

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় প্রতিবন্ধী এক চালককে হত্যা করে অটোরিকশা ছিনতাই করেছে দুর্বৃত্তরা। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মুন্সী বাড়ির পেছনের একটি ধানক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত আবদুল আহাদ (২৪) একই ইউনিয়নের বাসিন্দা নুরুল আলমের ছেলে। তিনি শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী ছিলেন এবং অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার দুপুরে মুন্সী বাড়ির পেছনের ধানক্ষেতে একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে এলাকাবাসী। পরে কাছে গিয়ে তারা মরদেহটি নিখোঁজ অটোরিকশা চালক আহাদের বলে শনাক্ত করেন। খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে শত শত মানুষ ভিড় করেন। তবে আহাদের ব্যবহৃত অটোরিকশাটি ঘটনাস্থল বা আশপাশে পাওয়া যায়নি। এ সময় তার মুখ ও গলায় টেপ প্যাঁচানো অবস্থায় ছিল বলে স্থানীয়রা জানান। নিহতের মামা মো. আজাদ বলেন, দুই বছর আগে আহাদের মায়ের সঙ্গে তার বাবার ছাড়াছাড়ি হয়। এরপর থেকে সে নানার বাড়িতে থাকত। স্থানীয় জিলানী নামে এক ব্যক্তির গ্যারেজে থেকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করত আহাদ। শনিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে অটোরিকশার মালিক ফোনে আহাদের মাকে জানান, সে রিকশা নিয়ে গ্যারেজে ফেরেনি। এরপর থেকে অটোরিকশাসহ নিখোঁজ ছিল। রোববার দুপুরে জমির মালিক ধানক্ষেতে পানি দিতে গিয়ে মুখে কসটেপ মোড়ানো অবস্থায় আহাদের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়দের জানান। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য মানিক বলেন, এলাকাবাসীর মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আহাদকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তার অটোরিকশাটি পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে অটোরিকশাটি ছিনতাই করা হয়েছে। আমরা দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাই। বেগমগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) হাবিবুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। তবে নিহতের অটোরিকশার এখনও কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। হত্যার কারণ ও ঘটনায় জড়িতদের পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।