

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত স্মারক আসল ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি আজ বাংলাদেশে এসেছে। ‘ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ ট্রফি ট্যুর’-এর অংশ হিসেবে এই আয়োজন ফুটবল ভক্তদের ট্রফিটি কাছ থেকে দেখার সুযোগ করে দিচ্ছে। এর আগে ২০০২, ২০১৩ এবং ২০২২ সালে ট্রফিটি বাংলাদেশে এসেছিল। চলতি সফরটি ৩ জানুয়ারি সৌদি আরব থেকে শুরু হয়েছে এবং ভারত হয়ে বাংলাদেশে পৌঁছাল। ১৫০ দিনের এই যাত্রা শেষ হবে মেক্সিকোতে, যেখানে ১২ জুন বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। ৩০টি দেশের ৭৫টি ভেন্যুতে এই ট্রফি প্রদর্শন করা হবে। বাংলাদেশ ছেড়ে পরবর্তী সফরে ট্রফি যাবে দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, কাজাখস্তান এবং উজবেকিস্তানে। তারপর আফ্রিকার দক্ষিণ আফ্রিকা, আইভরি কোস্ট, মরক্কো এবং আলজেরিয়ায় সফর করবে। এরপর ইউরোপের পর্তুগাল, স্পেন ও ফ্রান্স হয়ে চূড়ান্ত গন্তব্য উত্তর আমেরিকায়। সবশেষে ট্রফিটি বিশ্বকাপের তিন আয়োজক দেশ মেক্সিকো, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডায় পৌঁছানোর মাধ্যমে তার যাত্রা শেষ করবে। মাঝেমধ্যে প্রশ্ন ওঠে, ট্যুরে কি আসল ট্রফি থাকে? ফিফা নিশ্চিত করেছে যে প্রদর্শিত ট্রফিটি আসল এবং এটি নিখাদ সোনা দিয়ে তৈরি, যার ওজন ৬.১৭৫ কেজি। আর বিজয়ী দল উদযাপনের সময় আসল ট্রফি নিয়ে উদযাপন করলেও তাদেরকে স্থায়ীভাবে দেওয়া হয় সোনার প্রলেপ দেওয়া রেপ্লিকা ট্রফি। এবারের সফরে ট্রফির সঙ্গে আছেন ব্রাজিলের ২০০২ বিশ্বকাপজয়ী মিডফিল্ডার গিলবার্টো সিলভা। ২০২২ সালের ট্রফি ট্যুরে ফ্রান্সের বিশ্বকাপ জয়ী ক্রিস্টিয়ান কারেম্বেউ ছিলেন বাংলাদেশে। প্রদর্শনী ও দেখার নিয়মাবলী বাংলাদেশে ট্রফিটি শুধুমাত্র ঢাকার রেডিসন ব্লু হোটেলে প্রদর্শন করা হবে। তবে সবাই এটি দেখার সুযোগ পাবেন না। কোকা-কোলার ‘আন্ডার দ্য ক্যাপ’ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে নির্বাচিত বিজয়ীরাই কেবল এটি দেখার এবং ছবি তোলার সুযোগ পাবেন। ট্রফি দেখার যত নিয়ম অবশ্যই টিকিটের একটি বৈধ কপি সাথে রাখতে হবে। ট্রফি স্পর্শ করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। অনুমোদিত আকারের চেয়ে বড় ব্যাকপ্যাক বহন করা, ধূমপান করা এবং টিকিট অন্য কারো কাছে হস্তান্তর করা যাবে না। ধারালো বা অন্য কোনো নিষিদ্ধ বস্তু বহন করা সম্পূর্ণ নিষেধ। এছাড়া, প্রদর্শনী এলাকার ভেতরে কোনো দেশ বা ফুটবল দলের পতাকা নিয়ে প্রবেশের অনুমতি নেই। আজ সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ট্রফিটিকে স্বাগত জানানো হয় এবং দুপুর ১টার পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এটি রেডিসন ব্লু হোটেলে প্রদর্শিত হবে।
১৪ জানুয়ারী, ২০২৬
নারী ফুটবল লিগে ঋতুপর্ণার রাজশাহী স্টারের জয় অব্যাহত রয়েছে। প্রথম দুই ম্যাচে তিনি গোল পাননি। তৃতীয় ম্যাচে জোড়া গোল করেছেন। আজ এক গোল করলেও জাতীয় নারী দলের তারকা ফুটবলার ম্যাচ সেরা হয়েছেন। আনসারকে ৮-০ গোলে হারিয়েছে রাজশাহী। রেশমির জোড়া গোলের পাশাপাশি ঋতুপর্ণা চাকমা, আলপি আক্তার, মুনকি আক্তার, শাহেদা আক্তার রিপা, পূজা ও সৌরভী আকন্দ প্রীতি একটি করে গোল করেন। রাজশাহী প্রথমার্ধে ৩-০ গোলে এগিয়ে ছিল। ৬৩ মিনিটে আলপির কাছ থেকে বল পেয়ে বক্সের বাইরে থেকে দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় বাঁ পায়ের শটে গোল করেন ঋতুপর্ণা। এই ম্যাচে রাজশাহীর অধিনায়কও ছিলেন ঋতুপর্ণা। আজ মঙ্গলবারও ছিল পাঁচ ম্যাচ। প্রত্যাশিত জয়ই পেয়েছে আর্মি, রাজশাহী ও ফরাশগঞ্জ। দিনের তৃতীয় ম্যাচে ফরাশগঞ্জ মোকাবিলা করে রংপুরের ক্লাব সদ্যপুস্করিনীকে। এই ম্যাচে শামসুন্নাহারের হ্যাটট্রিকে ৭-০ গোলের জয় পেয়েছে পুরান ঢাকার ক্লাবটি। ম্যাচে ৪ গোল করেন ছোট শামসুন্নাহার। একটি করে গোলের দেখা পান নেপালের পূজা রানা, শামসুন্নাহার সিনিয়র, অনামিকা ত্রিপুরা। এর আগে ঢাকা রেঞ্জার্সকে ৭-০ গোলে হারায় বাংলাদেশ আর্মি। উন্নতি খাতুন করেন ৪ গোল। জোড়া গোল পেয়েছেন জয়নব বিবি রিতা। অন্য গোলটি আসে মোসাম্মৎ সুলতানার পা থেকে। দিনের প্রথম ম্যাচে কাচারিপাড়া একাদশের বিপক্ষে নাসরিনের ৯-১ জেতা ম্যাচে পপি রানী করেন ৫ গোল। হ্যাটট্রিক করেছেন আসমা থাতুন। অন্য গোলটি মোসাম্মৎ সোমা আক্তারের। কাচারিপাড়ার হয়ে এক গোল শোধ দেন সোহেলী শারমিন। দিনের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিকেএসপিকে আইরিন আক্তারের একমাত্র গোলে হারায় বাংলাদেশ পুলিশ ফুটবল ক্লাব।

২০২৬ বছরটা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর জন্য ভালো কাটছে না মোটেও। সৌদি প্রো লিগে চলতি বছর ম্যাচ খেলে সবকটিতেই হেরেছে দলটা। এবার রোনালদো গোল করেছেন নিজে, তবে এরপরও দল জিততে পারেনি। আল হিলালের কাছে ৩-১ গোলে হেরেছে তার দল আল নাসর। ম্যাচের ৪২ মিনিটে আল নাসরকে এগিয়ে দেন রোনালদো। বাম পাশ থেকে আক্রমণে উঠে আসা কিংসলে কোমান সুযোগ তৈরি করেন। সেই বল থেকেই ভলিতে গোল করেন রোনালদো। তবে বিরতির পর ম্যাচের চিত্র বদলে যায়। আল নাসরের মোহাম্মদ সিমাকান মালকমকে ফাউল করলে পেনাল্টি পায় আল হিলাল। সালেম আল দাওসারি সেই পেনাল্টি থেকে গোল করেন। গোলের পর বল দ্রুত মাঠের মাঝখানে নিতে গিয়ে আল হিলালের রুবেন নেভেসের সঙ্গে আল নাসরের গোলরক্ষক নওয়াফ আল আকিদির ঝামেলা হয়। ভিএআর পর্যালোচনার পর সহিংস আচরণের দায়ে লাল কার্ড দেখেন আল আকিদি। এতে ১০ জনের দলে পরিণত হয় আল নাসর। এরপর ম্যাচ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নেয় আল হিলাল। ৮১ মিনিটে মোহাম্মদ কান্নো গোল করেন। যোগ করা সময়ে দ্বিতীয় পেনাল্টি থেকে গোল করেন রুবেন নেভেস। এই জয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষে থাকা আল হিলাল এখন সাত পয়েন্টে এগিয়ে গেছে। অন্যদিকে আল নাসর টানা চার ম্যাচে জয়ের মুখ দেখল না। এর মধ্যে শেষ তিন ম্যাচেই তারা হেরেছে। ২০২১ সালের পর এটি তাদের সবচেয়ে দীর্ঘ জয়হীন সময়। আল হিলাল টানা ১১টি লিগ ম্যাচ জিতেছে। এর আগে তারা সবচেয়ে বেশি টানা জয় পেয়েছিল ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের মে পর্যন্ত। তখন জয়সংখ্যা ছিল ২৪।

বিপিএলের সিলেট পর্ব শেষ হয়েছে গতকাল (সোমবার) রাতেই। ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের জয়ের পরই তিনটি দলের প্লে-অফ নিশ্চিত হয়ে যায়। এবার ঢাকা পর্বে লিগ পর্বের বাকি ম্যাচগুলোতে মূলত লড়াই হবে আর একটি জায়গার জন্য। বিপিএল ঢাকায় পা রাখার আগেই প্লে-অফ নিশ্চিত হয়েছে রাজশাহী, চট্টগ্রাম রয়্যালস ও সিলেট টাইটান্সের। পয়েন্ট টেবিলে এই তিনটি দল রয়েছে শীর্ষ তিনে। এর মধ্যে রাজশাহী ৮ ম্যাচে ৬ জয়ে ১২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে রয়েছে। ৭ ম্যাচে ৫ জয়ে চট্টগ্রামের পয়েন্ট ১০, তারা আছে পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে। আর ৯ ম্যাচে ৫ জয় নিয়ে সিলেট আছে তালিকার তিনে, তাদের পয়েন্টও ১০। পয়েন্ট তালিকার চারে নম্বরে থাকলেও এখনও প্লে-অফ নিশ্চিত হয়নি রংপুর রাইডার্সের। ৮ ম্যাচে ৪ জয় ও ৪ পরাজয় নিয়ে তাদের পয়েন্ট ৮। এছাড়া ঢাকা ও নোয়াখালী এক্সপ্রেস ৮টি করে ম্যাচ খেলে ২টি করে জয় পেয়েছে। যদিও কাগজে-কলমে এখনও দল দুটির প্লে-অফের আশা রয়েছে। দুই দলকেই তাদের শেষ দুটি ম্যাচ জিততেই হবে। ঢাকা ও নোয়াখালী উভয় দলের বিপক্ষে একটি করে ম্যাচ খেলবে রংপুর। যে কোনো একটি জিতলেই নিশ্চিত হবে তাদের প্লে-অফ। নোয়াখালী ও ঢাকার অন্য দুটি ম্যাচই চট্টগ্রামের বিপক্ষে। বিপিএলের লিগ পর্বে আর বেশি ম্যাচ বাকি নেই। ১৫, ১৬ ও ১৭ জানুয়ারি মোট ৬টি ম্যাচ বাকি আছে রাউন্ড রবিন লিগের। ১৯ জানুয়ারি শুরু হবে প্লে-অফ, ফাইনাল হবে ২৩ জানুয়ারি।

ভারতেরই নতুন দুটি ভেন্যুতে বাংলাদেশকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলার প্রস্তাব দিতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। এমন খবর ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। ফিকশ্চার অনুযায়ী, কলকাতা আর মুম্বাইয়ে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ম্যাচ হওয়ার কথা থাকলেও আইসিসি চেন্নাই আর থিরুভানান্তপুরামকে বাংলাদেশের ম্যাচের নতুন ভেন্যু হিসেবে প্রস্তাবনা দিতে যাচ্ছে বলে প্রতিবেদনগুলোতে দাবি করা হচ্ছে। তবে ভারতের অন্য ভেন্যুতে খেলার প্রস্তাব দেওয়া হলে বাংলাদেশ খেলতে সম্মতি জানাবে কি না, গত ১০ই জানুয়ারি সিলেটে এক সংবাদ সম্মেলনে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে সেই প্রশ্ন করা হলে জবাবে তিনি বলেছিলেন, 'ভারতের অন্য ভেন্যু তো ভারতেই।' বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ম্যাচ ভারতের পরিবর্তে শ্রীলঙ্কায় আয়োজন করার দাবি জানিয়ে বিসিবি আইসিসিকে যে চিঠি পাঠিয়েছিল, আইসিসির পক্ষ থেকে আজ বা কাল সেটির উত্তর দেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছিলেন বুলবুল। অবশ্য আইসিসি যদি শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশের ম্যাচ আয়োজন করতে অস্বীকৃতি জানায়, সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত কী হবে, সংবাদ সম্মেলনে সেই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেননি বিসিবি সভাপতি। "এই বিষয়ে এই মুহূর্তে কিছু বলতে পারছি না, চিঠিটা (আইসিসি'র) না আসা পর্যন্ত"-জানিয়েছিলেন বুলবুল। অর্থাৎ বাংলাদেশ ভারতে বিশ্বকাপের ম্যাচ না খেলার বিষয়ে তাদের অবস্থানে অনড় থাকার কথা বললেও এ বিষয়ে আইসিসির প্রতিক্রিয়া জানার পরই বিসিবি তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। ভারতের ভেতরে ভিন্ন ভেন্যুতে খেলা আয়োজনের প্রস্তাবের পাশাপাশি বাংলাদেশের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টিও আইসিসির চিঠিতে উল্লেখ করা হতে পারে। খবরে বলা হচ্ছে, নিরাপত্তা ইস্যুতে বাংলাদেশকে আশ্বস্ত করার প্রচেষ্টা হিসেবে বাংলাদেশি আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা সৈকতের উদাহরণ টানা হতে পারে। গতকাল (রোববার) ভারতের বরোদায় নিউজিল্যান্ড-ভারত ওয়ানডে ম্যাচে আম্পায়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন সৈকত। খবরে উঠে এসেছে যে সৈকত যেহেতু নিরাপদে ভারতে আম্পায়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, সেই উদাহরণ টেনে আইসিসি বিসিবিকে অনুরোধ করবে যেন বাংলাদেশ ভারতে খেলতে যেতে সম্মত হয়। আসন্ন বিশ্বকাপে বাংলাদেশি শরফুদ্দৌলা সৈকত ও গাজী সোহেলের ম্যাচ অফিসিয়াল হিসেবে দায়িত্ব পালনের কথা রয়েছে। এ ছাড়া এনডিটিভির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বাংলাদেশ আশা করছে যেন ভারতের সরকারি পর্যায় থেকে বাংলাদেশের সরকারের সাথে 'নিরাপত্তা বিষয়ক উদ্বেগ' নিয়ে আলোচনা করা হয়। যদিও শনিবার যখন বিসিবি সভাপতিকে জিজ্ঞেস করা হয় যে, দুই দেশের সরকারি পর্যায়ে কোনো আলোচনার সুযোগ আছে কি না, তখন বুলবুল বলেন যে, "আমি এ ব্যাপারে কিছু শুনিনি।" তবে বিসিবি চিঠি পাঠানোর পর আইসিসির পক্ষ থেকে বিসিবির নিরাপত্তা বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে বলে জানান বুলবুল। ক্রিকেটের ইতিহাসে এর আগে বেশ কয়েকবার এমন ঘটনা ঘটেছে, যখন কোনো দেশ নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে নির্দিষ্ট কোনো একটি দেশে বিশ্বকাপ বা আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির মত আসরে খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ১৯৯৬ সালের বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ তাদের গ্রুপ পর্বের ম্যাচ খেলতে শ্রীলঙ্কায় যায়নি। সেসময় শ্রীলঙ্কায় গৃহযুদ্ধ চলছিলো এবং আসর শুরুর সপ্তাহ দুয়েক আগে কলম্বোতে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এরপর ২০০৩ বিশ্বকাপে জিম্বাবুয়েতে খেলতে যায়নি ইংল্যান্ড। যুক্তরাজ্যের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার সেসময় জিম্বাবুয়ের নেতা রবার্ট মুগাবের সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল। একই বিশ্বকাপে আরেক আয়োজক দেশ কেনিয়ার নাইরোবিতে নিরাপত্তাজনিত কারণে খেলতে যায়নি নিউজিল্যান্ড। ঐ ম্যাচের কয়েকমাস আগে মোম্বাসায় বোমা বিস্ফোরনের ঘটনা ঘটেছিল। ছয় বছর পর, ২০০৯ সালে জিম্বাবুয়ে টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে। সেসময়ও কারণ ছিল জিম্বাবুয়ে আর যুক্তরাজ্যের মধ্যেকার বৈরি সম্পর্ক। ২০১৬ সালে বাংলাদেশে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয় অস্ট্রেলিয়া। অস্ট্রেলিয়া সেসময় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশ সফর করেনি। সবশেষ ২০২৫ সালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ম্যাচ খেলতে পাকিস্তানে যেতে অস্বীকৃতি জানায় ভারত। ভারতের ক্রিকেট বোর্ড কারণ হিসেবে জানায় যে ভারতের সরকার পাকিস্তানে দল পাঠাতে অনুমতি দেয়নি। সেসময় দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ড আর আইসিসি কয়েক দফা আলোচনার পর সিদ্ধান্তে আসে যে ২০২৪ থেকে ২০২৭ এর মধ্যে ভারত বা পাকিস্তানে কোনো আইসিসি টুর্নামেন্ট হলে আরেক দেশের ম্যাচ নিরপেক্ষ ভেন্যুতে আয়োজিত হবে। যেই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ২০২৫ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ভারতের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হয় দুবাইয়ে এবং আগামী মাসে হতে যাওয়া বিশ্বকাপে পাকিস্তানের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে শ্রীলঙ্কায়। তবে ২০২৫ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ঘটনাটি ছাড়া এর আগে যতবারই কোনো দেশ আইসিসি ইভেন্টে খেলতে কোনো দেশে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, হয় তাদের নিজেদের টুর্নামেন্ট থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করতে হয়েছে বা ম্যাচের পয়েন্ট খোয়াতে হয়েছে।

আইপিএল থেকে বাদ পড়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান। তার বাদ পড়ার এই ঘটনাকে নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের ক্রিকেটীয় সম্পর্ক প্রায় তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। তবে সেসবের মধ্যেই ফেসবুকে নতুন করে রহস্যময় এক পোস্ট করেছেন মোস্তাফিজ। আইপিএলের আসন্ন মৌসুম কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে খেলবেন বলে ঠিক থাকলেও বিসিসিআইয়ের নির্দেশে তাকে স্কোয়াড থেকে বাদ দিতে হয় ফ্র্যাঞ্চাইজিকে। নিরাপত্তার কারণে তাকে বাদ দেওয়া হলেও বিষয়টি দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ড ছাড়িয়ে সরকারের পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। আইপিএল ইস্যুতে যত আলোচনা-সমালোচনাই হোক না কেন, মোস্তাফিজ চলমান বিপিএলে তার ছাপ পড়তে দেননি। রংপুর রাইডার্সের জার্সিতে বল হাতে প্রতি ম্যাচেই আগুন ঝরাচ্ছেন এই কার্টার। কখনো উইকেট নিয়ে প্রতিপক্ষকে ধসিয়ে দিচ্ছেন, আবার কখনো স্লগ ওভারে অবিশ্বাস্য কিপটে বোলিংয়ে ব্যাটারদের বোকা বানাচ্ছেন। মূলত তার এই অতিমানবীয় ফর্মই রংপুরকে টুর্নামেন্টে শক্ত অবস্থানে রেখেছে। আপাতত একটু অবসর পেয়েছেন মোস্তাফিজ ও তার সতীর্থরা। আগামী ৯ জানুয়ারির আগে আর মাঠে নামতে হচ্ছে না তাদের। সে কারণেই হয়তো, একটু ফুরসত পেয়েছেন প্রকৃতি উপভোগ করার। তার পোস্টটাও সে বিষয়েই। হোটেলের ছাদে তোলা এক ছবি পোস্ট করে মোস্তাফিজ বলেছেন, ‘প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য উপভোগ করছি।’ তার আগে গত রাতেও তিনি এক ফেসবুক পোস্ট করেছিলেন। সেখানে লিখেছিলেন, ‘চোখ মাঠে, মন জয়ের দিকে।’ তবে মোস্তাফিজ এই ফেসবুক পোস্টের বাইরেও যে বেশ শান্তই আছেন, সেটা বলে গেছেন তার একাধিক গুরু ও সতীর্থরা। মাঠে পারফর্ম করাটাই আপাতত তার কাছে মূখ্য।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এক মাস আগে নাটকীয়তা জমে উঠেছে রীতিমতো। বাংলাদেশ বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যেতে চায় না। এ বিষয়ে আইসিসিকে একটি ই-মেইলও পাঠিয়ে দিয়েছে বিসিবি। ক্রিকইনফোর খবর, আইসিসি এই ইস্যুতে শক্ত অবস্থানে যাচ্ছে। তবে জবাবে বিসিবি বলছে, এমন কোনো বার্তাই তাদের কাছে আসেনি। ইএসপিএনক্রিকইনফো জানিয়েছে, মঙ্গলবার একটি ভার্চুয়াল বৈঠকে আইসিসি বিসিবিকে জানায় যে নিরাপত্তার কারণে ভারতের বাইরে ম্যাচ খেলার অনুরোধ তারা মানছে না। আইসিসি আরও জানায়, বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ খেলতে হলে ভারতে যেতে হবে। না গেলে পয়েন্ট হারানোর ঝুঁকি থাকবে। তবে বিসিবি আবার পুরোপুরি উলটো দাবি করছে। বোর্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আইসিসি তাদের এমন কোনো চূড়ান্ত বার্তা দেয়নি। বিসিবি বলছে, পয়েন্ট হারানোর বিষয়ে কোনো আলটিমেটামও জানানো হয়নি। বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, ‘ক্রিকইনফোর এই খবর সত্য নয়। আইসিসি কখনই বলেনি যে বিশ্বকাপ খেলতে হলে বাংলাদেশকে ভারতেই যেতে হবে। আমাদের সঙ্গে ব্যক্তিগত পর্যায়ে আইসিসির একাধিক কর্মকর্তার কথা হচ্ছে।’ গত রোববার বিসিবির আইসিসিকে ভারতে গিয়ে খেলতে অপারগতা জানিয়ে একটি ই-মেইল করে। এই মেইল দেওয়ার পেছনে বড় কারণ ছিল বিসিসিআইয়ের সিদ্ধান্ত। বিসিসিআই কলকাতা নাইট রাইডার্সকে মোস্তাফিজুর রহমানকে ছেড়ে দিতে ‘নির্দেশ’ দেয়। আইপিএল নিলামে গত ডিসেম্বরে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে মোস্তাফিজকে দলে নেয় কেকেআর। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হচ্ছে ২০ দলের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। টুর্নামেন্ট চলবে ৮ মার্চ পর্যন্ত। আয়োজন হবে ভারত ও শ্রীলঙ্কায়। গ্রুপ সিতে থাকা বাংলাদেশের প্রথম তিনটি ম্যাচ কলকাতায়। ৭ ফেব্রুয়ারি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে, ৯ ফেব্রুয়ারি ইতালির বিপক্ষে এবং ১৪ ফেব্রুয়ারি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ ১৭ ফেব্রুয়ারি মুম্বাইয়ে নেপালের বিপক্ষে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলার সম্ভাবনাটাকে ক্ষীণ বলেই মনে হচ্ছে।

টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এক মাস বাকি আর। টুর্নামেন্টটি হবে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় যৌথভাবে। তবে বাংলাদেশের গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচই ভারতে। এরই মধ্যে আইপিএল থেকে মুস্তাফিজুর রহমান বাদ পড়ায় দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। দেশের ক্রিকেট পরিস্থিতি নিয়ে শনিবার রাতে জরুরি বৈঠকে বসেন বিসিবির ১৭ জন পরিচালক। বৈঠকে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সিদ্ধান্ত হয়, আজ ৪ জানুয়ারি আইসিসিকে একটি চিঠি পাঠাবে বিসিবি। ওই চিঠিতে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তোলা হবে। বর্তমান অবস্থার কথা বিবেচনা করে বিসিবি আইসিসির নিরাপত্তা বিভাগে ইমেইল করবে। সেখানে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হবে। একই সঙ্গে মুস্তাফিজ ইস্যু নিয়েও জানতে চাওয়া হবে। শুধু খেলোয়াড় নয়, বোর্ড পরিচালক ও অন্যান্য সদস্যদের নিরাপত্তার বিষয়ও তুলে ধরা হবে। চিঠিতে দর্শক ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তার কথাও থাকবে। জানা গেছে, বর্তমান বাস্তবতায় নিরাপত্তাই বোর্ডের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, সব পক্ষের জন্য স্পষ্ট নিশ্চয়তা না মিললে ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্তে তার প্রভাব পড়তে পারে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই চিঠি শুধু মুস্তাফিজ ইস্যুতে সীমাবদ্ধ নয়। ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়েও এটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে দুই দেশের ক্রিকেট সম্পর্কের ভবিষ্যতেও এর বড় প্রভাব থাকতে পারে।

বাংলাদেশের তারকা পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল দল কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘিরে ভারতজুড়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র আকার নিয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে এবার প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুললেন কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর। তার মন্তব্যে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে খেলাধুলা ও রাজনীতির সীমারেখা। ডিসেম্বর মাসে আইপিএল ২০২৬ মিনি নিলামে ৯ দশমিক ২০ কোটি রুপিতে মুস্তাফিজুর রহমানকে দলে নিয়েছিল শাহরুখ খানের মালিকানাধীন কেকেআর। তখন বিষয়টি ছিল পুরোপুরি ক্রিকেটকেন্দ্রিক। মুস্তাফিজের অভিজ্ঞতা এবং আন্তর্জাতিক সাফল্যকে গুরুত্ব দিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে হিন্দু সংখ্যালঘুদের উপর হামলার খবর প্রকাশ্যে আসতেই পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। একাধিক বিজেপি নেতা প্রকাশ্যে দাবি তোলেন বাংলাদেশের কোনও ক্রিকেটারকে এই সময় আইপিএলে খেলতে দেওয়া উচিত নয়। সেই চাপের মধ্যেই বিসিসিআইয়ের নির্দেশে কেকেআর মুস্তাফিজকে দল থেকে মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়। এই সিদ্ধান্ত সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, ‘আমরা এখানে কাকে শাস্তি দিচ্ছি একজন ক্রিকেটারকে না একটি দেশকে না তার ধর্মকে। তার মতে খেলাধুলাকে এভাবে রাজনৈতিক রঙে রাঙানো অত্যন্ত বিপজ্জনক প্রবণতা। থারুর আরও বলেন মুস্তাফিজ কোনও ঘৃণা ছড়াননি তিনি কোনও হিংসাত্মক ঘটনার সঙ্গে যুক্ত নন তিনি একজন পেশাদার ক্রীড়াবিদ। একটি দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বা সামাজিক সমস্যার দায় একজন খেলোয়াড়ের ঘাড়ে চাপানো অন্যায্য।’ থারুর আরও প্রশ্ন তোলেন, ‘মুস্তাফিজের জায়গায় যদি বাংলাদেশের কোনও হিন্দু ক্রিকেটার থাকতেন তাহলে কি একই সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো। তার এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই ধর্মীয় বৈষম্যের অভিযোগ নতুন করে উঠে এসেছে।’ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে থারুর বলেন, ‘বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর হামলার ঘটনা নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক। ভারত সরকারের উচিত কূটনৈতিক স্তরে এই বিষয়টি তুলে ধরা এবং ঢাকা সরকারের উপর চাপ বজায় রাখা। কিন্তু সেই চাপ দেওয়ার পথ কখনওই খেলাধুলা হতে পারে না।’ এই বিতর্কের মাঝেই বিজেপি নেতা সঙ্গীত সোম কেকেআরের মালিক শাহরুখ খানকে দেশদ্রোহী বলেও আক্রমণ করেন। শিবসেনা এবং বিজেপির একাধিক নেতা দাবি করেন বাংলাদেশের পরিস্থিতির মধ্যে সে দেশের ক্রিকেটারকে আইপিএলে খেলতে দেওয়া অনুচিত। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে এই ঘটনা শুধু একটি ক্রিকেট দলের সিদ্ধান্ত নয় বরং প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক এবং খেলাধুলার সার্বজনীন চরিত্র নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে। শশী থারুরের বক্তব্য সেই প্রশ্নকে আরও জোরালো করেছে। ভারতের মতো বড় দেশের উচিত উদার দৃষ্টিভঙ্গি রাখা এবং খেলাধুলাকে রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের বাইরে রাখা এই মতই উঠে আসছে বিভিন্ন মহল থেকে।

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে ম্যাচ শুরুর ঠিক আগে অসুস্থ হয়ে পড়েন ঢাকা ক্যাপিটালসের সহকারী কোচ মাহবুব আলী। মিনিট বিশেক পর খেলা শুরুর প্রস্তুতিতে দুই দলের ক্রিকেটার ও কোচিং স্টাফ যখন মাঠে ওয়ার্ম আপে ব্যস্ত, তখনই হঠাৎ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। ঘটনার পরপরই মাঠে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়। দলীয় স্টাফরা দ্রুত তাকে ঘিরে ধরেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে সিপিআর দেওয়া হয়। পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে মাহবুব আলীকে সিলেটের আল হারামাইন হাসপাতালে নেওয়া হয়। ঢাকা ক্যাপিটালস এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, অনুশীলনের সময় অসুস্থ বোধ করার পর তিনি মাঠেই পড়ে যান। বর্তমানে তিনি চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী আপডেট জানানো হবে। ঢাকা দলের টিম ম্যানেজমেন্টের সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের বরাত দিয়ে দেশের একটি গণমাধ্যম জানিয়েছে, মাহবুব আলীর শারীরিক অবস্থা গুরুতর। তবে তার চিকিৎসা শুরু হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার ধাক্কা সামলেও নির্ধারিত সময়েই ম্যাচ শুরু হয়। টস জিতে রাজশাহীর বিপক্ষে ফিল্ডিংয়ে নামে ঢাকা ক্যাপিটালস।

বিপিএলে নোয়াখালী এক্সপ্রেসকে সমর্থন দিতে সিলেটে ছুটছেন ভক্তরা বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) দ্বাদশ আসরে প্রথমবারের মতো অংশগ্রহণ করছে নোয়াখালীর কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি। নোয়াখালী এক্সপ্রেসকে সরাসরি মাঠে সমর্থন দিতে সিলেটে জড়ো হয়েছেন ওই জেলার ক্রিকেটভক্তরা। ক্রিকেটারদের প্রেরণা যোগানো এবং দলের সঙ্গী হয়ে স্টেডিয়াম কাঁপাতে প্রস্তুত তারা। আজ (শুক্রবার) সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে বিপিএলের উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে স্বাগতিক সিলেট টাইটান্স এবং রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে চট্টগ্রাম রয়্যালসের বিপক্ষে লড়াইয়ে নামবে নোয়াখালী এক্সপ্রেস। নিজেদের প্রথম ম্যাচ থেকে সমর্থন দিতে এদিন সকাল ৯টায় সিলেটের হুমায়ুন রশিদ চত্বরে পৌঁছায় নোয়াখালী সমর্থকবাহী অর্ধশতাধিক বাস। এর আগে বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) রাত ৯টার দিকে নোয়াখালীর বিভিন্ন এলাকা থেকে একাধিক বাস সিলেটের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। বাসগুলোয় নোয়াখালী এক্সপ্রেসের পতাকা, ব্যানার ও ফেস্টুনে সাজানো সমর্থকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। সমর্থকদের স্লোগান, ঢোল-বাদ্য আর দলীয় রঙে রাঙানো পরিবেশে পুরো যাত্রা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। অনেকেই পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের সঙ্গে দল বেঁধে সিলেটে পা রাখেন। নোয়াখালীর ক্রিকেটভক্ত তারপিনা শাহনাজ রজব বলেন, বিপিএলের ইতিহাসে প্রথমবার নোয়াখালীর দল অংশ নিচ্ছে, এটা আমাদের জন্য অনেক গর্বের বিষয়। তাই কষ্ট হলেও মাঠে গিয়ে প্রিয় দল নোয়াখালী এক্সপ্রেসকে সমর্থন জানাতে এসেছি। এখানে আমরা নোয়াখালী বিভাগ আন্দোলনের দাবি তুলব, মিছিল করব। আশা করছি দল ভালো খেলবে এবং জেলার মুখ উজ্জ্বল করবে। আরেক সমর্থক মো. ওয়াসিম বলেন, নোয়াখালী এক্সপ্রেস আমাদের গর্ব। তারা প্রথমবার বিপিএলে খেলছে, এই ইতিহাসের সাক্ষী হতে আমরা ৬টা বাস নিয়ে ‘ট্রাভেল গ্রুপ অব নোয়াখালী’র প্রায় ৩০০ মানুষ সিলেটে এসেছি। দূরত্ব কোনো বাধা নয়। মাঠে গিয়ে খেলোয়াড়দের উৎসাহ দিলে জয়ের শক্তি বাড়ে, এই বিশ্বাস থেকেই আসা। আমরা দেশ ট্রাভেলসকে ধন্যবাদ এবং অশেষ কৃতজ্ঞতা। নোয়াখালী জেলা ক্রীড়া সংস্থার আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. আরিফুর রহমান , নোয়াখালী এক্সপ্রেস বিপিএলে অংশ নেওয়ায় জেলার ক্রীড়াঙ্গনে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। সমর্থকদের এই ঢল খেলোয়াড়দের মনোবল বাড়াবে। নোয়াখালী এক্সপ্রেসকে ঘিরে যে উন্মাদনা তৈরি হয়েছে, তা বিপিএলে নতুন মাত্রা যোগ করবে। এ ছাড়া তরুণদের মধ্যে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ আরও বাড়বে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

বৈভব সূর্যবংশী এবং রেকর্ড, এ যেন মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। ১৪ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার মাঠে নামলেই তার ব্যাটে কোনো না কোনো রেকর্ড হবেই। বিজয় হাজারে ট্রফির প্রথম দিনেই ঝড় উঠল বৈভব সূর্যবংশীর ব্যাটে। মাত্র ৮৪ বলে ১৯০ রান করলেন তরুণ এই ব্যাটার। গড়লেন বিশ্বরেকর্ডও। বিরাট কোহলি এবং রোহিত শর্মা দু’জনেই এবারের বিজয় হাজারে ট্রফি খেলছেন। ভারতের দুই সিনিয়র ব্যাটার দীর্ঘদিন পর ঘরোয়া এই প্রতিযোগিতায় ফেরায় উচ্ছ্বাস রয়েছে সমর্থকদেরও। তবে প্রথম দিনে সব আলো কেড়ে নিলেন ১৪ বছর বয়সী বৈভব। বিজয় হাজারে ট্রফিতে বিহারের অভিযান শুরু হয়েছে অরুণাচল প্রদেশের বিরুদ্ধে। রাঁচিতে আয়োজিত ম্যাচে টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় বিহার। আর শুরুতেই বৈভব-ঝড়। মাত্র ৩৬ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন বৈভব। যার মধ্যে আছে ১০টি চার ও ৮টি ছক্কার মার। অর্থাৎ শুধু বাউন্ডারি থেকেই এসেছে ৮৮ রান। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ভারতীয়দের মধ্যে এটা দ্বিতীয় দ্রুততম সেঞ্চুরি। এর আগে আছে অনমোলপ্রীত সিং। পাঞ্জাবের এই ক্রিকেটার গত বছর ৩৫ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন। অন্যদিকে বিশ্বের কনিষ্ঠতম হিসেবে সেঞ্চুরির নজির গড়লেন বৈভব। তবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দ্রুততম সেঞ্চুরির নজির রয়েছে জেক ফ্রেজার ম্যাকগার্কের। ২০২৩ সালে তিনি তাসমানিয়ার বিরুদ্ধে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ২৯ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন। দ্রুততম সেঞ্চুরির তালিকায় সূর্যবংশী চতুর্থ হলেও এই সংস্করণে দ্রুততম দেড় শ রানের ইনিংস খেলার রেকর্ড গড়েছেন বাঁহাতি ওপেনার। মাত্র ৫৯ বলে আজ ১৫০ রান করেন সূর্যবংশী, ভেঙেছেন ২০১৫ সালে এবি ডি ভিলিয়ার্সের ৬৪ বলে ১৫০ করার রেকর্ড। যদিও অল্পের জন্য ডাবল সেঞ্চুরি হাতছাড়া হয়েছে বৈভবের। শেষ পর্যন্ত সে আউট হয় ১৯০ রানে। ৮৪ বলের ইনিংস সাজানো ছিল ১৬টি চার ও ১৫টি ছক্কা দিয়ে। অর্থাৎ শেষ পর্যন্ত শুধু বাউন্ডারি থেকেই তার রান ওঠে ১৫৪।

আইএল টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক হয়ে দুটি ম্যাচ খেলে ফেললেও সাকিব আল হাসান ছিলেন বিবর্ণ। গতকাল (রোববার) বাংলাদেশি অলরাউন্ডার নিজেকে ফিরে পেলেন। আবারো প্রমাণ করলেন ‘ফর্ম ইজ টেম্পোরারি, ক্লাস ইজ পার্মানেন্ট’। দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সেরা সাকিবকে দেখা গেল। ডেজার্ট ভাইপার্সের বিপক্ষে দারুণ জয়ে ব্যাটে-বলে দারুণ ভূমিকা রেখে ম্যাচসেরা হলেন বাঁহাতি অলরাউন্ডার। ভাইপার্সের ওপেনার ফখর জামানকে নিকোলাস পুরানের ক্যাচ বানিয়ে প্রথম আইএল টি-টোয়েন্টি উইকেট পান সাকিব। তারপর স্যাম কারানকে ফেরান নিজের দ্বিতীয় ওভারে। চার ওভার বল করে মাত্র ১৪ রান দেন বাঁহাতি স্পিনার। কোনো বাউন্ডারি হজম করেননি, ডট দিয়েছেন ১২টি। ১২৫ রানের লক্ষ্যে নেমে সাকিব ব্যাট হাতেও দারুণ অবদান রাখেন। ৫৩ রানে চার উইকেট পড়ার পর ক্রিজে নেমে ১৭ রানের হার না মানা ইনিংস খেলেন বাঁহাতি ব্যাটার। তার একমাত্র চারে জয় নিশ্চিত হয় এমআই এমিরেটসের। প্রত্যাশিতভাবে ম্যাচসেরার পুরস্কার উঠেছে সাকিবের হাতে। এনিয়ে টি-টোয়েন্টিতে ৪৫ বার ম্যাচের সেরা পারফর্মারের স্বীকৃতি পেলেন তিনি। তাতে আন্দ্রে রাসেলকে পেছনে ফেলে এই বাঁহাতি তারকা অ্যালেক্স হেলস ও রশিদ খানের পাশে বসলেন। টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে বেশি ম্যাচসেরার পুরস্কার পাওয়ার তালিকায় যৌথভাবে তৃতীয় স্থানে সাকিব। রশিদ ও হেলস যথাক্রমে ৫০৪ ও ৫২৪ ম্যাচ খেলে ৪৫ বার ম্যাচসেরা হন। আর সাকিব খেলেছেন ৪৬৫ ম্যাচ। সাকিবদের উপরে আর কেবল আছেন তিন জন। ৪৮ বার ম্যাচসেরা হয়ে যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ও কিয়েরন পোলার্ড। সবার উপরে আছেন ক্রিস গেইল। ৬০ বার ম্যাচসেরা হয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক তারকা। এর আগে সাকিব ম্যাচসেরা হয়েছিলেন গত বছরের আগস্টে। ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস প্যাট্রিয়টসের বিপক্ষে ১১ রান খরচায় ৩ উইকেট নেন মাত্র ২ ওভার বল করে। তারপর ২৫ রান করেন। তার হাতেই ওঠে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার। পরে সাকিব আরও সাত টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেললেও মাত্র দুটি উইকেট নেন। এর মধ্যে পাঁচ ম্যাচেই ছিল উইকেটখরা। পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে সাকিব বলেছেন, ‘স্পিনের জন্য সহায়ক ছিল পিচ। ব্যাটিং করাও সহজ ছিল না। আমি জানতাম আমাদের দলে শক্তিশালী ব্যাটার আছে, যারা মারতে পারে। তাই আমি সতর্ক ছিলাম। সব মিলিয়ে দলের পারফরম্যান্সে আমি সন্তুষ্ট।’

বাংলাদেশ থেকে ক্রিকেটার নেওয়ার অভিপ্রায় জানিয়েছে সৌদি আরব। তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, সৌদি আরবের খেলোয়াড় ও কোচ চাওয়ার প্রস্তাব তারা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, দেশের স্বার্থের বাইরে গিয়ে এমন কিছু করা সম্ভব নয়। সৌদি আরব তাদের ‘ভিশন ২০৩০’ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ক্রিকেটে বড় পরিসরে বিনিয়োগ করছে। দেশটি ঘরোয়া ক্রিকেট শক্তিশালী করতে চায়। আন্তর্জাতিক পর্যায়েও দ্রুত এগোতে চায় তারা। লক্ষ্য একদিন বড় শক্তি হয়ে ওঠা। এই লক্ষ্য সামনে রেখে সৌদি আরব বিভিন্ন টেস্ট খেলুড়ে দেশের খেলোয়াড় ও কোচ নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে দীর্ঘমেয়াদে তাদের দিয়ে খেলানোর পরিকল্পনা রয়েছে। আগে একই পথে হেঁটেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও যুক্তরাষ্ট্র। ক্রিকবাজ জানিয়েছে, সম্প্রতি সৌদি আরব বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কাছে এই অনুরোধ জানায়। তবে বিসিবি সেই প্রস্তাব নাকচ করে দেয়। এ বিষয়ে বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘আপনি বলতে পারেন, তারা দুই মাস আগে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। আমি তখনই না বলে দিয়েছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘তারা আমাদের কাছে পুরুষ ও নারী খেলোয়াড় চেয়েছে। পরে কোচও চেয়েছে। কিন্তু নিজের দেশের স্বার্থের ক্ষতি করে আমি এটা কীভাবে করতে পারি?’ সৌদি আরব এরই মধ্যে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে বড় বিনিয়োগ করছে। লিভ গলফ, ফর্মুলা ওয়ান এবং ২০৩৪ ফিফা বিশ্বকাপে তারা বড় ভূমিকা রাখছে। এখন আইসিসি ও এসিসির সহায়তায় তারা ক্রিকেটেও নিজেদের জায়গা তৈরি করতে চায়। উপসাগরীয় অঞ্চলে ক্রিকেটের নতুন কেন্দ্র হতে চায় সৌদি আরব।
২১ ডিসেম্বর, ২০২৫
আর কিছুদিন পর মাঠে গড়াবে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ১২তম আসর। ওই আসরকে কেন্দ্র করে জমকালো উদ্বোধন অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা ছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি)। সমর্থকরাও অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় ছিল বিপিএলের উদ্বোধন অনুষ্ঠান দেখার। তবে সমর্থকদের হতাশা করার মতোই এক খবর দিয়েছে বিসিবি। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তারা জানায়, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিপিএলের উদ্বোধন অনুষ্ঠান বাতিল করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি লিখেছে, ‘বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) গভর্নিং কাউন্সিল আগামী ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে সিলেটে শুরু হতে যাওয়া টুর্নামেন্টের ১২তম আসরকে আকর্ষণীয় ও প্রতিযোগিতামূলকভাবে আয়োজনের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। আয়োজনের প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়ার সঙ্গে খেলোয়াড়, দর্শক, ম্যাচ অফিসিয়াল এবং টুর্নামেন্ট সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের জন্য একটি নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে গভর্নিং কাউন্সিল। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী সব পক্ষের সার্বিক প্রস্তুতিও পরিকল্পনায় রয়েছে।’ সেই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ‘গণজমায়েত সংক্রান্ত বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের বর্তমান নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবং সবার সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, বড় জনসমাগম হয় এমন কোনো অনুষ্ঠান বা উদ্বোধন অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে না।’ উদ্বোধন অনুষ্ঠান না হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ‘উদ্বোধন অনুষ্ঠান হয়তো আমরা করব না। কেননা দেশের সার্বিক পরিস্থিতি পাশাপাশি নিরাপত্তা একটা বড় ব্যাপার এখানে। আমাদের কাজ হচ্ছে ক্রিকেট খেলা ভালো করে চালানো। তো আমরা সবদিকে মনোযোগ রাখছি। তবে এ মুহূর্তে আমরা ক্রিকেটটাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি।’

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আগামীকাল মঙ্গলবার ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন– কোয়াব আয়োজন করেছে বিশেষ এক ম্যাচ। যে প্রীতি ম্যাচে বাংলাদেশ জাতীয় দলের দুই অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত আর মেহেদী হাসান মিরাজ হবেন মুখোমুখি। শান্তর দল অদম্য খেলবে মিরাজের দল অপরাজেয় এর বিপক্ষে। এই ম্যাচটি প্রীতি ম্যাচ। তবে তার আগে কথায় রীতিমতো উত্তাপ ছড়ালেন শান্ত; জানালেন প্রীতি ম্যাচ নয়, মাঠে জেতার জন্যই খেলবে তার দল। তিনি বলেন, ‘খুবই এক্সাইটেড। এরকম ম্যাচ খেলার সুযোগ আগে হয়নি। কোনো ছাড়াছাড়ি হবে না, শোয়াই ফেলব একদম। প্রস্তুতি মাঠে দেখতে পাবেন না। সব প্রস্তুতি মুখে মুখে হচ্ছে। মাঠে শোয়াই ফেলতে পারি, না হলে শুয়েও যাইতে পারি। যেকোনো কিছুই হতে পারে।’ তবে উত্তাপ দেখাতে গিয়ে ডিমেরিট পয়েন্ট যেন না খেয়ে বসেন, সে ভাবনাও আছে শান্তর, ‘উত্তাপ তো থাকবেই। তবে বেশি দেখানো যাবে না। শুনলাম ভালো আম্পায়ার থাকবে। তবে বেশি উত্তাপ আবার দেখানো যাবে না। পরে ডিমেরিট পয়েন্ট খেয়ে যাব।’ কোয়াবকেও প্রশংসায় ভাসান শান্ত। তিনি বলেন, ‘যারা কোয়াবে আছেন এবং আশেপাশে যারা সাহায্য করছেন, এটা একটা খুবই ভালো উদ্যোগ। আমার মনে হয় এটা এ বছর খুব তাড়াহুড়োর মধ্যেই হচ্ছে। এটা যদি আমরা ধারাবাহিকভাবে করতে পারি, আমাদের বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য অনেক উপকৃত হবে সবাই। পুরো এই ম্যাচটা খেলার কারণই কিন্তু যে ফান্ডের কথাটা আমরা বারবারই বলছি। এখান থেকে একটা ফান্ড উঠলে, এটা আমরা ভবিষ্যতে ক্রিকেটারদেরকেই সাহায্য করতে পারব। এই উদ্দেশ্যটা নিয়েই কিন্তু এই খেলার আয়োজন।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘একটা কথা বলতে চাই যে খেলোয়াড়রা যেভাবে সাহায্য করছে, তারা যেভাবে খেলতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে এটা খুবই আনন্দের এবং এটা আমাদের কোয়াবের জন্য অনেক বড় একটা পাওনা। আমি আশা করব যে বাংলাদেশের যত ক্রিকেটার আছে, বর্তমান ক্রিকেটার, সাবেক ক্রিকেটার- সবাই এই সাহায্যটুকু কোয়াবকে করবেন।’

ভারত মেসি জ্বরে কাঁপছে। আজ (সোমবার) নয়াদিল্লিতে এই সফরের ইতি টানবেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক। তিন দিনের এই সফরে দর্শক-সমর্থকদের উচ্ছ্বাস বেশ ভালোভাবে টের পেয়েছেন তিনি। কিন্তু শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি। কলকাতায় ভিভিআইপিদের কাড়াকাড়িতে তিনি দর্শকদের দৃষ্টিতে পড়েননি। কলকাতায় হট্টগোল, বিশৃঙ্খলায় শুরুতেই কলঙ্কিত হয়েছে মেসির ‘জিওএটি ইন্ডিয়া ট্যুর’। এবার বিজেপির সাবেক সাংসদ অর্জুন সিং অভিযোগ তুললেন, এলএমটেনকে ভারতে নিয়ে এসে ১০০ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে। এনিয়ে ভারতের অর্থনৈতিক গোয়েন্দা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে (ইডি) তদন্তের দাবি জানান তিনি। অর্জুনের দাবি, মেসিকে দেখতে না পাওয়ার হতাশা থেকেই এমন ক্ষোভ নয়, মাঠে দর্শকদের পানির বোতল ১৫০-২০০ টাকা করে কেনাও একটা কারণ। প্রায় এক ঘণ্টা মেসির মাঠে থাকার কথা থাকলেও ভিড়ের মধ্যে ২২ মিনিটেই বিদায় নেন, যাকে এই সাবেক সাংসদ 'চুরি করা' আখ্যা দিয়েছেন। ভারতীয় গণমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস-কে অর্জুন সিং বলেন, ‘স্টেডিয়ামটা হয়ত পাঁচ টাকা, এক টাকা দিয়ে প্রতীকীভাবে বুক করা হয়েছে। কিন্তু তাতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু আপত্তি একটা জায়গায় রয়েছে, যেখানে সাধারণ মানুষের আপত্তি ছিল, ১০ টাকার পানির বোতল বিক্রি হয়েছে ১৫০-২০০ টাকায়। মেসিকে চুরি করে নিয়ে গিয়েছে, তাতে আপত্তি রয়েছে। প্রায় ১০০ কোটি টাকার ব্যবসা হয়েছে। সাধারণ মানুষ বলছে, যাদেরকে দেখা গিয়েছে মাঠে, তাদের দেখতে ১০০ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে। কোটি কোটি টাকা খাওয়া হয়েছে। তার জন্য দ্রুত ইডি তদন্তের প্রয়োজন। কী চুক্তি হয়েছিল, কত লাভ-লোকসান হলো, তা বলতে হবে।’ গত ১৩ ডিসেম্বর মেসির সফরের প্রথম দিনে সল্টলেক স্টেডিয়ামে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। আর্জেন্টাইন তারকা মাঠে ঢোকার সময় তাকে ঘিরে ছিলেন প্রায় ৮০ জনের মতো মানুষ। মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ছাড়াও পুলিশের বড় নিরাপত্তা বলয় ছিল সেখানে। অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মধ্যে মেসি থাকতে চাননি। আগেভাগে চলে যান। হাজার হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কাটা সাধারণ মানুষ মেসিকে দেখতে পাননি। গ্যালারি থেকে বোতল ছুঁড়তে থাকেন সমর্থকরা। রেলিংয়ের গেটে তালা ভেঙে জনতা ঢুকে পড়ে মাঠে। গ্যালারি থেকে সিট ভেঙে তা মাঠে ফেলা হয়। এমনকি ভিআইপিদের জন্য মাঠের পাশে রাখা চেয়ারে আগুনও ধরিয়ে দেওয়া হয়। পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় যুব ভারতী ক্রীড়াঙ্গনের ভেতর রণক্ষেত্রে রূপ নেয়। পুলিশ লাঠিচার্জ করে দর্শকদের মাঠ থেকে সরানোর চেষ্টা করে। মাঠের ভেতরে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে সমর্থকদের কেউ কেউ টিকিটের পয়সা উসুল করতে বারপোস্টের জাল কেটে ‘স্মারক’ সংগ্রহে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। তারপর দেখা যায় কেউ চেয়ার নিয়ে যাচ্ছেন, তো কেউ কার্পেট কাঁধে নিয়ে যাচ্ছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে মেসির কাছে ক্ষমা চেয়ে নেন।

জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ আইপিএলের ২০১৬ আসর থেকে প্রায় নিয়মিতই খেলছেন বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। সর্বশেষ আসরে যদিও মুস্তাফিজসহ নিলামে দল পাননি বাংলাদেশের কেউই। পরবর্তীতে আরেকজনের বদলি হিসেবে দিল্লি ক্যাপিটালস তাকে দলে নেয়। আইপিএলের আরেকটি মৌসুম আসন্ন, আগামী ১৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে মিনি নিলাম। এর আগে ফের আলোচনা বাঁ-হাতি এই কাটার মাস্টার। ২০২৬ আইপিএলের নিলামে মুস্তাফিজের ভিত্তিমূল্য ধরা হয়েছে ২ কোটি রুপি। মিনি নিলামে সর্বোচ্চ দুই কোটি রুপির ভিত্তিমূল্যের ক্যাটাগরিতে মুস্তাফিজ ছাড়াও আছেন আরও ৩৯ ক্রিকেটার। এ ছাড়া নিলামে আছে আরও ৬ বাংলাদেশির নাম। তারা হলেন– তাসকিন আহমেদ, রিশাদ হোসেন, তানজিম হাসান সাকিব, শরিফুল ইসলাম, রাকিবুল হাসান ও নাহিদ রানা। নিলামের আগে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর শক্তি ও দুর্বলতা বিশ্লেষণ এবং তারা কাকে দলে নিতে পারে এ নিয়ে নানামুখী আলোচনা ও পূর্বাভাস মেলাচ্ছেন অনেকেই। ক্রিকবাজ তাদের বিশ্লেষণে মুস্তাফিজের সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে দুটি ফ্র্যাঞ্চাইজির নাম উল্লেখ করেছে। দল দুটি হচ্ছে– চেন্নাই সুপার কিংস ও দিল্লি ক্যাপিটালস। এর মধ্যে ২০২৪ আসরে চেন্নাই এবং সর্বশেষ আসরসহ তিনবার দিল্লির জার্সিতে খেলেছেন ফিজ। আরও একবার সেই দুই দলের একটিতে তাকে দেখা যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এবারের মিনি নিলামের আগে চেন্নাই তাদের অন্যতম প্রধান পেসার মাথিশা পাথিরানাকে ছেড়ে দিয়েছে। শ্রীলঙ্কান এই ‘মালিঙ্গা জুনিয়র’ সাম্প্রতিক সময়ের বেশিরভাগই ইনজুরিতে কাটাচ্ছেন। তবে পাথিরানাকে নিলাম থেকে আবারও দলে ভেড়াতে পারে চেন্নাই। ক্রিকবাজ বলছে, নাথান এলিসের সঙ্গে ডেথ ওভারের জন্য আরেকজন পেসার প্রয়োজন ফ্র্যাঞ্চাইজিটির। এ ছাড়া রবীন্দ্র জাদেজার রাজস্থান রয়্যালসে যোগদান এবং রবিচন্দ্রন অশ্বিনের অবসরে বড় কোনো স্পিনারের দিকেও ঝুঁকতে পারে তারা। যদিও চেন্নাইয়ের রিজার্ভে আছে শ্রেয়াস গোপাল। নিলামে চেন্নাইয়ের জন্য স্লট ফাঁকা আছে ৯টি, এর মধ্যে ৪টি স্লট বিদেশি ক্রিকেটারের। মহেন্দ্র সিং ধোনি ও সঞ্জু স্যামসনদের দলের হাতে আছে ৪৩.৪০ কোটি রুপি। গত মৌসুমে পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে থেকে প্রথম রাউন্ডেই বিদায় নিয়েছিল চেন্নাই। সে কারণে এবার তারা নিলাম থেকে শক্তিশালী স্কোয়াড গড়ার লক্ষ্যে নামবে। তাদের সম্ভাব্য টার্গেটে আছেন– মুস্তাফিজুর রহমান, ক্যামেরন গ্রিন, ভেঙ্কটেশ আইয়ার, লিয়াম লিভিংস্টোন, জেসন হোল্ডার, মাইকেল ব্রেসওয়েল, প্রশান্ত ভির ও সানি সান্ধু। এদিকে, দিল্লি ক্যাপিটালসের হয়ে গত আসরে লিগপর্বের শেষদিকে যুক্ত হয়ে ৩টি ম্যাচ খেলেছেন মুস্তাফিজ। সম্ভাবনা তৈরি করলেও তাদের সেমিফাইনাল খেলা হয়নি, বাদ পড়ে টেবিলের পাঁচ নম্বরে থেকে। লোকেশ রাহুল ও অক্ষর প্যাটেলের এই দলটির হাতে নিলামের জন্য আছে ২১.৮০ কোটি রুপি। এই অর্থে তারা সর্বোচ্চ ৮ ক্রিকেটার কিনতে পারবে, এর মধ্যে বিদেশি স্লট ফাঁকা আছে ৫টি। গত মৌসুমে তারা ডেথ ওভার বোলার নিয়ে ভুগেছে। ফলে এবার এদিকটাতে মনোযোগ থাকতে পারে নিলামে। এ ছাড়া স্থানীয় পেসার টি নাতারাজনের ফিটনেস নিয়ে শঙ্কা আছে। মিচেল স্টার্কের সঙ্গে অন্য কোনো পেসারের ওপর ভরসা করতে চাইবে দিল্লি। সে হিসেবে মুস্তাফিজ ছাড়াও তাদের সম্ভাব্য টার্গেটে থাকবেন পাথিরানা ও ম্যাট হেনরি। এর বাইরে ব্যাটিং বিভাগে শক্তি বাড়াতে কুইন্টন ডি কক, পাথুম নিশাঙ্কা, জেমি স্মিথ, জনি বেয়ারস্টোর মতো বিদেশি তারকাদের দিকেও তাদের নজর থাকতে পারে

২৩ বছরের ক্যারিয়ারে সম্ভাব্য সকল বেল্ট নিজের করে নিয়েছেন জন সিনা। নিজের বিদায়ী ম্যাচটা অবশ্য রাঙাতে পারলেন না তিনি। ‘সাটারডে নাইট মাইন ইভেন্ট’ পে-পার ভিউতে সিনাকে হারান গুন্থার। ম্যাচ হারলেও দর্শকরা সিনাকে সম্মান জানিয়েছে। এই ম্যাচের মধ্য দিয়ে শেষ হলো সিনার রেসলিং ক্যারিয়ার। ৮৫৭১ দিনের দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে জন সিনা রেকর্ড ১৭টি বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছেন। তিনি ‘ইউ ক্যান্ট সি মি’ ক্যাচফ্রেজটিকে জনপ্রিয় করেছেন। তবে রিংয়ের বাইরেও তার প্রভাব অনেক বেশি। ২০০২ সালে ডব্লিউডব্লিউইতে আত্মপ্রকাশ করেন ৪৮ বছর বয়সী সিনা। তার ক্যারিশমা ও কাজের প্রতি নিষ্ঠা বিশ্বজুড়ে ডব্লিউডব্লিউইয়ের জনপ্রিয়তা বাড়িয়েছে। এই সুপারস্টার একদিকে যেমন অসংখ্য বিশ্ব শিরোপার মালিক, তেমনি রিংয়ের বাইরে সফল অভিনেতা ও মানবিক কর্মকাণ্ডের জন্যও সমানভাবে পরিচিত। সিনা গত বছর ঘোষণা করেন, ২০২৫ সাল হবে সক্রিয় প্রতিযোগিতায় তার শেষ বছর। কুস্তির কারণে তার শরীরে খুব ধকল পড়েছে। তাকে একাধিক অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ভক্তদের অনুপ্রেরণা জোগানো জন সিনা কেবল একজন রেসলার নন, তিনি একটি আইকন।
১৪ ডিসেম্বর, ২০২৫
লিওনেল মেসি টানা দ্বিতীয়বারের মতো মেজর লিগ সকার-এমএলএসের বর্ষসেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন। মঙ্গলবার মেজর লিগ সকার এই ঘোষণা দেয়। ৩৮ বছর বয়সী মেসি ইন্টার মিয়ামিকে লিগ শিরোপা জিতিয়েছেন এবং পুরো মৌসুমে ছিলেন দলের সবচেয়ে বড় ভরসা। তিনি লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবেও মৌসুম শেষ করেন। মেসি তাতে একটা রেকর্ডও গড়ে ফেলেছেন। তিনি এখন এমএলএস ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় যিনি টানা দুই বছর এমভিপি জিতলেন। তিনি দ্বিতীয় খেলোয়াড় যিনি মোট দুইবার এই পুরস্কার পেলেন। এর আগে ১৯৯৭ ও ২০০৩ সালে প্রেদরাগ রাদোসাভ্লজেভিচ এই পুরস্কার দুবার পেয়েছিলেন। মেসি ২৯টি গোল করেছেন, যা এমএলএস ইতিহাসে চতুর্থ সর্বোচ্চ। তিনি ১৯টি অ্যাসিস্ট দিয়ে গোল্ডেন বুট জিতেছেন। মেসি বলেন, ‘আমি এই পুরস্কার পেয়ে খুশি। এবং এই লিগের ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে দুই বছর ধরে এটি জিততে পেরে আনন্দিত। আমি খুব কৃতজ্ঞ।’ তিনি আরও বলেন, ‘ব্যক্তিগত পুরস্কার পাওয়া ভালো লাগে। কিন্তু আমি এটি আমার সতীর্থদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চাই।’ তিনি লিগে গোল ও অ্যাসিস্ট—দুই বিভাগেই শীর্ষে উঠে আসা দ্বিতীয় খেলোয়াড়। এর আগে শুধু সেবাস্টিয়ান জিওভিনকো ২০১৫ সালে এ কৃতিত্ব দেখান। প্লে-অফেও তিনি দাপট দেখান। ছয় গোল করেন এবং আরও নয়টি অ্যাসিস্ট দেন। ভ্যাঙ্কুভারের বিপক্ষে ফাইনালে ইন্টার মিয়ামিকে ৩–১ গোলে জিতিয়ে এমএলএস কাপ এমভিপিও হন। সে ম্যাচে তিনি দুটি অ্যাসিস্ট করেন। গত অক্টোবরে ইন্টার মিয়ামির সঙ্গে মেসি তিন বছরের চুক্তি নবায়ন করেন। এর সঙ্গে তিনি যুক্ত করলেন আরেকটি মাইলফলক। তার ক্যারিয়ারে রয়েছে আটটি ব্যালন ডি’অর, তিনটি ফিফা বর্ষসেরা এবং দুটি বিশ্বকাপ গোল্ডেন বল। এবার তিনি বিপুল ভোটে এমভিপি হয়েছেন। মোট ভোটের ৭০.৪৩ শতাংশ মেসি পেয়েছেন। সান ডিয়েগো এফসির আন্দের্স ড্রেয়ার পেয়েছেন ১১.১৫ শতাংশ। মিডিয়া ভোটে মেসি পান ৮৩.০৫ শতাংশ, ক্লাব ভোটে ৭৩.০৮ শতাংশ এবং খেলোয়াড় ভোটে ৫৫.১৭ শতাংশ। মেসি এমএলএসে এক মৌসুমে ১০টি মাল্টি-গোল ম্যাচ খেলে নতুন রেকর্ড গড়েছেন। এর আগে স্টার্ন জন, মামাদু দিয়ালো এবং ইব্রাহিমোভিচের রেকর্ড ছিল আটটি। তিনি প্রথম এমভিপি জেতেন ২০২৪ সালে। সে বছর ১৯ ম্যাচে ২০ গোল ও ১৬ অ্যাসিস্ট করেন তিনি। ২০২৩ সালে ইন্টার মিয়ামিতে যোগ দেওয়ার পর তিনি দলকে সেই বছর লিগস কাপ জিতিয়েছিলেন এবং ২০২৪ মৌসুমে সাপোর্টার্স শিল্ড অর্জনে নেতৃত্ব দেন।

সম্প্রতি দেশের বাইরে এক পডকাস্টে লম্বা সময় নিয়ে কথা বলেছেন সাকিব আল হাসান। নিজের ক্যারিয়ারের নানা বিষয় সেখানে তুলে ধরেছেন তিনি। একপর্যায়ে ২০১৯ বিশ্বকাপ প্রসঙ্গে কথা শুরু হয়। পরে অনুষ্ঠানের উপস্থাপক প্রশ্ন করেন বিশ্বকাপের আগেই কি টের পেয়েছিলেন এই বিশ্বকাপটা তার হতে যাচ্ছে। জবাবে সাকিব বলেন, ‘কিছুটা। আইপিএলে আগের মৌসুমে আমি সব ম্যাচ খেলেছিলাম (সানরাইজার্স) হায়দরাবাদের হয়ে। ফাইনালেও খেলেছি, তবে ফাইনালে হেরেছিলাম। (ডেভিড) ওয়ার্নার অধিনায়ক ছিল শুরুতে, তবে সে আগের মৌসুমে খেলতে পারেনি। পরের মৌসুমে সে ফিরল। কেইন উইলিয়ামসন দারুণ ফর্মে ছিল। জনি বেয়ারস্টো, রশিদ খানও দলে ছিল। আমার মনে হয় তারা প্রথম ম্যাচটা খেলেছিল সাকিব জানান, ‘আমি দেখছিলাম কেউ ইনজুরড না হলে আমার এই বছর এই দলে খেলার তেমন সম্ভাবনা নেই। আমি ভাবলাম, আমি কেন নিজেকে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী প্রস্তুত করছি না? কারণ ২ মাস পরেই বিশ্বকাপ। আমি হোটেল রুমে বসে নিজের সাথে কথা বলেছি। আমার মনে হয়, আমি ভেবেছি আমি যেমনটা অর্জন করতে চাই তা অর্জন করতে যথেষ্ট পরিশ্রম করিনি। ফলে আমি নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দিয়ে ট্রেইনিং শুরু করলাম। এক মাস ট্রেইনিং শেষে ওজন কমে গিয়েছিল সবাই দেখেছিল। প্রধান কোচ টম মুডি বলল, তোমার কী হয়েছে? আমি বলেছি বিশ্বকাপে দেখতে পাবেন। আমি সবাইকে দেখিয়ে দিব, আমি কী করতে পারি। আমি ভেতর থেকে অনেক আত্মবিশ্বাসী ছিলাম। আমার ২ মাসের ট্রেনিং শেষে আয়ারল্যান্ড গেলাম। সেখানে ৩টি ফিফটি করেছিলাম। তবে ফাইনালের আগে ইনজুরড ছিলাম, ফাইনালে তাই খেলা হয়নি, আমি কোনো চান্স নেইনি।’ সাকিব আরও বলেন, ‘(২০১৯) বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচে ৭৫ করেছিলাম। নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে মনে হয় ৬০ রান করেছিলাম। পরের ম্যাচে ইংল্যান্ড, প্রথমবার জোফরা আর্চারের মুখোমুখি হতে হয়েছে। ১৫০ কিমি/ঘণ্টা+ গতিতে বল করতো সে। কার্ডিফে আমরা খেলেছিলাম। সৌম্য সরকার বোল্ড হয়েছিল, এমনভাবে বল স্টাম্পে হিট করেছিল যে, বেলস চলে গিয়েছিল বাউন্ডারিতে। আমি ছিলাম পরের ব্যাটার। তাকে মোকাবেলা করার পর একটি ছয় মারলাম। কারণ সে শরীর তাক করে বল করছিল, হুক পুল করে যাচ্ছিলাম আমি। এরপর আমি ভাবলাম, হ্যাঁ এখন আমি পারব। আমি টুর্নামেন্টের সবচেয়ে কঠিন বোলারকে মোকাবেলা করেছি ফলে বাকিরা এর চেয়ে সহজ হবে (খেলতে)।’ সেঞ্চুরি হাঁকিয়েও তেমন উদযাপন না করা নিয়ে সাকিব বলেন, ‘এর কারণ ছিল সেই বিশ্বকাপে আমি একটা লেখা লিখে নিজের সঙ্গে রেখেছিলাম যে, আমি প্রতিটি বল খেলব আমার দেশের জন্য, নিজের জন্য না। এটা আসলে দলের জন্য।’

যার স্পর্শে রাতারাতি বদলাতে শুরু করেছিল ফুটবল বিশ্বে কিছুটা অপরিচিত আমেরিকান লিগ সকার (এমএলএস) ও ইন্টার মায়ামি। সেই লিওনেল মেসিই এবার সেখানকার সর্বোচ্চ লিগ টাইটেল জিতলেন। আর্জেন্টাইন মহাতারকার আগমনে অভিষেক মৌসুমেই নিজেদের ইতিহাসে প্রথম ট্রফি জিতেছিল মায়ামি। সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছে একাধিক টাইটেল। মেসির জোড়া অ্যাসিস্টে এবার প্রথমবারের মতো মায়ামি এমএলএস কাপ–ও জিতে নিয়েছে। বিশ্বকাপজয়ী আলবিসেলেস্তে তারকা ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ দিয়েই ক্যারিয়ারের ষোলোকলা পূর্ণ করেছিলেন। তবুও পেশাদার ক্যারিয়ার চলমান থাকাবস্থায় চ্যালেঞ্জ তো মেসি নেবেন–ই। সেই চ্যালেঞ্জে অনেকটা আনকোরা দল থেকে এমএলএসের শিরোপা জেতার মতো দল হয়ে ওঠে মায়ামি। দলে অনেক পরিবর্তন আনা হয়েছে ঠিক–ই, তবে আলবা-বুসকেটস-সুয়ারেজ এবং শেষমেষ রদ্রিগো ডি পলকে দলে ভেড়াতে মূল প্রেরণায় ছিলেন মেসি। দলগতভাবে আগেই সর্বোচ্চ ট্রফি জয়ের রেকর্ড গড়েছিলেন লিওনেল মেসি। সেই সংখ্যাটিকে এবার তিনি ৪৮–এ পরিণত করলেন। এমএলএস কাপের হিসাবটা একটু জটিল। দুটি ভিন্ন কনফারেন্সের পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষ অবস্থানধারীরা পরস্পর সিরিজে মুখোমুখি হয়। সেখানেও আধিপত্য দেখিয়ে ফাইনালে উঠেই ইস্টার্ন কনফারেন্সের ট্রফি জেতে মায়ামি। এবার পুরো এমএলএসেরই শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট উঠল ফ্লোরিডার ক্লাবটির মাথায়। যেখানে হাভিয়ের মাশ্চেরানোর দল ৩-১ গোলে টমাস মুলারদের ভ্যাঙ্কুভার হোয়াইটক্যাপসকে হারিয়েছে। ফোর্ট লডারডেলের চেজ স্টেডিয়ামে গতকাল (শনিবার) দিবাগত রাতে প্রায় সমান তালেই লড়েছে মায়ামি ও ভ্যাঙ্কুভার। তবে গোল ব্যবধানটাই ম্যাচের ফল গড়ে দিলো। যেখানে মাত্র ৮ মিনিটেই ফুলব্যাক এডিয়ার ওকাম্পোর আত্মঘাতী গোলে পিছিয়ে পড়ে ভ্যাঙ্কুভার। এরপর ম্যাচ ফিরতে তাদের ৬০ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে। তবে আলি আহমেদের সেই গোল যেন আরও তাতিয়ে দেয় মায়ামিকে। ৭১ মিনিটে রদ্রিগো ডি পলের গোলে লিড নেওয়ার পর যোগ করা সময়ে মায়ামির বড় জয় নিশ্চিত করেন তাদেও আলেন্দে। মায়ামির করা দুটি গোলেই বলের যোগান দিয়েছেন মেসি। এরপর এমএলএস কাপে জিতে স্মরণ করলেন গত মৌসুমের বাজে পরিস্থিতিকে। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় মেসি বলেন, ‘গত বছর আমাদের জন্য লিগ বেশ আগেভাগেই শেষ হয়েছিল, আমরা বিদায় নিয়েছিলাম প্রথম রাউন্ড থেকেই। এই বছর আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল এমএলএস জেতা। এজন্য দল অনেক শ্রম দিয়েছে– বছরটা ছিল অনেক লম্বা, অনেক বেশি ম্যাচ খেলতে হয়েছে এবং সবশেষে আমরা চূড়ান্ত গন্তব্যে পৌঁছাতে পেরেছি।’ ১২ বছর আগে ইন্টার মায়ামির মালিকানায় যুক্ত হয়েছিলেন ইংলিশ কিংবদন্তি ডেভিড বেকহ্যাম। যদিও খেলার মাঠে দলটির যাত্রা শুরু হয় ২০২০ সালে, এর তিন বছর পর যুক্ত হন মেসি। তখন থেকেই যেন তাদের কপাল খুলতে শুরু করে। সেই তারকাকেই কৃতিত্ব দিলেন মায়ামির সহ-মালিক বেকহ্যাম, ‘এটি অবিশ্বাস্য একটি যাত্রা। সে (মেসি) কেবল মায়ামিতে উপভোগ করতেই আসেনি। তার স্ত্রী–বাচ্চারাও এই ঠিকানাটাকে ভালোবাসে, তবে মেসি জিততেই এসেছিল। জয়ের তাড়নায় সে নিবেদন, সতীর্থ, শহর ও ক্লাবের প্রতি আন্তরিক ও অনুগত ভাববিনিময় দেখিয়েছে। লিও একজন বিজয়ী, এটি এমনই স্বাভাবিক বিষয়।’

২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নামছে বাংলাদেশ ও আয়ারল্যান্ড। তার আগে সিরিজ জয়ে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে নেওয়ার সুযোগ দুই দলের সামনে। এই ম্যাচে টস হেরেছে বাংলাদেশ, তারা ফিল্ডিংয়ে। শরিফুল ইসলাম, শামীম হোসেন পাটোয়ারী ও রিশাদ হোসেনকে একাদশে ফেরানো হয়েছে। প্রথম ম্যাচে আয়ারল্যান্ড জিতেছিল। পরের ম্যাচ জিতে বাংলাদেশ সিরিজে সমতা ফেরায়। ১-১ এ সিরিজ, শেষ ম্যাচের পর একটি দলের হাতে উঠবে ট্রফি। প্রথম দুই ম্যাচের স্কোয়াডে ছিলেন না শামীম হোসেন পাটোয়ারী। শেষ ম্যাচের স্কোয়াডে তাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
২ ডিসেম্বর, ২০২৫
গতকাল রোববার অনুষ্ঠিত হয়ে গেল বাংলাদেশ প্রিমিয়ার (বিপিএল) লিগের নিলাম। ১২তম আসরকে সামনে রেখে দল গুছিয়ে নিয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো। ১ কোটি ১০ লাখ টাকায় আসরে সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হয়েছেন মোহাম্মদ নাঈম শেখ। এবারের নিলামে একমাত্র কোটিপতি তিনিই। তাকে দলে নিয়েছে চট্টগ্রাম রয়্যালস। কোটির কাছাকাছি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৯২ লাখ টাকায় রংপুর রাইডার্সে তাওহিদ হৃদয়। জাতীয় দলের টি-টোয়েন্টি অধিনায়কও রংপুরে, তিনি পেয়েছেন তৃতীয় সর্বোচ্চ ৭০ লাখ। সমান ৬৮ লাখ টাকায় দল পেয়েছেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ও তানজিম হাসান সাকিব। সাইফকে স্কোয়াডে অন্তর্ভূক্ত করেছে ঢাকা ক্যাপিটালস আর তানজিম রাজশাহী ওয়ারিয়র্সে। পঞ্চম সর্বোচ্চ ৫৬ লাখ টাকা পাবেন শামীম হোসেন পাটোয়ারি ও নাহিদ রানা ঢাকা ও রংপুরের কাছ থেকে। মোহাম্মদ মিঠুনও ভালো দাম পেয়েছেন। ৫২ লাখ টাকায় তিনি ঢাকায়। ষষ্ঠ সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক তার। রাইজিং স্টার এশিয়া কাপে ৩৫ বলে সেঞ্চুরি করা হাবিবুর রহমান সোহানকে ৫০ লাখ টাকায় দলে ভিড়িয়েছে নোয়াখালী এক্সপ্রেস। তিনি আছেন দামি খেলোয়াড়ের তালিকায় সাতে। ৪৭ লাখ টাকায় খালেদ আহমেদ সিলেটে। ইয়াসির আলী ও আব্দুল গাফফার (রাজশাহী), শরিফুল ইসলাম (চট্টগ্রাম) তিনজনই ৪৪ লাখ করে পাবেন পারিশ্রমিক। দশম সর্বোচ্চ ৪২ লাখ টাকায় রংপুরে স্পিনার রাকিবুল হাসান। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ১২তম আসর শুরু হবে আগামী ২৬ ডিসেম্বর।
১ ডিসেম্বর, ২০২৫
প্রায় এক যুগ পর নিলাম পদ্ধতি ফিরছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল)। প্রথম দুই আসরে নিলাম পদ্ধতি অনুসরণ করা হলেও পরে আর তা করা হয়নি। রোববার (৩০) নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে এবারের বিপিএলের নিলাম। এক ঘণ্টা পিছিয়ে বিকেল ৪টায় শুরু হবে এবারের বিপিএল নিলাম। নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি দল সর্বোচ্চ ২২ জন খেলোয়াড় নিবন্ধন করতে পারবে। একাদশে কমপক্ষে দুই এবং সর্বোচ্চ চারজন বিদেশি খেলোয়াড় খেলাতে পারবে দলগুলো। এ ছাড়া প্রতিটি দলে সর্বোচ্চ ১২ জন সাপোর্ট স্টাফ অন্তর্ভুক্ত করা যাবে। নিলামে দলগুলো চাইলেই যত ইচ্ছা টাকা খরচ করতে পারবে না। স্থানীয় ক্রিকেটার কিনতে মোট সাড়ে চার কোটি টাকা খরচ করতে পারবে প্রতিটি দল। সরাসরি চুক্তি করা খেলোয়াড়দের খরচ এর বাইরে থাকবে। বিদেশিদের জন্য প্রতিটি দল খরচ করতে পারবে সাড়ে তিন লাখ মার্কিন ডলার। নিলামের আগে সরাসরি চুক্তিতে নেওয়া খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক এর আওতায় পড়বে। নিলামে স্থানীয় ক্রিকেটারদের ছয়টি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। ‘এ’ ক্যাটাগরির ক্রিকেটারদের ভিত্তি মূল্য ৫০ লাখ টাকা, ‘বি’ ক্যাটাগরি ৩৫ লাখ, ‘সি’ ক্যাটাগরি ২২ লাখ, ‘ডি’ ক্যাটাগরি ১৮ লাখ, ‘ই’ ক্যাটাগরি ১৪ লাখ এবং ‘এফ’ ক্যাটাগরির ক্রিকেটারদের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১১ লাখ টাকা। বিদেশি ক্রিকেটারদের পাঁচ ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। ‘এ’ ক্যাটাগরির ক্রিকেটারদের ভিত্তি মূল্য ৩৫ হাজার মার্কিন ডলার, ‘বি’ ক্যাটাগরি ২৫ হাজার মার্কিন ডলার, ‘সি’ ক্যাটাগরির মূল্য ২০ হাজার মার্কিন ডলার, ‘ডি’ এর ভিত্তি মূল্য ১৫ হাজার মার্কিন ডলার এবং ‘ই’ ক্যাটাগরির ক্রিকেটারদের ভিত্তিমূল্য ১০ হাজার মার্কিন ডলার।
৩০ নভেম্বর, ২০২৫
ইন্টার মায়ামি নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো উঠেছে এমএলএস কাপের ফাইনালে। রোববার (৩০ নভেম্বর) ইস্টার্ন কনফারেন্সের ফাইনালে নিউইয়র্ক সিটি এফসিকে ৫-১ ব্যবধানে বিধ্বস্ত করেছে মায়ামি। এর আগে, তিনবার প্লে-অফে মায়ামি খেললেও কনফারেন্স সেমিফাইনালে উঠতে না পারা মায়ামি এবার নাম লেখালো ফাইনালে। চেজ স্টেডিয়ামে নিউইয়র্কের সিটির বিপক্ষে ইস্টার্ন কনফারেন্সের ফাইনালে মায়ামি জয় পেয়েছে তাদেও আলেন্দের নৈপুণ্যে। আর্জেন্টাইন এই ফুটবলার করেছেন হ্যাটট্রিক। এক গোল করেছেন আরেক আর্জেন্টাইন মাতে সিলভেত্তি। অন্য গোলটি তালেসকো সেগোভিয়ার। মায়ামির জয়ের ৫ গোলের ৪টিই এসেছে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের পা থেকে। ১৪ মিনিটে প্রথম গোলের দেখা পায় মায়ামি তাদেও আলেন্দের কল্যাণে। যেখানে অ্যাসিস্টও করেন আরেক আর্জেন্টাইন রদ্রিগো ডি পল। মিনিট দশেক পর ম্যাচের ২৪ মিনিটে নিজের ও দলের দ্বিতীয় গোল করেন আলেন্দে। হেড থেকে করেন এই গোলটি। জর্দি আলবার ক্রস থেকে বল নাগালে পেয়ে হেডে লক্ষ্যভেদ করেন। ৩৭ মিনিটে একটি গোল শোধ করেন নিউইয়র্ক সিটির জাস্টিন হাক। বিরতিতে যাওয়ার আগে স্কোর হয় ২-১। বক্সের বাইরে ৬৭ মিনিটে মেসিকে ঘিরে ফেলে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়রা। পরে বল পাঠিয়ে দেন ফাঁকায় থাকা সিলভেত্তির দিকে। অরুণ এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার বল জালে পাঠাতে কোনো ভুল করেননি। ৮৩ মিনিটে গোল করে ব্যবধান ৪-১ করেন সেগোভিয়া। ৮৯ মিনিটে আলেন্দে হ্যাটট্রিক করেন ইয়ানিক ব্রাইটের অ্যাসিস্টে গোল আদায় করে। মায়ামি ৫-১ ব্যবধানের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে মায়ামি। জাগোনিউজের খবর পেতে ফলো করুন আগামী ৬ ডিসেম্বর এমএলএস কাপের ফাইনালে মায়ামির প্রতিপক্ষ হবে সান ডিয়েগো ও ভ্যাঙ্কুভার হোয়াইটক্যাপসের মধ্যকার ওয়েস্টার্ন কনফারেন্স ফাইনালের বিজয়ী দল।
৩০ নভেম্বর, ২০২৫
দলের চিকিৎসকের নিষেধাজ্ঞা ছিল। তবে সেটি উপেক্ষা করেই দলের প্রয়োজনে মাঠে নামেন নেইমার। খেলেছেন পুরো ৯০ মিনিটই। চোটাক্রান্ত নেইমারকে এদিন থামাতে পারেননি কেউ। গোল করার পাশাপাশি, করিয়েছেনও। আর তাতে তার দল সান্তোস ৩-০ গোলে হারিয়েছে স্পোর্তকে। এই জয়ে দলকে অবনমন অঞ্চল থেকে উপরে তুলে আনলেন নেইমার। গত ২০ নভেম্বর বাঁ পায়ের হাঁটুতে মেনিস্কাস ইনজুরিতে পড়েন ৩৩ বছর বয়সী নেইমার। অস্ত্রোপচার শেষে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে মাঠে ফিরতে শেষ হয়ে যেত মৌসুম। তবে এবার ঝুঁকি নিয়েই মাঠে নামেন নেইমার। সান্তোসের মেডিকেল দল নেইমারের খেলার বিপক্ষে থাকলেও তাদের কথা শুনেননি তিনি। ইনজুরি নিয়েই স্পোর্ত শিবিরে ভীতি ছড়ান নেইমার। ম্যাচের ২৫তম মিনিটে দলকে লিড এনে দেন তারকা এই ফুটবলার। বক্সে গিলহের্মের পাস পেয়ে চার ডিফেন্ডারের বাধা অতিক্রম করে গোল আদায় করে নেন তিনি। স্পোর্ত ম্যাচের ৩৬তম মিনিটে নিজেদেরই ভুলে দ্বিতীয় গোল হজম করে। গোলমুখে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদেরই জালে বল জড়ান লুকাস কাল। দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণে আধিপত্য বজায় রাখে সান্তোস। ৬৭তম মিনিটে গিয়ে সাফল্যের দেখা পায় তারা। বাঁ কর্নার থেকে নেইমারের ক্রস ছয় গজ দূরত্বে পেয়ে হেডের সাহায্যে জালে জড়ান জোয়াও শমিদ। ৯০তম মিনিটে মাঠ ছাড়েন নেইমার। ততক্ষণে অবশ্য ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে জয় নিশ্চিত করে নেয় সান্তোস। যোগ করা ৬ মিনিটে কোনো ব্যবধান গড়তে পারেনি স্পোর্ত। সান্তোসও আর কোনো গোলের দেখা পায়নি।
২৯ নভেম্বর, ২০২৫
ফিফা অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠা হলো না ব্রাজিলের। শ্বাসরুদ্ধকর নাটকীয় ম্যাচে পর্তুগালের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় ঘণ্টা বাজে সেলেসাওদের। টাইব্রেকারে পর্তুগাল ৬-৫ ব্যবধানে জিতে ফাইনাল নিশ্চিত করে। অন্যদিকে, সেমিফাইনাল থেকে বিদায় ব্রাজিলের। সোমবার (২৪ নভেম্বর) রাতে অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয় ব্রাজিল-পর্তুগাল। ব্রাজিল চেয়েছিল পঞ্চমবারের মতো শিরোপা স্পর্শ করার পথে এগিয়ে যেতে। কিন্তু ভাগ্য তাদের পক্ষে কথা বলেনি। ম্যাচের শুরু থেকেই গোলের খোঁজে দুই দল আক্রমণাত্নক ফুটবল খেলে। প্রথমার্ধে পর্তুগাল ছয়টি এবং ব্রাজিল আটটি শট নেয়। কিন্তু কোনো দলই জাল খুঁজে পায়নি। বিরতির পরও একাধিক সুযোগ আসে। তবে গোলের দেখা মিলেনি। পুরো ৯০ মিনিট শেষে রেফারি খেলা পেনাল্টিতে নেওয়ার ঘোষণা দেন। টাইব্রেকারে প্রথম পাঁচ শটে দুই দলই দুর্দান্ত নির্ভুলতা দেখায়। এরপর খেলা গড়ায় ‘সাডেন ডেথ’-এ। এই পর্বে, পর্তুগালের হয়ে শট নিতে আসা হোসে নেতো কোনো ভুল না করে বল জালে জড়িয়ে দেন।
২৫ নভেম্বর, ২০২৫
২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ এমন একটি দলের বিপক্ষে খেলবে, যাদের নাম খুব কম মানুষই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শুনেছে। দলটি হলো ইতালি। আইসিসির পরিকল্পিত গ্রুপ অনুযায়ী ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, বাংলাদেশ, ইতালি এবং নেপাল একই গ্রুপে থাকবে। তাই গ্রুপ পর্বেই বাংলাদেশের সামনে নতুন প্রতিপক্ষ হিসাবে আসবে ইতালি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ইতালির নাম বড় কোনো শক্তি হিসেবে শোনা যায় না। তবে ইউরোপ অঞ্চলের বাছাইয়ে ভালো খেলে তারা এবার ক্রিকেট বিশ্বকাপের টিকিট পেয়েছে। তাই এই ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য একটি ভিন্ন অভিজ্ঞতা হবে। ক্রিকবাজে ফাঁস হওয়া এক গ্রুপিংয়ে দেখা গেছে, মোট ২০টি দল পাঁচটি গ্রুপে ভাগ হবে। প্রত্যেক গ্রুপে থাকবে চারটি করে দল। লিগ পর্বের পর দুইটি দল যাবে সুপার এইটে। সুপার এইটে আবার দুই গ্রুপে ভাগ হবে চারটি করে দল। এদিকে পাকিস্তান ও ভারতের ম্যাচ নিয়েও আগ্রহ বাড়ছে। দুদল একই গ্রুপে থাকবে। খেলা হবে ১৫ ফেব্রুয়ারি, কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে। পুরো সূচি প্রকাশ হবে ২৫ নভেম্বর। শ্রীলঙ্কা কঠিন গ্রুপে পড়বে। তাদের সঙ্গে থাকবে অস্ট্রেলিয়া, জিম্বাবুয়ে, আয়ারল্যান্ড ও ওমান। আর আরেক গ্রুপে থাকবে দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড, আফগানিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কানাডা। আগেই জানা গেছে, ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চলবে ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ। ফাইনাল হতে পারে আহমেদাবাদ বা কলম্বোতে। পাকিস্তান ফাইনালে উঠলে স্থান বদলাতে পারে। প্রতিযোগিতায় যে দলগুলো থাকবে, তার মধ্যে আছে ভারত ও শ্রীলঙ্কা (স্বাগতিক), ২০২৪ বিশ্বকাপের সুপার এইটের দলগুলো, আইসিসি র্যাঙ্কিং থেকে পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ড। এছাড়া আঞ্চলিক বাছাই থেকে এসেছে কানাডা, নেদারল্যান্ডস, ইতালি, নামিবিয়া, জিম্বাবুয়ে, নেপাল, ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ আইএল টি-টোয়েন্টিতে খেলার জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অনাপত্তিপত্র (NOC) পেয়েছেন দুই তারকা পেসার তাসকিন আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমান। বিসিবির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করে। আইএল টি-টোয়েন্টি খেলার জন্য বিসিবি আগামী ৩ থেকে ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত তাসকিন-মুস্তাফিজকে ছাড়পত্র দিয়েছে। আইএল টি-টোয়েন্টিতে মুস্তাফিজের দল পাওয়াটা ছিল নাটকীয়তায় ভরপুর। টুর্নামেন্টের নিলামের আগেই লুক উডের বিকল্প হিসেবে ফিজকে দলে ভেড়ায় ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। পরবর্তী সময়ে আবার টাইগার পেসারের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে পাকিস্তানি ব্যাটার হায়দার আলীকে নেয় ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। প্রায় এক মাস পর আবার মুস্তাফিজকে দলে ভেড়ানোর তথ্য দেয় দুবাই ক্যাপিটালস। ফলে আগামী ২ ডিসেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া আসরে দুবাইয়ের জার্সিতেই দেখা যাবে তাকে। এর আগে, আইএল টি-টোয়েন্টির নিলাম থেকে ৪০ হাজার মার্কিন ডলারে সাকিবকে দলে নেয় এমআই এমিরেটস। এ ছাড়া ভিত্তিমূল্য ৮০ হাজার ডলারে তাসকিনকে দলে নিয়েছে শারজাহ ওয়ারিয়র্স। আইএল টি-টোয়েন্টির আগামী আসরে খেলতে দেখা যাবে বাংলাদেশের তিন ক্রিকেটারকে
২৩ নভেম্বর, ২০২৫
শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে সুপার ওভারে ভারতকে হারিয়ে এশিয়া কাপ রাইজিং স্টারস টুর্নামেন্টের ফাইনাল নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। সেই জয়ের পরই ভক্তদের মনে প্রশ্ন ছিল, ফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ কারা। শ্রীলঙ্কা-পাকিস্তান ম্যাচের পর সেটিও জানা গেছে। শুক্রবার (২২ নভেম্বর) টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলকে ৫ রানে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে পাকিস্তান ‘এ’ দল। ফলে শিরোপা নির্ধারণী ফাইনালে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ-পাকিস্তান। রোববার (২৩ নভেম্বর) ফাইনালে মুখোমুখি হবে এই দুই দল। এর আগে, দোহার ওয়েস্ট অ্যান্ড পার্ক ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে খুব বড় সংগ্রহ দাঁড় করাতে পারেনি পাকিস্তান। গাজী ঘোরির ৩৯ রানে ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৫৩ রান তুলতে পারে তারা। শ্রীলঙ্কার প্রমোদ মাদুশান ২৯ রানে নেন ৪ উইকেট। রান তাড়া করতে নেমে দুর্দান্ত শুরু পায় শ্রীলঙ্কা। তবে পাক বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে এক পর্যায়ে ৯৯ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যাওয়ার উপক্রম হয় তাদের। কিন্তু ডুবতে থাকা শ্রীলঙ্কাকে টেনে তোলেন মিলান রত্নানায়াকে। নবম উইকেট জুটিতে ম্যাথুকে নিয়ে ৪৭ রানের জুটি গড়ে জয়ের আশাও জাগিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা আর হয়ে উঠেনি। শ্রীলঙ্কার ইনিংস থামে ১৪৮ রানে।
২২ নভেম্বর, ২০২৫
নিজের শততম ম্যাচটা সেঞ্চুরি দিয়েই রাঙালেন মুশফিকুর রহিম। শতক থেকে এক রান দূরে থেকে প্রথম দিন শেষ করেছিলেন তিনি। সেই ১ রান নিতে বেশি সময় লাগেনি অভিজ্ঞ এই ব্যাটারের। বিশ্বের ১১তম ক্রিকেটার হিসেবে শততম টেস্টে শতক হাঁকানোর কীর্তি গড়েছেন মুশফিক। টেস্টে শততম ম্যাচে সেঞ্চুরির এটি ১২তম ঘটনা। কিংবদন্তি রিকি পন্টিং তাঁর শততম টেস্টে জোড়া সেঞ্চুরি করেছিলেন। বিশ্ব ক্রিকেটে ১১তম হলেও নিঃসন্দেহে বাংলাদশের হয়ে প্রথম এমন কীর্তি গড়লেন মুশফিক। প্রথম শততম টেস্ট খেলে সেই টেস্টে সেঞ্চুরি করা বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম- ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লিখা হয়ে গেলো এই নাম। ২০ বছর আগে ক্রিকেট তীর্থ লর্ডসে টেস্ট ফরম্যাটে অভিষেক হয় মুশফিকের। সেই টেস্টে অবশ্য বড় ইনিংস খেলতে পারেননি তিনি। প্রথম ইনিংসে ৬ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ৮৫ মিনিট উইকেটে থেকে ৫৬ বল মোকাবিলা করে ১৯ রান করে ইংলিশ পেসার ম্যাথ্যু হগার্ডের বলে বোল্ড হয়েছিলেন মুশফিক। দ্বিতীয় ইনিংসে তার ব্যাট থেকে এসেছিল মাত্র ৩ রান। অ্যান্ড্রু ফ্লিনটপের বলে আউট হয়েছিলেন তিনি। এর আগে, শততম টেস্টে শতরান পার করার রেকর্ড করেছেন কলিন (ইংল্যান্ড, ১০৪ রান), জাভেদ মিয়াদাঁদ (পাকিস্তান, ১৪৫ রান), গর্ডন গ্রীনিজ (ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ১৪৯ রান), অ্যালেক স্টুয়ার্ড (ইংল্যান্ড, ১০৫ রান), ইনজামামুল হক (পাকিস্তান, অপরাজিত ১৮৪ রান), রিকি পন্টিং (অস্ট্রেলিয়া, ১২০ ও ১৪৩* রান), গ্রায়েম স্মিথ (দক্ষিণ আফ্রিকা, ১৩১ রান), হাশিম আমলা (দক্ষিণ আফ্রিকা, ১৩৪), জো রুট (ইংল্যান্ড, ২১৮ রান (ডাবল সেঞ্চুরি) ও ডেভিড ওয়ার্নার (অস্ট্রেলিয়া, ২০০ রান)।
২০ নভেম্বর, ২০২৫
অবশেষে সব প্রতীক্ষার অবসান। ২০ বছরের আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্যারিয়ারে নিজের শততম টেস্ট ম্যাচ খেলতে নেমেছেন মুশফিকুর রহিম। বাংলাদেশের ক্রিকেটও প্রথমবার এমন নজিরের সাক্ষী হলো। মিরপুর শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামে আজ (বুধবার) আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট খেলছে নাজমুল হোসেন শান্ত’র দল। বিসিবি থেকে মুশফিককে বরণের মধ্য দিয়ে ম্যাচের শুরুটা হয়েছে। বল মাঠে গড়ানোর আগমুহূর্তে দুই দলের ক্রিকেটারদের উপস্থিতিতে বিসিবির শুভেচ্ছা পেয়েছেন সাবেক এই টাইগার অধিনায়ক। এই সময় মুশফিকের বাবা-মা, স্ত্রী-সন্তানও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ২০০৫ সালে মুশফিককে অভিষেক পরিয়ে দিয়েছিলেন বাংলাদেশের তৎকালীন অধিনায়ক হাবিবুল বাশার। শততম টেস্ট উপলক্ষে তাকে দেওয়া হয়েছে বিশেষ ক্যাপ। এবারও মাইলফলক ম্যাচের ক্যাপটি পেলেন বাশারের কাছ থেকে। এ ছাড়া বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক আকরাম খান বিশেষ উপহার দিয়েছেন মুশফিককে। পরে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম ও নাজমুল আবেদীন ফাহিম ক্রেস্ট তুলে দেন তার হাতে। বিশেষ ক্যাপ ছাড়াও হাবিবুল বাশার ও বর্তমান অধিনায়ক শান্ত প্রথম ও শততম টেস্টে মুশফিকের সঙ্গে খেলা সতীর্থদের স্বাক্ষরিত একটি জার্সি উপহার দিয়েছেন। ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় এই দিনে দাঁড়িয়ে মুশফিক বলেন, ‘এখানে উপস্থিত সবার প্রতি ধন্যবাদ, আমার পরিবার, স্ত্রী, সতীর্থরা, বন্ধু ও ভক্তদের। বাংলাদেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা জানাই। তাদের জন্য আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাব। আয়ারল্যান্ড দলকেও এখানে থাকার জন্য ধন্যবাদ।’ মুশফিককে অভিনন্দন জানিয়ে আরও লম্বা সময় পাওয়ার প্রত্যাশা অধিনায়ক শান্ত’র, ‘অভিনন্দন! আপনার এবং আপনার পরিবারের জন্য এটি অসাধারণ অর্জন। আপনার সঙ্গে খেলতে সবসময় দারুণ লাগে। আমি আপনাকে অনুসরণ করতে চেয়েছি এবং আপনার কাছ থেকেই অনুপ্রেরণা নিয়েছি। আশা করি আপনি আরও দীর্ঘ সময় খেলবেন। মাঠে আপনার পাগলামি আর কঠোর পরিশ্রমের কথা সবাই বলে, কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো– আপনি ব্যক্তিগত মাইলফলকের জন্য নয়, দলের জন্য খেলেন। এটি আমাদের সবার জন্যই অনুপ্রেরণাদায়ক, বিশেষ করে যেসব তরুণ টেস্ট ক্রিকেট খেলতে চায়।’ প্রসঙ্গত, দ্বিতীয় টেস্টে টস জিতে আগে ব্যাট করছে বাংলাদেশ। একাদশে দুটি পরিবর্তন এনেছে স্বাগতিকরা, হাসান মাহমুদ ও নাহিদ রানার পরিবর্তে একাদশে ফিরেছেন এবাদত হোসেন ও খালেদ আহমেদ। এর আগে সিলেট টেস্টে দাপুটে জয়ের পর বাংলাদেশ ১-০ ব্যবধানে সিরিজে এগিয়ে আছে।

বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল আসন্ন বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) খেলছেন না। আগামী ২৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য নিলাম থেকে নিজের নাম প্রত্যাহারের বিষয়ে ইতোমধ্যে বোর্ডকে জানিয়েছেন তিনি। বিপিএল গভার্নিং কাউন্সিলের এক সদস্য ঢাকা পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এদিকে, ক্রিকবাজকে তামিম বিষয়টির সত্যতা জানিয়ে বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি বিপিএলে থাকছি না। শাহরিয়ার নাফীসকে (বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স ম্যানেজার) অনুরোধ করেছি আমার নামটা খেলোয়াড় ড্রাফট থেকে তুলে নিতে।’ ২০১২ সালে বিপিএলের সূচনার পর থেকে প্রতি আসরেই খেলেছেন তামিম। টুর্নামেন্টের অন্যতম সফল ব্যাটারও তিনি। সাম্প্রতিক দুই আসরে ফরচুন বরিশালকে টানা শিরোপা জেতাতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, ব্যাট হাতেও ছিলেন উজ্জ্বল। তবে এবার তার সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত খুব একটা বিস্ময়ের জন্ম দেয়নি। স্বাস্থ্যগত জটিলতা, দীর্ঘ বিরতি এবং প্রস্তুতির স্বল্পতার কারণে মৌসুমে অংশ না নেওয়ার জোরালো ইঙ্গিত আগে থেকেই ছিল। এর সঙ্গে যোগ হয় ফরচুন বরিশালের টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত—যারা সময়ের স্বল্পতাকে কারণ হিসেবে দেখিয়েছে। ৩৬ বছর বয়সী তামিম গত বছরের মার্চে একটি ঘরোয়া ম্যাচ চলাকালে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হন। সেই ঘটনার পর থেকে তিনি পেশাদার ক্রিকেটে আর ফিরেননি; মনোযোগ দিয়েছিলেন পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠায়। এ সময় তামিম ক্রিকেট প্রশাসনেও আগ্রহ দেখিয়েছিলেন। বিসিবি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতিও নিয়েছিলেন তিনি। তবে শেষ মুহূর্তে ‘সরকারি হস্তক্ষেপের’ অভিযোগ তুলে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। সব মিলিয়ে দেশের অন্যতম সেরা ওপেনারের বিপিএল না খেলার সিদ্ধান্ত তার মাঠে ফেরার সম্ভাবনাকে আরও অনিশ্চিত করে তুলল।
১৭ নভেম্বর, ২০২৫
গত সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপে পাকিস্তানকে পরপর তিনবার হারিয়ে হ্যাটট্রিক করেছিল ভারত। এবার দোহায় রাইজিং স্টার এশিয়া কাপে প্রতিশোধ নিলো পাকিস্তানের যুবারা। দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি লড়াইয়ে হেরে গেল ভারত। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ১৩৬ রানে অলআউট হয়ে গিয়েছিল ভারত ‘এ’ দল। জবাব মাজ সাদাকাতের ব্যাটিংয়ে ৮ উইকেটের জয় পেয়েছে পাকিস্তান শাহিন্স বা ‘এ’ দল (asia cup india vs pakistan cricket match)। কাতারের দোহায় টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমেছিল ভারত। উবেদ শাহের প্রথম বলেই চার মেরে শুরুটা ভালো করেছিলেন বৈভব সূর্যবংশী। পরের ওভারে শাহিদ আজিজকে একটি চার এবং একটি ছয় মারেন। ভালো শুরু পেয়ে যায় ভারত। এরপরই শুরু হয় উইকেট হারানোর পালা। চতুর্থ ওভারে শহিদ তুলে নেন ওপেনার প্রিয়াংশ আর্যকে (১০)। প্রথম ম্যাচে বৈভব যেমন খেলেছিলেন, তার ধারেকাছেও যেতে পারলেন না এদিন। বরং কিছুটা ধীরগতিতেই খেলছিলেন। এদিনের পিচও ছিল মন্থর গতির। বল পড়ে ব্যাটে ভালোভাবে আসছিল না। ফলে বড় শট খেলা কঠিন হয়ে যাচ্ছিল। তবু বৈভব চেষ্টা করছিল বড় শট খেলার। সুফিয়ান মুকিম দশম ওভারে তুলে নেন ভারতের ওপেনারকে। মুকিম খেলেছিলেন এশিয়া কাপেও। তার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ভারতকে বড় ধাক্কা দেয় পাকিস্তান। পাঁচটি চার এবং তিনটি ছয়ের সাহায্যে ২৮ বলে ৪৫ করে সাজঘরে ফেরেন বৈভব। বৈভবের আগেই আউট হয়ে যান নমন ধীরও। তিনি ছ’টি চার এবং একটি ছয়ের সাহায্যে ২০ বলে ৩৫ রান করেন। বৈভব ফিরতেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে ভারতের ইনিংস। একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে তারা। পরের দিকে নেমে হর্ষ দুবে (১৯) কিছুটা চেষ্টা করলেও ভারত বড় রান করতে পারেনি। ১৯ ওভারের মধ্যে ১৩৬ রানে অলআউট হয়ে যায় ভারতের যুবারা। এই রান পাকিস্তানের জন্য তোলা কঠিন ছিল না। তা ছাড়া দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করা আরও সহজ হয়ে যায়। দ্বিতীয় ওভারেই ১৪ রান দেন যশ ঠাকুর। পঞ্চম ওভারে গুরজপনীত সিংহ ১৮ রান দেন। পাকিস্তানের বোলাররা যেখানে নিয়ন্ত্রিত বল করছিলেন, সেখানে ভারতের বোলারদের লাইন-লেংথের কোনো ঠিক ছিল না। পাকিস্তানের অর্ধশতরানকারী ব্যাটার মাজ সাদাকাতের ক্যাচ দু’বার পড়েছে। এক বার ০ রানে, এক বার ৫৩ রানে। শেষ ক্যাচটি খুবই সহজ ছিল, যা ফেলে দেয় বৈভব। তবে দশম ওভারে যে বিতর্ক হয়েছে তা ছাপিয়ে গিয়েছে বাকি সব কিছুকেই। সেই সাদাকাতই ম্যাচ জিতিয়ে দেন। সাতটি চার এবং চারটি ছয়ের সাহায্যে ৪৭ বলে ৭৯ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। ভারতের হয়ে একটি করে উইকেট যশ এবং সুযশের।

বাংলাদেশ দলের হয়ে সবচেয়ে বেশি টেস্ট খেলার দিক থেকে আগেই শীর্ষে ছিলেন মুশফিকুর রহিম। ফলে তিনিই প্রথম কোনো বাংলাদেশি হিসেবে শততম টেস্ট খেলতে নামছেন। সিলেটে আয়ারল্যান্ডকে ইনিংস ব্যবধানে হারানো ম্যাচটি ছিল মুশফিকের ৯৯তম টেস্ট। আগামী ১৯ নভেম্বর মিরপুর শের-ই বাংলায় হতে যাওয়া সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে সাবেক এই অধিনায়ক শততম টেস্ট খেলতে নামবেন। ব্যক্তিগত মাইলফলকের ম্যাচে মুশফিককে বড় সম্মাননা দিতে চায় বিসিবি। সেদিন মিরপুর হোম অব ক্রিকেটে দাওয়াত পাবেন মিস্টার ডিফেন্ডেবলের পরিবার। এ ছাড়া ক্রেস্টসহ ক্রিকেটারদের স্বাক্ষরিত একটি ব্যাট দেওয়া হবে বলেও জানা গেছে। সবমিলিয়ে ১৯ নভেম্বর শের-ই বাংলা স্টেডিয়াম মুশফিকের বন্দনায় যে মুখরিত থাকবে সেটি বলার আর অপেক্ষা রাখে না। ক্রিকেটাঙ্গনের অনেকেরই প্রশ্ন– শততম ম্যাচ খেলেই কি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলবেন মুশফিক! ভক্ত-সমর্থকরা তা জানতে আগ্রহী। তবে জানা গেছে, লাল বলের ক্রিকেট চালিয়ে যাবেন তিনি। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে মুশফিক কেবল টেস্ট ফরম্যাটের দরজা খোলা রেখেছেন। যা নিয়ে আইরিশদের বিপক্ষে সিলেট টেস্টে জয়ের পর কথা বলেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। মুশফিকের শততম টেস্ট নিয়ে শান্ত বলেন, ‘অবশ্যই অনেক বড় একটা অর্জন, খুবই রোমাঞ্চিত। আমি প্রথম দিনের প্রেস কনফারেন্সে বলেছিলাম আমরা উদযাপন করতে চাই। খেলোয়াড়রা চায় ওই দিনটা বা ওই পুরো পাঁচ দিন আমরা উপভোগ করব। সম্মানের জায়গা তো আছেই। এরকম একটা অর্জন আমাদের বাংলাদেশে কখনও হয়নি। সুতরাং আমরা সবসময় আশা করি এরকম একটা মানুষকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে আমাদের সম্মানটুকু দেওয়া উচিত এবং অধিনায়ক হিসেবে ওই জিনিসটা করারই চেষ্টা করব।’
১৫ নভেম্বর, ২০২৫
দারুণ এক সকালে আধিপত্যের গল্পটা হয়তো লেখা হতো মাহমুদুল হাসান জয়ের দ্বিশতকে, তবে তা হয়নি। ১৭১ রানের মহাকাব্যিক ইনিংসে জয় থামলেও, বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে থাকল ম্যাচ—এমনটাই জানিয়ে গেল সিলেট টেস্টের তৃতীয় দিনের প্রথম সেশন। আয়ারল্যান্ডের বোলাররা তিনটি উইকেট তুললেও লাঞ্চ পর্যন্ত বাংলাদেশ এগিয়ে ১৬১ রানে, হাতে এখনো ৬ উইকেট! দিনের শুরুটা ছিল বাংলাদেশের তরুণ ওপেনার জয়ের শেষ অধ্যায় দিয়ে। আগের দিন ১৫৪ থেকে ১৭১—ক্ল্যাসিক টেস্ট ইনিংসের সুন্দর সমাপ্তি। ২৮৬ বলের ইনিংসে ছিল ১৪ চার ও ৪ ছক্কার সাজানো এক ধৈর্যের প্রতিমূর্তি। ওভারনাইট পার্টনার মমিনুল হকও খেলেছেন দায়িত্বশীল এক ইনিংস, ৮২ রানে বিদায় নিয়েছেন ব্যারি ম্যাককার্থির বলে। তবে এখানেই থামেননি বাংলাদেশের রানের ধারা। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত নামতেই বদলে যায় গতি। আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে খেলে মাত্র ৬৯ বলে ৬১ রানে অপরাজিত আছেন তিনি। মুশফিকুর রহিমও একপাশে সঙ্গ দিয়েছিলেন, যদিও ৯৯তম টেস্টে ২৩ রানে আউট হয়ে যান। এরপর লিটন দাস নেমে দ্রুত ছন্দে ফিরেছেন, ২৪ বলে ১৯ রানে লাঞ্চে পৌঁছে দেন দলকে। ১১১ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর এখন ৪৪৭/৪ — রানের গতি ৪-এর ওপরে। উইকেটে স্পিনারদের জন্য কিছুটা সহায়তা দেখা যাচ্ছে, কিন্তু এই লিডই ইতিমধ্যে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে যথেষ্ট হতে পারে। আয়ারল্যান্ডের বোলারদের মধ্যে ম্যাককার্থি ও ম্যাথিউ হামফ্রিজ নিয়েছেন দুটি করে উইকেট। তবে বাকি সবাই ছিলেন ব্যর্থ। বাংলাদেশ এখন চাইবে এই ইনিংসকে আরও বড় করা—বিশেষ করে মিরাজ, শান্ত, লিটনদের ব্যাটে যদি লিড ৩০০ ছাড়ায়, তাহলে সিলেটেই লেখা হতে পারে জয়ের আরেক ইতিহাস।
১৩ নভেম্বর, ২০২৫
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ। এই সিরিজে সাকিবকে পেছনে ফেলে ইতিহাস গড়ার সহজ সুযোগ টাইগার স্পিনার তাইজুল ইসলামের সামনে। আর সে জন্য নিজের সহজাত কাজটাই করে যেতে হবে তাকে। আইরিশদের বিপক্ষে ৯ উইকেট পেলে কিংবদন্তি সাকিব আল হাসানকে ছুঁয়ে ফেলবেন তাইজুল। আর ১০ উইকেট পেলে গড়বেন ইতিহাস। এখন পর্যন্ত দেশের টেস্ট ইতিহাসে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি সাকিব। ২৪৬ উইকেট নিয়ে তিনি আছেন শীর্ষে। তাইজুল ইসলামের উইকেটসংখ্যা ২৩৭টি। তাইজুল আর ১০ উইকেট পেলেই সাকিবকে পেছনে ফেলে দেশের টেস্ট ইতিহাসে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারির মালিক হবেন। সাকিব ২৪৬ উইকেট পেয়েছেন ৭১ টেস্টে। তাইজুলের সুযোগ আছে আরও কম টেস্টেই তাকে ছাড়িয়ে যাওয়ার। ২৩৭ উইকেট নিয়েছেন তিনি ৫৫ টেস্টে। অনেকটা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, সাকিবের চেয়ে অনেক কম টেস্ট খেলেই তাকে টপকাবেন তাইজুল। লাল বলের ক্রিকেটে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারির তালিকায় তিনে আছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ৫৪ টেস্টে ২০৫ উইকেট নিয়েছেন তিনি। পরের দুটি অবস্থান মোহাম্মদ রফিক (১০০) আর মাশরাফি বিন মর্তুজার (৭৮)।
১১ নভেম্বর, ২০২৫
ইন্টার মায়ামির নামের পাশে চারটি গোল, প্রতিটিতেই অবদান রয়েছে লিওনেল মেসির। এই আর্জেন্টাইন মহাতারকা প্রথমার্ধে দুই গোলে লিড এনে দেওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধের দুই গোলে অ্যাসিস্ট করেছেন। এর মধ্য দিয়ে বর্তমানে খেলছেন এমন ফুটবলারদের মধ্যে প্রথমবার ৪০০তম গোলে বলের যোগান দিলেন মেসি। তার ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের দিনে নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবার এমএলএস কাপের সেমিফাইনালে উঠল মায়ামি।
৯ নভেম্বর, ২০২৫
আগামী ডিসেম্বরে ঢাকায় বসছে লাতিন-বাংলা ফুটবল সুপার কাপ। প্রতিযোগিতায় স্বাগতিক বাংলাদেশ ছাড়াও অংশ নেবেন ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার অনূর্ধ্ব–২০ পর্যায়ের ফুটবলাররা। এ টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে ব্রাজিলে আসবে ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুটবলার কাফু। আর্জেন্টিনার শুভেচ্ছাদূত হিসেবেও একজন কিংবদন্তি ফুটবলার, যদিও সেটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। আর্জেন্টিনার শুভেচ্ছাদূত হিসেবে আসতে পারেন হুয়ান সেবাস্তিয়ান ভেরন, গাব্রিয়েল বাতিস্তুতা কিংবা ক্লদিও ক্যানেজিয়া—এই তিনজনের একজন। আয়োজক প্রতিষ্ঠান এ এফ বক্সিং প্রমোশন ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম ডি আসাদুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। আসাদুজ্জামান বলেন, ‘এই টুর্নামেন্ট করার মূল উদ্দেশ্য বাংলাদেশের তরুণ ফুটবলারদের উদ্বুদ্ধ ও উজ্জীবিত করা। আমরা কাফুর সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তার সঙ্গে চুক্তিও হয়েছে। আশা করি, আগামী মাসে তিনি ঢাকায় আসবেন। আমরা ভেরন, বাতিস্তুতা, ক্যানেজিয়ার সঙ্গেও কথা বলছি। তাদের একজন আসতে পারেন। এখনো সেটা চূড়ান্ত হয়নি।’ তিন দলের সুপার কাপে অংশ নিতে ২ ডিসেম্বর ঢাকায় পা রাখবে আর্জেন্টিনার বুয়েনস এইরেসভিত্তিক স্থানীয় ক্লাব আতলেতিকো চার্লোনের অনূর্ধ্ব–২০ দল। এর এক দিন পর আসবে ব্রাজিলের সাও বার্নার্দো ক্লাবের অনূর্ধ্ব–২০ দল। বাংলাদেশ দল গঠন করা হবে অনূর্ধ্ব–১৭, ২০ ও ২৩ দলের বাছাইকৃত ফুটবলারদের নিয়ে। ৫ থেকে ১১ ডিসেম্বর জাতীয় স্টেডিয়ামে হবে প্রতিযোগিতার তিনটি ম্যাচ। প্রথম দিন বাংলাদেশ খেলবে ব্রাজিলের বিপক্ষে। এরপর ৮ ডিসেম্বর প্রতিপক্ষ হবে আর্জেন্টিনা। আর ১১ ডিসেম্বর তৃতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হবে ব্রাজিল–আর্জেন্টিনার আমন্ত্রিত দুই ক্লাব। সাধারণ দর্শকেরা টিকিট কেটে ম্যাচগুলো উপভোগ করতে পারবেন। টিকিটের দাম এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।

মংককের মিশন রোড মাঠে টুর্নামেন্টের প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশকে ৫৪ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে প্রথম দল হিসেবে সেমিফাইনালে পৌঁছে গেছে অস্ট্রেলিয়া। আগে ব্যাট করে ২ উইকেটে রেকর্ড ১৪৯ রান করে অস্ট্রেলিয়া। জবাবে ৫ উইকেট হারিয়ে ৯৫ রান তুলেছিল বাংলাদেশ। এ হারের ফলে বাংলাদেশ নেমে গেল প্লেট পর্বে। আগামীকাল রোববার প্লেট সেমি-ফাইনালে খেলবে তারা। প্রতিপক্ষ এখনো নির্ধারিত হয়নি। এদিন প্রথমে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের ওপর রীতিমতো ঝড় বইয়ে দেন অজি ব্যাটাররা। ৬ ওভারের ম্যাচে গুণে গুণে ২১ ছক্কা হজম করেছেন আবু হায়দার রনিরা। তাদের তুলোধুনো করে এবারের আসরের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডটাও গড়েছে অস্ট্রেলিয়া। ৮ ছক্কায় ১৪ বলে ৫১ রান করে বাধ্যতামূলক অবসরে যান বেন মেকডেরমট। ৫ ছক্কায় ৬ বলে ৩০ রান করে আউট হন উইলিয়াম বসিস্টো। অধিনায়ক অ্যালেক্স রসের ব্যাট থেকে আসে ২ চার ও ৭ ছক্কায় ১১ বলে ৫০ রান। বড় টার্গেট তাড়ায় নেমে প্রথম ওভারেই তিন ব্যাটারকে হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ। এরপর মাত্র ১৯ রানের মাথায় ৪ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। পঞ্চম উইকেটে ৬০ রানের জুটি গড়েন রকিবুল হাসান ও আবু হায়দার রনি। ১ চার ও ৩ ছক্কায় ১০ বলে ২৫ রান করেন রকিবুল। শেষ দিকে একা ব্যাটিং করা রনির ব্যাট থেকে আসে ২ চার ও ৭ ছক্কায় ১৮ বলে ৫০ রান।
৮ নভেম্বর, ২০২৫
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর যেন মৃত্যুকে খুব কাছ থেকে দেখা হয়ে গিয়েছিল মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের। দেশে এখন মহামারি ডেঙ্গুতে প্রতিদিনই শোনা যাচ্ছে মৃত্যুর খবর। সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার স্মৃতি তুলে ধরেছেন মাহমুদউল্লাহর স্ত্রী জান্নাতুল কাওসার মিষ্টি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ব্যক্তিগত প্রোফাইলে কার্ডিওথোরাসিক হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিটের (সিএইচডিউ) একটি ছবি পোস্ট করেছেন মিষ্টি। ছবিটির সঙ্গে তিনি লিখেছেন গত সপ্তাহের সেই দুঃসহ সময়ের কথা। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের স্ত্রী নিজের সেই স্ট্যাটাসে লেখেন, ‘এই দরজার সামনে আল্লাহ আর কখনো দাঁড় না করাক। এটা ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন আর ভয়ংকর সময় (27/10/2025)। এই দরজার ভিতরে ঢুকার আগে সে যখন আমাকে বললো আমি যেন তাকে ক্ষমা করে দেই, সেটা শুনেও আমি এমন ভান করলাম যেন কিছুই হয়নি, হবেও না ইনশাআল্লাহ। ওই সময় নিজেকে খুব শক্ত করে সামলালাম এখন সেটা ভেবে নিজের কাছেই খুব অবাক লাগছে সেই আমি কিভাবে এতো শক্ত ছিলাম।’ জান্নাতুল কাওসার মিষ্টি আরও যোগ করেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাসী ছিলাম যে আমার আল্লাহ আমাকে সবরের পরীক্ষা করছিলেন, এই পরীক্ষায় আমি উত্তীর্ণ হবোই হব ইনশাআল্লাহ। কিন্তু যতক্ষণ তার পাশে ছিলাম মনে মনে ভয় পাচ্ছিলাম আর ভাবছিলাম তার হায়াত কতটুকু সেটা তো একমাত্র আল্লাহই জানেন। সর্বক্ষণ দোয়া আর জিকিরে কিভাবে যেন সেই কঠিন সময়টুকু পার হয়ে গেল আলহামদুলিল্লাহ, মাশাআল্লাহ। আল্লাহ মহান, পরম দয়ালু। তার দয়ার কাছে আমি চিরকৃতজ্ঞ। মানুষের জীবনে এমন কিছু মুহূর্ত আসে যা কখনো ভোলা যায় না। সেই কঠিন সময়টুকু এখনো বার বার মনে পড়ছে, হয়তো এই ট্রমা কাটতেও সময় লাগবে।’
৪ নভেম্বর, ২০২৫
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পরিষদের পরিচালক হয়েছেন করপোরেট ব্যক্তিত্ব ও নারী ক্রীড়া সংগঠক রুবাবা দৌলা। তাকে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) কাউন্সিলর মনোনীত করে সোমবার (৩ নভেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে বিসিবিকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। রুবাবা দৌলার অন্তর্ভুক্তিতে ২৫ সদস্যের বিসিবি পরিচালনা পর্ষদ পূর্ণতা পেয়েছে। চলতি বছরের ৬ অক্টোবর বিসিবি নির্বাচনের পর এনএসসি যাদের মনোনয়ন দিয়েছিল, তাদের একজন ইসফাক আহসানকে নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। আজকের এনএসসির চিঠিতে জানানো হয়, ইসফাক আহসান পদত্যাগ করায় তার স্থলেই রুবাবাকে মনোনীত করা হয়েছে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ থেকে রুবাবা দৌলা ছাড়া মনোনীত অন্য কাউন্সিলর হলেন ইয়াসির মোহাম্মদ ফয়সাল আশিক। ২০০৭-০৮ পর্যন্ত প্রায় দেড় বছর বিসিবির প্রথম নারী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন মনোয়ারা আনিস মিনু। দ্বিতীয় নারী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পেলেন দৌলা। আজ বিসিবি সভায় তিনি পরিচালক পদ গ্রহণ করবেন। রুবাবা বর্তমানে ওরাকলের বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানের কান্ট্রি ডিরেক্টরের দায়িত্বে আছেন। এর আগে তিনি গ্রামীণফোন ও এয়ারটেলের মতো টেলিকম খাতের প্রতিষ্ঠানে সিইও পদে কর্মরত ছিলেন। ক্রীড়াজগতে ২০০৯ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ স্পেশাল অলিম্পিকসের বোর্ড সদস্য হিসেবেও কাজ করেছেন।
৩ নভেম্বর, ২০২৫
সর্বশেষ এশিয়া কাপ থেকে ব্যাট হাতে বাজে সময় যাচ্ছে জাকের আলি অনিকের। ক্যারিয়ারের শুরুতে যে আগ্রাসী জাকেরকে দেখা গিয়েছিল, এখন ব্যাটে-বলেই হচ্ছে না তার। একইভাবে অফসাইডের বল টেনে লেগে খেলতে গিয়ে উইকেট বিলিয়ে দিচ্ছেন। মাঝে একাদশ থেকেও বাদ পড়েছিলেন জাকের। এরপর দলে ফিরে সেই পুরোনো চিত্র। তবে বাংলাদেশ অধিনায়ক লিটন দাসের বিশ্বাস– জাকের শিগগিরই ছন্দে ফিরবেন। গতকাল (শুক্রবার) ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে হেরে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে বাংলাদেশ। এই ম্যাচেও জাকের ৩ বলে ৫ রান করে আউট হয়ে যান। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে সর্বশেষ ১০ ম্যাচে কেবল একবার ৩০ পেরিয়েছেন ডানহাতি এই ব্যাটার। ৫ ম্যাচে আউট হয়েছেন এক অঙ্কের ঘরে। জাকেরের অফফর্ম নিয়ে ম্যাচ শেষে লিটন বলেন, ‘কামব্যাকের একটাই অপশন– সাহস রাখা, খুব একটা চিন্তিত না হওয়া। চিন্তিত হলে নেতিবাচক চিন্তাই বেশি আসবে। যদি ইতিবাচক চিন্তা আসে তার জন্য খুবই ভালো।’ সতীর্থকে ফর্মে ফেরার পরামর্শ দিয়ে বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘সবসময় বলব– নিজেকে ব্যাক করা, সময় দেওয়া এবং যে মানুষগুলো হেল্প করে সবসময় তাদের সঙ্গে ওঠাবসা করা। আমার মনে হয় সে শিগগিরই কামব্যাক করবে, ভালোভাবেই কামব্যাক করবে।’ দলের বাকিদের ওপরও আস্থা রাখছেন লিটন, ‘যে প্লেয়াররা দলে খেলেছে, সবাই পরীক্ষিত। এমন ২-১টা সিরিজ যেতেই পারে। একটা খেলোয়াড়ের ৫-৬টা ম্যাচ খারাপ যেতেই পারে। এর মানে সে খারাপ খেলোয়াড় না।’ ‘সবাই জানে তার কোথায় উন্নতি করতে হবে। বারবার খেলোয়াড় পরিবর্তন করলেও একই থাকবে ফলাফল। নতুন খেলোয়াড় খুব ভালো ফিডব্যাক না দিলে একই জায়গায় আটকে থাকবে। যারা অনেকদিন ধরে খেলছে তাদের নিয়ে আরেকটু এগোলে ফলাফল ভালো হওয়ার সম্ভাবনা বেশি’, আরও যোগ করেন লিটন। দলের বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারের লেগ সাইডে খেলার প্রবণতা নিয়ে লিটন বলেন, ‘আপনার স্কিল যত উন্নতি হবে ততই ভালো। কখন কাজে লাগাবেন সেটা আপনার ওপর। কারও স্কিল যদি অনেক বেশি থাকে খারাপ হওয়ার তো কিছু নেই। অবশ্যই ব্যাটারদের স্কিল বাড়াতে হবে, সব ধরনের শট খেলতে হবে। হাতেগোনা ক’জন ব্যাটার সুইপ-রিভার্স সুইপ খেলি। বিশ্ব ক্রিকেট এখন অনেক এগিয়ে গেছে। এমন উইকেটে ব্যাটাররা সুইপ–রিভার্স সুইপ খেলে। এখানে আমরা পিছিয়ে আছি। এই জিনিসগুলো নিয়ে কাজ করতে হবে। আপনি যতটা পারেন স্কিল বাড়াবেন। তার বাস্তবায়ন নির্ভর করবে গেমের ওপর।’

আরো আগেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তবে ঘরোয়া লিগ গুলোতে নিয়মিত খেলেন তিনি। কিন্তু কিছু দিন আগে ইনজুরিতে পড়ায় আছেন মাঠের বাইরে। আর এবার অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন তিনি। সবশেষ এনসিএল টি-টোয়েন্টিতে দুই ম্যাচ খেলার পরই ইনজুরিতে পড়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ। যে কারণে এরপর আর কোনো ম্যাচ খেলতে পারেননি। তবে চোট কাটিয়ে ফেরার পথেই ছিলেন। নিয়মিত রিহ্যাভ সেশন করছিলেন তিনি। এরই মধ্যে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন জাতীয় দলের সাবেক এই অলরাউন্ডার। গত চারদিন ধরে অসুস্থ মাহমুদউল্লাহ। শুরুতে জ্বরে ভুগছিলেন তিনি। এরপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে জানা যায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন তিনি। পরে হাসপাতালে ভর্তি হন রিয়াদ। এ তথ্য নিশ্চিত করেছে বিসিবির মেডিকেল বিভাগ। এখনো হাসপাতালে থাকলেও মাহমুদউল্লাহর শারীরিক অবস্থার আগের থেকে কিছুটা উন্নতি হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ২-১ দিনের মধ্যেই বাড়িতে ফিরতে পারবেন সাবেক এই ক্রিকেটার।
৩০ অক্টোবর, ২০২৫
সিডনির মাঠে সেটি তখন একদম সাধারণ একটা মুহূর্ত—একটি ডাইভিং ক্যাচ, দর্শকদের উল্লাস, আর হঠাৎই নিস্তব্ধতা। কয়েক সেকেন্ড পর বোঝা গেল, কিছু একটা ভয়ংকর ঘটেছে। ভারতীয় ক্রিকেটার শ্রেয়াস আইয়ার পড়ে আছেন মাঠে, পেট চেপে ধরেছেন দুই হাতে। পরবর্তী কয়েক ঘণ্টা হয়ে ওঠে জীবনের সঙ্গে লড়াইয়ের সময়। আর আজ, সেই মৃত্যুর ছায়া পেরিয়ে প্রথমবার মুখ খুললেন তিনি—জানালেন তিনি ধীরে ধীরে ভালো হচ্ছেন প্রতিদিন আরও একটু করে। সিডনিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডেতে মাঠে নেমেছিলেন ভারতীয় দলের এই নির্ভরযোগ্য মিডল-অর্ডার ব্যাটার। কিন্তু ম্যাচের মাঝেই ঘটে যায় দুর্ঘটনা। অ্যালেক্স কেরিকে অসাধারণ এক ডাইভে ক্যাচ ধরার পরপরই আইয়ার মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। সবাই ভেবেছিল সামান্য পাঁজরের চোট; কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জানা গেল আসল ভয়াবহতা—গ্রেড-টু স্প্লিন ল্যাজারেশন, অর্থাৎ প্লীহায় গভীর ক্ষত ও অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ। তৎক্ষণাৎ তাকে নেওয়া হয় সেন্ট ভিনসেন্টস হাসপাতালে, যেখানে জরুরি চিকিৎসায় মৃত্যুর মুখ থেকে টেনে আনা হয় তাকে। চিকিৎসকরা জানান, আইয়ারের রক্তচাপ দ্রুত নিচে নেমে গিয়েছিল, পরিস্থিতি তখন ছিল অত্যন্ত সংকটজনক। সৌভাগ্যবশত, অপারেশন ছাড়াই রক্তপাত থামানো সম্ভব হয়। ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ পর বৃহস্পতিবার সকালে শ্রেয়াস নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টে লেখেন— ‘আমি এখন সেরে ওঠার পথে, প্রতিদিন একটু একটু করে ভালো হচ্ছি। সারা বিশ্বের ভক্তদের কাছ থেকে যে ভালোবাসা ও শুভেচ্ছা পেয়েছি, তা সত্যিই আমার জন্য অনেক বড় আশীর্বাদ। সবাইকে ধন্যবাদ—আমার জন্য প্রার্থনা করার জন্য।’ এই বার্তাটিই এখন যেন ভারতীয় সমর্থকদের জন্য এক বিশাল স্বস্তি। কারণ ঘটনার পর থেকে দলের ভেতরে-বাইরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল। এমনকি ডাক্তারদেরও আশঙ্কা ছিল, দেরি হলে ঘটনাটি প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারত। খেলার বিশ্লেষক গ্রিনস্টোন লোবো বলেন, ‘আইয়ার ভীষণ ভাগ্যবান। যে ধরণের স্প্লিন ইনজুরি ওর হয়েছিল, সেখানে কয়েক মিনিটের বিলম্বও ভয়াবহ হতে পারত। তবে আমি নিশ্চিত, এই অভিজ্ঞতা তাকে আরও দৃঢ় করে তুলবে।’ আইসিইউ থেকে ফিরলেও এখনো সম্পূর্ণ বিশ্রামে আছেন শ্রেয়াস। আপাতত কোনো ক্রিকেট কার্যক্রমে ফেরার সম্ভাবনা নেই এই বছরের শেষের আগে। তবে বোর্ড ও তার সতীর্থদের বিশ্বাস—এই চোট কাটিয়ে তিনি আরও শক্ত হয়ে ফিরবেন, যেমনটা করেছেন আগেও পিঠের অস্ত্রোপচারের পর। সিডনির সেই দুঃস্বপ্ন আজও চোখে ভাসে, কিন্তু শ্রেয়াসের এই বার্তা ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে নতুন আলো জ্বেলেছে—মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা এক যোদ্ধার প্রত্যাবর্তনের শুরু এটিই।

ইনিংসের শেষ দিকে ব্যাট হাতে ছোট্ট ক্যামিও ইনিংস খেলার সুনাম রয়েছে শামীম হোসেন পাটোয়ারীর। তবে প্রায়ই নিজের কাজটুকু ঠিকঠাক করতে ব্যর্থ হন তিনি। আউট হন বাজে শট খেলে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টি শেষে শামীমকে কাঠগড়ায় তুললেন অধিনায়ক লিটন দাস। ৩৮ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর ব্যাটিংয়ে নামেন শামীম। ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারের তৃতীয় বলে জেসন হোল্ডারকে পুল করতে গিয়ে বোল্ড হয়ে যান তিনি। ৪ বলে ১ রান করা শামীম যেভাবে উইকেট বিলিয়ে দিয়ে এসেছেন তাতে হতাশ অধিনায়ক লিটন। শামীমকে নিয়ে টাইগার অধিনায়ক বলেন, ‘ব্যাটিংয়ে পাওয়ারপ্লেতে খুব বেশি উইকেট হারিয়ে ফেলেছি। শামীম যেভাবে ব্যাট করেছে, ওর ব্যাটিংয়ে আমি খুব হতাশ হয়েছি। তাকে এটা নিয়ে ভাবতে হবে। সবসময় ক্রিজে এসে মারলেই হবে না। কখনো কখনো দায়িত্ব নিতে হয়, নিতে হবেই।’ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টাইগার বোলাররা ভালো করলেও শেষদিকে সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি। বিশেষ করে শেষ ৩ ওভার খরুচে বোলিং করে তারা। শেষ ওভারগুলোতে আরও ভালো করা প্রয়োজন ছিল বলে মনে করেন লিটন। ম্যাচ হেরে যে ব্যাটারকে কাঠগড়ায় তুললেন লিটন তিনি বলেন, ‘প্রথম ১০ ওভার তারা দারুণ ব্যাট করেছে। উইকেটটা কিছুটা ধীর ছিল। আমরা যদি শুরুতেই উইকেট নিতে পারতাম, তাহলে তারা চাপে থাকত। শেষের ওভারগুলোয় আমাদের আরও ভালোভাবে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা দরকার ছিল। পরের ম্যাচে এটাতে আমরা নজর দিব।’
২৮ অক্টোবর, ২০২৫
বিশ্বকাপজয়ী তারকা লিওনেল মেসির জোড়া গোলে ন্যাশভিলে এসসিকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়েছে ইন্টার মায়ামি। শনিবার (২৫ অক্টোবর) উড়ন্ত হেডে দুর্দান্ত এক গোল করে তাক লাগিয়ে দেন মেসি। ম্যাচের আগে লিগের কমিশনার ডন গারবার গোল্ডেন বুট পুরস্কার তুলে দেন ফুটবলের মহাতারকার হাতে। ন্যাশভিলের বিপক্ষে লিড পেতে বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি মায়ামিকে। ম্যাচের ১৯ মিনিটে দলকে লিড এনে দেন মেসি। লুইস সুয়ারেজের ক্রস বক্সের মাঝামাঝিতে দাঁড়ানো এই তারকা ডানদিকে শরীরটা হালকা শূন্যে ভাসিয়ে হেড দিয়েছেন। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই ম্যাচ বিরতিতে গড়ায়। ৬২ মিনিটে তাদেও আলেন্দের গোলে ২-০ গোলের লিড পায় মায়ামি। নির্ধারিত সময় শেষ হলে অতিরিক্ত ১২ মিনিট যোগ করা হয়। সেই অতিরিক্ত সময়ে ষষ্ঠ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলের দেখা পান মেসি। মায়ামি ফুটবলারের বাড়ানো বল হাতে আটকে রাখতে পারেননি ন্যাশভিলে গোলরক্ষক, ফসকে যাওয়া বলটি আলতোভাবে ফাঁকা জালে জড়ান তিনি। এরপর হানি মুখতারের গোলে ব্যবধান কমায় সফরকারীরা। এদিকে মেসির হাতে গোল্ডেন বুট তুলে দিতে পেরে গর্বিত মেজর লিগ সকারের কমিশনার ডন গারবার। তিনি বলেন, ‘আমরা কোনোদিন ভাবতেও পারিনি, লিও এই ক্লাব, এই শহর এবং এই লিগের জন্য এতটা দিতে পারবে। তিনি মেজর লিগ সকারের গতিপথই বদলে দিয়েছেন। অথচ আমরা তখনও বেশ ভালো অবস্থানে ছিলাম। আগামী তিন বছর তাকে পেয়ে আমরা আসলে এক অসাধারণ উপহার পাচ্ছি। আশা করি, এটি সেই উপহার হবে যা বারবার আনন্দ এনে দেবে।’
২৫ অক্টোবর, ২০২৫
ঘরের মাঠে ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে দাপুটে এক পারফরম্যান্সে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে উড়িয়ে দিল বাংলাদেশ। সৌম্য সরকার ও সাইফ হাসানের জোড়া ফিফটি, এরপর নাসুম আহমেদ ও রিশাদ হোসেনদের ঘূর্ণিঝড়ে ক্যারিবিয়ানদের ১৭৯ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নিল টাইগাররা। বাংলাদেশের ওয়ানডে ক্রিকেটে আবারও হাসির ঝলক। ২০২৪ সালের মার্চে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয়ের পর দীর্ঘ বিরতির পর আবারও সিরিজ জয়ের মুখ দেখল বাংলাদেশ। মিরপুরের সবুজ গ্যালারি সাক্ষী হয়ে রইল রইল একঘূর্ণি নৈপুণ্যের, যেখানে মেহেদী হাসান মিরাজের নেতৃত্বে স্বাগতিকরা ১৭৯ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে দিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। এই জয় শুধু সিরিজ জয়ের নয়, মিরাজের অধিনায়কত্বের প্রথম মুকুটও বটে। দুপুরে টস জিতে ব্যাট হাতে ঝড় তুলেছিলেন দুই ওপেনার সৌম্য সরকার ও সাইফ হাসান। প্রথম উইকেটে দুজন মিলে গড়েন ১৭৬ রানের জুটি—যা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় শুরুতেই। সৌম্য ৮৬ বলে ৯১ ও সাইফ ৭২ বলে ৮০ রান করে সাজঘরে ফেরেন। মাঝের সারিতে হৃদয় (২৮) ও শান্ত (৪৪) দলকে ২৯৬ রানের লড়াকু সংগ্রহ এনে দেন। প্রতিপক্ষের বোলারদের মধ্যে একমাত্র আকিল হোসেনই কিছুটা সফল ছিলেন; ১০ ওভারে ৪১ রানে ৪ উইকেট তুলে নিয়ে দলের লজ্জা কিছুটা কমান তিনি। বিশাল জয়ে সিরিজ নিজেদের করে নিল বাংলাদেশ কিন্তু এরপর যা হলো, তা ছিল একতরফা ঘূর্ণি উৎসব। স্পিনারদের সামনে ক্যারিবীয় ব্যাটারদের অসহায় আত্মসমর্পণ। শুরুটা করেন নাসুম আহমেদ—দুর্দান্ত নিয়ন্ত্রণে ৬ ওভারে মাত্র ১১ রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট। তাকে দারুণভাবে সঙ্গ দেন তানভির ইসলাম (২/১৬) ও রিশাদ হোসেন (৩/৫৪)। নেতৃত্বে থেকেও নিজের ছাপ রাখেন মিরাজ, নেন ২ উইকেট। পুরো ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ টিকেছিল মাত্র ৩০.১ ওভার। তাদের ইনিংস গুটিয়ে যায় ১১৭ রানে। কেবল আকিল হোসেন কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা করেন—১৫ বলে ২৭ রানের ইনিংস খেলে। বাকিরা কেউই ঘূর্ণি সাম্রাজ্য ভেদ করতে পারেননি। এ জয় বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যবধানের জয় (১৭৯ রানে) এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সর্বোচ্চ ব্যবধানের জয়।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটিতে দারুণ জয় পায় বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে জিতলেও দ্বিতীয় ম্যাচে সুপার ওভারে ১ রানে হারে স্বাগতিকরা, আর তাতে সিরিজ এখন ১-১ সমতায়। বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় দুপুর দেড়টায় শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে মাঠে নামবে দুই দল। এই ম্যাচে বাংলাদেশের একাদশে পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে। দুই বছর পর ঘরের মাঠে সিরিজ হার ঠেকানোর পরীক্ষা বাংলাদেশের সামনে। ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচে চিন্তার কারণ অধিনায়ক নিজেই। মাঠে পারফরম্যান্সেও পার করছেন বাজে সময়। তাছাড়া তার অধিনায়কত্ব নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। বোলিং লাইনআপে পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা কম থাকলেও পরিবর্তন আসতে পারে টাইগারদের ব্যাটিং লাইনআপে। শুরুতে শট খেলতে পারায় তানজিদ তামিমকে ফেরানো হতে পারে একাদশে। লোয়ার মিডল অর্ডারে জাকের আলীকে নেওয়ার সুযোগ আছে। যদিও ওই সম্ভাবনা জোরালো নয়। ওপেনিংয়ে সাইফকে বসালে ষষ্ঠ বোলিং অপশনের ভাবনাটাও থাকবে অধিনায়কের। অন্যদিকে, অপরিবর্তিত একাদশ নিয়েই মাঠে নামার সম্ভাবনা বেশি সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজের। বাংলাদেশের সম্ভাব্য একাদশ: সাইফ হাসান/তানজিদ তামিম, সৌম্য সরকার, নাজমুল শান্ত, তাওহিদ হৃদয়, মাহিদুল অঙ্কন, মেহেদী মিরাজ, নুরুল হাসান, রিশাদ হোসেন, নাসুম আহমেদ, তানভীর ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমান।
২৩ অক্টোবর, ২০২৫
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে চলমান ওয়ানডে সিরিজের দুই ম্যাচেই ব্যাট হাতে ঝোড়ো ক্যামিও খেলেছেন রিশাদ হোসেন। বিশেষ করে গতকাল (মঙ্গলবার) দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ছিলেন বেশি আগ্রাসী। নয় নম্বরে ব্যাট করতে নেমে রিশাদ ১৪ বলে ৩টি করে চার-ছক্কায় ৩৯ রান করেন। অন্যরা যেখানে রানের জন্য ধুঁকছে, সেখানে আগ্রাসী রিশাদকেই তো প্রয়োজন ছিল সুপার ওভারে। কিন্তু তাকে নামাল না বাংলাদেশ। মূল ম্যাচে বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ছিল সমান ২১৩। ফলে ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে। যেকোনো ফরম্যাটেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথমবার বাংলাদেশের কোনো ম্যাচ টাই হলো। ক্যারিবীয়দের ১১ রানের লক্ষ্য তাড়ায় বাংলাদেশের হয়ে নামেন সাইফ হাসান ও সৌম্য সরকার। পরে সৌম্য আউট হলে নামানো হয় নাজমুল হোসেন শান্তকে। কিন্তু শেষ ৫ বলে তারা ৬ রানের সমীকরণ মেলাতে পারেননি। ফলে ইনফর্ম ব্যাটার রিশাদকে কেন নামানো হলো না সেই প্রশ্ন–ই জোরালো হয়ে ওঠে। ম্যাচ হারের পর রিশাদকে ব্যাটিংয়ে না নামানোর কারণ জানতে চাওয়া হয় সংবাদ সম্মেলনে আসা সৌম্য সরকারের কাছে। জবাবে বাঁ-হাতি এই ওপেনার বলেন, ‘ওটা কোচ আর অধিনায়কের পরিকল্পনা ছিল। তাদের পরিকল্পনার একটা অংশ ছিল এটা। তারা চিন্তা করেছে যে মেইন ব্যাটসম্যানদের পাঠাবে।’ সংবাদ সম্মেলনে সৌম্য সরকার এখানেও ডানহাতি-বাঁহাতি কম্বিনেশন মেলানো হয়েছে বলে জানান সৌম্য, ‘এটা নিয়ে আমরা সবাই চিন্তা করিনি, কোচ আর অধিনায়কের হাতে ছিল। আমরা জানতাম না যে আকিল হোসেন বল করবে। যদি আমরা দুজন বাঁ-হাতি ব্যাটসম্যান নেমে যেতাম এবং তখন কোনো অফ স্পিনার আসতো, তাহলে বিপদে পড়তাম। এজন্যই বাঁহাতি-ডানহাতি কম্বিনেশন রাখা হয়েছিল। আপনি ওদের ক্ষেত্রেও দেখবেন, ওরাও কিন্তু বাঁহাতি-ডানহাতি মিলিয়েই ব্যাটিং করেছে।’ ৫ বলে ৬ রান করতে না পারার পেছনে উইকেটের দায় দিয়ে এই তারকা ব্যাটার বলেন, ‘আমার জন্য এটা ব্যর্থতা। একজন বাঁ-হাতি স্পিনার ছিল। আমি আত্মবিশ্বাসী ছিলাম যে একটা বাউন্ডারি আদায় করতে পারব। তবে এটাও ঠিক যে উইকেটটা সহজ ছিল না, সহজে চার-ছক্কা মারার মতো ছিল না। বলটা অনেক পুরোনো হয়ে গিয়েছিল।’ ‘৫০ ওভারের পর বল মারলেও যাচ্ছিল না। বড় হিট করতে গেলে উইকেটেরও সাহায্য লাগে। বলটা একটু স্লো আসছিল এবং টার্ন ছিল অনেক বেশি। পরেরবার যদি এমন উইকেট থাকে, তাহলে সেভাবেই অনুশীলন করতে হবে যে কীভাবে ছয় মারা যায়’, আরও যোগ করেন সৌম্য।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথমবার হোয়াইটওয়াশড হওয়ার ধকল কাটিয়ে উঠার খুব একটা সময় পায়নি বাংলাদেশ। ঘুরে দাঁড়ানোর আশায় নতুন অভিযানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি বাংলাদেশ। তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটিতে টস হেরে শুরুতে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ পেয়েছে মেহেদী হাসান মিরাজের দল। মিরপুর শের-ই-বাংলায় দুপুর দেড়টায় শুরু হবে খেলা। আফগানিস্তান সিরিজে ভরাডুবির পর বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছে দলে। প্রথমবার ওয়ানডে দলে সুযোগ পাওয়া মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনের অভিষেক হলো সিরিজের প্রথম ম্যাচেই। তরুণ উইকেটরক্ষক-ব্যাটারকে ক্যাপ পরিয়ে দিয়েছেন সাইফ হাসান। এ ছাড়া দীর্ঘদিন পর একাদশে ফিরেছেন সৌম্য সরকার। দলে জায়গা হারিয়েছেন শামীম হোসেন পাটোয়ারী। জায়গা হয়নি মোহাম্মদ নাঈম শেখ ও নাহিদ রানাদের। একাদশে ফিরেছেন দুই অভিজ্ঞ পেসার মুস্তাফিজুর রহমান ও তাসকিন আহমেদ। অন্যদিকে, তিনজন করে পেসার ও স্পিনার নিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ একাদশ সাজিয়েছে শাই হোপের ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ক্রিকেটের অন্য দুই ফরম্যাটের তুলনায় ওয়ানডেতে কিছুটা আত্মবিশ্বাসী ছিল বাংলাদেশ। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে নিজেদের পছন্দের এই ফরম্যাটেই যেন বেশি ধুঁকছে টিম টাইগার্স। ওয়ানডেতে সর্বশেষ ১২ ম্যাচের ১১টিতেই হেরেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। আগামী ২০২৭ বিশ্বকাপের টিকিট কাটতে ঘুরে দাঁড়ানোর বিকল্প নেই। বাংলাদেশ একাদশ : সাইফ হাসান, সৌম্য সরকার, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহীদ হৃদয়, মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), নুরুল হাসান সোহান (উইকেটরক্ষক), মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন, রিশাদ হোসেন, তানভীর ইসলাম, তাসকিন আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমান। ওয়েস্ট ইন্ডিজ একাদশ: শাই হোপ (অধিনায়ক), অলিক আথানেজ, কেসি কার্টি, রোস্টন চেইস, জাস্টিন গ্রেভস, ব্র্যান্ডন কিং, গুডাকেশ মোতি, খ্যারি পিয়ের, শেরফান রাদারফোর্ড, জেইডেন সিলস, রোমারিও শেফার্ড। এফআই বাংলাদেশ ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ বাংলাদেশ ক্রিকেট
১৮ অক্টোবর, ২০২৫
আফগানিস্তানের কাছে ওয়ানডে সিরিজ হারের পর দেশে ফিরে সমর্থকদের তোপের মুখে পড়েন ক্রিকেটাররা। ব্যর্থ ওয়ানডে সিরিজ শেষে দুটি আলাদা ফ্লাইটে বুধবার (১৫ অক্টোবর) দেশে ফেরেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা। সন্ধ্যার পরপরই নাঈম শেখ, মুস্তাফিজ, সাইফ, হাসান, রিশাদ, তানজিম, তাসকিনরা বের হন বিমানবন্দর থেকে। দেশে পা রেখেই অপ্রীতিকর ঘটনার মুখোমুখি হতে হয় তাদের। ভুয়া-ভুয়া স্লোগান, পরিবার তুলে গালাগাল চলতে থাকে। তাওহীদ হৃদয় ও নাঈম শেখদের গাড়ি লক্ষ্য করে সমর্থকদের রোষানল ছিল বেশি। স্বভাবতই তাতে মনঃক্ষুণ্ন হয়েছেন নাঈম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন পোস্ট দেন তিনি, যদিও তাতে সমর্থকদের মন জয় করতে পারেননি এই ওপেনার। নাঈম শেখের পথে হেঁটেছেন জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার নাসির হোসেন। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে জাতির সামনে প্রশ্ন ছুড়ে দেন তিনি। নিজের সেই পোস্টে নাসির লেখেন, আমরা ক্রিকেট প্লেয়ার। তার থেকেও বড় পরিচয় আমরা মানুষ, রক্তে মাংসে গড়া মানুষ কোনো রোবট নই যে অনুভূতি নেই । জিতে গেলে ১৭ কোটি মানুষ আনন্দ পায় উল্লাস করে, তাহলে হেরে গেলে কেন শুধু ১১ জন কষ্টের দায়ভার বহন করবে? তিনি আরও লেখেন, আমার প্রশ্ন জাতির কাছে কেউ কি ইচ্ছে করে হেরে যায় বা হারতে চায়? আনন্দ যদি ভাগাভাগি করে নেওয়া যায় তবে কষ্টের সময় একটু সহানুভূতি কি দেখানো যেতে পারে না? কটুকথা না শুনিয়ে, আত্মবিশ্বাসে আঘাত না করে, মনোবল বৃদ্ধি করা বা জয়ের পথে এগোতে একটু কি উৎসাহ দেওয়া যায় না? ইনশাআল্লাহ আল্লাহ চাইলে আগামীতে আমরাও ভালো করব। আমরা আরও শক্তিশালী হয়ে মোকাবিলা করে দেখিয়ে দিতে চাই। আর চাই, ১৭ কোটি মানুষের ভালোবাসা, দোয়া আর সমর্থন ।
১৬ অক্টোবর, ২০২৫
এশিয়ান কাপে নিজেদের সবশেষ ম্যাচটা একরাশ হতাশাই উপহার দিয়ে গেছে বাংলাদেশকে। হংকংয়ের বিপক্ষে ৪-৩ গোলের ওই ম্যাচটা জিততে পারলে পরিস্থিতিটা কী দারুণই না হতে পারত বাংলাদেশের! তবে সেই হারের পরও বাংলাদেশের মূল পর্বে খেলার আশা শেষ হয়ে যায়নি। সমীকরণ মিলাতে পারলে এবারই এশিয়ান কাপের মূল পর্বে চলে যেতে পারবে হামজা চৌধুরীরা। বাংলাদেশের সামনে এখন একটাই পথ খোলা। যদি পরের তিনটি ম্যাচ জেতা যায়, তবেই এশিয়ান কাপের টিকিট মিলবে দলের। বর্তমানে ১ পয়েন্ট নিয়ে সি গ্রুপের তলানিতে অবস্থান করছে বাংলাদেশ। পরের তিন ম্যাচ জিতলে ১০ পয়েন্টে গিয়ে ঠেকবে দলের পয়েন্ট। তখনও অবশ্য কাজ শেষ হয়ে যাবে না। নজর রাখতে হবে গ্রুপের অন্য দলগুলোর দিকেও। ৭ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে হংকং। মূল পর্বে খেলতে হলে ‘তাদের ক্ষতির’ প্রার্থনা করতে হবে। কোনোভাবেই সিঙ্গাপুর আর ভারতের বিপক্ষে হংকং জিততে পারবে না। সেটা হলে ১০ পয়েন্ট হয়ে যাবে হংকংয়ের। এদিকে বাংলাদেশকে হারাতে হবে ভারতকে। সেটা হলেই মোটামুটি এশিয়ান শ্রেষ্ঠত্বের আসরে টিকিট কাটবে দল। হারাতে পারলে ভারতকে নিয়ে কোনো চিন্তা থাকবে না। কিন্তু সিঙ্গাপুরও হতে পারে মাথাব্যথার কারণ। তারাও যত কিছুই করুক না কেন, যাতে ১০ পয়েন্ট ছুঁতে না পারে, সেদিকে তাকিয়ে থাকতে হবে বাংলাদেশকে। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের সামনে সমীকরণটা এখন সহজ। হংকং, ভারত ও সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে বাংলাদেশকে জিততে হবে প্রতিটি ম্যাচে। সঙ্গে হংকং আর সিঙ্গাপুরের অনিষ্টও চাইতে হবে দলের।
১৪ অক্টোবর, ২০২৫
চলমান অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল বিশ্বকাপে দারুণ ছন্দে রয়েছে আর্জেন্টিনা। চিলির সান্তিয়াগো ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে নাইজেরিয়াকে ৪-০ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করে আলবিসেলেস্তারা। এদিন দলের পক্ষে জোড়া গোল করেন ক্যারিসো। এ ছাড়া একটি করে গোল করেন সারকো ও সিলভেট্টি। খেলার শুরুতেই প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের প্রথম মিনিটেই ডিলান গোলোসিতোর পাস থেকে আলেহো সারকো গোল করে দলকে ১-০ তে এগিয়ে দেন। প্রথম গোলের পর দ্বিতীয় গোল পেতে বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি আলবিসেলেস্তাদের। ম্যাচের ২৩ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে মাহের ক্যারিসো গোলরক্ষকের পোস্টে লেগে বল জালে পাঠিয়ে ব্যবধান বাড়িয়ে করেন ২-০। প্রথমার্ধের শেষ দিকে নাইজেরিয়া দুটি সুযোগ পেয়েছিল গোল পরিশোধের, তবে আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক বারবি দুর্দান্তভাবে তা প্রতিহত করে দলকে ক্লিন শিট ধরে রাখতে সাহায্য করেন। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে বলের দখল নিতে চেষ্টা করে নাইজেরিয়া, তবে গোছালো আক্রমণ করতে ব্যর্থ হয় তারা। উল্টো আরও এক গোল হজম করে বসে তারা। মাঝমাঠে বল ছিনিয়ে নিয়ে মিল্টন ডেলগাডো নিখুঁত এক পাস বাড়ান মাহের ক্যারিসোর উদ্দেশ্যে। দারুণ ফিনিশিংয়ে দলকে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন তিনি। ম্যাচের চতুর্থ গোলটি আসে সিলভেট্টির পা থেকে। প্রতিপক্ষের রক্ষণভেদ করে চমৎকার এক ড্রিবল শেষে গোলরক্ষকের ডানপাশ দিয়ে বল জালে পাঠান এই ফুটবলার। সহজ এই জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ মেক্সিকো।
৯ অক্টোবর, ২০২৫
আগামী ৯ অক্টোবর হংকং, চায়নার বিপক্ষে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। আসন্ন এ ম্যাচের জন্য আজ (৬ অক্টোবর) সকালে ঢাকায় এসে পৌঁছেছেন হামজা দেওয়ান চৌধুরী। দেশে এসেই সমর্থকদের জন্য একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছেন এ মিডফিল্ডার। যেখানে সবাইকে সমর্থন করতে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। গতকাল বাংলাদেশ সময় রাতে ইংল্যান্ড থেকে রওনা হয়ে আজ সকাল ১১ টার দিকে দেশে এসে পৌঁছান ইংলিশ প্রিমিয়ার ফুটবল লিগে খেলা এই ফুটবলার। ভিডিও বার্তায় হামজা বলেন, ‘আসসালামু আলাইকুম। ইনশা- আল্লাহ আমরা সাক্সেসফুল হবো। ৯ তারিখ আমরা হংকংয়ের সাথে খেলতে নামবো। ইনশা- আল্লাহ সবাই আমাদের সাপোর্ট দেবেন।’ এদিকে হামজাকে অভ্যর্থনা জানাতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন ফেডারেশনের নির্বাহী সদস্য কামরুল হাসান হিলটন। বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা সেরে দ্রুত সময়ের মধ্যে টিম হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের উদ্দেশ্যে রওনা হন হামজা। কয়েক ঘন্টা বিশ্রাম নিয়ে আজ বিকেলে অনুশীলনে নামার কথা রয়েছে তার। মার্চ উইন্ডোতে হামজা বাংলাদেশের হয়ে প্রথমবার খেলতে দেশে আসেন। তখন সিলেট বিমানবন্দরে উপচে পড়া ভীড় ছিল। তার বাড়ি হবিগঞ্জও ছিল লোকে লোকারণ্য। জুন উইন্ডোতে হোম ম্যাচের সময় তার আগমন নিয়ে ছিল অনেক উন্মাদনা। মার্চ ও জুনে স্টেডিয়ামে বসে হামজার খেলা দেখেছেন বাবা-মা। এবার অবশ্য হামজা একাই এসেছেন। ৯ অক্টোবর ঢাকায় খেলে পরের দিনই আবার হংকং যাবেন। ১৪ অক্টোবর হংকং খেলে সেখান থেকেই ইংল্যান্ড রওনা হওয়ার সূচি। বাংলাদেশের জার্সিতে হামজা তিন ম্যাচ খেলেছেন। ভারত ও সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে এশিয়ান কাপ বাছাই এবং ভুটানের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ। ৪ জুন ঢাকায় অনুষ্ঠিত ভুটানের বিপক্ষে একটি গোলও করেন হামজা। ৯ অক্টোবর বাংলাদেশ জার্সিতে হামজার চতুর্থ ম্যাচ হবে।
৬ অক্টোবর, ২০২৫
বহু নাটকীয়তার পর অবশেষে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পরিষদের নির্বাচন। সোমবার (৬ অক্টোবর) রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে সকাল ১০টা থেকে এ ভোটগ্রহণ শুরু হয়, যা চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। সভাপতি নির্বাচনের জন্য নিজেদের ভোট প্রয়োগ করবেন নির্বাচিত পরিচালকরা। সন্ধ্যা ৬টায় ফল ঘোষণা করা হবে। সভাপতি ও সহসভাপতি নির্বাচন সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে। এরপর রাত ৯টায় ফল ঘোষণা করা হবে। এবারের বিসিবি নির্বাচনে মোট ভোটার কাউন্সিলর ১৯১ জন হলেও ৪৮ ক্লাব ভোট বর্জন করার ঘোষণা দিয়েছে আগেই। ক্লাব ক্যাটাগরিতে ১৬ প্রার্থীর মধ্য থেকে নির্বাচিত হবেন ১২ পরিচালক। যদিও একেবারে শেষ মুহূর্তে গেল রাতে ভোট বর্জন করেছেন ক্লাব ক্যাটাগরির প্রার্থী ফায়জুর রহমান ভূঁইয়া। সরাসরি ভোট অনুষ্ঠিত হবে ৯৮ কাউন্সিলের। এরই মধ্যে ই-ব্যালটে ভোট প্রদান করেছেন ৫৮ কাউন্সিলর। ক্যাটাগরি ১ থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হচ্ছেন ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনার দুই পরিচালক। বরিশাল ও সিলেট থেকেও নির্বাচিত হচ্ছেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। ক্যাটাগরি ১-এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে। আর ক্লাব ও ক্যাটাগরি ২-এ প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে প্রার্থীদের মাঝে। এদিকে, দেশের সব জেলায় ক্রিকেট ছড়িয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন বিসিবি সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বী আমিনুল ইসলাম বুলবুল। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রধান লক্ষ্য ক্রিকেটের উন্নয়ন করা। আমি ঢাকা বিভাগ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছি এবং ঢাকায় ১৭টি জেলা আছে। আমি মনে করি আমাদের দেশের ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচন সেরা নির্বাচন
৬ অক্টোবর, ২০২৫