

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের নামফলকের দেয়ালে ‘গুপ্ত’ লিখে ক্রস চিহ্ন দিয়েছে ছাত্রদল। আজ বিকেলে তোলা নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের নামফলকের দেয়ালে ‘গুপ্ত’ লিখে ক্রস চিহ্ন দিয়েছে ছাত্রদল। আজ বিকেলে তোলাপ্রথম আলো নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) উপাচার্যের দপ্তরের প্রবেশপথে নামফলকের পাশে ‘গুপ্ত’ লিখে তার ওপর ‘ক্রস’ চিহ্ন দিয়েছেন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। আজ বুধবার বেলা আনুমানিক দুইটার দিকে ওই দেয়াললিখন কর্মসূচি পালন করা হয়। এর আগে ক্যাম্পাসে চট্টগ্রাম সিটি কলেজে ছাত্রশিবিরের সঙ্গে সংঘর্ষের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করে ছাত্রদল। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রাম সিটি কলেজে সংঘর্ষের প্রতিবাদে আজ দুপুরে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। একপর্যায়ে মিছিলকারীরা প্রশাসনিক ভবনের দ্বিতীয় তলায় উপাচার্যের দপ্তরের সামনে আসেন। তাঁরা ওই সময় দপ্তরের প্রবেশপথে বাঁ পাশে উপাচার্যের নামফলকের পাশে ও নিচে দুই জায়গায় ‘গুপ্ত’ লিখে তাতে ‘ক্রস’ চিহ্ন এঁকে দিয়ে চলে যান। একইভাবে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা উপাচার্যের বাংলোর প্রধান ফটকের পাশের দেয়ালেও ‘গুপ্ত’ লেখেন। সরেজমিনে আজ বিকেলে নোবিপ্রবি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন দেয়ালেও ‘গুপ্ত’ লেখা দেখা গেছে। উপাচার্যের বাংলোর ফটকেও এমন শব্দ লেখা ছিল। জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ হাসান বলেন, ক্যাম্পাসে গুপ্ত রাজনীতির বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান জানান দিতে তাঁরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। এরপর ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে ‘গুপ্ত’ রাজনীতির বিরুদ্ধে দেয়াললিখন কর্মসূচি পালন করেন। এটি কোনো ব্যক্তিবিশেষকে উদ্দেশ্য করে লেখা হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ তামজিদ হোছাইন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, তিনি কক্ষ থেকে বের হননি। কে কোথায় কী লিখেছে তা তিনি দেখেননি। পরে একই বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ ইসমাইল বলেন, তিনি নিজ দপ্তরে আছেন, লেখা দেখেননি। এসব লিখলে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা লিখতে পারেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক জ্যেষ্ঠ শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নোবিপ্রবি ক্যাম্পাসে এমনিতেই রাজনীতি নিষিদ্ধ। এরপরও শিক্ষার্থীরা যদি দেয়াললিখনের মধ্য দিয়ে নিজেদের মনের কথা কিংবা দাবি প্রকাশ করতে চান, পুরো ক্যাম্পাসে দেয়ালের তো অভাব নেই, উপাচার্যের নামফলকের পাশে লিখতে হবে কেন? কাউকে খাটো করে কেউ কখনো বড় হতে পারেন না। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ হাসান বলেন, ‘নির্দিষ্ট কাউকে উদ্দেশ্য করে দেয়ালে গুপ্ত লেখা হয়নি। আমরা পুরো ক্যাম্পাসেই “গুপ্ত রাজনীতির দিন শেষ, সবার আগে বাংলাদেশ,” “গুপ্ত রাজনীতির ঠিকানা, এই ক্যাম্পাসে হবে না”সহ বিভিন্ন স্লোগান লিখেছি। এ ক্ষেত্রে যেসব জায়গায় লিখলে সবার নজরে পড়বে, সেসব জায়গায় লেখা হয়েছে।’