

নোয়াখালীর চাটখিলে বহুল আলোচিত ৫ বছরের শিশু আসমা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার মামলায় আসামি শাহাদাত হোসেনকে (২২) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে নোয়াখালীর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) ফারজানা আকতার এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। জানা গেছে, ২০২২ সালের ২৪ মার্চ চাটখিল উপজেলার মেঘা গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ (অপহরণ) হয় শিশু আসমা আক্তার। ঘটনার ৯ দিন পর প্রতিবেশী বাবলু মিয়ার ছেলে শাহাদাতের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাড়ির পেছনের একটি সেপটিক ট্যাংক থেকে আসমার অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। ৫ বছরের শিশু ধর্ষণ-হত্যা মামলায় আসামির মৃত্যুদণ্ড ফেসবুকে স্ট্যাটাসের এক ঘণ্টা পর ব্রাজিল সমর্থকের মৃত্যু পুলিশের কাছে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে শাহাদাত জানায়, ধর্ষণের ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার ভয়ে সে আসমাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ লুকিয়ে রেখেছিল। দীর্ঘ ৪ বছরের বিচারিক প্রক্রিয়া এবং একাধিকবার রায়ের তারিখ পেছানোর পর আজ আদালত এই চূড়ান্ত রায় প্রদান করেন। দেশজুড়ে আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক রায়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সচেতন মহল। শিশু আসমার বাবা মাওলানা শাহজাহান বলেন, রায়ের কার্যকর হলে আমরা চূড়ান্ত খুশি হব। আমরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি কামনা করছি। রাষ্ট্র নিযুক্ত আসামি পক্ষের আইনজীবী শুক্লা সাহা বলেন, যখন মামলা হয় তখন আসামি শাহাদাত পুলিশের সঙ্গে সঙ্গে আসমা আক্তারকে খুঁজতে থাকে। পরবর্তীতে তার তথ্যের ভিত্তিতে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আসামিকে আমরা নানাভাবে দেখেছি মামলা থেকে তাকে খালাস করা যায় কিনা। কিন্তু তার স্বীকারোক্তি এবং প্রমাণ দিয়েই সে দোষী সাব্যস্ত হয়। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) সেলিম শাহী রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই আমরা আসামির সর্বোচ্চ শাস্তির জন্য জোরালো আইনি লড়াই চালিয়েছি। আদালতে আমরা সমস্ত তথ্য-প্রমাণ ও আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নিখুঁতভাবে উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছি। আজ বিজ্ঞ আদালত যে ঐতিহাসিক রায় দিয়েছেন, তাতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই রায়ের মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবারটি দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বিচার পেল এবং সমাজে অপরাধীদের কাছে একটি কঠোর বার্তা পৌঁছাল।