

জনপ্রিয় কৌতুক অভিনেতা হারুন কিসিঞ্জারের মৃত্যুর খবরটি সম্পূর্ণ গুজব বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাত থেকে ফেসবুক ও টিকটকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ভক্তদের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়। তবে এই অভিনেতা বর্তমানে জীবিত আছেন এবং রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, হারুন কিসিঞ্জার দীর্ঘদিন ধরে নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত জটিলতায় ভুগছেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে গত কয়েকদিনের তুলনায় এখন তিনি অনেকটা সুস্থ। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী সব ঠিক থাকলে আগামী দুই-একদিনের মধ্যেই তিনি বাসায় ফিরতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে। বাবার মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হারুন কিসিঞ্জারের ছেলে রুবেল খন্দকার। রোববার রাতে এক ফেসবুক পোস্টে তিনি একে 'নোংরা গুজব' বলে অভিহিত করেন। রুবেল লিখেছেন, কিছু অসাধু ও সস্তা ভিউ-লোভী মানুষ আমার আব্বুর মৃত্যু নিয়ে মিথ্যে সংবাদ প্রচার করছে। অসুস্থতা নিয়ে যারা ব্যবসা করে, তারা সমাজের আবর্জনা। তিনি আরও জানান, তার বাবা এখন আগের চেয়ে সুস্থ আছেন। একইসাথে এই ধরনের সংবেদনশীল বিষয়ে গুজব রটনাকারীদের শনাক্ত করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের আওতায় কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি। নব্বই দশকের জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ও টেলিভিশন নাটকে স্বতন্ত্র কৌতুকাভিনয়ের মাধ্যমে দেশজুড়ে পরিচিতি পান হারুন কিসিঞ্জার। ছোট পর্দার পাশাপাশি বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রেও তাকে দেখা গেছে। দীর্ঘদিন অভিনয়ে অনিয়মিত থাকলেও তার হাস্যরসাত্মক সংলাপ ও স্বতঃস্ফূর্ত অভিনয় এখনো দর্শকদের মনে গেঁথে আছে।

নোয়াখালী-৩ আসনের বেগমগঞ্জে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীকে ভোট দিলে তাদের চিহ্নিত করে এলাকাছাড়া করার হুমকির অভিযোগ উঠেছে মির জুমলা মিঠু নামের এক বিএনপি নেতা বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তাকে শোকজ করেছে নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে বেগমগঞ্জ উপজেলার বিচারিক কমিটির সিভিল জজ নিশি আক্তার শোকজের বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নোয়াখালী-৩ আসনের বিএনপির প্রার্থী বরকত উল্লাহ বুলুর পক্ষে ভোট করছেন মির জুমলা মিঠু। তিনি বেগমগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক, আলাইয়ারপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এবং একই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান। আলাইয়ারপুর ইউনিয়নের একটি উঠান বৈঠকে দেওয়া তার একটি বক্তব্য ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। ওই ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘মনে রাখবেন, যারা স্থানীয় জামায়াতের ভোট করে তাদের চিহ্নিত করে রাখবেন। আমরা তাদের থেকে জবাব আদায় করে ছাড়বো। আমরা তাদেরকে এলাকায় থাকতে দেবো না—এইটা হলো আমাদের সাফ কথা। এই বক্তব্য অনেকে রেকর্ড করলেও কিছু যায় আসে না।’ পরে বিষয়টি জানার পর বেগমগঞ্জ নির্বাচনি অনুসন্ধান কমিটি মির জুমলা মিঠুকে শোকজ করেন। মঙ্গলবার ওই শোকজের জবাব দিয়েছেন অভিযুক্ত বিএনপি নেতা মিঠু। বিষয়টি নিশ্চিত করে বিচারিক কমিটির সিভিল জজ নিশি আক্তার বলেন, ‘অভিযুক্ত বিএনপি নেতা শোকজের জবাব দিয়েছেন। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) অভিযোগকারীদের পক্ষের সাক্ষীদের ডাকা হয়েছে। এরপর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ এ বিষয়ে জানতে বিএনপি নেতা মির জুমলা মিঠুকে বারবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরে খুদেবার্তা পাঠালেও তিনি তার কোনো উত্তর দেননি। তবে বেগমগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কামাখ্যা চন্দ্র দাস ভিডিওর কণ্ঠ বিএনপি নেতা মির জুমলা মিঠুর বলে নিশ্চিত করেন। তিনি দাবি করেন, জামায়াতের বাহিরাগত লোকজন এলাকায় গিয়ে মারামারি করে। তাদেরকে চিহ্নিত করে রাখতে বলেছেন মির জুমলা মিঠু। নোয়াখালী-৩ আসনে সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এদের মধ্যে বিএনপির প্রার্থী দলের ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু এবং ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী জামায়াতের জেলা সেক্রেটারি মাওলানা বোরহান উদ্দিন।

নোয়াখালী-৩ (বেগমগঞ্জ) আসনের ১১ দলীয় জোট প্রার্থী মাওলানা বোরহান উদ্দিনের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের একটি নির্বাচনি কার্যালয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) ভোর রাতে বেগমগঞ্জ উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সেতুভাঙ্গা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। জামায়াত নেতাদের অভিযোগ, গভীর রাতে একদল দুর্বৃত্ত মাওলানা বোরহান উদ্দিনের নির্বাচনি অফিসে আগুন লাগিয়ে পালিয়ে যায়। মুহূর্তেই আগুনের ছড়িয়ে পড়ে এবং নির্বাচনি প্রচারণায় ব্যবহৃত ব্যাটারিচালিত রিকশা, আসবাবপত্র ও প্রচারের উপকরণ সামগ্রী পুড়ে যায়। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী বোরহান উদ্দিন বলেন, গণতন্ত্রের সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট করতে এবং ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াতে রাতের আঁধারে এই আগুন দেওয়া হয়েছে। আমরা প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে সকালে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় কারা জড়িত তা খুঁজে বের করতে তদন্ত চলছে।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের নির্বাচনী প্রচারণায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ হামলায় জামায়াত ও এনসিপির অন্তত সাত নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। জামায়াতের পক্ষ থেকে এ হামলার জন্য বিএনপির নেতাকর্মীদের দায়ী করা হয়েছে। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বেগমগঞ্জ উপজেলার আলাইয়ারপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাজী বাড়ির দরজায় এ ঘটনা ঘটে। হামলায় আহতরা হলেন— এনসিপির জেলা জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক হাবিব উল্লাহ (২৭), দাঁড়িপাল্লার কর্মী জাহিদ (১৯), হৃদয় (২৭), অনিক (১৯), অপূর্ব (১৯), সাইফ (১৮) ও নজরুল ইসলাম সাগর (২৫)। আহতদের মধ্যে জাহিদকে গুরুতর অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ১১ দলীয় জোট মনোনীত দাড়িপাল্লার জামায়াতের জেলা সেক্রেটারি বোরহান উদ্দিন প্রার্থী মাওলানা বোরহান উদ্দিনের পক্ষে গণসংযোগে যাওয়ার সময় স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। বেগমগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের যুব বিভাগের সভাপতি জাকির হোসেন অভিযোগ করে বলেন, বিকেলে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রচারণা চলাকালে বিএনপির কর্মীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে প্রচারণায় অংশ নেওয়া জামায়াত ও এনসিপির নেতাকর্মীরা আহত হন। এ বিষয়ে বেগমগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কামাখ্যা চন্দ্র দাস বলেন, ঘটনার বিষয়ে আমি কিছু জানি না। খোঁজ নিয়ে পরে জানানো হবে। নোয়াখালী জেলা জামায়াতের প্রচার বিভাগের দায়িত্বে থাকা ডা. বোরহান উদ্দিন বলেন, ১১ দলীয় প্রার্থীর শান্তিপূর্ণ গণসংযোগে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। এতে আমাদের কয়েকজন নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। আমরা এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি। বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। জামায়াতের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের রাজগঞ্জ ইউনিয়নে বিএনপি প্রার্থীর একটি নির্বাচনি ক্যাম্পে (অফিস) অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুনে ওই ক্যাম্পের চেয়ার টেবিল ও পার্শ্ববর্তী আরও তিনটি দোকান পুড়ে গেছে। সোমবার (২ ফেব্রয়ারি) ভোরে নোয়াখালী-৩ আসনের রাজগঞ্জের বাকীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন বিএনপির নির্বাচনি ক্যাম্পে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি পরিকল্পিত বলে অভিযোগ করছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। স্থানীয়রা জানান, ফজরের নামাজ পড়তে বের হওয়া মুসল্লীরা দেখতে পান বিএনপির নির্বাচনি কার্যালয়সহ পাশের দোকানগুলোতে আগুন জ্বলছে। পরে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিলে মুসল্লিরা এসে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এর আগেই বিএনপির নির্বাচনি কার্যালয়, পাশের সাইকেল মার্ট দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। অপর একটি দোকান আংশিক পুড়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। নোয়াখালী-৩ আসনের ধানের শীষ প্রতীকের নির্বাচনি সমন্বয়ক মুরাদ জিয়াউর রহমান সুমন বলেন, আগুনের ধরণ অনুযায়ী আলাদা আলাদা ভাবে আগুন লাগানো হয়েছে। মূলত বিএনপি অফিস পোড়ানো হয়, আর সেটাকে ভিন্নখাতে নেওয়ার জন্য পাশেরগুলোতেও আগুন লাগানো হয়। বেগমগঞ্জ থানার ওসি শামসুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও নোয়াখালী-৩ আসনে দলের সংসদ সদস্য প্রার্থী বরকত উল্লাহ বুলু বলেছেন, একাত্তর সালের দেশ বিরোধীরা এখন ছাব্বিশে এসে দেশের জন্য মায়াকান্না দেখাচ্ছে। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের এখলাশপুরে স্থানীয় বিএনপির আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় তিনি এ কথা বলেন। বরকত উল্লাহ বুলু বলেন, ধর্মকে রাজনীতিতে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে জামায়াত। তারা কখনোই দেশের ভালো চায়নি। ভবিষ্যতেও চাইবে না। এ বিষয়ে জনগণকে খেয়াল রাখতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের নবী (সা.) নিজেও কাউকে জান্নাতের টিকিটের গ্যারান্টি দিয়ে যাননি। সেখানে একটি রাজনৈতিক দল কীভাবে মানুষকে জান্নাতের নিশ্চয়তা দেয়! এটা জনগণের বিবেকের কাছে প্রশ্ন। এ সময় বিএনপির এই ভাইস চেয়ারম্যান অভিযোগ করে বলেন, ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা ধর্মের মৌলিক শিক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। যা জামায়াত প্রতিনিয়ত করে যাচ্ছে। ইসলাম কখনোই ক্ষমতার সিঁড়ি হতে পারে না। ধর্মকে ভোটের বাজারে পণ্য বানানো ধর্মেরই অবমাননা করা। দেশের মানুষ এখন অনেক সচেতন উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণ ধর্মীয় আবেগে নয়, বরং উন্নয়ন, গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও ন্যায়বিচারের প্রশ্নে সিদ্ধান্ত নিতে চায়। বরকত উল্লাহ বুলু আরও বলেন, দেশের মানুষ জানে জান্নাতের মালিক স্বয়ং আল্লাহ। কোনো রাজনৈতিক দল, কোনো নেতা জান্নাতের চাবি হাতে নিয়ে বসে নেই। যখন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে জান্নাত-জাহান্নামের কথা বলা হয়, তখন বুঝতে হবে রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব কোথায় গিয়ে ঠেকেছে। অনুষ্ঠানে নোয়াখালী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলো, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য শামিমা বরকত লাকি, বেগমগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কামাখ্যা চন্দ্র দাস, সদস্য সচিব মাহফুজুল হক আবেদ, চৌমুহনী পৌর বিএনপির আহ্বায়ক জহির উদ্দিন হারুনসহ বিভিন্ন স্তরের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে ক্রিকেট খেলা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে ছুরিকাঘাতে মো. আরিফ হোসেন (২০) নামে এক তরুণ নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় জিরতলী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের রুগুরামপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আরিফ হোসেন কুতুবপুর গ্রামের বাঞ্ছারাম বাড়ির সিরাজ মিয়ার ছেলে। তিনি ঢাকায় একটি ফ্যাক্টরিতে কাজ করতেন এবং সাত-আট দিন আগে বাড়িতে এসেছিলেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে বাড়ির পেছনে স্থানীয় যুবকদের মধ্যে ক্রিকেট খেলা নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। এসময় আরিফ বিষয়টি মীমাংসা করার চেষ্টা করেন। এতে ফাহিম নামে স্থানীয় এক যুবকের সঙ্গে আরিফের ধাক্কাধাক্কি হয়। শুক্রবার সন্ধ্যায় রুগুরামপুর গ্রামে ফাহিমের নেতৃত্বে হামলা চালিয়ে আরিফকে ছুরিকাঘাত করা হয়। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যায়। নিহতের বড় ভাই মো. আকিল জানান, ফাহিম ও সাইফুলসহ একদল যুবক এ হামলা চালায়। এসময় আরিফকে বাঁচাতে গিয়ে তার দুই চাচাতো ভাই উমায়ের (২১) ও ওমর (২২) ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছেন। বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সামছুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে রাখা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

লক্ষ্মীপুরে ডাম্প ট্রাক চাপায় আফরিন আক্তার (১০) নামে এক স্কুলছাত্রী নিহত হয়েছে। এসময় অটোরিকশা চালক মো. রাজু গুরুতর আহত হয়। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে জেলা শহরের এলজিইডি ভবন এলাকায় লক্ষ্মীপুর-ঢাকা আঞ্চলিক মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আফরিন লক্ষ্মীপুর পৌরসভার মজুপুর এলাকার আক্তার পাটোয়ারীর মেয়ে ও কাকলী শিশু অঙ্গনের শিক্ষার্থী। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ঘটনার সময় দ্রুতগতির ডাম্প ট্রাক অটোরিকশাটিকে চাপায় দেয়। এতে রিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে অটোরিকশায় থাকা স্কুলছাত্রী আফরিন ও অটোচালক রাজুকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালে নিলে আফরিনকে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে। রাজুর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়। লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, দুর্ঘটনায় ডাম্প ট্রাক জব্দ আছে। তবে চালক পালিয়ে যাওয়ায় তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় হাইওয়ে পুলিশ কাজ করছে।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বড় ভাই আবু বক্কর ছিদ্দিককে (৬৬) কুপিয়ে হত্যার দায়ে ছোট ভাই হারুনুর রশিদকে (৫৫) গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। সোমবার (১২ জানুয়ারি) র্যাব-১১ (সিপিসি-৩) নোয়াখালী কার্যালয়ের কোম্পানি কামান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মুহিত কবীর সেরনিয়াবাত বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, রোববার (১১ জানুয়ারি) রাতে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আসামি হারুনুর রশিদকে ফেনী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের শহীদ সেলিনা পারভীন সড়কে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে বেগমগঞ্জ থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। গ্রেফতার হারুনুর রশিদ বেগমগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের তুলাচারা গ্রামের মৃত ছেলামত উল্যাহর ছেলে। মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ ডিসেম্বর (মঙ্গলবার) সকালে জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে বড় ভাই আবু বক্কর ছিদ্দিককে কুপিয়ে জখম করে ছোট ভাই হারুনুর রশিদ। আহত আবু বক্করকে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ওইদিন রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি সেখানে মারা যান। পরে নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে হারুনুর রশিদকের প্রধান আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সামছুজ্জামান বলেন, আসামি হারুনুর রশিদকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

লক্ষ্মীপুরে শুভ পোদ্দার নামে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীর মুখ বেঁধে প্রায় ৩০ ভরি স্বর্ণালংকার ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। যাত্রীবেশে একজন নারী ও একজন পুরুষ সিএনজিচালিত অটোরিকশায় উঠে ঘটনাটি ঘটিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এই ঘটনার সঙ্গে অটোরিকশা চালকও জড়িত রয়েছেন। শনিবার (৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের পিয়রাপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শুভ কমলনগর উপজেলার হাজির হাট বাজারের ওয়েলকাম জুয়েলার্সের স্বত্ত্বাধিকারী। শুভ পোদ্দার জানান, তিনি প্রায় ৪০ ভরি স্বর্ণ নিয়ে সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ বাজারে যান। সেখানে স্বর্ণের দোকানে তিনি ১০ ভরি স্বর্ণ বিক্রি করেন। স্বর্ণ বিক্রির ২১ লাখ টাকার চেক ও বাকি ৩০ ভরি স্বর্ণ নিয়ে তিনি চন্দ্রগঞ্জ থেকে চলে আসেন। ঘটনার সময় অপরিচিত অটোরিকশায় করে তিনি জেলা শহর থেকে হাজিরহাটের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন। তার সঙ্গে যাত্রীবেশে অপরিচিত একজন মহিলা ও পুরুষও ওঠেন। পিয়ারাপুর এলাকায় পৌঁছালে অপরিচিত নারী পুরুষ তার মুখ বেঁধে ফেলে। একপর্যায়ে তার সঙ্গে থাকা প্রায় ৩০ ভরি স্বর্ণ ছিনতাই করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ স্বর্ণ ব্যবসায়ীর। তবে তার পকেটে স্বর্ণ বিক্রির ২১ লাখ টাকার চেক নেয়নি দুর্বৃত্তরা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানিয়েছে। জেলা বাজুসের সভাপতি সমীর কর্মকার জানান, স্বর্ণ ছিনতাইয়ের ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে। এমন ঘটনায় স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও জানান তিনি। সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠনো হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত চলছে। এ নিয়ে পুলিশ কাজ করছে।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার মজুমদারহাট-আপানিয়া সড়কের দুইপাশ দখল করে অবৈধভাবে বালু রেখে ব্যবসা পরিচালনার কারণে যান ও পথচারী চলাচলে জনদূর্ভোগ সৃষ্টি করা ব্যক্তিদের অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত। অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে পালিয়ে যায় বালু ব্যবসায়ীরা। পরে ঘটনাস্থল থেকে ৬৬০ ঘনফুট বালু জব্দ করে নিলামে বিক্রি করে দেওয়া হয়। একই সাথে প্রকাশ্যে ধূমপান করায় মহিন উদ্দিন (২৮) নামের এক যুবককে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ আইনে ১০০ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।

বেগমগঞ্জে আবাসিক হোটেল থেকে পিস্তল-গুলিসহ গ্রেপ্তার ২ বেগমগঞ্জের চৌমুহনী বাজারের একটি আবাসিক হোটেল থেকে বিদেশি পিস্তল ও গুলিসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এ বারী। এর আগে, গতকাল বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক সাড়ে দশটার দিকে উপজেলার চৌমুহনী বাজারের আবাসিক হোটেল 'রিয়াদের' ৩০২ নম্বর কক্ষ থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, চৌমুহনী পৌরসভার পৌর হাজীপুর গ্রামের শহীদ হক ওরফে বাবুল মোল্লার ছেলে মো.জাহিদ হাসান রাসেল (৪০) ও দুর্গাপুর ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের বাসুর নতুন বাড়ির মো. নাসির আহাম্মেদের ছেলে মোহাম্মদ বসু (৪২)। পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাতে আবাসিক হোটেল রিয়াদে অভিযান চালায় পুলিশ। পরবর্তীতে তল্লাশি চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল ও ৭.৬৫ ক্যালিবারের দুই রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তার রাসেলের বিরুদ্ধে পূর্বে ছয়টি মামলা ও একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। বেগমগঞ্জ মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল বারী , তারা অপরাধ সংগঠনের উদ্দেশ্যে ওই হোটেলে অবস্থান করছিল। এ ঘটনায় অস্ত্র আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আসামিদের নোয়াখালী জেলা চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

বেগমগঞ্জে ছোট ভাইয়ের হাতে বড় ভাই খুন নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে ছোট ভাই হারুনুর রশিদের হাতে খুনের শিকার হয়েছে বড় ভাই আবু বকর ছিদ্দিক(৬৪)। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সন্ধায় বেগমগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) এম এ বারী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে মঙ্গলবার সকালে উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের তুলাচারা গ্রামের ছেলাসক উল্যাহর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর থেকে ঘাতক ছোট ভাই হারুনুর রশিদ পালাতক। সূত্র জানায়, ছোট ভাই হারুনুর রশিদের সাথে বড় ভাই আবু বকর ছিদ্দিকের সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ ছিলো। এর জের ঘরে মঙ্গলবার সকালে বাড়ির সামনে একা পেয়ে ছোট ভাই হারুনুর রশিদ বড় ভাই আবু বকর ছিদ্দিককে এলোপাথাড়ি ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করে। স্বজনরা ছিদ্দিককে উদ্ধার করে প্রথমে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ডাক্তাররা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এদিকে আবু বকর ছিদ্দিকের মৃত্যুতে এলাকায় ও পরিবারের সদস্যদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।নিহত আবু বকর ছিদ্দিকের পুত্র ফয়সাল জানান, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে আমার চাচা দীর্ঘদিন থেকেই আমাদেরকে হুমকি দিচ্ছিলো। আমরা আমার বাবার হত্যাকারীর বিচার চাই।বেগমগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) এম এ বারী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লাশের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশ ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসি দ্বীপের মানাদো শহরে একটি বৃদ্ধাশ্রমে অগ্নিকাণ্ডের জেরে নিহত হয়েছেন অন্তত ১৬ জন এবং দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও তিন জন। ইন্দোনেশীয় বার্তাসংস্থা অন্তরা নিউজের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স। মানাদো পুলিশের কর্মকর্তা আলমসিয়াহ পি. হাসিবুয়ান অন্তরা নিউজকে জানিয়েছেন, রোববার গভীর রাতে আগুন লেগেছিল। সোমবার ভোরের দিকে নিয়ন্ত্রণে আসে সেই আগুন। আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে এখনও জানা যায়নি, তবে পুলিশ ইতোমধ্যে এ বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে। ইন্দোনেশীয় টিভি চ্যানেল মেট্রো টিভি বৃদ্ধনিবাসটিতে আগুনের ভিডিওচিত্র প্রকাশ করেছে। সেখানে দেখা গেছে আগুনের লেলিহান শিখা রীতিমতো গ্রাস করছে বৃদ্ধনিবাস ভবনটিকে, সেখানে বসবাসরতরা জীবন বাঁচাতে সাহায্যের জন্য আকুতি জানাচ্ছেন। মানাদো ফায়ার সার্ভিস বিভাগের প্রধান জিমি রতিনসুলু জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডের শিকার ও বৃদ্ধনিবাস ভবনটিতে যারা ছিলেন, তাদের বেশিরভাগই বয়সজনিত কারণে শারীরিকভাবে দুর্বল। আগুন লাগার পর ভবনটিতে আটকা পড়েছিলেন তারা। সূত্র : রয়টার্স

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে ৩০০ বার কুপিয়ে যুবককে হত্যার ঘটনার প্রধান আসামি দেলু বাহিনীর প্রধান দেলোয়ার হোসেনকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) বিকেলে নোয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। এর আগে বেগমগঞ্জের কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-১১ সিপিসি-৩। দেলোয়ার হোসেন দেলু বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নের বেপারী বাড়ির ছায়েদুল হক ছাদুর ছেলে। জানা যায়, দেলোয়ার হোসেন দেলু ও তার সহযোগীরা এক যুবককে দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে ৩০০ কোপের অধিক কুপিয়ে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছেন। ওই ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেওয়ার কিছুক্ষণ পর তার মৃত্যু হয়। র্যাব জানায়, দেলোয়ার হোসেন দেলু স্থানীয় দেলোয়ার বাহিনীর প্রধান ও দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততা স্বীকার করেছে। র্যাব-১১, সিপিসি-৩, নোয়াখালীর কোম্পানী কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মুহিত কবীর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দেলোয়ার হোসেন দেলু আইনের চোখে ফাঁকি দিয়ে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন। আমরা তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার করে কারাগারে প্রেরণ করেছি। সে ছিল মামলার প্রধান আসামি। তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। র্যাব-১১, সিপিসি-৩ নিয়মিত অভিযান চালিয়ে পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করে আসছে এবং এটি অব্যাহত থাকবে।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের আগুনে নয়টি দোকান পুড়ে গেছে। মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন মাইজদী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ফায়ার ফাইটার সোহেল আহমেদ। এর আগে, সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নের অনন্তপুর গ্রামের জামাল মার্কেটে এই অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাত সাড়ে ১২টার দিকে জামাল মার্কেটে নিউ সুমন ম্যাট্রেস লেপ-তোষকের কারখানায় আগুনের সূত্রপাত হয়। ওই সময় কারখানায় থাকা তিন শ্রমিক দ্রুত বের হয়ে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যে লেপ-তোষকের কারখানার আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এতে কারখানার পাশের চা দোকান, মুদি দোকান ও ফার্মেসী দোকানসহ আরও আটটি দোকান পুড়ে গেছে। খবর পেয়ে সুধারাম ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট এক ঘণ্টারও বেশি সময় চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। মাইজদী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ফায়ার ফাইটার সোহেল আহমেদ আরও বলেন, বৈদ্যুতিক শর্ট-সার্কিট থেকে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। অগ্নিকাণ্ডে নয়টি দোকানের ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলুর নির্বাচনি পরিচালনা কমিটি গঠনের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত সভায় হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় অন্তত ৫ জন আহত হয়েছেন। সোমবার (৮ ডিসেম্বর) বিকালে উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নের একলাশপুর ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা মাঠে এ ঘটনা ঘটে। একলাশপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুর রহিম চুন্নু জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরকত উল্লাহ বুলু নোয়াখালী-৩ (বেগমগঞ্জ) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী। সোমবার বিকালে একলাশপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠনের লক্ষ্যে একটি সভার আয়োজন করে স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। ওই সভায় বিকাল ৪টার দিকে প্রায় ৩ শতাধিক নেতাকর্মী এসে যোগ দেন। এ সময় হঠাৎ মুখোশ পরে ৫০-৬০ জন যুবক এসে হামলা চালায়। এক সময় বেগমগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্য মোরশেদ সিরাজীসহ অন্তত ৫ জন আহত হন। পরবর্তীতে তারা সভাস্থলে প্রায় ৫ শতাধিক চেয়ার ও মঞ্চ ভাঙচুর করে চলে যায়। হামলাকারীরা যাওয়ার সময় বলে যায় এখানে কোনো সভা করা যাবে না। বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট আব্দুর রহিম চুন্নু আরও জানান, হামলাকারীরা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ-যুবলীগের সম্রাট বাহিনী ও খালাসি সুমন বাহিনীর সদস্য ছিল। আমি তাদের কয়েকজনকে আদালত আঙিনায় আগেও দেখেছি। বেগমগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কামাক্ষ্যা চন্দ্র দাস বলেন, নির্বাচনী কেন্দ্র কমিটি নিয়ে একটি গণ্ডগোল হয়েছে বলে আমি শুনেছি। এর বেশি কিছু আমি জানি না। বেগমগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হাবিবুর রহমান হাবিব জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

নোয়াখালী বেগমগঞ্জ উপজেলায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসের পিছনে ধাক্কা লেগে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় অটোরিকশার চালকসহ আরও চারজন আহত হয়েছেন।সোমবার (৮ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার মাইজদী টু চৌমুহনী আঞ্চলিক মহাসড়কের একলাশপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ধন রঞ্জন দে (৬০) উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার ৩নম্বর ওয়ার্ডের আলীপুর গ্রামের সত্য রঞ্জন দের ছেলে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বেলা সোয়া ১১টার দিকে চৌমুহনী চৌরাস্তা থেকে একটি যাত্রীবাহী সিএনজি চালিত অটোরিকশা জেলা শহর মাইজদীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে। যাত্রা পথে সিএনজিটি মাইজদী টু চৌমুহনী আঞ্চলিক মহাসড়কের একলাশপুর এলাকায় আসলে সামনে একটি সিএনজি হটাৎ ব্রেক করে দাঁড়িয়ে যায়। এতে পিছনে থাকা সিএনজি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসের পিছনে ধাক্কা দেয়। এ সময় সিএনজি আরোহী ধন রঞ্জনসহ ৫জন গুরুত্বর আহত হয়। তাৎক্ষণিক ধন রঞ্জনকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।চন্দ্রগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোবারক হোসেন ভূঁইয়া দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে , সিএনজি নিয়ন্ত্রণ হারালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশ। দুর্ঘটনার শিকার সিএনজি জব্দ করা হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে প্রকাশ্যে মধ্যযুগীয় কায়দায় ফখরুল ইসলাম মন্জু ওরফে বলি (২৫) নামে এক যুবককে পিটিয়ে-কুপিয়ে হত্যা করেছে কিশোর গ্যাং সদস্যরা। তবে পুলিশ বলছে, নিহত যুবক একাধিক মামলার আসামি। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের অভিযোগ রয়েছে। সোমবার (৮ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে পূর্ব শত্রুতা ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের ১নম্বর ওয়ার্ডের মান্দার বাড়ির দরজায় এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত বলি উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার ৯নম্বর ওয়ার্ডের খালাসী বাড়ির বদিউজ্জামানের ছেলে। নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার ভোর ৬টার দিকে বলি তার বড় বোন শাহনাজ আক্তার টুম্পার অসুস্থ মেয়েকে দেখতে তাদের বাড়িতে যায়। সেখান থেকে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে পুনরায় নিজের বাড়ি ফেরার পথে উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের মান্দার বাড়ির দরজায় পৌঁছলে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা ১৫/২০জন কিশোর গ্যাং সদস্য তাকে সিএনজিতে কোপ দেয়। পরে সে সিএনজি থেকে পড়ে গেলে তারা তাকে বেধড়ক পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে। নিহতের পরিবারের দাবি পূর্ব শক্রতার জেরে বলিকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। চৌমুহনী বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মোতালেব দাবি করেন, আজ সকালে তার ছেলে মিজানুর রহমান ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে বাড়ি থেকে চৌমুহনী বাজারের উদ্দেশ্যে বের হয়। যাত্রা পথে উপজেলার মনতাজ স্যারের বাড়ির সামনে পৌঁছলে বলি ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা আমার ছেলেকে সিএনজি চালিত অটোরিকশা থেকে নামিয়ে মারধর করে টাকা গুলো ছিনিয়ে নেয়। পরে খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন সেখানে গিয়ে বলিকে গণপিটুনি দিলে সে মারা যায়। তাৎক্ষণিক বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী সন্ত্রাসীদের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ করে এবং নিহত বলির আড্ডা খানায় হামলা চালায়। বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এ বারী বলেন, অস্ত্র, বিস্ফোরকসহ নিহত বলির বিরুদ্ধে ৫/৭টি মামলা রয়েছে। এলাকায় তার বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জনঅসন্তোষে তাকে গণপিটুনি দেওয়া হয়। মরদেহ উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে। পরবর্তীতে এ ঘটনায় আইনগব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে একটি কবরস্থান থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় বস্তাবন্দি ছয়টি বন্দুক ও একটি পাইপগান উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (৭ নভেম্বর) সকালে আলাইয়ারপুর ইউনিয়নের জগদীশপুর গ্রামের মনু মিজির বাড়ির পারিবারিক কবরস্থান থেকে অস্ত্রগুলো উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, সকালে বাড়ির পাশে পারিবারিক কবরস্থান পরিষ্কার করতে গিয়ে বাড়ির লোকজন বস্তাবন্দি অস্ত্রগুলো দেখতে পান। পরে ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিলে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ ও লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ থানা পুলিশ গিয়ে অস্ত্রগুলো জব্দ করে। বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এ বারী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে ছয়টি দেশীয় তৈরি একনলা বন্দুক ও একটি পাইপপগান রয়েছে। লক্ষ্মীপুর জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি মামলায় এ অস্ত্রের সংশ্লিষ্টতা থাকায় অস্ত্রগুলো তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে আব্দুল কাদের জিলানী ওরফে কানকাটা কাদিরাকে হত্যার ঘটনায় সাত দিন পর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচিত হয়েছে হত্যাকান্ডের ঘটনায় জড়িত এক সৌদি প্রবাসীসহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তাররা হলেন, উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের আব্দুল কাদের চেরাং বাড়ির বাসিন্দা সৌদি আরব প্রবাসী মো. ইদ্রিস ওরফে মানিক (৩৪), মোহাম্মদ রাকিব (২৬) ও একই বাড়ির মো. জাফর (২৮)। শনিবার বিকেলে আসামিদের নোয়াখালী চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়। এর আগে, একই দিন ভোরে উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের চেরাং বাড়ি থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। নিহত জিলানী ওই উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. গোফরানের ছেলে। পুলিশ জানায়, এক মাস আগে উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের চেরাং বাড়ির সৌদি আরব প্রবাসী মানিক দেশে ফেরেন। দেশে আসার পর তার থেকে ইয়াবা সেবনের জন্য টাকা দাবি করেন চার মামলার আসামি কানকাটা কাদিরা। এ নিয়ে তাদের মধ্যে একটা বিরোধ সৃষ্টি হয়। ওই সুযোগে কাদিরার প্রতিপক্ষ গ্রুপের রাকিব ও জাফরসহ একাধিক অস্ত্রধারী কাদিরাকে হত্যার মিশনে নামেন। পরবর্তীতে আধিপত্য বিস্তারের জেরে শুক্রবার (৭ নভেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ১০-১৫ জন সন্ত্রাসী উপজেলার হাজীপুর গ্রামের মুন্নার দোকানের সামনে তাকে পিটিয়ে এবং উপর্যুপরি কুপিয়ে হত্যার পর মরদেহ ডোবায় ফেলে দেয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বেগমগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক কুতুব উদ্দিন লিয়ন বলেন, এ ঘটনায় নিহতের পরিবার বেগমগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। হত্যাকাণ্ডের সাত দিন পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আসামিদের তাদের নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিন আসামির মধ্যে দুজন দোষ স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

‘গণিতে হোক চিত্ত অভয়-গণিতে হোক বিশ্বজয়’ স্লোগানকে সামনে রেখে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির নোয়াখালী জেলা উত্তরের উদ্যোগে গণিত অলিম্পিয়াডের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) সকালে বেগমগঞ্জের চৌমুহনী হ্যাংআউট রেস্টুরেন্টে এ আয়োজন হয়। অনুষ্ঠানে অতিথিরা ১০০ জন শিক্ষার্থীর হাতে ক্রেস্ট, প্রাইজমানি ও বিভিন্ন পুরস্কার তুলে দেন। ছাত্রশিবির নোয়াখালী জেলা উত্তরের সভাপতি দাউদ ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মো. বরকত আলী। গণিতচর্চা শিক্ষার্থীদের যুক্তিবোধ, মননশীলতা ও সৃজনশীলতা তৈরি করে। এমন উদ্যোগ তাদের ভবিষ্যৎ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় তথ্য সম্পাদক আবু সায়েদ সুমন বলেন, গণিতচর্চা তরুণদের চিন্তাশক্তি ও যুক্তিবোধকে আরও শক্তিশালী করে। এমন আয়োজন নতুন প্রজন্মকে বিশ্বমঞ্চে প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত করে। শিক্ষার্থীদের প্রতিভা বিকাশে গণিত অলিম্পিয়াড কার্যকর ভূমিকা রাখে। আমরা চাই দেশের প্রতিটি অঞ্চলে এমন আয়োজন ছড়িয়ে পড়ুক। অলিম্পিয়াডে অংশ নেওয়া মেধাবী শিক্ষার্থী সাবিহা তাসনিম বলেন, অংশগ্রহণের মাধ্যমে আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। ভবিষ্যতেও গণিতকে ভালোবেসে এগিয়ে যেতে চাই। নবম শ্রেণির আরেক অংশগ্রহণকারী আরাফাত হোসেন বলেন, এই প্রতিযোগিতা আমাদের নতুন করে স্বপ্ন দেখিয়েছে। এমন আয়োজন আরও হলে আমরা আরও শিখতে পারব। জেলা উত্তর শাখার অফিস সম্পাদক আমিমুল ইহসান ফাহাদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে জেলা উত্তর সেক্রেটারি মুজাহিদুল ইসলাম, জেলা উত্তর অর্থ সম্পাদক ওসমান গনি প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

নোয়াখালী-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) মোহাম্মদ আলী ও তার পরিবারের সদস্যদের মালিকানাধীন স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক ও ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রোববার (২৩ নভেম্বর) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন। দুদকের পক্ষে সংস্থাটির উপপরিচালক ও টিম লিডার মো. সিফাত উদ্দিনের স্বাক্ষরে এবং রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী খন্দকার শামীম হোসেনের মাধ্যমে আবেদনটি দাখিল করা হয়। মোহাম্মদ আলী পরিবারের অন্য সদস্যরা হলেন- তার স্ত্রী আয়েশা ফেরদাউস, ছেলে আশিক আলী ও মাহতাব আলী এবং মেয়ে সুমাইয়া আক্তার রিয়া। দুদক জানায়, তারা জ্ঞাত আয়ের উৎসের বাইরে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জন করে ভোগদখলে রেখেছেন। অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অপরাধলব্ধ সম্পদ অন্যত্র বিক্রি, হস্তান্তর বা পাচারের চেষ্টা করছেন। দুদকের আবেদনে বলা হয়, অভিযুক্তদের নামে হাতিয়ার বিভিন্ন স্থানে হোটেল ‘ঈশিতা’, ‘ঈশিতা-২’ এবং ওমখালী বাজার এলাকায় নির্মাণাধীন একটি মার্কেটসহ একাধিক স্থাবর সম্পত্তির প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। এসব সম্পত্তি অপরাধলব্ধ আয়ের মাধ্যমে অর্জিত বলে দুদক জানিয়েছে। এছাড়া পূবালী ব্যাংকের ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেল শাখায় মাহতাব আলীর নামে একটি ব্যাংক হিসাবে ৬ কোটি টাকার বেশি স্থিতি রয়েছে, যা অপরাধলব্ধ আয়ের অংশ হিসেবে দুদক চিহ্নিত করেছে

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার রাজগঞ্জ ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা মীর হোসেন সাদ্দাম হত্যার বিচার ও আসামিদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন তার পরিবার, স্বজন এবং এলাকাবাসী। রোববার (২৩ নভেম্বর) বেলা ১১টায় নোয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে ৬নং রাজগঞ্জ ইউনিয়নবাসীর ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, সাদ্দামকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের বেশিরভাগই আদালত থেকে জামিনে বের হয়ে এসে নিহতের পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে। ইতোমধ্যে দুইজন আসামি জামিন নিয়ে বিদেশে পালিয়ে গেছে বলেও অভিযোগ ওঠে। অদৃশ্য মহলের প্রভাবে একের পর এক আসামি জামিনে বের হয়ে যাওয়ায় সাদ্দামের স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন। নিহত সাদ্দামের স্ত্রী সুবর্ণা আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার বয়স মাত্র ১৯। নয় মাসের শিশু কোলে নিয়ে আমাকে বিধবা হতে হলো। যারা আমার স্বামীকে হত্যা করেছে, তারাই আবার জামিনে এসে আমাদের হুমকি দিচ্ছে। আমরা ভয়ে-আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি। সাদ্দামের মা মমতাজ বেগম বলেন, আমার ছেলেকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করে প্লাস্টিকে মুড়িয়ে সেফটিক ট্যাংকে ফেলে রেখেছে। এখন তারা জামিনে বের হয়ে আমাদেরই হুমকি দিচ্ছে। আমার ছেলের হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই। নিহতের বড় ভাই জাহাঙ্গীর হোসেন সোহেল বলেন, পুলিশ আসামি গ্রেপ্তার করলেও অদৃশ্য কারণে সবাই জামিনে বের হয়ে যাচ্ছে। কার ইশারায় তারা জামিন পাচ্ছে? আমার ভাইয়ের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। মানববন্ধনে জেলা যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক মুরাদ জিয়াউর রহমান সুমন, রাজগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী কমিটির সভাপতি মহিন উদ্দিন, ছাত্রদল নেতা জাহিদুল ইসলাম মঞ্জুসহ স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ ও নিহতের পরিবার অংশ নেন। প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের দুর্গানগর গ্রামের একটি পরিত্যক্ত সেফটিক ট্যাংক থেকে পলিথিনে মোড়ানো সাদ্দামের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে নিহতের বড় ভাই জাহাঙ্গীর হোসেন সোহেল অজ্ঞাতদের আসামি করে বেগমগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় এখন পর্যন্ত ৭ জনকে আটক করেছে পুলিশ। সাদ্দাম বেগমগঞ্জের রাজগঞ্জ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের রাজেন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে আব্দুল কাদের জিলানী ওরফে কানকাটা কাদিরাকে হত্যার ঘটনায় সাত দিন পর এক সৌদি প্রবাসীসহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তাররা হলেন, উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের আব্দুল কাদের চেরাং বাড়ির বাসিন্দা সৌদি আরব প্রবাসী মো. ইদ্রিস ওরফে মানিক (৩৪), মোহাম্মদ রাকিব (২৬) ও একই বাড়ির মো. জাফর (২৮)। শনিবার বিকেলে আসামিদের নোয়াখালী চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়। এর আগে, একই দিন ভোরে উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের চেরাং বাড়ি থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। নিহত জিলানী ওই উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. গোফরানের ছেলে। পুলিশ জানায়, এক মাস আগে উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের চেরাং বাড়ির সৌদি আরব প্রবাসী মানিক দেশে ফেরেন। দেশে আসার পর তার থেকে ইয়াবা সেবনের জন্য টাকা দাবি করেন চার মামলার আসামি কানকাটা কাদিরা। এ নিয়ে তাদের মধ্যে একটা বিরোধ সৃষ্টি হয়। ওই সুযোগে কাদিরার প্রতিপক্ষ গ্রুপের রাকিব ও জাফরসহ একাধিক অস্ত্রধারী কাদিরাকে হত্যার মিশনে নামেন। পরবর্তীতে আধিপত্য বিস্তারের জেরে শুক্রবার (৭ নভেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ১০-১৫ জন সন্ত্রাসী উপজেলার হাজীপুর গ্রামের মুন্নার দোকানের সামনে তাকে পিটিয়ে এবং উপর্যুপরি কুপিয়ে হত্যার পর মরদেহ ডোবায় ফেলে দেয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বেগমগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক কুতুব উদ্দিন লিয়ন বলেন, এ ঘটনায় নিহতের পরিবার বেগমগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। হত্যাকাণ্ডের সাত দিন পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আসামিদের তাদের নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিন আসামির মধ্যে দুজন দোষ স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে বাঁশের সাঁকো থেকে খালে পড়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। রোববার (৯ নভেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের মির্জানগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ফাতেহা আক্তার (৫) একই ইউনিয়নের আহাম্মদ আলীর নতুন বাড়ির কফিল উদ্দিন বাবুর মেয়ে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুরের দিকে নিহত শিশুর মা শারমিন আক্তার নামাজ পড়ার জন্য ঘরে যায়। ওই সময় শিশুটি পরিবারের সদস্যদের অগোচরে বাড়ির পাশে বাঁশের সাঁকো দিয়ে খাল পার হওয়ার সময় পা পিছলে খালের পানিতে পড়ে যায়। নিহতের মা নামাজ শেষে ঘর থেকে বের হয়ে লোকজনের চিৎকার শুনে খালের সামনে যায়। সেখানে গিয়ে তিনি মেয়ের লাশ খালের পানিতে ভাসতে দেখেন। বেগমগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হাবীবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ না থানায় মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এক যুবককে বেধড়ক পেটানোর পর কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিক পুলিশ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের নাম জানাতে পারেনি। নিহত যুবকের নাম আব্দুল কাদের জিলানী ওরফে কানকাটা কাদিরা (৪২)। তিনি চৌমুহনী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের গোফরান মিয়া বাড়ির মো. গোফরানের ছেলে। শনিবার (৮ নভেম্বর) দুপুরের দিকে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। এর আগে, গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের চারেং বাড়ির দরজায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত কাদের ৭/৮ মাস আগে বিয়ে করেন। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কিছু যুবকের সঙ্গে কাদেরের বিরোধ দেখা দেয়। এ ঘটনার জেরে শুক্রবার রাতে উপজেলার চারেং বাড়ির দরজায় কে বা কারা তাকে বেধড়ক পিটিয়ে ও মাথায় কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে মৃত্যু নিশ্চিত করে মরদেহ সেখানে রেখে পালিয়ে যায়। কাদেরের বিরুদ্ধে মারামারি, মাদকসহ ৪টি মামলা রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, পূর্ব শত্রুতার জেরে কাদেরকে হত্যা করা হয়েছে। বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিটন দেওয়ান নিহত যুবকের শ্বশুরের বরাত দিয়ে বলেন, ওই যুবক অপরাধ জগতে জড়িত থাকায় পরিবারের সঙ্গে তেমন সম্পর্ক ছিল না। তার বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা রয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ রাতে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে। লিখিত অভিযোগের আলোকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে ১৪ মামলার আসামি মো. জাহাঙ্গীর আলম ওরফে কসাই জাহাঙ্গীর (৪৩) গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১১), সিপিসি-৩। রোববার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার মিরওয়ারীশপুর ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডে রিয়াজ স্টোরের সামনে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত জাহাঙ্গীর আলম নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার পৌর ১ নং ওয়ার্ডের উত্তর নাজিরপুর এলাকার মৃত নুরুজ্জামান ওরফে কালা মিয়ার ছেলে। তার বিরুদ্ধে বেগমগঞ্জ থানায় মাদক, চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও ডাকাতিসহ মোট ১৪টি মামলা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি পলাতক ছিলেন। র্যাব জানায়, গ্রেপ্তারকৃত জাহাঙ্গীর আলম মাদক মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ছিলেন। আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে তাকে শনাক্ত করে র্যাবের একটি চৌকস দল অভিযান পরিচালনা করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জাহাঙ্গীর নিজেকে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি হিসেবে স্বীকার করেন। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে বেগমগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। র্যাব-১১, সিপিসি-৩ নোয়াখালী ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার ও সহকারী পুলিশ সুপার মিঠুন কুমার কুণ্ডু বলেন, কসাই জাহাঙ্গীর দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে আসছিলেন। তার বিরুদ্ধে ১৪টি মামলা রয়েছে। তাকে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হবে। সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ ধরনের অপরাধীদের বিরুদ্ধে র্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে প্রাইভেটকারে করে গাঁজা বিক্রি করতে আসা একাধিক মামলার আসামি মাদক কারবারি সাদ্দাম হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) গভীর রাতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করা সাদ্দাম হোসেন ফেনী জেলার ফেনী পৌরসভার ১২নং ওয়ার্ডের উত্তর সাড়িপুর এলাকার মৃত আবদুল সোবহানের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারির সঙ্গে জড়িত বলে র্যাব জানিয়েছে। তার বিরুদ্ধে ফেনী ও নোয়াখালীতে একাধিক মামলা রয়েছে। র্যাব সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাবের একটি টহল দল জানতে পারে—একজন মাদক কারবারি বিপুল পরিমাণ গাঁজা নিয়ে একটি প্রাইভেটকারে ফেনী থেকে নোয়াখালীর দিকে আসছে খবর পেয়ে রাত ১টার দিকে বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী এলাকায় চেকপোস্ট বসানো হয়। পরে রাত আনুমানিক ১টা ৫০ মিনিটের দিকে সন্দেহভাজন গাড়িটিকে থামার সংকেত দিলে সেটি দ্রুতগতিতে পালানোর চেষ্টা করে। র্যাব সদস্যরা ধাওয়া করে আলীপুর খালপাড় এলাকায় গাড়িটিকে আটক করতে সক্ষম হয়। এ সময় গাড়ি তল্লাশি করে বিশেষভাবে লুকানো অবস্থায় ১০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। গাঁজাগুলো দুটি প্যাকেটে মোড়ানো অবস্থায় প্রাইভেটকারের ভেতর লুকানো ছিল। একই সঙ্গে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি পুরাতন মডেলের সিলভার রঙের টয়োটা প্রিমিও গাড়িও জব্দ করা হয়। র্যাব-১১, সিপিসি-৩ নোয়াখালী ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার ও সহকারী পুলিশ সুপার মিঠুন কুমার কুণ্ডু বলেন, গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বেগমগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। উদ্ধার করা গাঁজা ও জব্দ করা প্রাইভেটকার থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। সমাজ থেকে মাদক নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত র্যাবের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

জেলা গোয়েন্দা শাখা, নোয়াখালী কর্তৃক বেগমগঞ্জ মডেল থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করিয়া ৯৪ (চুরানব্বই) বোতল বিদেশী মদসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার। গ্রেফতারকৃত আসামীর নামঃ- ১। মোঃ ইয়াছিন আরাফাত(২২), পিতা-মৃত জসিম উদ্দিন, মাতা-শাহিনুর আক্তার রেখা, সাং-পৌর হাজীপুর (মহাজন বাড়ী) ০৯নং পৌর ওয়ার্ড, চৌমুহনী পৌরসভা, থানা-বেগমগঞ্জ, জেলা-নোয়াখালী। জেলা গোয়েন্দা শাখা, নোয়াখালীর সদস্যগণ অদ্য ২২/১০/২০২৫ইং তারিখ ১৩.৩০ ঘটিকার সময় গোপন সূত্রে জানিতে পারেন যে, বেগমগঞ্জ মডেল থানাধীন চৌমুহনী পৌরসভার ০৯ নং ওয়ার্ডের পৌর হাজীপুর সাকিনস্থ মহাজন বাড়িতে কতিপয় মাদক ব্যবসায়ী মাদক বিক্রয়ের জন্য অবস্থান করিতেছে। বিষয়টি তাৎক্ষণিক ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়। অতঃপর মাননীয় পুলিশ সুপার জনাব মোঃ আব্দুল্লাহ্-আল-ফারুক, নোয়াখালী মহোদয়ের সার্বিক দিক নির্দেশনায়, জনাব মোহাম্মদ ইব্রাহীম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্), নোয়াখালীর তত্ত্বাবধানে ও জনাব মোহাম্মদ আশরাফ উদ্দিন, অফিসার ইনচার্জ, জেলা গোয়েন্দা শাখা, নোয়াখালী এর নেতৃত্বে এসআই(নিঃ) মোঃ জাকির হোসেন সঙ্গীয় অফিসার ফোর্সের সহায়তায় বর্ণিত ঘটনাস্থলে পৌঁছাইয়া আসামী মোঃ ইয়াছিন আরাফাত(২২) কে ধৃত করেন ও তাহার হেফাজত থেকে ০৫(পাঁচ) বোতল বিদেশী মদ উদ্ধার করেন। ডিবি পুলিশের উপস্থিতি টের পাইয়া ঘটনাস্থল থেকে আসামী মোঃ আরমান হোসেন(২৫) তাহার বসতঘরের পিছনের দরজা দিয়া পালাইয়া যায়। ধৃত আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদে সে তাহার বসতঘর সংলগ্ন ডোবাতে আরো মদের বোতল রক্ষিত আছে মর্মে স্বীকার করে। তখন ধৃত আসামীর দেখানো ও ডোবাতে বিশেষ কায়দায় রক্ষিত অবস্থা থেকে বাহির করিয়া দেওয়া মতে আরো ৮৯(ঊননব্বই) বোতল বিদেশী মদ উদ্ধারসহ সর্বমোট ৯৪(চুরানব্বই) বোতল বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিদেশী মদ জব্দতালিকা মূলে জব্দ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত ও পলাতক আসামীদ্বয় পেশাদার মাদক কারবারি। এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃত ও পলাতক আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে আলোচিত কিশোর মারওয়ান হোসেন বিজয় হত্যা মামলার এজাহারনামীয় আসামি দেলোয়ার বাহিনী’র সদস্য শুভকে (২৬) গ্রেপ্তার করেছে । সোমবার (২১ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে বেগমগঞ্জ থানার জামিদারহাট এলাকায় ইসলামী ব্যাংকের সামনে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত শুভ বেগমগঞ্জ উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের রাজা মিয়ার বাড়ির রাজা মিয়ার ছেলে। র্যাব জানায়, গত ৩ অক্টোবর রাতে বেগমগঞ্জের একলাশপুর এলাকায় দেলোয়ার বাহিনীর সক্রিয় সদস্যরা মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে কিশোর বিজয়ের পথরোধ করে। এ সময় রামদা, ছোরা, কিরিচ, চাইনিজ কুড়ালসহ ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে উপর্যুপরি তিন শতাধিক কোপ মারা হয়। গুরুতর জখম হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন বিজয়। হামলাকারীরা এ সময় এক সাক্ষীকেও কুপিয়ে জখম করে। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় বিজয়কে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের বোন শাহানাজ আক্তার সুবর্ণা বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় দেলোয়ার বাহিনীর একাধিক সন্ত্রাসীর নাম উল্লেখ করা হয়। মামলা দায়েরের পর থেকে আসামিরা পলাতক ছিল। তবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১১, সিপিসি-৩ নোয়াখালীর একটি চৌকস দল অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় শুভকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। এর আগে একই বাহিনীর সদস্য এজাহারনামীয় আসামি সৈকতকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শুভ তার নাম-পরিচয় ও ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বেগমগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। র্যাব-১১, সিপিসি-৩ নোয়াখালী ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার ও সহকারী পুলিশ সুপার মিঠুন কুমার কুণ্ডু বলেন, শুভ হত্যাসহ একাধিক মামলার আসামি। তাকে নোয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদেরও গ্রেপ্তারে র্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সমাজে শান্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষায় র্যাবের এ ধরনের অভিযান চলবে।

কখনো হাঁকডাক, কখনো নীরবতা। কেউ মনোযোগ দিয়ে তাকিয়ে আছেন ছিপ-বড়শির দিকে, কেউবা মাছ পেতেই উল্লাসে ফেটে পড়ছেন। এমন উৎসবমুখর পরিবেশে মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) দিনব্যাপী নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের শতবর্ষী শিলামনীর দিঘিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে শখের মাছ শিকারিদের মিলনমেলা। দিনভর চলে ছিপ ফেলা, টানাটানি আর উল্লাসের মুহূর্ত। কারও বড় মাছ ধরা পড়ে, কেউবা অপেক্ষায় কাটিয়ে দেন পুরো দিন। কেউ কাঙ্ক্ষিত মাছ না পেয়ে কিছুটা হতাশ হলেও, উৎসবের আনন্দে তাতে ভাটা পড়েনি। জানা গেছে, এ আয়োজনে অংশ নিতে প্রতিজনকে দিতে হয়েছে ৩৫ হাজার টাকা করে টিকিট মূল্য। এবারের উৎসবে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মোট ৫৫ জন সৌখিন মাছ শিকারি অংশগ্রহণ করেন। মাছ ধরার আসন নির্ধারণ করা হয় লটারির মাধ্যমে। স্থানীয় বাসিন্দা মো. মজিবুর রহমান বলেন, শতবর্ষী এই দিঘিকে ঘিরে এখন উৎসবের আমেজ। মাছ শিকারকে কেন্দ্র করে এলাকার মানুষও দিনভর ভিড় জমায় দিঘিপাড়া। মাছ শিকার উৎসবকে ঘিরে এখানে মেলার মেলার মতো হচ্ছে। অনেক দোকানপাট এবং অনেক মানুষ দূর-দূরান্ত থেকে আসছে। ভিন্ন এক উৎসব দেখেছে নোয়াখালীবাসী চট্টগ্রাম থেকে আসা মোহাম্মদ সোলাইমান বলেন, আমি ও আমার ভাই সারাদেশের যেকোনো জায়গায় এ মাছ শিকারের খেলা হলে আমরা অংশগ্রহণ করি। এটি আমাদের নেশা ও পেশা। মাছ পাই বা না পাই, কিন্তু এই নেশা আমাদের যায় না। মাছ ধরা আমাদের কাছে অন্যরকম আনন্দের। নোয়াখালীর চৌমুহনীর পারভেজ হাসান , এই দিঘি থেকে আমি আগেও অনেকবার পুরস্কার পেয়েছি। কিন্তু এবার সত্যিই হতাশ হয়েছি। মাছ নেই বললেই চলে— অনেকেই খালি হাতে ফিরেছে। আমরা অনেক দূর থেকে এসেছি, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত মাছ না পেয়ে বেশ খারাপ লেগেছে। এতে আয়োজনের সুনামও কিছুটা ক্ষুণ্ন হয়েছে। কর্তৃপক্ষ যদি আগামীবার মাছের সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে গুরুত্ব সহকারে ভাবেন, তাহলে অংশগ্রহণকারীদের আগ্রহ আরও বাড়বে। মোহাম্মদ ইব্রাহিম হোসেন নামের আরেক প্রতিযোগী বলেন, অনেক মানুষের অনেক শখ থাকে। আমাদের মাছ ধরার শখ। তাই সারা বাংলাদেশে যেখানে বড়শি দিয়ে মাছ ধরার প্রতিযোগিতা হয় আমরা সেখানে যাই। মাছ ধরতে আমাদের ভালো লাগে। আসলে খারাপ কাজের থেকে ভালো কাজে থাকা অনেক ভাল। এসব খেলায় থাকলে মাদকসহ খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকা যায়। আয়োজক আনোয়ার পারভেজ বলেন, প্রতিবছরই শিলামনীর দিঘিতে এমন শখের মাছ ধরার আয়োজন করা হয়। এতে বিভিন্ন জেলার মাছপ্রেমীরা অংশ নিয়ে একে অপরের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ পান। শতবর্ষী দিঘি হওয়ায় অনেক মাছ এই দিঘিতে রয়েছে। এবার ৫৫টি মাচায় খেলা চলছে। ৫৫ জন প্রতিযোগী ৩৫ হাজার টাকা করে দিয়ে টিকিট কিনেছে। প্রথম স্থান অধিকার করা সৌখিন মাছ শিকারি পেয়েছে চার লাখ টাকার প্রাইজবন্ড

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে আলোচিত কিশোর মারওয়ান হোসেন বিজয় হত্যা মামলার এজাহারনামীয় আসামি শাফায়েত হোসেন সৈকতকে (২০) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। রোববার (৫ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বেগমগঞ্জ থানার বাসস্ট্যান্ড এলাকার নূর ইলেকট্রিক অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স দোকানের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত সৈকত উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নের পূর্ব একলাশপুর গ্রামের শহীদুল্লাহর ছেলে। গত ৩ অক্টোবর রাতে বেগমগঞ্জের একলাশপুর এলাকায় দেলোয়ার বাহিনীর সক্রিয় সদস্যরা মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে কিশোর বিজয়ের পথরোধ করে। এ সময় রামদা, ছোরা, কিরিচ, চাইনিজ কুড়ালসহ ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে উপর্যুপরি তিন শতাধিক কোপ মারা হয়। গুরুতর জখম হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন বিজয়। হামলাকারীরা এ সময় এক সাক্ষীকেও কুপিয়ে জখম করে। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় বিজয়কে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের বোন শাহানাজ আক্তার সুবর্ণা বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় দেলোয়ার বাহিনীর একাধিক সন্ত্রাসীর নাম উল্লেখ করা হয়। মামলা দায়েরের পর থেকে আসামিরা পলাতক ছিল। তবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১১, সিপিসি-৩ নোয়াখালীর একটি চৌকস দল অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় ৬নং আসামি সৈকতকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। র্যাব-১১, সিপিসি-৩ নোয়াখালী ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার ও সহকারী পুলিশ সুপার মিঠুন কুমার কুণ্ডু এসব তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাবের একটি যৌথ দল আসামি সৈকতকে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সৈকত তার নাম-পরিচয় ও ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছে। পরবর্তীতে তাকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বেগমগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়।