

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় লাইলি বেগম (৫০) নামের এক নারীকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় তার ছেলে সৌরভ হোসেন (২৮) ও তার শাশুড়ি তফুরা বেগমকে (৭৫) গ্রেপ্তার করেছে সুধারাম থানা পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, সৌরভ মাদকাসক্ত ও মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে গ্রেপ্তার দুজনকে বিচারিক আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে শুক্রবার ভোরে উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের গোপাই গ্রামের আলী আজম মহুরী বাড়িতে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত লাইলি বেগম ওই বাড়ির আলমগীর হোসেনের স্ত্রী। স্থানীয় সূত্র জানায়, লাইলি বেগম ও তার ছেলে সৌরভ একই বসতঘরের পৃথক কক্ষে থাকতেন। লাইলির স্বামী আলমগীর হোসেন গ্রাম পুলিশ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি বাড়ি থেকে প্রায় ১৫০ গজ দূরে একটি চায়ের দোকান পরিচালনা করেন তিনি এবং রাতে সেখানেই ঘুমান। প্রায় ৮ থেকে ১০ দিন আগে বাড়ির সামনের পুকুরঘাটে পড়ে লাইলি বেগমের বাঁ হাত ভেঙে যায়। এতে তিনি স্বাভাবিকভাবে ঘরের কাজ করতে পারছিলেন না। এ কারণে কয়েক দিন ধরে পরিবারের সদস্যদের খাবারের ব্যবস্থা পাশের ঘরে থাকা লাইলির শাশুড়ি তফুরা বেগমের ঘরে করা হচ্ছিল। বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে লাইলি তফুরা বেগমের ঘরে গিয়ে রাতের খাবার খান। পরে নিজ কক্ষে ফিরে যান। রাত ১২টার দিকে আলমগীর হোসেনও তফুরার ঘরে খাবার খেয়ে চায়ের দোকানে চলে যান। পরে লাইলি ও তার ছেলে নিজ নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। শুক্রবার ভোর ৬টার দিকে সৌরভ ঘুম থেকে উঠে তার দাদি তফুরা বেগমকে জানান, তার মা শয়নকক্ষের মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন। তফুরা ঘরে গিয়ে লাইলির নিথর দেহ দেখতে পান। এ সময় তিনি চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। পরে সৌরভ চায়ের দোকানে গিয়ে তার বাবা আলমগীর হোসেনকে ঘুম থেকে তুলে জানান, তার মা মারা গেছেন। বাড়িতে এসে আলমগীর স্ত্রীকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। লাইলির গলার ডান পাশে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর কাটা জখম ছিল। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া তার বাঁ হাতের কাঁধের সামনের অংশ ও বাঁ হাঁটুতে জখমের চিহ্ন পাওয়া যায়। খবর পেয়ে সুধারাম থানার এসআই সুমন বণিক সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন পিবিআই, সিআইডি ও ডিবির সদস্যরা। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সুধারাম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুমন বণিক বলেন, এ ঘটনায় নিহতের ছেলেকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার কথাবার্তায় অসংলগ্নতা পাওয়া যায়। প্রথমে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করে মামলা নেওয়া হয়। পরে তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহতের ছেলে সৌরভ হোসেন ও তার দাদি তফুরা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সৌরভ মাদকাসক্ত ও মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত। অপরদিকে তফুরাকে হত্যাকাণ্ডের আলামত লোপাটের চেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনো জানা যায়নি।