

নোয়াখালীর হাতিয়ায় সংরক্ষিত বনের গাছ কেটে নদীতে মাছের ঘের নির্মাণের অভিযোগে ২২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে নৌ-পুলিশ ও বন বিভাগের সদস্যরা। উপজেলার ইসলাম চর সংলগ্ন নদীতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার (৫ আগস্ট) মামলার পর আসামিদের হাতিয়া থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার ইসলাম চর এলাকায় অভিযান শেষে রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাদের নলচিরা নৌঘাটে আনা হয়। তারা হলেন- নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের চর তরবালি এলাকার অলি উদ্দিন (৩৫), ইব্রাহিম (৩০), মো. মাঈন উদ্দিন (৩৫), মো. সাদ্দাম হোসেন (২৬), মোস্তাফিজুর রহমান (৩০), মইনুদ্দিন (২৭), মো. সেলিম (৩০), মো. সোহেল (২৭), মো. হামিদ (৩০), নূর জামাল, জাফরুল্লাহ জাকের (৪৮), মনির হোসেন (২৫), নূর করিম (২৮) এবং কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চর এলাহী ইউনিয়নের মো. বেলাল (২৩), মো. আকবর (২৩), মো. শরীফ (৩০) ও সোহাগ (২৮)। একজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। নৌ-পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বহিরাগত একটি চক্র সংরক্ষিত বনের কেওড়া ও গেওয়া গাছ কেটে নদীতে অবৈধ ঘের নির্মাণ করে মাছ শিকার করে আসছিল। এসব ঘেরের কারণে বাল্কহেড, কার্গোসহ বিভিন্ন নৌযানের চলাচলে সমস্যায় পড়ছিল। একইসঙ্গে ঘেরে বালি ও পলি জমে নদীর নাব্যতা কমার পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছিল। এতে উন্মুক্ত নদীতে মাছ শিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন স্থানীয় জেলেরা। নলচিরা রেঞ্জের বিট কর্মকর্তা বাবুল হক বলেন, বহিরাগতরা সংরক্ষিত বনের গাছ কেটে নদীতে অবৈধ ঘের নির্মাণ করে মাছ শিকার করছিল। এতে বনজ সম্পদ ধ্বংসের পাশাপাশি নদীর স্বাভাবিক পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। তাই তাদের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। নলচিরা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আশীষ চন্দ্র সাহা বলেন, নদীতে অবৈধ ঘের নির্মাণের কারণে বাল্কহেড, কার্গোসহ বিভিন্ন নৌযানের চলাচলে সমস্যা হচ্ছিল। অভিযান চালিয়ে ২২ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ ঘের ও মৎস্য আইনের ৫(১) ধারায় মামলা করার পর হাতিয়া থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, নদী, বন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে।