

নোয়াখালী জেলা কারাগারে বর্তমানে ৯৪১ জন বন্দি থাকলেও আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য আবেদন করেছেন মাত্র ৪৪ জন বন্দি। যা মোট বন্দির মাত্র ৪ দশমিক ৭ শতাংশ। জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নোয়াখালী জেলায় সরকারি চাকরিজীবীসহ মোট ১৩ হাজার ৮৫১ জন পোস্টাল ব্যালটের জন্য আবেদন করেছেন। এর মধ্যে পুরুষ ১০ হাজার ২৪৬ জন এবং নারী ৩ হাজার ৬০৫ জন। আবেদনকারীদের মধ্যে সরকারি চাকরিজীবী ৯ হাজার ৯৪৪ জন, নির্বাচনি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী ৩ হাজার ৭০৪ জন, আনসার ও ভিডিপি সদস্য ১৩১ জন এবং কারাবন্দি ৭২ জন রয়েছেন। এদিকে সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে নোয়াখালীর ছয়টি সংসদীয় আসনের জন্য মোট ৬১ হাজার ২৫১ জন প্রবাসী ভোটার পোস্টাল ব্যালটের আবেদন করেছেন। এর মধ্যে নোয়াখালী-১ আসনে ১৩ হাজার ৬৬৭ জন, নোয়াখালী-২ আসনে ৯ হাজার ২২৭ জন, নোয়াখালী-৩ আসনে ১২ হাজার ৮৫৯ জন, নোয়াখালী-৪ আসনে ১০ হাজার ৩৬০ জন, নোয়াখালী-৫ আসনে ১১ হাজার ৭০৩ জন ও নোয়াখালী-৬ আসনে ৩ হাজার ৪৩৫ জন আবেদন করেছেন। নোয়াখালী জেলা কারাগারের জেল সুপার আবদুল বারেকবলেন, ভোটের আগে অনেক বন্দিই জামিন পাওয়ার আশায় পোস্টাল ব্যালটে আবেদন করতে আগ্রহ দেখাননি। কারণ পোস্টাল ব্যালটে আবেদন করলে পরবর্তীতে জামিন পেলে আর কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকে না। বিষয়টি বোঝানোর পর ৪৪ জন বন্দিকে আবেদন করতে রাজি করানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, নোয়াখালীর ছয়টি সংসদীয় আসনসহ দেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে মোট ৭২ জন কারাবন্দি পোস্টাল ব্যালটের জন্য আবেদন করেছেন। আসনভিত্তিক আবেদনকারীর সংখ্যা হলো- নোয়াখালী-১ এ ১২ জন, নোয়াখালী-২ এ ৬ জন, নোয়াখালী-৩ এ ৭ জন, নোয়াখালী-৪ এ ৩১ জন, নোয়াখালী-৫ এ ১২ জন এবং নোয়াখালী-৬ এ ৪ জন। নোয়াখালী জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাদেকুল ইসলাম বলেন, ভোটারদের কাছে সরবরাহ করা খামের মাধ্যমে পোস্টাল ব্যালট ডাকযোগে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে পৌঁছাবে। পরে সেগুলো সংশ্লিষ্ট ছয়টি সংসদীয় আসনের আলাদা ব্যালট বাক্সে সংরক্ষণ করা হবে। ভোটের দিন ১২ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৪টার পর প্রার্থীদের মনোনীত এজেন্টদের উপস্থিতিতে ব্যালটগুলো খোলা হবে। তিনি আরও বলেন, কর্মস্থলে, বিদেশে বা কারাবন্দি থাকার কারণে যারা এতদিন সরাসরি ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারতেন না, পোস্টাল ব্যালট পদ্ধতির মাধ্যমে তাদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে। এটি নির্বাচন ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, পোস্টাল ব্যালট ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নিরাপদ করতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের অনিয়ম যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। পোস্টাল ব্যালট পদ্ধতি চালুর ফলে নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি বাড়বে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী হবে।