

যদিও রোজা রাখার অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে তবে এর কারণে শরীর ক্লান্ত হওয়া স্বাভাবিক। সারাদিন না খেয়ে থাকার কারণে শরীর কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। তবে চিন্তার কিছু নেই। কিছু বিষয়ে খেয়াল রাখলে পুরো রমজানজুড়ে আপনি সুস্থ ও শক্তিশালী থাকতে পারবেন। দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে উঠলে ক্লান্তিবোধ কমে আসবে। চলুন জেনে নেওয়া যাক, রোজায় শক্তি ধরে রাখতে কী করবেন- ১. সেহরিতে পুষ্টিকর খাবার খান সুষম সেহরি দিনের বেলায় রোজার জন্য শরীরকে প্রস্তুত করতে সাহায্য করবে, পাশাপাশি হজমকে আরও মসৃণ করে তুলবে। জটিল কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি, ফল ও শাক-সবজির মিশ্রণ শরীরকে টিকিয়ে রাখবে। লবণাক্ত বা গভীর ভাজা খাবার এড়িয়ে স্বাস্থ্যকর খাবার উপভোগ করুন। হোল গ্রেইন রুটি, বাদামি চাল, ডিম, অ্যাভোকাডো, পনির এবং কলা বেছে নিন। সেইসঙ্গে পর্যাপ্ত পানি পান করুন। ২. মৃদু ব্যায়াম শরীর যখন রোজার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়, তখন প্রথম কয়েক দিন শক্তির মাত্রা কমে যেতে পারে। এটিকে সামঞ্জস্য করার জন্য, আপনার দিনের মধ্যে মৃদু কার্যকলাপ অন্তর্ভুক্ত করুন। কয়েক মিনিট স্ট্রেচিং, অল্প হাঁটা, অথবা কিছু সহজ শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম আপনাকে পুনরুজ্জীবিত এবং সতেজ করতে সাহায্য করবে। ৩. ঘুমের সময়সূচী ঠিক রাখুন ঐতিহ্যগতভাবে বন্ধুবান্ধব এবং পরিবার একত্রিত হওয়ার সময় হলো রমজান মাস। ইফতার, নামাজ, সেহরি সবকিছু মিলিয়ে রাতে ঘুমের সময়ে পরিবর্তন আসে। যদি সম্ভব হয়, আগে আগে ঘুমাতে যাওয়ার চেষ্টা করুন, অথবা সম্ভব হলে নিয়মিত ঘুমের সময়সূচী বজায় রাখুন। ৪. ঠান্ডা পরিবেশে থাকুন তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে রোজায় পানিশূন্যতার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। ফ্যান এবং এয়ার কন্ডিশনিং সমৃদ্ধ পরিবেশে থাকার চেষ্টা করুন, সেইসঙ্গে সম্ভব হলে তাপ থেকে দূরে থাকুন। তীব্র পানিশূন্যতা এড়াতে নিজের ও প্রিয়জনদের দিকে খেয়াল রাখুন। পানিশূন্যতার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।
২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
দিনের শুরু হোক বা বিকেলের আড্ডা, এক কাপ চা ছাড়া অনেকেরই চলেই না। বাংলাদেশে দুধ চা যেন দৈনন্দিন জীবনের অংশ। কেউ এক কাপ খেলেই চাঙা অনুভব করেন, আবার কেউ দিনে কয়েক কাপ না হলে তৃপ্তি পান না। কিন্তু প্রশ্ন হলো, দুধ মেশানো চা কি সত্যিই শরীরের জন্য উপকারী, নাকি এতে চায়ের আসল গুণ নষ্ট হয়ে যায়? এই প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে চা ও দুধ দুটির গুণাগুণ আলাদা করে বোঝা জরুরি। চা ও দুধ দুটোরই আলাদা উপকারিতা গ্রিন টি ও ব্ল্যাক টি নিয়ে সবচেয়ে বেশি গবেষণা হয়েছে। এই দুই ধরনের চায়েই রয়েছে ফ্ল্যাভোনয়েড নামের অ্যান্টি অক্সিডেন্ট, যা শরীরের কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে। নিয়মিত চা পান করলে হৃদযন্ত্র ভালো থাকে, রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে বলে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে। অন্যদিকে দুধে রয়েছে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম ও পটাশিয়াম। এসব উপাদান হাড় শক্ত রাখতে, পেশি গঠনে এবং শরীরের সামগ্রিক সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই আলাদাভাবে চা ও দুধ দুটোই উপকারী। দুধ চা কি সত্যিই শরীরের জন্য ভালো কোনো ট্রিটমেন্ট ছাড়াই ত্বক উজ্জ্বল রাখতে যা খাবেন দুধ মেশালে কি চায়ের গুণ কমে যায় এই বিষয়টি নিয়ে গবেষণার ফল একরকম নয়। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, দুধের প্রোটিন চায়ের অ্যান্টি অক্সিডেন্টের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তার কার্যকারিতা কিছুটা কমাতে পারে। বিশেষ করে ব্ল্যাক টির ক্ষেত্রে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। একটি গবেষণায় দেখা যায়, দুধ ছাড়া ব্ল্যাক টি রক্তপ্রবাহ বাড়ালেও দুধ মেশালে সেই প্রভাব কমে যায়। তবে সব গবেষণার ফল এমন নয়। অন্য কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, দুধ মেশানো চা খেলেও শরীরে অ্যান্টি অক্সিডেন্টের মাত্রা বাড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, চা ভালোভাবে ভিজিয়ে তৈরি করলে দুধ থাকলেও উপকারী উপাদান শরীরে শোষিত হতে পারে। চায়ের ধরনেও পার্থক্য হতে পারে বেশিরভাগ গবেষণা ব্ল্যাক টি নিয়ে হওয়ায় গ্রিন টি বা ভেষজ চায়ের ক্ষেত্রে দুধের প্রভাব কতটা, তা এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। কিছু গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, গ্রিন টি থেকে ক্যালোরি পোড়ানোর যে উপকার পাওয়া যায়, দুধ মেশালে তা কিছুটা কমে যেতে পারে। তবে এ বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন। তাহলে দুধ চা খাবেন নাকি খাবেন না দুধ চা পুরোপুরি ক্ষতিকর এমন বলা যায় না। যারা চায়ের স্বাস্থ্যগুণ বেশি গুরুত্ব দেন, তারা চাইলে দুধ ছাড়া চা পান করতে পারেন। আবার যারা অভ্যাস বা স্বাদের কারণে দুধ চা পছন্দ করেন, তাদের জন্য মাঝেমধ্যে দুধ চা পান করা সাধারণত সমস্যা নয়। চা ও দুধ দুটোই পুষ্টিকর খাবার। কিছু গবেষণায় দুধ চায়ের উপকার কিছুটা কমতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও তা পুরোপুরি প্রমাণিত নয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পরিমিত চা পান করা এবং সামগ্রিকভাবে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন বজায় রাখা। দুধ চা হোক বা লিকার চা, সঠিক পরিমাণে খেলেই শরীরের জন্য ভালো। সূত্র : Health Line

স্বাস্থ্য সচেতনতা ও দেশপ্রেমের বার্তা ছড়িয়ে দিতে নোয়াখালীতে তিন শতাধিক কিশোর-কিশোরীর সঙ্গে ম্যারাথনে অংশ নিয়েছেন বিশ্বভ্রমণকারী নাজমুন নাহার। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকালে ১৮৪টি দেশে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা ওড়ানো এই ভ্রমণপ্রেমী নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রি) এলাকায় আয়োজিত ম্যারাথনে দৌড়ান। সকালে নোবিপ্রির মূল ফটক থেকে শুরু হওয়া ম্যারাথনের উদ্বোধন করেন নাজমুন নাহার নিজেই। পুরো দৌড়জুড়ে তিনি কিশোর-কিশোরীদের পাশে থেকে উৎসাহ দেন এবং তাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন। জানা গেছে, নোবিপ্রির স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ব্লাড ব্রিগেড-এর উদ্যোগে আয়োজিত ‘রান ফর বাংলাদেশ ২০২৬’ ম্যারাথনটি ২ কিলোমিটার ও ৭.৫ কিলোমিটার এই দুই ক্যাটাগরিতে অনুষ্ঠিত হয়। এটি সংগঠনটির আয়োজনে দ্বিতীয়বারের মতো বড় পরিসরের রানিং ইভেন্ট। দেশপ্রেম, মানবিকতা ও সুস্থ জীবনধারার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই ছিল আয়োজনের মূল লক্ষ্য। আয়োজকরা জানান, কিশোর-কিশোরীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরতেই এই ম্যারাথনের আয়োজন করা হয়। অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরাও এমন উদ্যোগে অংশ নিতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে এবং ভবিষ্যতে নিয়মিত খেলাধুলা করার অঙ্গীকার জানায়। ম্যারাথন শেষে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে সনদ ও স্মারক প্রদান করা হয়। আয়োজকদের আশা, নাজমুন নাহারের এই অংশগ্রহণ তরুণ সমাজকে আরও বেশি স্বাস্থ্যসচেতন ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করবে। আয়োজক মো. আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, রান ফর বাংলাদেশ ২০২৬ কেবল একটি দৌড় প্রতিযোগিতা নয়। এটি তরুণদের মধ্যে দেশপ্রেম, মানবিক চেতনা ও সক্রিয় নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার একটি উদ্যোগ। ভবিষ্যতে এই আয়োজন আরও বৃহৎ পরিসরে নিয়মিত ইভেন্ট হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে বলে আমরা আশাবাদী। ম্যারাথন শেষে নাজমুন নাহার বলেন, আমি ১৮৪টি দেশে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা বহন করেছি। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তরুণদের বলতে চাই—স্বপ্ন দেখো, নিয়মিত শরীরচর্চা করো এবং নিজের দেশকে ভালোবাসো। আজকের এই দৌড় সেই বার্তাই পৌঁছে দেওয়ার একটি প্রয়াস।

বেশি দামে ক্যানুলা বিক্রি, লাজফার্মাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা নোয়াখালী জেলা শহরে ১৮ টাকার ক্যানুলা ৪০ টাকা বিক্রি করায় লাজফার্মাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ে শুনানি শেষে সহকারী পরিচালক (অ.দা) মো. আছাদুল ইসলাম এ জরিমানা করেন। সূত্র জানায়, কবিরহাট এলাকার বাসিন্দা হারুনুর রশিদ গত ১০ জানুয়ারি মাইজদী লাজফার্মাতে গেলে পণ্যের মূল্য ঢেকে ১৮ টাকার ক্যানুলা ৪০ টাকা এবং ২২ টাকার ক্যানুলা ৬০ টাকায় বিক্রি করা হয়। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) ভুক্তভোগী ভোক্তা অধিকারে অভিযোগ দিলে আজ শুনানি শেষে এ রায় দেওয়া হয়। ভুক্তভোগী হারুনুর রশিদ বলেন, পণ্যের দাম বেশি নেওয়ায় প্রতিবাদ করেও প্রতিকার পাইনি। পরে ভোক্তা অধিকারের নোয়াখালী কার্যালয়ে অভিযোগ করি। শুনানি শেষে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সেখান থেকে আমাকে পাঁচ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আছাদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ভুক্তভোগীর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় লাজফার্মাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানার পর সতর্ক করা হয়েছে। একইসঙ্গে সরকারের নিয়ম অনুযায়ী অভিযোগকারীকে জরিমানার ২৫ শতাংশ দেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, সোনাইমুড়ী বাজারে অভিযানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুত ও বাসি খাবার সংরক্ষণের অভিযোগে মেসার্স মামুন হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ সময় ১৫টি বাসি গ্রিজ ও প্রায় ১০ কেজি বাসি খাবার জব্দ করে ধ্বংস করা হয়। এছাড়াও মেয়াদোত্তীর্ণ কোমল পানীয় সংরক্ষণ, বিদেশি পণ্যে অতিরিক্ত মূল্য সংযোজন এবং উৎপাদিত পণ্যে মেয়াদ না থাকায় মেসার্স মিস্টার বাবলু ফুড প্রোডাক্টসকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য ধ্বংস করা হয়।

নোয়াখালী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সাড়ে ৫ কোটি টাকার অব্যবহৃত পাইপ গোপন টেন্ডারে আওয়ামী লীগ নেতার কাছে মাত্র ১৯ লাখ টাকায় বিক্রির দায়ে অভিযুক্ত নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলামের প্রত্যাহার চেয়েছেন অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) এ সংক্রান্ত স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-সচিব মুহাম্মদ নজরুল ইসলামের সই করা একটি চিঠি নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব বরাবরে পাঠানো হয়েছে। নির্বাচন কমিশনে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, ‘জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নোয়াখালী জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে পত্রিকায় প্রকাশিত অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়গুলো সরেজমিন তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য ওই দপ্তরের চট্টগ্রাম সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (চ দা) মো. আলী আজগরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। উত্থাপিত অভিযোগগুলো সুষ্ঠুভাবে তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলামকে প্রত্যাহার করে ঢাকায় প্রধান কার্যালয়ে সংযুক্ত করার জন্য প্রধান প্রকৌশলী মো. আবদুল আউয়াল অনুরোধ জানিয়েছেন। এমতাবস্থায় এ বিষয়ে মতামত দেওয়ার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।’ খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ড্যানিডা প্রকল্পের অর্থায়নে সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার বিভিন্ন ধরনের পাইপ ও নির্মাণ সামগ্রী নোয়াখালী সরকারি কলেজের সামনে একটি গুদামে সংরক্ষিত ছিল। এসব মালামাল কথিত দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে নামমাত্র একটি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে নিলামে তোলা হয়। পরে নির্বাহী প্রকৌশলী ও অফিসের লোকজনের যোগসাজশে আওয়ামী লীগ নেতা শাহনাজসহ কয়েকজনের নামে মাত্র ১৮ লাখ ৮৫ হাজার টাকায় নিলাম দিয়ে কার্যাদেশের মাধ্যমে মালামালগুলো সুবর্ণচরের চরবাটা ও চর আমানউল্লা এলাকায় সরিয়ে নেওয়া হয়। নোয়াখালী জনস্বাস্থ্যের নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু বিষয়টি জানাজানি হলে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আবদুল মোতালেব আপেলের নেতৃত্বে বিএনপির সমর্থিত ঠিকাদাররা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীর কার্যালয়ে গিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলামকে অবরুদ্ধ করেন। পরে নির্বাহী প্রকৌশলী টেন্ডার বাতিলের আশ্বাস দিয়ে পরদিন অফিসে অনুপস্থিত থাকেন। ঠিকাদারদের অভিযোগ, দেড় ইঞ্চি ব্যাসের ৪৮ হাজার ও তিন ইঞ্চি ব্যাসের ২৮ হাজার পাইপসহ প্রায় ১৫ লাখ ২০ হাজার ফুট বিভিন্ন মাপের পাইপ আওয়ামী লীগ নেতা শাহনাজের লাইসেন্সে নিলামে বিক্রি করা হয়। যার আনুমানিক বাজার মূল্য পাঁচ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। কিন্তু এ তথ্য গোপন করে মাত্র ১৮ লাখ ৮৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে সরকারের বিপুল অঙ্কের টাকা নির্বাহী প্রকৌশলীসহ কর্মকর্তারা হাতিয়ে নিয়েছেন। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও ঠিকাদার আবদুল মোতালেব আপেল বলেন, নোয়াখালীবাসীর কয়েক কোটি টাকার সম্পদ নির্বাহী প্রকৌশলীসহ অফিসের লোকজন গোপনে পানির দামে বিক্রি করে দিয়েছে। আমরা এর প্রতিবাদ করতে গেলে লোকজন অফিস রেখে পালিয়ে যান। মালামাল সরিয়ে নেওয়ার পরে ওই টেন্ডার বাতিলের আশ্বাসও দেন নির্বাহী প্রকৌশলী। আমরা এর বিচার চাই। পরে গত ৭ জানুয়ারি (বুধবার) জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আলী আজগর এ ঘটনার তদন্তে আসেন। সেদিন তিনি জাগো নিউজকে বলেছিলেন, মিডিয়ার মাধ্যমে বিষয়টি জানাজানির পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তদন্ত করতে এসেছি। আগামী ৫ কর্মদিবসের মধ্যে এ ব্যাপারে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। তদন্তের সময় নোয়াখালী সরকারি কলেজের সামনের জনস্বাস্থ্যের আঞ্চলিক পানি পরীক্ষাগারের গোডাউনে গিয়ে বেশ কিছু পাইপ দেখতে পায় তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আলী আজগর। খবর নিয়ে জানা গেছে, রাতের আঁধারে অনেক মালামাল সরিয়ে নেওয়া হলেও জানাজানির পর এগুলো এখনো সরিয়ে নিতে পারেনি। এ ঘটনায় গত ৬ জানুয়ারি ‘গোপন টেন্ডারে ৫ কোটির পাইপ ১৯ লাখে নিলেন আ’লীগ নেতা’ এবং ৮ জানুয়ারি ‘নোয়াখালী জনস্বাস্থ্যের নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে জাগো নিউজ।

মাইজদীতে স্বাস্থ্য সহকারী নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ নোয়াখালী জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের অধীনে অনুষ্ঠিত স্বাস্থ্য সহকারী নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ পওয়া গেছে। এ ঘটনায় লিখিত পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় পরীক্ষা গ্রহণ এবং নোয়াখালী সিভিল সার্জন ডা. মরিয়ম সিমির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থীরা। সোমবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে এ ঘটনায় নোয়াখালী প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে পরীক্ষার্থীরা। পরে তারা পরীক্ষা বাতিল ও নোয়াখালীর সিভিল সার্জন ডা. মরিয়ম সিমির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলামের কাছে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব বরাবর লিখিত স্মারকলিপি প্রদান করেন।স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, গত ১০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে নোয়াখালী সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের অধীনে স্বাস্থ্য সহকারী পদে নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা এমসিকিউ পদ্ধতিতে না হয়ে লিখিত আকারে গ্রহণ করা হয়। পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্রের সঙ্গে উত্তরপত্র সরবরাহ করে লিখিতভাবে উত্তর দিতে বলা হয়। এতে প্রায় ৮ হাজার পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। পরীক্ষা শেষ হওয়ার মাত্র ১১–১২ ঘণ্টার ব্যবধানে একই দিন রাতেই সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ফলাফল প্রকাশ করা হয়। যা একটি লিখিত পরীক্ষার ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক ও প্রশ্নবিদ্ধ। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে জানা যায়, পরীক্ষায় অংশ না নিয়েও কয়েকজনের রোল নম্বর চূড়ান্ত ফলাফলে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।পরীক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, সিভিল সার্জন ডা. মরিয়ম সিমির সঙ্গে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের এক জুনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তার ঘনিষ্ঠতার সুযোগে সুবিধাভোগী প্রার্থী বাছাই করা হয়েছে। এমনকি বিপুল অর্থের বিনিময়ে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দেওয়ার কথাও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়। এমতাবস্থায় পরীক্ষার্থীরা ১০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত লিখিত পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় নিয়মতান্ত্রিক ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় পরীক্ষা গ্রহণ, অভিযুক্ত সিভিল সার্জনকে অন্যত্র বদলি এবং তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে বিকেল সোয়া ৩টার দিকে নোয়াখালী সিভিল সার্জন ডা. মরিয়ম সিমির মুঠোফোনে একাধিক ফোন করা হলে তিনি রিসভি করেনি। অফিসে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।

২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারির মধ্যে বিতর্কিত নেসলে কিটক্যাট চকলেটের একটি লট বাজার থেকে অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) জারি করা খাদ্য আদালতের আদেশে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে এ অপসারণ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে বলা হয়। বাদী পক্ষের দাখিল করা দরখাস্তের পরিপ্রেক্ষিতে, মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নেসলে বাংলাদেশের কিটক্যাট চকলেটের একটি লট বাজার থেকে অপসারণের নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকার একটি আদালত। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক কামরুল হাসান তার আবেদনে বলেন, নেসলে বাংলাদেশ কিটক্যাট চকলেট একটি অনিবন্ধিত, অননুমোদিত, অস্পষ্ট ও নিম্নমানের পণ্য। এটি অনিরাপদ, ভেজাল এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। আবেদনে তিনি আরও বলেন, এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জনগণের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে, ভেজাল ও অনিরাপদ খাদ্য নিয়ন্ত্রণ করতে এবং খাদ্য ব্যবসায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে আদালতের কাছে নেসলে বাংলাদেশকে বাজার থেকে কিটক্যাট চকলেট প্রত্যাহার ও ধ্বংসের নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বিএসটিআই লাইসেন্স ও ছাড়পত্র না পাওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশে নেসলে কিটক্যাট চকলেটের আমদানি, বিপণন ও বিক্রয় সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার অনুরোধ করা হয়েছে।
১৬ ডিসেম্বর, ২০২৫
১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের দাবীতে সুবর্ণচরে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা কর্মবিরতি পালন করেছে। বুধবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া এ কর্মবিরতি চলে দুপুর ১২টা পর্যন্ত। নিজ নিজ দপ্তরের সকল কাজ কর্ম ফেলে দাবী আদায়ের লক্ষে এ কর্মবিরতি পালন করছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ফার্মেসী, এক্স-রে, প্যাথলজি কর্মকর্তারা। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ রোগী। তাই আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত। এছাড়া একই দাবীতে এর আগে গত ৩০ নভেম্বর সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত কর্মবিরতি পালন করেছিলেন তারা। এদিকে দাবী বাস্তবায়নে বৃহস্পতিবার থেকে লাগাতার কমপ্লিট শাট ডাউন কর্মসূচী পালনের ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। কর্মবিরতি কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ফার্মাসিস্ট খায়রুল ইসলাম, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট তুষার কুমার পোদ্দার, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট রাকিবুল ইসলাম, ফার্মাসিস্ট মো: নাসির উদ্দীন, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট মো: রাসেল উদ্দিন, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট শিশির লাল সাহা, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট মিশু মজুমদার, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট মো: নুরুল হুদা পলাশ প্রমুখ। কর্মবিরতি পালনকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) তুষার কুমার পোদ্দার বলেন, ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের দাবীতে আমরা বুধবার অর্ধদিবস কর্মবিরতি পালন করেছি। দাবী বাস্তবায়ন না হলে বৃহস্পতিবার থেকে লাগাতার কমপ্লিট শাট ডাউন কর্মসূচী পালন করা হবে। তিনি আরো বলেন, দীর্ঘ ৩১ বছর ধরে আমরা এ দাবীতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন কর্মসূচি পালন করে আসছি। কিন্তু বিগত সরকারের আমলে আশ্বাস দিলেও দাবী বাস্তবায়ন করা হয়নি। ফলে আমরা চরম বৈষম্যের শিকার হচ্ছি। আমরা স্বাস্থ্য খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন কর আসছি। আমাদের কর্মবিরতিতে রোগীদের ভোগান্তি হচ্ছে। তাই আশা করছি বর্তমান সরকার আমাদের দাবী বাস্তবায়নের মধ্যদিয়ে কর্মক্ষেত্রে ফেরার ও রোগীদের সেবা প্রদানের ব্যবস্থা করে দিবেন। বক্তা অভিযোগ করেন- করোনা, ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকিতে জীবন বাজি রেখে কাজ করলেও ন্যায্য গ্রেড থেকে আমরা বঞ্চিত।

আমার ময়না আর নেই, ডাক্তার আমার ময়নাকে খুন করেছে। ভুল চিকিৎসা আমার ময়নাকে আমার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে। সে আর কখনো আমার সঙ্গে কথা বলবে না, হাসবে না। তার দুই বছরের ছোট্ট শিশু আছে— মায়ের জন্য কাঁদে, কিন্তু তার মা আর ফিরে আসবে না। এই দৃশ্য আমরা সহ্য করতে পারছি না।’ শনিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে জেলা শহরের হাউজিং এলাকায় মেয়েকে হারিয়ে এভাবেই কান্না করতে করতে কথাগুলো বলছিলেন নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা শাহিন আক্তার। নিহত রিংকি আক্তার বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নের আব্দুল আজিজ বাবুলের মেয়ে। তার স্বামীর বাড়ি পার্শ্ববর্তী সোনাইমুড়ী উপজেলার বজরা ইউনিয়নের বদরপুর গ্রামে। তার স্বামী নুর হোসেন ইতালি প্রবাসী। তাদের দুই বছরের একটা ছেলে সন্তান রয়েছে। জানা গেছে, কিছুদিন আগে নোয়াখালীর একলাশপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা রিংকি আক্তার অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবার তাকে হাউজিং এলাকার ডা. মো. মুজিবুল হকের কাছে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান। চিকিৎসক জানান, রোগীর অস্ত্রোপচার প্রয়োজন। পরিবারের সদস্যরা ২৫ নভেম্বর অপারেশনে সম্মতি দিলে সেদিনই অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। অপারেশনের পর রোগীকে তড়িঘড়ি করে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। বাড়িতে নেওয়ার পরই রিংকির তলপেটে ব্যথা তীব্র আকার ধারণ করে এবং অতিরিক্ত রক্তপাত শুরু হয়। বিষয়টি চিকিৎসককে জানালে তিনি রক্তপাতকে স্বাভাবিক বলে দাবি করেন এবং কোনো ধরনের গুরুত্ব দেননি বলে অভিযোগ নিহতের পরিবারের। রোগীর অবস্থার আরও অবনতি হলে শনিবার (২৯ নভেম্বর) সকাল ৯টার দিকে তাকে পুনরায় ডা. মুজিবুল হকের হাসপাতালে আনা হয়। সকাল ১০টার কিছু পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় রিংকি আক্তারের মৃত্যু হয়। নিহতের মা শাহিন আক্তার বলেন, আমি মনে করি চিকিৎসকের অবহেলা, দায়িত্বহীনতা এবং ভুল চিকিৎসার কারণেই আমার মেয়েকে আমরা হারিয়েছি। তার ব্যথা ও রক্তপাতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি, সে একটু পানিও খেতে পারে নাই। আজ সকালে আনলে ডাক্তার বলেছে সে স্বাভাবিক আছে। কিন্তু রক্তক্ষরণ হয়েছে প্রচুর। যেখানে দ্রুত সঠিক চিকিৎসা পেলেই হয়তো আজ সে বেঁচে থাকতো। নিহতের ভাই আলাউদ্দিন শাকিল বলেন, আমি শুধু আমার বোনের জন্য নয়, ভবিষ্যতে যেন আর কোনো পরিবার এভাবে প্রিয়জনকে হারাতে না হয়—সেই ন্যায়বিচারের জন্য চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা চাই। আমার বোনের মৃত্যুর সঠিক বিচার হোক— এটাই আমার একমাত্র দাবি। তিনি আরও বলেন, ডা. মুজিবুল হকের বিরুদ্ধে এর আগেও ভুল চিকিৎসার অভিযোগ রয়েছে। মৃত্যুর ঘটনা জানাতে গেলে চিকিৎসক ও তার সহযোগীরা পরিবারকে ধাওয়া দিয়ে বের করে দেন এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। আমরা সুধারাম মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। এলাকাবাসী জানান, তার বাড়িতেই তিনি চিকিৎসা করান এবং অপারেশন করান। তার কোনো বৈধতা নেই। তবে বারবার চেষ্টা করেও ডা. মুজিবুল হকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে সুধারাম মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম বলেন, আমরা খবর পেয়েই পুলিশ প্রেরণ করেছি। এছাড়াও ভুক্তভোগীর ভাই অভিযোগ দিয়েছে। আমরা সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।

শীতকাল এলে পানির সঙ্গে আড়ি করেন অনেকেই। পানি পানের পরিমাণও কমিয়ে দেন। মনে করেন, পানি কম খেলে, বাথরুমে কম যেতে হবে। আবার কেউ কেউ মনে করেন, যতই শীত পড়ুক অন্তত ৩/৪ লিটার পানি খেতেই হবে। নয়তো শরীর ডিহাইড্রেট হয়ে যেতে পারে। কিন্তু আসল সত্য কোনটি? শীতে কতটুকু পানি পান করা উচিত? শীতকালে কতটুকু পানি পান করা উচিত? শীতে এমনিই ঘামের পরিমাণ অনেকটা কমে যায়। অনেকের ঘাম হয় না বললেই চলে। আর তাই শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি বের হওয়ার রাস্তা কেবল একটাই। তা হলো টয়লেট। শীতে ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ পাওয়ার প্রবণতা দেখা দেয় এই কারণেই। ইউরোলজিস্টের মতে, বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে শীতকালে বার বার বাথরুমে যাওয়ার প্রবণতা বেশি দেখা যায়। অনেক সময় বেগ নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। এছাড়া এই সময় কফি-চা খাওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়। তাই এসময় একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির দেড় থেকে দুই লিটার পানি পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে অনেকের শীতেও ঘাম হয়। তাদের বেশি পানি পান করতে হয়। শীতে পানি কম খেলে কোনো সমস্যা হতে পারে? সাধারণত এমন কোনো সমস্যা দেখা যায় না। গরমকালে আমাদের শরীরে ঘামের মাধ্যমে যতটা পানি বেরিয়ে যায়, শীতকালে তা প্রায় শূন্য হয়ে যায়। তবে কেউ যদি প্রচণ্ড শারীরিক পরিশ্রম করেন বা ব্যায়াম করেন বা এমন কোনো কাজ করেন যেখানে অত্যন্ত ঘাম হচ্ছে, তাহলে তাদের অবশ্যই পানি বেশি খেতে হবে। সাধারণত কতটুকু পানি পান করা উচিত? শীতে পানি কম খাওয়া হবে না কি বেশি তা সম্পূর্ণ নির্ভর করে স্থান, কাল, পাত্র ভেদে। মানে ঠান্ডার দেশে সাধারণ পানি খাওয়ার মাত্রা আর আমাদের দেশের মতো আর্দ্র জায়গায় পানি খাওয়ার প্রয়োজনীয়তা কখনও এক হতে পারে না। আমাদের দেশের জলবায়ু অনুযায়ী দিনে ৩-৪ লিটার পানি পান করা উচিত। শীতে সামান্য কম খেলেও চলবে।
২৪ নভেম্বর, ২০২৫
শীতকাল শুরু হলে বেশিরভাগ মানুষ গলা এবং বুকে অস্বস্তি অনুভব করেন। শুষ্ক ও দূষিত বাতাসের কারণে শ্বাস নিতে কষ্ট হতে পারে, অনেকেই অতিরিক্ত কাশি, গলা বা মাথাব্যথা এবং বুক ভারী বোধ করেন। এ ক্ষেত্রে, রান্নাঘরে থাকা কিছু মসলা প্রাকৃতিকভাবে এই সমস্যাগুলোর সমাধান করতে পারে। শীতকালে গলা ও বুকের অস্বস্তি কমাতে সহায়ক এমন কিছু মসলা এবং ভেষজ সম্পর্কে জানুন- হলুদ গলা ও বুকের অস্বস্তি কমাতে হলুদ একটি জনপ্রিয় উপাদান। ২০২৩ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, এর প্রদাহ-বিরোধী এবং অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুণ দূষিত বাতাসের কারণে হওয়া জ্বালা প্রশমিত করে। উষ্ণ হলুদ পানি বা হলুদ দুধ গলায় আবরিত হয়ে শুষ্কতা কমাতে সাহায্য করে এবং তাৎক্ষণিক উষ্ণতা দেয়। হলুদ কফ কমাতে এবং বায়ুবাহিত জ্বালাপোড়ার বিরুদ্ধে কাজ করে। আদা আদা শ্বাসকষ্ট এবং গলা ব্যথা কমাতে কার্যকর। ২০১৮ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, এটি শ্বাসনালীর প্রদাহ কমাতে, শ্লেষ্মা পরিষ্কার করতে এবং কাশি নিরাময়ে সহায়তা করে। আদা চা পান বা মধু দিয়ে কাঁচা আদা খেলে এ ধরনের সমস্যা অনেকটা কমে যায়। তুলসি পাতা তুলসি শ্বাসকষ্টের জন্য একটি ঐতিহ্যবাহী উপকারি প্রতিকার, বিশেষত শীতে। ২০২৩ সালের গবেষণায় এর অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল, প্রদাহ-বিরোধী এবং ডিটক্সিফাইং গুণ গলা চুলকানি ও বুকের অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করে। তুলসি চা বা তুলসি পাতার রস মিশ্রিত পানি শুষ্ক কফ এবং কাশি কমাতে সহায়তা করে, পাশাপাশি শ্বাস-প্রশ্বাসকে মসৃণ করে। গোল মরিচ গোল মরিচ শ্লেষ্মা পরিষ্কারের জন্য উপকারী এবং শ্বাসনালীতে ভালো বায়ুপ্রবাহ নিশ্চিত করে। স্যুপ বা উষ্ণ পানিতে মধু এবং গোল মরিচ মিশিয়ে খেলে গলায় আরাম পাওয়া যায়। এটি রক্তসঞ্চালন উদ্দীপিত করে, ফলে দীর্ঘসময় বাইরে থাকার পর বুকের ভারীতা কমাতে সাহায্য করে।
.jpeg&w=3840&q=75)
নোয়াখালীর জেলা শহর মাইজদীর একটি হাসপাতালে হাতের অপারেশন করাতে গিয়ে রাবেয়া বেগম (৪৮) নামে এক নারীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। রোববার (১৬ নভেম্বর) দুপুরে মৃতের মেজো ছেলে মো. রাজন হোসেন এমন অভিযোগ করেন। এর আগে শনিবার রাত পৌনে ১২টার দিকে প্রাইম হসপিটালের অপারেশন থিয়েটারে ওই নারী মারা যান। মৃত রাবেয়া লক্ষ্মীপুর জেলার চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের শেখপুর গ্রামের সর্দার বাড়ির শামছুল হুদার স্ত্রী। নিহতের ছেলে রাজন হোসেন অভিযোগ করে বলেন, দুই মাস আগে বাড়ির উঠানে পা পিছলে পড়ে বাম হাতের কবজির ওপরে ভেঙে ফেলেন মা। তাৎক্ষণিক চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের এক ডাক্তারের কাছে ভাঙা হাতে প্লাস্টার করা হয়। দুই মাস পর প্লাস্টার খুলে এক্সরে করলে দেখা যায় ভাঙা হাড় জোড়া লাগেনি। এরপর মাইজদীর প্রাইম হসপিটালের ডাক্তার ফরিদুল ইসলামের সঙ্গে ৭৫ হাজার টাকায় মায়ের বাম হাতের ভাঙা স্থানে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পাত বসানোর চুক্তি হয়। তিনি জানান, চুক্তি মোতাবেক শনিবার সন্ধ্যায় মাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। একই দিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে অজ্ঞান করেন অ্যানেসথেসিয়ান গোলাম হায়দার। পরে তার আর জ্ঞান ফেরেনি। রাজন অভিযোগ আরও বলেন, অজ্ঞান করার এক ঘণ্টা পর তাকে আইসিইউতে নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তীতে ব্যাপক টালবাহানা করে রাত সাড়ে ৩টার দিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান আমার মা মারা গেছেন। প্রকৃতপক্ষে আমার মা অজ্ঞান করার কিছুক্ষণের মধ্যেই মারা যান। রোববার সকালে হাসপাতাল থেকে আমাদের জানানো হয় অপারেশন, আইসিইউ ও অ্যাম্বুলেন্সের কোনো খরচ লাগবে না আপনারা মরদেহ নিয়ে যান। হাসপাতাল থেকে আমাকে বলা হয়েছে- আমার মায়ের হাইপ্রেশার থাকায় এমন হয়েছে। আবার বলে লো প্রেশার ছিল, এজন্য এমন হয়েছে। রোববার দুপুর সোয়া ১টার দিকে আমার বড় ভাই ও চাচা হাসপাতালে এসে সমঝোতা করে মরদেহ নিয়ে গেছেন। কী সমঝোতা হয়েছে সেটা আমি এখনো জানি না। যোগাযোগ করা হলে মাইজদী প্রাইম হসপিটালের সিনিয়র এজিএম শিপন শাহ ভুল চিকিৎসার মৃত্যু অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বলেন, অপারেশনের পর রোগীর অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। ডাক্তার রোগীর স্বজনদের বলেছেন আপনারা মামলা করার প্রয়োজন মনে করলে করেন। নোয়াখালী সিভিল সার্জন ডাক্তার মরিয়ম সিমি বলেন, এ ঘটনায় কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কলা হলো সবচেয়ে পুষ্টিকর এবং সাশ্রয়ী মূল্যের ফলের মধ্যে একটি। সকালের নাস্তায় অনেকে কলা খেয়ে থাকেন। খালি পেটে কলা খাওয়া কি উপকারী নাকি ক্ষতিকর? এটি কেবল আপনার পেট ভরিয়ে তুলবে না, সেইসঙ্গে করবে আরও কিছু কাজও। কলা অন্ত্রের স্বাস্থ্যের উন্নতি করে, রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল করে এবং আরও অনেক উপকার নিয়ে আসে। ১. দ্রুত শক্তি বৃদ্ধি করে কলা খাদ্যতালিকায় নিয়মিত থাকা উচিত কারণ এর অনেক সুবিধা রয়েছে। কলা পটাসিয়াম, ফাইবার এবং ম্যাগনেসিয়ামের একটি চমৎকার উৎস, যা শরীরের বিভিন্ন পুষ্টির চাহিদা পূরণ করে। এটি স্ট্যামিনা বাড়ায় এবং ক্ষুধার যন্ত্রণা কমায়। কলায় তিনটি প্রাকৃতিক শর্করা থাকে- গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ এবং সুক্রোজ, যা শক্তি স্থিতিশীল এবং টেকসই করে। সকালে প্রথমেই একটি কলা খেলে বিপাক প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং প্রক্রিয়াজাত নাস্তার মতো শরীরের কোনো ক্ষতি করে না। ২. অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে ডাক্তার এবং পুষ্টিবিদরা সকালের ফল হিসেবে কলা খাওয়ার পরামর্শ দেন, তার একটি কারণ রয়েছে। এটি দ্রবণীয় ফাইবার, বিশেষ করে পেকটিন সমৃদ্ধ, যা মসৃণ হজম এবং নিয়মিত মলত্যাগে সহায়তা করে। খালি পেটে কলা খেলে তা অম্লতা প্রশমিত করতে এবং পেট ফাঁপা কমাতে সাহায্য করে। সেইসঙ্গে মসৃণ মলত্যাগেও সহায়তা করে। ২০২০ সালের একটি গবেষণাপত্রও নিশ্চিত করেছে যে, কলা একটি প্রাকৃতিক প্রিবায়োটিক হিসেবে কাজ করে, অন্ত্রের ভালো ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি করে এবং মাইক্রোবায়োমকে শক্তিশালী করে। এটি পুষ্টি শোষণ এবং সামগ্রিক অন্ত্রের স্বাস্থ্যে সহায়তা করে। ৩. রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল করতে সাহায্য করে প্রাকৃতিকভাবে মিষ্টি হওয়া সত্ত্বেও কলার মাঝারি গ্লাইসেমিক সূচক প্রায় ৪৮। এর অর্থ হলো এটি ধীরে ধীরে চিনি ছেড়ে দেয়, যা হঠাৎ করে বৃদ্ধি না করে রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল করতে সাহায্য করে। এক মুঠো বাদাম বা বীজের সঙ্গে কলা মিশিয়ে খেলে রক্তে শর্করার ভারসাম্য আরও বজায় রাখা যায়। ফাইবারের পরিমাণ চিনির শোষণকে ধীর করে দেয়, যা শরীরকে চর্বি হিসেবে সংরক্ষণ করার পরিবর্তে জ্বালানি হিসেবে প্রাকৃতিক শর্করা ব্যবহার করতে দেয়।
২৩ অক্টোবর, ২০২৫
হৃদরোগ বিশ্বব্যাপী মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ ছিল এবং এখনও আছে, তবে একমাত্র সুসংবাদ হলো এটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। করোনারি হৃদরোগ তখন ঘটে যখন হৃদপিণ্ডে রক্ত বহনকারী ধমনীগুলো সংকুচিত বা অবরুদ্ধ হয়ে যায়, সাধারণত ধমনীতে প্লাক বা ফ্যাট জমার কারণে এমনটা হয়। সংজ্ঞা অনুসারে এই প্রক্রিয়াটিকে এথেরোস্ক্লেরোসিস বলা হয়। যা ধীরে ধীরে হৃদপিণ্ডে রক্ত প্রবাহ হ্রাস করে, যার ফলে ধীরে ধীরে বুকে ব্যথা, হার্ট অ্যাটাক এমনকি হার্ট ফেইলিওরও হতে পারে। উচ্চ রক্তচাপ উচ্চ রক্তচাপ হৃদপিণ্ড এবং ধমনীর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে।এর ফলে ধমনীর দেয়াল দুর্বল হয়ে পড়ে এবং চর্বি জমা হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। নিয়মিত ফলো-আপ, ব্যায়াম এবং খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে রক্তচাপের মাত্রা বজায় রেখে হৃদপিণ্ডকে সুরক্ষিত রাখার এটি সবচেয়ে কার্যকর উপায়। PubMed central-এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় নিশ্চিত করা হয়েছে যে, উচ্চ রক্তচাপ দীর্ঘ সময় ধরে চিকিৎসা না করা হলে তা হৃদরোগের কারণ হতে পারে। উচ্চ কোলেস্টেরল সকল কোলেস্টেরলের রিডিং একই রকম হয় না! অত্যধিক LDL বা খারাপ কোলেস্টেরল যাকে বলা হয়, ধমনীতে লেগে থাকে এবং প্লাক তৈরি করে যা ধমনীকে শক্ত করে তোলে। আপনার খাদ্যতালিকায় ফল, শাক-সবজি এবং গোটা শস্যের পরিমাণ বৃদ্ধি করলে স্বাভাবিকভাবেই শরীরের খারাপ চর্বি কমে যায়। এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, মোট কোলেস্টেরল বৃদ্ধি CHD-এর জন্য একটি শক্তিশালী ঝুঁকির কারণ। ডায়াবেটিস রক্তে শর্করার মাত্রা ক্রমাগত বৃদ্ধি পেলে তা রক্তনালী এবং স্নায়ুকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, যা হৃদপিণ্ডকে নিয়ন্ত্রণ করে। প্রয়োজনে খাদ্য, ব্যায়াম এবং ওষুধের মাধ্যমে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করলে হৃদরোগের সম্ভাবনা কমে যায়। গবেষণায় বলা হয়েছে যে, করোনারি আর্টারি ডিজিজ (CAD) ডায়াবেটিস মেলিটাস (DM) রোগীদের দীর্ঘমেয়াদী পূর্বাভাসের একটি প্রধান নির্ধারক। ধূমপান ধূমপান ধীরে ধীরে ধমনীর অভ্যন্তরীণ আস্তরণের ক্ষতি করে এবং শরীরে রক্ত প্রবাহ এবং অক্সিজেন হ্রাস করে যার ফলে হৃদপিণ্ডের ওপর চাপ বৃদ্ধি পায়। জাতীয় স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের গবেষণায় বলা হয়েছে যে, ধূমপান করোনারি ধমনী রোগের (CAD) ঝুঁকির কারণ। স্থূলতা শরীরের মাঝখানে (পেটের অংশে) অতিরিক্ত ওজন বহন করলে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তের কোলেস্টেরলের ঝুঁকি বেড়ে যায়। সঠিক ব্যায়াম এবং খাদ্য সচেতনতার সাহায্যে যত্ন সহকারে ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং হৃদযন্ত্রের সুস্বাস্থ্য বজায় সহজতর করতে পারে। শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা শারীরিক নিষ্ক্রিয়তাও স্থূলতা এবং উচ্চ রক্তচাপের মতো ঝুঁকির কারণ। দিনে মাত্র ৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটা আপনার হৃদযন্ত্রকে শক্ত করে তুলবে এবং রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধি করবে। তাই অলস শুয়ে-বসে না থেকে শারীরিক পরিশ্রম হয় এমন কাজ করুন।