

সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান। আজ (সোমবার) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে লেফটেন্যান্ট জেনারেল র্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে তিন বাহিনীর প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। এ বিষয়ে আইএসপিআর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান আজ থেকে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। সোমবার সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নবনিযুক্ত প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারকে লেফটেন্যান্ট জেনারেল র্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেন। এ সময় সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান ও বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান ২১ জুন ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কোর অব ইনফেনট্রিতে কমিশন লাভ করেন। তিনি ২৪ ডিভিশনের জিওসি, প্রতিরক্ষা ক্রয় মহাপরিদপ্তরে সামরিক সচিব ও মহাপরিচালক পদেসহ সেনাবাহিনীতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।
২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
নোয়াখালীতে রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের জেলা কার্যালয়ের প্রায় ১৮ মাস পর তালা ভেঙে ব্যানার টানিয়ে দিয়েছেন নেতাকর্মীরা। এ ঘটনার পর তাৎক্ষণিক ৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ। বিজ্ঞাপন বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে জেলা শহরের টাউনহল মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তালাবদ্ধ থাকা দলীয় কার্যালয়ের তালা ভেঙে সামনে ব্যানার টানানো হয়। পরে সেখানে জড়ো হয়ে স্লোগান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন নেতাকর্মীরা। প্রায় আধাঘণ্টা এই কর্মসূচি পালন করা হয়। বিজ্ঞাপন এ সময় তারা ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’, ‘এই লড়াইয়ে জিতবে কারা, বঙ্গবন্ধুর সৈনিকেরা’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। বিক্ষোভকারীরা দাবি করেন, তৃণমূল নোয়াখালীর নেতাকর্মীদের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। জানা যায়, জুলাই আন্দোলনের পর থেকে কার্যালয়টি তালাবদ্ধ ছিল। আন্দোলন চলাকালে বিক্ষুব্ধ ছাত্রজনতা কার্যালয়টিতে অগ্নিসংযোগ করলে ভবনটি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কর্মসূচি ফেসবুকে লাইভ করেন মো. জাহাঙ্গীর শেখ নামের একটা আইডি। যিনি লিখেন, আগামী দিনে দেশের স্বাধীনতার পক্ষে সব শক্তি এক সঙ্গে কাজ করব ইনশাল্লাহ। আমরা নোয়াখালী জেলা তৃণমূল আওয়ামী লীগ স্বাধীনতার পক্ষের দলের সঙ্গে কাজ করব ইনশাআল্লাহ। সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে অবগত হয়ে অভিযান পরিচালনা করি এবং জড়িত ৫ জনকে আটক করা হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে বিরল এক রাজনৈতিক ঘটনার জন্ম হয়েছে। একই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ছেলের কাছে জামানত হারিয়েছেন বাবা। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ ও তার বাবা আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আবদুল মালেক পৃথক দল থেকে নির্বাচনে অংশ নেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত বেসরকারি ফলাফলে দেখা যায়, ছেলে বিপুল ভোটে জয়ী হলেও বাবা মাত্র ৫০৫ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পরিপত্র অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় প্রদত্ত মোট ভোটের আট ভাগের এক ভাগের কম পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। প্রয়োজনীয় ভোট না পাওয়ায় আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আবদুল মালেকের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, এনসিপি মনোনীত শাপলা প্রতীকের প্রার্থী আব্দুল হান্নান মাসউদ পেয়েছেন ৯১ হাজার ৮৯৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী মাহবুবের রহমান শামীম পেয়েছেন ৬৪ হাজার ২১ ভোট। আসনের অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে হরিণ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ফজলুল আজিম পেয়েছেন ৪ হাজার ৭৮৩ ভোট, ফুটবল প্রতীকের তানভীর উদ্দিন রাজিব ৩ হাজার ৭৬৪ ভোট, হাতপাখা প্রতীকের মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম শরীফ ২ হাজার ১৭৯ ভোট, তারা প্রতীকের মোহাম্মদ আবদুল মোতালেব ১ হাজার ২৩৯ ভোট, লাঙ্গল প্রতীকের এটিএম নাবী উল্যাহ ২৮০ ভোট, ট্রাক প্রতীকের মোহাম্মদ আজহার উদ্দিন ১৯১ ভোট এবং ছাতা প্রতীকের মোহাম্মদ আবুল হোসেন পেয়েছেন ৮৬ ভোট। নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৩৯ হাজার ১৮৪ জন। মোট প্রাপ্ত ভোট ১ লাখ ৭৪ হাজার ৩৩২। বাতিল ভোটের সংখ্যা ৫ হাজার ৩৬৭। ভোটদানের হার ৫১ দশমিক ৪০ শতাংশ। এর মধ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ১ লাখ ৯২৫টি এবং ‘না’ ভোট পড়েছে ৫৩ হাজার ২৪৮টি। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও হাতিয়া উপজেলার ইউএনও মো. আলাউদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, শাপলা কলি ও ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ছাড়া আরও আটজন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। হাতিয়ায় কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া সুন্দরভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। তবে নির্বাচন-পরবর্তী কয়েকটি ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। বিচ্ছিন্ন দ্বীপ হাতিয়া নানা দিক থেকে বঞ্চিত— সবাই মিলে এই জনপদকে আলোকিত করবে, এমনটাই প্রত্যাশা করি।

দ্বীপ হাতিয়ার মানুষ আনন্দের বদলে ভীত-সন্ত্রস্ত বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের বেসরকারিভাবে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ। তিনি বলেন, নির্বাচনে বিজয়ের পর যেখানে দ্বীপ হাতিয়ার মানুষের আনন্দ-উল্লাস করার কথা ছিল, সেখানে তারা এখন ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে দিন কাটাচ্ছেন। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলা সদরে এনসিপির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। হান্নান মাসউদ অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনের পর কয়েকদিন ধরে পুরো হাতিয়াজুড়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। মানুষের ঘরবাড়ি পোড়ানো, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা এবং সাধারণ মানুষকে মারধরের মতো নানা অপকর্ম সংঘটিত হয়েছে। তার দাবি, হাতিয়ার ইতিহাসে কোনো নির্বাচনে এমন সহিংসতার নজির নেই। তিনি বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের হাতিয়ায় এনে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ করে তোলা হয়েছে। গত কয়েক দিনে প্রায় সাড়ে চারশ’ বাড়িঘরে হামলা হয়েছে এবং শতাধিক দোকানে লুটপাট ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে। সকালে হাসপাতালে গিয়ে দেখি, জুলাই অভ্যুত্থানের মতো আহত মানুষ পড়ে আছে। আমরা হাতিয়ার মানুষ এ তাণ্ডব থেকে মুক্তি চাই। সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভোটের দিন সকালে তার গাড়িতে হামলা চালানো হয়। এ সময় তার স্ত্রী, বাবা ও ভাইদের ওপরও একাধিকবার সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। কয়েকজন সাংবাদিককেও পিটিয়ে আহত করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এসব হামলার নেতৃত্ব ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মাহবুবুর রহমান শামীম দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন হান্নান মাসউদ। তবে তিনি দাবি করেন, হাতিয়ার জনগণ ব্যালটের মাধ্যমে সন্ত্রাস ও সহিংসতার জবাব দিয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রমনা থানার আমির অ্যাডভোকেট শাহ মাহফুজুল হক, উপজেলা আমির মাস্টার বোরহান উদ্দিন, জামায়াতের পৌর মেয়র প্রার্থী সাব্বির আহমেদ তাফসির, উপজেলা যুব শক্তির আহ্বায়ক ইউসুফ রেজা, ব্যবসায়ী আবদুল কাদেরসহ হামলায় আহত এনসিপির প্রায় ১০ জন নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

নোয়াখালী-৩ আসনের বেগমগঞ্জে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীকে ভোট দিলে তাদের চিহ্নিত করে এলাকাছাড়া করার হুমকির অভিযোগ উঠেছে মির জুমলা মিঠু নামের এক বিএনপি নেতা বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তাকে শোকজ করেছে নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে বেগমগঞ্জ উপজেলার বিচারিক কমিটির সিভিল জজ নিশি আক্তার শোকজের বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নোয়াখালী-৩ আসনের বিএনপির প্রার্থী বরকত উল্লাহ বুলুর পক্ষে ভোট করছেন মির জুমলা মিঠু। তিনি বেগমগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক, আলাইয়ারপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এবং একই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান। আলাইয়ারপুর ইউনিয়নের একটি উঠান বৈঠকে দেওয়া তার একটি বক্তব্য ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। ওই ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘মনে রাখবেন, যারা স্থানীয় জামায়াতের ভোট করে তাদের চিহ্নিত করে রাখবেন। আমরা তাদের থেকে জবাব আদায় করে ছাড়বো। আমরা তাদেরকে এলাকায় থাকতে দেবো না—এইটা হলো আমাদের সাফ কথা। এই বক্তব্য অনেকে রেকর্ড করলেও কিছু যায় আসে না।’ পরে বিষয়টি জানার পর বেগমগঞ্জ নির্বাচনি অনুসন্ধান কমিটি মির জুমলা মিঠুকে শোকজ করেন। মঙ্গলবার ওই শোকজের জবাব দিয়েছেন অভিযুক্ত বিএনপি নেতা মিঠু। বিষয়টি নিশ্চিত করে বিচারিক কমিটির সিভিল জজ নিশি আক্তার বলেন, ‘অভিযুক্ত বিএনপি নেতা শোকজের জবাব দিয়েছেন। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) অভিযোগকারীদের পক্ষের সাক্ষীদের ডাকা হয়েছে। এরপর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ এ বিষয়ে জানতে বিএনপি নেতা মির জুমলা মিঠুকে বারবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরে খুদেবার্তা পাঠালেও তিনি তার কোনো উত্তর দেননি। তবে বেগমগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কামাখ্যা চন্দ্র দাস ভিডিওর কণ্ঠ বিএনপি নেতা মির জুমলা মিঠুর বলে নিশ্চিত করেন। তিনি দাবি করেন, জামায়াতের বাহিরাগত লোকজন এলাকায় গিয়ে মারামারি করে। তাদেরকে চিহ্নিত করে রাখতে বলেছেন মির জুমলা মিঠু। নোয়াখালী-৩ আসনে সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এদের মধ্যে বিএনপির প্রার্থী দলের ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু এবং ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী জামায়াতের জেলা সেক্রেটারি মাওলানা বোরহান উদ্দিন।

নির্বাচনী প্রচারণার ব্যানার চুরি ও ছিঁড়ে ফেলার ঘটনা রোধে ব্যানারের ওপর সিসি ক্যামেরা স্থাপন করেছেন নোয়াখালী-১ (চাটখিল–সোনাইমুড়ী) আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা মো. ছাইফ উল্লাহ। এ সংক্রান্ত ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নোয়াখালীর বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণার ব্যানার ও পোস্টার চুরি এবং ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ উঠলেও এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারেনি প্রশাসন। এমন পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়েই নিজ উদ্যোগে ব্যানারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, সোনাইমুড়ী উপজেলার দেওটি ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডে অবস্থিত আমিরাবাদ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে নির্বাচনী ব্যানারের ওপর একটি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করে রাখা হয়েছে। এতে দুষ্কৃতকারীরা ব্যানার ক্ষতিসাধন করতে নিরুৎসাহিত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে নোয়াখালী জেলা উত্তর ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে এবং প্রচারণার স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নোয়াখালী-১ (চাটখিল–সোনাইমুড়ী) আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা মো. ছাইফ উল্লাহ বলেন, নির্বাচনী প্রচারণার ব্যানার বারবার চুরি ও ছিঁড়ে ফেলার ঘটনা ঘটছে। প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা না পাওয়ায় বাধ্য হয়েই ব্যানারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সোনাইমুড়ী উপজেলার ইউএনও নাছরিন আকতার বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধি সংক্রান্ত সব ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। প্রতিটি অভিযোগ সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করতে আমরা বদ্ধপরিকর। এ জন্য সবাইকে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার আহ্বান জানাচ্ছি। প্রসঙ্গত, নোয়াখালী-১ (চাটখিল-সোনাইমুড়ী আংশিক) সংসদীয় আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৫২ হাজার ৪২৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৩৩ হাজার ৭১১ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ১৮ হাজার ৭১৪ জন। এই সংসদীয় আসনটি চাটখিল উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এবং সোনাইমুড়ী উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। এ আসনে মোট সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন— ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জামায়াতে ইসলামীর মো. ছাইফ উল্যাহ, হাতপাখা প্রতীকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জহিরুল ইসলাম, লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পার্টির মো. নুরুল আমিন, ডাব প্রতীকে বাংলাদেশ কংগ্রেসের মো. মনিনুল ইসলাম, আপেল প্রতীকে ইনসানিয়াত বাংলাদেশের মো. মশিউর রহমান এবং তারা প্রতীকে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) মনোনীত প্রার্থী রেহানা বেগম।

নোয়াখালী-৪ আসনের সদরে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের দুটি নির্বাচনি ব্যানার চুরির অভিযোগে অভিনব প্রতিবাদ জানিয়েছে কর্মী-সমর্থকরা। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) চুরি হওয়া ব্যানারের স্থলে নতুন দুটি প্রতীকী ব্যানার লাগিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন তারা। জানা গেছে, নোয়াখালী সরকারি কলেজ গেটের সামনে লাগানো ১১ দলীয় জোটের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের দুটি ব্যানার কে বা কারা চুরি করে নিয়ে যায়। পরে সেই জায়গায় নতুন দুটি ব্যানার লাগিয়ে এর প্রতিবাদ করে দাঁড়িপাল্লার সমর্থকরা। নতুন ব্যানারে লেখা রয়েছে, ‘নোয়াখালী সরকারি কলেজ গেটের সামনে দাঁড়িপাল্লার দুইটি ব্যানার ছিল জালেমরা রাতে নিয়ে গেছে। প্রতিহিংসার রাজনীতি ছেড়ে আসুন, সকলে মিলেমিশে গড়ি বাংলাদেশ।’ সকালে নতুন ব্যানার দুটি দেখে স্থানীয়রা কৌতূহলী হয়ে ওঠেন। এ নিয়ে নানা ধরনের মুখরোচক আলোচনা-সমালোচনা করেন। অনেকে অভিনব এ ব্যানার দেখতে ছুটে আসেন। মহিউদ্দিন নামে এক বাসিন্দা বলেন, ব্যানার চুরি করে ভোট কমানো যায় না। আর ব্যানার দিয়ে ভোটও আসে না। তবে সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে কেউ কারো প্রচারণায় বাধা দেওয়া উচিত নয়। আবুল কালাম নামে একজন বলেন, দাঁড়িপাল্লার চুরি হওয়া ব্যানারের চাইতে, চুরির প্রতিবাদে দেওয়া ব্যানার দেখতে অনেক মানুষ এসেছে। বলা যায়, এটা নতুন আইডিয়া। নোয়াখালী সরকারি কলেজ ছাত্রশিবিরের সভাপতি নাজিম মাহমুদ শুভ বলেন, ভোটকে সামনে রেখে এমন ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে। এটি প্রতিহিংসামূলক রাজনীতির বহিঃপ্রকাশ। যা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনি পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকাই শ্রেয়। তিনি আরও বলেন, এটি নতুন দুটি ব্যানার চুরির ঘটনার নীরব প্রতিবাদ। তবে রাজনৈতিক সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রেখে সবাইকে মিলেমিশে দেশ গঠনে এগিয়ে আসতে হবে।

নোয়াখালী-৫ (কোম্পানীগঞ্জ, কবিরহাট ও সদরের দুই ইউনিয়ন) আসনে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দিতে মঞ্চে ওঠেন সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রয়াত বিএনপি নেতা মওদুদ আহমেদের স্ত্রী হাসনা জসীমউদ্দীন মওদুদ। বক্তব্য দিতে এসে প্রার্থীর মনোনয়ন পাওয়ার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। এতে বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মীরা তাঁর মাইক কেড়ে নেন। এ সময় দ্রুত সভাস্থল ত্যাগ করেন হাসনা মওদুদ। আজ সোমবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে সদর উপজেলার অশ্বদিয়া ইউনিয়নের বাল্লাকোট্টা নামক স্থানে ওই ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, সোমবার নির্বাচনী প্রচারের শেষ দিনে বাল্লাকোট্টা নামের স্থানে মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করে অশ্বদিয়া ইউনিয়ন বিএনপি। সেখানে অতিথি হিসেবে আসেন সাবেক সংসদ সদস্য, জেলা বিএনপির সদস্য হাসনা জসীমউদ্দীন মওদুদ। তিনি আসার পর অশ্বদিয়া ও নেয়াজপুর ইউনিয়নে নির্বাচন সমন্বয়ক ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু হাসান মো. নোমানসহ দলীয় নেতারা তাঁকে অভ্যর্থনা জানান। পরে বক্তৃতার পর্বে তাঁকে (হাসনা মওদুদ) বক্তব্য দিতে দেওয়া হলে তিনি এক পর্যায়ে বলতে থাকেন, ‘এই আসনে আমি মনোনয়ন চেয়েছিলাম। কিন্তু আমাকে মনোনয়ন কেন দেওয়া হয়নি আমি জানি না। যাঁকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, তাঁর কোনো যোগ্যতাই নাই।’ এ কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে উপস্থিত ধানের শীষের সমর্থকেরা হইচই শুরু করেন। একপর্যায়ে কয়েকজন এসে তাঁর হাত থেকে মাইক ছিনিয়ে নেন এবং তাঁর গাড়িতে লাগানো ধানের শীষের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলেন। এ সময় সেখানে উপস্থিত জ্যেষ্ঠ নেতাদের হস্তক্ষেপে তিনি রক্ষা পান। পরে অবস্থা বেগতিক দেখে হাসনা মওদুদ ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। জানতে চাইলে হাসনা জসীমউদ্দীন মওদুদ প্রথম , বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অনুরোধে তিনি ধানের শীষের প্রচারে অংশ নিতে এলাকায় এসেছেন। তিনি উপস্থিত লোকজনের উদ্দেশে বলেছিলেন, তিনি মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। পরে প্রত্যাহার করেছেন। দল কেন তাঁকে মনোনয়ন দিল না, তা জানেন না। কিন্তু যাঁকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, তাঁর কোনো যোগ্যতাই নেই। হাসনা মওদুদ বলেন, ‘আমি ওই কথা বলতেই কয়েকজন হইচই শুরু করেন। এর মধ্যে বোতল হাতে এক ব্যক্তি উত্তেজিত হয়ে আমার দিকে তেড়ে আসেন।’ ঘটনাস্থলে থাকা বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে ইউনিয়ন নির্বাচন সমন্বয়ক আবু হাসান মো. নোমান বলেন, হাসনা মওদুদ ধানের শীষের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিতে এসে তাঁকে মনোনয়ন না দেওয়ার প্রসঙ্গ তোলেন। ধানের শীষের প্রার্থী মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামের সমালোচনা শুরু করেন। এতে সেখানে উপস্থিত নেতা-কর্মীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। হট্টগোল বাধে। কয়েকজন তাঁর গাড়িতে থাকা ধানের শীষের পোস্টার খুলে ফেলেন। তখন তাঁরা তাঁকে নিরাপদে সেখান থেকে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন। তবে এ নিয়ে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। প্রসঙ্গত, নোয়াখালী-৫ আসনে বিএনপি থেকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয় উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামকে। তিনি পেশায় একজন ব্যবসায়ী। একই আসনে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন প্রয়াত বিএনপি নেতা মওদুদ আহমেদের স্ত্রী হাসনা জসীমউদ্দীন মওদুদ। তিনি মনোনয়নপত্র দাখিল করে বৈধ প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে দলের শীর্ষ নেতাদের অনুরোধে তিনি প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন।

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়াকে ‘জেলা’তে রূপান্তরের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ২১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসুদ। সোমবার (৮ জানুয়ারি) বিকেলে হাতিয়া উপজেলার একটি নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই ইশতেহার ঘোষণা করেন। হান্নান মাসুদ বলেন, হাতিয়াকে তিনটি উপজেলা নিয়ে জেলা করা হবে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বুড়িরচরকে পৌরসভা, সোনাদিয়া ও জাহাজমারাকে উপজেলা এবং চানন্দী ও হরনী ইউনিয়ন যুক্ত করে নতুন আরেকটি উপজেলা গঠন করা হবে। এর মাধ্যমে হাতিয়াকে একটি পূর্ণাঙ্গ জেলায় রূপান্তর করা হবে। তিনি বলেন, সারা বিশ্বের মধ্যে এই দ্বীপকে ভ্যাটিকান সিটির মতো উন্নত ও পরিকল্পিত এলাকায় রূপান্তর করার পরিকল্পনা রয়েছে। আপনারা আমার সঙ্গে থাকুন। আপনাদের একটি ভোটেই আগামী দিনের হাতিয়ার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে। তাই ভেবে-চিন্তে ভোট দিন। নদীভাঙন রোধকে প্রথম অগ্রাধিকার দিয়ে ২১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার জনসভায় তুলে ধরেন তিনি। এ সময় দ্বীপটিকে উন্নত, আধুনিক ও বাসযোগ্য করে গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন এনসিপির এই নেতা। ইশতেহারের উল্লেখযোগ্য দফাগুলোর মধ্যে রয়েছে—নদীভাঙন রোধে কংক্রিট ব্লক বাঁধ, বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও ক্রসড্যাম তৈরি, রাস্তাঘাট ও সেতু নির্মাণ, খাসজমি ভূমিহীনদের বন্দোবস্ত, স্বাস্থ্যখাতে উন্নয়ন, সীমান্তবিরোধ নিরসন, শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন, প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা শক্তিশালীকরণ, ফেরি ও ফেরিঘাট ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎসেবা নিশ্চিতকরণ, পর্যটন শিল্পের বিকাশ, জেলেদের হয়রানি বন্ধ ও জীবনমান উন্নয়ন, নদীবন্দর বাস্তবায়ন, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি নির্মূলে কার্যকর উদ্যোগ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ, ওছখালী পৌরসভার উন্নয়ন, ক্রীড়া খাতের উন্নয়ন, স্থায়ী নৌ-ক্যাম্প স্থাপন, হাইটেক পার্ক নির্মাণ, শ্বেতপত্র প্রকাশ এবং জনগণের মুখোমুখি জবাবদিহি। জনসভায় সভাপতিত্ব করেন হাতিয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাস্টার বোরহান। এতে আরও বক্তব্য দেন শাহবাগ থানার জামায়াতে ইসলামীর আমির অ্যাডভোকেট শাহ মাহফুজ, উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক মাস্টার আলাউদ্দিন এবং ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক নেয়ামতউল্লাহ নিরবসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

নোয়াখালী-২ আসনের (সেনবাগ–সোনাইমুড়ী) ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক এবং আন্তর্জাতিক সেলের প্রধান সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়ার এজেন্টকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছে দুর্বৃত্তরা। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় নির্বাচনী গণসংযোগ শেষে বাড়ি ফেরার পথে সেনবাগ উপজেলার ৩নং ডুমুরিয়া ইউনিয়নের ২নং মতইন ওয়ার্ড কেন্দ্রের প্রধান এজেন্ট মো. মনির হোসেনের ওপর এই হামলার ঘটনা ঘটে। তিনি মতইন গ্রামের আবদুর রবের ছেলে। দুর্বৃত্তরা তাকে ধারালো অস্ত্র (চাপাতি) দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে যায়। আহত মো. মনির হোসেনকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে এনসিপি প্রার্থী সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, ইতোমধ্যে আমাদের কয়েক ব্যানার ও ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে, অনেক জায়গায় আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কয়েকদিন আগে সাহাপুরে আমাদের একজন প্রতিনিধির ওপর হামলা চালানো হয়। মনির হোসেনকে হত্যার চেষ্টা করা হয়। এলাকায় সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েমের চেষ্টা চলছে। তিনি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাশার বলেন, এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে

নোয়াখালী-২ (সেনবাগ–সোনাইমুড়ী) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী জয়নুল আবদিন ফারুকের গাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টার দিকে সেনবাগ বাজারে এ হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী মফিজুর রহমান ও বিএনপির প্রার্থী জয়নুল আবদিন ফারুকের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনবাগ বাজারে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ফলে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। একই সঙ্গে সেনবাগ ও সোনাইমুড়ীর বিভিন্ন বাজারে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ মিছিলের খবর পাওয়া গেছে। বিএনপির প্রার্থী জয়নুল আবদিন ফারুক অভিযোগ করে বলেন, ধানের শীষ প্রতীকযুক্ত গাড়িতে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে ধানের শীষের প্রচারণার গাড়িতেও হামলা করা হয়েছে এবং নেতাকর্মীদের আহত করা হয়েছে। তিনি দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী মফিজুর রহমান নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, কেউ কোনো ষড়যন্ত্রে পা দেবেন না এবং কোনো ধরনের সহিংসতায় জড়াবেন না। নির্বাচন বানচাল করার অপচেষ্টা চলছে। আল্লাহর রহমতে আমি সুস্থ আছি। এই হামলার জবাব আপনারা ১২ তারিখ ব্যালট পেপারের মাধ্যমে দেবেন। এ বিষয়ে সেনবাগ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাশার জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন আছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এর আগে একই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী মফিজুর রহমানের গাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছিল, যা নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, নোয়াখালী-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী মোহাম্মদ মফিজুর রহমানের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। এবারের নির্বাচন সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে। ১২ তারিখ ব্যালটের মাধ্যমেই এসব অপশক্তির বিরুদ্ধে জবাব দেওয়া হবে। ঐক্যবদ্ধভাবে সন্ত্রাসমুক্ত সেনবাগ গড়ে তুলতে তিনি সবাইকে ১১ দলীয় জোটের পাশে থাকার আহ্বান জানান।

নোয়াখালী-৪ (সদর–সুবর্ণচর) আসনটি জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও ভোটারসংখ্যায় বড় একটি আসন। রাজনৈতিকভাবে এই আসন বরাবরই আলোচিত। এবারের নির্বাচনে এখানে অভিজ্ঞ রাজনীতিক বনাম পরিবর্তনমুখী রাজনীতির লড়াই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। সদর উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এবং সুবর্ণচর উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত নোয়াখালী-৪ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৭ লাখ ৩৩৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩ লাখ ৬৬ হাজার ৬৫৬ জন এবং নারী ভোটার ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৬৭৯ জন। মোট ১৯৮টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে একটিও নেই অস্থায়ী কেন্দ্র। তবে আছে ১৩৬৬টি ভোট কক্ষের মধ্যে ৪৪টি অস্থায়ী ভোট কক্ষ। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে ৪২টি। নোয়াখালী-৪ (সদর-সুবর্ণচর) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৭ জন প্রার্থী। তারা হলেন, বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মো. শাহজাহান, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মো. ইসহাক খন্দকার, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাত পাখা প্রতীকের প্রার্থী মো. ফিরোজ আলম মাসুদ, গণঅধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী আবদুজ জাহের, জাতীয় পার্টি মনোনীত লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী মো. শরীফুল ইসলাম, ইনসানিয়াত বাংলাদেশ মনোনীত আপেল প্রতীকের প্রার্থী মো. ইউনুস নবী ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) মনোনীত কাঁচি প্রতীকের প্রার্থী বিটুল চন্দ্র মজুমদার। ভোটকেন্দ্র ও অবকাঠামোগত দিক থেকে আসনটি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল হলেও বিশাল ভোটার সংখ্যার কারণে এখানে প্রতিটি ভোটই গুরুত্বপূর্ণ। বিএনপি এই আসনে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছে দলের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহানকে। তিনি ইতোপূর্বে চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং ১৯৯১ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত টানা তিন মেয়াদে এমপি ছিলেন। রাজনৈতিক অঙ্গণে তিনি একজন পরিচ্ছন্ন ও অভিজ্ঞ রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত। মনোনয়ন ঘোষণার আগে একাধিক প্রত্যাশী থাকলেও পরে কোনো অভ্যন্তরীণ বিরোধ দৃশ্যমান হয়নি। মনোনয়ন ঘোষণার আগেই তিনি ও তার সমর্থকরা এলাকায় গণসংযোগ শুরু করেন, যা নির্বাচনী মাঠে তাকে কিছুটা এগিয়ে রেখেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। মো. শাহজাহান বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে আমি কখনো নিজের স্বার্থ দেখেনি। সবসময় সদর ও সুবর্ণচরের মানুষের পাশে ছিলাম। সে কারণেই দলীয় পরিচয়ের বাইরে গিয়েও সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে আমার পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন। আমি মিথ্যা আশ্বাস আর মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিতে পছন্দ করি না। তবে আমি মানুষের কথা ভাবি। উন্নয়ন নিয়ে ভাবি। আমাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে পাল্টে যাবে এই অঞ্চলের চিত্র। জনগণ আমার শক্তি। আমি সব সময় জনগণের পাশে থাকতে চাই। এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী জেলা আমির ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মো. ইসহাক খন্দকার। জুলাই আন্দোলনের পর থেকেই তিনি মাঠে সক্রিয়ভাবে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। ইসহাক খন্দকার দাবি করেন, যেখানে যাচ্ছেন সেখানেই সাধারণ মানুষের মধ্যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা লক্ষ্য করছেন। তার ভাষায়, কে কোন দল থেকে প্রার্থী এটা মুখ্য নয়, মানুষ এবার দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিতে চায়। আদর্শিক রাজনীতি ও পরিবর্তনের স্লোগানকে সামনে রেখে তিনি শক্ত অবস্থান তৈরি করার চেষ্টা করছেন। এই আসনে গণঅধিকার পরিষদের তরুণ প্রার্থী আব্দুজ জাহের, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ফিরোজ আলম মাসুদসহ অন্য প্রার্থীরাও নিয়মিত গণসংযোগ চালাচ্ছেন। তবে ভোটের মূল লড়াই যে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে সে বিষয়ে অধিকাংশ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক একমত। সাধারণ ভোটারদের ভাষ্যে, ইপিজেড নির্মাণ, বিমানবন্দর স্থাপন, সুবর্ণচর পৌরসভা বাস্তবায়ন, রেললাইন সম্প্রসারণ ও নোয়াখালী সিটি করপোরেশন গঠনের মতো বড় প্রকল্পগুলোই তাদের প্রধান চাওয়া। তারা কেবল আশ্বাস নয়, বাস্তবায়ন করতে পারবেন এমন প্রতিনিধিকেই সংসদে পাঠাতে চান। সব মিলিয়ে নোয়াখালী-৪ আসনে এবারের নির্বাচন হতে যাচ্ছে অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতা বনাম পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার মুখোমুখি লড়াই। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা নিয়ে এগিয়ে থাকা মো. শাহজাহানের বিপরীতে আদর্শিক ও পরিবর্তনের বার্তা নিয়ে মাঠে সক্রিয় ইসহাক খন্দকার কার দিকে শেষ পর্যন্ত ভোটাররা আস্থা রাখেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

নোয়াখালীতে জামায়াতে ইসলামীর এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়েছে, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রচারণা চালানোর সময় দলটির নারী কর্মীদের হেনস্তা করছেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। গতকাল শুক্রবার রাতে জেলা জামায়াতের দলীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে দলের হয়ে অভিযোগ তুলে ধরেন জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমির ইসহাক খন্দকার। তিনি নোয়াখালী-৪ (সদর ও সুবর্ণচর) আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ইসহাক খন্দকার বলেন, জেলার চাটখিল, বেগমগঞ্জ, সদর উপজেলা, নোয়াখালী পৌরসভা, সুবর্ণচরসহ বিভিন্ন স্থানে জামায়াতের নারী কর্মীদের উঠান বৈঠকসহ প্রচারণায় বাধা দেওয়া হয়েছে। প্রচারণার সময় জামায়াতের নারী কর্মীদের হেনস্তাও করছেন বিএনপির লোকজন। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও নোয়াখালী-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী মো. শাহজাহানের কাছে অভিযোগ করে কয়েকটি স্থানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা পাওয়া গেছে বলে জানান জেলা জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, ‘অনেক ঘটনা তাঁরও (মো. শাহজাহান) নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল। জামায়াত সর্বোচ্চ ধৈর্যের পরিচয় দিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করে যাচ্ছে।’ ইসহাক খন্দকার আরও বলেন, জামায়াতের নারী কর্মীদের ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার জন্যও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ অবস্থায় নারী ভোটারদের নিরাপদে ভোটকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে দলের শৃঙ্খলা বিভাগকে বলা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে এ ছাড়া জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মো. সাইয়েদ আহমদ, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও নোয়াখালী-৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মো. বোরহান উদ্দিন বক্তব্য দেন। জামায়াতের অভিযোগের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর বলেন, বিএনপি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের জন্য কাজ করছে, সুতরাং হেনস্তার অভিযোগ সত্য নয়; বরং জামায়াতই বিএনপি নেতাদের নিয়ে বিভিন্ন বাজে মন্তব্য করে আসছেন।

একটি বড় দলের প্রধান নিজের অফিস থেকে জামায়াত আমিরের আইডি হ্যাক করে এখন নিজেই বিষোদ্গার করছেন বলে অভিযোগ করেছেন নোয়াখালী-৪ আসনে জামায়াতের প্রার্থী এবং দলটির মজলিশে সূরা সদস্য ও জেলা আমির মো. ইসহাক খন্দকার। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে নোয়াখালী জেলা জামায়াত কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। ইসহাক খন্দকার বলেন, আইডি হ্যাক হয়েছে একটা সত্য কথা। যা সংবাদ সম্মেলন থেকেও বলা হয়েছে। তারপরও একটি বড় দলের প্রধান নেতা হ্যাকের বিষয়টি নিয়ে আর ট্রল করতে পারেন না। ওই দলে আরও ছোট নেতা আছে যাদেরকে দিয়ে তিনি বলাতে পারতেন। তিনি বলেন, ওই প্রধান নেতা যে ভাষায় কথা বলেছেন, তা তিনি জামায়াত আমিরকে বলতে পারেন না। এ ঘটনা নিয়ে গ্রেফতারও হয়েছে, আরও তদন্ত চলছে। আসলে ওই দলের প্রধান নিজের অফিস থেকে নিজের লোক দিয়ে হ্যাক করে এখন নিজেই বিষোদ্গার করছেন। ইসহাক খন্দকার আরও বলেন, জামায়াত আমির নারীদের প্রতি অত্যন্ত বিনয়ী। তিনি এ ধরনের কথা বলতে পারেন না, তা বুঝাই যায়। এখন কারা ধরা পড়ছে তা সবাই দেখছে। আমাদের লোকও তদন্ত করছে। সব বের হবে। তখন সবাই পরিষ্কার হয়ে যাবেন কারা, কেন এ কাজ করেছে। ১১ দলীয় জোটের এ প্রার্থী বলেন, আমাদের নোয়াখালীতে ছয়টি আসনের সবগুলোতেই আমাদের নারী কর্মীদেরকে ঘর থেকে বের হতে দিচ্ছে না। অনেক জায়গায় আমাদের মা-বোনদের অপমান করেছে। আমরা এ ব্যাপারে থানায় জিডি করেছি। আমরা ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ নিয়ে শঙ্কিত। ইসহাক খন্দকার আরও বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের নামে তারা ভুয়া কার্ড বিলাচ্ছে। তারা কী কোনো সংস্থা নাকি সরকারে এসে গেছেন। প্রতারণার এ কার্ড দিতে আবার চাঁদাও নিচ্ছে। নারীদের মিথ্যা আশ্বাস দিচ্ছেন। আমরা এ অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা জানাই। সভায় নোয়াখালী-৩ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী এবং জামায়াতের মজলিশে সূরা সদস্য ও জেলা সেক্রেটারি মাওলানা বোরহান উদ্দিন, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা সাইয়েদ আহমদ চেয়ারম্যান, প্রচার বিভাগের প্রধান ডা. বোরহান উদ্দিন, নোয়াখালী পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা ইউসূফ, জামায়াত নেতা সাংবাদিক আবু তাহের প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

নোয়াখালী-৩ (বেগমগঞ্জ) আসনের ১১ দলীয় জোট প্রার্থী মাওলানা বোরহান উদ্দিনের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের একটি নির্বাচনি কার্যালয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) ভোর রাতে বেগমগঞ্জ উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সেতুভাঙ্গা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। জামায়াত নেতাদের অভিযোগ, গভীর রাতে একদল দুর্বৃত্ত মাওলানা বোরহান উদ্দিনের নির্বাচনি অফিসে আগুন লাগিয়ে পালিয়ে যায়। মুহূর্তেই আগুনের ছড়িয়ে পড়ে এবং নির্বাচনি প্রচারণায় ব্যবহৃত ব্যাটারিচালিত রিকশা, আসবাবপত্র ও প্রচারের উপকরণ সামগ্রী পুড়ে যায়। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী বোরহান উদ্দিন বলেন, গণতন্ত্রের সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট করতে এবং ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াতে রাতের আঁধারে এই আগুন দেওয়া হয়েছে। আমরা প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে সকালে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় কারা জড়িত তা খুঁজে বের করতে তদন্ত চলছে।
৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) জিএস এসএম ফরহাদ বলেছেন, ৫ আগস্টের পর দেড় বছরে যারা চাঁদাবাজির জন্য ২৭৩ জন মানুষকে হত্যা করেছে, তাদেরকে আর ক্ষমতায় আসতে দেওয়া হবে না। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে নোয়াখালী-৪ আসনের সুবর্ণচরের চরজব্বর ডিগ্রি কলেজ মাঠে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের নির্বাচনি জনসভায় তিনি এ কথা বলেন। এস এম ফরহাদ বলেন, ‘দেশের মোট মারামারির ৯১ শতাংশই করেছে একটি নির্দিষ্ট দল। শুধুমাত্র চাঁদাবাজি, লুটপাট আর ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্বে গত দেড় বছরে (৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত) তারা ২৭৩ জন মানুষকে হত্যা করেছে। এই দলকে আমরা আর ক্ষমতায় আসতে দিতে চাই না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যা-ই করি না কেন, বারবার নিজেদের করণীয় ভুলে যাই। ৯০-পরবর্তী সময়ে আমরা ভুল পথে হেঁটেছি, ৭৫-এর পরেও ভুল পথে হেঁটেছি; এখন চব্বিশের পরেও যদি আমরা ভুল পথে হাঁটি, তবে বাংলাদেশ আবারও দীর্ঘসময়ের জন্য দুর্নীতিবাজদের কবলে পড়ে যাবে।’ ডাকসুর জিএস বলেন, ‘যে বিজয় ডাকসুতে শুরু হয়ে জকসুতে এসে থেমেছে, তারা ভয়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্বাচন বন্ধ করে দিয়েছে। সেই ভয়ের চূড়ান্ত ফলাফল তারা ১২ তারিখে দেখতে পাবে। এই ১২ তারিখ হবে দাঁড়িপাল্লার বিজয়।’ নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ফরহাদ বলেন, ‘আমাদের দায়িত্ব দুটি—প্রথমত, আপনি নিজে ভোট দিতে আসবেন এবং ভোট দেবেন। দ্বিতীয়ত, এই বার্তাটি যদি আমরা প্রত্যেক নাগরিকের কাছে পৌঁছে দিতে পারি, তবেই আমরা সফল হবো।’ তিনি আরও বলেন, ‘শোনা যাচ্ছে বিএনপি নাকি ভোটকেন্দ্র দখল করতে চায়। কিন্তু চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের জাগ্রত জনতা কাউকে আর কেন্দ্র দখল করতে দেবে না। যে জুলাই বিপ্লবে যুবকরা বুকের রক্ত দিয়ে বুলেট নিয়েছে, সেই তরুণরা বেঁচে থাকতে কোনো অপশক্তিকে কেন্দ্র দখলের সুযোগ দেবে না।’ সুবর্ণচর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা জামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন নোয়াখালী-৪ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের আমির মো. ইসহাক খন্দকার, চাকসুর সাবেক জিএস সাইদ বিন হাবিবসহ ১১ দলীয় জোটের নেতারা।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে নোয়াখালী জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে মোট ৮৭৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২৬১টিকে ঝুঁকিপূর্ণ (অতি গুরুত্বপূর্ণ) হিসেবে চিহ্নিত করে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। তবে জেলার সব ভোটকেন্দ্রই সিসি ক্যামেরার আওতায় থাকবে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানানো হলেও সুষ্ঠু ভোট নিয়ে শঙ্কা কাটছে না ভোটারদের। বিশেষ করে নারী ভোটারদের মধ্যে কেন্দ্রে যাওয়া নিয়ে ভীতি ও সহিংসতার আশঙ্কা রয়েছে। জেলা প্রশাসন জানায়, ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনসহ সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভোটারদের ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই বলে আশ্বস্ত করেছেন জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সূত্রে জানা যায়, জেলায় মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৮৭৫টি। এর মধ্যে ৬১৪টি সাধারণ এবং ২৬১টি অতি গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নোয়াখালী-১ আসনে মোট ১৪১টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ৮৮টি সাধারণ এবং ৫৩টি অতি গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নোয়াখালী-২ আসনে মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১১১টি। এর মধ্যে ৭৩টি সাধারণ এবং ৩৮টি অতি গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র রয়েছে। নোয়াখালী-৩ আসনে মোট ১৬৬টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ১০৬টি সাধারণ এবং ৬০টি অতি গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা ছয়টি আসনের মধ্যে সর্বাধিক। নোয়াখালী-৪ আসনে মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১৯৮টি। এর মধ্যে ১৫৬টি সাধারণ এবং ৪২টি অতি গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র। নোয়াখালী-৫ আসনে মোট ১৫৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১০৪টি সাধারণ এবং ৫১টি অতি গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অন্যদিকে, নোয়াখালী-৬ আসনে মোট ১০৪টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ৮৭টি সাধারণ এবং মাত্র ১৭টি অতি গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র রয়েছে, যা ছয়টি আসনের মধ্যে সর্বনিম্ন। একাধিক ভোটারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ছয়টি আসনে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলনসহ মোট ৪৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনি প্রচারণা জোরদার হলেও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলো নিয়ে রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা রয়েছে। ভোটের দিন ও তার আগের দিন সহিংসতার আশঙ্কা করছেন তারা। নোয়াখালী-৪ আসনের জামায়াতের প্রার্থী ইসহাক খন্দকার বলেন, একটি দলের নেতাকর্মীরা ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করছে।বিশেষ করে নারীদের হেনস্থা করছে। এছাড়াও গণসংযোগে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। কেন্দ্রে যাওয়া নিয়ে অনেক এলাকায় শঙ্কা আছে। আমরা নিরপেক্ষ ও কঠোর নিরাপত্তা চাই। নোয়াখালী-৬ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেন, হাতিয়ায় পতিত সরকারের সকল লোক নির্দিষ্ট প্রতীকের পক্ষে ভোট করছে। মানুষকে ভয় দেখাচ্ছে। ভোটকেন্দ্রে কোনো এজেন্ট থাকবেনা বলে প্রচার করছে। ভোটারসহ আমরা সবাই সঙ্কিত। একই আসনের বিএনপির প্রার্থী মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, একটি দলের প্রার্থী আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এই আসনে ঝামেলা সৃষ্টি করার চেষ্টা রয়েছে। ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, তা প্রশাসনকে নিশ্চিত করতে হবে। আমরা চাই সুষ্ঠু নিরপেক্ষ অংশগ্রহণ মূলক নির্বাচন। নির্বাচন নিরাপত্তায় অন্যান্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি নোয়াখালীতে দায়িত্ব পালন করছে ফেনী ৪ বিজিবি ব্যাটালিয়ন। ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল মোশারফ , শান্তিপূর্ণ নির্বাচন ও ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করাই বিজিবির প্রধান লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে ১৬ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। বিজিবির টহল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স কার্যক্রম চলবে। সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে অস্থায়ী বেইজ ক্যাম্প থেকে রোবাস্ট পেট্রোলিং, চেকপোস্ট স্থাপন ও তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। নোয়াখালীর পুলিশ সুপার টিএম মোশাররফ হোসেন বলেন, নোয়াখালীর হাতিয়ায় নৌবাহিনী, কোস্টগার্ডসহ পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া অন্যান্য ৫টি আসনেও সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব, আনসারসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দায়িত্ব পালন করবেন। শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে। ভোটাররা নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে যেতে পারবেন। জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, জেলার ছয়টি আসনের ৮৭৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৬১টি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রসহ সব ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হলে তা মোকাবিলায় প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে।

নোয়াখালী–২ (সেনবাগ ও সোনাইমুড়ী আংশিক) আসনে ১১–দলীয় নির্বাচনী জোটের প্রার্থী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়ার শাপলা কলি প্রতীকের এক কর্মীর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। আজ বুধবার বিকেলে সেনবাগ উপজেলার উত্তর শাহাপুর এলাকায় শাপলা কলির নির্বাচনী ব্যানার টাঙাতে গেলে এ ঘটনা ঘটে। এনসিপির প্রার্থীর অভিযোগ, স্থানীয় বিএনপি ও ধানের শীষের প্রতীকের কর্মীদের হামলায় তাঁর কর্মী মো. সাখাওয়াত হোসেন (২৮) আহত হয়েছেন। তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার রাতে সেনবাগ বাজারে শাপলা কলির কর্মী–সমর্থকেরা বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। সমাবেশ থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ বিকেলে শাপলা কলি প্রতীকের কর্মী মো. সাখাওয়াত হোসেন উত্তর শাহাপুর এলাকায় ব্যানার টাঙাতে যান। এ সময় স্থানীয় ধানের শীষের কর্মীরা তাঁকে মারধর করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে দলের কর্মীরা খবর পেয়ে তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে আজ রাত পৌনে আটটার দিকে শাপলা কলির প্রার্থী সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়ার নেতৃত্বে সেনবাগ পৌর শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করা হয়। সেনবাগ পৌর শহরের জেলা পরিষদ মার্কেট চত্বর থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সেনবাগ থানার মোড়ে গিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়। সমাবেশে সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়া ছাড়াও উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা আবদুল মালেক এবং পৌর জামায়াতের আমির মোহাম্মদ ইয়াছিন মিয়াজী বক্তব্য দেন। এ সময় বক্তারা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার ঘোষণা দেন তাঁরা। বিষয়টি নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বিএনপির প্রার্থী জয়নুল আবদিন ফারুকের চাচাতো ভাই ও জেলা বিএনপির সদস্য আবদুল্লা আল মামুন বলেন, ‘শাপলা কলি প্রতীকের ব্যানার টাঙানো নিয়ে যে ঘটনাটি ঘটেছে, তার সঙ্গে বিএনপির দলীয় কোনো সম্পর্ক নেই। বিষয়টি নজরে আসার পরপরই অভিযুক্ত মাসুদ আলমকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে দলের কোনো আপত্তি থাকবে না।’ সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবুল বাশার বলেন, ‘শাপলা কলির এক কর্মী ব্যানার টাঙাতে গেলে তাঁর ওপর হামলা হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে শাপলা কলির নেতা–কর্মীরা মিছিল–সমাবেশ করেছেন। থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। যেহেতু ঘটনাটি নির্বাচনী আচরণবিধিসংক্রান্ত, তাই অভিযোগটি সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি—এ তথ্য আমরা জেনেছি।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের নির্বাচনী প্রচারণায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ হামলায় জামায়াত ও এনসিপির অন্তত সাত নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। জামায়াতের পক্ষ থেকে এ হামলার জন্য বিএনপির নেতাকর্মীদের দায়ী করা হয়েছে। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বেগমগঞ্জ উপজেলার আলাইয়ারপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাজী বাড়ির দরজায় এ ঘটনা ঘটে। হামলায় আহতরা হলেন— এনসিপির জেলা জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক হাবিব উল্লাহ (২৭), দাঁড়িপাল্লার কর্মী জাহিদ (১৯), হৃদয় (২৭), অনিক (১৯), অপূর্ব (১৯), সাইফ (১৮) ও নজরুল ইসলাম সাগর (২৫)। আহতদের মধ্যে জাহিদকে গুরুতর অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ১১ দলীয় জোট মনোনীত দাড়িপাল্লার জামায়াতের জেলা সেক্রেটারি বোরহান উদ্দিন প্রার্থী মাওলানা বোরহান উদ্দিনের পক্ষে গণসংযোগে যাওয়ার সময় স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। বেগমগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের যুব বিভাগের সভাপতি জাকির হোসেন অভিযোগ করে বলেন, বিকেলে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রচারণা চলাকালে বিএনপির কর্মীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে প্রচারণায় অংশ নেওয়া জামায়াত ও এনসিপির নেতাকর্মীরা আহত হন। এ বিষয়ে বেগমগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কামাখ্যা চন্দ্র দাস বলেন, ঘটনার বিষয়ে আমি কিছু জানি না। খোঁজ নিয়ে পরে জানানো হবে। নোয়াখালী জেলা জামায়াতের প্রচার বিভাগের দায়িত্বে থাকা ডা. বোরহান উদ্দিন বলেন, ১১ দলীয় প্রার্থীর শান্তিপূর্ণ গণসংযোগে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। এতে আমাদের কয়েকজন নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। আমরা এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি। বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। জামায়াতের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী কাজী মো. মফিজুর রহমান। আজ দুপুরে সেনবাগ উপজেলার পরিকোট গ্রামের নিজ বাড়িতেছবি: প্রথম আলো নোয়াখালী-২ (সেনবাগ ও সোনাইমুড়ী আংশিক) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী মো. মফিজুর রহমান অভিযোগ করেছেন, ওই আসনের বিএনপির প্রার্থী তাঁকে হুমকি দিচ্ছেন। তাঁর নেতা-কর্মীদেরও মারধর করছেন বিএনপির লোকজন। আজ মঙ্গলবার দুপুরে নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার ডুমুরুয়া ইউনিয়নের পরিকোট গ্রামে নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। কাজী মফিজুর রহমান বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য। এর আগে তিনি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানও ছিলেন। নোয়াখালী-২ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন চেয়েছিলেন তিনি। তবে তাঁকে মনোনয়ন না দেওয়ায় তিনি দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন। এরপর তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে কাজী মফিজুর রহমান বলেন, ‘নির্বাচনী প্রচার শুরুর পর থেকে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের জন্য বিএনপির প্রার্থী জয়নুল আবদিন ফারুক আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি প্রদান করছেন। বিভিন্ন এলাকায় আমার প্রচারের কাজে নিয়োজিত নেতা-কর্মীদের মারধর করছেন ধানের শীষের প্রার্থীর লোকজন।’ কাপ-পিরিচ প্রতীকের এই প্রার্থী বলেন, ‘আমাকে যেহেতু দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে, সেহেতু আমি বিএনপির কেউ না। আমি নির্বাচনে প্রার্থী হলে বিএনপির প্রার্থীর মাথা ঘামানোর কোনো কারণ নেই। কিন্তু তিনি গতকাল সোমবার ডুমুরুয়া ইউনিয়নে একটি নির্বাচনী পথসভায় বলেছেন, আমাকে গাজীর মাজারে গিয়ে তওবা করে বিএনপির ধানের শীষের প্রতীকের পক্ষে ভোট করতে। একজন প্রার্থী কীভাবে আরেকজন প্রার্থীকে উদ্দেশ করে এ ধরনের কথা বলতে পারেন। এই প্রশ্ন আমি নির্বাচন কমিশনের কাছে রাখছি।’ কাজী মফিজুর রহমান অভিযোগ করেন, ১ ফেব্রুয়ারি সোনাইমুড়ী উপজেলার বারগাঁও ইউনিয়নের ভোরের বাজারে তাঁর একটি নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে। তাঁর কর্মীদের মারধর করা হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় প্রচারের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। তাঁর নেতা-কর্মীদের ১২ তারিখের পর দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। হামলা-ভাঙচুর, প্রচারে বাধা ও হুমকির বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে লিখিত অভিযোগ করা হলেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন কাজী মফিজুর রহমান। কাজী মফিজুরের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির প্রার্থী জয়নুল আবদিন ফারুক প্রথম আলোকে বলেন, ‘স্বতন্ত্র প্রার্থীর এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। এসব অভিযোগের সবই ভিত্তিহীন। তাঁকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার জন্য এসব প্রচার করা হচ্ছে

নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের ১১ দলীয় জোট মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী আবদুল হান্নান মাসউদের প্রতি সাধারণ ভোটারদের ভালোবাসা ও আস্থার এক ব্যতিক্রমী দৃশ্য দেখা গেছে নির্বাচনী প্রচারণায়। স্বামীর পক্ষে ভোট চাইতে গিয়ে এক ভোটারের কাছ থেকে স্বর্ণের আংটি উপহার পেয়েছেন হান্নান মাসুদের স্ত্রী শ্যামলী সুলতানা জেদনী। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে হাতিয়া উপজেলার জাহাজমারা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আমির ডুবাইর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। স্বর্ণের আংটিটি উপহার দেন প্রবাসী আমির ডুবাইয়ের বৃদ্ধা মা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওইদিন আমির ডুবাইর বাড়িতে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী আবদুল হান্নান মাসউদের নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে পূর্বনির্ধারিত একটি উঠান বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ছাত্র শক্তির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও হান্নান মাসউদের সহধর্মিণী শ্যামলী সুলতানা জেদনী। উঠান বৈঠক শুরু হওয়ার আগে নির্ধারিত আসনে বসার সময় হঠাৎ এক বৃদ্ধা নারী এগিয়ে এসে শ্যামলী সুলতানা জেদনীর হাতে একটি স্বর্ণের আংটি পরিয়ে দেন। তিনি এটিকে ভালোবাসা ও সম্মানের উপহার হিসেবে গ্রহণ করার অনুরোধ জানান। এ সময় উপস্থিত নারী ভোটাররা করতালির মাধ্যমে ঘটনাটিকে স্বাগত জানান, যা মুহূর্তেই আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি করে। এ বিষয়ে শ্যামলী সুলতানা জেদনী বলেন, এটি হান্নান মাসউদের প্রতি সাধারণ মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। গত দেড় বছরে তিনি সাধারণ মানুষের জন্য যে কাজগুলো করেছেন, এই উপহার তারই প্রতিফলন। একজন স্ত্রী হিসেবে আমি গর্বিত। উঠান বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ছাত্র শক্তি হাতিয়া উপজেলা শাখার সদস্য সচিব আশিক এলাহীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা। পাশাপাশি আশপাশের গ্রামের শতাধিক নারী ভোটার বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।

নোয়াখালীর ৬টি সংসদীয় আসনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। অভিজ্ঞ নেতা থেকে নতুন মুখ, দলীয় প্রভাব থেকে ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা সব মিলিয়ে প্রতিটি আসনে ভোটের সমীকরণ জটিল ও বৈচিত্র্যময়। নোয়াখালী-১ থেকে নোয়াখালী-৬ পর্যন্ত প্রতিটি এলাকায় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন, জাতীয় পার্টি, ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা মাঠে কৌশলগত প্রচারণা চালাচ্ছেন। নোয়াখালী-১ (চাটখিল–সোনাইমুড়ী আংশিক) সংসদীয় আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়ে উঠছে ভোটের সমীকরণ। যাচাই-বাছাই শেষে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী বাদ পড়ায় চূড়ান্তভাবে সাতজন প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে থাকলেও অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক শক্তি ও ভোটব্যাংকের বিচারে এগিয়ে রয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। তবে বিকল্প শক্তি হিসেবে ভোটারদের নজর কাড়তে শুরু করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা মো. ছাইফ উল্লাহ এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জহিরুল ইসলাম। চাটখিল উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এবং সোনাইমুড়ী উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত নোয়াখালী-১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৫২ হাজার ৪২৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৩৩ হাজার ৭১১ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ১৮ হাজার ৭১৪ জন। মোট ১৪১ টা ভোট কেন্দ্রের মধ্যে একটিও নেই অস্থায়ী কেন্দ্র। তবে আছে ৮৮৯ টি ভোট কক্ষের মধ্যে ৩১ টি অস্থায়ী ভোট কক্ষ। বড় ভোটারভিত্তির এই আসনে প্রতিটি দলই নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে মাঠপর্যায়ে তৎপরতা বাড়িয়েছে। এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী সাত প্রার্থী হলেন— ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জামায়াতে ইসলামীর মো. ছাইফ উল্যাহ, হাতপাখা প্রতীকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জহিরুল ইসলাম, লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পার্টির মো. নুরুল আমিন, ডাব প্রতীকে বাংলাদেশ কংগ্রেসের মো. মনিনুল ইসলাম, আপেল প্রতীকে ইনসানিয়াত বাংলাদেশের মো. মশিউর রহমান এবং তারা প্রতীকে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) মনোনীত প্রার্থী রেহানা বেগম। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা প্রার্থীদের হলফনামা পর্যালোচনায় দেখা যায়, বিএনপি প্রার্থী ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন ছাড়া অন্য সব প্রার্থী এবারই প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। খোকন নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে অংশ নিলেও তিনি জয়লাভ করতে পারেননি। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এবং সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি হিসেবে তার রাজনৈতিক পরিচিতি ও দীর্ঘ অভিজ্ঞতা তাকে ভোটের মাঠে বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামো, অতীত নির্বাচনের অভিজ্ঞতা এবং প্রার্থীর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা মিলিয়ে এই আসনে দলটি আপাতত এগিয়ে রয়েছে। তবে ভোটারদের একটি অংশ বিকল্প নেতৃত্বের সন্ধানে থাকায় ধর্মভিত্তিক দলগুলোর প্রার্থীরাও আলোচনায় উঠে আসছেন। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা মো. ছাইফ উল্লাহ পেশায় শিক্ষক। দীর্ঘদিন ধরে তিনি এলাকার সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। ব্যক্তিগত সততা, সহজ-সরল জীবনযাপন এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের কারণে তার প্রতি এক ধরনের আস্থার পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে স্থানীয়রা দাবি করছেন। নীরব সমর্থনও বাড়ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী জহিরুল ইসলাম ভিন্ন পরিচয়ে ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন। তিনি পূর্বে যুক্তরাজ্যের দ্বৈত নাগরিক ছিলেন এবং নির্বাচনে অংশ নিতে গত বছরের ১২ ডিসেম্বর যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেন। ৪৪ বছর বয়সী এই প্রার্থী স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী। প্রবাসে রেমিট্যান্স পাঠানোর স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি গত বছর বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (সিআইপি) হিসেবেও মনোনীত হন। সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকায় তরুণ ও সচেতন ভোটারদের একটি অংশ তার প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা মো. ছাইফ উল্লাহ বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকার মানুষের সঙ্গে আছি। শিক্ষকতা ও সামাজিক কাজের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সুখ–দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। জনগণ যদি আমাকে নির্বাচিত করেন, তাহলে দুর্নীতিমুক্ত ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ গঠনে কাজ করব। এলাকার শিক্ষা, নৈতিকতা ও সামাজিক উন্নয়নই হবে আমার প্রধান অগ্রাধিকার। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী জহিরুল ইসলাম বলেন, দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করার তাগিদ থেকেই আমি প্রবাসের জীবন ছেড়ে নির্বাচনে এসেছি। রাজনীতিকে আমি সেবা হিসেবে দেখি। জনগণ যদি আমাকে সুযোগ দেন, তাহলে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং মানবিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে উন্নয়ন নিশ্চিত করতে চাই। তরুণ সমাজের প্রত্যাশা পূরণে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। বিএনপি প্রার্থী ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, এই আসনের মানুষ আমাকে আগেও সংসদে পাঠিয়েছেন। তাদের সুখ–দুঃখ, সমস্যা ও সম্ভাবনা আমি ভালোভাবে জানি। আমার অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক অবস্থান কাজে লাগিয়ে নোয়াখালী-১ আসনের সার্বিক উন্নয়ন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করব।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের ভেরিফাইড এক্স (সাবেক টুইটার) আইডি হ্যাক করার অভিযোগে বঙ্গভবনের সহকারী প্রোগ্রামার মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলমকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এর পরিপ্রেক্ষিতে জামায়াত আমির জানিয়েছেন, তিনি এখন এই অপরাধের সুষ্ঠু বিচার এবং আইনের বাস্তব প্রয়োগ দেখতে চান। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ কথা বলেন। ফেসবুক পোস্টে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আমার ভেরিফাইড এক্স আইডি (টুইটার), যেখান থেকে হ্যাক হয়েছিল, সেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আটক হয়েছে।’ তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে আরও লেখেন, ‘এখন ন্যায়বিচারটাও পাব এবং তা খুবই প্রয়োজন। দেশে সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও আসন্ন নির্বাচনকে সুষ্ঠু করার পক্ষে এ ধরনের আইনি উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই। শাস্তি নিশ্চিত হলে অনেকেই সাবধান হয়ে যাবে।’ জামায়াত আমির মনে করেন, এই ঘটনা থেকে অনেকেরই শিক্ষা হবে। তিনি বলেন, ‘অপেক্ষায় রইলাম, আইনের বাস্তব প্রয়োগ দেখার জন্য।’ অতি অল্প সময়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ধন্যবাদও জানান।

নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার তমরদ্দি ইউনিয়নে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাত নেতাকর্মী বিএনপিতে যোগদান করেছেন। এ সময় তারা বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তমরদ্দি ইউনিয়নে ধানের শীষের নির্বাচনী এক উঠান বৈঠকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ যোগদান অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম নবাগত নেতাকর্মীদের ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেন। বিএনপিতে যোগদানকারীরা হলেন—তমরদ্দি ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড এনসিপির সদস্য সচিব হেলাল উদ্দিন, যুগ্ম আহ্বায়ক মতিন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ আলী, যুগ্ম আহ্বায়ক রাব্বি, সদস্য রাসেল উদ্দিন, সাদ্দাম হোসেন ও ফারুক উদ্দিন। জানা গেছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাহবুবের রহমান শামীম ওই উঠান বৈঠকে বক্তব্য দেন। তিনি উপস্থিত ভোটারদের ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে সরকার গঠনে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। এ সময় তিনি হাতিয়ার নদীভাঙন রোধ, ভূমিহীনদের পুনর্বাসন, হাতিয়ার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে হাতিয়াকে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন। উঠান বৈঠকে উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বিএনপি প্রার্থী মাহবুবের রহমান শামীমের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট ও জেলা বিএনপির সদস্য মো. আলাউদ্দিন রনি বলেন, এর আগেও বিভিন্ন পর্যায়ে এনসিপির নেতাকর্মীরা বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। বিএনপি একটি বৃহৎ গণতান্ত্রিক দল। হাতিয়ায় এনসিপির উগ্র কর্মকাণ্ডে হতাশ হয়ে অনেকেই বিএনপিতে যোগ দিচ্ছেন। দিন দিন ধানের শীষের গণজোয়ার হচ্ছে। হাতিয়া উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক শামসুল তিব্রিজ বলেন, হাতিয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা আবদুল হান্নান মাসউদের জনপ্রিয়তা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাধারণ মানুষ তার নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক অবস্থানকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করছে। মাঠপর্যায়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। হাতিয়ার প্রতিটি ইউনিয়নে শাপলা কলির প্রতীকের পক্ষে যে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে, তা আগামী দিনে আরও বিস্তৃত হবে। দুই একজন দল পরিবর্তন করলে এতে কোনো প্রভাব পড়বে না।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের রাজগঞ্জ ইউনিয়নে বিএনপি প্রার্থীর একটি নির্বাচনি ক্যাম্পে (অফিস) অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুনে ওই ক্যাম্পের চেয়ার টেবিল ও পার্শ্ববর্তী আরও তিনটি দোকান পুড়ে গেছে। সোমবার (২ ফেব্রয়ারি) ভোরে নোয়াখালী-৩ আসনের রাজগঞ্জের বাকীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন বিএনপির নির্বাচনি ক্যাম্পে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি পরিকল্পিত বলে অভিযোগ করছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। স্থানীয়রা জানান, ফজরের নামাজ পড়তে বের হওয়া মুসল্লীরা দেখতে পান বিএনপির নির্বাচনি কার্যালয়সহ পাশের দোকানগুলোতে আগুন জ্বলছে। পরে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিলে মুসল্লিরা এসে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এর আগেই বিএনপির নির্বাচনি কার্যালয়, পাশের সাইকেল মার্ট দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। অপর একটি দোকান আংশিক পুড়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। নোয়াখালী-৩ আসনের ধানের শীষ প্রতীকের নির্বাচনি সমন্বয়ক মুরাদ জিয়াউর রহমান সুমন বলেন, আগুনের ধরণ অনুযায়ী আলাদা আলাদা ভাবে আগুন লাগানো হয়েছে। মূলত বিএনপি অফিস পোড়ানো হয়, আর সেটাকে ভিন্নখাতে নেওয়ার জন্য পাশেরগুলোতেও আগুন লাগানো হয়। বেগমগঞ্জ থানার ওসি শামসুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে বিএনপি এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দুটি নির্বাচনি অফিসকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। রোববার সন্ধ্যায় উপজেলার চরওয়াপদা ইউনিয়নের আল-আমীন বাজারে এই অভিযান পরিচালিত হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন সুবর্ণচর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ছেনমং রাখাইন। অভিযান সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনি অফিসে আলোকসজ্জা করা এবং বিধি বহির্ভূতভাবে রঙিন পোস্টার লাগানোর দায়ে দল দুটিকে আর্থিক দণ্ড দেওয়া হয়। এতে বিএনপি অফিসকে ৫,০০০ টাকা এবং জামায়াত ইসলামী অফিসকে ৫,০০০ টাকা জরিমানা করা হয়। নির্বাচনি পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে আমাদের এ তৎপরতা অব্যাহত থাকবে বলে জানান সহকারী কমিশনার (ভূমি) ছেনমং রাখাইন। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় পুলিশ, সেনাবাহিনীসহ যৌথবাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতা করেন। প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনি আচরণবিধি বজায় রাখতে ভ্রাম্যমাণ আদালত নিয়মিত মাঠে কাজ করে যাচ্ছে।
৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও নোয়াখালী-৩ আসনে দলের সংসদ সদস্য প্রার্থী বরকত উল্লাহ বুলু বলেছেন, একাত্তর সালের দেশ বিরোধীরা এখন ছাব্বিশে এসে দেশের জন্য মায়াকান্না দেখাচ্ছে। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের এখলাশপুরে স্থানীয় বিএনপির আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় তিনি এ কথা বলেন। বরকত উল্লাহ বুলু বলেন, ধর্মকে রাজনীতিতে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে জামায়াত। তারা কখনোই দেশের ভালো চায়নি। ভবিষ্যতেও চাইবে না। এ বিষয়ে জনগণকে খেয়াল রাখতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের নবী (সা.) নিজেও কাউকে জান্নাতের টিকিটের গ্যারান্টি দিয়ে যাননি। সেখানে একটি রাজনৈতিক দল কীভাবে মানুষকে জান্নাতের নিশ্চয়তা দেয়! এটা জনগণের বিবেকের কাছে প্রশ্ন। এ সময় বিএনপির এই ভাইস চেয়ারম্যান অভিযোগ করে বলেন, ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা ধর্মের মৌলিক শিক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। যা জামায়াত প্রতিনিয়ত করে যাচ্ছে। ইসলাম কখনোই ক্ষমতার সিঁড়ি হতে পারে না। ধর্মকে ভোটের বাজারে পণ্য বানানো ধর্মেরই অবমাননা করা। দেশের মানুষ এখন অনেক সচেতন উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণ ধর্মীয় আবেগে নয়, বরং উন্নয়ন, গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও ন্যায়বিচারের প্রশ্নে সিদ্ধান্ত নিতে চায়। বরকত উল্লাহ বুলু আরও বলেন, দেশের মানুষ জানে জান্নাতের মালিক স্বয়ং আল্লাহ। কোনো রাজনৈতিক দল, কোনো নেতা জান্নাতের চাবি হাতে নিয়ে বসে নেই। যখন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে জান্নাত-জাহান্নামের কথা বলা হয়, তখন বুঝতে হবে রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব কোথায় গিয়ে ঠেকেছে। অনুষ্ঠানে নোয়াখালী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলো, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য শামিমা বরকত লাকি, বেগমগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কামাখ্যা চন্দ্র দাস, সদস্য সচিব মাহফুজুল হক আবেদ, চৌমুহনী পৌর বিএনপির আহ্বায়ক জহির উদ্দিন হারুনসহ বিভিন্ন স্তরের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের ১১ দলীয় জোট মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদের নির্বাচনী তহবিলে ১০ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছেন তার বন্ধু ও মাদরাসার সহপাঠীরা। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাতে হাতিয়ার ওছখালীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে ২০১৭ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত পুনর্মিলনী ও মতবিনিময় সভায় বন্ধুদের পক্ষ থেকে এই অনুদানের চেক হস্তান্তর করা হয়। অনুদান প্রদানকারীদের মধ্যে ছিলেন হাতিয়া রাহমানিয়া ফাজিল মাদরাসার ফজলে এলাহী হৃদয়, চর কৈলাশ হাদিয়া ফাজিল মাদরাসার মো. আব্দুর রবসহ বিভিন্ন মাদরাসার ২০১৭ ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থীরা। মতবিনিময় সভায় আবদুল হান্নান মাসউদ বলেন, দীর্ঘদিন পর বন্ধুদের সঙ্গে একত্র হতে পেরে সত্যিই ভালো লাগছে। তারা সব সময় আমার পাশে থেকেছে এবং গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছে। সহপাঠীদের সঙ্গে আমার সম্পর্ক এখনো অটুট রয়েছে। তাদের এই ভালোবাসা ও সহযোগিতা আমি আজীবন স্মরণে রাখব। তিনি আরও বলেন, তরুণরাই দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। শিক্ষিত ও সচেতন তরুণ সমাজকে সঙ্গে নিয়েই একটি সুন্দর, নিরাপদ ও উন্নত হাতিয়া গড়ে তোলা সম্ভব। নির্বাচিত হলে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। এ সময় ২০১৭ ব্যাচের শিক্ষার্থী ফজলে এলাহী হৃদয় বলেন, আবদুল হান্নান মাসউদ একজন সৎ, যোগ্য ও জনবান্ধব নেতা। তার নেতৃত্বে হাতিয়ার উন্নয়ন আরও গতিশীল হবে এই বিশ্বাস থেকেই আমরা তার পাশে দাঁড়িয়েছি। মো. আব্দুর রব নামের আরেক সহপাঠী বলেন, হান্নান মাসউদের কোন দল বা জোটের প্রার্থী এটি আমাদের কাছে মুখ্য নয়। সে আমাদের বন্ধু। তার দীর্ঘ লড়াইয়ে পাশে থাকার অঙ্গীকার থেকেই এই সম্মান ও সহযোগিতা। আমরা সব সময় তার পাশে থাকব। অনুষ্ঠানে ২০১৭ সালের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাবেক শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে সবাই একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন কামনা করেন এবং হাতিয়ার সার্বিক উন্নয়নে তরুণ সমাজকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নেতা মাওলানা মো. ইউসুফ বিএনপিতে যোগদান করেছেন। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাতে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি বিএনপিতে যোগদান করেন। পরে তাকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সুবর্ণচর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এনায়েত উল্যাহ বাবুল, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক বেলাল হোসেন সুমন, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আজগর উদ্দিন দুখুসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীরা। মাওলানা মো. ইউসুফ সুবর্ণচর উপজেলার আমানউল্লাহ ইউনিয়নের কাটাবুনিয়া ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। যোগদান অনুষ্ঠানে মাওলানা ইউসুফ বলেন, জামায়াতের আদর্শ ও উদ্দেশ্যের পরিবর্তন হয়েছে। ৫ আগস্টের পর ক্ষমতার জন্য তাদের এই পরিবর্তন মেনে নেওয়া যায় না। ইসলামী দল হিসেবে তারা শরীয়াহভিত্তিক রাষ্ট্র পরিচালনার কথা বলছে না, অথচ ক্ষমতায় যেতে চায়। এসব কারণে আমি জামায়াতে ইসলামী ত্যাগ করে বিএনপিতে যোগদান করেছি। এ বিষয়ে সুবর্ণচর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এনায়েত উল্যাহ বাবুল বলেন, দেশ ও গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনে বিএনপি সবসময় উদার ও গণতান্ত্রিক শক্তিকে স্বাগত জানায়। মাওলানা মো. ইউসুফের মতো রাজনৈতিকভাবে সচেতন একজন নেতার বিএনপিতে যোগদান দলকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আমরা আশা করি।

স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা, বিএনপির ৯ নেতা বহিষ্কার দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর অভিযোগে নোয়াখালীতে বিএনপির ৯ জন নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) সংসদীয় আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রকৌশলী ফজলুল আজিমের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বহিষ্কৃতদের মধ্যে রয়েছেন- নোয়াখালী জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য খন্দকার আবুল কালাম, হাতিয়া পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি কাজী আব্দুর রহিম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন আলো, হাতিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি মোছলে উদ্দিন নিজাম চৌধুরী, এ্যাড. মো. ইউনুছ, সাংগঠনিক সম্পাদক ইকবাল উদ্দিন রাশেদ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ইমাম হাসান, শেখ ফরিদ ও সহ-কোষাধ্যক্ষ ফয়জুর রহমান নান্টু। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এতে বলা হয়, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সংগঠন বিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার জন্য এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বহিষ্কার প্রসঙ্গে হাতিয়া পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন আলো ঢাকা পোস্টকে বলেন, এমন সিদ্ধান্তে আমরা বিচলিত নই। আমরা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি হরিণ মার্কা জয়ী হয়ে তারেক রহমানকে এই আসন উপহার দিতে চাই। আমাদের প্রার্থী তিনবারের সংসদ সদস্য। তিনি ব্যপক জনপ্রিয় ব্যক্তি। আমরা আশাবাদী প্রার্থীকে জয়ী করে পরবর্তীতে সুযোগ পেলে দলে আসব ইনশাআল্লাহ। নোয়াখালী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলো বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ না করায় কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বহিষ্কার কার্যকর করা হয়েছে বলে আমি জানতে পেরেছি। যারা দলীয় সিদ্ধান্তের বাহিরে যাবে তাদের সবার বিরুদ্ধে এভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রসঙ্গত, নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে এবারের নির্বাচনে মোট ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন—বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মাহবুবের রহমান শামীম, ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী জাতীয় নাগরিক পার্টির শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থী আবদুল হান্নান মাসউদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাত পাখা প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম শরীফ, জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী এটিএম নবী উল্যাহ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) মনোনীত তারা প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল মোতালেব, গণঅধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ আজহার উদ্দিন, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির একতারা প্রতীকের প্রার্থী আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আব্দুল মালেক, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির ছাতা প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ আবুল হোসেন, ফুটবল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী তানবীর উদ্দিন রাজীব এবং হরিণ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ ফজলুল আজিম। ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত নোয়াখালী-৬ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৩৯ হাজার ১৮৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭৮ হাজার ৩১০ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৬৯ হাজার ৮৮৪ জন। এ আসনে মোট ১০৪টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে, যার একটিও অস্থায়ী নয়। তবে ৬৬৫টি ভোটকক্ষের মধ্যে ৬৮টি অস্থায়ী ভোটকক্ষ রয়েছে।

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় জাতীয় যুবশক্তির নেতা কামাল উদ্দিন বিএনপিতে যোগদান করেছেন। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাতে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও নোয়াখালী-৬ আসনের প্রার্থী মাহবুবুর রহমান শামীমের হাতে ফুল দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে দলে বরণ করে নেওয়া হয়। কামাল উদ্দিন হাতিয়া উপজেলার জাহাজমারা ইউনিয়নের জাহাজমারা পশ্চিম শাখা জাতীয় যুবশক্তির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। বিএনপিতে যোগদান উপলক্ষে কামাল উদ্দিন বলেন, আমি পারিবারিক সিদ্ধান্তে জাতীয় যুবশক্তির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক পদ থেকে পদত্যাগ করে সব সাংগঠনিক কার্যক্রম বন্ধ করেছি। দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিএনপির আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে দলে যোগ দিয়েছি। আগামী দিনে বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে সক্রিয়ভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করছি। এ সময় উপস্থিত হাতিয়া উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লুৎফুল্লাহিল মজিদ নিশান বলেন, কামাল উদ্দিনের পাশাপাশি আরও অনেক নেতা-কর্মী বিএনপিতে যোগদান করেছেন। তারা সবাই বিএনপির আদর্শ ও ধানের শীষের পক্ষে কাজ করার জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। আসন্ন নির্বাচনে দলকে শক্তিশালী করতে এবং জনগণের সমর্থন আদায়ে তারা সম্মিলিতভাবে মাঠে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। বিএনপি প্রার্থী মাহবুবুর রহমান শামীমের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট ও জেলা বিএনপির সদস্য মো. আলাউদ্দিন রনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, এর আগেও বিভিন্ন পর্যায়ে এনসিপির নেতাকর্মীরা বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। বিএনপি একটি বৃহৎ গণতান্ত্রিক দল। হাতিয়ায় এনসিপির উগ্র কর্মকাণ্ডে হতাশ হয়ে অনেকেই বিএনপিতে যোগ দিচ্ছেন। হাতিয়া উপজেলা যুবশক্তির আহ্বায়ক মো. ইউসুফ রেজা বলেন, হাতিয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা আবদুল হান্নান মাসউদের জনপ্রিয়তা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাধারণ মানুষ তার নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক অবস্থানকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করছে। মাঠপর্যায়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। হাতিয়ার প্রতিটি ইউনিয়নে শাপলা কলির প্রতীকের পক্ষে যে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে, তা আগামী দিনে আরও বিস্তৃত হবে। দুই একজন দল পরিবর্তন করলে এতে কোনো প্রভাব পড়বেনা।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচন পূর্ব আচরণবিধি লঙ্ঘন ও নির্বাচনী অপরাধের অভিযোগে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি এবং পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনে বিএনপি সমর্থিত সংসদ সদস্য প্রার্থী নুরুল হক নুরকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সংসদীয় আসন-১১৩, পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা-গলাচিপা) এর অস্থায়ী কার্যালয়—সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, দশমিনা, পটুয়াখালী থেকে এ নোটিশ জারি করা হয়। নোটিশে স্বাক্ষর করেন নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির সদস্য (সিভিল জজ, বরিশাল) সাব্বির মো. খালিদ। নোটিশ সূত্রে জানা যায়, অ্যাডভোকেট এনামুল হক কর্তৃক উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. হাসান মামুন সম্পর্কে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। এতে সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিমালা-২০২৫ এর ১৫(ক) এবং ১৬(গ), (ছ) বিধি লঙ্ঘনের কথা উল্লেখ করা হয়। নোটিশে আরও অভিযোগ করা হয়, গত ২৬ জানুয়ারি রাত ৮টার দিকে দশমিনা উপজেলার চরবোরহান এলাকার পাগলা বাজার সেন্টারে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. হাসান মামুনের নির্বাচনী অফিসে নূরের অনুসারী কর্মী-সমর্থকেরা ভাঙচুর চালায় এবং তার কর্মী-সমর্থকদের আহত করে। এ ঘটনাকে আচরণবিধিমালার ৬ (ক) বিধির পরিপন্থি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে কেন নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না এবং নির্বাচন কমিশন বরাবর প্রতিবেদন প্রেরণ করা হবে না, সে মর্মে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে সশরীরে অথবা প্রতিনিধির মাধ্যমে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিকে কারণ দর্শানোর নোটিশটি দ্রুত জারি করে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন আদালতে পাঠানোর জন্য দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে নুরুল হক নুরের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন নুরুল হক নূরের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য মো. হাসান মামুন। তবে জোট সমঝোতার কারণে নুরুল হক নুর প্রার্থী হওয়ায় এ আসনে বিএনপি আলাদা প্রার্থী দেয়নি। দলীয় মনোনয়ন না পেলেও নির্বাচনী লড়াইয়ে অটল থাকেন হাসান মামুন। নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে প্রার্থী হওয়ায় তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। স্থানীয় বিএনপির একটি অংশ হাসান মামুনের সমর্থক বলে জানা গেছে। গত শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা এবং গলাচিপা পৌর বিএনপির সাংগঠনিক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মূলত নুরুল হক নূরের পক্ষে কাজ না করায় এসব কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। বর্তমানে আসনটিতে নুরুল হক নুর ‘ট্রাক’ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. হাসান মামুন ‘ঘোড়া’ প্রতীকে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। তবে প্রচারণার শুরু থেকেই বিভিন্ন বিষয়ে দুজন একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করে আসছেন। এর আগে গত ২৭ জানুয়ারি রাতে নিজেদের নির্বাচনী অফিস ভাঙচুরের ঘটনায়ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেন দুই প্রার্থী।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকাল ১০টা। নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ হাতিয়ার চেয়ারম্যান ঘাটে আলমের চা দোকানে কথা হয় দিনমজুর মোহাম্মদ আলীর (৫০) সঙ্গে। তিনি প্রথম ভোট দিয়েছেন ১৯৯৬ সালের ১২ জুন সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। ২০০১ ও ২০০৮ সালে ভোট দিতে পারলেও এরপর আর কেন্দ্রে যাওয়ার সুযোগ হয়নি। তিনি চায়ে চুমুক দিয়ে জাগো নিউজকে বলেন, ‘অনেকদিন পর ভোট দেবো। খুব খুশি লাগছে। এখন পর্যন্ত ভোটের পরিবেশও ভালো। কিন্তু ভোটের ব্যালটে নাকি গণভোট দিতে হবে। তা কী সেটা বুঝতেছি না। সবাই বলে এটা নাকি দেশের জন্য ভালো হবে। তবে এটা কীভাবে দেবো তা কেউ বলেনি। এটা যদি ভালোভাবে বুঝিয়ে দিতো ভালো হতো।’ নদী পার হওয়ার সময় স্পিডবোটে কথা হয় ব্যবসায়ী মো. সাহেদের সঙ্গে। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানকে শক্ত অবস্থানে ধরে রাখতে গণভোট দিতে হবে। কিন্তু এটার কোনো প্রচার-প্রচারণা নেই। সরকারি দপ্তরগুলো দায়সারা প্রচারণা চালাচ্ছে। এটা নিয়ে রাজনৈতিক দল এবং সরকার যদি ভালোভাবে প্রচার-প্রচারণা করতো, তাহলে গ্রামের সাধারণ খেটে-খাওয়া মানুষজন আরও বেশি করে এটা সম্পর্কে জানতো।’ মার্কার প্রচারে সরগরম প্রার্থীরা, গণভোট বোঝেন না দ্বীপের ৯০ ভাগ মানুষ একই বোটে আরেক দিনমজুর মো. শহিদ উল্যাহ জাগো নিউজকে বলেন, ‘দ্বীপের সাত লাখ অধিবাসীর মধ্যে ৮০-৮৫ শতাংশ মানুষ দিনমজুর, মৎস্যজীবী ও খেটে-খাওয়া। তারা দিনে এনে দিনে খাওয়া লোক। গণভোট বিষয়ে দ্বীপের ৯০ শতাংশ মানুষ কিছুই জানে না। তবে শুনেছি সরকার বাজারে বাজারে প্রচার চালাচ্ছে। কিন্তু আমার চোখে পড়েনি। আমরা নিজেরা গণভোট বুঝি না। বাড়ির লোকজনও কিছুই জানে না।’ হাতিয়ার নলচিরা ঘাটের মাঝি আবদুস ছোবহান বলেন, ‘গত ১৭ বছর ভোট না থাকায় এবার মানুষ ভোটে আগ্রহ আছে। কিন্তু পরিবেশ ভালো না থাকলে এবারও লোকজন কেন্দ্রে যাবে না। টেলিভিশনে দেখেছি দেশের জন্য গণভোট ভালো হবে। কিন্তু এ সম্পর্কে দ্বীপের মানুষকে আরও সচেতন করতে হবে। তা না হলে এ ব্যালট দিলেও লোকজন তার মর্ম বুঝবে না।’ ওসখালি যাওয়ার পথে সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক আবদুল গফুর বলেন, ‘হাতিয়ায় ১০ জন প্রার্থী হয়েছেন। কিন্তু তারা নিজেদের প্রতীক নিয়ে কথা বললেও হ্যাঁ-না ভোট নিয়ে কোনো কথা বলেন না। এটা নিয়ে আরও বেশি প্রচার-প্রচারণা দরকার।’ প্রবাসী আবদুল কুদ্দুস বলেন, ‘চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর নতুন বাংলাদেশ গড়তে গণভোটের বিকল্প নেই। কিন্তু দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় এর কোনো প্রচার-প্রচারণা নেই। নারী-পুরুষের বেশিরভাগই গণভোট সম্পর্কে কিছুই জানে না। সরকারি দপ্তরগুলো কিছুটা প্রচারণা করলেও তা উপজেলা ও তার আশপাশের এলাকায়। কিন্তু বিশাল জনগোষ্ঠী উপকূলে বসবাস করে। তাদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো জন্য কোনো পদক্ষেপ এখনো চোখে পড়েনি।’ মার্কার প্রচারে সরগরম প্রার্থীরা, গণভোট বোঝেন না দ্বীপের ৯০ ভাগ মানুষ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক মহিউদ্দিন বলেন, ‘আমরা এ ভোট বুঝিও না, দিতেও পারবো না। কেউ শিখিয়ে দিলে হয়তো দিতে পারবো। আর এ ভোট দিলে কী হবে তাও জানি না।’ স্থানীয়রা জানান, বিচ্ছিন্ন দ্বীপ হাতিয়া উপজেলা নিয়ে নোয়াখালী-৬ আসনটি গঠিত। এখানকার মানুষ চলাচলের জন্য একমাত্র নদীপথ ছাড়া কোনো উপায় নেই। ঝড়-তুফান পেরিয়ে এ দ্বীপের প্রায় সাত লাখ অধিবাসী জোয়ার-ভাটার সঙ্গে যুদ্ধ করে চলাচল করেন। দ্বীপের মানুষ অনেক মৌলিক চাহিদা থেকে বঞ্চিত। এখানকার প্রধান সমস্য নদীভাঙন। দ্বীপের বেশিরভাগ মানুষ দিনমজুর, মৎস্যজীবী ও খেটে-খাওয়া। এই আসনে এবার ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরমধ্যে বিএনপি, এনসিপি ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হবে বলে স্থানীয়দের অভিমত। আসন্ন সংসদ নির্বাচনে এ আসনে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ বলেন, ‘আমরা শাপলা কলি প্রতীকের পাশাপাশি গণভোটে হ্যাঁ-তে ভোট দিতে জনগণেকে উদ্বুদ্ধ করছি। ইনশাআল্লাহ এখানে শাপলা কলির পাশাপাশি হ্যাঁ জয়যুক্ত হবে।’ বিএনপির প্রার্থী দলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, ‘আমরা দ্বীপের মানুষের জন্য বিএনপির উন্নয়নসহ জনগণের দোরগোড়ায় ফ্যামিলি-কৃষি কার্ডের সুবিধার কথা বলে ধানের শীষে ভোট চাচ্ছি। পাশাপাশি গণভোটে অংশগ্রহণ করতেও ভোটারদেরকে আহ্বান জানাচ্ছি।’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলা উদ্দিন বলেন, ‘গণভোটে অংশ নিতে জনগণকে সচেতন করার জন্য আমরা বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে আসছি। প্রত্যেক বিদ্যালয়ে এবং প্রতিটি দপ্তরে এর প্রচারণা চালানো হচ্ছে।’ এই আসনে মোট ভোটার তিন লাখ ৩৯ হাজার ১৮৬ জন। পুরুষ ভোটার এক লাখ ৭৮ হাজার ৩৩২ জন, নারী ভোটার এক লাখ ৬০ হাজার ৮৫২ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার দুজন। এখানে মোট ভোটকেন্দ্র ১০৪টি, ভোট কক্ষ ৬৬৫টি। নোয়াখালী-৬ আসনের ১০ জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হলেন বিএনপির মোহাম্মদ মাহবুবের রহমান শামীম (ধানের শীষ), এনসিপির আবদুল হান্নান মাসউদ (শাপলা কলি), বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (বিএসপি) আমিররুল ইসলাম মোহাম্মদ আবদুল মালেক (একতারা), জাতীয় পার্টির এটিএম নাবী উল্যাহ (লাঙ্গল), স্বতন্ত্র তানবীর উদ্দিন রাজিব (ফুটবল), গণঅধিকার পরিষদের (জিওপি) মোহাম্মদ আজহার উদ্দিন (ট্রাক), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) মোহাম্মদ আবদুল মোতালেব (তারা), লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) মোহাম্মদ আবুল হোসেন (ছাতা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম শরীফ (হাতপাখা) এবং স্বতন্ত্র মোহাম্মদ ফজলুল আজিম (হরিণ)।

দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর অভিযোগে নোয়াখালীতে বিএনপির ১৮ জন নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। নোয়াখালী-২ (সেনবাগ ও সোনাইমুড়ীর আংশিক) সংসদীয় আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী মফিজুর রহমানের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বহিষ্কৃতদের মধ্যে রয়েছেন সেনবাগ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর হোসেন চৌধুরী এবং বিএনপি নেতা ড. নজরুল ইসলাম ফারুক। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাতে ঢাকা পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন নোয়াখালী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলো। তিনি বলেন, এর আগের দিন মঙ্গলবার বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। বহিষ্কৃত অন্য নেতারা হলেন— বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত উল্যাহ লিটন, মমিন উল্যাহ চেয়ারম্যান, মির্জা মো. সোলাইমান, মোয়াজ্জেম হোসেন সেলিম, গোলাম হোসেন খন্দকার, উপজেলা বিএনপির সদস্য ওবায়দুল হক চেয়ারম্যান, আবুল কালাম আজাদ, নুরুজ্জামান চৌধুরী, আবু জাহের চৌধুরী জাফর, শাহেদুল করিম মারুফ, মাস্টার দলিলুর রহমান, সেনবাগ পৌর বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন বাবলু, রেজাউল হক হেলাল, তাজুল ইসলাম রতন, পৌর বিএনপির সদস্য মহিউদ্দিন কমিশনার এবং শহীদ উল্যাহ হেলাল। বহিষ্কার প্রসঙ্গে সেনবাগ উপজেলা বিএনপির বহিষ্কৃত যুগ্ম আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর হোসেন চৌধুরী বলেন, আমরা দলের বিপক্ষে নই, আমরা একজন প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিয়েছি। বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী মফিজুর রহমান দুঃসময়ে দলের নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন। সে কারণেই আমরা তার সঙ্গে রয়েছি। দল আগে আমাদের প্রার্থীকে বহিষ্কার করেছে। আমাদের বহিষ্কারের কথা শুনেছি, তবে এখনো লিখিত কোনো নোটিশ পাইনি। এ বিষয়ে নোয়াখালী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলো বলেন, দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ না করায় কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বহিষ্কার কার্যকর করা হয়েছে বলে আমি জানতে পেরেছি। যারা দলীয় সিদ্ধান্তের বাহিরে যাবে তাদের সবার বিরুদ্ধে এভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী মফিজুর রহমান বলেন, আমি কোনো দল ভাঙার রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। যারা আমার সঙ্গে আছেন, তারা সবাই এলাকার উন্নয়ন ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা থেকেই আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন। ব্যক্তিগতভাবে আমি কাউকে দলীয় শৃঙ্খলা ভাঙতে উৎসাহ দিইনি। তবে দুঃসময়ে মানুষের পাশে থাকার রাজনীতিতে আমি বিশ্বাস করি। জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থন নিয়েই আমি নির্বাচনে এগিয়ে যেতে চাই। এর আগে গত ৯ জানুয়ারি এ আসনে বিএনপির প্রার্থী জয়নুল আবেদিন ফারুকের বিরোধিতা করায় সেনবাগ উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সোলেমান রাজু ও ওমর ফারুক শাকিল, সদস্যসচিব আনোয়ার হোসেন এবং সেনবাগ পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব ওয়ালিদ আদনানকে বহিষ্কার করা হয়েছে। পাশাপাশি বীজবাগ সুলতান মাহমুদ ডিগ্রি কলেজের সভাপতি তানভীর তারেক জয়ের পদ স্থগিত ও কানকিরহাট ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সব কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। নোয়াখালী-২ আসনে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন- বিএনপি থেকে ধানের শীষ প্রতীকে মনোনীত প্রার্থী জয়নুল আবদিন ফারুক, ১০ দলীয় জোটের শাপলা কলি প্রতীকের মনোনীত প্রার্থী সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়া মজুমদার, জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের মনোনীত প্রার্থী মো. শাহাদাত হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের মনোনীত প্রার্থী খলিলুর রহমান ও কাপ পিরিচ প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী মোহাম্মদ মফিজুর রহমান। সেনবাগ উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও সোনাইমুড়ী উপজেলার আংশিক তিনটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৬০ হাজার ০৮১ জন। মোট ভোটকেন্দ্র ১১১টি, ভোটকক্ষ ৭০০টি, যার মধ্যে ২২টি অস্থায়ী ভোটকক্ষ এবং ২২টি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত।

১৭ মাসেই শেখ হাসিনার ১৭ বছরের মতো ফ্যাসিবাদ দেখেছি : আসিফ মাহমুদ জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া বলেছেন, ক্ষমতায় না এসেই গত ১৭ মাসে একটি দল শেখ হাসিনার ১৭ বছরের মতোই ফ্যাসিবাদী কার্যক্রম চালিয়েছে। পাড়ার দোকান থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত তারা চাঁদাবাজিতে লিপ্ত রয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে নোয়াখালী-২ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়া মজুমদারের শাপলা কলি প্রতীকের সমর্থনে সেনবাগ উপজেলার সেবারহাট বাজারে আয়োজিত নির্বাচনি পথসভায় এসব কথা বলেন তিনি। আসিফ মাহমুদ বলেন, আমরা ১৭ বছর শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদ দেখেছি। কিন্তু ক্ষমতায় না আসতেই গত ১৭ মাসে আরেকটি দলকে ঠিক একই ধরনের ফ্যাসিবাদী কার্যক্রম চালাতে দেখেছি। তারা কীভাবে পাড়ার দোকান থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ স্তর পর্যন্ত প্রত্যেকটি পর্যায়ে চাঁদাবাজি করেছে, মানুষের হক মেরে দেশের মেহনতি মানুষকে পদে পদে নির্যাতন করেছে—তা সবাই দেখেছে। তিনি বলেন, এই দলটি যদি ক্ষমতায় যায়, তাহলে কী করতে পারে—তার নজির তারা গত ১৭ মাসেই রেখে দিয়েছে। এটি না বুঝলে বিগত ১৭ বছরের মতো আবারও কালো দিন দেশের জন্য অপেক্ষা করছে। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে এনসিপির মুখপাত্র বলেন, গত ১৭ বছরে হাজারও মায়ের বুক খালি হয়েছে। সর্বশেষ চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে চৌদ্দশ ছাত্র-জনতা জীবন দিয়েছে। মুক্তিকামী মানুষ স্বাধীনতার জন্য জীবন দিতে পিছপা হয়নি। তাই ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নির্ধারণের জন্য একটি ভোট দিতেও মানুষ পিছপা হবে না। সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারা বলে মানুষ সংস্কার বোঝে না, পেটে ভাত না থাকলে কিসের সংস্কার। কিন্তু জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদদের অধিকাংশই ছিল সমাজের খেটে খাওয়া মানুষ। পেটে ভাত না থাকলেও তারা স্বৈরাচার উৎখাতে রাজপথে নেমেছে। এসব মানুষ উন্নয়ন, অগ্রগতি, সমৃদ্ধি ও সংস্কার সবচেয়ে ভালো বোঝে। এ সময় জাতীয়তাবাদের নামে রাজনীতি করা দলগুলোর সমালোচনা করে আসিফ মাহমুদ বলেন, এবার জাতীয়তাবাদের নামে ঋণ খেলাপি ও বিদেশি নাগরিকদের লাল কার্ড দেখানো হবে। যে দলের প্রার্থীদের একটি বড় অংশ বিদেশি নাগরিক, যারা বাংলাদেশের একক নাগরিকই নন—তাদের মুখে জাতীয়তাবাদের কথা অত্যন্ত হাস্যকর। বিএনপিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার জাতীয়তাবাদী রাজনীতির ইতিহাস শুধু বইয়ে আছে, বাস্তবে তার কোনো চিহ্ন নেই। তারা ব্যাংক খেলাপি ও ঋণ খেলাপিদের মনোনয়ন দিয়েছে। ঋণ খেলাপিরা আবার ক্ষমতায় এসে জনগণের টাকা লুট করার অপেক্ষায় রয়েছে। আমরা কি ঋণ খেলাপি ও বিদেশি নাগরিকদের ভোট দিয়ে আমাদের ওপর রাজত্ব করার সুযোগ দেব? তিনি আরও বলেন, কৃষক ও শ্রমিকদের পেনশন চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়ে পাঁচ বছর ক্ষমতায় থেকেও তারা একটি প্রতিশ্রুতিও বাস্তবায়ন করেনি। এখন কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ডের কথা বললেও দেশের মানুষ জানে—তারা কোনো কথাই রাখবে না। সংস্কার ইস্যুতে আসিফ মাহমুদ বলেন, একটি দল মুখে সংস্কারের কথা বলে, আবার মাঠে ভোটের বিরোধিতা করে। তাদের এই দ্বিচারিতা ও মুনাফিকি ইতোমধ্যে বাংলাদেশের মানুষ চিহ্নিত করে ফেলেছে। নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সেনবাগেও পেশিশক্তি দিয়ে কেন্দ্র দখলের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশের মানুষ টানা তিনটি নির্বাচনে ভোট দিতে পারেনি। এবার যদি একজন নাগরিককেও তার ভোটাধিকার প্রয়োগে বাধা দেওয়া হয়, আমরা চুপ করে বসে থাকব না। যেখানেই বাধা দেওয়া হবে, সেখানেই প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। কোনো নাগরিক এবার ভোট না দিয়ে কেন্দ্র থেকে ফিরে যাবে না। উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আবুল খায়েরের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক ও এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখ্য সমন্বয়কারী তরিকুল ইসলাম, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা সাইয়েদ আহমেদ, উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা ইয়াছিন করিম, নায়েবে আমির আবদুল খালেক, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমীন, যুগ্ম সদস্য সচিব নিজাম উদ্দিন এবং প্রার্থী সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়া মজুমদারসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ

নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করতে একটি পক্ষ উঠেপড়ে লেগেছে অভিযোগ করে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আপনারা তাহাজ্জুদ পড়ে ফজরের নামাজ কেন্দ্রে গিয়ে পড়বেন। আপনারা ভোটের হিসাব কড়ায়-গণ্ডায় বুঝে নেবেন। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেলে নোয়াখালী হাতিয়া দ্বীপ সরকারি কলেজ মাঠে বিএনপি আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ কথা বলেন। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে হাতিয়া উপজেলার প্রধান সমস্যা নদীভাঙন বন্ধের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তারেক রহমান। তিনি আরও বলেন, ব্লক বাঁধের মাধ্যমে এ এলাকার সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলা হবে। তারেক রহমান বলেন, ‘আমি আপনাদের সমস্যাগুলো লিখে রাখলাম। ক্ষমতায় গেলে টেকসই বেড়িবাঁধসহ নদীভাঙন রোধের ব্যবস্থা করা হবে। আপনারা ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষকে জয়যুক্ত করুন।’ তিনি বলেন, ‘ভোটের পরে আমি আপনাদের দেখতে আসবো। তখন একসঙ্গে বসে কথা বলবো। বিএনপি জনগণের দল। আর এ দল ক্ষমতায় গেলে সবচেয়ে বেশি ক্ষমতার মালিক হবে দেশের জনগণ।’ ভোটের হিসাব কড়ায়-গণ্ডায় বুঝে নেবেন: তারেক রহমান মা-বোনদের উদ্দেশ করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘আপনারা দেশের উন্নয়নের গর্বিত অংশীদার। আমরা আপনাদের সুবিধার্থে ফ্যামিলি কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ডসহ সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করবো।’ নোয়াখালী-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. মাহবুবের রহমান শামিমকে পরিচয় করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা তাকে ভোট দিন আপনাদের উন্নয়নের দায়িত্ব আমরা নেবো ইনশাআল্লাহ।’ জনসভায় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলোর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন নোয়াখালী-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. মাহবুবের রহমান শামিম, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি কামরুজ্জামান হাফিজসহ স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের নেতারা।

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের নোয়াখালী আগমন উপলক্ষ্যে সংবাদ সম্মেলন করেছে জেলা জামায়াত। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রাত ৮টার দিকে জেলা জামায়াতের কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় নোয়াখালী জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির ও নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ইসহাক খন্দকার বলেন, আগামী ৩০ ও ৩১ জানুয়ারি ডা. শফিকুর রহমান নোয়াখালী, কুমিল্লা, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সফর করবেন এবং বিভিন্ন জনসভায় বক্তব্য দেবেন। তিনি জানান, ৩০ জানুয়ারি সকাল ৯টায় নোয়াখালী জিলা স্কুল মাঠে জনসভা শুরু হবে। ওই জনসভায় আমিরে জামায়াত বেলা ১১টা বা সাড়ে ১১টার দিকে বক্তব্য দেবেন। নোয়াখালীর জনসভা শেষে তিনি বিকেল ৩টায় লক্ষ্মীপুরে এবং পরবর্তীতে কুমিল্লার লাকসামে জনসভায় অংশ নেবেন। এছাড়া ৩১ জানুয়ারি চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন স্থানে জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। ইসহাক খন্দকার আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, নোয়াখালীর জিলা স্কুল মাঠের জনসভায় লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটবে। তিনি সর্বস্তরের জনগণকে উক্ত জনসভায় উপস্থিত থাকার জন্য আহ্বান জানান। সংবাদ সম্মেলনে জেলা জামায়াতের প্রচার সম্পাদক ডা. বোরহান উদ্দিনের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন- নোয়াখালী শহর শাখার আমির মাওলানা মো. ইউসুফ, শহর শাখার সেক্রেটারি মোহাম্মদ মায়াজ, সদর উপজেলা সেক্রেটারি মোহাম্মদ মিরাজ, ইসলামী ছাত্রশিবিরের নোয়াখালী শহর শাখার সভাপতি হাবিবুর রহমান আরমানসহ জেলা জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার নির্বাচনি জনসভায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্য শুনতে নারীদের ব্যাপক প্রস্তুতি দেখা গেছে। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেলে দ্বীপ সরকারি কলেজ মাঠে ওই সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাতে হাতিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ফজলুল হক খোকন বলেন, জনসভায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখবেন। তার বক্তব্য শুনতে উপজেলার ১১ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার থেকে বিপুলসংখ্যাক নারী অংশগ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বিকেলে জনসভাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, দ্বীপ সরকারি কলেজ মাঠে বিশাল প্যান্ডেল তৈরির কাজ চলছে। অনলাইনে যুক্ত হওয়ার বিভিন্ন সরঞ্জামাদি লাগাচ্ছেন একদল যুবক। এতে প্রায় ৫০ হাজার লোকের সমাগমের আশা আয়োজকদের। বুড়িরচর ইউনিয়নের বাসিন্দা বিবি কুলসুম বলেন, তারেক রহমান ফ্যামিলি কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ডসহ নারীদের উন্নয়নের মাধ্যমে দেশ পরিচালনার ঘোষণায় নারীরা তার কথা শোনার জন্য উদগ্রীব। হাতিয়ায় গরীব মানুষের বসবাস বেশি। তাদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড দিলে অনেক উপকার হবে। তাই তারেক রহমান কী বলবেন সেটি শোনার জন্য আমরা জনসভায় যাবো। নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি সাহেদ মেম্বার জানান, তারেক রহমানের কথা শোনার জন্য নারীদের আগ্রহ বেশি। নিঝুমদ্বীপ থেকে পাঁচ হাজার লোক অংশগ্রহণ করবে এর বেশিরভাগ নারী। এদের দুপুরে খাওয়া এবং যাতায়াতের জন্য ট্রলার ও গাড়ির ব্যবস্থা করা হয়েছে। হরনী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আক্তারুজ্জামান দোলন বলেন, হরনী ও চানন্দি ইউনিয়ন থেকে নদী পার হয়ে নারী-পুরুষ যাওয়ার জন্য স্পিডবোট, ট্রলার ও সি-ট্রাকের ব্যবস্থা করা হয়েছে। নারীদের অংশগ্রহণের কথা চিন্তা করে সন্ধ্যার আগে জনসভা শেষ করার কথা হয়েছে। উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব ফাহিম উদ্দিন বলেন, তারেক রহমানের কথা শোনার জন্য অনেক লোকের সমাগম হবে। বিশাল এ জনসমাগমকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য দুই শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক কাজ করবে। মাঠে প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য নারী-পুরুষের জন্য আলাদা পথ রাখা হয়েছে। নোয়াখালী-৬ বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে প্রার্থী হয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (চট্টগ্রাম বিভাগ) মো. মাহবুবের রহমান শামিম। জনসভায় তারেক রহমান দ্বীপের মানুষের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখবেন। তার বক্তব্য শুনতে জনসভায় নারীদের উপস্থিতি হবে লক্ষণীয়।

নোয়াখালীতে বিএনপির ৮ পরিকল্পনা নিয়ে ‘জন-জিজ্ঞাসা ও আলাপ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে নোয়াখালী জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে জেলা বিএনপির নির্বাচন সংক্রান্ত গণযোগাযোগ ও তথ্য সহায়তা উপ-কমিটি ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে জনগণ প্রশ্ন করে জানতে চান, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে তাদের ঘোষিত ফ্যামিলি, কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষাকার্ড এবং ক্রিড়া, পরিবেশ, কর্মসংস্থান ও ধর্মীয় নেতাদের সেবা বিনামূল্যে পাওয়া যাবে কি না? এছাড়া এসব কার্ড দলীয় বিবেচনায় দেওয়া হবে কি না? রাজিয়া সুলতানা নামে এক শিক্ষার্থী জানতে চান, ফ্যামিলি কার্ড পেতে কোনো নেতার পিছনে ঘুরতে হবে কি না? তাছাড়া আওয়ামী লীগের সময়ের মতো টাকা দিয়ে এসব কার্ড অর্জন করতে হবে কি না। সাংবাদিক ইকবাল হোসেন মজনু জানতে চান, বিএনপির ৮ পরিকল্পনা জনগণের মৌলিক অধিকারের অংশ। এগুলোর সুষ্ঠু বাস্তবায়ন হবে কি না? গোলাম কিবরিয়া রাহাত নামে আরেক সাংবাদিক জানতে চান, বিগত বিএনপির সরকারের সময় ঢাকায় নকল বন্ধ করা হলেও মফস্বল শহরগুলোতে এ নিয়ে জোরালো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এবার এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নজর দেওয়া হবে কি না? মাহবুবর রহমান নামে এক প্রবাসী বলেন, বিএনপির পরিকল্পনায় কর্মমুখী শিক্ষার বিষয়টি রাখায় তারেক রহমানকে ধন্যবাদ। কারণ বিদেশে শিক্ষা সনদের কোনো মূল্য নেই। সেখানে কর্মমুখী শিক্ষাই গুরুত্বপূর্ণ। জন-জিজ্ঞাসায় সব প্রশ্নের উত্তর দেন অনুষ্ঠানের অতিথি এবং আলোচকরা। এতে অতিথি ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলো, সদস্য সচিব হারুনুর রশিদ আজাদ। মাহবুব আলমগীর আলো বলেন, এবারের নির্বাচন কিংবা নির্বাচন পরবর্তী সরকার জবাবদিহিতার আওতায় থাকবে। আমাদের নেতা তারেক রহমান যে আটটি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন তা নির্বিঘ্নে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে বিএনপি বদ্ধ পরিকর। জনগণ বিএনপিকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিলে সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে দুর্নীতিমুক্তভাবে সকল কার্যক্রম পরিচালিত হবে। প্যানেল আলোচক ছিলেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর সরকার, জেলা বিএনপির সদস্য অ্যাডভোকেট রবিউল হাসান পলাশ, ডক্টর্স অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের (ড্যাব) দপ্তর সম্পাদক সহকারী সার্জন ডা. মো. নুরুল আলম লিটন, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের কাউন্সিল ডেলিগেটর ইকবাল বাহার আজাদ এবং বিএনপির তথ্য ও পরিকল্পনা সহায়তা উপ-কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট মাহমুদ হাসান শাকিল। এতে সভাপতিত্ব করেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) অধ্যাপক ড. আবদুল কাইয়ুম মাসুদ এবং সঞ্চালনা করেন নোয়াখালী সদর উপজেলা যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব মজিবুল হক রনি।

নোয়াখালী সদরে বিএনপি, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল থেকে আসা ৩৬ জন নেতাকর্মীকে সংবর্ধনা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে আন্ডারচর ইউনিয়নে এই সংবর্ধনা সভার আয়োজন করা হয়। এসময় সবাইকে ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। সংবর্ধনার আয়োজকদের দাবি, যোগদানকারীরা স্থানীয় পর্যায়ের ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিএনপি নেতাকর্মী। এর মধ্যে, আন্ডারচর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য আরিফ খান ছোটন, ১ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি মো. রাসেল, ছাত্রদল কর্মী রেজাউন, বাবুল, সোহেল অন্যতম। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, জামায়াতে ইসলামীর নোয়াখালী জেলা আমির ও নোয়াখালী-৪ আসনে দলের সংসদ সদস্য প্রার্থী ইসহাক খন্দকার। তিনি নবাগতদের গলায় মালা পরিয়ে বুকে জড়িয়ে নেন। ইসহাক খন্দকার বলেন, দেশের ক্রান্তিলগ্নে দেশপ্রেমিক জনতা ইনসাফ কায়েমের লক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামীর দিকে ধাবিত হচ্ছে। আন্ডারচর ইউনিয়নের আজকের এ গণ-যোগদান প্রমাণ করে সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন দলের কর্মীরা জামায়াতের আদর্শ ও শৃঙ্খলার প্রতি আস্থা রাখছেন। তিনি আরও বলেন, আমরা সবাইকে নিয়ে ইনসাফভিত্তিক সমাজ গড়তে চাই। যেখানে সব মানুষের অধিকার নিশ্চিত হবে। নতুন যারা আমাদের সঙ্গে যুক্ত হলেন, তাদের নিয়ে আমরা আন্ডারচর তথা নোয়াখালী-৪ আসনের মানুষের সেবায় কাজ করে যাবো। সভায় আন্ডারচর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির ডা. মো. হানিফের সভাপতিত্বে স্থানীয় জামায়াত-শিবিরসহ ১০ দলীয় জোটের নেতারা বক্তব্য রাখেন। তবে এ বিষয়ে নোয়াখালী জেলা বিএনপির দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য অ্যাডভোকেট রবিউল হাসান পলাশ বলেন, যোগদানকারীরা বিএনপি বা আমাদের দলের কোনো পর্যায়ের নেতাকর্মী নয়। বিএনপির নাম বিক্রি করে কোথায় কে যোগ দিলো তা আমাদের জানা নাই।

নোয়াখালী-১ (চাটখিল-সোনাইমুড়ী) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেছেন, চাটখিল ও সোনাইমুড়ীর মাটিতে কোনো ধরনের সন্ত্রাসবাদ, চাঁদাবাজি ও দখলবাজির ঠাঁই হবে না। যারা জনগণের জানমালের ক্ষতি করবে কিংবা সাধারণ মানুষের ওপর জুলুম করবে, তাদের সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক থাকবে না। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার হাটপুকুরিয়া ইউনিয়য়ে স্থানীয় জিয়া স্মৃতি সংসদ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ব্যারিস্টার খোকন দলীয় নেতাকর্মীদের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, রাজনীতি হবে মানুষের সেবার জন্য, ভয়ের রাজত্ব কায়েম করার জন্য নয়। আমরা এলাকায় শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর। ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যেন কোনো সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার না হয়। এর আগে দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে ব্যারিস্টার খোকন হাটপুকুরিয়া ঘাটলাবাগ ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগ, উঠান বৈঠক ও জনসভায় অংশ নেন।
২৪ জানুয়ারী, ২০২৬
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ (শনিবার)। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছোট ভাই ক্রীড়া সংগঠক কোকোর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে দলীয় ও পারিবারিকভাবে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। আজ সকাল ১১টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানিয়েছেন, আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আজ বিকেল ৪টায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়েছে। এতে তারেক রহমান উপস্থিত থাকবেন। সকাল সাড়ে ৯টায় বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভীর নেতৃত্বে দলের নেতাকর্মীরা বনানী কবরস্থানে কোকোর কবর জিয়ারত করবেন। পরে নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয়ে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে বিএনপির কেন্দ্রীয়, মহানগর এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া দুপুর ২টায় বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক আব্দুস সালাম কবর জিয়ারত করবেন। প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি আরাফাত রহমান কোকো মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেন। তার জন্ম ১৯৬৯ সালের ১২ আগস্ট। তিনি ২০০৩ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ছিলেন। এছাড়া ওল্ড ডিওএইচএস ক্লাবের চেয়ারম্যান ছিলেন। ২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় এলে ওই বছরের ৩ সেপ্টেম্বর ভোরে সেনানিবাসের বাড়ি থেকে মা খালেদা জিয়ার সঙ্গে গ্রেপ্তার হন কোকো। ২০০৮ সালের ১৮ জুলাই চিকিৎসার জন্য সপরিবারে ব্যাংকক যান তিনি। এরপর চিকিৎসা শেষে মালয়েশিয়া চলে যান। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সেখানেই সপরিবারে বাস করছিলেন। তিনি স্ত্রী শর্মিলা রহমান, দুই কন্যা জাফিয়া রহমান ও জাহিয়া রহমানকে রেখে গেছেন।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনি প্রচারণার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান আগামী ৩০ জানুয়ারি (শুক্রবার) নোয়াখালী যাচ্ছেন। সফরকালে তিনি নোয়াখালী জিলা স্কুল মাঠে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন। নির্বাচন ঘিরে জামায়াত আমিরের এই সফরকে কেন্দ্র করে নোয়াখালী জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন ইউনিটে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে এ সফর নিয়ে দেখা দিয়েছে উৎসাহ ও উদ্দীপনা। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জুলাই আন্দোলনের পর ডা. শফিকুর রহমান নোয়াখালী সফর করলেও এটি তার নির্বাচনি কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রথম বড় জনসভা। এ জনসভায় তিনি দলের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা, নির্বাচনকেন্দ্রিক কৌশল এবং সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিতে পারেন। পাশাপাশি নির্বাচনে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা, রাজনৈতিক সমঝোতা এবং বৃহত্তর ইসলামি রাজনীতির কৌশলগত অবস্থান নিয়েও দিকনির্দেশনা দেওয়ার কথা রয়েছে। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন নোয়াখালী-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ও নোয়াখালী জেলা আমির ইসহাক খন্দকার। তিনি বলেন, আমিরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমানের আগমন উপলক্ষে আগামী ৩০ জানুয়ারি সকালে নোয়াখালী জিলা স্কুল মাঠে একটি নির্বাচনি জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন।

আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত নন- এমন সব মানুষকে ১০ দলীয় জোটে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের ১০ দলীয় জোট–সমর্থিত সংসদ সদস্য প্রার্থী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ। তিনি বলেন, সাধারণ আওয়ামী লীগ কর্মীদের মধ্যে যারা কোনো ধরনের জুলুম, নির্যাতন বা অন্যায় কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না, তারাও চাইলে ১০ দলীয় জোটে আসতে পারেন। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) হাতিয়া উপজেলার ৯ নম্বর বুড়িরচর ইউনিয়নের সাগরিয়া বাজারে গণসংযোগ শেষে আয়োজিত এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। হান্নানের প্রতি আস্থা, একসঙ্গে কাজ করার ঘোষণা ১০ দলের প্রার্থীদের এ সময় আব্দুল হান্নান মাসউদ প্রবাসীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, প্রবাসীদের আর্থিক সহযোগিতার কারণেই নির্বাচনী এলাকায় ধারাবাহিকভাবে প্রচার–প্রচারণা চালানো সম্ভব হচ্ছে। তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে হাতিয়ায় প্রবাসীদের জন্য ফ্রি যাতায়াত ব্যবস্থা চালু করা হবে, ইনশাআল্লাহ। উক্ত পথসভায় উপস্থিত ছিলেন, হাতিয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাস্টার বোরহান উদ্দিন, শাহবাগ থানা জামায়াতে ইসলামীর আমির অ্যাডভোকেট শাহ্ মাহফুজুল হক, জাতীয় নাগরিক পার্টি হাতিয়ার প্রধান সমন্বয়কারী শামছল তিব্রিজসহ স্থানীয়রা।

চব্বিশের জুলাই-আগস্ট আন্দোলন চলাকালীন নারায়ণগঞ্জে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক এমপি শামীম ওসমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আমলে নিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ১৯ ও ২১ জুলাই এবং ৫ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা-সাইনবোর্ড এলাকায় ১০ জনকে হত্যা করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে মানবতাবিরোধী অপরাধের তিনটি অভিযোগ আনা হয়। এসব অভিযোগ ট্রাইব্যুনালের সামনে উপস্থাপন করেন তিনি। একইসঙ্গে অভিযোগ আমলে নেওয়ার আবেদন করা হয়। পরে অভিযোগ আমলে নেওয়ার পাশাপাশি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে ১২ আসামিকে গ্রেপ্তার আগামী ২৬ জানুয়ারি হাজিরের নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রসিকিউশন জানায়, নারায়ণগঞ্জে জুলাই-আগস্টে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের অন্যতম আসামি শামীম ওসমান ও তার ছেলে অয়ন ওসমান। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আসামিরা সবাই অস্ত্রধারী ছিলেন। এদিন সকালে ১২ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইবুনালে শুনানি করে প্রসিকিউশন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাকে তলব করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে জনসভা করা এবং কর্তব্যরত নির্বাহী হাকিমকে (ম্যাজিস্ট্রেট) হুমকি ও ‘বৃদ্ধাঙ্গুলি’ দেখানোর অভিযোগে তাকে এই তলব করা হয়। আগামী ২২ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) বেলা ১১টার মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তরে সশরীরে উপস্থিত হয়ে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। রোববার (১৮ জানুয়ারি) জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা শারমিন আক্তার জাহান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই নির্দেশ দেওয়া হয়। রিটার্নিং কর্মকর্তার পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, গত জানুয়ারি মাসের একটি নির্বাচনী সভায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের ইসলামপুরে প্রায় ৪০০-৫০০ লোকের উপস্থিতিতে একটি বৃহৎ স্টেজ নির্মাণ করে মাইক দিয়ে বক্তব্য দিচ্ছিলেন রুমিন ফারহানা। এটি রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০২৫-এর সরাসরি লঙ্ঘন। চিঠিতে আরও বলা হয়, ওই সময় মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাৎক্ষণিকভাবে সমাবেশ বন্ধের নির্দেশ দিলে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা তার সঙ্গে অত্যন্ত ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। এক পর্যায়ে তিনি ম্যাজিস্ট্রেটকে হুমকি দিয়ে বলেন, ‘আমি যদি না বলি এখান থেকে বাইরে যেতে পারবেন না, মাথায় রাইখেন। আজকে আমি আঙ্গুল তুলে বলে গেলাম, ভবিষ্যতে শুনব না।’ রিটার্নিং কর্মকর্তা চিঠিতে উল্লেখ করেন, রুমিন ফারহানা জনসমক্ষে ম্যাজিস্ট্রেটকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করেছেন এবং তার কর্মী-সমর্থকরাও মারমুখী আচরণ করেছেন। এভাবে ‘মব’ বা গণজমায়েত সৃষ্টি করে বিচারিক কাজে বাধা প্রদান এবং সরকারি কর্মকর্তাকে হুমকি দেওয়া নির্বাচনী আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এই ঘটনার ভিডিও ও খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। চিঠিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালনার স্বার্থে আগামী ২২ জানুয়ারি বেলা ১১টায় বা তার আগে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে তাকে কারণ দর্শাতে হবে। অন্যথায় তার অনুপস্থিতিতেই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উল্লেখ্য, বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়ছেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

সাংবাদিক ফরিদুর রহমান ও সাংবাদিক মাহমুদুর রহমান মনজুর পিতার ইন্তেকাল বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল জিটিভির সিনিয়র নিউজরুম এডিটর ফরিদুর রহমান ও দৈনিক সংবাদ সারাবেলার লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি মাহমুদুর রহমান মনজুর পিতা মাওলানা এ. এস. এম রুহুল আমিন (৯১) ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাহি রাজেউন)। ১০ জানুয়ারি ২০২৬ রোজ শনিবার সকাল ৭ টায় তিনি ইন্তেকাল করেন। পরে ওই দিন বাদ মাগরিব জানাজা শেষে তাঁকে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ৫নং পার্বতীনগর ইউনিয়নের সোনাপুর কাচারি বাড়ির নিজ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। তিনি বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক) -এর অবসরপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি ২০০০ সালে অবসর গ্রহণ করার পর পবিত্র হজ পালন শেষে তাঁর মরহুম পিতা মৌলভী আব্দুল গোফরানের নামে 'সোনাপুর গোফরানিয়া নূরানী মাদ্রাসা' প্রতিষ্ঠা করেন। এর আগে তিনি দীর্ঘদিন সোনাপুর মুন্সি বাড়ি জামে মসজিদের সভাপতির দায়িত্ব পালনসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি দুই পূত্র, চার মেয়ে নাতি নাতনীসহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাজনৈতিক সফরের অংশ হিসেবে আগামী ২৫ জানুয়ারি নোয়াখালীতে যাচ্ছেন। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে নোয়াখালীর নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানা যায়। এ বিষয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মো. শাহজাহান ঢাকা পোস্টকে বলেন, আগামী ২৪ ও ২৫ জানুয়ারি আমাদের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের চট্টগ্রাম বিভাগ সফরের কর্মসূচি রয়েছে। ওই সফরের অংশ হিসেবে এক দিন তিনি নোয়াখালীতে আসবেন। প্রাথমিকভাবে ২৫ জানুয়ারি তার সফরের সম্ভাবনা বেশি। তিনি জানান, এ উপলক্ষে নোয়াখালী ভুলু স্টেডিয়ামকে সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বিএনপির চেয়ারম্যানের নিরাপত্তা বাহিনী সিএসএফ মাঠ পরিদর্শন করেছে। এ সময় জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। মো. শাহজাহান আরও বলেন, তারেক রহমানের আগমনকে ঘিরে নোয়াখালীতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সার্বিক আয়োজন এগিয়ে চলছে। নেতার বক্তব্য শোনার জন্য নোয়াখালীবাসী অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির বলেন, আগামী ২২ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হবে। এর আগের রাতে তারেক রহমান সিলেটে পৌঁছাবেন। পরদিন হজরত শাহজালাল (রহ.) ও শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে প্রচার শুরু করে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠের জনসভায় বক্তব্য দেবেন। তিনি আরও বলেন, দেশে ফেরার পর এটি হবে ঢাকার বাইরে তারেক রহমানের প্রথম সফর। সিলেট থেকে তিনি কুমিল্লা, ফেনী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও চাঁদপুর হয়ে ঢাকায় ফিরবেন। যেহেতু নোয়াখালী বিএনপির ঘাটি তাই লাখো মানুষ তার বক্তব্য শোনার জন্য সমবেত হবে বলে আমরা আশাবাদী। নোয়াখালী জেলা বিএনপির সদস্য ওমর ফারুক টফি বলেন, তারেক রহমানের নোয়াখালী আগমন নেতাকর্মীদের জন্য একটি ঐতিহাসিক ও অনুপ্রেরণামূলক ঘটনা। দীর্ঘদিন পর দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সরাসরি উপস্থিতি তৃণমূল পর্যায়ে নতুন গতি ও আত্মবিশ্বাস সৃষ্টি করবে। জেলা বিএনপির সদস্য সচিব হারুন অর রশিদ বলেন, চেয়ারম্যানের আগমনকে কেন্দ্র করে মাঠপর্যায়ে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। নেতাকর্মীরা ইতোমধ্যে স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রস্তুতিতে নেমে পড়েছেন। এই মহাসমাবেশ নোয়াখালীর রাজনীতিতে নতুন অধ্যায় সূচনা করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। জনসভায় সর্বোচ্চ লোকসমাগম নিশ্চিত করার পাশাপাশি আয়োজন সফল করতে দলের সব পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ, শৃঙ্খলাপূর্ণ ও দায়িত্বশীল থাকার নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, তারেক রহমানের আগমনকে ঘিরে নেতা-কর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। ২০০৩ সালের পর এই প্রথম নোয়াখালীতে এত বড় মহাসমাবেশে তিনি বক্তব্য দেবেন। তিনি আরও বলেন, এই সফর নোয়াখালীর ছয়টি সংসদীয় আসনে ধানের শীষের প্রার্থীদের বিজয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমরা আশাবাদী। নেতার আগমন ঘিরে মাঠপর্যায়ে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হবে।

লাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম যোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার পরিকল্পনাকারীরা তার জানাজা নামাজের সামনের কাতারেই ছিল বলে মন্তব্য করেছেন সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার মুখপাত্র ফাতিমা তাসনিম জুমা। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টার দিকে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন। পোস্টে ফাতিমা তাসনিম জুমা লিখেছেন, ‘হুটহাট মাথায় এসে হিট করে, ভাইরে (হাদি) হত্যার পরিকল্পনাকারীদের কেউ কেউ হয়তো ভাইয়ের জানাজার সামনের দুই তিন কাতারেই ছিল। আমরা হয়তো বুঝি নাই, চিনি নাই, কিচ্ছু করতে পারি নাই। সকল ষড়যন্ত্র উন্মোচিত করে দাও খোদা। আমরা তোমার সাহায্য ছাড়া নিরুপায়।’ ওই পোস্টের এক কমেন্টে জুমা বলেন, ‘আগামীকাল কোর্টে শুনানি। চার্জশিট যা দিয়েছে শুধু মাসুদ আর বাপ্পি আছে হত্যার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। ঘটনা ঘটার পরের সব আছে। আগের কিছুই নাই। মাস্টারমাইন্ডদের বের করা কি পসিবল না, নাকি ইচ্ছে করেই করতে দেয় না জানি না।’ তিনি আরও বলেন, ‘এরা কারা, কী এমন শক্তি তাদের যে তাদের কখনো সামনে আনা পসিবল (অসম্ভব) না, শুনে আমাদের মেনে নিতে বলা হয়? এরা কি হাসিনার চাইতেও শক্তিশালী?’ উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার পরদিন ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা দুই সন্ত্রাসীর গুলিতে মারাত্মক আহত হন ওসমান হাদি। রিকশায় থাকা অবস্থায় তার মাথায় গুলি লাগে। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, পরে অবস্থার অবনতি হলে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠানো হলে সেখানে ১৮ ডিসেম্বর রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে মৃত্যু হয় তার। এ ঘটনায় পল্টন থানায় একটি মামলা হয়। ওই মামলার পর প্রধান আসামি শ্যুটার ফয়সালের বাবা মাকে গ্রেফতার করা হয়। তবে মূল অভিযুক্ত ফয়সালসহ তার সহযোগীকে এখনো ধরতে পারেনি পুলিশ। তারা ভারতে চলে গেছেন ধারণা করা হচ্ছিল। অবশেষে আজ পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি স্বীকার করা হয়।

প্রতিহিংসা বর্জন ও জনকল্যাণের রাজনীতি করার আহ্বান জানালেন তারেক রহমান যে কোনো মূল্যে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া চালু করার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, এক্ষেত্রে মতপার্থক্য ভুলে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। হিংসা প্রতিশোধের পরিণতি কি হতে পারে, সেটা আমরা দেখেছি চব্বিশের ৫ আগস্ট। মতপার্থক্য যাতে মতবিভেদ না হয়ে যায়, বিভেদের কারণ না হয়। সবাই মিলে কাজ করতে হবে। শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। বক্তব্যের শুরুতেই তারেক রহমান দেশের মানুষের রাজনৈতিক অধিকার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশে আর কোনো প্রতিহিংসা বা প্রতিশোধের রাজনীতি দেখতে চান না। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক, তবে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বিভেদ দূর করে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখাই সময়ের দাবি। তিনি বলেন, অতীতে বিভেদের রাজনীতি জাতিকে কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, তার অভিজ্ঞতা সবার জানা। তাই দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করাই রাজনৈতিক কর্মীদের প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত। তিনি বলেন, আমাদের সমস্যা ছিল, সমস্যা আছে। আমরা অবশ্যই ৫ আগস্টের আগের অবস্থায় ফিরে যেতে চাই না। তারেক রহমান বলেন, আমি একটি রাজনৈতিক দলের কর্মী। আগামী ২২ তারিখ থেকে আমাদের সব (নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা) নিয়ে জনগণের কাছে যাবো। ৪ কোটি পরিবারের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেশের প্রায় ৪ কোটি পরিবারের জন্য একটি যুগান্তকারী ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর প্রস্তাব দেন তারেক রহমান। এই পরিকল্পনার মূল কেন্দ্রে থাকবেন পরিবারের গৃহিণীরা। এই কার্ডের মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারের গৃহিণী ৫ থেকে ৭ বছর আর্থিক বা খাদ্য সহায়তা পাবেন বলে জানান তিনি। তারেক রহমান বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে নারীদের হাতে অর্থ থাকলে তা মূলত স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও ক্ষুদ্র বিনিয়োগে ব্যয় হয়, যা পরিবার ও স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে। তিনি আরও জানান, এই সুবিধা হবে সর্বজনীন, যাতে দলীয় পরিচয় বা শ্রেণিবিভাগের কারণে কোনো ধরনের দুর্নীতি বা বৈষম্যের সুযোগ না থাকে। স্বাস্থ্যখাতে ‘প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা’ ও নতুন কর্মসংস্থান স্বাস্থ্যখাতে আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে উন্নত বিশ্বের আদলে ‘প্রিভেনশন’ বা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার ওপর জোর দেন বিএনপির চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, জনগণকে রোগে আক্রান্ত হওয়ার আগেই সচেতন করতে প্রায় ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। এই স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ হবেন নারী। তারা ঘরে ঘরে গিয়ে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা এবং জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখবেন। এর ফলে একদিকে জনস্বাস্থ্য উন্নত হবে, অন্যদিকে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিভিন্ন গণমাধ্যম ব্যক্তিদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, এমন সমালোচনা করুন, যাতে আমরা দেশের জনগণের সমস্যা সমাধান করতে পারি।

স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান, ছাত্রদলের পদ হারিয়ে মিষ্টি বিতরণ দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ওমর ফারুক শাকিলকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। তবে বহিষ্কারের খবরে ক্ষুব্ধ না হয়ে উল্টো সাধারণ মানুষের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করে আলোচনায় এসেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন। কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে নোয়াখালী জেলা শাখার অধীন সেনবাগ উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আনোয়ার হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক সোলেমান রাজু ও ওমর ফারুক শাকিল এবং সেনবাগ পৌরসভা ছাত্রদলের সদস্য সচিব ওয়ালিদ বিন হায়দার আদনানকে সাংগঠনিক পদ থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ছাত্রদলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বহিষ্কৃতদের সঙ্গে কোনো ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এদিকে বহিষ্কারের আদেশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সেনবাগে মিষ্টি বিতরণ করেন ওমর ফারুক শাকিল। এ বিষয়ে তিনি বলেন, আমি খুশিতেই মিষ্টি বিতরণ করছি। আলহামদুলিল্লাহ। পদত্যাগের পরও বহিষ্কার-এটাই বাস্তব। একজন ওমর ফারুক শাকিল আবিষ্কার কঠিন, বহিষ্কার সহজ। তিনি আরও বলেন, প্রহসনমূলক বহিষ্কার দিয়ে বসন্তের আগমন ঠেকানো যায় না। ইনশাআল্লাহ, স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী আলহাজ্ব কাজী মোহাম্মদ মফিজুর রহমানের সঙ্গেই আছি। ১২ তারিখ তাকে নির্বাচিত করেই ঘরে ফিরব। ওমর ফারুক শাকিল দাবি করেন, বহিষ্কারের আগেই তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে ভোট দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে নিজ দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। কারণ দল এমন একজনকে মনোনয়ন দিয়েছে, যিনি বিগত স্বৈরাচারের আমলে নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন না। অথচ স্বতন্ত্র প্রার্থী তাদের ছেড়ে যাননি। মামলা ও হামলার সময় তাদের পাশে ছিলেন। তাই ঘোষণা দিয়েই দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। বহিষ্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাকে সাময়িক বহিষ্কার করায় কেন্দ্রীয় ছাত্রদলকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। আমি ভেবেছিলাম হয়তো স্থায়ী বহিষ্কার হবে। কিন্তু দল আমার ত্যাগ ও শ্রমের মূল্যায়ন করেছে। যোগ্য নেতৃত্ব প্রমাণ করেছে ত্যাগীদের অবমূল্যায়ন হয় না। ইনশাআল্লাহ, ফেরাটা হবে রাজার বেশেই। ঘটনাটি স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। হাবিবুর রহমান সুমন নামের মিষ্টি পাওয়া এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, হঠাৎ মিষ্টি পেয়ে আমরাও অবাক হয়েছি। সাধারণত বহিষ্কারের খবরে মানুষ মন খারাপ করে, কিন্তু তিনি হাসিমুখে মিষ্টি দিলেন। রাজনীতি এমনও হতে পারে-এই ঘটনাই তার উদাহরণ।

বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ–মুলাদী) আসনে আলোচিত প্রার্থী আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদের নির্বাচনী তহবিল নির্ধারিত ব্যয়ের সীমা অতিক্রম করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমর্থকদের কাছে আর্থিক সহায়তার আহ্বানের পর অল্প সময়েই উল্লেখযোগ্য অঙ্কের অনুদান জমা পড়েছে তার নামে খোলা নির্বাচনী হিসাবে। সম্প্রতি ফেসবুকে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় দেশ ও বিদেশে অবস্থানরত সমর্থকদের কাছে নির্বাচনী ব্যয় নির্বাহের জন্য সহযোগিতা চান ব্যারিস্টার ফুয়াদ। তার সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে প্রথম ২৫ ঘণ্টায় প্রায় ২২ লাখ টাকা অনুদান জমা হয়। পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাত ১টার দিক (বুধবার দিবাগত রাত) নিজের ফেসবুক পেজে অনুদান সংগ্রহের সর্বশেষ হালনাগাদ হিসাব প্রকাশ করেন তিনি। ব্যারিস্টার ফুয়াদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তার নির্বাচনী এলাকায় মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৩২ হাজার ১০১ জন। নির্বাচন কমিশনের বিধিমালা অনুসারে ভোটার প্রতি ১০ টাকা হিসাবে তার সর্বোচ্চ নির্বাচনী ব্যয়ের সীমা নির্ধারিত হয়েছে ৩৩ লাখ ২১ হাজার ১০ টাকা। তবে ৭ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত বিভিন্ন মাধ্যমে প্রাপ্ত অনুদানের পরিমাণ সেই সীমা ছাড়িয়েছে। হালনাগাদ হিসাব অনুযায়ী, বিকাশের মাধ্যমে এসেছে ১৯ লাখ ২৩ হাজার ৫৫২ টাকা, নগদের মাধ্যমে ২ লাখ ৩৫ হাজার ৫৬ টাকা এবং ব্যাংক হিসাবে জমা হয়েছে ১৮ লাখ ৭ হাজার ৯৪৮ টাকা। সব মিলিয়ে মোট অনুদানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৯ লাখ ৬৬ হাজার ৫৫৬ টাকা। ব্যারিস্টার ফুয়াদ জানান, দেশ-বিদেশের অসংখ্য মানুষ অর্থ সহায়তার পাশাপাশি ফোনকল ও বার্তার মাধ্যমে তার প্রতি ভালোবাসা, উৎসাহ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পুরো নির্বাচনকালজুড়ে অনুদানসংক্রান্ত সব হিসাব অডিট করে প্রকাশ করা হবে। পাশে থাকার জন্য সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেভাবে একটি দলের দিকে ‘ঝুঁকে’ পড়েছে, প্রশাসন যেভাবে ‘আনুগত্য’ দেখাচ্ছে, তাতে অতীতের মতো আরেকটি পাতানো নির্বাচনের শঙ্কা প্রকাশ করেছেন জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তার মতে, এ ধরনের পাতানো নির্বাচন দেশকে আবারও ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাবে। বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীতে জামায়াতে আমিরের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে এই শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেছেন, ইইউকে জানানো হয়েছে, আগামী নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ প্রত্যাশা করে জামায়াত। তবে প্রশাসন একটি দলকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। জামায়াতের এ নেতা জানালেন, তার দল ক্ষমতায় গেলে সব রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে সরকার গঠন করা হবে। এদিকে এনসিপিকে ১০ আসনে ছাড় দেওয়ার যে খবর রটেছে, বিষয়টিকে ‘কাল্পনিক’ বলছেন তিনি। জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনি আসন সমঝোতা শিগগিরই হচ্ছে বলে জানান সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।
৭ জানুয়ারী, ২০২৬
নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) সংসদীয় আসনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ ও তার বাবা আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আবদুল মালেকের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার (৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সভায় এ তথ্য জানান জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম। জানা গেছে, নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে এবারের নির্বাচনে মোট ১৪ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এর মধ্যে ১১ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হলেও তিনজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন না থাকায় রুহুল আমিন হাওলাদার মনোনীত জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী নাসিম উদ্দিন মো. বায়েজিদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী নুরুল আমিন ও শামীমা আজিমের মনোনয়নপত্রও বাতিল করা হয়েছে। বৈধ প্রার্থীরা হলেন- বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে অ্যাডভোকেট শাহ মোহাম্মদ মাহফুজুল হক, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে আব্দুল হান্নান মাসউদ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে মো. মাহবুবুর রহমান এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মোহাম্মদ ফজলুল আজিম ও তানভীর উদ্দিন রাজিব। এ ছাড়াও জাতীয় পার্টি (জাপা) থেকে এ. টি. এম. নবী উল্যাহ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) থেকে মোহাম্মদ আবদুল মোতালেব, গণঅধিকার পরিষদ থেকে মোহাম্মদ আজহার উদ্দিন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম শরীফ, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) থেকে মোহাম্মদ আবুল হোসেন এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসপি) থেকে আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আবদুল মালেক বৈধ প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। বাবা ও ছেলে দুজনই প্রার্থী হওয়ায় নির্বাচনী মাঠে সৃষ্টি হয়েছে ভিন্নমাত্রার আলোচনা। দুজনের দাখিল করা হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বাবার তুলনায় হান্নান মাসউদের সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১৮ গুণ বেশি। জেলা রিটার্নিং কার্যালয়ে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, হান্নান মাসউদের হাতে বর্তমানে নগদ রয়েছে ৩৫ লাখ টাকা। অন্যদিকে তার বাবা আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আবদুল মালেকের কাছে নগদ টাকার পরিমাণ ১ লাখ ৯৩ হাজার টাকা। সে হিসেবে ছেলের কাছে বাবার তুলনায় ১৮ গুণের বেশি নগদ অর্থ রয়েছে। হলফনামায় হান্নান মাসউদ নিজেকে একজন ব্যবসায়ী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। শিক্ষাগত যোগ্যতায় তিনি আলিম (উচ্চমাধ্যমিক সমমান) পাস। তিনি ঢাকার ‘ডিজিল্যান্ট গ্লোবাল’ নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক বলে উল্লেখ করেছেন। তার বাৎসরিক আয় দেখানো হয়েছে ৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা। এ ছাড়া তার নামে বন্ড ও ঋণপত্রে রয়েছে ১ লাখ টাকা, স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতু ৮ লাখ টাকা, ইলেকট্রনিক সামগ্রী ১ লাখ টাকা এবং আসবাবপত্র ১ লাখ টাকার। অন্যদিকে বাবা আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আবদুল মালেকের আয়ের প্রধান খাত কৃষি। হলফনামা অনুযায়ী, তার ইলেকট্রিক সামগ্রীর মূল্য ২৫ হাজার টাকা এবং আসবাবপত্রের মূল্য ৭৫ হাজার টাকা। এদিকে মনোনয়ন বৈধ ঘোষণার পর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ। তিনি বলেন, এনসিপি সর্বপ্রথম হাতিয়ায় জয়ী হবে। তবে নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে আমরা শঙ্কা প্রকাশ করছি। প্রশাসনকে অস্ত্র উদ্ধারের কথা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসলেও তারা এখনো কোনো অভিযান পরিচালনা করেনি। মিথ্যা মামলা দিয়ে আমার নেতাকর্মীদের হয়রানি করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যৌথবাহিনীর অভিযান প্রয়োজন। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে। যেহেতু হাতিয়া একটি ভিন্ন ভৌগোলিক এলাকা, তাই এখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি আরও বেশি প্রয়োজন। তারা যদি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে চায়, তাহলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। নাহলে আমরা মাঠে নামতে বাধ্য হবো। প্রশাসনের বিরুদ্ধে রাজপথে আন্দোলন করবো। জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, নোয়াখালীর ছয়টি সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ১৫ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল এবং ৪৭ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। যাচাই-বাছাইয়ে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী মনোনীত কোনো প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়নি। যাদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে বা কারও মনোনয়নপত্র গ্রহণের বিরুদ্ধে অন্য কোনো প্রার্থী সংক্ষুব্ধ হলে, নির্বাচন কমিশনে নির্ধারিত পদ্ধতিতে আপিল করতে হবে। আপিলের রায় অনুযায়ী আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবো। মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের সময় নোয়াখালী জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু তাহের ও মো. আরিফ হোসেন, জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাদেকুল ইসলামসহ সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন পর্যায়ের ম্যাজিস্ট্রেটরা উপস্থিত ছিলেন।

নোয়াখালী–৬ (হাতিয়া) সংসদীয় আসনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যতিক্রমী ও আলোচিত এক নির্বাচনী লড়াইয়ের মুখোমুখি হচ্ছে হাতিয়াবাসী। একই পরিবারের বাবা ও ছেলে এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক দল ও প্রতীকে। বাবা আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আবদুল মালেক বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (বিএসপি) হয়ে একতারা প্রতীকে এবং ছেলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ শাপলা কলি প্রতীকে নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন। এ নিয়ে এলাকায় চলছে আলোচনা, সমালোচনা ও কৌতূহলের শেষ নেই। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলামের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন বাবা ও ছেলে উভয়েই। বাবা–ছেলের একসঙ্গে নির্বাচনী মাঠে নামাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। কেউ বলছেন এটি নবীন ও প্রবীণের প্রতীকী লড়াই, আবার কেউ দেখছেন রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের নতুন এক মাত্রা অথবা ভিন্ন কৌশল। এই ধরনের প্রার্থী বিন্যাস ভোটের মাঠে শক্তির ভারসাম্যকে প্রভাবিত করতে পারে। এতে প্রকৃত রাজনৈতিক আলোচনা ও উন্নয়ন ইস্যুর বদলে শক্তির প্রদর্শনী সামনে চলে আসে, যা শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। জানা গেছে, নোয়াখালী–৬ (হাতিয়া) আসনে এবারের নির্বাচনে মোট ১৪ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এর মধ্যে জামায়াতে ইসলামী থেকে অ্যাডভোকেট শাহ মোহাম্মদ মাহফুজুল হক, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে আবদুল হান্নান মাসউদ, বিএনপি থেকে মো. মাহবুবুর রহমান, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন মোহাম্মদ ফজলুল আজিম, শামীমা আজিম, তানভীর উদ্দিন রাজিব, মুহাম্মদ নুরুল আমীন। এ ছাড়া জাতীয় পার্টি (জাপা) থেকে এ. টি. এম নবী উল্যাহ, নাছিম উদ্দিন মো. বায়েজীদ। অন্যান্য দলের মধ্যে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) মোহাম্মদ আবদুল মোতালেব, গণঅধিকার পরিষদের মোহাম্মদ আজহার উদ্দিন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম শরীফ, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) মোহাম্মদ আবুল হোসেন, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (বিএসপি) আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আবদুল মালেক। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একই পরিবার থেকে একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থীর অংশগ্রহণ কেবল রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা নয়, বরং এটি পেশিশক্তির দাপট দেখানোর একটি মাধ্যম। এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট পরিবার বা গোষ্ঠী এলাকাজুড়ে নিজেদের শক্ত অবস্থান জানান দিতে চায় এবং প্রতিপক্ষকে আগে ভাগেই চাপে রাখার কৌশল গ্রহণ করে। হাতিয়ার বাসিন্দা আবদুস সালাম বলেন , একই পরিবার থেকে দুই বা ততোধিক প্রার্থীর নির্বাচনে অংশগ্রহণ হাতিয়ার রাজনীতিতে নতুন কোনো বিষয় নয়। এটি মূলত একটি সুপরিকল্পিত কৌশল, যার মাধ্যমে ভোটকেন্দ্রভিত্তিক প্রভাব বজায় রাখা যায়। একাধিক প্রার্থী থাকলে একদিকে যেমন বেশি এজেন্ট নিয়োগ করা সম্ভব হয়, তেমনি মাঠে লোকবল ও শক্তির উপস্থিতিও বাড়ে, যা নির্বাচনের দিন বড় ভূমিকা রাখে। এ বিষয়ে আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী বাংলাদেশের আন্দোলনে আমি সক্রিয়ভাবে লড়াই করেছি। তবে ভোটের অভিজ্ঞতা আমার জন্য একেবারেই নতুন। ভোটার হওয়ার পর এখন পর্যন্ত কোনো জাতীয় বা স্থানীয় নির্বাচনে ভোট দিতে পারিনি। নোয়াখালী–৬ আসনের বাকি ১৩ জনের মধ্যে আমার বাবা একজন প্রবীণ ও অভিজ্ঞ মানুষ। তাই তার মনোনয়নপত্র দাখিল করাকে আমি উৎসাহিত করেছি। ভোটের মাঠে তার কাছ থেকেও নতুন কিছু শেখার সুযোগ হবে। আমি শাপলা কলি প্রতীকে লড়ব এবং বাবার এই নির্বাচনী লড়াইকেও আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই। তবে এ বিষয়ে আব্দুল মালেকের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, নোয়াখালীর ছয়টি আসনে ৮৮ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও জমা দিয়েছেন ৬২ জন প্রার্থী। আগামী ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত মনোনয়নপত্র বাছাই কার্যক্রম চলবে। তিনি আরও জানান, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। ২২ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হয়ে চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত। নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) আওয়ামী লীগের ফেসবুক পেজে লেখা হয়, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করছি। বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তার অবদান অপরিসীম। তার মৃত্যুতে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতিতে এবং বিএনপি নেতৃত্বের এক অপূরণীয় ক্ষতি হলো। আমি খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। আমি তার ছেলে তারেক রহমান ও পরিবারের অন্যান্য শোকাহত সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। আশা করছি, মহান আল্লাহ তার পরিবারের সদস্যদের এবং বিএনপির সবাইকে এই শোক কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করবেন।
৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫
দলীয় টিকিট না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেন স্বামী-স্ত্রী নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফজলুল আজিম দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মনোনয়নপ্রত্যাশী থাকলেও শেষ পর্যন্ত দলীয় টিকিট পাননি তিনি। দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ার পর মোহাম্মদ ফজলুল আজিম স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। একইসঙ্গে তার স্ত্রী শামীমা আজিমও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) বিকেলে তাদের পক্ষে নেতাকর্মীরা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলামের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। স্বামী–স্ত্রীর একসঙ্গে নির্বাচনী মাঠে নামাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক। জানা গেছে, নোয়াখালী–৬ (হাতিয়া) আসনে এবারের নির্বাচনে মোট ১৪ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এর মধ্যে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে অ্যাডভোকেট শাহ মোহাম্মদ মাহফুজুল হক, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে আবদুল হান্নান মাসউদ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে মো. মাহবুবুর রহমান, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন মোহাম্মদ ফজলুল আজিম, শামীমা আজিম, তানভীর উদ্দিন রাজিব, মুহাম্মদ নুরুল আমীন। এ ছাড়া, জাতীয় পার্টি (জাপা) থেকে এ. টি. এম নবী উল্যাহ, নাছিম উদ্দিন মো. বায়েজীদ। অন্যান্য দলের মধ্যে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) মোহাম্মদ আবদুল মোতালেব, গণঅধিকার পরিষদের মোহাম্মদ আজহার উদ্দিন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম শরীফ, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) মোহাম্মদ আবুল হোসেন, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (বিএসপি) আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আবদুল মালেক। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একই পরিবার থেকে একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থীর অংশগ্রহণ ভোটের হিসাবকে জটিল করে তুলতে পারে। এতে ভোট বিভাজনের পাশাপাশি দলীয় শৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক নৈতিকতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। স্থানীয় বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে এমন পদক্ষেপ দলীয় রাজনীতিতে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। তবে ফজলুল আজিমের ঘনিষ্ঠদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় জনগণের ওপর আস্থা রেখেই তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মো. রাশেদুল ইসলাম নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, নোয়াখালী–৬ (হাতিয়া) আসনে এবারের নির্বাচন বহুমাত্রিক ও আলোচিত হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর অংশগ্রহণে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেশ কঠিন হবে। এদিকে একাধিক নেতাকর্মী বলেন, হাতিয়ার রাজনীতিতে ফজলুল আজিমের উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। হাতিয়ার উন্নয়নে তার ভূমিকা রয়েছে এবং স্থানীয়ভাবে তার সমর্থন এখনও শক্ত অবস্থানে আছে। তবে তিনি শারীরিকভাবে ফিট না, তা ছাড়া তার ঋণ খেলাপি রয়েছে। সম্ভবত তার প্রার্থীতা বাতিল হতে পারে সেজন্য তিনি স্ত্রীকেও প্রার্থী করেছেন। এ বিষয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ ফজলুল আজিম বলেন, আমি ১৯৯০ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগদান করি। এরপর তিনবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার গৌরব অর্জন করেছি। এর মধ্যে দুইবার ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে এবং একবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে। দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে ধানের শীষের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলেও এবার আমাকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। তবুও আমি আশাবাদী, দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার মানুষ আমাকে শেষবারের মতো নির্বাচিত করে সংসদে পাঠাবেন। আমি সংসদে গিয়ে দ্বীপ হাতিয়ার মানুষের অধিকার, উন্নয়ন ও ন্যায্য দাবিগুলো দৃঢ়ভাবে তুলে ধরতে চাই। একইসঙ্গে এই আসনটি বিজয়ী করে দেশনায়ক তারেক রহমানের কাছে উপহার দিতে চাই। আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী তার স্ত্রী শামীমা আজিম বলেন, যারা অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেছেন এবং নানা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তারাই আজ ধানের শীষের প্রার্থী হয়ে মাঠে নেমেছেন এবং তাদের পক্ষে কাজ করছেন—এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমার স্বামী এই সংসদীয় এলাকার ধানের শীষের আন্দোলন ও রাজনীতির একজন প্রধান সংগঠক ও কান্ডারী ছিলেন। তাকে সহযোগিতা করতেই আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। আমরা আশাবাদী, হাতিয়ার মানুষ বিভ্রান্তি ও ছদ্মবেশী রাজনীতির বেড়াজাল ভেঙে ঐক্যবদ্ধ হবেন এবং নিজেদের প্রকৃত, পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতাকে চিনে নেবেন। নোয়াখালী জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, নোয়াখালীর ছয়টি আসনে ৮৮ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও জমা দিয়েছেন ৬২ জন প্রার্থী। ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত মনোনয়নপত্র বাছাই কার্যক্রম চলবে। তফসিল অনুযায়ী আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একযোগে অনুষ্ঠিত হবে। তিনি আরও বলেন, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে এবং ২২ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হয়ে চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্য ফেনী-১, বগুড়া-৭ ও দিনাজপুর-৩ আসন থেকে তার জন্য মনোনয়ন সংগ্রহ করা হয়েছিল। আজ (সোমবার) এই তিন আসনে তার পক্ষে থেকে মনোনয়ন জমা দেওয়া হবে। তবে, কোনো কারণে বিএনপির চেয়ারপারসন নির্বাচনে অংশ নিতে না পারলে তার জন্য এসব আসনে বিকল্প প্রার্থীও রাখা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিলের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আজ ২৯ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণে ইচ্ছুক প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। ফেনী-১ (ফুলগাজী-পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া) আসনে বেগম খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র জমা দেবেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু। খালেদা জিয়ার পাশাপাশি এই আসন থেকে নিজের জন্য মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন মজনু। রফিকুল আলম মজনু বলেন, আজকে ম্যাডামের মনোনয়ন জমা দেব। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার জন্য মনোনয়ন সংগ্রহ করেছি। তবে, জমা দেব কিনা তা নির্ভর করছে দলের সিদ্ধান্তের ওপর। বগুড়া-৭ (গাবতলী) আসন থেকে খালেদা জিয়ার পাশাপাশি মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোরশেদ আলম। আর দিনাজপুর-৩ (সদর) আসনে সাবেক পৌর মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম। মোরশেদ আলম বলেন, বগুড়া-৭ থেকে আজ ম্যাডামের মনোনয়ন জমা দেওয়া হবে। ম্যাডামের সাপোর্টিং হিসেবে আমাকে মনোনয়ন সংগ্রহ করতে বলা হয়েছিল। ম্যাডামের পাশাপাশি আমার মনোনয়ন জমা দিচ্ছি। জিবিকে প্রস্তুতির নির্দেশ গত ২৩ নভেম্বর থেকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন খালেদা জিয়া। বর্তমানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার অবস্থা অত্যন্ত জটিল এবং তিনি সংকটময় মুহূর্ত পার করছেন বলে জানিয়েছেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, এখন ম্যাডামের নির্বাচন করা বা না করা নিয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। যার কারণে উনার পাশাপাশি এসব আসনে বিকল্প প্রার্থী রাখা হচ্ছে। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পাশাপাশি, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ থেকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনী জোটের সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে চিঠি দিয়েছেন দলটির ১৭০ জন কেন্দ্রীয় নেতা। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) রাতে এনসিপির আহ্বায়কের কাছে পাঠানো এই চিঠিতে জোটের পক্ষে থাকা নেতারা গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত বিষয়ে নিজেদের সম্মতি দিয়েছেন। এর আগে জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠনে আপত্তি জানিয়ে ৩০ নেতার একটি চিঠিকে কেন্দ্র করে দলের অভ্যন্তরে মতবিরোধ প্রকাশ্যে আসার পর এর পাল্টা পদক্ষেপ নিলেন জোটপন্থিরা। তারা জানান, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এমন কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, জোটের পক্ষে স্বাক্ষরকারীর সংখ্যা ১৭০ ছাড়িয়ে যেতে পারে। চিঠিতে এনসিপির কেন্দ্রীয় পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতারা বলেন, আমরা দলীয় আদর্শ, লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ কৌশলগত অবস্থানকে সমুন্নত রাখার স্বার্থে এই মতামত পেশ করছি। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনর্গঠন, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারকে টেকসই করা এবং একটি জনমুখী ও দায়বদ্ধ রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য রাজনৈতিকভাবে সময়োপযোগী ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে আমরা মনে করি। নেতারা আরও উল্লেখ করেন, দলীয় ও জাতীয় স্বার্থে এবং গণতান্ত্রিক রূপান্তরের বৃহত্তর লক্ষ্যকে সামনে রেখে এনসিপি যদি কোনো রাজনৈতিক দল বা জোটের সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতা কিংবা জোট গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, তবে সে বিষয়ে তাদের পূর্ণ সমর্থন ও সম্মতি রয়েছে। তারা স্পষ্ট করেন যে, নির্বাহী কাউন্সিলের সুপারিশের আলোকে আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব কর্তৃক গৃহীত যে কোনো জোট বা নির্বাচনী সমঝোতা সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের প্রতি তাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে।

এনসিপি থেকে পদত্যাগ করেছেন তাসনিম জারা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা। একইসঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তিনি (তাসনিম জারা) পদত্যাগ করেছেন। তাসনিম জারা নিজেও ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে বিষয়টি জানিয়েছেন। এর আগে, এদিন সন্ধ্যায় ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে তাসনিম জারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়ার ঘোষণা দেন। পোস্টে তাসনিম জারা লেখেন, ‘প্রিয় খিলগাঁও, সবুজবাগ ও মুগদাবাসী, আমি আপনাদের ঘরের মেয়ে। খিলগাঁওয়েই আমার জন্ম ও বেড়ে ওঠা। আমার স্বপ্ন ছিল একটি রাজনৈতিক দলের প্ল্যাটফর্ম থেকে সংসদে গিয়ে আমার এলাকার মানুষের ও দেশের সেবা করা। তবে বাস্তবিক প্রেক্ষাপটের কারণে আমি কোনো নির্দিষ্ট দল বা জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি আপনাদের এবং দেশের মানুষকে ওয়াদা করেছিলাম যে আপনাদের জন্য ও নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ার জন্য আমি লড়ব। পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, আমি আমার সেই ওয়াদা রক্ষা করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তাই এই নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে ঢাকা-৯ থেকে অংশগ্রহণ করব। একটা দলের প্রার্থী হলে সেই দলের স্থানীয় অফিস থাকে, সুসংগঠিত কর্মী বাহিনী থাকে। সরকার ও প্রশাসনের সাথে নিরাপত্তা বা অন্যান্য বিষয়ে আপত্তি ও শঙ্কা নিয়ে কথা বলার সুযোগ থাকে। তবে আমি যেহেতু কোনো দলের সাথে থাকছি না, তাই আমার সে সব কিছুই থাকবে না। আমার একমাত্র ভরসা আপনারা। আপনাদের মেয়ে হিসেবে আমার সততা, নিষ্ঠা, এবং নতুন রাজনীতি করার অদম্য ইচ্ছাশক্তির প্রেক্ষিতে আপনারা যদি স্নেহ ও সমর্থন দেন, তবেই আমি আপনাদের সেবা করার সুযোগ পাব। দুইটি বিশেষ বিষয়: এক. নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাঁড়াতে আইনি বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী আমাদের ঢাকা-৯ আসনের ৪৬৯৩ জন ভোটারের সমর্থনযুক্ত স্বাক্ষর একটি নির্দিষ্ট ফর্মে প্রয়োজন। আগামীকাল এই স্বাক্ষর সংগ্রহের কাজ শুরু করব। মাত্র এক দিনে এত মানুষের স্বাক্ষর গোছানো প্রায় অসম্ভব একটি কাজ। আপনাদের স্বতঃস্ফূর্ত সাহায্য ছাড়া এটা করতে পারব না। এই কাজে যারা আগামীকাল বসার জায়গা দিয়ে বা স্বেচ্ছাসেবক হিসাবে সাহায্য করতে চান, তারা অনুগ্রহ করে এই গ্রুপে যুক্ত হন। আপনাদেরকে নির্দিষ্ট স্থান ও লোকেশন জানিয়ে দেওয়া হবে: https://www.facebook.com/share/g/1DCkLvMvRX/ দুই. কিছুদিন আগে নির্বাচনী ফান্ডরেইজিংয়ের সময় আপনারা অনেকে ডোনেট করেছেন। আমার এই পরিবর্তিত সিদ্ধান্তের কারণে (স্বতন্ত্র হিসেবে লড়াই করা) যারা ডোনেট করা অর্থ ফেরত পেতে চান, তাদের প্রতি আমার শ্রদ্ধা। যারা বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠিয়েছেন তারা অর্থ ফেরত পেতে নিচে দেওয়া এই ফর্মটি পূরণ করুন: https://forms.gle/NKTkkNVZvUvyrsGYA আপনাদের ট্রানজেকশন আইডি ও ডিটেইলস ভেরিফাই করার পরে অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। আর যারা ব্যাংকের মাধ্যমে পাঠিয়েছিলেন, তাদেরকে শীঘ্রই জানাব কী প্রক্রিয়ায় আপনাদের অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। আপনাদেরই মেয়ে, তাসনিম জারা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জোট বা আসন সমঝোতা করার বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়েছে। আগামী রোববার কিংবা সোমবারের মধ্যে জোট ঘোষণা করা হবে বলে এনসিপির একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) রাতে দলটির একাধিক নেতা বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এনসিপির একাধিক সূত্র জানান, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামাতের সঙ্গে জোটবদ্ধ ভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছে এনসিপি। এতে দলের এক তৃতীয়াংশের আপত্তি থাকা সত্ত্বেও সমঝোতার বিষটি চূড়ান্ত করা হয়েছে। তবে সমঝোতার বিষয়ে দেড় শতাধিক নেতা সম্মতি দিয়েছে বলেও সূত্র জানান। জামাতের সঙ্গে জোট বা আসন সমঝোতার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব আলাউদ্দিন মোহাম্মদ ঢাকা পোস্টকে বলেন, আশা করি কাল-পরশুর মধ্যে হয়ে যাবে। ৩৫ থেকে ৪০টি আসন সমঝোতা হতে পারে। তিনি আরো জানান, আপত্তি তো জানাতেই পারে। সব সিদ্ধান্ত সবাই মানবে নাকি? এদিকে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রাজনৈতিক জোট বা আসন সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির ৩০ জন সদস্য। এদিকে এনসিপি থেকে পদত্যাগ করেছেন দল সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ফিঙ্গারপ্রিন্ট দেওয়ার পর ৭ থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এনআইডি পাবেন বলে জানিয়েছেন জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক এস এম হুমায়ুন কবীর। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নির্বাচন কমিশনে সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে জানান তিনি। হুমায়ুন কবীর বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ফিঙ্গারপ্রিন্ট দেওয়ার পর সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টা এবং সর্বনিম্ন ৭-৮ ঘণ্টার মধ্যে এনআইডি পাবেন। তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন তাদের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। যে রুমে বসে তারেক রহমান বায়োমেট্রিক দেবেন সেটাও প্রস্তুত করেছে ইসি। এদিকে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পাশাপাশি জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করবেন আজ। তারেক রহমানের সঙ্গে মেয়ে জাইমা রহমানও এনআইডির জন্য আবেদন করবেন। এর আগে, এদিন বেলা সাড়ে ১১টায় তারেক রহমান ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদির কবর জিয়ারত করেন।
২৭ ডিসেম্বর, ২০২৫
শহীদ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করতে তার সমাধিস্থলে পৌঁছেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ উপলক্ষ্যে শাহবাগে অবস্থান নিয়েছেন ছাত্র দলের বিভিন্ন শাখার নেতৃবৃন্দ। স্লোগানে স্লোগানে উজ্জীবিত নেতাকমীরা। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) বেলা ১১টায় শাহবাগে এমন চিত্র দেখা যায়। জানা গেছে, এসময় শহীদ ওসমান হাদির কবর জিয়ারতের পাশাপাশি তারেক রহমান জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরও জিয়ারত করবেন। তারেক রহমানের সঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসসহ শীর্ষ নেতারা উপস্থিত রয়েছেন । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রদল নেতা সোহেল রহমান বলেন, আমাদের নেতা আজকে শহীদ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করতে আসছেন। আমাদের ক্যাম্পাসে নেতা আসছেন। আমরা নেতাকে স্বাগত জানাবো। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগ নেতা ইসরাফিল ইসলাম বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শহীদ ওসমান হাদীর কবর জিয়ারতে আসছেন, এটি আমাদের জন্য গভীর আবেগ ও গর্বের বিষয়। শহীদ হাদী শুধু একটি নাম নয়, তিনি গণতন্ত্র ও ছাত্ররাজনীতির আত্মত্যাগের প্রতীক। তারেক রহমানের এই কবর জিয়ারত শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ধারাবাহিকতারই প্রকাশ। এদিকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শহীদ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত উপলক্ষ্যে শাহবাগ মোড় ছেড়ে দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) ইনকিলাব মঞ্চের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বার্তায় বলা হয়, ‘আজ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের শহীদ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত উপলক্ষ্যে ইনকিলাব মঞ্চ শাহবাগ মোড় থেকে ডানদিকে আজিজ সুপারমার্কেটের সামনে অবস্থান নিয়েছে। ঠিক দুপুর ১২টায় পুনরায় শাহবাগ মোড়ে শহীদ হাদি চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে। বিচার আদায়ের দাবিতে সারা দেশের জনতাকে শহীদ হাদি চত্বরে উপস্থিত হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।’

নোয়াখালী থেকে ঢাকায় যাবেন বিএনপির লক্ষাধিক নেতাকর্মী দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছরের নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে আগামী ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার এই ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে নোয়াখালী জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। ইতোমধ্যে নোয়াখালী থেকে প্রায় ৩০০টি বাস ও ২০০টি মাইক্রোবাসে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ঢাকায় নেওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) দুপুরে ঢাকা পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন নোয়াখালী জেলা বিএনপির দপ্তরের দায়িত্বে থাকা অ্যাডভোকেট রবিউল হাসান পলাশ। জানা গেছে, আগামী ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে জেলার শীর্ষস্থানীয় নেতারা কয়েক দিন ধরে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন। নোয়াখালীর ছয়টি সংসদীয় আসনের জন্য ৫০টি করে বাস বরাদ্দ দিয়ে মোট ৩০০টি বাস প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ ছাড়া ট্রেনে এবং ব্যক্তিগতভাবেও নেতাকর্মীরা ঢাকায় যাবেন বলে জানা গেছে। পাশাপাশি নেতাকর্মীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতে আলাদা আলাদা সমন্বয় টিম গঠন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বানও জানানো হয়েছে। নোয়াখালী জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আজগর উদ্দিন দুখু বলেন, তারেক রহমান শুধু একজন নেতা নন, তিনি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রতীক। তার আগমন উপলক্ষে নোয়াখালীর নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। আমরা শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে ঢাকায় যাব। জেলা বিএনপির দপ্তরের দায়িত্বে থাকা অ্যাডভোকেট রবিউল হাসান পলাশ বলেন, তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে নোয়াখালী জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা গত কয়েক দিন ধরে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন। জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের জন্য আলাদাভাবে পরিবহন ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিটি আসন থেকে ৫০টি করে বাস বরাদ্দ দিয়ে মোট ৩০০টি বাস প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বেগমগঞ্জ পৌরসভা বিএনপির সভাপতি তুহিন বলেন, তারেক রহমানের দেশে ফেরা দেশের রাজনীতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। আমাদের নেতা বরকত উল্যাহ বুলুর নেতৃত্বে বেগমগঞ্জ উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপির পক্ষ থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ২৪ ডিসেম্বর ঢাকায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন। নোয়াখালী জেলা বিএনপির সদস্য সচিব হারুনুর রশিদ আজাদ বলেন, এটি শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, এটি গণতন্ত্রকামী মানুষের আবেগের বহিঃপ্রকাশ। নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা, যাতায়াত ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছি। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী সবকিছু সম্পন্ন করা হচ্ছে। নোয়াখালী জেলা বিএনপি ঐক্যবদ্ধভাবে এই কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। ৪ (সদর-সুবর্ণচর) আসনের ধানের শীষের প্রার্থী মো. শাহজাহান ঢাকা পোস্টকে বলেন, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা হবে। নোয়াখালীর মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই কর্মসূচিতে অংশ নেবে। দলীয়ভাবে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তবে অনেকেই আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতির অপেক্ষা না করে ইতোমধ্যে নিজ উদ্যোগে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। মানুষের অন্তর থেকে ভালোবাসা ও আবেগের জায়গা থেকে হাজার হাজার মানুষ প্রিয় নেতা, গণতন্ত্রের পথিকৃৎ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সন্তান তারেক রহমানকে একনজর দেখতে এবং তার বক্তব্য শোনার জন্য সমবেত হতে শুরু করেছেন। তিনি আরও বলেন, দেখা যাচ্ছে দলীয় প্রস্তুতির চেয়েও সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত প্রস্তুতি অনেক বেশি। কোনো নেতার প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে এমন স্বতঃস্ফূর্ত প্রস্তুতি বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে একটি স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে বলেই আমি মনে করি। ঢাকায় অবস্থানরত নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা তো থাকবেনই, পাশাপাশি নোয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ ঢাকায় যোগ দেবেন। সব মিলিয়ে রাজধানীতে মানুষের ঢল নামবে। এ সময় একটি বিষয় বিশেষভাবে ভাবনার এত মানুষের আগমনে খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের চাহিদা বাড়বে। আমরা আশা করি, খাবার ও অন্যান্য পণ্যের ব্যবসার সঙ্গে জড়িতরা বিষয়টি বিবেচনায় রেখে দাম সহনীয় রাখবেন

নির্বাচনী ব্যয় মেটাতে ভোটারদের কাছে অর্থ সহায়তা চাওয়ার মাত্র সাত ঘণ্টার মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা ১২ লাখ টাকার বেশি অনুদান পেয়েছেন। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) ভোরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে তিনি এই তথ্য জানান। ডা. তাসনিম জারা লিখেছেন, এতটা অভূতপূর্বভাবে আপনারা পাশে দাঁড়াবেন, তা সত্যিই আমাদের কল্পনার বাইরে ছিল। আপনাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। তিনি জানান, আমাদের মোট লক্ষ্যমাত্রা ৪৬ লাখ ৯৩ হাজার ৫৮০ টাকা। আর ৩৪ লাখ টাকা সংগ্রহ সম্পন্ন হলেই আমরা ফান্ডরেইজিং বন্ধ করে দেব। তিনি আরও বলেন, আমরা অবগত আছি যে, রাত ২টার পর থেকে নির্ধারিত লিমিট অতিক্রম করার কারণে বিকাশে আর টাকা পাঠানো যাচ্ছে না। আপাতত ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ডোনেশন গ্রহণ করা যাচ্ছে। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) রাতে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসন থেকে লড়তে নির্বাচনী ব্যয় মেটাতে ভোটার-সমর্থক, শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে আর্থিক সহায়তা চেয়ে ফেসবুকে একটি ভিডিও বার্তা শেয়ার করেন ডা. তাসনিম জারা।
২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আমজনতার দলকে নিবন্ধন দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ‘প্রজাপতি’ প্রতীক দেওয়া হয়েছে দলটিকে। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) ইসির জনসংযোগ পরিচালক রুহুল আমিন মল্লিক এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে, নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত নিবন্ধন সনদ দলটির সাধারণ সম্পাদক তারেক রহমানকে হস্তান্তর করে ইসি। গত ৪ নভেম্বর রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন না পেয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ফটকের সামনে অনশনে বসেছিলেন তারেক। প্রায় ১৩৪ ঘণ্টা অনশন করেন তিনি। পরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের অনুরোধে ৯ নভেম্বর অনশনের ইতি টানেন তিনি।
২২ ডিসেম্বর, ২০২৫
নোয়াখালীর হাতিয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের প্রার্থী আব্দুল হান্নান মাসউদকে ফেসবুকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার চরঈশ্বর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের নন্দরোড বাজার থেকে তাকে আটক করা হয়। আটক যুবকের নাম ইসরাত রায়হান অমি (২৭)। তিনি হাতিয়া উপজেলার চরঈশ্বর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হালিম আজাদের ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল হান্নান মাসউদকে ফেসবুকে প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে হাতিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। হান্নান মাসউদের চাচা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির হাতিয়া উপজেলা সমন্বয় কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী শামছল তিব্রিজ এই জিডিটি করেন। জিডিতে মোট সাতজনের নাম উল্লেখ করে বলা হয়, বিবাদীরা বিভিন্ন সময় নানা কৌশলে আব্দুল হান্নান মাসউদ ও তার সহযোগীদের হত্যার হুমকি দিয়ে আসছে। এতে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয় যে, বিবাদীরা যেকোনো সময় বড় ধরনের ক্ষতিসাধন করতে পারে। এ ঘটনায় গত শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় হাতিয়া থানার প্রধান ফটকের সামনে বিক্ষুব্ধ জনতা সমবেত হয়ে হুমকিদাতাদের গ্রেপ্তারে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেয়। জিডির তথ্য অনুযায়ী, ‘ইসরাত রায়হান ওমি’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে এনসিপির এক কর্মীর মেসেঞ্জারে বার্তা পাঠিয়ে আব্দুল হান্নান মাসউদ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। মেসেঞ্জারের ওই স্ক্রিনশটে দেখা যায়, অমি লিখেছেন, ‘আবদুল হালিম আজাদকে নাকি গ্রেপ্তার করার চেষ্টা করছে কতিপয় নেতা। হান্নান বল আর তানভির বল যেই নেতাই হোক, খোদার কসম করে বললাম, উত্তর অঞ্চলে চলাচল হারাম হয়ে যাবে। আমাদের নেতাকর্মীরা ডাইরেক্ট গিলে খেয়ে ফেলবে। এখনো ধৈর্য ধরে আছি। তোর নেতাকে এটা কপি করে পাঠাইছ।’ এ বিষয়ে হান্নান মাসউদের চাচা শামছল তিব্রিজ বলেন, ‘আমরা সাতজনকে উল্লেখ করে সাধারণ ডায়েরি করেছি। ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছিলাম, আশা করি পুলিশ সবাইকে গ্রেপ্তার করবে। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।’ নিজের প্রতিক্রিয়ায় আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেন, ‘হত্যার হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো ন্যাক্কারজনক অপরাধ কোনো অবস্থাতেই মেনে নেওয়া যায় না। এ ধরনের কর্মকাণ্ড আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করার সুস্পষ্ট অপচেষ্টা এবং গণতান্ত্রিক চেতনার ওপর সরাসরি আঘাত। জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় না আনলে এ ধরনের অপরাধপ্রবণতা আরও বাড়বে।’ হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অভিযুক্ত ইসরাত রায়হান অমিকে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভূমিহীনদের পক্ষে কথা বলায় নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থী আব্দুল হান্নান মাসউদের তিন সমর্থককে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সকালে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম। এর আগে বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) বিকেলে হাতিয়া থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলায় আটজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। গুরুতর আহত মো. হাছান উদ্দিন নিজেই বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, মোটরসাইকেলে যাওয়ার পথে আসামিরা লাঠি, লোহার রড ও বটি-দাসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের গতিরোধ করে। পরে অতর্কিতভাবে প্রাণে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালানো হয়। এতে মো. হাছান উদ্দিন গুরুতর জখম হন। এ সময় হামলাকারীরা নগদ এক লাখ ৩৭ হাজার ২০০ টাকা লুটসহ মোট এক লাখ ৮৭ হাজার ২০০ টাকার ক্ষতিসাধন করে। জানা গেছে, মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার চরকিং ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের মধ্যম শুল্লকিয়া গ্রামের কিল্লার বাজার এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন- মধ্যম শুল্লকিয়া গ্রামের মো. ওমর ফারুকের ছেলে মো. হাছান উদ্দিন, মো. সালাউদ্দিনের ছেলে এমদাদ হোসেন এবং এমরান হোসেনের ছেলে রাজিব উদ্দিন। তারা সবাই জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এবং নিয়মিত শাপলা কলি প্রতীকের পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন। স্থানীয় সূত্র জানায়, হাতিয়ার নতুন জেগে ওঠা চর জাগলার ভূমি বন্দোবস্তকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। অভিযোগ রয়েছে, অতীতে ভূমিদস্যুদের কাছ থেকে নতুন চর প্রতি ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা দিয়ে কিনতে হতো। এ বিষয়ে এনসিপির প্রার্থী আব্দুল হান্নান মাসউদ ভূমিহীনদের উদ্দেশে স্পষ্টভাবে বলেন, সরকারি বন্দোবস্ত ছাড়া কোনোভাবেই জমির জন্য টাকা দেওয়া যাবে না। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভূমিহীনদের পক্ষে কথা বলার কারণেই মো. হাছান উদ্দিনের ওপর হামলা চালানো হয়। শামসুদ্দিনের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি দা দিয়ে তার পিঠ ও বুকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে এবং ডান হাত ভেঙে দেয়। এ সময় এমদাদ হোসেনকেও কুপিয়ে জখম করা হয়। তাদের রক্ষা করতে গেলে রাজিব উদ্দিন আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। গুরুতর আহত মো. হাছান উদ্দিন , ভূমিহীনদের পক্ষে কথা বলায় আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে দার কোপ রয়েছে। যারা হামলা করেছে তারা আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিল। ৫ আগস্টের পর তারা বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছে। হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম বলেন, এ ঘটনায় একটি মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।

হান্নান মাসউদের ৩ সমর্থককে কুপিয়ে জখম নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থী আব্দুল হান্নান মাসউদের তিন সমর্থককে কুপিয়ে জখমের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) রাতে আহতদের হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার চরকিং ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের মধ্যম শুল্লকিয়া গ্রামের কিল্লার বাজার এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন- মধ্যম শুল্লকিয়া গ্রামের মো. ওমর ফারুকের ছেলে মো. হাছান উদ্দিন, মো. সালাউদ্দিনের ছেলে এমদাদ হোসেন এবং এমরান হোসেনের ছেলে রাজিব উদ্দিন। তারা সবাই জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এবং নিয়মিত শাপলা কলি প্রতীকের পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাতিয়ার নতুন জেগে ওঠা চর জাগলার ভূমি বন্দোবস্তকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। অতীতে ভূমিদস্যুদের কাছ থেকে নতুন চর ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকার বিনিময়ে কিনে নিতে হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে এনসিপির প্রার্থী আব্দুল হান্নান মাসউদ ভূমিহীনদের জলদস্যুদের কাছ থেকে কোনো টাকা দিয়ে জমি না কেনার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সরকারি বন্দোবস্ত হলে ভূমিহীনদের কোনো টাকা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভূমিহীনদের পক্ষে কথা বলার কারণে মো. হাছান উদ্দিনের ওপর হামলা চালানো হয়। শামসুদ্দিনের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি তাকে দা দিয়ে পিঠ ও বুকে কুপিয়ে জখম করে এবং ডান হাত ভেঙে দেয়। এ সময় এমদাদ হোসেনকেও কুপিয়ে জখম করা হয়। তাদের রক্ষা করতে গেলে রাজিব উদ্দিনও আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। গুরুতর আহত মো. হাছান উদ্দিন বলেন , ভূমিহীনদের পক্ষে কথা বলায় আব্দুল মান্নান, সুমন উদ্দিন, মোসলেহ উদ্দিন, আলাউদ্দিন, আবদুল হক ধনু, সাকিল, সিরাজ, শামসুদ্দিন ও মহিউদ্দিন আমাদের ওপর হামলা চালায়। আমাদের শরীরের বিভিন্নস্থানে দার কোপ রয়েছে। তারা অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল, ৫ আগস্টের পর তারা বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হয় এবং বর্তমানে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর অনুসারী। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। অভিযোগ অস্বীকার করে বাজারের ব্যবসায়ী মহিউদ্দিন ঢাকা পোস্টকে বলেন, ভূমি নিয়ে বিরোধের জেরে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। আমি এর সঙ্গে জড়িত নই। আরেক অভিযুক্ত ও চরকিং ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক শামসুদ্দিন বলেন, আমাদের বাড়িতে এসে প্রথমে এনসিপির লোকজন হামলা চালায়। তাদের কে বা কারা হামলা করেছে, তা নিশ্চিতভাবে বলতে পারছি না। তবে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেন, এ ধরনের হামলা গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার ওপর সরাসরি আঘাত। রাজনৈতিক মতভিন্নতা থাকতে পারে, কিন্তু সন্ত্রাস ও সহিংসতার কোনো স্থান নেই। হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি। বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাহবুবের রহমান শামীমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং আহতদের সঙ্গে হাসপাতালে কথা বলেছে। এ ঘটনায় একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নোয়াখালীর বিভিন্ন উপজেলায় অভিযান চালিয়ে গত দুদিনে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ১৩ নেতাকর্মিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) বিকেলে ১৩জন আসামিকে নোয়াখালী চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়। পরে বিচারক তাদের কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেয়। এর আগে, সোমবার সকাল থেকে মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেফতাররা হলেন, সেনবাগের কাদরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি গিয়াস উদ্দিন টিটু (৫৫), নোয়াখালী পৌরসভা যুবলীগের সক্রিয় সদস্য মিজানুর রহমান (৩৫), সুবর্ণচরের চর আমানউল্লা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নাজির উল্লাহ ওরফে নাসির (৫০), চরজুবলী ইউনিয়নের ১নম্বর ওয়ার্ডের যুবলীগের সক্রিয় কর্মি মো.হাবিবুল্লাহ মাসুদ (৩৭), কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি নজরুল ইমলাম (৪৫) ও রামপুর ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি সদস্য আলী মাষ্টার (৪০), কবিরহাট উপজেলার ঘোষবাগ ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল উদ্দিন (৩৯), সুন্দলপুর ইউনিয়নের ৬নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাইফুল ইসলাম (২৮), হাতিয়া পৌরসভা ৮নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি সালাউদ্দিন (৪৮) সোনাইমুড়ী পূর্বপড়ার যুবলীগের কর্মি মো.মানিক (৩০), মো.মাহফুজ (৩৩) ও বেগমগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের ২জন সমর্থক। এদের মধ্যে মঙ্গলবার রাতে মাইজদী পুরাতন কলেজ এলাকা থেকে ১ জন, বেগমগঞ্জে ২ জন গ্রেপ্তার করা হয়। এ ছাড়া সোমবার দিবাগত রাতে কবিরহাট থেকে ২ জন, চরজব্বর থেকে ২জন, হাতিয়া থেকে ১জন, সোনাইমুড়ী থেকে ২জন ও সেনবাগ থেকে ১জন, কোম্পানীগঞ্জ থেকে ২জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নুরুল হাকিম বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিচারিক আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এ বারী বলেন, মঙ্গলবার রাতে ২জনকে থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা আওয়ামী লীগের সক্রিয় সমর্থক।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলা শাখার আহ্বায়ক মো. সানা উল্লাহর সাময়িক বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ খবরে তার অনুসারী ও নেতাকর্মীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) ভোরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক (সহ-সভাপতি পদমর্যাদায়) মো. জাহাঙ্গীর আলম। এর আগে রোববার (১৪ ডিসেম্বর) রাতে তার স্বাক্ষরিত এক পত্রের মাধ্যমে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের বিষয়টি জানানো হয়। ওই চিঠিতে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এ সিদ্ধান্তের অনুমোদন দেন। অনুমোদনপত্রে বলা হয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নোয়াখালী জেলা শাখার অধীনস্থ সেনবাগ উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোহাম্মদ সানা উল্লাহর সাংগঠনিক পদের সাময়িক বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হলো। এর ফলে তার সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনায় আর কোনো বিধিনিষেধ থাকছে না। জানা গেছে, গত ২৬ জুন (বৃহস্পতিবার) সকালে সেনবাগ উপজেলার সুলতান মাহমুদ ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষা শুরুর আগে দলবল নিয়ে সরাসরি পরীক্ষাকেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশের অভিযোগে সেনবাগ উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোহাম্মদ সানা উল্লাহকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়। পরদিন শুক্রবার (২৭ জুন) বিকেলে সেনবাগ বাজারে উপজেলা ছাত্রদলের ব্যানারে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা দাবি করেন, সানা উল্লাহ দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং দলের প্রতি তার আনুগত্য প্রশ্নাতীত। পরীক্ষার দিন পরীক্ষাকেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ কোনো পরিকল্পিত কাজ ছিল না, এটি ছিল একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল বোঝাবুঝির ফল। তারা বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষে নিষ্পত্তির দাবি জানান এবং দ্রুত বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের আহ্বান জানান। মিছিলে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের ছাত্রদলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়ায় সেনবাগ উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোহাম্মদ সানা উল্লাহ বলেন, আমার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, আগামী দিনের রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমান এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আমি ধৈর্য ধারণ করেছি এবং দলের সিদ্ধান্তের ওপর আমার পূর্ণ আস্থা ছিল। আলহামদুলিল্লাহ, অবশেষে দল বিষয়টি বুঝতে পেরেছে। আমি আমার সকল নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাজ করে যাব, ইনশাআল্লাহ। বিষয়টি নিশ্চিত করে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির বলেন, সংগঠনের শৃঙ্খলা ও নীতিমালা রক্ষার প্রশ্নে ছাত্রদল সবসময় আপসহীন। তবে প্রাপ্ত তথ্য, সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে আমরা দেখেছি- এটি কোনো পরিকল্পিত বা সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ড ছিল না, বরং একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল বোঝাবুঝির ফল। কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাই মোহাম্মদ সানা উল্লাহর সাময়িক বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। আমরা আশা করি, তিনি ভবিষ্যতে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে ছাত্রদলের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে শক্তিশালী করতে কাজ করবেন।

২৫ ডিসেম্বর যুক্তরাজ্যের লন্ডন থেকে তারেক রহমান দেশে ফিরবেন বলে জানিয়েছিলেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার আগে মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) লন্ডনে এক আলোচনা অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। সম্ভবত এটি হতে যাচ্ছে তারেক রহমানের দেশে ফেরার আগে লন্ডনে সবশেষ জনসভা। জানা গেছে, বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে মঙ্গলবার পূর্ব লন্ডনের সিটি প্যাভিলিয়ন হলে অনুষ্ঠিত হবে এই জনসভা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন তারেক রহমান। যুক্তরাজ্য বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খসরুজ্জামান খসরু বলেন, সবাই অপেক্ষা করছে দেশে ফেরার আগে লন্ডনে তারেক রহমানের সবশেষ জনসভায় অংশ নিতে। এই অনুষ্ঠানকে ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালিক। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করবেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও যুক্তরাজ্য বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কয়ছর এম আহমেদ। ২০০৭ সালে এক-এগারোর পটপরিবর্তনের পর গ্রেফতার হন তারেক রহমান। ২০০৮ সালে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে চিকিৎসার জন্য সপরিবারে যুক্তরাজ্যে যান। এর পর থেকে যুক্তরাজ্যেই আছেন তিনি।
১৫ ডিসেম্বর, ২০২৫
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থী আব্দুল হান্নান মাসউদ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন। রোববার (১৪ ডিসেম্বর) বিকেলে হাতিয়া পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পুরাতন বাজার এলাকায় জনসংযোগ চালানোর সময় পেছন দিক থেকে একটি অটোরিকশা এসে তার বাম পায়ের ওপর উঠে যায়। এ ঘটনায় তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ব্যথায় আক্রান্ত হন। পরে কিছুটা স্বাভাবিক হলেও অতিরিক্ত জনসংযোগ চালিয়ে যাওয়ার কারণে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। বর্তমানে তিনি বিশ্রামে রয়েছেন বলে জানা গেছে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হাতিয়া উপজেলা যুবশক্তির আহ্বায়ক মো. ইউসুফ রেজা বলেন, পেছন দিক থেকে একটি অটোরিকশা এসে হান্নান মাসউদের বাম পায়ের ওপর উঠে যায়। প্রাথমিকভাবে অসুস্থ হলেও তিনি তখন প্রচারণা চালিয়ে যান। পরে জনসংযোগের কারণে তিনি আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং বর্তমানে বিশ্রামে রয়েছেন। আরেক প্রত্যক্ষদর্শী মো. হাফিজুর রহমান বলেন, গণসংযোগ পরিচালনার সময় হান্নান মাসউদ ভাই দুর্ঘটনার শিকার হন। এ সময় একটি অটোরিকশা দ্রুতগতিতে চালাচ্ছিলেন অল্প বয়সী এক চালক। সাধারণ জনগণের সঙ্গে মুসাফাহা করার মুহূর্তে পেছন দিক থেকে আসা অটোরিকশাটি হান্নান মাসউদের শরীরের সঙ্গে সামান্য লেগে যায়। এতে তিনি পায়ে আঘাত পান। পরে হান্নান মাসউদের এক্স-রে করানো হয়েছে। এতে কোনো ধরনের ফ্র্যাকচার ধরা পড়েনি। তবে আঘাতপ্রাপ্ত পা কিছুটা ফুলে গেছে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি ওষুধ সেবন করছেন এবং দুই-একদিন বেড রেস্টে থাকবেন। ইনশাআল্লাহ খুব দ্রুতই তিনি সুস্থ হয়ে আবার গণসংযোগে ফিরবেন। এ বিষয়ে আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেন, এটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা। অসাবধানতাবশত ঘটনাটি ঘটেছে। অটোরিকশাচালক ছিল অল্প বয়সী, এখানে কারও কোনো দোষ নেই। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি বুঝতে না পারলেও পরে জনসংযোগ চালিয়ে যাওয়ায় পায়ের অবস্থা কিছুটা খারাপ হয়েছে। তবে আমি আশঙ্কামুক্ত রয়েছি। এটি কোনো পূর্বপরিকল্পিত নাশকতা বা ষড়যন্ত্রমূলক ঘটনা নয়।

বিএনপির কেন্দ্রীয় সহআন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, ওসমান হাদির ওপর হামলাকারীর ছবি ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সরকার চাইলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এসব নৃশংস হামলাকারী, মাস্তান ও দুর্বৃত্তদের গ্রেপ্তার করতে পারে। পুলিশ প্রশাসন ও সেনাবাহিনী মাঠে রয়েছে এখন প্রয়োজন কেবল রাজনৈতিক সদিচ্ছা। সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, গত নভেম্বর মাসে চট্টগ্রামে বিএনপির এক প্রার্থী এবং সর্বশেষ গত শুক্রবার ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এসব ঘটনার নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত প্রয়োজন। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলায় বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিল ও শরীফপুর আইডিয়াল হাই স্কুলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সারা দেশে যেন আর কোনো সহিংসতার ঘটনা না ঘটে সে বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, নির্বাচন ঘিরে আর যেন একটি গুলিও না চলে, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করার সম্পূর্ণ দায়িত্ব সরকারেরই। তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে হলে সবার আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। সরকারকেই দায়িত্ব নিয়ে নিশ্চিত করতে হবে যেন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডে সব রাজনৈতিক দল ও মতের মানুষ নির্বাচনে অংশ নিতে পারে। রুমিন ফারহানা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, সরকারের ভেতরে বা বাইরে কেউ যদি নির্বাচন বিলম্বিত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকে, তবে তাদের দ্রুত চিহ্নিত করতে হবে। কারণ দেশের মানুষ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নিরাপদ ও স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে চায়। তিনি আরও বলেন, যারা ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায়, যারা গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথে বাধা সৃষ্টি করছে—বাংলাদেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের দাঁতভাঙা জবাব দেবে। অনুষ্ঠানে শরীফপুর আইডিয়াল হাই স্কুলের সভাপতি মো. তৌফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন শরীফপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রিয়াজ উদ্দিন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হকসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠান শেষে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য ও সুস্থতা কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

নির্বাচনী কাজে সহযোগিতার জন্য ধান বিক্রি করে পাওয়া অর্থ জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে শাপলা প্রতীকের প্রার্থী আব্দুল হান্নান মাসউদকে দেন কৃষক আনোয়ার হোসেন বেচু। তবে হান্নান মাসউদ সেই টাকা গ্রহণ করলেও সঙ্গে সঙ্গেই কৃষকের হাতে ফেরত দিয়ে দেন। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুরে হাতিয়ার ওছখালী এলাকায় নির্বাচন কমিশন ও আরপিওর নির্দেশনা অনুযায়ী নিজের পোস্টার-ব্যানার অপসারণের তদারকির সময় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কৃষক আনোয়ার হোসেন বেচু নলচিরা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। নদী ভাঙনে সব হারিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ভূমিহীন অবস্থায় ছিলেন। ২০১২ সালে সরকার জমি বন্দোবস্ত দিলেও নানা বাধার কারণে তা দখলে নিতে পারেননি। জুলাই বিপ্লবের পর আব্দুল হান্নান মাসউদের উদ্যোগে হাতিয়ার প্রায় ১০ হাজার ভূমিহীন তাদের জমি ফেরত পান। সেই সময়ে কৃষক বেচুও নিজের বন্দোবস্তের জমি ফিরে পান। এরপর সেই জমিতে ধান চাষ করে এবার ফসল বিক্রির পর পাওয়া অর্থের একটি অংশ তিনি কৃতজ্ঞতা হিসেবে নির্বাচনী কাজে দিতে চান। হান্নান মাসউদ টাকা গ্রহণ করে পরে আবার তার হাতেই ফেরত দেন এবং শাপলা কলি প্রতীকের পক্ষে খরচ করার কথা বলেন। কৃষক আনোয়ার হোসেন বেচু বলেন, নদী ভাঙনে সব হারিয়ে বহু বছর ভূমিহীন হয়ে কষ্ট করেছি। সরকার জমি দিলেও নানা ঝামেলায় দখল পাইনি। জুলাই বিপ্লবের পর হান্নান মাসউদ ভাইয়ের উদ্যোগেই আমি আমার জমি ফেরত পাই। সেই জমিতে এ বছর প্রথমবারের মতো ধান তুলেছি। কৃতজ্ঞতা থেকেই ধান বিক্রির কিছু টাকা তার নির্বাচনী কাজে দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করে আবার আমার হাতেই ফেরত দেন এবং এনসিপির জন্য খরচ করতে বলেন। তিনি আরও বলেন, আমার এলাকায় হান্নান মাসউদ ভাইয়ের ভোটের দায়িত্ব আমরা নিয়েছি। আমরা তার জন্য প্রচারণা চালাবো। তিনি ভূমিহীনদের বন্ধু। তার মতো মানুষ রাজনীতিতে থাকলে আমাদের মতো গরিব মানুষের ভরসা আরও শক্ত হবে। ভূমিহীন মানুষের এমন ভালোবাসা পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন হান্নান মাসউদ। তিনি বলেন, ভূমিহীন মানুষের কাছ থেকে এমন ভালোবাসা পাওয়ার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। তাদের দীর্ঘদিনের কষ্ট, বঞ্চনা আর সংগ্রামের গল্প আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি। জমি পাওয়ার পর আজ তারা যে হাসি ও আস্থা নিয়ে আমার পাশে দাঁড়াচ্ছেন এটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। তিনি বলেন, কৃষক বেচু ভাই ধান বিক্রি করে যে টাকা আমাকে দিতে চেয়েছেন, তা শুধু টাকা নয় এটি তাদের বিশ্বাসের প্রতীক। কিন্তু এই টাকা নেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়। আমি চাই তারা নিজেদের পরিবার, জমি আর ভবিষ্যতের জন্যই তা ব্যয় করুন। জনগণের দোয়া, ভালোবাসা ও আস্থাই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি। শাপলা কলির পক্ষে এই মানুষের সমর্থনই আমাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে। এ সময় হাতিয়া কলেজের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মফিজ উদ্দিন আহমদ, কৃষক বেলাল উদ্দিন, এনসিপির হাতিয়া উপজেলা প্রধান সমন্বয়কারী শামছুল তিব্রিজ, যুবশক্তির আহ্বায়ক মো. ইউসুফ রেজা, বাগছাসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক হাফিজুর রহমানসহ ভূমিহীন মানুষজন উপস্থিত ছিলেন।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস স্যারকে দিয়ে হাতিয়ার ব্লকবাঁধের জন্য ২১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করিয়েছেন বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) বিকেলে শাপলা প্রতীকে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে মনোনয়ন পেয়ে হাতিয়ার আফাজিয়া বাজারে পথসভায় তিনি এ কথা জানান। আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেন, অনেকে বলে ক্ষমতায় আসলে এই করবে সেই করবে, ব্লকবাঁধ করবে। মোহাম্মদ আলী (আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি) করে নাই, তার আগে কেউ করে নাই। কেন আফাজিয়া বাজার থেকে ১৫ কিলোমিটার ভাঙতে হলো। সব দোষ মোহাম্মদ আলীর। স্পিডবোট ভাড়া ৪০০-৫০০ টাকা মোহাম্মদ আলীর আগেও ছিল। তখন এত টাকা কারা খাইসে। তেলের দাম ৬৫ টাকা ছিল, কিন্তু আমাদের থেকে ৪০০-৫০০ টাকা করে কারা নিছে। তিনি আরও বলেন, বড় বড় গলাবাজি যারা করে তাদের বইলেন আপনারা কারা তা দেখেছি। আপনাদের সামনে একটা জিনিস দেখাতে চাচ্ছি। ড. মুহাম্মদ ইউনূস স্যারের সাথে দেখা করে পুরো হাতিয়ার জন্য সাড়ে ২১ কিলোমিটারের স্থায়ী ব্লকবাঁধ ও বেড়িবাঁধের প্রজেক্ট রেডি করেছি। সুখচর থেকে বাংলা বাজার পর্যন্ত সাড়ে ১১ কিলোমিটার ব্লক এবং তার ১০০ মিটার উপরে স্থায়ী বেড়িবাঁধের জন্য ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। আমাদের বলেছে ৮০০ কোটি টাকায় কাজ করতে হবে। আমি ইউনুস স্যারকে বলেছি ২১০০ কোটি টাকা লাগবে। সেই টাকার প্রথম ধাপে সাড়ে ১১ কিলোমিটার কাজ হবে ইনশাআল্লাহ। আপনারা ক্ষমতায় আসার পর যদি করতে হয়, তাহলে হান্নান মাসউদের রিভিউ করা কাজ করতে হবে। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে হান্নান মাসউদ বলেন, বিএনপি-জামায়াত-এনসিপি-গণঅধিকারসহ যত দল আছে এবং যারা হাতিয়াতে আছে তাদের সবাইকে বলছি আপনারা ঐক্যবদ্ধ হন। আর আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে দ্বীপ হাতিয়াকে বাঁচাই। আমরা হাতিয়ার লোকজন সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে এ দ্বীপকে ভূমিদস্যু থেকে বাঁচাবো, জলদস্যু থেকে বাঁচাবো, নদী ভাঙন থেকে বাঁচাবো। তাই আমি দলমত নির্বিশেষে সকলকে আহ্বান করব আসেন আমরা সবাই মিলে যায়, সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে হাতিয়াকে বদলাই। তিনি আরও বলেন, হাতিয়াকে বাঁচাতে হলে দলে দলে লড়াই করা যাবে না, মারামারি হানাহানি করা যাবে না। হাতিয়ার মানুষ যদি নিজেদের মধ্যে আরেকবার সংঘাতে জড়ায় তাহলে আর হাতিয়ার মানুষের মুক্তি মিলবে না। হান্নান মাসউদ বলেন, আমি আজ এখানে কোনো নির্বাচনী জনসভা করতে আসিনি। যদিও আমাকে আমার দল থেকে নির্বাচন করার জন্য মনোনয়ন দিয়ে শাপলা কলি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমি বলব হাতিয়ার মানুষ না চাইলে আমি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব না। হাতিয়ার মানুষ চাইলে আমি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো। হাতিয়ার উন্নয়নের স্বার্থে আমরা কোনো দলের বিরুদ্ধে বলবো না, তাই দলবল নির্বিশেষে আমরা সবাইকে নিয়ে নতুন একটি হাতিয়া গড়তে চাই। এদিকে পথসভাকে কেন্দ্র করে দুপুর থেকে দ্বীপের বিভিন্ন স্থান থেকে মিছিল নিয়ে আফাজিয়া ঘাটে আসতে থাকে লোকজন। এ সময় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) হাতিয়া উপজেলার প্রধান সমন্বয়কারী শামছুল তিব্রিজ, হাতিয়া উপজেলা যুবশক্তির আহ্বায়ক মো. ইউসুফ রেজা, হাতিয়া উপজেলার ছাত্রশসক্তির আহ্বায়ক নেয়ামত উল্লাহ নিরবসহ এনসিপির কেন্দ্রীয় ও উপজেলা কমিটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাচন সামনে রেখে তপশিল ঘোষণার আগেই পদত্যাগ করতে পারেন দুই ছাত্র উপদেষ্টা মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। আজ বা আগমীকাল বৃহস্পতিবার মধ্যেই পদত্যাগ করার গুঞ্জন রয়েছে। একই সঙ্গে তাদের দায়িত্বে থাকা তিন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে কারা আসছেন, তা নিয়েও বেশ আলোচনা রয়েছে। সরকারের একাধিক সূত্র বলছে, দুই উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ও মাহফুজ আলম পদত্যাগের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আজই তারা সেই ঘোষণা দিতে পারেন। সমসাময়িক বিষয়ে কথা বলতে আজ বুধবার বিকেল ৩টায় সচিবালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। এ সংবাদ সম্মেলনেই তিনি তার পদত্যাগ ও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া গেছে। তবে মাহফুজ আলম আজই ঘোষণা দেবেন কি না তা নিশ্চিত নয়। তারা মোট তিনটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন। মাহফুজ আলম তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়; আসিফ মাহমুদ স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্বে রয়েছেন। তারা উপদেষ্টা পরিষদ থেকে সরে গেলে এসব মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনে নতুন কাউকে নিয়োগ দেওয়া হবে, নাকি পুরোনো উপদেষ্টাদের মধ্যে এসব মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব বণ্টন করা হবে—এ বিষয়ে সরকারের মহলে নানা আলোচনা চলছে। তবে সরকারের বিভিন্ন সূত্রগুলো জানিয়েছে, শেষ মুহূর্তে এসে নতুন উপদেষ্টা নিয়োগের সম্ভাবনা কম। মূলত পুরোনো উপদেষ্টাদের মধ্যেই এই মন্ত্রণালয়গুলো বণ্টন করা হতে পারে। আলোচনা রয়েছে, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্ব পেতে পারেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বর্তমানে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্বে রয়েছেন। অতিরিক্ত হিসাবে উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খানও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন। তিনি বর্তমানে শিল্প মন্ত্রণালয় এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব রয়েছেন। এ ছাড়া পরিবেশ উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসানও কোনো মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। তবে এই দুই ছাত্র উপদেষ্টার পরবর্তী গন্তব্য কোথায় হচ্ছে, নির্বাচন করবেন কি না তা নিয়ে কৌতূহল বাড়ছে। অন্তর্বর্তী সরকার ঘোষিত আসন্ন ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে জুলাই আন্দোলনের সহযোদ্ধাদের গড়া দল—জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটিতেই যোগ দিতে পারেন দুই ছাত্র উপদেষ্টা—এমন আলোচনা এরই মধ্যে বেশ জোরালো হয়েছে। এনসিপির অভ্যন্তরীণ পর্যায়েও এ নিয়ে আলোচনার অগ্রগতি হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি। এনসিপির সঙ্গে তাদের কিছু টানাপোড়েনও রয়েছে। শেষ পর্যন্ত সমঝোতা না হলে তারা অন্য কোনো রাজনৈতিক গন্তব্যের দিকেও নজর দিতে পারেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে বসেছে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী। সোমবার (৮ ডিসেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বৈঠকটি শুরু হয়। বৈঠকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন ছাড়াও অন্য নির্বাচন কমিশনাররা উপস্থিত রয়েছেন। এদিকে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের প্রতিনিধি দল অংশ নিয়েছে এই বৈঠকে।
৮ ডিসেম্বর, ২০২৫
বিএনপির চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনা ও তার সুস্থতা প্রত্যাশা করে নোয়াখালী জেলা ছাত্রদলের উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) মধ্যরাতে জেলা শহর মাইজদী পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের হাতে কম্বল তুলে দেন জেলা ছাত্রদলের সভাপতি প্রার্থী আনোয়ার হোসেন রকি। শীতের তীব্রতায় বিপর্যস্ত মানুষের কষ্ট লাঘবে মানবিক উদ্যোগ হিসেবে এই কম্বল বিতরণ আয়োজন করা হয়। শহরের রেলস্টেশন এলাকা, হাসপাতাল চত্বর, বাজারসংলগ্ন পথচারীদের মাঝে একে একে শীতবস্ত্র পৌঁছে দেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। কম্বল পেয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন অনেকে। এক ছিন্নমূল নারী চোখের কোণে পানি নিয়ে বলেন, সারাদিন ঠান্ডায় কাঁপছিলাম। রাতটা কীভাবে কাটবে জানতাম না। এ কম্বলটা আমার জন্য অনেক বড় উপহার। আল্লাহ তাদের ভালো করুক। অংশগ্রহণকারী একজন তরুণ ছাত্রদল কর্মী জানান, “শীত শুধু ধনীদের মতো নয়, গরিব মানুষের জন্য আরও কঠিন। তাই নেতার নির্দেশে আমরা চেষ্টা করেছি অন্তত কিছু মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে। শীতবস্ত্র বিতরণ শেষে ছাত্রদল নেতারা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে দোয়া পরিচালনা করেন। জেলা ছাত্রদলের সভাপতি প্রার্থী আনোয়ার হোসেন রকি বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত রোগমুক্তি কামনাই আজকের আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে শীতের রাতে মানুষের কষ্ট কিছুটা লাঘব করতে পারলে আমরা নিজেদের ধন্য মনে করি। রাজনীতি মানুষের কল্যাণের জন্য ছাত্রদল সবসময় মানবিক কর্মকাণ্ডে পাশে থাকবে।

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ‘ভিভিআইপি’ ঘোষণা করেছে সরকার। সোমবার (১ ডিসেম্বর) এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে তাকে ‘ভিভিআইপি’ ঘোষণা করা হয়েছে। একইসঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর জন্য স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) নিয়োগ দেওয়া হয়। ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ হিসেবে বেগম জিয়া যেসব সুবিধা পাবেন— আইন অনুযায়ী, বাংলাদেশে অবস্থানরত অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে বেগম খালেদা জিয়াকে এসএসএফ দৈহিক নিরাপত্তা দেবে। তার নিরাপত্তার বিঘ্ন ঘটাতে পারে এমন বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী আইন, ২০২১ অনুযায়ী অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব এসএসএফের ওপর অর্পিত। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী বা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ছাড়াও আইনের ৮(২) ধারায় উল্লেখ রয়েছে যে, এসএসএফ বাংলাদেশে অবস্থানরত যে কোনো অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকেও দৈহিক নিরাপত্তা প্রদান করবে। অর্থাৎ, কাউকে সরকার অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা করলে তার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসএসএফ দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়। এ জন্য তারা নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে—এমন যেকোনো তথ্য সংগ্রহ ও আদান-প্রদান করে এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে। অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তিকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে হলে এসএসএফ তাকে বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তার করতে পারে এবং এই ক্ষমতা দেশের সর্বত্র প্রযোজ্য। এমনকি পরিস্থিতি গুরুতর হলে ক্ষতিকর ব্যক্তিকে গুলি করার বা প্রাণঘাতী ব্যবস্থা গ্রহণের বিধানও আইনে উল্লেখ রয়েছে।
২ ডিসেম্বর, ২০২৫
মোহাাম্মদ উল্যা কোম্গানীগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক ৩ বারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তির জন্য,রোববার (৩০ শে নভেম্বর) রাত ৮ ঘটিকায় বসুরহাট শ্রী শ্রী জগন্নাথ মন্দির কমপ্লেক্সে প্রার্থনার আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ ও খৃষ্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী বাবু অরবিন্দ ভৌমিক এর সভাপতিত্বে ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্ট এর সভাপতি শ্যামল দাসের সঞ্চালনায় প্রার্থনা অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা হিন্দু, বৌদ্ধ ও খৃষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি ও প্রবাণ শিক্ষক সন্তোষ কুমার মজুমদার, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্ট এর সাধারণ সম্পাদক মাষ্টার অসীম মজুমদার, এডভোকেট শংকর ভৌমিক,বিএনপি নেতা ও সিরাজপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সমীর চন্দ্র চন্দ,প্রফেসর বিমল মজুমদারসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ। উপস্থিত সকলে সাবেক তিন বারের সফল প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা ও দীর্ঘ হায়াত কামনা করে মহান সৃষ্টিকর্তার নিকট প্রার্থনা করেন এবং দেশ মাতৃকার শান্তি,শৃঙ্খলা ও উন্নতির জন্যও প্রার্থনা করেন।

একাত্তরের ভূমিকার জন্যই জামায়াত নেতাদের ফাঁসি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও নোয়াখালী-১ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য প্রার্থী ব্যারিস্টার এ এম এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। শুক্রবার রাতে নোয়াখালী-১ আসনের সোনাইমুড়ি উপজেলার দেওটি ইউনিয়নের পালপাড়ায় নির্বাচনি জনসভায় এ মন্তব্য করেন। মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের দল, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের দল। দেশ স্বাধীনে এ দলের ভূমিকা অবিস্মরণীয়। জামায়াতের জন্যই বিএনপিকে রাজাকার গালি শুনতে হয়েছে। আজ তারাই বিএনপিকে নিয়ে উল্টাপাল্টা কথা বলে। তিনি বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষে মামলা পরিচালনা করায় স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকার আমার বিরুদ্ধে ৪১টি মামলা দিয়েছে। এসব মামলায় আমাকে জেলে যেতে হয়েছে। এমনকি আমাকে গুলি করে হত্যার চেষ্টাও করেছে আওয়ামী লীগ। নেতাকর্মীদের উদ্দেশে খোকন বলেন, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আন্দোলন করায় বিএনপির লাখ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। এসময় অনেকের ওপর হামলা ও হত্যা-গুমের শিকার হতে হয়েছে। আপনারা ধানের শীষের জন্য কাজ করুন। নির্বাচন বানচালের কোনো ষড়যন্ত্র দেখলে সমন্বিতভাবে তা প্রতিহতের প্রস্তুতি নিন। জনসভায় সোনাইমুড়ী উপজেলা বিএনপি'র যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন পিন্টুর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন নোয়াখালী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলো, সদস্য সচিব হারুনুর রশিদ আজাদ, যুগ্ম-আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এবিএম জাকারিয়া, সোনাইমুড়ী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক দিদার হোসেন, সদস্যসচিব কুতুব উদ্দিন সানি প্রমুখ।

জামায়াতে ইসলামী জান্নাতের টিকিট বিক্রি করে না বরং জান্নাতের পথ দেখায় বলে মন্তব্য করেছেন নোয়াখালী-১ (চাটখিল ও সোনাইমুড়ী আংশিক) আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা ছাইফ উল্লাহ। শনিবার (২৯ নভেম্বর) সন্ধ্যায় সোনাইমুড়ী আলিয়া মাদরাসার সামনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের সমর্থনে গণমিছিল ও গণসংযোগ শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে বিকেলে সোনাইমুড়ী আলিয়া মাদরাসা মাঠ থেকে মিছিলের মাধ্যমে এ গণমিছিল ও গণসংযোগ শুরু হয়। সোনাইমুড়ী পৌরবাজারের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ ও গণসংযোগ শেষে সন্ধ্যায় একই স্থানে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। অনুষ্ঠানে হাজারো নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। অধ্যক্ষ মাওলানা ছাইফ উল্লাহ বলেন, দাঁড়িপাল্লা নির্বাচিত হলে এলাকায় চাঁদাবাজ, সন্ত্রাস, টেন্ডারবাজের কবর রচনা করা হবে। কোনো সন্ত্রাস চাঁদাবাজের ঠাঁই হবে না। এদেশে আর কোনো চাঁদাবাজকে মানুষ চায় না, সন্ত্রাসীদেরকে মানুষ চায় না, টেন্ডারবাজকে মানুষ চায় না। মানুষ জামায়াত ইসলামীকে ক্ষমতায় দেখতে চায়। তিনি আরও বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে ৫ বছরের মধ্যে স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলবো। যেখানে অর্থনীতি হবে শক্তিশালী, জনগণ হবে আত্মনির্ভরশীল এবং উন্নয়ন হবে টেকসই। প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি ব্যবস্থা, কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ ও খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা আরও দৃঢ় করা হবে। দেশীয় উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানি নির্ভরতা কমানো হবে। আধুনিক প্রযুক্তি শিক্ষার প্রসার, যুবকদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে সরকারি সহায়তা করা হবে। জবাবদিহিমূলক প্রশাসন গঠন করে উন্নয়নকে গতিশীল করা এবং স্বচ্ছ শাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। জামায়াতে ইসলামী জান্নাতের টিকিট বিক্রি করে না বরং জান্নাতের পথ দেখায় উল্লেখ করে অধ্যক্ষ মাওলানা ছাইফ উল্লাহ বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার হচ্ছে আমরা নাকি ভোটের নামে জান্নাতের টিকিট বিক্রি করি। জামায়াত ইসলামী জান্নাতের টিকিট বিক্রি করে না বরং জান্নাতের পথ দেখায়। জামায়াতে ইসলামী কোনো দিনই ‘জান্নাতের টিকিট’ বিক্রি করেনি, করে না এবং ভবিষ্যতেও করবে না। বরং আমরা মানুষের সামনে সত্য, ন্যায়, আদর্শ ও ইসলামী মূল্যবোধের পথে চলার আহ্বান জানাই— যেই পথ মানুষকে জান্নাতের দিকে নিয়ে যায়। সোনাইমুড়ী উপজেলা আমির হানিফ মোল্লার সভাপতিত্বে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা দেলোয়ার হোসেন, চাটখিল পৌরসভা আমির মাওলানা আক্তার হোসেন, সোনাইমুড়ী উপজেলা নায়েবে আমির রহিম উল্লাহ বিএসসি, ছাত্রশিবির নোয়াখালী জেলা উত্তর সেক্রেটারি মুজাহিদুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য দেন। সভাপতির বক্তব্যে সোনাইমুড়ী উপজেলা আমির হানিফ মোল্লা বলেন, সারাদেশে জামায়াতের ঈর্ষণীয় সাফল্যে ক্ষুব্ধ হয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে আমাদের নেতাকর্মী ও প্রার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে। এই এলাকায় কেউ এ ধরনের উসকানিমূলক কাজের সাহস দেখালে আইনশৃঙ্খলার বাইরে গিয়ে নয়, বরং জনগণের কঠোর প্রতিক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও নোয়াখালী-৪ আসনে দলের মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মো. শাহজাহান বলেছেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে নোয়াখালীকে সিটি করপোরেশন ঘোষণাসহ আধুনিক শহরে রূপান্তরিত করা হবে। এসময় তিনি নোয়াখালী বিভাগ আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতাও প্রকাশ করেন। শনিবার (২৯ নভেম্বর) নোয়াখালী প্রেস ক্লাবে নোয়াখালী-৪ (সদর-সূবর্ণচর) আসনের উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। মো. শাহজাহান বলেন, ১৯৯১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত টানা চারবার আমি এ আসনের বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য ছিলাম। এ সময় এলাকার অবকাঠামোসহ আইনশৃঙ্খলার ব্যাপক উন্নতি করা হয়। কিন্তু বিগত ফ্যাসিস্টরা এলাকায় উন্নয়নের নামে লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করেছে। তাদের সময়ে কিশোর গ্যাংয়ের উন্নতি হয়েছে। তিনি বলেন, সারা দেশে ধানের শীষের জোয়ার উঠছে। ইনশাল্লাহ জনগণের সমর্থন নিয়ে বিএনপি আবারও ক্ষমতায় আসবে। তখন নোয়াখালীর বড় বড় মেঘা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে ঐতিহ্যবাহী এ জেলাকে আধুনিক শহরে রূপান্তরিত করা হবে। মো. শাহজাহান বলেন, হাতিয়ার চেয়ারম্যান ঘাট পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণ, সূবর্ণচর এক্সপ্রেস চালু, স্বাস্থ্যসেবাকে আধুনিকায়ন, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, স্কুল-কলেজ জাতীয়করণ, পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করে আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন, বয়োজ্যেষ্ঠদের দিয়ে সমাজ নিয়ন্ত্রণ করা, কিশোর গ্যাং নির্মূল, জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রকল্প গ্রহণসহ নদীশাসন করে পর্যটনকে উৎসাহিত করা হবে। তিনি নির্বাচনি আসনের সদর ও সূবর্ণচর উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনার ফিরিস্তি তুলে ধরে সাংবাদিকদের বলেন, এটা প্রাথমিক উন্নয়ন ভাবনা। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হলে পূর্ণাঙ্গ ইশতেহার ঘোষণা করা হবে। গুরুত্বপূর্ণ কিছু জানা থাকলে আপনারা লিখিত আকারে দিলে আমরা তা অন্তর্ভুক্ত করে নিবো। এ সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আপোসহীন অকুতোভয় সৈনিক উল্লেখ করে তার দ্রুত সুস্থতার জন্য সাংবাদিকদের নিয়ে দোয়া-মোনাজাত করেন বিএনপির এ নেতা। মতবিনিময় সভায় নোয়াখালী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলো, সদস্য সচিব হারুনুর রশিদ আজাদ, যুগ্ম-আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এবিএম জাকারিয়া, সদস্য অ্যাডভোকেট আবদুর রহমান, কামরুজ্জামান হাফিজ, দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য অ্যাডভোকেট রবিউল হাসান পলাশ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সাবের আহমেদ, জেলা যুবদলের সেক্রেটারি নুরুল আমিন খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যায় রয়েছেন। এই অবস্থায় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দ্রুত দেশে আসার আহ্বান জানাচ্ছেন সবাই। তবে দেশে আশার বিষয় তিনি জানিয়েছেন, অন্য আর সকলের মত এটা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমার একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ অবারিত ও একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়। শনিবার (২৯ নভেম্বর) সকাল পৌনে ৯টায় তিনি তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এ কথা বলেন। যুগান্তরের পাঠকদের জন্য তার ফেসবুক পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো। তারেক রহমান লিখেছেন- ‘বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ ও সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যায় রয়েছেন। তাঁর রোগমুক্তির জন্য দল মত নির্বিশেষে দেশের সকল স্তরের নাগরিক আন্তরিকভাবে দোয়া অব্যহত রেখেছেন। মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা তার রোগমুক্তির জন্য দোয়ার সাথে সাথে চিকিৎসার সর্বত সহায়তার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন।’ ‘দেশ বিদেশের চিকিৎসক দল বরাবরের মত তাদের উচ্চ মানের পেশাদারিত্ব ছাড়াও সর্বোচ্চ আন্তরিকত সেবা প্রদান অব্যহত রেখেছেন। বন্ধু প্রতীম একাধিক রাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও উন্নত চিকিৎসাসহ সম্ভাব্য সকল প্রকার সহযোগিতার আকাঙ্খা ব্যক্ত করা হয়েছে।’ ‘সর্বজন শ্রদ্ধেয়া বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি সকলের আন্তরিক দোয়া ও ভালোবাসা প্রদর্শন করায় জিয়া পরিবারের পক্ষ থেকে সকলের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। একই সাথে জিয়া পরিবার বেগম খালেদা জিয়ার আশু রোগমুক্তির জন্য সকলের প্রতি দোয়া অব্যাহত রাখার ঐকান্তিক অনুরোধ জানাচ্ছি।’ ‘এমন সঙ্কটকালে মায়ের স্নেহ স্পর্শ পাবার তীব্র আকাঙ্খা যে কোনো সন্তানের মত আমারও রয়েছে। কিন্তু অন্য আর সকলের মত এটা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমার একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সূযোগ অবারিত ও একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়। স্পর্শ কাতর এই বিষয়টি বিস্তারিত বর্ণনার অবকাশও সীমিত। রাজনৈতিক বাস্তবতার এই পরিস্থিতি প্রত্যাশিত পর্যায়ে উপনীত হওয়া মাত্রই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে আমার সুদীর্ঘ উদ্বিগ্ন প্রতিক্ষার অবসান ঘটবে বলেই আমাদের পরিবার আশাবাদী।’

ইসলাম ধর্ম ও আল্লাহকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে করা মামলায় কারাবন্দি বাউল শিল্পী আবুল সরকারের কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান। মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) নিজের ফেরিফায়েড ফেসবুকের এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘বাউল আবুল সরকারের মুক্তি নয়, কঠোর শাস্তি চাই। এই বাউলের বক্তব্য একটু আগে শুনলাম। সে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে এই ধরনের কটূক্তি করেছে। আপনি শিল্পী, আপনার শিল্পচর্চায় কেউ বাধা দিবে না। কিন্তু আপনি আল্লাহ ও ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করতে পারেন না। এমনকি হিন্দু ধর্ম ও হিন্দুধর্মাবলম্বীদের নিয়েও কটূক্তি করার অধিকার কারো নাই। সবাই স্বাধীনভাবে এই দেশে ধর্মপালনের অধিকার পাবে, কিন্তু ধর্ম নিয়ে কটূক্তির অধিকার কারো নাই।’ তিনি আরও লেখেন, ‘বাউল আবুল সরকারের মুক্তি চাচ্ছেন, তারা আগে বাউল আবুল সরকারের বক্তব্য শুনুন। সে সমগ্র মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে, বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের চেষ্টা করেছে।’ রাশেদ খান লেখেন, ‘বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী তার যথাযোগ্য শাস্তি হলে পরবর্তীতে কেউ আর এমন কটুক্তি করবেনা। আমরা সমাজে শান্তি চাই। ধর্ম নিয়ে বিতর্ক এবং বিভাজন চাইনা।’ গত ৪ অক্টোবর মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায় এক সঙ্গীত অনুষ্ঠানে আবুল সরকার ইসলাম ও আল্লাহর সৃষ্টি নিয়ে কটূক্তি করেন। এ ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সর্বত্র সমালোচনার ঝড় ওঠে। বিভিন্ন মুসল্লি ও ধর্মীয় সংগঠনের পক্ষ থেকে তার দ্রুত গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি জানানো হয়। বিষয়টি পুলিশের নজরে আসার পর ডিবি পুলিশ বিশেষ অভিযানে গত বৃহস্পতিবার ভোরে মাদারীপুরে তাকে গ্রেফতার করে মানিকগঞ্জে নিয়ে আসে। এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার সকালে আবুল সরকারের বিরুদ্ধে ঘিওর থানায় মামলা করেন ঘিওর বন্দর মসজিদের ইমাম মুফতি মো. আব্দুল্লাহ। ওইদিন সকাল থেকেই মানিকগঞ্জ আদালত প্রাঙ্গণে বিভিন্ন ইসলামি সংগঠনের ব্যানারে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, আবুল সরকার নিয়মিত কুরআনের আয়াত ভুল পাঠ করেন, ভুল ব্যাখ্যা দেন এবং নিজেকে ‘পির’ পরিচয়ে ভক্তদের ভুল পথে পরিচালিত করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, গত ৪ নভেম্বর মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার জাবরাখালা পাগলীর মেলামঞ্চে গান পরিবেশনকালে ধর্ম অবমাননা করেছেন আবুল সরকার। ওই মামলায় বৃহস্পতিবার তাকে মাদারীপুর থেকে আটক করে ডিবি পুলিশ। বিকালে মানিকগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ঘিওর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কহিনুর ইসলাম বলেন, বাউল শিল্পী আবুল সরকার গান পরিবেশনকালে ধর্ম সম্পর্কে বিভ্রান্তিমূলক কথা বলেছেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। মামলাটি তদন্তাধীন।

শুধু আওয়ামী লীগ করার কারণে যেন বিচার না হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এমন আর্জি জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফসহ চারজনের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন। মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্য শেষে এই আর্জি জানান তিনি। ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলে সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। এদিন বেলা ১১টা ৫ মিনিটে ট্রাইব্যুনালের বিচারকাজ শুরু হয়। প্রথমেই হানিফসহ চারজনের বিরুদ্ধে সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন প্রসিকিউশন। এতে এ মামলার বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরা হয়। একইসঙ্গে এ অপরাধের দায়মুক্তির সুযোগ নেই বলেও উল্লেখ করেন। এ মামলায় চার আসামিই পলাতক রয়েছেন। তবে আসামির অনুপস্থিতিতে বিচারের বিধান আওয়ামী লীগ সরকারই তৈরি করেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। তার এমন কথায় আইনটি স্মরণ করেন ট্রাইব্যুনাল। সবশেষ এই বিচারপ্রক্রিয়া কোনো রাজনৈতিক বিরোধিতা নিষ্পত্তির জন্য নয় জানিয়ে উল্লেখ করে প্রসিকিউশন। কেননা জুলাই-আগস্টে নিরীহ ছাত্র-জনতার ওপর হামলা চালিয়ে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যা করেন হানিফরা। যার অকাট্য সাক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান এই প্রসিকিউটর। প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে কিছু কথা বলার জন্য ট্রাইব্যুনালের অনুমতি চান এ মামলায় আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন। তিনি বলেন, আমি প্রসিকিউশনের বক্তব্যের কিছু অংশের সঙ্গে একমত। তবে আমরা (আসামিরা) আওয়ামী লীগ করি। তাই শুধুমাত্র আওয়ামী লীগ করার কারণে যেন বিচার না হয়। বিজ্ঞাপন এ সময় ট্রাইব্যুনাল বলেন, আল্লাহকে হাজির-নাজির রেখে আমরা এখানে ন্যায়বিচার করতে বসেছি। কোনো নির্দোষ মানুষ যেন বিচারের মুখোমুখি না হন। অভিযুক্তরাও বিচার পাওয়ার অধিকার রাখেন। অতএব আপনার শঙ্কা রাখার কারণ নেই। মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় মোট সাক্ষী ৩৮ জন। এর মধ্যে শহীদ পরিবারের ৮, প্রত্যক্ষদর্শী ৮, আহত ৮, আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ৬, পুলিশ ১, সাংবাদিক ১, জব্দতালিকা ২, বিশেষজ্ঞ ২, বিশেষ তদন্ত কর্মকর্তা ১ ও মূল তদন্ত কর্মকর্তা ১ জন রয়েছেন। এদিন প্রথম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণে কথা থাকলেও প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ৮ ডিসেম্বর নির্ধারণ করেন ট্রাইব্যুনাল। হানিফ ছাড়া বাকি তিন আসামি হলেন- কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সদর উদ্দিন খান, জেলা সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী ও শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা। বিচার শুরুর আদেশের দিন চারজনের বিরুদ্ধে আনা তিনটি অভিযোগ পড়া হয়। ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর আবদুস সোবহান তরফদার, আবদুস সাত্তার পালোয়ান। এর আগে, ২৮ অক্টোবর হানিফসহ পলাতক চার আসামির পক্ষে অভিযোগ পড়েন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন। শুরুতেই তিনি ফরমাল চার্জে প্রসিকিউশনের আনা পটভূমি নিয়ে সমালোচনা করেন। এরপর সুনির্দিষ্ট তিনটি অভিযোগ পড়ে আসামিদের অব্যাহতির আবেদন করেন। এর আগের দিন ২৭ অক্টোবর এ নিয়ে শুনানি শেষ করে প্রসিকিউশন। গত ২৩ অক্টোবর হানিফসহ চারজনকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার কথা ছিল। তবে পলাতক থাকায় আইনানুযায়ী তাদের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স নিয়োগ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। ১৪ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালে এই চারজনকে হাজির হওয়ার নির্দেশ ছিল। না আসায় তাদের গ্রেপ্তারে জাতীয় দৈনিক দুটি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আদেশ দেওয়া হয়। ৬ অক্টোবর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। ৫ অক্টোবর তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেন প্রসিকিউশন। এতে সুনির্দিষ্ট তিনটি অভিযোগ আনা হয়। এর মধ্যে রয়েছে উসকানিমূলক বক্তব্য, ষড়যন্ত্র ও কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যা। উল্লেখ্য, জুলাই-আগস্ট আন্দোলন ঘিরে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন স্থানে ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালানো হয়। তাদের গুলিতে শহীদ হন শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী ও চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ। আহত হন বহু নিরীহ মানুষ। এর পরিপ্রেক্ষিতে এই চারজনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা হয়। পরে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তারা।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ এখন ইসলামের পক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে আছে, তাদের মধ্যে ব্যাপক পরিবর্তন আসছে। রোববার (২৩ নভেম্বর) রাত ১০টায় বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটির নলছিটি শাখার উদ্যোগে ওয়াজ মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রেজাউল করীম বলেন, বিগত দিনের সরকারগুলো দেশের মেহনতি কৃষক, দিনমজুর, শ্রমিকদের অর্জিত টাকা বিদেশে পাচার করেছে। এ দেশকে একাধিকবার দুর্নীতিতে প্রথম বানিয়েছে। তাদেরকে আর কেউ চায় না। এ দেশে চাঁদাবাজ দখলবাজদের কোনো স্থান হবে না। এখন সময় এসেছে আপনাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভালো মানুষকে ভোট দেওয়ার। কাঠিপাড়ার পীর মাওলানা সেকান্দার আলী সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন আলেমরা ওয়াজ নসিয়ত করেন। মানুষ ইসলামের পক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে আছে : চরমোনাই পীর মাহফিল শেষে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝালকাঠি-২ (ঝালকাঠি সদর-নলছিটি) আসনের ইসলামী আন্দোলনের মনোনীত প্রার্থী ডা. সিরাজুল ইসলাম সিরাজির জন্য সবার দোয়া ও সমর্থন কামনা করেন দলটির আমির রেজাউল করিম।
২৪ নভেম্বর, ২০২৫.jpeg&w=3840&q=75)
রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। রোববার রাত ৮টার দিকে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। বিএনপি চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন এ তথ্য জানান। পরে এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে বিএনপি চেয়ারপারসনের জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্য অধ্যাপক এফএম সিদ্দিকী সাংবাদিকদের জানান- খালেদা জিয়ার হার্ট ও চেস্টে (ফুসফুস) ইনফেকশন হয়েছে। হাসপাতালে চিকৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে তার চিকিৎসা চলছে। তিনি বলেন, ‘গত কয়েক মাস ধরেই উনি খুব ঘন ঘন আক্রান্ত হচ্ছিলেন। আজকে আমরা যে কারণে এখানে (এভারকেয়ার হাসপাতালে) ভর্তি করিয়েছি, সেটা হচ্ছে- উনার কতগুলো সমস্যা একসাথে দেখা দিয়েছে। সেটা হচ্ছে, উনার চেস্টে ইনফেকশন হয়েছে।’ অধ্যাপক এফএম সিদ্দিকীর ভাষায়, ‘যেহেতু উনার হার্টের সমস্যা আগে থেকেই ছিল। উনার হার্টে পারমানেন্ট পেসমেকার আছে এবং হার্টে ওনার স্ট্যান্ডিং করা হয়েছিল, রিং পরানো হয়েছিল। তারপরেও উনার মাইট্রোস্টেনোসিস নামে একটা কন্ডিশন আছে। সেজন্য চেস্টে ইনফেকশন হওয়াতে উনার একসাথে হার্ট ও ফুসফুস দুটোই একই সময়ে আক্রান্ত হয় এবং এতে উনার খুব রেসপিরেটরি ডিস্ট্রেস হচ্ছিল। সেজন্য এখানে আমরা খুব দ্রুত ওনাকে নিয়ে এসেছি।’
২৪ নভেম্বর, ২০২৫
নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড দেখতে পাচ্ছেন না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। রোববার (২৩ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন হলে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি তার স্বপ্ন ও প্রতিশ্রুতি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের এই নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সাধারণ মানুষের আস্থা ও সহযোগিতা। যে সহযোগিতা আমরা সবসময় পেয়ে আসছি- সাধারণ মানুষের সেই সমর্থনেই এনসিপি এতদূর আসতে পেরেছে। মানুষের আস্থা ও ভরসাতেই এনসিপি সামনে এগিয়ে যাবে। উদ্বেগ জানিয়ে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, নির্বাচনের জন্য যেই লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকার কথা, সেই ধরনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড আমরা দেখতে পাচ্ছি না। আমরা অনেক আগেই এ বিষয়ে বলেছি। বাংলাদেশের নির্বাচনী সংস্কৃতিতে জবরদখল, প্রশাসনের অপব্যবহার, টাকার প্রভাব, কালো টাকার ছড়াছড়ি, মাসল পাওয়ারের ব্যবহার- এসব আমরা বহু বছর ধরে দেখে ও শুনে আসছি। ফ্যাসিবাদী সময়ে তো মানুষ ভোট দিতেও পারেনি। ফলে এবারের নির্বাচন গণতান্ত্রিক ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে- এটাই আমাদের প্রত্যাশা। আমরা আশা করি অনেক তরুণ, স্বপ্নবাজ ও দেশপ্রেমী মানুষ সংসদে আসবেন। তিনি বলেন, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন, সরকার ও প্রশাসনকে যে দৃঢ় অবস্থানে থাকা প্রয়োজন, সেটি আমরা দেখতে পাচ্ছি না। বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে প্রশাসন দখলের কথা বলছে- কীভাবে প্রশাসনকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে তা ঘোষণা করছে। তিনি আরও বলেন, যে প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে ‘জুলাই সনদ’ নিয়ে দরকষাকষি চলছে, তার ফলে বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এখন মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছে। যারা একসময় বন্ধু ছিল, তারাই এখন চক্রান্ত করছে। তারা এই নির্বাচনকে ভাগাভাগির, সাজানো বা সমঝোতার নির্বাচনে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। এ ধরনের নির্বাচন হলে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

কেউ নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র করলে জনগণ সরাসরি প্রতিরোধ করবে বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। শুক্রবার নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ি উপজেলার চাষীরহাট ইউনিয়নে ধানের শীষের পক্ষে গণসংযোগ ও কর্মিসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব মন্তব্য করেন তিনি। জামায়াতকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী ২০১৮ সালে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেছে। তাদের মার্কা ছিল না। বিএনপি দয়া করেছিল বলে তারা নির্বাচন করতে পেরেছে। জামায়াত বারবার জোট পরিবর্তন করেছে। বিএনপির সঙ্গে না থাকার কারণে আওয়ামী লীগ আমলে জামায়াতের অনেক নেতার ফাঁসি হয়েছে। জামায়াত একেক সময় একেক ধরনের কথা ও কাজ করা তাদের নীতিতে পরিণত হয়েছে। মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, নির্বাচন শুধু একটি প্রক্রিয়া নয়। এটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে জনগণের সর্বোচ্চ শক্তির প্রকাশ। কিন্তু যখন এই প্রক্রিয়া বিতর্কিত শক্তির প্রভাবে প্রভাবিত হয়। প্রশ্নবিদ্ধ দলগুলোকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ তৈরি হয়। তখন জনগণ বিভ্রান্ত হয়, রাজনীতি দুর্বল হয় এবং গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরে আসায় জনগণের মাঝে ভোটের অধিকার ও স্বস্তি ফিরে এসেছে। তাই সবাইকে নিঃসংকোচে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- সোনাইমুড়ী উপজেলা বিএনপি আহ্বায়ক দিদার হোসেন দিদার, সদস্য সচিব কুতুব উদ্দিন সানি, সোনাইমুড়ী পৌরসভা বিএনপির আহ্বায়ক মোতাহের হোসেন মানিক, সদস্য সচিব রাব্বি মাহবুবসহ বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দরা।

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের করা ‘গণহত্যা মামলার’ রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সারাদেশে তীব্র উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রোববার (১৬ নভেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। ফখরুল বলেন, আগামীকাল ফ্যাসিস্ট হাসিনার গণহত্যার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে যে ট্রায়াল হয়েছে তার রায় বের হবে—এটা নিয়ে সারাদেশে এক ধরনের চরম অনিশ্চয়তা, এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই যে, একটি মহল আবারও দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করার পাঁয়তারা করছে। আমাদের আজকে রুখে দাঁড়াতে হবে। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে “বিভ্রান্তিকর ও অস্বাভাবিক” আখ্যা দিয়ে ফখরুল বলেন, আজকে বাংলাদেশের রাজনীতি এক ধরনের কনফিউজ পলিটিক্সের মধ্যে চলে গেছে। এমন সব ঘটনা ঘটছে, এমন সব উপাদান ঢুকছে—যা বাংলাদেশের মানুষ আগে কোনোদিন চিন্তাই করেনি। এগুলো বাংলাদেশের আত্মা নয়, সোল নয়। দুর্ভাগ্যক্রমে দেশ এক জটিল সংকটের মধ্যে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের নামে যারা এসেছে, তারা রাজনৈতিক কাঠামোকে একটা জায়গায় নেওয়ার চেষ্টা করেছে—কিন্তু তা জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি-না, তা এখনো বলা যায় না। বিএনপির অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে ফখরুল বলেন, আমরা বারবার বলেছি— নির্বাচনই হচ্ছে একমাত্র পথ, যা দিয়ে ট্রানজিশন করে গণতন্ত্রে যাওয়া সম্ভব। হতাশা আর অনিশ্চয়তার মধ্যেও এখন একটি সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে যে, আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। তার অভিযোগ, কিছু গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করতে চাইছে। নানা দাবি তুলে তারা নির্বাচনকে ব্যাহত, বিলম্বিত বা বন্ধ করতে চায়। কিন্তু দেশের মানুষ এখন চায়—একটি নির্বাচিত সরকার, যার পেছনে জনগণের সমর্থন থাকবে। ফখরুল বলেন, অর্থনীতির অবস্থা খুবই খারাপ হচ্ছে, নির্বাচন ছাড়া এটি আরও খারাপ হবে। আইনশৃঙ্খলার অবস্থাও খারাপ—নির্বাচিত সরকার না থাকলে তা আরও অবনতির দিকে যাবে। আগামীকালের রায়কে ঘিরে দলীয় অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, গণহত্যা মামলার রায়কে কেন্দ্র করে একটি মহল আবারও নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে চাইছে। আমাদের রুখে দাঁড়াতে হবে। বাংলাদেশের ছাত্রদের অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যে সুযোগ তৈরি হয়েছে—তা যেন নষ্ট না হয়। গণতন্ত্রের উত্তরণের পথকে কেউ বাধাগ্রস্ত করতে না পারে—এ জন্য সবাইকে কাজ করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমি সব রাজনৈতিক দলকে বলব—আসুন, ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সামনে এগিয়ে যাই। মাওলানা ভাসানীর আদর্শ অনুসরণ করে আমরা যেন এই দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পারি। মওলানা ভাসানী মৃত্যুবার্ষিকী পালন জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদুর সভাপতিত্বে ও কৃষকদলের সাবেক দপ্তর সম্পাদক এস কে সাদির সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইসতিয়াক আজিজ উলফাত, বিএনপি নির্বাহী কমিটির সদস্য মাইনুল ইসলাম, ন্যাশনাল লেবার পার্টির চেয়ারম্যান লায়ন ফারুক রহমানসহ প্রমুখ।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ একটি ফেসবুকভিত্তিক প্রতিবাদী দলে পরিণত হয়েছে; যার মাঠে প্রকৃত সাংগঠনিক শক্তি খুব কম। ‘আমার দীর্ঘদিনের পর্যবেক্ষণও তা-ই নির্দেশ করে, দলের তৃণমূল হয় ভেঙে গেছে, নয়তো প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলোর দ্বারা নিমজ্জিত হয়েছে। এই বাস্তবতা বিবেচনা করে, আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পক্ষে কোনো অস্থিরতা বা বিঘ্ন সৃষ্টি করার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ বলে মনে করি। আজ (শনিবার) সকালে এক ফেসবুক পোস্টে তিনি এসব কথা লিখেছেন। পোস্টে তিনি লেখেন, তিনটি সাম্প্রতিক ঘটনা আমার বিশ্বাসকে আরও শক্তিশালী করেছে যে, ফেব্রুয়ারির নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হবে। বরং আমাদের সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। ১. বিএনপির মনোনয়ন ঘোষণা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে বিএনপি তাদের সংসদীয় প্রার্থীদের তালিকা ঘোষণা করলে বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে—এমন একটি ব্যাপক আশঙ্কা ছিল। অনেকের ধারণা ছিল, শত শত বিদ্রোহী প্রার্থী দলের সিদ্ধান্ত মেনে নেবেন না। বিক্ষোভে নামবেন। এমনকি আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনীত প্রার্থীদের সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষেও জড়াতে পারেন। কিন্তু এক-দুটি সামান্য ঘটনা ছাড়া ঘোষণাটি আশ্চর্যজনকভাবে শান্ত ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এ থেকে প্রমাণিত হয়, বিএনপি নেতৃত্ব যথেষ্ট প্রস্তুতি নিয়ে পরিকল্পিতভাবে কাজ করেছে। মনোনয়নের ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা ইঙ্গিত দেয়—প্রচারণা ও নির্বাচনের সময় দলের ভেতরে সংঘর্ষের সম্ভাবনা খুবই কম। ২. আওয়ামী লীগের সক্ষমতার সীমা স্পষ্টভাবে দেখছি এবং তা বেশ ছোট। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে যে তাদের একটি বিস্তৃত তৃণমূল নেটওয়ার্ক রয়েছে, যা যেকোনো নির্বাচন ব্যাহত করার মতো শক্তিশালী। কিন্তু গত কয়েক দিনের ঘটনাপ্রবাহ প্রমাণ করে দিয়েছে—দলটির বাস্তব সংগঠিত শক্তি আসলে কতটা সীমিত। এখন তারা ক্রমেই ভাড়াটে টোকাই-ধরনের ক্ষুদ্র দুষ্কৃতকারী গোষ্ঠীর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে, যারা ফাঁকা বাসে আগুন দিতে পারে, ৩০ সেকেন্ডের ‘ঝটিকা মিছিল’ করতে পারে, কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এআই শাটডাউনের মতো প্রচারণা চালাতে পারে। প্রকৃত অর্থে, যার মাঠে প্রকৃত সাংগঠনিক শক্তি খুব কম। আমার দীর্ঘদিনের পর্যবেক্ষণও তা-ই নির্দেশ করে, দলের তৃণমূল হয় ভেঙে গেছে, নয়তো প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলির দ্বারা নিমজ্জিত হয়েছে। এই বাস্তবতা বিবেচনা করে,আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পক্ষে কোনো অস্থিরতা বা বিঘ্ন সৃষ্টি করার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ বলে মনে করি। ৩. পুলিশ, নিরাপত্তা বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসন এখন আরও সংগঠিত সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির স্থিতিশীলতা দেখেই বোঝা যায়—পুলিশ, নিরাপত্তা বাহিনী এবং স্থানীয় প্রশাসন (ডিসি, এসপি, ইউএনও, ওসি) এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী ও সংগঠিত। সবচেয়ে দক্ষ ও সক্ষম কর্মকর্তাদের নির্বাচন প্রক্রিয়া তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, তারা জাতির প্রত্যাশিত শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল নির্বাচন সম্পন্ন করতে সক্ষম হবে।

আগে গণভোট পরে জাতীয় নির্বাচন, না হয় নির্বাচন হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম মাসুম। (শুক্রবার) সকালে নোয়াখালীর পৌরবাজারে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে এটিএম মাসুম বলেন, জুলাই সনদের ভিত্তিতে আগামী দিনে বাংলাদেশে একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের অঙ্গীকারে এ দেশের জনগণ আবদ্ধ হয়। আমাদের পক্ষ থেকে আমরা এই সনদকে আদর্শের মাধ্যমে এবং পরবর্তীতে গণভোটের মাধ্যমে এটাকে সাংবিধানিক মর্যাদা দেওয়ার জন্য দাবি জানিয়েছিলাম। তিনি আরও বলেন, এই দাবিতে আমরা যখন আন্দোলন শুরু করেছিলাম তখন একটি দল বলছিল, এগুলো তো আলোচনার পথে থাকার কথা, জামায়াত এগুলোকে নিয়ে রাজপথে কেন যাচ্ছে। গতকাল প্রধান উপদেষ্টার ভাষণের পর আপনারা কি বুঝতে পেরেছেন আমাদের আন্দোলনের যৌক্তিকতা কী। আমরা আগেই সন্দেহ করেছিলাম প্রধান উপদেষ্টার আশপাশে এমন কিছু কুচক্রী মহল আছে যারা এই দেশকে অতীতেও সঠিক পথে চলতে দেয়নি, আর ভবিষ্যতেও এই দেশকে সঠিক পথে চলতে দেবে না। তিনি বলেন, আমরা এই চক্রান্ত আঁচ করতে পেরে ৫ দফা দাবীর ভিত্তিতে রাজপথে আন্দোলন শুরু করি। এই আশঙ্কার জেরে আমাদের সাথে আরও কয়েকটি ইসলামি দল রাজপথের আন্দোলনে শামিল হয়। আমাদের ৫ দফা দাবি ছিল জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করা ও সাংবিধানিক মর্যাদা দেওয়া, গণভোটের মধ্যে দিয়ে এই সনদকে এই জাতির জন্য স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্য একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য এটাকে একটি মহাসনদ হিসেবে মর্যাদা দান করা, আগামী নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা, বিগত স্বৈরশাসকের বিচার নিশ্চিত করা, নতুন কোনো স্বৈরশাসক যাতে তৈরি না হতে পারে সেজন্য নির্বাচন পরিষদকে স্বাধীনসত্ত্বা দান করা। এটা শুধু আমাদের দাবি নয়, দেশের ৭০ ভাগ জনগণ এই দাবির পক্ষে। সমাবেশ শেষে পৌর বাজার থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

রাজধানীর গুলিস্তানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কিছু পরিত্যাক্ত ব্যানার ও ময়লা-আবর্জনায় আগুন দিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা। এ সময় তারা সেখানে ভাঙচুরও চালায়। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) দুপুরের দিকে এ ঘটনা ঘটে। তবে ফায়ার সার্ভিস এখনও এ আগুনের খবর পায়নি। জানা গেছে, আগুন তেমন বড় নয়। কিছু, পুরোনো ব্যানার ও ময়লা জড়ো করে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা সেখানে স্লোগান দেন- ‘আওয়ামী লীগের আস্তানা ভেঙে ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’, ‘গোপালগঞ্জের গোলাপি আর কতকাল জ্বালাবি’, ‘যুবলীগের কালো হাত ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’। এদিকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে করা মামলার রায়ের তারিখ ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর (ডিএমপি) পুলিশ, র্যাব, সেনাবাহিনী, বিজিবি ও আনসার-ভিডিপির সদস্যরা রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে মোতায়েন রয়েছে।
১৩ নভেম্বর, ২০২৫
বিভিন্ন সময় দল থেকে বহিষ্কার হওয়া ও স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করা ৪০ নেতার পদ ফিরিয়ে দিয়েছে বিএনপি। রোববার বিএনপি সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভীর সই করা পৃথক দুটি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়ে, বিগত সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করায় যথাক্রমে ১ নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা-সৈয়দ তৌফিকুল হাদী ও মুফতি কমর উদ্দীন কামু; ৩ নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা-মিজানুর রহমান মিঠু; ৫ নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা-মো. কামাল মিয়া, খালেদ আকবর চৌধুরী, আমিনুর রহমান খোকন ও শাহেদ সিরাজ; ৬ নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা-ফরহাদ চৌধুরী শামীম; ১০ নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা-মো. সাঈদুর রহমান জুবের; ১১ নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা-আব্দুর রহিম মতছির; ১৪ নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম মুনিম; ১৫ নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা-মো. মুজিবুর রহমান; ১৮নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা- এ বি এম জিল্লুর রহমান উজ্জ্বল ও সালমান চৌধুরী শাম্মী; ২২নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা বদরুল আজাদ রানা; ২৩নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা মামুনুর রহমান মামুন; ২৪নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা হুমায়ুন কবির সুহিন; ২৫নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা অ্যাড. রুকশানা বেগম শাহনাজ; ২৬নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা-সেলিম আহমদ রনি; ২৮নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা-আলী আব্বাস; ২৯নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা-গোলাম মোস্তফা কামাল ও সাহেদ খান স্বপন; ৩০নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা-জাবেদ আমিন সেলিম, রাজু মিয়া ও সানর মিয়া; ৩১নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা-মো. আব্দুল মুকিত; ৩২নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা- অ্যাড. হেদায়েত হোসেন তানভীর ও দুলাল আহমদ; ৩৩নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা-গউছ উদ্দিন পাখী ও দেলওয়ার হোসেন নাদিম; ৩৭নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা দিলওয়ার হোসেন জয়; ৩৮নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা উসমান হারুন পনির; ৩৯নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা-আলতাফ হোসেন সুমন; ৪০নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা আব্দুল হাছিব; ৪২নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা সুমন আহমদ সিকদার; ২২,২৩,২৪নং সংরক্ষিত ওয়ার্ডের সালেহা কবির শেলী; ১০,১১,১২নং সংরক্ষিত ওয়ার্ডের রুহেনা বেগম মুক্তা ও অ্যাড. জহুরা জেসমিন; ১৬,১৭,১৮ নং সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কামরুন নাহার পিন্নিসহ ২নং ওয়ার্ডের নেহার রঞ্জন পুরকায়স্থকে দলের প্রাথমিক সদস্যসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিস্কার করা হয়েছিল। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দলীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক আজ তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে প্রাথমিক সদস্য পদ ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আরেক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ইতিপূর্বে পঞ্চগড় জেলাধীন তেঁতুলিয়া উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সুলতানা রাজিয়া ব্যক্তিগত কারণে স্বেচ্ছায় দল থেকে অব্যাহতি নিয়েছিলেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দলে তার প্রাথমিক সদস্য পদ ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

আগামী ১০ বছরের মধ্যে এনসিপি ক্ষমতায় যাবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ। শনিবার (০৮ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শিক্ষকদের অবস্থান কর্মসূচিতে গিয়ে এ কথা বলেন তিনি। দলটির সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক বলেন, এনসিপি আগামী নির্বাচনে এককভাবে অংশগ্রহণ করবে। আর আগামী ১০ বছরের মধ্যে এনসিপি ক্ষমতায় যাবে। ক্ষমতায় গেলে ন্যায্য দাবি পূরণ করা হবে। শিক্ষা খাত সংস্কারের বিষয়ে এ নেতা বলেন, শিক্ষা খাত সংস্কার না করা এবং শিক্ষকদের প্রতি বৈষম্য নিরসন না করা জুলাইয়ের সঙ্গে গাদ্দারি। শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করে যৌক্তিক দাবি মেনে নিন। হাসিনার মতো আর কোনো শিক্ষকের গায়ে হাত তুলবেন না। এর আগে, এদিন সকালে কাঙ্ক্ষিত গ্রেড বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা না পাওয়ায় আবারও আন্দোলনে নেমেছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা। শিক্ষকদের দাবিগুলো হচ্ছে, দশম গ্রেডে বেতন, চাকরির ১০ ও ১৬ বছরে উচ্চতর গ্রেড পাওয়া নিয়ে জটিলতা নিরসন এবং শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতির নিশ্চয়তা। গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় গত ২৪ এপ্রিল এক আদেশে ১১তম গ্রেডে বেতন পাওয়া প্রধান শিক্ষকদের বেতন দশম গ্রেডে এবং ১৩তম গ্রেডে বেতন পাওয়া শিক্ষকদের বেতন ১২তম গ্রেডে উন্নীত করার কথা জানায়। তবে তাতে সন্তুষ্ট নন সহকারী শিক্ষকরা। আন্দোলনে অংশ নেওয়া অন্য সংগঠনগুলো হচ্ছে—বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি (কাশেম-শাহিন), বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতি এবং সহকারী শিক্ষক দশম গ্রেড বাস্তবায়ন পরিষদ। তাদের সঙ্গে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তৃতীয় ধাপে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে নিয়োগ পাওয়া সহকারী শিক্ষকরাও।
৮ নভেম্বর, ২০২৫
গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান বলেছেন, ফ্যাসিবাদ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্য নষ্ট হলে আওয়ামী লীগ ও ভারতীয় আধিপত্যবাদ পুনরায় ফেরার শঙ্কা তৈরি হবে। তিনি উল্লেখ করেন, স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পতন আন্দোলনে বিএনপি, জামায়াত, গণঅধিকার পরিষদসহ যে সকল দল অংশ নিয়েছিল, তাদের ঐক্যের বিকল্প নেই। বিগত ১৬ বছর ধরে যারা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে যুগপৎ আন্দোলন করেছে, তাদের সেই কঠিন দিনগুলো ভুলে যাওয়া যাবে না। শুক্রবার (৭ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টায় ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হলিধানী বাজারে নির্বাচনী গণসংযোগ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় সরকারের ইঙ্গিত দিয়ে রাশেদ খান বলেন, দেশ এখন নির্বাচনী ট্রেনে চলতে শুরু করেছে। বিএনপি, জামায়াত, গণঅধিকার পরিষদ, ইসলামী আন্দোলনসহ ফ্যাসিবাদ বিরোধী রাজনৈতিক দলের কর্মীরা দীর্ঘদিন জেল-জুলুম সহ্য করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে আন্দোলন চালিয়েছে। আগামী নির্বাচনে যে দলই বিজয়ী হোক, আমরা জাতীয় সরকার গঠনের জন্য কাজ করছি। এ বিষয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানও আমাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করছেন। ঝিনাইদহ-২ আসনের নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই আসনে যিনি নির্বাচনে অংশ নিন না কেন, তার জন্য আমার শুভকামনা। প্রত্যেকটি দল তাদের রাজনীতি নিজস্বভাবে চালাক। কেউ যেন অন্য দলের রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি না করে। এতে সংঘাত তৈরি হতে পারে, যা ফ্যাসিবাদ বিরোধী শক্তিগুলোর ঐক্য নষ্ট করে আওয়ামী লীগের ফেরার পথ সহজ করবে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে রাশেদ খান বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে যুগপৎ আন্দোলনের সহযোদ্ধাদের জন্য বিএনপি তাদের নীতি অনুসরণ করেছে। বিভিন্ন আসনে বিএনপি তাদের প্রার্থী দেয়নি। ঝিনাইদহ-২ আসন তারই একটি। তবে বিএনপি এখনো আমাকে চূড়ান্ত সমর্থন দেয়নি। এ বিষয়ে বিএনপির হাইকমান্ডের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চলছে। এর আগে বিকাল ৪টায় ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হলিধানী বাজারে গণসংযোগ করেন রাশেদ খান। গণসংযোগে উপস্থিত ছিলেন জেলা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি প্রভাষক সাখাওয়াত হোসেন, সাধারণ সম্পাদক জাহিদ ইকবাল রাজন, পেশাজীবী অধিকার পরিষদের সভাপতি রাসেল আহমেদ, ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি রিহান হোসেন রায়হান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন। এ সময় দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা গণসংযোগে অংশ নেন।

পদে থেকেও নির্বাচন করা যায়, সংবিধানে এতে কোনো বাধা নেই বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। বিজ্ঞাপন বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফেরাতে আপিল বিভাগে রাষ্ট্রপক্ষের শুনানি শেষে এ কথা বলেন তিনি। এর আগে বুধবার (৫ নভেম্বর) পদত্যাগ করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা জানান অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। তিনি জানান, জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি থেকে ঝিনাইদহ-১ আসন থেকে নির্বাচন করবেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফেরানোর আপিল শুনানি শেষে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের কনফারেন্স কক্ষে ওই সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আমি নমিনেশন চেয়েছি। আমি আশাবাদী নমিনেশন পাবো। আমি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে আছি এখনো। আমার অ্যাটর্নি জেনারেল পদ ছেড়ে দিয়ে আমি ভোট করবো। যখন সময় আসবে তখন (পদত্যাগ) করবো।' উল্লেখ্য, অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান ঝিনাইদহ – ১ (শৈলকূপা) আসনে বিএনপির হয়ে নির্বাচন করবেন বলে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে আসছেন। এই আসনে বিএনপি এখনো কাউকে মনোনয়ন দেয়নি। সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মো. আসাদুজ্জামান বিএনপির মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। পরে ওই পদ থেকে পদত্যাগ করে অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিযুক্ত হন তিনি।
৬ নভেম্বর, ২০২৫
রাজধানীর শাহবাগ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার (০৬ নভেম্বর) বিচারপতি এ এস এম আব্দুল মোবিন ও বিচারপতি সগীর হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এ বিষয়ে তার আইনজীবী জেড আই খান পান্না বলেন, এই আদেশের ফলে লতিফ সিদ্দিকীর কারামুক্তিতে বাধা নেই। এদিন আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন, সহকারি অ্যাটর্নি জেনারেল ইব্রাহিম খলিল ও আল আমিন হোসেন। এর আগে, গত ২৮ আগস্ট বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) আলোচনা অনুষ্ঠানে হট্টগোলের মধ্যে ‘মব হামলার’ শিকার হওয়ার পর পুলিশ হেফাজাতে থাকা সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সাংবাদিকসহ ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে এই ১৪ জনসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস দমন আইনে শাহবাগ থানায় মামলা হওয়া তথ্য দেয় পুলিশ। পরদিন ২৯ আগস্ট তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। মামলার বিবরণীতে বলা হয়েছে, ‘মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলার গভীর ষড়যন্ত্র ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি বন্ধের লক্ষ্যে গত ৫ আগস্ট ‘মঞ্চ ৭১’ নামে একটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটে। এ সংগঠনের উদ্দেশ্য জাতির অর্জনকে মুছে ফেলার সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে বাংলাদেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আত্মত্যাগের প্রস্তুতি নেওয়া। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গত ২৮ অগাস্ট সকাল ১০টায় একটি গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
৬ নভেম্বর, ২০২৫
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে পাঁচ দফা দাবি উপস্থাপন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ আটটি রাজনৈতিক দল। বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) রাজধানীর পল্টন মোড়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে নেতারা যমুনা ভবনে গিয়ে স্মারকলিপি প্রদান করবেন। সেই লক্ষ্যে পল্টন মোড়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে দলগুলো। নিরাপত্তার স্বার্থে ইতোমধ্যে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য সেখানে অবস্থান নিয়েছেন। » জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের আদেশ জারি » নভেম্বরে গণভোট » অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে রাজনৈতিক হয়রানি ও গ্রেপ্তার বন্ধ » নির্বাচনে সব দলের সমান সুযোগ » ধর্মীয় স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক সংগঠনের কার্যক্রমে বাধাহীনতা নিশ্চিত করা এর আগে জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী প্রচার সম্পাদক আব্দুস সাত্তার সুমন জানান, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের আদেশ জারি ও নভেম্বরে গণভোটসহ পাঁচ দফা দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার নিকট স্মারকলিপি প্রদান করা হবে। পল্টন মোড়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের পর প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় যমুনার অভিমুখে যাত্রা শুরু হবে। স্মারকলিপি প্রদানকারী আটটি দল হলো- বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি)।
৬ নভেম্বর, ২০২৫
সম্প্রতি রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঝটিকা মিছিলে অংশ নেওয়ার অভিযোগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের আরও ছয় নেতা–কর্মীকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গতকাল রোববার রাত থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়। আজ সোমবার ডিএমপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। আটক ব্যক্তিরা হলেন ঢাকা মহানগর উত্তর কৃষক লীগের সহসভাপতি মো. মাজহারুল ইসলাম (৩৮), ছাত্রলীগের কর্মী মো. নাহিদ হাসান (২৩), গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম (৪২), চাঁদপুর জেলা যুবলীগের সহসাংগঠনিক সম্পাদক মো. নিজাম উদ্দিন (৪৩), পিরোজপুরের কুমারখালী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহসভাপতি মো. রিয়াদ মাতুব্বর (৩১) এবং বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সিরাজুল ইসলাম (২৮)। গতকাল রাত সাড়ে ১০টার দিকে ডিবি মতিঝিল বিভাগের একটি দল পল্লবী এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাজহারুল ইসলামকে আটক করে। একই সময়ে যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে ছাত্রলীগ কর্মী নাহিদকে আটক করে ডিবি লালবাগ বিভাগ। আজ সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উত্তরার ৬ নম্বর সেক্টর থেকে শ্রমিক লীগ নেতা মাহবুব আলমকে আটক করে ডিবি উত্তরা বিভাগ। ডিএমপির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, গতকাল রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর মগবাজার এলাকা থেকে যুবলীগ নেতা নিজামকে আটক করা হয়। একই দিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শ্যামপুরের ১০ নম্বর রোড এলাকা থেকে রিয়াদ মাতুব্বরকে আটক করে ডিবি গুলশান বিভাগ। সোমবার দিবাগত মধ্যরাত সাড়ে ৩টার দিকে বাড্ডা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে সিরাজুল ইসলামকে আটক করে ডিবির সাইবার বিভাগ।
৪ নভেম্বর, ২০২৫
২০২৬-২০২৮ কার্যকালের জন্য বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির নির্বাচিত হয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অভ্যন্তরীণ নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত প্রধান নির্বাচন কমিশনার সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম গতকাল ১ নভেম্বর (শনিবার) রাতে সংগঠনের ‘আমির’ নির্বাচনের ফল ঘোষণা করেন। দলটির প্রচার ও মিডিয়া বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ৯ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত সারাদেশের (সদস্য) রুকনদের নিকট থেকে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ করা হয়। ভোটগ্রহণের কার্যক্রম শেষে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত টিম ভোট গণনা শেষ করেন। প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী ২০২৬-২০২৮ কার্যকালের জন্য সর্বোচ্চ সংখ্যক ভোট পেয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির নির্বাচিত হয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান। আরও পড়ুন বাংলাদেশের শত্রুরা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে : মির্জা ফখরুল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে হঠাৎ সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে জামায়াত বিজ্ঞাপন ডা. শফিকুর রহমান ১৯৫৮ সালের ৩১ অক্টোবর মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা ইউনিয়নে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৭৪ সালে স্থানীয় বরমচাল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ১৯৭৬ সালে সিলেট এম সি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তিনি ১৯৮৩ সালে সিলেট মেডিকেল কলেজ (বর্তমান এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ) থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জনের পর চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি রাজনীতিতে আত্মনিয়োগ করেন। শফিকুর রহমান জাসদ ছাত্রলীগের মাধ্যমে ছাত্র রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন। ১৯৭৩ সালে জাসদ ছাত্রলীগে যোগদান করেন। ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরে যোগদান করেন। পরবর্তি সময়ে এই সংগঠনের সিলেট মেডিকেল কলেজ শাখার সভাপতি এবং সিলেট শহর শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৪ সালে জামায়াতে ইসলামীতে যোগদানের মাধ্যমে তিনি বৃহত্তর রাজনীতিতে পদার্পন করেন। এরপর সিলেট শহর, জেলা ও মহানগরী আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৬ সালে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে নিযুক্ত হয়ে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৯ সালের ১২ নভেম্বর জামায়াতে ইসলামীর রুকনদের (সদস্য) প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে আমির নির্বাচিত হন

জুলাই সনদে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট নিয়ে কোনো বিভ্রান্তি ছড়ানোর সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির। রোববার (০২ নভেম্বর) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন। ফেসবুক পোস্টে নাছির উদ্দিন নাছির লেখেন, অনেকেই জুলাই সনদে বিএনপির দেওয়া নোট অব ডিসেন্টের বিরোধিতা করেছেন। তারা বলার চেষ্টা করছেন, বিএনপি ক্ষমতার ভারসাম্য চায় না। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে জুলাই সনদের ওইসব প্রস্তাবনাই নির্বাচিত সরকারের ভারসাম্য নষ্ট করবে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারকে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হবে বিরোধী দলের নির্দেশনায়। উদাহরণস্বরূপ তিনি বলেন, প্রস্তাবিত জুলাই সনদে পিএসসি’তে নিয়োগের কমিটিতে তিনজন বিরোধী দলের এবং দুজন সরকারি দলের সদস্য থাকবেন। দুদকের নিয়োগের কমিটিতে একজন সরকারি দলের এবং তিনজন বিরোধী দলের প্রতিনিধি থাকবেন। আবার, ন্যায়পাল নিয়োগের ক্ষেত্রে দুজন সরকারি দলের এবং তিনজন বিরোধী দলের ও দুজন নিরপেক্ষ সদস্য থাকবেন। মহাহিসাব নিরীক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে দুইজন সরকারি দলের ও পাঁচজন বিরোধী দলের প্রতিনিধি থাকবেন। এতে দেখা যাচ্ছে, সব ক্ষেত্রে সরকারি দলের প্রতিনিধিরা সংখ্যালঘু। বিরোধী দল এবং টেকনোক্র্যাট সদস্যরা প্রভাব বিস্তার করবে। এরূপ পরিস্থিতিতে একটা নির্বাচিত সরকারের পক্ষে সঠিকভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা সম্ভব হবে না। দলের প্রধান কে হবেন তা দলের নেতাকর্মীদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। প্রধানমন্ত্রী দলের প্রধান হতে পারবেন না এমন বিধান মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন। সবশেষ তিনি লেখেন, বিএনপি এই বিষয়গুলোতে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে। উক্ত প্রস্তাবগুলো মেনে নিলে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতাহীন হয়ে পড়বে। সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে বিরোধী দল অযাচিত হস্তক্ষেপ করবে। জনগণের ম্যান্ডেট পেয়ে নির্বাচিত সরকার নিজস্ব পলিসি বাস্তবায়ন করতে পারবে না। এর ফলে গণতান্ত্রিক সরকারের ভারসাম্য নষ্ট হবে। নির্বাচিত সরকার একটি অকার্যকর সরকারে পরিণত হবে। তাই বিএনপি এই বিষয়গুলোতে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে। নোট অব ডিসেন্ট নিয়ে কোনো বিভ্রান্তি ছড়ানোর সুযোগ নাই।

জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি প্রতিষ্ঠা ও জাতীয় নির্বাচনের আগেই নভেম্বরে গণভোট আয়োজনের দাবিতে নির্বাচন কমিশনের সামনে বিক্ষোভ করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)। বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের সামনে এবং মেট্রোরেল স্টেশনের কাছে পাকা মার্কেট সংলগ্ন সড়কের পাশে অস্থায়ী মঞ্চ স্থাপন করে সমাবেশ করে দল দুটি। গণভোটের দাবিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ আটটি রাজনৈতিক দলের নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি দেওয়ার কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। সংক্ষিপ্ত সমাবেশে নেতারা বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন করে নভেম্বরে গণভোট আয়োজন করতে হবে। তারা দাবি করেন, নির্বাচন কমিশনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে এবং সংসদ নির্বাচনে সকলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। নাহলে বিগত ইসির পরিণতি বর্তমান নির্বাচন কমিশনকেও ভোগ করতে হবে। জাতীয় নির্বাচনের আগেই গণভোটের দাবিতে ইসির সামনে সমাবেশ ফেসবুকে হ্যাঁ না পোস্টের প্রতিযোগিতা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব হাফেজ মাওলানা অধ্যক্ষ ইউনুস আহমেদ বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে নভেম্বরে গণভোট দিতে হবে। জুলাই সনদকে আইনি ভিত্তি দিতে হবে। সরকারের কিছু অর্থ খরচ হলেও গণভোটের আয়োজন করতে হবে। অন্যথায় সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। জাতীয় নির্বাচনের আগেই গণভোটের দাবিতে ইসির সামনে সমাবেশ জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি ও দলীয় মুখপাত্র রাশেদ প্রধান বলেন, জুলাই সনদ আইনগত ভিত্তি দিতে নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি দিতে এসেছি। জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের বিকল্প নেই। জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে হতে পারে না। নভেম্বর মাসেই গণভোট দিতে হবে। জামায়াতে ইসলামীসহ আটটি রাজনৈতিক দলের ৫ দফা দাবি হলো— ১. জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে আদেশ জারি এবং ওই আদেশের ওপর আগামী নভেম্বর মাসের মধ্যে গণভোট আয়োজন করা। ২. আগামী জাতীয় নির্বাচনে উভয় কক্ষে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতি চালু করা। ৩. অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যে সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা। ৪. ‘ফ্যাসিস্ট’ সরকারের সব জুলুম-নির্যাতন, গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচার দৃশ্যমান করা। ৫. ‘স্বৈরাচারের দোসর’ জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা।

ডাকসুর পদবি ব্যবহার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ওপর মবতন্ত্র প্রয়োগ করা অনাকাঙ্ক্ষিত বলে মন্তব্য করেছেন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির। নাসির তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে এমন মন্তব্য করেন। তিনি লেখেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার মহোদয়ের সঙ্গে কয়েকজন ডাকসু নেতা যেভাবে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে অশোভন আচরণ করেছেন তা খুবই নিন্দনীয়। এই ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। ট্রেজারার মহোদয় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সক্রিয় সংগঠক ছিলেন। শিক্ষার্থীদের সামনে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। বিগত প্রশাসনের অব্যবস্থাপনার দায় বর্তমান ট্রেজারার মহোদয়ের ওপর চাপিয়ে অযাচিত চাপ সৃষ্টি করা অছাত্রসুলভ ও বিবেকহীন আচরণ। ডাকসুর পদবি ব্যবহার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ওপর মবতন্ত্র প্রয়োগ করা অনাকাঙ্ক্ষিত। আমরা তাদের দাবি আদায়ে নিয়মতান্ত্রিক পন্থা অনুসরণ করার আহ্বান জানাই। ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক লেখেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং একাডেমিক পরিবেশ নিশ্চিত করা আমাদের সবার কাছে অগ্রাধিকার। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস থেকে ভবঘুরে-উদ্বাস্তু, নেশাগ্রস্ত কিংবা মানসিক ভারসাম্যহীন অথবা বীভৎস রোগাক্রান্তদের সরিয়ে দেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর তৎপরতা জরুরি। তারা শিক্ষার্থীদের এবং বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি। এছাড়াও ক্যাম্পাস এবং আশপাশের জায়গাগুলোতে সূর্যাস্ত থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত পর্যাপ্ত লাইটিংয়ের ব্যবস্থা করা আবশ্যক। তিনি আরও লেখেন, বিশ্বিবদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে অনেক অনুমোদিত বা অনুমোদিত বা ভাসমান দোকানপাট রয়েছে। এর বেশিরভাগই শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বিক্রি করে। ক্যাম্পাসে দোকান পরিচালনার অনুমোদনের জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রয়োজন। একটি যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অনুমোদিত এবং অননুমোদিত দোকানপাট চিহ্নিত করতে হবে। যারা দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাসে স্থায়ী বা অস্থায়ী বা ভাসমান দোকান পরিচালনা করে আসছে তাদের একটি যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়া হঠাৎ করে উচ্ছেদ করা সঠিক পদক্ষেপ নয়। শেষে নাছির লেখেন, প্রশাসনের উচিত এক্ষেত্রে দ্রুত নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে দোকানপাটগুলোকে একটি কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসা। অন্যথায়, নিত্যনতুন বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হবে।
২৭ অক্টোবর, ২০২৫
জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে নারীদের কী হবে, তা নিয়ে অনেকে ভীতসন্ত্রস্ত উল্লেখ করে এ বিষয়ে নিজের অভিমত তুলে ধরেছেন দলটির আমির শফিকুর রহমান। স্থানীয় সময় শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের বাফেলোতে ‘বাংলাদেশ আমেরিকান কমিউনিটি, বাফেলো’ আয়োজিত এক নাগরিক সংবর্ধনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শফিকুর রহমান এ বিষয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘অনেকে ভীতসন্ত্রস্ত, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে মা–বোনদের কী হবে? যারা বিভিন্ন ধর্মের মানুষ, তাদের কী হবে?’ এর জবাব দিয়ে জামায়াতের আমির বলেন, ‘হ্যাঁ, আমরা আমাদের মায়েদের মা হিসেবে দেখি। আমার পারসোনাল (ব্যক্তিগত) অনুভূতি। আল্লাহ তাআলা মানুষের গর্ভে মেয়েসন্তানও দেন, ছেলেসন্তানও দেন। এই মেয়েসন্তানটা যখন বড় হয়ে পরিণত বয়সে পৌঁছে যায়, তখন তাকে পরিবার গঠনের জন্য অন্য একটা পরিবারের হাতে, একটা মানুষের হাতে তুলে দেওয়া হয়। কিন্তু এই যে মেয়েটা গর্ভে নেওয়া, বুকের দুধ খাওয়ানো, বুকের বিছানায় তাকে আশ্রয় দেওয়া, মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য লালন–পোষণ করা, বিয়ের বয়স হওয়া পর্যন্ত, সে কর্ম–উপযোগী হওয়া পর্যন্ত মা-বাপ তো শুধু তার সেবাই করে গেল। কিন্তু সে যখন সেবা দেওয়ার বয়সে উপনীত হলো, তখন ওই মা-বাপ তার সেবা নিলেন না। বরং একজন যুবকের হাতে তাকে তুলে দিলেন উপহার হিসেবে।’ শফিকুর রহমান বলেন, ‘দুনিয়ায় মানুষ উপহার দিয়ে খুব খুশি হয়।...ফুল দিয়ে আবার ফটোপিক করলে খুশি হয়। আনন্দের বন্যা বয়ে যায় অনেকের। কিন্তু একটামাত্র উপহার; এই উপহার দেওয়ার সময় মানুষ খুশি হতে পারে না। হাসে না। কান্নার বাঁধভাঙা জোয়ার চোখ দিয়ে টপটপ করে পড়ে। এটি হচ্ছে ওই যে গোলাপের চারাটা উনি লাগিয়েছিলেন, যার নিচে তিনি সার দিয়েছেন, পানি দিয়েছেন, আগাছা নিংড়িয়েছেন, কীটপতঙ্গ থেকে তিনি হেফাজত করেছেন—আজকে সেই গোলাপগাছে ফুল ফুটেছে। সেই ফুল এখন যুবকের হাতে তুলে দেওয়ার সময় মা-বাপের অনুভূতি হচ্ছে, বাবা আদরে–যত্নে–ভালোবাসায় যে গোলাপ ফুল আমার বাগানে ফুটেছিল, ওই গোলাপ আজ তোমার হাতে তুলে দিলাম। আমার গোলাপটাকে তুমি বাবা যত্নে রেখো। কী হবে আমাদের? আমার এই গোলাপ, যাকে আমি বুকে আগলে রেখেছিলাম। এখন নতুন একটা পরিবেশে যাচ্ছে। ওই পরিবেশের লোকেরা কি আমার এই গোলাপের মর্যাদা বুঝবে, কেমন থাকবে, আমার মেয়েটা, আমার বোনটা? এই চিন্তায় মানুষের চোখ দিয়ে পানি ঝরে।’ একজন পুরুষ যদি ওই মুহূর্তের ওই দৃশ্য স্মরণ রাখে, আজীবন ‘এই গোলাপের’ প্রতি কোনো ধরনের অবিচার করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে জামায়াতের আমির আরও বলেন, ‘আমার শ্বশুর–শাশুড়ি কেঁদে কেঁদে তাঁর, তাঁদের গোলাপ আমার হাতে তুলে দিয়েছেন। আমরা আমাদের মা–বোনদের এই মর্যাদায় দেখতে চাই। আমরা দেখতে চাই, মায়ের জাতি মাকে যেমন সম্মান করি, গোটা নারীসমাজকেও তেমন মা হিসেবে সম্মান করি।’ শফিকুর রহমান বলেন, ‘এক চালাক সহকর্মী একদিন প্রশ্ন করে যে বুঝলাম মেয়েকে–মাকে মা হিসেবে দেখব? স্ত্রীটাকে কী হিসেবে দেখব। আমি জিজ্ঞেস করলাম, বাড়ি কোথায়? কয় ফেনীতে? বুদ্ধিমান এলাকার মানুষ। বুদ্ধির প্রশংসা করতে হলো। আমি বললাম হ্যাঁ, স্ত্রীকে নিজের স্ত্রী হিসেবে দেখবেন আর সন্তানের মা হিসেবে দেখবেন। আপনি যেমন আপনার মাকে সম্মান করেন। ভালোবাসেন। আপনার সন্তানেরাও দেখতে চায় কারা কারা তার মাকে সম্মান করে এবং ভালোবাসে। আমরা মায়ের জাতিকে সেভাবেই দেখতে চাই। বলে যে জামায়াত ক্ষমতায় গেলে তাদের দরজা বন্ধ করে রেখে দেবে না তো তালাবদ্ধ করে? আমরা বলি যে এত কোটি কোটি তালা কেনার টাকা আমাদের হাতে নেই।’ নারীদের চাকরি প্রসঙ্গে জামায়াতের আমির বলেন, ‘সমাজের বনিয়াদ পরিবার আমরা মায়েদের সেই জায়গায় দেখতে চাই। বলবেন, তাইলে তো আর কোনো চাকরি–বাকরি করতে পারবে না। সব পারবে। যার মেধা আছে, প্রয়োজন আছে, সমাজে সব করবে। সভ্যতার চাকা ঘোরানোর জন্য সমানতালে তারা অংশগ্রহণ করবে। তার সঙ্গে তারা দুইটা বাড়তি জিনিস ভোগ করবে, যেটা এখন তাঁরা পান না, একটা সমাজে তাঁদের প্রাপ্ত সম্মানটুকু দেওয়া হয় না, আরেকটা কর্মক্ষেত্রে তাঁদের কোনো নিরাপত্তা নেই। ইনশা আল্লাহ সম্মান এবং নিরাপত্তা—দুটিই তাঁদের নিশ্চিত করা হবে। তাঁরা উচ্চশিক্ষা নেবেন তাঁদের মেধা অনুযায়ী, সমাজের অগ্রগতি উন্নতিতে কাজ করবেন তাঁদের যোগ্যতা অনুযায়ী।’ জামায়াতের আমির বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকার ২০১২ সালে তাঁকে পাঁচ বছরের জন্য ভিসা দিয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশের পরিস্থিতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারেননি। দ্বিতীয়বার ভিসা পেলেও যেতে পারেননি। শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমি পরে জানতে পেরেছি, আমার বিরুদ্ধে বিশেষ একটি দেশ এবং তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকার হাজার জাতের মিথ্যা প্রোপাগান্ডা (অপপ্রচার) গোটা দুনিয়াব্যাপী ছড়িয়ে দিয়েছিল, যার কারণে আমি আসতে গিয়েও আসতে পারিনি। যদি ৫ আগস্ট এই পরিবর্তন না হতো, হয়তোবা আজকেও আপনাদের সামনে আমার দাঁড়ানোর সুযোগ হতো না।’ এ সময় প্রবাসীদের ভোট দেওয়ার অনুরোধ জানান জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, ‘যত বাংলাদেশি প্রবাসী এখানে আছেন, তাঁদের সবাইকে ভোট নিশ্চিত করতে সহযোগিতা করবেন। এটা দেখবেন না সে কোন ধর্মের, কোন দলের। আমরা সবার অধিকারটা দিতে চাইছি।’ বাংলাদেশের যত শতাংশ নাগরিক প্রবাসে থাকেন, জাতীয় সংসদে সেই শতাংশ প্রবাসীদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে কাজ করবেন বলে জানান শফিকুর রহমান। জামায়াতে ইসলামী সন্তানদের উদ্যোক্তা কিংবা দেশের সেবক হিসেবে গড়ে তোলার শিক্ষা দিতে চায় উল্লেখ করে দলটির আমির বলেন, ‘আমরা এমন শিক্ষা আমাদের সন্তানদের হাতে তুলে দিতে চাই, শিক্ষার পাট চুকালে তার হাতে তার সার্টিফিকেট আসার আগে তার কাজ চলে যাবে। ইনশা আল্লাহ, সে একজন উদ্যোক্তা হবে, না হয় দেশের একজন সেবক হয়ে সে বিভিন্ন জায়গায় সার্ভিসে নিজেকে নিয়োজিত করবে। যার যেমন যোগ্যতা, তার যোগ্যতা অনুযায়ী সে (কাজ) পাবে। বেকারের মিছিল আর দীর্ঘ হবে না, সেই শিক্ষাটা আমরা এস্টাবলিশ (প্রতিষ্ঠিত) করতে চাই।’ সমাজ থেকে দুর্নীতির মূলোৎপাটনে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের ক্ষমতায় গেলাম কি না, এটাও এখানেও বিবেচ্য বিষয় নয়। দুর্নীতি বাংলাদেশ থেকে বিদায় না দেওয়া পর্যন্ত আমাদের লড়াই চলবে।’ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জামায়াতের আমির বলেন, ‘গ্রাম্য আদালত থেকে শুরু করে সুপ্রিম কোর্ট কোথাও আমাদের দেশে ন্যায়বিচার পাই না। আমরা মহান আল্লাহর ওপর ভরসা করে ঘোষণা দিয়েছি। পবিত্র কোরআন যে ন্যায়বিচার এই জাতিকে, বিশ্ববাসীকে উপহার দিয়েছে, তার ভিত্তিতে প্রত্যেক নাগরিকের জন্য তার ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা হবে ইনশা আল্লাহ। রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি কিংবা প্রধানমন্ত্রী, তিনিও যদি কোনো অপরাধ করেন, তাঁর মুখের দিকে আইন তাকাবে না। আইন তাঁর অপরাধকে দেখবে, তাঁকে দেখবে না। ঠিক। আইন সমাজের মর্যাদা অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন হবে না। আইনের পাল্লা সমান হবে ইনশা আল্লাহ।’ দেশের ব্যাংক, বিমা, করপোরেশন, সেক্টর, মিল, ফ্যাক্টরি ও ইন্ডাস্ট্রি তছনছ করে ফেলা হয়েছে অভিযোগ করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘লুটেরা বাহিনী সব লুট করে নিয়ে গেছে। এখন ব্যাংকে আপনারা দেখেন খবর শোনেন ক্লায়েন্টরা সেখানে তাঁর নিজের রাখা টাকা আনতে যান, কিন্তু ব্যাংক তাঁকে টাকা দিতে পারে না। এই জায়গায়ও হাত দিতে হবে।’ দল ক্ষমতায় গেলে অর্থনীতি চাঙা করা হবে উল্লেখ করে জামায়াতের আমির বলেন, ‘আমরা যদি অর্থনৈতিক সেক্টরের কঙ্কালটাও পাই, ইনশা আল্লাহ, গোশত ও চামড়া আল্লাহ আমাদের দিয়ে লাগাবেন, ইনশা আল্লাহ। এই বিধ্বস্ত অসুস্থ রুগ্ণ অর্থনীতিকে আবার ইনশা আল্লাহ চাঙা করে তোলা সম্ভব। শুধু সদিচ্ছা ও সততার প্রয়োজন।’

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে বসেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) একটি প্রতিনিধি দল। শনিবার (২৫ অক্টোবর) সকাল সোয়া ১০টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে এ বৈঠক শুরু হয়েছে। এনসিপির প্রতিনিধি দলে রয়েছেন—দলের সদস্য সচিব আখতার হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, জাবেদ রাসিন, খালেদ সাইফুল্লাহ ও যুগ্ম সদস্য সচিব জহিরুল ইসলাম মুসা। সাক্ষাৎকালে এনসিপির প্রতিনিধি দল জুলাই সনদের বাস্তবায়ন আদেশ, আইনি ভিত্তিসহ সনদের নানা বিষয়ে আলোচনা করবেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ সভাপতি আলী রীয়াজসহ কমিশনের সদস্যরা উপস্থিত রয়েছেন। গত ১৭ অক্টোবর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সভাপতি প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের উপস্থিতিতে ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ স্বাক্ষরের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। সংলাপে থাকা ৩০টি দল ও জোটের মধ্যে ২৫টি এই সনদে সই করে ঐকমত্য কমিশনের সংস্কার সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছে। জুলাই বাস্তবায়নে ধোঁয়াশা দেখার কথা জানিয়ে সনদে সই করেনি এনসিপি। বিভিন্ন বিষয়ে আপত্তি তুলে আরও চারটি দল একই পথ অনুসরণ করেছে। এর মধ্যে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রশ্নে গত ২২ অক্টোবর বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বৈঠক করেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।
২৫ অক্টোবর, ২০২৫
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠকে বসেছে বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল। বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে নির্বাচন ভবনে এ বৈঠকটি শুরু হয়। বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানের নেতৃত্বে দলটির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ এবং সাবেক ইসি সচিব ড. মোহাম্মদ জকরিয়া উপস্থিত আছেন। জানা গেছে, নির্বাচনী আসন পুনর্বিন্যাসসহ নির্বাচনসংক্রান্ত বিষয়ে বিএনপির প্রতিনিধিদল কথা বলবেন। এর আগে, রাজনৈতিক সংলাপের অংশ হিসেবে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রতিনিধিদল। বুধবার (২২ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৫টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় তারা বৈঠক করেছেন। সিইসির সঙ্গে বৈঠকে বিএনপির প্রতিনিধিদল প্রার্থী বাছাইয়ের মাঝপথে রয়েছে বিএনপি বৈঠকের তথ্য নিশ্চিত করেন এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব মুশফিক উস সালেহীন। তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় গেছেন। বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। তিনি বলেন, বুধবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সাবেক এমপি ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহেরের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় গেছেন। গত মঙ্গলবার বিকেলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে।
২৩ অক্টোবর, ২০২৫
গণভোটের আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের কোনো সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, বিষয়টি জুলাই সনদে অন্তর্ভুক্ত এবং তা গণভোটের পরেই নির্ধারিত হবে। বুধবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথিশালা যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি নাহিদ ইসলাম বলেন, সম্মিলিত কমিশন ইতোমধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করেছে, সেখানে ভিন্নমত নোট বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত আছে। সুতরাং, তত্ত্বাবধায়ক সরকার কেবল গণভোটের পরই কার্যকর হবে। এই পর্যায়ে এর কোনো বাস্তব সুযোগ নেই। জুলাই সনদ প্রসঙ্গে নাহিদ বলেন, তারা (সম্মিলিত কমিশন) আমাদের স্বাক্ষরের জন্য আহ্বান জানিয়েছে এবং আমাদের উদ্বেগগুলো বিবেচনা করবে বলেছে। কমিশন তাদের সুপারিশ দিলে উপদেষ্টা পরিষদ সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে। তিনি বলেন, আমরা সনদটিকে শুধু কাগজের দলিল হিসেবে দেখি না। বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা পেলে তবেই স্বাক্ষরের বিষয়ে বিবেচনা করবো। যেহেতু জুলাই সনদে স্বাক্ষর অনুষ্ঠান আমাদের অংশগ্রহণ ছাড়াই সম্পন্ন হয়েছে, তাই আমরা সরকারের ও সম্মিলিত কমিশনের কাছে আমাদের অবস্থান জানিয়েছি। নাহিদ ইসলাম জানান, এনসিপি জুলাই সনদের বাস্তবায়ন নিশ্চিতে প্রধান উপদেষ্টার মাধ্যমে একটি সাংবিধানিক আদেশ জারির প্রস্তাব দিয়েছে। জুলাই গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা এখন ড. মুহাম্মদ ইউনূসের হাতে, রাষ্ট্রপতির নয়। জুলাই গণহত্যার বিচার প্রসঙ্গে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, আজকের বৈঠকে জুলাই গণহত্যার বিচার অন্যতম আলোচ্য বিষয় ছিল। আমরা দেখেছি, কিছু সামরিক কর্মকর্তা মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) আদালতে আনা হয়েছে। আমরা এ পদক্ষেপকে স্বাগত জানাই এবং বিচার অগ্রগতির জন্য সরকার ও ট্রাইব্যুনাল উভয়কেই ধন্যবাদ জানাই। তবে তিনি দেশের বিভিন্ন স্থানে অন্যান্য সংশ্লিষ্ট মামলার অগ্রগতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। নাহিদ বলেন, আইসিটি ছাড়া শহীদ পরিবারের দায়ের করা অসংখ্য মামলা রয়েছে। আমরা পত্রিকায় দেখছি, অভিযুক্তদের জামিনে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে এবং তারা শহীদ ও জীবিত পরিবারের সদস্যদের হুমকি দিচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা ন্যায়বিচারের একটি রূপরেখা ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছি। এই রূপরেখা নির্বাচনের আগেই প্রকাশ করা উচিত। আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে নাহিদ বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্ব শেষ পর্যন্ত সরকারেরই। তিনি বলেন, আমরা আশা করি, সরকার একটি সমতল ক্ষেত্র ও নিরপেক্ষ পরিবেশ নিশ্চিত করবে, যাতে নির্বাচন বিশ্বাসযোগ্য হয়। সূত্র- বাসস

‘জাতীয় শ্রমিক শক্তি’ নামে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের আত্মপ্রকাশ হয়েছে। শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ দলের নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘জাতীয় শ্রমিক শক্তি’র আত্মপ্রকাশ হয়। অনুষ্ঠানে জুলাই সনদে স্বাক্ষরই জাতীয় ঐক্য নয়, জাতীয় ঐক্যের নামে জাতির সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, ‘সমাজের সব অংশের মানুষ একত্রিত হয়ে লড়াই করার মাধ্যমে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়।’ তিনি বলেন, ‘কিছু মানুষ জাতীয় ঐক্য বলতে শুধু রাজনীতির দলের ঐক্য বোঝে। কিন্তু রাজনৈতিক ঐক্য হলো সব শ্রেণিপেশার মানুষের মধ্যে ঐক্য। আজকেও জুলাই সনদের নামে কিছু রাজনৈতিক দল সনদে স্বাক্ষর করতে যাবে, এটা কোনো জাতীয় ঐক্য নয়।’ শ্রম সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন অবহেলা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন এনসিপির এই শীর্ষ নেতা। এ সময় জাতীয় শ্রমিক শক্তির নেতৃত্বের নাম ঘোষণা করেন তিনি। শ্রমিক শ্রেণির দীর্ঘদিনের বঞ্চনা দূর করে, তাদের ন্যায্য অধিকার ও রাজনৈতিক অংশীদারত্ব নিশ্চিতে জাতীয় শ্রমিক শক্তি কাজ করবে বলে জানান সংগঠনটির নেতারা। বক্তব্য শেষে জাতীয় শ্রমিক শক্তির মুখ্য সংগঠক, সদস্যসচিব ও আহ্বায়কের নাম ঘোষণা করেন নাহিদ ইসলাম। মুখ্য সংগঠক আরমান হোসেন, সদস্য সচিব রিয়াজ মোরশেদ, আহ্বায়ক হবেন মাজহারুল ইসলাম ফকির।
১৮ অক্টোবর, ২০২৫
স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে গুলশানের বাসভবন ফিরোজায় ফেরেন তিনি। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, বেগম খালেদা জিয়া রাত সাড়ে ১১টায় ফিরোজায় পৌঁছেছেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। এর আগে গত বুধবার গভীর রাতে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। জানা গেছে, হাসপাতালে ভর্তির পর সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর শারীরিক বেশকিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শে হাসপাতালে বেগম জিয়ার পরীক্ষা-নিরীক্ষা পর্যালোচনা করে তাকে বাসায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এদিকে শুক্রবার বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানান, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। তিনি বলেন, এখন ম্যাডামের অবস্থা সার্বিকভাবে স্থিতিশীল। যে অবস্থায় উনি হাসপাতালে গিয়েছিলেন, তার চেয়ে অনেকটা স্থিতিশীল অবস্থায় আছেন। প্রায় ৮০ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে লিভার সিরোসিস, কিডনি জটিলতা, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিসসহ নানা শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন। গত ৮ জানুয়ারি উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে যান খালেদা জিয়া। লন্ডন ক্লিনিকের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক প্যাট্রিক কেনেডি ও অধ্যাপক জেনিফার ক্রসের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নেন তিনি। লন্ডনে চিকিৎসা শেষে গত ৬ মে দেশে ফেরেন খালেদা জিয়া।
১৮ অক্টোবর, ২০২৫
সন্ত্রাসবিরোধী আইনে রাজধানীর গুলশান থানার মামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অজয় কর খোকনের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে। বুধবার (৮ অক্টোবর) পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জিয়াদুর রহমান এ আদেশ দেন। এদিন আসামির উপস্থিতিতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান জোনাল টিমের পুলিশ পরিদর্শক মো. মোজাম্মেল হক মামুন সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী ওবাইদুল ইসলাম জামিন আবেদন করেন। রাষ্ট্রেপক্ষের অতিরিক্ত প্রসিকিউটর শামসুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আদালতের অনুমতি নিয়ে অজয় কর বলেন, আমি ছাত্রলীগের নেতা থাকাকালীন আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আসেনি। আমার দ্বারা কেউ কখনো অন্যায়ের শিকার হয়নি। আমার বিরুদ্ধে এত বছরেও কোনো মামলা হয়নি। জুলাই আন্দোলনের সময় আমি বাসায় ছিলাম। বাইরে বের হইনি। আমি আওয়ামী লীগের কোনো পদে ছিলাম না। নির্বাচনে মনোনয়ন চেয়েছিলাম। কিন্তু আমি মনোনয়ন পাইনি। আমি অসুস্থ। এর আগে গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাত রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরের দিন তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২২ এপ্রিল গুলশান থানাধীন জব্বার টাওয়ারের পাশে অজ্ঞাতনামা ৩০ থেকে ৩৫ জন সমবেত হয়। এদিন সাড়ে ৭টায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা দেশবিরোধী স্লোগান দিতে দেখা যায়। এ ঘটনায় এ বছরের ২২ এপ্রিল সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়। উল্লেখ্য, অজয় কর খোকন ১৯৯৮-২০০২ মেয়াদে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে দলের মনোনয়ন চেয়েছিলেন তিনি। তবে মনোনয়ন পাননি।
৯ অক্টোবর, ২০২৫
আবারও নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে শাপলা প্রতীক চেয়ে চিঠি দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ইসির কাছে ৭টি নমুনা আঁকিয়ে পাঠিয়েছে দলটি। মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠি ইসি সচিবের কাছে পাঠিয়েছে দলটি। এনসিপি তাদের জবাবে বলেছে, গণমানুষের সঙ্গে শাপলা প্রতীক কেন্দ্রিক গভীর সংযোগ স্থাপিত হয়েছে এবং এটি ব্যতীত ইসির দেওয়া তালিকা থেকে অন্য কোনো প্রতীক পছন্দ করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। ঘটনার ক্রম ও এনসিপির অভিযোগ এনসিপি তাদের চিঠিতে একাধিকবার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে প্রতীক নিয়ে হওয়া আলোচনার ধারাবাহিকতা তুলে ধরেছে : প্রতীক তালিকাভুক্তি উদ্যোগ : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসি নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা, ২০০৮ এর বিধি ৯ (১) এ নতুন করে প্রতীক তালিকাভুক্ত করার উদ্যোগ নেয়। এনসিপির দাবি সংশ্লিষ্ট কমিটি মোট ১৫০টি প্রতীক অন্তর্ভুক্তির চূড়ান্ত খসড়া প্রস্তুত করেছিল এবং গত ৪ জুন ইসির একজন কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠকে এনসিপিকে আশ্বস্ত করা হয় যে, চূড়ান্ত তালিকায় ‘শাপলা’ প্রতীক রয়েছে। এর আগে, গত ২২ জুন এনসিপি নিবন্ধনের জন্য আবেদন দাখিল করে এবং ‘শাপলা’ প্রতীক সংরক্ষণের আবেদন জানায়। পরবর্তীতে ৩ আগস্ট এনসিপি প্রতীক সংরক্ষণের ক্রম হিসাবে ১. শাপলা, ২. সাদা শাপলা এবং ৩. লাল শাপলা পছন্দ করে চিঠি পাঠায়। এনসিপি অভিযোগ করেছে, তাদের ৩ আগস্ট ও ২৪ সেপ্টেম্বরের দরখাস্তের বিষয়ে কমিশন অদ্যাবধি কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়েই (অর্থাৎ দরখাস্ত দুটি অনিষ্পন্ন অবস্থায় রেখে) ৩০ সেপ্টেম্বরের সূত্রোক্ত চিঠি প্রেরণ করেছে, যা বিধিসম্মত হয়নি। চিঠিতে এনসিপি জানায়, সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবীসহ সারাদেশের ১০১ জন বিজ্ঞ আইনজীবী শাপলাকে প্রতীক হিসাবে বরাদ্দ দিতে কোনো আইনি বাধা নেই বলে ইতোপূর্বে বিবৃতি দিয়েছেন। এমনি কি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করে উল্লেখ করেছেন যে, ‘শাপলা’ প্রতীক এনসিপিকে না দেওয়াটা খুব বেশি আইনি জটিলতা বলে আমি মনে করি না, এটা দেওয়া যেতেই পারে। এছাড়া নাগরিক ঐক্যের সভাপতি জনাব মাহমুদুর রহমান মান্নাও এনসিপির অনুকূলে শাপলা প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া নিয়ে তার দলের ইতিবাচক অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। এনসিপি মনে করে, শাপলাকে প্রতীক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত না করা এবং এনসিপিকে বরাদ্দ না দেওয়ার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত কোনো আইনি ভিত্তি দ্বারা গঠিত নয়, বরং এনসিপির প্রতি বিরূপ মনোভাব ও স্বেচ্ছাচারী দৃষ্টিভঙ্গির বহিঃপ্রকাশ। তাদের মতে, ইসি প্রতীক ইস্যুতে অন্যায্য আচরণ করছে, যা স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসাবে ইসির গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। নির্বাচনি কার্যক্রমে বঞ্চনার অভিযোগ চিঠিতে এনসিপি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলকভাবে নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় বিলম্ব করা এবং শাপলা প্রতীক বরাদ্দ না দিয়ে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত, আইনবহির্ভুত, বৈষম্যমূলক এবং স্বেচ্ছাচারী আচরণ’ করার অভিযোগ এনেছে। এনসিপি মনে করে, এর মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন অসৎ উদ্দেশ্যে এনসিপিকে নির্বাচনি কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হওয়া থেকে বঞ্চিত করছে, যা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরিতে ইসির সদিচ্ছাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। সার্বিক বিবেচনায় জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি আশা করে, নির্বাচন কমিশন ২০০৮ সালের নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালার বিধি ৯(১) সংশোধনক্রমে এনসিপির অনুকূলে ১. শাপলা, ২. সাদা শাপলা, এবং ৩. লাল শাপলা থেকে যেকোনো একটি প্রতীক বরাদ্দ করবে।

নোয়াখালীর হাতিয়া পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও স্থানীয় আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এ কে এম ছাইফ উদ্দিনকে (৫৯) গ্রেপ্তার করেছে যৌথ বাহিনী। সোমবার (৬ অক্টোবর) বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে হাতিয়া আদালত প্রাঙ্গণ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরের পর থেকেই যৌথ বাহিনীর সদস্যরা আদালত এলাকায় অবস্থান করছিলেন। বিকেলে ছাইফ উদ্দিন আদালতে উপস্থিত হলে তাকে ঘিরে ধরে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনার পরপরই উপজেলা সদরের ওছখালী বাজারে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। তারা ছাইফ উদ্দিনের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়ে স্লোগান দেন এবং থানা ঘেরাওয়ের চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া দিলে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি। হাতিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম আজমল হুদা বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা ছাইফ উদ্দিনকে বিকেলে উপজেলা সদর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে একটি মামলায় তিনি জামিনে ছিলেন। আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হবে। মিছিলের বিষয়ে তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা মিছিলের চেষ্টা করলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়েছে। তারপর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়।