

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় বিচারাধীন জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ১১২ বছরের পুরোনো চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ১১ ফুট উঁচু দেওয়াল তোলায় একটি বাড়ির সাতটি পরিবার অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। আদালতের সিদ্ধান্তের আগেই এমন পদক্ষেপ নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা। শুক্রবার (১৭ জুলাই) কাদিরহানিফ ইউনিয়নে পশ্চিম বাহাদুরপুর গ্রামের মৃদ্দা বাড়িতে গিয়ে এমন অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। সূত্র জানায়, মৃদ্দা বাড়ির বাসিন্দাদের ১১২ বছরের চলাচলের একমাত্র পথটি ১১ ফুট উঁচু দেওয়াল তুলে বন্ধ করে দিয়েছেন হারুনুর রশিদ মিলন নামে এক প্রভাবশালী ব্যক্তি। এতে বাড়ির লোকজন অবরুদ্ধ হয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন। ওই বাড়ির বাসিন্দাদের দাবি, আদালতের সিদ্ধান্ত ছাড়া এবং কোনো আলোচনা না করে হারুনুর রশিদ দেওয়াল তুলে পথ বন্ধ করে দিয়েছেন। এখন নিজের ঘরে তালা লাগিয়ে অন্যত্র অবস্থান করছেন। প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার হয়নি। আদালতের সিদ্ধান্তের আগে এমন ঘটনা মানবাধিকার লঙ্ঘন। ওই এলাকার বাসিন্দা আবুল কালাম বলেন, চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়া অন্যায়। যিনি দেওয়াল তুলেছেন তিনি আলোচনা করে বিষয়টি সমাধান করতে পারতেন। তাহলে বাড়ির বাসিন্দারা দূর্ভোগে পড়তেন না। আর মামলা চলমান থাকলে রায় হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিত। অভিযুক্ত হারুনুর রশিদকে ফোন দিলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে ফোন কেটে দেন। পরে অনেকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে তার এক আত্মীয় বলেন, এ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন আদালতে মামলা চলমান আছে। এ নিয়ে অনেকবার স্থানীয় শালিস-বৈঠক বসেও কোনো সমাধান হয়নি। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হোমায়রা ইসলাম বলেন, মামলা চলমান থাকায় বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন আছে। বিষয়টি আদালতের এখতিয়ারাধীন, তাই এ মুহূর্তে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য করা সম্ভব নয়। তবে আদালতের নির্দেশনার পর যদি কোনো বিষয়ে সহযোগিতার প্রয়োজন হয় তখন অবশ্যই সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।