

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। কিন্তু নির্বাচন এলেও নোয়াখালীর ছাপাখানাগুলোতে নেই ব্যস্ততা। বরং কাজের অভাবে নীরব সময় পার করছেন শ্রমিক ও মালিকরা। সরেজমিনে নোয়াখালীর চৌমুহনী এলাকার মুদ্রণপল্লিতে গিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশ ছাপাখানার মেশিন বন্ধ। অলস সময় কাটাচ্ছেন শ্রমিক, অপারেটর ও মালিকরা। নির্বাচনী মৌসুমে কাজের অভাবে ছাপাখানা শিল্পে দেখা দিয়েছে স্থবিরতা, যা শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। মেশিন অপারেটর মো. সেলিম হোসেন বলেন, ৩০ বছর ধরে এই পেশায় আছি। কিন্তু এমন কাজের সংকট আগে কখনো দেখিনি। আগে দিন-রাত কাজ করতাম, অতিরিক্ত কাজ করলে অতিরিক্ত আয় হতো। এখন কাজই নেই, আয়ও নেই। মালিকরাও ঠিকমতো বেতন দিতে পারছেন না। সাইন ভিলেজের স্বত্বাধিকারী মো. রাহাত বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে অনেকেই বিনিয়োগ করে নতুন মেশিন এনেছেন। কিন্তু সরকার পোস্টার ছাপানো নিষিদ্ধ করায় বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। এছাড়া ডিজিটাল মেশিন বসানো অনেক ব্যবসায়ীও ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এতে করে অনেকেই ঋণের বোঝায় জর্জরিত। বাংলাদেশ মুদ্রণ শিল্প সমিতির নোয়াখালী শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কেশব দাস বলেন, ৫–৬টি নির্বাচন দেখেছি, কিন্তু এবারের নির্বাচন একেবারেই ভিন্ন। কাজ প্রায় নেই বললেই চলে। কিছু লিফলেট ছাপা হয়, তাতেই কোনোরকম টিকে থাকা যাচ্ছে। অধিকাংশ ছাপাখানার মেশিন বন্ধ। তিনি সরকারের কাছে বিষয়টি বিবেচনার দাবি জানান। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বেগমগঞ্জ উপজেলার ইউএনও মো. কায়েসুর রহমান বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধির কারণে এবার পোস্টার নিষিদ্ধসহ বেশ কিছু নীতিমালা কার্যকর রয়েছে। পরিবেশ রক্ষার কথা বিবেচনা করেই এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমাদের সবারই এসব সিদ্ধান্তের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হবে।