্লাদিমির) পুতিনের সঙ্গে খুবই ভালো এবং ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। তিনি ইউক্রেনে যুদ্ধাবসানের ব্যাপারটি খুব গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন।” ক্রিমিয়া উপদ্বীপকে রুশ ভূখণ্ড হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা রক্ষা না করা এবং ন্যাটোর সদস্যপদের জন্য কিয়েভের তদবিরের জেরে কয়েক বছর ধরে টানাপোড়েন চলার পর ২০২২ সালে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে রুশ বাহিনী। এ অভিযান এখনও চলছে। ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের শপথ গ্রহণ করার পর থেকে এই সংঘাত থামানোর জন্য চেষ্টা করে আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার নেতৃত্বাধীন মার্কিন প্রশাসন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্য ফেনী-১, বগুড়া-৭ ও দিনাজপুর-৩ আসন থেকে তার জন্য মনোনয়ন সংগ্রহ করা হয়েছিল। আজ (সোমবার) এই তিন আসনে তার পক্ষে থেকে মনোনয়ন জমা দেওয়া হবে। তবে, কোনো কারণে বিএনপির চেয়ারপারসন নির্বাচনে অংশ নিতে না পারলে তার জন্য এসব আসনে বিকল্প প্রার্থীও রাখা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিলের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আজ ২৯ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণে ইচ্ছুক প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। ফেনী-১ (ফুলগাজী-পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া) আসনে বেগম খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র জমা দেবেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু। খালেদা জিয়ার পাশাপাশি এই আসন থেকে নিজের জন্য মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন মজনু। রফিকুল আলম মজনু বলেন, আজকে ম্যাডামের মনোনয়ন জমা দেব। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার জন্য মনোনয়ন সংগ্রহ করেছি। তবে, জমা দেব কিনা তা নির্ভর করছে দলের সিদ্ধান্তের ওপর। বগুড়া-৭ (গাবতলী) আসন থেকে খালেদা জিয়ার পাশাপাশি মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোরশেদ আলম। আর দিনাজপুর-৩ (সদর) আসনে সাবেক পৌর মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম। মোরশেদ আলম বলেন, বগুড়া-৭ থেকে আজ ম্যাডামের মনোনয়ন জমা দেওয়া হবে। ম্যাডামের সাপোর্টিং হিসেবে আমাকে মনোনয়ন সংগ্রহ করতে বলা হয়েছিল। ম্যাডামের পাশাপাশি আমার মনোনয়ন জমা দিচ্ছি। জিবিকে প্রস্তুতির নির্দেশ গত ২৩ নভেম্বর থেকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন খালেদা জিয়া। বর্তমানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার অবস্থা অত্যন্ত জটিল এবং তিনি সংকটময় মুহূর্ত পার করছেন বলে জানিয়েছেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, এখন ম্যাডামের নির্বাচন করা বা না করা নিয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। যার কারণে উনার পাশাপাশি এসব আসনে বিকল্প প্রার্থী রাখা হচ্ছে। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পাশাপাশি, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ থেকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

৭১ জন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার সনদ বাতিল করেছে সরকার। সনদ বাতিল করে গত ২৪ ডিসেম্বর গেজেট জারি করা হয়েছে। এর আগে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়েছে, ‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন, ২০২২’ এর ৬ (গ) ধারা এবং ‘রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬’ এর সিডিউল-১ (অ্যালোকেশন অব বিজনেস) এ দেওয়া ক্ষমতাবলে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) ১০১তম সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক এদের গেজেট বাতিল করা হয়েছে। এদের মধ্যে বেসামরিক, ভারতীয় তালিকা, লালমুক্তিবার্তা, আনসার বাহিনী, সেনাবাহিনী, শহীদ পুলিশ বাহিনীর মুক্তিযোদ্ধারা রয়েছেন। জামুকা সূত্রে জানা গেছে, মুক্তিযোদ্ধা না হয়েও তারা সনদ নিয়েছেন। যাচাই-বাছাইয়ে সেটি প্রমাণিত হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষায় এই যাচাই-বাছাই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। ভবিষ্যতেও কেউ ভুয়া পরিচয়ে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি নিলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনী জোটের সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে চিঠি দিয়েছেন দলটির ১৭০ জন কেন্দ্রীয় নেতা। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) রাতে এনসিপির আহ্বায়কের কাছে পাঠানো এই চিঠিতে জোটের পক্ষে থাকা নেতারা গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত বিষয়ে নিজেদের সম্মতি দিয়েছেন। এর আগে জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠনে আপত্তি জানিয়ে ৩০ নেতার একটি চিঠিকে কেন্দ্র করে দলের অভ্যন্তরে মতবিরোধ প্রকাশ্যে আসার পর এর পাল্টা পদক্ষেপ নিলেন জোটপন্থিরা। তারা জানান, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এমন কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, জোটের পক্ষে স্বাক্ষরকারীর সংখ্যা ১৭০ ছাড়িয়ে যেতে পারে। চিঠিতে এনসিপির কেন্দ্রীয় পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতারা বলেন, আমরা দলীয় আদর্শ, লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ কৌশলগত অবস্থানকে সমুন্নত রাখার স্বার্থে এই মতামত পেশ করছি। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনর্গঠন, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারকে টেকসই করা এবং একটি জনমুখী ও দায়বদ্ধ রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য রাজনৈতিকভাবে সময়োপযোগী ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে আমরা মনে করি। নেতারা আরও উল্লেখ করেন, দলীয় ও জাতীয় স্বার্থে এবং গণতান্ত্রিক রূপান্তরের বৃহত্তর লক্ষ্যকে সামনে রেখে এনসিপি যদি কোনো রাজনৈতিক দল বা জোটের সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতা কিংবা জোট গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, তবে সে বিষয়ে তাদের পূর্ণ সমর্থন ও সম্মতি রয়েছে। তারা স্পষ্ট করেন যে, নির্বাহী কাউন্সিলের সুপারিশের আলোকে আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব কর্তৃক গৃহীত যে কোনো জোট বা নির্বাচনী সমঝোতা সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের প্রতি তাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে।

দীর্ঘ ১৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ শুরু হয়েছে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা। চলবে আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এ বছর পাঁচটি বিষয়ে মোট ৪০০ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়া হবে। দেশের ৬১১ কেন্দ্রে একযোগে এ মেধা যাচাই লড়াইয়ে অংশ নিচ্ছে প্রায় সাড়ে তিন লাখ শিক্ষার্থী। পরীক্ষা নির্বিঘ্ন করতে শিক্ষা বোর্ডগুলো জারি করেছে একগুচ্ছ কঠোর নির্দেশনা, যা অমান্য করলে বাতিল হতে পারে পরীক্ষার্থীর প্রার্থিতা। জানা গেছে, প্রতিটি কেন্দ্র ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ফেরাতে প্রতিটি কক্ষে সিসি ক্যামেরা স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রতি ২০ শিক্ষার্থীর জন্য রাখা হয়েছে একজন করে কক্ষ পরিদর্শক। ডিজিটাল জালিয়াতি রুখতে পরীক্ষার কেন্দ্রে কোনো ধরনের স্মার্টফোন, স্মার্টওয়াচ বা ব্লুটুথ ডিভাইস নিয়ে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে গাণিতিক সমস্যা সমাধানের জন্য পরীক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট ৮টি মডেলের সায়েন্টিফিক নন-প্রোগ্রামেবল ক্যালকুলেটর ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অনুমতিপ্রাপ্ত ক্যাসিও ব্র্যান্ডের নির্দিষ্ট কিছু মডেল (যেমন: Fx-82MS, Fx-100MS, Fx-991ES Plus, Fx-991CW প্রভৃতি) এবং সাধারণ ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারবে। প্রোগ্রামেবল কোনো ক্যালকুলেটর পাওয়া গেলে তা তাৎক্ষণিক বাজেয়াপ্ত করা হবে। ৪০০ নম্বরের এই পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি ও গণিতে ১০০ এবং বিজ্ঞান ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ে ৫০ নম্বর করে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পরীক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় বরাদ্দ রেখেছে এনসিটিবি। এর আগে ২০০৯ সালের পর জেএসসি-জেডিসিপ্রথা চালু হওয়ায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল এই বিশেষ বৃত্তি পরীক্ষা। বৈষম্যবিরোঘী ছাত্র অভ্যুত্থানপরবর্তী সময়ে আবারও এই ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এবারের নীতিমালায় ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ—এই দুই ক্যাটাগরিতে বৃত্তি দেওয়া হবে, যার ৫০ শতাংশ ছাত্র এবং ৫০ শতাংশ ছাত্রীর জন্য সংরক্ষিত।

দেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে বঙ্গভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাকে শপথবাক্য পাঠ করান। শপথ অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস উপস্থিত ছিলেন। গত ২৩ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে আইন মন্ত্রণালয়। সংবিধানের ৯৫ (১) অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি তাকে এ নিয়োগ দেন। আজ শপথ গ্রহণের দিন থেকেই তার এ নিয়োগ কার্যকর হবে। বিদায়ী প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ গতকাল শনিবার অবসরে যান। এদিন তার চাকরির মেয়াদ ৬৭ বছর পূর্ণ হয়। নতুন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী আইন পেশায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন। তিনি ১৯৮৫ সালে জেলা জজ আদালতে এবং ১৯৮৭ সালে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। ২০০৩ সালের ২৭ আগস্ট তিনি হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারপতি হন এবং দুই বছর পর স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। ২০২৪ সালের ১২ আগস্ট তাকে আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয়। শিক্ষাজীবনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি (সম্মান) ও এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে যুক্তরাজ্য থেকে আন্তর্জাতিক আইন বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।

তাবলিগ জামাতের পুরোনো সাথীদের নিয়ে ৩ দিনব্যাপী খুরুজের জোড় শুরু হবে আগামী ২ জানুয়ারি। টঙ্গীতে অবস্থিত বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে এ খুরুজের জোড় অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষে প্রয়োজনীয় মাঠ প্রস্তুতির কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) কালবেলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন তাবলিগ জামাত বাংলাদেশ শুরায়ি নেজামের মিডিয়া সমন্বয়ক হাবিবুল্লাহ রায়হান। তিনি বলেন, আগামী ২, ৩ ও ৪ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে তাবলিগ জামাত বাংলাদেশের (শুরায়ী নেজাম) অধীনে খুরুজের জোড় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এতে অংশগ্রহণ করবেন যারা মহান আল্লাহর রাস্তায় এক চিল্লা, তিন চিল্লা ও বিদেশ সফরের উদ্দেশ্যে বের হবেন এবং যারা মেহনতের মাধ্যমে সাথীদের এ কাজে উদ্বুদ্ধ করে নিয়ে আসবেন শুধু তারাই। হাবিবুল্লাহ রায়হান বলেন, এ সময় টঙ্গীতে ৫৯তম বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের পর তা আয়োজন করা হবে। সরকারের এ সিদ্ধান্তের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে তাবলিগ জামাত বাংলাদেশ (শুরায়ী নেজাম) গত ৩ নভেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি দেশবাসীকে অবহিত করেছে। তিনি আরও বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য, ‘সাদপন্থি’ নামে পরিচিত একটি মহল এই খুরুজের জোড়কে ইজতেমা আখ্যা দিয়ে বিভিন্ন স্থানে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। এমনকি তারা নিজেরাও একই স্থানে ইজতেমা আয়োজনের দাবি জানাচ্ছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। হাবিবুল্লাহ বলেন, অতীতে তারা দুইবার প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত অমান্য করে সহিংসতার আশ্রয় নিয়েছে। ২০১৮ সালের ১ ডিসেম্বর তারা ইজতেমা মাঠ প্রস্তুতির কাজে নিয়োজিত তাবলিগের সাথীদের ওপর হামলা চালায়, যেখানে প্রায় ৫ হাজার সাথী আহত হন। দ্বিতীয়বার, ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে তারা পুনরায় বর্বর হামলা চালায়, এতে চারজন সাথী শহীদ হন এবং শতাধিক সাথী আহত হন। এই ন্যাক্কারজনক কর্মকাণ্ডের ফলে তারা নীতিগত ও নৈতিকভাবে ইজতেমা মাঠে কোনো প্রকার জোড় বা ইজতেমা আয়োজনের অধিকার হারিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, এ প্রেক্ষাপটে, ৫৮তম বিশ্ব ইজতেমার পূর্বে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়-- সাদপন্থিরা ১৪-১৬ ফেব্রুয়ারি ইজতেমা করতে পারবে, তবে পরবর্তী বছরগুলোতে তারা টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানে কোনো ধরনের ইজতেমা বা তাবলিগী কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না। নির্ধারিত শর্ত পূরণের সাপেক্ষেই তারা উক্ত সময়ের ইজতেমা সম্পন্ন করে, যা পুরো দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছে। সবশেষ তিনি বলেন, পরবর্তীতে তারা এ শর্ত মেনেই চলতি বছরে তাদের কার্যক্রম বিভাগীয় পর্যায়ে সম্পন্ন করেছেন। অথচ হঠাৎ করেই আবার তারা ইজতেমা মাঠকে কেন্দ্র করে ষড়যন্ত্রমূলক তৎপরতায় লিপ্ত হয়েছে, যা শান্তিপূর্ণ ধর্মীয় পরিবেশ ও জাতীয় স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি।

জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর অভিবাসন নীতি কঠোর করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর ফলে অবৈধ অভিবাসীরা যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন। তবে শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, অন্য অনেক দেশও নানা কারণে ভারতীয় নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে দেয়। গত পাঁচ বছরের পরিসংখ্যান দেখায়, শীর্ষে রয়েছে সৌদি আরব। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সৌদি আরব থেকে সবচেয়ে বেশি ভারতীয় নাগরিককে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বিতাড়নের মূল কারণ সাধারণত অবৈধ সীমান্ত অতিক্রম নয়; বরং ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়া, শ্রম আইন ভঙ্গ, বৈধ ওয়ার্ক পারমিট ছাড়া কাজ, নিয়োগদাতার কাছ থেকে পালিয়ে যাওয়া বা দেওয়ানি-ফৌজদারি মামলায় জড়িয়ে পড়া। রিয়াদের ভারতীয় মিশনের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরব থেকে বিতাড়নের সংখ্যা ছিল—২০২১ সালে ৮ হাজার ৮৮৭, ২০২২ সালে ১০ হাজার ২৭৭, ২০২৩ সালে ১১ হাজার ৪৮৬, ২০২৪ সালে ৯ হাজার ২০৬ ও ২০২৫ সালে এখন পর্যন্ত ৭ হাজার ১৯ জন। এর তুলনায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতীয়দের বিতাড়নের সংখ্যা অনেক কম। ওয়াশিংটন ডিসি থেকে ২০২১ সালে ৮০৫ জন, ২০২২ সালে ৮৬২, ২০২৩ সালে ৬১৭, ২০২৪ সালে ১ হাজার ৩৬৮ ও ২০২৫ সালে ৩ হাজার ৪১৪ জন। অন্য শহর যেমন সানফ্রানসিসকো, নিউইয়র্ক, আটলান্টা, হিউস্টন ও শিকাগোতে সংখ্যা সাধারণত দুই অঙ্ক বা কম। উল্লেখযোগ্যভাবে, অন্যান্য দেশ থেকেও ভারতীয়দের ফেরত পাঠানো হয়েছে। মিয়ানমার থেকে ১ হাজার ৫৯১, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ১ হাজার ৪৬৯, মালয়েশিয়া থেকে ১ হাজার ৪৮৫, বাহরাইন থেকে ৭৬৪, থাইল্যান্ড থেকে ৪৮১ ও কম্বোডিয়া থেকে ৩০৫ জনকে ফেরত পাঠানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিদেশে থাকা ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। ভারতীয় মিশনগুলো সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রেখে উদ্ধার ও প্রত্যাবাসনের কাজ করছে। তথ্যসূত্র : এনডিটিভি

এনসিপি থেকে পদত্যাগ করেছেন তাসনিম জারা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা। একইসঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তিনি (তাসনিম জারা) পদত্যাগ করেছেন। তাসনিম জারা নিজেও ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে বিষয়টি জানিয়েছেন। এর আগে, এদিন সন্ধ্যায় ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে তাসনিম জারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়ার ঘোষণা দেন। পোস্টে তাসনিম জারা লেখেন, ‘প্রিয় খিলগাঁও, সবুজবাগ ও মুগদাবাসী, আমি আপনাদের ঘরের মেয়ে। খিলগাঁওয়েই আমার জন্ম ও বেড়ে ওঠা। আমার স্বপ্ন ছিল একটি রাজনৈতিক দলের প্ল্যাটফর্ম থেকে সংসদে গিয়ে আমার এলাকার মানুষের ও দেশের সেবা করা। তবে বাস্তবিক প্রেক্ষাপটের কারণে আমি কোনো নির্দিষ্ট দল বা জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি আপনাদের এবং দেশের মানুষকে ওয়াদা করেছিলাম যে আপনাদের জন্য ও নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ার জন্য আমি লড়ব। পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, আমি আমার সেই ওয়াদা রক্ষা করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তাই এই নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে ঢাকা-৯ থেকে অংশগ্রহণ করব। একটা দলের প্রার্থী হলে সেই দলের স্থানীয় অফিস থাকে, সুসংগঠিত কর্মী বাহিনী থাকে। সরকার ও প্রশাসনের সাথে নিরাপত্তা বা অন্যান্য বিষয়ে আপত্তি ও শঙ্কা নিয়ে কথা বলার সুযোগ থাকে। তবে আমি যেহেতু কোনো দলের সাথে থাকছি না, তাই আমার সে সব কিছুই থাকবে না। আমার একমাত্র ভরসা আপনারা। আপনাদের মেয়ে হিসেবে আমার সততা, নিষ্ঠা, এবং নতুন রাজনীতি করার অদম্য ইচ্ছাশক্তির প্রেক্ষিতে আপনারা যদি স্নেহ ও সমর্থন দেন, তবেই আমি আপনাদের সেবা করার সুযোগ পাব। দুইটি বিশেষ বিষয়: এক. নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাঁড়াতে আইনি বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী আমাদের ঢাকা-৯ আসনের ৪৬৯৩ জন ভোটারের সমর্থনযুক্ত স্বাক্ষর একটি নির্দিষ্ট ফর্মে প্রয়োজন। আগামীকাল এই স্বাক্ষর সংগ্রহের কাজ শুরু করব। মাত্র এক দিনে এত মানুষের স্বাক্ষর গোছানো প্রায় অসম্ভব একটি কাজ। আপনাদের স্বতঃস্ফূর্ত সাহায্য ছাড়া এটা করতে পারব না। এই কাজে যারা আগামীকাল বসার জায়গা দিয়ে বা স্বেচ্ছাসেবক হিসাবে সাহায্য করতে চান, তারা অনুগ্রহ করে এই গ্রুপে যুক্ত হন। আপনাদেরকে নির্দিষ্ট স্থান ও লোকেশন জানিয়ে দেওয়া হবে: https://www.facebook.com/share/g/1DCkLvMvRX/ দুই. কিছুদিন আগে নির্বাচনী ফান্ডরেইজিংয়ের সময় আপনারা অনেকে ডোনেট করেছেন। আমার এই পরিবর্তিত সিদ্ধান্তের কারণে (স্বতন্ত্র হিসেবে লড়াই করা) যারা ডোনেট করা অর্থ ফেরত পেতে চান, তাদের প্রতি আমার শ্রদ্ধা। যারা বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠিয়েছেন তারা অর্থ ফেরত পেতে নিচে দেওয়া এই ফর্মটি পূরণ করুন: https://forms.gle/NKTkkNVZvUvyrsGYA আপনাদের ট্রানজেকশন আইডি ও ডিটেইলস ভেরিফাই করার পরে অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। আর যারা ব্যাংকের মাধ্যমে পাঠিয়েছিলেন, তাদেরকে শীঘ্রই জানাব কী প্রক্রিয়ায় আপনাদের অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। আপনাদেরই মেয়ে, তাসনিম জারা

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে ম্যাচ শুরুর ঠিক আগে অসুস্থ হয়ে পড়েন ঢাকা ক্যাপিটালসের সহকারী কোচ মাহবুব আলী। মিনিট বিশেক পর খেলা শুরুর প্রস্তুতিতে দুই দলের ক্রিকেটার ও কোচিং স্টাফ যখন মাঠে ওয়ার্ম আপে ব্যস্ত, তখনই হঠাৎ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। ঘটনার পরপরই মাঠে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়। দলীয় স্টাফরা দ্রুত তাকে ঘিরে ধরেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে সিপিআর দেওয়া হয়। পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে মাহবুব আলীকে সিলেটের আল হারামাইন হাসপাতালে নেওয়া হয়। ঢাকা ক্যাপিটালস এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, অনুশীলনের সময় অসুস্থ বোধ করার পর তিনি মাঠেই পড়ে যান। বর্তমানে তিনি চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী আপডেট জানানো হবে। ঢাকা দলের টিম ম্যানেজমেন্টের সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের বরাত দিয়ে দেশের একটি গণমাধ্যম জানিয়েছে, মাহবুব আলীর শারীরিক অবস্থা গুরুতর। তবে তার চিকিৎসা শুরু হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার ধাক্কা সামলেও নির্ধারিত সময়েই ম্যাচ শুরু হয়। টস জিতে রাজশাহীর বিপক্ষে ফিল্ডিংয়ে নামে ঢাকা ক্যাপিটালস।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ফিঙ্গারপ্রিন্ট দেওয়ার পর ৭ থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এনআইডি পাবেন বলে জানিয়েছেন জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক এস এম হুমায়ুন কবীর। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নির্বাচন কমিশনে সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে জানান তিনি। হুমায়ুন কবীর বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ফিঙ্গারপ্রিন্ট দেওয়ার পর সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টা এবং সর্বনিম্ন ৭-৮ ঘণ্টার মধ্যে এনআইডি পাবেন। তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন তাদের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। যে রুমে বসে তারেক রহমান বায়োমেট্রিক দেবেন সেটাও প্রস্তুত করেছে ইসি। এদিকে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পাশাপাশি জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করবেন আজ। তারেক রহমানের সঙ্গে মেয়ে জাইমা রহমানও এনআইডির জন্য আবেদন করবেন। এর আগে, এদিন বেলা সাড়ে ১১টায় তারেক রহমান ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদির কবর জিয়ারত করেন।

শহীদ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করতে তার সমাধিস্থলে পৌঁছেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ উপলক্ষ্যে শাহবাগে অবস্থান নিয়েছেন ছাত্র দলের বিভিন্ন শাখার নেতৃবৃন্দ। স্লোগানে স্লোগানে উজ্জীবিত নেতাকমীরা। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) বেলা ১১টায় শাহবাগে এমন চিত্র দেখা যায়। জানা গেছে, এসময় শহীদ ওসমান হাদির কবর জিয়ারতের পাশাপাশি তারেক রহমান জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরও জিয়ারত করবেন। তারেক রহমানের সঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসসহ শীর্ষ নেতারা উপস্থিত রয়েছেন । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রদল নেতা সোহেল রহমান বলেন, আমাদের নেতা আজকে শহীদ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করতে আসছেন। আমাদের ক্যাম্পাসে নেতা আসছেন। আমরা নেতাকে স্বাগত জানাবো। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগ নেতা ইসরাফিল ইসলাম বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শহীদ ওসমান হাদীর কবর জিয়ারতে আসছেন, এটি আমাদের জন্য গভীর আবেগ ও গর্বের বিষয়। শহীদ হাদী শুধু একটি নাম নয়, তিনি গণতন্ত্র ও ছাত্ররাজনীতির আত্মত্যাগের প্রতীক। তারেক রহমানের এই কবর জিয়ারত শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ধারাবাহিকতারই প্রকাশ। এদিকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শহীদ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত উপলক্ষ্যে শাহবাগ মোড় ছেড়ে দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) ইনকিলাব মঞ্চের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বার্তায় বলা হয়, ‘আজ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের শহীদ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত উপলক্ষ্যে ইনকিলাব মঞ্চ শাহবাগ মোড় থেকে ডানদিকে আজিজ সুপারমার্কেটের সামনে অবস্থান নিয়েছে। ঠিক দুপুর ১২টায় পুনরায় শাহবাগ মোড়ে শহীদ হাদি চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে। বিচার আদায়ের দাবিতে সারা দেশের জনতাকে শহীদ হাদি চত্বরে উপস্থিত হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।’

বিপিএলে নোয়াখালী এক্সপ্রেসকে সমর্থন দিতে সিলেটে ছুটছেন ভক্তরা বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) দ্বাদশ আসরে প্রথমবারের মতো অংশগ্রহণ করছে নোয়াখালীর কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি। নোয়াখালী এক্সপ্রেসকে সরাসরি মাঠে সমর্থন দিতে সিলেটে জড়ো হয়েছেন ওই জেলার ক্রিকেটভক্তরা। ক্রিকেটারদের প্রেরণা যোগানো এবং দলের সঙ্গী হয়ে স্টেডিয়াম কাঁপাতে প্রস্তুত তারা। আজ (শুক্রবার) সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে বিপিএলের উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে স্বাগতিক সিলেট টাইটান্স এবং রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে চট্টগ্রাম রয়্যালসের বিপক্ষে লড়াইয়ে নামবে নোয়াখালী এক্সপ্রেস। নিজেদের প্রথম ম্যাচ থেকে সমর্থন দিতে এদিন সকাল ৯টায় সিলেটের হুমায়ুন রশিদ চত্বরে পৌঁছায় নোয়াখালী সমর্থকবাহী অর্ধশতাধিক বাস। এর আগে বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) রাত ৯টার দিকে নোয়াখালীর বিভিন্ন এলাকা থেকে একাধিক বাস সিলেটের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। বাসগুলোয় নোয়াখালী এক্সপ্রেসের পতাকা, ব্যানার ও ফেস্টুনে সাজানো সমর্থকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। সমর্থকদের স্লোগান, ঢোল-বাদ্য আর দলীয় রঙে রাঙানো পরিবেশে পুরো যাত্রা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। অনেকেই পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের সঙ্গে দল বেঁধে সিলেটে পা রাখেন। নোয়াখালীর ক্রিকেটভক্ত তারপিনা শাহনাজ রজব বলেন, বিপিএলের ইতিহাসে প্রথমবার নোয়াখালীর দল অংশ নিচ্ছে, এটা আমাদের জন্য অনেক গর্বের বিষয়। তাই কষ্ট হলেও মাঠে গিয়ে প্রিয় দল নোয়াখালী এক্সপ্রেসকে সমর্থন জানাতে এসেছি। এখানে আমরা নোয়াখালী বিভাগ আন্দোলনের দাবি তুলব, মিছিল করব। আশা করছি দল ভালো খেলবে এবং জেলার মুখ উজ্জ্বল করবে। আরেক সমর্থক মো. ওয়াসিম বলেন, নোয়াখালী এক্সপ্রেস আমাদের গর্ব। তারা প্রথমবার বিপিএলে খেলছে, এই ইতিহাসের সাক্ষী হতে আমরা ৬টা বাস নিয়ে ‘ট্রাভেল গ্রুপ অব নোয়াখালী’র প্রায় ৩০০ মানুষ সিলেটে এসেছি। দূরত্ব কোনো বাধা নয়। মাঠে গিয়ে খেলোয়াড়দের উৎসাহ দিলে জয়ের শক্তি বাড়ে, এই বিশ্বাস থেকেই আসা। আমরা দেশ ট্রাভেলসকে ধন্যবাদ এবং অশেষ কৃতজ্ঞতা। নোয়াখালী জেলা ক্রীড়া সংস্থার আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. আরিফুর রহমান , নোয়াখালী এক্সপ্রেস বিপিএলে অংশ নেওয়ায় জেলার ক্রীড়াঙ্গনে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। সমর্থকদের এই ঢল খেলোয়াড়দের মনোবল বাড়াবে। নোয়াখালী এক্সপ্রেসকে ঘিরে যে উন্মাদনা তৈরি হয়েছে, তা বিপিএলে নতুন মাত্রা যোগ করবে। এ ছাড়া তরুণদের মধ্যে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ আরও বাড়বে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

বৈভব সূর্যবংশী এবং রেকর্ড, এ যেন মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। ১৪ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার মাঠে নামলেই তার ব্যাটে কোনো না কোনো রেকর্ড হবেই। বিজয় হাজারে ট্রফির প্রথম দিনেই ঝড় উঠল বৈভব সূর্যবংশীর ব্যাটে। মাত্র ৮৪ বলে ১৯০ রান করলেন তরুণ এই ব্যাটার। গড়লেন বিশ্বরেকর্ডও। বিরাট কোহলি এবং রোহিত শর্মা দু’জনেই এবারের বিজয় হাজারে ট্রফি খেলছেন। ভারতের দুই সিনিয়র ব্যাটার দীর্ঘদিন পর ঘরোয়া এই প্রতিযোগিতায় ফেরায় উচ্ছ্বাস রয়েছে সমর্থকদেরও। তবে প্রথম দিনে সব আলো কেড়ে নিলেন ১৪ বছর বয়সী বৈভব। বিজয় হাজারে ট্রফিতে বিহারের অভিযান শুরু হয়েছে অরুণাচল প্রদেশের বিরুদ্ধে। রাঁচিতে আয়োজিত ম্যাচে টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় বিহার। আর শুরুতেই বৈভব-ঝড়। মাত্র ৩৬ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন বৈভব। যার মধ্যে আছে ১০টি চার ও ৮টি ছক্কার মার। অর্থাৎ শুধু বাউন্ডারি থেকেই এসেছে ৮৮ রান। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ভারতীয়দের মধ্যে এটা দ্বিতীয় দ্রুততম সেঞ্চুরি। এর আগে আছে অনমোলপ্রীত সিং। পাঞ্জাবের এই ক্রিকেটার গত বছর ৩৫ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন। অন্যদিকে বিশ্বের কনিষ্ঠতম হিসেবে সেঞ্চুরির নজির গড়লেন বৈভব। তবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দ্রুততম সেঞ্চুরির নজির রয়েছে জেক ফ্রেজার ম্যাকগার্কের। ২০২৩ সালে তিনি তাসমানিয়ার বিরুদ্ধে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ২৯ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন। দ্রুততম সেঞ্চুরির তালিকায় সূর্যবংশী চতুর্থ হলেও এই সংস্করণে দ্রুততম দেড় শ রানের ইনিংস খেলার রেকর্ড গড়েছেন বাঁহাতি ওপেনার। মাত্র ৫৯ বলে আজ ১৫০ রান করেন সূর্যবংশী, ভেঙেছেন ২০১৫ সালে এবি ডি ভিলিয়ার্সের ৬৪ বলে ১৫০ করার রেকর্ড। যদিও অল্পের জন্য ডাবল সেঞ্চুরি হাতছাড়া হয়েছে বৈভবের। শেষ পর্যন্ত সে আউট হয় ১৯০ রানে। ৮৪ বলের ইনিংস সাজানো ছিল ১৬টি চার ও ১৫টি ছক্কা দিয়ে। অর্থাৎ শেষ পর্যন্ত শুধু বাউন্ডারি থেকেই তার রান ওঠে ১৫৪।

জুলাই অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার আন্দোলন ঘিরে রাজধানীর রামপুরায় ২৮ জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিজিবি কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলামসহ চারজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুর সোয়া ১২টায় ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। অন্য দুই সদস্য হলেন- বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। এদিন শুরুতেই আসামিদের অব্যাহতির জন্য আইনজীবীদের আবেদন খারিজ করে দেন ট্রাইব্যুনাল। প্রসিকিউশনের পক্ষে রয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর আবদুল্লাহ আল নোমান, সহিদুল ইসলামসহ অন্যরা। রেদোয়ানসহ গ্রেপ্তার দুজনের পক্ষে আইনজীবী হামিদুল মিসবাহ ও স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী মো. আমির হোসেনও উপস্থিত আছেন। ২১ ডিসেম্বর পলাতক দুই আসামির পক্ষে শুনানি করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন। উপস্থিত দুই আসামির হয়ে লড়েন আইনজীবী হামিদুল মিসবাহ। শুনানিতে প্রত্যেকেই ডিসচার্জের আবেদন করেন। রেদোয়ানুল ছাড়া গ্রেপ্তার অপরজন হলেন- বিজিবির সাবেক কর্মকর্তা মেজর মো. রাফাত বিন আলম। এদিন সকালে ঢাকার সেনানিবাসের সাব-জেল থেকে প্রিজনভ্যানে করে তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। এ মামলায় পলাতক রয়েছেন ডিএমপির খিলগাঁও অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম ও রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মশিউর রহমান। এর আগে, ১৪ ডিসেম্বর এ বিষয়ে শুনানির কথা ছিল। কিন্তু বিশেষ কারণে হয়নি। ৬ ডিসেম্বর ফরমাল চার্জের ওপর শুনানি শেষ করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। ২২ অক্টোবর সেনা হেফাজতে থাকা রেদোয়ান ও রাফাতকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। শুনানি শেষে তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠান ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে পলাতকদের হাজিরে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় দেশজুড়ে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চলেছে। এর মধ্যে রামপুরায় নিহত হয়েছেন ২৮ জন। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। রামপুরায় বিজিবি কর্মকর্তা রেদোয়ানুলকে আন্দোলনকারীদের সরাসরি গুলি ছুড়তে দেখা যায়। এছাড়া অন্যরাও নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এ হত্যাযজ্ঞে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী ট্রাইবুনালে চারজনের বিরুদ্ধে আলাদা ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন।

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই যোদ্ধা শহীদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পুঙ্খানুপুঙ্খ ও বিস্তারিত তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে ভারত। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) বার্তাসংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, গতকাল (মঙ্গলবার) বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহকে তলব করে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ সময় তাকে শহীদ হাদি হত্যার তদন্তের আহ্বান জানান। বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে পিটিআই জানিয়েছে, হাদিকে হত্যার সঙ্গে ভারতের সংশ্লিষ্টতা আছে এমন অভিযোগ ওঠায় বাংলাদেশকে এ ব্যাপারে বিস্তারিত তদন্ত করতে আহ্বান জানিয়েছে নয়াদিল্লি। দুর্বৃত্তের গুলিতে হাদি আহত হওয়ার পর ভারতের দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছিল। তার মৃত্যুর পর বাংলাদেশে ভারতবিরোধী মনোভাব দেখা যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেছে পিটিআই। এদিকে মঙ্গলবার ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে তলব করে ঢাকা। ভারতীয় দূতকে তলব করে পররাষ্ট্রসচিব নয়াদিল্লি ও শিলিগুড়িতে বাংলাদেশের কূটনৈতিক স্থাপনায় হামলা এবং ভাঙচুরের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে দেশটিতে থাকা বাংলাদেশের কূটনীতিকদের নিরাপত্তা বিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছে। এরআগে ১৪ ডিসেম্বর প্রণয় ভার্মাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়েছিল। সেদিন ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অব্যাহত উসকানিমূলক বক্তব্যে সরকারের উদ্বেগের কথা জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলাকারীদের ভারতে পালিয়ে যাওয়া প্রতিরোধে দেশটির সহযোগিতা কামনা করা হয়। অন্যদিকে গত ১৭ ডিসেম্বর নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পালটা তলব করা হয়। আবারও সপ্তাহ না যেতেই বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে গতকাল আবারও পালটা তলব করেছে ভারত।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের দল মুসলিম লীগ-এনের এক নেতা ভারতকে হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যদি ভারত বাংলাদেশে খারাপ কোনো অভিপ্রায়ে নজর দেয় (হামলা করে) তাহলে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ও মিসাইল এর জবাব দেবে। কামরান সাঈদ উসমানী নামে এ নেতা বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সামরিক জোট গঠনের আহ্বানও জায়েছেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে। কামরান সাঈদ উসমানী এক ভিডিওতে বলেছেন, “যদি ভারত বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে হামলা করে। যদি কেউ খারাপ অভিপ্রায়ে বাংলাদেশের দিকে চোখ দেওয়ার সাহস দেখায়, মনে রাখুন, পাকিস্তানের জনগণ, পাকিস্তানের সেনাবাহিনী আর আমাদের মিসাইল কিন্তু দূরে নয়।” উসমানী বলেন, বাংলাদেশে যদি ভারত ‘অখণ্ড ভারত’ চিন্তাভাবনা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে তাহলে পাকিস্তান এটি সহ্য করবে না। তিনি দাবি করেন, পাকিস্তান এর আগেও ভারতকে কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলেছে, যদি প্রয়োজন হয় তাহলে আবারও এমনটি করবে। তিনি বলেন, সীমান্তে বিএসএফ বাংলাদেশকে বিরক্ত করছে এবং বাংলাদেশকে হিন্দু রাষ্ট্র বানানোর চেষ্টা করছে। বাংলাদেশে আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে ভারত টার্গেট কিলিং শুরু করেছে তিনি প্রস্তাব দিয়ে বলেন, “আমাদের প্রস্তাব হলো বাংলাদেশের পাকিস্তানের সঙ্গে সামরিক জোট গঠন করা উচিত। বাংলাদেশে পাকিস্তানের আর পাকিস্তানে বাংলাদেশের ঘাঁটি স্থাপন করা উচিত।” বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সামরিক জোট হলে এই অঞ্চলের আঞ্চলিক শক্তির গতিপথ ব্যাপকভাবে উল্টে যাবে।

নোয়াখালী থেকে ঢাকায় যাবেন বিএনপির লক্ষাধিক নেতাকর্মী দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছরের নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে আগামী ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার এই ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে নোয়াখালী জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। ইতোমধ্যে নোয়াখালী থেকে প্রায় ৩০০টি বাস ও ২০০টি মাইক্রোবাসে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ঢাকায় নেওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) দুপুরে ঢাকা পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন নোয়াখালী জেলা বিএনপির দপ্তরের দায়িত্বে থাকা অ্যাডভোকেট রবিউল হাসান পলাশ। জানা গেছে, আগামী ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে জেলার শীর্ষস্থানীয় নেতারা কয়েক দিন ধরে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন। নোয়াখালীর ছয়টি সংসদীয় আসনের জন্য ৫০টি করে বাস বরাদ্দ দিয়ে মোট ৩০০টি বাস প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ ছাড়া ট্রেনে এবং ব্যক্তিগতভাবেও নেতাকর্মীরা ঢাকায় যাবেন বলে জানা গেছে। পাশাপাশি নেতাকর্মীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতে আলাদা আলাদা সমন্বয় টিম গঠন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বানও জানানো হয়েছে। নোয়াখালী জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আজগর উদ্দিন দুখু বলেন, তারেক রহমান শুধু একজন নেতা নন, তিনি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রতীক। তার আগমন উপলক্ষে নোয়াখালীর নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। আমরা শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে ঢাকায় যাব। জেলা বিএনপির দপ্তরের দায়িত্বে থাকা অ্যাডভোকেট রবিউল হাসান পলাশ বলেন, তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে নোয়াখালী জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা গত কয়েক দিন ধরে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন। জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের জন্য আলাদাভাবে পরিবহন ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিটি আসন থেকে ৫০টি করে বাস বরাদ্দ দিয়ে মোট ৩০০টি বাস প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বেগমগঞ্জ পৌরসভা বিএনপির সভাপতি তুহিন বলেন, তারেক রহমানের দেশে ফেরা দেশের রাজনীতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। আমাদের নেতা বরকত উল্যাহ বুলুর নেতৃত্বে বেগমগঞ্জ উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপির পক্ষ থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ২৪ ডিসেম্বর ঢাকায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন। নোয়াখালী জেলা বিএনপির সদস্য সচিব হারুনুর রশিদ আজাদ বলেন, এটি শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, এটি গণতন্ত্রকামী মানুষের আবেগের বহিঃপ্রকাশ। নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা, যাতায়াত ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছি। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী সবকিছু সম্পন্ন করা হচ্ছে। নোয়াখালী জেলা বিএনপি ঐক্যবদ্ধভাবে এই কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। ৪ (সদর-সুবর্ণচর) আসনের ধানের শীষের প্রার্থী মো. শাহজাহান ঢাকা পোস্টকে বলেন, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা হবে। নোয়াখালীর মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই কর্মসূচিতে অংশ নেবে। দলীয়ভাবে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তবে অনেকেই আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতির অপেক্ষা না করে ইতোমধ্যে নিজ উদ্যোগে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। মানুষের অন্তর থেকে ভালোবাসা ও আবেগের জায়গা থেকে হাজার হাজার মানুষ প্রিয় নেতা, গণতন্ত্রের পথিকৃৎ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সন্তান তারেক রহমানকে একনজর দেখতে এবং তার বক্তব্য শোনার জন্য সমবেত হতে শুরু করেছেন। তিনি আরও বলেন, দেখা যাচ্ছে দলীয় প্রস্তুতির চেয়েও সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত প্রস্তুতি অনেক বেশি। কোনো নেতার প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে এমন স্বতঃস্ফূর্ত প্রস্তুতি বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে একটি স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে বলেই আমি মনে করি। ঢাকায় অবস্থানরত নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা তো থাকবেনই, পাশাপাশি নোয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ ঢাকায় যোগ দেবেন। সব মিলিয়ে রাজধানীতে মানুষের ঢল নামবে। এ সময় একটি বিষয় বিশেষভাবে ভাবনার এত মানুষের আগমনে খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের চাহিদা বাড়বে। আমরা আশা করি, খাবার ও অন্যান্য পণ্যের ব্যবসার সঙ্গে জড়িতরা বিষয়টি বিবেচনায় রেখে দাম সহনীয় রাখবেন

নিরাপত্তাজনিত কারণে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বুধবার সন্ধ্যা থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত নির্ধারিত যাত্রী ছাড়া কেউ ঢুকতে পারবেন না। মঙ্গলবার বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালকের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীসেবা, নিরাপত্তা এবং অপারেশনাল শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সকল যাত্রীসাধারণের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, বিশেষ অপারেশনাল ও নিরাপত্তাজনিত কারণে ২৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টা থেকে ২৫ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বিমানবন্দর এলাকায় নির্ধারিত যাত্রী ব্যতিত সকল সহযাত্রী/ ভিজিটর প্রবেশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে। বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রেক্ষিতে যাত্রীসাধারণ ও সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।

নির্বাচনী ব্যয় মেটাতে ভোটারদের কাছে অর্থ সহায়তা চাওয়ার মাত্র সাত ঘণ্টার মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা ১২ লাখ টাকার বেশি অনুদান পেয়েছেন। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) ভোরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে তিনি এই তথ্য জানান। ডা. তাসনিম জারা লিখেছেন, এতটা অভূতপূর্বভাবে আপনারা পাশে দাঁড়াবেন, তা সত্যিই আমাদের কল্পনার বাইরে ছিল। আপনাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। তিনি জানান, আমাদের মোট লক্ষ্যমাত্রা ৪৬ লাখ ৯৩ হাজার ৫৮০ টাকা। আর ৩৪ লাখ টাকা সংগ্রহ সম্পন্ন হলেই আমরা ফান্ডরেইজিং বন্ধ করে দেব। তিনি আরও বলেন, আমরা অবগত আছি যে, রাত ২টার পর থেকে নির্ধারিত লিমিট অতিক্রম করার কারণে বিকাশে আর টাকা পাঠানো যাচ্ছে না। আপাতত ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ডোনেশন গ্রহণ করা যাচ্ছে। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) রাতে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসন থেকে লড়তে নির্বাচনী ব্যয় মেটাতে ভোটার-সমর্থক, শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে আর্থিক সহায়তা চেয়ে ফেসবুকে একটি ভিডিও বার্তা শেয়ার করেন ডা. তাসনিম জারা।

মদিনার পবিত্র মসজিদে নববীর মুয়াজ্জিন শেখ ফয়সাল নোমান ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। সৌদি আরবের দুই পবিত্র মসজিদভিত্তিক ওয়েবসাইট ‘ইনসাইড দ্য হারামাইন’ সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে জানিয়েছে, মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) ফজরের পর মসজিদে নববীতে তার জানাজা আদায় করা হয়। এরপর তাকে মদিনার ঐতিহাসিক জান্নাতুল বাকি কবরস্থানে দাফন করা হয় বলে জানা গেছে। শেখ ফয়সাল নোমান দীর্ঘদিন ধরে মসজিদে নববীর মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তার সুমধুর আজান ও ধর্মীয় নিষ্ঠা বিশ্বের লাখো মুসলমানের হৃদয়ে গভীর প্রভাব ফেলে। শেখ ফয়সাল নোমানের মৃত্যুতে মুসলিম উম্মাহ এক নিবেদিতপ্রাণ খাদেমকে হারাল। ইনসাইড দ্য হারামাইন জানিয়েছে, শেখ ফয়সাল নোমান ১৪২২ হিজরিতে (২০০১) মসজিদে নববীর মুয়াজ্জিন নিযুক্ত হন। তিনি বংশ পরম্পরায় মসজিদে নববীতে আজান দেওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেছিলেন। তার দাদা মসজিদে নববীর মুয়াজ্জিন ছিলেন এবং তার বাবা ১৪ বছর বয়সে এই সম্মানিত পেশায় নিযুক্ত হন। শেখ ফয়সাল নোমান ১৪২২ থেকে ১৪৪৭ হিজরি পর্যন্ত ২৫ বছর ধরে মসজিদে নববীর মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

নোয়াখালীতে ধীরে ধীরে জেঁকে বসছে শীত। সেই সঙ্গে ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি)। শীতের আবহে ভিন্ন এক রূপে ধরা দিয়েছে সবুজে ঘেরা ১০১ একর বিস্তৃত এই ক্যাম্পাস। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরো এলাকা ঘন কুয়াশায় ঢাকা পড়ে। আগে শীত অনুভূত হলেও কুয়াশার তেমন দেখা না মিললেও গত কয়েকদিন ধরে ক্যাম্পাসজুড়ে তীব্র কুয়াশা পড়তে দেখা যাচ্ছে। এতে শীতের তীব্রতাও বেড়েছে। সবুজে ঘেরা নোবিপ্রবি ক্যাম্পাস গ্রামীণ আবহে নির্মিত হওয়ায় শীতের মৌসুমে এর সৌন্দর্য আরও অনন্য হয়ে ওঠে। নানান প্রজাতির ফুলের সৌরভে মুখরিত থাকে ক্যাম্পাস। সকালে ঘুরে দেখা যায়, কুয়াশার কারণে এক আবাসিক হল থেকে অন্য হল কিংবা একাডেমিক ভবন থেকে অন্য ভবন স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে না। কিছু দূর গেলে মানুষও চোখে পড়ে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস গেট, গোলচত্বর, প্যারিস রোড ও নীল দিঘির পাড়—সবকিছুই যেন প্রকৃতিপ্রেমীদের ডেকে নিচ্ছে শীতের সকালের রূপ-রস উপভোগে। কুয়াশায় মোড়া মৃদু আলো ক্যাম্পাসের প্রকৃতিকে করে তুলেছে আরও রহস্যময় ও মোহনীয়। গাছের পাতা ও ঘাসের ডগায় জমে আছে শিশির। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গাছের ফাঁক গলে সূর্যের কোমল কিরণ শিশির ভেজা ঘাসে এসে পড়ে। তখন ধীরে ধীরে কুয়াশা কেটে যায়। প্রাণভরে শ্বাস নেওয়া যায় খোলা বাতাসে। শীতের ছোঁয়ায় ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য যেন আরও বহুগুণে বেড়ে গেছে। গোলাপ, ডালিয়া, চন্দ্রমল্লিকা, কসমস, অ্যাস্টার, সিলভিয়া, জিনিয়া ও গাঁদাসহ নানা প্রজাতির ফুলে রঙিন হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। সকালে তীব্র কুয়াশার মধ্যে হাঁটতে বের হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্র বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী জান্নাতুল আরেফিন সাজিয়া বলেন , গত কয়েকদিন ধরে প্রচুর কুয়াশা পড়ছে। এই কুয়াশায় ক্যাম্পাসটা অতিরিক্ত সুন্দর লাগছে। ছোটবেলায় কুয়াশা উপভোগ করার সুযোগ পাইনি, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে সেটা উপভোগ করতে পারছি। তাই সকাল সকাল খালি পায়ে বের হয়েছি। স্মৃতিতে ১০১ একরের শীতের সকাল থেকে যাবে সব সময়। ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী হাসান শরীফ বলেন, নোবিপ্রবির ১০১ একর ক্যাম্পাস সৌন্দর্যের লীলাভূমি। সকালের কুয়াশা সেই সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। অনেকেই কুয়াশার সঙ্গে ছবি তুলতে আসে, আমিও ছবি তুলতে বের হয়েছি। নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন শাখার চালক মো. মিলন বলেন, ভোর থেকেই ঘন কুয়াশা পড়ে যায়। বিশেষ করে সকাল ৬টা থেকে ৮টা পর্যন্ত কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বেশি থাকে যে গাড়ির সামনের অংশ স্পষ্ট দেখা যায় না। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই আমাদের বাধ্য হয়ে হেডলাইট জ্বালিয়ে এবং খুব ধীরে গাড়ি চালাতে হচ্ছে। শীতও আগের তুলনায় বেশ অনুভূত হচ্ছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুয়াশা ধীরে ধীরে কেটে যায়। তখন আবার দিনের বেলায় কিছুটা গরম অনুভূত হয়। নোবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল বলেন, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘন কুয়াশা ছড়িয়ে দিয়েছে এক অপার্থিব মুগ্ধতা। মনে হয় যেন প্রকৃতি নিজ হাতে এঁকে দিয়েছে স্বর্গীয় সৌন্দর্যের ক্যানভাস। কুয়াশার আড়ালে এসে ভিড় করেছে শীতের পাখিরা, আর তাদের কলরবে প্রাণ ফিরে পেয়েছে নোবিপ্রবি ক্যাম্পাস। ১০১ একর বিস্তৃত এই ক্যাম্পাস এমনিতেই সৌন্দর্যের লীলাভূমি, আর সকালের কুয়াশায় সেই সৌন্দর্য হয়ে উঠেছে আরও মোহনীয়, আরও স্বপ্নীল। এদিকে নোয়াখালীতে দিন দিন তাপমাত্রা কমে শীতের প্রকোপ বাড়ছে। ঘন কুয়াশায় ঢেকে যাচ্ছে পথঘাট ও প্রকৃতি। গত এক সপ্তাহ ধরে জেলার তাপমাত্রা ১৫ থেকে ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে গরম কাপড় ও লেপ-তোষকের চাহিদা। মৌসুমের শুরুতেই মানুষ ভিড় করছেন গরম কাপড়ের দোকানগুলোতে এবং সাধ্যমতো শীতবস্ত্র সংগ্রহ করছেন। জানা গেছে, দিনের বেলায় তাপমাত্রা তুলনামূলক সহনীয় থাকলেও মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত ঠাণ্ডা বেশি অনুভূত হয়। এ সময় বিস্তীর্ণ এলাকা ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন থাকে। ফলে যাত্রী ও চালকদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হচ্ছে। অন্যদিকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। অন্যদিকে শীত ও কুয়াশার কারণে খেতমজুর ও দিনমজুরসহ খেটে খাওয়া মানুষগুলো পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। সময়মতো কাজে যেতে না পারায় তাদের আয়েও প্রভাব পড়ছে। শীতের কবলে পড়েছে নদ-নদী তীরবর্তী চর ও দ্বীপচরের হতদরিদ্র মানুষজন। সদর উপজেলার কৃষক রবিউল হোসেন বলেন, ভোরের দিকে কুয়াশার কারণে জমিতে যেতে অনেক সময় দেরি হয়ে যায়। চোখের সামনে কিছুই পরিষ্কার দেখা যায় না। তারপরও সংসার চালানোর তাগিদে মাঠে নামতে হচ্ছে। কুয়াশার মধ্যেই জমিতে গিয়ে ফসলের অবস্থা দেখছি, টুকটাক পরিষ্কার করছি। গতবার ফসল ভালো হয়নি, অনেক ক্ষতি হয়েছে। এবার যেন ভালো ফলন হয়—এই আশায় বেশি সময় দিচ্ছি। শীত আর কুয়াশা উপেক্ষা করেই কাজ করতে হচ্ছে। নোয়াখালী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে তাপমাত্রা ১৫ থেকে ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। তবে এটিকে এখনো পুরোপুরি শীত বলা যাবে না। জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে উত্তর দিক থেকে হিমেল বাতাস প্রবাহিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তখন তাপমাত্রা আরও কমে শীতের তীব্রতা বাড়তে পারে। নোয়াখালী সিভিল সার্জন ডা. মরিয়ম সিমি বলেন, শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালসহ বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। এ সময় তাদের উষ্ণ পোশাক পরানো, ঠাণ্ডা এড়িয়ে চলা এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। সর্দি, কাশি, জ্বর বা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি।

নোয়াখালী জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে নোয়াখালী জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী জেলার জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী জেলার পুলিশ সুপার টি, এম, মোশাররফ হোসেন অনুষ্ঠানে বক্তারা মহান বীর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে দেশ গঠনে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অসামান্য আত্মত্যাগ জাতি চিরদিন গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে বলে উল্লেখ করেন। পরিশেষে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে সম্মাননা স্মারক ও উপহার সামগ্রী প্রদান করা হয়।

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে ওষুধ কোম্পানির এক বিক্রয় কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার নোয়াখালী ইউনিয়নের পশ্চিম চরউরিয়া গ্রামের সোনাপুর টু চেয়ারম্যানঘাট সড়কের খলিল মিয়ার বাড়ির সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মো. মাইনউদ্দিন (৩৭) সুবর্ণচর উপজেলার পূর্বচরবাটা ইউনিয়নের ৭নম্বর ওয়ার্ডের চরমজিদ গ্রামের সাহাব উদ্দিনের ছেলে। তিনি জিসকা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড ওষুধ কোম্পানির আঞ্চলিক কর্মকর্তা ছিলেন।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে চরমজিদ গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে মোটরসাইকেলে করে বাবাসহ স্থানীয় জোবায়ের বাজার যান মাইনউদ্দিন। ওই বাজারে বাবাকে রেখে তিনি মোটরসাইকেলে করে কুমল্লিা কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। এ সময় সোনাপুর টু চেয়ারম্যানঘাট সড়কের খলিল মিয়ার বাড়ির সামনে পৌঁছলে সুবর্ণচরগামী একটি অটোরিকশার সাথে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মাইনউদ্দিন গুরুত্বর আহত হন। তাৎক্ষণিক স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি গণমাধ্যম কর্মীদের থেকে জেনে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। নিহতের পরিবারের সাথে কথা বলে পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কনকনে ঠান্ডায় নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ৮শতাধিক শিক্ষার্থীর অংশ গ্রহণে ‘রান ফর ইউনিটি’ ম্যারাথন দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৬ ডিসেম্বর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে এ ম্যরাথন দৌড় শুরু হয়ে বাংলা বাজার প্রদক্ষিণ করে ফটকেই শেষ হয় । নোবিপ্রবি শাখা ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় অনলাইনে নিবন্ধন করেন প্রায় ৮০০ শিক্ষার্থী। নারী-পুরুষ সবার অংশগ্রহণে পুরো ক্যাম্পাসে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়। প্রতিযোগিতা শেষে ২০ জন বিজয়ীর মধ্যে পুরস্কার ও অংশগ্রহণকারীদের সম্মাননা দেওয়া হয়। দৌড়ে প্রথম স্থান অর্জন করা শিক্ষার্থী জাহিদ হাসান বলেন, তরুণদের মানসিক ও শারীরিক সুস্থতা ধরে রাখতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।আমি প্রথম হওয়ার লক্ষ্য নিয়েই দৌড়েছি। এমন আয়োজন শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রশিবিরের সভাপতি আরিফুল ইসলাম বলেন, সুস্থ, ইতিবাচক ক্যাম্পাস গড়তেই আমাদের এই প্রচেষ্টা। ভবিষ্যতেও এমন আয়োজন চলবে। এ সময় নোবিপ্রবি ছাত্র শিবিরের সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান সৈকত, ছাত্র অধিকার সম্পাদক বনি ইয়ামিন, অর্থ ও প্রচার সম্পাদক আবদুর রহমান, অফিস সম্পাদক মেহেদী হাসান, আইন সম্পাদক মাহবুবুল আলম তারেকসহ ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন স্তরের নেতাককর্মিরা উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপির চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনা ও তার সুস্থতা প্রত্যাশা করে নোয়াখালী জেলা ছাত্রদলের উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) মধ্যরাতে জেলা শহর মাইজদী পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের হাতে কম্বল তুলে দেন জেলা ছাত্রদলের সভাপতি প্রার্থী আনোয়ার হোসেন রকি। শীতের তীব্রতায় বিপর্যস্ত মানুষের কষ্ট লাঘবে মানবিক উদ্যোগ হিসেবে এই কম্বল বিতরণ আয়োজন করা হয়। শহরের রেলস্টেশন এলাকা, হাসপাতাল চত্বর, বাজারসংলগ্ন পথচারীদের মাঝে একে একে শীতবস্ত্র পৌঁছে দেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। কম্বল পেয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন অনেকে। এক ছিন্নমূল নারী চোখের কোণে পানি নিয়ে বলেন, সারাদিন ঠান্ডায় কাঁপছিলাম। রাতটা কীভাবে কাটবে জানতাম না। এ কম্বলটা আমার জন্য অনেক বড় উপহার। আল্লাহ তাদের ভালো করুক। অংশগ্রহণকারী একজন তরুণ ছাত্রদল কর্মী জানান, “শীত শুধু ধনীদের মতো নয়, গরিব মানুষের জন্য আরও কঠিন। তাই নেতার নির্দেশে আমরা চেষ্টা করেছি অন্তত কিছু মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে। শীতবস্ত্র বিতরণ শেষে ছাত্রদল নেতারা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে দোয়া পরিচালনা করেন। জেলা ছাত্রদলের সভাপতি প্রার্থী আনোয়ার হোসেন রকি বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত রোগমুক্তি কামনাই আজকের আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে শীতের রাতে মানুষের কষ্ট কিছুটা লাঘব করতে পারলে আমরা নিজেদের ধন্য মনে করি। রাজনীতি মানুষের কল্যাণের জন্য ছাত্রদল সবসময় মানবিক কর্মকাণ্ডে পাশে থাকবে।

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় গভীর রাতে এক ব্যবসায়ীকে গুলি করে মোটরসাইকেল, মোবাইল ও টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার (৩ ডিসেম্বর) রাত ১২টার দিকে উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নের বারাইপুর গ্রামের লেদু মিয়ারগো বাড়ির সামনের সড়কে এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ সাদ্দাম হোসেন (২৭) একই গ্রামের মৃত শাহ আলম মেম্বারের ছেলে এবং স্থানীয় খলিফারহাট বাজারের মোবাইল ব্যবসায়ী। গুলিবিদ্ধ সাদ্দামের বড় ভাই মো.লিটন বলেন, আমাদের বাড়ির পাশে খলিফারহাট বাজারে আমার ছোট ভাই সাদ্দামের দুটি মোবাইল দোকান রয়েছে। প্রতিদিনের ন্যায় সে রাত সাড়ে ১১টার দিকে দোকান বন্ধ করে। এরপর মোটরসাইকেল নিয়ে শ্বশুর বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। যাত্রা পথে মোটরসাইকেল বারাইপুর গ্রামের লেদু মিয়ারগো বাড়ির সামনে পৌঁছলে সড়কে স্পিড ব্রেকার থাকায় সে মোটরসাইকেলের গতি কমিয়ে দেয়। ওই সময় দুর্বৃত্তরা তার দিকে এগিয়ে আসে। তাৎক্ষণিক সে মোটরসাইকেল রেখে পালাতে চেষ্টা করলে সন্ত্রাসীরা তাকে পেছন থেকে পিঠে গুলি করে দেয়। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। শরীরে গুলি আটকে থাকায় সেখান থেকে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে। যোগাযোগ করা হলে সুধারাম থানার ভারপ্রাস্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.কামরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কেউ এ ঘটনায় অভিযোগ করেনি, তাই জানা নেই। অভিযোগ করলে জানা যাবে।

নোয়াখালীর সোনাপুরে গভীর রাতে দুর্বৃত্তদের আগুনে বিআরটিসি ডিপোতে থাকা দুটি যাত্রীবাহী বাস সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। বুধবার (৩ ডিসেম্বর) রাত আড়াইটার দিকে ডিপোর ভেতরে এ নাশকতার ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত প্রায় ২টা ৩০ মিনিটে হঠাৎ আগুনের শিখা ছড়িয়ে পড়তে দেখে তারা দ্রুত ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। খবর পাওয়ার ১০–১৫ মিনিটের মধ্যেই মাইজদী ফায়ার স্টেশনের দুইটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। তবে বাসগুলোর বডিতে ফোম থাকায় আগুন মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে এবং ‘গুলবাহার’ ও ‘মালতি’ নামের নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে চলাচলকারী দুটি বাস সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায়। আরেকটি বাস আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সোনাপুর বিআরটিসি ডিপোর ম্যানেজার মো. আরিফুর রহমান তুষার বলেন, খবর পেয়েই আমি দ্রুত এসে উপস্থিত হই। ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশও সঙ্গে সঙ্গে এসে কাজ শুরু করে। পুরো ঘটনাটি স্পষ্ট নাশকতা। আজই আমার বদলি হওয়ার কথা ছিল—সব প্রস্তুতিও শেষ। যাকে এখানে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তিনি আসতে অনাগ্রহী। আমার ধারণা, বদলি ঠেকাতে পরিকল্পিতভাবেই এ অপকর্ম করা হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত প্রফেশনালভাবে ঘটানো হয়েছে। তিনি আরও যোগ করেন, আমার সহকর্মীরা অত্যন্ত ভালো। আজ আমাকে বিদায় সংবর্ধনা দেওয়ার কথা তাদের। এদিকে এক এলাকাবাসী সবসময় আমাদের সহযোগিতা করেছে। রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়েও কোনো সমস্যা হয়নি। তাই এটি স্থানীয় সাধারণ মানুষের কাজ নয়—পরিকল্পিত নাশকতাই। নোয়াখালী ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মো. ফরিদ আহমেদ বলেন, রাত ২টা ৪০ মিনিটে খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই এবং ১০ মিনিটের ভেতর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনি। দুটি বাস সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে, একটি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত। আগুনের কারণ তদন্ত ছাড়া বলা সম্ভব নয়।

নোয়াখালী জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বদলি হওয়া পুলিশ সুপার জনাব মোঃআব্দুল্লাহ-আল-ফারুকের সম্মানে এক অনাড়ম্বর বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। নোয়াখালী সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে এ সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক জনাব মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম। উপস্থিত অতিথিরা তাঁদের বক্তব্যে বলেন, পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ-আল-ফারুক দায়িত্ব পালনকালে জেলার সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অসাধারণ নেতৃত্ব ও মেধার পরিচয় দিয়েছেন। তিনি দুঃসময় মোকাবেলা, মানবিক সেবা, কমিউনিটি পুলিশিং এবং জনবান্ধব প্রশাসনিক কার্যক্রমে ব্যাপক অবদান রেখে যান। বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, তাঁর সততা, প্রজ্ঞা, ন্যায়পরায়ণতা ও কর্মনিষ্ঠা নোয়াখালীর আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করেছে। একজন প্রশিক্ষিত, নিবেদিতপ্রাণ ও দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে তিনি জেলার মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী অবস্থান তৈরি করে গেছেন। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিদায়ী পুলিশ সুপারকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।

বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আজিজুল হক বকশীর মৃত্যুতে শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৩০ নভেম্বর রবিবার দুপুর ২টায় জেলা আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতি জেলা শাখা এ শোকসভা আয়োজন করে। শোকসভায় সভাপতিত্ব করেন গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতি জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট মোল্লা মোহাম্মদ হাবিবুর রাছুল মামুন। অ্যাডভোকেট প্রদ্যুৎ কান্তি পালের সঞ্চালনায় শোকসভায় বক্তব্য রাখেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আমীর হোসেন বুলবুল, সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন, সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুর রহিম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল হক, সাবেক সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী মানছুরুল হক খসরু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক বাবুল কান্তি মজুমদার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল গোফরান ভূঞা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ মো. তাহের, বীর মুক্তিযোদ্ধা মিয়া মো. শাহজাহান, সাংবাদিক আবু নাছের মঞ্জু, কবি ফারুক আল ফয়সাল, জেলা জাসদের যুগ্ম আহবায়ক এস.এম রহিম উল্যাহ, অ্যাডভোকেট তুহিন চৌধুরী, অ্যাডভোকেট মাহমুদ হাসান, অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান তালুকদার, অ্যাডভোকেট আজিজুল হক বকশীর কন্যা ওছয়াতুন হাসনা বিনতে আজিজ হাসি। বক্তাগণ অ্যাডভোকেট আজিজুল হক বকশীর পেশাগত, রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, তাঁর মতো সৎ, নিবেদিতপ্রাণ রাজনীতিক, আইনজীবী ও সমাজকর্মীর আজকের সমাজে বড়ই অভাব। আমৃত্যু তিনি অধিকারহারা মানুষের পক্ষে রাজনীতি করেছেন, গরিব, অসহায় মানুষের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে আদালতে লড়েছেন এবং আলোকিত সমাজ গড়ার লক্ষ্যে সামাজিক সাংস্কৃতিক আন্দোলন করেছেন। উল্লেখ্য অ্যাডভোকেট আজীজুল হক বকশী ১০ নভেম্বর ২০২৫ মৃত্যুবরণ করেন।

আমার ময়না আর নেই, ডাক্তার আমার ময়নাকে খুন করেছে। ভুল চিকিৎসা আমার ময়নাকে আমার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে। সে আর কখনো আমার সঙ্গে কথা বলবে না, হাসবে না। তার দুই বছরের ছোট্ট শিশু আছে— মায়ের জন্য কাঁদে, কিন্তু তার মা আর ফিরে আসবে না। এই দৃশ্য আমরা সহ্য করতে পারছি না।’ শনিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে জেলা শহরের হাউজিং এলাকায় মেয়েকে হারিয়ে এভাবেই কান্না করতে করতে কথাগুলো বলছিলেন নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা শাহিন আক্তার। নিহত রিংকি আক্তার বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নের আব্দুল আজিজ বাবুলের মেয়ে। তার স্বামীর বাড়ি পার্শ্ববর্তী সোনাইমুড়ী উপজেলার বজরা ইউনিয়নের বদরপুর গ্রামে। তার স্বামী নুর হোসেন ইতালি প্রবাসী। তাদের দুই বছরের একটা ছেলে সন্তান রয়েছে। জানা গেছে, কিছুদিন আগে নোয়াখালীর একলাশপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা রিংকি আক্তার অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবার তাকে হাউজিং এলাকার ডা. মো. মুজিবুল হকের কাছে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান। চিকিৎসক জানান, রোগীর অস্ত্রোপচার প্রয়োজন। পরিবারের সদস্যরা ২৫ নভেম্বর অপারেশনে সম্মতি দিলে সেদিনই অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। অপারেশনের পর রোগীকে তড়িঘড়ি করে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। বাড়িতে নেওয়ার পরই রিংকির তলপেটে ব্যথা তীব্র আকার ধারণ করে এবং অতিরিক্ত রক্তপাত শুরু হয়। বিষয়টি চিকিৎসককে জানালে তিনি রক্তপাতকে স্বাভাবিক বলে দাবি করেন এবং কোনো ধরনের গুরুত্ব দেননি বলে অভিযোগ নিহতের পরিবারের। রোগীর অবস্থার আরও অবনতি হলে শনিবার (২৯ নভেম্বর) সকাল ৯টার দিকে তাকে পুনরায় ডা. মুজিবুল হকের হাসপাতালে আনা হয়। সকাল ১০টার কিছু পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় রিংকি আক্তারের মৃত্যু হয়। নিহতের মা শাহিন আক্তার বলেন, আমি মনে করি চিকিৎসকের অবহেলা, দায়িত্বহীনতা এবং ভুল চিকিৎসার কারণেই আমার মেয়েকে আমরা হারিয়েছি। তার ব্যথা ও রক্তপাতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি, সে একটু পানিও খেতে পারে নাই। আজ সকালে আনলে ডাক্তার বলেছে সে স্বাভাবিক আছে। কিন্তু রক্তক্ষরণ হয়েছে প্রচুর। যেখানে দ্রুত সঠিক চিকিৎসা পেলেই হয়তো আজ সে বেঁচে থাকতো। নিহতের ভাই আলাউদ্দিন শাকিল বলেন, আমি শুধু আমার বোনের জন্য নয়, ভবিষ্যতে যেন আর কোনো পরিবার এভাবে প্রিয়জনকে হারাতে না হয়—সেই ন্যায়বিচারের জন্য চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা চাই। আমার বোনের মৃত্যুর সঠিক বিচার হোক— এটাই আমার একমাত্র দাবি। তিনি আরও বলেন, ডা. মুজিবুল হকের বিরুদ্ধে এর আগেও ভুল চিকিৎসার অভিযোগ রয়েছে। মৃত্যুর ঘটনা জানাতে গেলে চিকিৎসক ও তার সহযোগীরা পরিবারকে ধাওয়া দিয়ে বের করে দেন এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। আমরা সুধারাম মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। এলাকাবাসী জানান, তার বাড়িতেই তিনি চিকিৎসা করান এবং অপারেশন করান। তার কোনো বৈধতা নেই। তবে বারবার চেষ্টা করেও ডা. মুজিবুল হকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে সুধারাম মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম বলেন, আমরা খবর পেয়েই পুলিশ প্রেরণ করেছি। এছাড়াও ভুক্তভোগীর ভাই অভিযোগ দিয়েছে। আমরা সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও নোয়াখালী-৪ আসনে দলের মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মো. শাহজাহান বলেছেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে নোয়াখালীকে সিটি করপোরেশন ঘোষণাসহ আধুনিক শহরে রূপান্তরিত করা হবে। এসময় তিনি নোয়াখালী বিভাগ আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতাও প্রকাশ করেন। শনিবার (২৯ নভেম্বর) নোয়াখালী প্রেস ক্লাবে নোয়াখালী-৪ (সদর-সূবর্ণচর) আসনের উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। মো. শাহজাহান বলেন, ১৯৯১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত টানা চারবার আমি এ আসনের বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য ছিলাম। এ সময় এলাকার অবকাঠামোসহ আইনশৃঙ্খলার ব্যাপক উন্নতি করা হয়। কিন্তু বিগত ফ্যাসিস্টরা এলাকায় উন্নয়নের নামে লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করেছে। তাদের সময়ে কিশোর গ্যাংয়ের উন্নতি হয়েছে। তিনি বলেন, সারা দেশে ধানের শীষের জোয়ার উঠছে। ইনশাল্লাহ জনগণের সমর্থন নিয়ে বিএনপি আবারও ক্ষমতায় আসবে। তখন নোয়াখালীর বড় বড় মেঘা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে ঐতিহ্যবাহী এ জেলাকে আধুনিক শহরে রূপান্তরিত করা হবে। মো. শাহজাহান বলেন, হাতিয়ার চেয়ারম্যান ঘাট পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণ, সূবর্ণচর এক্সপ্রেস চালু, স্বাস্থ্যসেবাকে আধুনিকায়ন, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, স্কুল-কলেজ জাতীয়করণ, পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করে আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন, বয়োজ্যেষ্ঠদের দিয়ে সমাজ নিয়ন্ত্রণ করা, কিশোর গ্যাং নির্মূল, জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রকল্প গ্রহণসহ নদীশাসন করে পর্যটনকে উৎসাহিত করা হবে। তিনি নির্বাচনি আসনের সদর ও সূবর্ণচর উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনার ফিরিস্তি তুলে ধরে সাংবাদিকদের বলেন, এটা প্রাথমিক উন্নয়ন ভাবনা। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হলে পূর্ণাঙ্গ ইশতেহার ঘোষণা করা হবে। গুরুত্বপূর্ণ কিছু জানা থাকলে আপনারা লিখিত আকারে দিলে আমরা তা অন্তর্ভুক্ত করে নিবো। এ সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আপোসহীন অকুতোভয় সৈনিক উল্লেখ করে তার দ্রুত সুস্থতার জন্য সাংবাদিকদের নিয়ে দোয়া-মোনাজাত করেন বিএনপির এ নেতা। মতবিনিময় সভায় নোয়াখালী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলো, সদস্য সচিব হারুনুর রশিদ আজাদ, যুগ্ম-আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এবিএম জাকারিয়া, সদস্য অ্যাডভোকেট আবদুর রহমান, কামরুজ্জামান হাফিজ, দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য অ্যাডভোকেট রবিউল হাসান পলাশ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সাবের আহমেদ, জেলা যুবদলের সেক্রেটারি নুরুল আমিন খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সোনাপুর কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান মরহুম মোস্তাফিজুর রহমান সাহেবের প্রথম মত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে এক স্বরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোনাপুর ডিগ্রী কলেজ মিলনায়তনে এই স্মরণসভার আয়োজন করা হয়। অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান পরিবার এই স্মরণ সভার আয়োজনে করে। এতে তাঁর সহধর্মিনী রহিমা ফেরদৌস লিপি বক্তব্যে, তিনি প্রয়াত স্বামীর জন্য ক্ষমা ও দোয়া চান। কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের কর্মসূচি শুরু হয়। বক্তব্যে তার দীর্ঘ কর্মময় জীবন, শিক্ষাক্ষেত্রে অসামান্য অবদান এবং ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ করেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সহকর্মী, গুণগ্রাহী ও পরিবারের সদস্যরা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, সোনাপুর কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন, উপাধ্যক্ষ জাফর আহমেদ ভূঁইয়া, শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক ও সহকারী অধ্যাপক মাহমুদ হোসেন, বিভাগীয় প্রধান ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ হাবিবুর রহমান,সহকারী অধ্যাপক শাকিলা পারভীন,সঞ্চালনায় মোঃ রশিদ আহমেদ প্রভাষক সামাজিক বিজ্ঞান সোনাপুর ডিগ্রী কলেজ।আরো বক্তব্য রাখেন, সোনাপুর কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি গিয়াস উদ্দিন রুবেল, সাধারণ সম্পাদক জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল বোরহান উদ্দিন বিশালসহ প্রমূখ।

নোয়াখালী সদর উপজেলার বিনোদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে পরীক্ষার সময় চিরকুট জব্দের ঘটনায় এক ফারহানা আক্তার মোহনা (১২) নামে এক ছাত্রী আত্মহত্যা করেছে। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে পাশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের টয়লেটে সে আত্মহত্যা করে। ফারহানা আক্তার মোহনা বিনোদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী এবং উপজেলার পণ্ডিতপুর গ্রামের মো. ফরহাদের মেয়ে। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাহফুজুল আকবর বলেন, সকাল সাড়ে ৯টায় বাংলা দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা শুরু হয় এবং ১১টার দিকে পরীক্ষা শেষ হয়। পরীক্ষা চলাকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক মিথুন চন্দ্র শীল ফারহানাকে চিরকুট ব্যবহার করতে দেখে শুধুমাত্র চিরকুটটি নিয়ে নেন। খাতা জব্দ বা কোনো শাস্তি দেওয়া হয়নি। মেয়েটি স্বাভাবিকভাবেই পরীক্ষা শেষ করে হল থেকে বেরিয়ে যায়। পরীক্ষা শেষে ফারহানা পাশের বিনোদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের টয়লেটে যায়। কিছুক্ষণ পর শিক্ষার্থীদের চিৎকারে শিক্ষকরা ছুটে গিয়ে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। তাকে দ্রুত উদ্ধার করে আমরা নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। বিনোদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন বলেন, পরীক্ষা ছিল দেড় ঘণ্টার। চিরকুট নেওয়া ছাড়া কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তারপরও এমন ঘটনা বেদনাদায়ক এবং অপ্রত্যাশিত। আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

মালয়েশিয়া ফেরত এক প্রবাসীর সফলতার গল্প শোনালেন নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক (ডিসি) মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম। বুধবার (২৬ নভেম্বর) জাতীয় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ গল্প তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আমি তখন কুড়িগ্রামের ইউএনও। একজন মালয়েশিয়া ফেরত প্রবাসী দেশে ফিরে হাঁসের খামার শুরু করেন। সেই খামারই তাকে কোটিপতি বানিয়েছে। অথচ প্রায় দশ বছর মালয়েশিয়ায় থেকেও তিনি তেমন কিছু করতে পারেননি। আপনাদের মধ্যেও উদ্যোক্তা হওয়ার ইচ্ছা থাকতে হবে। স্বপ্ন থাকতে হবে। তাহলেই সফলতা আসবে। আমাদের দেশ প্রাণিসম্পদে আরও এগিয়ে যাবে। জেলা প্রশাসক বলেন, সঠিক পরিকল্পনা ও প্রশিক্ষণের অভাবে অনেক খামারি ভালো করতে পারেন না। নোয়াখালীর চরাঞ্চলে দুধের দাম কম। কিন্তু যদি এই দুধ প্রক্রিয়াজাত করে মিষ্টি জাতীয় খাবার তৈরি করা যায়, তাহলে এর বাজারমূল্য অনেক বেড়ে যাবে। প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আবদুল্লাহ-আল-ফারুক বলেন, বাংলাদেশের সার্বিক আর্থ–সামাজিক উন্নয়নে প্রাণিসম্পদ খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। জাতীয় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ উদযাপনের মাধ্যমে আধুনিক প্রযুক্তির বিস্তার, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, নারী ও যুব উদ্যোক্তা সৃষ্টি, আন্তর্জাতিক মান অর্জন এবং সরকারি–বেসরকারি সমন্বয় আরও জোরদার হবে। আমি এর সার্বিক সফলতা কামনা করি। জানা গেছে, আধুনিক প্রযুক্তির প্রসার, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং নারী ও যুব উদ্যোক্তা সৃষ্টিকে লক্ষ্য ধরে নোয়াখালীতে বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে জাতীয় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ ২০২৫ শুরু হয়েছে। বুধবার (২৬ নভেম্বর) সকালে ‘দেশীয় জাত, আধুনিক প্রযুক্তি: প্রাণিসম্পদে হবে উন্নতি’ স্লোগানকে সামনে রেখে র্যালি, আলোচনা সভা ও প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। সোনাপুর পৌর শিশু নার্সিং বিদ্যালয়ের সামনে থেকে র্যালিটি শুরু হয়ে একই স্থানে এসে আলোচনা সভায় মিলিত হয়। পরে রঙিন বেলুন উড়িয়ে জাতীয় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহের উদ্বোধন করেন অতিথিরা। এরপর অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। সভা শেষে অতিথিরা সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে স্থাপিত ৩১টি প্রদর্শনী স্টল পরিদর্শন করেন। পরে সফল উদ্যোক্তা ও খামারিদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। জেলা প্রশাসন ও প্রাণিসম্পদ দপ্তর যৌথভাবে এসব কর্মসূচির আয়োজন করে। সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. তাসলীমা ফেরদৌসী জানান, সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে— প্রাণিসম্পদ বিষয়ক ভ্রাম্যমাণ আদালতের প্রচারণা, কৃত্রিম প্রজনন সেবা ও ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্প, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক স্কুল ফিডিং ও সচেতনতামূলক সভা, চিত্রাঙ্কন ও কুইজ প্রতিযোগিতা এবং সমাপনী দিনে ‘প্রাণিসম্পদের টেকসই উন্নয়নে তরুণ, নারী উদ্যোক্তা ও অংশীজনদের ভাবনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হোমায়রা ইসলাম বলেন, জাতীয় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ আধুনিক প্রযুক্তি, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও নতুন উদ্যোক্তা তৈরির গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। নোয়াখালীতে দেশীয় জাত সংরক্ষণ ও খামারিদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে আমরা কাজ করছি। প্রাণিসম্পদ খাত এগোলে গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।

ছাত্রাবাসের সামনে ব্যাডমিন্টন খেলার সময় স্ট্রোক করে নোসক শিক্ষার্থী তাহমিদের মৃত্যু। নোয়াখালী সরকারি কলেজের পুরাতন ক্যাম্পাসে অবস্থিত একমাত্র ছাত্রাবাস শহীদ অধ্যাপক আবুল হাসেম হলের সামনের মাঠে সহপাঠীদের সাথে ব্যাডমিন্টন খেলার সময় আকষ্মিকভাবে স্ট্রোক করে মাঠে লুটিয়ে পড়ে নোয়াখালী সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী তাসবীহুল হাসান তাহমীদ। পরবর্তীতে সহপাঠীরা উদ্ধার করে স্থানীয় হসপিটালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তাহমীদের এমন মৃত্যুতে শোকে স্তব্ধ হয়ে গেছে অধ্যাপক আবুল হাসেম হলের আঙ্গিনা। নিহতের পরিবার, আত্মীয়স্বজন, এলাকাবাসী ও কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

Best IT Agency

ভূমিকম্পে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ভাষা শহীদ আবদুস সালাম হলের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং পলেস্তারা খসে পড়েছে। এতে আবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকালে ভূমিকম্পের সময় এসব ফাটল ও পলেস্তারা খসে পড়ার ঘটনা ঘটে। ভূমিকম্পের পর সরেজমিনে দেখা যায়, হলের দেয়াল ও সিঁড়ির বেশ কিছু জায়গায় নতুন ফাটল দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি চতুর্থ তলার ওয়াশরুমের দরজার বেশ কয়েকটি অংশে পলেস্তারা খসে পড়েছে। বিষয়টি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই শিক্ষার্থীরা হল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান। নাইমুর রহমান নামের এক আবাসিক শিক্ষার্থী বলেন, ভূমিকম্পের সময় আমি হলে ছিলাম। হঠাৎ ভবনটি প্রায় ১০ সেকেন্ড ধরে তীব্রভাবে কাঁপতে থাকে। মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আমি ও বন্ধুরা দ্রুত সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে আসি। অনেকেই চিৎকার করছিল। নিচে নেমে সবার মুখে একই ধরনের ভয় দেখেছি। ভবনটি এতটাই কাঁপছিল যে মনে হচ্ছিল বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। পরে দেয়ালসহ বিভিন্ন জায়গায় ফাটল দেখি, যা আমাদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দেয়। ভাষা শহীদ আবদুস সালাম হলের প্রভোস্ট মো. ফরিদ দেওয়ান বলেন, আমি দায়িত্ব নেওয়ার আগেই হলের বি ব্লকের ওয়াশরুমের দরজার পাশে পলেস্তারা খসে পড়েছিল। তবে আজকের ভূমিকম্পে তা আরও দৃশ্যমান হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন সিঁড়িতেও আগে ফাটল ছিল, যা আজ আরও স্পষ্ট হয়েছে। বিষয়গুলো পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল বলেন, প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ যাচাই করা হচ্ছে। দ্রুতই প্রকৌশলী দলকে দিয়ে হলে বিস্তারিত পরিদর্শন করানো হবে এবং প্রয়োজনীয় মেরামত ও সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে

নোয়াখালী জেলার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে যোগদান করেছেন মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম। তিনি বিসিএস (প্রশাসন) ২৭তম ব্যাচের একজন কর্মকর্তা। ইতোপূর্বে তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এর সচিব হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর নিজ জেলা টাঙ্গাইল।
.jpeg&w=3840&q=75)
নোয়াখালীর জেলা শহর মাইজদীর একটি হাসপাতালে হাতের অপারেশন করাতে গিয়ে রাবেয়া বেগম (৪৮) নামে এক নারীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। রোববার (১৬ নভেম্বর) দুপুরে মৃতের মেজো ছেলে মো. রাজন হোসেন এমন অভিযোগ করেন। এর আগে শনিবার রাত পৌনে ১২টার দিকে প্রাইম হসপিটালের অপারেশন থিয়েটারে ওই নারী মারা যান। মৃত রাবেয়া লক্ষ্মীপুর জেলার চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের শেখপুর গ্রামের সর্দার বাড়ির শামছুল হুদার স্ত্রী। নিহতের ছেলে রাজন হোসেন অভিযোগ করে বলেন, দুই মাস আগে বাড়ির উঠানে পা পিছলে পড়ে বাম হাতের কবজির ওপরে ভেঙে ফেলেন মা। তাৎক্ষণিক চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের এক ডাক্তারের কাছে ভাঙা হাতে প্লাস্টার করা হয়। দুই মাস পর প্লাস্টার খুলে এক্সরে করলে দেখা যায় ভাঙা হাড় জোড়া লাগেনি। এরপর মাইজদীর প্রাইম হসপিটালের ডাক্তার ফরিদুল ইসলামের সঙ্গে ৭৫ হাজার টাকায় মায়ের বাম হাতের ভাঙা স্থানে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পাত বসানোর চুক্তি হয়। তিনি জানান, চুক্তি মোতাবেক শনিবার সন্ধ্যায় মাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। একই দিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে অজ্ঞান করেন অ্যানেসথেসিয়ান গোলাম হায়দার। পরে তার আর জ্ঞান ফেরেনি। রাজন অভিযোগ আরও বলেন, অজ্ঞান করার এক ঘণ্টা পর তাকে আইসিইউতে নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তীতে ব্যাপক টালবাহানা করে রাত সাড়ে ৩টার দিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান আমার মা মারা গেছেন। প্রকৃতপক্ষে আমার মা অজ্ঞান করার কিছুক্ষণের মধ্যেই মারা যান। রোববার সকালে হাসপাতাল থেকে আমাদের জানানো হয় অপারেশন, আইসিইউ ও অ্যাম্বুলেন্সের কোনো খরচ লাগবে না আপনারা মরদেহ নিয়ে যান। হাসপাতাল থেকে আমাকে বলা হয়েছে- আমার মায়ের হাইপ্রেশার থাকায় এমন হয়েছে। আবার বলে লো প্রেশার ছিল, এজন্য এমন হয়েছে। রোববার দুপুর সোয়া ১টার দিকে আমার বড় ভাই ও চাচা হাসপাতালে এসে সমঝোতা করে মরদেহ নিয়ে গেছেন। কী সমঝোতা হয়েছে সেটা আমি এখনো জানি না। যোগাযোগ করা হলে মাইজদী প্রাইম হসপিটালের সিনিয়র এজিএম শিপন শাহ ভুল চিকিৎসার মৃত্যু অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বলেন, অপারেশনের পর রোগীর অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। ডাক্তার রোগীর স্বজনদের বলেছেন আপনারা মামলা করার প্রয়োজন মনে করলে করেন। নোয়াখালী সিভিল সার্জন ডাক্তার মরিয়ম সিমি বলেন, এ ঘটনায় কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আগে গণভোট পরে জাতীয় নির্বাচন, না হয় নির্বাচন হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম মাসুম। (শুক্রবার) সকালে নোয়াখালীর পৌরবাজারে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে এটিএম মাসুম বলেন, জুলাই সনদের ভিত্তিতে আগামী দিনে বাংলাদেশে একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের অঙ্গীকারে এ দেশের জনগণ আবদ্ধ হয়। আমাদের পক্ষ থেকে আমরা এই সনদকে আদর্শের মাধ্যমে এবং পরবর্তীতে গণভোটের মাধ্যমে এটাকে সাংবিধানিক মর্যাদা দেওয়ার জন্য দাবি জানিয়েছিলাম। তিনি আরও বলেন, এই দাবিতে আমরা যখন আন্দোলন শুরু করেছিলাম তখন একটি দল বলছিল, এগুলো তো আলোচনার পথে থাকার কথা, জামায়াত এগুলোকে নিয়ে রাজপথে কেন যাচ্ছে। গতকাল প্রধান উপদেষ্টার ভাষণের পর আপনারা কি বুঝতে পেরেছেন আমাদের আন্দোলনের যৌক্তিকতা কী। আমরা আগেই সন্দেহ করেছিলাম প্রধান উপদেষ্টার আশপাশে এমন কিছু কুচক্রী মহল আছে যারা এই দেশকে অতীতেও সঠিক পথে চলতে দেয়নি, আর ভবিষ্যতেও এই দেশকে সঠিক পথে চলতে দেবে না। তিনি বলেন, আমরা এই চক্রান্ত আঁচ করতে পেরে ৫ দফা দাবীর ভিত্তিতে রাজপথে আন্দোলন শুরু করি। এই আশঙ্কার জেরে আমাদের সাথে আরও কয়েকটি ইসলামি দল রাজপথের আন্দোলনে শামিল হয়। আমাদের ৫ দফা দাবি ছিল জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করা ও সাংবিধানিক মর্যাদা দেওয়া, গণভোটের মধ্যে দিয়ে এই সনদকে এই জাতির জন্য স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্য একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য এটাকে একটি মহাসনদ হিসেবে মর্যাদা দান করা, আগামী নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা, বিগত স্বৈরশাসকের বিচার নিশ্চিত করা, নতুন কোনো স্বৈরশাসক যাতে তৈরি না হতে পারে সেজন্য নির্বাচন পরিষদকে স্বাধীনসত্ত্বা দান করা। এটা শুধু আমাদের দাবি নয়, দেশের ৭০ ভাগ জনগণ এই দাবির পক্ষে। সমাবেশ শেষে পৌর বাজার থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নাশকতা ও দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে এবং জুলাই গণহত্যার বিচার দ্রুত সম্পন্নের দাবিতে নোয়াখালীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। বুধবার (১২ নভেম্বর) রাত ১০টার দিকে জেলা শহরের বড় মসজিদ মোড় থেকে শহর শাখা শিবিরের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। এতে সংগঠনের সাবেক ও বর্তমান নেতাকর্মীরা অংশ নেন। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় বড় মসজিদ মোড়ে এসে সমাবেশে মিলিত হয়। বিক্ষোভ-সমাবেশে স্থানীয় নেতাকর্মী ও এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে পুরো এলাকা সরব হয়ে ওঠে। সমাবেশে বক্তারা বলেন, আওয়ামী লীগ অতীতের মতো আবারও দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। গণহত্যার বিচারে ধীরগতি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদাসীনতার সুযোগে দলটি ফের নাশকতার পথে হাঁটছে। তারা জুলাই হত্যাকাণ্ডসহ সব হত্যার দ্রুত বিচার সম্পন্নের দাবি জানান। বক্তারা আরও বলেন, জুলাই সনদকে আইনি স্বীকৃতি দিতে হবে এবং আওয়ামী লীগের অতীত ও চলমান গণহত্যার বিচার সম্পন্ন করে দলটিকে চিরতরে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে হবে।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি ২০০৬ সালের ২৮শে অক্টোবর রাজধানীর পুরানা পল্টনে আওয়ামী লীগ লগি-বৈঠা হামলার বিচারের দাবিতে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ও বসুরহাট পৌরসভা জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর)বিকালে বাদ আসর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি সূচনা হয়ে বসুরহাট বাজারের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো পদক্ষীণ করে বাজারের কেন্দ্রস্থলে আরডি শপিং মলের সম্মুখে সমাবেশ মিলিত হয়। এই নৃশংস ঘটনার প্রতিবাদে দেশের সকল মহানগরী, জেলা, উপজেলা ও থানা পর্যায়ে সভা-সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়, তারই অংশ হিসেবে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা জামায়াত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে আয়োজন করেছে। বিক্ষোভ মিছিল পরিচালনা ও সমাবেশ অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জামায়াতের পৌরসভার সেক্রেটারি মাওলানা হেলাল উদ্দিন। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,উপজেলা জামায়াতের আমির ও নোয়াখালী- ৫ আসনে জামায়াতের এমপি প্রার্থী অধ্যক্ষ বেলায়েত হোসাইন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বসুরহাট পৌরসভার জামায়াতের আমির ও বসুরহাট পৌরসভার জামায়াতের মেয়র প্রার্থী মাওলানা মোশারফ হোসাইন। বক্তৃতারা বলেন, ২৮শে অক্টোবর জাতির ইতিহাসে এক ভয়াল দিন। ওই দিন আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসরদের হামলায় ঢাকাসহ সারা দেশে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের ১৪ জন নেতাকর্মী শহীদ হন এবং আহত হন সহস্রাধিক নেতাকর্মী। শুধু ঢাকায় নয়, সারা দেশেই ১৪ দলের সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে চরম নৈরাজ্য সৃষ্টি করে। আওয়ামী সন্ত্রাসীরা মানুষ হত্যা করে মৃতদেহের ওপর নৃত্য করে বর্বর আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠে- যা সারা বিশ্বের গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়। এই ঘটনা ছিল পূর্বপরিকল্পিত মানবতাবিরোধী গণহত্যা। আরো বলেন,আগামীতে জাতি জামায়াত ইসলামীকে দাঁড়িপাল্লা ভোট দিতে উন্মুখ হয়ে আছে, জাতি সন্ত্রাসী,লুটেরা, চাঁদাবাজদের ক্ষমতায় দেখতে চায় না।জনগণ শান্তি চায় ,নিরাপত্তা চায় এবং মাথা উঁচু করে চলতে চায়। এই নৃশংস ঘটনার প্রতিবাদে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা শাখা সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা মহি উদ্দিন,পৌর সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা ইয়াকুব, পৌর সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আবু ইউসুফসহ উপজেলা ও পৌরসভা জামায়াতের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সৌদি আরব থেকে ওমরা পালন শেষে দেশে ফিরে মাইক্রোবাসে করে স্ত্রী, মা ও ভাতিজাকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি আসছিলেন আবুল কালাম আজাদ (৫৫)। তবে বাড়ি ফেরা হলো না তার। পথে মাইক্রোবাস দুর্ঘটনায় নিহত হন আজাদ। এছাড়া আহত হয়েছেন তার স্ত্রী নাসিমা আক্তার, মা ও ভাতিজা লিমন। রোববার (২৬ অক্টোবর) ভোররাতে মাইজদী বাজারের টিভি সেন্টার এলাকায় মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আবুল কালাম আজাদ নোয়াখালীর সদর উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের ব্যবসায়ী ও সদর উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চরদরবেশ গ্রামের নুরুল হক ছোট মিয়ার ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পবিত্র ওমরা হজ পালন শেষে মাইক্রোবাসে করে স্ত্রী, মা ও ভাতিজাকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি ফিরছিলেন আজাদ। মাইজদী বাজারের টিভি সেন্টার এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দেয়। এতে মাইক্রোবাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। নিহতের ছেলে মো. ফাহাদ হাসান বলেন, আমাদের বাড়ি পৌঁছাতে মাত্র ২০ মিনিট বাকি ছিল। হঠাৎ এক দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ির পেছনে ধাক্কা দিয়ে চালক পালিয়ে যায়। রাত হওয়ায় কেউ দুর্ঘটনাটি টের পায়নি। চারপাশ আলোকিত হওয়ার পর স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়। তিনি আরও বলেন, আহতদের নোয়াখালী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার্ড করা হয়। বাবা ঘটনাস্থলে মারা গেছেন। সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। পুলিশের সহযোগিতায় প্রথমেই আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়, পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নোয়াখালীর সদর উপজেলার নেয়াজপুরে বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৪০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। রোববার (১৯ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার নেয়াজপুর ইউনিয়নের কাশেম বাজারের মসজিদের সামনে এ ঘটনা ঘটে। দুই পক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, শনিবার মসজিদে শিবিরের আয়োজিত কুরআন শিক্ষার কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা শুরু হয়। রোববার আসরের নামাজের পর একই স্থানে কর্মসূচি হলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া–পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা আহত হন। নোয়াখালী জেলা ছাত্রশিবিরের প্রচার সম্পাদক ফজলে রাব্বী অভিযোগ করে বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা মসজিদে হামলা চালায় এবং কয়েকজনকে অবরুদ্ধ করে রাখে। এতে সংগঠনের অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদিকে স্থানীয় একাধিক বিএনপির নেতাকর্মী অভিযোগ করে বলেন, মসজিদে শিবির নেতাকর্মীরা দলীয় স্লোগান দিলে বাধা দেওয়ায় তারা হামলা চালায়। এতে ইউনিয়ন বিএনপির অন্তত ১৫ জন নেতাকর্মী আহত হন। কয়েকজনকে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ এলাকার (সিইপিজেড) একটি ভবনে চিকিৎসা সরঞ্জাম তৈরির একটি কোম্পানির দুইটি তলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১৫টি ইউনিট কাজ করছে। তবে আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে কোনো কিছু জানা যায়নি। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আগুন জ্বলছে। বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে সিইপিজেডের ১ নম্বর সেক্টরের ৫ নম্বর সড়কের ‘অ্যাডামস ক্যাপ অ্যান্ড টেক্সটাইল লিমিটেড’ নামের ওই কোম্পানিতে আগুন লাগে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ৮ তলা ভবনের মেডিকেল ইকুইপমেন্ট তৈরির প্রতিষ্ঠানের ৭ তলায় আগুন লাগার পর ৬ তলায় ছড়িয়ে পড়ে। সিইপিজেড, বন্দর, কেইপিজেড ও আগ্রাবাদের ১৫টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। প্রচুর পুলিশ মোতায়ন রয়েছে। যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, বহুতল কারখানার ওপরের তলায় আগুন জ্বলছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস। কারখানাটিতে কত শ্রমিক ছিলেন, কেউ আটকা পড়েছেন কিনা, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি। ফায়ার সার্ভিসের চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপসহকারী পরিচালক আবদুল মান্নান বলেন, ওই কারখানায় কোনো শ্রমিক কর্মচারী আটকা পড়েছে কিনা তা নিশ্চিত করে বলতে পারছি না। আমরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছি। ইপিজেড থানার ওসি মোহাম্মদ জামির হোসেন জিয়া বলেন, সিইপিজেডে একটি ভবনে চিকিৎসা সরঞ্জাম তৈরির একটি কোম্পানির দুইটি তলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ওই দুই তলায় গুদাম বলে ধারণা করছি। আগুন লাগার খবরে সিঁড়ি দিয়ে হুড়োহুড়ি করে নারীদের নামতে দেখা গেছে। গুরুতর তেমন আহত হয়নি। এখনও সেখানে আগুন জ্বলছে।

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) নবগঠিত ছাত্রী সংস্থার আত্মপ্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক প্রশাসনিক কর্মকর্তার অশালীন মন্তব্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। জানা গেছে, ১৫ অক্টোবর বুধবার নবীন নারী শিক্ষার্থীদের বরণের মাধ্যমে প্রকাশ্যে আসার ঘোষণা দিয়েছে নোবিপ্রবি ইসলামী ছাত্রীসংস্থা। বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ আব্দুর রহমান পোস্টের কমেন্টে 'আর নয় গুপ্ত ও পরকীয়া। এবার স্বামী হিসেবে স্বীকৃতি' মন্তব্য করেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও প্রশাসনের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। এতে শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে কর্মকর্তার বিচার দাবি করেন। শিক্ষার্থীরা বলেন, ফেসবুকে নারী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে একজন সহকারী রেজিস্ট্রার ও বিএনপি নেতার এমন অশালীন, নারী-বিদ্বেষী ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য আমাদের ব্যথিত করেছে। আমরা সেই কর্মকর্তার বিচার দাবি করছি। ইসরাত জাহান নামের এক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বলেন, একজন বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তার কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ শুধু অনৈতিক নয়, এটি শিক্ষাঙ্গনের মূল্যবোধ ও পেশাগত নীতির চরম লঙ্ঘন। আমরা ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। ভবিষ্যতে যেন কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী নারী-বিদ্বেষী বা অবমাননাকর আচরণে লিপ্ত না হন, এজন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে কঠোর নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নিতে হবে। অভিযোগের বিষয়ে মোহাম্মদ আব্দুর রহমান বলেন, আমরা দীর্ঘ ১৭ বছর ত্যাগ শিকার করেছি। আমার নামে ১৭টি মামলা আছে। আমাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। আমি একটা মন্তব্য করেছি এটা আমার ভুল হয়েছে। তবে এতদিন তারা কোথায় ছিল? কখনো তো তাদের কাউকে দেখি নাই। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ এফ এম আরিফুর রহমান বলেন, এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ রয়েছে কিন্তু তিনি কারও কথা শুনেন না। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ প্রায় সবার নামেই কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে থাকেন। একটা মানুষ ব্যক্তিগত না পরিবর্তন হলে আমরা কিছুই করতে পারি না। তাকে বিষয় গুলো অবহিত করা হলেও তিনি গুরুত্ব দেন না।

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় সিঁধ কেটে ঘরে ঢুকে গৃহবধূকে ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি মো. জসিমকে (৩২) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১১, সিপিসি-৩, নোয়াখালী। রোববার (১২ অক্টোবর) বিকেলে লক্ষ্মীপুর জেলার সদর উপজেলা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত জসিম সদর উপজেলার আন্ডারচর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম মাইজচরা গ্রামের জামাল উদ্দিনের ছেলে। মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগীর স্বামী জেলা শহরে রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন এবং সপ্তাহে একদিন বাড়িতে যান। এ সময় গৃহবধূ পালিত কন্যাসন্তানকে নিয়ে বাড়িতে থাকতেন। গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে গৃহবধূর ঘরে সিঁধ কেটে প্রবেশ করে অভিযুক্ত জসিম ও তার সহযোগী। পরে জসিম গৃহবধূর মুখ চেপে ধরলে তিনি জসিমকে চিনে ফেলেন। পরবর্তীতে গৃহবধূর ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে ধর্ষণ করা হয়। এ ঘটনায় সুধারাম মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়। র্যাব-১১, সিপিসি-৩ নোয়াখালী ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার ও সহকারী পুলিশ সুপার মিঠুন কুমার কুণ্ডু বলেন, গৃহবধূর স্বামী অনুপস্থিত থাকার সুযোগে প্রতিবেশী জসিম দীর্ঘদিন ধরে ভুক্তভোগীকে নানা অঙ্গভঙ্গি ও কটূক্তির মাধ্যমে উত্ত্যক্ত করতেন। গৃহবধূর মামলা দায়েরের পর থেকেই আসামি জসিম পলাতক ছিলেন। আমরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হই। তাকে সুধারাম মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী শহীদ আবরার ফাহাদের ৬ষ্ঠ শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, নোয়াখালী সরকারি কলেজ শাখা। মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) সকালে নোয়াখালী সরকারি কলেজ কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন কলেজ শিবির সভাপতি নাজিম মাহমুদ শুভ এবং সঞ্চালনা করেন সেক্রেটারি আব্দুল কাদের আল আমিন। পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী শহর ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি আব্দুল্লাহ আল মাহবুব। এছাড়া শহর ও কলেজ শাখার বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। বক্তারা বলেন, ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। তাঁর একমাত্র অপরাধ ছিল সত্যের পক্ষে কথা বলা এবং আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া। তাঁরা দিনটিকে ‘নিপীড়নবিরোধী দিবস’ হিসেবে পালনের আহ্বান জানান। বক্তারা আরও বলেন, ২০০৯ সাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতির নামে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন হাজারো শিক্ষার্থী। জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী নতুন বাস্তবতায় ছাত্রসমাজ এমন সহিংসতার পুনরাবৃত্তি আর দেখতে চায় না। আলোচনা সভা শেষে শহীদ আবরার ফাহাদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মুনাজাত করা হয়।

সদর উপজেলা প্রতিনিধিঃ নোয়াখালী সদর উপজেলায় মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে মো.সাঈদ (২৯) নামে এক দিনমজুরের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার উপজেলার চরমটুয়া ইউনিয়নের ৪নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব চরমটুয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সাঈদ একই গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে এবং পেশায় একজন দিনমজুর ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে উপজেলার পূর্বচরমটুয়া গ্রামে হালকা বৃষ্টিপাত শুরু হয়। এ সময় থেমে থেমে বজ্রপাতও হয়। ওই সময় বৃষ্টিতে বাড়ির পাশে ধানক্ষেতে মাছ ধরতে যান। একপর্যায়ে সেখানে বজ্রপাতে তিনি মারা যান। পরে সকালে স্থানীয়রা তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পরিবারের সদস্যদের খবর দেন। এ বিষয়ে সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.কামরুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পরবর্তীতে এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নোয়াখালী জেলা শহর মাইজদীর সুধারাম থানার সংলগ্ন হাউজিং এলাকায় প্রকাশ্যে কিশোর গ্যাংয়ের ভয়ঙ্কর দৌরাত্ম্যের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সংঘটিত এ হামলার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, একদল কিশোর রিকশা থামিয়ে আরেক কিশোরের ওপর হঠাৎ ঝাঁপিয়ে পড়ে। এ সময় তারা তাকে এলোপাতাড়ি কিল, ঘুষি ও লাথি মারতে থাকে। বাবা-মা বলে ডেকেও ছেলেটা রক্ষা পায়নি। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ২ মিনিট ২১ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, প্রায় ৯ জন কিশোর রিকশায় থাকা এক কিশোরকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মারছে। একপর্যায়ে ওই তরুণ দৌড়ে প্রাণে রক্ষা পান, তবে গ্যাং সদস্যরা তাকে ধাওয়া করতে থাকে। স্থানীয় বাসিন্দা আফসার হোসেন অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই এসব কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্যে সাধারণ মানুষ ভীত-সন্ত্রস্ত। হয়তো একটা ভিডিও ভাইরাল হয়েছে বলে মানুষ জানতে পেরেছে কিন্তু বাস্তবে এর সং খ্যা অনেক বেশি। দিন কি রাত কিশোর গ্যাং উৎপাত চালিয়ে যাচ্ছে। মুখ খুলছে না কেউ। আমাদের দাবি, দ্রুত এ ধরনের অপরাধ দমনে প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম বলেন, আমরা ভিডিওটি পেয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে হামলাকারীদের পরিচয় পাওয়া গেছে তবে ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় তারা সবাই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।